Tuesday, July 3, 2018

যা বলার দিল্লিতেই বলবো -বিবিসিকে লর্ড কার্লাইল

বিএনপির কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে দিল্লি এসে ব্রিফিং করবেন তার নিযুক্ত বৃটিশ আইনজীবী লর্ড কার্লাইল। সেখানে তিনি দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমকে যে বার্তাটি দিতে চান তা খুবই স্পষ্ট। তা হলো- খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখার চেষ্টা চলছে। বৃটেনের হাউস অব লর্ডসের এই প্রবীণ সদস্য বিবিসিকে এসব কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে, বাংলাদেশ সরকার তার ভাষায় ‘তার ভিসার আবেদন ঝুলিয়ে রেখেছে’ বলেই তিনি বাধ্য হয়ে দিল্লিতে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করছেন। সেখানে ঢাকা থেকে বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতা যোগ দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো কেন ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ সেটাই তিনি দিল্লিতে ব্যাখ্যা করবেন লর্ড কার্লাইল। এ নিয়ে লন্ডনে তার সঙ্গে কথা বলেন বিবিসি’র সংবাদদাতা শুভজ্যোতি ঘোষ। লর্ড কার্লাইল বিবিসিকে বলেন, ‘আমি বেগম জিয়ার কৌঁসুলিদের একজন। আর এ সম্মেলনটি আমি ঢাকাতেই করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার আমার ভিসা দেয়া না দেয়ার প্রশ্নে ইচ্ছাকৃতভাবে আগে থেকেই বাধা সৃষ্টি করছে। তারা এখনো আমার ভিসা প্রত্যাখ্যান করেনি ঠিকই। কিন্তু এখনো আমার হাতে বাংলাদেশের ভিসা নেই।
ফলে আমি ঢাকায় এ অনুষ্ঠানটি করতে পারছি না। পরিবর্তে দিল্লিতেই সেটি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ লর্ড কার্লাইল বলেন, ‘দিল্লির এই অনুষ্ঠানে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব না থাকলে আমি অবাকই হবো। তবে আমি স্পষ্ট করে দিতে চাই- আমি কোনো রাজনৈতিক প্রচারণায় শামিল হতে দিল্লি যাচ্ছি না; একজন সিনিয়র বৃটিশ আইনজীবী হিসেবে আমাকে এ মামলায় আমার মক্কেলের পক্ষে নিয়োজিত করা হয়েছে- সেকারণেই আমি এটা করছি। আমি বিশ্বাস করি, শুধুমাত্র রাজনীতির কারণেই এ মামলাটি রুজু করা হয়েছে।’ ১৫ বছর ধরে হাউস অব কমন্সের সদস্য থাকা ও প্রায় দু’দশক যাবৎ হাউস অব লর্ডসের সদস্য লর্ড কার্লাইল দাবি করছেন, রাজনীতি ও আইনের জগতে এত দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতার সুবাদে তিনি নিশ্চিত যে, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি সম্পূর্ণ সাজানো। তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পেশ করা সাক্ষ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে আমি বুঝেছি, সেগুলো আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়। তা থেকে আদৌ প্রমাণিত হয় না যে, তিনি কোন্‌ ধরনের জালিয়াতি করেছেন। সেটাই আমি দিল্লিতে গণমাধ্যমের কাছে ব্যাখ্যা করবো। আর দ্বিতীয়ত এ থেকেই বোঝা যায়, এই মামলা আনার পেছনে সম্পূর্ণ অন্য উদ্দেশ্য আছে।’
খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হচ্ছে- তিনি এমন মনে করছেন কিনা সে প্রসঙ্গে লর্ড কার্লাইল বলেন, ‘আমি ভেনডেটা (প্রতিহিংসা) শব্দটা ব্যবহার করতে চাই না। তবে এটুকু বলবো- খালেদা জিয়াকে দেশে আসন্ন নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে অবশ্যই একটা তীব্র রাজনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে। কোনো প্রমাণ ছাড়াই ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত করে সত্তরোর্ধ্ব একজন মহিলাকে যেভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছে, সেটা তাকে রাস্তা থেকে সরাতে হয়তো সফল হতে পারে, কিন্তু অপরাধ হিসেবে অমার্জনীয়।’

নওয়াজকে ঠেকাতে সব ধরণের কৌশল খাটাচ্ছে সেনাবাহিনী

পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় দেশটির সাধারণ নির্বাচন পাতানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সেনা মুখপাত্র এই দাবি পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন। অবশ্য এমনটা নজিরবিহীন নয়। ১৯৯০ সালে সেনা-কর্তৃত্বাধীন গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই দেশের বামঘেঁষা পিপল’স পার্টির (পিপিপি) প্রতিপক্ষ দলগুলোর মাঝে অর্থ বিলায়। আর পরাজিত হয় পিপিপি। তবে এবারও এ ধরণের তৎপরতা চালানোর যেই অভিযোগ আইএসআই’র বিরুদ্ধে তা কড়া ভাষায় অস্বীকার করেছেন সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল আসিফ গফুর।
কিন্তু এই অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণ ক্রমেই জোরদার হচ্ছে।
লন্ডনের দ্য ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে এসব বলা হয়েছে। ‘পাকিস্তান আর্মি ইজ ইউজিং এভরি ট্রিক টু সাইডলাইন নাওয়াজ শরিফ’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এবার সেনা হস্তক্ষেপের লক্ষ্যবস্তু হলেন নওয়াজ শরিফ, যিনি গত বছর প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে অপসারিত হন। মজার ব্যাপার হলো, ১৯৯০ সালের নির্বাচনে সেনা হস্তক্ষেপের প্রধান লাভ্যাংশভোগী ছিলেন এই নওয়াজ। সেবার তিনি প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। কিন্তু শিগগিরই সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয় তার।
১৯৯৩ সালেই সেনাবাহিনীর চাপের মুখে পদত্যাগ করেন নওয়াজ। এরপর ১৯৯৯ সালে তার বিরুদ্ধে সরাসরি অভ্যুত্থান করে সেনাবাহিনী। কিন্তু ২০১৩ সালে আবার ক্ষমতায় আসেন তিনি। এসেই দেশের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিতে বেসামরিক সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় উন্মুখ হয়ে পড়েন। আবার এই দুই ইস্যুকেই নিজের একচ্ছত্র কর্তৃত্বাধীন বলে মনে করে সেনাবাহিনী।
নওয়াজ যখন বেসামরিক প্রশাসনের কর্তৃত্ব স্থাপন করতে চাইলেন, সেনাবাহিনী তখন অনেকটা প্রকাশ্যেই তার প্রশাসনকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করলো। এমনকি বিরোধী দল পাকিস্তান মুভমেন্ট ফর জাস্টিসের (পিটিআই)-এর কয়েক মাসব্যপী সরকার-বিরোধী বিক্ষোভে সমর্থনও দেয় সেনাবাহিনী। এছাড়া গতবছর রাজধানীর একটি ব্যস্ততম মোড় একদল প্রতিবাদকারী দখলে নিলে তাদেরকে হটাতে সেনাবাহিনীর সহায়তা চায় সরকার। তবে সেনাবাহিনী তখন সরকারের ওই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। বরং, এক সেনা জেনারেলকে দেখা গেছে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অর্থ বিতরণ করতে। গত বছর কথিত ‘অসততা’র মতো হাস্যকর অভিযোগে যখন সুপ্রিম কোর্ট নওয়াজ শরিফকে অপসারণ করে, তার পেছনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল বলে অনেকের দাবি। তবে সেনাবাহিনী এমন অভিযোগ বেশ কড়া ভাষায় অস্বীকার করে। নওয়াজ শরিফ তাকে অপসারণের পেছনে অদৃশ্য হাতের ভূমিকা থাকার দাবি করেন।
এটি সত্য, নওয়াজ শরিফ চান তার প্রতি সেনারা যেই আচরণ করেছে, তার ফয়সালার ক্ষেত্র যেন হয়ে উঠে আগামী নির্বাচন। তবে তিনিও সরাসরি সেনাবাহিনী শব্দটি উচ্চারণ করেন না। সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাকে বোঝাতে তিনি ‘এসটাবলিশমেন্ট’ ও ‘অ্যালিয়েন’ শব্দদ্বয় ব্যবহার করেন। গত মাসে তিনি অভিযোগ করে বসেন, ২০০৮ সালে ভারতে যেই সন্ত্রাসী হামলায় ১৬৬ জন মানুষ নিহত হয়, তার নেপথ্যে ছিল সেনাবাহিনী। সাবেক জেনারেল তালাদ মাসুদ বলেন, তার এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পূর্বে সেনাবাহিনী কখনই নিজের উচ্চাসন নিয়ে এতটা আতঙ্কিত বোধ করেনি।
এই বছরের শুরুতে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে যেই পরোক্ষ নির্বাচন হয়েছে, তা থেকেই বোঝা যায় সেনাবাহিনী কীভাবে কাজ করে। দেশের চারটি প্রাদেশিক আইনসভা যখন নতুন সিনেটর নির্বাচন করবে, তার কয়েক সপ্তাহ আগে বেলুচিস্তান প্রদেশের সরকার ভেঙ্গে যায়। ওই প্রাদেশিক সরকার ছিল নওয়াজের পিএমএল-এন’র নেতৃত্বাধীন। হুট করে খোদ তার দলেরই কয়েকজন আইনপ্রণেতা পক্ষত্যাগ করলে ওই সরকারের পতন ঘটে। শরিফের একজন মিত্র দাবি করেন, এর নেপথ্যে ছিল আইএসআই।
যাই হোক। পরবর্তীতে দেখা যায়, পিএমএল-এন’র পক্ষত্যাগী আইনপ্রণেতারা স্বতন্ত্রদের সঙ্গে মিলে গঠন করেন সামরিক বাহিনী পন্থী দল বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টি (বিএপি)। এই দল পরবর্তীতে সিনেটে বেলুচিস্তানের জন্য বরাদ্দকৃত আসনের বেশ কয়েকটি পেয়ে যায়। আর নতুন সিনেট সদস্যরা বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে মিলে সিনেট চেয়ারম্যান হিসেবে নওয়াজের দলের প্রার্থীকে হটিয়ে দেয়! অথচ, এই বিরোধী দলগুলোর মধ্যে এতদিন বিরোধ এতটাই তীব্র ছিল যে তাদের মধ্যে ঐক্য হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না।
উর্দু ভাষার একটি পত্রিকার প্রতিবেদনে উঠে আসে, কীভাবে সেনাবাহিনী ওই সিনেটরদেরকে নওয়াজের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দিতে সহায়তা করে। সিনেট চেয়ারম্যান মনোনয়নে ব্যর্থ হয়ে নওয়াজের দল সংবিধানের একটি অস্পষ্ট অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারে ব্যর্থ হয়। এই অস্পষ্ট অনুচ্ছেদ ব্যবহার করেই সুপ্রিম কোর্ট নওয়াজ শরিফকে বরখাস্ত করেছিল।
সেনাবাহিনী পন্থী বলে পরিচিত পিটিআই’র নেতা ইমরান খান অস্বীকার করেন না যে, সেনাবাহিনী রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে। তবে তার যুক্তি, আরও শক্তিশালী বেসামরিক সরকারই (তথা তার নেতৃত্বাধীন সরকার) এ থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারে। ইমরান হয়তো সরকার গঠনের পথ পেয়েও যেতে পারেন।
দেশের সবচেয়ে জনবহুল অঙ্গরাজ্য পাঞ্জাবে নওয়াজের দল থেকে পদত্যাগের হিড়িকে সবচেয়ে বেশি লাভ হয় ইমরানের দল পিটিআই’র। একান্ত আলাপচারিতায় অনেক রাজনীতিবিদ স্বীকার করেছেন যে তারাও চাপ পেয়েছেন। কাউকে আবার পিএমএল-এন না ছাড়লে দুর্নীতির অভিযোগ আনার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
২০১৩ সালের নির্বাচনে পাঞ্জাবের ১৪৮টি আসনের মধ্যে ১১৬টিতে জয় পেয়েছিল নওয়াজের দল। তাই পাঞ্জাবে আসন বাড়াতে পারলে দেশের সম্ভাব্য জোট সরকারের নেতা হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে ইমরানের। সাবেক কূটনীতিক হোসেন হাক্কানি বলেন, এই ধরণের সরকার সেনাবাহিনীরও পছন্দের।
এদিকে এ সব কিছু নিয়ে যেসব সংবাদমাধ্যম সমালোচনায় মুখর ছিল, তারা বাণিজ্যিক সংকটের শিকার হয়েছে। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় টিভি স্টেশন জিও টিভিকে রহস্যজনকভাবে ক্যাবল কোস্পানিগুলো প্রত্যাহার করে নেয়। পরবর্তিতে বিচারবিভাগের সমালোচনা ও নওয়াজ শরিফের প্রতি সমর্থনের তীব্রতা কমিয়ে দিলে ফের ফিরে আসে জিও। পিএমএল-এন’র সমর্থক সাংবাদিক গুল বুখারিকে সস্প্রতি কয়েক ঘণ্টার জন্য অপহরণ করা হয়। এই সপ্তাহে উদারপন্থী সংবাদপত্র ডন জানিয়েছে, দেশের বেশিরভাগ জায়গায় পত্রিকা পৌঁছাতে দেওয়া হচ্ছে না। এক সাংবাদিকের ভাষায়, ‘আমাদেরকে ১১০ ভাগ স্তব্ধ করে হয়েছে।’
তবে সেনাবাহিনীর পরিকল্পনার একমাত্র দৃশ্যমান প্রতিবন্ধকতা হলো নওয়াজ শরিফের প্রতি ভোটারদের সহানুভূতি। তার জনসভায় বিপুল লোকসমাগম হয়। গ্যালাপের জরিপে দেখা গেছে, জাতীয়ভাবে পিটিআই’র চেয়ে ১৩ পয়েন্টে এগিয়ে আছে পিএমএল-এন। সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ পাঞ্জাবে এগিয়ে আছে ২০ পয়েন্টে। রাওয়ালপিন্ডি শহরের গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলার বাসিন্দা মুজাফফর মুগল বলেন, ‘আমরা জানি সামনের নির্বাচনে কারচুপি করার চেষ্টা করবে এস্টাবলিশমেন্ট। তবে আমি তাকে (নওয়াজ) ফের ভোট দেব।’
অনেক পাকিস্তানী ইদানিং সেনাবাহিনীর এমন সমালোচনা করেছেন যেটা আগে কখনই দেখা যায়নি। গত বছর গজিয়ে উঠেছে পুশতুন প্রোটেকশন মুভমেন্ট (পিটিএম) নামে একটি নাগরিক অধিকার সংগঠন। ইতিমধ্যেই খ্যাতি পাওয়া এই সংগঠন সেনাবাহিনীর জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযানের প্রতিবাদ থেকে উদ্ভূত। পিটিএম’র দাবি, সস্প্রতি ২০ হাজার মানুষের গুম হওয়ার বিষয়টি তদন্ত করুক জাতিসংঘ। পাশাপাশি, পাকিস্তানের উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল যেখানে প্রায় ৩ কোটি পুশতুন বসবাস করেন, সেখান থেকে সামরিক চৌকি ও কার্ফিউ প্রত্যাহারেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
পিটিএম’র বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর প্রতিক্রিয়া ছিল প্রচ- তীব্র। সংগঠনটির ৩৭ জন কর্মীকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহে’র অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মাসে একটি জনসভায় অংশ নিতে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর করাচিগামী বিমানে চড়তে বাধা দেওয়া হয় পিটিএম’র জনপ্রিয় নেতা মনজুর পাশতিনকে। পরে তিনি দুই দিন গাড়ি চালিয়ে করাচি পৌঁছান। সেখানে তিনি দেখতে পান তার ১০ হাজার সমর্থক অন্ধকারে মাটিতে বসে আছে। কারণ, যেই কোস্পানির ওই অনুষ্ঠানে চেয়ার ও লাইট সরবরাহের কথা ছিল, তারা পিছু হটেছে। এটি ছিল স্রেফ আরেকটি ব্যাখ্যাতিত ঘটনা, যেমনটা সেনাবাহিনী-বিরোধী কর্মকান্ডে অহরহই ঘটে থাকে।
পুশতুন নন এমন মানুষও এখন পিটিএম’কে সমর্থন করা শুরু করেছেন। এ নিয়ে বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন সেনাবাহিনী। করাচির ওই জনসভায় বেলুচিস্তান থেকে অংশ নিয়েছিলেন ৬৬ বছর বয়সী এক নারী। বেলুচিস্তানেও সেনাবাহিনীর ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ স্থানীয় বাসিন্দান্দের। ওই নারীকে সেই জনসভায় নিজের সন্তানের ছবি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তার ছেলে প্রায় এক বছর ধরে নিখোঁজ।
কিছু সেনা জেনারেল অবশ্য আরও নরম প্রতিক্রিয়া দেখানোর পক্ষে। দেরিতে হলেও গ্রেপ্তারকৃত পিটিএম-কর্মীদেরকে সস্প্রতি জামিন দেওয়া হয়েছে। এটিকে কেউ কেউ দেখছেন সেনাবাহিনীর নিরব পিছু হটার লক্ষণ হিসেবে। তবে রাজনীতি থেকে বৃহত্তর অর্থে সরে দাঁড়ানোর জন্য যেই সাহস প্রয়োজন, তা দৃশ্যত সেনাবাহিনীর নেই।

প্রভাষকের স্ত্রীর সঙ্গে অধ্যক্ষের পরকীয়া, চাকরি গেল দু’জনের by জাবেদ রহিম বিজন

প্রভাষকের স্ত্রীর সঙ্গে অধ্যক্ষের পরকীয়ার জেরে চাকরি হারালেন দু’জনই। এ ঘটনায় দু’দিনের ছুটি  ঘোষণা করা হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া গ্যাস ফিল্ডস স্কুল অ্যান্ড কলেজে। পরকীয়া প্রেমের ঘটনা টক অব দ্য টাউন। পরকীয়া প্রেমিক জুটির কথোপকথনের একটি রেকর্ডও ছড়িয়ে পড়েছে। ৮ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড কথোপকথনের ওই অডিও রেকর্ডের একটি অংশে অধ্যক্ষ বিশ্বজিৎ ভাদুরীকে বলতে  শোনা যায়- ‘একটু আদর দেবেন’। এর জবাবে প্রভাষক স্ত্রী রেহেনা: আমি আদর দিতে জানি না।
আপনি আছেন এক প্রান্তে, আমি আরেক প্রান্তে। এরমধ্যে চুম্বনের শব্দ। প্রথমে ভাদুরী পরে রেহেনা। এর আগে রেহেনা বাসায় একা একা আছেন বলে জানান ভাদুরীকে। তখন ভাদুরী বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় থাকলে চলে আসতাম।’ 
ব্রাহ্মণবাড়িয়া গ্যাসফিল্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বিশ্বজিৎ ভাদুরী তারই কলেজের প্রভাষক ইছা হকের স্ত্রী রেহেনা পারভীনের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হন কয়েক মাস আগে। তবে বৃহস্পতিবার (২৮শে জুন) প্রভাষক ইছা হকের স্ত্রী রেহেনা পারভীন এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেন ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের কোম্পানি সচিব নাসিবুজ্জামান তালুকদারের কাছে। এরপর রোববার এ নিয়ে গভর্নিং কমিটির সভা বসে। সেখানে অভিযোগের বিষয়টি প্রমাণিত হলে অধ্যক্ষ এবং প্রভাষক দু’জনকেই চাকরি থেকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ খবরে ওইদিন বিকালে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা কলেজের সামনের কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ এবং বিক্ষোভ করে। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপরই গতকাল থেকে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস স্কুল অ্যান্ড কলেজ দু’দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়।
রেহেনা পারভীনের দেয়া অভিযোগ থেকে জানা যায়- অধ্যক্ষ বিশ্বজিৎ ভাদুরী ও প্রভাষক ইছা হক জেলা শহরের বিরাসারে একটি বাড়িতে পাশাপাশি ভাড়া থাকতেন। এই সুবাদে অধ্যক্ষ বিশ্বজিৎ ভাদুরী আইসিটি প্রভাষক ইছা হকের স্ত্রী রেহেনা পারভীনকে প্রায় বিরক্ত করতেন। গত কয়েকমাস আগে অধ্যক্ষ বিশ্বজিৎ ভাদুরী  রেহেনা পারভীনকে ফোন করেন। রেহেনাকে অনেক ভালো লাগে বলে ভাদুরী রেহেনাকে জানান। রেহেনার স্বামী ইছা হক কলেজে চলে গেলে প্রায় তিনি তার বাসার কলিং বেলে চাপ দিতেন। গত ২৭শে জানুয়ারি চিনাইর বঙ্গবন্ধু অনার্স কলেজে ইছা হক ও তার স্ত্রী রেহেনা পারভীন এবং অধ্যক্ষ বিশ্বজিৎ ভাদুরী তার  ছেলেমেয়ে নিয়ে একটি মেধাবৃত্তির অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে কলেজের অফিসের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষের  ভেতর বড় আরেকটি কক্ষে পেছনের দিক থেকে চেপে ধরে রেহেনার পিঠে চুমো দেন অধ্যক্ষ বিশ্বজিৎ ভাদুরী। বিষয়টি রেহেনা পারভীন পরিবারের লোকজনকে জানান।
পরে তারা এ সবের প্রমান আছে কি না জানতে চান।  গত ২৫শে মে থেকে ৩০শে মে পর্যন্ত কুমিল্লায় একটি প্রশিক্ষণে ছিলেন অধ্যক্ষ ভাদুরী। এ সময় ভাদুরী মুঠোফোনে রেহেনার সঙ্গে কথা বলেন। তার আগে ২৪শে মে বিশ্বজিৎ বাসা পরিবর্তন করে অন্যত্র চলে যান। অধ্যক্ষের এমন আচরণের বিষয়টি রেহেনা তার বাবা-মা ও শ্বশুরের সঙ্গে আলোচনা করেন। তাদের পরামর্শেই কোম্পানী সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ  দেন। বৃহস্পতিবার এই অভিযোগ পাওয়ার পর রোববার কলেজের গভর্নিং কমিটির বৈঠক বসে। সেখানে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অধ্যক্ষ ও প্রভাষককে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়। এরপরই তারা দু’জন পদত্যাগ করেন। তবে এখন অধ্যক্ষ বিশ্বজিৎ ভাদুরী বলছেন- তিনি ষড়যন্ত্র ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার। সিবিএ এবং স্থানীয় শিক্ষকরা তাকে ব্ল্যাকমেইল করেছে। তাকে পদত্যাগ করানো হয়েছে। ভয়ে তিনি পদত্যাগ করেছেন। তিনি বলেন, তাদের (কর্তৃপক্ষ) উচিত ছিলো সময় নিয়ে বিষয়টি দেখা। তবে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের কোম্পানি সচিব নাসিবুজ্জামান তালুকদার বলেছেন- বিষয়গুলো খুবই নোংরা। একটি অডিও আছে  সেটি শুনলে আপনি বুঝতে পারবেন কি হয়েছে।
অধ্যক্ষের সঙ্গে অভিযোগকারীর স্বামীর পদত্যাগের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন- একজন লোক বাসায় যায়। মেলামেশা করে এতে তার কি কোনো দায়িত্ববোধ ছিলো না। যে করে আর যে সমর্থন দেয় তাদের উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। শিক্ষকরা সম্মানিত ব্যক্তি। তাদেরকে আমাদের সন্তানরা অনুসরণ করবে। যে কাজটা তারা করেছেন তাতে তাদেও নৈতিক অবক্ষয় হয়েছে বলে ধরা পড়ে।
বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা হয় ২০০৩ সালে। প্রতিষ্ঠাকালীন প্রাইমারি শাখা থেকে এটি কলেজে উন্নীত হয়। এর ছাত্রছাত্রী ৩ সহস্রাধিক। দেশের বৃহৎ গ্যাস উৎপাদনকারী একটি কোম্পানির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বলে এর সুনাম রয়েছে।