Friday, February 5, 2010

বিমাসুবিধা নিতে হামলার নাটক সাজিয়েছেন এক ভারতীয়!

বিমাসুবিধা নিতে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী এক ভারতীয় নাগরিক নিজের ওপর হামলার ঘটনা সাজিয়েছেন বলে পুলিশ অভিযোগ করেছে। পুলিশের কাছে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে জশপ্রীত নামে ওই ভারতীয়কে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
তবে জশপ্রীতের ভাষ্যমতে, গত মাসে দুর্বৃত্তরা তাঁর ওপর ওই হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তিনি বেশ খানিকটা আহত হন। পুলিশ বলছে, ঘটনার আগের দিন জশপ্রীত একটি প্লাস্টিক বোতল কিনে তাতে প্রায় ১৫ লিটার পেট্রল ভরেন। এরপর সাত বছরের পুরোনো তাঁর নিজস্ব গাড়িটি কৌশলে জ্বালিয়ে দেন।
গোয়েন্দা পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড্যানিয়েল ও’ কিফি বলেন, পুলিশের তদন্তে দেখা গেছে, জশপ্রীত অর্থনৈতিক সংকটে ছিলেন। এ জন্য তিনি তাঁর গাড়িটি বিক্রিও করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরে তা না করে তিনি নয় হাজার ৭৫০ মার্কিন ডলারের বিমাসুবিধা নেওয়ার জন্য হামলার নাটকটি সাজান।
জশপ্রীতের স্ত্রী অস্ট্রেলিয়ায় লেখাপড়া করছেন। সেই সুবাদে তিনিও সেখানে বসবাস করছেন। জশপ্রীত পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, বাড়ির কাছে গাড়ি পার্কিং করার সময় দুর্বৃত্তরা তাঁর গাড়িতে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
জশপ্রীত ওই দিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আরও দাবি করেন, গত ৮ জানুয়ারি এসেনডনে একটি নৈশভোজের অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন তিনি। রাত দেড়টা থেকে দুইটার মধ্যে গ্রাইস ক্রিসেন্টের বাড়িতে পৌঁছান তাঁরা। স্ত্রীকে বাড়িতে নামিয়ে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য তিনি পার্শ্ববর্তী একটি পার্কে যান। এ সময় চার ব্যক্তি এসে তাঁর ওপর হামলা চালায়। দুর্বৃত্তরা তাঁকে গাড়িতে উঠিয়ে তরলজাতীয় পদার্থ ঢেলে দেয়। এরপর তাতে আগুন জ্বেলে পালিয়ে যায়।
তবে বিশেষজ্ঞ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, জশপ্রীতের দেওয়া বর্ণনার সঙ্গে ঘটনার কিছুটা গরমিল পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি রহস্যময়।
আহত অবস্থায় জশপ্রীতকে সম্প্রতি আদলতের শুনানিতে হাজির করা হয়। এ সময় জশপ্রীত তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন।

আত্মহননের পথে ওরা!

নেহা সাওয়ান্তদের বাড়িতে এখন পিনপতন নীরবতা। ছোট্ট ফ্ল্যাটটিতে জীবনের কোনো ছোঁয়া নেই। অথচ কিছুদিন আগেও ১১ বছরের মেয়েটি হইচই করে সারা বাড়ি জমিয়ে রাখত। মাতিয়ে রাখত সবাইকে হাসি-খেলায়। তার অভাব এখন পুরো বাড়িতে। মেয়েটিকে একদিন তাদের বাড়ির জানালায় মৃত অবস্থায় ঝুলে থাকতে দেখা যায়। নেহা সাওয়ান্ত ছিল একজন টিভি তারকা। সনি টেলিভিশনের বগি-উগিসহ তিনটি চ্যানেলে নাচের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল সে।
মা-বাবার বকাঝকা, পরীক্ষায় ভালো ফল করতে না পারা, নাকি বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ঝগড়া? কেন আত্মহত্যার পথ বেছে নিল ১১ বছরের নেহা? তার পরিবার এখন খুঁজে ফিরছে এসব প্রশ্নের উত্তর। নেহার মা-বাবার জীবনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। তার দাদি এখনো ঘটনাটি বিশ্বাস করতেই পারছেন না। শুধু নেহা নয়, ভারতের বড় শহরগুলোতে অনেক কিশোর-কিশোরীই বেছে নিচ্ছে আত্মহত্যার পথ। গত ৫ জানুয়ারি মুম্বাইয়ের একটি বিদ্যালয়ের শৌচাগারে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে ১২ বছরের কিশোর সুশান্ত পাতিল। কেন, কী কারণে তারা জীবন থেকে এভাবে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, তা বুঝে উঠতে হিমশিম খাচ্ছেন অভিভাবকেরা।
বিশেষ করে মহারাষ্ট্র ও এর রাজধানী মুম্বাইয়ে এটি নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত জানুয়ারি মাসের প্রথম ২৬ দিনেই ৩২ জন কিশোর-কিশোরী আত্মহত্যা করে এই রাজ্যে। কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আত্মহত্যার এ প্রবণতা দেখে উদ্বিগ্ন মনোবিদ ও শিক্ষকেরা। তাঁদের অনেকেই মনে করছেন, যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য মা-বাবারা ছেলেমেয়েদের অনেক বেশি চাপের মুখে রাখছেন। আর এই অতিরিক্ত মানসিক চাপ সামলাতে না পেরেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে কিশোর-কিশোরীরা।
বিবিসির এক জরিপে দেখা গেছে, ভারতে প্রতিবছর এক লাখ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে কেবল মুম্বাইয়েই দিনে গড়ে তিনজন আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সীরাই আত্মহত্যা করছে বেশি।
ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের সহকারী মহাপরিচালক ক্যাথরিন ল গলস-কামু বলেন, সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন ও আবেগতাড়িত হয়েই মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। আত্মহত্যার প্রবণতা কমিয়ে মানুষকে জীবনমুখী করতে মুম্বাই নগরের কর্মকর্তারা এরই মধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছেন। মুম্বাইয়ের সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকেরা চেষ্টা করছেন ছাত্রছাত্রীদের জীবনমুখী করে তুলতে। কোমলমতি কিশোর-কিশোরীদের অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ না দিতে অভিভাবকদের পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা। এমনকি শচীন টেন্ডুলকার বা বিনোদ কাম্বলিদের মতো ক্রিকেট তারকারা বিদ্যালয়ে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের উজ্জীবিত করছেন।
তবে এত চেষ্টা ও উদ্যোগের পরও শেষরক্ষা হচ্ছে না। ভারতে একের পর এক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেই চলেছে। মুম্বাইয়ের আস্রা নামের একটি হেল্পলাইন অনেক দিন ধরেই কিশোর-কিশোরীদের আত্মহত্যার প্রবণতা নিয়ে কাজ করছে। হেল্পলাইনটির পরিচালক জনসন থমাস বলেন, বন্ধুদের চাপ, মা-বাবার সঙ্গে যোগাযোগের অভাব, সম্পর্কের ভাঙন, পড়াশোনার চাপ ও ব্যর্থ হওয়ার ভীতির কারণেই বেশির ভাগ শিশু-কিশোর আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। এ ধরনের বাস্তবতারই প্রতিফলন ঘটেছে ভারতে সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত থ্রি ইডিয়টস চলচ্চিত্রে। জোর করে প্রকৌশলবিদ্যা পড়ানোর কারণে সেখানে এক কিশোরকে হতাশায় আত্মহত্যা করতে দেখা গেছে। অনেকেই অভিযোগ করেন, চলচ্চিত্রটি কিশোর-কিশোরীদের আত্মহত্যার প্রবণতাকে আরও উসকে দিয়েছে। তবে মুম্বাইয়ের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ রিয়া টিমবেকার কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করে এ অভিযোগ উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, এই চলচ্চিত্র থেকে মা-বাবাদের শেখা উচিত যে সন্তানদের ওপর বেশি চাপ দেওয়া উচিত নয়। রিয়া এ রকম প্রচণ্ড চাপের একটি উদাহরণও দেন। পরীক্ষায় প্রথম স্থান না পেয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করায় এক শিশুকে চার দিন না খাইয়ে রেখেছিল তার মা-বাবা। এ ধরনের মা-বাবার রীতিমতো মানসিক চিকিত্সা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। মা-বাবাকে বুঝতে হবে, আজকের কিশোর-কিশোরীরা অনেক বেশি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তারা অনেক বেশি সচেতন ও বহির্মুখী। এখন ১১ বছরের কিশোর-কিশোরীরাই অতীতের ১৪-১৫ বছরের কিশোর-কিশোরীদের মতো পরিণত মানসিকতার অধিকারী। আর এই পরিণত মানসিকতাকে সম্মান দিয়েই ছেলেমেয়েদের বড় করে তোলা প্রত্যেক মা-বাবার দায়িত্ব।
মনোরোগ চিকিত্সক রিয়া আরও বলেন, কোনো শিশুই সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে অকারণে হঠাত্ আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয় না। জীবনের শুরুতেই তারা কোনো না কোনো অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতার শিকার হয়, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে আত্মহত্যার মধ্য দিয়ে।
ভারতের সনাতনী পরিবারগুলোর ভাঙনকেও অনেকে এ সমস্যার জন্য দায়ী করছেন। মুম্বাইয়ের মতো নগরে, যেখানে সাধারণত মা ও বাবা দুজনেই কাজ করেন, সেখানে সন্তানেরা একাকিত্বে ভোগে আর খুব বেশি টেলিভিশন দেখে সময় কাটায়।
মা-বাবা যদি শর্তহীনভাবে তাদের সব ধরনের ব্যর্থতা ও সাফল্য মেনে নিয়ে সন্তানদের ভালোবাসেন, তবে এ সমস্যা অনেকখানি কমে যাবে বলে মনে করেন মনোবিজ্ঞানী দিলীপ পানিকার।

আল-কায়েদা কয়েক মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালাতে পারে

আগামী কয়েক মাসের মধ্যে জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়েদা নিশ্চিতভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালানোর চেষ্টা করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রধান কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটের গোয়েন্দা কমিটিকে এ কথা জানান তাঁরা।
সিআইএ ও এফবিআইসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান কর্মকর্তারা বলেন, আল-কায়েদার হামলার হুমকির পাশাপাশি ‘সাইবার’ নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও দিন দিন হুমকি বাড়ছে। এদিকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর ব্যাপারে তাঁরা আহ্বান জানিয়েছেন।
আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আরেকটি জঙ্গি হামলার আশঙ্কা রয়েছে কি না, সিনেট কমিটির চেয়ারম্যান ডেমোক্রেটিকদলীয় ডিয়ানে ফাইনেস্টাইনের এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক ডেনিস ব্লেয়ার বলেন, ‘অবশ্যই (সম্ভাবনা রয়েছে)।’ তাঁর এই জবাব সমর্থন করেন অন্য গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান কর্মকর্তারা।
লিখিত বক্তব্যে ডেনিস ব্লেয়ার বলেন, আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেন ও তাঁর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড আয়মান আল জওয়াহিরি নিহত না হওয়া বা ধরা না পড়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে জঙ্গি গোষ্ঠীটির হামলার আশঙ্কা দূর হবে না। সাইবার-নিরাপত্তার হুমকি বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি সব ধরনের নেটওয়ার্ক থেকেই প্রতিদিন তথ্য চুরি হচ্ছে। কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহার করে জঙ্গি হামলা করা হতে পারে।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রধান কর্মকর্তারা কোনো সুনির্দিষ্ট জঙ্গি হামলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ না করলেও তাঁদের সাক্ষ্য এটা প্রমাণ করেছে, আল-কায়েদা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এখনো সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে আছে। সিআইএ প্রধান লিও পানেট্টা বলেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এবং যে জন্য আমি রাতে ঘুমাতে পারি না তা হলো, আল-কায়েদা বা তার মিত্ররা যেকোনো সময় যুক্তরাষ্ট্রে হামলার চেষ্টা করতে পারে।’
সিআইএ প্রধান বলেন, আল-কায়েদা এখন আরও নিখুঁতভাবে পরিকল্পনা করছে। তারা এখন দলগত হামলার পরিবর্তে এমন একক ব্যক্তিকে ব্যবহার করছে, যার কোনো জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ নেই। গত বড়দিনে মার্কিন বিমানে বোমা বিস্ফোরণের চেষ্টার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, হামলার চেষ্টাকারী ব্যক্তির মার্কিন ভিসা ছিল এবং সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে তাঁর যুক্ত থাকার ব্যাপারে স্পষ্ট তথ্য ছিল না।

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠাতে প্রস্তুত তেহরান

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ বলেছেন, তেহরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আরও সমৃদ্ধ করার জন্য বিদেশে পাঠাতে প্রস্তুত। গত মঙ্গলবার সরকারি টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি এ কথা বলেন। তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ নিরসনের চেষ্টায় একটি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠাবে ইরান।
আহমাদিনেজাদ বলেন, জ্বালানি রড হিসেবে ফেরত দেওয়ার আগে যদি ইরানের অধিকাংশ মজুদ কয়েক মাসের জন্য আটকে রাখা হয়, তাতেও তাদের কোনো সমস্যা নেই।
সংবাদদাতারা এ ধরনের সিদ্ধান্তকে তেহরানের অবস্থানের বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে মনে করছেন। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, যদি এটা নতুন কোনো প্রস্তাব হয়, তাহলে ওয়াশিংটন সেটা শোনার জন্য প্রস্তুত।
গত মাসে কূটনীতিকেরা বলেছিলেন, ইরান আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) অবহিত করেছে, তারা চুক্তির শর্ত গ্রহণ করবে না। তার পরিবর্তে একই সময় নিজেদের ভূখণ্ডে জ্বালানি বিনিময়ের দাবি জানিয়েছে তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীদের আশঙ্কা, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। যদিও ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পরমাণু কমসূচি পুরোপুরি বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ।
গত অক্টোবরে ইরান আইএইএ ও ছয়টি দেশের সঙ্গে একটি চুক্তির ব্যাপারে সম্মত হয়। ছয়টি দেশ হচ্ছে—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি। ওই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তেহরান স্বল্প সমৃদ্ধ প্রায় ৭০ শতাংশ ইউরেনিয়াম রাশিয়া ও ফ্রান্সে পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে সম্মত হয়। ফ্রান্স ও রাশিয়ায় পাঠানোর পর ওই ইউরেনিয়ামকে পারমাণবিক গবেষণা চুল্লিতে ব্যবহারের জন্য জ্বালানিতে পরিণত করা হবে।
কিন্তু ইরানি কর্মকর্তারা পরে জনসম্মুখে ওই চুক্তির শর্তের সমালোচনা করেন। তাঁরা বলেন, একই সময়ে জ্বালানি দেওয়া না হলে তারা ইউরেনিয়াম রপ্তানি করবে না। কিন্তু পশ্চিমা বিশ্ব ওই প্রস্তাব গ্রহণ করতে সম্মত হয়নি।
পশ্চিমা বিশ্ব ইউরেনিয়াম ফেরত দেবে না—নিজের সহকর্মীদের এই উদ্বেগ নাকচ করে দিয়ে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ বলেন, যদি তা হয়, তাহলে আরও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে ইরান তার জবাব দেবে। তিনি বলেন, ‘সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠাতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।’
ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা বলছি, আমরা আপনাদের ৩ দশমিক ৫ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেব এবং জ্বালানি পাব। জ্বালানি পেতে চার থেকে পাঁচ মাস সময় লেগে যেতে পারে।’ মাহমুদ আহমাদিনেজাদ আরও বলেন, ‘যদি আমরা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠাই এবং এরপর যদি তারা আমাদের পারমাণবিক চুল্লির জন্য ২০ শতাংশ সমৃদ্ধ জ্বালানি না দেয়, তাহলে আমরা সেটা উত্পাদন করতে সক্ষম।’
মাহমুদ আহমাদিনেজাদের মন্তব্যের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র পি জে ক্রাউলি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি পরিবর্তন করার জন্য প্রস্তুত নয়। এটা নিয়ে দরকষাকষি করতেও আমরা আগ্রহী নই।’
হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, আহমাদিনেজাদের ওই মন্তব্য যদি ইরানের বর্তমান অবস্থানের প্রতিফলন হয়, তাহলে ইরান সেটা আইএইএকে অবহিত করবে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ইরানের যদি নতুন কিছু বলার থাকে, তাহলে আমরা সেটা শোনার জন্য প্রস্তুত।’

ইসরায়েলি এক বেদুইনের গাজায় প্রবেশ

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার উদ্ভ্রান্ত এক বেদুইন সীমানা বেড়া টপকে হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজায় ঢুকে পড়েন। পরে অবশ্য তিনি নিজে থেকেই আবারও নিজের এলাকায় ফিরে আসেন। ইসরায়েলি ওই বেদুইন গাজা সীমান্তবর্তী নেগেভ এলাকার হাউরা গ্রামের বাসিন্দা।
পরে সেনা তদন্তে দেখা গেছে, ওই বেদুইন মানসিকভাবে উদ্ভ্রান্ত। সীমানা পাড়ি দিয়ে এর আগেও তিনি বেশ কয়েকবার গাজা, মিসর ও জর্ডান সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

অ্যামনেস্টির মহাসচিব হলেন সলিল শেঠি

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব হলেন সলিল শেঠি। তিনিই প্রথম ভারতীয়, যিনি আন্তর্জাতিক এ মানবাধিকার সংগঠনের শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত হলেন। তিনি সাবেক মহাসচিব বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আইরিন খানের স্থলাভিষিক্ত হলেন। দীর্ঘ আট বছর মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আইরিন খান ৩১ ডিসেম্বর ওই পদ থেকে অবসর নেন। নতুন মহাসচিব সলিল শেঠি আগামী জুন মাসে অ্যামনেস্টির দায়িত্ব নেবেন।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান পিটার প্যাক বলেছেন, সলিল শেঠি অ্যামনেস্টির সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় তাঁরা খুব খুশি। সলিল শেঠির মতো একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি এ সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার কাজে নিজেকে যুক্ত করতে পারবেন।

স্ত্রীকে বোরকা পরতে বাধ্য করায় এক ব্যক্তিকে নাগরিকত্ব দেয়নি ফ্রান্স

ফরাসি স্ত্রীকে বোরকা পরতে বাধ্য করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ফ্রান্সের নাগরিকত্ব দেয়নি সরকার। নাগরিকত্বের আবেদন প্রত্যাখ্যাত ওই ব্যক্তি বর্তমানে কোন দেশের নাগরিক, তা জানা যায়নি। তিনি তাঁর ফরাসি স্ত্রীর বদৌলতে দেশটির নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছিলেন।
ফরাসি অভিবাসনমন্ত্রী এরিক বেসন জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তির নাগরিকত্বের আবেদন আমি খারিজ করে দিয়েছি। কারণ তিনি তাঁর স্ত্রীকে নেকাবে মুখ ঢেকে রাখার জন্য চাপ দিতেন। মুখ খোলা রেখে চলাফেরার স্বাধীনতা থেকে তাঁর স্ত্রীকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছিলেন তিনি।
গত সপ্তাহে ফ্রান্সের পার্লামেন্টারি কমিটির সদস্যরা সে দেশে বোরকায় সারা শরীর ঢেকে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব দেন। ‘কট্টর ধর্মীয় আচার পালনকারীদের’ ফ্রান্সের নাগরিকত্ব না দেওয়ারও সুপারিশ করেছে কমিটি।
এক বিবৃতিতে অভিবাসনমন্ত্রী আরও জানান, ‘ওই ব্যক্তির নাগরিকত্ব আবেদন নাকচ করে গত মঙ্গলবার আমি একটি ডিক্রিতে সই করেছি। কারণ তিনি তাঁর স্ত্রীকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত বোরকায় ঢেকে রাখার জন্য চাপ দিতেন। তিনি নারী ও পুরুষের সমানাধিকারের প্রতি আস্থা রাখেন না। তিনি ধর্ম নিরপেক্ষ রীতিনীতিও মানতে নারাজ। তাঁর সঙ্গে প্রাক-সাক্ষাত্কারে এ সংক্রান্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে।

২০১০ সালের নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেল ‘ইন্টারনেট’

বিশ্বকে বদলে দেওয়া প্রযুক্তি ‘ইন্টারনেট’ শান্তিতে ২০১০ সালের নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছে। সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে জানানো হয়েছে, জনপ্রিয় সাময়িকী উইয়ার্ড-এর ইতালির সংস্করণ নোবেল পুরস্কারের জন্য ইন্টারনেটকে প্রস্তাব করে।
ইন্টারনেটকে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেওয়ার যুক্তি হিসেবে সাময়িকীটি বলেছে, যোগাযোগপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সংলাপ, বিতর্ক ও জনমতকে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে ইন্টারনেট।
উইয়ার্ড ইতালি তাদের এ উদ্যোগের পক্ষে সমর্থন জোগাড়ের জন্য ‘ইন্টারনেট ফর পিস’ নামের একটি প্রচারণা কর্মসূচিও চালু করেছে। এ বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ প্রচারণা চলবে। বিশ্বে শান্তি ও সম্প্রীতি ধরে রাখতে ইন্টারনেট কী ধরনের ভূমিকা রাখছে, তা প্রচার করা হবে এ কর্মসূচিতে।
সাময়িকীটির ইতালির সংস্করণের সম্পাদক রিকার্দো লুনা বলেন, ইন্টারনেটকে একটি বড় সম্প্রদায় হিসেবে বিবেচনা করতে হবে আমাদের। যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন জাতিধর্ম-বর্ণের মানুষ পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং সহানুভূতি দেখায়। এখানে সব বাধা পেরিয়ে বিশ্ববাসী জ্ঞান ও তথ্যের আদান-প্রদানের মাধ্যমে একটি নতুন সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হাকিমুল্লাহর উত্তরসূরিও নিহত হয়েছেন!

যুক্তরাষ্ট্রের চালকবিহীন বিমান হামলায় পাকিস্তানি তালেবানের প্রধান হাকিমুল্লাহ মেহসুদের সঙ্গে তাঁর অন্যতম সম্ভাব্য উত্তরসূরি কারি হুসেইনও নিহত হয়েছেন। স্থানীয় একটি সূত্র এমনটি দাবি করেছে। কারি হুসেইন হাকিমুল্লাহ মেহসুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণের প্রধান প্রশিক্ষক। খবর পিটিআইয়ের।
নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাকিস্তানের উরাকজাই আদিবাসী এলাকার সূত্র জানিয়েছে, গত ১৪ জানুয়ারি উত্তর ওয়াজিরিস্তানে মার্কিন চালকবিহীন বিমান হামলায় কারি হুসেইন নিহত হন। ওই হামলার পর তেহরিক-ই-পাকিস্তানের প্রধান সামরিক কৌশল নির্ধারণকারী ওয়ালি-উর রেহমানও নিখোঁজ আছেন।
তবে তালেবান জঙ্গিরা হাকিমুল্লাহ মেহসুদের মৃত্যুর কথা অস্বীকার করেছে। ইতিমধ্যে উত্তর ওয়াজিরিস্তানের তালেবান জঙ্গিরা পাকিস্তান সরকারকে হুমকি দিয়ে বলেছে, সেখানে আরও কোনো সামরিক অভিযান চালানো হলে বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হবে।

শৌচাগারে বসবাস!

দ্রুত বিকশিত হচ্ছে চীনের অর্থনীতি। সেই সঙ্গে দেশবাসীর জীবনধারাও দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে। তবে সেখানেও আছে হতদরিদ্রের দল, যাঁদের কেউ কেউ মাথা গোঁজার জন্য বেছে নিচ্ছেন শৌচাগার। হ্যাংঝাউ শহরে এমন অন্তত ১০ জন মানুষের খোঁজ পাওয়া গেছে, যাঁরা শৌচাগারে বসবাস করেন। তাও এক-দুই দিন কিংবা সপ্তাহ ধরে নয়, মাসের পর মাস। স্থানীয় গণমাধ্যম এ তথ্য দিয়েছে।
তাঁরা ভাসমান শ্রমিক। কাজের খুঁজে শহরে এসে অনেক শ্রমিক এরই মধ্যে শৌচাগারেই শয্যা পেতেছেন। সেখানেই রাখা হয়েছে স্টোভ, হাড়িপাতিল ও থালাবাসন। কেউ আবার অবসর বিনোদনের জন্য শৌচাগারেই টেলিভিশন দেখার ব্যবস্থা করেছেন।
শৌচাগারে বসবাস করেন এমন এক নারীশ্রমিক বলেন, ‘ব্যাপার আর কিছুই নয়। আর দশটা সাধারণ মানুষের মতো বাড়িভাড়া নিয়ে থাকার সাধ আমারও আছে। কিন্তু সাধ্য নেই। তাই বাধ্য হয়ে এই শৌচাগার-যাপন।’ তিনি আরও বলেন, তাঁর এক বান্ধবী তো রীতিমতো তাঁকে ঈর্ষা করেন এই বলে যে, শৌচাগারে থাকা যায় বিনা ভাড়ায়।
কাজের সন্ধানে চীনের নানা প্রত্যন্ত এলাকা থেকে দলে দলে ছুটে আসেন দেশটির বড় বড় শহরে। সরকারি হিসাব মতে, এমন শ্রমিকের সংখ্যা এরই মধ্যে দুই কোটি ছাড়িয়ে গেছে। সম্প্রতি স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁদেরই নিম্নমানের জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
আই নামের এক নারীশ্রমিক ঝেজিয়াং মর্নিং এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন তাঁর শৌচাগারে থাকার গল্প। তিনি বলেন, ‘প্রস্রাবের কটূ গন্ধে মাঝেমধ্যে দম বের হওয়ার জোগাড় হয়। ইঁদুর খুব জ্বালাতন করে। মানুষও কম যায় না। সুযোগ পেলেই বাসনকোসন নিয়ে চম্পট দেয়। আমার সাবান থেকে শুরু করে স্টোভ কি না চুরি করেছে তারা!’ আইয়ের এক ছেলেবন্ধু থাকেন পুরুষদের শৌচাগারে।
হ্যাংঝাউ শহরের স্থানীয় বাসিন্দারা এসব শ্রমিকের প্রতি এক ধরনের দরদ অনুভব করে। শৌচাগারে বসবাসকে কেউ কেউ আবার বিস্ময়ের সঙ্গেও দেখে। স্থানীয় কাউন্সিলের এক মুখপাত্র হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, কোনো অজুহাতেই শৌচাগারে বসবাস করাকে মেনে নেওয়া যায় না। শৌচাগারে এ ধরনের অবস্থান আইনত দণ্ডনীয়। শৌচাগার প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য, শয্যা পাতার জন্য নয়।

ক্ষমতায় থাকার ১১ বছর উদ্যাপন করলেন শাভেজ

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ তাঁর ৫৫তম জন্মবার্ষিকীতে ক্ষমতায় আরোহণের ১১ বছর পূর্তি উদ্যাপন করেছেন। গত মঙ্গলবার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শাভেজ বলেন, ‘১১ সংখ্যাটি আমি পছন্দ করি। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি আগামী ১১ বছর আরেকটু বেশি নিজের যত্ন নেব এবং আপনারা চাইলে, সে সময় আমার বয়স হবে ৬৬ বছর এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবেও ২২ বছর পূর্ণ হবে।’
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ওই ভাষণে শাভেজ আরও বলেন, ‘পরবর্তী ১১ বছর নিয়ে আমি ভাবতে চাই না। কারণ, তখন আমার বয়স হবে ৭৭, আর প্রেসিডেন্ট হিসেবে ৩৩ বছর ক্ষমতায় থাকাটাও বেশ দীর্ঘ সময়।’ ভাষণে তিনি তাঁর এই ১১ বছরের মেয়াদে তাঁর দায়িত্ব পালনের কথা বর্ণনা করেন। সব ধরনের ব্যক্তিগত উচ্চাশা ত্যাগ করেছেন উল্লেখ করে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে শাভেজ বলেন, ‘বিরোধীদের অপপ্রচারে কান দেবেন না, তাঁরা যা খুশি বলুক। ঈগল কখনো মাছি শিকার করে না।’
শাভেজ আরও দাবি করেন, তাঁর সরকার রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে উন্নতি করেছে। বিরোধীদের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের প্রতি ইঙ্গিত করে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমি তাঁদের রাজপথে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি।’

পাকিস্তানের পরমাণু নিরাপত্তায় ফাঁক আছে: যুক্তরাষ্ট্র

পাকিস্তান তার পরমাণু অস্ত্র রক্ষায় সক্ষম হলেও এতে ফাঁক রয়েছে বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল রোনাল্ড বারগেস গত মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছেন। রয়টার্স অনলাইন।
পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণের দুর্বলতা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে তিনি সিনেট ইন্টেলিজেনস কমিটিকে বলেন, ‘পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র এখনো কিছুটা অরক্ষিত। তবে তার পরও পাকিস্তান এর সুরক্ষাব্যবস্থা করতে সক্ষম—এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র আস্থাশীল বলে তিনি মন্তব্য করেন।’
তালেবান জঙ্গিদের ক্রমাগত হামলা এবং গত বছরের শেষ দিকে সেনা সদরদপ্তরে হামলার পর পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বারগেস আরও জানান, পাকিস্তানের আদিবাসী অঞ্চলগুলো এখনো আল-কায়েদা ও অন্যান্য জঙ্গিদের আস্তানা। সেখানে মার্কিন বিমান হামলা বা পাকিস্তানি সেনা অভিযানের কারণে তাদের কর্মকাণ্ড কিছুটা বাধাগ্রস্ত হলেও তারা দাপটে আছে।
প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বৈরী সম্পর্কের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান সেনাবাহিনী সন্ত্রাসবিরোধী প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য বিষয় বাড়ালেও তাদের কাছে এখনো ভারতই মূল প্রাধান্য পাচ্ছে।’
এ ছাড়া সিনেট কমিটির ওই শুনানিতে যুক্তরাষ্ট্রে ন্যাশনাল ইন্টেলিজেনসের পরিচালক ডেনিস ব্লেয়ার জানান, পাকিস্তানের অভ্যন্তরে হামলায় পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠি এবং আল-কায়েদার সমন্বয় বাড়ছে। তিনি বলেন, জঙ্গি গোষ্ঠিগুলোর মধ্যে সমন্বয় সম্ভবত বাড়ছে এবং পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা বাড়ার পেছনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ব্লেয়ার আরও জানান, আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্য বিদেশি সেনাদের ওপর হামলাকারী তালেবান সহযোগী গোষ্ঠিগুলোর সঙ্গেও পাকিস্তান সম্পর্ক রক্ষা করে চলে।

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষের দ্বিতীয় মেয়াদকাল ছয় বছর

শ্রীলঙ্কার সুপ্রিম কোর্ট গত মঙ্গলবার রায় দিয়েছেন যে পুনর্নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে আগামী নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন শুরু করতে পারবেন। তাঁকে অতিরিক্ত এক বছর দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। অর্থাত্ রাজাপক্ষের দ্বিতীয় মেয়াদকাল হবে ছয় বছর।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, চলতি বছরের ১৯ নভেম্বর নতুন মেয়াদকাল শুরু হবে।’ রাজাপক্ষের এক আবেদনের পর সুপ্রিম কোর্ট এই রায় দিলেন। উল্লেখ্য, মেয়াদকাল শেষ হওয়ার দুই বছর আগেই নির্বাচনের ডাক দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষে।
গতকাল বুধবার নির্বাচনের ফলাফলের বিরুদ্ধে রাস্তায় বিক্ষোভ প্রদর্শনের অঙ্গীকার করেছে বিরোধীরা। গত সপ্তাহের নির্বাচনকে ‘জালিয়াতির নির্বাচন’ হিসেবে অভিহিত করেছে বিরোধী দলগুলো। এএফপি ও রয়টার্স অনলাইন।
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার দয়ানন্দ দেশানায়েক। তবে নির্বাচনী প্রচারণার সময় সরকারি সম্পদ ও গণমাধ্যমের অপব্যবহার নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
গতকাল বুধবার নির্বাচন কমিশনার দয়ানন্দ দেশানায়েক বলেন, তিনি নির্বাচনী ফলাফলের পক্ষে রয়েছেন। উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিরোধী সমর্থিত প্রার্থী সাবেক সেনাপ্রধান শরত্ ফনসেকাকে হারিয়ে দেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে। নির্বাচনে রাজাপক্ষে পেয়েছেন ৫৮ শতাংশ ভোট, অন্যদিকে ফনসেকা পেয়েছেন ৪০ শতাংশ।
নির্বাচন কমিশনার দেশানায়েক সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণার সময় যা হয়েছে, তাতে আমি সন্তুষ্ট নই। কিন্তু আমি নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং ফলাফলের পক্ষে আছি।’
তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় সরকারি সম্পদ এবং সরকারি মালিকানাধীন গণমাধ্যমের অপব্যবহারের ওপর তাঁর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। দেশানায়েক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আসন্ন পার্লামেন্ট নির্বাচনেও একই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।
তিনি বলেন, এই পরিস্থিতির প্রতিবিধানের জন্য রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা আদালতে যেতে পারেন। দেশানায়েক আরও বলেন, অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনি তাঁর ক্ষমতার সবকিছু করেছেন। কিন্তু তিনি এর চেয়ে বেশি কিছু করতে পারেন না।

চীনের আপত্তির পরও দালাই লামার সঙ্গে বৈঠক করতে প্রত্যয়ী ওবামা

চীনের আপত্তি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, এ মাসে তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার ওয়াশিংটন সফরের কথা রয়েছে। ওই সময়ই দালাই লামার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র বিল বারটন বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা দালাই লামার সঙ্গে বৈঠকের ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ ব্যাপারে তিনি গত বছর চীন সফরে গিয়ে দেশটির নেতাদেরও বলে এসেছেন।
হোয়াইট হাউসের ওই মন্তব্যের পর গতকাল বুধবার চীন এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যে যেকোনো ধরনের বৈঠক দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা করে চীন। এর আগে গত মঙ্গলবার চীন সম্ভাব্য ওই বৈঠকের ব্যাপারে আশঙ্কা প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে বেইজিং-ওয়াশিংটন সম্পর্কে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে। দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতাও হুমকির মুখে পড়বে।
আলোচিত ওই বৈঠকের ব্যাপারে এখনো কোনো দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়নি। তবে এ মাসে ওয়াশিংটন সফরের সময়ই ওই বৈঠক হতে পারে। চীনের সমালোচনা প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র বলেছেন, দালাই লামা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। আর ওই পদমর্যাদার যোগ্যতা আছে বলেই প্রেসিডেন্ট তাঁর সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এর প্রতিক্রিয়ায় চীন বলেছে, দালাই লামার যুক্তরাষ্ট্র সফর, তাঁকে মার্কিন নেতার অভ্যর্থনা জানানো—সেটা যেই নামে কিংবা যেভাবেই হোক, চীন দৃঢ়ভাবে তার বিরোধিতা করে।
চলতি বছর দুই পরাশক্তি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এমনিতেই সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। উত্তর কোরিয়া এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চীন-মার্কিন অবস্থান এখন বিপরীতমুখী। যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী দেশগুলোর পেছনে চীনের মদদ আছে বলে অভিযোগ ওয়াশিংটনের। বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও বাণিজ্য ভারসাম্য বিষয়ে ওয়াশিংটন-বেইজিং বৈরিতা বেড়েছে। মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগলের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য বৈরিতাও বেড়েছে। এরই মধ্যে তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির চুক্তি চীন-মার্কিন সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটিয়েছে।
গত বছর নভেম্বরে দালাই লামার ওয়াশিংটন সফরের সময় ওবামা তাঁর সঙ্গে কোনো বৈঠকে বসেননি। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্বে ওবামার তীব্র সমালোচনা হয়। ওই সময় চীন সফরের কারণে ওবামা ওই বৈঠক এড়িয়ে যান। উল্লেখ্য, চীন দালাই লামাকে একজন বিচ্ছিন্নতাবাদী ও গোলযোগকারী বলে আখ্যা দিয়ে থাকে। কারণ, দালাই লামা তিব্বতের স্বায়ত্তশাসন দাবি করে আসছেন।

প্রথমার্ধে রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এ সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আওতায় মোট আদায় হয়েছে ২৬ হাজার ৪৩৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩২৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা বেশি। এ ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ১০১ দশমিক ২৪ শতাংশ বেশি।
গত বছরের একই সময়ের চেয়ে এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ। ওই বছর প্রথম ছয় মাসে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২২ হাজার ৪১৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গতকাল বুধবার এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।
এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন এনবিআরের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘কর প্রদানে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে নেওয়া এনবিআরের বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি তদারকি-ব্যবস্থা জোরদার করার কারণেই রাজস্ব আদায় বাড়ছে। কীভাবে এটাকে আরও বাড়িয়ে নেওয়া যায়, সে ব্যাপারে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
অর্থবছরের রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি সম্পর্কে দেশবাসীকে অবগত করতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এনবিআর। সংস্থাটির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনবিআরের সদস্য ফরিদ উদ্দিন, আমিনুল ইসলাম, আবদুল মান্নান পাটোয়ারী ও জাহানারা সিদ্দিকী।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি বছরের আমদানি পর্যায়ে মোট লক্ষ্যমাত্রা ২৩ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা হলেও প্রথম ছয় মাসে আমদানি পর্যায়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা।
কিন্তু ছয় মাসে আদায় হয়েছে ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা। সেই হিসাবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ১০০ শতাংশের বেশি। আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
স্থানীয় পর্যায়ের মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আদায় হয়েছে নয় হাজার ৭০১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ৯৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জিত না হলেও প্রবৃদ্ধির দিক থেকে অন্য সব খাতকে ছাড়িয়ে গেছে।
গত বছরের একই সময়ের চেয়ে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। গত বছরই একই সময়ে মোট মূসক আদায় হয়েছিল সাত হাজার ৬৮১ কোটি টাকা।
আয়কর খাতে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের লক্ষ্যমাত্রা ছিল পাঁচ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ছয় হাজার ৪০ কোটি টাকার বেশি। এ ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ছিল ১০৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।
গত বছরের একই সময়ে আয়কর খাতে আদায় হয়েছিল চার হাজার ৯২৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। চলতি বছর এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২২ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
সব খাতে প্রবৃদ্ধি হলেও অন্যান্য কর, বিশেষত ভ্রমণ কর আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি। এ খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। আদায় হয়েছে ২০১ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ৮৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ। গত বছর একই সময়ে ভ্রমণ কর আদায়ের পরিমাণ ছিল ২১৯ কোটি টাকা। সেই হিসাবে চলতি বছর এ খাতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
এ সম্পর্কে এনবিআরের চেয়ারম্যান বলেন, মৌসুমি কারণসহ বিভিন্ন কারণেই ভ্রমণ কর আদায়ের পরিমাণ কমতে পারে। এর সঙ্গে এনবিআরের ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতাও একটি কারণ বলে তিনি মনে করেন।
চলতি অর্থবছরের মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬১ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসাবে আদায় হয়েছে ৪৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ। বাকি ছয় মাসে অবশিষ্ট ৫৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ আদায় করতে হবে।
মাত্র ছয় মাসে এ বিপুল রাজস্ব আদায় সম্ভব কি না—এ প্রশ্নের জবাবে ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও সামষ্টিক অর্থনীতির যে গতি-প্রকৃতি, তাতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণত অর্থবছরের শেষভাগে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার বেশি থাকে এবং এটা হলে রাজস্ব আদায় আরও বাড়বে।’
অন্য আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাজস্ব আদায়ের বর্তমান ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রায় কোনো সংশোধন আনতে হবে না।’
উল্লেখ্য, গত অর্থবছরে মোট রাজস্ব আদায়ের চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৪ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বছরের শেষে তা সংশোধন করে ৫৩ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। শেষ পর্যন্ত সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রাও আদায় সম্ভব হয়নি।

ট্রেজারি বন্ডের নিলাম

১০ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ গভ. ট্রেজারি বন্ডের নিলাম গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়। এ নিলামে ৩২৩ কোটি টাকার ১৮টি দরপত্র পাওয়া যায়।
এর মধ্যে ১০০ কোটি টাকার দুটি দরপত্র গৃহীত হয় এবং ১০০ কোটি টাকা প্রাইমারি ডিলারদের কাছে ডেভেলপড হয়। গৃহীত দরপত্রগুলোর কুপন রেট ছিল ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

সিলেটে ব্র্যাক ব্যাংকের এসএমই সেবাকেন্দ্র উদ্বোধন

সম্প্রতি সিলেটের বন্দরে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের এসএমই সেবাকেন্দ্র খোলা হয়েছে।
ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মূহায়মেন এসএমই সেবাকেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন। এ সময় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এসএমই সেবাকেন্দ্রটি এলাকার ব্যাংকিং চাহিদা মেটাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে পেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্পে ৩০০ কোটি টাকার ঋণ

সিটি ব্যাংক লিমিটেডের নেতৃত্বে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে পেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্পে ৩০০ কোটি টাকার সিন্ডিকেট ঋণ অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে ২২৪ কোটি টাকা মেয়াদি ঋণ ও ৭৬ কোটি টাকা চলতি মূলধন হিসেবে দেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রকল্প সুপার পেট্রোকেমিক্যাল (প্রা.) লিমিটেডের একটি চুক্তি হয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান। এ সময় সিটি ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কে মাহমুদ সাত্তার এবং সুপার পেট্রোকেমিক্যাল (প্রা.) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।
সিন্ডিকেটে যুগ্ম নেতৃত্বে রয়েছে অ্যালায়েন্স ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড। এতে যৌথ আয়োজকের ভূমিকা পালন করে অগ্রণী ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক। সিন্ডিকেটে যোগ দেওয়া অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে—ব্যাংক এশিয়া, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, আইপিডিসি, ওয়ান ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক।
প্রস্তাবিত সুপার পেট্রোকেমিক্যাল (প্রা.) লিমিটেড প্রকল্পটি স্থাপন করা হবে চট্টগ্রামের ডাঙ্গারচরে। প্রকল্পটি আগামী ২০১১ সালের শেষ দিকে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে পাওয়া ন্যাপথাকে প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে অ্যারোমিটিক (জাইলিন), গ্যাসোলিন ও এলপিজিসহ অন্যান্য পেট্রোলিয়ামজাত রাসায়নিক পদার্থ উত্পাদন করবে।

পিপিপির ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনার আহ্বান

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বন্দরের অত্যাধুনিক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছে নবগঠিত চট্টগ্রাম বন্দর বার্থ অপারেটর ও শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন। প্রয়োজনে বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই টার্মিনাল পরিচালনার সুযোগ দেওয়ারও আহ্বান জানায় অ্যাসোসিয়েশন।
চট্টগ্রাম নগরের পিটস্টপ রেস্তোরাঁয় গতকাল বুধবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা এ আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে একরাম চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বন্দর কর্তৃপক্ষ এই এনসিটি তৈরির জন্য প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা খরচ করেছে। সেখানে কয়েক শ কোটি টাকার যন্ত্রপাতির জন্য বিদেশি অপারেটরদের হাতে এই টার্মিনাল পরিচালনার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। সংসদীয় কমিটি এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে বলে সংবাদ সম্মেলনে আশা প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সঙ্গে ভারত ও মালয়েশিয়ার সাতটি বন্দর পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন বন্দরের অপারেটররা। তাঁরা দাবি করেন, ভারত ও মালয়েশিয়ার বন্দরের চেয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেটররা অনেক বেশি দক্ষ। বন্দরের কনটেইনার ওঠানো-নামানোয় অপারেটরদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আসেনি। তাঁরা চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের নৌবন্দর ও স্থলবন্দরের জন্য একটি সমন্বিত আইনি কাঠামো তৈরির আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে অপারেটরদের অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি শাহাদাত হোসেন, রফিকুল ইসলাম, এম এ বকর, সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ, বার্থ অপারেটর এম এইচ চৌধুরী লিমিটেডের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের নেতা আ জ ম নাছির উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ব শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী

বিশ্ব শেয়ারবাজারে গতকাল বুধবার বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে। মঙ্গলবার ওয়ালস্ট্রিট চাঙা হয়ে ওঠার জের ধরে পরের দিন এশিয়া ও ইউরোপের প্রধান বাজারগুলো ঊর্ধ্বমুখী হয়।
আমেরিকার কয়েকটি বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গত মঙ্গলবার জানিয়ে দেয়, তাদের ব্যবসার অবস্থা এখন ভালো। এ খবরে নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ ঊর্ধ্বমুখী হয়।
পরের দিন এর প্রভাব পড়ে প্রথমে এশিয়া ও পরে ইউরোপের বাজারে। এশিয়ার প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে কয়েকটির মূল্যসূচক দুই শতাংশের বেশি হারে বৃদ্ধি পায়।
জাপানের নিক্কি সূচক দশমিক ৩০ শতাংশ হারে বাড়লেও হংকংয়ের হেংসেং সূচক বেড়েছে ২ দশমিক ২০ শতাংশ হারে। আর দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক বেড়েছে ১ দশমিক ২০ শতাংশ হারে।
চীনের প্রধান বাজার সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক প্রায় আড়াই শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর অস্ট্রেলিয়ার সূচক বেড়েছে দশমিক ৯০ শতাংশ হারে।
ইউরোপের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোর মধ্যে লন্ডন, প্যারিস, ফ্রাঙ্কফুর্ট—সব কটিই ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

এসিড-সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য কঠোরভাবে দমন করতে হবে-তাদের আবার কারাগারে নিন

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নের শরীফপুর গ্রামের একটি পরিবার এসিড-সন্ত্রাসের শিকার হয়ে প্রতিকারের আশায় মামলা করেছিল। কিন্তু বিচার পাওয়া দূরের কথা, এখন তাদের ভিটেমাটি থেকেই উচ্ছেদ হওয়ার দশা। কী করে এমন হলো, এর বিবরণ রয়েছে প্রথম আলোয় বুধবার প্রকাশিত ‘মামলা না তুললে আজই গ্রামছাড়া’ শিরোনামের সচিত্র প্রতিবেদনে।
শরীফপুর গ্রামের আলীম উদ্দিনের স্ত্রী সালেহা বেগম ও দুই ছেলেমেয়ে এসিড নিক্ষেপের শিকার হয়েছিলেন ২০০৭ সালের ২১ অক্টোবর। চিকিত্সার পরও তাঁরা আর সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাননি। তাঁরা মামলা করেন; আসামিরা তাঁদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেয়। চার আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এসিড-সন্ত্রাসের শিকার পরিবারটি কিছুদিন পর পুলিশ ও প্রতিবেশীদের সহায়তায় গ্রামে ফিরে আসে। ২০০৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি আটজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র পেশ করা হয়। কিন্তু মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আটক চার আসামি জামিনে বেরিয়ে এসে সন্ত্রাসের শিকার পরিবারটির ওপর আবার নির্যাতন ও হুমকি-ধমকি শুরু করে। পরিবারটি এ নিয়ে থানায় তিনটি সাধারণ ডায়েরি করে। তারপর আসামিরা বিষয়টি ‘সামাজিকভাবে নিষ্পত্তি’ করার জন্য পরিবারটির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এই ‘সামাজিক উদ্যোগে’ আসামিদের সঙ্গে আছেন এলাকার কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তি। এমনকি স্থানীয় থানা-পুলিশের পক্ষ থেকেও এমন চাপ আসে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এভাবে নিষ্পত্তিতে পরিবারটি রাজি হয়নি। তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে যে বুধবারের মধ্যে সম্মতি না জানালে গ্রাম ছাড়া করা হবে।
স্বস্তির কথা, প্রতিবেদনটি প্রথম আলোয় প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের টনক নড়েছে। তারা পরিবারটিকে নিরাপত্তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয়, এসিড নিক্ষেপের অভিযোগে দায়ের করা মামলাটির আসামিদের মধ্যে লেবুতলা ইউনিয়নের যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকও আছেন। আক্রান্ত পরিবারটির ওপর নির্যাতন ও হুমকি-ধমকির জোরটা এসেছে এখান থেকেই, যদিও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, তাঁরা মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেননি, জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করেছেন।
আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার: এসিড-সন্ত্রাস একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ, যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এমন অপরাধের অভিযোগ সালিসের মাধ্যমে নিষ্পত্তির কোনো সুযোগ নেই; সন্ত্রাসের শিকার পরিবারটি তা চায়ও না। আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে সন্ত্রাসের শিকার পরিবারটির ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে, হুমকি-ধমকি দিচ্ছে—তারা অবশ্যই জামিনে মুক্ত থাকার অধিকার হারিয়েছে; অবিলম্বে তাদের সবাইকে আবার গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হোক।