Monday, April 18, 2011

বিধ্বস্ত-বিব্রত ওয়ার্ন

প্রথম দুটা ম্যাচেই জয় দিয়ে আইপিএলের চতুর্থ আসরের শুরুটা খুব ভালো মতোই করেছিল শেন ওয়ার্নের রাজস্থান রয়্যালস। কিন্তু কলকাতা নাইট রাইডার্সের কাছে পরবর্তী দুটা ম্যাচেই রীতিমতো ধরাশায়ী হতে হয়েছে প্রথম আসরের শিরোপাজয়ীদের। ১৫ এপ্রিল জয়পুরে রাজস্থানের বেঁধে দেওয়া ১৫৯ রান তাড়া করতে নেমে গৌতম গম্ভীরের কলকাতা তুলে নেয় নয় উইকেটের সহজ জয়। এ পরাজয়টা তবুও মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু গতকাল ইডেন গার্ডেনে দলের ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয় কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না রাজস্থান অধিনায়ক শেন ওয়ার্ন। গতকালের পারফরমেন্সটাকে তিনি এবারের আইপিএলের সবচেয়ে বাজে পারফরমেন্স হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
ব্রেট লি, লক্ষ্মীপতি বালাজি, সাকিব আল হাসানদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে একেবারে দাঁড়াতেই পারেনি শেন ওয়াটসন, রস টেলর, অমিত পাউনিকরেরা। ২৮ বল বাকি থাকতেই তাঁরা গুটিয়ে গেছে মাত্র ৮১ রানে। ৮ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে শেষ পর্যন্ত ৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন শেন ওয়ার্ন। হতাশ হয়ে দেখেছেন সতীর্থদের আসা-যাওয়া। কলকাতার কাছে টানা দুটি ম্যাচ হারার পর তিনি বলেছেন, ‘আমরা খুবই খারাপ খেলেছি। এটাই আমাদের সবচেয়ে বাজে পারফরমেন্স। এই উইকেটে ১৩০-১৪০ অনায়াসেই করা যায়। কিন্তু তারা আমাদের ওপর চাপ তৈরি করেছিল। অভিজ্ঞতার অভাবে আমরা সেই চাপ সামলে খেলতে পারিনি। এর আগের ম্যাচেও আমরা ১৬০ পর্যন্ত গিয়েছিলাম। কিন্তু এই পারফরমেন্সটা খুবই বিব্রতকর।’
শুধু অধিনায়কই নন, শেন ওয়ার্ন রাজস্থান রয়্যালসের কোচও বটে। দলের এ বাজে পারফরমেন্স যে তাঁকে বেশি চিন্তায় ফেলবে, এটাই তো স্বাভাবিক। তবে এখন তা নিয়ে বেশি না ভেবে সামনের ম্যাচগুলোর জন্য শিষ্যদের ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই অস্ট্রেলিয়ান স্পিন কিংবদন্তি। বলেছেন, ‘আমরা অনেক পরিশ্রম করেছি, ভালোভাবে অনুশীলন করেছি। এখনো প্রতিপক্ষের মাঠে আমাদের তিনটা ম্যাচ খেলতে হবে এবং সেগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোর বিকল্প নেই।

উইকিলিকস—জনগণের গোয়েন্দা সংস্থা by জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ

যে কালে বড় মাপের গণ-অভ্যুত্থান ঘটে চলেছে, তখন বিপরীত রাজনৈতিক ভাবাদর্শের অনুসারী অভিজাতেরা প্রতিপক্ষকে যতটা না ভয় পেত তারও চেয়ে বেশি ভয় পেত সাধারণ জনগণকে। সে কালে উদীয়মান বণিক শ্রেণী হয়তো অধিকতর ঐতিহ্যবাহী, অভিজাত বংশের বিরোধিতা করেছে। তবে উভয় পক্ষের গাত্রদাহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল র্যাডিকেল প্রকাশকেরা। কেননা, জনগণকে এরা এমনভাবে আন্দোলিত করছিল, যেখান থেকে আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া ছিল অসম্ভব। তেমন বর্ণনাই উঠে এসেছে এক লেখকের রচনায়, ‘সরকার-বিষয়ক সব গূঢ় রহস্য, রাজা ও পার্লামেন্ট-বিষয়ক সব গুপ্তকথা এরা চাষাভুষা, ইতর জনগণকে জানিয়ে দিচ্ছে (শূকরের সামনে মুক্তো দেওয়ার মতোই মূল্যবান বস্তু দেওয়া হচ্ছে এমন মানুষকে, যারা তার কদর বোঝে না), আর সেসব বিষয়ের এত গভীরে দৃষ্টি দেওয়ার শিক্ষা দিচ্ছে সেনাদল ও জনগণকে যেন তারা সব সরকারকে বিপাকে ফেলে, প্রকৃতির আদি রূপে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। এভাবে তারা জনগণকে এত উৎসুক ও উদ্ধত বানিয়ে ফেলেছে যে তারা আর কখনো কোনো সভ্য শাসনের অধীনে থাকার মতো যথেষ্ট বিনয়ী হবে না।’
যদিও আজকের তিউনিশিয়া, মিসর এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলের পরিস্থিতি উল্লিখিত কথাগুলোর মাধ্যমে সহজেই বর্ণনা করা যায়, আসলে কিন্তু কথাগুলো রচিত হয়েছিল ১৬৬১ সালে। লেখক ক্লেমেন্ট ওয়াকার। বিষয় ১৬৪০-এর দশকে ইংরেজ গৃহযুদ্ধের সময়ে জনপ্রিয় চরমপন্থা।
প্রকাশনার ইতিহাস এবং জনগণ কী পড়তে পারবে, তা নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপের ইতিহাসে সময়কালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারও ২০০ বছর আগেই ছাপাখানা আবিষ্কৃত হয়েছে। তত দিনে ছাপাখানার অভিগম্যতাও বেড়েছে। আর ডাকব্যবস্থা সৃষ্টির ফলে পশ্চিম ইউরোপজুড়ে প্রথম দিককার সংবাদপত্র প্রকাশিত হতে শুরু করেছে। ‘বিতরণ পদ্ধতিকে চালিত করে প্রযুক্তি’—আজকের এই প্রবচনের বহু দৃষ্টান্তের দেখা মিলবে ইতিহাস ঘাঁটলে।
গৃহযুদ্ধের সময়কালে শুধু সুপ্রতিষ্ঠিত ছাপাখানার মালিক ও পুস্তকবিক্রেতারাই পত্রিকা প্রকাশ করছিলেন না, পাশাপাশি ততটা মর্যাদাসম্পন্ন নন, এমন পেশার মানুষও নিজেদের পত্রিকা প্রকাশ করছিলেন। ১৬৪০-এর দশকে জন ডিলিংহাম নামের এক দর্জি মডারেট ইন্টেলিজেন্সার নামের একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন চার বছর ধরে। তাতে স্থান পায় গৃহযুদ্ধে কী ঘটছে সেসব খবরাখবর। (সংঘর্ষের খবর পরিবেশনে পরিমিতি বজায় রাখার চেষ্টার ফলে কিছু দিনের মধ্যেই গিলবার্ট ম্যাবটের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়তে হয় তাঁকে। ম্যাবট তখন ছাপাখানার লাইসেন্স প্রদানের দায়িত্বে। অলিভার ক্রমওয়েলের প্রকাশ্য সমর্থক কোনো পত্রিকাকে ইন্টেলিজেন্সার-এর জায়গায় নিয়ে আসতে চাচ্ছিলেন ম্যাবট।)
প্রচারণাধর্মী পুস্তিকা, পাণ্ডুলিপি ও ছোট ছোট নিউজলেটারও নিয়মিত প্রকাশিত হতো। তাতে রচয়িতার ভাবনাচিন্তার প্রতিফলন ঘটত। অভিজাত ব্যক্তিদের মধ্যে তখন এমন ভাবনাও দেখা দিয়েছিল, জনগণ (ওয়াকারের বর্ণনা অনুসারে) ধীরে ধীরে এত উৎসুক ও উদ্ধত হয়ে পড়ছে যে তারা অধীনতার জন্য যথেষ্ট বিনয়ী আর থাকবে না কোনো দিন—এতে আশ্চর্যের কিছু নেই।
আজ এক ছোট সংগঠন হিসেবে উইকিলিকস সে সব র্যাডিকেল প্রকাশনার ঐতিহ্যের ভেতরে দৃঢ়ভাবে প্রোথিত, যারা ‘সরকার-বিষয়ক সব গূঢ় রহস্য’ জনগণের সামনে হাজির করতে সচেষ্ট। বাস্তব পরিস্থিতির কারণে কতগুলো বৃহৎ মিডিয়াগোষ্ঠীর সঙ্গে আমরা কাজ করেছি, তবে ৫০টি আঞ্চলিক প্রকাশনা, অ্যাকটিভিস্ট গোষ্ঠী ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান পর্যন্তও বিস্তৃত করেছি সহযোগিতার সম্পর্ক—তাদের রাষ্ট্র এবং কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত শত শত, কিংবা কিছু ক্ষেত্রে হাজার হাজার, দলিল আগেভাগে যেন তারা দেখতে পারে সে ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যেসব জনপ্রিয় সংবাদপত্রের বিস্তার ঘটে, তাদের আদর্শের প্রতিও সৎ থেকেছে উইকিলিকস। মার্কিন চতুর্থ স্তম্ভের চমৎকার ব্যবচ্ছেদ হিসেবে গণ্য রুথলেস ক্রিটিসিজম বইতে ইতিহাসবিদ জন বেক্কেন দেখাচ্ছেন, ‘একসময় কয়েক ডজন ভাষায় শত শত পত্রিকা প্রকাশিত হতো। তাতে যেমন ছিল শ্রমজীবীদের রাজনৈতিক সংগঠন কর্তৃক প্রকাশিত আঞ্চলিক ও স্থানীয় দৈনিক, তেমনি ছিল পারস্পরিক সহায়তা সংস্থা এবং জাতীয় শ্রমিক সংগঠনগুলোর সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকা।’
এসব সংবাদপত্রের ভূমিকা শুধু খবর পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ থাকত না, বেক্কেনের ভাষায় এরা এমন একটা জায়গা তৈরি করত, যেখানে পাঠকেরা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ে বিতর্ক করতে পারত। প্রতিটি ক্ষেত্রে শ্রমজীবীদের প্রতিষ্ঠানগুলো কী কাজ করছে, পাঠক তা জানতে পারত এবং অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক রূপান্তরে সমর্থন জোগাতে তাদের উদ্বুদ্ধ করা যেত।
এখন ব্লগ-বিশ্বকে জনগণের চিন্তাভাবনার বৈচিত্র্য প্রতিফলিত করার ক্ষেত্র হিসেবে যথার্থভাবেই গণ্য করা হয়। তবে সত্যিকারের প্রতিনিধিত্বমূলক গণমাধ্যমের ধারণা পেতে ফিরে যেতে হবে সেসব শ্রমজীবী প্রকাশনার ঐতিহ্যে। উদাহরণ দিয়ে বলছি, ১৯২০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন সম্পাদক মিলে একটি কো-অপারেটিভ খবর-সংগ্রহ সংস্থা গঠন করেন। নাম ফেডারেটেড প্রেস। উদ্দেশ্য মূলধারার সংবাদমাধ্যমের পক্ষপাতিত্ব মোকাবিলা। ১৯৪০-এর দশক পর্যন্ত উদ্যোগটি জারি ছিল, মোটামুটি ১৫০টি প্রকাশনা তাদের সেবা নিত।
সেই সময়ে শ্রমিক আন্দোলনের নিজস্ব সংবাদমাধ্যম প্রচণ্ড জনপ্রিয় ছিল। এমনকি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগেই যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিক আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্রের প্রচারসংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সর্ববৃহৎ বামপন্থী জার্নাল অ্যাপিল টু রিজন-এর সাপ্তাহিক প্রচারসংখ্যা ছিল সাড়ে সাত লাখ।
কিন্তু ইউরোপে যখন শ্রেণীসংঘাত তীব্র হয়ে উঠল, তখন প্রতিষ্ঠিত মহল এসব প্রকাশনা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাল। মার্কিন মুলুকে ১৯১৭ সালে গুপ্তচরবৃত্তি আইনে যুদ্ধ প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ যুক্তি প্রদর্শনও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হলো। ইউজিন ডেবস হলেন প্রথম দিককার অন্যতম ভিকটিম। তিনি আমেরিকান সোশ্যালিস্ট পার্টির নেতা। ১৯১৮ সালে এই শ্রমিক নেতাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় শান্তির পক্ষে বক্তৃতা দেওয়ার অপরাধে। ১০ বছরের সাজা হয় তাঁর।
নিউইয়র্ক টাইমস দুই দশক ধরে নিজ চরিত্রের সঙ্গে সংগতি রেখে ডেবসকে শাস্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছিল। ১৮৯৪ সালের ৯ জুলাই এক সম্পাদকীয়তে পত্রিকাটি লিখে, ‘ডেবস আইন ভঙ্গকারী, মানবজাতির শত্রু। তাঁর বিরুদ্ধে পরোয়ানা থাকা এবং তাঁকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে ম্যালা কথা হয়েছে।’
পত্রিকাটিতে আরও বলা হয়, ‘এখন বাচালতা ত্যাগ করে কাজ শুরু করার সময় এসেছে। যদি ডেবসের আশপাশে কোনো কারাগার থেকে থাকে, তাহলে তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া উচিত। এবং তাঁর দেওয়া কুশিক্ষার ফলে যে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা অবশ্যই দমন করতে হবে ...মনে রাখা ভালো, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো বন্ধু এ দেশের সেনাদের হাতে কোনো দিন মারা পড়েনি—মরেছে শুধু শত্রুরা।’
এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দেখলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাক আক্রমণের আগে নিউইয়র্ক টাইমস-এর নৈপুণ্য এবং আজ উইকিলিকসের বিরুদ্ধে তাদের বৈরী আচরণ কোনোটাই বিস্ময়কর লাগে না। সরকারের বৈরী মনোভাবের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ের জনপ্রিয় প্রকাশকদের মোকাবিলা করতে হয় রাজস্বের উৎস হিসেবে বিজ্ঞাপনী বাস্তবতা। বিশ্লেষক জেমস কারেনের মতে, বিশ শতকের প্রথম দিকের ব্রিটিশ সংবাদপত্র ডেইলি হেরাল্ড-এর পাঠকসংখ্যা টাইমস, ফিন্যান্সিয়াল টাইমস ও গার্ডিয়ান-এর মিলিত পাঠকসংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ ছিল। পত্রিকাটি ১৯৬৪ সালে প্রকাশনা বন্ধ করতে বাধ্য হয়। বিশ্বের সবচেয়ে প্রচারিত ২০টি দৈনিকের অন্যতম হওয়া সত্ত্বেও এর প্রধান পাঠক শ্রমজীবী জনগণ হওয়ায় এটি লোভনীয় বিজ্ঞাপনী বাজার গড়ে তুলতে পারেনি।
বিজ্ঞাপন ঘাটতির আরেক শিকার উদারপন্থী নিউজ ক্রনিক্যাল। ১৯৬০ সালে এটি বন্ধ হয়ে যায়—ডানপন্থী ডেইলি মেইল-এ আত্তীকৃত হয়। যদিও পত্রিকাটির প্রচারসংখ্যা ছিল গার্ডিয়ান-এর ছয় গুণেরও বেশি।
বিজ্ঞাপনের ওপর উইকিলিকসের এই নির্ভরতা নেই, সত্য। বরং প্রকাশনা হিসেবে আমাদের আরেক ধরনের আর্থিক সমস্যার মোকাবিলা করতে হয়। ব্যাংক অব আমেরিকা, ভিসা (লন্ডনে রেজিস্ট্রিকৃত ভিসা ইউরোপসহ), মাস্টারকার্ড, পেপাল, ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন, সুইস পোস্টফিন্যান্স, মানিবুকারস ও অন্যান্য আর্থিক কোম্পানির আইনবহির্ভূত আর্থিক অবরোধ আমরা কীভাবে মোকাবিলা করব? এসব কোম্পানি তো ওয়াশিংটনের কৃপাধন্য থাকতে মরিয়া।
ইতিহাসের দীর্ঘ পথে চোখ রাখলে দেখা যায়, উইকিলিকসের অবস্থান সেই সম্মানিত ঐতিহ্যের ভেতরে যা স্বাধীনতার সুযোগ বিস্তৃত করে, জনগণের সামনে ‘সরকারের সব গূঢ় রহস্য’ উন্মোচন করার চেষ্টা চালানোর মাধ্যমে। এক অর্থে, গণমাধ্যম আসলে যা হওয়া উচিত—জনগণের গোয়েন্দা সংস্থা, শূকরের সামনে যে মুক্তা দেয়—উইকিলিকস তার-ই বিশুদ্ধ অভিব্যক্তি।

নিউ স্টেটসম্যান থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ: আহসান হাবীব
জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ: উইকিলিকসের এডিটর-ইন-চিফ।

ব্যক্তি, বিচ্ছিন্নতা ও ফেসবুক by জুনান নাশিত

সেদিন আমার এক আত্মীয় ভদ্রলোক বেশ ক্ষোভের সঙ্গেই বললেন, ‘টিভি, মোবাইলের অত্যাচারেই বাঁচা দায়, তার ওপর ফেসবুক! ছেলেমেয়ে দুটো যে ওতে কী পায় বুঝি না! কেবল ফেসবুক নিয়ে সময় কাটায়।’ আমি ওনার কথায় একটু বিব্রত হলাম। কারণ, আমি নিজেও একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী। এ তো গেল আমার আত্মীয় ভদ্রলোকের কথা। অফিসে, আড্ডায়ও ফেসবুক ভালো কি মন্দ এ নিয়ে মুখর তর্কে মেতে উঠতে দেখি অনেককেই। এসব কারণে আমার মতো যে কারও মনে প্রশ্ন জাগতে পারে—জাগা স্বাভাবিক—সত্যিই কি ফেসবুক আমাদের জীবনে আপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে? ফেসবুক কি কেবল আমাদের মূল্যবান সময়ই ধ্বংস করছে?
বর্তমান বাস্তবতায় আমাদের জীবন যে এক-একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ, এ কথায় কারও সম্ভবত দ্বিমত থাকার কথা নয়। বিচ্ছিন্নতা বাড়ছে ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে। মানুষ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে পরিবার থেকে। বিচ্ছিন্ন হচ্ছে সমাজ থেকে, এমনকি নিজের সত্তা থেকেও। যৌথ পরিবারপ্রথা ভেঙে পড়ছে। বাড়ছে নিউক্লিয়ার পরিবার। বিকল্প পরিবারের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। বিচ্ছিন্নতা নানা ধরনে এবং নানা কারণে আমাদের গ্রাস করছে। বিচ্ছিন্নতা থেকে জন্ম নিচ্ছে হতাশা। বাড়ছে জীবনবিমুখতা। আর জীবনবিরোধিতা সহজেই নানা ধরনের ব্যক্তিক ও সামাজিক অপরাধের জন্ম দিচ্ছে। এ ছাড়া বিচ্ছিন্নতা আমাদের আত্মকেন্দ্রিক ও স্বার্থপরও করে তুলছে। তৈরি করছে দূরত্ব। আর দূরত্ব তৈরি করছে অনান্তরিকতা। আন্তরিকতাহীন মানুষ বিদ্বেষকে প্রশ্রয় দেয় অতি সহজে। এতে করে বাড়ে হিংস্রতা। বাড়ে হানাহানি। হানাহানি নতুন করে বিচ্ছিন্নতার জন্ম দেয়। মানুষ ডুবে যায় নৈঃসঙ্গের অন্ধকার ভুবনে। নিঃসঙ্গ মানুষ ক্ষয়ে যায় অনবরত। ক্ষয়িষ্ণু জীবন তাকে খণ্ডিত চেতনায় ডুবিয়ে দেয়। সে তখন আর মহত্ত্বকে বড় কিছু ভাবতে পারে না। ক্ষুদ্রত্বের সীমাকেই জীবন ও গন্তব্য বলে ভেবে নেয়। আর এ ক্ষুদ্রত্বের সীমা বাড়িয়ে দেয় সীমাহীন দ্বিধাবিভক্তি; পথ ও মতের পার্থক্যকে করে প্রসারিত। তাই একক বিশ্বে মানুষ আজ শতধাবিভক্ত। যদিও পৃথিবী আজ অনেক বেশি একক ও অবিচ্ছিন্ন, কিন্তু মানুষ বিচ্ছিন্ন ও বিভক্ত হয়েছে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
আমাদের জীবনে আছে হরেক রকম ব্যস্ততা। কি সকাল কি সন্ধ্যা, সময়ের সঙ্গে তাল রেখে আমাদের ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটতে হয়। জীবন ও জীবিকার তাগিদে পিষ্ট হতে হতে আমরা ভুলতে বসি বন্ধুর মুখ। আতিথেয়তার কোমল সম্ভাষণে মনকে সিক্ত করার মতো ফুরসত আজ আমাদের কতটুকু আছে? এ বাস্তবতায় আমি আমার নিজের কাছে করা নিজের প্রশ্নের সহজ সমাধান খুঁজি। বলতে দ্বিধা নেই, সামাজিক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক ফেসবুক আমাদের বিচ্ছিন্ন জীবনপ্রবাহকে কিছুটা হলেও অবিচ্ছিন্নতার সূত্রে গাঁথতে সমর্থ হয়েছে। এ কথায় আমার ওই আত্মীয় ভদ্রলোকটির মতো অনেকেই হয়তো আঁতকে উঠবেন, আমি জানি। কিন্তু তাঁদের আশ্বস্ত করে বলতে পারি, আসলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই।
উন্নয়নশীল দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে হু হু করে। দিন দিনই তা বাড়ছে। অগণিত লোক আজ মোবাইল ফোনের গ্রাহক। এরও কি নেতিবাচক দিক নেই? আছে। তা সত্ত্বেও মানুষ এর ভালো দিকটিই গ্রহণ করেছে। তেমনি ক্রমবিচ্ছিন্ন মানুষ ফেসবুককেও সঙ্গী করে নিতে দ্বিধা করছে না। যদিও এ দেশে এর প্রসার এখনো ততটা নয়, কিন্তু এর ব্যবহার বাড়ছে। বিশ্বে এখন ৫০ কোটির বেশি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেই ব্যবহারকারীর এ সংখ্যা ৭০ শতাংশ। ফেসবুকে যারা সক্রিয়, তাদের ২০ কোটি মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে ফেসবুক ব্যবহার করে। সুতরাং, বাংলাদেশেও এর ব্যবহারের বিস্তৃতি ঘটবে নিঃসন্দেহে।
যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক টুইটারসহ অন্যান্য যেকোনো মাধ্যমের চেয়ে বেশি জনপ্রিয়। মাধ্যমটি যত জনপ্রিয়, তত এর সমালোচনাকারীর সংখ্যাও। পক্ষে যেমন মত পাওয়া যাবে ঢের, তেমনি বিপক্ষে বলার লোকেরও অভাব নেই। অনেকেই বলেন, ফেসবুক দাম্পত্য জীবন থেকে শুরু করে নানা সামাজিক অস্থিরতার জন্ম দিচ্ছে। কিন্তু এ দোষে কি কেবল ফেসবুকই দুষ্ট? সব প্রযুক্তিরই যেমন ভালো দিক রয়েছে, তেমনি রয়েছে মন্দ দিক। ভালো-মন্দের বিষয়টি নির্ভর করে এর ব্যবহারকারীর ওপর। কে কেমন করে ব্যবহার করছে, তার ওপর। আর কোনো কিছু ব্যবহারে যে সচেতনতা বাঞ্ছনীয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু তাই বলে ঢালাওভাবে ফেসবুকের বিরোধিতা করে কী লাভ? আমরা অন্ধ হলেই কি আর প্রলয় বন্ধ থাকবে?
আধুনিক জীবনে দ্রুত ও সহজলভ্য যোগাযোগের ক্ষেত্রে ফেসবুক অনন্যসাধারণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে। বহু দূরের কোনো বন্ধু কিংবা আত্মীয়ের সঙ্গে মুহূর্তে আমরা যোগাযোগ স্থাপন করতে পারছি। আমরা সম্পর্কসূত্রে গ্রথিত হচ্ছি। আনন্দ, দুঃখ, বেদনা একে অন্যের সঙ্গে ভাগ করার সুযোগ পাচ্ছি; জীবনে এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিংবা দীর্ঘদিনের যোগাযোগহীনতায় যে বন্ধুটিকে আমরা প্রায় ভুলে যেতে বসেছি, তাকেও ফেসবুকে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হতে পারছি। নিরাশার দোলাচলে দুলতে থাকা এ জীবনে এটা খুব একটা কম পাওয়া বলে আমার মনে হয় না। এ ছাড়া ইদানীং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও ফেসবুকের ইতিবাচক ব্যবহারের খবর আমরা হামেশাই পাচ্ছি। প্রসঙ্গক্রমে বলা যায় অস্ট্রেলিয়ার ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মধ্যপ্রাচ্যের গণবিপ্লব এবং জাপানের ভূমিকম্প ও সুনামির কথা; যেখানে দুর্যোগ-দুুর্বিপাকে মানুষ ফেসবুককে আশার আলো হিসেবে ব্যবহার করছে। আমি আগেই বলেছি, যেকোনো বিষয়েরই ভালো ও মন্দ দিক রয়েছে। কিন্তু আমরা কেন মন্দের কথা ভেবে ফেসবুকের ভালো দিকটা অবজ্ঞা করব? কেন নিজেদের বঞ্চিত করব প্রযুক্তির আধুনিক সিঁড়িতে পা রাখার সুবর্ণ সুযোগ থেকে?
জুনান নাশিত: কবি ও সাংবাদিক।
nashit_junan@yahoo.com

বেন আলীকে তিউনিসিয়ায় ফেরত পাঠানোর দাবিতে বিক্ষোভ

তিউনিসিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট জয়নুল আবেদিন বেন আলীকে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানোর দাবিতে গত শুক্রবার প্রায় ৩০০ তিউনিসীয় সৌদি দূতাবাসের বাইরে বিক্ষোভ করেছেন। বার্তা সংস্থা সিনহুয়া এ কথা জানায়।
বিক্ষোভকারীরা সাবেক প্রেসিডেন্ট বেন আলীর কুশপুত্তলিকায় জুতা নিক্ষেপ করেন। এ ছাড়া তাঁর প্রতীকী বিচার করা হয়। প্রতীকী বিচারে বেন আলীকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়।
গত ১৪ জানুয়ারি সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভের মুখে দেশ থেকে পালিয়ে সৌদি আরবে আশ্রয় নেন বেন আলী।
কয়েক দিন আগে তিউনিসিয়ার বিচারমন্ত্রী লাজহার কারুই চেবি ঘোষণা করেন, কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে ১৮টি অভিযোগ আনতে যাচ্ছে। অভিযোগের মধ্যে ইচ্ছাকৃত মানুষ হত্যা থেকে শুরু করে মাদক চোরাচালান পর্যন্ত রয়েছে। বিচারমন্ত্রীর এ ঘোষণার পর গত শুক্রবার এই বিক্ষোভ করা হলো।
তিউনিসিয়ার টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে চেবি বলেন, বেন আলীর বিরুদ্ধে মামলা করার পর তাঁকে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সহজ হবে।
গত জানুয়ারির শেষের দিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট বেন আলী, তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে তিউনিসিয়া।

আফগানিস্তানে পাঁচ বিদেশি সেনাসহ নিহত নয়

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে আফগান সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে গতকাল শনিবার আত্মঘাতী হামলায় পাঁচ বিদেশি ও চার আফগান সেনা নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অন্তত আটজন। তালেবান জঙ্গিরা এই হামলার দায়দায়িত্ব স্বীকার করেছে।
গত ডিসেম্বরের পর আফগানিস্তানে বিদেশি সেনাদের ওপর এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা। আগামী জুলাইয়ে দেশটি থেকে সীমিত আকারে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের কাজ শুরু হবে।
জালালাবাদ শহরের কাছে লাঘমান প্রদেশের গামবিরি মরুভূমি এলাকার একটি সেনাঘাঁটিতে এক আত্মঘাতী হামলাকারী ওই হামলা চালায়। হামলাকারী আফগান সেনাবাহিনীর পোশাক পরা ছিল।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহায়তা বাহিনীর (আইএসএএফ) এক বিবৃতিতে বলা হয়, আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহীদের হামলায় আইএসএএফের পাঁচ সেনা নিহত হয়েছে।
আইএসএএফের মুখপাত্র মেজর টিম জেমস নিশ্চিত করেছেন যে লাঘমান প্রদেশে আফগান সেনাবাহিনীর ঘাঁটিতে হামলায় ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে। তবে নিহত সেনাদের জাতীয়তা সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি। টিম জেমস জানান, ওই সেনা ঘাঁটিতে ১০০ জনেরও বেশি আইএসএএফ সেনা রয়েছে।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পৃথকভাবে জানায়, হামলায় আফগান সেনাবাহিনীর চার সদস্য নিহত এবং চার দোভাষীসহ আট আফগান নাগরিক আহত হয়েছে।

দলীয় সিদ্ধান্ত না মানায় পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের ১৮ নেতা বহিষ্কার

পশ্চিমবঙ্গের তিন জেলায় দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় ১৮ জন নেতাকে বহিষ্কার করেছে কংগ্রেস। দল ও জোটের স্বার্থে ওই নেতাদের ভোট না দিতে দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
বহিষ্কৃত নেতারা হলেন: মালদা জেলার আল-বেরুণি, মনিরুল ইসলাম, দেবাশীষ সরকার, পার্থ বিশ্বাস, শাহনেওয়াজ কাদরি; মুর্শিদাবাদের অমিনুল ইসলাম, সৈয়দ আলমগীর, মীর আলমগীর, শামছুজ্জামান বিশ্বাস, সানু শেখ এবং উত্তর দিনাজপুরের কে আগরওয়াল, হামিদুল রহমান, রবুল বক্স, সনাতন দত্ত, হাফিজুল ইকবাল, রাজকুমার জৈন, হূদয়নাথ সরকার ও দুলাল রাজবংশী। তাঁরা সবাই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এদিকে তৃণমূল নেত্রী মমতাও ঘোষণা দিয়েছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জয়ী হলেও কংগ্রেস-তৃণমূল জোটে তাঁদের স্থান হবে না।

বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন নির্মিত হচ্ছে সৌদি আরবে

সৌদি আরবে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন নির্মিত হতে যাচ্ছে। নির্মিতব্য আকাশচুম্বী এ ভবনের নাম দেওয়া হয়েছে কিংডম টাওয়ার। এর উচ্চতা হবে এক হাজার ৬০০ মিটার।
আরব গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, জেদ্দা শহরের ৩০ কিলোমিটার উত্তরে লোহিত সাগর উপকূলে আবহুর শহরে ৮ দশমিক ৯ মাইল জায়গাজুড়ে কিংডম টাওয়ার নির্মাণ করা হবে। এর নির্মাণ খরচ ধরা হয়েছে তিন হাজার কোটি মার্কিন ডলার। লিফটে করে ভবনটির সবচেয়ে উঁচু তলায় উঠতে সময় লাগবে ১২ মিনিট। এতে ৮০ হাজার মানুষের থাকার ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ও হোটেল থাকবে। এ ছাড়া প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ দর্শনার্থী ভবনটি পরিদর্শন করতে পারবে।
কিংডম টাওয়ারের উচ্চতা বুর্জ খলিফার প্রায় দ্বিগুণ। বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন বুর্জ খলিফার উচ্চতা ৮২৮ মিটার।

দলীয় প্রার্থীদের ১৫ লাখ করে রুপি দিয়েছে তৃণমূল

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন জোট বামফ্রন্টের প্রধান শরিক সিপিআইএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গৌতম দেব অভিযোগ করেছেন, বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস কালো টাকা ব্যবহার করছে। দলটির নেতৃত্ব থেকে দলীয় প্রার্থীদের নগদ ১৫ লাখ করে রুপি দেওয়া হয়েছে।
কলকাতা প্রেসক্লাবে গতকাল শনিবার মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে গৌতম দেব এসব অভিযোগ তোলেন।
গৌতম দেব বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা ছবি বিক্রির নামে কালো টাকা হালাল করতে চাইছেন। গত ২৫ মার্চ থেকে তৃণমূল ভবন থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায়ের তত্ত্বাবধানে দলীয় বিধায়ক প্রার্থীদের প্রত্যেককে নগদ ১৫ লাখ করে রুপি দেওয়া হয়েছে। প্রার্থীদের মোট ৩৩ কোটি ৯০ লাখ রুপি দেওয়া হয়। এই অর্থ হালাল করার জন্য অর্থের সঙ্গে ১৫ লাখ রুপির কুপন দেওয়া হয়েছে। যাতে ওই প্রার্থী বলতে পারেন, সাধারণ মানুষের কাছে কুপন বিক্রি করে তিনি অর্থ সংগ্রহ করেছেন। শুধু তা-ই নয়, কুপনের একদিকের অংশ দেওয়া হয়েছে প্রার্থীকে। যাতে প্রার্থী প্রমাণ করতে পারেন, সব কুপন বিক্রি করেই অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। পরে কুপনের বাকি অংশটি বস্তায় ভরে রাখা হয় এবং কয়েক বস্তা পুড়িয়ে দেওয়া হয়। সেই কুপন পোড়ানোর ছবিও বামফ্রন্টের হাতে রয়েছে।
গৌতম দেব বলেন, মমতা নির্বাচনী প্রচারের জন্য অন্তত ৩০ কোটি রুপির বিজ্ঞাপন দিয়েছেন বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে। প্রচারে ঘুরছেন হেলিকপ্টারে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মমতা কোথা থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পেলেন?
গৌতম দেব আরও বলেন, দিল্লির স্টেট ব্যাংক পার্লামেন্ট শাখায় মমতার রয়েছে ১৫ লাখ রুপি। সে প্রমাণও তাঁদের কাছে রয়েছে। তিনি বলেন, তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায়ের হাত দিয়ে কালো টাকা দলীয় প্রার্থীদের কাছে যাচ্ছে। এ জন্য মুকুল রায়কে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
আনন্দবাজার-এসি নিয়েলসনের সমীক্ষা প্রতিবেদন উড়িয়ে দিয়ে গৌতম দেব বলেন, গত নির্বাচনেও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ ধরনের সমীক্ষা প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু ফল হয়েছিল উল্টোটা। বামফ্রন্টই জিতেছিল।
গত শুক্রবার প্রকাশিত ওই সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, বামফ্রন্ট এবার মাত্র ৭৪টি আসন পাবে। কংগ্রেস-তৃণমূল জোট পাবে ২১৫টি আসন।

মেয়েকে হত্যার দায়ে ইরাকি নাগরিকের ৩৪ বছরের জেল

নিজের মেয়েকে হত্যা করার দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজনা অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত এক ইরাকি অভিবাসীকে ৩৪ বছরের জেল দিয়েছেন। ম্যারিকোপা কাউন্টি আদালতের বিচারক রোল্যান্ড স্টেইনল গত শুক্রবার এ রায় ঘোষণা করেন।
ফালেহ হাসান আলমালেকি নামের ওই ইরাকি নাগরিক ২০০৯ সালে তাঁর মেয়েকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা করেন। মেয়ে পশ্চিমা ধারায় জীবন যাপন করায় আলমালেকি ২০০৯ সালের অক্টোবর মাসে তাঁকে হত্যা করেন। আলমালেকি অ্যারিজনার ফিনিক্স ভ্যালি এলাকার একটি পার্কিং লটে জিপ গাড়ির চাপা দিয়ে তাঁর মেয়ে নুর আলমালেকিকে (২০) হত্যা করেন। এ ঘটনায় নুরের প্রেমিকের মা আহত হন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আলমালেকির মেয়ে পারিবারিকভাবে আয়োজিত বিয়ে প্রত্যাখ্যান করে তাঁর প্রেমিক ও প্রেমিকের মায়ের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আলমালেকি মেয়েকে হত্যা করেন।
মেয়েকে হত্যার পর আলমালেকি পুলিশকে জানান, তাঁর মেয়ে ইরাকি ও মুসলিম মতাদর্শ ভুলে পশ্চিমা জীবনধারায় অতিমাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল। এ জন্য তিনি পরিবারের সম্মান রক্ষার জন্য মেয়েকে হত্যা করেছেন।

মন্ত্রিসভা ভেঙে দিলেন প্রেসিডেন্ট ব্লেইস

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোর প্রেসিডেন্ট ব্লেইস কম্পাওরে দেশটির মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নতুন সেনাপ্রধানের নাম ঘোষণা করেছেন। ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীসহ সেনা বিদ্রোহ ও দেশটিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে জনতার বিক্ষোভের মুখে তিনি মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
শুক্রবার রাতে দ্বিতীয়বারের মতো বিদ্রোহী সেনারা রাস্তায় নেমে আসে। তারা রাজধানী ওয়াগাদুগৌয়ের বিভিন্ন এলাকায় লুটপাট চালায়। বিদ্রোহীরা একটি বেসরকারি রেডিও স্টেশনে ঢুকে সবকিছু তছনছ করে।
এর আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হয়, ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের বিদ্রোহের মুখে গত শুক্রবার ভোরের দিকে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ থেকে ব্লেইস পালিয়ে যান। রাজধানী ওয়াগাদুগৌ থেকে ৩০ কিলোমিটার উত্তরে নিজ শহর জিনিয়ারেতে তিনি আশ্রয় নেন। পরে আবারও প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ফিরে আসেন।
মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে প্রেসিডেন্ট ব্লেইস বলেন, ‘নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মহাসচিবেরা মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।’ তবে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের তারিখ উল্লেখ করেননি তিনি। প্রেসিডেন্ট ব্লেইস বলেন, ‘বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। তারা অস্ত্র সমর্পণ করেছে।’
৬০ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট ব্লেইস দেশটির নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে কর্নেল-মেজর অনারে নাবেরে ট্রাওরের নাম ঘোষণা করেন। অনারে নাবেরে জেনারেল ডমিনিক ডিজিনডিজেরের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
রাজধানী ওয়াগাদুগৌয়ের দুটি সেনা ব্যারাক থেকে শুক্রবার রাতভর ফাঁকা গুলির শব্দ শোনা যায়। তবে বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ডের যে স্থান থেকে বিদ্রোহ শুরু হয় সেখানে তেমন কিছু ঘটেনি।

গাদ্দাফি বাহিনী মিসরাতায় গুচ্ছবোমা ব্যবহার করেছে

লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মিসরাতায় গাদ্দাফির অনুগত সেনারা গুচ্ছবোমা (ক্লাস্টার) ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছে বিদ্রোহীরা। নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচও গাদ্দাফি বাহিনীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলেছে। তবে লিবিয়া সরকারের একজন মুখপাত্র এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এদিকে বিদ্রোহীদের একজন মুখপাত্র দাবি করেছেন, গাদ্দাফি বাহিনী গতকাল শনিবার মিসরাতায় অন্তত ১০০টি রকেট হামলা চালিয়েছে।
বিদ্রোহী সেনাদের পর হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গাদ্দাফির অনুগত সেনাদের বিরুদ্ধে মিসরাতায় গুচ্ছবোমা ব্যবহারের অভিযোগ তোলে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিশেষ উপদেষ্টা ফ্রেড আব্রাহামস বলেন, ‘গাদ্দাফির অনুগত সেনারা মিসরাতায় গুচ্ছবোমা ব্যবহার করেছে। এটা নিয়ে “কোনো সংশয়” নেই। হামলায় এমএটি-১২০ মডেলের গুচ্ছবোমা ব্যবহার করা হয়। এর প্রমাণ হিসেবে গুচ্ছবোমা ব্যবহারের ছবি আমাদের কাছে আছে।’
গত বছরের আগস্ট মাসে গুচ্ছবোমার ব্যবহার আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশ গুচ্ছবোমা নিষিদ্ধ করার পক্ষে স্বাক্ষর করে।
আব্রাহামস বলেন, লিবিয়া গুচ্ছবোমা নিষিদ্ধের পক্ষে স্বাক্ষর করেনি, এটা ঠিক। কিন্তু মিসরাতায় গুচ্ছবোমা ব্যবহার করে ‘যুদ্ধ আইন লঙ্ঘন করেছে’। তিনি বলেন, ‘মিসরাতায় ব্যবহূত গুচ্ছবোমার ছবি ও বোমা বহনের গাড়ির ছবিও আমাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা খুব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি, মিসরাতায় স্পেনের তৈরি এমএটি-১২০ গুচ্ছবোমা ব্যবহার করা হয়। এই বোমার বিস্ফোরণ ঘটতে দেখেছেন এমন একজন অ্যাম্বুলেন্সচালকের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। তাঁর বর্ণনায়ও গুচ্ছবোমার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। সব মিলিয়ে আমরা নিশ্চিত গাদ্দাফি বাহিনী মিসরাতায় গুচ্ছবোমা ব্যবহার করেছে।’
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গাদ্দাফি বাহিনী গত বৃহস্পতিবার রাতে মিসরাতায় গুচ্ছবোমা হামলা চালায়।
গুচ্ছবোমা ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে লিবিয়া সরকারের মুখপাত্র মুসা ইব্রাহিম দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘এটা অসম্ভব। আমরা এটা করতে পারি না। নৈতিকভাবে বা আইনগতভাবে এটা আমরা করতে পারি না। আমরা এ অভিযোগ প্রমাণের জন্য চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘মিসরাতায় আমরা গুচ্ছবোমা ব্যবহার করলে কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি বিশ্বের সামনে উঠে আসবে। কারণ, কয়েক দিনের মধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের একটি দল লিবিয়া আসছে।’ হিউম্যান রাইটস ওয়াচকেও লিবিয়ায় পরিদর্শনের আহ্বান জানান মুসা ইব্রাহিম।
বিদ্রোহীদের মুখপাত্র আবদেলবাসেত আবু এমজেরেয়িক অভিযোগ করেন, গতকাল শনিবার সকালে মিসরাতার শিল্প এলাকায় অন্তত ১০০টি রকেট হামলা চালায় গাদ্দাফি বাহিনী। তবে এ হামলায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, গত শুক্রবারও ১০০টির মতো রকেট হামলা চালানো হয়। তারা জানায়, সরকারি সেনারা মিসরাতার কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থার (আইএমও) সমন্বয়ক জেরেমি হাসলাম জানান, গত শুক্রবার রাতে একটি জাহাজে করে মিসরাতা থেকে এক হাজার ২০০ জন অভিবাসীকে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় শহর বেনগাজিতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মিসরাতায় এখনো আট থেকে ১০ হাজার অভিবাসী রয়েছেন, যাঁদের অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়া উচিত।

মিসরে মোবারকের দল এনডিপি বিলুপ্ত

মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টিকে (এনডিপি) বিলুপ্ত করেছেন দেশটির শীর্ষ আদালত। সম্প্রতি গণবিক্ষোভের মুখে পতনের পর বিক্ষোভকারীরা মোবারকের বিচারের পাশাপাশি তাঁর দল এনডিপিরও বিলুপ্তি দাবি করে আসছিল।
কায়রোয় সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত (সুপ্রিম অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কোর্ট) গতকাল শনিবার এনডিপির বিলুপ্তি ঘোষণা করেন। দলটির সব সম্পদ জব্দ করে সরকারি তহবিলে হস্তান্তরেরও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মোবারকের পূর্বসূরি আনোয়ার সাদাত ১৯৭৮ সালে এনডিপি প্রতিষ্ঠা করেন। সেই থেকে ২০১১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ দলের নেতারাই মিসরের ক্ষমতায় ছিলেন। গণবিক্ষোভের মুখে গত ১১ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা ছাড়েন মোবারক। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আটক রয়েছেন।
গত ১২ এপ্রিল হূদেরাগে আক্রান্ত হন মোবারক। এরপর হাসপাতালে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই তাঁকে আটক করা হয়। তাঁর দুই ছেলেকেও আটক করা হয়েছে। দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার বিষয়ে তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের স্বার্থে তাঁদের ১৫ দিনের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, দুর্নীতি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে মোবারকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এ ছাড়া গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে বিক্ষোভের সময় জনতার বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন ও নির্যাতন চালানোর ঘটনারও তদন্ত চলছে তাঁর বিরুদ্ধে। আরব বিশ্বের কোনো সাবেক শাসকের বিরুদ্ধে এমন তদন্তের ঘটনা নজিরবিহীন।

আগামী সপ্তাহে দেশ থেকে জরুরি অবস্থা তুলে নেবেন আসাদ

সিরিয়ায় ৪৮ বছর ধরে বলবৎ জরুরি অবস্থা আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ। গতকাল শনিবার নবগঠিত মন্ত্রিসভায় ভাষণদানকালে তিনি এ ঘোষণা দেন। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ ঘোষণা দিলেন। গতকাল রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাঁর এ ঘোষণা প্রচারিত হয়। বিক্ষোভকারীদের অনেকগুলো দাবির মধ্যে মূল দাবি ছিল জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার। জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের দাবিতে গত শুক্রবারও রাজধানী দামেস্কে কয়েক হাজার লোক বিক্ষোভ করে।
এর আগে আসাদ জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের বিষয়ে পর্যালোচনার জন্য একটি কমিশন গঠনের নির্দেশ দেন।
আসাদ বলেন, ‘আমার ধারণা. আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে কমিশন তার কাজ শেষ করে সরকারের কাছে সুপারিশ পেশ করবে।’
দেশটিতে জরুরি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলে আসছে। বিক্ষোভে গুলিতে এ পর্যন্ত দুই শতাধিক লোকের মৃত্যু হয়েছে।

ব্রিটিশ রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকার আইনে পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা

ব্রিটিশ রাজসিংহাসনের ‘বৈষম্যমূলক’ উত্তরাধিকার আইনে পরিবর্তনের কথা চিন্তাভাবনা করছে যুক্তরাজ্য সরকার। গতকাল শনিবার একজন সরকারি মুখপাত্র এ কথা জানিয়েছেন। এ পরিবর্তন আনা হলে প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটনের প্রথম সন্তান মেয়ে হলেও সে রানি হতে পারবে।
যুক্তরাজ্যের রাজসিংহাসনের বর্তমান উত্তরাধিকার আইন অনুসারে রাজার প্রথম পুত্রসন্তান রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকারী হবে। এ ক্ষেত্রে বড় বোন থাকলেও পুত্রসন্তানই সিংহাসনে বসবে।
সাংবিধানিক সংস্কারের দায়িত্বে থাকা ব্রিটিশ উপপ্রধানমন্ত্রী নিক ক্লেগ এ আইনে পরিবর্তন আনার বিষয়ে পথ খুঁজছেন। ইতিমধ্যে বিষয়টি রাজকীয় উপদেষ্টা পরিষদ প্রিভি কাউন্সিলে উপস্থাপনও করেছেন তিনি।
ব্রিটিশ সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, ‘রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকার আইনে পরিবর্তন আনার বিষয়টি জটিল। এ জন্য সচেতন ও সুচিন্তিত দৃষ্টিভঙ্গি দরকার।’ ইতিমধ্যে ব্রিটিশ কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলেও তিনি জানান। কমনওয়েলথভুক্ত ১৬টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হচ্ছেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। এ কারণে ব্রিটিশ সিংহাসনের উত্তরাধিকার আইনের পরিবর্তনের বিষয়টির সঙ্গে কমনওয়েলথ দেশগুলোর স্বার্থ কিছুটা হলেও জড়িত।
তবে উপপ্রধানমন্ত্রী ক্লেগ লৈঙ্গিক সাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উত্তরাধিকার আইন পরিবর্তনে প্রয়াসী হলেও প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এ বিষয়ে তেমন আগ্রহী নন। ক্যামেরন বলেছেন, তাঁর ধারণা, বিষয়টি খুবই জটিল ও সময়সাপেক্ষ। তাই সরকারের এখন উচিত অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া।
বর্তমানে প্রিন্স উইলিয়াম পিতা চার্লসের পর সিংহাসনের উত্তরাধিকারের সারিতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। এর আগে ২০০৫ সালে লেবার পার্টির নেতা লর্ড ডাবস ব্রিটিশ রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকার আইনে পরিবর্তন আনার বিষয়টি পার্লামেন্টে উপস্থাপন করেন। তখন সরকারের কাছে বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি। এর কারণ হিসেবে বলা হয়, প্রিন্স উইলিয়াম ও হ্যারি উভয়েই অবিবাহিত হওয়ায় বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

প্রধান মুদ্রাগুলোর বিনিময় হারে মিশ্র প্রবণতা

দেশে গত সপ্তাহজুড়ে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে সরাসরি লেনদেনে মার্কিন ডলার ও স্থানীয় টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল ছিল। সপ্তাহের শুরুতে প্রতি ডলার সর্বোচ্চ ৭২ টাকা ৮৬ পয়সায় লেনদেন হয় এবং সপ্তাহের শেষ লেনদেনেও একই হার বজায় থাকতে দেখা যায়।
আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে গত সপ্তাহের (৯-১৫ এপ্রিল) শুরুতে ইউরোপের একক মুদ্রা ইউরোর দর যথেষ্ট বাড়তির দিকে থাকলেও সপ্তাহের শেষে কিছুটা পড়ে যায়। আগের সপ্তাহে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) সুুদের হার ১ শতাংশ থেকে ১ দশমিক ২৫ শতাংশে বাড়ানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর তেমন কোনো ইঙ্গিত বাজারে না থাকায় ইউরো কিছুটা সমর্থন পেয়েছে বলে মনে করা হয়।
শুক্রবার জাপানি ইয়েন শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এতে মার্কিন ডলারের দর আরও পড়ে যায়। অন্যদিকে ফেডারেল রিজার্ভের সঙ্গে ইউরোপীয় অঞ্চলের সুদের হারের পার্থক্য না কমার ধারণা থেকে ইউরোর দর ডলারের চেয়ে যতটা বাড়ার কথা, তা বাড়েনি।
সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস শুক্রবারে প্রতি ডলার শূন্য দশমিক ৮৯৩২ সুইস ফ্রাঁ, প্রতি পাউন্ড স্টার্লিং ১ দশমিক ৬৩২৫ ডলারে এবং প্রতি ডলার ৮৩ দশমিক ১৯ ইয়েনের কাছাকাছি লেনদেন শেষ করে।
এদিকে দেশে আগের সপ্তাহের মতো গত সপ্তাহেও কলমানির (ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরস্পরের কাছ থেকে নেওয়া স্বল্প মেয়াদের কর্জ) সুদের হার ১০ থেকে ১২ শতাংশে লেনদেন হয়েছে। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক রেপোর মাধ্যমে তহবিলের জোগান অব্যাহত রেখেছে। তিন দিনের ছুটির ঠিক আগে প্রথম পাক্ষিক শেষ ও দ্বিতীয় পাক্ষিকের শুরুতে ন্যূনতম নগদ সংরক্ষণ ঠিক রাখতে গত সপ্তাহের শেষে কলমানির বাজারে বাড়তি চাপ দেখা গেছে বলে বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন।
আলোচ্য সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংকে ১৮২ দিন মেয়াদি সরকারি ট্রেজারি বিলের ৩৫০ কোটি টাকার নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নিলামে অন্তর্নিহিত সুদের হার ৫ দশমিক ৯৫ শতাংশে নির্ধারিত হয়েছে, যা আগের নিলামের চেয়ে ২৯ বেসিস পয়েন্ট বেশি।

গ্রীন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স ও মার্কেন্টাইল ইনস্যুরেন্সের লভ্যাংশ ঘোষণা

গ্রীন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স ৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এবং মার্কেন্টাইল ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ১২ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আজ রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
গ্রীন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স: প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ ২০১০ সালের জন্য এ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ১৫ জুন বেলা ১১টায় ঢাকার দিলকুশায় হোটেল পূর্বাণী ইন্টারন্যাশনালে অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমের রেকর্ড ডেট ২৮ এপ্রিল। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ওই সময় শেয়ারপ্রতি আয় ১২.৩১ টাকা, শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদমূল্য ৭৬.৬০ টাকা ও নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ৩.১৪ টাকা।
মার্কেন্টাইল ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড: প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ ২০১০ সালের জন্য এ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ২৭ জুন বেলা ১১টায় ঢাকার নিউ ইস্কাটনে শহীদ এ কে এম শামসুল হক খান মেমোরিয়াল হলে অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমের রেকর্ড ডেট ২৭ এপ্রিল। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ওই সময় শেয়া

রিহ্যাবের নির্বাচন আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে

আবাসন খাতে ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল শনিবার রিহ্যাবের নির্বাচনী বোর্ড আসন্ন ২০১১-১২ মেয়াদের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেছে। এবারের নির্বাচনে প্যানেলের পরিবর্তে প্রার্থীরা এককভাবে নির্বাচন করবেন। তা ছাড়া প্রতিষ্ঠানের মালিক বা অংশীদার ছাড়া কেউ ভোটার হতে পারবেন না।
নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। রিহ্যাব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান এস এম নূরুল হক, সদস্য প্রকৌশলী সরদার মো. আমিন ও এন জোহা এবং আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম ও সদস্য আসাদুর রহমান জোয়ারদার উপস্থিত ছিলেন।
এস এম নূরুল হক বলেন, বিভিন্ন জটিলতার কারণে এক বছর আগে কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আগের সব জটিলতা দূর হওয়ায় ৫ এপ্রিল নির্বাচন বোর্ডের অষ্টম সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক তফসিল ঘোষণা করা হচ্ছে। ঘোষিত তফসিল অনুসারে নির্ধারিত দিনেই নির্বাচন সম্পন্ন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে সরদার মো. আমিন জানান, এবারের নির্বাচনে কেবল কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিকানা বা অংশীদারিত্ব থাকলেই একজন ভোটার হতে পারবেন। তবে কোনো অবস্থায় ওই প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ভোটার হতে পারবেন না। তা ছাড়া প্যানেলভুক্ত হয়েও নির্বাচন করা যাবে না। সব প্রার্থীকে এককভাবে নির্বাচন করতে হবে। ইতিমধ্যে রিহ্যাবের সংঘবিধিতে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে রিহ্যাবের সদস্যসংখ্যা ৯৯৪।
ঘোষিত তফসিল অনুসারে, আগামী ১ জুন সংগঠনের সদস্যদের কাছ থেকে প্রাপ্য বকেয়া গ্রহণের শেষ সময়। এ ছাড়া ভোটার তালিকার জন্য তথ্য সংগ্রহ করার শেষ দিন ২ জুন। ১১ জুন প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। ২২ জুন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচনী বোর্ড। মনোনয়নপত্র বণ্টন ও গ্রহণের শেষ সময় ২৩ জুন বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৬ জুলাই চূড়ান্ত প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করা হবে। আগামী ৩০ জুলাই ভোট গ্রহণ হবে এবং বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

নর্দার্ন পাওয়ার সলিউশনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত কাল

নর্দার্ন পাওয়ার সলিউশনের ৫০ শতাংশ রূপান্তর যোগ্য বন্ড ছাড়ার অনুমোদনের ব্যাপারে কাল সোমবার সিদ্ধান্ত নেবে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। কমিশনের নিয়মিত সভায় এ বিষয়টি এজেন্ডা হিসেবে থাকছে বলে এসইসি সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে ৬ এপ্রিল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় বাজারে আসার ব্যাপারে অনুমোদন দেয়নি সংস্থাটি।
এসইসি সূত্রে জানা যায়, কোম্পানিটি তাদের মূলধন আরও ১৭৫ কোটি টাকা বাড়ানোর লক্ষ্যে ৫০ শতাংশ রূপান্তরযোগ্য বন্ড ছাড়ার ব্যাপারে এসইসিতে আবেদন করে। কোম্পানিটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৬ এপ্রিল কমিশনের নিয়মিত সভায় এজেন্ডা হিসেবে বিষয়টি আলোচনায় আনা হয়। বিস্তারিত আলোচনার পর গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাগজপত্র না থাকায় ওই দিন বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
এসইসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, এসইসিতে জমা দেওয়া নর্দার্ন পাওয়ার সলিউশনের কাগজপত্রের কিছু কমতি ছিল। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে আগেই চিঠি দেওয়া হয়। আগামীকালের কমিশন সভায় বিষয়টি এজেন্ডা হিসেবে থকছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

আন্তবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে আন্তবিশ্ববিদ্যালয় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট। ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রতিযোগিতায় গতকাল উদ্বোধনী দিনে জিতেছে স্বাগতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি), শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি), বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)। ইবি ৪৫ রানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে, শেকৃবি ৯ উইকেটে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে, শাবিপ্রবি ৮ রানে কুয়েটকে এবং বুয়েট ৮ উইকেটে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে হারিয়েছে।

ইফতেখারের প্রথম সেঞ্চুরি

সেঞ্চুরি তো দূরের কথা, প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে এর আগে ফিফটিও ছিল না। বড় ভাইকে রানে ফিরতে দেখে হয়তো উদ্বুদ্ধ হলেন ইফতেখার নাঈম। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের শেষ দুই ম্যাচে ফিফটি পেয়েছিলেন শাহরিয়ার নাফীস। ৩ বছরের ছোট ভাই ইফতেখার কাল পেলেন প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরি।
জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে বগুড়ায় ঢাকার বিপক্ষে নাঈমের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ২ উইকেটে ২৯২ রান তুলেছে বরিশাল। রানের মাঝে আছেন জাতীয় দলের বাইরে থাকা ব্যাটসম্যান রাজিন সালেহ। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরির পর কাল মাত্র ৭ রানের জন্য মিস করেছেন সেঞ্চুরি। তবে তাঁর আর তাসামুলের ফিফটিতে রাজশাহীতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৬ উইকেটে ২৬৮ রান তুলে দিন শেষ করেছে সিলেট।
শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাট করতে নামা বরিশাল ২৭ রানে হারায় এবারের লিগে তাদের সর্বোচ্চ রান করা নাসিরউদ্দিন ফারুককে। ওপেনার বিকাশ শর্মাকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ৮৫ রানের জুটি গড়েন তিনে নামা ইফতেখার। ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি করে বিকাশ আউট হওয়ার পর সারা দিনে আর উইকেট নিতে পারেনি ঢাকা। ইফতেখার ও অধিনায়ক শাহিনের তৃতীয় উইকেটে এসেছে ১৮০ রান। ২৫৭ বলে ২১ চার ও ১ ছক্কায় ১৩৫ রানে অপরাজিত আছেন ইফতেখার নাঈম। এবারের লিগে তৃতীয় ফিফটি করে ৭৭ রানে অপরাজিত আছেন শাহিন।
শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে মাত্র ২৪ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ফেলা সিলেটকে ম্যাচে ফেরায় গোলাম মাবুদ (৩৫) ও রাজিনের ৫০ রানের জুটি। ১৫ রানের মধ্যে মাবুদ ও ভাই গোলাম রহমান বিদায় নিলে পঞ্চম উইকেটে তাসামুল হকের সঙ্গে ১০৯ রানের জুটি গড়েন রাজিন। শাহজাদার বলে নাঈমের হাতে ধরা পড়ে সেঞ্চুরি পাওয়া হয়নি, তবে ২১৪ বলের ইনিংসটার পথেই ঢাকার ইলিয়াস সানিকে (৪৩৭) ছাড়িয়ে এবারের লিগের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়ে যান রাজিন।

শ্রীলঙ্কান বোর্ডের সমালোচনায় মুরালি

আইপিএলের মাঝপথে লঙ্কান ক্রিকেটারদের দেশে ফিরতে বলায় বোর্ডের কঠোর সমালোচনা করলেন স্পিন-জাদুকর মুত্তিয়া মুরালিধরন। মুরালিধরনের কথা, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট খেলোয়াড়দের ২০ মে পর্যন্ত আইপিএল খেলার অনুমতি দিয়ে ৫ মে তারিখের মধ্যে তাদের ডেকে নেওয়াটা ঠিক নয় এবং এই ঘটনা ভারতীয় বোর্ডকে খেপিয়ে দেবে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া মুরালিধরনের কণ্ঠে ক্ষোভের সুর, ‘বোর্ড তো (এসএলসি) তাদের ২০ মে পর্যন্ত খেলার অনুমতি দিয়েছিল। আমি জানি না হঠাৎ করে এমন কী হলো। খেলোয়াড়দের ৫ মে আসতে বলা হয়েছে। এটি এসএলসির দোষ, কারণ তারা যে অনাপত্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছিল সেখানে ২০ মে পর্যন্ত সময় ছিল, এটি বদলে ৫ মে করাটা অবশ্যই ভুল।’
মুরালিধরন মনে করেন ঘটনাটা ক্রিকেটারদের মন ভেঙে দেবে, ‘খেলোয়াড়দের মন ভেঙে যাবে, কারণ ৫ মে ফিরে গেলে অর্ধেক আইপিএলই তারা মিস করবে। বোর্ডের উচিত ছিল খেলোয়াড়দের আগেই জানানো।’
খেলোয়াড়দের মন তো ভাঙবেই, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি এতে দুই দেশের বোর্ডের মধ্যেই সম্পর্কের অবনতির আশঙ্কা করছেন আদতে যা শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটেরই জন্যই ক্ষতির কারণ, ‘খেলোয়াড় ও বোর্ডের মধ্যে কিছুটা হলেও ঝামেলা হতে পারে, এমনকি ভারতীয় বোর্ডের সঙ্গেও। এসএলসি যদি এই বিষয়ে সহযোগিতার মনোভাব না দেখায় তবে ভারতের কাছ থেকে অনেক কিছুই হারাবে।’
বিশ্বকাপ আয়োজন করে ঋণ বেড়েছে শ্রীলঙ্কার। এবারের আইপিএলে নতুন দল কোচি টাস্কার্সের হয়ে খেলা মুরালিধরন ওই প্রসঙ্গটাও এড়িয়ে যাননি, ‘বিশ্বকাপ ক্রিকেটের পর আমাদের ঋণ হয়েছে আড়াই কোটি ডলার। আপনি ভারতকে খেপাতে পারেন না, কারণ ভারত শ্রীলঙ্কায় এলেই কেবল আমরা টাকা বানাতে পারব এবং টিকে থাকতে পারব। তাই আমি জানি না কী ঘটতে যাচ্ছে।’
সিএনএন-আইবিএন টিভি চ্যানেলকে সাক্ষাৎকারে সমস্যার সমাধানই চেয়েছেন স্পিন কিংবদন্তি, ‘এর সমাধা হওয়া উচিত। এগুলো হয়েই থাকে, তবে মনে রাখতে হবে যা-ই বলা হোক বা করা হোক আমরা আর্থিকভাবে ভারতের ওপর নির্ভরশীল। তাই এসএলসিকে সতর্ক হতে হবে।

জ্বলল দ্রগবার বাড়ি

‘মারামারি-কাটাকাটি না করে শান্তির পথে হাঁটো, বন্ধ করো গৃহযুদ্ধ’—দিদিয়ের দ্রগবার দেওয়া এই পরামর্শ আইভরিকোস্টের বিদ্রোহীরা ভালোভাবে নিতে পারেনি। ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দ্য সান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী তারা আগুন ধরিয়ে দিয়েছে চেলসি স্ট্রাইকারের বাড়িতে।
সান জানিয়েছে, আবিদজানের কাছাকাছি দ্রগবাদের গুইবেরোয়া গ্রামটাই জ্বালিয়ে দিয়েছে আইভরিকোস্টের বিদ্রোহীরা। কোনো কোনো উৎস বলছে, শুধু দ্রগবার বাড়িই তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল। বাড়িতে ভাঙচুর করার পর আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
তবে খবরটি নিয়ে আছে দ্বিধাদ্বন্দ্ব। কেউ কেউ বলছেন, আইভরিকোস্টে কোনো সম্পত্তিই নেই দ্রগবার। কেউ আবার বলছেন ভিন্ন কথা— ছোট্টবেলাতেই আইভরিকোস্ট ছাড়া দ্রগবার বাবা নাকি থাকেন সেখানে।

ক্রিস্টিয়ানোও একদিন ‘রোনালদো’ হবে

এদিনহো ছিলেন গোলরক্ষক। বছর চারেক সান্তোসে খেলেছেন, কিন্তু বলার মতো কোনো ক্যারিয়ারই নয়। ডিয়েগো সিনাগ্রা বাবার মতো অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারই হয়েছেন। তবে তাঁর ক্যারিয়ার ঢুঢু। খেলেন বিচ ফুটবল। সেখানেই অল্পবিস্তর তারকাখ্যাতি। দুই কিংবদন্তি ফুটবলার বাবার দুই সন্তান পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পারেননি একটুও। পেলের ছেলে এদিনহো নন, ম্যারাডোনার ছেলে সিনাগ্রাও না।
তবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর আশা, তাঁর ছেলে একদিন তাঁর মতোই দুর্দান্ত ফুটবলার হবে। ‘রিয়াল টিভি’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পর্তুগিজ উইঙ্গার বলেছেন, ‘আমি মনে করি, আমার ছেলে হবে খুবই প্রতিভাবান, আমার চেয়ে বেশি প্রতিভাবান তো বটেই।’
নয় মাস বয়সী ছেলের নামও রেখেছেন ক্রিস্টিয়ানো। সযতনে লুকিয়ে রেখেছেন মাতৃপরিচয়। ছেলের মা যে-ই হোক না কেন, রোনালদো তাঁর সন্তানকে বড় করতে চান নিজের পরিচয়েই। স্বাভাবিকভাবেই ফুটবলার বানাতে চান। তবে এও বললেন, ছেলে নিজে যদি ফুটবলার হতে না চায়, তাহলে জোরাজুরি করবেন না, ‘ও যা হতে চাইবে আমি তাকে তা-ই হতে দেব। ওকে ফুটবলার হতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। তবে সত্যি যদি জানতে চান, হ্যাঁ, আমি চাই ও আমার সত্যিকারের উত্তরসূরি হয়ে উঠুক। তবে ঈশ্বর যা চান, ও সেটাই হবে শেষ পর্যন্ত।’
এমনিতে রোনালদোর ব্যক্তিত্বের সঙ্গে ঠিক ‘বাবা’ পরিচয়টি খাপ খায় না। রোনালদো মানে পরিবারের শৃঙ্খল ভেঙে মুক্তবিহঙ্গ। কিন্তু ২৬ বছর বয়সী রিয়াল তারকা বলছেন, ‘আমি একজন ভালো বাবা। এখনো শিখছি। আসলে বাবা হওয়ার অনুভূতি বলে বোঝানো মুশকিল। ঘুম থেকে জেগে আপনি এমন কারও মুখোমুখি হলেন যার শরীর-রক্ত কিনা আপনার রক্ত থেকেই তৈরি! এ এক স্বর্গীয় অনুভূতি।’
দুই বছর হয়ে গেল রিয়াল মাদ্রিদে এসেছেন। প্রথম মৌসুমে কিছুই জেতেননি। এবার অবশ্য রোনালদোর সামনে সুযোগ আছে সবকিছুই জেতার। এই সাক্ষাৎকারটি দিয়েছেন কাল রাতের এল ক্লাসিকোর আগে। এল ক্লাসিকোতে জিতে থাকলে লিগে বার্সেলোনার সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান হয়ে গেছে ৫। সামনে ছয়টি ম্যাচে অনেক কিছুই ঘটে যেতে পারে। কাপের ফাইনালেও রিয়ালের প্রতিপক্ষ বার্সেলোনা। চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালেও। রিয়াল টিভিকে রোনালদো বলেছেন, এই মৌসুম অন্তত শিরোপাশূন্য যাবে না, ‘টানা দুই মৌসুম শিরোপাহীন থাকার ক্লাব রিয়াল নয়। আমি নিশ্চিত, এবার আমরা কোনো না কোনো ট্রফি জিতবই। এবং সেই জেতাটা হবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খেলোয়াড়দের মধ্যে একটা ইতিবাচক মনোভাব কাজ করছে। এটা শুভ লক্ষণ।

ঝড়-বৃষ্টি আর আলোহীন ফুটবল

বিদ্যুৎ কখন আসে কখন যায়—এমনিতেই কোনো হদিস নেই। এটা জানার পরও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন স্বাধীনতা কাপের দুটি ম্যাচই দিল ফ্লাডলাইটের আলোয়। ফিকশ্চারে একটি ম্যাচ ছিল দিনের আলোয়। কিন্তু দিনের গরমে খেলতে নাকি রাজি হয়নি মুক্তিযোদ্ধা-আরামবাগ! মিহি আলোয় খেলার আবদার মেটাতে বাধ্য হলো বাফুফে। দিনের দুটি ম্যাচই দুই স্টেডিয়ামে কৃত্রিম আলোয়!
কিন্তু কালবৈশাখী ঝড় তো আর অত কিছু বোঝে না। স্বাধীনতা কাপের সপ্তম দিনটাকে একেবারে লন্ডভন্ড করে ছাড়ল। রাত আটটা নাগাদ বঙ্গবন্ধু ও কমলাপুর স্টেডিয়ামে একই সঙ্গে শুরু ঝড়-বৃষ্টি। ঝড়ে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে মিনিট দশেক বিদ্যুৎ ছিল না। কমলাপুর স্টেডিয়াম থাকল অন্ধকারেই। বিদ্যুতের দেখা মিলল না ৪০ মিনিটেও। শেষ পর্যন্ত ঝড়ের কবলে পড়া ওই স্টেডিয়ামের মুক্তিযোদ্ধা-আরামবাগ ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করলেন রেফারি।
ম্যাচটা আজ বিকেল সাড়ে চারটায় কমলাপুর স্টেডিয়ামেই আবার হবে। ফিকশ্চার মেনে কাল দিনের বেলা ম্যাচটা হয়ে গেলে এই অনাহূত সমস্যাটা এড়ানো যেত। কিন্তু এ দেশের ঘরোয়া ফুটবলে সকাল-বিকেল ফিকশ্চার বদলায়।
৬৫ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচটায় মুক্তিযোদ্ধা এগিয়ে ছিল ৩-০ গোলে। ঝড়-বৃষ্টির আগে রনি (দুটি) ও কাঞ্চন গোল করেছিলেন। এই জয়টা পেলে মুক্তিযোদ্ধা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারত কালই। তবে প্রথম দুই ম্যাচ জিতে আগেই বাংলাদেশ লিগের প্রথম পর্বের শীর্ষ দল মুক্তিযোদ্ধা উঠে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে।
স্বাধীনতা কাপে আসলে চমক-টমক কিছু নেই। বড় দলগুলোর সবাই খেলছে কোয়ার্টার ফাইনালে। মাঠে দর্শকও নেই। বাফুফের প্রচার-প্রচারণায় মনোযোগী নয়। কোনো রকমে একটা টুর্নামেন্ট করার জন্যই করা!
তা-ও দিনে একটি ম্যাচ থাকলে সেটি রাতের আলোয় কেন দিতে হবে, কারোই বোধগম্য নয়। বাফুফের যুক্তি, রাতে খেলা হলে নাকি দর্শক বেশি আসে। এর কোনো প্রমাণ অবশ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
ওদিকে ঝড়-বৃষ্টিতে ৪২ মিনিট বন্ধ ছিল ঢাকা শেখ রাসেল-ঢাকা মোহামেডান ম্যাচ। তখন পর্যন্ত খেলা হয়েছে ৫৫ মিনিট। গোলশূন্য এগিয়ে যাওয়া ম্যাচটা পরে একটা গোল দেখল। ব্রাদার্সে খেলে যাওয়া রাশিয়ান স্ট্রাইকার এডওয়ার্ড ৮৩ মিনিটে গোল করে জেতালেন শেখ রাসেলকে। তারুণ্যনির্ভর মোহামেডান যথেষ্ট ভালো ফুটবল খেলেও হার এড়াতে পারেনি।
‘সি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলো শেখ রাসেল। রানার্সআপ মোহামেডান। মজার ব্যাপার, এই গ্রুপের তৃতীয় দল চট্টগ্রাম আবাহনী শেষ সময়ে নাম প্রত্যাহার করায় বাকি দুই দলই কোনো ম্যাচ না খেলে উঠে যায় শেষ আটে।
কোয়ার্টার ফাইনাল শুরু আগামীকাল। কিন্তু ঝড়-বৃষ্টি চলতে থাকলে এই টুর্নামেন্টের ভাগ্যে কী আছে, বলা কঠিন। কালকের ঝড়ে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম লন্ডভন্ড। কদিন আগেই ৩৬ কোটি টাকায় সাজানো বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সের কাচ আলগা হয়ে গেল! বাফুফের এক কর্মী কাচ অনেকক্ষণ ধরে না রাখলে টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়ত!
ঝড় শুরু হতেই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্টেডিয়ামটা হয়ে ওঠে প্রেতপুরি। এর মধ্যেই দুই তাঁবু উড়িয়ে নিয়ে অনেক দূরে আছড়ে ফেলল প্রচণ্ড বাতাস। এগুলো এত হালকাভাবে বসানো যে বাতাসের ধকল সামলানোর শক্তি নেই!

অমল-শিবুদের স্বপ্নপূরণ

বাংলাদেশের টেনিসে আনন্দময় দিন খুব বেশি আসে না। কালকের দিনটি সেদিক থেকে ব্যতিক্রম ছিল। এর আগে বাংলাদেশ ডেভিস কাপে চার নম্বর থেকে তিনে গিয়েছে। এবারও তার পুনরাবৃত্তি, কিন্তু বাড়তি কৃতিত্ব হলো, বাংলাদেশ এবার অপরাজিত। এ জন্যই দিনটা টেনিস-সংশ্লিষ্টদের কাছে মনে রাখার মতো।
বাংলাদেশের টেনিসের খবর আর কে-ই বা রাখে! রমনা টেনিস কমপ্লেক্সে টেনিস অঙ্গনে পরিচিত দু-চারজন ছাড়া আর তো কেউ নেই। অথচ যে পর্যায়েই হোক, বাংলাদেশ চারটি ম্যাচ জিতে উঠে গেছে ডেভিস কাপের গ্রুপ তিনে, যেটা টেনিসের জন্য সুখবর।
এর আগে সরাসরি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলেই পরের ধাপে ওঠা যেত। কিন্তু এবার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর অন্য গ্রুপের রানার্সআপের সঙ্গে প্লে-অফ খেলতে হয়েছে। কাল সেই প্লে-অফে জর্ডানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ২-১ জয়। গ্রুপ পর্বে তুর্কমেনিস্তানকে ৩-০, ইরাককে ৩-০ ও সিঙ্গাপুরকে ২-১-এ হারিয়ে বাংলাদেশ হয়েছিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। আরেক প্লে-অফে ইরাককে ২-১-এ হারিয়ে গ্রুপ তিনে গেছে এই প্রথম ডেভিস কাপ খেলা কিরগিজস্তান।
বাংলাদেশ-জর্ডান প্লে-অফের দুটি এককের একটিতে অমল রায় জিতলেও হেরে যান শিবু লাল। পরে দ্বৈতে অমল-রঞ্জন জুটি দাঁড়াতেই দেয়নি প্রতিপক্ষকে (৬-১, ৬-২)।
খেলার পর অমল বলছিলেন, ‘বিশ্বাস ছিল, এবার গ্রুপসেরা হয়ে এবং প্লে-অফ জিতে গ্রুপ তিনে যাব আমরা। সেভাবেই খেলতে পেরে আমরা খুশি। তবে গ্রুপ তিনে টিকে থাকতে চাইলে যেভাবে তৈরি হওয়া দরকার, সেটাও ভেবে দেখতে হবে।’
এর আগে দুবার গ্রুপ তিনে উঠে পরের বছরই অবনমিত হয়েছে বাংলাদেশ। তিনে টিকে থাকতে দীর্ঘমেয়াদি একটা পরিকল্পনা নেওয়া হবে বলে জানালেন টেনিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ। তাঁর কথা, ‘সরকার, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এবং অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কাছ থেকে সহযোগিতা চাই আমরা। নইলে এই অবস্থান ধরে রাখা প্রায় অসম্ভব। কারণ, গ্রুপ তিনে এটিপির র্যাঙ্কিংধারী অনেক খেলোয়াড়ই খেলে।’
একই সঙ্গে ফেডারেশন চায় ভারতীয় কোচ গজেন্দর সিংকে আবার নিয়ে আসতে। গত সাত সপ্তাহ বাংলাদেশ দলকে কোচিং করিয়ে আজ সকালেই দেশে ফিরে যাচ্ছেন বিশ্বমানের এই ভারতীয় কোচ। কাল সবার সঙ্গে উচ্ছ্বসিত ছিলেন তিনিও, ‘বাংলাদেশের দরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। তাহলে বর্তমান অবস্থান থেকে আরেকটু এগোনো সম্ভব।’

টেন্ডুলকারের সেঞ্চুরি মানেই দলের হার

‘আর কত বিস্ময় জমা রেখেছেন শচীন টেন্ডুলকার’—এই প্রশ্নটাও এখন পুরোনো হয়ে গেছে। বর্তমানে ক্রিকেট-বিশ্বের সবচেয়ে ‘পুরোনো’ ক্রিকেটার রাঙিয়ে যাচ্ছেন খেলাটির নবতম সংস্করণও। তিন অঙ্কের দেখা কেন পাচ্ছিলেন না, এটাই ছিল বিস্ময়ের। অবশেষে পেলেন। তাঁর শততম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির অপেক্ষায় যখন পুরো ক্রিকেট-বিশ্ব, টেন্ডুলকার তুলে নিলেন টি-টোয়েন্টিতে প্রথম সেঞ্চুরি। দেখালেন বয়স ৩৮ ছুঁইছুঁই হতে পারে, কিন্তু এখনো শেখার ক্ষুধাটা মরে যায়নি। প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরির দিনে টেন্ডুলকারের ব্যাট থেকে বেরোলো প্রথম ‘হেলিকপ্টার শট’, দেখা গেল আরও কিছু আনঅর্থোডক্স শট।
তবে দিন শেষে তাঁর প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠছে দলের পরাজয়। টেন্ডুলকারের সেঞ্চুরি মানেই দলের পরাজয়—ক্যারিয়ারজুড়েই এই অপবাদ তাঁর সঙ্গী। গত বছর দুয়েকের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে একটু চাপা পড়ে গিয়েছিল। গুঞ্জনটা আবার উঠেছে বিশ্বকাপ থেকে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরিতে হারতে হারতে টাই করল ভারত, হারল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। পরশু প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরিতে রানের পাহাড় গড়ল মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। কিন্তু সঙ্গী সেই হারের বেদনা। গুঞ্জনটা তাই আরেকটু জোরালো হচ্ছে—টেন্ডুলকারের সেঞ্চুরি মানেই দলের পরাজয়।
দ্বিমত করার মতো কাউকে খুব একটা মনে হয় পাওয়া যাবে না। তবে প্রচলিত এই কথার সত্যতা কতটুকু? পরিসংখ্যান কিন্তু এই দাবিকে খুব একটা সমর্থন করছে না। আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরিগুলোর কথাই ধরুন। টেন্ডুলকারের ৫১ টেস্ট সেঞ্চুরির মাত্র ১১টিতেই হেরেছে ভারত, জিতেছে ২০টিতে। বাকি ২০টিতে ড্র। ‘টেন্ডুলকার সেঞ্চুরি করলেই দল হারে’—এই কথাটা সবচেয়ে বেশি শোনা যায় ওয়ানডেতে। অথচ এই অপবাদটা কতটা অন্যায্য দেখুন, ৪৮ ওয়ানডে সেঞ্চুরির ৩৩টিতেই কিন্তু জিতেছে ভারত! হার আছে ১৩টি, কিন্তু ৪৮ সেঞ্চুরির ১৩টিতে হার কি খুব বেশি কিছু! হয়তো টেন্ডুলকার বলেই ব্যাপারটা বেশি করে চোখে লাগে। হয়তো তাঁর অতিমানবীয় কীর্তিগুলো এখন এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে আলাদা কিছু মনে হয় না, বরং সামান্য ছিদ্রগুলোকেই বড় বলে মনে হয়!
এর চেয়েও বড় কথা, দল হারলে টেন্ডুলকারের কতটুকুই বা করার আছে, নিজের দায়িত্ব তো তিনি শতভাগই পালন করছেন! অবশ্য সংশয়বাদীরা এসব মানবেন কেন? পরশুর পর তাঁরা বরং পেয়ে গেছেন নতুন হাতিয়ার। টেন্ডুলকার সেঞ্চুরি মানেই দলের হার, টি-টোয়েন্টিতে এই কথাটা তো শতভাগ সত্যি!
এই দিনেই অবশ্য একটা সুখবরও শুনেছেন টেন্ডুলকার। ভারতরত্নটা মনে হয় পেয়ে যাচ্ছেন ‘ভারতের রত্ন।’ ভারতের ক্রীড়ামন্ত্রী অজয় মাকান জানিয়েছেন, ভারতরত্ন পাওয়ার মানদণ্ডে ক্রীড়াকেও অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে। সুপারিশ যদি মেনে নেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সবার আগে তো টেন্ডুলকারেরই পাওয়ার কথা!

দিলশান শ্রীলঙ্কার পরবর্তী অধিনায়ক

বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর পরই ওয়ানডে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন কুমার সাঙ্গাকারা। পদত্যাগ করেছেন, অরবিন্দ ডি সিলভার নেতৃত্ব্বাধীন নির্বাচক কমিটির সদস্যরাও। মোট কথা, লঙ্কান ক্রিকেটে চারদিকে এখন একটি পরিবর্তনের হাওয়া। নির্বাচক কমিটিতে পরিবর্তন অবশ্য সূচিত হয়ে গেছে আগেই। সাবেক দুুলিপ মেন্ডিস প্রধান নির্বাচকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন ইতিমধ্যেই। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই চূড়ান্ত হয়ে যাবে ওয়ানডে দলে কুমার সাঙ্গাকারার উত্তরসূরির নাম।
‘আগামী সপ্তাহের মধ্যেই আমরা নতুন অধিনায়কের নাম চূড়ান্ত করে ফেলব। এ ব্যাপারে অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচক কমিটির সদস্যদের কিছুটা আলাপ-আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।’ দুলিপ মেন্ডিসের মন্তব্য।
এদিকে শ্রীলঙ্কার নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে তিলকরত্নে দিলশানের নামটা বারবারই উচ্চারিত হচ্ছে। সূত্র জানিয়েছে, এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নাকি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট নিয়েই রেখেছে। সাঙ্গাকারা আরও দুটি আন্তর্জাতিক সিরিজে শ্রীলঙ্কা টেস্ট দলকে নেতৃত্ব দেবেন বলে জানিয়েছেন। এর পরই নতুন অধিনায়ক টেস্ট দলেরও দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তবে দিলশানের বয়স ৩৪ হওয়ায় তাঁকে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের নতুন দিনের সূচনার কান্ডারি করতে বোর্ডের মধ্যেই কিছুটা মতভেদ রয়েছে বলে জানা গেছে। কারণ এই মুহূর্তে যাঁকে অধিনায়ক করা হবে, তাঁর নিয়োগ ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখেই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ দিলশান আদৌ খেলতে পারবেন কি না তা নিয়ে কিন্তু যথেষ্ট সংশয় বিদ্যমান। কারণ সে সময় দিলশানের বয়স হবে ৩৮।
এসব ব্যাপারগুলো মাথায় রাখলে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের দৃশ্যপটে চলে আসার যথেষ্ট সম্ভাবনাই রয়েছে। কুমার সাঙ্গাকারাও পদত্যাগের পর সংবাদ সম্মেলনে তাঁর কথা বারবারই উচ্চারণ করেছিলেন—নিজের উত্তরসূরি হিসেবে।