Wednesday, July 12, 2017

বন্যায় ১৩ জেলার সাড়ে ছয় লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, বন্যা-কবলিত দেশের ১৩ জেলার ৪৫ উপজেলায় সাড়ে ছয় লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ৩ জুলাই থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৪ হাজার টন চাল, ১ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার আর্থিক বরাদ্দ ও নয়টি আইটেম-সমৃদ্ধ ১৮ হাজার ৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ত্রাণসামগ্রীর অভাব নেই জানিয়ে তিনি ‘বন্যা নিয়ে রাজনীতি’ না করে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেছেন।
আজ বুধবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বন্যা পরিস্থিতি ও সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে এক প্রেস বিফ্রিংয়ে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। এসময় মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ কামাল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী বলেন, গত মার্চ মাসে আগাম বন্যায় ফসলহানির কারণে এর বাইরে সিলেট অঞ্চলের জেলাসমূহে প্রায় ৩ লক্ষ ৮০ হাজার পরিবারকে ভিজিএফ দেয়া হয়েছে যা চলমান রয়েছে। জেলা প্রশাসকদের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য ও আর্থিক বরাদ্দ দেয়া হবে। একজন লোকও যাতে খাবারের কারণে কষ্ট না পায়, সেজন্য সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যেতে জেলা প্রশাসনকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সিলেট, মৌলভীবাজার, কক্সবাজার, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। উত্তরের পানি মধ্যাঞ্চলে নেমে আসলে আরও নতুন জেলা প্লাবিত হতে পারে।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, উজানের দেশ চীন, ভারত, নেপাল ও ভুটানে এবার বন্যা হয়েছে। ভাটির দেশ হিসেবে উজানের প্রভাব আমাদের ওপর পড়বে। এর আলোকে আমরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা করছি ও মানুষের জন্য সহনশীল অবস্থায় রাখতে সক্ষম হয়েছি। তিনি বলেন, প্রত্যেকটি জেলার বন্যা পরিস্থিতি সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিনিয়ত বন্যা ও ত্রাণ কার্যক্রমের খোঁজখবর নিচ্ছেন। মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
মায়া বলেন, পানিবাহিত রোগ থেকে দুর্গত মানুষদের রক্ষা করতে হবে। কোন বেড়িবাঁধ যাতে নতুন করে ভাঙ্গা না যায় তার জন্য আন্তরিক চেষ্টা করতে হবে। পশুখাদ্যের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বন্যা প্লাবিত এলাকার টিউবওয়েলগুলো উঁচু করে দিয়ে, পানি বিশুদ্ধকরণ টেবলেট দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি মেডিক্যাল টিমগুলোকে প্রতিদিন বন্যাকবলিত এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করে সেবাকার্য চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানান। মন্ত্রী বলেন, প্রতিদিন প্রত্যেক জেলার ক্ষয়ক্ষতি, ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম, আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মানুষের পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ১১ জুলাই পর্যন্ত বন্যা পরিস্থিতির ৯০টি পর্যবেক্ষণ পয়েন্টের মধ্যে ১২টি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ৫৫টি পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বন্যা নিয়ে রাজনীতি না করে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে আহ্বান জানাব- আসুন আমরা বন্যা প্লাবিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিজেদের মানবিক কর্তব্য পালন করি। শুক্রবার থেকে তিনি উত্তরাঞ্চলের প্রত্যেকটি বন্যা প্লাবিত জেলা সফর করে ত্রাণ বিতরণ করবেন। সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকা সফর করে বন্যাপ্লাবিত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের অনুরোধ করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে মায়া বলেন, সিলেট ও মৌলভীবাজারে ৩২টি আশ্রয়কেন্দ্রে এক হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। উত্তরাঞ্চলেও আশ্রয়কেন্দ্র খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার বন্যা হবে ধরে নিয়ে আমাদের প্রস্তুতি ছিল। প্রত্যেক জেলায় প্রচুর ত্রাণ সামগ্রী মজুদ রয়েছে। এবার ৯৮ হাজার শুকনা খাবারের প্যাকেট তৈরি করে রেখেছি। কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠলে যেন তাৎক্ষণিকভাবে খাবারের চিন্তা করতে না হয়।

সীতাকুণ্ডে অজ্ঞাত রোগে ৯ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ৩৬ জন

সীতাকুণ্ডে অজ্ঞাত রোগে ৯ ত্রিপুরা শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এঘটনায় অসুস্থ আরো ৩৬ শিশুকে ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার থেকে বুধবার উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বারআউলিয়া পাহাড়ে অবস্থিত ত্রিপুরা পল্লীতে এঘটনা ঘটে। শিশুদের মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সরেজমিনে গেলে ত্রিপুরা গোষ্ঠীর লোকজন জানান, বুধবার সকাল ১১টার সময় চার শিশুর মৃত্যু হয়। তারা হলো হৃদয় (৮) পিতা কুম্বু, রূপালী (৩) পিতা সুমন, শিমল (২) পিতা বিমল, কসম রায় (২) পিতা শ্যাম চন্দ। অপরদিকে মঙ্গলবার প্রকাটি (৬) পিতা শান্ত কুমার ও তাকি (২) পিতা পদ্ম কুমারের মৃত্যু হয়। এছাড়া গত সোমবার তিন শিশু রুমা প্রতি (৯) পিতা পক্ষি চরন, একই পরিবারের কানা (২) ও জানিয়া (৪) পিতা সুজনের মৃত্যু হয়। তারা জানান, তিন দিনে ৯ শিশুর মৃত্যু হওয়া ছাড়াও ৩৬ শিশু হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ত্রিপার নিরাবালা জানান, গত সপ্তাহে শিশুদের জ্বর দেখা দেয়। এরপর জ্বরের সাথে কাশিও শুরু হয়। এই সপ্তাহের শুরুতে শিশুদের পুরো শরীরে ছোট ছোট বিচির মতো উঠতে থাকে। ডাক্তারের কাছে নিলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এক পর্যায়ে পেট ফুলে শরীর টান টান হয়ে মুত্যুর কোলে এক একটি শিশু ঢুলে পড়ে।
৯ শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা নুরুল করিম রাশেদ জানান, এটি একটি অজ্ঞাত ভাইরাসজনিত রোগ। তাদের শরীরের রক্ত পরীক্ষা করে ভাইরাস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এখন পর্যন্ত ৩৬ জনকে উদ্ধার করে ফৌজদারহাট বিআইটিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্য থেকে গুরুতর অসুস্থ ২ জনকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, বুধবার ত্রিপুরা পল্লী থেকে অজ্ঞাত ভাইরাসে আক্রান্ত ৩৬ শিশুকে উদ্ধার মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি ঘরে তল্লাশী চালানো হচ্ছে আর কেউ আক্রান্ত আছে কিনা। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের লোকজন মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

‘ফরহাদ মজহারের বক্তব্য আর তদন্ত মিলছে না’

বাংলাদেশে রাজধানী ঢাকার পুলিশ বলছে, কবি ও প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহারের অপহরণের বিষয়টি নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে, কারণ অপহরণের পর আদালতে ফরহাদ মজহার যে জবানবন্দি দিয়েছেন তাদের তদন্তে সেই তথ্যের সঙ্গে তারা মিল খুঁজে পাচ্ছেন না।
অন্য দিকে মি মজহারের পরিবার বলছে, অপহরণের তদন্ত না করে পুরো বিষয়টি যেন ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা চলছে। সবমিলিয়ে পুরো বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে একপ্রকার ধোঁয়াশা।
যদিও পুলিশ জানিয়েছে, খুব তাড়াতাড়ি সব কিছুই পরিষ্কার করা হবে।
গত ৩রা জুলাই রাতে যশোর থেকে ফরহাদ মজহারকে পুলিশ উদ্ধার করে আনার পর তিনি ঢাকার আদালতে একটি জবানবন্দি দিয়েছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সেই জবানবন্দিতে তিনি বলেছেন ভোরে বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপহরণ করে মাইক্রোবাসে তোলা হয় এবং চোখ বেঁধে রাখা হয়। এরপর একটি ফেরিতে পার হচ্ছেন বলেও বুঝতে পারেন।
সন্ধ্যা সাতটার দিকে তাকে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা। এর মধ্যে কয়েক দফায় মুক্তিপণ চেয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে তার মোবাইল ফোন থেকে ফোনও করা হয়। এরপর থেকে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন মি. মজহার।
ওই ঘটনার নয়দিন পর ঢাকার পুলিশ কমিশনার মোঃ. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, জবানবন্দিতে তিনি যেসব তথ্য উল্লেখ করেছেন, তাদের তদন্তে তার সঙ্গে অনেক কিছুই মিলছে না।
বুধবার ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, এই অপহরণ নিয়ে অত্যন্ত রহস্য তৈরি হয়েছে।
"ফরহাদ মজহার সাহেব আদালতে ১৬৪ ধারায় যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটির তদন্ত করতে গিয়ে আমরা যে সিসিটিভি ফুটেজ পেয়েছি, কললিস্ট পেয়েছি, বস্তুগত সাক্ষ্যপ্রমাণ পেয়েছি, তার সঙ্গে ওনার বক্তব্যের কোন মিল নেই।"
তিনি আরও বলছেন, "তারপরেও বলবো, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসার জন্য আমাদের আরো দুই একদিন সময় লাগবে। কারণ আমরা ইতিমধ্যে যেসব তথ্য সংগ্রহ করেছি, সেই তথ্যের বিচার বিশ্লেষণ চলছে। দুই একদিন পরেই পুলিশ মহাপরিদর্শক এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন।"
খুলনায় ঢাকাগামী বাসে ওঠার আগে তিনি শহরের একটি রেস্তোঁরায় খেয়েছেন আর নিজেই টিকেট কেটেছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন।
বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যাচ্ছে, মি. মজহার এ সময় একজন নারীকে মোবাইলের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও ওই নারী আদালতে একটি জবানবন্দীতে জানিয়েছেন।
আর সর্বশেষ খুলনা শহরের নিউ মার্কেটের একটি সিসি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে যে, ফরহাদ মজহারের মতো দেখতে একজন ব্যক্তি বিকাল পাঁচটার দিকে নিউমার্কেটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
কিন্তু সেখানে পোশাকআশাকে মিল মনে হলেও, চেহারা একেবারেই অস্পষ্ট। আর এই ভিডিওটির সত্যতাও যাচাই করে দেখা সম্ভব হয়নি।
তবে এটি সত্যি হলে, তাকে সাতটা পর্যন্ত আটকে রাখার তথ্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।
খুলনার সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দী বলছিলেন, এই ঘটনায় বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশ কিছু তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন বলে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন।
পুলিশ বলছে, তারা যেসব তথ্যপ্রমাণ পাচ্ছেন, তা এখন বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে। পুরোপুরি যাচাইয়ের পর, দুই একদিনের মধ্যেই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
কিন্তু এসব জটিলতায় তদন্ত নিয়েই আস্থাহীনতায় ভুগছেন মি. মজহারের পরিবার।
মি. মজহারের স্ত্রী ফরিদা আখতার বলছেন, "অপহরণ হওয়ার যেসব লক্ষণ যেমন, তিনি আমাকে জানিয়েছেন যে, তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে, মেরে ফেলবে, টাকার কথা বলা, এসব সারাদিন আমি যত ফোন পেয়েছি, মেসেজ পেয়েছি, সবই সাথে সাথে পুলিশকে জানিয়েছি। কারণ তারা আমার ওখানেই বসে ছিলেন।"
"ফোনটাও তারা ট্র্যাক করছিলেন। ফোনে যেহেতু তার কণ্ঠ আছে, তার মানে তিনিও সেখানে ছিলেন। তাহলে তখনি তো তাদের তাকে (ফরহাদ মজহার) পাওয়া উচিত ছিল। এখন তারা কী তদন্ত করছেন, কাদের জবানবন্দি নিচ্ছেন, তাদেরকে কি অবস্থায় কথা বলানো হচ্ছে, তা তো আমরা জানি না!"
তিনি প্রশ্ন তোলেন, "ওখানেই তো তারা তাকে ধরতে পারতো। তাহলেও তো বোঝা যেত এটা অপহরণ কি না?"
তিনি বলছেন, এখন সেই একটি ঘটনার তদন্ত না করে অন্য দিকের যেসব তথ্য নিয়ে ঘাটাঘাটি করা হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে এখানে যে একটি অপহরণের অংশ আছে বা অপহরণ হয়েছে, সেই জিনিসটাকে তারা আর দেখছে না।
''বরং মনে হচ্ছে, এই অপহরণের ঘটনাটিকে অন্য দিকে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।'' তিনি বলছিলেন।
ফলে, ফরহাদ মজহার এবং পুলিশের এই ভিন্ন বক্তব্যের কারণে পুরো বিষয়টি নিয়েই তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্নের।
তবে পুলিশের কর্মকর্তারা আভাস দিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের পুলিশ মহাপরিদর্শক সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যে সংবাদ সম্মেলন করতে যাচ্ছেন, সেখানেই ফরহাদ মজহারের অপহরণের পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে।
সূত্রঃ বিবিসি

দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন এমা

এক বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষ করতে পারেন না অনেক তারকা, সেখানে এমা ওয়াটসন দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন! ১১ বছর বয়সে প্রথম পা রাখেন চলচ্চিত্রজগতে। হ্যারি পটার সিনেমায় হারমাইওনি গ্রেনজার গ্র্যাঙ্গার চরিত্রে অভিনয়ের জন্য দারুণ তারকাখ্যাতি তৈরি হয় তাঁর। পর্দায় হ্যারির বন্ধু হিসেবে হগওয়ার্টস স্কুল অব উইচক্র্যাফট অ্যান্ড উইজার্ডির শিক্ষার্থী হলেও এমা চলচ্চিত্রের শত ব্যস্ততার পাশাপাশি পড়াশোনার গণ্ডি পার করেছেন। শুধু তা-ই নয়, পড়াশোনার জন্য সিনেমা থেকে এক বছর বিদায়ও নিয়েছিলেন এই তারকা। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে ব্যাচেলর ডিগ্রি লাভ করেন এই তারকা। শুধু তা-ই নয়, দুই বছরের জন্য অক্সফোর্ডের ওরচেস্টার কলেজেও পড়েছেন এমা। পড়াশোনাকে আরও রঙিন করতে যোগব্যায়াম ও মেডিটেশনের ওপর তাঁর এক বছরের সার্টিফিকেট কোর্সও করা আছে।

নওয়াজ অযোগ্য হলে শাহবাজ শরীফ হবেন প্রধানমন্ত্রী!

পাকিস্তানের রাজনীতির ঘূর্ণি হাওয়ায় এখন সবার চোখ প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের ভাই, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের দিকে। পানামাগেট কেলেঙ্কারিতে দৃশ্যত সুপ্রিম কোর্ট গঠিত জয়েন্ট ইনভেস্টিতেশন টিম (জেআইটি) নওয়াজ শরীফ ও তার সন্তানদের দোষী সাব্যস্ত করেছে। ফলে তিনি প্রধানমন্ত্রিত্ব ধরে রাখতে পারবেন কিনা তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি তাকে সুপ্রিম কোর্ট অযোগ্য ঘোষণা করে তাহলে তিনি পদ হারাবেন। তখন কে ধরবেন রাজনীতির হাল, কে হবেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী? এমন প্রশ্নে এখন চায়ের কাপে ঝড়। তবে দল সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলেছেন, এক্ষেত্রে কা-ারি হতে পারেন শাহবাজ শরীফ। নওয়াজ শরীফকে অযোগ্য ঘোষণা করা হলে তিনিই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে আসতে পারেন। সেক্ষেত্রে তার পাঞ্জাব প্রদেশে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব কে পালন করবেন সেটাও আরেকটা বড় প্রশ্ন। পাকিস্তানের অনলাইন ডন লিখেছে, জেআইটি তাদের রিপোর্ট জমা দেয়ার পর মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে দলের নীতিনির্ধারণী মহলের। তাতে উপস্থিত ছিলেন শাহবাজ শরীফ। দৃশ্যত এখন পর্যন্ত জেআইটির রিপোর্টে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয় নি। ফলে বিরোধী দল ও মিডিয়ার আক্রমণ থেকে তিনি রক্ষা পেয়েছেন। ফলে পানামাগেট কেলেঙ্কারিতে যদি আদালত বিরূপ রায় দেন তাহলে শরীফ পরিবার ও তার সন্তানদের জন্য তিনি হবেন ‘অল ইমপর্টেন্ট প্লেয়ার’। এমনটাই তাকে এখন নতুন করে বলা হচ্ছে। নওয়াজ শরীফের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ এর (পিএমএলএন) একজন নেতা বলেছেন, এ কারণে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিচ্ছেন শাহবাজ শরীফ। এই সঙ্কটের সময়ে তিনি তার ভাইয়ের পাশে রয়েছেন। পাশাপাশি যাদেরকে খুব বেশি প্রয়োজন তাদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ রাখছেন। ওই সূত্রটি আরো বলেছেন, দলের ভিতরে এখন অনেক কথা বলাবলি হচ্ছে। বলা হচ্ছে, যদি নওয়াজ শরীফকে অযোগ্য ঘোষণা করে আদালত তাহলে তার পদে আসতে পারেন শাহবাজ শরীফ। তবে এমন প্রশ্নও আলোচনা হচ্ছে, তিনি যদি কেন্দ্রীয় সরকারে চলে আসেন তাহলে পিএমএলএনের ঘাঁটি পাঞ্জাবের দায়িত্ব কে নেবেন। প্রকৃতপক্ষে শাহবাজ শরীফ কখনো পাঞ্জাবকে হাতছাড়া হতে দেবেন না, যদিও তাকে কেন্দ্রে বড় পদ দেয়া হয়। অবশ্যই তিনি পাঞ্জাবকে নিরাপদ ও আয়ত্তে রাখার জন্য অনেক কিছু করতে পারেন। এক্ষেত্রে ছেলে হামজা শাহবাজকে ব্যবহার করতে পারেন। ওই সূত্রটি আরো বলেন, এখন বড় প্রশ্ন হলো, শাহবাজ শরীফকে কি অন্ধের মতো বিশ্বাস করেন পিএমএলএনের নেতারা। নওয়াজ শরীফের অনুপস্থিতিতে তারা কি তাকে কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনে অনুমতি দেবে। নাকি দল থেকে অন্য কাউকে বেছে নেয়া হবে। নাকি অন্য কোনো অপশন বেছে নেয়া হবে। পানামা পেপারসে অফসোর কোম্পানিতে বিনিয়োগের তথ্য ফাঁস হওয়ার পর থেকেই নওয়াজ শরীফ ও তার সন্তানদের পক্ষ নেয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করছেন শাহবাজ শরীফ। জেআইটি যখন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে রাজধানী ইসলামাবাদে জিজ্ঞাসাবাদ করে সেই ভবনে তখন তার সঙ্গে ছিলেন শাহবাজ ও হামজা শরীফ। কিন্তু নওয়াজ শরীফের মেয়ে মরিয়ম, ছেলে হাসান ও হোসেন শরীফকে যখন একই ভবনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় সেখানে শাহবাজ বা হামজা কেউই উপস্থিত ছিলেন না। পিএমএলএনের ওই নেতা বলেছেন, কয়েক দিনের মধ্যে জেআইটির রিপোর্টে প্রধানমন্ত্রী ও তার সন্তানদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে এখন এই সময়ে তার সামনে এসে দাঁড়াবেন না শাহবাজ ও হামজা শরীফ। তবে সুপ্রিম কোর্টে জেআইটি তাদের রিপোর্ট জমা দেয়ার পর শাহবাজ শরীফ নীরব রয়েছেন বলে যে কথা বলা হচ্ছে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন পাঞ্জাব সরকারের মুখপাত্র মালিক আহমাদ খান। তিনি বলেছেন, প্রকাশ্যে ভাইয়ের পক্ষ নিচ্ছেন না মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এমন খবর সত্য নয়। শরীফ পরিবার এ মামলায় লড়াই করছে এবং বিজয়ী হবে।

খোলোমেলা হয়ে ব্যাপক সমালোচনায় এষা দেওল

এবার খোলামেলা পোশাক পড়ে অনলাইন দুনিয়ায় ঝড় তুললেন এষা দেওল। কারণ তিনি এখন সন্তানসম্ভাবা। কয়েকদিন আগেই নিজের বেবি বাম্পের ছবি পোস্ট করেছিলেন তিনি। আর এবার নাকি এমন খোলামেলা পোশাকে ছবি পোস্ট করলেন! বিষয়টি অবাক করার মতো হলেও সত্যি। সম্প্রতি একেবারেই একটি নামেমাত্র শর্টস পড়ে ছবি পোস্ট করেছেন এষা তার ইন্সটাগ্রামে। এ ছবিতে নিজের লম্বা পায়ের মাধ্যমেই যেন আবেদন ছড়াতে চেয়েছেন তিনি। এরই মধ্যে ইন্সটাগ্রামে ছবিটি প্রকাশের পর এটি ভাইরাল হয়ে গেছে। এষাকে নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়। কারণ সন্তান সম্ভাবা অবস্থায় এ নায়িকার এমন ছবি প্রত্যাশা করেননি কেউ। আর তাইতো বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক কমেন্ট পড়ছে এ ছবির বিপরীতে। এদিকে ছবির ক্যাপশনে এষা লিখেছেন, ‘কি গরম! মনে হচ্ছে গ্রীষ্মকাল। বৃষ্টি তোমরা মুম্বই থেকে কত দূরে আছ?

অন্তর্বাস পরে পোল ডান্স এষার!

বলিউডে তার শুরুটা হয়েছিল ভাট ক্যাম্পের হাত ধরে। ‘জান্নাত টু’-এর সে সফর খুব একটা সুখকর হয়নি। এরপর আর বক্স অফিসেও সেভাবে সফলতা পাননি। ব্যতিক্রম ছিল কেবল ‘রুস্তম’। অক্ষয়ের এ ছবিতে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করলেও বেশ নজর কেড়েছিলেন এষা গুপ্তা। ‘রুস্তম’-এর হাত ধরেই বি-টাউনের মাটিতে ফের জমি পেতে মরিয়া এষা। এবার আরও বোল্ড মেজাজে নিজেকে মেলে ধরতে চলেছেন বলিউড সুন্দরী। এরই প্রমাণ মিলল নায়িকার ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে। যেখানে কালো রঙা অন্তর্বাস পরেই পোল ডান্সে মজেছেন  ৩১ বছরের এ অভিনেত্রী। নিচে আবার মজা করে লিখেছেন, বাঁদরের ধর্ম কতটা ভালোভাবে পালন করছেন তিনি। কেবল পোল ডান্সেই ক্ষান্ত হননি অভিনেত্রী। ইনস্টাগ্রামে আরও একটি সিজলিং ভিডিও পোস্ট করেছেন তিনি। যাতে সাদা ও কালো অন্তর্বাস পরে পোজ দিয়েছেন নায়িকা। কেন এই ভিডিওটি তিনি পোস্ট করেছেন? সে উত্তরও ধোঁয়াশায় রেখেছেন অভিনেত্রী। শুধু ক্যাপশনে লিখেছেন ‘কামিং সুন’। সর্বশেষ এষা অভিনীত ‘কমান্ডো টু’ বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছে। কিন্তু এষার তুরুপের তাস এখন পরিচালক মিলন লুথারিয়ার ‘বাদশাহো’। যেখানে এষার পাশে থাকছে অজয় দেবগণ, ইমরান হাশমির মতো নাম। ছবির ট্রেইলারে ইলিয়ানা ডি’ক্রুজ ও সানি লিওনকে  সেন্স্যুয়াস আবতারের দেখা গেলেও এষা ধরা দিয়েছেন অ্যাকশন মুডে। তাই  বোধহয় নিজের লাস্যময়ী রূপ সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরেছেন নায়িকা। এমনই অভিমত সিনেপ্রেমীদের একাংশের।

কাশ্মীরে জঙ্গি হামলায় ৭ তীর্থযাত্রী নিহত

ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরে অমরনাথের তীর্থযাত্রী বহনকারী একটি বাসে হামলার ঘটনায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ছয়জনই নারী। সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজ্যের অনন্তনাগ জেলায় এ ঘটনা ঘটে। এতে আরও অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছেন। রাজ্যটিতে সংঘটিত সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। খবর এনডিটিভির। পহলগাম থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরের একটি উপত্যকার শেষপ্রান্তে গিরিসঙ্কটের মধ্যে অবস্থিত একটি মন্দির পরিদর্শন শেষে ফিরে আসার সময় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বাসটি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য পুলিশ জানায়, বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বা হামলাটি চালিয়েছে এবং এ হামলার পরিকল্পনা করেছে পাকিস্তানি জঙ্গি ইসমাইল। হামলার শিকার বাসটি গুজরাটে রেজিস্ট্রি করা। পুলিশ জানায়, বাসটি তীর্থযাত্রার নিয়মাবলী ভঙ্গ করে সন্ধ্যা ৭টার পর মহাসড়ক ধরে যাচ্ছিল। নিরাপত্তাজনিত কারণে এই সময়ের পর তীর্থযাত্রীবাহী কোনো যানবাহনের মহাসড়ক ধরে চলাচল নিষেধ। বাসটি অমরনাথ যাত্রার সরকারি ট্যুরেরও অংশ ছিল না বলে জানা গেছে। এর অর্থ বাসটির জন্য বাধ্যতামূলক কোনো পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থাও ছিল না। বিচ্ছিন্নতাবাদীরা প্রথমে পুলিশের একটি সাঁজোয়া গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। পরে সাঁজোয়া গাড়ি থেকেও পাল্টা গুলি ছোড়া হয়। এ সময় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বেপরোয়া গুলিবর্ষণ শুরু করলে তীর্থযাত্রীরা তার শিকার হন। এক যাত্রী বলেন, ‘গোলাগুলি শুরু হওয়ার সময় আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম, দুই পাশ থেকেই গুলি শুরু হয়। সেখানে কতজন ছিল তা জানি না আমরা।’ এর আগে একই বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ঘটনাস্থল থেকে ৬০০ মিটার দূরের একটি নিরাপত্তা তল্লাশি চৌকিতেও গুলিবর্ষণ করেছিল বলে জানা গেছে। একে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বর্ণনা করে এর তীব্র নিন্দা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ‘কাপুরুষোচিত এসব হামলার কাছে’ ভারত কখনও নতি স্বীকার করবে না বলেও জানান তিনি। ৪০ দিনব্যাপী দক্ষিণ কাশ্মীরের পর্বতমালার উঁচুতে অবস্থিত অমরনাথ গুহামুখী যাত্রাটি ২৮ জুন শুরু হয়েছে। এই যাত্রা উপলক্ষে স্যাটেলাইট ট্র্যাকিংসহ তীর্থযাত্রীদের ও তাদের যাতায়াতের পথগুলোর নিরাপত্তায় ৪০ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। শেখ হাসিনার নিন্দা : আমাদের কূটনৈতিক রিপোর্টার জানান, জম্মু ও কাশ্মীরে অমরনাথের তীর্থযাত্রায় সোমবারের সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পাঠানো এক শোক বার্তায় শেখ হাসিনা নিহতদের পরিবারবর্গের প্রতি গভীর শোক জানান। তিনি আহত পুণ্যার্থীদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

বন্যায় ভেসে গেল পাঁচ তলা ভবন

তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় পাঁচ তলা একটি ভবন হঠাৎ করেই ধসে পড়েছে নদীতে। কয়েক দিন ধরে ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে শনিবার জিকু নদীতে বিধ্বস্ত হয় ভবনটি। ক্যামেরায় ধরা পড়ে সেই বিরল মুহূর্তটি। বন্যায় ওই নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত হয় এবং নদীর তীরে ভাঙন দেখা যায় বলে চায়না ওয়েদার নেটওয়ার্ক জানায়। খবর সিএনএনের তবে ভবনটি ধসের আগেই সেখান থেকে সবাইকে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়। বন্যার পানিতে একটি বিশাল লাল ট্রাককেও ভেসে যেতে দেখা যায়। তিব্বতের চাংডু শহরটি বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিসিটিভির খবরে বলা হয়, বন্যায় ওই অঞ্চলের ৫৭ কিমি সড়ক ভেসে গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৪টি সেতু। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এদিকে চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হিউনান প্রদেশে গত দুই সপ্তাহে বন্যায় বহ লোকের মৃত্যু এবং প্রায় ১৬ লাখ মানুষ উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছেন বলে সোমবার জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। হিউনানের বেসামরিকবিষয়ক দফতরের উপ-পরিচালক ট্যাং বাইয়ু বলেন, টানা ১১ দিনের বন্যায় প্রায় ৫৩ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং আরও অন্তত সাড়ে তিন লাখ ব্যাপকভাবে অথবা আশিংকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমি ও ঘরবাড়ি ধসে পড়ে অন্তত ৬৩ জন মারা গেছে। নিখোঁজ রয়েছে আরও ২০ জন। বন্যায় ৫৬০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে।

টুইটারে ট্রাম্প-চেলসি বাগযুদ্ধ

জি-২০ সম্মেলনে বাবার আসনে ইভাঙ্কা ট্রাম্পের বসা নিয়ে এবার টুইটারে বাগযুদ্ধে জড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সাবেক ফার্স্ট ডটার চেলসি ক্লিনটন। বিবিসি জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার মেয়ের পক্ষে সাফাই গাইলে সোমবার টুইটারে এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। টুইটে ট্রাম্প জি-২০ সম্মেলনে তার চেয়ারে মেয়েকে বসানোর বিষয়টিকে ‘খুবই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি লেখেন, একই কাজ যদি হিলারি ক্লিনটনের হয়ে তার মেয়ে চেলসি করত, তাহলে সংবাদমাধ্যমগুলো বিষয়টি অন্যভাবে নিত। প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের জবাবে পাল্টা টুইটে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের মেয়ে চেলসি বলেন, তার বাবা-মা কখনই তাকে অমন কাজ করতে বলতেন না। হামবুর্গে শিল্পোন্নত ২০টি দেশের সম্মেলনের শেষ দিন শনিবার এক বৈঠকের মধ্যে হুট করে ট্রাম্পের চেয়ারে বসে সমালোচনার মুখে পড়েন তার উপদেষ্টা ইভাঙ্কা। ওই ঘটনাকে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘দুর্নীতির নমুনা’ হিসেবে তুলে ধরছে ডেমোক্রেটিকরা। তারা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির পুরনো অভিযোগও সামনে আনেন। দু’দিন পর ওই ঘটনা নিয়ে মুখ খোলেন ট্রাম্প। টুইটারে তিনি বলেন, মেয়েকে তিনিই তার আসনে বসতে বলেছেন। আমি জাপান এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে স্বল্প সময়ের বৈঠকের জন্য সম্মেলন কক্ষ ছেড়ে যাই, তখন ইভাঙ্কাকে আমার আসনে বসতে বলি। এটি ছিল খুবই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত। আঞ্জেলা মার্কেলও এর সঙ্গে একমত বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সমালোচকদের একহাত নিতে পরে আরেকটি টুইটে চেলসিকে টেনে আনেন ট্রাম্প। তিনি লেখেন, ‘তার মা চেলসি ক্লিনটনকে তার আসনে বসতে বলত, যে কিনা আমাদের দেশটাকে অন্যদের দিয়ে দিয়েছে, তাহলে ভুয়া খবরে বলা শুরু হতো, চেলসিকেই তারা প্রেসিডেন্ট দেখতে চায়।’
ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে ৩৭ বছর বয়সী চেলসি টুইট করেন, ‘সুপ্রভাত মিস্টার প্রেসিডেন্ট। আমার বাবা কিংবা মা কখনই আমাকে এ ধরনের (যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আসনে বসার) কথা বলতেন না। আপনি নিশ্চয়ই আমাদের দেশকে অন্যদের হাতে তুলে দিচ্ছেন না? আমি আশা করি, আপনি তা করছেন না।’ পরে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বলেন, ক্লিনটন পরিবারকে আক্রমণ করা প্রেসিডেন্টের উদ্দেশ্য ছিল না। হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাকে নিয়ে যেরকম সমালোচনা হচ্ছে, তার জবাব দিতেই প্রেসিডেন্ট ওই তুলনা করেছেন। মুখপাত্র সারাহ হাকেবি স্যান্ডার্স বলেন, ‘আমার মনে হয়, তার (ইভাঙ্কার) নামের শেষের অংশটি ট্রাম্প না হলে ক্রমাগত আক্রমণের বদলে প্রশংসাই জুটত। মিস ট্রাম্পকে নিয়ে আমাদের গর্ব করা উচিত।’ ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটনের পরাজয়ের পর থেকেই টুইটারে ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের নীতির সমালোচনায় মুখর চেলসি। ক্লিনটন ও ট্রাম্প পরিবারের মধ্যে এখন রাজনৈতিক বৈরিতা থাকলেও ইভাঙ্কাকে নিজের ‘ভালো বন্ধু’ হিসেবেই দাবি করে আসছেন তিনি।

টাঙ্গাইলে তিন বাড়ি থেকে ৯৯টি গোখরা সাপ উদ্ধার

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার দুটি বাড়ি থেকে ৭৩টি ও সখীপুর উপজেলার একটি বাড়ি থেকে ২৬টি গোখরা সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে কালিহাতী উপজেলার সল্লা ইউনিয়নের দেউপুর গ্রামের মোখলেছুর রহমানের বাড়ি থেকে ৪৬টি ও এলেঙ্গা পৌরসভার মসিন্দা গ্রামের শাহজাহান সিকদারের বাড়ি থেকে ২৬টি গোখরা সাপ ধরে মেরে ফেলা হয়। সাপগুলোর মধ্যে একটি বড় সাপ আর বাকিগুলো বাচ্চা। বাড়ির মালিক মোখলেসুর রহমান জানান, সোমবার ভোরে তার স্ত্রী রান্নাঘরে গেলে তার পায়ে কিছু একটা এসে ধাক্কা দেয়। তখন তিনি লাইট জ্বালিয়ে একটি গোখরা সাপের বাচ্চা দেখে চিৎকার দেয়। পরে তাৎক্ষনিক বাচ্চাটি মেরে ফেলা হয়। রান্নাঘর থেকে বের হয়ে উঠানে এসে আরো চারটি সাপের বাচ্চা দেখতে পায়। এভাবে ২৪টি সাপের বাচ্চা লাঠি দিয়ে মেরে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। পরে খবর পেয়ে এক সাপুড়ে এসে থাকার ঘর থেকে মাটি খুঁড়ে আটটি এবং রান্নাঘর থেকে আরো ১টি সাপের বাচ্চা ধরেন। পরে সাপুড়ে ২২টি সাপের বাচ্চা জীবিত নিয়ে যান। তবে বড় সাপটি এখনো ধরা না পড়ায় বাড়ির লোকজনসহ এলাকাবাসী আতঙ্কে রয়েছে। অপরদিকে মসিন্দা গ্রামের শাহজাহান সিকদারের বাড়ির ভাড়াটিয়া হোমিও ডাক্তার দুলাল হোসেন জানান, গত ২ জুলাই শাহজাহান সিকদারের থাকার ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে পুরাতন সুটকেসের ভেতরে একটি বড় গোখরা সাপ দেখতে পান। তখন সাপটি পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়।
সাপটির দৈর্ঘ্য সাড়ে চার হাত। পরে গত রোববার সকালে টিনের ঘরে ইঁদুরের গর্ত থেকে দুটি গোখরা সাপের বাচ্চা বের হলে তা মেরে ফেলা হয়। তখন ঘরে আরো সাপ থাকতে পারে ভেবে উপজেলার কস্তুরীপাড়া এলাকার বায়েজীদ হোসেন নামে এক সাপুড়েকে খবর দেয়া হয়। ওইদিন বিকালে সাপুড়ে এসে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘরের পাকা বারান্দা ভেঙে ইঁদুরের গর্ত থেকে ২১টি গোখরা সাপের বাচ্চা বের করে। একইভাবে সোমবার বিকালে আরো তিনটি সাপের বাচ্চা ধরা হয়। বাচ্চাগুলো লম্বায় এক থেকে দেড় ফুট।’ জীবিত ২৪টি বাচ্চাই সাপুড়ে বায়েজীদ নিয়ে যান। সাপুড়ে বায়েজীদ জানান, বিষধর গোখরা সাপের বাচ্চা কাউকে কামড়ালে মারাত্মক কিছু হতে পারে। সাবধান থাকা খুবই জরুরি বলে মনে করছেন তিনি। একইদিন বিকালে সখীপুর উপজেলার হামিদপুর গ্রামের প্রবাসী আশরাফ আলীর বাড়ির রান্নাঘর থেকে ২৬ গোখরা সাপ পাওয়া যায়। পরে ওই সাপগুলো স্থানীয়রা এক এক করে মেরে ফেলে। ওই এলাকার ইসমাইল হোসেন বলেন, প্রতিদিনের মতই সোমবার বিকালে আশরাফ আলীর স্ত্রী রান্না ঘরের সামনে কবুতরের খাঁচায় খাদ্য দিতে যায়। এ সময় আশরাফের স্ত্রী কবুতরের খাঁচার উপর একটি গোখরা সাপ দেখতে পেয়ে চিৎকার দেয়। পরে বাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে সাপটি মেরে ফেলে। এ সময় ওই রান্নাঘরের মেঝের গর্ত খুঁড়ে একে একে আরও ২৫টি বিষাক্ত গোখরা সাপের বাচ্চা বের করে মেরে ফেলা হয়। এ ঘটনার পর থেকে বাড়িতে লোকজন আতঙ্কে রয়েছে। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে বিষাক্ত গোখরা সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছেন।

মঙ্গলে প্রাণী বাঁচবে ৬৮ দিন!

মঙ্গলে প্রাণ রয়েছে কিনা, তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে বহু বছর ধরেই। সেখানে আদৌ মানুষের বা কোনো প্রাণীর বসবাসের যোগ্য পরিবেশ আছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ সম্প্রতি এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, মঙ্গলগ্রহের বায়ুমণ্ডলে বেশকিছু প্রাণঘাতী বিষের উপস্থিতি রয়েছে। ফলে বিজ্ঞানীরা বলছেন, সেখানে ৬৮ দিন পর থেকেই ধীরে ধীরে মৃত্যুর মুখে পড়তে হবে যে কোনো প্রাণীকে। এ ছাড়া মঙ্গলগ্রহের মাটি পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ধূলিকণার সঙ্গে কিছু রাসায়নিক পদার্থ বিক্রিয়া করে বিভিন্ন যৌগিক কণার জন্ম দিচ্ছে, যা কোনো প্রাণের বেঁচে থাকার পক্ষে অনুকূল নয়। বিজ্ঞানীরা আরও জেনেছেন যে, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব মঙ্গলে অনেক বেশি। এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাকাশবিষয়ক জীববিজ্ঞানী জেনিফার ওয়ার্ডসওয়ার্থের মতে, এখনই মঙ্গলগ্রহের মাটি কোনো প্রাণীর বেঁচে থাকার পক্ষে আদর্শ নয়। তবে মাটির দু-তিন মিটার নিচে, যেখানে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি পৌঁছায় না, বা বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ নেই, সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব থাকা অস্বাভাবিক নয়। এ বিষয় নিয়েই চলছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা। ওয়েবসাইট।

যুক্তরাজ্যে ‘প্রথমবারের মত’ মুসলিম সমকামী জুটির বিয়ে

যুক্তরাজ্যে ‘প্রথমবারের মত’ মুসলিম সমকামী জুটি বিয়ে করেছে। ওই সমকামী জুটির একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। তার নাম জাহেদ চৌধুরি। খবর দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের। জাহেদ ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের ওয়ালসাল শহরে সেয়ান রোগানকে বিয়ে করেন। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিয়ের ভিডিও এবং ছবিতে তাদেরকে বাংলাদেশি বিয়ের ঐহিত্যবাহী পোশাকে দেখা যায়। তবে বিয়ের অনুষ্ঠানে জাহেদের পরিবারের কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। বিয়ের পর ২৪ বছরের জাহেদ ‘দ্য এক্সপ্রেস অ্যান্ড স্টার’কে নিজের অনুভূতি জানিয়ে বলেন, 'নিজেকে সব সময়ই বাংলাদেশি মুসলিম পরিবারের কুলাঙ্গার বলে মনে হত। স্কুলে আমাকে উৎপীড়নের শিকার হতে হয়েছে। অন্য মুসলিমরা আমার ওপর চড়াও হত এবং স্থানীয় মসজিদে আমার যাওয়া নিষিদ্ধ ছিল।' জাহেদের দাবি, আমরা পুরো বিশ্বকে দেখাতে চাই, আমরা একইসঙ্গে সমকামী এবং মুসলিম হতে পারি। ২০১৫ সাল থেকে জাহেদ-রোগান জুটি একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। ২০১৩ সালে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসে সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ ঘোষণা করা হয়। যদিও ‘দ্য মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন’ এবং ‘দ্য চার্চ অব ইংল্যান্ড’ এ আইনের বিপক্ষে রয়েছে।

কাতারের সঙ্গে সৌদি জোটের গোপন চুক্তি ফাঁস

কাতার সংকটের নেপথ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে কাতারের কয়েকটি গোপন চুক্তি বলে জানা গেছে। মিসর ও ইয়েমেনসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর বিরোধী দল ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন না করার ব্যাপারে ২০১৩ ও ২০১৪ সালে দেশগুলোর সঙ্গে কাতার ওই চুক্তিগুলো সম্পাদন করে। চুক্তিগুলো মেনে না চলার কারণেই সন্ত্রাসবাদে মদদ ও উপসাগরীয় দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগে গত মাসে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিকসহ সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদির নেতৃত্বাধীন নয়টি দেশ। সিএনএন মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানায়, উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে কাতারের বেশ কয়েকটি চুক্তি রয়েছে। কিন্তু ইস্যুগুলো স্পর্শকাতর হওয়ায় চুক্তির দলিলপত্র ও বিষয়াবলী গোপন রাখা হয়। এর আসল কারণ হচ্ছে, চুক্তিগুলো উপসাগরীয় দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে সম্পাদিত হয়। এ ধরনের দুটি চুক্তির নথিপত্র সিএনএন হাতে পেয়েছে বলে জানিয়েছে। সিএনএন উল্লিখিত দুটি চুক্তির প্রথমটি হয় ২০১৩ সালের ২৩ নভেম্বর। সৌদি বাদশা সালমান বিন আবদুল আজিজ, কাতার ও কুয়েতি আমীরের মধ্যে সেই চুক্তি সম্পাদন করা হয়। এ চুক্তিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর পারস্পরিক অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়। এ ছাড়া কোনো বিদ্রোহী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে আর্থিক এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার কথাও বলা হয়। ‘রিয়াদ চুক্তি’ নামে পরিচিত ওই চুক্তিটিতে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বলতে মূলত মুসলিম ব্রাদারহুডের কথা বলা হয়। কাতারকে একঘরে করার পেছনের অন্যতম কারণ এ সংগঠনটিকে সমর্থন। চুক্তিতে আরও বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো অত্র অঞ্চলে বৈরী অবস্থা সৃষ্টিকারী কোনো গণমাধ্যমকে সমর্থন করবে না। চুক্তিতে মূলত কাতার সরকারের আর্থিক সাহায্যে পরিচালিত টেলিভিশন চ্যানেল আলজাজিরার কথা বলা হয়। ‘টপ সিক্রেট’ শিরোনামে দ্বিতীয় চুক্তিটি সম্পাদিত হয় ২০১৪ সালের ১৬ নভেম্বর। বাহরাইনের বাদশা, আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে চুক্তিটি সম্পাদিত হয়। এ চুক্তিতে মিসরের রাজনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখার অঙ্গীকার করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া মিসরে সরকারবিরোধীদের সমর্থন দেয়া থেকে আলজাজিরাকে বিরত রাখার কথাও বলা হয়। সিএনএনের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিভিন্ন সময়ে কাতারের বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ আনে সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলো। এসব অভিযোগের জেরেই গত মাসে কাতারের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করে সৌদি জোট। সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য কাতারকে ১৩টি শর্ত দেয় তারা। তবে ওই শর্তগুলো ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে কাতার।

কাতারের হুশিয়ারি, সামরিক পদক্ষেপ নিলে ‘চরম পরিণতি’

সংকট নিরসনে টিলারসনের কূটনৈতিক মিশন * সৌদি জোটের শর্তাবলী বাস্তবসম্মত নয় : যুক্তরাষ্ট্র * কাতার ইস্যুতে জিসিসি ভেঙে যেতে পারে : ইইউ
কাতারের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়া হলে মধ্যপ্রাচ্যকে ‘চরম পরিণতি’ ভোগ করতে হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছে দোহা। অবরোধ আরোপকারীদের অন্যায় দাবির কাছে কাতার কখনোই মাথা নত করবে না বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ আবদুল রহমান আল থানি। ফ্রান্সের একটি টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন বলে জানায় মিডলইস্ট মনিটর। তবে চলতি সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্য সফরকালে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, কাতার সংকটকে ঘিরে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা করছেন না তিনি। সাক্ষাৎকারে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শত্রুতা ও বিদ্বেষের মাধ্যমে কোনো সমস্যার সমাধান করা যায় না এবং কাতারের সঙ্গে আরব দেশগুলোর চলমান সংকট সংলাপের মাধ্যমেই নিষ্পত্তি করতে হবে। আল থানি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী কোনো শর্ত তার দেশ মেনে নেবে না। কাতারের বিরুদ্ধে চার আরব দেশ সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেয়ার যে অভিযোগ তুলেছে তা নাকচ করে দিয়ে আল থানি বলেন, তার দেশ সব সময় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিকরাই বরং উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোতে যোগ দিয়েছে। এদিকে কাতার সংকট নিরসনের লক্ষ্যে নিজের প্রথম কূটনৈতিক মিশনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন এখন মধ্যপ্রাচ্য সফরে রয়েছেন। সংকট সমাধানে চলতি সপ্তাহের পুরোটাই উপসাগরীয় দেশগুলো সফরে কাটাবেন তিনি। সোমবার ইস্তাম্বুল থেকে কুয়েত সিটিতে পৌঁছান টিলারসন। এদিন সন্ধ্যায় কুয়েতের আমীর শেখ সাবাহ আল আহমেদ আল সাবাহ ও দেশটির অন্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় কুয়েতি আমীর আল সাবাহ টিলারসনকে বলেন, ‘আমরা এমন একটা ইস্যু মীমাংসা করার চেষ্টা করছি যা শুধু আমাদেরকে নয় পুরো বিশ্বকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।’ টিলারসন বলেন, কাতার সংকটের আশু কোনো সমাধান তিনি আশা করছেন না। তবে সংকট সমাধানে পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা শুরু করার সম্ভাবনার বিষয়টি যাচাই করে দেখছেন। কুয়েত সফর শেষে মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছেছেন তিনি। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এখানে তিনি প্রথমে কাতারের আমীর শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আল থানির সঙ্গে বৈঠক করবেন। গত মাসে টিলারসন কাতারের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার জন্য সৌদি জোটের প্রতি আহ্বান জানান। ওই সময় তিনি বলেন, এতে করে অপ্রত্যাশিত মানবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে এবং প্রভাব পড়ছে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন লড়াইয়ে। কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বহালে সৌদি আরবের দেয়া ১৩টি শর্ত বাস্তবসম্মত নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসনের একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা। কাতার সংকটকে কেন্দ্র করে পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা পিজিসিসিভুক্ত দেশগুলোর সংস্থাটি ভেঙে যেতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ। সন্ত্রাসবাদের প্রতি সমর্থনসহ কয়েকটি অভিযোগ এনে সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য কাতারের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেছে সৌদি আরব, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মিসর। তবে সংস্থার অন্য দুই সদস্য কুয়েত এবং ওমান নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সোমবার ব্রাসেলসে জর্দানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদির সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি বলেছেন, চলমান উত্তেজনা থেকে বের না হতে পারলে পিজিসিসি ভেঙে যেতে পারে এবং বিষয়টি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চিন্তিত। চলমান সংকট নিরসনে কুয়েতের নেয়া উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, কুয়েতের এ উদ্যোগের মাধ্যমে সংকটের সমাধান হওয়া উচিত।

দিল্লিতে বসেই ভারতকে হুশিয়ারি চীনা থিঙ্কট্যাঙ্কের

পাকিস্তানের সঙ্গে যেন চীনকে গুলিয়ে ফেলা না হয়। ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পর চীনেরও আকাশ-পাতাল পরিবর্তন ঘটেছে। ভারত যেন সেটা মনে রাখে। সিকিম সীমান্তের কাছে ডোকলামে দু’দেশের সেনা যখন মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, ঠিক সেই সময় নয়াদিল্লিতে বসেই এমন হুমকি দিয়েছে চীনের একটি থিঙ্কট্যাঙ্ক। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পররাষ্ট্র ও অর্থনীতি নির্ধারণের সঙ্গে সম্পৃক্ত ওই থিঙ্কট্যাঙ্কের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল সম্প্রতি দিল্লি সফর করেছে। যার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল, চলতি অচলাবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে চীনের কড়া বার্তা পৌঁছে দেয়া। খবর আনন্দাবাজর পত্রিকার। চীনা সূত্রের দাবি, ভারতীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির মন্তব্যের প্রবল প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বেইজিংয়ে। অরুণ জেটলি বলেন, ভারত সেই ১৯৬২ সালে বসে নেই। আমরা এ কথাটাই ভারতীয় নেতৃত্বকে মনে করিয়ে দিতে চাইছি যে, গত পঞ্চান্ন বছরে চীনেও বহু পরিবর্তন হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের দাবি, ‘ডোকলাম আমাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত। ভারতের কোনো অধিকার নেই এখানে নাক গলানোর।’ ভারতের পাল্টা বক্তব্য, ‘ভারত, চীন এবং ভুটানের ত্রিপাক্ষিক সীমান্ত রেখা নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে আমাদের মতপার্থক্য রয়েছে। ডোকলাম চীন ভূখণ্ডে নয়, সিকিম-ভুটান সীমান্তে। সেখান থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে শিলিগুড়ি করিডর। সে কারণেই ওখানে বেইজিংয়ের পরিকাঠামো তৈরির কাজকর্ম ভারতের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক।’
চীনা সূত্রের বক্তব্য, ‘দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চীনের প্রতি ইতিবাচক বার্তা দিয়েই শুরু করেন। কিন্তু আলোচনার টেবিলে এমন ছোটখাটো সব সমস্যার কথা তোলেন, যাতে বড় ছবিটাই অস্পষ্ট হয়ে যায়! চীন মনে করে, ওই সমস্যাগুলো আমলাস্তরেই মিটিয়ে ফেলা যায়। আমাদের সরকার চায় ধাপে ধাপে সমস্যার সমাধান করতে। কিন্তু মোদি একসঙ্গে সব মতপার্থক্যকে সামনে আনেন। ফলে চীনা নেতৃত্বের ধারণা হয়েছে, ভারত আসলে সমাধান নয়, ওই সব সমস্যা জিইয়ে রাখতে চায়।’ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বক্তব্য উড়িয়ে বলেছে, চীন যেগুলোকে ছোটখাটো বলছে, তার মধ্যে কাশ্মীরের নাগরিকদের স্টেপলড ভিসা দেয়া বা অরুণাচলকে বারবার চীনা মানচিত্রে দেখানোর মতো গুরুতর ব্যাপার আছে। এগুলোকে বাদ দিয়ে আলোচনা সম্ভবই নয়। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি প্রসঙ্গে বেইজিংয়ের দাবি, ভারতীয় পণ্যের মেধাস্বত্বের বিষয়টি এতটাই জটিল যে, চীনা বা পাশ্চাত্যের মাপকাঠিতে তা কার্যত অচল। চীন যেভাবে হৈ হৈ করে ভারতীয় বাজারে ঢুকেছে, তার সিকিভাগও ভারত সে দেশে ঢুকতে পারেনি। এমনকি ভারতীয় ক্রিকেটের পুঁজিও এখন নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেছে চীন। চীনা ব্র্যান্ড ‘ওপো’ এবং ‘ভিভো’ যথাক্রমে টিম ইন্ডিয়া ও আইপিএল ক্রিকেটের স্পনসর। অন্যদিকে সামান্য পেট খারাপ, মাথা ধরার ওষুধ পর্যন্ত রফতানি করতে গিয়ে চীনা দেয়ালে ধাক্কা খাচ্ছে নয়াদিল্লি!

বাগদাদি মারা গেছেন, স্বীকার করল আইএস

জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রধান আবু বকর আল বাগদাদি মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করেছে খ্যাতনামা একটি মানবাধিকার সংগঠন। মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর) জানায়, বাগদাদি নিহত হওয়ার সুনিশ্চিত খবর তারা পেয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের বিশ্বাসযোগ্য খবর প্রকাশ করে আসছে এসওএইচআর। রয়টার্সকে সংস্থাটির প্রধান রামি আবদুল রহমান বলেন, ‘সিরিয়ার দেইর আল জোরে আইএসের প্রথম সারির নেতাসহ অন্য নেতাদের কাছ থেকে আমরা সুনিশ্চিত তথ্য পেয়েছি যে, বাগদাদি নিহত হয়েছে।’ তবে তিনি ‘কবে কখন নিহত হয়েছেন’- এ ব্যাপারে আইএস সূত্র কিছুই জানায়নি। এছাড়া ইরাকের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আল সুমারিয়া জানায়, নিনেভেহ প্রদেশের এক বিমান হামলায় ৪৫ বছর বয়সী বাগদাদি নিহত হয়েছেন। চ্যানেলটি আরও জানায়, ‘আইএসের পক্ষ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাগদাদির নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। সংগঠন তাদের নতুন নেতার নাম শিগগিরই ঘোষণা করবে।’ তবে আইএসের মুখপাত্র আমাক নিউজ এজেন্সি বাগদাদির নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেনি।
এছাড়া মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন জানায়, বাগদাদির মারা যাওয়ার খবরের ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত নয় তারা। এ খবর প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সিবাস্তাইন গোর্কা বলেন, ‘আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। গোয়েন্দা দল ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। পরবর্তীকালে বিবৃতির মাধ্যমে অপরিহার্য এ বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।’ ইরাক এবং কুর্দি বাহিনীও এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেনি। ২০১৪ সালে মসুলের আল-নূরি মসজিদে বাগদাদি নিজেকে খলিফা হিসেবে ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার পর বাগদাদির মাথার দাম ২৫ মিলিয়ন ডলার ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বহুবার তার মৃত্যু সংবাদ প্রকাশিত হয়। অবশ্য সেসব খবরের সত্যতা প্রমাণিত হয়নি। ধারণা করা হচ্ছিল, উত্তর ইরাকের মসুলের মরুভূমিতে তিনি আত্মগোপন করে আছেন। জানুয়ারিতে পেন্টাগন জানায়, মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলায় আহত হয়েছেন বাগদাদি। সর্বশেষ ১৬ জুন রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের বিমান হামলায় হয়তো নিহত হয়েছে বাগদাদি। মে মাসের শেষ দিকে সিরিয়ার রাকার উপকণ্ঠে এ হামলা চালানো হয়েছিল। ২৯ জুন ফের রাশিয়া জানায়, বাগদাদি নিহত হওয়ার বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া গেছে।

'অর্থমন্ত্রীকে আবারও বলির পাঠা করা হয়েছে'

'সুইস ব্যাংকে অর্থ পাচার হয়নি, লেনদেন হয়েছে' সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, মাত্র কয়েকদিন আগে সিলেটের এক সভায় অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, সুইস ব্যাংকসহ বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচারে আমরাও দায়ী। এধরনের স্ববিরোধী বক্তব্য আওয়ামী নেতাদের চিরাচরিত টেকনিক। রিজভী বলেন, আসলে ক্ষমতাসীনদের উচ্চপর্যায়ের অনেক নেতারাই এই লাখ লাখ কোটি টাকা পাচারে জড়িত। তাদের চাপেই অর্থমন্ত্রীকে আগের কথা থেকে সরে আসতে বাধ্য করা হয়েছে। তাকে আবারও বলির পাঠা করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী। রিজভী বলেন, এটা সর্বজনবিদিত যে, সরকারি ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান লুটপাটে শুন্য হয়ে গেছে। সরকারের লুটপাট আর দুর্নীতিতে তারা এখন টালমাটাল হয়ে গেছেন। সেদিন আর বেশি দূরে নয়-লুটপাটের জন্য একদিন জনগণের কাছে জবাবদিহি করতেই হবে। অর্থমন্ত্রী যতোই ‘জাহাজমার্কা বাজেট’ দিন না কেন, দেশের অর্থনীতি যে ফাঁকা, ফাঁপা শুন্যগর্ভ তা দেশ-বিদেশের কারো নিকট অজানা নয়।
তাই যতই শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করেন না কেন তাতে লাভ হবে না। তিনি বলেন, আজকে একটি দৈনিক পত্রিকায় নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ-পদোন্নতি কমিটির যিনি প্রধান তিনি গণবদলী ও পদোন্নতির ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না খবর প্রকাশিত হয়েছে। ইসির নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রশাসনিক সংস্কার ও পূণর্বিন্যাস এবং দক্ষতা উন্নয়ন কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার এ বিষয়ে ইসি’র সচিবকে নোট দিয়েছেন। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা দেশবাসীর মধ্যে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। এতে স্বয়ং ইসি’র অনেক কর্মকর্তাও ক্ষুদ্ধ হয়েছেন। এই ঘটনায় কমিশনের শুধু ভাবমূর্তিই নষ্ট হয়নি বরং এতে নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ড বিশাল প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে। রিজভী আরও বলেন, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ডিসেম্বর থেকে সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রাক্কালে অশুভ উদ্দেশে এই পরিকল্পিত গণবদলী ও পদোন্নতির ঘটনা ঘটানো হয়েছে কিনা সেটি নিয়ে সকলের মনে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ প্রশাসনের এই ব্যাপক পরিবর্তন একটি সুদুরপ্রসারী নীল নকশারই অংশ। আগামী নির্বাচনগুলোকে প্রভাবিত করার জন্যই একটা চক্রান্তজাল বিস্তারের আলামত কিনা সেটাই দেশের ভোটারদেরকে এখন ভাবিয়ে তুলেছে। রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে রিজভী বলেন, সুন্দরবনের সুরক্ষাকে বিপন্ন করছে সরকারের একগুঁয়েমি নীতি। কয়লা পুড়িয়ে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের বিরুদ্ধে জাগ্রত দেশবাসী প্রতিবাদমূখর। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মানববসতি অনিবার্য ধ্বংসের মুখে পতিত হবে। প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র নির্মূল হয়ে যাবে। রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের কারণে সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্য চরম হুমকির মুখে পড়বে। কিন্তু সরকার নাছোড়বান্দার মতো দেশের পরিবেশ, জলবায়ু এবং মানুষকে ধ্বংসের মধ্যে ঠেলে দিতে উঠেপড়ে লেগেছে। তিনি বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ নিয়ে সরকারের যে মহাদুর্নীতি সেটির আরেকটি বড় সুযোগ সৃষ্টি হবে এই রামপাল প্রকল্পে, সেজন্য সরকার এখন মরিয়া হয়ে প্রতিবাদকারীদের ওপর চালাচ্ছে নিষ্ঠুর উৎপীড়ণ। রক্ত ঝড়াচ্ছে দেশ ও পরিবেশ বাঁচানোর লড়াইয়ে অংশগ্রহণকারীদের ওপর।

ত্রাণসামগ্রীর অভাব নেই: মন্ত্রী

দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে ত্রাণসামগ্রীর অভাব নেই বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। তিনি বলেছেন, আমরা জেলা প্রশাসকদের বলেছি, তাদের চাহিদা মত খাদ্যশস্য ও আর্থিক বরাদ্দ দেয়া হবে। একটি লোকও যাতে খাবারের কারণে কষ্ট না পায় সেজন্য তাদের সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে বুধবার সচিবালয়ে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা বলেন। এসময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব শাহ কামালসহ মন্ত্রণালয়ের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী জানান, বন্যায় ১৩ জেলার ৪৫ উপজেলায় সাড়ে ছয় লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিলেট, মৌলভীবাজার, কক্সবাজার, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ জেলা বর্তমানে বন্যা কবলিত। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, উত্তরের পানি মধ্যাঞ্চলে নেমে এলে আরও নতুন জেলা প্লাবিত হতে পারে।
মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, উজানের দেশ চীন, ভারত, নেপাল ও ভুটানে এবার বন্যা হয়েছে। তাই ভাটির দেশ হিসেবে উজানের প্রভাব আমাদের ওপর পড়ছে। আমরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা করছি এবং মানুষের জন্য সহনশীল অবস্থায় রাখতে সক্ষম হয়েছি। তিনি জানান, বন্যাদুর্গত ১৩ জেলায় গত ৩ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৪ হাজার মেট্রিক টন চাল, ১ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং শুকনো খাবারের সমন্বয়ে সাড়ে ১৮ হাজার প্যাকেট খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, দুর্গত এলাকায় খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। এসময় বিএনপির প্রতি ঈঙ্গিত করে তিনি বলেন, বন্যা নিয়ে রাজনীতি না করে আমি দলমত নির্বিশেষে সবাইকে আহ্বান জানাব- আসুন আমরা বন্যা প্লাবিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিজেদের মানবিক কর্তব্য পালন করি।

মাগুরায় স্ত্রী-সন্তান হত্যার দায়ে ফাঁসি

মাগুরায় স্ত্রী ও শিশু কন্যাকে হত্যার দায়ে আমিরুল ইসলাম (৩৮) নামে একজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার সকালে জেলা জজ শেখ মফিজুর রহমান এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সাজাপ্রাপ্ত আমিরুলের বাড়ি মহম্মদপুর উপজেলার চৌবাড়িয়া গ্রামে। মাগুরা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন জানান, ২০১১ সালের ৫ জুন রাত ৯টার দিকে মহম্মদপুর উপজেলার চৌবাড়িয়া গ্রামের আমিরুল ইসলাম ইট দিয়ে মাথা থেতলে স্ত্রী কবিতা খাতুনকে হত্যা করে। এসময় তার ৫ বছরের শিশু কন্যা জামিলা দেখে ফেললে তাকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মাটি চাপা দিয়ে রাখেন তিনি। এ ঘটনায় আমিরুলকে আসামি করে তার শ্বশুর রবিউল ইসলাম মামলা দায়ের করেন। আসামি আদলাতে হাজির হয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। শুনানি শেষে আদালত আজ তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।

জুতার ভেতরে সাতটি স্বর্ণের বার

যশোরের বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনে পারভেজ (২৮) নামে এক পাসপোর্ট যাত্রীর জুতার ভেতর থেকে সাতটি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার সকাল ৯টার দিকে বেনাপোল কাস্টমস শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা স্বর্ণের বারসহ তাকে আটক করেছে। আটক পারভেজ নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার দক্ষিণ লক্ষণখোলা গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে। বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের রাজস্ব কর্মকর্তা তাহমিদ আহমেদ জানান, পাসপোর্ট যাত্রী পারভেজের চলাফেরা সন্দেহজনক হওয়ায় সকাল ৯টার দিকে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা তাকে আটক করে। এরপর তার শরীর তল্লাশি করে জুতার ভেতর থেকে ৭টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ন্যায়পাল নিয়োগ চেয়ে হাইকোর্টে রিট

রাষ্ট্রে ন্যায়পাল নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ড. ইউনুছ আলী আকন্দ বুধবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দাখিল করেন। তিনি জানান, রিটে ন্যায়পাল নিয়োগে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা প্রশ্নে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে। রিটে জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইনসচিব ও রাষ্ট্রপতির সচিবকে রেসপনডেন্ট (প্রতিপক্ষ) করা হয়েছে। ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদে ন্যায়পাল নিয়োগের বিধান রয়েছে। এ নিয়োগ বিষয়ে আইন হলেও সে আইন এখনো কার্যকর হয়নি। ন্যায়পালের কাজ সম্পর্কে ওই আইনের ৬ ধারায় বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়সহ সকল সরকারি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্ত ও বিচার করবে ন্যায়পাল।

উত্তরায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ

রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় ৭ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৩) ধর্ষণের অভিযোগে আবুবকর ছিদ্দিক সুমন (৪০) নামে পুলিশের এক সোর্সের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলা নং ২১। তারিখ ১১/০৭/১৭। ধর্ষক সুমনের বাবার নাম সাইদুর রহমান। বাড়ি নওগাঁ। বর্তমানে তিনি ঢাকায় থাকেন। ধর্ষককে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। মামলার বাদী ওই শিশুর বোন সুমাইয়া আক্তার জানান, তার স্বামী আব্দুল্লাহ আল মামুন এর সঙ্গে বন্ধুত্বের সূত্রধরে অভিযুক্ত ধর্ষক তাদের বাসায় যাতায়াত করতেন। তার ছোট বোন তাদের সঙ্গে থাকে এবং স্থানীয় একটি স্কুলে ৭ম শ্রেণিতে পরে। স্কুলে যাওয়া আসার পথে এবং ফোনে সুমন তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিত এবং বিরক্ত করতো। গত ৫ জুলাই সন্ধ্যায় বাদী এবং তার স্বামী কেনাকাটার জন্য বাহিরে গেলে সুযোগ বুঝে সুমন বাসায় আসে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর করে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে সুমন। এই ঘটনা জানাজানি হলে ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকিও দেয় সুমন। শিশুটি ভয়ে এ ঘটনা কাউকে না জানিয়ে গোপন রাখে। কয়েকদিন বিমর্ষ এবং মন মরা দেখে তার বোন এবং দুলাভাই জিজ্ঞেস করলে একপর্যায়ে সব খুলে বলে। পরে ধর্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী হোসেন খান যুগান্তরকে জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় মামলা রুজু হয়েছে এবং আসামি গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

ফরহাদ মজহার অপহরণ ঘটনা রহস্যজনক: ডিএমপি কমিশনার

কবি, সাহিত্যিক ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহারের অপহরণ ঘটনা রহস্যজনক বলে দাবি করেছেন ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডিএমপি সদর দফতরে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দাবি করেন। ডিএমপি কমিশনার বলেন, 'অপহরণ ঘটনা রহস্যজনক। কারণ ঘটনা তদন্তে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে আদালতে দেয়া তথ্যে গড়মিল পাওয়া গেছে।' তবে দুই-একদিনের মধ্যেই ফরহাদ মজহারের অপহরণ রহস্যের সমাধান হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে গত ৩ জুলাই ভোর ৫টায় শ্যামলীর নিজ বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন ফরহাদ মজহার। এরপর তার মোবাইলফোন থেকে বেশ কয়েক দফায় ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর যশোরের শিল্পশহর নওয়াপাড়া থেকে উদ্ধার ফরহাদ মজহার। নওয়াপাড়া বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলের সামনে ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাস থেকে তাকে উদ্ধার করে র্যাব। ফরহাদ মজহার জবানবন্দিতে বলেছেন, তিনি অপহরণের শিকার হয়েছিলেন।

খোঁড়াখুঁড়ি, জলাবদ্ধতা আর যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী

রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, জলাবদ্ধতা আর যানজটে নাকাল হতে হচ্ছে রাজধানীবাসীদের। বর্ষা মৌসুমে এই তিন যন্ত্রণা যেন ঢাকাবাসীর প্রতিবছরের প্রাপ্তি হয়ে উঠেছে। তবে এবারের যন্ত্রণা যেন একটু বেশিই। কারণ রাজধানীতে ভরা বর্ষা মৌসুমে এক-দুই কিলোমিটার নয়, প্রায় ৪০০ কিলোমিটার সড়কজুড়ে চলছে খোঁড়াখুঁড়ির মহাযজ্ঞ। উন্নয়ন কাজের নামে মিডিয়ান নির্মাণ, ড্রেনেজ, ফুটপাত ও মূল সড়ক খোঁড়ার কারণে রাজধানী ঢাকা রীতিমতো ক্ষতবিক্ষত। এর ফলে একটু বৃষ্টি হলেই নগরবাসীর নিত্যদুর্ভোগ মহাদুর্ভোগে রূপ নিচ্ছে। মঙ্গলবার দিন-রাত অনবরত বৃষ্টির কারণে বুধবার সকাল থেকেই পুরো নগরজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ঢকায় গত দিনের বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অন্য সব বিভাগীয় শহরের চেয়ে বেশি। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আর মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে হিসেব করলে ঢাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১০৩ মিলিমিটার। সাম্প্রতিক সময়ের ভারী বৃষ্টিতে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকার সড়কে হাঁটুপানি জমে যাচ্ছে। বিশেষ করে মিরপুরের দক্ষিণ পাইকপাড়া, মাজার রোড, ১০ নম্বর থেকে ১২ নম্বর পর্যন্ত সড়ক, সাংবাদিক কলোনি ও কালশী এলাকার সড়কের করুণ অবস্থা। এর বাইরে কুড়িল প্রগতি সরণি, কারওয়ান বাজার, ধানমণ্ডির মধুবাগ, রায়ের বাজার, শান্তিনগর, রাজারবাগ, যাত্রাবাড়ী, জুরাইন, মতিঝিল, পুরান ঢাকার আলাউদ্দিন রোড ও নাজিম উদ্দিন রোডেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। জলাবদ্ধ সড়কে কর্মব্যস্ত নগরবাসীকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে দেখা গেছে। রিকশা উল্টে যাওয়া, মোটরবাইক গর্তে পড়ে আহত হওয়ার দৃশ্যও চোখে পড়ে। তবে মৌসুমী বায়ুর কারণে বৃষ্টি হওয়াকে কেউ দুর্ভোগ বলে মানছেন না।
তাদের অভিযোগ পরিকল্পনা ছাড়া রাজধানীজুড়ে বর্ষা মৌসুমে খোঁড়াখুঁড়ির মহাযজ্ঞই জনদুভোর্গ সৃষ্টির মূল কারণ। এছাড়া অপরিকল্পিত নগরায়ন, জলাধার ভরাট ও দখল, পানি নিষ্কাসনের সঠিক পরিকল্পনা না থাকাই নগরবাসীর দুভোর্গ বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সড়ক খনন নীতিমালা অনুযায়ী ৩০ এপ্রিল থেকে ৩০ অক্টোবর ঢাকা শহরের সড়ক খনন বন্ধ রাখার কথা। তবে সঠিক তদারকি ও সদিচ্ছার অভাবে পুরো রাজধানীর প্রায় ৪০০ কিমি. সড়কজুড়ে চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ১০০ কিলোমিটার সড়কে উন্নয়ন কাজ চলছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ২৫০ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন কাজ চলছে। এর বাইরে ঢাকা শহরে মেট্রোরেল, মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার প্রকল্পসহ অন্যান্য সংস্থার উন্নয়ন কাজ চলছে ৫০ কিলোমিটার সড়কজুড়ে। এ ব্যাপারে নগরবাসীর পক্ষ থেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানো হলেও তাতে কোনো ভ্রুক্ষেপই নেই সংস্থা দুটির। এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, ঢাকা দক্ষিণের সড়ক উন্নয়ন কাজ দ্রুত শেষ করতে আমরা জোর চেষ্টা চালাচ্ছি। তবে এর বাইরেও অন্যান্য সংস্থা জরুরি উন্নয়ন কাজের কারণে কিছু সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি করছে। তিনি বলেন, আগামী বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীর ভোগান্তির বিষয় মাথায় রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এ প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) মো. শরীফ উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, জরুরি প্রয়োজনে বর্ষা মৌসুমেও বিভিন্ন সড়কে উন্নয়ন কাজ করা হচ্ছে। নগরবাসীর ভোগান্তির বিষয় মাথায় রেখে এসব কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ঢাকা উত্তর এলাকার ১ হাজার ৩৫০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ২৫০ কিলোমিটারে উন্নয়ন কাজ চলছে। তবে মেট্রোরেলসহ অন্যান্য সংস্থার উন্নয়ন কাজের কারণেও কিছু সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি হচ্ছে। সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে এসব সড়ক খননের অনুমোদন দেয়া হয়ে থাকে।

ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পরবর্তী সম্মেলন ঢাকায়

ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৪৫তম সম্মেলন। এর মধ্যদিয়ে প্রায় সাড়ে তিন দশক পর ঢাকায় এ সম্মেলনটি আবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আইভরি কোস্টের অর্থনৈতিক রাজধানী আবিদজানে চলমান ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৪৪তম সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গত সোমবার এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আইভরিকোস্টের প্রেসিডেন্ট আলাসানে ওয়াতারা। সম্মেলনে চলতি বছরের প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ‘সংহতিপূর্ণ বিশ্বে তারুণ্য, শান্তি ও উন্নয়ন’। সম্মেলনে তারুণ্যের বৃহত্তর ভূমিকা ও অংশগ্রহণে শান্তি, উন্নয়ন ও ইসলামি সংহতির গুরুত্বের ওপর জোর দেয়া হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ওআইসিতে বাংলাদেশের সক্রিয় ও গঠনমূলক ভূমিকা এবং ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের স্বীকৃতি হিসেবে এ সিদ্ধান্ত এসেছে।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী আবিদজানে ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৪৪তম সম্মেলনে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সম্মেলনে বাংলাদেশ ঢাকায় ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৪৫তম সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তাব দিলে সদস্য দেশসমূহ পূর্ণ সমর্থন জানায়। এদিকে সম্মেলনে আগামী তিন বছরের জন্য ওআইসি’র ৮ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাহী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য হলো।

নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেন বাবুল আক্তার

সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তার তার স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার ঘটনায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (ডিবি) মো. কামরুজ্জামানের ডাকে দ্বিতীয় দফা চট্টগ্রামে হাজির হন তিনি। বিকাল পৌনে ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত টানা সোয়া চার ঘণ্টা বাবুল আক্তারের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার কক্ষে কথা বলেন তদন্ত কর্মকর্তা (আইও)। বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাবুল আক্তার বলেন, মামলার বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলার জন্য আমাকে ডেকেছিলেন আইও। অনেক কিছু জানতে চেয়েছেন। আমি জানিয়েছি। মিতু হত্যায় বাবুল আক্তার জড়িত- শ্বশুর মোশাররফ হোসেনের এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাবুল আক্তার বলেন, অভিযোগ তো যে কেউ করতে পারেন। তা প্রমাণের জন্য প্রয়োজন তথ্য-প্রমাণ। তখন সাংবাদিকরা জানতে চান, আপনি কি স্ত্রী হত্যায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। বাবুল আক্তার বলেন, অবশ্যই। অন্যদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, মিতু হত্যা মামলার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাদী হিসেবে তদন্ত সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলার জন্য ডেকেছিলাম বাবুল আক্তারকে। তিনি আমার ডাকে সাড়া দিয়ে এসেছেন। মামলা সংক্রান্ত অনেক বিষয় আছে যেগুলো আমার ক্রসচেক করা প্রয়োজন। ওইসব বিষয়ে আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনিও নিজ থেকে আমাকে এ মামলা সংক্রান্ত অনেক তথ্য দিয়েছেন। মিতু হত্যাকাণ্ডে বাবুল আক্তার জড়িত- শ্বশুরের এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে বাবুল আক্তার কিছু বলেছেন কিনা বা তদন্তে বাবুল আক্তারের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে কিনা জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, তদন্তের স্বার্থে এখন কিছু বলা যাচ্ছে না। তদন্তে যদি বাদীর (বাবুল আক্তার) বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণ হয় তবে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিকাল পৌনে ৪টার দিকে বাবুল আক্তার কালো একটি পাজেরো জিপে (ঢাকা মেট্রো ঘ-১৪-২২১০) চড়ে ঢাকা থেকে সরাসরি সিএমপি সদর দফতরে পৌঁছেন। গাড়ি থেকে নেমেই তিনি সরাসরি দোতলায় ডিবি অফিসে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কার্যালয়ে চলে যান। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা বাবুল আক্তারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তিনি কোনো ধরনের কথা বলেননি। এর আগে কামরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, মিতু হত্যা মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। মামলার বিষয়ে কথা বলার জন্য বাদী হিসেবে বাবুল আক্তারকে ডাকা হয়েছে। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে এর আগে গত ২ জানুয়ারি চট্টগ্রামে এসেছিলেন বাবুল আক্তার। গত বছরের ৫ জুন সকালে নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে বাসার কাছেই খুন হন বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। তাকে মাথায় গুলি করে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় বাবুল আক্তার বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর চাকরি থেকে বাবুল আক্তারকে অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বাবুল আক্তার নিজেই পদত্যাগ করেন বলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার জানায়। এ পর্যন্ত মিতু হত্যা মামলায় পুলিশ ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। এরা হল : আনোয়ার, ওয়াসিম, এহতেশামুল হক ভোলা, সাইদুল ইসলাম সিকদার ওরফে সাকু, শাহজাহান, আবু নাসের গুন্নু ও শাহজামান ওরফে রবিন। এর মধ্যে আবু নাসের গুন্নু এবং শাহজামান ওরফে রবিনের এ হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততা পাননি তদন্ত কর্মকর্তা। সাইদুল ইসলাম ওরফে সাকুর বিরুদ্ধে অভিযোগ, হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি তিনিই সরবরাহ করেছে তার বড় ভাই মুসা ওরফে আবু মুসাকে। মুসা এ মোটরসাইকেল চালিয়েই মিতুকে খুন করে। এহতেশামুল হক ভোলা অস্ত্র সরবরাহকারী। শাহজাহান, ওয়াসিম এবং আনোয়ার হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত বলে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ হত্যাকাণ্ডে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে মুসাকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। ৭ আসামির মধ্যে আবু নাসের গুন্নু ছাড়া বাকিরা বর্তমানে কারাগারে। এ হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজনদের মধ্যে রাশেদ ও নবী পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। বর্তমানে পলাতক আছে মুসা ও কালু। মুসাকে ধরতে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে সিএমপি।

ভরা বর্ষায়ও ঢাকার ৪০০ কিমি. সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি

এক-দুই কিলোমিটার নয়, মহানগরীর ৪০০ কিলোমিটার সড়কজুড়ে চলছে খোঁড়াখুঁড়ির এ মহাকর্মযজ্ঞ। উন্নয়ন কাজের নামে মিডিয়ান নির্মাণ, ড্রেনেজ, ফুটপাত ও মূল সড়ক খোঁড়ার কারণে রাজধানী ঢাকা রীতিমতো ক্ষতবিক্ষত। একটু বৃষ্টি হলেই নগরবাসীর নিত্যদুর্ভোগ মহাদুর্ভোগে রূপ নিচ্ছে। কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে মঙ্গলবারও নগরবাসীকে যানজট-জলাবদ্ধতায় নাকাল হতে হয়েছে। অনেকেরই প্রশ্ন, বৃষ্টির মৌসুমে খোঁড়াখুঁড়ির এ মহাকর্মযজ্ঞ রীতিমতো পরিণত হয়েছে মহাদুর্ভোগে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ১০০ কিলোমিটার সড়কে উন্নয়ন কাজ চলছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ২৫০ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন কাজ চলছে। এর বাইরে ঢাকা শহরে মেট্রোরেল, মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার প্রকল্পসহ অন্যান্য সংস্থার উন্নয়ন কাজ চলছে ৫০ কিলোমিটার সড়কজুড়ে। সড়ক খনন নীতিমালা অনুযায়ী ৩০ এপ্রিল থেকে ৩০ অক্টোবর ঢাকা শহরের সড়ক খনন বন্ধ রাখার কথা। এটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের। অবাক হলেও সত্য, সড়ক খনন বন্ধ রাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত এ দুই সংস্থাই ভরা বর্ষায় ঢাকার ৩৫০ কিলোমিটার সড়কে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ করছে। আর সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশন আরও ৫০ কিলোমিটার সড়কে খোঁড়াখুঁড়ির অনুমতি দিয়েছে। ঢাকা শহরের ২ হাজার ৩৫০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৪০০ কিলোমিটার সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি চলায় প্রায় দুই কোটি নগরবাসী এখন সীমাহীন ভোগান্তিতে। এ ব্যাপারে নগরবাসীর পক্ষ থেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানো হলেও তাতে কোনো ভ্রƒক্ষেপই নেই সংস্থা দুটির। সাম্প্রতিক সময়ের ভারি বৃষ্টিতে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকার সড়কে হাঁটুপানি জমে যাচ্ছে। বিশেষ করে মিরপুরের দক্ষিণ পাইকপাড়া, মাজার রোড, ১০ নম্বর থেকে ১২ নম্বর পর্যন্ত সড়ক, সাংবাদিক কলোনি ও কালশী এলাকার সড়কের করুণ অবস্থা। এর বাইরে কুড়িল প্রগতি সরণি, কারওয়ান বাজার, ধানমণ্ডির মধুবাগ, রায়ের বাজার, শান্তিনগর, রাজারবাগ, যাত্রাবাড়ী, জুরাইন, মতিঝিল, পুরান ঢাকার আলাউদ্দিন রোড ও নাজিম উদ্দিন রোডেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ভারি বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্পটে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। জলাবদ্ধ সড়কে কর্মব্যস্ত নগরবাসীকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে দেখা গেছে। রিকশা উল্টে যাওয়া, মোটরবাইক গর্তে পড়ে আহত হওয়ার দৃশ্য ঢাকায় মঙ্গলবারও চোখে পড়ে। পুরান ঢাকার আলাউদ্দিন রোডের বাসিন্দা মোস্তফা কামাল যুগান্তরকে বলেন, বর্ষাকে মানুষ স্বস্তির ঋতু মনে করলেও রাজধানীবাসীর কাছে সেটা গজবের ঋতুতে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা-যানজটের কবলে পড়তে হচ্ছে। এরই মধ্যে সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি করায় জলাবদ্ধতা বৃদ্ধির সঙ্গে দুর্ঘটনাও ঘটছে হরহামেশা। মিরপুর ১২ নম্বর এলাকার বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মামুন যুগান্তরকে বলেন, বর্ষার মৌসুমে সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির নিয়ম মানা হচ্ছে না। মিরপুরের বিভিন্ন অলিগলি ও প্রধান সড়কে সিটি কর্পোরেশনসহ অন্যান্য সংস্থার উন্নয়ন কাজ চলছে। এ কারণে সামান্য বৃষ্টিতে সড়কগুলো কর্দমাক্ত, জলাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। সে কারণে এসব সড়কে চলাচলে রীতিমতো নাকাল হচ্ছে নগরবাসী। এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, ঢাকা দক্ষিণের সড়ক উন্নয়ন কাজ দ্রুত শেষ করতে আমরা জোর চেষ্টা চালাচ্ছি। তবে এর বাইরেও অন্যান্য সংস্থা জরুরি উন্নয়ন কাজের কারণে কিছু সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি করছে। তিনি বলেন, আগামী বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীর ভোগান্তির বিষয় মাথায় রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এ প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) মো. শরীফ উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, জরুরি প্রয়োজনে বর্ষা মৌসুমেও বিভিন্ন সড়কে উন্নয়ন কাজ করা হচ্ছে। নগরবাসীর ভোগান্তির বিষয় মাথায় রেখে এসব কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ঢাকা উত্তর এলাকার ১ হাজার ৩৫০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ২৫০ কিলোমিটারে উন্নয়ন কাজ চলছে। তবে মেট্রোরেলসহ অন্যান্য সংস্থার উন্নয়ন কাজের কারণেও কিছু সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি হচ্ছে। সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে এসব সড়ক খননের অনুমোদন দেয়া হয়ে থাকে।

কবি আল মাহমুদের ৮২তম জন্মদিন উদযাপিত

সমকালীন বাংলাসাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি ও কথাশিল্পী আল মাহমুদের ৮২তম জন্মদিন উদযাপিত হল মঙ্গলবার। এ উপলক্ষে সারা দিন কবির ফ্ল্যাটে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। সকাল থেকেই কবিকে শুভেচ্ছা জানাতে বিভিন্ন সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা কবির ফ্ল্যাটে আসতে শুরু করেন। তারা কবিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। অনেকেই নিয়ে আসেন জন্মদিনের কেক, মিষ্টি, ক্রেস্ট ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কবির বাসায় ভক্তদের ভিড় লেগেই থাকে। সকালে কবির বাসায় গিয়ে দেখা যায়, ফুলে ফুলে ভরে গেছে বসার কক্ষটি। তারপরও ফুল হাতে নিয়ে অনেকেই অপেক্ষা করছিলেন কবিকে শুভেচ্ছা জানাতে। কবি আল মাহমুদ ফাউন্ডেশন নামের নবপ্রতিষ্ঠিত একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে আনুষ্ঠানিকভাবে কবির ফ্ল্যাটে বসার কক্ষে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জন্মদিনে কবির পরিবারের পক্ষ থেকে ঐতিহ্যবাহী তেহারি দিয়ে সবাইকে আপ্যায়ন করা হয়। এছাড়া কবি আল মাহমুদের ৮২তম জন্মদিন উদযাপন কমিটিও গঠন করা হয়। এ কমিটির তত্ত্বাবধানে সারা দিনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। জন্মদিন উপলক্ষে খুব সকালেই কবি আসাদ চৌধুরী ও সাঈদ চৌধুরী কবিকে শুভেচ্ছা জানাতে চলে আসেন। তাদের সঙ্গে আসেন একদল কবি-সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী। কিছুক্ষণ পরই আসেন বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ। তারা বিভিন্ন গণমাধ্যমের সঙ্গে কবি আল মাহমুদ সম্পর্কে কথা বলেন। দুপুরের দিকে কবিকে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন কিংবদন্তি গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার, চিত্রনায়ক উজ্জ্বল, কবি আবদুল হাই শিকদার, টিভি ব্যক্তিত্ব শরীফ বায়জীদ মাহমুদ, ড. মামুন আহমেদ প্রমুখ। দিনব্যাপী যেসব সংগঠনের পক্ষ থেকে কবিকে শুভেচ্ছা জানানো হয় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস), সাহিত্য সংস্কৃতি কেন্দ্র, বাংলাদেশ কালচারাল একাডেমি, উৎসঙ্গ সৃজন চিন্তন, বিপরীত উচ্চারণ সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদ, নবধারা, উক্তি বাচিক উৎকর্ষ, ফুলকুঁড়ি আসর, সাহিত্য পত্রিকা নতুন এক মাত্র, মাসিক কিশোরকণ্ঠ, কাজী নজরুল ইসলাম সংসদ, সময়ের জানালা, বাংলাদেশ প্রজন্ম সাহিত্য পরিষদ, দৈনিক যুগান্তর, রেডিও টুডে, সারেগামা একাডেমি, চন্দ্রকথা, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, দফ কালচারাল একাডেমিসহ শতাধিক সংগঠন। দিনব্যাপী আয়োজনটি পরিচালনা করেন তরুণ কবি আবিদ আজম। বিভিন্ন পর্বে কবিকে নিয়ে বক্তব্য রাখেন কবি জাহাঙ্গীর ফিরোজ, কবি কামরুজ্জামান, কবি জাকির আবু জাফর, কবি আহমদ বাছির, কবি আফসার নিজাম, ড. ফজলুল হক তুহিন, সাংস্কৃতিক সংগঠক ইব্রাহীম বাহারী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম প্রধানসহ অনেকে। কবির কবিতা থেকে আবৃত্তি করেন নাসিম আহমেদ, মাহবুব মুকুল, সৈয়দ আল জাবের প্রমুখ। কবির লেখা সঙ্গীত পরিবেশন করেন ওবায়দুল্লাহ তারেক ও সহশিল্পীরা।জন্মদিন উপলক্ষে কবি আল মাহমুদ তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘আমি খুবই কৃতজ্ঞ। দেশবাসী যে আমাকে ভুলে যাননি, আমার শুভাকাক্সক্ষীরা যে আমাকে ভুলে যাননি, তা দেখে আমি সত্যি আপ্লুত। আমি সবার কাছে দোয়া চাই।’

স্বীকারোক্তি দিতে রাজি ইভান

রাজধানীর বনানীতে বাসায় ডেকে এনে ধর্ষণ মামলার আসামি বাহাউদ্দিন ইভান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হয়েছে। চার দিনের রিমান্ড শেষে আজ বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হচ্ছে। মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এদিকে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ইভান ঘটনার রাতে নিজে এবং বাদী দু’জনেই নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ার কথা স্বীকার করেছে। জানতে চাইলে পুলিশের গুলশান বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্তে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। ভিক্টিম ও আসামির কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে। দালিলিক প্রমাণের জন্য মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ঘটনাটিকে তদন্তাধীন উল্লেখ করে এ নিয়ে কিছু বলতে রাজি হননি বনানী থানার ওসি বিএম ফরমান আলী।
উল্লেখ্য, ধর্ষণের অভিযোগে ৫ জুলাই দুপুরে ইভানের বিরুদ্ধে বনানী থানায় মামলা করেন ওই তরুণী। এজাহারে বলা হয়, ৪ জুলাই রাতে জন্মদিনের কথা বলে তাকে বাসায় ডেকে নেয় ইভান। ওইদিন রাত ১টার দিকে বনানী ২ নম্বর রোডের ন্যাম ভিলেজের ৫/এ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলার বি-১ নম্বর ফ্ল্যাটে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে তরুণীকে জোর করে বাসা থেকে বের করে দেয় ইভান। পরে সে পালিয়ে যায়। ৬ জুলাই বিকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

ভরা বর্ষায়ও ঢাকার ৪০০ কিমি. সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি

রাজধানীতে ভরা বর্ষা মৌসুমেও চলছে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি। এক-দুই কিলোমিটার নয়, মহানগরীর ৪০০ কিলোমিটার সড়কজুড়ে চলছে খোঁড়াখুঁড়ির এ মহাকর্মযজ্ঞ। উন্নয়ন কাজের নামে মিডিয়ান নির্মাণ, ড্রেনেজ, ফুটপাত ও মূল সড়ক খোঁড়ার কারণে রাজধানী ঢাকা রীতিমতো ক্ষতবিক্ষত। একটু বৃষ্টি হলেই নগরবাসীর নিত্যদুর্ভোগ মহাদুর্ভোগে রূপ নিচ্ছে। কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে মঙ্গলবারও নগরবাসীকে যানজট-জলাবদ্ধতায় নাকাল হতে হয়েছে। অনেকেরই প্রশ্ন, বৃষ্টির মৌসুমে খোঁড়াখুঁড়ির এ মহাকর্মযজ্ঞ রীতিমতো পরিণত হয়েছে মহাদুর্ভোগে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ১০০ কিলোমিটার সড়কে উন্নয়ন কাজ চলছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ২৫০ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন কাজ চলছে। এর বাইরে ঢাকা শহরে মেট্রোরেল, মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার প্রকল্পসহ অন্যান্য সংস্থার উন্নয়ন কাজ চলছে ৫০ কিলোমিটার সড়কজুড়ে। সড়ক খনন নীতিমালা অনুযায়ী ৩০ এপ্রিল থেকে ৩০ অক্টোবর ঢাকা শহরের সড়ক খনন বন্ধ রাখার কথা।
এটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের। অবাক হলেও সত্য, সড়ক খনন বন্ধ রাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত এ দুই সংস্থাই ভরা বর্ষায় ঢাকার ৩৫০ কিলোমিটার সড়কে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ করছে। আর সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশন আরও ৫০ কিলোমিটার সড়কে খোঁড়াখুঁড়ির অনুমতি দিয়েছে। ঢাকা শহরের ২ হাজার ৩৫০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৪০০ কিলোমিটার সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি চলায় প্রায় দুই কোটি নগরবাসী এখন সীমাহীন ভোগান্তিতে। এ ব্যাপারে নগরবাসীর পক্ষ থেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানো হলেও তাতে কোনো ভ্রƒক্ষেপই নেই সংস্থা দুটির। সাম্প্রতিক সময়ের ভারি বৃষ্টিতে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকার সড়কে হাঁটুপানি জমে যাচ্ছে। বিশেষ করে মিরপুরের দক্ষিণ পাইকপাড়া, মাজার রোড, ১০ নম্বর থেকে ১২ নম্বর পর্যন্ত সড়ক, সাংবাদিক কলোনি ও কালশী এলাকার সড়কের করুণ অবস্থা। এর বাইরে কুড়িল প্রগতি সরণি, কারওয়ান বাজার, ধানমণ্ডির মধুবাগ, রায়ের বাজার, শান্তিনগর, রাজারবাগ, যাত্রাবাড়ী, জুরাইন, মতিঝিল, পুরান ঢাকার আলাউদ্দিন রোড ও নাজিম উদ্দিন রোডেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ভারি বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্পটে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। জলাবদ্ধ সড়কে কর্মব্যস্ত নগরবাসীকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে দেখা গেছে। রিকশা উল্টে যাওয়া, মোটরবাইক গর্তে পড়ে আহত হওয়ার দৃশ্য ঢাকায় মঙ্গলবারও চোখে পড়ে। পুরান ঢাকার আলাউদ্দিন রোডের বাসিন্দা মোস্তফা কামাল যুগান্তরকে বলেন, বর্ষাকে মানুষ স্বস্তির ঋতু মনে করলেও রাজধানীবাসীর কাছে সেটা গজবের ঋতুতে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা-যানজটের কবলে পড়তে হচ্ছে। এরই মধ্যে সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি করায় জলাবদ্ধতা বৃদ্ধির সঙ্গে দুর্ঘটনাও ঘটছে হরহামেশা। মিরপুর ১২ নম্বর এলাকার বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মামুন যুগান্তরকে বলেন, বর্ষার মৌসুমে সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির নিয়ম মানা হচ্ছে না। মিরপুরের বিভিন্ন অলিগলি ও প্রধান সড়কে সিটি কর্পোরেশনসহ অন্যান্য সংস্থার উন্নয়ন কাজ চলছে। এ কারণে সামান্য বৃষ্টিতে সড়কগুলো কর্দমাক্ত, জলাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। সে কারণে এসব সড়কে চলাচলে রীতিমতো নাকাল হচ্ছে নগরবাসী। এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, ঢাকা দক্ষিণের সড়ক উন্নয়ন কাজ দ্রুত শেষ করতে আমরা জোর চেষ্টা চালাচ্ছি। তবে এর বাইরেও অন্যান্য সংস্থা জরুরি উন্নয়ন কাজের কারণে কিছু সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি করছে। তিনি বলেন, আগামী বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীর ভোগান্তির বিষয় মাথায় রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এ প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) মো. শরীফ উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, জরুরি প্রয়োজনে বর্ষা মৌসুমেও বিভিন্ন সড়কে উন্নয়ন কাজ করা হচ্ছে। নগরবাসীর ভোগান্তির বিষয় মাথায় রেখে এসব কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ঢাকা উত্তর এলাকার ১ হাজার ৩৫০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ২৫০ কিলোমিটারে উন্নয়ন কাজ চলছে। তবে মেট্রোরেলসহ অন্যান্য সংস্থার উন্নয়ন কাজের কারণেও কিছু সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি হচ্ছে। সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে এসব সড়ক খননের অনুমোদন দেয়া হয়ে থাকে।

এমপিরা নিজেদের করা আইন ভঙ্গ করেছেন

বিচারক অপসারণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে জাতীয় সংসদে এমপিরা যেভাবে সমালোচনা করেছেন, তাতে নিজেদের করা আইন নিজেরাই ভঙ্গ করেছেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দেয়া রায়ের ওপর এমন সমালোচনা করার এখতিয়ার তাদের নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইন বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্টজনরা। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। তার বলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিল হওয়ার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের আগে বিচারপতিদের কটাক্ষ করে যে আলোচনা করা হয়েছে, তাতে সংসদ সদস্যরা (এমপি) নিজেদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন। প্রসঙ্গত, উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে প্রদান করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে বাতিল হয়। এ নিয়ে রোববার জাতীয় সংসদে তীব্র সমালোচনা করে বক্তব্য দেন কোনো কোনো এমপি। এতে ব্যক্তিগতভাবে প্রধান বিচারপতিসহ আদালতে মতামত প্রদান করা অ্যামিকাস কিউরিদের নিয়েও বিরূপ মন্তব্য করেন কেউ কেউ। সুজন সভাপতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ গোলটেবিল বৈঠকে আলোচনায় অংশ নেন বিচারপতি কাজী এবাদুল হক, সুজনের নির্বাহী সদস্য ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক, বিশিষ্ট লেখক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. সিআর আবরার, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ব্যারিস্টার জোতির্ময় বড়ুয়া এবং অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। এ গোলটেবিল আলোচনার শুরুতেই ড. শাহদীন মালিক লিখিত একটি ধারণাপত্র পেশ করেন, যেখানে সাম্প্রতিক সময়ের আইন ও বিচার বিভাগের মুখোমুখি অবস্থান নিরসনকল্পে কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। কিন্তু মূল আলোচনায় ঘুরেফিরে আসে সংসদ সদস্যদের সমালোচনা। উঠে আসে বিচার বিভাগের দুর্বল দিকগুলোও। এ বিষয়ে গোলটেবিল বৈঠকে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৫৩, ৬৩ ও ১৩৩ ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে সংসদে আলোচনা করা যাবে না। এই বিধি সংসদপ্রণীত একটি আইন। সংসদ সদস্যরা নিজেরাই তাদের করা এই আইন মানেন না, তাদের নিজেদের করা আইনই ভঙ্গ করেছেন। এটা দুঃখজনক। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালিবিধির ৫৩ ধারায় প্রশ্নের গ্রহণযোগ্যতার শর্তাবলী প্রসঙ্গে ন(অ) উপধারায় বলা হয়েছে, ইহাতে রাষ্ট্রপতি বা সুপ্রিমকোর্টের জজদের আচরণ সম্পর্কে কোনো কটাক্ষপাত থাকিবে না। ৬৩ ধারায় মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপনের অধিকারের সীমাবদ্ধতা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে। এ ধারার (ঔ) উপধারায় বলা হয়েছে, প্রস্তাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বা সুপ্রিমকোর্টের কোনো বিচারকের আচরণ সম্পর্কে কোনো কটাক্ষ থাকিবে না। ১৩৩ ধারায় সিদ্ধান্ত-প্রস্তাবের গ্রহণযোগ্যতার শর্তাবলীতেও একই ধরনের বিষয় উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ইহাতে রাষ্ট্রপতি বা সুপ্রিমকোর্টের কোনো বিচারকের প্রতি কোনো কটাক্ষ থাকিতে পারিবে না। জাতীয় সংসদে আদালত নিয়ে এমন মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে ড. শাহদীন মালিক বলেন, অনেকে (সংসদ সদস্য) হয়তো বলার সময় কি বলেছেন, সেটা উপলব্ধি করেননি।
আমি সংসদ সদস্যদের অনুরোধ করব, তারা ইউটিউব থেকে নামিয়ে নিজের বক্তব্যটা দেখবেন। তখন তারা উপলব্ধি করতে পারবেন, কি বলেছেন। এসব বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে পার্লামেন্ট মেম্বাররা নিজেদের নিয়ম-কানুন ভঙ্গ করেছেন। লিখিত ধারণাপত্রে ড. শাহদীন মালিক বলেন, ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সময়কালটা বাদ দিলে, এখন নির্বাহী ও বিচার বিভাগের মধ্যে টানাপোড়েন সম্ভবত সবচেয়ে বেশি। এই ধাক্কাধাক্কিতে ইদানীং যুক্ত হয়েছে সংসদও। নতুন বিচারপতি নিয়োগ হচ্ছে না, বিচারপতি নিয়োগে আইনের কথাও আলোচনায় আসছে না। নিম্ন আদালতের অনেকগুলো পদ শূন্য। নিম্ন আদালতের বিচারকদের বদলি ও পদোন্নতি নিয়ে আইন মন্ত্রণালয় ও সুপ্রিমকোর্টের মধ্যে টানাহেঁচড়া সম্ভবত অতীতের যে কোনো সময়ের থেকে বেশি। তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ষোড়শ সংশোধনী প্রবর্তন এবং পরবর্তীকালে আদালতের দ্বারা বাতিলের ঘটনায় নিকট-ভবিষ্যতে একদিকে বিচার বিভাগ ও অন্যদিকে নির্বাহী ও আইন বিভাগের মধ্যে টানাপোড়েন বাড়াতে পারে। অর্থাৎ বিচার বিভাগ স্বাধীন, কিন্তু মোটেও চাপমুক্ত নয়। তিনি আরও বলেন, বাজেট বা অর্থ বরাদ্দ নিঃসন্দেহে বিচার বিভাগের কার্যকারিতার একটা অন্যতম নিয়ামক। কিন্তু ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আইন ও বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ প্রায় ১০০ কোটি টাকা কমিয়ে করা হয়েছে ১ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা। ড. শাহদীন বলেন, ক্ষমতার বিভাজনের নীতি অনুসরণে আমাদের সংবিধানে আইনসভাকে আইন প্রণয়নের, নির্বাহী বিভাগকে আইন প্রয়োগের এবং বিচার বিভাগকে বিচারিক পর্যালোচনার (Judicial review) ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। বিচার বিভাগের বিচারিক ক্ষমতার মধ্যে সংবিধানের ব্যাখ্যা প্রদান অন্তর্ভুক্ত। তাই বিচারিক পর্যালোচনার এবং সংবিধানের ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে উচ্চ আদালত সংসদে পাস করা যে কোনো আইনকে অসাংবিধানিক বা বেআইনি ঘোষণা করতেই পারেন- সংবিধান আদালতকে সেই ক্ষমতা দিয়েছে (অনুচ্ছেদ ১০২)। এ সময় সমস্যা সমাধানে কিছু প্রস্তাব তুলে ধরে ড. শাহদীন মালিক বলেন, বিচার বিভাগের জন্য বাজেট বাড়াতে হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য উচ্চ আদালতের বিচারকদের নিয়োগ নীতিমালা তৈরি, অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি সুপ্রিমকোর্টের হাতে প্রদান করার পরামর্শও দেন এই সংবিধান বিশেষজ্ঞ। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা প্রকৃত করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, সঠিক ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা প্রকৃত অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করে। এজন্য পুলিশ ও বিচারকের সঙ্গে সঙ্গে দরকার দক্ষ ক্যাডারভিত্তিক সরকারি প্রসিকিউশন অথবা অ্যাটর্নি সার্ভিস। সংবিধান অনুযায়ী, বিচারপতি নিয়োগের স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য আইন প্রণয়ন করতে হবে। সংবিধানের ১১৫ ও ১১৬ অনুচ্ছেদ বাতিল করে ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৫ ও ১১৬ প্রতিস্থাপন করে বিচার বিভাগের সম্পূর্ণ পৃথকীকরণ নিশ্চিত করতে হবে। বিচার বিভাগে সংস্কার প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিচার প্রশাসনেও গলদ আছে। এখানে সর্বময় ক্ষমতা প্রধান বিচারপতির। এটা সাংঘাতিক দুর্বল অবস্থা। যত বিজ্ঞই হোন না কেন, প্রশাসনিক ক্ষমতা একক ব্যক্তির হাতে থাকলে সেখানে গলদ হতে বাধ্য। এটা পরিবর্তন করা দরকার। বিচারপতি কাজী এবাদুল হক বলেন, বিচার নিষ্পত্তি হতে দেরি হওয়ায় বিচার বিভাগের ওপর মানুষের আস্থা কম। বর্তমানে উচ্চ আদালতে প্রায় তিন লাখ মামলা ঝুলে আছে। তাই দ্রুততম সময়ের দলীয় বিবেচনার বদলে দক্ষ লোকদের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেয়া দরকার। দলীয় বিবেচনায় অদক্ষ লোকদের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিলে সর্বনাশ হবে। অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, সংবিধানের আরেকটি সংশোধনী এনে ৭০ অনুচ্ছেদের প্রয়োগ শুধু বাজেট পাস ও অনাস্থা প্রস্তাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, সংবিধানে আরেকটি সংশোধনী এনে যদি বিচারকদের অসদাচরণ ও অসামর্থ্যরে তদন্তের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে দেয়া হয়, ওই তদন্তের সুপারিশের আলোকে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে রাখা হলে আমরা তা সমর্থন করব। বিচার বিভাগের পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দরকার মন্তব্য করে সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, বিচার বিভাগের পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দরকার। এ স্বাধীনতার কথা বলা হয় এজন্য যে, রাষ্ট্রের সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তিটিও যেন ন্যায়বিচার পায়। এটাই আদর্শ বিচার ব্যবস্থা। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অবশ্যই চাই, এর কোনো বিকল্প নেই। বিচার বিভাগের সম্মান ও মর্যাদা যদি সুপ্রতিষ্ঠিত না হয়, যদি যেনতেন কারণে বিচার বিভাগের সমালোচনা হতে থাকে, তাহলে বিচার বিভাগের ওপর মানুষের আস্থা থাকবে না। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সঙ্গে সঙ্গে এ বিভাগের সম্মান ও মর্যাদা যাতে রাষ্ট্রের অন্য বিভাগ দ্বারা যেন ক্ষুণ্ণ না হয় এটাই আমার কাম্য। ড. সিআর আবরার বলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিল সংক্রান্ত মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় বের হওয়ার আগেই সংসদে এ নিয়ে উত্তেজনাকর বক্তব্য দেয়া হচ্ছে। সংসদ সদস্যরা বলছেন, সংসদ সার্বভৌম। এটি ঠিক নয়। বরং জনগণ সার্বভৌম। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, বানের পানিতে লাখ লাখ মানুষ দুর্ভোগের মধ্যে আছে। অথচ জনপ্রতিনিধি হয়ে সেই বিষয়ে সংসদ সদস্যদের কোনো উদ্বেগ বা আহাজারি সংসদে নেই। অথচ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের আগেই তা নিয়ে আবেগতাড়িত বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, কেউ যদি সংসদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেন, তাহলে আমি বলব, ওই রাতে যেসব সংসদ সদস্য বক্তব্য দিয়েছেন তারা নিজেদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, স্বাধীন দেশে সবাই আজ নিজ নিজ স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিরুদ্ধ মত পোষণকারীরা মনে করেন, তারা কখন জানি আবার অপহরণ হয়ে যান। সাংবাদিক, এনজিওকর্মী এবং সাধারণ নাগরিক সবাই নিজ নিজ স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি আরও বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর বিরুদ্ধে সংসদ সদস্যরা সরব। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার যখন বাতিল করা হল তখন তারা কেন সরব হলেন না? আসলে জনগণের প্রকৃত ম্যান্ডেট (সমর্থন) নিয়ে এলে যে আত্মবিশ্বাস থাকে টেকনিক্যালি ম্যান্ডেট নিলে সেটা থাকে না। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, বিচার বিভাগ নিয়ে সংসদ সদস্যদের প্রশ্ন আসছে। সংসদ সদস্যদের আচরণবিধির জন্য সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী একটি প্রাইভেট মেম্বার বিল উত্থাপন করেছিলেন। কিন্তু সেই বিলটি পাস হয়নি। তিনি আরও বলেন, নিম্ন আদালতকে সরকার নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। ক্ষমতায় আসার আগে সবাই মেনিফেস্টোতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অঙ্গীকার করে। কিন্তু ক্ষমতায় এলে তা ভুলে যায়। আসলে কোনো সরকারই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা চায় না।

গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত : ফটোসেশন সর্বস্ব ত্রাণ

উজানের পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির কারণে যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি বইছে বিপদসীমার ওপরে। ভারতের গজলডোবা বাঁধের সব গেট খুলে দেয়ায় উত্তরাঞ্চলের রংপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও জামালপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে গেছে। ফলে রাস্তাঘাট, ক্ষেতের ফসল, পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। নদীভাঙনে নির্ঘুম কাটছে দিনরাত। কিছু এলাকায় পানি কমলেও দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না। বাঁধ বা বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রিতদের তীব্র খাদ্য ও পানি সংকট দেখা দিয়েছে। দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগ। গো-খাদ্য সংকটে কৃষক দিশেহারা। ত্রাণ দেয়া হলেও তা অপ্রতুল। আবার কিছু এলাকায় এখনও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়নি। ত্রাণবঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন দুর্গত এলাকার মানুষ। সরকারিভাবে দেয়া ত্রাণসামগ্রীতে বানভাসি মানুষের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কতিপয় কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদ বন্যার্তদের সহায়তার পরিবর্তে ফেসবুক-নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। তারা বন্যার্ত লোকজনকে নিয়ে শুধু ফটোসেশনই করছেন। আর বন্যাদুর্গতদের নিয়ে তোলা সেই ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে দায়িত্বের পরিসমাপ্তি ঘটাচ্ছেন। যুগান্তর ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
নীলফামারী ও ডিমলা : মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে করে নদীর তীরবর্তী নীলফামারীর দুটি উপজেলার অন্তত ২৫টি গ্রামের ১০ সহস াধিক মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ সূত্র জানায়, উজানের ঢল ও ভারি বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সোমবার সকাল ৬টায় তিস্তা সেচ প্রকল্পের ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্ট বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। মঙ্গলবার সকালে পানি কমে বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার এবং বিকালে ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইয়ে চলেছে নদীর পানি। ডিমলা উপজেলার পানিবন্দি মানুষ চুলা জ্বালাতে না পেরে দু’দিন ধরে শুকনা খাবার খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। পূর্ব বাবইশপুকুর ও পশ্চিম বাইশপুর গ্রামে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁধটি হুমকির মধ্যে পড়েছে। মঙ্গলবার বন্যার পানি নেমে গেলেও নলকূপ পানিতে ডুবে থাকার কারণে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
গাইবান্ধা : ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও আবাদি ফসল তলিয়ে যাওয়ায় বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পেয়ে ফুলছড়ির তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে বিকাল ৩টায় বিপদসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ সময় ঘাঘট নদীর পানি গাইবান্ধা শহর পয়েন্টে বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়া তিস্তা, যমুনা ও করতোয়া নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও বিকাল ৩টা পর্যন্ত ওইসব নদীর পানি বিপদসীমার নিচে রয়েছে।
সিরাজগঞ্জ ও শাহজাদপুর : রায়গঞ্জে পানিতে ডুবে আদিল হোসেন (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সরাইহাজিপুর গ্রামের আল-আমিন হোসেনের ছেলে। আদিল ওই গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র। সোমবার সন্ধ্যায় পাশের একটি ছোট সেতুর নিচে ডোবার পানি থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত যমুনা নদীর পানি ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার ৫ উপজেলার ৪৮টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এছাড়া নদী তীরবর্তীসহ চরাঞ্চলের নিচু এলাকায় উঠতি ফসল ডুবে গেছে। এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্য সংকট। দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগ। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এদিকে এখন পর্যন্ত সরকারি ত্রাণ তৎপরতা শুরু না হওয়ায় এসব এলাকার বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। শাহজাদপুরে বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের হাটপাচিল গ্রামের ২ শতাধিক ঘরবাড়ি, অর্ধশতাধিক গাছপালা, ৩০০ বিঘা ফসলি জমি যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে।
কুড়িগ্রাম, উলিপুর, নাগেশ্বরী, রৌমারী ও চিলমারী : কুড়িগ্রাম জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। হু-হু করে বাড়ছে নদ-নদীর পানি। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন গ্রাম। কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ঘরে ঘরে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি, শুকনা খাবার, জ্বালানি, খাদ্য সংকট। কৃষক গবাদি পশু নিয়েও পড়েছেন চরম সংকটে। কারণ গো-খাদ্যের তীব্র সংকট বিরাজ করছে। সরকার যে ত্রাণ বরাদ্দ দিয়েছে, তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। আবার বরাদ্দ যা পাওয়া যাচ্ছে, তা মাঠ পর্যায়ে বিতরণ হচ্ছে ঢিলেঢালাভাবে। ফলে বন্যার্ত মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে।
লালমনিরহাট : তিস্তার পানি কমলেও বেড়েছে ধরলার পানি। এতে করে লালমনিরহাট সদর উপজেলায় নতুন করে আরও ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জেলার আদিতমারী উপজেলায় স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত একটি বালুর বাঁধ ভেঙে প্রায় ৬ হাজার পরিবার হুমকির মুখে পড়েছে। ফলে স্থানীয়দের অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। বন্যার কারণে জেলার চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বন্ধ রয়েছে প্রায় অর্ধশত বিদ্যালয়।
বগুড়া : সরিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর পানি আরও বেড়েছে। মঙ্গলবার সকালে বিপদসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বাঙালি নদীতে পানি বাড়লেও বিপদসীমার নিচে রয়েছে। সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার অন্তত ৭৫ গ্রাম বন্যাকবলিত হয়েছে। মঙ্গলবার সারিয়াকান্দির হাটশেরপুর ইউনিয়নের চকরতিনাথ ও করমজাপাড়া গ্রামের ১৩৩টি পরিবারের বাড়িঘর স্থানান্তর করতে হয়েছে। এছাড়া ১২টি বাড়িঘর, টাকাসহ সব মালামাল নদীতে ভেসে গেছে।
রংপুর : রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ৫০ গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তিস্তার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন তিস্তাপারের মানুষ। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। দুই দিনে নোহালী ইউনিয়নের ১০টি বাড়ি নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে বলে জানান নোহালী ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ টিটু।
সিলেট, বালাগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ : সিলেটে বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অতীতে এত দীর্ঘ সময় ধরে বন্যা থাকেনি সিলেটে। পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিলেট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, এবার বন্যার আচরণ অস্বাভাবিক। সিলেটের বন্যাকবলিত এলাকায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। বিয়ানীবাজারের বন্যাদুর্গতদের মধ্যে বিএনপি নেতা ফয়সল আহমদ চৌধুরীর অর্থায়নে উপজেলার কুড়ার বাজার মুড়িয়া ইউনিয়নে প্রায় ৪শ’ পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়। বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশন সিলেট অঞ্চলের উদ্যোগে ওসমানীনগরে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। গোলাপগঞ্জে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা এখন কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তাদের হাতে কাজ নেই, ঘরে চালও নেই- এমন দুর্বিষহ অবস্থায় দিনযাপন করছেন তারা। এসব কর্মহীন লোকজন কোথাও ত্রাণ বিতরণের সংবাদ শুনলেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। বালাগঞ্জে সিলেট-২ আসনের এমপি ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ফটোসেশন এবং সেলফিবাজি না করে দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে বন্যার্ত অসহায় লোকজনকে সহায়তায় এগিয়ে আসুন।
সুনামগঞ্জ ও জগন্নাথপুর : সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুকের পক্ষ থেকে হাওরে আগাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এক হাজার কৃষক পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা সদরের আবদুস সামাদ আজাদ অডিটোরিয়ামে প্রত্যেক পরিবারের হাতে ১০ কেজি চাল, এক কেজি ডাল ও এক লিটার ভোজ্যতেল তুলে দেয়া হয়।
গুরুদাসপুর (নাটোর) : বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয় ক্যাম্পাস হয়ে উঠে পানিতে হয় টইটম্বুর। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে শ্রেণিকক্ষে। তখন নিয়মিত পাঠদান যেমন ব্যাহত হয় তেমনি বন্ধ হয়ে যায় ছাত্রছাত্রীদের অ্যাসেম্বলি ও খেলাধুলা। প্রবল বর্ষণে স্থায়ী জলাবদ্ধতায় রূপ নিয়েছে বিদ্যালয়টিতে। নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার রানীগ্রাম-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি।
চরফ্যাশন ও মনপুরা : মেঘনার হাত থেকে উপকূলীয় জনপথ চরফ্যাশন ও মনপুরাকে রক্ষার জন্য প্রায় ২শ’ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ থাকলেও দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এই দুই উপজেলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীপাড়ের প্রায় ৫ লাখ মানুষ। এরই মধ্য জোয়ারের পানির চাপে দুই উপজেলায় ভেঙে গেছে ২২ কিলোমিটার বাঁধ।
দিনাজপুর : বীরগঞ্জে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে দুটি স্কুলের প্রাঙ্গণ। ফলে হাঁটুপানি পেরিয়ে স্কুল ভবনে যেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এমনকি অনেক শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে যাওয়ায় বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।
জামালপুর ও ইসলামপুর : জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৭২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনায় ব্যাপক হারে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার ৬টি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। জেলার ইসলামপুর-গুঠাইল, ইসলামপুর-উলিয়া, গুঠাইল-মলমগঞ্জ ও মেলান্দহ-মাহমুদপুর সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়েছে।

তালিকায় চুনোপুঁটি অধরা রাঘববোয়াল

জাতীয় সংসদে ঋণখেলাপি চুনোপুঁটিদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে অধরাই থেকে গেছে রাঘববোয়ালরা। আর্থিক খাতে দীর্ঘদিন থেকে চিহ্নিত এসব বড় বড় জালিয়াত এক্ষেত্রে ঋণ পুনর্গঠনসহ নানা কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। এদের সুরক্ষা দিচ্ছে সরকারের একটি অংশ। এদিকে খেলাপি ঋণ আদায় এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ এবং বিশিষ্টজনরা। এসব পদক্ষেপের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- খেলাপিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ, সরকারের পক্ষ থেকে এদের সব ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করা, তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা এবং এদের সামাজিকভাবে বয়কট করা। ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের পণ্য বর্জন করে তাদের আর্থিক খাতে বিকলাঙ্গ করার পরামর্শ দিয়েছেন কেউ কেউ। ‘মাদককে না বলুন’- এমন স্লোগানের মতো ঋণখেলাপিদেরও বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। এক্ষেত্রে ‘ঋণখেলাপিদের না বলুন’ এই স্লোগান সমাজে সব স্তরে ছড়িয়ে দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। অর্থনীতিবিদদের মতে, বিচারহীনতার কারণে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। দুর্নীতিবাজ এবং ধড়িবাজরাই ক্ষমতার জোরে ব্যাংকে জালিয়াতির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ক্ষমতার কারণে এদের কোনো শাস্তি হয় না। বিশিষ্টজনদের প্রশ্ন, ব্যাংকের টাকা নিয়ে এসব জালিয়াতির শেষ কোথায়। জনগণের আমানতের টাকা এভাবে লুট হয়ে গেলে শেষ পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর কী হবে। রাষ্ট্র কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেবে। সোমবার জাতীয় সংসদে শীর্ষ একশ’ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ করেছেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। অর্থমন্ত্রীর পক্ষে তিনি ওই তালিকা প্রকাশ করেন। তালিকায় ৯৮টি প্রতিষ্ঠান ও দু’জন ব্যক্তির নাম রয়েছে। তবে তালিকায় থাকা বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান অখ্যাত। বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের আগে কখনও নামই শোনা যায়নি। এছাড়া এসব ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের কার কাছে কত ঋণ এবং কত সালে এই ঋণ নিয়েছে, তার বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়া হয়নি। অথচ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে চিহ্নিত বড় কয়েকটি গ্রুপ হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আর পরিশোধ করছে না। কিন্তু খেলাপি ওই তালিকায় তাদের নাম নেই। সূত্র বলছে, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে যোগসাজশে এরা নানা কৌশলে খেলাপির তালিকা থেকে নিজেদের বাদ রেখেছে। কখনও এরা ঋণ পুনর্গঠন করছে। আবার কখনও আদালত থেকে স্থগিত আদেশ নিয়ে তারা অধরাই থেকে যাচ্ছে। শুধু ব্যাংকে নয়, শেয়ারবাজারের কেলেঙ্কারিতেও জড়িত এই চক্রটি। অর্থনীতিবিদদের মতে, এদের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর হতে হবে। না হলে কোনোভাবেই ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা আনা যাবে না। জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ যুগান্তরকে বলেন, সংসদে শীর্ষ একশ’ ঋণ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করা হলেও ব্যক্তি বা মালিকের নাম প্রকাশ করা হয়নি। প্রকাশিত খেলাপি ঋণের বেশিরভাগই সরকারি ব্যাংকের। এর দায় অর্থমন্ত্রণালয়কে নিতে হবে। হয় তারা শাসন করতে ব্যর্থ হয়েছে, না হয় পরোক্ষভাবে খেলাপিদের সহায়তা করছে অর্থমন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, আসলে অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ চালু হওয়ার পর থেকে ব্যাংক ডাকাতি বেড়ে গেছে। তার মতে, সরকারি ব্যাংক পরিচালনায় ব্যর্থতার দায়ে বিভাগটি তুলে দেয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, সরকার এবং অর্থমন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ ছাড়া কারও পক্ষে কোনো ধরনের জামানতবিহীন ঋণ নেয়া সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, এসব ঋণ খেলাপিরাই পুরো ব্যাংকিং খাতকে জিম্মি করে রেখেছে। তার মতে, এ ধরনের ঋণ বিতরণ সাফ জালিয়াতি। দুর্নীতি দমন কমিশনকে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, গুটিকয়েক ব্যক্তির কাছে পুরো ব্যাংকিং খাত জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।
এদের পণ্য বর্জনসহ সামাজিকভাবে এদের বয়কট করতে হবে। জানতে চাইলে দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, খেলাপি ঋণ ব্যাংক ও আর্থিক খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। এক্ষেত্রে ঋণ খেলাপির তালিকা প্রকাশ যথেষ্ট নয়। ঋণের টাকা পুনরুদ্ধার করতে হবে। এক্ষেত্রে অর্থঋণ আদালত মামলাসহ সবগুলো আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যেতে পারে। তিনি বলেন, খেলাপিদের প্রতিকার করা না গেলে ব্যাংকিং খাতে দুরবস্থা বাড়তে থাকবে। তার মতে, সরকারের পক্ষ থেকে ঋণ আদায়ের জোরালো উদ্যোগ নিতে হবে। এর সঙ্গে জড়িত, যেই হোক তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। কোনোভাবেই একে ছাড় দেয়া যাবে না। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা অথবা রাজনৈতিক আনুগত্যের কারণে চিহ্নিত খেলাপিদের সরকারের কোনো কোনো মহল থেকে সুরক্ষা দেয়া হয়। এই সুরক্ষা বন্ধ করতে হবে। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এদের সামাজিকভাবে বয়কট করা যেতে পারে। তাদের পণ্যও বয়কট করা যেতে পারে। এটি আংশিক পদক্ষেপ। তবে বাস্তবতা হল, ঋণ খেলাপিরা সামাজিক বয়কটের তোয়াক্কা করে না। ফলে সবার আগে সরকারের আইনি পদক্ষেপ নেয়া উচিত। পাশাপাশি যারা এর সঙ্গে জড়িত বা এ ধরনের কেলেংকারি যারা করছেন, তাদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় বিচারের আওতায় আনতে হবে। তবে তারমতে, তালিকা প্রকাশ ইতিবাচক পদক্ষেপ। কারণ মানুষ জানতে পারল শীর্ষ খেলাপি কারা। এটি এক ধাপ অগ্রগতি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুসারে দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট ঋণ বিতরণের স্থিতি ৬ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। এরমধ্যে খেলাপি ঋণ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। এছাড়াও রাইট অফ (অবলোপন) করা হয়েছে ৪৩ হাজার কোটি টাকা। সবমিলে খেলাপি ঋণের মোট স্থিতি ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ১৭ শতাংশ। এরমধ্যে বেশিরভাগ সরকারি ব্যাংকে। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় এসব ঋণ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে এই খেলাপি ঋণের কারণে বিনিয়োগসহ সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা খেলাপি ঋণ। এটি প্রতিষ্ঠিত। খেলাপি ঋণের জন্যই শিল্প ঋণের সুদের হার কমানো যাচ্ছে না। কারণ এই ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে মুনাফা থেকে প্রভিশন করতে হয়। তিনি বলেন দীর্ঘদিন পরে হলেও খেলাপিদের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এখন টাকা আদায়ের উদ্যোগ নিতে হবে। ঋণ আদায়ে মামলা করাসহ সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় কাজ সরকারের। খেলাপি যেই হোক সরকারিভাবে তাদের পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে হবে। মির্জ্জা আজিজ বলেন, জামানত ছাড়া যে ব্যাংক ঋণ দিয়েছে, ওই ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। কোন বিবেচনায় এত বড় ঋণ দেয়া হল, তা জবাবদিহিতার আওতায় আনতে না পারলে আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ কমাতে না পারলে এ খাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়। মির্জ্জা আজিজ আরও বলেন, খেলাপিদের সামাজিকভাবে বয়কট করার দাবি আসছে। এটিও এক ধরনের চাপ সৃষ্টি। এতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, শীর্ষ খেলাপিদের কাছে যে পরিমাণ অর্থ আছে তা জাতীয় বাজেটের এক চতুর্থাংশ। বিপুল পরিমাণের এ অর্থ আদায়ে নানামুখী উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে জামানত জব্দ করতে হবে। যে সব ঋণে জামানত নেই সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট খেলাপির সম্পদ জব্দ করা যেতে পারে। এছাড়া আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়াসহ বিষয়টি বারবার ফলোআপ করতে হবে। তার মতে, ঋণ আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা উচিত।