Friday, August 7, 2026

গাজা পুনর্গঠনের দায়িত্ব নিয়েই সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করছেন ট্রাম্প

গাজা পুনর্গঠনের দায়িত্ব নিয়ে গঠিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বোর্ড অব পিস প্রথম নির্মাণচুক্তি দিতে যাচ্ছে। তবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজায় ঘরবাড়ি বা মানবিক অবকাঠামো নয়, প্রথম প্রকল্প হিসেবে নেওয়া হয়েছে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের উদ্যোগ।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাতে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ১৫০ সদস্যের মরক্কোর সেনাদের থাকার জন্য এই ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে নির্মাণকাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আর্কেল ইন্টারন্যাশনালকে। প্রতিষ্ঠানটি এর আগে ইরাকসহ বিভিন্ন দেশে মার্কিন সরকারের প্রকল্পে কাজ করেছে।

গত জানুয়ারিতে গাজা পুনর্গঠনের তদারকির জন্য বোর্ড অব পিস গঠন করেন ট্রাম্প। এর চেয়ারম্যান তিনি নিজেই। বোর্ডের নেতৃত্বে রয়েছেন তার জামাতা জ্যারেড কুশনার ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্টিভ উইটকফ।

বোর্ডের এক কর্মকর্তা ই-মেইলে জানিয়েছেন, বোর্ড এবং গাজা প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা ফিলিস্তিনি প্রযুক্তিবিদদের সংগঠন ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (এনসিএজি) কয়েকটি নির্মাণচুক্তি প্রস্তুতের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে এখনো কোনো চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি।

তিনি বলেন, সম্ভাব্য একটি চুক্তি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ)-এর জন্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণসংক্রান্ত। এই বাহিনী গাজার নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।

তবে গাজার পুনর্গঠন নিয়ে এই উদ্যোগের সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, হামাস নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হয়েছে। কিন্তু হামাস কীভাবে অস্ত্র জমা দেবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। অন্যদিকে ইসরাইল এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে। ট্রাম্পের ঘোষণার পর গাজায় বিমান হামলাও বাড়িয়েছে দেশটি।

বড় পরিকল্পনা থেকে ছোট সামরিক প্রকল্প

গাজা পুনর্গঠনের জন্য বোর্ড অব পিসের শুরুতে বড় ধরনের পরিকল্পনা ছিল। পুরো গাজাকে নতুন করে গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা থেকে এখন তা দক্ষিণ গাজার একটি ছোট পাইলট প্রকল্পে নেমে এসেছে বলে গত জুলাইয়ে জানিয়েছিল দ্য গার্ডিয়ান।

নতুন পরিকল্পনার সামরিক ঘাঁটির আয়তন হবে ১০০ মিটার বাই ১২০ মিটার। সেখানে মরক্কোর সেনাদের একটি ছোট দল অবস্থান করবে। তারা ইসরাইলের একটি ঘাঁটি থেকে পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করবে।

ঘাঁটিটি নির্মাণ করা হবে গাজার সেই এলাকায়, যার প্রায় ৬০ শতাংশ বর্তমানে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সরাসরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ওই এলাকার বাইরে ইসরাইল একটি বাফার জোনও তৈরি করেছে।

সূত্র জানায়, ঘাঁটিটি ইসরাইল সীমান্ত থেকে প্রায় এক মাইল দূরে হবে। হামলার পরিস্থিতিতে সেনাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার জন্য রাখা হবে বিশেষ ব্যবস্থা।

বড় বাহিনীর ঘাঁটির প্রথম ধাপ

জাতিসংঘের অনুমোদিত পরিকল্পনায় গাজার জন্য একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের কথা বলা হয়েছে। তবে এই বাহিনীর আইনি কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মরক্কো সীমিতসংখ্যক সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও তাদের মোতায়েনের সময় নির্ধারিত হয়নি।

এর আগে দেখা একটি খসড়া চুক্তি অনুযায়ী, ১৫০ সদস্যের এই ঘাঁটি ভবিষ্যতে পাঁচ হাজার সদস্যের একটি বড় সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের প্রথম ধাপ হতে পারে।

প্রাথমিক পরিকল্পনায় সেনাদের জন্য তাঁবু, খাট, রাসায়নিক শৌচাগার, হাত ধোয়ার ব্যবস্থা, যানবাহনের অবস্থান এবং প্রতিরক্ষামূলক মাটির বাঁধ তৈরির কথা বলা হয়েছিল। এসব সুবিধা স্বল্পমেয়াদি অবস্থানের জন্য উপযোগী হবে বলে উল্লেখ ছিল।

ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ‘নতুন গাজা’র স্বপ্ন

ট্রাম্প ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘোষণা দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র গাজার নিয়ন্ত্রণ নেবে এবং এর মালিক হবে। তবে পরে বোর্ড অব পিস গঠনের চুক্তিতে এমন কোনো বিধান রাখা হয়নি।

বোর্ডের প্রথম বৈঠকে জ্যারেড কুশনার ‘নিউ গাজা’ নামে একটি পরিকল্পনা তুলে ধরেছিলেন। সেখানে সমুদ্রতীরবর্তী আধুনিক শহর, বহুতল ভবন ও শিল্পাঞ্চল তৈরির স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল।

কিন্তু বাস্তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহ। যুদ্ধে গাজার অন্তত ৮০ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। যুদ্ধবিরতির ১০ মাস পরও প্রায় ২০ লাখ মানুষ অস্থায়ী ও অস্বাস্থ্যকর শিবিরে বসবাস করছেন।

গাজা পুনর্গঠনের দায়িত্ব নিয়েই সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করছেন ট্রাম্প
ছবি: আনাদোলু

গালি ও বিদ্রূপে ভ্যান্সের ‘ট্রল’ রাজনীতি

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসঃ যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আবারও আলোচনায় এসেছেন তার আক্রমণাত্মক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আচরণের কারণে। সমালোচকদের জবাব দিতে গিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ, কটাক্ষ ও বিদ্রূপের ভাষা ব্যবহার করছেন তিনি। এমনকি এক রক্ষণশীল কলাম লেখকের শারীরিক গঠন নিয়েও মন্তব্য করেছেন।

ইরান ইস্যুতে ভ্যান্সের অবস্থানের সমালোচনা করেছিলেন রক্ষণশীল কলাম লেখক মার্ক থিয়েসেন। এর কয়েক দিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার শারীরিক গঠন নিয়ে মন্তব্য করেন ভ্যান্স।

এক পোস্টে থিয়েসেন লিখেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের খাবারের তালিকায় বুরিটো থাকলে দাম নিয়ে অভিযোগ করার প্রয়োজন নেই। এর জবাবে ভ্যান্স ইঙ্গিত করেন, থিয়েসেন হয়তো ক্যাফেটেরিয়ায় একাধিকবার বুরিটো নিয়েছেন।

ভ্যান্সের এই মন্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক শুরু হয়। কেউ কেউ থিয়েসেনের পক্ষ নেন। তারা ভ্যান্সের নিজের ওজন কমানোর বিষয়টিও তুলে ধরেন। ভ্যান্সের নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তিনি প্রায় ৩০ পাউন্ড ওজন কমিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ব্যক্তিগত আক্রমণ নতুন নয়। তবে কোনো বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে এ ধরনের সরাসরি শারীরিক কটাক্ষ বিরল।

সমালোচকদের ছাড় দেন না ভ্যান্স

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভ্যান্স দীর্ঘদিন ধরেই সরাসরি ও আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করে আসছেন। তার আক্রমণের লক্ষ্য হয়েছেন বামপন্থি সমালোচক থেকে শুরু করে নিজ দলের রক্ষণশীলরাও।

সমালোচকদের তিনি ‘বোকা’, ‘অযোগ্য’ বা ‘লজ্জাজনক’ বলেও মন্তব্য করেছেন। তার ভাষায়, রাজনৈতিক মতপার্থক্য শুধু নীতির পার্থক্য নয়; অনেক সময় প্রতিপক্ষকে তিনি অসৎ বা অযোগ্য হিসেবেও তুলে ধরেন।

সাংবাদিকদেরও আক্রমণ করেছেন ভ্যান্স। এবিসি নিউজের সাবেক প্রতিবেদক টেরি মোরানকে তিনি ‘বামপন্থি উগ্রবাদী’ বলে মন্তব্য করেন।

জিউইশ ইনসাইডারের সাংবাদিক জশ ক্রুশার সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনি হয় ‘ওয়াশিংটনের সবচেয়ে বড় পক্ষপাতদুষ্ট সাংবাদিক’, নয়তো ‘সবচেয়ে বোকা সাংবাদিক’।

নিজ দলের সমালোচকদেরও ছাড় দেননি তিনি। ইরান নীতি নিয়ে মন্তব্য করায় ডেভিড রিবোইকে তিনি ‘লুজার’ বলেন।

ডানপন্থি প্রভাবশালী লরা লুমারের সমালোচনা করে বলেন, তিনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়ে বিভেদ তৈরি করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া ভাষা

ভ্যান্সের ভাষা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয় তার সরাসরি আক্রমণ ও কটু শব্দ ব্যবহারের কারণে।

এক পডকাস্টারের মন্তব্যের জবাবে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমি এই আত্মবিশ্বাসী ও অহংকারী বাজে কথাকে ঘৃণা করি।’

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনে ট্রাম্প ও জেফ্রি এপস্টেইন সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশের পর ভ্যান্স সেটিকে ‘সম্পূর্ণ বাজে কথা’ বলে মন্তব্য করেন।

স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিষয়ক মন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রকে নিয়ে সিনেটরদের প্রশ্নের সমালোচনা করে তিনি লেখেন, আপনারা মিথ্যা বলছেন এবং সবাই তা জানে।’

পুরোনো রাজনৈতিক শিষ্টাচার থেকে আলাদা

ভাইস প্রেসিডেন্টরা ঐতিহাসিকভাবে অনেক সময় সরকারের আক্রমণাত্মক মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছেন। তবে সাধারণত তারা ব্যক্তিগত অপমানের ভাষা এড়িয়ে গেছেন।

আধুনিক যুগের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে অনেকেই স্পাইরো টি. অ্যাগনিউর নাম উল্লেখ করেন। প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের সময়ে তিনি সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন।

তবে অ্যাগনিউয়ের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছিল না। ফলে তার বক্তব্য এত দ্রুত ও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগও ছিল না।

সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সও ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব পালনকালে যথেষ্ট সংযত ছিলেন।

সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির যোগাযোগ পরিচালক কেভিন কেলেমস বলেন, ‘এটি এমন আচরণ, যা ওই পদের সঙ্গে মানানসই নয়।’

তার মতে, ভ্যান্সের আচরণ অনেকটা এমন, যেন তিনি জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য তরুণদের মতো আক্রমণাত্মক প্রতিযোগিতায় নেমেছেন।

সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের যোগাযোগ পরিচালক জামাল সিমন্স বলেন, ভ্যান্স হয়তো ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়ার জন্য নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করছেন।

সমর্থকদের দাবি, এটি ‘খোলামেলা রাজনীতি’

ভ্যান্সের সহযোগী ও সমর্থকেরা অবশ্য বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখছেন।

তাদের দাবি, ভ্যান্স সাধারণ মানুষের মতো সরাসরি কথা বলেন। রাজনৈতিক অভিজাতদের প্রচলিত ভদ্রতার বাইরে গিয়ে তিনি মানুষের বাস্তব উদ্বেগ তুলে ধরছেন।

ভ্যান্স নিজেও বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তাকে সাধারণ মানুষের ‘ফিল্টারহীন ও বাস্তব মতামত’ শোনার সুযোগ দেয়।

গত বছরের শুরুতে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এটি তার প্রজন্মের বৈশিষ্ট্য। প্রযুক্তিনির্ভর প্রজন্মের মানুষ হিসেবে তিনি সরাসরি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগে বিশ্বাস করেন।

তবে ভ্যান্স নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে সতর্ক ছিলেন। চলতি বছরের মে মাসে তিনি জানান, ধর্মীয় অনুশীলনের অংশ হিসেবে কিছুদিনের জন্য এক্স অ্যাপ ফোন থেকে সরিয়ে রেখেছিলেন।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকার সময় তিনি বেশি মনোযোগী ও উৎপাদনশীল ছিলেন।

অন্য জায়গায় ভিন্ন ভ্যান্স

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আক্রমণাত্মক হলেও অন্য অনেক জায়গায় ভ্যান্স তুলনামূলক সংযত আচরণ করেন।

জুন মাসে প্রকাশিত তার বই Communion-এ নিজের ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় যাত্রার কথা তুলে ধরেছেন। সেখানে ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টান থেকে নাস্তিকতা এবং পরে ক্যাথলিক ধর্ম গ্রহণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন তিনি।

বইটির প্রচারে তিনি এবিসির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘দ্য ভিউ’-তে অংশ নেন। সেখানে মূলত উদারপন্থি উপস্থাপকদের সঙ্গে তার আলোচনা ছিল তীব্র, তবে ভদ্র।

অনুষ্ঠানের উপস্থাপক জয় বেহার পরে বলেন, ভ্যান্সের রসবোধ রয়েছে। মতপার্থক্য থাকলেও তিনি মনে করেন, ২০২৮ সালে ভ্যান্স প্রেসিডেন্ট হলে হয়তো আরো নমনীয় হতে পারেন।

ট্রাম্পের রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রভাব?

বিশ্লেষকদের মতে, ভ্যান্সের এই আচরণ অনেকটা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশলের সঙ্গে মিল রয়েছে।

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধু ও শত্রু—দুই পক্ষকেই আক্রমণ করে আসছেন। তবে ভ্যান্সের বিশেষত্ব হলো, তিনি সমালোচকদের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনে জড়িয়ে পড়েন।

গত বছর নিজের এক সহযোগী বাকলি কার্লসনকে নিয়ে আক্রমণের জবাবে ভ্যান্স লিখেছিলেন, তিনি মতপার্থক্য সহ্য করতে পারেন। কিন্তু তার কর্মীদের নিয়ে মিথ্যা আক্রমণ তিনি সহ্য করবেন না।

ভ্যান্স থামছেন না

ধর্মীয় কারণে কিছুদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকলেও এখন আবার সক্রিয় হয়েছেন ভ্যান্স।

মার্ক থিয়েসেনকে নিয়ে সাম্প্রতিক মন্তব্য দেখিয়েছে, আগের মতোই তিনি সমালোচকদের সরাসরি জবাব দিতে প্রস্তুত।

সমালোচনা থাকলেও ভ্যান্সের রাজনৈতিক কৌশলের একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে এই সরাসরি, সংঘাতমুখী যোগাযোগ।

আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই আক্রমণাত্মক উপস্থিতি যে সহজে থামছে না, তা স্পষ্ট।

গালি ও বিদ্রূপে ভ্যান্সের ‘ট্রল’ রাজনীতি
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স

বিদেশে দেশের সিনেমা

প্রকাশ ২৩ এপ্রিল ২০২৫ঃ ঈদে এবার ছয়টি ছবি হলে মুক্তি পেয়েছে। ব্যবসায়িক সফলতা না পাওয়ায় দুটি ছবি নামিয়ে ফেলেছে প্রেক্ষাগৃহ কর্তৃপক্ষ। বাকি চারটি ছবি মুক্তির পর টানা ২৩ দিন ধরে প্রদর্শিত হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে বরবাদ। ঈদে বাংলাদেশের ১২০ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর থেকে আলোচনায় ‘বরবাদ’। মুক্তির এত দিন পরও দর্শকের আগ্রহ কমেনি। তারপরই আছে ‘দাগি’, ‘জংলি’ ও ‘চক্কর’। এর মধ্যে ‘বরবাদ’ ও ‘দাগি’ দেশের বাইরেও মুক্তি পেয়েছে। ১০ দিন আগে অস্ট্রেলিয়ায় মুক্তি পায় ‘দাগি’, অন্যদিকে ৪ দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র দিয়ে শুরু করে ‘বরবাদ’। ২৫ এপ্রিল থেকে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশে মুক্তি পাবে ‘জংলি’।

শাকিব খানের নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এস কে ফিল্মস (শাকিব খান ফিল্মস) আন্তর্জাতিক পরিসরে ‘বরবাদ’ দিয়ে সিনেমা পরিবেশন শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রে শুক্রবার ও পরদিন শনিবার কানাডার টরন্টোতে মুক্তি পায় ‘বরবাদ’। আগামী সপ্তাহে মন্ট্রিয়ল ও অটোয়ায় মুক্তি পাবে। ইতালির রোম ও ভেনিসেও মুক্তি পেয়েছে। দিন দুয়েকের মধ্যে মিলানের বাঙালিরাও দেখতে পাবেন ‘বরবাদ’, জানিয়েছে এস কে ফিল্মস। ২৬ এপ্রিল থেকে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে মুক্তি দেওয়া হবে। আগামী মাসের শুরুতে ছবিটি মালয়েশিয়ায়ও মুক্তি পাবে। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম সপ্তাহে ৩৫ থেকে ৪০টি থিয়েটারে ‘বরবাদ’ চলবে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নিউইয়র্ক, বোস্টন, ভার্জিনিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, আটলান্টা, মিশিগান, সানফ্রানসিসকো, মেরিল্যান্ড, বাফেলো ও ফিলাডেলফিয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেমার্ট সিনেমাসের ব্যবস্থাপক বারী জানান, ১৯৫২ সালে যাত্রা শুরু করেছে এই প্রতিষ্ঠান। তবে এই প্রথম তাঁদের হলে বাংলা ভাষার কোন সিনেমা রিলিজ পেল। প্রথম শোতে দর্শক কানায় কানায় পূর্ণ। ছবি দেখে হল থেকে বের হওয়া দর্শকদের মুখেও শোনা গেল উচ্ছ্বাস আর ভালো লাগার কথা।

নির্মাতা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ এখন যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। সেখানেই ‘বরবাদ’ দেখেছেন তিনি। প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘কমার্শিয়াল সিনেমা হিসেবে ‘বরবাদ’ খুব ভালো লেগেছে। সিনেমাজুড়ে আমাদের শাকিব ভাই ছিলেন ওয়ান ম্যান আর্মি। তাকে দেখতেও অসাধারণ লেগেছে। এখানেও বরবাদ ভালো চলবে। নিউইয়র্কে ‘বরবাদ’ উপভোগ করেছেন অভিনেত্রী পারসা ইভানা। ঈদের পরদিন তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান। ‘বরবাদ’ দেখে তিনি বলেন, ‘ঈদের দিন বাংলাদেশে ‘বরবাদ’–এর টিকিট পাইনি। পরদিন ব্যক্তিগত কাজে নিউইয়র্কে চলে আসি। এ জন্য এখানে ‘বরবাদ’ দেখে খুব এনজয় করেছি। দেশের মতো এখানেও শো হাউসফুল গেছে। সিনেমার টুইস্ট আমাকে মুগ্ধ করেছে, পুরো সিনেমাটাই এন্টারটেইনিং।’

অস্ট্রেলিয়ায় মুক্তি পেয়েছে ‘দাগি’। দেশটির সিডনিতে ১২ এপ্রিল সিনেমাটি মুক্তির পর থেকে ভালো সাড়া মিলছে। একই সময়ে নিউজিল্যান্ডেও মুক্তি পেয়েছে। পরিচালক শিহাব শাহীন জানান, দুই দেশের দর্শকেরা ছবিটি দারুণ উপভোগ করছেন। সেখানকার পরিবেশক প্রতিষ্ঠানও আমাদের তেমনটাই জানিয়েছে। শিহাব শাহীন জানান, পথ প্রোডাকশন এবং ঈগল এন্টারটেইনমেন্টের পরিবেশনায় ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় ১৫টি প্রদর্শনীর অগ্রিম টিকিট বিক্রি চলছে। একই পরিবেশকের অধীন সিনেমাটি নিউজিল্যান্ডে মুক্তি পেয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইতালি, সুইডেনসহ অনেক দেশে মুক্তির কথা রয়েছে। পথ প্রোডাকশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মুক্তির পর বেশ কয়েকটি শো হাউসফুল গেছে। শুরুতে অস্ট্রেলিয়ায় ১৫টি প্রদর্শনীর কথা থাকলেও দর্শক চাপে আরও পাঁচটি বাড়িয়ে ২০টি করে চলছে।

‘দাগি’র মাধ্যমে দুই বছর পর চলচ্চিত্রে ফিরলেন আফরান নিশো। ছবিটি প্রযোজনা করেছে এসভিএফ আলফা আই এন্টারটেইনমেন্ট, সহ–প্রযোজক চরকি। প্রথম আলোর অস্ট্রেলিয়া প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মুক্তির পর থেকেই সিডনির প্রতিটি শো হাউসফুল। সরেজমিন দেখা গেছে, দাগির আবেগঘন মুহূর্তগুলো প্রবাসী বাংলাদেশি দর্শকদে রমন ছুঁয়ে গেছে।

অস্ট্রেলিয়ার পর ২৫ এপ্রিল থেকে নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের ১৫টি শহরে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘দাগি’। এটি পরিবেশনার দায়িত্বে আছে বায়োস্কোপ ফিল্মস। নিউইয়র্কের কিউ গার্ডেন সিনেমাসে ‘দাগি’র সাত দিনব্যাপী ২১টি শোর বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া মুক্তির দিন থেকে ‘দাগি’ দেখা যাবে নিউইয়র্ক, বোস্টন, সানফ্রানসিসকো, আটলান্টা, ডালাস, কানেটিকাট, ফিনিক্স, শিকাগো, লস অ্যাঞ্জেলেস, ওকলাহোমাসহ বেশ কয়েকটি সিটিতে। ২ মে থেকে যুক্ত হচ্ছে আরও ১৩টি শহর, যেগুলোর মধ্যে রয়েছে ওয়েস্ট পাম বিচ, পোর্টল্যান্ড, সিয়াটল, অস্টিন, নিউজার্সি, ভার্জিনিয়া, মায়ামি, সানদিয়েগো।

দেশের বাইরে ‘জংলি’ মুক্তি পেতে আরও কয়েকদিন লেগে যাবে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে জাহিদ হাসান জানালেন, শুরুতে সাতটি দেশে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘জংলি’। তালিকায় আছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, অষ্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড ও সুইডেন। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে জংলির পরিবেশক স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো। ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডে স্বপ্ন স্কেয়ারক্রোর সঙ্গে সহপরিবেশক হিসেবে থাকছে রেভেরি ফিল্মস। সুইডেনে মুক্তি পাবে ফ্রেন্ডস মুভিজ ও অস্ট্রেলিয়ায় বঙ্গজ ফিল্মসের পরিবেশনায়। ‘জংলি’ ছবিতে সিয়াম ছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শবনম বুবলী, দীঘি, শহীদুজ্জামান সেলিম, রাশেদ মামুন অপু, শিশুশিল্পী নৈঋতা প্রমুখ।

‘বরবাদ’, ‘দাগি’ ও ‘জংলি’ সিনেমার পোস্টার
‘বরবাদ’, ‘দাগি’ ও ‘জংলি’ সিনেমার পোস্টার। কোলাজ

এক সেকেন্ডের মধ্যেই শংকর হয়ে গেলেন...

‘তেরে ইশক মে’-তে প্রেমের বহুমাত্রিক রূপ তুলে ধরেছেন আনন্দ এল রাই। ছবির প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন দক্ষিণি তারকা ধানুশ ও বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন। ১৪ নভেম্বর ২০২৫ মুম্বাইয়ের একটি মাল্টিপ্লেক্সে প্রকাশিত হয়েছে ছবিটির ট্রেলার। হাজির ছিলেন ধানুশ, কৃতি, আনন্দ এল রাই ও প্রযোজক ভূষণ কুমার। আনন্দ এল রাইয়ের আগের `রানঝানা’–তে প্রেমে উন্মত্ত এক তরুণের চরিত্রে দর্শকের মন জয় করেছিলেন ধানুশ। নতুন ছবি ‘তেরে ইশক মে’-তেও তিনি ফিরছেন তীব্র আবেগে ভরা এক চরিত্র ‘শংকরের’ মধ্য দিয়ে। অন্যদিকে কৃতির ‘মুক্তি’ সম্পূর্ণ বিপরীত চরিত্র—কঠোর, জেদি, ক্ষতবিক্ষত; কিন্তু ভেতরটা লুকানো কোমলতায় ভরা। তাঁর চরিত্রের প্রথম ঝলকই দর্শকের নজর কেড়েছে—এক হাতে পানীয়ের গ্লাস, অন্য হাতে সিগারেট। কৃতির পর্দায় উপস্থিতিতেই স্পষ্ট—মুক্তি চরিত্রটি তিনি আলাদা যত্নে নির্মাণ করেছেন।

আবেগে ভাসলেন কৃতি
অনুষ্ঠানে সহ-অভিনেতা ধানুশের সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে আবেগভরা কণ্ঠে কৃতি বলেন, ‘আপনার সঙ্গে কাজ করে সত্যিই দারুণ সময় কাটিয়েছি। আপনি ভীষণ সহযোগিতাপরায়ণ। সূক্ষ্ম অভিনয়ে আপনি অনন্য। শংকর চরিত্রের কারণে জীবন্ত হয়ে উঠেছে মুক্তি।’ শুটিংয়ের সময় ধানুশ কীভাবে একমুহূর্তে বাস্তব থেকে চরিত্রে ঢুকে পড়তেন, সে দৃশ্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে কৃতি বলেন, ‘শুটিং চলছিল, ক্যামেরা রোলিং পর্যন্ত ম্যাচের স্কোর দেখে নিলেন তিনি। আর এক সেকেন্ডের মধ্যেই শংকর হয়ে গেলেন। আমি কাউকে এভাবে কাজ করতে দেখিনি।’

মুক্তি চরিত্রটি নিয়ে কৃতি বলেন, ‘চরিত্রটি প্রথম শুনেই গায়ে কাঁটা দিয়েছিল। তার বহুস্তর, ভেতরের দহন, আবার সরলতার ছোঁয়া—সব মিলিয়ে মুক্তি আমাকে গভীরভাবে ছুঁয়েছে। মুক্তির কিছু বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে নিজের মিল পেয়েছি। তবে তার অনেক সিদ্ধান্তই আমি নিতাম না।’

বহুমাত্রিক প্রেমের গল্পে অন্ধকারের ছায়া
একই মঞ্চে প্রেম নিয়ে নিজের মত প্রকাশ করেন ধানুশ। ‘প্রেম অতি মূল্যায়িত অনুভূতি’ বলতেই হেসে ওঠেন কৃতি। পাল্টা মন্তব্য করেন তিনি, ‘মনে হয় না শংকর আপনার সঙ্গে একমত হবে।’ জবাবে ধানুশ বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি, আমি শংকরের মতো নই।’ অভিনেতার এ মন্তব্যের পর অনেকেই বলছেন, এ বক্তব্যেই যেন ফুটে উঠেছে ছবির চরিত্র দুটির সম্পর্কের দ্বৈততা।

ধানুশ বলেন, ‘শংকর ও মুক্তি—এই দুই চরিত্র আসলে আমরা একসঙ্গেই তৈরি করেছি। কৃতি ভীষণ মনোযোগী ও প্রতিভাবান। ছবির সৃজনশীল প্রক্রিয়াটা ছিল দুজনের মিলিত পরিশ্রমের ফল।’
পরিচালক আনন্দ এল রাইও দুই অভিনেতার প্রশংসা করেন। তাঁর মতে, ছবির আবেগপ্রবণ দৃশ্যগুলোর গভীরতা এসেছে তাঁদের নির্ভুল অভিনয় ও বোঝাপড়া থেকে।
২৮ নভেম্বর মুক্তি পাবে তেরে ইশক মে। সিনেমাপ্রেমীরা দেখার অপেক্ষায়—শংকর ও মুক্তির প্রেম-সংঘাত বড় পর্দায় কতটা জমে ওঠে।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-27%2Fiisyojvg%2Fkriti-sanon260215506sm.webp?rect=141%2C0%2C759%2C506&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
‘তেরে ইশক মে’ সিনেমার দৃশ্য। এক্স থেকে