Thursday, February 8, 2018

ন্যায়বিচার, অবিচার ও রাজনীতি

স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে সম্ভবত এই প্রথম এমন একটি মামলার রায় হতে যাচ্ছে, রাজনীতিতে যার প্রভাব বহুদিন ধরেই অনুভূত হবে। রাজনীতিকদের জবাবদিহি ও বিচারের ভার জনতার আদালতে বলে একটি কথা বহুল প্রচলিত। কিন্তু আইনের আদালতেও যে অপরাধের জবাবদিহির বিষয় আছে, সে কথা অস্বীকারের কোনো উপায় নেই। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের অর্ধেকেরও বেশি সময়ের রাজনীতি যে দুজন নেত্রীকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে, তাঁদেরই একজন, দশ বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী এবং অন্যতম প্রধান একটি রাজনৈতিক দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হলেন ওই মামলার প্রধান অভিযুক্ত। এই মামলা নিয়েও রাজনীতির অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং বিরোধী দল যতটা না উত্তাপ তৈরি করতে পেরেছে, তার চেয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগীরা করেছে অনেক বেশি। দেশে যখন রাষ্ট্রপতি-শাসিত সরকারব্যবস্থা চালু ছিল, তখন বেআইনিভাবে ক্ষমতা দখল করে সরকার পরিচালনায় দুর্নীতির জন্য এর আগে আরেকটি রাজনৈতিক দলের প্রধানকেও আদালতে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছে এবং তিনি দণ্ডিতও হয়েছেন। কিন্তু সাবেক সামরিক শাসক ও দুর্নীতিবাজ রাজনীতিক এরশাদের বিচার ও রায় নিয়ে তেমন কোনো রাজনৈতিক উত্তাপ ছিল না। অস্ত্রের জোরে ক্ষমতা দখলকারী সাবেক ওই সেনাশাসক ক্ষমতা ও অর্থের যতটা অপব্যবহার করেছেন, সেই তুলনায় তাঁর প্রাপ্য বিচার এখনো হয়নি এবং তাঁর জীবদ্দশায় যে সেগুলো সম্পন্ন হবে, তেমন সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না। বরং প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের গণতন্ত্রের প্রতি আস্থায় ঘাটতির সুযোগ নিয়ে তিনি গাছেরও খাচ্ছেন, তলারও কুড়াচ্ছেন। হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের মামলায় তাঁর বিচার শেষ হয়েও হয় না। তবে ৮ ফেব্রুয়ারি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ খালেদা জিয়ার যে মামলাকে নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে, সেটি তৈরিতে তাঁর ও তাঁর দলের উৎসাহে কোনো ঘাটতি নেই। তাঁর সহযোগীদের একজন প্রতিমন্ত্রী, মসিউর রহমান রায় ঘোষণার তারিখ ঠিক হওয়ার আগেই জনবক্তৃতায় বলেছেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই খালেদা জিয়াকে জেলের ভাত খেতে হবে। তিনি নিজেও খালেদা জিয়ার উদ্দেশে বলেছেন, ‘আমাকে আপনারা জেলে পাঠিয়েছিলেন, এখন জেল আপনার খুবই সন্নিকটে।’ সরকারের শরিক জাতীয় পার্টির এই উৎসাহের সঙ্গে অবশ্য সরকারের অন্যান্য মন্ত্রী এবং সরকারি দল আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের প্রকাশিত উচ্ছ্বাসের কোনো তুলনা চলে না। গৃহায়ণমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন মামলার রায়ের এক দিন আগে, অর্থাৎ ৭ ফেব্রুয়ারি থেকেই দলীয় নেতা-কর্মীদের রাস্তা দখল নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ‘এতিমের টাকা মেরে খাওয়ার জন্য’ খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে ঢাকা শহরের দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার পড়েছে।
পোস্টারের ভাষা এবং মন্ত্রীদের কথায় খালেদা জিয়াকে ইতিমধ্যে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এখন তাই তাঁদের দাবিটা সর্বোচ্চ সাজার। মামলার বিষয়ে বিএনপিও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে পিছিয়ে নেই। দলের নেতারা ৮ তারিখে দলের নেতা-কর্মীদের রাজপথে নামার নির্দেশনা দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার আদালতে যাওয়া-আসার সময় শত শত নেতা-কর্মী দল বেঁধে যেভাবে তাঁকে অনুসরণ করেন, তাতে রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্য থাকে। গ্রেপ্তার-মামলা-হয়রানির পরও যে দল বিলুপ্ত হয়ে যায়নি এবং তাঁদের নেত্রী যে একা নন, সেটি বোঝানোর চেষ্টাতেই তাঁদের এই দলীয় রুটিন। এই কর্মসূচির সময়ই গত সপ্তাহে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির কর্মীদের যে হাঙ্গামা হয়, সেটিও এই উত্তেজনা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল পুলিশের ওপর হামলাকারীরা দলের কেউ নন বললেও তাঁর সহযোগী রিজভী বলেছেন উল্টো কথা। তবে পুলিশের ওপর হামলাকারীরা বিএনপির হোক অথবা অন্য কোনো অন্তর্ঘাতক হোক, পরিণতিটা দলটির জন্য যে ভালো হয়নি সে কথা তাঁরাও স্বীকার করছেন। দলটি তার জাতীয় কমিটির সভা আয়োজনেও বাধার মুখে পড়েছে। দলটির সভা আয়োজনে এ ধরনের বাধা সৃষ্টিতেও রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের বিচারের অভিজ্ঞতা খুবই তিক্ত এবং কষ্টকর। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ করার দায়ে যাঁদের বিচার হয়েছে, তাঁদের কথা এখানে স্মরণ করা যেতে পারে। শুধু সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে যত প্রাণহানি এবং সম্পদনাশের ঘটনা ঘটেছে, তা রীতিমতো একটি দুঃস্বপ্নের বিষয়। এ রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি স্বাভাবিক এবং প্রত্যাশিত বিষয়। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের রাজপথ দখলে রাখার প্রস্তুতি মোটেও স্বাভাবিক নয়। বরং তাতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যই প্রতিফলিত হয়। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা তিন ডজনের বেশি। দুর্নীতির মামলা ১০ টির মতো, বাকিগুলো হত্যা ও নাশকতার হুকুমদাতা হিসেবে অভিযোগ। দুর্নীতির মামলাগুলোর মধ্যে বিস্ময়করভাবে সবচেয়ে কম আর্থিক মূল্য যে অভিযোগের, সেটিই হচ্ছে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা। শতকোটি টাকার দুর্নীতির মামলা রেখে এই মামলাটি কেন অগ্রাধিকার পেল, সেই প্রশ্নটি কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এতিমের টাকা মেরে খাওয়ার বিচার চেয়ে পোস্টার পড়েছে। ভোটের রাজনীতিতে এটা চলবে ভালো। মামলায় দোষী অথবা নির্দোষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভার ও এখতিয়ার একান্তভাবেই আদালতের। গণমাধ্যমে এসব অভিযোগের সত্যাসত্য, সাক্ষ্য-প্রমাণের গুণাগুণ বা বিশ্বাসযোগ্যতার বিচার একেবারেই অনুচিত। সুতরাং, সেসব দিক আমি সচেতনভাবে পরিহার করে এই মামলার রাজনৈতিক বিতর্কের দিকটিতেই আলোচনা সীমিত রাখব। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে দলের অনুসারী এবং আইন পেশায় শীর্ষস্থানীয় সাত-আটজন মামলাটিতে অভিযুক্তের পক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তারপর খালেদা জিয়া নিজেও কয়েক দিন ধরে দীর্ঘ বক্তব্য দিয়েছেন, যার অনেকটাই রাজনৈতিক। আদালতে তিনি বলেছেন, সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার (২০০৭-০৮) সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রীকে নাজেহাল করে তাঁদের উৎখাত করতে ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলা বাস্তবায়নের জন্য অনেকগুলো মামলা দায়ের করে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলাগুলো তাঁর ভাষায় ‘জাদুর বলে’ বাতিল হয়েছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, একই ধরনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিচারাধীন এই মামলাও নিষ্পত্তিতে তাড়াহুড়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আদালতে তিনি যেভাবে বৈপরীত্য বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, কূটনীতিকদের কাছেও সেই একই বার্তা দেওয়া হয়েছে। মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে খালেদা জিয়া তাঁর বিরুদ্ধে এই মামলাটিকে রাজনৈতিক মামলা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টায় কতটা সফল হয়েছেন বলা মুশকিল। কিন্তু গত কয়েক দিনে ক্ষমতাসীন দল ও তাঁর সহযোগীদের বক্তৃতা-বিবৃতি ও কার্যক্রমে মামলাটির ওপর যে অনেক বেশি রাজনৈতিক রং পড়েছে, তাতে সন্দেহ নেই। এ ধরনের রাজনৈতিক বিতর্কে কে বেশি লাভবান হবেন, সে বিষয়েও ইতিমধ্যে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। রাজনীতিকদের জন্য ক্ষমতার আসন এবং কারাগারের মধ্যকার দূরত্ব খুব সামান্যই। আবার ছোটখাটো দুর্নীতির অভিযোগে জেল খেটে রাজনীতিকদের ভাবমূর্তি বা ইমেজ বাড়ার নজিরও কম নেই। দণ্ডিত হওয়ার পর আপিল প্রক্রিয়ার সুযোগ নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং জোরেশোরে রাজনীতি করার দৃষ্টান্ত বর্তমান ক্ষমতাসীন দলেও অনেক আছে। অনেকেই তাই বলছেন যে খালেদা জিয়া এই মামলায় খালাস পেলে যেমন রাজনৈতিক হয়রানির দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে, তেমনি দণ্ডিত হলে ন্যায়বিচার না পাওয়ার দাবিতে তাঁর অনুসারীরা আরও সংগঠিত হবেন। প্রায় বারো বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার সময় বিএনপিকে ভাঙার একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ হলেও ক্ষমতাসীন জোটের একাংশের ধারণা, এবার দল ভাঙা ত্বরান্বিত হবে। বিশেষ করে জোটের সহযোগী সাবেক সেনাশাসক জেনারেল এরশাদের আশা, বিএনপি দুর্বল হলে তাঁর দল লাভবান হবে এবং আওয়ামী লীগের বিকল্প হতে পারবে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সখ্য এবং অংশীদারত্বের সমসাময়িক ইতিহাসের পটভূমিতে তাঁর এই আশা দুরাশাই রয়ে যাবে বলে মনে হয়। আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ যে এখনো বিএনপি, সেটি অনুধাবন করার কারণেই সম্ভবত খালেদা জিয়ার মামলা ঘিরে এত রাজনৈতিক উত্তেজনা। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, এ ধরনের উত্তেজনায় ন্যায়বিচার বা অবিচার বড় না হয়ে রাজনীতিটাই বড় হয়ে দেখা দেয়।
কামাল আহমেদ: সাংবাদিক

রিজার্ভ চুরির ২ বছর পর মামলা করার সিদ্ধান্ত

রিজার্ভ চুরির দুই বছর পর এ বিষয়ে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এ মামলা রুজু করা হবে। রিজার্ভ চুরির দুই বছর পূর্ণ হয়েছে গত ৪ ফেব্রুয়ারি। এ বিষয়ে আপডেট জানাতে আজ বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় এ ব্যাংকটি।
কথা বলেন ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মো: রাজি হাসান। তিনি জানান, রিজার্ভ চুরি হয়ে জমা হওয়া ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংক করপোরেশনের (আরসিবিসি) বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে তৃতীয় একটি দেশের আদালতে মামলাটি করা হবে। তৃতীয় দেশ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কথা জানান। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হিসাব থেকে সাইবার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার পাচার করা হয়েছে।

মায়ের লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দিলো সুব্রত

যে মায়ের সঙ্গে পরীক্ষার হলে আসার কথা, সেই মায়ের লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দিতে হয়েছে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার সুব্রত মিস্ত্রী নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে। উপজেলা সদরে কে.এম. মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষার দিন হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটে।
সুভ্রত মিস্ত্রীর বাবা দিলীপ মিস্ত্রী। পাথরঘাটা পৌরসভার ৬নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। পাথরঘাটার তাসলিমা মেমোরিয়াল একাডেমী থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন সুভ্রত। মা রেখা রাণী মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাসলিমা মেমোরিয়াল একাডেমীর প্রধান শিক্ষক আবুল বাশার বলেন, সুব্রত মেধাবী ছাত্র। জিপিএ ৫ পাওয়ার ছাত্র। কিন্তু এ মুহূর্তে মা মারা যাওয়ায় কিছুটা পরীক্ষা ও পরীক্ষার ফলাফল বিঘ্নিত হতে পারে।

পা দিয়েই এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে অদম্য রুবেল

অদম্য ইচ্ছা শক্তি নিয়ে সাটুরিয়ার রুবেল মিয়া পা দিয়ে লিখে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা অদম্য রুবেলকে দমাতে পারেনি। লক্ষ্যপানে সে এগিয়েই চলেছে। জন্মের পর থেকেই রুবেল মিয়ার দুই হাত নেই। নিজ থেকে বিদ্যালয় গিয়ে পড়ালেখার আগ্রহ দেখে দরিদ্র ঘরের সন্তান রুবেল পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে। মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার তিল্লি ঘোষ পাড়ার হবি মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া তিল্লি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি ২০১৮ সনের অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। সাটুরিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, রুবেল মিয়া তার দু পা দিয়ে নিজের খাতা ভাঁজ, মার্জিন করে সুন্দর করে বাম পা দিয়ে লিখছে। রুবেল শুধু লেখাপড়া নয়, হাত ছাড়াই নিজের প্রায় সব কাজ করতে পারে। পরীক্ষার পর তার ভাড়া বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নিজে নিজেই কল চাপিয়ে পানি উঠিয়ে গোসল করছে। তোয়ালে দিয়ে গা-মোছাসহ জামা কাপর পরার কাজ একই করছে। পা দিয়ে ভাত খাচ্ছে। নিজের আসবাবপত্র, বই খাতা নিজেই গোছাতেই তার স্বাচ্ছন্দ্য। রুবেলের মা সখিনা বেগম জানান, তার ৩ সন্তানের মধ্যে রুবেল ২য়। বড় মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন। রুবেল জন্ম থেকেই দুই হাত নেই। বড় হওয়ার পর ও একাই স্কুলে যেত। পড়াশোনা করাচ্ছি অনেক কষ্ট করে। নিজে অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে ও বাবা রিক্সা ভ্যান চালিয়ে যা আয় হয় তাই দিয়েই লেখা পড়া করাচ্ছি। তিল্লি উচ্চ বিদ্যালয়ে এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হাসান ভুইয়া জানান, ভ্যানচালক হবি মিয়া ও সখিনা বেগমের ঘরে ২০০২ সালে জন্ম নেয় রুবেল। রুবেল বড় হবার পর তিল্লি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়, সে সময় থেকেই তার দু পা দিয়ে তার শিক্ষা জীবন শুরু হয়। পরে তিল্লি প্রাথমিক পরীক্ষায় পিএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে জিপিএ ৪.৩৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে আমার বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ২০১৫ সালের জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ২.৯০ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। ২০১৮ সালে রুবেল এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। যার রোল হচ্ছে ৩৪৩০৯৬, রেজি নং : ১৫১০৫০২৭৬৪। এ ব্যাপারে রুবেলের বাবা হবি মিয়া জানান, আমি পেশায় একজন রিক্সাচালক, দুই মেয়ে এক পুত্র সন্তান রুবেলকে নিয়ে আমার সংসার।
আমার এক মেয়ে বিয়ে দিয়েছি, মেঝ ছেলে সুমন ও আরেক মেয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে। রুবেল তার ইচ্ছা শক্তি নিয়ে পা দিয়ে লিখে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। ঠিকমত বই কিনে দিতে পারিনি অভাবের সংসার থাকায়। রুবেল প্রচন্ড ইচ্ছাশক্তি দিয়ে আজ এ পর্যন্ত পৌছেতে পেরেছে। এর আগে জেএসসি পরীক্ষার সময় ওকে নিয়ে পত্র-পত্রিকায় লেখা লেখি হলে অনেকেই সাহায্য করছে। তবে এখন ওর ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তায় আছি। এসএসসি পাস করার পর ক্যামনে পড়ামু। এ ব্যাপারে রুবেল বলে, আমার হাত নেই সেটা মনেই করি না। আমি নিজেকে প্রতিবন্ধী মনে করি না, মানুষ মনে করি। আমার বন্ধু ও শিক্ষকরা সব সময় আমাকে উৎসাহ জুগিয়েছে। বিশেষ করে মানিকগঞ্জের তৎকালীন জেলা প্রশাসক রাশেদা ফেরদৌস মহোদয় আমার বাড়িতে গিয়ে আমাকে উৎসাহ জুগিয়েছেন। আমি পড়াশুনা শেষ করে মানুষের মানুষ ও সরকারি চাকরি করে দেশ ও মা- বাবার সেবা করতে চাই। এ ব্যাপারে রুবেলের এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র সচিব ও সাটুরিয়া পাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন জানান, রুবেল মিয়ার পা দিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে সেটা দেখে আমি বিস্মিত। প্রচণ্ড মনোবল থাকলে হাজারও বাধার পরও সফল হওয়া সম্ভব। রুবেল খুব শান্ত সবার সাথে বসে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরীক্ষা দিচ্ছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন জানান, রুবেল শারিরীক প্রতিবন্ধী হয়েও সে অন্যসব পরীক্ষার্থীদের সাথে স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষা দিচ্ছে । প্রতিবন্দিদের জন্য অতিরিক্ত ২০ মিনিট বরাদ্দও সে পাচ্ছে। সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদ ফারাজানা সিদ্দিকী জানান, রুবেল পা দিয়ে লেখাপড়া করছেন এমন সংবাদ দেখে এর আগে ওই সময়ের জেলা প্রশাসক রাশেদা ফেরদৌস নিজে ওর বাড়িতে গিয়ে অর্থ প্রদান করেন। অপ্রতিরোধ্য রুবেলকে নিয়মিত প্রতিবন্ধী ভাতা দেয়া হচ্ছে এবং তাকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে সকল সুযোগ সুবিধা দেবার আশ্বাস দিলেন প্রশাসনের এই কর্মকর্তা।

বিয়ে করে বেকায়দায় ষাটোর্ধ্ব প্রবাসী আব্দুল মতিন

সিলেটের বিশ্বনাথে বিয়ে করে বেকায়দায় পড়েছেন আব্দুল মতিন নামে ষাটোর্ধ এক লন্ডন প্রবাসী। বিয়ের দুই মাসের মাথায় স্ত্রীকে তালাক নোটিশ পাঠিয়ে ধারাবাহিক ৩টি মামলার আসামি হতে হয়েছে ওই প্রবাসীকে। তাই ষড়যন্ত্রমূলক একাধিক মিথ্যা মামলা থেকে রেহাই ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়ে সিলেটের ডিআইজি, পুলিশ সুপার ও প্রবাসী কল্যাণ সেলে স্মারকলিপি দিয়েছেন বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত আনফর আলীর পুত্র যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুল মতিন। স্মারকলিপিতে আব্দুল মতিন উল্লেখ করেন, তার স্ত্রী মৃত্যুবরণ করায় গত বছরের ৩ অক্টোবর উপজেলা দৌলতপুর ইউনিয়নের চরচন্ডি গ্রামের জহির উল্লাহর মেয়ে রাজনা বেগমকে (২৭) বিয়ে করেন। বিয়ের পরে তিনি বুঝতে পারেন তার স্ত্রী একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য ও একাধিক পুরুষের সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। সম্পদ আত্মসাৎ করতে এই বিয়ের নাটক সাজিয়ে তাকে বেকায়দায় ফেলা হয়েছে। এরপর বারণ করার পরও তার কথায় কর্ণপাত না করায় বাধ্য হয়ে গতবছরের ৬ ডিসেম্বর রাজনা বেগমের কাছে ডাকযোগে তালাক নোটিশ পাঠান আব্দুল মতিন। উক্ত তালাক নোটিশ হাতে পাওয়ার পরই ১৪ ডিসেম্বর সিলেট সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩-এর আদালতে স্ত্রী আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা (সিআর-৩৬২/১৭) দায়ের করেন রাজনা। উক্ত মামলা দায়েরের ৫ দিন পর মোকদ্দমাটি আদালত থেকে বিবাদী আব্দুল মতিনের অগোচরে উঠিয়ে আনা হয়।
এরপর গত ১৩ জানুয়ারি এলাকার চিহ্নিত দালালদের সহযোগিতায় সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং কাল্পনিক উক্তি দিয়ে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার চেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে বিশ্বনাথ থানায় মামলা (মামলা নং-৭) দায়ের করেন রাজনা বেগম। পরবর্তীতে গত ১ ফেব্রুয়ারি মেয়ের গর্ভের সন্তান নষ্ট ও মারপিট করে আহত করার অভিযোগে রাজনা বেগমের পিতা বাদি হয়ে বিশ্বনাথ থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় আব্দুল মতিনসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। আবদুল মতিন আরো উল্লেখ করেন, উক্ত মামলার এজাহারে গত ২৪ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে রাজনা বেগমের পৈত্রিক বাড়িতে গিয়ে যে হামলা ও মারধরের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে তা সঠিক নয়। ঐদিন এধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। রাজনা বেগমের পৈত্রিক বাড়ি থেকে তার বাড়ির দূরত্ব প্রায় ৫ কিলোমিটার। রাজনা বেগম, তার পিতা জহির উল্লাহ ও এলাকার দালালরা অবৈধ ফায়দা হাসিলের অসৎ উদ্দেশ্যে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে হয়রানী করছেন বলে স্মারকলিপিতে আব্দুল মতিন উল্লেখ করেন। ন্যায় ও সুবিচারের স্বার্থে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে ষড়যন্ত্রমূলক এসব মিথ্যা মামলা থেকে রেহাই পেতে স্মারকলিপিতে আবেদন জানান আব্দুল মতিন।

ভারতকে হুঁশিয়ারি চীনের ; মালদ্বীপে সৈন্য পাঠাবেন না

মালদ্বীপে ভারত সামরিক হস্তক্ষেপ করলে তার তীব্র বিরোধিতা করবে চীন। বেইজিংয়ের দাবি, এর ফলে পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করতে পারে। অবশ্য, চীনের আপত্তি উড়িয়ে দিয়েছেন দ্বীপরাষ্ট্রের নির্বাসিত সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ। মালদ্বীপের বর্তমান সঙ্কট মোকাবিলায় ভারতের সামরিক সাহায্য চেয়ে মঙ্গলবার কলম্বো থেকে আবেদন করেন মোহাম্মদ নাশিদ। প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ যে বিচারপতি ও রাজনৈতিক নেতাদজের বন্দি করে রেখেছেন, তাদের মুক্ত করার আবেদন করেন ভারতকে। সেই প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লি জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। এমনকী, সেনাবাহিনীকেও তৈরি রাখা হয়েছে। ভারতের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে চীন। বুধবার বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গেং শ্যুয়াং জানান, আন্তর্জাতিক মহলের উচিত মালদ্বীপের সার্বভৌমত্বকে মাথায় রেখে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করা। তৃতীয় পক্ষের উচিত নয় এমন পদক্ষেপ নেয়া যাতে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। তার মতে, আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান বের করতে হবে। যদিও, চীনের এই আপত্তিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ নাশিদ। এদিন কলম্বো থেকে তিনি টুইটারে জানিয়ে দেন, ভারতের উচিত অবিলম্বে সামরিক প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা।
চীনের প্রস্তাবকে খারিজ করে তিনি জানান, আলোচনায় পরিস্থিতি আরো জটিল হবে। ভারতের সামরিক হস্তক্ষেপের হয়ে জোরাল সমর্থন করে নাশীদ এদিন বলেন, ভারত কখনই অন্য দেশ কব্জা করে না। তিনি স্মরণ করেন, ১৯৮৮ সালেও একইভাবে ভারত সামরিক সাহায্য করে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার পর চলে গিয়েছিল। তার দাবি, সকল মালদ্বীপবাসী অতীতেও ভারতের ভূমিকাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখেছিল, আজও তাদের দিকেই তাকিয়ে। গত সপ্তাহে ভারতীয় মহাসাগরে অবস্থিত এই নৈসর্গিক দ্বীপরাষ্ট্রে শুরু হয় চরম রাজনৈতিক সঙ্কট। বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনকে সাবেক প্রেসিডেন্ট সহ সকল ৯ রাজনৈতিক বন্দির অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার নির্দেশ দেয় সেদেশের সুপ্রিম কোর্ট। এর পাশাপাশি, ইয়ামিনের দলত্যাগী ১২ এমপির আসনও ফিরিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। আদালতের ওই রায়ের ফলে, ৮৫ আসন-বিশিষ্ট মালদ্বীপের পার্লামেন্টে বিরোধীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যেত। ফলে, ইয়ামিনের ইমপিচমেন্ট অবশ্যম্ভাবী হতো। কিন্তু, প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ সেই নির্দেশ মানতে অস্বীকার করেন। বলেন, উল্টে সুপ্রিম কোর্টের বিরুদ্ধেই তোপ দাগেন প্রেসিডেন্ট। তিনি জানিয়ে দেন, সুপ্রিম কোর্ট তার এক্তিয়ার-বহির্ভুত কাজ করছে। ইয়ামিনের দফতরের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হয়, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ মানা হবে না। এরপরই, সোমবার দেশে ১৫ দিনের জরুরি অবস্থা জারি করেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন। সেইসঙ্গে, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি আবদুল্লাহ সাঈদসহ দু'জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার করা হয় আরেক সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আব্দুল গাইয়ুমকে। এরপরই, চাপের মুখে গভীর রাতে আগের নির্দেশ প্রত্যাহার করে সুপ্রিম কোর্টের বাকি তিন বিচারপতি।
সুপ্রিম কোর্টের ভোলবদল
একেবারে ভোলবদলে দুই বিচারপতিকে গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দণ্ডিত ৯ জন বিরোধী রাজনীতিককে মুক্তি দেয়ার নির্দেশ প্রত্যাহার করে নিলো মালদ্বীপের সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার রাতে সুপ্রিম কোর্টের অবশিষ্ট তিন বিচারক এক বিবৃতিতে আগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেন। সপ্তাহখানেক আগে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারক সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ এবং বিরোধী দলের ১২ এমপিকে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে কারাদণ্ড দেয়ার ঘটনাকে ‘অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বর্ণনা করে তাদের মুক্তি দেয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। একইসঙ্গে ওই এমপিদের সংসদ সদস্যপদও বহাল রাখার কথা ঘোষণা করেন তারা। আদালতের ওই রায়ের পর মালদিভিয়ান ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এমডিপি) নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট মালদ্বীপের ৮৫ সদস্যের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যায়। প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন সুপ্রিম কোর্টের আদেশ মানবেন না বলে জানিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য পার্লামেন্টের কারকর্ম স্থগিত করে দেন। কারাদণ্ড পাওয়া ১২ এমপির মধ্যে ৯ জন কারাভোগ করছেন।
এছাড়া, স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা আবদুল্লাহ সিনান ও ইলহাম আহমেদ রোববার দেশে ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। ২৬টি প্রবাল প্রাচীর ও ১১৯২টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ভারত মহাসাগরের এই রাষ্ট্রে ভরা পর্যটন মরশুমে জরুরি অবস্থা জারি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ঘটনায় বিভিন্ন দেশও উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে। চীন, আমেরিকা, ভারত, ব্রিটেন, বাংলাদেশসহ অনেক দেশই দেশটিতে থাকা তাদের নাগরিকদের সতর্ক হয়ে চলাফেরার পরামর্শ দিয়েছে। যদিও প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও জনগণের চলাফেরা, চাকরি বা ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর জরুরি অবস্থার প্রভাব পড়বে না। অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে, জরুরি অবস্থা জারি প্রেসিডেন্টের মরিয়া ভাবের কথাই ইঙ্গিত করছে। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের নির্বাচনে বিরোধীদল এমডিপি-র এই নেতা বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনের কাছে অল্প ব্যবধানে হেরে যান। এর দু’বছর পর সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে নাশিদ ও ১২ এমপিকে কারাদণ্ড দেয় মালদ্বীপের আদালত, যে রায় নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেরও তীব্র আপত্তি ছিল।

ঢাবিতে শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় মারধর ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের

ধার নেয়া ক্যালকুলেটর ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলের এক শিক্ষার্থীকে শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা দফায় দফায় মারধর করে রক্তাক্ত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে আজ বুধবার দুপুর পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীকে তিন দফায় মারধর তারা। এতে ভুক্তভোগীর চোখের কর্ণিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আঘাতের ফলে ওই শিক্ষার্থীর মুখে বেশ কয়েকটি ক্ষত চিহ্নসহ শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ভুক্তভোগী ঢাবির দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এহসান রফিক। মারধরকারীরা হলেন- হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেলের অনুসারী। হল ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, মারধরের পরে অন্য হলের বন্ধুদের সহযোগিতায় আজ দুপুর আড়াইটায় পালিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে এহসান। এর আগে তাকে হলের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। বারবার ক্ষুদা-তৃষ্ণায় চিৎকার করলেও তাকে কোনো ধরনের পানি বা খাবার দেয়নি তারা। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে, মার্কেটিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ওমর ফারুক প্রায় তিন মাস আগে তার কাছ থেকে একটি ক্যালকুলেটর ধার নেয়। প্রায়ই তা ফেরত চাইলেও ফেরত দেয়নি। সর্বশেষ গতকাল রাতে ক্যালকুলেটর দাবি করলে ওমর ফারুক তাকে মারধর করে। পরে হল ছাত্রলীগের সহসভাপতি আরিফের (আইইআর) মাধ্যমে এহসানকে টিভি রুমে ডেকে নেয়। এসময় টিভিরুমে উপস্থিত ছিলেন হল সহসভাপতি তানিম, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আনিম ইরতিজা শোভন ও আবু তাহের। তারা এহসানকে শিবির অপবাদ দিয়ে মোবাইল কেড়ে নিয়ে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট চেক করে। কিন্তু এর মাধ্যমে কোনো প্রমাণ বের করতে পারেনি। পরে জোরপূর্বক শিবির স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য তাকে বেদম মারধর করে। হল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়ে হল গেটে বের করে দেয় তাকে। সেখানে আরেক দফায় হল শাখার সহ সম্পাদক ওমর ফারুক ও রুহুল আমিন, সদস্য সামিউল ইসলাম সামী, আহসান উল্লাহ, উপসম্পাদক মেহেদী হাসান হিমেলের নেতৃত্বে রড, লঠি সোটা দিয়ে বেদম প্রহার করা হয়। মরধরের এক পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন এহসান। অবস্থা বেগতিক দেখে আরিফ রাত সাড়ে তিনটায় এহসানকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
সেখান প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নিয়ে এসে হল শাখা সভাপতি তাহসান আহমেদের (১৬ নম্বর) কক্ষে মারধরের তথ্য প্রকাশ না করতে হুমকি দিয়ে আটকে রাখা হয়। সকালে এহসানের অবস্থা খারাপ হলে তাকে আবার ঢাকা মেডিক্যালে নেয়া হয়। সেখান থেকে হলে এনে একই কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে হল থেকে পালিয়ে আসে এহসান। সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন এহসান। এ বিষয়ে এহসানের পিতা চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বলেন, এহসানের চোখের কর্ণিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় অপরাধীদের বিচার দাবি করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো বাবাকে তার সন্তানকে এভাবে নির্যাতিত না দেখতে হয় সেজন্য আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। এ বিষয়ে হল শাখা সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল বলেন, আমি অভিযুক্তদের হল থেকে বের করে দিয়েছি। আমি সোহাগ ভাইকে (কেন্দ্রীয় সভাপতি) বিষয়টি অবহিত করেছি। তাদের সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হবে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান ও সাধরণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্সকে একাধিকবার ফোন করা হলেও পাওয়া যায়নি। পরে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম জোয়ারর্দার জানান, অভিযোগ পেয়েছি, ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়া হবে। উল্লেখ্য, এর আগেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মোবাইল-ল্যাপটপ ও টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিতে বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীদের শিবির অ্যাখ্যা দিয়ে মারধর করে ছাত্রলীগ। সম্প্রতি বিজয় একাত্তর হলের দুটি ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মারধর করে মোবাইল-ল্যাপটপ হাতিয়ে নিয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। অভিযোগ আছে হল সভাপতি ফকির রাসেলের অনুসারী একটি চক্র এ ব্যাপারে খুবই সক্রিয়।

কী জানি কী হয় জনমনে আতঙ্ক

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায় ঘিরে ঢাকাসহ সারা দেশ নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার রায় হবে আজ। বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বুধবার বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে পুলিশ, র‌্যাবের পাশাপাশি টহলে নেমেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ফায়ার সার্ভিস। ঢাকার প্রবেশপথসহ সড়ক ও রেলপথে পদে পদে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ‘সন্দেহভাজন ও মামলার আসামি’ হিসেবে বুধবার গ্রেফতার হয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীসহ ১৩ শতাধিক। গত নয় দিনে গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার। সম্পদ রক্ষায় বাস টার্মিনাল ও রেলওয়ে স্টেশনগুলোয় পুলিশের পাশাপাশি পরিবহন শ্রমিকরা অবস্থান নিয়েছে। রায় ঘিরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে সরকার। রায়কে আইনি ও রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও মাঠের বিরোধী দল বিএনপি মুখোমুখি অবস্থান নেয়ায় সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। রায় কেন্দ্র করে পুলিশের নিরাপত্তা নিয়ে বুধবার বিকালে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি)। আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেছেন, ভীত হবেন না, স্বাভাবিক থাকুন। ৮ ফেব্রুয়ারি কিছু হবে না। কোনো গোষ্ঠী জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার অবনতির অপচেষ্টা করলে তা আইনগতভাবে মোকাবেলা করা হবে। কোনো ধরনের গুজবে কান না দেয়ারও অনুরোধ জানান আইজিপি। এদিকে ডিএমপি কমিশনার বলেছেন, নিরাপত্তার প্রশ্নে বিন্দুমাত্র ছাড় নয়। রায়কে ঘিরে যাতে জনজীবন ও জনশৃঙ্খলায় বিঘ্ন না ঘটে, সেজন্য পুলিশের কর্তাব্যক্তিরা গত দু’দিন দফায় দফায় বৈঠক করে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। নাশকতার আশঙ্কায় সন্দেহভাজন, গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত, তদন্তাধীন ও বিচারাধীন মামলার আসামিদের গ্রেফতারে সারা দেশের থানা ও গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটকে নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। ঢাকার প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসিয়ে ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ ও র‌্যাব। এদিকে দেশবাসীর নিরাপত্তায় বুধবার থেকে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় টহলে নেমেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা। ঢাকায় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন থাকবে। বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ মহসিন রেজা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া সিরাজগঞ্জে ৩ প্লাটুন, বগুড়ায় ৩ প্লাটুন, নারায়ণগঞ্জে ৩ প্লাটুন, নোয়াখালীতে ১ প্লাটুন, লক্ষ্মীপুরে ১ প্লাটুন এবং চাঁদপুরে ১ প্লাটুন, কিশোরগঞ্জে ১, ফেনী ২, বরিশাল ১, পিরোজপুর ১, সাতক্ষীরা ২, বাগেরহাট ১, নাটোর ১, রংপুরে ৫ প্লাটুন, রাজশাহীতে ৪ প্লাটুন, পাবনা ২সহ মোট ৭৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকাসহ ২০ জেলার জন্য ৫৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঢাকায় বিএনপি সমর্থকদের গণগ্রেফতার করা হচ্ছে না বলে দাবি করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জমান মিয়া। তিনি বলেন, পুলিশের ওপর হামলাকারী ও যারা অতীতে জ্বালাও-পোড়াও করেছে ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এটা গণগ্রেফতার নয়। রাজধানীর পথে পথে তল্লাশি : রাজধানীর প্রবেশপথগুলোসহ বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা। কোথাও কোথাও গাড়িতে উঠে যাত্রীদের ব্যাগ ও লাগেজ চেক করা হয়েছে। আবার কোথাও কোথাও যাত্রীদের গাড়ি থেকে নামিয়ে শরীর ও ব্যাগ মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে চেকপোস্টের সংখ্যাও। পাশাপাশি রাজধানীর টার্মিনাল ও মহাসড়কে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে। নাশকতার আশঙ্কায় বাস ও ট্রাক টার্মিনালগুলোতে পুলিশের পাশাপাশি পরিবহন শ্রমিকেরা অবস্থান নিয়েছে। বুধবার সকালে রাজধানীর সড়কগুলোতে যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক দেখা গেছে। বিকালের দিকে কমতে থাকে। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। নৌপথে যাত্রীসংখ্যা কম দেখা গেছে। সরেজমিনে এসব চিত্র দেখা গেছে। যাত্রীরা জানিয়েছেন, শুধু ঢাকায় নয়, মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে দূরপাল্লার গাড়ি থামিয়ে চেক করা হয়েছে। এতে সিরাজগঞ্জ, সাইনবোর্ড, টঙ্গী ও আশপাশ এলাকায় থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থকরা জড়ো হয়ে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যানবাহনে ব্যাপক তল্লাশির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীতে নিরাপত্তা চৌকির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। অপরদিকে পরিবহন মালিকেরা জানান, রায় নিয়ে নানামুখী চাপে রয়েছেন তারা।
একদিকে হামলা আশঙ্কা ও অন্যদিকে পথে পথে হয়রানি। কয়েকজন পরিবহন মালিক জানান, পরিস্থিতি অবনতি ঘটলে আজ বৃহস্পতিবার দূরপাল্লার রুটে গাড়ি নামাবেন না। দেখা গেছে, গাবতলী টার্মিনালে গাড়ি থেকে যাত্রী নামার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাগ ও শরীর মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিগত গাড়ি থামিয়ে চেক করা হয়েছে। রংপুর থেকে আসা হানিফ পরিবহনের যাত্রী আবদুল কুদ্দুস বলেন, সিরাজগঞ্জেও গাড়ি চেক করা হয়েছে। ঢাকার প্রবেশমুখেও চেক করা হল। তিনি বলেন, সিরাজগঞ্জে চেক করার কারণে সেখানে যানজট সৃষ্টি হয়। একই অভিযোগ পরিবহন শ্রমিকদেরও। তারা বলেন, চেকপোস্টের কারণে মহাসড়কগুলোর বিভিন্ন স্থানে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঢাকায় ঢুকতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি লেগেছে। দারুসসালাম থানার ওসি সেলিমুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, রায় ঘিরে তারা গাবতলী এলাকায় বাড়তি জনবল নিয়োজিত করেছেন। সন্দেহ হলে যে কোনো বাস, ট্রাক বা পথচারীদের তল্লাশি করা হচ্ছে। কুমিল্লা থেকে ঢাকায় আসা আরেক যাত্রী মো. ইমরান হোসেন জানান, তাদের গাড়ি সাইনবোর্ড ও যাত্রাবাড়ীতে তল্লাশি করা হয়েছে। পুলিশ গাড়িতে উঠে যাত্রীদের পরিচয়পত্র ও ঢাকায় আসার কারণ জানতে চেয়েছেন। যাদের সন্দেহ হয়েছে তাদের দেহ তল্লাশি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে পড়ব তা বুঝতে পারিনি। এতে ভয় লাগছে। আগে জানলে ঢাকায় আসতাম না। ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ কয়েকটি জেলার গাড়ি টঙ্গী ও আশুলিয়া হয়ে ঢাকায় প্রবেশ করে। এসব গাড়ি তল্লাশি করতে উত্তরায় চেকপোস্ট বসানো হয়। ওই চেকপোস্টে সন্দেহভাজন গাড়ি থামিয়ে চেক করা হয়েছে। বিশেষ করে হেঁটে চলা যাত্রীদের বেশি চেক করা হয়েছে। এ ছাড়া গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জেও বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে পুলিশ। সন্দেহ হলেই যানবাহনে চালানো হয় তল্লাশি। রাজধানীর গাবতলী, মহাখালী, গুলিস্তান ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে বুধবার রাতে পাহারা দেন পরিবহন শ্রমিকেরা। এসব টার্মিনালে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোকে পাহারা দেয়ার জন্য আগ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়। তারা পুলিশের পাশাপাশি টার্মিনালগুলোতে অবস্থান নেন। এ বিষয়ে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল কালাম যুগান্তরকে বলেন, বাস আমাদের সম্পদ, আমাদের রুটি-রোজগারের মাধ্যম। এ বাস পাহারা দেয়ার জন্য পুলিশের পাশাপাশি আমরাও রয়েছি।
রেলপথে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা : রেলওয়েতে স্মরণকালের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রতিটি রেলস্টেশন ও রেলওয়ে ব্রিজ এবং রেললাইনে কঠোর নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়। ঢাকার কমলাপুর, বিমানবন্দর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলো নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয়েছে। স্টেশন ও ট্রেনের ভেতরে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে। প্রতিটি ট্রেনের ইঞ্জিন ও গার্ডরুমে অস্ত্রধারী পুলিশ প্রহরা নিশ্চিত করা হয়েছে। রেলওয়ে ওয়ার্কশপসহ গুরুত্বপূর্ণ ভবনসমূহে পুলিশ প্রহরা বসানো হয়েছে। যাত্রীদের জীবন ও রেলের সম্পদ রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রয়োজনে গুলির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। রেলওয়ে শ্রমিক লীগের ৬০টি শাখার নেতাকর্মীরা মাঠে নেমেছে বলে জানা গেছে। বুধবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পুরো স্টেশন এলাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্টেশনের প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে টিকিট কাউন্টার, প্লাটফর্মসহ ওয়ার্কশপ এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কন্ট্রোল রুম থেকে শুরু করে স্টেশন মাস্টার, বুকিং ও সিগন্যালিং রুমগুলোর সামনে অস্ত্রধারী পুলিশ প্রহরা দিচ্ছে। রেলওয়ে পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা ট্রেনগুলোর ইঞ্জিন ও গার্ডরুমে পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। একই সঙ্গে কমলাপুর থেকে যেসব ট্রেন ছেড়ে যাচ্ছে সেসব ট্রেনের ইঞ্জিন, গার্ডরুম ও ট্রেনে অস্ত্রধারী রেলওয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা সতর্কাবস্থায় থাকতে দেখা গেছে। সাধারণ গেট দিয়ে ট্রেন যাত্রীদের প্রবেশ ও বের হতে দেখা গেছে। ব্যাগ, মালামাল বহনকারী যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি তল্লাশির কবলে পড়তে হয়। দুপুরের পর বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ নিজেদের দখলে নেয় র‌্যাব। স্টেশন এলাকাও হকারমুক্ত করা হয়েছে। বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী আকবর জানান, তিন দিন ধরে এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঢাকা রেলওয়ে থানার ওসি মো. ইয়াসিন ফারুকী যুগান্তরকে জানান, কমলাপুর ও বিমানবন্দরসহ ঢাকা রেঞ্জের সব ক’টি রেলওয়ে স্টেশন নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা হয়েছে। বাংকারে সতর্কাবস্থায় রয়েছে পুলিশ সদস্যরা। তিনি বলেন, আগে নাশকতাকারীরা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন ও ইঞ্জিনে অগ্নিসংযোগ করেছিল। এবার পুরো স্টেশন এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা রয়েছে- যে কোনো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে, যাত্রীদের জীবন বাঁচানোর লক্ষ্যে প্রয়োজেন গুলি চালানোও হবে। এ বিষয়ে রেলওয়ে মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন যুগান্তরকে জানান, রেল সরকারি সম্পদ, জনগণের সম্পদ। এ সম্পদ রক্ষা করতে যা যা প্রয়োজন তাই করা হবে। সাময়িক সময়ের জন্য সাধারণ যাত্রীদের কষ্ট কিংবা দুর্ভোগ হচ্ছে স্বীকার করে তিনি বলেন, যাত্রীদের জানমাল রক্ষা করতেই এমন অবস্থানে যেতে হয়েছে।
রাজধানীসহ সারা দেশে গ্রেফতার : বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামকে তার বাসাবোর বাসা থেকে আটক করে পুলিশ। বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু যুগান্তরকে এ তথ্য জানান। আলালের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, আলালকে না পেয়ে তার পরিবারের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে প্রবেশের পথে বুধবার বিকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ব্যক্তিগত সহকারী ইউনুস আলীকে আটক করে ১ ঘণ্টা পর ছেড়ে দেয় ডিবি পুলিশ। এদিকে বুধবার বিকাল পর্যন্ত ৪৫ জেলায় বিএনপির ১৩৬৩ জনকে গ্রেফতারের তথ্য পাওয়া গেছে। যুগান্তর রিপোর্ট, ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
রাজশাহী, বাঘা ও চারঘাট : মঙ্গলবার রাতে নগরীতে ৪১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানা ১২ জন, রাজপাড়া থানা ১৫ জন, মতিহার থানা সাতজন, শাহমখদুম থানা পাঁচজন এবং মহানগর ডিবি পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে এক ছাত্রদল নেতাকে দুটি ককটেলসহ আটক করা হয়েছে।
হবিগঞ্জ ও বাহুবল : জেলা জাসাস সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী, ছাত্রদল আহ্বায়ক আবদুল আহাদ কাজল ও যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল আহমেদসহ বিএনপির ২৯ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত তাদের আটক করে পুলিশ।
ঝিনাইদহ : রাতভর অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীসহ ৭৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় ২২টি হাতবোমা উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ।
কুমিল্লা, দেবিদ্বার, লাকসাম ও দাউদকান্দি : মঙ্গলবার রাত থেকে জেলার ১৭ থানা এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের ৭৯ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়।
মেহেরপুর : মুজিবনগরে পুলিশের পিকআপ ভ্যান লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকে অবিস্ফোরিত ৪টি বোমা উদ্ধার ও বিএনপি-জামায়াতের ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
নওগাঁ ও নিয়ামতপুর : বিএনপি-জামায়াতের ৫৫ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত জেলার ১১টি উপজেলা থেকে তাদের আটক করা হয়। এর মধ্যে বিএনপির ৩৪ জন এবং জামায়াতের ২১ জন।
শ্রীপুর (গাজীপুর) : বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি হাসান উদ্দিন সরকারকে বুধবার কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনিসহ চারজনকে টঙ্গীর আহসান উল্লাহ সরকার ইসলামিক কমপ্লেক্স থেকে আটক করে পুলিশ। হাসান উদ্দিন সরকারসহ আসামিদের বুধবার দুপুরে গাজীপুর আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক ১১ ফেব্রুয়ারি রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন।
রাজবাড়ী ও বালিয়াকান্দি : বিএনপির ৪২ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
টাঙ্গাইল : জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হামিদ তালুকদার, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সুমন, শহর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সখীপুর পৌর ছাত্রদলের সভাপতি মোর্শেদ আলম সুমনসহ ৪৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
নীলফামারী, কিশোরগঞ্জ ও ডোমার : বিএনপি-জামায়াতের ২৪ নেতাকর্মীসহ ৪০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

জয়পুরহাট ও কালাই : জয়পুরহাটের পাঁচটি উপজেলা থেকে বিএনপি ও শিবিরের ২০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে ১৮ জন বিএনপি ও ২ জন শিবিরের নেতাকর্মী।
কুড়িগ্রাম, রৌমারী, নাগেশ্বরী, রাজারহাট ও ভুরুঙ্গামারী : জেলার বিএনপি-জামায়াতের ২৩ নেতাকর্মীসহ ৫৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
পাবনা, চাটমোহর : জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তোতা, জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মনির হোসেন ও সুজানগরের সাবেক ইউপি সদস্য আমজাদ হোসেনসহ ২৫ ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নবীনগর : ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপির ৫৪ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বগুড়া : ২৪ ঘণ্টায় জেলার ১০ উপজেলা থেকে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৪৯ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ : বিএনপি-জামায়াতের ৩০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এ ছাড়া সুনামগঞ্জে ৩২ ও মৌলভীবাজারে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রংপুর : জেলার ৮ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াতের ১৪ নেতাকর্মীসহ মোট ৮৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম, হাটহাজারী ও চন্দনাইশ : বিএনপি, জামায়াত ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে চালানো হচ্ছে তল্লাশি। চলছে ব্যাপক ধরপাকড়। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত নগরী ও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত ২৯০ জনকে আটক করা হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মী।
নেত্রকোনা, কেন্দুয়া ও মদন : বিএনপি-জামায়েতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জেলার ১০ থানায় ২০টি মামলা হয়েছে। বিস্ফোরক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে এসব মামলা করা হয়। ৩৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মানিকগঞ্জ ও সাটুরিয়া : মঙ্গলবার রাত ও বুধবার দুপুর পর্যন্ত বিএনপির ১২ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
চাঁদপুর, হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জ : বিএনপি-জামায়াতের ৪৪ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি আটকরা বিভিন্ন মামলার আসামি।
ধামরাই ও আশুলিয়া (ঢাকা) : যুবদলের সভাপতি প্রার্থীসহ বিএনপির ১১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে ধামরাই থানা পুলিশ।
নরসিংদী ও পলাশ : মতিঝিল থানা যুবদলের সভাপতি তারিকুল হক অপুসহ জেলার বিভিন্ন থানায় ৩০ বিএনপি নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
ফতুল্লা (নারায়ণগঞ্জ) : বিএনপি নেতাকর্মীদের গোপন বৈঠক থেকে ৬ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বৈঠক থেকে পালিয়ে যায় শতাধিক নেতাকর্মী।
শিবগঞ্জ ও গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) : শিবগঞ্জ পৌর ছাত্রদেলর সেক্রেটারিসহ ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
আরও বিভিন্ন স্থানে গ্রেফতার : এছাড়া নাটোরের সিংড়ায় ৪ নেতাকর্মী, ফরিদপুরের নগরকান্দায় ৮, জামালপুরের মাদারগঞ্জে ৯, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং ও শ্রীনগরে ৬, সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ৩, লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ১৩, মহেশখালীতে ৯, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ৩, মাদারীপুরের কালকিনিতে ৩, যশোরের কেশবপুরে ৩, খুলনার ডুমুরিয়ায় ২, কেরানীগঞ্জে ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশনে বিএনপির ভাংচুর

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য বিএনপির বিক্ষোভ থেকে লন্ডনে বাংলাদেশ দূতাবাসে ভাংচুর চালানো হয়েছে। বুধবার স্থানীয় সময় বিকালে (বাংলাদেশে মধ্যরাত) বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে দূতাবাস চত্বরে জড়ো হন। তারা স্লোগান দেন- 'আমার মায়ের কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে, আমার নেত্রী বন্দি হতে দেব না'। যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক বলেন, 'আমরা শানি্তপূর্ণভাবে বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি দিতে গিয়েছিলাম, তখন হাইকমিশনের কমর্কতারা তা নিতে অস্বীকার করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু মানুষ ভিতরে ঢুকে শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি খুলে নিয়ে ভাংচুর করে। স্বেচ্ছাসেবক দলের যুক্তরাজ্য সভাপতি নাসির আহমদকে সেখান থেকে গ্রেফতার করেছে লন্ডন পুলিশ।' দূতাবাসের এক কমর্কতা বলেন, 'বিএনপি নেতাকর্মীরা ভাংচুর চালিয়েছে, যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি স্বয়ং মানুষ নিয়ে ভেতরে ঢোকেন। হাইকমিশনের একজন কমর্চারীকে মারধরও করেন।' মালেক বলেন, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোর ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত তারা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দফতর ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে রায়ের প্রতিবাদ জানাবেন।

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম ও আফ্রিকান আমেরিকানদের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন শহরের পুলিশ বেছে বেছে মুসলিম ও আফ্রিকান আমেরিকানদের ওপর ব্যাপক গুপ্তচরবৃত্তি করেছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কয়েক হাজার পোস্টের ওপর অন্যায়ভাবে গোয়েন্দাগিরি চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সিভিল লিবার্টি ইউনিয়ন (এসিএলইউ)। বোস্টন পুলিশ বিভাগ (বিপিডি) জিওফিডিয়া নামে একটি নজরদারি ব্যবস্থা বা সফটওয়্যার দিয়ে ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনী ও ধর্মসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর অনলাইনের মন্তব্যের ওপর পর্যবেক্ষণ করেছে। ম্যাসাচুসেটসভিত্তিক এসিএলইউ বুধবার এসব তথ্য জানিয়েছে। তারা এক বিবৃতিতে বলেছে, বিপিডি সাধারণ মানুষের সাধারণ কথাবার্তাকে তাদের যৌক্তিক নজরদারির লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। পুলিশের উচিত, মারাত্মক অপরাধগুলো প্রতিরোধ কিংবা সমাধানে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া। জনঅধিকারবিষয়ক সংগঠন এসিএলইউ জানায়,
বিপিডি অন্যায়ভাবে মুসলিম ও আফ্রিকান আমেরিকারদের ওপর নজরদারি করছে। তাদের নজরদারি ব্যবস্থায় কোনো নিরপরাধ আরবি শব্দ কিংবা ব্ল্যাকলাইভসম্যাটার ও মুসলিমলাইভসম্যাটার হ্যাশট্যাগ দেখলেও সংকেত দেয়ার ব্যবস্থা রেখেছিল। যুক্তরাষ্ট্রে আফ্রিকান আমেরিকানদের ওপর পুলিশের নিষ্ঠুরতার প্রতিবাদে ব্ল্যাকলাইভসম্যাটার হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন অ্যাক্টিভিস্টরা। আর ২০১৫ সালে নর্থ ক্যারোলিনায় তিন মুসলিম শিক্ষার্থীকে হত্যার পর আমেরিকানদের ইসলামভীতি নিয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করতে মুসলিমলাইভসম্যাটার হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে। এসিএলইউ জানায়, ধর্ম-বর্ণ ও নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে মানুষকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হচ্ছে। কাজেই এক্ষেত্রে সব ধরনের অপরাধ তদন্তে এজাতীয় সফটওয়্যার ব্যবহার করা উচিত। কেবল ধর্ম-বর্ণ ও নৃতাত্ত্বিক পরিচয়কে টার্গেট বানানো উচিত হবে না। এক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও প্রক্রিয়াগত নিরাপত্তা থাকা দরকার।

দক্ষিণ কোরিয়ায় শীতকালীন অলিম্পিক সামনে রেখে উত্তরের সামরিক মহড়া

প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়ায় শীতকালীন অলিম্পিক শুরুর একদিন আগে উত্তর কোরিয়া তাদের ৭০তম বার্ষিক সামরিক মহড়ার আয়োজন করতে যাচ্ছে। ৪০ বছর ধরে এপ্রিলে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিষ্ঠার দিনটিতে এ মহড়ার আয়োজন করে আসছে। কিন্তু চলতি বছরে সময় পরিবর্তন করে ৮ ফেব্রুয়ারি মহড়ার দিন ধার্য করেছে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ গণমাধ্যম এসব তথ্য জানিয়েছে। এ নিয়ে সব ধরনের সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে উত্তর কোরিয়া বলেছে-এখানে সমালোচনা করার অধিকার কারও নেই। যে কোনো দেশ তার সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী জাঁকজমকপূর্ণভাবে আয়োজন করতে পারে।-খবর বিবিসি অনলাইন। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, সবার মনোযোগ যখন শীতকালীন অলিম্পিকের দিকে, তখন উত্তর কোরিয়া এ মহড়ার আয়োজন না করেই পারে। এদিকে উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠেয় শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছেন। গত বছর ইয়ো জং ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছিলেন। উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত পাড়ি দিয়ে দক্ষিণে যাওয়া কিমের পরিবারের প্রথম সদস্য হবেন ইয়ো জং। শুক্রবার দেশটির পাহাড়ি অঞ্চল পিয়ংচ্যাংয়ে অলিম্পিকের এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। ইয়ো জংয়ের উপস্থিতিতে দুই কোরিয়ার ক্রীড়াবিদরা অলিম্পিকের উদ্বোধনীতে একই পতাকার তলে মার্চ করবেন। অলিম্পিকে উত্তর কোরিয়ার ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বরফ গলবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের অভিযোগ,
উত্তর কোরিয়া নিজেদের প্রচারের মাধ্যম হিসেবে অলিম্পিককে কাজে লাগাচ্ছে। ইতিমধ্যে উত্তর কোরিয়ার ২৮০ সদস্যের বেশিরভাগ বুধবার দক্ষিণে পৌঁছান। উত্তর কোরিয়ার ক্রীড়ামন্ত্রী কিম ইল গুকের নেতৃত্বে এ দলে ২২৯ চিয়ার লিডারের পাশাপাশি অলিম্পিক কমিটির চার কর্মকর্তা, ২৬ তায়কোয়ান্দো প্রদর্শক ও ২১ সাংবাদিক আছেন। ১৯৮৭ সালে জন্ম নেয়া কিম ইয়ো জং উত্তর কোরিয়ার প্রয়াত নেতা কিম জং ইলের ছোট মেয়ে ও প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের বোন। ভাইয়ের চেয়ে তিনি চার বছরের ছোট। ওয়ার্কার্স পার্টির ক্ষমতাবান মহাসচিবের ছেলে চো রং হাইকে বিয়ে করেন ইয়ো জং।

মুসলিম বৃদ্ধকে ২৫ থাপ্পড়, দাড়ি ধরে টানাটানি!

ভারতে সাম্প্রদায়িক অহিষ্ণুতা এবং হিংসার ঘটনা বেড়েছে। সে রিপোর্ট খোদ কেন্দ্রীয় সরকারই লোকসভায় প্রকাশ করেছে মঙ্গলবার। তার ঠিক আগের রাতেই আরও এক ন্যক্কারজনক ঘটনার সাক্ষী হলো রাজস্থান। মধ্যবয়স্ক এক মুসলিম ব্যক্তিকে ‘জয় শ্রী রাম’ বলার জন্য ‘আদেশ’ দিচ্ছে এক তরুণ, আর মেরে চলেছে একের পর এক থাপ্পড়। ঘটনাটির একটি ভিডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে হইচই। পুলিশ বিজয় মিনা নামের বছর আঠেরোর ওই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার। মিনিট তিনেকের ভিডিওটিতে ওই তরুণকে আক্রান্তের দাড়ি ধরে টানাটানি করতেও দেখা গিয়েছে। দেখা গিয়েছে পরপর ২৫টি চড় মারতে। সঙ্গে সঙ্গেই ‘জয় শ্রী রাম’ বলার জন্য নির্দেশও দিচ্ছিল সে। আর মুহাম্মদ সালিম নামের ওই আক্রান্ত ব্যক্তি তখন বলে চলেছেন, ‘পরওয়ার্দিগার সবসে বড়া হ্যায়।
 ভিডিওটি প্রকাশ্য আসতেই তীব্র ক্ষোভের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এমনিতেই একের পর এক সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনায় চাপে রয়েছে রাজস্থান সরকার এবং প্রশাসন। কেন্দ্রের রিপোর্টেও দেখা যাচ্ছে, এ ধরনের ঘটনার সংখ্যায় দেশে উত্তরপ্রদেশ, কর্নাটকের পরই তিন নম্বরে আছে রাজস্থান। আর সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রয়েছে উত্তরপ্রদেশের পরেই, দু’নম্বরে। সোমবারের ওই ঘটনাটি ঘটেছে মাউন্ট আবু থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে একটি রাস্তার ওপর। মঙ্গলবার এর বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর হয়। ওম প্রকাশ নামে এক পুলিশ অফিসার এনডিটিভিকে বলেছেন, ধর্মীয় আবেগে আঘাত, শান্তিভঙ্গ, বিদ্বেষ ছড়ানো এবং নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। রাজস্থানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুলাব চন্দ কাটারিয়া বলেছেন, “এ ধরনের ঘটনা ঘটলে পুলিশ সব সময়েই ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।” গত ৬ ডিসেম্বর রাজস্থানের রাজসমন্দে মহম্মদ আফরাজুল বলে এক জনকে পিটিয়ে মেরে দেহ জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। তার ভিডিও-ও ছড়িয়ে পড়েছিল। তার আগে গত বছরেই, স্বঘোষিত গোরক্ষকদের হাতে মৃত্যু হয়েছিল বছর ৫৫ বছরের এক ব্যক্তির।

বিক্ষোভের ভয়ে সফর পেছালেন সৌদি প্রিন্স

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান চলতি মাসে লন্ডনে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইমেয়েনে সৌদি আরবের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইস্যুতে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের বিক্ষোভের মুখে পড়ার ভয়ে এ মাসের সফর পিছিয়ে মার্চ মাসে নিয়েছে রিয়াদ। ৩ দিনের এই সফরে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হতে পারে শঙ্কা করছে সৌদি আরব। চলতি ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে মার্চ মাসের ৭-৯ তারিখ সফরটি পেছানো হয়েছে। বিক্ষোভের পাশাপাশি ব্রিটিশ মিডিয়ায় সৌদি রাজপরিবার নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রচারিত হয়েছে, যা সৌদি কূটনীতিকদের বিব্রত করেছে। গত নভেম্বর মাস থেকে নিজের ক্ষমতা সংহত করতে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বীদের ঘায়েলের চেষ্টা করছেন বিন সালমান- এমন অভিযোগ অনেক বিশ্লেষকের। গত মাসে বিবিসি ‘হাউস অব সউদ: এ ফ্যামিলি এট ওয়ার’ নামে একটি ডকুমেন্টারি প্রকাশ করে।
এতে ইরান-বৈরিতা, কাতারের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ ইত্যাদি বিষয় উঠে আসে। সৌদি রাজপরিবারের অন্তর্কলহ এবং ইয়েমেন সংকটে সৌদি আরবের দায় চিত্রিত হয়েছে এই ডকুমেন্টারিতে। ফলে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যমের ওপর সৌদি কর্মকর্তারা আর ভরসা করতে পারছেন না। রিয়াদ এক বিবৃতিতে এই ডকুমেন্টারির ব্যাপারে উষ্মা প্রকাশ করেছে। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরবের নেতৃত্ত্বে বোমা হামলা অব্যাহত আছে। ২০১৫ থেকে এ পর্যন্ত সেখানে হাজারো মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। তাছাড়া আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে লন্ডন ও রিয়াদের উষ্ণ সম্পর্ক থাকলেও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের সঙ্গে যুবরাজের ব্যক্তিগত বনিবনা ভালো নয়। তাই সফরের আগে সবকিছু আবার খতিয়ে নেয়া হচ্ছে। প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে সৌদি বাদশা আবদুল্লাহ আল সৌদ লন্ডন সফরের সময় বিক্ষোভের মুখে পড়েন। সে সময় যুক্তরাজ্যের বিরোধী দল তার সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজও বর্জন করে।

৪০ রোগীর দেহে এইডস ভাইরাস ঢোকালেন ডাক্তার!

গ্রামের এক হাতুড়ে ডাক্তারের অপচিকিৎসার ফলে ৪০ রোগীর দেতে অজান্তে ঢুকেছে এইচআইভি এইডসের ভাইরাস। ডাক্তার রাজেন্দ্র কুমার কম পয়সায় চিকিৎসার টোপ দিয়ে দিনের পর দিন ব্যবহার করে অপরিশোধিত সিরিঞ্জ। যার ফলে এইচআইভি ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে রোগীদের শরীরে। প্রায় এমন ৪০ জন রোগীকে অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপির জন্য কানপুরে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশে উন্নাও জেলায়। বাগরামাউয়ের প্রেমগঞ্জ ও চকমিরপুর এলাকায় ২৪ থেকে ২৭ জানুয়ারি মোট ৫৬৬ জনের রক্ত পরীক্ষা করা হয়। এদের মধ্যে ৪০ জন এইচআইভি পজিটিভ রোগী পাওয়া যায়। খবর আল জাজিরার। এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন ওই জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এস পি চৌধুরী। তিনি বলেন, 'এইচআইভি সংক্রমণ ক্রমশ বাড়তে থাকায় কারণ অনুসন্ধান করতে দুই সদস্যের দল গঠন করেছে স্বাস্থ্য দফতর। এদিকে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ নাথ সিং বলেন, 'এই ধরনের অপরাধীর কড়া শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। কোনোভাবেই অপরাধী পার পাবে না।' সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০১৬ সালের শেষে ভারতের এইচআইভি পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ছিল ২১ লাখ।

পাকিস্তানে বড়সড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত

পাকিস্তান ও চীনের অর্থনৈতিক করিডরে বড়সড় হামলার জন্য ভারত প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয়। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা।
খবরে বলা হয়েছে, বেলুচিস্থান সরকারকে দেওয়া একটি চিঠিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সিপেকে সন্ত্রাসী আক্রমণ চালাতে ভারত এর জন্য সেখানে আরও নিরাপত্তা বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সোমবার ডনের খবরে বলা হয়েছে, সিপেকের মূল রাস্তা, কারাকোরাম হাইওয়ের কাছে সেতু এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আঘাত হানার পরিকল্পনা করছে ভারত। নাশকতার ট্রেনিংয়ের জন্য প্রায় ৪০০ মুসলিম তরুণকে আফগানিস্তানে পাঠানো হয়েছে। বেলুচিস্থান সরকার জানিয়েছে, দিয়ামের জেলায় যেসব সেতু রয়েছে সেখানে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। এমনকি বিদেশি পর্যটকের চালচলনের ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, চীন-পাকিস্তান যৌথ উদ্যোগে চীনের শিনজিয়াংয়ের খাসগড় থেকে বেলুচিস্তানের গদর বন্দর পর্যন্ত সড়ক, রেলপথ তৈরি করা হচ্ছে। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের ওপর দিয়ে এই করিডর যাওয়ায় প্রবল আপত্তি জানিয়ে আসছে ভারত।

খাবার দাবার বিশেষ দিনে

মটরশুঁটি পেঁয়াজকলির কাটলেট
যা লাগবে
ম্যাশড মটরশুঁটি ১ কাপ, ম্যাশড পেঁয়াজকলি ১/২ কাপ, ম্যাশড আলু ৪/৩ কাপ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, ধনে গুঁড়া ১/২ চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১/২ চা চামচ, ফেটানো ডিম ২টি, টোস্টের গুঁড়া ১ কাপ, লবণ আন্দাজমতো, সয়াবিন তেল ভাজার জন্য।
যেভাবে করবেন
মটরশুঁটি, আলু, পেঁয়াজকলি একসঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। এরই সঙ্গে সব মসলা মেখে নিতে হবে। ১টি ডিম ফেটানো দিতে হবে। এখন এই মিশ্রণটা কাটলেটের শেপ করে প্রথমে ফেটানো ডিমে পরে টোস্টের গুঁড়ায় গড়িয়ে ডুবো তেলে ভাজতে হবে।
এগ স্কয়ার
যা লাগবে
ডিম ৪টি, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, লেবুর রস ১/২ চা চামচ, লবণ আন্দাজমতো, ক্যাপসিকাম কুচি লাল হলুদ ১/২ কাপ।
যেভাবে করবেন
ডিমগুলো ফেটে নিতে হবে। বাকি সব উপকরণ মিশিয়ে বাটিতে ভরে ওভেনে ১৭০ ডিগ্রিতে ২০ মিনিট বেক করতে হবে। ওভেন থেকে নামিয়ে ঠাণ্ডা করে চারকোনা করে কেটে সাজিয়ে পরিবেশন করতে হবে।
বিফ ফিঙ্গার উইথ ক্যাপসিকাম
যা লাগবে
সিদ্ধ বিফ ফিঙ্গার ১ কাপ, আদা গুঁড়া ১ চা চামচ, রসুন গুঁড়া ১ চা চামচ, সয়াসস ২ টেবিল চামচ, ওয়েসটার সস ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, প্যাপরিকা গুঁড়া ১ চা চামচ, ক্যাপসিকাম ফিঙ্গার কাট আন্দাজমতো, পেঁয়াজ বাটা ২ টেবিল চামচ, তেল ৪/৩ কাপ।
যেভাবে করবেন
তেলে পেঁয়াজসহ সব মসলা দিয়ে একটু ভেজে নিতে হবে। এবার অল্প পানির সঙ্গে বিফগুলো দিয়ে ঝোল একটু ঘন করে নিতে হবে। মাখানো ঝোলে ক্যাপসিকাম দিয়ে ৩/৪ মিনিট রেখে চুলা থেকে নামিয়ে নিতে হবে।
রাউন্ড বিফ ভুনা
যা লাগবে
রাউন্ড বিফ ২ টুকরো, পেঁপে বাটা ১ টে চামচ, আদা-রসুন বাটা ১ টে চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, ধনে গুঁড়া ১ চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ, লবণ আন্দাজমতো, ওয়েসটার সস ১ টে চামচ, লেমন গ্রাস সস ১ চা চামচ, তেল ৪/৩ কাপ।
যেভাবে করবেন
বিফে পেঁপে বাটা দিয়ে ২/৩ ঘণ্টা ম্যারিনেট করতে হবে। এবার চুলায় প্যানে তেল দিয়ে সব মসলা দিতে হবে। পানি দেয়ার আগে বিফগুলো দিয়ে একটু ভাজা ভাজা করে পরিমাণ মতো পানি দিতে হবে। মাংস সিদ্ধ হয়ে গেলে সস দিয়ে ঘন ঝোল করে নামিয়ে নিতে হবে।
হলদে বিফ খিচুড়ি
যা লাগবে
পোলাওয়ের চাল ২ কাপ, পানি ৩ কাপ, হলুদ গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, পেঁয়াজ কুচি ৩/৪টি, আদা কুচি ১টি, গরম মসলার গুঁড়া ১ চা চামচ, তেল ৪/৩ কাপ, সিদ্ধ বিফ ২ কাপ, আদা বাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ।
যেভাবে করবেন
অল্প তেলে আদা, রসুন বাটা, সিদ্ধ বিফ দিয়ে ৫/৬ মিনিট ভেজে নিতে হবে। আলাদা কড়াইতে বাকি তেলটা দিয়ে আদা কুচি, পেঁয়াজ কুচি দিতে হবে। একটু ভেজে হলুদ মরিচ গরম মসলা দিয়ে কষিয়ে নিতে হবে। এবার চাল দিয়ে গন্ধ ছড়ানো পর্যন্ত ভাজতে হবে। এখন পানি দিয়ে মাঝারি জ্বাল দিতে হবে। পানি শুকিয়ে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে নিতে হবে।

ফাল্গুনে ফুলেল সাজ

শীতের রুক্ষতা ছাড়িয়ে ফাল্গুন দিন মানেই প্রকৃতিতে আনন্দ আর উৎসবের অনাবিল সমারোহ। কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী সবাই মিলিত হই মহামিলনমেলায়। আর সেই মিলনমেলায় নিজেকে সুন্দর ও পরিপাটি করে উপস্থাপন করাটাই সার্থকতা। ফাল্গুন মানেই হলুদ-লাল পাড়ের শাড়ি আর বাহারি ঢংয়ের সাজ। এরই ঐতিহ্য ধরেই ফাল্গ–নের পোশাকে এখন এসেছে একটু ভিন্নতা। লাল-হলুদের পাশাপাশি ফাল্গুনের পোশাকে স্থান করে নিয়েছে আরও কিছু রং। এই উৎসবে নিজেদের একটু ভিন্নভাবে ফুটিয়ে তুলতে ছেলেরাও পিছিয়ে নেই। ফাল্গ–নে সাধারণত হালকা শীত ও গরম থাকে। তাই সাঁজটা সেভাবে দিতে হবে যাতে দীর্ঘ সময় থাকে। যেহেতু শীতকাল তাই ফাল্গ–নের সাঁজ সম্পর্কে ওমেন্স ওয়ার্ল্ডের পরিচালক ফারনাজ আলম বলেন, মুখ আলতো করে মুছে নিয়ে এসপিএফ ৫০+ সম্পন্ন একটি ভালো মানের সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। এতে রোদেও আপনার ত্বক সুরক্ষিত থাকবে। সাঁজটা যাতে অনেক সময় থাকে সে জন্য মেকআপের আগে কিছু সময় মুখে বরফ ঘষে নিন। তবে মনে রাখতে হবে সাঁজটা হালকা হলে ভালো হয়। চোখে স্মোকি আই শ্যাডো আর আই ভ্রুটা ডার্ক করে নিতে হবে, মুখে ফাউন্ডেশন না লাগিয়ে ফেস পাউডার লাগাতে পারেন তাহলে ভালো হবে।
আর চুলের ক্ষেত্রে বাঁধতে চাইলেও সেটা আঁটসাঁট না হয়ে খুব হালকা বাঁধন হতে পারে। চুলে মেসি ভাব রাখলে ভালো লাগবে। তিনি বলেন, ‘চুলটা থাকবে অগোছালো, কিন্তু এর মাঝেও থাকতে হবে ছন্দ।’ পশ্চিমা ধাঁচের পোশাক পরলে সামনের চুলটা মেসি ভাব এনে পেছনে হালকা কার্ল করে ছেড়ে দেয়া যেতে পারে। আর ফাল্গ–নে চুল সাজাতে ফুল ছাড়া চলে না। বাহারি রঙের ফুল চুলে পরতে পারেন। এ ছাড়া বেলিফুল দিয়ে ব্যান্ড বানিয়ে ভিন্নভাবে সাজিয়ে নিতে পারেন। ফারনাজ আলম বলেন, ব্যান্ডের চারদিকে ফুল না দিয়ে একপাশে বেশি করে ফুল গুঁজে ব্যান্ডের বাকি জায়গাটা চেইন কিংবা ফিতা দিয়ে ঢেকে দিতে পারেন। আবার দু’পাশে বেলিফুল গুঁজে ব্যান্ডের মাঝখানটাতেও চেইন বা ফিতা দিয়ে ঢেকে নেয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে দু’পাশ থেকে চুল সামনে এনে খোলা ছেড়ে দিলে অথবা ফুলের ব্যান্ডের সঙ্গে চুল খোলা রাখলে বেশি ভালো লাগবে। সারাদিন ঘোরাফেরার পর চুলের যত্ন নেয়া প্রয়োজন। তাই নারকেল তেল+মেথি গুঁড়া+ডিমের সাদা অংশ ভালো করে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিয়মিত ব্যবহার করলে চুলে সিল্কি, নমনীয় ও কোমলভাব বজায় থাকবে। এই সময় আমাদের ত্বকে দেখা দেয় অনেক ধরনের সমস্যা। আর তাই এ সময় আমাদের নিতে হয় বাড়তি কিছু যত্ন। বিশেষ করে আমাদের চুলের ক্ষেত্রে। এই সময় আমাদের চুল শুষ্ক, রুক্ষ হয়ে ওঠে। কারো কারো চুলের গোড়া ফেটে যায় এবং চুলের গোড়ায় খুশকি জমে ও অতিরিক্ত চুল পড়তে দেখা যায়। তাই এসব সমস্যার সমাধান আপনি ঘরে বসেই দূর করতে পারেন।
* পেঁয়াজের রস, কালোজিরা এবং নারিকেল তেল একসঙ্গে মিশিয়ে সপ্তাহে ২-৩ দিন ব্যবহার করুন। এভাবে এক মাস ব্যবহার করুন। যাদের চুলের গোড়া ফেটে যায় তারা গরম পানিতে তেজপাতা দেয়ার পর পানি লাল হয়ে গেলে এটা ঠাণ্ডা করে মাথায় শ্যাম্পু করার পর দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এভাবে নিয়মিত করুন।
* ডিমের সাদা অংশ, টকদই ও অ্যালোভেরার জেল একসঙ্গে পেস্ট করে সপ্তাহে ৩-৪ বার ব্যবহার করুন। আশা করছি ভালো ফল পাবেন।
* এ ছাড়াও খাদ্যোভ্যাসের প্রতিও খেয়াল রাখতে হবে। প্রতিদিন শাক-সবজি ও ফল খাবারের তালিকায় রাখুন। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন।
* খুশকির জন্য পেঁয়াজ আদর্শ। পেঁয়াজে যথেষ্ট পরিমাণ সালফার থাকে। সালফার খুশকি সারাতে ভালো কাজ করে। পেঁয়াজের রস, নিম পাতার রস, পাতিলেবুর রস ও ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগান। ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ফেলুন।
* দু’চামক নিমপাতা গুঁড়া, দু’চামচ বেসন পানিতে গুলে পেস্ট ও ১ টেবিল চামচ অ্যালোডেরা জেল মিশিয়ে স্ক্যাল্পে লাগান। ২০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে নিন। এতে খুশকি ইনফেকশন থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।
তেল : খাঁটি নারিকেল তেল ও কর্পূর মিশিয়ে গরম করে মাথায় লাগিয়ে ১ ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করতে হবে।
* চুলকে খুশকিমুক্ত করতে প্রয়োজন নিয়মিত পরিচর্যা।
* নিজের চিরুনি, তোয়ালে, বালিশের কভার পরিষ্কার ও আলাদা রাখুন।
* শ্যাম্পু করার ৩০ মিনিট দুই টেবিল চামচ ভিনিগার নিয়ে মাথার ত্বকে হালকা হাতে মাসাজ করুন।
* শ্যাম্পু পরিমাণ কম ব্যবহার করে, বেশি পরিমাণ পানি ব্যবহার করুন।
* চুলে প্রোটিনসমৃদ্ধ কনডিশনার ব্যবহার করতে হবে, তাহলে চুলের পুষ্টি বজায় থাকবে।
* ভেজা চুল খুলে রাস্তায় বেরোবেন না।
* খুশকি দূর করতে শসার রস ও আদার রস সমপরিমাণে মিশিয়ে মাথায় রাখুন।

ভয়ঙ্কর ২২ অ্যাপস থেকে সাবধান!

মোবাইল স্লো চলছে। কোনো কাজই দ্রুত করতে পারছেন না আপনি। মুক্তি পেতে প্লে স্টোর থেকে চলার জন্য কোনও ‘বুস্ট অ্যাপ’ ডাউনলোড করলেন। কিংবা মোবাইলে ওয়াইফাই সংযোগ করবেন, তার জন্য সঙ্গে সঙ্গে অ্যাপ ডাউনলোড করলেন প্লে স্টোর থেকে। এমনই অনেক অ্যাপ আছে যা দরকারের সময়ে আপনি ডাউনলোড করেন প্লে স্টোর থেকে। কিন্তু সাবধান! এসব অ্যাপ ডাউনলোডের সুযোগেই মোবাইলে হয়তো ঢুকে পড়ছে ভাইরাস কিংবা হ্যাক হয়ে যাচ্ছে আপনার মোবাইল ফোন। সম্প্রতি গুগল এ রকম ২২টি অ্যাপকে চিহ্নিত করে ডিলিট করে দিয়েছে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এবেলাডটইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে গুগল প্রায় ৭ লাখ অ্যাপ ডিলিট করে দিয়েছিল!
নতুন বছরের শুরুতেই এ রকম ২২টি অ্যাপের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে গুগল কর্তৃপক্ষ। অ্যাপগুলো হলো- স্মার্ট সুইপ, রিয়েল টাইম বুস্টার, ফাইল ট্রান্সফার প্রো, নেটওয়ার্ক গার্ড, এলইডি ফ্লাশলাইট, ভয়েস রেকর্ডার প্রো, ফ্রি ওয়াইফাই প্রো, কল রেকর্ডার প্রো, কল রেকর্ডার, রিয়েল টাইম ক্লিনার, সুপার ফ্লাশলাইট লাইট, কল ফ্লাশলাইট, মাস্টার ওয়াইফাই কি, ওয়াইফাই সিকউরিটি মাস্টার- (ওয়াইফাই এনালাইজার, স্পিড টেস্ট), ফ্রি ওয়াইফাই কানেক্ট, ব্রাইটটেস্ট এলইডি ফ্লাশলাইট অলমাইটলি, ব্রাইটেস্ট ফ্লাশলাইট, কল রেকর্ডিং ম্যানেজার, স্মার্ট ফ্রি ওয়াইফাই, ব্রাইটটেস্ট এলইডি ফ্লাশলাইট প্রো, ড. ক্লিনার লাইট, ওয়ালপেপার এইচডি-ব্যাকগ্রাউন্ড। এই অ্যাপগুলো ব্যবহার করলে মোবাইল ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হওয়ার পাশাপাশি হ্যাক হয়ে যাওয়ারও সম্ভাবনা থাকে প্রবল। তাই সব দিক বিবেচনা করেই এই অ্যাপগুলো ডিলিট করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গুগল কর্তৃপক্ষ।

আইফোনে মেসেজ ব্লক করতে

মোবাইলে অনেক সময় স্প্যাম মেসেজ আসে। গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট করে কাজে বিঘ্ন ঘটায়। চাইলে আইফোন ব্যবহারকারীরা কোনো থার্ডপার্টি অ্যাপ ইন্সটল করা ছাড়াই মেসেজগুলো ব্লক করতে পারবেন। কীভাবে কাজটি করতে হবে, তা এ টিউটোরিয়ালে তুলে ধরা হল। আইফোন থেকে প্রথমে মেসেজ অ্যাপে যেতে হবে। তারপর যে স্প্যাম মেসেজটি ব্লক করতে চান, সেটায় ট্যাপ করতে হবে।
মেসেজ বক্সটি খোলার পরে ডান পাশে উপরে ‘র’ আইকনের একটি চিহ্ন দেখা যাবে। এতে ক্লিক করে স্প্যাম পাঠানো মেসেজের তথ্য পাওয়া যাবে। তারপর স্ক্রল করে নিচের দিকে গিয়ে ‘Block this caller’ অপশনে ক্লিক করলে নম্বরটি ব্লক হয়ে যাবে। এ প্রক্রিয়ায় কয়েকটি নম্বর ব্লক করার পর চাইলে নির্দিষ্ট নম্বরের ব্লক খুলে দেয়া যাবে। এছাড়া আপনি চাইলে দেখতে পারবেন কতজনকে ব্লক করা হয়েছে। এটি দেখতে আপনাকে ‘settings’ অপশনে গিয়ে ‘messages’-এ ক্লিক করতে হবে হবে। তারপর সেখানে ‘নষড়পশবফ’ অপশনে ক্লিক করলে যে নম্বরগুলো ব্লক করা হয়েছে সেগুলোর তালিকা দেখানো হবে। আইওএস ৭ ও তার পরবর্তী সংস্করণগুলোয় এ প্রক্রিয়ায় নম্বর ব্লক করা যাবে। -আইটি ডেস্ক