Sunday, November 23, 2014

‘আওয়ামী লীগের পরিণতি হবে করুণ’ -খালেদা জিয়া

দেশব্যাপী গুম-খুন, অত্যাচার-নির্যাতনের জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের করুণ পরিণতি হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বলেছেন, এভাবে গুম-খুন করে কেউ ক্ষমতায় টিকতে পারেনি। আওয়ামী লীগও পারবে না। এর পরিণতি হবে করুণ। তারা যেভাবে অত্যাচার শুরু করেছে, আল্লাহ মানুষকে ইন্নালিল্লাহ পড়ারও সুযোগ দেবে না। এসময় দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক হয়ে চলাফেরা করার পরামর্শ দেন তিনি। রোববার রাতে চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গত আন্দোলনে নিহত গফরগাঁও পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইবনে আজাদ কমলের পরিবারকে সমবেদনা এবং আর্থিক সাহায্য প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন,   আল্লাহ বেঈমানদের বাড়তে দিচ্ছে। কিন্তু এদের সময় ঘনিয়ে এসেছে। আল্লাহ দেখতেছে এদেরকে সুযোগ দিলে তারা মানুষের রক্ত চুষে খাবে। এরা ড্রাকুলারের মতো রক্তের পিপাসায় মেতে উঠেছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ রক্তের নেশায় মেতে উঠেছে। তারা উন্মাদ হয়ে গেছে। যেখানে যাকে পাচ্ছে তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। খুন করছে-গুম করছে। এদের সঙ্গে যোগ হয়েছে নানা বাহিনী। তারাও টাকার বিনিময়ে মানুষ খুন করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে  তিনি বলেন, এভাবে না মরে মানুষের মতো  বেঁচে থাকার জন্য সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আরেকবার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। এসময় দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বচ্ছ নির্বাচনের কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জয়লাভ by ইব্রাহীম চৌধুরী

ক্ষমতাসীন দলের সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা শতভাগ স্বচ্ছতা নিয়েই নির্বাচিত হয়েছি। দেশ পরিচালনায় আমাদের প্রতি সারা বিশ্বের সমর্থন আছে বলেই ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলসহ প্রতিটি নির্বাচনে জয়লাভ করেছি। বাংলাদেশ আজ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন কমিটিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে।’ গত শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী কার্যালয়ে স্থানীয় বাংলা সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী। এ সময় তিনি এসব কথা বলেন।
সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমান সংসদীয় গণতন্ত্র ও ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে আইপিইউর ১৬৬ সদস্য রাষ্ট্রে কোনো প্রশ্ন নেই। কোনো দেশে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যাহত হলে আইপিইউ তার বিরুদ্ধে জোরালো ভূমিকা পালন করে। আইপিইউতে বাংলাদেশের সদস্যপদ তিনবার (১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের পর, ১৯৮২ সালে সামরিক শাসন জারির পর এবং ২০০৭ সালে ১/১১-এ দীর্ঘমেয়াদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসার পর) স্থগিত হয়েছিল। বর্তমানে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সক্রিয় থাকার কারণে আইপিইউভুক্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশকে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত করেছে। বাংলদেশের জন্য এ এক বিশাল স্বীকৃতি।
কোনো দল নির্বাচনে অংশ না নিলে গণতন্ত্র থেমে থাকে না
আইপিইউতে সম্প্রতি নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ আজ আঞ্চলিক পর্যায় থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ প্রায় একই সময় আইপিইউ ও সিপিএর নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এসব সাফল্য জাতিসংঘে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও বাড়িয়ে দেবে। আইপিইউর নির্বাচনের আগে দু-একটি দেশ নির্বাচনে দু-একটি দলের অংশগ্রহণ না করার কথা উল্লেখ করে নির্বাচনের সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে কি না, সে আলোচনা সামনে নিয়ে আসে। আমাদের উত্তরে তারা সম্মত হয়েছে যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অনিবার্য অংশ নির্বাচনী কার্যক্রম। এ কার্যক্রমে কোনো দল অংশগ্রহণ না করলে গণতন্ত্র থেমে থাকতে পারে না। অন্য সব দেশও এ বক্তব্যকে সমর্থন করে আমাদের ভোট দিয়েছে।’ আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন আসছে না বলেও মন্তব্য করেন সাবের হোসেন চৌধুরী।
হাসিনার নেতৃত্বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণই লক্ষ্য
আইপিইউ প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ বিজয় অর্জিত হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের ধারাবাহিক সাফল্য বাংলাদেশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্ব নেতৃত্বের আসন দিচ্ছে। ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরে সাবের হোসেন বলেন, ‘যদি লক্ষ্য স্থির হয় ও উদ্দেশ্য সৎ থাকে তবে সেখানে সাফল্য আসবেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিশনারি নেতৃত্বের ফলেই বাংলাদেশ আজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। অচিরেই বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছবে। আমরা ভাষা আন্দোলনে বিজয়ী হয়েছি, ভাষার মর্যাদা বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছি, দেশ স্বাধীন হয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণই আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। সেই অগ্রযাত্রায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক এই সভাপতি আরও বলেন, আইপিইউ এ বছর সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার ১২৫ বছর উদ্‌যাপন করেছে। অন্যদিকে জাতিসংঘ আগামী বছর প্রতিষ্ঠার ৭০ বছর পূর্তি পালন করবে। সেই বিবেচনায় জাতিসংঘের চেয়েও পুরোনো সংগঠন আইপিইউ। জাতিসংঘ মানুষের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পৃথিবীর প্রতিটি দেশের সংসদই জনকল্যাণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে। সে ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সঙ্গে আইপিইউর কাজের সম্পর্ক গভীর ও নিবিড়। জাতিসংঘ এবং আইপিইউ সমন্বিতভাবে আরও অনেক যৌথ কার্যক্রমের মাধ্যমে বিশ্ব মানবতার কল্যাণে কাজ করতে পারবে।
সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে আবদুল মোমেন, প্রেস সচিব মামুন-অর-রশিদ এবং বাংলা সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আফগানিস্তানে খেলার মাঠে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ৫০

আফগানিস্তানে আত্মঘাতী হামলায় কমপক্ষে ৫০ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন ৬০ জন। রোববার পাক্তিকা প্রদেশের ইয়াহইয়া খেল জেলায় একটি খেলার মাঠে ভলিবল খেলা চলাকালে এই হামলা চালানো হয়।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, খেলা চলাকালে একজন আত্মঘাতী তার শরীরে বাঁধা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

জেদ্দায় শুরু হয়েছে পিইসি পরীক্ষা

বাংলাদেশের সঙ্গে মিল রেখে আজ ২৩ নভেম্বর থেকে জেদ্দায় শুরু হয়েছে পিইসি (প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী) পরীক্ষা। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আওতাভুক্ত জেদ্দার বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পিইসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ৩৪৭ জন শিক্ষার্থী। এই স্কুলে বাংলা ও ইংরেজি দুই মাধ্যমেই শিক্ষার্থী রয়েছে। ৩৪৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে বাংলা মাধ্যম থেকে অংশগ্রহণ করছে ২৬৩ জন। এদের মধ্যে ১২৪ জন ছাত্র ও ১৩৯ জন ছাত্রী। ইংরেজি মাধ্যমে পরীক্ষা দিচ্ছে ৮৪ জন। এদের মধ্যে ৪০ জন ছাত্র ৪৪ জন ছাত্রী। অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ফারুক ও গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান চিকিৎ​সক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান মিয়া জানান, শিক্ষার্থীরা যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। গত বছরের মতো এবারও শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাসের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবে।
অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ফারুক একই সঙ্গে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্বও পালন করছেন। হল সুপারের দায়িত্ব পালন করছেন হামিদুর রহমান। তিনি বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সব নিয়ম মেনে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে। পরীক্ষার সব অনুকূল পরিবেশ এ কেন্দ্রে বিরাজমান। এ ছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেটের শিক্ষা ও শ্রম কনসাল মো. রেজা-ই-রাব্বি।
বাহার উদ্দিন বকুল
জেদ্দা, সৌদি আরব

নিরাপদে বিমানবন্দর ছাড়লেন লতিফ

ঢাকায় ফিরলেন সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে দেশে ফিরলেও তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বরং বিমানবন্দর থেকে তাঁকে নিরাপদে চলে যেতে সহায়তা করা হয়েছে। লতিফ সিদ্দিকী আজ রোববার রাত আটটা ৪০ মিনিটে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে কলকাতা থেকে হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
বিমানবন্দরে অবতরণের পর তিনি কিছু সময় ভিআইপি টার্মিনালে অবস্থান করেন। সেখানে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার লোকেরা তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। রাত নয়টার কিছু পরে ভিআইপি টার্মিনাল থেকে বিভিন্ন সংস্থার লোকেরা তাঁকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টার্মিনালের ভেতর থেকে হাঁটিয়ে অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে নিয়ে আসেন। এরপর সেখান থেকে লতিফ সিদ্দিকী গাড়িতে করে চলে যান। তবে কোনো সূত্র নিশ্চিত করতে পারেনি সেখান থেকে লতিফ সিদ্দিকী কোথায় গেছেন।
বিমানবন্দরে অবস্থানকালে প্রথম আলোর প্রতিবেদক লতিফ সিদ্দিকীর মোবাইলে ফোন করলে তিনি তা ধরেন। তবে কোনো কথা বলবেন না বলে জানান।
লতিফ সিদ্দিকী গত ২৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে হজ, তাবলিগ জামাত ও প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেন। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিত্ব থেকে তাঁকে অপসারণ করা হয়। অপসারণের আগে তিনি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছিলেন। একই কারণে তাঁকে দলীয় পদ ও দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
১৮ জেলার ২২ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
ধর্মীয় অনভূতিতে আঘাত হানার জন্য লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ঢাকা ও দেশের ১৮টি জেলায় তাঁর বিরুদ্ধে ২২টি মামলা হয়। নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির না হওয়ায় প্রতিটি মামলায় আদালত তাঁর বিরুদ্ধে প্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
যা বলেছিলেন লতিফ সিদ্দিকী.....
২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের একটি হোটেলে সেখানকার টাঙ্গাইল সমিতির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি কিন্তু হজ আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী। তবে তার চেয়েও হজ ও তাবলিগ জামাতের বেশি বিরোধী।’ তিনি বলেন, ‘এ হজে যে কত ম্যানপাওয়ার (জনশক্তি) নষ্ট হয়। হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গিয়েছে। এদের কোনো কাজ নাই। এদের কোনো প্রডাকশন নাই। শুধু রিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা দিয়ে আসছে।’
লতিফ সিদ্দিকীর এই বক্তব্যের পর পুরো দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়। এ কারণে নিউইয়র্ক থেকে আর দেশে ফেরেননি। তিনি ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছিলেন। প্রথম আলোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বারবারই বলেছিলেন, তিনি দেশে ফিরবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঘটনার প্রায় দুই মাস পর দেশে ফিরলেন নানা কারণে বিতর্কিত এই মন্ত্রী।
লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে যখন দেশে তোলপাড় চলছিল তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ছিলেন না। দেশে ফিরে তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, লতিফ সিদ্দিকী গর্হিত কাজ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। এরপর ১২ অক্টোবর তাঁকে মন্ত্রী ও দলীয় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির এক সভায় ‘কেন তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে না’ এই মর্মে একটি শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়। ২২ অক্টোবরের মধ্যে তাঁকে জবাব দেওয়ার নির্দেশ নেওয়া হয়। কিন্তু জবাবে সন্তুষ্ট না হওয়ায় ২৪ অক্টোবর লতিফ সিদ্দিকীকে দলের সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। >প্রথম আলো
বিমানযাত্রীকে লতিফ সিদ্দিকী: ‘ভয় করি না’
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর একই বিমানে আসা এক নারী যাত্রীর প্রশ্নের মুখে লতিফ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, তিনি নির্ভয়ে দেশে ফিরেছেন। ওই নারী যাত্রী বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে বলেন, ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষ করার আগে লতিফ সিদ্দিকীর সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এসময় তিনি লতিফ সিদ্দিকীর উদ্দেশে বলেন, দেশের মানুষ আপনার প্রতি ক্ষুব্ধ। তারপরও আপনি দেশে ফিরেছেন কেন। আপনার কি কোন ভয় নেই। জবাবে লতিফ সিদ্দিকী ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, কিসের ভয়। আমি ভয় করি না। এসময় দুই যুবক তার দিকে অবাক হয়ে তাকালে লতিফ সিদ্দিকী ‘কি দেখছো’ বলে তাদের ধমক দেন। >মানবজমিন

গ্রেট ওশান ড্রাইভে একদিন by হ্যাপি রহমান

পাহাড়ের পাদদেশে সাগর ঘেঁষে আঁকাবাঁকা গ্রেট ওশান রোড
টুয়েলভ অ্যাপোস্টলসে টম ও ইভা নামের শিলাখণ্ড
টুয়েলভ অ্যাপোস্টলস
টুয়েলভ অ্যাপোস্টলস
গ্রেট ওশান রোডের প্রবেশমুখে সপরিবারে লেখিকা
সাগরসৈকতে লেখিকার মেয়ে ও ছেলে
সাগরের পাশ দিয়ে পৃথিবীর অন্যতম দীর্ঘ একটি রাস্তার নাম অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ওশান ড্রাইভ। এটি ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে এবং অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় ঐতিহ্যখ্যাত একটি স্থাপনা। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২৪৭ কিলোমিটার। রাস্তাটি অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব সমুদ্র উপকূল ধরে ভিক্টোরিয়ার টোরকে থেকে ওয়ার্নাম্বুল পর্যন্ত বিস্তৃত। সাগরের বিশালতা আর অসীম নীল জলরাশির গভীরতা ছুঁয়ে যায় প্রতিটি মানুষের মনের আঙিনাকে। সঙ্গে ঘন সবুজের সমারোহ, পাহাড় যদি সাগরের তীর ঘেঁষে প্রেমের আশ্রয় চায় তাহলে তো কথাই নেই! প্রকৃতির এই নৈসর্গিক প্রেম, পাগল করা মন মাতানো রূপের গভীরে আমি হারাই প্রতিবার, প্রতিমুহূর্ত, সে এক অন্য প্রহর! অনিন্দ্যসুন্দর আর নির্জনতা এত বেশি মোহাচ্ছন্ন করে তোলে আমাকে, অবচেতন মনেই গেয়ে উঠি ‘রূপের ওই প্রদীপ জ্বেলে কী হবে, তোমার কাছে কেউ না এলে আর মনের ওই এত মধু কেন জমেছে, যদি কেউ না থাকে নেবার।’
আকাশছোঁয়া স্বচ্ছ অথৈ নীল জলের দেয়াল আর আকাশের বুকে শুভ্র মেঘের লুকোচুরি, সব মিলিয়েই অদ্ভুত নৈসর্গিক সৌন্দর্য। আমার অসম্ভব পছন্দ সবুজ বন, স্বচ্ছ নীল সমুদ্র আর পাহাড়ের সুউচ্চ হাতছানি। প্রকৃতির নির্জনতা ও নিভৃতে সুযোগ পেলেই ছুটে যাই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে। সাগরের তীর ঘেঁষে মহাসড়ক ধরে ভ্রমণ সত্যিকার অর্থেই রোমাঞ্চকর। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ওশান ড্রাইভে ভ্রমণ সত্যি অন্য রকম অনুভূতি। দুই পাশে সৌন্দর্যদেবীর অকৃপণ নৈসর্গিক রূপ আর ইতিহাসের নানা রসদ এই ভ্রমণ নিঃসন্দেহে যেকোনো পর্যটকের ভ্রমণতৃষ্ণা মেটাবে। গ্রেট ওশান রোড নামেই পরিচিত মহাসাগর-সংলগ্ন মহাসড়ক। খুব ভোরে মেলবোর্ন থেকে রওনা দিলাম আমরা। মেয়ে অথৈ, ছেলে দীপ্র আর আমার স্বামী শাখাওয়াত হোসেন ও আমি।
বরাবরই মেলবোর্নের আবহাওয়া প্রকৃতির খেয়ালে বিচিত্র। দিনে তিন-চারবার রং বদলায়। অনেকটা প্রেমিক যুগলের খুনসুটির মতোই। মান-অভিমানের এমন লুকোচুরি খেলায় এখানকার আবহাওয়া কখনো শীত, কখনো গরম, কখনো গোমড়ামুখে প্রথম অভিমান, তারপর অঝোর ধারায় কান্নার জল, কখনোবা রোদমাখা ঝলমলে দিন, লিলুয়া বাতাস।
পরিচিত বন্ধুবান্ধবদের কাছে আগেই শুনেছিলাম এর মনোমুগ্ধকর রূপের গল্প। এবার নিজের চোখে দেখে রীতিমতো পাগল হয়ে উঠেছি। এমন সুন্দর দিনটি আমার জন্যও বিশেষ স্মরণীয় হয়ে থাকবে আরও একটি বিশেষ কারণে। তা হলো—সেদিনই প্রথম আমি লংড্রাইভ করেছি, তাও আবার মহাসাগরের তীর ঘেঁষে, প্রায় ২৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়ক ধরে।
আমার সেদিনের অনুভূতি লিখে বা বলে প্রকাশ করা যাবে না, অন্য রকম একটি দিন ছিল সেটা। মেলবোর্ন থেকে ঘণ্টা দেড় ড্রাইভ করলেই জিলং নামে একটি জায়গা পড়ে। ওয়াটারফ্রন্ট নামে খুব সুন্দর একটি জায়গার জন্যই মূলত পর্যটকদের কাছে এটি অনেক জনপ্রিয়। একচিলতে বিচে ছোট ছোট ইয়ট, সাজানো-গোছানো পার্ক আর সর্পিল আঁকাবাঁকা পথ (পাথওয়ে) আমার স্মৃতিতে আমার প্রিয় জন্মভূমির অপূর্ব সুন্দর মেঠোপথের কথাই মনে করিয়ে দিয়েছিল।
গ্রেট ওশান রোড কোনো সাধারণ সড়ক নয়। ভিক্টোরিয়া প্রদেশের দক্ষিণ মহাসাগরের তীর ঘেঁষে টোরকে থেকে ওয়ার্নাম্বুল পর্যন্ত প্রসারিত অনিন্দ্যসুন্দর এই মহাসড়ক। ১৮৮০ সালে এটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হলেও সার্ভের কাজ শুরু হয় ১৯১৮ সালের আগস্ট মাসে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ফিরে আসা সেনাদের দিয়েই শুরু হয় এর নির্মাণকাজ। ঘন বন-জঙ্গল আর পাথুরে পাহাড় গ্রেনেড দিয়ে ভেঙে সামনের দিকে এগিয়ে যেতেন সেনাশ্রমিকেরা। ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, সারা দিনে তাঁরা আট ঘণ্টা হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে একেকজন পেতেন ১০ শিলিং আর সিক্স পেন্স তাম্রমুদ্রা। হাড়ভাঙা পরিশ্রম হলেও বিনোদনের খোরাক ছিল পর্যাপ্ত। গানবাজনার বাদ্যযন্ত্র, পিয়ানো, গ্রামোফোন, খেলাধুলা আর ক্যাসিনো।
সেনাসদস্যদের আনন্দ-বেদনামিশ্রিত বহু স্তরের নির্মাণকাজ শেষ করে ১৯৩২ সালের ২৬ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। মূলত প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেওয়া শহীদ সৈনিকদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানোর প্রয়াসে এই মহাসড়কটি নির্মিত হয়। গ্রেট ওশান রোডের বিখ্যাত ও আকর্ষণীয় স্থান টুয়েলভ অ্যাপোস্টলস। মাঝখানে অ্যাঞ্জেল বিচ, লরেন বিচের সাগরের সুনীল জলরাশি আর পরিকল্পিত বালুকাময় সমুদ্রসৈকত এই পর্যটন নগরকে দিয়েছে অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
উত্তাল সাগরের নোনাজল যখন আছড়ে পড়ে তখন ঝিরিঝিরি বাতাসে তৈরি হয় সফেদ ফেনা। তা রৌদ্রময় আলোর ঝলকানিতে মুক্তোর দানার মতোই চিকচিক করে। এ এক মাতাল করা দৃশ্য! এ দৃশ্য দেখে আনমনেই গেয়ে উঠলাম বেঁধেছি মনশয্যা বালির বিছানায়। প্রতিটি সৈকতের পাদদেশেই গড়ে উঠেছে অত্যাধুনিক শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বিপণি, আন্তর্জাতিকমানের খাবার-দাবারের রেস্তোরাঁ। অ্যাপোলো বে থেকে পোর্টক্যাম্বল যাওয়ার পথে গ্রেট ওটওয়ে ন্যাশনাল পার্ক। উঁচু-নিচু পাহাড়ে কোথাও ঢালু, কোথাও ঊর্ধ্ব সরু আঁকাবাঁকা পথ, গহিন জঙ্গল, সুনসান নীরব চারপাশ। মানুষজন বা বাড়িঘর নেই। গা ছমছম করা নীরবতা চারদিকে। মনে হয় স্তব্ধ প্রকৃতি।
এভাবেই মনে অজানা শিহরিত মুগ্ধ নয়নে শেষ বিকেলে লালচে চকচকে সোনালি আলোর আভায় দেখা পেলাম টুয়েলভ অ্যাপোস্টলস। এটি আসলে মূলত কতগুলো ক্ষয়ে যাওয়া পাললিক শিলা স্তম্ভের সমষ্টি। যদিও ১২টি পাললিক শিলা স্তম্ভের সমষ্টি আমি মেলাতে পারিনি। পোর্টক্যাম্বলে এর অবস্থান হলেও এটি প্রিন্স টাউন থেকে পিটারবার্গ পর্যন্ত বিস্তৃত। খারাপ আবহাওয়া আর দক্ষিণ মহাসাগরের উত্তাল ঢেউয়ের দাপটে এখানকার পাললিক শিলার পাহাড়গুলোর পাদদেশ ক্রমশ ক্ষয়ে ক্ষয়ে আজকের এই রূপ ধারণ করে আছে। কিছু কিছু খাড়া পাহাড় খণ্ড সাগরের বুকে একাকী ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে। এমন দৃষ্টিসুখকর দৃশ্য নিমেষেই দূর করে দিল সারা দিনের ক্লান্তি।
টম আর ইভা নামে দুটি শিলাখণ্ড আছে। যে কারোর কাব্যিক শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গি হয়তো আবিষ্কার করবে প্রেমের দুয়ারে আলিঙ্গনরত শিলাখণ্ড। সাগরের বুকেই টমের সলিলসমাধি হয়েছে, তবে তা প্রেমের জন্য নয়। বছর কয়েক পরে টম যখন পুরোদস্তুর নাবিক, তখন এক দুর্ঘটনায় সাগরের বুকেই চিরদিনের জন্য হারিয়ে যান তিনি। টুয়েলভ অ্যাপোস্টলস থেকে কিছু দূরে পশ্চিমে অবস্থিত আরেকটি সেরা আকর্ষণীয় বিনোদন স্পট লক আরড জর্জ। ১৮৭৮ সালে লক আরড নামে একটি জাহাজ মেলবোর্নে পাড়ি জমিয়েছিল ইংল্যান্ড থেকে। সৈকতের কাছাকাছি এসে দুর্ঘটনায় পড়ে ৫৫ জন যাত্রীর মধ্যে মাত্র দুজন বেঁচে যায়। তাদের একজন ১৫ বছরের টম, যে পেশায় ছিল নবিশ নাবিক। আর অপরজন ১৭ বছরের আইরিশ তরুণী ইভা কারমাইকেল, যে পরিবারের সঙ্গে ভাগ্যান্বেষণে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিল। টম আর ইভার জন্য বিষণ্নতা ছেয়ে গেল মনের গভীরে। অন্যদিকে সাগরের বুকে অস্তমিত সূর্যের ম্রিয়মাণ আলোর রূপও আমাদের মনে সাক্ষী হয়ে রইল। অনেক কিছু হারানোর পরও আমরা সৌন্দর্যদেবী সাগরের বুকে অজানা মোহে অপার বিশ্বাসে স্বপ্ন বুনে যাই রঙিন সুতোয়!
হ্যাপি রহমান
সিডনি, অস্ট্রেলিয়া

কী আছে প্রিন্স চার্লসের চিঠিতে?

সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লেখা প্রিন্স চার্লসের কিছু চিঠি উদ্ধারের জন্য দীর্ঘ নয় বছর আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যের ইংরেজি দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান। তথ্য অধিকার আইনে গার্ডিয়ান এসব চিঠির অনুলিপি দাবি করে আদালতে যায়। আদালত দুই দফা গার্ডিয়ান-এর পক্ষে রায় দিলেও রাষ্ট্রপক্ষ এসব চিঠি প্রকাশ করেনি।
রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি, এসব চিঠি প্রকাশিত হলে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। চিঠিগুলো প্রকাশিত হলে সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি করবে।
শীর্ষ আদালত পর্যন্ত গড়ানো আলোচিত এই বিষয়টি চলতি সপ্তাহে সুরাহা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাল সোমবার এবং আগামী মঙ্গলবার দেশটির সুপ্রিম কোর্টে এ বিষয়ে ছয়জন বিচারকের নেতৃত্বে শুনানি হবে। সুপ্রিম কোর্ট সিদ্ধান্ত নেবে আদালতের আদেশ অমান্য করে চিঠিগুলোর প্রকাশ আটকে দেওয়া রাষ্ট্রপক্ষের উচিত হয়েছে কি না? দেশটিতে ২০০০ সালে চালু হওয়া তথ্য অধিকার আইনে করা মামলায় এটাই দীর্ঘতম আইনি লড়াই।
চিঠি লেখার কথা স্বীকার কিন্তু প্রকাশে বাধা
প্রিন্স চার্লস আদৌ মন্ত্রীদের কাছে চিঠি লিখেছিলেন কি না, সেটা না জেনেই গার্ডিয়ান ২০০৫ সালে তথ্য অধিকার আইনের অধীনে এ বিষয়ে তথ্য চায়। দীর্ঘ চার বছর পর তথ্য কমিশনার গার্ডিয়ান-এর আবেদন নাকচ করে দেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, প্রিন্স চার্লস সরকারের সাতটি বিভাগে চিঠি লিখেছেন। গার্ডিয়ান এ নিয়ে তথ্য অধিকার ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে। তিন বছর পর ২০১২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল গার্ডিয়ান-এর পক্ষে রায় দিয়ে চিঠির তথ্য প্রকাশের জন্য আদেশ দেয়।
এক মাস পর তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল ডোমিনিক গ্রিভ ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নিষেধাজ্ঞা (ভেটো) দেন এবং চিঠিগুলোর প্রকাশ আটকে দেন। নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে ডোমিনিক গ্রিভ আরেকটি নতুন তথ্য ফাঁস করেন। তা হলো, ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০০৫ সালের মার্চ পর্যন্ত চার্লস ২৭টি চিঠি লিখেছেন। গ্রিভ বলেন, বেশির ভাগ চিঠিতে প্রিন্স অব ওয়েলস একান্ত নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিশ্বাসের কথা লিখেছেন। যা প্রকাশ হলে চার্লসের রাজনৈতিক নিরপেক্ষ অবস্থান নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে। চার্লসের চিঠিগুলো ‘ব্ল্যাক স্পাইডার মেমোস’ নামে পরিচিত।
২০১৩ সালের মে মাসে গার্ডিয়ান অ্যাটর্নি জেনারেলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যায়। চলতি বছরের শুরুর দিকে তিনজন জ্যেষ্ঠ বিচারক গার্ডিয়ান-এর পক্ষে রায় দেন। তাঁরা বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল আইনবহির্ভূত চর্চা করেছেন। ট্রাইব্যুনালের রায় আটকে দেওয়ার কোনো উপযুক্ত কারণ তাঁর পক্ষে নেই। এবার অ্যাটর্নি জেনারেল সর্বশেষ কার্ডটি খেললেন। তিনি চিঠিগুলো প্রকাশ না করে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলেন। যা নিয়ে কাল-পরশুর মধ্যে শুনানি হওয়ার কথা।
ব্ল্যাক স্পাইডার মেমোস কী?
প্রিন্স চার্লসের লেখা চিঠিগুলো মন্ত্রীদের কাছে ‘ব্ল্যাক স্পাইডার মেমোস’ নামে পরিচিত। চার্লসের কালো কালির পেঁচানো হাতের লেখার কারণে এমন নাম দিয়েছেন তাঁরা। ধারণা করা হচ্ছে, এসব চিঠির মাধ্যমে চার্লস এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করেছেন। যা প্রকাশ পেলে চার্লসের জন্য ব্রিটিশ রাজসিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী হওয়াটা অসম্ভব হয়ে পড়বে। চিঠিগুলোর প্রকাশ ঠেকাতে আইনি খরচ বাবদ সরকার এ পর্যন্ত দুই লাখ ৭৫ হাজার পাউন্ড খরচ করে ফেলেছে।

প্রাচীন ও অপরূপ মনোমুগ্ধকর এক শহর by জাহিদ কবীর হিমন

দুহাতে দুজন পুরুষের মূতি হাতে ঘূর্ণমান নারীমূর্তি
কন্সট্যাঞ্জ শহরের রাতের দৃশ্য
লেখক : জাহিদ কবীর হিমন
প্রথম রোমান সম্রাট অগাস্টাস যখন ক্ষমতায় ঠিক সেই সময়টায় এ অঞ্চলের দক্ষিণে বাস করত প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ইউরোপিয়ানরা। এদের হটিয়ে রোমানরা সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে ৪০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে। রাইন নদীর তীরে অবস্থিত এই অঞ্চলটির পূর্ব নাম যদিও ছিল ‘ড্রুসোম্যাগাস’ তবে রোমানদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পর সম্রাট কন্সটানশিয়াস ক্লোরাসের নামানুসারে তা হয়ে যায় ‘কন্সটান্সিয়া’। কেউ কেউ বলে থাকে এই নাম এসেছে ক্লোরাসের নাতি সম্রাট দ্বিতীয় কন্সটান্সিয়াসের নাম থেকে, যিনি এই অঞ্চলে প্রথম আসেন ৩৫৪ খ্রিষ্টাব্দে। সুইজারল্যান্ডের সীমানা ঘেঁষে থাকা জার্মানির একমাত্র শহর কন্সট্যাঞ্জ৷ যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রক্ষা পেয়েছে। এ শহর থেকে মিনিট পাঁচেক হেঁটে সুইজারল্যান্ড যাওয়া যায়। প্রাগৈতিহাসিক নানা চিহ্ন বহনকারী ঐতিহাসিক এই শহরের কেন্দ্র দিয়ে হেঁটে গেলে চোখে পড়ে মধ্যযুগের গোড়ার দিকের গির্জা, চিত্রিত রেনেসাঁ ভিলাস, মনোমুগ্ধকর ডিজাইন ও শিল্পকলা। সৌন্দর্যের দিক থেকে অবশ্যই এই শহরের নাটুকে স্থাপত্য উপভোগ করার মতোই ব্যাপার।
ইউরোপের হৃদপিন্ডে বিখ্যাত রাইন নদী। যার এক প্রান্তে অস্ট্রিয়া হয়ে ছুঁয়ে এসেছে সুইজারল্যান্ড। আর দুই ভাগ হয়ে দক্ষিণ দিক থেকে জার্মানিতে ঢুকে চলে গেছে একেবারে উত্তর প্রান্ত অবধি। কন্সটাঞ্জে রাইন নদী আর কন্সট্যাঞ্জ লেক মিলিত হয়েছে। লেকের ওপার আর এপার মিলে এই শহর দুটি ভাগে বিভক্ত। এর এক ভাগের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের সীমানা। সত্তর-আশির দশকের দিকে এই লেকের পানি কলকারখানার বর্জ্যে দূষিত হয়ে পড়লে এ অঞ্চলের প্রাণী-বৈচিত্র্য বিশেষ করে মাছের জীবনধারণ অসম্ভব হয়ে পড়ে। সরকারের যথাযথ পদক্ষেপের ফলে সেই অবস্থা আর নেই। লোকের মুখে শুনেছি, এই লেকের পানি এতই স্বচ্ছ যে তা পান করা যায়। স্বচ্ছ পানি আমি নিজ চোখেও দেখেছি। এই লেকের পানিই প্রায় ১২২ কিলোমিটার বেয়ে চলে গেছে স্টুটগার্টে এবং সেখানকার প্রায় দুই মিলিয়ন মানুষ পরিশোধিত জল পান করে জীবনধারণ করে।
মূল শহরের সঙ্গে লেকের যে অংশটি আছে, তার তীরে রয়েছে নয় মিটার দৈর্ঘ্য আর ১৮ টন ওজনের বিশাল কনক্রিটের এক নারীমূর্তি। এই নারীমূর্তি দুহাতে দুজন পুরুষের মূর্তি নিয়ে শ্লথ গতিতে নিয়ত ঘূর্ণমান। এই নারীর নাম লা বেলে ইম্পেরিয়া আর যে দুজন পুরুষের মূর্তি তার হাতে তাঁরা হলেন ওই সময়ের পোপ মার্টিন ভি আর তৎকালীন রাজা সিগিসমুন্ড। কথিত আছে, ১৪৮৫ সালে ইতালিতে জন্মগ্রহণকারী এই সুন্দরী ইম্পেরিয়ার রূপযৌবনে মুগ্ধ ছিলেন পোপ ও রাজা উভয়েই। তাঁদের ওপর ইম্পেরিয়ার প্রভাব ছিল সীমাহীন।
শহরের এক প্রান্তে ঘন বনজঙ্গলে ঘেরা সুবিশাল এলাকাজুড়ে আছে এ অঞ্চলের গর্ব স্বনামধন্য কন্সট্যাঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়। প্রায় ১০ হাজার ছাত্র নিয়ে সুনামের সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠান শিক্ষা বিস্তারে এ অঞ্চলে ভূমিকা রেখে আসছে সেই ১৯৬৬ সাল থেকে। ইউরোপের সর্ববৃহৎ লাইব্রেরি এই বিশ্ববিদ্যালয়েই। এখানে প্রায় দুই মিলিয়ন বইয়ের বিশাল সংগ্রহ রয়েছে। বাংলাদেশের শিক্ষার্থী যারা ভবিষ্যতে জার্মানিতে পড়তে আগ্রহী তারা এখানে চেষ্টা করতে পারে। এখানে ভর্তিপ্রক্রিয়া অন্য অনেক নামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অপেক্ষাকৃত সহজ। আর সবই ইন্টানেটের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যায়। তবে এখানে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের জানা প্রয়োজন, এই সিটিতে টাকা ব্লক করে রাখতে হয়। আর এক বছরের ভিসা পাওয়া যায় মাত্র। বছর বছর টাকা রেখে তা হালনাগাদ করে নিতে হয়।
ঝকঝকে তকতকে রাস্তার এই শহরে তরুণ-যুবক-বুড়ো প্রায় সবাই সাইকেলে যাতায়াত করে। গাড়ির সংখ্যা খুবই কম। হইচই ও কোলাহল নেই। যানজটের তো প্রশ্নই আসে না। অল্পবিস্তর গাড়ির যাই চলুক না কেন কোনো ভেঁপুর (হর্ন) শব্দ কানে আসে না। শহরের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে আপেলগাছ। আমি এই শহরে কিছুদিন ছিলাম। তখন আমি অযাচিতভাবে গাছ থেকে আপেল পেড়েও খেয়েছি। পরে শুনেছি ওসব ব্যক্তিগত মালিকানাধীন। তাই সাবধান হয়েছি। এই শহরে সর্বমোট মানুষ প্রায় ৮৫ হাজার। উন্নত জীবনমান, উচ্চ মূল্যবোধ আর নিরাপদ জীবনধারা এই শহরের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কোনো অপরাধমূলক ঘটনা নিকট অতীতেও ঘটার কথা শোনা যায়নি। এক পাশে ইউরোপের তৃতীয় বৃহত্তম কন্সট্যাঞ্জ লেক অপর পাশে সুবিশাল রাইন নদী। এর সঙ্গে সৌন্দর্যের অন্যতম অলংকার যুক্ত হয়েছে দূরের আলপস পর্বতমালা। অপরূপ এই ছোট্ট শহরে যেদিকেই নয়ন মেলে তাকানো যায় নির্মল সুশীতল স্পর্শে হৃদয়াঙ্গন নেচে ওঠে।
জাহিদ কবীর হিমন
হ্যানোভার, জার্মানি

কুতুবদিয়া আর্দশ উচচ বিদ্যালয় ঈদ পৃণর্মিলনী শোভাযাত্রা অনুষ্টিত

ঐতিহ্যবাহী কুতুবদিয়া আর্দশ উচচ বিদ্যালয়ের (SSC) 2000 সাল পরবর্তী ব্যাচ সমুহের ঈদ পৃণর্মিলনী উপলক্ষে বর্নাঢ্য শোভাযাত্রার একাংশ

নির্বাচন নিয়ে ১৬৬ দেশের কোনো প্রশ্ন নেই, দাবি সাবেরের

ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) প্রেসিডেন্ট, সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী দাবি করেছেন, আইপিইউ’র ১৬৬ সদস্য রাষ্ট্রের বাংলাদেশের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। তিনি বলেন, কোনো দেশে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যাহত হলে আইপিইউ তার বিরুদ্ধে জোরালো ভূমিকা পালন করে। সাবের বলেন, যার সাক্ষ্য বহন করে আইপিইউতে বাংলাদেশের সদস্য পদ তিনবার (১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর, ১৯৮২ সালে সামরিক শাসন জারির পর এবং ২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেনে দীর্ঘ মেয়াদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসার পর) স্থগিত হওয়ার মাধ্যমে। সাবের হোসেন চৌধুরী শনিবার বিকেলে নিউ ইয়র্কস্থ জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন । তিনি জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগদানের জন্য নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন। সাবের হোসেন বলেন, বর্তমানে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সক্রিয় থাকার কারণে আইপিইউ-ভুক্ত সদস্য রাষ্ট্রসমূহ বাংলাদেশকে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত করেছে। তিনি বলেন, বর্তমানে আইপিইউ প্রায় ৬৫০ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছে। এ সংগঠনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে বাংলাদেশের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে- যা বাংলাদেশে বর্তমান সংসদীয় গণতন্ত্রের বিশাল স্বীকৃতি। এ বিজয় জাতীয় অর্জন, এটি দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে সবার উচিত জাতীয় লক্ষ্য অর্জন ও বিজয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়া। সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও প্রথম সচিব (প্রেস) মামুন-অর-রশিদ উপস্থিত ছিলেন। নিউ ইয়র্কের জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন থেকে রোববার ঢাকায় প্রাপ্ত এক বার্তায় এ কথা বলা হয়। আইপিইউ’র প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ আজ আঞ্চলিক পর্যায় থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ প্রায় একই সময় আইপিইউ ও সিপিএ’র নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে-যা বাংলাদেশের জন্য বিরল সম্মানের। এসব সাফল্য জাতিসংঘে বাংলাদেশের ইমেজ আরো বাড়িয়ে দেবে। আইপিইউ’র নির্বাচনের আগে দু’একটি দেশ ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বাংলাদেশের দু’একটি দল অংশগ্রহণ না করা প্রসঙ্গে আলোচনার জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের উত্তরে তারা সম্মত হয়েছেন যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অনিবার্য অংশ নির্বাচনী কার্যক্রমে কোনো দলবিশেষ অংশগ্রহণ না করলে গণতন্ত্র থেমে থাকতে পারে না। অন্য সব দেশও এ বক্তব্যকে সমর্থন করে আমাদের ভোট দিয়েছে।” আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে কোনে প্রশ্ন আসছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, আইপিইউ এ বছর সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার ১২৫ বছর উদযাপন করেছে। অন্যদিকে জাতিসংঘ আগামী বছর প্রতিষ্ঠার ৭০ বছর পূর্তি পালন করবে। লীগ অব নেশনস প্রতিষ্ঠার সূত্র ধরে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়। সে বিবেচনায় জাতিসংঘ ও লীগ অব নেশনসের চেয়েও পুরনো সংগঠন হচ্ছে আইপিইউ। সাবের বলেন, জাতিসংঘ মানুষের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পৃথিবীর প্রতিটি দেশের সংসদই জনকল্যাণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে। সে ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সঙ্গে আইপিইউ’র কাজের সম্পর্ক গভীর এবং নিবিড়। জাতিসংঘ এবং আইপিইউ সমন্বিতভাবে আরো অনেক যৌথ কার্যক্রমের মাধ্যমে বিশ্ব মানবতার কল্যাণে কাজ করতে পারবে। যেটি আমাদের আইপিইউ’র নির্বাচনী অঙ্গীকারের সাফল্য বয়ে আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আইপিইউ প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। তিনি বলেন, আমরা শতভাগ স্বচ্ছতা নিয়েই নির্বাচিত হয়েছি। দেশ পরিচালনায় আমাদের প্রতি সারাবিশ্বের সমর্থন রয়েছে বলেই আমরা ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলসহ প্রতিটি নির্বাচনে জয়লাভ করেছি। বাংলাদেশ আজ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন কমিটিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ বিজয় অর্জিত হয়েছে। তিনি বলেন, তবে সরকারের ধারাবাহিক সাফল্য বাংলাদেশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্ব নেতৃত্বের আসন দিচ্ছে। তিনি ব্যক্তিগত অভিমত তুলে ধরে বলেন, যদি লক্ষ্য স্থির হয় ও উদ্দেশ্য সৎ থাকে তবে সেখানে সাফল্য আসবেই। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিশনারী নেতৃত্বের ফলেই বাংলাদেশ আজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। অচিরেই বাংলাদেশ তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছবে। সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছি। দেশ স্বাধীন হয়েছে, ভাষা আন্দোলনে বিজয়ী হয়েছি, ভাষার মর্যাদা বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মানই আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। সেই অগ্রযাত্রায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সূত্র: বাসস

ইমাম নিয়োগে ওয়াক্ফ বোর্ডের গুরুত্ব নেই: সৈয়দ আহমেদ বুখারি

ভারতের দিল্লি জামে মসজিদের ইমাম সৈয়দ আহমেদ বুখারি গতকাল শনিবার বলেছেন, বংশপরম্পরায় ৪০০ বছর ধরে তাঁর পরিবারের সদস্যরাই এই মসজিদের শাহি ইমাম পদে আছেন। এখানে ওয়াক্ফ বোর্ডের কোনো গুরুত্ব নেই। তবে আদালতের নির্দেশের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা রয়েছে। খবর এনডিটিভির। নিজের ছেলে শাবান বুখারিকে দিল্লি জামে মসজিদের ইমাম পদের উত্তরাধিকারী করার অধিকার আহমেদ বুখারির নেই বলে গত শুক্রবার অভিমত দেন দিল্লি হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ছেলেকে ইমাম নিয়োগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে বুখারির কাছে ব্যাখ্যাও চেয়েছেন আদালত। তারপর বুখারি গতকাল এসব কথা বললেন। আদালত বুখারির কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাইলেও ইমাম নিয়োগ অনুষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দেননি। গতকাল সন্ধ্যায় ওই নিয়োগ অনুষ্ঠান শুরু হয়। আহমেদ বুখারি জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ২৮ জানুয়ারি তিনি তাঁর সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেবেন। শাহি ইমাম আহমেদ বুখারি গতকাল দিল্লির ওয়াক্ফ বোর্ডের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ওয়াক্ফ বোর্ড এই বিতর্ক তুলেছে। কিন্তু এই বোর্ডের কোনো গুরুত্ব নেই। আহমেদ বুখারি দাবি করেন, ইমাম নিয়োগের ইস্যুতে লোকজন তাঁদের সঙ্গে আছে। আর এটাই একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সব সময় জেনে এসেছি, ইমাম নিয়োগ কোনো আইনি বিষয় নয়। কিন্তু ওয়াক্ফ বোর্ড এখন এটা আইনি প্রক্রিয়ায় ফেলতে চাইছে।’
আহমেদ বুখারি আরও বলেন, ‘মোগল সম্রাট শাহজাহান যখন তাঁর জামাইকে এই মসজিদের প্রথম ইমাম নিয়োগ করেন, তখন ওয়াক্ফ বোর্ডের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। ওয়াক্ফ বোর্ড হয়েছে ৬০ থেকে ৬৫ বছর আগে। এই বোর্ড কী বলে, সেটা কোনো বিষয় নয়। ইমাম ওয়াক্ফ বোর্ডের কর্মচারী হতে পারেন না।’ তবে ওয়াক্ফ বোর্ডের আইনজীবী ওয়াজিহ শফিক দাবি করেন, ইমাম ওয়াক্ফ বোর্ডের কর্মচারী। নিয়োগদাতা ও কর্মচারীর সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো উচিত। জামে মসজিদ দিল্লির ওয়াক্ফ বোর্ডের সম্পত্তি—এমন দাবি তুলে এ পর্যন্ত অনেকগুলো জনস্বার্থ মামলা করে ইমাম বুখারির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। ওয়াক্ফ বোর্ড দিল্লির মুসলমানদের ধর্মীয় সম্পত্তিগুলোর তত্ত্বাবধান করে থাকে। তাই ইমাম বুখারি জামে মসজিদের বিষয়ে এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না বলে দাবি করেছেন মামলাগুলোর বাদীরা।

খ্যাতিমানদের যৌন নির্যাতনের ঘটনায় বিপর্যস্ত বৃটেন

মার্কিন টিভি আইকন বিল কসবির বিরুদ্ধে কয়েক দশক পুরোনা যৌন নির্যাতনের স্ক্যান্ডালে যুক্তরাষ্ট্রের অনেকে বিস্মিত হয়েছেন। আন্টান্টিক মহাসাগরের অপর প্রান্তে বৃটেন দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে শোবিজ জগতের শীর্ষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একই ধরণের নানা ঘটনা মোকাবেলা করে আসছে। বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বৃটেনের দীর্ঘদিনের এ সমস্যার পর্যালোচনা। খ্যাতিমান ব্যক্তিরা কিভাবে তাদের খ্যাতি এবং ক্ষমতা ব্যবহার করে অপেক্ষকৃত কমবয়সীদের ওপর নির্যাতন করেছেন সেসব ঘটনা উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এর সূত্রপাত হয় যখন প্রয়াত ডিজে এবং টেলিভিশন উপস্থাপক জিমি স্যাভিলের যৌন নির্যাতন স্ক্যান্ডাল সামনে আসে। জিমি এমন একজন ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করতে সক্ষম হয়েছিলেন যে তার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রিন্স চার্লস থেকে শুরু করে বি গিস পর্যন্ত। জিমি অর্ধ শতকেরও বেশি সময় ধরে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ওপর যৌন নির্যাতর করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। দাতব্য কাজকে ঢাল ও মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে এসব মেয়েদেরকে টার্গেট বানাতেন তিনি। জিমি ২০১১ সালে মারা যান। আর তার এসব অপকর্ম টিভি ডকুমেন্টারিতে প্রচার হবার পর থেকে তার জনপ্রিয়তায় ভাটা নামে। যেসব স্কুল, চ্যারিটি আর হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে জিমি কাজ করেছেন সেগুলোর অনেক প্রতিষ্ঠানের যোগসাজসের প্রমাণ মেলে। বৃটিশরা বিস্মিত হন কিভাবে তাদেরকে এতো লম্বা সময় ধরে প্রতারনা করা হয়েছে। শীর্ষ পর্যায়ে এসব ঘটনা ঢামাচাপা দেয়ার অভিযোগ আসে। এ স্ক্যান্ডাল দ্রুতই বড় আকার ধারন করে আর জাতীয় পর্যায়ে তদন্তের পদক্ষেপ নেয় কর্তৃপক্ষ। শুরু হয় ‘অপারেশন ইউট্রি’। শত শত নারী-পুরুষ স্বাক্ষ্য দিতে এগিয়ে আসে। জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। খ্যাতিমানরা দাঁড়ান বিচারের কাঠগড়ায়। কয়েকজন কারান্তরীন হয়েছেন ইতিমধ্যে। আর প্রক্রিয়া এখনও চলছে। যেসব সেলিব্রিটিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বা দ- প্রদান করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে রল্ফ হ্যারিস (৮৪) যাকে ৫ বছর ৯ মাস কারাদ- দেয়া হয় জুলাইয়ে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল চার মেয়ের ওপর অশালীন নির্যাতন। একজন প্রসিকিউটর বলেন, ষাট আর আশির দশকে এসব অপকর্ম করে তিনি পার পেয়ে যান কারন তিনি ছিলেন, অতিরিক্ত খ্যাতিমান আর ক্ষমতাবান। সুখ্যাতির জন্য তিনি ছিলেন ধরা ছোয়ার বাইরে। প্রথিতযশ জনসংযোগ বিষয়ক গুরু ম্যাক্স ক্লিফোর্ড তিনি সাইমন কাওয়েল এর মতো সেলিব্রিটিদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, তাকে মে মাসে ৮ বছরের কারাদ- দেয়া হয়। তার বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ প্রমানিত হয়। সত্তর আর আশির দশকে চার মেয়ে ও নারীর ওপর নির্যাতন করেছিলেন তিনি। শোবিজ জগতে তার যোগাযোগ ব্যবহারক করে অল্পবয়সী মেয়েদেরকে যৌন সম্পর্কে প্রলুব্ধ করতেন তিনি। এর মধ্যে ছিল ৮০’র দশকের জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ডাইনেস্টিতে অভিনয়ের সুযোগ দেয়ার প্রলোভন। আদালতের বিচারক বলেন অভিযোগের কয়েকটি ধর্ষণ হিসেবে প্রমাণিত হতে পারতো যদি ঘটনাগুলো বর্তমান সময়ের হতো। সেপ্টেম্বর মাসে অভিযুক্ত হন ৬৯ বছরের রেডিও ডিজে এবং মিউজিক শো উপস্থাপক ডেভ লি ট্রাভিস। ১৯৯৫ সালে টিভি স্টুডিওর কোরিডরে এক নারী গবেষকের ওপর চড়াও হবার অভিযোগ প্রমাণিত হয় তার বিরুদ্ধে। অপর দুটি নির্যাতনের অভিযোগ থেকে রেহাই পান তিনি। এছাড়া রয়েছেন দীর্ঘদিনের বৃটিশ সোপ অপেরা ‘কোরোনেশন স্ট্রিট’ এর তারকা উইলিয়াম রোচ। ষাট আর সত্তরের দশকে পাচ নারীকে ধর্ষণ এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। ৮১ বছর বয়সী উইলিয়াম দাবি করেন যে সব নারী তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ এনেছেন তাদেরকে কোনদিনই দেখেননি তিনি। অবশেষে ফেব্রুয়ারি মাসে সকল অভিযোগ থেকে মুক্তি পান তিনি।

সানির আঘাতে জিম্বাবুয়ে ৫৪/৪

বল হাতে জিম্বাবুয়েকে চতুর্থ আঘাতটি হানলেন আরাফাত সানি। বাংলাদেশের এ বাঁ-হাতি স্পিনারের অফ স্টাম্পের বল সুইপ খেলতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন জিম্বাবুয়ের টেস্ট অধিানয়ক ব্রেন্ডন টেলর। দারুণ দক্ষতায় ক্যাচ তালবন্দি করেন মাহমুদুল্লাহ। এতে ১৫ ওভার শেষে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫৪/৪। চট্টগ্রামে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে ২৫২ রানের টার্গেট দিয়ে বল হাতে দারুণ সূচনা করে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে ইনিংসের প্রথম ওভারে ১ রানে ওপেনার হ্যামিল্টন মাসাকাদজার উইকেট উপরে নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। এরপর ২১ রান করা সিবান্দা ও ১৬ রান করা সিকান্দার রাজাকে সাজঘরে ফিরিয়েছেন তিনি। ৭৮.৪ ওভার শেষে অতিথিদের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৪০ রান। সিকান্দার রাজা ১৫ ও টেইলর শূন্য রানে ব্যাট করছেন। চট্টগ্রামে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ইনিংসের শুরুতে ভক্তদের বড় পুঁজির স্বপ্ন দেখিয়ে বাংলাদেশ তারকারা ব্যাট হাতে খেই হারান মাঝপথে। এতে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ২৫১/৭ সংগ্রহ নিয়ে। চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ মাঠে ম্যাচের শুরুতে টপঅর্ডারে দারুণ ব্যাটিং দেখায় বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে গিয়ে ওপেনিংয়ে ১৫০ রানের জুটি গড়েন  তামিম ইকবাল ও এনামুল হক বিজয়। তবে অল্প ব্যবধানে চার উইকেট হারিয়ে  দিকভ্রান্ত হয় বাংলাদেশ। ৩২ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ১৫৪/০। কিন্তু পরের ওভারে রান আউট হয়ে যান  তামিম ইকবাল। নিজের উইকেট দেয়ার দেয়ার তামিম করেন ৭৪ রান। আর আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসান নিজের উইকেট বিসর্জন দেন রানের খাতা খোলার আগেই। ব্যক্তিগত ৮০ রানে উইকেট দেন এনামুল হক বিজয়ও । পার্টটাইম বোলার ভুসিমুজি সিবান্দার বলে বোল্ড হয়ে যান সাকিব প্রথম বলেই । ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন নিয়ে সাফল্যবিমুখ থাকেন সাব্বির রহমানও। দুই বল মোকাবিলায় ০ রানে সাজঘরে  ফেরেন সাব্বির। তবে ইনিংসের শেষ ভাগে মুমিনুল হকের কার্যকরী ব্যাটিংয়ে ২৫০’র কোঠা পার করে বাংলাদেশ।

ছেলের স্কুলে ইন্টারভিউ দিতে হয়েছে মন্ত্রীকেও

হতে পারে কেন্দ্রের শিক্ষা দফতর তার হাতে। কিন্তু, তাতেও কোনো ছাড় নেই। আর পাঁচটা মায়ের মতো ছেলের স্কুলে ভর্তির সময় ইন্টারভিউ দিতে হয়েছে তাকেও।
এক সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, মুম্বাই থেকে ছেলেদের এনে দিল্লির স্কুলে ভর্তি করানোর সময় তাকে ইন্টারভিউ দিতে হয়েছিল।
তিনি জানিয়েছেন, তিনি সবসময় পারিবারিক জীবনের সঙ্গে কাজের সামঞ্জস্য রাখার চেষ্টা করেন। মন্ত্রী হওয়ার পর তার পরিবারকে সময় দেয়ার সমস্যা হয়ে যাচ্ছিল। তাই তিনি তার দুই সন্তান সহ পরিবারকে দিল্লিতে নিয়ে আসেন। তখন তাদের দিল্লির স্কুলে ভর্তি করানোর সময় ইন্টারভিউ দিতে হয় তাকে। যদিও এতে তার বিশেষ আপত্তি ছিল না। কারণ তার  মতে মন্ত্রীর জন্য নিয়ম আলাদা হওয়া উচিৎ নয়।
তিনি বলেন, ’এটা আমার দায়িত্ব। আর পাঁচজনের নাগরিকের মতোই এই দায়িত্ব আমার পালন করা উচিৎ। তাই আমি আমার স্বামীর সঙ্গে গিয়ে ইন্টারভিউ দিয়েছিলেন।’ এমনকি নিয়মিত পেরেন্ট-টিচার মিটিং-এও যান তিনি।
মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী স্মৃতি জানান, তিনি কখনই নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে চলাফেরা করেন না। তার মতে তিনি তার সন্তানদের বোঝাতে চান মন্ত্রিত্ব একতা দায়িত্ব, শুধু একটা উপাধি নয়।

ছিঃ ছিঃ এত্তা জঞ্জাল! by জয়া ফারহানা

বুদ্ধদেব গুহ একবার জনাকীর্ণ এক সম্মেলনে শ্রোতাদের উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘আপনারা কেউ কি আমার কোনো বই পড়েছেন?’ খানিক নীরবতার পর লজ্জিত স্বরে যখন উত্তর এলো ‘না’, তখন মুচকি হেসে প্রত্যুত্তরে তিনি বলেছিলেন, ‘যাক, বুদ্ধিমান পাঠক এখনও তাহলে আছে কিছু।’ কথাটা মাঝে মধ্যেই মনে পড়ে, তখন শ্রীমান গুহকে আমারও বলতে ইচ্ছে করে খালি বুদ্ধিমান পাঠকই নন, বুদ্ধিমান লেখকও আছেন ঢের। বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে তারা চারদিকের উচ্চতর সাফল্য দেখেন কেবল। দেখতেই থাকেন, আর লিখতেই থাকেন। এসব সাফল্যের ফিরিস্তি গাইতে গিয়ে সম্পাদকীয় বিভাগের পাতা মার্জিন ছুঁয়ে যায় তবু তাদের সাফল্যের বয়ান শেষ হতে চায় না। তো এই লম্বা সাফল্য বয়ানের জন্য যথাসময়ে তাদের ভাগ্যে লম্বা লিস্টির পুরস্কারও জুটে যায়। সময়মতো তারা অভিজাত এলাকায় প্লট পেয়ে যান। আবার প্রি-ম্যাচিউর পেয়ে যান রেডিও-টেলিভিশনের লাইসেন্সও। সরকারি সফরে গেলে কাস্টমস চেকিং ছাড়াই শাহজালালের গ্রিন চ্যানেল দিয়ে তাদের ঐশ্বর্য বোঝাই বাক্স-পেটরা আসতেই থাকে। আর এসব ব্যক্তিগত ঐশ্বর্য দেখে তাদের মনে হতে থাকে, এ দেশে অভাব কোথায়? সবই তো চলছে ঠিকঠাক। তখন তারা আবার দেশের ঐশ্বর্যের বয়ান দিতে গিয়ে বিশাল বিশাল নিবন্ধ লিখতে বসে যান। বেশ এক অলংঘনীয় চক্র আর কী! দেশের উন্নয়নের গতি উসাইন বোল্টের চেয়েও দ্রুত ধাবমান বলে তারা মত দেন। চোখ-কান বুজে তারা লিখে দেন তাদের নেতাই পারছেন এবং তাদের নেতাই পারবেন, তাতে আর সন্দেহ কী! আমরাও মানি সে কথা। স্বাধীন বাংলাদেশে এভাবে আর কোনো নেতা পেরেছিলেন বলে জানা নেই। যাহোক, উন্নয়নের নসিহত বর্ণনার সময় তারা লেখেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশ এগিয়ে যাবেই। কেউ এর গতি রুখতে পারবে না।
শরীরের সমস্ত রক্ত কেবল মাথায় প্রবাহিত হলে তাকে যেমন সুস্বাস্থ্য বলা যায় না, তেমন কেবল দলীয় উন্নয়নকেও দেশের উন্নয়ন বলা যাবে না। তারপরও কে রুখতে পারে তাদের উন্নয়নসংক্রান্ত বয়ান বরং কেউ সত্য বয়ান করলে সেই বয়ানের মধ্যেই চালানো হয় কাঁচি। বাধ্য হয়ে বোকাসোকা নিবন্ধকারদের লিখতে হয়- ‘ফুল কেন ফোটে,’ ‘পাখি কেন গান গায়’, ‘আকাশ কেন নীল’, ‘সাগর কেন অসীম’ ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব লেখা ছাড়া উপায়-ই বা কী? লেখা কি যাবে, পুলিশ কেন হাজার হাজার নিরীহ মানুষ ধরে নিয়ে যায়, ভালো মানুষগুলো কেন নিভৃতচারী আর মন্দরা পর্দায়? না, লেখা যাবে না। হয়তো ইতিমধ্যে লেখার এই অংশ ছেঁটে ফেলা হয়েছে। এখানে কাঁচির কর্ম সম্পাদিত হয়ে গেছে। প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হয়, উন্নয়ন উন্নয়ন বলে রাত-দিন যে জিগির চলছে, সেই উন্নয়নের আসল দাবিদার কারা? বাইশ হাজার কোটি টাকার যে বিশাল বিদেশী মুদ্রা অর্জিত হয়েছে, তা কাদের শ্রম আর ঘামের বদলে? এর দাবিদার কেবল আমার পোশাক-শ্রমিক বোন আর ভায়েরা। প্রবাসী ভাইদের পাঠানো রেমিটেন্সের কল্যাণে গড়া বিদেশী মুদ্রার রেকর্ড পরিমাণ রিজার্ভের জন্য কেউ কেউ যে চিল চিৎকার করেন, সেই চিৎকারের ভিত্তি-ই বা কী? রাজনৈতিক নেতৃত্বের আহামরি কোনো পদক্ষেপের কারণে তো নয়, দেশের অর্থনীতি যে সচল আছে, তা কেবল আমার দেশের শ্রমিক আর কৃষকের প্রাণান্ত শ্রমের কারণে। দেশের মাথাপিছু গড় আয় এক হাজার চুয়াল্লিশ ডলার বলে ফলাও করে প্রচার করা হয়। বলা হয় না এর মধ্যে প্রশিক্ষিত চোরদের এক হাজার ডলার আর রহিমুদ্দি-কলিমুদ্দির ভাগে যে চুয়াল্লিশ ডলার ছিল, তাই-ই রয়ে গেছে।
পুরোটাই শুভঙ্করের ফাঁকি। দেশের আপাদমস্তক নাকি মুড়ে দেয়া হয়েছে তথ্যপ্রযুক্তির স্বর্ণময় সাফল্যে। বিচ্ছিন্নপ্রায় দুর্গম দ্বীপ থেকেও পাসপোর্ট-ভিসার ফরম পূরণ করা যায়। অনলাইনে ভর্তি, রেজিস্ট্রেশন, টেন্ডার ড্রপ শুনতে শুনতে কানে তালা লেগে যাওয়ার জোগাড়। বলি কী, আপনারা আর আপনাদের মামারা মিলে চুরিদারিও অনলাইনভিত্তিক করে ফেলেছেন। সর্বাধুনিক পশ্চিমা প্রযুক্তির কল্যাণে সর্বাধুনিক চুরি! এখানে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড মানে অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন আর কিন্ডারগার্টেন দলের সমান দূরত্বে থেকে গোল করা (আকেলমান্দ পাঠক বুঝে নিন)। যে শ্রমিকের কৃতিত্বের ওপর দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ, রানা প্লাজা ধসে তাদের কাতারে কাতারে মৃত্যুর সময় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে ধুয়ে মুছে কীভাবে স্যানিটাইজ করে দেখানো হয়েছিল, আমরা ভুলিনি। সবকিছুই স্যানিটাইজড হয়, সেন্সরড হয়, তার মধ্যেও আবার যখন একজন বদি, লতিফ সিদ্দিকী কিংবা মান্নান খানের মতো কীর্তিমানের কীর্তিগুলো খবরের কাগজে চলে আসে, তখন তারা একখানা কমন ডায়ালগ ঝেড়ে দেন। সেটা হল ‘আমাদের কথা’ গণমাধ্যমে সঠিকভাবে আসেনি।
ইহুদিবাদে আছে- ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে অসংখ্য বিরূপ পরিস্থিতি সহ্য করা যায় (রাব্বিনিক ইহুদিবাদের টেক্সট তালমুদ দ্রষ্টব্য)। বাইবেল বলছে, ‘দেখ কীভাবে কৃষক মাটিতে মূল্যবান ফসল জন্মানোর জন্য অপেক্ষায় থাকে, যতদিন না মাটি পায় মৌসুমের শুরুর এবং শেষের বৃষ্টির’ (জেমস ৫ : ৭-১১)। হিন্দু এবং বৌদ্ধ ধর্মে ধ্যানের মাধ্যমে ধৈর্য ধারণের কথা বলা হয়েছে। আর কোরআনে আছে, ‘আল্লাহ তাদেরই দেন যোগ্য পুরস্কার, যারা ধৈর্য এবং অধ্যবসায়ের সঙ্গে থাকে।’
দেখা যাচ্ছে, পৃথিবীর ইতিহাস ধৈর্যের-ই ইতিহাস। ‘হিউম্যান, টু অল হিউম্যান’ (Human, All Too Human) গ্রন্থের নিটশের অবশ্য ধৈর্য ধরার ব্যাপারটা এতই কঠিন মনে হয়েছিল যে, শ্রেষ্ঠ কবিদেরও শেষ পর্যন্ত তিনি ধৈর্য ধরার অপারগতাকে কবিতায় প্রতিস্থাপন করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তো নিটশের পরামর্শমতো সবাই তো আর কবিতা লিখতে পারবেন না। অতএব যারা কবিতা লিখতে পারে না, অবশেষে, তাদের হাতে থাকে কেবল মর্জিনার ঝাড়ু (আলী বাবা চল্লিশ চোর)। জঞ্জাল পরিষ্কার করতে ঝাড়ু হাতে রাস্তায় বেরিয়ে পড়া ছাড়া তাদের উপায় তো আর কিছু দেখি না!
জয়া ফারহানা : লেখিকা, উন্নয়নকর্মী

ধর্ম, আইন ও নৈতিকতার দৃষ্টিতে ঘুষ অবৈধ by ইকতেদার আহমেদ

সব ধর্মেই ঘুষ ও দুর্নীতিকে অবৈধ গণ্য করে একে পরিহার করতে বলা হয়েছে। যে সমাজে দুর্নীতিবাজরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, সে সমাজ অসুস্থ এবং সেখানে সৎ ও ন্যায়পরায়ণদের সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকা কঠিন। স্কুলে নবম ও দশম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে আমাদের পাঠ্যসূচিতে মানবিক বিভাগের ছাত্রদের জন্য ইসলামিক স্টাডিজ নামক ১০০ নম্বরের বিষয় ছিল। ইসলামিক স্টাডিজ বইয়ে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি ৪০টি হাদিস অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর মধ্যে একটির প্রধান পাঠ্যাংশ ছিল র্আরাশি ওয়াল মুরতাশি কিলা হুমা ফিন্নার। এর বাংলা অর্থ হল- ঘুষ দাতা ও ঘুষখোর উভয়েই জাহান্নামি (তাবারানি)।
হাদিসটি ব্যাখ্যা করলে অতি সহজেই বোঝা যায়, ইসলাম ঘুষ গ্রহণ বা প্রদান কোনোটিই অনুমোদন করে না। ইসলামে ঘুষ গ্রহণ ও ঘুষ প্রদানকারী উভয়কেই একই মাপের অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং আরও বলা হয়েছে, উভয়ের স্থান হবে জাহান্নামে। ইসলামের মতো অন্যান্য ধর্মও ঘুষ গ্রহণ ও প্রদান অনুমোদন করে না। যারা ধর্ম বিশ্বাস করে না, তারা নীতিশাস্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। পৃথিবীতে এমন কোনো নীতিশাস্ত্রও নেই, যেখানে ঘুষ গ্রহণ বা প্রদানকে অনুমোদন করা হয়েছে। দেশে এখনও অধিকাংশ মানুষের বদ্ধমূল ধারাণা হল, ঘুষ গ্রহণ অপরাধ কিন্তু ঘুষ প্রদান অপরাধ নয়। ধর্ম ও আইন বিষয়ে বাস্তব জ্ঞান বা শিক্ষার অভাবেই তাদের মধ্যে এ ধারণার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘুষ ও দুর্নীতি সমার্থক। ঘুষের আদান-প্রদান নগদ টাকা বা দ্রব্য-সামগ্রীর মাধ্যমে হয়ে থাকে। একটি কাজ তখনই ঘুষের পর্যায়ে পড়বে যখন কাজটি করার জন্য কার্য সম্পাদনকারী ব্যক্তিকে নগদ বা দ্রব্য-সামগ্রীর মাধ্যমে কোনো কিছু দেয়ার জন্য বাধ্য করা হয়। আমাদের দেশে অনেক সময় দেখা যায়, ঘুষ প্রদান ছাড়া কাজ আদায় হচ্ছে না এবং দ্রুত কাজ আদায়ের জন্য একজন ভুক্তভোগী বাধ্য হয়ে ঘুষ দিচ্ছেন। একজন ব্যক্তি কোনো কাজ হাসিলের জন্য কোনো ব্যক্তিকে কোনো ধরনের উপহার বা উপঢৌকন দিয়ে থাকলে তাও ঘুষ হিসেবে গণ্য হবে, যদিও এ ধরনের উপহার বা উপঢৌকন দেয়ার কোনো উপলক্ষ ইতিপূর্বে ছিল না এবং ভবিষ্যতেও থাকার কোনো সম্ভাবনা নেই।
আমাদের মূল দণ্ড আইন দণ্ডবিধি ১৮৬০-এ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এ ঘুষ অথবা ইৎরনব-কে অপরাধ হিসেবে সজ্ঞায়িত করা হয়নি। দণ্ডবিধিতে ঘুষ অথবা Bribe-কে Gratification হিসেবে সজ্ঞায়িত করা হয়েছে। অপরদিকে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এ ঘুষ বা Bribe-কে Criminal Misconduct হিসেবে সজ্ঞায়িত করা হয়েছে। Gratification অর্থ সন্তুষ্টকরণ, উৎকোচ, বকশিশ ইত্যাদি। পক্ষান্তরে Criminal Misconduct অর্থ অপরাধমূলক অসদাচরণ।
উভয় আইনের ভাষায় বকশিশ বা অপরাধমূলক অসদাচরণ বিষয়ে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি সরকারি কর্মচারী হিসেবে যদি নিজ অথবা অপর কোনো ব্যক্তির জন্য তার বৈধ বেতনবহির্ভূত কোনো ধরনের বকশিশ গ্রহণ করে বা গ্রহণে সম্মত হয়, তবে সে বকশিশ গ্রহণ বা অপরাধমূলক অসদাচরণ করেছে বলে গণ্য হবে।
দণ্ডবিধি একটি সাধারণ আইন। এ আইনটি ঔপনিবেশিক শাসনামলে ১৮৬০ সালে প্রণীত হয়। দণ্ডবিধিতে সরকারি কর্মচারী কর্তৃক বকশিশ বা ঘুষ গ্রহণের সর্বোচ্চ সাজা তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড। উপমহাদেশ বিভক্ত হওয়ার বছর পাকিস্তান শাসনামলে ১৯৪৭ সালে প্রণীত দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে সরকারি কর্মচারী কর্তৃক অপরাধমূলক অসদাচরণের সর্বোচ্চ সাজা সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড বা অপরাধমূলক অসদাচরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্পদের রাষ্ট্রের বরাবরে বাজেয়াপ্তি।
দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ একটি বিশেষ আইন হওয়ায় এবং দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৬১-১৬৫ ধারায় বর্ণিত সরকারি কর্মচারী কর্তৃক কৃত অপরাধগুলো দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫ ধারায় বর্ণিত অপরাধগুলোর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এসব অপরাধ ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন ১৯৫৮-এর ৩ ধারা অনুযায়ী দায়রা জজ অথবা অতিরিক্ত দায়রা জজ অথবা সহকারী দায়রা জজ সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ জজ আদালত দ্বারা বিচার্য। তাছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এবং দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর কতিপয় অপরাধ ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন ১৯৫৮-এর তফসিলভুক্ত হওয়ায় প্রথমোক্ত দুটি আইনে বর্ণিত অপরাধগুলো এবং শেষোক্ত আইনের কতিপয় অপরাধ বিশেষ জজ আদালত দ্বারা বিচার্য।
বাংলাদেশসহ সব দেশে সমাজ গতিশীল। গতিশীল সমাজে আইন স্থবির হলে সে আইন সময় ও যুগের চাহিদা মেটাতে পারে না। তাই সময় ও যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে আইনকে যুগোপযোগী করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এ প্রয়োজনীয়তা পূরণকল্পে ক্ষেত্রবিশেষে প্রচলিত আইনে সংযোজন, বিয়োজন বা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে সংশোধনী আনা হয় এবং ক্ষেত্রবিশেষে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়।
দুর্নীতি সংক্রান্ত অপরাধের অনুসন্ধান ও তদন্ত পরিচালনার জন্য স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন অনুভূত হলে ২০০৪ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন প্রণয়নপূর্বক দুর্নীতি দমন আইন ১৯৫৭ এবং দুর্নীতি দমন (ট্রাইব্যুনাল) অধ্যাদেশ ১৯৬০ রহিত করা হয়। বাংলায় প্রণীত এ আইনটিতেও ঘুষকে সজ্ঞায়িত না করে দুর্নীতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, দুর্নীতি অর্থ এ আইনের তফসিলে উল্লেখিত অপরাধগুলো। উল্লেখ্য, এ আইনের তফসিলে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর অধীন কতিপয় ধারার শাস্তিযোগ্য অপরাধ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
আইনের ভাষায় সরকারি কর্মচারীদের যেসব কার্যকলাপকে বকশিশ বা অপরাধমূলক অসদাচরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সাধারণ্যে তা ঘুষ হিসেবে সমধিক পরিচিত।
বলতে দ্বিধা নেই, ঘুষ বা দুর্নীতি আজ বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। সরকারের এমন কোনো বিভাগ নেই যেখানে ঘুষ বা দুর্নীতির চর্চা নেই। কিছু মন্ত্রী ও সচিব ঘুষ বা দুর্নীতি মুক্ত হলেও তারা কি হলফ করে বলতে পারবেন তাদের অধস্তনরা ঘুষ বা দুর্নীতি মুক্ত? উপরস্থ যারা অধস্তনদের ঘুষ বা দুর্নীতি দূর করতে অসমর্থ, তাদের বলা হয় নির্লিপ্ত সৎ। নিজে সৎ থেকে অধস্তনকে দুর্নীতিমুক্ত না রাখার মতো নির্লিপ্ত সততা কোনো বিভাগের মন্ত্রী বা সচিবের ক্ষেত্রে কাম্য নয়।
বিগত বছরগুলোয় দেশের শেয়ারবাজার এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। এসবের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের সবারই রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। আর এ কারণেই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে শাস্তির আওতায় আনা যাচ্ছে না। শেয়ারবাজার ও ব্যাংক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের অনেকেই দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কর্তাব্যক্তিদের অনেকেই দুর্নীতির মাধ্যমে লাখো কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। আজকাল অনেক ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে গেলে ঋণের টাকার শতকরা ৫-১০ ভাগ ব্যাংক কর্মকর্তাদের উৎকোচ বা ঘুষ হিসেবে না দিলে ঋণ মঞ্জুর হয় না। ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন। বাংলাদেশ ব্যাংক আহূত একটি মতবিনিময় সভায় সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্ণধারকে বলতে শোনা গেছে ঘুষ অবৈধ নয়। তিনি এ কথা বলে ঘুষকে পাশ্চাত্যের Speed money-র সঙ্গে তুলনা করেছেন এবং সেই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি আশা করেন, আমাদের দেশের প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে যদি স্পিড মানি দেয়া হয় সেক্ষেত্রে কাজটি দ্রুত সম্পন্ন হবে। পাশ্চাত্যে লবিস্ট নিয়োগের মাধ্যমে তাদের স্পিড মানি দিয়ে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে অথবা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত যেন পক্ষে হয় সে উদ্দেশ্যে লবিস্টদের স্পিড মানি দেয়া হয়। এটি পাশ্চাত্যে আইন দ্বারা স্বীকৃত এবং বৈধ হিসেবে বিবেচ্য। উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশের সরকার ও বিরোধী দল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পাশ্চাত্যের দেশগুলো যাতে তাদের অনুকূলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সে বিষয়ে মাঝে মাঝে লবিস্ট নিয়োগ করে থাকে। এ ধরনের লবিস্ট নিয়োগ সেসব দেশের আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়ে হয় এবং এটি ঠিক যে, পাশ্চাত্যে এটিকে ঘুষ বা দুর্নীতি বলা হয় না। কিন্তু আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, পাশ্চাত্যের সমাজ ব্যবস্থা ও আইন-কানুন আমাদের সমরূপ নয়। পাশ্চাত্যে যেটি অপরাধ নয়, আমাদের দেশে সেটি অপরাধ। আমাদের কোনো আইনে লবিস্ট নিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত কাজ আদায়ের জন্য স্পিড মানি দেয়ার বিধান নেই।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্ণধার ঘুষ অবৈধ নয় এমন উক্তি করার পর থেকে দেশে যারা ঘুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদের অনেকেই উৎসাহিত হয়েছেন এবং এ ধারাবাহিকতায় দেখা যায়, কর্ণধার উক্তিটি করার পরদিন কোনো বকেয়া টেলিফোন বিল না থাকা সত্ত্বেও বিল না দেয়ার মিথ্যা অজুহাতে অনেক টেলিফোন লাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছিল। ভুক্তভোগীদের অনেকে যখন সর্বশেষ বিল পরিশোধের দালিলিক প্রমাণ দাখিল করেন, তখন টেলিফোন রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের বলতে শোনা গেছে, চা-নাস্তার টাকা দিয়ে যান, সন্ধ্যা নাগাদ টেলিফোন লাইন ঠিক হয়ে যাবে। কোনো মন্ত্রণালয়ের কর্ণধারেরই এমন কোনো উক্তি করা উচিত নয়, যা ধর্মীয় ও আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে অনুমোদিত নয় এবং যা অধস্তনদের ঘুষ বা দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করে। আমাদের বিভিন্ন পর্যায়ের যেসব ঊর্ধ্বতন পদধারী রয়েছেন, দেশ ও সমাজের প্রতি অধস্তনদের তুলনায় তাদের দায়িত্ব বেশি। আর সে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদের অবশ্যই ধর্মীয় অনুশাসন ও আইনের বিধিবিধানের প্রতি সম্মান রেখে কথা বলতে হবে। ধর্মীয় ও আইনের বিধিবিধানের লংঘন ঊর্ধ্বতন বা অধস্তন কারও ক্ষেত্রেই কাম্য নয়।
ইকতেদার আহমেদ : সাবেক জজ; সংবিধান, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিশ্লেষক

কত বড় জেল আছে তৈরি রাখুন: মমতা

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে একহাত নিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকারকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী বলেছেন, ‘কত বড় জেল আছে, তৈরি রাখুন আমার জন্য। জেলে পাঠালেও আমার মুখ বন্ধ করা যাবে না।’  গতকাল শনিবার কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে কর্মী সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এই চ্যালেঞ্জ জানান মমতা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার তাঁর বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ করছে। বিজেপি সরকারের উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘আমাদের ওপর আঘাত এলে পাল্টা জবাব দেব। আমাকে জেলে পাঠাক, দেখে নেব।’ তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী দাবি করেন, কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর আমন্ত্রণে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত জওহরলাল নেহরুর ১২৫তম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ায় তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করেছে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সৃঞ্জয় বসুকে গ্রেপ্তার করে প্রতিশোধ নিয়েছে বিজেপি। সারদা কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে গত শুক্রবার সৃঞ্জয়কে গ্রেপ্তার করে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই)। সৃঞ্জয় গ্রেপ্তার হওয়ায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন মমতা। দলের আরেক নেতা ও রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী মদন মিত্রকেও তলব করেছে সিবিআই। এর আগে রাজ্যসভার সাংসদ কুনাল ঘোষকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ আরও কয়েকজন সিবিআইর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। এসব ঘটনায় গ্রেপ্তার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে তৃণমূলের ভেতরে। এ নিয়ে চরম শঙ্কায় আছেন মমতা। গত বছরের এপ্রিলে সারদা-কাণ্ড ফাঁস হয়। এরপর গত বছরের ৩ মে মমতা প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ‘কুনাল চোর? টুম্পাই (সৃঞ্জয়) চোর? মদন চোর? মুকুল চোর? আমি চোর? বাকিরা সব সাধু!’ মমতার সেই কথা যেনই এবার ফলে গেল। গ্রেপ্তার হয়েছেন কুনাল আর টুম্পাই। রাজ্যে বিজেপির উত্থান নিয়ে দলের একাংশের মধ্যে একটা ধারণা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘বিজেপিকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ভালো কাজ করে যান। উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখুন। আর যাঁরা বিজেপিতে যোগ দিতে চান, তাঁরা দল (তৃণমূল) ছাড়তে পারেন।’

মাথার চুল কদম ফুল কোথায় হল গণ্ডগোল? by মোকাম্মেল হোসেন

লবণ বেগমের কাছে আমার গোপন করার মতো কিছু নেই। আজ একটা জিনিস গোপন করতে চাচ্ছি। কলিংবেলে হাত রাখার আগে ব্যাগ হাতড়ে দেখে নিলাম। আছে। জায়গামতোই আছে।
দরজা খুলে গেল। রাজহংসীর ন্যায় ঘাড় উঁচু করে স্বয়ং লবণ বেগম সামনে দাঁড়ানো। তার চোখে চোখ রেখে মিষ্টি করে হাসলাম। এ ধরনের হাসি আমাদের ময়মনসিংহ অঞ্চলে গোয়ামুরি হাসি নামে সমাদৃত। গোয়ামুরি ছচজাতীয় মশলা। খুব সুঘ্রাণ। তরকারির স্বাদ ও ঘ্রাণ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহৃত হয়। গোয়ামুরির সুঘ্রাণ লবণ বেগমকে স্পর্শ করল না দেখে আশ্চর্য হলাম। ঘটনা কী? এরকম তো হওয়ার কথা না। কর্মক্ষেত্র থেকে বাসায় ফেরার পর স্বামী স্ত্রীর চোখে চোখ রেখে হাসবে- সেই হাসির প্রতিদানও হবে চোখে-চোখে, ঠোঁটে-ঠোঁটে। এটাই সংসারের নিয়ম। এখানে তো পুরো উল্টা সিনারি দেখা যাচ্ছে!
কোনো ওষুধ কাজ না করলে ডাক্তাররা সেটা পরিবর্তন করে রোগীকে অন্য ওষুধ খেতে দেন। মশলা-হাসিতে কাজ না হওয়ায় গোলাপ হাসি উপহার দিলাম। গোলাপ হাসির প্রতিক্রিয়া আরও মারাত্মক হল। লাস্যময়ীর বদলে কাঁটাময়ীর রূপ ধারণ করে লবণ বেগম বলল-
: তুমি বাসায় ঢুকবা না।
কোনো স্ত্রী স্বামীকে এ ধরনের কথা বললে বুঝতে হবে কোথাও সমস্যা হয়েছে। সমস্যাটা কোথায়- বুঝতে পারছি না। আমার সিএলআর (কনজ্যুগাল লাইফ রিপোর্ট- যুগলজীবনের প্রতিবেদন) ঝকঝকা। সেখানে কোনো লালকালির দাগ নেই। অনেক গৃহবধূ ওয়াশিং মেশিনে দেয়ার সময় স্বামীর কাপড়-চোপড়ে লম্বা কেশ আবিষ্কার করে। ঠোঁট আকারের রঙবেরঙ হলোস্টিকের ঝিলিক দেখে। আমার ক্ষেত্রে এরকম ইতিহাস আজ পর্যন্ত রচিত হয়নি।
শুনেছি ঘরজামাইদের নিয়ে স্ত্রীরা ছক্কা-পাঞ্জা খেলে। আমার সঙ্গে ছক্কা-পাঞ্জা খেলার কোনো অবকাশ নেই। আমি ঘরজামাই নই। ঘরে-বাইরে হেভি ডিউটি পালনকারী স্বামী। এ রকম একজন স্বামীর মুখের ঘাম শাড়ির আঁচল দিয়ে সকাল-বিকাল মুছে দেয়া উচিত। তা না করে কাঁটাঘাত। এটা মেনে নেয়া কঠিন। সিনা টান করে দাঁড়ালাম। গলায় শক্তি উৎপাদন করে বললাম-
: আমার বাসায় আমি ঢুকব না- কে ঢুকবে?
পা থেকে মাথা পর্যন্ত জরিপ করার পর ঠোঁট উল্টে লবণ বেগম বলল-
: তোমার বাসায় অবশ্যই তুমি ঢুকবা। তবে সঙ্গে আর কিছু ঢুকাইতে পারবা না।
: আর কিছু মানে? কী বলতে চাও তুমি?
- কী বলতে চাই, সেইটা তুমি ভালো কইরাই জান। আমাকে পোলাপান লইয়া ঘরে থাকতে হয়। তুমি ঘরটারে সাপ-ব্যাঙ, জোঁক-বিছার কারখানা বানাবা- এইটা আমি কিছুতেই এলাউ করব না।
হিসাব মেলানোর চেষ্টা করছি। মিলছে না। দুইয়ে-দুইয়ে চার হচ্ছে না। আমার ব্যাগের মধ্যে জোঁক আছে- এটা আমি আর আমার অন্তর্যামী ছাড়া পরিচিত অন্য কারও জানার কথা না। লবণ বেগম এ তথ্য কোন গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে পেল? বাংলাদেশের গোয়েন্দারা শরীরের উপর রেলগাড়ি উঠে না পড়লে কোনোকিছু টের পায় না। এটা কি আন্তর্জাতিক কোনো গোয়েন্দা সংস্থার কাজ? বিদেশী গোয়েন্দাদের বিরুদ্ধে আকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ স্থাপন করে তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারির অভিযোগ রয়েছে। তাদের গোয়েন্দা জালে ধরা পড়ার চিত্র লবণ বেগম কি ইন্টারনেটের মাধ্যমে জানতে পেরেছে? অসম্ভবের কিছু নেই। ইন্টারনেটের ভেল্কিবাজিতে এ যুগে ছাগলও আকাশে উড়ছে। এ অবস্থায় কারও গতিবিধি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা কোনো ব্যাপার নয়। উপায় না দেখে সারেন্ডার করলাম। ব্যাগ থেকে জোঁকভর্তি বয়াম বের করতেই লবণ বেগম লাফ দিয়ে কয়েক হাত পিছিয়ে গিয়ে বলল-
: কট্টা-মট্টা ঢুকাইয়া ব্যাগসহ ডাস্টবিনে ফেইল্যা আস।
ব্যাগের মায়া ত্যাগ করা কঠিন। দামি ব্যাগ। মাত্র কয়েক মাস আগে কিনেছি। লবণ বেগম কোনো ওজর-আপত্তি কানে তুলল না। নির্দেশ পালন করে বিরস মুখে বাসায় ফিরলাম। লবণ বেগম বলল-
: বাথরুমে গরম পানি দিছি। শরীর থেইক্যা জোঁকের গন্ধ দূর কইরা টেবিলে বস। পাকুড়া ভাজতেছি, ছেলেদের লইয়া গরম-গরম পাকুড়া খাও।
গোসল সেরে আমার ত্রিরত্নের সঙ্গে পাকুড়া খেতে বসলাম। মুড়ির সঙ্গে পাকুড়া অসাধারণ। আজ বিস্বাদ লাগছে। লবণ বেগম অবাক হয়ে বলল-
: পাকুড়া কি পচা হইছে?
- না।
: তাইলে মুখ কাঁকড়ার মতো কইরা রাখছ কেন? ভালো কইরা খাও।
- কামলার গোষ্ঠির পক্ষে এরচাইতে ভালো কইরা খাওয়া সম্ভব না।
: রাইগা যাইতেছ কেন?
কথায় কথা বাড়ে, ভোজনে বাড়ে পেট। নারীজাতির সঙ্গে যত কম কথা বলা যায়, ততই মঙ্গল। লবণ বেগমের কথার বিপরীতে কিছু না বলে চুপচাপ খাচ্ছি, পুনরায় সে বলল-
: তাসিনের আব্বু, ঘটনাটা পরিষ্কার কর তো! জোঁক দিয়া তোমার কী কাজ?
জোঁক প্রকল্পের উপদেষ্টা রশিদ সাহেব। সকালবেলা হুড়মুড় করে অফিসে যাচ্ছি, ফুটপাতে রশিদ সাহেবের সঙ্গে দেখা। তিনি আমার বেলমাথা দেখে বললেন-
: মাথা ন্যাড়া করছেন কী জন্য? মানত ছিল নাকি?
- না।
: তাইলে?
- কোনো তাইলে-মাইলে নাই। শখ করলাম- তাই বেল হইলাম। ধনবান ব্যক্তিরা শখ কইরা গাড়ি কেনে। বাড়ি বানায়। বাগানবাড়ি সাজায়। আমাদের পক্ষে তো এইসব করা সম্ভব না। আমরা শখ কইরা বড়জোর নাক ফুটা করতে পারি। কান ছিদ্র করতে পারি। বারান্দায় দ্ইু-একটা ফুলের গাছ আর কাচের বয়ামে একটা-দুইটা রঙিন মাছ রাখতে পারি। এরই ধারাবাহিকতায় আমি কানের একটু উপরে উইঠ্যা মাথায় ক্ষুর চালাইছি।
: ভালো করছেন। ন্যাড়া যখন হইছেনই- আমি একটা টোটকা দিতেছি, মাত্র এক মাস মাথায় ব্যবহার করেন; চুলের টেনশন থেইক্যা আসান পাবেন।
মাথার চুল নিয়ে সমস্যায় আছি। রশিদ সাহেবের মুখের দিকে আগ্রহ নিয়ে তাকালাম। বললাম-
: কী টোটকা?
রশিদ সাহেব হাতের ইশারায় রাস্তার পাশে একটা জায়গা দেখিয়ে বললেন-
: বিকালবেলা ওইখানে ক্যানভাসাররা জোঁক লইয়া বসে। অফিস থেইক্যা ফেরার সময় কয়েকটা জোঁক কিইন্যা বাসায় লইয়া যাবেন। তিলের তেলে সেইগুলা ভালো কইরা আগুনে জ্বাল দিবেন। তেলে-জোঁকে মিইশ্যা এক হওয়ার পর উত্তমরূপে ছাইক্যা শিশিতে ভইরা রাখবেন। এক মাস সেই তেল ব্যবহার করলে পুরাতন চুলের পাশাপাশি মাথায় নতুন চুল পয়দা হবে। মাথা কদম ফুলের আকার ধারণ করবে।
: কদম ফুল তো সাদা!
-আমি কদম ফুলের চেহারা বলি নাই, আকার বলছি; কথাটা আপনাকে বুঝতে হবে।
লবণ বেগম পুনরায় তাড়া দিতেই বললাম-
: তার আগে বল- তুমি জোঁকের খবর কীভাবে পাইলা? জিনের কাছ থেইক্যা?
লবণ বেগম মুচকি হেসে বলল-
: তুমি ব্যাগে জোঁক ভরার সময় পাশ দিয়া রিকশায় চইড়া কুমকুম ভাবি যাইতেছিল। সেই আমারে ফোন কইরা বিষয়টা জানাইছে।
মোবাইল ফোন আসলেই একটা চিজ। চোখের নিমিষে এক জায়গায় খবর আরেক জায়গায় পৌঁছে দিচ্ছে। এর তেলেসমাসির কাছে জিন-পরীর কেরামতি হালকা হয়ে যাচ্ছে কিনা ভাবছি, লবণ বেগম তাড়া দিল-
: বললা না, জোঁক দিয়া তোমার কী কাজ?
- জোঁকের সঙ্গে তিলের তেল মিকশ্চার কইরা মাথায় মাখলে নতুন চুল পয়দা হয়।
: এই বয়সে তোমার নতুন চুল পয়দা করার প্রয়োজন কী?
- প্রয়োজন আছে বইল্যাই তো উদ্যোগ নিছি।
: প্রয়োজন আছে- ভালো কথা। জোঁক-ফোঁক এইসব কী? এইজন্য আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি আছে। তুমি তাদের কাছে যাও।
- জোঁক পদ্ধতি হানড্রেড পার্সেন্ট ন্যাচারাল। এর কোনো সাইড-অ্যাফেক্ট নাই।
: সাইড-অ্যাফেক্ট তোমার উপর না হইলেও আমাদের উপর হয়- এইটা তোমার বোঝা উচিত। পাশের ফ্লাটের শরিফুলের আব্বার মাথা পাতিলের তলা হইয়া গেছিল। লেজার ট্রিটমেন্ট কইরা তার এখন কী সুন্দর মাথাভর্তি চুল...
নিকট-প্রতিবেশী হলেও শরিফুলের আব্বার চেহারা শেষ কবে দেখেছি, মনে পড়ছে না। কল্পনায় তার মাথাভর্তি চুলের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে লবণ বেগমের প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেলাম।
লেজার ট্রিটমেন্ট সেন্টারে গিয়ে দেখলাম, একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এর মালিক। তার লেজের আগাগোড়া দেশি-বিদেশী ডিগ্রিতে মোড়ানো। বিশেষজ্ঞের কথায় আমার দুজন মুগ্ধ। এক পর্যায়ে তিনি বললেন-
: হেয়ার থেরাপি শেষ করে আপনি আমাদের স্লিম প্যাকেজ গ্রহণ করবেন। ভাবি, আপনিও তো মুটিয়ে যাচ্ছেন। এত সুন্দর চেহারা নিয়ে এভাবে মুটিয়ে গেলে সৃষ্টিকর্তার মনে আঘাত দেয়া হয়।
- আপনারা এইসবও করেন নাকি?
: হা-হা-হা! আমরা কী করি না, সেইটা বলেন। শরীরের লুজ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ টাইট করার পাশাপাশি মোটাকে চিকন, চিকনকে মোটা, বৃদ্ধকে যুবক, যুবককে কিশোর- সবই করি। স্লিম প্যাকেজ গ্রহণ করলে আপনাদের দুজনের ফিগার এমন অবস্থায় নিয়ে যাব- সিনেমা-নাটকে অভিনয়ের অফার পাবেন, এটা নিশ্চিত। যদি না পান, তাহলে আমি চিকিৎসা পেশা ত্যাগ করে মাছের ব্যবসা করব।
লেজার ট্রিটমেন্ট সম্পন্ন হওয়ার পর বেশ কিছুদিন কেটে গেছে। একদিন শরিফুল সাহেবের বাসার কলিংবেল টিপলাম। তিনি বাসায়ই ছিলেন। যত্ন করে ড্রয়িং রুমে বসালেন। চা পানের ফাঁকে তাকে জিজ্ঞেস করলাম-
: আপনি কি মাথায় পরচুলা ব্যবহার করেন?
শরিফুল সাহেব ভীষণ অবাক হলেন। বললেন-
: হ্যাঁ। কেন বলুন তো!
আমি আমার মাথার পরচুলা খুলে হাতে নিলাম। বললাম-
: আমিও পরচুলা ব্যবহার করতেছি।
ভিক্ষুক তার পাশে আরেকজন ভিক্ষুক দেখলে ভাগে কম পড়বে ভেবে রেগে যায়। দুঃখীর ক্ষেত্রে এ কথা প্রযোজ্য নয়। দুঃখীর পাশে আরেকজন দুঃখী দাঁড়ালে মনোবল বাড়ে। বেঁচে থাকার শক্তি ও সাহস পাওয়া যায়। শরিফুল সাহেব আমার তালুর পোড়া অংশ ভালোভাবে দেখে জিজ্ঞেস করলেন-
: আপনি কি লেজার ট্রিটমেন্ট নিতে গেছিলেন?
- হ। তারা চিকিৎসা করতে যাইয়া আমার মাথার চামড়া এমনভাবে পুইড়া ফেলছিল- প্রায় একমাস ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলাম। এতে জীবনরক্ষা হইছে, কিন্তু মাথা জাপানের হিরোশিমা নগরীর আকার ধারণ করছে। আইচ্ছা, আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির নামে পকেট থেইক্যা পয়সাকড়ি খসাইয়া যারা আমাদের বিপদে ফেলছে- চলেন, তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন লই।
শরিফুল সাহেব স্থিরদৃষ্টিতে আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন-
: প্রতারণার শিকার হওয়ার পর আমারও অ্যাকশন নেওয়ার কথা মনে হইছিল। কিছুদূর অগ্রসরও হইছিলাম। পরে দেখলাম, কাজটা খুবই কঠিন।
- কঠিন কেন?
: প্রতারকের দল কয়েক স্তরের সুরক্ষা দেওয়ালের মধ্যে সুরক্ষিত থাকে। প্রথম স্তরে আছে স্থানীয় মাস্তান বাহিনী। এই বাহিনীতে ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতাহীন- উভয় রাজনৈতিক দলের লোকজনই আছে। আপনি যদি কোনোভাবে এই স্তর ভেদ করতে সক্ষম হন, পরের স্তরে যাইয়া দেখবেন- আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী খাড়াইয়া রইছে। তারা নানাভাবে আপনাকে নাস্তানাবুদ করার ক্ষমতা রাখে। ধইরা নিলাম, এই স্তরটাও আপনি অতিক্রম করলেন। তখন দেখবেন-ঠিক পরের স্তরটাতেই আছে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা। তর্কের খাতিরে মাইন্যা নিলাম, রাজনৈতিক নেতাদেরও আপনি বাইপাস করতে সক্ষম হইলেন। এরপর কী দেখবেন, জানেন? দেখবেন- পরের স্তরে আছেন মন্ত্রী-মিনিস্টাররা। এইবার বলেন, আপনার-আমার পক্ষে প্রতারকদের চুল স্পর্শ করা কি সম্ভব?
: যদি আদালতের শরণাপন্ন হই? বিদেশে তো চিকিৎসায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ মামলা কইরা ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারে। প্রতারকদের জেল-জরিমানাও হয়।
- বিদেশ আর স্বদেশ তো এক নিয়মে চলতেছে না। আইনের আশ্রয় নিলে প্রতিকার হয়তো পাওয়া যাবে। কিন্তু উকিল-মোক্তার, থানা-পুলিশের পেছনে টাকা ঢালতে-ঢালতে আর দৌড়াইতে-দৌড়াইতে জান কবজ হওয়ার সাইরেন বাইজ্যা উঠবে। অনেক জ্ঞানী-গুণী-বিদগ্ধজন মরহুম হওয়ার পর মরণোত্তর পুরস্কার বা সম্মানে ভূষিত হয়। বিচারপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে দেখা যাবে, আপনের ভাগ্যে মরণোত্তর রায় জুটছে।
রশিদ সাহেবের সঙ্গে আবার একদিন রাস্তায় দেখা হল। আমার চেহারা দেখে খুব খুশি হলেন। মাথায় চুলের বাহার আনন্দিত গলায় বললেন-
: বলেছিলাম না, মাথা কদম ফুলের আকার ধারণ করবে।
মাথা থেকে পরচুলা খুলে হাতে নিতেই তার আলাজিভ দেখা গেল। ঢোক গিলে তিনি বললেন-
: এইসব কী?
আমি সঠিক উত্তর না দিয়ে বললাম-
: কদম ফুলের পাপড়ি ঝইরা গেলে কী থাকে, জানেন তো? ছোলামোলা বিচি থাকে। আমার এখন ছোলামোলা বিচিপর্ব চলতেছে...
রশিদ সাহেব বিস্ফোরিত চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। আমি তার এ অবাক ভাবটা নষ্ট হতে দিলাম না। মাঝেমধ্যে অবাক হওয়া ভালো। অবাক হওয়ার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেলে মানুষের পক্ষে বেঁচে থাকা কঠিন।
মোকাম্মেল হোসেন : সাংবাদিক

নরেন্দ্র মোদি বেকসুর খালাস! by বদরুদ্দীন উমর

ভারতে সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতির কী পরিমাণ অবনতি হয়েছে, তার সব থেকে বড় হিসাব নরেন্দ্র মোদির মতো একজন আরএসএস মার্কা সাম্প্রদায়িক লোক প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার মধ্যে বড় আকারে পাওয়া গেলেও সাম্প্রদায়িকতা ভারতীয় সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে কীভাবে ছড়িয়ে গেছে তার আরেক মস্ত প্রমাণ পাওয়া গেল মোদির মুখ্যমন্ত্রিত্বের সময় ২০০২ সালে গুজরাটে মুসলিম গণহত্যার দায় থেকে নানাভতি তদন্ত কমিশনের তদন্ত শেষে তাকে বেকসুর খালাস দেয়ার মধ্য দিয়ে।
তদন্তের বিচারিক বিবরণ সম্পর্কে কিছু বলতে সম্মত না হলেও তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান সুপ্রিমকোর্টের সাবেক বিচারপতি জিটি নানাভতি ভারতের বিখ্যাত ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা ‘দি হিন্দু’কে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, দাঙ্গার বিরুদ্ধে যত রকম পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন ছিল, রাষ্ট্র ও পুলিশ তা নিয়েছিল! যেহেতু দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পুলিশের, সে জন্য তারা পুলিশ বাহিনী, আমলাতন্ত্র এবং শীর্ষস্থানীয় লোকদের আচরণ বিবেচনা করেছেন। তাদের সিদ্ধান্ত হল এই যে, ২০০২ সালে যে দাঙ্গা হয়েছিল সেটা ছিল ‘সম্পূর্ণভাবে একটি সাম্প্রদায়িক’ ব্যাপার। গোধারায় সবরমতি ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনা থেকেই সেই দাঙ্গার সূত্রপাত হয়েছিল এবং পরে তা ছড়িয়ে গিয়েছিল। সেটা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পুলিশের যা করার ছিল, পুলিশ তার সবকিছুই করেছিল! এ ব্যাপারে নরেন্দ্র মোদিকে কেন তারা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেননি, এর জবাবে নানাভতি বলেন, তাকে তলব করার প্রশ্ন ছিল না, কারণ তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ তারা পাননি!! (Daily Star, 21.11.2014)।
১৯৪৭ সালের পর ২০০২ সালে গুজরাটে সংঘটিত ভারতের জঘন্যতম এবং সব থেকে ব্যাপক মুসলিমবিরোধী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার দীর্ঘদিন পর নানাভতি তদন্ত কমিশন গঠিত হয়েছিল বিগত কংগ্রেস সরকারের আমলের শেষ দিকে। এই কমিশনের তদন্ত শেষে যা দাঁড়াল তা হচ্ছে, গুজরাটের সেই বীভৎস দাঙ্গার দায় থেকে দাঙ্গার মূল সংঘটক নরেন্দ্র মোদিকে মুক্তি প্রদান!!! গুজরাটের দাঙ্গায় দুই হাজারের বেশি মুসলমানের হত্যাকারী হিসেবে অভিযুক্ত সেখানকার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর কোনো শাস্তি তো হয়ইনি, বরং তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে তদন্ত কমিশনের এ ধরনের রিপোর্টই স্বাভাবিক। সাম্প্রদায়িকতা শুধু ভোটারদের মধ্যে ছড়িয়ে গিয়েও যে থেমে থাকেনি, ভারতের বিচার ব্যবস্থাও যে তার দ্বারা বিপজ্জনকভাবে আক্রান্ত, এই কমিশন রিপোর্টের মাধ্যমে সেটা প্রমাণিত হল।
এ কথা বলার কারণ এই যে, ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গার সময় বিভিন্ন পত্রপত্রিকার রিপোর্ট, তার বিরুদ্ধে ভারতের অনেক লেখক-বুদ্ধিজীবীর লেখালেখি, প্রত্যক্ষদর্শীদের এবং সেই দাঙ্গার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বিবরণে দাঙ্গায় পুলিশের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নরেন্দ্র মোদি সরকারের দাঙ্গা সম্পর্কিত চক্রান্তের বিষয় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছিল। এতদিনে তার বিচারিক বিবরণ সাধারণ লোকের মনে না থাকারই কথা। এই পরিস্থিতি ব্যবহার করে নানাভতি কমিশন সরকার ও পুলিশের সঙ্গে দাঙ্গার সম্পর্ক না থাকার কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন।
প্রবল প্রতাপশালী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির খেদমত তারা এভাবেই করেছেন। নানাভতি কমিশন গুজরাট দাঙ্গার তদন্ত করতে গিয়ে কাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন এবং সে সময় প্রকাশিত বিভিন্ন রিপোর্টকে ব্যবহার করেছেন কিনা তার কোনো কথা সাক্ষাৎকারে নেই। সেটা দেখা যেতে পারে পূর্ণ রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর। কিন্তু এ কথা বেশ জোরের সঙ্গে এবং দায়িত্ব নিয়েই বলা যায় যে, তৎকালে যেসব প্রতিক্রিয়া এবং রিপোর্টের কথা ওপরে উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো বিবেচনায় নিলে কমিশনের পক্ষে নরেন্দ্র মোদি, তার প্রশাসন ও নিয়ন্ত্রণাধীন পুলিশ বাহিনী এবং সেই সঙ্গে নরেন্দ্র্র মোদির ঠেঙ্গারে বাহিনীর সম্পৃক্ততার বিষয়টি ধামাচাপা দেয়া কিছুতেই সম্ভব হতো না। ২০০২ সালে মুসলিমবিরোধী দাঙ্গার হোতা হিসেবে নরেন্দ্র মোদি ‘গুজরাটের কসাই’ নামে যে কুখ্যাতি অর্জন করেছিলেন, সে বিষয়েও নীরব থাকা কমিশনের পক্ষে সম্ভব হতো না। এদিক দিয়ে বলা চলে, গুজরাট দাঙ্গার তদন্তের জন্য গঠিত এই কমিশনের রিপোর্ট ভারতের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক ব্যাপার। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থেকে নরেন্দ্র মোদি নানাভতি কমিশনকে কীভাবে প্রভাবিত করেছেন এবং গুজরাট দাঙ্গার ক্ষেত্রে নিজের দায়মুক্তির ব্যবস্থা করেছেন সেটাও ভেবে দেখার বিষয়।
কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি নানাভতি বিগত ১৯ নভেম্বর দেয়া তার সাক্ষাৎকারে বলেছেন, গোধরায় সবরমতি এক্সপ্রেসে অগ্নিসংযোগ এবং কিছুসংখ্যক হিন্দু তীর্থযাত্রীর মৃত্যুর পরই সেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সূত্রপাত হয় এবং তা ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হিসেবে! সেই হত্যাকাণ্ড মুসলমানদের কাজ হিসেবে প্রচার করার ফলেই দাঙ্গা শুরু হয়। কিন্তু মুসলমানরা মোদির মতো একজন সাম্প্রদায়িক ব্যক্তি এবং বিজেপির মতো একটি চরম সাম্প্রদায়িক দলের শাসনামলে গুজরাটের মতো জায়গায় কেন ও কী কারণে সেই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল, তার কোনো ব্যাখ্যা সেখানকার সরকার পক্ষ থেকেও পাওয়া যায়নি। পাওয়ার কথাও নয়। কারণ তৎকালীন অনেক রিপোর্ট ও তদন্ত থেকে এটা দেখা গিয়েছিল যে, নরেন্দ্র মোদির সরকার ও তাদের এজেন্টরাই পরিকল্পিতভাবে সেই ঘটনা ঘটিয়ে দাঙ্গা পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। অন্যভাবে বলা চলে, দাঙ্গা ঘটানোর উদ্দেশ্যেই তারা সেই ঘটনা ঘটিয়েছিল। এসব কোনো বানানো কথা নয়। তখন ভারতের বিভিন্ন প্রগতিশীল ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী সংগঠন ও পত্রিকার রিপোর্টেই এসব কথা বলা হয়েছিল।
তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি নানাভতির সাক্ষাৎকারের পর তার বিরুদ্ধে ভারতের প্রগতিশীল মহলের প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে এখনও কিছু শোনা যায়নি। সম্পূর্ণ রিপোর্ট এখনও প্রকাশিত হয়নি। সেটি প্রকাশিত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে বা প্রতিক্রিয়া আদৌ দেখা যায় কিনা তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
বদরুদ্দীন উমর : সভাপতি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল

সরকারি দলে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে খুনোখুনি

আধিপত্য বিস্তার, চাঁদা ও লুটপাটের ভাগ-বাটোয়ারা এবং  দলীয় পদ কব্জা করা নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণেই ক্ষমতাসীন দলের রধ্যে খুনখারাবি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। সম্প্রতি মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র কতৃক প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত নয় মাসে ১৭১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৭৮ জন। বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন দলের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ৭৪ জন। ৫৪ জন নিহত হয়েছেন রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দলে। আজকের প্রকাশিত একটি  খবর থেকে জানা যায়, এবছর  প্রথম  নয় মাসে  আওয়ামী লীগের আন্তঃকোন্দলে নিহত হয়েছেন ২৪ জন। প্রকাশিত খবর থেকে আরো  জানা যায়, গত ছয় বছরের আওয়ামী লীগ শাসনামলে ক্ষমতাসীন দল ও অঙ্গসংগঠনের ৪৬ জনেরও বেশি খুন হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ১০, যুবলীগের ১৫, ছাত্রলীগের ৬, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও কৃষক লীগের ৭, শ্রমিক লীগের ২ এবং বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের একজন রয়েছেন।  আর গত ছয় বছরে ছাত্রলীগ নিজেদের মধ্যে বা অন্য সংগঠনের সঙ্গে অন্তত ৪৩২টি সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এতে নিহত হয়েছেন অন্তত ৫৪ জন। নিজ সংগঠনের ৩৯ জনের বাইরে বাকি ১৫ জনের মধ্যে দুটি শিশু এবং অন্যরা প্রতিপক্ষ সংগঠনের কর্মী বা সাধারণ মানুষ খুন হয়েছেন। এসব সংঘর্ষে আহত হয়েছেন দেড় হাজারের বেশি। অনুসন্ধানে জানা যায়, আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত কেবল বগুড়া জেলাতেই দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলে খুন হয়েছে ৪৬ জন। একই কারণে যশোরে বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী খুন হয়েছে ১৭ জন।   এ ছাড়া অপহরণ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ভর্তি-বাণিজ্য, শিক্ষক লাঞ্ছনা, সাংবাদিক-পুলিশের ওপর হামলাসহ নানা ঘটনায় হরহামেশাই পত্রিকার শিরোনাম হচ্ছে ছাত্রলীগ। সবশেষ, গত বৃহস্পতিবার সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ছাত্রলীগের কর্মী ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিবিএ তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুমন দাস নিহত হন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়টি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে গত এক বছরে এ নিয়ে চারবার এ ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল।   এদিকে, গত ছয় বছরে ছাত্রলীগের সংঘাত-সংঘর্ষের কারণে অধর্শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়েছে। ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হয়েছে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে। একাধিকবার বন্ধের ঘটনা ঘটেছে অন্তত পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় চারবার এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় তিনবার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়েছে। বারবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বৃহস্পতিবার একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে কঠিন ব্যবস্থা নেয়া দরকার। ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে চলে গেছে। এর খেসারত আওয়ামী লীগকে দিতে হচ্ছে।   আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সিলেটে ছাত্রলীগ অভ্যন্তরীণ কোন্দলে কর্মী নিহতের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলায় বর্তমান ও সাবেক এমপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এক আওয়ামী লীগ কর্মী নিহতের ঘটনায়ও তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন। সূত্র: আইআরআইবি

একদফার আন্দোলনে যেতে চায় ২০ দল

সরকার পতনের একদফার আন্দোলনে যাওয়ার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। শরিক দলের শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন কর্মসূচির প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে কর্মসূচির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। শনিবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এ ব্যাপারে আলোচনা হয়। রাত সোয়া ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত চলে বৈঠক। তবে বৈঠক শেষে এ ব্যাপারে গণমাধ্যমের কাছে কোনো নেতা মুখ খুলেননি। বৈঠক সূত্র জানায়,  সরকার পতনের এক দফা কর্মসূচি নিয়ে শিগগিরই ২০ দলীয় জোট রাজপথে কর্মসূচি পালন করবে। বেগম খালেদা জিয়া রাজপথে থেকে এসব কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন। আগামী ২৯ নভেম্বর কুমিল্লা জনসভার পর আবারো ২০ দলের বৈঠক হবে। ওই বৈঠকে কর্মসূচি চূড়ান্ত হবে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যুতের দাম বাড়ালে এর প্রতিবাদে ২০ দল হরতাল পালন করবে। এছাড়া বিগত ৫ জানুয়ারির পর আন্দোলন বন্ধ করা ভুল হয়েছে বলে আবারো উল্লেখ করা হয় জোট নেতাদের বৈঠকে। খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, এনপিপি সভাপতি ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহামান ইরান, ইসলামিক পর্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মুবিন, বিজেপির সভাপতি আন্দালিভ রহমান পার্থ, জামায়াতের কর্ম পরিষদ সদস্য ড. রেদোয়ান উল্লাহ শাহিদি, ন্যাপের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, সাম্যবাদী দলের মহাসচিব এম এ সাইদ, ডিএল মহাসচিব সাইফুদ্দিন মনি প্রমুখ।

গুগলের ব্যবসা বিভাজনের প্রস্তাব ইউরোপে

ইন্টারনেটে তথ্য খোঁজার বাজারে গুগলের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে এ বার খসড়া প্রস্তাব তৈরি করছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, ওই খসড়ায় ইউরোপে গুগ্লের বাকি ব্যবসা থেকে সংস্থাটির সার্চ ইঞ্জিনকে (যার মাধ্যমে নেটে তথ্য খোঁজা হয়) আলাদা করার প্রস্তাব রেখেছে তারা। খসড়ায় গুগল বা অন্য কোনো সার্চ ইঞ্জিনের নাম স্পষ্ট ভাবে বলা নেই ঠিকই। কিন্তু ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য যে মার্কিন তথ্য-প্রযুক্তি বহুজাতিকটিই, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই বিশেষজ্ঞদের। তাদের মতে, এমনিতে এ বিষয়ে নতুন করে আইন তৈরির ক্ষমতা ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নেই। এক্তিয়ার নেই কোনও সংস্থাকে টুকরো করার। এমনকী নিজেদের তৈরি প্রস্তাব গুগ্লকে মানতে বাধ্যও করতে পারে না তারা। কিন্তু সব কিছু সত্ত্বেও এই খসড়া গুগলের পক্ষে বড়সড় ধাক্কা। কারণ, তা সংস্থাটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চাপ বাড়াতে পারে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা কমিশনের ওপর। ইউরোপে নেটে তথ্য খোঁজার (সার্চ ইঞ্জিন) বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশই গুগলের দখলে। গত তিন-চার বছর ধরে সংস্থা ক্রমাগত আক্রমণের মুখেও পড়ছে ইউরোপের মাটিতে। কখনও তার বিরুদ্ধে করফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। কখনও অভিযোগ কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার গোপনীয়তার তোয়াক্কা না-করে তার সম্পর্কে তথ্য সার্চ-রেজাল্টে দেখানোর। ব্যক্তিগত তথ্যকে নেটে তথ্য খোঁজার (সার্চ) কাজে ব্যবসায়িক ভাবে ব্যবহার করার জন্যও আঙুল উঠেছে ল্যারি পেজের সংস্থার দিকে। গুগলের তাদের প্রায় একচেটিয়া এই কব্জাকে কী ভাবে ব্যবহার করছে, তা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে ইউরোপে। কয়েকটি ছোট সার্চ ইঞ্জিন জানিয়েছে, গুগলের থাবার সামনে তারা অসহায়, ভীত। এতটাই যে, বাজারে টিকে থাকাই দায়। অনেক সংস্থার আবার অভিযোগ, নেটে তথ্য খোঁজায় তাদের ওপর সাধারণ মানুষের নির্ভরশীলতার সুযোগ নিয়ে ‘পছন্দের’ ওয়েবসাইটকে বাড়তি সুবিধা দেয় গুগল। সার্চ-রেজাল্টের তালিকায় নিয়মিত তাদের জায়গা হয় উপরের দিকে। অনেকের বক্তব্য, কিছু ক্ষেত্রে নেট ব্যবহারকারীকে সরাসরি গুগলেরই অন্য পরিষেবায় নিয়ে যাচ্ছে সংস্থার সার্চ ইঞ্জিন। ফলে অনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে তারা। ভাঙছে প্রতিযোগিতার নিয়ম। খসড়া নিয়ে গুগল মুখ না-খুললেও এই সব অভিযোগের বিরুদ্ধে ওই মহাদেশে অনেক দিনই লড়াই করছে তারা। অনেকের মতে, গুগলের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় দেশগুলির এই অভিযোগ তোলার পিছনে প্রচ্ছন্ন মদত আছে মাইক্রোসফট-সহ বেশ কিছু সংস্থার। গুগল কর্তারা আবার বিশ্বাস করেন, মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলি সম্পর্কে ইউরোপের এই সন্দেহের দৃষ্টি নতুন নয়। বিশেষত জার্মান চ্যান্সেলর এঞ্জেলা মার্কেলের ফোনে ওয়াশিংটনের আড়ি পাতার খবর সামনে আসার পর তা নিয়ে তৈরি হওয়া তীব্র প্রতিক্রিয়া বিষয়টিকে আরও তেতো করেছে। তাই এই পরিস্থিতিতে পার্লামেন্টের খসড়ার প্রভাবে যদি সত্যিই শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতা কমিশন ইউরোপে গুগলের ব্যবসা ভাঙার কথা বলে, তা সংস্থাটিকে কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিতে পারে বলে ধারণা অনেকের।– সংবাদ সংস্থা।

‘সরকার কবে বুঝবেন যে, সব উপদেষ্টাই উপদেষ্টা নন’

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেছেন, ‘সরকার কবে বুঝবেন যে, সব উপদেষ্টাই উপদেষ্টা নন। উপদেষ্টার বাইরে সাধারণ মানুষের যে উপদেশ, সেটিও অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়।’ আজ রোববার রাজধানীর ছায়ানট ভবনের রমেশ চন্দ্র হলে এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। আন্তর্জাতিক পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন (সিএইচটি কমিশন) ও আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক যৌথভাবে ‘প্রান্তিকীকরণ ও দায়মুক্তি: পার্বত্য চট্টগ্রামে নারী ও মেয়েশিশুর উপর সহিংসতা’ শীর্ষক গোলটেবিলের আয়োজন করে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে মিজানুর রহমান বলেন, ‘সত্য বলার ফলাফল সব সময় খুব সুখকর নয়। অনেক সময় সত্য বলা কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। একটি উদাহরণ উপলব্ধি করা প্রয়োজন, সেটি হলো সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়। আমাদের এক ফোঁড় থাকতে থাকতে সুযোগ বেছে নিতে হবে। তাই সরকারের প্রতি একান্ত অনুরোধ, সৃষ্টিকর্তার দোহাই, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করুন দ্রুত সময়ের মধ্যে। নয়তো এর জন্য ভুগতে হবে।’
মিজানুর রহমান বলেন, শুধু একটি অঞ্চলের মানুষের শান্তির জন্য নয়, বরং পুরো দেশের শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন করা দরকার। না হলে নতুন করে পার্বত্য চট্টগ্রামে রাজনৈতিক অচলাবস্থা দেখা দিতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং বলেন, চুক্তি বাস্তবায়ন করার সাহস এ সরকারের নেই। প্রধানমন্ত্রীও চুক্তি বাস্তবায়নের সাহস হারিয়ে ফেলেছেন। সিএইচটি কমিশনের কো-চেয়ারম্যান সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম, কমিশনের সদস্য খুশী কবির, সারা হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বিএনপিকে জঙ্গীবাদী দল বানানোর ষড়যন্ত্র চলছে : মির্জা ফখরুল

বিএনপিকে জঙ্গীবাদী দল বানানোর ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন  বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সরকারের একজন মন্ত্রী বারবার বিএনপিকে জঙ্গীদের দল বলে আখ্যায়িত করেন। কিন্তু তাদের ইতিহাস স্মরণ করা উচিত। আওয়ামী লীগই জঙ্গীবাদের জনক। তারা জাসদের ৩০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিলো। আজ রোববার জাতীয় প্রেস কাবে বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী যুবদল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ছাত্রলীগ সারাদেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তারা শিক্ষাঙ্গনে খুন, টেন্ডারবাজি ও মারামারি করছে। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ধ্বংস করছে।

মুসলিম বিশ্বসুন্দরী হলেন তিউনিসিয়ার ফাতমা

ইন্দোনেশিয়ায় মুসলিম নারীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড মুসলিমাহ অ্যাওয়ার্ড’ প্রতিযোগিতায় মুসলিম বিশ্ব সুন্দরীর মুকুট জিতেছেন তিউনিসিয়ার তরুণী ফাতমা বেন গুয়েফ্রাচ। শুধু মুসলমান নারীদের নিয়ে এ প্রতিযোগিতায় ১৮ জন ফাইনালিস্টের মধ্যে সবাইকে ছাড়িয়ে যান ২৫ বছর বয়সী এই কম্পিউটার বিজ্ঞানী। পুরস্কার হিসেবে ফাতমা পেয়েছেন একটি সোনার ঘড়ি, সোনার ডিনার সেট ও কাবাঘরের একটি ক্ষুদ্র প্রতিকৃতি। উচ্ছ্বসিত তিউনিসিয়ান তরুণী ফাতমা বলেন, আল্লাহর সহায়তায় আমি এতদূর এসেছি। আমার চাওয়া হলো একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র এবং সিরিয়ার মানুষের মুক্তি। ১৮ জন চূড়ান্ত প্রতিযোগীর মধ্যে কম্পিউটার বিজ্ঞানী এবং ডাক্তারের মতো পেশাজীবী তরুণীরাও ছিলেন। ১৮ থেকে ২৭ বছর বয়সী নারীদের জন্যই এ প্রতিযোগিতা উন্মুক্ত ছিল। প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী প্রতিযোগীদের সবার মাথায় ছিল স্কার্ফ। বিচারকরা শুধু চেহারা বা সৌষ্ঠব দেখেই শ্রেষ্ঠ সুন্দরী নির্বাচন করেননি। তারা কতটা নির্ভুলভাবে কোরআন থেকে তেলাওয়াত করতে পারেন সে পরীক্ষাও দিতে হয়। এ ছাড়া ইসলাম এবং আধুনিক বিশ্ব সম্পর্কে তাদের জানাশোনার পরিধিও ছিল বিচার্য বিষয়। মূলত পশ্চিমাদের মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় নারীদের বিকিনি পরিয়ে উপস্থাপন করার প্রতিবাদ হিসেবে এ প্রতিযোগিতার উদ্যোগ নেয়া হয়। আয়োজকদের একজন জামেয়াহ শেরিফ বলেন, আমরা দেখতে চেয়েছিলাম তারা ইসলামি জীবনাচার সম্পর্কে কতটা ওয়াকিবহাল। জানতে চেয়েছি তারা কী খায়, কী পরে এবং কীভাবে জীবন কাটায়।

ইমাম নিয়োগে ওয়াক্ফ বোর্ডের গুরুত্ব নেই: বুখারি

সৈয়দ আহমেদ বুখারি
ভারতের দিল্লি জামে মসজিদের ইমাম সৈয়দ আহমেদ বুখারি গতকাল শনিবার বলেছেন, বংশপরম্পরায় ৪০০ বছর ধরে তাঁর পরিবারের সদস্যরাই এই মসজিদের শাহি ইমাম পদে আছেন। এখানে ওয়াক্ফ বোর্ডের কোনো গুরুত্ব নেই। তবে আদালতের নির্দেশের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা রয়েছে। খবর এনডিটিভির। নিজের ছেলে শাবান বুখারিকে দিল্লি জামে মসজিদের ইমাম পদের উত্তরাধিকারী করার অধিকার আহমেদ বুখারির নেই বলে গত শুক্রবার অভিমত দেন দিল্লি হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ছেলেকে ইমাম নিয়োগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে বুখারির কাছে ব্যাখ্যাও চেয়েছেন আদালত। তারপর বুখারি গতকাল এসব কথা বললেন। আদালত বুখারির কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাইলেও ইমাম নিয়োগ অনুষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দেননি। গতকাল সন্ধ্যায় ওই নিয়োগ অনুষ্ঠান শুরু হয়। আহমেদ বুখারি জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ২৮ জানুয়ারি তিনি তাঁর সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেবেন। শাহি ইমাম আহমেদ বুখারি গতকাল দিল্লির ওয়াক্ফ বোর্ডের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ওয়াক্ফ বোর্ড এই বিতর্ক তুলেছে। কিন্তু এই বোর্ডের কোনো গুরুত্ব নেই। আহমেদ বুখারি দাবি করেন, ইমাম নিয়োগের ইস্যুতে লোকজন তাঁদের সঙ্গে আছে। আর এটাই একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সব সময় জেনে এসেছি, ইমাম নিয়োগ কোনো আইনি বিষয় নয়।
কিন্তু ওয়াক্ফ বোর্ড এখন এটা আইনি প্রক্রিয়ায় ফেলতে চাইছে।’ আহমেদ বুখারি আরও বলেন, ‘মোগল সম্রাট শাহজাহান যখন তাঁর জামাইকে এই মসজিদের প্রথম ইমাম নিয়োগ করেন, তখন ওয়াক্ফ বোর্ডের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। ওয়াক্ফ বোর্ড হয়েছে ৬০ থেকে ৬৫ বছর আগে। এই বোর্ড কী বলে, সেটা কোনো বিষয় নয়। ইমাম ওয়াক্ফ বোর্ডের কর্মচারী হতে পারেন না।’ তবে ওয়াক্ফ বোর্ডের আইনজীবী ওয়াজিহ শফিক দাবি করেন, ইমাম ওয়াক্ফ বোর্ডের কর্মচারী। নিয়োগদাতা ও কর্মচারীর সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো উচিত। জামে মসজিদ দিল্লির ওয়াক্ফ বোর্ডের সম্পত্তি—এমন দাবি তুলে এ পর্যন্ত অনেকগুলো জনস্বার্থ মামলা করে ইমাম বুখারির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। ওয়াক্ফ বোর্ড দিল্লির মুসলমানদের ধর্মীয় সম্পত্তিগুলোর তত্ত্বাবধান করে থাকে। তাই ইমাম বুখারি জামে মসজিদের বিষয়ে এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না বলে দাবি করেছেন মামলাগুলোর বাদীরা।

বরিশাল মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের ইন্তেকাল

বরিশাল মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ফুটবলার এডভোকেট কামরুল আহসান শাহীন আর নেই। শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটায় হৃদরোগে আক্রন্তি হয়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহে.....রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর। তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্যগুনগ্রাহী রেখে গেছেন। আজ বাদ আসর জিলা স্কুল ময়দানে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
শাহীনের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বরিশালে শোকের ছায়া নেমে আসে। রাতেই তার বাসভবনে ছুটে যান বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, মেয়র আহসান হাবিব কামাল সহ অসংখ্য নেতাকর্মী।
কামরুল ইসলাম শাহীন ৮০’র দশকে আবাহনী, ওয়ারীসহ দেশসেরা ক্লাবগুলোতে গোলকিপার হিসাবে খেলে সুনাম কুড়িয়েছেন। খেলা ছেড়ে আইন পেশা ও রাজনীতেতে সক্রিয় হন। বরিশাল আইনজীবি সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক ছিলেন তিনি। বিএনপি সরকারের সময় তাকে পিপি হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়। ১/১১ এর সময় বিএনপির অনেক নেতা যখন আত্মগোপনে ছিলেন সে সময়ে রাজপথে যে কয়জন নেতা সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন কামরুল আহসান শাহীন ছিলেন তাদের একজন।

আইএসআই কি পাকিস্তানের নয়?

ভারতে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড চালানোর পেছনে পাকিস্তানের হাত আছে বলে কড়া ভাষায় অভিযোগ করলেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। গতকাল শনিবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রভাবশালী হিন্দুস্তান টাইমস পত্রিকার এক অনুষ্ঠানে তিনি এ অভিযোগ করেন। খবর হিন্দুস্তান টাইমস ও এনডিটিভির। ‘হিন্দুস্তান টাইমস লিডারশিপ সামিট’ অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে রাজনাথ ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জম্মু-কাশ্মীর, নকশালদের তৎপরতা, নতুন জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস), উত্তর-পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদ ইত্যাদি প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তবে দৃশ্যত সবকিছু ছাপিয়ে আক্রমণের মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল পাকিস্তান। রাজনাথ প্রশ্ন ছোড়েন, ‘আইএসআই কি পাকিস্তানের নয়? কে ওসামা বিন লাদেনকে সহায়তা করেছিল? হাফিজ সাইদকে এখন কারা সহায়তা করছে?’ আইএসআই (ইন্টার সার্ভিসেস ইনটেলিজেন্স) পাকিস্তানের প্রভাবশালী সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটি জঙ্গিবাদে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে সহায়তা দেয় বলে ভারতসহ বিভিন্ন মহলের অভিযোগ রয়েছে। ভারতে ধারাবাহিক বোমা হামলায় অভিযুক্ত দাউদ ইব্রাহিম পাকিস্তানে আছেন, এমন দাবি করে রাজনাথ তাঁকে ফেরত না দেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে অভিযুক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘দাউদকে ফেরত দিতে আমরা পাকিস্তানকে বোঝানোর চেষ্টা করছি। আমরা এখন চাপ দেব। তাঁকে ফেরত পেতে আগের সরকারগুলোও চেষ্টা করেছে।’ ভারতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেন কঠিন—আলোচ্য এ বিষয়ের ওপর রাজনাথ বলেন, ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলার সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধেও পাকিস্তান ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
রাজনাথের আলোচনায় কাশ্মীর প্রসঙ্গও আসে। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে গণতন্ত্র আছে। আমরা জম্মু-কাশ্মীরের জনগণের কাছে ৩৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে বিতর্কের আহ্বান জানাই। এই অনুচ্ছেদের ফলে তারা কি বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে না?’ কাশ্মীরি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে রাজনাথ বলেন, ‘পাকিস্তানের অবস্থান যদি পরিষ্কার হয়, তবে আমাদের অবস্থানও পরিষ্কার।’ কাশ্মীর সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা এবং ভারতের সাম্প্রতিক এক বোমা বিস্ফোরণের তদন্তে পাকিস্তানের নাম আসার প্রেক্ষাপটে দেশটিকে এমন গরম কথা শোনালেন রাজনাথ সিং। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের বিস্ফোরণ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনের প্রশিক্ষিত বলে কথিত এক মিয়ানমারের নাগরিককে আটক করা হয়েছে। কাশ্মীর নিয়ে ‘রাজনীতি করার জন্য’ রাজনাথ দেশের বিরোধী দলগুলোর প্রতিও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিরোধীরা ওই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরি করছে। আলোচনায় পাকিস্তানের প্রতি খড়্গহস্ত হলেও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন রাজনাথ। পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আজ হোক, কাল হোক, পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে তা কেটে যাবে।’ সীমান্তে অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে সম্প্রতি চীনের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে ভারত। রাজনাথের বক্তব্যে আসে সেই প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, ‘যখনই আমরা সীমান্তে কোনো অবকাঠামো তৈরি করতে যাই, পাকিস্তান আর চীন তখনই বাগড়া দিয়ে বসে। তবে এসবের পরেও আমরা সীমান্তে রাস্তাঘাটসহ নানা অবকাঠামো তৈরি করছি।’