Wednesday, November 18, 2009

নাগরিক সুবিধা -যানজট নিরসনে কয়েকটি প্রস্তাব by মোহাম্মদ কায়কোবাদ

দীর্ঘদিন ধরে যানজট শুধু রাজধানীবাসীর জীবন দুর্বিষহই করেনি, যখন-তখন, যেখানে-সেখানে যানজটে স্তব্ধ আমাদের জীবনকে উত্পাদনবিমুখও করছে। যানজটে নগরবাসীর যে ভোগান্তি, কর্মসময়ের যে অপচয়, উদ্বেগ- উত্কণ্ঠার যে বৃদ্ধি, এগুলোকে অর্থের ভাষায় প্রকাশ করলে সমাজের, রাষ্ট্রের যে ক্ষতি হচ্ছে তা অকল্পনীয়। নিশ্চয়ই আমাদের দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো, ব্যক্তিরা এই ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করে না বলেই পরিস্থিতি আরও অধোমুখী।
একটি শহরের যত শতাংশজুড়ে রাস্তাঘাট থাকা উচিত, ঢাকা শহরে রয়েছে তার তিন ভাগের এক ভাগ। এত কম রাস্তা দিয়ে, নিম্নমানের রাস্তা দিয়ে জনসাধারণের জন্য গ্রহণযোগ্য মাত্রার সেবা দান করা অসম্ভব। অত্যন্ত সুখের বিষয় হলো, ইদানীং সরকার এই বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে এবং ত্বরিত সিদ্ধান্ত নিতেও প্রস্তুত। যেসব পদক্ষেপ নিয়ে যানজট সহনীয় পর্যায়ে নামানো যেতে পারে তার কয়েকটি প্রস্তাব নিচে দেওয়া হলো:
১. রাজধানীর জনসংখ্যা যাতে ক্রমাগত বৃদ্ধি না পায় এজন্য এর চারপাশে স্যাটেলাইট শহর স্থাপন করে সেখানে কিছু সরকারি অফিস স্থাপন করা যেতে পারে। উপরন্তু বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
২. সরকারি-বেসরকারি অফিস, স্কুল-কলেজের সময় বিভিন্ন ধাপে করা দরকার। যেমন, কোনো প্রতিষ্ঠান শুরু হবে সকাল আটটায়। কোনোটা সকাল সাড়ে আটটায় কিংবা নয়টায়। এর ফলে দিনের বিভিন্ন সময়ে যানবাহনের ঘনত্ব বিভক্ত হয়ে যাবে।
৩. যেহেতু আমাদের রাস্তার ধারণক্ষমতা কম, অধিকসংখ্যক গাড়ির রেজিস্ট্রেশন অর্থ হলো যানজট পরিস্থিতিকে আরও শোচনীয় করা। আমাদের থেকে অনেক বিত্তশালী দেশ সিঙ্গাপুরেও নাকি ইচ্ছা করলেই নতুন গাড়ি রেজিস্ট্রেশন করা যায় না। রাস্তাগুলোর ধারণক্ষমতা বিচারে এনে প্রতিবছর নির্দিষ্টসংখ্যক গাড়িকে রেজিস্ট্রেশন করতে দেওয়া হয়। এতে কিন্তু ওই গণতান্ত্রিক দেশের জনসাধারণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয় না। আমাদের মতো উন্নয়নকামী দেশে এ ধরনের নিয়ম আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা উচিত।
৪. ভালো ভালো স্কুল-কলেজে নানা এলাকার ছাত্রদের ভিড় এবং সঙ্গত কারণেই গাড়ির ভিড়। অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানির মতো বিত্তশালী দেশগুলোতে একজন ছাত্রের ভৌগোলিক অবস্থানই বলে দেয় তার এলাকায় কোন কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সে ভর্তি হতে পারবে। এর ফলে জনগণের বাড়তি চাহিদার ফলে প্রতিটি এলাকার স্কুল-কলেজই মানসম্মত হতে বাধ্য হচ্ছে। আমাদের ভিকারুন নিসা নূন কিংবা নটর ডেমকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় একজন মধ্য আয়ের মানুষও তার সন্তানকে ওই নামী-দামি স্কুল-কলেজে ভর্তি করে সন্তানের সুন্দরতর জীবন নিশ্চিত করতে চায়। এর ফলে রাজধানীর যানজট বৃদ্ধিতেও তিনি অবদান রাখেন। উন্নত গণতান্ত্রিক বিত্তশালী দেশগুলোর নাগরিকেরা এই নিয়ম মেনে চলে এবং তারা কখনো অনুভবও করে না তাদের কোনো গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। আমাদের মতো দুর্বল গণতান্ত্রিক দেশের নাগরিকদের এ বিষয়ে প্রশ্ন করাটাও সমীচীন নয়। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই আমরা এ রকম একটি আইন করতে পারি যে সন্তানকে বাসস্থানের যেমন এক কিলোমিটারের মধ্যে স্কুল, দুই কিলোমিটারের মধ্যে কলেজে পাঠাতে হবে। এ জন্য স্কুল-কলেজগুলোতে পর্যাপ্ত সিটের ব্যবস্থাও করতে হবে। এর ফলে স্কুল-কলেজের গড় দূরত্ব কমপক্ষে তিন-চার গুণ কমে আসবে। প্রতিটি এলাকার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জনসাধারণের চাহিদার চাপে উন্নততর হবে। কাছাকাছি মানের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলে তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হবে।
৫. যাত্রীদের ভ্রমণ সময় কমাতে হলে, রাস্তায় থ্রোপুট বাড়াতে হলে অধিক ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন বাস অধিক হারে চালু করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন ফিসহ অন্যান্য প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে কম ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন যানবাহনকে নিরুত্সাহিত করতে হবে। এক্ষেত্রে বিত্তশালী আমেরিকার নিয়মকানুন লক্ষণীয়—অধিকসংখ্যক যাত্রীর গাড়ি এক্সপ্রেস লেইনে চলতে পারে। আমাদেরও অনুরূপ নিয়মকানুন চালু করতে হবে। ট্রাফিক সিস্টেমকে আধুনিকায়ন করতে হবে।
৬. রাজধানীর চারপাশে যে গোলাকার রাস্তা করার কথা শোনা যাচ্ছিল তা করতে হবে। এর ফলে ট্রাক, দূরপাল্লার বাস ও অন্যান্য যানবাহন থেকে উদ্ভূত যানজট থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব হবে।
৭. কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনকে অন্তত কুড়িলের কাছাকাছি স্থানান্তর করা উচিত। এর ফলে রেলক্রসিং থেকে উদ্ভূত যানজট হ্রাস পাবে।
৮. অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডেলাইড শহরে পিক পিরিয়ডে থ্রোপুট বৃদ্ধির জন্য বাস সব স্টপেজে থামে না। আমরাও শহরের ভেতরে কোনো কোনো বাস জোড়সংখ্যক স্টপেজে এবং কোনো কোনোটি বিজোড়সংখ্যক স্টপেজে থামার নিয়ম করে রাস্তার থ্রোপুট বৃদ্ধি করতে পারি।
৯. অধিকতর গ্রহণযোগ্য ও আরামদায়ক পাবলিক বাস সিস্টেমের সূচনা করে নাগরিকদের ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারে নিরুত্সাহিত করতে পারি। রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে যাতে গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে যানজট সৃষ্টি না হয় এর জন্য বহুতল পার্কিংব্যবস্থা করতে হবে। যত্রতত্র পার্কিংকে নিরুত্সাহিত করার জন্য পার্কিং ফি এবং জরিমানার ব্যবস্থা করতে হবে।
১০. অতি অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের যাত্রাপথ নির্ঝঞ্ঝাট ও মৃসণ করতে লাখ লাখ সাধারণ নাগরিকের ভ্রমণকাল যে অসহনীয় পরিমাণ প্রলম্বিত করা হয় তা মোটেও কাম্য নয়—জনগণের সেবক জনগণের ভোগান্তির কারণ হতে পারেন না। প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের এসব গুরুত্বপূর্ণ পদধারীদের চলাচলে যথাযথ নিরাপত্তাসহ হেলিকপ্টার ব্যবহার করা যেতে পারে।
দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটা সত্য যে সাধারণ মানুষের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা কখনো সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশার সঙ্গী হন না। আমাদের দেশে এমন সাংসদ নেই যাঁর আয় বাংলাদেশের গড় আয়ের ধারে কাছাকাছি। সাধারণ মানুষ বিদ্যুতের অভাবে, সুপেয় পানির অভাবে, গ্রহণযোগ্য বাসস্থানের অভাবে, চিকিত্সার অভাবে কিংবা চলাচলের নির্ভরযোগ্য যানের অভাবে যে দুর্ভোগ পোহায়, তা আমাদের জনপ্রতিনিধিদের বোঝার কথা নয়। কারণ, তাঁদের সেই অভিজ্ঞতা নেই। তাই রাস্তায় যাত্রী হিসেবে, হাসপাতালের রোগী হিসেবে কিংবা বিদ্যুতের ব্যবহারে যদি তাঁরা সাধারণ মানুষের কাতারে নেমে আসতে পারতেন, তাহলে এই সমস্যাগুলোর গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারত। শিক্ষামন্ত্রী যদি শিক্ষার গুণগত মানের দুর্ভোগে ভোগেন, যোগাযোগমন্ত্রী যদি যানজটে জর্জরিত হন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী যদি হাসপাতালের দুর্ভোগ পোহান, খাদ্যমন্ত্রীর ঘরে যদি খাদ্যের অভাব হয়, জ্বালানিমন্ত্রীর ঘরে যদি বিদ্যুত্ না থাকত, তাহলে নিশ্চয়ই তাঁরা সমস্যা সমাধানে আরও সক্রিয় হতেন। তাঁরা কোনো অভাবে ভোগবেন, তা আমরা চাই না, তবে সমস্যাগুলোর সমাধানে তাঁরা আন্তরিক হন, এটা আমরা সবাই চাই।
মোহাম্মদ কায়কোবাদ: অধ্যাপক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়; ফেলো, বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস।

ছিনতাই বৃদ্ধি

সিলেটে সম্প্রতি ছিনতাইয়ের ঘটনা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। সিলেটের স্থানীয় পত্রিকাগুলো খুললেই প্রতিদিন ছিনতাইয়ের খবর চোখে পড়ে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহার হচ্ছে মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা। বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যায় এ ধরনের ছিনতাই বেশি হচ্ছে। ছিনতাইকারীরা অনেকক্ষেত্রে যাত্রীবেশে অটোরিকশায় আসে এবং রাস্তা থেকে যাত্রী উঠিয়ে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোনসেটসহ সর্বস্ব লুটে নেয়।
১১ নভেম্বর প্রথম আলোর চারের পাতায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে ছিনতাইয়ের সঙ্গে পুলিশের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি জানা যায়; যা সিলেটের জনসাধারণের জন্য আতঙ্কের বিষয়। পুলিশের সংশ্লিষ্টতার কারণে ছিনতাইকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। ছিনতাইয়ের সঙ্গে সঙ্গে অজ্ঞান পার্টির কথাও শোনা যাচ্ছে, যা আরও ভয়ঙ্কর। জনগণের নিরাপত্তা দানকারীরা যদি অপরাধচক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকে তাহলে সাধারণ জনগণ নিরাপত্তার জন্য কার কাছে যাবে! সিলেটের শান্তিপ্রিয় জনগণের কথা ভেবে কর্তৃপক্ষ সিলেট শহরের ছিনতাই প্রতিরোধকল্পে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এ প্রত্যাশাই করে সিলেটবাসী।
কর্তৃপক্ষকে সারা দেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তার দিকটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।
বিদ্যুত্ কুমার বিশ্বাস
এম সি কলেজ, সিলেট

নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে -এসইসি থেকে তথ্য ফাঁস

দেশের পুঁজিবাজার ক্রমেই ফুলে-ফেঁপে উঠছে। বাজার হয়েছে আকর্ষণীয় ও লোভনীয়। আর তাই বড় বড় বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি হাজার হাজার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীও এ বাজারে প্রবেশ করেছেন ও করছেন। এভাবে প্রচুর মানুষের অর্থোপার্জনের উত্স হয়ে উঠেছে দেশের শেয়ারবাজার। এর যেমন ইতিবাচক দিক আছে, তেমনি আছে নেতিবাচক দিক। কারণ, পুঁজিবাজারের বৈশিষ্ট্য অনুসারে এখানে জুয়াবাজি ও কারসাজি আছে। আর এ কারসাজিতে ছোট বিনিয়োগকারীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হন সবচেয়ে বেশি। সে ক্ষেত্রে বাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জুয়াবাজি-কারসাজি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার দক্ষতা ও কঠোরতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) এ ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে পিছিয়ে আছে। লোকবল-সংকটসহ নানা ধরনের সমস্যায় জর্জরিত এসইসি বিনিয়োগকারীদের আস্থা হারাচ্ছে।
এ রকম একটা অবস্থায় প্রথম আলোর এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে যে এসইসির গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মপরিকল্পনার তথ্য প্রায়ই ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। এসইসির ভেতরে গড়ে ওঠা একটি দুষ্টচক্র বাজারের জন্য সংবেদনশীল এসব তথ্য অন্যায়ভাবে বাজারের মুষ্টিমেয় কিছু গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। ফলে এরা বিভিন্নভাবে বাজার থেকে লাভ তুলে নিচ্ছে। মাঝখান থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। পুঁজিবাজারের অন্তর্নিহিত শক্তি না বেড়ে বরং স্থানটিও দুর্বল হয়ে পড়ছে। শেয়ারের মৌল ভিত্তি ও তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক অবস্থা বিনিয়োগের বিবেচনায় গুরুত্ব কম পাচ্ছে। গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য বাজারকে প্রভাবিত করছে।
বস্তুত এসইসির অদক্ষতার বিষয়টি আগেই প্রতিষ্ঠিত। সম্প্রতি বিভিন্ন বিষয়ে বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্ত নিয়ে অযাচিতভাবে বাজারে হস্তক্ষেপ করায় একদিকে যেমন বাজার অস্থির হয়েছে তেমনি উত্সাহিত হয়েছে ফটকাবাজি। ফলে বাজার নিয়ন্ত্রক হিসেবে এসইসির গ্রহণযোগ্যতা খুব স্বাভাবিক কারণেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ করেছেন যে এসইসির কিছু অসাধু কর্মকর্তা বাজার কারসাজির সঙ্গে জড়িত। প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে সরকারি একাধিক সংস্থার নজরদারিতেও এ বিষয়গুলো উঠে এসেছে। আর তাই এসইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপর সরকার নজরদারি বাড়িয়েছে।
বর্তমান বাস্তবতায় সরকারের এখন উচিত হবে এসইসিকে ঢেলে সাজানোর দিকে নজর দেওয়া। এখানে যেসব অদক্ষ ও অসাধু কর্মকর্তা রয়েছেন, যাঁরা তথ্য ফাঁস করছেন, তাঁদের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। পাশাপাশি দরকার দক্ষ ও সত্ কর্মকর্তাদের ঠিকভাবে কাজ করতে দেওয়া। এসইসিতে লোকবলের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। সেই ঘাটতি মেটাতে নতুন লোকবল নিয়োগ দেওয়া। মনে রাখা দরকার, শেয়ারবাজার বহু মানুষের জীবিকার উত্স হয়ে পড়েছে। সরকার যদি নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে এখনই ঠিক না করে, তাহলে পুঁজিবাজারের আগামী দিনগুলো আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।

শীর্ষ নেতৃত্বের রাজনৈতিক সদিচ্ছাই মূলকথা -বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক

অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা উজ্জ্বলতর হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফর সামনে রেখে ভারতীয় পররাষ্ট্রসচিব নিরুপমা রাওয়ের ঢাকা সফরের ফলাফল সেদিক থেকে বেশ ইতিবাচকই বলা চলে। তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করায় পুরো বিষয়টি তাত্পর্যপূর্ণ মাত্রা অর্জন করেছে। এ মুহূর্তে দেশের প্রধান বিরোধী দলের ইতিবাচক মনোভাব দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নের জন্য জরুরি।
বাংলাদেশ ও ভারতে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে, এটা আকস্মিক কিন্তু একটি উল্লেখযোগ্য সমাপতনিক ঘটনা, যা কূটনীতিতে অনেক সময় অভাবনীয় সাফল্য বয়ে আনে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় আলোচনার সার্বিক দায়িত্ব ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি ও রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেওয়ার অর্থ হলো, সফরের সাফল্য নিশ্চিত করার ব্যাপারে ভারত যথেষ্ট সচেতন। সেজন্যই হয়তো দুই বাঙালি মন্ত্রীকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে স্থাপন করা হলো।
প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন দিল্লি সফরের সময় সন্ত্রাসবাদ ও অপরাধমূলক তত্পরতা দমন বিষয়ে তিনটি চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা বিষয়ে ভারতের উদ্বেগ সুবিদিত। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সহযোগিতায় ভারতের পররাষ্ট্রসচিব তাঁর দেশের পক্ষে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এটা লক্ষণীয় অগ্রগতি; কারণ, আগে ভারত বিভিন্ন সময় এ ব্যাপারে আস্থাশীল হতে পারেনি। বাংলাদেশেও রয়েছে উগ্র চরমপন্থীদের তত্পরতা, যারা বিভিন্ন সময় ভারতে অবৈধভাবে আশ্রয় নেয়। এ অবস্থায় উভয় দেশের স্বার্থেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
নেপালের সঙ্গে বাণিজ্যের জন্য বাংলাদেশের তিনটি সীমান্ত দিয়ে ট্রানজিট দিতে ভারত রাজি হয়েছে। ভুটানের সঙ্গেও বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে। এখানে লক্ষণীয় যে নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আগে থেকেই চলছে। কিন্তু নানা অসুবিধার কারণে এই কার্যক্রম খুব সক্রিয় হতে পারেনি। পণ্য পরিবহনে নিরাপত্তার প্রশ্নটি একটি জটিল সমস্যা। এটা দূর করার বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা ও করণীয় স্থির করা দরকার। পাশাপাশি এ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিসর আরও বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। নেপাল ও ভারত বাংলাদেশের মংলা বন্দর ব্যবহার করে তৃতীয় দেশের সঙ্গে রপ্তানি-আমদানি পরিচালনা করলে বাংলাদেশের আয় বাড়বে এবং নেপাল ও ভুটানও উপকৃত হবে। ভারত ভূখণ্ডে প্রদত্ত ট্রানজিট তখন বাংলাদেশের জন্য আরও অর্থবহ ও অর্থকরী হয়ে উঠবে।
ত্রিপুরায় বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণে ভারী যন্ত্রপাতি বহনের জন্য আশুগঞ্জ নৌবন্দর ব্যবহারের বিষয়টিও আলোচনায় আসবে। ভারত থেকে বিদ্যুত্ ক্রয় ও আনুষঙ্গিক বিষয়ে আলোচনার জন্য বিদ্যুত্ সচিব দিল্লি সফরে যাচ্ছেন। এ ছাড়া তিস্তার পানি বণ্টন, ভারত থেকে বিদ্যুত্ আমদানি, ট্রানজিট ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য স্পর্শকাতর বিষয় হলো তিস্তামুখ বাঁধ। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর কিছু না করার কথা ভারতের পররাষ্ট্রসচিব আবার বলেছেন, যা ভারতের নীতিগত অবস্থান হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত।
বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কোন্নয়নের প্রশ্নটি প্রধানত নির্ভর করে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর। এবার সেই সুযোগ ও সম্ভাবনা অনেক বেশি। তবে মনে রাখতে হবে, এসব ক্ষেত্রে যা কিছু চুক্তি হোক না কেন, সেটা জনসাধারণের চোখে দুই দেশের জন্য তুলনামূলক লাভজনক বলে প্রতীয়মান না হলে টিকবে না। উভয় দেশের নেতৃত্বের জন্য এটাই হওয়া উচিত প্রধান দিকনির্দেশনা।

আয়কর বিবরণী দাখিলের হার বেড়েছে সাড়ে ১৫ শতাংশ

২০০৮-০৯ করবর্ষে ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে কর আদায়ের পরিমাণও। তবে এ বছরও করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের বড় অংশই বিবরণী জমা দেননি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গতকাল রোববার এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
এ সময় জানানো হয়, এ বছর মোট সাত লাখ ৫৭ হাজার ৯৬৪ জন ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতা আয়কর বিবরণী জমা দিয়েছেন, গত বছরের চেয়ে যা ১৫ দশমিক ৫১ শতাংশ বেশি। ওই বছর মোট ছয় লাখ ৫৬ হাজার ১৯৩টি আয়কর বিবরণী জমা পড়েছিল। আর এর বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৬২৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
কিন্তু চলতি বছরে আয়কর বিবরণী জমা দেওয়ার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৮৫৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এ ক্ষেত্রে আগের বছরের চেয়ে প্রবৃদ্ধি দেখানো হয়েছে ৩৬ দশমিক ২৮ শতাংশ।
গত বছরের নভেম্বর মাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ মোট ছয় লাখ ৭৬ হাজার ১০০টি আয়কর বিবরণী জমা পড়ার তথ্য দিয়েছিলেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর মোট আয়কর আদায় হয়েছিল ৭৯২ কোটি টাকা। কিন্তু গতকালের সংবাদ সম্মেলনে গত বছরের আয়কর বিবরণী জমা ও কর আদায়ের পরিমাণ কম দেখানো হয়েছে।
এনবিআরের সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহানারা সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদস্য আমিনুর রহমান, শম্ভুনাথ দাস, সৈয়দ মো. আমিনুল করিম, প্রথম সচিব আবদুল লতিফসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
দুই দফা সময় বাড়ানোর পর গত ১২ নভেম্বর রিটার্ন জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময় শেষ হয়। কিন্তু এনবিআরের তথ্য অনুয়ায়ী, নির্ধারিত সময় পার হলেও করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) রয়েছে এমন প্রায় ১৫ লাখ ব্যক্তি আয়কর বিবরণী জমা দেননি। বর্তমানে টিআইএনধারীর সংখ্যা প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার।
আমিনুর রহমান বলেন, ‘যাঁরা আয়কর বিবরণী জমা দেননি, তাঁদের বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কোনো করদাতা নির্ধারিত সময়ে আয়কর বিবরণী জমা দিতে না পারার যুক্তিসংগত কারণ দেখালে তাঁর আবেদন গ্রহণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় দেওয়ার বিধান রয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে আমিনুর রহমান বলেন, ‘আয়কর বিভাগ অনলাইনে কর আদায়ের উদ্যোগ নিয়েছে। এটি সম্পন্ন হলে রিটার্ন জমা দেওয়ার সংখ্যা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে ভুয়া টিআইএন প্রতিরোধ সম্ভব হবে।’
আমিনুর রহমান জানান, এ বছর সার্বজনীন স্ব্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে বেশি রিটার্ন জমা পড়েছে। মোট করদাতার মধ্যে ছয় লাখ ৩৮ হাজার ব্যক্তি জমা দেন এই পদ্ধতিতে। বাকিরা জমা দিয়েছেন সাধারণ পদ্ধতিতে। সার্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে করব্যবস্থা একটি আধুনিক ও সহজ পদ্ধতি। এর মাধ্যমে করদাতা তাঁর বিবরণীতে আয়-ব্যয়ের যে হিসাব দেখাবেন, বিনা প্রশ্নে কর বিভাগ তা গ্রহণ করবে।
হালনাগাদ রাজস্ব পরিস্থিতি: চলতি অর্থবছরের চার মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৯২ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। আলোচ্য সময়ে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ১২ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি আদায় হলেও প্রবৃদ্ধির হার গতবারের চেয়ে কমে গেছে। গত অর্থবছরের এই সময়ে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ২০ শতাংশের বেশি।
মূলত আমদানি পর্যায়ে রাজস্ব আদায় কম হওয়ায় এ বছরের প্রথম চার মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধির হার কমে গেছে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।
চলতি অর্থবছরে আয়কর আদায়ের হার ভালো অবস্থানে রয়েছে। আলোচ্য অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আয়কর আদায়ে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে সাড়ে ২৪ শতাংশ।
সদস্য আমিনুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আয়কর আদায়ের যে প্রবণতা, এ ধারা অব্যাহত থাকলে বছর শেষে আয়করের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’
জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৬ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা। এর বিপরীতে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা।

আমেরিকার বাণিজ্য ঘাটতি ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

এ বছর সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি ধারণার চেয়ে অনেক বেশি বেড়ে গেছে। বলা হচ্ছে, এই ঘাটতি ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উপনীত হয়েছে।
সেপ্টেম্বর মাসে আমেরিকার বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৬৫০ কোটি ডলার, যা আগস্ট মাসের তুলনায় ১৮ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি।
সেপ্টেম্বর মাসে আমেরিকায় পণ্য আমদানি ৫ দশমিক ৮০ শতাংশ হারে বেড়েছে, যা ১৯৯৩ সালের পর সর্বোচ্চ। অবশ্য আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ার মধ্য দিয়ে আমেরিকার ভোক্তা ব্যয় বাড়ার প্রতিফলন ঘটেছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
বাণিজ্য ঘাটতির পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, চীনের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য ঘাটতি সেপ্টেম্বর মাসে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ হারে বেড়ে দুই হাজার ২১০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে।
অবশ্য চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ১৬ শতাংশ কমেছে।
অন্যদিকে এই নয় মাসে কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি যথাক্রমে ৭৯ দশমিক ৬০ শতাংশ ও ৪২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
তবে বাণিজ্য ঘাটতির চেয়ে বাজেট ঘাটতি মার্কিন সরকারের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বাজেট ঘাটতি কমিয়ে আনতে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
ওবামা গতকাল রোববার সিঙ্গাপুরে এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা (অ্যাপেক) ফোরামে এ কথা জানান। তিনি বর্তমানে এশিয়া সফর করছেন।
মার্কিন সরকার ধারণা করছে, ২০০৯-১০ অর্থবছরে দেশটির বাজেট ঘাটতি এক লাখ ৫০ হাজার ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত হবে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে দেশটির বাজেট ঘাটতি ছিল এক লাখ ৪১ হাজার ৭০০ কোটি ডলার।

প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ ভিডিও করার সুপারিশ

ম্যাচ রেফারির রিপোর্টে কোনো অভিযোগ ছিল না আম্পায়ার নাদির শাহ সম্পর্কে। বিসিবির শৃঙ্খলা কমিটির সভায় তাঁর বিরুদ্ধে গাজী ট্যাংকের অভিযোগটা তাই টেকেনি। তবে মোহামেডান-গাজী ট্যাংক ম্যাচের আরেক আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে সৈকতের বিষয়ে কমিটি রিপোর্ট উত্থাপন করবে বিসিবির ২৩ নভেম্বরের সভায়। বলবত্ থাকবে আম্পায়ারের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত গাজী ট্যাংকের সমন্বয়কারী রাকিব হায়দারকে ম্যাচ রেফারির দেওয়া এক বছরের নিষেধাজ্ঞা ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার শাস্তি। কাল শৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে এসব জানিয়েছেন কমিটির প্রধান ও বিসিবি পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর।
গাজী ট্যাংকের বিপক্ষে ম্যাচে মোহামেডানের শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার ফারভিজ মাহারুফের রানআউটের সম্ভাবনা নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের অবসান হয়েছে শৃঙ্খলা কমিটির সভায়। সভার পর আলমগীর বলেছেন, ‘আশা করি, গাজী ট্যাংক পরের ম্যাচে খেলতে যাবে। শৃঙ্খলা কমিটির সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তে তারা সন্তুষ্ট।’ গাজী ট্যাঙ্ক ম্যানেজার একেএম কামরুজ্জামানও কাল রাতে জানিয়েছেন, লিগ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে তারা সরে এসেছেন।
সিসিডিএমের কাছে গাজী ট্যাংকের যে চারটি দাবি ছিল তার সব মেনে নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান। তবে বলেছেন, কিছু কিছু বিষয় তিনি পরবর্তী বোর্ড সভায় তুলবেন, ‘আম্পায়ার সৈকত একই সঙ্গে বিসিবিতেও চাকরি করেন। যেকোনো পরিস্থিতিতেই বোর্ডের কোনো কাউন্সিলরের সঙ্গে তিনি অসদাচরণ করতে পারেন না। বিষয়টা আলোচনার জন্য পরবর্তী বোর্ড সভায় তোলা হবে।’
এ ছাড়া প্রিমিয়ার লিগের সব ম্যাচ ভিডিও করার ব্যাপারটিও বোর্ড সভায় আলোচনা করা উচিত বলে মনে করেন আলমগীর, ‘সাদা চোখে খুব ক্লোজ সিদ্ধান্ত দেওয়া কঠিন আম্পায়ারদের পক্ষে। সেজন্য লিগের ম্যাচগুলো ভিডিও করা জরুরি। সম্ভব হলে থার্ড আম্পায়ার ব্যবস্থাও চালু করা দরকার।’ এ ব্যাপারে সিসিডিএম থেকে নাকি তাঁকে জানানো হয়েছে, বোর্ডের বাজেট কর্তন নীতির কারণেই লিগের ম্যাচ ভিডিও করা সম্ভব হচ্ছে না। লিগে বিদেশি আম্পায়ার আনার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশ, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেটে আম্পায়ার বিনিময়ের চুক্তি আছে বিসিবির। প্রয়োজনে ওই চুক্তির আওতায় শ্রীলঙ্কা থেকে আম্পায়ার আনা যায়। এ চুক্তির আওতায়ই গত বোর্ড সভায় বাংলাদেশের আম্পায়ার এনামুল হকের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে শ্রীলঙ্কার ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচ পরিচালনার জন্য।
আলোচনা হয়েছে আম্পায়ারদের উদ্দেশে রাকিব হায়দারের গালাগালের বিষয়টিও। আলমগীর জানিয়েছেন, শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থিত গাজী ট্যাংক কর্মকর্তা গাজী গোলাম মুর্তজাও রাকিবের আচরণে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, কেউ এ রকম অসদাচরণ করে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে যেকোনো শাস্তির সিদ্ধান্ত তাঁরা মেনে নেবেন। রাকিবের অসদাচরণ ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তাও শুনিয়েছে গাজী ট্যাংককে।

স্মিথ-বসম্যানে পিষ্ট ইংল্যান্ড

আর একটু হলে কেনিয়ার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার করা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ২৬০ রানের বিশ্ব রেকর্ডটাই ভেঙে ফেলত দক্ষিণ আফ্রিকা। সেঞ্চুরিয়নে কাল নতুন রেকর্ড করতে না পারলেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ওপেনার গ্রায়েম স্মিথ ও লুটস বসম্যান মিলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানটা এনে দিলেন স্বাগতিকদের, এনে দিলেন ৮৪ রানের জয়ও।
স্মিথ-বসম্যানের ওপেনিং জুটি ১৩.১ ওভারেই স্বাগতিকদের এনে দিয়েছে ১৭০ রান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটা যেকোনো উইকেট জুটিতেই রেকর্ড। মাত্র ৪৪ বলে ৮ চার আর ৬ ছক্কায় ৮৮ রান স্মিথের। রাইটের বলে অ্যান্ডারসনকে ক্যাচ দিয়ে মাত্র চার রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করা বসম্যানের ৯৪ রান এসেছে ৪৫ বলে, ৫টি বাউন্ডারির সঙ্গে ৯টি ছক্কা মেরেছেন তিনি। মিডল-অর্ডারে এবি ডি ভিলিয়ার্স করেছেন ১৩ বলে ২৪ রান। দক্ষিণ আফ্রিকার ৬ উইকেটে করা ২৪১ রানের জবাবে ইংল্যান্ড ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে করেছে ১৫৭ রান, সর্বোচ্চ ৫১ রান করেছেন জোনাথন ট্রট।
বৃষ্টির বাধায় প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচটা ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ১ রানে জিতেছিল ইংল্যান্ড। ওই পরাজয় কাল নিশ্চিত করেই তাতিয়ে দিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকাকে।

দলে ঐক্য চান ইউসুফ

ইউনুস খান যেখানে আপাত সমাপ্তি দেখেছেন মোহাম্মদ ইউসুফ শুরু করতে চাইছেন সেখান থেকেই। দলের মধ্যে ঐক্যের অভাব দেখেই নিউজিল্যান্ড সিরিজ থেকে নাকি সরে দাঁড়িয়েছেন ইউনুস। আর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ইউসুফ নিউজিল্যান্ড রওনা দেওয়ার আগে দুবাইতে বলে গেছেন, দলকে ঐক্যবদ্ধ করাই তাঁর মূল লক্ষ্য, ‘আমার মূল লক্ষ্য দলকে ঐক্যবদ্ধ করা। ধর্মও আমাদের সে শিক্ষাই দেয়।’
আবুধাবিতে ২-১-এ ওয়ানডে সিরিজ হারলেও দুবাইয়ে ২-০-তে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেই কাল নিউজিল্যান্ডের বিমানে চেপেছে পাকিস্তান দল। দুই টেস্ট সিরিজের প্রথমটি ডানেডিনে শুরু হবে আগামী ২৫ নভেম্বর। নিউজিল্যান্ড যাওয়ার আগে মোহাম্মদ ইউসুফ শুনিয়েছেন এই সিরিজে তাঁর আশার কথা, ‘আমি নিশ্চিত, দলের সব ক্রিকেটার তাদের দায়িত্বের ব্যাপারে সচেতন। আমার কাছে সব খেলোয়াড়ই সমান, সবাইকে আমি সমানভাবেই দেখব।’ এটাই স্বাভাবিক। ইউনুস খানের ‘বিশ্রামে’ যাওয়ার পেছনে দলের ‘নীরব বিদ্রোহ’ এতটাই কাজ করেছে যে, আপাতত একতা-সংহতির মতো ব্যাপারগুলো নিয়েই বেশি ভাবতে হচ্ছে ইউসুফকে।
আর ক্রিকেটীয় ভাবনায় ইউসুফ প্রথমেই সামনে নিয়ে এসেছেন একটা নাম—মিসবাহ-উল হক। ঢাকায় প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ খেলতে আসা এই মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যানকে নিউজিল্যান্ডে উড়িয়ে নিয়ে যেতে চান ইউসুফ। উদ্দেশ্য, ইউনুস খানের শূন্যতা পূরণ করা। ‘ব্যাটসম্যান ইউনুসকে আমরা অবশ্যই মিস করব। তবে আমি নির্বাচক কমিটিকে বলেছি মিসবাহ-উল হককে তার বিকল্প হিসেবে আনার ব্যবস্থা করতে। নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা আছে তার।’
ইউসুফের আশঙ্কা, নিউজিল্যান্ডের সিমিং কন্ডিশন তাঁর ব্যাটসম্যানদের ফেলবে অগ্নিপরীক্ষায়। তবে বোলিং আক্রমণের দিকে তাকিয়ে স্বস্তিই পাচ্ছেন অধিনায়ক। নিউজিল্যান্ডকে দুই ইনিংসেই অলআউট করার সামর্থ্য দেখছেন তিনি পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণে, ‘মোহাম্মদ আসিফ ফিরেছে। নতুন বলকে দারুণভাবে কাজে লাগাতে পারে সে। নিউজিল্যান্ডে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে আসিফ।’ আসিফ ছাড়া অন্য পেসারদের ওপরও বেশ আস্থা ইউসুফের, ‘মোহাম্মদ আমির, উমর গুল, আবদুল রউফ আছে দলে। আছে দানিশ কানেরিয়া আর সাঈদ আজমলের মতো দুজন ভালো স্পিনার। কাজেই নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হতে আমরা সব দিক দিয়েই প্রস্তুত।’
প্রস্তুত আসিফও। তিক্ত অতীত পেছনে ফেলে নতুন করে শুরু করতে চান সবকিছু, ‘পুরোনো বিষয় পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে চাই আমি। যথেষ্ট শিক্ষা হয়েছে। এখন আমার লক্ষ্য নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে দলের জন্য ভালো কিছু করা।’ দুবাই বিমানবন্দরে আফিম নিয়ে ধরা পড়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ সে দেশে আসিফের খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলা হয়নি তাঁর সে কারণেই। তবে নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশে করাচি ছাড়ার আগে আসিফের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে শিক্ষা সত্যি সত্যিই হয়েছে তাঁর। ‘ক্যারিয়ার থেকে দুটো মূল্যবান বছর হারিয়ে গেছে আমার। প্রথমটা ইনজুরির জন্য, পরের বছর ভিন্ন কারণে। তবে এখন আমি চাইছি খেলায় মন দিতে, উইকেট পেতে, দলকে জেতাতে’—বলেছেন আসিফ।
পাকিস্তান কোচ ইন্তিখাব অবশ্য বোলিং নয়, ব্যাটিংটাকেই দেখছেন নিউজিল্যান্ড সাফল্যের শর্ত হিসেবে, ‘আমাদের ব্যাটিংয়ে অবশ্যই উন্নতির ছোঁয়া থাকতে হবে। ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টির পর টেস্টে গিয়ে নয়তো কাজটা কঠিন হবে। ব্যাটসম্যানদের ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। কারণ দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটেই ব্যাটসম্যানদের আসল পরীক্ষাটা হয়।

গিবসের সামনে আরেকটি সুযোগ

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটটা তাহলে শেষ হয়ে যায়নি হার্শেল গিবসের জন্য! দক্ষিণ আফ্রিকার এই হার্ডহিটার ওপেনারের সামনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে ‘এ’ দলের ডাক। আগামীকাল পচেফস্ট্রুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলে ডাক পেয়েছেন তিনি।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টির দল থেকে বাদ পড়ার পর ঘরোয়া ৪০ ওভারের ক্রিকেটে তিন ম্যাচ খেলে একটা সেঞ্চুরিসহ ১৬৩ রান করেছেন গিবস। সেটাই আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পথ দেখাচ্ছে তাঁকে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান নির্বাচক মাইক প্রক্টর বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক এমটিএন ৪০ ম্যাচে দারুণ ফর্ম দেখিয়েছে হার্শেল। এর পর এই ম্যাচটা তাঁর সামনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ডাক পাওয়ার আরেকটা সুযোগ করে দিচ্ছে। আমরা তার কাছে যেমন ধারাবাহিকতা আশা করি, সেটা ও দেখাচ্ছে।’
সপ্তাহ তিনেক আগে ঘোষিত প্রথম ‘এ’ দলে ছিলেন গিবস। তবে প্রক্টর তখনই বলেছিলেন, ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্স তাঁকে একটা সুযোগ দিলেও দিতে পারে।

মিসর-আলজেরিয়ার ভাগ্য এখন প্লে-অফে

শেষ হইয়াও হইল না শেষ।’ আফ্রিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের এখন এই অবস্থা। পরশু ছিল আফ্রিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বের শেষ দিন। কিন্তু তা আর শেষ হলো কই? মিসর আলজেরিয়ার বিপক্ষে তাদের শেষ গ্রুপ ম্যাচটি ২-০ গোলে জিতে লড়াইটাকে নিয়ে গেল প্লে-অফে।
নিজেদের মহাদেশে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে যেসব শর্ত নিয়ে জিততে হতো, মিসর ঠিক সেভাবেই জিতল। দুদলের পয়েন্ট এবং গোল ব্যবধান দুটোই এখন সমান। তাই এই গ্রুপ থেকে বিশ্বকাপে কোন দেশ খেলবে, তা ঠিক হবে প্লে-অফের মাধ্যমে। আর এক ম্যাচের এই প্লে-অফে আগামী পরশু দুদল মুখোমুখি হবে সুদানে।
কায়রোতে প্রায় ৭৫ হাজার দর্শককে আনন্দে ভাসিয়ে ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই মিসরকে এগিয়ে দেন আমর জাকি। তবে ম্যাচের একেবারে অন্তিম মুহূর্তে (৯০+৫) তাদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখা গোলটি আসে ‘সুপার-সাব’ এমাদ মেতেয়াবের পা থেকে। ৬৫ মিনিটে জাকির বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন তিনি।
মিসর-আলজেরিয়ার ভাগ্য ঝুলে থাকলেও পেলের ভবিষ্যদ্বাণীকে সত্য করে নিজেদের মহাদেশের বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে ‘সুপার ইগল’ নাইজেরিয়া। বাছাইপর্বে নাইজেরিয়ার সঙ্গিন অবস্থায় উঠে গিয়েছিল একটা হাহাকার। ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলে তখন বলেছিলেন, ২০১০ বিশ্বকাপে ঠিকই জায়গা করে নেবে আফ্রিকার এই ফুটবল পরাশক্তি।
পেলের কথা রাখতেই কিনা কেনিয়ার বিপক্ষে ০-১ গোলে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধে ৩ মিনিটের মধ্যে (৬২ ও ৬৫) দুই গোল করে এগিয়ে যায় নাইজেরিয়া। এই গোল দুটির একটি করেছেন ওবাফেমি মার্টিনস এবং অন্যটি আইয়েগবেনি ইয়াকুবু। মার্টিনস পরে করেছেন আরেক গোল এবং কেনিয়ার বিপক্ষে নাইজেরিয়া জিতেছে ৩-২ গোলে। বিশ্বকাপে উঠে গেছে স্যামুয়েল ইতোর দল ক্যামেরুনও। মরক্কোর মাঠে ইতো আর অ্যাচিলে ওয়েবোর গোলে ২-০ ব্যবধানের জয় তাদের তুলে দিয়েছে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে।
আফ্রিকা থেকে আগেই বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে ফেলেছে ঘানা ও আইভরি কোস্ট। আর স্বাগতিক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা তো খেলছেই।
এদিকে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের দেশ উরুগুয়ে কনক্যাকাফ অঞ্চলের দেশ কোস্টারিকার বিপক্ষে প্লে-অফের প্রথম লেগটি জিতেছে ১-০ গোলে।

আরও টেস্ট খেলতে চাই

টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির মধ্যে ২০১২ সাল-পরবর্তী ভবিষ্যত্ সফর কর্মসূচিতে (এফটিপি) টেস্ট ম্যাচের জায়গা করতে অনেক ভাবতে হচ্ছে আইসিসিকে। তবে ভারতীয় ও শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটাররা সমস্বরে আওয়াজ তুলছেন, সুযোগ দিতে হবে বেশি করে টেস্ট খেলার।
আগের দিন মুম্বাইয়ে এই কথা বলেছেন শচীন টেন্ডুলকার। কাল শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারাও আরও বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ দাবি করলেন, ‘এটা সত্যি খুব পরিতাপের ব্যাপার, আমরা টেস্ট ক্রিকেট থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।’ ভারত-শ্রীলঙ্কা তিন টেস্ট সিরিজের প্রথমটি শুরু হচ্ছে আজ আহমেদাবাদে। এই টেস্ট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক বললেন এই টেস্ট-বঞ্চনার কথা, ‘আমাদের দলের তরুণেরা সর্বোচ্চ পর্যায়ে ভালো করার জন্য ব্যাকুল। আর সর্বোচ্চ পর্যায় মানেই তো টেস্ট ক্রিকেট। কিন্তু সেটি তারা তেমন পাচ্ছেই না।’
আগামী বছরে শ্রীলঙ্কার নির্ধারিত টেস্ট সিরিজ মাত্র একটা—নভেম্বরে দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। এতে মুত্তিয়া মুরালিধরনের ১০০০ টেস্ট উইকেট পাওয়ার স্বপ্নটাকে পরিত্যাগই করতে হচ্ছে। সর্বোচ্চ ৭৮৩ টেস্ট উইকেটের মালিকের বয়স চলছে ৩৭, এরই মধ্যে তিনি বলে দিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দেশের মাটিতে এই সিরিজটাই তাঁর শেষ। এটা খেলেই অবসর নেবেন। স্পিন জাদুকরের ১০০০ টেস্ট উইকেট পাওয়ার স্বপ্নটা পূরণ আর তাই হচ্ছে না! টেস্ট ম্যাচের এই আকালে বাস্তবতাকে মেনেই নিয়েছেন তিনি, ‘একটা সময় আমার মনে হয়েছিল, এটির পেছনে আমি ছুটতেই পারি। কিন্তু এ জন্য আমাদের দরকার ছিল আরও বেশি টেস্ট খেলা, কিন্তু সেটি তো আর হচ্ছে না।’
জিম্বাবুয়ে অনেক দিনই টেস্ট ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত। আইসিসি তাই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের কথা ভাবছে বাকি ৯টি টেস্ট খেলুড়ে দেশকে নিয়ে। তবে ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা যা-ই হোক, ক্রিকেটারদের চাহিদাটা স্পষ্টই বলে দিয়েছেন সাঙ্গাকারা, ‘প্রতিটি দেশের জন্য বছরে ৮-১০টি টেস্ট খেলা হলো আদর্শ। ওটা নিয়েই কাজ করতে হবে আগে।’
টেস্টের সর্বোচ্চ রান ও সেঞ্চুরির মালিক টেন্ডুলকারের কথা ভাবলেই তো টেস্টের জন্য আর্তিটা আরও বেশি করে বোঝা যায়। টেন্ডুলকার তাঁর সর্বশেষ টেস্ট সিরিজটা খেলেছেন নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সেই মার্চ-এপ্রিলে। তারপর আবার টেস্টে নামছেন আজ, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ‘আমাদের অবশ্যই বেশি করে টেস্ট খেলতে হবে। এই (২০০৯-১০) মৌসুমে আমরা মাত্র পাঁচটি টেস্ট খেলেছি, এটা তো ভালো কথা নয়। একটা দল যত বেশি টেস্ট খেলবে ততই পরিণত হবে, কারণ এটাই আসল ক্রিকেট’—বলেছেন টেন্ডুলকার। টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডে ক্রিকেট সম্পর্কে টেন্ডুলকারের উপলব্ধি, ‘কখনো কখনো ম্যাচটা বুঝে ওঠার আগেই তো ম্যাচ শেষ হয়ে যায়।

আশা-নিরাশার ১০ মিটার রাইফেল

আবার নিজের ছায়ায় ঢাকা পড়ে গেছেন আসিফ। আগের আসিফ আর নেই। গত এপ্রিলে দারুণভাবে ফিরে এসেও নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন আবার। ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় এখন তিনি তৃতীয় হচ্ছেন।
প্রথম-দ্বিতীয় স্থান তাহলে কাদের? মাহমুদুল হাসান ও আবদুল্লাহ্ হেল বাকির। বিকেএসপির এই দুই তরুণ উঠে আসছেন প্রতিশ্রুতি জাগিয়ে। কাল দ্বিতীয় এয়ারগান ক্লাব শ্যুটিংয়ে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে তীব্র লড়াইয়ের পর মাহমুদুল প্রথম, আবদুল্লাহ্ দ্বিতীয়, আসিফ তৃতীয় হয়েছেন। আসন্ন এসএ গেমসে আবদুল্লাহ-মাহমুদুলকে ঘিরেই মনে হয় ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে বাংলাদেশের সোনার প্রত্যাশা থাকছে। যে ইভেন্টের নামই হয়ে গিয়েছিল ‘আসিফের ইভেন্ট’।
গুলশান জাতীয় শ্যুটিং রেঞ্জের সংস্কারকাজ এখনো শেষ হয়নি, এরই মধ্যে অনেক দিন পর একটা প্রতিযোগিতা আয়োজিত হলো সেখানে। কাল দুপুরে রেঞ্জে পা দিয়ে সবার মুখেই শোনা গেল আবদুল্লাহ্ আর মাহমুদুলের প্রশংসা। অনুশীলন ক্যাম্পে শেষ তিনটি প্রতিযোগিতায় আবদুল্লাহ্ করেছেন ৫৯৩, ৫৯০ ও ৫৯৪। সজীব করেছেন ৫৮১, ৫৯০ ও ৫৯০। আসিফের স্কোর ছিল ৫৭২, ৫৮৫ ও ৫৮৫।
এদিন বাছাইয়ে আবদুল্লাহ্র স্কোর ছিল ৫৯০। মাহমুদুলের ৫৮৯। আসিফের ৫৮৫। তবে রাতে শ্যুট-অফে দান মেরে প্রথম হয়ে গেছেন মাহমুদুল। শেষ দুই শটেই নিষ্পত্তি হয়েছে শিরোপা।
গত এপ্রিলে জাতীয় শ্যুটিংয়ে যিনি ৫৯৫ করে এই ইভেন্টে জাতীয় রেকর্ড গড়েছেন, সেই আসিফের এমন দুরবস্থা কেন? কমনওয়েলথ ও সাফ গেমসের সোনাজয়ী বললেন, ‘মানসিক চাপ। কম্পিটিশনে দু-একটা শট খারাপ হলেও টেনশন শুরু হয়ে যায়, এই বুঝি সব শেষ।’ তাই হলো কাল বাছাইয়ে, প্রথম ৪০টি শটে ৬ স্কোর কম করেছেন, বাকি ২০ শটে হারিয়েছেন ৯!
‘আতিক ভাই আর শাহানা আপা অনেক সাহায্য করছেন। অনুশীলনে ভালো করলেও প্রতিযোগিতায় পারছি না। ওনাদের হাতে এখন শুধু মার খাওয়া বাকি আমার...হা..হা..হা’—হাসতে হাসতে নিজের ফর্মের অধোগতিটা বোঝালেন আসিফ।
আগামী মাসে দোহায় এশিয়ান এয়ারগান শ্যুটিংয়ের জন্য ছেলেদের যে দলটা গড়েছে শ্যুটিং ফেডারেশন, তাতে আবদুল্লাহ্ আর মাহমুদুলই সেরা পছন্দ। নানা দিক চিন্তা করে আসিফকে দলে রাখা হয়েছে, তবে তাঁকে বলে দেওয়া হয়েছে, স্কোর ৫৯০-এর ওপরে নিতেই হবে। নইলে দল থেকে বাদ পড়বেন।
মেয়েদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলের দল নিয়ে উল্টো বিড়ম্বনা। এসএ গেমসের দলে কাকে রেখে কাকে বাদ দেওয়া হবে, সেটি নিয়েই কথা হচ্ছে! গেমসে ছেলেদের ১০ মিটারের চেয়ে মেয়েদের ১০ মিটারেই বেশি সম্ভাবনা দেখছেন শ্যুটিং কোচরা। শ্যুটিং ক্যারিয়ারের যবনিকা টেনে গত ৫ নভেম্বর কোচ হিসেবে যোগ দেওয়া সাইফুল আলম রিংকি যেমন বললেন, ‘ছেলেদের টিমে বিকেএসপির ছেলে দুটি মোটামুটি ভালোই করছে। আরেকটু ভালো করলে ওদের নিয়ে আশা করাই যায়। তবে দলগতভাবে ভালো করতে হলে আসিফকে ভালো করতে হবে। এখন পর্যন্ত মেয়েদের টিমটাই বেশি ভালো করছে। এই দলটি সাফে ভালো ফাইট দিতে পারবে।’
শারমিন, রত্না, সাদিয়া, তৃপ্তিরা ট্রায়ালে ৩৯৪-৩৯৫ বা এরও বেশি স্কোর করছেন। আজ তাঁদের মধ্যে তুমুল একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। ২০০৪ ইসলামাবাদ সাফ গেমসে সোনাজয়ী শারমিন অনেক দিন পর ফর্মে ফিরেছেন, এটা শ্যুটিং-অঙ্গনে বড় খবর। অভিজ্ঞ সাবরিনাও এয়ার রাইফেলে ৩৯০-এর আশপাশে স্কোর করছেন। এবার সম্ভবত তাঁকে ছাড়াই এই ইভেন্টে খেলতে পারবে বাংলাদেশ। প্রোন, থ্রি পজিশনেই হয়তো খেলতে হবে সাবরিনাকে।
মেয়েদের এয়ার পিস্তলে বাংলাদেশের কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। কাল মেয়েদের এয়ার পিস্তলে শ্যুটারদের স্কোর ছিল খুবই খারাপ। গত জাতীয় প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ ৩৭৩ হয়েছিল, কাল হলো ৩৬২। নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের আরমিন আশা করলেন সর্বোচ্চ স্কোর। বিকেএসপির অন্তরা ইসলাম দ্বিতীয় (৩৫৮) ও তৃতীয় ঢাকা রাইফেল ক্লাবের ফারজানা কাওসার (৩৫৬)।

দুই মাসের জন্য বহিষ্কার ম্যারাডোনা

আর্জেন্টিনার ফুটবল কোচ ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে সব ধরনের ফুটবল থেকে দুই মাসের জন্য বহিষ্কার করেছে ফিফা। কাল জুরিখে ম্যারাডোনার শুনানি শেষে এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বহিষ্কারাদেশ কার্যকর হয়েছে গতকাল থেকেই, শেষ হবে আগামী ১৫ জানুয়ারি।
বহিষ্কারাদেশের বাইরে ২৫ হাজার সুইস ফ্রাঁ (২৪ হাজার ৬৯১ ডলার) জরিমানা করা হয়েছে সাবেক আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে। ম্যারাডোনার অপরাধ, গত অক্টোবরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ১-০ গোলে জয়ের পর সাংবাদিকদের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করেছিলেন তিনি। সেই ম্যাচ জিতেই অনেক কষ্টে ২০১০ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে আর্জেন্টিনা। কাল শুনানিতে নিজের ওই আচরণের জন্য ফিফা ও বিশ্ব ফুটবল পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ম্যারাডোনা।
বিবৃতিতে ফিফা বলেছে, শাস্তি প্রদানের সময় ম্যারাডোনার ক্ষমা চাওয়া এবং ফিফার সিদ্ধান্তের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা প্রদর্শনের বিষয়টি বিবেচনায় এনেছে তারা। ম্যারাডোনা অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকায় সাংবাদিকদের উদ্দেশে ওই মন্তব্য করার পরই সমগ্র নারী জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন।
এর আগে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৫০ মিনিট পর মাদ্রিদ থেকে শুনানির জন্য জুরিখে পৌঁছান তিনি। চোখে সানগ্লাস আর ট্র্যাকসুট পরা ম্যারাডোনাকে কড়া প্রহরায় বিমানবন্দরের কাছের এক হোটেলে নিয়ে যান আর্জেন্টিনা ফুটবলের এক কর্মকর্তা ও তাঁর দেহরক্ষীরা। প্রায় আড়াই ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার শুনানি শেষে ফিফার সদর দপ্তর ত্যাগ করেন তিনি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা না বলেই।

পেশোয়ারে মেয়রের ওপর জঙ্গি হামলা

পাকিস্তানের পেশোয়ারে গতকাল রোববার তালেবানবিরোধী এক মেয়রের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে জঙ্গিরা। তবে মেয়র অক্ষত আছেন। খবর এএফপির।
পুলিশ কর্মকর্তা নাবি শাহ জানান, ১০-১৫ জন জঙ্গি বোরকা পরে এসে মেয়র মোহাম্মদ ফাহিম খানের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় নিরাপত্তাকর্মীরা পাল্টা গুলি চালালে তিন জঙ্গি নিহত হয়। অন্যরা পালিয়ে যায়।
মেয়র জানান, এর আগেও তাঁর ওপর হামলা হয়েছে। তিনি নিজের শহর বাজিদ খেলে তালেবানের বিরুদ্ধে লড়তে একটি বাহিনী গড়ে তুলেছেন। পেশোয়ারের বাইরে এ মাসের শুরুতে বোমা হামলায় একজন তালেবানবিরোধী মেয়র নিহত হন।

সারকোজির প্রস্তাব

মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা প্যারিসে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি। গতকাল রোববার ইসরায়েলভিত্তিক হারেত্জ পত্রিকা এ কথা জানিয়েছে।
এক ফরাসি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, গত সপ্তাহে ইসরায়েল, ফিলিস্তিন ও সিরিয়ার নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে ওই প্রস্তাব দিয়েছেন সারকোজি। আলোচনায় জর্ডানের বাদশাহ, মিসরের প্রেসিডেন্ট ও লেবাননের প্রেসিডেন্টকেও আমন্ত্রণ জানানো হবে। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের বিশেষ দূতেরাও ওই আলোচনায় অংশ নেবেন বলে পত্রিকাটি জানায়।

শিশু নিগ্রহের ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ার ক্ষমা প্রার্থনা

অস্ট্রেলিয়ায় শৈশবে রাষ্ট্রীয় নিগ্রহের শিকার হওয়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী কেভিন রুড ব্রিটিশ অভিবাসীসহ কয়েক হাজার মানুষের কাছে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়েছেন।
কেভিন রুড বলেন, অতীতের বিভিন্ন ঘটনায় অভিবাসী শিশু ও তাদের অভিভাবকেরা যে দুর্ভোগের শিকার হয়েছে সে জন্য তিনি গভীরভাবে দুঃখিত।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী আরও মনে করেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে সেই নিগ্রহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
খবর বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ায় ১৯৩০ সাল থেকে ১৯৭০ সালের মধ্যে প্রায় পাঁচ লাখ ‘অবহেলিত অস্ট্রেলীয়’ শিশু বিভিন্ন অনাথ আশ্রমে নির্যাতনের শিকার হয়।
রাজধানী ক্যানবেরাতে অনুষ্ঠিত এই প্রার্থনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কয়েক হাজার মানুষ, যাঁদের শৈশবে জোর করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনে বাধ্য করা হয়েছিল এবং তাঁরা সে সময় ব্যাপক নিগ্রহ ও অবহেলার শিকার হয়েছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী এই ক্ষমা প্রার্থনা অনুষ্ঠানে সে সময়ের শিশু নিগ্রহের কয়েকটি কাহিনী তুলে ধরেন। এ সময় উপস্থিত সবাই আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন।
যুদ্ধের পরপর ব্রিটেন থেকে প্রচুর শিশুকে তাদের বাবা-মায়ের অমতে ‘আরও ভালোভাবে শৈশব কাটাতে’ একপ্রকার জোর করেই অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনে বাধ্য করা হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী এ অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে বিশেষভাবে সেসব ব্রিটিশ শিশুদের কাছেও ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
গতকাল রোববার ব্রিটিশ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীও আগামী বছর একইভাবে ব্রিটিশ শিশুদের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অস্ট্রেলিয়াতে অভিবাসনে বাধ্য করার জন্য ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইবেন।

মৃত ভেনিসের জন্য শহরবাসীর শবযাত্রা

ইতালির দ্বীপশহর ভেনিসের বাসিন্দারা গত শনিবার এক প্রতীকী ‘শবযাত্রার’ আয়োজন করেছিল। শহরের জনসংখ্যা দিন দিন কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে তারা ওই শবযাত্রার আয়োজন করে। তাদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ শহরে পর্যটক টানতেই বেশি উত্সাহী, তারা শহরবাসীর ব্যাপারে উদাসীন। এ কারণে এককালের লাখো মানুষের ওই শহর ছেড়ে লোকজন অন্যত্র চলে যাচ্ছে। এ কারণে শহরের জনসংখ্যা কমে ৬০ হাজারের নিচে নেমে এসেছে।
ভেনিসের গ্র্যান্ড ক্যানেলে বিশেষ নৌকার আয়োজন করা হয় ওই শবযাত্রায়। নৌকায় প্রতীকী হিসেবে একটি গোলাপি রঙের শবাধার ছিল। শবযাত্রাটি মেয়রের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
শহরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভেনিস এখন ‘ভূতের নগরে’ পরিণত হয়েছে। শবযাত্রার আয়োজক মাত্তিও সেচচি বলেন, ‘শহরের জনসংখ্যা দিন দিন কমছে। এ অবস্থায় দুই বছর আগে আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম, শহরের জনসংখ্যা ৬০ হাজারের নিচে নেমে এলে শোকযাত্রার আয়োজন করা হবে। কারণ ৬০ হাজারের নিচে জনসংখ্যা নেমে এলে সেই শহরকে আর শহর বলা যায় না, বরং তা গ্রাম বলাই ভালো। তাই ভেনিস শহরের মৃত্যু হয়েছে।’
শহর কর্তৃপক্ষ অবশ্য তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ভেনিস শহর এখনো মরে যায়নি। শহরকে বাসযোগ্য করার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।