Thursday, March 5, 2015
মামুনের বন্ধু রানাকে খুঁজছে গোয়েন্দারা by তোহুর আহমদ
সূত্র জানায়, মামুন ও রানার মধ্যে ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। যৌথ বিনিয়োগে তারা দু’জনে মিলে বিভিন্ন ব্যবসাও করেছেন। অপরদিকে মামুনের মতো রানার সঙ্গেও সমাজের অনেক প্রভাবশালী লোকজনের বিশেষ সখ্য রয়েছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, মামুন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারবেন এই রানা। এছাড়া রানার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়ে অনেকের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ধরনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে রাজধানীর মিরপুর ও বনানী থানায় একাধিক মামলা আছে। সাড়ে ৮ কোটি টাকার চেক জালিয়াতির একটি অভিযোগও রয়েছে। এসব মামলায় তিনি গ্রেফতারও হন। তবে জামিন পেয়ে ৫ মাস আগে জেল থেকে ছাড়াও পান।
সূত্র বলছে, মশিউর রহমান মামুন ও আসাদুর রহমান রানাকে রাজধানীতে কালো গ্লাসের একটি দামি গাড়িতে (সিভিক হোন্ডা কার) ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। গভীর রাতে এই গাড়িতে করে মামুন ও রানা বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বাড়িতে যাতায়াত করতেন। মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে ফোনালাপ তথ্য ফাঁস হওয়ার আগে মামুন কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে রানার খোঁজ চলছে। এজন্য জোর তৎপরতা অব্যাহত আছে।
জানা গেছে, রানা ও মামুনের যুক্তরাজ্য এবং থাইল্যান্ডে বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের সুকুমভিট এলাকার ৪৩ নম্বর রোডে মামুনের মালিকানাধীন বিলাসবহুল বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ও অফিস আছে।
ব্যাংককে কোটি কোটি টাকা মূল্যের একাধিক গাড়িও রয়েছে তাদের। আর যুক্তরাজ্যে মামুনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম স্টাইল অ্যান্ড ফিট (ঠিকানা আইও সেন্টার, ৫৯-৭১ রিভার রোড, বারকিং, এসেস্ক, ইউকে)। মামুন এবং রানা দু’জনে একসঙ্গে প্রায়ই ব্যাংকক ও যুক্তরাজ্যে যাতায়াত করেন। সর্বশেষ ৯ মাস আগে তারা যুক্তরাজ্য ভ্রমণ করেছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মশিউর রহমান মামুন বিতর্কিত ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময়ে একজন প্রভাবশালী কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মামুনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে ওই প্রভাবশালী কর্মকর্তার সঙ্গে রানারও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই কর্মকর্তার প্রভাবে মামুন ও রানা বিভিন্ন সরকারি অফিসে প্রভাব বিস্তার করতেন। ঢাকায় রানা নিজেকে একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার মালিক বলে পরিচয় দেন। তিনি রাজধানীর ধানমণ্ডি ১ নম্বর রোডে সপরিবারে বসবাস করেন।
প্রসঙ্গত, ২৩ ফেব্রুয়ারি নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে স্পর্শকাতর বিষয়ে ফোনালাপ করেন মশিউর রহমান মামুন। ঘটনার পর তাকে আটক করা হয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। যদিও এখন পর্যন্ত আইনশৃংখলা বাহিনীর পক্ষ থেকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কূটনৈতিক তৎপরতায় নতুন মাত্রা
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোর সাথে আলাপ করে জানা গেছে, মুক্তিপণের দাবিতে গত মাসে ইসলামি স্টেটের (আইএস) হাতে দু’জন জাপানি নাগরিকের শিরশ্ছেদ করে হত্যা এবং বিশ্বের যেখানেই জাপানি নাগরিক পাওয়া যাবে সেখানেই হামলা হবে- আইএসের এমন হুমকি অন্যান্য দেশের মতো ঢাকায় অবস্থিত জাপানের দূতাবাসকেও চিন্তিত করে তুলেছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির কাছে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়কে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা এবং তার স্ত্রীকে গুরুতর জখম করার ঘটনা চরমপন্থার উত্থানের একটি নমুনা হিসেবে দেখছে জাপান। রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিবেশে চরমপন্থার দ্রুত বিস্তারে পশ্চিমা দেশগুলোর মতো তারাও আতঙ্কিত। পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প থেকে অস্ত্র-বিস্ফোরক দ্রব্যসহ চরমপন্থীদের আটকের ঘটনা এ আতঙ্ক আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। বিরোধী দলের লাগাতার রাজনৈতিক কর্মসূচি মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হওয়া চরমপন্থীদের বিকাশে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করছে বলে মনে করছে তারা। এ অবস্থায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে প্রধান দলগুলোর মধ্যে বিরোধ নিরসনকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন কূটনীতিকরা। অভিজিৎ হত্যার বিষয়কে গুরুত্বের সাথে নিয়ে তদন্তে সহায়তার জন্য এফবিআইকে সম্পৃক্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র।
বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটে এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া চায় জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। এ ব্যাপারে পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে তারা সহমত পোষণ করে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিতর্কিত নির্বাচনের পরপরই এ ব্যাপারে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে দেশ দুটো। ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত শিরো সাডোশিমা এ সময় দেয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সমঝোতায় পৌঁছতে না পারায় আমরা খুবই অসন্তুষ্ট।
সহিংসতার ভীতি ছাড়া প্রতিনিধি নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষের তীব্র আকাক্সক্ষার প্রতি সজাগ রয়েছে জাপান। রাজনৈতিক দলগুলো বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার নিশ্চিত করতে দলমত নির্বিশেষে জরুরি উদ্যোগ নেবে বলে জাপান আশা করে। একই সময়ে ঢাকায় নিযুক্ত কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি ইউন-ইয়ং ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি বন্ধু দেশ কোরিয়া মনে করে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারবে।
এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টোকিও সফর এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের ঢাকা সফরে দুই সরকারের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়ন হলেও বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার নিশ্চিত করার পূর্বঘোষিত অবস্থান থেকে জাপান সরে আসেনি। সুযোগ পেলেই বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়কে তারা বিষয়টি অবহিত করছে। আর চূড়ান্তভাবে রাজনৈতিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে দেশটি পশ্চিমাদের সাথে কূটনৈতিক তৎপরতায় সক্রিয় হয়েছে।
অন্য দিকে জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটে এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ব্যাপারে কোরিয়া বরাবরই সোচ্চার। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ব্রিফিংয়ে দেশটির রাষ্ট্রদূত বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের রাজনৈতিক অধিকার খর্ব ও তাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নিউইয়র্কেও ঈদের ছুটি
এ ঘোষণার ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের সমালোচনার মুখে পড়বেন আশঙ্কা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমি এই স্বীকৃতি দিয়েছি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুসারে’।
ঘোষণা অনুসারে এবছর সেপ্টেম্বর থেকে এটি কার্যকর হবে। সেই হিসেবে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ঈদুল আজহার দিন নিউইয়র্কের স্কুল ক্যালেন্ডারের পাতায় প্রথমবারের মতো ঈদ হলিডে অন্তর্ভুক্ত হবে। আর ঈদুল ফিতরের ছুটি হবে ২০১৬ সালের গ্রীষ্মকালে।
ঈদ হলিডে ঘোষণার সময় সিটি মেয়র ব্লাসিও আরো বলেন, এটা অত্যন্ত সাধারণ বিষয় যে, আমরা আজ বিকাশমান মুসলিম কমিউনিটিকে স্বীকৃতি দিতে পেরেছি এবং নিউ ইয়র্কসিটিতে তাদের অবদানের মর্যাদা দিতে পেরেছি।
এসময় চ্যান্সেলর ফ্রানকা বলেন, নতুন এই ছুটির ঘোষণা শিক্ষনীয় একটি বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। যাতে করে ক্লাসে শিক্ষার্থীরা অন্য ধর্ম সম্পর্কে জানতে এবং সহনশীল হতে উৎসাহিত হবে।
উল্লেখ্য, নিউইয়র্কে প্রতি আটজন শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন মুসলিম। ব্লাসিওর এ ঘোষণায় মুসলিম কমিউনিটিতে আনন্দ নিয়ে এসেছে। কমিউনিটি এক্টিভিস্ট শাহানা মাসুম জানান, দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম আর প্রচেষ্টার ফসল এটি। যখন ঘোষণা হচ্ছিল- তখন শুধু কেঁদেছি। আর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছি। যা হোক অবশেষে মুসলমানদের ঘরে ঘরে ঈদের আনন্দ ফিরিয়ে দিতে পেরেছি।
নিউইয়র্কের জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের পরিচালক ইমাম শমসের আলী অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেন, নিউইয়র্কের অধিবাসী হিসেবে আজ আমি গর্বিত। এখানকার পাঁচটি ব্যুরোর স্কুল শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুশাসন মানতে গিয়ে এখন আর স্কুল বাদ দিতে হবে না। দুই ঈদের ছুটির অধিকার বিষয়ে বাংলাদেশী আমেরিকান অ্যাডভোকেসি গ্রুপের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার কামাল ভূইয়া বলেন, প্রায় ১২ বছর আগ থেকে মুসলিম কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠন এটি নিয়ে কাজ শুরু করে। সিটি মেয়র ব্লমবার্গের সময় এটি ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করলেও তা হতে দেয়া হয়নি। অবশেষে মেয়র ব্লাসিও নির্বাচনকালে যে কথা দিয়েছিলেন তা রেখেছেন। এজন্য মুসলিম কমিউনিটির পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ।
পরে এ বিলগুলো অ্যাসেম্বলিতে উপস্থাপন করেন অ্যাসেম্বলিম্যান মাইকেল মিলাব। সাথে সাথে আরো তিনজন অ্যাসেম্বলিম্যান বিলগুলো সমর্থন করেন। পরে নিউইয়র্ক সিনেটেও বিলগুলো নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত ঘটান সিনেটর হুজে পেরেল্টা। ওই দিন বাংলাদেশী মুসলিম কমিউনিটির প্রতি সম্মান জানিয়ে সিনেটে কোরআন তেলাওয়াতের সুযোগ করে দেয়া হয়। কোরআন তেলাওয়াত করেন বাংলাদেশী ইমাম মাওলানা ফায়েক উদ্দিন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পার্বত্য চট্টগ্রাম : একটি সাহসী সিদ্ধান্ত by মনিরুজ্জামান মনির
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোর পাতায় লেখা পঙ্কজ ভট্টাচার্য, মেসবাহ কামাল, দীপায়ন খিসা, জান্নাত এ ফেরদৌসী ও রোবায়েত ফেরদৌস লিখিত পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক ‘বর্ণবাদী, সাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যমূলক নির্দেশনা শীর্ষক বিরাট প্রবন্ধটি পড়ে বিস্মিত হয়েছি। যারা নিজেদের দেশপ্রেমিক, বুদ্ধিজীবী নাগরিক সমাজ বলে দাবি করেন, তাদের থেকে এ ধরনের দেশবিরোধী, সাম্প্রদায়িক, বিচ্ছিন্নতাবাদীবান্ধব লেখা কাম্য ছিল না।
বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র, আমরা কারো উপনিবেশ নই। অতএব, বাংলাদেশের এক ও অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ পার্বত্য চট্টগ্রামে যখন তখন কোনো বিদেশী প্রবেশ করবেন এবং রাষ্ট্রদ্রোহী সশস্ত্র সন্ত্রাসী ক্যাডারসহ নেতাদের সাথে দহরম মহরম করবেন, তা আমরা মেনে নিতে পারি না। তা ছাড়া, পাহাড়ে প্রতিদিনই বন্দুকযুদ্ধ হচ্ছে, শান্তিচুক্তির বেশির ভাগ সরকার মেনে নিলেও অস্ত্রধারী ক্যাডারেরা তা মানেনি। ফলে শান্তিচুক্তি শুধু সরকারকেই মানতে বাধ্য করা হচ্ছে। অন্যপক্ষ চুক্তির প্রধান কনসেপ্ট মোতাবেক তাদের বেআইনি অস্ত্রশস্ত্র গোলাবারুদ ইত্যাদি বাস্তবে জমা না দেয়াতেই যত বিপত্তি। ঢাকাভিত্তিক বামপন্থী বুদ্ধিজীবী নাগরিক সমাজ পাহাড়ে বন্দুকযুদ্ধ বন্ধের কথা বলে না। বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার, চাঁদাবাজি, মুক্তিপণ, খুন, সন্ত্রাস বন্ধের কথা বলে না। ‘শান্তিচুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়ন হলেই পাহাড়ের সব সমস্যা মিটে যাবে?
পার্বত্য চট্টগ্রামে শেল অয়েল কোম্পানির ছয় বিদেশী প্রকৌশলীকে বাঘাইছড়িতে খনিজসম্পদ আবিষ্কারের সময় সন্তু লারমা বাহিনী আটক করেছিল। তাদের মুক্তিপণ বাবদ এরশাদ সরকারকে ২২ কেজি স্বর্ণ এবং এক কোটি রুপি দিতে হয়েছিল। বাবু উপেন্দ্রলাল চাকমার মাধ্যমে ওই মুক্তিপণ দিয়ে বিদেশীদের উদ্ধার করা হয়। তা ছাড়া নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান (ইউপিডিএফ নেতা) আকিমডিস চাকমার মাধ্যমেও ১৬ কোটি ডলার মুক্তিপণ দিয়ে ডেনিশ ব্রিটিশ প্রকৌশলীদের মুক্ত করা হয়েছিল। টেলিটকের কর্মী, বন বিভাগের কর্মকর্তা, ইটখোলার ম্যানেজার, ঠিকাদারের ম্যানেজার প্রভৃতি বহু লোকই এখানে মুক্তিপণের অর্থ শোধ করে বিচ্ছিন্নতাবাদী পাহাড়ি ক্যাডার জেএসএস ও ইউপিডিএফ নেতাদের অর্থভাণ্ডার সমৃদ্ধ করছেন। কাজেই পাহাড়ে বাংলাদেশী কিংবা বিদেশী কোনো নাগরিকই নিরাপদ নন। তা হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশের যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তা কি যুক্তিযুক্ত নয়? বিদেশীরা যদি অপহৃত হন, তাদের মুক্তিপণ কে দেবেন?
এ সিদ্ধান্ত খুবই যুক্তিসঙ্গত। সশস্ত্র রাষ্ট্রদ্রোহী সন্ত্রাসীদের গডফাদার কিংবা কোনো সন্দেহজনক নেতার সাথে বৈঠক করতে চাইলে, তা সরকার কি চেয়ে চেয়ে দেখবেন? বিদেশীরা কিংবা কূটনীতিকেরা এ ধরনের কাজে জড়িয়ে পড়লে বাংলাদেশের সার্বভৌম মতা কি থাকবে? এসব মনিটরিং করার অধিকার কি রাষ্ট্রের থাকতে নেই? ইউএনডিপি পাহাড়ে কোটি কোটি মিলিয়ন ডলার অর্থ ব্যয় করেছে। এসব অর্থের হিসাব-নিকাশ সরকার অবশ্যই চাইতে পারে। বাংলাদেশ জাতিসঙ্ঘের একজন সম্মানিত সদস্য। যেসব শান্তিবাহিনী সদস্য সরকারি চাকরি করছেন, রাষ্ট্র তাদের দেশের যেকোনো স্থানে জাতীয় প্রয়োজনে বদলি, নিয়োগ, পোস্টিং দিতে পারে। এটি বাংলাদেশ সরকারের মতারই একটি অংশ। অনেক অযোগ্য উপজাতিকে লাভজনক পদে চাকরি দেয়া হয়েছিল এই শর্তে যে, তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে সমতলে চাকরি করতেও বাধ্য থাকবেন। এ ছাড়া সিএইচটি কমিশন নামক একটি এনজিও সন্ত্রাসী বাঙালিদের বিরুদ্ধে হামলা করতে উৎসাহিত করেন। সম্প্রতি লন্ডনে লর্ড এরিক অ্যাভিবুরি সিএইচটি কমিশন থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করেছেন তাদের সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ডের কারণে। ১৯৯২ সালে সিএইচটি কমিশন ভিত্তিহীন ও রাষ্ট্রবিরোধী রিপোর্ট দিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্ববাসীর কাছে হেয় করেছিল। বর্তমান সরকার ওই এনজিওর নামের সামনে থাকা কমিশন শব্দটি প্রত্যাহার করার জন্য অনুরোধ করেছেন।
উপজাতি নেতারা প্রায়ই বলে থাকেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে নাকি বাংলাদেশ সরকারের কোনো ভূমি অধিকার নেই। তা হলে ৫০৯৩ বর্গমাইল ভূমির মালিক কি সন্তু লারমারা? ব্রিটিশ হিল ট্র্যাক্টস ম্যানুয়েল মোতাবেক পাহাড়ের ৫০৯৩ বর্গমাইল ভূমির মালিক বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালে উপজাতি নেতারা কোথায় ছিলেন, রাজা ত্রিদিব রায় পাকিস্তানের দালালি করতে জাতিসঙ্ঘে গিয়েছিলেন। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য। ব্রিটিশদের তাড়িয়ে ১৯৪৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান এনেছি এবং ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীদের পরাজিত করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ এনেছি। এসব করেছি পার্বত্য চট্টগ্রামসহ ৫৫৫৯৮ বর্গমাইল এলাকায় বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানোর জন্য। যারা আদিবাসী বলে উপজাতিদের প্রমাণ দিতে চান, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও অখণ্ডতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। তারা চান পূর্বতিমুর কিংবা দণি সুদানের মতো পার্বত্য চট্টগ্রাম বিচ্ছিন্ন হোক, কিন্তু ১৬ কোটি মানুষ তা চায় না। বাঙালি জাতি বড় শান্তিপ্রিয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে আমরা বাঙালি ও উপজাতিরা পরস্পর মিলেমিশে বসবাস করছি। কিন্তু কিছু উপজাতীয় নেতা ও তাদের দোসররা সেটি সহ্য করতে পারেন না। আমরা আশা করি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে বাংলাদেশ উপকৃত হবে। এ দেশের ১৬ কোটি মানুষ উপকৃত হবে এবং বাংলাদেশের অখণ্ড-মানচিত্র আরো সুসংহত হবে।
লেখক : কেন্দ্রীয় মহাসচিব, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলন
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পঙ্গুতে কড়াকড়ি by মাহমুদ মানজুর
সোমবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ভিক্টোরিয়া পার্কের পাশে পুলিশের গুলিতে আহত হন নোমান। গুলিবিদ্ধ বাঁ পায়ের যন্ত্রণায় কিছুক্ষণ পর পর কেঁদে উঠছিলেন। তার ওপর বিছানার পাশে লোহার দরজার সঙ্গে হ্যান্ডকাফে বাঁ হাত আটকানো। পরিবারের সদস্যরা নোমানের সংবাদ পেয়েছেন। কিন্তু মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ কেউ এসে পৌঁছাননি। তিনি শেখ বোরহান উদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থী। ১লা ফেব্রুয়ারির জীবনের প্রথম চাকরি নেন ঢাকার একটি জিন্স প্যান্ট তৈরির কারখানায়। তার এক বন্ধু জানিয়েছেন, প্রথম মাসের চাকরির বেতন হাতে পেয়ে সোমবার সকাল দশটার দিকে নোমান সদরঘাট গিয়েছিলেন দু’টি শার্ট কিনতে। তবে শার্ট কেনা হয়নি তার। ভিক্টোরিয়া পার্কের কাছে যেতেই ওই এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আতঙ্কে দৌড় দেন নোমান। এরপর পেছন থেকে মোটরসাইকেলে এসে দুইজন পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায় পার্শ্ববর্তী একটি স্কুলে। পরে তাকে হাঁটুতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নোমানের ওই বন্ধুর দাবি, নোমান কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নয়। তার বিরুদ্ধে কোন মামলাও নেই। তার পরিবারের কেউ রাজনীতি করে না। এদিকে মোহাম্মদ নোমানের বিরুদ্ধে সূত্রাপুর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা ও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানান মামলার বাদী এসআই সাজ্জাদ। তার সঙ্গে মুঠোফোনে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নোমান ঐ দিন ভিক্টোরিয়া পার্কের কাছে বোমা ফাটিয়ে পালানোর সময় কর্তব্যরত পুলিশের গুলিতে আহত হয়। নোমানের বিরুদ্ধে আগের কোন মামলা আছে কিনা এমন প্রশ্নে এসআই সাজ্জাদ বলেন, এখন ঠিক বলতে পারছি না। সবকিছু খতিয়ে দেখছি আমরা।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড- কোন ক্লু মেলেনি
অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের পর বিদেশ থেকে ‘আনসার বাংলা-৭’ নামে একটি সংগঠন দায় স্বীকার করে টুইটারে টুইট করে। সূত্রমতে, হত্যাকাণ্ডের দুই দিন আগে ওই টুইটার একাউন্টটি খোলা হয়। আর বন্ধ করা হয় পরের দিন। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ওই সংগঠনের অস্তিত্ব এর আগে জানা যায়নি। মূল কিলাররা নিজেদের নিরাপদে রাখার জন্য কৌশল হিসেবে এটি করতে পারে বলে মনে করছেন তারা। তবে এ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে ডিবি।
অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডে জঙ্গি ছাড়াও কয়েকটি বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিজিৎকে ফারাবীর হুমকির সুযোগে অন্য কেউ হত্যা করতে পারে- এ বিষয়টাও মাথায় রাখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ফারাবী সম্পর্কে নানা তথ্য পেয়েছে ডিবি। জিজ্ঞাসাবাদে ফারাবী জানিয়েছে, অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় সে অনুতপ্ত নয়। বরং এই হত্যাকাণ্ড সে সমর্থন করে। তার মতে, অভিজিৎ ধর্মবিরোধী লেখালেখি করতেন এবং তা প্রচার করতেন। এ জন্যই তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলো ফারাবী। এমনকি অভিজিতের প্রকাশিত বইগুলো বন্ধের জন্য সক্রিয় ছিলো সে।
ফারাবী জানিয়েছে, অভিজিৎ তার পূর্ব পরিচিত ছিলো না। বিভিন্ন ব্লগে লেখালেখি করতে গিয়েই অভিজিতের লেখা তার দৃষ্টিতে পড়ে। ফারাবীর ভাষ্য, শুধু অভিজিৎ না, বরং অনলাইনে ইসলাম ধর্মের অবমাননাকর কোন লেখা ফারাবীর দৃষ্টিগোচর হলেই সংশ্লিষ্ট লেখককে হুমকি দিতো সে। রাজীব হায়দার হত্যার পর তার জানাজায় যে ইমামতি করবেন তাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিয়েছিলো ফারাবী। এমনকি রাজীব হত্যার দায়ে কাশিমপুর কারাগারে আটক দ্বীপ, রুম্মান, অনিক, নাফিস ইমতিয়াজ, নাঈম শিকদার ইরাদ ও সাদমানের সঙ্গে গত বছরের অক্টোবরে দেখা করতে যায় সে। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে না থাকার কারণে দেখা হয়নি বলে সে ডিবিকে জানিয়েছে। ফেসবুকের মাধ্যমে উগ্রপন্থি অনেকের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তাদের কেউ অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ জন্য ফারাবীকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় জানিয়েছেন, ফারাবীর কাছ থেকে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তাকে এ বিষয়ে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অভিজিৎ হত্যায় ধর্মীয় উগ্রপন্থিরা সংশ্লিষ্ট বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে তারা নতুন কোন চক্র কিনা এ বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এছাড়াও অভিজিতের ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এর আগে গত মঙ্গলবার ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, জঙ্গি ইস্যু ছাড়াও এই হত্যাকাণ্ডে সকল বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জঙ্গি ছাড়াও অভিজিৎকে অন্য কেউ হত্যা করতে পারে কি-না তাও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। দু’তিন দিনের মধ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে অংশ নেবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। ডিবির সঙ্গে বৈঠক করেই এফবিআই তদন্ত শুরু করবে। এ বিষয়ে ডিবি’র উপ-কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, চলতি সপ্তাহেই এফবিআই ঢাকায় আসার কথা। তবে দু’তিন দিনের মধ্যেই তারা ঢাকায় এসে তদন্ত শুরু করবেন।
গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে বইমেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হন ব্লগার অভিজিৎ রায় ও তার স্ত্রী নাফিদা আহমেদ বন্যা। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার কিছুক্ষণ পর মৃত্যু হয় অভিজিৎ রায়ের। মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎকে জঙ্গিবাদীরা দীর্ঘদিন থেকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল বলে তার স্বজনরা জানান। এ ঘটনায় ফেসবুকে হত্যার হুমকিদাতা শফিউর রহমান ফারাবীকে র্যাব গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ডিবি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ডিম হামলাকারীকে খুঁজছে পুলিশ
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হিন্দুস্তান টাইমস ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার পরামর্শ
টাইমস অব ইন্ডিয়া ২রা মার্চে প্রকাশিত এক সম্পাদকীয় নিবন্ধে লিখেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশে অসহিষ্ণুতা যে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে তার সর্বশেষ উদাহরণ হলো অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড। যদিও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবর্মূতি রয়েছে কিন্তু তারা ধর্মীয় উগ্রপন্থিদের কাছে পুনঃপুন পরাজয় স্বীকার করে চলেছে। রায়ের হত্যাকাণ্ড ধর্মীয় মৌলবাদীদের দ্বারা সৃষ্ট হুমকি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, সরকার তাদেরকে প্রায়শ সাহায্য করে থাকে। কারণ মৌলবাদীদের তোয়াজ করে চলতে এবং ভুক্তভোগীদের দোষারোপ করতে সরকারের স্বাভাবিক প্রবণতা রয়েছে। এই বিষয়টি অবশ্য ভারতীয় সমাজেও অজ্ঞাত নয়।
টাইমস অব ইন্ডিয়া আরও উল্লেখ করে যে, গত তিন বছর ধরে বাংলাদেশ উচ্চমাত্রার সহিংসতা এবং বিপুল রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের দ্বারা আলোড়িত হচ্ছে। তার ভঙ্গুর অর্থনীতির জন্য এটা খুবই ক্ষতিকর। হাসিনা সরকারের উচিত হবে এই ধারা উল্টে দেয়া অন্যথায় বাংলাদেশ পাকিস্তানের পথে যেতে পারে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মৃত্যু নিয়ে এ কেমন খেলা by মাসুদ মজুমদার
এই দেশে একত্ববাদীর বসবাস যুগ যুগ ধরে। আবার মূর্তিবাদের অবস্থানও পাশাপাশি। কেউ কারো জন্য কখনো বিড়ম্বনার কারণ হয়নি। ধর্মীয় কারণে বিদ্বেষ, এ দেশের মাটির ধর্ম নয়। মানুষের বিশ্বাসের অংশও নয়। তাই মুক্তমনা নামে যাদের পরিচিত করানো হচ্ছে, তারা একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী। নানা নামে ও ছদ্মবেশে তারা এ জাতির বিশ্বাস ও অর্জনগুলোর শিকড় কাটে। বাম রাজনীতির নামে এরা ভড়ং করে। অথচ এরা বাম-রাম কিছুই না। কুচিন্তার নর্দমায় থাকা এক ধরনের কীট। ব্লগার অভিজিৎ হত্যা অনেকগুলো বার্তা দিয়েছে। এই সরকারের নিরাপত্তা বেষ্টনী নিয়ে প্রশ্ন তুলে লাভ নেই। অনেক বেশি নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা অবস্থায়ও মানুষ খুন হয়। তাই খুনের দায় সরকারের ওপর না চাপালেও ব্যর্থতার দায় এবং ব্লেমগেম খেলার অভিযোগ থেকে মুক্ত নয়। প্রত্যেক ধর্মের ধার্মিক মন বিশ্বাস করে কোথায় কিভাবে কখন কার মৃত্যু হবে, সেটা শুধু ওপরওয়ালা জানেন। এই ওপরওয়ালা সব ধর্মবিশ্বাসীদের সৃষ্টিকর্তা, প্রভু। আল্লাহ, গড ও ঈশ্বর নামে মানুষ জানে। যারা সৃষ্টিকর্তা মানে না, তারাও নিজেকে সৃষ্টিকর্তা মনে করে না। হয় সংশয়বাদী, নয়তো নাস্তিক নামের আড়ালে শক্তি ও প্রকৃতি পূজারী হয়ে ওঠে। অভিজিৎ ধর্ম অস্বীকার করতেন। সেটা তার একান্ত নিজের ব্যাপার। তা নিয়ে আমাদের কারো মাথাব্যথা হওয়ার কথা নয়। তবে মৃত্যুকেও অস্বীকার করতেন কি না জানি না। বিশ্বাস-অবিশ্বাস তার নিজস্ব ব্যাপার। আমরা কষ্ট পাচ্ছি এই ভেবে যে, আমাদের নষ্ট রাজনীতির শিকার হলেন কি না অভিজিৎ, সেটা চিন্তা করে। এখন দেশে নিজের নাক কেটেও পরের যাত্রাভঙ্গের অসংখ্য নজির দেখতে পাচ্ছি। অন্যের জন্য গর্ত খুঁড়ে নিজে সেই গর্তে পড়ে যাওয়ার দৃষ্টান্তগুলো নজরে পড়ে।
আমরা এমন একটা সময় পার করছি, এমন একটা পরিস্থিতি বিরাজমান, যখন কোনো ব্যাপারেই প্রাণখুলে কথা বলা যায় না। সন্দেহ বাতিক ও সংশয়বাদী মন সবাইকে শাসন করে চলেছে। অজানা ভীতি ও নিরাপত্তাহীন অবস্থার শিকার প্রত্যেক নাগরিক। পরিস্থিতি ঘোলাটে ও কুয়াশাচ্ছন্ন। কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে চায় না। সব কিছুর ভেতর সন্দেহ তাড়া করে চলেছে। তার পরও ভেবে দেখতে হচ্ছে, অভিজিৎ হত্যা নিয়ে ব্লেমগেমে কার লাভ, কার ক্ষতি। এটা ভেবে দেখতে হচ্ছে এ কারণে যে- অনেকেই বলছে জঙ্গিবাদের উপস্থিতি প্রমাণ করতে এবং পশ্চিমা বিশ্বের সেনসেশন সৃষ্টি করতেই অভিজিৎকে বলি দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন মহল অতি উৎসাহী হয়ে উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণায় না নামলে আঙুলটা আমাদেরও তুলতে হতো না। তারপরও বলি তদন্ত করে দ্রুত আসল অপরাধী শনাক্ত করুন। মৌলবাদের ভূত মাথা থেকে তাড়ান। চোখ বন্ধ করলেই জঙ্গি দেখার ভীতি আর প্রশ্রয় দেয়া ঠিক হবে না। এক সময় এই মনের বাঘ আমাদের ঘাড় মটকালে কিছুই করার থাকবে না।
---- ২. বাংলাদেশের মানুষকে যত দূর জানি, তারা এমন গুমোট পরিবেশ পরিস্থিতি বেশিক্ষণ সহ্য করতে অভ্যস্ত নয়। ছোটবেলায় শিক্ষা আন্দোলনে চাচাতো ভাইকে পুলিশি আঘাতে আহত হতে দেখেছি। তাকে দেখার জন্য হাসপাতালে গিয়েছি। সেই উনিশ শ’ বাষট্টি সালের কথা। উদ্বেলিত মনে ’৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধ পর্যবেক্ষণ করেছি, যদিও যুদ্ধহীন পরিস্থিতিতে। কারণ, পূর্বাঞ্চলে সে সময় কোনো যুদ্ধ হয়নি। কিন্তু বাঙালি মুসলমানের আবেগ-উচ্ছ্বাস বোঝার মতো বয়স না হলেও অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র হিসেবে এ দেশবাসীর দেশপ্রেমের মাত্রাটি উপভোগ করেছিলাম। তার আগে আইয়ুব-ফাতেমা জিন্নাহর নির্বাচনে বিরোধী দলের সম্মিলিত প্রার্থীকে জেতানোর মিছিলে উৎসাহ নিয়ে যোগ দিতাম। স্বৈরাচার ও একনায়ক আইয়ুববিরোধী মানসটি তখনই জন্ম নিয়েছিল। আইয়ুবের মৌলিক গণতন্ত্রের ভোজবাজির কারণে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনমত ফাতেমা জিন্নাহর পক্ষে আবেগ-উচ্ছ্বাসসহ ঢেলে দিয়েও তাকে জেতাতে পারেনি। কারণ, একনায়ক আইয়ুব রাষ্ট্রযন্ত্রকে কব্জা করে নিয়ে জনগণের অধিকার অস্বীকার করে চলেছিল। সব দেশে সব কালে নষ্ট শাসনকর্তা ও ভণ্ড শাসকেরা জনমতকে ভয় পায় এবং সহ্য করতে চায় না। আইয়ুবের প্রতি কোনো ঘৃণা ছিল না, বরং পঁয়ষট্টি সালে তার যুদ্ধ ঘোষণার ভাষণ শুনে এতটাই উদ্বুদ্ধ হয়েছিলাম, যা কল্পনা করতেও ভালো লাগে। কিন্তু তিনি ফাতেমা জিন্নাহর মতো মহীয়সী নারী, যিনি কিনা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর একমাত্র বোন, পাকিস্তানের দুই অংশের গণমানুষ ও সব বিরোধী দল তাকে আইয়ুবের বিরুদ্ধে প্রার্থী করেছিল। মাদারে মিল্লাত বলে আখ্যায়িত করেছিল। তাকে আইয়ুব খান সহ্য করতে চাননি। অথচ ফাতেমা জিন্নাহ সে সময়ে গণতন্ত্রের মানসকন্যা হয়ে সব বিরোধী দলের আস্থা ও ভরসাকেন্দ্র হয়ে উঠেছিলেন। আইয়ুব তাকে নয়, গণতন্ত্রকে ও জনমতকে পদদলিত করেছিলেন। এটাই ছিল আইয়ুবের বিরুদ্ধে আমার বালকমনে বিরূপ ধারণা জন্ম নেয়ার আসল কারণ।
আইয়ুব উন্নয়নের ডুগডুগি বাজাতেন। অগ্রগতির দশ বছর পালন করেছিলেন। নিজে নিজে ফিল্ড মার্শাল খেতাবও গ্রহণ করেছিলেন। অথচ মানুষের ঘৃণার কারণে স্বৈরতন্ত্রের ধ্বজাধারী এই কলঙ্কিত ও দোর্দণ্ড প্রতাপশালী একনায়কের পরিণতি ভালো হয়নি, মন্দের উপমা হয়ে ঊনসত্তরে তাকে ছিটকে পড়তে হলো। আইয়ুবের নাম এখন দুই দেশের মানুষ শ্রদ্ধাভরে নেয় না। তার দশ বছরের শাসন ঘৃণার উপমা। আইয়ুব গেট এখন আসাদ গেট। আইয়ুব নগর এখন শেরেবাংলা নগর।
এক সময় আইয়ুবের অবস্থান ছিল সিংহ সার্দুলের মতো। শহুরে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া ভাতিজার কাছে চাচা জানতে চাইতেন- ‘এবার আইয়ুব খান কে হলো?’ অর্থাৎ সাধারণ মানুষ আইয়ুব কারো নাম ভাবতে ভুলে গিয়েছিল, ভাবত শাসকের পদবি কিংবা প্রতিশব্দ। আইয়ুব যেসব উন্নয়ন করেছিলেন- সেটা আধুনিক ঢাকার গোড়াপত্তনের জন্য কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। কিন্তু মানুষ মনে রাখার দায়বোধ করেনি।
পৃথিবীর ইতিহাসে ক্ষণস্থায়ী শাসন পরিচালনা করেও অমর হওয়ার অজস্র নজির আছে। আবার দীর্ঘ দিন জোরজুলুমের শাসন করেও কেউ মানুষের মনে স্থান পায়নি। আমরা যারা ওল্ড ও নিউ টেস্টামেন্ট পড়ার চেষ্টা করেছি, কুরআন-বাইবেলের খানিকটা ধারণা রাখি, বৈদিক যুগের ইতিহাস পড়েছি; তারা সুশাসক ও দুঃশাসনের হোতাদের কাহিনী জানি। আমরা সত্য, ত্রেতা, দাপর ও কলি যুগের খবর রাখি। ঘোর কালিও আমাদের তাড়া করছে। তাই দুর্বিনীত শাসকদের পতনও মনে দাগ কাটে। শাসকেরা যখন বাড়াবাড়ি করেন, তখনই ইতিহাসের দিকে তাকাই। পরিণতি ভেবে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় শরীর হিমশীতল হয়ে যায়।
আমরা বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলকেই অপাঙ্ক্তেয় ভাবি না। ভুঁইফোড়ও মনে করি না। কারো সমর্থন বেশি, কারো কম। কারো গণভিত্তি মজবুত, কারো দুর্বল। তাই প্রত্যেক দলের ইতিবাচক-নেতিবাচক ভূমিকাই বিবেচনায় রাখি। আমার নিজের মতকে যেমন লালন করি, তেমনি প্রত্যেকের একটা মত থাকার অধিকার ও এখতিয়ার স্বীকার করি। কারো দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুলি না- কিন্তু শাসকদের ভুলকে ভুুল, বাড়াবাড়িকে বাড়াবাড়ি বলতে চাই। আমরা জাতিকে বিভক্ত করার ঘোরতর বিরোধী। রাজনীতিকে রাজনীতি দিয়ে, আদর্শকে আদর্শ দিয়ে, বক্তব্যকে বক্তব্য দিয়ে মোকাবেলায় বিশ্বাসী। আমরা মুক্তমনা বলে আগ্রাসীও নই, আবার বোবা শয়তানের মতো নির্লিপ্ত থাকারও পক্ষপাতী নই। আমরা বামেরও ডান, ডানেরও বাম। বামও আমরা, ডানও আমরা। আমরাই ধার্মিক। আমরাই রক্ষণশীল, আমরাই প্রগতিশীল।
বর্তমান শাসকেরা আমাদের সব ধরনের বিশ্বাসকে আহত করে চলেছেন। তারা আর পরিণামদর্শী অবস্থানে নেই। তারা ভাগ করো শাসন করো নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন। তার সাথে খাটাচ্ছেন ক্ষমতার জোর। তাই শক্তির কাছে যুক্তি হেরে যাচ্ছে। মিথ্যার বেসাতির ভেতর সত্য হাবুডুবু খাচ্ছে। শাসকেরা ভাবছেন তারা জিতে যাচ্ছেন- কার্যত তারা হেরেই বসে আছেন। তাদের ক্ষমতা আড়ষ্ট। গতি শ্লথ, বক্তব্য আত্মঘাতী, পথচলা বিভ্রান্তির ভেতর। এটাই ভয়াবহ পরিণতিকে হাতছানি দিয়ে ডেকে আনছে। পতনের বেলাভূমিতে দাঁড়িয়েও অতীত দুর্বিনীত শাসকেরা আস্ফালন প্রদর্শন করেছেন। ইতিহাস তাদের কাউকে ক্ষমা করেনি। সময় তাদেরকে সাহায্যও করেনি। রক্ষাও করেনি। বরং নিঃসঙ্গ হয়ে তারা নিজেকে অসহায়ের মতো পরিস্থিতির কাছে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।
তাই কার নির্দেশে কোথায় কার লাশ পড়ছে- এটা জনগণ গুনে গুনে হিসাব নেবে। শাসকেরা দায়মুক্তি চান- ইতিহাস ও জনগণ দায়মুক্তি দেয় না। অভিজিৎ থেকে বিশ্বজিৎ, নারায়ণগঞ্জ থেকে ফেনী, ঢাকার রাজপথ থেকে ডোবা-নালা, খাল, বিল-ঝিলে যেসব লাশ পড়ছে; কোনোটির রক্ত-হাড়গোড় চুপ থাকবে না। নাই শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোও কথা বলে উঠবে। বিচারবহির্ভূত হত্যার মিছিল দীর্ঘতর হতে হতে অসহনীয় হয়ে উঠেছে। হুকুমের গুলি থামছে না। দোহাই আল্লাহর। দোহাই আপনাদের অবিশ্বাসী মনের, দোহাই আপনাদের মানবিকবোধের। সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের মৃত্যু নিয়ে আর কোনো খেলা নয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ওসি নিজেই যেখানে নিরাপত্তাহীন by মহিউদ্দীন জুয়েল
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ বিভাগে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন ওসি মহসিন। নাশকতা ও সহিংসতা প্রতিরোধে তার ভূমিকাকে বড় করে দেখছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। কিন্তু গত ১৫ দিনের বেশি সময় ধরে নামসর্বস্ব একটি ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে ওসি মহসিনের নানা কর্মকাণ্ডের ছবি পোস্ট করছে কে বা কারা। এসব ছবিতে হরতালে তার নানা অ্যাকশানের দৃশ্য ফুটে উঠছে। সর্বশেষ গত ২৪শে ফেব্রুয়ারি তার দুটি ছবি পোস্ট করা নিয়ে শুরু হয় তোলপাড়।
ছবিটি ছিল শহরের শাহ আমানত সেতু এলাকায়। সেখানে হরতাল ও নাশকতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন ওসি মহসিন। তার পাশে ছিলেন নগর পুলিশের উপ-কমিশনার কামরুল আমিন ও সহকারী কমিশনার শাহ আবদুর রউফ। ওই ছবিতে তাকে লালগোল চিহ্নিত করে কুখ্যাত বলা হয়েছে। একই সঙ্গে একজন লিখেছেন জনতা আজ জেগে উঠেছে। আর ছাড় দেয়া হবে না। যত পরিবারের সে চোখের পানি ঝরিয়েছে তা ফিরিয়ে দেয়া হবে অবিলম্বে।
এই ঘটনার পরই গত ৩রা মার্চ রাতে বাকলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন ওসি মহসিন। এতে তিনি উল্লেখ করেছেন, বাঁশের কেল্লা নামের একটি পেইজ থেকে এসব হুমকি দেয়া হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে পোস্ট করা সব ছবি ও লেখা জনৈক শামস নুরুল ইসলাম ও ওমর ফারুক সুজন নামে দুজন ফেসবুক ব্যবহারকারীর সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি জীবনের জন্য হুমকি বলে মনে করছি। একই সঙ্গে সম্মান হানিকর।
জানতে চাইলে ওসি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, আমি হুমকিকে ভয় পাই না। তবে গত কয়েক দিন ধরে আমাকে নিয়ে যেভাবে লেখা হচ্ছে তাতে খানিক বিচলিত। হরতাল, অবরোধে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। সামনেও করবো।
তিনি আরও বলেন, যারা এসব ছবি পোস্ট করছে তারা খুবই কৌশলী। পুলিশ বিভাগের ওপর এদের নজর রয়েছে। বিশেষ করে আমরা যেখানেই যাচ্ছি সেখান থেকেই ছবি পোস্ট করে নানা ধরনের অশ্লীল মন্তব্য লিখছে। বিষয়টি ওপরের মহলকে জানানো হয়েছে।
নগর পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বাকলিয়া থানার ওসি মহসিনের জিডি দায়েরের ঘটনাটি পুলিশ বিভাগে জোর আলোচনা চলছে। ফেইসবুকে মন্তব্যকারীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার বনজ কুমার মজুমদার বলেন, মহসিন সাহেবের ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান শুরু করেছি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাকস্বাধীনতার অর্থ ধর্মানুভূতিতে আঘাত করা নয় by ড. মুনীর উদ্দিন আহমদ
শিক্ষা-সাহিত্য ও অন্যান্য বিষয়ে অনেক অসাধারণ প্রাপ্তি ও অর্জনের পরও জার্মান বুদ্ধিজীবীরা তার প্রতি ক্ষিপ্ত হলেন কেন? তিনি বলেছিলেন, সালমান রুশদির বই দ্য স্যাটানিক ভার্সেস লাখ লাখ মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। জার্মান বুদ্ধিজীবীরা তাদের লিখিত চিঠিতে উল্লেখ করেন, ড. শিম্মেল সালমান রুশদির বইয়ের সমালোচনা করে প্রতিক্রিয়াশীল ও ধর্মান্ধ মুসলমানদের নৈতিক সমর্থন দিয়েছেন। সালমান রুশদিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার ঘোষণাকে ড. শিম্মেল কখনও সমর্থন না করা সত্ত্বেও তার প্রতি আক্রোশ ও ক্ষোভ বিন্দুমাত্র কমেনি। ভালো খবর হল, জার্মান প্রেসিডেন্ট এত কিছুর পরও ড. শিম্মেলকে পুরস্কার দিতে অসম্মতি প্রকাশ করেননি, বরং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তার সম্মানে বক্তৃতা প্রদানেরও ঘোষণা দেন। তিনি আন্দোলনকারীদের সভ্যতার মধ্যে সংঘাত সৃষ্টির তত্ত্বে বিশ্বাসী বলে আখ্যায়িত করেন। জার্মান প্রেসিডেন্ট তার বক্তব্যে মুসলিম সভ্যতাকে বোঝা এবং তাদের সঙ্গে সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরে ড. শিম্মেলকে প্রশ্ন করা হয়, এটা কি সত্যি যে আপনি নিজেকে ৫০ ভাগ মুসলমান হিসেবে দাবি করেন? তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, এটা বললে অবশ্যই কম বলা হবে। আমি মুসলিম সভ্যতাকে ভালোবাসি এবং সব সময় তার পক্ষে কথা বলি, বিশেষ করে বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে।
প্রিয় পাঠক, বিবেচনা করুন মুসলমানদের অনুভূতির পক্ষে কথা বলা বা তার পক্ষাবলম্বনে এগিয়ে আসা কি ড. শিম্মেলের গুরুতর অপরাধ ছিল? কেউ কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে ইচ্ছাকৃত আঘাত হানলে ক্ষোভ প্রকাশ ও প্রতিবাদ করা কি অযৌক্তিক না অস্বাভাবিক? মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ এবং তাদের প্রিয় নবীর সহধর্মিণীদের কটাক্ষ করার কারণে মুসলমানরা শান্তিপূর্ণ ক্ষোভ প্রকাশ করলে তা বর্তমান বিশ্বে এত অগ্রহণযোগ্য বলে গণ্য হবে কেন? উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা পাশ্চাত্যের দেশগুলোর অনেকের মধ্যেই ইদানীং এক ধরনের অপতৎপরতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটা বুঝতে আমাদের কষ্ট হয়, পশ্চিমা দেশগুলো কেন বারবার বলে থাকে, মুসলমানরা সালমান রুশদির বিদ্বেষমূলক বই প্রকাশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুল করেছে? মতপ্রকাশের স্বাধীনতা স্বীকার করলে ড. শিম্মেলের মতবাদকে তারা সম্মান দেখালেন না কেন? ড. শিম্মেলের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে এমন ন্যক্কারজনকভাবে পদদলিত করা হল কেন? এটা কি পশ্চিমাদের দ্বৈতনীতি নয়? কিছুদিন আগে ফিলিপাইন যাওয়ার প্রাক্কালে বর্তমান পোপ ফ্রান্সিস বলেছিলেন, গণমাধ্যম ও বাকস্বাধীনতার অর্থ অন্য ধর্মের অনুভূতিতে আঘাত করা নয়। তিনি আরও বলেন, ঈশ্বরের নামে মানুষ হত্যা যেমন ভুল, উসকানিমূলক আচরণের মাধ্যমে অন্য ধর্মকে খাটো করাও তেমনি ভুল।
প্রকৃত অবস্থা বিচার সাপেক্ষে বলা যায়, অধিকাংশ পশ্চিমা নাগরিক তাদের আচরণের ন্যায্যতা প্রতিপাদনে তৎপর এই বলে যে, একমাত্র তারাই বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী ও প্রবক্তা। কিন্তু আমাদের জিজ্ঞাসা, আপনারা কি আক্রমণাত্মক ও কষ্টদায়ক বক্তব্য বা ভাষণের প্রতিও নিরংকুুশ বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী? তখন তারা গর্ব করে বুক ফুলিয়ে বলবেন, অবশ্যই আমরা শর্তবিহীন বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী? কেউ খুশি হোক বা না হোক, যে কোনো ব্যক্তির যে কোনো মতপ্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। যদি তাদের আবার প্রশ্ন করা হয়, বর্তমান পশ্চিমা বিশ্বে যেভাবে দাবি করা হয় সেভাবে কি শর্তবিহীনভাবে এ বাকস্বাধীনতা প্র্যাকটিস বা প্রয়োগ করা যায়? নির্দ্বিধায় বলা হবে, অবশ্যই তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হয়। সত্যি কথা হল, শুধু পাশ্চাত্যে নয়, বিশ্বের কোথাও নিরংকুশ কোনো বাকস্বাধীনতা নেই এবং তার প্রয়োগও হয় না। সংশয়বাদীরা এ বক্তব্যের স্বপক্ষে প্রমাণ চাইবেন। তাই তাদের সংশয় দূর করার জন্য কিছু উদাহরণ উপস্থাপন করা প্রয়োজন মনে করছি। যুক্তরাজ্যে ব্লাসফেমির (অশালীন ভাষায় সৃষ্টিকর্তা, ধর্ম ও ধর্মতত্ত্বের প্রতি কটাক্ষ করা) বিরুদ্ধে এখনও আইন প্রচলিত আছে। সালমান রুশদির স্যাটানিক ভার্সেসের ক্ষেত্রেও মুসলমানরা যুক্তরাজ্যে এ আইনের প্রয়োগ চেয়েছিল। কিন্তু মুসলমানরা আবিষ্কার করল, শুধু খ্রিস্টধর্মের জন্য ব্লাসফেমি আইন প্রযোজ্য, অন্য ধর্মের জন্য নয়। সুতরাং খ্রিস্টধর্মকে বাদ দিয়ে যে যত ইচ্ছা অন্য ধর্মের অবমাননা, আক্রমণ ও কটাক্ষ করার স্বাধীনতা ভোগ করবে। এ আইনের সুবাদে স্যাটানিক ভার্সেস নিষিদ্ধ হওয়া থেকে রক্ষা পেয়ে যায়। কিন্তু সালমান রুশদি ও তার স্যাটানিক ভার্সেস বইকে ব্যঙ্গ করে তৈরি করা পাকিস্তানি একটি চলচ্চিত্র যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ করা হয়।
মার্কিন প্রচার মাধ্যমগুলোয় স্বেচ্ছাপ্রণোদিত সেন্সরশিপের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, মুসলমানরা কেন পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে দিন দিন ক্ষেপে যাচ্ছে এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি কিছু চলচ্চিত্রের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়। একটি শক্তিশালী লবি-গ্রুপ এসব চলচ্চিত্রের সম্প্রচারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনসমক্ষে তাদের পরিচিতি উদঘাটনের ভয় দেখিয়েছিল। বিশ্বখ্যাত সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক রুটস অব মুসলিম অ্যাঙ্গার শীর্ষক একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। এ চলচ্চিত্রের বিরুদ্ধে প্রচারণার মূল কারণ ছিল ইসরাইল। কারণ এতে দেখানো হয়েছিল, পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের অসন্তোষের পেছনে কাজ করছে মূলত ইসরাইলের অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতনের প্রতি পশ্চিমাদের শর্তবিহীন সমর্থন। রবার্ট ফিস্ক বস্তুনিষ্ঠ বিদেশী সংবাদ পরিবেশক হিসেবে ব্রিটিশ প্রেস অ্যাওয়ার্ড পুরস্কারে ভূষিত হন। নোয়াম চমস্কি যুক্তরাষ্ট্রের একজন নামজাদা বুদ্ধিজীবী। নিউইয়র্ক টাইমস তাকে জীবন্ত কিংবদন্তি বুদ্ধিজীবী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। কিন্তু এমন একজন সুপণ্ডিতকে মার্কিন প্রচার মাধ্যম কখনও টকশোতে আমন্ত্রণ জানায় না কেন? কারণ তার অভিমত বা ব্যক্ত মতামত সব সময়ই মার্কিন অভিজাত সম্প্রদায়কে বিপর্যস্ত ও অস্থির করে তোলে। তাহলে নোয়াম চমস্কির মতো একজন নামজাদা বুদ্ধিজীবীর বাকস্বাধীনতা থাকল কোথায়?
১৯৯১ সালে জার্মান ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা গুয়েন্টার ডেকার্ট আয়োজিত এক সেমিনারে একজন আমেরিকান বিশেষজ্ঞ বক্তা দাবি করেন, কনসেনট্রেশন ক্যাম্প আউসভিটজে গ্যাস প্রয়োগে ইহুদিদের হত্যার ঘটনা কখনোই সংঘটিত হয়নি। বর্ণবাদী ঘৃণা উসকে দেয় এমন একটি সেমিনার আয়োজন করার জন্য ডেকার্টকে অভিযুক্ত করার মাধ্যমে কঠোর শাস্তি দেয়া হয়। ১৯৯৪ সালের মার্চে ডেকার্টের আবার বিচার হয়। সেই বিচারে ডেকার্টকে আগের শাস্তি কমিয়ে এক বছরের জেল দেয়া হয়। অনেক বিচারক শাস্তি কমানোর জন্য সংশ্লিষ্ট বিচারকের কঠোর সমালোচনা করেন। ফেডারেল কোর্ট অব জাস্টিস হালকা শাস্তি বাতিল করে আবার ডেকার্টের বিচার শুরু করার আদেশ দেন। এত ঘন ঘন বিচারকাজের জন্য মানুষের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরপর আইনের ব্যাখ্যা এলো। ১৯৯৪ সালে সাংবিধানিক আদালত ঘোষণা দিলেন, হত্যাযজ্ঞ বা ধ্বংসযজ্ঞ অস্বীকার করার বাকস্বাধীনতা নিরাপদ নয়। পরবর্তী সময়ে জার্মান সংসদ হলোকস্ট বা হত্যাযজ্ঞকে অস্বীকার করার অপরাধে অপরাধীকে পাঁচ বছরের জেল দেয়ার বিধান পাস করে।
পশ্চিমা বিশ্বে চিন্তা বা বাকস্বাধীনতার অস্তিত্ব নেই এ কথা বলা আদৌ সঙ্গত হবে না। প্রকৃত অর্থে বিশ্বের যে কোনো দেশের বা যে কোনো জাতির চেয়ে পশ্চিমা দেশের নাগরিকরা বেশি বাকস্বাধীনতা ভোগ করে। সাংবিধানিকভাবেই ওসব দেশে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ প্রদর্শন বা আন্দোলন করার অধিকার সমুন্নত রাখা হয়েছে- যদিও এসব প্রতিবাদ-বিক্ষোভ প্রদর্শনকে আজকাল খুব একটা ধর্তব্যের মধ্যে নেয়া হয় না। এক সময় ক্ষমতাধর রাজনীতিক ও নেতার অপর্কীতি বা দুর্নীতির খতিয়ান জনসমক্ষে উদ্ঘাটন করার ক্ষেত্রে পশ্চিমা দেশের প্রচার মাধ্যমগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বা করেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সনের ওয়াটার গেট কেলেংকারির ঘটনা ফাঁস করে দেয়ার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন পোস্টের ভূমিকার কথা কে না জানে। তবে সেই স্বাধীনতা শর্তবিহীন বা অসীম নয়। অনেকে প্রশ্ন করে থাকেন, বাকস্বাধীনতা থাকা উচিত কি-না? অবশ্যই থাকা আবশ্যক। তবে নিরংকুশ বাকস্বাধীনতা অনেক ক্ষেত্রেই গ্রহণযোগ্য নয়। আক্রমণাত্মক বা বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য বহু ক্ষেত্রেই ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সমাজের জন্য ধ্বংসাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এ ধরনের বক্তব্য বা আচরণ সমাজে ঘৃণা, শত্র“তা ও বিভক্তির সৃষ্টি করে।
আরও একটি বিষয় লক্ষণীয়। আজকাল মুসলমানদের এক কথায় সন্ত্রাসী বা সন্ত্রাসের মদদদাতা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। তবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, মুসলমানদেরও উপলব্ধি করার সময় এসেছে। পশ্চিমাদের কাছ থেকে মর্যাদাপূর্ণ ও যৌক্তিক আচরণ প্রত্যাশার আগে নিজেদের চিন্তাচেতনা, শিক্ষা-দীক্ষা, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে তাদের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে হবে। মুসলমানদের অবশ্যই বুঝতে হবে, বাকস্বাধীনতার অপব্যবহারের পাশাপাশি আরও একটি ধারণা পশ্চিমা ঐতিহ্যে প্রোথিত আছে। আর তা হল ডাবল স্ট্যান্ডার্ড বা দ্বৈতনীতি। বর্তমান বিশ্বে মুসলমানরা পশ্চিমাদের এ বাকস্বাধীনতার অপপ্রয়োগ ও নগ্ন দ্বৈতনীতির অসহায় শিকার।
ড. মুনীরউদ্দিন আহমদ : অধ্যাপক, ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
drmuniruddin@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কাশ্মিরিদের হিরো by হামিদ মীর
কয়েক দিন আগে কাশ্মিরের স্বাধীনতা আন্দোলনে প্রাচ্যের কবি আল্লামা ইকবালের ভূমিকার ওপর ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে জানা গেল, ফয়েজ আহমদ ফয়েজেরও কাশ্মিরের স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে বেশ গভীর সম্পর্ক ছিল। ইকবাল ও ফয়েজের ওপর অনেক কিছুই লেখা হয়েছে, কিন্তু কাশ্মিরের স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে এ দু’জন মহান কবির সংশ্লিষ্টতার ওপর গবেষণা খুব কমই হয়েছে। একটা সময় ছিল যখন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্র কুমার গুজরাল কেন্দ্রীয় ইকবাল কমিটির প্রেসিডেন্ট ও আলী সরদার জাফরি সেক্রেটারি ছিলেন। ওই কমিটি জামেয়া মিল্লিয়া দিল্লির সাথে যৌথভাবে একটি সেমিনারের আয়োজন করেছিল, যেখানে ইকবাল ও কাশ্মিরের কিছু প্রসঙ্গ আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু এর ওপর আর কোনো গবেষণা হয়নি। গোপি চান্দ নারাঙ্গ পরবর্তীকালে সেমিনারে পঠিত প্রবন্ধগুলো সঙ্কলন করে ‘ইকবাল কা ফান’ নামে গ্রন্থ প্রকাশ করেন। ওই গ্রন্থের ভূমিকা লিখেছেন শেখ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ। ভূমিকায় আছে, ১৯২৪ সালে শেখ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ লাহোর ইসলামিয়া কলেজের ছাত্র ছিলেন। ওই সময় কাশ্মিরের স্বাধীনতা সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ধারণা তার ছিল না। ওই সময় শেখ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ লাহোরে আল্লামা ইকবালের সাথে পরিচিত হন। ইকবাল যখন জানতে পারলেন শেখ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ শ্রীনগরের মানুষ, তখন তিনি তার মধ্যে স্বাধীনতার আকাক্সাকে জাগ্রত করার চেষ্টা করেন। শেখ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ লিখেছেন, ১৯৩১ সালে তিনি কাশ্মিরের স্বাধীনতার জন্য রীতিমতো রাজনৈতিক আন্দোলন করলে সমাবেশগুলোতে ইকবালের কবিতা আওড়াতেন। ওই সময় ইকবাল শেখ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহর নামে কিছু পত্রও লিখেছেন।
ফতেহ মুহাম্মদ মালিকের গ্রন্থ ‘তাহরিকে আজাদিয়ে কাশ্মির : উর্দু আদাব কে আয়েনে মে’ (কাশ্মিরের স্বাধীনতা আন্দোলন : উর্দু সাহিত্যের দর্পণে) বলছে, আল্লামা ইকবাল কাশ্মিরিদের স্বাধিকারের জন্য কার্যত লড়াইয়ের সূচনা করেন ১৯০৯ সালে। ১৪ আগস্ট ১৯৩১ সালে লাহোরে প্রথমবারের মতো কাশ্মির দিবস পালন করা হয় এবং ইকবাল সেখানে বক্তব্য রেখে তার কয়েকটি বিখ্যাত কবিতাও পাঠ করেন। তৎকালীন জম্মু-কাশ্মির রাজ্যের ডোগরা শাসক আল্লামা ইকবালের তৎপরতার ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করে। কাশ্মির পণ্ডিত গাশ লাল কোল অপপ্রচার চালান যে, শ্রীনগরে ছড়িয়ে পড়া বিদ্রোহের মাস্টারমাইন্ড আল্লামা ইকবাল। পুনের মারাঠা পত্রিকায় গাশ লাল কোল তার এক প্রবন্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেন, আল্লামা ইকবাল জম্মু-কাশ্মির রাজ্যের মুসলমানদের বোমা বানানোর উৎসাহ দিচ্ছেন। মাওলানা আব্দুল মজিদ সালেক তার পত্রিকা ‘ইনকিলাবে’ এ অপপ্রচার ও মিথ্যা অভিযোগ নাকচ করে দেন। শেখ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল্লামা ইকবালকে গভীর শ্রদ্ধা করতেন। তার পরও তিনি কংগ্রেসের কাছের মানুষ হয়ে যান। তিনি মুসলিম কনফারেন্স ছেড়ে দিয়ে ন্যাশনাল কনফারেন্স গঠন করেন। শেখ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ তার বক্তৃতায় রীতিমতো ইকবালের এই কবিতা বেশ ব্যবহার করেন-
জিস খাক কে জমির মে হো আতশে চানার
মুমকিন নেহি কে সারদ হো ওহ খাকে আরজুমান্দ।
যে মাটির গভীরে রয়েছে চানার গাছের আগুন
সম্ভব নয় সে মহান মাটি শীতল হবে।
শেখ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহর উর্দু সাহিত্যপ্রীতি তাকে ফয়েজ আহমদ ফয়েজের সান্নিধ্যে নিয়ে আসে। ১৯৪১ সালে শেখ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আলিসের সাথে ফয়েজের বিয়ে দেন। ১৯৪৪ সালে শেখ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ জম্মু-কাশ্মির রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের জন্য কিছু প্রস্তাবনা তৈরি করেন। ওই প্রস্তাবনা তৈরিতে ফয়েজ আহমদ ফয়েজও অংশ নেন। ওই প্রস্তাবনার শিরোনাম দেয়া হয়েছিল- ‘নয়া কাশ্মির’। এরপর ১৯৪৭ সাল চলে এলো। শেখ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ মহাত্মা গান্ধী ও পণ্ডিত জওয়াহের লাল নেহরুর সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি করে ফেলেন। ওই সময় ফয়েজ আহমদ মিয়া ইফতেখারুদ্দিনকে সাথে নিয়ে শেখ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহর সাথে দেখা করেন এবং তাকে কংগ্রেস থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেন। শেখ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহর সহযোগিতায় ভারত কাশ্মির দখল করলে ফয়েজ আহমদ ফয়েজ ওই দখলদারির পূর্ণ বিরোধিতা করেন। ওই সময় ফয়েজ আহমদ ‘পাকিস্তান টাইমসের’ সম্পাদক ছিলেন। ৩ জানুয়ারি ১৯৪৮ ‘পাকিস্তান টাইমসে’ বিভিন্ন কবি, সাহিত্যিক ও নামীদামি ব্যক্তির যৌথ বিবৃতি প্রকাশ হয়েছিল, যাতে কাশ্মিরের ওপর ভারতের দখলদারিত্বের তীব্র নিন্দা করা হয়। ওই বিবৃতি ফয়েজ আহমদ ও প্রফেসর এ এ বুখারি উভয়ে মিলে তৈরি করেছিলেন। ওই বিবৃতিতে তারা দু’জন ছাড়াও শেখ আব্দুল কাদির, হাফিজ জলান্ধরি, ড. এম ডি তাসির, আব্দুর রহমান চুগতাই ও আরো অনেকেই স্বাক্ষর করেন। ১ জানুয়ারি ১৯৪৯ সালে ভারত নিজেই কাশ্মির সমস্যা নিয়ে জাতিসঙ্ঘে হাজির হয় এবং একতরফা অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দেয়। পাকিস্তান ওই অস্ত্রবিরতি মেনে নেয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন অফিসার মেজর জেনারেল আকবর খান ওই অস্ত্রবিরতির পে ছিলেন না। তার মতে, কাশ্মির স্বাধীনতা নস্যাৎ করার জন্য ভারত অস্ত্রবিরতিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। ফয়েজ আহমদ ফয়েজও মেজর জেনারেল আকবর খানের সমমনা ছিলেন। সেনাবাহিনীর যে অফিসার অস্ত্রবিরতির বিরোধী ছিলেন, তাকে ১৯৫১ সালে জেনারেল আইয়ুব খানের নির্দেশে রাওয়ালপিন্ডি ষড়যন্ত্র মামলায় জড়িয়ে ফেলা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ফয়েজ আহমদ ফয়েজও ছিলেন। কাশ্মির স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতি তার ভালোবাসাকে গাদ্দারির অভিযোগে রূপান্তর করা হলো। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন-
শত্রুর ষড়যন্ত্রের কিসসা বলব নাকি বলব না?
প্রিয় বন্ধুর অভিযোগ করব নাকি করব না?
পাকিস্তানের সেনাশাসক ফয়েজ আহমদ ফয়েজের মতো বেশ কয়েকজন দেশপ্রেমিককে গাদ্দার আখ্যায়িত করে ফেলে। আর কিছু গাদ্দারকে দেশপ্রেমিক বানিয়ে দেয়। ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে সেনা অভিযান শুরু হলে ফয়েজ ও জালিবের মতো ব্যক্তিরা ওই সেনা অভিযানের বিরোধিতা করেন। সেনাশাসকদের তোষামোদকারীরা ফয়েজ ও জালিবকে আবার গাদ্দার বলে। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ সরকার ফয়েজ, জালিব এবং আরো কিছু পাকিস্তানিকে ১৯৭১ সালের সেনা অভিযানের বিরোধিতার ওপর বিশেষ পুরস্কার দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং প্রদান করে। যাতে বাংলাদেশের নিউ জেনারেশনকে বলা যায় যে, পুরো পাকিস্তান ওই অভিযানের জন্য দায়ী ছিল না। ফয়েজ ও জালিবকে গাদ্দার বলত যারা, আজ পাকিস্তানে তাদের কেউ কোনো খোঁজখবরই নেয় না। অথচ অধিকৃত জম্মু-কাশ্মিরে স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের বক্তৃতামালা আল্লামা ইকবালের কবিতা দিয়ে শুরু হয়ে ফয়েজ, জালিব, ফারাজ ও আহমদ নাদিম কাসেমির কবিতায় গিয়ে শেষ হয়। অধিকৃত জম্মু-কাশ্মিরে ২৬ জানুয়ারির কালো দিবস বা ৫ ফেব্রুয়ারির কাশ্মির দিবস পালনকালে সভা-সমাবেশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নয়, বরং ইকবাল ও ফয়েজের কবিতা পাঠ করা হয়। জালিব ও ফারাজের নাম উল্লেখ করা হয়। পাকিস্তানে গাদ্দার আখ্যায়িত ব্যক্তিরাই যে কাশ্মিরিদের হিরো।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দলীয় পরিচয়ের বলি হবেন মেয়ররা? by আবদুল লতিফ মন্ডল
স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯-এ মেয়রকে সাময়িক বরখাস্তকরণ ও অপসারণের শর্তাবলী বিধৃত হয়েছে। সরকার কোনো সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করতে পারবেন যদি তাকে অপসারণের জন্য আইনটির ১৩ ধারার অধীনে কার্যক্রম শুরু করা হয়ে থাকে অথবা তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় অভিযোগপত্র আদালত কর্তৃক গৃহীত হয়ে থাকে। সরকার কোনো মেয়রকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের আদেশ প্রদান করলে ওই আদেশপ্রাপ্তির তিন দিনের মধ্যে সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত মেয়র তার দায়িত্ব জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে মেয়র প্যানেলের সদস্যের কাছে হস্তান্তর করবেন এবং ওই মেয়রের বিরুদ্ধে আনীত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত অথবা তিনি অপসারিত হলে তার পরিবর্তে নতুন মেয়র নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত মেয়র পদের দায়িত্ব পালন করবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র (ধারা ১২)।
যেসব কারণে সরকার কোনো সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে অপসারণ করতে পারবে, সেসবের মধ্যে রয়েছে- (ক) যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যতিরেকে সিটি কর্পোরেশনের পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিতি; (খ) নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে আদালত থেকে দণ্ডপ্রাপ্তি; (গ) দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি অথবা শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যরে কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা; (ঘ) অসদাচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত; (ঙ) আইনানুযায়ী নির্বাচনের অযোগ্য ছিলেন মর্মে নির্বাচন অনুষ্ঠানের তিন মাসের মধ্যে প্রমাণিত; (চ) বার্ষিক ১২টি মাসিক সভার কমপক্ষে ৯টি সভা গ্রহণযোগ্য কারণ ব্যতীত অনুষ্ঠান করতে বা ক্ষেত্র মতে, ওই সব সভায় উপস্থিত থাকতে ব্যর্থতা (ধারা ১৩)।
‘অসদাচরণ’-এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘অসদাচরণ’ বলতে ক্ষমতার অপব্যবহার, আইনের বিধি-নিষেধ পরিপন্থী কার্যাদি, দুর্নীতি, অসদুপায়ে ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ, পক্ষপাতিত্ব, স্বজনপ্রীতি, ইচ্ছাকৃত অপশাসন, নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দাখিল না করা বা অসত্য তথ্য প্রদান করাকে বোঝাবে।
শুধু সিটি কর্পোরেশনের ক্ষেত্রে নয়, স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের অপসারণ ক্ষমতা সরকার নিজের হাতে রেখেছে। যেমন- জেলা পরিষদ আইনের ১০ ধারায় চেয়ারম্যান ও নির্বাচিত সদস্যদের অপসারণের ক্ষমতা, উপজেলা পরিষদ আইনের ১৩ ধারায় চেয়ারম্যান ও নির্বাচিত মহিলা সদস্যদের অপসারণের ক্ষমতা এবং ইউনিয়ন পরিষদ আইনের ১২ ধারায় চেয়ারম্যান ও সদস্যদের অপসারণের ক্ষমতা সরকারের হাতে রাখা হয়েছে।
দেশে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ইতিহাস সুখকর নয়। স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রার শুরুতেই স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা হোঁচট খায়। ১৯৭২ সালে জারিকৃত রাষ্ট্রপতির ৭নং আদেশ দ্বারা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বিদ্যমান সব স্থানীয় সরকার কমিটি ভেঙে দেয়। তাছাড়া ওই সরকারের সময়ে অর্থাৎ ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী দ্বারা প্রশাসনের সব পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিধান বিলুপ্ত করা হয়। ফলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা সাময়িকভাবে বিপর্যয়ের মধ্যে নিপতিত হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় কিছুটা আশার আলো দেখা দেয়। স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশ ১৯৭৬-এর মাধ্যমে জেনারেল জিয়াউর রহমানের সরকার তিন ধরনের স্থানীয় সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন করে। এগুলো হল- ইউনিয়ন পরিষদ, থানা পরিষদ এবং জেলা পরিষদ। ১৯৮২ সালে ক্ষমতায় এসে জেনারেল এইচএম এরশাদ থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করেন। আইনে জনগণের সরাসরি ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনের বিধান করা হয়। ১৯৯০ সালে দ্বিতীয়বার উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি সরকারের পতনের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ক্ষমতায় এসে রাজনৈতিক হিংসার বশবর্তী হয়ে বিএনপি সরকার উপজেলা ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে। জনগণের সরাসরি ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনের বিধান করা হলেও ১৯৮৮ সালে এরশাদ সরকার প্রবর্তিত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিয়োগের ক্ষমতা সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। অবশ্য এরশাদ সরকারের পতনের সঙ্গে সঙ্গে জেলা পরিষদও অকার্যকর হয়ে পড়ে।
১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ পাস করলেও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সেনা সমর্থিত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ১৯৯৮ সালের উপজেলা আইন বাতিল করে স্থানীয় সরকার (উপজেলা পরিষদ) অধ্যাদেশ ২০০৮ জারি করে। এতে জনগণের ভোটে একজন চেয়ারম্যান ও দু’জন ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচনের বিধান করা হয়। তাছাড়া ১৯৯৮ সালের উপজেলা পরিষদ আইনে সংসদ সদস্যের উপজেলা পরিষদে উপদেষ্টা হওয়ার এবং তার পরামর্শ গ্রহণ করার যে বিধান ছিল তা বিলুপ্ত করা হয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার উপজেলা পরিষদ অধ্যাদেশ ২০০৮ বাতিল করে ১৯৯৮ সালের উপজেলা পরিষদ আইনটি পুনঃপ্রচলন করে। এতে সংসদ সদস্য উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা হওয়ায় এবং তার পরামর্শ মেনে চলা পরিষদের জন্য বাধ্যতামূলক হওয়ায় পরিষদের কাজের ওপর সংসদ সদস্যের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পরিষদ হারায় তার স্বাধীনতা। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সমিতি সংসদ সদস্যকে উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা করার বিধানটি বাতিলের জন্য অনেকদিন ধরে দাবি করে আসছে। তবে সরকার তাতে কর্ণপাত করছে না।
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, এরশাদ সরকার প্রবর্তিত জেলা পরিষদ ওই সরকারের পতনের সঙ্গে সঙ্গে বিলুপ্তি ঘটে। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার জেলা পরিষদ আইন ২০০০ পাস করলেও ওই মেয়াদে আইনটি বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে সরকার গঠন করে। সরকার গঠনের পর জেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী বিধিমালা প্রণয়নসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ না করে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে তিনটি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি বাদে অন্য ৬১টি জেলার জেলা পরিষদে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়। জেলা পরিষদ আইন ২০০০-এ জেলা পরিষদে নির্বাচনের বিধান থাকলেও প্রত্যাশিত নির্বাচন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
উপর্যুক্ত বর্ণনার উদ্দেশ্য হল এটা বলা যে, আসলে বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে কোনো সরকারই চায়নি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত হোক এবং স্বাধীনভাবে কাজ করুক। মুখে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তিশালীকরণ ও স্বনির্ভরতার কথা বলা হলেও তারা আসলে চেয়েছে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের সম্প্রসারিত অঙ্গ হিসেবে কাজ করুক। ক্ষমতাসীন সরকারও একই ব্যবস্থায় বিশ্বাসী। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আইনগুলোতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সে ব্যবস্থাই নিশ্চিত করা হয়েছে।
এখন সরকারবিরোধী দল বিএনপি থেকে নির্বাচিত মেয়রদের অপসারণ প্রসঙ্গে ফিরে আসা যাক। একমাত্র সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ছাড়া উপর্যুক্ত অন্য মেয়রদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে জানা যায়নি। গণমাধ্যমের রিপোর্টে জানা যায়, মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী একটি খুনের মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি হিসেবে গ্রেফতার হয়েছেন। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী অবরোধ-হরতালে গাড়ি পোড়ানোর মামলা দিয়ে উপর্যুক্ত নির্বাচিত মেয়রদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মেয়রদের বিরুদ্ধে ‘ক্রিমিনাল কেসের’ কথা বলেছেন। সেক্ষেত্রে অভিযোগপত্র আদালত কর্তৃক গৃহীত হলেই তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে প্যানেল মেয়রকে দায়িত্ব প্রদান করা সমীচীন হবে। আইনটিতে সে রকমই বলা আছে। তা না হলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য সরকারবিরোধী দল বিএনপির নির্বাচিত মেয়রদের সরিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে জনমনে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মাবে। তাছাড়া এটি ভবিষ্যতের জন্য খারাপ নজির সৃষ্টি করবে। ভবিষ্যতে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় সরকার পরিবর্তন হলে নতুন দলীয় সরকার এ নজির অনুসরণে উদ্যোগ নিতে পারে।
আবদুল লতিফ মন্ডল : সাবেক সচিব, কলাম লেখক
latifm43@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিএনপি যাবে কোন পথে? by আব্দুল কাইয়ুম
জানি, এটা হবে না। অনেকের কাছেই একটা অসম্ভব কথা বলে মনে হবে। কারণ খালেদা জিয়াকে সরকার এই ধরে তো সেই ধরে অবস্থা, তাঁর গুলশানের কার্যালয়ে এই বুঝি তল্লাশি শুরু হলো! তা ছাড়া চলছে পেট্রলবোমার সহিংস আন্দোলন। এর মধ্যে মেয়র নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের কথাটা একেবারেই বেমানান শোনায়, তাই না? বিএনপি ধনুর্ভঙ্গপণ করেছে, যেভাবেই হোক ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের’ অধীনে নির্বাচন আদায় করতেই হবে। যত দিন এ দাবি আদায় না হয়, অবরোধ চলতেই থাকবে। প্রতি রোববার থেকে প্রথমে ৭২ ঘণ্টা, তারপর সেটা বাড়িয়ে শুক্রবার ভোর ছয়টা পর্যন্ত হরতাল। মানুষ কথা না শুনলে গাড়ি-বাসে চোরাগোপ্তা হামলা চালাও, আগুন জ্বালাও, ককটেল-পেট্রলবোমা মারো। এই তো? সরকারও ধনুর্ভঙ্গপণ করেছে, যেভাবেই হোক সবকিছু ঠান্ডা করে দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলবে। গাড়ি-বাস চলবে। তারপর কে কোথায় মরল, তা নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই।
বিএনপি তত্ত্বাবধায়কের নির্বাচন আদায় না করে ছাড়বে না। আর সরকার এখন নির্বাচনই দেবে না। মানুষও চোরাগোপ্তা হামলার মধ্যে কেনাকাটা, অফিস—সবকিছু চালিয়ে যাবে। এর তো একটা শেষ চাই। কীভাবে সেটা সম্ভব?
বিএনপি নিশ্চয়ই তাদের আপসহীন ভাবমূর্তি খুইয়ে আন্দোলন থামাতে পারে না। আর সরকার তো ভাবছে সবকিছু তাদের নিয়ন্ত্রণে। এ অবস্থায় সরকার একটা চাল দিয়েছে। হঠাৎ করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে। এরপর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনও হবে। সরকার তো ধরেই নিয়েছে যে বিএনপি আসবে না। এই ফাঁকে দু-চারজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে হারিয়ে তাদের সমর্থিত প্রার্থীকে অনায়াসে জিতিয়ে আনা যাবে।
এখন বিএনপিকে ভাবতে হবে, সরকারের ইচ্ছামতো সবকিছু চলতে দেওয়া হবে কি না। সংসদ নির্বাচন না-হয় ‘নির্দলীয়’ সরকারের অধীনে ছাড়া ওরা করবে না। কিন্তু মেয়র নির্বাচনে তো সেই প্রশ্ন ওঠে না। স্থানীয় নির্বাচন সব সময় ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনেই হয়। এ নিয়ে কারও কোনো প্রশ্ন নেই।
বিএনপি কি কৌশল হিসেবে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মেয়র নির্বাচনে অংশগ্রহণের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে না? এটা বিএনপির পূর্ব অনুসৃত নীতির বাইরে কিছু হবে না। গত বছরের ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের একতরফা নির্বাচন বর্জনের পরিষ্কার ঘোষণার মধ্যেও কিন্তু বিএনপি একের পর এক সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোতে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে জিতেছিল। কুমিল্লা, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল এবং সর্বশেষ একেবারে রাজধানী ঢাকার নাকের ডগায় গাজীপুরে নির্বাচন করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের একেবারে ধরাশায়ী করে দিয়েছিল।
সে সময় মানুষের মধ্যে একটা আশার সঞ্চার হয় যে বিএনপি হয়তো জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে একইভাবে আওয়ামী লীগকে পরাজিত করে ক্ষমতায় পরিবর্তন আনবে, যা তখন দেশবাসী একান্তভাবে কামনা করছিল। কিন্তু বিএনপি সে পথে যায়নি। হয়তো ভেবেছিল, চারদিকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোতে বিপুল বিজয়ের শক্তিতে নির্বাচন ছাড়াই ওরা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে।
সাদামাটা নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় যাওয়ার চেয়ে ক্ষমতাসীন সরকারকে তুলার বস্তার মতো ছুড়ে ফেলে ক্ষমতায় যাওয়ার একটা সুবিধা আছে। তাতে একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হওয়া যায়। বিএনপির মধ্যে হয়তো সে রকম একটা নেশা পেয়ে বসেছিল। কারণ, অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়া ক্ষমতায় গিয়ে তাদের লাভ নেই। আওয়ামী লীগ যেভাবে সংবিধান পরিবর্তন করে ফেলেছে, তাতে পরিবর্তন আনতে না পারলে তাদের ১৯৭২-এর সংবিধানে চলতে হবে। এটা তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যায় না। তাই হয়তো ওরা মেয়র নির্বাচনে বিপুল সাফল্য লাভ করলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে। আশা ছিল, জনরোষের কবলে পড়ে সরকার ক্ষমতাচ্যুত হবে।
কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে আওয়ামী লীগ সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পারেনি। খুব অদ্ভুত ব্যাপার যে অর্ধেকের বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং বাকি প্রায় সব আসনে ‘আমরা আর মামারা’ প্রতিযোগিতাহীন নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। এ রকম অস্বাভাবিক নির্বাচন ঠেকাতে বিএনপি তেমন কিছুই করতে পারেনি। এবং বিএনপিকে ঠান্ডা করার জন্য সে সময় সরকারকেও খুব বেশি ডান্ডাবাজি করতে হয়নি, যেমন এখন করছে।
এখানে বিএনপি রাজনীতিতে বিরাট মার খেয়েছে। সরকারকে ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছে, কিন্তু বাস্তবে সরকার প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন করেও দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছে। এ আকাশ-পাতাল পার্থক্য কেন হলো, তা বিএনপিকে খুব ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখতে হবে।
এর একটা কারণ এই হতে পারে যে বিএনপি ভাবছিল মানুষ সনাতন রাজনীতির ধারায় ‘উৎখাতের’ লাইনে আছে। আর মানুষ ভাবছিল, নির্বাচনের মাধ্যমেই যখন সরকার পরিবর্তন সম্ভব, তাহলে বর্জনের ঝামেলায় কেন যাচ্ছে বিএনপি। এখানে মানুষের চিন্তার সঙ্গে বিএনপির রাজনৈতিক কৌশলের খুব বড় রকমের পার্থক্য হয়ে গেছে।
বিএনপির যুক্তি ছিল, সিটি করপোরেশন আর জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক নয়। সরকার চালাকি করে সিটি করপোরেশনে বিএনপিকে জিতিয়ে তাদের জাতীয় নির্বাচনের ফাঁদে ফেলতে চায়। আর বিএনপি সেই ফাঁদে পা দিলেই ভরাডুবি হবে। নির্বাচনে সরকারি প্রভাব খাটিয়ে আওয়ামী লীগ সব আসন হাতিয়ে নেবে। কিন্তু গত বছর বিএনপির বিজয়োল্লাসের মাঝে সরকারের পক্ষে নির্বাচন ছিনতাই করা বাস্তবে কতটা সম্ভব ছিল, তা ভেবে দেখা দরকার।
গত বছরের ৫ জানুয়ারি বিএনপি অংশগ্রহণ করলে যদি আওয়ামী লীগ শুধু সরকারের জোরেই নির্বাচন ছিনতাই করার বিষয়ে নিশ্চিত হতো, তাহলে ওরা কেন তখন ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন দেয়নি? গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ভরাডুবির পরই আওয়ামী লীগ নিশ্চিত হয় যে ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে নির্বাচন করেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজেদের পরাজয় ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। তাই আইনের মারপ্যাঁচে রাজধানী ঢাকার মেয়র নির্বাচন সে সময় সরকার হতে দেয়নি। যদি হতো, তাহলে তাদের নিশ্চিত পরাজয় ঠেকানো কঠিন ছিল। আর রাজধানী ঢাকায় মেয়র নির্বাচনে হারলে কোন মুখে আওয়ামী লীগ সংসদ নির্বাচন করত? নির্বাচনে ভোটারদের সামনে দাঁড়ানোর পথই তো থাকত না।
গত বছর সংসদ নির্বাচনের আগে সব কটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেছিল এই যুক্তিতে যে ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে স্থানীয় নির্বাচনে তাদের বাধা নেই। সেদিন যদি সরকার ঢাকায় মেয়র নির্বাচন দিত, তাহলে বিএনপি অবশ্যই অংশগ্রহণ করত। সেদিন বিএনপির বাধা না থাকলে আজ থাকবে কেন? আজ যদি বিএনপি ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, তাহলে তাদের নীতিবিচ্যুতির কোনো আশঙ্কা নেই।
বরং নির্বাচন করলে তাদের দুটি লাভ। প্রথমত, পেট্রলবোমা মেরেও যে মানুষকে বিএনপি রাস্তায় নামাতে পারছে না, সেই মানুষই পিলপিল করে বিএনপির পেছনে এসে দাঁড়াবে, তাদের প্রার্থীর জন্য ভোটের সংগ্রামে নামবে। রাজপথে বিএনপির হরতালে সক্রিয় জনসমর্থনের যে ভাটা এখন দেখা যাচ্ছে, সেটা কেটে যাবে। মানুষ বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে ঢাকঢোল নিয়ে নামবে। তাদের জন্য এর চেয়ে বড় আশীর্বাদ আর কী হতে পারে?
আর দ্বিতীয়ত, যদি বিএনপি প্রার্থী দেয়, তাহলে নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা শতভাগ। এটা তো তারাই দাবি করে এবং এই দাবি একেবারে ভিত্তিহীন বলা যাবে না। বিএনপি মেয়র নির্বাচন করলে মানুষ খুশি হবে। কারণ, বোমা-আগুন দিয়ে মানুষ মেরে সরকার হটানোর বদ চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে বিএনপি নির্বাচনী রাজনীতির ধারায় যুক্তিসংগত উপায়ে জোরেশোরে নামতে পারবে। এর ফলে তাদের নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আরও শক্তি ও জনসম্পৃক্তি অর্জন করবে।
যেহেতু সরকার সিটি করপোরেশন নির্বাচন করছে, তাই নির্বাচনী সভা-সমাবেশে বিএনপিকে তাড়া করার সুযোগ সরকারের থাকবে না। খালেদা জিয়াকে গুলশানের অফিসে আটকা পড়ে থাকতে হবে না। তিনি মানুষের কাতারে এসে দাঁড়াবেন। সমাবেশের অনুমতি না দিলে তিনি নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে ঐতিহাসিক সমাবেশ করবেন। এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে?
বিএনপির সামনে আজ স্বর্ণসুযোগ এসেছে। মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে জোরেশোরে নেমে পড়া উচিত। এতে সহিংস রাজনীতির একটি যুক্তিপূর্ণ পরিসমাপ্তি ঘটবে। রাজনীতি গণতন্ত্রের ধারায় ফিরে আসবে। মানুষ বাঁচবে। দেশ বাঁচবে।
বিএনপির আর এক মুহূর্ত দেরি করা উচিত নয়।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কুৎসিত লড়াই দেখে হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে : কেজরিওয়াল
উল্লেখ্য, দিল্লি মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ্র কেজরিওয়ালকে আম আদমি পার্টি (এএপি) থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে। এএপি নেতা সঞ্জয় সিং নয়াদিল্লিতে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। এর মধ্যেই দলটিতে বড় ধরনের বিভক্তির আশংকা দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি এএপির রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সংক্রান্ত কমিটির সদস্য যোগেন্দ্র যাদব ও প্রশান্ত ভূষাণ দলের কার্যক্রমের সমালোচনা করেন এবং পুনর্গঠনের আহ্বান জানান। এ বিষয়ে দলের ভেতরে দুটি পক্ষের ভেতর চিঠি চালাচালির বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। একই সঙ্গে গোপনে ফোন রেকর্ডে ভূষাণের এএপি-বিরোধী অবস্থান প্রকাশিত হয়েছে। এরপরই যোগেন্দ্র যাদব ও প্রশান্ত ভূষাণকে দল থেকে বহিষ্কারের গুঞ্জন ওঠে। এএপির দিল্লি সচিব দিলীপ পান্ডের লেখা একটি চিঠিতে দলকে দুর্বল করতে যোগেন্দ্র যাদব, প্রশান্ত ভূষাণ ও শান্তি ভূষাণ কাজ করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়। এতে বলা হয়, তারা কেজরিওয়ালের পরিবর্তে যাদবকে প্রধান করার চেষ্টা করছেন। গত ফেব্র“য়ারিতে অনুষ্ঠিত দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে ৭০টি আসনের মধ্যে ৬৭টি পেয়েছে এএপি।
‘বিদ্রোহী ত্রয়ীর উচ্ছেদে’ আজ বৈঠক : অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ আর কিছু ফাঁস হয়ে চিঠি, এ নিয়েই ব্যতিব্যস্ত আম আদমি পার্টি। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে তড়িঘড়ি আজ বুধবার এএপির জাতীয় এক্সিকিউট কমিটির বৈঠক বসতে চলেছে। এই বৈঠকে দলের অন্যতম দুই প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নেতা যোগেন্দ্র যাদব ও প্রশান্ত ভূষাণের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হবে। এই বৈঠকে দলের রাজনীতিবিষয়ক কমিটি থেকে যোগেন্দ্র যাদব ও প্রশান্ত ভূষণকে ছেঁটে ফেলতে প্রস্তুত কেজরির অনুগামীরা। সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এই কমিটি থেকে দলের এই দুই সদস্যকে সরিয়ে দিতে বিশেষ বেগ পেতে হবে না তাদের। দলের মধ্যে বেকায়দায় পড়েছেন, এমন পরিস্থিতি টের পেয়ে ইতিমধ্যে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়েছেন যোগেন্দ্র যাদব। সোমবার সন্ধ্যায় একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন কেজরিওয়ালই এএপির শীর্ষ নেতা। তাকে জাতীয় আহ্বায়কের পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
বিরাট জয় নিয়ে দিল্লি বিধানসভার ক্ষমতায় আসার এক মাস না পেরোতেই এএপিতে গৃহবিবাদ শুরু হয়ে গেছে। দলের দুই প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রবীন্দ্র যাদব ও প্রশান্ত ভূষণ এএপির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে দলীয় প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৈঠকে দলটির দুই ভিন্নমতাবলম্বী নেতা প্রশান্ত ভূষণ ও যোগেন্দ্র যাদবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে, এ দুজনকে দলটির কার্যনির্বাহী কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে। এমনকি দল থেকেও বাদ পড়তে পারেন তাঁরা। দুই নেতার কথিত ষড়যন্ত্র, এ-সংক্রান্ত চিঠি উদ্ধার এবং একে অন্যের বিরুদ্ধে বিষোদ্গারে এএপির অন্তর্দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আজকের বৈঠকে কেজরিওয়াল থাকবেন না। তিনি চিকিৎসার উদ্দেশে ১০ দিনের জন্য বেঙ্গালুরু যাচ্ছেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গণহত্যা কখনোই সংখ্যা দিয়ে বিচার করা যায় না -বিশেষ সাক্ষাৎকারে: ড্যানিয়েল ফিয়েরস্টেইন by মিজানুর রহমান খান
প্রথম আলো: একাত্তরের গণহত্যার সংখ্যাগত দিকসহ অন্যান্য বিষয়কে আপনি কীভাবে দেখেন?
ড্যানিয়েল ফিয়েরস্টেইন: সংখ্যাগত দিক নয়, এর মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে এর মাধ্যমে বাঙালি জাতি এবং তার ভাষা ও সংস্কৃতিকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। সংখ্যা নিয়ে তর্কাতর্কি কাম্য নয়। গণহত্যার বহুমাত্রিক পরিণাম রয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দোষী ব্যক্তিদের বিচারের মাধ্যমে সমগ্র সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
প্রথম আলো: অন্যান্য দেশের গণহত্যার সঙ্গে বাংলাদেশের গণহত্যা তুলনীয় কি?
ড্যানিয়েল ফিয়েরস্টেইন: আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া ও বাংলাদেশ—তিনটি দেশেরই গণহত্যার একটি অভিন্ন উদ্দেশ্য ছিল, যা আমরা সম্মেলনে আলোচনা করেছি। আর সেটা হলো সন্ত্রাস ও গণহত্যার মাধ্যমে সামাজিক রূপান্তর ঘটানো। অর্থাৎ কোনো জাতিগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করা।
প্রথম আলো : অপরাধ সংঘটনকারী রাজাকারদের (কোলাবরেটর) পুনর্বাসনে এসব সমাজের মধ্যে আপনি কী ধরনের অভিন্ন বৈশিষ্ট্য লক্ষ করেন?
ড্যানিয়েল ফিয়েরস্টেইন: কিছু সাধারণ লক্ষণ রয়েছে, তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হচ্ছে, এখানে মূল অপরাধীরা বহিরাগত। আর্জেন্টিনা ও কম্বোডিয়ায় যেটা নেই। রাজাকাররাও একই দেশ ও সমাজের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় বিচারকার্য সংঘটিত হচ্ছে, তাতে তিন দেশের মধ্যেই মিল রয়েছে।
প্রথম আলো: বাংলাদেশে রাজাকাররা সাংসদ ও মন্ত্রী পর্যন্ত হয়েছেন। কম্বোডিয়া ও আর্জেন্টিনায়?
ড্যানিয়েল ফিয়েরস্টেইন: কম্বোডিয়ায় রাজাকারদের ক্ষমতায়ন কিছুটা ঘটেছে। সে তুলনায় আর্জেন্টিনার অবস্থা অারও বেশি খারাপ হয়তো বলব না, তবে কিছু অভিযুক্ত ব্যক্তি নির্বাচিত হয়েছেন। এসব ঘটনা মর্মান্তিক, কিন্তু ঘটেছে। যে ব্যক্তি তুকুমান প্রদেশের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের দায়িত্বে ছিলেন, তিনি পরে সেখানকার গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন। এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে নাগরিক সমাজ এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হতে শুরু করে।
প্রথম আলো: নির্বাচন কি অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল?
ড্যানিয়েল ফিয়েরস্টেইন: নিশ্চয়। আর সেটাই সবচেয়ে বেশি দুর্ভাগ্যের কথা।
প্রথম আলো: নির্বাচনের আগে তাঁরা কি তাঁদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন?
ড্যানিয়েল ফিয়েরস্টেইন: না, মোটেই তাঁরা ক্ষমা চাননি। এটাও লক্ষ করার বিষয় যে তাঁরা কীভাবে সুষ্ঠু নির্বাচনেও জয়ী হতে পারলেন। এর ব্যাখ্যা কী? এর উত্তর হলো, আর্জেন্টিনা প্রথমে বিচার শুরু করল। কিন্তু পরে দুটি দায়মুক্তি আইন পাস করল। এর ফলে অভিযুক্তরা জেল থেকে ছাড়া পেলেন এবং নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়ার সুবাদে জয়লাভও করলেন। অথচ দণ্ডিত হিসেবে তাঁদের জেলে থাকার কথা ছিল। তাঁদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে না পারাটা ছিল আর্জেন্টিনার ব্যর্থতা। তবে ২০০৫ সালে পুনরায় বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সুতরাং আপনি যদি তাঁদের বিচার না করেন, তাহলে এভাবে নির্বাচিত হওয়ার ঝুঁকিটা থেকে যায়।
প্রথম আলো: বিচার–প্রক্রিয়ার সাফল্য সম্পর্কে আর্জেন্টিনা ও কম্বোডিয়ার তুলনায় বাংলাদেশের অর্জনকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
ড্যানিয়েল ফিয়েরস্টেইন: এ রকম তুলনা করা কঠিন। বাংলাদেশ পরিস্থিতি বলে নয়, যেকোনো প্রক্রিয়াই একটি থেকে অন্যটি ভিন্ন।
প্রথম আলো: যেমন ধরুন, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা কিংবা আমরা সব সময় শুনি ‘আন্তর্জাতিক মান’ বজায় রাখার প্রশ্নটি?
ড্যানিয়েল ফিয়েরস্টেইন: আন্তর্জাতিক মান নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা রয়েছে। আমি মনে করি না যে জাতীয় মানের চেয়ে আন্তর্জাতিক মানকে উন্নত ধরতে হবে। সবচেয়ে যেটা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো সুষ্ঠু প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হলো কি না, আন্তর্জাতিক মান বড় কথা নয়। সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার রক্ষাকবচ হলো, আপনি নিশ্চয়তা দেবেন যে প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয় সেখানে থাকবে না, এটা সত্যিই ন্যায়বিচার।
বাংলাদেশি সমাজ মৃত্যুদণ্ডের বিধান নিয়ে আলোচনা করতে পারে। কিন্তু তার বিদ্যমান বিচার– প্রক্রিয়াকে মূল্যবান মনে করি। আমার সব তথ্য এখনো জানা নেই। তবে যত দূর জানতে পেরেছি, তাতে এটা বলতে পারি যে ওই মৃত্যুদণ্ডের বিধান ছাড়া বাংলাদেশ সমাজ যে ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে পেরেছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মৃত্যুদণ্ড প্রকৃতই একটি সমস্যা, যদিও আমি বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিত অনুধাবন করতে পারি। আর্জেন্টিনায় মৃত্যুদণ্ড নেই, যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তবে সেটা আর্জেন্টিনায় সম্ভব হয়েছে, কারণ আর্জেন্টিনায় কখনোই মৃত্যুদণ্ডের বিধান ছিল না। মৃত্যুদণ্ডের বিধান নিয়ে বাংলাদেশ সাধারণভাবে আলোচনা করতে পারে। কিন্তু তা বিদ্যমান ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ড নিয়ে নয়। কারণ, আইন এই ট্রাইব্যুনালকে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার এখতিয়ার দিয়েছে।
প্রথম আলো: যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রাজনৈতিক সমঝোতার (রিকন্সিলিয়েশন) মধ্যে কি দ্বন্দ্ব আছে?
ড্যানিয়েল ফিয়েরস্টেইন: মোটেই না। বিচার ছাড়া সমঝোতা হতে পারে না। কারণ, ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে অপরাধীকে তার কৃতকর্মের দায়দায়িত্ব অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে। আর বিচারই অপরাধীকে তার কৃতকর্মের দায় স্বীকার করাতে বাধ্য করতে পারে।
প্রথম আলো: যুদ্ধাপরাধী সংগঠনের বিচারের বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখেন?
ড্যানিয়েল ফিয়েরস্টেইন: বিচারিক এখতিয়ার হলো ব্যক্তির অপরাধের বিচার করা। আমার ধারণা, সংগঠনকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোটা অধিকতর রাজনৈতিক। এটা অনেকাংশে সংবাদপত্রের কাজ। আমি মনে করি রাজনীতিকদের কাছে এটা হলো মন পরিবর্তনের প্রশ্ন। কারণ, আপনি কী করে অভিযুক্ত সংগঠনকে কারাগারে পাঠাতে পারেন?
প্রথম আলো: নিষিদ্ধ তো করা যেতে পারে?
ড্যানিয়েল ফিয়েরস্টেইন: হ্যাঁ। তবে আমি মনে করি সেটা সমস্যাপূর্ণ। কারণ, তখন তারা নিজেদের না বদলিয়ে সংগঠনের নাম বদলে নিতে পারে। আর আপনি তো সেই সংগঠনের অতীত কৃতকর্মের বিচার করছেন।
প্রথম আলো: আপনাকে ধন্যবাদ।
ড্যানিয়েল ফিয়েরস্টেইন: ধন্যবাদ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মোবাইল সেবায় বাংলাদেশের জন্য আসছে নতুন চমক by কাজী সোহাগ
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কম্বোডিয়ায় গণহত্যাকারীরা রাজনীতি করতে পারেন না -সাক্ষাৎকারে: হেলেন জারভিস by সোহরাব হাসান
প্রথম আলো: বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে যে গণহত্যা, গণধর্ষণ, তথা মানবতার বিরুদ্ধে ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল, বিলম্বে হলেও তার বিচার শুরু হয়েছে। এ সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?
হেলেন জারভিস: দীর্ঘদিন বিচার নাকচ করার যে সংস্কৃতি চলে আসছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হচ্ছে। এই ঘটনা আমাকে অভিভূত করেছে। এর মাধ্যমে যাঁরা এত দিন বিচারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন, তাঁদের সেই দাবি পূরণ হতে চলেছে। এতে যেমন ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে, তেমনি নিহত ব্যক্তিদের স্মৃতি জাগরূক রাখা স্বজনেরাও সান্ত্বনা খুঁজে পাবেন।
প্রথম আলো: কিন্তু এই বিচার নিয়ে মহলবিশেষ বিতর্ক তোলার চেষ্টা করছে। বিচার আন্তর্জাতিক মানের হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।
হেলেন জারভিস: গত তিন দিন আমরা সম্মেলনে যে আলোচনা করেছি, তার সারমর্ম হলো, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সংঘটিত গণহত্যাগুলোর ধরন ও চরিত্র যেহেতু আলাদা, এর বিচার–প্রক্রিয়াও আলাদা হবে। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়াই এই বিচারকাজ সম্পন্ন করছে। এটি খুবই ইতিবাচক। প্রতিটি দেশের নিজস্ব আইন ও বৈশিষ্ট্য আছে। সেই অনুযায়ী তারা বিচার করছে। এ ক্ষেত্রে বিচারের আন্তর্জাতিক মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই।
প্রথম আলো: বাংলাদেশে গণহত্যা বা যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়টি ব্যতিক্রমী নয় কি? এই বিচার–প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সহায়তা চাওয়া হয়নি। এর তদন্ত ও শুনানি—দুটোই হচ্ছে স্থানীয়ভাবে।
হেলেন জারভিস: কম্বোডিয়ায়ও বিচার–প্রক্রিয়া শুরু হয় নিজস্ব উদ্যোগে। পরবর্তীকালে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চেয়েছে। সে ক্ষেত্রে আমি বলব, কম্বোডিয়া, বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনা—এই তিনটি দেশেই বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে স্থানীয়ভাবে। কম্বোডিয়ার সরকারই অপরাধীদের চিহ্নিত করে এবং পরবর্তীকালে বিচার–প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য জাতিসংঘকে অনুরোধ জানায়। এটি এমন নয় যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কম্বোডিয়ায় বিচারটি হচ্ছে। বাংলাদেশ অবশ্য বাইরের সহায়তা ছাড়াই বিচারকাজটি সম্পন্ন করছে। আপনারা শুনে অবাক হবেন, সেখানে পলপট সরকার জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ মানুষকে হত্যা করে। বিশেষ করে, বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষিত মানুষকে বেছে বেছে হত্যা করা হয়।
প্রথম আলো: কম্বোডিয়ার বিচার–প্রক্রিয়া নিয়েও কি সমালোচনা হচ্ছে, দেশের ভেতরে ও বাইরে?
হেলেন জারভিস: হ্যাঁ, অনেকেই সমালোচনা করছেন। তবে ভেতরের চেয়ে বাইরেই সমালোচনা বেশি হচ্ছে। কিন্তু আমরা বলেছি, সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই বিচারকাজ চলছে।
প্রথম আলো: পলপটের অনুসারীরা কি সেখানে কেউ রাজনীতি করতে পারছেন? তাঁদের রাজনৈতিক দল আছে?
হেলেন জারভিস: না, পলপটের অনুসারীরা কেউ রাজনীতি করছেন না। তবে সেই সময়ে ক্ষমতাসীনদের সমর্থক অনেকেই বিভিন্ন দলে যোগ দিয়ে সমাজে একীভূত হয়ে গেছেন।
প্রথম আলো: সমঝোতা (রিকন্সিলিয়েশন) নয় কেন?
হেলেন জারভিস: অনেকেই সমঝোতার কথা বলেন। কিন্তু যাঁরা গণহত্যার মতো গুরুতর অপরাধ করেছেন, তাঁদের সঙ্গে সমঝোতা কীভাবে?
প্রথম আলো: পলপটের অনুসারীরা কি অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন?
হেলেন জারভিস: কেউ কেউ ক্ষমা চেয়েছেন। কিন্তু তাঁরা প্রথমে ক্ষমা চাননি। যখন তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তখন কেউ কেউ দোষ স্বীকার করেছেন। ১৯৯৪ সালে আইন করা হয় যে যাঁরা অপরাধ করেছেন, তাঁরা কোনো সংগঠন করতে পারবেন না।
প্রথম আলো: ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার সঙ্গে আশির দশকে কম্বোডিয়ার গণহত্যাকে কীভাবে তুলনা করবেন?
হেলেন জারভিস: কোনো দেশের গণহত্যার সঙ্গে অন্য দেশের গণহত্যা তুলনীয় নয়। অন্তত প্রতিটি ঘটনাই মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশার শিকার হয়। এসব অপরাধের গভীরতা ও ভয়াবহতার পরিমাপ করা যায় না।
প্রথম আলো: জাতিসংঘের বিশেষ দূত আদামা দিয়েং তাঁর বার্তায় বলেছেন, আমি আশা করব, এই সম্মেলনে বিচারের যথাযথ প্রক্রিয়া (ডিউ প্রসেস) নিয়ে আলোচনা হবে। বাংলাদেশের বিচার–প্রক্রিয়া নিয়ে সম্মেলনে কী ধরনের আলোচনা হয়েছে বা কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে কি না?
হেলেন জারভিস: সম্মেলনে যে একটি বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, তা হলো মৃত্যুদণ্ড। আমি মনে করি, কোনো সমাজেই মৃত্যুদণ্ড থাকা উচিত নয়। কিন্তু সেটি তো কেবল যুদ্ধাপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে নয়, সব ধরনের বিচারের বেলায় প্রযোজ্য। কিন্তু বাংলাদেশে ফৌজদারি আইনে তো মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।
প্রথম আলো: যেসব নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাঁদের সম্মান পাওয়ার বা সমাজে একীভূত হওয়ার সমস্যাটি কীভাবে দেখেছেন। স্বাধীনতার পর সরকার ওই সব নারীকে বীরাঙ্গনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তাঁদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন। আপনার অভিমত কী?
হেলেন জারভিস: আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের এই সিদ্ধান্তকে আমি অত্যন্ত প্রগতিশীল বলে মনে করি। বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধে সহায়তার জন্য তাঁদেরকে বীরাঙ্গনা উপাধি দিয়েছিলেন, সেটি ছিল সহায়তার স্বীকৃতি। কিন্তু এবারে আদালত তাঁদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সম্মানিত করলেন। আমি মনে করি, সমাজ ও রাষ্ট্রের উচিত তাদের যথাযথ সম্মান দেওয়া এবং একাত্ম করে নেওয়া। ইতিমধ্যে তাঁরা অনেক দুঃখ-দুর্দশার শিকার হয়েছেন।
আমি মনে করি আদালত সবকিছু করে দেবেন না। রাষ্ট্র ও সমাজকেই দায়িত্ব নিতে হবে। এসব নির্যাতিত নারীর চিকিৎসা, স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের কাজটি রাষ্ট্রকেই করতে হবে। তাঁরা যাতে সমাজে যথাযথ সম্মান পান, সে ব্যাপারে নাগরিক সমাজও সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে।
প্রথম আলো: আপনাকে ধন্যবাদ।
হেলেন জারভিস: ধন্যবাদ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1330)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
March
(1092)
-
▼
Mar 05
(24)
- মামুনের বন্ধু রানাকে খুঁজছে গোয়েন্দারা by তোহুর আহমদ
- কূটনৈতিক তৎপরতায় নতুন মাত্রা
- নিউইয়র্কেও ঈদের ছুটি
- পার্বত্য চট্টগ্রাম : একটি সাহসী সিদ্ধান্ত by মনিরু...
- পঙ্গুতে কড়াকড়ি by মাহমুদ মানজুর
- অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড- কোন ক্লু মেলেনি
- ডিম হামলাকারীকে খুঁজছে পুলিশ
- হিন্দুস্তান টাইমস ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার পরামর্শ
- মৃত্যু নিয়ে এ কেমন খেলা by মাসুদ মজুমদার
- ওসি নিজেই যেখানে নিরাপত্তাহীন by মহিউদ্দীন জুয়েল
- বাকস্বাধীনতার অর্থ ধর্মানুভূতিতে আঘাত করা নয় by ড....
- কাশ্মিরিদের হিরো by হামিদ মীর
- দলীয় পরিচয়ের বলি হবেন মেয়ররা? by আবদুল লতিফ মন্ডল
- বিএনপি যাবে কোন পথে? by আব্দুল কাইয়ুম
- কুৎসিত লড়াই দেখে হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে : কেজরিওয়াল
- গণহত্যা কখনোই সংখ্যা দিয়ে বিচার করা যায় না -বিশেষ...
- মোবাইল সেবায় বাংলাদেশের জন্য আসছে নতুন চমক by কাজী...
- কম্বোডিয়ায় গণহত্যাকারীরা রাজনীতি করতে পারেন না -স...
- মানব মস্তিষ্কের বড় আকৃতির নেপথ্যে সক্রিয় জিন শনাক্ত
- রাজনৈতিক অস্থিরতায় পঙ্গু হচ্ছে অর্থনীতি
- জোট নেত্রীর সাথে কূটনীতিকদের সাক্ষাৎ- দমন-পীড়ন নয়,...
- শতবর্ষে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ by তৌহিদী হাসান ও মাহাবুব...
- গরমের আগেই ঢাকায় পানির সংকট by অরূপ দত্ত
- পুতিনের ‘গোপন প্রেম’
-
▼
Mar 05
(24)
-
▼
March
(1092)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

















