Thursday, July 28, 2016

হিলারিকে নিয়ে ক্লিনটনের আবেগমথিত দীর্ঘ ভাষণ

১৯৯২ সালে বিল ক্লিনটনকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বানাতে মাঠে নেমেছিলেন স্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। ২৪ বছর পর এবার হিলারির পক্ষে ভোট চাইলেন ক্লিনটন। ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মনোনয়নের জন্য ডেমোক্রেট কনভেনশনে তিনি বলেন, হিলারি আমার ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’। তাকে ভোট দিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করুন। হিলারির গুণগান গেয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমস্যা সমাধানে হিলারির কোনো তুলনা হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে হিলারির ইতিহাস গড়ার দিন ক্লিনটন ফিরে গেলেন ৪৫ বছর পেছনে। প্রায় ৪০ মিনিটের দীর্ঘ আবেগপূর্ণ বক্তৃতায় ক্লিনটন হিলারির সঙ্গে তার পরিচয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের বসন্তে এক মেয়ের সঙ্গে দেখা হয়েছিল আমার। সেই মেয়েটিই হিলারি।’
৬৯ বছর বয়সী বিল ক্লিনটন বলেন, ‘আর আমি আমার জীবনের সেরা বন্ধুটিকেই বিয়ে করেছি।’ ইয়েল ল’ স্কুলে পরিচয়ের পর থেকে প্রায় ৪৬ বছরের দীর্ঘ এক জীবন পার করেছেন এ দম্পতি। সরকারি কাজের প্রতি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারির দায়িত্বশীলতার কথা তুলে ধরে ক্লিনটন বলেন, ‘আমি আশা করি, আপনারা তাকে নির্বাচিত করবেন।’ এর কয়েক ঘণ্টা আগেই তার স্ত্রী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে ডেমোক্রেট দলের আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন পান। গত সপ্তাহে রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন পেয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এ দুটি বিষয়কে তুলনা করেন এভাবে ‘ওয়ান ইজ রিয়েল’ এবং ‘দি এনাদার ইজ মেড আপ’। এ সময় দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন কন্যা চেলসি ক্লিনটন ও তার স্বামী মার্ক মেজভিনস্কি। তারা বারবারই হাততালি দিয়ে, উঠে দাঁড়িয়ে বাবার বক্তব্যে সমর্থন দিচ্ছিলেন। এক টুইট বার্তায় হিলারির স্বামী ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন হিলারিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘তোমার জন্য খুবই গর্বিত।’সম্মেলনে প্রতিনিধিদের রোল কল ভোট শেষে দলীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে হিলারি ক্লিনটনের সাবেক প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্স মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে হিলারি ক্লিনটনকে আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন দেয়ার আহ্বান জানান। এর আগে সম্মেলনের প্রথমদিনে স্যান্ডার্সের সমর্থকরা হিলারি ক্লিনটনের মনোনয়নের বিরুদ্ধে দুয়োধ্বনি দিয়ে সম্মেলনে বিঘ্ন ঘটান।
এই কনভেনশনে হিলারি ক্লিনটনের প্রার্থিতা নিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টিতে স্পষ্ট বিভক্তি ফুটে উঠতে দেখা গেছে। ট্রাম্পকে পুতিনের সাহায্য সম্ভব -ওবামা : মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিনের হস্তক্ষেপ সম্ভব বলে মনে করেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এনবিসি নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্পকে জেতাতে পুতিনের ‘যে কোনো কিছুই সম্ভব’। সম্প্রতি ডেমোক্রেটিক পার্টির জাতীয় কমিটির কর্মকর্তাদের ই-মেইল ফাঁসের জন্য রুশ গোয়েন্দা সংস্থার হাত আছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গোয়েন্দা সন্দেহের ভিত্তিতে এর তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে এফবিআই। মস্কো এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ডেমোক্রেট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের প্রচার শিবির থেকে বলা হচ্ছে, দলে বিবাদ ঘটিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সহায়তার জন্য এই ই-মেইল ফাঁস করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট প্রার্থী চূড়ান্ত করতে ফিলাডেলফিয়ায় ডেমোক্রেটদের সম্মেলন শুরুর ঠিক আগেই শুক্রবার দলটির শীর্ষ নেতাদের ২০ হাজারের মতো ফাঁস হওয়া ই-মেইল উইকিলিকসে আসে। এসব ই-মেইলে ডেমোক্রেট প্রেসিডেন্ট পদের প্রার্থী বাচাইয়ের প্রাথমিক পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্সের তুলনায় হিলারির প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে দেখানোর চেষ্টা লক্ষ্য করা যায়। এ ঘটনার পর চাপের মুখে রোববার ডিএনসি চেয়ারম্যান ডেবি ওয়াজেরম্যান শুলজ পদত্যাগও করেছেন।

ফ্রান্সে ধর্মযুদ্ধের শংকা

ফ্রান্সের নরম্যান্ডিতে গির্জায় হামলার পর এলিসি প্রাসাদে
বুধবার বৈঠকে বসেন বিভিন্ন ধর্মের নেতারা -ইপিএ
ক্যাথলিক ধর্মযাজক হত্যাকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সে ধর্মযুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছে দেশটির রাজনীতিকরা। ফরাসি প্রধানমন্ত্রী ম্যানুয়েল ভালস বলেছেন, ‘ক্যাথলিক গির্জায় ধর্মযাজকদের ওপর আক্রমণের মাধ্যমে ফরাসি নাগরিকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। একটি ধর্মকে আঘাত করে সরাসরি ধর্মযুদ্ধকে উস্কে দেয়া হচ্ছে।’ বুধবার সকালে প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলান্দ দেশটির ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে উত্তেজনা হ্রাস করার আহ্বান জানান। ভবিষ্যতে যে কোনো হামলা প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয় তাদের। নরম্যান্ডির ফাদার জ্যাকস হামেলকে মঙ্গলবার গির্জার মধ্যে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। আইএস এই হত্যার দায় স্বীকার করার পর ফুঁসে উঠেছে দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্যাথলিক ধর্মবিশ্বাসীরা। এদিকে গত দেড় বছরে বিভিন্ন জঙ্গি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ফ্রান্সে বসবাসকারী মুসলিম নাগরিকদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ ব্যাপারে টলায়মান ও অস্থির সামাজিক পরিস্থিতির মধ্যে ধর্মযাজক হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে।
নরম্যান্ডির রুয়েন অঞ্চলটি ঐতিহাসিকভাবে যুদ্ধ এবং হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত। ১৪৩১ সালে ফরাসি অগ্নিকন্যা জোয়ান অব আর্ককে হত্যা করা হয় এখানে। সে স্থানের খুব কাছেই হত্যা করা হয়েছে ৮৫ বছর বয়সী ক্যাথলিক ধর্মযাজককে। ফরাসি প্রধানমন্ত্রী ম্যানুয়েল ভালস এ হত্যাকাণ্ডকে ধর্মযুদ্ধের প্রতীকী আহ্বান হিসেবে গণ্য করে বলেন, ‘ফ্রান্সে দুই ধর্মের মানুষকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে ধর্মযুদ্ধের জন্য মদদ দেয়া হচ্ছে।’ আরও এক ধাপ এগিয়ে আছেন দেশটির ডানপন্থী একটি দলের প্রধান ম্যারিয়েন লি পেন। ইসলামবিরোধী অবস্থান নেয়ার জন্য জনগণকে উস্কে দিচ্ছেন তিনি। নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে টুইট করে পেন বলেন, ‘পশ্চিম অথবা পূর্বাঞ্চল, যেখানেই হোক না কেন, ইসলামকে প্রতিহত করার জন্য খ্রিস্টানদের গর্জে উঠতে হবে।’ এছাড়া নিজে সেনাবাহিনীর রিজার্ভ ফোর্সে যোগদানের ঘোষণা দিয়ে তরুণ ফরাসিদেরও যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন ম্যারিয়েন লি পেন। তবে সহিংস আচরণ থেকে বিরত থাকার কথাও বলছেন অনেকে। রোয়েনের আর্চবিশপ ডোমিনিক লেবরান বলেন, ‘মানুষের মধ্যে হৃদ্যতার সম্পর্ক গড়ে ওঠার জন্য প্রার্থনা ছাড়া আর কোনো অস্ত্রে বিশ্বাস করে না ক্যাথলিকরা।’ অন্যদিকে নরম্যান্ড অঞ্চলের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি মোহাম্মদ কারাবিলা যাজক হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘দেড় বছর ধরে ফ্রান্সের নাগরিকরা হামলার শিকার হচ্ছে। আমাদের ইসলাম ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অন্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। এভাবে আর চলতে পারে না।’ শুরুতে ফ্রান্সের ইহুদিদের টার্গেট করে হামলা করা হতো। এখন হামলার লক্ষ্যে পরিণত হচ্ছে খ্রিস্টানরা। সিরিয়া ও ইরাকের আইএস জঙ্গিরা সেখানে কোণঠাসা হয়ে পড়ায় তারা এখন বিশ্বজুড়ে নাশকতা ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বাভারিয়া ও নিসে হামলার ঘটনার দ্বারা ঘৃণার সংস্কৃতি ছড়ানোর চেষ্টা করছে তারা। ফ্রান্সের জাতীয় মানবাধিকার সংস্থার তথ্যানুসারে, গত বছর ৪২৯টি হুমকি ও আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে দেশটিতে- যার সবগুলোতেই অমুসলিমদের টার্গেট করা হয়েছে। ২০১৪ সালের তুলনায় গত বছরের হামলার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে ২২৩ শতাংশ। যাজক হত্যার পরিপ্রেক্ষিতে ফ্রান্সের মসজিদগুলো বন্ধ করে দেয়ার দাবিও উঠেছে দেশটির ন্যাশনাল ফ্রন্টের পক্ষ থেকে। অন্যদিকে শুধু নাইজেরিয়াতেই গত বছর ৪ হাজার খ্রিস্টানকে হত্যা এবং ২০০ গির্জা ধ্বংস করেছে বোকো হারাম। মিসরে গির্জার যাজককে হত্যা করেছে আইএস। ইরাকের মসুল এবং সিরিয়ার রাঙ্কা থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে বিপুলসংখ্যক খ্রিস্টান নাগরিককে। সবগুলো ঘটনাকে একত্র করে ফ্রান্সের যাজক হত্যার ঘটনাকে সরাসরি খ্রিস্টান ধর্মের বিরুদ্ধে মুসলিমদের আক্রমণ বলে চিহ্নিত করে ধর্মযুদ্ধের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের আক্রমণে উস্কানি দিচ্ছে ফরাসিদের একাংশ। গির্জায় হামলাকারী সন্ত্রাসের অভিযোগে বন্দি ছিলেন : সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে গৃহবন্দি ছিল ফ্রান্সের গির্জায় হামলাকারী ও ধর্মযাজক হত্যাকারী ব্যক্তিটি। মঙ্গলবার গৃহবন্দিত্ব চলাকালীন সময়েই সে এই হামলা চালায় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে দেশজুড়ে। আদেল কারমিচি আক্রমণকারী নামের যুবক দুই ঘাতকের অন্যতম। সে বৃদ্ধ ধর্মযাজককে গলা কেটে হত্যা করে। ১৯ বছর বয়সী এই ঘাতকের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে।

সন্তানের বিপথগামিতা রোধে পরিবারের ভূমিকাই মুখ্য

গুলশান ও শোলাকিয়া হত্যাযজ্ঞের পর সন্তানের বিপথগামিতা রোধে পরিবারের ভূমিকা নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও এ বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেছেন। বলার অপেক্ষা রাখে না, সন্তানের বিপথগামিতা রুখতে পরিবারের ভূমিকাই মুখ্য। একটি শিশু পৃথিবীতে আসে অমিত সম্ভাবনা নিয়ে। তবে এ সম্ভাবনার বিকাশ কতটুকু ঘটবে, তা নির্ভর করে তাকে কীভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে তার ওপর। মূলত শিশুর পরিবার, সমাজ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার ওপরই নির্ভর করে তার বিকাশ। সুস্বাস্থ্য, সুশিক্ষা, নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও ভালোবাসার দাবি পূরণ করে প্রতিটি শিশুকে শারীরিক ও মানসিকভাবে পূর্ণ বিকশিত করে তোলা সম্ভব। প্রত্যেক মা-বাবাই তার শিশুকে হাসি-খুশি, স্বাস্থ্যবান, বুদ্ধিদীপ্ত ও পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে দেখতে চায়। সন্তানকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পরিবার যদি সঠিক ভূমিকা পালন করে, তাহলে একটি সুন্দর-সমৃদ্ধ রাষ্ট্র ও জাতি পাওয়া সম্ভব।
দুশ্চিন্তার বিষয় হল- পরিবার ও সমাজ জীবনে আমরা ক্রমেই পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছি। বর্তমানে পারিবারিক-সামাজিক মূল্যবোধ ও ঐতিহ্য লুপ্ত হওয়ার পথে। অতীতের সামাজিকতা এবং সামাজিক সংহতি এখন আর তেমন অবশিষ্ট নেই; যার প্রভাব আমাদের পারিবারিক পরিমণ্ডলে ভর করেছে। অপ্রিয় হলেও সত্য, এ বিচ্ছিন্নতা বিদ্যমান ব্যবস্থারই সৃষ্টি, যা প্রত্যেককে প্রত্যেকের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, একই সমাজে বসবাস করেও আজ কেউ কারও নয়। পরিবারগুলোর ক্ষেত্রেও অভিন্ন অবস্থা বিরাজমান। একসময় আমাদের প্রায় প্রতিটি পরিবার একান্নবর্তী ছিল। যৌথ পরিবারের অস্তিত্ব এখন বিলীন হওয়ার পথে। বিচ্ছিন্নতা যেমন গ্রাস করেছে সমাজ জীবনকে; একইভাবে গ্রাস করেছে পরিবারকেও। একটি শিশুর সবচেয়ে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হল তার পরিবার। সুস্থ ও সুন্দর জাতি গঠন করতে হলে সবার আগে পরিবারকে সচেতন হতে হবে। পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও খেয়াল রাখতে হবে কোনো শিক্ষার্থী বিপথগামী হচ্ছে কিনা। বর্তমানে শিশুরা ক্রমেই প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। প্রকৃতির সঙ্গে তাদের দূরত্ব বাড়ছে দিন দিন। সভ্যতার অগ্রগতি এবং মানুষের শহরকেন্দ্রিকতা এ জন্য অনেকাংশে দায়ী। এসব বাস্তবতা মেনে নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। ব্যস্ততা ও বাস্তবতার নাগপাশ ছিন্ন করে অভিভাবকরা মাঝে মধ্যে তাদের প্রিয় সন্তানকে যথাসম্ভব প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারেন। শিশুরা নগরে বেড়ে উঠুক, তবে তার পরিচয় ও সম্পর্ক থাকুক প্রকৃতির সঙ্গেও। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিও থাকা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক-সামাজিক প্রতিশ্রুতি শিশু-কিশোরদের সঠিক পথ দেখাতে সাহায্য করে। রাষ্ট্রকে ভাবতে হবে যেন যথাযথ পরিবেশে শিশু-কিশোররা সঠিক শিক্ষা গ্রহণ করে বেড়ে উঠতে পারে। দেশে ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীর সংখ্যা অন্যূন ২ কোটি ৮০ লাখ। আজকাল মাদক ছাড়াও মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও আকাশ সংস্কৃতির থাবায় অনেক কিশোর-কিশোরী বেপথু হচ্ছে। এদের মধ্যে অনেকেই জঙ্গিবাদসহ এমন সব ভয়াবহ পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা ভাবলেও গা শিউরে ওঠে। বর্তমানে এটি একটি সামাজিক সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আশার কথা, সংবেদনশীল আচরণ, সহমর্মিতা ও মূল্যবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে সরকার দেশে কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে দেশের সাতটি জেলায় ৩৭৯টি ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সমাজে বিদ্যমান নানা অসঙ্গতির ওপর বিতর্ক অনুষ্ঠানের আয়োজন ও সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি ক্লাবের সদস্যরা হরেক রকম খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি জেলায় এ ধরনের ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হলে তা শিশু-কিশোরদের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে- এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। মৃত্যু অবধারিত ও অমোঘ। স্বাভাবিক নিয়মে কোনো মানুষের মৃত্যুর ঘটনা আমাদের ব্যথিত করলেও তা নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকে না। কিন্তু মৃত্যু যদি অস্বাভাবিকতা নিয়ে কারও জীবনে হানা দেয়, তাহলে মর্মযাতনার সীমা থাকে না। গুলশান ও শোলাকিয়ার মৃত্যুগুলো এমনই। এ মৃত্যু আমাদের সন্তান তথা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সম্পর্কে আরও সচেতন, সজাগ ও সংবেদনশীল হওয়ার শিক্ষা দেবে- এটাই প্রত্যাশা।
ইফতেখার আহমেদ টিপু : একটি ব্যবসায় গ্রুপের চেয়ারম্যান
chairman@ifadgroup.com

‘জয়ের অভ্যাস ধরে রাখতে হবে’

দেশের মাটিতে গত বছর টানা কয়েকটি সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। এ বছরের প্রথম দ্বিপাক্ষিক সিরিজটা হবে দেশের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপরই টানা দেশের বাইরে খেলতে হবে টাইগারদের। দলের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল জানালেন, দেশে হোক আর বিদেশে, জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। দল ভালো অবস্থানে থাকলে যত বেশি ম্যাচ খেলা যায় ততই উপকার হয়। কিন্তু বাংলাদেশ গত বছর ভালো খেলার পর এ বছর টি ২০ বিশ্বকাপ ছাড়া আর কোনো টুর্নামেন্ট বা সিরিজ খেলতে পারেনি। কাল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে তামিম বলেন, ‘খেলা দেশের মাটিতে হোক, আর বিদেশের মাটিতে- জয়টাই আসল। বিদেশের মাটিতে গিয়ে যদি আমরা ভালো খেলি এবং জিতি তাহলে এটা অন্যরকম আত্মবিশ্বাস জোগাবে। এ বছর আমাদের প্রথম অ্যাওয়ে সিরিজ হবে নিউজিল্যান্ডে। এটা খুব কঠিন সিরিজই হবে। শুধু আমাদের জন্য না, যে কোনো দলের জন্যই নিউজিল্যান্ডে খেলা কঠিন। ওরা নিজেদের মাটিতে খুব শক্তিশালী। তবে ওদের যে হারানো সম্ভব না তা নয়। আমাদের এখান থেকেই জয়ের অভ্যাস ধরে রাখতে হবে।
দেশের মাটিতে সিরিজ জিতে ওইখানে যদি ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারি তাহলে আমাদের জন্য খুব ভালো হবে।’ গত বছরের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা কতটা কঠিন? এমন প্রশ্নের জবাবে এই বাঁ-হাতি ওপেনার বলেন, ‘মানুষ যখন ভালো খেলতে থাকে তখন যত বেশি ম্যাচ খেলা সম্ভব ব্যাটসম্যানের জন্য তত ভালো। আমি গতবছর একটা ভালো ধারাবাহিকতায় ছিলাম তখন যদি আরও কিছু ম্যাচ খেলতে পারতাম তাহলে আমার পারফরম্যান্স আরও ভালো হতে পারত।’ তিনি বলেন, ‘যেভাবে খেলে আমি ভালো করেছি সেটাই ধরে রাখার চেষ্টা করব।’ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজ থেকে বাংলাদেশ টানা খেলার মধ্যে থাকবে। মাঝের দীর্ঘ বিরতিটা নিজেদের ফিটনেসের সহায়ক হবে বলে মনে করেন তামিম। তিনি বলেন, ‘যখন একটা সিরিজের মধ্যে থাকি তখন ফিটনেস নিয়ে কাজ করার খুব একটা সুযোগ থাকে না। এখন যেহেতু আমাদের সুযোগ আছে, হাতে কয়েক দিন সময়ও আছে, এই সময়ে ফিটনেস ক্যাম্প যদি পুরোটা করতে পারি তাহলে সামনের একটা বছর কাজে দেবে।’ তিনি বলেন, ‘অক্টোবরে খেলা শুরু হওয়ার পর থেকে বেশি গ্যাপ নেই,
একটার পর একটা সিরিজ হবে। এই ফিটনেস ক্যাম্প আমাদের জন্য তাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খেলোয়াড়দের মানসিকতাও সেটা খুবই ইতিবাচক । ফিটনেস সেশনের পরও নিজেরাই বাড়তি কাজ করছে।’ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সব সময়ই ভালো পারফরম্যান্স করেন তামিম। এবারের লক্ষ্য কী? এই ওপেনার বলেন, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রান করা সবসময়ই চ্যালেঞ্জ। ওদের খুব ভালো কিছু বোলার আছে। ওদের বিপক্ষে এরআগেও রান করেছি বলে এবারও রান পাব বিষয়টা এমন নয়। হয়তো আমাকে আরও বেশি কষ্ট করতে হবে। আমার চেষ্টা ও মনোযোগ যদি ঠিক থাকে তাহলে সফল হওয়ার সুযোগ থাকবে।’ লর্ডসের অনার বোর্ডে নাম লেখানো বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাটসম্যান তামিম। লর্ডসের মতো মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামেও অনার বোর্ড থাকা উচিত বলে মনে করছেন তামিম। এছাড়া ক্রিকেট মিউজিয়ামের প্রয়োজনীয়তাও আছে বলে জানান তিনি।

রেসের ঘোড়া আমব্রিন

কাজ নিয়ে হাজারও ব্যস্ততা থাকলেও নিয়মের মধ্যেই যাপিত জীবন পার করছেন আমব্রিন। কথা রাখাটাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বের দৃষ্টিতে দেখেন এ তারকা। নিজের সব কাজই ঠিক সময়ে করাটাকে অভ্যাসে পরিণত করে নিয়েছেন তিনি। সময়ের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের ভাবটা এখনকার শিল্পীদের মধ্যে দেখা না গেলেও এ ক্ষেত্রে আমব্রিনকে ব্যতিক্রমই দেখা গেল। ২০০৭ সালে লাক্স চ্যানেল আই প্রতিযোগিতায় শীর্ষ দশে ঠাঁই হয়েছিল আমব্রিনের। সেটাকে পুঁজি করেই সামনে এগিয়ে চলার ছক এঁকেছিলেন তিনি। নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে সেই ছকেই হেঁটেছেন এবং এখনও হাঁটছেন বলে জানালেন এ তারকা। ক্যারিয়ারের একেবারেই শুরুতে ‘চলো বিয়ে করি’ নামে আফজাল হোসেন পরিচালিত একটি নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমেই নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পান আমব্রিন। এরপর আর তাকাতে হয়নি পেছনে। একের পর এক নাটকে অভিনয় করে চলেছেন। পাশাপাশি কাজ করেছেন বিজ্ঞাপনেও। বাংলালিংকের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেই টিভিসি জগতে পা রাখেন। রাতারাতি হয়ে যান বিজ্ঞাপন কন্যা। এ পর্যন্ত প্রায় দু’ডজন বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেছেন।
অভিনয়ের মতো বিজ্ঞাপনেও তার শৈল্পিক উপস্থিতি লক্ষণীয়। তবে এ দুই পরিচয়ের বাইরে বর্তমানে উপস্থাপক পরিচয়টিই আমব্রিনের কাছে সবচেয়ে বড়। এ মাধ্যমে তার উপস্থিতি দর্শককে মুগ্ধ করছে নিয়মিত। প্রথম উপস্থাপনা করেন এনটিভির ‘মিউজিক-ই ফোনি’ অনুষ্ঠানে। এতে টানা দু’বছর উপস্থাপনা করে বেশ দর্শকপ্রিয়তা পান তিনি। বর্তমানে কয়েকটি চ্যানেলে একাধিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা নিয়েই ব্যস্ত আমব্রিন। পাশাপাশি দেশের বড় বড় ইভেন্টগুলোরও উপস্থাপনার দায়িত্বও আসে তার কাঁধে। বিপিএলের গেল আসরের উপস্থাপকের ভূমিকাতেও ছিলেন তিনি। অভিনয়েও বেশ সাবলীল মেয়েটি। বর্তমানে তার অভিনীত একাধিক ধারাবাহিক বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এটিএন বাংলায় ‘নীড় খোঁজে গাংচিল’, ‘আয়না ঘর’ ও ‘একদিন ছুটি হবে’। শুধু কাজ নয়, নিজেকে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে বরাবরই আলাদা এই তারকা। বিন্দাস হয়ে চলাফেরা করাটাই তার পছন্দ। ফ্যাশনে ব্যাপক এক্সপেরিমেন্ট করতে ভালোবাসেন। দেশী-বিদেশী কোনো তারকাকে অনুকরণের চেষ্টা তার নেই। বরং তার ফ্যাশন যাতে অন্যরা ফলো করে সেটাই সবসময় করেন তিনি। নিজের মেকআপ-গেটআপ নিয়ে তার বিস্তর গবেষণা। বিদেশ থেকে রূপসজ্জার ওপর কোর্সও করে এসেছেন। ইন্টেরিয়র আর্কিটেক্চার বিষয়ে পড়াশোনা করলেও মিডিয়াতে কাজ করাকেই জীবনের ব্রত হিসেবে নিয়েছেন তিনি।