Wednesday, August 14, 2019

জাম্বুরা ফুল by তানজিদ শুভ্র

সেদিন শুভ্র প্রাইভেট ক্লাসে বসে অংক কষছিল হাসিমুখেই। যখন ক্লাসে ঢুকছিল তখনই শুভ্র ফুলের সুভাষ পায়। ফুল নিয়ে শুভ্রর জ্ঞান মোটামোটি কম। তাই বুঝতে পারেনি এটা কোন ফুলের ঘ্রাণ। তবে এটা খুব সহজেই বুঝতে পারে ফুলের এই মিষ্টি সুভাষ আসছে পেছনের বেঞ্চের মেয়েটার হাতের ওই ফুল থেকে। সাদা একটা ফুল হাতে রেখে মেয়েটাও অঙ্ক কষছিল। শুভ্র যতদূর জানে মেয়েটার নাম ফারহা। অঙ্ক কষার পাশাপাশি ফারহা’র ফুলের দিকে নজর বুলিয়ে নিয়েছিল শুভ্র। মন থেকে ফুলটা পেতে ইচ্ছে করলেও কিছুই বলতে পারছিল না শুভ্র।

মন চাইলেও তো আর সব কিছু হয় না। তাই মন স্থির করে নিল। হঠাৎ পাশের বেঞ্চের রাব্বিকে ডাক দিয়ে শুভ্র বলল:

– কিরে, ফারহার হাতের ফুলটা আনতে পারবি?

– এটা আর কী এমন ব্যাপার? পারবো।

– আচ্ছা, পারলে এনে দিস।

– তিন-চার মিনিট অপেক্ষা কর।

– আরে এখন না, ছুটির সময়।

নিষেধ না মেনে মিনিট চারেক পর পাশ থেকে রাব্বী শুভ্রর হাতে কিছু একটা দিল। খুলে দেখে সাদা ফুল হাতে আর ফারহার হাত ফাঁকা। মনে হচ্ছে হাতে হাতে বন্ধন না, বিবাদ হবে। কী করবে এবার! ফারহার সাথের বান্ধবীগুলোও ঘটনা বুঝে হাসছিল খুব। হয়ত শুভ্রকে দুএকটা বকাও দিতে চেষ্টা করছিল। শুভ্র লক্ষ্য করল আড় চোখে ফারহা তাকিয়ে আছে ওর দিকে।

শুভ্র চেষ্টা করল মুখে বিষন্নতার ছোঁয়া লাগাতে। শুভ্র এবার রাব্বিকে দিয়ে ফুল ফারহার বেঞ্চে রেখে দিয়ে আরও একবার হাসির পাত্র হয়। হাসাহাসি শেষ না হতেই ছুটি হয়ে গেল। ফারহা চলে গেল। সাদা ফুল পড়ে রইল বেঞ্চে। আবির হাতে নিয়ে একটা পাঁপড়ি দিল শুভ্রকে। সাদা ফুলের সুভাষ মন কেড়ে নেওয়ার পরও দিনের প্রস্থান হয় ইতিবাচকতার সাথে।

পরদিন প্রাইভেট ক্লাসে আধাঘণ্টা পর গিয়ে ফারহার পাশের সিটে বসতে হয় শুভ্রকে। হয়ত শুভ্রর অনুপস্থিতে কারও আলোচনার বিষয় ছিল গতকালের ফুল কিংবা কারও মায়াবী দৃষ্টি “শুভ্র” নামক অবয়ব খুঁজেও ব্যর্থ হয়েছে। না খুঁজলেও দোষ নেই তাতে। শুভ্র ভাবছিল কী হবে আজকে? বিভাদ নাকি বন্ধন। যাই হউক, কেউ কিছু না বললেও ফারহাকে শুনিয়ে ক্ষীণ কন্ঠে শুভ্র ছড়া কাটে। ছড়ার শ্রী ছিল এমন-

ফুল চুরিতে যদিও আছে পাপ,

পারলে করে দিও মাফ।

ভালোবেসে পুষিয়ে দিব তোমার যত রাগ!

করো না আর মান অভিমান…।

ওইদিন প্রাইভেট শেষে বের হয়ে শুভ্র দেখে সামনের জাম্বুরা গাছে ঝুলছে একইরকম ফুল। আবির দুই থোকা ফুল নিয়ে শুভ্রকেও দেয় একটি। আগেরদিন যে ফুলের সুগন্ধ নিয়েছিল ফারহার কাছ থেকে সেইরকম ফুল নিজের হাতে নিয়ে ফারহার পথ অতিক্রম করে শুভ্র। পরদিন শুভ্র প্রাইভেটে যায় নি। শুভ্র ঘুরতে যাওয়ায় প্রাইভেটে না আসার কথা রাব্বী জানত। কিন্তু রাবব্বীও আসে নি প্রাইভেটে। সবার অজানা রয়ে গেলেও ভিন্ন চোখে না আসার কারণ খুঁজে ফারহা। সঠিক সমাধান না পেলেও ভাবে লাজুক ছেলেটা হয়ত ওইদিনের হাসাহাসির কারণে লজ্জা পেয়ে বসে থেকে আজ আসে নি। তারপরের দিনেও শুভ্র’র অনুপস্থিতি ছিল বেশ কয়েকজনের আলোচনার টুকরো বিষয়। বন্ধুহীন শুভ্রর কথা জানার কোন পথ না থাকায় শুধু অপেক্ষার বাতায়ন খোলা ছিল।

সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবারে শুভ্রর দেখা মিলে প্রাইভেট ক্লাসে। কিন্তু ঐদিন ফারহা না আসায় মান অভিমান ঠিক কাটিয়ে উঠে নি। আবির, রাব্বী, ফারাবী সবাই মজা করলেও শুভ্র’র অন্বেষণের দৃষ্টিতে ছিল ফারহার লাবণ্যময়ী বদনখানি। খুঁজে না পেয়েও আক্ষেপ না করে শনিবার বিকেলের অপেক্ষায় বাড়ি ফিরে শুভ্র।

সাপ্তাহিক ছুটি কাটিয়ে শনিবার বিকেলে যখন শুভ্র প্রাইভেটের সামনে আসে তখন ফারহাকে ঐ গাছতলায় দেখে পাশে দাঁড়ায়। আশেপাশে কেউ না থাকায় শুভ্রকে সজোরে ধাক্কা দেয় ফারহা। শুভ্র চমকে যায়। ফারহার সাথে আগে কখনোও কথাও হয় নি। আর আজ প্রথমেই এত জোরে ধাক্কা! কারণ জানতে চাওয়ার আগেই ফারহা প্রশ্ন করে শুভ্রকে; শুরু হয় কথোপকথন।

– এই ছেলে, এতদিন কোথায় ছিলে তুমি?

– আমি? কয়দিন?

– হ্যাঁ, তুমিই। চারদিন পর আজ দেখলাম।

– ইইই! তুমিই তো বৃহস্পতিবার আস নি।

– তো?

– আমি আসছিলাম তো।

– হুহ।

– এখন বলুন তো, আমাকে ধাক্কাই কেন দিলেন আর নিজেই পড়ে যাওয়া থেকে বাঁচালেন কেন?

– কিছু নাহ্।

– আচ্ছা।

রুমে ঢুকার ঠিক আগে ফারহা শুভ্র’র ব্যাগের এক পকেটে একটা গোলাপ রাখলেও শুভ্র টের পায় নি আদৌ। বাড়ি ফিরে যখন শুভ্র গোলাপে সন্ধান পায় তখন সাথে একটা চিরকুটও দেখতে পায়। চিরকুটে লেখা- ‘এত অভিমান?’ একটু ভাবনার পরেই বুঝতে পারে ফারহা-ই এই চিরকুটের প্রেরক। শুভ্র’র পক্ষ থেকে কোন উত্তর পায় নি ফারহা। তবে এখন একটু আধটু কথা হয় ওদের। ধীরে ধীরে বন্ধুত্বের পর্যায়ে পৌঁছলেও মান অভিমান ঠিকই থাকে ওদের মাঝে। সপ্তাহে একদিন হলেও অভিমান করে কাটাতে হয় ওদের। এ যেন ওদের নিত্য রুটিন। অভিমানের কারণগুলো যতই নগণ্য হউক না কেন ভাঙতে লাগত ঠিক একদিন।

প্রথম দিনের ঘটনার দুই মাস পর শুভ্রর জন্মদিন ছিল। যদিও বন্ধুবান্ধবদের কেউ জানতই না তবুও সাদা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় ফারহা। জন্মদিনের সূত্র জানতে চাইলে ফারহা জানায় শুভ্রর আইডি কার্ড লুকিয়ে নিয়ে পিছন থেকে খুব কষ্ট করে জেনেছে। শুভ্র অবাক হয়। কারণ, কোন বন্ধুই যেখানে জন্মদিন জানার পরও শুভেচ্ছা জানায় না সেখানে মেয়েটা জন্মদিন খুঁজে বের করতে লুকিয়ে আইডি কার্ড দেখে। সেই থেকেই ধীরে ধীরে মান অভিমান ভাঙা গড়ার ছোট্ট কুটির তৈরি হয়। সাদা ফুল হয় সেই কুটিরের অলংকার।

হঠাৎ একদিন শুভ্র’র মনে একটা প্রশ্ন জাগে।

– জাম্বুরা ফুল কি আসলেই সুগন্ধ ছড়ায় নাকি প্রথম দিনে পু্ষ্পপ্রণয় ছিল অন্য কোন সুভাষে, অন্য কোন মোহে?

স্ত্রীকে হত্যা করে ১৫ টুকরো, ঘাতক স্বামী গ্রেপ্তার

গাজীপুরে স্ত্রীকে হত্যার পর তার লাশ ১৫ টুকরো করেছে পাষণ্ড স্বামী মামুন মিয়া। পুলিশ ঘাতক মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে। ইলেক্টট্রিক মিস্ত্রী মামুন মিয়ার বাড়ি জেলার কাপাসিয়া উপজেলার বড়ইবাড়ি গ্রামে। বুধবার দুপুরে গাজীপুর পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার প্রেস ব্রিফিং এ তথ্য জানান। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুস সবুর ও শ্রীপুর থানার ওসি লিয়াকত আলী উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার জানান, গাজীপুরের শ্রীপুরের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক নেত্রকোনার বাসিন্দা সুমা আক্তারকে তার স্বামী মামুন মিয়া (২৫) পরিকল্পিতভাবে ঘুমের ওধুষ খাইয়ে গত ৯ই আগস্ট হত্যা করে। পরে মরদেহ বাথরুমে নিয়ে ১৫টি টুকরো করে। মরদেহের মূল অংশ নিয়ে সিংহস্রী ব্রিজ থেকে শীতলক্ষা নদীতে ফেলে দেয়। বাকি ৫ টুকরো গত ১২ই আগস্ট নিহতের স্বজনদের সহায়তায় তাদের বাসার ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার থেকে পলিথিন ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এ সময় একটি বড় আকারের ছোরা ও ট্রাভেল ব্যাগ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঢাকার আশুলিয়া থেকে ঘাতক স্বামী মামুন মিয়াকে মঙ্গলবার গভীর রাতে তার আত্মীয়ের বাস থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহ ও স্ত্রী সুমার জমানো ৪০ হাজার টাকা ভোগ করার জন্যই গার্মেন্টস কারখানা ছুটির দিনে হত্যার পরিকল্পনা করে মামুন। পরিকল্পনা মতো ওইদিন সন্ধ্যায় হালিমের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করে। পরে রাত ১টার দিকে শাসরোধে হত্যা করে। পরদিন ভোর ও সন্ধ্যায় শরীরের মূল অংশ ট্রাভেল ব্যাগে ভরে নদীতে ফেলে দেয়। বাকি ৫টি টুকরো নদীতে ফেলার জন্য পলিথিনে মুড়িয়ে ড্রয়ারে রেখে দেয়।

পরদিন সকালে ভিকটিমের ছোটবোন ওই বাসায় চলে আসায় তা ফেলতে পারেনি বরং ঘাতক মামুন বাসা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

এদিকে, শ্রীপুর থানায় নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা থানার দেবকান্দা গ্রামের নিজাম উদ্দিনের দায়ের করা মামলার বিবরণে জানা গেছে, প্রায় দু’বছর আগে কাপাসিয়ার মামুনের সঙ্গে তার মেয়ে সুমা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে তাদের দু’জনের মধ্যে ঝগড়া-ঝাটি ও কথা কাটাকাটি হতো। গত ৯ই আগস্ট সকালে মামুন তার শ্বাশুড়ির মোবাইল নাম্বারে ফোন দিয়ে জানায়, সুমাকে তাদের বাড়ি যেতে গাড়িতে উঠিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সে বাড়িতে না গেলে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। একপর্যায়ে ১২ই আগস্ট সুমার বোন বৃষ্টি তার এক বান্ধবীকে নিয়ে বোনের ভাড়া বাসায় যায়। ঘরের দরজা খুলে মালামাল গুছানোর একপর্যায়ে দুর্গন্ধ ও ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে রক্তযুক্ত মাংস সদৃশ্যবস্তু দেখতে পেয়ে চিৎকার দিতে থাকে।

এতে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৫টি টুকরো উদ্ধার করে।

নাগরিকত্ব বাদ দেয়ার ভারতের নিষ্ঠুর প্রক্রিয়ার কারণে রাষ্ট্রহীন হবে বহু মিলিয়ন মানুষ by প্রিয়া পিল্লাই

ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় আসাম রাজ্যে শিগগিরই প্রায় ৪ মিলিয়নের মতো মানুষের ভারতীয় নাগরিকত্ব বাতিল করা হবে। বিষয়টা নিয়ে একটু চিন্তা করুন: ৩১ আগস্ট কুয়েত বা নিউ জিল্যান্ডের মতো একটা দেশের জনসংখ্যার সমপরিমাণ মানুষকে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা হবে। একটা অমানবিক, নিষ্ঠুর এবং নির্দয় আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এটা করা হচ্ছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এই প্রক্রিয়াটা এক পর্যায়ে পুরো দেশেই কার্যকর করা হতে পারে।

এই পুরো প্রক্রিয়ার শুরুটা হয়েছে ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেন্স (এনআরসি) তৈরির মধ্য দিয়ে, যে তালিকায় আসামের সমস্ত ভারতীয় নাগরিকদের নাম থাকবে। ১৯৫১ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হচ্ছে কারা ভারতের নাগরিক আর কারা প্রতিবেশী পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে এখানে এসেছে। সরকার এখন এটাকে আপডেট করার চেষ্টা করছে। জানানো হয়েছে যে, ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের আগে ভারতে অবস্থানের দলিল দেখাতে পারলে তাদের নাগরিকত্ব বহাল রাখা হবে। যারা সেটা পারবে না, তাদেরকে তালিকা থেকে বাদ দেয়া হবে, তাদেরকে আটক করা হবে এবং ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণে ব্যর্থ হলে তাদের ফেরত পাঠানো হবে।

তালিকায় অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়াটি কঠিন, ধোঁয়াটে এবং ত্রুটিপূর্ণ। নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য যে ধরনের দলিল প্রয়োজন, যেখানে নাম লিখতে দাপ্তরিক ভুলের কারণে বহু মানুষকে বিপদে পড়তে হয়েছে। বহু আবেদনকারী অশিক্ষিত, তাদের পর্যাপ্ত দলিলাদি নেই এবং বহু দূরে গিয়ে নিজেদের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার মতো আর্থিক সামর্থও তাদের নেই। যাদের নাম তালিকায় যুক্ত হয়েছে, তাদের ব্যাপারেও তৃতীয় পক্ষের অভিযোগের পথ খোলা রাখা হয়েছে। যারা বাদ পড়েছেন, তাদের আপিলের জন্য মাত্র ৬০ দিন সময় দেয়া হয়েছে, এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর আবেদনের জন্য তারা মাত্র এক মাস সময় পাবেন।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় প্রমাণ করার বোঝা চাপানো হয়েছে ব্যক্তির ঘাড়ে, রাষ্ট্রের উপরে নয়। সে কারণে এটা চরম নিষ্ঠুর এবং সহিংসভাবে বিচ্ছিন্নতামূলক একটা প্রক্রিয়া হয়ে উঠেছে।

এই প্রক্রিয়ায় যারা আটকা পড়েছেন, তাদের ভয়াবহ গল্প এরই মধ্যে শোনা যাচ্ছে। তালিকা থেকে বাদ পড়ায় বহু আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটছে। বহু পুরুষ, নারী ও শিশুদের এরই মধ্যে বন্দিশিবিরে পাঠানো হয়েছে এবং এই আইনি প্যাঁচ থেকে তাদের বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা খুবই সামান্য। তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য সেখানে আটক থাকতে পারে এবং এমনকি রাষ্ট্রহীনও হয়ে যেতে পারে, কারণ তাদেরকে ফেরত পাঠানোর কোন জায়গা নেই। বাংলাদেশ এরই মধ্যে তাদের অবস্থান পরিস্কার করে দিয়ে বলেছে যে, এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।

যে প্রতিষ্ঠানটি সরকারকে চরম পর্যায়ে যাওয়া থেকে ঠেকাবে, সেই সুপ্রিম কোর্ট পুরো প্রক্রিয়ায় সরকারকে সমর্থন দিয়ে গেছে। নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য যে সন্দেহজনক প্রক্রিয়ায় কাজ করা হচ্ছে, সেটার অনুমোদন দিয়েছে আদালত। আটকদের ভয়াবহ বন্দিদশা সম্পর্কে সাম্প্রতিক এক শুনানিতে আদালত সরকারকে বলেছে যাতে তাদের দ্রুত স্থানান্তরিত করা না হয়। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের জন্য সময়ও বেধে দিয়েছে আদালত, যেটা এখন ৩১ আগস্ট করা হয়েছে।

সমাজের ‘বিচ্ছিন্নদের’ বিরুদ্ধে জিঘাংসা আর ঘৃণার মাত্রা যেখানে বাড়তে শুরু করেছে, সেখানে এই দুর্বলদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া এবং আমলাতন্ত্রকেও সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে অমানবিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ভারতে, যেভাবে সাম্প্রদায়িকতা এবং উগ্র-জাতীয়তাবাদ যুক্ত হয়ে এত বড় ধরনের বিচ্ছিন্নতার ঘটনা ঘটাচ্ছে, সেটা সত্যিই বিস্ময়কর। এমনকি তারা এ ক্ষেত্রে বিশ্বের মনোযোগ এড়িয়ে যাচ্ছে বলেও মনে হচ্ছে। এই নিষ্ঠুর সিদ্ধান্ত শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর এক মাসেরও কম সময় বাকি আছে। এখনই এটা পরিবর্তন করা দরকার।

জম্মু-কাশ্মির সংকট: সরকারের প্রতি ভরসা রাখতে বললো সুপ্রিম কোর্ট

জম্মু কাশ্মিরের পরিস্থিতিকে ‘সংবেদনশীল' আখ্যা দিয়ে ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,  রাতারাতি অবস্থার বদল হবে না। সেখানকার পরিস্থিতির স্বাভাবিকতা আনতে মোদি সরকারের প্রতি ভরসা রাখতে হবে, তাদের সময় দিতে হবে। কাশ্মিরের অবরুদ্ধ অবস্থার বিরুদ্ধে করা এক মামলার পর্যবেক্ষণে এই অবস্থান জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। দুই সপ্তাহ পর আবার মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
গত ৫ আগস্ট (সোমবার) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। একইসঙ্গে ওই ধারার অধীন ৩৫(এ) বাতিলের মধ্য দিয়ে রাজ্যটির ‘বিশেষ মর্যাদা’ কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর থেকেই জম্মু-কাশ্মির কার্যত অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে।

অবিলম্বে কাশ্মির থেকে কারফিউ তুলে নিতে, টেলিফোন সংযোগ ফিরিয়ে আনতে এবং ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করতে আদালতে আবেদন করেছিলেন এক সমাজকর্মী। জম্মু-কাশ্মিরের দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা ও মেহবুবা মুফতির আটকের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন তেহসিন পুনাওয়ালা। সুপ্রিম কোর্টে আবেদনপত্রে কারফিউ প্রত্যাহারের কথাও উল্লেখ করেছিলেন ওই সমাজকর্মী। মঙ্গলবার সেই মামলারই শুনানি ছিল।

সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি অরুণ মিশ্রর নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি চলছিল। সে সময় বিচারকরা তাদের পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘আমরাও চাই জম্মু-কাশ্মিরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক। তবে এক রাতেই সবকিছুর পরিবর্তন সম্ভব নয়। সরকারের ওপর ভরসা করতেই হবে। আর কেন্দ্রেরও আরেকটু সময় পাওয়া উচিত।'

শুনানিতে আদালতের প্রশ্ন ছিল, পুরো পরিস্থিতি কি পর্যালোচনা করা হচ্ছে? জবাবে কেন্দ্রের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল বলেন, ‘উপত্যকার পরিস্থিতির দিকে কেন্দ্রীয় সরকার সব সময় নজর রেখেছে।' পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘২০১৬-র জুলাই মাসে হিজবুল মুজাহিদিন কমান্ডার বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পরও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। সেই সময়ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সেবার ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এবার এখন পর্যন্ত কোনও প্রাণহানি ঘটেনি।'

জবাবে বিচারপতি বলেন, ‘আমাদের কাছে বাস্তব চিত্র থাকা প্রয়োজন। সময় দিতে হবে। আমাদের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরাতে অপেক্ষা করতে হবে। যদি বদল না হয় তবে আবেদনকারী ফের আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন।'

ভারত কেন আফগানিস্তানে স্থিতিবস্থা চায়?

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প-ইমরান বৈঠকে নিয়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় উত্তপ্ত বিতর্ক সৃষ্টি করার মধ্যে ভারত দৃশ্যত অনুভব করতে পারছে যে এই অঞ্চলে তার স্বার্থগুলো সরিয়ে রাখা হয়েছে। ভারতীয় মিডিয়ায় দুটি বিষয় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। একটি হলো আফগানিস্তান, অপরটি হলো কে-বোমা (কাশ্মীর ইস্যুকে ভারতীয় মিডিয়া এভাবেই অভিহিত করছে)।

গত দশকে আফগানিস্তানে ভারত অবকাঠামো, সামরিক বাহিনী, আমলাতন্ত্র, সংস্কৃতি ও তার প্রক্সি যুদ্ধে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। ভারত চায় না, তার এই বিনিয়োগ বিফলে যাক। নয়া দিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিগুলোতে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে গেছে। ভারতীয় নীতিনির্ধারকেরা সম্ভবত চায় না, আফগানিস্তানে শান্তিপ্রক্রিয়া শিগগিরই গতি লাভ করুক।

বর্তমানে আফগানিস্তানের সাথে সম্পর্কযুক্ত গুরুত্বপূর্ণ সব পক্ষের চেয়ে ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করেছে ভারত। গত মাসে আমেরিকা, রাশিয়া ও চীন বেইজিংয়ে মিলিত হয়েছিল। তারা ভারতকে বাদ দিয়ে আফগান যুদ্ধ সমাপ্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে বলেছে পাকিস্তানকে। অথচ ভারত চেয়েছিল এই অঞ্চলে পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করতে। ভারত এ নিয়ে অনেক কাজ করেছিল। কিন্তু তাতে কিছুই হয়নি।

চাহাবার-মিলাক-জারানজ-দিলারাম-কাবুল রুটের মাধ্যমে আফগান-পাকিস্তান অর্থনীতির প্রাণরেখা হিসেবে বিবেচিত করাচি-কান্দাহার ও করাচি-খাইবার-কাবুল রুট এড়ানোর জন্য ইরান ও আফগান সরকারের সাথে জোট বেঁধেছিল ভারত। তাছাড়া দিল্লি ও কাবুলের মধ্যে বিমানসেতুও প্রতিষ্ঠা করেছিল।

অধিকৃত কাশ্মীরে স্বাধীনতাকামীদের প্রতি পাকিস্তানের কথিত সমর্থনের পাল্টা জবাব হিসেবে ভারত ডুরান্ট লাইনকে উত্তপ্ত রাখতে আফগানিস্তানে প্রক্সি যুদ্ধ চালাচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানি আকাশসীমা লঙ্ঘন করে বালাকোটে কথিত সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে হামলা চালায় ভারত। তথাকথিত সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ভণ্ডুল করে দেয় পাকিস্তানি বিমান বাহিনী। পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পাল্টা আক্রমণে কাশ্মীরে দুটি ভারতীয় জঙ্গিবিমান ভূপাতিত হয়। পরমাণু শক্তিধর দুই দেশের এই সঙ্ঘাতে কাশ্মীর নিয়ে পরমাণু যুদ্ধের শঙ্কার সৃষ্টি হয়। তবে পাকিস্তান সংযমের পরিচয় দেয়।

আফগানিস্তানবিষয়ক ভারতীয় নীতিটি অতীতের চানক্যনীতির আলোকেই প্রণীত। তাতে বলা হয়েছে, প্রতিবেশীর শত্রুর মিত্র হয়ে দুটি রণাঙ্গন সৃষ্টি করবে। ভারত হয়তো ট্রাম্পের ২০২০ সালের নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়টি বুঝতে পারেনি। আফগানিস্তানে বড় ধরনের সাফল্য ছাড়া ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করতে স্বস্তি পাচ্ছেন না। এ কারণে ট্রাম্প-ইমরান বৈঠকে আফগান শান্তিপ্রক্রিয়ার একটি উপায় বের করার দিকে নিবদ্ধ ছিল।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যে তার মিত্রদের আফগানিস্তান নিয়ে একটি মিনি মার্শাল পরিকল্পনা ছাড়া দেশটির যুদ্ধ-পরবর্তী শান্তি স্থায়িত্ব পাবে না। আর আফগানিস্তানে শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় চীন ও রাশিয়ার ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। ডুরান্ট লাইন বরাবর শান্তি কামনা করে চীন। কারণ এতে করে তার ৫৬ বিলিয়ন ডলারের চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর নিরাপদ থাকবে। আর রাশিয়া চায় মধ্য এশিয়ায় যাতে আইএস প্রবেশ করতে না পারে আফগানিস্তান থেকে।

এমন প্রেক্ষাপটে ভারত কেন চায় বর্তমান অবস্থা বহাল থাকুক? বর্তমান অবস্থায় ভারতের নতুন আফগান কৌশল কী হতে পারে?

ভারত যেকোনো মূল্য চায় শান্তিপ্রক্রিয়া বিলম্বিত হোক। এ কারণে সে আফগান এলিটদের বোঝাচ্ছে যে তালেবান-প্রাধান্যবিশিষ্ট সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে তা তাদের জন্য বিপর্যয়ের কারণ হবে। তালেবানকে প্রতিরোধ করার জন্য সে উজবেক, হাজারা ও তাজিকদের মতো অপশতু সম্প্রদায়গুলোকে ব্যবহার করতে চায়।

আবার আফগান সীমান্তে পাকিস্তানকে ব্যস্ত রাখতে পারলে ভারতের পক্ষে কাশ্মীরে সহিংসতা বাড়ানো সহজ হবে।

ইমরান খানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের পরই ভারত তাদের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল করল। ট্রাম্প কিন্তু কাশ্মীর সমস্যার সমাধানে মধ্যস্ততা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। এখন সম্ভবত কাশ্মীর ও আফগানিস্তান- উভয় স্থানেই ভারত সহিংসতা বাড়িয়ে দেবে।

শেষ পর্যন্ত কী ঘটে তা এখন দেখার বিষয়।

আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত প্রস্থানের জন্য এটা কি সঠিক সময়? by জাভেদ হাফিজ

আফগানিস্তানে দ্রুত শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন সবাই যেন উদ্বিগ্ন হয়ে আছে। বহু ইস্যুতে তাদের ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে, যেগুলোর কারণে একটা নতুন শীতল যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তা সত্বেও এখানে তাদের ঐক্যমত রয়েছে। সম্প্রতি তারা পাকিস্তানকে এর সাথে যুক্ত করেছে যাতে আফগান শান্তি প্রক্রিয়াকে জোরদার করা যায়।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চান আগামী বছরের নির্বাচনের আগেই মার্কিন সেনারা দেশে ফিরে যাক। পাকিস্তানে সাম্প্রতিক একটি আফগান শান্তি সম্মেলনে আফগানিস্তানের বিরোধী দলের সদস্য, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, মিডিয়া ও নারী অধিকার গ্রুপগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছিলেন। আমিও সেখানে উপস্থিত ছিলাম। সেখানে পরিস্কার বোঝা গেছে যে আফগানরা যুদ্ধ নিয়ে কতটা ক্লান্ত এবং শান্তির জন্য কতটা উদগ্রিব হয়ে অপেক্ষা করছে।

আফগানিস্তানে শান্তির জন্য বর্তমানে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে, সেটা একেবারে ভিত্তিহীন নয়। দোহাতে মার্কিন-তালেবানদের আলোচনার পরপরই এক ধরনের আন্ত:আফগান আলোচনাও হয়েছে। দোহা আলোচনার পরপরই বেইজিংয়ে তিন বিশ্ব শক্তির প্রতিনিধি ও পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। ওই বৈঠক থেকে আন্ত:আফগান আলোচনার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়া হয়েছে যাতে একটা শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে শৃঙ্খলাপূর্ণ ও দায়িত্বশীলতার সাথে হস্তান্তর করা যায়।

তবে প্রকৃত শান্তি অর্জনের আগে অনেকগুলো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যেগুলো আগে ভাবা হয়নি। তালেবানরা কি বর্তমান সংবিধানের অধীনে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে? আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কি আলোচনা থেকে আলাদা করে দেখতে হবে? আগামী বছরের মধ্যেই মার্কিন সেনা সংখ্যাকে কি একেবারে শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে? আর, সেনাদের যদি পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়, তাহলে শান্তি চুক্তি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের বিষয়টি কারা নিশ্চিত করবে? অস্ত্রবিরতির বিষয়টি কারা পর্যবেক্ষণ করবে যেটা শান্তি চুক্তির জন্য অত্যন্ত জরুরি? আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, টেকসই আফগান শান্তির জন্য আলোচনায় তাড়াহুড়া করাটা কি ঠিক না কি এখানে ধাপে ধাপে এগুনো উচিত?

বিদেশী সেনাদের হঠাৎ সরিয়ে নেয়া হলো সেটা বিপর্যয়কর হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র দেশগুলো যখন আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়েছিল, এরপর সোভিয়েত ইউনিয়ন যখন সেখান থেকে এই প্রত্যাশায় সরি গিয়েছিল যে তারা নিজেরাই নিজেদের দেশকে সামলাতে পারবে, তখন সেখানে রীতিমতো বিপর্যয় নেমে এসেছিল। দীর্ঘ ও রক্তাক্ত ক্ষমতার লড়াই চলেছে এবং তালেবানদের উত্থানের মধ্য দিয়ে তার ইতি ঘটেছে। আকস্মিক সেনা প্রত্যাহার করা হলে সেই ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

কিন্তু ট্রাম্পের অন্যদের বিস্মিত করার একটা প্রবণতা রয়েছে। গত ডিসেম্বরে, তিনি হঠাৎই ঘোষণা দিলেন যে, আফগানিস্তান থেকে অর্ধেক সেনা সরিয়ে নেয়া হবে। এই ঘোষণা তার নিজের মন্ত্রিসভায় ফাটল ধরালো এবং তার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জেমস ম্যাটিস পদত্যাগ করলেন। ২০১৯ সালের প্রথমার্ধে, আফগানিস্তানে ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে এবং দায়েশ এখানে তাদের উপস্থিতি ভালোভাবেই জানান দিয়েছে।

মনে হচ্ছে ট্রাম্পের অধীনস্থ যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রভাব বলয় থেকে আফগানিস্তানকে মুক্তি দিয়ে কর্তৃত্ব চীন ও রাশিয়ার কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত। চীন আফগানিস্তানে আগাম শান্তি চায় কারণ দেশটির অবস্থান চায়না-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোরের উপরে। রাশিয়াও একটা স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ আফগানিস্তান দেখতে চায় কারণ তারা ইস্ট-ওয়েস্ট করিডোরের মাধ্যমে ভারত ও পূর্ব এশিয়ার সাথে সংযোগের চিন্তা-ভাবনা করছে। সংযোগ এই সময়টাতে বহুল উচ্চারিত একটি শব্দ এবং সংযোগ স্থাপিত হলে পুরো এশিয়া অঞ্চলই এখানে লাভবান হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে বাণিজ্য বেড়ে যাওয়ায় পাকিস্তান এখানে অন্যতম প্রধান লাভবান দেশ হিসেবে উঠে আসবে।

যুদ্ধ-বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য আফগানিস্তানকে নিজেদের মতো করে মহাপরিকল্পনা নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া এখানে উন্নয়নের ব্যয় বহন করতে পারে। এর অর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত প্রস্থানের সময় আসলে এখনও আসেনি কারণ আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন আমেরিকারনদেরও অন্যতম আকাঙ্ক্ষা।

>>>জাভেদ হাফিজ সাবেক পাকিস্তানী কূটনীতিক
কাতারের রাজধানী দোহায় আন্ত:আফগান আলোচনায় অংশগ্রহণকারী তালেবান প্রতিনিধি দল, ছবি: এএফপি

ভারতের প্রয়োজন পাকিস্তানের সাথে শান্তিপূর্ণভাবে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করা by লি কিংকিং

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সোমবার জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানে অসন্তুষ্টি সৃষ্টি করেছে। ফলে আঞ্চলিক পরিবেশের আরো অনিশ্চয়তা যোগ করেছে। ভারতের কাশ্মীর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে লড়াই করার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

মোদি ভারত-পাকিস্তান সঙ্ঘাতকে বিজেপির ক্ষমতায় থাকার মর্যাদা সংহত করা ও ভারতীয় জনগণের হৃদয় জয় করার কাজে ব্যবহার করছেন। মোদি ও তার বিজেপি দেশে উগ্র জাতীয়তাবাদ জাগিয়ে তুলছেন। ২০১৯ সালের ভারতীয় সাধারণ নির্বাচনের সময়ই বিজেপি কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। মে মাসে মোদির বিপুল বিজয়ের প্রায় তিন মাস পর এখন মনে হচ্ছে, তারা ওই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চলেছে। আবারো ভারতে জাতীয়তাবাদ সফলভাবে কষাঘাত করছে।

অবশ্য মোদির একতরফা ঘোষণার ফলে এই অঞ্চলে আরো সঙ্ঘাত উস্কে দেবে। কাশ্মীরে সঙ্ঘাত বৃদ্ধির ফলে ভারতের নিরাপত্তাও মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। বিশেষ মর্যাদা বাতিলের আগে কাশ্মীরের ইন্টারনেট ও টেলিফোন সংযোগ কেটে দেয় ভারত, কারফিউ জারি করে। এখন অঞ্চলটি পুরোপুরি অচল হয়ে আছে। পরিস্থিতি যদি জটিল হতে থাকে এবং চরম আকার ধারণ করে, তবে তা মোদির নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভারত সরকারের কাশ্মীর পদক্ষেপ চীনকেও অসন্তুষ্ট করেছে। কারণ অঞ্চলটির পশ্চিম প্রান্তে রয়েছে চীন-ভারত সীমান্ত। ভারত ইচ্ছামতো আইন পরিবর্তন করে চীনের ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ করতে পারে না।

চীন কোনো পক্ষ নেবে না, ভারত-পাকিস্তান বিরোধে হস্তক্ষেপ করবে না। তবে এর মানে এই নয় যে চীন তার জাতীয় স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করার সুযোগ দেবে ভারতকে। ভারতের পদক্ষেপের ফলে চীন ও ভারতের মধ্যে অনেক পরিশ্রমে গড়ে ওঠতে থাকা সম্পর্কে নাশকতা সৃষ্টি করেছে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিঙ মঙ্গলবার বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ অগ্রহণযোগ্য, প্রয়োগ করা উচিত হয়নি। চীন সবসময় তার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে, ভারতকে তার খেয়ালখুশিমতো যা ইচ্ছা করার সুযোগ দেয়নি।

ভূখণ্ডগত ও ঐতিহাসিক বিরোধ শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। কয়েক দশক ধরে চলা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার কাশ্মীর নিয়ে বিরোধে মধ্যস্ততা করার জন্য কয়েকটি দেশ প্রস্তাব দিয়েছ। কিন্তু ভারত সবসময়ই তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্ততার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন দেশটি একতরফা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, হঠাৎ করেই স্থিতিবস্থা পরিবর্তন করেছে। এর ফলে আরো বিরোধিতারই সৃষ্টি হবে।

একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও জাতীয়তাবাদকে উস্কে দেয়ার বদলে ভারতের উচিত অচলাবস্থা নিরসনের একটি পথ খুঁজে বের করা। অন্য কথায় বলা যায়, কাশ্মীরে উত্তেজনা ভারত বাড়াবেই, কমাবে না। ভারতের উচিত হবে তার কাশ্মীর কৌশল নিয়ে চিন্তা করা, কাশ্মীর পরিস্থিতিকে জটিল করা বন্ধ করা। বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে কাজ করা হলে তাতে কারো কল্যাণ হয় না।

ভারতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পাকিস্তানের সাথে আলোচনার মাধ্যমে ইস্যুটির সমাধান করা। ভারত এখন তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্ততা প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু তার প্রয়োজন শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যাটির সমাধানের উপায় খোঁজা। ভারত-পাকিস্তান সঙ্ঘাত সাত দশকের বেশি সময় ধরে চলছে। এটি কি আরো এক বা দুই শ’ বছর স্থায়ী হতে দেয়া উচিত হবে?

ভারতের প্রধানমন্ত্রী যেই হোন না কেন, তিনি যদি এই অঞ্চলের সঙ্ঘাত অবসান ও শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারেন, তবে তিনি বিশ্ব ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রেখে যাবেন।

এনআরসি: অ-নাগরিকত্বের বিচারিক অনুমান by গৌতম ভাটিয়া

গত ১৭ মে একটি অতি সংক্ষিপ্ত শুনানির পর ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যবিশিষ্ট বেঞ্চ (প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈই, বিচারপতি দীপক গুপ্ত ও সঞ্জীব খান্না) আবদুল কুদ্দুস বনাম ইউনিয়ন অব ভারত শীর্ষক ১৫টি আবেদনের একটি ব্যাচের ওপর রায় দেন। ‘শিডিউল টু দি সিটিজেনশিপ (রেজিস্ট্রেশন অব সিটিজেন্স অ্যান্ড ইস্যু অব ন্যাশনাল আইডেনটিটি কার্ডস) রুলস, ২০০৩-এর দুটি প্যারাগ্রাফের মধ্যে ‘অনুমিত সঙ্ঘাত’ নিয়ে এই আবেদনটি দাখিল করা হয়েছিল। আসামে চলমান জাতীয় নাগরিক নিবন্ধনে (এনআরসি) এই রুলটির অপরিসীম গুরুত্ব থাকলেও এ নিয়ে মিডিয়ায় তেমন আলোচনাই হয়নি।

দুটি সমান্তরাল প্রক্রিয়া

আবদুল কুদ্দুসের বিষয়টি কী? সংক্ষেপে বলা যায়, আসামে নাগরিকত্ব হারানো ব্যক্তিদের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে পাঠানো যৌক্তিক কিনা তার সাথে এর সম্পৃক্ততা রয়েছে। আসামে আসলে নাগরিকত্ব নিয়ে দুটি প্রক্রিয়া চলছে। এর প্রথমটি হলো ফরেনার্সস ট্রাইব্যুনাল। এটি কেন্দ্রীয় সরকারের নির্বাহী আদেশে গঠন করা হয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো এনআরসি। এটি তদারকির দায়িত্বে রয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই দুটি প্রক্রিয়া একটি অপরটির রক্তক্ষরণ করে চলেছে। ফলে কেউ যখন কোনো একটিতে বা উভয়টিতে জটিলতায় আটকে গেছে, তখন বড় ধরনের সমস্যায় পড়ছে।

আবদুল কুদ্দসের আবেদনে বলা হয়েছে, ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের রায় কোনো নির্বাহী আদেশের চেয়ে বেশি মূল্যবান হতে পারে না। ফলে এখানে কেউ যদি নাগরিক নয় বলে ঘোষিত না হন, তবে তার মানে এই নয় যে তার নাম এনআরসি থেকে বাদ পড়ে যাবে। অধিকন্তু, নতুন কোনো নথি হাতে পাওয়া গেলে, ট্রাইব্যুনালের রায় সাথে সাথেই পর্যালোচনা করা হতে পারে। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নাগরিকত্ব কার্যক্রমে অনেকবারই প্রশাসনিক ভুল দৃশ্যমান হয়েছে। আবেদনে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল ও এনআরসিকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখতে বলা হয়েছে। একটির আলোকে অপরটিতে কারো নাম থাকা বা না থাকার কোনো প্রভাব থাকা উচিত নয় বলে অভিমত প্রকাশ করা হয়।

ত্রুটিপূর্ণ ট্রাইব্যুনাল

সুপ্রিম কোর্ট আবেদনকারীদের যুক্তি খারিজ করে দিয়ে রায় দেয় যে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের ‘অভিমত’ ‘প্রায় বিচারিক রায়ের’ মতো গণ্য হবে। ফলে এনআরসি প্রস্তুতিসহ সব পক্ষকে এটি অনুসরণ করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে লাখ লাখ লোকের অধিকারের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।

শুরুতেই বলা যায়, ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম স্বাভাবিক আদালত হিসেবে কোনোভাবেই গণ্য করা যায় না। প্রথমত, ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একটি সাধারণ নির্বাহী আদেশে। দ্বিতীয়ত, ট্রাইব্যুনালের যোগ্যতা বেশ শিথিল করা হয়েছে, এখানে বিচারিক অভিজ্ঞতা ন্যূনতম করা হয়েছে। তাছাড়া আমলাদের প্রভাব বেশি রাখা হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, ট্রাইব্যুনাল ইচ্ছা করলেই সাক্ষীদের বক্তব্য বা প্রমাণ প্রত্যাখ্যান করতে পারে। এমনকি ট্রাইব্যুনালকে তার নিজের প্রক্রিয়া পর্যন্ত এড়িয়ে যাওয়ার কর্তৃত্ব দেয়া হয়েছে।

অথচ এসব ট্রাইব্যুনালেই গত কয়েক মাসে ৬৪ হাজার লোককে নাগরিক নয় বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

এমন অভিযোগও রয়েছে, এসব লোককে অনেক সময় ট্রাইব্যুনালের সামনে হাজির হওয়ার নোটিশ পর্যন্ত দেয়া হয়নি। আরো আতঙ্কের বিষয় হলো, মিডিয়া রিপোর্টে এক সাবেক ট্রাইব্যুনাল সদস্যের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে ওই সদস্যদের কে কত বেশি উইকেট নিতে পারে, তা নিয়ে কৌতুক করতে দেখা যায়। উইকেট নেয়া বলতে কে কত বেশি লোককে বিদেশী ঘোষণা করেছে, তাই বোঝানো হয়েছে।

অথচ, এসব রায়ের মাধ্যমে তারা একজনকে রাষ্ট্রহীন বলে ঘোষণা করছেন। এই রায়ের কত বিপুল প্রভাব তা কল্পনা করা যায় না। ফলে এসব মামলা অত্যন্ত যত্নের সাথে পরীক্ষা করার কথা। কিন্তু তা না করে সংবিধানের আওতায় মানবাধিকার রক্ষার শেষ রক্ষক হিসেবে পরিচিত সুপ্রিম কোর্ট তার দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

অনাকাঙ্ক্ষিত যাত্রা

সুপ্রিম কোর্ট যেভাবে রায় দিয়েছে, তাতে মনে হয়েছে, সংস্থাটি দেশের সর্বোচ্চ আদালত হিসেবে নয়, বরং কোনো কোম্পানির সিইওর মতো কাজ করেছে। অথচ তাদের হাতে দেশের লাখ লাখ লোকের অধিকার রক্ষার দায়িত্ব বর্তেছে। তাদের উচিত ছিল, এসব মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য মৌলিক নীতিমালা অনুসরণ করা।

কুদ্দুস মামলায় আদালতের পর্যবেক্ষণটি সর্বনন্দ সনোওয়াল ল্যান্ড টু নামে পরিচিত ২০০০-এর দশকের মধ্যভাগে রায়ের সাথে সামঞ্জস্য দেখা যায়। এতে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার চেয়ে লোকরঞ্জক বক্তব্যকেই প্রাধান্য দিয়ে অভিবাসনকে দেশের ওপর ‘বাইরের আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছিল। এর জের ধরেই নাগরিকত্ব প্রমাণের দায়দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল। অথচ কাউকে দোষী প্রমাণ করার দায়িত্ব, ওই দায় ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দেয়া অসাংবিধানিক।

অসাংবিধানিক ও অমানবিকভাবে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল পরিচালনার কারণেই প্রতি সপ্তাহেই অনেক মর্মান্তিক ঘটনা সামনে আসছে। পরিষ্কারভাবে বোঝা যাচ্ছে যে সংবিধানের ধারা ২১, জীবনের অধিকার, যদি সার্বিকভাবে সবকিছুই বোঝায়, তবে এই পুরো আইন বিজ্ঞানই পুরোপুরি নতুন করে বিবেচনা করতে হবে।

>>>লেখক: দিল্লিভিত্তিক আইনজীবী

যাদের স্বপ্ন বাড়ি যায় না by শেখ জাহাঙ্গীর আলম

ঈদের ছুটিতে ডিউটি
ঈদ মানে আনন্দ। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে চায় সবাই। তাই সুমিষ্ট স্বপ্ন নিয়ে নাড়ির টানে বাড়ি যায় মানুষ। কিন্তু সবার বাসনা কী পূর্ণ হয়! হয়তো না। তাই তো সবাই যখন নিজ বাড়িতে ফিরে ঈদ উল্লাসে মাতোয়ারা, তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যস্ত। তাদের স্বপ্ন বাড়ি যায় না, আটকে থাকে দায়িত্বের বেড়াজালে। 
সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদের ছুটিতে রাজধানী একেবারে ফাঁকা। নগরীর সড়কগুলোতে নেই যানবাহনের চাপ। থানা এলাকাগুলো অনেকটা নীরব। তাই শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্ব পালন করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পরিবার থেকে অনেক দূরে তারা। ঈদের দিনও দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের অনেকে।
রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় গিয়ে দেখা যায়, থানা ফটকে দায়িত্ব পালন করছে একজন কনস্টেবল। আর থানার ভেতরে ডিউটি অফিসারের কক্ষের বাইরে রয়েছেন কনস্টেবল (সেন্ট্রি) মো. রমজান। তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের ঝালকাঠি। ঈদের দিন দায়িত্ব পালনে কেমন লাগছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ছুটি পাই নাই। বাড়িতে পরিবারের সবাই ঈদ পালন করছে আর আমি ডিউটি করছি। মনটা বাড়িতে পড়ে আছে।’
ঈদের ছুটিতে ডিউটি
তিনি আরও বলেন, ‘সবাই ঈদে ছুটি চায়, কিন্তু অনেকে পায় আবার অনেকে পায় না। আমি গত রোজার ঈদেও ডিউটি করেছি। কোরবানির ঈদেও ডিউটি করছি। একের পরে এক ডিউটি থাকার কারণে এবারও ঈদে ছুটি পাইনি।’
থানার দায়িত্বরত অপর এক কনস্টেবল মো. হায়দার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি থানায় ঈদ করছি। গত দুই বছর হলো বিয়ে করেছি। কিন্তু প্রিয় মানুষকে খুব বেশি সময় দিতে পারিনি। এই ঈদটাও আমরা দুজনে একা একা কাটাচ্ছি। মনে হচ্ছে ঈদের দিন আর অন্যদিন একই। অলস সময় কাটছে।’
ঈদের ছুটিতে ডিউটি
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ডিউটি অফিসার হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শ্রীধাম চন্দ্র হাওলাদার। ঈদের দিন ডিউটির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভালো লাগছে। অনেকে ছুটিতে গেছেন, তবে সবাইকে ১৪ আগস্টের মধ্যে ফিরে আসার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আর ঈদের দিন আমাদের থানায় খাবারের ভালো ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই থানা এলাকা অনেকটা শান্ত। এখন পর্যন্ত কোনও অভিযোগ নেই, আসামি গ্রেফতার নেই, কোনও ঘটনাও নেই।’
ছুটির প্রসঙ্গে রাজধানীর হাউজ বিল্ডিং ট্রাফিক পুলিশ বক্সে থাকা পুলিশ (ট্রাফিক) কনস্টেবল মো. আমির উদ্দিন বলেন, ‘সবাই তো আর ছুটি পাবে না। নগরবাসীর সেবায় একজন না একজনকে থাকতেই হবে। আমরা নগরীর সেবায় কাজ করছি। যদিও সড়কে যানবাহনের কোনও চাপ নেই, নিরাপত্তার স্বার্থে ডিউটি করতেই হবে।’
ঈদের ছুটিতে ডিউটি
দায়িত্বের প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাড়ি গফরগাঁও। পুলিশে চাকরির সূত্রে ঢাকায় থাকতে হয়। পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে কে না চায়। কিন্তু আমাদের কাধে যে দায়িত্ব রয়েছে, সেটি পালন না করে থাকা যায় না। আমাদের এই জোনে ৭২ জন পুলিশ সদস্য রয়েছে। এর মধ্যে ১২ জন এবার ঈদে ছুটি নিয়ে বাড়ি গেছেন। আর বাকি সবাই ডিউটিতে আছেন। তাই সহকর্মীদের সঙ্গে সড়কেই ঈদের আনন্দ কাটাচ্ছি।’
উত্তরা সোনারগাঁও জনপথের জমজম মোড়ে দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত ছিলেন ট্রাফিক সার্জেন্ট অলিদ চন্দ্র মাহাতো। তিনি বলেন, ‘ঈদের দিন সড়ক ফাঁকা, যানবাহনের চাপ নেই। ডিউটি করতে ভালো লাগছে। তবে চালকরা ফাঁকা রাস্তা পেয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠে। এই কারণে সড়কে ট্রাফিক পুলিশ থাকলে তারা অনেকটা সাবধানতার সঙ্গে যানবাহন চালায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এক তো আগস্ট মাস। তাই আমাদের ট্রাফিক বিভাগের সদস্যদের ছুটি কম দেওয়া হয়েছে। কারণ সড়কের নিরাপত্তার বিষয়টি আমাদের দেখতে হয়।’

সুদানে সামরিক অভ্যুত্থানের পেছনে রয়েছে পশ্চিমা স্বার্থ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলেছেন, সুদানের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশির স্বাধীন নীতি অনুসরণ করতেন। তিনি পশ্চিমা ‘অর্থনৈতিক স্বৈরতন্ত্রের’ নির্দেশনা অনুসরণ করতেন না। দেশটিতে সম্প্রতি যে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটেছে তা হয়েছে পশ্চিমা ও কয়েকটি আরব দেশের স্বার্থে। এ দেশগুলো সুদানের প্রাকৃতিক সম্পদ কব্জা করতে চায়। বিশেষজ্ঞরা আনাদোলু বার্তাসংস্থাকে এ কথা বলেছেন।
রাশিয়ান একাডেমি অব সায়েন্সের ওরিয়েন্টাল স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের বরিস ডলগোভ বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো ওমর আল-বশিরকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য দীর্ঘ দিন ধরে চাপ প্রয়োগ করে আসছিল।
তিনি বলেন, সুদান বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ একটি দেশ। অনেক পশ্চিমা দেশে এমন সম্পদ নেই অথবা থাকলেও তারা তাদের ওই সম্পদ খরচ করে ফেলেছে। এসব দেশ সুদানের এ সম্পদ দখলের চেষ্টা করছে। ডলগোভ বলেন, এই একই প্রকল্পের অংশ হিসেবে এক সময়ের আফ্রিকার সব চেয়ে বড় দেশটিকে বিভক্ত করা হয়েছে। যার ফল এখন দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো ইতোমধ্যে দক্ষিণ সুদানের সম্পদ কব্জা করতে শুরু করেছে। এখন সুদানের পালা। বর্তমান সেনাবাহিনী পশ্চিমাপন্থী হওয়ায় শিগগিরই আমরা জানতে পারবো যে, দেশটিতে খনিজ সম্পদ উত্তোলনে পশ্চিমা কোম্পানিগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। ডলগোভ বলেন, বশির যদিও একজন ‘বিতর্কিত ব্যক্তি’ ছিলেন তথাপি তিনি চাপ সত্ত্বেও ‘স্বাধীন নীতি’ অনুসরণ করতেন।
তিনি বলেন, পাশ্চাত্য বশিরকে একঘরে করে রেখেছিল। এমনকি আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত তাকে ফেরারি ঘোষণা করেছিল। বহুবার দেশটির ওপর তারা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছিল ফলে দেশটির অর্থনীতির অবনতি ঘটে। একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে ওরা এসব কিছুই করেছিল।
অভ্যুত্থানে আমিরাতের পৃষ্ঠপোষকতা
আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান (থিংক-ট্যাংক) ‘ভয়েস অব আফ্রিকা’এর এনজিন ওজের আনাদোলুকে বলেন, অনেক বিষয়ে বশিরের অবস্থানের কারণে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। গত কয়েক বছরে সুদান সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নানা পরিবর্তন সূচিত করেছে। বশির রাশিয়ার সাথে চুক্তি করেছেন এবং সুদানে রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করার অনুমতি দিয়েছেন। এ ছাড়া বশির ওই অঞ্চলে স্বার্থের ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় সাউকিনে তুরস্ককে একটি নৌ ঘাঁটি নির্মাণ করতে দিতে সম্মত হয়েছিলেন।
তিনি গুরুত্বের সাথে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে, সাউকিন হচ্ছে একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী, লোহিত সাগরপথের জন্য এটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এ নৌপথ দিয়েই উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল ট্যাংকারগুলো চলাচল করে। এই নৌপথের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও সৌদি আরব জিবুতিতে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে।
ওজের বলেন, সাউকিনে একটি নৌ ঘাঁটি স্থাপনের একটি কৌশলগত পরিকল্পনা ছিল তুরস্কের। তুরস্কের জন্য এটি হতো ওই অঞ্চলে তৃতীয় সামরিক ঘাঁটি। এর প্রথমটি দোহাতে, দ্বিতীয়টি মোগাদিসুতে অবস্থিত। মানচিত্রে এই ঘাঁটিগুলোর অবস্থানের দিকে নজর দিলে দেখা যাবে যে, এগুলো একটি তুর্কি ত্রিভুজ নির্মাণ করেছে। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, তুরস্কের নীতি হচ্ছে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা বিধানে শক্তির ভারসাম্য স্থাপন করা।
ওজের বলেন, তুরস্কের প্রধান লক্ষ্য হলো, বন্ধু ও ভ্রাতৃপ্রতীম দেশগুলোকে রক্ষা করা। কিন্তু এতে বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছে সংযুক্তআরব আমিরাত ও সৌদি আরব। আমিরাতের গোয়েন্দা সংস্থা গত দুই বছর ধরে বশিরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু করতে দেশটির বিরোধীদলগুলোকে প্রস্তুত করেছে বলে নিশ্চিত জানা গেছে। মিসর সুদানের সামরিক অভ্যুত্থানকে সমর্থন করেছে কারণ দেশটির সাথে তাদের ভৌগোলিক বিরোধ রয়েছে।
রাশিয়া ও তুরস্ক সুদানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে, বিশেষ করে স্বর্ণের খনিতে। একুশ শতকের পশ্চিমা অর্থনৈতিক স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই তাদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। রাশিয়া ও তুরস্কের জন্য আফ্রিকার নিকটতম এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ হচ্ছে সুদান। রাশিয়া ও তুরস্কের আফ্রিকায় সহযোগিতা শুরুই হয় সুদান দিয়ে।
ওজার ভবিষ্যদ্বাণী করেন, সুদানের নতুন সরকার ঘনিষ্ঠভাবে পশ্চিমের সাথে জড়িত হবেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে দেশটিতে কৌশলগত অবস্থান হারাতে পারে রাশিয়া ও তুরস্ক। গত বছর মস্কোতে বশিরের সাথে এক বৈঠকে রাশিয়া-সুদান সম্পর্কের ইতিবাচক উন্নতির প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
বশির সুদানের সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করতে সহযোগিতা এবং জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে দারফুর থেকে জাতিসঙ্ঘ-আফ্রিকান ইউনিয়ন মিশনের বাহিনী প্রত্যাহারের বিষয়ে ব্রিটেনের বিরুদ্ধে পুতিনের ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানান । বশিরকে পদত্যাগ করাতে সামরিক অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ভারতের মুখোশ খুলে দিতে দেশে দেশে দূত পাঠাতে হবে পাকিস্তানকে by ইকরাম সেহগাল

ভারতীয় সংবিধানের ধারা ৩৫এ ও ৩৭০ অনুযায়ী কাশ্মীরীরা বিগত পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় ধরে যে বিশেষ মর্যাদা ভোগ করে আসছিলো বিজেপি তা বাতিল করতে পারে কিনা সেটা এখনো স্পষ্ট নয়। যদি তাই হয়, তাহলে ভারতের পার্লামেন্টে কোন ভোটভুটি ছাড়াই শুধু প্রেসিডেন্টের আদেশের বলে দেশের আইনে (ল’ অব দি ল্যান্ড) এ ধরনের মৌলিক পরিবর্তন আনা যায় কিনা সেটাও একটি প্রশ্ন।

বিজেপি’র সিদ্ধান্তটি ইতোমধ্যে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। পার্লামেন্টে বিরোধী দলগুলোর প্রায় সবাই এর বিরোধিতা করেছে। তবে, মোদির সত্যিকারের বিরোধিতা করার মতো শক্তি সেখানে বিরোধী দলগুলোর নেই।

গত নির্বাচনে লজ্জাজনক পরাজয়ের পর রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস (আইএনসি)’র নেতৃত্ব এখন পুরোপুরি বিশৃঙ্খল অবস্থায়। আর মোদি সরকারের মূল রাজনৈতিক মন্ত্র হলো ‘জোর যার মূলুক তার’, কোন আনুষ্ঠানিকতার ধার তারা ধারে না।

টানা দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় যেতে বিজেপি’র নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতিগুলোর একটি ছিলো ধারা ৩৭০ ও ৩৫এ বাতিল করা। তাই তাদের কাজটি প্রত্যাশিত ছিলো।

গত ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে ভারত তার আগ্রাসী চেহারা প্রকাশ করে দেয়। এতে তারা দুটি জঙ্গিবিমান খোয়ায় ও একজন পাইলটকে হারায়। আরেক পাইলট পাকিস্তানের হাতে ধরা পড়ে। এরপর আসে আইসিজে’র রায়, যেখানে ভারতীয় গুপ্তচর কুলভূষণ যাদবকে সামরিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের বিষয়টি স্বীকার করে নেয়া হয়। ভারত শুধু জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী ‘কনস্যুলার এক্সেস’ বিষয়ে ছাড় পায়।

নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপার থেকে পাকিস্তানী ভূখণ্ডে গোলা বর্ষণ, পাকিস্তানের বেসামরিক লোকদের বিরুদ্ধে গুচ্ছ বোমা ব্যবহার ভারতের গভীর হতাশাকেই প্রকাশ করে দিয়েছে। তাছাড়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সফল যুক্তরাষ্ট্র সফর দুই দশক ধরে ভারতের ছড়ানো পাকিস্তান-বিরোধী বয়ানকে মিথ্যা প্রমাণিত ও বাতিল করে দিয়েছে।

কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্থতা করার ব্যাপারে ট্রাম্প যে প্রস্তাব দিয়েছেন তাও ভারতকে ক্ষুব্ধ করেছে। এটা কাশ্মীরের ব্যাপারে চূড়ান্ত ফয়সালা গ্রহণে বিজেপি’কে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।

কাশ্মীরে মাত্র সাত মিলিয়ন মানুষকে সামাল দিতে নিরাপত্তা বাহিনীর অর্ধ মিলিয়ন সদস্যকে আগে থেকেই মোতায়েন করে রাখা হয়েছিলো। সাম্প্রতিক সময়ে আরো ৩০,০০০ সেনা মোতায়েন করা হয়। সেখানে থেকে পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের জোর করে বের করে দেয়া হয়। পাকিস্তান সীমান্তের কাছে বিপুল সংখ্যক সেনা সমাবেশ করা হয়। তখনই বোঝা গিয়েছিলো যে বড় কোন কাজ করতে যাচ্ছে ভারত।

পৃথিবীতে ভারত একমাত্র দেশ যারা আফগানিস্তানে শান্তি কায়েম নিয়ে বিচলিত। আফগান শান্তি প্রক্রিয়ায় অগ্রবর্তী ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। তাহলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রক্সি যুদ্ধ অব্যাহত রাখা ছাড়া ভারত কি শান্তিতে থাকতে পারে? কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল কি মার্কিন-তালেবান শান্তি আলোচনাকে নস্যাৎ করার কোন মরিয়া প্রচেষ্টা?
ভারতীয় নিরাপত্তা সদস্যদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ছে কাশ্মীরী তরুণরা
>>>লেখক: প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক

কাশ্মীর সঙ্ঘাত নিরসনে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা লাগবে ভারতের

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনইং ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের উন্নতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তৎপরতার প্রতি চীনের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। বহু দশকের কাশ্মীর সঙ্ঘাত নিরসনে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্থতার জন্য ২২ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রস্তাব দেয়ার পর চীন এই বিবৃতি দিলো।

সেই সাথে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশিও ট্রাম্পের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন যে, “এটা পাকিস্তানের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি”। তবে, ভারত সব সময় তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার বিরোধিতা করে এসেছে। নয়াদিল্লী সবসময় বলে আসছে যে ইসলামাবাদের সাথে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই কেবল সমস্যার সমাধান সম্ভব। ভারতের একটা বিষয় বোঝা উচিত, সেটা হলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিচ্ছে কারণ কাশ্মীরের সঙ্ঘাত নিরসনের জন্য ভারত খুব সামান্যই পদক্ষেপ নিয়েছে এবং খুব সামান্যই অর্জন করেছে, এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য কাশ্মীরের শান্তির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম এখানে মধ্যস্থতার প্রস্তাব করেনি। সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলা এবং বর্তমান নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী এরনা সোলবার্গ তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু ভারত সব দেশের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে, সেটা কাশ্মীরের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ভারতের সম্ভবত এটা বোঝার চেষ্টা করা উচিত যে, কেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সাধারণভাবে শান্তিপূর্ণ পথে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের উন্নতি দেখতে চায়। এর কারণ হলো, ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা দুই দেশের মধ্যে বিবাদে সবসময় আলোচনার একটা কার্যকর চ্যানেলের অভাব ছিল। নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর সঙ্ঘাত হয়েছে, যেটা বহু নিরপরাধ মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে।

এ রকম একটা পরিস্থিতিতে চীন সবসময় আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকে সমর্থন করেছে কারণ দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিষয়টি তাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভারত ও পাকিস্তানের বিবাদ যদি যুদ্ধের দিকে মোড় নেয় বা কোন ধরনের পারমাণবিক সঙ্ঘাত হয়, তাহলে উভয় পক্ষের নিরপরাধ মানুষগুলো এর শিকার হবে। চীনের জাতীয় কৌশল ও স্বার্থও সে ক্ষেত্রে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। চীনের প্রস্তাবিত বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ দক্ষিণ এশিয়ায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যাবে, যদি এই অঞ্চলে কোন যুদ্ধ হয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ যে দেশই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমঝোতার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে, তাদেরকে সমর্থন দেবে চীন, কারণ এতে চীনেরও স্বার্থ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকে গ্রহণ করা বা না করার ব্যাপারে ভারতের অবস্থানকে চীন সবসময় শ্রদ্ধা করে। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ ও ইচ্ছাকে সচেতনভাবে অগ্রাহ্য করাটা ভারতের উচিত নয়। ভারত এ অঞ্চলে একটা বড় দেশ। এবং ভারত ও পাকিস্তান যদি কাশ্মীর সঙ্ঘাত যথাযথ ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করতে পারে, ভারতের জাতীয় ইমেজ সে ক্ষেত্রে বহুগুণে বেড়ে যাবে, এবং তারা দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যে বিবাদ চলে আসছে, ব্রিটিশ উপনিবেশের কারণে সেটা রয়ে গেছে। ভারত ও পাকিস্তান কিভাবে এই ইস্যুর সমাধান করে, সেখান থেকে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোও শিক্ষা নেবে।

এই অচলাবস্থার নিরসনে ভারতের কঠোর পরিশ্রম করা উচিত। পাকিস্তান ও ভারত উভয়েই যেহেতু সাংহাই কোঅপারেশান অর্গানাইজেশানের (এসসিও) সদস্য, এসসিও সেক্ষেত্রে আঞ্চলিক সমাধানের ক্ষেত্রে একটা ভালো প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভারত ও পাকিস্তানের সদিচ্ছা এবং রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সঙ্ঘাত নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞা। একমাত্র এ পথেই দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতা আসতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষা হতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সদিচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করাটা নয়াদিল্লীর উচিত নয়।

একসময় পকেটে ২০০ রুপিও ছিল না, এখন বিশ্বতালিকায়! -অক্ষয় কুমার

এই কিছুদিন আগে মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস পৃথিবীর সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া তারকাদের তালিকা প্রকাশ করেছিল, তাতে একমাত্র ভারতীয় হিসেবে নাম ছিল বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমারের। বছরে কাড়ি কাড়ি অর্থ কামান। অথচ একসময় নাকি এই তারকার পকেটে ২০০ রুপিও ছিল না!

আর মাত্র দুদিন পরেই মুক্তি পেতে চলেছে অক্ষয় কুমার অভিনীত ‘মিশন মঙ্গল’। চলছে জোর প্রচারণা। জীবনে অনেক সংগ্রাম করেছেন এ অভিনেতা। ছবি ফ্লপ হতে দেখেছেন। আবার একের পর এক হিট হতেও দেখেছেন। অক্ষয় সম্প্রতি বললেন, কখনোই আশা হারাননি। মেনে নিয়েছেন সংগ্রাম।

অক্ষয় বলেন, ‘কয়েকটি ঘটনার কথা বলি। বহুবারই এসব ঘটেছে। জীবনের করুণ অধ্যায় দেখেছি। ক্যারিয়ারে তিন থেকে চারবার উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি, একজন অভিনেতার জন্য যেটা অনেক বেশিই।’

অক্ষয় আরো বলেন, ‘কিন্তু প্রত্যেক বারই আমি এগিয়ে গিয়েছি। একটা জিনিস করতাম, আমার বাড়ির নিচে নামতাম এবং দেখতাম আমার কয়টা গাড়ি আছে। তারপর ঘরের দিকে তাকাতাম। মাঝেমধ্যে আমার অফিসে যেতাম, সবকিছু ভালো করে দেখতাম। কেন আছি আমি? কী লাভ তাতে? ভাবতাম, ঈশ্বর অনেক দয়ালু, অনেক কিছু আছে আমার। পৃথিবীতে অনেকের তো কিছুই নেই। যদি উল্টোটা ভাবি তো সবচেয়ে স্বার্থপর মানুষ হব।’

মুম্বাইয়ে যখন অক্ষয় কুমার আসেন, তখন তাঁর পকেটে ২০০ রুপিরও কম ছিল। ‘যখন এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ শুরু করি, তখন পকেটে ২০০ রুপিও থাকত না। আর আজ, আমার অনেক অর্থ,’ যোগ করেন অক্ষয়।

‘প্যাডম্যান’, ‘টয়লেট : এক প্রেম কথা’, ‘গোল্ড’—একের পর এক হিট ছবি দিয়ে চলেছেন অক্ষয় কুমার। সবগুলো ছবিই গত বছর বক্স অফিসে ১৫০ কোটির রুপির বেশি আয় করেছে।

এখন ফোর্বসের ধনী তারকাদের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন অক্ষয় কুমার। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রায় ৪৪৪ কোটি রুপি (৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) আয় করেছেন অক্ষয়।

প্রতি বছরই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আয় করা ১০০ জন তারকার তালিকা প্রকাশ করে ফোর্বস। সেখানে ৩৩তম স্থানে রয়েছে অক্ষয়ের নাম। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি সিনেমায় প্রায় ৩৪ কোটি থেকে ৬৮ কোটি রুপি আয় করেছেন তিনি। এর পাশাপাশি প্রায় ২০টি বিজ্ঞাপন সংস্থার সঙ্গে চুক্তি রয়েছে অক্ষয়ের। সেখান থেকেও কোটি কোটি রুপি আয় করেন তিনি। সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে