Monday, October 28, 2019

যে নির্বাচন কমিশনারকে ভারতের রাজনৈতিক নেতারা সত্যিই ভয় পেতেন

১৯৯০ সালের ডিসেম্বর মাস। দিল্লিতে সেদিন ভীষণ ঠাণ্ডা। রাত প্রায় একটার সময়ে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রী সুব্রহ্মনিয়াম স্বামীর সাদা অ্যাম্বাসেডর গাড়িটা দিল্লির পান্ডারা রোডের একটা সরকারি বাড়ির গাড়িবারান্দায় দাঁড়াল।
ওই বাড়িতে তখন থাকতেন প্ল্যানিং কমিশনের সদস্য টি এন শেষন।
হন্তদন্ত হয়ে মি. শেষনের বাড়িতে ঢুকলেন মন্ত্রী।
মি. স্বামী যখন হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতেন, সেই সময়ে সেখানে ছাত্র ছিলেন মি. শেষন, যদিও শিক্ষকের বয়স ছাত্রের থেকে কিছুটা ছোটই ছিল।
তবে মাঝে মাঝেই দক্ষিণ ভারতীয় খাবার খেতে শিক্ষক হাজির হতেন ছাত্রের ফ্ল্যাটে।
সেই রাতে কিন্তু মন্ত্রী সুব্রহ্মনিয়াম স্বামী অত রাতে টি এন শেষনের সরকারী আবাসে খেতে যান নি।
প্রধানমন্ত্রী চন্দ্রশেখরের দূত হয়ে একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছিয়ে দিতে গিয়েছিলেন তিনি।
প্রাক্তন ছাত্রকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, "পরবর্তী প্রধান নির্বাচন কমিশনার হতে রাজি আছেন আপনি?"
খুব একটা উৎসাহ দেখান নি মি. শেষন। আগের দিন আরেক শীর্ষ আমলা বিনোদ পান্ডেও তাঁর কাছে এই একই প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
"বিনোদ, তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে? ওই নির্বাচন সদনে কে যাবে!" জবাব দিয়েছিলেন মি. শেষন।
কিন্তু সুব্রহ্মনিয়াম স্বামী ছাড়ার পাত্র নন। দুঘণ্টা ধরে তিনি মি. শেষনকে বোঝাতে লাগলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদটা নেওয়ার জন্য।
শেষমেশ মি শেষন বলেন যে কয়েকজনের সঙ্গে পরামর্শ করে জানাবেন তিনি।টি এন শেষনের জীবনী 'শেষন- অ্যান ইন্টিমেট স্টোরি'-র লেখক সিনিয়ার সাংবাদিক কে গোবিন্দন কুট্টি বলছেন, "মি. স্বামী বেরিয়ে যাওয়ার পরেই অত রাতে রাজীব গান্ধীকে ফোন করেন মি. শেষন। তখনই একবার দেখা করতে চান তিনি।"
"প্রথমে তো পাঁচ মিনিট সময় চেয়েছিলেন, কিন্তু সেটা খুব দ্রুতই পেরিয়ে গেল। চকোলেট দুজনেরই খুব পছন্দের জিনিস ছিল। চকোলেট খেতে খেতে বেশ কিছুক্ষণ আলোচনার পরে রাজীব গান্ধী মি. শেষনকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ গ্রহণের জন্য সম্মতি দিতে বলেন ।"
মি. শেষন রাজীব গান্ধীর এই সিদ্ধান্তে খুব একটা খুশি হন নি।
দরজার দিকে অতিথিকে এগিয়ে দিতে গিয়ে রাজীব গান্ধী বলেছিলেন, "দাড়িওয়ালা কিছুদিন পরে সেই দিনটাকে দোষ দেবে, যেদিন তিনি আপনাকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।।"
দাড়িওয়ালা বলতে মি. গান্ধী সেই সময়কার প্রধানমন্ত্রী চন্দ্রশেখরকে বুঝিয়েছিলেন।
রাজীব গান্ধী যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন থেকেই তার সঙ্গে টি এন শেষনের একটু সুসম্পর্ক ছিল।
বন এবং পরিবেশ দপ্তরের সচিব হিসাবে মি. শেষনের কাজে খুশি হয়ে মি. গান্ধী তাকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্ব দেন।
তখন থেকেই দুজনের ঘনিষ্ঠতা। সেই সূত্রেই ভোর রাতে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে পরামর্শ করতে পৌঁছিয়ে গিয়েছিলেন মি. শেষন।
দেব-দেবীর ছবি বার করে দিয়েছিলেন দপ্তর থেকে
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হওয়ার প্রস্তাবে সায় দেওয়ার পরে তিনি যখন নির্বাচন সদনে কাজে যোগ দিলেন, সেই সময়ে তার পূর্বসূরি মি. পেরি শাস্ত্রী নিজের ঘরে অনেক দেব-দেবীর ছবি রেখেছিলেন।
মি. শেষন কাজে যোগ দিয়ে প্রথম দিনই সেই সব ছবি, মূর্তি - সব সরিয়ে ফেলার আদেশ দেন। যদিও ব্যক্তিগত জীবনে তিনি খুবই ধার্মিক ছিলেন।
কাজে যোগ দেওয়ার কিছুদিন পর থেকেই কাজের ক্ষেত্রে স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার প্রমাণ পাওয়া শুরু হয়।একটা সাক্ষাতকারে তিনি বলেছিলেন, "নির্বাচন কমিশন যে কতটা স্বতন্ত্রভাবে কাজ করতে পারত, তার একটা আন্দাজ দিতে পারি। আমারই এক পূর্বসূরি ৩০ টাকা অনুমোদনের জন্য সরকারের কাছে চিঠি লিখেছিলেন। একটা বই কেনার জন্য ওই টাকার প্রয়োজন ছিল।"
"সেই সময়ে নির্বাচন কমিশনকে সরকারের লেজুড় বলে মনে করা হত।"
তিনি বলেছিলেন, "আমার মনে আছে, যখন ক্যাবিনেট সচিব ছিল, সেই সময়ে একবার প্রধানমন্ত্রী আমাকে ডেকে বলেছিলেন যে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে দিন যে কোন কোন দিন নির্বাচন করাতে চায় সরকার।"
"আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলাম, এটা আমরা বলতে পারি না। নির্বাচন কমিশনকে শুধুমাত্র এটুকুই আমরা বলতে পারি যে সরকার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত," ওই সাক্ষাতকারেই জানিয়েছিলেন তিনি।
একটা সময়ে ছিল, যখন আইন মন্ত্রীদের ঘরের বাইরে অপেক্ষা করতে হত নির্বাচন কমিশনারদের, যে কখন ভেতর থেকে ডাক আসবে।
"আমি ঠিক করেছিলাম,আমি নিজে কখনও মন্ত্রীর দপ্তরে যাব না। আমাদের দপ্তরে আগে চিঠি আসত নির্বাচন কমিশন, ভারত সরকার - এই ভাবে।"
টি এন শেষন বলেছিলেন, "আমি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছিলাম, আমি ভারত সরকারের অংশ নই।"
রাজীব গান্ধী নিহত হওয়ার পরেই সরকারের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই তিনি লোকসভা নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
শীর্ষ আমলাদের শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁর আমলে
১৯৯২ সালের গোঁড়ার দিক থেকেই ভুল করলেই সরকারি অফিসারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেন তিনি। এদের মধ্যে যেমন কেন্দ্রীয় সরকারের সচিবরা ছিলেন, তেমনই ছিলেন নানা রাজ্যের মুখ্য সচিবরাও।
একবার নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব কে ধর্মরাজনকে ত্রিপুরা নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছিল।
তিনি আগরতলা না গিয়ে দপ্তরের অন্য কোনও কাজে থাইল্যান্ড চলে গিয়েছিলেন।
মি. শেষন দ্রুত আদেশ জারি করেন, "মি ধর্মরাজনদের মতো অফিসারদের বোধহয় ভুল ধারণা রয়েছে যে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া দায়িত্বটা একটা বোঝা। পালন করলেও হয়, না করলেও হয়। তিনি যদি মনে করে থাকেন ভোটের কাজের থেকে বিদেশে যাওয়া বেশি জরুরী, এই ভুল ধারণাটা ভেঙ্গে দেওয়ার দরকার আছে।"
"এর জন্য মি. ধর্মরাজনকে কড়া শাস্তি দেওয়াটাই উচিত ছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সেই রাস্তায় না হেঁটে তার চাকরিজীবনের অতি গুরুত্বপূর্ণ নথি - কনফিডেন্সিয়াল রিপোর্টে এই গুরুতর বিষয়টির উল্লেখ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন," ওই আদেশে লিখেছিলেন মি. শেষন।
কনফিডেন্সিয়াল রিপোর্ট একজন সরকারি চাকুরের কাছে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি, যা দিয়ে তাদের পদোন্নতি নির্ভর করে।একের পর এক নির্বাচন স্থগিত করে দিতেন তিনি
মি. শেষনের একের পর এক নির্দেশের ফলে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়। কিন্তু তখনও আরও অনেক কিছু দেখার বাকি ছিল।
১৯৯৩ সালের ২রা অগাস্ট টি এন শেষন একটা ১৭ পাতার নির্দেশ জারি করে। লেখা হয়, যতদিন না নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতাকে সরকার মান্যতা দিচ্ছে, ততদিন দেশে কোনও নির্বাচন হবে না।
"ভারত সরকারের নিজেই এমন কিছু প্রথা সৃষ্টি করেছে, যার ফলে নির্বাচন কমিশন তার নিজের সাংবিধানিক কর্তব্য পালন করতে অসমর্থ হচ্ছে।"
"তাই নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কমিশনের অধীনে যত নির্বাচন হওয়ার কথা, সেই সব ভোট প্রক্রিয়া বন্ধ থাকবে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত," ওই আদেশে লিখেছিলেন মি. শেষন।
এই নির্দেশের যে প্রবল বিরোধিতা হবে, তা প্রত্যাশিতই ছিল।
পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার একটি আসনের নির্বাচন হতে দেন নি মি. শেষন, যার ফলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রণব মুখার্জীর সময়কাল শেষ হয়ে গিয়েছিল আর তাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু এতটাই ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন যে টি এন শেষনকে তিনি 'পাগলা কুকুর' বলে ফেলেন।
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং বলেছিলেন, "আমরা এতদিন কারখানায় লক আউট জানতাম। মি. শেষনের আমলে তো গণতন্ত্রই লক আউট হয়ে গেল।"
শেষনকে শায়েস্তা করার উপায় বার করল সরকার
টি এন শেষনের একের পর এক নির্দেশে রাজনীতির মহলে শোরগোল আগেই শুরু হয়ে গিয়েছিল। এবারে সরকার ভাবতে লাগল কীভাবে তাকে জব্দ করা যায়।
নির্বাচন কমিশনে আরও দুজন নির্বাচন কমিশনার নিযুক্ত করে দিল সরকার।
মি. শেষন সেদিন দিল্লির বাইরে ছিলেন।
যে দুজনকে নিয়োগ করা হল নির্বাচন কমিশনার হিসাবে, তাদের মধ্যে একজন, এম এস গিল তখন কৃষি মন্ত্রকের সচিব ছিলেন। তাকে গোয়ালিয়র থেকে বিশেষ বিমানে করে উড়িয়ে নিয়ে এসে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরসিমহা রাওয়ের ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়।
মি. গিল যোগ দেওয়ার আগেই আরেকজন কমিশনার মি. কৃষ্ণমূর্তি কাজে যোগ দিয়ে দিয়েছিলেন।
মি. শেষন যখন দিল্লিতে ফিরলেন, তারপরে অন্য দুজন কমিশনারের সঙ্গে প্রথম বৈঠকটা ছিল বেশ গম্ভীর।
মি. গিল পরে জানিয়েছিলেন যে তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে মোটামুটি সহযোগিতাই করতেন, তাই তার সঙ্গে সম্পর্কটা মন্দ ছিল না। কিন্তু মি. কৃষ্ণমূর্তি কাজে যোগ দিয়েই রাষ্ট্রপতির কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন যে তাকে বসার জায়গা দেওয়া হচ্ছে না!দুজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করার বদলা মি. শেষন নিয়েছিলেন একবার যখন তিনি বিদেশ ভ্রমণে যান, সেই সময়ে।
অন্য দুজন নির্বাচন কমিশনার থাকা সত্ত্বেও তিনি দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন একজন উপ নির্বাচন কমিশনারকে।
মি. গিল বলেছিলেন, "আমাদের দুজনকে রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত করেছন। কিন্তু আমাদের বাদ দিয়ে একজন আমলাকে নির্বাচন কমিশন চালানোর দায়িত্ব দিয়ে দিলেন তিনি। এই বিষয় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়। আদালতই আদেশ দেয় যে মি. শেষনের অনুপস্থিতিতে আমরা দুজন নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম চালাবো।"
কার সঙ্গে লড়াই করেন নি মি. শেষন?
টি এন শেষন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসাবে যতদিন কাজ করেছেন, সেই সময়ে এমন কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিল না বোধহয়, যার সঙ্গে তার বিরোধ বাঁধে নি!
রাজনৈতিক দলগুলো বা সংবাদমাধ্যম তার নাম দিয়েছিল 'টাইট নাট শেষন' - তিনি সবাইকে 'টাইট' দিতেন বলে।
এই তালিকায় প্রধানমন্ত্রী নরসিমহা রাও যেমন ছিলেন, তেমনই ছিলেন হিমাচল প্রদেশের রাজ্যপাল গুলশের আহমেদ বা বিহারের মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদব।
মি. শেষনই প্রথমবার বিহারে চার দফায় নির্বাচন করার কথা ঘোষণা করেন। আর প্রতিটা দফার তারিখ বদলাতে থাকেন।
এম এস গিল, যিনি পরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হয়েছিলেন, তিনি বলছেন, "মি. শেষনের সব থেকে বড় অবদান এটাই যে তিনি নির্বাচন কমিশনকে 'সেন্টর স্টেজে' নিয়ে এসেছিলেন। তার আগে কেউ তো মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নামই জানত না। আর প্রত্যেকেই নির্বাচন কমিশনকে হেলাফেলা করে চলতো।"
বলা হয়ে থাকে টি এন শেষনই ভারতের নির্বাচন কমিশনকে বলতে গেলে তার সংবিধান স্বীকৃত স্থানে বসিয়ে গেছেন। এখন যে ভারতের নির্বাচন কমিশন ভোটের ব্যাপারে যে কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, তা মি. শেষনের আমল থেকেই শুরু হয়।
একদিকে ভোটের প্রতিটা বিষয়ের ওপরে নজরদারী চলতে থাকে, আর ব্যবস্থা হয় শাস্তিরও।
সেই ট্র্যাডিশনই এখনও চলছে।
>>সূত্রঃ বিবিসি

পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় ‘বানিয়াচং’ by মখলিছ মিয়া

পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় সুবর্ণভূমি বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচং।  নৈসর্গিক রূপ আর ইতিহাস- ঐতিহ্যের লালন ভূমি হাওর অঞ্চলের প্রাচীন জনপদ সুলতানী আমলে করদ রাজ্য ও মুঘল আমলে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থেকে স্থানান্তরিত লাউড় রাজ্যের রাজধানী ছিল। এক সময়ের এশিয়ার বৃহত্তম গ্রাম ৩২.৪৩ বর্গ মাইল আয়তন ও সোয়া লক্ষ লোক সংখ্যার ভিত্তিতে পৃথিবীর বৃহত্তম গ্রাম হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ৪টি ইউনিয়নে বিভক্ত এ গ্রাম। মধ্যভাগে গড়ে উঠেছে উপজেলা শহর। চারপাশে গ্রামীণ সৌম্য পরিবেশ ও বর্ধিষ্ণু শহরের কর্মচাঞ্চলতায় অপূর্ব অনূভূতির সংমিশ্রণ ঘটায়। কালের স্বাক্ষী রাজ-রাণী, শাহজাদা-শাহাজাদী ও জমিদার ও প্রজাদের কাহিনী নিয়ে আলাল-দুলাল (দেওয়ানা মদিনা) ছুরত জামাল ও অধূয়া সুন্দরী, আমেনা সুন্দরী ও ফিরোজ খাঁ দেওয়ান, রাণী ভবাণী, রাজ কুমারী ও গায়েন, চৌধুরীদের লড়াই ও সিপাহী আফজাল খান ও জমিদার কন্যা আরজু বানুর উপখ্যান ও লোকগাঁথা পূর্ব বাংলায় লোক সংস্কৃতির পীঠস্থান হিসেবে দখল করে আছে। প্রাচীন নিদর্শন ও পুরাকীর্তি রাজবাড়ীর ধ্বংসাবশেষ, ৫শ থেকে ২শ বছরের পূর্বের মুঘল স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত তিন গম্বুজ বিশিষ্ট ১১টি  মসজিদসহ ১২০টি মসজিদ রয়েছে। ৪শ বছরের প্রাচীন জয়কালী মন্দির ও শ্যাম বাউলের আখড়া এবং গ্রামের অদূরবর্তীতেই রয়েছে বিথঙ্গল বৈষ্ণব আখড়া ও সোয়াম ও রীড ফরেস্ট লক্ষী বাঁওড় (জলজবন) রয়েছে।
প্রাকৃতিক শোভায় সুশোভিত ছয়টি দীঘি মুগ্ধ করে দেশী বিদেশী পর্যটকদের। বিশেষ করে বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম সাগর দীঘিকে ঘিরে রয়েছে পর্যটনের হাতছানি। ঘন বন-বনানী ও ঢাকা নগরীর আদলে আঁকাবাঁকা ও অসংখ্য সরু রাস্তা ধরে (দালান-অট্টালিকার স্থলে ) সারি সারি বৃক্ষরাজির সুশীতল ছায়া । দীঘি এবং পাঁচ শতাধিক পুকুর ও বিল-ঝিলের পাড়ে নান্দনিক ও শৈল্পিকভাবে গড়ে ওঠা সবুজে ঘেরা জন বসতির পাড়া ও মহল্লার অবস্থান বিমোহিত করে। পল্লী কবি জসিম উদ্দিন ঐতিহাসিক বানিয়াচংয়ে পরিদর্শনে এলে নয়নাভিরাম সাগর দীঘির প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে এর পাড়ে বসেই ‘রাণী কমলাবতীর দীঘি’ নামে একটি কবিতা লিখেছিলেন। এ কবিতাটি, তার সূচয়ণী কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। ১৯৯৭ সনের ১৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বানিয়াচং সফরকালে সাগরদীঘির বৈচিত্রময় রূপে মুগ্ধ হয়ে (দীঘির পাড়েই এল,আর,সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় ) এ দীঘিকে ঘিরে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছিলেন। বানিয়াচংয়ের মানুষ আশায় বুক বেঁধেছিলেন ওয়াচটাওয়ার স্থাপনসহ দিনাজপুরের রাম সাগরের আদলে সাগরদীঘির পাড়েও পর্যটন পার্ক গড়ে তোলা হবে। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য বিভাগগুলো স্থানীয় প্রশাসন থেকে পুরাকীর্তি ও প্রাচীন স্থাপনার তালিকা নেয়া ছাড়া কার্যকরি কোনো পদক্ষেপ নেয় নি। ঐতিহাসিকদের মতে, পঞ্চাশ খ্রীষ্টাব্দে হাওর দ্বীপে বানিয়াচং গ্রামের গোড়া পত্তন হয়। ধারনা করা হয়। গ্রামের অভ্যন্তরে ও ও পাশ দিয়ে পুরাতন কুশিয়ারা ও এর শাখা সুটকী ও কেছুরিয়া নদী প্রবাহিত ছিল। ভূমিকম্পে নদীগুলোর গতিপথ পরিবর্তন ও মরা অংশ পলল ভূমিতে ভরাট হয়ে রাজধানীতে প্রজাদের মধ্যে পানীয় জলের সংকট দেখা দেয়। রাজন্যবর্গ ও পরবর্তীতে জমিদারগণ অসংখ্য পুকুর খনন সহ সাগরদীঘি, দেওয়ানদীঘি, ঠাকুরাণীর দীঘি, মজলিশ খাঁর দীঘি, জামাল খাঁর দীঘি ও দেবাল দীঘি খনন করেন। এসব দীঘির অধিকাংশ দখল হয়ে ১৯৫৬ সালে এসএ রেকর্ডে চারপাড় বাসীর অনেকের মালিকানায় চলে যাওয়ায় আয়তনে ছোট হয়ে দীঘিগুলো রূপ বৈচিত্র হারিয়েছে এবং হারাচ্ছে। বিশেষ করে সাগরদীঘি ১২০ একরের মধ্যে ৬৬ একর সরকারের খাস খতিয়ানে রেকর্ড ভূক্ত হয়েছে। বিভিন্ন গ্রন্থে  জানা যায়, দ্বাদশ শতাব্দীর কোন এক সময়ে রাজা পদ্মনাভ ( মনাই রাজা) গ্রামের মধ্যভাগে ১২০ একর জায়গা জুড়ে এক বিশাল দীঘি খনন করেন। দীঘিতে পানি না ওঠায় স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে রাজা পদ্মনাভের স্ত্রী রাণী কমলাবতী আত্ম বিসর্জন দিলে দীঘিতে পানি ভরে ওঠে। এ নিয়ে একটি রূপ কথার মতোই কাহিনী এলাকায় প্রচলিত আছে। তাই এ দীঘিকে ‘রাণী কমলাবতীর দীঘি’ বলা হয়ে থাকে। দীর্ঘদিনে দীঘিটি ভরাট হয়ে গিয়েছিল। ১৯৮৭ সনে (দীঘির পশ্চিমপাড়ের অধিবাসী) এরশাদ সরকারের মন্ত্রী মরহুম সিরাজুল হোসেন খান দীঘিটি সংস্কার করান। বর্তমান জরিপেও রেকর্ডভূক্ত মালিকানা বলে এর পাড়ে এখন চলছে পাঁকা দালান বাড়ী নির্মাণের প্রতিযোগিতা। ফলে প্রাকৃতিক রূপ বৈচিত্রে ভরপুর দীঘির শ্রী হারিয়ে দর্শণার্থীদের   মর্মপীড়ার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের প্রশ্ন দীঘিটি কেন ন্যাশনাল হ্যারিটেজর হিসেবে তালিকাভূক্ত করা হলো না। এ ঐতিহাসিক দীঘি খননের প্রেক্ষাপট ও রূপ কাহিনী নিয়ে বেতারে নাটক প্রচার, কবি শাহজাহান বিশ্বাস জারিগান ও গীতিকাব্য রচনা গ্রন্থ প্রকাশ করেন। এবং লেখক আবু সালেহ আহমদ দীঘির রূপ কাহিনী নিয়ে একটি গবেষণা পত্র বাংলা একাডেমিতে জমা দিয়েছেন। এছাড়া লেখক ও নাট্যকার রোমা মোদক ‘রাণী কমলাবতীর দীঘি’ নামে রচিত নাটক হবিগঞ্জ জীবন সংকেত নাট্যগোষ্ঠী জেলাসহ বিভিন্ন জেলায় এ নাটক মঞ্চস্থ করা সহ বাংলাদেশ টেলিভিশনে নাটকটি মঞ্চায়ন করে সরাসরি সম্প্রচার করেছে। এতে বানিয়াচং ও সাগরদীঘি নতুন প্রজন্মের কাছেও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। প্রায় সারা বছরই দীঘি ও ঐতিহাসিক গ্রাম পরিদর্শনে দেশী-বিদেশী পর্যটকরা এসে থাকেন। এ বিষয়ে বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মামুন খন্দকার এর দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি জানান, হাওর অঞ্চল বেষ্টিত বানিয়াচং উপজেলা পর্যটনের সুবর্নভূমি। ঐতিহাসিক সাগরদিঘিসহ পর্যটনের সকল স্পটগুলো পর্য্যায়ক্রমে পর্যটকদের জন্য উপযোগি করে তুলতে সব ধরনের ব্যবস্থা করা হবে। জনপ্রতিনিধিসহ সকল মহলের সহযোগিতা থাকলে ঐতিহাসিক সাগরদিঘিতে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে দিঘির সৌর্ন্দয্য বৃদ্ধি করা হবে। তিনি আরো জানান, বর্তমান পর্যটন মন্ত্রী হবিগঞ্জের কৃতি সন্তান। আশা রাখি বানিয়াচং উপজেলাকে পর্যটনের উপযোগি করে গড়ে তুলতে সর্বাত্মক সহযোগিতা পাব। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকরী পদক্ষে নেয়া হবে বলেও তিনি জানান। বানিয়াচংবাসীর দাবি পর্যটনের সুবর্ণ ভূমি বানিয়াচঙ্গে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলাসহ বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা  হলে বানিয়াচং হতে পারে পর্যটকদের জন্য এক আকর্ষনীয় স্থান।

রিয়েলিটি টিভি তারকাদের যৌন সম্পর্ক, উপার্জন অঢেল টাকা

রিয়েলিটি টিভি তারকাদের সামনে অফারের পর অফার। ধনী অথবা খ্যাতনামা ফুটবলাররা তাদেরকে আহ্বান করছেন শয্যাসঙ্গিনী হতে। তাদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলেই ভুরি ভুরি টাকা। এক একবার যৌন সম্পর্কের জন্য তাদেরকে প্রস্তাব করা হচ্ছে হাজার হাজার পাউন্ড। যা, টাকার অংকে অগণিত। বৃটেনের একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ এ নিয়ে বিস্তারিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেলিব্রেটি বিষয়ক এজেন্ট রব কুপার বলেছেন, এর আগের ‘লাভ আইল্যান্ড’ রিয়েলিটি শোতে যেসব প্রতিযোগী ছিলেন তারা ছিলেন বেশি বিপন্ন, বিশেষ করে যখন কর্মক্ষেত্রে তাদের কাজ ঝুলে যেতে থাকে, এমনকি কাজ চলে যেতে পারে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয় তখন তাদের সামনে এসব অফার বা প্রস্তাব হয় লোভনীয়।

এসব রগরগে শারীরিক আহ্বান সম্বলিত যুবতী তারকাকে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের জন্য ৪০০০ থেকে ২০,০০০ পাউন্ড পর্যন্ত প্রস্তাব করা হয়।
লরা গুজার এবং সোফি অ্যান্ডারটন তো নিশ্চিত করেছেন যে, তাদেরকে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করার বিনিময়ে বিশাল অংকের অর্থ প্রস্তাব করা হয়েছে। মডেল সোফি স্বীকার করেছেন, তিনি এমন আহ্বানে ৫ বার সাড়া দিয়েছেন। শরীর বিলিয়ে দিয়ে আয় করেছেন ৫০ হাজার পাউন্ড। গত মাসে খবর বেরিয়েছে যে, কেটি প্রাইস ফুটবল তারকা অ্যাডাম জনসনের সঙ্গে রাত কাটিয়েছেন। তার আগে একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে তাকে ১২,০০০ পাউন্ড দিয়েছেন অ্যাডাম জনসন। তবে এই অর্থ যৌনতার বিনিময়ে দিয়েছেন এমনটা প্রমাণ নেই। এখানেই শেষ নয়। সেলিব্রেটিদের বিলাসবহুল বিদেশ সফরে সঙ্গী হওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। তাতে  শ্যাম্পেন ভর্তি প্রমোদতরীতে তাদেরকে স্বপ্নীল দুনিয়া দেখানোর স্বপ্ন দেখানো হয়।

মেগান মারকেলের বোন সামান্থার বিষয় ম্যানেজ বা দেখাশোনা করেন রব কুপার। তিনি বলেছেন, এখন অনেক তারকাই এসব যৌনতার প্রস্তাব গ্রহণ করছেন। কারণ, তাদের বেতনটা ঝুলে থাকছে। তার ভাষায়, ২০১৩ ও ২০১৮ সালের মধ্যে এসব সেলিব্রেটি ও তারকাদের প্রতি অগ্রসরমান পুরুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছিল একটি মসৃণ গতিতে। কিন্তু এ বছরের শুরু থেকে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের জন্য সেলিব্রেটিদের ভাড়া করার প্রবণতা পুরুষদের মধ্যে নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের অনেক রিয়েলিটি তারকা বাস্তবেই আর্থিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছেন। এখন তারা সাধারণ একটি কাজ বা চাকরিতে যেতেও বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছেন। সাবেক বেশকিছু সোপ তারকা, টোয়ি’র মতো রিয়েলিটি টিভি শো এবং লাভ আইল্যান্ডের তারকাকে চিনি, যাদেরকে এসব প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

অবস্থার প্রেক্ষিতে অনেক সেলিব্রেটি তারকা বেছে নিচ্ছেন উচ্চ পর্যায়ের এসকর্ট সার্ভিস। এ জন্য তারা তাদের এজেন্টদের বলে দিয়েছেন তারা যেন, তাকে উচ্চ পর্যায়ের এসকর্ট সার্ভিসের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আয়ে সহায়তা করেন। রব কুপার বলেন, কমপক্ষে ১০ জন সেলিব্রেটিকে আমি চিনি। তারা তাদের এজেন্টদের এমন নির্দেশনা দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন সাবেক ‘ওয়াইফ অ্যান্ড গার্লফ্রেন্ড’ বা ডব্লিউএজি বলে খ্যাত কিছু যুবতী, গ্লামারাস মডেল, লাভ আইল্যান্ডের দু’জন নারী প্রতিযোগী, লাভ আইল্যান্ডের একজন পুরুষ প্রতিযোগী ও টোয়ি’র একজন তারকা। রব বলেন, তাদেরকে প্রস্তাব করা হয় ৪,০০০ পাউন্ড থেকে ২০,০০০ পাউন্ড পর্যন্ত। কখনো কখনো তাদেরকে দুবাইয়ের এক্সক্লুসিভ অবকাশযাপন কেন্দ্রে বিলাসী ভ্রমণের প্রস্তাব দেয়া হয়। বিষয়টা যতই আনন্দের হোক, আসলে উদ্বেগের। তবে দুবাইয়ে অনেক রিয়েলিটি তারকার ছবি ধারণ করা হয়েছে বা অব্যাহতভাবে হচ্ছে। এর অর্থ এই নয় যে, তারা সবাই এইসব প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন।

কার্গিল যুদ্ধ: ভারতের সুপারিশে শীর্ষ বীরের সম্মান পেয়েছিলেন যে পাকিস্তানি সৈনিক by রেহান ফজল

ক্যাপ্টেন কর্নেল শের খান
এরকম ঘটনা খুব কমই হয়, যেখানে শত্রু সেনাবাহিনীর কোনো সদস্যকে বাহাদুরি আর অসীম সাহসের জন্য সম্মান জানাচ্ছেন অন্য দেশের এক সেনা অফিসার, আবার সেই শত্রু দেশের কাছে সুপারিশও করছেন যাতে ওই সৈনিকের বীরত্বকে সম্মান জানানো হয়।

১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধে এরকমই এক ঘটনা ঘটেছিল।

টাইগার হিলের যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর এক ক্যাপ্টেন, কর্নেল শের খাঁয়ের বীরের মতো লড়াই দেখে ভারতীয় বাহিনীও মেনে নিয়েছিল যে তিনি সত্যিই এক ‘লৌহপুরুষ’।

সেদিনের ওই যুদ্ধে ভারতীয় বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ব্রিগেডিয়ার এম এস বাজওয়া।

‘সেদিন যখন টাইগার হিলের লড়াই শেষ হয়েছিল, ওই পাকিস্তানি অফিসারের অসীম সাহসকে স্যালুট না করে উপায় ছিল না। আমি ৭১-এর যুদ্ধেও লড়াই করেছি। কিন্তু কখনো পাকিস্তানি বাহিনীর কোনো অফিসারকে একেবারে সামনে থেকে লড়তে দেখিনি।’

‘অন্য পাকিস্তানি সৈনিকরা কুর্তা-পাজামা পরে ছিলেন, কিন্তু এই অফিসার একাই ট্র্যাক-সুট পরে লড়ছিলেন’, স্মৃতিচারণ করছিলেন ব্রিগেডিয়ার বাজওয়া।

সম্প্রতি কার্গিল যুদ্ধের ওপরে ‘কার্গিল : আনটোল্ড স্টোরিজ ফ্রম দা ওয়ার’ [কার্গিল : যুদ্ধক্ষেত্রে না বলা কাহিনী] নামের একটি বই লিখেছেন রচনা বিস্ত রাওয়াত।

তিনি জানাচ্ছিলেন, ‘ক্যাপ্টেন কর্নেল শের খাঁ পাকিস্তানি বাহিনীর নর্দার্ন লাইট ইনফ্যান্ট্রির সদস্য ছিলেন।’

‘টাইগার হিলের পাঁচটি জায়গায় তারা নিজেদের চৌকি তৈরি করেছিল। প্রথমে ভারতের ৮ নম্বর শিখ রেজিমেন্টকে ওই পাকিস্তানি চৌকিগুলো দখল করার দায়িত্ব দেয়া হয়। তারা ব্যর্থ হয়। তারপরে ১৮ নম্বর গ্রেনেডিয়ার্সদেরও শিখ রেজিমেন্টের সাথে পাঠানো হয়।’

‘তারা কোনোরকমে একটি চৌকি দখল করে। কিন্তু ক্যাপ্টেন শের খাঁ পাল্টা হামলা চালান পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ে’, জানাচ্ছিলেন মিজ রাওয়াত।

প্রথমবারের জবাবী হামলায় ব্যর্থ হয় পাকিস্তানি বাহিনী। কিন্তু সেনা সদস্যদের আবারো জড়ো করে দ্বিতীয়বার হামলা চালান তিনি। যারা ওই লড়াইয়ের ওপরে নজর রাখছিলেন, সকলেই বুঝতে পারছিলেন যে এটা আত্মহত্যার সামিল। সবাই বুঝতে পারছিল যে ওই মিশন কিছুতেই সফল হবে না, কারণ ভারতীয় সৈনিকরা সংখ্যায় অনেক বেশি ছিল।

লাশের পকেটে চিরকুট

ব্রিগেডিয়ার বাজওয়ার কথায়, ‘ক্যাপ্টেন শের খাঁ বেশ লম্বা-চওড়া চেহারার ছিলেন। অসীম সাহসের সাথে লড়াই চালাচ্ছিলেন তিনি। আমাদের এক সৈনিক কৃপাল সিং আহত হয়ে পড়েছিলেন। হঠাৎই উঠে মাত্র ১০ গজ দূর থেকে একটা বার্স্ট মারেন। শের খাঁ পড়ে যান।’

সেই সাথেই পাকিস্তানি বাহিনীর হামলার জোর ধীরে ধীরে কমে আসছিল। ব্রিগেডিয়ার বাজওয়ার বলেন, ‘ওই লড়াইয়ের শেষে আমরা ৩০ জন পাকিস্তানি সৈনিককে দাফন করেছিলাম। কিন্তু আমি অসামরিক মালবাহকদের পাঠিয়ে সেখান থেকে ক্যাপ্টেন কর্নেল শের খাঁয়ের লাশ নিচে নামিয়ে আনার ব্যবস্থা করি। ব্রিগেড হেড-কোয়াটারে রাখা হয়েছিল তার দেহ।’
পাকিস্তানের সরকার ক্যাপ্টেন শের খাঁয়ের সম্মানে ডিজাইন করা স্মারক ডাক টিকেট।
ক্যাপ্টেন শের খাঁয়ের লাশ যখন পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হল, তখন তার জামার পকেটে একটা ছোট্ট চিরকুট লিখে দিয়েছিলেন ব্রিগেডিয়ার বাজওয়া। তাতে লেখা ছিল, ‘ক্যাপ্টেন কর্নেল শের খাঁ অফ ১২ এন এল আই হ্যাজ ফট ভেরি ব্রেভলি এন্ড হি শুড বি গিভেন হিজ ডিউ’ [অর্থাৎ, ১২ নম্বর নর্দার্ন লাইট ইনফ্যান্ট্রির ক্যাপ্টেন কর্নেল শের খাঁ অসীম সাহসের সাথে লড়াই করেছেন। তাকে সম্মান জানানো উচিত]।

কে এই কর্নেল শের খাঁ?

ক্যাপ্টেন কর্নেল শের খাঁয়ের জন্ম হয়েছিল উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের এক গ্রাম নওয়া কিল্লেতে। তার দাদা ১৯৪৮ সালের কাশ্মীর অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।

কিন্তু তার পছন্দ ছিল উর্দি পরিহিত সৈনিক। যখন এক নাতি জন্মাল তার, নাম রাখলেন কর্নেল শের খাঁ।

তখন অবশ্য তার ধারণাও ছিল না যে এই নামের জন্যই নাতির কোনো সমস্যা হতে পারে।

কার্গিল যুদ্ধের ওপরে বিখ্যাত বই ‘উইটনেস টু ব্লান্ডার – কার্গিল স্টোরি আনফোল্ডস’-এর লেখক কর্নেল আশফাক হুসেইন বলছেন, ‘কর্নেল শের খাঁ ওই অফিসারের নাম ছিল। এটা নিয়ে তার খুব গর্ব ছিল। তবে বেশ কয়েকবার এই নামের জন্য তাকে সমস্যায় পড়তে হয়েছে।’

“অনেক সময়ে ফোন তুলে তিনি বলতেন, ‘লেফটেন্যান্ট কর্নেল শের স্পিকিং’, অন্য প্রান্তে থাকা অফিসারের মনে হতো যে কোনো লেফটেন্যান্ট কর্নেল র‍্যাঙ্কের অফিসারের সাথে কথা বলছেন তিনি। কমান্ডিং অফিসারকে যেভাবে স্যার সম্বোধন করে, সেইভাবেই কথা বলতে শুরু করতেন টেলিফোনের অন্য প্রান্তে থাকা অফিসার।

ব্যাপারটা বুঝতে পেরে শের খাঁ হেসে বলতেন, যে তিনি লেফটেন্যান্ট শের খাঁ। কমান্ডিং অফিসার নন তিনি!” জানাচ্ছিলেন কর্নেল আশফাক।

টাইগার হিলের ‘শেষ যুদ্ধ’

১৯৯২ সালে পাকিস্তানি মিলিটারি একাডেমীতে যোগ দেন কর্নেল শের খাঁ। তার এক বছরের জুনিয়র, ক্যাপ্টেন আলিউল হুসেইন বলছিলেন, ‘পাকিস্তানি মিলিটারি একাডেমীতে সিনিয়ররা র‍্যাগিং করার সময়ে জুনিয়ারদের গালিগালাজ করতেন। কিন্তু শের খাঁর মুখে কোনোদিন একটাও গালি শুনিনি আমি। তার ইংরেজি খুব ভালো ছিল।’

“অন্য অফিসারদের সাথে নিয়মিত ‘স্ক্র্যাবেল’ খেলতে দেখতাম। সবসময়ে তিনিই জিতে যেতেন। আবার জওয়ানদের সাথেও খুব সহজেই মিশতে পারতেন, ওদের সাথে লুডো খেলতেন তিনি।”
কার্গিল যুদ্ধের ওপর লেখা বই।
সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন শের খাঁকে ১৯৯৯ সালের ৪ জুলাই টাইগার হিলে পাঠানো হয়। সেখানে পাকিস্তানি বাহিনী ত্রিস্তরীয় রক্ষণব্যবস্থা গড়ে তুলছিলেন। তিনটে স্তরের সাংকেতিক নাম ছিল ১২৯ এ, বি আর সি।

ভারতীয় সেনাবাহিনী ১২৯ এ আর বি চৌকিগুলোকে তছনছ করে দিতে পেরেছিল। ক্যাপ্টেন শের সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ওখানে পৌঁছান। পরিস্থিতিটা বুঝে নিয়ে পরের দিন সকালে ভারতীয় বাহিনীর ওপরে হামলা করার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন তিনি।

কর্নেল আশফাক হুসেইন লিখছেন, ‘রাতে উনি সব সৈনিককে শহিদ হওয়ার সৌভাগ্য বর্ণনা করেন। ভোর ৫টায় নামাজ পড়েন। তারপরেই ক্যাপ্টেন উমরকে সাথে নিয়ে লড়াইয়ের জন্য রওনা হন। তিনি যখন মেজর হাশিমের সাথে ১২৯ – বি চৌকিতে ছিলেন, তখনই ভারতীয় বাহিনী পাল্টা হামলা চালায়।’

বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে মেজর হাশিম নিজেদের বাহিনীর ওপরেই গোলাবর্ষণের অনুমতি চান। যখন শত্রু সৈনিক একেবারে কাছে চলে আসে, তখন তাদের হাতে যাতে ধরা না পড়তে হয়, সেজন্য এরকম করে থাকে।

কর্নেল আশফাক হুসেইন লিখছেন, ‘পাকিস্তানি আর ভারতীয় বাহিনীর লড়াইটা তখন সম্মুখ সমর। একেবারে হাতাহাতি লড়াই চলছে। তখনই এক ভারতীয় সেনার একটা পুরো বার্স্ট ক্যাপ্টেন শের খাঁয়ের গায়ে এসে পড়ে, তিনি নিচে পড়ে যান। নিজের সঙ্গীদের সাথেই শের খাঁও শহিদ হন।’

অন্য পাকিস্তানি সৈনিকদের তো ভারতীয় বাহিনী দাফন করে দেয়। কিন্তু শের খাঁর লাশ প্রথমে শ্রীনগর, তারপরে দিল্লি নিয়ে যাওয়া হয়।

মরণোত্তর সম্মান ‘নিশান-এ-হায়দার’

ব্রিগেডিয়ার বাজওয়া বলছিলেন, “যদি আমি তার লাশ নিচে না নামিয়ে আনতাম বা জোর করে তার দেশে ফেরত না পাঠাতাম, তাহলে তার নামই হয়তো কোথাও উল্লেখিত হত না। তাকে পাকিস্তানের সব থেকে বড় সম্মান ‘নিশান-এ-হায়দার’ দেয়া হয়েছিল, যেটা ভারতের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান পরম বীর চক্রের সমান।”
ক্যাপ্টেন কর্নেল শের খাঁয়ের সমাধি।
পাকিস্তানে যখন ক্যাপ্টেন শের খাঁয়ের লাশ পৌঁছিয়েছিল, তার পরে তার বড় ভাই আজমল শের বলেছিলেন, ‘আল্লাহর আশীর্বাদ, যে আমাদের শত্রু দেশেরও দয়া-মায়া আছে। কেউ যদি বলে তারা দয়া-মায়াহীন, আমার তাতে আপত্তি আছে। কারণ তারা ঘোষণা করেছে কর্নেল শের একজন হিরো।’

শেষ বিদায়

১৮ জুলাই ১৯৯৯। মাঝ রাতে ক্যাপ্টেন কর্নেল শের খাঁয়ের লাশ গ্রহণ করার জন্য মলির গ্যারিসনের শত শত সৈনিক করাচি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজির ছিলেন। তার গ্রাম থেকে ওর দুই ভাইও সেখানে ছিলেন।

কর্নেল আশফাক হুসেইন লিখছেন, ‘ভোর পাঁচটা এক মিনিটি বিমানটা রানওয়ে ছুঁয়েছিল। বিমানের পেছন দিক থেকে দুটো কফিন বের করা হল। একটায় ক্যাপ্টেন শের খাঁয়ের লাশ ছিল আর অন্যটায় যে কার লাশ ছিল, সেই পরিচয় এখনো জানা যায়নি।’

কফিন দুটিকে একটা অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া হল যেখানে, সেখানে তখন হাজার হাজার সৈনিক আর সাধারণ মানুষ। বালুচ রেজিমেন্টের সৈনিকরা অ্যাম্বুলেন্স থেকে দুটি কফিন নামিয়ে মানুষের সামনে রাখলেন। এক মৌলবি নামাজ-এ-জানাজা পাঠ করলেন।

তারপরে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একটা বিমানে চাপানো হয়। ক্যাপ্টেন কর্নেল শের খাঁয়ের কফিনে কাঁধ দিয়েছিলেন কোর কমান্ডার মুজফফর হুসেইন উসমানী, সিন্ধ প্রদেশের গভর্নর মামুন হুসেইন আর সংসদ সদস্য হালিম সিদ্দিকি।

করাচি থেকে লাশ ইসলামাবাদ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আরো একবার নামাজ-এ-জানাজা হয়। পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি রফিক তারারও হাজির ছিলেন সেখানে।

শেষে, ক্যাপ্টেন শের খাঁয়ের কফিনবন্দী লাশ নিয়ে যাওয়া হয় তার গ্রামে। হাজার হাজার সাধারণ মানুষ আর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বহু সদস্য শেষ বিদায় জানান এই সাহসী সৈনিককে।
কার্গিল যুদ্ধের ওপর লেখা রচনা বিস্ত রাওয়াতের বই।

শ্রীমঙ্গলে মাল্টা চাষে সফলতা

শ্রীমঙ্গলে প্রথমবারের মতো মাল্টা চাষে সফলতা এসেছে। দু’বছরের মাথায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৪৮টি বারি মাল্টা-১ এর প্রদর্শনী প্লটে শতকরা ৬০ শতাংশ গাছে ফল ধরেছে। তৃতীয় বছরে অর্থাৎ আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে শতভাগ গাছে মাল্টা ফল ধরবে বলে আশা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। শ্রীমঙ্গল কৃষি অধিদপ্তরের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা সুইটি জানান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট-২০০৩ সালে বারি মাল্টা-১ নামে মাল্টার এই উন্নতজাত উদ্ভাবন করে। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে মাল্টার সফল চাষ হয়েছে। কোথাও কোথাও বাম্পার ফলনও হয়েছে মাল্টার। মোনালিসা সুইটি বলেন, এটি নিয়মিত ফলদানকারী উচ্চ ফলনশীল জাত। ফল গোলাকার ও পাকা ফলের রঙ সবুজ।
খুবই রসালো, খেতে মিষ্টি ও সুস্বাদু। গাছ প্রতি ৩০০-৪০০টি ফল ধরে। হেক্টর প্রতি গড় ফলন ২০ টন। বৃহত্তর সিলেট, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, পঞ্চগড়, নরসিংদী ও খাগড়াছড়ি সহ দেশের অন্য সব অঞ্চল চাষের জন্য এই মাল্টা উপযোগী।  মোনালিসা সুইটি আরও বলেন, কৃষি অধিদপ্তরের ‘সাইট্রাস ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের’ আওতায় ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে শ্রীমঙ্গলে প্রথমবারের মতো মাল্টা চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সেমতে, মাল্টা চাষিদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করে চারা, সার বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয় এবং উপজেলার সিন্দুরখান, কালাপুর, ভূনবীর, মাজডিহি, ডলুছড়া, দিলবরনগর, আশিদ্রোন, গন্ধর্বপুর ও মির্জাপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় এক বিঘা করে ৪৮টি মাল্টার প্রদর্শনী প্লট তৈরি করা হয়। দু’বছরের মাথায় এসব প্রদর্শনী প্লটের ৬০ শতাংশ গাছে ফল ধরেছে। আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে এসব প্লটে শতভাগ গাছে ফল ধরবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উপজেলার ভূনবীর ইউনিয়নের গন্ধর্বপুর গ্রামের সফল চাষি মো. তাহির মিয়া জানান, তিনি দু’বছর আগে ২ বিঘা জমিতে দুইটি বারি মাল্টা-১ এর প্রদর্শনী প্লট করেন। ২টি প্লটে তিনি ৮০টি করে ১৬০টি মাল্টার চারা রোপণ করেন। দু’বছরে সার, গোবর, কীটনাশক, আগাছা পরিষ্কার ইত্যাদি বাবদ তার খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। তিনি বলেন, দু’বছরের মাথায় এখন তার প্লটে ১৬০টি গাছেই ফল ধরেছে। তিনি মাল্টা চাষ করে লাভবান হবেন বলে আশা করছেন।
উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা রকেন্দ্র শর্ম্মা জানান, শ্রীমঙ্গলের মাটি, আবহাওয়া ও জলবায়ু মাল্টা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তাছাড়া দেশের পাহাড়ি এলাকায় বারি মাল্টা-১ চাষের জন্য খুবই উপযুক্ত। পাহাড়ি ঢালু জমিতে মাল্টা চাষ ভালো হয়ে থাকে। এসব বিবেচনা শ্রীমঙ্গলসহ বৃহত্তর সিলেটের পাহাড়ি এলাকায় মাল্টা চাষের সম্ভাবনা উজ্জ্বল।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অজিত কুমার পাল জানান, ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ মাল্টা একটি সুস্বাদু ফল। সাইট্রাস ফলের মধ্যে এটি অন্যতম জনপ্রিয় ফল। মাল্টাচাষিরা যদি নিয়মিত পরিচর্যা, আগাছা দমন, সেচ ও কীটনাশক স্প্রে করেন এবং যত্নবান হন তবে সামান্য খরচে প্রতিবিঘা জমিতে উৎপাদিত মাল্টা বিক্রি করে প্রচুর লাভবান হতে পারেন।
তিনি বলেন, প্রতি বিঘাতে ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ করে এক থেকে দেড় লাখ টাকা আয় করতে পারেন। অজিত পাল আরও বলেন, স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা প্রদর্শনী প্লটগুলো নিয়মিত পরিদর্শন ও দেখভাল করছেন এবং চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এসব প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।