Thursday, February 22, 2018

দুর্নীতির ধারণাসূচকে বাংলাদেশের দুই ধাপ উন্নতি

বার্লিনভিত্তিক দুর্নীতি পর্যবেক্ষণ সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআইবি) চলতি বছরের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭তম। দুর্নীতির ধারণাসূচকে গত বছর ১৫তম স্থানে থাকা বাংলাদেশের এবার দুই ধাপ উন্নতি হয়েছে। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে- গেল এক বছরে দেশে দুর্নীতি কমেছে। টিআইবির ওয়েবসাইটে বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে ১৮০ দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে সাব সাহারান অঞ্চলের দেশ সোমালিয়া। এর পর দক্ষিণ সুদান। এভাবে একে একে রয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া, আফগানিস্তান ও ইয়ামেনের নাম। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বার্লিন থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদন তুলে ধরেন সংস্থাটির বাংলাদেশ শাখার নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। দুর্নীতির অবসানে অধিকাংশ দেশে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি বলে আলোকপাত করা হয়েছে টিআইবির এবারের প্রতিবেদনে। এমনকি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে এসব দেশের সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের জীবন ক্রমাগত ঝুঁকিতে ফেলতে হচ্ছে। টিআইবি সরকারি খাতের দুর্নীতির হার নির্ধারণ করতে শূন্য থেকে ১০০ পর্যন্ত একটা সূচক ব্যবহার করেছে। যেসব দেশে মাত্রা শূন্যতে রয়েছে, তারাই সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ। বিপরীতে ১০০-তে যাদের সূচক, তারা কম দুর্নীতিগ্রস্ত ও পরিচ্ছন্ন দেশ।
চলতি বছরের সূচকে দেখা গেছে, দুই-তৃতীয়াংশ দেশের দুর্নীতির সূচক পঞ্চাশের নিচে। তাদের গড় সূচক ৪৩। সেই হিসাবে পৃথিবীর কোনো দেশেই এ বছর দুর্নীতিমুক্ত নয়। চলতি বছরে সবচেয়ে কম দুর্নীতির দেশ নিউজিল্যান্ড ও ডেনমার্কের সূচক ৮৯ ও ৮৮। সিরিয়া, দক্ষিণ সুদান ও সোমালিয়ার সূচক হচ্ছে-১৪, ১২ ও ৯। অঞ্চলভিত্তিক সবচেয়ে ভালো করেছে পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো। তাদের গড় সূচক ৬৬। সবচেয়ে খারাপ করেছে সাব-সাহারান আফ্রিকা, পূর্ব ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া। এদের গড় সূচক যথাক্রমে ৩২ ও ৩৪। ২০১২ সাল থেকে আইভরি কোস্ট, সেনেগাল ও যুক্তরাজ্যসহ বেশ কিছু দেশে দুর্নীতির উন্নতি ঘটেছে। বিপরীতে সিরিয়া, ইয়ামেন ও অস্ট্রেলিয়ার চরম অবনতি ঘটেছে। টিআইবির বিশ্লেষণ বলছে, যেসব দেশে গণমাধ্যম ও বেসরকারি সংস্থার সুরক্ষা কমতির দিকে, সেসব দেশের দুর্নীতির সূচক সবচেয়ে তলানিতে রয়েছে। তারাই সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ। অতিদুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোতে দৈনিক অন্তত একজন সাংবাদিক নিহত হচ্ছেন। কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, গেল ছয় বছরে দুর্নীতির ধারণার সূচকে যেসব দেশের সূচক ৪৫ কিংবা তার নিচে, সেসব দেশেই ১০ সাংবাদিকের মধ্যে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন।

দুটি স্কুল পুড়িয়ে দিল দুর্বৃত্তরা

গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে পুড়ে গেছে তছলিম উদ্দিন বিদ্যা নিকেতন ও বকশিগঞ্জ আইডিয়াল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার বকশিগঞ্জ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ভোরে হঠাৎ করেই তছলিম উদ্দিন বিদ্যা নিকেতন ক্যাম্পাসের ভিতরে আইডিয়াল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে আগুন লাগে। মুহুর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে বিদ্যালয়ের অফিস ও শ্রেণি কক্ষে। এতে টিনশেড ভবনের দরজা-জানালা, শ্রেণি কক্ষ, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, ফটোস্ট্যাট মেশিন, বই, মুল্যবান কাগজপত্র, আসবাবপত্র ও নগদ টাকাসহ অন্তত ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। এছাড়াও ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সমাপনী পরীক্ষার শত শত শিক্ষার্থীর মূল সনদপত্র পুড়ে গেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে আসার আগেই স্থানীয় লোকজন চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। স্কুল পরিচালক সাবেক ইউপি সদস্য মো. রুহুল আমিন অভিযোগ করেন, ঈর্ষান্বিত হয়ে স্থানীয় একটি দুর্বৃত্ত চক্র স্কুলে আগুন দিয়েছে। অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে সাদুল্যাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন বলেও তিনি জানান। সাদুল্যাপুর থানার ওসি মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের সনাক্তের চেষ্টা চলছে। লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

তুরস্কের হুঙ্কারে পিছু হঁটেছে সিরিয়া



তুরস্ক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আফরিন এলাকায় সিরিয়ার যেসব সেনা কুর্দি গেরিলা গোষ্ঠী ওয়াইপিজি-কে সমর্থন দেবে তারা মারামত্ন পরিণতি বরণ করবে। এছাড়া, সিরিয়ার বাহিনীকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করা হবে বলেও সতর্ক করেছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ হুঁশিয়ারি দেন।
তিনি জানান, গতকাল সিরিয়ার সরকারপন্থি যোদ্ধাদের ৪০/৫০ গাড়ির একটি বহর আফরিনে ঢোকার চেষ্টা করে কিন্তু তুর্কি সেনাদের গোলাবর্ষণের পর তারা পিছু হঁটতে বাধ্য হয়। ইব্রাহিম কালিন বলেন, সিরিয়ার সরকারি সেনা কিংবা অন্য যেকোনো ব্যক্তি আফরিনের দিকে আসার চেষ্টা করবে তাকে ভয়াবহ পরিণতি বরণ করতে হবে। তবে আসাদপন্থি বাহিনীর একজন কমান্ডার জানিয়েছেন, তার যোদ্ধারা তুর্কি সেনাদের গোলার মুখে পড়ার পর পিছিয়ে গেলেও পরে তারা আফরিন শহরে ঢুকেছেন। এদিকে, ব্রিটেনভিত্তিক কথিত মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, আফরিন শহর এবং অন্যান্য এলাকায় তুর্কি সেনারা অভিযান অব্যাহত রেখেছে। মঙ্গলবার ওয়াইপিজি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা সিরিয়া সরকারের কাছে সহায়তা চেয়েছে। সিরিয়া সরকার মনে করছে, দেশের জনগণকে রক্ষার দায়িত্ব তার এবং কুর্দিদের আবেদনে সাড়া দিয়ে সরকার সেখানে যোদ্ধা পাঠিয়েছে। এসব যোদ্ধা সীমান্তে অবস্থান নেবে এবং সিরিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করবে।

আপিলের সুবিচার দৃশ্যমান হতে হবে by আসিফ নজরুল

বিদেশ থেকে ফিরে প্রধানমন্ত্রী সাধারণত সাংবাদিকদের সঙ্গে বসেন। এবার ইতালি থেকে ফিরেও তাই করেছেন। অন্য দেশে এ ধরনের সংবাদ সম্মেলনে সরকারপ্রধানদের প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে ফেলেন সাংবাদিকেরা। আমাদের সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন কম। তাঁরা বরং কখনো কখনো প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর প্রিয় বিষয়ে কথা বলতে উৎসাহিত করেন, কখনো তাঁর প্রশংসায় উৎসাহী হয়ে ওঠেন। তবে সমস্যা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সম্মেলনে উপস্থিত অনেকের মতো উৎসাহিত বা নির্ভার থাকতে পারেননি দেশের মানুষজন; বিশেষ করে এবার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে লিখেছেন। আমার প্রিয় মানুষ আনু মুহাম্মদ লিখেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায়দায়িত্ব শিক্ষামন্ত্রীর তো বটেই, সরকারেরও। আমার এই লেখা অবশ্য অন্য একটি বিষয় নিয়ে। সেটি আগামী নির্বাচনকেন্দ্রিক।
আমি বিশ্বাস করি, কোনো সরকারের মধ্যে যদি এই অহমিকা ঢুকে যায় যে যতই অজনপ্রিয় হোক, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে না, তাহলে সেই সরকার ব্যাংক লুট, প্রশ্নপত্র ফাঁস, যানজট, গুম-খুন-কোনো কিছুরই পরোয়া করবে না। সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনা থাকলে ক্ষমতা হারানো এবং অপকর্মের জন্য বিচারের ভয় থাকে। তখন সরকার কিছুটা হলেও জনগণকে না চটানোর চেষ্টা করে। এ রকম একটি নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের পাশাপাশি অবশ্যই বিএনপির অংশগ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু খালেদা জিয়ার বিচার ও শাস্তির মধ্য দিয়ে এ নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অবশ্য প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছেন, খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে না গেলে সরকারের কিছু করার নেই। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য মনে হয় এ রকম: রায়টা তো আমি দিইনি। রায় দিয়েছেন আদালত। আর মামলা করেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়কার দুদক। তিনি এই ধারণা দিতে চেয়েছেন যে তাঁর সবচেয়ে বড় এবং একমাত্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে চলা বিচারটি হয়েছে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে। এই বিচারের কারণে ভবিষ্যতে একতরফা নির্বাচন হলে এতে তাঁর সরকারের কোনো দায় নেই। তিনি হয়তো চাইছেন বিষয়টি এভাবেই দেখুক সবাই।
২.বাস্তবতা আসলে ভিন্ন। বাস্তবতা হচ্ছে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে মামলা বা বিচার হলে কখনো তা বিশ্বাস করেন না এই অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ। পাকিস্তান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশে তো নয়ই; এমনকি তুলনামূলকভাবে অনেকাংশে স্বাধীন বিচারব্যবস্থার দেশ ভারতেও এটি হয় না। বিচারিক আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে বা মামলার দীর্ঘস্থায়ী কালিমা ললাটে নিয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসার ঘটনাও এসব অঞ্চলে ঘটেছে বেশ কয়েকবার। কারণ, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে বিচার এসব দেশে কতটা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য করা হয়, কতটা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে ঘায়েল করার জন্য, তা নিয়ে মানুষের মনে সন্দেহ থেকে যায়। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায়ের পরও তা-ই হয়েছে। বিএনপি ও তার সঙ্গীরা এসব প্রশ্ন তুলছে। তুলছে এমনকি রাজনৈতিকভাবে তুলনামূলকভাবে আওয়ামী লীগঘেঁষা বাম দলগুলোও। খালেদা জিয়ার রায়ের পর বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাসদ ও বাম মোর্চার যুক্ত বিবৃতি এর প্রমাণ। বিবৃতিতে তারা রাজনৈতিক ও দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে সব দুর্নীতিবাজের শাস্তি চেয়েছে। তারা বলেছে: ‘জনসম্মতিহীন অগণতান্ত্রিক সরকারের স্বেচ্ছাচারী শাসন, ক্ষমতার প্রবল দাপট, বিপুল লুটপাটের অভিযোগ ইত্যাদির কোনো সুরাহা না করে খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়ার ব্যাপারে সরকারের অতি উৎসাহের কারণে দেশবাসীর মধ্যে এ ধারণা সৃষ্টি হয়েছে যে, এই রায়ের মধ্য দিয়ে সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটেছে।’ দেশবাসীর মধ্যে সত্যি সত্যি এমন ধারণা থাকতে পারে। থাকলে তাদের দোষও দেওয়া যাবে না। আমাদের সবার মনে থাকার কথা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টসহ আরও কতগুলো দুর্নীতির মামলা হয়েছিল। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একই ধরনের মামলা হয়েছিল আরও বেশি। তিনি ক্ষমতায় আসার পর প্রধানত বাদীপক্ষের (যেমন দুদক) দুর্বলতার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মামলাগুলো উচ্চ আদালতে একের পর এক খারিজ হয়েছে, ক্ষেত্রবিশেষে বাদী কর্তৃক মামলা প্রত্যাহারের ঘটনাও ঘটেছে। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা বেড়েছে, কোনো কোনো দুর্নীতি মামলার নতুন বা অধিকতর তদন্ত হয়েছে।
সমস্যা এখানেই। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যেমন হয়েছে, শেখ হাসিনার শাসনামলে স্বয়ং তাঁর বিরুদ্ধে দুদকের তদন্তকারীরা ও আইনজীবীরা একই মাত্রার স্বাধীনতা ও নিষ্ঠা নিয়ে কাজ করেছেন-এটি বিশ্বাস করা খুবই মুশকিল যে কারও পক্ষে। প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা, সরকারের সঙ্গে লতায়-পাতায় সম্পর্ক রয়েছে এমন ব্যক্তিদের (লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার, হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ও শেয়ার মার্কেট লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের) বিরুদ্ধেও দুদককে আমরা লেশমাত্র ভূমিকা পালন করতে দেখি না, যা দেখেছি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তাদের অতি উত্সাহী কর্মকাণ্ডে। দুদক বা পুলিশ যে-ই করুক, মামলার তদন্ত আর সরকারি আইনজীবীদের আইনি লড়াই মামলার ভাগ্য গড়ে দেয় অনেকাংশে। বাকি থাকেন আদালত। এটি ঠিক যে এ দেশে বহুবার আদালত তাঁর স্বাধীন সত্তা নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর মামলাগুলোতে এখন তা আর কতটা করা সম্ভব, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর মামলার রায়কে কেন্দ্র করে মাত্র কয়েক মাস আগে স্বয়ং প্রধান বিচারপতি দেশ ও চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। গত বছর তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির একটি মামলা চলাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে সরকারের লোকজন নানা বক্তব্য দিয়েছিলেন। বিচারিক আদালতের রায় তাঁদের বক্তব্যের সঙ্গে মেলেনি বলে সেই বিচারককে তিরস্কৃত হতে হয়েছিল, রায় দেওয়ার পর তাঁকেও দেশত্যাগ করতে হয়েছিল। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাটি রাজনৈতিকভাবে আরও স্পর্শকাতর। এই মামলা চলাকালীন বহুবার ‘খালেদা জিয়া এতিমের টাকা মেরে খেয়েছেন’ এই বক্তব্য দিয়ে সরকারের লোকজন তাঁদের পছন্দের বা প্রত্যাশিত রায় কী তা স্পষ্ট করেই বলেছেন। এমন এক প্রেক্ষাপটে খালেদা জিয়ার মামলায় বিচারিক আদালত কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পেরেছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। এমন এক প্রেক্ষাপট আপিল আদালতের স্বাধীনতার জন্যও অনুকূল নয়।
৩. খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের কপি মাত্র তাঁর আইনজীবীরা হাতে পেয়েছেন। ইতিমধ্যে এই রায়ের কিছু দিক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠছে। উচ্চ আদালতে আপিলের সময় এই রায়ের আরও চুলচেরা বিশ্লেষণ হবে। এই আপিল নিষ্পত্তিতে খালেদা জিয়ার সাজা নিশ্চিত হতে পারে, আবার তিনি খালাসও পেতে পারেন। আপিল নিষ্পত্তির আগেই তিনি জামিন লাভ করতে পারেন এবং নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগও পেতে পারেন। সিদ্ধান্তগুলো যা-ই হোক না কেন, খালেদা জিয়ার মামলায় আপিল প্রক্রিয়ার প্রতিটি স্তরে সুবিচার হয়েছে-এটি মানুষের কাছে প্রতিভাত হওয়া প্রয়োজন। কারণ, ন্যায়বিচারের দর্শন হচ্ছে ন্যায়বিচার শুধু করলে হবে না, এটি যে ন্যায়বিচার হয়েছে তা দৃশ্যমান ও সন্দেহাতীতভাবে দেখানোর প্রয়োজনও রয়েছে। খালেদা জিয়ার বিচারের ক্ষেত্রে এই প্রয়োজন আরও বেশি মামলাটির রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে। এই বিচার যদি শেষ পর্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধই থাকে, তাহলে বিএনপির অন্য নেতাদেরও প্রশ্নবিদ্ধভাবে নির্বাচনের আগে সাজা দেওয়ার আশঙ্কা থাকবে। এ ধরনের আশঙ্কা না থাকলে বিএনপির নির্বাচন বর্জনের কথা নয়।
আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

অবসাদ নিরাময়ে অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্ট কতটা কার্যকরী?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, চিকিৎসাশাস্ত্রের অন্যতম একটি প্রধান বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছেন তারা। গবেষণায় উঠে এসেছে যে, অবসাদ নিরাময়কারী (অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্ট) ওষুধ অবসন্নতা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
সোয়া এক লাখেরও বেশি মানুষের ওপর ৫২২টি পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে যে, সাধারণ ওষুধের তুলনায় ২১টি প্রচলিত অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্ট তীব্র অবসাদ দূর করতে সক্ষম। এ ধরনের ওষুধের দ্বারা আরো অনেক মানুষ উপকৃত হতে পারেন বলে স্বাস্থ্যবিষয়ক ম্যাগাজিন 'ল্যানসেট'-এ প্রকাশিত হওয়া এই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়। ইংল্যান্ডে ২০১৬ সালে এসব ওষুধের জন্য ছয় কোটি ৪৭ লাখ প্রেসক্রিপশন দেয়া হয়, যা ২০০৬ সালের তিন কোটি ১০ লাখ ব্যবস্থাপত্রের দ্বিগুণেরও বেশি। রয়্যাল কলেজ অব সাইকিয়াট্রিস্টস বলেছে, এই গবেষণা "অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্ট সংক্রান্ত বিতর্কের অবসান" ঘটিয়েছে। গবেষণায় ব্যবহৃত ৫২২টি পরীক্ষা ছাড়াও অপ্রকাশিত বেশকিছু পরীক্ষার তথ্য সংযুক্ত করা হয়, যা থেকে প্রমাণিত হয় প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে তীব্র অবসাদ দূর করতে অন্য যেকোনো চিকিৎসাপদ্ধতির চেয়ে অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্ট বেশি কার্যকর। গবেষণা দলের প্রধান ও অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. আন্দ্রেয়া সিপ্রিয়ানি বিবিসি'কে বলেন, "অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্ট কাজ করে কি-না, তা নিয়ে লম্বা সময় ধরে চলা বিতর্কের চূড়ান্ত সমাধান এই গবেষণা। " "সাধারণভাবে সুপারিশ করা অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্ট মাঝারি থেকে তীব্র অবসাদ নিরাময়ের ক্ষেত্রে কাজ করে, আর আমি মনে করি এটি রোগী ও চিকিৎসকদের জন্য খুবই ভাল খবর।"
কার্যকারিতার বিচারে অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্ট :
সবচেয়ে বেশি কার্যকরী-
অ্যাগোমেলাটাইন
অ্যামিট্রিপটাইলাইন
এস্কিটালোপ্রাম
মির্টাযাপাইন
প্যারোক্সেটিন
সবচেয়ে কম কার্যকরী -
ফ্লুওক্সেটাইন
ফ্লুভোক্সামাইন
রেবোক্সেটাইন
ট্র্যাজোডোন
নির্ভরযোগ্য প্রমাণ :
গবেষকরা বলেছেন এই গবেষণায় আবিষ্কৃত তথ্যের ভিত্তিতে চিকিৎসকরা রোগীদের সঠিক ওষুধ দিতে পারবেন। তবে তার অর্থ এই নয় যে সবারই ওষুধ পরিবর্তন করতে হবে। এর কারণ এই গবেষণায় বিভিন্ন বয়স ও লিঙ্গের ভিত্তিতে অবসাদের ধরন বিচার না করে ব্যক্তির ওপরে ওষুধের গড় প্রতিক্রিয়া বিচার করা হয়েছে। গবেষকরা বলেন, প্রাথমিক বিশ্লেষণের অধিকাংশ উপাত্তই আট সপ্তাহের চিকিৎসার ওপর ভিত্তি করে পাওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করে নেয়া হয়েছে। কাজেই দীর্ঘ সময় ধরে চলা অবসাদের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর নাও হতে পারে। তারা আরও বলেছেন, অবসাদ নিরাময়ের ক্ষেত্রে অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্টই প্রথম চিকিৎসা হওয়া উচিত - বিষয়টি এমন নাও হতে পারে। ডা. সিপ্রিয়ানি বলেন, "যখন মানসিক চিকিৎসার মত কোন পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ থাকে, তখন ওষুধ গ্রহণের বিষয়টি সবসময়ই এর পাশাপাশি বিবেচনায় নেয়া উচিত।" রয়্যাল কলেজ অব সাইকিয়াট্রিস্টস-এর প্রফেসর কার্মাইন প্যারিয়ান্তে বলেন,
"এই প্রাথমিক বিশ্লেষণে অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্ট বিষয়ক প্রচলিত বিতর্কের অবসান হয়েছে। এই গবেষণায় পরিস্কারভাবে প্রমাণিত হয় এসব ওষুধ অবসাদ নিরাময় ও মনোভাব পরিবর্তনে সহায়ক।" "ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির কাছে থাকা অপ্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে এই গবেষণায়। কাজেই এই গবেষণায় উঠে আসা তথ্য ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো দ্বারা প্রভাবিত হবে না।" ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের সাইকিয়াট্রিক এপিডেমোলজির প্রফেসর গ্লিন লেউইসের মতে এই গবেষণা অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্টের কার্যকারিতার স্বপক্ষে "নির্ভরযোগ্য প্রমাণ" উপস্থাপন করেছে। তিনি আরো বলেন, "অ্যান্টি ডিপ্রেসান্ট মাঝেমধ্যে গণমাধ্যমে সমালোচিত হলেও এই গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে অবসাদগ্রস্ত মানুষের জন্য এটি কার্যকর।"

মেলায় নারী লেখকদের বই কেমন চলছে?

একুশে বইমেলায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি স্টলে বই দেখছিলেন একজন নারী। প্রতি বছরই মেলায় আসেন তিনি। কী ধরণের বই কেনেন তিনি? নাল লেখকদের বই কেনা হয়? তার জবাব, "সত্যি কথা বলতে নারী লেখকের বই কেনাও হয় না, পড়াও হয় না।" আরেকজন তরুণ বললেন, "সেলিনা হোসেন কিংবা তসলিমা নাসরিনের বই চোখে পড়ে বেশ কিছু প্রকাশনীতেই।" বই মেলায় অসংখ্য মানুষ স্টলগুলোতে বই দেখেন কিংবা দল বেধে আড্ডা দেন। তাদের কেউ হুমায়ূন আহমেদ কিংবা জাফর ইকবালের বই পড়েন। কিন্তু নারী লেখকদের বিষয়ে তারা ততটা অবহিত নন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর বায়াত্তর সালেই গ্রন্থ মেলার আয়োজন হয়েছিলো বাংলা অ্যাকাডেমি প্রাঙ্গণে। তবে আজকের একুশে গ্রন্থ মেলার আনুষ্ঠানিক সূচনা ১৯৮৪ সালে। তারপর থেকে বইমেলার পরিসর বেড়ে অ্যাকাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে ছড়িয়ে পড়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। একই সাথে বেড়েছে পাঠক ও লেখকের সংখ্যা। কিন্তু যে পরিমাণ বই প্রকাশ হয় তার মধ্যে নারী লেখকদের বই আসলে কতটা থাকে? প্রকাশকদের একজন আদ্যিত অন্তর বলেন, "২৫ শতাংশের বেশি হবে না নারী লেখকদের বই। প্রবীণ যারা আছেন তাদের বইয়ের প্রতি পাঠকের আগ্রহ আগে থেকেই দেখা যায়। তবে তরুণরাও ভালো লিখছেন।" কোন ধরনের বিষয়গুলো নিয়ে বেশি লিখেন নারী লেখকরা? জবাবে বললেন, "সিরিয়াস ধরনের লেখা খুব একটা পাই না।
গল্প কবিতা উপন্যাসই মেলায় বেশি বিক্রি হয়।" ১৯৭২ সালের অনানুষ্ঠানিক মেলায় ঠাঁই পেয়েছিলো ৩২টি বই। আর সেখানে ২০১৬ সালের বইমেলায় নতুন বই এসেছিল প্রায় সাড়ে তিন হাজার। যেটি এবারের মেলায় চার হাজার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন প্রকাশকরা। সাহিত্যিক বদরুন নাহার বলছেন, নারী বা পুরুষ নয় বরং নতুন যে কারো জন্যই বই প্রকাশ খুব একটা সহজ নয়। তবে পাঠকের দিক থেকে আজকাল লেখক পুরুষ নাকি নারী তা খুব একটা প্রভাব ফেলে না। তিনি বলেন, "প্রথম বইটা আমি নিজেই প্রকাশ করি। দ্বিতীয় বইটা নিয়ে একজন প্রকাশকের সাথে কথা হলেও অনেক বিষয়ে আপত্তি থাকায় বইটি নিয়ে আসি। তবে তৃতীয় বই থেকেই আমার বই প্রকাশকরা ছাপছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে রয়্যালটিও পাচ্ছি।" তবে সুপরিচিত লেখকদের বাইরে নতুন উঠে আসা নারীর বই প্রকাশে প্রকাশকদের মধ্যে অনীহা কাজ করে এমন অভিযোগ মানতে রাজি নন ঐতিহ্য প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন। তিনি বলেন, পাণ্ডুলিপি পেলে তারা বই প্রকাশ করেন এবং নারী লেখকদের বই তাদের প্রকাশনা থেকে সারাবছরই বিক্রি হয়। তবে সাহিত্যিক ও প্রকাশক লিলি হক বলছেন, পুরনো নারীদের মধ্যে অনেকেই জনপ্রিয়তা যেমন অর্জন করেছেন তেমনি তাদের পথ ধরে নারী লেখকদের সংখ্যাও প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আর একই সাথে বিস্তৃত হচ্ছে নারীদের লেখার বিষয়বস্তুও। লিলি হকের মতে, লেখালেখিতে নারী এগিয়ে আসা যত বাড়বে তেমনি করে তৈরি হবে পাঠকও আর তাতে করে আরো সমৃদ্ধ হবে বাংলা বইয়ের ভাণ্ডার।

ফারাক্কায় প্রতি কিস্তিতে পানি কম পাচ্ছে বাংলাদেশ

গঙ্গার চুক্তি অনুযায়ী ফারাক্কা পয়েন্টে বাংলাদেশ চারটি কিস্তিতেই পানির ন্যায্যহিস্যা পায়নি। জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির ১০ তারিখ পর্যন্ত মোট কিস্তির প্রতিটিতে পানি কম পেয়েছে বাংলাদেশ। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ফারাক্কা পয়েন্টে জানুয়ারির এক তারিখ থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম ১০ দিন পর্যন্ত চারটি কিস্তিতে ৫৭ হাজার ৮১৩ কিউসেক পানি কম পায় বাংলাদেশ। চুক্তির ইন্ডিকেটিভ শিডিউল অনুযায়ী ভারত এই পরিমাণ পানি কম দিয়েছে বাংলাদেশকে। কিন্তু ভারত প্রতিটি কিস্তিতে তার ন্যায্যহিস্যা নিশ্চিত করেছে। চারটি কিস্তির প্রতিটিতে ভারতকে ৪০ হাজার কিউসেক করে পানি দেয়ার কথা চুক্তিতে আছে এবং তা বুঝেও নিয়েছে।
চুক্তির ইন্ডিকেটিভ শিডিউল অনুযায়ী বাংলাদেশ ভারত থেকে নায্যহিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি অনুযায়ী এ বছর জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে পানি বণ্টন কার্যক্রম শুরু হয়। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এবারে চলতি মাসের ১ থেকে ১০ দিনে চুক্তির ইন্ডিকেটিভ শিডিউল অনুযায়ী বাংলাদেশ ফারাক্কা পয়েন্টে পানি পাওয়ার কথা রয়েছে ৬৭ হাজার ৫১৬ কিউসেক। কিন্তু বাংলাদেশ পেয়েছে মাত্র ৪৮ হাজার ৭৮৩ কিউসেক। হিসাব মতে, এই ১০ দিনে ভারত ১৮ হাজার ৭৩৩ কিউসেক পানি কম দিয়েছে বাংলাদেশকে। অপর দিকে দ্বিতীয় ১০ দিনে পানি আরো কমে গেছে। জানুয়ারির দ্বিতীয় ১০ দিনে বাংলাদেশ পাওয়ার কথা ছিল ৫৭ হাজার ৬৭৩ কিউসেক পানি। কিন্তু বাংলাদেশ এই ১০ দিনেও কম পেয়েছে। এই ১০ দিনে ১৮ হাজার ১১৮ কিউসেক পরিমাণ পানি কম পেয়েছে। আর জানুয়ারির শেষ ১০ দিনে অর্থাৎ ২১ থেকে ৩০ পর্যন্ত এই ১০ দিনে পাওয়ার কথা ছিল ৫০ হাজার ১৫৪ কিউসেক পানি। কিন্তু পেয়েছে ৩৮ হাজার ৪৮০ কিউসেক পানি। এই সময়ে প্রায় ১১ হাজার ৬৭৪ কিউসেক পানি কম পায়। এভাবে ফেব্রুয়ারির প্রথম ১০ দিনেও বাংলাদেশ পানি কম পেয়েছে। এ ১০ দিনে বাংলাদেশ ইন্ডিকেটিভ শিডিউল অনুযায়ী পাওয়ার কথা ৪৬ হাজার ৩২৩ কিউসেক পানি। তবে বাংলাদেশ পেয়েছে ৩৭ হাজার ৩৫ কিউসেক পানি। এখানে বাংলাদেশ ৯ হাজর ২৮৮ কিউসেক পানি কম পেয়েছে। প্রতিবাদ আমলে নেয় না ভারত : এ দিকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতকে ফারাক্কা পয়েন্টে ন্যায্যহিস্যা নিশ্চিতে বাংলাদেশ বরাবরের মতো এবারো তাগিদ দিয়েছে। তবে ভারত তা আমলে নেয়নি। বরং আরো কম পানি পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রতি বছরই কম পাচ্ছে বাংলাদেশ : গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি অনুযায়ী পানি বণ্টন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, বাংলাদেশ প্রতি বছরই ফারাক্কা পয়েন্টে পানি কম পাচ্ছে।

দীর্ঘতম উৎসবের প্রস্তুতি

জাতিসংঘের ইকোনমিক ও সোশ্যাল কাউন্সিলের ত্রিবার্ষিক সভা শুরু হতে বাকি মাত্র ২০ দিন। পাঁচ দিনব্যাপী ওই সভা শুরু হবে ১২ মার্চ। সেখানেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ’। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সুপারিশপত্র তুলে দেয়া হবে বাংলাদেশের প্রতিনিধির হাতে।
এ সুসংবাদ সোমবার বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদকে দিয়েছেন জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী এবং ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সিপ্পো। মন্ত্রীর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশকে আগাম অভিনন্দন জানিয়েছেন। সিপ্পো বলেন, উন্নয়নে বিশ্বে রোল মডেল হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণকে স্বাধীনতা-পরবর্তী জাতীয় জীবনের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে দেখছে সরকার। এটি স্মরণীয় করে রাখতে তাই বহুমাত্রিক কর্মসূচির সমন্বয়ে দীর্ঘ উৎসবের আয়োজন করতে চাইছে। পাঁচ দিনের ওই উৎসব শুরু হতে পারে ২২ মার্চ। চলবে ২৬ মার্চ অর্থাৎ স্বাধীনতা দিবস পর্যন্ত। সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের এ বার্তা সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা, অধিদফতর, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এমনকি ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারিভাবে পাঁচ দিনব্যাপী উৎসব আয়োজন করা হলে তা হবে দেশের ইতিহাসে দীর্ঘতম উদযাপন। এ বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার যোগাযোগ করা হয় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শফিকুল আযমের সঙ্গে। তিনি বলেন, বিষয়টি এখনও পর্যালোচনা পর্যায়ে আছে। তবে উৎসব পালন করা হবে, তা নিশ্চিত। সেটি ২০-২৬ মার্চ বা ২২-২৬ মার্চও হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা জানান, একটি দেশকে স্বল্পোন্নত (লিস্ট ডেভেলপড কান্ট্রি-এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে (ডেভেলপিং কান্ট্রি-ডিসি) পরিণত হতে তিন সূচকে যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। বাংলাদেশ সব শর্তই পূরণ করেছে। শুধু তা-ই নয়, জাতিসংঘের তালিকাভুক্ত উন্নয়নশীল দেশের ইতিহাসে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যেটি সব সূচকেই সক্ষমতা নিয়ে উন্নয়নশীল দেশের মাইলফলক ছুঁতে যাচ্ছে। সূচকগুলো হচ্ছে- ১. মাথাপিছু আয় ১২৪২ মার্কিন ডলার হতে হয়, বাংলাদেশ তা অনেক আগেই অতিক্রম করে ১৬১০ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ২. মানবসম্পদের উন্নয়ন অর্থাৎ দেশের ৬৬ ভাগ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হতে হয়, বাংলাদেশের অর্জন ৭২ দশমিক ৯ ভাগ। ৩. অর্থনৈতিকভাবে ভঙ্গুর না হওয়ার মাত্রা ৩২ ভাগের নিচে হতে হয়, বাংলাদেশ ২৫ ভাগে রয়েছে।
সূত্রমতে, ২২ জানুয়ারি গণভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এলডিসি থেকে উত্তরণের বিষয়টি জানানো হয়। সেখানেই এ অর্জনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপনের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। পরে ২২-২৬ মার্চ উৎসব উদযাপন কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত হয়। এর ভিত্তিতে এলডিসি সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স ৩১ জানুয়ারি বৈঠক করে। ওই বৈঠকেই দীর্ঘতম উৎসবের কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এবিষয়ক কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, উদযাপন পর্ব শুরু হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেয়ার মধ্য দিয়ে। ২২ মার্চ সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও ইআরডি এ আয়োজন করবে। বিরল অর্জনের জন্য নেতৃত্বের ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে এ সম্মান জানানো হবে। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের দেয়া সুপারিশপত্রও হস্তান্তর করা হবে প্রধানমন্ত্রীর হাতে। এ স্তরে উত্তরণে বাংলাদেশের কর্মপ্রচেষ্টা নিয়ে তথ্যচিত্র দেখানো হবে। প্রকাশ করা হবে স্মরণিকা। অনুষ্ঠানে স্মারক ডাক টিকিটও উম্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হবে বিদেশিদেরও। ওই দিন বেলা ৩টায় ঢাকার চার স্থান থেকে একযোগে বের করা হবে শোভাযাত্রা। সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে থাকছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ভিডিও কনফারেন্সে এটি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। আতশবাজি ও লেজার শো’ও থাকবে এতে। ২৩ মার্চ হোটেল র‌্যাডিসন ব্ল–তে আয়োজন করা হবে আন্তর্জাতিক সেমিনার। দেশি-বিদেশি অর্থনীতিবিদ, সুশীল সমাজ, উন্নয়নকর্মী ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। পরে একই স্থানে বিশেষজ্ঞ আলোচকদের নিয়ে মতবিনিময়ের আয়োজন করা হবে। পরদিন থেকে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে থাকছে সেমিনার, চিত্র প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ নানা আয়োজন। ব্যানার-ফেস্টুনসহ নানাভাবে সাজসজ্জা এবং গণমাধ্যম ও সামাজিকমাধ্যমে চালানো হবে এ উৎসবের প্রচার। তথ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গণমাধ্যমেও থাকবে নানা আয়োজন।

বিজয় সরকারের ১১৫তম জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন

লোককবি বিজয় সরকারের ১১৫তম জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন করা হলো পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুর মহকুমার কেউটিয়া গ্রামে। এখানেই তিনি ১৯৮৫ সালের ৪ ডিসেম্বর মারা যান। কবির জন্ম বাংলাদেশের অবিভক্ত যশোর জেলার ডুমদী গ্রামে ১৯০৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি। এখন নড়াইল জেলা। প্রতিবছর ২০ ও ২১ ফেব্রুয়ারি বিজয় সরকারের জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন করা হয় তার সমাধির পাশে। কলকাতাসহ বাংলাদেশের কবি, সাহিত্যিক, গবেষক, শিল্পীসহ বিশিষ্টজনেরা আসেন এখানে। গতকাল মঙ্গলবার বিজয় সরকারের ১১৫তম জন্মবার্ষিকী উৎসবের সূচনা হয়। উৎসবে যোগ দিয়ে বিশিষ্টজনেরা বলেন, বিজয় সরকার দুই বাংলার সম্পদ। তিনি ছিলেন কবি, লোকসংগীতশিল্পী, সুরকার।
দুই বাংলার অসংখ্য বাউল, ফকির, লোকশিল্পীরা এখনো তাঁর গান গেয়ে বেড়ান। ২০১২ সালে বাংলাদেশ সরকার বিজয় সরকারকে মরণোত্তর একুশে পদকে সম্মানিত করেছে। পশ্চিমবঙ্গের কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় এবং পশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্ষদ তাঁর রচনা পাঠ্যতালিকাভুক্ত করেছে। দুই বাংলার সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের তিনি ছিলেন এক শক্তিশালী কারিগর। গতকাল বিজয় সরকারের জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দুই বাংলার বিশিষ্টজনেরা বিজয় সরকারের লোকসংগীতশিল্পে তাঁর অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। বলেন, আজও মানুষের মুখে মুখে ভাসে বিজয় সরকারের লোকগীতি। বিজয়গীতি। দুদিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট লোকসংস্কৃতি গবেষক আবুল আহসান চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান লীনা তাপসী খান। ছিলেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট লোকসংগীতশিল্পী কাননবালা সরকার, শান্তা সরকার, জারিগানের বিখ্যাত শিল্পী সালমা সুলতানা, শাহজাহান আলী বয়াতি প্রমুখ। আর এপার বাংলার ছিলেন বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সম্পাদক রতন নন্দী, পশ্চিমবঙ্গ উচ্চশিক্ষা সংসদের অধিকর্তা দিব্যগোপাল ঘটক প্রমুখ। আজ বুধবার উৎসব শেষ হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশনে নিযুক্ত কাউন্সিলর মিয়া মো. মাইনুল কবীর। উৎসবে আয়োজন করা হয়েছে বিজয়গীতি, বাউল, ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি, কবিগান, জারিগান আর নানা লোকগানের অনুষ্ঠান।

মালদ্বীপের কাছে চীনের যুদ্ধজাহাজ

রাজনৈতিক সংকটে পড়া মালদ্বীপে চলছে জরুরি অবস্থা। এর মাঝে পূর্ব ভারত মহাসাগরে প্রবেশ করেছে চীনের ১১টি যুদ্ধজাহাজ। সব মিলিয়ে দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের অবস্থা এখন আরও সংকটে। এদিকে মালদ্বীপে জরুরি অবস্থা দীর্ঘায়িত না করার আহ্বান জানিয়েছে ভারত। দক্ষিণ এশীয় সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) স্পিকার ও পার্লামেন্ট সদস্যদের জোটের চেয়ারপারসন মালদ্বীপের পার্লামেন্টের স্পিকারের প্রতি দেশটিতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ১ ফেব্রুয়ারি মালদ্বীপের সুপ্রিম কোর্ট সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে কারাদণ্ডাদেশ পাওয়া বিরোধী নয়জন রাজনৈতিক নেতাকে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দেন। তাঁদের মধ্যে বিদেশে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকা দেশটিতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদও রয়েছেন। ২০১৫ সালে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন নাশিদ। এরপর তাঁর ১৩ বছরের কারাদণ্ড হয়, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই একই দিন সর্বোচ্চ আদালত প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনের দল থেকে বহিষ্কৃত ১২ আইনপ্রণেতাকেও স্বপদে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেন। এই ১২ আইনপ্রণেতার ওপর থেকে বহিষ্কারাদেশ ফিরিয়ে নেওয়া হলে মালদ্বীপের ৮৫ সদস্যের আইনসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে সরকারি দল। তবে গত রোববার বিরোধী ১২ আইনপ্রণেতার ওপর থেকে বহিষ্কারাদেশ ফিরিয়ে নেওয়ার আদেশ প্রত্যাহার করে নেন সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের ওই আদেশের পর থেকেই দেশটিতে সরকার-আদালত দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। এর জেরে ৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ দিনের জরুরি অবস্থা জারি করেন প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন। গতকাল মঙ্গলবার এই জরুরি অবস্থার মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু প্রেসিডেন্টের চাওয়ায় জরুরি অবস্থার মেয়াদ গতকাল আরও এক মাস বাড়িয়েছে পার্লামেন্ট। তবে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, কানাডাসহ জাতিসংঘ প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জরুরি অবস্থা তুলে নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে। চীনের সংবাদমাধ্যম সিনা.কম.সিএন গত রোববার এক খবরে জানিয়েছে, চলতি মাসেই চীনের ওই যুদ্ধজাহাজগুলো পূর্ব ভারত মহাসাগরে প্রবেশ করে। এতে রয়েছে কয়েকটি ডেস্ট্রয়ার, অন্তত একটি ফ্রিগেট, ৩০ হাজার টনের একটি উভচর জাহাজ এবং তিনটি সহায়ক ট্যাংকার।
তবে এই জাহাজবহর কেন ওই অঞ্চলে প্রবেশ করল, তার কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি চীন। এ বিষয়ে জানতে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো উত্তর মেলেনি। সিনা.কম.সিএন ওই জাহাজবহরের যাত্রার সুনির্দিষ্ট তারিখ জানায়নি। ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের ওপর প্রভাব বিস্তার নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে বৈরিতা রয়েছে। বেইজিংয়ের সঙ্গে ‘এক অঞ্চল, এক সড়ক’ চুক্তিতে প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন স্বাক্ষর করার পর এই বৈরিতা আরও প্রকট হয়। এশিয়া মহাদেশ ও তার বাইরে বাণিজ্য ও যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়তে এই উদ্যোগ নিয়েছে চীন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা আশা করছি, মালদ্বীপ সরকার জরুরি অবস্থা দীর্ঘায়িত করবে না।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর বিচার বিভাগসহ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে এবং সাংবিধানিক পথে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে দিতে হবে। ১ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া আদেশের পূর্ণ বাস্তবায়নেরও আহ্বান জানিয়েছে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মালদ্বীপের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সার্কের স্পিকার ও পার্লামেন্ট সদস্যদের জোটের চেয়ারপারসন কারু জয়সুরিয়া। মালদ্বীপের স্পিকার আবদুল্লা মাসিহ মোহাম্মদের কাছে লেখা এক চিঠিতে কারু জয়সুরিয়া আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান অনুসন্ধানেরও আহ্বান জানান। জয়সুরিয়া লেখেন, ‘আপনার প্রতি সমাধান অনুসন্ধানের মাধ্যমে মজলিশকে (মালদ্বীপের পার্লামেন্ট) কার্যকর করার আহ্বান জানাচ্ছি আমরা, যাতে করে নির্বাচিত মজলিশ সদস্যরা তাঁদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে জনগণকে আশ্বস্ত করতে পারেন।’

গণহত্যার প্রমাণ নষ্ট করছে মিয়ানমার

রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা গণহত্যার সব প্রমাণ মুছে ফেলতে চাইছে মিয়ানমার। গত বছরের আগস্ট মাসে এ গণহত্যা চালানো হয়। রোহিঙ্গাদের একটি গণকবরে বুলডোজার চালিয়ে তা নিশ্চিহ্ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে একটি মানবাধিকার সংস্থা। মানবাধিকার সংস্থার ওই অভিযোগ ছাড়াও বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) নিজস্ব অনুসন্ধানে মিয়ানমারে অন্যান্য গণকবরের প্রমাণ পাওয়া গেছে। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের ওপর ডকুমেন্টারি নিয়ে কাজ করছে ‘দ্য আরাকান প্রজেক্ট’। ওই প্রকল্প থেকে ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানে একটি ভিডিও সরবরাহ করা হয়েছে। ওই ভিডিও ফুটেজে জঙ্গল নিশ্চিহ্ন করে ফেলা ও গণকবর গুঁড়িয়ে দেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। ভিডিওতে অর্ধেক মাটিচাপা দেওয়া ত্রিপল ব্যাগে মানুষের গলিত পা দেখা গেছে। গত মঙ্গলবার গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রকল্পের পরিচালক ক্রিস লিউয়া বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে গণহত্যার খবর প্রকাশিত হয়েছে। এখন গণহত্যার প্রমাণ স্থায়ীভাবে মুছে ফেলতে বুলডোজার চালাতে দেখা যাচ্ছে। মিডিয়াতে যে দুটি গণকবরের খবর এসেছে, তার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার একটি গণকবরের ওপর বুলডোজার চালানো হয়েছে। এর অর্থ, সেখানে গণহত্যার সব প্রমাণ নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।
লিউয়া জানান, বুলডোজার চালানোর কাজটি করছে মিয়ানমারের একটি প্রাইভেট কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটি রাখাইনের নয়। মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চল থেকে এসে তারা এ কাজ করছে। ‘দ্য আরাকান প্রজেক্ট’ পরিচালক বলেন, ‘এটি থেকে স্পষ্ট যে সরকারি আদেশেই গণহত্যার চিহ্ন মুছে ফেলা হচ্ছে।’ মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, গত বছরের আগস্ট মাসে গণহত্যা চালানোর স্থানটি হচ্ছে উত্তর রাখাইনের বুথিডাং শহরের মং নুতে। সেখানে গণকবরটির অবস্থান। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বলছে, রাখাইন থেকে বেঁচে ফেরা লোকজন তাদের বলেছে, গ্রামের বসতবাড়ির আঙিনায় জড়ো হওয়া গ্রামবাসীর ওপর মিয়ানমারের সেনারা নির্যাতন করেছে। এ ছাড়া ধর্ষণ, খুন ও নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। সেখানে এক ডজনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এইচআরডব্লিউর কাছে থাকা স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা গেছে, মং নু এলাকাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে দ্য ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস বলেছিল, গত আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন শুরু করার পর এক মাসেই মিয়ানমারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ৬ হাজার ৭০০ রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এখনো তাদের আসা অব্যাহত আছে। তবে জাতিগত নিধনের এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার। গত বছরে নিজস্ব অনুসন্ধানে রাখাইনে নির্যাতনের ঘটনায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কোনো দোষ খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করে। অবশ্য, গত মাসে মিয়ানমার সেনাদের পক্ষ থেকে রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধনের বিষয়টি স্বীকার করে নেওয়া হয়। ইন ডিন নামের একটি গ্রামে রোহিঙ্গাদের একটি গণকবর পাওয়ার কথা স্বীকার করে তারা।
সেখানে অনেক রোহিঙ্গা সেনাদের হাতে নিহত হয়েছে। গত সপ্তাহে মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংহি লি বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা ‘গণহত্যার প্রতীক’ হয়ে উঠেছে। তবে জাতিসংঘের অনুসন্ধান মিশনের নেতৃত্বে থাকা ওই কর্মকর্তাকে মিয়ানমারে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। গার্ডিয়ানের সঙ্গে আলাপকালে এইচআরডব্লিউয়ের এশিয়া অঞ্চলের ডেপুটি পরিচালক ফিল রবার্টসন বলেছেন, ‘মুং নুতে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর অভিযোগ বিষয়ে শুনেছি। বর্মিজ নিরাপত্তা বাহিনীর অত্যাচার গোপন করার ব্যাপক প্রচেষ্টা বিষয়টিতে আমরা উদ্বিগ্ন।’ গত সপ্তাহে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইনের অন্যান্য অংশে বুলডোজার চালিয়ে সমান করে ফেলা হয়েছে। আকাশ থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, আগে যেখানে রোহিঙ্গাদের গ্রাম ছিল, সেগুলো পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বছরে যে গ্রামগুলো লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছিল, সেগুলো এখন ধূলিসাৎ বলে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। লিউয়া বলেছেন, ‘শুধু যে বাড়িগুলো পোড়ানো হয়েছিল সেগুলোই নয়, সেখানে পরিত্যক্ত সব বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।’ ঘরবাড়িসহ পুরো এলাকা গুঁড়িয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জাও হাতা বলেন, ‘স্থানীয় সরকার ওই এলাকাগুলো পরিষ্কার করছে। সেখানে কোনো গ্রামবাসী নেই। কোনো ঘরবাড়ি নেই। শুধু সমতল জমি।’ ফেরত আসা রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের জন্য নতুন গ্রাম তৈরি করতে হবে বলে জানান হাতা। গণকবর ধ্বংস করে ফেলা প্রসঙ্গে জাও হাতা বলেন, ‘আমি জানতে চাই, কোন প্রমাণের কথা আপনারা বলেছেন? এটা কি আরসা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী? বিশ্বজুড়ে বাঙালিরা? আমাকে নির্ভরযোগ্য, নিখুঁত ও শক্তিশালী প্রাথমিক প্রমাণ দিন। বাঙালিরা বিশ্বজুড়ে যা বলে বেড়াচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে কিছু বলবেন না।’

বিদেশি কলে খরচ ৫ গুণ বেশি

বিদেশ থেকে আসা আন্তর্জাতিক কলের মূল্য আরেক দফা কমিয়েছে ভারত। দেশটিতে এত দিন আন্তর্জাতিক কলের টার্মিনেশন মূল্য ছিল স্থানীয় মুদ্রায় ৫৩ পয়সা, যা ১ ফেব্রুয়ারি কমে ৩০ পয়সা হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক কলের সর্বনিম্ন টার্মিনেশন মূল্য কার্যকর আছে ১ টাকা ৬০ পয়সা। অর্থাৎ ভারতের কলরেটের তুলনায় বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক কলের টার্মিনেশন মূল্য ৫ গুণের বেশি। কল টার্মিনেশন রেট হচ্ছে একটি দেশ থেকে আরেকটি দেশে কল করা হলে তা গ্রাহক পর্যন্ত পৌঁছানোর খরচ। যেমন সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে কেউ যদি ফোন করেন, তাহলে তা প্রথমে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক গেটওয়ে অপারেটরের (আইজিডব্লিউ) কাছে আসে। এরপর তা আইসিএক্স (ইন্টার কানেকশন এক্সচেঞ্জ) হয়ে মোবাইল ফোন অপারেটরের মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে যায়। এ জন্য বাংলাদেশের আইজিডব্লিউ সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাছে একটি মূল্য নেয়। এই মূল্যকেই বলা হয় কল টার্মিনেশন রেট। আইজিডব্লিউ অপারেটরের এই আয় আবার সরকার, মোবাইল ফোন অপারেটর ও আইসিএক্সের মধ্যে ভাগাভাগি হয়। ভারতের টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অব ইন্ডিয়া (টিআরএআই) মূলত বৈধ পথে কলসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করেই কলরেট কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। টিআরএআইয়ের হিসাবে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ভারতে বৈধ পথে আসা কলের পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৭৪০ কোটি মিনিট, যা ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ছিল ৯ হাজার ২৪০ কোটি মিনিট। যদিও ভারতের আইজিডব্লিউ ও মোবাইল ফোন অপারেটরদের দাবি ছিল, আন্তর্জাতিক কলরেটের দাম ৫৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৩ রুপি নির্ধারণের। কিন্তু উল্টো তা কমিয়ে এখন ৩০ পয়সা করা হয়েছে। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক কলের সর্বনিম্ন টার্মিনেশন রেট নির্ধারিত রয়েছে দেড় সেন্ট বা ১ টাকা ২০ পয়সা। যদিও এ মূল্যে কল আসে না। এ ধরনের কল আনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারিত আছে সাড়ে তিন সেন্ট বা ২ টাকা ৮০ পয়সা। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে পরীক্ষামূলকভাবে এই কলরেট নির্ধারণ করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
এরপর চার বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আন্তর্জাতিক কলরেটের সর্বোচ্চ বা সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। এদিকে, যে মূল্যে বিদেশ থেকে দেশে কল আসছে, সেই মূল্যে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আয় ভাগাভাগি করছে না আইজিডব্লিউ অপারেটররা। বিদেশ থেকে আইজিডব্লিউ অপারেটররা কল আনে ১ টাকা ৬০ পয়সায়, অথচ আয় ভাগাভাগি হয় ১ টাকা ২০ পয়সার সর্বনিম্ন দর ধরে। নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশ থেকে আসা প্রতি এক মিনিট কল থেকে যে আয় হয়, তার ৪০ শতাংশ বিটিআরসি, ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ আইসিএক্স, ২২ দশমিক ৫ শতাংশ মোবাইল অপারেটর আর বাকি ২০ শতাংশ আইজিডব্বিদেশ থেকে আসা আন্তর্জাতিক কলের মূল্য আরেক দফা কমিয়েছে ভারত। দেশটিতে এত দিন আন্তর্জাতিক কলের টার্মিনেশন মূল্য ছিল স্থানীয় মুদ্রায় ৫৩ পয়সা, যা ১ ফেব্রুয়ারি কমে ৩০ পয়সা হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক কলের সর্বনিম্ন টার্মিনেশন মূল্য কার্যকর আছে ১ টাকা ৬০ পয়সা। অর্থাৎ ভারতের কলরেটের তুলনায় বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক কলের টার্মিনেশন মূল্য ৫ গুণের বেশি। কল টার্মিনেশন রেট হচ্ছে একটি দেশ থেকে আরেকটি দেশে কল করা হলে তা গ্রাহক পর্যন্ত পৌঁছানোর খরচ। যেমন সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে কেউ যদি ফোন করেন, তাহলে তা প্রথমে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক গেটওয়ে অপারেটরের (আইজিডব্লিউ) কাছে আসে। এরপর তা আইসিএক্স (ইন্টার কানেকশন এক্সচেঞ্জ) হয়ে মোবাইল ফোন অপারেটরের মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে যায়। এ জন্য বাংলাদেশের আইজিডব্লিউ সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাছে একটি মূল্য নেয়। এই মূল্যকেই বলা হয় কল টার্মিনেশন রেট। আইজিডব্লিউ অপারেটরের এই আয় আবার সরকার, মোবাইল ফোন অপারেটর ও আইসিএক্সের মধ্যে ভাগাভাগি হয়। ভারতের টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অব ইন্ডিয়া (টিআরএআই) মূলত বৈধ পথে কলসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করেই কলরেট কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। টিআরএআইয়ের হিসাবে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ভারতে বৈধ পথে আসা কলের পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৭৪০ কোটি মিনিট, যা ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ছিল ৯ হাজার ২৪০ কোটি মিনিট। যদিও ভারতের আইজিডব্লিউ ও মোবাইল ফোন অপারেটরদের দাবি ছিল, আন্তর্জাতিক কলরেটের দাম ৫৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৩ রুপি নির্ধারণের। কিন্তু উল্টো তা কমিয়ে এখন ৩০ পয়সা করা হয়েছে। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক কলের সর্বনিম্ন টার্মিনেশন রেট নির্ধারিত রয়েছে দেড় সেন্ট বা ১ টাকা ২০ পয়সা। যদিও এ মূল্যে কল আসে না। এ ধরনের কল আনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারিত আছে সাড়ে তিন সেন্ট বা ২ টাকা ৮০ পয়সা। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে পরীক্ষামূলকভাবে এই কলরেট নির্ধারণ করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এরপর চার বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আন্তর্জাতিক কলরেটের সর্বোচ্চ বা সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। এদিকে, যে মূল্যে বিদেশ থেকে দেশে কল আসছে, সেই মূল্যে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আয় ভাগাভাগি করছে না আইজিডব্লিউ অপারেটররা। বিদেশ থেকে আইজিডব্লিউ অপারেটররা কল আনে ১ টাকা ৬০ পয়সায়, অথচ আয় ভাগাভাগি হয় ১ টাকা ২০ পয়সার সর্বনিম্ন দর ধরে। নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশ থেকে আসা প্রতি এক মিনিট কল থেকে যে আয় হয়, তার ৪০ শতাংশ বিটিআরসি, ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ আইসিএক্স, ২২ দশমিক ৫ শতাংশ মোবাইল অপারেটর আর বাকি ২০ শতাংশ আইজিডব্লিউ কোম্পানিগুলো পেয়ে থাকে। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক কলরেট যখন ১ টাকা ২০ পয়সা ছিল, তখনো বৈধ পথে আসা দৈনিক কলের সংখ্যা ছিল ১১ কোটি মিনিট। কিন্তু কলের মূল্য বাড়িয়ে দেওয়ার পর থেকেই কমতে শুরু করে কলসংখ্যা। বর্তমানে দৈনিক আন্তর্জাতিক কলসংখ্যা ৬ কোটির নিচে চলে এসেছে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, গত তিন বছরে দেশে আন্তর্জাতিক কলসংখ্যা প্রায় অর্ধেক কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ কলরেট বৃদ্ধি। কলরেট কম থাকলে অবৈধ ভিওআইপি কলের সংখ্যা কমে যায়। বৈধ পথে আন্তর্জাতিক কলসংখ্যা ও সরকারের আয় বাড়াতে গত বছরের এপ্রিলে টিএআরএআইয়ের মতো বিটিআরসিও কয়েকটি প্রস্তাব তৈরি করেছিল। এসব প্রস্তাবের একটি ছিল বিদেশ থেকে কল আনার সর্বোচ্চ মূল্য ২ টাকা ৮০ পয়সা থেকে কমিয়ে ১ টাকা ২৮ পয়সায় নামিয়ে আনা। আবার যে মূল্যে কল আসবে, সেই অনুপাতেই সরকারসহ অন্য পক্ষের সঙ্গে আয় ভাগাভাগি করা। আইজিডব্লিউসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এর কোনোটিই এখন পর্যন্ত কার্যকর হয়নি।
জানতে চাইলে টেলিযোগাযোগবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়ার জ্যেষ্ঠ গবেষক আবু সাইদ খান প্রথম আলোকে বলেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক কলরেট কমিয়ে আনার এ সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য নৈতিক শক্তি বিটিআরসির নেই, যা টিআরএআইয়ের আছে।লিউ কোম্পানিগুলো পেয়ে থাকে। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক কলরেট যখন ১ টাকা ২০ পয়সা ছিল, তখনো বৈধ পথে আসা দৈনিক কলের সংখ্যা ছিল ১১ কোটি মিনিট। কিন্তু কলের মূল্য বাড়িয়ে দেওয়ার পর থেকেই কমতে শুরু করে কলসংখ্যা। বর্তমানে দৈনিক আন্তর্জাতিক কলসংখ্যা ৬ কোটির নিচে চলে এসেছে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, গত তিন বছরে দেশে আন্তর্জাতিক কলসংখ্যা প্রায় অর্ধেক কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ কলরেট বৃদ্ধি। কলরেট কম থাকলে অবৈধ ভিওআইপি কলের সংখ্যা কমে যায়। বৈধ পথে আন্তর্জাতিক কলসংখ্যা ও সরকারের আয় বাড়াতে গত বছরের এপ্রিলে টিএআরএআইয়ের মতো বিটিআরসিও কয়েকটি প্রস্তাব তৈরি করেছিল। এসব প্রস্তাবের একটি ছিল বিদেশ থেকে কল আনার সর্বোচ্চ মূল্য ২ টাকা ৮০ পয়সা থেকে কমিয়ে ১ টাকা ২৮ পয়সায় নামিয়ে আনা। আবার যে মূল্যে কল আসবে, সেই অনুপাতেই সরকারসহ অন্য পক্ষের সঙ্গে আয় ভাগাভাগি করা। আইজিডব্লিউসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এর কোনোটিই এখন পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। জানতে চাইলে টেলিযোগাযোগবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়ার জ্যেষ্ঠ গবেষক আবু সাইদ খান প্রথম আলোকে বলেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক কলরেট কমিয়ে আনার এ সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য নৈতিক শক্তি বিটিআরসির নেই, যা টিআরএআইয়ের আছে।

ত্রিপুরার নির্বাচন যে কারণে মনোযোগ কেড়েছে by আলতাফ পারভেজ

ভৌগোলিকভাবে ত্রিপুরা হলো ভারতের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম রাজ্য। ৫৪৫ আসনবিশিষ্ট ভারতীয় লোকসভায় ত্রিপুরার জন্য বরাদ্দ মাত্র দুটি আসন। তার মধ্যে আবার একটি ‘শিডিউল ট্রাইব’দের জন্য সংরক্ষিত। এ থেকে অবশ্য ভারতীয় রাজনীতিতে রাজ্যটিকে গুরুত্বহীন ভাবলে ভুল হবে। বিশেষ করে বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক সমীকরণে। ভারতের কেন্দ্রে যারা ক্ষমতায় রয়েছে, সেই সংঘ পরিবার যে তিন শক্তিকে (মুসলমান, খ্রিষ্টান ও কমিউনিস্ট) ভাবাদর্শিকভাবে প্রতিপক্ষ মনে করে, তাদের একটি ৭০ বছর ধরে ত্রিপুরায় প্রায় একচেটিয়া প্রভাব বিস্তার করে আছে। বিজেপির জন্য এটা এখন অসহ্য পরিস্থিতি। ১৯৫২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত লোকসভা নির্বাচনগুলোর মধ্যে ত্রিপুরার একটি আসনে চারবার এবং অপর আসনে তিনবারমাত্র অ-কমিউনিস্টরা জিতেছে। স্থানীয় বিধানসভার ইতিহাস আরও বেশি কমিউনিস্ট-প্রভাবিত। ১৯৬৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৩টি নির্বাচনে আটবার সিপিএম (মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টি) রাজ্যের নির্বাচনে জিতেছে। এর মধ্যে গত ৩৪ বছর তারা একচেটিয়া জিতে চলেছে। সর্বশেষ মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার ২০ বছর ধরে এই পদে আছেন। এর চেয়েও বড় বিষয় হলো, ৬০ আসনের ত্রিপুরা বিধানসভায় এ পর্যন্ত আরএসএস পরিবারের হিন্দুত্ববাদী কোনো দলের প্রার্থী জেতেননি—অন্তত সর্বশেষ বিধানসভা পর্যন্ত। এমন বিরূপ অতীতের ওপর দাঁড়িয়ে ২০১৪ সালে কেন্দ্রে ক্ষমতায় এসেই যেসব রাজ্যে বিজেপি পরিবার বিশেষ সাংগঠনিক মনযোগ দিয়েছিল, তার মধ্যে ছিল ত্রিপুরাও। এর কারণটি যতটা রাজনৈতিক, তার চেয়েও বেশি ছিল আদর্শগত। বিজেপির এরূপ মনোভাব দেখেই দিল্লির প্রচারমাধ্যমগুলো ত্রিপুরার নির্বাচনকে বলছিল ‘ওয়াটারলুর যুদ্ধ’। সেই যুদ্ধের ফল কী দাঁড়াচ্ছে, সেটা জানা যাবে আগামী ৩ মার্চ। ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শেষ হলো ত্রিপুরার নতুন বিধানসভার ভোট। এবার অবশ্য ভোট হচ্ছে ৫৯টি আসনে। এ মুহূর্তে ভারতীয় প্রচারমাধ্যমের একটাই প্রশ্ন, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচন কি ত্রিপুরায় কাস্তে-হাতুড়ি পতাকা নামিয়ে গেরুয়া পতাকা ওড়াবে? প্রচারমাধ্যমের এত মনযোগের কারণ, বিজেপি ছোট্ট এই রাজ্যের নির্বাচনকে জীবনমরণ যুদ্ধে পরিণত করে ফেলেছিল।
স্বভাবত বামফ্রন্টও তা-ই করেছিল। এরূপ হাড্ডাহাড্ডির তাৎক্ষণিক ফল হয়েছে একটা রেকর্ড। ভোটারদের মধ্যে ৯২ শতাংশ (পোস্টাল ব্যালটসহ) এই নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন এবং এবার নিয়ে তৃতীয়বার ত্রিপুরায় ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার টার্ন-আউট হলো, যা ভারতের ইতিহাসে একটা বিরল নজির। ত্রিপুরায় ভোটারদের বেশি বেশি কেন্দ্রে আসার একটা বড় কারণ হলো, আদিবাসী-বাঙালি সবাই এই রাজ্যে ভীষণ রকমে রাজনীতি-সচেতন। এই সেই রাজ্য, যেখানে বিভিন্ন সময় ছোট-বড় অর্ধডজন সশস্ত্র সংগঠনের সক্রিয়তা ছিল স্বাধীনতার দাবিতে। আবার ১৯৯০-পরবর্তী সময়ে বিশ্বজুড়ে কমিউনিস্টদের দুর্দিনেও ত্রিপুরা থেকে সিপিএমকে একটিবারের জন্যও হটানো যায়নি, যেমনটি ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গে ও কেরালায়। পশ্চিমবঙ্গে সিপিএম তৃণমূলের কাছে নির্দয়ভাবে হেরেছে, আর কেরালায় মাঝেমধ্যেই কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হচ্ছে তাকে। অতীতে ত্রিপুরায় বামফ্রন্ট জিতলেও মূলত লড়াই হতো তাদের সঙ্গে কংগ্রেসের। এবার সেই সমীকরণ পাল্টে গেছে বলে মনে করা হয়। লড়াইয়ের মাঠে আবির্ভূত হয়েছে নতুন শক্তি বিজেপি। তারা জোট করেছে স্থানীয় ‘আদিবাসী পিপলস ফ্রন্ট’-এর সঙ্গে এবং কংগ্রেসের স্থান দখল করে বামফ্রন্টকে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছে। বলা হচ্ছে, ডান ও বামের এ রকম সরাসরি লড়াই ভারতের কোনো রাজ্যে আগে আর হয়নি। ত্রিপুরায় ভোটার ২৫ লাখেরও কম। ভারতের ভোটার জনমণ্ডলীর তুলনায় এটা অতি নগণ্য। কিন্তু প্রচারণায় বিজেপির ‘তারকা-সমাবেশ’ থেকে স্পষ্ট ছিল যে তারা কতটা গুরুত্বসহকারে নিয়েছে এই নির্বাচনকে। মোদি থেকে শুরু করে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্য নাথ পর্যন্ত সবাই এখানে প্রচারযুদ্ধে শামিল হয়েছিলেন গত সপ্তাহগুলোয়। প্রধানমন্ত্রী মোদি একাধিকবার এসেছেন প্রচারণায় শামিল হতে। তাঁর পরিষদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী—কেউই নির্বাচনী যুদ্ধে স্থানীয় বিজেপিকে মদদ দিতে সফর করে যেতে ভুল করেননি। হাল ছেড়ে দিতে রাজি ছিল না কংগ্রেসও। ফলে রাহুল গান্ধীও নির্বাচনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ত্রিপুরায় ঘুরেছেন। বামদের পক্ষে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার নিজেই তাঁর টিমকে নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন। সিপিএমের কেন্দ্রীয় নেতা সীতারাম ইয়েচুরি ও প্রকাশ কারাতও এসেছিলেন স্বল্প সময়ের জন্য। কিন্তু ভোটের যুদ্ধে এঁদের আগমন-নির্গমন বিশেষ কোনো তাৎপর্য বহন করে না। কারণ, কেউই তাঁরা ‘ক্যারিশমাটিক’ নন। ক্ষমতায় থাকাকালে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তির বাইরে মানিক সরকারের ইমেজই স্থানীয় বাম কর্মীদের ভরসা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিতে মানিক সরকার প্রকৃতই এক দারুণ ব্যতিক্রম। অর্থবিত্ত সংগ্রহে তাঁর অনাগ্রহ তাঁকে সমালোচনা করা দুরূহ করে রেখেছে। এবারের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমার সময় আয়-রোজগারের যে বিবরণ মানিক সরকার দিয়েছেন, তাতে দেখা যায়, ৬৯ বয়সী এই রাজনীতিবিদের ব্যাংক হিসাবে এ মুহূর্তে মাত্র ২ হাজার ৪১০ রুপি আছে উত্তোলনযোগ্য। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পাওয়া বেতন ছাড়াও পার্টিকে তিনি পারিবারিক সূত্রে পাওয়া সম্পদের অনেকখানিই দিয়ে দিয়েছেন বহুকাল আগে। এখন তাঁর আয় হলো পার্টির কাছ থেকে পূর্ণ সময়ের কর্মী হিসেবে পাওয়া মাসিক পাঁচ হাজার রুপি ভাতা। সর্বমোট ২৬ লাখ রুপির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি আছে তাঁর। ভারতের একটি রাজ্যে আড়াই দশক একনাগাড়ে মুখ্যমন্ত্রী থাকার পরও সর্বশেষ এক জরিপে দেখা গেছে, তিনি সমকালীন ২৯ জন ভারতীয় মুখ্যমন্ত্রীর মাঝে সম্পদে সবচেয়ে দরিদ্র। স্বভাবত, এরূপ রাজনীতিবিদেরা এখন উপমহাদেশের বিরল এক প্রজাতি। তবে ত্রিপুরার ভোটারদের কাছে এর আদৌ কোনো অর্থ রয়েছে কি না, কিংবা অন্যান্য জরুরি সামাজিক ইস্যুর চেয়ে মানিক সরকারের ব্যক্তিগত সততাকে তারা অধিক মূল্য দিতে প্রস্তুত কি না, সেটা জানার জন্য আগামী মার্চের প্রথম শনিবার পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী মোদি অবশ্য মানিক সরকারের ব্যক্তিগত সৎ ভাবমূর্তিকে যে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ, তার প্রমাণস্বরূপ দেখা গেছে, নির্বাচনী সভাগুলোয় তামাশা করে তিনি বলেছেন, ‘ত্রিপুরাকে আমরা মানিকের পরিবর্তে হীরা উপহার দিতে চাই।’ শুক্রবার নির্বাচন শেষ হওয়ামাত্র ভারতীয় নির্বাচনী পণ্ডিতেরা ইতিমধ্যে নানারূপ আঁচ-অনুমান করতে শুরু করেছেন ফলাফল নিয়ে। নির্দিষ্ট করে ফলাফল সম্পর্কে অনুমান করা না গেলেও এটা নিশ্চিত, ত্রিপুরায় সিপিএম-বামফ্রন্ট হেরে গেলে সর্বভারতীয় স্তরে দলটি অস্তিত্বের সংকটে পড়বে। ফলে, তাদের জন্য এটা কেবল একটি নির্বাচন নয়, অস্তিত্বের লড়াই। মরিয়া হয়ে নির্বাচনী যুদ্ধে শামিল কমিউনিস্ট কর্মীদের কোণঠাসা করতে বিজেপি মূলত যে অফারটি দিচ্ছে, তা হলো ত্রিপুরা ভেঙে আরেকটি রাজ্য গড়ার আশ্বাস। বামফ্রন্ট কর্মীরা এরূপ প্রস্তাবের বিরোধী হলেও স্থানীয় ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ভোটারদের কাছে এটা এক বড় লোভনীয় প্রস্তাব হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এককালের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জনপদ ত্রিপুরায় এখন বাঙালিদের সংখ্যাই বেশি। স্বভাবত ক্ষুদ্র জাতিসত্তার লোকজন মনে করে, তারা বাঙালিদের আধিপত্যের শিকার। বঞ্চনার এই বোধ থেকেই পৃথক রাজ্যের দাবিটি জনপ্রিয় হচ্ছে এবং বিজেপি-প্রভাবিত মিডিয়াও তাতে ভাবাবেগ যুক্ত করছে। যদি এবার বিজেপি ও আদিবাসী ফ্রন্ট নির্বাচনে জেতে, তাহলে ভারতে আরেকটি রাজ্যের জন্ম আসন্ন বলেই ধরে নিতে হবে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ত্রিপুরাসহ উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোর স্বাধীনতাসংগ্রামকে দুর্বল করার এটাও একটা ভালো কৌশল জনপদগুলোকে খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলা। ত্রিপুরার নির্বাচন তাই আসাম-নাগাল্যান্ড-মণিপুর-মেঘালয়সহ ক্ষুদ্র জাতিসত্তার লোকজনপ্রধান জনপদগুলোর জন্য এক বড় বিপৎসংকেত। বিজেপি যেকোনো মূল্যে ক্ষমতা চাইছে; সর্বত্র।
আলতাফ পারভেজ: দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস বিষয়ে গবেষক

আসুন, বিয়ের খরচ কমাই by রোকেয়া রহমান

গত মাসের ঘটনা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার খড়িয়ালা গ্রামের মিজান মিয়া তাঁর সহকর্মীদের দিয়ে গ্রামেরই এক শিশুকে অপহরণ করান। মুক্তিপণ হিসেবে চাওয়া হয় ৫০ হাজার টাকা। দাবি অনুযায়ী মুক্তিপণ আদায়ও হয়। কিন্তু অপহরণকারীদের চিনে ফেলায় শিশুটিকে হত্যা করা হয়। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ব্যাগ তৈরির কারখানার শ্রমিক মিজান মিয়ার বিয়ে সম্প্রতি ঠিক হয়েছিল। বিয়ের খরচ জোগানোর জন্য তঁার হাতে কোনো টাকা ছিল না। তাই টাকা জোগাড়ের জন্য শিশু অপহরণের বুদ্ধি আঁটেন। একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে গত বছরের এপ্রিল মাসে। ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার মুনিষগাঁও গ্রামে আবদুল কাফি তুষার নামের তিন বছরের এক শিশুকে অপহরণ করেন একই গ্রামের সাজু মিয়া। এরপর তিনি মুঠোফোনে তুষারের বাবার কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। কিন্তু তুষারের বাবা থানায় অপহরণ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। বিষয়টি টের পেয়ে সাজু মিয়া ও তাঁর সঙ্গীরা তুষারকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। সাজু মিয়ারও বিয়ে ঠিক হয়েছিল দীর্ঘদিনের প্রেমিকার সঙ্গে। কিন্তু বিয়ে করার মতো টাকা তাঁর কাছে ছিল না। তাই শিশু অপহরণ করে টাকা জোগাড়ের পরিকল্পনা করেন তিনি। কী ভয়ংকর ব্যাপার! শুধু বিয়ের টাকা জোগাড়ের জন্য শিশু অপহরণের কথা আমরা ভাবতে না পারলেও এমনটাই ঘটেছে। মিজান মিয়া ও সাজুর এই অপকর্মের জন্য পরোক্ষভাবে হলেও আমাদের দেশের বিয়ের রীতি ও আচার–অনুষ্ঠান দায়ী। আমাদের দেশে বিয়ে মানেই বিশাল খরচ। বরপক্ষ-কনেপক্ষ উভয়কেই এই খরচের বোঝা বহন করতে হয়। বিয়ে হয় দুটি মানুষের মধ্যে। অথচ সে জন্য কত যে অনুষ্ঠান, কত যে আচার। বাগ্‌দান বা পানচিনি, গায়েহলুদ, বিয়ে, বউভাত। হালে আবার সংযোজন হয়েছে সংগীত। হিন্দি সিরিয়াল দেখে অনেকেই আজকাল সংগীতের আয়োজন করছেন। প্রতিটি অনুষ্ঠানে খরচ হয় ব্যাপক। শুধু কি খাওয়া-দাওয়া? নাচ-গান, কনের পোশাক, বরের পোশাকের পাশাপাশি সাজসজ্জা, গয়না, আনুষঙ্গিক আরও কত–কী। আর এসব করতে গিয়ে কত মানুষ যে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে তার কোনো ইয়ত্তা নেই। বিশেষ করে দরিদ্র মানুষেরা। কেউ ঋণ করছেন, কেউ ভিটেমাটি বিক্রি করছেন। আর মিজান মিয়া ও সাজু মিয়ার মতো লোকেরা শিশু অপহরণ ও হত্যার মতো ভয়ংকর অপরাধ করছেন। সম্প্রতি আমার এক পরিচিত মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছে । ফারহানা (ছদ্মনাম) নামের মেয়েটি পড়ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। আগামী পয়লা বৈশাখ তাঁর বিয়ে।
কিন্তু তাঁর মন খুবই খারাপ। কারণ, তাঁর বিয়েটা সে অর্থে জাঁকজমকভাবে হচ্ছে না। কদিন আগেই তাঁর এক বান্ধবীর বিয়ে হয়েছে। কত কিছুই না হয়েছে সেই বিয়েতে। পানচিনি থেকে শুরু করে প্রতিটি অনুষ্ঠান হয়েছে। কত সাজসজ্জা, আর কত যে খাবারদাবারের আয়োজন ছিল। কিন্তু ফারহানার বিয়েতে সেসব কিছুই হচ্ছে না। ছোট করে গায়েহলুদের একটি অনুষ্ঠান হবে। আর বরপক্ষ ও কনেপক্ষ মিলে যৌথভাবে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। ফারহানার বাবা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষক । বেতন যা পান তাতে এই দুর্মূল্যের বাজারে বাসাভাড়া, সংসার খরচ ও ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার খরচ বাদ দিয়ে তাঁর হাতে বিশেষ কিছুই থাকে না। সংসারের খরচ বাঁচিয়ে যেটুকু টাকা তিনি জমিয়েছিলেন, তা দিয়ে মেয়ের বিয়েতে এর চেয়ে বেশি আয়োজন করা সম্ভব না। আগে পানচিনি, গায়েহলুদের অনুষ্ঠান শুধু শহরাঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন গ্রামের বিয়েশাদিতেও এসব অনুষ্ঠান হচ্ছে। একজনের দেখাদেখি আরেকজনও খরচ করছেন। এ যেন প্রতিযোগিতা। সামাজিক মর্যাদা রক্ষার প্রতিযোগিতা। সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিয়ের টাকা জোগাড় করতে না পেরে বহু ছেলেমেয়ের দেরি করে বিয়ে হচ্ছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছেন মেয়ের বাবা-মা বা অভিভাবকেরা। বিয়ের নানা অনুষ্ঠানে তো খরচ করতেই হয়, পাশাপাশি দিতে হয় বরপক্ষকে যৌতুক, যা তঁাদের জন্য বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়ায়। আসলে এখন সময় হয়েছে এটা নিয়ে নতুন করে ভাবার। একটি বিয়েতে এতগুলো অনুষ্ঠান করার তো কোনো প্রয়োজন নেই। পানচিনি অনুষ্ঠানের কি আদৌ কোনো দরকার আছে? গায়েহলুদ না দিলে তো বিয়েটা অবৈধ হয়ে যাচ্ছে না। কেন বিয়েতে শত শত মানুষকে দাওয়াত দিতে হবে? বিয়েতে কেন কনেকে সোনার গয়নাই পরতে হবে। সোনার গয়না ছাড়া কি বিয়ে হতে পারে না? নিশ্চয়ই পারে। কিন্তু ঠুনকো সামাজিক মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে সবাইকে এই বিপুল খরচের বোঝা বহন করতে হচ্ছে। বিয়ের খরচটা প্রত্যেকের সাধ্যের মধ্যে রাখা উচিত। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা একটি অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ রাখার চিন্তা করতে হবে। এ জন্য সামাজিক উদ্যোগ জরুরি। আপনাকে-আমাকেই এগিয়ে আসতে হবে।
রোকেয়া রহমান সাংবাদিক

গরুর পেটে ৮০ কেজি প্লাস্টিক!

এক জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি গরুর পেট থেকে প্রায় ৮০ কেজি প্লাস্টিক বের করেছেন এক চিকিৎসক। ভারতের বিহাররাজ্যের পশুচিকিৎসা হাসপাতালে এ বিরল অস্ত্রোপচার করা হয়। এর নেতৃত্বে ছিলেন হাসপাতালটি সহ-অধ্যক্ষ জিডি সিংহ। তিনি বলেন, আমার ১৩ বছরের অভিজ্ঞতায় এমন ঘটনা কোনো দিনও ঘটেনি।
তিনি জানান, এই অস্ত্রোপচার করতে প্রায় তিন ঘণ্টা লেগেছে। ছয় বছর বয়সের ওই গরুটি খাদ্যের মাধ্যমে প্রতিদিন একটু একটু করে প্লাস্টিক খেত। এতে গরুটি আস্তে আস্তে অসুস্থ হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে গরুটি নিয়মিত খাবার খাওয়া ছেড়ে দেয় এবং বিভিন্ন শারীরিক সংকটের মধ্যে পড়ে। এর পর গরুটিকে তার মালিক হাসপাতালে নিয়ে আসে। জিডি সিংহ জানান, হাসপাতালে আনার পর গরুর পেটে প্লাস্টিক জমে থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। তখন দীর্ঘ অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে ওই প্লাস্টিক বের করা হয়।

সৌদিতে কাবাসহ সব মসজিদে মাইকে আজান নিষিদ্ধের দাবি!

সৌদি আরবে অর্থনৈতিক সংস্কারের নামে সরকার বিভিন্ন বিতর্কিত উদারপন্থী পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা নিয়ে সৌদিসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্বের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। কিন্তু বরাবরই সৌদি কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে নীরবতা পালন করছে। তবে এবার সৌদি আরবের একজন লেখক সব মাত্রা ছাড়িয়ে গেছেন। তিনি সৌদির সব মসজিদের মাইকে আজান প্রচার নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। মসজিদের সংখ্যাও কমাতে বলেছেন মোহাম্মদ আল সুহাইমি নামে ওই লেখক। আর তিনি এসব দাবি জানিয়েছেন খোদ সৌদির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এমবিসিতে। সৌদি আরবে মুসলমানদের কেবলা কাবা শরিফ অবস্থিত। এ ছাড়া মসজিদুন নববী ছাড়াও মহানবীর (সা.) স্মৃতি বিজড়িত মসজিদগুলোও দেশটির ভূখণ্ডের মধ্যে পড়েছে। এ অবস্থায় সুহাইমির দাবির বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সৌদির মুসলমানরা। তারা এ লেখকের শাস্তি দাবি করেছেন। এদিকে সমালোচনা এড়াতে সৌদি কর্তৃপক্ষও নড়েচড়ে বসেছে। রিয়াদ ডেইলি জানিয়েছে- সৌদির সংস্কৃতি ও তথ্য মন্ত্রণালয় তার ওপর লেখালেখি এবং যে কোনো গণমাধ্যমের কার্যক্রমে যোগদানের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
এ ছাড়া তাকে একটি তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এমবিসি টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সুহাইমি বলেন, উচ্চঃস্বরে আজান বয়স্ক লোক ও শিশুদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। একই সময়ে বহু মসজিদের মাইকে আজান প্রচারিত হলে জনগণের অসুবিধা হয় এবং শিশুরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তার মতে, যেসব এলাকায় একাধিক মসজিদ রয়েছে, সেখানে বাড়তি মসজিদও বন্ধ করে দিতে হবে। কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আলজাজিরা বলেছে, ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- আজান যা মানুষকে নামাজ পড়ার আহ্বান জানায়। আলজাজিরার দাবি, সৌদি আরবের টেলিভিশন থেকে এ ধরনের সাক্ষাৎকার সম্প্রচারের উদ্দেশ্য সুবিধাজনক নয়। সৌদি সরকার মসজিদের মাইকে আজান প্রচারের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করার ক্ষেত্র প্রস্তুত করার জন্য এ কাজ করে থাকতে পারে।

মার্কেটে এক নারীর বোরকা টেনে খুলে ফেলায় গ্রেফতার আরেক নারী

জার্মানির রাজধানী বার্লিনের এক সুপারমার্কেটে সোমবার সন্ধ্যায় বাজার করতে গিয়েছিলেন ২৮ বছর বয়সী এক নারী৷ সেই সময় আরেক নারী জোর করে তার বোরকা খুলে ফেলেন এবং তার উদ্দেশ্যে বর্ণবাদী মন্তব্য করেন৷ এ ঘটনায় হামলাকারী নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ এখন তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে পুলিশ৷
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আক্রান্ত নারী তুর্কি নাগরিক৷ জোর করে বোরকা খোলার সময় তিনি মাথায় আঘাত পেয়েছেন৷ তার ওপর হামলাকারী নারী আজারবাইজান থেকে এসেছেন৷ প্রাথমিকভাবে তার জাতীয়তা জানা যায়নি৷ খবর ডয়েচে ভেলে। উল্লেখ্য, জার্মানিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর পুরো মুখ ঢাকা বোরকা পরায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে৷ এ ছাড়া বাভারিয়াসহ কয়েকটি রাজ্যে নির্দিষ্ট কিছু প্রকাশ্য স্থানে বোরকা পরায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে৷ তবে ইসলামবিরোধী গোষ্ঠীগুলো জার্মানিতে বোরকার ওপর পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা জারির আহ্বান জানিয়েছে৷ ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে জার্মানির নর্থ রাইন ওয়েস্টফেলিয়া রাজ্যের এক রেস্তোরাঁয় নিকাব পরিহিত এক নারীকে ঢুকতে না দেয়ার অভিযোগ উঠেছিল৷ এদিকে ২০১৭ সালের প্রথম ছয় মাসে জার্মানিতে মুসলিমদের ওপর ১৮টি সহিংস আক্রমণের ঘটনা ঘটে বলে সংসদে জানানো হয়েছিল৷ এ ছাড়া একই বছরের প্রথম ছয় মাসে ৩৯২টি ইসলামবিদ্বেষ প্রণোদিত ঘটনা ঘটেছিল বলেও জানানো হয়৷ ইন্টারনেটে মুসলিমদের অথবা মুসলিম শরণার্থীদের বিরুদ্ধে প্ররোচনা–তথাকথিত ‘হেট স্পিচ'– হুমকি বা শাসানিমূলক বার্তা, রাজপথে হিজাব পরিহিত মহিলা অথবা মুসলিম পুরুষদের ওপর আক্রমণ, এ ছাড়া মুসলিমদের বাড়ি অথবা সম্পত্তির ক্ষতিসাধন কিংবা দেয়ালে নাৎসি স্লোগান লেখা ইত্যাদি ইসলামবিদ্বেষী অপরাধমূলক কার্যকলাপের মধ্যে পড়ে৷

যৌন নিপীড়কদের তাড়না কমাতে নপুংসক করবে তুরস্ক

শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনকারীদের যৌন তাড়না কমাতে তাদের নপুংসক করার আইন করতে যাচ্ছে তুরস্ক। তুর্কি সরকার মঙ্গলবার ঘোষণা করে যে, সংসদে একটি নতুন আইন আনা হবে, যার বলে বিচারকরা শিশু নিপীড়নকারীদের কেমিক্যাল ক্যাস্ট্রেশন, অর্থাৎ রাসায়নিক নপুংসককরণের নির্দেশ দিতে পারবেন৷ আইনমন্ত্রী আবদুলহামিত গুল বলেন, যে ব্যক্তিদের শিশুদের যৌন নিপীড়নের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, তাদের যৌন তাড়না কমানো বা নির্মূল করার জন্য এই পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে৷ সরকারি সংবাদ সংস্থা আনাদুলুর খবরে বলা হয়েছে, আইনের খসড়াটি কয়েক দিনের মধ্যেই সংসদ সদস্যদের কাছে উপস্থাপন করা হবে বলে আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন৷ ১০ বছর আগের তুলনায় ২০১৬ সালে তুরস্কের বিভিন্ন আদালতে চার গুণেরও বেশি শিশু যৌন নিপীড়নের মামলা ওঠে বলে আইন মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো জানিয়েছে৷
২০০৬ সালে শিশুদের যৌন নিপীড়নের ২১ হাজার ১৮৯টি মামলা আদালতে ওঠে, যার মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ মামলায় অপরাধীদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়৷ রাসায়নিক নপুংসককরণের যেসব ‘অ্যানাফ্রোডিজিয়্যাক' বা কামোদ্দীপনা হ্রাস করার ঔষধি প্রয়োগ করা হয়, সেগুলো কামেচ্ছা ও যৌন সম্ভোগের ক্ষমতা সাময়িকভাবে কমাতে পারে বটে, কিন্তু তার ফলে যৌন কামনা স্থায়ী বা পুরোপুরিভাবে নির্মূল হয়ে যায় না৷ ফলে প্রতি তিন মাস অন্তর ওষুধ খেতে হয় বা ইনজেকশন নিতে হয়৷ ‘উইমেন্স অ্যাসেম্বলিজ অর্গানাইজেশন' নামে একটি মহিলা সম্মেলন সমিতি এ পদক্ষেপকে ‘মানবাধিকারবিরোধী' ও ‘আধুনিক আইনকানুন বহির্ভূত দণ্ড' বলে অভিহিত করেছে৷ অতীতেও উদ্যোগ রুখে দেয়া হয়েছে ২০১৬ সালে যৌন অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের রাসায়নিক নপুংসককরণের আরেকটি উদ্যোগ রুখে দেন তুরস্কের সর্বোচ্চ আদালত ‘কোর্ট অব স্টেট'৷ সংশ্লিষ্ট আইনের খসড়ায় রাসায়নিক নপুংসককরণের সংজ্ঞা বা সীমা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করা হয়নি বলে আদালত অভিমত প্রকাশ করেন৷ একটি সাম্প্রতিক ঘটনার পর জনতার রোষ ও শিশুদের যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত অপরাধীদের রাসায়নিক নপুংসককরণের দাবি আরও জোরদার হয়েছে৷ ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের সূচনায় এক ২০ বছর বয়সী পুরুষ একটি তিন বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণ করে৷ ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণের আদানা প্রদেশের একটি বিয়েবাড়িতে উৎসব চলার সময়৷ সরকারি কৌঁসুলি সংশ্লিষ্ট অপরাধীর ৬৬ বছর কারাদণ্ড দাবি করেছেন বলে আনাদুলু জানিয়েছে৷

সিরিয়ায় অস্ত্রবিরতি প্রশ্নে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভোটাভুটি

সিরিয়ার পূর্ব ঘৌতা অঞ্চলে জরুরি মানবিক সাহায্য সরবরাহ এবং চিকিৎসা সেবার সুযোগ করে দিতে দেশটিতে ৩০ দিনের অস্ত্রবিরতির দাবির একটি খসড়া প্রস্তাব বিষয়ে ভোট দেয়ার আশা করছে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ। আর এ ভোট বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কূটনীতিকরা একথা জানিয়েছেন। বুধবার সুইডিশ মিশন জানায়, সুইডেন ও কুয়েত ‘যত দ্রুত সম্ভব’ এ ভোটাভুটির আবেদন জানিয়েছে।
তারা আরো জানায়, জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে বৃহস্পতিবার এ ভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে। কুয়েত ও সুইডেন এ খসড়া প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেছে। এদিকে, খসড়া এ প্রস্তাব ঠেকাতে রাশিয়া তাদের ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করবে কিনা সে ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি। সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল পূর্ব ঘৌতায় ‘সহিংসতা বন্ধে’ জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস আহবান জানানোর পর ভোটাভুটির এ আবেদন জানানো হয়। বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ওই অঞ্চলে সরকারি বাহিনী দফায় দফায় ব্যাপক বোমা হামলা চালাচ্ছে। আসাদের অনুগত বাহিনীর বিমান হামলায় মৃতের সংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ায় গুতেরেস বলেন, পূর্ব ঘৌতা ‘নরকে’ পরিণত হয়েছে। সেখানকার চার লাখ বেসামরিক নাগরিকের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এদিকে সিরিয়ার পূর্ব ঘৌতা সঙ্কট নিয়ে আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকার আহবান জানিয়েছে রাশিয়া। দেশটির রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া সেখানের পরিস্থিতিকে অনেক জটিল হিসেবে উল্লেখ করেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালে বলেন, ‘বেসামরিক লোকদের ওপর এই ভয়াবহ হামলাকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অংশ হিসেবে দাবি করাটা একেবারেই অযৌক্তিক।’ মার্কিন এই নারী মুখপাত্র আরো বলেন, ‘বর্বর আসাদ সরকারের হামলার কবল থেকে সেখানকার অসহায় নারী, পুরুষ ও শিশুদের জীবন বাঁচাতে অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।’ তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র খসড়া প্রস্তাবটির সমর্থন দিবে। প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রেরই এতে সমর্থন দেয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ইরানের সাথে স্পেন ও হল্যান্ডের সম্পর্ক জোরদার

ইউরোপের দুই দেশ স্পেন ও হল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ সফরে ইরান পৌঁছেছেন। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীই ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন। হল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যিগরিদ কাগ গতরাতে তেহরানে পৌঁছে বলেছেন, তিনি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের উপায় নিয়ে কথা বলবেন।
স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলফোনসো দাসতিসও একই ধরণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পেনের ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদেরও সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। তার এ সফরে বাণিজ্যিক লেনদেন বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানা গেছে। আজ দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে কথা রয়েছে। এছাড়া তারা ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানির সঙ্গে সাক্ষাত করবেন। এসব বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুও গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে।

মালদ্বীপে স্বাভাবিক অবস্থা ফেরাতে সংলাপে প্রস্তুত সরকার

মালদ্বীপে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়তার জন্য বিরোধী দলের সাথে সংলাপে বসতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। খবর সিনহুয়ার। খবরে বলা হয়, জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ানোর পর তারা যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, ‘সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণার সিদ্ধান্তের গুরুত্ব ও পরিণতির ব্যাপারে সজাগ রয়েছে। তারা আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীকে আশ্বস্ত করছে যে জাতীয় নিরাপত্তা ও সাংবিধানিক নির্দেশ নিশ্চিত করতে, আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে এবং দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সর্বশেষ উপায় হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।’ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের পরামর্শ এবং জরুরি অবস্থার মেয়াদ আরো ৩০ দিন বাড়াতে পার্লামেন্টের মঙ্গলবারের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সরকার জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছিল। গত ১ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ আদালত স্বেচ্ছায় নির্বাসিত সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ নাশিদসহ কারাবন্দি বিরোধী দলীয় নেতাদের মুক্তির নির্দেশ দেয়ার পর জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ায় দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। সরকার আশ্বস্ত করেছে যে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি কেটে যাওয়া মাত্রই জরুরি অবস্থা তুলে নেয়া হবে।

‘আমেরিকা ব্যর্থ, রাশিয়া সফল’

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা মোহাম্মাদ আসিফ বলেছেন, আফগানিস্তানে ১৭ বছরের মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কোনো ফল বয়ে আনেনি। সেখানে মার্কিন নীতি-কৌশল ব্যর্থ হয়েছে। তিনি মঙ্গলবার মস্কোতে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। খাজা আসিফ আরো বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমেই কেবল আফগান সংকটের সমাধান হতে পারে।
এ সময় তিনি রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ইসলামাবাদ সব ক্ষেত্রেই মস্কোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়। পাকিস্তান আলোচনার মাধ্যমে কাশ্মির সমস্যার সমাধান করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জানান। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ আফগানিস্তান প্রসঙ্গে বলেন, আফগানিস্তানে দায়েশ বা আইএসের প্রভাব বৃদ্ধির বিষয়টি উদ্বেগজনক। মস্কো এ বিষয়টি নিয়ে খুবই উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবাদ, মাদক উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মাদক চোরাচালানের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ সন্ত্রাসবাদ বিস্তারে কাজে লাগানোর মতো বিষয়গুলো মস্কো ও ইসলামাবাদ উভয়ের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পুরুষের অনুমতি নেয়ার বাধ্যবাধকতা থাকছে না সৌদি নারীদের

স্বাধীনভাবে নিজস্ব ব্যবসা শুরুর অধিকার পেয়েছে সৌদি নারীরা। সৌদি নারীরা স্বামী বা পুরুষ আত্মীয়ের অনুমতি ছাড়াই নিজের ব্যবসা শুরু করতে পারছে এবং সরকারের ই-সেবা থেকে লাভবান হতে পারবে। অনেকক্ষেত্রে নারীই নারীর অভিভাবক, নারীই নারীর সিদ্ধান্ত নিতে পারছে। সৌদি আরব সম্প্রতি সরকারি চাকরিতেও নারীদের নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সৌদি আরবে কয়েক দশক ধরে নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তাও তুলে দেয়া হয়েছে। বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ ও যুব সমাজের কাছে দেশের একটি আধুনিক ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ার লক্ষ্যে সৌদি আরবে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে গত অক্টোবরে ‘মধ্যমপন্থী ও মুক্ত’ সৌদি আরব গড়ার প্রত্যয়ে শুরু হওয়া ‘ভিশন-২০৩০’ সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশটি নারীর হার মোট কর্মজীবীর ২২ শতাংশ থেকে প্রায় এক তৃতীয়াংশে উন্নীত করতে চায়। সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ধর্মীয় পরিষদের এক সিনিয়র নেতা শেখ আবদুল্লাহ আল মুতলাক বলেছেন-নারীদের পর্দা করা জরুরি, বোরকা পরা নয়। নারীদের অবশ্যই পর্দা করা উচিত, তার মানে এ নয় যে তাদের বোরকাই পরতে হবে। অথচ সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী দেশটির নারীদের ঘরের বাইরে এলে বোরকা পরা বাধ্যতামূলক। রিয়াদের রাস্তায় বোরকা খুলে ফেলার অপরাধে ২০১৬ সালে এক নারীকে আটক করা হয়েছিল। সৌদি আরবে গত কিছু দিন ধরেই পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। গত বছর সেখানে বাণিজ্যিক সিনেমার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। এ বছরের মার্চে সেখানে প্রথম সিনেমা হল খুলবে। গত ডিসেম্বরে সেখানে প্রথম কোনো গানের কনসার্টে মহিলা সঙ্গীত শিল্পীকে গান গাইতে দেখা গেছে। সৌদি আরবে স্টেডিয়ামে গিয়ে মেয়েদের খেলার দেখারও অনুমতি দেয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রাইভেট সেক্টরে কাজ করেছে ৬ লাখ সৌদি নারী, ২০১১ সালে কর্মজীবী নারীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৯০ হাজার। গত বছরের সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবরেই ৩০ হাজার সৌদি নারী মার্কেটে কাজ শুরু করেন। বর্তমানে দেশটিতে বেকারত্বের হার ১২.৮% কে ২০৩০ সালের মধ্যে ৭% এ কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির ক্রাউন প্রিন্সের। ২০১৬ সালের এপ্রিলে সৌদি সরকার বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনা অনুমোদন করে। ‘ভিশন ২০৩০’ নামের এই মহাপরিকল্পনার লক্ষ্য দেশটির তেলনির্ভর অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনা। তেলের রাজস্বের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো। তেলের বাইরে অন্য খাতে ভালো কর্মসংস্থান সৃষ্টি। ভিশন ২০৩০-এর অংশ হিসেবে সাড়ে ২৬ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে একটি শহরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, নাম নিওম। শহরটি সম্পর্কে একটা ধারণা দিতে কিছু প্রমোশনাল ভিডিও প্রকাশ করে সৌদি আরব। ভিডিওতে হিজাবহীন নারীদের দেখা যাচ্ছে পুরুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজে অংশ নিতে। সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিতে কিছু তাত্পর্যপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। জনসাধারণকে হলে গিয়ে সিনেমা দেখার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। ২০১৮ সালের মার্চের মধ্যেই প্রথম সিনেমা মুক্তি পাবে।
১৯৮০’র দশকের শুরুর দিকে ধর্মীয়ভাবে কঠোর রক্ষণশীল দেশ সৌদি আরবে সিনেমা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ৩৫ বছরেরও বেশি সময় পর এই প্রথম তা আবার চালু হচ্ছে অর্থাৎ সিনেমার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হচ্ছে। ২০১৮ সালের জুন থেকে সৌদি আরবে নারীদের গাড়ি চালাতে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর নারীদের স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখার সুযোগ দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছে সৌদি আরব। সম্প্রতি দেশটির একটি স্টেডিয়ামে প্রথমবারের মতো নারীদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে সৌদি আরব প্রথমবারের মতো দেশটির নারীদের প্রার্থী ও ভোটার হওয়ার সুযোগ করে দেয়। সৌদি আরবের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের মুঠোফোন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। রেড সি'তে পর্যটকদের জন্য বিলাসবহুল আবাসনের ব্যবস্থা হচ্ছে, যার অর্থ নারীরা সেখানে বিকিনি পরতে পারবেন, উন্মুক্ত থাকবে বার৷ ২০১৭ সালেই প্রথমবারের মতো রাজধানী রিয়াদের একটি বড় রেস্টুরেন্টে প্রধান শেফ হিসেবে নিয়োগ পান এক নারী। সৌদি নারীদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে বিমানবন্দর ও সীমান্ত চৌকিতে ইমিগ্রেশন অফিসে বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ। দেশটির পাসপোর্ট অধিদফতর জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ১৪০ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে। একদিনের মধ্যেই ১ লাখ ৭ হাজার নারী এই চাকরির জন্য আবেদন করেছেন। নারীদের কর্মসংস্থানে রিয়াদের ভিশন-২০৩০ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ। দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সৌদির সামাজিক প্রেক্ষাপটে নারীদের ব্যবসা করা সহজ নয় বলে চাকরিপ্রত্যাশীদের সংখ্যা অনেক বেশি। তবে যাদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা সৌদি আরবে শুধুমাত্র সেসব নারীরাই এই চাকরির আবেদন করতে পারবেন। বয়স অবশ্যই ২৫-৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে সেদেশের হাইস্কুল ডিপ্লোমা বা সমতূল্য যে কোনো ডিগ্রি হলেই চলবে।

সৌদি আরবে ফ্যাশন শো

প্রথমবারের মতো আগামী মার্চে আরব ফ্যাশন উইক আয়োজন করতে যাচ্ছে সৌদি আরব। সোমবার আরব ফ্যাশন কাউন্সিল এক ঘোষণায় এটি জানিয়েছে। দুবাইভিত্তিক আরব ফ্যাশন কাউন্সিল তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, আগামী ২৬ থেকে ৩১ মার্চ রিয়াদে ফ্যাশন উইক অনুষ্ঠিত হবে। তারা জানাচ্ছে, রিয়াদেই অক্টোবরে তাদের দ্বিতীয় সংস্করণ অনুষ্ঠিত হবে। আরব ফ্যাশন উইক রিয়াদের পরিবেশবান্ধব অ্যাপেক্স সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে। মৌচাকে মতো দেখতে ওই ভবনটির ডিজাইন করেছেন প্রয়াত ইরাকি-ব্রিটিশ স্থাপত্যবিদ জাহা হাদিদ। গেলো বছরের ডিসেম্বরে আরব ফ্যাশন কাউন্সিল রিয়াদের একটি আঞ্চলিক অফিস খোলার ঘোষণা দেয়। এসময় সৌদি প্রিন্সেস নুরা বিনতে ফয়সাল আল সৌদকে সেটির অবৈতনিক প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে তারা। প্রিন্সেস নুরা এক বিবৃতিতে বলেছেন, রিয়াদে প্রথম আরব ফ্যাশন উইক একটি বিশ্বমানের ইভেন্টের চেয়েও বেশি কিছু হবে। এটা একটা অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে যা অন্যান্য অর্থনৈতিক খাত পর্যটন, আতিথেয়তা, ভ্রমণ ও বাণিজ্যের দুয়ার খুলে দেবে।
অন্যদিকে কয়েকজন নারী একসঙ্গে বসে তাস খেলছেন পবিত্র মক্কা শরীফের মসজিদে হারামে। শুক্রবার তোলা এই ছবিটি এখন বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে অনেকেই ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায় চারজন বোরকা পরা নারী একত্রে বসে খুব মজা করে তাস খেলছে। আর তাদের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে এহরাম পরা লোকজন। ওই চার নারীর সবাই কালো বোরকা পরা ছিল। তাদের চেহারাও আবৃত ছিল। যে জন্য তাদের শানাক্তও করা যায়নি। তবে সৌদি সরকার এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন বিবৃতি দেয়নি। এ ছবি রসদ নেটওয়ার্ক নামক সাইট থেকে শেয়ার করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মসজিদে হারামের বাইরের অংশের গেট ফাহাদ এর সামনে এসব নারী তাস খেলছে। এরপর এ ছবি ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। যা প্রায় ২৫ হাজার শেয়ার হয়েছে। এদিকে কেউ কেউ আবার ধারণা করছেন, এই ছবি এডিট করে বায়তুল্লা শরীফে বসিয়ে দিয়ে কেউ প্রচার করা হচ্ছে।

'হিজবুল্লাহকে সমর্থন দিতে সৌদি আরবের অনুমতি নেবে না তেহরান'

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, উগ্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইরত যেকোনো সংগঠনকে সমর্থন দিয়ে যাবে ইরান। তিনি মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল পিবিএস’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেছেন। লেবাননের হিজবুল্লাহর প্রতি ইরানের সমর্থনে সৌদি আরব কেন ক্ষুব্ধ হচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে জারিফ বলেন, 'হিজবুল্লাহকে সমর্থন দেয়ার জন্য সৌদি আরবের অনুমতি নেবে না তেহরান।
আইএস ও আন-নুসরার বিরুদ্ধে যে সংগঠনই যুদ্ধ করবে তাকে সমর্থন জানাবে ইরান।' জাওয়াদ জারিফ বলেন, 'সারাবিশ্বের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়া যেসব গোষ্ঠী ধর্মের নামে উগ্রবাদ, ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে তাদের প্রত্যেকটির সাথে সৌদি আরবের যোগসূত্র রয়েছে।' ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'ইরাক ও সিরিয়া যুদ্ধ বন্ধে তেহরান ও রিয়াদের কাজ করা উচিত। সেইসাথে বাহরাইনের গণ আন্দোলন দমন বন্ধ এবং ইয়েমেনে বিদেশি আগ্রাসন বন্ধেও এই দুই দেশের প্রচেষ্টা চালানো উচিত।' ইয়েমেন যুদ্ধে ইরানের ভূমিকা সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে জারিফ বলেন, ইয়েমেনে ইরানের কোনো স্বার্থ নেই। ইয়েমেন পরিস্থিতি এতটা গুরুতর আকার ধারণ করার আগেই আলোচনার টেবিলে সঙ্কট সমাধানের জন্য রিয়াদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল তেহরান। কিন্তু সে আহ্বানে সৌদি সরকার সাড়া দেয়নি।

নেশার ভয়ঙ্কর জগতে শিশুরাও by এনা হাসান

আমার ছেলে আকিব (ছদ্মনাম) ক্লাস এইটে পড়ছে। পড়াশুনায় খুব ভালো। সব বন্ধুদের প্রিয়। সবার সঙ্গে সহজে মিশে যায়। আমি আর ওর বাবা চাকরিজীবী হওয়ার কারণে  ছেলেটাকে খুব বেশি সময় দিতে পারতাম না। তারপরও আকিবের কোনো অভিযোগ ছিল না।
সারাদিন পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত ছিল। কিন্তু হঠাৎ আমাদের বিচ্ছেদের পর আকিব বদলে যেতে শুরু করে। সারাদিন ঘরের দরজা বন্ধ করে একা একা থাকা। কথা কম বলা আর বললেও অল্পতেই রেগে যাওয়া। কিছুটা খিটখিটে মেজাজের। রাত জেগে থাকা। পড়াশুনায় দিন দিন পিছিয়ে পড়তে শুরু করলো। একদিন ওর টেবিল গোছাতে গিয়ে লক্ষ্য করলাম বিভিন্ন জায়গায় ফয়েল কাগজ। এই কাগজ কেন এখানে কারণ জানতে আমার দেরি হয়ে গিয়েছিল। ততদিনে আমার ছেলেটা নেশার জগতে হারিয়ে গেছে। কান্না জড়ানো কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন একজন মা। যে ছেলের এখন পড়াশুনা নিয়ে দিন কাটানোর কথা ছিল সে এখন দিন পার করছে নিরাময় কেন্দ্রে।
ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা ফার্মগেট। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের পদচারণায় মুখর এই এলাকা। এখানে স্বস্তির খোঁজে অনেকেই যান আনোয়ারা উদ্যানে। যদিও সেখানে স্বস্তির বদলে মিলে অস্বস্তি। কারণ পার্ক হিসেবে এখানে সবুজের ছায়া থাকার কথা থাকলেও নেই তার রেশ। ময়লা আবর্জনা, অবৈধ বসতিতে পূর্ণ পুরো পার্ক এলাকা। পার্কের ভেতরে প্রবেশের শুরুতেই চোখে পড়বে কিশোর তরুণদের কয়েকটি দল। ভুল করে ভেবে বসবেন না তারা কাজ শেষে গল্প বা আড্ডায় মেতে আছে। একটু কাছে গেলেই বুঝা যায় আসল চিত্র। গোল হয়ে বসে থাকা এই কিশোররা মেতে আছে গাঁজার নেশায়। ছোট ছোট এই শিশু-কিশোররা ভাগাভাগি করে খাচ্ছে গাঁজা, ড্যান্ডি। পার্কের ভেতরেই কথা হলো জাহিদের সঙ্গে। দশ বারো বছরের এই শিশুর সঙ্গে কথা বলেই জানা গেল অনেক কথা। তার মতে সে এইসব নেশায় না জড়ালেও এসব ব্যাপারে অনেক কিছুই জানে। সে বলে যায়, ‘পার্কে এখন তো কিছুই দেখেন নাই। রাইতে আইলে আরো পোলাপান দেখতে পাইবেন। সন্ধ্যা থাইক্যা এখানে বসে আসল গাঞ্জার আসর। পার্কের ভিতরে রাত হইলে এইগুলান পাওন যায়। আপনি প্রিন্সের পাশের ঐ চিপায়ও এইগুলান পাইবেন, অইহানে এক বেটা এসে এইগুলান বেঁচে। রাসেল, কালাম আরো কয়ডা ছেলে অইহানে খায়। আমার লগে অরা গাড়ির হেলপারি করে। শুধু গাঞ্জা না বাবা, ড্যান্ডি ফেন্সিও খায়। হেরা সারাদিন গাড়ি চালায়। তিন চার শ’ টাহা পায়। অইগুলা দিয়াই এইগুলান কিনে। এই ধরেন দুইডা পুরির দাম পড়ে ৪০০ টাহা। এইডা দিয়াই রাইত কাভার।’
জাহিদের বক্তব্যের সঙ্গে মিল পাওয়া গেল রাতের পার্কের চিত্রটায়। মাদক কেনাবেচার হিড়িক পড়ে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে। ক্রেতার তালিকায় রয়েছে তরুণ ও কিশোররা। সংখ্যায় কম হলেও তালিকায় আছে শিশুরাও। শুধু ফার্মগেট না, রাজধানীর কাওরান বাজার রেলগেট এলাকা, মহাখালী ব্রিজের নিচে, মোহাম্মদপুর শহীদ পার্ক মাঠ, জেনেভা ক্যামপ এলাকা, কমলাপুর রেলস্টেশন, গাবতলী বাস টার্মিনাল, সদরঘাট, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ এলাকা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যামপাসের বিভিন্ন স্থানে সরজমিন দেখা মিলে শিশু-কিশোররা বিভিন্ন মাদক গ্রহণ করছে। এসব এলাকায় মাদক বিক্রেতারা সক্রিয় হওয়ায় অনেকটা সহজেই পাওয়া যাচ্ছে নেশাজাত পণ্য।
বাংলাদেশ শিশু ফোরামের তথ্য অনুসারে, আমাদের দেশে মোট পথশিশু-কিশোর সংখ্যা ১০ লাখের উপর। এই পথশিশুদের মধ্যে ৮০ শতাংশই মাদকাসক্ত। আর এই মাদকাসক্তির কারণে এইসব শিশুরা বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি সহ জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধমূলক কাজে। একটা কিশোর যখন মাদক সেবন শুরু করে তখন সে ধীরে ধীরে তার সুন্দর সুশৃঙ্খল জীবন থেকে সরে আসে। আর হারিয়ে যেতে শুরু করে নেশার অন্ধকার জগতে। ২০১৩ সালের ১৬ই আগস্ট রাজধানীর মালিবাগের বাসায় কিশোরী ঐশীর হাতে খুন হয় তার বাবা-মা পুলিশের বিশেষ শাখার উপ-পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান এবং স্বপ্না রহমান। এরআগে ঐশী জড়িয়ে পড়েছিলো নেশার জগতে। ২০১৬ সালে মাদক আইনে মামলা হয়েছে ৬২ হাজার ২৬৮টি এবং ২০১৭ সালে এর আগের বছরের তুলনায় মামলা বেড়েছে ২৫ হাজারের বেশি।
সাইকোলজিস্ট বিলকিস খানমের মতে, শিশু- কিশোরদের মাদক থেকে বিরত রাখার জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে তার পরিবার এবং পরিবেশ। সাধারণত সাইকোলজিক্যাল ডিস্টার্বেন্স, কৌতূহলের এবং পরিবেশগত কারণে কিশোররা মাদকে ঝুঁকে পড়ছে। তাদেরকে মাদক থেকে দূরে রাখার জন্য প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে পরিবারকে, পরিবারের সদস্যদের। প্রায়ই আমরা দেখি একজন যখন মাদক গ্রহণ করে তখন পরিবারের সদস্যরা তাকে মানসিকভাবে সাহায্য করার বদলে কটু কথা শোনায়। এতে করে সেই শিশুটা আরো মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ে নিজেকে একা মনে করে। এসময় সে মাদক গ্রহণ করে যা তাকে ক্ষণিকের জন্য হলেও শান্তি দেয় কিন্তু ক্রমশ মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়। সুতরাং পরিবারের সদস্যদের যথাসম্ভব মাদকাসক্ত শিশু-কিশোরকে সময় দিতে হবে। তার সঙ্গে সময় কাটানোর মাধ্যমে তাকে বুঝাতে হবে এই খারাপ সময়ে সে একা নয়। একটা শিশুকে নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর আগে পরিবারের উচিত তাকে মাদক থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা। এছাড়া বাবা-মায়ের উচিত তার সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ ব্যবহার করা, তাদের পর্যাপ্ত সময় দেয়া, কোথায় কী করছে, তার বন্ধুদের সমপর্কে জানা, মাদকের ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলা এবং এগুলো থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেয়া।

উগ্র হিন্দুবাদীদের দাবি নাকচ, তাজমহলকে শাহজাহানের তৈরি সমাধিসৌধ হিসেবে স্বীকার



বেশ কিছুদিন ধরেই কট্টর হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো নতুন দাবি তুলেছে। তাদের দাবি, বিশ্ববন্দিত স্থাপত্য তাজমহল আসলে ছিল শিবমন্দির। এই দাবিকে সমর্থন করেছিলেন কয়েকজন বিজেপি নেতাও। কিন্তু ভারতের পুরাতাত্ত্বিক সংস্থা আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (এএসআই) আদালতে হলফনামা দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, তাজমহল আসলে মোগল সম্রাট শাহজাহান ও তার পত্নী মমতাজ বেগমের সমাধি সৌধ। আগ্রার আদালতে অ্যাডভোকেট রাজেশ কুলশ্রেষ্ঠর দায়ের করা মামলায় দায়ের করা হলফনামায় এএসআইয়ের আইনজীবী অঞ্জনি শর্মা বলেছেন, পরলোকগত স্ত্রী মুমতাজ বেগমের স্মৃতিরক্ষায় তাজমহল নির্মাণ করেছিলেন শাহজাহান।
এএসআই-এর আইনজীবী আরো বলেছেন, তাজমহলকে শিবমন্দির ‘তেজোমহল’ দাবি করে যে সব ‘তথ্যপ্রমাণ’ পেশ করা হয়েছে সেগুলো ‘মনগড়া-কাল্পনিক’। এএসআই-এর আইনজীবী আরো বলেছেন, তাজমহলের কোন অংশ পর্যটকদের সঙ্গে খোলা থাকবে, কোন অংশ বন্ধ থাকবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তাই এই বিষয়টির আর পর্যালোচনার প্রয়োজন নেই। এএসআই-এর এক কর্মকর্তা বলেছেন, পুরো বিতর্কটি দানা বেঁধেছিল স্বঘোষিত ঐতিহাসিক পিএন ওকের লেখা একটি গ্রন্থ ঘিরে। ওই গ্রন্থটিতে তাজমহল আসলে শিবমন্দির ছিল বলে দাবি করা হয়। গ্রন্থটি প্রকাশের পর রাজনৈতিক নেতা ও মন্ত্রীদের বিবৃতিতে তাজমহল-সংক্রান্ত বিতর্ক আরো উস্কে দেয়। এমনকি, তাজমহলকে মন্দির হিসেবে মেনে তেজোমহল ঘোষণা করার দাবি জানিয়ে আগ্রা কোর্টে লখনউয়ের প্রায় ছয়জন আইনজীবী মামলা দায়ের করেন। প্রকৃত ঘটনা যাতে প্রকাশ্যে আসে সেজন্য তাজমহলের বন্ধ থাকা অংশগুলো খোলারও আর্জি জানানো হয় আদালতে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ভয় কিসের?

ড্রোন পরিণত হতে পারে ক্ষেপণাস্ত্রে, ফেক বা ভুয়া ভিডিও দিয়ে বিভ্রান্ত করা হতে পারে জনমত, হতে পারে হ্যাকিং-এর মতো ঘটনাও- আর এর সবই হতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে, যদি সেটা চলে যায় ভুল জায়গা বা খারাপ মানুষের হাতে। ড্রোন কিংবা রোবট দিয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি কিম্বা এলাকায় চালানো হতে পারে সন্ত্রাসী হামলা, চালকবিহীন গাড়ি ছিনতাই করে সেটিকে নিক্ষিপ্ত করা হতে পারে দুর্ঘটনায়। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্ষেপে এআই-এর উপর একটি প্রতিবেদনে এই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তারা হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলছেন, এই প্রযুক্তি যদি ভ্রষ্ট-নীতির কোনো রাষ্ট্র, যারা আন্তর্জাতিক আইন কানুনের তোয়াক্কা করে না, তাদের কাছে কিম্বা অপরাধীসহ সন্ত্রাসীদের হাতে চলে যায় তাহলে তার বড় ধরনের অপব্যবহার হতে পারে। আর একারণে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যখন তৈরি করা হচ্ছে তখন এর উদ্ভাবকদের একই সাথে এমন জিনিসও তৈরি করতে হবে যাতে এর অপব্যবহার না হয়, আর হলেও সেটা মোকাবেলা করা যায়- বলছেন গবেষকরা। এই লক্ষ্যে ২৬ জন গবেষকের একটি দল তুন কিছু আইন কানুন তৈরি করার উপরেও জোর দিচ্ছেন।
তারা বলছেন : নীতি-নির্ধারক ও প্রযুক্তিবিদ ও গবেষকদের এক সাথে কাজ করতে হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির অপব্যবহার সম্পর্কে ধারণা পেতে এবং সেটা মোকাবেলা করতে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যে শুধু ভালো প্রয়োগ নেই, এটিকে খারাপ কাজেও প্রয়োগ করা হতে পারে, সেটি উপলব্ধি করতে হবে। এই বিষয়টিকে মাথায় রেখেই গবেষক ও প্রকৌশলীদেরকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরিতে কাজ করতে হবে। কম্পিউটার নিরাপত্তার মতো বিষয়, যেখানে ভালো ও খারাপ দুটো দিকই আছে, সেটা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার বন্ধ ও প্রতিরোধের লক্ষ্যে সব পক্ষকে একসাথে সক্রিয় হতে হবে। যুক্তরাজ্যে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহার আভিন বিবিসিকে বলেছেন, এই প্রতিবেদনটিতে বর্তমানে যেসব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি আছে কিম্বা আগামী পাঁচ বছরে আরো যেসব প্রযুক্তি বাজারে আসতে পারে সেগুলোর ঝুঁকি তুলে ধরা হয়েছে। এতে খুব বেশি দূরের ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর আলোকপাত করা হয়নি। প্রতিবেদনটিতে বিশেষ করে যে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে সেটা হলো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে যখন অতিমানবীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং যেখানে কোনো দিক নির্দেশনা নেই।
একারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অদূর ভবিষ্যতে কিভাবে ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে তার কিছু উদাহরণ তিনি তুলে ধরেছেন : আলফাগোর মতো প্রযুক্তি- গুগল ডিপমাইন্ড কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই প্রযুক্তিটি উদ্ভাবন করেছে। এটি এতো চালাক যে মানুষের বুদ্ধিকেও সে পরাস্ত করতে পারে। এই প্রযুক্তি হ্যাকারদের হাতে পড়লে তথ্য চুরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কোনো বিদ্বেষপরায়ণ কোনো ব্যক্তি ড্রোন কিনে সেটিকে মানুষের মুখ চেনার জন্যে প্রশিক্ষিত করে তুলতে পারে এবং তারপর পারে কোনো ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে তার উপর আক্রমণ চালাতে। ভুয়া ভিডিও তৈরি করে তার রাজনৈতিক অপব্যবহার হতে পারে। স্পিচ সিনথেসিসের মাধ্যমে হ্যাকাররা অন্যের গলাও নকল করতে পারে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিউচার অফ হিউম্যানিটি ইন্সটিটিউটের মাইলস ব্রান্ডেজ বলেছেন, মানুষের, প্রতিষ্ঠানের ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকির চিত্র বদলে দেবে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। দুর্বৃত্তরা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে হ্যাক করার উদ্দেশ্যে, মানুষের গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ করা হতে পারে- নিরাপত্তার ব্যাপারে সব ধরনের ঝুঁকিই এখানে আছে। "বেশিরভাগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রেই দেখা গেছে এই প্রযুক্তি যে শুধু মানুষের বুদ্ধির পর্যায়ে চলে যায় তা নয়, অনেক ক্ষেত্রে এটা মানুষের বুদ্ধির সীমাকেও ছাড়িয়ে যায়," বলেন তিনি। এ আই-এর উপর তৈরি এই প্রতিবেদনটিতে দেখা হয়েছে আগামী ১০ বছরে পৃথিবীর চেহারা কেমন হতে পারে? এই গবেষণা প্রতিবেদনের লেখকরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সবকিছু বদলে দিচ্ছে। আমরা এমন এক বিশ্বে বাস করছি যা কিনা কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তার অপব্যবহারের কার দিনে দিনে আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ১০০ পাতার এই রিপোর্টে তিনটি এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে- ডিজিটাল, শারীরিক ও রাজনৈতিক - এগুলোতেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপ্রয়োগ হতে পারে।

মানুষ হওয়ার সংগ্রাম by মো: গোলাম হোসেন

‘দেশপ্রেমের শপথ নিন, দুর্নীতিকে বিদায় দিন’ ডেসকোর বিদ্যুৎ বিলের উপর লাল কালিতে লেখা আবেদনটি গ্রাহকদের নজরে পড়ার কথা। এ ধরনের আবেদন ও সতর্কবাণী ঘুষ ছাড়া কাজই হয় না এমন দফতরে দৃষ্টিগোচর হয়। ‘বখশিশ’ ছাড়া কাজই হয় না এমন এক দফতরে ঘুষবিরোধী নানা উপদেশবাণীর পাশাপাশি ঘুষখোরদের পোড়ানো হবে এমন একটি দোজখের কাল্পনিক চিত্রও দেয়ালে সাঁটা দেখতে পেলাম। কোনো কোনো দফতরে ঘুষ ও দুর্নীতিবিরোধী বিভিন্ন হাদিস যেমন ‘হারাম অর্থে গঠিত, রক্ত মাংস বেহেশতে প্রবেশ করবে না’, ‘ঘুষদাতা-গ্রহীতা দু’জনই সমান অপরাধী’ ইত্যাদি সযত্নে উৎকীর্ণ হতে দেখা যায়। চরিত্র গঠনমূলক এই বাণীগুলো শিশু-কিশোরদের ছাত্রজীবনেই তালিম দেয়ার কথা থাকলেও এখন বাবা-মায়েদের তালিম দেয়ার ব্যর্থ প্রয়াস লক্ষ করা যায়। সুতরাং দুর্নীতি তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে চলছে রাজ ভয়, লোক ভয় আর নরকের ভয় উপেক্ষা করেই। দুর্নীতি এখন যে অপ্রতিরোধ্য ভয়াল রূপ নিয়েই আছে, তার স্বীকৃতি এবার পাওয়া গেল মন্ত্রীর মুখেই। এই স্বীকৃতির রাজনৈতিক ব্যাখ্যা যাই হোক, আমরা মনে করি, এর একটি ইতিবাচক দিকও আছে। আর তা হলো- সরকার হয়তো এ বিষয় আর ছাড় দেয়ার পক্ষে নেই। সম্প্রতি দুদক চেয়ারম্যানের বক্তব্যে তেমনি একটি আশার আলো দেখা গেল যেন। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ যখন সবারই কাম্য, তখন দুর্নীতি নির্মূল হওয়ার পরিবর্তে ‘জাতীয় কালচারে পরিণত কেন’ তা অনুধাবন খুব জটিল ও কঠিন বিষয় নয়। সম্ভবত আমরা নীতিগতভাবে যতটা দুর্নীতিবিরোধী, আত্মস্বার্থ চেতনার মোকাবেলায় তার চেয়ে অধিক দুর্নীতি সহনশীল।  দেশকে মধ্যম আয়ে উন্নীত করা সরকারের সদিচ্ছা ও প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ না হওয়ার মূল কারণ যে দুর্নীতি, এ উপলব্ধি বোধ করি এখন কাজ করছে অনেকের মধ্যেই। গত ১০ ডিসেম্বর দুর্নীতিবিরোধী দিবসের এক সমাবেশে দুর্নীতিবিরোধী যে কঠিন উচ্চারণ দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের কণ্ঠে শোনা গেল, তা গতানুগতিক নয় বলেই আমাদের বিশ্বাস। তার ভাষায়, ‘আমাদের সমাজে দুর্নীতিবাজ নামক শকুনের উদ্ভব হয়েছে। আমরা এদের উৎখাত করতে চাই। ঋণের নামে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি সেবা নিতে ঘুষ, পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করে দুর্নীতিবাজরা নগ্নভাবে তাদের ঔদ্ধত্য দেখাচ্ছে, তাদের বিষ দাঁত ভেঙে দিতে হবে। আমরা দলমত, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্মিলিতভাবে তাদের উপযুক্ত জবাব দিতে চাই। প্রায় একই সময় শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ তার দফতরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের এক সমাবেশে নিজ মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে অনেকটা আবেগতাড়িত অনন্যোপায়ের মতো কিছু কথা বলেছেন, যা সমালোচনার কারণ হয়েছে। আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ, ঘুষ খান কিন্তু সহনীয় মাত্রায় খান। কেননা আমার এটা বলার সাহস নেই যে, ঘুষ খাবেন না। তা অর্থহীন হবে। খালি যে অফিসাররাই চোর, তা না, মন্ত্রীরাও চোর, আমিও চোর। জন্মগত এমনই চলে আসছে। তবে এ অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্যের একটি শুভ ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে, স্বীকৃতি আছে দুর্নীতির ব্যাপকতার যা দুদক চেয়ারম্যানের বক্তব্যের সাথে মিলে যায়। ‘মন্ত্রীরাও চোর, আমিও চোর’ তার এই উক্তির যথার্থ ব্যাখ্যা মেলে তার কথাতেই।
‘আমার মন্ত্রণালয়ের কাউকে যদি চোর বলা হয়, তবে মন্ত্রী হিসেবে আমিও চোর হয়ে যাই।’ এ চেতনার সাথে দ্বিমতের অবকাশ কোথায়? শিক্ষা বিভাগের দুর্নীতির অভিযোগ অনেকটা ঐতিহ্যগত। আমার প্রথম চাকরি শিক্ষা অধিদফতরেই। অভাব-অনটনের চাপে ছাত্রজীবন শেষ না করেই চাকরি নিয়েছিলাম। সেই ১৯৭১ সালের কথা। বয়স দিন কয়েক কম থাকার পরও চাকরি হয়েছিল কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন ছাড়াই। তবে সুপারিশ লেগেছিল বয়স কমের জন্য। আর সুপারিশকারী ছিলাম নিজেই। অবশ্য চাকরিটা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের শেষলগ্নে ইয়াহিয়ার সামরিক সরকার কোনো কারণ ছাড়াই আমাদের সবাইকে চাকরিচ্যুত করেছিল। নাহিদের ‘খাম তত্ত্বের’ সত্যতা সে যুগেও যে ছিল না তেমন নয়। বড় সাহেবদের বাসায় ‘পুকুরের ইলিশ’ নিয়ে যাওয়ার গল্প তখনো শোনতাম। বড় বাবুদের সারপ্রাইজ ভিজিটের গোপন খবর এখনকার প্রশ্ন ফাঁসের মতোই পৌঁছে যেত জায়গা মতো। ন্যায্য টিএ বিলটাও ঘুষ না দিয়ে পাওয়া যেত না। অনেকে বলেন, ঘুষ ব্রিটিশ আমলেও ছিল। কিন্তু কথা হলো, স্বাধীনতার অর্ধ শতাব্দীর পরও এই ব্যাধির নিরাময় তো দূরের কথা, বরং মহামারির আকারে কেন? শিক্ষামন্ত্রীর আবেগপ্রবণ বক্তব্যের অনেকে কঠোর সমালোচনা করেছেন না বোঝেই হয়তো। একজন মন্ত্রী এমনও বললেন, ‘নাহিদ চোর হতে পারেন, আমরা চোর নই। তার দফতরে চুরি বা দুর্নীতি না থাকলে এই দাবি তিনি করতে পারেন অবশ্যই। দেশের উন্নয়ন ও আইনের শাসন কায়েম নিশ্চিতকরণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে দুর্নীতিকে ‘স্পিড মানি’ বলে স্বীকৃতি দেয়ার যেমন অবকাশ নেই, তেমনি ‘আমরা লুটপট করে খেলেও কাজ করেছি’ বলে বাগাড়ম্বর আত্মপ্রসাদ লাভের চেষ্টা অর্থহীন নয়, পদমর্যাদার সাথে বেমানান তদুপরি বেআইনিও। আমরা মনে করি, দুদক চেয়ারম্যান দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন তা সময়োচিত। এ জন্য প্রয়োজনে উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ে সর্বদলীয় দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা যেতে পারে।

ভাষা দিবসের ভাবনা by নূরুল ইসলাম খলিফা

ভাষা আল্লাহর এক অপূর্ব দান, এক বিশেষ নেয়ামত। নিজেকে প্রকাশ করার মাধ্যমই হচ্ছে ভাষা। ভাষা যেমন মৌখিক আছে, তেমনি লিখিত আছে- আছে শারীরিক ভাষা (নড়ফু ষধহমঁধমব)। এ বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজিদে বলেছেন, ‘তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষাসমূহ ও দেহের বর্ণের বৈচিত্র্য। নিশ্চয়ই এতে জ্ঞানী লোকদের জন্য বহু নিদর্শন বিদ্যমান রয়েছে’ (সূরা আর-রুম : আয়াত-২২ )।  ভাষা মানুষের প্রকাশের মাধ্যম। আর মানুষ বিভিন্ন সম্প্রদায়ভুক্ত। তার নিজস্ব প্রকাশভঙ্গি আছে, আছে নিজস্ব স্টাইল। ভাষার সাথে মানুষের বোধ-বিশ্বাস, ধর্ম-সংস্কৃতি ও সভ্যতা সংস্কৃতি সম্পর্ক রয়েছে। ইংরেজি একটা ভাষা হওয়া সত্ত্বেও স্কটিশ, আইরিশ এবং ব্রিটিশদের ইংরেজির কথা বলার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। এটি আঞ্চলিক পার্থক্য যার সাথে তাদের হাজারো বছরের অভ্যাস ও ঐতিহ্যের সম্পর্ক। বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ভাষা এক হলেও এতে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। তেমনি বাংলাদেশ বা পশ্চিমবঙ্গের মুসলমান ও হিন্দুদের বাংলা ভাষার মধ্যে লক্ষণীয় পার্থক্য রয়েছে। ভাষার সাথে মানুষের বোধ-বিশ্বাসের বা ঈমান-আকিদার সম্পর্ক আছে। কাজেই ‘মরহুম’কে ‘প্রয়াত’ লিখে যারা ভাষাকে অসাম্প্রদায়িক বানাতে চান তাদের আচরণের যৌক্তিক নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। মরহুম শব্দটির সাথে একজন মুসলিমের বোধ বিশ্বাসের সম্পর্ক আছে, যা ‘প্রয়াত’ শব্দ দিয়ে প্রকাশিত হয় না। ‘কালেমা’ কথাটির শব্দগত অর্থ কথা বা বাক্য। কিন্তু একজন মুসলিম বিয়ের ‘কালেমা’ বললে যা বুঝবেন, বিয়ের ‘বাক্য’ বললে তা বুঝবেন না। এখন বাক্য বা কথা না বলে ‘কালেমা’ বলার কারণেই ভাষা সাম্প্রদায়িকতার দোষে দুষ্ট হয় না। মা-বাবার মৃত্যুর পরে তাদের ‘শেষকৃত্য নয়, তাদের ‘দাফন কাফন’ করব। এ পরিভাষা আমার বিশ্বাসের সাথে জড়িত। মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য এ শব্দটিকেই প্রাধান্য দেবো এবং এটাই আমার স্বাভাবিক ভাষা।
পৃথিবীর সব ভাষাই অন্য ভাষার শব্দভাণ্ডার থেকে সমৃদ্ধ হয়েছে। ইংরেজি ল্যাটিন থেকে এবং আমাদের বাংলা ভাষা সংস্কৃত, আরবি, ফারসি, তুর্কি ও ইংরেজি ভাষার শব্দভাণ্ডার থেকে সমৃদ্ধ হয়েছে। এখন যারা বাংলা ভাষাকে আরবি, ফারসি শব্দ মুক্ত করে ‘অসাম্প্রদায়িক’ বানাতে চাইলে তা হবে বিকৃত মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ। অনেকের কাছে মুসলিম ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ছাপ রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ তার কাব্যে কমই আরবি বা ফারসি শব্দ ব্যবহার করেছেন; পক্ষান্তরে নজরুল, ফররুখ প্রমুখ কবি তাদের কাব্যে অসংখ্য আরবি, ফারসি শব্দ মোক্ষমভাবে ব্যবহার করেছেন। এটি এ কারণেই হয়েছে যে, প্রত্যেকেই তাদের পারিবারিক, সামাজিক, ধর্মীয় ইতিহাস ঐতিহ্য ও বোধ বিশ্বাস দ্বারা পরিচালিত। তাদের কাউকেই ‘সাম্প্রদায়িক’ বলার সুযোগ নেই। আসলে ভাষা সাম্প্রদায়িক হয় না, সাম্প্রদায়িক হয় মানুষ। আর একজন প্রকৃত বিশ্বাসী মানুষ যিনি খোদাভীরু হন, তিনি কখনো ধর্মান্ধ, উগ্রবাদী বা সাম্প্রদায়িক হতে পারেন না। তিনি জানেন প্রতিটি মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি। সুতরাং ভাষা, বর্ণ বা বিশ্বাসের কারণে কারো প্রতি বৈষম্য করার যুক্তি নেই। করলে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এ কারণে স্রষ্টার কাছে জবাবদিহি করতে হবে। ভাষা দিবসে আজ আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে, আল্লাহর একটি নিদর্শন ও নেয়ামত হিসেবে ভাষাকে আমরা কিভাবে ব্যবহার করছি। এর দ্বারা আমরা তাওহিদের প্রকাশ ঘটাচ্ছি নাকি শিরকের প্রকাশ করছি। ভাষার মতো অনন্য সম্পদ দিয়ে আমরা সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের প্রচার ও প্রসারে কাজ করছি, নাকি অশ্লীল, অকল্যাণ, মিথ্যা ও চরিত্রহননের কাজ করছি। আজ এটাই আমাদের ভাবনা হওয়া উচিত। বাংলা ভাষা আমার মায়ের ভাষা। এ ভাষাতেই নিজেকে প্রকাশ করি; আমার হাসি আনন্দ, হরিষ বিষাদের বাহন এটি।
লেখক : ব্যাংকার

চালকহীন জাহাজ

দক্ষিণ চীন সাগরে চালকহীন জাহাজ নিয়ে গবেষণার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র নির্মাণ করবে বেইজিং। সামরিক এবং বেসামরিক উভয়ই কাজেই ব্যবহার করা যাবে চীনের নির্মিত চালকহীন যান।
ওয়ানশান মেরিন টেস্ট ফিল্ড নামের এ কেন্দ্রটি দক্ষিণ চীন সাগরের অন্যতম একটি প্রবেশ মুখে তৈরি করা হবে। দক্ষিণাঞ্চলীয় চীনা প্রদেশ গুয়ানডংয়ের জুহাইয়ের কাছে তিনশ’ বর্গ মাইল জুড়ে এ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।

সেদিন একুশে by জোবায়ের রাজু

বারান্দা থেকে রোজি আপা, শ্যামা আর বাবার কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে। এখন রাত সাড়ে ১০টা। এ সময়ে এ তিনটি প্রাণীর নিজ ঘরে থাকার কথা। রোজি আপা হয়তো নিজের রুমে বসে শ্যামার কণ্ঠে সুকুমার রায়ের কবিতা আবৃত্তি শুনছে, বাবা হয়তো তার সিংহাসনের মতো দেখতে কাঠের চেয়ারে বসে পুরনো পত্রিকায় খেলার পাতায় চোখ বুলাচ্ছেন কিন্তু আজ এ অবেলায় তারা তিনজন একত্র হয়ে বারান্দায় খোশগল্পে বিভোর কেন? আমি তাদের কাছে যেতেই রোজি আপা বলল-
- আয় বস, বাবার গল্প শুনবি।
- বাবার গল্প মানে?
- বসে পড়ত। শুনলে বুঝতে পারবি। কাল একুশে ফেব্রুয়ারি, তোর মনে নেই?
এতক্ষণে ঘটনা পরিষ্কার হলো। প্রতিবার একুশের রাতে বাবা তার দুই মেয়েকে নিয়ে বারান্দায় বসে নিজের ছেলেবেলার একুশের গল্প শোনাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। কিভাবে ছোটবেলায় বাবা তার বন্ধুদের নিয়ে রাতভর রঙিন পেপারে বর্ণমালা লিখে একুশের পোস্টার বানাতেন, তারপর প্রভাতলগ্নে সবাই মিলে ফুলের ডালি নিয়ে সোজা শহীদ মিনারে চলে যেতেন খালি পায়ে। সবাই সমবেত কণ্ঠে কোরাস গাইতেন- আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো... প্রতিবার ঘুরেফিরে বাবা রোজি আপা আর শ্যামাকে এসব গল্পই শোনান। তারাও পুরনো গল্প শুনতে কান পেতে থাকে। আমি বুঝি না, একই গল্প শুনে ওরা দুই বোন কী আনন্দ পায়। গল্প বলা শেষে রাত ১২টা হলেই বাবা রোজি আপা আর শ্যামাকে বাড়ির পাশের কলেজের শহীদ মিনারে নিয়ে যান রাতের জোছনা গায়ে মেখে। শ্যামার হাতে তখন থাকে রোজি আপার বানানো গাঁদা ফুলের দীর্ঘ মালা, যে মালাটি তারা শহীদ মিনারে দেবে বলে গেঁথে রেখেছে। ভোরে শ্যামার চেঁচামেচিতে সবার ঘুম ভাঙল। হঠাৎ শ্যামার গলা কাঁপানো কান্না- কাল রাতে তার শখের বানানো ফুলের বাগানের সব ক’টি ফুল চুরি হয়ে গেছে। এটা নিশ্চয়ই পাড়ার উঠতি তরুণদের কাজ, যারা শহীদ মিনারে ফুল দেয়ার বাসনায় শ্যামার বাগানের এ সর্বনাশ করে গেল রাতের অমানিশায় লোকচক্ষুর অন্তরালে।
বাবা আর রোজি আপা মিলে শ্যামাকে সান্ত্বনার বুলি আওড়াতে লাগলেন- ‘দেখো শ্যামা, ভাষাযুদ্ধে সালাম, রফিক, বরকত ও জব্বারেরা প্রাণ দিয়েছেন। আজ একুশে ফেব্রুয়ারির দিনে তাদের স্মরণে ফুল দিতে ছেলেগুলো আমাদের বাগানের ফুল চুরি করে অন্যায় তো করেনি।’ শ্যামা তার কাজল কালো দুটি চোখে রোজি আপার দিকে তাকিয়ে রইল। বাবা বললেন, ‘চল মা শ্যামু, আমরা শহীদ মিনারে যাই। দেখবে সবাই ফুল নিয়ে এসেছে। তোর মন ভালো হয়ে যাবে।’ শ্যামা কোনো কথা বলছে না। রোজি আপা বলল- ‘কিরে যাবি না?’ শ্যামা হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়ল। বাবা, শ্যামা আর রোজি আপা এই সাতসকালে শহীদ মিনারে যাচ্ছে। আমি জানালা দিয়ে তাদের যাওয়া দেখছি। কী সুন্দর সে দৃশ্য। দূরের মাইকে বাজছে- ‘আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো...’ গানের গলাটা অনেক পরিচিত। পাশের বাড়ির ফারহানার নয়তো, যে মেয়ে প্রতিবার একুশের এই দিনে সবাইকে গান শুনিয়ে কলেজ প্রাঙ্গণ মাতিয়ে রাখার যোগ্যতা রাখে।
আমিশাপাড়া, রাজু ফার্মেসি, নোয়াখালী