Sunday, August 24, 2014

শান্তি আলোচনায় ফেরার আহ্বান আব্বাসের

ইসরায়েলি বিমান থেকে ফেলা বোমায় জ্বলছে গাজা
উপত্যকার একটি বাড়ি। দূর থেকে তাকিয়ে দেখছে
ভীতসন্ত্রস্ত মানুষ। গাজায় গতকাল কয়েক দফা
ইসরায়েলি হামলায় একই পরিবারের পাঁচজনসহ
আট ফিলিস্তিনি নিহত হয়। ছবি: এএফপি
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েল গতকাল শনিবারও গাজার বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে হামাসও ইসরায়েলে রকেট ছুড়ে যাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস অবিলম্বে শান্তি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। খবর এএফপি, রয়টার্স ও সিএনএনের। গাজার স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্য গাজার একটি বাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছে। অন্যান্য এলাকায় নিহত হয়েছে আরও তিনজন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, তারা গাজায় রকেট নিক্ষেপ কেন্দ্রসহ প্রায় ২০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে গাজা থেকে ২০টি রকেট ছোড়া হয়েছে। গত শুক্রবার ইসরায়েলে চার বছর বয়সী একটি শিশু হামাসের রকেটের আঘাতে মারা যায়। চলমান সহিংসতায় এই প্রথম কোনো ইসরায়েলি শিশুকে প্রাণ দিতে হলো। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট আব্বাস গতকাল মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তা আল-সিসির সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে, মিসরে যত শিগগিরই সম্ভব যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনা আবার শুরু করা...মিসর একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনায় ফিরে আসতে উভয় পক্ষকে আমন্ত্রণ জানাতে যাচ্ছে।’ মিসরের মধ্যস্থতায় কায়রোতে ইসরায়েল-হামাস পরোক্ষ আলোচনা গত মঙ্গলবার ভেঙে যায়।
মেশালেরও স্বীকারোক্তি: এক খবরে দাবি করা হয়েছে, হামাসের সদস্যরাই গত জুন মাসে তিন ইসরায়েলি কিশোরকে অপহরণ ও হত্যা করেছিল বলে হামাস নেতা খালেদ মেশাল স্বীকার করেছেন। এ খবর অনুযায়ী মেশাল ইয়াহু নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি স্বীকার করেছেন। ওই তিন কিশোরের ঘটনা থেকেই গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের সূত্রপাত। হামাস এত দিন এ-সংক্রান্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল। তবে সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ নেতা সালেহ আরুরি গত শুক্রবার বলেন, নেতাদের না জানিয়ে হামাসের কিছু সদস্য ওই কিশোরদের অপহরণ করে।

তামিলদের অধিকার নিশ্চিত করুন

নরেন্দ্র মোদি
শ্রীলঙ্কার সংখ্যালঘু তামিলদের সমানাধিকার, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দেশটির সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতকাল শনিবার শ্রীলঙ্কার প্রধান তামিল রাজনৈতিক দল তামিল ন্যাশনাল অ্যালায়েন্সের (টিএনএ) ছয় সদস্যের একটি দল নয়াদিল্লিতে মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর প্রেক্ষাপটে ওই আহ্বান জানান মোদি। খবর এনডিটিভির। এক বিবৃতিতে মোদি বলেন, শ্রীলঙ্কায় চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে সব পক্ষকে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে হবে। আর তা হতে পারে দেশটির সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী অনুযায়ী। তামিলদের স্বায়ত্তশাসনের ক্ষমতা দেওয়ার জন্য ১৯৮০-র দশকে ভারত-সমর্থিত সংশোধনীর দিকে ইঙ্গিত করে এ কথা বলেন মোদি। উত্তর-পূর্ব শ্রীলঙ্কার তামিলদের ত্রাণ সরবরাহ করা, পুনর্বাসন ও অবকাঠামো নির্মাণকাজে ভারতের সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে বলে টিএনএ প্রতিনিধিদলটিকে আশ্বস্ত করেন মোদি। ওই অঞ্চলে স্বাধীনতাকামী তামিল টাইগার গেরিলাদের (এলটিটিই) সঙ্গে সরকারি বাহিনীর দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের সময় হাজারো তামিল আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে।
তাদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থান এবং শিক্ষা, চিকিৎসা ও অবকাঠামো নির্মাণসংশ্লিষ্ট প্রকল্পের ওপর নয়াদিল্লি জোর দেবে বলে উল্লেখ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শ্রীলঙ্কার সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ভারত সরকারের অব্যাহত যোগাযোগের অংশ হিসেবেই মোদির সঙ্গে টিএনএ প্রতিনিধিদলটির এ সাক্ষাৎ হয়। বহু বছর টিএনএকে এলটিটিইর রাজনৈতিক শাখা হিসেবে বিবেচনা করা হতো। দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর সংখ্যাগরিষ্ঠ অধিবাসী তামিল। তাদের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার সংখ্যালঘু তামিলদের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে শ্রীলঙ্কার তামিলদের ইস্যুটি প্রায়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এদিকে পিটিআই জানায়, গত বছর পাটনায় বিজেপির তখনকার প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী সভায় উপর্যুপরি বিস্ফোরণের ঘটনায় আদালতে ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)। এঁদের মধ্যে নিষিদ্ধঘোষিত মুসলিম ছাত্রসংগঠন এসআইএমআইয়ের সন্দেহভাজন কর্মী হায়দার আলীও রয়েছেন। এনআইএর অভিযোগ, হায়দার আলী অন্যদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে মোদিকে নিশানা করেছিলেন।

প্রথম ডুবোজাহাজ বিধ্বংসী রণতরি চালু ভারতের

প্রথম ডুবোজাহাজ বিধ্বংসী রণতরি চালু ভারতের
ভারত তাদের নিজেদের তৈরি প্রথম ডুবোজাহাজ (সাবমেরিন) বিধ্বংসী রণতরি গতকাল শনিবার নৌবাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করেছে। যুদ্ধজাহাজটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘আইএনএস কামোর্তা’। অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী অরুণজেটলি উপস্থিত ছিলেন। খবর এনডিটিভির। ভারত এ ধরনের চারটি রণতরি নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে প্রথমটি গতকাল বিশাখাপট্টনামে নৌবাহিনীর এক ডকইয়ার্ডে চালু করা হলো। আইএনএস কামোর্তা দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন অরুণ জেটলি।
আইএনএস কামোর্তা হচ্ছে ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রথম জাহাজ, যা বিশেষ ধরনের কার্বন তন্তুর প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি। এই রণতরি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, অ্যাকটিভ টাওড অ্যারে ডিকয় সিস্টেম (এটিডিএস) এবং সাবমেরিনবিরোধী লড়াইয়ের উপযোগী হেলিকপ্টার বহন করতে পারবে। কাশ্মীর নিয়ে পাল্টাপাল্টি: বিশাখাপট্টনামে সাংবাদিকদের কাছে অরুণ জেটলি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি পাকিস্তান কর্তৃক কাশ্মীর সীমান্তে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা বেড়েছে। এদিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, শুক্রবার রাতে কাশ্মীর সীমান্তে পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে শিশুসহ অন্তত দুজন বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে ডন পত্রিকার খবরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বরাতে বলা হয়, বিএসএফের ছোড়া গোলার আঘাতে দুই পাকিস্তানি নিহত হয়েছে।

আমাকে নয়, সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন করেছে কেন্দ্রকে

সুমিত্রা মহাজন
প্রধান বিরোধী দল হিসেবে কংগ্রেসকে গণ্য না করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তার পক্ষে সাফাই গাইলেন ভারতীয় পার্লামেন্টের স্পিকার সুমিত্রা মহাজন। গতকাল শনিবার তিনি দাবি করেন, আইন ও প্রথা অনুসরণ করেই ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। খবর এনডিটিভির। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার লোকসভায় কাউকে প্রধান বিরোধী দল না ধরায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
স্পিকার সর্বোচ্চ আদালতের সেই উদ্বেগের বিষয়ে বলেন, তাঁর প্রতি সুপ্রিম কোর্টের কোনো নির্দেশনা নেই। সুমিত্রা মহাজন গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট লোকপাল নিয়োগ ও প্রধান বিরোধী দলের অনুপস্থিতির বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রশ্ন করেছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল সরকারের অবস্থান আদালতে ব্যাখ্যা করবেন। স্পিকারের প্রতি আদালতের কোনো নির্দেশনা নেই।’

৮১ সেকেন্ডের গোলেই শেষ রিয়াল

অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ তাদের গত মৌসুমের ঐতিহাসিক সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে পারবে কিনা তা সময়ই বলবে। তবে মনে হচ্ছে, এবারও স্প্যানিশ লীগে শিরোপার জন্য অ্যাটলেটিকোর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করতে হবে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনাকে। মৌসুমের শুরুতেই পাওয়া গেল তেমন ইঙ্গিত। স্প্যানিশ সুপার কাপে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়ালকে হারিয়ে মৌসুম দারুণভাবে শুরু করল অ্যাটলেটিকো। বার্নাব্যুতে প্রথম লেগ ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। শুক্রবার নিজেদের মাঠে দ্বিতীয় লেগে রিয়ালকে ১-০ গোলে হারিয়ে স্প্যানিশ সুপার কাপ শিরোপা ঘরে তুলেছে ডিয়েগো সিমিওনের শিষ্যরা। অ্যাটলেটিকোর এই জয়ে নিশ্চিত হয়েছে গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনালে হারের প্রতিশোধও। নবাগত মারিও মান্দজুকিচের হাত ধরে সুপার কাপ জিতে দুই প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বীকে যেন সরাসরি চ্যালেঞ্চ ছুড়ে দিল স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা।ডিয়েগো কস্তা, ডেভিড ভিয়া, থিবো কোর্তুয়া ও ফিলিপ লুইসের বিদায়ের পর এই মৌসুমে অ্যাটলেটিকো ছিল ভাঙা হাট।গতবারের লা লীগা চ্যাম্পিয়নরা এবার তাদের রাজত্ব ধরে রাখতে পারবে কিনা, তা নিয়েও রয়েছে সংশয়। কিন্তু মৌসুমের শুরুতে সেই সংশয় উড়িয়ে দিয়ে এবারও দারুণ কিছু করার ইঙ্গিত দিয়ে রাখল অ্যাটলেটিকো। ফরাসি উইঙ্গার গ্রিজমান, ক্রোয়েশিয়ার স্টাইকার মান্দজুকিচ ও নতুন গোলকিপার ময়া হয়তো অনুভূত হতে দেবেন না কস্তা-ভিয়া-কোর্তুয়ার অনুপস্থিতি। পরশু ভিসেন্তে ক্যালডেরনে অ্যাটলেটিকোর জয়টি এসেছে এই ত্রয়ীর হাত ধরে।
স্প্যানিশ সুপার কাপের ইতিহাসে দ্রুততম গোলটিই করেছেন বায়ার্ন মিউনিখ থেকে আসা মান্দজুকিচ। মাত্র ৮১ সেকেন্ডের মাথায় গ্রিজমানের পাস থেকে রিয়ালের জালে বল জড়িয়ে দেন এই ক্রোয়েশিয়ান ফরোয়ার্ড।প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে অ্যাটলেটিকোর হয়ে এটাই তার প্রথম গোল। তারকাখচিত দল নিয়েও বাকি খেলায় সেই গোলটি আর শোধ করতে পারেনি রিয়াল। ইনজুরি আশংকার মধ্যেও দ্বিতীয়ার্ধে টনি ক্রুসের বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। কিন্তু সময়ের সেরা ফুটবলারও খুঁজে পাননি অ্যাটলেটিকোর জাল। নতুন সেনসেশন জেমস রদ্রিগেজ কিংবা এই গ্রহের সবচেয়ে দামি ফুটবলার গ্যারেথ বেলও পারেননি ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে। রিয়ালের পক্ষে সেরা দুটি আক্রমণ ছিল রদ্রিগেজের। বিপরীতে অ্যাটলেটিকোর পক্ষে ব্যবধান বাড়ানোর নিশ্চিত দুটি সুযোগ নষ্ট করেন প্রথম লেগের হিরো রাউল গার্সিয়া। একবার তার হেড প্রতিহত হয় পোস্টে। ইনজুরি টাইমে লাল কার্ড দেখেন রিয়ালের লুকা মডরিচ।চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ট্র্যাজেডির প্রতিশোধ নিয়ে ১৯৮৫ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতল অ্যাটলেটিকো। আর্জেন্টাইন কোচ ডিয়েগো সিমিওনের অধীনে গত তিন বছরে এটি তাদের পঞ্চম শিরোপা। প্রথমার্ধেই মাথা গরম করে ডাগআউট থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন সিমিওনে। পরে এ জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন। তবে শিষ্যদের কীর্তিতে গর্বিত সিমিওনে, ‘আমাদের ক্লাবের অনেকেরই সুপার কাপ জেতার অভিজ্ঞতা ছিল না। এটা আমাদের সমর্থক ও খেলোয়াড়দের জন্য তাই বিশাল এক প্রাপ্তি। ছেলেদের নিয়ে আমি গর্বিত।’ তবে স্প্যানিশ লীগের প্রসঙ্গ উঠতেই বাস্তববাদী সিমওনে, ‘দীর্ঘ একটি লীগে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার মতো দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা খুবই কঠিন। কিন্তু নকআউট ম্যাচে যে কোনো দলকে হারাতে পারি আমরা।’এই হারে এক মৌসুমে ঐতিহাসিক ছয় শিরোপা জয়ের আশা শেষ হয়ে গেল রিয়ালের। কিন্তু এ নিয়ে নাকি কোনোআফসোস নেই কার্লো আন্সেলোত্তির, ‘আমরা কখনই ছয় শিরোপা জয়ের কথা বলিনি। আমরা শুধু সম্ভাবনার কথাবলেছি। এই ম্যাচে ভালো না খেললেও আমি আমার দল নিয়ে গর্বিত। চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালের চেয়ে এমন ম্যাচে হারাটা ভালো।’ এএফপি/ওয়েবসাইট।

নিশো-মেহজাবীনের পারফিউম

চাকরির ইন্টারভিউ দিতে দিতে চরম হতাশ সাকিব। এই অভিশপ্ত জীবন থেকে সে মুক্তি চায়। মুক্তির পথ খুঁজে পায় না সাকিব। এর মধ্যেই তার জীবনে ঘটে এক অলৌকিক ঘটনা। গভীর রাতে ঘটনাচক্রে বোরখা পরা মহিলার কাছ থেকে একটা পারফিউম পায় সাকিব। এই অদ্ভুত পারফিউম সাকিবের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তর তর করে সাফল্য আসতে থাকে। এত সহজে সাফল্য সাকিবকে ধরা দেবে কেউই ভাবেনি। ভাবেনি সাকিব নিজেও। এক সময় আবিষ্কার করে এসবের পেছনে একটা পারফিউমের সংশ্লিষ্টতা। সাকিব প্রবলভাবে বিশ্বাস করতে থাকে পারফিউমের প্রভাবেই তার সব সাফল্য। আর পারফিউম না মাখলেই কোনো না কোনো একটা বিপদে পড়ে যায় সাকিব।
তাহলে কী সব পারফিউমটার ম্যাজিক? এক সময় পারফিউমটা শেষ হয়ে আসে। আর সাকিব পাগলের মতো রাস্তায়, ফুটপাতে... দোকানে পারফিউম খুঁজতে থাকে। কিন্তু সেই সুবাস আর খুঁজে পায় না। পারলে গাছ থেকেও সুবাস নিতে চায় সাকিব। এরপর গল্প মোড় নেয় অন্যদিকে। রওনক ইকরামের রচনা ও সাজ্জাদ সুমনের পরিচালনায় এমন গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে ঈদের বিশেষ নাটক ‘পারফিউম’। এতে অভিনয় করেছেন নিশো ও মেহজাবীন। নাটকটি প্রসঙ্গে মেহজাবীন বলেন, ‘অনেকদিন পর অন্য ধরনের একটা গল্পের নাটকে অভিনয় করলাম। গল্পে দারুণ চমক আছে। আর চমক রয়েছে নাটকের দৃশ্যায়নেও। আশা করছি দর্শকের ভালো লাগবে।’ নিশো বলেন, ‘কাল্পনিক গল্প নিয়েই বেশিরভাগ নাটক নির্মিত হয়। এটাও কাল্পনিক। তবে গল্পে টানটান উত্তেজনা রয়েছে। অভিনয় করে আমি তৃপ্ত।’ নাটকটি ঈদুল আজহায় যে কোনো একটি চ্যানেলে প্রচার হবে বলে নির্মাতা জানান।

আজাদি মার্চের পেছনে কী? by মাহফুজার রহমান

প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে গত কয়েক দিন ধরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে হটাতে গত ১৪ আগস্ট লাহোর থেকে শুরু করেন আজাদি মার্চ। সেই দাবি আদায়ে রাজধানী ইসলামাবাদে ঘাঁটি গেড়ে বসেছেন পিটিআইয়ের নেতা-কর্মীরা। নওয়াজ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণাও দিয়েছেন তাঁরা। ইসলামাবাদের সুরক্ষিত রেড জোনেও তঁারা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। একই দাবিতে পৃথকভাবে ‘ইনকিলাব মার্চ’ চালিয়ে যাচ্ছেন পাকিস্তান আওয়ামি তেহরিকের (পিএটি) নেতা তাহির উল-কাদরি।

নওয়াজকে হটাতে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নতুন নতুন মাত্রা যোগ কেরছেন ইমরান। ডাক দিয়েছেন অসহযোগ আন্দোলনের। পরে জাতীয় পরিষদ ও তিনটি প্রাদেশিক পরিষদ থেকেও তাঁর দলের নেতাদের পদত্যাগের ঘোষণা এসেছে। কিন্তু কথা হলো, ইমরানের এই আজাদি মার্চে কি টলবে নওয়াজের মসনদ?
এই প্রশ্নের উত্তর সরাসরি দেওয়া কঠিন। পাকিস্তানে রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে রাজনীতিকেরা ছাড়াও আরও কিছু নিয়ামক আছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো সামরিক বাহিনী ও বিচার বিভাগ। নওয়াজের ভাগ্য নির্ধারণে ইমরানের আজাদি মার্চের চেয়েও এই দুই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন অনেকে।
আজাদি মার্চ কেন?
২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে নওয়াজের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ–নওয়াজ (পিএমএল-এন)। এই নির্বাচনেই প্রথমবারের মতো বড় ধরনের সাফল্য পায় ইমরানের পিটিআই। জাতীয় পরিষদে তৃতীয় বৃহত্তম দলের মর্যাদা পাওয়ার পাশাপাশি খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আবির্ভূত হয় তারা। এই নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ইমরান। এ ছাড়া বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে নওয়াজ ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ ইমরানের। তাই নওয়াজের পদত্যাগ দাবি করে নতুন নির্বাচন চেয়েছেন তিনি। নওয়াজের পদত্যাগ ছাড়াও নির্বাচন কমিশনের সংস্কারসহ অন্তত ১০টি দাবি নিয়ে ১৪ আগস্ট আজাদি মার্চ শুরু করেন ইমরান।
অন্য রাজনীতিকদের অবস্থান
সরকার পতনের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দেওয়া ইমরান সহযোগী হিসেবে পাকিস্তানের তাহির উল-কাদরির দল পাকিস্তান আওয়ামি তেহরিক (পিএটি) ছাড়া উল্লেখ করার মতো আর কাউকে পাননি। এ কারণে সমমনা বলে পরিচিত পিএমএল-কিউ (চৌধুরী সুজাত), আওয়ামী মুসলিম লিগ (শেখ রশিদ), মজলিশ ওয়াহদাতুল মুসলিমিন (রাজা নাসির আব্বাস) ও সুন্নি ইত্তেহাদের (সাহেবজাদা হামিদ রাজা) মতো দলগুলোও ইমরানের সাফল্য নিয়ে সন্দিহান।
নওয়াজের পদত্যাগের দাবিতে ইমরান ও কাদরির মার্চ লাহোর থেকে একই দিনে পৃথকভাবে ইসলামাবাদ অভিমুখে যাত্রা করে। ইমরান ও কাদরি আনুষ্ঠানিকভাবে জোটবদ্ধ হননি। তাঁদের মতানৈক্যের জায়গাটা হলো, নওয়াজের পদত্যাগের পর ইমরান নতুন করে পার্লামেন্ট নির্বাচনের দাবি তুললে কাদরি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। যদিও এর আগে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনের প্রস্তাব ছিল তাঁর। এবার দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বক্তৃতায় কাদরি বলেছেন, শুধু সরকারের পদত্যাগ নয়, পুরো প্রক্রিয়ারই পরিবর্তন চান তিনি।
এদিকে প্রধান বিরোধী দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) নওয়াজের পদত্যাগের দাবির সঙ্গে একমত নয়। বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন জাতীয় পরিষদে পিপিপির সংসদীয় দলের নেতা সৈয়দ খুরশিদ আহমেদ শাহ। আর পিপিপির কো-চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, গণতন্ত্রে অসহযোগ আন্দোলনের কোনো স্থান নেই। এর ফলে গণতন্ত্র ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। জারদারি আলোচনার মাধ্যমে দাবিদাওয়ার মীমাংসা করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।
কোনো কোনো বিশ্লেষকের মতে, পিপিপির এই অবস্থানের কারণ হলো জারদারির বিরুদ্ধে ঝুলে থাকা দুর্নীতির মামলা। পিপিপি আন্দোলনে গেলেই সরকার মামলা সচল করবে। সেই ঝুঁকি নিতে চায় না দলটি।
এদিকে শুরু থেকেই নওয়াজের পদত্যাগের দাবি নাকচ করে দিয়ে আসছেন পিএমএল-এনের নেতারা। তাঁরা এই দাবিকে ‘অসাংবিধানিক’ ও ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
সামরিক বাহিনীর ভূমিকা
পাকিস্তানের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনী যে কত বড় খেলোয়াড়, তা বোঝার জন্য দুটি তথ্যই যথেষ্ট। ১৯৪৭ সালে দেশটির জন্মের পর সেখানে এখন পর্যন্ত বেশির ভাগ সময়ই ক্ষমতায় ছিলেন সরাসরি কোনো সামরিক শাসক কিংবা উর্দি ছেড়ে দিয়ে গণতন্ত্রকে ঢাল বানানো কোনো সামরিক নেতা। আর দেশটির ৬৭ বছরের ইতিহাসে গত বছরই কেবল গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কোনো সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং নতুন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ কারণেই প্রশ্ন উঠেছে, ইমরান কি সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে সাংঘর্ষিক অবস্থা সৃষ্টি করছেন? সামরিক বাহিনী কি পেছন থেকে উসকানি দিচ্ছে? যদিও সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে সমঝোতার জন্য সরকার ও বিরোধী উভয়পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
সামরিক বাহিনী যে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজের ওপর আদৌ সন্তুষ্ট নয়, সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। সাবেক সেনাশাসক পারভেজ মোশাররফকে বিচারের মুখোমুখি করেছেন তিনি। এটা পছন্দ হয়নি উর্দিধারীদের। ১৯৯৯ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিলেন মোশাররফ। তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা চলছে। এ ছাড়া তালেবানের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানোর বিষয়ে নওয়াজের সিদ্ধান্তহীনতা এবং চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের নীতিও ভালো লাগেনি শীর্ষ সামরিক সামরিক কর্মকর্তাদের।
পাকিস্তানি একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, হয় সামরিক বাহিনী নওয়াজকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য ইমরানকে সাহস দিয়েছে, নয়তো নওয়াজের প্রতি সামরিক নেতাদের নাখোশ হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে ইমরান নিজেই সেই সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ওই বিশ্লেষক আরও বলেন, নওয়াজের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর সম্পর্ক শূন্যের কোঠায় না পৌঁছে থাকলে আজাদি মার্চ থেকে কোনো ফায়দা নিতে পারবেন না ইমরান।
চলমান সংকট নিয়ে পরামর্শের জন্য সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরিফের কাছে দূত পাঠন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ। নওয়াজের দূতেরা জানিয়েছেন, সামিরক বাহিনী অভ্যুত্থান ঘটাবেনা বলে আশ্বাস দিয়েছে। তবে এর বিনিময়ে তাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে কিছু জায়গায় ছাড় দিতে হবে। এই ছাড় দেওয়ার মানে হলো পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, নিরাপত্তা ও কৌশলগত নীতিতে জেনারেলদের কর্তৃত্ব বেড়ে যাওয়া। যার অর্থ দাঁড়ায়, আবারও চালকের আসনে আসীন হতে চাইছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।