Saturday, March 14, 2026

বাঁশঝাড়ে মাটির নিচে পানির ট্যাংক বসিয়ে ১০ হাজার লিটার ডিজেল মজুত

প্রকাশ ০৭ মার্চ ২০২৬ঃ নাটোরের সিংড়া উপজেলায় বাঁশঝাড়ের মধ্যে মাটির নিচে পানির ট্যাংক বসিয়ে ১০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল লুকিয়ে রেখেছিলেন রুবেল হোসেন নামের এক জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজ শনিবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে ওই ব্যবসায়ীকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।

সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় সূত্র জানায়, সিংড়া বাজারের সততা ট্রেডার্সের মালিক রুবেল হোসেন উচ্চ মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রির চক্রান্ত করছেন—এমন খবর পেয়ে ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাত আজ বেলা দুইটার দিকে সিংড়ার নিংগুইন এলাকার একটি বাঁশঝাড়ে অভিযান পরিচালনা করেন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, রুবেল হোসেন মাটির নিচে ১ হাজার লিটারের ১০টি পানির ট্যাংক বসিয়ে ১০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল (ডিজেল) লুকিয়ে রেখেছেন। তাৎক্ষণিক ওই ব্যবসায়ীকে সেখানে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি তেল লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেন।

ইউএনও কার্যালয় সূত্র জানায়, পরে ইউএনও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ওই ব্যবসায়ীকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লুকিয়ে রাখা তেল সিংড়া বাজারের সততা ট্রেডার্সে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন এবং নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির পরামর্শ দেন।

অভিযান চালানোর সময় জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ উদ্দিন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তাশরিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাত জানান, তেল সংরক্ষণের অনুমতি থাকলেও ওই ব্যবসায়ী যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেননি। বেআইনিভাবে মজুত করে তিনি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পাঁয়তারা করছিলেন।

এভাবে মাটির নিচে পানির ট্যাংকে মজুত করা হয় ১০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল। শনিবার নাটোরের সিংড়ার নিংগইন গ্রামে
এভাবে মাটির নিচে পানির ট্যাংকে মজুত করা হয় ১০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল। শনিবার নাটোরের সিংড়ার নিংগইন গ্রামে। ছবি: প্রথম আলো

ইরান যুদ্ধের কারণে ‘প্রতারিত’ বোধ করছেন ট্রাম্পের সমর্থকেরা

ইরান যুদ্ধকে ‘পাগলামি’ আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পডকাস্ট সঞ্চালক জো রোগান বলেছেন, এই যুদ্ধের কারণে মার্কিন নাগরিকেরা ‘প্রতারিত’ বোধ করছেন। তাঁরা ভাবছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁদের সঙ্গে এ নিয়ে ‘প্রতারণা’ করেছেন।

গত মঙ্গলবার তাঁর শোতে রোগান বলেন, ট্রাম্প নির্বাচনের সময় যে ধরনের নীতি প্রচার করেছিলেন, এই যুদ্ধ ঠিক তার উল্টো।

রোগান আরও বলেন, ‘এটি স্রেফ উন্মাদনা বলে মনে হচ্ছে।’ ২০২৪ সালের নির্বাচনে জো রোগান ট্রাম্পকে সমর্থন দিয়েছিলেন। এখনো মাঝেমধ্যে তাঁদের মধ্যে খুদে বার্তায় যোগাযোগ হয়।

এই পডকাস্টার আরও বলেন, ‘ট্রাম্প নির্বাচনের আগে প্রচার চালিয়েছিলেন, তিনি আর যুদ্ধ চান না। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এসব কাণ্ডজ্ঞানহীন ও অর্থহীন যুদ্ধ বন্ধ করার। অথচ এখন আমরা এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছি, যার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণও আমাদের জানা নেই।’

২০২৪ সালে নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনগুলোতে জো রোগান ট্রাম্পকে বেশ এগিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি ট্রাম্পের দীর্ঘ তিন ঘণ্টার একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাম্পকে সমর্থন জানান।

তবে ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই রোগান মাঝেমধ্যে তাঁর সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে তাঁকে বেশ সন্দিহান হতে দেখা যাচ্ছে।

গত ডিসেম্বরে হোয়াইট হাউসে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সমালোচনা করে লাগানো একটি নতুন ফলককে রোগান ‘স্রেফ পাগলামি’ বলে অভিহিত করেন।

গত জানুয়ারি মাসে মিনিয়াপোলিসে আইসিই (আইস নামে পরিচিত) এজেন্টের গুলিতে রেনি নিকোল গুডের মৃত্যুর ঘটনাকে তিনি ‘সব দিক থেকেই ভুল’ বলে মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি মিনেসোটার বৃহত্তম শহরে পরিচালিত ফেডারেল অভিবাসন দমন অভিযানকে নাৎসি জার্মানির গেস্টাপো বাহিনীর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তুলনা করেন।

তবে, গত মঙ্গলবার রোগান সরাসরি ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করেন।

ইরান যুদ্ধের সঙ্গে জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে গ্রেপ্তার করা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের তুলনা করে জো রোগান বলেন, ‘কোনোটিই যৌক্তিক ছিল না।’ তবে মাদুরোকে গ্রেপ্তারের বিষয়টিতে ‘অন্তত স্পষ্টতা ছিল।’

রোগান বলেন, ‘তারা ভেতরে ঢুকল, তাঁকে অপহরণ করল এবং বের করে নিয়ে এল। কিন্তু এটা (ইরান যুদ্ধ) একেবারেই পাগলামি।’

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি এক বিবৃতিতে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে ইরানের ‘দুর্বৃত্ত’ শাসকগোষ্ঠীর তরফ থেকে আসা প্রাণঘাতী হুমকি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষা করছেন এবং এটিই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

স্পটিফাইতে রোগানের অনুষ্ঠান ‘দ্য জো রোগান এক্সপেরিয়েন্স’ সবচেয়ে জনপ্রিয় পডকাস্ট।

রোগানের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বেশ জটিল। ২০২০ সালের ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাছাইয়ের সময় তিনি প্রগতিশীল নেতা সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সকে সমর্থন দিয়েছিলেন এবং তিনি নিজেকে কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসেবে নিবন্ধন করেননি বলে জানান।

রোগানের অনুষ্ঠানটি কেবল রাজনৈতিক গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সেখানে কৌতুক, এলোমেলো আলাপচারিতা এবং কোয়ান্টাম মেকানিকসের মতো জটিল বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

তবে কিছু বিষয়ে জো রোগানের ডানপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি এবং তাঁর ব্যাপক সম্পৃক্ততার কারণে বুধবার সকাল পর্যন্ত তাঁর সর্বশেষ পডকাস্টটি ইউটিউবে ৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশিবার দেখা হয়েছে। এটি তাঁকে রক্ষণশীল রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিতে পরিণত করেছে।

রোগান এই সমালোচনা এমন সময়ে করলেন, যখন ১২ দিনের এই যুদ্ধ চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের দলের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করছে।

জনমত জরিপ বলছে, অধিকাংশ মার্কিন এই যুদ্ধ পছন্দ করছেন না। যুদ্ধের ফলে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় রিপাবলিকানরা বেশ চাপে পড়েছেন।

আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ছিল ৩ দশমিক ৫৮ ডলার। মাত্র এক সপ্তাহে দাম বেড়েছে ৩৮ সেন্ট।

এই যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই পথ দিয়েই যায়।

টাকার কার্লসন, মেগিন কেলি ও ক্যান্ডেস ওয়েন্সের মতো পরিচিত রক্ষণশীল পডকাস্টাররা এই যুদ্ধের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ওয়েন্সের ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন’ শিরোনামের ভিডিওটি ইউটিউবে ২০ লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে।

তবে রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে রোগানের মতো প্রভাব আর কারও নেই।

ট্রাম্প নিজেও অতীতে রোগানের গুরুত্ব স্বীকার করেছেন।

২০২৪ সালে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘তিনি (রোগান) বর্তমানে (যুক্তরাষ্ট্রের) সবচেয়ে বড় (প্রভাবশালী) ব্যক্তি।’

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2026-03-12%2Fgllo48y3%2FJoe-Rogan-1.jpg?rect=0%2C0%2C960%2C640&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
আমেরিকান পডকাস্ট সঞ্চালক জো রোগান। ছবি: রয়টার্স

সোনালি মুরগির কেজি ৩৫০ টাকা ছাড়িয়েছে

রাজধানীর শেওড়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. সালাউদ্দিন গত সপ্তাহের শুরুতে বাজার থেকে ৩২০ টাকা কেজি দরে সোনালি মুরগি কিনেছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার আবার তিনি সোনালি মুরগি কিনেছেন; কেজিপ্রতি দাম দিয়েছেন ৩৫০ টাকা; অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে দাম বেড়েছে ৩০ টাকা করে।

সোনালির পাশাপাশি দাম বেড়েছে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের মাছের দামও আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। আর বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। তবে বাজারে স্থিতিশীল রয়েছে সবজির দাম।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ঈদুল ফিতরের আর মাত্র ৮–৯ দিন বাকি। ঈদের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অনেকে এখন থেকেই মুরগি কিনে রাখছেন। এতে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি হওয়ায় দাম বেড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর শেওড়াপাড়া, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউন হল বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা–বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

রোজার শুরুতে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে ২০০-২২০ টাকা কেজি হয়েছিল। এর কয়েক দিন পর দাম কমতে থাকে। দুই সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকায় কেনা গেছে। এরপর দাম আবার বাড়তে থাকে। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকা ছাড়ায়। সর্বশেষ গত তিন দিনে সেই দাম আরও বেড়েছে। আজ ঢাকার তিনটি বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ২২০ টাকায়; অর্থাৎ দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ৬০ টাকা বেড়েছে। আর তিন দিনের মধ্যে কেজিতে ২০ টাকা দাম বেড়েছে।

এদিকে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৫০ টাকা বেড়েছে। আজ রাজধানীতে মানভেদে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে ৩২০–৩৫০ টাকায়। কোনো কোনো বাজারে ৩৬০ টাকা দরেও সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি সোনালির দাম ছিল ২৭০-৩০০ টাকা।

বাজারে অনেক দিন ধরে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম স্থিতিশীল ছিল। এখন সেই দামও বেড়েছে। আজ এক ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১১০–১২০ টাকায়। প্রতি ডজনে দাম বেড়েছে ১০ টাকা।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের মুরগি বিক্রেতা মুরাদ হোসেন বলেন, ঈদের আগে আগে মুরগি কেনায় বাড়তি চাপ থাকে। এ কারণে দাম বাড়ছে।

মুরগির বাজার
মুরগির বাজার। ফাইল ছবি

ইরানে স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত: ট্রাম্প অস্বীকার করে গেলেও ভিন্ন প্রমাণই মিলছে

প্রকাশ ১০ মার্চ ২০২৬ঃ ইরানের মিনাব শহরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা অস্বীকার করেই যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, যুদ্ধের মধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রই আঘাত হানে বিদ্যালয়টিতে, যাতে দেড় শতাধিক শিশু নিহত হয়। তবে এই হামলা ও প্রাণহানির জন্য যে যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী, নতুন নতুন ভিডিওতে তার প্রমাণ বেরিয়ে আসছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানে হামলা শুরুর পরপরই মিনাব শহরের শাজেরেহ তৈয়্যেবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে বিদ্যালয়টির প্রায় অর্ধেক অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। তাতে নিহত হয় ১৬৮ জন, যাদের বেশির ভাগই প্রাতঃকালীন ক্লাসে উপস্থিত ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশু।

বেসামরিক লক্ষ্যস্থলে এই হামলার জন্য ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্কুলকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দায়ী করেন ইরানকে। নিজের বক্তব্যের পক্ষে কোনো প্রমাণ না দিয়ে তিনি গত রোববারও বলেন, ‘আমি যা দেখেছি, তার ওপর ভিত্তি করে আমার মনে হচ্ছে, এটি ইরানই করেছে।’

ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা তো জানেনই, তাদের (ইরান) গোলাবারুদ বা অস্ত্রশস্ত্র খুবই নিম্নমানের। তাদের কোনো ধরনের নিখুঁত লক্ষ্যভেদের ক্ষমতা নেই। এটি ইরানই করেছে।’

এরপর সোমবারও ট্রাম্প বলেন, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ইরান পেয়ে থাকতে পারে; যদিও এই ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের হাতে যাওয়ার কোনো প্রমাণ নেই।

তবে ইরানের সংবাদ সংস্থা মেহর–এ প্রকাশিত নতুন একটি ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি যুক্তরাষ্ট্রের হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

সিএনএন ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, ওই দিন মিনাবের সেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে ইরানরে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই সময়ই স্কুলটিতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।

ভিডিওতে দেখা গেছে, মিনাব শহরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে নৌঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি একসময় বৃহত্তর আইআরজিসি কমপ্লেক্সের অংশ ছিল। অন্তত আট বছর আগে সেটিকে আইআরজিসি কম্পাউন্ড থেকে দেয়াল দিয়ে আলাদা করে ফেলা হয়। স্যাটেলাইট চিত্রে ভবনটিতে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্পষ্ট চিহ্নও দেখা গেছে, যার মধ্যে খেলার মাঠ এবং দেয়ালে আঁকা রঙিন ম্যুরাল দৃশ্যমান ছিল।

মেহেরে প্রকাশিত ভিডিওটি অনুসন্ধানী সংস্থা বেলিংক্যাট যাচাই করে দেখেছে। যাচাই করা ভিডিও, হামলার পরবর্তী ছবি এবং স্যাটেলাইট ইমেজসহ ঘটনাস্থলের অন্যান্য প্রমাণের সঙ্গে এই নতুন ভিডিও ইঙ্গিত দিচ্ছে, আইআরজিসির ঘাঁটিতে হামলার সময় শাজেরেহ তৈয়্যেবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে এক দফা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হয়।

হামলার পরবর্তী স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, এই হামলায় অন্তত চারটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যালয়টি ছাড়া অন্য তিনটি আইআরজিসি কম্পাউন্ডের তিনটি ভবন।

অস্ত্রবিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিডিওতে দেখা যাওয়া ক্ষেপণাস্ত্রটি স্পষ্টভাবে একটি ‘টমাহক’, যা সেখানে যুদ্ধরতদের মধ্যে কেবল যুক্তরাষ্ট্রই ব্যবহার করছে।

গোয়েন্দা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘আর্মামেন্ট রিসার্চ সার্ভিসেস’-এর পরিচালক এনআর জেনজেন-জোনস গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। যুদ্ধের পক্ষগুলোর সক্ষমতা বিবেচনা করলে এটি একটি মার্কিন হামলা বলেই প্রতীয়মান হয়। কারণ, ইসরায়েলের কাছে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র আছে বলে জানা নেই।’

আর্মামেন্ট রিসার্চ সার্ভিসেস বিভিন্ন দেশের সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে সমরাস্ত্রসংক্রান্ত বিশ্লেষণ সরবরাহ করে থাকে।

জেনজেন-জোনস বলেন, ‘অনলাইনে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও সংশ্লিষ্ট গোলাবারুদটি নিশ্চিতভাবেই ইরানের সুমার ক্ষেপণাস্ত্র নয়। কারণ, সুমার ক্ষেপণাস্ত্রের পেছনের দিকের নিচের অংশে একটি স্বতন্ত্র ইঞ্জিন থাকে।’

বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনাটি ‘যুদ্ধাপরাধের’ শামিল হিসেবে দেখে এ ঘটনার তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেসকো বলেছে, বিদ্যালয়ে এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের ‘চরম লঙ্ঘন’।

এ হামলার ঘটনা ‘তদন্ত’ করে দেখা হবে বলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর মুখপাত্ররা জানিয়েছেন। তবে মিনাব নিয়ে আলোচনার মধ্যে ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর খোমেইনের একটি স্কুলে গতকাল সোমবার ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর দিয়েছে মেহের নিউজ। এ হামলায় হাফেজ খোমেইনি স্কুল ও এর সংলগ্ন আবাসিক এলাকা বিধ্বস্ত হয়ে গেছে।

হামলার পর মিনাবের সেই স্কুলে উদ্ধারকর্মী ও সাধারণ মানুষ। এ হামলায় অন্তত ১৬৮ জন মানুষ নিহত হয়
হামলার পর মিনাবের সেই স্কুলে উদ্ধারকর্মী ও সাধারণ মানুষ। এ হামলায় অন্তত ১৬৮ জন মানুষ নিহত হয়। ছবি: রয়টার্স