Thursday, September 10, 2026

নির্বাচনে জিতলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে দেশের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়া হবে। তবে ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের পর তার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সেই দাবি থেকে আংশিকভাবে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ডালাসে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত সম্মেলনে প্রায় দুই ঘণ্টার ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘রিপাবলিকানরা জিতলে আপনারাও জিতবেন, আর আপনারা ৫ হাজার ডলার পাবেন।’ এ সময় তিনি ভোটারদের এমনভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান, যেন তিনি নিজেই ব্যালটে প্রার্থী হয়েছেন।

তবে ট্রাম্পের পর বক্তব্য দিতে গিয়ে ভ্যান্স ইঙ্গিত দেন, প্রস্তাবিত এই অর্থ ধনী মার্কিন নাগরিকদের দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, শুল্ক থেকে পাওয়া রাজস্বের অর্থ দিয়ে এ অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হতে পারে।

তবে প্রস্তাবিত ৫ হাজার ডলারের পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক থেকে অর্জিত রাজস্বের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে এই অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন বা সম্মতি প্রয়োজন হবে।

এখনও ট্রাম্পের ঘোষণার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি হোয়াইট হাউস।

আমেরিকার পতাকা হাতে সমর্থকদের ঘেরা মঞ্চে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেন, তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছর ‘আর্থিক ও অন্যান্য সব দিক থেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দুই বছর’।

তবে ভাষণের বড় একটি অংশজুড়ে তিনি সতর্ক করেন, প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে তাঁর মেয়াদের বাকি দুই বছর কী ঘটতে পারে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের দেশের ওপর একটি পাগলাটে, অসুস্থ মেঘ নেমে এসেছে। আমরা আমেরিকায় কমিউনিজমকে পরাজিত করব।’

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানরা যে সম্মেলনের আয়োজন করেছে, এটি দলটির ইতিহাসে প্রথম মধ্যবর্তী নির্বাচনভিত্তিক সম্মেলন। এর মাধ্যমে নির্বাচনে দলটির অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে জনমত জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কম থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে থাকা অনেক রিপাবলিকান প্রার্থীই দুই দিনের এই সম্মেলন এড়িয়ে গেছেন।

বর্তমানে ট্রাম্পের অনুমোদনযোগ্যতার হার প্রায় ৩৮ শতাংশে রয়েছে এবং ধারণা করা হচ্ছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

নির্বাচনে জিতলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের
ছবি: সংগৃহীত।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে যেভাবে ইরানে ঢুকছে বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্য

রয়টার্স এক্সক্লুসিভঃ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চীনের কাছে তেল বিক্রি করে এর বিনিময়ে বিভিন্ন পণ্য ও সেবা কিনতে বিনিময়ভিত্তিক এক গোপন বাণিজ্যব্যবস্থা ব্যবহার করছে ইরান। এর মাধ্যমে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন থেকে ওষুধ, যানবাহন, যোগাযোগ সরঞ্জামসহ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে দেশটি। এমনকি গত এক বছরে কয়েক মিলিয়ন ডলারের বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের চুক্তিতেও এই ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ইরানের দুটি জ্যেষ্ঠ সূত্র এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরও তিন ব্যক্তি রয়টার্সকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, এই ব্যবস্থায় ইরানি তেলের অর্থ সরাসরি আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে চীনা রপ্তানিকারকদের কাছে পাঠানো হয় না। বরং তেল বিক্রির অর্থ চীনা পণ্য আমদানির জন্য ক্রেডিট হিসেবে জমা রাখা হয়।

সূত্রগুলোর মতে, এ ব্যবস্থা ইরানের জন্য মার্কিন অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক পথ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে চীনও এতে সুবিধা পাচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশটি ছাড়মূল্যে ইরানি তেল পাওয়ার সুযোগ ধরে রাখতে পারছে, পাশাপাশি ইরানে পণ্য রপ্তানিকারক চীনা ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানগুলোও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি থেকে নিজেদের আড়াল রাখতে পারছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল কেনা বা পরিবহনে সহায়তা করা কিছু ছোট চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে—এমন কঠোর পদক্ষেপ থেকে এখনো বিরত রয়েছে ওয়াশিংটন।

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর প্রচেষ্টা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির ওপর চাপ আরো বাড়িয়েছে। গত আগস্টে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে বলেন, দেশগুলোকে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে, নইলে তারা ডলারভিত্তিক আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

তবে এই গোপন বাণিজ্যব্যবস্থায় মার্কিন নৌ অবরোধের কী প্রভাব পড়েছে, তা নিশ্চিত হতে পারেনি রয়টার্স। গত ১৪ জুলাই অবরোধ পুনর্বহালের পর থেকে ইরানের কোনো অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে চীনে পৌঁছাতে পারেনি বলে গত সপ্তাহে জানিয়েছিল সংস্থাটি।

কীভাবে চলছে এই বাণিজ্য

রয়টার্সের তথ্যমতে, এই ব্যবস্থার অন্যতম অংশ হলো চীনে অবস্থিত ‘চুশিন’ নামে একটি অস্পষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান। পশ্চিমা একটি সূত্র এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরও দুজনের ভাষ্য অনুযায়ী, চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ঝুহাই ঝেনরংয়ের হয়ে কাজ করা একটি ক্রেতা চলতি বছর পর্যন্ত প্রতি মাসে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার চুশিনে জমা দিত।

এই অর্থ ব্যবহার করা হতো ইরানের জাতীয় তেল কোম্পানির (এনআইওসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হংকং-নিবন্ধিত একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করা আমদানি চুক্তির অর্থ পরিশোধে। এরপর চুশিন চীনা রপ্তানিকারক ও ইরানে অবকাঠামো নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে অর্থ পাঠাত—সম্ভবত চীনের অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।

সূত্রগুলোর হিসাবে, চুশিনের মাধ্যমে পরিচালিত ইরানি তেল বিক্রির অর্থের প্রায় ৭০ শতাংশ অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যয় করা হয়। বাকি অর্থ রাখা হয় একটি বিশেষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিষ্ঠানের (এসপিভি) হিসাবে। এই অর্থ ইরানে পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিল পরিশোধে ব্যবহার করা হয়।

ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্র রয়টার্সকে এসপিভিটির অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, এসপিভিতে থাকা অর্থ দুটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে—একটি চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হয়ে কাজ করে এবং অন্যটি ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো আমদানিকারককে এসপিভির অর্থ ব্যবহারের অনুমোদন দিলে ইরান-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি চীনা প্রতিষ্ঠানে তা জানায়। এরপর সংশ্লিষ্ট চীনা সরবরাহকারীদের অর্থ পরিশোধ করা হয়।

তবে রয়টার্স চীনের কোনো কোম্পানি নিবন্ধন নথিতে ‘চুশিন’ নামে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হয়ে কাজ করে বলে দাবি করা প্রতিষ্ঠানগুলোরও কোনো নির্ভরযোগ্য সরকারি রেকর্ড পাওয়া যায়নি। একটি সূত্র এমনকি বলেছে, চুশিন হয়তো শুধু একটি স্প্রেডশিটে থাকা নাম।

নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এড়ানোর কৌশল

এই ব্যবস্থাটি অন্তত ২০২১ সাল থেকে চালু রয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো। শুরুতে ইরানে ওষুধ ও কোভিড-১৯ টিকা সরবরাহের জন্য এটি ব্যবহার করা হয়েছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ বাড়ালে এর গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।

সূত্রগুলোর হিসাবে, গত এক বছরে এই এসপিভির মাধ্যমে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি ডলার লেনদেন হয়েছে।

ইরানের তেল রপ্তানির ওপর চীনের নির্ভরতা এই ব্যবস্থার গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। পণ্যবাজারবিষয়ক তথ্য ও বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানের সমুদ্রপথে পাঠানো তেলের ৮০ শতাংশের বেশি চীন কিনেছে, যার পরিমাণ ছিল গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল।

ইরান ও চীন ২০২১ সালে জ্বালানি ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে ২৫ বছরের কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি করে। তবে সেই চুক্তির বিস্তারিত এখনো খুব বেশি প্রকাশ্যে আসেনি।

যুক্তরাজ্যের এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রভাষক আন্দ্রেয়া ঘিসেল্লির মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা ব্যবহার করে চীন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মোকাবিলা করছে এবং দেখাচ্ছে যে দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়ে দেশটিকে সহজে বাধ্য করা যাবে না।

রাজনৈতিকসংবাদ

তবে তার মতে, চীনের নেতৃত্ব একই সঙ্গে নিজেদের ব্যাংক ও কোম্পানিগুলোকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি থেকেও দূরে রাখতে চায়। তাঁর ভাষায়, এ ক্ষেত্রে চীনের লক্ষ্য হলো ‘দায় অস্বীকার করার মতো পর্যাপ্ত সুযোগ’ রাখা।

চীন রয়টার্সকে জানিয়েছে, তারা প্রতিবেদনে বর্ণিত পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত নয়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি বা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন নেই—এমন একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে চীন।

ইরানের জাতিসংঘ মিশন এবং দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেয়নি। একইভাবে ঝুহাই ঝেনরং ও ইরানের জাতীয় তেল কোম্পানিও তাদের কথিত ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করেনি। মার্কিন প্রশাসনও এই নির্দিষ্ট বাণিজ্য ব্যবস্থা নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে যেভাবে ইরানে ঢুকছে বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্য
ছবি: সংগৃহীত।

এক দশকেই বিলুপ্ত হতে পারে মানবজাতি, ‘এআই গডফাদার’ হিন্টনের সতর্কবার্তা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কারণে আগামী এক দশকের মধ্যে মানবজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার যে ১০ শতাংশ সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে, তা অযৌক্তিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন নোবেলজয়ী ও এআই প্রযুক্তির অন্যতম পথিকৃৎ জিওফ্রে হিন্টন। প্রযুক্তির এই অগ্রভাগে কাজ করা গবেষকদের ক্রমবর্ধমান সতর্কবার্তার তালিকায় তিনিও নিজের মতামত যুক্ত করলেন।

বুধবার বিবিসির ‘নিউজ নাইট’ অনুষ্ঠানে কথা বলার সময় ‘এআইয়ের গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত হিন্টন বলেন, মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান হয়ে উঠতে পারে—এমন কোনো সত্তা এর আগে মানবজাতি তৈরি করেনি। ফলে এআই কতটা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তা অনুমান করা কঠিন।

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন কোনো সত্তা তৈরি করিনি, যারা খুব শিগগিরই আমাদের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান হতে পারে। কী ঘটতে যাচ্ছে, আমরা জানি না।’

আগামী এক দশকের মধ্যে এআইয়ের কারণে সব মানুষ মারা যাওয়ার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হিন্টন বলেন, এই ঝুঁকি মাত্র ১ শতাংশ ধরে নেওয়া খুবই বোকামি হবে।

তার ভাষায়, ‘১০ শতাংশ সম্ভাবনাকে আমার কাছে অযৌক্তিক কোনো অনুমান মনে হয় না। তবে কীভাবে একটি যুক্তিসংগত হিসাব দেওয়া যায়, তা সত্যিই কেউ জানে না।’

হিন্টন সতর্ক করে বলেন, ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটাতে উন্নত এআইয়ের বাস্তব জগতের কোনো যন্ত্রপাতি নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা থাকা অবশ্যই প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, মানুষের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমেই এআই “পুরোপুরি বিশৃঙ্খলা” সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি অত্যন্ত সক্ষম এআই ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে বিপজ্জনক জৈবিক ভাইরাস বা কম্পিউটার ভাইরাস তৈরি এবং ভয়াবহ সাইবার হামলাও চালানো সম্ভব।

হিন্টনের এই সতর্কবার্তার মধ্যেই শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠানে কাজ করা কয়েকজন গবেষকও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

২৭ বছর বয়সী গবেষক জ্যাকব কক্সন মঙ্গলবার এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকে তাঁর চাকরি ছাড়ার কথা জানান। এর আগে তিনি ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকে মৌলিক এআই মডেল নিয়ে কাজ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, সম্ভাব্য ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও উভয় প্রতিষ্ঠান নিজেকে উন্নত করতে সক্ষম সুপারইন্টেলিজেন্স তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

কক্সন বলেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠানই দায়িত্বশীল আচরণ করছে না। তারা সরাসরি নিজেকে উন্নত করতে সক্ষম সুপারইন্টেলিজেন্স তৈরির দিকে ছুটছে এবং আমাদের জীবন নিয়ে জুয়া খেলছে।’

তিনি আরও সতর্ক করেন, উন্নত এআই তৈরির সঙ্গে যুক্ত অনেক গবেষক ব্যক্তিগতভাবে আশঙ্কা করছেন যে চলতি দশক শেষ হওয়ার আগেই এই প্রযুক্তি মানব অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

অ্যানথ্রপিকের অ্যালাইনমেন্ট সায়েন্স বিভাগের প্রধান ইভান হুবারিঙ্গারও মঙ্গলবার কক্সনের উদ্বেগের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানান। তিনি বলেন, আগামী এক দশকের মধ্যে এআইয়ের কারণে “সব মানুষ মারা যাওয়ার” সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি বলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন।

তবে হুবারিঙ্গার জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান এআই ব্যবস্থাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের বিপদ তৈরি করছে না। তাঁর মূল উদ্বেগ ভবিষ্যতে ‘রিকার্সিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট’-এর মাধ্যমে সুপারইন্টেলিজেন্সের উদ্ভব নিয়ে। এ প্রক্রিয়ায় এআই নিজেই আরও শক্তিশালী এআই তৈরি করতে সক্ষম হতে পারে।

হিন্টনের মতে, তাই উন্নত এআই ব্যবস্থার লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য যেন মানবজাতির জন্য ক্ষতিকর না হয়, সেভাবেই এগুলো তৈরির পদ্ধতি খুঁজে বের করা জরুরি।

তিনি বলেন, আমাদের এমনভাবে এটি নকশা করতে হবে, যাতে এটি ক্ষতিকর কিছু করতে না চায়।
এক দশকেই বিলুপ্ত হতে পারে মানবজাতি, ‘এআই গডফাদার’ হিন্টনের সতর্কবার্তা

ভারতের হাতে ১৯০ পারমাণবিক ওয়ারহেড, আরও বাড়ার আভাস

ভারতের কাছে বর্তমানে প্রায় ১৯০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে বলে ধারণা করছে যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টস (এফএএস)।

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৬০টির বেশি ওয়ারহেড কার্যকর পারমাণবিক উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার জন্য রয়েছে। নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরির সঙ্গে যুক্ত আরও প্রায় ৩০টি ওয়ারহেড রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এফএএসের নিউক্লিয়ার ইনফরমেশন প্রোজেক্টের পরিচালক হ্যান্স ক্রিস্টেনসেনের ‘ইনডিয়াস নিউক্লিয়ার – ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। উন্মুক্ত তথ্য, রাষ্ট্রীয় উৎসের তথ্য এবং বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে এই হিসাব তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিকায়ন করে চলেছে। কয়েকটি নতুন অস্ত্র ব্যবস্থা ইতোমধ্যে মোতায়েন হয়েছে, আরও কয়েকটি তৈরি হচ্ছে। এগুলো পারমাণবিক সক্ষম বিমান, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ও সমুদ্রভিত্তিক ব্যবস্থার পরিপূরক বা বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

২০২৬ সালের শুরুতে ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অন ফিসাইল ম্যাটেরিয়ালসের হিসাব অনুযায়ী, ভারতের কাছে প্রায় ৭৩০ কেজি অস্ত্র-গ্রেড প্লুটোনিয়াম রয়েছে, যার সম্ভাব্য তারতম্য প্রায় ১৭০ কেজি।

এদিকে প্রতি ওয়ারহেডে আনুমানিক ৪ কেজি প্লুটোনিয়াম প্রয়োজন হলে এই মজুত দিয়ে ১৪০ থেকে ২২৫টি ওয়ারহেড তৈরি করা সম্ভব। তবে অস্ত্রের নকশা সম্পর্কে অনিশ্চয়তার কারণে এই হিসাব পুরোপুরি নির্ভুল নয়।

এফএএস বলছে, ভারত তার সব প্লুটোনিয়াম অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করেনি, কিছু মজুত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ১৯৯৮ সালের পারমাণবিক পরীক্ষায় ফিশন নকশা যাচাই হলেও বুস্টেড ফিশন ও থার্মোনিউক্লিয়ার অস্ত্র বিষয়ে ভারতের সক্ষমতা এখনো অনিশ্চিত।

ভারত ১৯৯৮ সালের পরীক্ষার পর ‘নো-ফার্স্ট-ইউজ’ (এনএফইউ) নীতি গ্রহণ করে এবং এখনো তা অনুসরণ করছে। সরকারের ভাষ্য, ভারতের লক্ষ্য হলো ‘বিশ্বাসযোগ্য ন্যূনতম প্রতিরোধক্ষমতা’ বজায় রাখা।

প্রতিবেদনের মতে, ভবিষ্যতে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার আরও বাড়তে পারে। তবে এর আকার শুধু প্লুটোনিয়ামের মজুতের ওপর নয়, কতগুলো ও কী ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ভারতের হাতে রয়েছে, তার ওপরও নির্ভর করবে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

ভারতের কাছে ১৯০ পারমাণবিক ওয়ারহেড, বাড়ছে অস্ত্রভাণ্ডার। ছবি: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া
ভারতের কাছে ১৯০ পারমাণবিক ওয়ারহেড, বাড়ছে অস্ত্রভাণ্ডার। ছবি: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

ইরান যুদ্ধ সমাপ্তির সম্ভাব্য সময় জানালেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ আগামী নভেম্বরের যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর শেষ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার হুমকিও দিয়েছেন তিনি। খবর রয়টার্সের।

ছয় মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে হামলা আরও তীব্র হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নৌপথে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ শেষ হবে। কারণ তারা আর টিকে থাকতে পারছে না।’ তার দাবি, ইরান আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। নভেম্বরের এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকান পার্টির হাতে থাকবে কি না, তা নির্ধারিত হবে।

একইসঙ্গে ট্রাম্প ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ এলাকায় হামলারও হুমকি দিয়েছেন। নাতাঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনার কাছে থাকা এই এলাকায় গভীর ভূগর্ভে দুটি সুরক্ষিত টানেল কমপ্লেক্স রয়েছে।

তবে ট্রাম্পের শীর্ষ কয়েকজন উপদেষ্টা যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার বিষয়ে এতটা আশাবাদী নন। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হতে পারে। এমনকি ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়া ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্তও যুদ্ধ চলতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। তবে রয়টার্স এই প্রতিবেদনটি তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। এদিকে যুদ্ধের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে সৌদি আরবেও। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতে ২৪ ঘণ্টায় চতুর্থবারের মতো জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সংঘর্ষের মধ্যেই এ সতর্কতা দেওয়া হয়।

যুদ্ধের কারণে সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালিতে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মাত্র সাতটি জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ অতিক্রম করেছে, যা গত ১০ দিনের গড়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।

তবে ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

মার্কিন নির্বাচনের পর ইরান যুদ্ধ শেষের আশা ট্রাম্পের। ছবি: রয়টার্স
মার্কিন নির্বাচনের পর ইরান যুদ্ধ শেষের আশা ট্রাম্পের। ছবি: রয়টার্স

গাজায় ইসরাইলি হামলায় একই পরিবারের ৪ সদস্য নিহত

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ফিলিস্তিনি অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় একটি বাড়ি লক্ষ্য করে চালানো ইসরাইলি বিমান হামলায় একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) উত্তর গাজা উপত্যকার বেইত লাহিয়ায় এ হামলা চালানো হয়।

জানা গেছে, আহমেদ পরিবারের একটি বাড়িতে হামলার পর নিহত চারজনের লাশ গাজা শহরের আল-শিফা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই হামলায় আরো বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে বার্তাসংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে বাস্তুচ্যুত মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্র ও তাঁবু লক্ষ্য করে ইসরাইলি সামরিক যান ও ড্রোন থেকে গুলি চালানো হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত ব্যক্তিকে আল-শিফা হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এক নৃশংস যুদ্ধে ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা এবং এক লাখ ৭৪ হাজারেরও বেশি মানুষকে আহত করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।

সূত্র : আনাদোলু অ্যাজেন্সি

ইসরাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত গাজা
ইসরাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত গাজা। ফাইল ছবি

ইরানের ‘কাসেম বাসির’ ক্ষেপণাস্ত্র যেভাবে সমুদ্রযুদ্ধের সমীকরণ বদলে দিয়েছে

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি সংঘাতের সমীকরণে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘কাসেম বাসির’-এর অন্তর্ভুক্তিকে পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং আরব সাগরের উত্তরাঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য হুমকির ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

এক হাজার ২০০ কিলোমিটার পাল্লার ‘কাসেম বাসির’ ক্ষেপণাস্ত্রটি ৪ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো ইরানের ইসফাহান থেকে উত্তর আরব সাগরে অবস্থানরত একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত এড়াতে ওই রণতরীকে প্রতিরক্ষামূলক কৌশল অবলম্বন করতে হয়েছে।

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উচ্চ পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই এ বিষয়ে বলেন, ‘৪৮ ঘণ্টা আগে আমরা প্রথমবারের মতো একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ওপর দিয়ে ইরানের অ্যান্টি-ডেস্ট্রয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্রটি আমেরিকানদের জন্য নরক তৈরি করেছিল এবং তারা পালিয়ে যায়।’

মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্র্যান্ডন ওয়েইকার্ট এ বিষয়ে বলেন, ইরানিরা ‘কাসেম বাসির’ নিক্ষেপ করেছে, যা একটি মধ্যম-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।

তার ভাষায়, এটি ইরানের সর্বশেষ এবং সবচেয়ে উন্নত অ্যান্টি-শিপ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। উড্ডয়নের শেষ পর্যায়ে এই ক্ষেপণাস্ত্রে গতিপথ পরিবর্তনের জন্য ম্যানুভারিং থ্রাস্টার রয়েছে।

ব্র্যান্ডন ওয়েইকার্ট বলেন, এটি বিমানবাহী রণতরী শিকারের জন্য তৈরি একটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং এটিকে ভূপাতিত করা অত্যন্ত কঠিন।

তার মতে, ইরানিদের পক্ষ থেকে এটি ছিল একটি সতর্কবার্তা—‘প্রণালি থেকে বেরিয়ে যাও, নইলে আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব; আর তোমরাও আমাদের ঠেকাতে পারবে না’।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘কাসেম বাসির’-এর গুরুত্ব কেবল এর পাল্লা বা গতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কঠিন জ্বালানিচালিত প্রপালশন, জিপিএস-নির্ভরতা ছাড়াই স্বতন্ত্র নির্দেশনা, চূড়ান্ত পর্যায়ে গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা এবং তুলনামূলক বেশি নির্ভুলতার সমন্বয়—এসব সক্ষমতা যুদ্ধক্ষেত্রে পুরোপুরি প্রমাণিত হলে মার্কিন নৌবহরের কার্যক্রমের হিসাবকে আরো জটিল করে তুলতে পারে।

২০২৫ সালের মে মাসে ক্ষেপণাস্ত্রটি উন্মোচনের সময় নির্ভরযোগ্য বিভিন্ন সূত্রে এর পাল্লা কমপক্ষে এক হাজার ২০০ কিলোমিটার বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। পাশাপাশি এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে উন্নত নির্দেশনা ব্যবস্থা এবং জিপিএসের ওপর নির্ভর না করেই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতার কথা বলা হয়।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকের সংঘর্ষ নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ ইউনিট একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও একটি ডেস্ট্রয়ারের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। সেন্টকম জানায়, মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো কৌশলগতভাবে অবস্থান পরিবর্তন করে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত এড়াতে সক্ষম হয় এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি। তবে সেন্টকম ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর সঠিক ধরন প্রকাশ করেনি।

মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে ‘কাসেম বাসির’ ব্যবহারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো—এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা স্থলভাগের স্থির লক্ষ্যবস্তুতে হামলার প্রচলিত ভূমিকা থেকে বেরিয়ে জাহাজবিধ্বংসী বা অ্যান্টি-শিপ মিশনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

একটি বিমানবাহী রণতরীকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার প্রধান সমস্যা কেবল ক্ষেপণাস্ত্রকে নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছে দেয়া নয়, বরং লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা, সেটিকে ট্র্যাক করা এবং ক্ষেপণাস্ত্রের চূড়ান্ত পর্যায়ে লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য হালনাগাদ করা। একটি বিমানবাহী রণতরী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মুহূর্ত থেকে সেটির ওয়ারহেড চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানো পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার দূরে সরে যেতে পারে। ফলে ব্যালিস্টিক অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য চূড়ান্ত পর্যায়ে একটি অনুসন্ধানী সিকার এবং লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান নির্ধারণের জন্য সেন্সরের একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে কাসেম বাসিরের সম্ভাব্য সুবিধা হলো চূড়ান্ত পর্যায়ে ইলেকট্রো-অপটিক্যাল ও ইনফ্রারেড নির্দেশনা ব্যবস্থার ব্যবহার। জিপিএসনির্ভর নির্দেশনার বিপরীতে এ ধরনের ব্যবস্থা প্রচলিত রেডিও জ্যামিংয়ের কারণে তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে গতিপথ সংশোধনে ব্যবহৃত হতে পারে। এই বৈশিষ্ট্যই মার্কিন ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতার বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্রটিকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারে।

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ওয়ারহেডের গতি ও ম্যানুভার করার সক্ষমতা। কাসেম বাসির সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্য থেকে উচ্চ গতিতে পুনঃপ্রবেশ এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। একটি ম্যানুভারিং ওয়ারহেডের কারণে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেবল একটি নির্দিষ্ট ব্যালিস্টিক গতিপথের পূর্বাভাসের ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে না।

এর ফলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় কমে যায় এবং ‘এজিস’-এর মতো ব্যবস্থা ও সমুদ্রভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টরগুলোর জন্য কাজটি আরো কঠিন হয়ে ওঠে।

তবে কোনো ক্ষেপণাস্ত্রকে শনাক্ত ও প্রতিহত করা কঠিন হওয়ার অর্থ এই নয় যে সেটিকে প্রতিহত করা অসম্ভব। মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপে রয়েছে বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—দূরপাল্লার রাডার, এজিস-সজ্জিত ডেস্ট্রয়ার, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টর, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা, ডিকয় বা বিভ্রান্তিকর লক্ষ্যবস্তু এবং আগাম সতর্কতামূলক বিমান।

এ কারণেই একটি নির্ভুল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে নির্ভরযোগ্য ‘ডেস্ট্রয়ার-ধ্বংসকারী’ বা ‘বিমানবাহী রণতরী-বিধ্বংসী’ অস্ত্রে রূপান্তর করা একটি স্থির ঘাঁটিকে লক্ষ্য করার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন।

তবে কাসেম বাসিরের কৌশলগত প্রভাব সরাসরি আঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যদি একটি বিমানবাহী রণতরী ঝুঁকি কমানোর জন্য ইরানের উপকূল থেকে শত শত কিলোমিটার অতিরিক্ত দূরত্ব বজায় রাখতে বাধ্য হয়, তাহলে সেটিকে ডুবিয়ে না দিয়েও ইরান তার অপারেশনাল উদ্দেশ্যের একটি অংশ অর্জন করতে পারে।

দূরত্ব বৃদ্ধি পেলে বিমানবাহী রণতরী থেকে উড্ডয়নকারী যুদ্ধবিমানগুলোর উড়ান সময় বাড়বে, আকাশে জ্বালানি সরবরাহের প্রয়োজন বাড়বে, সহায়ক বিমানগুলোর ওপর চাপ বৃদ্ধি পাবে এবং মার্কিন আক্রমণাত্মক অভিযান আরো জটিল হয়ে উঠবে।

সামরিক পরিভাষায় এটি ‘অ্যান্টি-অ্যাকসেস/এরিয়া ডিনায়াল’ বা প্রবেশাধিকার প্রতিরোধ ও নির্দিষ্ট অঞ্চলে কার্যক্রম সীমিত করার কৌশলের অংশ—অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় শত্রু বাহিনীর প্রবেশ ও অবস্থানকে আরো ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলা।

কাসেম বাসিরের হুমকি আরো গুরুতর হয়ে ওঠে যখন এটিকে একটি বহুস্তরীয় সামরিক নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সাথে অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, মনুষ্যবিহীন নৌযান এবং সমন্বিত একযোগে হামলার সংমিশ্রণ একটি নৌবহরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভিন্ন গতি, উচ্চতা ও গতিপথের একাধিক লক্ষ্যবস্তুর মুখোমুখি করতে পারে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে আক্রমণকারী অস্ত্রের একটি বড় অংশ প্রতিহত করা গেলেও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অতিরিক্ত লক্ষ্যবস্তুতে পরিপূর্ণ হয়ে পড়া এবং দ্রুত বিপুলসংখ্যক ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার হয়ে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

চলতি বছরের বিভিন্ন প্রতিবেদনও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ম্যানুভারিং ওয়ারহেড ব্যবহারে ইরানের অগ্রগতি মার্কিন বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কাজকে আরো জটিল করে তুলতে পারে।

তবে কাসেম বাসিরকে এমন কোনো অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়, যা একাই মার্কিন নৌ-শক্তির শ্রেষ্ঠত্বকে বিলুপ্ত করে দিতে পারে। কিন্তু ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক সংঘাতে এর আবির্ভাব যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌসম্পদ—বিমানবাহী রণতরী ও ডেস্ট্রয়ারগুলোর ওপর হুমকির মাত্রা বাড়াতে পারে।

এই ক্ষেপণাস্ত্রের প্রকৃত গুরুত্ব হলো—এটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপদ দূরত্ব বাড়াতে পারে, প্রতিরক্ষায় আরো বেশি সম্পদ নিয়োজিত করতে বাধ্য করতে পারে এবং ইরানের কাছাকাছি পানিসীমায় তাদের স্বাধীনভাবে পরিচালনার সুযোগ সীমিত করতে পারে।

যদি প্রকৃত যুদ্ধক্ষেত্রে চলমান লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে এর চূড়ান্ত পর্যায়ের নির্দেশনা ও আঘাত হানার সক্ষমতা প্রমাণিত হয়, তাহলে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগর মার্কিন বড় যুদ্ধজাহাজগুলোর জন্য আগের চেয়ে আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে পরিণত হতে পারে—যেখানে উপস্থিত থাকার অর্থ হবে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ঝুঁকি ও ব্যয় মেনে নেয়া।

সূত্র : পার্সটুডে

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ‘কাসেম বাসির’
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ‘কাসেম বাসির’। সংগৃহীত

স্বঘোষিত ‘শান্তির দূত’ ট্রাম্প আটকে গেলেন ‘অনন্ত যুদ্ধে’?

ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার প্রচারণা চালাচ্ছিলেন, তখন তাঁর মূল সুরই ছিল—তিনি হবেন এক ‘শান্তির প্রেসিডেন্ট’। নতুন কোনো সংঘাত শুরু করা নয়, বরং বিদেশের মাটিতে মার্কিন যুদ্ধগুলো বন্ধ করাই হবে তাঁর প্রধান কাজ। কিন্তু ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সেই ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার প্রায় সিকি শতাব্দী পর, আজ ট্রাম্প নিজেই এক অপ্রিয় ও নিজের তৈরি করা সংকটে জড়িয়ে পড়েছেন। বিশ্লেষকেরা এ সংকটকে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের ‘অনন্ত যুদ্ধ’ (ফরেভার ওয়ার) বলে আখ্যা দিচ্ছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ৯/১১ বার্ষিকী একদম দরজায় সজোরে কড়া নাড়ছে। ঠিক সে সময় ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের নেয়া এই পদক্ষেপ বিদেশি নীতি বিশ্লেষকদের মনে করিয়ে দিচ্ছে আফগানিস্তান ও ইরাকের সেই দীর্ঘ ও বিতর্কিত যুদ্ধের স্মৃতি। প্রশ্ন উঠছে, আমেরিকা কি আবারও অতীতের ভুল থেকে কোনো শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হলো? নাকি এবারও তাদের কাছে যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার কোনো স্পষ্ট কৌশল বা ‘এগজিট স্ট্র্যাটেজি’ নেই?

আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসি’-র গবেষক সিনা তোসি বলেন, 'মধ্যপ্রাচ্যে আর কোনো অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধে না জড়ানোর যে নীতি ওয়াশিংটনে তৈরি হয়েছিল, ট্রাম্প তা ভেঙে ফেলেছেন। এর ফলে তাঁর উত্তরসূরিকে হয়তো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান এক দীর্ঘস্থায়ী সামরিক মুখোমুখি পরিস্থিতির দায়ভারের ভারি বোঝা বহন করতে হবে।'

অবশ্য ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ৯/১১-পরবর্তী যুদ্ধগুলোর সঙ্গে ইরানের এই অভিযানকে মেলানো ভুল। সে সময় ইরাক ও আফগানিস্তানে হাজার হাজার পদাতিক সৈন্য পাঠিয়ে সরকার উৎখাত এবং ভূমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু এবার আমেরিকা মূলত বিমান ও নৌ শক্তির ওপর নির্ভর করছে। যদিও এতে ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু তেহরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি।

যুদ্ধের দীর্ঘ ছয় মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর মার্কিন সেনারা এখন এক ধরনের ক্ষয়িষ্ণু দ্বন্দ্বে বন্দি। এই সপ্তাহে তেলের ট্যাংকারে দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা সেই ইঙ্গিতই দেয়। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। বিশ্লেষকেরা সতর্ক করছেন, এই যুদ্ধ তত দিন গড়ালে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য ক্যাপিটল হিলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তেলের পথ বন্ধ হওয়ায় মার্কিন নাগরিকদেরও জ্বালানির অতিরিক্ত দাম মেটাতে হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি অবশ্য দাবি করেছেন, ট্রাম্প একাই সাহসিকতার সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক হুমকির মোকাবেলা করেছেন। পাশাপাশি কঠোর অবরোধের মাধ্যমে তাদের অর্থনীতি পঙ্গু করে দিয়েছেন। তবে ৯/১১-পরবর্তী যুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে এই সংঘাতের মিল নিয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেননি হোয়াইট হাউসের এ মুখপাত্র।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরাক ও আফগানিস্তানে বুশ প্রশাসন যেভাবে প্রতিপক্ষের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে খাটো করে দেখেছিল, ট্রাম্প ও তাঁর উপদেষ্টারাও ইরানের টিকিয়ে রাখার ক্ষমতা এবং বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত করার শক্তিকে ভুল হিসাব করেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে ট্রাম্প যে অভিযান শুরু করে, তার পেছনে ৯/১১-এর মতো কোনো জাতীয় ট্রমা বা জরুরি কারণ ছিল না। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটি ছিল ট্রাম্পের একান্ত নিজস্ব পছন্দের যুদ্ধ।

আফগানিস্তানের তালেবানের মতো ইরানও হয়তো সেই নীতিই অনুসরণ করছে, ধৈর্য ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমর্থন ক্ষয় হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করছে। তার ওপর বুশের সময় তাও কিছু কিছু মার্কিন মিত্র দেশ সাথে ছিল, কিন্তু গ্রিনল্যান্ড দখল, ন্যাটো নিয়ে প্রশ্ন ও শুল্কনীতির কারণে ট্রাম্পের এই যুদ্ধে ইউরোপীয় বা এশীয় মিত্রদের সহায়তা মিলছে না বললেই চলে।

ইরাক বা আফগানিস্তান যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় মার্কিন জনগণের সমর্থন ছিল, যা পরে কমে যায়। কিন্তু ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ শুরু থেকেই আমেরিকানদের কাছে অপ্রিয়। এমনকি তাঁর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ আন্দোলনের অনুসারীরাও এই তৎপরতার সমালোচনা করছেন।

তবে ট্রাম্পের সমর্থকেরাও পিছিয়ে নেই। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিস’-এর প্রধান মার্ক ডুবোভিটজের দাবি, 'এ কোনো অনন্ত যুদ্ধ নয়। ট্রাম্প বরং ৪৭ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের চালানো যুদ্ধের উপযুক্ত জবাব দিচ্ছেন।'

ডোনাল্ড ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংগৃহীত

ইসরায়েলের দূতাবাস চালুর প্রতিবাদে স্লোভেনিয়ায় হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

স্লোভেনিয়ার রাজধানী লুবলিয়ানায় প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের দূতাবাস চালুর প্রতিবাদে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। বুধবারের (৯ সেপ্টেম্বর) এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষ ইসরায়েলের সঙ্গে স্লোভেনিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিরোধিতা করেন।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশটিতে ইসরায়েলি দূতাবাস উদ্বোধনের দিনই এই বিক্ষোভ হয়। একই সময়ে স্লোভেনিয়ার জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী ইয়ানেজ ইয়ানশা ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।

গত জুলাইয়ে দায়িত্ব নেওয়া ইয়ানশার নীতি তার পূর্বসূরি রবার্ট গোলবের সরকারের অবস্থান থেকে বড় ধরনের পরিবর্তন। গোলবের নেতৃত্বাধীন সরকার গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছিল।

লুবলিয়ানায় দূতাবাস উদ্বোধনের অনুষ্ঠান চলার সময় হোটেলটির পাশ দিয়ে মিছিল করেন বিক্ষোভকারীরা। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘শান্তি ও ফিলিস্তিনের জন্য আমরা একসঙ্গে’ এবং ‘গণহত্যা আত্মরক্ষা নয়’।

বিক্ষোভকারী ৪৮ বছর বয়সী শিল্প ইতিহাসবিদ উরশকা ব্রেজনিক ইয়ানশা সরকারকে ‘গণহত্যায় সহযোগিতাকারী’ সরকার হিসেবে আখ্যা দেন। আরেক বিক্ষোভকারী মেলিনা সাহেরনিক এএফপিকে বলেন, এই সিদ্ধান্তে স্লোভেনিয়ার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জুনে দৈনিক ডেলো পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, ৫৬ শতাংশ স্লোভেনীয় ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিরোধিতা করেন। বিপরীতে মাত্র ১৪ শতাংশ এতে সমর্থন জানান।

স্লোভেনীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক আন্দ্রাজ জোরকো বলেন, সরকারের পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন দেশের মানুষের প্রচলিত মতামতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রায় ২০ লাখ মানুষের দেশটির অধিকাংশ মানুষ ইসরায়েলের বিরোধী অথবা এ বিষয়ে নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী গোলবের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ফ্রিডম মুভমেন্ট ও লেফট পার্টি বুধবার পার্লামেন্টে ইয়ানশাকে অভিশংসনের প্রস্তাব দিয়েছে। ইসরায়েলের স্বার্থকে একতরফাভাবে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তারা।

সূত্র: আলজাজিরা

লুবলিয়ানায় বিক্ষোভ। ছবি: আল জাজিরা
লুবলিয়ানায় বিক্ষোভ। ছবি: আল জাজিরা

ইয়ংবিয়নে নতুন পারমাণবিক স্থাপনা উত্তর কোরিয়ার: আইএইএ

রয়টার্সঃ নিজেদের প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্র ইয়ংবিয়নে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে নতুন একটি স্থাপনা গড়ে তুলেছে উত্তর কোরিয়া। একই সঙ্গে রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের কাছে ক্যাংসন পারমাণবিক কেন্দ্রের সম্প্রসারিত অংশেও কার্যক্রম শুরু করেছে দেশটি। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

ভিয়েনাভিত্তিক জাতিসংঘের এই পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ ও চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, উত্তর কোরিয়া একাধিক স্থানে ধারাবাহিকভাবে তাদের পারমাণবিক অবকাঠামো বাড়িয়ে চলেছে। ২০০৯ সালের পর থেকে দেশটিতে আইএইএর কোনো পরিদর্শককে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না পিয়ংইয়ং। ফলে উপগ্রহ থেকে পাওয়া ছবি এবং উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি বিশ্লেষণ করেই সংস্থাটি এই পর্যবেক্ষণ তৈরি করেছে।

আইএইএর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুনে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উনের একটি পারমাণবিক কেন্দ্র পরিদর্শনের ছবি প্রকাশ করে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। সেই ছবির সঙ্গে স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবি মিলিয়ে ইয়ংবিয়নে নতুন দোতলা ভবনটি শনাক্ত করা হয়েছে। এটি ওই কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা। ভবনটির ওপর ও নিচ—উভয় তলাতেই গ্যাস সেন্ট্রিফিউজ ক্যাসকেড বসানো হয়েছে। সব মিলিয়ে সেখানে অন্তত ২৮টি ক্যাসকেড বসানোর সুযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ইয়ংবিয়নের পাশাপাশি পিয়ংইয়ংয়ের কাছে ক্যাংসনে অবস্থিত ইউরেনিয়াম কেন্দ্রেও কাজ চলছে। ২০২৪ সালে নির্মিত ওই কেন্দ্রের একটি সংযুক্ত ভবনে (অ্যানেক্স) চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকেই পারমাণবিক কার্যক্রম শুরু করার স্পষ্ট আলামত পাওয়া গেছে।

সোমবার আইএইএর বোর্ড অব গভর্নরসের সভায় সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ইয়ংবিয়ন ও ক্যাংসন কেন্দ্রে পারমাণবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং অস্ত্র তৈরির উপযোগী উপাদানের উৎপাদন বাড়ানো অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। উত্তর কোরিয়ার এ ধরনের তৎপরতা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

তবে পিয়ংইয়ং শুরু থেকেই আইএইএর এই পর্যবেক্ষণ ও কর্তৃত্বকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ভিয়েনায় উত্তর কোরিয়ার মিশন থেকে সাফ জানানো হয়েছে, পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে তাদের অবস্থান এখন চূড়ান্ত এবং অপরিবর্তনীয়। পারমাণবিক বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) বাইরে থাকা কোনো পারমাণবিক শক্তিধর দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর কোনো আইনি অধিকার আইএইএর নেই।

চলতি বছরে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া
চলতি বছরে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। ফাইল ছবি: রয়টার্স

ইসরাইলি বসতি থেকে পণ্য রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা, ‘বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত’: আলবেনিজ

অবৈধ ইসরাইলি বসতি থেকে পণ্য রপ্তানিতে যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘের অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবেনিজ। তবে তিনি বলেছেন, এই পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়।

আল-জাজিরার ‘ইনসাইড স্টোরি’ অনুষ্ঠানে আলবেনিজ বলেন, যুক্তরাজ্যের নীতিতে এই পরিবর্তন ‘সম্ভাব্যভাবে বড় ধরনের’ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এই নিষেধাজ্ঞা শুধু অধিকৃত পশ্চিম তীরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়।

আলবেনিজ বলেন, ইসরাইলের দখলদারির আওতায় পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা উপত্যকাও রয়েছে। তাই দখলদারিকে শুধু পশ্চিম তীরের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখা ভুল।

তিনি আরো বলেন, ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) ইসরাইলের দখলদারিত্বকে অবৈধ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই দখলদারিত্ব পুরোপুরি ও নিঃশর্তভাবে অবসান করা উচিত।

আলবেনিজ একই সঙ্গে তদন্ত কমিশনের কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান। তার ভাষ্য, ওই তদন্ত কমিশন উপসংহারে বলেছে, ইসরাইল গণহত্যা চালাচ্ছে।

আলবেনিজের মতে, ইসরাইলি বসতি থেকে পণ্য রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা ইসরাইলকে ফিলিস্তিনের অবশিষ্ট ভূখণ্ডে ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে’ চাপ দিতে পারে।

তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপ অন্তত ভাষা ও অবস্থানের দিক থেকে একটি ‘অবিশ্বাস্য পরিবর্তন’। এ জন্য তিনি যুক্তরাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

ইসরাইলি বসতি থেকে পণ্য রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা, ‘বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত’: আলবেনিজ
জাতিসংঘের অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবেনিজ। ছবি: রয়টার্স

পশ্চিম তীরে দেড় হাজার নতুন আবাসন ইউনিট নির্মাণ করবে ইসরাইল

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতিগুলোতে নতুন করে এক হাজার ৬৭০টি আবাসন ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে দখলদার ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। ফিলিস্তিনের ওয়াল অ্যান্ড সেটেলমেন্ট রেজিস্ট্যান্স কমিশন বুধবার রাতে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

কমিশন বলেছে, পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতিগুলোতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর ১২টি পশ্চিমা দেশ বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এবং ইসরাইলকে বসতি সম্প্রসারণ বন্ধের আহ্বান জানানোর পরপরই নতুন নির্মাণ পরিকল্পনাগুলো সামনে এসেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২২ সালের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ১০৪টি নতুন ইহুদি বসতি অনুমোদন করা হয়েছে। একই সময়ে ১৬০টি কৃষিভিত্তিক বসতি-ফাঁড়িও স্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেছে কমিশন।

কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চূড়ান্ত অনুমোদনের পর্যায়ে থাকা পরিকল্পনার মধ্যে বেথলেহেমের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত মায়ালে আমোস বসতিতে ৩৬৫টি এবং রামাল্লাহর উত্তর-পশ্চিমে তালমোন বসতিতে ২০০টি নতুন আবাসন ইউনিট নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে।

এ ছাড়া নতুন করে তিনটি ইহুদি বসতি এলাকা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। এগুলো হলো রামাল্লাহ-নাবলুস সীমান্তে আমিহাই, জেরিকো এলাকায় আইন ইয়াতাভ এবং জেনিন এলাকায় মাওজ তজভি।

পরিকল্পনাগুলোর আওতায় এক হাজার ১২৫ ডুনাম (প্রায় ২৭৮ একর) জমিতে ৭৪৯টি আবাসন ইউনিট নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি সালফিত এলাকার পেদুয়েল বসতিতে ৯৫টি এবং আলেই জাহাভ বসতিতে ২৫৯টি নতুন ইউনিট যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। জেরুজালেমের উত্তর-পশ্চিমে গিভাত জিভ বসতিতে আরো দুটি ইউনিট নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

কমিশনের দাবি, এসব পরিকল্পনা থেকে স্পষ্ট যে ইসরাইল শুধু বিদ্যমান বসতিগুলোর সম্প্রসারণই করছে না, বরং পশ্চিম তীরজুড়ে নতুন ও স্থায়ী ইহুদি বসতি কেন্দ্র গড়ে তোলারও উদ্যোগ নিয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরাইলের দখলে থাকা পশ্চিম তীরকে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দখলদার রাষ্ট্রের নিজস্ব জনসংখ্যাকে অধিকৃত ভূখণ্ডে স্থানান্তর আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত।

তবে এর পরও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বিদ্যমান ইহুদি বসতিগুলোর সম্প্রসারণ এবং নতুন বসতি নির্মাণের কার্যক্রম জোরদার করেছে ইসরাইল।

সূত্র: আনাদোলু

পশ্চিম তীরে দেড় হাজার নতুন আবাসন ইউনিট নির্মাণ করবে ইসরাইল

সিঙ্গাপুরে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্মার্টফোন ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞায় আরও কড়াকড়ি

প্রকাশ ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ঃ সিঙ্গাপুরের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্মার্টফোন ও স্মার্টওয়াচের ব্যবহার আরও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। ডিজিটাল মাধ্যমে বিধিনিষেধের আন্তর্জাতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এটা করা হচ্ছে। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দিয়েছে।

বিশ্বের যেসব দেশের মানুষ ডিজিটাল মাধ্যমের সঙ্গে ব্যাপকভাবে যুক্ত, সিঙ্গাপুর তাদের অন্যতম। দেশটির বর্তমান আইন অনুযায়ী, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানের সময় শিক্ষার্থীদের ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ। নতুন নিয়মে তা পাঠদানের সময়ের বাইরেও কার্যকর হবে। অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে স্কুল প্রাঙ্গণে ঢোকার পর স্মার্টফোন ও স্মার্টওয়াচ লকার বা স্কুলব্যাগের মতো নির্দিষ্ট স্থানে রাখা শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক।

নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য সম্পর্কে মন্ত্রণালয় বলেছে, এমন একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা, যা শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বৃদ্ধি করবে, স্ক্রিন (স্মার্টফোন) ব্যবহারের স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলবে এবং সার্বিক সুস্থতা বাড়াবে। তারা আরও বলেছে, শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার ঘুম, শারীরিক ক্রিয়াকলাপ এবং পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

তবে মন্ত্রণালয় মনে করে, প্রয়োজনে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন ব্যবহার অনুমোদন দেওয়া যেতে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সম্প্রতি একই ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। ইউনেসকোর তথ্যমতে, বিশ্বের ৪০ শতাংশ শিক্ষাব্যবস্থায় স্কুলে এখন স্মার্টফোন ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। আগামী সপ্তাহ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা চালু হবে। বিশ্বে এ ধরনের সিদ্ধান্ত এটাই প্রথম।

ইউনেসকোর ওয়েবসাইটে স্কুলে স্মার্টফোন ব্যবহারের কড়াকড়ির কিছু উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। যেমন চীনের ঝেংঝৌ শহরের স্কুলে শিক্ষাগত কারণে শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন ব্যবহারের জন্য মা-বাবার লিখিত অনুমতি দরকার।

শিশুদের ফোন বা ট্যাবলেট কম্পিউটার ব্যবহার থেকে দূরে রাখা কঠিন
শিশুদের ফোন বা ট্যাবলেট কম্পিউটার ব্যবহার থেকে দূরে রাখা কঠিন। ছবি: রয়টার্স

তারার বিস্ফোরণের রহস্য উন্মোচন

পৃথিবী, মানবদেহসহ মহাবিশ্বের নানা বস্তু যে মৌলিক উপাদানে গঠিত, সেগুলো তারার ভেতর কীভাবে তৈরি হয় এবং সুপারনোভার বিস্ফোরণের মাধ্যমে মহাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে—এ রহস্যের গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি প্রকাশিত দুটি পৃথক গবেষণায় তারার জীবনচক্র ও সুপারনোভা বিস্ফোরণের জটিল প্রক্রিয়া সম্পর্কে নতুন তথ্য উঠে এসেছে। বিজ্ঞানভিত্তিক সাইট স্পেস ডটকমের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রথম গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ‘টাইটানিয়াম-৪৪’ নামের তেজস্ক্রিয় উপাদানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সুপারনোভা বিস্ফোরণের পরও দীর্ঘদিন মহাকাশে টিকে থাকা এই উপাদান বিশ্লেষণ করে বিস্ফোরণের প্রকৃতি বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে। এটি সুপারনোভার ভেতরে চলা পারমাণবিক বিক্রিয়া এবং বিস্ফোরণের সময় মৌল তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, সুপারনোভায় আগের ধারণার তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ বেশি টাইটানিয়াম-৪৪ তৈরি হয়। নতুন এ তথ্যের ভিত্তিতে সুপারনোভার আরও নির্ভুল কম্পিউটার মডেল তৈরি করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

দ্বিতীয় গবেষণায় ‘টাইপ-১ সুপারনোভা’ নিয়ে কাজ করেছেন বিজ্ঞানীরা। কোনো ঘন নক্ষত্র তার সঙ্গী নক্ষত্র থেকে পদার্থ টেনে নিলে সেখানে প্রচণ্ড থার্মোনিউক্লিয়ার বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এ বিস্ফোরণে ভারী মৌল তৈরি হয় এবং বিপুল শক্তি নির্গত হয়। এর কিছু অংশ এক্স-রে বিস্ফোরণ হিসেবেও ছড়িয়ে পড়ে। মিশিগানের ফ্যাসিলিটি ফর রেয়ার আইসোটোপ বিমসের গবেষকরা এ বিস্ফোরণ ঘটানো পারমাণবিক বিক্রিয়াটি আগের চেয়ে আরও বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করেছেন।

গবেষকরা বিস্ফোরণের সময় সংঘটিত ‘নিকেল-কপার চক্র’ বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, পারমাণবিক পদার্থ সত্যিই এ প্রক্রিয়ায় আটকে থাকে, তবে খুব সীমিত মাত্রায়।

বিজ্ঞানীদের মতে, দুটি গবেষণাই সুপারনোভা কীভাবে ঘটে এবং তারার বিস্ফোরণে তৈরি মৌলগুলো কীভাবে পুরো মহাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে, তা বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গবেষণা দুটি ‘ফিজিক্যাল রিভিউ লেটার্স’-এর জুলাই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। 

তারার বিস্ফোরণের রহস্য উন্মোচন
তারার বিস্ফোরণের রহস্য উন্মোচন

সংসদে নামাজ নিয়ে জামায়াত এমপির বক্তব্য, ‘ধর্ম পালন ব্যক্তিগত স্বাধীনতা’ বললেন স্পিকার

জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রীয়ভাবে নামাজ কায়েম ও জাকাত ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের নিজেদের আমল-চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সংসদে নামাজের বিরতির সময় যথাযথভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এসব কথা বলেন মুজিবুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘সংবিধানে একটা ধারা ছিল, আল্লাহর প্রতি ইমান এবং আস্থা সকল কাজের মূল উৎস। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এটাকে বাতিল করা হয়েছিল। বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ, তার চেয়েও বেশি মানুষ আল্লাহর প্রতি ইমান এনেছে এবং মুসলমান বলে দাবি করি আমরা।’

সংসদে আসর ও মাগরিবের নামাজের জন্য দেওয়া বিরতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আপনি কিছুক্ষণ আগে আসরের এক আধা ঘণ্টা বিরতি দিয়েছেন। মাগরিবের সময়ও আরও আধা ঘণ্টা বিরতি দেবেন। টার্গেট হচ্ছে, আল্লাহর সেই বিধানকে যারা ঈমান এনেছে তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবে।’

নামাজ মানুষের চরিত্র গঠনে ভূমিকা রাখে উল্লেখ করে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘গোটা বাংলাদেশের মানুষ নামাজ যারা আদায় করে তাদের সম্মান করে। তাদের সৎ বলে জানে এবং তাদের ওপর আস্থা রাখে।’

কোরআনের আয়াতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা নামাজ কায়েম ও জাকাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। যাকাত ব্যবস্থা চালু হলে মানুষের ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব দূর করা সম্ভব হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আল্লাহ বলেছেন, যারা ক্ষমতা পাবে, আল্লাহ তায়ালা যাদের হাতে ক্ষমতা দেবেন, তাদের এক নম্বর কাজ হচ্ছে নামাজ চালু করে মানুষের চরিত্র ভালো করা এবং যাকাত চালু করে মানুষের ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব দূর করা।’

তিনি সংসদে উপস্থিত সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা যাতে নিজেরা নামাজি হই, দেশে নামাজ কায়েম হয়, আমাদের সন্তানরা যাতে সাত বছর বয়সে নামাজের প্রশিক্ষণ পায় এবং ১০ বছর হলে তাকে প্রশাসনিকভাবেও নামাজি বানানোর জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন।’

সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে মুজিবুর রহমান আরও বলেন, ‘শুধু আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার নয়, সকল সংসদ সদস্যের এটা উপকারে লাগবে। ১০০ বছর পরে কেউ সংসদে থাকবে না। মাননীয় স্পিকার, আপনিও থাকবেন না, আমরাও থাকব না। কবরে গিয়ে কী অসুবিধা হবে, সেদিন টের পাওয়া যাবে।’

রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্পিকার যেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে এবং রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা করে দেশে সালাত কায়েম ও জাকাত ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেন। এর মাধ্যমে নাগরিকদের চরিত্র গঠন এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার আবেদন জানান তিনি।

জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ধর্ম পালন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও বিশ্বাসের বিষয়। প্রত্যেকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা রয়েছে।

স্পিকার বলেন, ‘এটা তো পুরোই একটা ধর্মীয় ব্যাপার। প্রত্যেকের স্বাধীনতা রয়েছে নিজ নিজ ধর্ম পালন করার জন্য। এবং ইসলাম মানবতার ধর্ম।’

তিনি বলেন, ধর্ম সঠিকভাবে পালন করলে বেহেশত এবং ধর্ম পালনে অবহেলা করলে জাহান্নামে যাওয়ার বিষয়টি ধর্মীয় বিধানের অংশ। সংসদ সদস্যরা এ বিষয়ে অবগত এবং ধর্মপ্রাণ মানুষ হিসেবে আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে সংসদ থেকে কোনো নোটিশ জারি করে কাউকে ধর্ম পালনে বাধ্য করা যাবে না উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, ‘এটা সংসদীয় স্পিকারের নোটিশ দিয়ে বলবৎ করা যাবে না।’

একই সঙ্গে মুজিবুর রহমানের বক্তব্যের অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে স্পিকার বলেন, ‘তবুও আপনি আপনার সেন্টিমেন্টকে আমরা সম্মান করি। এবং আমরা নিশ্চয়ই আল্লাহর প্রদত্ত নির্দেশ মান্য করার জন্য সচেষ্ট থাকব।’

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

বাব আল-মানদাব ঘিরে হুতিদের তৎপরতা, বড় যুদ্ধের শঙ্কা

ইয়েমেনে চলমান সংঘাত নতুন করে বড় আকারের যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। লোহিত সাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো দখলে নিতে ইরান-সমর্থিত হুতিরা অগ্রসর হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। তাদের এই তৎপরতায় বাব আল-মানদাব প্রণালি ঘিরে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সরকারটি।

কাতারে নিযুক্ত ইয়েমেনের রাষ্ট্রদূত ও দেশটির সাবেক সরকারি মুখপাত্র রাজেহ বাদি বুধবার আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, হুতিরা লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। এর লক্ষ্য কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখলের পাশাপাশি সামুদ্রিক যোগাযোগপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো।

ইয়েমেনি রাষ্ট্রদূতের অভিযোগ, হুতিরা তাইজ প্রদেশের আল-মাখা ও আল-ওয়াজিয়াহ এলাকায় অগ্রসর হয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের উপকূলঘেঁষা বিস্তৃত পাহাড়ি এলাকাগুলোতেও অবস্থান শক্ত করছে তারা। এসব এলাকা থেকে জাহাজে হামলা চালিয়ে লোহিত সাগরের নৌ চলাচল ব্যাহত করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য বলে দাবি করেন বাদি।

তার ভাষ্য, হুতিদের এই অগ্রযাত্রার জবাবে ইয়েমেন সরকার আল-জাওফ, মারিব ও আল-বাইদা এলাকায় নতুন করে সামরিক ফ্রন্ট খুলেছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাদি বলেন, ২০২১ সাল থেকে ইয়েমেন সরকার ও দেশটির সশস্ত্র বাহিনী কোনো যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেনি। তার অভিযোগ, হুতিরাই নতুন করে আগ্রাসী তৎপরতা শুরু করেছে। লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সামুদ্রিক যোগাযোগপথে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে তারা।

ইয়েমেনি রাষ্ট্রদূতের দাবি, হুতিদের এই তৎপরতার পেছনে ইরানেরও কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে। হুতিদের ব্যবহার করে ইরান গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক যোগাযোগপথের ওপর নিজেদের প্রভাব আরও শক্তিশালী করতে চাইছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংঘাতের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আরও বড় সতর্কবার্তা দিয়েছেন বাদি। তার মতে, হুতিরা যদি লোহিত সাগরে সামুদ্রিক চলাচল কার্যত বাধাগ্রস্ত করতে সক্ষম হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরেকটি হরমুজ প্রণালির সংকটের মতো রূপ নিতে পারে। তবে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কারণ, লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদাব প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। এ পথ দিয়ে জ্বালানি, খাদ্যসহ বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে শুধু ইয়েমেন বা মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থাতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

সূত্র: আলজাজিরা

অস্ত্র হাতে ইয়েমেনিরা। ছবি: আল জাজিরা
অস্ত্র হাতে ইয়েমেনিরা। ছবি: আল জাজিরা

সালমানের সঙ্গে বিয়ের কার্ডও তৈরি ছিল, সেই অভিনেত্রী এখন কোথায়

কেবল পর্দার উপস্থিতির জন্যই নয়; তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও দশকের পর দশক ধরে খবরের শিরোনাম হয়ে এসেছে। ১৯৮০-এর দশকে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করে তিনি দর্শকের হৃদয় জয় করেন। তবে পর্দার বাইরে তাঁর সম্পর্কগুলোও তাঁর চলচ্চিত্রের মতোই আলোচিত হয়েছে। এই অভিনেত্রী আর কেউ নন, সংগীতা বিজলানি।

সালমান খানের সঙ্গে সম্পর্ক
সংগীতার জীবনের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় ছিল সালমান খানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক। ১৯৮০-এর দশকের শেষভাগে তাঁদের পথ মিলিত হয় এবং তাঁরা বলিউডের অন্যতম আলোচিত জুটিতে পরিণত হন। বিয়ের প্রস্তুতির গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। এমনকি সেই সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল, তাঁদের বিয়ের কার্ডও তৈরি হয়েছিল।

তবে কেন শেষ পর্যন্ত তাঁরা বন্ধনে জড়াননি, সেটা আজও বড় রহস্য।
বিচ্ছেদের পরও তাঁরা উষ্ণ বন্ধুত্ব বজায় রেখেছিলেন। সালমান পরবর্তী সময়ে একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন যে সব প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও বিয়ে হয়নি।

বলিউড থেকে ক্রিকেটে প্রেম
সালমানের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর সংগীতার প্রেম হয় সাবেক ভারতীয় ক্রিকেট অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনের সঙ্গে। ১৯৯৬ সালে আজহারউদ্দিনের প্রথম বিবাহবিচ্ছেদের পর তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রথম দিকে জীবন শান্তিপূর্ণ ছিল; সংগীতা চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরে গিয়ে পরিবারকে সময় দেন।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে ফাটল দেখা দেয় এবং ১৪ বছরের দাম্পত্য জীবন যাপনের পর ২০১০ সালে তাঁরা বিচ্ছেদ ঘটান।

আজকের সংগীতা
৬৫ বছর বয়সী সংগীতা বিজলানি এখন নিজের জীবনকে কেন্দ্র করে এগিয়ে চলেছেন। তিনি ফিটনেস, যোগব্যায়াম, আধ্যাত্মিকতা আর ভ্রমণে মনোনিবেশ করেছেন। মিডিয়ায় নতুন সম্পর্কের গুজব থাকলেও তিনি সব সময় বলেন যে তাঁর জীবন নিজের মতো করে সুখী ও পূর্ণ। সালমান খান পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক এখনো শক্তিশালী। প্রায়ই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একসঙ্গে দেখা যায় তাঁদের।

ইন্ডিয়া ডটকম অবলম্বনে

সংগীতা বিজলানি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
সংগীতা বিজলানি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে