Thursday, September 19, 2013

ভারতকে বলার আছে অনেক কিছুই by মেজর সুধীর সাহা(অব.)

বাংলাদেশের তিন দিকে ভারত এবং একদিকে বঙ্গোপসাগর। অর্থাৎ স্থলপথের বর্ডারের প্রায় সবটুকুজুড়ে আছে ভারত। বর্ডারের সমস্যা বাংলাদেশ এবং ভারতকে অনেক সময়ই মিডিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে দুই দেশ থেকেই অবৈধভাবে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের গুলিতে মানুষ মরার খবরগুলো আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষভাবে বিগত বছরগুলোতে ভারতের বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশের নাগরিকের মৃত্যু সব সময়ই বাংলাদেশে ক্ষোভের বিষয় ছিল। কোনো কোনো বেসরকারি সংস্থার মতে, গত দশ বছরে ভারতের বিএসএফের হাতে শত শত বাংলাদেশী প্রাণ দিয়েছে। বর্ডারে এমন হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে দু’দেশের শীর্ষ পর্যায়ে অনেক সময়ই আলোচনা হয়েছে এবং ভারতের পক্ষ থেকে অনেক সময়ই ‘আর গুলি নয়’ এমন ধরনের আশ্বাসও দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সময়ে বর্ডারে মৃত্যুর হার কিছুটা হ্রাস পেলেও বিএসএফের গুলি করে হত্যা করা একবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। এমন একটি আলোড়ন সৃষ্টিকারী ছিল ফেলানী হত্যাকাণ্ড। গত ৭ জানুয়ারি ২০১১-তে ১৫ বছরের ফেলানী ভারত থেকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হচ্ছিল। কাঁটাতারের ওপর দিয়ে যখন ফেলানী সীমান্ত পার হচ্ছিল, তখন ভারতের বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে ফেলানীর মৃত্যু ঘটে। ফেলানী হত্যা নিয়ে বাংলাদেশ, ভারত এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে ভারতের বিএসএফ তার নিজস্ব আদালতে গত ১৩ আগস্ট-২০১৩ অমিয় ঘোষের বিচার শুরু করে। পাঁচ সদস্যের বিএসএফের বিশেষ আদালত আসামি অমিয় ঘোষকে নির্দোষ সাব্যস্ত করে রায় কার্যকর করার জন্য বিএসএফের ডিজির অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করেন।
বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তটি অনেকটাই কানাডা-আমেরিকার সীমান্তের সঙ্গে তুলনা করা যায়। কানাডার বিশাল এলাকা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্ত। দু’দেশের ভিসা পদ্ধতি আছে, আবার অবৈধ পথে মানুষ ও দ্রব্য চোরাচালানের ব্যবস্থাও বিদ্যমান আছে। এক দেশের সীমান্তে অন্য দেশের পতাকাও উড়তে দেখা যায় এই দুটি দেশে। প্রখ্যাত নায়াগ্রা জলপ্রপাতের দু’পাশেই পৎপৎ করে উড়ে চলছে দু’দেশের জাতীয় পতাকা। গত বিশ বছরে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সীমান্ত এলাকায় সীমান্ত রক্ষীর গুলিতে একজন মানুষেরও মৃত্যু ঘটেছে এমন সংবাদ কোনো গণমাধ্যমে কেউ পড়তে সক্ষম হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তটি চোরাচালানিদের জন্য খুবই উল্লেখযোগ্য সীমান্ত হলেও সেখানে কখনও কোনো সীমান্ত রক্ষীর গুলিতে মানুষের মৃত্যু হলে তা হয়ে ওঠে দু’দেশেরই মিডিয়ার হেডলাইন সংবাদ। সেই সঙ্গে তুলনা করলে লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যায় আমাদের। কী ঘটছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে? চোরাচালানি হচ্ছে, অবৈধভাবে ভিসাবিহীন যাতায়াত হচ্ছে, জঙ্গিরা এক দেশ থেকে অন্য দেশে পালিয়ে থাকছে এ সবই সত্য। এমনটা যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বর্ডারেও হচ্ছে। কিন্তু যেটা মিলছে না তা হল, ভারতের বিএসএফের গুলিতে মানুষের মৃত্যু। হইচই হওয়া ফেলানী হত্যার বিচার করতে গিয়ে ভারতের বিএসএফ প্রহসনের বিচার করছে। হত্যাকারী শনাক্ত হওয়ার পরও সসম্মানে মুক্তি পাচ্ছে। এমন একটি স্পর্শকাতর বিচার কেন বিএসএফের নিজস্ব আদালতে হচ্ছে? কেন সে দেশের সাধারণ আদালতে এ বিচার হচ্ছে না? কেন হত্যাকারী অমিয় ঘোষের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে হত্যার অভিযোগটি আনয়ন করা হয়নি? এসব প্রশ্নের জবাব ভারত সরকারকে দিতে হবে বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশের জনগণ এবং ভারতের জনগণের কাছে? কেননা ফেলানী বাংলাদেশের মেয়ে এবং ফেলানী একজন মানুষ।
ভারতের বর্তমান কংগ্রেস সরকার সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন করার বিলটি তাদের সংসদে উত্থাপনই করতে পারেনি। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদের প্রথম প্রচেষ্টা ভেস্তে যায় অসম গণপরিষদের বাধার কারণে। এর পরের প্রচেষ্টা ভেস্তে গেল বিজেপির বাধার কারণে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বিজেপির সুষমা স্বরাজ, অরুণ জেটলির সঙ্গে দেন-দরবার করলেন, ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারিক আহমেদ করিম বিজেপির লালকৃষ্ণ আদভানি, নরেন্দ্র মোদির মন ভেজাতে চেষ্টা করলেন। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হল না। বিলটি পেশ করার ক্ষেত্র প্রস্তুত হওয়ার পথে নতুন করে বাদ সাধলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা ব্যানার্জি। বিলটি পাস করা দূরে থাক, সংসদে পেশ করার কাজটিও করতে পারল না সরকার। এ সেই মমতা ব্যানার্জি যার আর এক ধাক্কায় তিস্তা চুক্তিটিও বাস্তবায়িত করতে পারেনি ভারত সরকার। ভারত সরকার খাদ্য সুরক্ষা, জমি অধিগ্রহণ বিলের মতো অসম্ভব কাজকে সংসদে পাস করিয়ে নিতে পারলেও প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সমস্যা জাগিয়ে রেখেছে যে তিস্তা চুক্তি ও বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বিল, সে ব্যাপারে কার্যত কিছুই করতে পারেনি। এ দুটি অমীমাংসিত বিষয়ের দিকে তাকালেই বাংলাদেশের মানুষ এবং রাষ্ট্রের প্রতি ভারতের দৃষ্টিভঙ্গির একটি বাস্তব অবস্থা বোঝা যায়।
বাংলাদেশের পুরো বর্ডারটি ভারত কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে আটকে দিয়েছে। এটা করতে গিয়ে তাদের প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার বিপুল অংকের খরচকে মেনে নিতে হয়েছে। এর পরও ভারতের বিএসএফ প্রতি সপ্তাহেই কোনো না কোনো নিরীহ-নিরস্ত্র বাংলাদেশীকে গুলি করে হত্যা করছে। তিস্তা চুক্তির বাস্তবায়ন না হওয়া, ছিটমহল জটিলতা জিইয়ে রাখা, টিপাইমুখ বাঁধ করার প্রস্তুতি নেয়া, সীমান্তে গুলি করে নিরস্ত্র বাংলাদেশীদের হত্যা করা এসব কিছু মোটেও একজন ভালো প্রতিবেশীর স্বাক্ষর রাখে না। ভারত বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বড় একটি দেশ। অর্থে, জনবলে, ভূমিতে সব দিক থেকেই ভারত বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বড় দেশ। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারত। তার তুলনায় বাংলাদেশ অতি ক্ষুদ্র একটি দেশ। বড় প্রতিবেশীর দায়িত্ব একটু বেশিই থাকে। দেওয়া-নেওয়ার হিসাব আন্তঃরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার রাজনীতিতে বিদ্যমান থাকলেও সবসময় বড় প্রতিবেশীকেই ছাড় দিতে হয় অপেক্ষাকৃত ছোট প্রতিবেশীকে। যেমনটা আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে দেখি, যেমনটা আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যে দেখি। ঠিক একইভাবে বাংলাদেশের মানুষ ভারতকে বড় প্রতিবেশী হিসেবে এবং প্রকৃত বন্ধু হিসেবেই দেখতে চায় সবসময়। ভারতকেও তেমনভাবেই ভাবতে হবে। মমতা ব্যানার্জির দোহাই দিয়ে তিস্তা বাস্তবায়ন না করে, সীমান্ত বিল পাস না করে, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে এবং সীমান্তে ফেলানীর মতো নিরীহ বাংলাদেশীদের হত্যা করে আর যা-ই দেখানো সম্ভব হোক না কেন, বন্ধুত্বের হাত বাড়ানো, বড় ভাইয়ের ইমেজ দেখানো সম্ভব নয়। আর্থিকভাবে, ব্যবসা সম্প্রসারণে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের যেমন ভারতের সহযোগিতা প্রয়োজন, ঠিক একইভাবে বাংলাদেশ যতই ছোট হোক, যেহেতু সে ভারতের প্রতিবেশী তাই তার বন্ধুত্বও ভারতের সমানভাবেই প্রয়োজন। ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের যে সমস্যা ভারতকে গ্রহণ করতে হচ্ছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে তো ভারতের সেই সমস্যা গ্রহণ করতে হচ্ছে না! বাংলাদেশ-ভারত বিশাল সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বন্ধু হিসেবে পাশে পেতে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রকৃত বন্ধুত্বের একটি স্থায়ী সম্পর্ক গড়ার প্রয়োজনীয়তা ভারতের আছে। ফেলানী হত্যার বিচার প্রহসন এবং তিস্তা চুক্তি ও সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন না হওয়ার বিষয়গুলো ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে বাধার সৃষ্টি করতে পারে- এই সহজ বিষয়টি ভারত সরকার এবং জনগণকে গভীরভাবে ভাবতে হবে।
কংগ্রেস সরকার যা পারছে না, বিজেপি সরকারের কাছ থেকে বাংলাদেশের মানুষ কী আর তা আশা করতে পারে? সুতরাং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের বর্তমান কংগ্রেস সরকারকে আরও মনোযোগী হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। শিক্ষা-সংস্কৃতি আর কৃষ্টিতে যথেষ্ট মিল রয়েছে বাংলাদেশ এবং ভারতের জনগণের মধ্যে। সীমান্ত এলাকায় সুসম্পর্কের এক ধরনের সুবাতাস বইছে দুই দেশের সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে। এমন দুটি দেশের কর্তৃপক্ষের সতর্ক অবস্থায় বিবেচনা করা প্রয়োজন দু’দেশের আন্তঃরাষ্ট্রীয় বিষয়গুলো। আর বলাই বাহুল্য, এক্ষেত্রে বড় প্রতিবেশীকেই অধিক ছাড় দেয়ার মানসিকতা গ্রহণ করতে হবে।
মেজর সুধীর সাহা (অব.) : কলামিস্ট

নিরপেক্ষ নির্বাচনের রূপরেখা by মুহাম্মদ রুহুল আমীন

দেশ ও জাতির এ সংকট মুহূর্তে নির্বাচনকালীন একটি গ্রহণযোগ্য সরকার ব্যবস্থার প্রয়োজন যে ফুরিয়ে যায়নি, তা সবাই অনুভব করছেন। ইতিপূর্বে আমি একটি সংবাদপত্রে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার রূপকল্প উপস্থাপন করে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন সম্পন্ন করার ধারণাপত্র পেশ করেছিলাম। ড. আকবর আলি খান, ড. শাহদীন মালিক, ব্যারিস্টার রফিক উল হক, টিআইবিসহ অনেক বিদগ্ধ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অনেক যৌক্তিক মডেল দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আমাদের রাজনীতিকরা স্ব স্ব অবস্থানে অনড় থাকার কারণে কোনো ফর্মুলাই শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। দেরিতে হলেও শেষ পর্যন্ত সরকার মুখ খুলেছে। সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্যরাও ইদানীং রাজনৈতিক সংলাপ এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। যদিও এখনও তাদের কাছ থেকে এ ব্যাপারে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না, তবুও মনে হচ্ছে তারা একটা যৌক্তিক সমাধান চান। ১০ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের ধানমণ্ডি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দলের শীর্ষ নেতারা বিরোধী দলের সঙ্গে সংসদের ভেতরে বা বাইরে যে কোনো স্থানে আলোচনার কথা জানিয়েছেন। অর্থাৎ আগে শুধু সংসদে আলোচনা করতেই তারা বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন, কিন্তু এখন সংসদের বাইরেও আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছেন। তবে শর্ত হল, সংবিধান ঠিক রাখতে হবে। সংবিধানের পবিত্রতা ক্ষুণœœ না করে যে কোনো যৌক্তিক মডেল তারা মেনে নেবেন বলে ধারণা করা যাচ্ছে। তবে বেদনাদায়ক হল, তারা এখনও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো মডেল উপস্থাপন করেননি। ফলে জনগণ এখনও একতরফা নির্বাচনের বিপদাশংকাই দেখতে পাচ্ছে।
অপরদিকে বেশ গোছানো, পরিপাটি বিএনপি তাদের দাবি থেকে কেয়ারটেকার কথাটি উহ্য রেখে যুগান্তকারী ছাড় দিয়েছে বলে মনে করি। তবে পরিতাপের বিষয় হল, তারা এখনও পর্যন্ত সবার কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো ফর্মুলা পেশ করেননি। ৯ সেপ্টেম্বর বিএনপির সংসদীয় কমিটির সভার আলোচনাকে বেশ অপ্রস্তুতিমূলক ও বিশৃংখল বলে মনে হয়েছে। বিরোধী দলের চিফ হুইপ একটি ধারণাপত্র পাঠ শুরু করেন, অন্য নেতারা তার ব্যাপক সমালোচনা করেন। বেশ হট্টগোলের মধ্যে তিনটি ধারণাপত্র পাঠ করা হয় এবং বিএনপির দলীয় ফোরামে আলোচনা করে নির্বাচনকালীন সরকার কাঠামো নির্ধারণ করা হবে বলে সভার প্রধান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সবাইকে অবহিত করেন। বোঝা যায়, ভীষণ সংগ্রাম-আন্দোলনের মধ্যে বিএনপির দিনগুলো কেটে যাচ্ছে। কিন্তু যে উদ্দেশ্যে এ সংগ্রাম চলছে, সেই কেয়ারটেকার ফর্র্মুলার বিষয়ে অনেক আগেই কি তাদের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত ছিল না? আসলে রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের চেয়েও সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ধারণাগত স্পষ্টতা, কর্মপরিকল্পনা, দিকনির্দেশনা, একাডেমিক স্বচ্ছতা। বিশ্বায়নের এ যুগে আগের মতো মেঠো রাজনীতির উর্বর পরিবেশ আর নেই। যাই হোক, সব মিলিয়ে উভয় দলই যে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কাঠামো প্রণয়নে তৎপর হয়েছে, এটাই আশার কথা। এখন আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচনের একটি গ্রহণযোগ্য রূপরেখা খতিয়ে দেখতে পারি।
ইতিপূর্বে সংবিধান সমুন্নত রেখে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার ধারণা দেয়া হয়েছে বিভিন্ন আইন বিশারদদের দ্বারা। যেগুলোর আলোকে আমরা মূল সরকার ব্যবস্থার কাঠামোগত বিন্যাসের দিকে দৃষ্টি দিতে চাই। মূলত বাংলাদেশের মতো একটি আধা-ঘুমন্ত বা আধা-সচেতন দেশে নিরপেক্ষ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দুষ্প্রাপ্যতাই স্বাভাবিক। এ কারণে ‘নিরপেক্ষ’ নয় বরং ‘পক্ষীয়’ ব্যক্তিদের নিয়ে অচিরেই একটি ‘অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচন কমিটি’- ‘অনিক’ গঠন করা যেতে পারে। এ কমিটিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে তিনজন করে মোট ছয়জন প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবেন। এ ছয়জনের সঙ্গে যুক্ত হবেন আরও চারজন সুশীলসমাজের অরাজনৈতিক প্রতিনিধি, যারা সমান সংখ্যায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন। দেশ ও জাতির অভিভাবক হিসেবে এ ‘অনিকের’ মুরব্বি সদস্য রাষ্ট্রপতিসহ মোট ১১ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচনী কমিটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করবে। এ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকবেন তিনজন আওয়ামী লীগ, তিনজন বিএনপি, চারজন অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও চারজন সুশীলসমাজের প্রতিনিধির সমন্বয়ে মোট ১৪ জন সদস্য। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তাদের জোটভুক্ত দলগুলো থেকে দু’জন করে মোট চারজন প্রতিনিধি পাঠাবে। একইভাবে দল দুটি সুশীলসমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে দু’জন করে মোট চারজনকে মনোনীত করবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি অথবা একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব পালন করবেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৪ সদস্য আলোচনা-পর্যালোচনার মাধ্যমে এ সরকারের প্রধানকে মনোনীত করবেন। নির্বাচনকালীন সরকারের সবচেয়ে বড় কাজ হবে বিভিন্ন কারণে বর্তমানে বিতর্কিত ইসির পুনর্গঠন এবং অন্যান্য প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসে মনোনিবেশ করা। সদ্য পদন্নোতিপ্রাপ্ত আমলাদের ব্যাপারে সৃষ্ট অসন্তোষ দূর করতেও নতুন নির্বাচনকালীন সরকারকে সজাগ থাকতে হবে।
আসন্ন সাধারণ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সময় ও সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। এরই মধ্যে নবম সংসদের অধিবেশন শুরু হয়েছে এবং সম্ভবত এটাই এ সংসদের শেষ অধিবেশন। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এ অধিবেশনে অনুপস্থিত থাকলেও তারা গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলীয় সভায় সরকারকে মন্ত্রিপরিষদ ও সংসদ ভেঙ্গে দিতে বলেছেন।
তিন-চারদিন আগে নরসিংদীর এক জনসভায় বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া দ্ব্যর্থহীনভাবে নির্দলীয় সরকারের দাবিটি তুলে ধরেছেন। বিএনপি যেমন কেয়ারটেকারের দাবি থেকে বেশ খানিকটা সরে এসে নির্দলীয় ব্যবস্থার দাবিতে সোচ্চার হয়েছে, আওয়ামী লীগও তেমনি সংবিধান অক্ষুণœ রেখে বিরোধী দলের কাছে গ্রহণযোগ্য ফর্মুলা পেশ করার সুযোগ নিতে পারে। এরই মধ্যে দেশ-বিদেশের অনেক ব্যক্তি ও সংস্থা এবং বাংলাদেশের শুভাকাক্সক্ষীদের অনেকটা নিরাশ করেছে সরকার, তার অনমনীয় অবস্থানের কারণে। যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহল সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ফর্মুলা প্রণয়নের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠানের তাগিদ দিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র ২-৩ বছর ধরেই এ বিষয়ে কথা বলে আসছে। সব শেষে কয়েকদিন আগে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীকে চিঠি দিয়েছেন। ড. ইউনূস ইস্যু, গার্মেন্ট কর্মীর নিরাপত্তা, দুর্নীতি, আইন-শৃংখলার অবনতিসহ নানা ইস্যুতে সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র তার অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছে। ইইউ বারবার প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে। বর্তমানে ঢাকায় অবস্থানরত ইইউ প্রতিনিধি সরকার, বিরোধী দল, স্পিকার, ইসিসহ সব স্পর্শকাতর ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে স্পষ্ট করে বলেছেন, কেবল সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই ইইউ’র কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে। তা না হলে কোনো একতরফা নির্বাচনে ইইউ তার পর্যবেক্ষক পাঠাবে না এবং নির্বাচনে কারিগরি সহায়তা দেবে না বলে জানিয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব সবার কাছে চিঠি পাঠিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত তিনি সাধারণ পরিষদ চলাকালে পার্শ্বস্থানে সরকার ও বিরোধী দলের দু’জন করে মোট চারজনের সঙ্গে আলোচনা করে বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী বিতর্কের সমাধান করতে চেয়েছেন। কিন্তু বিএনপি রাজি থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর নাকচে জাতিসংঘ মহাসচিবের সেই উদ্যোগও ব্যর্থ হতে চলেছে। বিশ্বায়নের যুগে এ বৈশ্বিক গ্রামে বাংলাদেশ একা থাকতে পারে না। আমাদের মতো গ্রহীতা দেশে দাতাদের উপস্থিতি ও খবরদারি থাকবেই। দক্ষ রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় নীতি-কৌশলে সেই খবরদারি সর্বনিু পর্যায়ে রাখার উপায় উদ্ভাবন করতে হবে। সেজন্যও সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সুদৃঢ় ঐক্য এ মুহূর্তে সময়ের দাবি। আমরা আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিদেশীদের সংশ্লিষ্টতাকে বহিঃহস্তক্ষেপ হিসেবে সমালোচনা করতে পারি। কিন্তু সাহায্য নির্ভরতার কথা ভুলে গেলে চলবে না। চারদিক থেকে আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থা অনেকটাই আÍবন্দি (স্ট্রাকচারাল ইন্টারলকিং)। এ আÍবন্দিত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে দেশ ও জাতির সুখ-শান্তির জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এবং সেই লক্ষ্যে গড়ে তুলতে হবে জাতীয় ঐক্যের সুদৃঢ় প্রাচীর, যেন ভবিষ্যতে কেউ তা ভাঙতে না পারে। নড়বড়ে জাতীয় চেতনা নিয়ে বিদেশী সংশ্লিষ্টতা পরিহার করার চিন্তা অবাস্তব।
মুহাম্মদ রুহুল আমীন : সহযোগী অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

পথভ্রষ্ট ছাত্র রাজনীতি আর কতদিন? by মোঃ আবু সালেহ সেকেন্দার

জাতীয় রাজনীতির নীতিহীনতা ও পথভ্রষ্টতা গ্রাস করেছে ছাত্র রাজনীতিকে। প্রতিদিন গণমাধ্যমগুলোর সংবাদের দিকে নজর দিলেই বিষয়টি চোখে পড়ে। তবে জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে ছাত্র রাজনীতির একটি পার্থক্য আছে। জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা সচরাচর প্রকাশ্য সংঘাত-সংঘর্ষে জড়ান না। পর্দার অন্তরালেই চলে প্রধানত তাদের নীতিহীনতা ও পথভ্রষ্টতার খেলা। কিন্তু ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িতদের যেন তর সয় না। তারা মারমার কাটকাটে বিশ্বাসী। তাই সংবাদপত্রের পাতায় প্রতিদিন নজর দিলে দেখা যাবে কোনো না কোনো ছাত্র সংগঠন সংঘাত-সংঘর্ষ অথবা টেন্ডারবাজি-চাঁদাবাজিতে লিপ্ত। আর জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা যদিও কালেভদ্রে প্রকাশ্য ঢাল-সড়কি নিয়ে প্রতিপক্ষকে ধাওয়া করে; তবে ওই ধাওয়াকারীদের কষ্টি ঘাঁটলে দেখা যাবে, ওরা মূলত ছাত্র সংগঠনেরই কর্মী।
ওদের হয়তো ঠিক কর্মী বলা যথার্থ হবে না। কারণ কর্মী হতে হলে তাকে কোনো না কোনো ভালো কর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হয়। কাজেই হাতুড়ি-কিরিচ নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা করাকে অন্তত ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের কাজ হিসেবে অভিহিত করা যাবে না।
একটি গবেষণা প্রবন্ধের কাজে দেশের প্রধান কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের গঠনতন্ত্র, মেনিফেস্টো, সংগঠন সঙ্গীত পড়া জরুরি হয়ে পড়েছিল। তাই সেদিন ওই বিষয়গুলো বেশ মনোযোগ দিয়ে পড়ছিলাম। দেখলাম, প্রতিটি সংগঠনের গঠনতন্ত্রে মৌলিক কিছু পার্থক্য বাদ দিলে প্রায় একই ধরনের কথা লেখা আছে। কিন্তু বাস্তবে কোনো সংগঠনই তাদের গঠনতন্ত্রের ছিটেফোঁটাও অনুসরণ করে না। যদি তারা তা করত; তবে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, ডাকাতরা কখনও ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতৃত্ব পর্যায়ে আসতে পারত না। ছাত্রলীগের সংগঠন সঙ্গীতের প্রথম দুটি লাইন পড়তে গিয়ে তাদের সাম্প্রতিক কাজকর্মের কথা মনে পড়ায় বেশ হাসি পেল। সংগঠন সঙ্গীতের প্রথম দুই চরণ : শিক্ষা শান্তি প্রগতির নামে (মোরা) মুজিবের সৈনিক/ কাঁপিয়ে তুলব সারা চরাচর (মোরা) কাঁপাব দিগি¦দিক। পাঠকরা নিশ্চয় আমার সঙ্গে একমত হবেন যে, গত পাঁচ বছরে ছাত্রলীগের নেতাকর্র্মীরা টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, গোলাগুলির মাধ্যমে সারাদেশ, এমনকি বিশ্বও কাঁপিয়ে তুলেছে। বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্টের বাৎসরিক প্রতিবেদনেও স্থান পেয়েছে।
ছাত্রলীগই জঞ্জালে ভরা আর অন্যরা ধোয়া তুলসীপাতা, বিষয়টি এমন নয়। সাম্প্রতিক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতার ওপর শিবিরের বর্বরোচিত হামলার ঘটনাও আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। রগ কাটার জন্য এ সংগঠনটি ছাত্র সমাজের কাছে রগকাটা শিবির নামে পরিচিত। যা হোক, ওই ঘটনার পর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়তে দেখেছি। নিঃসন্দেহে ওই জঘন্য হামলাকারীদের বিচারের পক্ষে আমিও। তবে অবাক হই ছাত্রলীগের কোনো কর্র্র্মী কর্তৃক অন্য কোনো সংগঠনের কর্মীর ওপর হামলা হলে ওইসব নেতাকে চুপ থাকতে দেখে। রুয়েটে বামপন্থী একটি ছাত্র সংগঠনের নেতাকে ছাত্রলীগের নেতাকর্র্র্র্র্মীরা যখন প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করেছিল, তখন আমি আমার পরিচিত ছাত্রলীগ নেতাদের টুঁ-শব্দটি পর্যন্ত করতে দেখিনি অথবা ছাত্রলীগের দুই গ্র“পের সংঘর্ষের জের ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন আমার বিভাগের ছোট ভাই আবু বকর নিহত হয়েছিল, তখন ওইসব নেতাকে মুখে কুলুপ এঁটে থাকতে দেখেছি। যদি প্রতিবাদ করতেই হয়; তবে সব অন্যায়ের প্রতিবাদ করা উচিত। ছাত্রলীগ যেমন অস্ত্রবাজদের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতার দায়িত্ব দিয়ে ঠিক করেনি, তেমনি শিবিরও ওই অস্ত্রবাজ নেতার ওপর রাতের অন্ধকারে অতর্কিত হামলা করে অন্যায় করেছে। উভয় সংগঠনের অপরাধ ভিন্ন ধরনের হলেও উভয় সংগঠনই অপরাধী।
ক্ষমতার বাইরে থাকার কারণে ছাত্রদলের কর্র্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা বিরল। তবে তারাও মাঝে মাঝে রণহুংকার দেয় নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়িয়ে। ছাত্রদলকে মনে রাখতে হবে, পাঁচ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে যেসব কারণে তার মধ্যে অন্যতম হল : বাংলাদেশে ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীদের টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিজ দলের কর্মী হত্যা, বিশ্বজিতের মতো নিরীহ পথচারীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা ইত্যাদি ঘটনা। ছাত্রদল বিরোধী দলে থাকলেও যদি বর্তমান ছাত্রলীগের পথে হাঁটে; তবে জনগণের একবিন্দুও সময় লাগবে না তাদের প্রত্যাখান করতে। আর এ ঘটনাগুলোর প্রভাব মূল দল বিএনপির ওপরও পড়বে। ভোটের রাজনীতির হিসাব-নিকাশও তখন পাল্টে যেতে পারে।
এক বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডই আওয়ামী লীগের অনেক ভোট কেটে নিয়েছে। ওই ঘটনার প্রভাব প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পড়েছে। আমি এ বছরের প্রথমদিকে পঞ্চগড় ও নীলফামারীসহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলা সফর করেছিলাম। নীলফামারীর তিস্তা ব্যারাজের (স্থানীয় নাম ডালিয়া ব্যারাজ) কয়েক মাইল আগে খগেরহাট নামে এক প্রত্যন্ত গ্রামের ছোট্ট এক বাজারে চা নাশতা করতে গাড়ি থামিয়েছিলাম। নতুন কয়েকজন আগন্তুক দেখে গ্রামের মানুষের উৎসুক দৃষ্টি আমাদেরও নজর কেড়েছিল। তারা আমাদের পরিচয় জানতে চাইলে আমি বললাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক। এ কথা শুনেই একসঙ্গে কয়েকজন প্রশ্ন করে বসেছিল- ওহ! শাকিল আপনার ছাত্র? ওই স্মৃতি আমি আজও ভুলতে পারি না। এ রকম অপ্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়ায় একদিকে যেমন লজ্জা পেয়েছিলাম; অন্যদিকে অবাকও হয়েছি। এত প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি শাকিলকে মনে রেখেছে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের, বিভাগের নামসহ! ওই ঘটনা আমাকে আরেকটি চিন্তার খোরাক দিয়েছিল। তা হচ্ছে, আমরা যতই মনে করি না কেন, গ্রামের মানুষ দিন-দুনিয়া সম্পর্কে কোনো খবর রাখে না; তা সর্বদা সত্য নয়। গ্রামের মানুষের ওপর ওই ঘটনা এতটাই প্রভাব ফেলেছে যে, তারা ঠিকই ওই ঘটনা মনে রেখেছে, হয়তো রাখবে বছরের পর বছর। এসব মানুষ যখন আগামী নির্বাচনে ভোট দিতে যাবে; তখন ব্যালটে সিল মারার আগে যদি বিশ্বজিৎকে হত্যার দৃশ্য মনে পড়ে যায়; তখন ভোটারের মনের অবস্থার পরিবর্তনও হতে পারে। এদিকটি কি আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগ কখনও ভেবেছে?
ছাত্র সংগঠনগুলোর কাজকর্ম জনমনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। যখন ছাত্র নেতা চাঁদা না পেয়ে ঘরের জানালা-দরজা খুলে নিয়ে যায় অথবা টেন্ডারবাজি করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে গোলাগুলিতে জড়িয়ে পড়ে, তখন তা সারাদেশের মানুষের মধ্যে ওই সংগঠন ও মূল দলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করে। ছাত্রদের কাজ পড়ালেখা করা; টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ঘরের দরজা-জানালা খুলে নিয়ে যাওয়া নয়। কিন্তু নীতিহীন রাজনীতির এ যুগে ছাত্র নেতারা নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছেন ওইসব অপকর্মকে। এ কারণে কেউ যদি কোনো ইউনিটের নেতা নির্বাচিত হন, সেদিন থেকে তার জীবন ধারণের স্টাইলও পাল্টে যায়। কেন্দ্রীয় বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো হলের নেতা হলে পরদিনই তিনি ফিল্মি স্টাইলে গাড়ি থেকে ক্যাম্পাসে নামেন। যিনি দুদিন আগে মাসের খরচের টাকা জোগাড় করার জন্য বড় ভাইদের পেছনে টিউশনি পেতে ঘুর ঘুর করেছেন, হঠাৎ করেই কোনো আলাদিনের আশ্চর্য চেরাগের বদৌলতে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকার মালিক হয়ে যান। নিজের পদ পাওয়ার বিষয়টি জনগণকে জানাতে নিজের ওই সদ্য হাতে আসা পয়সা খরচ করে কথিত জনগণ কর্তৃক নিজের গুণকীর্তন লিখে লিফলেট, পোস্টার, ব্যানার ছাপিয়ে ক্যাম্পাস ভরে ফেলেন। একজন ছাত্র নেতা যিনি পুরোদস্তুরই একজন ছাত্র, তিনি পোস্টার ছাপানোর হাজার হাজার টাকা কোথায় পেলেন- এ বিষয়টি নিয়ে কোনো ছাত্র সংগঠনকে কখনও আপত্তি উত্থাপন করতে দেখিনি। ওই অবৈধ টাকার উৎস বিষয়ে দুদক ও সরকার উভয়েই নীরব। এভাবে নীতিহীন ছাত্র রাজনীতি চলছে সগৌরবে।
দু-একজন ভালো ছাত্র নেতা যে নেই, সে কথা অস্বীকার করব না। কিন্তু ওইসব নেতার পাতিনেতাদের ভাষায় কোনো খাওয়া নেই। ওই নীতিবান ও আদর্শ মেধাবী ছাত্রদের যখন ছাত্র রাজনীতিতে খাওয়া হবে, তখনই সুস্থ ছাত্র রাজনীতির সুফল আমরা পাব। তখন সরকারের শেষ সময়ে ছাত্রলীগের মতো ক্ষমতাসীন কোনো দলের ছাত্র সংগঠনকে হন্যে হয়ে পদ দেয়ার জন্য ছাত্র খুঁজে বেড়াতে হবে না। কারণ তখন আদর্শে বিশ্বাস করে অথবা ভালোলাগা থেকেই ছাত্র সংগঠনের পদ গ্রহণ করতে চাইবে সবাই। আর কোনো ছাত্র সংগঠনের পদ গ্রহণ করলে কাউকে হল থেকে বের করে দেয়া হবে না বিধায় সরকার পরিবর্তন নিয়ে তাকে টেনশনেও থাকতে হবে না। এজন্য প্রথমে দরকার প্রশাসনিকভাবে কর্তৃপক্ষের হলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। যেখানে মেধাই হবে সিট প্রাপ্তির যোগ্যতা। তখন ছাত্র নেতারা প্রথম বর্ষের নতুন আসা শিক্ষার্থীর কাছে গিয়ে বলবে- এই আমাদের গঠনতন্ত্র, মেনিফেস্টো। আমরা ছাত্রদের জন্য, দেশের জন্য এ কাজগুলো করতে চাই। তোমার ভালো লাগলে আমাদের দলে যোগ দিও। ওই ছেলেটি সব কয়টি ছাত্র সংগঠনের বিষয়ে পড়ালেখা করে তার যে দলে ইচ্ছা যোগ দেবে। তাকে কেউ বাধা দেবে না। হল থেকে তাকে কেউ তাড়িয়েও দেবে না। আমার এমন ভাবনা এখনকার প্রেক্ষাপটে অলীক মনে হতে পারে। কিন্তু এ স্বপ্নের বাস্তবায়ন অসম্ভব নয়।
মোঃ আবুসালেহ সেকেন্দার : শিক্ষক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জামায়াতের চেয়ে বিএনপি বেশি সক্রিয় by নুরুল ইসলাম বিএসসি

কাদের মোল্লার ফাঁসির রায়ের পরই জামায়াতের হয়ে বিএনপি কর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে রাস্তায় গাড়ি ভাঙতে নামে। শুধু গাড়ি নয়, তারা পুলিশকেও আক্রমণ করেছে। পুলিশ কোনো সরকারি বাহিনী নয়, এরা রাষ্ট্রীয় বাহিনী। পুলিশ রাষ্ট্রের অন্যতম একটি চালিকাশক্তি। পুলিশকে আক্রমণ করার অর্থই হল রাষ্ট্রকে আক্রমণ করা এবং রাষ্ট্রীয় যন্ত্রকে বিকল করে দেয়া। যারা রাষ্ট্রীয় যন্ত্র বিকল করতে চায়, তারা বাংলাদেশের নাগরিক কি-না সে প্রশ্ন থেকে যায়। প্রথমে তারা কেন ভাংচুর করে, তা পর্যালোচনা করতে চাই। রাস্তায় গাড়ি তো কোনো অপরাধ করেনি বা গাড়ি বিচার কার্যের সঙ্গে সম্পৃক্তও নয়। গাড়ি কাদের মোল্লাকে ফাঁসির আদেশও দেয়নি। এ কথা আমরাও জানি, যারা গাড়ি ভাঙছে তারাও জানে। গাড়ি ভাঙার একমাত্র উদ্দেশ্য আতংক সৃষ্টি করা এবং রাষ্ট্রের সম্পদ ধংস করা। গাড়ি দেশে উৎপাদিত হয় না, বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে আমদানি করতে হয়। এই গাড়ি যারা পোড়ায়, যারা ভাঙে, তারা কোনো সভ্য দেশের মানুষ বললে মহাভুল হবে। তারা মানুষের আদলে প্রাণী মাত্র। এদের বিবেক নেই, তাই বিবেচনাও নেই। উর্দুতে একটা কথা আছে, ‘নজরা নেহি ত জলোয়া ক্যেসা’। অন্ধের সম্মুখে বিদ্যুৎ চমকালেও কী, না চমকালেও কী? এদের জন্য রাত-দিন সমান, যারা গাড়ি ভাঙে তারা অন্ধ বিবেকের শিকার।
পুলিশকে কেন আক্রমণের প্রথম শিকারে পরিণত করেছে, তা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সেই ব্রিটিশ আমলে স্বাধীনতাপন্থীরা পুলিশকে আক্রমণ করে অস্ত্র কেড়ে নিয়ে ওই অস্ত্র দিয়েই রাষ্ট্রযন্ত্রকে আক্রমণ করত। ওই সময় ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধ। কিন্তু এখন তো দেশ স্বাধীন, তবুও কেন পুলিশের ওপর আক্রমণ? এক কথায়, যারা এখন পুলিশ মারছে তাদের ধারণা, এদেশ তাদের নয়। পাকিস্তানই তাদের স্বপ্ন পূরণের ভূমি। বাংলাদেশ তাদের কাছে পরদেশ, তাই যত পার ক্ষতি কর। এই থিউরির বশবর্তী হয়ে উগ্রপন্থীরা পুলিশকে আক্রমণ করে। পুলিশকে আক্রমণ করার দ্বিতীয় কারণ হল, আইন-শৃংখলা রক্ষায় পুলিশ সর্বাগ্রে যায়, ওই জায়গায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ গেলেও আক্রমণের শিকার হতো। দুর্ভাগ্য যে ছাত্রলীগ, যুবলীগের কর্মীরা পুলিশের সাহায্যে এগিয়ে আসে না বা পরবর্তী সময়ে তাদের ধরিয়ে দিতে সাহায্য করে না। ব্যতিক্রম যে নেই, বলা যাবে না। সত্য কথা বলতে কী, পুলিশেও যে জামায়াত-শিবিরের সমর্থক নেই এ কথা হলফ করে কেউ বলতে পারবে না।
যারা নতুন জন্ম, লোভে লাভে যারা শিবিরে নাম লিখিয়েছে, তারাও কিন্তু এখন জামায়াতকে কলংকমুক্ত দেখতে চায়। মুক্তিযুদ্ধের সময়ের জামায়াতের ক্রিয়াকর্মগুলো তাদেরও লজ্জা দেয়। কিন্তু লোভ আর লাভের কারণে তারা শিবির ত্যাগ করতে পারে না। ত্যাগ করতে গেলেও ভয়ের কারণ আছে। কিন্তু বাস্তব জীবনে এসে তারা আর জামায়াত করে না। যার যার ধান্ধায় নেমে পড়ে। সরকারি দল যেই থাকে, তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়। প্রশ্ন হল, গাড়ি ভাঙে কারা? শিবিরের জিন্সের প্যান্ট পরা এত কর্মী হঠাৎ এলো কী করে? এরা কি আসলেই শিবির, নাকি শিবির নামধারী বিএনপির কর্মী? বিএনপি ঘোরতর আন্দোলনের কথা বলে। ওই মাইক পর্যন্তই। সময়ে সময়ে এরা হেফাজতিদের কাঁধে ভর করে, সুযোগমতো জামায়াতের কাঁধে। নিজেদের কোনো মুরদ নেই, পরের রান্না করা ফিরনি বিলানেই এখন এদের মুখ্য ভূমিকা। নষ্ট জমিতে কেউ চাষ করে না। যেখানে ফসলই জন্মাবে না, ওখানে চাষ করে কোনো লাভ হওয়ার নয়। বিএনপি কেন জামায়াত-হেফাজতিদের নিয়ে থাকতে চায়, তা দেশের মানুষ জানে। উদ্দেশ্য, এদের ভোট নিজেদের পক্ষে টানা। জামায়াত নিষিদ্ধ হলে বিএনপির লাভ। তাই কাদের মোল্লার ফাঁসির পরও কোনো প্রতিক্রিয়া বিএনপির নেই।
নুরুল ইসলাম বিএসসি : সংসদ সদস্য ও কলাম লেখক

অন্ধকার ছেড়ে আলোয় আসুন by সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক

গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিকালে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে এবং ১৬ সেপ্টেম্বর বিকালে রাজশাহী শহরে মাদ্রাসা মাঠে ১৮ দলীয় জোট আয়োজিত স্মরণকালের বিশাল দুটি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রধান অতিথি হিসেবে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। গত দেড়-দু’বছরে তিনি বিভিন্ন জেলায় অনেক জনসভায় অংশগ্রহণ করেন। রংপুর ও রাজশাহীর জনসভার আলোকে আজকের কলামে দু’-চারটি কথা পাঠকের সঙ্গে শেয়ার করছি। জনসভায় সব বক্তার পক্ষ থেকে প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে প্রাধান্য পায়, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান। বক্তাদের মধ্যে অনেকেই বলেন, দেশে যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন না হয়, তাহলে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক দল তাতে অংশগ্রহণ করবে না এবং সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া একদলীয় নির্বাচন দেশ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। ফলে দেশে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। জানমালের বিপুল ক্ষতি সাধিত হবে। সেটি কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। ১৮ দলীয় জোটের প্রধান শরিক বিএনপির নেতাকর্মীরা এবং জোটের অন্যতম শরিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির পক্ষে নিরলসভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন ও সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। ১৮ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে কিছুসংখ্যক নেতা বিভিন্ন টকশোতে যান এবং জোটের অনুকূলে বিভিন্ন বক্তব্য রাখেন। কিছু নেতা পত্রিকায় কলাম লেখেন। ঘটনাক্রমে আমি টকশোতেও যাই এবং কলামও লিখি। প্রচুর সংখ্যক ১৮ দলীয় নেতা বিভিন্ন সভা-সমিতিতে বক্তৃতা দেন এবং আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন।
এত চেষ্টার পরও সরকারের মনোভাবে কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সরকার তাদের সিদ্ধান্তে অটল। ফলে দেশ এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগও দেশের বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ করে যাচ্ছে। এসব সভা-সমাবেশে বিরোধী দলের প্রতি কটূক্তি, কুৎসা রটনা ও হেয়প্রতিপন্নমূলক বক্তৃতাই প্রাধান্য পায়। নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি নিয়ে সেসব জনসভায় আলোচনা হয় না বললেই চলে। ফলে জনগণ বিশাল এক উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। জানি না এর অবসান কবে হবে। বা আদৌ হবে কি-না। সবাই একটি কথা বারবার বলছেন, সেটি হচ্ছে- সরকারের সুমতির উদয় হওয়া প্রয়োজন। দেশের মানুষের প্রতি সরকারের মমত্ববোধ জাগ্রত হওয়া প্রয়োজন। কারণ বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার যে রকম একগুঁয়েমির পরিচয় দিচ্ছে এবং নেতিবাচক স্থির সিদ্ধান্তের প্রতি অটুট রয়েছে, এতে দেশের অমঙ্গল ছাড়া মঙ্গলের কোনো লক্ষণ নেই। ২১ আগস্ট থেকে শুরু করে যতগুলো টকশোতে আমি অংশগ্রহণ করেছি এবং যতগুলো কলাম লিখেছি, এর বেশিরভাগেই একটি যুক্তি উপস্থাপন করেছি। রংপুর ও রাজশাহীর ময়দানে জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বক্তৃতায় তিনিও ওই যুক্তিটি আরও দৃঢ়ভাবে, আরও সুন্দরভাবে নিজের মতো করে উপস্থাপন করেছেন। এই যুক্তিটি তিনি ৮ সেপ্টেম্বর নরসিংদীর মাঠে উপস্থাপন করেননি। ব্যাখ্যাটি নিুরূপ। ২০০৬ সালের অক্টোবরে তৎকালীন বিএনপি সরকারের বিদায়ের কিছুদিন আগে আলোচনায় চলে এসেছিল বিদায়-পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধানের বিষয়টি। তৎকালীন বিদ্যমান সংবিধান মোতাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান হওয়ার কথা ছিল সে সময়কার সদ্য সাবেক প্রধান বিচারপতি কেএম হাসানের। কিন্তু সে সময়কার প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ এতে বিরোধিতা করে। ওই বিরোধিতার কারণ ছিল, আওয়ামী লীগের মতে, ২০০৬ সাল থেকে পেছনের দিকে ২৫-৩০ বছর আগে বিচারপতি কেএম হাসান বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। অর্থাৎ ২০০৬ সালে বিচারপতি কেএম হাসানের গায়ে আওয়ামী লীগের মতে বিএনপির গন্ধ ছিল। যদিও এই ২৫-৩০ বছরের মাঝখানে তিনি অ্যাডভোকেট হিসেবে প্র্যাকটিস করেছেন, হাইকোর্টের বিচারপতি হয়েছেন, সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি হয়েছেন। এত কিছুর পরও আওয়ামী লীগের মতে, বিচারপতি কেএম হাসানের গায়ে বিএনপির গন্ধ থেকে গেছে। অতএব কেএম হাসানকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান হিসেবে মেনে নেয়নি আওয়ামী লীগ। একজন ব্যক্তির গায়ে যদি মিথ্যাভাবে ২৫ বছর আগের গন্ধ আরোপ করা যায় এবং সে কারণে তাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান মানা না যায়, তাহলে যিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ শাসন করছেন, যিনি আওয়ামী লীগ নামক একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান এবং নির্বাচনকালীনও দেশ শাসন করবেন বলে সদম্ভে ঘোষণা করছেন, যার গায়ে আপাদমস্তকই আওয়ামী লীগের গন্ধ রয়েছে- বিএনপি কেন তার অধীনে নির্বাচনে যাবে? এ প্রশ্নটি বেগম খালেদা জিয়া দেশবাসীর এবং বিশ্বের মানুষের বিবেকের সম্মুখে উপস্থাপন করেন। এর উত্তর কী আসতে পারে, সেটি সহজেই অনুমেয়।
বিভিন্ন আলোচনা থেকে আরও একটি বিষয় উঠে এসেছে যে, গত পাঁচ বছরে দুর্নীতি, অপশাসনে দেশ ছেয়ে গেছে। মানুষ সরকারের অপশাসনে এতটাই বিরক্ত যে, যদি এ মুহূর্তে নির্দলীয় নিরপেক্ষ ব্যক্তির অধীনে নির্বাচন দেয়া হয়, তাহলে নৌকার পালে হাওয়া লাগার পরিবর্তে ভরাডুবির আশংকাই বেশি। এ বিষয়টি বর্তমান সরকারও ইতিমধ্যেই টের পেয়েছে। শুধু তাই নয়, তারা যদি পরাজিত হয়, তাহলে তাদের দুর্নীতি, অপশাসন ও কুকর্মের জন্য দেশ তাদের ক্ষমা করবে না। বিচারের কাঠগড়ায় তাদের দাঁড়াতেই হবে। যে কারণে ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের এ অন্তহীন অপচেষ্টা। তাদের মনে যদি সামান্যতম সৎ সাহস থাকত, তাহলে তারা নির্দলীয় নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের তত্ত্বাবধানে নির্বাচনকে ছেড়ে দিত। সেই সৎ সাহস তারা অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছে। ১৯৭৪-৭৫ সালে তারা একবার চেষ্টা করেছিল একদলীয় শাসন কায়েম করতে; কিন্তু তারা সফল হয়নি। তারা টিকতে পারেনি। তারা এখন আবার চেষ্টা করছে, এদেশের সংগ্রামী জনগণই তাদের আবার ব্যর্থ করবে।
যাই হোক, জনসভাগুলোর অন্যতম উদ্দেশ্য থাকে জনমত সৃষ্টি। বিভিন্ন বক্তা তাদের বক্তৃতার মাধ্যমে জনগণের মতামত গ্রহণের চেষ্টা করেন এবং জনগণকেও নিজেদের মতামত জানান। জনসভার বিভিন্ন পর্যায়ে বক্তারা জনগণের কাছ থেকে জানতে চান, বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবেন, নাকি তা প্রতিহত করবেন? লাখ লাখ মানুষ সমস্বরে হাত উঁচিয়ে উচ্চকণ্ঠে জবাব দেন- না, আমরা বর্তমান সরকারের অধীনে কোনোভাবেই নির্বাচনে যাব না। প্রয়োজন হলে আমরা রাজপথে আন্দোলনে নামব। তবুও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন ছাড়া বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান হতে দেব না। সরকারের যে কোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব। সেই সঙ্গে জনগণ ১৮ দলীয় জোটের প্রতি দৃঢ়ভাবে একাত্মতা পোষণ করেন। দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত ১৮ দলীয় জোটের বিভিন্ন মহাসমাবেশে এ চিত্রই আমি দেখেছি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, বর্তমান সরকার যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে কোনোভাবেই আপস না করে, তাহলে জনগণ সেটা মেনে নেবে না। সুতরাং দেশ এক কঠিন অরাজকতার মধ্যে পতিত হবে।
বাংলাদেশে বর্তমানে জনগণের সামনে একটাই প্রশ্ন- সেটি হচ্ছে আগামী ৪-৫ সপ্তাহের সময়টি কীভাবে অতিবাহিত হবে? কারণ সরকার বলেছে, ২৪ অক্টোবর থেকে শুরু করে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে তারা যে কোনোভাবে তাদের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান করবেই। এ ব্যাপারে পত্রপত্রিকায় বিভিন্নভাবে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। সরকারের মন্ত্রীরা মিডিয়াতে বিভিন্ন প্রকারে বক্তব্য দিয়েই যাচ্ছেন। তবে সব ধরনের বক্তব্যের মধ্যে একটি মিল খুঁজে পাওয়া যায়- সেটি হচ্ছে তারা নির্বাচন করবেন। অর্থাৎ সরকার তাদের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানে আগ্রহী। সরকার বলতে শুধু আওয়ামী লীগকেই বোঝানো হচ্ছে। কেননা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় দেখা যাচ্ছে, বর্তমান সরকারের যে মহাজোট, সেই মহাজোটে অনৈক্যের সুর বেজে উঠেছে। জোটের অনেক শরিক দলই বলছে, বর্তমান সংসদ ভেঙে দিয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচন করতে হবে। সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন করলে তারা সে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের দৃষ্টিভঙ্গি এখনও স্পষ্ট নয়। মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টি এক থেকে দেড় বছর ধরে বলে আসছে, তারা এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। সাম্প্রতিককালে তাদের অবস্থান খুব একটা বোঝা যাচ্ছে না। সুতরাং এমন ধারণাও করা যেতে পারে, আওয়ামী লীগ একাই নির্বাচন অনুষ্ঠান করল এবং প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টি অবস্থান নিল। এ ধারণাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। কারণ ১৯৮৬ সালে যে ঘটনাটি ঘটেছিল, তার পুনরাবৃত্তি হওয়া খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। হুবহু পুনরাবৃত্তি না হলেও কাছাকাছি একটি ঘটনার পুনরাবৃত্তির প্রসঙ্গে বেগম খালেদা জিয়া সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে সাবধান করে দেন। আলোচনা বা বক্তৃতায় প্রকাশ পায় যে, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফোরাম বা বিএনএফ নামক একটি দল বা গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন আদাজল খেয়ে উঠেপড়ে লেগেছে। জানা যায়, তারা নাকি তাদের দলীয় প্রতীক হিসেবে গমের শীষ চেয়েছেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষ। ধানের শীষ ও গমের শীষ যখন কাগজে ছাপা হয়, তখন দেখতে অনেকটা একরকম লাগে। ব্যালট পেপারে যখন ছাপানো হবে, তখন দেখতে একইরকম লাগবে। ভোটাররা বিভ্রান্ত হয়ে ধানের শীষ মনে করে গমের শীষে সিল মারবে। এরূপ একটি অর্বাচীন কল্পনা থেকেই বিএনএফ নামক দলকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চলছে বেশ কিছুদিন ধরে। এ দলকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য কিছুসংখ্যক আওয়ামী লীগপন্থী সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা এবং দলছুট রাজনীতিক পরিশ্রম করছেন বেশ কিছুদিন ধরে। তাদের সব ধরনের খরচ সরকারের গোয়েন্দা বাহিনী জোগান দিচ্ছে বলে বাজারে রটনা আছে। নির্বাচন কমিশন তাদের নিবন্ধন দেয়ার জন্য দুই কদম আগায় তো এক কদম পেছায়- এরকম একটি অবস্থানে আছে বলে পত্রিকার রিপোর্ট মারফত জানা যায়। খালেদা জিয়া এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে সাবধান করে বলেন, এটা কোনো মামাবাড়ির আবদার না!
বাংলাদেশের বয়স এখন ৪২-৪৩ বছর। বাংলাদেশ এখন পৃথিবীতে পরিচিত নাম। এদেশে যেন শান্তি বজায় থাকে সে ব্যাপারে পৃথিবীর দেশগুলো এবং জাতিসংঘ দারুণভাবে আগ্রহী। খালেদা জিয়া বলেছেন, ১৮ দলীয় জোট প্রতিহিংসার রাজনীতি করবে না, প্রতিশোধের রাজনীতি করবে না, মারামারি-হানাহানির রাজনীতি করবে না। তিনি বলেছেন, মেধাবীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেবেন, অনগ্রসর অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দেবেন, তথ্যপ্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দেবেন। ধর্মীয় শিক্ষার ওপরে আক্রমণকে প্রতিহত করবেন। নারীর জন্য অধিকতর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন। এসব করতে হলে শান্তি প্রয়োজন। শান্তি আনতে হলে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রয়োজন। সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে সুষ্ঠু পরিবেশ প্রয়োজন। তার জন্য সুষ্ঠু আইনের কাঠামো প্রয়োজন। তার জন্য সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন। তার জন্য সরকারের সদিচ্ছা প্রয়োজন।
লেখাটা দীর্ঘতর না করে একটি প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে শেষ করতে চাই। আওয়ামী লীগের জন্যই এ প্রস্তাব। দেশের জনগণ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চান- এ কথাটি যদি আপনারা বিশ্বাস না করেন, তাহলে একটি গণভোট দিন। আর যদি বিশ্বাস করেন, তাহলে এই সংসদের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সংবিধান সংশোধন করুন। আর যদি না করেন, তাহলে দেশে যে কোনো ধরনের অরাজক পরিস্থিতির জন্য দায়িত্ব নিতে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকুন।
মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক : কলাম লেখক; চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি-১- ওসমান পরিবারের রাজনীতি সংকটে by রাজীব নূর ও আসিফ হোসেন

নারায়ণগঞ্জের যে পরিবারটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আওয়ামী লীগের জন্মের ইতিহাস, সেই খান সাহেব ওসমান আলীর পরিবারের রাজনীতি তৃতীয় প্রজন্মে এসে এখন টালমাটাল।

বানরের মধুদান ও হস্তীরাজের বুদ্ধসেবা by প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু

এ বছর ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ইংরেজি ১৪২০ বাংলা ১৫ আশ্বিন ২৫৫৭ বুদ্ধাবর্ষ শুভ ভাদ্র পূর্ণিমা। বৌদ্ধদের কাছে দিনটি মধু পূর্ণিমা নামে পরিচিত।

শিক্ষা ও শিক্ষা আন্দোলন নিয়ে কিছু কথা by সঞ্জীব রায়

৬২’র শিক্ষা আন্দোলনকে স্মরণে রেখে প্রতি বছর ১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবস পালিত হয়। অন্যান্য বছরগুলোর মতো এবারো খুব ছোট করে কয়েকটি সংগঠনের উদ্যোগ-আয়োজনে শেষ হয়ে যাবে দিনটি।

চার হাজার শ্রমিক সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত by সিয়াম সারোয়ার জামিল

সাভারের রানা প্লাজা ভবন ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় চার হাজার শ্রমিক পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা নিজ নিজ পরিবারের উপার্জনে সক্ষম প্রধান ব্যক্তি হওয়ায় এবং ভবন ধসের পর কাজে অক্ষম হয়ে পড়ায়-পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

জামায়াত-শিবিরের অ্যাকশন

রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে জামায়াত-শিবিরের এক কর্মীর হামলা। ছবি: সাজিদ হোসেন

২৭ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাচ্ছে তবুও ভালোবাসি

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে নবাগতা নায়ক-নায়িকাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন বাপ্পি-মাহি জুটি। এই জুটি অভিনীত ভালোবাসার রঙ ও অন্যরকম ভালোবাসা’র পর এবার মুক্তি পাচ্ছে তৃতীয় সিনেমা তবুও ভালোবাসি।

কোরিয়ার সাংস্কৃতিক শুভেচ্ছা দূত হলেন তিশা

রিপাবলিক অব কোরিয়ার শুভেচ্ছা দূত হলেন অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা।

ঐশীর বন্ধু জনি গ্রেফতার

পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (পলিটিক্যাল শাখা) পরির্দশক (ইন্সপেক্টর) মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যার ঘটনায় তাদের সন্তান ঐশী রহমানের ঘনিষ্ট বন্ধু জনিকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

প্রসাধনী ব্যবহারে সাবধান! by হুসাইন আজাদ

নিজের সুন্দর চেহারা অথবা শরীরের ত্বকের মসৃণতা  বা লাবণ্য বৃদ্ধির জন্য কতো রং-ঢংয়ের প্রসাধনীই না ব্যবহার করা হয়! অথচ লাবণ্য বৃদ্ধির পরিবর্তে উল্টো শরীরে অ্যালার্জি, খোসপাঁচড়া, বিভিন্ন রকমের চর্মরোগেরই জন্ম দেয় এসব প্রসাধনী।

পুলিশের গুলিতে মেহেরপুরে জামায়াত কর্মী নিহত, ২১ জেলায় সহিংসতা

জামায়াতের ডাকা টানা ৪৮ ঘন্টার হরতালের দ্বিতীয় দিনে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এগুচ্ছেন কর্নিয়া

জাকিয়া সুলতানা কর্নিয়া। তর তর করে এগিয়ে যাচ্ছেন সংগীতের নতুন পথে, ঝলমলে কণ্ঠমুখ সঙ্গে নিয়ে। ছোটবেলা থেকেই গানের সঙ্গে তার বসবাস।

অতিরিক্ত কামভাব চিকিৎসায় হোমিও

হাইপারসেক্স অর্থ অতিরিক্ত কামভাব। পুরুষের কামভাব কম বেশি হয়- তার দেহের হরমোন নিঃসরণের কম বেশির উপর। যদি কারো উত্তেজনা বেশি হয়- তাহলে হরমোন বেশি নিঃসরণের জন্যই তার মনে অতিরিক্ত কামভাব জাগতে পারে।