Friday, November 8, 2013

নির্বাচনী কূটনীতি-২: ভরসা রাখুন বাংলাদেশের জনগণে by মিজানুর রহমান খান

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস ব্রিফিংয়ে গত ৩১ অক্টোবর বাংলাদেশসংক্রান্ত দুটি প্রশ্ন উঠেছিল। গতকালের লেখায় প্রথমটি আলোচনা করেছি।

নির্বাচনী কূটনীতি-১: বাংলাদেশ নিয়ে ভারত-মার্কিন স্নায়ুযুদ্ধ by মিজানুর রহমান খান

যদি একদিন প্রমাণ মেলে যে আসন্ন নির্বাচনে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশবিষয়ক কথিত সম্ভাব্য অবস্থান দুই বড় দলের সমঝোতার পথে বাধা হয়েছিল,

গদ্যকার্টুন- কুকুরের এমবিএ ডিগ্রি ও অন্যান্য by আনিসুল হক

একটা কুকুর লাভ করেছে এমবিএ ডিগ্রি। আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে। বিবিসি নিউজনাইট এই তথ্য উন্মোচন করেছে।

নির্বাচনী রাজনীতি- মানুষের হিসাব ভোটের হিসাব by মলয় ভৌমিক

হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেতা নরেন্দ্র মোদি যত দিন বেঁচে থাকবেন, ভারতের গুজরাট রাজ্যের সংখ্যালঘু নির্যাতনের দায় তত দিন তাঁর পিছু ধাওয়া করবে।

সোনাদিয়ায় আসার জন্য ধন্যবাদ by লরেন্স লিফশুল্ৎজ

আমাদের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারও মুখোমুখি হওয়ার মতো ব্যাপারগুলো প্রায়ই অপ্রত্যাশিতভাবে ঘটে যায়। কোনো একটি ঘরের অন্য পাশে কাউকে আমরা দেখি এবং তার সঙ্গে কথায় মগ্ন হয়ে পড়ি।

খালেদার কার্যালয় ঘিরে পুলিশ

বিরোধী নেতা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

লিফশুল্ৎজ: বাংলাদেশবান্ধব মার্কিন সাংবাদিক by মতিউর রহমান

লরেন্স লিফশুল্ৎজ গ্রামের মানুষ। নিউইয়র্ক শহরের বাইরের একটি গ্রামে তিনি বেড়ে উঠেছিলেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের দামামা তরুণ লিফশুল্ৎজকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল।

গণতন্ত্র- বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি by আনিসুজ্জামান

১৯৫০ সালের ফেব্রুয়ারি মাস। পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ববাংলায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সূচনা হয়েছে। বরিশাল জেলার আগরপুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণদিয়া গ্রামে কয়েক হাজার হিন্দু আশ্রয় নেয়।

গণতন্ত্র- সবার আগে শিশুর পুষ্টি by ফজলে হাসান আবেদ

উন্নয়নসংক্রান্ত যেকোনো আলোচনাতেই বাংলাদেশ এখন একটি পরিচিত নাম। উন্নয়নের প্রায় প্রতিটি সূচকেই আমাদের উল্লেখ করার মতো অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

পরিচয় পেল ১৫৭টি লাশ- জুরাইন কবরস্থানে স্বজনদের আহাজারি

কবরের নম্বর ১৫৫। সাড়ে ছয় মাস ধরে শুধু এই নম্বরটিই ছিল কবরটির পরিচয়। গতকাল এই কবরে শায়িতার পরিচয় জানা গেছে।

সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক ভূমিকায় বাদ সাধবেন না হাসিনা

বাংলাদেশে বিডিআর বিদ্রোহ মামলার রায় এমন সময়ে এলো যখন বিভিন্ন জনমত জরিপ বলছে, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি আওয়ামী লীগের চেয়ে অনেক বেশি জনপ্রিয়।

মানুষের উদ্যোগ- আশার আলোয় উদ্ভাসিত দেশ by মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

বাংলাদেশ! সেই তলাবিহীন ঝুড়ির দেশটা! সেই দেশটাকে সপ্তদশ-অষ্টাদশ শতাব্দীতে বিদেশি সওদাগর-বণিকেরাই না বলত নিতল দেশ, এমন এক দেশ যার সোনা-রুপার খাঁই-খাকতির শেষ ছিল না। বিদেশি আমদানিকারক-সওদাগরেরা সোনা-রুপা পাওনায় পরিশোধ করতে হালাকান ছিলেন।

সালিসের পর খুন হন খায়রুল by কমল জোহা খান ও আব্দুল্লাহিল ওয়ারিশ

যুবলীগের নেতা তৈয়ব আলীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব নিরসনে সালিস বৈঠকে বসেও প্রাণে রক্ষা পাননি আওয়ামী লীগের নেতা ও পরিবহন ব্যবসায়ী খায়রুল আলম মোল্লা।

আগের চেয়েও খোলামেলা কাটরিনা

আব্বাস মাস্তান পরিচালিত ‘রেস’ এবং ‘রেস-২’ ছবি দুটি বলিউড বক্স অফিসে বেশ ব্যবসা সফলতা অর্জন করেছে।

রুদ্র অনির্বাণ by সভ্যতা

পানাম নগরে বুড়ো বিকেল এসে চিতই পিঠার ঘ্রাণে ধোঁয়ার বিভ্রমে বলে গেল—কোনো সভ্যতাই বিলুপ্ত হয় না; যেমন স্রোতহীন নদীরও থাকে চোরাটান, বায়ব উচ্ছ্বাস, রতি-অবসাদ। কোনো কোনো বিকেলে তাই ঘুমিয়ে পড়ার আগে পরিযায়ী পাখির পালকে গেঁথে উড়ে আসে দূর দূর সভ্যতার লিপি ও লীলা। সেখানে গুপ্তকথা, চিত্রভাষ, নৃত্যভঙ্গি ও ইশারালিখনে মুদ্রিত পরবর্তী পথ ও গতির আকাঙ্ক্ষা। সেই আকাঙ্ক্ষা আজ বুঝেছি তোমার কাছে এসে,
মানবিকা, নিরিবিলি গাছের গোড়ায় বসে প্রাচীন ভবনের পরিত্যক্ত হাওয়ার ভাষ্যে। অপ্রমেয় ক্ষরণে ও উন্মাদনে একদিন যে পাখিটি উড়েছিল পানামের আকাশে আকাশে তার পাশে তুমিও ছিলে! আর আমি এতকাল পরে পর্যটকবাহুর বন্ধনে এসে জুড়েছি অনিবার্য বিহারে; সযত্নে নিয়েছি তুলে তোমার হাসির রেণু, কান্নার কণা আর লীলার লাবণ্য। পতনের যত রীতি, তারও অধিক ওড়ার বাসনা মেনে লিখছি সুপ্ত সভ্যতার ইতিকথা।

বিষপ্রয়োগেই আরাফাতকে হত্যা

বিষাক্ত পোলোনিয়ামের তেজস্ক্রিয়তাতেই মৃত্যু ঘটেছিল ফিলিস্তিন মুক্তি আন্দোলনের নেতা ইয়াসির আরাফাতের। বুধবার মুইস ফরেনসিক রিপোর্টের বরাত দিয়ে বিবিসি ও আলজাজিরার প্রতিবেদনে চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী এ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এই তেজস্ক্রিয় পদার্থটি এতটাই বিষাক্ত ও ধ্বংসাত্মক যে মাত্র এক গ্রাম পোলোনিয়ামের কারণে এক কোটির বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। পোলোনিয়াম খুবই দুর্লভ এবং অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় পদার্থ। শরীরের ভেতরে প্রবেশের পরই পোলোনিয়ামের ভয়াবহ ক্ষমতা সক্রিয় হয়। এর ক্ষমতা এতই মারাত্মক যে মাত্র ১০ ন্যানোগ্রাম পোলোনিয়াম শরীরে ঢুকলেই মানুষের মৃত্যু হয়।
প্রায় এক কোটি মানুষকে হত্যা করতে এক গ্রাম পোলোনিয়াম যথেষ্ট। বিবিসি জানায়, সুইজারল্যান্ডের বিজ্ঞানীরা বলছেন তারা ইয়াসির আরাফাতের দেহাবশেষ গবেষণার পর তার হাড়ে বিষাক্ত পোলোনিয়ামের সন্ধান পেয়েছেন। আরাফাতের পাজর ও নিতম্বের হাড়ে এবং শরীরের অঙ্গ মিশে যাওয়া মাটি থেকে নেয়া নমুনায় পোলেনিয়াম’র উচ্চমাত্রা পাওয়া গেছে। যে মাত্রাটি পাওয়া গেছে তা মানবদেহের স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে ১৮ গুণ বেশি। প্যারিসের একটি হাসপাতালে ২০০৪ সালের ১১ নভেম্বর মারা যান ইয়াসির আরাফাত। তখন মৃত্যুর কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। কিন্তু তাকে হত্যা করা হয়েছে এমন বিতর্ক বেশ কিছুদিন ধরে চলে আসছিল। বিষপ্রয়োগে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে এমন সন্দেহ ওঠায় মৃত্যুর প্রায় আট বছর পর ইয়াসির আরাফাতের দেহাবশেষ কবর থেকে ২০১২ সালে তোলা হয়েছে। এদিকে, শুরু থেকেই অনেক ফিলিস্তিনিদের সন্দেহ ছিল, তাদের নেতাকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয় এবং এর পেছনে ইসরাইলের হাত রয়েছে। তবে এর আগে হত্যার কয়েকটি ষড়যন্ত্রের তথ্য ছাড়া এই সন্দেহের পক্ষে কোনো জোরালো প্রমাণ ছিল না। আর ইসরাইলও এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল। তবে আরাফাতকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে বলে আল জাজিরার এক প্রামাণ্যচিত্রে দাবি করা হলে নতুন করে তা নিয়ে আলোচনা ওঠে।
উল্লেখ্য, গত বছর নভেম্বরে সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স ও রাশিয়ার গবেষক দল ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের অধিকৃত রামাল্লার সমাধি থেকে আরাফাতের মরদেহ উত্তোলন করে নমুনা সংগ্রহ করে।
আরাফাত বৃত্তান্ত
ফিলিস্তিন ন্যাশনাল অথরিটি’র
প্রথম প্রেসিডেন্ট কার্যালয়
জন্ম আগস্ট ৪ অথবা আগস্ট ২৪, ১৯২৯ কায়রো
মৃত্যু নভেম্বর ১১, ২০০৪ (৭৫ বছর) প্যারিস
জাতীয়তা ফিলিস্তিনি
রাজনৈতিক দল ফাতাহ
দাম্পত্য সঙ্গী সুহা আরাফাত

দু দশক পর নিউইয়র্কে ডেমোক্রেটিক মেয়র

দীর্ঘ দু’ দশক পর নিউইয়র্ক শহরের মেয়র নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক দলের বিল ডি ব্লাসিও। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বড় ধরনের জয় পাওয়ার পর তিনি মেয়র মিশেল ব্ল–মবার্গের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় নির্বাচনেও ডেমোক্রেটরা বিজয়ী হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০১২ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পর দেশটিতে এটিই ছিল বড় ধরণের কোনো নির্বাচন। নিউইয়র্কের সিটি নির্বাচনে শতকরা ৭৩ ভাগ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্রেটিক দলের ডি ব্লাসিও। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্ব^ী রিপাবলিকান দলের প্রার্থী জো লোথা পেয়েছেন মাত্র ২৪ ভাগ ভোট।
১৯৯৩ সালের পর এবারই প্রথম ডেমোক্রেটিক দলের কোনো নেতা নিউইয়র্কের মেয়র হচ্ছেন। এর আগে রিপাবলিকান দলের মিশেল ব্লুমবার্গের গত তিন নির্বাচনে একটানা বিজয়ী হয়ে শহরের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এদিকে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ভার্জিনিয়ার গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের কেন কুসিনেলিকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন ডেমোক্রেট নেতা টেরি ম্যাক অলিফে। দুজনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি। তবে নিউজার্সির প্রাদেশিক নির্বাচনে অতি সহজে গভর্নর হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন রিপাবলিকান দলের ক্রিস ক্রিসটাই। বিবিসি।

কারা হাসপাতালে মুরসির প্রথম রাত

মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসিকে কারাগারের প্রথম রাত হাসপাতালে কাটাতে হয়েছে। মিসরের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিবিসি নিউজ এ খবর জানায়। মুরসিকে সোমবার আদালতে হাজির করার পর দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী আলেকজান্দ্রিয়ার মরু অঞ্চলের সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত একটি কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। গত জুলাই মাসে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে উৎখাতের পর এই প্রথম তাকে কোনো বেসামরিক কারাগারে পাঠানো হল।
এর আগে মুরসিকে গোপন সামরিক স্থাপনায় আটক রাখা হয়েছিল। কারাগারে নিয়ে আসার পর ৬২ বছর বয়সী মুরসির রক্তচাপ এবং রক্তে ডায়াবেটিসের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কথা জানালে তাকে কারা হাসপাতালের একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিসরীয় কর্মকর্তারা এ তথ্য দিয়েছেন। কক্ষটিতে টিভি এবং আলাদা বাথরুম আছে বলে মিসরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এছাড়া নিয়মিত মুরসির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছে ওই মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশ নিয়ে ভারত-মার্কিন স্নায়ুযুদ্ধ

যদি একদিন প্রমাণ মেলে যে আসন্ন নির্বাচনে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশবিষয়ক কথিত সম্ভাব্য অবস্থান দুই বড় দলের সমঝোতার পথে বাধা হয়েছিল, তবে তা জাতিগত গভীর অনুশোচনার কারণ হতে পারে। দুই দলের দুটি অভিন্ন নির্বাচনী বৈশিষ্ট্য। এক. নির্বাচনী বছরে রক্তস্নান। গত চার নির্বাচনী বছরে গড়ে খুন ২৪৩। দুই. ভারত ও আমেরিকার করুণা ভিক্ষা করা। ২০০৬ সালে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে সংলাপে বসতে আব্দুল জলিল প্রস্তুত। ক্ষমতাসীন আবদুল মান্নান ভূঁইয়াকে ‘সার্বভৌমত্ব’ রোগে ধরল। দূতের বাসায় বৈঠক হলো না। ভারত এ থেকে তফাতে থাকে। তবে নির্বাচনে সহায়তার উড়ো খবর ভারতকে ঘিরেই ওড়ে। ২০০১ সালে নির্বাচন হলো। দুই বছর পর ভারতের এক বর্ষীয়ান সাংবাদিক ঢাকায় এলেন। এক শীর্ষ নেতার সঙ্গে একান্তে দেখা করলেন। ক্ষুব্ধ নেতা বললেন, বিএনপিকে এনেছেন, ঠেলা সামলান। তিনি দিল্লি ফিরলেন। ভারতীয় জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। পরে ওই সাংবাদিক আবার ঢাকায় এলেন। তিনি তখন ওই ভারতীয় নেতার হিন্দি সংলাপ আরেক জ্যেষ্ঠ বাংলাদেশি সাংবাদিকের কাছে রসিয়ে বয়ান করলেন। বাংলাদেশ নেতার আক্ষেপ শুনে ওই ভারতীয় নেতা হতবাক।
লন্ডনের প্রভাবশালী দি ইকোনমিস্ট (৩০ জুলাই ২০১১) ২০০৮ সালের নির্বাচনে ‘ভারতীয় অর্থ ও পরামর্শে আওয়ামী লীগের বিজয়’ লাভের তথ্য দিল। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বললেন, এটা অপপ্রচার। অকাট্য যুক্তি দিলেন, মানুষের ভোটেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু দুই বড় দল আসলেই কেবল মানুষের ভরসা করে না। মানুষ এক-এগারোকে স্বাগত জানিয়েছিল। দুই দলের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ফলে এসেছিল এক-এগারো। অথচ বলা হচ্ছে, নাগরিক সমাজ কূটনীতিকদের ঘাড়ে চড়িয়ে সেটা এনেছে। দুই নেত্রীর জন্য বিদেশিদের দ্বারা প্রভাবিত না হওয়া এখন একটা বড় চ্যালেঞ্জ। ঘটনা ঘটতে নয়, ঘটনা ঘটার পরে তাঁরা নিশ্চিতই ভূমিকা রাখতে পারেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ায় ইন্দ্রানী বাগচীর একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশের নির্বাচন নীতি প্রশ্নে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিভক্তির খবরটি সামগ্রিকভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। ইউএনবি ওই প্রতিবেদনটি টাইমস অব ইন্ডিয়ার বরাতে ওই দিনই ঢাকায় পরিবেশন করেছে। এরপর সুবীর ভৌমিকও মোটামুটি একই বার্তা পৌঁছে দেন। ইন্দ্রানী বাগচী টাইমস অব ইন্ডিয়ার কূটনৈতিক সম্পাদক। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে তেলআবিবে এক সম্মেলনে তাঁকে ভারতের নয়া বিদেশনীতি সম্পর্কে বলতে শুনি (ইউটিউবে): ‘ভারত তার প্রথম ৫০ বছর জোটনিরপেক্ষ নীতি আঁকড়ে ছিল।
এরপর তার নয়া বিদেশনীতির লক্ষ্য হচ্ছে জাতীয় স্বার্থ, যা একান্তই রাজনৈতিক বিষয়নির্ভর নয়। এটা অনেকটা জটিল।’ আমাদের কাছে হঠাৎ বাংলাদেশসংক্রান্ত নীতিনির্ধারণে দিল্লি ও ওয়াশিংটনের মতবিরোধ প্রকাশ্য হওয়ার বিষয়টি বেশ জটিল ঠেকছে। এটা ঠিক যে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক শেখ হাসিনার আমলে এমন এক চূড়া স্পর্শ করেছে, যা অটুট রাখতে দিল্লি একটা বিশেষ প্রবণতা দেখাতে পারে। এর ফলে তথাকথিত ‘সংবিধান অনুযায়ী’ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কিংবা ভারত কে কাকে বেশি উৎসাহিত বা ভরসা করছে, সেটা অনুমাননির্ভর কিন্তু যথেষ্ট কৌতূহলোদ্দীপক বিষয়। ঈদুল আজহার ছুটিতে ঢাকায় একজন সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত এক নৈশভোজে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ডোন্ট ডিস্টার্ব হাসিনার মতো একটা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে। ওবামা তেমন আগ্রহ দেখাননি। ওবামা বলেছেন, বাংলাদেশ বিষয়ে তিনি এখন ওয়াকিবহাল নন। পরে একটি কূটনৈতিক সূত্র প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্রটি আরও বলেছে, ওই সময় ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উপদেষ্টারাও বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলেছেন। এখন দিল্লির সংবাদপত্রে লেখালেখিতে এটা স্পষ্ট যে ভারত আগামী নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রত্যাবর্তনকে তার জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে গভীর উদ্বেগজনক বিবেচনা করছে। তাঁদের এই উদ্বেগ যুক্তিসংগত, কিন্তু তারা যদি সে কারণে শেখ হাসিনাকে ভুল সংকেত দেয় কিংবা শেখ হাসিনা ভুল সংকেত নিতে পারেন ভেবেও নিরুদ্বিগ্ন থাকেন, তাহলে তা যুক্তিসংগত নয়, এমনকি তা তার নিজের ও পরীক্ষিত মিত্রের জন্যও মারাত্মক। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ওবামা-মনমোহন শীর্ষ বৈঠকের যৌথ ইশতেহার অনুযায়ী সফরটি ছিল বেশ সাফল্যজনক। ২০১৪ সালে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে (বঙ্গোপসাগরসহ)
মার্কিন নেতৃত্বাধীন নৌ-মহড়ায় ভারতের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানান ওবামা। আফগানিস্তানের ক্রান্তিকালে (২০১৫-২০২৪) তাঁরা একত্রেই থাকবেন বলে উল্লেখ আছে। অন্যদিকে ২০১৪ সালের পরে ন্যাটোর সেনারা কোথায় যাবে, সেটা এক জ্বলন্ত প্রশ্ন। বাংলাদেশ সংকট প্রসঙ্গে গত ১ নভেম্বর ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার সন্দীপ চক্রবর্তী ঢাকেশ্বরী মন্দিরে ‘কোনো বিদেশি শক্তির কোনো দরকার নেই। বাইরের লোকের দরকার নেই’ মর্মে উল্লেখ করেন। কিন্তু তিনি এটাও জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে ‘বাংলাদেশ ‘জিও স্ট্র্যাটেজিক্যালি’ গুরুত্বপূর্ণ দেশ। দক্ষিণ এশিয়া নয়, এশিয়ার দৃষ্টিকোণ থেকেও।’ এই জিও-স্ট্র্যাটেজির দুই অবিসংবাদিত গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় তাদের নিজ নিজ জাতীয় স্বার্থে পরিচালিত হবে, সেটাই স্বাভাবিক। আওয়ামী লীগের প্রতি ভারতের ঐতিহাসিক পক্ষপাত এবং বিএনপির প্রতিও তার ঐতিহাসিক সন্দেহ-সংশয় থাকাটাই স্বাভাবিক। সেনাছাউনিতে জন্মের মতো বিএনপির আরেকটি কলঙ্কতিলক হলো অন্ধ ভারতবিরোধিতা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিএনপি এই পাকিস্তানি সামরিক জীবাণুর সংক্রমণ থেকে নিজেকে কিছুটা মুক্ত করেছে কি না, তা-ও দ্বিধাহীন নয়। অন্তত তা ততটা নিশ্চয় নয়,
যা হয়তো এখন ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনার ও মার্কিন রাষ্ট্রদূতের অবস্থানকে অভিন্ন বা কাছাকাছি এনে দিতে পারে। বিএনপি যে এ বিষয়ে একেবারে উদাসীন, তা-ও মনে হয় না। আবার তারা ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে সম্যক ওয়াকিবহাল এবং সে মতে অব্যাহত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ সংবেদনশীলতা দেখিয়ে চলতে সামর্থ্যবান, তা-ও প্রতীয়মান হয় না। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এখন ‘সংবিধান অনুযায়ী’ কথাটায় জোর কম দিয়ে ‘সকল দলের অংশগ্রহণ’কে জোর দিচ্ছে। আর ভারত ‘সকল দলের’ কথাটায় জোর কম দিয়ে ‘সংবিধান অনুযায়ী’ কথাটায় বেশি জোর দিচ্ছে। চীনকে বাগে রাখা এবং এশীয় ব্যাঘ্রের সম্ভাব্য উত্থান সামনে রেখে দিল্লি-ওয়াশিংটন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ওবামা-মনমোহনের কথায়, ‘দুই দেশ এখন এতটাই ঘনিষ্ঠ, যা ৬৬ বছরে কেউ দেখেনি।’ আসলে অনেক কণ্টকিত বিষয় জিইয়ে রেখে দিল্লি-বেইজিংয়ের সঙ্গে, তেমনি বেইজিং-ওয়াশিংটনের সঙ্গে উষ্ণ কর্মসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। তিস্তা চুক্তি আর সীমান্ত চুক্তির অনুসমর্থন এখন হবে না। আগামী ডিসেম্বরে রাজ্যসভায় বিলটি বড়জোর উত্থাপন করা হতে পারে। ভারতের সঙ্গে আর কবে কোন নদীর চুক্তি দেখব জানি না। তবে গত মে মাসে চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের দিল্লি সফরকালে ব্রহ্মপুত্রসহ অভিন্ন নদীর পানির ভাগাভাগি নিয়ে বিরাট অগ্রগতি ঘটেছে।
হয়তো তারা চুক্তি করবে। আমরা তখনো চেয়ে চেয়ে দেখব। ব্রহ্মপুত্রের মূল স্রোতোধারার ওপরের তিনটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিষয়ে ভারতকে তথ্য সরবরাহে চীন একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছে। তা কার্যকরও হয়ে গেছে। আর আমরা টিপাইমুখের মতো অনেক কিছুতেই জলবৎতরলং তথ্য পাই না। বাংলাদেশের রাজনীতিতে চীনের সাম্প্রতিক প্রকাশ্য নয়া সক্রিয়তা দেখে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আঞ্চলিক রাজনীতিতে এটা বাংলাদেশের গুরুত্ব বৃদ্ধির নির্দেশক। সুবীর ভৌমিকের লেখায় এসেছে, মজীনার সঙ্গে কথা বলে ভারতীয় কূটনীতিকেরা তাঁকে ‘বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য’ ঠাহর করেছেন। ভারতেরও কোনো পত্রিকা সম্পাদকীয় লিখে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করাকে স্বাগত জানায়নি। সমর্থন দেয়নি। এমন কোনো লেখালেখি আমি অন্তত পড়িনি। ঢাকায় তাদের মতের সঙ্গে আর কোনো দেশের কূটনীতিক আছেন কি না, তা অনুমান করতে পারি না। দীপু মনি সবশেষ কূটনীতিকদের ডাকলেন। সেখানে কেউ তাঁর কাছে কিছু জানতে চাননি। ২ নভেম্বর দি ইকোনমিস্ট একই সুরে বোল তুলেছে।
তারা বলেছে, শেখ হাসিনা রাশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও ভেনেজুয়েলার ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ’ নেতাদের মতোই সংবিধান শুধরে নিজের শাসনকে পাকাপোক্ত করার পথে গেছেন। উভয় নেত্রীর তিক্ততায় চাবুকের কশাঘাত হানতে সাময়িকীটি ভোলেনি। দি ইকোনমিস্টও ‘বিএনপি স্থায়ী কমিটির মুখপাত্র’ হয়ে বলল: ‘জরিপ দেখাচ্ছে, বেগম খালেদা জিয়া জনসমর্থন পাচ্ছেন। অভাবনীয় হলো, তাঁর বর্তমান অবস্থানের (হাসিনাকে নির্বাচনকালীন সরকারপ্রধান না রাখতে) উচ্চ নৈতিক ভিত্তি রয়েছে।’ ভারতীয় নীতিনির্ধারকেরা বাংলাদেশের বাস্তবতা বুঝেও না বোঝার ভান করছেন, নাকি কল্পলোকে বিচরণ করছেন, সেটা এক প্রশ্ন। ২ নভেম্বর একজন ওয়াকিবহাল ভারতীয় সাংবাদিকের সঙ্গে টেলিফোনে দিল্লিতে কথা হয়। তাঁকে বলি, তর্কের খাতিরে ধরে নিই, ভারতের উদ্বেগ সঠিক। তাহলে তার প্রতিকার কী? ভারত ‘সংবিধান অনুযায়ী’ নির্বাচন করতে চাইলে তার আনন্দ বা সন্তুষ্টি টেকসই হবে কি না। ওই সাংবাদিক আমাকে এর একটি ঝরঝরে ব্যাখ্যা দিলেন। বললেন, ‘সংবিধান তো নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই যথাযথভাবে সংশোধন করেছেন। তাহলে এখন সে অনুযায়ী নির্বাচন হতে দিলে তা গণতান্ত্রিক হবে না কেন? আর সেই নির্বাচনেও যদি বিএনপি আসে, তাহলে ভারত তাকেই মেনে নেবে। কিন্তু বিএনপির প্রতি তার আপত্তি থাকবেই।’ আমি তাঁকে বললাম না যে বাকশাল এর চেয়েও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হয়েছিল। বিরোধী কণ্ঠ পঁচাত্তরের মতোই ২০১১ সালে ‘সংখ্যাগরিষ্ঠতা’ দিয়ে স্তব্ধ করা হয়েছে।
ভারতীয় নীতিনির্ধারকেরা বিশেষভাবে স্মরণ রাখবেন, বেয়াড়া রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে ইন্দিরা গান্ধী ভারতের ‘সংবিধান অনুযায়ী’ জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন। এই ভারত সেদিন সম্ভবত বাকশালকেও একই যুক্তিতে বাহবা দিয়ে থাকবে। রাজনৈতিক মৃত্যুর নয়, দৈহিক মৃত্যুর বিষয়ে তারা মুজিবকে সতর্ক করেছিল। চতুর্থ ও ১৫তম সংশোধনী পাসের ঘরানায় আমি কোনো তফাত দেখি না। পঁচাত্তরের জানুয়ারি-মার্চের সেই চরম সময়েও ভারতীয় কূটনীতিকেরা মার্কিনদের সঙ্গে সেনাবাহিনীতে অসন্তোষসহ মুজিব সরকারের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভ্যুত্থান নিয়ে মতবিনিময় করেছিল। সাউথ ব্লকে ১৫ আগস্টেও তাদের ক্যু নিয়ে আলোচনারত দেখা গেছে। ভারতের দাওয়াতে ড্যান মজীনা দিল্লি গেছেন, নাকি মজীনাই নিজের গরজে বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলতে দিল্লি যান। এখন এ নিয়ে দুই পক্ষ দুই রকম বলছে। তবে প্রথম আলো ও ইন্দ্রানী বাগচীর লেখায় নির্দিষ্টভাবে তথ্য আসে যে মজীনা ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। অথচ গত ৩১ অক্টোবর ভারতীয় মুখপাত্র প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘ওই রাষ্ট্রদূত সাউথ ব্লকের মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।’ ওই মুখপাত্র প্রসঙ্গ ঢাকতে চান। তিনি তাঁর অস্বস্তি চাপা দিতে পারেননি। কারণ, তিনি বলেন, ‘ভারতে কোনো একটি দেশের রাষ্ট্রদূত সফরে এলে সে বিষয়ে কিছু বলা আমাদের দায়িত্ব নয়। এটা এমন কিছু নয়, যা অস্বাভাবিক।’ তারপর মুখপাত্রটি ভারতীয় মর্যাদা সচেতনতা প্রকাশ করে বলেন, ভারতে আসা বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে তার নিয়মিত আলাপ-আলোচনা হয়ে থাকে। মুখপাত্রটি এরপর ঝুঁটিওয়ালা মোরগ বনে যান। বলেন, ‘এর কারণ, ওই সব দেশের অনেক দেশ ভারতকে দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে দেখে থাকে এবং তারা আমাদের মনোভাব সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চায়।’ সুতরাং আমরা দেখি, এক খেলোয়াড়ের বাড়িতে আরেক খেলোয়াড় গেছেন। আগামীকাল দ্বিতীয় কিস্তি
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক।
mrkhanbd@gmail.com

বিপর্যস্ত-আশঙ্কিত চার কোটি শিক্ষাজীবন

বাংলাদেশকে পঙ্গু করার জন্য শুধু হরতাল কর্মসূচিই যথেষ্ট। শিক্ষার চাকা, অর্থের চাকা, জীবনের চাকা—সবকিছুই থেমে যাবে। উপর্যুপরি হরতালে পিষ্ট জনজীবন-শিক্ষাজীবন। নভেম্বর-ডিসেম্বর হচ্ছে পরীক্ষার মৌসুম। অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা। চলবে ডিসেম্বর পর্যন্ত। ভর্তি পরীক্ষার্থীদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়। দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা আলোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করেন। এই তারিখ একবার পরিবর্তন করে অন্য সময়ে করা কঠিন। এতে করে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা একই দিনে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। দেশের ৩৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার জন্য যদি দুই দিন করে সময় ধরা হয়, তাহলেও নভেম্বর-ডিসেম্বর মিলে এক দিনও অবশিষ্ট থাকে না। ফলে যে পরীক্ষা পিছিয়ে যাবে, তার সমন্বয় করা অসম্ভব। হরতালজনিত কারণে ভর্তি পরীক্ষা পিছিয়ে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পিছিয়ে যাবে। ভর্তি দেরি হলে সম্মান কোর্স শেষ করতে বিলম্ব হবে, চাকরি পেতে দেরি হবে, বাবার কষ্ট বেশি হবে, নিজের বিয়ে বিলম্ব হবে, পরিবারের জন্য, দেশের জন্য সেবা করা দিনের সংখ্যা কমে আসবে। বর্তমানে যাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন তাঁদের অবস্থা করুণ।
একদিকে চলছে হরতাল উৎসব, অন্যদিকে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন সপ্তাহে ছুটি দুই দিন। এতে করে শিক্ষার্থীদের সেশনজট দীর্ঘ হচ্ছে। আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা মধ্যবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্ত-বিত্তহীন ঘরের। হরতালের কারণে ক্লাস-পরীক্ষা না হলে তাঁরা যে অসহায়ের সুরে সেশনজটের কথা বলেন, সেই অসহায় মুখ দেখে স্পষ্ট পড়ে নেওয়া যায় তাঁদের কষ্টগুলো কোথায়। আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থীকে চিনি যাঁদের তিন বেলা খাওয়ার সামর্থ্য নেই। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে তাঁরা হলেও উঠতে পারেননি। তাঁরা দিন হিসাব করেন, কবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাট শেষ করতে পারবেন। পাঠক্রম-শিক্ষাবর্ষ যতই হিসাব করুক না কেন, তা হরতালচক্রে মিলছে না কিছুতেই। ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা। হরতালকারীরদের নির্মম সিদ্ধান্তে তাদের পরীক্ষা পেছানো হলো। এক হরতাল ছাড়া আমাদের দেশের রাজনীতিবিদেরা কি আর আন্দোলন-প্রতিবাদ-প্রতিরোধের কোনো উপায় রপ্ত করতে পারেননি? হরতালে রক্ষা পাচ্ছে না শিশু-পথচারী-শ্রমিক-অ্যাম্বুলেন্স—কোনো কিছুই।
আমার সাবেক এক সহকর্মী ৫ তারিখ সন্ধ্যায় মারা গেছেন। তাঁদের বাড়ি জামালপুরে। ৬ তারিখ ভোরবেলা তাঁর লাশ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স বগুড়া অতিক্রম করার সময় হরতালকারীরা সামনের কাচ ভেঙেছে। একসময় গাড়িতে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করলে হরতালকারীদের হাত-পা ধরে কফিন খুলে লাশ দেখানোর পর গাড়িটি ছেড়ে দেয়। ‘বর্বর’ আর ‘অসভ্য’ এ দুটি শব্দ দিয়ে তাদের ব্যাখ্যা করা যাবে না। ২০ নভেম্বর থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী, ২১ নভেম্বর থেকে ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক-মাধ্যমিক শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষা। এ ছাড়া উচ্চমাধ্যমিক এবং সম্মান স্নাতক-স্নাতকোত্তর শ্রেণীর পরীক্ষা তো রয়েছেই। শুধু প্রাথমিক সমাপনী এবং জেএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ। এককথায় সারা দেশে প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর পরীক্ষা রয়েছে এই সময়ে। এই চার কোটি শিক্ষার্থী বয়সভেদে আগামী ১৫ বছর পর ৪০-৪৫ বছর দেশের সব পর্যায়ে নেতৃত্ব দেবে। সেই চার কোটি শিক্ষার্থীকে গড়ে তোলার জন্য আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা নেই। কিন্তু তাদের শিক্ষাজীবন প্রতিকূল করে তোলার জন্য অশেষ চেষ্টা রয়েছে। পরীক্ষাকালীন রাজনৈতিক দলগুলোর এমন কোনো কর্মসূচি দেওয়া উচিত নয়, যাতে করে শিক্ষার্থীজীবন ব্যাহত হয়। মাধ্যমিক পর্যায়ের সব পরীক্ষা শেষ করতে ১৪ দিনের বেশি লাগবে না। বার্ষিক পরীক্ষার আগের কয়েক দিনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। হরতালে যথাসময়ে পরীক্ষা না হলে তাদের ফল প্রকাশিত হতে বিলম্ব হবে।
তখন জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে তাদের নতুন বছরের শিক্ষাকার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে না। হরতালকারীরা শিক্ষাবান্ধব হলে পরীক্ষার দিন কয়েকটি এড়িয়েও হরতাল কর্মসূচি পালন করতে পারেন। এরই মধ্যে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের ‘ও’ লেভেল, ‘এ’ লেভেল পরীক্ষা হরতালের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা হরতালের আওতামুক্ত রেখে পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে, কিন্তু জীবন কি নিরাপদ? যেখানে জড়বস্তুর ওপর দলগুলোর ক্ষোভের অন্ত নেই, সেখানে মানুষ কি করে নিরাপদে চলবে? হরতালকারীরা যাঁরা মাঠে থাকেন, তাঁদের অনেকাংশেই থাকেন ভাড়া করা। ফলে তাঁরা কি পরীক্ষার্থীদের মর্ম বুঝবেন? পথ নিরাপত্তাহীন করে পরীক্ষা চালু করে কী লাভ? নাকি ইংরেজি মাধ্যমের পরীক্ষা চালু রাখার অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে? কারণ, ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা তো সাধারণ পরিবারের কেউ নয়। বিদেশে গিয়েও পরীক্ষা দেওয়ার সামর্থ্য তাদের রয়েছে। তারা ধনিকশ্রেণীর প্রতিনিধি এবং তাদের অনেকেই বড় রাজনীতিবিদদের সন্তান। সেখানে সব দলই রয়েছে। ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা হরতালের আওতামুক্ত রেখে তাঁদের সন্তানদের ফলবিপর্যয় কিংবা সময় নষ্ট করা হলো না।
২০ হাজার পরীক্ষার্থীদের সময় নষ্টের কথা যেভাবে বিবেচনা করা হলো, তার নেপথ্য কারণ যা-ই থাকুক না কেন, তাদের হরতালের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে সেটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখতে চাই। শুধু ২০ হাজার শিক্ষার্থীর দিকে দৃষ্টি দিলেই হবে না, চার কোটি শিক্ষার্থীর জীবনের দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। এরই মধ্যে হরতালজনিত কারণে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের ফলবিপর্যয় হয়েছে। যে নতুন প্রজন্ম জাতিকে এগিয়ে নেবে, হরতাল দিয়ে তাদের জীবন বিপর্যস্ত করে রাজনীতিবিদেরা কোন বাংলাদেশ গড়তে চান? দীর্ঘ একটি বছর প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষার সময়ের দুর্ভাবনা তাদের প্রস্তুতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই হরতাল শুধু যে পরীক্ষার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তা নয়, হরতাল চলতে থাকলে নতুন বছরের যথাসময়ে পরীক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া অসম্ভব হবে। প্রত্যেক মা-বাবাই সন্তানদের মধ্যে সাফল্যের স্বপ্ন দেখেন। সেই শিক্ষার্থীদের বিন্দুমাত্র অসুবিধা করলে নির্বাচনে তাদের সমর্থন পাওয়া যাবে না।
তুহিন ওয়াদুদ: শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।
wadudtuhin@gmail.com

প্রতিটি বিদ্যালয়ে চাই গ্রন্থাগার

শিশুদের জন্য আয়োজিত এক কর্মশালার সাক্ষাৎকার পর্ব চলছে। মোট ১৫৩ জন প্রতিযোগী, বয়স ১২ থেকে ১৬। সবাই খুব সিরিয়াস। যে করেই হোক, এই বৈতরণী পার হতেই হবে। অবশ্য ওদের চেয়ে মায়েদের দুশ্চিন্তাই বেশি। কর্মশালার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করা। ১৫৩ জন শিশু-কিশোরের মধ্যে দুজন বাদে বাকিরা পাঠ্যবইয়ের বাইরে কোন বইটি সর্বশেষ পড়েছে বা কবে পড়েছে মনে করতে পারেনি। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বা আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য সম্পর্কে অধিকাংশেরই কোনো ধারণা নেই। সবারই প্রিয় লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল। কিন্তু প্রিয় লেখকের বইয়ের নাম তারা বলতে পারেনি। জাতি হিসেবে আমাদের রয়েছে অনেক সুমহান অর্জন, রয়েছে গর্ব করার মতো বহু সাফল্য। মেধা ও মননে আমরা কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই। কিন্তু কিছু কিছু ব্যাপারে আমাদের ঘাটতি রয়েছে, রয়েছে পরিপক্বতার অভাবও। একটা সময় ছিল উৎসবে উপহার হিসেবে বইয়ের কদর ছিল সবচেয়ে বেশি। মধ্যবিত্ত পরিবারে এক আলমারি বই ড্রয়িং রুমের শোভা বর্ধন করত। মা-বাবারাও কোনো উৎসব অথবা জন্মদিনে তাঁদের সন্তানদের বই উপহার দিতেন। এতে করে ছোটবেলা থেকেই শিশুরা পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বই পড়ার ব্যাপারেও আগ্রহী হয়ে উঠত। এখন আর তেমনটি চোখে পড়ে না।
তার জায়গা এখন দখল করে নিয়েছে নতুন নতুন ডিজাইনের মোবাইল ফোন, আইপ্যাড, ল্যাপটপ, নিনটেনডো, প্লে-স্টেশনসহ আরও অনেক কিছু। তারা যেহেতু খোলা মাঠে গিয়ে খেলতে পারছে না, তাদের জন্য যথার্থ বিনোদনের ব্যবস্থা নেই। সেহেতু ইলেকট্রনিকস ডিভাইসের মধ্যেই তারা খুঁজে নিচ্ছে আনন্দ। ভার্চুয়াল বন্ধুত্ব আর ভার্চুয়াল জগতেই অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে কোমলমতি শিশু-কিশোরেরা। ফলে শৈশব থেকেই তারা যন্ত্রে পরিণত হয়ে যাচ্ছে, কমে যাচ্ছে তাদের সংবেদনশীলতা, সহমর্মিতা ও সহনশীলতা। কী ভয়াবহ এক পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। উন্নত বিশ্বে গেলে দেখা যায়, ট্রেনে, বাসে, স্টেশনে যেখানেই সময় পাচ্ছে, বই পড়ছে তারা। বড় বড় শপিং মলে নানা রকম শোরুমের পাশাপাশি বইয়েরও মনকাড়া শোরুম থাকে। অথচ আমাদের দেশে যাও দু-একটা ছিল, তা-ও যেন ক্রমেই সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। ঢাকার শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের বইয়ের দোকানগুলো এখন প্রায় অতীত। বেশির ভাগই এখন জামাকাপড়ের দোকানে পরিণত হয়েছে। আমরা পড়ার অভ্যাস থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। আমাদের উন্নয়ন ভাবনায় শুধু বড় বড় শপিং মল, নতুন নতুন টিভি চ্যানেল বা দালানকোঠা! ক্রমাগত জ্ঞানচর্চার মধ্য দিয়ে মানুষ উন্নত হয় এবং তার চিন্তাশক্তিকে শাণিত করে। শিশু-কিশোরদের পাঠাভ্যাস কমে যাওয়ার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। সবচেয়ে বড় কারণ হলো অভিভাবকেরা। পাঠ্যবইয়ের বাইরে কোনো বই-ই তাঁরা সন্তানকে পড়তে দিতে রাজি নন।
৫০০ টাকা দিয়ে ফাস্টফুড কিনে দিতে কোনো আপত্তি না থাকলেও বই কেনার ব্যাপারে রয়েছে প্রবল আপত্তি! পড়াশোনার ক্ষতির দোহাই দিয়ে বই কেনা থেকে নিবৃত্ত করা হয় সন্তানকে। বহু শিক্ষকও আছেন, যাঁরা পাঠ্যবই-বহির্ভূত বই পড়াকে সমর্থন করেন না। এ ছাড়া রয়েছে যথাযথ পাঠসামগ্রীর অভাব ও দেশি বইয়ের অপর্যাপ্ত মান। বিদেশি ভালো বইয়ের অতিরিক্ত দামের ফলে সেটাও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। গ্রন্থাগারসমূহের জন্য অপ্রতুল বাজেট বরাদ্দ হতাশারই উদ্রেক করে মাত্র। ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতি অতিমাত্রায় আগ্রহের কারণে প্রিন্ট মিডিয়ার প্রতি আগ্রহ দিন দিন কমে যাচ্ছে। শিশু সাহিত্যিকের স্বল্পতার পাশাপাশি শিশু সাহিত্য সম্পর্কেও রয়েছে যথাযথ ধারণার অভাব। প্রকাশনা শিল্পের নানা রকম সীমাবদ্ধতা এবং কাগজের ক্রমেই মূল্যবৃদ্ধিসহ আরও অন্যান্য কারণেই পাঠাভ্যাস কমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার জন্য দরকার ছোটবেলায়ই বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা। পরিবারকে সবার আগে সচেতন হতে হবে, বিশেষত মাকে। কারণ, পরিবারই হচ্ছে শিশুর প্রথম বিশ্ব তথা শিক্ষালয়ও বটে এবং মা হচ্ছেন তার কেন্দ্রবিন্দু। গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণত দুই বছর বয়স থেকেই শিশুরা রংচঙে ছবির বইয়ের প্রতি আকর্ষণ বোধ করে, যাতে মানুষ, পশুপাখি, বাড়ির নানা রকম আসবাবের ছবি আছে, তা দেখে শিশু ঝাঁপিয়ে পড়ে। যদিও এই বয়সের শিশুর পড়ার প্রশ্ন আসে না, তবু অন্যের পড়ার সুর শুনতে এবং পাঠরত মানুষের মুখের ভাবভঙ্গি উপভোগ করতে ভালোবাসে।
অর্থাৎ তখন থেকেই পাঠের প্রতি তার একটা ভালোবাসা জন্ম নেয়। কিন্তু আমাদের বড়দের কারণেই ক্রমে ক্রমে তা হারিয়ে যায়। এ ছাড়া শিক্ষকদেরও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি অন্য বই পড়ার ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে তোলা যায়। এ লক্ষ্যে প্রতিযোগিতামূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা; স্কুল ম্যাগাজিন, দেয়াল পত্রিকা প্রকাশনা; তাতে বিভিন্ন প্রকারের রচনা প্রকাশের মাধ্যমে প্রকারান্তরে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে অবহিত হওয়া এবং তা প্রকাশ করার ক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করে। প্রতিটি স্কুলে যদি গ্রন্থাগার স্থাপন এবং বই ইস্যু বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হয়, তাহলে অভ্যাসটা তৈরি হবে শুরু থেকেই। একজন শিশুকে যদি বছরে অন্তত ৪০-৫০টা বই পড়ানো যায়, তাহলে বইয়ের বিশাল জ্ঞানভান্ডারের সঙ্গে তার একটা আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে যদি গ্রন্থাগার এবং একজন যোগ্য গ্রন্থাগারিক থাকেন, তবে শিক্ষার্থীদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠবে বলে আশা করা যায়। পাশাপাশি পাঠ্যসামগ্রীরও মান উন্নয়ন করতে হবে, বই পাঠের গুরুত্ব সম্পর্ক প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সহায়তায় প্রচারণামূলক কার্যক্রম বাড়াতে হবে। শিশুদের উৎসাহী ও অনুসন্ধিৎসু করে তোলে—এমন সব কর্মসূচি নিতে হবে সরকারি ও বেসরকারি উভয়ভাবেই। প্রতিযোগিতামূলক এই বিশ্বে টিকে থাকতে হলে জ্ঞান, তথ্য ও সৃজনশীলতার সমন্বয় দরকার। উন্নত প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে কীভাবে পাঠাভ্যাস বাড়ানো যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে সবাইকে।
রেজিনা আখতার: প্রধান গ্রন্থাগারিক, বাংলাদেশ শিশু একাডেমী।

আমি ব্যথিত দুঃখিত, এটাও দেখতে হলো by মতিউর রহমান চৌধুরী

নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. ইউনূস বললেন, কুয়ালালামপুর বসে যখন শুনলাম সরকার সত্যি সত্যি গ্রামীণ ব্যাংক তার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গেছে, তখন শুধু ভাবলাম- এটা কি করে সম্ভব!