Monday, May 19, 2014

সেভেন মার্ডারের প্রধান আসামি নূর হোসেনের রক্ষিতা নীলাকে আটকের ৩ ঘণ্টার মধ্যেই ছেড়ে দিল পুলিশ

নারায়ণগঞ্জে চাঞ্চল্যকর সেভেন মার্ডারের প্রধান আসামি পলাতক কাউন্সিলর নূর হোসেনের রক্ষিতা হিসেবে পরিচিত অন্যতম ঘনিষ্ঠ এবং সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৌস নীলাকে আটকের তিন ঘণ্টার মধ্যেই পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। রোববার বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের হাজীগঞ্জের ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনে থেকে তাকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ও সদর মডেল থানা পুলিশের একটি টিম আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত সাড়ে ৮টায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

মমতার মুখে হাসি নেই by রজত রায়

লোকসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গে ৪২টির মধ্যে ৩৪টি আসন জিতেও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে হাসি ফোটেনি। শুক্রবার ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা শেষ হয়ে যাওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানাতে মমতা যখন সাংবাদিকদের সামনে হাজির হন, তখন প্রত্যাশিতভাবেই তিনি এই জয়কে ‘যাবতীয় অপপ্রচার, কুৎসা ও রটনা’র বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের জবাব বলে অভিহিত করেন। কিন্তু মমতার কথায় কোনো উচ্ছ্বাস ছিল না, এমনকি তিনি সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতেও রাজি নন বলে আগেই জানিয়ে রেখেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে মমতাকে তঁার রাজনৈতিক জীবনে জয়-পরাজয়ের বিভিন্ন নাটকীয় মুহূর্তে দেখার অভিজ্ঞতা থেকে প্রথমেই মনে হওয়া স্বাভাবিক, ভোটের এই ফল সত্ত্বেও মমতা খুশি নন। বরং এটা মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে যে ভোটের ফল মমতাকে বেশ চিন্তায় ফেলেছে।

মোদির দিল্লি জয় এবং খালেদার সবুজ পাসপোর্ট by সোহরাব হাসান

গত শুক্রবারের পত্রিকায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার একটি ব্যতিক্রমী খবর ছাপা হয়েছে৷ তিনি আগারগঁাওয়ে পাসপোর্ট অফিসে গিয়েছিলেন লাল পাসপোর্ট বদলে সবুজ পাসপোর্ট নেওয়ার জন্য৷ ১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে খালেদা জিয়া লাল পাসপোর্ট ব্যবহার করে আসছিলেন; সাংসদ হিসেবে৷ প্রধানমন্ত্রী বা বিরোধী দলের নেতা যা-ই থাকুন না কেন, তিনি বরাবর লাল পাসপোর্টের অধিকারী ছিলেন৷ কিন্তু গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় এখন সেই সুযোগ থাকছে না৷ তাই দুই দশকেরও বেশি সময় পর লাল পাসপোর্টের অধিকার হারালেন, কিংবা তঁাকে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলো৷

রাজপুত্র নয়, ভূমিপুত্র! by মিজানুর রহমান খান

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ভারতে এত বড় তাৎপর্যমণ্ডিত নির্বাচন আর হয়নি৷ এ নির্বাচন উত্তরাধিকারের রাজনীিতর প্রতি এত বড় হুমকি বয়ে এনেছে৷ অবশ্য এটাও মনে করার কারণ নেই যে এর ফলাফল মি. মোদি বা তাঁর দলের প্রতি একটি ব্ল্যাংক চেক৷ বামেরা বাম বলে হারেনি৷ গান্ধীবাদীরা গান্ধী বলে হারেনি৷ বাংলাদেশ তাই প্রথম পাঠ নিতে পারে যে কোনো ধরনের জারিজুরি চলবে না৷ সুশাসন দাও, না পারলে ভাগাড়ে যাও৷ কংগ্রেসের এক দশকের শাসন প্রধানত অযোগ্য, সন্দেহজনক ও পীড়নমূলক বলেই ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন৷ প্রবৃদ্ধি, চাকরি, মুদ্রাস্ফীতি রোধ ও কম দুর্নীতি যদি মোদি শাসন নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে তাকে দুর্ভোগ সইতে হবে৷ বিড়ম্বনা দেখতে আগামী পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে না৷ মোদিমাদকতা বিস্বাদ ঠেকতে সময় লাগবে না৷ মোদি ও তাঁর মিত্ররা এখন টালমাটাল জোয়ার দেখছেন৷ তবে ভাটির টান না দেখতে তাঁদের সতর্ক থাকতে হবে৷

মোদিকে ক্ষমতায় এনেছে কর্পোরেট দুনিয়া

সোজা কথায় বলা যায়, নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষমতায় এনেছে ভারতের কর্পোরেট দুনিয়া। নির্বাচনে তার প্রচার-প্রসার জোগাড়ের নেপথ্যে ছিল দেশটির কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো। নরেন্দ্র মোদির প্রচার অভিযানে কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে এ ব্যাপারে কারো কাছেই সঠিক উপাত্ত নেই এবং দুঃখজনক যে, রাজনৈতিক দলগুলো অর্থ ব্যয় করে সীমাহীনভাবে। কিন্তু অনুমান করা হয়, নির্বাচনী প্রচারে ব্যয় হয়েছে ২০ হাজার কোটি রুপির বেশি বা প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলার। বিপুল এ অর্থের মধ্যে ১০ হাজার কোটি রুপি বরাদ্দ করা হয়েছিল গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপনের জন্য (দ্য হিন্দুস্থান টাইমসের তথ্য)।
এটা সম্ভব হয়েছে, কয়েকটি বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান মোদির পেছনে পুরো সমর্থন জুগিয়েছে। কারণ তারা তাকে দেখেছে এক শক্তিশালী নেতা হিসেবে যিনি তাদের প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা ও উদ্দীপনার জোগান দেবেন এবং তার দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে তার ওপর তাদের বিনিয়োগ সার্থক হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মোদির নেতৃত্বাধীন শক্তিশালী জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের (এনডিএ) উল্লেখ না করেও বলা যায়। জাতীয় পর্যায়ে মোদি যা করতে চাইবেন অবাধে তাকে তাই করার সুযোগ দিয়েছে এ বিনিয়োগ। এ বিশাল বিজয় তথাকথিত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দেবে। কিন্তু একই সঙ্গে ভারতীয় গণতন্ত্রের বিভিন্ন কারণে উদ্বেগেরও কারণ রয়েছে।

মমতার মুখে হাসি নেই

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
লোকসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গে ৪২টির মধ্যে ৩৪টি আসন জিতেও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে হাসি ফোটেনি। শুক্রবার ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা শেষ হয়ে যাওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানাতে মমতা যখন সাংবাদিকদের সামনে হাজির হন, তখন প্রত্যাশিতভাবেই তিনি এই জয়কে ‘যাবতীয় অপপ্রচার, কুৎসা ও রটনা’র বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের জবাব বলে অভিহিত করেন। কিন্তু মমতার কথায় কোনো উচ্ছ্বাস ছিল না, এমনকি তিনি সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতেও রাজি নন বলে আগেই জানিয়ে রেখেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে মমতাকে তঁার রাজনৈতিক জীবনে জয়-পরাজয়ের বিভিন্ন নাটকীয় মুহূর্তে দেখার অভিজ্ঞতা থেকে প্রথমেই মনে হওয়া স্বাভাবিক, ভোটের এই ফল সত্ত্বেও মমতা খুশি নন। বরং এটা মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে যে ভোটের ফল মমতাকে বেশ চিন্তায় ফেলেছে।
এটা ঠিক যে, সংসদীয় গণতন্ত্রে ১৯৫২ সাল থেকেই অংশ নিতে শুরু করার পরে বামপন্থীরা এবারই সবচেয়ে খারাপ ফল করল। ত্রিপুরা ও কেরালায় কিছুটা মুখ রক্ষা করতে পারলেও পশ্চিমবঙ্গে এবার বামপন্থীরা প্রায় মুছে যাওয়ার উপক্রম। মমতার ঘোষিত শত্রু বামেরা পশ্চিমবঙ্গে মমতার দলের কাছে এভাবে লেজেগোবরে হবে, তা অনেকের কাছেই স্বপ্নেরও অতীত ছিল। তা সত্ত্বেও এই বিপুল জয় মমতার মুখে হাসি ফোটাতে পারল না, কারণ পশ্চিমবঙ্গে এবারই বিরাটভাবে উপস্থিত হয়েছে বিজেপি। এ রাজ্যে মাত্র দুটি আসন পেলেও বিজেপির এই জয় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রথমত, বিজেপি একার শক্তিতে লড়ে শুধু দুটি আসন জিতল, তা-ই নয়, মমতার চ্যালেঞ্জকে উড়িয়ে দিয়ে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সমর্থন নিয়ে দার্জিলিং কেন্দ্রটি জিতে বুঝিয়ে দিল, পাহাড়ে অচিরেই আবারও পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের আন্দোলন মমতাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে মাথা তুলবে।
কিন্তু মমতার উদ্বেগের আসল কারণ এটা নয়। এবারের ভোটের ফলে দেখা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি দুটি আসন জেতা ছাড়াও তিনটি আসনে দ্বিতীয় স্থানে এবং ছয়টি আসনে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। এ ছাড়া, বাকি ৩১টি আসনে কংগ্রেসকে পেছনে ফেলে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। প্রায় ১৭ শতাংশ ভোট পেয়ে কংগ্রেসকে এ রাজ্যে অনেক পেছনে ফেলার সঙ্গেই এটাও স্পষ্ট হয়ে গেছে, বামপন্থীদের দুর্বল হওয়ার কারণে তাদের ভোটও বিজেপির দিকে সরছে। ভোটের বিচারে খোদ কলকাতায় দুটি কেন্দ্রেই বিজেপি শুধু বামপন্থী ও কংগ্রেসকে সরিয়ে দ্বিতীয় স্থানেই উঠে আসেনি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের বিধানসভা আসনসহ বহু তাবড় তাবড় তৃণমূল নেতা ও মন্ত্রীর কেন্দ্রে শাসক তৃণমূলকে পেছনে ফেলেছে। গোটা রাজ্যে এভাবে  বিজেপির বিস্ময়কর উত্থানের সঙ্গেই সমহারে বামপন্থীদের দুর্বল হয়ে পড়ার মধ্যে অবশ্যই একটা গভীর কার্যকারণ সম্পর্ক রয়েছে।
ভোটের পরে একাধিক বাম নেতাই স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে তঁাদের দুর্বলতার কারণে রাজ্যের অসংখ্য গরিব মানুষ বাধ্য হয়েই বিজেপির দিকে ঝুঁকেছেন। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বামপন্থী চিন্তাবিদ রতন খাসনবিশ বলেন, বামপন্থীদের থেকে ভোট সরে যাচ্ছে, কারণ শক্তিশালী দল হিসেবে সিপিএমের যে ভাবমূর্তি ছিল, তা আর অবশিষ্ট নেই। গরিবেরা নির্ভর করবে কী করে? আবার বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য রীতেশ তেওয়ারি বলেন, গত আড়াই বছর তৃণমূল সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে বিরোধী দল হিসেবে যে রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করার কথা ছিল, সেটা সিপিএম করেনি। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাপ্ত ৩৯ শতাংশ ভোটের হারের দিকে ইঙ্গিত করে রীতেশের বক্তব্য, অঙ্কেই স্পষ্ট, তৃণমূল যতই বেশি আসনে জিতুক না কেন, পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের শাসনে অসন্তুষ্ট। গণতান্ত্রিক পরিসরে যেহেতু সরকারের বা শাসক দলের কাজকর্মের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বা প্রতিবাদ প্রকাশের জন্য সাধারণ মানুষ বিরোধী দলের ওপরই নির্ভর করে থাকে, তাই বিরোধী দল রাজনৈতিকভাবে কতটা সক্রিয়তা দেখাতে পারে, সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গে টানা ৩৪ বছর ক্ষমতায় থাকার পরে তীব্র গণবিক্ষোভের মুখে সিপিএম তথা বামপন্থীরা ক্ষমতাচ্যুত হয়, এবং তার ধাক্কায় তারা এতটাই বিপর্যস্ত হয়ে যায় যে দলের বহু কর্মী-সমর্থক দল ছাড়েন। নেতারা এতটাই হতোদ্যম হয়ে পড়েন যে বামপন্থীদের চিরাচরিত ট্রেডমার্ক রাস্তায় নেমে রাজনৈতিক আন্দোলনও করা বন্ধ হয়ে যায়। প্রধানত সংবাদমাধ্যমের কাছে বিবৃতি দিয়েই তারা দায়িত্ব সারতে থাকে।
ফলে, সারদা চিট ফান্ড কেলেঙ্কারি, স্কুলশিক্ষক নিয়োগ নিয়ে কেলেঙ্কারি, একের পর এক ধর্ষণ ও নারী নিগ্রহ, স্কুলে-কলেজে শাসক দলের কর্মীদের অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ ও গুন্ডাগিরি—এসব নিয়ে সাধারণ মানুষ নিজেদের মতো করে প্রতিবাদ করতে চাইলেও বামপন্থীরা সেই প্রতিবাদের ভাষা জোগাতে পারেনি। ফলে, পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন একটা ধারণা তৈরি হচ্ছিল যে এখানে তৃণমূলের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানানোর ক্ষমতা কোনো রাজনৈতিক দলেরই নেই। নির্বাচনী প্রচারে এসে নরেন্দ্র মোদি যখন সরাসরি মমতাকেই এসব বিষয়ের কথা বলে চ্যালেঞ্জ করে বসলেন, তখন তা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মধ্যে বিরাট সাড়া ফেলল৷ মানুষ বুঝতে পারলেন, এ রাজ্যে মমতাকে যদি কেউ চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে, তা বামপন্থীরা নয়, বিজেপি। আর সেই ধারণা থেকেই বিজেপির এত দ্রুত প্রভাব বৃদ্ধি। লোকসভা ভোটের খুঁটিনাটি বিচার করলে বোঝা যাবে, বিজেপি এখন পশ্চিমবঙ্গে অন্তত ৩০টির বেশি বিধানসভা আসনে তৃণমূল, সিপিএম এবং কংগ্রেসের চেয়ে এগিয়ে আছে। এবার লোকসভা ভোটে ৪২টি আসনের সব কটিতেই প্রার্থী দঁাড় করালেও সংগঠনের অভাবে অনেক জায়গাতেই বুথে এজেন্ট বসাতে পারেনি। ফলে, যতটা ভোট পেতে পারত, তার পুরোটা পায়নি। ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোট। মাঝের দুই বছরে বিজেপি সাংগঠনিকভাবেও রাজ্যে নিজেদের যথেষ্ট গুছিয়ে নিতে পারবে। মোদির নেতৃত্বে দেশজুড়ে জয়ের হাওয়ায় এবার পশ্চিমবঙ্গেও মানুষ দলের চারপাশে বেশি করে ভিড় করবে। কোনো সন্দেহ নেই। বিজেপির শক্তি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই যে তাল রেখে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও অসন্তোষকে প্রতিফলিত করে বিজেপি রাস্তার আন্দোলনে নেমে চাপ সৃষ্টি করবে, তা নিয়েও সন্দেহ নেই। ২০১৬ সালে বিজেপি এ রাজ্যে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার জন্য সর্বশক্তি দিয়ে ঝঁাপাবে। বাড়তি শক্তি ও উদ্দীপনা অন্যদিকে, দিল্লিতে নিজেদের সরকার থাকার ফলে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনও বিধানসভা ভোটের সময় চাপে থাকবে। সব মিলিয়ে মমতার দুশ্চিন্তার কারণ যথেষ্ট রয়েছে।
রজত রায়: ভারতীয় সাংবাদিক।

সরকারের মনের সংস্কার প্রয়োজন

নারায়ণগঞ্জে সাতজনকে অপহরণ ও খুনের ঘটনায় অবসরে পাঠানো র‌্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মাদ ও মেজর আরিফ হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর পঁাচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এ ব্যাপারে পাঠক শামীমের মন্তব্য: গ্রেপ্তার হয়েছে জেনে ভালো লাগল। কিন্তু এটা যেন লোক দেখানো না হয়। পাশাপাশি তঁাদের অন্য অপরাধীদের মতো রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের চেয়েও ভয়ংকর অপরাধের কাহিনি বেরিয়ে আসতে পারে। সাইদুল কবির: ভাগ্যিস হাইকোর্ট ধরতে বলেছিলেন। না হলে দেখা যেত সরকার কী করে?
আয়ুব আলী: সরকার আবারও প্রমাণ করল, সরকার ইচ্ছা করলে পুলিশ প্রশাসন সব করতে পারে। সরকার চায় না বলেই অনেক অপরাধী ধরাছেঁায়ার বাইরে থেকে যায়। সৈয়দ কল্লোল: মাঝে মাঝে ভেবে অবাক হই—আমরা কতই না বিচিত্র এক জাতি! অপরাধ করলে সমালোচনা করি, অপরাধী না ধরলে সমালোচনা করি, ধরলেও সমালোচনা করি, বিচার পছন্দমতো না হলেও সমালোচনা করি। যে সরকার আমাদের মনে এই মানসিকতা তৈরি করে দিয়েছে—তার সমালোচনা করি কিন্তু ঘুরেফিরে সুবিধাভোগের আশায় এই লোকদেরই নির্বাচনে নির্বাচিত করি! আমরা আসলে কী?
র‌্যাবের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেল?
নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় র‌্যাবের কয়েকজন সদস্যের জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর র‌্যাব বিলুপ্তির কথা উঠেছে। এর সমালোচনা করে পাঠক আনিসুর রহমানের মন্তব্য: র‌্যাবের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়নি, তবে অবশ্যই সংস্কারসহ জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। সাহিদুল ইসলাম: দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক গুম-খুনের দায় সরকারের। সরকারই এদের বিরোধী দল নিধনে ব্যবহার করে আসছে। এ এস মাহমুদ: র‌্যাবকে সংস্কার না করলেও তেমন সমস্যা হবে না। সবার আগে সরকার ও সরকারি দলের নেতাদের মনের সংস্কার করা প্রয়োজন।
রাজীব চৌধুরী: র‌্যাবের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়নি। প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে তাদের, যারা র‌্যাবকে দলীয় স্বার্থে দলের কর্মীর মতো ব্যবহার করেছে। আমরা জনগণ র‌্যাবের বিলুিপ্ত চাই না। আমরা বিলুিপ্ত এবং নির্মূল দেখতে চাই দুর্নীতিগ্রস্ত এবং গডফাদার নামক রাজনৈতিক নেতাদের। মো. আবদুর রশীদ: র‌্যাবের বিলুপ্তি নয়, সংস্কার চাই। ভয়জাগানো কালো পোশাক ও মাথায় বঁাধা কালো পট্টি বাদ দিতে হবে। তাদের মানবিকতার প্রশিক্ষণ দিতে হবে। বাছাই করে র‌্যাবের দুষ্ট সদস্যদের বাদ দিতে হবে। কেবল সন্ত্রাসীদের দমনের কাজে তাদের ব্যবহার করতে হবে।
কফিনে করে ফিরছে বাংলার বীরেরা
সৌদি আরবসহ প্রবাস থেকে কফিনে আসা ব্যক্তিদের বীর অ্যাখায়িত করে এই কলাম লেখা হয়েছে। এ রকম ছয় বছরে ফিরেছে ১৪ হাজার জন৷ কলাম নিয়ে পাঠক আমিনুলের মন্তব্য: খুবই বাস্তব সত্য কথা। সরকারের নীতিনির্ধারকদের এ বিষয়ে এখনই এগিয়ে আসতে হবে। মাসুদ পারভেজ: চিৎকার করে কঁাদতে ইচ্ছা করছে, তবে পারছি না। আচ্ছা আমাদের জাতীয়তা কী হবে? দুবাই থাকলে প্রবাসী। দেশে গেলে বলে বিদেশি। বিয়ে করতে গেলে বলে দুবাইওয়ালাকে মেয়ে বিয়ে দেব না। রেজা: অসাধারণ লেখা! প্রবাসী ওই সব পরিশ্রমী ভাই যথাযথ সম্মান বা অধিকার যেন পান, সরকারের তা দেখা দরকার। মরছি আমরা যারা সাধারণ তারা। কান্নার রোল উঠবে স্বজন হারানো বাড়িতে। তাদের চোখের জল আমাদের নেতাদের দৃষ্টিতে আসবে না।
প্রধানমন্ত্রীর একনায়কতন্ত্র চলছে
দেশে ‘প্রধানমন্ত্রীর একনায়কতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে৷ সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী একচ্ছত্র ক্ষমতার চর্চা করেন৷ সংবিধান প্রধানমন্ত্রীকে একচ্ছত্র ক্ষমতা দিয়েছে৷ টিআইবির তৈরি ‘বাংলাদেশের জাতীয় শুদ্ধাচার-ব্যবস্থার বিশ্লেষণ’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে৷ পাঠক ইকবাল হোসেন: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যতটা ক্ষমতার অধিকারী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য ততটা ক্ষমতার অধিকারী নন। হেলাল: কথাটা শতভাগ সত্য, আর এ জন্যই চলছে সব নিয়ম-কানুনবহির্ভূত কাজকর্ম! এই হচ্ছে বর্তমান সরকারের অনৈতিক কাজকর্মের হালচাল! এস দেওয়ান: বাংলাদেশে আবার দুই নায়কতন্ত্র কবে চলল?
জিয়াউর রহমান, এরশাদ ও খালেদা জিয়া কি দুই নায়কতন্ত্র চালিয়েছিলেন? গণতন্ত্রের নামে দেশে নেতাতন্ত্র চলছে। শফিক রহমান: কঠিন সত্য ভাষণ। কিন্তু করণীয় কী? আমাদের জনপ্রতিনিধিরা (যদিও ৫০ শতাংশই অনির্বাচিত) তঁারা কি কোনো পদক্ষেপ নেবেন, না যতটা সম্ভব নিজের আখের গোছাবেন? আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী যে ক্ষমতা ভোগ করেন, তা প্রাচীন আমলের কোনো রাজা-বাদশাহও মনে হয় ভোগ করতেন না। ওনার নির্দেশ বা সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়া কিছুই হয় না। বেশির ভাগ সরকারি প্রতিষ্ঠান দুর্নীতিগ্রস্ত। এই দেশ কীভাবে যে চলছে, একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই জানেন।
‘এখানে ছাত্রলীগ ভাড়া পাওয়া যায়’
পাওনা টাকা আদায়ে কাজ করছে ছাত্রলীগ। এ নিয়ে লেখা এই কলামে সুরঞ্জিত কুমারের মন্তব্য: ভালোই লিখেছেন৷ তবে সমস্যা হলো কার জন্য আপনারা লিখছেন? আমরা জনগণই ঠিক নেই। মো. আনোয়ার হোসেন: ছাত্রলীগের জন্য একটা নির্দিষ্ট পোশাক ডিজাইন করা যেতে পারে, যেখানে লেখা থাকবে—‘ভাড়ায় চালিত’। রফিকুল ইসলাম: দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে তাদের ইনকাম করতে হবে না?

নিতীশের পদত্যাগ বিহারে নতুন সমীকরণ

নিতীশ কুমার
মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে নিতীশ কুমারের পদত্যাগের পর বিহার রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ হতে পারে৷ এতে জাতীয় পর্যায়ে বড় রকমের বিস্ময় তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন জনতা দলের (সংযুক্ত) বা জেডির (ইউ) প্রধান শারদ যাদব৷ তিনি বলেন, তাঁর দল একজন নতুন নেতা নির্বাচিত করবে৷গতকাল রাতে জানা যায়, দলের বিধায়কেরা নীতিনকে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন৷ তবে তিনি কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি৷রাজ্যে একটি নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে সমর্থন আদায়ের জন্য শারদ যাদব গতকাল রোববার কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন৷
মোট ২৪৩ সদস্যের (বিধায়ক) বিহার বিধানসভায় জনতা দলের ১১৫ জন প্রতিনিধি রয়েছেন৷ নিতীশ কুমারের সরকারের প্রতি কংগ্রেসের চারজন বিধায়কের সমর্থন ছিল৷ কিন্তু লোকসভা নির্বাচনে জনতা দলের ব্যর্থতার নৈতিক দায় নিয়ে নিতীশ গত শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান৷এদিকে, নিতীশ কুমারের প্রতি সমর্থন জানাতে আরজেডির তিন বিধায়ক সম্রাট চৌধুরী, রাম লখন রাম রমণ এবং জাভেদ ইকবাল বিধানসভা থেকে গতকাল পদত্যাগ করেছেন৷ আইএএনএস৷

ভারতে সরকার গঠনে তোড়জোড়

দিল্লিতে গুজরাট হাউসে গতকাল বিজেপি নেতা এল
কে আদভানি (বাঁয়ে) ও নরেন্দ্র ​মোদি। এএফপি
ভারতে লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর সরকার গঠনের তোড়জোড় শুরু করেছেন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং দলটির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি৷ গতকাল রোববার দিনভর দিল্লিতে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন মোদি ও দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা৷ একাধিক বৈঠক করেছেন সভাপতিসহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা৷ এসব বৈঠকে সরকার ও মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে আলোচনা হয়৷ গতকাল সন্ধ্যায় দলের জ্যেষ্ঠ নেতা লালকৃষ্ণ আদভানির সঙ্গে বৈঠক করেন মোদি৷ পরে দলের সভাপতি রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি৷ রাজনাথের বাসায় তাঁর সঙ্গে বৈঠকে বসেন দলের নেতা অরুণ জেটলি ও সাংগঠনিক সম্পাদক রাম লাল৷ মোদির ঘনিষ্ঠ সহযোগী অমিত শাহও যোগ দেন ওই বৈঠকে৷ এ ছাড়া গত রাতে দলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহাির বাজপেয়ির বাসায় যাওয়ার কথা ছিল মোদির৷ মন্ত্রিসভার সদস্যদের তালিকা করতে দল ও শরিক নেতাদের পাশাপাশি গতকাল মোদি বৈঠক করেন দলের আদর্শবাদী পরামর্শক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) নেতাদের সঙ্গে৷ বিজেপির সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঠিক করার পাশাপাশি দলের প্রধান চিন্তা এখন মোদির সরকারে আদভানির জন্য উপযুক্ত স্থান করে দেওয়া৷ দলের কোনো কোনো সূত্রের মতে, তিনি লোকসভার স্পিকার হতে আগ্রহী৷ ২০০৯ সালে তিনি বিজেপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী ছিলেন৷ এর আগে উপপ্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন অটল বিহাির বাজপেয়ির সঙ্গে৷
এ ছাড়া, সরকারে রাজনাথকে কী দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়েও দলের মধ্যে আলোচনা চলছে৷ তাঁকে সম্ভবত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে৷ একই সঙ্গে রাজনাথ সরকারে যোগ দিলে দলের সভাপতির পদে কাকে বসানো হবে, সেটি নিয়েও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে৷ শোনা যাচ্ছে, দলের সাবেক সভাপতি িনতিন গড়কারি আরেক দফায় ওই দায়িত্ব পালনে আগ্রহী৷ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর গত শনিবার নিজের নির্বাচনী এলাকা উত্তর প্রদেশের বারানসি যান মোদি৷ সেখান থেকে ফিরে গতকাল সকালে মোদি প্রথম বৈঠক করেন কর্ণাটকের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়াদিরাপ্পার সঙ্গে৷ নির্বাচনের আগে আবার বিজেপিতে ফিরে আসা এই নেতা কেন্দ্রীয় সরকারে স্থান পাওয়ার আশা করছেন৷ এরপর অন্যতম সহযোগী ও নির্বাচনে উত্তর প্রদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত অমিত শাহ এবং বিহারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ধর্মেন্দ্র প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন মোদি৷ ওই দুই রাজ্যের নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি বিশেষ করে বিহারে মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমারের পদত্যাগের পর সেখানে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন তাঁরা৷ এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় জনশক্তি দলের প্রধান রাম বিলাস পাসওয়ান স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বিকেলে মোদির বাসায় যান৷ সেখানে তাঁদের মধ্যে একান্তে বৈঠক হয়৷ এর আগে সকালে বিজেপির আদর্শগত পরামর্শক সংগঠন আরএসএসের সদর দপ্তরে গিয়ে সংগঠনটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা ভেঙ্কাইয়া নাইডু৷ আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা লালকৃষ্ণ আদভানির বাসায় গিয়ে তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অনন্ত কুমার৷ পরে তিনি মোদির বাসায় যান৷ আর দলের সভাপতি রাজনাথের বাসায় যান ন্যাশনাল পিপল পার্টির সভাপতি পি এ সাংমা৷ তবে ওই সব বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু জানা যায়নি৷ এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়া৷

ভারত রাতারাতি বদলে যাবে না

ভারতের নির্বাচনে বিজেপির আশাতীত ভালো ফল এবং নরেন্দ্র মোদির অভাবনীয় সাফল্যের পর সারা পৃথিবীতে এবং বাংলাদেশেও বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গেছে। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যে যাঁরা খুশি হননি, তাঁদের প্রতিক্রিয়ায় কম-বেশি একটা প্রবণতা সহজেই লক্ষণীয়, তা হলো বিজেপির সাফল্যকে তাঁরা দেখছেন ভারতে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’র অবসানের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে। তাঁদের আনুষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া থেকে এ ধারণা জন্মায়, যেন এই প্রথমবারের মতো ভারতের হিন্দু ধর্মভিত্তিক দক্ষিণপন্থী দল বিজেপি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে চলেছে এবং তাঁরা ক্ষমতা গ্রহণ করামাত্রই ‘একটি আদর্শস্থানীয় সেক্যুলার রাষ্ট্র’ রাতারাতি বদলে যাবে। এই ধারণার বিভ্রান্তিগুলো ভালো করে বোঝা দরকার। প্রথমত, বিজেপি এই প্রথমবার ক্ষমতায় আসছে তা নয়; আগে এই দলটি তিনবার ক্ষমতায় এসেছে। বিজেপি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর আমরা অবশ্যই সমাজে ও রাজনীতিতে পরিবর্তন দেখেছি, তারা তাদের আদর্শের আলোকে সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সাজাতে চেয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে এই প্রচেষ্টার একটা বড় রূপও আমরা দেখেছি। এই পরিবর্তনগুলোকে অনেকে স্যাফ্রোনাইজেশন বা ‘জাফরানীকরণ’ বলে বর্ণনা করেছেন।
কিন্তু বিজেপি গোটা রাষ্ট্রব্যবস্থাকে বদলে দিয়েছে এমন ঘটনা ঘটেনি। এখন আগের বিজেপি নেতাদের তুলনায় আরও কট্টরপন্থী নরেন্দ্র মোদি, যাঁর হাতে রক্তের দাগ লেগে আছে বললে অত্যুক্তি হবে না, তিনি নিঃসন্দেহে বেশি মাত্রায় জাফরানীকরণের চেষ্টা করবেন, সেটা ধরেই নিতে পারি৷ কিন্তু ভারতের করপোরেট ক্ষমতার অধিকারীরা, যাঁদের অক্লান্ত চেষ্টায় এবং অর্থে বিজেপির এই বিজয়, তাঁরা বিজেপি এবং নরেন্দ্র মোদিকে খুব বেশি দূর যেতে দেবেন বলে মনে করার মতো কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। দ্বিতীয়ত, এ ধরনের বক্তব্যে ভারতকে যেভাবে একটি আদর্শস্থানীয় সেক্যুলার রাষ্ট্র হিসেবে দেখার ও দেখানোর আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে, তা কতটা বাস্তবোচিত, তা বিবেচনা করা দরকার। ভারতের রাষ্ট্রীয় নীতিমালায় সেক্যুলারিজমের কথা বলা হলেও সমাজে তার প্রয়োগের দুর্বলতার দিক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলে আসছে। (উৎসাহীরা এ বিষয়ে ২০০৭ সালে ডিউক ইউনিভার্সিটি প্রেস প্রকাশিত অনুরাধা দিংওয়ানে নিধাম সম্পাদিত দ্য ক্রাইসিস অব সেক্যুলারিজম ইন ইন্ডিয়া বইটি পড়তে পারেন।) তদুপরি সমাজের ভেতরে, বিশেষত ভারতের পপুলার কালচার বা দৈনন্দিন জীবনে এমন ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে, যেখানে বিজেপির মতো দলের উদ্ভব, বিকাশ ও সাফল্যই স্বাভাবিক ঘটনা। (এ জন্য দ্রষ্টব্য থমাস ব্লুম হ্যানসেন-এর গ্রন্থ স্যাফরন ওয়েভ: ডেমোক্রেসি এবং হিন্দু ন্যাশনালিজম ইন ইন্ডিয়া, প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৯৯)।
এসব আলোচনা থেকে এটাই বেরিয়ে এসেছে যে পশ্চিমা সেক্যুলারিজমের ধারণার বিপরীতে ভারত যে তার নিজস্ব ধরনের ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলেছে, তা আদর্শিক ও প্রায়োগিক—দুই দিক থেকেই সংকটের মধ্যে পড়েছে। ফলে ভারতকে এখন এক আদর্শস্থানীয় রাষ্ট্র মনে করার কারণ নেই। সমাজের এই পরিবর্তনের পেছনে কেবল যে বিজেপিই কাজ করেছে তা নয়, সেক্যুলারিজমের প্রতিনিধি বলে দাবিদার কংগ্রেসের কার্যকলাপও তার জন্য দায়ী। এখন কংগ্রেস নির্বাচনে অত্যন্ত খারাপভাবে পরাজিত হওয়ার কারণে আমাদের তা ভুলে যাওয়া ঠিক হবে না। এ কথা বলার অর্থ এই নয় যে রাজনৈতিক সেক্যুলারিজমের যে মূলবাণী অর্থাৎ রাষ্ট্র এবং ধর্মের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করা, তা অগ্রহণযোগ্য হয়ে গেছে। কিন্তু সমাজের সেক্যুলারাইজেশন ছাড়া রাষ্ট্রের ওপরে ভরসা করে সেক্যুলারিজম প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়, সেটা বোঝা খুবই জরুরি। এসবের পাশাপাশি আমাদের মনে রাখতে হবে, গত কয়েক দশকে আমরা দেখতে পেয়েছি যে দেশে দেশে ধর্মাশ্রয়ী এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রসার ঘটেছে। কেউ কেউ যদিও একে কেবল মুসলিমপ্রধান দেশের লক্ষণ বলে মনে করেন, তাঁরা বিস্মৃত হন যে একই প্রবণতা অন্য ধর্মাবলম্বী সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশেও ঘটেছে। ভারতে বিজেপির উত্থানকে এই আলোকেও

মোদির সরকারে আদভানি ও সুষমার স্থান কোথায় হবে?

বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি গতকাল
নয়াদিল্লিতে দলের প্রধান কার্যালয়ে যাওয়ার পর শত
শত সমর্থক পতাকা নেড়ে তাঁকে স্বাগত জানান৷ এ
সময় তিনি বিজয়সূচক ‘ভি’ চিহ্ন দেখান। এএফপি
ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) নরেন্দ্র মোদি যুগের সূচনা হয় গত সেপ্টেম্বরে, দলের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে৷ লোকসভা নির্বাচনে বিশাল বিজয়ে দলে ‘নমো’ (মোদির নামের দুই অংশের আদ্যক্ষর) মন্ত্রের কর্তৃত্ব সুপ্রিতষ্ঠিত হলো৷ বিজেপি সব সময় গর্ব করে এ জন্য যে দলটি সম্মিলিত নেতৃত্বে বিশ্বাসী৷ দল পরিচালিত হয় ধাপে ধাপে নেতৃত্বের মাধ্যমে, যে ধাপের সব থেকে ওপরে আছে সংসদীয় বোর্ড৷ কিন্তু দলের সেই আদর্শকে পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা করছেন বা ইতিমধ্যে দিয়েছেন একজন মানুষ, নরেন্দ্র মোদি৷ লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে দলের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছেন ব্যক্তি মোদি৷ দল থেকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থিতার দাবি নিয়ে মোদি যখন দ্রুত গতিতে দিল্লির দিকে এগিয়ে আসছেন, তখন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন কয়েকজন নেতা৷ তাঁদের মধ্যে অরুণ জেটলিসহ অনেকে পরে বিরোধিতা থেকে সরে দাঁড়ান৷ কিন্তু বিদ্রোহের ঝান্ডা নিয়ে কয়েকজন ঠিকই অচল থাকেন৷ এই ভিন্নমতাবলম্বীদের প্রতীক হয়ে ওঠেন লালকৃষ্ণ আদভানি, দলের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা, বাজপেয়ির আমলের উপ-প্রধানমন্ত্রী৷ আছেন সুষমা স্বরাজ, লোকসভার বিদায়ী বিরোধীদলীয় নেতা৷
কিন্তু তাঁদের উপেক্ষা করে দেশজুড়ে শুরু হয়ে যায় মোদি ঝড়৷ এখন মোদি সরকার গড়ছেন৷ সেই সরকারে তাঁর বিরোধীদের অবস্থান কোথায় হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে৷ শোনা যাচ্ছে, সুষমাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেওয়া হতে পারে, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করবেন কি না তা নিয়ে সংশয় আছে৷ মন্ত্রিপরিষদে কারা থাকবেন সেই সিদ্ধান্ত যেন দলের সংসদীয় বোর্ডই নেয়, এই দাবি নাকি তিনি জানিয়েছেন৷ সুষমাকে হয়তো কোনো যোগ্য স্থানে বসানো যেতে পারে৷ কিন্তু আদভানির অবস্থান কী হবে—সরকার গঠনের সুযোগ পাওয়ায় এখন এটাই বিজেপির জন্য বড় চিন্তার বিষয়৷ দলের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ নেতা তিনি৷ একসময় উপপ্রধানমন্ত্রী ছিলেন যাঁর অধীনে, সেই বাজপেয়ির চেয়েও তাঁর অবদানই যে দলে বেশি, এ নিয়ে দলের কেউ দ্বিমত করতে পারবেন না৷ আদভানি বর্তমানে বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএর চেয়ারম্যান৷ এই দায়িত্বে তিনি থাকবেন, কিন্তু দায়িত্বের পুরস্কার? এ ক্ষেত্রে শোনা যাচ্ছে, তাঁকে আরও বৃহত্তর পরিসরে পরামর্শক ধরনের কোনো দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে, যেমনটা বর্তমানে ন্যাশনাল অ্যাডভাইজারি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে পালন করছেন সোনিয়া গান্ধী৷ কংগ্রেসের বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী না হলেও দেশের সব ক্ষমতাই ছিল সোনিয়ার হাতে! কিন্তু আদভানিকে এমন দায়িত্বে রাখতে আপত্তি আছে আরএসএসের৷ তাদের ধারণা, এতে ক্ষমতার দুটি কেন্দ্র সৃষ্টি হতে পারে৷ আবার এ কথা শোনা যাচ্ছে যে আদভানিকে লোকসভার স্পিকার করা হতে পারে৷ তবে তিনি সে দায়িত্ব নেবেন তা নিশ্চিত নয়৷ বিজেপির বিশাল বিজয়ে মোদির অবদান কতটুকু, এ নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন তুলেছেন আদভানি৷গত শুক্রবার আদভানি বলেন, ‘আমি মনে করি, বিষয়টি বিস্তারিত পর্যালোচনা করা দরকার৷ দলের এ বিজয়ে েমাদির নেতৃত্ব, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ এবং বিজেপির অবদান কোথায় কতটুকু তা পর্যালোচনা করতে হবে৷’ এনডিটিভি৷

গান্ধী পরিবারের প্রভাব কমছে?

মোদি-ঢেউয়ের ঝাপটা ততক্ষণে একেবারে স্পষ্ট৷ নয়াদিল্লির জনপথের উঁচু দেয়ালঘেরা ১০ নম্বর বাড়ির বাইরে সাংবাদিকদের জটলা৷ কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর ওই সরকারি বাসভবন থেকে সোনিয়া নিজে বা তাঁর ছেলে দলের সহসভাপতি রাহুল গান্ধী বের হয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন, সবাই সেই প্রতীক্ষায়৷ সময় গড়াতেই থাকল, কিন্তু কারও দেখা নেই৷ সূত্রের মাধ্যমে জানা গেল, মা-ছেলে তখন উত্তর প্রদেশের আমেথি আসনের ফল দেখার জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে অপেক্ষা করছেন৷ অথচ এটা সেই আসন, যেখানে ২০০৯ সালে রাহুল তিন লাখ ৭০ হাজার ভোটের বড় ব্যবধানে জিতেছিলেন৷ শেষ পর্যন্ত ফল এল৷ গান্ধী পরিবারের ঘাঁটি বলে পরিচিত আমেথিতে রাহুল ঠিকই জিতেছেন, তবে ভোটের ব্যবধানটাতেই কংগ্রেসের দুরবস্থার চিত্র স্পষ্ট৷ রাহুল জিতেছেন মাত্র এক লাখ সাত হাজার ভোটের ব্যবধানে৷ ভারতের রাজনীতিতে ঐতিহ্য ও প্রভাবশালী গান্ধী পরিবারের প্রভাব তলানিতে ঠেকার যে চিত্র ২০১৪ সাল দেখল, তার সাক্ষী হয়ে থাকল আমেথিও৷
এবারের লোকসভা নির্বাচনে হেরে যাওয়া একজন মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রকাশ্যে এটা কখনোই বলতে পারি না৷ তবে বাস্তবতা হচ্ছে, এই লজ্জাজনক পরাজয়ের জন্য যদি মনমোহন সিংয়ের দ্বিতীয় মেয়াদের ইউপিএ সরকার দায়ী হয়ে থাকে, তাহলে কোনো প্রকার স্পষ্ট বার্তা-বিবর্জিত একটি নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর জন্য রাহুলও সমান দায়ী৷’ ছেলে রাহুলকে সুরক্ষা দিতে সোনিয়া চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ‘আমাদের সবাইকে দায় নিতে হবে’, এমন গোছের কথা বলেছিলেন৷ তবে দলের এই শোচনীয় পরাজয়ে গান্ধী পরিবারের, বিশেষ করে রাহুলের ব্যর্থতা সামনে আসছেই৷ কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে রাহুলকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা না করলেও দুটি বিষয় সবার কাছে পরিষ্কার৷ রাহুলই সামনে থেকে প্রচারণা চালিয়েছেন, আর দলের প্রার্থী বাছাই করেছেন তিনিই৷ এমনকি প্রথা ভেঙে দলের ‘ওয়্যার-রুমের’ বদলে নির্বাচনী প্রচারণা কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু করা হয় রাহুলের তুঘলক লেনের বাসভবনকে৷ কংগ্রেস অতীতে নির্বাচনে হারলেও এবারের মতো করুণ অবস্থায় আগে কখনোই পড়তে হয়নি৷ ভারতের সবচেয়ে পুরোনো এ দলটি আসন এতটাই কম পেয়েছে যে পার্লামেন্টে তাদের প্রধান বিরোধী দল হওয়ার বিষয়টিও অনিশ্চিত৷ কংগ্রেসের একজন পরাজিত প্রার্থীর ভাষায়, ‘মোদি যখন বলেছেন, তিনি কংগ্রেসমুক্ত ভারত চান, প্রকৃতপক্ষে তিনি গান্ধীমুক্ত ভারতের কথা বলেছেন৷ প্রথমবারের মতো নেহরু-গান্ধী পরিবার রাজনৈতিকভাবে বিস্মৃত হওয়ার পথে পা রেখেছে৷’
অতীতে কংগ্রেস বিভিন্ন সময়ে ভেঙে গেছে৷ শারদ পাওয়ার ও পি চিদাম্বরমের মতো নেতারা কংগ্রেস থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন৷ এবারও এমন গুঞ্জন শুরু হয়েছে তা এখনো নির্দিষ্ট মহলেই সীমাবদ্ধ রয়েছে৷ তবে কংগ্রেসের একজন নেতা বললেন, ‘পরাজয়ের এই গ্লানি কিছুটা থিতু হতে দিন৷ তোলপাড় শুরু হতে কিছুটা সময় নেবে৷’ গান্ধী পরিবারের—এবং দল হিসেবে কংগ্রেসেরও—সমস্যাটা হচ্ছে, শিগগিরই তাদের আরেকটি যুদ্ধে নামতে হতে পারে৷ জমি কেনা-বেচায় অবৈধভাবে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে গান্ধী পরিবারের জামাই রবার্ট ভদ্রের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হবে বলে মোদি যে ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন, সেটা তিনি বাস্তবায়ন করলে লড়াইটা অবধারিত৷ একজন কংগ্রেস নেতার মতে, মোদি তাঁর ‘কংগ্রেসমুক্ত ভারত’ স্লোগান আরও সামনে এগিয়ে নিতে চাইলে সোনিয়া, রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র—এই তিন গান্ধীকেই লড়াইয়ে নামতে হবে৷ সোনিয়া ও রাহুলের জনপ্রিয়তায় ভাটার টান আসার প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী প্রচারণায় অধিকতর সম্মোহনী ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে উঠে আসেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী৷ তিনি এ পর্যন্ত প্রত্যক্ষ রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও এবারের নির্বাচনের ফলাফলের প্রতিক্রিয়ায় হয়তো সক্রিয় না হয়ে পারবেন না৷ মনে করা হচ্ছে, এখন তিন গান্ধীই দল ও পরিবারকে সামলানোর যুদ্ধে নামতে বাধ্য হবেন৷ অবশেষে ‘১০ জনপথ’-এর বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের প্রতীক্ষার অবসান ঘটল৷ সোনিয়া গান্ধী শেষ পর্যন্ত বললেন, ‘কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে আমি সব দায় নিলাম৷’ রাহুল গণমাধ্যমের সামনে আসবেন না বলে জানিয়ে দিলেন৷ তবে কংগ্রেসের একজন নেতার ভাষায়, ‘রাহুলকে কেবল দায় নিলেই চলবে না৷ তাঁকে আরও কিছু নিতে হবে৷ কারণ, আমরা তলিয়ে গেছি৷’ হিন্দুস্তান টাইমস৷

মোদির বোনের বিশ্বাসই হচ্ছে না ভাই প্রধানমন্ত্রী!

মোদির ছবি হাতে বাসানতিবেন
ভোট গণনা শেষ হতে তখনো ঢের বাকি৷ কিন্তু ততক্ষণে নিশ্চিত হয়ে যায়, নরেন্দ্র মোদিই হচ্ছেন ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী৷ আনন্দাশ্রুতে ভেসে যায় বাসানতিবেন মোদির চোখ৷ তিনি মোদির বোন৷ তাঁর সেই চা-বিক্রেতা ভাইটিই যে আজ ভারতবর্ষ হাতের মুঠোয় পুরেছেন৷ গুজরাটের উনঝা শহরের একটা সাদামাটা দোতলা বাড়িতে ভাইবোনের বেড়ে ওঠা৷ শুক্রবার সেই বাড়িটিতেই সাংবাদিকদের জটলা৷
বাসানতিবেন সাংবাদিকদের বললেন, ‘তাঁরা এটা বিশ্বাসই করতে পারছেন না যে এ রকম একজন সাধারণ অতীতের লোক তাঁদের (কংগ্রেস) হারাতে পারেন৷’ বাসানতিবেন বলেন, ‘আমরা কখনো কল্পনাতেও ভাবিনি যে সে (মোদি) একদিন দেশকে নেতৃত্ব দেবে৷ একদিন ঘর ছেড়ে পালিয়েছিল, বহু বছর পর একটা সুন্দর দিনে আমরা গোটা পরিবার দেখছি, সে আজ কোথায়৷’ এএফপি৷

অমিত শাহ: মোদির তুরুপের তাস

অমিত শাহ
তাঁকে উত্তর প্রদেশে পাঠানো হয়েছিল একটি ‘মিশন’ নিয়ে: ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) হয়ে রাজ্যটি জয় করতে হবে৷ শেষ পর্যন্ত তিনি সুচারুভাবে তা পালনও করেছেন যা ভূমিকা রেখেছে বিজেপির বিশাল জয়ে৷ অচেনা-অজানা ওই বিশাল রাজ্যে এত বড় কাজ কীভাবে করলেন অমিত শাহ, তা নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই৷ ৪৯ বছর বয়সী বিজেপি নেতা অমিত শাহ নির্বাচনী প্রচারণায় দলটির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদির ডান হাত হিসেবে কাজ করেছেন৷
মোদি তাঁর নিজ হাতে গড়া অমিত শাহকে সমর্থনের দীর্ঘ খরায় আক্রান্ত উত্তর প্রদেশে পাঠানোর পর তিনি বিস্তর বিতর্কের সূত্রপাত করেন৷ নির্বাচনী প্রচারণার সময় নানা বেফাঁস মন্তব্য করে শিরোনাম হন অমিত৷ জাতপাত নিয়ে রাজনৈতিক দিক দিয়ে চরমভাবে বিভক্ত উত্তর প্রদেশে সব শ্রেণির মানুষের কাছে আবেদন আছে, এমন কোনো নেতাই বিজেপির ছিল না৷ অমিত শাহ নিজেও ছিলেন সেখানে একেবারে অপরিচিত মুখ৷ তার ওপর রাজ্যের ৪২ শতাংশ ভোটই যাদব-মুসলিম-জাঠ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত৷ অমিতের ভাষায়, সেখানে হাত দেওয়ার উপায় ছিল না৷ তিনি বলেন, ‘অতীতের নির্বাচনগুলোর সময় সমাজবাদী পার্টি (এসপি) সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পূর্ণ সমর্থন অর্জন করতে পেরেছিল৷ আমরা বিগত চারটি নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে সর্বদলীয় কৌশলগত জোট দেখেছি৷’ এই পরিস্থিতিতেও উত্তর প্রদেশে বিজেপির ভোট প্রায় তিন গুণ বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন অমিত শাহ৷
২০১২ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে দলটি যেখানে ১৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, সেখানে এবার লোকসভা নির্বাচনে পেয়েছে ৪০ শতাংশের কাছাকাছি৷ মোট ৮০টি আসনের মধ্যে ৬০টিরও বেশি এখন বিজেপির ঝুলিতে৷ উত্তর প্রদেশে বিজেপির এই অসাধারণ ফলের পেছনে কাজ করেছে অমিত শাহর দক্ষ হাতে দলীয় নির্বাচন কার্যক্রম তদারক করা৷ তিনি রাজ্য নেতাদের কায়েমি স্বার্থ উপেক্ষা করে মেধা, জাতপাতের সমন্বয় ও প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা ইত্যাদি বিষয় বিচেনায় নিয়ে দলীয় টিকিট বিতরণ করতে সক্ষম হন৷ রাজনৈতিক দূরদির্শতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার জন্য অমিত শাহ নরেন্দ্র মোদির পাশাপাশি দলীয় সভাপতি রাজনাথ সিং ও জ্যেষ্ঠ নেতা অরুণ জেটলিরও অত্যন্ত আস্থাভাজন৷ রাজনাথ মোদির মন্ত্রিসভায় যোগ দিলে বিজেপিতে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে অমিত শাহকে দেখা যাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে৷ হিন্দুস্তান টাইমস৷

দেশের সেবায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি

প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে ফুল দিয়ে বিদায়ী
শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি। ছবি: এএফপি
টানা ১০ বছর দায়িত্ব পালনের পর গতকাল শনিবার রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং৷ তবে লোকসভা নির্বাচনে বিজয়ী ভারতীয় জনতা পার্টি সরকার গঠনের আগ পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করে যাবেন৷ পদত্যাগের আগে দেশবাসীর উদ্দেশে গতকাল বিদায়ী ভাষণ দেন মনমোহন৷ বিদায়ী ভাষণে মনমোহন বলেছেন, ‘আমি আজ ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেষবারের মতো আপনাদের উদ্দেশে কথা বলছি৷ এই দেশের সেবার জন্য সব সময় নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি৷ আমার জীবন ও সম্পদ একটি খোলা বইয়ের মতো৷
মনমোহন আরও বলেন, ‘ভারত গত ১০ বছরে বহু সাফল্য অর্জন করেছে এবং তা নিয়ে আমাদের গর্ব করা উচিত৷ সদ্য সমাপ্ত সাধারণ নির্বাচনে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তার প্রতি প্রত্যেকের সম্মান দেখানো উচিত৷ ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি আত্মবিশ্বাসী৷’মন্ত্রিসভার বৈঠকে গতকাল শেষবারের মতো সভাপতিত্ব করেন ৮১ বছর বয়সী মনমোহন৷ এরপর তিনি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগপত্র জমা দেন৷ বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার সম্মানে রাষ্ট্রপতি গতকাল এক নৈশভোজের আয়োজন করেন৷রাষ্ট্রপতি ভবনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি৷ তবে নতুন সরকার গঠনের আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভাকে অনুরোধ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি৷মনমোহনের অধীনে একসময় অর্থ, প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি৷ তাঁরা গতকাল পরস্পরকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান৷ টাইমস অব ইন্ডিয়া৷

দৈত্যাকার ডাইনোসরের ফসিল উদ্ধার

দৈত্যাকার ডাইনোসরের ফসিল উদ্ধার
আর্জেন্টিনায় মস্ত বড় একটি ডাইনোসরের ফসিল পাওয়া গেছে৷ গবেষকদের দাবি, এযাবাৎ উদ্ধার হওয়া সবচেয়ে বড় ডাইনোসরের ফসিল এটি৷ ধারণা করা হচ্ছে, ডাইনোসরটি ১৩০ ফুট লম্বা ও ৬৫ ফুট উঁচু ছিল৷বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ডাইনোসরের ওজন কত হতে পারে? প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীদের নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা করে, এমন একটি দল জানিয়েছে, এর ওজন কম করে হলেও ৭৭ টন হবে, যা কিনা আফ্রিকার ১৪টি হাতির ওজনের সমান৷
ওজনের দিক থেকেও এ ডাইনোসর আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে৷ এর আগে আর্জেন্টিনাতেই অন্য একটি ডাইনোসরের ফসিল পাওয়া গিয়েছিল৷ ওই ডাইনোসরের ওজন ৭০ টন বলে অনুমান করা হয়; যদিও প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল এর ওজন ১০০ টন৷ এত দিন এটিই ছিল সবচেয়ে বেশি ওজনের ডাইনোসর৷আর্জেন্টিনার ট্রেলিও শহরের প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে লা ফ্লেছা মরুভূমির কাছে ডাইনোসরের নতুন এ ফসিলের সন্ধান পাওয়া গেছে৷ প্রথমে ডাইনোসরের কয়েকটি হাড় স্থানীয় খামারমালিকের চোখে পড়ে৷ পরে খবর পেয়ে প্যালাওনটোলজি ইজিডিও ফারুগলিও জাদুঘরের একদল গবেষক সেখানে যান৷ শুরু হয় খোঁড়াখুঁড়ি৷গবেষক দলটি একে একে ১৫০টি হাড় উদ্ধার করে৷ থরে থরে সাজানো হয় হাড়গুলো৷ তৈরি করা হয় হাড়ের ডাইনোসর৷ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চলে এর দৈর্ঘ্য ও উচ্চতা মাপার কাজ৷ ওজনও নির্ধারণ করা হয়৷ হাড়ের দৈর্ঘ্য দেখেই গবেষক দলটি বুঝতে পেরেছিল, দৈত্যাকার এক প্রাণীর ফসিল পাওয়া গেছে৷ গবেষকেরা পরে নিশ্চিত হন, তাঁদের অনুমান সঠিক৷ এ পর্যন্ত এত বড় ডাইনোসরের কঙ্কাল আর পাওয়া যায়নি কোথাও৷ মাথা থেকে লেজের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত ডাইনোসরটি লম্বায় ছিল অন্তত ১৩০ ফুট৷বিজ্ঞানীদের ধারণা, সাড়ে নয় কোটি থেকে দশ কোটি বছর আগে প্যাটাগোনিয়ার জঙ্গলে বাস করত এ ডাইনোসর৷ বিবিসি৷