Friday, April 27, 2018

ধর্ষণকে পাপ বলে মনে করতেন না আসারাম বাপু

ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনকে পাপ বলে মনে করতেন না স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপু। তার মতো ‘মহাজ্ঞানী’ পুরুষ কোনও নারীকে যৌন নির্যাতন করলে তা পাপ বলে গণ্য হবে না বলে মনে করতেন তিনি। রাহুল কে সাচার নামে আসারামের আশ্রমের এক ভক্ত আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে এ কথা সরকারি আইনজীবীকে জানিয়েছিলেন। সম্প্রতি জোধপুরের আদালত এক নাবিলকাকে ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত করে আসারামকে। যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজাও শোনানো হয়েছে তাকে। এ খবর দিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা ও টাইমস অফ ইন্ডিয়া।
রাহুলকে উদ্ধৃত করে খবরে বলা হয়, আসারামের কুঠিতে এক সময় ঢোকার অধিকার ছিল তার। ২০০৩ সালে পুষ্কর, ভিওয়ানি আর অমদাবাদের তিনটি আশ্রমে মেয়েদের যৌন নির্যাতন হতে দেখেন তিনি। এ সব কাজে আসারামকে আশ্রমেরই তিন মহিলা ভক্ত সাহায্য করত। ধর্ষণের ফলে কোনও মহিলা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে আসারাম ঘনিষ্ঠ ওই তিন মহিলা গর্ভপাতের ব্যবস্থাও করত। আশ্রমের ঘরে মেয়েদের ডাকতে ওই তিন মহিলা সহযোগীকে টর্চের মাধ্যমে সঙ্কেতও পাঠাত আসারাম। রাহুলের দাবি, আসারামের মতো এক জন ধর্মগুরু এভাবে নারী নির্যাতন করছে দেখে তাকে চিঠি দিয়েছিলেন রাহুল। পরিণামে তাকে আশ্রম থেকে বের করে দেয়া হয়। পুলিশের সাহায্য নিতে গেলে রাহুলের উপর হামলাও চালানো হয়।
আসারামের দশ হাজার কোটির সম্পত্তির দেখাশোনার ভার নিয়েছেন মেয়ে ভারতীশ্রী। আসারামের একমাত্র ছেলে নারায়ণ সাই-ও ধর্ষণের অভিযোগে জেলে। কয়েক বছর আগে থেকেই পারিবারিক ব্যবসার দেখভাল করে আসছেন আসারাম-কন্যা। ২০১৩ সালে আসারামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পরে ভারতীশ্রী আর তাঁর মা-কেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে তারা জামিন পান।
অলৌকিক ও অতিপ্রাকৃতর বাইরে
২০১৩ সালে জেলে গিয়েছিলেন আসারাম। কিন্তু তাতেও তার সমর্থকদের মধ্যে তার প্রতি শ্রদ্ধার কমতি দেখা যায়নি। এর পেছনে কাজ করেছে বেশকিছু গুজব। সমর্থকদের অনেকের বিশ্বাস আসারাম অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী। আসারামের দাবি, তিনি অসাধারন অলৌকিক কাজ করতে পারেন। এমন দাবির মধ্যে, ভারী বর্ষণ থামিয়ে দেয়া থেকে শুরু করে কারো চিন্তা ভাবনা পড়া, এমনকি মৃত্যুপথযাত্রী অসুস্থ রোগী সুস্থ করে তোলাও রয়েছে। এসব গল্পই এতদিন ধরে তার জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। তার আশ্রমে আনাগোনা অব্যাহত রেখেছেন হাজার হাজার সমর্থক। উদাহরণস্বরূপ, তার আশ্রমের আভ্যন্তরীণ ম্যাগাজিন, রিশি প্রসাদের অনলাইন সংস্করণের ২৯৭ নম্বর ইস্যুতে একটি নিবন্ধের শিরোণাম ছিল এমন - এমনকি মেঘেরাও তার আদেশ মানে। ম্যাগাজিনটির ২৯৯ নম্বর ইস্যুতে প্রকাশিত অপর এক নিবন্ধে আসারামের এক ভক্ত এমন এক ঘটনার বর্ণনা দেয়া হয়, যেটায় আসারাম, মাখনের বল ব্যবহার করে তার অল্প বয়স্ক ছেলের ‘বাকরোধ’ রোগ সারিয়ে দেন।
জোধপুর পুলিশ কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, আসারামের অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা থাকার দাবিই তার সমর্থকদের একজোট রাখতে সক্ষম হয়েছে। তারা বলেন, আমরা যখন তাকে একটি ভাজরা’য়(দাঙ্গা বিরোধী যান) করে আদালতে নিয়ে যাচ্ছিলাম তখন তার ভক্তরা গাড়ির সামনে গড়িয়ে পড়ত, শুধুমাত্র তাকে এক পলক দেখার জন্য। তাদেরকে এমন শিক্ষা দেয়া হয়েছে যে, গুরুর নৈকট্য তাদের জীবন পাল্টে দিতে পারে।

সব শিল্প প্রতিষ্ঠানে যাবে গ্যাস, চাকা ঘুরবে বন্ধ বিদ্যুৎকেন্দ্রের by সঞ্চিতা সীতু

মহেশখালীতে নোঙর করা এলএনজি বহনকারী কার্গো জাহাজ (ছবি: ফোকাস বাংলা)
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির প্রথম ধাপেই দেশে প্রতিদিন অন্তত ৩০ লাখ ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ বাড়ছে। যদিও এলএনজি টার্মিনালটি প্রতিদিন ৫০ লাখ ঘনফুট এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করে সরবরাহ করতে পারে। চালু হবে বন্ধ থাকা গ্যাসভিত্তিক সব বিদ্যুৎকেন্দ্র। আবেদনকারী সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানও পাবে গ্যাস সংযোগ।
জ্বালানি বিভাগ জানায়, শুরুতে প্রতিদিন ৩০ লাখ ঘনফুট এলএনজি গ্যাসে রূপান্তর করে সরবরাহ করা হলে চট্টগ্রাম গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করতে হবে না। পর্যায়ক্রমে রূপান্তরের পরিমাণ ৫০ লাখ করা হলে বর্ধিত গ্যাস চট্টগ্রামের বাইরেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এই গ্যাসের পুরোটা দেশের অন্য জায়গার সংকট মেটাতে কাজে লাগবে। সরকার গ্যাস ব্যবহারের বিষয়ে বন্ধ বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর পাশাপাশি শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের সংযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এজন্য আবেদন করা সব শিল্প প্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে গ্যাস সংযোগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের কাছে ২ হাজারের ওপর শিল্প প্রতিষ্ঠানে গ্যাস দেওয়ার আবেদন রয়েছে।
এলএনজি আমদানির প্রভাব নিয়ে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেছেন, ‘আবেদনকারী সব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করেছে সরকার।’
পেট্রেবাংলার কর্মকর্তারা জানান, এখন শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে তারা তদন্ত করছেন। এই কাজে তাদের সহায়তা করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্ত শেষে সংযোগ দেওয়া হবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে।
জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, এখন ৩০ লাখ সরবরাহ করা হলেও পর্যায়ক্রমে তা বাড়িয়ে ৫০ লাখ মিলিয়ন ঘনফুট করা হবে। এলএনজি আমদানি করা হলেও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রায় ২ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা করেছে সরকার।
গত ২৪ এপ্রিল প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এসেছে এলএনজির জাহাজ। মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি কাতার থেকে এই গ্যাস নিয়ে এসেছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী মাসের (মে) মধ্যেই পাইপলাইনে এই গ্যাস সরবরাহ করা যাবে। এক্সিলারেটের সঙ্গে ২০১৬ সালের ১৮ জুলাই চুক্তিস্বাক্ষর করে পেট্রোবাংলা।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এক্সিলারেটের পর বাংলাদেশে পর্যায়ক্রমে এলএনজি আনবে আরও তিনটি প্রতিষ্ঠান। এগুলো হলো—সামিট, রিলায়েন্স ও হংকং সাংহাই মানজালা। প্রত্যেকেই বাংলাদেশে ৫০ লাখ ঘনফুট করে গ্যাস আনবে।
২০১৭ সালের ২০ এপ্রিল সামিটের সঙ্গে চুক্তি করে পেট্রোবাংলা। তাদেরও এ বছরের অক্টোবরে এলএনজি আনার কথা রয়েছে। এছাড়া রিলায়েন্স ও হংকং সাংহাই মানজালার সঙ্গে সমঝোতা চুক্তিস্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে রিলায়েন্স ২০১৯ সালের জুনে ও মানজালার ২০২০ সালের জুনে এলএনজি আমদানির সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করেছে।
পেট্রোবাংলার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে সরবরাহ করা হবে আমদানি করা এলএনজি। কারণ, সেখানে ২৩০ থেকে ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে হয়। অবশ্য চট্টগ্রামে এলএনজি সরবরাহ শুরু হলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে সারাদেশেই। এই গ্যাস পরে দেশের অন্য অঞ্চলগুলোতে সরবরাহ করা হবে। এতে সারাদেশেই গ্যাসের ঘাটতি কিছুটা হলেও কমে আসবে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, দ্বিতীয় পর্যায়ে সামিটের আমদানি করা এলএনজি আসার কথা আগামী অক্টোবরে। সেই আমদানি শুরু হলে তা সরবরাহ করা হবে দেশের মধ্যাঞ্চলে। এলএনজি এলে চট্টগ্রামে আর গ্যাস দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। এলএনজির কিছু অংশ জাতীয় গ্রিডেও সরবরাহ করা যাবে। এতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে গ্যাসের সরবরাহ বাড়বে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বিডি রহমত উল্লাহ বলেন, ‘এতে দেশের গ্যাস ঘাটতি কিছুটা হলেও কমবে। বিশেষ করে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে এর প্রভাব পড়বে সরাসরি। যেহেতু এই গ্যাস চট্টগ্রাম অঞ্চলে সরবরাহ শুরু করা হবে। ফলে ওই অঞ্চলের শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে এই প্রভাব পড়বে।
এই জ্বালানি বিশেষজ্ঞ জানান, গ্যাসের অভাবে চট্টগ্রামের অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্রও বন্ধ রয়েছে। গ্যাস পেলে ওইসব প্রতিষ্ঠানে আবার প্রাণ ফিরে আসবে বলে আশাবাদী তিনি।
তবে উচ্চমূল্যের গ্যাস সরবরাহ করে সরকার যেন সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম না বাড়ায় সেদিকে নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিডি রহমত উল্লাহ। পাশাপাশি দেশীয় গ্যাসের অনুসন্ধান বাড়িয়ে গ্যাস ঘাটতি পূরণের বিষয়েও সরকারকে জোর দিতে হবে বলে মনে করেন তিনি। তার আশা, উচ্চমূল্যের গ্যাস আমদানি না করে নিজেদের গ্যাস ব্যবহার করলে অর্থনৈতিকভাবে দেশ লাভবান হবে।

অনাবাদী জমিতে সূর্যমুখী চাষ ও সম্ভাবনা

মৌসুমের শুরুতে অনাকাঙ্খিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বীজ ও বীজের মাত্রাতিরিক্ত দাম থাকায় বরগুনার সূর্যমুখী চাষীদের অনেক বেগ পেতে হয়। তারপরেও সূর্যমুখী চাষকে উজ্জ্বল সম্ভাবনা হিসেবে দেখছে বরগুনার কৃষি বিভাগসহ সূর্যমুখী চাষীরা।
বছর কয়েক আগেও ডিসেম্বর মাস থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত ৫ মাসেরও বেশি সময় অনাবাদী হয়ে থাকতো বরগুনার অধিকাংশ ফসলী জমি। কিছু কিছু দু’ফসলী জমিতে খেসারী ও মুগ ডাল চাষ হলেও তা দিয়ে খুব একটা লাভের মুখ দেখা হত না কৃষকের। এখন সে সব জমিতেই সূর্যমুখী চাষ করে লাভবান হচ্ছেন বরগুনার অনেক কৃষক।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ১ হাজার ৫৩২ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। তারমধ্যে বরগুনা সদরে ৭০০, আমতলীতে ২৩০, তালতলীতে ২৫০, বেতাগীতে ৫০০, বামনায় ৭০০ এবং পাথরঘাটা উপজেলায় ৩৪০ হেক্টর জমিতে সূর্যমূখীর চাষ হয়েছে। এসব চাষীদের সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগীতা দিয়ে আসছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
বরগুনা সদর উপজেলার ১০নং নলটোনা ইউনিয়নের কৃষক গাজি মাহমুদও আ: ছত্তার জানান, বছরের শুরুতে বৃষ্টি থাকায় অনেক কৃষকই এবার সুর্যমুখীর চাষ করতে পারেনি। তবে গতবারের চেয়েও এবারের ফলন ভাল দেখা যাচ্ছে। যদি কোন ঝড়-বাদল বা দুর্যোগ না হয় তবে আশা করছি অধিক আয় হবে। সুর্যমুখী চাষ আরও লাভজনক হত যদি বরগুনায় আধুনিক প্রযুক্তির একটি তেল শোধনাগার থাকতো।
বরগুনার একটি সামাজিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান কোস্টাল এগ্রো বিজনেস লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম বলেন, বরগুনাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে ১৯৭০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত যে কয়টি বড় আকারের ঘূর্ণিঝড় হয়েছে তার বেশির ভাগই মে ও নভেম্বর মাসে আঘাত হেনেছে। নভেম্বর এর শেষ দিকে সূর্যমুখীর বীজ বপন শুরু হয় এবং মধ্য এপ্রিল থেকে ফসল কাটা হয়। তাই এই সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকির সম্ভাবনা কম থাকে। তাছাড়া যথাযথ প্রক্রিয়ায় সঠিকভাবে চাষ করলে এক’শ দিনের মধ্যে বীজ থেকে বীজ উৎপাদন সম্ভব। এবং প্রতি একর জমিতে সব খরচ বাদ দিয়ে প্রকারভেদে লাভ হয় ১৪ থেকে ১৮ হাজার টাকা যা অন্য কোন ফসলে সম্ভব নয়। বীজে তেল যেমন পাওয়া যায় ভালো, তেমন তেলের মানও অন্য যেকোন তেলের চেয়ে ভাল।
মাসুদ আলম আরও জানান, সিডর ও আইলা পরবর্তী সময়ে উপকূলীয় এ অঞ্চলে যখন লবণাক্ততার প্রভাব বেড়ে যায় তখন সরকারি কৃষি বিভাগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বেসরকারী সংস্থা অক্সফ্যাম এবং উন্নয়ন সংগঠন ব্র্যাক বিভিন্ন কর্মসূচীর অধীনে সূর্যমুখী চাষে স্থানীয় কৃষকদের নানাভাবে সহযোগীতা দিয়ে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় স্থানীয়ভাবে কোস্টাল এগ্রো বিজনেস লিমিটেড বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সুর্যমুখী চাষীদের সাথে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণসহ কারিগরী সহযোগীতা প্রদানের কাজ শুরু করে। পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সৃষ্টি করতে সুর্যমুখীর বীজ ক্রয় করে স্থানীয়ভাবে প্রক্রিয়াজাত করে “সান অয়েল” নামে তা বাজারজাত করার কাজ শুরু করেছে। বাংলাদেশে ২১ লাখ টন তেল আমদানি করতে বছরে খরচ হয় প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। সূর্যমুখী তেল এই আমদানী নির্ভরতা কমিয়ে এনে জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ সূর্যমুখী বীজে তেল থাকে শতকরা ৪০ ভাগ, যেখানে সয়াবিন তেলে থাকে মাত্র ১৬ ভাগ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বরগুনার উপ-পরিচালক সাইনুর আজম খান বলেন, মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি এবং বীজের দাম বেশি থাকায় এ বছর সূর্যমূখী চাষীদের বেশ খানিকটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। একটা সময় উন্নয়ন সংগঠন ব্র্যাকের পক্ষ থেকে সূর্যমূখী চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে বিনামূল্যে বীজ, সার এবং নানাবিধ কৃষি সহায়তা দেয়া হত। এখন কৃষকরা নিজেরাই তা চাষ করছে। তবে বর্তমানে এ বীজের দাম প্রতি কেজি ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা হওয়ায় তুলনামুলকভাবে অনেক কৃষকের পক্ষে তা কিনে চাষ করা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, সূর্যমুখীর বীজের সহজলভ্যতা এবং স্থানীয়ভাবে একটি আধুনিক তেল পরিশোধনাগারের ব্যবস্থা করা গেলে সূর্যমুখী চাষে চাষীরা আরও আগ্রহী হয়ে উঠতো।

চোপ! গণতন্ত্র চলছে by অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়

অবশেষে মূষিক প্রসব হল। পর্বতের মতো কোনও বিষয় অবশ্য ছিল না। পঞ্চায়েত নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করে তুলতে নির্বাচন কমিশনের তরফে পর্বতপ্রমাণ চেষ্টা দেখা গিয়েছে এমন দাবি কেউ করবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় বিস্তর। কিন্তু বিভিন্ন বেনজির বা বিরল কাণ্ড ঘটিয়ে খেলার পরে রাজ্য সরকারের দাবি অক্ষরে অক্ষরে মেনে নিয়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দেবে, ভোটগ্রহণ গোটা রাজ্যে এক দফাতেই হবে, এমনটা মোটেই প্রত্যাশিত ছিল না।
নির্বাচন কমিশন এর আগে যে নির্ঘণ্ট প্রকাশ করেছিল, তাতে তিন দফায় ভোটগ্রহণের কথা বলা হয়েছিল। কিছু একটা ভেবেই নিশ্চয়ই তিন দফার ভোট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কমিশন। তিন দফায় ভোট হলে নির্বিঘ্ন হবে নির্বাচন— এমন ভাবনাই নিশ্চয় ছিল। সেই ভাবনা আচমকা অন্তর্হিত হল কেন? এই প্রশ্নের জবাব কারও কাছেই পাওয়া যাচ্ছে না।
গোটা রাজ্যে যদি একই দিনে ভোট হয়, তা হলে বুথে বুথে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা যে কঠিন, তা বলাই বাহুল্য। সে কথা মাথায় রেখেই তিন দফায় ভোট নেওয়ার নির্ঘণ্ট প্রকাশিত হয়েছিল প্রথমে। এ বার কমিশন জানিয়ে দিল, তিন দিনে নয়, এক দিনেই পঞ্চায়েতে সমস্ত আসনে ভোটগ্রহণ হবে। তা যদি হয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা-পরিস্থিতির স্বাভাবিকতা রক্ষা করতে পারবে তো নির্বাচন কমিশন?পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে এ বার নাটকের অন্ত নেই পশ্চিমবঙ্গে। ঘটনাপ্রবাহের প্রতিটি মোড়ে যেন এক একটি বেনজির নাটক অপেক্ষায়। এত দিনে শুধুমাত্র মনোনয়ন জমা পর্ব শেষ হয়েছে। গুলি, বোমা, সন্ত্রাস, সংঘর্ষ, মৃত্যু, আইন-আদালত, সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট, শাসক-বিরোধী চাপানউতোর, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ, নতুন করে মনোনয়ন— বহু রকম নাটক এই নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই দেখে নিয়েছেন বাংলার মানুষ। এত কাণ্ড হয়ে যাওয়ার পরে কমিশন জানাবে, এক দিনেই গোটা রাজ্যে ভোটগ্রহণ হবে, এমনটা প্রত্যাশিত ছিল না। কিন্তু অপ্রত্যাশিত পথেই এগোল নির্বাচন কমিশন। প্রশ্ন হল, রাধা যদি নাই নাচে, সাত মন তেল পুড়িয়ে লাভ কী হল?বিরোধীদের ভূরি ভূরি অভিযোগ এই পঞ্চায়েত নির্বাচনকে ঘিরে। এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগের সুষ্ঠু সুরাহা নির্বাচন কমিশনার দিতে পারেননি। বিরোধীদের বয়ান অন্তত তাই বলছে। নির্বাচন কমিশনার আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন, বিরোধীদের কথা বা দাবি-দাওয়া খুব মন দিয়ে শোনার সময় বা অবকাশ তাঁর নেই। যে নির্বাচনে মনোনয়নকে ঘিরেই এত অশান্তি হয়, সেই নির্বাচনে ভোটগ্রহণটা যদি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে না হয়, তা হলে অশান্তি এবং ভোট লুঠ কোন পর্যায়ে পৌঁছতে পারে, তা কল্পনা করা কষ্টকর নয়। তা সত্ত্বেও ভোট এক দিনেই হবে। কারণ, শাসক তেমনই চান। বিরোধী অনেক প্রশ্ন তুলতে পারেন, আপত্তি জানাতে পারেন। কিন্তু সে সব নিয়ে ভাবার সময় আপাতত নেই। কারণ— চোপ! গণতন্ত্র চলছে।
সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা

সাব-ইন্সপেক্টর শবনম: "সব পুলিশ এমন হলে বদলে যেত বাংলাদেশ"

সেদিন শবনম আক্তার পপির কল সাইন ছিল 'এপোলো-সিক্স-ওয়ান'। টহল দিচ্ছেন মহাখালি এলাকায়। রুটিন ডিউটি। হঠাৎ ওয়্যারলেসে বার্তা এলো। মহাখালিতে এক্সিডেন্ট হয়েছে। এখনই ছুটতে হবে।
গাড়ি ছুটলো মহাখালির দিকে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন ভয়াবহ পরিস্থিতি। অনেক কটি গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। রাস্তায় উল্টে আছে গাড়ি। পথ বন্ধ। বিরাট বিশৃঙ্খলা।
"ভিআইপি পরিবহনের বাসটি যখন ফ্লাইওভার থেকে নীচে নামছিল, তখন সেটি ব্রেক ফেল করে সামনের গাড়িতে ধাক্কা মারে। ধাক্কাটা আসলে জোরে-শোরেই ছিল। পরপর দশটি গাড়িতে ধাক্কা লাগে। একটা পিক-আপ ভ্যান উল্টে একজন মারাত্মকভাবে আহত। কয়েকজন মোটর বাইক আরোহীও আহত হয়েছেন," বলছিলেন তিনি।
দিনটি ছিল ২২শে এপ্রিল, রবিবার। সেদিন পুলিশের উপ-পরিদর্শক শবনম আক্তার পপি এরপর যা যা করেছিলেন, সেটিকে তিনি ভেবেছিলেন পুলিশ হিসেবে তাঁর কর্তব্য। কাজের অংশ।
কিন্তু যারা সেদিন ঘটনাটি দেখেছেন, ছবি তুলেছেন এবং সেই ঘটনার কাহিনী এবং ছবি অনলাইনে শেয়ার করেছেন, তাদের কাছে এটি ছিল বিরল এবং অনুকরণীয় এক দৃষ্টান্ত।
বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনী যেখানে প্রতিদিন নানা কাজের জন্য তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ছে, কিছু পুলিশ সদস্যদের নানা কান্ড-কীর্তির কারণে পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি যেখানে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, সেখানে শবনম আক্তার পপিকে এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় 'আদর্শ' বা 'রোল মডেল' হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।
কী ঘটেছিল সেদিন:
শবনম আক্তার পপির সঙ্গে কথা হয় টেলিফোনে। মহাখালি ফ্লাইওভারের সেই দুর্ঘটনার পর সেদিন সেখানে কী হয়েছিল, নানা প্রশ্নের উত্তরে সবিস্তারে জানিয়েছেন তিনি। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে আমি কাছাকাছি আরও যে পুলিশ সদস্যরা ছিলেন তাদের সাহায্য চাইলাম। ভিআইপি পরিবহনের গাড়িটা বিকল হয়ে পড়ে ছিল একেবারে মাঝ রাস্তায়। এর ফলে সেখানে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। গাড়িটার ব্রেক ফেল করেছিল। কাজেই কিভাবে গাড়িটা সরানো যায়, সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল। শেষ পর্যন্ত আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, আমি নিজেই গাড়িটা চালিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে নেব।"
"আমার মনে হয়েছিল তখন যদি আমি দ্রুত গাড়িটা রাস্তা থেকে সরিয়ে না নেই, তাহলে আমার ডিপার্টমেন্টের বদনাম হবে। আর আমার ডিপার্টমেন্ট এই ট্রেনিংটাই দেয় মানুষের সেবা করা, বিপদগ্রস্থ মানুষকে সাহায্য করা। আমাদের কিন্তু ট্রেনিং এ এটাই শেখানো হয়।"
শবনম আক্তার পপি গাড়ি চালানো শিখেছিলেন নিজের আগ্রহেই। পরে পুলিশ সদস্য হিসেবেও গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নেন। কাজেই বাসটি চালিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে নিতে সমস্যা হয়নি। তবে কিছুটা ভয় কাজ করছিল, যেহেতু বাসটির ব্রেক কাজ করছিল না।
"কোন গাড়ি যখন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে, তখন একজন ড্রাইভারের অভাবে যাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হয়। আমার মনে হয়েছিল, পুলিশ হিসেবে আমাকে অনেক সড়ক দুর্ঘটনা হ্যান্ডেল করতে হয়। তখন আমার মনে হয়েছিল গাড়ি চালানো শেখাটা খুব জরুরী।"
যে পিক-আপটি রাস্তায় উল্টে গিয়েছিল, তার ড্রাইভার আহত হয়ে পড়েছিলেন রাস্তায়। ব্যাথায় কাতরাচ্ছিলেন। তাকে ফার্ষ্ট এইড দেয়ার কাজেও এগিয়ে গেলেন শবনম আক্তার পপি।
"তার অবস্থা দেখে আমার বেশ খারাপ লাগছিল। তখন আমি একজনকে টাকা দিয়ে বললাম, আমাকে কিছু বরফের টুকরো এনে দিন। আমি আহত লোকটিকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলাম এই বলে যে আপনার কিছুই হয়নি। আমি পরে তার আঘাতের জায়গাগুলিতে বরফের সেঁক দেই। "
"লোকটি বলছিল তার পা বোধহয় ভেঙ্গে গেছে। তখন আমি গামছা দিয়ে সেখানটা বেঁধে দেই। তখন আমার মনে হচ্ছিল, যদি আমি সেই সময়ে এই প্রাথমিক চিকিৎসটা না দেই, এই পা হয়তো আর ভালোই হবে না।
আহত লোকটিতে এরপর দাঁড়াতে সাহায্য করেন তিনি, হাঁটতে সাহায্য করেন। তারপর একটি গাড়িকে অনুরোধ করে লোকটিকে বাড়িতে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
পুলিশ সদস্য হিসেবে ফার্ষ্ট এইডের প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন শবনম আক্তার পপি। তিনি জানান, বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যদের এখন এসব প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তাঁর ভাষায়, "বাংলাদেশ পুলিশ এখন অনেক এগিয়ে। আমাদের ড্রাইভিং, ফার্ষ্ট এইড- সব কিছুই শেখানো হয়।"'রোল মডেল'
বাংলাদেশে গত কয়েকদিন ধরেই যেখানে কিছু পুলিশ কর্মকর্তার কান্ড-কীর্তি নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে, সেই পটভূমিতে শবনম আক্তার পপির এই ভূমিকা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে।
এই ঘটনার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন অনেকে। সেদিন আহত এক মানুষকে তাঁর ফার্স্ট এইড দেয়ার ঘটনার ছবির নীচে মন্তব্য করেছেন অনেকে।
রহমান আজিজ নামে একজন তাঁর প্রশংসা করে লিখেছেন, "পুলিশ জনগণের বন্ধু সেটা পপি আপা দেখালেন। তবে সব পুলিশ যদি এমন হতো তবে বদলে যেত বাংলাদেশ।"
হাসান ইমাম নামে একজনের মন্তব্য, "শত সহস্র সালাম সেসব পুলিশ সদস্যদের যারা সত্যিকারের পুলিশের সন্মান রেখে জনগণের সেবা করে। এদের কাছ থেকেও তো খারাপ পুলিশরা কিছু শিখতে পারে!!"
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গুলশান অঞ্চলের ডেপুটি কমিশনার মোস্তাক আহমেদ নিজেও এ নিয়ে একটি ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, "সড়ক দুর্ঘটনায় আহত একজন পথচারীর পায়ের শুশ্রুষা করছেন একজন পুলিশ সদস্য। এই ছবি শুধু পুলিশের সেবার কথা বলে না, পরিবর্তনের কথাও বলে। শ্রদ্ধা।"
সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে এই শোরগোল কেমন লাগছে শবনম আক্তার পপির?
এটিকে বেশ ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন তিনি।
"আমার স্যার আমাকে নিয়ে ফেসবুকে যে পোস্টটি দিয়েছেন, সেটি আমার অন্তর ছুঁয়ে গেছে।"তবে যে কাজ তিনি সেদিন করেছেন, সেটি যে অসাধারণ কিছু সেটা তিনি মনে করেন না। তার মতে, পুলিশের এই কাজই করার কথা।
"আমি সব সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের সেবা করার চেষ্টা করি। আর এখন পুলিশের কাজ আমাকে এই কাজ আরও বড় পরিসরে করার সুযোগ করে দিয়েছে।"
পুলিশের যে নেতিবাচক ভাবমূর্তির কথা সবসময় বলা হয়, তার সঙ্গে একমত নন তিনি।
"পুলিশ কিন্তু বেশিরভাগ সময় ভালো কাজ করে। সাদা কাপড়ে ময়লা লাগলে যেমন বেশি চোখে পড়ে, পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ব্যাপারটাও তাই। অন্যায় কিন্তু খুব কমই হয়। আমরা কিন্তু বেশিরভাগ সময় দেশের মানুষের সেবাতেই নিয়োজিত থাকি।"
পুলিশ সদস্যদের যে কত দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হয় তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
তার কাজটা অন্য পুলিশ সদস্যদেরও ভালো কাজে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করেন শবনম আক্তার পপি।
সূত্রঃ বিবিসি

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অন্তঃস্বত্বা নারী ছুরিকাঘাতে খুন

টেকনাফ নয়াপাড়া নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ছুরিকাঘাতে চার মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা আনছার বেগম (৪০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এঘটনায় শিশুসহ ৫ জন আহত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৬ জন কে আটক করেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে নয়াপাড়া শরনার্থী ক্যাম্পের আলী হোসেন সড়ক মোড়ে ডি-ব্লকে এঘটনা ঘটে।
জানা যায়, নয়াপাড়া নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পের অভ্যন্তরে মৃত ছিদ্দিক আহমদের পুত্র মকবুল আহমদ (৭৫) দীর্ঘ দিন ধরে মুদি দোকানের ব্যবসা করে আসছে। দোকানের সামনে ছৈয়দ আহমদ নামে এক কবিরাজ ঔষধী গাছ বসিয়ে ক্যাম্পাস করছিল। দোকানদার কবিরাজকে দোকানের সামনে থেকে সরে যেতে বললে উভয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডা ও তর্কাতকি হয়। একপর্যায়ে কবিরাজের স্ত্রী দিল বাহার ঝগড়ায় লিপ্ত হয়ে পড়লে ঘটনাটি উভয় পরিবারের মধ্যে বড় আকারে ধারণ করে।
এঘটনায় ছৈয়দ আহমদ কবিরাজের পক্ষ হয়ে ছালেহ আহমদসহ তার পরিবারও জড়িয়ে পড়ে। পরে পার্শ্ববর্তীদের সমন্বয়ে ঝগড়াটি থেমে যায়।  বিকাল ৩ টার দিকে ছালেহ আহমদের পুত্র ইব্রাহীম উত্তেজিত হয়ে মোঃ ইলিয়াছের স্ত্রী আনছার বেগম (৪০) ও তার পিতা মকবুল আহমদকে ছুরিকাঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলে আনছার বেগম (এমআরসি নং- ৩৩৩৩৫, ডি-ব্লক ৭৩২/৭) নিহত হয়। এসময় উভয় পক্ষের শফিউল্লাহর পুত্র মোঃ রফিক (১৬) ও মোঃ সোহেল (১১), ছালেহ আহমদ, ছালেহ আহমদের স্ত্রী দিলবাহার ও পুত্র ইব্রাহীম আহত হয়। গুরুতর আহত দোকানদার মকবুল আহমদকে আশংকাবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছে ক্যাম্পের কর্তব্যরত চিকিৎসক। খবর পেয়ে নয়াপাড়া ক্যাম্প পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে।  
এঘটনায় আহত ৩ জনসহ ৬ জনকে আটক করেছে ক্যাম্প পুলিশ। এর মধ্যে ৩জনকে পুলিশ হেফাজতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ এবং অপর তিনজনকে টেকনাফ মডেল থানার সোপর্দ করেছে। আটককৃতরা হচ্ছে ছালেহ আহমদ, ছালেহ আহমদের স্ত্রী দিলবাহার ও পুত্র মোঃ ইব্রাহীম, ইউসুফ, ছৈয়দ আহমদ ও ছৈয়দ আহমদের পুত্র আবুল মাসন প্রকাশ মোঃ হোছন।
এদিকে নিহতের বোন দেলোয়ারা জানান, নিহত আনছার বেগম ৪ মাসের অন্তঃস্বত্তা ও ৫ সন্তনের মা। 
নয়াপাড়া ক্যাম্প পুলিশ ইনচার্জ কবির আহমদ ঘটনায় একনারীর মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করে জানান, এঘটনায় ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে আহত ৩ জনকে কক্সবাজার হাসপাতালে ও অপর ৩জনকে টেকনাফ মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও আনসার ঘটনাস্থলে টহলে রয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রনজিত কুমার বড়–য়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অবশেষে পূর্বাচলে ১৪২ তলা আইকনিক টাওয়ার হচ্ছে by দীন ইসলাম

পূর্বাচলে ১৪২ তলা আইকনিক টাওয়ার এর প্রতীকী ছবি
অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে অবশেষে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্রস্তাবিত ১৪২ তলা আইকনিক টাওয়ার নির্মিত হতে যাচ্ছে। পূর্বাচলের ১৯ নং সেক্টরের সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট (সিবিডি) এলাকায় একশ’ একর জমিতে লিজ দেয়ার বিষয়ে এরই মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। তাই এখনই ১৪২ তলা আইকনিক নির্মাণকাজ শুরু করতে কোনো বাধা রইলো না। সহসাই আইকনিক টাওয়ার নির্মাণকাজ শুরু করবে কনসোর্টিয়াম অফ পাওয়ারপ্যাক হোল্ডিংস লিমিটেড অ্যান্ড কাজিমা করপোরেশন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এক বছরের বেশি সময় আগে যুক্তরাষ্ট্রের কেপিসি গ্রুপ এক প্রস্তাবে পূর্বাচলের ১৯ নং সেক্টরে সিবিডি এলাকায় ১৪২ তলা আইকনিক টাওয়ার, আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম (৫০ হাজার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন), ১০ হাজার ধারণক্ষমতার একটি অত্যাধুনিক কনভেনশন সেন্টার, আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়, একটি মর্ডান মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতাল নির্মাণসহ ইকোপার্ক ও গলফ কোর্স উন্নয়ন ও পরিচালনার জন্য একটি প্রস্তাব দেয়। এসব প্রস্তাব নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কেপিসি গ্রুপের দফায় দফায় বৈঠক হয়। কেপিসি গ্রুপ তাদের প্রস্তাবে জানায়, অভিজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আমেরিকার নেডেল ইনকরপোরেশন এবং সুউচ্চ টাওয়ার নির্মাণে বিশ্ববিখ্যাত নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যের অ্যারাবিয়ান কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (এসিসি) কেপিসি গ্রুপের নির্মাণ সহযোগী হিসেবে নিয়োজিত থাকবে। তারা প্রস্তাবে উল্লেখ করেন, এসব স্থাপনাগুলো নির্মাণ করতে প্রায় আড়াইশ’ একর জমি তাদের প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে ১৯ নং সেক্টরে অবস্থিত সিবিডি’র আওতাভুক্ত ১১৩ একর জমির মূল্য একরপ্রতি ১০ কোটি টাকা এবং অন্যান্য সেক্টরে কমবেশি ১০৩ একর জমির মূল্য প্রতি একর ৭ কোটি টাকা। এসব জমির মূল্য বার্ষিক চারটি সমান কিস্তিতে ১৫ বছরে পরিশোধ করা হবে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়ার পর ১৪২ তলা আইকনিক টাওয়ার নির্মাণের জন্য জমি লিজ দেয়ার কাজ শুরু করে রাজউক। প্রতিষ্ঠানটির ০৭/২০১৭তম কর্তৃপক্ষের সভায় নিলাম দরপত্র অনুমোদন পায় এবং নয় সদস্যের মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয়। নিলাম দরপত্র আহ্বানের পর মাল্টিপ্লেক্স হোল্ডিংস লিমিটেড, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, পাওয়ারপ্যাক হোল্ডিংস লিমিটেড, স্ট্র্যাটেজিক গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট, ইনকরপোরেশন, মরিয়ম কনস্ট্রাকশন লিমিটেড এবং আন্না করপোরেশন (বিডি) লিমিটেড দরপত্র দলিল কিনে। কিন্তু দরপত্র দাখিল করে স্ট্র্যাটেজিক গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট ইনকরপোরেশন- নেডেল কনসোর্টিয়াম এবং কনসোর্টিয়াম অফ পাওয়ারপ্যাক হোল্ডিংস লিমিটেড অ্যান্ড কাজিমা করপোরেশন। এর মধ্যে স্ট্র্যাটেজিক গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট ইনকরপোরেশন-নেডেল কনসোর্টিয়াম প্রতি একর জমির দাম ৩০ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং কনসোর্টিয়াম অফ পাওয়ারপ্যাক হোল্ডিংস লিমিটেড অ্যান্ড কাজিমা করপোরেশন ৩০ কোটি ২৫ লাখ একশ’ টাকা দর দেয়। এর মধ্যে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কনসোর্টিয়াম অফ পাওয়ারপ্যাক হোল্ডিংস লিমিটেড অ্যান্ড কাজিমা করপোরেশন-এর দরপ্রস্তাব গ্রহণ করার সুপারিশ করে মূল্যায়ন কমিটি। এর ভিত্তিতেই রাজউকের সর্বশেষ বোর্ড সভায় বিষয়টি অনুমোদন পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্যারিস-এর আইফেল টাওয়ার, দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা, কুয়ালালামপুরের পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার-এর মতো ১৪২ তলা আইকন টাওয়ারটি নির্মিত হলে এটি বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টাওয়ার হিসেবে পরিচিতি পাবে। ফলে বাংলাদেশ মর্যাদার উচ্চ শিখরে অধিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও পর্যটন শিল্পে এক অভূতপূর্ব সাফল্যের বিপ্লব বয়ে আনবে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার সন্নিকটে সর্বোত্তম ও স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি আদর্শ শহর গড়ে তোলার জন্য পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ঢাকার অদূরে শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীর সংলগ্ন মধ্যবর্তী স্থানে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার সাড়ে চার হাজার একর, গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় এক হাজার ৫৭৭ একর এবং ঢাকা জেলার খিলক্ষেত থানার দেড়শ’ একর জমি অর্থাৎ সব মিলিয়ে ছয় হাজার ২২৭ একর জমিতে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প অবস্থিত। প্রকল্পের আওতায় মোট প্লটের সংখ্যা সাতাশ হাজার আটটি। এর মধ্যে আবাসিক প্লটের সংখ্যা ২৫ হাজার ১৬টি, বাণিজ্যিক প্লট এক হাজার ৩৩টি, প্রাতিষ্ঠানিক প্লট ৪২৩টি, প্রশাসনিক প্লট ৪৭৩টি এবং ডিপ্লোম্যাটিক প্লট ৬৩টি। প্রকল্পটিকে একটি অত্যাধুনিক স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ১৯ নং সেক্টরে সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট (সিবিডি)- তে ২৪৫ একর, ১ নং সেক্টরে কমবেশি এক লাখ ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি আর্ন্তজাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জন্য ৩৭ দশমিক ৪৯ একর, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, ইকোপার্ক, গলফ কোর্স, পাঁচ তারকা হোটেল, ৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ লেক নির্মাণের জন্য বিভিন্ন সেক্টরে জমি রাখা হয়েছে।

‘আমার হাত কোথায়’ সুমির প্রশ্ন মায়ের কাছে by প্রতীক ওমর

সড়ক দুর্ঘটনায় হাত হারানো সুমিকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলাম। যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। একটু পর পর কেটে ফেলা হাতের দিকে তাকিয়ে মাকে বলছে, মা আমার হাত কোথায়? চোখের পানি টলমল করছে মায়ের। সুমির কথায় কোনো উত্তর নেই মা মরিয়ম বেগমের। কষ্টের সংসার মরিয়ম বেগমের। সুমির বাবা উপার্জন করে ভ্যান চালিয়ে। মাসখানেক আগে তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়েন। ভ্যানের প্যাডেলে আর পা রাখতে পারেন না তিনি। মায়ের ঝিয়ের কাজই এখন দুই বেলার ভাত জোগারের ভরসা। এ রকম একটা সংসারে ঝড় নেমে আসবে কেউ কল্পনা করতে পারেনি। সুমির মা অনেকটা বোবা হয়ে গেছেন। শোকে পাথর হয়ে চোখ দুটো বড় করে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। মেয়ের মাথার পাশে সারাক্ষণ বসে বসে দিন রাত পার করছেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল হাসপাতালেই। হাউমাউ করে কাঁদতে দেখলাম। বাবার কান্না। ক্ষত বিক্ষত হয়ে গেল উপস্থিত মানুষের হৃদয়। মেনে নিতে পারছে না কিছুতেই। মাসুম বাচ্চা। এত বড় কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা ওর নেই। তবুও তার উপর নেমে এসেছে বড় কষ্ট। আল্লাহকে তিনি বলছেন তুমি এই শিশুটির জন্য তোমার সর্বোচ্চ রহম নাজিল করো।
সুমির বাবা দুলাল মিয়া কেঁদে কেঁদে বললেন,  আমি ওর কষ্ট দেখে রাতে ঘুমাতে পারি না। খাবারো পেটে ঢুকছে না। কি করবো কূল খুঁজে পাচ্ছি না।
বগুড়ার একজন সাংবাদিক আ. ওয়াহেদ ফকির ঘটনার দিন শুরু থেকেই হাসপাতালে সুমিকে ভর্তির সময় সার্বিক সহযোগিতা করেছে। ওই সাংবাদিকের পকেটে ওই সময় যে পরিমাণ টাকা ছিল সব ওর মায়ের হাতে দিয়ে এসেছে। গতকাল আবার কয়েকজনের কাছে সহযোগিতা নিয়ে হাসপাতালে প্রয়োজন এমন সব জিনিসপত্র, সুমির জন্য গেঞ্জি, প্যান্ট কিনে দিয়ে এসেছেন।
ওর উন্নত চিকিৎসার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা প্রয়োজন। কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি ওর উন্নত চিকিৎসার জন্য হাত বাড়াতে পারেন। আমাদের দেশে এবং দেশের বাইরে অনেক মানুষ আছেন, যারা সুমির পাশে দাঁড়িয়ে ওর জীবন বাঁচাতে সাহায্য করতে পারেন। সুমির বাবা করজোরে অনুরোধ করছেন তার মেয়ের পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে।
যদিও ডাক্তাররা বলছেন সুমির অবস্থা এখন ভালো। তবুও হাত হারানোর ব্যথায় সে এখনো হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে।
সুমির ছোট চাচি পারুল বেগম জানান, সুমির মা অনেকটা মানসিক প্রতিবন্ধী। মানুষের বাসায় ঝিয়ের কাজ করে থাকে। ওর বাবারও বয়স হয়েছে। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত তিনিও। আগে ভ্যান চালাত। এখন সেই কাজও করতে পারে না। সুমির মায়ের কাজের উপরেই ওদের দুই বেলা খাওয়া চলে। এমন পরিস্থিতিতে সুমিকে নিয়ে তারা ভীষণভাবে ভেঙে পরেছে। কি করবে কিছুই ভেবে পাচ্ছে না। 
শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ ডা. রেজাউল আলম জুয়েল জানান, সুমির অবস্থা এখন আগের চেয়ে একটু ভালো। ওর জন্য হাসপাতাল থেকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। 
উল্লেখ্য, রোববার দুপুর দেড়টায় জেলার শেরপুর উপজেলার শেরুয়া বাজার থেকে মহাসড়ক ধরে হেঁটে বাড়িতে যাচ্ছিলেন মরিয়ম বেগম। মায়ের হাতে হাত রেখেই পাশাপাশি হাঁটছিল কন্যা সুমি। কিছু দূর গিয়ে মহাসড়ক ক্রস করে অন্য রাস্তায় যেতে হবে তাদের। মা মরিয়ম কন্যাকে কোলে তুলে নেয়। রাস্তার মাঝখানে গিয়ে পড়ে থাকা একটি পাথরের সঙ্গে হোঁচট লেগে দু’জনেই পড়ে যায়। পিছন থেকে দ্রুতগতির একটি ট্রাক রাস্তায় পড়ে যাওয়া সুমির বাম হাতের উপর দিয়ে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই বাম হাত ছিঁড়ে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। হতবাক হয়ে যায় মা। কন্যার এই অবস্থায় কি করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে সুমিকে উদ্ধার করে প্রথমে ওই এলাকার দুবলাগাড়ী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তার প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। কিন্তু তার অবস্থা বেশি  খারাপ হলে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শজিমেক) স্থানান্তর করা হয়। সুমি এখন ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। ওর জন্য সাহায্য পাঠাতে যোগাযোগ করুনঃ প্রতীক ওমর, বগুড়া প্রতিনিধি দৈনিক মানবজমিন ০১৭১৭৮৫২৬৮২।

তৃপ্তির লাশ উদ্ধার, রহস্য by ওয়েছ খছরু

স্বামীর সোহাগে তুষ্ট ছিলেন না তৃপ্তি। অভিমানী তৃপ্তি পাড়ি জমালেন না ফেরার দেশে। ৫ দিন আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন তৃপ্তি। স্বামী, পিতা-মাতা হন্য হয়ে খুঁজেছেন   তাকে। কিন্তু পাননি। অবশেষে গত বুধবার তৃপ্তির গলিত লাশ মিলল সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের সুরমা নদীতে। তবে- এরই মধ্যে তৃপ্তির মৃত্যু নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। পুলিশ জোর দিয়ে বলছে- তৃপ্তি আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু সুরমা নদীতে তৃপ্তি কীভাবে আত্মহত্যা করলো সেই প্রশ্নের কোনো সুরাহা হচ্ছে না।
লাশ উদ্ধারের পর পিতার মামলায় তৃপ্তির স্বামী রিংকুকে গ্রেপ্তার করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। কিন্তু রিংকুর মুখ থেকে পাওয়া তথ্যের জোরালো যুক্তির হিসাব মেলানো যাচ্ছে না। তৃপ্তির পুরো নাম বৈশাখী ধর তৃপ্তি। বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার দাশপাড়া গ্রামে। তৃপ্তির পিতা আশুতোষ ধর। আর তার স্বামী রিংকু ধর সিলেটের পল্লী বিমোচন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক। সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে মাস্টার্স পাস করা তৃপ্তি ছিলেন সিলেট রেলওয়ের মেইল বিভাগের কর্মকর্তা। এক বছরও হয়নি তৃপ্তি ও রিংকুর বিয়ের। দুই চাকরি জীবনও বেশি দিনের নয়। দুই বছর আগে তারা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে প্রায় ৮ মাস আগে সুখের সংসার পেতেছিলেন। বিয়ের পর রিংকু ও তৃপ্তি বাস করতেন দক্ষিণ সুরমার মাহবুব কমপ্লেক্সের ভাড়া বাসায়। দুই জনই চাকরিজীবী। সকাল থেকে যে যার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন।
বিকেলে তারা ঘরে ফিরতেন। বিয়ের পর ভালই চলছিল তাদের সংসার। কিন্তু প্রায় দুই মাস আগে রিংকু ও তৃপ্তির মধ্যে মনোমানিল্য দেখা দেয়। চাকরিতে ব্যস্ত থাকায় তৃপ্তি স্বামী রিংকুকে ততটা সময় দিতে পারতেন না। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। সাংসারিক জীবনে কিছুটা বিশ্বাস-অবিশ্বাসেরও সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে তাদের সংসারে প্রায় সময়ই ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো। এমনকি মাঝে মধ্যে কথাবার্তাও বন্ধ থাকে। রিংকু ও তৃপ্তির পরিবারের সদস্যরা এসে তাদের বিবাদ প্রায় সময় মিটিয়ে দিয়ে যান। শনিবার সকালে প্রতিদিনের মতো দক্ষিণ সুরমার মাহবুব কমপ্লেক্সের বাসা থেকে বের হয়ে যান বৈশাখী ধর তৃপ্তি। বাসা থেকে বের হওয়ার দিন দুপুর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এরপর স্বামী ও পিতার পরিবারের সদস্যরা হন্য হয়ে তৃপ্তিকে খুঁজতে থাকেন। এ ঘটনায় রোববার সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানায় তৃপ্তির স্বামী রিংকু ধর সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানায় স্ত্রী নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি করেন। পাশাপাশি তারা রিংকুকে খুঁজতে থাকেন। কিন্তু পরিচিত জন কিংবা আত্মীয় স্বজনের বাড়ি- কোথাও যায়নি তৃপ্তি। গত বুধবার দুপুরে খবর আসে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের সুরমা নদীতে এক মহিলার লাশ ভাসছে। খবর পেয়ে তৃপ্তির স্বামী ও পিতার বাড়ির সদস্যরা গিয়ে তার লাশ শনাক্ত করেন। তৃপ্তির শরীর গলে গেছে। মুখ কিছুটা বিকৃত। পরিবারের সদস্যরা লাশ শনাক্ত করার পর তৃপ্তির মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
এদিকে- তৃপ্তির বাবা আশুতোষ ধর বাদী হয়ে তার স্বামী রিংকুর বিরুদ্ধে দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা করেছেন। মামলায় রিংকুর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলার প্রেক্ষিতে গত বুধবার বিকালে তৃপ্তির স্বামী রিংকু ধরকে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। বৈশাখী ধর তৃপ্তির মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে পুলিশ রাতভর থানায় রেখে রিংকুকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। গতকাল সকালে পুলিশ তৃপ্তির পিতার দায়ের করা মামলায় রিংকুকে আদালতে হাজির করে।
আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি খায়রুল ফজল গতকাল বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন- বৈশাখী ধর তৃপ্তি নিজ থেকে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ- তৃপ্তি নিখোঁজের খবর জানার পর পুলিশ মাহবুব কমপ্লেক্সে যায়। সেখানে সিসিটিভির ফুটেজ অনুসন্ধান করে দেখা গেছে নিখোঁজের দিন শনিবার তৃপ্তি একাই বাসা থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। তার সঙ্গে আর কেউ ছিল না। এ ছাড়া নিখোঁজের আগের দিন তৃপ্তি তারা মা-বাবাকে মোবাইল ফোনে জানিয়েছিল, আমার আশা ছেড়ে দেও তোমরা। আমাকে পাইবা না। আমি আত্মহত্যা করবো।
নিখোঁজের আগের দিন এসব কথা বলে যাওয়ায় পরিবারও ধারণা করছে সে আত্মহত্যা করেছে। তিনি বলেন- এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা স্বামীর কাছ থেকে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ওদিকে- পুলিশ সূত্র জানিয়েছে- রাতে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রিংকু ধর জানিয়েছে, তৃপ্তির সঙ্গে তার মনোমানিল্য চলছিল। কয়েক দিন ধরে নানা টানাপড়েনের কারণে অশান্তি বিরাজ করছে। তৃপ্তি অফিসে বেশি সময় থাকতো। আমি কোথাও তাকে বেড়ানোর জন্য নিয়ে যেতে চাইলেও সে অফিসের দোহাই দিয়ে যেত না। এসব বিষয় নিয়েই মূলত দ্বন্দ্ব ছিল।’ তৃপ্তি সুরমা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে পুলিশ ধারণা করছে। সুরমা নদীর পাশেই ভাড়া বাসায় বসবাস করে তৃপ্তি। পেছনেই কাজিরবাজার সেতু।
তবে সকালে বের হওয়া তৃপ্তি কখন আত্মহত্যা করেছে তার কোনো তথ্য মিলেনি। আর দিনের বেলা নদীতে ঝাঁপ দিলেও লোকজনের চোখে পড়তো। তার গলায়ও কোনো কিছু বাঁধা ছিল না। আর রাতে সে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করলে গোটা দিন কোথায় ছিল সেটি নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ওসি জানিয়েছেন, তৃপ্তির মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের জন্য ময়না তদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষা করতে হবে। তদন্ত রিপোর্ট আসার পর পুলিশ সব কিছু পরিষ্কার হবে।

ভারতের পক্ষে কথা বলার অধিকার তো তাকে কেউ দেয়নি: মির্জা ফখরুল

‘ভারত বাংলাদেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না’ বলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যে মন্তব্য করেছেন তাকে ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় সমস্যা সৃষ্টি’ হিসেবে অভিহিত করলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সম্মিলিত বৌদ্ধ নাগরিক আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘ভারত বলেছে তারা বাংলাদেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না। কথাটার অর্থ কী? কেউ কি বলেছে যে ভারত বাংলাদেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে? উনাকে কি ভারত দায়িত্ব দিয়েছে এ কথাটা বলার? এটা আমরা এখন পর্যন্ত বুঝতে পারিনি। আমার কাছে মনে হয়েছে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটা বড় সমস্যা সৃষ্টি করলেন তিনি। কারণ ভারতের পক্ষে কথা বলার অধিকার তো তাকে কেউ দেয়নি। তিনি এটা বলেছেন যা গোটা বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে অনেক প্রশ্নের উদ্বেগ করে দিচ্ছে।’
ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির আমন্ত্রণে আওয়ামী লীগের ১৯ সদস্যের প্রতিনিধিদল ২২ এপ্রিল থেকে ২৫ এপ্রিল ভারত সফর করে। দেশে ফিরে প্রতিনিধিদলের নেতা ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেছেন,  ‘ভারত অতীতেও আমাদের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি, এবারও করবে না।’
প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা সব সময় মনে করি যে ভারত আমাদের সবচেয়ে নিকট বন্ধুরাষ্ট্র। কারণ মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকার আমরা স্বীকার শুধু নয়, শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি এবং আমরা মনে করি যে তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয়। তাদের সম্পর্কে কোনো ভুল ধারণা সৃষ্টি হোক, সেটা আমরা চাই না। আমরা সব সময় প্রত্যাশা করি, পৃথিবী সব গণতান্ত্রিক দেশ যেন গণতন্ত্রের পক্ষে থাকে, তারা যেন মানুষের অধিকারের পক্ষে থাকে, তারা যেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে থাকে। যখন কোনো রাষ্ট্রে গণতন্ত্রকে, মানুষকে দমন–পীড়ন করা হয়, যখন প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে ফেলা হয়, তখন যেন তারা সোচ্চার থাকে, জনগণের পক্ষে থাকে—সেটাই হচ্ছে ভালো সম্পর্ক।’
'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যত দিন জীবিত ও কর্মক্ষম আছেন, তত দিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে' দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজীবন ক্ষমতায় থাকুক আওয়ামী লীগ, আমরা খুব খুশি হব। তবে জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসেন। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ক্ষমতায় আসেন। আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা সরকারকে সুস্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, দেশনেত্রীকে কারাগারে রেখে নির্বাচনের চিন্তা করবেন না, সেটা হবে না। একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার জন্য সকল রাজনৈতিক দলগুলো প্রতি আবারও আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব’।
সম্মিলিত বৌদ্ধ নাগরিক নামের এই সংগঠনের সভাপতি দিলীপ কুমার বড়ুয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক গৌতম চক্রবর্তী, বিএনপির ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদক দীপেন দেওয়ান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আক্তার হোসেন প্রমুখ।

‘আমেরিকা সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গেলে এনপিটি ত্যাগ করবে ইরান’

মার্কিন সরকার ইরানের পরমাণু সমঝোতা বা জেসিপিওএ থেকে বেরিয়ে গেলে পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি ত্যাগ করার হুমকি দিয়েছে তেহরান। ইরানের নীতি নির্ধারণী পরিষদের সচিব ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র সাবেক কমান্ডার মোহসেন রেজায়ি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
তিনি তেহরানে বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আরো বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বার্থের কাছে নিজেদের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ বিকিয়ে দেয়া ইউরোপীয় দেশগুলোর উচিত হবে না।  তিনি  আরো বলেন, জেসিপিওএ বাস্তবায়নের বিষয়ে ইউরোপীয়রা কোনোদিনও আমেরিকার সঙ্গে একমত হতে পারবে না।
ইউরোপীয় দেশগুলো ট্রাম্পকে পরমাণু সমঝোতায় ধরে রাখার যে পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করছে তা নাকচ করে দিয়ে রেজায়ি বলেন, জেসিপিওএ’র ব্যাপারে মার্কিন সরকার ভ্রান্ত নীতি অনুসরণ করছে।
ট্রাম্প ২০১৭ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা গ্রহণ করার পর থেকে ইরানের সঙ্গে তার দেশসহ ছয় পশ্চিমা দেশের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা বাতিল বা যুক্তরাষ্ট্রকে এ সমঝোতা থেকে বের করে নেয়ার হুমকি দিয়ে আসছেন। ২০১৫ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনামলে এ সমঝোতায় স্বাক্ষর করে ওয়াশিংটন।
সমঝোতাটি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে ইরানের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রেখে প্রতি চারমাস পরপর একটি প্রজ্ঞাপনে সই করে আসছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আগামী ১২ মে ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষরের পরবর্তী তারিখ। কিন্তু ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন ওই তারিখের মধ্যে ইরানের পরমাণু সমঝোতায় তার ইচ্ছেমতো পরিবর্তন আনা সম্ভব না হলে তিনি ওই প্রজ্ঞাপনে সই করবেন না এবং আমেরিকাকে এ সমঝোতা থেকে বের করে নেবেন।

আমাদের হাতে ৪ ইসরাইলি সেনা বন্দি আছে: হামাস

হামাসের হাতে আটক ইহুদিবাদী সেনা আব্রাহাম মাংগেস্তু (ফাইল ছবি)
নিজেদের হাতে চার ইসরাইলি সেনার বন্দি থাকার কথা উল্লেখ করে ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস বলেছে, এসব বন্দির মুক্তির ব্যাপারে আলোচনার যে দাবি ইহুদিবাদী প্রধানমন্ত্রী করেছেন তা সত্য নয়। বন্দি বিনিময়ের ক্ষেত্রে তেল আবিবের ব্যর্থতা ঢাকা দেয়ার জন্য নেতানিয়াহু বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন বলেও হামাস অভিযোগ করেছে।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বুধবার হামাসের হাতে আটক ইহুদিবাদী সেনা আব্রাহাম মাংগেস্তু’র পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতে দাবি করেন, আটক ইসরাইলি সেনাদের মুক্ত করতে গোপন কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।
তার এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় হামাসের বরাত দিয়ে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা মা’আ গতকাল (বৃহস্পতিবার) জানিয়েছে, বন্দি বিনিময়ের ব্যাপারে তেল আবিবের সঙ্গে হামাস কোনো আলোচনায় বসেনি।
২০১৫ সালের জুলাই মাসে ইহুদিবাদী ইসরাইল ঘোষণা করে, আব্রাহাম ম্যাংগেস্তু নামে তাদের এক সেনা গাজা সীমান্ত অতিক্রম করার পর আর ইসরাইলে ফিরে যায়নি।
এর আগে ২০১৪ সালের ২০ জুলাই গাজায় ইসরাইলের ৫১ দিনব্যাপী যুদ্ধের সময় হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জাদ্দিন কাসসাম ব্রিগেড ঘোষণা করে, তারা শাওল অ্যারন নামের একজন ইসরাইলি সেনাকে গাজার সীমান্তবর্তী শুজায়িয়া এলাকা থেকে আটক করেছেন। এই বক্তব্য নাকচ করে দিয়ে তেল আবিব দাবি করেন, শাওল অ্যারন আর বেঁচে নেই এবং হামাসের কাছে শুধুমাত্র তার লাশ রয়েছে।
কিন্তু পরবর্তীতে যুদ্ধ শেষে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করার পর কাসসাম ব্রিগেড তাদের হাতে আটক চার ইসরাইলি সেনার ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করে। শাওল অ্যারন, আব্রাহাম ম্যাংগেস্তু, হিদার গোল্ডেন এবং হাশাম বডি সাইয়েড নামের ওই চার ইসরাইলি সেনা এখনো হামাসের হাতে বন্দি রয়েছে।
ইহুদিবাদী ইসরাইলের হাতে বন্দি হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্ত করার বিনিময়ে চার ইসরাইলি সেনাকে মুক্তি দিতে চায় হামাস।
২০১১ সালে হামাসের হাতে আটক ইসরাইলি সেনা গিলাড শালিতের মুক্তির বিনিময়ে এক হাজার ২৭ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্ত করেছিল হামাস। অবশ্য ওই ঘটনার পর ইহুদিবাদী ইসরাইল মুক্তিপ্রাপ্ত ওইসব ফিলিস্তিনি বন্দির মধ্যে বহু ব্যক্তিকে আবার আটক করে। হামাস বলেছে, তাদের হাতে আটক ইসরাইলি সেনাদের মুক্তির বিষয়ে আলোচনায় বসার আগে পুনরায় আটক ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে।
হামাসের হাতে আটক থাকা অবস্থায় ইসরাইলি সেনা গিলাদ শালিত; ২০১১ সালে সে মুক্তি পায়

পরমাণু সমঝোতায় কোনো যোগ-বিয়োগ হবে না: রাশিয়া

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা
রাশিয়া বলেছে, ২০১৫ সালে ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সই হওয়া পরমাণু সমঝোতায় কোনো সংশোধন বা কোনোকিছু যোগ করার সুযোগ নেই। পরমাণু সমঝোতায় আমেরিকা থাকবে কিনা সে বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়ার সময়সীমা যখন ঘনিয়ে আসছে তখন মস্কো একথা বলল।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা আজ (বৃহস্পতিবার) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরনের মন্তব্যে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা এসব কথায় খুবই উদ্বিগ্ন। পরমাণু সমঝোতা সম্পর্কে আমেরিকা ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট যেসব কথা বলেছেন আমি তার কথা বলছি। রাশিয়া বার বার বলেছে যে, পরমাণু সমঝোতার বিষয়ে নতুন করে ভোট দেয়ার, পরিবর্তন করার কিংবা এর কলেবর বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।”
চলতি সপ্তাহে ফরাসি প্রেসিডেন্ট আমেরিকা সফর করেন এবং সফরের শেষ পর্যায়ে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে দেয়া এক বক্তব্যে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভবত ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাবেন।
ট্রাম্প ২০১৭ সালের শুরুতে আমেরিকার ক্ষমতা গ্রহণ করার পর থেকে ইরানের সঙ্গে তার দেশসহ ছয় পশ্চিমা দেশের সঙ্গে সই হওয়া পরমাণু সমঝোতা বাতিল বা তার দেশকে এ সমঝোতা থেকে বের করে নেয়ার হুমকি দিয়ে আসছেন। ২০১৫ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনামলে এ সমঝোতায় সই করে ওয়াশিংটন।
সমঝোতাটি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে ইরানের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রেখে প্রতি চারমাস পরপর একটি প্রজ্ঞাপনে সই করে আসছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আগামী ১২ মে ওই প্রজ্ঞাপনে সই করার পরবর্তী তারিখ। কিন্তু ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন এ সময়ের মধ্যে ইরানের পরমাণু সমঝোতায় তার ইচ্ছেমতো পরিবর্তন আনা সম্ভব না হলে তিনি প্রজ্ঞাপনে সই করবেন না এবং আমেরিকাকে এ সমঝোতা থেকে বের করে নেবেন।

ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠক: মুনের উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন কিম

সীমান্তরেখার ওপর দাঁড়িয়ে করমর্দন করছেন কিম জং-উন ও মুন জায়ে-ইন
দুই কোরিয়ার শীর্ষ নেতাদের মধ্যকার বহুল আলোচিত বৈঠক আর কিছুক্ষণের মধ্যে শুরু হতে যাচ্ছে। বৈঠকে অংশ নিতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন শুক্রবার সকালে দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তবর্তী পানমুনজম গ্রামে পৌঁছালে প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান।
দুই কোরিয়ার সীমান্তবর্তী বেসামরিক অঞ্চল পানমুনজমে দুই নেতাকে হাস্যোজ্জ্বল মুখে পরস্পরের সঙ্গে করমর্দন করতে দেখা গেছে। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে দুই কোরিয়ার শীর্ষ নেতারা এই প্রথম বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবেশের আগে কিম জং-উন দক্ষিণের প্রেসিডেন্ট মুনকে উত্তর কোরিয়ায় প্রবেশ করার আহ্বান জানান। মুন সে আহ্বান রক্ষা করে সীমান্ত অতিক্রম করে কিম জং-উনকে সঙ্গে করে আবার দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবেশ করেন।
এ সময় কিম ও মুন লাল গালিচার উপর দিয়ে হেঁটে যান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের তালে দুই নেতাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।
শীর্ষ বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে তার পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পাশাপাশি রয়েছেন তার বোন কিম ইয়ো-জং ও ৯০ বছর বয়সি হেড অব স্টেট কিম ইয়ং-না।
দুই কোরিয়ার সীমান্তবর্তী পানমুনজম গ্রামটি দক্ষিণ কোরিয়ার সীমানার মধ্যে পড়েছে। ১৯৫৩ সালে দুই কোরিয়ার মধ্যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দু’দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক করার স্থান হিসেবে এই গ্রামটিকে নির্ধারণ করা হয়। ওই যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত গত ৬৫ বছরে উত্তর কোরিয়ার কোনো শীর্ষ নেতা দক্ষিণ কোরিয়ায় পা রাখেননি।

রানা প্লাজা ধসের পর চাকরি হারিয়েছেন ৪ লাখ শ্রমিক -টিআইবির গবেষণা

রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন কারণে প্রায় ১২০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে চাকরি হারিয়েছে প্রায় ৪ লাখ শ্রমিক। এ ছাড়া প্রধান পোশাক  রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের শ্রমিকদের কম মজুরি, বিনা মজুরিতে কাজ করিয়ে নেয়া, প্রসূতিকালে চাকরিচ্যুত, ক্ষতিপূরণ না দেয়াসহ নানা চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে এ খাতটিতে। গতকাল টিআইবি’র ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে ‘তৈরি পোশাক খাতে সুশাসন: অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য ওঠে আসে। এসব চ্যালেঞ্জ তুলে ধরার পাশাপাশি টিআইবি তৈরি পোশাক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কেন্দ্রীভূত তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য দীর্ঘমেয়াদে একক কর্তৃপক্ষ গঠনের সুপারিশসহ ৮ দফা সুপারিশ পেশ করে। একইসঙ্গে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২০২ ডলার করারও প্রস্তাব করা হয়। গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবি’র গবেষণা ও পলিসি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাজমুল হুদা মিনা। সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি’র বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান, সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার ও গবেষণাটির তত্ত্বাবধায়ক মো. ওয়াহিদ আলম উপস্থিত ছিলেন। 
২০১৭ সালের মে থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত পরিচালিত এ গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগে তৈরি পোশাক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও অনেক ক্ষেত্রেই এখনো ঘাটতি রয়েছে। বিভিন্ন অংশীজন কর্তৃক গৃহীত উদ্যোগসমূহের ৩৯ শতাংশ বাস্তবায়িত হলেও ৪১ শতাংশ উদ্যোগের বাস্তবায়ন এখনো চলমান এবং ২০ শতাংশ উদ্যোগের বাস্তবায়ন স্থবির বা ধীর গতিতে হচ্ছে।
মালিকপক্ষ ব্যবসা টিকিয়ে রাখার ওপর গুরুত্ব প্রদানসহ রপ্তানি প্রবৃদ্ধিকে প্রাধান্য দিলেও শ্রমিক অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তাকে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন না। গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রমিক অধিকার নিশ্চিতে আইনি সীমাবদ্ধতা এবং যৌথ দরকষাকষির পরিবেশ সৃষ্টিতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতির পাশাপাশি মালিক পক্ষের প্রভাব এখনো অব্যাহত রয়েছে। অপরদিকে, শ্রমিকের চাকরিচ্যুতিতে ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা, দুর্ঘটনার জন্য পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ, মাতৃত্বকালীন সুবিধা, সংগঠন করার অধিকার, মারাত্মক অসুস্থতার জন্য সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয়ে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। বায়ার প্রতিষ্ঠানের পরিদর্শনকৃত অধিকাংশ কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলেও জাতীয় উদ্যোগের কারখানাসমূহে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
গবেষণায় দেখা যায়, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর আইন, নীতি ও আইনের প্রয়োগ, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা, শুদ্ধাচার, জবাবদিহি, কারখানা নিরাপত্তা, শ্রমিক অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে তৈরি পোশাক খাতের বিভিন্ন অংশীজন কর্তৃক গৃহীত উল্লেখযোগ্য ১০২টি উদ্যোগের মধ্যে ৪০টি বা ৩৯ শতাংশ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে, ৪২টি বা ৪১ শতাংশ উদ্যোগের বাস্তবায়ন চলমান রয়েছে এবং ২০টি বা ২০ শতাংশ উদ্যোগের বাস্তবায়ন স্থবির বা ধীর গতিতে হচ্ছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অগ্রগতি হলেও ফায়ার স্টেশন নির্মাণ, পরিদর্শক নিয়োগ, অনলাইন সেবাসমূহ ব্যবহারবান্ধব করা ইত্যাদি বিষয়ে চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। সংশ্লিষ্ট আইনে মালিক ও শ্রমিকের অসামঞ্জস্যপূর্ণ সংজ্ঞায়ন, কারখানাসমূহে শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়া এবং ধর্মঘট আহ্বানের ক্ষেত্রে আইনি প্রতিবন্ধকতা শ্রমিক অধিকার নিশ্চিতের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে। অঙ্গীকার সত্ত্বেও সরকার এখনো শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ বিষয়ক আইএলও কনভেনশন (১২১) স্বাক্ষর করেনি। রানা প্লাজা ও তাজরীন ফ্যাশন দুর্ঘটনার মামলায় বারবার শুনানির তারিখ পরিবর্তনের মাধ্যমে মামলার দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি করে আসামিদের গ্রেপ্তার এড়াতে সাহায্য করা হচ্ছে। রানা প্লাজা, তাজরীন ফ্যাশন এবং স্পেক্ট্রাম ফ্যাশন গার্মেন্ট সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
১৪৭টি বিশেষজ্ঞ কারখানা পরিদর্শকের পদ এখনো শূন্য রয়েছে। উঁচু ভবনসমূহের অগ্নি নির্বাপণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যন্ত্র-সামগ্রীর ঘাটতি থাকায় অগ্নি নিরাপত্তা ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে সরকার কর্তৃক বিভিন্ন নীতি-সহায়তা গ্রহণ সত্ত্বেও লক্ষ্য করা যায় যে, সমপ্রতি প্রকাশিত শীর্ষ ১০০ ঋণখেলাপির তালিকায় ২৬টি প্রতিষ্ঠানই তৈরি পোশাক খাতভুক্ত নিয়োজিত যা সার্বিকভাবে দেশের অর্থনীতিতে ঝুঁকির সৃষ্টি করছে। গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, সরকার ও বায়ারদের সমন্বিত উদ্যোগ সত্ত্বেও এখনো ৯৮২টি বা প্রায় ৩২ শতাংশ পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তায় আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি। আর্থিক সংকট, ভাড়া করা ভবনে কারখানা স্থাপন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতা প্রভৃতি কারণে বিভিন্ন কারখানার সংস্কার কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কারখানা সংস্কারের ক্ষেত্রে সরকার ও বায়ার  উভয় পক্ষেরই দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষণীয়।
গবেষণায় দেখা যায়, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন কারণে প্রায় ১২০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে যার ফলে প্রায় ৪ লাখ শ্রমিক চাকরিচ্যুত হয়েছেন। যদিও বিজিএমইএ’র তথ্য মতে ৭৭৮টি নতুন কারখানায় ৬ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আরসিসির সক্ষমতা নিরূপণের জন্য সমন্বিত পরিবীক্ষণ ব্যবস্থায় মালিক পক্ষের সংযুক্তিকরণ এবং নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ না রাখার ফলে মালিক পক্ষের অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকি রয়েছে।
গবেষণায় অধিকাংশ ছোট ও সাবকন্ট্রাক্ট কারখানাগুলোতে ন্যূনতম মজুরি প্রদান না করা, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির পর উৎপাদনের অতিরিক্ত টার্গেট নির্ধারণ, নিয়মবহির্ভূতভাবে মজুরি কর্তন, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা ২ ঘণ্টার পরিবর্তে ৪ ঘণ্টা করা, অনেক ক্ষেত্রে ৫-৬ ঘণ্টার অতিরিক্ত কর্মঘণ্টায় শ্রমিকদের কাজ করানো ইত্যাদি অনিয়মের তথ্য ওঠে এসেছে। পোশাক শ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনায় সদস্য মনোনয়নের অভিযোগ রয়েছে। গবেষণায় ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনে শ্রম পরিদপ্তরের কোনো কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১০-১৫ হাজার টাকার নিয়মবহির্ভূত অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। কারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের পরিদর্শক কর্তৃক অভিযোগ তদন্তে কারখানার মালিকপক্ষের সামনে অভিযোগকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার ফলে শ্রমিকের নিপীড়ন ও চাকরিচ্যুতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মালিকপক্ষ কাগজে-কলমে শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়টি স্বীকার করলেও অধিকারের বাস্তবায়ন বিষয়ে আলোচনার সময় তাদের মধ্যে শ্রমিক অধিকারসুলভ মানসিকতার ঘাটতি দেখা যায়। মুনাফা বৃদ্ধি, ব্যবসায়িক সুবিধা বজায় রাখা ও বিকাশ ঘটানোর দিকেই তাদের প্রাধান্য দিতে দেখা যায়। আবার সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশকিছু অবকাঠামোগত উন্নতি হলেও সেখানে প্রয়োগে ঘাটতি রয়েছে।
রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের এখনো যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে না পারা অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি সরকার, মালিকপক্ষ এবং বায়ারদের একটি ত্রিমুখী ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করে ড. জামান বলেন, জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ অর্জন করতে হলে অবশ্যই তৈরি পোশাক খাতের উন্নয়ন করতে হবে। ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ সম্পর্কিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর মজুরি কাঠামো বিশ্লেষণ করে দেখা যায় কম্বোডিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রমিকদের অবস্থা বিবেচ্য। কম্বোডিয়ার বর্তমান ন্যূনতম মজুরি ১৯৭ ডলার। সে হিসেবে বাংলাদেশের বিবেচনায় আমরা ২০২ ডলার করার প্রস্তাব করছি।
অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, মালিকপক্ষ যা কিছুই করছেন সেটা তাদের রপ্তানি বৃদ্ধি ও ব্যবসা টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়। তৈরি পোশাক খাতে মালিকপক্ষের শ্রমিক অধিকারসুলভ মানসিকতার ঘাটতির কারণেই এখনো খাতটিতে সুশাসনের প্রকট ঘাটতি রয়েছে। তৈরি পোশাক খাতে এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে যাতে মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষই মনে করেন তৈরি পোশাক খাত তাদের নিজের প্রতিষ্ঠান। খাতটিতে মালিকদের স্বার্থের পাশাপাশি শ্রমিকদেরও ব্যাপক স্বার্থ রয়েছে। তাই উভয় পক্ষকেই তৈরি এ খাতের ওপর সুনজর দিতে হবে।
তৈরি পোশাক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার, শ্রম মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, তৈরি পোশাক খাতের মালিক সংগঠন ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীজনের বিবেচনার জন্য সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি’র পক্ষ থেকে উত্থাপিত উল্লেখযোগ্য সুপারিশগুলো হলো, ন্যূনতম মজুরি ও সংগঠন করার অধিকারসহ আইনে প্রাপ্য শ্রমিক অধিকারসমূহ নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ, সাব-কন্ট্রাক্ট ও ক্ষুদ্র কারখানার কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতে বিভিন্ন অংশীজনের অংশগ্রহণে একটি তহবিল গঠন এবং বিভিন্ন দুর্ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাসমূহের দ্রুত বিচার এবং শ্রম আদালতসমূহকে ট্রাইব্যুনালে রূপান্তরিত করার মাধ্যমে মামলাসমূহের দ্রুত নিষ্পত্তি করা।

এপ্রিলের মধ্যে গেজেট না হলে ফের আন্দোলন

চলতি মাসের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতীয় সংসদে দেয়া কোটা বাতিলের ঘোষণা অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন প্রকাশের দাবি জানিয়েছে কোটা সংস্কার আন্দোলনের জন্য গঠিত বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা না হলে আগামী মাস থেকে ফের আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। সংগঠনের  যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান বলেন, ‘নিয়মানুযায়ী সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার দুই তিনদিনের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার কথা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততার কারণে সেটি একটু দেরি হচ্ছে। তবে চলতি মাসের মধ্যে এই প্রজ্ঞাপন জারি না হলে আগামী মাস থেকে সারা বাংলার ছাত্র সমাজ আবারও আন্দোলনে নামবে।’ 
গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি। এসময় হয়রানিমূলক অজ্ঞাতনামা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি করে ছাত্র অধিকার পরিষদ। ঘোষণা দেয়া হয় আগামী ৩০শে এপ্রিল আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য ছাত্র-শিক্ষকদের নিয়ে সকল বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা করার। এ ছাড়া গত ২১শে এপ্রিল দৈনিক জনকণ্ঠে আন্দোলনকারীদের নিয়ে প্রকাশিত সংবাদকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট’ বলে দাবি করেছেন তারা। প্রকাশিত সংবাদের জন্য ক্ষমা না চাইলে ছাত্রসমাজ পত্রিকাটি বর্জন ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ারও ঘোষণা দেয়া হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর বলেন, ভিসি স্যারের বাসভবনে যারা হামলা চালিয়েছে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নয়। তারা বহিরাগত। তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এ হামলা চালিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের যেন কোনোভাবে হয়ারনি করা না হয় সে বিষয়ে আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই। আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন বলেন, গত ৮ই এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যারা পিস্তল, চাপাতি, রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসেছিল এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে তাদের ইচ্ছে ছিল ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করে সরকার পতনের চেষ্টা। তারা একজন শিক্ষার্থীকে গুলিবিদ্ধ ও অনেককে আহত করেছে। এ সময় বিন ইয়ামিন এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে আহ্বান জানান।
দাবি করেন, অজ্ঞাতনামা মামলা দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের যেন হয়রানি না করা হয়। যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, আমরা চাই, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য গেজেট আকারে প্রকাশ হোক। আমরা পড়ার টেবিলে ফিরে যেতে চাই। আমরা ১৭ই ফেব্রুয়ারি থেকে কোটা সংস্কারের জন্য অহিংস আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু অল্প কিছু মিডিয়া আমাদের আন্দোলনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, কোটা আন্দোলন নিয়ে এর আগে একটি পত্রিকা মিথ্যা সংবাদ ছেপে প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছিল। ২১শে এপ্রিল আরেকটি পত্রিকা কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আরো একটি মিথ্যা সংবাদ প্রচার করেছে। এটি বিকেলের মধ্যে প্রত্যাহার করা না হলে আইনি ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান আন্দোলনকারীরা। এ সময় আহ্বায়ক হাসান আল মামুন অভিযোগ করে বলেন, সমপ্রতি তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়ে হুমকি দিয়েছে। এ ধরনের আর কোনো শিক্ষার্থীকে তুলে না নিয়ে যাওয়ার দাবি জানান তিনি। বলেন, এ রকম হলে ছাত্রসমাজ বসে থাকবে না।

পাসপোর্টের সঙ্গে নাগরিকত্বের সম্পর্ক নেই- ডিজি

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের ‘নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট থাকা না থাকা’- বিতর্কের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাসুদ রেজওয়ান। গতকাল পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নাগরিকত্বের সঙ্গে পাসপোর্টের কোনো সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশে সবার কি পাসপোর্ট আছে? না থাকলে তারা কি নাগরিকত্ব হারিয়েছেন? তা তো না। নাগরিকত্ব একটা আলাদা বিষয়। তিনি যদি নিজে থেকে বলেন যে, আমি নাগরিকত্ব সারেন্ডার করবো, সেটা আলাদা কথা। তবে কেউ আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত হলে বা বিদেশে অবস্থান করে সাজা এড়াতে চাইলে পাসপোর্ট পাবে না।
তিনি আরো বলেন, ২০০৮ সালে বাংলাদেশ ত্যাগ করেছেন তারেক রহমান। তখন তার পাসপোর্টের মেয়াদ ছিল ২০১০ সাল পর্যন্ত। লন্ডনে যাওয়ার পর ২০১৪ সালে পাসপোর্ট জমা করেছেন। কেন তিনি এই পাসপোর্ট জমা করেছেন তার কারণ আমার জানা নেই। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নবায়নের আবেদনও আসেনি। এখন তিনি পাসপোর্টবিহীন লন্ডনে অবস্থান করছেন। সাধারণত মেয়াদ শেষ হলে কেউ লন্ডন থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারেন। তবে দণ্ডপ্রাপ্ত কেউ পাসপোর্ট পাবেন না। তা পেতে হলে তাদের দেশে আসতে হবে। দেশে এসে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে। তারপর পাসপোর্ট সংগ্র্রহের জন্য আবেদন করতে হবে। আবেদন করলে পাসপোর্ট অধিদপ্তর নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
লন্ডনে তারেক রহমানের পাসপোর্ট পাওয়া নিয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, পাসপোর্ট আইন অনুযায়ী যদি কেউ ফৌজদারি মামলায় দণ্ড বা হাজিরা এড়াতে চেষ্টা করেন তাহলে পাসপোর্ট পাবেন না। দণ্ডিত ও পলাতক আসামি হওয়ায় আপাতত নতুন কোনো পাসপোর্ট তিনি হাইকমিশন থেকেও পাবেন না। তার এ মুহূর্তে পাসপোর্ট নেই। পাসপোর্ট পেতে চাইলে তাকে দেশে আসতে হবে। ট্র্যাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে তার কোনো বাধা নেই।
এই অবস্থায় নতুন পাসপোর্টের আবেদন করলে তারেক কেন তা পাবেন না এমন প্রশ্নের উত্তরে মেজর জেনারেল মাসুদ রেজওয়ান বলেন, ১৯৭৩ সালের পাসপোর্ট আদেশ অনুযায়ী, আদালতে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে ন্যূনতম দুই বছরের সাজা হলে পাঁচবছরের মধ্যে পাসপোর্ট পাওয়া যায় না। সুতরাং উনি যদি লন্ডন থেকে পাসপোর্টের আবেদন করেন, পাবেন না। তবে তারেক রহমান লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে আসতে পারেন।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে মন্তব্য করার পর বিষয়টি সামনে আসে। দেশের রাজনীতিতে সৃষ্টি হয় নতুন বিতর্ক। এর সূত্র ধরে গত ২৩শে এপ্রিল যে পাসপোর্ট নিয়ে তারেক লন্ডন গিয়েছিলেন, তার মেয়াদ ২০১৩ সালে ফুরিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছেলে তার পাসপোর্ট যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে ‘সারেন্ডার’ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে তারেক বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন বলেই তিনি মনে করেন। ওই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরদিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তারেক তার পাসপোর্ট বৃটিশ হোম অফিসে জমা দিয়েছেন রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য। তারেক নাগরিকত্ব ত্যাগ করেননি। অন্যদিকে বর্তমানে পাসপোর্ট সরবরাহে সৃষ্ট সংকট সম্পর্কে ডিজি বলেন, ২০১৫ সালের ২৫শে নভেম্বর থেকে হাতে লেখা পাসপোর্ট বাদ দেয়া হয়। এখন মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ব্যবহার হচ্ছে। আসছে ই-পাসপোর্ট। আগের তুলনায় পাসপোর্টের চাহিদা বেড়েছে। সম্প্রতি সৌদি আরব, দুবাই ও মালয়েশিয়াতে শ্রমবাজার খুলে যাওয়ায় ও হজ্বের কারণে চাহিদা বাড়ছে। এজন্য পাসপোর্টের উপর চাপ বাড়ছে। তার বিপরীতে বর্তমানে পাসপোর্ট ছাপানোর যে মেশিনগুলো আছে তা ২০০৯ সালে ক্রয়কৃত। সেগুলোর ছাপানোর ক্ষমতা কমে গেছে। তবে বুকলেটের সংকট তেমন নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, গতকাল একট্রাক বুকলেট এসেছে। নতুন আরো এক লাখ বুকলেট আসছে। ই-পাসপোর্ট সম্পর্কে তিনি বলেন, আগামী ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে ই-পাসপোর্ট আসছে। জার্মান সরকারের সঙ্গে এমইউ স্বাক্ষর হয়ে গেছে।

দুই প্রার্থীর সঙ্গে মার্কিন কূটনীতিকের বৈঠক

ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সিলর বিল মুয়েলারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের   প্রতিনিধিদল গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রধান বড় দুই দলের মনোনীত মেয়র প্রার্থীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় নির্বাচনী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় টঙ্গী বিএনপির কার্যালয়ে প্রতিনিধি দলটি বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দীন সরকারের সঙ্গে নির্বাচনী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় হাসান উদ্দীন সরকার প্রতিনিধি দলটিকে জানান, নির্বাচন কমিশন (ইসি) যাতে নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি করে। বিএনপি তথা ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচারণায় যাতে বাধা সৃষ্টি করা না হয়। নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মিথ্যা মামলা দিয়ে যাতে হয়রানি করা না হয়।
পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মার্কিন প্রতিনিধি দলটি নগরের ছয়দানা এলাকায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলমের বাসায় তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। মতবিনিময় শেষে প্রতিনিধি দলের প্রধান ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সিলর বিল মোলার সাংবাদিকদের জানান, রাজধানী ঢাকার পাশে গাজীপুর একটি জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা। তাই এখানকার স্থানীয় নির্বাচনও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো বিশেষ প্রার্থী না নির্বাচনের ওপর কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার করতে চায় না। সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক উপায়ে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গাজীপুর রাজধানী ঢাকার একটি পার্শ্ববর্তী এলাকা। সেদিক থেকে এখানকার প্রার্থীরা অত্যন্ত সবল ও গণতান্ত্রিক উপায়ে তাদের নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সার্বিক সহযোগিতা থাকবে। গণতান্ত্রিক উপায়ে গণতন্ত্রের চর্চা হয় এমন পরিবেশ বজায় রেখে অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান জানান মোলার।
সভা শেষে মো. জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের জানান, প্রতিনিধি দলটির সঙ্গে নির্বাচন পদ্ধতি, স্থানীয় নির্বাচন কীভাবে হয় ও নির্বাচন বিষয়ক প্রার্থীদের মতামত নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সিটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে অন্যদের সম্পর্ক কেমন সেই বিষয়েও কথা হয়েছে।
এদিকে, জাতীয় পার্টি নেতাকর্মীরা ছয়দানা এলাকায় মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের বাসায় নির্বাচনী সভা করেছে। জাতীয় পার্টি নেতা আবদুস সাত্তার মিয়া সভাটি সঞ্চালনা করেন। আর হাসান উদ্দীন সরকার জামায়াতে ইসলামী ও জাগপার সঙ্গে আলাদা মতবিনিময় সভা করেন। সভায় ঐক্যবদ্ধ ও জোটগত ভাবে নির্বাচনী প্রচারে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বিকেলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন।

বান্দরবানে বৌদ্ধ ভিক্ষুকে কুপিয়ে হত্যা!

বান্দরবানে বাকিছড়া-মাঝেরপাড়া বৌদ্ধ বিহারের উপ-অধ্যক্ষ ভান্তে মংথুই সাং (প্রকাশ নাইন্দা ভিক্ষু-৭৫)কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বান্দরবানের কুহালং ইউনিয়নের বাকিছড়া-মাঝেরপাড়া বৌদ্ধ বিহারের উপ-অধ্যক্ষ ভান্তে মংথুই সাং প্রকাশ নাইন্দা ভিক্ষু (৭৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের মুখে এবং গলায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার পর থেকে বৌদ্ধ বিহারের শ্রবণ ভান্তে (শিক্ষা নবিশ) ম্রায় থোই (৪৪) পলাতক রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ছোট ভান্তে বিহারের বড় বৌদ্ধ ভিক্ষু’কে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ভান্তের লাশ উদ্ধার করেছে। লাশটি ময়না তদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী-প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। নিহত বৌদ্ধ বিহারের উপ-অধ্যক্ষ ভান্তে মংথুই সাং (প্রকাশ (নাইন্দা ভিক্ষ)বাড়ি বাকিছড়া-মাঝেরপাড়া বলে জানা গেছে। কুহালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সানু প্রু মারমা বলেন, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে বিহারের উপ-অধ্যক্ষ নাইন্দা ভিক্ষু’কে হত্যা করেছে ছোট ভান্তে ম্রায় থোই। আগে সে ক্যায়ামলং বিহারে ছিল, সেখান থেকে এ বিহারে এসেছে তিন বছর হচ্ছে। শ্রবণ ছোট ভান্তেটি মানষিকভাবে অসুস্থ। নিহত উপ-অধ্যক্ষর সঙ্গে তার শ্রবণের কয়েকবার কথা কাটাকাটি হয়েছিল। তারই জের ধরে এ হত্যাকান্ড ঘটে থাকতে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাররা জানায়, পুরনো বৌদ্ধ বিহারটি আগে পাড়ার নীচে ছিল। পাহাড়ের চূড়ায় নতুনভাবে বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করা হয়েছে বছর চারেক হচ্ছে। বিহারে ৩ জন বৌদ্ধ ভিক্ষু, ১জন শ্রবণ ভিক্ষু (শিক্ষা নবিশ) এবং ১৫ জন শিশু শ্রবণ ছাত্র থাকতো। বিহারের উপ-অধ্যক্ষ নাইন্দা ভিক্ষু’ হত্যার পর পালিয়ে যাওয়া শ্রবণ ছোটভান্তে মানষিকভাবে অসুস্থ ছিল।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত (সাকেল)পুলিশ সুপার ইয়াছিন আরাফাত জানান, সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নের বাকিছড়া-মাঝের পাড়া বৌদ্ধ বিহারের উপ-অধ্যক্ষের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার শরীরের গলায় এবং মুখে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শ্রবনভান্তে ম্রায় থোই কুপিয়ে ভিক্ষুকে হত্যা করেছে। ঘটনার পর থেকে শ্রবনটি পলাতক রয়েছে। লাশটি ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকারীকে গ্রেফতারের চেষ্ঠা চলছে।

শিলাবৃষ্টিতে আম চাষিদের ক্ষতি ৩শ’ কোটি টাকা by মো. তারেক রহমান

চার দফা শিলাবৃষ্টিতে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে সুমিষ্ট আমের রাজধানীখ্যাত চাঁপাই নবাবগঞ্জের আম চাষিদের। চৈত্র ও বৈশাখ মাসের শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে আমের। ক্ষতির পরিমাণ তিনশ’ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। এই অবস্থায় এবার চাঁপাই নবাবগঞ্জে আম উৎপাদনে বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী চাঁপাই নবাবগঞ্জে এবার প্রায় ২৯ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। আম গাছের সংখ্যা প্রায় ২২ লাখ। জেলায় প্রায় শতাধিক জাতের আম চাষ হয়। এরমধ্যে সুস্বাদু গোপালভোগ, ক্ষীরসাপাত, ল্যাংড়া, ফজলী, আম্রপলি, আশ্বিনা, ক্ষুদি খিরসা, বৃন্দাবনী, লক্ষণভোগ জাতের আমই বেশি চাষ হচ্ছে। দিন দিন আম চাষে জমির পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে চাঁপাই নবাবগঞ্জে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ২০০৭ সালে জেলার পাঁচ উপজেলায় আম চাষ হতো ২১ হাজার ৮শ’ হেক্টর জমিতে। ২০১৮তে এসে তা দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৫১০ হেক্টরে।  ১০ বছরে আম চাষে জমি বেড়েছে প্রায় ৮ হাজার হেক্টর। চলতি আম মৌসুমের শুরু থেকেই এবার প্রতিকূল আবহাওয়া বিরাজ করছে চাঁপাই নবাবগঞ্জে। তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে নির্ধারিত সময়ে অনেক পরে মুকুল আসে বাগানগুলোতে। শেষ পর্যন্ত বাগানগুলোতে ভালো মুকুল এলেও মহার আক্রমণসহ নানা কারণে অনেক বাগানেই পর্যাপ্ত গুটি আসেনি। ফলে মৌসুমের শুরুতেই একদফা বিপর্যয়ের মুখে পড়েন আম চাষিরা। এরপর চৈত্রমাসে হঠাৎ করে তিন দফা শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে আমের। সবচেয়ে ভয়াবহ শিলাবৃষ্টি হয়েছে চৈত্রমাসের শেষ দিন বিকালে। ওইদিন চাঁপাই নবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার দুই পৌর এলাকাসহ আরো আট ইউনিয়নে ভয়াবহ শিলাবৃষ্টি হয়। আম চাষিরা এই শিলাবৃষ্টিকে স্মরণকালের ভয়াবহ শিলাবৃষ্টি বলে অভিহিত করেছেন।
স্থানীয় কৃষি বিভাগের তথ্য মতে ওই দিনের শিলাবৃষ্টিতে চাঁপাই নবাবগঞ্জ ও শিবগঞ্জ পৌরসভাসহ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা, ঝিলিম ও গোবরাতলা এবং শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট, চককীর্তি, ধাইনগর, নয়ালাভাঙ্গা ও শ্যামপুর ইউনিয়নের দুই হাজার ৮শ’ হেক্টর জমির আমবাগান আক্রান্ত হয়। এরমধ্যে ২০৫ হেক্টর জমির আম পুরোটাই বিনষ্ট হয়ে গেছে। এর আগের দু’দফা শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয় আমের। সর্বশেষ গত বুধবার রাতেও চাঁপাই নবাবগঞ্জ পৌর এলাকাসহ বেশ কিছু এলাকায় মাঝারি ধরনের শিলাবৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েকদিন চাঁপাই নবাবগঞ্জ পৌর এলাকাসহ বালিয়াডাঙ্গা ও গোবরাতলা ইউনিয়নের রামজীবনপুর, নওদাপাড়া, গোরক্ষ নাথপুর, জামবাড়িয়া, চকঝগড়ু, নসিপুর, বালিয়াডাঙ্গা, শ্রীরামপুর, পালসা, গুণির মোড়সহ বিভিন্ন এলাকার আমবাগান ঘুরে দেখা গেছে শিলাবৃষ্টির ধ্বংসযজ্ঞ। প্রতিটি বাগানে বিপুল পরিমাণ আম পড়ে থাকতে দেখা যায়। ভেঙে পড়েছে আম গাছের বিপুল পরিমাণ ডালপাতা। এ ছাড়া এখনো গাছে ঝুলে অনেক আমে রয়েছে শিলার আঘাতের দাগ। ক্ষতি কমাতে বাগানে বাগানে ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে দেখা গেছে আম চাষিদের। চাঁপাই নবাবগঞ্জ পৌর এলাকার আরামবাগের প্রবীণ আম ব্যবসায়ী আলহাজ মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ১৩ই এপ্রিলের শিলাবৃষ্টি ছিল এই এলাকায় স্মরণকালের ভয়াবহ শিলাবৃষ্টি। তিনি বলেন তার ৬০ বছরের ব্যবসায়ী জীবনে এমন শিলাবৃষ্টি তিনি দেখেননি।  আজাইপুরের আম চাষি রাকিব জানান, ১৩ই এপ্রিলের শিলাবৃষ্টিতে তার ১৫ লাখ টাকা আমের মধ্যে ১০ লাখ টাকার আম পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ব্যবসায়ী জীবনে শিলাবৃষ্টিতে এমন ক্ষতি এর আগে আর কখনো হয়নি।
চাঁপাই নবাবগঞ্জ ম্যাংগো প্রডিওসার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল ওয়াহেদ জানান, চার দফার শিলাবৃষ্টি ও মহাতে এরইমধ্যে চাঁপাই নবাবগঞ্জের ৩৫ শতাংশ আম পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ তিনশ’ কোটি টাকার ওপরে। কোনো কোনো বাগান পুরোটাই আম শূন্য হয়ে পড়েছে। ফলে এবার জেলায় আমের উৎপাদন কমে যাবে বলে মনে করেন তিনি। এই অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত আম চাষিদের জন্য প্রণোদনা প্রদানের দাবি জানান তিনি।   চাঁপাই নবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ফল বিজ্ঞানী ড. শরফ উদ্দিন জানান, শিলায় ক্ষতিগ্রস্ত আমবাগান রক্ষায় সতর্ক থাকতে হবে আম চাষিদের। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বাগানগুলোই ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে, আতঙ্কিত হওয়ার খুব এটা কারণ নেই জানিয়ে চাঁপাই নবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হুদা জানান, শিলায় ক্ষতি হলেও আমের উৎপাদনে বিপর্যয় হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন বলেন, এবার জেলায় পৌনে তিন লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হতে পারে।
চাঁপাই নবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হাসান জানান, বিষমুক্ত আম উৎপাদনের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া আম পাকাতে কেউ যেন কেমিকেল ব্যবহার করতে না পারে, সেদিকেও দৃষ্টি রাখবে স্থানীয় প্রশাসন।