Sunday, February 4, 2018

পুরোনো সাময়িকীতে আফগানিস্তানের হারানো অতীত

আফগান সাময়িকী জাভানদুনের পাতায় মেয়েদের ফ্যাশন,
সাগর সৈকতে বসা পুরুষ, এবং বাচ্চাদের গুঁড়ো দুধের বিজ্ঞাপন।
উজ্জ্বল বা বর্ণিল আফগান সাময়িকী জাভান্দুন প্রকাশিত হয়েছিল ১৯২০এর দশকে - চলেছিল পাঁচ দশক ধরে। এই ইংরেজি সাময়িকীর পুরোনো সংখ্যাগুলোয় ফুটে উঠেছে সে যুগের অভিজাত আফগানদের জীবন ও তাদের আকাঙ্খা। ওই দশকগুলোয় আফগানিস্তানের সুদূর প্রসারী পরিবর্তন হয়েছিল। জাভান্দুন পত্রিকায় থাকতো সেই সময়ের খবর। আরো থাকতো বিশ্বের নানা দেশের সমাজ ও ইতিহাস নিয়ে নিবন্ধ, সিনেমা আর ফ্যাশন জগতের মজার মজার খবর।
আপনি যদি টাইম ম্যাগাজিনের সাথে কবিতা আর ছোটগল্প যোগ করেন - তাহলে যেমন হবে অনেকটা সেই রকম। জাভান্দুন বেরুতো এমন একটি দেশ থেকে যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষই ছিল নিরক্ষর।
এর পাঠক আর লেখকরা প্রধানত কাবুল শহরেরই বাসিন্দা ছিলেন। তারা ছিলেন প্রগতিশীল লোক, তাদের সেই সময় ও অর্থ ছিল যা তারা সিনেমা ও ফ্যাশন নিয়ে কাটাতে পারতেন। উনিশশ' বিশের দশকে বা তার পরে আফগানিস্তানে যে সব সাময়িকী প্রকাশিত হতো - তাদের চেয়ে জাভান্দুন ছিল অনেকটা অন্যরকম।
আফগানিস্তানের সবচেয়ে লেখক এবং চিন্তাবিদরা এতে লিখতেন।
কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িকী ছিল 'আদব' (সংস্কৃতি)।
শিশুদের সঙ্গী 'কামকায়ানো আনিস' ভর্তি থাকতো ধাঁধাঁ আর গল্প দিয়ে। সেই অঞ্চলের জন্য ১৯৪৯ সালটি ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ বছর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পুরোনো ইউরোপিয় সাম্রাজ্যগুলো তখন ভেঙে পড়ছে।
আফগানিস্তানের প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান আর ইরানে তখন উপনিবেশবাদ-উত্তর চিন্তাধারা চালু হয়েছে।
আফগানিস্তানের রাজা জহীর বুঝলেন, তাকে একটি আধুনিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে, ব্যাংকে কিছু টাকা থাকতে হবে।
তিনি তার স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে বিদেশী উপদেষ্টাদের ডাকলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের সাহায্য চাইলেন। আরিয়ানা নামে আফগান বিমান সংস্থা চালু হলো ১৯৫৫ সালে। অর্ধেক বিশ্বের সাথে আফগানিস্তানের যোগাযোগ স্থাপিত হলো।
এর সবচেয়ে বিখ্যাত রুট ছিল কাবুল থেকে তেহরান, দামেস্ক, বৈরুত, আর আংকারা হয়ে জার্মানির ফ্রাংকফুর্ট। একে বলা হতো 'মার্কো পোলো রুট।'
যেসব আফগান শহর পার্বত্য এলাকা বা মরুভূমি দিয়ে বিচ্ছিন্ন ছিল - সেগুলো এখন নিয়মিত ফ্লাইট দিয়ে সংযুক্ত হলো। ১৯৬০-এর দশক থেকে জাভান্দুনে দেখা দিতে লাগলো বিজ্ঞাপন।
গাড়ি, ফ্রিজ, গুঁড়ো দুধ - এগুলোর দাম তখন ছিল বেশির ভাগ লোকেরই সাধ্যের বাইরে। কিন্তু অল্প কিছু লোকের জন্য এটা ছিল জীবনযাপনের ক্ষেত্রে একটা বিপ্লবের মতই পরিবর্তন - বিশেষ করে নারীদের জন্য। রাজা জহীরকে ১৯৭৩ সালে ক্ষমতাচ্যুত করেন তারই সম্পর্কীয় ভাই মোহাম্মদ দাউদ।
ঐতিহ্যের পরিবর্তন ঘটিয়ে তিনি নিজেকে রাজা নয়, বরং নতুন এক প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করলেন।
তিনি যখন কারখানা ও সেবাখাত গড়ে তোলার ওপর জোর দিলেন - তখন তারও প্রতিফলন ঘটলো জাভান্দুনের পাতায়। কিন্তু আফগানিস্তানে নানা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব চলছিল পর্দা অন্তরালে। ১৯৭৮ সালে একদল কমিউনিস্ট সেনা অফিসার দাউদ খানকে ক্ষমতাচ্যুত করেন।
আফগানিস্তনে এই বিদ্রোহের মধ্যে দিয়ে যে যুদ্ধের সূচনা হলো তার প্রতিক্রিয়া এখনো চলছে।
সোভিয়েত বাহিনী রাশিয়ায় ঢোকে ১৯৭৯ সালে । তার পর জাভান্দুনের পাতা থেকে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন উধাও হয়ে যায়।
তবে তার পরও জাভান্দুনে এক ভিন্ন ধরণের স্বপ্নের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছিল। হলিউডের সিনেমার জায়গা নিল সোভিয়েত সিনেমা। টেপ রেকর্ডার আর ফ্রিজের পরিবর্তে দেখা গেল কৃষি যন্ত্রপাতি।
আরো ছিল লেনিন আর জিমনাস্টিকসের ছবি। কিন্তু তার পরও যুক্তরাষ্ট্র আর সোভিয়েত ইউনিয়নের একটা জায়গায় মিল আছে। তা হলো উভয়েই একটা আধুনিক যুগের চিত্র তুলে ধরতো। তবে ১৯৯০এর দশকে সোভিয়েত বাহিনীর পরাজয়ের পর জাভান্দুন, কাবুল বা অন্য সব সাময়িকী বন্ধ হয়ে গেল।
লেখক, প্রকাশক, পাঠকদের অনেকেই দেশ ছেড়ে পালালেন। তালিবানের উত্থানের ফলে এরা কেউই আর দেশে ফেরেন নি।
তবে লাইব্রেরী এবং ব্যক্তিগত সংগ্রাহকরা এগুলোর কপি সযত্নে রক্ষা করেছেন।
এখন আর জাভান্দুনের কপি বিশেষ পাওয়া যায় না। মার্কিন লাইব্রেরি অব কংগ্রেস পাকিস্তান সীমান্ত এলাকা থেকে জাভান্দুনের একটি প্রায় সমপূর্ণ সেট উদ্ধার করে।
এগুলো এখন ডিজিটাল আকারে সংরক্ষণ করা হচ্ছে কার্নেগি করপোরেশনের সাথে অংশীদারিত্বে।
এগুলো এখন মার্কিন লাইব্রেরি অব কংগ্রেসের বিশ্ব ডিজিটাল লাইব্রেরির অংশ ।
তাদের সৌজন্যেই এ ছবিগুলো প্রকাশ করা হলো।
সূত্রঃ বিবিসি

মিশরের অভ্যন্তরে ইসরাইলের শতাধিক বিমান অভিযান! গোপন যুদ্ধসন্ধি!!

মিশরের সিনাই উপত্যকা ভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী নির্মূলে ব্যর্থ হয়ে প্রতিবেশী ইসরাইলের শরণাপন্ন হয় দেশটির সেনাবাহিনী। ইসরাইলও নিজ সীমান্তের অপরপাশে সৃষ্ট এই নিরাপত্তা হুমকি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল। তাই দেশটিও সানন্দে সাড়া দেয় মিশরের প্রস্তাবে। দুই পক্ষের যৌথ সম্মতিতে ইসরাইলের ড্রোন, হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান হামলা চালায় মিশরের অভ্যন্তরে সিনাই উপত্যকার জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান লক্ষ্য করে। ২০১৫ সাল থেকে মিশরের অভ্যন্তরে ইসরাইলের এমন বিমান অভিযানের সংখ্যা ছিল শতাধিক। এমন বিস্ফোরক খবর প্রকাশ করেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।
খবরে বলা হয়, দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ইসরাইলের চিহ্নবিহীন হেলিকপ্টার, ড্রোন ও যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে মিশরের অভ্যন্তরে। পুরো বিষয়টিতে পূর্ণ সায় ছিল মিশরের প্রেসিডেন্ট ফাতাহ আল সিসির।
এক সময় মিশর ও ইসরাইল ছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। দুই দেশ কমপক্ষে তিনটি যুদ্ধে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়েছে। তারপর শান্তি আলোচনার টেবিলেও মুখোমুখি ছিল দুই প্রতিবেশী। কিন্তু এখন মিশর ও ইসরাইল এক অভিন্ন শত্রু অর্থাৎ জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গোপন মিত্রতা গড়েছে। জড়িয়েছে এক গোপন যুদ্ধে। এতে লাভবান হয়েছে দু’ পক্ষই। ইসরাইলি হস্তক্ষেপের ফলে সিনাই উপত্যকায় ৫ বছর ধরে চলা জঙ্গি-বিরোধী অভিযানে প্রথমবারের মতো চালকের আসনে বসে মিশরের সেনাবাহিনী। অপরদিকে, বিমান হামলা চালিয়ে জঙ্গিদের নিশ্চিহ্ন করায় সুরক্ষিত হয়েছে ইসরাইলের সীমানা।
ইরান, জঙ্গি গোষ্ঠী আইসিস ও মুসলিম ব্রাদারহুডকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে ইসরাইল। ঠিক তেমনি অনেক আরব দেশও তাদেরকে শত্রু হিসেবে গণ্য করে। এই অভিন্ন শত্রুদের বিরুদ্ধে অনেক আরব দেশই এখন ইসরাইলের সঙ্গে গোপনে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলেছে। অথচ, আরব দেশগুলোর সরকারি কর্মকর্তা ও সংবাদ মাধ্যমে নিয়মিতই ইসরাইলের কড়া সমালোচনা করা হয়।
আমেরিকান কর্মকর্তারা বলছেন, ইসরাইলের এই ভূমিকার ফলে মিশরের সামরিক বাহিনী এখন জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ভালো অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু এই হস্তক্ষেপের অন্যরকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। বিশেষ করে, মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি আলোচনায়। কারণ, ইসরাইলি কর্মকর্তারা এখন মনে করেন, মিশর এখন খোদ নিজের ভূখন্ডের নিয়ন্ত্রণ ঠিক রাখতেও ইসরাইলের ওপর নির্ভরশীল। ফলে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনায় মিশরের কার্ড তেমন একটা নেই।
তবে মিশরের ভেতর ইসরাইলি বিমান অভিযানের খবর এবারই প্রথম এসেছে তা নয়। এর আগে বার্তাসংস্থা এপি জানিয়েছিল, সিনাই উপত্যকায় ইসরাইলি ড্রোনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫ জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে সেবার মিশর এই দাবি অস্বীকার করেছিল।
এই ঘটনার দুই বছর পর সিনাই উপত্যকার জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো ব্যাপক শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ততদিনে নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকশ’ সদস্য ও সেনা নিহত হয়েছে জঙ্গি হামলায়। ২০১৪ সালের নভেম্বরে এই জঙ্গিরা ইসলামিক স্টেটের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করে। পরের বছর জুলাইয়ে শেখ জুয়াইদ নামে একটি শহর সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য দখলে নেয় তারা। অক্টোবরের শেষের দিকে রাশিয়ার একটি চার্টার বিমান ভূপাতিত করে জঙ্গিরা। এতে নিহত হয় ২২৪ জন যাত্রী।
জঙ্গিদের ঠেকাতে যখন হিমশিম খাচ্ছিলেন সিসি, তখনই তিনি ইসরাইলের শরণাপন্ন হন।
মূলত, অভ্যন্তরীণভাবে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কায় বিষয়টি শুধু খুব অল্প ক’জন জেনারেলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেন সিসি। অপরদিকে ইসরাইলও সামরিক সেন্সরশিপের মাধ্যমে স্থানীয় গণমাধ্যমকে এই নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ থেকে বিরত রাখে। ২০১৬ সালে অবশ্য মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে, ইসরাইল মিশরের অভ্যন্তরে ড্রোন অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু নিউ ইয়র্ক টাইমসের এই প্রতিবেদনেই ইসরাইলের অভিযানের ব্যাপক আকারের বিস্তৃতি সম্পর্কে বিশদ ধারণা পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অভিযানের ফলে মিশরের উপকার হয়েছে বটে। তবে ইসরাইলের কাছ থেকে এই ধরণের সাহায্য নেওয়ায়, ফিলিস্তিন-ইসরাইল শান্তি আলোচনায় মিশরের ঐতিহ্যগত প্রভাব ও অবস্থান খর্ব হয়েছে। যেমন, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি জর্দানে এক গোপন বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে ছিলেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু, মিশরের প্রেসিডেন্ট সিসি ও জর্দানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ।
কেরি একটি চুক্তি প্রস্তাব করেন। চুক্তি অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিনিময়ে ইসরাইলের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেবে জর্দান ও মিশর। এই প্রস্তাব হেসেই উড়িয়ে দেন নেতানিয়াহু। উপহাসের সুরে তিনি বলেন, মিশর নিজের ভূখ-ই রক্ষা করতে পারছে না। মিশরের স্বার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। আর সেই মিশর দেবে ইসরাইলের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা?

ডাস্টবিনের গায়ে রঙিন জামা by সাদিকুর রহমান

শাহবাগ থানার সামনের ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে হাতও লাগে। কারণ নাক চেপে ধরতে হয় কষে। না হলে ডাস্টবিনের দুর্গন্ধ অনায়াসে ঢুকে পড়বে ফুসফুসে। তবে গতকাল এই ফুটপাতের পথচারীদের অবাকই করেছে। ময়লার দুর্গন্ধের পরিবর্তে সেখানে রঙের চেনা গন্ধ। নোংরা ডাস্টবিনের গায়ে ভেসে উঠছে ছবি।
গ্রাফিতিতে (দেয়ালচিত্র) রঙিন হয়ে উঠছে তা। ঢাকাসহ বিশ্বের ছয়টি শহরে ডাস্টবিন ও পরিত্যক্ত ভবনের দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকা হচ্ছে টেপোগ্রাফি অব নিউরোসিটি নামের প্রকল্পের মাধ্যমে। প্রকল্পটির প্রধান কিউরেটর স্যান্ডি ল বলেন, ঢাকার পাশাপাশি কুয়ালালামপুর, জাকার্তা, ব্যাংকক, তাইপে ও নমপেন শহরে এই প্রকল্প কাজ করছে। সবখানেই গ্রাফিতির মাধ্যমে নগরজীবনকে পুনঃ উপস্থাপন করা হচ্ছে। ঢাকার ডাস্টবিনে গ্রাফিতি আঁকছে বৃত্ত আর্ট ট্রাস্ট। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের আশপাশের ডাস্টবিনে গ্রাফিতি আঁকবেন সংগঠনটির ১৩ জন চিত্রশিল্পী। এই কার্যক্রম চলবে সোমবার পর্যন্ত। এর আগে ঢাকার দেয়ালে আঁকা সুবোধ সিরিজের দেয়ালচিত্রগুলো অনেকের দৃষ্টি কাড়ে। বিষয়টি নিয়ে দুই দফায় ‘সুবোধ কেন পালাবে’ এবং ‘এবার ভোরের অপেক্ষায় সুবোধ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে প্রথম আলো। শাহবাগ থানার সামনে বড় দুটি, ছোট একটি পরিবহনযোগ্য ডাস্টবিন আর তাদের ঘিরে রাখা স্টিলের বেড়ায় লেগেছে গ্রাফিতি। পেয়েছে নতুন রূপ। একটি ডাস্টবিনে ‘টেপলু চাঁদুই’ নামের গ্রাফিতি এঁকেছেন শিল্পী জুনায়িদ মোস্তফা। শিল্পী বললেন, ‘বাচ্চাদের অনেক সময় আমরা আদর করে এমন সব নামে ডাকি।
ডাস্টবিন আমাদের শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে ব্যবহৃত হয়। অথচ এর খেয়াল রাখার কেউ নেই। এ জন্য ডাস্টবিনকে আদর করে টেপলু চাঁদুই লেখা।’ আরেকটিতে আঁকা হয়েছে ‘পরি’ নামের গ্রাফিতি। যেন পরি তার জাদুর কাঠি দিয়ে পরিচ্ছন্ন রাখবে শহরকে। আরেকটি ডাস্টবিনের গায়ে আঁকা গ্রাফিতির নাম ‘গুডবাই ব্লু স্কাই (বিদায় নীল আকাশ)’। এতে দেখা যায়, ম্যানহোলের ভেতর থেকে একটি শিশু হাত উঁচু করে চিৎকার করছে। আঁকিয়ে পারভেজ হাসান বলেন, শহরে এখন আকাশ দেখা যায় না। শিশুরা ঘরবন্দী। ম্যানহোলকে ঘরের সঙ্গে তুলনা করে এই গ্রাফিতি আঁকা হয়েছে। শিল্পীদের আঁকা দেখছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শরিফ হোসেন। তাঁর উপলব্ধি, সব কটি ডাস্টবিনই যদি এমন রঙিন করা হয়, তাহলে শহরটাও রঙিন হয়ে উঠবে। ঢাকায় এই প্রকল্পের কিউরেটর মাহবুবুর রহমান বলেন, গ্রাফিতিগুলো এখন চারুকলার পাশে করা হচ্ছে। এটা দেখে শহরের অন্য অংশেও তা করা যায়।

বাংলাদেশ থেকে ওষুধ আমদানিতে আগ্রহী ভুটান

বাংলাদেশ থেকে বেশি পরিমাণে ওষুধ আমদানিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভুটান। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে বলেন, গুণগত মানের জন্য বাংলাদেশের ওষুধ ভুটানের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ভুটানের হেলথ ট্রাস্ট ফান্ডকে আগামী এক বছর বাংলাদেশ ওষুধ সরবরাহ করবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানান তোবগে।
তিনি বলেন, বছরভর ভুটানকে ওষুধ দেওয়ার সিদ্ধান্ত সে দেশের মানুষ কখনো ভুলবে না। ভুটানের জনগণ সারা জীবন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে। ভারতের গুয়াহাটিতে ‘অ্যাডভান্টেজ আসাম’ শীর্ষক বিনিয়োগ সম্মেলনে ফাঁকে বাংলাদেশের শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুকে এমনটাই জানান ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। তোবগের মতে, এই ওষুধ প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশের ওষুধ ভুটানিদের কাছে পরিচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে ওষুধ আমদানির ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা নেবে এই সিদ্ধান্ত। শুধু তা-ই নয়, বাংলাদেশের এই মানবিক সিদ্ধান্ত উভয় দেশের বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। আজ রোববার কলকাতা হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে আমু প্রথম আলোকে বলেন, ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। বিদ্যুৎ আমদানি নিয়েও কথা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী তোবগের সঙ্গে। আমু বলেন, ‘আমরা ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে আগ্রহের কথা জানিয়েছি। উনিও জানিয়েছেন, তাঁরাও বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন।’ দুদিনের এই বিনিয়োগ সম্মেলনের আজই শেষ দিন। বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল ছাড়াও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো এই সম্মেলনে অংশ নেয়। গতকাল শনিবার ‘অ্যাডভান্টেজ আসাম’-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ব্যবসা হচ্ছে

প্রথম আলো: ২০১৭ সালে আপনাদের ব্যবসা কেমন ছিল?
সুব্রত রঞ্জন দাস: আমাদের যা প্রত্যাশা ছিল, তার চেয়ে ব্যবসা ভালো হয়েছে। মোটরসাইকেল বিক্রিতে ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জনসহ গত বছর আমরা ৩৭টি ‘থ্রি-এস’ (সেলস, সার্ভিস, স্পেয়ার) সেন্টার বা কেন্দ্র চালু করেছি, লক্ষ্য ছিল ৩০টি। এসব কেন্দ্র থেকে মোটরসাইকেল কেনার পাশাপাশি গ্রাহকেরা বিক্রয়োত্তর সেবা নিতে ও যন্ত্রাংশ কিনতে পারবেন। ক্রেতার প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে দ্রুত সেবার বিস্তার ঘটানো হয়েছে।
প্রথম আলো: ইয়ামাহার কটি মডেলের মোটরসাইকেল এখন দেশের বাজারে আছে?
সুব্রত রঞ্জন দাস: বাংলাদেশে বর্তমানে ইয়ামাহার সাতটি মডেলের মোটরসাইকেল রয়েছে। এর মধ্যে ১৫০ সিসি ইঞ্জিন ক্ষমতার ৫টি ও ১২৫ সিসির ২টি। বছরের প্রথম মাসেই অর্থাৎ জানুয়ারিতে সব মডেলের দাম ৩ শতাংশ কমানো হয়েছে। ইয়ামাহার মোটরসাইকেলের সবচেয়ে বড় তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো—বিশ্বাসযোগ্যতা, আরাম ও ভারসাম্য। আমরাই প্রথম এ দেশে ফুয়েল ইনজেকশন প্রযুক্তির মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছি।
প্রথম আলো: জাপানি ব্র্যান্ড হলেও বাংলাদেশে বিক্রি হওয়া ইয়ামাহা মোটরসাইকেল আসে ভারত থেকে, এগুলোর মানও কী একই?
সুব্রত রঞ্জন দাস: মানুষ ইয়ামাহা পছন্দ করে মানের কারণে। ভারতে যে মোটরসাইকেল তৈরি হয়, তার মান সম্পূর্ণভাবে জাপানের ইয়ামাহা নিয়ন্ত্রণ করে। ভারত থেকে ইয়ামাহার মোটরসাইকেল শুধু বাংলাদেশেই নয়, অন্যান্য দেশেও রপ্তানি হয়।
প্রথম আলো: আপনাদের ব্যবসায় এখন বড় সমস্যা কী?
সুব্রত রঞ্জন দাস: সম্পূর্ণ তৈরি মোটরসাইকেল আমদানিতে সব মিলিয়ে ১৫১ শতাংশ কর দিতে হয়। এটা পুনর্বিবেচনা করার যথেষ্ট সুযোগ আছে। দেশে মোটরসাইকেলের উৎপাদন উৎসাহিত করতে গিয়ে আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক অনেক বেশি বাড়ানো হয়েছে। একটি ১৫০০ সিসি ইঞ্জিনক্ষমতার মোটরগাড়ি আমদানিতে শুল্ক দিতে হয় ১২০ শতাংশ, কিন্তু ১৫০ সিসির একটি মোটরসাইকেলের জন্য এই হার ৩০ শতাংশ বেশি। মোটরসাইকেল উৎপাদকদের সুরক্ষা দিতে আমদানির ক্ষেত্রে উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ যৌক্তিক নয়। ভারত মোটরসাইকেল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও সেখানে মোটরসাইকেল আমদানিতে শুল্ক ১১০ শতাংশ। একইভাবে বাংলাদেশে স্কুটার আমদানিতেও শুল্কহার অনেক বেশি, এটা কমিয়ে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ করা উচিত। নারীদের স্বচ্ছন্দে চলাফেরার জন্য স্কুটারের আমদানি শুল্ক অবশ্যই কমানো উচিত।
প্রথম আলো: মোটরসাইকেল আমদানির ক্ষেত্রে আপনারা কী চান?
সুব্রত রঞ্জন দাস: সংযোজিত বা পূর্ণাঙ্গ মোটরসাইকেল আমদানিতে শুল্কহার কমিয়ে ১১০ থেকে ১২০ শতাংশ করা উচিত। এতে তরুণদের আরও ভালো মোটরসাইকেল প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে। আশেপাশের দেশের তুলনায় আমরা অনেক কম মোটরসাইকেল ব্যবহার করি। এর মূল কারণ হলো দাম। শুধু ব্যবসা করাই এসিআইয়ের মতো একটি বৃহৎ কোম্পানির উদ্দেশ্য নয়, মানুষ যদি কম দামে মানসম্পন্ন মোটরসাইকেল পায়, তাহলে অনেক মানুষের উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এ জন্য সরকারের নীতিমালা ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্য একই থাকা উচিত।
প্রথম আলো: ইয়ামাহার প্রতিদ্বন্দ্বী হোন্ডাসহ আরও কয়েকটি ব্র্যান্ড দেশে মোটরসাইকেল উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু করছে। এ বিষয়ে আপনাদের চিন্তাভাবনা কী?
সুব্রত রঞ্জন দাস:  ইয়ামাহা যেসব মোটরসাইকেল বাংলাদেশে বিক্রি করে এগুলো উচ্চ প্রযুক্তির। এ ধরনের উচ্চ প্রযুক্তির মোটরসাইকেল বাংলাদেশে তৈরি করতে অনেক সময় লাগবে। মোটরসাইকেল উৎপাদনের একটি বড় বিষয় হলো সরবরাহ ব্যবস্থা। হোন্ডা বা ইয়ামাহা বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উৎপাদনে অনেকের ওপর নির্ভরশীল, এ দিকটি বাংলাদেশে এখনো উন্নত হয়নি। প্রকৃত অর্থে উৎপাদন বলতে যা বোঝায়, সেটি এখনো হচ্ছে না।
প্রথম আলো: এসিআই বাংলাদেশে একটি প্রতিষ্ঠিত নাম। আপনারা ইয়ামাহার সঙ্গে যৌথভাবে এমন কিছু কী করতে পারেন না?
সুব্রত রঞ্জন দাস: ইয়ামাহা যে মানের মোটরসাইকেল বিক্রি করে, সেটার সরবরাহ ব্যবস্থা পাঁচ বছরে তৈরি করা কঠিন। উৎপাদন করার ঘোষণা দিয়ে আমরা কর ছাড়ের সুযোগ নিতে চাই না। আমরা চাই, মোটরসাইকেল উৎপাদক ও আমদানিকারকদের মধ্যে একটা ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করা হোক।
প্রথম আলো: ইয়ামাহা নিয়ে এসিআই মোটরসের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
সুব্রত রঞ্জন দাস: উচ্চ প্রযুক্তির মোটরসাইকেল শ্রেণিতে আমরা ১ নম্বর অবস্থান ধরে রাখতে চাই। এ জন্য সর্বোচ্চ মানের পণ্য ও সেবা গ্রাহককে দিতে চাই।

আরও একটি পদত্যাগ by কামাল আহমেদ

আড়াই মাসেরও বেশি সময়ে দেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদের শূন্যতা পূরণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ২ ফেব্রুয়ারি তিনি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করেছেন। ১২ নভেম্বর সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা সরকারের অদৃশ্য চাপের মুখে পদত্যাগ করলে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞাকে এক মাসের জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিয়োগের কথা ঘোষণা করে রাষ্ট্রপতি প্রজ্ঞাপন জারি করেন। প্রজ্ঞাপনের সময় পার হওয়ার পরও প্রায় তিন মাস বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞা ওই দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন। একটানা প্রায় ১১ সপ্তাহ ও তার আগে এস কে সিনহা ছুটিতে থাকার মাসাধিককাল তিনি ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও প্রধান বিচারপতি পদে তাঁকে নিয়োগ করা হয়নি। অতঃপর বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞা পদত্যাগ করেছেন। এস কে সিনহার অস্বাভাবিক বিদায়কে ঘিরে বিতর্কের পটভূমিতে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে আনার লক্ষ্যে প্রণীত ষোড়শ সংশোধনী অসাংবিধানিক ও বাতিলের রায়। শাসক দল ওই রায়ের পর তৎকালীন প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনে। আর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠতে থাকে। তিনি নিজে সুস্থ দাবি করলেও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি অসুস্থতার কারণে ছুটির আবেদন করেছেন। আইনমন্ত্রী সেটি সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করেন। এরপর তাঁকে আর এজলাসে বসতে দেওয়া হয়নি। নভেম্বরের প্রথমার্ধে তিনি বিদেশ থেকে পদত্যাগপত্র পাঠান। কিন্তু সেটি প্রকাশ করা হয়নি। পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হলেও নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগের জন্য বিচারপতি সিনহার মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয়। বিচারপতি সিনহার স্বাভাবিক মেয়াদ ছিল ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করতে হলে পদত্যাগের কারণ প্রকাশ করার প্রশ্ন ওঠে। আমরা জানি না, কী কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করেছেন। দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে আইনত তার তদন্ত ও বিচার হওয়ার কথা। কিন্তু সে রকম কিছু হয়নি। সরকার-সমর্থকদের দাবিই যদি তাঁর পদত্যাগের কারণ হয়ে থাকে, তাহলে কোনো বিচারপতির চাকরিই নিরাপদ নয়। সুতরাং, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের ঘটনাটির আসল সত্যটি প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর পদত্যাগপত্রটি প্রকাশ করা উচিত। আদতেই তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে, নাকি এই সময়টিকে ছুটি হিসেবে দেখানো হচ্ছে, এমন প্রশ্ন অযৌক্তিক নয়। সংবিধানে বলা আছে, প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করবেন রাষ্ট্রপতি। কিন্তু গত প্রায় তিন মাসেও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতি সময় পাননি, এমনটি মনে করার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। কারণ আমরা জানি, এই সময়কালের মধ্যে তিনি সুপ্রিম কোর্ট দিবস উদ্যাপনের অনুষ্ঠান এবং অধস্তন আদালতের বিচারকদের একটি সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে অন্তত দুটি সম্ভাবনার কথা উঠতে পারে। প্রথমত, সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহা তাঁর পদত্যাগপত্রে পদত্যাগের যে কারণ লিখেছেন, তা প্রকাশ করা সরকারের জন্য এতটাই বিব্রতকর যে তা এড়ানোর জন্য প্রায় তিন মাস একটি সাংবিধানিক পদ শূন্য রাখতেও তাঁরা দ্বিধান্বিত হননি। দ্বিতীয়ত, বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞাকে প্রধান বিচারপতি করা সরকারের জন্য ঝুঁকির বিষয় হতে পারে, এমন আশঙ্কায় তাঁকে ওই পদের জন্য নাকচ করার সিদ্ধান্ত শুরুতেই নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকারের এ বিষয়টিও জানা ছিল যে তাঁকে বাদ দিয়ে জ্যেষ্ঠতায় তাঁর পরে থাকা অন্য কাউকে নিয়োগ করা হলে তিনিও পদত্যাগ করবেন। বিচারপতি সিনহার পদত্যাগের পরপরই আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতির পদত্যাগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলত। সুতরাং, পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করা ও নিয়ন্ত্রণে আনার জন্যই এই সময়ক্ষেপণের প্রয়োজন ছিল।
রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো প্রধান বিচারপতির ছুটির আবেদন সাংবিধানিক পদধারীদের ব্যক্তিগত যোগাযোগের বিষয় হওয়ার পরও তা প্রকাশ করায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেককে উৎসাহী হতে দেখা গেলেও নতুন নিয়োগের বিষয়টিকে খুব সহজেই রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার বলে এড়ানো হয়েছে। বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞার পদত্যাগের খবরে অনেকে কিছুটা নির্দয় প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন। তাঁদের ভাষ্য হচ্ছে, বিচারপতি সিনহার বিদায়পর্বে তিনি সরকারের কথিত চাপের কাছে নতিস্বীকার করেছেন। বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে কথিত দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর তা নিয়ে তাঁদের দেওয়া রায় অনুসরণ করে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে বিষয়টি তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পথে তাঁরা কেন গেলেন না, সেই প্রশ্ন আবার ফিরে এসেছে। বিচারপতি সিনহাকে বয়কটের সিদ্ধান্তকে স্বাভাবিক হিসেবে মানতে না পারায় এঁরা সামাজিক মাধ্যমে তাঁদের মন্তব্যে বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞার পরিণতিকে প্রাকৃতিক বিচার বলে অভিহিত করেছেন। তবে বিষয়টিকে অন্যভাবেও দেখা যায়। কেননা, এ ধরনের পদত্যাগ কিন্তু সরকারের খেয়ালখুশিমূলক আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। আমাদের এ কথাটিও স্মরণে রাখা প্রয়োজন যে অনেক অজানা ঘটনারই সাক্ষী তিনি, যা ভবিষ্যতে কাজে এলেও আসতে পারে। বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায়দানকারী আপিল বিভাগের সাতজন বিচারপতির তিনজনেরই বিদায় ঘটল। রায়টি সর্বসম্মত হলেও বিচারপতি নাজমুন আরা ছাড়া প্রত্যেকেই আলাদাভাবে নিজ নিজ সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন। এ ক্ষেত্রে নতুন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের বিশ্লেষণ, দেশ-বিদেশের আইনি সিদ্ধান্তের দৃষ্টান্তের উল্লেখ এবং আইনগত ব্যাখ্যা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর উল্লেখ করা দৃষ্টান্তগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রধান বিচারপতি শিরানি বন্দরনায়েকের কথাও আছে। শিরানি বন্দরনায়েকেকে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষের সমর্থক সাংসদেরা দুর্নীতির অপবাদ দিয়ে অভিশংসন করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষের ক্ষমতা কেন্দ্রীকরণের কিছু পদক্ষেপ অসাংবিধানিক ঘোষণার কারণেই বিচারপতি শিরানির বিরুদ্ধে ওই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু নতুন যাঁকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা হয়েছিল, তাঁকে আইনজীবীরা বয়কট করেন এবং নির্বাচনে সরকার বদলের পর নতুন প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা প্রধান বিচারপতি পদে শিরানি বন্দরনায়েকেকে ফিরিয়ে আনেন। সরকারের কর্তৃত্বপরায়ণ হয়ে ওঠার বিরুদ্ধে বিচার বিভাগের এই লড়াইয়ের দৃষ্টান্তের সঙ্গে বাংলাদেশের যথেষ্ট মিল থাকলেও এখানে পরিণতিটা একেবারেই আলাদা। সুপ্রিম কোর্টের এই পরিবর্তনের পর এখন আমাদের অপেক্ষার পালা। ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে রিভিউর আবেদন করা হয়েছে, যা নিয়ে ভবিষ্যতে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। তবে সেই শুনানি কি আপিল বিভাগের রায় প্রদানকারী বিচারপতিদের অবশিষ্ট চারজনই করবেন, নাকি তাতে ভবিষ্যতে আপিল বিভাগে নিয়োগ পাবেন, এমন বিচারপতিরাও যুক্ত হবেন? সম্প্রসারিত বেঞ্চে শুনানি হলে নতুন কারা আপিল বিভাগে যাবেন, সেদিকেও আগ্রহী সবার নজর থাকবে, সন্দেহ নেই। আমরা ইতিমধ্যে অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির প্রশ্নে আপিল বিভাগেই অতীতের সিদ্ধান্ত বদল হতে দেখেছি। বিচার বিভাগের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে জনমনে অনেক প্রশ্নের উদ্ভব হয়েছে। উদ্বেগ গভীর থেকে গভীরতর হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ছাড়া আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অসম্ভব বলেই এই উদ্বেগ। নতুন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সামনে তাই চ্যালেঞ্জটা অনেক বড়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা তাঁর সাফল্যই কামনা করি।
কামাল আহমেদ সাংবাদিক

তৃণমূলে একটি নীরব নির্বাচন by তোফায়েল আহমেদ

নির্বাচন এ দেশে কখনো কোনো নীরব বা নিভৃতের ঘটনা নয়। সেই নির্বাচন পাড়ার ক্লাব-সমিতি, মসজিদ, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কবরস্থান, হাটবাজার কমিটি, শহরের মহল্লা, সেক্টর, ব্লক যা-ই হোক। আর তা যদি আবার স্থানীয় সরকার তথা ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা পরিষদ কিংবা পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ইত্যাদি হয়, তাহলে তো বিষয়টি একেবারে মহা তোলপাড় সৃষ্টিকারী ঘটনা। আমরা বাংলাদেশের মানুষ গণতান্ত্রিক হওয়ার জন্য প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে প্রতিদিন ভোট ও জাতীয় নির্বাচনের কথা একাধিকবার স্মরণ করি। না চাইলেও তা শুনতে হয়, আমাদের রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা ও গণমাধ্যম আমাদের শুনতে বাধ্য করে। এ রকম ‘নির্বাচনপাগল’ একটি জাতি জানুয়ারি ২৯,২০১৮-এ অনুষ্ঠিত একটি নির্বাচন সম্পর্কে ছিল পুরোপুরি গাফেল ও বিস্মৃত। ওই দিন ছিল নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী দেশব্যাপী চতুর্থ উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত নারী আসনের (৫৫টি জেলায়) নির্বাচন। সারা দেশে ছিল না কোনো পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার; গণমাধ্যমে ছিল না কোনো সংবাদ, প্রতিবেদন, টক শো; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, টুইটার কোথাও কোনো আলোচনা ছিল না। অথচ দেশে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে দেশি-বিদেশি অনুদানে কাজ করছে কত শত নারী সংগঠন, সুশীল সমাজ ও এনজিও। তৃণমূল পর্যায়ের নারী নেতৃত্বের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে তৈরি করা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসর উপজেলা পরিষদে জাতীয়ভিত্তিক একটি নির্বাচন, এই নির্বাচন নিয়ে কারও কোনো আগ্রহই দেখা গেল না। নীরবে-নিভৃতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীনভাবে এই নির্বাচন একধরনের ‘ফলবিহীন’ ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল। বেখবর ও গাফেল থাকল দেশের মহান নারী নেতৃত্ব এবং সব রাজনীতিসচেতন অতিজন (elite) শ্রেণি। দেশে ১১টি সিটি করপোরেশন, ৩২৭টি পৌরসভা ছাড়াও ৬১টি জেলা পরিষদ, ৩৯১টি উপজেলা পরিষদ ও ৪ হাজার ৫২৯টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এই সব কটি পরিষদে এক-তৃতীয়াংশ সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে, যেখানে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করে নারী প্রতিনিধিরা পরিষদসমূহে পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। উপজেলা পরিষদ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মধ্যম স্তরের স্থানীয় সরকার পরিষদ। এই পরিষদের এক-তৃতীয়াংশ সংরক্ষিত নারী প্রতিনিধির আসনসমূহ পূরণের ক্ষেত্রে সর্বত্রই একটি অবজ্ঞা, অবহেলা কিংবা অব্যবস্থাপনার চিত্র এই নির্বাচনের মাধ্যমে নতুনভাবে প্রকাশ পেল। ২০০৯ সালে তৃতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ওই পরিষদে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৫ সালের জুন মাসে। ২০১৬ সালের মার্চ-জুন সময়ের মধ্যে যেহেতু পুনরায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এবং একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তাই এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই নবনির্বাচিত উপজেলা পরিষদের নারী সদস্যদের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। বর্তমানে চতুর্থ উপজেলা পরিষদের কার্যকাল শেষ হবে ২০১৯-এর ফেব্রুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে।
সে হিসাবে নারী সদস্যদের প্রতিনিধিত্ববিহীনভাবে এই পরিষদের প্রায় চার বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেল। তৃতীয় ও চতুর্থ উপজেলা পরিষদে এভাবে নারী প্রতিনিধিরা তাঁদের সুযোগ হারালেন। তাতে উপজেলা পরিষদ আইন ও সংবিধান লঙ্ঘিত হলো এবং নারীদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হলো। গত ২৯ জানুয়ারি যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো, তা আরেকটি ন্যক্কারজনক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করল। মোট ১ হাজার ৪৯৬টি শূন্যপদের মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১ হাজার ৫টি আসনে (৬৭ শতাংশ) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। অন্যদিকে ২৩২টি (১৫ শতাংশ) আসনে কোনো মনোনয়নপত্রই জমা পড়েনি। ভোট গ্রহণ স্থগিত থাকে ৫৯টি আসনে। বাংলাদেশ তথা বিশ্বের বুকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাবিহীন এবং মনোনয়নপত্রবিহীন নির্বাচনের আরও একটি নতুন নজির স্থাপিত হলো ২৯ জানুয়ারি। প্রশ্ন, এটি কেন হলো এবং কীভাবে এই অবস্থা থেকে আমরা বের হয়ে আসব? প্রথমত, অংশগ্রহণবিহীন এই নির্বাচনের প্রধান কারণ কোনো রকম প্রচার ও প্রচারণা না থাকা। বর্তমানে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পরিষদগুলোর বেশির ভাগই সরকারি দলের করায়ত্তে। তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা চায়নি। দ্বিতীয়ত, এই পদে নির্বাচিত হওয়ার পর উপজেলা পরিষদে দায়িত্ব পালনের জন্য তাঁদের কোনোরূপ আর্থিক সহায়তা করা হয় না। তৃতীয়ত, তাঁদের মেয়াদকালের অর্ধেকের বেশি ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। তাতে নির্বাচন করার আগ্রহ স্বাভাবিকভাবেই কম হওয়ার কথা। চতুর্থত, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, ইউএনওসহ সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক দলসমূহ বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভেবে প্রচার-প্রচারণা করেনি। পঞ্চমত, শহরকেন্দ্রিক নাগরিক সমাজের সংগঠন, নারী সংগঠন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ও স্থানীয় সরকারের নানা প্রকল্পের বোধ হয় এ বিষয়ে কারও দান-অনুদান ছিল না। তাই তারাও কোনো প্রকার প্রচারণার বা আদৌ এ রকম একটি নির্বাচন পেন্ডিং ছিল বা এখন হতে যাচ্ছে, সে সম্পর্কে কোনো খোঁজখবর রাখেনি। ভবিষ্যতে কী করা দরকার, সে সম্পর্কে বলতে গেলে প্রথমে বলতে হয় আমাদের দেশে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের নির্বাচনব্যবস্থার একীভূত বা সমন্বিত কোনো রূপ নেই, নেই কোনো একটি সুনির্দিষ্ট সময়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সময় আলাদা, আলাদা তাদের সাংগঠনিক কাঠামো। ইউনিয়ন নির্বাচনের সঙ্গে উপজেলা নির্বাচনের কোনো মিল নেই। আবার জেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাঁচের। আমাদের স্থানীয় সরকারের আইন ও সাংগঠনিক কাঠামোর ব্যাপক সংস্কার দীর্ঘদিনের ফেলে রাখা বিষয়। এই সংস্কারের মধ্যে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, পৌরসভা, সিটি করপোরেশনসহ সব প্রতিষ্ঠানকে একই ধরনের কাঠামোয় প্রতিস্থাপিত করা সম্ভব এবং একই তফসিলে একই দিনে অত্যন্ত সাশ্রয়ীভাবে সব নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব। এ বিষয়ে আমরা কিছু সুপারিশ প্রণয়ন করেছি এবং রিফর্ম অ্যাজেন্ডা ফর লোকাল গভর্ন্যান্স শিরোনামে প্রথমা প্রকাশন তা ২০১৬ সালে প্রকাশ করেছে। বড় সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান আইনের অধীনেও সুষ্ঠুভাবে এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ভবিষ্যতে অনুরোধ করব। ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের তফসিলের সঙ্গে একই তফসিলে উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হতে পারে। মূল নির্বাচনের প্রার্থীদের শপথ গ্রহণের পরপরই এই নির্বাচনের তফসিল কার্যকর হলে তাঁরা পূর্ণাঙ্গ একটি মেয়াদে উপজেলায় দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
তোফায়েল আহমেদ রাজনীতি ও লোকপ্রশাসনের অধ্যাপক এবং স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ
Tofail101@gmail.com

ইসরায়েলের হাজারো গুপ্তহত্যার গুমর ফাঁস by মারুফ মল্লিক

প্রতিপক্ষকে চিহ্নিত করো। এরপর তাকে নিশ্চিহ্ন করে দাও। প্রয়োজনে গুপ্তহত্যা করেও। প্রাচীন কূটনীতির জনক কৌটিল্যের এই পরামর্শ ছিল ভারতের মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রতি। চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ছিলেন কৌটিল্যের ছাত্র। কৌটিল্যের কাছে রাষ্ট্র পরিচালনার তাত্ত্বিক দীক্ষা নিয়েছিলেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
তিনি গুরুর পরামর্শ মেনে সম্ভাব্য শত্রুদের হত্যা করেছিলেন বলে ইতিহাসে জানা যায়। ইতিহাস এমনও জানা যায়, মহাবীর আলেক্সান্ডারের দুই জেনারেল নিকানর ও ফিলিপকে হত্যা করেছিলেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের চর। আলেক্সান্ডার তখন বিপাশা নদীর অন্য পারে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের সামরিক শক্তি মাপায় ব্যস্ত ছিলেন। বোঝাই যাচ্ছে, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করায় গুপ্তহত্যা অতি প্রাচীন চর্চা। এবং এই নীতি সময় থেকে সময়ে রাষ্ট্র থেকে রাষ্ট্রে স্থানান্তরিত হয়েছে। তবে নিকট অতীতে সম্ভবত সবচেয়ে বেশি গুপ্তহত্যা ঘটিয়েছে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ, যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ এবং গত শতকে ভেঙে যাওয়া সোভিয়েত ইউনিয়নের কেজিবি। ইসরায়েলের গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলনের ফাতাহ ও হামাসের নেতা-কর্মীরা। শুধু তা-ই নয়, বন্ধুরাষ্ট্রের যেসব নীতিনির্ধারককে ইসরায়েল নিজের স্বার্থের পরিপন্থী বলে মনে করেছে, তাঁরাও ইসরায়েলের নির্মম টার্গেট কিলিং নীতির শিকার হয়েছেন। মিসর, ইরাকসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রকে সামরিক সহায়তা করা ঠেকাতে জার্মানি, উরুগুয়ে, কানাডার নাগরিকদেরও ইসরায়েলি গোয়েন্দারা হত্যা করেছে। সম্প্রতি ইসরায়েলের ইয়েদিওত আহারনত পত্রিকার ইন্টেলিজেন্স করেসপনডেন্ট রনেন বার্গম্যান তাঁর ‘রাইজ অ্যান্ড কিল ফার্স্ট: দ্য সিক্রেট হিস্ট্রি অব ইসরায়েলস টার্গেটেড অ্যাসাসিনেশনস’ বইয়ে ইসরায়েলের গত ৭০ বছরে অবৈধ দখলদারত্ব টিকিয়ে রাখার পথে যেসব গুপ্ত ও টার্গেট কিলিং সম্পন্ন করেছে, তার বিবরণ দিয়েছেন। এই বইয়ে বার্গম্যান জানান, প্রতিষ্ঠার পর ২ হাজার ৭০০ জনকে ইসরায়েল রাষ্ট্র হত্যা করেছে। তাঁদের বেশির ভাগই ছিলেন ফিলিস্তিনের ইন্তিফাদা আন্দোলনের প্রথম সারির নেতা। এর মধ্যে পিএলও নেতা ইয়াসির আরাফাতও রয়েছেন। তাঁকে বিষাক্ত তেজস্ক্রিয় পদার্থ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয় বলে বার্গম্যান উল্লেখ করেছেন। এই বই লেখার জন্য বার্গম্যান ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ, শিন বেত ও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার এক হাজারের বেশি কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। বই প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বাধার মুখেও পড়েছেন। তাঁকে বলা হয়েছিল, এই ধরনের গবেষণা ইসরায়েলের নিরাপত্তার ক্ষতির কারণ হতে পারে।
তবে বার্গম্যান থেমে যাননি। তিনি বইটি প্রকাশ করেছেন এবং ইসরায়েলের টার্গেট কিলিংয়ের আদ্যোপান্ত তুলে ধরেছেন। যত দূর জানা যায়, ১৯৫৬ সালের মিসরের লে. কর্নেল মোস্তফা হাফেজকে পার্সেল বোমা পাঠিয়ে হত্যা করে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা। মোস্তফা হাফেজ ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুদের মধ্য থেকে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের বাছাই করতেন। গুপ্তহত্যার বড় ধরনের অভিযান ইসরায়েলিরা পরিচালনা করে ১৯৭২ সালে মিউনিখ অলিম্পিকে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে। মিউনিখ অলিম্পিক ভিলেজে হামলা করে ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের অ্যাথলেটদের জিম্মি করে। ইসরায়েলি কমান্ডোরা তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করলেও কাউকেই আটক করতে পারেনি। পরে দীর্ঘ সময় নিয়ে ওই হামলায় অংশ নেওয়া সবাইকে বৈরুত, প্যারিস, অসলো ও যুক্তরাষ্ট্রে হত্যা করে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা। এর মধ্যে বৈরুতে হামলা করে ১৯৭৩ সালের ৯ এপ্রিল। ওই সময় পিএলওর শীর্ষস্থানীয় কয়েক নেতাকে হত্যা করে তারা। ১৯৮৮ সালে তিউনিসে হত্যা করা হয় ফাতাহ আন্দোলনের নেতা আবু জিহাদকে। লিবিয়া থেকে সিরিয়ায় যাওয়ার পথে ১৯৯৫ সালের মাল্টার ডিপ্লোম্যাট হোটেলের সামনে ফাতিহ সাকিকিকে গুলি করে হত্যা করে মোসাদের সদস্যরা। ছদ্মনাম ড. ইব্রাহিম ধারণ করে বিভিন্ন দেশে আনাগোনা করতেন সাকিকি। কিন্তু মোসাদের গোয়েন্দাদের ফাঁকি দিতে পারেননি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী আইজ্যাক রাবিন নিহত হওয়ার পর হামাসের বোমা স্কোয়াডের সদস্য ইয়াহইয়া আয়েশের খোঁজে ছিল ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত। ১৯৯৬ সালে তাঁকে গাজায় হত্যা করা হয়। আয়েশকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য বন্ধুর চাচা কামিল হামাদকে এক মিলিয়ন ডলার, ভুয়া ইসরায়েলি পাসপোর্ট ও মার্কিন ভিসা জোগাড় করে দেওয়া হয়। আয়েশকে হত্যার কিছুদিন পরেই চারটি আত্মঘাতী হামলা করে ৬০ জন ইসরায়েলিকে হত্যা করে হামাস। হামাস নেতা খালেদ মেশালকেও কয়েকবার হত্যার চেষ্টা করেছিল ইসরায়েলি গোয়েন্দারা। একবার জর্ডানে তাঁর ওপর বিষও প্রয়োগ করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত মেশাল বেঁচে যান। ইসরায়েলি বন্দিবিনিময়ের জটিল এক খেলায় ইসরায়েলিদের কাছ থেকে সেই বিষনিরোধক ওষুধ আনিয়ে মেশালের জীবন বাঁচানো হয়। খোদ মোসাদের প্রধান ড্যানি ইয়াটম ওই ওষুধ বহন করে নিয়ে যান আম্মানে। তবে ২০০৪ সালে হত্যা করা হয় খালেদ মেশালসহ অনেক হামাস নেতার তাত্ত্বিক গুরু শেখ আহমেদ ইয়াসিনকে। ওপরে উল্লেখিত ব্যক্তিদের ছাড়াও ফিলিস্তিন মুক্তি আন্দোলনের বড় বড় রাজনৈতিক ও সামরিক নেতার কমবেশি সবাই ইসরায়েলের গুপ্তহত্যা ও টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া সাতজন ইরানি বিজ্ঞানীকে হত্যা করে মোসাদের গোয়েন্দারা। কারণ, ইসরায়েলের নীতিনির্ধারকেরা মনে করেন, ইরানের সামরিক শক্তি ভবিষ্যতে ইসরায়েল রাষ্ট্রের টিকে থাকা ও সম্প্রসারণে মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। বার্গম্যান প্রশ্ন তুলেছেন টার্গেট কিলিংয়ের নৈতিক ও আইনগত ভিত্তি নিয়ে। মজার বিষয় হচ্ছে, যে দেশে দাঁড়িয়ে বার্গম্যান নৈতিকতা ও আইনের প্রশ্ন তুলেছেন, সেই রাষ্ট্রেরই নৈতিক ও আইনগত ভিত্তি নেই।
কারণ, দখলদারদের কোনো আইনগত ও নৈতিক ভিত্তি থাকে না। অবশ্য কেউ যদি রাজনৈতিক বাস্তববাদের কঠিন অনুসারী হয়ে থাকেন, তবে ভিন্ন কথা। কারণ, বাস্তববাদে রাষ্ট্রকে টিকে থাকার জন্য যা খুশি তা করার অধিকার দেওয়া হয়েছে। এবং রাষ্ট্র টিকে থাকার জন্য যা করবে, তা-ই যৌক্তিক। ইসরায়েল কেন বেছে বেছে প্রতিপক্ষের লোকজনকে হত্যা করছে? কেনইবা হত্যার নীতি অবলম্বন করে টিকে থাকতে চাইছে? বার্গম্যানের বই থেকে আমরা জানতে পারি, ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রাচীন ‘তালমুদ’ উপদেশে অনুপ্রাণিত হয়েই বেছে বেছে প্রতিপক্ষকে হত্যা করা হয়েছে। এবং হত্যাকারীদের মধ্যে অনুশোচনাও নেই। তালমুদ অনুসারে কেউ যদি তোমাকে হত্যা করতে আসে, তবে নিজেকে তৈরি করে প্রতিপক্ষকে হত্যা করো। কিন্তু এখানে বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে, ইসরায়েল রাষ্ট্র নিজেই অবৈধ দখলদার এবং তারা অসংখ্য নিরীহ ফিলিস্তিনিদের হত্যা করেছে। তাই তাদের এই আত্মরক্ষার্থে তালমুদের বাণীর ব্যবহার এক বড় ধরনের ভাঁওতাবাজি। ইসরায়েলিদের কেউ হত্যা করতে আসেনি। বরং জায়নবাদীরা রক্তের সাগরে ভেলা ভাসিয়ে ঈশ্বরের প্রতিশ্রুত ভূমি দখলের স্বপ্নে বিভোর, ফিলিস্তিনিরা তার প্রতিরোধ করতে চাইছে মাত্র। রক্ত কিন্তু উভয় পক্ষেই ঝরছে। এবং রক্ত ঝরার ক্ষেত্র বিস্তৃত হতে পারে। সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের ক্ষেত্র আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া থেকে কত দূর বিস্তৃত হয়েছে, ইউরোপ ও আমেরিকা সেটা ভালোই টের পাচ্ছে। বার্গম্যানের বই সেই রক্তঝরার ইতিহাসকেই সামনে তুলে এনেছে। ইসরায়েলের এই গুপ্তহত্যা ও টার্গেট কিলিংয়ের কথা বিভিন্নভাবেই বলা হচ্ছিল। ইসরায়েল ও তার সমর্থকেরা কখনোই এটিকে স্বীকার করেনি; বরং ইসরায়েল ও তার সারথিরা ফিলিস্তিনের হামাস, ফাতাহ, পিএলওকে সন্ত্রাসবাদী বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ছাড়েনি। ইসরায়েলের গুপ্তহত্যা ও টার্গেট কিলিংকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই বলে জায়েজ করার চেষ্টা করেন অনেকে। তবে কোনটি সন্ত্রাসবাদ আর কোনটি মুক্তি আন্দোলন, তা নির্ধারণ করতে হবে। এটি তেমন কঠিন কিছু নয়। এর জন্য দরকার বিবেক ও বুদ্ধির সঠিক প্রয়োগ। বার্গম্যানের বই যে রাতারাতি ইসরায়েল ও তার সারথিদের অবস্থানের পরিবর্তন করবে, তা নয়। তবে ফিলিস্তিন নিয়ে অন্যদের ভাবনার পরিবর্তনে সহায়তা করবে।
ড. মারুফ মল্লিক: রিসার্চ ফেলো, সেন্টার ফর কনটেমপোরারি কনসার্নস, জার্মানি

দাভোস-পরবর্তী বিষাদ by জোসেফ ই স্টিগলিৎস

বিশ্বের চলমান গুরুতর সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোচনা করতে তথাকথিত বৈশ্বিক এলিট শ্রেণি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ১৯৯৫ সাল থেকে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলন করে আসছে। আমি সেখানে প্রতিবারই হাজির থাকি। কিন্তু এবারের মতো অন্য কোনোবারই এত ভগ্নহৃদয় নিয়ে আমাকে সেখান থেকে ফিরতে হয়নি। ‘দুরারোগ্য’ নানা সমস্যা এমনিতেই বিশ্বকে পর্যুদস্ত করে ফেলেছে।
সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশগুলোতে বৈষম্য ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। বহু সুবিধা নিশ্চিত করলেও ডিজিটাল বিপ্লব নানা সমস্যাও তৈরি করেছে। বিশেষত ফেসবুক, গুগলসহ হাতে গোনা কয়েকটি একচ্ছত্র প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান আমেরিকান ও চীনা শক্তি নিয়ন্ত্রণ করায় ব্যক্তিগত নিভৃতি, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও গণতন্ত্র এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোর নীতির কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিও অস্তিত্বগত হুমকির মুখে পড়ে গেছে। এসব সমস্যা যতটা না আমাদের হৃদয়যন্ত্রণার কারণ হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি হয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিক্রিয়ায়। দাভোসে প্রতিবছরই বিশ্বের বিভিন্ন বড় দেশ থেকে আসা সম্মানিত সিইওরা তাঁদের ভাষণ শুরু করেন নৈতিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। তাঁরা ভালো ভালো কথা বলেন। অনেক আশার কথা শোনান। তাঁরা ঘোষণা করেন, তাঁরা নেহাত অংশীদারদের মুনাফা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ব্যবসা করেন না; বরং তাঁদের কর্মীদের কর্মপরিবেশ এবং কর্মীরা যে সমাজভুক্ত, সেই সমাজের উন্নয়ন মাথায় রেখে কাজ করেন। এতে সাধারণভাবে সারা বিশ্ব উন্নতির পথে ধাবিত হয়। দায়সারা মুখের কথা হলেও জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈষম্য নিয়ে তাঁরা কিছু বলেন। কিন্তু এ বছরের দাভোসের ভাষণে সিইওদের মুখে সেই নীতিনৈতিকতার মুখস্থ কথাগুলোও শোনা গেল না। এ বিষয়ে তাঁরা মুখে কুলুপ এঁটে থাকলেন। এ বছর দাভোসে যেসব সিইও ভাষণ দিলেন, তাঁদের একজনকেও আমি সম্মেলনস্থলে উপস্থিত থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গোঁড়ামি, নারীবিদ্বেষ কিংবা বর্ণবাদ নিয়ে কিছু বলতে শুনিনি। হঠকারী কথাবার্তা, ধারাবাহিক মিথ্যার চর্চা এবং বিদ্বেষসূচক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ট্রাম্প শুধু আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদকেই কলঙ্কিত করেননি, বরং তিনি বিশ্বের কাছে যুক্তরাষ্ট্রকে হেয় করলেন-এই সত্য কথাটা একজন সিইও একবারও উচ্চারণ করেননি। সত্য তুলে ধরার স্বার্থে তাঁদের কেউই ট্রাম্পের প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মতান্ত্রিকতা থেকে বিচ্যুতির কথা অকপটে বললেন না। আমেরিকান অর্থনীতির সুবিধা তুলনামূলকভাবে সবার জন্য নিশ্চিত করা এবং আমেরিকান জীবনমানের সামগ্রিক উন্নয়ন করার ক্ষেত্রে বিজ্ঞান গবেষণার বরাদ্দ সবচেয়ে জরুরি। এই বরাদ্দ ট্রাম্প প্রশাসন কমিয়েছে। আশ্চর্যজনক হলো, দাভোসে আমেরিকান রাঘববোয়াল করপোরেটদের কেউই এ নিয়ে কথা বলেননি।
ট্রাম্প প্রশাসন যে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রত্যাখ্যান করছে; মার্কিন গণতন্ত্রের ভারসাম্যের নিয়ামক গণমাধ্যমকে গালিগালাজ করছে; এমনকি বিচার বিভাগকে আক্রমণ করছে-এসব নিয়ে একজনও মুখ খোলেননি। ট্রাম্প এবং কংগ্রেসে রিপাবলিকান নেতারা যে আয়কর আইন পাসের প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন, সেই আইন ট্রাম্পের মতো ধনীদের শত শত কোটি ডলারের মালিক হওয়ার সুযোগ করে দেবে। এই আইন পুরোদমে কার্যকর হলে বিত্তশালীরা বিরাট অঙ্কের কর ছাড় পাবেন এবং ৩০ বছর ধরে যাঁদের ভাগ্য ধারাবাহিকভাবে পড়তির দিকে, সেই মধ্যবিত্তদের ওপর করের বোঝা আরও চাপবে। এসব নিয়ে একজন সিইও মুখ ফসকেও একটা কথা বলেননি। দাভোসে যে সিইওরা আসেন, তাঁরা মনে করেন প্রতিটি সমস্যার সমাধান করতে ধনিক শ্রেণি ও তাদের করপোরেশনের কর কমানো এবং তাদের ওপর রাখা বিধিনিষেধ শিথিল করা উচিত। তাঁরা মনে করেন, চুইয়ে পড়া অর্থনীতি একসময় সব মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং এর মাধ্যমে সমগ্র মানবজাতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে উপকৃত হয়। ফলে এই চুইয়ে পড়া অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে তাঁরা সোচ্চার থাকেন। ইতিহাস শিক্ষা দেয়, চুইয়ে পড়া অর্থনীতি কখনোই কার্যকর নয়। দাভোসের সিইওরা তাঁদের প্রবৃদ্ধি নিয়ে যথারীতি মাতোয়ারা ছিলেন। তাঁদের ঊর্ধ্বমুখী মুনাফা আর ক্ষতিপূরণের হিসাব নিয়ে মগ্ন ছিলেন। অর্থনীতিজ্ঞরা তাঁদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, এটি টেকসই নয়। কিন্তু ভোগবাদী বস্তুবাদই যে দুনিয়ার রাজা, সেখানে এসব তর্কের দাম কতটুকুই-বা! সুতরাং, ভাষণের প্রথম অনুচ্ছেদে সিইওরা যে নীতিনৈতিকতার স্তাবকতা করেন, তা ভুলে যাওয়াই ভালো। ১৯৮৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ওয়াল স্ট্রিট-এর চরিত্র মাইকেল ডগলাসের মতো স্পষ্টবাদিতার অভাব তাঁদের মধ্যে আছে বটে; কিন্তু ছবিটির মূল বক্তব্য আর তাঁদের মূল সুর পাল্টায়নি। সেটি হলো: ‘গ্রিড ইজ গুড’ (লোভ ভালো)। তবে আমাকে যেটি পীড়া দিচ্ছে সেটি হলো, এই বার্তা নিঃসন্দেহে মিথ্যা; কিন্তু ক্ষমতায় থাকা বহু লোক এটিকেই নিদারুণ সত্য বলে মানে।
অনুবাদ সারফুদ্দিন আহমেদ

ইন্দোনেশিয়ায় ক্রেন ধসে ৪ জনের মৃত্যু

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাতার্কায় একটি হালকা যানবাহন চলাচলকারী অবকাঠামো নির্মাণের সময় ক্রেন ধসে রোববার চার শ্রমিক মারা গেছেন। এক কর্মকর্তা একথা জানিযেছেন। খবর বার্তা সংস্থা সিনহুয়া’র।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার এক কর্মকর্তা টেলিফোনে বলেন, ‘আজ সকালে পূর্ব জাকার্তায় একটি ক্রেন ধসে পড়েছে।’ পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় ভোর পাঁচটার দিকে মাত্রামান জেলায় এ ঘটনা ঘটে। পূর্ব জাকার্তার জ্যেষ্ঠ কমিশনার ইয়োইয়োন তোনো সূর্য পুত্রা বলেন, ‘এই ঘটনায় দুই জন ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং আরো দুইজন আহত হন। তাদের হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে তারা মারা যান।’ হতাহতদের পার্শ্ববর্তী হার্মিনা হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আফগানিস্তানে তালেবান কমান্ডারসহ নিহত ৫

আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় ফারইয়াব প্রদেশে শনিবার আফগান সেনাবাহিনীর অভিযানে স্থানীয় কমান্ডারসহ অন্তত পাঁচ তালেবান বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। স্থানীয় এক কর্মকর্তা একথা জানান। খবর বার্তা সংস্থা সিনহুয়া’র।
রোববার উত্তরাঞ্চলীয় পুলিশের মুখপাত্র সৈয়দ সারোয়ার হুসাইনি বার্তা সংস্থা সিনহুয়াকে বলেন, ‘নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা শনিবার বিকেলে খাজা সাবপোশ অঞ্চলে এই অভিযান শুরু করে। এতে পাঁচ তালেবান নিহত হয়।’ অভিযানে তালেবানদের একটি গাড়ি ও পাঁচটি মোটরসাইকেল ধ্বংস হয়েছে। তালেবানরা এখনো এ ঘটনার ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি।

কুর্দি বিদ্রোহীদের প্রতিরোধে মুখে তুরস্কের সেনাবাহিনী

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে তুরস্কের সামরিক বাহিনীর চালানো অভিযানে কুর্দি কুর্দি বাহিনী পাল্টা আক্রমণ চালালে শনিবার একদিনেই সাতজন সেনা নিহত হয়েছে। আফরিনে ওয়াইপিজি গেরিলারা তুরস্কের ট্যাঙ্ক বহরে হামলা চালালে সেখানে পাঁচ তুর্কি সেনা নিহত হয়।
অপর দুটি হামলায় আরো দুই তুর্কি সৈন্য নিহত হয়। অভিযান শুরুর পর এ দিনটিকেই তুরস্কের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী দিন হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। এ নিয়ে তুরস্কের অভিযানটিতে সব মিলিয়ে ১৪ তুর্কি সেনা নিহত হল। এ ঘটনার পাল্টা প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দিয়ে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বলেছেন, 'দ্বিগুণের বেশি মূল্য দিতে হবে'।

সিরিয়ায় রুশ বিমান হামলায় ৩০ বিদ্রোহী নিহত

সিরিয়ার উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে রুশ বিমান হামলায় অন্তত ৩০ জন বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। শনিবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে একথা জানায়। খবর বার্তা সংস্থা সিনহুয়া’র।
ওই এলাকায় রাশিয়ার একটি জঙ্গি বিমানকে ভূপাতিত করার পর এ অভিযান চালানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশে বহনযোগ্য বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাত্রের সাহায্যে রাশিয়ার এসইউ-২৫ জঙ্গি বিমানটি ভূপাতিত করা হয়। জাবহাত আল-নুসরা বিদ্রোহী গোষ্ঠী এ হামলা চালায়। এরপর বেশ কয়েকটি রুশ জঙ্গি বিমান ওই গোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রিত এলাকায় এ অভিযান চালায়। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘৩০ জনের বেশি জাবহাত আল-নুসরাহ্ সদস্য নিহত হয়েছে।’

রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলের প্রথম মসজিদের উদ্বোধন

রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আরখাংগেলস্ক শহরের প্রথম মসজিদের উদ্বোধন করা হয়েছে। এটিকে রাশিয়ার সবচেয়ে উত্তরে অবস্থিত প্রথম মসজিদ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। গতকাল শনিবার আরখাংগেলস্ক জামে মসজিদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার মুফতি পরিষদের প্রধান রাউয়িল আইনুদ্দিন,
তাতারেস্তান প্রদেশের প্রেসিডেন্ট রুস্তম মিনিখানভ এবং আরখানগেলস্ক প্রদেশের গভর্নর ইগোর উরলভ। মসজিদটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করে রাশিয়ার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন চ্যানেল রুসিয়া-১। চ্যানেলটি এ সময় এই মসজিদের উদ্বোধনকে রাশিয়ার মুসলিম সমাজের জন্য একটি ‘বিশাল ঘটনা’ বলে উল্লেখ করে। স্থানীয় ইসলামি সংস্থা ‘নূর ইসলাম’ ২০১২ সালে এই মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু করেছিল। আরখাংগেলস্ক জামে মসজিদটিকে উত্তর রাশিয়ার স্থাপত্যরীতির সঙ্গে মিল রেখে নির্মাণ করা হয়েছে। শহরের ঠিক কেন্দ্রস্থলে মসজিদটি নির্মিত হয়েছে বলে রুসিয়া-১ জানিয়েছে। রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আরখাংগেলস্ক প্রদেশের কেন্দ্রীয় শহরের নামও আরখাংগেলস্ক। প্রদেশটির আয়তন ৪২ হাজার ২৯৪ বর্গকিলোমিটার এবং এর জনসংখ্যা পাঁচ লাখের কিছু বেশি। শীতের বেশিরভাগ সময় এই শহর বরফে ঢাকা থাকে। এর আগে গতমাসে রাশিয়ায় মসজিদের সংখ্যা বৃদ্ধিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার মোট ১৪ কোটি ৬০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে মুসলমানের সংখ্যা ২ কোটিরও বেশি।

উ. কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র : গোপন তথ্য ফাঁস করলো জার্মানি

উত্তর কোরিয়া তার পরমাণু অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ জার্মানি থেকে সংগ্রহ করেছে বলে দাবি করেছে জার্মান অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা বিএফভি। সংস্থার প্রধান হ্যান্স-জর্জ মাসেন এক টিভি সাক্ষাৎকারে এ দাবি করেছেন। সাক্ষাৎকারটি আগামীকাল সোমবার প্রচারিত হওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই এর কিছু বিষয়বস্তু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। উত্তর কোরিয়া এখনো এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সাক্ষাৎকারে মাসেন বলেন, বার্লিনস্থ উত্তর কোরিয়ার দূতাবাস দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচির জন্য যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করেছে। এ ধরনের যন্ত্রাংশ সামরিক এবং বেসামরিক উভয় কাজে ব্যবহার করা যায়। বিএফভি’র প্রধান বলেন, জার্মান কর্তৃপক্ষ সাধারণত এ ধরনের কাজ আটকে দেয়, কিন্তু ‘আমরা সব ঘটনা শনাক্ত ও প্রতিহত করতে পারি বলে নিশ্চয়তা দেয়া সম্ভব নয়।’ উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিরুদ্ধে বহু বছর ধরে দ্বিপক্ষীয় ও বহুজাতিক নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। এ ছাড়া, গত বছরের আগস্টে উত্তর কোরিয়া একটি হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষা চালানোর পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ পিয়ংইয়ংয়ের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপরও বছরের শেষদিকে উত্তর কোরিয়া একাধিক আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় যেগুলো দিয়ে আমেরিকার যেকোনো স্থানে আঘাত হানা সম্ভব। পিয়ংইয়ং দাবি করছে, এসব ক্ষেপণাস্ত্র পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র বা পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচির লাগাম টেনে ধরা সম্ভব নয়। নিষেধাজ্ঞার ফলে বরং উত্তর কোরিয়ার সাধারণ মানুষ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ: তৌফিক এহেসান

রাজধানীর মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারে বড় পরিসরে জাঁকজমকভাবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ‘ডিজিটাল আইসিটি ফেয়ার-২০১৮। মেলার নবম আয়োজনে আহ্বায়ক দোকান মালিক সমিতির সভাপতি তৌফিক এহেসান। এবারের মেলার আয়োজন ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন যুগান্তরের সাথে।
যুগান্তর: এবারের মেলার স্লোগান কি?
তৌফিক এহেসান: আমরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, আজ আমরা ডিজিটাল আইসিটি ফেয়ার-২০১৮ শুরুর মুহুর্তে উপস্থিত হয়েছি। আপনারা জানেন, এবারে নবমবারের মতো আয়োজিত হচ্ছে ডিজিটাল আইসিটি ফেয়ার। ঢাকার এলিফ্যান্ড রোডে অবস্থিত কম্পিউটার সিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পাঁচদিনব্যাপী ডিজিটাল আইসিটি ফেয়ার-২০১৮। এ কম্পিউটার মেলার ম্লোগান হচ্ছে ‘ডিজিটাল লিটারেসি ফর এভরিওয়ান’ বা সবার জন্য ডিজিটাল স্বাক্ষরতা। এ স্লোগানকে ধারণ করেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পাঁচদিনব্যাপী দেশের সবচেয়ে বড় কম্পিউটার মেলা।
যুগান্তর: তথ্যপ্রযুক্তিতে কিভাবে ভূমিকা রাখছে ডিজিটাল আইসিটি ফেয়ার?
তৌফিক এহেসান: দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ। আমরা উন্নতি করছি তথ্যপ্রযুক্তির প্রতিটি ক্ষেত্রে। বিগত সাত বছরে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অভিযাত্রায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অভূতপূর্ব সম্প্রসারণ ঘটেছে। প্রযুক্তিভিত্তিক তথ্য ও সেবা পৌঁছে গেছে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায়। বিশেষজ্ঞরা তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক এই অবিস্মরণীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে আখ্যায়িত করছেন ডিজিটাল নবজাগরণ হিসেবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে ৬৫০টির বেশি তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করে চলেছি আমরা। কম্পিউটার সিটি সেন্টার দোকান মালিক সমিতির লক্ষ্য হচ্ছে, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করা। ইতিমধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশের অনুসঙ্গ হিসেবে কানেক্টিভিটি ও আইসিটি অবকাঠামো, মানবসম্পদ উন্নয়ন, আইসিটি শিল্পের উন্নয়ন, ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠা, হার্ডওয়্যার শিল্পের উন্নয়নে আমরা কাজ করে চলেছি। ভবিষ্যতে এ ক্ষেত্রটিতে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছি।
যুগান্তর: মেলায় কি বিশেষত্ব থাকবে?
তৌফিক এহেসান: সাধারণ জনগণকে তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল ইকোনমির মূল স্রোতে নিয়ে আসার লক্ষ্য নিয়ে ডিজিটাল লিটারেসি ফর এভরিওয়ান স্লোগানকে ধারণ করে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবারের মেলা। জনগণের দোরগোড়ায় তথ্য ও সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য মেলায় নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবনী পণ্য প্রদর্শনী ও বিক্রি করা হবে। ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণকে এগিয়ে নিতে আমরা জোরালোভাবে ভূমিকা রেখে যাচ্ছি।
যুগান্তর: তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কতটা সফল হলো বাংলাদেশ?
তৌফিক এহেসান: ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অভিযাত্রায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সাফল্য ও কাজের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির কথা আমরা সবাই জানি। তাঁর সময়োপযোগী উন্নয়নের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে একটি উচ্চমধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশের কাতারে চলে যাবে। আমরা তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশে সরকারকে সহযোগিতা করে যেতে চাই। আমাদের নানা উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের তথ্যপ্রযুক্তিখাত এগিয়ে যাবে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর আমরা ডিজিটাল আইসিটি ফেয়ার করে আসছি। এবারে আপনাদের সহযোগিতায় আমরা আয়োজন আরও বড় করতে পেরেছি।
যুগান্তর: ভাষার মাসে কী আয়োজন থাকবে?
তৌফিক এহেসান: শুরু হয়েছে মহান ফেব্রুয়ারি মাস। আজ অকুণ্ঠচিত্তে স্মরণ করি সেই ভাষা শহীদদের যাঁদের জন্য আমরা আজ মায়ের ভাষায় কথা বলতে পারছি। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সালাম। তারা আমাদের শিখেছেন অকুতোভয়ে সামনে এগিয়ে চলার সাহস। আমরা সেই সাহস নিয়ে এগিয়ে চলেছি সামনের দিকে। আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি ডিজিটাল বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে। ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় ডিজিটাল স্বাক্ষরতা বা ডিজিটাল লিটারেসি বা ডিজিটাল জ্ঞান থাকা সবার জন্য প্রয়োজনীয়। তাই সাবার হাতে ডিভাইস পৌঁছাতে হবে। ডিজিটাল আইসিটি ফেয়ার আয়োজনের মাধ্যমে সে লক্ষ্য থাকে। এ বছর তাই স্লোগান রাখা হয়েছে ডিজিটাল লিটারেসি ফল এভরিওয়ান।দেশের উন্নতিতে ডিজিটাল আইসিটি ফেয়ারের মাধ্যমে ডিজিটাল লিটারেসি বাড়াতে কাজ করা হচ্ছে।
যুগান্তর: মেলার আয়োজন নিয়ে কিছু বলুন।
তৌফিক এহেসান: ঢাকার এলিফ্যান্ড রোডে অবস্থিত কম্পিউটার মার্কেট মাল্টিপ্লান কম্পিউটার সিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পাঁচদিনব্যাপী ডিজিটাল আইসিটি ফেয়ার। এ মেলায় বাংলাদেশের শীর্ষ আইসিটি পণ্য আমদানীকারক ও ব্যবসায়ীদের বিশ্বের মানসম্পন্ন ব্র্যান্ডের লেটেস্ট প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হবে। মেলায় আসা বিভিন্ন প্রযুক্তি পণ্যে থাকবে বিশেষ ছাড় ও আকর্ষণীয় উপহার। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে মেলা চলবে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। পাঁচদিনব্যাপী এ মেলায় অংশগ্রহণ করবে দেশের আইসিটি মার্কেটের ৬৫০ আইটি প্রতিষ্ঠান। মেলায় বিশেষ আয়োজন হিসেবে থাকছে শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, সেলিব্রিটিদের মেলা পরিদর্শন, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশ ও মেলা পরিদর্শনের ব্যবস্থাসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ ছাড়াও মেলা চলাকালীন প্রবেশ টিকেটের উপর র‍্যাফেল অনুষ্ঠিত হবে।
যুগান্তর: মেলায় কি ছাড় উপহার থাকবে?
তৌফিক এহেসান: প্রতিবারের মতো এবারের মেলাতেও নতুন নতুন প্রযুক্তিপণ্যর সমাহার করা হয়েছে। মানুষের কাছে সহজে ডিভাইস তুলে দেওয়ার পাশাপাশি নানা ছাড় ও উপহার রাখা হচ্ছে। প্রতিবারের চেয়ে এবার আরও বড় পরিসরে ও জাঁকজমকভাবে মেলা আয়োজন করা হচ্ছে। মেলায় সুন্দর করে সাজানো দোকানগুলোতে সহজে পণ্য দেখার ও কেনার সুবিধা পাবেন। মেলায় জোর দেয়া হয়েছে ডিজিটাল ডিভাইস যাতে সবার হাতের নাগালে থাকে সে বিষয়টির ওপর। মেলা চলাকালীন ডিজিটাল উন্নয়নমূলক বেশ কিছু আয়োজন থাকবে। মেলার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির কাজ করা হবে। যাতে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার ছড়িয়ে দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজ আরও ত্বরান্বিত করা যায়। মেলায় প্রবেশ মূল্য ১০ টাকা। তবে স্কুল শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন।
যুগান্তর: মেলার স্পন্সর কারা?
তৌফিক এহেসান: মেলার প্ল্যাটিনাম স্পন্সর হলো এসার, ডেল, এইচপি, লজিটেক, এক্সট্রিম। গোল্ড স্পন্সর হলো আসুস, এফোরটেক, লেনেভো।সিলভার স্পন্সর হলো টিপি-লিংক, ডি-লিংক, ইউসিসি স্পন্সর টেন্ডা এবং গেমিং পাটনার গিগাবাইট।
যুগান্তর: মেলায় কবে কি অনুষ্ঠান হবে?
তৌফিক এহেসান: অনুষ্ঠানের দিন মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারের লেভেল ১ এ অনুষ্ঠিত হবে আগত অতিথিদের শুভেচ্ছা বক্তব্য, লেভেল ৯ এ জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে ফিতা কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, লেভেল-৭ এ মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও শেষে মেলা পরিদর্শন। ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল দশটায় তিন বছর থেকে ১২ বছর বয়সীদের তিনটি গ্রুপে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ১১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে সমাপনী অনুষ্ঠান। ৭ ফেব্রুয়ারি বুধবার সকাল ১১ টায় মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারের প্রথমতলায় মেলার উদ্বোধন করবেন ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেব থাকবেন ঢাকা ১০ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপস, শিক্ষাবিদ ও এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির উপাচার্যসহ বিশিষ্টজনেরা।

শাওমির স্মার্টফোন প্রিন্টার

সরাসরি স্মার্টফোন থেকেই ছবি প্রিন্ট করার জন্য প্রিন্টার এনেছে চীনা নির্মাতা কোম্পানি শাওমি। অন্যান্য ক্ষুদ্র প্রিন্টারের মতো এটি কালিবিহীন জিংক পেপার প্রযুক্তির নয়, বরং সরাসরি কালিকে বাষ্পে পরিণত করে কাজ করে। যার ফলে প্রিন্টারটি অন্যান্য ক্ষুদ্র প্রিন্টারের চেয়ে অনেক ভালোমানের ছবি উপহার দিতে সক্ষম।
প্রিন্টারটি ৫ দশমিক ৪ সেন্টিমিটার বাই ৮ দশমিক ৬ সেন্টিমিটার সাইজে প্রিন্ট করতে সক্ষম। রেজুলেশনের দিক থেকেও এটি পিছিয়ে নেই। ৩০০ ডিপিআই রেজুলেশনে ছবি প্রিন্ট করতে সক্ষম এ ডিভাইস। এ ছাড়া প্রিন্টারটি পুরোটাই হাতে বা পকেটে রেখে দেয়া সম্ভব। ইঙ্কজেট প্রযুক্তির হওয়ায় ছবিগুলো সময়ের সঙ্গে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই, যে সমস্যা জিংক পেপার প্রযুক্তির প্রিন্টারে রয়েছে। প্রিন্টারটি স্মার্টফোনের সঙ্গে ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত হবে। ছবি প্রিন্টের পাশাপাশি প্রতিটি ছবির সঙ্গে ভিডিও লিংক করে দিতে পারবে এটি, ফলে ছবি দেখার সময় সেটি ফোনের অ্যাপে স্ক্যান করলে ভিডিও দেখা যাবে। ফিচারটি এর আগে পোলারয়েড প্রিন্টারে যুক্ত করা হয়েছিল। ডিভাইসটির মূল্যের ব্যাপারে কিছু জানা না গেলেও ২০০ ডলারের আশপাশে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। -আইটি ডেস্ক

ব্যান্ডউইথের পাইকারি মূল্য ১৫ শতাংশ কমল

পাইকারি পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের দাম আবারও ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) এ দাম কমিয়েছে। পাইকারি পর্যায়ে দাম কমানোর এ সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান।
এর আগে একটি বোর্ডসভায় পাইকারি ক্ষেত্রে ব্যান্ডউইথের মূল্য কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসিসিএল। ১০ থেকে ১৫ শতাংশ দাম কমানোর ফলে এখন কক্সবাজারে প্রতি মেগাবাইট ব্যান্ডউইথের মূল্য পড়বে ৩১০ টাকা। তবে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় প্রতি মেগাবাইট ব্যান্ডউইথের দাম পড়বে ৩০০ টাকার মতো। বিএসসিসিএলের এমডি মশিউর রহমান বলেন, এখন ভারতে যে ব্যান্ডউইথ রফতানি হচ্ছে সেই দামের সঙ্গে সমন্বয় করতেই পাইকারিভাবে ব্যান্ডউইথের দাম কমানো হয়েছে। বর্তমানে দেশে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে ৩৫২ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ। তবে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান মিলে দেশে এখন মোট ব্যন্ডউইথের ব্যবহার হচ্ছে ৫৫৭ জিবিপিএস। ব্যান্ডউইথের মূল্য পাইকারিতে কমানোর ফলে পাইকারি ক্রেতারাই লাভবান হবেন বেশি। কারণ এটি খুচরা পর্যায়ে কমতে আরও সময় লাগবে। -আইটি ডেস্ক

আইনের শাসন সূচকে বাংলাদেশের স্থান ১০২

২০১৭-১৮ সালের আইনের শাসন সূচকে ১১৩ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১০২তম স্থানে রয়েছে। সূচকে ২০১৬ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০৩।এবার এক ধাপ এগিয়েছে। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট (ডব্লিউজেপি) এ সূচক প্রকাশ করেছে। ২০১৭ সালের সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার ছয় দেশের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে নেপাল। এর পর রয়েছে যথাক্রমে শ্রীলংকা, ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। এ অঞ্চলের ছয় দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান চার নম্বরে। তালিকায় ১০২ নম্বরে থাকলেও নিম্ন মধ্য আয়ের ৩০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের স্থান ২৪। বিশ্বের ১১৩ দেশের এক লাখ ১০ হাজার পরিবার এবং তিন হাজারেরও বেশি বিশেষজ্ঞের ওপর চালানো জরিপের ভিত্তিতে এ সূচক নির্ণয় করা হয়েছে। এতে ৪৪টি উপাদানের মধ্যে বিশেষ করে আটটি প্রাথমিক উপাদানের ওপর জোর দেয়া হয়েছে।
বিষয়গুলো হচ্ছে- সরকারের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতির অনুপস্থিতি, উন্মুক্ত সরকার, মৌলিক অধিকার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিয়মিত বাহিনী, দেওয়ানি বিচারব্যবস্থা ও ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা। ২০১৭-১৮ সালের সূচকে শীর্ষে থাকা তিন দেশ হচ্ছে- যথাক্রমে ডেনমার্ক, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ড। একেবারে নিচের দিকে থাকা তিন দেশ হচ্ছে- আফগানিস্তান, কম্বোডিয়া ও ভেনিজুয়েলা। র‌্যাংকিংয়ে দেশগুলোর স্থান যথাক্রমে ১১১, ১১২ ও ১১৩। দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে থাকা নেপালের সামগ্রিক অবস্থান ১১৩ দেশের মধ্যে ৫৮। আগের বছরের চেয়ে পাঁচ ধাপ এগিয়েছে দেশটি। ১১১তম স্থান নিয়ে সূচকে এ অঞ্চলের সবচেয়ে বাজে অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান। গতবারের চেয়ে এবারের তালিকায় ৯ ধাপ এগিয়েছে শ্রীলংকা। দেশটির অবস্থান ৫৯ নম্বরে।

কাশ্মীরে ক্যান্সারের বিস্ফোরণ, নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসা

কাশ্মীরের শ্রীনগরের গুলাম মুহাম্মদ শফির স্বাস্থ্য দেখলে যে কেউ হিংসা করত। সদা হাস্যোজ্জ্বল ও কাজ পাগল শফি একাই ১০ জনের কাজ করে ফেলতে পারতেন। বন্ধুরা ঠাট্টা করে তাকে বলতেন- ‘মানব রোবট’। কর্মে তার কোনো ক্লান্তি ছিল না। কিন্তু গত বছরের জুনে তার সব কিছু উল্টে যায়। ৪৮ বছর বয়সী শফির ফুসফুসে ক্যান্সার বাসা বাধে। এর পর শুরু হয় তার চিকিৎসার ধকল, যা গত আট মাস ধরে চলছে। চিকিৎসা করাতে গিয়ে সব কিছু খুইয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছে তার পরিবার। শফির মতো বান্দিপোরা অঞ্চলের মুহাম্মদ মুখতার পারেই নামে আরেক কাশ্মীরির শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়ে। তার শরীরে কোলন ক্যান্সার। মুখতার পারেই বলেন, তার দু-দুবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। ইতিমধ্যে তার আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, দিন চলে যায় আর আমার শরীর ভেঙে পড়ে। ক্যান্সার সোসাইটি তার বাড়ি থেকে বেশ দূরে। সেখানে পৌঁছাতে তাকে চারটি গাড়িতে উঠতে হয়। তিনি চিকিৎসক দেখাতে যান, আর সবার কাছে নিজের জন্য দোয়া চান। শফি কিংবা মুখতারের ঘটনা কাশ্মীরে বিচ্ছিন্ন কিছু না। অহরহ। স্থানীয় ক্যান্সার সোসাইটিতে প্রতিদিন নতুন করে গড়ে ৪০ রোগী আসেন।
ব্যয়বহুল হওয়ায় সবাই এ রোগের চিকিৎসা নিতেও পারেন না। কাশ্মীরে যেন ক্যান্সারের বিস্ফোরণ ঘটেছে। সেই অনুসারে এ প্রাণঘাতী রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি একেবারেই কম। ২০১১ সাল থেকে সেখানে ২৬ হাজার ২১৪ রোগী ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। এত ব্যাপকভাবে ক্যান্সারের বিস্তার সত্ত্বেও চিকিৎসার পর্যাপ্ত সুবিধা নেই বললেই চলে। ক্যান্সার সেন্টারে চিকিৎসার ব্যবস্থা খুবই অপর্যাপ্ত। ওয়ার্ডে মাত্র তিনটি বেড আছে। বিপুলসংখ্যক ক্যান্সার রোগীর বিপরীতে চিকিৎসক ও কর্মকর্তার সংখ্যাও হাতেগোনা কয়েকজন। সমস্যার কথা স্বীকার করে হাসপাতালের কর্মকর্তা আব্দুল খালেক বলেন, তারা যৎসামান্য বেতন পান। সরকার বেসরকারি চিকিৎসা খাতের উন্নয়নেও অনিচ্ছুক। তিনি বলেন, সরকারের উচিত- ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা মাথায় নিয়ে সে অনুসারে চিকিৎসাব্যবস্থারও উন্নয়ন করা। ক্যান্সার সোসাইটির চিকিৎসক ডা. সামির কৌল বলেন, ক্যান্সার কেবল রোগীকেই ভোগায় না। বরং পুরো একটি পরিবারের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। সূত্র: দি কাশ্মীর মনিটর।

হোয়াটসঅ্যাপের দেড়শ’ কোটি গ্রাহক

দেড়শ’ কোটি মাসিক সক্রিয় গ্রাহকের হিসাব দিয়েছে ফেসবুক মালিকানাধীন চ্যাটিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ। বৃহস্পতিবার অ্যাপটির সক্রিয় গ্রাহকের হিসাব ঘোষণা করেছেন ফেসবুক প্রধান মার্ক জাকারবার্গ। প্রতিদিন অ্যাপটিতে গড়ে ছয় হাজার কোটি বার্তা আদান-প্রদান করা হয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।
চতুর্থ প্রান্তিকে আয়ের হিসাব ঘোষণার পর জাকারবার্গ বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় স্টোরি-শেয়ারিং অ্যাপ হল ইনস্টাগ্রাম। আর এর পরেই রয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ- খবর ইকোনমিকস টাইমসের। ইনস্টাগ্রামের ‘স্টোরিজ’ এবং হোয়াটসঅ্যাপের ‘স্ট্যাটাস’ ফিচারের দৈনিক সক্রিয় গ্রাহক বলা হয়েছে ৩০ কোটি, যেখানে স্ন্যাপচ্যাটের গ্রাহক সংখ্যা ১৭ কোটি ৮০ লাখ। এ ফিচারটি প্রথম এনেছিল স্ন্যাপচ্যাট। ২০১৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৯০০ কোটি মার্কিন ডলারে হোয়াটসঅ্যাপ অধিগ্রহণ করে ফেসবুক। সে সময় এটি ছিল সবচেয়ে বেশি মূল্যের অধিগ্রহণ। সম্প্রতি ব্যবসায়িক গ্রাহকদের যোগাযোগের সুবিধার্থে ‘হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস’ চালু করেছে অ্যাপটি। ব্যবসায়ের বিবরণ, ই-মেইল বা স্টোরের ঠিকানা এবং ওয়েবসাইটের মতো প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে গ্রাহককে সহায়তা করবে অ্যাপটি। এ ছাড়া অ্যাপটির মাধ্যমে গ্রাহকের প্রশ্নের দ্রুত জবাব দিতে পারবে প্রতিষ্ঠানগুলো। ‘গ্রাহক জানবেন যে তারা একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলছেন, কারণ এগুলো ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্ট হিসেবে নিবন্ধন করা হবে,’ বলেছে হোয়াটসঅ্যাপ। -আইটি ডেস্ক

টিকায় ‘সারল’ ইঁদুরের ক্যান্সার, এবার মানুষের

টিকা দিয়েই এবার সারানো যাবে ক্যান্সার। কম খরচেই সম্ভব হবে ক্যান্সারের চিকিৎসা। প্রয়োজন হবে না অস্ত্রোপচার বা টার্গেটেড কেমোথেরাপির। ইঁদুরের ওপর টিকা দিয়ে ক্যান্সার সারানোর পরীক্ষায় সফল হওয়ার পর মানুষের একটি বিশেষ ধরনের ক্যান্সারও (লিম্ফোমা) তাতে সারানো যায় কিনা, তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়েছে জানুয়ারিতে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব মেডিসিনের অধ্যাপক রোনাল্ড লেভির নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে গবেষণাটি। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘সায়েন্স ট্রান্সলেশনাল মেডিসিনের ৩১ জানুয়ারি সংখ্যায় গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে। এখানে গবেষকরা দেখিয়েছেন, এই টিকার মাধ্যমে ইঁদুরের শরীরে বেড়ে ওঠা টিউমারের আশপাশে থাকা বিশেষ ধরনের একটি রোগ প্রতিরোধী কোষকে (টি-সেল) আরও সক্রিয় করে তোলা সম্ভব। সামান্য পরিমাণে নেওয়া দুটি রাসায়নিক যৌগ (ইমিউন স্টিম্যুলেটিং এজেন্ট) দিয়ে তৈরি এ টিকা। কলকাতার বিশিষ্ট অঙ্কোলজিস্ট সোমনাথ সরকার বলেন, এখন পর্যন্ত ৪০০ রকমের ক্যান্সারের হদিস মিলেছে।
টিকায় সব ধরনের ক্যান্সারই সারবে, সেই নিশ্চয়তা এখনো পাওয়া যায়নি। তবে এ পদ্ধতিতে গোটা শরীরের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থাকে (বডি ইমিউনিটি) আরও জোরালো করে তুলতে পারে। আর সেই হিসাবে টিউমার কোষগুলোকে ধ্বংসও করা যায়। আগামী দিনে ক্যান্সার চিকিৎসায় এ পদ্ধতি মিরাকল ঘটিয়ে দিতে পারে বলে তিনি জানান। মূল গবেষক স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লেভি বলেন, এর আগে যেসব টিকা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে, সেগুলো গোটা শরীরে কার্যকরের চেষ্টা করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনাও ছিল। কিন্তু আমরা টিকা দিয়েছি শুধুই টিউমারের আশপাশের এলাকার বিশেষ ধরনের কোষ টি-সেলে। এতে অনেক ধরনের ক্যান্সারই সেরে যাচ্ছে। গবেষকদের দাবি, এ পদ্ধতিতে ক্যান্সার অনেক দ্রুত সারে। টিকা বানানোর জন্য দুটি রাসায়নিক যৌগেরও (স্টিমুলেটিং এজেন্ট) প্রয়োজন হয় খুব অল্প পরিমাণে। এজেন্টগুলো একবার প্রয়োগ করলেই কাজ হয়। তাই ওই স্টিমুলেটিং এজেন্টগুলো থেকে পরে শরীরে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়। বিতর্ক থাকলেও এ গবেষণা নিঃসন্দেহেই নতুন পথ দেখিয়েছে। মানুষের ওপরেও পরীক্ষা সফল হলে হয়তো আগামী এক দশকেই বাজারে আসতে পারে এ টিকা, বলেছেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা।

সুস্থ অবস্থায় ডাক্তারের কাছে কেন যাব?

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব ক্যান্সার দিবস। ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার শুরুর দিকেই যাতে এই রোগটিকে শনাক্ত করা যায় তার জন্য প্রয়োজন সচেতনতা বৃদ্ধি। আমি তো সুস্থ, তা হলে আমি কেন ডাক্তারের কাছে যাব? বেশিরভাগ মানুষেরই এ ধারণাটি মনের মধ্যে বদ্ধমূল থাকে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে প্রতি বছর প্রায় ৯০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে বহু মৃত্যুর ঘটনাই ঘটে রোগটিকে শুরুর দিকে শনাক্ত করতে না পারার কারণে। নারীদের বেলায় যে তিন ধরনের ক্যান্সারের কথা বেশি শোনা যায়, সেগুলো হল- জরায়ুর মুখে ক্যান্সার বা সার্ভিক্যাল ক্যান্সার, ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার বা ওভারিয়ান ক্যান্সার ও স্তন ক্যান্সার। জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. বেগম রোকেয়া আনোয়ার জানান, বাংলাদেশের নারীরা জরায়ুমুখের ক্যান্সার ও স্তন ক্যান্সারের কারণে বেশি মারা যাচ্ছে। অথচ উন্নত বিশ্বে এটি শূন্যের ঘরে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। কারণ এই রোগ পুরোপুরি প্রতিরোগযোগ্য। পূর্ব-লক্ষণ যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশেও বেশ কিছু পদ্ধতি রয়েছে এবং ভিআইএ নামে সহজ একটি পরীক্ষা জাতীয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, মেয়েরা যখন সুস্থ থাকেন, তখন মনে করেন- আমি তো সুস্থ, কেন আমি ডাক্তারের কাছে যাব? কিন্তু যে কোনো ক্যান্সারের পূর্ব-লক্ষণ নির্ণয় করতে হলে সুস্থ অবস্থাতেই তাকে হাসপাতালে আসতে হবে।

ফুটওভার ব্রিজ চাই

সিলোনীয়া বাজারটি ফেনী জেলার দাগন ভূঁইয়া থানার ৮নং জায়লস্কর ইউনিয়নে অবস্থিত। এ বাজারের মধ্য দিয়ে যে সড়কটি চলে গেছে, তা দিয়ে বিভিন্ন জেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতায়াত করে থাকে। বাজারটির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। এ বাজারে মেইন সড়কের দু’পাশে রয়েছে শ’খানেক দোকান।
এখানে ব্যাংকসহ অনেক বেসরকারি সংস্থার অফিসও রয়েছে। বাজারের পূর্ব ও পশ্চিমে রয়েছে বড় আকারের কাঁচাবাজার ও মাছবাজার। বাজারের চারপাশে রয়েছে বেশক’টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী। এ বাজারে শনি ও মঙ্গলবার দু’দিন সাপ্তাহিক হাট বসে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হয়। বিগত দিনগুলোতে দেখা গেছে, বাজারে রাস্তা পারাপারের সময় অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। এ বাজারে একটি ফুটওভার ব্রিজ থাকলে এভাবে মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হতো না। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
ইয়াছিন খন্দকার লোভা
দাগনভূঞা, ফেনী

চাঁদপুরেও যানজট

চাঁদপুর জেলার কোট-কাচারি সংলগ্ন মহাসড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট লেগেই থাকে। লক্ষ করা যাচ্ছে, মহাসড়কের উপর সবসময় পার্কিং করা হয় ছোট ছোট যানবাহন। দীর্ঘ যানজটের কারণে শিক্ষার্থীরা সঠিক সময়ে স্কুল-কলেজে যেতে পারে না। অফিসগামী যাত্রীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। যানজটের কারণে অনেক সময় মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নিতে দেরি হয়। সংশ্লিষ্ট সবাই সচেতন না হলে ওই এলাকার যানজট সমস্যার সমাধান হবে না।
মকবুল হামিদ
চাঁদপুর সদর

প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি

সরকারের শেষ বছরে এসে প্রকল্প সংশোধন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন এবং মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির হিড়িক পড়েছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দফতর, অধিদফতর ও সংস্থায়। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষকর্তারা একে চলমান কার্যক্রম বললেও অতীতে প্রায় সব সরকারের শেষ বছরে পাইকারি হারে প্রকল্প সংশোধন এবং এর ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেছে। এতে করে জনগণের করের অর্থের বিপুল অপচয়ের পাশাপাশি জনগণকে যে কাক্সিক্ষত সেবা দেয়ার জন্য প্রকল্পটি পাস করা হয়েছে, সে সেবা পাওয়া তো দূরের কথা, উল্টো জনগণের ভোগান্তি বেড়ে যায় সীমাহীন। ফলে লাগামহীনভাবে প্রকল্প সংশোধনকে দেশের জন্য একটি অশুভ সংকেত হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদ ও পরিকল্পবিদরা। আমরা মনে করি, কেন প্রকল্প নির্ধারিত অর্থ ও সময়সীমার ভেতরে শেষ করা গেল না- তার জবাবদিহিতা ছাড়া প্রকল্পের সংশোধনী অনুমোদন করা উচিত নয়। উদ্বেগের বিষয়, অনেক প্রকল্পে এক-দু’বার নয়, তিন থেকে চারবার পর্যন্ত মেয়াদ ও বরাদ্দ- উভয়ই বাড়ানো হচ্ছে। এতে একদিকে নির্ধারিত ব্যয় থেকে তিন-চারগুণ বেশি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে, অন্যদিকে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে যাদের টাকায় প্রকল্প নেয়া হচ্ছে, তাদের কপালে জুটছে বড় ধরনের ভোগান্তি। যেমন, ২০১০ সালে নেয়া হয় ‘বরিশাল টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটকে শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে উন্নীতকরণ’ প্রকল্প। ৫৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি ২০১২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু এরই মধ্যে দু’বার মেয়াদ বাড়িয়ে, দু’গুণের বেশি ১২২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে ২০১৭ সালের জুনের মধ্যেও শেষ করা যায়নি কাজ।
সর্বশেষ তৃতীয়বারের মতো আরও ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা বাড়িয়ে সংশোধনী প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য আগামী একনেক বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে। এতেও শেষ পর্যন্ত যদি কাজটি শেষ হয়! কেবল এটিই নয়, দেশে এমন বহু প্রকল্পে চলছে জনগণের অর্থের তছরুপ। বাড়ছে মানুষের ভোগান্তি। আর একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা, ঠিকাদার ও রাজনৈতিক নেতার পকেট ভারি হচ্ছে। একটি বিষয় আমাদের বোধগম্য নয়, যেখানে প্রতিবেশী কিছু দেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশের চেয়ে রাস্তা ও অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে কিলোমিটার-বর্গফুটে নির্মাণ ব্যয় আমাদের দেশে বেশি দেয়া হয়, সেখানে এক-দুই, এমনকি তিন-চারবার পর্যন্ত সময় ও বরাদ্দ কেন বাড়ানো হবে? এ ক্ষেত্রে ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’টা কোথায় তা খতিয়ে দেখতে হবে এবং তা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে একমত হয়ে বলা যায়, কোনো প্রকল্প নেয়ার সময় বাস্তব অবস্থা, প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের সক্ষমতা, সততা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ভালোভাবে বিবেচনায় না নিয়ে অত্যধিক ব্যয়বহুল প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া উচিত নয়। দেখা যায়, কিছু প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অপ্রতুলভাবে মাঝে মাঝে কিছু বরাদ্দ দেয়া হয়, অন্যদিকে কিছু প্রকল্পে গভীর মনিটরিং ছাড়া চাহিবামাত্র ব্যয় ও সময়সীমা বাড়িয়ে দেয়া হয়। এতে করে অসাধু কিছু মানুষ তাদের পকেট ভারি করার চেষ্টা করে। সুষম উন্নয়নের স্বার্থে প্রকল্পের মেয়াদ ও অর্থের সীমার বিষয়ে কঠোর হওয়ার বিকল্প নেই। নির্দিষ্ট সময়সীমা ও বরাদ্দের চেয়ে কম অর্থেও যে প্রকল্প শেষ করা যায়, মেঘনা দ্বিতীয় সেতু সংক্রান্ত কিছু প্রকল্প থেকে তেমন নজির পাওয়া গেছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সতর্ক হতে হবে, অবিলম্বে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন

বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বিশ্বের সম্পদ ও বৈষম্যের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা মানবসভ্যতার জন্য গ্লানিকরই বলতে হবে। প্রতিবেদনটিতে দেখা যাচ্ছে, গত দুই দশকে সারা বিশ্বে সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে সত্য, তবে সম্পদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বৈষম্য।
১৯৯৫ সালে বিশ্বের মোট সম্পদের বাজারমূল্য যেখানে ছিল ৬৯০ লাখ কোটি মার্কিন ডলার, সেখানে ২০১৪ সালে মোট সম্পদের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৪৩ লাখ কোটি ডলারে, অর্থাৎ এই সময়ে সম্পদ বেড়েছে প্রায় ৬৬ শতাংশ। তবে বিশ্বজুড়ে সম্পদের এই বৃদ্ধি বৈষম্য দূর করতে পারেনি। নিন্ম আয়ের দেশগুলোর তুলনায় উন্নত দেশগুলোর মাথাপিছু আয় বর্তমানে ৫২ গুণ বেশি। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দরিদ্র দেশগুলোর অর্ধেকের বেশি সম্পদের উৎস প্রকৃতি। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট বলেছেন, প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় সব দেশ নিজের সম্পদ বাড়ানোর পাশাপাশি বাড়তি সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। মানবসম্পদকে সবচেয়ে বড় সম্পদ বিবেচনা না করলে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। মানবসম্পদকে সবচেয়ে বড় সম্পদ বিবেচনা করার যে কথা বলা হয়েছে, তা খুবই সঙ্গত। বাংলাদেশে বর্তমানে মাথাপিছু সম্পদের বাজারমূল্য যেখানে ১২ হাজার ৭১৪ ডলার, সেখানে মানবসম্পদের মাথাপিছু মূল্য ধরা হয়েছে ৭ হাজার ১৭০ ডলার, অর্থাৎ মোট সম্পদের অর্ধেকের বেশি।
এই সম্পদকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে টেকসই উন্নয়নই নিশ্চিত হবে না শুধু, বৈষম্যও কমে আসবে। বাংলাদেশে প্রাকৃতিক সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে মানবসম্পদ উন্নয়নের দিকেই নজর দিতে হবে বেশি। বিশ্বে বৈষম্য বৃদ্ধি পাওয়ার যে খবর, তা মর্মান্তিক বটে। সম্পদ কুক্ষিগত হয়ে পড়ছে বিশেষ বিশেষ কেন্দ্রে। পুঁজিবাদী বিশ্বের বৈশিষ্ট্য অবশ্য তা-ই। তবে যে হারে সম্পদ কুক্ষিগত হচ্ছে তা উদ্বেগজনক। এ বৈষম্য কীভাবে কমিয়ে আনা যায়, তা বিশ্ব-অর্থনীতিবিদদের এক গবেষণার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফরাসি অর্থনীতিবিদ টমাস পিকেটি তার গবেষণায় সম্পদ-বৈষম্যের নানা কারণ দেখিয়ে চলেছেন। বাংলাদেশেও ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার বৈষম্যের হার বেড়ে চলেছে, যদিও দারিদ্র্যের হার কমেছে, বেড়েছে জিডিপিও। সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমে বৈষম্যের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিতে হবে অবশ্যই।

পাঠক চোখে যুগান্তর by মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

আঠারো পেরিয়ে উনিশে পড়েছে যুগান্তর। নিঃসন্দেহে এটি পাঠক, লেখক এবং সব যুগান্তর কর্মীর জন্য আনন্দের বিষয়। নানারকম চ্যালেঞ্জ ছিল। সব চ্যালেঞ্জ সফলতার সঙ্গে মোকাবেলা করেছে যুগান্তর। সততা, নিরপেক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠতা যুগান্তর ত্যাগ করেনি। এ কারণেই পাঠকরা পত্রিকাটির সঙ্গে আছে। ভালোবাসা ও মায়ার জালে তারা পত্রিকাটি আগলে রেখেছে। শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী, বুড়ো-বুড়ি সবার প্রিয় পত্রিকায় পরিণত হয়েছে যুগান্তর। শুধু সংবাদই নয়, সম্পাদকীয় ও ফিচার পাতাগুলো যুগান্তরকে পাঠকপ্রিয় করেছে। প্রাত্যহিক জীবনের সব বিষয়ই পত্রিকাটিতে উঠে আসে। মফস্বলের মানুষদের সুখ-দুঃখ, সমস্যার কথা যুগান্তর প্রাধান্য দেয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলের খবর যুগান্তরে পাওয়া যায়। উপকৃত হয় গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ। কৃষকদের স্বার্থে যুগান্তর অনন্য ভূমিকা রেখে আসছে শুরু থেকেই। সামাজিক অপরাধ যেমন- চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম, জঙ্গিবাদ ইত্যাদি দমনে যুগান্তর সাহসী ভূমিকা রাখছে। বেশির ভাগ পত্রিকা পরিবেশ-প্রকৃতির ক্ষতিকে গুরুত্ব দিতে চায় না। যুগান্তরের ‘প্রকৃতি ও জীবন’ পাতাটি বন, পরিবেশ, প্রকৃতি, বন্যপ্রাণী, পাখি, গাছপালা, নদ-নদী রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখছে। বিশেষজ্ঞদের লেখা কেবল পাঠক চাহিদাই মেটায় না, সরকারি নানা মহলকে ভাবতে ও সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। যুগান্তরকে অবশ্যই পাঠকবান্ধব পত্রিকা বলা যায়। দৃষ্টিপাত, চিঠিপত্র, সম্পাদকীয় পাতায় পাঠকরা লিখতে পারেন। দেশকে সুন্দর করতে কাজ করে যুগান্তরের স্বজন সমাবেশ। সমাজকল্যাণমূলক কাজ করে স্বজন সমাবেশ অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দুঃখী-অসহায় মানুষদের পাশে স্বজনরা দাঁড়ায়। ইসলামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর নিবন্ধ পড়া যায় ‘ইসলাম ও জীবন’ পাতায়।
খুঁটিনাটি দরকারি নানা বিষয়ে পাঠক জানতে পারে। প্রবাসীদের প্রিয় পত্রিকা যুগান্তর। যুগান্তরে প্রবাসীরা তাদের সুখ-দুঃখের কথা লিখতে পারেন। বিষয়ভিত্তিক পাতা প্রতিমঞ্চ। এ পাতায় নানা এলাকার পিছিয়ে পড়া পেশাজীবীদের নিয়ে অনুসন্ধানী ও তথ্যনির্ভর সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হয়, যা ইতিমধ্যে অনেক পেশাজীবীর ভাগ্য পরিবর্তনে সক্ষম হয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত, অসহায় মানুষের কথা এখানে উঠে আসছে। অর্থনীতি অনেক দুর্বোধ্য বিষয় অনেকের কাছেই। তবে যুগান্তরের অর্থনীতি পাতায় সহজবোধ্য লেখা পাওয়া যায়, যা পাঠক বুঝতে পারেন। নারীদের সুবিধা-অসুবিধার কথা যুগান্তরের সুরঞ্জনা পাতায় যেভাবে উঠে আসে, তা অন্যত্র কমই দেখা যায়। নারী অধিকারের পক্ষে যুগান্তর বরাবরই সোচ্চার। লাইফস্টাইল বিষয়ক ‘ঘরে বাইরে’ পাতাটিও সবার প্রিয়। হাসিঠাট্টার মাধ্যমেও অনেক কিছু বলা যায়। যুগান্তরের রম্য ম্যাগাজিন ‘বিচ্ছু’ তার উজ্জ্বল প্রমাণ। সমসাময়িক নানা অসঙ্গতি বিচ্ছুতে উঠে আসে, যা পাঠকদের হাসায়, কিন্তু কর্তৃপক্ষের বোধ জাগিয়ে তোলে। যুগান্তরের প্রতিটি ফিচার পাতার মেকআপ-গেটআপ আকর্ষণীয়। শুধু সংবাদ জানার জন্য এখন আর কেউ পত্রিকা পড়ে না। সংবাদ জানার মাধ্যমেরও শেষ নেই। পাঠক সংবাদের চেয়েও বেশি কিছু চায়, প্রত্যাশা করে, যা পূরণ করতে যুগান্তর সক্ষম হয়েছে। তাই পত্রিকাটির জনপ্রিয়তায় একটুও ভাটা পড়েনি। পাঠকপ্রিয় যুগান্তর বস্তুনিষ্ঠতা, সততা, ভিন্নধর্মী নানা আয়োজন নিয়ে বেঁচে থাকুক হাজার বছর। শুরু থেকে পত্রিকাটির পাঠক ও লেখক হিসেবে সেটাই প্রত্যাশা করছি।
মুহাম্মদ শফিকুর রহমান : যুগান্তরের পাঠক

‘দেশে ফেরার পর রোহিঙ্গাদের গৃহবন্দির মতো করে রাখা হবে’

গণহত্যা-জাতিগত নিধনের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফেরার ক্ষেত্রে নানা প্রতিকূলতায় পড়তে পারেন। বিশেষ করে মিয়ানমারে ফিরে নিজ ঘরবাড়িতে ফেরার পরিবর্তে তাদের আশ্রয় শিবিরে রাখার পরিকল্পনার কারণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আর আশ্রয় শিবিরে যাওয়ার পর সেখানে তাদের কতদিন থাকতে হবে, সেই তথ্যও অজানা। ফলে সেখানে তাদের অনেকটা গৃহবন্দি হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ-মিয়ানমার চুক্তি নিয়ে মিয়ানমার ফ্রন্টিয়ারে প্রকাশিত এক লেখায় এমন আশঙ্কার নানা দিক তুলে ধরেছেন সাংবাদিক সিতু অং মিন্ট। তার লেখাটি তুলে ধরা হল- ‘চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নেপিদোতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর সই হওয়া চুক্তির মূল বিষয় হল- দুই দেশই বছর দুয়েকের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পুনর্বাসন ও প্রত্যাবাসন করতে চায়। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা জানিয়েছে, গত বছরের আগস্টের শেষ দিকে রাখাইনে মিয়ানমারের সেনা অভিযান শুরু হলে প্রায় পৌনে সাত লাখ রোহিঙ্গা নিপীড়ন থেকে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালে হামলার পর লাখখানেক রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছিল। গত আগস্ট থেকে যে ঢল শুরু হয়, তার আগেই দুই লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে বসবাস করে আসছে। কিন্তু সেই দুই লাখ রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে নতুন প্রত্যাবাসন চুক্তিতে কোনো কথা বলা হয়নি। আজগুবি ব্যাপার হল- কতজন রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ থেকে ফেরত নেবে, মিয়ানমার সরকার সেই সংখ্যা উল্লেখ করেনি। মিয়ানমারের পৌরসভা প্রশাসন ও অভিবাসন কর্মকর্তারা দেশটির গণমাধ্যমকে বলেছে- রাখাইনের পরিবারগুলোর গ্রুপ ছবিসহ মুসলিম জনসংখ্যা নিয়ে তাদের সঠিক তথ্য আছে। যদি তাই হয়, তবে এ সহিংসতার পরও যারা রাখাইনে রয়ে গেছেন, তাদের একটি সংখ্যা প্রকাশ করা জরুরি। কারণ তা হলে জানা যাবে বাংলাদেশে কতজন পালিয়ে গেছেন। বিস্ময়কর ঘটনা হল মিয়ানমার সরকার সেই সংখ্যা এখনও প্রকাশ করছে না। মিয়ানমারের নীতি হচ্ছে- ফেরত আসতে হবে একেবারে স্বেচ্ছায়। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে মিয়ানমার সরকারের পাঠানো ফরমে শরণার্থীদের বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। যদি ফরমের সেই তথ্য সঠিক হয়, তবে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরার সুযোগ দেয়া হবে। রোহিঙ্গাদের ফেরত আনতে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটি মংডুতে ইতিমধ্যে দুটি অভ্যর্থনা কেন্দ্র প্রস্তুত করেছে। যারা স্থলপথে আসবে, তাদের টাউং পে লেট ওয়ায়ে শহরের অভর্থ্যনা কেন্দ্র থেকে গ্রহণ করা হবে। আর নৌকায় নাফ নদ পার হয়ে আসাদের গ্যাকোয়া গ্রামের মধ্য দিয়ে ঢুকবে। তল্লাশি কেন্দ্রে তথ্য যাচাইয়ের পর তাদের হ্লা পো খাউংয়ের অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরে রাখা হবে।
১২৪ একর জমিতে নির্মিত ওই আশ্রয় শিবিরে ৩০ হাজার রোহিঙ্গার সংকুলান হবে। ওই আশ্রয় শিবিরে কতজন রোহিঙ্গাকে রাখা হবে, মিয়ানমার সরকার সেই তথ্য প্রকাশ করেনি। পালিয়ে যাওয়ার আগে রোহিঙ্গারা যেখানে বসবাস করত, সেখানেই তারা ফিরতে পারবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা মিয়ানমার কর্মকর্তারা দেয়নি। দেশটির কর্মকর্তারা তাদের পুনর্বাসনের জন্য উত্তর রাখাইনের ১১টি জায়গা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু ওইসব জায়গা পুরোপুরি অনুন্নত। অথচ যারা ফিরে আসবে, তাদের বাড়িঘর নিজেদের তৈরি করে নিতে হবে। বাড়ি নির্মাণের অর্থ জোগাড় করতে 'কাজের বিনিময়ে অর্থ' কর্মসূচি নিয়েছে দেশটির সরকার। রোহিঙ্গারা যাতে নিজেদের অর্থে বাড়ি বানাতে পারে, সে জন্যই এ কর্মসূচি নেয়া। যেসব রোহিঙ্গা উত্তর মংডুতে বসবাস করেছিল, তারা তাদের গ্রামে ফিরে যেতে পারবে বলে মনে হচ্ছে না। সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের যে গ্রামগুলো আগুনে ভস্মীভূত করে দেয়া হয়েছে, সেখানে রোহিঙ্গারা ফিরতে পারবে কিনা, সে বিষয়টিও পরিষ্কার করেনি দেশটির সরকার। বাংলাদেশ-মিয়ানমারের এ প্রত্যাবাসন চুক্তি নানান প্রতিকূলতায় পড়বে বলে মনে হচ্ছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ফিরবে কিনা, তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় বহু রোহিঙ্গা ফিরে যেতে অনিচ্ছুক। মিয়ানমারে ফিরে আশ্রয় শিবিরে তাদের কতদিন থাকতে হবে, সেই তথ্যও অজানা। তবে রোহিঙ্গারা এটি জানে, মিয়ানমারের অস্থায়ী ক্যাম্পে যারা ফিরে যাবে, তাদের রাখাইন রাজধানী সিত্তে স্থানান্তর করা হবে। সেখানে তাদের গৃহবন্দির মতো করে রাখা হবে। রোহিঙ্গাদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিকূলতাটি হবে জীবিকার সন্ধান। তাদের বাড়িঘর, গবাদিপশু, ক্ষেতের ফসল থেকে শুরু করে উপার্জনের সব উপায় ধ্বংস করে দিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। অধিকাংশ রোহিঙ্গা পেশাগতভাবে কৃষক। তারা তাদের ভূমিতে চাষাবাদ করতে পারবে কিনা, মিয়ানমার সরকারকে সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

কানহীন ৫ শিশুর কান গজাল ল্যাবরেটরিতে

এক কান নিয়ে জন্মেছিল শিশুটি। এ কারণে সমস্যার অন্ত ছিল না। এর কূলকিনারা করতে পারছিলেন না মা-বাবা। অবশেষে চিকিৎসকদের পরামর্শে নতুন আরেকটি গান গজানোর দুঃসাহসিক উদ্যোগ নেন তারা। চিকিৎসকের সাহায্যে একদল গবেষকের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিশুটির পরিবার। গবেষকরা তিন মাসের মধ্যে শিশুর শরীরে নতুন আরেকটি কান গজানোর ব্যবস্থা করেন।
এমন যুগান্তকারী অসাধ্য সাধন করেছেন চীনের একদল গবেষক। শিশুর যে কানটি অপুষ্ট ছিল। সেখান থেকে কোষ সংগ্রহ করেন তারা। এর পর ল্যাবরেটরিতে শিশুটির বয়স অনুযায়ী নকল কানের একটি ছাঁচ তৈরি করেন তারা। তাতে শিশুর অপুষ্টকানের কোষ রেখে তার সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটান। যাকে বলে মাইক্রোশিয়া। সেই মাইক্রোশিয়ার সাহায্যেই জীবিত কোষ থেকে ধীরে ধীরে গঠত হয় একটি পূর্ণাঙ্গ কান। তারপর সেটি অপারেশন করে শিশুর অপুষ্ট কানের অংশে প্রতিস্থাপিত করেন চিকিৎসকরা। শুধু একজন নয় এ রকমভাবে প্রায় পাঁচটি শিশুর কান ল্যাবরেটরিতে গজিয়েছেন গবেষকরা। তার পর সেই কানগুলো অস্ত্রোপচার করে বসানো হয়। এখন একেবারে স্বাভাবিকভাবেই বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পাবে শিশুদের নতুন কান।

অর্থ ফেরেনি, বিচারও হয়নি

২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ছিল বৃহস্পতিবার। পরের দুই দিন সরকারি ছুটি হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের হিসাব থেকে অর্থ বের করতে সেদিন রাতকেই বেছে নেওয়া হয়েছিল। ওই রাতেই ১৯৪ কোটি ডলার বের করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সব আদেশ কার্যকর না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত চুরি হয় ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কায় যাওয়া ২ কোটি ডলার কিছুদিনের মধ্যেই ফিরে আসে। আর ফিলিপাইনে যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে ফিরে এসেছে মাত্র ১ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। ফলে চুরির দুই বছরেও ফিলিপাইনে থাকা বাকি ৬ কোটি ৬৪ লাখ (৫৪৪ কোটি টাকা) ডলার ফেরত আসেনি। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত প্রতিবেদনও প্রকাশ হয়নি, মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে আসামি করা হয়নি। ফলে এখন পর্যন্ত কারও শাস্তিও হয়নি। টাকা ফেরাতে এখন কী উদ্যোগ নিতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক? এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, দুই বছরেও অর্থ ফেরত না পাওয়ায় এখন আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। তার আগে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করতে হবে। এটা না হলে আন্তর্জাতিক কোনো অভিজ্ঞ আইনি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মামলায় যেতে হবে।
এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ফিলিপাইনের সরকার পরিবর্তনের ফলে আগের মতো সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দফায় দফায় ফিলিপাইনে গিয়েও টাকা ফেরতের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না। এ জন্য এখন আইনি প্রক্রিয়ায় কীভাবে অর্থ ফেরত পাওয়া যায়, এসব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জানা গেছে, ফিলিপাইনের ক্যাসিনো থেকে স্থানান্তরিত ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের আদালত জব্দ করেছেন। এ বিষয়টি বর্তমানে সে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন আছে। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অর্থ চুরির ঘটনা ঘটলেও তা প্রকাশ পায় পরের মাসে। এ ঘটনায় পদত্যাগ করতে হয় তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমানকে। ঘটনা তদন্তে সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনকে প্রধান করে কমিটি করে সরকার। বারবার আশ্বাস দিলেও সেই প্রতিবেদন প্রকাশ করেননি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এদিকে এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে মতিঝিল থানায় করা মামলার তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দায়িত্ব পাওয়ার পর সিআইডি এ পর্যন্ত ২০ বার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদালতের কাছ থেকে সময় চেয়ে নিয়েছে।

বিক্রি বেড়েছে ৪৪ শতাংশ

২০১৭ সালে দেশে রেকর্ড পরিমাণ মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে। বাজারে থাকা ১৫টি ব্র্যান্ড এ সময় ৩ লাখ ৮৭ হাজার মোটরসাইকেল বিক্রি করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৪৪ শতাংশ বেশি। এই খাতের কোম্পানিগুলো বলছে, এত বেশি বিক্রি আর কখনোই হয়নি। ভবিষ্যতে বিক্রি আরও বাড়বে। মোটরসাইকেল বিক্রি এত বাড়ার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দাম কমা ও মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, যানজট এড়িয়ে চলার জন্য দেশের বিভিন্ন শহরে বাহন হিসেবে মোটরসাইকেল দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে। গ্রামেও একটু সচ্ছল পরিবারগুলো মোটরসাইকেল কিনছে। মোটরসাইকেল বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে দেশে ১ লাখ ৮০ হাজার মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছিল। গত পাঁচ বছরের মধ্যে ওই বছরই সবচেয়ে কম বিক্রি হয়। এর কারণ ছিল রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিবন্ধনের কড়াকড়ি। এরপর বিক্রি দ্রুত বেড়েছে। উদ্যোক্তা জানিয়েছে, বাংলাদেশে এখন মোটরসাইকেলের বাজারের আকার চার থেকে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। এই বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় ১০০ থেকে ১১০ সিসি (ঘন সেন্টিমিটার) ইঞ্জিন ক্ষমতার মোটরসাইকেল, মোট মূল্যের দিক দিয়ে বাজারে যার অংশীদারত্ব প্রায় ৫০ শতাংশ। দাম তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এবং কম তেলে বেশি পথ চলার সুবিধার কারণে এই শ্রেণির মোটরসাইকেল ক্রেতাদের কাছে বেশি জনপ্রিয়। এই হিসাবে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ১৫০ সিসি ইঞ্জিন ক্ষমতার মোটরসাইকেল। এটির বাজার অংশীদারত্ব প্রায় ৩৩ শতাংশ। অন্যদিকে ১২৫ থেকে ১৩৫ সিসি ক্ষমতার মোটরসাইকেলের বাজার অংশীদারত্ব প্রায় ১৭ শতাংশ। দেশে বাজাজ, টিভিএস, হিরো, হোন্ডা, ইয়ামাহা, সুজুকি, মাহিন্দ্রা ও কিছু চায়না ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল আমদানি করেন আমদানিকারকেরা। অন্যদিকে রানারসহ আরও দুটি স্থানীয় ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল দেশে তৈরি হয়। মোট বাজারের ৯০ শতাংশ আমদানিকারকদের দখলে, বাকিটা দেশীয় উৎপাদকদের দখলে। আমদানি করা মোটরসাইকেলের বেশির ভাগ আসে ভারত ও চীন থেকে। দেশীয় উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো ইঞ্জিন বাইরে থেকে আমদানি করে বাকি সব উপকরণ দেশে তৈরি করে। দেশের বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় ভারতীয় ব্র্যান্ড বাজাজের মোটরসাইকেল। ডিসকভার, পালসারের মতো পুরোনো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের সঙ্গে বাজাজ সম্প্রতি বাজারে এনেছে অ্যাভেঞ্জার ও ভি নামের দুটি নতুন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল।
গত বছর প্রতিষ্ঠানটি ১ লাখ ৩৪ হাজার ইউনিট মোটরসাইকেল বিক্রি করেছে। বিক্রির হিসাবে বাজারে এখন দ্বিতীয় স্থানে আছে ভারতের আরেকটি ব্র্যান্ড টিভিএস। এই ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল বাংলাদেশে আমদানি করে সনি-র‍্যাংগস গ্রুপ। টিভিএস জানিয়েছে, ২০১৭ সালে তারা প্রায় ৮০ হাজার মোটরসাইকেল বিক্রি করেছে, যা আগের বছরে ছিল ৪৩ হাজার। দেশে ২০১৪ সাল থেকে হিরো ব্র্যান্ড নামে মোটরসাইকেল বাজারজাত করছে ভারতের হিরো মোটোকর্প। বাংলাদেশে তাদের পরিবেশক নিটল-নিলয় গ্রুপ। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি ‘হিরো হোন্ডা’ নামে মোটরসাইকেল বাজারজাত করত। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে দেশে হিরো ব্র্যান্ডের প্রায় ৫০ হাজার মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৭৫ শতাংশ বেশি। মোটরসাইকেলের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড জাপানের হোন্ডাও গত বছর ভালো ব্যবসা করেছে। হোন্ডা বাংলাদেশের আর্থিক বিভাগের প্রধান আশিকুর রহমান বলেন, ২০১৭ সালে হোন্ডা ২৮ হাজার ১৭০টি মোটরসাইকেল বিক্রি করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ১৭৩ শতাংশ বেশি। জাপানের আরেকটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ইয়ামাহার মোটরসাইকেল বিক্রিও ২০১৭ সালে রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। গত বছর ইয়ামাহার ১৬ হাজারের বেশি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে, ২০১৬ সালে ছিল ৩ হাজার। ২০১৭ সালে সুজুকি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে ১৬ হাজার ৭০০টি, যা আগের বছর ছিল ১৩ হাজার। বাজারের বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বেশ ভালোভাবে টিকে আছে দেশীয় ব্র্যান্ড রানার। বিশেষ করে কম সিসির মোটরসাইকেলের বাজারে তাদের দখল বেশি। রানার জানিয়েছে, তারা ২০১৭ সালে ৩২ হাজার ৭০০ মোটরসাইকেল বিক্রি করেছে, যা ২০১৬ সালে ছিল ২৬ হাজার। রানারের জনসংযোগ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক ওয়াহিদ মুরাদ বলেন, সেবার মান রানার মোটরসাইকেলের বিক্রি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

দেশেই হচ্ছে কারখানা

বিদেশি মোটরসাইকেল কোম্পানিগুলো এখন বাংলাদেশেই তাদের কারখানা করছে। কেউ কেউ কারখানার কাজ প্রায় শেষ করেছে, কেউ কেউ মাঝ পর্যায়ে আছে। আগামী জুনের মধ্যে বাজারের শীর্ষে থাকা কয়েকটি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে তাদের উৎপাদন শুরু করবে। এতে বাংলাদেশের গ্রাহকেরা আরও কম দামে মোটরসাইকেল কিনতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। বর্তমানে দেশীয় ব্র্যান্ড রানার পুরোদমে দেশেই মোটরসাইকেল উৎপাদন শুরু করেছে। উৎপাদন শুরু করার প্রক্রিয়ায় আছে জাপানের হোন্ডা, ভারতীয় ব্র্যান্ড বাজাজ, টিভিএসসহ আরও কয়েকটি ব্র্যান্ড। হিরো ব্র্যান্ড এরই মধ্যে তাদের কারখানায় উৎপাদন শুরু করেছে। এসব কোম্পানি জানিয়েছে, বাংলাদেশে জনসংখ্যার অনুপাতে মোটরসাইকেলের ব্যবহার এখনো কম। ফলে এখানে বাজার সম্প্রসারণের এখনো বেশ সুযোগ রয়েছে। অবশ্য দেশে মোটরসাইকেল কারখানা করতে সরকারের নীতিই বেশি কাজ করেছে। সরকার দেশে মোটরসাইকেল উৎপাদন নিশ্চিত করতে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য নানা ধরনের শুল্ক ছাড় দিচ্ছে। পাশাপাশি উৎপাদনকারী স্বীকৃতি দিতে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশ দেশে উৎপাদন বাধ্যতামূলক করেছে। এতেই সবগুলো ব্র্যান্ড বাংলাদেশে কারখানা করতে উদ্যোগী হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, উৎপাদনকারী হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে মোটরসাইকেলের মূল কাঠামোসহ (চেসিস) পাঁচটি প্রধান যন্ত্রাংশের কমপক্ষে একটি দেশে উৎপাদন করতে হবে। এদিকে মোটরসাইকেল শিল্পের একটি নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে শিল্প মন্ত্রণালয়। বর্তমানে দেশে মোটরসাইকেল ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে তিন ধরনের করের ব্যবস্থা আছে। যেসব প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ এনে দেশে মোটরসাইকেল তৈরি করে, তাদের সব মিলিয়ে ৩৮ শতাংশ কর দিতে হয়।
দেশীয় ব্র্যান্ড রানার এই হারে তাদের কাঁচামাল আমদানি করে। যারা মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনসহ সব যন্ত্রাংশ আলাদা এনে দেশে সংযোজন করে, তাদের ৮৯ শতাংশ কর দিতে হয়। আর যারা সম্পূর্ণ তৈরি মোটরসাইকেল আমদানি করে, তাদের সব মিলিয়ে ১৫১ শতাংশ কর দিতে হয়। জাপানি ব্র্যান্ড ইয়ামাহা, সুজুকির মোটরসাইকেল এই পদ্ধতিতে দেশে আমদানি করা হয়। এ জন্য এসব ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলের দাম বাজারে সবচেয়ে বেশি। ২০০৬ সাল থেকে ময়মনসিংহের ভালুকায় নিজস্ব কারখানায় মোটরসাইকেল তৈরি করছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান রানার অটোমোবাইলস। ৫০ সিসি থেকে ১৫০ সিসি পর্যন্ত ইঞ্জিন ক্ষমতার মোটরসাইকেল তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি। দেশের বাজারে বিক্রির পাশাপাশি বর্তমানে নেপালে রপ্তানি হচ্ছে রানারের মোটরসাইকেল। নেপালে গত এক বছরে সাত শতাধিক মোটরসাইকেল রপ্তানি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। দেশে বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর কারখানা করার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে রানার অটোমোবাইলসের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান প্রথম আলোকে বলেন, এতে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে। দেশের মানুষ আরও কম দামে মোটরসাইকেল কিনতে পারবেন। বাজারের সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড ভারতের বাজাজের পরিবেশক উত্তরা মোটরস সাভারের জিরানী বাজারে নতুন কারখানা করছে, যা আগামী মার্চ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন শুরু করবে। নতুন এই কারখানার নাম দেওয়া হয়েছে ট্রান্সএশিয়া ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। উত্তরা মোটরস জানিয়েছে, ওই কারখানায় প্রাথমিকভাবে বাজাজের পাঁচটি মডেলের মোটরসাইকেল উৎপাদন করা হবে। এগুলো হলো বাজাজ প্লাটিনার দুটি, ডিসকভারের দুটি ও পালসারের একটি মডেল। উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ চলছে এই কারখানায়। উত্তরা মোটরস আরও জানায়, নতুন কারখানায় ইতিমধ্যে ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এতে ৪৫০ জন লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। উত্তরা মোটরসের কর্মকর্তারা জানান, মোটরসাইকেল তৈরিতে ইঞ্জিন থেকে শুরু করে চেসিস, আনুষঙ্গিক বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশ, চাকা-টিউব, চেইন, সিটকভার, ব্যাটারি ইত্যাদির মতো শতাধিক উপাদানের প্রয়োজন পড়ে। সহযোগী প্রতিষ্ঠান বা ভেন্ডর ছাড়া এসব উপাদানের সব কয়টি উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে উৎপাদন করা সম্ভব নয়। মোটরসাইকেল উৎপাদন প্রসঙ্গে উত্তরা মোটরসের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, মোটরসাইকেল শিল্পের প্রাণ হলো ভেন্ডর। এই সহায়ক শিল্প গড়ে না উঠলে এই শিল্পের সুষম বিকাশ হবে না। ভেন্ডর উন্নয়নের বিষয়গুলো মোটরসাইকেল শিল্প নীতিমালায় থাকা প্রয়োজন। ভারতের আরেক ব্র্যান্ড হিরোর বাংলাদেশের পরিবেশক নিলয় মোটরসও ইতিমধ্যে বাংলাদেশে কারখানা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) বিজয় কুমার মণ্ডল বলেন, যশোরে হিরো মোটরসাইকেলের কারখানা চালু হয়েছে। গত জুনে এই কারখানায় পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়েছে। নতুন কারখানায় উৎপাদিত মোটরসাইকেলই এখন বাজারে ছাড়ছে হিরো। এ বছরের মধ্যেই দেশে মোটরসাইকেল কারখানা তৈরির কাজ শেষ করবে ভারতীয় ব্র্যান্ড টিভিএস। ময়মনিসংহের ভালুকায় হবে নতুন এই কারখানা। ইতিমধ্যে টঙ্গীর আউচপাড়ায় টিভিএস অটো বাংলাদেশ নামে যৌথ অংশীদারের ভিত্তিতে যন্ত্রাংশ সংযোজনের একটি কারখানাও রয়েছে তাদের। টিভিএস অটো বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী বিপ্লব কুমার রায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘সর্বোচ্চ গুণগত মান নিশ্চিত করে এ বছরের কোনো এক সময় উৎপাদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারব বলে আশা করছি। এখন আমাদের ধ্যান-জ্ঞান সবকিছু এ কাজে নিয়োজিত আছে।’ জাপানের মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান হোন্ডা মোটর করপোরেশন মুন্সিগঞ্জে আবদুল মোনেম ইকোনমিক জোনে বা অর্থনৈতিক অঞ্চলে নতুন কারখানা করছে। ২৫ একর জমির ওপর এই কারখানা করতে জমির ইজারা বাবদ ও অবকাঠামো নির্মাণের জন্য প্রাথমিকভাবে ২৩০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। গত নভেম্বরে এই কারখানার নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। জানতে চাইলে হোন্ডা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউচিরো ইশি প্রথম আলোকে বলেন, চলতি বছরের দ্বিতীয় ভাগে নতুন কারখানায় মোটরসাইকেল উৎপাদন শুরু হবে। শুরুতে উৎপাদনকারী হিসেবে স্বীকৃতি পেতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ তৈরি করা হবে। পরবর্তী সময়ে দেশে আরও বেশিসংখ্যক যন্ত্রাংশ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে হোন্ডার।