Tuesday, October 14, 2014

হয়ে উঠুন গ্রাফিক্স ডিজাইনার by সোহানুর রহমান অনন্ত

ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিতে পারেন গ্রাফিক্স ডিজাইনকে। এখানে যেমন আপনি কাজের অফুরন্ত সুযোগ পাবেন, তেমনি ভালো কাজ দেখিয়ে দেশী-বিদেশী সব জায়গা থেকে সুনাম পেতে পারেন। লিখেছেন সোহানুর রহমান অনন্ত
বর্তমান যুগ প্রতিযোগিতার যুগ। তাই চাকরি পাওয়া অনেকটা সোনার হরিণ। তবে মেধা ও বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন একজন সফল ব্যক্তি। ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিতে পারেন গ্রাফিক্স ডিজাইনকে। এখানে যেমন আপনি কাজের অফুরন্ত সুযোগ পাবেন, তেমনি ভালো কাজ দেখিয়ে দেশী-বিদেশী সবখান থেকে সুনাম অর্জন করতে পারেন। এটি এক দিকে যেমন সম্মানীয় পেশা, অন্য দিকে যুগোপযোগী। সারা বিশ্বে গ্রাফিক্স ডিজাইনারের চাহিদা অনেক। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে কী লাগে।
শুরুতেই জেনে নেই গ্রাফিক্স ডিজাইনার কে? গ্রাফিক্স ডিজাইন হলো আর্টের মাধ্যম। যিনি গ্রাহকের চাহিদানুযায়ী বেশ কিছু কালার, আইডিয়া, টাইপফেস, ইমেজ এবং অ্যানিমেশন ব্যবহারের মাধ্যমে তার চাহিদা পূরণ করতে সম হন। মোটকথা নিজের আইডিয়া এবং কম্পিউটারের টুলস ব্যবহার করে যিনি নতুন নতুন ডিজাইন তৈরি করেন, তিনিই গ্রাফিক্স ডিজাইনার।
কম্পিউটার গ্রাফিক্স শাস্ত্রটিকে নিচের চারটি প্রধান শাখায় ভাগ করা সম্ভব :
১. জ্যামিতি : বিভিন্ন জ্যামিতিক তল কিভাবে উপস্থাপন ও প্রক্রিয়া করা হবে, তার গবেষণা
২. অ্যানিমেশন : দৃশ্যমান বস্তুর চলন (motion) কিভাবে উপস্থাপন ও পরিবর্তন করা যায়, তার গবেষণা
৩. রেন্ডারিং : আলোর পরিবহন কিভাবে অ্যালগারিদমের মাধ্যমে সৃষ্টি করা যায়, তার আলোচনা।
৪. ইমেজিং : ছবি আয়ত্তকরণ (image acquisition) এবং ছবি সম্পাদনা (image editing)
গ্রাফিক্স ডিজাইনারের আয় :
হয়তো আপনি জানতে চাইবেন একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের আয় কত হতে পারে? বাংলাদেশে গ্রাফিক্স ডিজাইনে ডিপ্লোমাধারীর বেতন মাসে সাধারণত ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। তবে ব্যাচেলর ফাইন আর্টসে ব্যাচেলর ডিগ্রিধারীদের বেতন মাসিক এক থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে হলে যে শিাগত যোগ্যতা খুব বেশি দরকার তা কিন্তু নয়। তবে শিক্ষা থাকাটা জরুরি। যেহেতু কাজগুলো আপনাকে কম্পিউটারে করতে হবে এবং বিভিন্ন সাইটে ইংরেজিমাধ্যমে কথা আদান-প্রদান করতে হবে। সাধারণত আপনি অল্প শিতি হলেও গ্রাফিক্স ডিজাইনার হয়ে মাসে ১০-২০ হাজার টাকা আয় করতে পারে। আগেই বলেছি, বিশ্বে গ্রাফিক্স ডিজাইনের প্রচুর কদর রয়েছে।
আপনি চাইলে ঘরে বসে অনলাইনের
মাধ্যমেও বায়ারদের সাথে কাজ করতে পারেন। অনলাইনে আপনি একটি লোগো ডিজাইন করলে পাঁচ থেকে শুরু করে দুই হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। অনলাইনে গ্রাফিক্স ডিজাইনের বেশ কিছু জনপ্রিয় সাইট হলো : ৯৯ ডিজাইন’স ডটকম, ফ্রিল্যান্সার কনটেস্ট, ওডেস্ক। এসব সাইটে
আপনি বিভিন্ন কাজ পাবেন। কাজ যত ক্রিয়েটিভি হবে তত বেশি গ্রহণযোগ্যতা পাবে। জাতীয় যুব উন্নয়ন কেন্দ্র এবং বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গ্রাফিক্স ডিজাইনের ওপর কোর্স চালু করে থাকে। এখান থেকে আপনি কোস শেষ করে চাকরি পেতে পারেন খুব সহজে। গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন একেবারে সহজে।

লতিফ সিদ্দিকীকে অপসারণ -আইনগত ব্যবস্থা নেয়া জরুরি

মহানবী সা: ও হজ নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের কারণে আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রেসিডিয়ামের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। ধর্মের অবমাননা ও কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুুভূতিতে আঘাত দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার মন্ত্রিসভার একজন সদস্যের বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ নিয়েছেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আবদুুল লতিফ সিদ্দিকীর গর্হিত মন্তব্যের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে, তাতে তাকে মন্ত্রিসভায় রাখার কোনো সুযোগ ছিল না। ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির জন্য তিনি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। ফলে তাকে মন্ত্রিসভা ও দলীয় পদ থেকে সরানো ক্ষমতাসীন দলের একটি সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এটা। তাকে সরিয়ে দেয়া না হলে ক্ষমতাসীনদের রাজনীতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হতো।
মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে লতিফ সিদ্দিকী অপরাধ করেছেন। দেশের প্রচলিত আইনে তার বিচার করা সম্ভব। ধর্মের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্যের কারণে সাধারণ মানুষ তার বিচার দাবি করেছে। কিন্তু এ ব্যাপারে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি; বরং আমরা গণমাধ্যমে লতিফ সিদ্দিকীর ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য দেখছি। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এখন প্রতিবেশী দেশ ভারতে অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি প্রয়োজনে ধর্মদ্রোহী হবেন বলে মন্তব্য করেছেন। এর আগে বিবিসির সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা থেকে তিনি সরে আসবেন না। এ ধরনের বক্তব্যের জন্য তিনি অনুতপ্তও নন। অর্থাৎ লতিফ সিদ্দিকী জেনেবুঝেই ইসলাম ধর্মের মৌলিক বিশ্বাস ও মহানবী সা:-কে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। এখন সরকারের উচিত হবে তাকে আইনের আওতায় আনা।
ক্ষমতাসীন দলের নেতারা দাবি করে থাকেন লতিফ সিদ্দিকীর এই বক্তব্য একান্তই তার ব্যক্তিগত মন্তব্য। দল বা সরকার তার কোনো দায় নেবে না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও মন্ত্রী হওয়ায় এ ধরনের বক্তব্য দেয়ার সাহস পেয়েছেন। এ ছাড়া এর আগেও তিনি এ ধরনের বেফাঁস মন্তব্য করেছেন। এমনকি ধর্মবিরোধী বক্তব্য রাখার পরও এ দেশে অনেকে ক্ষমতাসীন দল ও বুদ্ধিজীবীদের একাংশের সমর্থন পেয়েছেন। ভুলে গেলে চলবে না, শাহবাগকেন্দ্রিক কিছু ধর্মবিরোধী তরুণকে নানাভাবে সমর্থন দেয়া হয়েছিল। মহানবী সা:-কে নিয়ে ব্লগে কুৎসিত রচনা লেখার কারণে একজন অভিযুক্তকে ‘দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ’ বলে সংসদে বক্তব্য রাখা হয়েছিল। এসবের ধারাবাহিকতায় লতিফ সিদ্দিকীর মতো একজন সিনিয়র মন্ত্রীও এ ধরনের বক্তব্য রেখেছিলেন। তার এই বক্তব্য যেকোনো ধর্মবিশ্বাসী মানুষের মাঝে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে। সরকার বিষয়টি অনুমান করতে পেরে এই ব্যবস্থা নিয়েছে।
কিন্তু আমরা মনে করি, মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেয়া কিংবা দলের পদ থেকে সরিয়ে দেয়াই যথেষ্ট নয়। দেশের প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। একই সাথে ক্ষমতাসীনদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ধর্মবিরোধী ব্যক্তিদের পক্ষে অবস্থান নেয়ার নীতি থেকে সরে আসতে হবে। এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার মাধ্যমেই কেবল সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

এমপির ক্ষমতার দাপট -দেশ কি নৈরাজ্যের কবলে পড়েছে

সরকারি দলের নেতারা নানা ধরনের অনিয়ম ও অপরাধের জন্ম দিয়ে আসছেন। পুলিশ, শিক্ষক এবং প্রশাসনের লোকেরাও তাদের হাত থেকে রেহাই পাননি। এ ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনার জন্ম দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যরাও পিছিয়ে নেই। সর্বশেষ, ভাঙা রাস্তা কেন ঠিক করেন নাÑ এমন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে এমপির নির্দেশে তিন যুবককে থানায় নেয়া হয়। রাজশাহী-৫ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্যকে রাস্তার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করার অভিযোগে তারই নির্দেশে তিনজনকে আটক করে পুলিশ। এই জিজ্ঞাসাকে জবাবদিহিতার বিষয় না ভেবে কটূক্তি ধরে নিয়ে তাদের হয়রানি ও শায়েস্তা করার উদ্যোগ নিলেন সংসদ সদস্য। থানার ওসি জানালেন, সংসদ সদস্যকে কটূক্তি করায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই তিনজনকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তবে তাদের আটক করা হয়েছে, এমনটি ঠিক নয়। তারা মতাসীন দলেরই লোক। তাদের থানায় বসিয়ে রাখা হয়েছে। কিছুণ পরই তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যাবে। নিজ থানা এলাকার বাইরে গিয়ে আটক করে নিয়ে আসা প্রসঙ্গে অতি উৎসাহী ওসি বললেন, খবর পেয়ে দুর্গাপুর থানা পুলিশ সহযোগিতার জন্য ঘটনাস্থলে যায়। ওই সময় পুঠিয়া থানা পুলিশের একটি দলও ঘটনাস্থলের আশপাশেই ছিল। তবে দুর্গাপুর থানা পুলিশ আগে যাওয়ায় তারাই ওই তিনজনকে থানায় নিয়ে আসে।
সংসদ সদস্য নিজেও স্বীকার করেছেন, তাকে কটূক্তি করার দায়ে পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে।
আমি পুলিশকে বলেছি, তাদের ব্যাপারে আইনি কোনো পদপে নেয়ার দরকার নেই। একটু শাসন করে ছেড়ে দিলেই হবে। আটকেরা দলীয় লোক নয় বলেও দাবি করেন তিনি। খানাখন্দে ভরা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় দুর্ভোগের শিকার হওয়ায় যুবকেরা রাস্তা ঠিক করার কথা বলতেই পারেন। তাই বলে ক্ষমতার জোর খাটানোর বিষয়টি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সাথে একেবারেই সাংঘর্ষিক।
এমনিতেই ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে আছে। তার ওপর বিনা ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জনগণকে এভাবে শাসাতে শুরু করলে দেশের মানুষের নাগরিক অধিকার এবং গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎই শুধু অনিশ্চিত হয়ে পড়বে না, জনগণ একধরনের প্রচ্ছন্ন একনায়কতন্ত্রের নিগড়ে বন্দী হয়ে পড়বে। ক্ষমতা দেখানোর এই মহড়া জাতীয় জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। আইনের শাসনকে অনিশ্চিত করে দিচ্ছে। নির্বাচিত কোনো সদস্য কখনো এমন আচরণ করতে পারেন না। তাই জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করেই এসব মন্দ কাজ বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে।
আমরা মনে করি পুলিশি বাড়াবাড়ি, একজন অতি উৎসাহী পুলিশ কর্মকর্তার আইনের অপপ্রয়োগ এবং সংসদ সদস্যের ক্ষমতার দাপট দেখানোর এমন দৃষ্টান্ত নাগরিক অধিকার ুণœ করল কি না তা অবশ্যই খতিয়ে দেখতে হবে। এ ব্যাপারে নীতিনির্ধারকদের নীতিনিষ্ঠ ভূমিকাই জনগণ প্রত্যাশা করে।

রঙের ঝলক- ঘরে বসে শপিং by নাজমুল হোসেন

আমাদের ব্যস্ত নগরজীবনের সময় বাঁচাতে ঘরে বসেই কেনাকাটার সুযোগ করে দিয়েছে অনলাইন শপিং সাইটগুলো। এখন আমাদের যানজট ঠেলে বাজারে না গেলেও চলবে। আর  এ জন্য আপনার স্মার্ট ডিভাইসের সাথে শুধু থাকতে হবে ইন্টারনেট সংযোগ। লিখেছেন অনলাইন শপিং নিয়ে নাজমুল হোসেন

>> মডেল : আদিবা ছবি : ইমশিয়াত শরীফ
ঘরে বসে কম্পিউটারের পর্দায় ব্রাউজ করলেই পাওয়া যাচ্ছে নিজের পছন্দমতো পোশাক, গয়না বা নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের দ্রব্যসামগ্রী। ডিজিটাল যুগে কেনাকাটা ডিজিটাল পদ্ধতিতে হলেও ঘরে আসছে আসল পণ্য। আর এতে বেঁচে যাচ্ছে সময়।
কয়েকটি অনলাইন ই-কমার্স সাইট।
রকমারি
বইপ্রেমীদের ঘরে বসে বই কেনার সুবর্ণ সুযোগ করে দিয়েছে  rokomari.com। দেশী, বিদেশী মিলিয়ে প্রায় ৮৬ হাজার বইয়ের সম্ভার নিয়ে সাজানো হয়েছে এই অনলাইন বইয়ের দোকান। রকমারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ৫০০ অর্ডার পেয়ে থাকেন। শুধু ঢাকা শহরে নয়, বরং দেশজুড়ে ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ সুবিধা দেয়া হয়। লক্ষ করার করার বিষয় হলো সাইটে নেই, এমন কোনো বইয়ের অর্ডার করা হলেও সেটি বাইরে থেকে এনে দেয় তারা। যদিও এ েেত্র বইয়ের দাম পড়বে কিছুটা বেশি।
চালডাল
অনেক পরিবারেই স্বামী-স্ত্রী দু’জনই চাকরি করেন। আর এ জন্য তারা বাজারের ভিড় ঠেলে আর দরদাম করে চাল, ডাল, তেল, সবজি কেনার ঝামেলা পোহাতে চান না। কর্মব্যস্ত সবাই এই সাইটটির মাধ্যমে ঘরে বসে পেতে পারেন প্রতিদিনকার অপরিহার্য বাজারসদাই। বর্তমানে ঢাকা এবং উত্তরার মধ্যে বাসায় পণ্য পৌঁছে দিচ্ছে। ৪০০ টাকার নিচে অর্ডার করলে ডেলিভারি চার্জ ৪০ টাকা। আর অর্ডারের পরিমাণ বেশি হলে গ্রাহক সার্ভিস চার্জ ছাড়াই ঘরে বসে পেয়ে যাবেন আপনার সামগ্রী। এ ছাড়া ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’র সুবিধা তো আছেই। মাউসের কিকেই কেনা যাবে চাল, ডাল বা সবজি। গ্রোসারি, স্টেশনারি এবং বেবি প্রোডাক্টসহ সবই রয়েছে chaldal.com-এর সংগ্রহে।
ড্রিম শপ
ছেলে ও মেয়েদের পোশাক, বেবি প্রোডাক্টস, কসমেটিকস, খাবার এসব মিলিয়ে বিশাল এক সম্ভার reamshopbd.com বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ফোন, ট্যাবলেট, পেনড্রাইভ এবং কম্পিউটার সংশ্লিষ্ট উপকরণও পাওয়া যায় এই সাইটে।
আইফেরি
এ সাইটে রয়েছে নানা ব্র্যান্ডের বুটজুতার পাশাপাশি বিভিন্ন দলের জার্সি। আরো আছে ছেলেদের শার্ট, পাঞ্জাবি, শিশুদের পোশাক এবং রেপ্লিকা ঘড়ি, সানগ্লাস, কিয়ামি অল ইন ওয়ান সেটসহ আরো অনেক কিছু। চামড়ার বেল্ট এবং মানিব্যাগও কেনা যায় এই সাইট থেকে। অর্ডার করতে নিজের ই-মেইল আইডি দিয়ে খুলতে হবে অ্যাকাউন্ট। আর সেই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই ঘরে বসে কেনাকাটা করতে পারবেন। পছন্দসই বিভিন্ন খেলার সামগ্রী ঘরে বসেই পেতে ঢু মারতে পারেন  iferi.com সাইটে।
অপ্সরা
নারীদের কাছে পছন্দের এই সাইটটিতে রয়েছে প্রসাধনী, পোশাক এবং গয়নার কালেকশন।  বাজার দামের চেয়ে কম মূল্যে বিভিন্ন পণ্য কিনতে চাইলে ব্রাউজ করুন apshora.com সাইটে। এই সাইটের বিশেষত্ব হলো বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দেশী এবং বিদেশী প্রসাধনী। অপ্সরা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ড থেকে প্রসাধনীগুলো তারা আনেন। ভারত থেকে সংগ্রহ করা হয় বেশির ভাগ জুয়েলারি। আর এ কারণেই এসব জুয়েলারি বাজার মূল্যের তুলনায় কম দামে দিতে পারেন। এই সাইটের সংগহে রয়েছে শ্যাম্পু, বডি স্প্রে, ডে ক্রিম, নাইট ক্রিম, শাওয়ার জেল, মেনজ আইটেম এমন অসংখ্য প্রোডাক্ট। এই অনলাইন দোকানে রয়েছে নিজস্ব ডেলিভারি ম্যান। অর্ডার করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রাহকের হাতে পণ্য পৌঁছে দেয় বিভিন্ন দ্রব্য।
বাংলাদেশ ব্র্যান্ড
রঙ, এক্সট্যাসি, সাদা-কালো, মেনেজ কাব, প্রবর্তনা, নগরদোলাসহ ৩৯টি ব্র্যান্ডের ২১ হাজারেরও বেশি রকমের কাপড় রয়েছে। আরো আছে ১০ হাজারেরও বেশি বই, বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস ও কম্পিউটারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। ঘরে বসে দেশী ব্র্যান্ডের বিভিন্ন পোশাক কেনার জন্য রয়েছে bangladeshbrands.com সাইট। এখানে ভিসা কার্ড, মাস্টার কার্ড, ব্র্যাক ব্যাংকের কার্ড, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের নেক্সাস কার্ড, কিউ-ক্যাশ কার্ড অথবা আপনার যেকোনো ব্যাংকের একটি এটিএম কার্ড অথবা বিকাশের মাধ্যমে কেনা যাবে।
এসব সাইটের পাশাপাশি অনলাইন শপিংয়ের ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ফেসবুক। প্রায় তিন বছর ধরে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে অনলাইন শপিংয়ের ফ্যান পেইজগুলো। ফেসবুকে পেইজ তৈরি করে ুদ্র উদ্যোক্তারা তাতে দেশী বিদেশী নানা ধরনের পণ্য বিক্রি করছেন।  ফেসবুক-ভিত্তিক অনলাইন পেইজগুলো বেশির ভাগই বিদেশী জুয়েলারির জন্য জনপ্রিয়। তা ছাড়া দেশীয় বাজারে সহজলভ্য নয় এমন দ্রব্য কেনার জন্যও দারুণ মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে ফেসবুক পেইজগুলো। এসব বিক্রেতার সাথে ফেসবুক পেজে বা ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করা যায়। কোনো পণ্য না থাকলেও ফেসবুকের ুদ্র উদ্যোক্তারা তা আনিয়ে দেয়।
facebook.com/DeshiShilpo, facebook.com/sparklingpixies, facebook.com/Accessories.Dreams, facebook.com/tukitakishopping, facebook.com/ladyiconicbd ফেসবুকে কেনাকাটা করার সময় বা আগে, যে পেজ থেকে কিনতে যাচ্ছেন বা অর্ডার করছেন সেই পেজ এবং এর কর্ণধার সম্পর্কে ভালো করে জেনে নিন। 
টাকা পরিশোধ পদ্ধতি
অনলাইন শপিং শুনলেই অনেকেই মনে করেন, টাকা দিতে হবে ডেডিট বা ক্রেডিট কার্ডে। তবে সবার ক্রেডিট কার্ড না থাকায় সব ধরনের গ্রাহকদের কেনাকাটা সুবিধা দেয়ার জন্য দেশের বেশির ভাগ অনলাইন শপই ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ সার্ভিস দিচ্ছে।
কিছু বিষয় মনে রাখা জরুরি
অনলাইনে কোনো জিনিস পছন্দ হলে লিঙ্কটি সেভ করুন। অন্যান্য অনলাইন শপে ঢুকে খোঁজখবর নিন। কারণ অনেক সময় দেখা যায়, পণ্য একই হলেও দামের েেত্র ভিন্নতা রয়েছে। অনলাইনে প্রায় সময়ই মূল্যছাড়ের অফার থাকে। অর্থ সাশ্রয়ে মূল্যছাড়ে কেনাকাটা অবশ্যই একটা ভালো উপায়। কিন্তু এসব লোভনীয় অফার দেখেই কেনাকাটা শুরু করে দেবেন না। প্রয়োজন বুঝে কেনার চেষ্টা করুন। বিভিন্ন উৎসব সামনে রেখে ওয়েবসাইটগুলোয় বেচাবিক্রি বেশি হয়। আর তখন ওয়েবসাইটগুলো অনেক বেশি জ্যাম হয়ে যায়। তাই কেনাকাটা করলে খুব সকালে না হয় শেষ রাতের দিকে করা উচিত। অনলাইনে যে পেজ বা সাইট থেকে কেনাকাটা করবেন, সেখানে অন্য ক্রেতাদের মন্তব্যগুলো পড়ুন। তাহলে পণ্যটি সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারণা হবে। ডেলিভারি দেয়া পণ্যে কোনো খুঁত পেলে তা ফেরত দেয়া যাবে কি না, এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন।

আইএসের হাতে ইরাকের হিত শহরের পতন -যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিতে তুরস্ক সম্মত

আনবার প্রদেশের হিত শহরের ওপর ইসলামি স্টেটের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শহরের কাছাকাছি বিমান ঘাঁটিতে ইরাকি সৈন্যদের সরিয়ে নেয়ার পর তারা এ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। পুলিশের একজন কর্নেল এ কথা বলেন। এদিকে তুরস্ক আইএসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে তার বিমানঘাটি ব্যবহার করতে দিতে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে।
সরকারি বাহিনীর প্রতি শিয়া মিলিশিয়াদের সমর্থন আইএসের অগ্রাভিযান ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে লড়াই চলার পর ইরাকি বাহিনী আনবার প্রদেশের তাদের শেষ এই ঘাঁটি থেকে সৈন্য সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। এতে গ্রুপটি শহরটির ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়েছে। বাগদাদের নিরাপত্তা সূত্র এ খবর জানায়।
প্রাদেশিক রাজধানী রামাদিতে পুলিশের কর্নেলের বরাত দিয়ে এএফপি জানায়, আসাদ বিমান ঘাঁটিটি রক্ষায় সহায়তা করতে শত শত সৈন্যকে হিত থেকে প্রত্যাহার ও অন্যত্র মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের সেনা কর্মকর্তারা বলেন, আইএসের হামলার শিকার সৈন্যদের হিত থেকে প্রত্যাহার করে আসাদ বিমান ঘাঁটি রক্ষা করা হবে অনেক উত্তম। হিত শহরের শতভাগ এখন আইএসের দখলে।
সম্প্রতি সপ্তাহগুলোতে ইরাকি বাহিনী আনবারে আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে একের পর এক বিপর্যয়ের শিকার হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, প্রাদেশিক রাজধানী রামাদিতে বর্তমানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আলজাজিরার প্রতিনিধি ইমরান খান বাগদাদ থেকে জানান, হিতের পতনের পর নিকটবর্তী শহর আমিরি হুমকির মধ্যে পড়েছে। আমিরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর, এটি বাগদাদসহ দক্ষিণাঞ্চলের সাথে আনবারের সরবরাহ পাঠানোর প্রধান সড়কে অবস্থিত।
ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিতে রাজি হয়েছে তুরস্ক। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুসান রাইস এ কথা জানিয়েছেন।
নতুন এই সমঝোতাকে যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানিয়েছে উল্লেখ করে বিবিসি বলছে, এই সমঝোতার অংশ হিসেবে দণি তুরস্কের ইনকির্লিক বিমান ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র। কয়েক মাসে সিরিয়া ও ইরাকের বিশাল অংশ দখল করে নেয়া আইএসের বিরুদ্ধে জোটগত বিমান হামলায় নেতৃত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।  সিরিয়া ও ইরাক উভয় দেশের সাথে তুরস্কের সীমান্ত রয়েছে। কিন্তু জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কোনো স্থল অভিযান পরিচালনার বিষয়টি বাতিল করে দিয়েছে দেশটি।
যুক্তরাষ্ট্রের এনবিসি চ্যানেলকে সুসান বলেন, ‘সিরিয়ার মধ্যপন্থী বিরোধীদলীয় বাহিনীকে প্রশিণ দেয়ার জন্য’ যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ও এলাকা ব্যবহার করতে দিতে তুরস্ক সম্প্রতি সম্মত হয়েছে এবং সিরিয়া ও ইরাকের অভ্যন্তরে চালানো তৎপরতায় ‘অংশগ্রহণ’ করার বিষয়ে একমত হয়েছে। তিনি বলেন,‘এগুলো নতুন প্রতিশ্রুতি আর এই বিষয়টিকে আমরা দারুণভাবে স্বাগত জানাই।’
সম্প্রতি আইএস যোদ্ধারা সিরিয়ার সীমান্ত শহর কোবানির দখল নিতে প্রাণপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। কুর্দি প্রতিরোধ বাহিনী তাদের ঠেকিয়ে রাখলেও প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে। কোবানি হয়ে তুর্কি সীমান্ত অতিক্রম করার একটি পথ রয়েছে। আইএসের অগ্রযাত্রার মুখে সীমান্তে নিজেদের সেনা সমাবেশ ঘটালেও জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কোনো পদপে নেয়ার বিষয়ে উদাসীন তুরস্ক। দেশের সংখ্যালঘু কুর্দিদের সাথে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের অভিজ্ঞতাই তুরস্ককে আইএস-কুর্দি লড়াইয়ে কোনো পদপে নেয়ার ব্যাপারে নিষ্পৃহ করে রেখেছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা।

টাইমসের প্রভাবশালী টিন তালিকায় মালালা, ওবামার মেয়েরা

টাইমসের প্রভাবশালী টিনদের বার্ষিক তালিকায় স্থান পেলেন সদ্য নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী মালালা ইউসুফজাই। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দুই মেয়েও আছেন তালিকায়। টাইম জানিয়েছে, তারা ২৫ জনের তালিকা করতে গিয়ে ২৯ জনকে বেছে নিয়েছে। চারজন বাড়ার কারণ হলো একই স্থানে কখনো দুই বোন কখনো বা দুই সঙ্গী রয়েছেন।

তালিকায় রয়েছেন ওবামার দুই মেয়ে মালিয়া (১৬), সাশা (১৩), নিউজিল্যান্ডের গ্রামি জয়ী গায়িকা লোর্দে (১৭), নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মালাল ইউসুফজাই (১৭)। তালিকায় সর্বকনিষ্ঠ সাশা ওবামা ও ফিলাডেলফিয়া বয়েজ বেসবল টিমের সদস্য মোন ডেভিস। দুজনেরই বয়স ১৩। জনপ্রিয় অনলাইন ম্যাগাজিন রুকির ফ্যাশন রাইটার ১৮ বছর বয়সী টভি গেভিনসনও রয়েছেন তালিকায়। জায়গা পেয়েছেন ১৪ বছর বয়সী জেন্ডার অ্যাক্টিভিস্ট জ্যাজ জেনিংস ও হংকংয়ের প্রো ডেমোক্রেসি অ্যাক্টিভিস্ট ১৮ বছরের যোশুয়া ওঙ্গ স্থান পেয়েছেন তালিকায়।
ম্যাড মেন ছবিতে অভিনয়ের জনপ্রিয়তা তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে ১৪ বছরের অভিনেত্রী কিয়েরনান শিপকাকে, মডার্ন ফ্যামিলি ছবির ১৬ বছরের অভিনেতা রিকো রডরিগেজ, দ্য ইক্যুইলাইজার ছবির জনপ্রিয় অভিনেত্রী ১৭ বছরের কো গ্রেস মর্টেজ। এছাড়াও রয়েছেন পপ সিঙ্গার বেকি জি (১৭) ও অস্টিন মাহোনে (১৮), নিউজিল্যান্ডের পপ গল্ফার লিডিয়া কো (১৭) ও আফগান ন্যাশনাল সাইকেল দলের সদস্য সালমা ককর (১৭)।
কৈশোরেই ব্যবসায়িক সাফল্যের জন্য এই তালিকায় এসেছেন অনলাই টিউটরিং সাইট বোট্যাঙ্গল ডট কমের প্রতিষ্ঠাতা ১৫ বছরের এরিক ফিনম্যান ও ইউটিউব ফ্যাশন স্টার ১৮ বছরের বেথানি মোটা ও স্টকপিকার ১৮ বছরের র‌্যাচেল ফক্স। মাটিতে নাইট্রোজেন প্রদানকারী ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করে এই তালিকায় এসেছেন ট্রায়ো কায়রা জাজ (১৬), এমার হিকি (১৭) ও সোফি হিলে-থ (১৭)।
লস অ্যাঞ্জেলসের টিন শেফ ফিন ম্যাকগ্রের (১৫)সঙ্গে জায়গা ভাগ করে নিয়েছেন টুইটারের ভাইন শর্ট ভিডিও সার্ভিসের ন্যাশ গিয়ের (১৬) ও সিঙ্গার শন মেন্ডেস (১৬)। অভিনেতা উইল স্মিথের ছেলে ১৬ বছরের জ্যাডেন স্মিথ, টেলিভিশন তারকা দুই বোন কেন্ডেল (১৮) ও কাইল (১৭), ইয়েলোবেরি পোশাক কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা মেগান গ্রাসেল (১৯) ও দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়া ইউটিউব স্টার ও অভিনেতা-মিউজিশিয়ান ট্রোয় সিভান।
সূত্র : ওয়েবসাইট।

শুক্রবার পিয়াস করিমের দাফন- লাশ শহীদ মিনারে নিতে আবেদন করবে না পরিবার by শফিকুল ইসলাম ও এম তৌহিদ

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিশিষ্ট রাজনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. পিয়াস করিমের নামাজে জানাযা আগামী শুক্রবার বাদ জুমা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। মরহুমের ছোটভাই জহির করিম জানিয়েছেন, তার লাশ শহিদ মিনারে নেয়ার কোন ইচ্ছা পরিবারের নেই। কারণ আমরা চাইনা আমার ভাইয়ের লাশ নিয়ে কোন রাজনীতি হোক। এজন্য লাশ শহিদ মিনারে নেয়ার জন্য  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের কাছে আমরা কোন আবেদনও করবো না।

তিনি জানান, আগামীকাল বুধবার লাশ দাফনের ইচ্ছা ছিল, কিন্তু তার তিন বোনের মধ্যে একজন আজ মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরলেও বাকি দুই বোন আগামী বৃহস্পতিবার দেশে ফিরবেন। তাই তাদের কথা বিবেচনা করে শুক্রবার দাফনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এর আগে আগামীকাল বুধবার সর্বস্তরের মানুষের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ড. পিয়াস করিমের লাশ শহীদ মিনারে নেয়ার কথা ছিল। কিন্তুু তার আগেই গণজাগরণ মঞ্চের একাংশ এর প্রতিবাদ জানিয়ে লাশ শহিদ মিনারে নিতে অনুমতি না দেয়ার জন্য ঢাবি কতৃপক্ষের কাছে দাবী জানায়। লাশ শহীদ মিনারে নেয়া হলে আন্দোলনেরও হুমকিও দেয় তারা।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ এম আমজাদ বলেন, এখনও আমরা ড. পিয়াস করিমের লাশ শহীদ মিনারে আনার ব্যাপারে তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আবেদন পায়নি। যদি আবেদন করা হয় তাহলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে অনুমতি দানের বিষয়ে তাদের কোন ইচ্ছা নেই বলেও তিনি জানান।
অপরদিকে গতকাল সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকীর সাথে জাসদ ছাত্রলীগ দেখা করে ড. পিয়াস করিমের লাশ শহীদ মিনারে ঢুকতে না দেয়ার অনুরোধ করেছেন।

ভারতেই থাকতে চান লতিফ সিদ্দিকী

ভারতেই থাকতে চান আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। সম্প্রতি পবিত্র হজ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় তাকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারিত করে সরকার। বহিষ্কার করা হয় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর পদ থেকে। গতকাল বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি দেশে ফিরতে চান। তবে এ ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। বর্তমানে তিনি অবস্থান করছেন কলকাতায়। সেখান থেকে ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তার বক্তব্য নিয়ে দল ও দলের নেত্রী যেভাবে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন তা নিয়ে তিনি অনুতপ্ত। এ সময় তার হয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ায় কড়া সমালোচনা করেন তার ভাই কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর। এখানে সাক্ষাৎকারটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
প্রশ্ন: সরকার ও দল থেকে বের করে দেয়ার সিদ্ধান্তকে কিভাবে নিচ্ছেন?
উত্তর: আমার প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক। কারণ আমি একটা দল করি। দলের একটা নিয়ম-শৃঙ্খলা আছে। সে নিয়মশৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছি বলে দল এবং দলনেতা মনে করেছেন। সে জন্য দলনেতা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন, দলের সর্বোচ্চ ফোরামে বসে। এটা নিয়ে আমার বিরূপ প্রতিক্রিয়া হওয়ার তো কথা না। এ দলই আমাকে মন্ত্রী বানিয়েছে। এ নেতাই আমাকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। এখন তিনি বা তার সহকর্মী মিলে যদি আমাকে মনে করেন যে, আমি সহকর্মী হওয়ার যোগ্যতা রাখি না, সেটা সংখ্যাগরিষ্ঠ গণতন্ত্রে তো এটা কোন অপরাধ নয়।
প্রশ্ন: তারা মনে করেছেন, কিন্তু আপনি কি সেই তাদের যে মনে করা, তার সঙ্গে একমত?
উত্তর: আমি একমত। কারণ, আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত।
প্রশ্ন: আপনার কাছে কি একবারও মনে হচ্ছে না যে আপনার প্রতি অবিচার করা হচ্ছে?
উত্তর: না, না। বরঞ্চ আমি অনুতপ্ত যে, আমি আমার দল এবং দলনেতাকে একটা বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছি।
প্রশ্ন: এই ছাড়া অন্য কোন অনুশোচনা হচ্ছে? পুরো অবস্থার জন্য কি অনুশোচনা হচ্ছে?
উত্তর: না। আমার কোন অনুশোচনা বা অনুতাপ নেই। আমার নেতাকে আমি বিব্রত করেছি। তিনি আমার ওপর আস্থা রেখেছিলেন। আমি তাকে খুব কষ্ট দিয়েছি।
প্রশ্ন: কিন্তু আপনি যেটা বলেছিলেন, সেটা নিয়ে কি আপনার এখন কোনভাবে কোন ধরনের অনুশোচনা হচ্ছে?
উত্তর: আবার বলি, আপনারা আমাকে শোনাতে চেয়েছিলেন। আমি কিন্তু বলিনি। আমার এ জায়গাটায় একটা আক্ষেপ আছে। সারা পৃথিবীতে কি একজন সাংবাদিক বা একজন মানুষও নেই-  যে জিজ্ঞেস করলো না উনি একটা আড্ডাতে কথা বলেছেন, কোন সভায় নয়, সমিতিতে নয়, মাইকে নয়। সে আড্ডায় তিনি পুরোটা কি কথা বললেন সেটা না জেনে একটা খণ্ডিত অংশ বিকৃতও হতে পারে, অপ্রাসঙ্গিক হতে পারে। পুরাটা কেউ চাইলেন না আজ পর্যন্ত। এইটা আমার আক্ষেপ আছে। আমি পুরো কথাটার দায়িত্ব নিচ্ছি। দেড় ঘণ্টা আমি কথা বলেছি। সেই দেড় ঘণ্টার টেপটা আপনারা বের করান। সেটার পুরো দায়িত্ব আমার। এর জন্য যদি ফাঁসি দেয়া হয় তা-ও আমি মেনে নেবো।
প্রশ্ন: যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এখন আপনার পদক্ষেপ কি হবে? আপনি কি দেশে ফিরছেন?
উত্তর: আমি দেশে ফিরতে আগ্রহী। কারণ আমি এ দেশটার স্বাধীনতার জন্য কাজ করেছি। আমি এ দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করেছি। কিন্তু প্রেক্ষাপটটা এমন হয়েছে যে, আমি কি করব, আমি বুঝতে পারছি না। কারণ আমি দেশে গেলে, আমার নেতা যদি আরও বিব্রত হয়, সেজন্য আমি খুবই মানসিক সঙ্কটে আছি। আমি প্রথম সুযোগেই দেশে ঢুকে পড়বো। আমি যে কোন কিছুর মোকাবিলা করবো।
প্রশ্ন: মানে আপনি এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না?
উত্তর: বিষয়টা কিন্তু তা না। নেতা বা দলের ক্ষতি হবে কিনা সেইটা নিয়ে আমি চিন্তিত। আমাকে নিয়ে আমি কোন চিন্তিত নই।
প্রশ্ন: না ঢোকা পর্যন্ত তো সেটা বুঝতে পারছেন না আপনি?
উত্তর: না না। বুঝতে পারার কথা না। আমাকে তো কিছুটা জানাবে, জানতে আমি তো পারবো। যে আমার এখন...
প্রশ্ন: অর্থাৎ কি আপনি দলের কাছ থেকে কিছু শোনার অপেক্ষায় আছেন যে, দল আপনাকে বলবে যে, না তুমি এসো না বা তুমি থাকো?
উত্তর: অবশ্যই, অবশ্যই।
প্রশ্ন: তো দলের নেতার সঙ্গে কি আপনি নিজে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন?
উত্তর: দলের নেতা মানে শেখ হাসিনার সাথে.. না আমি চেষ্টা করিনি। আমি খুব লজ্জা পাচ্ছি।
প্রশ্ন: দলের কোন পর্যায়ের সাথে চেষ্টা করছেন আপনার কি করা উচিত এখন? আপনি আসবেন কিনা?
উত্তর: না না।
প্রশ্ন: আপনি চাইছেন যে তারাই আপনাকে বলুন আপনি সেটাই চাইছেন।
উত্তর: আমি চাইছি না। তারা কি করবেন তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন।
প্রশ্ন: মি. সিদ্দিকী। এর আগে আমরা যেটা দেখেছি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যে ধরুন দু’জন লেখক একজন মহিলা একজন পুরুষ তসলিমা নাসরিন, দাউদ হায়দার তারা তাদের সম্পর্কে ঠিক একই ধরনের অভিযোগ ওঠার পর তারা আর দেশেই ফিরতে পারছেন না বছরের পর বছর, দশকের পর দশক। আপনার কি সেই ভয়টা হচ্ছে আপনার পরিস্থিতিও তেমন হতে পারে?
উত্তর: না না। তারা লেখনীর মাধ্যমে বলেছে। তারা এক কথা বলেছে আর আমি তো এখনও বলছি যে, আমার অবস্থান আমার কথাগুলোকে বিকৃত এবং খণ্ডিত করা হয়েছে। একত্রিত যোগ করলে দেখা যাবে যে, আমি একটা অ্যাকাডেমিক ডিসকাশন করেছি।
প্রশ্ন: কিন্তু যেটা পারসেপশন মানুষের। মানুষ যেটা বুঝতে পারছে, আপনি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছেন।  আপনার ভেতরে কি এখন ভয় জাগছে যে আপনিও দেশে ফিরতে পারবেন কিনা আর?
উত্তর: সেটা দেখা যাবে, সময়ই বলে দেবে। আমার জীবনে এরকম ঝড় বহুবার এসেছে। ’৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর প্রতিবাদ করেছিলাম। তারপরে বিতাড়িত হয়েছিলাম। কয়দিন যুদ্ধও করেছি। তারপর কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে আমার দ্বিমত হয়েছে বলে আমি সরে এসেছিলাম। এখন কাদের সিদ্দিকী ক্ষমা চাচ্ছে। এই ব্যাটাকে কে ক্ষমা চাওয়ার আমার পক্ষ থেকে দিলো। আমি তো তাকে এ দায়িত্ব দিইনি যে, আমার পক্ষে ক্ষমা চাও। সে এক দল করে, আমি আরেক দল করি। সে আমার বিরুদ্ধে ২০০১-এ নির্বাচনে দাঁড়িয়ে আমাকে পরাজিত করেছিল।
প্রশ্ন: আপনার কাছে শেষ প্রশ্ন মি. সিদ্দিকী। যদি অদূর ভবিষ্যতে আপনি দেশে ফিরতে না পারেন, দল যদি আপনাকে সে ধরনের কোন ইঙ্গিত না দেয় যে-  আপনি ফিরুন, আপনি এখনও এমপি আছেন; আপনি কোথায় থাকবেন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এখন আপাতত?
উত্তর: না না।
প্রশ্ন: আপনি কি ভারতেই থাকবেন?
উত্তর: আমি ইউরোপ-আমেরিকায় থাকতে পারবো না বলেই আমি কলকাতায় এসেছি। আমি একেবারে মাটির সাথে থাকতে চাই। মাটির  সোঁদা গন্ধে আমার... আমি খুব একটা সাধারণ মানুষ।
প্রশ্ন: ভারতে থাকতে কি আপনি পারবেন? কোন ইঙ্গিত ভারত সরকারের কাছ থেকে...
উত্তর: ভারত থেকে না দিলে এখনই সেটা নিয়ে আমি আলোচনা করবো না। সামনের সময়ে সামনেই বলে দেবে। সময়ই সময়ের সিদ্ধান্ত নেবে। এখন কিছু বলবো না।
এদিকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দেশে ৩০টির মতো মামলা হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, দেশে ফিরলে তাকে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। দেশে ফিরতে চাইলে তাকে নিজ উদ্যোগে ও দায়িত্বে ফিরতে হবে। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে মি. সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তি জেলায় জেলায় মামলা করেছে। সে দেশে ফিরলে সরকার বা আওয়ামী লীগ সে মামলাগুলোর ব্যাপারে কোন হস্তক্ষেপ করবে না এবং তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে এখন মি. সিদ্দিকীর কোন সম্পর্ক নেই। তার বিরুদ্ধে কোন মামলায় আমরা পক্ষ নিতে যাবো না। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। তাকে গ্রেপ্তার করলেও আমাদের কিছু বলার নেই। তাকে রক্ষা করার কোন চেষ্টা সরকার বা দল করবে না। কাজেই দেশে ফিরতে চাইলে তাকে নিজ দায়িত্বেই তা করতে হবে।
সবুজ সঙ্কেত পেলেই দেশে ফিরবেন
কলকাতা প্রতিনিধি জানান, অত্যন্ত গোপনীয়তায় বাংলাদেশের অপসারিত ডাক ও যোগাযোগ মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী কলকাতায় এসেছেন। গত  রোববারই তিনি কলকাতায় আসার পর কোথায় রয়েছেন তা নিয়ে প্রবল ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। তবে এখনও তিনি কলকাতায় অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে বলা হলেও তার সন্ধানে মিডিয়া হন্যে হয়ে ঘুরে হতাশ হয়েছেন। অনেকের মতে, তিনি রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গেছেন। আবার একটি অংশের মতে, কলকাতা থেকেই তার ঢাকায় যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি এখন কলকাতায় বা তার আশপাশে কোন নিরাপদ আস্তানায় বসে বাংলাদেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে  ব্যস্ত রয়েছেন। ঢাকায় তার ঘনিষ্ঠদের তিনি ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে সর্বশেষ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। একটি সূত্রের খবর অনুযায়ী, তিনি ৩৬ ঘণ্টার দীর্ঘ জার্নি শেষে গত রোববার দুপুরে নিউ ইয়র্ক থেকে নয়া দিল্লি এসে পৌঁছান। পরে কলকাতার বিমান ধরে বিকাল শোয়া চারটা নাগাদ দমদম বিমানবন্দরে নামেন। তার পরই তিনি কিছুক্ষণ লাউঞ্জে ঘোরাঘুরির পর দক্ষিণ কলকাতার একটি হোটেলে গিয়ে ওঠেন। তবে তার জন্য বিশেষ কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরকারিভাবে না থাকলেও পুলিশ ও গোয়েন্দারা তার নিরাপত্তার দিকে নজর রেখেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে পুলিশ বা হোটেল  কর্র্তৃপক্ষ তার সম্পর্কে কোন কিছু জানাতে অস্বীকার করা হয়েছে। এমনকি তিনি তাজ বেঙ্গল হোটেলে অবস্থান করছেন কিনা সে সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ কোন কিছু জানে না বলে জানিয়েছেন। এক গোয়েন্দা কর্তা বলেন, সিদ্দিকী সাহেব ইসলাম সম্পর্কে যে ধরনের মন্তব্য করেছেন তার প্রতিক্রিয়ায় এখানেও তার ওপর আক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। তাই তার ওপর গোয়েন্দা নজরদারি অবশ্যই থাকবে। তবে আরেকটি সূত্রে জানানো হয়েছে, তিনি তার নিজস্ব কোন আশ্রয়ে চলে গেছেন। সিদ্দিকীর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের অনেকের ঘনিষ্ঠ পরিচয় রয়েছে। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি অনেক দিন কলকাতার আশ্রয়ে ছিলেন। আবার পঁচাত্তর সালেও একবার তিনি পশ্চিমবঙ্গে চলে এসেছিলেন নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য। সেবার তিনি বর্ধমানে তার ঘনিষ্ঠদের আশ্রয়ে ছিলেন। তবে এই মুহূর্তে লতিফ সিদ্দিকী পশ্চিমবঙ্গে থাকলেও দেশে ফেরার ব্যাপারে মনস্থির করে উঠতে পারেননি। তবে তার একটি ঘনিষ্ঠ সূত্রে আভাস দেয়া হযেছে, তিনি দেশে না ফিরে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কারও মাধ্যমে কথা বলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশে নানা জায়গায় তার বিরুদ্ধে যেভাবে  একের পর এক মামলা করা হচ্ছে তাতে ঢাকায় পা দেয়া মাত্র তার গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা। আর গ্রেপ্তার করে তাকে জেলে রাখলেও তিনি যে নিরাপদ নন তার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সব জেলেই ইসলামী জঙ্গিদের আক্রোশের শিকার হওয়ার আশঙ্কাও প্রবল। তাই ঢাকা থেকে সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পরই তিনি কি করবেন তা ঠিক করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সম্পর্কে অভিজ্ঞ এক প্রবীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক জানিয়েছেন, লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে যেভাবে ব্যবস্থা সরকারি ও দলীয় স্তরে নেয়া হয়েছে সেখানে আশ্রয় পাওয়ার সম্ভাবনা যেসব দেশে রয়েছে সেখানেও তিনি চলে যেতে পারেন।

শিক্ষাব্যবস্থার ফাউন্ডেশনেই গলদ by সাহস রতন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষার ফল বিপর্যয়ের কারণে গত কিছুদিন থেকে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। গোল্ডেন জিপিএ প্রাপ্ত অনেক শিক্ষার্থী ঢাবি ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক বাছাই পর্বে বাদ পড়েছে। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বলছেন, ঢাবি ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতিতে ত্রুটি রয়েছে। ভিসি বলছেন, পরীক্ষা পদ্ধতি ঠিকই আছে। তাহলে সমস্যাটা কোথায়? সাধারণ শিক্ষার্থী নয়, পাবলিক পরীক্ষায় মেধা তালিকার শীর্ষে থাকা ছাত্রছাত্রীরাই ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে। শিক্ষা নিয়ে কাজ করছেন এমন অনেক গবেষক এটা স্বীকার করেছেন, আমাদের সিস্টেমে কোথাও গলদ রয়েছে। হয় পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন কিংবা খাতা যাচাই পদ্ধতি নয়তো উচ্চশিক্ষার ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি। কোথাও না কোথাও ঘাপলা তো একটা আছেই। তা না হলে, এমন হবে কেন?
শিক্ষাকে বলা হয় জাতীর মেরুদণ্ড। আর এ মেরুদণ্ডের ফাউন্ডেশন প্রাথমিক শিক্ষা। প্রতিটি বিল্ডিংয়ের একটা ফাউন্ডেশন থাকে যার ওপর ভিত্তি করে সেই বিল্ডিংটি দাঁড়িয়ে থাকে। একতলা বিল্ডিংয়ের ফাউন্ডেশন দিয়ে পাঁচতলা একটা বিল্ডিং বানালাম। তারপর দোতলা থেকে উপরের দিকে টাইলস, বিদেশী ফিটিংস দিয়ে যতই চকচকে ঝকঝকে করি না কেন, সেই বিল্ডিং তো টিকবে না। আজ হোক কাল হোক সেটা ধসে পড়বেই। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায়ও একই ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষার ফাউন্ডেশন প্রাইমারি স্কুলগুলোকে অবহেলিত রেখে আমরা শিক্ষিত জাতি গঠনের অযৌক্তিক খেলায় লিপ্ত থেকেছি। ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে। সেজন্য প্রথমেই দৃষ্টি ফেরাতে হবে প্রাইমারি স্কুলগুলোতে। বিশেষত সরকারি প্রাইমারি স্কুলগুলোতে। একটা ফুলের বাগান গড়তে চাইলে এক খণ্ড জমি লাগবে। ভাল ফুলের চারা লাগবে। বর্ষার আগে জমির মাটি তৈরি করে সেই চারা রোপণ করতে হবে। তারপর সময়মতো পানি ঢালতে হবে, নিড়ানি দিয়ে সার দিতে হবে। তবেই বছর শেষে বাগানে ফুল আশা করতে পারেন আপনি। আবার সব কিছু ঠিক থাকালেও জমিটিতে যদি পর্যাপ্ত সূর্যালোক না পড়ে তাহলেও হয়তো ফুল ফুটবে না। কিংবা রাস্তার মাঝখানে ভাল চারা রোপণ করলেও তো সেখানে ফুল ফোটানো যাবে না। তার মানে হলো, একটা ফুলের বাগান গড়তে হলে যেমন লাগবে ভাল চারা ও সার্বক্ষণিক পরিচর্যা, তেমনি লাগবে আলো-বাতাসপূর্ণ জমিও। এর কোন একটি বাদ পড়লে হবে না। সাধারণ একটা ফুলের বাগান গড়তেই কত শ্রম দিতে হয়। আর আমরা আশা করছি যেনতেনভাবে একটা ঘর বানিয়ে কিছু মানুষ ওখানে নিয়োগ দিয়ে দিলাম। আর মানুষ তৈরি হতে থাকবে। আহাম্মকিরও একটা সীমা থাকা উচিত! সারা দেশে প্রায় ৩৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। আপনি এর যে কোন একটিতে ঢুঁ মারেন। দেখবেন, একটি ক্ষয়িষ্ণু ভবন। প্লাস্টার খসে পড়ছে। চারদিকে মাকড়সা জাল, ধুলোবালি, ভাঙাচোরা চেয়ার-টেবিল। আর শিক্ষকদের কথা কি বলবো। শিক্ষকদের বলা হয়, মানুষ গড়ার কারিগর। কারিগরের কোয়ালিটি যেমন, তেমন পদার্থই তো তিনি তৈরি করবেন। কি ধরনের মানুষ আমাদের শিক্ষকগণ বিগত ৪০ বছর ধরে উৎপাদন করেছেন তা তো দেখতেই পাচ্ছি। সামান্য কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে, ক্লাসের সবচেয়ে কম মেধাবী ছাত্রছাত্রীটি, যে নিজেকে অন্য কোথাও উপযুক্ত করতে ব্যর্থ, তারাই মূলত প্রাইমারি স্কুলের মাস্টার। এ দিয়ে এর চেয়ে ভাল আর কি আশা করতে পারি আমরা?
শিক্ষক সঙ্কটে ভুগছে গোটা জাতি। ভাল শিক্ষকের অভাব আমাদের জাতীয় সমস্যা। একটা সেমিনারের আয়োজন করলাম সাহস স্কুল আঙিনায়। সেমিনারের বিষয় ‘প্রাথমিক স্তরে শিক্ষক সঙ্কট ও উত্তরণের পথ সন্ধান’। আলোচনার মধ্য দিয়ে বেরিয়ে এলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। যেমন: মেধাবী শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকতায় আসতে চায় না, শিক্ষকদের বেতন কাঠামো আকর্ষণীয় নয়, শিক্ষকদের সামাজিক স্বীকৃতি নেই- এরকম অন্তত দশটি ইস্যু উঠে এলো। এগুলো পুরোনো সমস্যা, সবাই জানেন। কিন্তু এত বছরেও সমাধান হয়নি। ফলে প্রাথমিক শিক্ষা রয়ে গেছে পুরোপুরি অবহেলিত। শিক্ষিত জাতি গড়তে চাইলে শিশুর মেধার পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য দরকার পর্যাপ্ত পরিচর্যা, সার্বিক সহযোগিতা ও শিক্ষা উপযোগী পরিবেশ। অবশ্যই শুরুটা হতে হবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। আজই কাজ শুরু করলে ১৫ বছর পর থেকে শিক্ষিত প্রজন্ম আশা করতে পারবো আমরা। নয়তো, এবারের মতো বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে বারবার। সে দিকেই মনে হয় ছুটছে সবাই।

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির পক্ষে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট -জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেছে স্কটল্যান্ড

ইসরায়েলের পাশে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমনসের সদস্যরা। বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত ওই ভোটাভুটির ফল যুক্তরাজ্যের দাপ্তরিক নীতির ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই ফলের প্রতীকী মূল্য রয়েছে।
৬৫০ সদস্যবিশিষ্ট হাউস অব কমনসে অনুষ্ঠিত এই ভোটাভুটিতে অর্ধেকেরও কম সংখ্যক এমপি অংশ নেন। প্রস্তাবটির পক্ষে পড়ে ২৭৪ ভোট। বিপক্ষে ১২ ভোট। প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনসহ সরকারের মন্ত্রীরা ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। সমঝোতার ভিত্তিতে দুই রাষ্ট্র সমাধান নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখার উদ্দেশে হাউস অব কমনস এই প্রস্তাব সমর্থন করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মন্ত্রী টবিয়াস এলউড বলেন, শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য ‘উপযুক্ত’ সময়ে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার অধিকার ব্রিটেনের রয়েছে। হাউস অব কমনসে এই ভোটাভুটির উদ্যোগ নেন বিরোধী দল লেবার পার্টির আইনপ্রণেতা গ্রাহাম মরিস। তা কিছুটা সংশোধন করেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাক স্ট্র।
লেবার পার্টির নেতারা এই উদ্যোগের পক্ষে ভোট দিতে বলেন। অন্য দলগুলো নিজেদের আইনপ্রণেতাদের নিজস্ব বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত নিতে বলেন। আইনপ্রণেতাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে ব্রিটিশ সরকারের স্বীকৃতি দেওয়া উচিত বলে তাঁরা মনে করেন কি না।
ভোটের এই ফলে তেমন কোনো কাজ হবে না। কারণ ভোটের ফল মানা বাধ্যতামূলক নয়। এই ফল যুক্তরাজ্যের দাপ্তরিক নীতির ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। এটা মধ্যপ্রাচ্য-সংকট নিয়ে যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক অবস্থান বদলাতেও সরকারকে বাধ্য করবে না।
ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না যুক্তরাজ্য। তবে দেশটি বলে আসছে, তারা যেকোনো সময়ই তা করতে পারে। কিন্তু, তার আগে এটা মনে হতে হবে যে, এ ধরনের পদক্ষেপ ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য উপকারী হবে।
২০১২ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ফিলিস্তিনকে ‘অসদস্য পর্যবেক্ষক’ রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয়।
জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যের মধ্যে ১৩৪ সদস্য ইতিমধ্যে ফিলিস্তিনকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি দিয়েছে।
এ ছাড়া বিশ্বের শতাধিক দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিতে হবে: স্কটল্যান্ড
ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেছে স্কটল্যান্ড।
গতকাল সোমবার টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, লন্ডনে ফিলিস্তিনের দূতাবাস খোলার অনুমতি দিতে যুক্তরাজ্যের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে স্কটল্যান্ড।
স্কটল্যান্ডের বৈদেশিক সম্পর্ক-বিষয়ক মন্ত্রী হুমজা ইউসাফ বলেন, ‘ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়া উচিত, যাতে তারা যুক্তরাজ্যে নিজস্ব দূতাবাস খুলতে পারে।’
গতকাল হাউস অব কমন্সে এ বিষয়ে বিতর্ক ও ভোটাভুটির প্রাক্কালে যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতি এই আহ্বান জানান ইউসাফ।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ডের কাছে লেখা এক চিঠিতে স্কটল্যান্ডে ফিলিস্তিনের কনস্যুলেট খোলার বিষয়ে স্কটিশ সরকারের সমর্থনের কথা উল্লেখ করেছেন ইউসাফ। একই সঙ্গে লন্ডনে ফিলিস্তিনের একটি দূতাবাস খোলার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ইউসাফ বলেন, ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল—এই দুই রাষ্ট্রের সমাধানকে পুরোপুরি সমর্থন করে স্কটিশ সরকার।
এর আগে যুক্তরাজ্যের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ব্যারনেস সাইয়েদা ভার্সি ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পার্লামেন্ট সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যের মধ্যে ১৩৪ সদস্য ইতিমধ্যে ফিলিস্তিনকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি দিয়েছে।

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গতি আনতে সংস্কারের তাগিদ -আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলন ২০১৪

চলতি বছরে সারা বিশ্বের গড় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা তৃতীয়বারের মতো সংশোধন করল আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি এবারে পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০১৪ সালে সারা বিশ্বের গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। এ গড় প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের মতো হতে পারে, বছরের শুরুর দিকে এমন পূর্বাভাসই দিয়েছিল এ দাতা সংস্থা। পরে তা আরেক দফা কমিয়ে বলা হয়েছিল, প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হবে।
আইএমএফ মনে করে, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ভালো হলেও চীন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় অর্থনীতির দেশগুলোয় প্রবৃদ্ধির হার কম হবে। এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে হলে অর্থনৈতিক সংস্কারের বিকল্প নেই। সেজন্য দেশগুলোকে নিজেদের স্বার্থেই অর্থনৈতিক সংস্কারে এগিয়ে আসতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে গতকাল রোববার শেষ হওয়া তিন দিনব্যাপী আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলনে এসব কথা উঠে এসেছে। সম্মেলনে সদস্যদেশগুলোর অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানেরা অংশ নেন। এতে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান যোগ দেন।
বাংলাদেশসহ অন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ বা তার বেশি হবে বলে মনে করেন আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টিন ল্যাগার্দ। তবে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী এই প্রবৃদ্ধিতে সন্তুষ্ট নন। সেখানে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমরা ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে আটকে আছি। অনেক চেষ্টা করেও ৭ শতাংশে যেতে পারছি না। বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ করতে হলে আমাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়াতে হবে।’
আইএমএফের আন্তর্জাতিক মুদ্রা ও আর্থিক কমিটির প্রধান সিঙ্গাপুরের অর্থমন্ত্রী থারম্যান সানমুগারত্নম বলেন, ‘এখন আমরা একটি সংস্কার-প্রক্রিয়া অতিক্রম করছি, সেটা বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ দুভাবেই।’
প্রবৃদ্ধির বর্তমান ধারা ধরে রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্যও এই সংস্কার প্রক্রিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ অভিহিত করে থারম্যান আরও বলেন, ‘আমরা যদি আগামীকালের প্রবৃদ্ধির সমস্যা আজ সমাধান করতে না পারি, তাহলে আমাদের আজকের সমস্যা নিয়ে আগামীকালও পড়ে থাকতে হবে।’
সম্মেলনে সংস্কারের পাশাপাশি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সরকারিভাবে খাতে অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকপ্রধানেরা জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানো, আয়ভিত্তিক কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস করে ভোগভিত্তিক কর কাঠামো প্রবর্তন এবং সেবা খাতের উদারীকরণের পদক্ষেপ নেওয়া প্রভৃতি বিষয়েও জোর দিয়েছেন।
ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) প্রধান মারিও দ্রাঘি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইউরো অঞ্চলভুক্ত দেশগুলোর অর্থনীতিতে ব্যাপক সংস্কার করতে হবে।
সূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস ও ইয়াহু! ফিন্যান্স

চট্টগ্রাম বন্দর: আমদানি পণ্য খালাস করতেই ১১ দিন ৯ ঘণ্টা -এনবিআরের সমীক্ষা by জাহাঙ্গীর শাহ

চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি পণ্য খালাস করতে গড়ে ১১ দিন ৯ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট সময় লাগে। আর রপ্তানি প্রক্রিয়ায় জাহাজীকরণে সময় লাগে ৪ দিন ২২ ঘণ্টা ৩৮ মিনিট। আমদানির ক্ষেত্রে জাহাজ বন্দরে ভেড়ার পর মালামাল নামানো ও শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাতে এবং রপ্তানির কোনো চালান বন্দরে পৌঁছার পর আনুষঙ্গিকতা শেষে তা জাহাজে ওঠাতে এই সময় ব্যয় হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সমীক্ষায় এ তথ্য বের হয়ে এসেছে। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষা বলছে, বন্দরে মালামাল খালাস ও জাহাজীকরণ সময় এবং অবকাঠামোর সুবিধায় বিশ্বের মধ্যে ১০৮তম হলো বাংলাদেশ। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রকাশ করা ১৬০টি দেশের বন্দর-সুবিধার ক্রমতালিকা বা র্যাং কিংয়ে বাংলাদেশের এই অবস্থান উঠে এসেছে। এনবিআরের শুল্ক বিভাগের সমীক্ষায় বন্দরের পণ্য খালাস ও জাহাজীকরণে সময়সীমা কমিয়ে আনতে একটি সময়সীমাভিত্তিক পরিকল্পনা করারও সুপারিশ করা হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বাজেট সহায়তার অর্থের মধ্যে সমীক্ষার শর্তটি ছিল। গত জুন মাসে সমীক্ষাটি প্রকাশ করা হয়।

যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, জাহাজ থেকে নামার পর পণ্য খালাস পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই বেশি সময় লাগছে। এতে ব্যবসায় ব্যয় বাড়ে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘অফ ডকে চার দিনের মধ্যে পণ্য খালাস করার কথা। কিন্তু বাস্তবে এর চেয়ে বেশি সময় লাগে। এ জন্য দৈনিক প্রতি কনটেইনারে (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের) ছয় হাজার ২০০ টাকা মাশুল দিতে হচ্ছে। এ কারণে ব্যয় অনেক বাড়ছে।’ এসব বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ঘাড়েই চাপে। পণ্যের দাম বেড়ে যায়। চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য খালাসের এ সময়সীমা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের চেয়ে অনেক বেশি। বিশ্বের বড় বড় বন্দরের চেয়ে সাড়ে পাঁচ গুণের বেশি সময় লাগে চট্টগ্রাম বন্দরে।
সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন (ডব্লিউসিও) বিশ্বের বড় ২৩টি সমুদ্রবন্দরের পণ্য খালাসের সময়সীমার ওপর সমীক্ষা করে। সেই সমীক্ষা অনুযায়ী, বাংলাদেশে একজন আমদানিকারককে যে ধরনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয়, সেই একই ধরনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে অন্য দেশে বন্দরের পণ্য খালাস করতে মাত্র ৬২ ঘণ্টা ২৪ মিনিট বা ২ দিন ১৪ ঘণ্টা ২৪ মিনিট সময় লাগে। সাধারণত নন-অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর (এইও) প্রতিষ্ঠান এভাবে পণ্য খালাস করে থাকে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এইও প্রতিষ্ঠান নেই। এমনকি এইও প্রতিষ্ঠানকে অনলাইন শুল্ক পরিশোধ, গ্রিন চ্যানেলে পণ্য খালাসের মতো সেবা দেওয়ার মতো অবকাঠামোও নেই চট্টগ্রাম বন্দরে। ডব্লিউসিওর একই সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে, অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটরের ক্ষেত্রে পণ্য খালাসে সময় লাগে মাত্র ৩৮ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট বা ১ দিন ১২ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দর বিশ্বের ৯০তম বৃহত্তম বন্দর। এই বন্দর দিয়ে বাংলাদেশের আমদানি পণ্যের প্রায় ৫০ শতাংশই আসে। আর রপ্তানি পণ্যের ৮০ শতাংশ পরিমাণই যায় এ বন্দর দিয়ে। আর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আমদানি-রপ্তানি পর্যায়ে বছরে যে পরিমাণ শুল্ক-কর আদায় করে, এর ৪০ শতাংশই আসে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস থেকে। চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাস করতে তুলনামূলক অনেক বেশি সময় লাগে—এটা দীর্ঘদিনের সমস্যা। ব্যবসায়ীরাও এই অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন। তাঁরা বলছেন, পণ্য খালাসে সময় বেশি ব্যয় হয়। এতে ইয়ার্ডে পণ্য ফেলে রাখতে হয়। আমদানিকারককে মাশুল গুনতে হয়। ফলে পণ্য আমদানিতে ব্যয় বাড়ে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ঘাড়েই চাপে।
মূলত জাহাজ থেকে পণ্য নামার পর শুল্কায়ন পর্যন্ত রাখা, শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং পণ্য খালাস—এই তিনটি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কী পরিমাণ সময় লাগে, সেটাই এনবিআরের শুল্ক বিভাগের সমীক্ষায় উঠে এসেছে। গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত এই সমীক্ষায় মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ২১ হাজার ৫৭৩টি বিল অব এক্সপোর্ট এবং ১৪ হাজার ৭৩২টি বিল অব এন্ট্রির বিপরীতে এই সমীক্ষা হয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কমিশনার মাসুদ সাদিক প্রথম আলোকে বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উন্নয়নে অন্যতম প্রধান শর্ত হলো বন্দর-সুবিধা। প্রতিযোগী দেশগুলো এ ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এই সমীক্ষাটির মাধ্যমে বাংলাদেশের বৃহত্তম বন্দরের বাস্তব অবস্থা কী—সেটা জানা গেল। এখন বন্দর-সুবিধা বাড়ানো গেলে ব্যবসায়ীরা স্বল্প সময় ও সাশ্রয়ী খরচে পণ্য খালাস করতে পারবেন। তবে এই সমীক্ষায় যে সময়সীমার কথা বলা হয়েছে—এর সঙ্গে একমত নন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) উপদেষ্টা মনজুর আহমেদ। তিনি মনে করেন, বাস্তবে আরও বেশি সময় লাগে। শুল্কায়ন প্রক্রিয়ার সময় আমদানিকারকের ঘোষণা দেওয়া পণ্যের এইচএস কোড, ইনভয়েস ইত্যাদি মানতে চান না শুল্ক কর্মকর্তারা। ফলে দুই পক্ষের সমঝোতা হতে সময় লাগে। এ ছাড়া সিঙ্গাপুর, হংকং বন্দরের মতো ভারী যন্ত্রপাতি বা আমদানি পণ্য নামানোর মতো আধুনিক সুবিধা নেই চট্টগ্রাম বন্দরে। এতেও সময় নষ্ট হয়।
মনজুর আহমেদের সুপারিশ, সময় কমাতে আমদানি-রপ্তানি পণ্য খালাস বা জাহাজীকরণে সিঙ্গেল উইন্ডো বা একক কাউন্টারেই সব সুবিধার ব্যবস্থা রাখতে হবে। অর্থাৎ এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত শুল্ক বিভাগ, বন্দর কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআইসহ সব পক্ষ এক জায়গায় কাজ করবে। আমদানি বা রপ্তানিকারককে পৃথক পৃথক কাউন্টারে গিয়ে এসব ঝামেলা মেটাতে যেন না হয়।
কোথায় কত সময় লাগে: সমীক্ষায় দেখা গেছে, কোনো কোনো আমদানি পণ্যের জাহাজ ভেড়ার পর জেটিতে কার্গো খালাসের আনুষঙ্গিকতা সম্পন্ন করতে ১২ দিন ১১ ঘণ্টা ২২ মিনিটও লেগে গেছে। আবার অফ ডকে কার্গো প্রক্রিয়ায়ও লেগেছে ৪ দিন ১০ ঘণ্টা ১৩ মিনিট। এরপর কাস্টম হাউসে শুল্কায়ন সম্পন্ন হয় ৫ দিন ১০ ঘণ্টা ১৩ মিনিটে। আর শুল্কায়ন শেষ হলে পণ্য বন্দর থেকে বের করতে আরও ২ দিন ১০ ঘণ্টা ৪ মিনিট লাগে। আর পণ্য বের হওয়ার সময় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তা যাচাই করতে সময় নেয় ১ ঘণ্টা ৫৭ মিনিট। অবশ্য কিছু ক্ষেত্রে এর চেয়ে সময় কিছু কম লাগে। যার কারণে সব মিলিয়ে আমদানিকৃত এক চালান পণ্য খালাসে গড়ে সময় লাগে ১১ দিন ৯ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট।
অন্যদিকে রপ্তানি পণ্যের চালান বন্দরে পৌঁছার পর তুলনামূলক কিছুটা দ্রুততর সময়ে জাহাজে ওঠে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে লাগে গড়ে ৪ দিন ২২ ঘণ্টা ৩৮ মিনিট। পণ্যের চালান পৌঁছার পর বন্দরে প্রবেশ, কাগজপত্র জমা, ইয়ার্ডে পৌঁছানোসহ আনুষঙ্গিকতা শেষ করতেই ৩ দিন ১৭ ঘণ্টা ৫০ মিনিট লেগে যায়। আর ঘোষণা অনুযায়ী চালানটি যাচাই-বাছাই করাসহ শুল্কায়ন প্রক্রিয়া শেষ হয় ৫ ঘণ্টা ৩৭ মিনিটে। তবে শুল্কায়ন শেষ করার পর বন্দর কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র নিয়ে জাহাজে তা ওঠাতে সময় লাগে ১ দিন ১৯ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট।
বাংলাদেশ ১০৮তম: সমুদ্র ও স্থল—এই ধরনের বন্দর-সুবিধায় বিশ্বের অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ বেশ পিছিয়ে রয়েছে। অথচ বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের বন্দর-সুবিধা বাড়ানোর বিকল্প নেই। বিশ্বব্যাংক প্রতিবছর বন্দর-সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন দেশের ক্রমতালিকা প্রকাশ করে। শুল্কায়ন, অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক জাহাজীকরণ, বিভিন্ন পর্যায়ে আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সুবিধা, পণ্য খালাসে সময়সীমা—এসব সূচকের মাধ্যমে এই তালিকা করা হয়।
২০১৪ সালের সেই সূচকে দেখা গেছে, ১৬০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৮। সব সুবিধা বিবেচনায় প্রথম স্থানে রয়েছে জার্মানি। এর পরের দুটি স্থানে যথাক্রমে নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়াম। সোমালিয়ার বন্দর-সুবিধা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে শুধু ভুটান ও আফগানিস্তান। আর সবচেয়ে কম সময় লাগে ভারতে। বিশব্যাপী ক্রমতালিকাতে অবশ্য ভারতের অবস্থান ৫৪তম। ক্রমতালিকাতে পাকিস্তান ৭২, মালদ্বীপ ৮২, শ্রীলঙ্কা ৮৯, নেপাল ১০৫, ভুটান ১৪৩ এবং আফগানিস্তান ১৫৮তম স্থানে রয়েছে। এশিয়ার মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে জাপান। দেশটির বিশ্ব ক্রমতালিকায় অবস্থান ১০তম।

জিপিএ-৫ দিয়ে হাজার হাজার ‘মাকাল ফল’ -গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যে অরাজকতা চলছে, তা দেশের সামগ্রিক অরাজকতারই বহিঃপ্রকাশ। হাজার হাজার জিপিএ-৫ দিয়ে হাজার হাজার ‘মাকাল ফল’ তৈরি করা হচ্ছে। বোর্ডভিত্তিক পরীক্ষার পরিবর্তে বিদ্যালয়ভিত্তিক পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।  শিক্ষাক্ষেত্রে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আজ মঙ্গলবার দুপুরে এক গোলটেবিল আলোচনায় এ মতামত দেন বক্তারা। জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাংলাদেশের শিক্ষার বর্তমান হালচাল’ শীর্ষক এই গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) । শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাবেক বিচারপতি ও শিক্ষা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা আলোচনায় অংশ নেন।

আলোচনায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক উপাচার্য আবদুল মতিন পাটওয়ারী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুকরণে বর্তমান গ্রেডিং পদ্ধতি করা হয়েছে। কিন্তু গ্রেডিংয়ের নম্বর বিভাজনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুকরণ করা হয়নি। এ বিষয়টি নিয়ে ভেবে দেখা দরকার। একই সঙ্গে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করার জন্য আহ্বান জানান তিনি। সাবেক বিচারপতি কাজী এবাদুল হক বলেন, বর্তমানে দেশে শিক্ষাব্যবস্থায় যে অরাজকতা চলছে, তা দেশের সামগ্রিক অরাজকতার বহিঃপ্রকাশ । শিক্ষক যদি নিবেদিতপ্রাণ না হন, তবে এসব চলতেই থাকবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক আসিফ নজরুল বলেন, এ সরকারের আমলে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে বই দেওয়াসহ ভালো কিছু কাজ হয়েছে। কিন্তু হাজার হাজার জিপিএ-৫ দিয়ে হাজার হাজার ‘মাকাল ফল’ তৈরি করা হচ্ছে।
গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মুহম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল ‘বাস্তবসম্মত না কৃত্রিম’—তা নিয়ে সমাজে প্রশ্ন আছে। এ সন্দেহ দূর করা উচিত। আলোচনায় অংশ নেওয়া আরও কয়েকজন আলোচক বোর্ডের পরীক্ষার পরিবর্তে বিদ্যালয়ভিত্তিক পরীক্ষা চালু করার পরামর্শ দেন।
বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, শিক্ষাসচিব হিসেবে নন, ব্যক্তিগতভাবে তিনিও মনে করেন ওই পরীক্ষাগুলো বিদ্যালয়ভিত্তিক হওয়া উচিত। পরীক্ষায় যদি পুলিশ লাগে, তাহলে বুঝতে হবে কিছু সমস্যা আছে।
গোলটেবিল আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান। সঞ্চালনা করেন সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। লিখিত মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজনের প্রধান সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।

শিক্ষার মান আগে ছিলই না: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, ‘আমরা বিশ্বমানের শিক্ষা চাই। শিক্ষার মান আগে ছিলই না, এখন মানসম্পন্ন শিক্ষা হচ্ছে। তাই মান নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। শিক্ষার এই মানকে আরও উন্নত করে বিশ্বমানের করে তুলতে চাই।’ আজ মঙ্গলবার বেলা দুইটার দিকে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজের ছাত্রাবাস উদ্বোধন করে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই কলেজের ছাত্রাবাসটি ২০১২ সালের ৮ জুলাই ছাত্রশিবির ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষের জের ধরে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় দেশে-বিদেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। শিক্ষামন্ত্রী ওই ছাত্রাবাসের বাসিন্দা ছিলেন। ঘটনার পর তিনি পোড়া ছাত্রাবাস দেখে কেঁদে ফেলেছিলেন। ঐতিহ্য সুরক্ষায় পুরোনো কাঠামোয় ছাত্রাবাস পুনর্নির্মাণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রাবাসটি আবার গড়া হয়। আজ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর ছাত্রদের আবাসিক কার্যক্রম শুরু করা হয়। ছাত্রাবাস পোড়ানোর সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমার প্রতিশ্রুতি ছিল আগের কাঠামোয় ছাত্রাবাস পুনর্নির্মাণ করে দেওয়া। সেটি আমি করে দিয়েছি। ছাত্রাবাসটি যে রকম ছিল, দেখতে সে রকমই হয়েছে। শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে আগে সেটি করা হয়েছে, এখন পোড়ানোর ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’
ছাত্রাবাস উদ্বোধন করে মন্ত্রী স্থানীয় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। এ সময় তিনি শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে মনে করছেন আমাদের ছেলে-মেয়েরা ভালো করছে না। আমি আগেও বলেছি, এখনো বলছি, আমাদের ছেলে-মেয়েরা আগের চেয়ে অনেক গুণ বেশি এগিয়েছে। শিক্ষকেরাও এগিয়েছেন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা পাঁচ বছরের তুলনায় এখন দ্বিগুণের চেয়ে বেশি হয়েছে। শিক্ষায় আজকের মান যা ছিল, অতীতে তা ছিল না।’ আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যে যা-ই বলুক, আমরা যে শিক্ষা দিচ্ছি, সেটা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক উন্নত। বিশ্বমানে পৌঁছাতে হলে আধুনিক ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। সব কলেজে ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষ চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশে এখন ২০ হাজার ৫০০ ডিজিটাল ক্লাসরুম রয়েছে। আরও সাড়ে তিন হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল ক্লাস রুম করা হবে।’

তৃতীয় দফায় ইভো মোরালেস! -রাষ্ট্রপ্রধান হওয়া এক আদিবাসী রাখালের গল্প

আবার বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন সমাজতান্ত্রিক নেতা ইভো মোরালেস। গত রোববার তিনি বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বলে দাবি করেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করা হলেও বুথফেরত জনমত জরিপের ফলে দেখা গেছে, মোরালেস ৬০ শতাংশের বেশি ভোট পাচ্ছেন। এ নিয়ে তিনি তৃতীয়বারের মতো বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট হবেন। প্রথমবার ২০০৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন মোরালেস। এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর ‘আদিবাসী সমাজতন্ত্র’ নীতিকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এই নীতির আওতায় তিনি এরই মধ্যে তেল-গ্যাসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাতকে জাতীয়করণ করেছেন। রাজধানী লাপাজে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের বাইরে রোববার জড়ো হওয়া হাজার হাজার সমর্থকের উদ্দেশে মোরালেস বলেন, ‘দুই মডেল নিয়ে বিতর্ক ছিল: জাতীয়করণ না ব্যক্তিমালিকানা। জাতীয়করণ ৬০ শতাংশের বেশি সমর্থন পেয়ে জয়ী হয়েছে।’ রয়টার্স
রাষ্ট্রপ্রধান হওয়া এক আদিবাসী রাখালের গল্প
টানা তৃতীয় মেয়াদে বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন বামপন্থী নেতা ইভো মোরালেস। আদিবাসী হিসেবে তিনিই প্রথম দেশটির রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হয়েছেন। শূন্য থেকে নিজ গুণে শীর্ষে পৌঁছানোর অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।
আজ সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, চরম দারিদ্র্যের মধ্যে জন্ম নেওয়া ইভো মোরালেস ছিলেন লামা নামের দক্ষিণ আমেরিকার এক ধরনের প্রাণীর রাখাল। গান গাইতেন, ফুটবল খেলতেন আর ছিলেন কোকো চাষি।
লাতিন আমেরিকার দরিদ্রতম এই দেশটিতে ইভো মোরালেসের প্রায় নয় বছরের শাসনামলে দরিদ্রবান্ধব অনেক নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিও এসেছে। এর ওপর ভর করেই ৫৪ বছর বয়সী ইভো মোরালেস গত রোববারের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় যাচ্ছেন। বুথফেরত ভোটারদের দেওয়া তথ্যে এমন আভাসই মিলেছে।
৬৫ শতাংশ আদিবাসীর দেশ বলিভিয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু কেব্‌ল কার চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে ইভো মোরালেসের শাসনামলে। দেশের প্রথম স্যাটেলাইটও উৎপেক্ষণ হয়েছে তাঁর আমলেই। ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূরীকরণে অগ্রগতিও হয়েছে অনেকটা।
বলিভিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ওরুরোতে এক দরিদ্র পরিবারে ইভো মোরালেসের জন্ম। ছোটবেলায় তিনি লামার রাখাল ছিলেন, বাবা-মাকে কৃষিকাজে সহযোগিতা করতেন। তাঁর ছয় ভাইবোনের মধ্যে চারজনই দুই বছরের আগে অপুষ্টিজনিত রোগে ভুগে মারা গেছে।
আয়মারা ভাষাভাষী গোষ্ঠীর মধ্যে ইভো মোরালেস বেড়ে উঠেছেন। বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষা অর্জনের জন্য তরুণ বয়সে বেশ কষ্ট করেই স্প্যানিশ শিখতে হয়েছিল তাঁকে। খরার কারণে অনেকটা বাধ্য হয়ে তিনি আশির দশকের শুরুর দিকে কোকো-উৎপাদনকারী এলাকায় চলে যান। তখনই তিনি গানের দল গড়ে তোলেন, ফুটবল খেলায় জড়িয়ে পড়েন। গান আর ফুটবলের কারণে তিনি দেশের বাইরে ভ্রমণের সুযোগ পান।
মাদকের দোহাই দিয়ে কোকো চাষের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন প্রচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠ ছিল ইভো মোরালেসের। তখনই ইউনিয়ন নেতা হিসেবে তাঁর উত্থান। তাঁর নেতৃত্বে কোকো চাষিরা আন্দোলন গড়ে তোলেন। বলিভিয়ার অনেকে কোকো পাতা পানের মতো চিবিয়ে খান, আবার অনেকে এটি চা-পাতার মতো ব্যবহার করে পান করেন। তখন তিনি যুক্তি দেন, এটি দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ।
২০০২ সালে ইভো মোরালেস প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেন। তবে সেবার হেরে যান তিনি। ২০০৫ সালের নির্বাচনে তিনি ৫৪ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তিনি এই বিজয় লাতিন আমেরিকার দেশ কিউবার বামপন্থী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো ও ভেনেজুয়েলার নেতা হুগো চাভেজ এবং বিশ্বের সব ‘সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী ও পুঁজিবাদবিরোধী’ নেতার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইভো মোরালেসের অনেক বেশি কাজ করার কথা প্রচলিত আছে। তিনি বেশির ভাগ সময় ভোর পাঁচটা থেকে কাজ শুরু করেন। চষে বেড়ান দেশের এপ্রান্ত-ওপ্রান্ত। স্পোর্টস বয়েজ নামের স্থানীয় একটি ফুটবল ক্লাবের হয়ে এ বছর খেলার জন্য সইও করেছেন তিনি। সময়সূচির সঙ্গে মিলে গেলে তিনি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার কথা জানিয়েছেন। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অপরাধ, মাদকপাচার ও দুর্নীতি রোধে ব্যর্থ হয়েছেন।
ব্যক্তিগত জীবনের কথা ইভো মোরালেস সযত্নে এড়িয়ে যান। অবিবাহিত হিসেবে পরিচিত এই নেতার এলভারো ও ইভা লিজ নামে দুই মায়ের দুই সন্তান আছে। এই নেতা জানিয়ে দিয়েছেন, ৬০ বছর বয়সের পর তিনি ক্ষমতা ছেড়ে দেবেন। অবসর জীবনে একটি খাবারের দোকান দেবেন তিনি।

আবার আলোচনায় দীপিকা পাডুকোন

একের পর এক চমক যেন দেখিয়েই যাচ্ছেন বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাডুকোন। গত বছর পাঁচ পাঁচটি সুপারহিট ছবি উপহার দিয়ে চলতি সময়ের সফল অভিনেত্রীতে পরিণত হয়েছেন তিনি। এ বছরের শেষের দিকেই মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার অভিনীত বহুল প্রতিক্ষিত ছবি ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’। ফারাহ খান পরিচালিত এ ছবিতে শাহরুখের বিপরীতে দেখা যাবে তাকে। এরই মধ্যে ছবির গান ও প্রমো প্রচার শুরু হয়েছে। শুধু তাই নয়, ছবির একটি আইটেম গানের মাধ্যমে আবারও দর্শক হৃদয় জয় করেছেন তিনি। ‘লাভলি’ নামক এই আইটেম গানটি অল্প সময়ের মধ্যেই টপচার্টের শীর্ষস্থান দখল করে নিয়েছে। গানটিতে শতভাগ আবেদনময়ী করে ফারাহ উপস্থাপন করেছেন দীপিকাকে। ব্যাপক বড় আয়োজনের সেট তৈরি করে এই গানটির শুটিং সম্পন্ন করতে পুরো ৭ দিন লেগেছে। নিজের কাছে পুরোপুরি সঠিক না হওয়া পর্যন্ত শুটিং চালিয়ে গেছেন ফারাহ। একাধিক খোলামেলা পোশাকে এই গানে হাজির হয়েছেন দীপিকা। গানটি গেয়েছেন সুনিধি চৌহান। সব মিলিয়ে এ গানটির মাধ্যমে আবারও আলোচনায় এসেছেন দীপিকা। তবে তার এই চমক এখানেই হয়তো থেমে থাকছে না। ফারাহ খান জোর গলায় বলেছেন, এ ছবিতে দীপিকা যে পারফরমেন্স দেখিয়েছেন তা অতীতে কোন ছবিতে দেখা যায়নি। এটি তার ক্যারিয়ারে মাইলফলক হয়ে থাকবে। অন্যদিকে ছবি মুক্তির আগেই ‘লাভলি’ গানটি ইউটিউবে দেখেছেন রেকর্ডসংখ্যক দর্শক। সব মিলিয়ে ছবিটি দিয়ে শাহরুখ-দীপিকা জুটি আবারও ‘ধূম মাচাবেন’ বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ‘লাভলি’ গানটিতে পারফরমেন্স এবং এ ছবিতে অভিনয় প্রসঙ্গে দীপিকা বলেন, অনেক দিন পর আমি আইটেম গানে কাজ করলাম। এ গানটি দর্শক এতোটা পছন্দ করবে ভাবিনি। আমি আবেগে আপ্লুত দর্শক রেসপন্সে। আশা করছি মুক্তি পেলে বলিউড ইতিহাসে একটি রেকর্ডই স্থাপন করবে ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’।

টেক্সাসে খুন ও ক্ষমা এবং নিয়তির টানে একজন বাংলাদেশী by শফিক রেহমান

রইসউদ্দিন ভূইয়ার জন্ম হয়েছিল বাংলাদেশে। সিলেট ক্যাডেট কলেজে পড়াশোনার পর তিনি বাংলাদেশ এয়ার ফোর্সে অফিসার পদে যোগ দেন। যে গুটিকয়েক বাংলাদেশী আমেরিকায় বসবাসের জন্য ২০০০ সালে গৃন কার্ড লটারিতে বিজয়ী হয়েছিলেন, রইস ছিলেন তাদের অন্যতম। চাকরি করা এবং পাশাপাশি কমপিউটার টেকনলজি শেখার লক্ষ্যে ২৭ বছর বয়সে রইস চলে যান ম্যানহাটান, নিউ ইয়র্কে। সেখান থেকে তিনি যান আমেরিকার দক্ষিণে ডালাস, টেক্সাসে। ডালাসে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা তাকে সাবধান করে দিয়েছিলেন টেক্সাসে সহিংসতার সংখ্যা বেশি। তবুও রইস বেছে নিয়েছিলেন ডালাস সিটিকে। কারণ ম্যানহাটানের তুলনায় সেখানে জীবনযাত্রার খরচ ছিল কম এবং জব অপরচুনিটি ছিল বেশি। এক বন্ধুর সঙ্গে পার্টনারশিপে একটি পেট্রলপাম্প স্টেশনে ডালাসে কাজ শুরু করেন রইস।
যে শহর ছেড়ে রইস চলে যান ডালাসে, সেই নিউ ইয়র্ক সিটিতে ১১ সেপ্টেম্বর ২০০১-এ দুটি সন্ত্রাসী প্লেন এটাকে ম্যানহাটানে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার ধ্বংস হয়। প্রায় একই সময়ে রাজধানী ওয়াশিংটনে এবং পেনসেলভানিয়াতে আরো দুটি সন্ত্রাসী প্লেন এটাক হয়। এই চারটি এটাকে চারটি প্লেনের ১৯ জন হাইজ্যাকার এবং সব প্লেনের সব যাত্রী ও বিভিন্ন ভবনের ২,৯৭৭ অধিবাসীসহ, সেই দিন মোট ২,৯৯৬ মানুষ নিহত হয়। আহত হয় ৬,০০০-এর বেশি। ধারণা করা হয় ১৯ জন হাইজ্যাকারই ছিল আল কায়েদা সংস্থার সদস্য আরব মুসলিম।
সারা আমেরিকায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার আকাংক্ষা কিছু আমেরিকানের মধ্যে প্রবল হয়ে ওঠে। এই ুব্ধ আমেরিকানদের অন্যতম ছিল ডালাসের এক ডে লেবারার বা দিনমজুর, মার্ক এন্টনি স্ট্রোম্যান (৩১)। সে প্রতিশোধ নিতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হয়।
১৫ সেপ্টেম্বর ২০০১-এ ডালাসে ইলাম রোডে একটি গ্রোসারি স্টোরে কাজ করছিলেন পাকিস্তানি বংশ উদ্ভূত ওয়াকার হাসান (৪৬)। স্ট্রোম্যান সেই দোকানে ঢুকে গুলি করে ওয়াকারকে খুন করে।
এর ছয় দিন পরে স্ট্রোম্যান তার দ্বিতীয় শিকারের লক্ষ্যে যায় ডালাসের সাউথ বাকনার বুলেভাতে পেট্রলপাম্প সংলগ্ন একটি মিনিমার্টে। সেখানে ক্যাশিয়ারের কাজ করছিলেন রইস। রইসকে তার বস বলে রেখেছিল, কখনো কোনো আগন্তুক এসে যদি বন্দুক দেখিয়ে ডলার চায়, তাহলে ক্যাশে দেড় শ ডলার রেখে বাকি সব ডলার বিনা বাক্য ব্যয়ে আগন্তুককে দিয়ে দিতে।
রইসের মিনিমার্টে মাঝেমধ্যে আগন্তুকরা আসত চোরাই ল্যাপটপ, টিভি প্রভৃতি বিক্রির আশায়। সেদিন ভরদুপুরে ওই আগন্তুকের হাতে ল্যাপটপ বা টিভি ছিল না। ছিল একটি শটগান। তার মাথা ছিল ন্যাড়া। দেহে ছিল উল্কি বা ট্যাটু আকা।
পূর্বনির্দেশ অনুযায়ী রইস তার ক্যাশ বক্স খোলেন। কাউন্টারের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে স্ট্রোম্যান জিজ্ঞাসা করে, ‘তোর দেশ কোথায়? হোয়ার আর ইউ ফ্রম?’
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর রইস দেওয়ার আগেই স্ট্রোম্যান সরাসরি তার মুখে গুলি করে। সে মারা গিয়েছে ভেবে স্ট্রোম্যান চলে যায়। রক্তাক্ত রইস কোনো রকমে পাশের দোকান, একটি হেয়ার ড্রেসিং শপে যান। সেখান থেকে পুলিশে ফোন করা হয়।
এরপর পুলিশ যখন আততায়ীকে খুজছিল তখন স্ট্রোম্যান তার তৃতীয় শিকারের লক্ষ্যে তৎপর হয়। ৪ অক্টোবর ২০০১-এ টেক্সাসের মেসকিট শহরে ইনডিয়ান বংশ উদ্ভূত বাসুদেব প্যাটেলকে (৪৯) সে খুন করে।
এর কিছু দিন পর স্ট্রোম্যান ধরা পড়ে। হাজতে থাকা অবস্থায় স্ট্রোম্যান বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে ফোন করে দাবি করে যে এসব হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে দিয়েছে সে একজন সত্যিকার দেশপ্রেমিক, এ ট্রু আমেরিকান। ২০০২-এ জেল থেকে এক বন্ধুর কাছে একটি চিঠিতে স্ট্রোম্যান নিজের সম্পর্কে লেখে, ‘এখানে আছে আরব হত্যাকারী। আমি যা করেছি তার পুরস্কারস্বরূপ তোমাদের মেয়র করা উচিত আমাকে। আমি একজন দেশপ্রেমিক, সত্যিকার আমেরিকান এবং খুবই স্পেশাল ধরনের।’
গুরুতর আহত রইসকে হসপিটালে নেওয়া হলে কয়েকবার সার্জারির পর ডাক্তাররা তাকে ব্রেইন ড্যামেজ থেকে বাচাতে পারেনÑ কিন্তু তার এক চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যায়। এ বিষয়ে পরে রইস বলেন, ‘আমার মুখের ডান দিকে এখনো ৩৮টি পেলেট আছে। আমার মুখে ছুলেই বুঝবেন এটা কত এবড়োখেবড়ো। একটার পর একটা সার্জারি হয়েছিল আমার মুখে। এসব সার্জারি ছিল খুবই যন্ত্রণাদায়ক।’
সাধারণত এই ধরনের খুন ও খুনের চেষ্টা কিছু দিন পরে অন্যান্য খবরের আড়ালে পড়ে যায়। কিন্তু রইসের বেলায় সেটা হয়নি। কারণ এত কষ্ট পাওয়া সত্ত্বেও রইস ক্ষমা করে দিয়েছিলেন স্ট্রোম্যানকে এবং স্ট্রোম্যান মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলে, সেই দণ্ড যাতে কার্যকর না হয় তার জন্য আন্দোলন শুরু করেছিলেন।
রইসের এই মহানুভবতায় স্ট্রোম্যানের মানসিক চিন্তাধারা বদলে যায়। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া একটি ইন্টারভিউতে (নিচে দেখুন) স্ট্রোম্যান বলে, ‘ঘৃণা-প্রতিহিংসা বন্ধ করতে হবেÑ কারণ এই পৃথিবীতে আমরা সবাই এক সঙ্গে আছি।’
স্ট্রোম্যানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবার কয়েক ঘণ্টা আগে তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন রইস। গুলিবিদ্ধ হবার পর সেটাই ছিল তার সঙ্গে রইসের প্রথম এবং শেষ কথোপকথন। রইস বলেন, ‘আমি আপনাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। আমি আপনাকে ঘৃণা করি না।’
এ কথার উত্তরে স্ট্রোম্যান বলেন, ‘থ্যাংক ইউ। আমার হৃদয় থেকে আপনাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। আমি আপনাকে ভালোবাসি, ব্রাদার... আপনি আমার হৃদয় ছুয়ে গিয়েছেন। এমনটা আমি কখনোই আশা করিনি।’
‘আপনিও আমার হৃদয় ছুয়েছেন।’ রইস উত্তর দেন।
স্ট্রোম্যানের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখার জন্য রইস ফেডারাল কোর্টে শেষ আপিল করেছিলেন। কিন্তু সেটা নাকচ হয়ে যাবার পর ২০ জুলাই ২০১১-তে স্ট্রোম্যানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
নিউ ইয়র্ক টাইমসে ইন্টারভিউ
রইসের ক্ষমা করার দৃষ্টান্ত আমেরিকাকে আলোড়িত করে। স্ট্রোম্যানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবার দুই দিন আগে ১৮ জুলাই ২০১১-তে নিউ ইয়র্ক টাইমসে রইস ও স্ট্রোম্যান, উভয়ের ইন্টারভিউ প্রকাশিত হয়। ইন্টারভিউ নিয়েছিলেন টিমথি উইলিয়ামস এবং তার এই রিপোর্টের শিরোনাম ছিল, দি হেইটেড অ্যান্ড দি হেইটার, বোথ টাচড বাই ক্রাইম (The Hated and the Hater, Both Touched by Crime, অর্থাৎ, ঘৃণিত এবং ঘৃণাকারী-দুজনকেই ছুয়েছে একই অপরাধ)।
প্রশ্ন : ২১ সেপ্টেম্বর ২০০১-এ আপনি আপনার বন্ধুর একটি পেট্রলপাম্পে কনভিনিয়েন্স স্টোরে কাজ করছিলেন। সেই দিনের ঘটনা সম্পর্কে কি মনে পড়ে?
উত্তর : এর আগে দুইবার আমি চোর ডাকাতের মুখে পড়েছিলাম। ওই এলাকায় অনেক খুনখারাবি হতো। আমাদের দোকানে চোরাই টিভি আর কমপিউটার তারা নিয়ে আসত। একবার একটা লোক এসেছিল বন্দুক হাতে। আমি ভেবেছিলাম সেই লোকটা তার বন্দুক বিক্রি করতে এসেছে। কিন্তু সে বলেছিল, ‘যদি তোমার ক্যাশের টাকা না দাও, তাহলে গুলি করে তোমার খুলি উড়িয়ে দেব।’ এ রকম অভিজ্ঞতা আমার ছিল।
২১ সেপ্টেম্বর ২০০১। তখন বেলা প্রায় সাড়ে বারোটা। বিজনেস বেশ স্লো যাচ্ছিল। বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছিল। পাশের হেয়ারড্রেসিং শপের বারবার (নাপিত) এসে চিপস আর ডৃংকস কিনে নিয়ে গিয়েছিল। হঠাৎ দেখি, হ্যাট আর সানগ্লাস পরে একটা লোক দোকানে ঢুকল। তার হাতে ছিল বন্দুক। আমি ভাবলাম লোকটা ডাকাতি করতে এসেছে। তাড়াতাড়ি বললাম, ‘আমাকে গুলি কোরো না, প্লিজ। সব টাকা তুমি নিয়ে যাও।’
সে বলল, ‘তুই কোন দেশের?’
সে আমার কাছ থেকে চার-পাচ ফিট দূরে ছিল।
আমি শিউরে উঠলাম।
উত্তর দিলাম, ‘কি বলছেন আপনি?’
ওটা ছিল দোনলা বন্দুক। হঠাৎ মনে হলো কয়েক লক্ষ মৌমাছি যেন আমার মুখে হুল ফুটিয়ে দিয়েছে। তারপর একটা বিস্ফোরণের শব্দ শুনলাম। আব্বা-আম্মার, ভাইবোনের আমার ভালোবাসার মেয়েটির মুখগুলো যেন দেখলাম। তারপর দেখলাম একটি কবরস্থান। ভাবলাম, আমি কি আজই মরে যাচ্ছি? নিচের দিকে তাকিয়ে দেখলাম রক্তে ভেসে যাচ্ছে মেঝে। আমার মাথা থেকে গল গল করে রক্ত পড়ছে। ভাবলাম মগজ কি বেরিয়ে যাচ্ছে? দুই হাতে আমার মাথা চেপে ধরে চিৎকার করে উঠলাম, মা। আমি দেখলাম ওই লোকটা তখনো দাড়িয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ভাবলাম মেঝেতে না পড়লে ওই লোকটা মনে করবে আমি বেচে আছি। আমি মেঝেতে পড়ে গেলাম। মেঝে ভেসে যাচ্ছিল আমার রক্তে। তারপর ওই লোকটা চলে গেল। আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না লোকটা আমাকে গুলি করেছে। আমি ভাবছিলাম হয়তো কোনো দুঃস্বপ্ন দেখছি। আমি তো খারাপ কিছু করি নি। আমি তো তাকে কোনো হুমকি দেই নি। আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না এভাবে বিনা কারণে কেউ কাউকে গুলি করতে পারে।
প্রশ্ন : তারপর কি হলো?
উত্তর : আমি ওখান থেকে বের হতে চাচ্ছিলাম। আমি পাশের হেয়ারড্রেসিং শপে গেলাম। ওরা আমাকে দেখে ভয়ে পালিয়ে গেল। একটা জবাই করা মুরগির মতো আমার মুখ থেকে রক্ত পড়ছিল। ওরা ভেবেছিল হামলাকারী আমার পেছনে তেড়ে আসছে। আমি হেয়ারড্রেসিং শপের আয়নায় আমার মুখ দেখলাম। বিশ্বাস করতে পারছিলাম না সেটা আমি (এই সময়ে রইস কাদতে শুরু করেন)। এক মিনিট আগেও আমি ছিলাম টি-শার্ট, হাফ প্যান্ট আর টেনিস শু পরা এক তরুণ (রইস আরো জোরে কাদতে শুরু করেন)। সরি, গত নয় বছর এভাবে আমি কাদি নি। আমি লাকি ছিলাম। কারণ ওই এলাকায় ঠিক তখনই একটা এমবুলেন্স ছিল। আল্লাহর কাছে মোনাজাত করছিলাম, আল্লাহ আমাকে মাফ করে দিও। আমি ভালো পথে চলবো। সুরা আউড়ে আমি বললাম, আমার জীবনটা আমি গরিবদের জন্য উৎসর্গ করবো। আমি বুঝতে পারছিলাম আমার চোখ বন্ধ হয়ে আসছে। মনে হলো আমার ব্রেইনের সব কাজ আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
প্রশ্ন : আপনার কত ইনজুরি হয়েছিল?
উত্তর : আমার মুখে এখনো ৩৮টি পেলেট আছে। আহত হবার পর আমি চোখ খুলতে পারতাম না। কথা বলতে পারতাম না। মুখ হা করতে পারতাম না। কোনো কিছু গিলতে খুব কষ্ট হতো। কারণ আমার গলাতেও গুলি লেগেছিল। হসপিটালে কিছুক্ষণ থাকার পর শুধু বাম চোখটা খুলতে পারি। মুখটা খুব ফুলে গিয়েছিল। ক্ষতবিক্ষত মুখটা ভয়ংকর বিশ্রী হয়ে গিয়েছিল। আমি বিশ্বাস করতে পারতাম না, ওটা ছিল আমারই মুখ। আল্লাহকে শুধু বলতাম, প্লিজ আল্লাহ, আমার মুখটা আমাকে ফিরিয়ে দাও।
(রইসকে পরদিন হসপিটাল থেকে ডিসচার্জ করা হয়েছিল। কারণ তার কোনো হেলথ ইনশিওরেন্স ছিল না। একপর্যায়ের পর হসপিটাল তার চিকিৎসা করতে চায় নি। এর পরের কয়েক মাস তাকে বিভিন্ন বাড়িতে বন্ধুদের অনুগ্রহে কোনো রকমে শুয়ে কাটাতে হয়। স্যাম্পল রূপে যেসব ওষুধ ডাক্তাররা পান, সেসব জোগাড় করে রইস তার চিকিৎসা চালিয়ে যান। পেইনকিলার এবং আইড্রপসও রইস এভাবে জোগাড় করেন। তার ডান চোখে কয়েকবার সার্জারির পর এখন শুধু সেই চোখে তার সীমিত দৃষ্টিশক্তি আছে।)
প্রশ্ন : মি. স্ট্রোম্যান স্বীকার করেছেন তিনি আপনাকে খুন করতে চেয়েছিলেন। তার জীবন বাচানোর জন্য আপনি কেন চেষ্টা করছেন?
উত্তর : আমার আব্বা-আম্মা এবং আমার টিচাররা আমাকে ভালো শিক্ষা দিয়েছিলেন। তারা নীতিকথা শিখিয়েছিলেন। তারা আমার ইমান শক্ত করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, তুমি নিজেকে অপরের অবস্থায় বসিয়ে চিন্তা করবে। তারা তোমাকে আহত করলেও তুমি প্রতিশোধ নিও না। তাদের ক্ষমা করে দিও। তারপর সামনের দিকে এগিয়ে যেও। এর ফলে তোমার জীবনে ভালো কিছু ঘটবেÑ এবং তাদের জীবনেও। আমার ইসলামি শিক্ষা এটাই শিখিয়েছে। ওই লোকটা একটা যুদ্ধ হিসাবে এই কাজটা করেছিল। অনেক আমেরিকান এটাই করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের সাহস হয়নি। ওই লোকটার সাহস হয়েছিলÑ মুসলিমদের গুলি করার সাহস। এই ঘটনাটি ঘটে যাবার পর আমি এই দেশে বেচে থাকার যুদ্ধ করছি। আমি মনে করি, ক্ষমা করে দেওয়াটা যথেষ্ট নয়। ওই লোকটা তার অজ্ঞতা থেকে কাজটা করেছিল। আমি সিদ্ধান্ত নিই ওই লোকটার জীবন বাচাতে হবে। ১১ সেপ্টেম্বরে যা ঘটেছে তার বদলে ডালাসে কাউকে খুন করাটা ঠিক নয়।
প্রশ্ন : মি. স্ট্রোম্যানের সঙ্গে আপনার দেখা করার সুযোগ যদি হয় তাহলে কি করবেন?
উত্তর : স্ট্রোম্যানের সঙ্গে দেখা করার জন্য আমি এপ্লিকেশন করেছিলাম। জেলে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করে তার মানসিকতা বুঝতে চাই। ভালোবাসা আর ক্ষমা বিষয়ে কথা বলতে চাই। আমরা সবাই তো ভুল করি। আমারই মতো, সে-ও আরেকটা মানুষ মাত্র। পাপকে ঘৃণা করোÑ পাপীকে নয়। তাই জেলে গিয়ে তাকে আমার এই অনুভূতিগুলো বোঝাতে চাই। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি তাকে বেচে থাকার সেকেন্ড চান্স দেওয়া উচিত। আমি বলতে চাই, আমি কখনোই আমেরিকাকে ঘৃণা করিনি। তাকে বাচিয়ে রাখলে সে হয়তো অনেক মানুষকে তার কথা বলবে। তাদের সুপথে আনতে পারবে। তার কি হবে এটা ভেবে আমি খুব ইমোশনাল হয়ে যাইÑ আবেগপ্রবণ হয়ে যাই। আমি ঘুমোতে পারি না। যখন আমি বিছানায় শুতে যাই, তখন ভাবি আরেকটি মানুষকে আমি জানি, যে এখন বিছানায় শুয়ে ভাবছে তার কি পরিণতি হবেÑ তার হাত পা বিছানায় বেধে তাকে হত্যা করা হবে। আমি আরো ইমোশনাল হয়ে পড়ি। দুঃখে ভেঙে পড়ি। তাকে বাচানোর জন্য আরো কিছু করতে চাই।
স্ট্রোম্যানের ইন্টারভিউ
প্রশ্ন : কেমন আছেন মি. স্ট্রোম্যান?
উত্তর : আমার আর মাত্র পচিশ দিন বাকি আছে। তারপর একটা বিছানায় আমাকে বেধে ফেলে শরীরে বিষ ঢুকিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু কথাটা একইÑ আমাদের সবাইকেই কোনো এক সময়ে শেষ মুহূর্তের মুখোমুখি হতে হয়। এখন সবই ঠিকঠাক চলছে। ফুরফুরে মেজাজে আছি। এক কাপ কফি খাচ্ছি আর রেডিওতে হারানো দিনের গান শুনছি। তবে একটা নিষ্ঠুর রসিকতাও হচ্ছে। যে গানটি শুনছি সেটা হলো লিনার্ড স্কিনার্ড-এর গাওয়া, ফৃ বার্ড (Free Bird, মুক্ত পাখি)!
প্রশ্ন : রইস ভূইয়া যে আপনার প্রাণদণ্ড কার্যকর করার বিরুদ্ধে চেষ্টা করছেন, সে বিষয়ে আপনি কি মনে করেন?
উত্তর : হ্যা, রইস ভূইয়াÑ এক আশ্চর্য মানুষ। সে প্রেরণা দিতে পারে। আমি যা করেছি তারপর রইসের এই চেষ্টার প্রশংসা হাজারটা বই লিখেও করা যাবে না। সে আমার হৃদয় ছুয়েছে... বিশ্বজুড়ে বহু মানুষের হৃদয় ছুয়েছে। বিশেষত গত দশ বছর যাবৎ যখন আমরা শুধু শুনেছি ইসলামি বিশ্বাস কত মন্দ হতে পারে... (তখন রইসের এই আন্দোলন) প্রমাণ করে দিয়েছে সব কিছুই মন্দ নয়, শয়তানি নয়।
প্রশ্ন : আপনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবার আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি আছে। আমাকে বলুন, আপনি এখন কি চিন্তা করছেন?
উত্তর : শুধু আমার সব বন্ধুই এবং আমার সব সাপোর্টারই যে আমার জীবন বাচানোর জন্য চেষ্টা করছেন তা নয়Ñ এখন আমাকে বাচানোর লক্ষ্যে ইসলামি সম্প্রদায়ও চেষ্টা করছে। ... আর এই ইসলামি আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন রইস ভূইয়া নামে এক অতি অসাধারণ মানুষ, যে আমার ঘৃণা থেকে বেচে যাওয়া মানুষ। ইসলামি মূল্যবোধে তার গভীর বিশ্বাস তাকে শক্তি দিয়েছে ক্ষমার অযোগ্য মানুষকেও ক্ষমা করে দিতে... এটা সত্যিই আমাকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। এটা সবার জন্যই একটা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। ঘৃণা বন্ধ করতে হবেÑ আমরা এই পৃথিবীতে সবাই এক সঙ্গে আছি। আমি যিশুর ধর্মে বিশ্বাসী এবং টেক্সাসের তৃণমূলপর্যায়ের মানুষ। এই দুই কারণেও আমি এখন অনেক কিছু গভীরভাবে বুঝতে পারছি। পৃথিবীটা ঘুরছে। কিন্তু আমার জন্য প্রায় দশ বছর হলো পৃথিবীর সেই ঘোরাটা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বরে যা ঘটেছিল সেটা জাতি হিসাবে আমরা কখনোই ভুলবো না। সেদিন আমরা সবাই যেটা অনুভব করেছিলাম, সেটাও কেউ ভুলবো না। আমিও না। কিন্তু আমি বলতে পারি আজ আমি কি অনুভব করছি। আর সেটা হলো রইস ভূইয়ার জীবন শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা আমি করেছিলাম। তারপর আমার জীবন বাচানোর জন্য যে চেষ্টা সে করছে, তাতে আমি তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা বোধ করছি। আমি জানি বাইরে অনেকেই আছেন, যারা এখনো টুইন টাওয়ারের ঘটনায় আহত বোধ করছেন, যারা এখনো ঘৃণায় ভুগছেন। আর আমি এখনো টেক্সাসের ডেথ সেলে বসে নিজের মৃত্যুর অপেক্ষায় দিন গুনছি। কিন্তু আমি আশা করি এর একটা শুভ পরিণতি হবে। আমাদের দরকার আরো ক্ষমাপরায়ণতা এবং আরো বুঝতে পারাÑ এবং কম ঘৃণা করা টেক্সাস জীবিত, টেক্সাস গর্বিত... আমি একজন সত্যিকার আমেরিকান... বেচে আছি মরার জন্যÑ মরছি বেচে থাকার জন্য। (We need more forgiveness and understanding and less hate... Texas loud and Texas proud... True American... Living to die Dying to live).
আমেরিকানদের অশেষ কৌতূহল
বিচারের সময়ে স্ট্রোম্যান কোনো অনুশোচনা দেখান নি এবং কোনো অনুকম্পা প্রার্থনা করেননি। স্ট্রোম্যানের মৃত্যুর পরে রইস আরো জোরালো আন্দোলন শুরু করেন। এই অতি অসাধারণ ঘটনায় আমেরিকানদের অশেষ কৌতূহল হয়। তারা জানতে চান রইসের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্ল্যান। আর সেই কৌতূহল মেটাতে এগিয়ে আসেন একাধিক রিপোর্টার ও লেখক। একাধিক ডেইলি নিউজ পেপার ও ম্যাগাজিন। একাধিক রেডিও-টিভি চ্যানেল।
ডিসেম্বর ২০১১তে আমেরিকার প্রেস্টিজিয়াস ম্যাগাজিন স্কোয়ার (Esquire)-এ প্রকাশিত হয় মাইক সেগার-এর দি ফেইস অফ ফরগিভনেস (The Face of Forgiveness) শীর্ষক রচনা। ফেব্রুয়ারি ২০১৩-তে এই রচনাটি সংক্ষেপিতভাবে প্রকাশিত হয় দি রিডার্স ডাইজেস্ট ম্যাগাজিনে।
মে ২০১৪-তে নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক আনন্দ গিরিধরদাস-এর লেখা দি ট্রু আমেরিকান : মার্ডার অ্যান্ড মার্সি ইন টেক্সাস (The True American : Murder and Merci in Texas, সত্যিকার আমেরিকান : টেক্সাসে খুন ও ক্ষমা) নামে বইটি প্রকাশিত হবার পর রইসউদ্দিন ভূইয়ার সম্পর্কে আমেরিকান কৌতূহল আরো বেড়ে যায়। ডাবলিউ ডাবলিউ নর্টন (W W Norton) কর্তৃক ৩৩৬ পৃষ্ঠার এই বইটির দাম ২৭ ডলার ৯৫ সেন্ট অথবা ১৮ পাউন্ড ৯৯ পেন্স, আমাজন দাম ১৫ পাউন্ড ৯০ পেন্স। বইটির মুভি মেকিং রাইটস বা স্বত্ব নিয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় আমেরিকায়। শেষ পর্যন্ত এই বইটির মুভি স্বত্ব কিনেছেন নারী মুভি ডিরেক্টর ক্যাথরিন বিগেলো (৬২)। তিনি এখন পর্যন্ত একমাত্র নারী মুভি ডিরেক্টর যিনি অস্কার প্রাইজ বিজয়ী হয়েছেন।
২০০৯-এর সেরা মুভি ডিরেক্টর পুরস্কার প্রাইজটি পান ক্যাথরিন বিগেলো ইরাকে যুদ্ধ-পরবর্তী অবস্থার ওপর তার পরিচালিত হার্ট লকার (Hurt Locker) মুভিটির জন্য। এরপরে ২০১২-তে তার পরিচালিত জিরো ডার্ক থার্টি (Zero Dark Thirty) সেই বছরের সেরা মুভির এবং আরো অনেক অস্কার নমিনেশন পায়। এই মুভির বিষয় ছিল টুইন টাওয়ার ধ্বংস হবার পরে ওসামা বিন লাদেন-এর যুগ। ক্যাথরিন বিগেলো (টাইটানিক মুভি নির্মাতা জেমস ক্যামেরনের সাবেক স্ত্রী) দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন রইসউদ্দিনের ওপর মুভি নির্মাণের জন্য। তাই তিনি বেশি দাম দিয়ে মুভি মেকিং রাইটস কিনেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, বিগেলোর এই মুভিটিও বহু অস্কারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
রইসের আমেরিকান স্বপ্ন হলো দুঃস্বপ্ন
আমেরিকা ইমিগ্রান্টদের দেশ। আদি অধিবাসীদের (যাদের বলা হয় রেড ইনডিয়ান) অধিকাংশকে নিশ্চিহ্ন করে আমেরিকা হয়েছে বহিরাগতদের নতুন দেশ। ওবামার পূর্বপুরুষ এসেছিলেন আফৃকা (কেনিয়া) থেকে। জন কেনেডির পূর্বপুরুষ এসেছিলেন ইওরোপ (আয়ারল্যান্ড) থেকে। তাদেরই মতো অন্যান্য বহিরাগতের স্বপ্ন হলো পরিশ্রম করে গরিব থেকে ধনী হওয়া, অখ্যাত থেকে খ্যাতনামা হওয়া, দুর্বল থেকে শক্তিমান হওয়া। এখনো আমেরিকাতে এটা সম্ভব। সাধারণভাবে এটাকে বলা হয় আমেরিকান ডৃম বা আমেরিকান স্বপ্ন।
বাংলাদেশে সিলেটে রইসউদ্দিন ভূইয়া একই স্বপ্ন দেখছিলেন ২০০০ সালে। সেই বছর আমেরিকার ন্যাশনাল গৃন কার্ড লটারিতে যে গুটিকয়েক মানুষ বাংলাদেশে পেয়েছিলেন, তাদের অন্যতম ছিলেন রইস। তিনি তখন বাংলাদেশ এয়ার ফোর্সে কাজ করছিলেন এবং এক তরুণীর প্রেমে বিভোর ছিলেন। এই চাকরিটি ছেড়ে দিয়ে রইস তার আমেরিকান স্বপ্ন সফল করার লক্ষ্যে ২০০১-এ টেক্সাসে যখন পৌঁছান তখন তার বয়স ছিল সাতাশ। তিনি আইটিতে পড়াশোনা করতে চান এবং পড়াশোনার খরচ মেটানোর জন্য তার এক বন্ধুর পেট্রলপাম্প স্টেশনে (আমেরিকায় যাকে বলে গ্যাস স্টেশন) কাজ শুরু করেন। আমেরিকায় কিছু পেট্রলপাম্প স্টেশনের সঙ্গেই থাকে মিনিমার্ট (কনভিনিয়েন্স স্টোর) যেখানে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সঙ্গে বিভিন্ন ফুড অ্যান্ড ডৃংকস বিক্রি হয় কার-কোচ-ট্রাক ড্রাইভারদের জন্য। অনেক সময় একই ব্যক্তিকে পেট্রল এবং ফুড ও ডৃংকস বিক্রির দায়িত্ব নিতে হয়।
১১ সেপ্টেম্বর ২০০১-এ নিউ ইয়র্ক পেনসেলভানিয়া-ওয়াশিংটনে সন্ত্রাসী হামলার দশ দিন পরে যখন রইস তার পেট্রলপাম্প সংলগ্ন মিনিমার্টে কাজ করছিলেন, ঠিক সেই সময়ে টেক্সাসের এক দিনমজুর, মার্ক এন্টনি স্ট্রোম্যান, প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বেরিয়েছিল আরব শিকারে। তখন ধারণা করা হয়েছিল টুইন টাওয়ারে হামলার জন্য আরবরাই দায়ী। স্ট্রোম্যান পাকিস্তানি বংশ উদ্ভূত ওয়াকার হাসানকে হত্যা করে ১৫ সেপ্টেম্বরে।
এর ছয় দিন পর ২১ সেপ্টেম্বরে স্ট্রোম্যান যায় রইসকে খুন করতে। রইস গুরুতর আহত হলেও বেচে যান।
৪ অক্টোবরে ইনডিয়ান বংশ উদ্ভূত বাসুদেব প্যাটেলকে হত্যা করে স্ট্রোম্যান।
রইসের মিনিমার্টে ঢুকে স্ট্রোম্যান প্রশ্ন করেছিল, তোর দেশ কোথায়?
রইসের কাছে প্রশ্নটি অস্বাভাবিক মনে হয়নি। কারণ তার দোকানে শ্বেতাঙ্গরা এলে কেউ কেউ এ রকম প্রশ্ন করতেন। মাত্র এক দিন আগেও কয়েকজন বন্ধুপ্রতিম শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার দোকানে এসে ইসলাম ও ভূগোল বিষয়ে তার সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। স্ট্রোম্যানের ন্যাড়া মাথা এবং ঊর্ধ্বাংশ ছিল নিরাবরণ। তার গায়ে ছিল উল্কি আকা।
স্ট্রোম্যানকে তার বন্দুকের টৃগার চাপতে দেখে রইস দ্রুত তার ক্যাশ বক্সের শুধু দেড় শ ডলার রেখে বাদবাকি সব ডলার দিতে চান। মৃত্যুদূত স্ট্রোম্যান আর কোনো কথা না বলে রইসের আরো কাছে এগিয়ে আসে এবং তার মুখে গুলি করে।
আহত রইসের পূর্ণচিকিৎসার সামর্থ্য ছিল না। ঘটনাটি জানতে পারে বাংলাদেশে তার জন্য অপেক্ষমাণ বাগদত্তা তরুণীটি। কিন্তু তার পক্ষে আর অপেক্ষা করা সম্ভব হয় না। রইসের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়।
প্রবল আত্মসম্মান ও দৃঢ় সংকল্পবোধ
বাংলাদেশে রইস হারান তার ভালোবাসার মেয়েটিকে। আমেরিকায় রইস হারান তার চাকরি এবং এক চোখের দৃষ্টি শক্তি। তার মেডিকাল বিল হতে থাকে বিশাল। ইতিমধ্যে নাইন-ইলেভেনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য যে ফান্ড সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিল, সেই তহবিল থেকে তিনি কিছু পাবেন না এই দুঃসংবাদটি রেড ক্রস তাকে দেয়। তবে রেড ক্রস বলে, তাকে ফৃ খাবার সাপ্লাইয়ের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু রইসের আত্মসম্মানবোধ ছিল প্রবল। তিনি সেই সাহায্য নিতে চান না।
আহত হবার পরে পথম দিকে রইস পথে বেরোতে ভয় পেতেন। সারা দিন নিজের রুমে থাকতেন এবং নিয়মিত নামাজ পড়তেন। তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন সব প্রতিকূলতা তাকে কাটিয়ে উঠতেই হবে। তাই শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ এবং মানসিকভাবে কিছুটা সবল হবার পরে রইস সিদ্ধান্ত নিলেন কোনো রেস্টুরেন্টে কাজ করার। কারণ এভাবেই অপরিচিত মানুষ সম্পর্কে তার ভয় কাটানো সম্ভব ছিল। ২০০৩-এ অলিভ গার্ডেন নামে একটি রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের চাকরি শুরু করেন রইস।
এর পরে এক বন্ধুসুলভ ডাক্তারের সাহায্যে এই ধরনের ক্রাইমে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি তহবিল থেকে তিনি কিছু টাকা পান। এই টাকায় রইস অধিকাংশ মেডিকাল ও অন্যান্য ঋণ শোধ করতে পারেন। তিনি বাকি টাকায় একটি ব্যাংক একাউন্ট খোলেন, একটি ফ্যাট ভাড়া নেন এবং একটি গাড়ি কিস্তিতে কিনতে পারেন। এ জন্য একটি ক্রেডিট কার্ড কম্পানি রইসকে ক্রেডিট কার্ড দেয়।
হজে নতুন উপলব্ধি
কিন্তু রইস তো আমেরিকায় আইটিতে পড়াশোনা করতে চেয়েছিলেন। তিনি সেদিকেও এগিয়ে যান। স্থানীয় মসজিদে পরিচয় হওয়ার সুবাদে এক মুসলিমের সুপারিশে ২০০৯-এ রইস একটি কম্পিউটার স্কুলে ফৃ পড়াশোনার সুযোগ পান। সেখানে তার টিচারের সহযোগিতায় রেস্টুরেন্ট ভালোভাবে চালানোর জন্য একটি সফটওয়্যার ডিজাইন করেন। রেস্টুরেন্টে কাজ করার পাশাপাশি এই সফটওয়্যার বিক্রির কাজ তিনি শুরু করেন। একপর্যায়ে রইসের হঠাৎ মনে পড়ে মরণাপন্ন অবস্থায় যখন ছিলেন তখন সৃষ্টিকর্তার কাছে তিনি ওয়াদা করেছিলেন হজব্রত পালন করবেন।
রইসের পিতা ইতিমধ্যে তিনবার হজে গিয়েছিলেন। রইস স্থির করেন এবার তিনি হজে তার মাকে নিয়ে যাবেন. যিনি আগে কখনো হজ করেন নি। ইসলাম ধর্মের মূল পাচটি স্তম্ভের অন্যতম হজ পালন করার গভীর ইচ্ছা ছিল তার মা-র।
২০০৯-এ রইস ও তার মা এক মাস মক্কায় ছিলেন। তারা হজ করেন এবং মিশে যান সব পুণ্যার্থীর সাথে।
রইস ফিরে আসেন ডালাস, টেক্সাসে। তবে ভিন্ন মানুষ রূপে।
পরে রইস বুঝিয়ে বলেন, “হজে গিয়ে আমি অনুভব করলাম, আমি আর নিজের সম্পর্কে শংকিত নই। বরং আমি ভাবতে থাকলাম মার্ক স্ট্রোম্যান সম্পর্কে, যে নয় বছর ধরে জেলখানায় তার মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছিল। একত্রিশ বছর বয়সী এবং চার সন্তানের জনক এই লোকটি তো আমারই মতো আরেকজন মানুষ। সে একটা ভয়ংকর ভুল করেছিল। সে বিষয়ে কোনো তর্ক নেই। কিন্তু কোরআন খুব স্পষ্টভাবে বলছে, আমার মতো একটা পরিস্থিতিতে, আপনি ইচ্ছা করলে ন্যায়বিচার চাইতে পারেন, অথবা আপনি আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাইতে পারেন, অথবা আপনি ক্ষমা করে দিতে পারেন। আর আপনি যদি তাকে ক্ষমা করে দেন তাহলে তার মানে হচ্ছে, সে ক্ষমাপ্রাপ্ত এবং জেলের মধ্যে তার সময় কাটানোর প্রয়োজন নেই। আমি তাকে ক্ষমা করে দিলে তার শাস্তি ভোগের কোনো কারণ থাকতে পারে না। এটাই ইসলামি শিক্ষা। সবচেয়ে বেশি যে যন্ত্রণা আমি পেতে পারতামÑ সেই যন্ত্রণা আমি পেয়েছি। ওয়াকার আর বাসুদেবের বৌরা তাদের স্বামীকে হারিয়েছেন। তাদের ছয়টি ছেলেমেয়ে কষ্ট পেয়েছে। কিন্তু এখন মার্ক স্ট্রোম্যানকে হত্যা করে আমরা কি পাবো? কিছুই না। সুতরাং তাকে বাচাতেই হবে।”
মৃত্যুদণ্ডবিরোধী আন্দোলনের সূচনা
কিন্তু রইসের এই অভিযান ছিল প্রায় দুঃসাধ্য। তিনি বিনয়ী এবং কিছুটা মুখচোরা। তবে তার মুখে লেগে থাকে একটি আকর্ষণীয় লাজুক হাসি।
তিনি মানুষের মন জয় করতে কাজে লেগে গেলেন। ইন্টারনেটে ঘাটাঘাটি করে রিসার্চ করতে থাকলেন। আন্দোলনের জন্য বিভিন্ন ফান্ড রেইজিং বা তহবিল সংগ্রহের কর্মসূচি শুরু করলেন। তিনি সারা দেশে একটা নেটওয়ার্ক তৈরিতে মনোযোগী হলেন।
তার এই নতুন চলার পথে হঠাৎ তার পরিচয় হলো একটি কৃশ্চিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের, সাদার্ন মেথডিস্ট ইউনিভার্সিটির, প্রফেসর রিক হ্যালপারিনের সঙ্গে। প্রফেসর হ্যালপারিন বহু বছর যাবৎ লড়াই করছিলেন টেক্সাসে মৃত্যুদণ্ড বন্ধ করার লক্ষ্যে। গত এক যুগে টেক্সাসের সহিংস ক্রাইম কমে গেলেও আমেরিকার এই অঙ্গরাজ্যে বছরে গড়ে ২৫টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের আধুনিক ইতিহাসে এটাই বছরওয়ারি সর্বোচ্চ সংখ্যা।
এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউএসএ-র সাবেক চেয়ারম্যান হ্যালপারিনের সাহায্যে রইসের হজের প্রায় দেড় বছর পরে ১৬ মে ২০১১-তে ডালাস মর্নিং নিউজ পত্রিকায় একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয় যার শিরোনাম ছিল : “বাংলাদেশ ইমিগ্রান্ট সিকস স্টে অফ একজিকিউশন ফর ম্যান হু শট হিম ইন ৯/১১ রিভেঞ্জ এটাক” (Bangladesh immigrant seeks stay of execution for man who shot him in 9/11 revenge attack, ৯/১১ প্রতিশোধ হামলায় গুলিবিদ্ধ বাংলাদেশী ইমিগ্রান্ট চায় হামলাকারীর মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করতে)।
এই রিপোর্টের কয়েক দিন পরে ডালাস মর্নিং নিউজে প্রকাশিত আরেকটি রিপোর্টে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে স্ট্রোম্যানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার আহ্বান জানান রইস। এই রিপোর্টে রইস বলেন, “আমি স্ট্রোম্যানকে কয়েক বছর আগেই ক্ষমা করে দিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি সে ছিল অজ্ঞ। ভালো ও মন্দের মধ্যে তফাৎটা সে বুঝতে পারত না। যদি সে বুঝত তাহলে এমন কাজ করত না।... আমি বিশ্বাস করি স্ট্রোম্যানকে বাচিয়ে রাখলে, সময়ের বিবর্তনে এবং তার ম্যাচিওরিটিতে সে বুঝবে কোনো পরিস্থিতিতেই ঘৃণা শান্তিপূর্ণ সমাধান দিতে পারে না। যদি সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে এই ঘটনার সুপ্রভাবে স্ট্রোম্যান হয়তো ক্রাইম ও পাপকে ঘৃণার একজন মুখপাত্র হতে পারে।”
ইন্টারন্যাশনাল সেলিবৃটি
কিন্তু সমস্যা ছিল একটাই।
ঠিক দুই মাস পরেই ২০ জুলাই ২০১১-তে স্ট্রোম্যানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবার শেডিউল ছিল।
ডালাস মর্নিং নিউজে পরপর দুটি রিপোর্টে রইসের ক্ষমার বাণী প্রকাশিত হবার পর আন্তর্জাতিকভাবে তাকে নিয়ে সাড়া পড়ে যায়।
আমেরিকা ও ইওরোপে এই ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন টিভি রিপোর্ট, ইন্টারভিউ প্রকাশিত হয়। ব্লগে তার সম্পর্কে মিলিয়ন কথা লেখা হয়।
বাংলাদেশের রইস উদ্দিন ভূইয়া হয়ে যান ইন্টারন্যাশনাল সেলিবৃটি!
কিন্তু এই নতুন স্টেটাসে রইস আত্মপ্রসাদে আচ্ছন্ন হননি।
মৃত্যুমুখী রইস পুনর্জন্মে হয়েছিলেন জীবনমুখী।
তিনি দুশ্চিন্তায় ছিলেন কিভাবে স্ট্রোম্যানের জীবন বাচানো সম্ভব?
সময় যে ফুরিয়ে যাচ্ছিল।
কোয়ার্টজ ঘড়ির কাটা নিঃশব্দে ঘুরছিল।
স্ট্রোম্যানের প্রাণদণ্ড কার্যকর করার দিন ক্রমেই এগিয়ে আসছিল।
রইস দৌড়াদৌড়ি করছিলেন স্ট্রোম্যানের উকিলদের কাছে। রাষ্ট্রীয় কর্মচারীদের কাছে। এমনেস্টির কর্মীদের কাছে।
কেউ তাকে আইনের শাসনের কথা শোনাচ্ছিলেন। কেউ তাকে লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের কথা বলছিলেন।
শেষ পর্যন্ত খুররম ওয়াহিদ নামে একজন এটর্নিকে তিনি খুজে পেলেন যিনি সর্বাত্মক সাহায্যে এগিয়ে আসতে রাজি হলেন। সাধারণত আমেরিকায় উকিলরা এটর্নি নামে পরিচিত।
ওয়াহিদ আর রইস যোগাযোগ করলেন মৃত্যুদণ্ডবিরোধী সংস্থা গ্রেইসের (Grace) সঙ্গে। তাদের সহায়তা ও উপদেশে ভিকটিম-এর (এক্ষেত্রে ভিকটিম ছিলেন রইস) অধিকারের ভিত্তিতে ওয়াহিদ আদালতে মামলা চালিয়ে যেতে থাকলেন।
তারা চাচ্ছিলেন টেক্সাসের গভর্নর রিক পেরি-র সাথে দেখা করে সব কিছু বুঝিয়ে বলতে। সেটা যদি সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তত স্ট্রোম্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সাক্ষাতের অনুমতি পেতে। একবার তার সঙ্গে কথা বলতে। কিন্তু এসব চেষ্টা বৃথা হয়।
শেষ সময়ে ফোনে কথা
হান্টসভিলে জেলে থেকে স্ট্রোম্যান সংবাদগুলো পাচ্ছিল।
শেষ মুহূর্তে রইস চেষ্টা করতে থাকেন সরাসরি হান্টসভিল জেলে স্ট্রোম্যানের সঙ্গে কথা বলতে।
রইস জেনেছিলেন আইলান জিভ নামে একজন ইসরেলি ডকুমেন্টারি মুভিমেকার স্ট্রোম্যান বিষয়ে দীর্ঘকাল যাবৎ রিসার্চ করেছেন এবং স্ট্রোম্যানের অন্তিম মুহূর্তে তিনি জেলখানায় তার সঙ্গে কথা বলার অনুমতি পেয়েছেন।
রইস ও তার টিম দ্রুত সংগ্রহ করেন জিভের মোবাইল ফোন নাম্বার।
রইস ফোন করেন জিভকে।
জিভ তাকে জানালেন, স্ট্রোম্যান তার বর্ণবাদী বিশ্বাস ও কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করেছে। বিশেষত রইস যে নিঃস্বার্থপরভাবে তাকে বাচানোর চেষ্টা করে চলেছে তাতে সে আবেগ আপ্লুত হয়েছে।
জিভ বলেন তিনি চেষ্টা করছেন, স্ট্রোম্যানের সঙ্গে স্পিকার ফোনে রইসের কথা বলিয়ে দিতে।
রইস ও তার উদগ্রীব এটর্নিরা অপেক্ষা করতে থাকেন।
তাদের দুজনার মধ্যে কথা হয়।
জিভ সেটা টেপ রেকর্ড করেন।
তাদের কথোপকথনের কিছু অংশ :
দক্ষিণ আমেরিকার আঞ্চলিক টানে স্ট্রোম্যান বলেন, “কেমন আছেন? আপনি আমার জন্য অনেক করেছেন। থ্যাংক ইউ। আপনি আমাকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছেন। আশার আলো দেখিয়েছেন। মন থেকে বলছি। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, মিস্টার।”
রইস উত্তর দেন, “মার্ক, আপনি জেনে রাখেন, আমি গডের কাছে প্রার্থনা করে চলেছি। কারণ তিনি সবচেয়ে মহান। সবচেয়ে ক্ষমাপরায়ণ। তাকে বলেছি, আমি আপনাকে ক্ষমা করে দিয়েছি এবং আমি আপনাকে ঘৃণা করি না। আমি কখনোই আপনাকে ঘৃণা করি নি...’’
“রইস, ওরা আমাকে ফোন ছেড়ে দিতে বলছে। আমি চেষ্টা করবো আবার ফোন করতে।”
ওদের লাইন কেটে যায়।
রইস খুব হতাশ হয়ে বলেন, “তাকে যে কেন আমি ক্ষমা করেছিলাম, সেটা বলার সুযোগ আমি পেলাম না। কিন্তু সেটা ছিল আসল কথা। সেই আসল কথাটা বলার চান্স আমি পেলাম না। এমনটা তো আমি চাই নি।”
রাত ৮:৫৩ মিনিটে বিষাক্ত ইনজেকশনে স্ট্রোম্যানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
ঘৃণামুক্ত পৃথিবীর আন্দোলন
স্ট্রোম্যানের মৃত্যুর পর আরো বেশি মৃত্যুদণ্ডবিরোধী আন্দোলনের কাজে ঝাপিয়ে পড়েন রইস। আন্দোলনের অংশ রূপে ওয়ার্র্ল্ড উইদাউট হেইট (World Without Hate, ঘৃণামুক্ত পৃথিবী) নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রায় প্রতি উইকএন্ডে (সাপ্তাহিক ছুটির দুই দিন, শনি ও রবিবারে) রইস প্লেনে আমেরিকার এক শহর থেকে আরেক শহরে ভাষণ দিতে যেতে থাকেন। পাশাপাশি তিনি স্ট্রোম্যানের পরিবারকেও সাহায্য করতে থাকেন। অন্য দিকে নিহত ওয়াকার ও বাসুদেবের পরিবারকেও সাহায্য করতে থাকেন। হাজার হাজার ই-মেইলের উত্তর দেওয়া, মিডিয়া রিপোর্টারদের সঙ্গে কথা বলা, প্রভৃতিতে রইস ব্যস্ত থাকেন।
রইসউদ্দিন ভূইয়া প্রতিষ্ঠিত ওয়েবসাইট :
World Without Hate.org
(http://worldwithouthate.org)
স্ট্রোম্যানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবার দুই মাস পরে একটি ইন্টারভিউতে রইস বলেন, “জীবনের চলার পথে মার্ক স্ট্রোম্যানের মতো অনেকেই আছে। আর আছে প্রচণ্ড ঘৃণাÑ এই দেশে এবং বিশ্বজুড়ে অন্য দেশেও। এটা হতে পারে যে আমার গায়ের রং, অথবা আমার ধর্ম, অথবা আমার উচ্চারণ আপনি পছন্দ করেন না। কিন্তু আমি নিরুপায়। আমি তো জন্মসূত্রে ওসব পেয়েছি। আমি তো ওসব বদলাতে পারবো না। তবে প্রতিটি মানুষেরই বোঝা উচিত কোনো ভিন্নতার কারণে পারস্পরিক ঘৃণা করা উচিত নয়। যদি আপনি সত্যিই ঘৃণা করতে চান, তাহলে ওই মনমানসিকতাকে ঘৃণা করুন।”
নিয়তির টানে
রইস এখন আইটি জবে লক্ষাধিক ডলার বেতন পাচ্ছেন। তিনি দ্বন্দ্বে পড়েছেন। এই ভালো চাকরিটা ছেড়ে ওয়ার্ল্ড উইদাউট হেইট বা ঘৃণামুক্ত পৃথিবীর আন্দোলনে ফুলটাইম কাজ করবেন কি না সেটা ভাবছেন। তিনি বলেন, “আমার নিয়তি আমাকে টানছে ঘৃণামুক্ত পৃথিবীর দিকে।”
রইস এই মুহূর্তে জানেন না নিয়তি তাকে শেষ পর্যন্ত কোথায় টেনে নিয়ে যাবে।
ক্যাথরিন বিগেলো একজন খ্যাতনামা ও সফল মুভিমেকার। রইসের জীবনীনির্ভর মুভি, দি ট্রু আমেরিকান, যদি বক্স অফিস হিট হয় তাহলে তার ঘৃণামুক্ত পৃথিবীর আন্দোলন বেগবান হবে।
বিশ্বে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা কমে আসবে।
হয়তো বাংলাদেশেও মৃত্যুদণ্ড রহিত হয়ে যাবে।
আমেরিকা প্রবাসী এক বাংলাদেশীর নিয়তি বাংলাদেশকে মানবিকতা ও সভ্যতার দিকে টেনে নিয়ে যাবে।
১৩ অক্টোবর ২০১৪
facebook.com/ShafikRehmanPresents

বাংলাদেশে ধর্মবিশ্বাস ও রাজনীতি by এরশাদ মজুমদার

চলমান সরকারের দল, নেতা ও কর্মীদের ধর্মনীতি হলো ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’Ñ এই নীতি ও স্লোগানটি খুবই আকর্ষণীয়। শুনতে ভালো লাগে। এই সরকারের আরেকটি খুবই মূল্যবান নীতি হলোÑ ‘জনগণই সার্বভৌম’। সংবিধান নাগরিকের সব অধিকার নিয়ন্ত্রণ করবে বা পরিচালনা করবে। বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ মানুষ মুসলমান। বাকি ১০ শতাংশ অন্যান্য ধর্ম বা রীতিতে বিশ্বাস করেন। যারা সত্যিকারেই ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করেন এবং মুসলমান হিসেবে পরিচিত তারা সবাই আল্লাহ পাকের সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করেন। আমাদের সংবিধান যেহেতু আল্লাহ কিংবা ভগবান-ঈশ্বরের সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না, সেহেতু আইনের দৃষ্টিতে আল্লাহর সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী একজন মুসলমান বা একেশ্বরবাদী অপরাধী সাব্যস্ত হতে পারে। ব্রিটেনের রাষ্ট্রীয় ধর্ম প্রটেস্ট্যান্ট খ্রিষ্টবাদ। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান বিচারপতি হতে হলে একজন নাগরিককে ব্রিটেনের সরকারি ধর্মে বিশ্বাসী হতে হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ব্লেয়ার ছিলেন ক্যাথলিক। কিন্তু রাজনীতি করার জন্য প্রটেস্ট্যান্ট হয়ে গিয়েছিলেন। এ কারণে ব্রিটেনে রাজনীতি করতে হলে সরকারি বা রাজার ধর্ম মানতে হবে। যদিও এরা কেউই মূল খ্রিষ্টবাদে বিশ্বাস করেন না। খ্রিষ্টবাদ, বাইবেল ও তৌরাত যদি বিকৃত না হতো তাহলে জগতে আল্লাহ পাক সর্বশেষ কিতাব আল কুরআন নাজিল করতেন না। আধুনিক মহাগণতান্ত্রিক ভারত ১৯৭৬ সালে তথাকথিত সেকুলারিজম (ধর্মহীনতার) নামাবলি পড়েছে। আর এখন মতায় আছে ধর্মবাদী দল বিজেপি। এরাই কল্পিত রাম মন্দিরের কথা বলে সরকারের সহযগিতায় বাবরি মসজিদকে চুরমার করেছে। বিশ্বের কোনো ইসলামিক দল ভিনধর্মের মন্দির, গির্জা, অগ্নিমন্দির বা সিনাগগ ভেঙেছে এমন কোনো প্রমাণ কারো কাছে নেই। ভারতে দাঙ্গার ইতিহাস পড়ুন। বিগত ৪৪ বছরে ভারতে কয়েক হাজার দাঙ্গা হয়েছে ধর্মীয় কারণে। এতে সবচেয়ে বেশি তিগ্রস্ত হয়েছে মুসলমানেরা। মোদির বিরুদ্ধে সরাসরি দাঙ্গার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ভারতবাসী বিজেপিকে নির্বাচিত করেছে। আর মোদিজি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। সেকুলার কংগ্রেসের ভণ্ডামি থেকে মুক্তিলাভের জন্যই ভারতবাসী বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন বলে গবেষকেরা বলছেন।
বাংলাদেশও রাজনৈতিক ধোঁকাবাজির জন্য সেকুলারিজমের জোব্বা পরিধান করেছে। আওয়ামী লীগ মতায় থাকতেও সনাতনধর্মীদের বাড়িতে আগুন দেয়া হয় ও মন্দির ভাঙা হয়। অভিযুক্ত করা হয় ধর্মীয় দল ও আওয়ামীবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে। যেমন ১৯৪৬ সালের মহাদাঙ্গায় অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছিল বঙ্গবন্ধু ও সোহরাওয়ার্দীর বিরুদ্ধে। ’৪৬-এর দাঙ্গায়ও মুসলমানেরা সবচেয়ে বেশি নিহত হয়েছে।
আমেরিকার রাষ্ট্রীয় ধর্ম ক্যাথলিক খ্রিষ্টবাদ। ওবামার বাপ-দাদারা মুসলমান ছিলেন, এ নিয়ে আমেরিকানেরা কম হইচই করেনি। ওবামা বেচারা শেষ পর্যন্ত নিজের নামের সাথে হুসেন শব্দ ব্যবহার করা ছেড়ে দিয়েছেন। ব্রিটেন, আমেরিকাসহ বহু পশ্চিমা দেশে বাইবেল হাতে নিয়ে শপথ নেন। আমেরিকার ডলারে বা ব্রিটেনের পাউন্ডে রানী বা প্রেসিডেন্টের ছবি থাকে। লেখা থাকে ‘ইন গড উই ট্রাস্ট’। বাংলাদেশে রাজার মতাসম্পন্ন নেতারা সংবিধান মোতাবেক আল্লøাহর অস্তিত্ব মানতে বাধ্য নন।
ভারতের বিকৃত ও পরিবর্তিত ও ভুলে যাওয়া সনাতন ধর্মে এক শ্রেণীর মানুষকে অর্ধমানব হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। ভারতীয় রাজনীতিতে ও সংবিধানে সব মানুষকে সমমর্যাদা দেয়া হয়েছে। কিন্তু বিকৃত প্রচলিত ধর্মরীতিতে তাদের অর্ধমানব, অচ্ছুত বা হরিজন বলা হয়। গান্ধীজী আদর করে ওদের নাম দিয়েছেন হরিজন মানে ঈশ্বরের লোক বা জন। বাংলাদেশে ৯০ শতাংশ মানুষ ইসলামে বিশ্বাসী বলে হরিজন বা অচ্ছুতপ্রথা মুসলমানদের ভেতর নেই। তবুও কিছু হরিজন আছেন যারা বিকৃত সনাতন ধর্মে বিশ্বাস করেন। আপনাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে ভারতে আর্য আগমনের আগে এখানকার সব মানুষ সমমর্যাদার ছিলেন। সবাই নিরাকার একেশ্বরবাদে বিশ্বাস করতেন। মূর্তিপূজা বা বহু ঈশ্বরের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। কোথাও কোনো মূর্তি ছিল না। আর্যরা বহিরাগত বিজয়ী, তাই তাদের ধর্ম, ভাষা, রীতিনীতি, আচার-ব্যবহার চালু করেছে পরাজিতদের ভেতর।
বাংলাদেশে আমরা মানে মুসলমানেরা মসজিদে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে, নামাজে সারা দিনে বহুবার ‘আল্লাহু আকবর’ (আল্লাহই সর্বশক্তিমান বা আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ) উচ্চারণ করে থাকি। এটা মুসলমানদের জন্য বাধ্যতামূলক। কিন্তু নাগরিক জীবনে সংবিধান মোতাবেক বলতে হবে ‘জনগণ হু আকবর’ বা জনগণই সার্বভৌম। নাগরিক জীবনে আপনার জন্য বা মুসলমানদের জন্য সংবিধানের অবস্থান আল্লাহর কিতাব পবিত্র আল কুরআনের ওপরে (নাউজুবিল্লাহ)। আল্লাহ আমাকে মা করুন। আমাদের সংবিধান মোতাবেক দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আমি ‘জনগণ সার্বভৌম’, ‘সংবিধান সার্বভৌম’ বলতে বাধ্য।
বাংলাদেশে ৯০ শতাংশ মানুষ মুসলমান হলেও ইসলামি নিয়মকানুন, আচার-বিচার, কালচার মানতে বাধ্য নই। এটা নাকি ব্যক্তিগত ব্যাপার। এ দেশে ধর্ম মানাটা ঐচ্ছিক। নামাজ, রোজা বা ধর্মীয় আইনকানুন জারি রাখার ব্যাপারে রাষ্ট্র বা সংবিধান সেকুলার (ধর্মহীন)। বাংলাদেশে আরবি নামধারী মুসলমান নেতা বা মন্ত্রীরা পূজামণ্ডপে গিয়ে দেবী দর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেবী এবার নৌকায় এসেছেন, তাই ফসল ভালো হবে। এর মানে তিনি এটা বিশ্বাস করেন। অথবা রাজনৈতিক কারণে নেতারা এমন কথা বলে থাকেন। আমাদের দেশের তথাকথিত সেকুলার আরবি নামধারী নেতারা ছবির সামনে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন এবং ছবির গলায় বা ছবির বেদিতে ফুল দিয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন। ওই ছবির সামনে দাঁড়িয়ে মুনাজাতের মতো করে হাত তুলে ঠোঁট নাড়েন। রাজনীতিতে সত্য বা মিথ্যা হচ্ছে কৌশল। এখানে আদর্শ, নীতি বা ধর্মীয় বিষয়টা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। মইন-ফখরউদ্দীন সরকারের সময় একজন ধর্মমন্ত্রী ছিলেন যিনি ব্যক্তিগত জীবনে ধর্ম মানতেন না। ধর্মবিরোধী ছিলেন। এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ধর্ম বিষয়ে জ্ঞানী কোনো মানুষকে ধর্মমন্ত্রী করা হয়নি। বরং অযোগ্য লোককেই ধর্মমন্ত্রী করা হয়েছে।
মানুষের ধর্মবিশ্বাস ও অধিকারকে জাতিসঙ্ঘ সনদ স্বীকৃতি দিয়েছে। বিশ্বের সব দেশেই নাগরিকদের ধর্ম মানার অধিকার আছে। পরধর্মকে নিন্দা বা আঘাত করার অধিকার কারোই নেই। মুসলমান হিসেবে আপনার প্রতিবেশী অন্য ধর্মের মানুষও আপনার ভাই। তাকে ভুখা বা অভুক্ত রেখে আপনি যদি খান তাহলে আপনি মুসলমান নন। প্রতিবেশীকে রা করাও একজন মুসলমানের দায়িত্ব। কিন্তু যদি ইসলামের এই নীতি পালন না করেন তাহলে তার মতো মুসলমানের ইসলামে প্রয়োজন নেই। জগতে কোটি কোটি মন্দ মুসলমান আছে। এ জন্য ইসলামকে দায়ী করা অন্যায় হবে। কিন্তু চলমান বিশ্বব্যবস্থা দেখে মনে হচ্ছে মুসলমানেরাই একমাত্র মন্দ জাতি। এমনই একটি অবস্থা ও পরিবেশে বাংলাদেশের আবদুল লতিফ (অনুগ্রহকারীর দাস) নামে একজন মন্ত্রী সদর্পে পবিত্র হজ, রাসূল সা: ও তাবলিগব্যবস্থা সম্পর্কে কটূক্তি করেছেন। এই ভদ্রলোকের নামে ‘সিদ্দিকী’ শব্দটি ব্যবহার করলাম না। কারণ তিনি একজন সিদ্দিকী এ কথা ভাবতে আমার কষ্ট হচ্ছে। তার আব্বাজানকে এলাকার মানুষ ছিদ্দিক মোক্তার সাহেব হিসেবেই চেনে। তিনি একজন ডাকসাইটে আইনজীবী ছিলেন। তার সন্তানেরা কিভাবে সিদ্দিকী হলেন তা এলাকার মানুষ জানেন না। কোরাইশ বংশের মান্যগণ্য অনেক নেতাই কাফির ও মোনাফিক ছিলেন। তারাই রাসূল সা:কে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছেন। এমনকি রাসূল সা:-এর আপন চাচা আবু তালেব ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেননি। কিন্তু তিনি সারা জীবন রাসূল সা:কে সাহায্য ও নিরাপত্তা দান করেন। রাসূল সা: বিয়ের আগ পর্যন্ত আবু তালিবের ঘরেই ছিলেন। ইসলামি আন্দোলনের প্রথম সিদ্দিকী হলেন হজরত আবু বকর রা:। আল্লাহর রাসূল সা:-ই তাকে সিদ্দিকী উপাধি দিয়েছেন। হজরত আবু বকর সিদ্দিকী বয়স্ক পুরুষদের ভেতর প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী। তিনিই রাসূল সা:-এর মেরাজের প্রথম স্বীকৃতিদানকারী ও সত্যায়নকারী। তিনি তার সব সম্পদই ইসলামের জন্য দান করেছিলেন। আল্লাহর রাসূল সা: জানতে চেয়েছিলেন, ঘরে কিছু রেখে এসেছেন কি না? উত্তরে হজরত আবু বকর রা: বলেছেন, আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল সা:কে ঘরে রেখে এসেছি। তিনি ইসলামের প্রথম খলিফা। রাসূল সা:-এর পরে তিনিই আল্লাহ পাকের সাহায্যে ইসলামকে রা করেছেন।
বিতাড়িত মন্ত্রী আবদুল লতিফ কেমন করে সিদ্দিকী হলেন? যেহেতু তিনি একজন রাজনীতিক সেহেতু দেশবাসীর জানার অধিকার আছে তিনি কেমন করে সিদ্দিকী হলেন। কেনই বা হলেন? তার বাবাও কেমন করে সিদ্দিকী হলেন? নাম সিদ্দিক হলেই কি কেউ সিদ্দিকী শব্দটি লিখতে পারেন? এই ব্যক্তি ইতোমধ্যে ধর্মত্যাগী হয়ে গেছেন। রাসূল সা: নামের সাথে দুরুদ পাঠ করা সব মুসলমানের জন্য বাধ্যতমূলক। আল্লাহ পাক বলেন, ‘ইন্নাল্লাহা ও মালাইকাতাহু ইয়ুসাল্লুনা আলান্নাবিয়ি। ইয়া আইয়ুহাল্লাজিনা আমানু সাল্লু আলাইহি ওয়া সাল্লিমু তাসলিমা’ (সূরা আহজাব, আয়াত ৫৬)। বাংলা তরজমাÑ ‘নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা এবং তার ফেরেশতাগণ রহমত বর্ষণ করেন সেই পয়গম্বরের প্রতি। হে মুমিনগণ! তোমরাও তার প্রতি প্রচুর দুরুদ শরিফ পাঠ করো এবং প্রচুর সালাম পেশ করো।’ প্রিয় পাঠক, আপনারা হৃদয় দিয়ে অনুধাবন করুন, রাসূল সা:-এর মর্যাদা আল্লাহ পাকের কাছে কোন স্তরের। আমাদের প্রিয় রাসূল সা:কে আল্লাহ পাক নিজেই বলেছেন, রাসূল সা: হচ্ছেন জগতের জন্য রহমতস্বরূপ। তিনি সব নবী-রাসূলের ইমাম। আপনি যদি কলেমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা: বলে ঈমান এনে থাকেন, তাহলে কুরআন ও রাসূল সা:কে মান্য করা আপনার জন্য বাধ্যতামূলক। আল্লাহ বলেছেন, তোমরা আমার রাসূলকে সা: অনুসরণ করো, তাহলেই আমাকে মানা হবে। আমার রাসূল সা:কে ভালোবাসো, তাহলে আমাকে ভালোবাসা হবে। বিবি আয়েশা বলেছেন, তোমরা নবীজীকে অনুসরণ করো, তাহলেই কুরআনকে অনুসরণ করা হবে।
এ ছাড়া জগতের মনীষীরা বলেছেন, মুহাম্মাদ সা: জগতের সর্বশ্্েরষ্ঠ মানব। টমাস কারলাইল ১৮৪০ সালে ১২ ঘণ্টাব্যাপী নবীজী সা:-এর ওপর যে ভাষণ দিয়েছেন তা পড়ুন। ‘হজরত মোহাম্মদ তার প্রতিপালকের কাছ থেকে জ্ঞানগর্ভ শরিয়ত লাভ করেন। আমি নিজে সূর্যের মতো আলোকিত হচ্ছি তার দ্বারা।’ (সামবেদ, পুরকার্যক-২, দুরশতি ৬, মন্ত্র ৮)। মহাঋষি ব্যাসজীর লিখিত ভবিষ্যপুরাণ উল্লেখ করেছেন যে, একজন ম্লেচ্ছ এক অজানা দেশ থেকে আসবেন এবং তার ভাষাও কারো জানা থাকবে না। তিনি হবেন আত্মা পবিত্রকরণে দ। তিনি তার সাথীদের সমভিব্যহারে আসবেন, তার নাম হবে মুহাম্মদ। রাজা ভুজ সেই মহাদেবতা ফেরেশতাদের মতো উত্তম চরিত্রের আদর্শ ব্যক্তিকে গঙ্গার মোহনার পানি দিয়ে গোসল করিয়ে অর্থাৎ সব পাপ থেকে পাকপবিত্র করেছেন। তিনি তার অন্তরের সমস্ত ভক্তি, শ্রদ্ধা এবং উপঢৌকনাদি দিয়ে তাকে সম্মানিত করেছেন এবং বলেছেন, আমি আপনার সামনে মাথা নত করে দিলাম। ‘হে বিশ্ববরেণ্য নেতা, মানব জাতির গৌরব, আরবের অধিবাসী শয়তান ও শয়তানি শক্তিকে ধ্বংস করার জন্য শক্তি সংগ্রহকারী, ম্লেচ্ছ দুশমন থেকে রাপ্রাপ্ত, হে পবিত্র সত্তা, সব দিক থেকে পাক পবিত্র সত্তা, পূর্ণাঙ্গ নেতার বাস্তব প্রতিমূর্তি! আমি আপনার অধম এক সেবক। আমাকে আশ্রয় দিন এবং আপনার পদতলে লুটিয়ে পড়া এক ব্যক্তি হিসেবে জেনে নিন।’ (বিষ্ণুপুরাণ, প্রকাশক : ভেকটিশোর প্রেস, বোম্বে, প্রতিমগবর, ৩য় খণ্ড, শ্লোক ৫-২৭)। এ ছাড়া যবুর, তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাবেও রাসূল্ল্লুাহ সা:-এর আগমনবাণী ঘোষিত হয়েছে। আল্লাহ পাক অতীতের সব বিকৃত কিতাবকে শুদ্ধ করে শেষ নবী ও রাসূল সা:-এর মাধ্যমে জগদ্বাসীর জন্য শেষ কিতাব হিসেবে প্রেরণ করেছেন। বিতাড়িত ধর্মত্যাগী মন্ত্রী জগতের আলো নবীজীকে কোনো প্রকার সম্মান না দেখিয়ে বলেছেন, ‘আরবের আবদুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদ’। একই সাথে এই বিতাড়িত মন্ত্রী পবিত্র হজ নিয়ে কটূক্ত করেছেন। নবীজীকে আল্লাহ পাকের নির্দেশ মোতাবেক সম্মান না করলে সেই লোকের মুসলমান থাকার কোনো অধিকার আছে কি না।
বাইশ নম্বর সূরা আল হাজের ২৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ পাক বলেন, ‘হে নবী, স্মরণ করো, যখন আমি ইবরাহিমকে এই ঘর (কাবা) নির্মাণের জন্য স্থান ঠিক করে দিয়েছিলাম (তখন তাকে নির্দেশ দিয়েছিলাম), আমার সাথে অন্য কিছুকে শরিক  কোরো না, আমার এই ঘর তাদের জন্য পবিত্র রেখো যারা এর তাওয়াফ করবে, যারা এখানে নামাজের জন্য দাঁড়াবে রুকু করবে ও সাজদা করবে। আয়াত ২৭ শে আল্লাহ পাক বলেন, তাঁকে মানে (হজরত ইবরাহিম আ:কে) আদেশ দিয়েছিলাম তুমি মানুষদের মাঝে হজের ঘোষণা করে দাও। কালামে পাকে পবিত্র কাবাঘর ও হাজ সম্পর্কে আরো অনেক আয়াতে বর্ণনা রয়েছে। এখন আপনারাই বিবেচনা করুন কাবা, হাজ, কোরবানি, তাওয়াফ না বিশ্বাস করলে কারো পে মুসলমান থাকা যায় কি না।
নিন্দিত ও বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন ইসলাম ও মুসলমানদের সম্পর্কে কটূক্তি করে শেষ পর্যন্ত সনাতন মূর্তিপূজক ভারতে আশ্রিতা হিসেবে বসবাস করছেন। ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলে তিনি ভারতসহ পশ্চিমা দেশগুলোতে আদরযতœ পেয়েছেন। এখন সবাই তাকে পরিহার করতে শুরু করেছেন। এই তসলিমা বিতাড়িত মন্ত্রীকে সমর্থন করেছেন। তথাকথিত উদার গণতন্ত্রী ভারত কয়েক মাস আগে সনাতন ধর্ম সম্পর্কে লিখিত একটি গবেষণা পুস্তক নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। কিন্তু তসলিমার বই লাখ লাখ কপি ছাপিয়ে বিলি করেছে।
বাজারে শোনা যাচ্ছে, মনে হয় প্রধানমন্ত্রী বিতাড়িত মন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছেন এখন দেশে ফিরে না আসতে। এলে নাকি ইসলামপন্থীরা নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, মনে হচ্ছে বিতাড়িত মন্ত্রীর কটূক্তিতে শুধু ইসলামিস্টেরাই ুব্ধ হয়েছে। সারা দেশবাসী মানে মুসলমানেরা এতে ুব্ধ হয়নি। তিনি হয়তো আওয়ামী রাজনীতির দৃষ্টিতে বিষয়টি দেখছেন। শুরুতেই বলেছি, বাংলাদেশের রাজনীতি এখন সুবিধাবাদ। ভোটার যদি চায় তাহলে হিজাব পরে চলতে হবে। ভোটার যদি চায় তাহলে দুর্গাকে প্রণাম করা যাবে। ধর্মহীনরা যদি বলে সংবিধান থেকে আল্লাহর নাম বাদ দিন, ভোটারের সন্তুষ্টির জন্য তা-ও করা যাবে। সব কথার আসল কথা হলো ভোটার হলো দেবতা। যে ফুলে দেবতা তুষ্ট হয় সেই ফুল দিয়ে বন্দনা করতে হবে। যারা ভোটারদের তুষ্ট করতে জানে না বা বহুরূপী হতে পারে না তাদের বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার থাকবে না। এমন একটি হৃদয়বিদারক ঘটনার পরও ওই ধর্মত্যাগীকে কোনো রকম শাস্তি দেয়া হয়নি। দল বা সরকার জনগণের কাছে মা চাওয়া হয়নি। এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা না করেও একজন মন্ত্রী ক্যাবিনেট থেকে বাদ পড়তে পারেন। মন্ত্রিত্ব থেকে বরখাস্ত হওয়া কোনো ধরনের শাস্তি হতে পারে না।
লেখক : কবি ও ঐতিহ্য গবেষক

স্মরণ- প্রফেসর আর আই চৌধুরী by মীযানুল করীম

আজ ১৩ অক্টোবর। প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ প্রফেসর আর আই চৌধুরী ২০০৮ সালের এ দিনে ৭৮ বছর বয়সে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তিনি ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগে অসুস্থ ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাকে দাফন করা হয়। ড. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী তার পুরো নাম। তিনি বর্তমান ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার গুথুমা গ্রামের বিখ্যাত চৌধুরী পরিবারের সন্তান। দেশবিখ্যাত ভাইবোন হাবীবুল্লাহ বাহার ও শামসুন নাহার মাহমুদসহ অনেক খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বের পৈতৃক নিবাস এই বাড়ি। ড. আর আই চৌধুরী ছিলেন ভাষাসৈনিক।  ষাটের দশকে বাংলাদেশের মানুষের অধিকার সংগ্রামে যেসব বুদ্ধিজীবী সম্পৃক্ত ছিলেন, তিনি তাদের অন্যতম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের পর আর আই চৌধুরী ১৯৫৬ সালে একই বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ষাটের দশকের প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্রের অরিগন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন শেষে সে দেশের অরিগন, বোস্টন ও হাওয়াইসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছিলেন। ১৯৬৭ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসেন। পরের বছরই দায়িত্ব গ্রহণ করেন নবগঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘রাজনীতিবিজ্ঞান’ বিভাগ গড়ে তোলার। তিনি এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। সুদীর্ঘ কর্মজীবনের একপর্যায়ে ১৯৯১ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে ১৯৯৬ সালের ৬ নভেম্বর পর্যন্ত তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। এ ছাড়া এক যুগের মতো ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন। প্রক্টর এবং সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্যও ছিলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নিয়ে একাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আমৃত্যু ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের সহপাঠী ও বন্ধু। নামের আদ্যাক্ষর আর আই সি সহযোগে তিনি সংক্ষেপে ‘রিক’ নামেও অভিহিত হতেন।
ড. আর আই চৌধুরীর ইন্তেকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শোকবার্তায় বলেছিলেন, অধ্যাপক চৌধুরী বাংলাদেশে শিক্ষা বিস্তারে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে জাতি একজন প্রজ্ঞাবান শিক্ষক হারাল। জাতি গঠনে তার অবদান হয়ে থাকবে চিরস্মরণীয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গভীর শোক প্রকাশ করে উল্লেখ করেছিল, এই প্রিয় শিক্ষকের ইন্তেকালে দেশ ও জাতির উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। উল্লেখ্য, একসময়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের জোরালো প্রবক্তা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও স্বাধীনতার পর শাসক দলের ব্যর্থতা ও কুশাসন এবং একদলীয় ব্যবস্থা চালুর প্রেক্ষাপটে তার চিন্তাচেতনায় পরিবর্তন আসে। এরপর মৃত্যু পর্যন্ত তিনি ছিলেন বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী।