Wednesday, August 9, 2017

প্যারিসে সেনাদের ওপর গাড়ির আঘাত, আহত ৬

প্যারিসের পুলিশ বলছে, উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশে এক সেনাদলের ওপর একটি গাড়ি আঘাত করেছে এবং এ ঘটনায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছে। প্রদেশের লুভালুয়া-পেঘে নামক শহরতলীতে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ ওই গাড়িটির সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে। স্থানীয় মেয়র প্যাট্রিক ব্যালকেনিকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, সেনাদের লক্ষ্য করে যে গাড়িটি হামলা করেছে তাতে কোনো 'সন্দেহ নেই'। ‘এটা পরিকল্পিত হামলা, এতে কোনো সন্দেহ নেই' -বিএফএম টিভিকে বলেন মেয়র ব্যালকেনি। সূত্র: বিবিসি

৯১ বছর বয়সে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন ‘নানী’র

থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ ‘হায়াও’ এর এক নারী ৯১ বছর বয়সে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করে তার জীবনের স্বপ্ন পূরণ করেছেন। দীর্ঘ দশ বছরের পড়া শেষে আজ ৯ই আগস্ট তিনি তার স্নাতক ডিগ্রির সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। ৯১ বছর বয়সী ‘নানী’ কিমলান জিনাকুল বলছেন, ‘আমার মধ্যে সবসময় শিক্ষাগ্রহণের প্রতি আলাদা একটা আকর্ষণ কাজ করতো। সবসময় ভাবতাম শিক্ষা গ্রহণের কোনো বয়স নেই, যে কোনো সময়েই এটা করা যায়’। আর এই নীতিতে বিশ্বাসী এই নারী সন্তান হারিয়েও, এই বয়সেও তার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছেন। থাইল্যান্ডের সুখোথাই থাম্মাথিরাত ওপেন ইউনিভার্সিটির হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের একজন কিমলান জিনাকুল। তার জীবনের আরেকটা বিশেষ দিন হতে যাচ্ছে ৯ই অগাস্ট বুধবার, এদিন তাকে স্নাতক ডিগ্রির সার্টিফিকেট প্রদান করবেন থাই রাজা ‘দশম রাম’। মিস কিমলান লামপাং প্রদেশের বাসিন্দা ছিলেন। কিন্তু পরে তিনি ফায়াও প্রদেশে বসবাস শুরু করেন। একজন বৃদ্ধ নারী হিসেবে কিমলানের প্রতিদিনের রুটিন ছিল-সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমে তিনি যেতেন বুদ্ধ মন্দিরে প্রার্থনার জন্য। এরপর প্রতিবেশী একটি মন্দির ঘুরে পড়ালেখার জন্য চলে যেতেন। ‘হিউম্যান এন্ড ফ্যামিলি ডেভেলপমেন্ট’ নিয়ে পড়েছেন তিনি। ব্যাংককে তার ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে বসে বিবিসির সাথে কথা বলেছেন কিমলান। ‘এই বিশ্ব কখনো থামে না। নিজস্ব গতিতে সে চলছে। আমাদের কাছে কাছে নতুন নতুন তথ্য আসছে, বিজ্ঞান ও গবেষণা নিত্যনতুন আবিষ্কার দেখছি। পুরনো সমস্যা সমাধানের জন্য সবসময় আমাদের সামনে নিত্যনতুন উপায় আসছে। যখন বিজ্ঞান-গবেষণায় নতুন কিছু আর থাকবে না, এই বিশ্বও থেমে যাবে’ - নিজের চিন্তার কথা শেয়ার করলেন মিস কিমলান। চীনা বংশোদ্ভুত পরিবারে জন্ম নেয়া কিমলান বেড়ে উঠেছেন লামপাং-এ। প্রদেশের শীর্ষ স্কুলে তিনি ছিলেন মেধাবী শিক্ষার্থীদের একজন। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে তার পরিবারে ব্যাংককে চলে আসতে বাধ্য হয় এবং সেখানেই তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর নিজের পড়ালেখাটাও আবার শুরু করেন কিমলান। ‘আমি সবসময় চাইতাম আমার ছেলেমেয়েরা যেন অনেকদূর পর্যন্ত পড়ালেখা করতে পারে, যতদূর তারা পড়তে চায় ততদূর। আমার এই দৃঢ় ইচ্ছার কথা তাদের জানিয়েছি, তাদের সবসময় সমর্থন দিয়েছি।’ পাঁচ সন্তানের মা কিমলানের চার সন্তানই মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং একজন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পিএইচডি করেন। কিমলানের এক মেয়ে তাকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনে উৎসাহ জোগায়। সুখোথাই থাম্মাথিরাত ওপেন ইউনিভার্সিটিতে তার মেয়েই তাকে ভর্তি করেন। সূত্র: বিবিসি

চীনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১৩ জনের মৃত্যু, বাড়তে পারে এ সংখ্যা

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে কমপক্ষে ১৩জনের মৃত্যু হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর তীব্রতা ছিল ৬.৫। তবে এখনো দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের খবর পাওয়া না যাওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চীনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, এদের মধ্যে অন্তত ৫ জন পর্যটক। সিচুয়ান প্রাদেশিক সরকারের বরাত দিয়ে সিনহুয়া জানায়, মঙ্গলবার রাতে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এতে ১৩জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরো ২৮ জন গুরুতর আহত। কিন্তু চীনের জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা সংস্থা জানায়, এ ঘটনায় প্রায় ১শ’ লোকের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভূমিকম্প আঘাত হানা এলাকার প্রাথমিক চিত্রে আধা-সামরিক পুলিশবাহিনীকে ধ্বংসস্তুপের ভিতর জীবিত লোকদের সন্ধানে তল্লাশি চালাতে দেখা যায়। অন্য একটি স্থানে আতঙ্কিত মানুষকে আবারো ভূমিকম্পের আশঙ্কায় রাস্তায় থাকতে দেখা গেছে। মার্কিন ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, এ অঞ্চলে প্রথম দফা শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর আবারো ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪.২। ইউএসজিএস আরো জানায়, বুধবার সকালে চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং অঞ্চলে আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর তীব্রতা ছিল ৬.৩। অঞ্চলটি সিচুয়ান থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটি স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে (গ্রিনিচ মান সময় ২৩৩০টায়) আঘাত হানে। এর পরপরই এ অঞ্চলে রিখটার স্কেলে ৫.২ ও ৫.৩ মাত্রার দু’টি ভূমিকম্পন অনুভূত হয়। এতে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। সিনহুয়া জানায়, ভূমিকম্পের ঘটনায় ৩১ হাজার ৫শ’ জন পর্যটককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা সংস্থা জানায়, ভূমিকম্পে এক লাখ ৩০ হাজারের বেশি বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আহত লোকদের উদ্ধারে এবং দ্রুত ত্রাণ কার্যক্রম চালাতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

বছরে ৬৪ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়ে যাচ্ছে

দিন দিন বাড়ছে চিকিৎসাব্যয়। চিকিৎসকদের উচ্চ হারে ফি নেয়া, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধের দাম বৃদ্ধি, দালালদের খপ্পরে পড়ে অযথাই বাড়ছে ব্যয়, রেফারেল পদ্ধতি না থাকায় বিভাগীয় শহর কিংবা রাজধানীতে রোগী আসার কারণেও বাড়ছে চিকিৎসাব্যয়। গবেষণায় দেখা গেছে, বেশির ভাগ রোগীকেই চিকিৎসা খাতে অর্থের ভার বহন করতে হচ্ছে। ফলে সামর্থ্যরে বাইরে চলে গেলে অতি দরিদ্র মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন চিকিৎসাসেবা থেকে। গবেষণা বলছে, চিকিৎসাব্যয় মেটাতে গিয়ে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের তথ্যানুসারে চিকিৎসা খাতে দেশে প্রতি বছর মাথাপিছু খরচ হয় গড়ে ৩০ মার্কিন ডলার। এই খরচের মাত্র তিন শতাংশ সরকার বহন করে, ২৪ শতাংশ আসে অন্যান্য সূত্র থেকে। অবশিষ্ট অর্থ রোগীকেই বহন করতে হয়। চিকিৎসাব্যয়ের কোন খাতে কত টাকা খরচ হচ্ছে এবং সেই ব্যয়ের কত অংশ কে বহন করছে এ বিষয়ে ২০১২ সালে একটি গবেষণা হয়। গবেষণার ফল প্রকাশিত হয় ২০১৫ সালে। ওই গবেষণা অনুযায়ী চিকিৎসাব্যয়ের ৬৩ শতাংশ রোগীকে বহন করতে হয়। ২৩.৯ শতাংশ সরকার, ৮.৩৫ শতাংশ আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা এবং ৫.২৫ শতাংশ দাতব্য সংস্থা বহন করে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ব্যয়কৃত ৬৩ শতাংশের মধ্যে ৬৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয় ওষুধের জন্য। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক আসাদুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসাব্যয়ের কত শতাংশ কোন খাতে খরচ হয় এ সংক্রান্ত সর্বশেষ জরিপ হয়েছিল ২০১২ সালে এবং প্রকাশিত হয় ২০১৫-এর জানুয়ারিতে। প্রতি দুই তিন বছর পর পরই বাংলাদেশ ন্যাশনাল হেলথ অ্যাকাউন্টস জরিপ শীর্ষক এই জরিপ প্রকাশ করা হয়। চলতি বছরের আগস্ট মাসেই নতুন আরেকটি জরিপের ফল প্রকাশ হবে। নতুন গবেষণায় চিকিৎসাব্যয় কত বাড়তে পারে এমন প্রশ্নের উত্তরে আসাদুল ইসলাম বলেন, দিন দিন জীবনযাত্রার ব্যয়সহ সব ধরনের ব্যয় বাড়ছে, চিকিৎসাব্যয়ও বাড়বে। সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী চিকিৎসাব্যয়ের ৬৩ শতাংশ রোগী বহন করছে। আগামী কয়েক বছরে এই ব্যয় আরো বাড়াতে পারে। বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি এবং স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলন জাতীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা: রশীদ-ই-মাহবুব বলেন, দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী এখনো ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। স্বাস্থ্য ব্যয়ের বেশির ভাগ রোগীকে বহন করতে হয়। চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তিতে দেশে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান দৃশ্যমান। অথচ সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা হচ্ছে এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে সবাই স্বাস্থ্যসেবা পাবে। স্বাস্থ্যসেবা নিতে গিয়ে কাউকে আর্থিক দৈন্যতার মধ্যে পড়তে হবে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) তথ্য উল্লেখ করে তিনি জানান, চিকিৎসাব্যয় মেটাতে বাংলাদেশে বছরে ৩.৪ শতাংশ মানুষ দরিদ্র হয়ে যাচ্ছে। ১৫ শতাংশ পরিবার অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে। এই অবস্থায় সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা কতটা সম্ভব তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার ধারণায় ২০৩০ সালের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় সহনীয় পর্যায়ের ও সাধ্যের মধ্যে নিয়ে আসার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু খরচের এই হার কত শতাংশ হলে সহনীয় পর্যায়ের হবে এর উল্লেখ নেই। বলা হয়, স্বাস্থ্যসেবা পেতে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয় রোগীকে তার ৩০ শতাংশের কম খরচ করতে হলে সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। অথচ আমাদের দেশে চিকিৎসা পেতে ব্যয়িত অর্থের ৬৩ শতাংশই রোগীকে বহন করতে হচ্ছে। নতুন জরিপের যে ফল প্রকাশ হবে তাতে খরচের এই হার বাড়বে বৈ কমবে না। বলাই যায় যে, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আমরা অনেক দূরেই আছি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সাবেক আঞ্চলিক পরিচালক অধ্যাপক ডা: মোজাহেরুল হক বলেন, মানুষ সরকারি হাসপাতালে গিয়ে ঝামেলা পোহাতে রাজি নয়। আগে নানা কারণে মানুষ চিকিৎসকের কাছে যেত না এখন যায়। নিত্যনতুন আবিষ্কারের ফলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ বেড়েছে। তবে পকেট থেকে চিকিৎসা বাবদ ব্যয়িত অর্থের বেশির ভাগই খরচ হয় ওষুধের পেছনে। চিকিৎসকেরা চিকিৎসাপত্রে দামি ওষুধ দিচ্ছেন। ওষুধের দাম নির্ধারণ এবং বিষয়টি মনিটর করা, অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধ করা, অপ্রয়োজনে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ করতে ‘ট্রিটমেন্ট প্রোটোকল’ থাকলে চিকিৎসাব্যয় কমে আসবে।

ষোড়শ সংশোধনীর পূর্ণাঙ্গ রায় : গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে হলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অপরিহার্য

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে হলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অপরিহার্য। কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ও পক্ষপাত ছাড়া নিরপেক্ষভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে না পারলে গণতন্ত্র বিকশিত হতে পারে না। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া গ্রহণযোগ্য সংসদ গঠিত হতে পারে না। আর এ কারণে আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থা এবং সংসদ শিশু অবস্থায় রয়ে গেছে। জনগণ নির্বাচন কমিশন ও সংসদের প্রতি আস্থা রাখতে পারছে না। এ দুইটি প্রতিষ্ঠানকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের মাধ্যমে যতদিন পর্যন্ত জনগণের আস্থা ও সম্মানের জায়গায় না আনা যাবে ততদিন গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে না। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া রায়ে তিনি এ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। মোট ৭৯৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় গত ১ আগস্ট প্রকাশিত হয়েছে। রায়ে প্রধান বিচারপতি লিখেছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সংসদ নির্বাচন ছাড়া জ্ঞানী-গুণীদের মাধ্যমে সংসদ গঠিত হতে পারে না। আর এ কারণেই সংসদকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করা যাচ্ছে না। সংসদকে পরিপক্ব না করে সংসদের হাতে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা দেয়া হলে সেটা হবে আত্মঘাতী। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের জবাবদিহিতা সংসদের কাছে রাখা উচিত নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর বরং উচিত সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া। বাস্তবে দেখা গেছে, যেসব দেশে গণতন্ত্র বিকশিত হয়েছে, নির্বাচন প্রক্রিয়া সঠিকভাবে কাজ করছে এবং সংসদ সদস্যরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হচ্ছেন, সেসব দেশও সংসদের মাধ্যমে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারছে না। বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা রায়ে লিখেছেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে নিচের বিষয়গুলো থাকা অপরিহার্য : (ক) বিশুদ্ধ নির্বাচন, (খ) শাসনকার্যে সততা, ব্যক্তিগত মর্যাদার বিশুদ্ধতা, (ঘ) অলঙ্ঘনীয় আইনের শাসন, (ঙ) স্বাধীন বিচার বিভাগ (চ) দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য আমলাতন্ত্র, (ছ) গ্রহণযোগ্য বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, সংসদ ও আমলাতন্ত্র এবং (জ) এসব প্রতিষ্ঠান যারা পরিচালনা করবেন তাদের সংহতি ও সম্মান। রায়ে তিনি বলেছেন, হাইকোর্টে ষোড়শ সংশোধনীর বাতিল হওয়ার পর এ বিষয়ে সংসদে যে ধরনের সমালোচনা হয়েছে এবং যেসব অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তাতে এটা প্রমাণ করে যে, আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্র অপরিপক্ব। সংসদীয় গণতন্ত্র পরিপক্বতা অর্জনের জন্য কমপক্ষে চার থেকে পাঁচ মেয়াদ টানা সংসদীয় গণতন্ত্র চালু থাকা অপরিহার্য। পণ্ডিত রাজেন্দ প্রসাদ ভারতে সংবিধান প্রণয়নের সমাবেশে যে বক্তব্য দেন তা উদ্ধৃত করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তার রায়ে। রাজেন্দ্র প্রসাদ বলেছিলেন, সংবিধান যেমনই হোক দেশের কল্যাণ নির্ভর করে কারা কিভাবে দেশ পরিচালনা করছেন তার ওপর। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যদি দক্ষ, সৎ ও চরিত্রবান হন তাহলে সংবিধান ত্রুটিপূর্ণ হলেও তারাই সবচেয়ে ভালো কল্যাণ রাষ্ট্র তৈরি করতে পারবেন। কিন্তু নির্বাচিত প্রতিনিধিদের যদি সততা, দক্ষতা ও চরিত্রের ঘাটতি থাকে তাহলে সংবিধান দেশকে কোনো সাহায্য করতে পারে না। সংবিধান হলো প্রাণহীন একটি যন্ত্রের মতো। এটা প্রাণ পায় কারা এটা নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করছে তাদের ওপর নির্ভর করে। এরপর প্রধান বিচারপতি লিখেছেন, আইন প্রণয়নের মাধ্যমে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে জনপ্রতিনিধিদের গুণের কথা বলা হয়েছে এখানে। জনপ্রতিনিধিদের অবশ্যই হতে হবে সৎ ও চরিত্রবান। তাই আইন ত্রুটিপূর্ণ হলেও জনপ্রতিনিধিরা যদি এসব গুণসম্পন্ন হন তাহলে সংসদীয় গণতন্ত্র ধাপে ধাপে একটি ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। আর এমন একটি দেশের জন্যই লাখ লাখ মানুষ লড়াই করেছিল যেখানে থাকবে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন। এ বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করতে হবে, অন্যথায় স্বাধীনতা অর্থহীন হয়ে যাবে। সুরেন্দ্র কুমার সিনহা লিখেছেন, ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত দেশে কোনো গণতন্ত্র ছিল না। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর দেশে মাত্র সাড়ে তিন বছর গণতান্ত্রিক সরকার ছিল। এরপর দেশ ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি হলো। দুই কন্যা বাদে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মম হত্যা করা হলো। দেশ আবার বন্দুকধারী আর জেনারেলদের হাতে গেল। মার্শাল লয়ের মাধ্যমে এক ভয়ার্ত অধ্যায়ের যাত্রা শুরু হলো এবং চলল ১৯৯০ সাল পর্যন্ত। অনেক ত্যাগ, লড়াই এবং শেষে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সামরিক জান্তা বিদায় হওয়ার পর দেশ আবার ১৯৯০ সাল থেকে চলতে লাগল তার স্বাভাবিক সংসদীয় গণতন্ত্রের পথে। কিন্তু অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতি তখনকার সরকারের উদাসীনতার কারণে সংসদীয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতি সঠিকভাবে কাজ করতে পারল না। ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি এবং সংসদ দুই মাসেরও বেশি টেকেনি। প্রবল আন্দোলনের মুখে সরকার সংবিধান সংশোধন করতে বাধ্য হলো। দেশে একটি অবাধ ও নিরপক্ষে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ১৯৯৬ সালে সংবিধানে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় নিরপক্ষে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হলো। কিন্তু এটাও বেশি দিন চলল না এর মাঝে কিছু অনিরাময়যোগ্য ত্রুটি থাকার কারণে। আবার দেশ চলে গেল দুই বছরের জন্য সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন জরুরি শাসনের কবলে। তখনকার ক্ষমতাসীন নেতৃত্বের অদূরদর্শিতা এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে তাদের উদাসীনতা এ জন্য দায়ী। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হলো। একবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এক সেনাপ্রধান অভ্যুত্থান চেষ্টা চালালেন এবং শেষ পর্যন্ত তিনি বরখাস্ত হলেন। শেষ পর্যন্ত ত্রয়োদশ সংশোধনী (অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা) হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হলো। তখন সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে আদালত এ মত দিলো যে, অন্তত আরো দুই বার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করা যাবে। তবে শর্ত হলো সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি অথবা আপিল বিভাগ থেকে সর্বশেষ অবসরে যাওয়া কোনো বিচারপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করা যাবে না। আদালত এ নির্দেশনা দিয়েছিল এ বিষয়টি মনে রেখে যে, এ পদ্ধতির কারণে প্রধান বিচারপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজনীতিকরণ করা হতে পারে। তাই এটি বন্ধ করে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী এবং প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করতে হবে যাতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সব সময় নিরপেক্ষভাবে হতে পারে। এ আদালত লক্ষ করেছে যে, প্রতিটি সংসদ নির্বাচনের পর পরাজিত দল নির্বাচনে পক্ষপাতের অভিযোগ এনেছে এবং সংসদ কার্যকর করার ক্ষেত্রে তারা বিরোধী দল হিসেবে সহযোগিতা করেনি। শেষ পর্যন্ত দশম সংসদ নির্বাচনে বড় একটি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেনি। প্রধান বিচারপতি লিখেছেন, আদালত মনে করে অবাধ ও নিরপেক্ষ সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকার সর্বশক্তি দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করবে। আর এর ফল হিসেবে নির্বাচন কমিশনের শূন্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূরণ হবে সরকারের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ছাড়া। কিন্তু কোনো সরকারই নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালীকরণের কাজ করেনি। এমনকি নির্বাচন কমিশনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য বিরোধী দলও সংসদে বা সংসদের বাইরে এ বিষয়ে কোনো জোরাল ভূমিকা পালন করেনি। প্রধান বিচারপতি লিখেছেন, বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকলে বিচারপতিরা দলের হাইকমান্ডের করুণার পাত্রে পরিণত হবে। ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ে সংসদ সম্পর্কে একটি পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। সেটি প্রধান বিচারপতি তার রায়ে তুলে ধরেছেন। হাইকোর্টের সে পর্যবেক্ষণে বলা হয়, আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে, বিপুল সংসদ সদস্যের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড রয়েছে। কিন্তু সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে এরা উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের বসে পরিণত হয়েছেন এবং বিচারপতিদের স্বাধীন বিচার কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের শতকরা ৭০ ভাগ সংসদ সদস্য ব্যবসায়ী। মাহবুবে আলম ও মুরাদ রেজা কেউই এ তথ্যকে ভুল বলেননি। আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে, তারা সংসদে আইন প্রণয়ন বিষয়ে সংসদীয় বিতর্ক বা আলোচনায় আগ্রহী নন। ফলে আজকাল সংসদে পাস করা বেশির ভাগ আইনই ত্রুটিপূর্ণ এবং নিম্নমানের। সংসদে আইন প্রণয়ন বিষয়ে তারা তাদের দক্ষতা প্রমাণ না করে উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণ প্রক্রিয়ায় নিজেদের জড়ানোর বিষয়ে আগ্রহী হয়েছেন। তবে প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টের এ পর্যবেক্ষণকে সমর্থন করেননি। উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অসদাচরণ তদন্ত ও অপসারণের ক্ষমতা এর আগে ছিল সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠিত হয় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে। তিন সদস্যের এ কাউন্সিলে অপর দুই সদস্য হলেন আপিল বিভাগের বিচারপতি। ১৯৭৭ সালে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয় এ সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল। বর্তমান সরকার বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের পরিবর্তে সংসদের ওপর ন্যস্ত করে সংবিধানে ষোলতম সংশোধনী পাস করে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর। গত বছরের ৫ মে হাইকোর্টের তিনজন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে সরকার। শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ গত ৩ জুলাই সর্বসম্মতিক্রমে সরকারের আপিল খারিজ করে দেন। ফলে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে।

সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই বিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদন

২৫ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে প্রাক্কলিত ব্যয়সম্পন্ন সব বিনিয়োগ প্রকল্প গ্রহণের আগে বাধ্যতামূলক সম্ভাব্যতা যাচাই করার সরকারি বিধান রয়েছে। কিন্তু সেই বিধান পালন না করে কোনো ধরনের সম্ভাব্যতা যাচাই বা জরিপ ছাড়াই শুধু ইন হাউজ স্ট্যাডি করে বিদ্যুৎ খাতের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ের প্রকল্প অনুমোদন ও দরপত্র আহ্বান কার্যক্রম শুরু করার প্রক্রিয়া চলছে। এতে আপত্তি জানিয়েছে খোদ পরিকল্পনা কমিশন। ঘটনাটি বাকেরগঞ্জ-বরগুনা ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইন এবং বরগুনা ১৩২/৩৩ কেভি উপকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে এ প্রক্রিয়া চলছে বলে কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও প্রকল্প প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার অনির্ভরযোগ্য ৩৩ কেভি পাওয়ার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে চলছে বরগুনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ। যার ফলে সেখানে গুরুতর বিদ্যুৎ সঙ্কট পরিলক্ষিত হচ্ছে। বর্তমানে বরগুনার ভাণ্ডারিয়া উপকেন্দ্র থেকে ৩৩ কেভি ফিডার লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। ঝড়-বৃষ্টিসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৩৩ কেভি লাইনে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এই সঙ্কট উত্তরণের জন্য ১৪৩ কোটি ১৫ লাখ ১৫ হাজার টাকা ব্যয়ে বাকেরগঞ্জ-বরগুনা ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইন এবং বরগুনা ১৩২/৩৩ কেভি উপকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করে তা পরিকল্পনা কমিশনের কাছে অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব করা হয়। পিইসি সভায় পর্যালোচনায় বেরিয়ে আসে, প্রকল্পের জন্য সম্ভাব্যতা জরিপের পরিবর্তে ইন-হাউজ স্ট্যাডি করা হলেও এটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও তথ্যবহুল নয়। এ ছাড়া সঞ্চালন লাইন নির্মাণের মতো জটিল ও ব্যয়বহুল একটি প্রকল্পে সম্ভাব্যতা জরিপ সম্পাদন না করেই প্রকল্প অনুমোদন এবং দরপত্র আহ্বান কার্যক্রম শুরু করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। কারণ সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন পদ্ধতি সংক্রান্ত পরিপত্রের ৪.১ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ২৫ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে প্রাক্কলিত ব্যয়সম্পন্ন সকল বিনিয়োগ প্রকল্প গ্রহণের আগে আবশ্যিকভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হবে। এ দিকে সভায় ভূমির মূল্য প্রসঙ্গে জানানো হয়, ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের অর্থ বাজারদর থেকে যথেষ্ট কম বিধায় প্রকল্প বাস্তবায়নকালে স্থানীয় জনগণের বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। এই প্রকল্পে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি। তাই ৫ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য জমির মূল্য ও ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫ কোটি ২৮ লাখ ৪৩ হাজার টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে, যা বরগুনায় ১৩২/৩৩ কেভি উপকেন্দ্র নির্মাণের জন্য প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া ৫০ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইনের জন্য ক্ষতিপূরণ বাবদ ১৯৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রশ্ন তোলা হয় যে,
বিদ্যুৎ বিভাগের একটি অনুমোদিত রেট শিডিউল রয়েছে। কিন্তু এই প্রকল্পে সেই রেট শিডিউল ব্যবহার না করার কারণ কী? জবাবে সংস্থাটি জানায়, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশের আওতায় সঞ্চালন লাইন ও উপকেন্দ্র নির্মাণ কাজ আন্তর্জাতিক ওপেন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় টার্ন-কী চুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। এ কারণে এই প্রকল্পে ওই রেট শিডিউল ব্যবহার না করে সমসাময়িক প্রকল্পের সমজাতীয় কাজের অনুমোদিত দরপত্রকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। এ দিকে, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ব্যাপারে বাস্তাবয়নকারী সংস্থা পিজিসিবি বলছে, স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন করে প্রকল্পের ডিপিপি প্রস্তাব করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। বর্তমানে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের খসড়া প্রতিবেদন জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে এসেছে। প্রকল্পটির গুরুত্ব বিবেচনা করে অনুমোদন করে বাস্তবায়ন কাজ দ্রুত শুরুর স্বার্থে চলমান সম্ভাব্যতা যাচাই চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার আগেই ইন হাউজ স্ট্যাডি অন্তর্ভুক্ত করে ডিপিপি অনুমোদনের প্রক্রিয়া করা হয়। পরিকল্পনা কমিশনের আইএমইডি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রকল্প প্রস্তাবনার কর্মপরিকল্পনায় বিডিং প্রসেস বা দরপত্র প্রক্রিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তারা এও বলেছেন, প্রকল্পের লগফ্রেম আরো সঠিকভাবে প্রণয়ন করতে হবে। এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় সংগৃহীত যন্ত্রপাতি ও মেশিনারিজ সঠিকভাবে বুঝে পাওয়া গেছে কি না তা সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী সংস্থার প্রাপ্তি সনদ সংরক্ষণ করতে হবে।

ঈদের প্রধান জামাত সকাল ৮টায়

ঈদুল আজহার (কোরবানীর ঈদ) প্রধান জামাত জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। আজ বুধবার সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে ঈদুল আজহা উদযাপন উপলক্ষে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভায় স্বরাষ্ট্র, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, গণপূর্ত অধিদফতর, ওয়াসা, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন । উল্লেখ্য, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২ সেপ্টেম্বর দেশে মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হবে। সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, মুসলিম দেশের কূটনৈতিকদের ঈদের জামাতে উপস্থিত থাকার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমন্ত্রণ জানানো হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ঈদগাহ মাঠের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করবে। অন্যবারের মতো এবারও প্রধান জামাতে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের নামাজ পড়ার ব্যবস্থা থাকবে। সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) প্রতিনিধি জানান, ঈদের জামাতের নিরাপত্তার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি সভা হবে। সেখানে নিরাপত্তার কৌশল নির্ধারণ হবে।

তথ্য মন্ত্রীর পদত্যাগ ও বিতর্কিত ৫৭ ধারা বাতিলের দাবিতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন

তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর পদত্যাগের দাবি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারা বাতিলে সাংবাদিকদের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে শিমরাইল ডাচ বাংলা পয়েন্টে এ কর্মসূচী পালন করা হয়। সিদ্ধিরগঞ্জে রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুলের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দিন সবুজ, অধিকারের নারায়ণগঞ্জের সমন্বয়ক ও মানবজমিনের স্টাফ রিপোর্টার বিল্লাল হোসেন রবিন, জনকন্ঠের স্টাফ রিপোর্টার খলিলুর রহমান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও যুগান্তরের সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি হোসেন চিশতি সিপলু, নিউজ টুয়েন্টিফোরের রুপগঞ্জ প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম হানিফ, আরটিভির নারায়ণগঞ্জ উত্তর প্রতিনিধি শাহাদাত হোসেন স্বপন, নয়া দিগন্তের সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি মোঃ এমরান হোসেন, যুগান্তরের রূপগঞ্জ প্রতিনিধি এ হাই মিলন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি এম.এ শাহীন, কালের কন্ঠের রূপগঞ্জ প্রতিনিধি এস.এম সাহাদাত হোসেন, আড়াইহাজার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান, সোনারগাাঁ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আসাদুজ্জামান নুর, সিদ্ধিরগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম নয়ন, জিটিভির জেলা প্রতিনিধি আশিকুর রহমান হান্নান, ভোরের ডাকের জেলা প্রতিনিধি মোস্তাক আহামেদ শাওন, মাইটিভির হাসান মজুমদার বাবলুসহ জেলার বিভিন্ন থানার প্রায় শতাধিক সাংবাদিক মানববন্ধনে অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা গণমাধ্যমের কন্ঠ রোধ ও স্বাধীন মত প্রকাশের অন্তরায়। এই আইন সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এ ধরনের কালো আইন সুখকর হতে পারে না। বক্তরা মনে করেন, গনমাধ্যমকর্মীদের বস্তু নিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশ থেকে দুরে রাখতেই এই ৫৭ ধারা যথেচ্ছাভাবে ব্যবহার করে গণমাধ্যমকর্মীদের হয়রানী করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেকে মামলার শিকার হয়ে কারাভোগ করেছেন। ভবিষ্যতে এই আইন গনমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে আরো বেশী অপপ্রয়োগ হবে আশংকা করা হয়। তাই অবিলম্বে ৫৭ ধারা বাতিলের দাবি জানান। অন্যথায় সাংবাদিক সমাজ এই আইন বাতিলের দাবিতে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে। এক পর্যায়ে বক্তারা তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর পদত্যাগ ও মন্ত্রী পরিষদ থেকে তাকে বহিস্কারের দাবি জানান।

নোয়াখালী ৫ : যেমন প্রস্তুতি দুই ভিআইপি প্রার্থীর

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ) আসন। এ আসনে দুই ভিআইপি প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে। একজন বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এবং অন্যজন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এই দুই ভিআইপি প্রার্থীর মনোনয়নের বিষয় দলীয় কোনো বড় ধরনের ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত না হলে অনেকটা নিশ্চিত। জাতীয় পার্টির আ ন ম শাহজাহানও মনোনয়নপ্রার্থী। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর বিশাল একটি ভোটব্যাংক রয়েছে। জোটগতভাবে নির্বাচন হলে জামায়াতের ভোটগুলো ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের পক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে প্রশাসন বাধা দিচ্ছে বলে দলীয় নেতাদের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে বসুরহাট পৌর হলে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের। প্রথমে এ অনুষ্ঠানে পুলিশ প্রশাসন অনুমতি দিলেও সমাবেশের আগের দিন অনুমতি বাতিল করে জেলা প্রশাসন থেকে অনুমতি নেয়ার জন্য বলা হয়। পরে ব্যারিস্টার মওদুদ তার নিজ বাড়িতে নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠকে করেন। একইভাবে সুন্দলপুর ও নরোত্তপুর দু’টি স্পটে সদস্য সংগ্রহ অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ প্রধান অতিথি থাকার কথা ছিল। কিন্তু প্রশাসন অনুমতি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠান হয়নি। তবুও বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে যেকোনোভাবে বিজয়ী করতে হবে এ চিন্তা নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। অপর দিকে আওয়ামী লীগও থেমে নেই। দলটির নেতাকর্মীরা প্রতিনিয়ত নির্বাচনী পূর্বপ্রস্তুতি নিচ্ছেন। ওবায়দুল কাদের মন্ত্রী ছাড়াও দলের সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় আওয়ামী লীগ এ আসনে ওবায়দুল কাদেরকে বিজয়ী করার জন্য এখন থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। অপর দিকে জামায়াতে ইসলামীর ভোটব্যাংক আছে এ আসনে। জোটগতভাবে নির্বাচন হলে এসব ভোট ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ পাবেন। জামায়াতের কারণে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ভোটের হিসাবে এগিয়ে রয়েছেন বলে সচেতন মহলের অভিমত। এ দিকে জাতীয় পার্টির কোনো তৎপরতা নেই এ আসনে। তবে পার্টির নেতা আ ন ম শাহজাহান মনোনয়নের জন্য প্রত্যাশী বলে জানা গেছে।

রামগঞ্জে ৪ কিলোমিটার যানজট

জেলার রামগঞ্জ উপজেলার খলিফা দরজার রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ-ঢাকা আঞ্চলিক মহা-সড়কের বিকল্প সড়ক বন্ধ করে দিয়ে ব্রীজের নির্মান কাজ অব্যাহত রাখায় বিকল্প সড়ক হিসাবে প্রায় দুই কিলোমিটার দুরুত্বের কাটাখালি-চৌধুরী বাজারের গ্রামীন সরু সড়ক ব্যবহার করায় সড়কের দুই পাশে প্রায় ৪ কিলোমিটার জানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে রাস্তার উভয় পাশে গাড়ীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উক্ত সড়কে চলাচলরত মানুষদের পড়তে হয়েছে মারাত্মক দূর্ভোগে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত বছরের শেষ নাগাদ রামগঞ্জ উপজেলার রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জÑঢাকার আঞ্চলিক সড়কের (১নম্বর কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের) খলিফা দরজা নামক স্থানে লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ (রোডস এন্ড হাইওয়ে) থেকে প্রায় ৪ কোটি ৩৮লক্ষ টাকার টেন্ডার পেয়ে ব্রীজ নির্মানের কাজ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ওয়াহিদুল করীম ফার্ম। টেন্ডার হওয়ার পর বিভিন্ন অজুহাতে কালক্ষেপন করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ওয়াহিদুল করীম ফার্ম চলতি বছরের রমজান মাসে অত্যান্ত ধীর গতিতে কাজ শুরু করে। নির্মানাধীন ব্রীজ সংলগ্ন পূর্বের তৈরি বেইলী ব্রীজটি দিয়ে উক্ত সড়কে প্রতিদিন শত শত গাড়ী যাতায়াত অব্যাহত থাকলেও হটাৎ করে গত মঙ্গলবার বিকালে বেইলী ব্রীজটি বন্ধ করে দিয়ে রামগঞ্জ উপজেলাব্যপি মাইকিং করে আগামী ১৮ আগষ্ট পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে। এদিকে ব্রীজের নির্মান কাজ অব্যাহত থাকায় এবং যানবাহন ও স্থানীয় জনসাধারনের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা না করে পাশ্ববর্তি বেইলী ব্রীজটি বন্ধ রাখায় প্রায় দুই কিলোমিটার দুুরুত্বের কাটাখালি সড়কের চৌধুরী বাজার হয়ে ওয়াপদা বেড়ি বাঁধের উপর দিয়ে বড় বড় ট্রাক-বাস, সিএনজি অটোরিক্সা যাতায়াত করতে গিয়ে মারাত্মক দূর্ভোগে পতিত হয়েছে। আজ সকাল ১১টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে সড়কের উভয় পাশে প্রায় ৪ কিলোমিটার জানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
সড়কটি অত্যান্ত সরু হওয়ার কারনে কোন গাড়ীই যাতায়াত করতে পারছে না। স্থানীয় এলাকাবাসী আবুল কাশেম, মোঃ সুমনসহ বেশ কয়েকজন জানান, কাজের ধীরগতির কারনে খালটিতে এখন পানিতে টইটুম্বুর। খালের দুই পাশে বাঁধ দেয়া ছাড়া ব্রীজটি নির্মান সম্ভব হবে না। ভরা বর্ষায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি কিভাবে কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করবে আল্লাই ভালো জানেন। বেশ কয়েকজন ট্রাক-বাস ও পিকআপ চালক জানান, আন্তজেলার গাড়ীগুলোতো আর রাস্তার বন্ধের কথা জানে না। রামগঞ্জ শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার এসে এখন ফিরে যেতে হবে প্রায় ৮০ কিলোমিটার। লাকসাম-সোনাইমুড়ি সড়ক দিয়ে এখন আবার ঘুরে যেতে হবে। অথছ কর্তৃপক্ষ যদি ব্রীজের নির্মান কাজের জন্য রাস্তা বন্ধ একটা সাইনবোর্ড টানাতো এমন দূর্ভোগে পড়তে হতো না। এব্যপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক মোঃ ওয়াহীদুল করীম জানান, মাত্র এক সপ্তাহ কষ্ট করলেই হবে। বড় বড় গাড়ী চলাচলের কারনে যে কোন মুহুর্তে বেইলী ব্রীজটি ধ্বসে পড়ার আশঙ্কায় শহরব্যপি প্রচারনা চালানো হয়েছে। আমরা আজই পাশ্ববর্তি হাজীগঞ্জ বা কাটাখালিতে সাইনবোর্ড টানিয়ে দিবো। রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু ইউসূফ জানান, আমি কথা বলছি এবং দ্রুত বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। বেইলী ব্রীজ দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করতে পারি কি না দেখি। সড়ক ও জনপথ বিভাগের রামগঞ্জ উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও লক্ষ্মীপুর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবদুর রহিম জানান, বেইলী ব্রিজটি দিয়ে ৫টনের অতিরিক্ত গাড়ী চলাচলের কারনে যে কোন সময়ে বিপদ হতে পারে। তাছাড়া বিকল্প হিসাবে আমরা পাশ্ববর্তি কাটাখালি-কাঞ্চনপুর-চৌধুরী বাজার (ওয়াপদা বেড়ি বাঁধ) সড়ক ব্যবহার করতে বলা হয়েছে স্থানীয়দের। নির্মানাধীন ব্রীজের নিছের অংশে ঢালাই হয়ে গেলেই বেইলী ব্রীজটি খুলে দেয়া হবে সে সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

চীনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ২৪ জনের প্রাণহানি

চীনে রিখটার স্কেলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে ২৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধীক। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৯টা ১৯ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ৭টা ১৯ মিনিট) দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সিচুয়ান প্রদেশে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। চীনা ভূমিকম্প নেটওয়ার্কস সেন্টারের (সিইএনসি) এক বিবৃতির বরাতে এ খবর জানায় রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া। সিইএনসির বিবৃতিতে বলা হয়, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রের অবস্থান ছিল ৩৩ দশকি ২ ডিগ্রি অক্ষাংশ এবং ১০৩ দশমিক ৮২ ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশ। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ২০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে। এতে ২৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে বিবৃতিতে বলা হয়। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে ওই একই প্রদেশে শক্তিশালী ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের আঘাতে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়।

মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে হামলার হুমকি উত্তর কোরিয়ার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং উত্তর কোরিয়ার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গুয়ামে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এরপর থেকেই শুরু হয়েছে নতুন উত্তেজনা। খবর বিবিসির। প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রকে ফের পারমাণবিক হামলার হুমকি দিলে, সমুচিত জবাব দেয়া হবে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই এই হুমকি দিল উত্তর কোরিয়া। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা হিসেবে পরিচিত গুয়ামে দেশটি মাঝারি দেকে দূর পাল্লার রকেট নিক্ষেপ করার পরিকল্পনা করছে। গুয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর একটি ঘাঁটি রয়েছে। এর আগে ওয়াশিংটন পোস্ট-এ প্রকাশিত এক সংবাদে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যেই এমন ক্ষুদ্রকায় পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরি করতে সমর্থ হয়েছে, যা কোনো ক্ষেপণাস্ত্রের ভেতরে বসিয়ে সেটিকে কার্যকর করা সম্ভব হবে। সেক্ষেত্রে ওয়াশিংটন পোস্টের খবর সঠিক হলে, উত্তর কোরিয়া সত্যি পরমাণু অস্ত্র গড়ে তুলেছে এবং মনে করা হচ্ছে, ধারণার চেয়ে দ্রুত গতিতে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে আঘাত হানতে পারবে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের সূত্র ধরেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

এভারেস্ট জয়ের ভুয়া দাবি, চাকরিচ্যুত পুলিশ দম্পতি

ভারতের প্রথম দম্পতি হিসেবে এভারেস্ট জয়ের ভুয়া দাবি করায় চাকরি খোয়ালেন ভারতীয় পুলিশের দুই কর্মকর্তা। এক তদন্তে ধরা পড়েছে, তারা আসলে এভারেস্ট চূড়া জয় না করেই কারসাজি করে ভুয়া ছবি বানিয়ে এমন দাবি করছেন। গত বছর দিনেশ রাথোড ও তার স্ত্রী তারকেশ্বর রাথোড দাবি করেন, ২৩ মে তারা সফলতার সঙ্গে ৮ হাজার ৮৫০ মিটার (২৯,০৩৫ ফুট) উঁচু এভারেস্ট চূড়ায় আরোহণ করেছেন। কিন্তু মহারাষ্ট্র রাজ্য পুলিশ সোমবার ঘোষণা করেছে, তারা নিশ্চিত হয়েছে এই দম্পতি ভুয়া ছবি বানিয়ে এমন দাবি করেছেন। খবর বিবিসির। দিনেশ ও তারকেশ্বরের এভারেস্ট জয়ের দাবির পর সন্দেহ প্রকাশ করেন পর্বতারোহীরা। এরপর তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করে মহারাষ্ট্র রাজ্য পুলিশ। এতেই উঠে এলো তারা মিথ্যাচার করেছেন। মহারাষ্ট্র রাজ্য পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার সাহেবরাও পাতিল বলেন, ‘এই দম্পতি ভুল তথ্য দিয়েছে এবং মহারাষ্ট্র রাজ্য পুলিশের সম্মানহানি করেছে।’ দিনেশ ও তারকেশ্বরকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে কিনা তা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে নেপালি কর্তৃপক্ষ এই দম্পতির পর্বতারোহণের ওপর ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। নেপালের পর্যটক বিভাগ ওই দম্পতিকে এভারেস্টে ওঠার ছাড়পত্র দিয়েছিল, কিন্তু এ তদন্ত রিপোর্ট সামনে আসার পর তা বাতিল করে দেয়া হয়েছে। তবে রাথোড দম্পতি দাবি করেছে, তাদের দেয়া ওই ছবি বাস্তব।

দলীয়প্রধানের পদও হারাচ্ছেন নওয়াজ!

পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন বা ইসিপি ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-এনের প্রধানের পদ থেকে নওয়াজ শরিফকে সরিয়ে দেয়ার জন্য মঙ্গলবার নির্দেশ দিয়েছে। ইসিপির নির্দেশে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলবিধি ২০০২ অনুযায়ী অযোগ্য ঘোষিত ব্যক্তি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রধানের দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। পানামা পেপারস নিয়ে সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশও এতে তুলে ধরা হয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য নওয়াজের প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া পিএমএল-এনের গঠনতন্ত্রের ১৫ বিধিও তুলে ধরেছে ইসিপি। দলীয় সভাপতির পদ খালি হলে সাত দিনের মধ্যে তা পূরণ করার কথা এ বিধিতে বলা হয়েছে। পিএমএল-এনকে নতুন দলীয় প্রধান নির্বাচন করে তা ইসিপিকে অবহিত করার নির্দেশও দেয়া হয়েছে। এ নির্দেশ পাওয়ার পর অর্থমন্ত্রী ইশাকদার এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিশারসহ পিএমএল-এনের প্রবীণ নেতারা বৈঠকে বসেছেন। রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে নিজ শহর লাহোরে যাওয়ার একদিন আগে এ নির্দেশ দিল ইসিপি। দুই দিনের ‘ঐতিহাসিক’ শোভাযাত্রা করে নওয়াজ লাহোর যাবেন বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে নওয়াজ সুপ্রিমকোর্টের ওই রায়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন। সোমবার তিনি বলেছেন, তাকে বিচারের আগেই অযোগ্য ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল এবং এ জন্য একটি অজুহাত খোঁজা হচ্ছিল। পানামা পেপারস নিয়ে একটি চ্যানেলের সঙ্গে আলোচনার সময়ে এ কথা বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, বিচারকরা মন্তব্য করেছেন যে, নওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অর্থ অপব্যবহারের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পাঁচ ‘মহৎ ব্যক্তিত্ব’ এমন এক ব্যক্তিকে ক্ষমতাচ্যুত করেছেন যার কিনা লাখ লাখ মানুষের দেয়া ম্যান্ডেট রয়েছে এবং এটা ঠিক হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পানামাগেট নিয়ে আদালতের রায়ে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। সুপ্রিমকোর্টের বিচারকদের মন্তব্যে আঘাত পেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, একজন বিচারপতি এমনও বলেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর জানা উচিত পাকিস্তানের আদিলা কারাগারে অনেক খালি জায়গা আছে। এটি বিচারকসুলভ আচরণ নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

৮২ বছর বয়সেও...!

উদ্ভাবনী কিছু করতে চাইলে বয়স কোনো বাধাই নয়। কিন্তু ৮২ বছর বয়সে! হ্যাঁ, অ্যাপলের জন্য অ্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন জাপানের মাসাকো ওয়াকামিয়া। পেশাদার অ্যাপ নির্মাতা মাসাকো বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক আইফোন অ্যাপ নির্মাতা হিসেবে পরিচিত। স্মার্টফোনের বিভিন্ন সেবা প্রবীণদের কাছে সহজলভ্য করতে কাজ করছেন তিনি। এএফপি। প্রবীণদের জন্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ কম দেখে হতাশ হয়েছিলেন মাসাকো। এরপর নিজ থেকেই কোড শেখেন এবং নিজের দক্ষতা দেখাতে শুরু করেন। ৬০ বছরের বেশি বয়স হয়ে গেলে নিজেকে সক্রিয় রাখার জন্য নতুন নতুন দক্ষতা অর্জনের প্রতি গুরুত্ব দেন তিনি। মাসাকো বলেন, বয়স বেড়ে গেলে অনেক কিছু হারাতে হয়। স্বামী, চাকরি, চুল, এমনকি দৃষ্টিশক্তি। হারানোর ভাগটাই বেশি। তবে নতুন যখন কিছু শেখা হয়, তা যদি প্রোগ্রামিং বা পিয়ানোর মতো বিষয়ও হয়, তবে তা ইতিবাচক ও প্রেরণাদায়ী। মাসাকো তিনি ধীরে ধীরে মাইক্রোসফট পিসি, ম্যাক ও আইফোনে দক্ষ হয়ে ওঠেন। পরে তিনি ‘হিনাদান’ নামে একটি গেম খেলার অ্যাপ তৈরি করেন। ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের উপযোগী গেম অ্যাপ এটি।

চীন-ভারত যুদ্ধ অনিবার্য

ভুটানের ডোকলাম উপত্যকা নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ভারতকে ফের যুদ্ধের হুমকি দিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় পত্রিকা গ্লোবাল টাইমস। ১৯৬২ সালের জওহরলাল নেহরু সরকারের মতো বর্তমানের নরেন্দ্র মোদি সরকার চীনের হুমকিকে ‘হাস্যরস’ হিসেবে নিচ্ছে বলে দাবি পত্রিকাটির। মঙ্গলবার গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদকীয় প্রধান হু জিজিন তার লিখিত এক সম্পাদকীয়র সঙ্গে দুই মিনিটের একটি ভিডিও সংযুক্ত করে দেন। টুইটারে সহজলভ্য এ ভিডিওটিতে হু জিজিনের মাধ্যমে ডোকলাম থেকে ভারতীয় সেনা না সরানো হলে চীনের করণীয় কি হবে সে বার্তা দেয়া হয়েছে। খবর ইন্ডিয়া টুডের। সম্পাদকীয়তে জিজিন তার বিশ্বাসের কথা তুলে ধরে বলেন, যদি ভারত বারবার চীনের হুমকিকে উপেক্ষা করে চলে তবে যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী ও অনিবার্য হয়ে উঠবে। ‘চীন অবশ্যই যুদ্ধের ঝুঁকি নিতে চায় না’- এ বাক্য দিয়েই ওই সম্পাদকীয় শুরু করা হয়েছে। তবে বলা হয়েছে, ডোকলাম উপত্যকায় ভারত যদি তাদের সেনা সরিয়ে না নেয় তাহলে চীন ‘বিকল্প ব্যবস্থা’ নিতে বাধ্য হবে। চীন, ভারত ও ভুটানের সংযোগস্থলে ডোকলাম এলাকা নিয়ে প্রায় দুই মাস ধরে বেইজিং ও নয়াদিল্লির মধ্যে উত্তেজনা চলছে। উভয় দেশই পাল্টাপাল্টি হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি নিয়ন্ত্রিত গ্লোবাল টাইমস পত্রিকা প্রতিদিনই ভারতকে যুদ্ধের প্রচ্ছন্ন হুমকি দিচ্ছে। মঙ্গলবারের নিবন্ধেও এ ব্যতিক্রম হয়নি। নিবন্ধে বলা হয়, ‘১৯৬২ সালের ইন্দো-চীন যুদ্ধে ভারত অপমানজনক পরাজয়ের মুখে পড়ে। ১৯৬২ সালে চীন-ভারত সীমান্তে ভারত ক্রমাগত উত্তেজনা তৈরি করেছিল। সে সময় জওহরলাল নেহরুর সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেছিল যে, চীন পিছু হটবে না।’ নিবন্ধে আরও বলা হয়, ‘নেহরু সরকার চীনের আঞ্চলিক অখণ্ডতা সুরক্ষার ক্ষেত্রে চীনা সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতিকে অবজ্ঞা করেছিল। এমনকি দেশটি দেশি ও কূটনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই ‘নর্দমার কাদায়’ পড়ে গিয়েছিল। তখনকার মতো বর্তমান মোদি সরকারও চীনের হুমকি অবজ্ঞা করছে। ৫৫ বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু ভারত সরকার আগের মতোই ‘আনাড়ি’ রয়ে গেছে।
১৯৬২ সালের যুদ্ধটির অধ্যায় অর্ধশতকের জন্য শেষ হয়নি।’ তবে এ নিবন্ধে ১৯৬২ সালের যুদ্ধে ভারতীয় সৈন্যরা চীনকে পরাজিত করতে পেরেছিল কিনা সে ব্যাপারে স্পষ্ট করে বলা হয়নি। ‘কথার লড়াই সর্বনাশ ডেকে আনবে’ : চীনের আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নেতাজী সুভাস চন্দ্র বসুর প্রপৌত্র তথা লোকসভার সংসদ সদস্য সুগত বসু বলেন, দু’দেশের মধ্যে কথার লড়াই উভয়ের জন্য সর্বনাশের কারণ হিসেবে দেখা দেবে। তিনি জানান, ‘বিশ্বে ভারত ও চীন একসঙ্গে প্রভাবশালী হয়ে উঠছে। এই দুটি দেশ যাতে যুদ্ধের দিকে না যায়, সেটা সত্যিই বড় চ্যালেঞ্জ। ভারত কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সংবাদপত্রে চীনের আগ্রাসী মনোভাব শোনা যাচ্ছে। বসু আরও বলেন, আমার মনে হয়, এখন ভারতের পক্ষ থেকে ভারত মহাসাগরে কৌশলগত অবস্থান নেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তবে ভারত-?চীন সম্পর্ক শুধু ডোকলামে কী হচ্ছে, তার ওপর দাঁড়িয়ে নেই।’ গ্লোবাল টাইমসের নিবন্ধে চীনা বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করছেন, ডোকলাম থেকে ভারতীয় সেনাকে হটাতে দু’সপ্তাহের মধ্যে চীন ছোট মাপের ‘মিলিটারি অপারেশন’ চালাতে যেতে পারে। গোটা পরিস্থিতির জন্য মোদির দিকেই আঙুল তুলে বলা হয়েছে, মোদি চীনের প্রতি কড়া অবস্থান নিতে গিয়ে নিজের দেশকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।

জিয়া অরফানেজ দুর্নীতির মামলায় খালেদার স্থায়ী জামিন

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে স্থায়ী জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা এই মামলার বিষয়ে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের যৌথ বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার জাকির হোসেন ভূইয়া ও এএইচএম কামরুজ্জামান। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রাজধানীর রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় খালেদা জিয়াসহ মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য পাঁচজন হলেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠন করেন আদালত। ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন মাঠে স্থাপিত ঢাকার পাঁচ বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধান এ মামলায় এখন পর্যন্ত সাক্ষ্য দিয়েছেন ৩২ জন। এছাড়া জামিনে থাকা দুই আসামি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদ আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন। ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন।

২ হাজার হজ যাত্রী নিতে পারবে না বিমান

বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ক্যাপ্টেন (অব.) মোসাদ্দিক আহমেদ বলেছেন, এখন থেকে যদি আর একটি স্লটও বাতিল না হয়, তবু বিমান দুই হাজার হজ যাত্রীকে নিতে পারবে না। এ যাত্রীদের পরিবহনে সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে। বুধবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রধান কার্যালয় বলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মোসাদ্দিক আহমেদ জানান, ই-ভিসাসহ নানা জটিলতায় এখন পর্যন্ত বিমানের ২১টি স্লট বাতিল হয়েছে। এ কারণে ৪ হাজার চারশ' হজ যাত্রী নেয়া সম্ভব হয়নি। আর এতে বিমানের ৪৪ কোটি টাকা রাজস্ব আয় লোকসান হয়েছে। এদিকে হজ যাত্রীদের নিরাপদ পরিবহনে বিমান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দাবি করে বিমানের সিইও বলেন, হজ যাত্রী পরিবহনে আমরা সৌদি সরকার থেকে ১৪টি স্লট পেয়েছিলাম। জটিলতার কারণে ৭টির মেয়াদ চলে গেছে। তবে প্রয়োজনে নতুন করে আরও স্লট নেয়া হবে। অবশ্য জটিলতার কারণে হজ যাত্রী পরিবহনে এবার বিমানকে মোটা অংকের লোকসান টানতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   এ বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাত্রার প্রথম ফ্লাইট পৌঁছে ২৪ জুলাই। শেষ ফ্লাইট ২৮ আগস্ট। ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ৬ সেপ্টেম্বর ও শেষ ফিরতি ফ্লাইট ৫ অক্টোবর। এ বছর চাঁদ দেখা সাপেক্ষে হজ অনুষ্ঠিত হবে ১ সেপ্টেম্বর। তবে, ভিসা জটিলতার কারণে এ বছর বিশাল সংখ্যক বাংলাদেশি হাজির হজ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে সূত্র জানায়।

যশোরে শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক শিক্ষিকা নাজমা পারভীন

যশোর জেলার শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক শিক্ষিকা নির্বাচিত হয়েছেন নাজমা পারভীন। এজন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতর তাকে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০১৭ তে ভূষিত করেন। নাজমা পারভীন বর্তমানে জেলার হাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। ১৯৯৫ সালে তিনি শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন। দীর্ঘদিন বাঘারপাড়া উপজেলার মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন শেষে ২০১৩ সালে তিনি হাশিমপুরে আসেন। প্রাথমিক শিক্ষাকে সার্বজনীন ও আনন্দদায়ক করার জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন এই শিক্ষিকা। এছাড়া তার নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও পরিবেশেরও উন্নয়ন হয়েছে। প্রসঙ্গত, নাজমা পারভীন বাঘারপাড়ার সদুল্যাপুর গ্রামের প্রয়াত মোঃ আব্দুর রাজ্জাকের কন্যা এবং বিএডিসির সহকারি প্রকৌশলী মোঃ নজরুল ইসলামের স্ত্রী। নাজমার পারভীন মনে করেন, এই সন্মান তাকে ভালো কাজের প্রতি আরও অনুপ্রাণিত করবে।

ঢাকা ও চট্টগ্রামে ৪টি হজ ফ্লাইট বাতিল

হজ যাত্রী সংকটের কারণে ঢাকা থেকে আজ বুধবারের দু'টি এবং চট্টগ্রাম থেকে আজ ও কাল বৃহস্পতিবারের দু'টি হজ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানায়, ভিসা জটিলতার কারণেই এ যাত্রী সংকট। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভিসা জটিলতা, ই-টোকেন ও পার্সপোর্ট জটিলতায় হজ যাত্রী সংকট রয়েছে। এ কারণে আজ ঢাকা থেকে দুটি হজ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া বিজি-৫০৪৫ ফ্লাইটটির আজ ভোর ৫টায় ও বিজি-৩০৫৩ ফ্লাইটটি বিকাল ৪টা ৩৫ মিনিটে সৌদি আরবের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে আজকের একটি এবং আগামীকালের একটি হজ ফ্লাইট বাতিল করার কথাও জানান তিনি। এখন পর্যন্ত মোট ২৫টি হজ ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন বিমানের জনসংযোগ বিভাগের এই কর্মকর্তা। এদিকে হজ ফ্লাইট বাতিল ও এসংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আজ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এর পক্ষে সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। এ বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাত্রার প্রথম ফ্লাইট পৌঁছে ২৪ জুলাই। শেষ ফ্লাইট ২৮ আগস্ট। ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ৬ সেপ্টেম্বর ও শেষ ফিরতি ফ্লাইট ৫ অক্টোবর। এ বছর চাঁদ দেখা সাপেক্ষে হজ অনুষ্ঠিত হবে ১ সেপ্টেম্বর। তবে, ভিসা জটিলতার কারণে এ বছর বিশাল সংখ্যক বাংলাদেশি হাজির হজ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে বলে সূত্র জানায়। অবশ্য হজ অফিসের অভিযোগ, ভিসা জটিলতা নয় বিমান সংকটের কারণে হজ ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে।

এফবিআই সদস্য হত্যাচেষ্টায় বাংলাদেশি অভিযুক্ত

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-এফবিআইয়ের এক সদস্যকে হত্যা চেষ্টা এবং সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ইসলামিক স্টেটকে সাহায্যের অভিযোগে এক বাংলাদেশিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে দেশটির আদালত। খবর রয়টার্সের। নীলেশ দাস (২৫) নামের ওই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ নাগরিক। মঙ্গলবার আদালতের জুরি বোর্ডের সদস্যরা মেরিল্যান্ডের বাসিন্দা নীলেশকে এফবিআই সদস্যকে হত্যাচেষ্টার জন্য দোষী সাব্যস্ত করেন। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে ইসলামিক স্টেটকে সহায়তার অভিযোগও আনেন তারা। গত ২০১৬ সালে এফবিআইয়ের হাতে নীলেশ গ্রেফতার হন। এসময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এক আর্মি সদস্যকে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তার সঙ্গে একজন সহযোগী ছিল, যে আবার এফবিআইয়ের ভাড়া করা তথ্যদাতা ছিল।   এক হলফনামায় এফবিআইয়ের ওই তথ্যদাতা বলেন, নীলেশ একজন আর্মি সদস্যকে হামলা ও হত্যার বিষয়ে বলেছিল। নীলেশের বক্তব্য ছিল, 'ওই ব্যক্তিকে হত্যা করাই তার জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য।' এদিকে জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানায়, নীলেশ ২০১৫ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ইসলামিক স্টেটকে সহায়তা করছিল। নীলেশের বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্রের অপব্যবহারেরও অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় নীলেশের যাবজ্জীবন দণ্ড হতে পারে।

৬ লাখ রিয়ালসহ শাহজালালে যাত্রী আটক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৬ লাখ সৌদি রিয়ালসহ এক যাত্রীকে আটক করেছে কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ। আটক যাত্রীর নাম তৌফিকুল ইসলাম। তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে। তিনি সিঙ্গাপুর যাচ্ছিলেন। ঢাকা কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার ওমর মবিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের এসকিউ-৪৪৭ ফ্লাইটে শাহজালাল ত্যাগ করার কথা ছিল তৌফিকুল ইসলামের। কিন্তু কাস্টমস বিমানবন্দর ইউনিটের কাছে গোপন সংবাদ থাকায় বহির্গমনের ৩ নম্বর স্ক্যানিং থেকে তাকে সন্দেহজনকভাবে আটক করা হয়। সেখান থেকে তাকে কাস্টমস হলে নিয়ে তার ব্যাগ তল্লাশি করে ৬ লাখ সৌদি রিয়াল জব্দ করা হয়। এই কাস্টমস কর্মকর্তা জানান, তৌফিকুল ইসলাম চলতি বছরে ৬ বার সিঙ্গাপুরে যাতায়াত করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে তিনি মুদ্রা পাচারের সঙ্গে জড়িত। আটক তৌফিককে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মুদ্রাপাচার আইনে মামলা দায়ের করার কথা জানান তিনি।

আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণ মানা বাধ্যতামূলক

রাজনৈতিক দল থেকে পদত্যাগ কিংবা দলের বিপক্ষে ভোট দেয়ার কারণে সংসদ সদস্যদের আসন শূন্য হওয়াসংক্রান্ত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে আপিল বিভাগের দেয়া পর্যবেক্ষণ মানা বাধ্যতামূলক বলে মত দিয়েছেন হাইকোর্ট। সুপ্রিমকোর্টের আসন্ন অবকাশের পর রিটের পরবর্তী শুনানির জন্য সময় নির্ধারণ করেন আদালত। মঙ্গলবার সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আইনজীবী ড. ইউনুস আলী আকন্দের করা রিটের শুনানিতে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও জেবিএম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মত দেন। এর আগে রিটটি জনস্বার্থে নয় এমন দাবি করে তা খারিজ চেয়ে আর্জি জানায় রাষ্ট্রপক্ষ। এ সময় আদালত বলেন, ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায়ে আপিল সর্বোচ্চ আদালতের একটি পর্যবেক্ষণ রয়েছে, যা মানা হাইকোর্টের জন্য বাধ্যতামূলক। আর সে জন্যই এ সংক্রান্ত রিটটির ওপর শুনানি হওয়া প্রয়োজন। পরে সুপ্রিমকোর্টের আসন্ন অবকাশের পর রিটের পরবর্তী শুনানির জন্য সময় নির্ধারণ করেন আদালত। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। রিটকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ড. ইউনুস আলী আকন্দ। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, রিটটি জনস্বার্থে করা হয়নি উল্লেখ করে তা খারিজের আবেদন জানানো হয়। পরে আদালত সুপ্রিমকোর্টের আসন্ন অবকাশের পর রিটের পরবর্তী শুনানির জন্য সময় নির্ধারণ করেন। ড. ইউনুস আলী আকন্দ বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু জরিমানাসহ রিট খারিজের আবেদন জানালে সে আবেদন গ্রহণ না করে আদালত সুপ্রিমকোর্টের আসন্ন অবকাশের পর পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। উল্লেখ্য, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্য নিজ দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্যপদ থাকবে না। এতে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, ৭০ অনুচ্ছেদ সংসদের স্থায়িত্ব ও দলের সদস্যদের মধ্যে শৃঙ্খলা ধরে রাখার জন্য একটা ব্যবস্থা মাত্র। একজন সংসদ সদস্য যদি দর কষাকষির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন বা সন্দেহ হয় যে, তিনি দর কষাকষির সঙ্গে যুক্ত- তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিধান সংবিধানে নেই। এ অবস্থায় তারা বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা কিভাবে নিতে চান? দল যদি কোনো ভুল সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা দেয় তার বিরুদ্ধে ভোট বা মতামত দেয়ার সুযোগ সংসদ সদস্যদের নেই। তারা দলের নীতিনির্ধারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হন। ৭০ অনুচ্ছেদ বলবৎ থাকাবস্থায় বিচারক অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে গেলে একজন বিচারককে দলীয় নীতিনির্ধারকের করুণা অনুযায়ী চলতে হবে। বিচারক অপসারণ ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের হাতে গেলে তার প্রভাব বিচার বিভাগে পড়বে। ১৭ এপ্রিল সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেয়ার কারণে সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়াসংক্রান্ত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ড. ইউনুস আলী আকন্দ। রিট আবেদনে জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সংসদ সচিবালয়ের সচিব ও আইন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি (ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।’ রিট আবেদনে বলা হয়েছে, এ ৭০ অনুচ্ছেদ সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং ৭, ১১, ২৬ ও ৩১ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এর কারণ ব্যাখ্যা করে রিটকারীর আইনজীবী ইউনুস আলী বলেন, সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে জনগণই সব ক্ষমতার মালিক। অথচ সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা আছে, এমপিরা নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিতে পারবেন না। এখানে সংসদ সদস্যরা স্বাধীন নন। তারা নিজ দলের কাছে পরাধীন। তারা স্বাধীনভাবে কোনো মতামত দিতে পারেন না। সংসদে কোনো গণবিরোধী আইন পাস হলেও সেখানে তারা নিজ দলের পক্ষে ভোট দিতে বাধ্য। কিন্তু সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রতিনিধি। দল যা বলবে এমপিরা তাই করবেন- এমন কোনো কারণে জনগণ তাদের ম্যান্ডেট দেননি। জনগণ ম্যান্ডেট দিয়েছেন যাতে স্বাধীনভাবে তাদের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন, জনস্বার্থে কাজ করেন। এখানে ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সব ক্ষমতার অধিকারী হচ্ছে রাজনৈতিক দল, জনগণ নন। এসব কারণে এটা সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এছাড়া ৭০ অনুচ্ছেদ সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক দাবি করে এ আইনজীবী বলেন, গণতন্ত্র সংবিধানের মূল ভিত্তি (বেসিক স্ট্রাকচার)। গণতন্ত্র অর্থ স্বাধীনভাবে কিছু করার ক্ষমতা। কিন্তু ৭০ অনুচ্ছেদ গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে অন্তরায়। এটি অগণতান্ত্রিক এবং সংবিধানের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। স্বৈরাচারী ধারা এটি। এ ধারার কারণে আমাদের সরকার প্রধান একনায়ক। এ অনুচ্ছেদ বাতিল হলে সরকার প্রধানের ক্ষমতা কমে যাবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, পাকিস্তানের তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। পাকিস্তানে তখন সকালে এক সরকার, বিকালে আরেক সরকার। লোভ-লালসার বশবর্তী হয়ে তখন সংসদ সদস্যরা বেচাকেনা হতেন। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানে এ অনুচ্ছেদটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ অনুচ্ছেদের আর কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই বলে মনে করেন রিটকারী আইনজীবী। সংসদকে কার্যকর করতে, গণতান্ত্রিক ধারার বিকাশ ঘটাতে এবং জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে এ অনুচ্ছেদ বাতিল হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ।

জামিনে মুক্তি পেয়েছেন যুগান্তরের ইকোনমিক এডিটর হেলাল উদ্দিন

দৈনিক যুগান্তরের ইকোনমিক এডিটর হেলাল উদ্দিন মঙ্গলবার সকালে কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। দুর্নীতি, প্রতারণা, অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগে চূড়ান্ত বরখাস্ত হওয়া ঢাকা কাস্টমসের সাবেক বন্ড কমিশনার এম হাফিজুর রহমানের দায়ের করা এক মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। উচ্চ আদালতের ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করা হলে গত ২০ জুলাই বিচারক কামরুল ইসলাম মোল্লা জামিন আবেদন বাতিল করে হেলাল উদ্দিনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর পর থেকেই ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ সাংবাদিকদের একাধিক সংগঠন সিনিয়র সাংবাদিক হেলাল উদ্দিনের মুক্তি ও মিথ্য মামলা প্রত্যাহারের  দাবি করে আসছিল।   এদিকে হেলাল উদ্দিনের পক্ষে করা এক জামিন আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে গত রোববার সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এবং বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ হেলাল উদ্দিনকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।
একই সঙ্গে এ হয়রানিমূলক মামলায় কেন তাকে স্থায়ী জামিন দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে আদালত রুল জারি করেছেন। আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে মামলার বাদী পক্ষকে এর জবাব দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। হেলাল উদ্দিনের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান ও সুপ্রিমকোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করীম। দৈনিক যুগান্তরসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে কাস্টমস কমিশনার হাফিজুর রহমানের অনৈতিক কর্মকাণ্ড, দুর্নীতি, প্রতারণাসহ নানা অনিয়মের বিষয়ে তথ্যবহুল প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একাধিক তদন্তে এম হাফিজুর রহমান ওরফে রাজুর বিরুদ্ধে অনৈতিক কার্যকলাপ, প্রতারণা, জালিয়াতি, দুর্র্নীতিসহ অসংখ্য গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয় এবং তাকে অতিরিক্ত কমিশনার পদে পদাবনতি দিয়ে সরকারি চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়। একাধিক তদন্তে দেশে-বিদেশে হাফিজুর রহমান, তার স্ত্রী এবং ছেলের নামে-বেনামে বিপুল অংকের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিহিংসা চরিতার্থে হাফিজুর রহমান ঘটনার দুই বছর পর ২০১৪ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর ভাটারা থানায় বিতর্কিত তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় সাংবাদিক হেলাল উদ্দিন এবং সুস্মিতা গোলাম নামে এক নারীকে আসামি করে মিথ্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি পুলিশের সিআইডির উচ্চপর্যায়ে দীর্ঘ তদন্ত করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় গত বছর আদালতে সিআইডির সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট জমা দেয়া হয়। কিন্তু ঢাকার বিশেষ সাইবার ট্রাইব্যুনালের জজ বাদী এবং বাদীর আইনজীবীর অনুপস্থিতিতে, বাদীর কোনো নারাজি পিটিশন ছাড়াই মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিসিএ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। এরপর কয়েক মাসের তদন্ত শেষে তদন্ত কর্মকর্তা বাদীর অবৈধ অর্থের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে ক্রটিপূর্ণ ও ভিত্তিহীন একটি প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন। কিন্তু ঢাকার বিশেষ সাইবার ট্রাইব্যুনাল সিসিএ’র প্রতিবেদনটি অগ্রাহ্য (জবলবপঃ) করেন। এরপর ভাটারা থানাকে আইটি বিশেষজ্ঞ রিপোর্টসহ মামলাটি পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন। কিন্তু ভাটারা থানার পুলিশ অভিযুক্ত আসামিদের কোনো বক্তব্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়াই আইটি বিশেষজ্ঞের মতামত নেয়ার আদালতের নির্দেশ অগ্রাহ্য করে বাদীর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মাত্র ২২ দিনের মাথায় নজিরবিহীনভাবে একটি মামলায় দুটি চার্জশিট প্রদান করেন। এর একটি তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় এবং অপরটি পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারা ৮(২) ধারা। এতে প্রধান আসামি করা হয় সুস্মিতা গোলাম নামে এক উচ্চশিক্ষিত নারীকে। যিনি প্রায় দুই বছর আগেই হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে একই অভিযোগে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন, যা বর্তমানে মহানগর দায়রা জজ আদালতেই বিচারাধীন।

রুবির ভিডিওবার্তায় তদন্তে নতুন মোড়

জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর অপমৃত্যু মামলাটি ২১ বছর পর নতুন করে মোড় নিয়েছে। সোমবার ফেসবুকে একটি ভিডিওবার্তা ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নড়েচড়ে বসে পুলিশ। এ মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে রাবেয়া সুলতানা রুবি ভিডিওবার্তায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেননি। তাকে হত্যা করা হয়েছে। কারা তাকে হত্যা করেছে তিনি তাদের কয়েকজনের নামও প্রকাশ করেন। এদিকে আসামির মুখে খুনি চিহ্নিত করার এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য জানার পর মঙ্গলবার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পদস্থ কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। তারা অফসিয়ালি ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ সংক্রান্ত ভিডিওবার্তার ডকুমেন্ট আনার প্রক্রিয়া শুরু করেন। আজ বুধবার এ সংক্রান্ত আবেদন জানানো হবে। অগণিত সালমানভক্ত ছাড়াও ভিডিওবার্তাটি মিডিয়া জগতেও নতুন করে দাগ কেটেছে। মঙ্গলবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে বেশ কয়েকজন সিনিয়র চলচ্চিত্র শিল্পী সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন। তারা বলেন, রুবির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ যেন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়। তারা চান, প্রকৃত খুনি বা খুনিরা যেই হোন না কেন তাদের যেন শাস্তি হয়। লন্ডনে অবস্থানরত সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী মঙ্গলবার রাতে যমুনা টেলিভিশনকে বলেন, ‘আমার ছেলের খুনিদের চিহ্নিত করার স্বার্থে দ্রুত রুবিকে দেশে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। বাংলাদেশে এনে তাকে সেফহোমে রাখতে সরকারকে অনুরোধ করছি। না হলে খুনিরা তাকেও মেরে ফেলতে পারে। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারের কাছে এ দাবি জানাই। বিদেশে থাকলেও আমি বাংলাদেশের একজন নাগরিক এবং ভোটার। তাই সরকারের কাছে জোরালোভাবে এ দাবি করছি।’ এদিকে রুবি মঙ্গলবার একটি অনলাইন পত্রিকাকে বলেন, ‘এ মামলার বড় সাক্ষী তার ছেলে ভিকি। ভিকির বয়স তখন ১৭ ছিল। আমার ছেলে ভিকি সেদিন সামিরার দেয়া জিনিস এক ছাদ থেকে অন্য ছাদে পার করেছে। ওদের বাসা থেকে আমাদের বাসার ছাদে একটা কাপড়ের পুটলি পাচার করেছে।’ রুবির এ বক্তব্য জানার পর পিবিআই তার বিষয়ে খোঁজ নিতে শুরু করেছে। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন পিবিআই কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ যুগান্তরকে বলেন, ‘সালমান শাহ অপমৃত্যু মামলাটির বিষয়ে যে কেউ বক্তব্য দিতে পারে। তবে সে বক্তব্য কতটুকু সত্য তা যাচাইয়ের ব্যাপার আছে। এতদিন পর তিনি কেন এ দাবি করবেন- এ নিয়েও স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠতে পারে।’ তার মতে, তার এ বক্তব্য সত্য হতে পারে, আবার মিথ্যাও হতে পারে। তদন্ত আরও একটু গভীরে নিয়ে গেলে বোঝা যাবে প্রকৃত ঘটনা কী। মঙ্গলবার একটি অনলাইন পোর্টালকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রুবি দাবি করেন, হঠাৎ করে তার ছেলে ভিকির কাছ থেকে তিনি সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পান। এতদিন তিনি জেনে এসেছেন, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন। এ কারণে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর ওপর তিনি ক্ষিপ্ত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার বড় ছেলে ভিকির কাছ থেকে কিছু তথ্য পেয়ে সেই সূত্রে অনেক কিছু জেনে নিজেই অবাক হয়েছি। আমি কোনোদিন ভাবিনি সালমান খুন হয়েছেন। এমনকি এ খুনের পেছনে আমার স্বামী ও ভাই জড়িত। জড়িত সামিরা ও তার পরিবার।’ তিনি আরও বলেন, ‘সব তথ্য শুনে আমার মনে হয়েছে- এ বিষয়টি গোপন রাখা ঠিক হবে না। সালমান ও তার পরিবারের সঙ্গে অনেক বড় অন্যায় হয়েছে। এর শোধ নেয়া দরকার। তাই ভিডিওবার্তায় বিষয়টি জানিয়েছি। বেশ কয়েক মাস আগে ভিকি আমাকে পুটলির কথা জানিয়েছিল। কিন্তু এ বিষয়টা সে কারও সঙ্গে শেয়ার করেনি। তার মুখে এ কথাটা শুনে আমারও অনেক সন্দেহ হয়। ধীরে ধীরে বিষয়টা নিয়ে আমি আমার স্বামীর সঙ্গে কথা বলি। সে আবার সামিরার মামা। পরে জানতে পারি, এ খুনের সঙ্গে আমার পরিবারও জড়িত।’
কিছু প্রশ্ন : সালমান শাহ অপমৃত্যু মামলার ৬ নম্বর আসামি রাবেয়া সুলতানা। রুবি বিভিন্ন সময় এ মামলা নিয়ে সমালোচনা করে ভিডিও প্রকাশ করেছেন। এতদিন তিনি দাবি করে আসছিলেন, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন। তাকে এ মামলায় জড়ানোর কারণে তিনি সালমানের মা নীলা চৌধুরীর কঠোর সমালোচনা করেন। তিন মাস আগেও রুবি ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রকাশ করে নীলা চৌধুরী ও সালমান শাহকে নিয়ে অনেক বাজে কথা বলেন। তবে হঠাৎ করে কেন তিনি ভোল পাল্টালেন সেটিও এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। তবে কারণ যাই হোক সবার প্রত্যাশা প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসুক। ধরা পড়–ক খুনিরা। পিবিআইয়ের একটি সূত্র জানায়, সালমান শাহর মৃত্যুর ২০ বছর পর ২০১৬ সালে এ মামলার তদন্তভার পায় সংস্থাটি। এই দীর্ঘ সময়ে থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মামলার তদন্ত করে বলেছে ঘটনাটি আত্মহত্যা। কিন্তু তারা তদন্তে নেমে অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাচ্ছে না। যেমন- এ মামলার অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলামত খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বা নষ্ট হয়ে গেছে। মূলত এ কারণে সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছে, নাকি তিনি আত্মহত্যা করেছেন তা নিশ্চিত হওয়া তাদের পক্ষে অনেকটা কঠিন হয়ে পড়েছে।
রুবির ভিডিওবার্তা : সোমবার ভিডিওবার্তায় রুবি দাবি করেন- আত্মহত্যা নয়, হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন সালমান শাহ। এর জন্য তার স্ত্রী সামিরা হকের পরিবারকে দায়ী করেছেন। রুবি সালমান শাহর ‘বিউটিশিয়ান’ ছিলেন। রুবি জানান, তার স্বামীর নাম চ্যাংলিং চ্যাং, যিনি বাংলাদেশে জন চ্যাং নামে পরিচিত ছিলেন। ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর সড়কে সাংহাই রেস্টুরেন্ট নামে তার একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ছিল। সালমান শাহকে হত্যার পেছনে তার স্বামী চ্যাং ও ভাই (সামিরার ভাই) হাত ছিল বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর মৃত্যুর পর তার বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী একটি অপমৃত্যু মামলা করেন। বিভিন্ন সংস্থা এ মামলার তদন্ত করেছে। ওই সময় সালমানের মা নীলা চৌধুরী আদালতে পিটিশন দায়ের করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে বলেছেন, তারা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। এ নিয়ে আলাদা কোনো মামলা হয়নি। ওই পিটিশনে রুবি ৬ নম্বর আসামি।

বিচারপতি নিয়োগে দলীয় সমর্থকদের অগ্রাধিকার

স্বাধীন বিচার বিভাগের জন্য বিচারপতি নিয়োগে নিরপেক্ষতা, সততা ও যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এটা আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের স্বার্থেই দরকার। এখন নির্বাহী বিভাগ বিচারপতি বাছাই করে বলে সৎ, দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিরা নিয়োগ পান না, স্থান পান দলীয় সমর্থকরা। তাই বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী মামলা বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এসব কথা বলা হয়েছে। ১ আগস্ট প্রকাশিত রায়ে বিচারপতিদের জন্য ৩৯ দফা আচরণবিধিও বেঁধে দেয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা রায়ে লিখেছেন, বিচারপতিদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত তা নিয়ে কয়েকটি দেশে আচরণবিধি রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিচারপতিরা নিজেরাই এটা তৈরি করেছেন আবার কোথাও সরকার আচরণবিধি তৈরি করে দিয়েছে। তিনি লিখেছেন, বিচারপতির আচরণ নিয়ে ব্যাঙ্গালোর নীতিতে বলা হয়েছে, স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা, নিষ্ঠা, সমতা, যোগ্যতা, সভ্য-ভব্যতা ও অধ্যবসায়ের মতো মূল্যবোধ থাকতে হবে । বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার লিখেছেন, নিরপেক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। এটা আইনের শাসনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অন্যথায় বিচারের ওপর জনগণ আস্থা হারাবে। স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারপতি নিয়োগ করতে হবে।
এজন্য ঘোষিত নীতি থাকতে হবে এবং কোনো ধরনের বৈষম্য ছাড়াই মেধার ভিত্তিতে সবার জন্য সমান সুযোগ থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে বিচারপতিরা যেন কোনো মহলের বাধা, অযাচিত প্রভাব, প্রলোভন, চাপ, হুমকি ও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হস্তক্ষেপ ছাড়া স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন। বিচারপতিদের নিরপেক্ষভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার বাধাহীন ক্ষমতা থাকতে হবে। যেখানে নিজের বিবেক ও বিদ্যমান আইনই মুখ্য হবে। তিনি লিখেছেন, অন্যান্য দেশে কোনো ব্যক্তিকে উচ্চ আদালতের বিচারপতি নিয়োগের আগে স্বচ্ছতা, সমান সুযোগ, সততা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং মেধার বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন করা হয়। যারা সংবিধান ও জনগণের অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন তাদেরকেই নিয়োগ দেয়া হয়। স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের দেশে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করেই বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হয়। আগেকার দিনে প্রধান বিচারপতি তার সহকর্মী ও সিনিয়র বিচারপতিদের সঙ্গে পরামর্শ করতেন যে কাকে হাইকোর্টের বিচারপতি নিয়োগ দেয়া যায়। এরপর সেটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হতো। কিন্তু এখন আর সেই ব্যবস্থাও বিদ্যমান নেই। এখন নির্বাহী বিভাগ একটি তালিকা তৈরি করে নিয়মরক্ষার জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠান। মনে হতে পারে যে প্রধান বিচারপতির কার্যালয় একটি পোস্ট বক্স। বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার লিখেছেন, এই প্রক্রিয়ায় উচ্চ আদালতের বিচারপতি হিসেবে যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়া কঠিন। কারণ নির্বাহী ও আইন বিভাগ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে গঠিত। আইন বিষয়ে গভীর জ্ঞানসম্পন্ন লোক বাছাই করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে উল্টো যোগ্য আইনজীবীর পরিবর্তে রাজনৈতিক সংযোগ আছে এমন ব্যক্তিরা অগ্রাধিকার পান। যদি আইন বিষয়ে অভিজ্ঞ কঠোর পরিশ্রমী আইনজীবী, নিষ্ঠাবান ও সাহসী ব্যক্তিদের বিচারপতি পদে নিয়োগ দেয়া না হয় তবে বিচারপতিদের মান অবধারিতভাবেই অধোগামী হয়ে যাবে। স্বাধীন বিচার বিভাগ চাইলে বিচারপতি নিয়োগে মান, নিরপেক্ষতা, সততা ও যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এটা আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের স্বার্থেই দরকার। বলা হয় যে ন্যায়বিচার শুধু করলেই হবে না, বরং এটা যে করা হয়েছে তা যেন দেখা যায়। তার মত হচ্ছে- ধর্ম, লিঙ্গ, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নির্বিশেষে সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থীদের মধ্য থেকে বিচারপতি নিয়োগ দিতে হবে। তিনি লিখেছেন, সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদের বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব শর্ত দেয়া হয়েছে সেগুলো হল তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। তাকে সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি হিসেবে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা অথবা বাংলাদেশের বিচার বিভাগীয় পদে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা এবং জেলা বিচারকের পদে তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার এসবের সঙ্গে বাড়তি কিছু যোগ্যতা যোগ করেছেন। তিনি লিখেছেন, আইন সম্পর্কে অভিজ্ঞ ও পরিপক্ব, সৎ ও মূল্যবোধ সম্পন্ন, আইন ও ভাষা সম্পর্কে দক্ষ, ন্যায়বিচার করার মত অঙ্গীকার ও সাহস আছে এমন ব্যক্তিদের বিচারপতি নিয়োগ দিতে হবে। এভাবে নিয়োগ দেয়া হলে সেই বিচারপতির বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিচার কিংবা তাকে অপসারণের প্রয়োজন হবে কদাচিৎ।
বিচারপতিদের আচরণবিধি
ষোড়শ সংশোধনী মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে বিচারপতিদের জন্য ৩৯ দফা আচরণবিধি প্রকাশ করা হয়েছে। নিন্মে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিধি প্রকাশ করা হল :
বিচারপতিদের আচরণ হতে হবে উঁচু মানের, যাতে বিচার বিভাগের সততা ও স্বাধীনতা রক্ষা করা যায়। বিচারপতিদের সংবিধান ও আইনের প্রতি সম্মান থাকতে হবে এবং একে মেনে চলতে হবে। তাদের সব সময় এমনভাবে কাজ করতে হবে, যাতে বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পায়। আচরণিবিধিতে বলা হয়েছে, বিচারের ক্ষেত্রে পরিবারিক, সামাজিক ও অন্যান্য সম্পর্ক দ্বারা কোনো বিচারপতি যেন প্রভাবিত না হন। দলীয় স্বার্থ, জনগণের বিক্ষোভ কিংবা সমালোচনার ভয় যেন বিচারপতিদের প্রভাবিত না করে। বিচারপতিকে হতে হবে ধৈর্যশীল, মর্যাদাসম্পন্ন ও সাহসী। আচরণিবিধিতে বলা হয়েছে, রায় ঘোষণার ছয় মাসের মধ্যে বিচারপতিকে পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাক্ষর করতে হবে। কোনো মামলায় বিচারপতির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তার সে মামলা থেকে সরে যেতে হবে। স্বামী-স্ত্রীর কিংবা সন্তানের অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত আছে এমন মামলার শুনানি থেকে তাকে বিরত থাকতে হবে। আচরণিবিধিতে বলা হয়েছে, বিচারপতি প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে নিজে কিংবা অন্য কারও সঙ্গে মিলে কোনো ব্যবসায়ে জড়িত হতে পারবেন না। দেশে কিংবা বিদেশে রাজনৈতিক কার্যকলাপে জড়াতে পারবেন না বিচারপতিরা।
আচরণিবিধিতে বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতি চাইলে যে কোনো বিচারপতি তার সম্পদ ও দায়ের হিসাব প্রকাশ করবেন। বিচারপতিরা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্যের (আইনজীবীর) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখতে পারবেন না। বিচারপতির পরিবারের কোনো সদস্য বারের সদস্য হলে তিনি বিচারপতির বাসভবনে থাকতে পারবেন না। বিচারপতিরা রাজনৈতিক বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো বিতর্কে জড়াবেন না, গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেবেন না। বিচারপতিকে যথাসময়ে আদালতে আসন গ্রহণ এবং আসন ত্যাগ করতে হবে। এটা করা না হলে সেটা তার অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে এবং এজন্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, কোনো বিচারপতির অসদাচরণের ব্যাপারে প্রধান বিচারপতি অভিযোগ পেলে আপিল বিভাগের সবচেয়ে সিনিয়র দু’জন বিচারপতিকে নিয়ে প্রধান বিচারপতি বিষয়টি তদন্ত করবেন। প্রাথমিক তদন্তে এ বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রধান বিচারপতি বিষয়টি রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করবেন। স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে অভিযোগের তদন্ত হবে এবং অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হবে। বিচার বিভাগের মান অনুযায়ী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উৎপাদনে নেই ৯০ ভাগ ট্যানারি

কোরবানির চামড়া প্রক্রিয়াজাতের জন্য এখনও প্রস্তুত হতে পারেনি সাভার বিসিক চামড়া শিল্পনগরী। সবমিলে ২২৪টি ট্যানারির মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ২৩টি ট্যানারি ক্রাস্ট চামড়া উৎপাদন উপযোগী হয়েছে। আর ৪৪টি ওয়েট ব্লু উৎপাদনক্ষমতা অর্জন করেছে। তবে ওয়েট ব্ল– চামড়ার ওপর রয়েছে রফতানি নিষেধাজ্ঞা। এ হিসেবে ৯০ ভাগ ট্যানারি এখনও উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। এদিকে উচ্ছেদ হওয়ার কারণে রাজধানীর হাজারীবাগেও উৎপাদনে নেই কোনো ট্যানারি। এ পরিস্থিতিতে কোরবানির মৌসুমে ঢাকাসহ সারা দেশের সম্ভাব্য ১৯ কোটি বর্গফুট গবাদি পশুর চামড়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ সুযোগ ব্যবহার করতে পারেন চামড়া সংশ্লিষ্ট তিনটি সংগঠনের ব্যবসায়ীরা। তারা চামড়া কিনবেন না- এ কথা বলে দাম কমিয়ে দিতে পারেন। এতে ক্ষতির মুখে পড়বেন মাঠপর্যায়ের ব্যবসায়ীরা। আর ভালো দাম না পেলে তারা বেশি দামের লবণ চামড়ায় পরিমাণ মতো মেশাতে চাইবেন না। ফলে চামড়া সংরক্ষণেও বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। গত বছরও ট্যানারি সংকটের অজুহাত এবং লবণের সরবরাহ ঘাটতির কারণে ৩০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়। এবার আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, ‘কোনো চামড়াই নষ্ট হবে না। সংগৃহীত চামড়া প্রাথমিক অবস্থায় লবণজাতের মাধ্যমে সংগ্রহ-সংরক্ষণ করা হবে। দেশে উৎপাদনের বাইরে আরও ৫ লাখ টন লবণ আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তাছাড়া অনেক ট্যানারি মালিক এরই মধ্যে সাভারে গিয়ে উৎপাদন শুরু করেছেন। আরও অনেকেই কোরবানির আগে সেখানে উৎপাদনে যাবেন। এ স্থানান্তর প্রক্রিয়া যাতে দ্রুত শেষ হয়, তার জন্য সরকার বিসিক চামড়া শিল্পনগরীতে উৎপাদন ও পণ্য রফতানিতে উৎসাহ জোগাতে ক্রাস্ট ও ফিনিশড চামড়ার পণ্য রফতানিতে ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা ঘোষণা করেছে। এটা চলতি বছরের ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হচ্ছে। সবমিলে এ খাতের উদ্যোক্তাদের ২৫ শতাংশ প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। এতে তাদের স্থানান্তর সক্ষমতা বাড়বে।’ এতদিন কোরবানিতে পাওয়া সারা দেশের চামড়া লবণজাতের মাধ্যমে ঢাকার পোস্তা আড়তসহ বিভিন্ন স্থানে প্রাথমিকভাবে সংরক্ষণ করা হতো। কোরবানির দিনপনেরো পর থেকে চামড়ার দ্বিতীয় দফা কেনাবেচা ও হাতবদলের মাধ্যমে তা যেত হাজারীবাগের ট্যানারিতে। সেখানে প্রক্রিয়াজাত ও পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে তা রফতানি হতো বিদেশে। গত কোরবানির মৌসুমে একযোগে ২২৪টি ট্যানারি সচল থাকা সত্ত্বেও চামড়ার প্রকৃত দাম মেলেনি। এ বছর প্রেক্ষাপট একেবারেই ভিন্ন। ৮ এপ্রিল সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে হাজারীবাগে সব ধরনের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর তোড়জোড় শুরু হয় সাভার বিসিক চামড়া শিল্পনগরীতে ট্যানারি সরিয়ে নেয়ার। তা সত্ত্বেও বেশিরভাগেরই স্থানান্তর কার্যক্রম শেষ হয়নি। নতুন শিল্পনগরীতে ১৫৪ মালিককে প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৫৩ জন সাভারে অবকাঠামো নির্মাণ শুরু করলেও মাত্র ২৪ ভাগ ট্যানারির অবকাঠামো নির্মাণকাজ চালিয়ে নেয়ার পাশাপাশি উৎপাদনও শুরু করা সম্ভব হয়েছে। তবে এ সক্ষমতা শুধু ওয়েট ব্ল– প্রসেসিংয়ের ক্ষেত্রে। কিন্তু সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশ থেকে এই ওয়েট ব্ল– চামড়াও রফতানি হয় না। এ হিসেবে সাভার শিল্পনগরীতে প্রক্রিয়াজাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর ক্রাস্ট চামড়ার উৎপাদন সক্ষমতা আছে মাত্র ১০ ভাগ ট্যানারির, যা সংখ্যায় মাত্র ২৩টি। এছাড়া ফিনিশড পণ্যের উৎপাদন শুরু করতে পারেনি কোনো কারখানাই। সরেজমিন সোমবার দিনভর বিসিক চামড়া শিল্পনগরী পরিদর্শনে এসব চিত্র ওঠে এসেছে। জানতে চাইলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, ‘বিসিক চামড়া শিল্পনগরীতে এখন পর্যন্ত ৬৭টি ট্যানারি উৎপাদনে গেছে। এটা শতাধিকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হলে কোনো চামড়াই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না। মূল্যবান চামড়া সম্পদের ক্ষতি এড়াতে কোরবানির আগে শতাধিক ট্যানারিকে উৎপাদনে আনার সব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।’ সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিসিক চামড়া শিল্পনগরী কর্তৃপক্ষ নিজেই অক্ষমতায় ধুঁকছে। ফলে তারা ট্যানারি মালিকদের পুরোপুরি সাভারমুখী করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের মতে, বিসিকসহ সরকারের সংশ্লিষ্টরা সবাই জানেন, সামনে কোরবানির মৌসুম, তা সত্ত্বেও নতুন চামড়া শিল্পনগরীর কাক্সিক্ষত উন্নয়ন না হওয়া এবং স্থানান্তর পরবর্তী উৎপাদনে নেয়ার মতো ত্বরিত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন যুগান্তরকে বলেন, নগদ প্রণোদনায় উদ্যোক্তার সক্ষমতা বাড়বে বৈকি। এতে অনেকেই সাভারে যাওয়ার কার্যক্রম আরও জোরেশোরে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কিন্তু সেখানে গিয়ে তো একজন উদ্যোক্তাকে গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানিসহ সব ধরনের সেবা সার্ভিসের নিরবচ্ছিন্ন নিশ্চয়তা পেতে হবে। বাস্তবতা হচ্ছে, উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ এসব উপকরণের নিশ্চয়তা এখনও মেলেনি। ফলে সক্ষমতা সত্ত্বেও এখনও অনেকে উৎপাদনে যেতে পারছেন না। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাখাওয়াত উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, শুধু প্রণোদনা যথেষ্ট নয়। উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে দ্রুত উৎপাদনে যাওয়ার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ হবে অবিলম্বে প্লট বরাদ্দপ্রাপ্তদের মধ্যে জমির মালিকানার দলিল হস্তান্তর করা। এই একটি উদ্যোগের অভাবেই নতুন চামড়া শিল্পনগরীর কারখানার অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি পাচ্ছে না। দলিল বুঝিয়ে দেয়া হলে ট্যানারি মালিকরা ব্যাংকের কাছে দলিল বন্ধক রেখে ব্যাংকঋণ নিতে পারবেন। ফলে দ্রুত উৎপাদনে যাওয়ার পথ সহজ হবে। চামড়া সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাত ও পণ্য উৎপাদন সংগঠন বিএফএলএফইএ, বিটিএ এবং বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএইচএস এমএ) বার্ষিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দেশে গরু, মহিষ, খাসি, ছাগল ও ভেড়া এসব গবাদি পশু থেকে ২০১৬ সালে গড়ে ৩০ কোটি বর্গফুট চামড়ার সরবরাহ মিলছে। আর এর আগের বছর ২০১৫ সালে চামড়া পাওয়া গেছে ২৮ কোটি ৫০ লাখ বর্গফুট। এর মধ্যে ওই বছর কোরবানির মৌসুমে চামড়া মিলেছে ১৭ কোটি ১০ লাখ বর্গফুট। ২০১৪ সালে চামড়া মিলেছে ২৭ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার বর্গফুট। কোরবানিতে পাওয়া গেছে ১৬ কোটি ২৪ লাখ ৫০ হাজার বর্গফুট। আর এ বছর ৩১ কোটি ৫০ লাখ বর্গফুট চামড়া পাওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা। এর মধ্যে ১৯ কোটি বর্গফুট পাওয়া যাবে কোরবানির মৌসুমে। এদিকে বিসিক চামড়া শিল্পনগরীর প্রকল্প পরিচালক মো. জিয়াউল হক জানিয়েছেন, কোরবানিকে সামনে রেখে চামড়া নিয়ে সংকট এড়াতে বিসিক কর্তৃপক্ষের সব ধরনের প্রস্তুতি আছে। শুধু সাভার চামড়া শিল্পনগরীর উন্নয়ন কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ নেই বিসিক। কোরবানির চামড়ার সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি সব চামড়া যাতে উৎপাদনের জন্য আনা যায়, তার করণীয় নির্ধারণে ২০ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন তারা। চামড়া শিল্প রক্ষা ঐক্য পরিষদের কার্যকরী সদস্য ও ঢাকা জেলা চামড়া ব্যবসাযী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল আলম দাবি করেন, সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রণালয়গুলো যদি এ ব্যাপারে আগাম পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে গতবারের চেয়েও বেশি পরিমাণ চামড়ার ক্ষতি অনিবার্য।

বাচ্চু ও পরিচালনা পর্ষদকে বাদ দিয়ে ৫ মামলার প্রতিবেদন

বেসিক ব্যাংকের অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় দায়ের করা ৫৬টি মামলার মধ্যে ৫টিতে ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের বাদ দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। দাখিল করা প্রতিবেদনগুলো শিগগির দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) উপস্থাপন করা হবে। কমিশন অনুমোদন করলে তা আদালতে দাখিল করা হবে। বাকি ৫১ মামলার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। জানা গেছে, প্রতিবেদনগুলো প্রাথমিকভাবে বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত বিভাগ-১-এ দাখিল করা হয়েছে। এসব মামলায় বেসিক ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী ফখরুল ইসলাম ও ব্যাংকের ডিএসডিসহ সাবেক ১১ কর্মকর্তা এবং ঋণগ্রহীতা ৫টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ১৬ জনসহ ২৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। ৫ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা ঋণের নামে লোপাটের অভিযোগ আনা হয় তদন্ত প্রতিবেদনে। দুদক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের জালিয়াতির ঘটনায় ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ১২০ জনের বিরুদ্ধে ৫৬টি মামলা করে দুদক। এসব মামলায় অভিযোগ করা হয়, ঋণের নামে ব্যাংক থেকে অন্তত আড়াই হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই ঋণ অনিয়মের সঙ্গে ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চু ও তার নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদের জড়িত থাকার বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক এমনকি বেসিক ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে বেরিয়ে এলেও তাদের বাদ দিয়ে দুদক সে সময় মামলা করে সমালোচনার মুখে পড়ে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও বলেছিলেন, ’ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ দায় এড়াতে পারে না। দুদক তদন্ত করছে। অপেক্ষা করুণ- তারা কি করে তা দেখার জন্য।’ সেই অপেক্ষার প্রথম ধাপে দেখা যাচ্ছে, ৫ মামলার প্রস্তাবিত চার্জশিটে শেখ আবদুল হাই বাচ্চু বা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের কারও নাম নেই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর মধ্যে ৫টিতে ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ এখনও প্রমাণিত হয়নি। বাকি ৫১ মামলার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। সেগুলো শেষ না হওয়া পর্যন্ত আর কে আসামি হবেন বা হবেন না সে বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।’ দুদক আইন ও বিধি অনুযায়ী, কোনো দুর্নীতির ঘটনা অনুসন্ধানকালে বা মামলা দায়েরের আগে দুর্নীতিতে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে তার বা তার প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আর যদি কাউকে চার্জশিটভুক্ত আসামি করা হয় তবে তাকে তদন্তকালে জিজ্ঞাসাবাদ করার বিধান রয়েছে। বেসিক ব্যাংকের অর্থ লোপাটের ঘটনায় মামলা দায়েরের আগে ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান বা পর্ষদের কাউকে ডেকে এনে যেমন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি তেমনি তদন্তকালেও তাদের জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। যদিও আবদুল হাই বাচ্চু ও পরিচালনা পর্ষদকে আইনের আওতায় আনার জন্য দুদককে নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। গত ২৬ জুলাই ৪০ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির একটি মামলায় এক আসামির জামিন আবেদনের বিরুদ্ধে করা দুদকের রিভিশন আবেদন খারিজ করে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের বেঞ্চ ওই আদেশ দেন। আদালতে দুদকের পক্ষে আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, ‘২০১০ সালের ২ নভেম্বর ক্রেডিট কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা করে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদ সৈয়দ ট্রেডার্সের ম্যানেজিং পার্টনার সৈয়দ মাহবুবুল গণিকে ৪০ কোটি টাকা ঋণের অনুমোদন দেয়। ব্যাংকের শান্তিনগর শাখা থেকে এ ঋণ দেয়া হয়। যারা ঋণ অনুমোদন দিয়েছেন তাদের কাউকেই এ মামলায় আসামি করা হয়নি। তাই বেসিক ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যকে আইনের আওতায় এনে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত।’ আইনজীবীরা বলেছেন, ‘আদালতের এ আদেশ বেসিক ব্যাংক অর্থ জালিয়াতি সব মামলার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য এবং সব মামলার ক্ষেত্রেই সাবেক চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদের অপরাধ নির্ণয় করার বিষয়ে কাজ করবে দুদক। কিন্তু ৫৬ মামলার মধ্যে ৫ মামলায় সেরকম ঘটেনি। অথচ আবদুল হাই বাচ্চু বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকাবস্থায় ২০০৯-১২ সালের মধ্যে ব্যাংকটির দিলকুশা, গুলশান ও শান্তিনগর শাখা থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন ও আত্মসাতের ঘটনা ঘটে।’ দুদকের প্রধান আইন কর্মকর্তা খুরশিদ আলম খান যুগান্তরকে বলেন, কমিশনকে আদালতের অর্ডার (আদেশ) মান্য করতে হবে। আমি আদালতের অর্ডারের বিষয়টি কমিশনকে জানিয়েছি। প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তাদের মতামত : প্রতিবেদনে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে পরিচালনা বোর্ডের ভূমিকা কি ছিল, তা তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা গেছে। বেসিক ব্যাংকের গুলশান, শান্তিনগর ও মতিঝিল শাখা থেকে ঋণের নেতিবাচক প্রস্তাব ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের ক্রেডিট কমিটিতে পাঠালে ওই কমিটিও তা নেতিবাচক হিসেবে বোর্ডে উপস্থাপন করে। ৫ জন তদন্ত কর্মকর্তাই তাদের দাখিল করা প্রতিবেদনে বেসিক ব্যাংকের অর্থ লোপাটের জন্য সংশ্লিষ্ট শাখা ও ব্যাংকের এমডিসহ ক্রেডিট কমিটিকে দায়ী করেছেন। তারা বলেছেন, যেসব কোম্পানিকে জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ দেয়া হয়েছে তাদের ব্যাপারে ‘নেতিবাচক প্রস্তাব’সহ ঋণের সুপারিশ করা হয় প্রধান কার্যালয়ে। শাখা থেকে নেতিবাচক প্রস্তাব ছাড়াও শর্তসাপেক্ষে ঋণ মঞ্জুরের পক্ষে সুপারিশ করা হয়। কিন্তু পরিচালনা পর্ষদের হস্তক্ষেপের কারণে ওইসব শর্ত পূরণ না করেই তাদের ঋণ মঞ্জুর করা হয়। বেসিক ব্যাংক প্রধান কার্যালয় ক্রেডিট কমিটি ইচ্ছা করলে সংশ্লিষ্ট শাখায় প্রস্তাবগুলো সংশোধনের জন্য পাঠাতে পারত। কিন্তু তা করা হয়নি। নেতিবাচক ধারণার পরও পর্ষদ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ দিয়েছে। যেসব ব্যাংক কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে : দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম, ঋত্তিক সাহা, মো. শামসুল আলম, মাহবুবুল আলম ও উপসহকারী পরিচালক মো. জয়নাল আবেদীন পৃথকভাবে ৫ মামলার তদন্ত শেষ করে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিটের সুপারিশ করে তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দেন। এসব মামলায় ব্যাংকের সাবেক এমডি কাজী ফখরুল ইসলামসহ ১১ জন কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়। কাজী ফখরুলসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা সব মামলারই আসামি। যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জশিটের সুপারিশ করা হয়েছে তারা হলেন : বেসিক ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি ও ক্রেডিট ও ঋণ ডিজভার্সমেন্ট কমিটির সভাপতি ফজলুস সোবহান, ব্যাংকের সাবেক জিএম (ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্রেডিট ডিভিশন) খন্দকার শামীম হাসান, সাবেক জিএম গোলাম ফারুক খান, ডিজিএম (গুলশান শাখা) শিপার আহমেদ, গুলশান শাখার সাবেক ক্রেডিট ইনচার্জ জাহিদ হাসান, প্রধান কার্যালয়ের ডিজিএম মোনায়েম খান, মো. সেলিম, জয়নাল আবেদীন চৌধুরী ও এজিএম জহির উদ্দিন। যে ৫ প্রতিষ্ঠানকে আসামি করা হয়েছে : ৫ মামলার মধ্যে ৪৫ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় মেসার্স সিনটেক্সের স্বত্বাধিকারী হাসিবুজ্জামানসহ ৬ জনকে আসামি করার সুপারিশ করা হয়। এ মামলায় ব্যাংকের সাবেক এমডি কাজী ফখরুল ইসলামসহ তিনজন ব্যাংক কর্মকর্তা ও দু’জন সার্ভেয়ারকে আসামি করা হয়। ব্যাংক থেকে ঋণ মঞ্জুরের আগে কর্তৃপক্ষ কোনো নিরপেক্ষ সার্ভেয়ার প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে ঋণ নিতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের জমিজমা, ব্যবসা শিল্প প্রভৃতি সার্ভে করিয়ে নেয়। তাদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে ঋণ মঞ্জুর করে ব্যাংক। কিন্তু সার্ভে প্রতিষ্ঠানগুলো বেসিক ব্যাংকের ঋণ মঞ্জুরের ক্ষেত্রে ভুল তথ্য দেয় বলে জানা গেছে। এ কারণে তাদেরও আসামি করা হয়। সিনটেক্স লিমিটেডের মামলায় এসডি সার্ভে নামক প্রতিষ্ঠানের প্রধান সার্ভেয়ার মো. ফারুক ও ইকবাল হোসেন চৌধুরীকে আসামি করা হয়। ১৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ঋণ জালিয়াতির মামলায় মেসার্স এমারেল ড্রেসেস লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের এমডি মো. এনামুল হক খান, চেয়ারম্যান সয়দ হাসিবুল গনি গালিব ও পরিচালক আনোয়ার হোসেন খোকনসহ ৯ জনকে আসামি করার সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে ব্যাংকের সাবেক এমডি ও কর্মকর্তা রয়েছেন ৫ জন। এ ছাড়া ইকবাল হোসেন ভুঁইয়া নামে একজন সার্ভেয়ারকেও আসামি করা হয়। মেসার্স সৈয়দ রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ১১ কোটি ৩৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়। সুপারিশে ব্যাংকের সাবেক এমডিসহ ৫ জন ব্যাংক কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়। এ ছাড়া ওই প্রতিষ্ঠানের এমডি সৈয়দ হামদুজ্জামান বাবলু, পিএসআর সার্ভে অ্যান্ড ইন্সপেকশন লিমিটেডের চিফ সার্ভেয়ার জসিম উদ্দিন চৌধুরী, এসডি সার্ভে ফার্মের মো. ফারুক ও ইকবাল হোসেন ভুঁইয়াকে আসামি করার সুপারিশ করা হয়। রিলায়েন্স শিপিং লিমিটেডের ১৬ কোটি ১২ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আসিফ ইকবালসহ ৮ জনকে আসামি করার সুপারিশ করা হয়। এতে ব্যাংকের সাবেক এমডিসহ ৬ জন কর্মকর্তা ও সিরাজুল ইসলাম নামে একজন সার্ভেয়ারকে (ইউনিক সার্ভে) আসামি করার প্রস্তাব করেন তদন্ত কর্মকর্তা। অন্যদিকে ৭৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মেসার্স ফারশি ইন্টারন্যাশনালের এমডি ফয়জুন নবী চৌধুরী ও চেয়ারম্যান জেসমিন নবী চৌধুরীসহ ৯ জনকে আসামি করার প্রস্তাব করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এতে ব্যাংকের সাবেক এমডি কাজী ফখরুল ইসলামসহ ৬ জনকে আসামি করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া সার্ভেয়ার জহিরুল ইসলামকেও আসামি করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার জন্যই বঙ্গমাতাকে হত্যা করা হয়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৫ আগস্টের খুনিরা মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বঙ্গমাতার অবদান সম্পর্কে জানত, তাই মায়ের ওপরও তাদের আক্রোশ ছিল, আর সে কারণে তাকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।’ তবে শেখ ফজিলাতুন্নেছার মতো একজন নারীকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়েছিলেন বলেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার সংগ্রামী জীবনে সাফল্য পেয়েছেন।’ প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার সকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৮৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। মায়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি থেমে থেমে বলেন, ‘ঘাতকের দল আমার মায়ের ওপর যেভাবে গুলি চালিয়েছে সেটা কখনও ভাবতেও পারিনি। আর একটা বাড়িতে শুধু নয়, তিনটা বাড়িতে একসঙ্গে আক্রমণ করেছে।’ মহিলা এবং শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন নারী ও শিশু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান রেবেকা মোমেন। অনুষ্ঠানে বঙ্গমাতার জীবন ও কর্মের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জীবনের সব আশা-আকাক্সক্ষা বিসর্জন দিয়ে, সব ভোগবিলাস বিসর্জন দিয়ে আমার বাবার পাশে থেকে এ দেশের মানুষকে স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন আমার মা।’ হত্যাকাণ্ডের পর বাধ্য হয়ে ৬ বছর বিদেশে অবস্থান ও দেশে ফেরা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যখন বাংলাদেশে ফিরে আসি তখন শুধু একটা জিনিসই চেয়েছি, আমার বাবা তো এই দরিদ্র মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চেয়েছেন। যখন একটু কাজ করি মানুষ একটু ভালো থাকে, তখন আমার ওইটুকু মনে হয় যে, হয়তো আমার বাবা-মায়ের আত্মাটা শান্তি পাবে।’ তিনি বলেন, ‘বাবার পাশে থেকে মা যদি ত্যাগ স্বীকার না করতেন তাহলে হয়তো আজ আমরা স্বাধীনতা অর্জন করতে পারতাম না।’
স্কুল-কলেজের প্রথাগত শিক্ষা অর্জন করতে না পারলেও বেগম মুজিব স্বশিক্ষিত ছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মায়ের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ছিল, নিজে নিজে পড়াশোনা করতেন। আব্বা যখন আসতেন মায়ের জন্য বই নিয়ে আসতেন। পড়ার এবং শেখার অত্যন্ত আগ্রহ ছিল যে কারণে সব সময় বই পড়াটা আমাদের একটা অভ্যাসই ছিল। পড়ার বইয়ের পাশাপাশি গল্পের বই পড়া- এটা আমাদের বাসাতে একটা প্রথাই ছিল এবং এ বিষয়ে আমার মায়ের সব থেকে বেশি আগ্রহ ছিল।’ বক্তৃতার শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী ১৫ আগস্ট এবং মক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বঙ্গমাতা সম্পর্কে বলেন, ‘তার সম্পর্কে মানুষ খুব সামান্যই জানে। তিনি অত্যন্ত সাদাসিধে ও প্রচারবিমুখ ছিলেন। তাই বঙ্গমাতার অবদান লোকচক্ষুর আড়ালেই থেকে গেছে। শেখ হাসিনা বলেন, বেগম মুজিব খুব অল্প বয়সে মা-বাবাকে হারান। আমার দাদা-দাদির কাছে বেড়ে ওঠার সময় অল্প বয়সে তার মধ্যে সাহস, বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা গড়ে উঠেছিল।’ বঙ্গমাতাকে প্রধানমন্ত্রী স্বামী-সংসার অন্তঃপ্রাণ বাঙালি নারী এবং শোষিত-নিপীড়িত জনসাধারণকে মুক্তির চেতনায় জাগিয়ে তোলার সংগ্রামে স্বামীর পাশে থাকা সহযোদ্ধা আখ্যায়িত করে বলেন, ‘আম্মা অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আব্বাকে সহায়তা করতেন।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আম্মা জেলখানায় দেখা করতে গেলে আব্বা তার মাধ্যমেই দলীয় নেতাকর্মীদের খোঁজখবর পেতেন। আব্বার দিকনির্দেশনা আম্মা নেতাকর্মীদের পৌঁছাতেন। আব্বা কারাবন্দি থাকলে সংসারের পাশাপাশি সংগঠন চালানোর অর্থ আম্মা জোগাড় করতেন।’ বাবার প্রতিটা কাজে মা প্রতিবন্ধক নয়, সহায়ক ছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আম্মা চাইলে স্বামীকে সংসারের চার দেয়ালে আবদ্ধ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি কখনও ব্যক্তিগত-পারিবারিক সুখ-স্বচ্ছন্দের দিকে তাকাননি। ফলে আমরা সন্তানরা বঞ্চিত হয়েছি এবং আম্মাকেই সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘বাবাকে কখনও টানা দু’বছরও আমাদের মাঝে পাইনি।’ তিনি বলেন, ‘আম্মা মানুষের মুক্তির জন্য আব্বার সংগ্রামী চেতনা বুঝতেন এবং সহযোগিতা করতেন। আব্বাও আম্মার সাহস, মনোবল, ত্যাগ, বিচক্ষণতা, দুঃখ-কষ্ট সব বুঝতেন।’ বঙ্গমাতার উৎসাহেই জাতির পিতা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ লিখেছিলেন বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। জাতির এক সন্ধিক্ষণে বেগম মুজিবের একটি সিদ্ধান্ত বাঙালিকে মুক্তির সংগ্রামে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখিয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় প্যারোলে মুক্তি নিতে চাপ দেয়া হয়। মা’কে ভয় দেখানো হয়েছিল- পাকিস্তানিদের শর্ত না মানলে তিনি বিধবা হবেন। কিন্তু মা কোনো শর্তে মুক্তিতে রাজি হননি।
আব্বাও প্যারোলে মুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানে পাকিস্তান সরকার আব্বাকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মায়ের মেসেজ ঠিক সময়ে বাবাবে জানাতে পারায় এবং বাবা পাকিস্তানিদের প্যারোলে মুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সে সময় অনেক আওয়ামী লীগ নেতাই আমাকে বলেন- তুমি কেমন মেয়ে হে, বাবার মুক্তি চাও না।’ তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস আম্মার যে মনোবল দেখেছি, তা ছিল কল্পনাতীত। স্বামীকে পাকিস্তানিরা ধরে নিয়ে গেছে। দুই ছেলে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করছে। তিন সন্তানসহ তিনি গৃহবন্দি। যোগাযোগ একেবারে বিচ্ছিন্ন কিন্তু আম্মা মনোবল হারাননি।’ তিনি বলেন, অসীম সাহস এবং ধৈর্য নিয়ে আম্মা সেই পরিস্থিতি মোকাবেলা করেন। তিনি আল্লাহকে স্মরণ করতেন। ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে বন্দি অবস্থায় আম্মা অধিকাংশ সময় হাতে তসবিহ নিয়ে পড়তেন।’ ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণও তারই অণুপ্রেরণায় বঙ্গবন্ধু নিজের মন থেকে উৎসারিত করেছিলেন বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, ঘাতকচক্র ভীত ছিল, বঙ্গবন্ধুর পরিবারের কেউ বেঁচে থাকলে বাংলাদেশের মানুষ আবার ঘুরে দাঁড়াবে। তাই খুনিরা গৃহবধূ, অন্তঃসত্ত্বা মা, শিশু কাউকে বাঁচতে দেয়নি। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নস্যাৎ করতে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। তার পর ঘাতকরা দেশটাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উল্টো রথে চড়িয়ে দেয়। দেশবিরোধী সেই ষড়যন্ত্র এখনও অব্যাহত আছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মা কোনোদিন কিছু চাননি। আমার বাবা মন্ত্রী ছিলেন, এমপি ছিলেন, এমএলএ ছিলেন। জাতীয় পরিষদে অংশগ্রহণ করতে তাকে প্রায়ই করাচিতে যেতে হতো। আমার মা কিন্তু কোনোদিন ওই পশ্চিম পাকিস্তানে যাননি, যেতেও চাননি। এ দেশের স্বাধীনতার জন্য সব সময় তিনি ছিলেন দৃঢ়চেতা। যা পৃথিবীতে বিরল।’ প্রধানমন্ত্রী বঙ্গমাতার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে সবার কাছে তার জন্য দোয়া কামনা করেন।

খাদ্যে বিষক্রিয়ায় নার্সিং ট্রেনিং সেন্টারের ৩০ শিক্ষার্থী অসুস্থ

খাবারে বিষক্রিয়ায় নোয়াখালী জেলা শহরে অবস্থিত নার্সিং ট্রেনিং সেন্টারের প্রথম বর্ষের ৩০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বুধবার সকালে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হলেন- দিলরুবা, সুমী, মুন্নী, তামান্না, মেরী নাজমীন, সুমীসহ ৩০জন। এদের প্রত্যেকের বয়স ১৯ বছর। সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে নার্স প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রথম বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীর পেট ব্যাথা ও বমি শুরু হয়। বুধবার সকাল ১০টা নাগাদ অসুস্থের সংখ্যা বাড়তে থাকে। পরে অসুস্থ অবস্থায় ৩০ শিক্ষার্থীকে দ্রুত উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আজিম জানান, এ পর্যন্ত ৩০জন অসুস্থ শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশংকাজনক ছিল। তবে বর্তমানে তাদের অবস্থা উন্নতির দিকে রয়েছে। তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার দুপুর বা রাতে কোনো খাবারে সমস্যা থাকার কারণে তাদের পেটে সমস্যা/ডায়রিয়া দেখা দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নোয়াখালী নার্স ট্রেনিং সেন্টারের প্রধান বেবি সুলতানা জানান, অসুস্থ শিক্ষার্থীদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কি খেয়ে তারা অসুস্থ হয়েছে এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

টাকা ভাগাভাগির বিতণ্ডায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ

মালবগিতে মাছের ঝুড়ি বহনের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে রেলের দুই কর্মচারীর বিতণ্ডা ও মারামারির জেরে প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা ধরে বন্ধ ছিল ট্রেন চলাচল। বুধবার সকালে আখাউড়া জংশন স্টেশনে রেলের নিরাপত্তা বাহিনীর হাবিলদার আবদুল হকের সঙ্গে জালালাবাদ মেইল ট্রেনের পরিচালক (গার্ড) আবদুল্লাহ আল মামুনের বিতণ্ডা এবং এক পর্যায়ে দু'জনের মধ্যে মারামারি ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী জালালাবাদ মেইল ট্রেনটি সকাল পৌনে ৭টা থেকে সোয়া ১০টা পর্যন্ত আখাউড়া জংশন স্টেশনে আটকা পড়ে। এছাড়া এ ঘটনার খবর বিভিন্ন ট্রেনের পরিচালকদের (গার্ড) কাছে পৌঁছালে আশেপাশের কয়েকটি স্টেশনেও ট্রেন বন্ধ করে রাখা হয় বলে রেলের সূত্র জানিয়েছে।   আখাউড়া জংশন স্টেশন সুপার খলিলুর রহমান জানান, জালালাবাদ ট্রেনের মালবগিতে মাছের ঝুড়ি বহন ও ভাড়া নিয়ে ট্রেনটির পরিচালক (গার্ড) আবদুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর হাবিলদার আবদুল হক বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে পরিচালক লাথি দিয়ে ট্রেন থেকে মাছের ঝুড়ি ফেলে দেন। এসময় হাবিলদারকেও লাথি মারেন তিনি। পরে হাবিলদার তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে পরিচালককে বেধড়ক পেটান। এতে পরিচালক গুরুতর আহত হন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ট্রেনের পরিচালক মামুনকে চিকিৎসার জন্য আখাউড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত হাবিলদারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এরপর বিকল্প ব্যবস্থায় নাসিরাবাদ ট্রেনে আরেকজন পরিচালক (গার্ড) দিয়ে জালাবাদ ট্রেন চট্টগ্রাম যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আখাউড়া রেলের নিরাপত্তা বাহিনীর চেকপোস্ট পরিদর্শক সালাহ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি সমাধানের পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

বাহুবলে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ২

হবিগঞ্জ জেলার বাহুবলে সিমেন্ট বোঝাই ট্রাকের সঙ্গে টমেটো বোঝাই পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে পিকআপ চালক ও হেলপার নিহত হয়েছেন। বুধবার ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার ডুবাই বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষনিক নিহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি। হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিলেটগামী সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ট ১১-১৮৮৩) শায়েস্তাগঞ্জগামী টমেটো বোঝাই পিকআপ (ঢাকা মেট্রো ন ১৮-৫৩৩) ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উপজেলার ডুবাই বাজারে পৌঁছলে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই পিকআপ চালক ও হেলপার মারা যায়। শায়েস্তাগঞ্জ হাইয়ের থানার ওসি মো. জসিম উদ্দীন বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

লালমোহনে জিন আতঙ্কে সেই স্কুল বন্ধ ঘোষণা

ভোলার লালমোহনে কথিত জিনের আসরে আরও ১৬ ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ায় ৭ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সেই জিন আক্রান্ত পূর্ব কচুয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের এ বিদ্যালয়ে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই এরা অসুস্থ হয়ে উদ্ভট আচরণ শুরু করে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা মেডিকেল টিম বিদ্যালয়ে গিয়ে আক্রান্ত ছাত্রীদের পর্যবেক্ষণ করেন। ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই একে একে ১৬ জন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এদের মধ্যে একজন শিক্ষিকাও রয়েছেন। আক্রান্ত ছাত্রীরা নিজেদের মধ্যে মারামারি শুরু করে। মেডিকেল টিম কাছে গেলে তাদের দিকেও তেড়ে আসে। অশোভন আচরণ শুরু করে তাদের সঙ্গে। সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে তাদের দিকেও তেড়ে যায়। এ অবস্থায় অভিভাবকরা চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তাদের সন্তানদের নিয়ে।