Monday, January 8, 2018

এসএসসি পরীক্ষার সময় কোচিং সেন্টার বন্ধ

আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। আর পরীক্ষা শুরুর তিনদিন আগে থেকে শেষ হওয়া পর্যন্ত দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত আয়োজনে জাতীয় মনিটরিং কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় পরীক্ষা শুরুর আগে থেকে পরীক্ষা চলাকালীন দেশে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক বন্ধ রাখার ব্যাপারেও আলোচনা হয়।

পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে করার জন্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়ানো বন্ধ, ফেসবুকে প্রশ্ন সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় এবং কিছু সিদ্ধান্তও নেয়া হয়।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুসারে, আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর আধা ঘণ্টা আগে অবশ্যই পরীক্ষার হলে প্রবেশ করে স্ব স্ব আসনে বসতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না এবং এর অন্যথায় শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেয়া হবে না।

এছাড়া কোনো পরীক্ষার্থীর হাতে কোনো মোবাইল ফোন পাওয়া গেলে তাকে তৎক্ষণাৎ বহিষ্কার করা হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রে কেউ স্মার্ট ফোন ব্যবহার করতে পারবে না। শুধু কেন্দ্র সচিব একটি সাধারণ ফোন ব্যবহার করতে পারবেন বলেও সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক মো. মাহাবুবুর রহমান, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, বিজি প্রেসের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আফরাজুর রহমানের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

৪ দিনে ২ বিলিয়ন ডলার আয়!

ইয়াং হুইয়ান। ৩৬ বছরের এই তরুণী চীনের কান্ট্রি গার্ডেন হোল্ডিংসের ভাইস-চেয়ারম্যান। কান্ট্রি গার্ডেন হোল্ডিংস এ শেয়ারের উত্থানের ফলে বছরের প্রথম চার বাণিজ্যিক কর্ম দিবসে তিনি আয় করে নিলেন ২.১ বিলিয়ন ডলার। এমন তথ্য দিয়ে খবর প্রকাশ করেছে ফরচুন ডট কম।   

ব্লুমবার্গের সূচক অনুযায়ী, ৩৬ বছরের ইয়াং হুইয়ান চীনের ধনী নারী এবং দেশটির তরুণ বিলিনিয়ারদেরে একজন। ২০০৫ সালে ইয়াং হুইয়ান বাবা কোম্পানির  অংশীদারিত্ব নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তার কাধে তুলে দেন। ফোবর্স, ব্লুমবার্গের জরিপে বেশ কয়েকবার শীর্ষধনী মহিলার তালিকায় ছিলেন ইয়াং হুইয়ান।

ইয়াং হুইয়ানের বাবা ইয়াং কউক কিউং ১৯৯২ কান্ট্রি গার্ডেন প্রতিষ্ঠা করেন। কান্ট্রি গার্ডেন প্রথমসারির ডেভেলপার কোম্পানিগুলোর মধ্যে অন্যতম।

এদিকে ২০১৭ সালে ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার ইনডেক্সে সবচেয়ে বেশি সম্পদ যোগ করেছেন চীনের এভারগ্রান্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান হুই কা ইয়ান। সাতদিনে অর্জিত ৯০০ কোটি ডলার প্রপার্টি টাইকুন হুইকে এশিয়ার দ্বিতীয় শীর্ষ ধনীতে পরিণত করেছে।

২০১৭ সালে  হুইয়ের সম্পদের পরিমাণ ৩৬০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে তার মোট সম্পদে আরো যোগ করেছে ২ হাজার ৬৭০ কোটি ডলার। যার সুবাদে ভারতের মুকেশ আম্বানিকে হটিয়ে এশিয়ার দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী এখন হুই। ৫৯ বছর বয়সী হুইয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার ৪১০ কোটি ডলার। সম্পত্তি বিক্রির ঊর্ধ্বগতি ও কোম্পানির নিম্ন ঋণ কৌশল অবলম্বনের সুবাদে এভারগ্রান্ডের শেয়ারে উল্লম্ফন দেখা গেছে।

চীনের শক্তিশালী রিয়েল এস্টেট খাত এ বছর দেশটির প্রপার্টি টাইকুনদের খাতায় ৪ হাজার ৩৮০ কোটি ডলার যুক্ত করেছে। বছর শুরুর পর থেকে কান্ট্রি গার্ডেন হোল্ডিংস কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান অংশীদার ইয়াং হুইয়ান অর্জন করেছেন ৮২০ কোটি ডলার। অন্যদিকে সুনাক চায়না হোল্ডিংস লিমিটেডের চেয়ারম্যান সান হংবিনের অর্জনের পরিমাণ ৪২০ কোটি ডলার।

ট্রাম্প টাওয়ারে আগুন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে অবস্থিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মালিকানাধীন বিলাসবহুল ট্রাম্প টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার স্থানীয় সময় সকালে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এমন তথ্য দিয়ে খবর প্রকাশ করেছে ডেইলি টেলিগ্রাফ।

এই অগ্নিকাণ্ডে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

নিউ ইয়র্ক সিটির ফায়ার সার্ভিসের মুখপাত্র জানায়, সোমবার  সকাল সাতটার দিকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে কর্মীরা ঘটনাস্থলে আগুন নেভাতে কাজ শুরু করেন।  বৈদ্যুতিক গোলযোগে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরও প্রথম দিকে ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ও ছোট ছেলে ব্যারন ট্রাম্প টাওয়ারের ফ্ল্যাটে থাকতেন। তবে গত বছরের জুনে হোয়াইট হাউজে ওঠেন তারা।

ম্যানহাটনের ওই বহুতল ভবনে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা জোরদার থাকে। যে কোনো বড় অনুষ্ঠানে সেটা আরো কঠোর হয়।

ব্যবসায়ী ট্রাম্পের মালিকানাধীন আবাসন প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর মিডটাউনের ৫৬নং সড়কের ফিফথ এভিনিউয়ের ওই ভবনে।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প টাওয়ারে  ৫৮ টি ফ্লোর এবং বিলাসবহুল ৪৮৬টি আবাসিক ঘর রয়েছে। এছাড়া একটি স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টে রয়েছে। আরো রয়েছে চার বেডরুম এবং পাঁচ বেডরুমের পেন্টহাউজ ।

টাওয়ারে এছাড়াও রয়েছে ৩৩৯ গেস্ট রুম। সাথে রয়েছে একটি বিলাসবহুল হোটেল ও কন্ডোমিনিয়াম সংযোজিত। এছাড়াও বিল্ডিং, খুচরা স্পেস, একটি পার্কিং গ্যারেজ, একটি হোটেল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অসুস্থ সাবেক এমপি ইউসুফকে ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত


গুরুতর অসুস্থ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউসুফকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরাসরি তত্তাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। 

মোহাম্মদ ইউসুফ বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।  সোমবার  সকালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড নিবিড়ভাবে তাঁর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষানিরীক্ষা করেছেন।
 
সূত্রমতে, মোহাম্মদ ইউসুফের রক্তচাপ খুবই কম।  তার কিডনিও খুবই দুর্বল।  ডায়োলাইসিস প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।  এছাড়া শরীরের বিভিন্ন অংশে সংক্রমণের কারণে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে।
 
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা.আজিজুর রহমান সিদ্দিকী  বলেন, মোহাম্মদ ইউসুফকে ঢাকায় নেওয়ার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত আছে।  কিন্তু বিমানের চিকিৎসকেরা উনার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা ‍জানতে চেয়েছেন।  ব্লাড প্রেসার ডাউন থাকার বিষয়টি উনাদের জানানো হয়েছে।  চিকিৎসকদের সম্মতি পেলে আজ (সোমবার) অথবা আগামীকাল উনাকে ঢাকায় নেওয়া হবে।
 
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মোহাম্মদ ইউসুফের সার্বিক চিকিৎসা মনিটরিং করা হচ্ছে।  ঢাকায় নিয়ে তাঁকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তির সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
 
এদিকে অসুস্থ সাবেক সাংসকে দেখতে সোমবার চমেক হাসপাতালে গেছেন সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড.হাছান মাহমুদ ও চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।  চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নানও তাঁকে দেখতে হাসপাতালে গেছেন।

একসময়ের তুখোড় বামপন্থী নেতা মোহাম্মদ ইউসুফ চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থেকে ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।  পরে তিনি সিপিবি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন।
 
বর্ষীয়ান রাজনীতিক হলেও মোহাম্মদ ইউসুফের অর্থবিত্ত নেই।  বিয়েও করেননি। বার্ধক্যে পৌঁছা মানুষটি নানা রোগে ভুগলেও অর্থাভাবে যথাযথ চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, নিরাপত্তার জন্য খালেদার মামলা স্থানান্তর

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার ১৪ মামলার কার্যক্রম বকশীবাজার অস্থায়ী আদালতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে স্থানান্তর হয়নি। নিরাপত্তার জন্য মামলাগুলো স্থানান্তর করা হয়েছে। বললেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটের স্পিকার সাবিনা আক্তারের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।

এর আগে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা আরও ১৪টি মামলা বকশীবাজার আলিয়া মাদরাসা সংলগ্ন ভবনে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে স্থানান্তর করে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়।

মামলাগুলোর মধ্যে দুর্নীতির ৩টি মামলা সেনাশাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে করা। বাকি ১০টি মামলা ২০১৫ সালে, আর একটি ২০১৬ সালে করা।

বর্তমানে অস্থায়ী আদালতে যে দুটি মামলা চলছে তার মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে। আর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানি হবে ৯ ও ১০ জানুয়ারি। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলেই মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হবে।

আমি যদি ফিলিস্তিনি হতাম... by গার্শন বাসকিন

আমি যদি একজন ফিলিস্তিনি হতাম...কিন্তু আমি তা নই। আমি একজন ইহুদি। একজন ইসরাইলি। আমার কিছু ফিলিস্তিনি বন্ধু আমাকে জিজ্ঞেস করেছে, আমি যদি একজন ফিলিস্তিনি হতাম, তাহলে আমি কী করতাম? দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান দৃশ্যত এখন অসম্ভব। তাহলে এখন কী করার থাকতো আমার? কিন্তু আমার বন্ধুরা জিজ্ঞেস করেছে বলেই নিবন্ধটি লিখছি, তা নয়। একজন ইসরাইলি ইহুদি হিসেবে ইসরাইলকে সত্যিকার অর্থেই গণতান্ত্রিক জাতিরাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই বলেই আমি এই নিবন্ধটি লিখছি।
যতদিন পর্যন্ত ফিলিস্তিনের ওপর ইসরাইলের দখলদারিত্ব চলবে, ফিলিস্তিনের ভূমি ও জনগণের ওপর ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণ থাকবে, ততদিন পর্যন্ত ইসরাইল গণতান্ত্রিক নয়। আমি মনে করি না, ইসরাইলিরা এমনি এমনি এই সমস্যাকে গুরুত্ব সহকারে ভাববে বা দেখবে। তার মানে, যা করার ফিলিস্তিনিদের কিছু একটা করতে হবে। আমি পুরোপুরি সহিংসতার বিরুদ্ধে। তাই আমি লিখতে বসেছি আমি যদি ফিলিস্তিনি হতাম তাহলে আমি কী পদক্ষেপ নিতাম।
আমি যদি ফিলিস্তিনি হতাম, আমি প্রথমেই ইসরাইলের দখলদারিত্ব মেনে নেয়া থেকে বিরত থাকতাম। ইসরাইলের বেঁধে দেয়া নিয়ম যদি ফিলিস্তিনিরা মেনে চলে, তাহলে ইসরাইল এই দখলদারিত্ব অব্যাহত রাখার শক্তি পায়। তার মানে এই নয় যে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ভেস্তে দিতে হবে। বরং উল্টোটা। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি দাঁড় করাতে অনেক পরিশ্রম হয়েছে। ফলে একে পুরোপুরি ছুড়ে ফেলা সম্ভব নয়।
আমি বোঝাতে চাই, নিজেদের সার্বভৌমত্ব জাহির করতে হবে। নিজের ভবিতব্যের নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে। আমি যা প্রস্তাব করছি, তা বাস্তবায়ন করতে ফিলিস্তিনিদের চরম মূল্য দিতে হতে পারে। তাই অনেক আত্মত্যাগের জন্য তাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। পাশাপাশি, ফিলিস্তিনি সব পক্ষের মধ্যে সংহতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা থাকতে হবে। স্বাধীনতা ও মুক্তির দাম অনেক চড়া। এই চড়া মূল্য সম্পর্কে ফিলিস্তিনিদের জানা থাকতে হবে। এই দাম চুকাতে প্রস্তুত থাকতে হবে।
আমার কাছে মনে হয়, বহু বছর ধরে খুব চড়া মূল্য চুকিয়েও প্রত্যাশিত ফলাফল ফিলিস্তিনিদের ভাগ্যে জুটছে না। তারা হয়তো তাদের শত্রুদের অনেক ভুগিয়েছে। কিন্তু শত্রুর চেয়ে বেশি যন্ত্রণা তাদেরই সহ্য করতে হয়েছে। বহু প্রাণ গেছে। কিন্তু যেই ফল তারা চান তার কাছাকাছিও তার পাননি। আমি প্রস্তাব দিতে চাই, সহিংসতার চিন্তা মাথা থেকে দূরে সরান। শত্রুকে আঘাতের চিন্তা থেকে সরুন। লক্ষ্য হতে হবে যে, আমি শত্রুর সামনে আয়না দাঁড় করাবো। তাদেরকে জোর করে আয়নায় তার নিষ্ঠুর চেহারা দেখাবো। দেখাবো যে, কী নিষ্ঠুর বাস্তবতা তারা সৃষ্টি করেছে। লক্ষ্য হতে হবে যে, শত্রুর চেয়ে নৈতিকতার দিক থেকে উঁচুতে থাকতে হবে।
এজন্য ফিলিস্তিনিদের কষ্ট ভোগ করতে হবে। ফিলিস্তিনের অর্থনীতিকে চরম আঘাত সহ্য করতে হবে। কিন্তু ফিলিস্তিনিদেরকে অবশ্যই ইসরাইলে কাজ করা বন্ধ করতে হবে। ১ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি পরিবার ইসরাইলে কাজ করে তাদের অর্থ জোগায়। ফিলিস্তিনিদের প্রস্তুত থাকতে হবে যে, যতদিন তাদের উদ্দেশ্য হাসিল না হয়, ততদিন তারা বিদেশে যাবেন না। কারণ, ইসরাইল তাদের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের অবশ্যই একে-অপরকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত থাকতে হবে। অর্থনৈতিকভাবে বা অন্য যে কোনো উপায়ে। যতদিন না দখলদারিত্বকে হটানো যায়, ততদিন এই কষ্ট মেনে নিতে হবে।
ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণের প্রথম উপাদান হলো জনসংখ্যা নিবন্ধন। ফিলিস্তিনিদের সব ধরনের আইডি কার্ড, পাসপোর্ট, জন্ম ও মৃত্যু সনদ অনুমোদন দেয় ইসরাইল। আমি যদি একজন ফিলিস্তিনি হতাম, তাহলে আমি চাইতাম আমার নেতা, অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট জনসম্মুখে দাঁড়াবেন। নিজের আইডি কার্ড পুড়িয়ে ফেলবেন। পাশাপাশি, সকল ফিলিস্তিনিকে নিজ নিজ আইডি কার্ড পুড়িয়ে ফেলতে বলবেন। এরপর ফিলিস্তিনি সরকার সবার জন্য নতুন আইডি কার্ড ইস্যু করবে। এই আইডি কার্ড নম্বর হবে একেবারেই আলাদা। ফলে ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে থাকা জনসংখ্যার হিসাবনিকাশ সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিত হয়ে পড়বে। আগেই বলেছি চড়া মূল্য চুকানোর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে কোনো ফিলিস্তিনিই ইসরাইলে প্রবেশের অনুমতি পাবে না। আবার ফিলিস্তিন ছেড়ে বিদেশেও যেতে পারবে না। এটাই হলো মূল পয়েন্ট।
এরপর আমি পশ্চিম তীরের প্রত্যেক শহরের মেয়র ও সিটি কাউন্সিলর সদস্যদের বলতাম বুলডোজার দিয়ে ইসরাইলের বন্ধ করা সকল রাস্তা খুলে দিতে। এরপর তারা শহরের বাসিন্দাদের সেসব সড়ক ব্যবহার করার আহ্বান জানাবেন। ইসরাইল এসব রাস্তা বন্ধ করে রেখেছে যাতে শুধু এক রাস্তা দিয়েই সবাই চলাচল করে, আর তাদের নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। কিন্তু এই পদক্ষেপ নিলে ইসরাইল প্রতিশোধ হিসেবে ফিলিস্তিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেবে। ফিলিস্তিনের উচিত হবে এজন্যও প্রস্তুত থাকা। আগে থেকে কিছুটা জ্বালানি জমিয়ে রাখতে হবে। আর ওই পরিস্থিতিতে শুধু যা প্রয়োজন তা ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে গাড়ি ব্যবহার না করে পায়ে হেঁটে, সাইকেল চালিয়ে বা গাধায় চড়ে চলাচল করতে হবে।
আমি জনগণকে বলতাম নিজেদের ভূখণ্ডে জয়সূচক বাগান তৈরি করতে। সামান্য প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে হলেও। এরিয়া-সি জুড়ে সকল ফিলিস্তিনি মালিকানাধীন ভূমিতে ঘরবাড়ি বানাতে শুরু করুন। ইসরাইলের অনুমতি ছাড়াই। প্রতিবছর পুরো পরিবার সমেত যেমন জলপাই পাড়তে যান, তেমনি নিজের ভূখণ্ডে সবাই মিলে গিয়ে মালিকানা প্রতিষ্ঠিত করুন। জমি চিহ্নিত করুন। কিছু একটা লাগিয়ে আসুন। কিন্তু দখলদারদের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেবেন না। কমপক্ষে এক বছরের জন্য জিনিসপত্র মজুত করুন। কারণ, ইসরাইলের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ হবে। প্রস্তুত থাকুন।
এ সমস্ত কিছুর প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইল মানুষকে গ্রেপ্তার করতে শুরু করবে। আমি আসলে ঠিক এটাই চাই। প্রত্যেক ফিলিস্তিনি যারা নিজেদেরকে কোনো না কোনো পর্যায়ের নেতা তাদের প্রত্যেকের উদ্দেশ্য হতে হবে গ্রেপ্তার হওয়া। ইসরাইলি বন্দিশালা পূর্ণ হয়ে যাক, যাতে ফিলিস্তিনি বন্দিদের রাখতে ইসরাইলকে তাঁবুর বন্দিশালা বানাতে হয়। ১ লাখ ফিলিস্তিনি হবে ইসরাইলের বন্দি, এটাই আমার উদ্দেশ্য। নারী, শিশু, বৃদ্ধ- সকলকেই সহিংসতা ছাড়া প্রতিরোধে নামতে হবে। উদ্দেশ্য থাকবে গ্রেপ্তার হওয়া।
তারা হয়তো স্কুল বন্ধ করে দেবে। সড়ক বন্ধ করে দেবে। পুরো শহর বন্ধ করে দেবে। কিন্তু কোনোভাবেই পুরো জনসংখ্যাকে দখলদারিত্ব মেনে নিতে বাধ্য করার পথ নেই, যদি মানুষ অবাধ্য হয়। নেতৃত্ব এখানে গুরুত্বপূর্ণ। নেতৃত্ব যখন থাকবে ইসরাইলি বন্দিশালায়, তখন অবশিষ্ট যারা বাইরে থাকবে, অর্থাৎ নতুন নেতা, তরুণ প্রতিরোধকারী সবাই তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভরিয়ে দেবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে থাকবে সাফল্যের উদাহরণ, অনুপ্রেরণীয় গল্প, ইত্যাদি। এসব শুধু পুরো ফিলিস্তিনই দেখবে না। দেখবে আরব বিশ্ব এবং পশ্চিমা বিশ্ব। পাশাপাশি, ইসরাইলি জনগণকেও বার্তা পাঠাতে হবে। কারণ, তাদেরকেই আমরা লজ্জা দিতে চাইবো, জাগ্রত করতে চাইবো।
ইসরাইলের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা ও সমন্বয় সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে হবে। পাশাপাশি, ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অসহিংস পথে অঙ্গীকারাবদ্ধ থাকতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে যে, ইসরাইলের বিরুদ্ধে কেউ যাতে ত্রাসের বা সন্ত্রাসের পথ অবলম্বন না করে। ফিলিস্তিনিরা যদি সহিংস হয়, এমনকি ইসরাইলের সহিংসতার বিপরীতেও যদি ফিলিস্তিনিরা সহিংস হয়, তাহলে পুরো পরিকল্পনা মাঠে মারা যাবে। মূল উদ্দেশ্য হলো ইসরাইলের চেয়ে নৈতিকভাবে উঁচু স্থানে থাকা। ইসরাইলি সমাজকে নাড়িয়ে দেয়া যাতে করে তারা নিজেরাই দখলদারিত্ব বন্ধ করতে উদ্যোগী হয়।
এটা শুধুই শুরু। ফিলিস্তিনিদের জন্য কোনো কৌশল যদি কাজে দেয়, তাহলে তা হতে পারে উপরের কৌশলের ভিত্তিতে। ফিলিস্তিনিদের নিজেদেরই এই কৌশল ও পরিকল্পনা ঠিক করতে হবে। আর আমরা যেসব ইসরাইলিরা বিশ্বাস করি যে, দখলদারিত্বের কারণে আমাদের রাষ্ট্র ধ্বংস হচ্ছে, তারা এই দখলদারিত্ব মুক্ত করার মিশনে আংশীদার হতে পারি। আরেক জাতির ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ বন্ধের প্রধান দায়িত্ব আমাদেরই।
(গার্শন বাসকিন হলেন ইসরাইল-প্যালেস্টাইন ক্রিয়েটিভ রিজিয়নাল ইনিশিয়েটিভস নামে একটি থিঙ্কট্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও কো-চেয়ারম্যান। জেরুজালেম পোস্টে প্রকাশিত তার লেখাটি অনুবাদ করেছেন মাহমুদ ফেরদৌস।)

সাতকানিয়ায় ৩ দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলা শুরু বৃহস্পতিবার

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগে দেশব্যাপী উন্নয়ন মেলার ধারাবাহিকতায় সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসনও তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলা আয়োজন করতে যাচ্ছে । 

বৃহস্পতিবার ১১ জানুয়ারি সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক  এই উন্নয়ন মেলার আয়োজন করা হবে সাতকানিয়া মডেল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে। 

বৃহস্পতিবার  সকাল ১০টায় এই উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন করবেন সাতকানিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মোহাম্মদ মোবারক হোসেন। 

এর আগে সরেজমিন পরিদর্শনে যান ইউএনও মোবারক হোসেন, সাতকানিয়া পৌর সভার মেয়র মোহাম্মদ জোবায়েরসহ অন্যান্যরা। 

সাতকানিয়ার ইউএনও মোহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগে দেশব্যাপী উন্নয়ন মেলার ধারাবাহিকতায় সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসনও উন্নয়ন মেলা আয়োজন করছে। সরকারের উন্নয়ন মুলক কার্যত্রমসমূহ জনসম্মুখে দেখার জন্য এই মেলার আয়োজন। 

তিনি আরো বলেন, সরকারি সকল  প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি এনজিও, বেসরকারি ব্যাংকসহ মোট ৫০-৬০টি সংস্থার স্টল থাকবে এই মেলায়।  সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এই মেলায় প্রবেশ করে উপভোগ করতে  পারবে আগত দর্শনার্থীরা। 

দেশে নতুন রোগ বিদেশ থেকে আসছে ভাইরাস by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

দেশে গত প্রায় তিন যুগে মোট আটটি রোগ ব্যাপক আলোচনায় এসেছে। এডিস মশা থেকে যে তিনটি রোগ ছড়ায় তার সব কটিই বাংলাদেশে শনাক্ত হয়েছে। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও জিকা শনাক্ত হয় কয়েক বছরে। ১৯৯৯ সালে প্রথম ডেঙ্গু শনাক্ত হয় ঢাকায়। ২০০৮ সালে চিকুনগুনিয়া রাজশাহীতে এবং ২০১৪ সালে চট্টগ্রামে জিকা শনাক্ত হয়। এই তিনটি রোগসহ দেশে মোট আটটি নতুন রোগ শনাক্ত হয়েছে।
নির্মূল হওয়ার প্রায় তিন যুগের মাথায় ডিপথেরিয়া ফিরে এসেছে বাংলাদেশে। বাকি চারটি হলো এইচআইভি/এইডস, নিপাহ, বার্ড ফ্লু বা এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও সোয়াইন ফ্লু। যেসব রোগ কখনোই মানুষের ছিল না এবং তা যদি মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়, তখন তাকে নতুন রোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বেশিরভাগ রোগ আফ্রিকা মহাদেশেই প্রথম  শনাক্ত হয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। শঙ্কা তৈরি করা নতুন রোগের ভাইরাস দেশে আসছে কোনো-না-কোনোভাবে বিদেশ থেকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের মতো সীমিত সম্পদের দেশে এমন রোগ স্বাস্থ্য অর্থনীতিতে একটা বড় চাপ সৃষ্টি করছে।
চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। ২০০০ সালে ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর এর ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসা নিয়ে হিমশিম খান স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও চিকিৎসকরা। রোগের কারণ, লক্ষণ এবং চিকিৎসা বুঝে ওঠার আগেই অনেক রোগীর মৃত্যু ঘটে। ২০০০ সালে ডেঙ্গুতে মানুষের মৃত্যু হয়। জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্ত ও সঠিক চিকিৎসা-পদ্ধতি প্রয়োগের পর ডেঙ্গুর প্রকোপ কমতে থাকে। তবে এখনো এই রোগে মানুষ মারা যাচ্ছে। ২০১৬ সালে আক্রান্ত হয় ৬ হাজার ৬০ জন এবং ১৪ জন মারা গেছে। গত বছর আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৭৬৭ জন এবং মারা গেছেন ৮ জন মারা গেছে। এই জ্বর এশিয়ার দেশ চীন থেকে বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। গত এপ্রিল-মে থেকে ঢাকা শহরে চিকুনগুনিয়া ঘরে ঘনে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। ২০০৮ সালে রাজশাহীতে চিকুনগুনিয়া শনাক্ত হওয়ার পর ২০১১ সালে ঢাকার দোহারে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ২০১৬ সালে ডিসেম্বরে ঢাকা শহরের কাঁঠালবাগান এলাকায় ৩০ জন চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। ১৯৫২ সালে আফ্রিকাতে প্রথম দেখা পাওয়া এই জ্বর রাজধানীসহ সারা দেশেই আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। ১৯৪৭ সালে আফ্রিকা মহাদেশের উগান্ডায়  প্রথম শনাক্ত হওয়া জিকা সমপ্রতি বছরগুলোতে ব্রাজিলসহ কয়েকটি দেশে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়লেও বাংলাদেশে এখনো তেমন কোনো নজির দেখা যায়নি। চট্টগামের একজন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন ২০১৪ সালে। এটা শনাক্ত করেছিল আইইডিসিআর। তবে ওই ব্যক্তি কোথায় কীভাবে আক্রান্ত হয়েছিলেন, তার সঠিক তথ্য জানা যায়নি। তবে রোগটি নিয়ে সরকার সতর্ক আছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া বা জিকাই শুধু নতুন রোগ নয়। ২০০১ সালে নিপাহ, ২০০৭ সালে বার্ড ফ্লু বা এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং ২০০৯ সালে সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত মানুষ প্রথম শনাক্ত হয়। নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মাঝেমধ্যে দু-একজনের মৃত্যু হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে আইইডিসিআর। ২০০৭ সালে ঠাকুরগাঁও জেলায় নিপাহর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এরপর লালমনিরহাট, রাজবাড়ী এবং ফরিদপুর জেলায় এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। বাদুড় খেজুরের রসে মুখ দিয়ে নিপাহ ভাইরাস ছড়ায়, সেই রস মানুষ খেলে এতে আক্রান্ত হয়। বার্ড ফ্লু নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল প্রথমত পোলট্রি শিল্পের মালিকদের। অনেক খামারে এই রোগ দেখা দেয়। সরকার এই শিল্পকে বাঁচাতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু এই রোগ একসময় মানুষের মধ্যেও ছড়ায়। একাধিক মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। দেশে বড় ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সোয়াইন ফ্লুর প্রাদুর্ভাবের পর। এ রোগটিও দেশে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে। এই রোগে এ পর্যন্ত ছয়জন মারা গেছে বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর সূত্র। এই রোগ চিকিৎসার জন্য বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে বিপুল পরিমাণ ওষুধ দেয়া হয়েছিল।
তবে বাইরে থেকে আসা রোগের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে এইচআইভি/এইডস নিয়ে। ১৯৮৯ সালে একজন বিদেশি এবং ১৯৯০ সালে দুজন দেশি এইডস রোগী শনাক্ত হয়। প্রতিবছর এই রোগে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। ২০১৬ সালে এই রোগে ১৪১ জন মারা গেছে। দেশে এই পর্যন্ত ১১ হাজার ৭০০ জন এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী রয়েছেন। ৭৯৯ জন মারা গেছেন। সূত্র জানায়, দেশে ২০১৭ সালে এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্তর সংখ্যা ৫ শতাধিক। মারা গেছে শতাধিক। শিরায় মাদক নেয় এমন জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই রোগের প্রকোপ অনেক বেশি বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। এই রোগীটি শুরুতে আফ্রিকা মহাদেশ ও  পরে আমেরিকায় চিহ্নিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) ২০০৫ সালের এক গবেষণা প্রবন্ধে বলেছিল, ১৯৮০ সাল থেকে প্রতি আট মাসে একটি নতুন রোগ মানুষের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। ১৯৮০ সালকে বেছে নেয়া হয়েছিল এই কারণে যে ওই বছর পৃথিবীকে গুটি বসন্তমুক্ত ঘোষণা করেছিল বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থাসহ একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বলছে, বর্তমানে নতুন যেসব রোগ দেখা যাচ্ছে, তার ৭০ শতাংশ পশুপাখি থেকে আসছে। সোয়াইন ফ্লু, বার্ড ফ্লু, নিপাহ ভাইরাস আসে পশুপাখি থেকে। মানুষ, প্রাণী ও প্রতিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হওয়ার কারণে এসবের উৎপত্তি হচ্ছে। একই সঙ্গে মানুষ ও পশুপাখির ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এসব রোগের বিস্তার বেশি।
মাঝেমধ্যে গণমাধ্যমে ‘অজ্ঞাত রোগে’ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে এমন খবর বের হয়। কিছু ক্ষেত্রে রোগ শনাক্ত করতে বিলম্ব হয়। যেমন গত বছর হামে আক্রান্ত হয়ে সীতাকুণ্ডের ত্রিপুরাপাড়ায় ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ৮৫টি শিশু হাসপাতালে ভর্তি ছিল। প্রথমে বলা হয়েছিল, এরা ‘অজ্ঞাত রোগে’ আক্রান্ত। কিছু ক্ষেত্রে গুজবও ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৪ সালে ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত এক ব্যক্তি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি, এমন কথা শোনা  গিয়েছিল। একই বছর ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মার্স করোনারি ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি ভর্তি আছে, এমন শোনা যায়। দুটি ঘটনাই অনুসন্ধান করে আইইডিসিআর। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, দুটিই ছিল গুজব। আবার পুরনো কিছু রোগ নতুনভাবেও দেখা দিচ্ছে। এর মধ্যে অ্যানথ্রাক্স একটি। ২০০৯ সাল থেকে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ এলাকায় মানুষ নিয়মিতভাবে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হচ্ছে। নির্মূল হওয়ার প্রায় তিন যুগের মাথায় ডিপথেরিয়া ফিরে এসেছে বাংলাদেশে। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই রোগ ধরা পড়েছে সমপ্রতি। বাংলাদেশ থেকে ৩৫ বছর আগে বিলুপ্ত হয়েছিল এই রোগ। গত বছরের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়ানো রোগ ডিপথেরিয়ায় আক্রান্ত ২ দুই হাজার ৭৫৬ জন রোহিঙ্গাকে সনাক্ত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সংক্রামক এই রোগে এ পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে জেলা স্বাস্থ্য অফিস।
নতুন নতুন রোগ দেখা দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মানুষ ও পশুপাখির স্বাস্থ্যকে আর আলাদা করে দেখার প্রয়োজন নেই বলে অনেকেই মনে করছেন। ‘এক স্বাস্থ্য’ নামে আন্দোলন বা ধারণাকে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বিশ্বব্যাপী এগিয়ে নিচ্ছে। সংস্থা দুটির যৌথ কার্যক্রম হলো ‘ওয়ান হেলথ’। আইইডিসিআরে এ বিষয়ে গবেষণাগার আছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগের ওপর নজরদারির ধরনে পরিবর্তন আনতে হবে। জনস্বাস্থ্যবিদ, পশুস্বাস্থ্যবিদ, কৃষিবিদ, পরিবেশবিদ একসঙ্গে নজরদারিতে অংশ নিতে হবে। স্বাস্থ্য এখন শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একার কাজ নয়।
এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, ডিপথেরিয়া আবার ফিরে এসেছে বাংলাদেশে। এটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। ১৫ বছরের নিচে যাদের বয়স তাদের একটা করে ইনজাকশন দিতে হবে। আর ক্যাম্পের আশপাশের থানাগুলোতেও ভ্যাকসিন দিতে হবে। চিকুনগুনিয়া এবার আতঙ্ক তৈরি করেছে। এই রোগের মশা মারার ওষুধ দিতে। জিকার বিষয়ে ফলোআপ করতে হবে। অন্য কোনো দেশ থেকে রোগ আসার আশঙ্কা থাকলে আন্তর্জাতিক বন্দরগুলোতে বিজ্ঞানসম্মতভাবে রোগ শনাক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে। জিকার বিষয়ে সেই ধরনের ল্যাব বাংলাদেশে নেই। দেশের মধ্যে রোগ শনাক্ত হলে রোগের চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে চিকিৎসকসহ অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের দ্রুত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। নতুন রোগ প্রতিরোধের ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগ নিতে হবে। এইডস বিষয়ে তিনি বলেন, মাদকসেবীদের মাধ্যমে এটা ২৬ শতাংশ ছড়াছে। যা অশনি সংকেত।
আইইডিসিআর’র পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ ব্যাপারে মানবজমিনকে বলেন, সারা বছর সার্ভিলেন্স সিস্টেম চালু থাকে। আবার আউটব্র্যাক হলে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। নিপাহ ভাইরাসের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এটা সিজনে হওয়ার কারণে ওই সময়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়ে থাকে। জিকার বিষয়ে বছরজুড়ে ব্যবস্থা নেয়ার কথা উল্লেথ করেন তিনি। নতুন রোগ সংক্রমণের আশঙ্কা থাকলে বন্দরগুলোতে রোগ শনাক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়। নতুন রোগ শনাক্ত হলে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতার উদ্যোগ নেয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি ৫ হাজার কোটি ডলার!

বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি ছয় বছরের মধ্যে রেকর্ড গড়েছে। গত নভেম্বরে দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি তিন দশমিক দুই শতাংশ বেড়ে পাঁচ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।

বাণিজ্য দপ্তরের বরাতে বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, আলোচ্য মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি ও রপ্তানি নতুন রেকর্ড গড়েছে। এ মাসে দেশটির রপ্তানি দুই দশমিক তিন শতাংশ বেড়ে ২০ হাজার কোটি ডলার অতিক্রম করে। যা এ যাবৎকালের রেকর্ড। বিপরীতে আমদানি দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ বেড়ে ২৫ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘাটতি বাড়ার এ অর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমেছে। পণ্য রপ্তানির চেয়ে অনেক বেশি পণ্য আমদানি করছে দেশটি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দর্শনকে এক্ষেত্রে অর্থনীতির জন্য দুর্বলতা হিসেবে ধরা হচ্ছে।

খবরে বলা হয়, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে চীনের সঙ্গে। এ মাসে দেশটির সঙ্গে ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে তিন হাজার কোটি ডলারে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দপ্তর আরো জানায়, এ নিয়ে ২০১৭ সালের ১১ মাসে মোট বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে ৫১ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। যা এর আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য যুক্তি দেখিয়েছেন, গত মাসে বড় ধরনের কর সংস্কার নীতির যে উদ্যোগ কংগ্রেসে অনুমোদন দেয়া হয়েছে তা বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সহায়তা করবে। নতুন কর নীতিতে কোম্পানিগুলো উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত হবে।

আইনি জটিলতায় বিরাট-আনুশকার বিয়ে

ভারতীয় ক্রিকেটার বিরাট কোহলি ও অভিনেত্রী আনুশকা শর্মার বিয়ে নিয়ে নতুন করে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। গেলো ১১ ডিসেম্বর ইতালীতে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন বিরাট-আনুশকা। কিন্তু বিরাট-আনুশকা যে ইতালিতে বিয়ে করতে যাচ্ছেন এই তথ্য ছিল না রোমের ভারতীয় দূতাবাসে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, আইনজীবী হেমন্ত কুমার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আরটিআই (রাইট টু ইনফরমেশন) আবেদন করেছিলেন। রোমের ভারতীয় দূতাবাস তার জবাব দিয়েছে ৪ জানুয়ারি। এরপরই সামনে এসেছে বিষয়টি।

জানা গেছে, বিরাট-আনুশকা তাদের বিয়ের ব্যাপারে কোনো তথ্য আগে থেকে ভারতীয় দূতাবাসকে জানাননি। হেমন্ত কুমার দাবি করেন, বিদেশে বিয়ে করতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশের ভারতীয় দূতাবাসকে আগে থেকেই বিষয়টি জানাতে হয়।

এই আইনজীবী বলেন, কোনো ভারতীয় ব্যক্তি যদি অন্য কোনো দেশে গিয়ে বিয়ে করেন তাহলে তাকে বিদেশি বিয়ের নিয়ম—১৯৬৯ মতে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। কিন্তু বিরাট-আনুশকা সেই নিয়ম মানেননি।

দক্ষিণ আফ্রিকায় ক্রিকেট সিরিজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন বিরাট কোহলি। বিয়ের পর গত ২৬ ডিসেম্বর স্বামীর সঙ্গে কেপটাউনে যান আনুশকা শর্মা। সপ্তাহ দুয়েক থেকে গত রোববার মুম্বাই ফিরেছেন আনুশকা। এ মাসেই শুটিংয়ে ব্যস্ত হবেন এই নায়িকা।

গত ১১ ডিসেম্বর ইতালিতে বিয়ে করেন বিরাট-আনুশকা। এর আগে বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল। পরে দেশে ফিরে জমকালো বিবাহত্তোর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন তারা। সেই অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে দেশটির হাই প্রোফাইল অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

বিজয় গোখলের জন্য ‘এজেন্ডা’ by প্রশান্ত ঝা

২০১৩ সালে কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত নেপালি আলোচকদের সঙ্গে এক বৈঠকে তৎকালীন চীনা রাষ্ট্রদূত বলেছিলেন- ভারতীয় রাষ্ট্রদূত এখানে যা যা করেন, আমিও ঠিক তাই করবো। ঐতিহ্যগতভাবে নেপালে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতদের আগ্রহ ও কর্মকাণ্ডের পরিধি- সরকারের পতন ঘটানো থেকে শুরু করে নেতাদের অর্থায়ন, আমলাতান্ত্রিক নিয়োগদানে প্রভাব খাটানো থেকে প্রাথমিক উন্নয়ন দাতার ভূমিকা পালন করা পর্যন্ত বিস্তৃত। সেদিক দিয়ে চীনা রাষ্ট্রদূতের ওই মন্তব্য নেপালে চীনের উচ্চাকাঙ্ক্ষার একটি শক্ত বহিঃপ্রকাশ ছিল।
ভারতীয় সরকার সমপ্রতি দেশের নতুন পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে বিজয় কেশাব গোখলের নাম ঘোষণা করেছে। সাধারণত ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব ব্যক্তিগতভাবে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর নজর রাখেন। সেক্ষেত্রে সময় এসেছে, প্রতিবেশী দেশগুলোতে ভারতের মুখ্য চ্যালেঞ্জগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করে দেখার।
গোখলে একজন প্রবীন চীন বিশেষজ্ঞ হওয়ায় ব্যাপারটা সহজ হবে। কেননা, অঞ্চলগুলোতে ভারতের মুখ্য চ্যালেঞ্জগুলোর সঙ্গে অঞ্চলগুলোতে বেইজিংয়ের বাড়তে থাকা প্রভাবের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
প্রতিবেশী অঞ্চলগুলোতে ভারতের মূল সমস্যা কী?
এটা বোঝা খুবই সহজ যে, দিল্লির বিশ্বাস তাদের নিরাপত্তার জন্য বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। তা সত্তেও দেশটি এর প্রধান প্রতিবেশী দেশগুলোতে নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ। আর যেসব দেশগুলোতে সফল হয়েছে, সেসব দেশেও অবস্থা খুবই ভঙ্গুর। এছাড়া, দিল্লির ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্ররা বেইজিংয়ের পছন্দসই রাজনৈতিক মিত্রদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আছে।
মালদ্বীপে, আবদুল্লাহ ইয়ামীনের সরকার পছন্দ নয় ভারতের। কিন্তু সেখানে সরকারকে দুর্বল করতে বা পতন ঘটাতে ভারতের সকল প্রচেষ্টা বিফলে গেছে। চীনা ও সৌদি সমর্থন নিয়ে ইয়ামিনী রাজধানী ম্যাল এ বেশ আরামদায়কভাবে বসেই দেশ চালাচ্ছেন। নেপালে, চীন-সমর্থিত কেপি অলি’কে পছন্দ নয় ভারতের। তাকে ২০১৬ সালেই অভিশংসিত করতে সক্ষম হয়েছিল ভারত। কিন্তু, সামপ্রতিক নির্বাচনগুলোতে পুনরায় নেপালের প্রধান নেতা হিসেবে উত্থান ঘটেছে অলির। সরকার গঠনের জন্য সক্ষম অবস্থানে আছেন তিনি। অলি’র প্রতিদ্বন্দ্বী দ্য নেপালি কংগ্রেসের প্রতি দিল্লীর অঢেল সমর্থন থাকা সত্তেও এমনটা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কায়, ২০১৫ সালে একটি মাহিন্দা রাজাপাকসা-বিরোধী জোট গড়ে তুলতে সফল হয়েছিল ভারত। চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গা, মাইথ্রিপালা সিরিসেনা ও রনিল উয়িক্রেমেসিঙ্ঘী’কে একসঙ্গে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। সিরিসেনা হয়েছেন প্রেসিডেন্ট, উয়িক্রেমেসিঙ্ঘী হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু তবুও এই দু’য়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠতার অভাব বিদ্যমান। শ্রীলঙ্কা সরকার চীনের সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। তামিলদের সাংবিধানিক অনুমোদন সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে ভারত। পাশাপাশি রাজাপাকসে তার দক্ষিণাঞ্চলীয় সিংহলী ঘাঁটিতে এখনো জনপ্রিয় ও আগামী নির্বাচনে ফের ক্ষমতা দখল করে নিতে পারেন।
বাংলাদেশে টানা দুইবার ধরে ক্ষমতায় আসীন আছে ভারতের বন্ধু সরকার। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনটি বেগম খালেদা জিয়া নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধীদল বিএনপি বর্জন করায় তা একটি একক ঘোড়দৌড়ে পরিণত হয়। তবে দিল্লির সহায়তায় সেটি আন্তর্জাতিকভাবে বৈধতার স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিএনপি’র সঙ্গে জামায়াতের সমপর্ক এখনো টিকে আছে। দলটি আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। এমনকি আসন্ন নির্বাচনে তাদের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাও আছে।
প্রত্যকে দেশের নির্দিষ্ট সমস্যা আলাদাভাবে সামলাতে, গোখলে’কে কিছু মৌলিক প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে যে প্রশ্নগুলো তার উত্তরসূরিদের আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। প্রতিবেশী দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গে ভারতের কখন জড়ানো উচিত? প্রতিবেশী দেশগুলোতে প্রত্যাশা অনুযায়ী ভারতের স্বার্থের সংজ্ঞা সংকীর্ণ করে রাখাটা সঠিক কাজ (উদাহরণস্বরূপ, শুধু নিরাপত্তা সহযোগিতা) নাকি তা আরো বিস্তৃত করার দরকার আছে (উদাহরণস্বরূপ, অর্থনৈতিক সংহতি বা ক্রস-বর্ডার সমপর্কের মাধ্যমে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা বা দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতায় আচরণগত অবদান)? সেই নির্দিষ্ট ‘রেডলাইনগুলো’ কী কী যেগুলো দিল্লিকে অতিক্রম করতে দেয়া যাবে না? কোন লেভারেজে এসব রেডলাইনের লঙ্ঘন ঠেকিয়ে রাখা হবে ও যারা লঙ্ঘন করবে তাদের শাস্তি দেয়া হবে- বিশেষ করে এমন একটি সময়ে, যখন প্রতিবেশি দেশগুলো চীনের দিকে মোড় নিতে পারার সম্ভাবনা আছে? ভারত কি  দেশের নির্বাচকমণ্ডলীর কাছে সুনাম খুইয়ে হলেও ওই লেভারেজের চর্চা করতে ইচ্ছুক? দেশীয় রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করা ও প্রত্যেক দেশে নিজেদের পছন্দসই প্রার্থী রাখা বন্ধ করে দেয়া হবে নাকি সেটা বেশি বড় নিরাপত্তা ঝুঁকির সৃষ্টি করে- বিশেষ করে যখন চীনের দেশীয় রাজনীতির মাইক্রো-ম্যানেজমেন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে? ভারত এসব রাষ্ট্রের রাজনীতি কীভাবে সামলাবে যখন তাদের নিজ নিজ সমাজগুলো অতীতের চেয়ে আরো বেশি করে ভারতের প্রভাব থেকে সরে যাচ্ছে?
রাজনীতি একটি শক্তিশালী ব্যবসা। এই ব্যবসায় কোনো সুষম তত্ত্ব দ্রুত গতিতে পরিবর্তিত হতে থাকা পরিস্থিতি সামলাতে সহায়ক নয়। কিন্তু গোখলে আরো স্থিতিশীল বৈদেশিক নীতিমালা প্রতিষ্ঠার দিকে অগ্রগতি ঘটাতে পারবেন। যদি তিনি বর্তমান পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শংকরের রেখে যাওয়া কাজ আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন। প্রতিবেশী দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ মন্থন কীভাবে সামলানো যায় এবং প্রতিবেশী অঞ্চলে চীনের ভূমিকা ভারতে যে প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া কি থাকা উচিত সে বিষয়ে আরো সুসঙ্গত কোনো দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেন তাহলে। এই স্পষ্টতা দিল্লিকে যেমন সাহায্য করবে তেমনি এর প্রতিবেশী দেশগুলোকেও সাহায্য করবে।
(হিন্দুস্তান টাইমসে প্রকাশিত নিবন্ধের অনুবাদ। অনুবাদ করেছেন রিফাত আহমাদ)

অভিভাবক নির্যাতনের ঘটনায় ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা, ৩ শিক্ষককে শোকজ

 কক্সবাজারের সদর উপজেলায় এক অভিভাবককে হাত-পা বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ঘটনায় স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা  করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় তিন শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে।

সোমবার ভুক্তভোগী অভিভাবক আয়াত উল্লাহর স্বজন বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় এ মামলাটি করেন। তবে সুনির্দিষ্ট করে বাদীর নাম জানায়নি পুলিশ।

মামলায় খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহিরুল হক, শিক্ষক নজিবুল্লাহ, নুরুল হক, স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি এনামুল হক ও সদস্য মুস্তাকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আর ১০-১২ জনকে করা হয়েছে অজ্ঞাত পরিচয়ের আসামি।
ভুক্তভোগী আয়াত উল্লাহ  বলেন, নির্যাতনকারীরা জামায়াতের বড় মাপের নেতা হওয়ায় আমাকে পুলিশ ও সাংবাদিকের কাছে মুখ না খুলতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজার সদর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রঞ্জিত কুমার বড়ুয়া জানান, ঘটনার খবর পেয়ে ওই অভিভাবকের বাড়ি যাই। এরপরই থানায় মামলা করেন তারা।
এদিকে ঘটনাস্থল ও অভিভাবকের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজার সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নোমান হোসেন প্রিন্স। তিনি জানান, এ ঘটনায় জতিড়দের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্ত করতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এছাড়া অভিভাবককে নির্যাতনের ঘটনায় খরুলিয়া কেজি অ্যান্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক বোরহান উদ্দিন, খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহিরুল হকসহ তিন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান ইউএনও প্রিন্স।
সন্তানের পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হওয়া,পূর্ব ঘোষণা ছাড়া ভর্তি ফি ও মাসিক বেতন বাড়ানোর কারণ জানতে চাওয়ায় রোববার (০৭ জানুয়ারি) সকালে আয়াত উল্লাহর ওপর চড়াও হন খরুলিয়া কেজি অ্যান্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক বোরহান উদ্দিন এবং খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহিরুল হকসহ তাদের সহযোগীরা।
হাত-পা বেঁধে মারধরের ছবি ও ভিডিও এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে কক্সবাজার জেলাজুড়ে।

অদক্ষ সরকারের কবলে যুক্তরাষ্ট্র by রস ডৌথাট

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে রাষ্ট্রটির প্রধান নির্বাহী পদে এর আগে অক্ষম মানুষ বসেননি, তা নয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট জেমস গারফিল্ড যে অল্প সময় প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তার অর্ধেক সময় তাঁকে গুলির আঘাত ধুঁকে ধুঁকে সয়ে মৃত্যুবরণ করতে হেয়েছিল। রিচার্ড নিক্সনের শেষের দিনগুলোতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী কার্যত তাঁর হাত থেকে পরমাণু অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছিলেন। উড্রো উইলসনের স্ট্রোক হওয়ার পর সরকার চালাতেন তাঁর স্ত্রী। পরিস্থিতি এত সমস্যাজনক হয়ে উঠেছিল যে উইলসনের এক সমালোচক বলেছিলেন, ‘আমাদের দেশে পেটিকোট সরকার চলছে...মিসেস উইলসনই দেশের প্রেসিডেন্ট’। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষেত্রে ভিন্নতা হলো সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে তাঁর যে অদক্ষতা, সেটা কিন্তু ধীরে ধীরে তৈরি হয়নি। আবার ঘাতকের বুলেট, স্ট্রোক ও প্রেসিডেন্সির শেষ মুহূর্তের সংকটের কারণে এটা ঘটেনি। বস্তুত, সরকারের প্রথম দিন থেকে এই অদক্ষতাই তাঁর প্রশাসনের মূল বৈশিষ্ট্য। আর নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও তা দৃশ্যমান ছিল। এর অর্থ হলো প্রেসিডেন্টের অযোগ্যতা প্রকৃত অর্থে হারভে ওয়েনস্টেইনের যৌন কেলেঙ্কারির মতো উন্মুক্ত রহস্য নয়। অর্থাৎ, যে জঘন্য পরিস্থিতি সম্পর্কে ভেতরের মানুষ অবগত হলেও সাধারণ মানুষ তা জানত না। নতুন বছরের শুরুতে মাইকেল উলফের ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি বইটি উন্মাদনা তৈরি করা সত্ত্বেও ট্রাম্পের এই বৈশিষ্ট্যগুলো অজানা ছিল না। বিশিষ্ট রিপাবলিকান নেতারা রাজনৈতিক কারণে উক্ত বইটিসহ এই লেখা পাঠ অবিবেচকের কাজ মনে করতে পারেন। কিন্তু যাঁরা এই লেখা পাঠ করবেন তাঁরা জানেন, ট্রাম্পের ব্যক্তিত্ব, মানসিক ধাত ও বয়সের কারণে তিনি প্রতিনিয়তই প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। তাঁর প্রেসিডেন্সির ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ প্রথম বছরে আমি আরেকটি কলামে বলেছিলাম, এসব কারণে ২৫ তম সংশোধনী কাজে লাগানো যৌক্তিক। এই সংশোধনীর বলে প্রেসিডেন্টের মন্ত্রিসভা আইন বিভাগের সঙ্গে পরামর্শক্রমে প্রেসিডেন্টকে হোয়াইট হাউস থেকে সরিয়ে দিতে পারে। আর উলফের বইয়ে যেসব তথ্য-উপাত্ত দেওয়া হয়েছে, তাতে এই যুক্তির সপক্ষে আরও অনেক কিছু পাওয়া গেছে। বইটির কিছু অংশ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ আছে। কিন্তু জিম ভ্যানডেহেই ও মাইক অ্যালেনের মতো হোয়াইট হাউসের ভেতরের মানুষেরা বলেছেন, বইটিতে ট্রাম্পের সক্ষমতা ও মানসিক অবস্থা নিয়ে যা বলা হয়েছে তা ‘সন্দেহাতীতভাবে সত্য’। আবার এ কথাও বলা দরকার, এটা বুঝতে হোয়াইট হাউসের একদম ভেতরের মানুষ হওয়ার দরকার নেই, তাঁর টুইটার ফিডগুলো দেখলেই চলবে। কিন্তু এই উপসম্পাদকীয়তে যা-ই প্ররোচনা থাকুক না কেন, ২৫ তম সংশোধনী কাজে লাগবে না। আজকের এই পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য রিপাবলিকানদের হাজারটা দোষ দেব, কিন্তু যে সুযোগটি কখনো কাজে লাগানো হয়নি, সেটা ব্যবহার না করার জন্য তাঁদের দোষারোপ করাটা বেশি হয়ে যায়। হাজার হোক, ট্রাম্প তো কেবল এক বছর আগে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। আবার এই সংশোধনী কাজে লাগাতে গেলে আইন ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে দুর্দান্ত সমন্বয় থাকতে হবে। আবার সেই সমন্বয় হলেও তা ভেঙে যেতে পারে। শুধু ঈশ্বরই জানেন, তাঁর পরিণতি কী হবে। নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পের সঙ্গে রাশিয়ার যোগসাজশের তদন্ত হচ্ছে। ওই তদন্ত থেকে যদি আরও তথ্য বেরিয়ে না আসে, তাহলে আগামী পাঁচ বছর আমাদের নিক্সন ও উইলসনের শেষ দিনগুলোর মতো কাটবে। তবে হোয়াইট হাউসের অন্দরমহলের মানুষ এ ব্যাপারে আমাদের চেয়ে ভালো বোঝেন।
ট্রাম্প সরকার তো সেই পেটিকোট সরকারের মতোই। যদিও পোশাক এখন অনেক বেশি আছে, যেমন সামরিক পোশাক, ড্রেস স্যুটসহ ইভাঙ্কা আর যা যা পরে থাকেন। এর অর্থ দাঁড়ায় এ রকম-এই সময়ের মূল প্রশ্ন কিন্তু সাধারণ নীতিগত প্রশ্ন নয়। প্রশ্নটা আবার অস্বাভাবিক কিছুও নয়, প্রতিরোধ বা ফ্যাসিজমের ব্যাপারে ভীত মানুষেরা যেমনটা মুখোমুখি হওয়ার কথা ভাবেন। ব্রেইবার্ট নিউজের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও হোয়াইট হাউসের সাবেক প্রধান কৌশলবিদ স্টিভ ব্যাননের হোয়াইট হাউস থেকে প্রস্থানের মধ্য দিয়ে ডানপন্থী জনতুষ্টিবাদী অ্যাজেন্ডার মৃত্যু হয়েছে এমনটি ভাবার অবকাশ নেই। ট্রাম্প প্রকৃতপক্ষেই কর্তৃত্ববাদী, কিন্তু নিক্সন ও ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের মতো প্রেসিডেন্টরা যা করেছেন, সেই মাপের ক্ষতি করার মতো সামর্থ্য তাঁর নেই। বরং বড় প্রশ্নটি হচ্ছে সাংগঠনিক, ব্যবস্থাপনাগত ও মনস্তাত্ত্বিক; সেটা হলো ট্রাম্পের আশপাশে যেসব মানুষ আছেন, তাঁরা কি ট্রাম্পের অযোগ্যতা কাজে লাগিয়ে ঐতিহাসিক দুর্যোগ রোধ করতে পারবেন? গত এক বছর তাঁরা সেই কাজ করেছেন, কিছু ব্যর্থতা (পুয়ের্তে রিকো) থাকলেও তাঁদের কিছু প্রকৃত সফলতা (ইসলামিক স্টেটের পরাজয়) আছে। মানুষ হয়তো উইলসনের কথায় হাসবেন। তিনি বলেছিলেন, ‘পশ্চিমের নর-নারীদের গণমাধ্যম যতই উপহাস করুক না কেন, তারা প্রকৃত অর্থেই অনুভব করে, দেশের প্রতি তাদের দায়িত্ব আছে।’ কিন্তু অন্যদের জন্য কাজটি জরুরি বা গুরুত্বপূর্ণ। আপেক্ষিকভাবে যে স্থিতিশীলতা অর্জিত হয়েছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রকৃত অর্থেই সেবাপ্রাপ্ত হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ট্রাম্প এখনো যে সংকটের সম্মুখীন হননি, সে রকম সংকট হলে কি টিকবে? ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতার অংশীদার হলে বা প্রেসিডেন্টের পরিবার আইনি ঝামেলায় পড়লে কি এটা টিকে থাকবে? নাকি ব্যাপারটা এ রকম হবে যে আমরা যতটা ভেবেছি মার্কিন ব্যবস্থা প্রেসিডেন্টের অক্ষমতা কাটিয়ে উঠতে তার চেয়ে বেশি কার্যকর? গত বছর আমরা দেখেছি, তাতে এই প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ-বোধক হতে পারে এমনটা ভাবার অনেক অবকাশ আমরা পেয়েছি। নতুন বছর আমাদের সে রকম আরও অনেক উপলক্ষের জোগান দিক। কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশৃঙ্খল মন কোথাও ঘুরে বেড়াতে যাচ্ছে না।
অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন, নিউইয়র্ক টাইমস থেকে নেওয়া।
রস ডৌথাট: মার্কিন সাংবাদিক।

চীন ভ্রমণ by আতাউর রহমান

ইংরেজ রোমান্টিক কবি কোলরিজ (স্যামুয়েল টেইলর কোলরিজ: ১৭৭২-১৮৩৪) কর্তৃক রচিত ‘কুবলা খান’ শীর্ষক কবিতাটি অত্যন্ত চমকপ্রদ। আর কবিতাটি রচিত হয়েছিল একটি মজার পটভূমিকায়: (কবির বর্ণনা অনুসারে) দোর্দণ্ড প্রতাপ নৃপতি কুবলা খানের রাজকীয় প্রাসাদের জৌলুশের কথা পড়তে পড়তে তিনি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন এবং ঘুমের মধ্যে তিনি কবিতাটি স্বপ্নের মাধ্যমে পান। ঘুম থেকে উঠেই তিনি কবিতাটি লিখতে শুরু করে দেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, কে একজন আগন্তুক এসে মাঝপথে তাঁকে বিরক্ত করায় তিনি স্বপ্নের বাকি অংশ ভুলে যান, যে কারণে কবিতাটি শেষ অবধি অসম্পূর্ণই থেকে গেছে। যদিও এ কারণে কবিতাটির রসাস্বাদনে অদ্যাবধি কোনো অসুবিধে হয়নি। সে যাহোক। কবিতাটির কথা আমার মনে পড়ে গিয়েছিল সাম্প্রতিক চীন সফর-উত্তর চীনের ইতিহাস পড়তে গিয়ে। কুবলা তথা কুবলাই খান ছিলেন মধ্যযুগে মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত দিগ্বিজয়ী নৃপতি চেঙ্গিস খানের পৌত্র এবং চীন থেকে ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল সাম্রাজ্যের অধিপতি। ১২৮০ সালে গোটা চীন সাম্রাজ্যের অধিপতি হয়ে কুবলাই খান ইউয়ান রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন, যেটা ১৩৬৮ সাল অবধি একনাগাড়ে চলতে থাকে। আর কাকতালীয়ভাবে চীনের বর্তমান মুদ্রার নামও হচ্ছে ইউয়ান। তা কুবলাই খান ছিলেন একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক। ইতিহাসে বিখ্যাত ইতালিয়ান পরিব্রাজক মার্কো পোলো তাঁর অধীনে বেশ কয়েক বছর কাজ করেছেন এবং তিনি লিখেছেন, (কুবলাই ছিলেন) দ্য গ্রেট লর্ড, আদম থেকে শুরু করে আমাদের সময় পর্যন্ত সৈন্যসামন্ত, সাম্রাজ্য আর ধনসম্পদের দিক থেকে পৃথিবীতে সবচেয়ে ক্ষমতাশালী নৃপতি। আর হ্যাঁ, জ্যোতিষশাস্ত্রে ছিল তাঁর অগাধ বিশ্বাস। তাঁর রাজদরবারে রাজজ্যোতিষীর সংখ্যা নাকি ছিল পাঁচ হাজারের মতো এবং তাঁদের একমাত্র কাজই ছিল দৈনন্দিন আবহাওয়া ও ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করা। কিন্তু একটুখানি ভুল হলেই তাঁদের চরম শাস্তি ভোগ করতে হতো। তবে মঙ্গোলীয় শাসকেরা যে নামের পেছনে ‘খান’ লিখতেন, সেটার অর্থ কিন্তু ছিল ‘প্রিন্স’ অথবা ‘শাসক’। আমাদের অনেকের পূর্ব-পুরুষেরা যেমন অন্য ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেই নামের সঙ্গে ‘খান’ লাগিয়ে দিতেন, ব্যাপারটা মোটেই তেমন নয়! অথবা তেমনও নয়, যেমন একজন লোককে যখন টেলিফোনে জিজ্ঞেস করা হলো ‘আপনি কি খান’, তখন তিনি জবাব দিয়েছিলেন, ‘আমি হালাল সবকিছুই খাই।’ স্পষ্টতই তিনি ‘কি’ ও ‘কী’—এই দুইয়ের পার্থক্য বুঝতে পারেননি অথবা বুঝেও না বোঝার ভান করেছিলেন। যাকগে এসব কথা। চীনাদের সম্পর্কে এ যাবৎ আমার প্রত্যক্ষ কোনো জ্ঞানই ছিল না।
তবে এটা জানতাম যে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশই চায়নিজ। যে কারণে বলা হয়ে থাকে যে পৃথিবীতে জন্ম নেওয়া প্রতি চতুর্থ শিশুটিই হচ্ছে চায়নিজ। আর এটা শুনে এক আইরিশ দম্পতি নাকি তাঁদের চতুর্থ সন্তান নেওয়া থেকে বিরত হয়েছিলেন এই ভয়ে যে পাছে তাঁদের ঘরে চায়নিজ শিশু জন্মায়। অবশ্য এটা ইংরেজদের অহেতুক প্রপাগান্ডা হতে পারে। কেননা, ইংরেজদের চোখে আইরিশরা নাকি নিরেট বোকা আর স্কটিশরা হাড়কেপ্পন। আমি এটাও জানতাম যে মানবসভ্যতার অগ্রগতিতে চায়নিজদের অবদান কম নয়। ছাতা, চা-পাতা, সিল্কের পোশাক, চিনামাটির বাসন, ফুলদানি ইত্যাদির ব্যবহার এবং সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রচলন চীনারাই সর্বাগ্রে করেছে। আর প্রাচীন চায়নিজ দার্শনিক কনফুসিয়াসের খ্যাতি তো বিশ্বজোড়া। কনফুসিয়াসের সেই বাণী চিরন্তনী, ‘আমি শুনি, আমি ভুলে যাই; আমি দেখি, আমি স্মরণ রাখি, আমি করি, আমি বুঝি (আই হিয়ার, আই ফরগেট, আই সি, আই রিমেম্বার, আই ডু, আই আন্ডারস্ট্যান্ড) বাংলাদেশসহ দুনিয়ার বহু দেশের লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোতে পর্যন্ত শেখানো হয়। তাঁর আরেকটি উক্তিও তো আমাদের মতো দেশের ক্ষেত্রে সবিশেষ প্রযোজ্য, ‘একজন শাসক তাঁর ব্যক্তিগত গুণাবলির আদর্শ দ্বারাই জনগণের জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য আনতে পারেন, বেশি বেশি আইন প্রণয়ন দ্বারা নয়।’ চীনের সাংহাইয়ে আত্মজের চাকরির সুবাদেই পরিণত বয়সে আমার চীনে পদার্পণ, ঘণ্টায় সাড়ে তিন শ কিলোমিটার গতিসম্পন্ন ট্রেনে চড়ে বেইজিং গমন এবং আবাল্য লালিত চীনের মহাপ্রাচীর দর্শনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ। বলা হয়ে থাকে, চাঁদ থেকে একমাত্র মনুষ্যসৃষ্ট যে জিনিসটা দৃশ্যমান হয়, সেটা হচ্ছে চীনের মহাপ্রাচীর। এটা ‘মিথ’ হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় একবার লিখেছিলেন, ফুল ফুটুক আর না ফুটুক, আজ বসন্ত; তাঁকে অনুসরণ করে বলা যেতে পারে—চাঁদ থেকে দেখা যাক আর না যাক, চীনের মহাপ্রাচীর হচ্ছে মানুষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি। হাজার হাজার দেশি-বিদেশি ট্যুরিস্টের ভিড়ে মহাপ্রাচীরের ওপর দাঁড়িয়ে আমার এ-ও মনে হয়েছে, একদা মঙ্গোলীয় যাযাবর দস্যুদের তথা শত্রুদের হাত থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার লক্ষ্যে নির্মিত মহাপ্রাচীরটি এখন সত্যিকার অর্থেই বিশ্বমানবের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। বিদায় নেওয়ার আগে বলি, ‘হাফ-উইট’ নাসিরুদ্দিনকে আমরা ‘মোল্লা’ বলি আর ‘হোজ্জা’ বলি, চীনের সিনচিয়াং প্রদেশের উইঘুর জাতিসত্তার ঘরে ঘরে তিনি কিন্তু নাসিরুদ্দিন আফেন্দি নামে পরিচিত। তাঁর মুখে লম্বা দাড়ি। মাথায় মস্ত বড় একটা পাগড়ি পরে তিনি সব সময় একটা শীর্ণকায় গাধায় চড়ে ঘুরে বেড়ান। তো চীন সফরকালে ওখানকার শহরাঞ্চলে তকতকে-ঝকঝকে রাস্তাঘাট দেখে আমার প্রায়ই নাসিরুদ্দিন আফেন্দির একটা গল্প মনে পড়ে যেত: আফেন্দি তাঁর প্রতিবেশীর কাছ থেকে একটি বড় কড়াই ধার করে নিয়ে এসেছিলেন। কিছুদিন পর তিনি বড় কড়াইয়ের সঙ্গে একটি ছোট্ট কড়াইও ফেরত দিতে গেলে প্রতিবেশীর প্রশ্নের উত্তরে বললেন, ‘আমার বাড়িতে থাকাকালীন বড় কড়াই ছোট্ট কড়াইটাকে বাচ্চা হিসেবে প্রসব করেছে।’ প্রতিবেশী আর কোনো প্রশ্ন না করে কড়াই দুটি রেখে দিলেন। পরবর্তী সময়ে আফেন্দি আবার বড় কড়াইটি ধার নিয়ে ফেরত দিচ্ছেন না দেখে প্রতিবেশী খোঁজ নিতে গেলে তিনি বললেন, দুর্ভাগ্যবশত কড়াইটা মারা গেছে; এবং প্রতিবেশীর বিস্ময় প্রকাশ দেখে যোগ করলেন, ‘কড়াই যদি বাচ্চা প্রসব করতে পারে, তাহলে সেটা মারাও যেতে পারে।’ ঠিক তেমনিভাবে খোদ আমাদের রাজধানী শহরের কোনো অভিজাত এলাকায়ও যদি কেউ লোক চলাচলের রাস্তার ওপর কিছু ময়লা-আবর্জনা ফেলে রেখে যায়, তাহলে রাতের অন্ধকারে আরও কিছু লোক সেই স্থানে ময়লা ফেলে আবর্জনার কলেবর বৃদ্ধি করে দেয়। আমি এটাকে বলি ময়লা বাচ্চা দেয়।
আতাউর রহমান: রম্যলেখক৷ ডাক বিভাগের সাবেক মহাপরিচালক৷

লুসি হল্টকে একটা দেশ দিন by ফারুক ওয়াসিফ

ইংরেজি হোম শব্দের বাংলা গৃহ বা আবাসও হয় আবার স্বদেশও হয়। ইংরেজ মিশনারি লুসি হল্টের ভাঙাচোরা হলেও একটা আবাস আছে, কিন্তু দেশ নেই। যে দেশটাকে তিনি ৫৭ বছর যাবৎ আবাস বানিয়ে বসবাস করেছেন, তিনি সেই দেশের হয়ে গেলেও সেটা তাঁর দেশ হয়নি। বাংলা বলেন, বাঙালিদের মতো শাড়ি পড়েন, বাঙালিদের সেবা করে যান, বাংলাদেশময় জীবন তাঁর, তবু তিনি ভিসাধারী বিদেশিনী। তাঁর শেষ ইচ্ছা বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে বাংলার মাটিতে সমাধি নেবেন—চিরকালের মতো মিশে যাবেন বাংলার প্রকৃতিতে। প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের গানের ভাষায়, ‘বাংলা আমার তৃষ্ণার জল, তৃপ্ত শেষ চুমুক। আমি একবার দেখি, বারবার দেখি, দেখি বাংলার মুখ।’ লুসি হল্টের জন্মতারিখ আর বাংলাদেশের বিজয়ের তারিখ একই—১৬ ডিসেম্বর। কী সুন্দর কাকতাল! কিন্তু এ যেন তার চেয়েও বেশি। পৃথিবীতে তো অনেকেরই জন্ম হয়েছে ১৬ ডিসেম্বর তারিখে, এমন কোনো বিদেশির কই পাব, যিনি ১৬ ডিসেম্বরের জাতক দেশটিকেই নিজের করে নিয়েছেন! শনিবারের প্রথম আলোয় এক মানবদরদির শেষ ইচ্ছা পড়ে যেকোনো বাংলাদেশির মন একই সঙ্গে বিষণ্ন ও আনন্দিত হওয়ার কথা। এক দেশহীন মানুষের জন্য মন তো খারাপ হবেই, আবার সেই মানুষটা যে বাংলাদেশকে কত ভালোবাসেন, তা জেনে যেকোনো দেশদরদির মন আনন্দে ভরে উঠবে। স্বাধীনতার সেই রক্ত-অশ্রু-গৌরবের দিনগুলোয় তাঁকে দেখা যায় যশোরের এক হাসপাতালে অসহায় নারী-পুরুষের সেবা করে যেতে। মিশনারি সিস্টার হিসেবে থাকতেন যশোরের ক্যাথলিক চার্চে। মিশনের সবাই যখন জীবনের ভয়ে পেছন ফিরে পালাচ্ছে, তখন তিনি সামনে ঘুরে দুস্থ মানুষের দিকে গেলেন, হাত ধরলেন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখায় গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে লুসিকে সম্মাননা দেয় বরিশাল মহানগর পুলিশ। সেই ১৯৬০ সালে ৩০ বছরের যে তরুণী মানুষটি এ দেশে এসেছিলেন, সেই লুসি হেলেন ফ্রান্সিস হল্টের বয়স এখন ৮৭ বছর। মাঝখানে চলে গেছে ৫৭টি বছর! মানবপ্রেমই বলি আর রাষ্ট্রীয় আনুগত্যের কথাই বলি তার আর কত প্রমাণ দেবেন তিনি? নাগরিকের জন্য যে রাষ্ট্রীয় আনুগত্যের শর্ত বহাল আছে, ৫৭টি দীর্ঘ বছরও কি তা প্রমাণে যথেষ্ট নয়? এখনো কি বাংলার মুখ হয়ে ওঠেননি তিনি? তাহলে ৫৭ বছর ধরে প্রতিবছর ভিসার মেয়াদ যেভাবে বাড়াতে গিয়ে তাঁকে অর্থ ও শ্রম খরচ করতে হয়েছে, তা থেকে তাঁকে রেহাই দেওয়া হোক। অবসরভাতাভোগী এই দরিদ্র মানুষটিকে আর পেরেশানি দেওয়া যাবে না। একজনের প্রাপ্য শোধ করলে অন্য প্রত্যাশীদের কমও পড়বে না। লুসি হল্টের দেশ ব্রিটেনের ওয়েলশ ভাষায় ‘হিরায়েথ’ (hiraeth) নামে একটা শব্দ আছে। ইংরেজিতে এর অনুবাদ হয় না। বাংলায় বললে হয়তো লম্বা করে বলা যায়, ‘দেশের জন্য মন পোড়ানি’।
এই দেশ কেবল রাষ্ট্র নয়, মানচিত্র নয়, ভূমি নয়, এই দেশ হলো ‘হোম’। হোম তাকেই বলে, যার মাটি-মানুষ-পরিবেশকে আপন ভাবা যায়। লুসি হল্টের যে দেশের জন্য মন পোড়ায়, সেটা তাঁর মাতৃভূমি ইংল্যান্ড নয়, সেটা এই বাংলাদেশ। হিরায়েথ কথাটায় একটা হতাশাও আছে। সেটা এমন এক দেশ বা হোমের জন্য আকুল আকাঙ্ক্ষা, যা কখনো নিজের ছিল না। বাস্তবেও তাঁর ঘর নেই। শনিবারের প্রথম আলোয় বরিশালের নিজস্ব প্রতিবেদক এম জসীম উদ্দীন লিখেছেন, ‘বরিশাল অক্সফোর্ড মিশনের দক্ষিণ দিকটায় টিনের ছোট্ট ঘর, জরাজীর্ণ। বারান্দার এক অংশে লুসির থাকার ব্যবস্থা। সেখানে ছোট্ট একটি কাঠের চৌকি, কাঠের দুটি টেবিল। শোয়ার চৌকিতে পাতলা তোশক বিছানো, একটি বালিশ আর কম দামের কম্বল। পাশে শেলফে কিছু বই ও পুরোনো ডায়েরি।’ এই দারিদ্র্যের মধ্যে এসেছে হাড় কামড়ানো শীত! ব্রিটেনে ফিরে গেলে তিনি নিশ্চয়ই আরও উন্নত জীবনই পাবেন। সেখানে তাঁর এক বোন আছেন। পারিবারিক বাড়ি আছে। তবু এই দারিদ্র্যের মধ্যে কিসের টানে তিনি থাকেন? কী সেই শক্তি, যা তাঁকে চুম্বকের মতো টেনে আটকে রাখে বাংলাদেশের মাটিতে? সেটা মায়া, যাঁদের সঙ্গে জীবন কাটিয়েছেন, যে নদী-গাছ-মানুষকে জীবনে জড়িয়ে নিয়েছেন, সেসবের প্রতি মায়া। লুসি হল্টের হিরায়েথ অনুভূতিতে আটকে না থাকুন, একটা দেশ হোক তাঁর। যে দেশটা তাঁর ছিল না, কিন্তু ৫৭ বছরের মানবসেবা দিয়ে যে দেশটাকে তিনি নিজের করে নিয়েছেন, সেই দেশটা এবার তাঁকে নাগরিকত্বের সম্মান দিয়ে নিজের করে নিক। আমরা যত দূর জানি, বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইন এর বাধা নয়, কোনো কিছুই বাধা নয়। বাধা কেবল অবহেলা—লুসি হল্টের শেষ ইচ্ছাকে অবহেলা করে নিজেদেরই যেন আমরা অসম্মানিত না করি। যিনি আমাদের সঙ্গে মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে আছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত তাঁকেও ‘মায়া’ করা। লুসি হল্ট শিখিয়েছেন, দেশ মানে কেবল জন্মভূমি না, নাগরিকত্বের কাগজ না, মালিকানা না, দেশ মানে মায়ার বাঁধন—সেটাই যদি না থাকে, তাহলে নাগরিকত্ব, মালিকানা, ইতিহাস সবই ফাঁপা ও অসার হয়ে যায়। লুসি হল্টের সবই আছে, নাগরিকত্বের স্বীকৃতিটুকুই শুধুই নেই! লুসি হল্টের এই মায়ার সৌন্দর্য এখানেই, তাঁর চোখ দিয়ে, তাঁর ভালোবাসার আয়না দিয়ে বাংলাদেশটাকে আমরা দেখে নিতে পারি—কারও যদি দেশ ও মানুষের প্রতি মায়ার ঘাটতি থাকে, এই মায়াবতী নারী তাঁকে পথ দেখাতে পারেন।
ফারুক ওয়াসিফ: লেখক ও সাংবাদিক।
faruk.wasif@prothom-alo.info

স্ত্রীকে নির্যাতন না করেই দেখুন না! by রোকেয়া রহমান

যেকোনো মানুষের কাছে পরিবার হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার হচ্ছে মানুষের আশা-ভরসার স্থল ও নিরাপদ আশ্রয়। দিন শেষে সবাই পরিবারের কাছেই ফেরে। কেননা, এটাই শান্তির ঠিকানা। আর এই পারিবারিক পরিসরেই যদি নির্যাতনের শিকার হতে হয়, তার চেয়ে বেদনাদায়ক আর কী হতে পারে? কিন্তু এমনটাই ঘটছে, কম–বেশি সব দেশে। প্রথম আলোর ১ জানুয়ারির খবর, আমাদের দেশে যত নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে, তার ৭৭ শতাংশই হয় পারিবারিক পরিসরে। আর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্বামীরাই স্ত্রীদের ওপর নির্যাতন চালান। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচির অধীনে গত বছরের প্রথম ১০ মাসে দেশের ৫৬টি জেলায় পরিচালিত এক সমীক্ষার ফলাফলে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে। এর আগে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো পরিচালিত গবেষণাগুলোর ফলাফলে একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। মূল নির্যাতকের ভূমিকায় স্বামীকেই দেখা যাচ্ছে। এসব গবেষণার ফলাফল দেখে মনে প্রশ্ন জাগছে, পুরুষেরা বিয়ে করেন কেন? স্ত্রীদের নির্যাতন করার জন্য কি? তা-ই হবে মনে হয়। তা না হলে তো এত নারীকে নির্যাতনের শিকার হতে হতো না। বিয়ের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দুজন নারী-পুরুষের একসঙ্গে সুখে বসবাস করা। স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হবেন। তাঁরা পরিবার গড়ে তুলবেন, সন্তানের জন্ম দেবেন, তাদের লালন-পালন করে বড় করবেন। কিন্তু আমাদের দেশের পুরুষদের কাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে, মূলত নারীদের নির্যাতন করার জন্যই তাঁরা বিয়ে করেন। সুখে-শান্তিতে ঘরকন্না করা মোটেও তাঁদের উদ্দেশ্য নয়। বিয়ে করার পরই স্ত্রীরা তাঁদের দুচোখের বিষ হয়ে ওঠেন। স্ত্রীদের কোনো কিছুই আর তাঁদের পছন্দ হয় না। যত রাগ-ক্ষোভ সব স্ত্রীর ওপর। তাঁকে যেকোনো প্রকারে হোক নির্যাতন করা চাই।
কেউ শারীরিক নির্যাতন করেন, কেউ মানসিক নির্যাতন করেন, কেউ আর্থিক নির্যাতন করেন। বিয়ের আগে যে পুরুষটি নিপাট ভালো মানুষ ছিলেন, বিয়ের পর আবির্ভূত হন অন্য রূপে। কেন তাঁদের মাঝে এই পরিবর্তন দেখা দেয়? কী চান তাঁরা? নির্যাতনকারী এই পুরুষেরা কি বোঝেন যে স্ত্রীকে নির্যাতন করার মধ্য দিয়ে তাঁরা নিজেরাও অসুখী জীবন যাপন করছেন? ব্র্যাকের গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী যৌতুককে কেন্দ্র করে ৩২ শতাংশ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এই ২১ শতকে যখন সারা বিশ্ব তথ্যপ্রযুক্তি ও জ্ঞানবিজ্ঞানে চরম উৎকর্ষ লাভ করেছে, তখনো আমাদের দেশে কিনা যৌতুকের জন্য নারীদের নির্যাতন করা হচ্ছে! এখনো এ দেশে যৌতুকপ্রথা টিকে আছে, ভাবতে অবাক লাগে। যৌতুক ছাড়াও আরও নানা কারণে নারীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তরকারিতে লবণ কম দেওয়ার মতো তুচ্ছ ঘটনায়ও নারীদের নির্যাতন করা হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, আর কত দিন নারীরা এভাবে স্বামীর হাতে পড়ে পড়ে মার খাবেন? যে স্বপ্ন নিয়ে নারীরা বিয়ের পিঁড়িতে বসেন, বেশির ভাগ নারীর ক্ষেত্রে অচিরেই সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। স্বপ্ন পরিণত হয় দুঃস্বপ্নে। এ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে হবে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে অনেক আইন ও নীতিমালা তো হয়েছে। কিন্তু নির্যাতন বন্ধ হচ্ছে কই? আসলে শুধু আইন বা নীতিমালা প্রণয়ন করে এ সমস্যার সমাধান হবে না, তা তো বোঝাই যাচ্ছে। কেননা, এটা একধরনের সামাজিক বৈধতা পেয়ে গেছে। স্ত্রী নির্যাতনকে আর অপরাধ হিসেবে দেখা হয় না। তাই সামাজিকভাবে এটি প্রতিরোধ করতে হবে। দেশের প্রতিটি মানুষকে এর বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। আর পুরুষদের উদ্দেশে বলছি, স্ত্রীকে নির্যাতন না করেই দেখুন না, জীবনটা কত সুখের হয়ে উঠেছে।
রোকেয়া রহমান: সাংবাদিক

বড় আকাশে ডানা মেলতে চায় বিমান

বাংলাদেশ বিমানের জন্মদিন আজ। হয়ে গেল ৪৬ বছর। চার দশকের বেশি সময়ে রাষ্ট্রীয় এই উড়োজাহাজ সংস্থা ৫ কোটি ২৩ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে। বিমানের বহরে বর্তমানে মাত্র ১৩টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে সাতটি আবার ভাড়ায় আনা হয়েছে। তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারে এই অল্প কয়েকটি উড়োজাহাজ দিয়েই তিন বছর ধরে লাভের মুখ দেখছে দেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একমাত্র বিমান সংস্থাটি। এর ধারাবাহিকতা ধরে রেখে নতুন গন্তব্যে যাত্রা শুরু করতে চাইছে বিমান। দেশ স্বাধীন হওয়ার এক মাসও তখন পেরিয়ে যায়নি। ১৯৭২ সালের ৪ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির এক অধ্যাদেশে জন্ম হয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের। এভাবেই জন্ম বাংলাদেশ বিমানের। জন্মের পর বিমানের সম্বল ছিল বাংলাদেশ বিমানবাহিনী থেকে আনা একটি ডিসি-৩ উড়োজাহাজ। সে বছর ১০ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের সময় দুর্ঘটনায় পড়ে। এরপর ভারত ও হল্যান্ড সরকারের উপহারে বিমানবহরে আসে চারটি ফকার-২৭। ৪ মার্চ ব্রিটিশ সরকার থেকে পাওয়া একটি বোয়িং ৭০৭ চার্টার্ড উড়োজাহাজ ১৭৯ যাত্রী নিয়ে লন্ডন থেকে ঢাকায় বিমানের প্রথম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণ করে। তিন দিন পর ৭ মার্চ ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেট রুটে প্রথম অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করে বিমান। ১৯৭৩ সালের মধ্যে বিমানবহরে আটটি ফকার, দুটি বোয়িংসহ মোট উড়োজাহাজ সংখ্যা হয় ১০। ২০০৭ সালের ২৩ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয় বিমান বাংলাদেশ। এরপর বিমানের ইতিহাস দীর্ঘ হতে থাকে। কখনো ডিসি-১০, কখনো এয়ারবাস যোগ দেয়। একসময় বিশ্বের তিনটি মহাদেশের ২৬টি শহরে আকাশপথে ফ্লাইট পরিচালনা করত। একাধিকবার উড়োজাহাজ বদলানো হলেও বিমানবহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা প্রায় একই রকম ছিল। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজস্ব উড়োজাহাজ কমে যায়। ভাড়ায় উড়োজাহাজ এনে দেশ-বিদেশে ফ্লাইট পরিচালনার প্রবণতা বাড়তে। গত তিন বছরে ১৩টি উড়োজাহাজ নিয়ে ৬০৬ কোটি টাকা মুনাফা করেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এর মধ্যে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৩২৪ কোটি, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২৩৫ কোটি ও ২০১৬-১৬ অর্থবছরে ৪৭ কোটি টাকা মুনাফা করে। সবশেষ অর্থবছরে মুনাফার পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে বিমান কর্তৃপক্ষ জানায়, বিশ্ববাজারের তুলনায় বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের তুলনামূলক বেশি মূল্য, কার্গো পরিবহনে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা এবং এশীয় অ্যাভিয়েশন মার্কেটে এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে ভাড়া নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতাকে উল্লেখ করেছে। বিগত তিন বছরে বিমানের যাত্রীসংখ্যা বেড়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিমান ২০ লাখ ২০ হাজার যাত্রী পরিবহন করেছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এই সংখ্যা বেড়ে হয় ২৩ লাখ ১৮ হাজার। সবশেষ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিমানের যাত্রী ছিল ২৩ লাখ ৫১ হাজার। কার্গো পরিবহন খাতে বিমানের আয় কমেছে ৭১ কোটি টাকা। বিমানের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিমান ৩৩ হাজার ৫৪২ মেট্রিক টন মালামাল পরিবহন করেছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে যা ছিল ৪০ হাজার ৯৩১ মেট্রিক টন। এটি আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৮ শতাংশ কম কার্গো পরিবহন করেছে। বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কার্গো খাতে বিমানের আয় হয়েছে ২৪৪ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ খাতে আয় ছিল ৩১৫ কোটি টাকা। ২০১৬ সালের ৮ মার্চ যুক্তরাজ্য সরকার কর্তৃক আকাশপথে কার্গো পরিবহনে নিষেধাজ্ঞার কারণে এ খাতে বিমানের আয় কম হয়েছে।

প্রিয়াঙ্কা এবার রবীন্দ্রনাথের প্রেমিকা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কৈশোরের একটি প্রেমকাহিনী অবলম্বনে নির্মিতব্য চলচ্চিত্র ‘নলিনী’র চিত্রনাট্য খতিয়ে দেখে ছাড়পত্র দিয়েছে বিশ্বভারতী নিযুক্ত কমিটি। পরিচালক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়কে এই খবর নিশ্চিত করেছেন বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য স্বপনকুমার দত্ত।

স্বপনকুমার দত্ত বলেন, অনুমোদিত চিত্রনাট্য মেনেই যেন ছবিটি নির্মাণ করা হয়। একইসঙ্গে বাণিজ্যিক মুক্তির আগে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে ছবিটি দেখাতে বলা হয়েছে।

সিনেমাটির চিত্রনাট্যে রবীন্দ্রনাথের একটি দীর্ঘ চুম্বনদৃশ্য রয়েছে, যা কবিগুরুর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে বলে এর আগে অভিযোগ উঠেছিল। বাংলা ও মারাঠি ভাষায় ‘নলিনী’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করতে চায় বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। প্রিয়াঙ্কা নিজে এই চলচ্চিত্রে নাম ভূমিকায় অভিনয় করতে চান।

সিনেমায় দেখানো হবে, অন্নপূর্ণার কাছে ইংরেজি শিখতে পাঠানো হয় ১৭ বছরের কিশোর রবীন্দ্রনাথকে। তবে খুব বেশি দিন সেই টিউশন চলেনি। কিন্তু অন্নপূর্ণার প্রেমে পড়ে যান রবীন্দ্রনাথ। পরে সেই অন্নপূর্ণাই নলিনী হিসেবে উঠে আসেন রবীন্দ্রনাথের কবিতায়। বাকিটুকু কল্পনা।

পরিচালক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন, ছবিটি সম্পর্কে নানা বিভ্রান্তিকর খবর পেয়ে রবীন্দ্রনাথের ভাবমূর্তি রক্ষার বিষয়টি নিয়ে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে যাতে কোনো বিতর্ক তৈরি না হয়, সে জন্য তারা চিত্রনাট্য খতিয়ে দেখতে চেয়েছেন।

কয়েক মাস আগে কবি শঙ্খ ঘোষ, সুপ্রিয় ঠাকুরসহ আটজনকে নিয়ে একটি কমিটি ‘নলিনী’র চিত্রনাট্য খতিয়ে দেখেছেন। উপাচার্য স্বপনকুমার দত্ত বলেন, কিছু তথ্যগত অসংগতি ছাড়া তাদের কমিটি ‘নলিনী’র চিত্রনাট্যের অনুমোদন দিয়েছে।

পরিচালক উজ্জ্বল জানিয়েছেন, বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের উল্লেখ করা তথ্যগত ভুলগুলো তিনি শুধরে নেবেন। ছবিটি মুক্তির আগে বিশ্বভারতীর জন্য একটি বিশেষ প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হবে।

রজনীকান্ত যার ভক্ত

ভারতের দক্ষিণী সিনেমার সুপারস্টার রজনীকান্ত। বেঙ্গালুরুতে বেড়ে উঠেছেন তিনি। জীবনের সঙ্গে লড়াই করে কেটেছে তার শৈশব। বেঙ্গালুরু মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের বাস কন্ডাক্টার হিসেবে কাজ করা অবস্থায় নাটকে অভিনয় শুরু করেন। ১৯৭৫ সালে ‘অপূর্ব রাগাঙ্গাল’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে এ অভিনেতার। অভিষেক চলচ্চিত্রেই বাজিমাত করেন তিনি। তার পরের গল্প সবারই জানা।

শৈশবে ক্রিকেট, ফুটবল, বাস্কেটবল খেলা তার প্রিয় ছিল। এখনো খেলাধুলার প্রতি বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে রজনীকান্তের। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শৈশব নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন এ অভিনেতা। তিনি বলেন, ‘আমি ফাস্ট বোলার ছিলাম। এক্সিলেন্ট ফিল্ডার এবং গড়পড়তা ব্যাটসম্যান ছিলাম। শৈশবে আমার প্রিয় ক্রিকেটার ছিলেন মনসুর আলী খান। ইরাপল্লী প্রসন্নের স্পিন বলের খুব ভক্ত ছিলাম। বর্তমানে প্রিয় খেলোয়াড় এম এস ধোনি এবং অল টাইম প্রিয় খেলোয়াড় শচীন টেন্ডুলকার।’

রজনীকান্ত অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘টু পয়েন্ট জিরো’ বা ‘রোবট-টু’। রজনীকান্ত, অক্ষয় কুমার, অ্যামি জ্যাকসন অভিনীত এ সিনেমাটি শুরু থেকেই নানা কারণে আলোচনায় রয়েছে।

এশিয়ার সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিনেমার তকমাও পেয়েছে ‘রোবট-টু’। প্রাথমিক পর্যায়ে সিনেমাটির বাজেট ৩৫০ কোটি রুপি থাকলেও পরবর্তীতে সিনেমাটির ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪৫০ কোটি রুপি।

‘রোবট-টু’ সিনেমাটি পরিচালনা করছেন দক্ষিণের জনপ্রিয় পরিচালক শংকর। তামিল, তেলেগু, হিন্দি, ইংরেজি, জাপানিজ এবং চাইনিজ ভাষায় সিনেমাটি মুক্তির কথা রয়েছে। প্রযোজনা সংস্থা থেকে জানানো হয়েছে ভবিষ্যতে এর সংখ্যা বাড়তেও পারে। সিনেমাটির সংগীত পরিচালনা করছেন এ. আর রহমান। আগামী ১৪ এপ্রিল সিনেমাটি মুক্তির কথা রয়েছে।

ওয়াক্‌ফ সম্পত্তিতে অবৈধ ইটভাটা চলছেই

আইন লঙ্ঘন করে বরগুনার আমতলীতে ওয়াক্ফ এস্টেটের কৃষিজমি জোরপূর্বক দখলে নিয়ে নির্মাণ করা অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন আবুল বাশার ওরফে নয়ন মৃধা। ওয়াক্‌ফ প্রশাসক ভাটাটির কার্যক্রম বন্ধ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বরগুনা জেলা প্রশাসককে চিঠি দেওয়ার পর দেড় মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও ভাটার মালিক প্রতাপের সঙ্গে ইট পুড়িয়ে চলেছেন। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, আমতলী সদর ইউনিয়নের সেকান্দারখালী গ্রামে আমতলী-কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়ক ঘেঁষে গড়ে তোলা এই ভাটায় ইট তৈরির জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাকে করে আনা মাটি সড়কের পাশে, ওয়াক্‌ফ এস্টেটের জমিতে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। ইটভাটার জন্য আনা মাটি ফেলে ক্রমেই জমির দখল সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ভাটার চারপাশে রয়েছে অন্তত ৮০ একর ফসলি জমি ও জনবসতি। ভাটার আগুনের তাপে ওই এলাকার গাছপালা নষ্ট হচ্ছে। পরিবেশ বিষিয়ে ওঠায় এলাকাটি বসবাসের ক্ষেত্রে অসহনীয় হয়ে উঠেছে। পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী লিংকন বায়েন প্রথম আলোকে বলেন, ভাটাটির পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। তারপরও কীভাবে এটির কার্যক্রম চলে, তা অবাক করার বিষয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আবুল বাশার মৃধা স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতার আত্মীয়। সেই প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল ও ইটভাটা করেছেন। ভাটার কারণে এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে পড়লেও এলাকার লোকজন ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না। ওয়াক্‌ফ এস্টেটের জমির অংশীদার সাহিদা আক্তার অভিযোগ করেন, ২০১৬ সালে ওয়াক্ফ এস্টেটের অংশীদারের অনুমতি ছাড়াই আবুল বাশার ওই জমিতে ইটভাটার সম্প্রসারণ শুরু করেন।
তিনি (সাহিদা) ও তাঁর ভাই রূপক তালুকদার বাধা দিতে গেলে মাটি কাটার যন্ত্র (এক্সকাভেটর) দিয়ে তাঁদের পিষে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আরেফিন বাদল বলেন, ওই ভাটার মালিক পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়নের জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ পাওয়ার পর তা অনুমোদন করা হয়নি। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ১২ নভেম্বর ওয়াক্ফ প্রশাসক শহীদুল ইসলাম বরগুনার জেলা প্রশাসককে ভাটাটি বন্ধ এবং মাটি খননকাজ বন্ধ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করে চিঠি দেন। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বরগুনা জেলা প্রশাসকের পক্ষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের মুনশিখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার ব্যবস্থা নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অনুরোধ করে ১৫ নভেম্বর একটি চিঠি দেন। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আমতলীর ইউএনও মো. সরোয়ার হোসেন উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের কানুনগোকে নির্দেশ দেন। কানুগগো আহসান হক সরেজমিনে তদন্ত করে ২২ নভেম্বর ইউএনওর কাছে লিখিত প্রতিবেদন দেন। কানুনগো প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, হাজি আবুল কাশেম ওয়াক্‌ফ এস্টেটের মোতোয়ালি জাহিদুল ইসলাম ওরফে শাহীন তালুকদার মৌখিকভাবে ওয়াক্‌ফ এস্টেটের সম্পত্তি ব্যক্তিস্বার্থে ১৬ জন লোকের কাছে মৌখিকভাবে হস্তান্তর করেন। জাহিদুল তাঁদের অবৈধ দখল দিয়ে সম্পত্তি মন্দ ব্যবস্থাপনা, অবৈধ কার্য ও তছরূপ করেছেন, যা বাংলাদেশ ওয়াক্‌ফ অধ্যাদেশ ১৯৬২-এর ৩২ ধারা লঙ্ঘন ও ৬১ (ত) ধারার অপরাধ। এই ১৬ জন অবৈধ দখলদারের মধ্যে আবুল বাশার ওরফে নয়ন মৃধা অবৈধভাবে ওয়াক্‌ফ সম্পত্তিতে পুকুর খনন করেছেন এবং ইটভাটার মাটি রেখে জমি দখল করেছেন। কানুনগোর এই প্রতিবেদন পাওয়ার পর ইউএনও অবৈধভাবে ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি দখলকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে ২২ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন। কিন্তু এরপর দেড় মাসের বেশি সময় পার হলেও ইটভাটাটির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ প্রসঙ্গে ইউএনও মো. সরোয়ার হোসেন গতকাল রোববার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে একটি তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে দিয়েছিলাম। পরে বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন জেলা প্রশাসক। এ জন্য সোমবার (আজ) দুই পক্ষকে ডাকা হয়েছে।’ জেলা প্রশাসক মো. মোকলেছুর রহমান গতকাল বিকেলে বলেন, ‘ওই ভাটাটির ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনানুগ প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব।’ এ নিয়ে ২৫ নভেম্বর প্রথম আলোর শেষের পাতায় ‘ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি দখল করে অবৈধ ইটভাটা’ শিরোনামে খবর ছাপা হয়।

৪৫০ হোটেলের ছাড়পত্র নেই

কক্সবাজার শহরে গড়ে ওঠা ৪৫০টি হোটেল-মোটেল গেস্টহাউস ও কটেজ চলছে পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই। দুটি ছাড়া কোনোটিতে নেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ‘সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট’ বা এসটিপি। পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া হোটেল পরিচালনার কারণ দর্শিয়ে গত এক মাসে শহরের ৩০৯টি হোটেল কর্তৃপক্ষকে নোটিশ পাঠিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। কিন্তু এ পর্যন্ত কেউ জবাব দেয়নি। পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক সাইফুল আশ্রাব প্রথম আলোকে বলেন, সৈকতের কলাতলী থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত এক বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যেই যেনতেনভাবে গড়ে উঠেছে প্রায় ৭০০ বহুতল ভবন। ৩২ দশমিক ৯০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই শহরে ভবন রয়েছে আরও ৩ হাজার ২০০টি। সৈকত ও শহর এলাকায় নির্মিত ৯০ শতাংশ হোটেল-মোটেল ও গেস্টহাউস নির্মাণে পরিবেশ ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি। সাইফুল আশ্রাব বলেন, ৪৬৫টি হোটেল-গেস্টহাউস কটেজের মধ্যে মাত্র ১৫টির পরিবেশ ছাড়পত্র আছে। এসটিপি আছে মাত্র দুটিতে। এসটিপি এবং পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া হোটেল পরিচালনার কারণ দর্শিয়ে গত এক মাসে শহরের ৩০৯টি হোটেল কর্তৃপক্ষকে নোটিশ পাঠিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। কিন্তু এ পর্যন্ত কেউ জবাব দেয়নি। তিনি বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে অবশিষ্ট হোটেলগুলোতে নোটিশ পাঠানোর পর আইনগতব্যবস্থা নেবে পরিবেশ অধিদপ্তর। গতকাল রোববার সকালে কলাতলীর অন্তত ৪৫টি হোটেল ও গেস্টহাউসে সরেজমিনে ঘুরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো সুবিধা চোখে পড়েনি।
হোটেল বর্জ্য সরাসরি চলে যাচ্ছে সমুদ্রে। ৯০ শতাংশ হোটেলে অপরিকল্পিতভাবে নলকূপ বসিয়ে তোলা হচ্ছে চাহিদার অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি। কক্সবাজার কটেজ ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি কাজী রাসেল আহমেদ বলেন, তাঁদের সমিতিভুক্ত শতাধিক কটেজের কোনোটিতে পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। এখন অনেকে আবেদন করেছেন। কিন্তু নানা জটিলতায় ছাড়পত্র পাওয়া যাচ্ছে না। কক্সবাজারে চেম্বারের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, সমুদ্রসৈকতকে ঘিরে কলাতলীর এক বর্গকিলোমিটার এলাকায় নতুন করে আরও শতাধিক বহুতল ভবন তৈরি হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী পরিবেশ ছাড়পত্র নিয়েই বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা। ভবন তৈরির পর পরিবেশ ছাড়পত্রের জন্য চাপ দিলে পরিস্থিতি রাতারাতি পাল্টে যাবে না। তা ছাড়া অধিকাংশ হোটেলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও নেই। ফলে হোটেল বর্জ্য চলে যাচ্ছে সমুদ্রে। দূষিত হচ্ছে সমুদ্রের পানি। ব্যয়বহুল হওয়ায় এককভাবে কোনো হোটেলের পক্ষে এসটিপি নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না। সৈকতের এক চিলতে জায়গায় ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বহুতল ভবন নির্মাণ করায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে পর্যটন শহর। পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিদর্শক মমিনুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক দিন তাঁরা বিভিন্ন হোটেলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন। এর মধ্যে আছে হোটেল মালিকের নাম, হোটেল নির্মাণের তারিখ, বিনিয়োগের পরিমাণ, ভবনের আয়তন ও কক্ষসংখ্যা, ধারণক্ষমতা, বর্জ্যের ধরন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিবরণ, সেপটিক ট্যাংকের আয়তন ইত্যাদি। কক্সবাজার বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আয়াছুর রহমান বলেন, শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই শত শত বহুতল ভবন তৈরি হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কক্সবাজারকে রক্ষা কঠিন হয়ে পড়বে।

অস্থায়ী আদালতে খালেদার আরও ১৪ মামলা

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে থাকা আরও ১৪টি মামলা বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন ভবনে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে স্থানান্তর করা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই আদালতে খালেদার বিরুদ্ধে থাকা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট সংক্রান্ত দুটি দুর্নীতির মামলার বিচার চলছে। আদালত সূত্র জানায়, যে ১৪টি মামলা স্থানান্তর করা হচ্ছে তার মধ্যে ঢাকা মহানগর দায়রা আদালতে ৯টি, বিশেষ জজ আদালতে ৩টি ও ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ২টি মামলা বিচারাধীন আছে। মামলাগুলোর মধ্যে দুর্নীতির ৩টি মামলা সেনাশাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে করা। বাকি ১০টি মামলা ২০১৫ সালে, আর একটি ২০১৬ সালে করা। তবে অস্থায়ী জজ আদালতে মামলা স্থানান্তরের বিষয়টি ভালোভাবে নিচ্ছেন না খালেদার আইনজীবীরা।
মাহবুব উদ্দিন এ প্রসঙ্গে প্রথম আলোকে বলেন, আইন সবার জন্য সমান। কিন্তু খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোকে ভিন্নভাবে দেখা হচ্ছে। তাঁকে হয়রানি করা, জাতির কাছে ছোট করা এবং রাজনীতি থেকে দূরে রাখার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে রাজনৈতিকভাবে সরকার এসব করছে। মামলা স্থানান্তর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয় বলে দাবি করেছেন মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান কৌঁসুলি আবদুল্লাহ আবু। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই মামলাগুলো স্থানান্তর করা হচ্ছে। বর্তমানে অস্থায়ী আদালতে যে দুটি মামলা চলছে তার মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে। আর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানি হবে ৯ ও ১০ জানুয়ারি। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলেই মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হবে। আদালতের নথি থেকে দেখা গেছে, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার ৫টি, রাষ্ট্রদ্রোহ, হত্যা (হুকুমের আসামি), ইতিহাস বিকৃতি করা, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি, ভুয়া জন্মদিন পালনসহ বিভিন্ন অভিযোগে দেশের আদালতে ৩২টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ, বিশেষ জজ ও মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আছে ১৮টি। এই ১৮টির মধ্যে ২টি মামলা (জিয়া অরফানেজ ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা) আগেই অস্থায়ী আদালতে পাঠানো হয়। পুলিশের অপরাধ তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার আনিসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ৪ জানুয়ারি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারকই অস্থায়ী আদালতের বিশেষ এজলাসে বসে বিচারকাজ পরিচালনা করবেন।

তিন ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, কর্মকর্তা ও কর্মকর্তাসহ (ক্যাশ) বিভিন্ন পদে নিয়োগ পরীক্ষাসহ যাবতীয় কার্যক্রম গ্রহণ না করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গত বছর দেওয়া পৃথক বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার রুলসহ এ আদেশ দেন। তবে ১২ জানুয়ারি অন্য পাঁচ ব্যাংকের পরীক্ষা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির সদস্যসচিব ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মোশাররফ হোসেন খান প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় জনতা, সোনালী ও রূপালী ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত থাকবে। তবে অন্যান্য ব্যাংকের পরীক্ষা হবে। যে তিনটি ব্যাংকের পরীক্ষার বিষয়ে হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিয়েছেন, সেই তিনটি ব্যাংকের পরীক্ষা পরে নেওয়া হবে। অন্য পাঁচটি ব্যাংকের পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ২০১৬ সালের পৃথক বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে তিনটি ব্যাংকে বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করা ২৮ প্রার্থী গত বছরের শেষ দিকে ওই রিটটি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রাশেদুল হক খোকন, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী তানজিম আল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন।
রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৬ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে রিট আবেদনকারীরা ওই তিন ব্যাংকের বিভিন্ন পদের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনো কোনো পরীক্ষা নেয়নি। তবে ২০১৭ সালে নতুন করে একই পদের জন্য গত বছরের ২৩ ও ২৯ আগস্ট এবং ৭ সেপ্টেম্বর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়। এর ভিত্তিতে ১২ জানুয়ারি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পদে এমসিকিউ পরীক্ষার দিন নির্ধারণ হয়েছে। এটি বৈষম্যমূলক বলে রিটটি করা হয়। রুলে ওই তিন ব্যাংকের বিভিন্ন পদে নিয়োগসংক্রান্ত ২০১৭ সালের ওই বিজ্ঞপ্তি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং ২০১৭ সালের বিজ্ঞপ্তির আলোকে পরীক্ষার আগে কেন ২০১৬ সালের বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে পরীক্ষা নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।একসঙ্গে আটটি সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ‘সিনিয়র অফিসারের (সাধারণ)’ ১ হাজার ৬৬৩টি শূন্য পদে নিয়োগের পরীক্ষা ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এরই মধ্যে ওই পরীক্ষার আসনবিন্যাসও দেওয়া হয়েছে। প্রার্থীদের এক ঘণ্টাব্যাপী ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা নেওয়ার কথা রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, সোনালী ব্যাংক লিমিটেডে ৫২৭টি, জনতা ব্যাংক লিমিটেডে ১৬১টি, রূপালী ব্যাংক লিমিটেডে ২৮৩টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডে ৩৯টি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে ৩৫১টি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে ২৩১টি, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনে ১টি ও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশে (আইসিবি) ৭০টি পদ রয়েছে।

খালেদার ঘোষণা শুভ লক্ষণ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অংশ নেওয়ার ঘোষণাকে ‘শুভ লক্ষণ’ বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। সচিবালয়ে আজ রোববার সফররত ফ্রান্স সরকারের বিশেষ দূত ও বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সাবেক মহাপরিচালক প্যাসকেল লেমির সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া এরই মধ্যে বলেছেন যে তাঁর দলকে নির্বাচনের বাইরে রাখা যাবে না। খুবই ভালো। শুভ লক্ষণ, শুভ উপলব্ধি। আগে তিনি ভুল করেছিলেন, মনে হয় এবার আর তা করবেন না। যদিও এবার তিনি কিছু শর্ত দিয়েছেন। বিএনপিকে ইঙ্গিত করে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘লিখে রাখুন, এই নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে এবং এই সরকারের অধীনেই তারা নির্বাচন করবেন। নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকার হিসেবে আমরা শুধু দৈনন্দিন কাজ করব।’ ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনেই প্রায় সব দেশে নির্বাচন হয়—এমন মন্তব্য করে বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কুমিল্লা ও রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে এই নির্বাচন কমিশন দক্ষ।’

দ্বিতীয় বিয়ে লুকাতে ডিআইজির কাণ্ড!

দ্বিতীয় বিয়ে গোপন করতে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্ত্রী মরিয়ম আক্তারকে গ্রেপ্তার করানোর অভিযোগ উঠেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। তিন সপ্তাহ কারাভোগের পর সপ্তাহখানেক আগে মরিয়ম জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। নতুন করে তাঁকে মামলায় জড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে মরিয়মের পরিবার। জানা গেছে, ব্যাংক কর্মকর্তা মরিয়ম আক্তারকে গত বছরের জুলাই মাসে বিয়ে করেন মিজানুর রহমান। ২০১৯ সাল পর্যন্ত সেই কথাটি গোপন রাখার শর্ত দিয়েছিলেন স্ত্রীকে। মরিয়ম রাজি হননি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি গত ১২ ডিসেম্বর পুলিশ পাঠিয়ে মরিয়মকে গ্রেপ্তার করান। মিজানুর রহমান ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার ছিলেন, সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। মরিয়মের মা কুইন তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, মিজানুর রহমান একাধারে বগুড়া, রমনা ও মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশকে ব্যবহার করেছেন তাঁদের শায়েস্তা করার কাজে। তা ছাড়া লালমাটিয়ার যে বাসায় মরিয়ম, তাঁর মা ও ভাইকে নিয়ে গত সেপ্টেম্বরে উঠেছিলেন, সেখানে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। সবার মুঠোফোন, ল্যাপটপ, মরিয়মের লেখাপড়া ও চাকরিসংক্রান্ত সব কাগজপত্র নিয়ে চলে গেছে। এখনো পুলিশ সাদাপোশাকে টহল দিচ্ছে। কুইন তাঁর দাবির পক্ষে বিয়ের সময় কাজিকে দেওয়া ফির রসিদ, মহাপরিদর্শক, নিকাহনামার সার্টিফায়েড কপি চেয়ে পাঠানো দরখাস্ত, বিয়ের পর দোয়া প্রার্থনা করে মরিয়ম আক্তারের ফেসবুকে দেওয়া একটি ছবিসহ আরও বেশ কিছু ছবি, মেসেঞ্জারে তাঁর মেয়ের সঙ্গে মিজানুর রহমানের কথোপকথনের কিছু ছবি (স্ক্রিনশট), মিজানুর রহমানের স্বাক্ষর করা ঢাকা মহানগর পুলিশের মনোগ্রামযুক্ত একটি কাগজে ‘তোমার কোনো ক্ষতি হলে আমি সকল দায়িত্ব নেব’ চিরকুট এই প্রতিবেদককে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে সবকিছু জানিয়ে বিস্তারিত চিঠি দিয়েছেন কুইন তালুকদার। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশ সদর দপ্তর ও ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) কর্মরত ব্যক্তিদের অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে জানেন। তবে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে পুলিশকে কাজে লাগানোর ব্যাপারে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন প্রথম আলোকে। তিনি বলেন, ‘আইনের হাত অনেক লম্বা। কেউ অপরাধ করলে পার পাবে না।’ তিনি এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে রাজি হননি। মিজানুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মরিয়ম আক্তার একজন প্রতারক। তাঁর মা, নানিও একই রকম। তাঁর সঙ্গে মরিয়মের মাত্র দুবার দেখা হয়েছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মরিয়মের আপলোড করা ছবির জন্য তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের মনোগ্রামযুক্ত কাগজে দায়দায়িত্ব নেওয়ার অঙ্গীকার তিনি করেছেন কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ। একবার আমার কাছে বলেছিল, কারা ওকে যেন থ্রেট করছে। সে কারণে...।’ ব্যক্তিগত প্রয়োজনে থানা-পুলিশকে ব্যবহারের অভিযোগও অস্বীকার করেছেন মিজানুর। তবে মিজানুরের দাবি যে অসত্য, তার প্রমাণ রমনা থানার এজাহার। ওই মামলাটি করেন মিজানুর রহমানের ভাইয়ের বাসার তত্ত্বাবধায়ক আসিফ আরেফিন।
মামলার এজাহারে তিনি বলেন, গত ১৬ জুলাই মরিয়ম আক্তার তাঁদের বাসায় ঢুকে গ্যাসের চুলায় আগুন জ্বালিয়ে বাসা জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন ও নিজের ওড়নায় আগুন ধরিয়ে দেন। জানা গেছে, এই মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রমনা থানা থেকে বগুড়ার শাজাহানপুর থানা বরাবর পাঠানো হয়। সেখান থেকে মোহাম্মদপুর থানার সহযোগিতা চাওয়া হয়। ৫৪ ধারায় সেগুনবাগিচার সেগুন রেস্তোরাঁ থেকে পুলিশ মরিয়মকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। মামলার এজাহারে যে তারিখের কথা বলা হয়েছে কুইন তালুকদার বলেন, ওই তারিখেই মিজানুর রহমান তাঁর মেয়েকে পান্থপথের বাসা থেকে তুলে নিয়ে যান বেইলি রোডের বাসায়। কীভাবে কী হলো কুইন তালুকদার সে সম্পর্কে বলেন, তাঁদের বাড়ি বগুড়ায়। মরিয়ম আক্তার ছোট ভাইকে নিয়ে পান্থপথের এনা প্রপার্টিজের একটি ভবনের দোতলায় থাকতেন। সপ্তাহে সপ্তাহে তিনি ছেলেমেয়ের কাছে আসেন। মরিয়মের বাবা বেঁচে নেই। গত বছর ঈদুল ফিতরের আগে মরিয়ম তাঁকে ‘বিশেষ একজনের’ সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। পরে কুইন তালুকদার জানতে পারেন সেই বিশেষ একজন হলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মিজানুর রহমান। তাঁদের পরিচয় হয়েছিল ফেসবুকে। পবিত্র রমজানের মধ্যেই মিজানুর একদিন তাঁদের পান্থপথের বাসায় আসেন। তিনি বলেন, ‘আমি মিজানুরকে দেখে ভেবেছি উনি বোধ হয় ছেলের বাবা। পরে শুনি বর।’ তিনি তখনই মিজানুরের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। মিজানুর বলেন, তাঁর প্রথম স্ত্রী, ছেলেদের নিয়ে কানাডায় থাকেন। তিনি ঢাকায় মরিয়ম আক্তারকে নিয়ে আলাদাভাবে সংসার করবেন। কোনো সমস্যা হবে না। কুইন তালুকদার বলেন, ১৬ জুলাই রাতে মিজানুরের কর্মচারীরা তাঁকে মুঠোফোনে ঢাকায় আসতে বলেন। একপর্যায়ে মরিয়মও তাঁর মাকে ফোন করেন। মিজান তাঁকে তাঁর বেইলি রোডের বাসায় যাওয়ার আগে মগবাজার কাজি অফিস থেকে একজন কাজিকে নিয়ে যেতে বলেন। মিজানের কথামতো ৫০ লাখ টাকা দেনমোহরে মরিয়ম ও মিজানুর রহমানের বিয়ে পড়ান কাজি সেলিম রেজা। কাজি বিয়ে নিবন্ধনের রসিদ দিয়ে ১০-১৫ দিন পর কাবিনের রেজিস্ট্রি কাগজ আনার জন্য বলেন। মরিয়মও মিজানুরের বেইলি রোডের বাসায় থাকতে শুরু করেন। পরে তাঁর প্রথম স্ত্রী আসবেন এ কথা জানিয়ে তিনি মরিয়মকে লালমাটিয়ার মোস্তফা প্যালেসে ৫০ হাজার টাকা ভাড়ায় একটি ফ্ল্যাট নিয়ে দেন। পান্থপথ ও লালমাটিয়ার দুটি বাসাতেই মিজানুর রহমানের যাতায়াতের খবর নিশ্চিত করেছেন বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী ও তত্ত্বাবধায়কেরা। তবে কাজি সেলিম রেজা এখন দাবি করছেন তিনি ওই বিয়ে পড়াননি। কিন্তু তাঁর সহকর্মীরা বিয়ের রসিদ ঠিক ছিল বলে জানান এই প্রতিবেদককে। ১৯ ডিসেম্বর মগবাজার কাজি অফিসে তাঁরা বলেন, বিয়ের রসিদ ঠিক থাকলেও মিলিয়ে দেখানো যাচ্ছে না। কারণ, রমনা থানার পুলিশ মগবাজার কাজি অফিসের বিয়ে নিবন্ধন বই জব্দ করেছে। কুইন তালুকদার বলেন, মিজান তালাকের প্রস্তাব দিলে কুইন তালুকদার কাজির কাছে মেয়ের কাবিনের কাগজ চান। কাজি গড়িমসি করতে শুরু করলে কুইন তালুকদার ১৯ নভেম্বর নিবন্ধন মহাপরিদর্শকের কাছে কাবিনের কপির জন্য আবেদন করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মিজান এত কাণ্ড ঘটিয়েছেন। মিজানুর রহমানের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে এ নিয়ে কথা বলতে গেলে তিনি একটি ব্রিফকেস বের করেন। ব্রিফকেসের ভেতর থেকে তিনি একটি দৈনিক পত্রিকায় মরিয়ম আক্তারের বিরুদ্ধে ছাপা হওয়া পেপার কাটিং, কাজির দায়ের করা মামলা এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে মরিয়মের বিরুদ্ধে তিনি যে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সেই কপি রেখেছেন।

জনগণের ভালোবাসা রাজনীতিকের বড় অর্জন

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, কোনো রাজনীতিকের জন্য তাঁর কাজের মাধ্যমে নিজের স্থান করে নেওয়া এবং জনগণের সম্মান ও ভালোবাসা পাওয়া জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। মানুষ মরণশীল এবং প্রত্যেককেই মরতে হবে। কাজের মাধ্যমে বেঁচে থাকেন। জনগণের ভালোবাসা ও সম্মান পাওয়া একজন রাজনীতিকের জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন। আজ রোববার জাতীয় সংসদে প্রয়াত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হক এবং সাংসদ গোলাম মোস্তফাসহ সাবেক মন্ত্রী, সাংসদ, মেয়র এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। খবর বাসসের।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রয়াত মন্ত্রী ছায়েদুল হক এবং সাংসদ গোলাম মোস্তফা, চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী, ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হকসহ সবার প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করে দেশ ও জাতি গঠনে তাঁদের অবদান স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাজের মাধ্যমে জনগণের ভালোবাসা কী করে অর্জন করতে হয়, তা প্রয়াত এসব নেতা প্রমাণ করে গেছেন। তাঁরা তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করে মানুষের ভালোবাসা, সম্মান ও মর্যাদা অর্জন করে বারবার জনগণের ভোটে জয়ী হয়েছেন। তিনি বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হকের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। প্রাণিসম্পদে আমরা আজ সমৃদ্ধি অর্জন করেছি। মন্ত্রী ছায়েদুল হক আমাদের বিশাল সমুদ্রসম্পদ এলাকায় মৎস্য আহরণে অনেক পরিকল্পনা এবং কাজ করতে শুরু করেছিলেন।’ গোলাম মোস্তফার কর্ম ও জীবন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন। তিনি চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের বিভিন্ন অবদানের কথা স্মরণ করে তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

মানবেতর জীবন সাবেক এমপির, পাশে প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রামের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মাদ ইউসুফের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে (ডিসি) নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রোববার প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনার কথা তাঁর একান্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। খবর বাসস। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সাবেক এমপি মোহাম্মাদ ইউসুফের অসুস্থতা ও মানবেতর জীবনযাপনের খবর প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নেতা মোহাম্মদ ইউসুফ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট থেকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া সাকা চৌধুরীর ভাই গিয়াস কাদের চৌধুরীকে পরাজিত করেছিলেন তিনি। বেশ কয়েক বছর থেকে অসুস্থ সাবেক এমপি ইউসুফ।

অবৈধ তিন ভাটায় পুড়বে ইট

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে ইটভাটার কার্যক্রম। উপজেলার ১০টি ইটভাটার মধ্যে ৭টির ছাড়পত্র নেই। এদিকে, নতুন করে আরও তিনটি ভাটায় ইট পোড়ানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই উপজেলায় রহমান ব্রিকস, আলম ব্রিকস ও কেশবপুর ব্রিকস সব ধরনের অনুমোদন নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। কিন্তু খান ব্রিকস, গোল্ড ব্রিকস, রিপন ব্রিকস, বিএসবি ব্রিকস, বিবি ব্রিকস, এসএস ব্রিকস ও আর প্রাইম ব্রিকসের পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত মাসে ইউএনওর কার্যালয়ে ইটভাটার মালিকদের হাজির হয়ে কাগজপত্র উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ইটভাটার মালিকেরা কোনো সনদ দেখাতে পারেননি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভোগতী গ্রামের জামান ব্রিকস, বারুইহাটি গ্রামে রোমান ব্রিকস ও সাতবাড়িয়া গ্রামে সুপার ব্রিকসে এই মৌসুমে ইট পোড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর এগুলোর ছাড়পত্র দেয়নি। জেলা প্রশাসকেরও অনুমোদন নেই। উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামে সুপার ব্রিকস গড়ে উঠেছে প্রায় দুই একর জমির ওপর। কৃষিজমিতে ভাটাটি তৈরি হয়েছে বলে এলাকাবাসী জেলা প্রশাসক, ইউএনও, পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযোগ করেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ইটভাটায় কয়েক শ মণ কাঠ জড়ো করা হয়েছে। এর সামনে সরিষাখেত। ডানপাশে বোরো ধান চাষ হচ্ছে। ইটভাটার ২০০ গজ দূরে সাতবাড়িয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। এর সামনেই ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র। ভাটার পেছনে ৫০ গজ দূরে শেখ রেজাউল ইসলামের বাড়ি। তিনি বলেন, ‘এখানে ভাটার কার্যক্রম চলছে। আমরা কীভাবে বসবাস করব? আমাদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হবে।’ আবুল বাসার সরদার বলেন, ‘ভাটার পেছনে চার বিঘা জমিতে তাঁর পানের বরজ। এখানে ইটভাটা হলে বরজে কোনো পান উৎপাদিত হবে না। তখন আমাদের না খেয়ে মরে যেতে হবে।’ ভাটামালিক ফারুকুল ইসলাম বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন করেছি। তবে এখনো অনুমোদন পাইনি।’ তিনি স্বীকার করেন, এক ফসলি জমিতে ইটভাটা তৈরি হচ্ছে। এদিকে বারুইহাটি গ্রামের কেশবপুর–চিংড়া সড়কের পাশে রোমান ব্রিকসের অবস্থান।
ভাটার চারপাশেই কৃষিজমি। এ গ্রামের আবদুস সাত্তার বলেন, তিনি ১০-১২ বিঘা জমিতে সবজি চাষ করেছেন। ইটভাটা হলে আশপাশের জমিতে ফসল উৎপাদিত হবে না। এই এলাকায় ফসল না হলে কৃষকদের বেঁচে থাকাই কষ্ট হবে। তিনি আরও বলেন, ইটভাটার বিরুদ্ধে এলাকার লোকজন আন্দোলন গড়ে তুলছেন। গত ২৭ ডিসেম্বর ৫১ সদস্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিগগিরই কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কৃষক নূর আলী বলেন, ইটভাটার বিরুদ্ধে কথা বলায় ভাটামালিক নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন। মালিকপক্ষের লোকজন কৃষকদের মারধর করছেন। প্রশাসন ভাটার কার্যক্রম বন্ধ করার আশ্বাস দিচ্ছে। কিন্তু এর বাস্তবায়ন হচ্ছে না। হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ভাটামালিক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমি যে জমিতে ভাটা করছি, সেটা কৃষিজমি নয়। লাইসেন্স পাওয়ার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করে ভাটার কার্যক্রম চালাচ্ছি। খুব শিগগির লাইসেন্স পেয়ে যাব।’ যশোরের পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, সুপার ব্রিকসের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। ওই ইটভাটাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। আর রোমান ব্রিকস ও জামান ব্রিকস আবেদন করেনি। অনুমোদন ছাড়া ভাটা তৈরি করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দীন বলেন, ‘সম্প্রতি যশোরে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির কারণে অনেক কাজ আমরা করতে পারিনি। অনুমোদনহীন ভাটার বিরুদ্ধে অচিরেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’