Wednesday, January 26, 2011

গল্প- মাকড়সা by মোহিত কামাল

ঘৃণা অর্থ জানো? মম কঠিন ভাষায় জিজ্ঞেস করল নুহাকে। নুহা জবাব দিল, জানব না কেন? ঘৃণা কুড়ানোর মতো কাজ করেছি। কাজ করে উপহার পাচ্ছি ধিক্কার। উপহার পাচ্ছি বিদ্বেষ আর বিরাগ। এখন যে প্রশ্নটি করেছ, প্রশ্নের মধ্য দিয়েও আমার দিকে ছুঁড়ে দিয়েছ নিন্দা। তোমার চোখেও দেখতে পাচ্ছি বিষদৃষ্টি। তোমার প্রশ্নের ধরনই বলে দিচ্ছে আমাকে দেখে

হারা ম্যাচে ধোনির প্রাপ্তি

খুব কাছে গিয়েও ইতিহাস গড়া হয়নি। ইউসুফ পাঠানের ব্যাটিং-ঝড় সিরিজ জয়ের আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত আর পারেনি ভারত। তবে হতাশার শেষ ম্যাচ থেকেই বিশ্বকাপ প্রেরণা খুঁজে পেয়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। ভারত অধিনায়ককে আশার আলো দেখাচ্ছে শেষের দিকে ওভারের বোলিং আর ইউসুফের ব্যাট।
পরশু সেঞ্চুরিয়নে বৃষ্টিবিরতির পর খেলা শুরু হওয়ার পর শেষ ৪ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার ৬ উইকেট তুলে নেয় ভারত। মুনাফ-জহিরের দুর্দান্ত বোলিংয়েই আরও বড় রান পায়নি দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর ১১৯ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ভারত যখন বড় পরাজয়ের মুখে, ইউসুফের ৬৮ বলের সেঞ্চুরি সম্ভাবনা জাগিয়েছিল অসম্ভব এক জয়ের।
টুকরো টুকরো এসব অর্জনকেই বিশ্বকাপের আগে ধোনির কাছে মনে হচ্ছে বড় পাওয়া, ‘আমাদের কোনো এক্সপ্রেস বোলার নেই, তবে স্কিলফুল বোলার আছে। স্কিলটাকেই ওরা কাজে লাগায়। আজ ওরা দুর্দান্ত করেছে। বিশ্বকাপেও এমনটা করতে পারলে দারুণ হবে। আর ইউসুফ যখন খেলতে থাকে, তখন কোনো লক্ষ্যই বড় বলে মনে হয় না। আমাদের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো যে আমরা জানলাম, শেষ ১০ ওভারে হাতে উইকেট থাকলে যেকোনো স্কোরই আমরা তাড়া করতে পারি। পরাজয়ের চেয়েও এই শিক্ষাটা গুরুত্বপূর্ণ।’
কন্ডিশন আলাদা হলেও বিশ্বকাপের আগে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সিরিজটাকে বিশ্বকাপের জন্য ভালো প্রস্তুতি বলেই মনে করছেন ধোনি। বিশ্বকাপের আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচই উপমহাদেশের কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট বলে মনে করছেন তিনি।
টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছেড়েছেন, গ্রায়েম স্মিথ আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন বিশ্বকাপ দিয়ে ইতি টানবেন ওয়ানডে অধিনায়কত্বেরও। দেশের মাটিতে নেতৃত্ব দেওয়া শেষ সিরিজটায় জিতে জানালেন, চূড়ান্ত বিদায়টাও এভাবেই নিতে চান, ‘সিরিজ জিতে বিদায় নেওয়ার অনুভূতিটা অসাধারণ। দলটার মানসিকতা এখন দারুণ আক্রমণাত্মক, এই মানসিকতা নিয়েই বিশ্বকাপে যেতে চাই। এটা পারলে শিরোপা জেতার খুব ভালো সম্ভাবনা আছে আমাদের।’

ইনজুরিতে গ্রায়েম সোয়ান

২৪ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজ জয়ের আনন্দে ভাসছিল ইংল্যান্ড শিবির। কিন্তু তার পরই সাত ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম তিনটি ম্যাচ হেরে সেই আনন্দ অনেকখানিই মিইয়ে গেছে। তার ওপর ইংল্যান্ডের জন্য নতুন দুঃসংবাদ বয়ে এনেছেন দলের স্পিন অস্ত্র গ্রায়েম সোয়ান। পিঠের ইনজুরির কারণে বাকি চারটা ম্যাচ না খেলেই দেশে ফিরতে হচ্ছে তাঁকে।অ্যাশেজ সিরিজ চলাকালেই হাঁটুর ইনজুরির কারণে কিছুটা সমস্যায় ভুগছিলেন সোয়ান। নতুন করে পিঠের এই ব্যথা শুরু হওয়ায় তাঁকে নিয়ে আর ঝুঁকি নিতে চায় না ইংল্যান্ড। কারণ আর কয়েক দিন পরই ভারতীয় উপমহাদেশে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে সোয়ানই হবেন ইংল্যান্ড বোলিং আক্রমণের অন্যতম প্রধান অস্ত্র। কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘সোয়ানের হাঁটুর আগের সমস্যাটার সঙ্গে এই পিঠের ব্যথা যোগ হওয়ায় তাঁকে আগেভাগেই দেশে ফিরে যেতে হচ্ছে। এখন বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নেওয়াটাই তাঁর জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এটা আমাদের জন্য অবশ্যই একটা বড় ঘাটতি। সে একজন বিশ্বমানের ক্রিকেটার আর দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। কিন্তু এ ধরনের ঘটনা ঘটেই থাকে।’
তবে অস্ট্রেলিয়া সফরের বাকি ম্যাচগুলোয় না থাকতে পারলেও বিশ্বকাপের আগেই সোয়ান পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা করছেন ফ্লাওয়ার।

ম্যান ইউয়ের সঙ্গে ম্যাচদুটির দিকে তাকিয়ে আনচেলত্তি

গত দুই মাসে প্রিমিয়ার লিগে ক্রমাগত ব্যর্থতার ফলে অনেকেই শিরোপার লড়াই থেকে বাদ দিয়েছিলেন গতবারের শিরোপাজয়ী চেলসিকে। ১৪ নভেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা নয়টি ম্যাচের মাত্র একটিতে জয় পেয়েছিল ব্লুরা। হেরেছিল চারটিতে। পয়েন্ট তালিকাতেও নেমে গিয়েছিল অনেক নিচে। কিন্তু লিগের শেষ দুইটি ম্যাচ জিতে আবারও শিরোপার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে চেলসি। গতকাল বহুদিন পর দ্রগবা, আনেলকা, মালুদার দুর্দান্ত পারফরমেন্সে চেলসি পেয়েছে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানের জয়। গত অক্টোবরের পর এটিই প্রতিপক্ষের মাঠে চেলসির প্রথম জয়। পয়েন্ট তালিকাতেও উঠে এসেছে চতুর্থ স্থানে। এখন সামনে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে লিগ ম্যাচদুটিই চেলসির ভাগ্য গড়ে দেবে বলে মনে করছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ২৩ ম্যাচ শেষে চেলসির পয়েন্ট ৪১। অন্যদিকে এক ম্যাচ কম খেলেই শীর্ষস্থান ধরে রাখা ম্যানচেস্টার ইউনাটেডের পয়েন্ট ৪৮।
লিগের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ফর্মে আছে ম্যান ইউ। ২২ ম্যাচের একটিতেও এখন পর্যন্ত হারের মুখ দেখেনি ফার্গুসনের শিষ্যরা। কিন্তু চেলসিই, ম্যান ইউকে প্রথম হারের স্বাদ দিতে পারবে বলে বিশ্বাস করেন আনচেলত্তি। গতকাল দলের ৪-০ গোলের জয়ের পর এই ইতালিয়ান কোচ বলেছেন, ‘পয়েন্ট তালিকার ব্যবধান কমিয়ে আনাটা সহজ না। কারণ এই মুহূর্তে ম্যান ইউ অনেকটা এগিয়ে আছে। কিন্তু আমাদেরকে সর্বোচ্চ চেষ্টাটা করতে হবে লড়াইয়ে ফেরার। আর ধাপে ধাপে সেই কাজটা করতে পারব বলেই আমি বিশ্বাস করি। আর আমরা যদি পয়েন্ট ব্যবধান কমাতে চাই তাহলে অবশ্যই তাদের বিপক্ষে আমাদের জিততে হবে।’
মার্চের ১ তারিখে লিগের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটায় ম্যান ইউয়ের মুখোমুখি হবে চেলসি। নিজেদের অবস্থা এই মুহূর্তে কিছুটা দুর্যোগপূর্ণ হলেও প্রথম লেগের খেলাটা নিজেদের মাঠে হবে বলেই রেড ডেভিলদের হারানোর ব্যাপারে আরো বেশি আত্মবিশ্বাসী চেলসি কোচ আনচেলত্তি।

ব্যাটসম্যানরা ঠিকভাবে অনুশীলন করেননি: ধোনি

স্বপ্নটা ছিল অনেক বড়ই। দক্ষিণ আফ্রিকাকে তাঁদের মাটিতে বধ করা। টেস্ট সিরিজে জয়-পরাজয় কোনোটারই নিষ্পত্তি না হলেও ওয়ানডে সিরিজটা হেরেই বসে আছে ভারত। বিশ্বকাপের আগে সিরিজ পরাজয়, ব্যাটসম্যানদের ফর্মহীনতা—ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসরে প্রভাব পড়বে কি না, এমন প্রশ্নেরই মুখোমুখি এখন ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। তবে, ধোনি দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ানডে সিরিজ পরাজয়ের কোনো প্রভাব বিশ্বকাপে পড়বে না বলেই মনে করেন। ধোনি জানিয়েছেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বিশ্বকাপে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।’
বিশ্বের সেরা ব্যাটিং লাইনআপ নিয়ে কম গর্ব নেই ভারতের। দলটিতে শচীন টেন্ডুলকার, বীরেন্দর শেবাগ, গৌতম গম্ভীর, বিরাট কোহলির মতো ব্যাটসম্যানরা রয়েছেন। যদিও ইনজুরি এই সিরিজে শেবাগ-গম্ভীরকে খেলতে দেয়নি, টেন্ডুলকারকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়েছে, এর পরও ব্যাটিংটা যে ভয়াবহ খারাপ হয়েছে, মানছেন ধোনিও। সাম্প্রতিককালে ভারতের ব্যাটিং এতটা নড়বড়ে কখনোই মনে হয়নি, যতটা না হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। এ ব্যাপারে ঢাল হিসেবে ধোনি স্বীকার করেছেন, ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের অনুশীলন-স্বল্পতার কথা। জানিয়েছেন, অনেক শীর্ষ ব্যাটসম্যানই নাকি ঠিকমতো অনুশীলন করেননি। অথচ বছরে ৩০-৩৫টি করে ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা তাঁদের! পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিং করা যাঁদের কাছে কোনো ব্যাপারই নয়। তবে এর পাশাপাশি ধোনি বলেছেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেট ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের জন্য সহায়ক ছিল না।’
ব্যাটসম্যানদের সমালোচনায় বিদ্ধ করলেও এই দলের বাইরেই রাখলেন ইউসুফ পাঠানকে। তিনি বলেছেন, ‘ব্যাটিংটা কীভাবে করতে হয়, অন্যরা ইউসুফের কাছ থেকে শিখতে পারে। সে প্রতি ম্যাচেই কয়েকটা বল খেলেই পরেরগুলো থেকে সপাটে চালিয়েছে। চাইলে এই উইকেটে যে শট খেলা যায়, সেটা ইউসুফ দেখিয়েছে।’

আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান ও মহাসচিব বরখাস্ত

নয়াদিল্লি কমনওয়েলথ গেমসের আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান সুরেশ কালমাদিকে দুর্নীতির অভিযোগে গতকাল সোমবার বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া কমিটির মহসচিবের পদ থেকে ললিত ভানতকেও বরখাস্ত করা হয়েছে।
ভারতের ক্রীড়ামন্ত্রী অজয় মাকেন বলেন, ‘আমরা অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছ থেকে আইনি পরামর্শ চেয়েছি। তিনি আমাদের বরখাস্ত করার কথা বলেছেন।’ গত অক্টোবরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত কর্মকর্তারা সুরেশ কালমাদিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তবে কালমাদি ও ভানত উভয়েই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আরও চারটি পত্রিকা উইকিলিকসের তথ্য প্রকাশ করবে

নরওয়ের দৈনিক আফটেনপোস্টেনসহ আরও চারটি পত্রিকা উইকিলিকসের গোপন তথ্য প্রকাশ করবে। সুইডিশ দৈনিক সভেনস্কা দাগব্লাদেত-এর নির্বাহী পরিচালক মার্টিন জনসন জানান, নরওয়ের দৈনিক আফটেনপোস্টেনসহ ডেনমার্ক, জার্মানি ও সুইডেনের চারটি বহুল প্রচারিত পত্রিকা উইকিলিকসের তথ্য প্রকাশ করবে।
জনসন জানান, অপর তিনটি পত্রিকা হচ্ছে, সুইডিশ দৈনিক সভেনস্কা দাগব্লাদেত, জার্মানির দাই ওয়েল্ত ও ডেনমার্কের পলিতিকেন। তিনি বলেন, নথির পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় কৌশলগত দিক থেকে দলবদ্ধভাবে কাজ করলে এসবের প্রকাশকাজ সহজ হবে।এর আগে সাড়াজাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকস গোপন নথি ধীরে ধীরে প্রকাশের জন্য পাঁচটি বৃহৎ পত্রিকা নিউইয়র্ক টাইমস, ফ্রান্সের লা মঁদ, স্পেনের এল পাইস, ব্রিটেনের দ্য গার্ডিয়ান ও জার্মানির দের স্পিগেল-এর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। আফটেনপোস্টেন গত ডিসেম্বরের শেষ সময় থেকে উইকিলিকসের গোপন নথি প্রকাশ শুরু করে।বর্ষসেরা অ্যাসাঞ্জ: উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে বর্ষসেরা অ-অস্ট্রেলীয় (আন অস্ট্রেলিয়ান) নির্বাচিত করেছে অস্ট্রেলিয়ার একটি ম্যাগাজিন। লাখ লাখ গোপন মার্কিন কূটনৈতিক নথি ফাঁস করে বিশ্বজুড়ে হইচই ফেলে দেওয়ায় তাঁকে এ সম্মানে ভূষিত করে ম্যাগাজিনটি।

তদন্ত চলার সময়ও যৌনকর্মীর পাওনা মেটান বেরলুসকোনি

তদন্ত চলাকালীন সময়েও ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনি এক যৌনকর্মীর পাওনা পরিশোধ করেছেন বলে নতুন প্রমাণ মিলেছে। প্রধানমন্ত্রীর হিসাব থেকে ১৭ জানুয়ারি মডেল ও যৌনকর্মী আলেসান্দ্রা সর্সিনেলিকে ১০ হাজার ইউরো দেওয়া হয়।
অপ্রাপ্তবয়স্ক যৌনকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন এবং তা ঢাকতে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের তদন্ত শুরুর মাত্র চার দিন পরই এ ঘটনা ঘটে। আলেসান্দ্রার ব্যাংক হিসাবের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ১১ জানুয়ারি ২০১০ থেকে ১৭ জানুয়ারি ২০১১ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর হিসাব থেকে ১৩ কিস্তিতে আলেসান্দ্রাকে মোট এক লাখ ১৫ হাজার ইউরো দেওয়া হয়েছে। একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অর্থ একটি প্রাথমিক স্কুলশিক্ষকের বার্ষিক বেতনের চার গুণ।
পুলিশ মিলান শহরের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে আলেসান্দ্রাসহ বিভিন্ন নারীর সঙ্গে বেরলুসকোনির অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি উদ্ধারের পর প্রধানমন্ত্রীর কেলেঙ্কারির ঘটনা ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

আইভরি কোস্টে কোকো রপ্তানি বন্ধের নির্দেশ ওয়াতারার

আইভরি কোস্টের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নেতা আলাসেন ওয়াতারা গতকাল সোমবার থেকে এক মাসের জন্য কোকো ফল ও কফি রপ্তানি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। ওয়াতারার কার্যালয় এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বের সর্ববৃহৎ কোকো উৎপাদনকারী দেশের সরকার এক মাসের জন্য কোকো ও কফি রপ্তানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কথা উৎপাদনকারীদের জানিয়েছে। আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে ধরে নেওয়া হবে সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক লরা বাগবোর অবৈধ শাসনব্যবস্থায় অর্থের জোগান দিচ্ছে। গত ২৮ নভেম্বর আইভরি কোস্টের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দেশটির স্বাধীন নির্বাচন কমিশন বিরোধী প্রার্থী ওয়াতারাকে জয়ী ঘোষণা করে। তবে প্রেসিডেন্ট বাগবো নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে ক্ষমতা ধরে রেখেছেন।

ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস বর্জনের ডাক বিচ্ছিন্নতাবাদীদের

প্রতিবছরের মতো এবারও উত্তর-পূর্ব ভারতের নিষিদ্ধঘোষিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলো দেশটির প্রজাতন্ত্র দিবস বয়কটের ডাক দিয়েছে।আগামীকাল ২৬ জানুয়ারি সারা ভারতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করা হবে।
প্রজাতন্ত্র দিবস বয়কটের ডাক দেওয়া সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসাম (উলফা), ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট অব বোরোল্যান্ড (এনডিএফবি), মণিপুর পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (এমপিএলএফ), ত্রিপুরা পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (টিপিডিএফ), ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট অব ত্রিপুরা (এনএলএফটি) ও কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশন (কেএলও)। উলফার সামরিক শাখার প্রধান পরেশ বড়ুয়া, এনডিএফবির সহসভাপতি জি রিফিখাং, এমপিএলএফের আহ্বায়ক পামবেই, টিপিডিএফের সভাপতি রঞ্জিত দেববর্মা এবং এনএলএফটি ও কেএলওর সাধারণ সম্পাদকেরা এক ই-মেইল বার্তায় প্রজাতন্ত্র দিবস বয়কটের এই ডাক দেন।
এদিকে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোর এই ঘোষণার পর উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।বাংলাদেশ সীমান্ত সিল: প্রজাতন্ত্র দিবস সামনে রেখে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সম্ভাব্য নাশকতা রোধে আগাম সতর্কতা হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্ত সিল করে দেওয়া হয়েছে। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সূত্র এ কথা জানায়।এ ছাড়া নিরাপত্তাজনিত কারণে আগরতলার সঙ্গে আসামের কাছারের রাতের ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত এই নির্দেশ বলবৎ থাকবে।

পূর্ব জেরুজালেমের বেশির ভাগই ছাড়তে রাজি ছিল ফিলিস্তিন

পূর্ব জেরুজালেমের প্রায় সব ইহুদি বসতি ইসরায়েলকে ছেড়ে দেওয়ার গোপন প্রস্তাব দিয়েছিল ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। আল-জাজিরা টেলিভিশনের ফাঁস করে দেওয়া গোপন নথি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। তবে ফাঁস করা তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। এদিকে এই গোপন তথ্য ফাঁসের পর ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তীব্র সমালোচনা করেছে হামাস।আল-জাজিরার পাওয়া নথিপত্র থেকে এ ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে অবৈধভাবে দখল করে নেওয়া পূর্ব জেরুজালেমের বড় একটি অংশ ইসরায়েলকে ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছিল ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। তবে ইসরায়েল ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বলেই আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে।প্রধান ফিলিস্তিনি আলোচক সায়েব এরাকাত ফাঁস করা তথ্যকে ‘এক প্যাকেট মিথ্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।আল-জাজিরা জানায়, ফিলিস্তিন, ইসরায়েল ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যকার বৈঠক, ই-মেইল ও যোগাযোগের ১৬ হাজার ৭৬টি গোপনীয় নথি তাদের কাছে রয়েছে। তথ্যগুলো ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যকার।সায়েব এরাকাত বলেন, ফিলিস্তিনি নেতাদের লোকানোর কিছু নেই। তিনি বলেন, যদি তাঁরা এত বড় ছাড় দেন, তাহলে কেন ইসরায়েল শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করতে রাজি হয়নি।ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসও ফাঁস করা তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যকার বর্তমান শান্তি আলোচনা কয়েক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। ফিলিস্তিনের অধিকৃত ভূমিতে বসতি নির্মাণ বন্ধ রাখতে ইসরায়েল অস্বীকৃতি জানানোয় আলোচনা স্থগিত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণ ও নিজেদের নেতৃত্বের দুর্বলতা—এসব নিয়ে এমনিতেই অনেক ফিলিস্তিনির মধ্যে ক্রমবর্ধমান হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ অবস্থায় এসব নথিপত্র ফাঁস হওয়ায় তাঁদের হতাশা ও ক্ষোভ আরও বাড়বে।২০০৮ সালের মে মাসে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের আলোচকদের মধ্যকার বৈঠকের হুবহু রেকর্ড প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা। নথিপত্রে বলা হয়, ১৯৬৭ সাল থেকে পূর্ব জেরুজালেমের আশপাশে গড়ে তোলা প্রায় সব ইহুদি বসতি ও উপশহরকে ইসরায়েলের অধীনে থাকতে দিতে রাজি ছিল ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। নথিপত্র থেকে এই বিষয়টি পরিষ্কার হয় যে ফিলিস্তিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ছাড় দিতে রাজি ছিল।১৯৬৭ সাল থেকে পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীর দখল করে রেখেছে ইসরায়েল। সেখানকার ১০০টিরও বেশি বসতিতে প্রায় পাঁচ লাখ ইহুদি বাস করে থাকে।২০০৮ সালের মে মাসে ফিলিস্তিনের আলোচকদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আহমেদ কোরাই। আল-জাজিরার তথ্যমতে, একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছার জন্য তিনি ওই সময় হার হোমা বসতি ছাড়া পূর্ব জেরুজালেমের সব বসতি ইসরায়েলের অধিকারে থাকতে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। খবরে বলা হয়, আহমেদ কোরেই বলেছিলেন, ‘ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আমরা এ ধরনের প্রস্তাব দিয়েছি।’২০০০ সালে ক্যাম্প ডেভিডের আলোচনায় যতটা ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, ওই ছাড় ছিল তার চেয়েও বেশি।সায়েব এরাকাত বলেছিলেন, ‘ইহুদি ইতিহাসে আমরা আপনাদের সবচেয়ে বড় ইয়েরুশালায়িমের প্রস্তাব দিচ্ছি।’ হিব্রু ভাষায় জেরুজালেমকে ইয়েরুশালায়িম বলা হয়।এদিকে নথি প্রকাশের পর ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তীব্র সমালোচনা করে হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জুহরি বলেন, নথি থেকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নোংরা চেহারা উন্মোচিত হয়েছে। এ ছাড়া দখলদারির সঙ্গে তাদের সহযোগিতা কতটুকু, তাও উন্মোচিত হয়েছে এই নথি থেকে। তিনি বলেন, আল-জাজিরায় যেসব নথি প্রকাশ করা হয়েছে, তা গুরুতর।

তাজিকিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্প

তাজিকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় পাহাড়ি এলাকায় গতকাল সোমবার সকালে শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ ও তাজিক কর্তৃপক্ষ জানায়, রিখটার স্কেলে এর তীব্রতা ছিল ৬ দশমিক ১। এতে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সময় সকাল পৌনে আটটার দিকে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল কারকুল লেকের ১০৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে চীন সীমান্ত-সংলগ্ন এলাকায়।

পতনের দ্বারপ্রান্তে আইরিশ সরকার

আয়ারল্যান্ডে রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। গ্রিন পার্টি গতকাল সোমবার সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় পতনের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রী ব্রায়ান কোয়েনের সরকার। চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্থনৈতিক বিল পাস হওয়াও এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
নেতৃত্ব নিয়ে কোন্দলের কারণে প্রধানমন্ত্রী ব্রায়ান কোয়েন গত শনিবার ক্ষমতাসীন ফিয়ানো ফল পার্টির প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। দলীয় প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ায় বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর ক্ষমতায় থাকার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তারা পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে শিগগিরই নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানায়।
প্রধানমন্ত্রী কোয়েনকে নিয়ে যখন বিতর্ক চলছে, ঠিক তখনই শরিক দল গ্রিন পার্টি কোয়েনের সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়। এর ফলে কোয়েন সরকারের পতন এখন সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, কোয়েন দলীয় প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোয় ক্ষমতাসীন ফিয়ানো ফল পার্টি এখন নেতৃত্বশূন্য। পার্লামেন্টেও সৃষ্টি হয়েছে বেহাল অবস্থা। এ কারণে আগামী ১১ মার্চ সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী ব্রায়ান কোয়েন গত মাসে মন্ত্রিসভায় ব্যাপক রদবদল করেন। এরপর থেকেই তাঁকে দলীয় প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দিতে দলের ভেতরে জোর তৎপরতা শুরু হয়। এর প্রেক্ষাপটে গত শনিবার স্বেচ্ছায় দলীয় প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত দেশ পরিচালনার দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।

সালমান তাসিরের আত্মস্বীকৃত খুনি আদালতে

পাকিস্তানের পাঞ্জাবের গভর্নর সালমান তাসিরের আত্মস্বীকৃত খুনি তাঁর দেহরক্ষী মালিক মুমতাজ হোসেইন কাদরিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে গতকাল সোমবার আদালতে হাজির করা হয়েছে। বিচারের প্রাথমিক শুনানির জন্য তাঁকে রাওয়ালপিন্ডির আধিয়ালা কারাগারের আদালতে নেওয়া হয়।
ব্লাসফেমি আইনের বিরুদ্ধে সোচ্চার এই গভর্নর গত ৪ জানুয়ারি নিজ দেহরক্ষীর গুলিতে নিহত হন।
সালমান তাসিরের মৃত্যুতে পাকিস্তানজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। রক্ষণশীল ধর্মীয় অনেক সংগঠনের কর্মীরা রাস্তায় নেমে উল্লাস প্রকাশ করে এবং কাদরির পক্ষে স্লোগান দেয়।
গতকাল কাদরিকে বিচারের জন্য আদালতে হাজির করা হলে জেলখানার বাইরে একটি ইসলামি যুবদলের প্রায় ৩৫ জন সমর্থক সমবেত হয়। তারা কাদরির পক্ষে স্লোগান দিতে থাকে।
কাদরির আইনজীবী সুজা রহমান বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করার পর শুনানির ওপর ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দেন আদালত। তিনি বলেন, ‘আমরা কারাগারে কাদরির সঙ্গে দেখা করেছি। তাঁকে একটি নির্জন কক্ষে রাখা হয়েছে, যা নির্যাতনের আরেক রূপ।

তিউনিসিয়ায় বিক্ষোভ অব্যাহত

তিউনিসিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বাইরে গতকাল সোমবার সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। এদিকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যোগ দিতে গ্রাম থেকে ‘মুক্তি কাফেলা’ নামে শত শত মানুষ রাজধানী তিউনিসে এসে জড়ো হয়েছে।
গতকাল থেকে স্কুলগুলো খুলে দেওয়ার কথা। প্রেসিডেন্ট জয়নুল আবেদিন বেন আলীর পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষকেরা ধর্মঘটের ডাক দেওয়ায় দেশটিতে অনেক বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। প্রবল গণ-আন্দোলনের মুখে ১৪ জানুয়ারি দেশ থেকে পালিয়ে যান বেন আলী।
প্রধানমন্ত্রী ঘানুচিসহ ক্ষমতাচ্যুত সরকারের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে নতুন সরকারে অন্তর্ভুক্ত করায় দ্য জেনারেল ইউনিয়ন অব তিউনিসিয়ান ওয়ার্কার্স (ইউজিটিটি) নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। নতুন সরকার ঘোষণার পর থেকে প্রতিদিনই দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীরা বেন আলীর শক্তিশালী আরসিডি পার্টি ভেঙে দেওয়ারও দাবি জানাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী ঘানুচি ১৯৯৯ সাল থেকে দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, নির্বাচনের পরই তিনি রাজনীতি থেকে পদত্যাগ করবেন। ঘানুচি বলেছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচনের আয়োজন করা হবে।
সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা, রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি, বেন আলীর শাসনামলে নিষিদ্ধঘোষিত রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধনসহ অনেকগুলো অভূতপূর্ব গণতান্ত্রিক সংস্কারের কথা ঘোষণা করেছে নতুন সরকার। এদিকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যোগ দিতে শত শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে গ্রাম থেকে রাজধানীতে জড়ো হয়েছে হাজারো মানুষ। রাজধানী অভিমুখে জনতার এই যাত্রাকে ‘মুক্তি কাফেলা’ হিসেবে বর্ণনা করছে বিক্ষোভকারীরা।
প্রায় ৫০ কিলোমিটার পথ হেঁটে এসে তিউনিস অভিমুখী বাসে ওঠে বিক্ষোভকারীরা। গত রোববার বিক্ষোভকারীরা রাজধানী তিউনিসে প্রবেশ করে। এরপর তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে একত্র হতে শুরু করে। প্রধানমন্ত্রী ঘানুচির দপ্তরের বাইরে বিক্ষোভকারীদের বেশির ভাগই ছিল গ্রামের মানুষ। রাত্রিকালীন কারফিউ উপেক্ষা করে রাতে তারা ভবনের বাইরে অবস্থান নেয়। বিক্ষোভকারীরা পার্শ্ববর্তী অর্থ মন্ত্রণালয় ভবনের কাচ ভাঙচুর করে।
রাতে রাজধানীতে কোনো ধরনের সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সোমবার সকালে বিক্ষোভকারীরা পাথর ছোড়ার পর দাঙ্গা পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।

‘যুক্তরাষ্ট্র আগামী দুই দশকও অপ্রতিদ্বন্দ্বী থাকবে’

চীনের একজন ঊর্ধ্বতন নীতিনির্ধারক বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আগামী দুই দশক পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতি ও সামরিক শক্তির ক্ষেত্রে অপ্রতিদ্বন্দ্বী থেকে যাবে। বিশ্বজুড়ে দেশটির যে আধিপত্য চলছে, তা এ সময়ের মধ্যে রোখা যাবে না। তাই দেশটির সঙ্গে বিরোধে না জড়িয়ে সব ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রেখে চলার জন্য তিনি চীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের কিছু দিন আগে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণ-বিষয়ক বিভাগের উপপরিচালক লি ইউচেং তাঁর লেখা এক নিবন্ধে এ মন্তব্য করেন। নিবন্ধটি গতকাল সোমবার চীনের ফরেন অ্যাফেয়ার্স রিভিউ-এ প্রকাশিত হয়েছে।
ওই নিবন্ধে লি ইউচেং বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রই। এর কোনো তুলনা নেই। দেশটি বিশ্ব অর্থনীতির এক চতুর্থাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, নতুন নতুন আবিষ্কার এবং সামরিক শক্তিতে এটি অতুলনীয়। তাই যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি ও সামর্থ্যকে আমাদের খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা দেশটির আরও অনেক দিন থাকবে। অন্তত ২০ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত থাকবে, সেটা প্রায় নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।
লি ইউচেং জোর দিয়ে বলেন, চীন উদিয়মান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে, এ কথাও ঠিক। কিন্তু তাই বলে তাদের আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না। যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবাও ঠিক হবে না চীনের। তারা পশ্চিমাদের চেয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন, এমনটি মনে করা হবে অনুচিত।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াং জিয়েচিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই প্রকাশনায় একটি নিবন্ধ লিখেন। তাতে তিনি লিয়ের কথার কিছুটা প্রতিধ্বনি করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর লেখায় উল্লেখ করেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামনে এখনো অনেক সমস্যা রয়ে গেছে। অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে তাদের। ২০১০ সালে চীনকে অনেক আন্তর্জাতিক বিবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি, জাপানের সঙ্গে ভূখণ্ড নিয়ে বিরোধ, উত্তর কোরিয়া প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়া ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ করেন।
লি অবশ্য এসব বিষয় আমলে না নিয়ে বলেন, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান সমস্যার সমাধান সামরিক মহড়া দিয়ে সম্ভব নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চীনের কখনোই উচিত হবে না নিজেদের শক্তি ও সামর্থ্য বৃথা কাজে ব্যয় করা এবং বিভিন্ন ইস্যুতে যক্তরাষ্ট্রকে উসকে দেওয়া। শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মানসিকতা বা ইচ্ছে থাকাটাও তাদের উচিত হবে না বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে মেইল অন লাইনের এক খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অনুকরণে চীন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যে স্টিলথ জঙ্গি বিমান তৈরি করেছে, সেটার কায়দাকানুন তারা রপ্ত করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১১৭ নাইটহক বিমান থেকে। ওই বিমানটি ১৯৯৯ সালে সার্বিয়ায় গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছিল। পরে চীন ওই বিমানের বিভিন্ন দিক অনুসরণ করে জে-২০ স্টিলথ বিমান তৈরি করে। চীন গত মাসে ওই বিমানের সফল পরীক্ষা চালায়।