Monday, January 1, 2018

জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে পুরো রাখাইন- উপগ্রহ তথ্য থেকে রয়টার্সের গ্রাফিক্স

লাল রং চিহ্নিত স্থানগুলো পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ৩৫৪টি গ্রাম পুড়িয়ে দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। জাতিসংঘের উপগ্রহ কার্যক্রম (ইউনোস্যাট) থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত রাখাইনের ম্যাপে চিহ্নিত করে একটি গ্রাফিক্স তৈরি করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, পুরো রাখাইনজুড়ে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর গ্রামগুলোতে ধংসযজ্ঞ চালিয়েছে বর্মী সেনারা।
গেল ২৫ শে আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর নির্মম অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। নিপীড়নের মুখে প্রাণ বাঁচাতে গেল চার মাসে ভিটেমাটি ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে আনুমানিক ৬ লাখ ৫৫ হাজার রোহিঙ্গা।
প্রাণে বেচে আসা সবার মুখেই বর্মী বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণ আর অগ্নিসংযোগের একই বর্ণনা শোনা গেছে। এর আগে নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বিভিন্ন সময়ে উপগ্রহ চিত্র প্রকাশ করে জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলো পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
রাখাইনের বিভিন্ন এলাকার ওপর থেকে নেয়া ওই উপগ্রহ চিত্রগুলোতে স্পষ্ট দেখা যায় যে, গ্রামগুলো ভস্মীভূত করে দেয়া হয়েছে।
এবারে, ইউনোস্যাটের উপগ্রহ তথ্য-উপাত্ত পুরো রাখাইনের ম্যাপে পুড়িয়ে দেয়া গ্রামগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, কত বিস্তৃত এলাকায় নির্মূল অভিযান চালিয়েছে বর্মী সেনারা। জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তারা বার বার মিয়ানমারের এ বর্বর অভিযানকে আখ্যা দিয়েছে জাতিগত নিধনযজ্ঞ হিসেবে।

একটি ঐতিহাসিক দুর্লভ ছবি

একটি ঐতিহাসিক দুর্লভ ছবি: বাম থেকে ইয়াসির আরাফাত (হত্যা) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (হত্যা) জুলফিকার আলী ভুট্টো (ফাঁসি) কর্ণেল গাদ্দাফি (হত্যা) সাদ্দাম হোসেন (ফাঁসি)

তেলের দাম বাড়ালো সৌদি সরকার


২০১৮ সালের  শুরুতেই সৌদি আরবে  আরো এক ধাপ বাড়নো হলো জ্বালানি তেলের দাম। রাজস্ব সংকটের কারণে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি সরকার। আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি খাতে ভর্তুকি হ্রাস ও অর্থনীতি শক্তিশালী করতে এ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রল ও জেট ফুয়েলের দাম বাড়াবে সৌদি আরব।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবে পেট্রলের দাম প্রায় ৮০ শতাংশ বাড়ানো হবে। পাশাপাশি জেট ফুয়েলের দাম বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক দামের সমপরিমাণ করা হবে। অন্যান্য ধরনের জ্বালানি ও বিদ্যুতের শুল্কও ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার কারণে কয়েক বছর ধরেই রাজস্ব সংকটসহ অর্থনৈতিক মন্দা চলছে সৌদি আরবে। তাই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের কোনো ভাষ্য পাওয়া যায়নি।

সৌদি আরবের রাজস্ব আয়ের ৯০ শতাংশই আসে জ্বালানি তেল রপ্তানি থেকে। দাম ক্রমান্বয়ে ৫০ ডলারেরও নিচে নেমে যাওয়ায় দেশটির রাজস্ব আয়ে ধস নামে।

কেনিয়ার আকাশে ফেঁসে গেল গুগল বেলুন!


 বিশ্বের সবচে দুর্গম, প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করতে আফ্রিকার দেশগুলোর আকাশে ১০টি হাই অ্যাল্টিচ্যুড বেলুন ছেড়েছিল গুগল। সেগুলোরই একটি ফেটে-ফেঁসে গেল কেনিয়ার আকাশে। ‘প্রজেক্ট লুন’ নামের একটি প্রকল্পের আওতায় ওড়ানো ওই গুগল বেলুনটি শুক্রবার দিনগত রাতে থুবড়ে পড়ে নাথামবিরু এলাকার একটি খামারবাড়ির ওপর।
 
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে শনিবার সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, থুবড়ে পড়া বেলুনটির মালিকানা এখনো গুগল বা অন্য কেউ দাবি করেনি। তবে এটি গুগলের লুন প্রজেক্টের ("Project Loon") আওতায় ওড়ানো্ বেলুনগুলোরই একটি। এটি পরীক্ষামূলকভাবে ওড়ানো হয়েছিল ২০১৭ সালের জুলাই মাসে।

 জেইন নিয়াকারুমা নামের এক কেনীয় কর্মকর্তার মতে, বেলুনটি ৬ মাসের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ওড়ানো হয়েছিল। মেয়াদ শেষ হয়েছে বলেই এটি মাটিতে থুবড়ে পড়েছে।

  এর কলকব্জা ভালো করে দেখবার জন্য থুবড়ে পড়া বেলুনটির খুব কাছে যারা গিয়েছেন, তাদের কেউ কেউ প্রচণ্ড মাথাব্যথার শিকার হবার কথা জানিয়েছেন।

 ২০১৭ সালে বেলুনগুলো ওড়ানোর আগে গুগল বলেছিল আকাশের খুব উঁচু দিয়ে উড়তে সক্ষম বেলুনের সাহায্যে বিশ্বের সবচেয়ে প্রত্যন্ত আর দুর্গম এলাকাগুলোতেও তারা উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা ছড়িয়ে দিতে চায়।

 গুগল প্রজেক্ট লুন-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গবেষকরা জানিয়েছেন, তাদের হাতে এমনসব যন্ত্র বা বেলুন আছে যেগুলো উড়ন্ত অবস্থায় অনেক উঁচু থেকে কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকার আবহাওয়া কেমন হবে না হবে, তা নিখুঁতভাবে বলে দিতে পারবে। উচ্চাভিলাষী এই লুন প্রজেক্টের আওতায় গুগল যেসব বেলুন আকাশে উড়িয়েছে সেগুলো আকারে খুব একটা বড় নয়। এগুলো মাটি থেকে প্রায় ১১ মাইল ওপর দিয়ে ওড়ে। এগুলোর গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করা বা বদলানো যায়।

প্রশ্নফাঁস ও নকলকে ‘না’ শিক্ষার্থীদের

আজিমপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে বই উৎসব বক্তৃতায় শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন সচিব সোহরাব হোসাইন। সচিব শিক্ষার্থীদের বলেন, তোমরা নকল করবে? তোমাদেরকে কেউ যদি ফাঁসের প্রশ্ন সাধে, তাহলে গ্রহণ করবে? জবাবে শিক্ষার্থীরা সমস্বরে ‘না’ বলেন।

পরে সচিব সোহরাব হোসাইন, সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে অসাধু পন্থা থেকে তাদের দূরে রাখতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।

সচিব বলেন, নকল বা ফাঁসকৃত প্রশ্ন দিয়ে আপনার সন্তানেরা হয়তো রেজাল্ট ভাল করবেন, কিন্তু পরবর্তী জীবনে কিছুই করতে পারবে না। একটি মহল প্রশ্ন ফাঁস দিয়ে আমাদের মেধাবী ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যতকে গলা টিপে খুন করছে।

এসময় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুধু জ্ঞান বা প্রযুক্তি দিয়েই নয়- সততা, নৈতিক শিক্ষা সর্বোপরি একজন ভাল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে আগামী প্রজন্মকে। আর সে দায়িত্ব মনযোগ দিয়ে পালন করতে হবে শিক্ষকদের।

শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে ব্রেইল পদ্ধতিতে এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য তাদের ভাষায়ও পাঠ্যবই প্রণয়ন ও মুদ্রণ করা হয়েছে। বিগত দিনের ভুল ভ্রান্তি সংশোধন করা হচ্ছে। পাঠ্যবই আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে। এরপর শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, নতুন বই হাতে পেয়ে খুশি শিক্ষার্থীরাও। তবে পাঠ্যবইয়ে ভুল দেখতে চায় না তারা। এবছর বিভিন্ন স্তরের ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৬ হাজার ৮৯৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২ কপি বই বিতরণ করা হবে।

রাজধানীর কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে স্তরের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ উৎসব পালিত হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গতবারের চেয়ে এবার ১০ লাখ ৭০ হাজার ৯৬৬ জন শিক্ষার্থী বেড়েছে ফলে এবার ৭১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬৯টি বই বেশি ছাপানো হয়েছে।

এবারই প্রথমবারের মতো প্রাথমিক স্তরের পাঁচটি ভিন্নজাতি গোষ্ঠী চাকমা, মারমা, গারো, সাঁওতাল ও ত্রিপুরার শিক্ষার্থীদের জন্য মাতৃভাষায় বই ছাপানো হয়েছে।

ব্রিটেনের রানির সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশের পপি


ব্রিটেনের রানির বিশেষ সম্মাননা ‘অফিসার অব দ্য অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ অ্যাম্পায়ার (ওবিই)’ পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলতানা পপি জামান। ব্রিটেনে মানসিক স্বাস্থ্য খাতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ সম্মাননা দেয়া হয়েছে। খবর মিররের।

অফিসার অব দ্য অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ অ্যাম্পায়ার (ওবিই) খেতাবপ্রাপ্ত পপি মেন্টাল হেলথ ফাস্ট এইড ইংল্যান্ডের চিফ এক্সিকিউটিভ। লন্ডনভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি দেশব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তুলতে বিভিন্ন ধরনের প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে থাকে এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। গত আট বছর ধরে এ প্রতিষ্ঠানে রয়েছেন সুলতানা পপি জামান।

২০০৩-০৪ সাল পর্যন্ত পপি পোর্টসমাউথ প্রাইমারি কেয়ার ট্রাস্টে কর্মরত ছিলেন তিনি। ২০০৭ সালে তাকে ইংল্যান্ড জুড়ে মেন্টাল হেলথ ট্রেনিং উন্নয়নের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়। মেন্টাল হেলথ ফার্স্ট এইড ট্রেনিংয়ের জনপ্রিয়তার কারণে অলাভজনক এ প্রতিষ্ঠানটিকে সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন পপি জামান।

বিগত বছর নিজ নিজ খাতে অবদানের জন্য নতুন বছরের প্রথম দিন এই পুরস্কার দেয়া হয়। মূলত নতুন বছর উদযাপনের অংশ হিসেবে কমনওয়েলথভুক্ত ১৬টি দেশের মানুষ এই সম্মাননা দিয়ে থাকেন ব্রিটেনর রানি।

পপির পরিবার মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আদি বাসিন্দা। তবে ৪১ বছর বয়সী পপির জন্ম ব্রিটেনের পোর্টসমাউথে।

নববর্ষ নিয়ে কী বললেন টালিউড তারকারা

নতুন বছরকে নানা আয়োজনে বরণ করা হচ্ছে বিশ্বজুড়ে। শোবিজ তারকারাও তাদের নতুন বছরের পরিকল্পনা সাজিয়ে নিচ্ছেন। টালিগঞ্জের তারকারা জানালেন নতুন বছর নিয়ে বললেন পশ্চিমবঙ্গের শোবিজ তারকারা।

ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা দেব বলেন, সবাইকে জানাই নববর্ষের শুভেচ্ছা। সবাইকে অনুরোধ করবো বাংলা সিনেমা দেখুন। বাংলা চলচ্চিত্রের সঙ্গে থাকুন। 

অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় বলেন, ২০১৭ সাল আমার ভালো-মন্দ মিলিয়ে কেটেছে। আশা করি, সকলেরই তাই। ২০১৮ সাল যেন সকলের ভালো কাটে। বাড়ির সবাই, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন সবাই যেন সুস্থ থাকে। ভালো কাজ যেন করতে পারি।

সোহিনী সরকার বলেন, নতুন বছর মানে নতুন উদ্যোগ। নতুন বছরে ভালো থাকাটাই আমার একমাত্র ইচ্ছে।  অর্পিতা চট্টোপাধ্যায় বলেন, নতুন বছর সবার অনেক ভালো কাটুক।

আবির চট্টোপাধ্যায় বলেন, নতুন বছরে সবাই ভালো থাকুন। আরো বেশি করে ভালোবাসা ছড়িয়ে দিন। সবার জন্য শুভকামনা।

বিক্রম ঘোষ বলেন, নতুন বছরে আরো বেশি করে ভালো কাজ করতে চাই। পল্লবী শর্মা বলেন, নতুন বছরে মনের মতো জায়গায় ঘুরতে চাই। বছরজুড়ে সবচেয়ে পছন্দের খাবারগুলো খেতে চাই।

আজ দেশে জন্ম নেবে ৮ হাজার ৩৭০ শিশু : ইউনিসেফ

নতুন ইংরেজি বছর ২০১৮ সালের প্রথম দিনে বাংলাদেশে জন্ম নেবে ৮ হাজার ৩৭০ শিশু। ২০১৮ সালের প্রথমদিন সবার আগে পৃথিবীর আলোয় এসেছে প্রশান্ত মহাসাগরের ছোট দ্বীপ কিরিবাতির ক্রিসমাস আইল্যান্ডের একটি শিশু। তবে আজ দিনের সবশেষ নবজাতকের জন্ম হবে যুক্তরাষ্ট্রে। জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী আজ সারাবিশ্বে জন্ম নেবে  ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৭৯৩ নবজাতক।আর এ সংখ্যার অর্ধেক শিশু জন্মাবে ৯টি দেশে। এর মধ্যে ভারতে ৬৯ হাজার ৭০, চীনে ৪৪ হাজার ৭৬০, নাইজেরিয়ায় ২০ হাজার ২১০, পাকিস্তানে ১৪ হাজার ৯১০, ইন্দোনেশিয়ায় ১৩ হাজার ৩৭০, আমেরিকায় ১১ হাজার ২৮০, কঙ্গোতে ৯ হাজার ৪০০, ইথিওপিয়ায় ৯ হাজার ২০ ও বাংলাদেশে ৮ হাজার ৩৭০ শিশু জন্ম নেবে।

ইউনিসেফ আরও বলছে, ২০১৬ সালে বছরের প্রথমদিন জন্ম নেয়া শিশুদের মধ্যে মারা যায় প্রায় ২ হাজার ৬০০ শিশু। প্রায় ২০ লাখ শিশুর ক্ষেত্রে জন্মের প্রথম সপ্তাহ হয়ে যায় জীবনের শেষ সপ্তাহ।  সব মিলিয়ে ২৬ লাখ শিশু জন্মের প্রথম মাস পূর্ণ করার আগেই মারা যায়। তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশের মৃত্যুর কারণ প্রিম্যাচিউর বার্থ, প্রসবকালীন জটিলতা, নিউমোনিয়া ও সেপিস রোগে আক্রান্ত হওয়া। পাঁচ বছরের নিচে মারা যাওয়া শিশুদের ৪৬ শতাংশেরই মৃত্যু হয় জন্মের প্রথম মাসে।

জাহিদ হাসানের ‘দাড়ি’ রহস্য উন্মোচন

গত ২৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সানসিল্ক-আরটিভি স্টার অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন নন্দিত অভিনেতা জাহিদ হাসান। মুখে দাড়ি নিয়ে অন্য লুকে দেখা যায় তাকে। এর আগে হালদা সিনেমার প্রিমিয়ারেও দাড়িওয়ালা জাহিদ হাসানকে দেখে অবাক হয়েছিলেন অনেকেই।

বিষয়টি অনেকের মনে কৌতূহল জাগায়। এই নতুন লুকের কারণ কী? এবার জানা গেলো জাহিদ হাসানের দাড়ি রাখার আসল কারণ। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নতুন চলচ্চিত্র ‘শনিবার বিকেল’-এ অভিনয় করবেন জাহিদ হাসান। এজন্যই দাড়ি রাখতে হয়েছে।

ছবিটিতে একজন ব্যবসায়ীর চরিত্রে দেখা যাবে জাহিদ হাসানকে। মেডিকেলের নানা সামগ্রী আমদানি করেন। মানুষকে ভালোবাসেন। কিছু ঘটনার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের নানাভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। এ খবর শুনে কষ্ট পান। জাহিদ বলেন, মেকআপ দিয়ে আসল লুক তৈরি হয় না। তাই অরিজিনাল লুক নিয়ে অভিনয় করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।

 ‘শনিবার বিকেল’ ছবিতে আরো অভিনয় করবেন নুসরাত ইমরোজ তিশা ও ফিলিস্তিনের অভিনেতা ইয়াদ হুরানি। জাহিদ হাসান ক্যামেরার সামনে দাঁড়াবেন ৫ জানুয়ারি। ছবির বাজেট ধরা হয়েছে চার কোটি টাকা। বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষায় নির্মিত হবে ছবিটি।

এছাড়া ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্র ‘সিতারা’তে অভিনয় করছেন জাহিদ হাসান। এই ছবিতে দাড়িওয়ালা ও দাড়ি ছাড়া দুইভাবেই দেখা যাবে তাকে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে ‘সিতারা’র জন্য ক্যামেরার সামনে দাঁড়াবেন জাহিদ।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যিক আবুল বাশারের ‘ভোরের প্রসূতি’ উপন্যাস অবলম্বনে এই সিনেমার চিত্রনাট্য তৈরি করা হয়েছে। পরিচালনা করবেন আশীষ রায়। সিনেমাটি বাংলা ও তেলেগু ভাষায় তৈরি হবে। এই ছবিতে অভিনয় করবেন নন্দিনী, রাইমা সেন ও নাসির হোসেন।

দুই মাস বন্ধ থাকবে কাঁকড়া আহরণ

পয়লা জানুয়ারি সোমবার থেকে দুই মাস সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহামুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি  বলেন, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি এই দুই মাস কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুম। এসময় মা কাঁকড়া প্রচুর ডিম দেয়। সেই ডিম ফেটে বের হয় নতুন প্রজন্মের কাঁকড়া। তাই  বছরের এ সময়ে সুন্দরবন থেকে কাঁকড়া আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ কাঁকড়া রপ্তানি নীতিমালা অনুযায়ী ১৯৯৮ সাল থেকে নিয়মটি চালু হয়ে আসছে বলেও জানান ডিএফও।

এ ব্যাপারে মংলা কাঁকড়া ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লি. এর সভাপতি বিদ্যুত কুমার মণ্ডল বলেন, মংলা থেকে প্রতি মাসে ১৫ লাখ টাকার কাঁকড়া ঢাকায় রপ্তানি করা হয়।

এ রপ্তানি করা কাঁকড়ার ৯৯ শতাংশ সুন্দরবন থেকে আহরণ করায় জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি এ দুই মাসে রপ্তানি শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। ফলে এর সঙ্গে জড়িত কয়েকহাজার মানুষ এ সময়টা একদম বেকার হয়ে পড়েন। সরকারের তরফ থেকেও কোনো সাহায্য সহযোগিতা পায় না তারা।

জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি দুই মাস কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুম সরকারের এ সিদ্ধান্তে দ্বিমত পোষণ করে এ কাঁকড়া ব্যবসায়ী বলেন, সরকারের বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, চিংড়ির সঙ্গে কাঁকড়ার অনেক সাদৃশ্য রয়েছে। মে জুন মাস চিংড়ির প্রজনন মৌসুম। ওই সময় আমরা কাঁকড়ার ডিমও বেশি পাই। বিষয়টি সরকারকে বিবেচনার  আহ্বান জানান তিনি।          

জানতে চাইলে মংলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস আনসারী বলেন, কাঁকড়া সবসময় ডিম পাড়ে। তবে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি এ দুই মাস কাঁকড়ার প্রজননের পিক আওয়ার। সরকার সঠিক পথেই হাঁটছে।

চট্টগ্রামে গাড়িচাপায় বড়তাকিয়ার চালক নিহত


চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর থানাধীন চুনা ফ্যাক্টরি এলাকায় গ্যারেজে গাড়ি রেখে বের হওয়ার সময় আরেকটি গাড়ির নিচে চাপা পড়ে মো. শাহিন (২৩) নিহত হয়েছেন।

 রোববার  দিনগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার  জানান, এনাম চৌধুরীর গ্যারেজের পার্কিংয়ে বড়তাকিয়া মটরসের একটি গাড়ি রেখে আসছিলেন হাতিয়ার ওশখালীর বড় মিয়ার বাজার এলাকার মৃত মাহে আলমের ছেলে মো. শাহিন। এ সময় একই কোম্পানির আরেকটি গাড়ি গ্যারেজে ঢোকানোর সময় তার নিচে চাপা পড়েন শাহিন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 

সাতকানিয়ায় দুইশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন বই বিতরণ

নতুন বছরের প্রথম দিনেই সাতকানিয়া উপজেলার দুইশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন বই বিতরণ করা হয়েছে। 

সোমবার সকাল থেকে সাতকানিয়া উপজেলার ৫৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪২ উচ্চবিদ্যালয়, ৩১ টি মাদরাসা, ৮০ টি সরকারি বেসরকারি  ইবতেদায়ী মাদরাসা এসব পৌছে দেয়া হয় বলে জানান উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা।
সাতকানিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আজিম শরীফ বলেন, উপজেলার ৪২টি উচ্চবিদ্যালয়, ৩১ টি মাদরাসা, ৮০ টি সরকারি বেসরকারি  ইবতেদায়ী মাদরাসায় ৮ লাখ ৩০ হাজার নতুন বই নির্দিষ্ট সময়ে পৌছে দেয়া হয়। 


এসব বই নিয়ে সাতকানিয়ার স্কুল ও মাদরাসাগুলোতে  বিনামূল্যে বই উৎসব হয়েছে। বছরের প্রথম দিনেই সরকারের দেয়া বিনামূল্যের বই পেয়েছে শিক্ষার্থীরা । এ উপলক্ষে উপজেলার  সাতকানিয়া মডেল হাইস্কুলে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ উৎসব ২০১৮ এর আয়োজন করা হয়।


১ জানুয়ারি সকাল১০ টায় স্কুল প্রাঙ্গনে বই বিতরণ অনুষ্ঠানের স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ জোবায়ের এর   সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবারক হোসেন।  মুখ্য আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য মিসেস রিজিয়া রেজা চৌধুরীসহ অন্যান্যরা।  

বছরের প্রথম দিনেই হাতে নতুন পেয়ে  মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু-কিশোররা আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেন।

মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে হস্তক্ষেপ করে আসছেন। সম্প্রতি ইরানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের প্রতি তিনি সমর্থন জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার টুইটার বার্তায় দাবি করেছেন তার ভাষায়, ইরানের সরকার দেশের বাইরে সন্ত্রাসীদের অর্থের যোগান দিতে গিয়ে জাতীয় সম্পদের যে অপচয় করছে তারই প্রতিবাদে দেশটির জনগণ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করছে। ইরান সরকারের উচিত জনগণের অধিকার ও বিশ্বাসের প্রতি সম্মান দেখানো এবং বিশ্ববাসী ইরানের ঘটনাবলী গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট কূটনৈতিক শিষ্টাচার ভঙ্গ করে ইরানসহ বিভিন্ন স্বাধীন দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের প্রতি সমর্থন যুগিয়ে আসছেন। বর্তমানে দেশটির কয়েকজন রাজনীতিবিদও ইরানে সৃষ্ট বিক্ষিপ্ত গোলযোগ ও অসন্তোষের বিষয়ে নানা ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করছেন এবং তিলকে তাল বানিয়ে এ ইস্যুতে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছেন। আমেরিকার এই কর্মকর্তারাই বছরের পর বছর ধরে ইরানের বিরোধিতার করে আসছেন এবং তেহরান বিরোধী নানা পদক্ষেপ নিচ্ছেন। বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, বিচ্ছিন্ন গোলযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানে মার্কিন হস্তক্ষেপের মাত্র একদিন আগে ওয়াশিংটন ও তেলআবিব তেহরানের বিরুদ্ধে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়ে সম্মত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানে সাম্প্রতিক গোলযোগের প্রতি সমর্থন দেয়া ছিল ওই গ্রুপ গঠনের উদ্দেশ্য।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে শত্রুতায় লিপ্ত। পরমাণু প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, নতুন নতুন নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিয়ে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে হুমকি হিসেবে তুলে ধরে, দেশটির ইতিহাস ঐতিহ্যকে অবমাননা করে, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সমর্থনের মিথ্যা অভিযোগ তুলে হোয়াইট হাউজ দীর্ঘদিন ধরে ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। কিন্তু সর্বশেষ ইরানে সৃষ্ট বিচ্ছিন্ন গোলযোগকে অজুহাত করে আমেরিকা নতুন করে হস্তক্ষেপ করা শুরু করেছে। ওয়াশিংটনের বিভিন্ন দেশে সরকার বিরোধী গ্রুপগুলোকে উস্কানি দেয়ার নজির রয়েছে এবং বহুবার রঙিন বিপ্লবের ওই থিওরি ওইসব দেশে বাস্তবায়ন করেছে। তাদের ধারণা ছিল ইরানের সরকারের বিরুদ্ধেও একই কৌশল প্রয়োগ করা যাবে। মধ্যপ্রাচ্যে দায়েশ সন্ত্রাসীদেরকে লেলিয়ে দিয়েও ব্যর্থ হওয়ার পর এখন মার্কিন সরকার ভেবেছিল কিছু মানুষের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে তারা হয়তো এই সুযোগে চির শত্রু ইরানের সরকারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পারবে। ইরানের জনগণের মধ্যে ওয়াশিংটনের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। এ ছাড়া দায়েশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বিজয়ে ফলে আমেরিকার এ অঞ্চলে আসন গাড়ার কোনো সুযোগই নেই। আমেরিকা পশ্চিম এশিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর এখন ইসরাইল ও সৌদি আরবের সহযোগিতায় ওই ব্যর্থতা নানাভাবে পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। বিশ্লেষকরা ইরানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থনকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সর্বশেষ তীর ছোঁড়ার ঘটনা হিসাবেই দেখছেন এবং এ প্রক্রিয়া নতুন বছরেও অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তারা লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে না।

ভয়ঙ্কর কিছু ঘটবে ২০১৮ সালে?

আরো একটা নতুন বছর চলে এলো। কী ঘটবে ২০১৮-তে? ভবিষ্যদ্বাণী করলেন জনপ্রিয় গণৎকার ক্রেগ হ্যামিলটন পার্কার। কে এই পার্কার? কেনই বা তার ভবিষ্যদ্বাণী উঠে এল শিরোনামে? তাহলে আগে জেনে নিন কে এই পার্কার। ক্রেগ হ্যামিলটন পার্কার হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদের জন্য নির্বাচনের সময় নির্ভুলভাবে বলে দিয়েছিলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পই হোয়াইট হাউসের তখতে বসবেন। পার্কারের জনপ্রিয়তার কারণ শুধু এটাই নয় কিন্তু! প্যারিসে নিস হামলার আগেও আগাম সতর্কবাণী শুনিয়েছিলেন তিনি। আঁচ করেছিলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে বেরিয়ে যাবে ব্রিটেন। বুঝতেই পারছেন কেন তাকে নিয়ে এত মাতামাতি হয়। আর কেনই বা প্রথমসারির সমস্ত দৈনিকে তার এই ভবিষ্যদ্বাণী ফলাও করে ছাপা হয়। অনেকেই পার্কারকে খ্যাপাটে বলেন। কেউ কেউ বলেন, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। কিন্তু তার অনুগামীরা এই সব রটনায় কান দিতে নারাজ। বিশ্বের যাবতীয় বড় ঘটনা বা দুর্ঘটনা যিনি আগে থেকেই আঁচ করতে পারেন, তাকে স্রেফ খ্যাপা বলতে রাজি নন পার্কারের অনুগামীরা। এবার সেই পার্কারই বছরের শুরুতে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিলেন, ঠিক কী কী ঘটতে চলেছে ২০১৮-তে। আর তার এই ভবিষ্যদ্বাণী কিন্তু অনেকেদের রাতের ঘুম কেড়ে নিতে বাধ্য। বিশেষ করে ভারতের অনেকের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ক্রেগ হ্যামিলটন পার্কারের ভবিষ্যদ্বাণী, ভারতে এ বছর খুব বড় ধরনের বন্যা হবে।
যার ফল হবে মারাত্মক। ক্ষয়ক্ষতি হবে প্রচুর। প্রাণহানি ও সম্পত্তির প্রভূত ক্ষয়ক্ষতি হবে। তবে কি ফের সুনামির মতো কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে আসবে ভারতের বুকে? সে বিষয়ে অবশ্য খোলসা করেননি তিনি। তবে বলেছেন, ‘ভারতের পাশাপাশি চীনেও এই বন্যা ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।’ তবে কি তার ভবিষ্যদ্বাণী ব্রহ্মপুত্রর পানি নিয়ে? ইতিমধ্যেই এই নদের পানি নিয়ে কিন্তু চীন ও ভারতের মধ্যে বেশ চাপানউতোর চলছে। এই পানি বাংলাদেশেও প্রবাহিত হয়। ফলে বাংলাদেশেরও উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। ভারতের অনেকে এমনও সন্দেহ করছে, চীন নানা রাসায়নিক ব্যবহার করে বা ব্রহ্মপুত্রর নিচে পারমাণবিক পরীক্ষা করছে। তবে কি সেরকমই কোনো পরীক্ষা চলাকালীন বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যাবে? বা বেইজিং ইচ্ছা করে পানিপথে কোনো আঘাত হানবে? উত্তরটা সময়ই দেবে। পার্কার আনো জানিয়েছেন, ২০১৮-তে উত্তর কোরিয়ার সাধারণ মানুষ সে দেশের সর্বাধিনায়ক কিম জং উনকে গদিচ্যুত করবেন। প্রবল বিদ্রোহ হবে, যাতে কিমের একাধিপত্য খানখান হয়ে যাবে। ব্রিটেনের এক জনপ্রিয় বড় রাস্তায় সন্ত্রাসবাদীরা বড়সড় হামলা চালাবে! পুলিশ ও প্রশাসন যথেষ্ট সতর্ক না থাকলে বহু মানুষের প্রাণহানি হবে বলেও সতর্ক করেছেন পার্কার। কীভাবে এই হামলা হবে, সেটাও এখনই জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। আত্মঘাতী বোমা নয়, সন্ত্রাসীরা এবার ব্যবহার করবে ড্রোন। ড্রোনে মজুত থাকবে রাসায়নিক অস্ত্র। সেই অস্ত্রই আছড়ে পড়বে ব্রিটেনের রাজপথে। ভবিষ্যদ্বাণীর তালিকা আরো লম্বা হয়েছে। ইটালির মাউন্ট ভিসুভিয়াসে অগ্নুৎপাত হবে এবছর। যার জেরে খালি করে দিতে নেপলস। অস্ট্রেলিয়া ও ক্যালিফোর্নিয়াতে ভয়াবহ দাবানলে প্রচুর গাছপালা ও প্রাণী পুড়ে মারা যাবে। পার্কারের আঁচ, এবছর আমেরিকার একটি বড় যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেবে শত্রু। সেই শত্রু কি তবে চীন? এর উত্তরও একমাত্র সময়ই দিতে পারবে।

সহিংসতা নয়, সমালোচনার সুযোগ দেয়ার অঙ্গীকার ইরানি প্রেসিডেন্টের

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি সহিংসতাকে অগ্রহণযোগ্য বলে সতর্ক এবং একইসাথে সমালোচনার সুযোগ দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন। দেশটিতে কয়েকদিন ধরে সরকার বিরোধী সহিংস বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে রোববার তিনি এ অঙ্গীকার করেন। এদিকে রোববার টানা চারদিনের মতো তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীরা মিছিল করেছে।
আন্দোলনকারীদের পারস্পারিক যোগাযোগ ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। চলমান এই বিক্ষোভ সম্পর্কে রুহানি চুপ থাকলেও অববেষে তিনি তার মৌনতা ভেঙ্গে একে ২০০৯ সালের গণ বিক্ষোভের পর সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বৃহস্পতিবার ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী মাশাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা দেশটির অর্থনীতির নাজুক পরিস্থিতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে। তবে শিগগিরই তা সরকার বিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয় এবং ব্যাপক আকারে সারা দেশে তা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় তারা ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক !’ বলে স্লোগান দেয়। সরকারি প্রচার মাধ্যমের মতে, রুহানি মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে বলেছেন, সমালোচনা এমনকি প্রতিবাদ জানানোর জন্যে জনগণ নিরঙ্কুশভাবে স্বাধীন। কিন্তু সহিংসতা ও জনগণের সম্পদ নষ্ট ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, জনগণকে সরকারের বৈধ সমালোচনা ও প্রতিবাদের সুযোগ দেয়া উচিত।

সুন্নি-শিয়া নামে ধর্ম নেই, ধর্ম একটাই, সেটা হলো ইসলাম : এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেছেন, সুন্নি বা শিয়া নামে কোনো ধর্ম নেই, আমাদের ধর্ম একটাই, সেটা হলো ইসলাম।  আফ্রিকা সফরে তিউনিসিয়া বিমানবন্দরে পৌঁছে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো মুসলমানদের বিভক্ত করার চেষ্টায় লেগে আছে। পাশ্চাত্যের মিডিয়াগুলো আমাকে এবং তুরস্ককে সুন্নি মুসলমানদের দেশ হিসেবে ডাকে।
কিন্তু আমরা সুন্নি বা শিয়া নামের বিভক্তির অংশ হব না। কারণ আমরা কেবল ইসলামকেই ধর্ম মনে করি। এমন চক্রান্তমূলক খেলা থেকে খুবই সতর্ক থাকা জরুরি। জেরুসালেম বিষয়ে ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ওআইসির জরুরি বৈঠকের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট কিছু আরব দেশের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আফসোস করেন। তিনি বলেন, কিছু আরব দেশ অবিবেচনার পরিচয় দিয়েছে। এরপরও বৈঠকে তাদের অংশগ্রহণ সান্ত্বনাদায়ক।

নতুন বছরে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম

নতুন বছরের শুরুতেই সৌদি আরবে আরো এক ধাপ বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম। রাজস্ব সঙ্কটের কারণে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি সরকার।  জ্বালানি খাতে ভর্তুকি হ্রাস ও অর্থনীতি শক্তিশালী করতে এ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রল ও জেট ফুয়েলের দাম বাড়াবে সৌদি আরব। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবে পেট্রলের দাম প্রায় ৮০ শতাংশ বাড়ানো হবে।
পাশাপাশি জেট ফুয়েলের দাম বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক দামের সম–পরিমাণ করা হবে। অন্যান্য ধরনের জ্বালানি ও বিদ্যুতের শুল্কও ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার কারণে কয়েক বছর ধরেই রাজস্ব সংকটসহ অর্থনৈতিক মন্দা চলছে সৌদি আরবে। তাই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।  সৌদি আরবের রাজস্ব আয়ের ৯০ শতাংশই আসে জ্বালানি তেল রফতানি থেকে। দাম ক্রমান্বয়ে ৫০ ডলারেরও নিচে নেমে যাওয়ায় দেশটির রাজস্ব আয়ে ধস নামে।

একটি সবজি অনেক রোগ থেকে বাঁচায়

সবজি অনেকেই পছন্দ করেন, আবার উল্টোও আছে। কেউ কেউ সবজির নাম শুনলেই কপাল কুচকে বসে থাকেন। সবজির গুণাগুণ জানা থাকলে হয়ত তারা কিছু সবজি মুখে তুলতেন। এই যেমন- লালবিট। শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানসমৃদ্ধ একটি সবজি। এতে ক্যালোরি নেই বললেই চলে, অথচ শরীর সুস্থ রাখাতে এর জুড়ি মেলা ভার।
চলুন জেনে নেয়া যাক কী রয়েছে গোলগাল লাল রঙের এই সবজিতে-
কম ক্যালোরি
এতে রয়েছে আলুর প্রায় অর্ধের ক্যালোরি। তাছাড়া শর্করার পরিমাণও অনেক কম। সবজি, সালাদ বা স্যুপ হিসেবে লাল বিট খেতেও খুব ভালে। এছাড়া স্বাস্থ্য সচেতনদের জন্য এটা সত্যিই এক উপযুক্ত খাবার, যাতে পেট ভরবে কিন্তু ওজন বাড়বে না।
কাশির জন্য উপকারী
খুব হালকা টক, তেতো আর মিষ্টির সংমিশ্রণে ভিন্ন স্বাদের সবজি বিট কাশির জন্যও খুব উপকারী। তাছাড়া এর মধ্যে ব্যাকটেরিয়া বিরোধী উপাদান রয়েছে, যা শীতকালীন ঠাণ্ডা লাগা থেকেও দূরে রাখবে আপনাকে।
‘ফুল অফ পাওয়ার’
লাল টুকটুকে রঙের এই সবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে গ্লুকোজ। এর কারণে স্বাদে বিট একদিকে যেমন একটু মিষ্টি-মিষ্টি, তেমনই অন্যদিকে শরীরে শক্তি যোগাতেও এর জুড়ি নেই। তাই তো অনেকে চকলেটের বদলে কাঁচা বিট চিবিয়ে খান। তার ওপর এতে বিভিন্ন ভিটামিনও কম নেই!
শরীরকে ভেতর থেকে সুরক্ষা করে
লাল বিটে থাকা উপাদান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে শরীরকে ভেতর থেকে সুরক্ষা করে। বিশেষ করে, পরিবেশের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে যেসব রোগ হয় তা প্রতিরোধ করে বিট। আর বিভিন্ন সংক্রমণ রোগ থেকেও রক্ষা করে লাল রঙের এই সবজি।
ভিটামিন ও মিনারেলে ভরপুর বিট
নানা রোগ থেকে মুক্তি পেতে প্রাচীনকালে গ্রিক ও রোমানরাও নিয়মিত বিট খেতেন। রক্তের মতো রঙের বিটের জুস রক্তস্বল্পতা দূর করে। এমনকি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে হজমশক্তিও বাড়ায় বিট।
বিটপালং
যাদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি আছে, তাদের জন্য বিট এবং বিটপালং প্রয়োজনীয় খাবার। বিট উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখে। সহজ কথায় বললে শরীরে জন্য লাল বিটের কোনো ক্ষতিকারক দিক নেই।

মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্মরণসভা বুধবার

চট্টল বীর খ্যাত সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্মরণসভা বুধবার ।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) যৌথ উদ্যোগে এ স্মরণসভার আয়োজন করছে।
 
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে সকাল ১০টায় অনুষ্ঠেয় স্মরণসভায় উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বিএফইউজের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, মহাসচিব ওমর ফারুক ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শাবান মাহমুদ।
 
মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরিবারের পক্ষে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
 

নতুন করে একই ভুল করতে যাচ্ছি by ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

২০১৭ সালের শেষে অর্থনীতির গতি-প্রকৃতির ধারাবাহিকতা মোটামুটি বজায় ছিল। তবে নতুন বছরে নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা বাড়লে তার কিছু প্রভাব তো অর্থনীতিতে পড়বেই। তবে কতটা, সেটা নির্ভর করবে অস্থিরতার মাত্রার ওপর। গত অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) রেকর্ড প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। রপ্তানি প্রবৃদ্ধির স্থবিরতা এবং বিদেশ থেকে শ্রমিকদের পাঠানো আয়ের পরিমাণ কমে যাওয়া সত্ত্বেও সেই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু এই দুই খাতে মন্দার বিলম্বিত প্রভাব নতুন বছরের প্রবৃদ্ধির ওপর পড়তে পারে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পরিবেশে বেসরকারি খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ হওয়ার আশা করা যায় না। তবে একটা সুযোগ আছে, সরকারের  চলমান বড় বড় অবকাঠামো খাতের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতিকে চাঙা রাখা। সেটা সরকারের নির্বাচনী রাজনীতির জন্য সহায়ক হবে। একমাত্র পদ্মা সেতু ছাড়া অন্য প্রকল্পগুলোতে দক্ষতার সঙ্গে দ্রুত বাস্তবায়নে সমস্যা আছে বলে মনে হয়। একটা ইতিবাচক দিক হলো এ বছরের শেষার্ধে এসে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়েছে। প্রবাসী আয়ের প্রবাহও কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। অন্যদিকে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ হঠাৎ করেই দ্রুত বাড়ছে। এটা প্রকৃত উৎপাদনমুখী বিনিয়োগে যাচ্ছে কি না, তাতে সন্দেহ আছে। খাদ্য পরিস্থিতি নিয়েও সতর্কতা দরকার। বন্যায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পর চালের বাজারে অপ্রত্যাশিতভাবে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, এর ফলে সাময়িকভাবে হলেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন নির্বাহ কঠিন হয়ে গেছে। উত্তরাঞ্চলের মন্দা যেমন একধরনের মৌসুমি দারিদ্র্য—এটা অনেকটা তেমন। বার্ষিক দারিদ্র্যের হারের হিসাবে এটা যদিও ধরা না পড়ে, তাহলেও এটাকে দারিদ্র্যই বলতে হবে। খাদ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি এখনো কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী।
বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবে ঘাটতি ক্রমেই বাড়ছে। যেখানে আগের বছরগুলোতে উদ্বৃত্ত ছিল। রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ের মন্দা ছাড়াও আমদানি খরচ বৃদ্ধিও এর একটি কারণ। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে এবং সরকারের অবকাঠামো নির্মাণের উপকরণ ও খাদ্য আমদানির বাড়তি খরচের ফলে ডলারের দামে চাপ পড়েছে। তবে যথেষ্ট বৈদেশিক মুদ্রার মজুত থাকায় প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে হস্তক্ষেপ করতে পারবে। চলমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে নেতিবাচক দিক হলো ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা বেড়ে যাওয়া। ইতিপূর্বে রাজনৈতিকভাবে অনুমতি পাওয়া নতুন ব্যাংকগুলোর দু-একটি খুব নাজুক অবস্থায়। আবার এ প্রক্রিয়ায় আরও নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে কিছু ব্যাংকের মালিকানা বদলেছে, আরও কিছু বেসরকারি ব্যাংক ঝুঁকির মুখে। এ ধরনের বিশৃঙ্খল অবস্থায় বেসরকারি ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালকদের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মকানুন আরও শক্ত করার বদলে বরং শিথিল করা হচ্ছে। নতুন বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আর্থিক খাতের অন্যায়, অনিয়মের বাড়তি সুযোগ হিসেবে মনে করা হলে তো আরও বিপদ। আশির দশকের শেষে প্রয়োজনীয় বিধিবিধান ঠিক না করেই বেসরকারি খাতের ব্যাংক খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সেই ভুলের ফলে পরে দেখা গেল, ওই ব্যাংকগুলোর আমানতের এক-তৃতীয়াংশই পরিচালকদের ঋণ হিসেবে চলে গিয়েছিল। যার আবার একটা বড় অংশই খেলাপি হয়েছিল। এরপর অনেক নিয়ন-নীতি প্রবর্তন করে এবং আইন আদালতের মাধ্যমে ৬০-৭০ জন উদ্যোক্তা পরিচালককে অপসারণ করার পরই বেসরকারি ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসে। এখন অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে নতুন করে আমরা একই ভুল করতে যাচ্ছি।
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ : সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা

নতুন বছরের সংকল্প রক্ষা করা কঠিন by শিশির মোড়ল

রবিউল আলম সংকল্প করেছিলেন বছর চারেক আগে, বিসিএস পরীক্ষায় ভালো করার জন্য। তাঁর সংকল্প ছিল ১ জানুয়ারি থেকে সব কাজ ফেলে শুধু পড়াতেই মনোনিবেশ করবেন। তিনি সংকল্প রক্ষা করতে পারেননি। এখন কাজ করছেন পরিবেশবিষয়ক একটি এনজিওতে। ২৮ ডিসেম্বর রবিউল প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ বছর আর কোনো সংকল্প করব না। এখন এসব ছেড়ে দিয়েছি। প্রতিজ্ঞা রক্ষা করা কঠিন।’ রবিউল সংকল্প করেছিলেন একটি তারিখ সামনে রেখে। নতুন বছরে নতুনভাবে কিছু করার জন্য।
১ জানুয়ারিকে সামনে রেখে এ রকম অনেক মানুষ অনেক ধরনের সংকল্প করেন। ধূমপায়ীরা বছরের প্রথম দিন থেকে সিগারেট ছেড়ে দেওয়ার সংকল্প করেন। তাঁরা প্রতিবছর ৩১ ডিসেম্বর সিগারেটে শেষ টান দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেন। শিক্ষার্থীরা বছরের শুরু থেকেই বেশি পড়াশোনা করবেন, এমন প্রতিজ্ঞা করেন। যাঁরা মুটিয়ে গেছেন, তাঁরা নিয়মিত শরীরচর্চার প্রতিজ্ঞা করেন। যত বদভ্যাস আছে তা ছেড়ে দেওয়ার উপযুক্ত সময় হিসেবে মানুষ বছরের প্রথম দিনটি বেছে নেয়। এখন কথা হচ্ছে, নতুন বছরের এই সংকল্প রক্ষার ক্ষেত্রে মানুষ কতটা সফল হয়? গবেষণা বলছে, নতুন বছরের সংকল্প সব রক্ষা হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের ৪১ শতাংশ মানুষ নতুন বছরকে সামনে রেখে সংকল্প করে। এদের মধ্যে ৯ শতাংশ সফল হয়েছেন বলে নিজেরা মনে করেন। নতুন বছরের সংকল্প নিয়ে গবেষণা করেছেন যুক্তরাজ্যের বাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সোশ্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক বাস ভার্পল্যানকেন ও তাঁর সহকর্মীরা। তাঁরা বলছেন, অভ্যাস ত্যাগ করা বা পাল্টানো খুবই কঠিন কাজ। এমনকি বদভ্যাস ছেড়ে দেওয়ার একটা উপযুক্ত সময় এলেও তা কাজে লাগানো যায় না। ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অনুষ্ঠিত সোসাইটি ফর পারসোনালিটি অ্যান্ড সোশ্যাল সাইকোলজি বার্ষিক সম্মেলনে তাদের গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। গবেষকেরা বলছেন, কোনো আচরণের পুনরাবৃত্তি ঘটলে তা অভ্যাসে পরিণত হয়। পারিপার্শ্বিকতা অভ্যাসকে দৃঢ় করে। পারিপার্শ্বিকতায় পরিবর্তন না এলে অভ্যাস বদলানো কঠিন। ৮০০ মানুষের আচরণ নিয়ে গবেষণা করেছেন বাস ভার্পল্যানকেন ও তাঁর সহকর্মীরা। এঁদের একটি অংশ গবেষণা চলার সময় বাড়ি বদল করেছিল, অন্য অংশটি দীর্ঘদিন একই বাড়িতে বসবাস করত। সব অংশগ্রহণকারীকে পানি ও গ্যাস ব্যবহার, যাতায়াত, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা—এ রকম ২৫টি বিষয়সংশ্লিষ্ট আচরণ বা অভ্যাস নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা বাড়ি বদল করেছেন তাঁরা আচরণ পরিবর্তনে বেশি সক্ষম হয়েছেন। গবেষকেরা বলছেন, নতুন বছরের সংকল্প আসলে কাজে আসে না। ৩১ ডিসেম্বর করা অনেক সংকল্প ২ জানুয়ারি অপচয়িত হয় বা নর্দমায় যায়। ৩১ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারির মধ্যে পারিপার্শ্বিকতায় নাটকীয় কোনো পরিবর্তন আসে না। কিন্তু বাড়ি বদল করলে কিছু পরিবর্তন আসে। মানুষ নতুন বাড়িতে সমস্যার সমাধানগুলো নতুনভাবে করে। নতুন বাজার থেকে কেনাকাটা করে, নতুন রাস্তায় যাতায়াত করে এবং এ রকম আরও অনেক কিছু। এই সময় বদ অভ্যাস পরিবর্তনেরও একটা সুযোগ আসে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ১ জানুয়ারি তৈরি হয় না।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যাটিসটিক ব্রেইন রিসার্চ ইনস্টিটিউট নতুন বছরের সংকল্প নিয়ে গবেষণা করে। ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারির তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, সাধারণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ৪১ শতাংশ মানুষ নতুন বছরের সংকল্প করে। সংকল্পের শীর্ষ দশের তালিকায় ছিল: ওজন কমানো বা স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়া, নিজের উন্নতি (বিশেষ করে শিক্ষায়), ভালো অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত, ধূমপান ত্যাগ, উত্তেজনামূলক কাজ পরিহার, পরিবারের জন্য বেশি সময় দেওয়া, ছুটি নেওয়া, নিজ উদ্যোগে নতুন কিছু শেখা, অন্যের জন্য ভালো কিছু করা ও নিজের জীবনে ভালোবাসার বিষয় খুঁজে বের করা। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের ৩৮ শতাংশ নতুন বছরের সংকল্প করে। আর ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এই হার ১৬ শতাংশ। এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের শিক্ষক রাউফুন নাহার প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিটি মানুষের মধ্যে একাধিক সত্তা থাকে। এসব মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। এক সত্তা মানুষকে বদ অভ্যাস ত্যাগ করার জন্য প্রভাবিত করে, মানুষ তখনই সংকল্প করে। মানুষ তখনই সংকল্পচ্যুত হয় যখন বিপরীত কোনো সত্তা প্রকট হয়ে ওঠে।

শীতের দুর্লভ ফুল

খ্রিষ্টীয় নববর্ষের এই শীতসময়ে আমাদের প্রকৃতি অনেকটাই নিষ্প্রাণ ও বর্ণহীন হয়ে ওঠে। তখন কিছু বর্ষজীবী মৌসুমি ফুল আমাদের প্রকৃতির আঙিনা সাজিয়ে দেয়। দূরের বনে আমাদের অজা‌ন্তে ফোটে বনজাম, বনকলমি, কুচাই, তুন, লতাকাঞ্চনসহ আরও কিছু ফুল। তবে আমাদের নগর উদ্যানগুলোতে শীতের দৈন্য ঘোচাতে ইতিমধ্যেই এসে থিতু হয়েছে কিছু বিদেশি ফুল। এ ক্ষেত্রে স্বর্ণ অশোক, রাজ অশোক ও সোনাঝুরিলতা উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে স্বর্ণ অশোক শীতের বিরলতম ফুলগুলোর মধ্যে অন্যতম। জানামতে ঢাকায় স্বর্ণ অশোকের (sarace thaipingensis) একটিই পরিণত গাছ আছে বলধা গার্ডেনের সাইকি অংশে। তবে কখন বা কোথা থেকে গাছটি এখানে লাগানো হয়েছিল তা জানা যায় না। আরেকটি পরিণত গাছ আছে ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনে। পৌষের প্রথম ভাগেই এ গাছের কাণ্ড ও ডালপালাজুড়ে সুগন্ধি ফুলগুলো ফুটতে শুরু করে। আমাদের দেশে যে কয়েক ধরনের অশোক পাওয়া যায় তার মধ্যে স্বর্ণ অশোক বেশ আকর্ষণীয়। অন্যান্য অশোকের সঙ্গে প্রস্ফুটনকালের কিছুটা ভিন্নতাও রয়েছে। ফুল উজ্জ্বল সোনালি রঙের বলেই নাম স্বর্ণ অশোক। গাছ মাঝারি আকৃতির। কাণ্ড কালচে রঙের, ডালপালা ঊর্ধ্বমুখী ও শক্তপোক্ত ধরনের।
অন্যান্য অশোকের তুলনায় স্বর্ণ অশোকের পাতা খানিকটা বড়। গাছজুড়ে হলুদ-সোনালি রঙের অসংখ্য গুচ্ছবদ্ধ ফুল ফোটে। তখন ডালপালা পুষ্পভারে কিছুটা আনত থাকে। গুচ্ছবদ্ধ ফুলগুলো উজ্জ্বল রঙের হওয়ায় অনেক দূর থেকেই নজর কাড়ে। স্বর্ণ অশোক চিরসবুজ ছায়াঘন বৃক্ষ। সাধারণত ১০ থেকে ২৪ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। পত্র পক্ষল যৌগিক, পত্রাক্ষ ২০ থেকে ৫৬ সেন্টিমিটার লম্বা ও রোমহীন। পুষ্পবিন্যাস পর্যায়ক্রমিক, ১৭ থেকে ৩৫ সেন্টিমিটার প্রশস্ত, প্রধান শাখাসমূহ ৭ থেকে ১৮ সেন্টিমিটার। পুষ্পদলহীন, সোনালি-হলুদ থেকে ফিকে কমলা, নলাকার, মঞ্জরিপত্র ডিম্বাকার, মঞ্জরিপত্রিকা ২টি, ২ থেকে ৫ মিলিমিটার লম্বা, বৃন্ত ১০ মিলিমিটার লম্বা, পুষ্পাধার ১ থেকে আড়াই সেন্টিমিটার লম্বা। বৃত্যংশ ৪টি, ৫ থেকে ১০ মিলিমিটার, হলুদ। পুংকেশর ৩ থেকে ৬টি, পরাগধানী উপবৃত্তাকার, ১ থেকে ২ মিলিমিটার লম্বা। ফল পড আকৃতির। চিরসবুজ অরণ্য এবং উষ্ণ অঞ্চল পছন্দ। আদি আবাস মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও শ্রীলঙ্কা।

হোটেল ওলিওতে বিস্ফোরণ: বোমা প্রস্তুতকারী গ্রেপ্তার

রাজধানীর পান্থপথে গত ১৫ আগস্ট হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে বিস্ফোরণের ঘটনায় বোমা প্রস্তুতকারীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর নাম মামুন (২১)। তিনি নব্য জেএমবির শীর্ষস্থানীয় নেতা ও শুরা সদস্য। এসব তথ্য ডিএমপির ওয়েব পোর্টাল ডিএমপি নিউজ থেকে জানা যায়। ওই খবরে বলা হয়, গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উত্তরায় ৭ নম্বর সেক্টরের হাউস বিল্ডিংসংলগ্ন এলাকা হতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে ধরতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিট, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এলআইসি শাখা ও বগুড়া জেলা পুলিশ এ যৌথ অভিযান চালিয়েছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামুনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ডিএমপি নিউজ জানায়, মামুন জঙ্গি সংগঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহ, বিস্ফোরক তৈরি, প্রশিক্ষণ দেওয়া, নাশকতামূলক হামলার পরিকল্পনা ইত্যাদি দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল। গত ১৫ আগস্ট পান্থপথে শোক দিবসের র‌্যালিতে হামলার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা বোমাটি তাঁর তৈরি করা ছিল। এমনকি হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে নিহত আত্মঘাতী হামলাকারী সাইফুলের কাছে প্রস্তুতকৃত বোমাটি তিনি নিজেই গিয়ে দিয়ে এসেছিলেন। রাজধানী ঢাকায় আবারও বড় ধরনের নাশকতামূলক হামলা সংঘটনের উদ্দেশ্যে তিনি উত্তরায় আত্মগোপন করেছিলেন।

নির্যাতনের ৭৭ শতাংশই পারিবারিক পরিসরে

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচির অধীনে দেশের ৫৬টি জেলায় ৯ হাজার ১৯৬টি নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ২০১৭ সালের ১০ মাসের তথ্য এটি। গড়ে প্রতি মাসে ৯১৯টি এবং প্রতিদিন ৩০টি নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ২০১৬ সালে ৫৫ জেলায় একই সময়ে ৫ হাজার ৮২৫ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। ১২ হাজারের বেশি কমিউনিটিভিত্তিক নারী সংগঠন পল্লী সমাজ এবং ব্র্যাকের অন্যান্য কর্মসূচির বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে পাওয়া নারী নির্যাতনের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্নভাবে ঘটনা জানার পর ব্র্যাকের এ কর্মসূচির মাঠপর্যায়ের কর্মীরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তা যাচাই-বাছাই করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তথ্য ফরমে পূরণ এবং পরবর্তী সময়ে অনলাইনের মাধ্যমে ডেটা এন্ট্রি করেন। গত বছর ৮৩ শতাংশ নারী এবং ১৭ শতাংশ মেয়েশিশু নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়।
বেশির ভাগ নির্যাতনই পারিবারিক পরিসরে
ব্র্যাকের প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরে নথিভুক্ত হওয়া নির্যাতনের ঘটনার মধ্যে ৬ হাজার ৪৮৫টি বা ৭৭ শতাংশই ঘটেছে পারিবারিক পরিসরে। স্বামীর মাধ্যমেই বেশির ভাগ ঘটনা ঘটেছে। যৌতুককে কেন্দ্র করে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে ৩২ শতাংশ। পারিবারিক সংঘাতের ঘটনা ছিল ২৪ শতাংশ। বহুবিবাহ এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণেও পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্যাতনের শিকার নারীদের মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশ ছিলেন বিবাহিত এবং তিন-চতুর্থাংশই ছিলেন গৃহিণী। নির্যাতনের শিকার নারীদের মধ্যে ৬৬ শতাংশই ছিলেন দরিদ্র নারী। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী প্রথম আলোকে বলেন, পারিবারিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে ভুক্তভোগী বা কোনো না কোনো মাধ্যমে তা নথিভুক্ত হচ্ছে। এটি একটি ইতিবাচক দিক। তিনি বলেন, যৌন নির্যাতন ও হয়রানির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া আন্দোলন হ্যাশট্যাগ মি টু (#MeToo) এবার টাইম ম্যাগাজিন–এর ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ (বর্ষসেরা ব্যক্তি) হয়েছে। পারিবারিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে এ ধরনের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে, যার নেতৃত্ব দেবে তরুণ সমাজ। দেশের ৪২ জেলায় ১২ লাখ চেঞ্জমেকারের মাধ্যমে পারিবারিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট। জোটের কো-চেয়ার এম বি আখতার প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে পারিবারিক নির্যাতনের পরে সমাজের মানুষেরাই প্রতিবাদ করছেন, সোচ্চার হচ্ছেন, আইনি পদক্ষেপও নিচ্ছেন অনেকে।
বড় উদ্বেগ শিশু ধর্ষণ
ব্র্যাকের প্রতিবেদন বলছে, বছরটিতে কন্যাশিশুদের ক্ষেত্রে বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে (মোট ধর্ষণের ঘটনার ৭০ শতাংশ)। ধর্ষণের ঘটনায় প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে শিশুর সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি ছিল। এক বছরের কম বয়সী থেকে ৫ বছর বয়সীদের মধ্যে ৪৪ জন, ৬-১০ বছর বয়সীদের মধ্যে ১১১ জন, ১১-১৭ বছর বয়সীদের মধ্যে ৩৩৭ জন ধর্ষণের শিকার হয়। তথ্য বলছে, প্রতিদিন ১ দশমিক ৭ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়।
আইনি সহায়তা নেওয়ার হার কম
বছরের ১০ মাসে ৩৭০টি হত্যার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ধর্ষণ, গণধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয় ৭০৭টি। বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্যাতনের শিকার নারীরা পারিবারিক, সামাজিক ও আইনগত নানা জটিলতার কারণে আইনি সহায়তা নিতে চান না। কর্মসূচির অধীনে নির্যাতনের তথ্য জানার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কর্মীরা যেসব তথ্য নথিভুক্ত করেন, সে অনুযায়ী নথিভুক্ত ঘটনার মাত্র ১৯ শতাংশের ক্ষেত্রে মামলা হয়েছিল। ৮ শতাংশ মামলা সালিসের মাধ্যমে মীমাংসা হয়। ৩২ শতাংশ ঘটনায় কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

গুম ভবিষ্যতের ইতিহাস by শাহদীন মালিক

নিখোঁজ বাবা সাজেদুল ইসলামের অপেক্ষায় মেয়ে
আরওয়া ইসলাম। ছবি: সাজিদ হোসেননিখোঁজ
বাবা সাজেদুল ইসলামের অপেক্ষায় মেয়ে
আরওয়া ইসলাম। ছবি: সাজিদ হোসেন
এই লেখার বিষয়বস্তু অনেকটা নিকট ভবিষ্যতের ইতিহাস। মোটামুটি ২০ বছর পরের ইতিহাস। জানি, ব্যাপারটা গোলমেলে ঠেকছে। পাঠক হয়তো ভাবছেন, ভবিষ্যতের কি ইতিহাস হয়! হয়, এই অর্থে যে ২০ বছর পরে আমাদের গুমের ইতিহাস যাঁরা লিখবেন, তাঁরা কী লিখতে পারেন, সে কথা আজকেই বলার চেষ্টা করব। ২০ বছর পরে বাংলাদেশের গুমের ইতিহাস লিখতে গিয়ে যে কথা হয়তো লেখা হবে না, তা হলো ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে দক্ষিণ আমেরিকার পেরুর রাজধানী লিমাতে যে বিক্ষোভ হচ্ছে তার কথা। পেরুর রাষ্ট্রপতি ২০১৭ সালের বড়দিনে তাঁর পূর্বসূরি এক রাষ্ট্রপতি আলবের্তো ফুজিমোরিকে রাষ্ট্রপতির ক্ষমার আওতায় জেল থেকে মুক্তির আদেশ দিয়েছেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী লিমার রাস্তায় নেমেছে। ফুজিমোরির বিচার হয়ে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড হয়েছিল । অভিযোগ ছিল, তাঁর শাসনামলে বহু বিরোধী নেতা-কর্মীকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছিল, গুম করা হয়েছিল শত শত মানুষকে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে আল-কায়দার বিমান হমলার চেয়ে অনেক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল ১৯৭৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আমেরিকার আরেক দেশ চিলিতে। চিলির সেনাপ্রধান জেনারেল আউগুস্তো পিনোশে নির্বাচিত বামপন্থী রাষ্ট্রপতি সালভাদর আয়েন্দেকে হত্যা করে ক্ষমতা দখল করেন। পিনোশের ১৭ বছরের দীর্ঘ শাসনামলে হাজার হাজার বামপন্থী নেতা-কর্মীকে নির্বিচারে হত্যা ও গুম করা হয়। তিনি রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার পর নিজেকে বাঁচাতে অনেক দিন সেনাপ্রধানের পদ আঁকড়ে ধরে ছিলেন। পরে ইংল্যান্ড, স্পেনসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে বেড়িয়েছেন। কিন্তু বিচার তাঁর পিছু ছাড়েনি। ইংল্যান্ড ও স্পেনে তাঁর বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। অবশ্য শাস্তি হওয়ার আগেই তিনি মারা গিয়ে রক্ষা পেয়েছিলেন। গত শতাব্দীর আশি ও নব্বইয়ের দশকে পিনোশেকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী একনায়ক মনে করা হতো। তা সত্ত্বেও তিনি বিচারের হাত থেকে রেহাই পাননি। ফলে সারা বিশ্বে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের শিকার ব্যক্তিদের নিকটজনের মধ্যে একটা বিশ্বাস জন্মে যে অপরাধী যত শক্তিশালী হোক, তাঁর ও তাঁর সঙ্গীদের বিচার দেরিতে হলেও হবে। এবং হচ্ছে। বিপুল ভোটে জয়ী রাষ্ট্রপতি ফুজিমোরির বিচারে ২৫ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। হিসেন হেব্রে ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত ছিলেন আফ্রিকার চাঁদের রাষ্ট্রপতি। আট বছরে হত্যা-নির্যাতনসহ অনেক অপকর্ম করেছিলেন। বিচারে তাঁর শাস্তি হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আবার দক্ষিণ আমেরিকায় ফিরে গেলে বলতে হয় আর্জেন্টিনার ক্ষমতাবান জেনারেল রেনাল বিগনানের বিচার ও ২০ বছরের কারাদণ্ডের কথা। গুয়েতেমালার হত্যা-গুমের হোতা সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এখন বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন। বহু বহু বছরের জন্য ঠিকানা খুঁজে পাচ্ছেন কারাগারে। বলা বাহুল্য, শুধু নেতাদেরই বিচার ও শাস্তি হচ্ছে না, তাঁদের সহকর্মী-সহযোগীরাও বাদ পড়ছেন না।
২. আমাদের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রথমে হয় দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই। গত শতাব্দীতে যুদ্ধ করে যেসব দেশ স্বাধীন হয়েছে, তার প্রতিটিতেই যুদ্ধ-পরবর্তী কিছু সময় অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, খুনখারাবি, লুটপাট ইত্যাদি ছিল। যুদ্ধ করে স্বাধীন হওয়া কোনো দেশই এর থেকে রেহাই পায়নি। এর পরের বেশি সংখ্যায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এ দেশে ঘটে ২০০২-এর অক্টোবর থেকে ২০০৩-এর জানুয়ারি পর্যন্ত। পুলিশ, সেনা ও অন্যান্য বাহিনীর যৌথ অভিযানে তিন মাসে নিহত হন প্রায় ৬০ জন নাগরিক। সাম্প্রতিককালের মধ্যে এটি স্বল্প সময়ে সর্বাধিকসংখ্যক বিচারবহির্ভূত ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ২০০৩ সালে জাতীয় সংসদ আইন পাস করে যৌথ বাহিনীকে সেই সময়ের হত্যাসহ অন্য সব অপরাধ থেকে দায়মুক্তি দিয়েছিল। হাইকোর্ট বিভাগ এই আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করেছেন। অতএব এই সময়ের অপরাধগুলোর বিচার একদিন হবে। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের দায়মুক্তির অধ্যাদেশটি ১৯৯৬ সালের ১৪ নভেম্বর তারিখে দ্য ইনডেমনিটি অ্যাক্ট, ১৯৯৬-এর মাধ্যমে বাতিল করা হয় এবং পরে অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার হয়, অনেকের শাস্তি কার্যকর হয়।
৩. ২০১৭ সালে অনেকেই নিখোঁজ ও গুম হয়েছেন। বছরের শেষের দিকে দুই-চার মাস আগে ‘নিখোঁজ’ হওয়া কয়েকজন ফিরে এসেছেন। অনেকের ফেরার অপেক্ষায় আছে তাঁদের স্বজনেরা। যাঁরা ফিরে এসেছেন, তাঁদের সবার ঘটনা প্রায় একই রকম; যে একই বর্ণনা শুনে আসছি ২০০৪ সাল থেকে, ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধগুলোর ঘটনায়। প্রায় সব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডেই কথিত সন্ত্রাসীর ওত পেতে থাকা দোসররা গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর গুলি ছোড়ে, তাঁরা পাল্টা গুলি ছোড়েন। আটককৃত ব্যক্তিটি দুই পক্ষের গোলাগুলির মধ্যে পড়ে নিহত হন। নিখোঁজ হয়ে ফিরে আসা ব্যক্তিদের গল্পগুলোও প্রায় একই রকমের: কে ধরে নিয়ে গিয়েছিল তা বলতে পারেন না, কারণ চোখ বাঁধা ছিল। তাঁকে কোথায় আটকে রাখা হয়েছিল, সেটাও জানেন না। কেন ছেড়ে দিল, তা-ও জানেন না। অতএব উপসংহার: গুমের জন্য দায়ী একটা গোষ্ঠী এবং তাদের পারদর্শিতা ও দক্ষতার নমুনা আমরা কিছুটা হলেও পেয়েছি নারায়ণগঞ্জের সাত হত্যাকাণ্ডের মামলা থেকে।
৪. বিভিন্ন দেশে গত শতাব্দীর ৭০, ৮০ ও ৯০-এর দশকে সংঘটিত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের বিচার হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সনদও হয়েছে। বিচারগুলো এ জন্যই হচ্ছে যে প্রতিটি দেশ ও সমাজ ক্রমে বুঝতে পারছে যে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুম কোনো সমাজেরই কল্যাণ বয়ে আনেনি। দায়ী ব্যক্তিদের বিচার না করলে রাষ্ট্র কল্যাণকর রাষ্ট্রে উন্নীত হতে পারে না। যে দেশে যখন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুম বেড়ে যায়, তখন সে দেশে অদ্ভুত ধরনের ব্যক্তিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল পদগুলোতে থাকেন। পরে তাঁরা বিচারের সম্মুখীন হন এবং শাস্তি পান। এখন শাস্তি ভোগ করছেন নিকট অতীতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, পুলিশের মহাপরিদর্শক, এনএসআইয়ের প্রধানসহ অন্যরা। ২০ বছর পর যখন ইতিহাস লেখা হবে, সেই ইতিহাস হবে চিলি, আর্জেন্টিনা, চাঁদ ও অন্যান্য দেশে আজকে যে রকম ইতিহাস লেখা হচ্ছে, সে রকম। ২০ বছর পরে ২০১৭ সালে সংঘটিত গুমের শাস্তির ইতিহাস যদি আমরা লিখতে না পারি, অর্থাৎ চলে যাওয়া বছরে গুমের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচার ও শাস্তির ইতিহাস যদি রচিত না হয়, তাহলে ২০৩৭ সালে হয়তো বাংলাদেশ হবে একটা দুর্বল রাষ্ট্র, যেখানে খুন, রাহাজানি, সন্ত্রাস, নির্যাতন, গণহত্যা ইত্যাদিই হবে আইন। কিন্তু এই রাষ্ট্রকে আমরা কোনো মতেই ব্যর্থ রাষ্ট্র হতে দেব না। তাই বিচারের ইতিহাস অবশ্যই লেখা হবে। এবং লেখা হবে খুব শিগগিরই।
ড. শাহদীন মালিক: অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট; আইনের শিক্ষক, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক।

মার্কিনদের একচেটিয়া শাসনের অবসান by কামাল গাবালা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গত ২১ ডিসেম্বর বাতিল হয়ে গেল। এই অধিকৃত শহরের মর্যাদা আগের মতোই থাকল। এর মধ্য দিয়ে আরব ও আন্তর্জাতিক কণ্ঠস্বর আবারও উঠে আসতে শুরু করল। এই মতৈক্যের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে এই সিদ্ধান্ত ওল্টানোর বা একে গুরুত্বহীন সিদ্ধান্তে পরিণত করার কূটনৈতিক কাঠামো নির্মাণের ওপর জোর দেওয়া হলো। মানুষও যুক্তরাষ্ট্রের অবিবেচক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবতে শুরু করেছে। এই ব্যক্তি প্রকাশ্যে বলেছেন, যারা তাঁর সিদ্ধান্তের পক্ষে ভোট দেবে না, তাদের সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। যে সিদ্ধান্তের কথা বললাম তার মধ্য দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যের অবসান হবে। দেখা যাচ্ছে, একাধিক মেরু ও ব্লকভিত্তিক নতুন এক পৃথিবী গড়ে উঠতে শুরু করেছে, যে পৃথিবী মার্কিন মেরুর প্রভুত্ব, নির্বুদ্ধিতা ও কদর্যতার বিরুদ্ধে দক্ষতার সঙ্গে খেলতে শুরু করেছে। আর সিদ্ধান্তটি জোরালোভাবে প্রয়োগের বন্দোবস্ত করতে হবে। এ ব্যাপারে এ রকম একটি পরামর্শ এসেছে যে নিরাপত্তা পরিষদে ফিরে গিয়ে নতুন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক, যাতে সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাবের বিরুদ্ধে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য ভোট দিলে নিরাপত্তা পরিষদে কেউ যেন তাতে ভেটো দিতে না পারে। মানে যুক্তরাষ্ট্রের কথাই বলছি, তার এই ভেটো ক্ষমতা থাকবে না আর তাতে প্রস্তাব পাস হয়ে যাবে। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আগে মার্কিন প্রশাসন ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তির বাণী ফেরি করে বেড়াত। ফিলিস্তিন সমস্যা সমাধানে তারা জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করাকে ‘শতাব্দীর সেরা বন্দোবস্ত’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। ফাঁস হওয়া তথ্যে জানা যায়, এই বন্দোবস্ত অনুসারে পশ্চিম তীরে এক দুর্বল ফিলিস্তিন সীমান্ত তৈরির কথা আছে, যার কোনো সার্বভৌমত্ব বা সীমান্তরেখা থাকবে না। এর মধ্য দিয়ে অধিকৃত জেরুজালেমকে ইহুদি ইসরায়েলি রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। ‘শতাব্দীর সেরা বন্দোবস্তে’ আরও বলা হয়েছে, ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের ক্ষমতা খুবই সীমিত হবে; সেই ক্ষমতা প্রদেশের চেয়ে বেশি হবে না। গাজার সরু এক জায়গায় ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হবে, যার মধ্যে কিছু জমি মিসরের সিনাই মরুভূমি থেকে নেওয়া। আর ফিলিস্তিন সরকারকে ১ হাজার কোটি ডলার ঘুষ দেওয়া হবে—এই পরিকল্পনাও ছিল। ট্রাম্প প্রশাসন ভেবেছিল, গত কয়েক মাসের চেষ্টায় তারা আরব নেতাদের কাছে অধিকৃত জেরুজালেমসহ ফিলিস্তিন সমস্যাকে গৌণ করে ফেলতে পেরেছে। অর্থাৎ এর মাধ্যমে এই ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’ তারা পাস করিয়ে নিতে পারবে। তারা ভেবেছিল, আরব নেতাদের এটা বোঝানো যাবে যে মূল সমস্যা হচ্ছে ইরান। আর ইরানের সঙ্গে আরব অঞ্চলের অন্যান্য দেশের যুদ্ধ লাগলে ইসরায়েল আরবদের সমর্থন দেবে। তারা সৌদি আরব, ফিলিস্তিন ও মিসরকে চাপ দিয়েছে। দেখা গেল, নিরাপত্তা পরিষদে অধিকৃত জেরুজালেমের আইনি মর্যাদা নিয়ে যে ভোটাভুটি হয়েছে, তাতে নিরাপত্তা পরিষদ মোটামুটি সর্বসম্মত রায় দিয়েছে।
১৪ সদস্যরাষ্ট্র জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী করার বিরুদ্ধে ভোট দেয়, যদিও শুধু যুক্তরাষ্ট্র তাতে ভেটো দেয়। সাধারণ পরিষদের ১২৮ সদস্য এর বিপক্ষে ভোট দেয়, আর পক্ষে ভোট দেয় মাত্র ৯ সদস্যরাষ্ট্র। এই ফলাফলের পর আরব দেশগুলো মিসর ও জর্ডানের সঙ্গে ইসরায়েলের শান্তিচুক্তি স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা এও বলেছে যে ওয়াশিংটনে আরব ও ইসলামি দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব হ্রাস করতে হবে। আর ইসরায়েল রাষ্ট্র যে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, তার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যাওয়ার কথা বলেছেন তাঁরা। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও তৃতীয় ফিলিস্তিনি বিক্ষোভের লোকপ্রিয় আহ্বানও শোনা গেছে। শুধু তা-ই নয়, ফিলিস্তিনি ও আরবদের পূর্ণাঙ্গভাবে অসলো চুক্তি ত্যাগের আহ্বানও জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের অধীনে গিয়ে দুই-রাষ্ট্র সমাধান এবং ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুসারে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বানও জানানো হয়েছে, যার রাজধানী হবে জেরুজালেম। জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্তে আরব দেশগুলো জয়ের গন্ধ পেলেও আফ্রিকার দেশগুলো যে ফিলিস্তিনের দাবিতে সমর্থন দিচ্ছে না, তার ওপর আলোকপাত করা দরকার। গত কয়েক বছরে আফ্রিকায় ইসরায়েলি প্রভাব বৃদ্ধি এবং এই মহাদেশের প্রতি আরবদের উপেক্ষার কারণে এমনটা হয়েছে। জাতিসংঘে আফ্রিকার যেসব দেশ মার্কিনদের পক্ষে ভোট দিয়েছে, তার মধ্যে আছে টোগো। অন্য আরও সাতটি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। অন্যরা সভায় অনুপস্থিত ছিল। মধ্য এশিয়ার মুসলিম দেশ তুর্কমেনিস্তান ভোটদানে বিরত থাকলে তা আমাদের বিস্ময়ের উদ্রেক করে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বড় এক ঘাঁটি আছে, সম্ভবত সেটাই তার কারণ। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ জার্মানি, ফ্রান্স ও অন্যদিকে ব্রিটেন এ ব্যাপারে ইতিবাচক অবস্থান নিলেও চেক রিপাবলিক, পোল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও রোমানিয়া ভোটদানে বিরত থাকে। সাধারণ পরিষদে সুইসদের অনুপস্থিতিও অন্যদের মাথাব্যথার কারণ হয়েছে। বিশেষ করে সুইজারল্যান্ড মানবিক তৎপরতার জন্য খ্যাত। রেডক্রস ও জাতিসংঘের ইউরোপীয় সদর দপ্তরও সেখানে অবস্থিত। ফলে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তাদের অনুপস্থিতি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বসনিয়া ও হার্জেগোভেনিয়া ভোটদানে বিরত থাকলে অনেকে রাগান্বিত হন, যদিও আরবরা সব সময় তাদের উদ্দেশ্যের প্রতি সহানুভূতিশীল থেকেছে। বসনিয়া ও হার্জেগোভেনিয়ার শান্তির জন্য স্বাক্ষরিত ডেটন অ্যাকর্ডের একটি প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল আছে, সেটিতে বসনীয়, সার্ব ও ক্রোয়েট—এই তিনটি জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব আছে। বসনিয়ার প্রতিনিধিরা জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত সমর্থন করলেও সার্ব ও ক্রোয়েশীয়রা এর বিপক্ষে ছিল। সে কারণে তারা ভোটদানে বিরত থাকে।
অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন।
কামাল গাবালা: মিসরীয় সাংবাদিক।

‘পারমাণবিক বোমার বোতাম আমার টেবিলেই’

পারমাণবিক বোমা ফেলতে যে বোতামটা টিপতে হবে, এটি নিজের টেবিলেই রয়েছে বলে দাবি করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন। উত্তর কোরিয়ার এই নেতা বলেন, বোতামটি সব সময় তাঁর টেবিলেই থাকে। আজ সোমবার নববর্ষ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে উন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূমির পুরোটাই আমাদের পারমাণবিক অস্ত্রের আওতায় রয়েছে। আমার কার্যালয়ের টেবিলে সব সময় পরমাণু অস্ত্রের বোতাম রাখা থাকে। আর এটা হুমকি নয়, বাস্তবতা—এটা খুব ভালোভাবে বুঝে নিয়ে তাদের সতর্ক হওয়া উচিত।’ সিএনএন তাঁর ভাষণটি ইংরেজিতে অনুবাদ করে প্রচার করেছে। এই নেতা বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া “শান্তির সপক্ষে থাকা পারমাণবিক শক্তির অধিকারী দেশ”। এ দেশের ওপর সরাসরি হামলা না হলে আমরা আমাদের পারমাণবিক শক্তি প্রয়োগ করব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রকৌশল নিয়ে গবেষণার জন্য আমাদের পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্রের ব্যাপক উৎপাদন দরকার। এর ক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতা এর মধ্যে নিশ্চিত হয়েছে।’ কিম জং-উনের এ বক্তব্যকে ‘স্রেফ বাগাড়ম্বর ছাড়া কিছুই নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কর্মসূচিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান লয়ি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ইয়ান গ্রাহাম। তিনি বলেন, ‘তাঁর এমন কথা আগেও যে শুনিনি তা নয়। এভাবে তিনি (কিম জং-উন) সবাইকে বোঝাতে চান, এ ক্ষেত্রে তিনিই একমাত্র দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি ও নিয়ন্ত্রক। এটা অনেকটা বিজয় ঘোষণার মতো, তাঁদের যতটুকু উদ্বেগ ছিল তা শেষ হয়েছে। তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন যে যুক্তরাষ্ট্রকে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা তাঁদের আছে। কারিগরি দিক দিয়ে নির্ভুল না হলেও তাঁদের আইসিবিএম (ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল) বা আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কার্যকর আছে। তা সত্ত্বেও কিম জং-উন এই পর্যায়ে এভাবেই বিষয়টিকে পাক খাওয়ানোর চেষ্টা করছেন।’

আমাদের সামনে অনেক ঝুঁকি: আকবর আলি খান

মশিউল আলম: আমরা ২০১৭ সালের একদম শেষ প্রান্তে এসে পড়েছি; আমাদের এই কথোপকথন যেদিন প্রথম আলোয় ছাপা হবে, সেদিন নতুন বছরের প্রথম দিন। এখন যদি আমরা একটু ফিরে তাকাই, এই বিদায়ী বছরটা আমাদের কেমন কাটল?
আকবর আলি খান: শুভ নববর্ষ! শুভ নববর্ষ মানে হচ্ছে আমরা আশা করছি যে এই বছর আমাদের গত বছরের চেয়ে ভালো হবে। সুতরাং আমাদের নিশ্চয়ই অনেক অপূর্ণতা রয়ে গেছে। সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা হলো, বাংলাদেশে মানবাধিকার সম্পূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এখানে আমাদের ঘাটতি রয়েছে, সুশাসনের অনেক ঘাটতি রয়েছে; কিন্তু সব ঘাটতি সত্ত্বেও আমাদের অর্থনীতি পৃথিবীর অন্য অনেক দেশের তুলনায় মোটামুটি সাফল্য অর্জন করেছে। সুতরাং বলা যায়, আমাদের অর্থনৈতিক কার্যকলাপ এ বছর সন্তোষজনক ছিল।
মশিউল আলম: তাহলে এখানে এমন একটা প্রশ্ন কেউ কেউ তুলতে পারেন যে আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যদি সন্তোষজনক হয়, তাহলে মানবাধিকারের অপূর্ণতাটাকে কি একটু ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা যায় না?
আকবর আলি খান: না, সেভাবে দেখা যায় না। কারণ, মানবাধিকার আগে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন তার পরের বিষয়। মানবাধিকারের প্রশ্নে আপস করার কোনো সুযোগ নেই। দেখা গেছে, যেসব রাষ্ট্রে মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল, সেখানে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হয়নি। গরিব মানুষের জন্য গণতন্ত্রের অপরিহার্যতা নিয়ে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের বিখ্যাত উক্তির কথা স্মরণ করা যেতে পারে। যেখানে গণতন্ত্র নেই, সেখানে দুর্ভিক্ষ পর্যন্ত হতে পারে। সে রকম উদাহরণ দেখিয়ে তিনি বলেছেন যে গণতন্ত্র মানুষের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। অর্থনীতিবিদেরা অমর্ত্য সেনের এই মতই মোটামুটিভাবে গ্রহণ করে থাকেন। এর কিছু ব্যতিক্রম দেখা গিয়েছিল সিঙ্গাপুরে কিংবা মালয়েশিয়ার মতো রাষ্ট্রে। কিন্তু সেখানকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
মশিউল আলম: বাংলাদেশে মানবাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার যে কথা আপনি বলছেন, তার কিছু দৃষ্টান্ত কি দিতে পারেন? কারণ সরকার তো বলছে, আমাদের মানবাধিকার পরিস্থিতি ঠিক আছে।
আকবর আলি খান: প্রথমত মানুষ গুম হয়ে যাচ্ছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংস্থার লোকজন এসবের সঙ্গে জড়িত। এটা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন। এ ছাড়া শাসকগোষ্ঠীর বিভিন্ন মহল বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেসব তৎপরতা চালাচ্ছে, তাতে শুধু যে সাধারণ মানুষের জীবনই বিঘ্নিত হচ্ছে তা নয়, তাদের নিজেদের মধ্যেও খুনখারাবি হচ্ছে। সরকারের পক্ষে এগুলো বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। সুতরাং এদিক থেকে মানবাধিকার পরিস্থিতি মোটেও সন্তোষজনক নয় এবং এই পরিস্থিতির অবশ্যই উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে।
মশিউল আলম: গেল বছর ব্যাংকিং খাতের লুটপাট নিয়ে প্রচুর আলোচনা হয়েছে। ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে লুটপাট অবিশ্বাস্য রকমের উচ্চ মাত্রায় পৌঁছেছে, এটা কীভাবে সম্ভব হচ্ছে?
আকবর আলি খান: এটা সম্ভব হয় তখনই, যখন সরকার এই ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করে। সরকার যখন দৃঢ় ব্যবস্থা গ্রহণ করে তখন ব্যাংকে এ ধরনের লুটপাট সম্ভব হয় না। সরকার এই ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করেছে মূলত তিনভাবে। একটা হলো, বেসরকারি ব্যাংক খোলার লাইসেন্স যাদের দেওয়া হয়েছে, তাদের অনেকের ব্যাংক পরিচালনার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। লাইসেন্সগুলো দেওয়া হয়েছে মূলত রাজনৈতিক স্বার্থে রাজনীতিকদের। এই রাজনীতিবিদেরা ব্যাংকগুলো রাজনৈতিক স্বার্থে এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেন। এটা হলো প্রথম সমস্যা। দ্বিতীয় সমস্যা হলো, যে সরকারি ব্যাংকগুলো আছে, সেগুলোর পরিচালনা পর্ষদেও রাজনীতিবিদদের মনোনয়ন দেওয়া হয়। রাজনীতিবিদেরা অনেক ভালো কাজ করতে পারেন, কিন্তু ব্যাংক চালানোর অভিজ্ঞতা তাঁদের নেই। এবং অনেক রাজনীতিবিদ এটাকে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উপায় হিসেবে গণ্য করেন। সুতরাং এই অবস্থার জন্য সরকার অনেকাংশে দায়ী। তৃতীয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতাও ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। কারণ, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেখানে আরও ব্যাংকের লাইসেন্স দিতে চাইছে না, সেখানে সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জোর করে অতিরিক্ত লাইসেন্স দিতে বাধ্য করছে। আমার মনে হয় না দেশে এতগুলো ব্যাংকের প্রয়োজন আছে। এই ব্যাংক ব্যবস্থা সম্পর্কে সরকার যদি অবিলম্বে সজাগ না হয়, তাহলে তার দুটি খারাপ পরিণতি দেখা দেবে। একটি হলো আমানতকারীদের স্বার্থ বিঘ্নিত হবে এবং তারা নিরুৎসাহিত হবে। আরেকটি হলো, দেশে সত্যিকারের বিনিয়োগ হবে না; যারা পয়সা নিয়ে পয়সা ফেরত দেবে না, তারাই ব্যাংক থেকে ঋণ পাচ্ছে এবং পাবে। দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি বাধাগ্রস্ত হবে। সুতরাং অর্থনীতির স্বার্থে এই ব্যবস্থা অবিলম্বে পরিবর্তনের জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।
মশিউল আলম: মানবাধিকার প্রসঙ্গে আরেকটি প্রশ্ন যুক্ত করা যায়, সেটা হচ্ছে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। এ বছর দেখা গেল, অনেকগুলো ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তারপর বিরুদ্ধ মত বা সরকারের সমালোচনা করে যাঁরা ফেসবুকে বা অন্যত্র লেখালেখি করেন, তাঁরা কেউ নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা হচ্ছে। এসব কারণে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং মূলধারার সংবাদমাধ্যমে একধরনের সেল্ফসেন্সরশিপ দেখা দিয়েছে। এটা কিসের লক্ষণ এবং এটা কোন দিকে যাচ্ছে?
আকবর আলি খান: এটা খুবই খারাপ লক্ষণ। এর একটি উপাদান হলো, আইনের অপব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে অভিযোগ আসছে যে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতেই লোকজন গুম হচ্ছে। এ ধরনের অভিযোগ আমরা সংবাদপত্রে দেখতে পাচ্ছি। এটাও আরেকটা উদ্বেগের কারণ। তিন নম্বর হলো, বিভিন্ন দলের মধ্যে যে অন্তর্ঘাতমূলক সংঘাত হচ্ছে, এতেও লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই সমস্ত মিলে আমাদের দেশে আসলে একটা গুমোট পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এবং এখানে কথা বলার স্বাধীনতা অনেকাংশে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ অবস্থা পরিবর্তনের জন্য সম্ভবত সিভিল সমাজকেও উদ্যোগ নিতে হবে, দেশের সব নাগরিককে উদ্যোগ নিতে হবে। যদি না নেওয়া হয় এবং এ পরিস্থিতি দীর্ঘদিন বিরাজ করে, তাহলে এখানে স্বেচ্ছাচারী শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথ সুগম হতে পারে।
মশিউল আলম: সিভিল সোসাইটিও তো নিরপেক্ষ ভূমিকায় নেই...
আকবর আলি খান: সিভিল সোসাইটি বাংলাদেশে অনেক দুর্বল, ক্রমশ আরও দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। কারণ সিভিল সোসাইটির মধ্যেই অনেক দ্বন্দ্ব রয়েছে, সিভিল সোসাইটির অনেক অংশ রাজনৈতিক প্রভাবে পড়েছে। তবুও যা আছে, সেটাও যদি সংগঠিত করা যায়, তাহলে অন্তত ক্ষীণ প্রতিবাদ হতে পারে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে দেশে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। যদি গণতন্ত্র সত্যিকার অর্থে প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে এ ধরনের পরিবেশ বিরাজ করতে পারে না।
মশিউল আলম: এ বছর আমরা বড় ধরনের বন্যার মুখোমুখি হয়েছিলাম, ব্যাপক ফসলহানি ঘটেছে। এর পরিণতিতে হোক, বা খাদ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি, অদক্ষতা বা পরিকল্পনাহীনতার কারণে হোক, চালের দাম অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়েছে। গত প্রায় এক দশকের মধ্যে চালের দাম সর্বোচ্চ হয়েছে।
আকবর আলি খান: এটা ঠিক যে দেশে চালের দাম বেড়েছে, আবার এটাও ঠিক যে দেশে খাদ্য উৎপাদনও অনেক বেড়েছে। ১৯৭০ সালে আমরা যেখানে প্রায় ১ কোটি টন খাদ্য উৎপাদন করতাম, সেখানে এখন ৩ কোটি ৮০ লাখ টন বা তার চেয়েও বেশি খাদ্য উৎপাদন করছি। কিন্তু খাদ্য উৎপাদন বাড়লেও একটা বড় সমস্যা আমাদের রয়ে গেছে। কারিগরি পরিবর্তনের ফলে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে, কিন্তু উৎপাদন খরচ চাষিরা পাচ্ছেন না। এঁদের জন্য খাদ্যের যে দাম নিশ্চিত করা দরকার, সেটা সরকার করতে পারছে না। এর ফলে বিরাট সমস্যা দেখা দিচ্ছে এবং সরকারের খাদ্য ব্যবস্থাপনার মধ্যেও দুর্বলতা রয়েছে। সরকার বলে যে তারা ইনসেনটিভ প্রাইসে কৃষকদের কাছ থেকে খাদ্য কিনছে, কিন্তু কৃষকেরা এই ইনসেনটিভ প্রাইসের সুফল পায় না। এটা ভোগ করছে মধ্যস্বত্বভোগীরা। কাজেই এই মধ্যস্বত্বভোগীদের ক্ষমতা হ্রাস না করলে এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ব্যবস্থা করা না হলে কৃষিব্যবস্থাতেও খারাপ প্রভাব পড়বে এবং খাদ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনা যাবে না। এই ক্ষেত্রে সরকারের অনেক কাজ করা দরকার। সবার সঙ্গে পরামর্শ করে এ সম্বন্ধে নীতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
মশিউল আলম: এই বছর প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের নিয়ে আমরা বিরাট সমস্যায় পড়েছি এবং এই সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। এ বিষয়ে আপনি কী ভাবেন?
আকবর আলি খান: রোহিঙ্গাদের যে ট্র্যাজেডি, এটা একবিংশ শতাব্দীর একটা উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এই ঘটনা বাংলাদেশ সৃষ্টি করেনি, কিন্তু তা বাংলাদেশের ওপর চেপে বসেছে। এই ঘটনা মোকাবিলার কোনো সহজ সমাধান নেই। সরকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা পেয়েছে, আবার অনেক বড় রাষ্ট্রের সহযোগিতা পায়নি। এর কারণ যে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর তৎপরতা, সেই বাহিনীর কাছে যাদের স্বার্থ রয়েছে, তারা তাদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। যেমন চীন ও রাশিয়া, এমনকি ভারতও। যদিও পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের সমর্থন আমরা পেয়েছি, কিন্তু যাদের সমর্থন প্রয়োজন তাদের সমর্থন পেতে পারিনি। সে জন্য আমাদের সামরিক দিক থেকে আরও তৎপর হতে হবে। তাদের সামরিক বাহিনী যে ধরনের আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে কাজ করছে, সেটাকে দমন করার মতো শক্তি যদি আমরা অর্জন করতে পারি, তাহলে তাদের কিছুটা বোধোদয় হতে পারে।
মশিউল আলম: জনপ্রশাসনের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে, জনগণ সঠিকভাবে সেবা পাচ্ছে না, দুর্নীতি বেড়ে গেছে। কিন্তু আবার আমলারা নিজেদের বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে নিচ্ছেন। এ রকম কেন হচ্ছে? এটা থেকে বেরোনোর পথ কী?
আকবর আলি খান: অল্প কথায় এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বেশ শক্ত ব্যাপার। এ বিষয়ে আমি একটা বই লিখেছি, সে বইয়ের নাম গ্রেশামস ল সিনড্রোম। এ বইয়ের মধ্যে বিস্তৃত বর্ণনা আছে আমাদের প্রশাসনের কী অবক্ষয় ঘটছে এবং কেন অবক্ষয় ঘটছে। আসলে বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলই এ দেশের প্রশাসনিক সমস্যা বুঝতে পারেনি। ব্রিটিশরা বাংলাদেশে যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল সেটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অনুপযুক্ত। আমাদের উচিত ছিল সেটাকে নতুন করে ঢেলে সাজানো, কিন্তু তা না করে ব্রিটিশদের ফেলে যাওয়া ব্যবস্থায় অল্পস্বল্প পরিবর্তন করে, সেটা অভিযোজন করে আমরা চালাতে গিয়েছি। এটা এভাবে চালানো সম্ভব নয়। শুধু তা-ই না, ব্রিটিশরা যে ধ্যানধারণার ওপরে কাজ করেছিল, সেসব ধ্যানধারণা থেকে এক শ বছর আগে যেসব কাজ করা হতো আমরা সেসব কাজ এখন করছি। পৃথিবীর কোথাও এ ধরনের প্রশাসন আছে বলে আমাদের জানা নেই। যেমন নিয়োগের কথা যদি ধরেন, বাংলাদেশে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কৃষিবিদ, কূটনীতিক, প্রশাসক এঁদের সবাইকে একই পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়। পৃথিবীর কোথাও এ ধরনের কাণ্ড হয় না। এবং আমাদের দেশে ২৫৭টি কোটা চালু করা হয়েছে, পৃথিবীর কোনো দেশে ২৫৭টি কোটা নেই এবং ২৫৭টি কোটা থাকলে বানরের পিঠা ভাগের মতো চাকরিবাকরি ভাগাভাগি করা হয়। এখন ভালো ছেলেরা আদৌ প্রশাসনে আসছে না এবং প্রশাসন সম্বন্ধে অনভিজ্ঞভাবে দেশ চালানোর ফলে আরও দুটি মারাত্মক কাজ হচ্ছে। একটি কাজ হলো, প্রশাসনিক কাজের ধাপগুলো ক্রমশ বাড়ানো হচ্ছে। পাকিস্তান আমলে চারটি ধাপ ছিল—সেকশন অফিসার, ডেপুটি সেক্রেটারি, জয়েন্ট সেক্রেটারি ও সেক্রেটারি। অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি ছিল অল্প কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে, যেখানে সেক্রেটারির কাজ খুব বেশি ছিল। সেই চারটি ধাপ এখন আটটি হয়েছে। আগে সেকশন অফিসার প্রথম নোট লিখতেন। এখন সেকশন অ্যাসিস্টেন্ট প্রথম নোট লেখেন। অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি বাংলাদেশ হওয়ার পরও অল্প কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে ছিল, আর বড় বড় করপোরেশনের চেয়ারম্যানরা ছিলেন। এখন প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে তিন-চারজন করে অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি করা হয়েছে এবং নিয়ম করা হয়েছে যে অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি হয়ে ফাইল যেতে হবে। সুতরাং আরেকটা স্তর হলো, সেটা হলো পঞ্চম স্তর এবং ষষ্ঠ স্তরে হলো সেক্রেটারি। সেক্রেটারির পরে, আগে ডেপুটি মিনিস্টারের কাছে কোনো ফাইলই যেত না। তাঁরা পার্লামেন্টে সেক্রেটারির কাজ করতেন, তাঁদের দায়িত্ব ছিল পার্লামেন্টে প্রশ্নের জবাব দেওয়া। এখন ডেপুটি মিনিস্টারদের কাছে ফাইল যায়, স্টেট মিনিস্টারদের কাছে ফাইল যায়, তারপরে মন্ত্রীর কাছে ফাইল যায়। এই আট দফায় ফাইল যদি উপরের দিকে যায় এবং নিচের দিকে নামে, তাহলে যদি সবাই অনেস্ট হয়, তবুও কমপক্ষে ১৬ দিন লেগে যাবে শুধু ফাইল ওঠানামা করতে। এ ছাড়া সমস্ত ক্ষমতা মন্ত্রীদের হাতে কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে। সব ফাইল প্রকৃতপক্ষে মন্ত্রীদের কাছে চলে যায়। এর ফলে কোনো সিদ্ধান্ত তাড়াতাড়ি পাওয়া সম্ভব হয় না। সিঙ্গাপুরের সরকারের কাছে যদি আপনি চিঠি লেখেন, হয়তো আপনি তিন দিন কিংবা চার দিনের মধ্যে জবাব পাবেন, বাংলাদেশে তিন মাসের মধ্যেও জবাব পাবেন কি না সন্দেহ আছে এবং কয় দিনে জবাব পাবেন এটা কেউ বলতে পারবে না। আমরা হাজার হাজার লোককে প্রমোশন দিয়েছি; হাজার হাজার লোককে প্রমোশন দিলে নিচের দিকের পদগুলো শূন্য হয়ে যায়। সচিবালয়ে এখন অতিরিক্ত সচিবেরা গড়াগড়ি খাচ্ছেন, যুগ্ম সচিবেরও কোনো অভাব নেই, কিন্তু নিচের দিকের পদে দেখা যাবে লোক নেই। অনেক জায়গায় দেখা যাবে অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার ল্যান্ড রেভিনিউ নেই। অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার ল্যান্ড রেভিনিউ কাজ করলে তো ফাইল ওপরের দিকে আসবে। নিচের দিকে কাজ করার লোক নেই, ওপরের দিকে সব লোকজন ফাইলের প্রত্যাশায় বসে আছে। এই এক অদ্ভুত ধরনের প্রশাসন; যাঁরা প্রশাসন সম্বন্ধে জানেন, তাঁরা এ ধরনের প্রশাসন মোটেও সমর্থন করবেন না। আমাদের এখানে যে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, সেটাও চাকরি দেওয়ার জন্য করা হচ্ছে। এত পদেরও কোনো দরকার নেই। বিশেষ করে বিসিএস অ্যাডমিনে যে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, এত নিয়োগের কোনো প্রয়োজন বাংলাদেশে নেই। কাজ নেই, কিন্তু পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। কাজ ছাড়া পদ সৃষ্টি করলে শুধু টাকার অপচয়ই হয় না, প্রশাসনিক দক্ষতাও কমে যায়।
মশিউল আলম: তাহলে কি আমরা বলতে পারি যে প্রশাসন একটা সেলফ-সার্ভিং করপোরেট গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে?
আকবর আলি খান: হ্যাঁ, এবং এদের বেতন অনেক বাড়ানো হয়েছে, এবং আমি ডেপুটি সেক্রেটারিদের গাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হওয়ার আগে হিসাব করে দেখেছিলাম, সরকারের বছরে দেড় শ-দুই শ কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে। এখন যদি তাঁদের সবাইকে গাড়ি দেওয়া হয় এবং গাড়ির জন্য অ্যাডভান্স দেওয়া হয়, তাহলে সরকারের হাজার কোটি টাকার ওপরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে, যেটার কোনো প্রয়োজন ছিল না। এভাবে একদিকে সরকারের অর্থের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের প্রশাসনিক অবক্ষয় ঘটছে। এগুলো হচ্ছে এ জন্য যে মূল সমস্যা যেগুলো সেগুলো কেউ দেখছে না। এবং জুডিশিয়ারির ক্ষেত্রেও একই রকম অবস্থা হয়েছে। জুডিশিয়ারিতে ৭৫০ খণ্ডকালীন ম্যাজিস্ট্রেটের বদলে ৭০০ ফুলটাইম জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু দেখা গেল জুডিশিয়ারিতে মামলার জট বাড়তেই আছে, আজও কমছে না। এসব সমস্যা নিয়ে আমি বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আমার মনে হয় এগুলো নিয়ে সব দলের চিন্তাভাবনা করার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু কোনো দলই এই সমস্যাগুলো নিয়ে চিন্তা করছে না। এ জন্য বাংলাদেশের প্রশাসনে অদূর ভবিষ্যতে কোনো উন্নতি হবে বলে আমি আশা করি না। যাঁরা আমলাতন্ত্রে আছেন, তাঁরা এই ব্যবস্থার সুবিধা ভোগ করছেন, তাঁরা এই ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন চাইবেন না। আর সরকারের দিক থেকে যদি দূরদর্শী নেতা না থাকে তাহলে এই ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে না। দল পরিবর্তন হতে পারে, সরকার পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু প্রশাসন পরিবর্তনের কোনো চিহ্নই এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না।
মশিউল আলম: প্রশাসনকে দিয়ে দেশ চালিয়ে সরকার টিকে থাকে। এদের খুশি রাখার জন্য এরা যা চায় সরকার তাই করে...
আকবর আলি খান: না, শুধু যা চায় তাই যে করে তা নয়, তাদের দিয়ে যেসব কাজ করানো হচ্ছে, এগুলো তাদের কাজ নয়। আবার তাদের সমস্ত ক্ষমতা এবং তাদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। বর্তমান ব্যবস্থায় সমস্ত ক্ষমতা মূলত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কেন্দ্রীভূত এবং তারপরে মন্ত্রীদের অফিসে কেন্দ্রীভূত। আমলাতন্ত্র অনেক দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের তবু পয়সা দিয়ে খুশি রাখা হচ্ছে এ জন্য যে তাঁদের অনেকে নির্বাচনের সময় রিটার্নিং অফিসার এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসারের কাজ করেন। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে সরকার এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে, কিন্তু প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে বর্তমানে যে ধরনের প্রশাসন চালু আছে, এটার কোনোই যৌক্তিকতা নেই।
মশিউল আলম: এখন আমরা একটু রাজনীতির প্রসঙ্গে আসি। বাংলাদেশে তো কয়েক বছর ধরে, বিশেষ করে ২০১৪ সালের নির্বাচনের পরে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি যেটাকে বলে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যেটা কাজ করে, সরকারের ভুলত্রুটির সমালোচনা, প্রতিবাদ, একটা বিরুদ্ধ মত, সেটা রাজনৈতিক অঙ্গনে নেই বললেই চলে। প্রধান প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল বিএনপি অভিযোগ করে তাদের রাস্তায় নামতে দেওয়া হয় না, জনসভা করতে দেওয়া হয় না, তারা কোণঠাসা। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের বছর চলে এল। তো সামনে কী হতে যাচ্ছে?
আকবর আলি খান: বাংলাদেশে সংঘাতের রাজনীতি বিরাজ করছে এবং বাংলাদেশে যে বর্তমান পরিস্থিতি, এটার জন্য দুটি দলই দায়ী। বর্তমানের সরকার বিএনপিকে কাজ করতে দিচ্ছে না, আবার বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন তারাও আওয়ামী লীগকে একইভাবে অত্যাচার করেছে, কাজ করতে দেয়নি। সুতরাং এই ব্যাপারে আমাদের কারও ওপরেই আশা করার কারণ নেই। তবে আশার কারণ দেখা যাচ্ছে দুটি। একটি হলো, গত নির্বাচন যখন সরকার করে, তখন শতকরা ৫০ ভাগের বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন হয়েছে। এটা গণতন্ত্রের কোনো লক্ষণ নয়। যদিও আদালত বলেছেন যে এই সরকার বৈধ এবং আদালতের আদেশ আমাদের সকলের জন্য বাধ্যতামূলক, কিন্তু নৈতিকভাবে এটা সরকারের একটা বড় পরাজয়। আমার মনে হয় সরকার এটা বুঝতে পেরেছে এবং সে জন্য সরকার চাচ্ছে যে বিরোধী দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। আর বিরোধী দল নির্বাচন বয়কট করে বর্তমানে খুব খারাপ আছে। প্রকৃতপক্ষে মোট ভোটারের সংখ্যার ভিত্তিতে যদি আমরা দেখি, তাহলে বাংলাদেশে বিরোধী দল হওয়ার কথা বিএনপির, জাতীয় পার্টির নয়। কিন্তু সেই আসনে জাতীয় পার্টি বর্তমানে বসে আছে। বিএনপি অনেক সুযোগ-সুবিধা হারাচ্ছে এবং তাদের অসুবিধা হচ্ছে। সুতরাং বিএনপি সম্ভবত কিছুটা ছাড় দিয়ে হলেও কমপক্ষে বিরোধী দলের আসন পাওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত হবে। এই দুটিই হলো আশার লক্ষণ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কী হবে, এটা শেষ মুহূর্ত ছাড়া বলা যাবে না। যদি নির্বাচনের একটা মোটামুটি আবহাওয়া সৃষ্টি করা হয় এবং সেই আবহাওয়ায় যদি দুই দল অংশ নেয় এবং সরকার যদি বিরোধী দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেয়, তাহলে হয়তো নির্বাচন হবে। এবং এটা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কিন্তু হবেই, এটা নিশ্চিতভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব নয়।
মশিউল আলম: তাহলে দেখা যাচ্ছে, এ বছর বড় বন্যায় ব্যাপক ফসলহানি, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীর আশ্রয়, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সংকোচন, নির্বাচনের বছর কিন্তু রাজনীতিতে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই বলে নির্বাচন হবে কি না বা হলে কেমন নির্বাচন হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা—এই সমস্ত কিছুর পটভূমিতে আমরা একটা নতুন বছরে পদার্পণ করছি। এই পরিস্থিতিতে আমাদের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হতে পারে? কারণ এগুলোর সবই আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে।
আকবর আলি খান: আপনি যেগুলো বললেন, এগুলো অবশ্যই উপাদান। বাংলাদেশে গত এক দশকের বেশি সময় ধরে যে অর্থনৈতিক অগ্রগতি হচ্ছে তা বেশ সন্তোষজনক। ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হচ্ছে না ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হচ্ছে এ নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও যদি ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয় তাহলে এটা নিশ্চয়ই একটা সাফল্যের স্বাক্ষর, কারণ পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে এত দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে না। কিন্তু এই পরিবর্তনের পেছনে অবদান রয়েছে বাংলাদেশের কৃষকদের, পোশাকশ্রমিকদের এবং যাঁরা বিদেশে কাজ করে দেশে অর্থ পাঠাচ্ছেন তাঁদের। মূলত এই তিনটি গোষ্ঠীই বাংলাদেশের অর্থনীতির নিয়ন্তা। যদিও অর্থমন্ত্রীরা দাবি করেন যে তাঁদের নীতির জন্যই এই সাফল্য অর্জিত হচ্ছে, আমার মনে হয় যে কথাটা পুরোপুরি সত্য নয়। ৭৫ ভাগ অবদান এই তিনটি গোষ্ঠীর আর ২৫ ভাগ অবদান সরকারের। এই তিনটি গোষ্ঠীরই ভিন্ন ভিন্ন সমস্যা রয়েছে। এই তিনটি গোষ্ঠীর সমস্যা সম্পর্কে আমরা যদি সজাগ না হই, তাহলে অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে পড়বে। বিদেশে যাঁরা কাজ করছেন, বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যে, সেখানে যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে, তার ফলে সেখান থেকে প্রেরিত অর্থের পরিমাণ কমে যাবে। যদি কমে যায়, তাহলে এটা আমাদের অর্থনীতির অগ্রগতিকে শ্লথ করবে। বিশেষ করে গৃহায়ণ খাতে ধস নামার এবং দেশি শিল্পপণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এগুলো সম্বন্ধে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। দুই নম্বর হলো, কৃষি খাতে কৃষকেরা উৎপাদন করছেন কিন্তু পণ্যের দাম পাচ্ছেন না। সুতরাং এই সমস্যার যদি সমাধান না করা হয়, তাহলে বছরের পর বছর কৃষকেরা লোকসানের বোঝা টানতে পারবেন না। সুতরাং সেখানেও ঝুঁকি রয়েছে। আর পোশাকশিল্প মূলত বৈদেশিক বাজারের ওপর নির্ভরশীল; কিন্তু পোশাকশিল্পের একটা বড় সংকট অদূর ভবিষ্যতে আসবে। সেটা হলো পোশাকশিল্পে কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনেক সস্তায় নিজেদের মাপ অনুসারে পোশাক তৈরি করা সম্ভব। ইংরেজিতে এটাকে বলে ‘কাস্টোমাইজড ড্রেস’। এখন যে ধরনের পোশাক আমরা বিদেশে পাঠাচ্ছি, সেগুলো কতকগুলো বড় মাপের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়, যেগুলো সবার গায়ে লাগে না। সবার গায়ে লাগে এমন পোশাক প্রযুক্তি প্রয়োগ করে উন্নত দেশে তৈরি করা সম্ভব। এর ফলে পোশাক খাতে যাঁরা বিদেশে কারিগরি পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করতে পারবেন না, তাঁরা বিপদের সামনে পড়বেন। এ ছাড়া বিদেশি প্রতিযোগিতা বাড়ছে এবং অর্থনৈতিক উন্নতির ফলে আমাদের দেশে মজুরি বাড়ছে। এই ঝামেলাগুলো ছাড়া আর তিনটি বড় ঝামেলা আমাদের হয়েছে। প্রথমটি হলো আমরা অবকাঠামো খাতে অনেকগুলো বড় প্রকল্প নিয়েছি। আমাদের বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা সীমিত এবং আমাদের দেশে বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্নীতি ও অর্থ অপচয়ের অভিযোগ আসে। আমরা যেসব প্রকল্প পিপিপিতে এবং অন্যান্য খাতে গ্রহণ করেছি, এগুলোর অর্থনৈতিক দায় বিদেশি মুদ্রায় পরিশোধ করতে হবে। সুতরাং আমরা যদি ঠিকমতো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে না পারি, তাহলে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার ওপরে প্রচণ্ড চাপ পড়বে। এসব ঝুঁকি আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সমস্যাগুলো সম্পর্কে যদি সরকার সতর্ক থাকে এবং ব্যবস্থা নেয়, তাহলে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ থেকে বাড়ানো সম্ভব। দ্বিতীয়ত ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা না হলে দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ বিঘ্নিত হবে। তৃতীয়ত, প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য অবশ্যই সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। সুশাসন নিশ্চিত করতে না পারলে এখানে বৈদেশিক বিনিয়োগ আসবে না। আমরা এখন যে বৈদেশিক বিনিয়োগ পাই, সেগুলো তাদের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার ফলে পাই। কিন্তু যেসব দেশে সুশাসন নেই সেসব দেশে এসব বিদেশি বিনিয়োগ আসে না। সুতরাং আমাদের সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
মশিউল আলম: না হলে আমাদের অর্থনীতির ঝুঁকি...
আকবর আলি খান: আগামী বছরেই হয়তো নয়, কিন্তু আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যেই এই ঝুঁকিগুলোর প্রভাব আমাদের অর্থনীতিতে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক ঝুঁকিই আমাদের নাড়িয়ে দিতে পারে, সে ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি অনেক শ্লথ হয়ে যেতে পারে।
মশিউল আলম: আপনাকে ধন্যবাদ।
আকবর আলি খান: ধন্যবাদ।

তারেক, বাবরসহ ৪৯ জনের মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসংক্রান্ত দুটি মামলায় তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টুসহ ৪৯ জন আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। আজ সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান আইনগত বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে এ শাস্তি দাবি করেন। গত ২৭ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ ২৪৫ জনের সাক্ষ্য পর্যবেক্ষণের আলোকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেছিল। আজ ১ জানুয়ারি (২০১৮) আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক এবং রাষ্ট্রপক্ষে আইনগত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য ছিল। আসামিপক্ষ সময় চেয়ে আবেদন করায় আদালত তা মঞ্জুর করে কাল মঙ্গলবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন। পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে সাবেক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত বিশেষ এজলাসে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় করা হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের দুই মামলার বিচারকাজ চলছে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় ২২ জন নিহত এবং শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার যত চেষ্টা হয়,
এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা হলো চারদলীয় জোট সরকার আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে গ্রেনেড হামলা। ওই হামলায় মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের ২২ নেতা-কর্মী নিহত হন। আহত হন শেখ হাসিনাসহ শত শত নেতা-কর্মী। এই ঘটনায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মামলা দিতে গেলে পুলিশ সে মামলা নেয়নি। তার আগে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে। তৎকালীন সরকার মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করে। নোয়াখালীর গ্রাম থেকে জজ মিয়া নামের এক যুবককে ধরে নিয়ে এসে আদালতে মিথ্যা জবানবন্দি আদায় করে। পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে মামলাটির নতুন করে তদন্ত শুরু করে এবং একের পর এক সত্য বেরিয়ে আসতে থাকে। পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে অধিকতর তদন্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়। এতে বিএনপির নেতা তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ আরও অনেকের নাম আসে।

চলছে বই উৎসব

নতুন বছরের শুরুর দিনেই সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুরু হয়েছে পাঠ্যপুস্তক উৎসব। শিক্ষার্থীদের হাতে বিনা মূল্যে নতুন বই তুলে দিয়ে এ উৎসব পালন করা হচ্ছে। আজ সোমবার রাজধানীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আজিমপুর সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে পৃথকভাবে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। আজ সকাল ১০টার পর আজিমপুর সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। উৎসবে অংশ নেয় রাজধানী বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসার হাজারো শিক্ষার্থী। আজ থেকে সারা দেশে ৪ কোটি ৩৭ লাখ ছয় হাজার ৮৯৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য মোট ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২টি বই বিনা মূল্যের দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন রঙের বই হাতে নিয়ে আনন্দে মেতে ওঠে শিক্ষার্থীরা। উৎসবে যোগ দিতে এসেছিল রাজধানীর বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র লাশিন হাসান। নতুন বই পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করছিল। প্রথম আলোকে বলে, ‘এক্সসাইটেড লাগছে।’
জিমপুর সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজে চতুর্থ শ্রেণিতে ওঠার অপেক্ষায় থাকা হাবিবা আক্তার বলে ওঠে, ‘খুব ভালো লাগছে।’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, বইয়ে ছোটখাটো ত্রুটি থাকতে পারে। তবে সব জায়গায় বই চলে গেছে। সব শিক্ষার্থী বই পাচ্ছে। এবার মাধ্যমিকের ১২টি বিষয়ের বই সুখপাঠ্য করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব বই সুখপাঠ্য করা হবে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এস এম ওয়াহিদউজ্জামান, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মাহাবুবুর রহমান, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অশোক কুমার বিশ্বাস, বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ প্রমুখ।

বাণিজ্য মেলার মূল ফটক পদ্মা সেতুর আদলে

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ২০২০ সাল থেকে পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা হবে। আজ রোববার তিনি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে মেলা উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও নতুন আঙ্গিকে মেলা চত্বর সাজানো হয়েছে। পদ্মা সেতুর আদলে মূল ফটক নির্মাণ করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন আকারে দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় এ প্যাভিলিয়নটি নান্দনিক করে সাজানো হয়েছে, যাতে নতুন প্রজন্ম, দেশি-বিদেশি সকলে দেশ ও বঙ্গবন্ধুর সত্যিকার ইতিহাস জানতে পারে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সত্যের এই ইতিহাসকে ম্লান করার চেষ্টা করেছিল স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া। সাতই মার্চের ভাষণ উচ্চারণ করতে দিতে চায়নি। আমাদের মাইক কেড়ে নেওয়া হতো। সেই ভাষণ আজকে বিশ্বস্বীকৃত হয়েছে। ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসেবে গণ্য হয়েছে।’ তিনি বিশ্বের বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের অধীনেই এবারের নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন পরিচালনা করবেন। সুতরাং আশা করব, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন এবং একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’ বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কারও জন্য অপেক্ষা নয়, সংবিধান অনুসারে নির্বাচন হবে। আগামীকাল সোমবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পশ্চিম পাশের মাঠে এ মেলার উদ্বোধন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেলার উদ্বোধন করবেন। ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এ মেলা উন্মুক্ত থাকবে। প্রবেশ টিকিটের মূল্য যথাক্রমে প্রাপ্ত বয়স্ক ৩০ টাকা এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ২০ টাকা।
এবার ৫৮৯টি বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্যাভিলিয়ন ও স্টল নিয়ে মেলা প্রাঙ্গণ সাজানো হয়েছে। থাইল্যান্ড, ইরান, তুরস্ক, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, হংকং, সিঙ্গাপুর, মরিশাস ও দক্ষিণ কোরিয়ার ৪৩টি প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নিচ্ছে। মেলায় ১০০টি সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ডিএমপি সিসিটিভি মনিটর করবেন। প্রবেশ গেটে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের ব্যবস্থা রয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, বিজিবি ছাড়াও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে রোভার স্কাউটরা থাকবে। এ ছাড়া বাণিজ্য মেলাকে পর্যায়ক্রমে ৩৬০ ডিগ্রি ভার্চ্যুয়াল ট্যুরের আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। গুগল স্ট্রিট ভিউ, ওয়েবসাইট, ফেসবুক, গুগলে দেশ-বিদেশ থেকে যে–কেউ, যেকোনো সময়ে অনলাইনে VR Goggles-এর সাহায্যে অনলাইনে বসে বাণিজ্যমেলা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারবে। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নের ৩৬০ ডিগ্রি ইনসাইডসহ বঙ্গবন্ধুর দুর্লভ ছবি, তাঁর জীবনের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র www.ditflive.com, www.bangabandhupavilion.com/org ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে উপভোগ করা যাবে। বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণটি 3D Truk-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন স্টলের পাশে প্রদর্শন করার ব্যবস্থা রয়েছে। ডিআইটিএফ-২০১৮ এর লে-আউট প্ল্যান এবার ডিজিটাল ব্লো-আপ বোর্ডের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হবে।

উন্নয়নশীল দেশের পথে যাত্রা

নতুন বছরে বাংলাদেশের জন্য একটি সুখবর অপেক্ষা করছে। বছরটি অর্থনীতি ও সামাজিকভাবে বড় একটি উত্তরণের আনন্দের উপলক্ষ হতে পারে। সেটি হলো স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশের দিকে যাত্রা শুরু করবে বাংলাদেশ। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বের হওয়ার জন্য আবেদন করার যোগ্যতা অর্জন করবে এই বছরেই। জাতিসংঘের মূল্যায়নেই এটা হবে। তবে নানা আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। উন্নয়নকে টেকসই করতে মাথাপিছু আয়ের পাশাপাশি সামাজিক বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সূচক তৈরি করে থাকে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)। তারই ভিত্তিতে স্বল্পোন্নত, উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশ—তিন শ্রেণিতে ভাগ করে সিডিপি।
বাংলাদেশসহ ৪৮টি দেশ এখন স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় আছে। প্রতি তিন বছর পরপর জাতিসংঘের সিডিপি এ তালিকায় থাকা দেশগুলোর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে। অর্থনীতির সার্বিক গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে সিডিপির ২০১৮ সালের মূল্যায়নে বাংলাদেশের এলডিসির তালিকা বের হওয়ার যোগ্যতা অর্জন প্রায় নিশ্চিত। আগামী মার্চে এই মূল্যায়ন প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হতে পারে। ইতিমধ্যে জাতিসংঘের সিডিপির কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরকারের উচ্চ মহলের একাধিক আলোচনা হয়েছে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের একাধিক প্রতিনিধিদল জাতিসংঘে গিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন সূচকের সর্বশেষ অবস্থান অবহিত করে এসেছে। এরপর গত অক্টোবর মাসে জাতিসংঘের সিডিপির একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ ঘুরে গেছে। জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য শামসুল আলম বলেন, ‘২০১৮ সালটি হবে বাংলাদেশের জন্য মাইলফলক। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তর প্রক্রিয়ায় বড় অর্জন হবে।’
পদ্ধতি
স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে তিনটি বিষয় বিবেচনা করা হয়। এগুলো হলো মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি। এসব সূচকে আগের তিন বছরের গড় পয়েন্ট হিসাব করা হয়। উন্নয়নশীল দেশ হতে কমপক্ষে দুটি সূচকে ‘গ্র্যাজুয়েট’ হতে হবে। সিডিপির সর্বশেষ ২০১৫ সালের পর্যালোচনায় বাংলাদেশ একটি সূচকে উত্তীর্ণ হয়েছিল। ২০১৮ সালের পর্যালোচনায় যোগ্যতা অর্জন করলে পরের তিন বছর সূচকগুলোতে একই অবস্থা বজায় রাখতে হবে। এরপর উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সুপারিশ করবে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিল (ইকোসোক)। আরও তিন বছর পর ২০২৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা দেওয়া হবে।
মূল্যায়ন
২০১৫ সালের সিডিপির মূল্যায়নে দেখা গেছে, অর্থনৈতিক ঝুঁকি সূচকে বাংলাদেশের ২৫ দশমিক ১ পয়েন্ট রয়েছে। উন্নয়নশীল দেশ হতে এ সূচকে ৩২ পয়েন্ট বা তার নিচে থাকতে হবে। মানবসম্পদ সূচকে ৬৬ বা এর বেশি পয়েন্ট পেতে হবে। বাংলাদেশের রয়েছে ৬৩ দশমিক ৮ পয়েন্ট। মাথাপিছু আয় ১ হাজার ২৪২ মার্কিন ডলার থাকতে হবে। বাংলাদেশের রয়েছে ৯২৩ ডলার। মাথাপিছু আয় হিসাবটি জাতিসংঘ করেছে অ্যাটলাস পদ্ধতিতে। অন্যদিকে জাতিসংঘের সিডিপির সঙ্গে সরকারের বৈঠকে যেসব তথ্য-উপাত্ত দেওয়া হয়েছে, তাতে দেখা গেছে ২০১৮ সালে মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অর্জিত পয়েন্ট হবে ৭২ দশমিক ৮। অর্থনৈতিক ঝুঁকি সূচকে ২৫ পয়েন্ট। আর মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে ১ হাজার ২৭২ ডলার। সেই হিসাবে তিন সূচকেই উত্তীর্ণ হবে বাংলাদেশ।