Friday, August 28, 2020
ইমাম হোসাইন (আ)-এর বিপ্লবের প্রেক্ষাপট এবং বর্তমান বিশ্বে তাঁর প্রাসঙ্গিকতা by মাহদী মাহমুদ

বর্তমান মুসলিম সমাজে বিরাজমান দুরবস্থা তথা রাজতান্ত্রিক, স্বৈরতান্ত্রিক এবং ইহুদিবাদী আগ্রাসন, ভ্রাতৃঘাতী মাজহাবী সংঘাত ও সেক্যুলারিজমের ছোবলের শেকড় খুঁজতে গেলে কেবল অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতক কিংবা তার পূর্বে ক্রুসেডের যুগের ইতিহাস পর্যালোচনা করাটা কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়। কেননা, মুসলমানদের পতন ইংরেজ, খ্রিস্টান, ইহুদি, সাম্রাজ্যবাদী কারো হাতেই নয়; বরং খোদ মুসলমান নামধারী মুনাফিক জালেম শাসক,আলেম এবং বুদ্ধিজীবীদের হাতেই।
ড. কলিম সিদ্দিকী এ বিষয়ে তাঁর ‘উপনিবেশবাদ কবলিত মুসলিম রাজনৈতিক চিন্তাধারা ও আচরণ’ শীর্ষক বক্তৃতায় বলেন, ‘এটা জেনে রাখা প্রয়োজন যে, উপনিবেশী শক্তিগুলো আসলে ইসলামের রাজনৈতিক শক্তিকে পরাজিত করতে পারেনি। ইসলামের রাজনৈতিক শক্তির পতন ঘটেছিল ঔপনিবেশিকদের রঙ্গমঞ্চে আসার অনেক অনেক আগে,রাজতন্ত্রী ও বংশীয় মুসলিম শাসকদের হাতে।’
তিনি আরও বলেন, ‘উল্লেখ্য যে, মুসলিম ভূখণ্ডে ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা মুলুকিয়াহ বা বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রেরই অবশ্যম্ভাবী পরিণতি।”
আর এই রাজতন্ত্রের সূচনা-বিন্দুতে ছিল বনি উমাইয়া। রাসূল(সা)-এর ওফাতের পর থেকে ইমাম হোসাইনের নির্মম শাহাদাতের মধ্যকার ৫০টি বছরে এমন কিছু ঘটেছে যার ফলে ইসলামে রাজতন্ত্র এবং স্বৈরাচারের উত্থান ঘটে এবং একইসাথে মুসলমানদের মাঝে শিয়া-সুন্নি সহ হাজারো মাজহাবী দ্বন্দ্বের সূচনা হয়। সমস্যার মূল তথা ঐ ৫০টা বছরই ছিল কারবালার মহা-ঘটনার প্রেক্ষাপট।
ড.কলিম সিদ্দিকী তাঁর ভাষণের অন্যত্র বলেছেন, ‘ধর্মকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্রের অধিকতর শক্তিশালী হওয়া ইসলামে অসম্ভব। তাই ধর্মের মুখোশ পরে রাষ্ট্রনীতির কূটকৌশল শুরু করে সর্বপ্রথম উমাইয়ারা। তখন থেকেই অন্য শাসকরা নিজেদের বংশগত স্বার্থে ইসলামকে ব্যবহারের প্রয়াস পায়। কালক্রমে এই ধরনের বংশীয় শাসকেরা অধিক হারে সেক্যুলার ধারার রাজনৈতিক আচরণে লিপ্ত হয়ে পড়ে। তারা রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে ইসলাম থেকে দূরে সরে পড়ে।’
ইমাম হোসাইনের আন্দোলন ছিল পুরোভাগে রাজনৈতিক এবং আধ্যাত্মিক।তিনি তাঁর কারবালা-পূর্ব ভাষণে সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘জেনে রাখ, এ শাসকদল (বনি উমাইয়া) শয়তানের আদেশ মেনে চলছে এবং আল্লাহর আদেশ অমান্য করছে এবং দুর্নীতিকে প্রতিদিনকার নিয়ম বানিয়েছে।তারা অধিকারগুলোকে এক জায়গায় জমা করেছে। মুসলমানদের সম্পদের ভাণ্ডারকে(বাইতুল মা’লকে) তাদের নিজেদের জন্যে নির্দিষ্ট করে নিয়েছে এবং আল্লাহর হারামকে বৈধতা দিয়েছে এবং তাঁর হালালকে নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। তাদের বিরোধিতা করার ক্ষেত্রে সব মানুষের মধ্যে আমিই সবচেয়ে যোগ্য।’ (তাবারী)
আর ইমাম হোসাইনই সে সময় ছিলেন জান্নাতের যুবকদের সর্দার এবং আহলে বায়েতের জীবিত সদস্য। আর তাই ইমাম হোসাইন রাসূলের সুন্নাহ এবং পাক কুরআনের নির্দেশাবলী পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্যে উঠে দাঁড়িয়েছিলেন।
ইমাম হোসাইন বলেছিলেন,‘আমি কোনো ফিতনা-ফাসাদ সৃষ্টি কিংবা ক্ষমতার লোভে বিদ্রোহ করছিনা। আমি শুধু আমার নানার উম্মতের মধ্যে সংস্কার করতে চাই। আমি চাই সৎকাজের নির্দেশ দিতে এবং অসৎকাজে নিষেধ করতে। আর আমার নানা এবং বাবা আলীর পথ ধরে চলতে।’
এই সৎকাজের নির্দেশ এবং অসৎকাজে বাধা দেয়া বা নিষেধ করাই হচ্ছে ইসলামি সমাজব্যবস্থা, ইসলামি ন্যায়বিচার এবং ইসলামি রাজনীতির মূলমন্ত্র। সৎকাজের নির্দেশ এবং অসৎকাজ থেকে বিরত রাখার যে সংকীর্ণ এবং ক্ষুদ্র ধারণা মুসলমানদের, তা থেকে আমরা মনে করি যে,এটি বোধ হয় মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করা কিংবা নামাজ-রোযা বা ইসলামি আহকাম পালনে দায়েশীয়(ISIS-terrorist group) পন্থায় মানুষকে বাধ্য করা।
কিন্তু ইমাম হোসাইন এ বিষয়টি স্পষ্ট করে দিচ্ছেন। তিনি বলছেন, ‘সৎকাজের নির্দেশ এবং অসৎকাজে নিষেধ হল অন্যায়ভাবে কেড়ে নেয়া অধিকার ফিরিয়ে দেয়া (এর জন্যে আন্দোলন-সংগ্রাম করা),জালিমের বিরোধিতা, বাইতুল মা’ল ও গনিমত বণ্টন, যাকাতের নিসাব থেকে যাকাত গ্রহণ এবং তা যথার্থ খাতে ব্যয় করা।’
ইমাম হোসাইনের উদ্দেশ্য ছিল অস্ত্রের বিপরীতে রক্তের বিজয়। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ঘুমন্ত মুসলিম উম্মাহকে ধাক্কা দেয়া ও বলা, ‘জাগো!আবারো সাক্ষ্য দাও।’ তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ব্যাপক এবং সুদূরপ্রসারী। তিনি চেয়েছেন যেন অনাগতকালের রাজতন্ত্র-পীড়িত জনগণ ও আলেম-বুদ্ধিজীবী শ্রেণির মানুষেরা এই ইতিহাস চর্চা করে এবং ইমাম হোসাইনের পদাঙ্ক অনুসরণ করে রাজতন্ত্র, উপনিবেশ আর সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে নিজের জান-মাল-পরিবার নিয়ে রুখে দাঁড়ায়। ইসলামি সমাজে ব্যাধির উপর বিরাট একটা প্রতিবাদ বা প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিলো ইমাম হোসাইনের আন্দোলন।
আমরা যদি কারবালার পূর্বের ইতিহাস বিশ্লেষণ করি তাহলে কয়েকটা জিনিস দেখব। যার কেন্দ্র হচ্ছে ইসলামি রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিনাশ এবং স্বৈরাচার,স্বেচ্ছাচার ও রাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাকরণ। ইসলামি রাষ্ট্রের জনগণের বাইতুল মা’লকে আম ও খাস বাইতুল মালে ভাগ করে,এর এক অংশ(আ’ম) আমীরের জন্যে রেখে দেয়া এবং সেই অর্থ খরচ করে ইয়াজিদের মতো শাসকের পক্ষে বায়াত(ভোট) কেনা এবং বিদ্রোহ দমনের প্রচেষ্টা। রাসূল(সা)-এর নিকটতম সাহাবীদেরকে হত্যা করা, হাত কেটে দেয়া,লাঞ্ছিত এবং নির্বাসিত করা এবং কারাগারে নিক্ষেপ করা। ইসলামি রাষ্ট্রের গভর্নরের দায়িত্ব এবং অন্যান্য শীর্ষ পদে রাসূল কর্তৃক অভিশপ্ত, জারজ কিংবা যিনাকার (ব্যভিচারী ) এ ধরনের ব্যক্তিদের বসানো। প্রত্যেক মসজিদের মিম্বর থেকে খুতবায় হযরত আলী(কা)-কে গালমন্দ এবং অভিসম্পাত করা। কোরআনের নির্দেশ এবং রাসূলের সুন্নাতসমূহকে সুস্পষ্টভাবে পরিবর্তন সাধন করা।
সংক্ষিপ্ত এই নিবন্ধে আমরা তেমনি কিছু ঘটনার উদাহরণ টানব যাতে আমরা বর্তমান মুসলিম বিশ্বের অবস্থার সাথে ইমাম হোসাইনের সময়ের প্রেক্ষাপটের মিল খুঁজে পাই।
রাজতন্ত্রীকরণ
মাওলানা মুঈনউদ্দিন নদভী তাঁর কিতাবে লিখেছেন, ‘আমীর মুয়াবিয়া কর্তৃক খলিফা হযরত আলী(আ)-এর মুকাবেলায় যুদ্ধে জয়লাভের অভিপ্রায়ে বৈধ-অবৈধ সব ধরনের পন্থা অবলম্বন করা, পরবর্তী খলিফা হযরত হাসানের (আ) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা,ইসলামি খেলাফতকে রাজতন্ত্রে পরিবর্তন করা, তার শাসনামলের প্রতিটি ঘটনা এমন প্রকাশ্য ভ্রান্তিময় যাকে সত্যাশ্রয়ী লোক কখনো সমর্থনযোগ্য ও পছন্দনীয় বলে গণ্য করতে পারেনা। বিশেষত ইয়াজিদের মনোনয়নে খেলাফতের ফেতনা চিরতরে শেষ হয়ে যায় এবং ইসলামে বংশানুক্রমিক রাজতান্ত্রিক প্রথা চালু হয়।’ (সিয়ারুস সাহাবা)
এছাড়াও ইতিহাসের পাতায় দেখা যায়, আমীরে মুয়াবিয়া পরবর্তী শাসকরূপে ইয়াজিদকে মনোনয়নে সম্মতিলাভের উদ্দেশ্যে ইবনে ওমর এবং আব্দুর রহমান বিন আবি বকরের কাছে এক লক্ষ দিরহাম করে পাঠিয়েছিল। কিন্তু তাঁরা সেগুলো গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন।(ইবনে আসিরের আল কামিল,ইবনে কাসিরের আল বিদায়া আন নিহায়া,তাবাকাতে ইবনে সা’দ)
গভর্নরদের অত্যাচার
আমীর মুয়াবিয়া ৪০ হিজরির প্রথমদিকে বুশর বিন আরতাতকে ইয়ামেন ও হেযাজে পাঠায়। হযরত আলীর কোনো অনুসারীর দেখা পেলেই তাকে ধবংস করার জন্যে তাকে নির্দেশ দেয়া হয়।বস্তুত বুশর তাই করেছিলো।(আল ইসাবায় ইবনে হাযারের মন্তব্য)
অপর এক গভর্নর যিয়াদ বিন আবিহ সম্পর্কে ইতিহাসে এসেছেঃ ‘যে লোকই যিয়াদের স্বেচ্ছাচারিতার বিরোধিতা করত তাকে সে হত্যা করত। হাজ্জাজের চেয়েও সে ছিল অধিক রক্তপিপাসু।’ (এলামুল নুবালা।)
সাহাবীদের উপর নির্যাতন
যিয়াদের পক্ষ থেকে সাহাবী হাকামের (রা) কাছে আমীর মুয়াবিয়ার একটি পত্র আসে। সেই চিঠিতে গনীমতের মাল থেকে সোনা-রুপা মুয়াবিয়ার বাইতুল মালের জন্যে রাখার নির্দেশ ছিল। হাকাম(রা) আল্লাহর নির্দেশকে আমীরের নির্দেশের উপরে প্রাধান্য দিয়ে বলেন,‘সে কি রাসূলের এ কথা শোনে নি যে, কোনো কাজে আল্লাহর অবাধ্যতার প্রশ্ন দেখা দিলে তখন কারো কথা মানা যাবেনা?’ অতঃপর তিনি সমস্ত মালে গনীমত সৈন্যদের মধ্যে বিতরণ করে দেন। বলা হয়,তাতে হযরত হাকাম(রা) কারা প্রকোষ্ঠেই মৃত্যুবরণ করেন।(আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)
খলিফা উসমানের শাসনামলে সিরিয়ায় আমীর মুয়াবিয়ার স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতি, সম্পদের অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ, বণ্টন-বৈষম্য এবং কোরআন ও সুন্নাতবিরোধী কার্যক্রমের কারণে রাসূলের প্রবীণতম সাহাবী আবুযর গিফারীর সাথে রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরোধ এবং দূরত্বের সুচনা হয়। যার প্রেক্ষিতে বাধ্য হয়ে সাহাবী আবুযর গিফারী স্বেচ্ছা-নির্বাসনে যান। স্বেচ্ছা-নির্বাসনে থাকাকালীন জনমানুষশূন্য মরুভূমিতেই তাঁর মৃত্যু ঘটে। তাঁর নামাজে জানাজায় অংশ নেন আরেক প্রবীণতম সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ। ইতিহাস সূত্রে দেখা যায় যে, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ কুফায় নিযুক্ত খলিফা উসমানের গভর্নর ওয়ালিদ বিন উকবা এবং সামগ্রিকভাবে কেন্দ্রীয় খেলাফতে অর্থনৈতিক-সামাজিক অনিয়ম,নৈতিক অবক্ষয় এবং স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে ক্ষণে ক্ষণে অসন্তোষ জানাতে থাকলে এবং আবুযার গিফারির জানাজায় অংশ নেয়ার প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রযন্ত্র তাঁর ওপর নাখোশ হয়ে পড়ে।
মিম্বরে দাঁড়িয়ে হযরত আলী(কা)-এর নামে অভিসম্পাত ও গালাগালের প্রতিবাদ জানানোতে রাসূল(সা)-এর সাহাবী হুজর বিন আদীকে ছয় সঙ্গীসহ নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
দেওবন্দের অন্যতম বুজুর্গ মাওলানা মানাজির আহসান গিলানী তাঁর ‘তাদবীনে হাদীস’ গ্রন্থের ৪২৩ পৃষ্ঠায় হযরত হুজর(রা)-কে একজন সাহাবী হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর শাহাদাতের ঘটনা বিবৃত করেছেন। বিবরণের শেষে তিনি লিখেন, ‘হযরত হুজর(রা)-কে কুফায় গ্রেফতার করে সিরিয়া পাঠিয়ে দেয়ার খবর মদীনায় পৌঁছামাত্র মহানবীর (সা) স্ত্রী আয়েশা বিনতে আবুবকর অনতিবিলম্বে দূত পাঠিয়ে কোনো অবস্থায় তাঁকে হত্যা না করার সুপারিশ করেন। কিন্তু দূত পৌঁছার আগেই তাঁর শাহাদাতের হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে যায়।এ ঘটনা দ্বারা হুজর বিন আদী(রা)-এর উচ্চ মর্যাদা আন্দাজ করতে কষ্ট হবার কথা নয়।’
এছাড়াও এই মুয়াবিয়ার শাসনামলে আমর বিন হামাক,মালিক আল আশতার,মোহাম্মদ ইবনে আবি বকর,মাইসাম বিন তাম্মার প্রমুখ খোদাভক্ত সাহাবীদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
ইমাম আলী(কা)-কে মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে গালাগাল
মুয়াবিয়া যখন তার বিরোধীদেরকে হত্যা করতে এবং স্বপক্ষীয়দেরকে রক্ষার উদ্দেশ্যে বুশর বিন আরতাতকে বসরা নগরীতে পাঠাল, তখন বুশর সেখানে উপস্থিত হয়ে মিম্বরে চড়ে গালমন্দ, ভর্ৎসনা এবং অবজ্ঞার সাথে হযরত আলীর নাম উল্লেখ করে বলল,‘সমবেত জনতা! আল্লাহর কসম করে বলছি, আমি কি সত্য কথা বলিনি?’ আবু বাকরাহ নামের এক বিশিষ্ট ব্যক্তি (ইনি প্রথম খলিফা আবুবকর নন) তখন জবাবে বললেন,‘তুমি মস্তবড় সত্তার কসম করেছ। আল্লাহর কসম!তুমি সত্য কথা বলনি। কোনো ভালো কাজও করনি।’ তাতে বুশর আবু বকরাহকে প্রহার করার নির্দেশ দিলে তিনি এমনভাবে প্রহৃত হন যে তাঁর সংজ্ঞা লোপ পায়।’ (আনসাবুল আশরাফ,পৃ. ৪৯২,দারুল মাআরিফ,মিশর)
হযরত আলীকে গালমন্দ করার কথা ইতিহাস ছাড়াও হাদীস গ্রন্থেও পাওয়া যায়।যেমন মুসনাদে হাম্বালে উম্মুল মুমিনীন হযরত উম্মে সালামা (রা)-এর কয়েকটি রেওয়ায়াতে আছে, তিনি কতিপয় সাহাবীর কাছে অভিযোগ করেন, ‘তোমাদের সামনে রাসূল(সা)-কে উদ্দেশ্য করে মিম্বরে দাঁড়িয়ে গালমন্দ করা হয় কি?’
লোকেরা বলল, ‘কেমন করে?’
উম্মে সালামাহ(রা) বললেন, ‘আলীকে কি গালি দেয়া হয়না?’ (যদি দেয়া হয়)এভাবে কি তাঁকেও(রাসূল-সা.) গালমন্দ করা হচ্ছেনা, যিনি তাঁকে(আলী) মহব্বত করতেন।আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে,রাসূল(সা) তাঁকে ভালোবাসতেন।’
সুন্নাতের পরিবর্তন
বুখারী শরিফের দুই ঈদের অধ্যায়ে এসেছে, মারওয়ান যখন ঈদের খুৎবা দিতে ঈদের নামাজের জামায়াতের আগেই মিম্বরটিতে ওঠা শুরু করে তখন আবু সাঈদ খুদরী তার জামা টেনে ধরে ধরে রাখেন।কিন্তু মারওয়ান তার জামা ছাড়িয়ে নিয়ে মিম্বরে আসীন হয়। তারপর আবু সাঈদ বলেছিলেন, “আমি মারওয়ানকে বললাম, ‘আল্লাহর কসম!(তুমি শরীয়া বিধানে) পরিবর্তন এনেছ ‘ তখন মারওয়ান বলল, ‘আবু সাঈদ! তুমি যা জান তার যুগ পার হয়ে গিয়েছে।’ আমি জবাবে বললাম, ‘আল্লাহর কসম! আমার জানা বিষয় না-জানা বিষয় অপেক্ষা উত্তম’।”
এই যুগে অমুসলমানের রক্তমূল্য কমিয়ে অর্ধেক করে বাকি অর্ধেক খলিফার নিজের বা ব্যক্তিগত বাইতুল মালে জমা করা, কিংবা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ থেকে সোনা-রুপা আলাদা করে খলিফার নিজের হাতে রাখা কিংবা আহলে বায়েতের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে নিজের জায়গীর বানানো, ঈদের নামাজের পূর্বে আলী(কা)-কে গালি দেয়ার উদ্দেশ্যে বিশেষ খুৎবা চালু করার মতো বেদআতের সূচনা করা হয়।
নারীদের দাসী বানানো
এ লোকটি ইয়ামেনের হামাদান শহরটি লুটতরাজ করে সেখানকার মহিলাদের ক্রীতদাসীতে পরিণত করে। এ দুর্ভাগা নারীরাই সর্বপ্রথম মুসলমান পরিচিতি বহন করে দাসত্বের জিঞ্জিরে আবদ্ধ হন।(তাদেরকে প্রকাশ্যে কেনাবেচা করা হতো-এলামুল নুবালা)। লোকটি মদীনা শহরটি ধবংস করে দেয়। ঘটনা ইতিহাস খ্যাত হওয়ায় এর বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন নেই। (আল কামিল, যাহাবীর এলামুল নুবালাতেও অনুরূপ বর্ণিত)
সর্বোপরি উমাইয়া পরিবার এবং তাদের অনুদাসদের হাতে সরকারি প্রত্যেকটি পদ তুলে দেয়া হয়। যার মধ্যে বুশর বিন আরতাত-যার হত্যাযজ্ঞের কথা আমরা আগেই বলেছি। যিয়াদ বিন আবিহ-যাকে আমীরে মুয়াবিয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ‘ভাই’ এর মর্যাদা দেয়। যিয়াদের পুত্র ওবায়দুল্লাহ কুফার গভর্নর হয়। সে মুসলিম বিন আকিলের হত্যার নির্দেশদাতা এবং কুফার শত শত জনগণকে হত্যা করে ইমাম হোসাইনের পক্ষে বিপ্লবে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক দলটির মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দেয়। এ ছাড়াও সে কারবালায় ইমাম হোসাইনের হত্যার প্রত্যক্ষ নির্দেশদাতা এবং তদারককারী। মারওয়ান বিন হাকাম-যাকে রাসূল(সা) অভিসম্পাত করেছিলেন- সে ইমাম হোসাইনের মৃত্যুর পরের বছর মদিনায় ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ এবং ধর্ষণ চালানোতে মদদ দেয়। মুগীরা বিন শো’বা, ইবনে গাইলান, কিংবা আমর বিন আস- এরা ছিল মিশরে আলীপন্থী গভর্নর খলিফা আবু বকরের সন্তান তথা বিশিষ্ট সাহাবী মোহাম্মাদ বিন আবি বকর এবং সাহাবী মালিক বিন আশতারকে হত্যায় প্রত্যক্ষ নির্দেশদাতা।
এভাবে ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে রাজতন্ত্রে পরিণত করা এবং সুন্নাত পরিবর্তনের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে বনি উমাইয়ার শাসনকালে। উমাইয়া ইসলামে দীক্ষিত এলিট-বুদ্ধিজীবী এবং আলেমদের অনুসরণ করেই আজকে মুসলিম মিল্লাতের বিভিন্ন প্রান্তে রাজতন্ত্রের ব্যাপক উত্থান ঘটেছে। শুধু তাই নয়, একইসঙ্গে সগর্বে এই কুফরি রাজতন্ত্রকে ইসলামের শাসনব্যবস্থা হিসেবে জায়েয বা বৈধ হওয়ার ইসলামিক এবং বৈজ্ঞানিক ফতোয়াও দিয়ে দেয়া হয়েছে। জনগণের মনে এই বিশ্বাস জন্মানো হয়েছে যে, আদতে রাসূল(সা) এবং খোলাফায়ে রাশেদার শাসনব্যবস্থার সাথে উমাইয়া রাজতন্ত্রের কোনো গুণগত পার্থক্য নেই।
রাজতন্ত্রের পথ ধরে এসেছিল ঔপনিবেশিক লুটেরারা। আর উমাইয়াদের নিজেদের ব্যক্তি-জীবনে নৈতিকতাহীনতা-ধর্মহীনতা এবং সমাজ জীবনে কপট ধার্মিকতা-মুনাফিকীর রীতি অবলম্বনে মুসলিম দেশগুলোর শাসক, বুদ্ধিজীবী ও এক শ্রেণির আলেমদের মধ্যে লেবাসী ধার্মিকতা, রাষ্ট্রীয় সেক্যুলারিজম এবং ফ্যাসিবাদী-স্বেচ্ছাচারী রূপ গড়ে উঠেছে। যুগের উমাইয়াদের মতো তারা নিজ নিহ দেশে ভিন্নমতাবলম্বীদের উপর আগ্রাসনের রাজনীতি গড়ে তুলেছে। রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোকে ব্যক্তিগত সম্পদের মতো ব্যবহার করছে। জনগণের ট্যাক্সের টাকা রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ব্যয় না করে সেসব অর্থে ব্যক্তিগত ব্যবসা গড়ে তুলেছে। রাষ্ট্রীয় ব্যাংক এবং জনগণের ট্যাক্সের টাকা ব্যবহার করে তারা রাজতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক নিপীড়নমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় ভোট কিংবা জনসমর্থন কিনছে। বুদ্ধিজীবী এবং আলেমদের কিনে নিয়ে তাদের মুখ থেকে নিজেদের কুকর্মের পক্ষে সাফাই আদায় করে জনগণের কাছে সেগুলোকে বিজ্ঞাপন হিসেবে ব্যবহার করছে। উমাইয়াপন্থী আলেমদের ব্যবহার করে অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েল এবং সাম্রাজ্যবাদী শক্তিদের পক্ষে শিয়া-সুন্নি বিভেদ, ফেরকাবাজী এবং পরস্পরকে কাফের ফতোয়া দেয়ার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহকে যেকোনো সময়ের চেয়ে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় ফেলে দেয়া হয়েছে-যার ফল ভোগ করছে ফিলিস্তিন,আরাকান কিংবা কাশ্মীরের মজলুম জনগণ।
এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় হচ্ছে মুসলিম দেশগুলোর আলেম সমাজ এবং ইসলামি বুদ্ধিজীবীদেরকে উমাইয়া নিগড় থেকে বেরিয়ে আসা। আর সে লক্ষ্যে রাসূল(সা)-এর ওফাতের পর থেকে ইমাম হোসাইনের শাহাদাতের মধ্যকার সময়ে মুসলিম উম্মাহের মধ্যে যেসব মতবিরোধের সূচনা হয়েছিল সেগুলোর ওপর আলোকপাত করে, ভিন্ন মতাবলম্বীদের মধ্যে ডায়ালগের সংস্কৃতি সৃষ্টি করতে হবে। আর একইসঙ্গে ‘ইসলামি’ বলে মনে-প্রাণে গৃহীত ইয়াজিদী সংস্কৃতি ফেলে সব মাজহাবকেই সামাজিক ন্যায়বিচার তথা আমর বিল মা’রুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করতে হবে। আন্তর্জাতিকভাবে সাম্রাজ্যবাদ, ইসরায়েল ও জালেম শাসক এবং তাদের অনুসারী আলেমেছু‘দেরও (মন্দ আলেমদের) বয়কট করতে হবে। আর এভাবেই ইমাম হোসাইন (আ) যে আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন সেই আন্দোলনকে সফল বিপ্লবে রূপ দান করা সম্ভব হবে। (লেখক: মাহদী মাহমুদ, গবেষক ও বিশ্লেষক)
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Thursday, August 27, 2020
দিল্লি ক্রাইম: একটি অকথিত কাহিনী by সামা ফারুকি

ঘটনা সবার জানা। ২০১২ সালে প্রকাশ্য দিবালোকে রাস্তায় চলন্ত বাসে ছয় লোক মিলে জ্যোতিকে ধর্ষণ করে। এর জের ধরে প্রতিবাদ ওঠে, আরো কঠোর ধর্ষণ আইন প্রণীত হয়। অনেকে জানতে চাইতে পারেন, সমাপ্তির পর এখন আবার কেন ওই ঘটনা সামনে আনা হচ্ছে? ঘটনার শিকার নারীটি আর আমাদের মধ্যে নেই, কাজেই কেন ওই মর্মান্তিক ঘটনা সামনে আনা হচ্ছে?
কিন্তু দিল্লি ক্রাইম আসলে জ্যোতিকেন্দ্রিক নয় (যদিও তিনিই এর মূলে রয়েছেন), বরং তাকে যারা ধর্ষণ করেছে, তাদের পাকড়াও করা নিয়েই। এতে পুলিশের ডিসি বর্তিকা চক্রবর্তীর নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত দলের দিকেই বেশি নজর দেয়া হয়েছে। মামলাটি তার নজরে আসার পর তিনি অপরাধী যারাই হোক না কেন, তাদের পাকড়াও করতে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ হন। কয়েক দিনের মধ্যে পুরো বিশ্বের বোঝা তার কাঁধে ন্যস্ত হয়।
কাহিনীটির শুরু ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর এক শীতের রাতের ঘটনা দিয়ে শুরু। পুলিশ কর্মকর্তারা দিপিকা ও আকাশ (তারা জ্যোতি ও তার বন্ধু অবিন্দ্র প্রতাপ পান্ডে চরিত্র রূপ দিয়েছেন) প্রধান রাস্তার খাদে পড়ে আছে দেখতে পান। হেড কনস্টেবল রাম প্রতাপ (খান) তাদেরকে সাদা বেড শিটে ঢেকে কাছের হোটেলে নিয়ে যান, তাদের ঠিকানা যোগার করার চেষ্টা করেন। তাদেরকে পুলিশ ভ্যানের পেছনে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় মুর্ছা যাওয়া দিপিকার ফিসফিস কণ্ঠ শোনা যায়: ‘তারা আমার সাথে ভয়ঙ্কর আচরণ করেছে। প্লিজ আমার বাবাকে বলো না।’
পরের দৃশ্য চলে যায় ১২ ঘণ্টা আগের ঘটনায়: রাম প্রতাপ প্রতিদিন সকালের মতোই জেগে ওঠেছিলেন, প্রতিদিনকার মতোই দাঁত ব্রাশ করেন, নাস্তার টেবিলে তার স্ত্রীর সাথে হালকা কথাবার্তা বলেন। তিনি ৩৪ বছর চাকরি করেছেন। সিরিজের যে কারো চেয়ে বেশি দিনই তা করেছেন, তবে সম্ভবত সংগ্রাম এখনো চলছে। বড় চিত্রে ছোট চরিত্রে তিনি নিম্ন পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তার ভেতরের অবস্থা তুলে ধরেছেন। তারা অনেক বেশি পরিশ্রম করেন, কিন্তু বেতন পান কম, মূল্যায়নও হয় না। তাদের কর্মস্থল থানায় বিদ্যুৎ থাকে না, বাজেটে থাকে টানাপোড়েন। তাদেরকে কর্মস্থলে যেতে হয় বাসে করে, উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তিরস্কার খেতে হয়।
প্রথম পর্বে এই রাম প্রতাপের মাধ্যমেই পরিচালক অন্যান্য বড় চরিত্রকে সামনে এনেছেন। যেমন আমরা স্টেশন হাউস অফিসার বিনোদ তিওয়ারিকে চন্ডিগড় থেকে আসা বড় চোখের নবাগতের সাথে কথা বলতে দেখি। ওই লোক বড় নগরীতে উদ্দীপনা ও স্বাধীনভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে আগ্রহী। আরেক দৃশ্যে রাম প্রতাপকে তার রাতের খাবার ফেলে এক সন্ত্রাসীর পেছনে ধাওয়া করতে দেখি।
সিরিজটি সব পূর্ণ ক্রাইম থ্রিলারের মতো এগুতে থাকে। একটার পর একটা নতুন তথ্য আসতে থাকে, দর্শক রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন স্তম্ভের ভেতরে কী ঘটছে তা দেখতে থাকে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, রাজনীতিবিদ, বিচার বিভাগ, মিডিয়া এবং সর্বোপরি জনগণও ট্রাজেডিতে এসে পড়ে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে কেন সিস্টেম কখনো কাজ করে, কখনো কাজ করে না, তা সামনে চলে আসে। অনেক কিছুই থাকে যা বইপত্রে দেখা যায় না।
গল্পে সহানুভূতিশীল পুলিশের কথা দেখা যায়। তাদের অধৈর্য, অবহেলা অনিচ্ছাকৃত হিসেবেই তুলে ধরা হতে থাকে। তারা তাদের স্বাভাবিক গতিতে কাজ করে গেলেও মিডিয়া তাদেরকে পুরোপুরি নেতিবাচক আলোতেই সামনে নিয়ে আসে।
এতে সমাজের ভূমিকার ওপরও যথাযথ আলো ফেলা হয়েছে। লোকজন ক্ষেপে গেলে তারাও গণধর্ষণকারীদের মতোই রক্তলোলুপ, ক্রুদ্ধ আর মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে।
এক পর্যায়ে হতবিহ্বল ভুপেন্দ্র সিং জানতে চান: তারা ক্রুদ্ধ, কিন্তু তারা আসলে কী চায়? এই শোয়ের তারকাই হলেন শাহ। তার আবেগময় চোখ, নিয়ন্ত্রিত শারীরিক ভাষা তাকে সামনে নিয়ে আসে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে অধীনস্তদের একেকজনের সাথে একেক রকম সম্পর্ক রক্ষা করে চলেন তিনি। আবার তাকেই তার মেয়েকে আগলে রাখার জন্য প্রান্তকর প্রয়াস চালাতে দেখা যায়।
অনেক দর্শক হয়তো দিল্লি ক্রাইমকে আরেকটি স্যাকরেড গেমস (মুম্বাইয়ের দেবতা ও অপদেবতদের নিয়ে করা সিরিজ) হবে বলে আশা করেছিলেন। না তা হয়নি। এটি ভারতের রাজধানীর ক্ষমতার করিডোরের ছবিই সামনে এনেছে। এখানে অতিলৌকিক কিছু নেই, বরং বাস্তব জগতের কথাই সামনে চলে এসেছে।
দিল্লির বাস্তব জগতকে সামনে আনার কারণেই দিল্লি ক্রাইম দশর্কপ্রিয়তা পেয়েছে। এখানকার কুয়াশায় ঢাকা শীতের বিকেল, ট্রাফিক জ্যাম, বেওয়ারিশ কুকুর, শ্রেণি বৈষম্য দশর্কদের সামনে ফুটে ওঠেছে। দক্ষিণ এশিয়ার বেশির ভাগ লোকের কাছে এগুলো একেবারেই চেনা জগত।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Wednesday, August 26, 2020
ডিম কি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নাকি এটি হৃদরোগের কারণ?

ভালো ডিম
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
একজন অনন্য চাচা ও ভাতিজার পারস্পরিক ভালোবাসার অমর কাহিনী

তাঁর একদল ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ও সঙ্গী যাদের সংখ্যা ১০০’রও কিছু কম বা সামান্য বেশি ছিল- তাঁদের সবাই যখন সকলেই এক জায়গায় ও এক বাক্যে সুস্পষ্ট ভাষায় তাঁদের নিষ্ঠা ও আনুগত্যের ঘোষণা দিলেন এবং বললেন যে, আমরা কখনো আপনাকে ছেড়ে চলে যাবো না, তখন সহসাই পট পরিবর্তিত হয়ে গেলো।
ইমাম (আঃ) বললেন, ব্যাপার যখন এই, তখন সকলেই জেনে রাখো যে, আমরা নিহত হতে যাচ্ছি। তখন সকলে বললো, আলহামদুলিল্লাহ-আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা করছি যে, তিনি আমাদেরকে এ ধরনের তাওফীক দান করেছেন। এটা আমাদের জন্য এক সুসংবাদ, একটি আনন্দের ব্যাপার।
ইমাম হুসাইনের (আ) মজলিসের এক কোণে একজন কিশোর বসে ছিলেন; বয়স বড় জোর তেরো বছর হবে। এ কিশোরের মনে সংশয়ের উদয় হলোঃ আমিও কি এ নিহতদের অন্তর্ভুক্ত হবো? যদিও ইমাম বলেছেন ‘তোমরা এখানে যারা আছা তাদের সকলে’,কিন্তু আমি যেহেতু কিশোর ও নাবালেগ, সেহেতু আমার কথা হয়তো বলা হয় নি। কিশোর ইমাম হুসাইনের দিকে ফিরে বললেন: অর্থাৎ,চাচাজান! আমিও কি নিহতদের অন্তর্ভুক্ত হবো? এ কিশোর ছিলেন হযরত ইমাম হাসানের (আ) পুত্র হযরত কাসেম।
ইতিহাস লিখেছে, এ সময় হযরত ইমাম হুসাইন (আ) স্নেহশীলতার পরিচয় দেন। তিনি প্রথমে জবাব দানে বিরত থাকেন, এরপর কিশোরকে জিজ্ঞেস করেন, ভাতিজা! প্রথমে তুমি আমার প্রশ্নের জবাব দাও, এরপর আমি তোমার প্রশ্নের জবাব দেবো। তুমি বলো, তোমার কাছে মৃত্যু কেমন; মৃত্যুর স্বাদ কী রকম? কিশোর জবাব দিলেন,আমার কাছে মধুর চেয়েও অধিকতর সুমিষ্ট। আপনি যদি বলেন যে, আমি আগামী কাল শহীদ হবো তাহলে আপনি আমাকে সেই সুসংবাদই দিলেন। তখন ইমাম হুসাইন (আঃ) জবাব দিলেন, হ্যাঁ, ভাতিজা! কিন্তু তুমি অত্যন্ত কঠিন কষ্ট ভোগ করার পর শহীদ হবে। কাসেম বললেন: আল্লাহর শুকরিয়া, আল-হামদুলিল্লাহ-আল্লাহর প্রশংসা যে, এ ধরনের ঘটনা ঘটবে।
এবার আপনারা ইমাম হুসাইন (আঃ) এর এ ভূমিকা নিয়ে চিন্তা করে দেখুন যে, পরদিন কী বিস্ময়কর এক বাস্তব কঠিন দৃশ্যের অবতারণা হওয়া সম্ভব! হযরত আলী আকবরের শাহাদাতের পর এই তেরো বছরের কিশোর হযরত ইমাম হাসানের পুত্র ইমাম হুসাইন (আঃ) এর নিকট এগিয়ে এলেন। যেহেতু তিনি ছিলেন নাবালেগ কিশোর, তার শরীরের বৃদ্ধি তখনো সম্পূর্ণ হয় নি, তাই তার শরীরে অস্ত্র ঠিকভাবে খাপ খাচ্ছিলো না;কোমরে ঝুলানো তলোয়ার ভূমি স্পর্শ করে কাত হয়ে ছিলো। আর বর্মও ছিলো বড়, কারণ বর্ম পূর্ণ বয়স্ক পুরুষদের জন্য তৈরি করা হয়েছিলো, কিশোরদের জন্য নয়। টুপি বড়দের মাথার উপযোগী, ছোট বাচ্চাদের উপযোগী নয়। কাসেম বললেন, চাচাজান! এবার আমার পালা। অনুমতি দিন আমি রণাঙ্গনে যাই।
কোনো কোনা বর্ণনায় এসেছে, ইমাম হাসান (আ) যখন শহীদ হন তখন কাসেমের বয়স ছিল মাত্র তিন বছর। সেই থেকে তিনি চাচা হুসাইন (আ)'র ঘরে তাঁরই সান্নিধ্যে থেকে কিশোর বয়স পর্যন্ত বড় হয়েছেন। তাই ভাইয়ের নয়নের মনি ছিল তাঁরও স্নেহের ধন। চাচা কখনও যুদ্ধে যেতে অনুমতি দিবেন না তা জেনে কাসেম ফুপু যাইনাবের শরণাপন্ন হন। ফুপু জানান যে তাঁর চাচার কাছে প্রিয় কিশোর ভাতিজার যুদ্ধ-যাত্রার অনুমতি আদায় করার মত মানসিক অবস্থা তাঁরও (যাইনাবের) নেই। এক পর্যায়ে কাসেম লক্ষ্য করেন তার বাহুতে তাবিজের মত কিছু একটা আছে। কৌতুহল বশে তা খুলে দেখেন যে তাতে রয়েছে ভবিষ্যতের কারবালা যুদ্ধ সম্পর্কে বাবা ইমাম হাসানের ওসিয়ত। তাতে কাসেমকে বলা হয়েছে, তোমার চাচা তোমাকে যুদ্ধে যাবার অনুমতি দিবেন না, কিন্তু তুমি মাথা ও ঘাড় নিচু করে বার বার অনুরোধ করলে শেষ পর্যন্ত তোমার চাচা তোমাকে অনুমতি দেবেন। কাসেম ওই ওসিয়ত চাচা হুসাইনকে দেখালে তিনি খুব কাঁদেন।
এখানে উল্লেখ্য যে,আশুরার দিনে ইমাম হুসাইন (আঃ) এর সঙ্গী সাথীদের কেউই তার কাছ থেকে অনুমতি না নিয়ে রণাঙ্গনে যান নি। প্রত্যেকেই তাঁর কাছে এসে তাকে সালাম করেন এবং এরপর অনুমতি চান; বলেন: ‘‘আস-সালামু ‘আলাইকা ইয়া আবা আবদিল্লাহ। আমাকে অনুমতি দিন।’’
ইমাম হুসাইন (আঃ) সাথে সাথেই কাসেমকে অনুমতি দিলেন না। তিনি কাঁদতে শুরু করলেন। কাসেম ও তাঁর চাচা পরস্পরকে বুকে চেপে ধরে কাঁদতে লাগলেন। ইতিহাসে লেখা হয়েছে: অর্থাৎ,অতঃপর তিনি (কাসেম) তাঁর (ইমাম হুসাইনের) হাত ও পা চুম্বন করতে শুরু করলেন। ‘‘মাক্বাতিল’’ গ্রন্থে এ সম্পর্কে লেখা হয়েছে: ‘‘তাকে যতক্ষণ না অনুমতি দেয়া হয় ততক্ষণ পর্যন্ত কিশোর তার (ইমাম হোসেনের) হাত ও পা চুম্বন অব্যাহত রাখেন।’’ (মাকতালু খরাযমী,খণ্ড: ২,পৃষ্ঠা: ২৭)
এ ঘটনার অবতারণা কি এ উদ্দেশ্যে হয়নি যাতে ইতিহাস পুরো ঘটনাকে অধিকতর উত্তম রূপে বিচার করতে পারে? কাসেম অনুমতির জন্য পীড়াপীড়ি করেন আর ইমাম হুসাইন (আঃ) অনুমতি দানে বিরত থাকেন। ইমাম মনে মনে চাচ্ছিলেন কাসেমকে অনুমতি দেবন এবং বলবেন,যদি যেতে চাও তো যাও। কিন্তু মুখে সাথে সাথেই অনুমতি দিলেন না। বরং সহসাই তিনি তার বাহুদ্বয় প্রসারিত করে দিলেন এবং বললেন, এসো ভাতিজা! এসো, তোমার সাথে খোদা হাফেযী করি। কাসেম ইমাম হুসাইন (আঃ)-এর কাঁধের ওপর তাঁর হাত দুটো রাখলেন এবং ইমামও কাসেমের কাঁধের ওপর হাত দুটি রাখলেন। এরপর উভয়ে কাঁদলেন। ইমামের সঙ্গী সাথীরা ও তাঁর আহলে বাইতের সদস্যরা এ হৃদয় বিদারক বিদায়ের দৃশ্য দেখলেন। ইতিহাসে লেখা হয়েছে, উভয়ে এতই ক্রন্দন করলেন যে, উভয়ই অজ্ঞান হয়ে পড়লেন। এরপর এক সময় তারা পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হলেন এবং কিশোর কাসেম সহসাই তাঁর ঘোড়ায় আরোহণ করলেন।
ইয়াযীদী পক্ষের সেনাপতি ওমর ইবনে সা‘দের সেনাবাহিনীর মধ্যে অবস্থানকারী বর্ণনাকারী বলেন,সহসাই আমরা একটি বালককে দেখলাম ঘোড়ায় চড়ে আমাদের দিকে আসছে যে তার মাথায় ধাতব-টুপির পরিবর্তে একটি পাগড়ী বেধেছে। আর তার পায়ে যোদ্ধার বুট জুতার পরিবর্তে সাধারণ জুতা এবং তার এক পায়ের জুতার ফিতা খোলা ছিলো; আমার স্মৃতি থেকে এটা মুছে যাবে না যে,এটা ছিলো তার বাম পা। তারপর বর্ণনাকারী বলেন: সে যেন চাঁদের একটি টুকরা। (মানাকিবে ইবনে শাহরে আশুব,খণ্ড: ৪,পৃষ্ঠা: ১০৬,এ’লামুল ওয়ারা, পৃষ্ঠা: ২৪২,আল-লুহুফ, পৃষ্ঠা: ৪৮, ইরশাদ-শেখ মুফিদ, পৃষ্ঠা: ২৩৯,মাকতালু মুকাররাম, পৃষ্ঠা: ২৩১,তারীখে তাবারী, খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ২৫) একই বর্ণনাকারী আরো বলেন,কাসেম যখন আসছিলো তখনো তার গণ্ড দেশে অশ্রুর ফোটা দেখা যাচ্ছিলো।
সবাই অনুপম সুন্দর এ কিশোর যোদ্ধাকে দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলো এবং ভেবে পাচ্ছিলো না যে, এ ছেলেটি কে! তৎকালে রীতি ছিলো এই যে, কোনো যোদ্ধা রণাঙ্গনে আসার পর প্রথমেই নিজের পরিচয় দিতো যে,আমি অমুক ব্যক্ত । উক্ত রীতি অনুযায়ী কাসেম প্রতিপক্ষের সামনে এসে পৌঁছার পর উচ্চস্বরে বললেন:
"যদি না চেনো আমাকে জেনো আমি হাসান তনয় সেই নবী মুস্তাফার নাতি যার ওপর ঈমান আনা হয় ঋণে আবদ্ধ বন্দী সম এই যে হুসাইন প্রিয়জনদের মাঝে,পানি দেয়া হয় নি যাদের উত্তম রীতি মেনে।’’
কাসেম রণাঙ্গনে চলে গেলেন, আর হযরত ইমাম হুসাইন (আঃ) তার ঘোড়াকে প্রস্তুত করলেন এবং ঘোড়ার লাগাম হাতে নিলেন। মনে হচ্ছিলো যে তিনি তার দায়িত্ব পালনের জন্য যথা সময়ের অপেক্ষা করছিলেন। জানি না তখন হযরত ইমামের মনের অবস্থা কেমন ছিলো। তিনি অপেক্ষমাণ; তিনি কাসেমের কণ্ঠ শোনার জন্য অপেক্ষমাণ। সহসাই কাশেমের কণ্ঠে ‘‘চাচাজান!’’ ধ্বনি উচ্চকিত হলো। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা বুঝতে পারলাম না ইমাম হুসাইন কত দ্রুত গতিতে ঘোড়ায় আরোহণ করলেন এবং রণাঙ্গনের দিকে ছুটে এলেন। তার এ কথা বলার তাৎপর্য এই যে,ইমাম হুসাইন (আঃ) এক শিকারি বায পাখীর মত রণাঙ্গনে পৌঁছে যান।
ইতিহাসে লিখিত আছে,কাসেম যখন ঘোড়ার পিঠ থেকে মাটিতে পড়ে যান তখন শত্রুপক্ষের প্রায় দুই শত যোদ্ধা তাঁকে ঘিরে ফেলে। তাদের একজন কাশেমের মাথা কেটে ফলেতে চাচ্ছিলো। কিন্তু তারা যখন দেখলো যে, ইমাম হুসাইন (আঃ) তীব্র গতিতে ঘোড়া চালিয়ে এগিয়ে আসছেন তখন তাদের সকলেই সেখান থেকে পালিয়ে গেলো। আর যে ব্যক্তি কাশেমের মাথা কাটতে চাচ্ছিলো সে তাদেরই ঘোড়ার পায়ের নীচে পিষ্ট হলো। যেহেতু তারা খুবই ভয় পেয়ে গিয়েছিলো সেহেতু তারা তাদের বন্ধুর ওপর দিয়ে ঘোড়া চালিয়ে পালিয়ে যায়। অনেক লোক একবারে ঘোড়া চালিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিলো;কেউ কারো দিকে তাকাবার অবকাশ পাচ্ছিলো না। মহা কবি ফেরদৌসীর ভাষায়:
‘‘সেই বিশাল প্রান্তরে কঠিন ক্ষুরের ঘায়ে ধরণী যেন হলো ছয় ভাগ আর আসমান আট।’’ কেউ বুঝতে পারলো না যে, কী ঘটে গেলো। ঘোড়ার ক্ষুরের আঘাতে সৃষ্ট ধুলার কুণ্ডলী যখন বসে গেলো এবং হাওয়া কিছুটা স্বচ্ছ হলো তখন সবাই দেখতে পেলো যে, ইমাম হুসাইন (আঃ) কাসেমকে কোলে নিয়ে আছেন। আর কাসেম তার জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো অতিক্রম করছিলেন এবং যন্ত্রণার তীব্রতার কারণে মাটিতে পা আছড়াচ্ছিলেন। এ সময় শোনা গেলো,ইমাম হুসাইন (আঃ) বলছেন: ‘‘আল্লাহর শপথ, এটা তোমার চাচার জন্য কতই না কষ্টকর যে, তুমি তাকে ডাকলে কিন্তু তার জবাব তোমার কোনো কাজে এলো না।’’
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Friday, August 21, 2020
২১শে অগাস্ট গ্রেনেড হামলা: শেখ হাসিনার সমাবেশে বোমা হামলার সেনা মোতায়েনের চিন্তা ছিল বিএনপি সরকারের by আকবর হোসেন
![]() |
| ২১শে অগাস্টে গ্রেনেড হামলার পর বঙ্গবন্ধু অ্যাভেনিউতে পরে ছিল জুতা, স্যন্ডেল - এমনকি অবিস্ফোরিত গ্রেনেড |
![]() |
| আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল বিএনপি সরকার। |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গ্রেনেড হামলা :দেশের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র by ড. এম এ মান্নান

তবে বিগত ১৯১৮ সালের ১০ অক্টোবর সন্ধ্যায় বোমা হামলা সংক্রান্ত মামলার রায়ের বিষয়টি শোনার পর স্বস্তি পেলাম এই ভেবে যে, যাকে মূল টার্গেট বানানো হয়েছিল সেই বঙ্গবন্ধুর যোগ্য কন্যার হাতেই হামলাকারী আর ষড়যন্ত্রকারীদের বিচার হয়েছে, সকল আইন মেনে, দেশের প্রচলিত আইনের আওতায়।
অনেক দেরিতে হলেও বিচার হয়েছে এ মর্মান্তিক, পৈশাচিক ঘটনার। প্রমাণ হয়েছে, বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে সব সময় কাঁদে না। বিচার হয় এবং হবে এমন ধরনের হামলার, নৃশংসতার। তবে সে সময়কার সরকার কোনোভাবেই চায়নি বিচার হোক। কারণ তারাই তো ছিল নাটেরগুরু, তারাই তো ঘটিয়েছে পুরো ঘটনা, স্বেচ্ছায়, অবলীলায়। বরং মামলা না নিয়ে এবং জজ মিয়া নাটক সাজিয়ে সরকার পক্ষ ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছে; এক সদস্যবিশিষ্ট কমিশন তৈরি করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসতে না পারলে তারা সফল হতো নিঃসন্দেহে। দুর্ভাগ্য তাদের। তাদের ইচ্ছা মাটিতে ডেবে গেল। ১৪ বছর পরে বিচার হয়েছে সেই শেখ হাসিনার আমলেই, যাকে তারা নির্মূল করতে চেয়েছিল। একেই বলে ম্যান প্রপোজেস, গড ডিসপোজেস। ষড়যন্ত্রকারীদের গডফাদার ও বোমা হামলার নির্দেশকারী তত্কালীন প্রধানমন্ত্রীর জ্যেষ্ঠ সন্তান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন আর ১৯ জনের ফাঁসির রায় দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছে।
হামলাকারীরা চেয়েছিল তারা সম্পূর্ণ নির্মূল করে দেবে বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে। আছেই তো মাত্র দুই জন। এ দুই জনকে শেষ করতে পারলেই তো তাদের পোয়াবার। ১৯৭৫ সালের একই মাসের সাত দিন আগেই তো শেষ করে দিয়েছে তাদেরই দোসররা জাতির জনককে। আসলে আগস্ট মাসটিই যেন দেশ বিরোধীদের আঁচলে বাঁধা একটি মাস। এ মাসকেই কেন তারা সব সময় বেছে নেয়? এজন্যই কি যে, এ মাসের চৌদ্দ আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস, ব্রিটিশদের সৃষ্ট একটি আজগুবি রাষ্ট্রের জন্মদিবস। পরবর্তীকালেও তারা এ মাসটিকে বেছে নিয়েছিল সারা দেশের সব জেলায় বোমা হামলার জন্য। সিরিজ বোমা হামলা। ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিল সারা দেশের মেরুদণ্ড। জঘন্য মনোবৃত্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সারা দেশের মানুষের ওপর। কারো জানের মায়া নেই তাদের মধ্যে। আসলে তারা জনসাধারণের তোয়াক্কা করে না, কদর করে শুধু তাদের হীনস্বার্থকে। দেশকে তাদের কবজায় নিয়ে আসা, ক্ষমতা কুক্ষিগত করে দেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টাকেই তারা গুরুত্ব দেয় সব সময়, জনমানুষের স্বার্থ নয়। তারা এখনো ভুলতে পারেনি তাদের একাত্তরের পরাজয়ের গ্লানি। এরা কিন্তু কখনোই চুপ করে থাকবে না। সুযোগ পেলেই তারা ফণা তুলবে। এদের ব্যাপারে সাবধানতা সব সময়ের জন্য। নতুবা সর্বনাশ হয়ে যাবে দেশের। বিপন্ন হবে জনমানুষের ভবিষ্যত্। সময় এসেছে এসব বর্বর ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়ার।
বিচার শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা অনেকেই সবকিছু বিস্তারিত জানতাম না। বিচারের রায়ের বিবরণ থেকে জানতে পারি, ভালো মানুষের উর্দি গায়ে দেওয়া ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের জঘন্য আর নোংরা মনের পরিচয়। পত্রিকা থেকেই জানতে পারলাম, ষড়যন্ত্রকারী আর হামলাকারীদের মধ্যে ছিল তত্কালীন বিএনপি-জামায়াত সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, হুজির আমির ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এবং দেশ-বিদেশ থেকে জঙ্গিপনায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অনেক জঙ্গি। এরা সবাই পঁচাত্তরে জাতির জনককে হত্যার পর থেকে তাদের ষড়যন্ত্র আরো প্রসারিত করার লক্ষ্যে চক্রান্তের জাল বুনতেই থাকে। শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর তারা অনেক বেশি তত্পর হয়ে উঠে। আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করার পর যখন তিনি সামনের দিকে দৃঢ়চিত্তে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তখনই তারা দিশেহারা হয়ে শুরু করে গভীর ষড়যন্ত্র।
বিচার হয়েছে। তাই বলে ষড়যন্ত্র থেমে যায়নি। বোমা হামলার কুশীলবরা ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য। এরাই দেশে জঙ্গিপনাকে উসকে দিচ্ছে, নিজেরাও জঙ্গিদের সঙ্গে মিলেমিশে অরাজকতার জন্য ঘোঁট পাকাচ্ছে। তারই নজির আমরা পেয়েছি রায় দেওয়ার পরপরই। মাস্টারমাইন্ডের বাপের বাড়ির এলাকায় বগুড়াতে ষড়যন্ত্রকারীদের দোসররা নীলফামারী থেকে ঢাকাগামী বাসে পেট্রোলবোমা হামলা করে তিন জনকে আহত করে এবং অন্যান্য নাশকতার চেষ্টা চালায়। নারায়ণগঞ্জের তিনটি এলাকায়ও বোমা ছুঁড়ে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করে। পরের বছরই অর্থাত্ ২০০৫ সালের ১৭ আগস্টে দেশের ৪৫০টি স্পটে চালানো হয় বোমা হামলা। এ হামলার ঘটনায় জড়িত ৫০ জন জঙ্গিকে এখনও ধরা হয়নি এবং বিচার কার্যক্রম ১৪ বছরেও শেষ হয়নি। ৩৩টি মামলা এখনও বিচারাধীন। এসব দুর্বৃত্তরা বিগত কয়েক মাসের মধ্যে রাজধানীতে ট্রাফিক পুলিশসহ অন্যান্য পুলিশের ওপর বোমা হামলা করেছে।
আমরা চাই, এ দেশে এমনতরো নৃশংস বর্বরোচিত রাজনৈতিক হামলা চিরতরে নিপাত হোক; সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধাভাব তৈরি হোক; আজকের এবং আগামীর প্রজন্ম রাজনীতির প্রতি উত্সাহী হয়ে উঠুক। আমরা মনেপ্রাণে কামনা করি, রাজনীতি করা মানুষদের প্রতি অশ্রদ্ধার ভাব দূর হোক; জনগণের মন থেকে রাজনীতি-আতঙ্ক সরে যাক। আমরা আরো চাই, দুর্বৃত্ত শ্রেণির লোকেরা রাজনীতিতে না আসুক, রাজনীতির নদীটার স্বচ্ছ পানিকে ঘোলা করে আপন স্বার্থসিদ্ধির জন্য জঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় আর অর্থের যোগান দিয়ে রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট করার মতো পরিবেশ তৈরি না করুক; আর্জেস গ্রেনেডের মতো সমরাস্ত্র সরবরাহ করে রাজনৈতিক নেতাকর্মী আর জনগণকে হত্যার ধারা চালু রাখার সংস্কৃতি চিরতরে বিদূরিত হোক এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা জনগণের কাছে আকর্ষণীয় ভাবমূর্তি নিয়ে হাজির হোক। আমরা সর্বান্তকরণে কামনা করি, জনগণ নিশ্চিন্ত মনে রাজনৈতিক সমাবেশে, সভায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করুক এবং রাজনৈতিক দলগুলোর আদর্শ, উদ্দেশ, কর্মসূচি ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞানলাভ করুক। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা যে স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি, সে দেশের মাটি থেকে চিরতরে লুপ্ত হোক সকল প্রকার হানাহানি, অপরাজনীতি, জঙ্গিপনা আর সাধারণ মানুষ হত্যার ঘৃণ্য খেলা। আলো ছড়িয়ে পড়ুক বাংলার আকাশে, মেধাবী তরুণরা এগিয়ে আসুক রাজনীতিতে এবং তৈরি করুক উজ্জ্বল আলোদীপ্ত রাজনীতির পুষ্পধাম। প্রত্যাশা করি, ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করুক, চাকরিজীবীরা নিজ নিজ কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করুক, কৃষকরা মাঠে থাকুক, শ্রমিকরা কলকারখানায় নির্বিঘ্নে তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাক, মাঝি তার নৌকায় পাল তুলে দিয়ে মনের আনন্দে ভাটিয়ালী সুরের ঝলক তুলুক, আলেম-মাশায়েখরা মানুষের অন্তরে মহান সৃষ্টিকর্তার নুরানী আলোর দীপ্তি ছড়িয়ে দিক আর রাজনীতির ময়দানে থাকা ব্যক্তিরাই শুধু রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকুক, ঠিক যেমনটি হয় উন্নত দেশগুলোতে। এ দেশের জনগণ উন্নয়ন চায়; চায় দেশ এগিয়ে যাক চলমান প্রগতির পথ ধরে আর প্রতিষ্ঠিত হোক সুশাসনের সঙ্গে সঙ্গে বৈষম্যহীন অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ।
>>>লেখক :কলামিস্ট, উপাচার্য, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
২১শে অগাস্টের গ্রেনেড হামলা: যেভাবে রক্ষা পেয়েছিলেন শেখ হাসিনা
![]() |
| গ্রেনেড হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা |
![]() |
| ২১শে অগাস্টে গ্রেনেড হামলার পর বঙ্গবন্ধু অ্যাভেনিউতে পরে ছিল জুতা, স্যন্ডেল - এমনকি অবিস্ফোরিত গ্রেনেড |
![]() |
| গ্রেনেড হামলায় আহত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভী রহমান, যিনি পরে মারা যান |
![]() |
| ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় দেশের রাষ্ট্রদূতরা গ্রেনেড হামলার পর শেখ হাসিনাকে দেখতে গিয়েছিলেন |
![]() |
| ঘটনার পরের দিন শেখ হাসিনা যখন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন, তখনও তিনি হত-বিহ্বল |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
২১ আগস্ট ও শেখ হাসিনা by অধ্যাপক ড. নাসিম বানু

এদের মধ্যে আইভি রহমান ৫৮ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জালড়ে ২৪ আগস্ট মারা যান। এবং প্রায় দেড় বছর পরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জালড়ে ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফের মৃত্যু হয়। প্রায় কয়েকশ জন নেতাকর্মী আহত হন যারা হয় শরীরে স্প্লিন্টার বহন করে যন্ত্রণায় মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছে অথবা পঙ্গু জীবনযাপন করছে। যার ফলশ্রুতিতে কয়েকশ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্রেনেড হামলার বিচারক তার রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, ২১ শে আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার যে ষড়যন্ত্র তার মূল পরিকল্পনা হয়েছিল হাওয়া ভবনে। ইনডেমনিটি বিলের মাধ্যমে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র দেশে শুরু হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যার ২৩ বছর দুই মাস পর জাতি, জাতির পিতা হত্যার দায় থেকে কলঙ্কমুক্ত হয় বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ জাতির পিতাকে হত্যা করার পর জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। কিন্তু ষড়যন্ত্র থেমে না গিয়ে বহমান থাকে। পরবর্তীতে ২০০৪ সালের ২১ শে আগস্ট শনিবার আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার হীন প্রচেষ্টা চালানো হয়। শেখ হাসিনাকে হালকা নাসতা করানো হবে: এই উদ্ধৃতি দিয়ে দেশীয় জঙ্গি সংগঠনের কতিপয় সদস্য আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সহায়তায় হামলা করে। তত্কালীন রাষ্ট্রযন্ত্রীয় সহায়তায় প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটনাস্থল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ-এর সম্মুখে যুদ্ধে ব্যবহূত স্পেশালাইজড মরণাস্ত্র, আর্জেন্ট গ্রেনেড বিস্ফোরণের মাধ্যমে ঘটনা ঘটানো হয়। প্রশ্ন ওঠে কেন এই মরণাস্ত্রের ব্যবহার? রাজনীতি মানেই কি বিরোধী দলের ওপর পৈশাচিক আক্রমণ? শুধু আক্রমণই নয় দলকে নেতৃত্বশূন্য করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা। রাজনীতিতে অবশ্যম্ভাবীভাবে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের মধ্যে শত বিরোধ থাকবে। তাই বলে বিরোধী দলকে নেতৃত্বশূন্য করার প্রয়াস চালানো হবে এটা কাম্য নয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ক্ষমতায় যে দলই থাকবে, বিরোধী দলের প্রতি তাদের উদার নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকবে। বিরোধীদলীয় নেতাদের হত্যা করে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক ফায়দা অর্জন করা মোটেও গণতান্ত্রিক চিন্তার বহিঃপ্রকাশ নয়।
আমাদের জাতির পিতার কন্যা বেঁচে গেলেন, বেঁচে গেলেন আমাদের জন্য, বাঙালি জাতিকে নেতৃত্ব দেবার জন্য, মুক্তি যুদ্ধের চেতনাকে বাস্তবায়ন করার জন্য, তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়ার জন্য, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বাস্তবায়নের জন্য।
>>>লেখক : ডিন, ফ্যাকাল্টি অব স্যোশাল সায়েন্স, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘তার মতো এমন মানবদরদি খুবই বিরল’ by আশরাফুল ইসলাম

নিহত কুদ্দুসের পরিবার বিচার না পেলেও স্থানীয় নেতাকর্মীদের নামে দায়ের করা হয় ৩টি মিথ্যা মামলা।
ওই সময়ের বর্ণনা দিতে গিয়ে দৈনিক মানবজমিন-এর ভৈরব প্রতিনিধি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ২২শে আগস্ট দিনটি ভৈরববাসীর জন্য এক কালোদিন। ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট ঢাকায় আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমান আহতসহ হতাহতের ঘটনার প্রতিবাদে ২২শে আগস্ট ভৈরবে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকা হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ এ হরতাল আহ্বান করে। হরতালের সমর্থনে ভোর থেকে নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে ভৈরব বাজার আওয়ামী লীগ অফিসে জড়ো হন। এ সময় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনটি ভৈরব বাজার রেলজংশনের মনমরা রেলসেতুর কাছে পিকেটারদের কবলে পড়ে। উত্তেজিত জনতা ট্রেনটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ আওয়ামী লীগ কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি ও টিয়ার শেল ছোড়ে। গুলিতে আবদুল কুদ্দুস নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত হন। ঘটনার পর উত্তাল হয়ে পড়ে ভৈরব। এ ঘটনায় পুলিশ ভৈরবের ২ শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ৩টি মিথ্যা মামলা করে। মিথ্যা মামলা করায় আওয়ামী লীগ লাগাতার কর্মসূচি দেয়। পুলিশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি চালায়। গ্রেপ্তার আতঙ্ক ও হয়রানির আশঙ্কায় অনেকে ভৈরব ছাড়তে বাধ্য হন। পুলিশ দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ অফিস অবরুদ্ধ করে রাখে।
সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম বলেন, সর্বদা পরিশ্রমী, অক্লান্ত ছুটে চলা আইভি রহমান আজ স্মৃতির সাদা ফ্রেমে বাঁধা নিশ্চুপ ছবি হলেও, ভৈরববাসী আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার কাছে তিনি জীবন্ত, চলমান। তিনি বেঁচে আছেন তার কর্মের মধ্য দিয়ে।
ভৈরব মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক উলফাত আরা জাহান জানান, ১৯৯৬ সালে তিনি যখন ভৈরব মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন, আইভি রহমান তখন কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান। ভৈরবে আসলেই তিনি ডাকতেন। কথা ও কাজে এক ছিলেন তিনি। দেশীয় খাবার খেতে পছন্দ করতেন তিনি। শুঁটকির ভর্তা ছিল তার প্রিয় খাবার। ১৯৯৮ সালে মহিলা সংস্থার অফিস নির্মাণ ছাড়াও মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে তিনি ভৈরব বাজারে মহিলা সমবায় মার্কেটের জন্য জায়গা বরাদ্দের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। উলফাত আরা জাহান বলেন, নারী উন্নয়ন ও নারী অধিকারের ব্যাপারে সোচ্চার এমন মানুষ আর দেখা যায় না। গ্রেনেড হামলার ঘটনার মাত্র এক সপ্তাহ আগেও তিনি ভৈরবে এসেছিলেন।
সে সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে উলফাত আরা জাহান বলেন, ওই বছর ভৈরবে বন্যা হয়েছিল। নিজ এলাকার দুর্গত মানুষের সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন তিনি। ত্রাণসামগ্রী নিয়ে জলাবদ্ধ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। বাড়ি বাড়ি ছুটে গিয়ে তাদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন ত্রাণসামগ্রী। জন্মস্থান ভৈরবে তিনি আজীবন এভাবে নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে বেঁধে রেখেছিলেন। বাংলাদেশ মহিলা সমিতির সভানেত্রী ও জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতির অবৈতনিক প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকালে এখানকার নারীদের উন্নয়ন এবং সমাজের অবহেলিত শিশু, প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে তিনি ব্যাপক কাজ করেন। সেসব অসহায় মানুষের কাছে আইভি রহমান এখনো দেবীতুল্য। উলফাত আরা জাহান জানান, একেবারেই সাধারণ জীবনযাপন করতেন আইভি রহমান। পরতেন সুতির শাড়ি। আমৃত্যু মানুষকে ভালোবেসে গেছেন, তাদের ভালোবাসা পেয়েছেন। মানুষকে অকাতরে দান করলেও সেসব প্রচার করতেন না তিনি। তার মতো এমন মানবদরদি খুবই বিরল।
১৯৪৪ সালের ৭ই জুলাই কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব শহরের চণ্ডিবের গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সভ্রান্ত এক পরিবারে তার জন্ম। পিতা মরহুম জালাল উদ্দিন আহমেদ ছিলেন প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ এবং ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ। মা হাসিনা বেগম ছিলেন আদর্শ গৃহিণী। ৮ বোন ও ৪ ভাইয়ের মধ্যে আইভি পঞ্চম। ছেলেবেলা থেকেই আইভি ছিলেন শান্ত স্বভাবের, তবে প্রখর ব্যক্তিত্বসম্পন্ন। তার ব্যক্তিত্ব, গাম্ভীর্যপূর্ণ স্বভাবের জন্য তাকে বাইরে থেকে খুব কঠিন মনে হলেও, আদতে তিনি ছিলেন খুবই দরদি মনের মানুষ। যারা মিশেছে, কাছে গেছে তারাই পেয়েছে অপরিসীম ভালোবাসা, আদর, মমতা আর সহযোগিতা। প্রথম দর্শনেই আইভিকে ভালোবেসে ফেলেছিলেন বাংলাদেশের পরিচ্ছন্ন রাজনীতির প্রবাদ পুরুষ প্রয়াত প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে নবম শ্রেণি পড়ুয়া আইভির সঙ্গে ১৯৫৮ সালের ২৭শে জুন প্রয়াত প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমানের বিয়ে হলে নামের পরে ‘রহমান’ যুক্ত হয়। এ নামেই তিনি পরিচিতি পান দেশব্যাপী। শুধু আওয়ামী রাজনীতির জন্য নয়, আইভি রহমান বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সঙ্গে পারিবারিকভাবেও জড়িত ছিলেন। তার বড় বোন শামসুন্নাহার সিদ্দিক বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানার শাশুড়ি। একমাত্র ছেলে বিসিবি সভাপতি ও সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপন, দুই মেয়ে তানিয়া বখ্ত ও তনিমা রহমান ময়না এবং তাদের ছেলেমেয়ে ও স্বামী জিল্লুর রহমানকে নিয়ে তার পারিবারিক জীবন ছিল খুবই গোছানো। গ্রেনেড হামলায় আহত হয়ে আইভি রহমানের মৃত্যুর পর তাই বিষাদভরা কণ্ঠে মো. জিল্লুর রহমান জানিয়েছিলেন, ‘আইভিকে ছাড়া আমি জীবন্মৃত।’ ভৈরবের বাড়ির ‘গৃহকোণ’ নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘আইভি ভবন’। এই বাড়িটিতে ভৈরববাসীর সঙ্গে আইভি রহমানের নানা স্মৃতি জড়িয়ে আছে। বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে আইভির অসামপ্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক বর্ণাঢ্য জীবনের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত মহিলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। একই সঙ্গে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন। ১৯৭১ সালে আইভি রহমান মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। তিনি ভারতে গিয়ে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালে জাতীয় মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী হন। ১৯৭৮ সালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের মহিলা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ১৯৮০ সালে কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। আইভি রহমান চলে গেছেন বার বছর হলো। কিন্তু ভৈরবে ‘আইভি ভবন’ আছে আগের মতোই। সেখানে বিভিন্ন উপলক্ষ্যে এসে অশ্রু-পুষ্পে ভৈরববাসী স্মরণ করেন তাদের প্রিয় নেত্রী আইভি রহমানকে। বাংলার এই কৃতী সন্তানের স্মরণে ভৈরবের কমলপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নির্মাণ করা হয়েছে ‘আইভি রহমান গেইট’। চণ্ডিবের গ্রামের নিজ বাড়িতে স্থাপন করা হয়েছে ‘স্মৃতিস্তম্ভ’। ভৈরব জিল্লুর রহমান সরকারি মহিলা কলেজের একটি ছাত্রীনিবাসের নামকরণ করা হয়েছে তার নামে। আইভি রহমান নিহত হওয়ার পর তার নামে ভৈরবে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছিল এলাকাবাসী। কিন্তু সেটি আজও উপেক্ষিত রয়ে গেছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিবিসির অনুসন্ধান: তাজমহল কি কখনো হিন্দু মন্দির ছিল?
![]() |
| লাখ লাখ মানুষ তাজমহল দেখতে ভারতে যায় |
তাজমহল কে তৈরি করেছে?
মন্দির তত্ত্ব:
স্থাপত্য রীতি:
এখন কেন এই বিতর্ক:
![]() |
| তাজমহল: স্ত্রী মমতাজ মহলের স্মৃতি অম্লান রাখতে সম্রাট শাহজাহান তৈরি করেন এই সৌধ। |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভয়াল ২১শে আগস্ট আজ

একইদিন বিকাল ৪টায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বক্তব্য রাখবেন দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবী ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা ছিল ১৯৭৫-এর ১৫ই আগস্টের কালরাতের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতা। শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রক্তপিপাসু বিএনপি-জামায়াত অশুভ জোটের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র। রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহযোগিতায় রাজনৈতিক সমাবেশে এ ধরনের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ পৃথিবীর ইতিহাসে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। ওইদিন শেখ হাসিনার বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে আকস্মিক গ্রেনেড বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে মারাত্মক বিশৃংখলা, দিনের আলো মুছে গিয়ে এক ধোয়াচ্ছন্ন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ঢাকা’র তৎকালীন মেয়র মোহাম্মদ হানিফ, দলের সিনিয়র কয়েকজন নেতা এবং শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী তাৎক্ষণিকভাবে এক মানব বলয় তৈরি করে নিজেরা আঘাত সহ্য করে শেখ হাসিনাকে গ্রেনেডের হাত থেকে রক্ষা করেন। মেয়র হানিফের মস্তিস্কে রক্তক্ষরণজনিত অস্ত্রোপচার করার কথা থাকলেও গ্রেনেডের স্প্লিন্টার শরীরে থাকার কারণে তার অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি ব্যাংকক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এদিকে শেখ হাসিনা গ্রেনেডের আঘাত থেকে বেঁচে গেলেও তার শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় উল্লেখযোগ্য নিহতরা হলেন- আইভি রহমান, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী ল্যান্স করপোরাল (অবঃ) মাহবুবুর রশীদ, আবুল কালাম আজাদ, রেজিনা বেগম, নাসির উদ্দিন সরদার, আতিক সরকার, আবদুল কুদ্দুস পাটোয়ারি, আমিনুল ইসলাম মোয়াজ্জেম, বেলাল হোসেন, মামুন মৃধা, রতন শিকদার, লিটন মুনশী, হাসিনা মমতাজ রিনা, সুফিয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা), মোশতাক আহমেদ সেন্টু, আবুল কাশেম, জাহেদ আলী, মোমেন আলী, এম শামসুদ্দিন এবং ইসাহাক মিয়া। মারাত্মক আহতরা হলেন শেখ হাসিনা, আমির হোসেন আমু, আব্দুর রাজ্জাক (প্রয়াত), সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত (প্রয়াত), ওবায়দুল কাদের, এডভোকেট সাহারা খাতুন, মোহাম্মদ হানিফ, এএফএম বাহাউদ্দিন নাছিম, নজরুল ইসলাম বাবু, আওলাদ হোসেন, সাঈদ খোকন, মাহবুবা পারভীন, এডভোকেট উম্মে রাজিয়া কাজল, নাসিমা ফেরদৌস, শাহিদা তারেক দিপ্তী, রাশেদা আখতার রুমা, হামিদা খানম মনি, ইঞ্জিনিয়ার সেলিম, রুমা ইসলাম, কাজী মোয়াজ্জেম হোসেইন, মামুন মল্লিক প্রমুখ।
ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টার অভিযোগ ছিল তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকারের বিরুদ্ধে। প্রশ্ন ছিল তদন্ত কার্যক্রম নিয়েও। সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সরকার এ হামলার পুনারায় তদন্তের নির্দেশ দিলে এবং সাড়ে তিন বছর পর বিলম্বিত পুলিশ চার্জশিট নথিভুক্ত করা হয়। পুনরায় তদন্তে পুলিশ এই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ২১ জনকে চিহ্নিত করে। একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদন্ড এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়ে গত বছরের ১০ই অক্টোবর রায় দেন বিচারিক আদালত। এই রায়ের বিষয়ে হাইকোর্টে আপিল মামলা শুনানির অপেক্ষায় আছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এক বিবৃতিতে সকল নেতা, কর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে কর্মসূচি পালনের আহবান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগের সকল জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডসহ সব শাখার নেতৃবৃন্দকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করে দিবসটি স্মরণ ও পালন করার আহ্বান জানান।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Thursday, August 20, 2020
ঊর্ধ্বলোকে সংযোগ পাওয়ার পথ -মওলানা রুমির মসনবি শরিফ by ড. মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী

মওলানা রুমি (রহ.) এর জীবনদর্শনের মূলকথা, আধ্যাত্মিক স্বাদে হৃদয় পরিতৃপ্ত কর আর যে দেশ থেকে এসেছ সে দেশে ফিরে যেতে উড়াল দাও। মওলানার কাছে একজন প্রশ্ন করে, সে দেশ কোথায়? কীভাবে উড়াল দেব এই জগৎ ছেড়ে? মওলানা বলেন, তোমার প্রশ্নের জবাব আমি হাকিম সানায়ির ভাষায় দিতে চাই।
গর রা’হ রওয়ী রা’হ বরত বগুশা’য়ন্দ
ওয়ার নীস্ত শওয়ী বে হাস্তিয়ত বেগ্রা’য়ন্দ
যদি সম্মুখে এগিয়ে চল তোমার জন্য রাস্তা খুলে দেবে
যদি ‘অস্তিত্বহীন’ হতে পার ‘অস্তিত্ব’ তোমায় দেওয়া হবে।
সেই দেশে যাওয়ার পথ খুঁজে পেতে হলে সম্মুখে এগিয়ে চলো। দেখবে, তোমার পথের বাধা একেক করে সরে যাচ্ছে। রাস্তা খুলে যাবে। নিজেকে তার কাছে সম্পূর্ণ সমর্পণ করে অস্তিত্বহীন হয়ে যাও। তোমাকে মানবিক গুণাবলিতে সজ্জিত নতুন জীবন দেওয়া হবে। তার দিকে এগিয়ে নেওয়া হবে। আল্লাহ তো বলেছেন, ‘আর যারা আমার পথে প্রাণান্ত সাধনা করে, জিহাদ করে, তাদের অবশ্যই আমার পথগুলোয় পরিচালিত করব। আর আল্লাহ অবশ্যই সৎকর্র্মপরায়ণদের সঙ্গে আছেন।’ (সূরা আনকাবুত : ৬৯)।
তুমি পথ খুঁজে না পাওয়ার কারণ হলো, তোমার হুঁশজ্ঞান, চিন্তা চারদিকে ছড়িয়ে দিয়েছ। আজেবাজে অনর্থক চিন্তায় ও কাজে নিজেকে মহাব্যস্ত করে রেখেছ। তোমার অস্তিত্বের বাগানে জ্ঞানবুদ্ধির যে পানি আছে, তা কাঁটাগুল্মের শিকড় চুষে নিচ্ছে। অনর্থক বিষয়, আজেবাজে চিন্তা, সৎ-উদ্দেশ্যহীন তৎপরতা কাঁটাগুল্মস্বরূপ। এগুলো তোমার জ্ঞানের বুদ্ধিমত্তার রস চুষে খাচ্ছে। ভোগ-বিলাসিতা, আত্মপূজা ও অহঙ্কারের নানা অনুষঙ্গের পেছনে তোমার ধ্যান-জ্ঞান, চেষ্টা ও সাধনা উজাড় হচ্ছে। ফলে তোমার অস্তিত্বের ভালো গুণ, উপাদেয় উপকারী বীজ ও চারাগাছ, তোমার জ্ঞানবুদ্ধির পানি দ্বারা সিঞ্চিত হতে পারছে না।
তোমার গোটা অস্তিত্ব শস্যক্ষেতের মতো। এখানে আগাছা আছে, ভালো ফল-ফুলের চারাগাছও আছে। বাজে বাতিল চিন্তা ও কর্মের আগাছা, যদি শস্যক্ষেতের পানি চুষে নেয়, আসল চারাগাছ তো পানি পাবে না। কাজেই ভালো ফল কীভাবে আশা করতে পার? তুমি আল্লাহর কথা নিত্যস্মরণ রেখে অস্তিত্বের চারাগাছে পানি দাও। অন্তরের জমি জিকির ও ফিকিরে তরতাজা রাখ। চোখ-কান খাড়া রেখে ক্ষেতের যত আগাছা শিকড়শুদ্ধ উপড়ে ফেল।
বাগানের পানি আগাছার জন্য হারাম আর চারাগাছের জন্য হালাল- এই পার্থক্যটুকু তোমাকে বুঝতে হবে। বাগানের পানি মানে আকল বুদ্ধি, হুঁশজ্ঞান, যা তোমাকে দেওয়া আল্লাহর নেয়ামত। এ নেয়ামতের সদ্ব্যবহার কর, হক আদায় কর, কদর কর, যথাস্থানে কাজে লাগাও। এটি হালাল। অযথা অপাত্রে অপব্যবহার করা হারাম।
নে‘মতে হক রা’ বে জা’ন ও আকল দেহ
না বে তাবএ পুর যহীর ও পুর গেরেহ
আল্লাহর নেয়ামত উৎসর্র্গ কর প্রাণ ও আকলের কাজে
রোগশোকের আখড়া দেহের সেবায় উজাড় কর না তাকে।
তোমার রূহের উন্নয়নের কাজে আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত ব্যবহার কর, কেবল দেহের সেবায় ব্যয় করলে তা হবে ‘উলু বনে মুক্তা ছড়ানো’। চোখের শোভা ও জ্যোতির জন্য আমরা সুরমা মাখি। এই সুরমা যদি চোখের পরিবর্তে কানে ঢাল, কী অবস্থা হবে? কেউ যদি বুঝতে পারে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েছে তাহলে সংযম অবলম্বন করতেই হবে। চিনি ও মিষ্টান্ন পরিহার করে চলতে হবে। তুমি দুনিয়াপূজার রোগে আক্রান্ত। তাই মন বাজে চিন্তার আখড়া। জীবনটা চলে যাচ্ছে অর্থহীন কাজের পেছনে। কাজেই তোমাকে সংযমের জীবন বেছে নিতে হবে। চিন্তা ও কর্মে শয়তানি মন্ত্রণা সমূলে উপড়ে ফেলতে হবে। নচেৎ তা হবে তোমার আত্মিক ও নৈতিক জীবনের জন্য বিষ-জহর-হলাহল। ডায়াবেটিস রোগীর দেহে মিষ্টান্ন খাবার মরণ ডেকে আনে। নফসের রোগে আক্রান্ত রুহে ভোগ বিলাসিতা, শয়তানি চিন্তামগ্নতা রুহানি মৃত্যু ঘটায়।
হে সাধক! তোমার অস্তিত্বের জমিনে দুই ধরনের গাছ আছে, দেখতে একই রকম সবুজাভ লিকলিকে। এক রকম চারাগাছ ফুলের বা ফলের, আরেক রকম চারাগাছ আগাছার। আগাছার শিকড় বিস্তৃত দোজখের আগুন ও ধোঁয়া থেকে। আর ফল-ফুলের চারাগাছের গোড়া সাত আসমানের উপরে। দূর থেকে মনে হবে, খামার বাড়িতে উভয় চারাগাছে সবুজের সমারোহ জেগেছে। যদি আগাছা আর চারাগাছের মাঝে ফারাক করতে না পার, জীবন বৃথা যাবে। ফারাক করতে চাইলে চোখ মেলে তাকাতে হবে। এই তাকানো বাহ্যদৃষ্টিতে নয়। কারণ, বাহ্যইন্দ্রিয়ের চোখ সাধারণত ভুল দেখে। যেমন অনেক দূরে হলে দেখে না, চোখের একেবারে কাছে ধরলেও দেখা যায় না। তাই তোমাকে দিলের চোখ খুলতে হবে। দিব্যদৃষ্টি খুলতে হলে তোমাকে আসতে হবে যিনি প্রাণের প্রাণ তার কাছে।
আগন্তুক প্রশ্ন করে, কীভাবে আসব? আমাকে যে জড়িয়ে ধরেছে দুনিয়ার সহায় সম্পদ, নামধাম, পদবি খ্যাতির মোহ? মওলানা রুমি বলেন, দৌড় দাও, তাহলে ছিঁড়ে যাবে দুনিয়ার বাঁধন। তারপরের প্রশ্ন, দৌড় কীভাবে দেব? মওলানা বাতলে দিচ্ছেন-
গর যুলায়খা বস্ত দরহা’ হার তরফ
ইয়াফত ইউসুফ হাম যে জুম্বিশ মুনসারাফ
জুলায়খা যদিও বন্ধ করেছিল সবদিক থেকে দরজা
ইউসুফ চেষ্টার দৌড়ে পেয়েছিল বাঁচবার আশ্রয় রাস্তা।
মওলানা এখানে কোরআন মজিদে বর্ণিত হজরত ইউসুফ (আ.) এর জীবনের একটি ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। সৎভাইরা খেলার নাম করে বাবা ইয়াকুব (আ.) এর কাছ থেকে ইউসুফকে মাঠে নিয়ে পরিত্যক্ত কুয়ায় নিক্ষেপ করেছিল। একটি বাণিজ্য কাফেলা যাত্রাবিরতিকালে কুয়ার পানি সংগ্রহে গিয়ে ফুটফুটে বালক ইউসুফকে পেয়ে মিসরের দাস বাজারে বিক্রি করে। পাল্লার একদিকে স্বর্ণ অন্যদিকে ইউসুফের ওজনে ইউসুফকে খরিদ করেন প্রধানমন্ত্রী আজিজ। রাজপ্রাসাদে নিয়ে গেলে আজিজপতœী জুলায়খা আসক্ত হয়ে পড়ে অনিন্দ্য সুন্দর ইউসুফের প্রতি। জুলায়খা ইউসুফের কাছে বারবার প্রেম নিবেদন করে ব্যর্থ হয়। মনিবের ঘরে অসহায় ইউসুফকে একদিন জুলায়খা নানা ছলে অন্দর মহলে আটকায়। শাহী মহলের সব দরজায় তালা লাগায়। তারপর নিজেকে নিবেদন করে ইউসুফের কাছে। কোথাও ছিদ্রপথ পর্যন্ত ছিল না স্বপ্নপুরীতে। হঠাৎ ইউসুফ দৌড় দেন প্রেমাসক্ত জুলায়খার হাত থেকে বাঁচার জন্য। তখই দেখেন, তালা খোলা, দরজা মেলা, পালানোর রাস্তা সম্মুখে। কারণ, ইউসুফ তাওয়াক্কুল করেছিল আল্লাহর ওপর, তারপর চেষ্টার বদৌলতে জুলায়খার ফুসলানোর বাঁধনমুক্ত হতে পেরেছেন আল্লাহর সাহায্যে।
তুমিও যদি দেখ, দুনিয়ার বাঁধন থেকে মুক্তির পথ খোলা নেই, ফাঁকফোকর দেখা যায় না পালানোর, তাহলে ইউসুফের মতো বিচলিত হয়ে তাঁর আশ্রয় পেতে দৌড় দাও। মন থেকে বল, আউজু বিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজিমÑ ‘আমি আশ্রয় চাই আল্লাহর কাছে বিতাড়িত শয়তান হতে।’ তখন তোমার সামনেও খুলে যাবে মুক্তির পথ। খুলে যাবে ওই জগতের তালা। দেখবে, দরজা খোলা। তোমাকে তখন এমন জায়গায় নিয়ে যাবে, যার কোনো নাম-ঠিকানা নেই।
মওলানা এখন প্রশ্ন করেন, এই যে দুনিয়াতে এসেছ, জান কি কোত্থেকে এসেছ? তুমি হকিকতের এক বিশাল জগতে ছিলে। সেখান থেকে জড় জগত, উদ্ভিদ জগতের পথপরিক্রমা শেষে পরীক্ষার জন্য নেমে এসেছ পার্থিব জগতে, দুনিয়ার রঙ্গমঞ্চে, সমাজে, সংসারে।
তো যে জা’য়ী আ’মাদী ওয়ায মাওতনী
আ’মদন রা’ রা’হ দানী হীচ নয়ী
তুমি এসেছে এমন অঞ্চল হতে এমন এক দেশ ছেড়ে
কীভাবে এখানে, নিশ্চয়ই জান না, এসেছ কোন পথে।
তুমি আগে ছিলে অন্য দেশের নাগরিক। বাস করতে এমন এলাকায়, যার পরিচয় এখন তোমার মনে নেই। কোন পথে এখানে এসেছ তাও অচেনা।
সেই আদি নিবাসের কথা বা আসার পথের কথা তোমার এখন মনে নেই। তাই বলে সেই দেশ ও পথের অস্তিত্বই নেই- এমন কথা তুমি বিশ্বাস কর না। কাজেই তোমাকে যে পথে, যে দেশে যাওয়ার জন্য বলছি তা তুমি চিন না বলে বলতে পার না যে, সেই দেশ ও পথের অস্তিত্ব নেই।
মওলানা আরও বলেন, সেই দেশ সেই ঠিকানার কথা তো আমি আগেই বলেছি।
মা যে বা’লা’য়ীম ও বা’লা’ মী রওয়ীম
মা’ যে উ য়ীম ও বে সূয়ে উ রওয়ীম
আমরা সেই ঊর্ধ্বলোকের, যাব সেই ঊর্ধ্বপানে
এসেছি যেখান থেকে ফিরে যাব তার সন্নিধানে।
ইন ওয়াতান মিসরো ইরাকো ও শা’ম নীস্ত
ইন ওয়াতান জা’য়ী স্ত কূ রা’ না’ম নীস্ত
এই দেশ বলতে মিসর সিরিয়া ও ইরাক নয়
এই দেশ এমন জায়গা, যার নাম-ঠিকানা নেই।
(এই বয়েত দুটি নিকলসন সংকলনে নেই)
সে জগতের একটু পরিচয় নাও। রাতে নিদ্রায় স্বপ্নের জগতে তুমি বিচরণ কর বিশাল প্রান্তরে। বল তো, স্বপ্নের জগতের বিশাল ভুবন কোথায় আছে, তার পথঘাট কোন দিকে? নিশ্চয়ই জান না। হকিকতের জগতের বাস্তবতা স্বপ্নের বিশাল ভুবনের সঙ্গে তুলনা করে বোঝার সাধনা কর। এই বুঝে সমৃদ্ধ হওয়ার জন্যÑ
তো বেবন্দ অ’ন চশমো খোদ তসলীম কুন
খেশ রা বীনী দর অ’ন শহরে কুহুন
তুমি বন্ধ করো এই চোখ সঁপে দাও নিজেকে
তখন দেখবে নিজেই উপস্থিত সেই পুরোনো দেশে।
দুনিয়ার চাকচিক্য, ভোগ, মোহ, দম্ভ আরও যতকিছু হকিকতের পথে ডাকাত সেজে আছে সব বন্ধন ছিন্ন করে তার দিকে ছুটে যাও, নিজেকে তাঁর কাছে সঁপে দিয়ে বল, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন’, ‘আমরা তো একান্ত আল্লাহরই এবং নিশ্চিতই আমরা তাঁর কাছে ফিরে যাব।’ (সূরা বাকারা : ১৫৬)।
(মওলানা রুমির মসনবি শরিফ, ৫খ. বয়েত-১০৮৪-১১১৮)
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
-
▼
2020
(416)
-
▼
August
(41)
-
►
Aug 21
(7)
- ২১শে অগাস্ট গ্রেনেড হামলা: শেখ হাসিনার সমাবেশে বোম...
- গ্রেনেড হামলা :দেশের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র by ড. ...
- ২১শে অগাস্টের গ্রেনেড হামলা: যেভাবে রক্ষা পেয়েছিল...
- ২১ আগস্ট ও শেখ হাসিনা by অধ্যাপক ড. নাসিম বানু
- ‘তার মতো এমন মানবদরদি খুবই বিরল’ by আশরাফুল ইসলাম
- বিবিসির অনুসন্ধান: তাজমহল কি কখনো হিন্দু মন্দির ছিল?
- ভয়াল ২১শে আগস্ট আজ
-
►
Aug 21
(7)
-
▼
August
(41)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...








