Showing posts with label অর্থ. Show all posts
Showing posts with label অর্থ. Show all posts

Monday, April 20, 2026

ধারের বদভ্যাস আছে? এই কাজগুলো করুন by হাসান ইমাম

জরুরি প্রয়োজনে টাকা ধার করা লাগতেই পারে। কিন্তু টাকা ধার করাটা যদি অভ্যাস হয়ে ওঠে, তাহলেই বিপদ। নিয়মিত ধার মোটেও ভালো অভ্যাস নয়। বরং ঋণী ব্যক্তি আজীবন দরিদ্র থাকেন। ধারের টাকা শোধ করতে না পেরে মানসিক অবসাদে ভোগেন কেউ কেউ। আর্থিক চাপে কেউ কেউ আবার নানা অঘটনও ঘটিয়ে ফেলেন।

বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) পরিচালিত একটি গবেষণায় দেশের মানুষের ঋণ করার প্রধান কারণগুলো উঠে এসেছে। দেখা গেছে, সংসার খরচ মেটাতেই সবচেয়ে বেশি ঋণ করেন মানুষ। আরও আছে চিকিৎসা খরচ, বাড়ি তৈরি, বাকি খাওয়া ও ব্যবসার জন্য ঋণ।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী তামিম আহমেদ বলেন, ‘আমাদের দেশে যে অর্থনৈতিক অসমতা বিরাজমান, মানুষের মধ্যে তা একধরনের চাপ তৈরি করে। অসমতার কারণে একজন ব্যক্তি তাঁর সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের মতো করে নিজের জীবনযাপন করতে চান। দুজনের হয়তো বয়স কাছাকাছি কিন্তু আয়ের দিক থেকে একজন তুলনামূলক অনেক এগিয়ে। যার আয় কম, তিনিও যখন বেশি আয়ের ব্যক্তির মতো জীবনযাপন করতে চান, তখন সেটা তাঁর জন্য একটা চাপ হয়ে ওঠে।

খেয়াল করে দেখবেন, আমাদের দেশে দুই ধরনের মানুষের হাতেই সর্বোচ্চ দামি স্মার্টফোন আছে। যিনি এটা অ্যাফোর্ড করতে পারেন, তাঁর হাতে যেমন আছে, যাঁর হয়তো এটা কেনার সামর্থ্য নেই, আর এতটা দামি ফোন না হলেও চলে, তিনিও সেটা কিনছেন। সেটা কেনার জন্য হয়তো একজনের ঋণ করতে হয়েছে, কিন্তু তারপরও তিনি সেটা ব্যবহার করছেন। এমন কারণেও ব্যক্তিগতভাবে মানুষকে ধার করতে হয়।’

গবেষণা বলছে, যখন মানুষ বেশি আয় করে, তখন খাবারের চেয়ে বিলাসী জীবনযাপনে বেশি খরচ করে। তবে ধার করে অন্যের মতো বিলাসী জীবনযাপনের ঝোঁক বরং মানুষকে ঋণগ্রস্ত করে। তাই ধার করার মতো বদভ্যাস বদলানোর জন্য কিছু কার্যকর উপায় জেনে নিন।

নিজের আয়–ব্যয় পর্যবেক্ষণ

মাসের শুরুতে আপনার আয় ও মাসিক খরচের তালিকা তৈরি করুন। কোন জায়গায় অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হচ্ছে চিহ্নিত করুন। মানুষের যখন নিজের আর্থিক অবস্থা সম্বন্ধে পরিষ্কার ধারণা থাকে, তখন ধারের দিকে ঝোঁক কমে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবনযাপনে নানা ধরনের পরিবর্তন আসবে, এটাও সত্যি। তাই পুরোপুরি গরিবি হালে না চলতে চাইলে বরং বিকল্প আয়ের পথ তৈরি করতে পারেন।

বাজেট তৈরি করুন

এই বাজেট মানে হলো আয় অনুযায়ী ব্যয়ের পরিকল্পনা। প্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য আলাদা এবং অপ্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য আলাদা বাজেট তৈরি করুন। সঠিকভাবে বাজেট তৈরি করতে পারলে সেটা মেনেই টাকা ধার করার প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনা যাবে। বাইরে খেতে যাওয়ার অভ্যাস আধুনিক জীবনযাপনে একধরনের বিনোদন। তবে প্রতি শুক্রবার বাইরে খেতে যাওয়ার কারণে যদি ধার করতে হয়, তাহলে সেটা ভালো অভ্যাস নয়। সে ক্ষেত্রে বাজেটে মাসে চার দিনের বদলে সামর্থ্য বুঝে এক বা দুই দিন বাইরে খেতে পারেন। জীবনযাপনের সব ক্ষেত্রেই এমন অভ্যাসের চর্চা করতে হবে। আবার কেউ হয়তো বাইরে খাওয়া বলতেই দামি রেস্তোরাঁয় যাওয়া বোঝেন, কেউ ফাস্টফুডের দোকান।

জরুরি তহবিল গঠন


মাসে সামান্য হলেও কিছু টাকা ‘জরুরি ফান্ড’ হিসেবে আলাদা করে রাখুন। পারিবারিক এমন তহবিল থাকলে হঠাৎ খরচের জন্য ধারের ওপর নির্ভর করতে হয় না। এই অভ্যাস অনেকটা মুষ্টির চাল সংগ্রহের মতো। একটু একটু করে জমালে জরুরি দরকারে সেটাই আপনাকে ধারের হাত থেকে বাঁচাবে। তবে জরুরি সময় যেমন ‘জরুরি তহবিল’ থেকে খরচ করবেন, তেমন বিপদ কেটে গেলে আবার সেখানে টাকা রাখার চেষ্টা করতে হবে।

এক রাতের নিয়ম

আপনার হাত যদি হয় খরুচে, তাহলে ক্রেডিট কার্ড আপনার জন্য বিপদ বাড়াতে পারে। এ ছাড়া সহজে পাওয়া যায়, এমন ঋণ থেকে দূরে থাকুন। তবে অর্থনীতিবিদ তামিম আহমেদের পরামর্শ হলো, ক্রেডিট কার্ড অনেক সময় উপকারীও। এতে অন্যের কাছে হাত পাতার দরকার পড়ে না। বুঝে খরচ করতে পারলে বাড়তি ফি–ও এড়ানো সম্ভব।

যেমন কেউ যদি জরুরি দরকারে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন, ৪৫ দিনের মধ্যে সেই টাকা জমা দিলে কোনো বাড়তি ফি দিতে হয় না। ক্রেডিট কার্ডের জন্য বছরে যে ফি দিতে হয়, সেটাও একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ লেনদেন করে ফ্রি করে নেওয়া যায়। তবে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে কৌশলী হওয়া জরুরি।

বড় কেনাকাটা করার আগে কয়েক ঘণ্টার বিরতি নিন। এটাকে বলে এক রাতের নিয়ম, যেখানে আপনি মনে মনে ভাববেন, ‘আজ রাতটা ভাবি, কাল কিনব।’ সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে একটা বুদ্ধি কাজে লাগাতে পারেন, দিন শেষে বাইরে থেকে বাড়ি ফিরে অবশিষ্ট কয়েন বা খুচরা টাকা আলাদা করে রাখতে পারেন।

ব্যয় কমাতে কৌশল

কারও হয়তো প্রতি মাসে নিজের বা পরিবারের জন্য নিয়মিত একটা বড় অঙ্কের টাকা চিকিৎসা বাবদ ব্যয় করতে হয়। সে ক্ষেত্রে তামিম আহমেদের পরামর্শ, নিয়মিত এমন খরচের বিকল্প হতে পারে স্বাস্থ্যবিমা। সেটার জন্য হয়তো শুরুতে একটু বেশি খরচ করতে হবে, তবে এমন উদ্যোগ নিয়মিত চিকিৎসার পেছনে ব্যয় কমিয়ে আনতে পারে। আবার কারও হয়তো কর্মস্থল দূরের কারণে যাতায়াত ব্যয় অনেক। তিনি হয়তো হিসাব করে কর্মস্থলের কাছাকাছি বাসা নিয়ে সময় ও অর্থিক দিকটা সমন্বয় করতে পারেন। অনেক সময় বড় বড় অফিস–আদালত এলাকার কাছে বাড়িভাড়াও বেশি হয়, তবে সেটা আপনার নিয়মিত যাতায়াতের সঙ্গে সমন্বয় করে দেখতে পারেন। যদি সমান সমান হয়, তাহলেও বাসা এগিয়ে আনা ভালো। এতে সময় বাঁচিয়ে প্রোডাক্টিভ কিছু করে আয় বাড়ানো যেতে পারে। সন্তানদের স্কুলও বাসার কাছাকাছি হলে যাতায়াত খরচ বাঁচানো সহজ হয়।

মনস্তাত্ত্বিক কৌশল

টাকা ধার নেওয়া মানে সমস্যার সমাধান নয়, বরং সমস্যা বাড়ানো। তাই ধারের আগেই সতর্ক হোন। নিজেই নিজের ধৈর্যের পরীক্ষা নিতে পারেন। ধারে টাকা নেওয়ার বদলে বিকল্প উপায় খুঁজুন। যেমন ধার না করে ঘরের অপ্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি করেও আর্থিক সংকট মেটাতে পারেন। এমন কিছু হয়তো আপনার কাছে আছে, যেটা ঘরের এক কোণে পড়ে আছে বছরের পর বছর, সেটা বিক্রি বা বিনিময় করে দরকার মেটানো সম্ভব। শপাহোলিক ব্যক্তিরাও মানসিক নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে এড়াতে পারেন বাড়তি খরচ।

সঙ্গ বদলান

অনেক সময় সঙ্গ দোষেও মানুষ ধারকর্জ করেন। যাঁদের সঙ্গে মিশছেন, তাঁরা যদি পানির মতো টাকা খরচে অভ্যস্ত থাকেন, তাহলে আপনারও সেই অভ্যাস তৈরি হবে। আপনি খুব বেশি সংযত হয়ে চললেও মাঝেমধ্যে যেটা খরচ করবেন, সেটাই আপনাকে দেনার দায়ে ডোবাতে পারে। তাই যাঁরা আর্থিকভাবে সচেতন, তেমন মানুষের সঙ্গে মিশুন, পরামর্শ নিন। অনলাইন বা অফলাইনে যেসব গ্রুপ ব্যয় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা করে, পরামর্শ দেয়, সেখানে যোগ দিতে পারেন।

সূত্র: রেড অনলাইন ও ইয়াহু ফিন্যান্স

টাকা ধার করাটা যদি অভ্যাস হয়ে ওঠে, তাহলেই বিপদ
টাকা ধার করাটা যদি অভ্যাস হয়ে ওঠে, তাহলেই বিপদ। ছবি: কবির হোসেন

Sunday, February 15, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের ডলার ‘কারসাজিতেই’ কি ইরানে রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভ, কী বলছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ওয়াশিংটনই কৌশল করে ইরানে ডলারের ঘাটতি সৃষ্টি করেছিল, যার ফলে রাতারাতি ইরানের মুদ্রা রিয়ালের ব্যাপক দরপতন হয়। হঠাৎ করে ডলারের বিপরীতে রিয়ালের রেকর্ড দরপতনের জেরে সৃষ্ট আর্থিক সংকট গত বছর ডিসেম্বরের শেষ দিকে তেহরানে বিক্ষোভ উসকে দিয়েছিল।

রাজধানী থেকে সেই বিক্ষোভ পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। জানুয়ারি মাসজুড়ে চলা ওই বিক্ষোভ এতটাই তীব্র রূপ নিয়েছিল যে ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটিতে সবচেয়ে বড় ও প্রাণঘাতী বিক্ষোভে পরিণত হয়েছিল।

বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল ২৮ ডিসেম্বর। ইরানে অনেক দিন ধরেই মূল্যস্ফীতি অসহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। ডিসেম্বরে ডলারের বিপরীতে রিয়ালের রেকর্ড দরপতন সাধারণ ইরানিদের ওপর বিশাল বড় আঘাত হয়ে আসে।

প্রতিবাদ জানাতে তেহরানে ব্যবসায়ী ও দোকানদারেরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। দ্রুত ওই বিক্ষোভ ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

বিক্ষোভের সময় ইরানের প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেন-এজেই বলেছিলেন, ‘বিক্ষোভকারীরা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের শত্রুদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন। বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হয়ে কাজ করছেন।’

বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার কঠোর বলপ্রয়োগ করেছিল। পশ্চিমা বিশ্বভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, বিক্ষোভে ছয় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ১৫০ শিশুও রয়েছে।

‘ডলার–ঘাটতি’ কী

ডলারের ঘাটতি বলতে বোঝায় সেই পরিস্থিতি, যখন কোনো দেশের কাছে বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার জন্য পর্যাপ্ত মার্কিন ডলার থাকে না।

বৈশ্বিক বাণিজ্যে অন্যতম প্রধান মুদ্রা মার্কিন ডলার। বিশেষ করে তেল, যন্ত্রপাতি ও ঋণ পরিশোধের জন্য ডলার ব্যবহৃত হয়। এর অর্থ, যেকোনো দেশের জন্য নিয়মিত ডলারের জোগান থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রপ্তানি কমে গেলে এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশ অবরুদ্ধ হলে ডলারের মারাত্মক সংকট দেখা দিতে পারে। এর ফলে স্থানীয় মুদ্রার মান দুর্বল হয়ে যায়, আমদানি করা পণ্যের দাম বেড়ে পায়, সঙ্গে মূল্যস্ফীতি লাগামছাড়া হয়ে পড়ে।

জার্মানির মারবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ রেজা ফারজানেগান বলেন, ‘ইরানে ডলারের ঘাটতি তৈরি করা হয়েছিল একসঙ্গে দুটি প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহের চ্যানেল বন্ধ করে দিয়ে। সেগুলো হলো তেল রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার বন্ধ করা।’

ইরানের অর্থনীতি তেলের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। তাই নিষেধাজ্ঞার কারণে তেল বিক্রি থেকে রাজস্ব আয় কমে গেলে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে মারাত্মক সংকট সৃষ্টি হতে পারে।

রেজা ফারজানেগান আল–জাজিরাকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানকে ইরানের সঙ্গে ডলারে লেনদেন করার ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে দ্বিতীয় ধাপের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর ফলে ইরানের বিদেশে থাকা বিদ্যমান রিজার্ভ আটকে গেছে এবং নতুন ডলার দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এটি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওই নিষেধাজ্ঞায় বলেছে, কেউ ইরানের তেল কিনলে বা বিক্রি করলে তাকে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট কী বললেন

ইরানকে কীভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে—গত সপ্তাহে মার্কিন কংগ্রেসে একটি শুনানিতে এ প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের মুদ্রার মান দ্রুত নিম্নমুখী করার কৌশল নিয়েছিল।

বেসেন্ট বলেন, ‘আমরা (অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে) যা করেছি, তা হলো দেশে ডলারের তীব্র ঘাটতি সৃষ্টি করা।’

মার্কিন অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ডিসেম্বরে আমাদের এই কৌশল চূড়ান্ত রূপ নেয়, যখন ইরানের একটি অন্যতম বৃহৎ ব্যাংক ধসে পড়ে...ইরানি মুদ্রা দ্রুত নিম্নমুখী হয়, মূল্যস্ফীতি ত্বরান্বিত হয়। এর ফলে আমরা ইরানের মানুষকে সড়কে নেমে বিক্ষোভ–প্রতিবাদ করতে দেখেছি।’

ইরানের নেতারা পাগলের মতো দেশের বাইরে অর্থ পাঠাচ্ছিলেন বলেও দাবি করেন বেসেন্ট। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, ইরানি নেতৃত্ব উন্মত্তভাবে দেশের বাইরে অর্থ পাঠাচ্ছে। তারা আসলে বিপদ বুঝে পালিয়ে যাওয়ার ধান্দা করছে। এটা ভালো লক্ষণ, হয়তো তারা বুঝতে পেরেছে তাদের শেষ সময় খুবই কাছে।’

এর আগে, গত মাসে দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ফক্স নিউজের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বেসেন্ট ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন, কীভাবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ইরানে সে সময় চলমান বিক্ষোভে ভূমিকা রাখছে।

বেসেন্ট বলেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অর্থ মন্ত্রণালয়কে ইরানের ওপর সর্বাধিক চাপ প্রয়োগ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তা কার্যকর হয়েছে। এ কারণে ডিসেম্বর মাসে তাদের অর্থনীতি ধসে পড়েছে। তারা আমদানি করতে পারেনি এবং প্রতিবাদে মানুষ সড়কে বিক্ষোভে নেমেছে।’

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ওই ডলার কারসাজির কারণে জানুয়ারিতে ডলারের বিপরীতে ইরানের মুদ্রার মান এতটাই পড়ে যায় যে ১ ডলার বিপরীতে ইরানি মুদ্রার বিনিময় মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১৫ লাখ রিয়াল।

এক বছর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যা ছিল, ১ ডলার সমান ৭ লাখ রিয়াল। গত বছরের তুলনায় ইরানে মূল্যস্ফীতি গড়ে ৭২ শতাংশ বেড়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। ইরানে বিক্ষোভের সময়ের চিত্র
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। ইরানে বিক্ষোভের সময়ের চিত্র। ছবি: কোলাজ/রয়টার্স

Monday, September 22, 2025

‘সেবার রাজনীতি’ যেভাবে ‘খয়রাতি মন’ তৈরি করে by আলতাফ পারভেজ

উচ্চ বিদ্যাপীঠগুলোতে ছাত্র সংসদ (ডাকসু ও জাকসু) নির্বাচনের পর দেশজুড়ে নাগরিক সমাজে অনেক ধরনের রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। যে বিতর্কগুলো জাতীয় নির্বাচনের বেলায়ও প্রাসঙ্গিক হতে পারে। সে জন্য সমাজে এসব আলোচনা হওয়া দরকার আছে।

সব বিতর্ক একসঙ্গে আলোচনায় না এনে আলাদাভাবে বিষয়গুলোর দিকে নজর দিতে পারি আমরা। যেমন ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে দান-অনুদানের কদর ও নির্বাচনে তার প্রভাব নিয়ে কথা হচ্ছে। আপাতত এ বিষয় এবং এর রাজনৈতিক–অর্থনীতি নিয়ে ভাবতে পারি আমরা।

ডাকসু, জাকসু ও রাকসু হলো শিক্ষার্থীদের ইউনিয়ন। পেশাগত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দর–কষাকষি করে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস জীবন স্বস্তিকর করাই এসব ইউনিয়নের প্রকৃত লক্ষ্য। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছাত্রদের দাবিদাওয়া আদায় করে দেওয়াই ছাত্র সংসদের কাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ব্যবস্থায় সংসদের বিধান সে জন্যই রাখা হয়েছে। এটা অনেকটা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ‘সিবিএ’র মতো।

কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানে একাধিক শ্রমিকসংগঠন থাকতে পারে; কিন্তু শ্রমিকেরা তাদের মধ্য থেকে কালেকটিভ বার্গেনিং এজেন্ট বা সিবিএ হিসেবে বেছে নেয় কয়েকজন কর্মীকে। ডাকসু, জাকসু ও রাকসুতেও শিক্ষার্থীদের তা–ই করার কথা।

ডাকসু, জাকসু ও রাকসুর কাজ হলো ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে কর্তৃপক্ষের কাছে ধরনা দেওয়া। এখন প্রশ্ন হলো ইউনিয়ন নেতৃত্ব যদি সরকার, রাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দাবিদাওয়া আদায়ের বদলে নিজেরাই ভিন্ন কোনো উৎস থেকে সম্পদ সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীদের জন্য সেবা ও সুবিধা বাড়াতে চেষ্টা করে, তাহলে সমস্যা কী? এর কি বিশেষ কোনো রাজনৈতিক তাৎপর্য আছে?

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নির্বাচনী অধ্যায়ের পূর্বাপর অনুসন্ধান করে অনেক রাজনৈতিক ভাষ্যকার বলছেন, বিদ্যাপীঠগুলোতে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি বাছাইয়ের নির্বাচনে দান-অনুদানে যুক্ত সংগঠন ও প্রার্থীরা ভোটে এগিয়ে ছিলেন। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দর–কষাকষির চেয়ে নিজেরাই ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীবান্ধব কিছু পদক্ষেপ নিয়ে সেবাধর্মী সংগঠনগুলো বাড়তি ভোট পেয়েছে। ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প থেকে শুরু করে হলে পানি বিশুদ্ধকরণ যন্ত্র বসানো পর্যন্ত অনেক কাজ করছে কোনো কোনো সংগঠন। তাদের বক্তব্য, শিক্ষার্থীরা এসব কাজ পছন্দ করছেন। তাঁরা এরকম দান-অনুদানে যুক্তদের ভোটে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে মনে হয়েছে।

এ রকম যুক্তি ও অনুমান যেহেতু অনেকের কাছে বেশ বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়েছে, সেই কারণে এই  সিদ্ধান্তে আসাও সহজ হয় যে অতীতে শিক্ষার্থীরা যেসব বিষয় দেখে নেতৃত্ব পছন্দ করতেন, এখনকার পছন্দের মানদণ্ড তার চেয়ে ভিন্ন।

এর ফল হিসেবে পরের অধ্যায় অনুমান করা কঠিন নয়। জাতীয়ভাবেও হয়তো অনেক সংগঠন এখন দান-খয়রাতধর্মী সেবামূলক কাজের দিকে বেশি ঝুঁকবে। সে ক্ষেত্রে একটি প্রশ্ন তো উঠতে পারে, ক্যাম্পাসে হোক বা অন্যত্র হোক, এসব সেবাধর্মী কাজের খরচ কারা জোগান দেবে বা দিচ্ছে?

শিক্ষার্থীদের পক্ষে ওয়াশিং মেশিন কিনে হলগুলোর তলায় বসানো সম্ভব নয়। হঠাৎ হঠাৎ গরু কিনে জিয়াফত আয়োজনও সহজ নয়। তাহলে নিশ্চয়ই বাইরের কোনো উৎস থেকে তারা এই অর্থ পাচ্ছে বা নিচ্ছে।

শত শত শিক্ষার্থীকে ইফতার করানো বা উপঢৌকন দেওয়াও বাইরের আর্থিক–সহায়তা ছাড়া সম্ভব নয়। তার মানে এ ধরনের সেবাধর্মী তৎপরতা শুধুই ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক বিশুদ্ধ কোনো বিষয় নয়। এর ক্যাম্পাস–বহির্ভূত একটি অন্তর্জাল অবশ্যই আছে; কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীদের এত অন্তর্জাল খোঁজার ‘টাইম নেই’। সুবিধাটা নগদ নগদ তাঁরা পছন্দ করছেন।

যেমন এখন ঢাকা শহরে গণপরিবহনের স্বল্পতা একটি বিশাল সমস্যা। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও খোদ রাজধানীতে সে রকম কোনো স্বস্তিকর ব্যবস্থা কোনো সরকার করতে পারেনি বা করেনি। এসব নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ-দুঃখ আছে। এখন কোনো রাজনৈতিক দল বা তার ছায়ায় পুষ্ট কোনো ‘সামাজিক সংগঠক’ যদি ঢাকায় বিনা মূল্যে ১০০ বাস নামায়, তাতে সাধারণ মানুষ খুব খুশি হবেন।

এ রকম খরচ ও সেবার একটি রাজনৈতিক-অর্থনীতি থাকতে পারে। নিদেনপক্ষে এর মাধ্যমে সমাজে মতাদর্শিক প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা তো থাকবেই; কিন্তু বিপন্ন মানুষ, নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত নাগরিকদের অত কিছু খেয়াল করলে চলে না। যে দল বা সংগঠন এ রকম সেবা দেবে, তারা ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থান বা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে না বিপক্ষে, সেটি ভাবার চেয়ে মানুষ দ্রুততার সঙ্গে ওই সেবা নেবেন এবং সেবাদানকারীও তাঁদের পছন্দনীয় হয়ে উঠবে।

এ রকম আরও সেবাদানকারী তখন এগিয়ে আসতে পারে এ রকম কাজে। কারণ ‘পছন্দ’ রাজনৈতিক-অর্থনৈতিকভাবে অনেক লোভনীয় জিনিস; কিন্তু তাতে গণপরিবহন–ব্যবস্থার দাবি খুব একটা এগোবে না। একাধিক দল একই সেবা দিতে নামলে ওই দাবি বরং হারিয়ে যাবে।

কিন্তু এ রকম মডেল রাষ্ট্রের খুব পছন্দ; অন্যান্য ‘কর্তৃপক্ষের’ও পছন্দ। সমাজে দারিদ্র্য কমানো, নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা, বৈষম্য হ্রাস করা, শিক্ষার অধিকার কিংবা স্বাস্থ্যসুবিধা বাড়ানোর দায় রাষ্ট্রের। রাষ্ট্র গঠিত হয়েছে এসব বিষয়ে ভূমিকা রাখার লক্ষ্যেই। আর সরকার গঠিত হয় রাষ্ট্রের সেসব দায় বাস্তবায়নের জন্য।

কিন্তু আমাদের রাষ্ট্র বা বিশ্বের অনেক রাষ্ট্র সেসব দায়িত্ব মেটাতে পারছে না। তাতে জন–অসন্তোষ আছে। এ ধরনের রাষ্ট্রে নাগরিকেরা বিদ্যমান ব্যবস্থার পরিবর্তন চাইতে পারেন। সে অবস্থায় রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের ‘বিকল্প’ হিসেবে সেবাধর্মী কাজ, দান, অনুদান ও খয়রাত রাষ্ট্রের জন্য একটি ভালো ডিফেন্সলাইন। এতে রাষ্ট্রের গায়ে ক্ষোভের আঁচড় কম লাগে। প্রশাসন তার ব্যর্থতা আড়াল করতে পারে।

যেমন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে খাবারের মান ও পরিমাণ বাড়ানো দেশের সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। এটা রাষ্ট্রীয় বাজেট বরাদ্দের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। এখন এমন হতে পারে ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে শক্তিশালী কোনো সংগঠন তাদের মূল দল বা দেশ-বিদেশের সহযোগী বন্ধুদের মাধ্যমে বিপুল অর্থ এনে নিজেরাই হলে হলে বাড়তি খাবার সরবরাহ করল। এটা শিক্ষার্থীরা খুব পছন্দ করবে। আবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং রাষ্ট্রও খুব পছন্দ করবে।

কেবল ক্যাম্পাসে নয়, কয়েক বছর ধরে গ্রামাঞ্চলেও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের মধে৵ কিছু রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন এভাবে ‘দরিদ্রবান্ধব সেবাধর্মী কাজ’ করছে। জাতীয় নির্বাচন হলে তারও চমকপ্রদ কিছু ফল দেখব আমরা। এ রকম সবকিছুর প্রাপ্তি হিসেবে সেবাধর্মী দান-অনুদানের একটি প্রতিযোগিতাও হয়তো দেখব আমরা চারদিকে। এতে জনসমাজে পদ্ধতিগত বঞ্চনার রাষ্ট্রীয় সমাধানের দাবি ক্রমে অবলুপ্ত হতে বাধ্য। এ রকম সমাধানচিন্তার প্রস্তাবকারীদেরও স্বভাবত সামনে দুর্দিন।

এ রকম আর্থসামাজিক অবস্থা রাষ্ট্রের জন্য একটি সুযোগের মতো। ক্ষমতার রাজনীতিতে উচ্চ আকাঙ্ক্ষী ধনাঢ্য সমাজের জন্যও অনুরূপ। জনসমাজ সেবা পেয়ে খুশি থাকলে শিক্ষা খাত বা স্বাস্থ্য খাতে ব্যায় না বাড়িয়ে বাড়তি টাকা রাষ্ট্র সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্র শক্তিশালী করায় বিনিয়োগ করতে পারে। এতে ‘রাষ্ট্র’ ক্রমে শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে এবং সমাজের পুরোনো অধিকারবাদী, পরিবর্তনবাদী রাজনীতিকেও কোনঠাসা করতে পারে।

সেবাধর্মী রাজনীতিতে রাষ্ট্রের লাভ তাই দ্বিবিধ। ফলে আন্তরিকভাবেই এ রকম ‘কাজ’ রাষ্ট্রের সব ‘কর্তৃপক্ষের’ সমর্থন, সহায়তা ও সহযোগিতা পায় ও পাবে। সব দেশে সেটিই হয়। কারণ, একদিকে এতে সব ‘কর্তৃপক্ষের’ সুরক্ষা বাড়ে। অন্যদিকে এতে তাদের শক্তিও বাড়ে। কুলীন সমাজ এ রকম রাষ্ট্রকে দিয়ে খুব সহজে কর্তৃত্ববাদী একটি শাসনও কায়েম করতে পারে।

কুলীন সমাজ ও করপোরেটদের জন্য দান-অনুদান কর্মকাণ্ডের রাজনৈতিক সুবিধা রাষ্ট্রের মতোই ব্যাপক ও সম্পূরক। সে বিষয়েও দু–চার কথা বলা দরকার।

সেবাধর্মী রাজনীতির একটি অনিবার্য পার্শ্বফল হলো সামাজিক বৈষম্য আড়াল হওয়া। সমাজে সম্পদের যে অসম বণ্টন এবং পুঁজির শোষণ রয়েছে, দানের রাজনীতি তাকে ন্যায্যতা ও স্বাভাবিক চেহারা দেয়। দারিদ্র্য ও যাবতীয় সামাজিক দুর্দশা যে একটি কাঠামোগত সমস্যা, সেটি আড়াল করে তথাকথিত এই ‘সেবা’।

‘সেবার রাজনীতি’ জনসমাজকে এই বার্তাই দেয়—‘ধনাঢ্যরা কীভাবে আয় করছেন, রাষ্ট্র সম্পদের সুষম বণ্টনে ব্যর্থ কি না, সেসব দেখার দরকার নেই তোমার। বৃহত্তর সমাজের কথা বাদ দাও। ধনাঢ্যরা তোমাকে যা দিচ্ছেন, তাতে তোমার ভালোই চলে যাবে। তুমি এতে সন্তুষ্ট থাকো। শোকর করো এবং দাতাদের তোমার অভিভাবক হতে দাও।’

এভাবে সেবার পথে, অধিকারবাদী প্রতিদ্বন্দ্বীকে বিনা যুদ্ধে ধরাশায়ী করে কুলীন সমাজ রাষ্ট্র ও রাজনীতির অভিভাবকত্ব পায়। তবে এ রকম ‘সেবাবাদ’ দুইভাবে রাষ্ট্র ও সমাজের ক্ষতি করে। রাষ্ট্রকে জনস্বার্থে সম্পদ বণ্টন ও ব্যবস্থাপনায় আরও ন্যায্য ও দক্ষ হতে বাধাগ্রস্ত করে এটা। জনগণের তরফ থেকে এ লক্ষ্যে চাপ কমতে থাকায় রাষ্ট্র ক্রমে একটি ক্ষুদ্র সুবিধাপ্রাপ্ত গোষ্ঠীর নিজস্ব হাতিয়ারে পরিণত হয়। গুটিকয়েকের হাতে সম্পদের পুঞ্জীভবনকে তখন সমস্যা মনে করা হয় না। এতে রাষ্ট্রের ভেতর সমান্তরাল অর্থনৈতিক বিকাশ সীমিত থেকে যায়।

দ্বিতীয়ত সমাজ ও রাষ্ট্রকে অধিকতর সুষম ও ন্যায়ানুগ করার ক্ষেত্রে জনসমাজের রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও আইনি অগ্রগতিও বাধাগ্রস্ত করে দান-অনুদান মডেল। সুবিধাবঞ্চিত সমাজ যেহেতু বাস্তব কারণে সেবা-দান-অনুদান অগ্রাহ্য করতে পারে না; বরং এটা পাওয়ার জন্য ন্যায্য ভিন্নমতও চেপে যায়, সে কারণে এই মডেল গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বিকাশও রুদ্ধ করে।

এটা জনসমাজে সৃষ্টিশীল উদ্যমের বদলে ‘খয়রাতি মন’ তৈরি করে চলে, বিশেষ করে সুবিধাগ্রহীতাদের মধ্যে। এ অবস্থায় মানুষ ভাবতে শুরু করে—তার বা তাদের অবস্থার পরিবর্তন বাইরের কোনো শক্তির দয়াদাক্ষিণ্যনির্ভর। নিজেরা বা তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যমান অবস্থার বদলে সক্ষম নয়। তাদের সে রকম লক্ষ্যে সংঘবদ্ধ হওয়ারও দরকার নেই। এ রকম মনোভাব সহজে সুবিধাপ্রাপ্ত ও ক্ষমতাবানদের পুরোনো কর্তৃত্ব ও শক্তিকে উৎপাদন-পুনরুৎপাদন হতে সহায়তা করে চলে।

‘সেবা-মডেল’ সমাজের ক্ষমতা-সম্পর্ক অপরিবর্তনশীল করে রাখতে চায় এবং সেবার আদলে নতুন ধরনের একটি উপনিবেশ-সংস্কৃতি জারি করে ও তাকে প্রতিমুহূর্তে প্রয়োজনীয় মনে করায়। ‘সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তিরা’ এতে চিরকাল নির্ভরশীল ও অপরের মুখাপেক্ষী থেকে যায় এবং তাঁদের দেশের ‘প্রতিষ্ঠানগুলো’র প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়নও আর হয় না। এতে সমৃদ্ধ সমাজ নির্মাণের বদলে ‘সুবিধা’ পাওয়ার সর্বব্যাপক আকুতি দেখা দেয়। এসব বিবেচনায় সমাজে ‘সেবা’ বিশেষ ধরনের একটি রাজনৈতিক বিনিয়োগ এবং নিশ্চিতভাবে কৌশলগত ও হেজিমনিক বিনিয়োগও বটে।

* আলতাফ পারভেজ, গবেষক
- মতামত লেখকের নিজস্ব

‘সেবার রাজনীতি’ যেভাবে ‘খয়রাতি মন’ তৈরি করে

Friday, September 19, 2025

এক পরিবারের অ্যাকাউন্টে ৮ হাজার কোটি টাকা লেনদেন by মারুফ কিবরিয়া

ব্যবসায়ী শওকত আলী চৌধুরী। ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যানও তিনি। মূলত শিপিং ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। চট্টগ্রামের এই ব্যবসায়ী ও তার পরিবারের সদস্যদের আট হাজার কোটি টাকারও বেশি পরিমাণ টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে লেনদেনের তথ্য পেয়েছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। গত আগস্ট মাসে তৈরি হওয়া সংস্থাটির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বিএফআইইউ বলছে, শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন সন্দেহজনক। সংস্থাটির ধারণা, নানা অনিয়মের মাধ্যমে অর্থপাচার করে বিদেশে সম্পদও গড়েছেন শওকত আলী চৌধুরী। যা বিএফআইউ’র অনুসন্ধানে রয়েছে। এ ছাড়া গত আগস্ট মাসে তৈরি হওয়া প্রতিবেদনটি ইতিমধ্যেই দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) পাঠানো হয়েছে। দুদকও প্রাথমিক অনুসন্ধানের জন্য সংস্থাটির যাচাই-বাছাই কমিটিতে (যাবাক) দিয়েছে।

বিএফআইইউ’র খসড়া প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে,  শওকত আলী চৌধুরী, তার স্ত্রী তাসমিয়া আম্বারীন মেয়ে জারা নামরীন ও ছেলে জারান আলী চৌধুরী চারজনের এখন পর্যন্ত ২৮টি ব্যাংকে ১৮৭টি হিসাব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ইবিএল চেয়ারম্যানের নামে ১৪টি হিসাব, তার স্ত্রীর নামে ১৫টি হিসাব, জারা নামরীন এর নামে ৯টি হিসাব ও মো. জারান আলী চৌধুরীর নামে ০৩টি হিসাব এবং তাদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ১৪৬টি হিসাব পাওয়া গেছে।
চলতি বছরের ১৫ই জুন পর্যন্ত আসা হিসাব অনুযায়ী এসব ব্যাংক হিসাবে ৮ হাজার ৪০৭ কোটি ৯১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৮২.২২ টাকা জমা করা হয়েছে।  একই সময়ে ৮ হাজার ২৪৭ কোটি, ৫৬ লাখ ৯২ হাজার ৭৬০.৩১ টাকা  উত্তোলন করা হয়েছে। উক্ত সময়ে স্থিতির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৩ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার ১৫৮.১৬ টাকা। উল্লিখিত হিসাবসমূহের কেওয়াইসি, হিসাব বিবরণী এবং অন্যান্য দলিল বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

বিএফআইইউ’র প্রাথমিক অনুসন্ধানে, শওকত আলী চৌধুরীর পরিচালিত নানাবিধ ব্যবসায়িক কার্যক্রমের মধ্যে স্ক্র্যাপ ভেসেল আমদানির উদ্দেশ্যে ২০১২ সাল থেকে তাদের মালিকানাধীন এসএন করপোরেশনের পক্ষে ১৪১টি এলসি সংশ্লিষ্ট দলিল পর্যালোচনাধীন রয়েছে। তার মধ্যে ১১টি এলসি’র দলিল বিশ্লেষণে উক্ত এলসি সংশ্লিষ্ট স্ক্র্যাপ ভেসেলগুলো আদৌ শেষ গন্তব্য হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর কি-না তার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং কিছু ক্ষেত্রে লয়েড লিস্ট ইন্টেলিজেন্স অনুযায়ী একই জাহাজের দুই রকম তথ্য পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে বৃটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডের একই ঠিকানায় রেজিস্ট্রেশনকৃত ০৩টি প্রতিষ্ঠান থেকে স্ক্র্যাপ ভেসেল কেনার তথ্যও পাওয়া গেছে যা যথেষ্ট সন্দেহ তৈরি করে। পরবর্তীতে শওকত ও তার পরিবারের সদস্যরা এবং তাদের অন্যান্য ব্যবসার তথ্যও অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়।

বিএফআইইউ’র অনুসন্ধানে বলা হয়, শওকত আলী চৌধুরীর ঢাকা ব্যাংকের জুবিলী রোড শাখায় পরিচালিত ঢাকা ব্যাংক প্লাটিনাম হিসাবটি পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, তিনি হিসাবটি ২০০৪ সালের ১লা জানুয়ারি খোলেন এবং ২০১৭ সালের ৩১শে ডিসেম্বর বন্ধ করেন। এই ব্যাংক হিসাবে মোট জমার পরিমাণ ৩ হাজার ৯৮৭ কোটি ৯৬ লাখ ৩ হাজার ২৭৪.৩১ টাকা। এ ছাড়া মোট উত্তোলনের পরিমাণ মোট ৩ হাজার ৯৮৬ কোটি ২৩ লাখ ২ হাজার ৮৩৫.২৪ এবং বন্ধকালীন স্থিতি (ক্লোজিং ব্যালান্স) ছিল ১৭ লাখ ৩০ হাজার ৪৩৯.০৭ টাকা। এ হিসাব ব্যবহার করে তিনি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এসএন করপোরেশনের লেনদেন করেছেন যা পরোক্ষভাবে ট্যাক্স ফাঁকির উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকতে পারে বলে বিএফআইইউ’র অনুসন্ধানে সন্দেহ করা হয়েছে।
এ ছাড়া শওকত আলী চৌধুরীর ব্যক্তিগত ইবিএল প্রিমিয়াম সেভিংস ধরনের সঞ্চয়ী হিসাব থেকে ১২৫ বার ইস্টার্ন ব্যাংকের কোম্পানি সেক্রেটারি মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন নগদ অর্থ উত্তোলন করেন। ব্যক্তিগত হিসাব থেকে ব্যাংকের কোম্পানি সেক্রেটারির এ অর্থ উত্তোলন ক্ষমতার অপব্যবহার নির্দেশ করে বলেও সংস্থাটির অনুসন্ধান সূত্র জানিয়েছে।

অবশ্য আব্দুল্লাহ আল মামুন মানবজমিনকে বলেছেন, আমি এসব জানি না। এগুলোর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততাও নেই। বিএফআইইউ একটি তার ব্যাংক একাউন্ট ফ্রিজ করার বিষয়টি নিউজে দেখতে পেয়েছি।

বিএফআইইউ সূত্র জানায়, অনুসন্ধানে শওকত আলী চৌধুরী কন্যা জারা নামরীনের অনিয়মও খুঁজে পাওয়া গেছে। ইস্টার্ন ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় তার ব্যক্তিগত হিসাবে ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে ৩১ কোটি টাকার জমা হয়েছে যা তার আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং মাসের শেষের দিকে একটি ক্লিয়ারিং চেকের মাধ্যমে অন্য হিসাবে ৩০ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে যা সন্দেহজনক। এসব লেনদেনের প্রাথমিক উৎস হিসেবে কয়েকটি লেনদেনের ক্ষেত্রে শেয়ার লেনদেনের উল্লেখ রয়েছে এবং এ হিসাব থেকে এসএন করপোরেশনের উল্লেখ রয়েছে যা কর ফাঁকির দিকে ইঙ্গিত প্রদান করে। অনুসন্ধানে জারা নামরীন এসএন কর্পোরেশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন বলে কোনো দলিলও পাওয়া যায়নি বলে বিএফআইইউ’র ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সংস্থাটির অনুসন্ধানে জানা যায়, শওকত আলীর ছেলে জারান আলী চৌধুরীর মিডল্যান্ড ব্যাংকের সঞ্চয়ী হিসাবে ট্রানজেকশন প্রোফাইলের অতিরিক্ত অর্থ জমা ও উত্তোলন করা হয়েছে। এ সঞ্চয়ী হিসাবে এস. এন করপোরেশন থেকে অর্থ জমা হয়েছে এবং সে অর্থ রয়েল ক্যাপিটালের মাধ্যমে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করা হয়েছে। অর্থাৎ সঞ্চয়ী হিসাব হলেও এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড সম্পাদন করা হয়েছে যা কর ফাঁকির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে মনে করা হয়। তাছাড়া, অ্যাকাউন্ট ওপেনিং ফরমে জারান আলী চৌধুরী এর পেশা দেখানো হয়েছে  বেকার এবং আয়ের উৎস হিসেবে মায়ের ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ দেখানো হয়েছে। একজন ছাত্রের সঞ্চয়ী হিসাবে বিপুল পরিমাণ ব্যবসায়িক অর্থ জমা করা এবং সে অর্থ শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করা অত্যন্ত সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড বিধায় এ বিষয়ে অধিকতর তদন্ত করা প্রয়োজন বলেও জানানো হয় বিএফআইইউ’র প্রতিবেদনে।
এস. এন করপোরেশনের নামে পরিচালিত মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সিসি (হাইপো) ধরনের হিসাব থেকে শওকত আলী চৌধুরী ও তার স্ত্রী তাসমিয়া আম্বারীনের মালিকানাধীন আরেকটি প্রতিষ্ঠান নামরীন এন্টারপ্রাইজে অর্থ জমা করা হয়েছে এবং শিপ ব্রেকিং খাতের আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অর্থ জমা করা হয়েছে। তাছাড়া, নিড ড্রেসেস প্রা. লি. নামক একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে ৫০ কোটি ৪০ লাখ টাকা জমা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া সিটি ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় ২০১০ সালের ২৫শে জুলাই শওকত আলী চৌধুরীর ব্যক্তিগত হিসাবে এস. এন করপোরেশন থেকে ৩ কোটি টাকা জমা হয়েছে এবং সে অর্থ ওই দিনই মিডওয়ে সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ হয়েছে। তাছাড়া, এই হিসাবে ২০১৩ সালের ২৯শে জুন ১০৬ কোটি ৮০ কোটি টাকা জমা হয়েছে এবং পরবর্তীতে এ অর্থ এস. এন করপোরেশনে প্রেরণ করা হয়। অর্থাৎ ব্যক্তিগত হিসাব ব্যবহার করে ব্যবসায়িক লেনদেন সম্পন্ন করা হয়েছে যা কর ফাঁকির উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকতে পারে বলে অনুসন্ধানে বলা হয়।

বিএফআইইউ’র বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৫ সালের ৫ই অক্টোবর প্রিমিয়ার ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখা কর্তৃক গ্রাহক এস. এন করপোরেশনের একটি ঋণপত্রের  বিপরীতে গ্রাহকের আমদানি দায় পরিশোধের জন্য গ্রাহককে একই বছরের ১৫ই অক্টোবর ২৬৯ কোটি ৪৬ লাখ ৭ হাজার ৬৪৬.৯০ টাকার এলটিআর সুবিধা প্রধান করে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন ছাড়াই শওকত আলীর ওই প্রতিষ্ঠানকে উক্ত সময়ে গ্রাহককে বর্ণিত এলটিআর সুবিধা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ১০ই অক্টোবর ২০১৫ প্রধান কার্যালয় থেকে শাখা বরাবর উক্ত এলটিআর পোস্ট-ফ্যাক্টো অনুমোদন প্রেরণ করা হয় যা শাখা কর্তৃক ১৪ই অক্টোবর গৃহীত হয়। অর্থাৎ, ঋণ সুবিধা প্রদানের কোনো অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও গ্রাহককে সুবিধা প্রদানের উদ্দেশ্যে ব্যাংকিং রীতি নীতির ব্যত্যয় ঘটিয়ে উক্ত এলটিআর দেয়া হয়।

বিএফআইইউ’র প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, স্ট্যান্ডার্ড চার্টাড ব্যাংকের চট্টগ্রাম শাখা কর্তৃক এসএন করপোরেশনের পক্ষে খোলা তিনটি ঋণপত্রের বেনিফিসারি ছিল তিনটি বৃটিশ আইল্যান্ড নিবন্ধিত কোম্পানি। বেনিফিসিয়ারি প্রতিষ্ঠান তিনটি বৃটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে নিবন্ধিত যা গাইডলাইন্স ফর প্রিভেনশন অব ট্রেড বেজড মানি লন্ডারিংয়ে একটি এলার্ট হিসেবে উলেখ রয়েছে এবং এক্ষেত্রে ব্যাংক কর্তৃক এনহেন্স ডিউ ডিলিজেন্স করার জন্য নির্দেশনা রয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংক কর্তৃক সঠিকভাবে ইডিডি না করে উক্ত ঋণপত্রগুলো স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়াও, গাইডলাইন্স ফর ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রানজেকশন্স-২০১৮, ভলিউম-১ এর ০৭ অধ্যায়ের সেকশন-(রর) এর ২৩ (বি) নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত নিদের্শনা লংঘনপূর্বক বিদেশি সরবরাহকারীর আর্থিক সচ্ছলতাসহ গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ না করেই শাখা কর্তৃক বর্ণিত এলসি স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়াও, বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠান তিনটি একই ঠিকানায় নিবন্ধিত। এ ছাড়াও, উন্মুক্ত অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠান তিনটির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

বিদেশে সম্পদের তথ্য: বিএফআইইউ’র একটি সূত্র জানিয়েছে, শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যের নামে সিঙ্গাপুর, দুবাই ও যুক্তরাজ্যে সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরে দু’টি বাড়ির তথ্য পাওয়া যায়। আর অন্য দুই দেশের সম্পদের তথ্যগুলো নিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছে সূত্রটি।

ব্যাংক হিসাব স্থগিত: গত ১লা জুলাই শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের সব ব্যাংক হিসাব স্থগিত করে বিএফআইইউ। পরে ৩০শে জুলাই সেই স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. তানভীর হাসান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক আদেশে ওই সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘মো. শওকত আলী চৌধুরী, তাসমিয়া আম্বারীন, যারা নামরীন ও মো. জারান আলী চৌধুরী এবং তাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত হিসাবের লেনদেনের ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ২৩(১) (গ) ধারার আওতায় ৩১ জুলাই  থেকে ২৯শে আগস্ট পর্যন্ত ত্রিশ দিন বর্ধিত করার জন্য আপনাদের নির্দেশ প্রদান করা হলো। স্থগিতাদেশের ক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯ এর ২৬(২) বিধি প্রযোজ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।’

অনুসন্ধানের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএফআইইউ’র উপপ্রধান আমির উদ্দিন মানবজমিনকে বলেন, এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত তেমন তথ্য নেই। অনুসন্ধান কার্যক্রম চলছে। পুরো প্রতিবেদন পেতে সময় লাগবে।

বিএফআইইউ’র অনুসন্ধানের বিষয়ে জানতে শওকত আলী চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তার দুইটি মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে কোম্পানির সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, স্যারের সঙ্গে আমার কথা হয়নি। মঙ্গলবার ঢাকায় এসেছেন। এখন তিনি ঢাকায় নেই। আসলে আমার সঙ্গে তার কথা হয় না। 

mzamin

Wednesday, May 14, 2025

কর রেয়াত যে কারণে বাতিল করতে হবে by জসীম উদ্দিন রাসেল

বর্তমান করব্যবস্থায় আয়কর প্রদানের ক্ষেত্রে কর রেয়াত এবং ন্যূনতম করব্যবস্থা একে অপরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আয়কর আইনে কর রেয়াতের মাধ্যমে একজন সাধারণ ব্যক্তি করদাতার করের বোঝা হ্রাস করার উপায় থাকলেও অন্যায়ভাবে ন্যূনতম কর আরোপের কারণে নিম্ন এবং নিম্নমধ্যম আয়ের করদাতা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

কর রেয়াত এবং ন্যূনতম কর; উভয়ই নিম্ন এবং নিম্নমধ্যম আয়ের মানুষ এবং উচ্চ আয়ের মানুষের সঙ্গে কর প্রদানের ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি করছে। কর প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যক্তির আয়ের ওপর নির্ভর করে কর প্রয়োগ করা উচিত, যাতে করে কর প্রদানের ক্ষেত্রে করদাতাদের মধ্যে কোনো অসম সুবিধা না থাকে। এ জন্য কর রেয়াত এবং ন্যূনতম কর উভয়ই বাতিল করা উচিত।

কর রেয়াত বাতিল করতে হবে কেন

আয়কর হিসাব করে দেখা যায়, ঢাকা উত্তর বা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বাসকারী একজন বেসরকারি চাকরিজীবী করদাতার বছরে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা থেকে ৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন খাতে আয় হলে করদায় আসে ৫ হাজার টাকা।

যাঁদের আয় ৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বা তার বেশি, তাঁরা কর রেয়াত-সুবিধা সম্পূর্ণ ভোগ করে করদায় লাঘব করতে পারেন। বিপরীতে যাঁদের আয় এই সীমার নিচে তাঁরা কর রেয়াত-সুবিধা ভোগ করতে ব্যর্থ হন। এবং এর অন্যতম কারণ হলো অন্যায্য ন্যূনতম করব্যবস্থা।

এখানে কর রেয়াত বাদ দেওয়া হলে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ উঠবে। এক. করদায় বেড়ে যাবে এবং দুই. করদাতার মধ্যে সঞ্চয়ের আগ্রহ কমে যাবে।

যেহেতু আয়ের ওপর ভিত্তি করে কর প্রদান করতে হবে, তাই আয়ের পরিমাণ যত বাড়তে থাকবে, করের পরিমাণও পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকবে। এ জন্য নিম্ন এবং নিম্নমধ্যম আয়ের করদাতার জন্য কর ধাপ অনুযায়ী করহারব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে।

বর্তমানে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা করযোগ্য আয় অতিক্রম করার পর প্রথম ১ লাখ টাকার ওপর ৫ শতাংশ কর প্রযোজ্য। এ ক্ষেত্রে এই ধাপটা বৃদ্ধি করে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত করা করা হলে নিম্ন এবং নিম্নমধ্যম আয়ের করদাতার করের পরিমাণ কিছুটা কম থাকবে। এর সঙ্গে ট্যাক্স অফসেট ব্যবস্থা প্রবর্তন করলে করের পরিমাণ সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।

ন্যূনতম কর বাতিল করে ট্যাক্স অফসেট চালু করুন

ন্যূনতম করের আওতা ব্যাপক। একজন সাধারণ গৃহিণী প্রতি মাসে অল্প অল্প করে সঞ্চয় করেও যদি সঞ্চয়পত্র কেনেন বা ব্যাংকে টাকা জমা রাখেন, তাহলে সেখান থেকে যে মুনাফা প্রদান করা হয়, তা থেকে উৎসে ১০ শতাংশ কর কর্তন করা হয়। এই কর তিনি আর ফেরত পান না। এভাবে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্যায়ভাবে স্বল্প আয়ের মানুষের কাছ থেকে করের নামে টাকা কেড়ে নিচ্ছে।

তাই ন্যূনতম করব্যবস্থা বাতিল হলে একদিকে যাঁরা আয়কর রিটার্ন দাখিলের বাইরে আছেন, তাঁরাও যেমন বাধ্যতামূলক আয়কর প্রদান থেকে মুক্ত হবেন, আবার তেমনি যাঁরা রিটার্ন দাখিল করেন, তাঁদের কর প্রদানের ক্ষেত্রেও আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য আসবে।

তবে কর রেয়াত-সুবিধা বাতিল হলে যাঁদের করযোগ্য আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম করবে, তাঁরা সবাই যেহেতু তাঁদের আয় অনুপাতে কর প্রদান করবেন, তাই নিম্ন এবং নিম্নমধ্যম আয়ের করদাতাদের জন্য ট্যাক্স অফসেট ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

এই ট্যাক্স অফসেট সুবিধা পাবেন দুই শ্রেণির করদাতা। এক. যাঁরা নিম্ন এবং নিম্নমধ্যম আয়ের করদাতা তাঁরা আয় অনুপাতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ট্যাক্স অফসেট পাবেন, যা তাঁদের মোট করদায় থেকে বাদ যাবে। দুই. যাঁরা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বাস করবেন, তাঁরাও একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ট্যাক্স অফসেট পাবেন। এই কর-সুবিধা অস্ট্রেলিয়ায় করদাতাদের জন্য রয়েছে।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে, কর প্রদানের ক্ষেত্রে সমতা আসলেও কর রেয়াত বাদ দিলে করদাতার সঞ্চয়ের কী হবে?

সর্বজনীন পেনশন তহবিল বাধ্যতামূলক করুন

বাংলাদেশে সর্বজনীন পেনশনব্যবস্থা চালু হয়েছে। এটাকে সবার জন্য বাধ্যতামূলক করতে হবে। বাংলাদেশে খুবই অল্প কিছু প্রতিষ্ঠানে ভবিষ্যৎ তহবিল আছে যেখানে চাকরিজীবী এবং চাকরিদাতা উভয়ে চাঁদা প্রদান করে থাকেন। কিন্তু অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে এই সুবিধা নেই। তাই দীর্ঘ সময় চাকরি করলেও অবসরে যাওয়ার সময় তাঁরা শূন্য হাতে বাড়ি ফেরেন।

যেসব প্রতিষ্ঠানে ভবিষ্যৎ তহবিল আছে, সেখানে সর্বনিম্ন ছয় মাস বা এক বছর চাকরি না করলে চাকরিদাতার অংশ চাকরিজীবী পান না। শুধু চাকরিজীবী যেটুকু চাঁদা দিয়েছেন, ওইটুকুই পান। এবং এই অংশটুকু পরিমাণে নগণ্য হওয়ায় অনেক সময় দেখা যায় খরচ হয়ে যায়।

অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে মোট বেতনের ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ সুপারঅ্যানুয়েশন ফান্ডে বাধ্যতামূলকভাবে প্রদান করতে হয়। ১ জুলাই ২০২৫ থেকে এই হার ১২ শতাংশে উন্নীত হবে।

যখনই কেউ কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে যান, তখন তাঁকে তিনটি তথ্য প্রদান করতে হয়। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, ট্যাক্স ফাইল নম্বর (যেটা বাংলাদেশে কর শনাক্তকরণ নম্বর হিসেবে পরিচিত) এবং সুপার ফান্ডের নম্বর। একজন ব্যক্তি যেমন যেকোনো ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন, ঠিক তেমনি অসংখ্য সুপার কোম্পানি আছে, যেখানে সুপার অ্যাকাউন্ট খোলা যায়।

কোনো চাকরিজীবী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে এক দিনও কাজ করেন, তাহলে তাঁর ব্যাংকে যে বেতন দেওয়া হয়, তার ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ সুপার অ্যাকাউন্টে প্রদান করা হয়। এবং এই সুপার ফান্ডে যে ডলার জমা হচ্ছে, তা অবসরে যাওয়ার আগে উত্তোলন করা যায় না। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় ৬৭ বছর হলো পেনশনের জন্য নির্ধারিত বয়স এবং এই বয়সের আগে এই ফান্ড থেকে ডলার উত্তোলন করা যায় না। চাইলে এক সুপার ফান্ড কোম্পানি থেকে জমা করা অর্থ অন্য সুপার ফান্ড কোম্পানিতে নেওয়া যাবে, কিন্তু উত্তোলন করা যাবে পেনশনের বয়স হলে।

এই ব্যবস্থার ফলে যাঁরা চাকরি করছেন, তাঁদের দীর্ঘ সময় ধরে ডলার জমতে থাকে এবং অবসরে যাওয়ার পর তাঁরা ভালো একটা অঙ্ক পান, যা দিয়ে শেষ বয়সে চলতে পারেন।

বাংলাদেশেও যদি মোট বেতনের একটা অংশ এভাবে জমতে থাকে তাহলে অবসরে যাওয়ার পর শেষ বয়সে আর্থিক দুর্দশার মধ্যে পড়তে হবে না।

তাই কর রেয়াত না থাকলেও বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে যাবে না। বরং যাঁদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করার প্রয়োজন নেই, তাঁদেরও মোট আয়ের একটা অংশ পেনশন ফান্ডে জমতে থাকবে।

* জসীম উদ্দিন রাসেল অস্ট্রেলিয়ায় কর্মরত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট

ju_rasel@yahoo.com

(মতামত লেখকের নিজস্ব)

কর রেয়াত যে কারণে বাতিল করতে হবে

Saturday, April 5, 2025

বিলিয়নিয়ারের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রই শীর্ষে

বিশ্বখ্যাত ফোরবস ম্যাগাজিন ২০২৫ সালে বিশ্বের বিলিয়নিয়ারদের নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে। এতে সর্বোচ্চ ৯০২ জনই যুক্তরাষ্ট্রের। তারাই এই তালিকায় সবার শীর্ষে আছে। এই তালিকায় ভারতের ২০৫ জন বিলিয়নিয়ারের নাম স্থান পেয়েছে। তার মধ্যে প্রথম ভারতে নারীদের মধ্যে শীর্ষ ধনী হয়েছেন জিন্দাল গ্রুপের চেয়ারপারসন সাবিত্রি জিন্দাল। ফোরবস বলেছে, এ বছর বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ৩,০০০ ছাড়িয়ে গেছে। তাদের যার সম্মিলিত সম্পদের মূল্য আশ্চর্যজনকভাবে ১৬.১ ট্রিলিয়ন ডলার। এতে দেখা যায়, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সম্পদ ঘনীভূত অবস্থায় রয়েছে মাত্র তিনটি দেশে। তা হলো- যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং ভারত। তালিকার শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে ৯০২ জন বিলিয়নিয়ার রয়েছে। এই সংখ্যা গত বছরের ৮১৩ জন থেকে বেশি। তাদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ৬.৮ ট্রিলিয়ন ডলার। বিশ্বের ১৫ শত-বিলিয়নিয়ারের মধ্যে ১৩ জনের আবাসস্থল এখনো যুক্তরাষ্ট্রে। এর মধ্যে রয়েছে ইলন মাস্ক (৩৪২ বিলিয়ন ডলার), মার্ক জাকারবার্গ (২১৬ বিলিয়ন ডলার) এবং জেফ বেজোস (২১৫ বিলিয়ন ডলার)। দেশটির প্রযুক্তি, অর্থ এবং বিনোদন শিল্পগুলো প্রচুর সম্পদ উৎপাদন করে চলেছে, যা বিলিয়নিয়ার সংখ্যা এবং মোট সম্পদের দিক থেকে এটিকে স্পষ্টভাবে শীর্ষে রেখেছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চীন। সেখানে ৪৫০ জন বিলিয়নিয়ারের সম্পদের পরিমাণ ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলার। এর শীর্ষে আছেন বাইটড্যান্সের ঝাং ইয়িমিং (৬৫.৫ বিলিয়ন ডলার)। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতে এ বছর ২০৫ জন বিলিয়নিয়ার রয়েছেন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২০০। ৯২.৫ বিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক মুকেশ আম্বানি ভারতের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। গৌতম আদানি ৫৬.৩ বিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক।

২০২৫ সালে শীর্ষ ১০টি বিলিয়নিয়ার দেশ এখানে দেয়া হলো- তালিকার সংখ্যা অনুসারে তালিকাভুক্ত:
১. যুক্তরাষ্ট্র
মোট বিলিয়নিয়ার: ৯০২ জন (গত বছর ৮১৩ জন থেকে বেশি)
মোট সম্পদের পরিমাণ: ৬.৮ ট্রিলিয়ন ডলার
২. চীন
মোট বিলিয়নিয়ার: ৪৫০ (গত বছর ৪০৬ জন থেকে বেশি)
মোট সম্পদের পরিমাণ: ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলার
৩. ভারত
মোট বিলিয়নিয়ার: ২০৫ জন (গত বছর ২০০ জন থেকে বেশি)
মোট সম্পদের পরিমাণ: ৯৪১ বিলিয়ন ডলার।
৪. জার্মানি
মোট বিলিয়নিয়ার: ১৭১ (গত বছর ১৩২ জন থেকে বেশি)
মোট সম্পদ: ৭৯৩ বিলিয়ন ডলার।
৫. রাশিয়া
মোট বিলিয়নিয়ার: ১৪০ (গত বছর ১২০ জন থেকে বেশি)
মোট সম্পদের পরিমাণ: ৫৮০ বিলিয়ন ডলার
৬. কানাডা
মোট বিলিয়নিয়ার: ৭৬ জন (গত বছর ৬৭ জন থেকে বেশি)
মোট সম্পদের পরিমাণ: ৩৫৯ বিলিয়ন ডলার
৭. ইতালি
মোট বিলিয়নিয়ার: ৭৪ জন (গত বছর ৭৩ জন থেকে বেশি)
মোট সম্পদ: ৩৩৯ বিলিয়ন ডলার।
৮. হংকং
মোট বিলিয়নিয়ার: ৬৬ (গত বছর ৬৭ জন থেকে কম)
মোট সম্পদের পরিমাণ: ৩৩৫ বিলিয়ন ডলার।
৯. ব্রাজিল
মোট বিলিয়নিয়ার: ৫৬ (গত বছর ৬৯ জন থেকে কম)
মোট সম্পদের পরিমাণ: ২১২ বিলিয়ন ডলার।
১০. যুক্তরাজ্য
মোট বিলিয়নিয়ার: ৫৫ জন (গত বছরের মতোই)
মোট সম্পদের পরিমাণ: ২৩৮ বিলিয়ন ডলার।

mzamin

Tuesday, March 18, 2025

সিএমএসএমই ঋণ নীতিমালা: ছোট উদ্যোক্তাদের ঋণ পাওয়া সহজ হলো

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ছোট উদ্যোক্তাদের ঋণ পাওয়া আরও সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) না থাকলেও ছোট উদ্যোক্তাদের পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এ জন্য কোনো জামানতও লাগবে না। পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তারা যাতে আরও বেশি ঋণ পান, সে জন্যও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে কারা নারী উদ্যোক্তা হিসেবে বিবেচিত হবেন, সেটিও পরিষ্কার করা হয়েছে। যেসব ব্যাংকের দেশজুড়ে শাখা–উপশাখা নেই, তারা এ ধরনের ঋণ অন্য ব্যাংকের মাধ্যমেও বিতরণ করতে পারবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে সাত বছর করা হয়েছে।

নতুন এসব বিধান যুক্ত করে কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগে (সিএমএসএমই) অর্থায়নের নতুন নীতিমালা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে সিএমএসএমই ঋণ বিতরণ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই নীতিমালা মেনে চলতে হবে। আগামী পাঁচ বছর এই নীতিমালা কার্যকর থাকবে।

নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, চলতি বছরের মধ্যে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের ২৫ শতাংশ সিএমএসএমই খাতে বিতরণ করতে হবে। পাশাপাশি এই খাতে প্রতিবছর দশমিক ৫ শতাংশ হারে ঋণ বাড়াতে হবে। ২০২৯ সালের মধ্যে ঋণের ২৭ শতাংশ সিএমএসএমই খাতে দিতে হবে। এর মধ্যে ক্লাস্টার খাতে ঋণের লক্ষ্য ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। নারী উদ্যোক্তা খাতে ঋণ আগের মতোই ১৫ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে। সেবা খাতের ঋণ ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ ও ব্যবসা খাতে ঋণ ৩৫ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশ করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা সিএমএসএমই খাতে ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ১৩ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা, যা ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের ১৮ দশমিক ৪০ শতাংশ। ব্যাংকগুলোতে এখন এসএমই ঋণের সুদহার ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ। তবে পুনঃ অর্থায়ন সুবিধার ঋণের ক্ষেত্রে সুদহার ৭ থেকে ৮ শতাংশ।

* কুটিরশিল্প খাতের উদ্যোক্তারা পাবেন সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা
* মাইক্রো শিল্প উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ দুই কোটি টাকা
* ক্ষুদ্র শিল্পের উদ্যোক্তারা পাবেন সর্বোচ্চ ২৫ কোটি টাকা
* মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা

টিআইএন না থাকলেও মিলবে ঋণ

বর্তমানে সব ধরনের ঋণ ও ক্রেডিট কার্ড নিতে টিআইএন বাধ্যতামূলক। তবে সিএমএসএমই নীতিমালায় বলা হয়েছে, টিআইএন না থাকলেও ঋণ পাবেন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের উদ্যোক্তারা। ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন তাঁরা। নীতিমালা অনুযায়ী, উৎপাদন, সেবা ও ব্যবসা—এই তিন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের উদ্যোক্তারা, যাঁদের জনবল পারিবারিক সদস্যসহ ১০ জনের বেশি নয়, তাঁরা ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। ঋণের ক্ষেত্রে এই শ্রেণির উদ্যোক্তাদের টার্নওভারের কোনো শর্ত রাখা হয়নি। তবে তাঁদের জমি ও কারখানা ভবন ব্যতীত প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের স্থায়ী সম্পদের মূল্য পাঁচ লাখ টাকার কম হতে হবে।

কারা কত ঋণ পাবেন

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। ১২১ থেকে ৩০০ কর্মী আছেন, এমন তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান অথবা এক হাজার কর্মী আছেন, এমন শ্রমঘন শিল্পে এই ঋণ দেওয়া যাবে। এ ছাড়া মাঝারি শিল্পের মধ্যে সেবা খাতে সর্বোচ্চ ৭৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া যাবে, যেখানে কর্মীর সংখ্যা ৫১ থেকে ১২০ জন। উৎপাদন খাতের ক্ষেত্রে মাইক্রো শিল্প সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা ও ক্ষুদ্র শিল্পের উদ্যোক্তারা ২৫ কোটি টাকা ঋণ পাবেন। ট্রেডিং খাতের মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তারা ১০ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র শিল্পের ট্রেডিং ও সেবা খাতের উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ৮ কোটি টাকা ঋণ পাবেন। অন্যদিকে ট্রেডিং খাতের মাইক্রো শিল্পের উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা এবং কুটিরশিল্প খাতের উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা ঋণ পাবেন।

৩০ দিনে ঋণ

নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি ডিজিটাল পদ্ধতিতেও ঋণের আবেদন করতে পারবেন সিএমএসএমই উদ্যোক্তারা। ঋণ আবেদন জমার পর গ্রাহককে তা মোবাইলে খুদে বার্তার মাধ্যমে জানাতে হবে। ৩০ দিনের মধ্যে ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ঋণ অনুমোদন হলে তা যেমন গ্রাহককে অবহিত করতে হবে, তেমনি অনুমোদন না হলে প্রকৃত কারণসহ গ্রাহককে তা জানাতে হবে। আবেদন অনুমোদন না হলে নতুন করে আবার আবেদন করতে পারবেন গ্রাহকেরা। সিএমএসএমই ঋণের সব তথ্য ওয়েবসাইটে প্রদর্শনের পাশাপাশি তাৎক্ষণিক প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার (লাইভ চ্যাটবট) সুবিধা চালু করতে বলা হয়েছে ব্যাংকগুলোকে।

নারী উদ্যোক্তা কারা

নীতিমালায় নারী উদ্যোক্তা ও উদ্যোগের সংজ্ঞায় কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। বলা হয়েছে, সিএমএসএমই খাতের কোনো একটি উদ্যোগ নারী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হবে, যদি অংশীদারি প্রতিষ্ঠান বা জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে নিবন্ধিত প্রাইভেট কোম্পানির পরিচালক বা শেয়ারের ন্যূনতম ২০ শতাংশের মালিক নারী হন। যদি ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অথবা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অথবা সমপর্যায়ের পদে একজন নারী দায়িত্বরত থাকেন বা অংশীদারি প্রতিষ্ঠান বা জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে নিবন্ধিত প্রাইভেট কোম্পানির পরিচালক বা শেয়ারের ন্যূনতম ২০ শতাংশের মালিক হন। উক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্থায়ী জনবলের ন্যূনতম ৫১ শতাংশ নারী কর্মরত থাকেন।

একজন ছোট ব্যবসায়ী পণ্যের পসরা নিয়ে বসেছেন
একজন ছোট ব্যবসায়ী পণ্যের পসরা নিয়ে বসেছেন। ফাইল ছবি

Saturday, March 1, 2025

ভারতে মোট জনসংখ্যার মাত্র ১০ শতাংশের ইচ্ছামতো খরচ করার সামর্থ্য আছে

ভারতের জনসংখ্যা ১৪০ কোটিরও বেশি। কিন্তু মাত্র ১০ শতাংশ মানুষের হাতে নিজের ইচ্ছামতো খরচ করার মতো পর্যাপ্ত অর্থ রয়েছে। ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম ব্লুম ভেঞ্চার্স যারা নতুন ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানকে অর্থ দিয়ে সাহায্য করে, তারা তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে ভারত সম্পর্কে এ তথ্য জানিয়েছে।  অর্থাৎ বাড়তি পণ্য বা পরিষেবা কেনার ক্ষমতা প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষের কাছে নেই।

ভারতের ভোক্তা বাজার
সমীক্ষায় অনুমান, ভারতের ‘গ্রাহক শ্রেণি’ মাত্র ১৩০-১৪০ মিলিয়ন (১৩-১৪ কোটি) মানুষ। এই ব্যক্তিদের মৌলিক চাহিদার বাইরেও ব্যয়যোগ্য আয় রয়েছে। তারা স্টার্টআপ এবং ভোক্তা-চালিত ব্যবসার জন্য প্রাথমিক বাজার হিসেবে কাজ করে। আরও ৩০ কোটি মানুষকে ‘উদীয়মান’ বা ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষী’ ভোক্তা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। যদিও এই গোষ্ঠীটি ডিজিটাল পেমেন্টের সুবিধার কারণে আরও বেশি ব্যয় করতে শুরু করেছে, তবুও তারা সতর্ক ক্রেতা হিসেবে রয়ে গেছে।

‘ভারী ভোক্তা, অনিচ্ছুক অর্থপ্রদানকারী’
ব্লুম ভেঞ্চার্স -এর প্রতিবেদনে উচ্চাকাঙ্ক্ষী গ্রাহকদের ‘ভারী ভোক্তা এবং অনিচ্ছুক অর্থপ্রদানকারী’ হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। OTT/মিডিয়া, গেমিং, এডটেক এবং ঋণদানের মতো শিল্পগুলো এই বিভাগের জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। UPI এবং অটোপে প্রবর্তনের ফলে ছোট-টিকিটের লেনদেন সহজতর হয়েছে, যা অর্থনীতিতে এই গোষ্ঠীর বৃহত্তর অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করেছে।

‘প্রিমিয়ামাইজেশন’-এর উত্থান
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের ভোক্তা বাজার ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হওয়ার পরিবর্তে আরও গভীর হচ্ছে, যার অর্থ সম্পদ আরও কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। কোম্পানিগুলো ক্রমবর্ধমানভাবে প্রিমিয়ামাইজেশনের উপর মনোযোগ দিচ্ছে, এটি একটি কৌশল যা ধনী গ্রাহকদের জন্য তৈরি উচ্চমানের, ব্যয়বহুল পণ্যের উপর জোর দেয়। বাজেট-বান্ধব বিকল্পগুলো পরেও বিলাসবহুল বাড়ি এবং প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের ক্রমবর্ধমান বিক্রয়ে এই প্রবণতা স্পষ্ট।  অর্থাৎ যিনি সস্তার ফোন বা পণ্য কেনেন, তিনি দ্বিতীয় ফোন বা জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের বাইরে বাড়তি আর কিছুই কিনতে পারছেন না।

মহামারী-পরবর্তী বাজার পুনরুদ্ধার
এই ফলাফলগুলো K-আকৃতির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ধারণাকে আরও শক্তিশালী করে, যেখানে ধনীরা সমৃদ্ধ হতে থাকে এবং দরিদ্ররা ক্রয় ক্ষমতা হ্রাসের সম্মুখীন হয়।

সম্পদের ঘনত্ব  
প্রতিবেদনে উদ্ধৃত তথ্য অনুসারে, ভারতীয়দের শীর্ষ ১০ শতাংশের হাতে এখন জাতীয় আয়ের ৫৭.৭ শতাংশ রয়েছে, যা ১৯৯০ সালে ৩৪ শতাংশ ছিল। জনসংখ্যার নিচের দিকের মানুষের সম্পদ ২২ দশমিক ২ থেকে কমে ১৫ শতাংশে পৌঁছেছে, অর্থাৎ মধ্য ও নিম্নবিত্তের মানুষের সম্পদ এ সময়ে কমে গিয়েছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নির্ভর করে ভোক্তা ব্যয়ের উপর
ভারতের জিডিপি কনজিউমারদের খরচ করার ক্ষমতার ওপরে ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ফলে আয়ের সুষম বণ্টনব্যবস্থার উন্নতি না হলে ব্যবসায়িক সংস্থাগুলো ভবিষ্যতে ক্রমবর্ধমানভাবে শুধু উচ্চ আয়ের গোষ্ঠীর জন্য পণ্য বানাবে এবং পরিষেবা দেবে। ফলে জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রান্তিক থেকে আরও প্রান্তিক হয়ে পড়বে।

সূত্র: লাইভমিন্ট

mzamin

Thursday, February 27, 2025

দেশের ইতিহাসে খেলাপি ঋণের রেকর্ড

দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের রেকর্ড হয়েছে। ডিসেম্বরের প্রান্তিক শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ২০.২ শতাংশ।

আলোচ্য সময় শেষে ব্যাংক খাতের ঋণস্থিতি ছিল ১৭ লাখ ১১ হাজার ৪০২ কোটি টাকা। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

গত ৫ই আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের পর খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র বের হতে শুরু করেছে। সাবেক সরকারের আমলে ব্যাংক থেকে প্রভাবশালীদের বড় অঙ্কের ঋণ দিতে নানা সুবিধা দেয়া হয়েছিল। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ কাগজে-কলমে কম দেখাতে নেয়া হয়েছিল একের পর এক নীতি। সরকার পরিবর্তনের পর সেই নীতি থেকে সরে এসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য বলছে, মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ২০.২ শতাংশ খেলাপি। এ সময়ের শেষে ব্যাংকিং খাতের ঋণস্থিতি ছিল ১৭ লাখ ৭৭৭ হাজার কোটি টাকা। এর আগে ব্যাংক খাতে সর্বোচ্চ খেলাপি রেকর্ড ছিল সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে। সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা বা মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ১৭ শতাংশ। সে হিসাবে তিন মাসের ব্যবধানে ডিসেম্বর প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা।

২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। আর সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২ লাখ কোটি টাকা।
গত (২০২৩) ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতের ঋণস্থিতি ছিল ১৬ লাখ ১৭ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা, যার মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয় ৯ শতাংশ। আর বছরের সেপ্টেম্বর (২০২৪) শেষে ব্যাংক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছিল ১৬ লাখ ৮২ হাজার ৮২২ কোটি টাকা। যার মধ্যে খেলাপি ঋণ ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা বা মোট বিতরণকৃত ঋণের ১৬.৯৩ শতাংশ খেলাপি।

সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর বলেন, আমাদের কাছে যতই নতুন তথ্য আসছে ততই বাড়ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। আগামীতে হয়তো আরও বাড়বে। তবে কিভাবে সমস্যার সমাধান করা যায়, আমরা সে চেষ্টা করছি। তবে এখনো খেলাপি ঋণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়নি।’ তিনি আশ্বস্ত করেন, ব্যাংক থেকে আমানতকারীদের টাকা পেতে কোনো সমস্যা হবে না।
বিভিন্ন আইন কঠোর করার চেষ্টা চলছে। আমরা দুর্বল ব্যাংকগুলোকে পুনর্গঠন করতে চাই। যেসব ব্যাংক একীভূত করার দরকার, সেগুলো একীভূত করবো অথবা নতুন বিনিয়োগকারী নিয়ে এসে পুনর্গঠন করা হবে। তা ছাড়া আইনগত সংস্কার হচ্ছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন রিভিউ হচ্ছে। এসব শেষ হলে ব্যাংক খাত আইন অনুযায়ী পুনর্গঠন করা হবে।

mzamin

Saturday, October 12, 2024

রপ্তানি রেমিট্যান্সে ইতিবাচক রিজার্ভ

গত ৫ই আগস্টের শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তারা সেই প্রতিশ্রুতি রেখেছেন। এতে প্রতি মাসেই রেমিট্যান্স আসা বেড়েই চলেছে। অন্যদিকে শীর্ষ রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিক অসন্তোষের পরও গত মাসে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ১৬.২৭ শতাংশ। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর তদারকির কারণে অযৌক্তিক আমদানি বন্ধ হয়েছে। সব মিলিয়ে রপ্তানি আয় এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণও বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

বাড়ছে রেমিট্যান্স: গত জুলাইয়ে কোটা সংস্কার নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে দেশ জুড়ে সংঘাত-সংঘর্ষ, কারফিউ ও ইন্টারনেট বন্ধের প্রেক্ষাপটে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাবে না বলে হুমকি দেন প্রবাসীরা। প্রতিবাদ হিসেবে দেশে বৈধপথে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স না পাঠানোর বিষয়ে ক্যাম্পেইন করেছেন অনেক প্রবাসী। যার প্রভাব পড়েছিল প্রবাসী আয়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে ১৯০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা ছিল গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। নতুন সরকার গঠনের পর আবার দেশ গঠনে বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠানোর বিষয়ে ক্যাম্পেইন শুরু করেন অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি। ফলে আবারো প্রবাসী আয় বাড়তে শুরু করে। আগস্ট মাসে দেশে প্রবাসী আয় বেড়ে দাঁড়ায় ২২২ কোটি ডলারে (২.২২ বিলিয়ন)। গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশে বৈধপথে ব্যাংকিং চ্যানেলে ২৪০ কোটি ৪৮ লাখ (২.৪০ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ২৮ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২০ টাকা ধরে)। কোনো একক মাসে এত প্রবাসী আয় গত ৪ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। গত জুন মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে ২৫৪ কোটি ডলার এবং তারও আগে ২০২০ সালের জুলাইয়ে ২৫৯ কোটি ৮২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে ১৯১ কোটি ৩৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৩৩ কোটি ডলার।

রপ্তানি বাড়াছে: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে পণ্য রপ্তানির হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ৩৮৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৩২ কোটি ডলার। এনবিআরের তথ্যানুযায়ী, গত জুলাইয়ে ৩৮২ ও আগস্টে ৪০৭ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। তখন রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ৩ ও ৫ শতাংশ। সব মিলিয়ে চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রথম ৩ মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ১ হাজার ১৭৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭.৮৯ শতাংশ বেশি।

বাড়ছে রিজার্ভ: বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ই অক্টোবর গ্রস (মোট) রিজার্ভ ২ হাজার ৪৯৭ কোটি ডলার বা ২৪.৯৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ এখন ১ হাজার ৯৮২ কোটি ডলার (১৯.৮২ বিলিয়ন)। গত সপ্তাহে অর্থাৎ ২রা অক্টোবর গ্রস রিজার্ভ ছিল ২৪.৭৪ বিলিয়ন এবং বিপিএম-৬ ছিল ১৯.৭৬ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে রিজার্ভ সামান্য বেড়েছে। গ্রস রিজার্ভ ও বিপিএম-৬ এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের আরেকটি হিসাব রয়েছে, যা শুধু আইএমএফকে দেয়া হয়। প্রকাশ করা হয় না। দেশে চলমান সংকট কাটাতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি না করার ঘোষণা ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের। কিন্তু চাহিদা ঠিক রাখতে গিয়ে প্রতিশ্রুতি উপেক্ষা করে চলতি সেপ্টেম্বরেও রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যদিয়ে চলতি অর্থবছরের এ পর্যন্ত প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে। তবে এখন রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি অনেকটা বন্ধ আছে।

এ বিষয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, বৈশ্বিক আর্থিক সংকটে আমাদের সমস্যা হয়নি, আমরা ভাগ্যবান। চার-পাঁচটি পরিবার ব্যাংক থেকে ২ লাখ কোটি টাকা নিয়ে গেছে। এতে অর্থনীতিতে মন্দা নেমে আসতে পারতো, সেটা হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করলে ৬ মাস পর শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতি হয়ে যাবে। এটা কোনো সমাধান হতে পারে না। এ জন্য আমাদের কিছুদিন কষ্ট করতে হবে।

অর্থনীতিবিদরা বলেন, রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ করার কারণে এখন থেকে ধীরে ধীরে রিজার্ভেরও উন্নতি হচ্ছে। সিন্ডিকেট ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর অবস্থানের কারণে ডলার বাজারে স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে আশানুরূপ প্রবৃদ্ধির ফলে রিজার্ভের পতন ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে নতুন করে ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি মিলেছে।

mzamin

Thursday, September 19, 2024

শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিদেশে ‘সরানো’ দুই লাখ কোটি টাকার খোঁজে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে পাচার হওয়া অর্থ-সম্পদের হদিস পেতে সে দেশের সরকারের দ্বারস্থ হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সহযোগীদের সম্পদ যুক্তরাজ্যে পাচার করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করতে অন্তর্বর্তী সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী সরকারের সদস্যদের ওপর নতুন সরকার যে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে, তার অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য সরকারের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ব্রিটিশ গণমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, নতুন প্রশাসন তদন্ত করছে যে শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১৩ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৩০০ কোটি পাউন্ডের সমপরিমাণ ২ লাখ কোটি টাকা বিদেশে সরানো হয়েছে কি না। যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশে বাংলাদেশের সাবেক সরকারের সহযোগীরা সম্পদ গড়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে। যুক্তরাজ্য ছাড়াও সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আহসান এইচ মনসুর আরও বলেন, এ ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য সরকার ‘বেশ সহায়তা’ করছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার বাংলাদেশ ব্যাংকে এসেছিলেন; তাঁরা অনেক কারিগরি সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন।

বিশেষ করে শেখ হাসিনা সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রীর কেনা ১৫০ মিলিয়ন বা ১৫ কোটি পাউন্ডের সম্পত্তির অর্থের উৎস সম্পর্কে বাংলাদেশ জানতে চেয়েছে বলে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছেন আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, এসব সম্পদ বাংলাদেশ পুনরুদ্ধার করতে চায়; সে লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা; কিন্তু বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁরা কিছু বলতে রাজি হননি।

শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ করে আসছেন বাংলাদেশের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ নেওয়ার ক্ষেত্রেও অনেক বিধিনিষেধ আছে। প্রতি বছর বাংলাদেশের নাগরিকেরা বৈধভাবে মাত্র কয়েক হাজার ডলার বিদেশে নিতে পারেন।

আহসান মনসুর বলেন, ‘এই বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রধানমন্ত্রীর অজ্ঞাতসারে দেশ থেকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না।’ তবে তিনি এ–ও বলেন, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। তিনি ভারতের কোথায় আছেন তা জানা যায়নি। ফলে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের পক্ষে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তবে এসব অভিযোগ যুক্তরাজ্যের স্যার কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টির সরকারের জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর হতে পারে। শেখ হাসিনার ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিক লেবার সরকারের সিটি মিনিস্টার, যদিও এখন পর্যন্ত এমন কোনো ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি যে টিউলিপ সিদ্দিক এসব অপকর্মের সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত ছিলেন। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য টিউলিপ সিদ্দিকের সঙ্গে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস যোগাযোগ করলেও তিনি সাড়া দেননি।

শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ও নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসও ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে এক সাক্ষাতে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সহায়তা চেয়েছেন।

মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ দেশটি থেকে ‘চুরি হওয়া ও বিদেশে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনবে। সরকারের যেসব অগ্রাধিকার রয়েছে, এটি তার মধ্যে অন্যতম।’

শেখ হাসিনা দুই দশক বাংলাদেশ শাসন করেছেন; কিন্তু তাঁর শাসনামলে ভোট চুরি, অধিকার লঙ্ঘন ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ থেকে ছাত্রবিক্ষোভ সৃষ্টি হয়; পরিণতিতে হাসিনা সরকারের পতন হয়।

চলতি বছরের শুরুতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ইউকে জানায়, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন কোম্পানির সম্পত্তি আছে। সে দেশে যে বাংলাদেশিদের এ রকম ‘অব্যাখ্যাত সম্পদ’ আছে, এটি তার নজির। তারা বলেছিল, যুক্তরাজ্য সরকারের উচিত হবে, এসব খতিয়ে দেখা।

এই পরিপ্রেক্ষিতে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস যুক্তরাজ্যের ভূমি নিবন্ধন দপ্তর ও কোম্পানি–সংক্রান্ত দপ্তরের নথি খতিয়ে দেখেছে। তাদের অনুসন্ধানে পাওয়া যায়, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো ১৫ কোটি পাউন্ডের বেশি মূল্যের অন্তত ২৮০টি সম্পত্তি কিনেছে।

এসব সম্পদ ২০১৬ সালের পর থেকে কেনা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের ভূমি কার্যালয়ের তথ্যানুসারে, বেশির ভাগ সম্পদ কেনা হয়েছে ২০১৯ সাল থেকে ২০২২ সালের মধ্যে। সাইফুজ্জামান চৌধুরী ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনা সরকারের ভূমিমন্ত্রী ছিলেন।

যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সম্পদ কিনেছেন সাইফুজ্জামান চৌধুরী। এর মধ্যে ফ্রিহোল্ড বা চিরকালীন মালিকানার অধিকারের সম্পদ আছে, যার মধ্যে রয়েছে লন্ডনের মূলকেন্দ্রের ফিটজ্রোভিয়া এলাকার এমারসন বেইনব্রিজ হাউস, পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটে ৬১টি বাড়ি ও ব্রিস্টলে একটি সমবায় সুপারমার্কেট।

যুক্তরাজ্যে এসব সম্পদ কেনার অর্থ কোত্থেকে এসেছে তা পরিষ্কার নয়। যদিও নথিপত্র দেখে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, কিছু সম্পদ কেনার ক্ষেত্রে বন্ধকি ঋণ নেওয়া হয়েছে।

সাইফুজ্জামান চৌধুরীর আইনজীবী আজমালুল হোসেন ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, তাঁর মক্কেলের ‘লুকানোর কিছু নেই’ এবং তিনি কোনো কিছু চুরি করেননি। তিনি আরও বলেন, সাইফুজ্জামান চৌধুরী চতুর্থ প্রজন্মের ব্যবসায়ী। রাজনীতিতে আসার আগে সেই ১৯৯০-এর দশক থেকে তিনি যুক্তরাজ্যে সম্পদ কিনছেন।

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী চলতি বছরের শুরুতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যবসার অর্থ থেকে তিনি বিদেশে সম্পদ কিনেছেন। আজমালুল হোসেন বলেন, ড. ইউনূসের ‘অসাংবিধানিক সরকার’ আওয়ামী লীগ সদস্য ও নেতাদের নিপীড়ন করছে। তিনি আরও বলেন, যথেষ্ট আশঙ্কা আছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আরাফাত ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, তদন্ত হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহযোগীরা নির্দোষ প্রমাণিত হবেন। তিনি আরও বলেন, ‘(নতুন সরকার) সব কিছুকে বড় দুর্নীতি হিসেবে দেখাতে চাইছে। তাঁরা সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দোষী করতে চাইছেন। তবে এটা ভালো যে যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তা হচ্ছে ...এসব অভিযোগ তাঁদের প্রমাণ করতে হবে।’

যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার পারস্পরিক আইনি সহায়তার অনুরোধ করেছে কি না, সে বিষয়ে তারা কিছু বলবে না। এ বিষয়ে তাদের অনেক পুরোনো নীতি রয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত

Sunday, September 1, 2024

শ্বেতপত্র কী এবং কী কাজে আসবে?

নয়া দিগন্তঃ শেখ হাসিনা সরকারের ১৫ বছরের দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে সরকারের দেয়া বক্তব্যের সাথে ভিন্নমত রয়েছে বিশ্লেষক ও বিরোধীদের। আওয়ামী লীগ সরকারের দেয়া তথ্য, বক্তব্য ও পরিসংখ্যানে বক্তব্যে দেশের অর্থনীতির সঠিক চিত্র দেখা যায়নি বলে তাদের অভিযোগ রয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র জানতে গত ২৮ আগস্ট একটি শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি গঠন করেছে।

গত বৃহস্পতিবার প্রথম সভায় শ্বেতপত্রের মূল উদ্দেশ্য ও কাজের পরিধি নিয়ে আলোচনা হয়।

ওই কমিটির প্রধান, অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য শ্বেতপত্র প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘এর মাধ্যমে বর্তমান সরকার উপলব্ধি করবে, কী ধরনের উত্তরাধিকারের অর্থনীতিতে তাদের কাজ করতে হবে। সেই ভিত্তিভূমি নিরূপণ করাই আমাদের কাজ।’

শ্বেতপত্রে ‘মেগা প্রকল্প' নিয়ে পর্যালোচনা করার কথাও জানান তিনি।

৯০ দিনের মধ্যে এটি সরকারকে জমা দেয়ার কথা বলা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।

এবার কি তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতির‘সত্যিকার চিত্রটি' দেখা যাবে?

শ্বেতপত্র কী, কেন করা হয়?
শ্বেতপত্রের ধারণাটি এসেছে যুক্তরাজ্যের সংসদীয় ব্যবস্থা থেকে।

‘সরকারের দ্বারা প্রকাশিত কোনো নীতিগত নথি যেখানে সংসদীয় প্রস্তাবনা থাকে, সেগুলোই শ্বেতপত্র,‘ যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের ওয়েবসাইটে এভাবেই শ্বেতপত্রের বর্ণনা দেয়া আছে।

এর ফলে, অধিকতর আলাপ-আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়।

অর্থনীতি ও বিনিয়োগ বিষয়ক জ্ঞানকোষ ইনভেস্টোপিডিয়া থেকে জানা যাচ্ছে, উনবিংশ শতাব্দীর ব্রিটেনে পার্লামেন্ট রিপোর্টের প্রচ্ছদ থাকতো নীল রঙের। যদি রিপোর্টের বিষয়বস্তু সরকারের জন্য কম গুরুত্বপূর্ণ হতো নীল প্রচ্ছদ বাদ দিয়ে সাদা প্রচ্ছদেই সেগুলো প্রকাশ করা হতো। সেই রিপোর্টগুলোকে বলা হতো হোয়াইট পেপারস্।

তবে, আগে ‘বাংলাদেশে এ প্রথার প্রচলন সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী‘ দেখা গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে জাতীয় জ্ঞান কোষ বাংলাপিডিয়ায়।

সেখানে বলা হয়েছে, ‘এ প্রথা কোনো প্রস্তাবিত নীতি বা জনস্বার্থ সম্পর্কিত সমস্যার সাথে যুক্ত নয়। বরং কোনো রাজনৈতিক দলের সরকার পরিচালনার পরবর্তী সময়ে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল কর্তৃক শাসক দলের কুকীর্তির দলিল হিসেবে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হয়।‘

যদিও, এবারেরটি ‘দুর্নীতি ধরার কমিটি নয়‘ বলে জানিয়েছেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

‘দুর্নীতি কেন হয়েছে এবং মাত্রাটা কী, সেটা বলবে এই কমিটি,‘ যোগ করেন তিনি।

‘কিন্তু কে দুর্নীতি করেছে, কেন করেছে সেটা বলা আমাদের দায়িত্ব না,‘ উল্লেখ করে ভট্টাচার্য বলেন, এর জন্য সরকারের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান আছে।

বাংলাদেশে শ্বেতপত্র প্রকাশের ঘটনা এবারই প্রথম নয়।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ২০০১ সালে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করে।

তাতে আওয়ামী লীগ সরকারের আগের মেয়াদের বিভিন্ন অসঙ্গতির কথা তুলে ধরা হয়।

২০২১ সালে একদল বেসামরিক নাগরিকদের, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা একটি গণকমিশন গঠন করেন।

তারা পরের বছর ‘বাংলাদেশে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের ২০০০ দিন‘ নামে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করে।

তবে,‘ইসলাম বিদ্বেষ' এর অভিযোগে এটি নিয়ে সেসময় বিতর্ক দেখা দেয়।

অর্থনীতির‘হেলথ চেক আপ'
চলতি বছরের মে মাসে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, সাত বছরে দ্বিগুণ হয়েছে বাংলাদেশের ঋণ।

জানা যায়, ২০২৩ সালের শেষ প্রান্তিকে বাংলাদেশের সার্বিক ঋণ ১০০.৬৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।

এর মধ্যে ৮০ ভাগই সরকারের ঋণ।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাদের সময়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক দায় নিয়ে কয়েকটি স্থানীয় গণমাধ্যমও প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, শেখ হাসিনার সরকার ঋণ রেখে গেছে ১৮ লাখ কোটি টাকা।

বিগত বছরগুলোতে মূল্যস্ফীতি, অর্থ পাচার, ব্যাংক ও আর্থিক খাতের অবস্থাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের দুর্নীতি সংবাদের শিরোনাম হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে কেমন অর্থনৈতিক অবস্থা পেলো সেটি বুঝতে অর্থনীতির একটা ‘হেলথ চেক আপ‘-এর কথা বলেছেন শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য জাহিদ হোসেন।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক এই প্রধান অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘বর্তমানে অর্থনীতি কোন অবস্থায় আছে, উত্তরাধিকারসূত্রে কী পাওয়া গেছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কীভাবে চলছে সেগুলোকে চিত্রায়িত করার কাজটাই করবো। এটা স্বাস্থ্য পরীক্ষার মত।‘

এছাড়া ‘মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষাও করা হবে‘ বলে তিনি বলছেন। এর ব্যাখ্যা হিসেবে জাহিদ হোসেন বলেন, পলিসি বা নীতিগত দিকটা কীভাবে চলছে, সেই পর্যালোচনাও থাকবে শ্বেতপত্রে।

বৃহস্পতিবার প্রথম বৈঠক শেষে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমরা ব্যাংক ও আর্থিক খাতের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করব না। তারল্যসঙ্কট, নামে-বেনামের ঋণ, সঞ্চিতি ঘাটতি এসব বিষয়ে পর্যালোচনা করা হবে।‘

‘আর যেন টাকা পাচার না হয়, টাকা পাচার করলে শাস্তি পেতে হবে, এমন কথা বলা থাকবে শ্বেতপত্রে,‘ যোগ করেন তিনি।

পর্যালোচনায় থাকবে মেগা প্রকল্পও

গত ১৫ বছরে বাংলাদেশে বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

এর মধ্যে আকৃতি ও প্রভাব বিবেচনায় বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্পও রয়েছে। কোনো কোনো মেগা প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে, কোনোটির কাজ চলমান।

আওয়ামী লীগ সরকার তাদের অর্জন হিসেবে এসব মেগা প্রকল্পের কথা বেশ জোরেসোরেই প্রচার করে আসছিল।

তবে, পদ্মাসেতুসহ মেগাপ্রকল্পগুলোতে ব্যাপক দুর্নীতি অভিযোগ করে আসছে বিএনপিসহ সরকার বিরোধীরা।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার স্বার্থে প্রকল্প নিয়ে কাজ করবে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি।

সময় স্বল্পতার কারণে সব প্রকল্প বিশ্লেষণ করবেন না জানিয়ে তিনি বলেন,‘তবে আমরা মেগা প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনা করবো। মেগা প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে যদি কোনো একটি বিশেষ প্রজেক্টের ওপর মনোযোগ দিতে হয় সেটা হয়তো আমার সহযোগীরা দেবেন।‘

কোন কোন মেগা প্রকল্প পর্যালোচনায় থাকতে পারে এমন প্রশ্নে কমিটির অন্যতম সদস্য জাহিদ হোসেন সময়ের বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়, কাজগুলো কতদূর পর্যন্ত করা সম্ভব হবে।‘

সঠিক চিত্র পাওয়া যাবে?
সম্প্রতি রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসের রফতানি আয়ের হিসেবে বড় ধরনের অসামাঞ্জস্য ধরা পড়ে।

রফতানির বাৎসরিক হিসেবে প্রকৃত পরিমাণের চেয়ে ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বেশি দেখানোর ঘটনা বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।

সরকারি সংস্থাগুলো পরিসংখ্যান নিয়ে অর্থনীতিবিদদের বিভিন্ন সময় সংশয় প্রকাশ করতেও দেখা গেছে।

ফলে তাদের দেয়া তথ্য উপাত্তের ওপর ভর করে পাওয়া চিত্র কতটা সঠিক হবে তা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ও শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির সদস্য জাহিদ হোসেনও বলেন, ‘তথ্যেরও তো অনেক ধরনের সমস্যা আছে।‘

‘যা তথ্য অ্যাভেইলেবল আছে অর্থাৎ, বিবিএস (পরিসংখ্যান ব্যুরো), ইপিবি এবং অন্য সংস্থাগুলোর কাছে যা আছে তার ভিত্তিতে অর্থনীতির একটা বস্তুনিষ্ঠ চিত্রায়ণ এখানে আশা করা যেতে পারে,‘ যোগ করেন তিনি।

শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটিতে অর্থনীতিবিদ ছাড়াও জ্বালানি, অভিবাসন, উন্নয়ন ও সুশাসনের মত বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞ রয়েছেন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘নীতি বিশ্লেষক‘ বা ‘বিষয় বিশেষজ্ঞ‘ হিসেবে কমিটির সদস্যরা তাদের মতামত দেবেন।

সূত্র : বিবিসি

Tuesday, June 24, 2014

সুইস ব্যাংক, ভোগবিলাস, দারিদ্র্য ও একটি কল্পকাহিনী by মাহবুব কামাল

২০০২ সাল থেকে অর্থ পাচার রোধে বিশ্বব্যাপী মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ব্যাপকভাবে কার্যকর হয়। তখন থেকে সুইস ব্যাংক তাদের কাছে গচ্ছিত পাচার করা অর্থের দায় বহনে অস্বীকৃতি জানিয়ে গ্রাহকদের ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশ করে চলেছে। এখন যে কল্পকাহিনীটি পাঠক পড়বেন, তা ২০০২ সালের আগে প্রচলিত ছিল।

মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশের ক্রাউন প্রিন্স ঢুকেছেন সুইস ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর রুমে। চেয়ারে বসেই তিনি বলতে শুরু করেন- আমার বাবা বুড়ো হয়ে গেছেন। কিন্তু তিনি ক্ষমতা ছাড়ছেন না। আর তাই আমিও প্রিন্স থেকে কিং হতে পারছি না। আমি আর কতদিন অপেক্ষা করব?
প্রধান নির্বাহী বললেন, কিন্তু আমি আপনাকে কীভাবে সাহায্য করতে পারি?
-হ্যাঁ, আপনিই পারেন আমাকে রাজা বানাতে।
-কীভাবে?
-আমার বাবা আপনার ব্যাংকে যে টাকা রেখেছেন, তার একটা স্টেটমেন্ট দরকার আমার। ওই ব্যাংক-হিসাব কৌশলে ছড়িয়ে দিয়ে বাবার ভাবমূর্তি নষ্ট করে দেব আমি। তখন তিনি বাধ্য হয়ে অবসরে যাবেন। আর আমি তার স্থলাভিষিক্ত হব।
-কিন্তু আমি তো এটা করতে পারব না। ব্যাংক-হিসাব গোপন রাখাই আমাদের পলিসি।
-আমি আপনাকে ফাইভ মিলিয়ন ডলার দেব।
-সরি, আমি এটা পারব না।
-টেন মিলিয়ন ডলার।
-প্লিজ, আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
ক্রাউন প্রিন্স এবার পকেট থেকে একটি রিভলবার বের করলেন। পয়েন্ট ব্লাংক রেঞ্জে সেটা তাক করলেন প্রধান নির্বাহীর দিকে। বললেন, আমি এখন এক থেকে দশ পর্যন্ত সংখ্যা উচ্চারণ করব। এর মধ্যে আপনি যদি রাজি না হন, আই উইল জাস্ট শুট ইউ।
ক্রাউন প্রিন্স ওয়ান, টু, থ্রি- এভাবে দশ পর্যন্ত উচ্চারণ করার পরও প্রধান নির্বাহী নিশ্চুপ রইলেন।
ক্রাউন প্রিন্স এবার রিভলবার নামিয়ে খুললেন তার ব্রিফকেস। সেটা ডলার দিয়ে ঠাসা।
তিনি হাসিমুখে বললেন, আমার একটা অ্যাকাউন্ট খুলুন, প্লিজ।
বলাবাহুল্য, এই কল্পকাহিনী সেকেলে হয়ে গেছে। এখন ঘুষের প্রলোভন কিংবা মৃত্যুর ভয় দেখানো দূরের কথা, সাধারণ অনুরোধেরও প্রয়োজন পড়ে না। সুইস ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিজস্ব নিয়মেই ফি-বছর তাদের গ্রাহকদের ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশ করে চলেছে। তো এ বছর প্রকাশিত স্টেটমেন্ট থেকে জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের রাজনীতিক, আমলা ও ব্যবসায়ীদের ৩ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা গচ্ছিত রয়েছে সুইস ব্যাংকে। দুঃসংবাদটি হচ্ছে, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের গচ্ছিত টাকার পরিমাণ প্রতিবছর বেড়েই চলেছে। ২০১২ সালে যা ছিল ১ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা, ২০১৩ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ২৩৬ কোটি। ওদিকে বাংলাদেশী ধনাঢ্য শ্রেণীর টাকা যে শুধু সুইস ব্যাংকেই পাচার হয়ে যাচ্ছে, তা নয়; ব্রিটেন, হংকং, সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের ব্যাংকেও ক্রমাগত পাচার হচ্ছে টাকা। আবার সাদা চোখে দেখা যায়, পাচারকৃত এমন টাকার হিসাব মেলানোও ভার। কানাডার বেগমপাড়া, মালয়েশিয়ার সেকেন্ড হোম প্রজেক্টসহ বিভিন্ন দেশে দ্বিতীয় বিলাসী সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন অনেকেই।
এই যে কাঁড়ি কাঁড়ি, রাশি রাশি টাকা- এসব আসে কোত্থেকে, এ এক প্রশ্ন বটে। গার্মেন্ট মালিকদের টাকার রহস্য না হয় বোধগম্য। কার্ল মার্কসের ‘উদ্বৃত্ত মূল্য তত্ত্বে’ এর ব্যাখ্যা রয়েছে। একজন পুঁজিপতি ১০০ টাকায় যে পণ্য বিক্রি করছেন, তা উৎপাদনে তার খরচ হয়েছে কত? কাঁচামাল ১০ টাকা, মেশিনারিজ খরচ ১০ টাকা আর শ্রমিককে দিয়েছেন ১০ টাকা। অর্থাৎ ৩০ টাকা উৎপাদন খরচের পণ্যে তিনি লাভ করেছেন ৭০ টাকা। এই অস্বাভাবিক লাভ তার হতো না, যদি তিনি শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি দিতেন। তিনি আসলে শ্রম শোষণ করেই টাকার মালিক হয়েছেন। শ্রমিকের ন্যায্য ৬০ টাকা তাকে বুঝিয়ে দিলে তার লাভ থাকত ২০ টাকা এবং সেটাই হতো ন্যায়সঙ্গত। অনেক গার্মেন্ট মালিক এই ন্যায়সঙ্গত কাজটি না করে তাদের শ্রমিক শ্রেণীকে বস্তিতে ঠেলে দিয়ে কানাডার বেগমপাড়ায় গড়ে তুলছেন প্রাসাদ।
এখন কথা হচ্ছে, টাকা পাচারকারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে সবাই তো আর এই শ্রেণীর গার্মেন্ট মালিক নন। তারা কারা এবং তাদের বিপুলাকার টাকার উৎস কী? তারা আসলে একক সত্তার ব্যবসায়ী নন। তাদের সত্তার সঙ্গে লেপ্টে আছে রাজনীতিক ও আমলার সত্তা। ত্রি-চক্রের এই সিন্ডিকেট দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবসার কমিশনবাজি করে থাকে। মজুদদারির মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে ফাঁকি ইত্যাদি তো আছেই। আবার রাজনীতিক ও আমলাদের টাকা বানানোর মেশিনটি অপারেট করা সবচেয়ে সহজ। শুধু নিয়োগ বাণিজ্যেই তারা যা বাগাতে পারেন, তা দিয়ে আলাদা একটি ব্যাংকে বিগ সাইজের অ্যাকাউন্ট নির্বাহ করা যায়। যা হোক, এই প্যারার উপসংহারে নির্দ্বিধায় বলা যায়, বাংলাদেশ থেকে পাচারকৃত টাকার যে খবর আমরা পাই কিংবা বিত্তশালীদের যে চাকচিক্যময় বাহারি জীবন দেখতে পাই-সেগুলোর অন্তত ৯০ শতাংশের পেছনে রয়েছে কোনো না কোনো ফর্মের দুর্নীতি।
২.
সুইস ব্যাংক গ্রাহকদের ব্যাংক-হিসাব প্রকাশ করার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা রীতির সংস্কার করেছে। ভবিষ্যতে হয়তো এই ব্যাংকে টাকা রাখার পূর্বশর্ত হিসেবে সেই টাকার বৈধতা নিশ্চিত করার সংস্কারও করবে তারা। কিন্তু এ দেশের দুর্নীতিবাজদের মানসিকতার সংস্কার কবে হবে, তা অনিশ্চিত। তবে এটুকু অন্তত বুঝতে পারি, নিছক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা দ্বারা এ সংস্কার অসম্ভব। অর্থের প্রতি মোহ এক বড় কঠিন অসুখ। একটা বিষয় আমার কাছে এখনও রহস্যময়। বুড়োদের শারীরিক অসুস্থতা হয়, তা হতে পারে অবশ্যই। কিন্তু অর্থলোভের অসুখ কেন হয়? যৌবনে, এমনকি মধ্যবয়সেও অর্থের প্রতি মোহ থাকার একটা যুক্তি থাকতে পারে; উপভোগ করার মতো সময় পড়ে আছে তাদের সামনে। কিন্তু ইংরেজিতে যাকে বলে ‘ওয়ান লেগ ইন দ্য গ্রেভ’- তারা কেন অর্থ-সম্পদের জন্য এত লালায়িত হয়ে থাকে? শেষ বয়সে মির্জা গোলাম হাফিজের বিরুদ্ধে যখন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, তখন এক কলামে লিখেছিলাম- তিনি চোখে দেখেন না, কানেও শোনেন না, পারেন শুধু টাকা গুনতে। বুড়ো হাবড়া মন্ত্রী-এমপিদের বেশিরভাগেরই যথেষ্ট অর্থ-সম্পদ রয়েছে। কিন্তু তাতে তাদের চলে না। বড়জোর দু’চার-পাঁচ বছর বাঁচবেন জেনেও নতুন টাকার গন্ধ তাদের খুব পছন্দ। সেই টাকা কী কাজে লাগবে, আল্লাহ মালুম। সন্তান-সন্ততিরা ভোগ করবে? মরণকালে সন্তানদের জন্য জীবনাদর্শ না রেখে, রেখে যাব দুর্নীতির টাকা? তবে যেসব প্রবীণ ব্যবসায়ী দুর্নীতিমুক্ত অবস্থায় নতুন নতুন ভেঞ্চার ও প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে চলেছেন, তাদের ভোগ-বিলাসের ব্যাপারে কোনো কমপ্লেইন নেই এই লেখকের। বরং তারা শ্রদ্ধার পাত্রই।
এ এক ভয়াবহ বৈষম্যমূলক সমাজে বাস করছি আমরা। এখানে একটি শ্রেণী উড়োজাহাজের বিজনেস ক্লাসে লন্ডন-প্যারিস-জেনেভা ঘুরে বেড়াচ্ছে আর জয়পুরহাটের মর্জিনা বিবিরা কিডনি বিক্রি করে আহার জোগাচ্ছেন। এর নাম সিভিলাইজেশন! তবে সবচেয়ে বড় ট্রাজেডিটা বুঝি এই যে, সাধারণভাবে দেশের দরিদ্র-শোষিত শ্রেণীটি কারও বিরুদ্ধে কোনো কমপ্লেইন করে না। বরং দরিদ্র বেকার যুবক কবিতা আওড়ায়- দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান! আর মর্জিনা বিবিরা বলেন, হাতের পাঁচ আঙুল কি সমান? ধনী-গরিব তো আল্লাহই বানিয়েছে।
৩.
কার্ল মার্কস শ্রেণীহীন, বৈষম্যমুক্ত একটি সমাজের আউটলাইন দিয়েছিলেন। সেই আউটলাইন নিয়ে বিতর্ক আছে প্রচুর। কিন্তু শ্রেণী-বৈষম্য ও শ্রমশোষণের যে কারণগুলো দেখিয়েছেন তিনি, সেগুলোর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা কঠিন। মানবেতিহাসের বর্তমান পর্যায়ে এসে আমরা নিশ্চিত হয়ে গেছি যে, শুধুই গণতন্ত্র দিয়ে এই কারণগুলো দূর করা সম্ভব নয়। যদি তা সম্ভব হতো, তাহলে দীর্ঘ ৬৭ বছর গণতন্ত্র চর্চার পর ভারতে শ্রেণী-বৈষম্য এতটা প্রকট থাকত না। এটা একটা প্যারাডক্স বটে, মার্কস নির্দেশিত কমিউনিস্ট সমাজে শ্রেণী-বৈষম্য দূর হলেও সেখানে থাকবে না গণতন্ত্র আর পুঁজিবাদী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণতন্ত্র থাকলেও দূর হবে না বৈষম্য। এমনকি ইউরোপের পুঁজিবাদী দেশগুলো ওয়েলফেয়ার স্টেটের রূপ ধারণ করলেও সেখানে শ্রেণী-বৈষম্যের মূলোৎপাটন করা সম্ভব হয়নি।
আসলে আমাদের মতো একটি অনগ্রসর পুঁজিবাদী সমাজে দারিদ্র্যের মাত্রা ও ধনিক শ্রেণীর লুটপাট কমিয়ে আনতে প্রয়োজন অর্থনীতির ব্যাপক সংস্কার। বস্তুত পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের আইনগুলোই এমনভাবে তৈরি করা হয় যে, সেগুলো এমন এক মাকড়শার জাল সৃষ্টি করে, যেখানে দরিদ্ররা কীট-পতঙ্গের মতো আটকা পড়ে। এই আইনগুলোর পরিবর্তন ছাড়া অর্থনীতির সংস্কার সম্ভব নয়। আমরা নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার প্রশ্নে অস্থির হয়ে আছি, মানুষ ভোটাধিকার ঠিকমতো প্রয়োগ করতে পারল কি-না, তা নিয়ে হুলস্থূল বাধিয়ে ফেলছি। যে নির্বাচন নির্বাচকমণ্ডলীর দারিদ্র্য ঘোচাতে ব্যর্থ হয়, সেই নির্বাচনের মাহাত্ম্য কী? তার চেয়ে অর্থনীতির সংস্কারের এজেন্ডাই কি প্রাইম কনসিডারেশন হতে পারে না? যদি হতে পারে, তাহলে এই সংস্কার এমনভাবে হতে হবে যে, কর্মক্ষমতা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে কেউ বিলিওনিয়ার-ট্রিলিওনিয়ার হতে পারলেও অসুবিধা নেই; কিন্তু দুর্নীতি করে কেউ যেন লাখ টাকারও মালিক হতে না পারে।
বিল গেটসের অজস্র টাকার ব্যাপারে আমেরিকানদের কোনো অভিযোগ নেই, ঈর্ষা নেই, এমনকি মাথাব্যথাও নেই। কারণ তার টাকা সৃজনশীলতার টাকা। দ্বিতীয়ত, একজন গড় আমেরিকান তার যাপিত জীবনে কোনো কষ্ট ভোগ করে না। তাই তাদের মেজাজও ঠাণ্ডা। কিন্তু এ দেশের মর্জিনারা তাদের নিয়তি মেনে নিলেও আমরা যারা শিক্ষিত দরিদ্র, দারিদ্র্য তাদের মেজাজ খিটখিটে করে রেখেছে। আমরা খিটখিট করবই। আমাদের সৌন্দর্যচেতনাও নষ্ট হয়ে গেছে। পৃথিবীর সবকিছুই আমরা অসুন্দর দেখি। দুর্নীতিবাজদের রকমারি ফ্যাশনেবল জীবনও আমাদের কুশ্রী লাগে। এটা কি অসুখ? যদি তা-ই হয়, তাহলে সুইস ব্যাংকের টাকাগুলো ফেরত এনে সেই টাকায় চিকিৎসা করান আমাদের।
পুনশ্চঃ ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সুইস ব্যাংকে গচ্ছিত ভারতীয়দের টাকা ফেরত আনার অঙ্গীকার করেছেন।
মাহবুব কামাল : সাংবাদিক
mahbubkamal08@yahoo.com

Sunday, April 6, 2014

চার বছরে পুলিশে ৪৫০ কোটি টাকার গাড়ি by দীন ইসলাম

চার অর্থবছরে ৪৫০ কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের যানবাহন (গাড়ি) কিনেছে পুলিশ। এর মধ্যে র‌্যাবসহ পুলিশ বিভাগের জন্য ৩১৯ কোটি ৩৪ লাখ ৬৩ হাজার ৮১৩ টাকার এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের জন্য ১১৭ কোটি ৩৩ লাখ ৮৩ হাজার ৭০২ টাকার যানবাহন কেনা হয়েছে। গেল ২০০৯-১০, ২০১০-১১, ২০১১-১২, ২০১২-১৩ অর্থবছরে পুলিশ ও র‌্যাবের জন্য এসব গাড়ি কেনা হয়েছে।

Saturday, August 24, 2013

১৫০০০ কোটি টাকার অস্ত্র-সরঞ্জাম ক্রয়

সাবেক সোভিয়েত রাজ্য বেলারুশের সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম কেনা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের চুক্তি করেছে সরকার। গত ৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেলারুশ সফরের সময় দুই পক্ষের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি হয় বলে জানা যায়। তবে সরকারিভাবে এসব চুক্তির কথা স্বীকার করা হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে চার বছরে সামরিক খাতে কেনাকাটার জন্য এ ধরনের অনেক চুক্তি করা হলেও তা কখনো প্রকাশ করা হয়নি। এ সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমান) জন্য ১৫ হাজার ১০৪ কোটি টাকার অস্ত্র, গোলাবারুদসহ বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। এ ছাড়া রাশিয়ার সঙ্গে আট হাজার কোটি টাকার সরঞ্জাম কেনার চুক্তি হয়েছে। এর বাইরে আরও প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার সরঞ্জাম কেনার প্রক্রিয়া চলছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গত চার বছরে কেনা সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ, সামরিক হেলিকপ্টার, সাঁজোয়া যান, ক্ষেপণাস্ত্র ও বিভিন্ন ধরনের রাডার উল্লেখযোগ্য।
সশস্ত্র বাহিনীর কেনাকাটার ব্যাপারে জানতে চেয়ে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে গত ১ মার্চ আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারের কাছে লিখিতভাবে তথ্য চাওয়া হয়। জবাবে আইএসপিআর থেকে ২৫ মার্চ লিখিতভাবে জানানো হয়, ‘বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট হওয়ায় উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়।’
এর আগে গত বছরের ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে তিন বাহিনীর জন্য বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনার তথ্য জানান। এ বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি সামরিক সরঞ্জাম কেনার কথা জানান।
সামরিক খাতের এই কেনাকাটা নিয়ে একাধিক সামরিক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তাঁরা প্রথম আলোকে বলেন, বাহিনী থাকলে সরঞ্জাম কিনতেই হবে। আমাদের প্রতিরক্ষা-নীতি হবে আত্মরক্ষামূলক। তবে সম্ভাব্য আক্রমণকারী আঘাত হানার পরে আমরা প্রত্যাঘাত করব, নাকি আগেভাগেই হামলা চালিয়ে তাকে অকার্যকর করে দেব, সেটা ঠিক করতে হবে।
অবসরে যাওয়া একজন পদস্থ সেনা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, সাড়ে চার বছরে সরকার যেসব কেনাকাটা করেছে, তাতে কিছু ব্যক্তির আশা-আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন ঘটছে। প্রতিরক্ষা নীতি না থাকায় এসব কেনাকাটা সমন্বিতভাবে হয়নি। তিনি বলেন, এ জন্য কোনো দিকনির্দেশনা থাকলে তা প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে বা সংসদে অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে। কিন্তু বাস্তবে তার কিছুই করা হয়নি। সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য প্রতিরক্ষানীতি না করে আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার কথা বলে একেক সময়ে সরকারের ইচ্ছানুযায়ী কেনাকাটা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। পাশাপাশি এ ধরনের কেনাকাটায় স্বচ্ছতাও জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সাবেক সেনাপ্রধান মাহবুবুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশে প্রতিরক্ষা খাতে সক্ষমতা বাড়ানো উচিত। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা দরকার। তবে রাশিয়া থেকে যে চড়া সুদে ঋণ নেওয়া হয়েছে, সেটা না করলেই ভালো হতো। এর আগে এত চড়া সুদে কখনো ঋণ নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। এই ঋণের অর্থ তো সাধারণ মানুষের পকেট থেকেই যাবে।
যত কেনাকাটা: অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে শুরু করে ২০১২-১৩ অর্থবছর—এই চার বছরে তিন বাহিনীর জন্য ১৮৮ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৫ হাজার ১০৪ কোটি টাকার সামরিক সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কেনা হয়েছে সেনাবাহিনীর জন্য। এ বাহিনীর জন্য চার বছরে পাঁচ হাজার ৪০৭ কোটি ২৭ লাখ টাকার সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। নৌবাহিনীর জন্য চার হাজার ৯৭৫ কোটি ৪৯ লাখ ও বিমানবাহিনীর জন্য চার হাজার ৭২২ কোটি ১৩ লাখ টাকার সরঞ্জাম কেনা হয়।
এসব কেনাকাটার বাইরে রাশিয়া থেকে ঋণ নিয়ে আট হাজার কোটি টাকার ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, সাঁজোয়া যান (এপিসি), পন্টুন সেতু, প্রশিক্ষণ বিমান, সামরিক হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনার চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৮ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০ কিস্তিতে ১০ বছর ধরে বার্ষিক ৪ শতাংশ সুদে এ ঋণের অর্থ পরিশোধ করা হবে। এ চুক্তির আওতায় অস্ত্র ও সরঞ্জাম কেনা হবে ২০১৭ সালের মধ্যে।
২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সামরিক বাহিনীর উন্নয়নের নামে ২২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া আরও প্রায় ১০০ কোটি ডলার খরচ করে সম্পূর্ণ তৈরি অবস্থায় দুটি ডুবো যুদ্ধজাহাজ (সাবমেরিন) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় কুতুবদিয়া চ্যানেলের পাশে সাবমেরিন ঘাঁটি করার জন্য জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
এবারের বাজেটে সামরিক খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৪ হাজার ২২৯ কোটি টাকা। এর আগের বছর ছিল ১৩ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। ২০১১-১২ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ১১ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা।
সেনাবাহিনী: বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেনাবাহিনীর ২৬০টি সাঁজোয়া যান, ১৮টি সামরিক উদ্ধার যান, ১৫টি এপিসি অ্যাম্বুলেন্স, ৪৪টি তৃতীয় প্রজন্মের ট্যাংক, দুটি হেলিকপ্টার, ১৮টি স্বয়ংক্রিয় কামান ও সামরিক রাডার কেনা হয়।
২০০৮-০৯ অর্থবছরে ৭৯ কোটি ৮২ লাখ টাকায় জাপান থেকে কেনা হয় ১৮৪টি তিন টনের ট্রাক। পরের বছর রাশিয়া থেকে কেনা হয় ১২০টি সাঁজোয়া যান (আরমার্ড পার্সোনাল ক্যারিয়ার—এপিসি), ১০টি সামরিক উদ্ধার যান (আরমার্ড রিকভারি ভেহিকেল—এআরভি) ও ১০টি এপিসি অ্যাম্বুলেন্স। কেনা এসব সরঞ্জামের দাম ৫১০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। ২০১০-১১ অর্থবছরে চীন থেকে কেনা হয় এক হাজার ২০১ কোটি ৮১ লাখ টাকায় এমবিটি ২০০০ মডেলের ৪৪টি চতুর্থ প্রজন্মের ট্যাংক ও তিনটি সামরিক উদ্ধার যান। ফ্রান্সের তৈরি ইউরোকপ্টার ব্র্যান্ডের দুটি হেলিকপ্টার কেনা হয় ১৭৯ কোটি ৪২ লাখ টাকায়। ওই বছর চীন থেকে রাডার কেনা হয় ১৩৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা খরচ করে। পরের বছর সার্বিয়া থেকে ১৮টি স্বয়ংক্রিয় কামান (সেলফ-প্রোপেলড গান—এসপিগান) কেনা হয় ৫৪১ কোটি ৩৪ লাখ টাকায়। রাশিয়া থেকে ২২২ কোটি সাত লাখ টাকায় কেনা হয় ১১৩টি ট্যাংক বিধ্বংসী সরঞ্জাম। একই বছর রাশিয়া থেকে ৬৫১ কোটি ৪৫ লাখ টাকায় কেনা হয় ১৪০টি সাঁজোয়া যান, পাঁচটি উদ্ধার যান ও পাঁচটি এপিসি অ্যাম্বুলেন্স।
সূত্র জানায়, এ ছাড়া সেনাবাহিনীর জন্য আরও দুটি বিমান, তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকরণ রাডার, কিছু বেতার সম্প্রচারকেন্দ্র, মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম, বেশ কিছু ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র, স্বল্প পাল্লার ট্যাংকবিধ্বংসী গাইডেড উইপন, এপিসিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনার সরকারি সিদ্ধান্ত রয়েছে।
নৌবাহিনী: সরকারের চার বছরে নৌবাহিনীতে ১৬টি নতুন জাহাজ যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি কেনা হয়েছে আর চীনের সহায়তায় খুলনা শিপইয়ার্ডে তৈরি করা হচ্ছে ছোট আকারের পাঁচটি জাহাজ। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ইতালি থেকে ১৬৩ কোটি টাকায় কেনা হয় দুটি মেরিটাইম হেলিকপ্টার। একই দেশ থেকে ১৪১ কোটি টাকায় কেনা হয় এমকে-১ ক্ষেপণাস্ত্র। পরের বছর ৮৩৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকায় চীন থেকে দুটি বড় টহল জাহাজ (এলপিসি) ও পাঁচটি ছোট টহল জাহাজ কেনা হয়। ১৩৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকায় যুক্তরাজ্য থেকে কেনা হয় দুটি জাহাজ ও একটি জরিপ জাহাজ। এ ছাড়া ৩০২ কোটি ৫৪ লাখ টাকায় চীন থেকে ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৫৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকায় কেনা হয় রাডার যন্ত্রপাতি। ২০১০-১১ অর্থবছরে নৌবাহিনীর জন্য জার্মানি থেকে আনা হয় ডরনিয়ার ব্র্যান্ডের দুটি মেরিটাইম এয়ারক্রাফট। এর দাম ২৪১ কোটি ৩৮ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। গত ৩ জুন নৌবাহিনীর প্রধান কুর্মিটোলায় বঙ্গবন্ধু বিমান ঘাঁটিতে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ওই বছর এক হাজার ৬৫৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকায় চীন থেকে কেনা হয় আরও দুটি যুদ্ধজাহাজ। এ বছর ৬৫২ কোটি টাকায় কেনা হয় আরও দুটি ফ্রিগেট।
কেনাকাটায় স্বচ্ছতার ব্যাপারে জানতে চাইলে নৌবাহিনীর প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল এম ফরিদ হাবিব গত ৩ জুন সাংবাদিকদের বলেন, নৌবাহিনীর কেনাকাটায় সব সময় স্বচ্ছতা ছিল। কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।
বিমানবাহিনী: ২০০৯-১০ অর্থবছরে বিমানবাহিনীর জন্য ৩৩২ কোটি টাকায় চীন থেকে কেনা হয় স্বল্পপাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা পদ্ধতি (এসএইচওআরএডি)। এফ-৭ বিমানের রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধা স্থাপনে খরচ করা হয় ২০৪ কোটি টাকা। এ সময় এফ-৭ বিমানের জন্য চীন থেকে এবং মিগ-২৯ বিমানের জন্য রাশিয়া থেকে ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জন্য খরচ করা হয় ২৭২ কোটি ১৭ লাখ টাকা। ২০১০-১১ অর্থবছরে এক হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা দিয়ে কেনা হয় চতুর্থ প্রজন্মের ১৬টি যুদ্ধবিমান এফ-৭ বিজি১ এবং ৩৪৫ কোটি টাকায় রাশিয়ার তৈরি এমআই-১৭১এসএইচ হেলিকপ্টার। ৯ এপ্রিল এগুলো বিমানবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরের বছর চারটি মিগ-২৯-এর রক্ষণাবেক্ষণে খরচ করা হয় ১১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ ছাড়া চীন থেকে বিমান প্রতিরক্ষা রাডার কেনায় খরচ করা হয় আরও ২১৫ কোটি আট লাখ টাকা।
প্রতিরক্ষানীতি নেই: সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, দেশে কোনো প্রতিরক্ষানীতি নেই। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে প্রতিরক্ষানীতি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর থেমে যায়। বর্তমান সরকারের আমলেও প্রতিরক্ষাবিষয়ক সংসদীয় কমিটিতে এ নিয়ে শুধু আলোচনাই হয়েছে। তবে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নের জন্য ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ নামে পাঁচ বছর মেয়াদি চার ধাপের একটি পরিকল্পনা নেয় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ। প্রথম ধাপে ২০১১ থেকে ২০১৫, দ্বিতীয় ধাপ ২০১৬ থেকে ২০২০, তৃতীয় ধাপ ২০২১ থেকে ২০২৫ এবং চতুর্থ ধাপ ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালে বাস্তবায়িত হবে। প্রধানমন্ত্রী এতে অনুমোদনও দিয়েছেন। বর্তমান সরকারের আমলে যেসব কেনাকাটা হচ্ছে, তা প্রথম ধাপের অংশ বলে জানা গেছে।
কতটা যৌক্তিক: প্রতিরক্ষানীতি না থাকার পরও বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে সামরিক সরঞ্জাম কেনা কতটুকু যৌক্তিক? সাবেক সেনাপ্রধান কে এম সফিউল্লাহ এ প্রশ্নের জবাবে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা কী কিনব, তা নির্ভর করবে আমাদের প্রতিরক্ষানীতির ওপর। তবে কেনাকাটার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা অবশ্যই থাকতে হবে, যাতে এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে। নিজেদের নিরাপদ রাখতে হলে প্রতিরক্ষার জন্য ব্যয় করতে হবে। এর প্রয়োজন আছে।’
দেশে কোনো প্রতিরক্ষানীতি নেই। তার পরও কোন উদ্দেশ্য সামনে রেখে এ ধরনের কেনাকাটা হচ্ছে? জানতে চাইলে প্রতিরক্ষাবিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রধান ইদ্রিস আলী প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিরক্ষানীতি না থাকলেও প্রতিটি বাহিনীতে নিজস্ব কার্য পদ্ধতি আছে, আছে ‘ফোর্সেস গোল’। সেই লক্ষ্য নিয়েও কেনাকাটা হচ্ছে। এই ১৫ হাজার কোটি টাকার কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ছিল বলে মনে করেন কি না—এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী তার চাহিদা অনুসারেই কেনাকাটা করে থাকে। এ ক্ষেত্রে যদি কোনো অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, তবেই সংসদীয় কমিটি হস্তক্ষেপ করতে পারে।
তবে রাশিয়ার সঙ্গে আট হাজার কোটি টাকার সামরিক সরঞ্জাম কেনার চুক্তির পর গত ২১ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক বলেন, ‘সামরিক সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অস্বচ্ছতার অবকাশ নেই। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের মতামত নেওয়া হচ্ছে।’
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এয়ার কমোডর (অব.) ইসফাক ইলাহী চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, একটি বাহিনী থাকলে তার সক্ষমতা থাকতেই হবে। না হলে বাহিনী রেখে লাভ কী? সক্ষমতার জন্য দরকার সামরিক সরঞ্জাম। তবে এসব সরঞ্জামের দাম অনেক বেশি, যা সাধারণ মানুষ চিন্তাও করতে পারে না। তবে দাম যাই হোক না কেন, কেনাকাটা অবশ্যই স্বচ্ছ হওয়া চাই, যাতে মানুষের কোনো সন্দেহ না থাকে।
গত ২৯ জানুয়ারি লন্ডনে প্রকাশিত দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সামরিক খাতে বাংলাদেশের দুর্নীতির ঝুঁকি রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা-সম্পর্কিত গোপন বিষয়গুলো সম্পর্কে সংসদে যেমন কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয় না, তেমনি নিরাপত্তা খাতের বার্ষিক হিসাবের নিরীক্ষা প্রতিবেদন নিয়েও কোনো বিতর্কের প্রমাণ মেলে না।’
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সেনাবাহিনীর একাংশের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের সময় টিআইবির চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল বলেছিলেন, ‘সামরিক খাতের কেনাকাটা নিয়ে কোনো তথ্য জনগণের কাছে প্রকাশ করা হয় না। এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতারও অভাব রয়েছে। এ নিয়ে সংসদেও কখনো কোনো আলোচনা করা হয় না।’

প্রথম আলোর ১০৬টি পাঠকের মন্তব্য

  • ২৩
    ১২
    অর্থহীন এই ব্যয়, এই দেশের বা দেশের জনসাধারণের কি কাজে আসবে? এই অর্থ যদি শহরের ও গ্রামের রাস্তা মেরামত, পরিষ্কার প্রকল্পে, বিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রকল্প, তথ্যপ্রযুক্তি উন্নয়ন এবং বেকার নিরসনে কাজে লাগান যেত তাহলে হয়ত দেশ অনেকটাই এগিয়ে যেত। আফসস, এদেশের রাজনীতিবিদেরা নিজ স্বার্থ ছাড়া অন্য কিছুই ভাবতে পারে না :(
    • ১১
      it won't help the regular citizen but it will help the pocket of AL leaders........ they will pocket enough money for the upcoming election from this deal.
    • ১২
      ১৭
      ঠিকই বলেছেন। আর্মি আগে ভাল ছিল, এ সরকারের আমলে কেমন জানি হয়ে গেছে। আজমি ভাইয়ের ন্যায় চৌকস আর্মিদেরকে অপসারন করেছে। দুর্নিতীর সম্ভাবনা আছে।
    • ২৮
      ৩০
      মন্তব্য দেখে মনে হচ্ছে আমাদের এই সব সরকার নেই। একটি জাতি কতটুকু শক্তিশালী ,মর্যাদা সম্পন্ন তা তার সামরিক শক্তি দিয়ে বুঝা যায়। আমাদের সমুদ্র সীমানাও বেড়েছে। সরকার সিদ্বান্তটি যৌক্তিক। পদ্মা ব্রিজ ওয়ালারা, বাস্তবতা ফিরে আসুন। ভাবখানা এমন যে সরকারে সমালোচনা করলেই মারাত্নক দেশপ্রেমিক আর বুদ্ধিজীবী হওয়া যায়।
    • ১০
      do not blame only to politicians, how about us ? when a government opens new transport system, new electricity plat etc. what we do ? on the name of politics we simply vandalize those things in protest, so are we good ?
    • ২৯
      ১২
      দেশে এখনো পাকি দালাল আছে বুঝা যায়। আমান আজমির আর্মিতে নিয়োগটাই তো ছিল দুর্নীতি। বাংলাদেশ আর্মির নিয়ম অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকের সন্তান আর্মিতে ঢুকতে পারবে না। গোয়াজম পাকি নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তার ছেলে কিভাবে আর্মিতে নির্ধারিত সময়ের এক মাস পরে ঢুকতে পারে? কিভাবে উচ্চমাধ্যমিকে তৃতীয় শ্রেণী পাওয়া আজমি আর্মির ফর্ম তুলতে পারে? কিভাবে সাঁতার না জানা সত্ত্বেও আজমি একের পর এক প্রমশান পায়? কিভাবে গোআজম একজন পাকি সিভিলিয়ান হয়েও ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে রাত যাপন করে ছেলের সাথে (নাগরিকত্ব পাওয়ারও অনেক আগে)? আর গো আজম কিভাবে মাত্র পৌনে চার বছর কারমাইকেল কলেজে খণ্ডকালিন লেকচারার থাকার পরও (পূর্ণকালীন লেকচারার ও হইতে পারে নাই) নামের আগে অধ্যাপক লাগায়?)
    • ১০
      আমাদের নিরাপত্তার জন্য এত ব্যয়বহুল অস্ত্র কেনার সামর্থ থাকলেও সাহিনাদের নিরাপত্তার জন্য কোনো ব্যবস্থা নাই কেন? কেন শাহিনাদের বাচাতে অত্যাধুনিক সরঞ্জাম ইন্ডিয়া বা যুক্তরাজ্য থেকে ধার নেওয়ার কথা আসে । যেহেতু আমাদের চতুর্পাশে ভারত তাই ইহার দশগুণ অস্ত্র কিনলেও ফেলানিরা ঝুলবে কাটা তারে ভবিষ্যতেও ।
    • এখন তো ঘরের শত্রু বিভীষণে পরিণত হয়েছে, তাদের তাড়াতে, গদি কন্টকমুক্ত রাখতে অস্ত্রের প্রযোজন আছে না ?
  • ১৯
    ১০
    Well, I believe it's a good to make our defense strong.
    • নৌবাহিনীর জন্য দুরপাললার যুদ্ধজাহাজ কেনার জন্য সরকারকে অনুরোধ করছি। কারণ আমাদের নতুন সমুদ সিমার শেষ পযন্ত যাওয়ার উপযোগি কোন জাহাজ নাই। যা আছে তা দিয়ে আধেকটা যাওয়া যায়। আমাদের সমুদ সিমা অরখিত আবসথায় আছে। বিদেশি জাহাজ তাদের ময়লা আবজনা সব আমাদের সমুদে ফেলতেছে।
    • This is stupid!! The period for fighting with other country is over.... no country attacks or will attack other country now a days. i have spoken lot of defense people this time and all of them are fade up with thier job - lot already left their job. so it's better to work for improving their job facilities then to buying new weapons. Out of 15000 crore minimum 3 thousand crore will be in AL's pocket. as they did during their last tenure (procuring worthless mig 29). we need to spend money for improving general people's life style, improving the health service, transportation , job opprotunities, tackle crime. All the positive comments are coming from the ......... military guys. This country people never accept such wastage of money. This is ridiculus.
  • ১৫
    It means lot of corruption happened as well.
  • ৩১
    In terms of percentage of GDP, Bangladesh spends the least on Military expense among all the South Asian countries. Here is the south asian countries by military expenditures: Sri Lanka: 3.5% of the GDP Pakistan: 2.7% of the GDP India: 2.5% of the GDP Nepal: 2.0% of the GDP Bangladesh: 1.5% of the GDP Source: http://en.wikipedia.org/wiki/List_of_countries_by_military_expenditures But there must be a defence policy before spending on weapons for example spending 1,538 crore taka on 4th Generation F7BGI (it is a 3rd generation fighter actually) is a complete waste. Rather we should invest more on Air Defence. We also need relatively a stronger Navy to protect our vast sea territory. So, the spending on Navy is justifiable. Although, the report claims that two ships were bought from china at a cost of 1,659 crore taka which is not true I think, and purchasing two old frigates at a cost of 652 crore taka this year is still not confirmed. I think the reporter confused himself with the information. Finally, I agree with the agreement of defence technology transfer with Belarus and I must say that its now time to invest on Research and Development so that we can build weapons locally like the small warship we built last time. This will save our money and create more job opportunities.
    • 1. the info is not correct given by author, we have bought 2 chinese old frigate at good condition at very low cost which will be heavily modified with more advance weapons. it will reduce cost by 1.5 times if we bought newly build warship of its kind. 2. F-7BGI has been bought to replace A-5iii and F-7MB for ground attack role, their life time has expired. 3. you will see 5 layer air defence system by 2023-2025.
    • ১৭
      ১০
      Nice information. We need strong defense system. Thanks Govt. for enriching our defense forces .
    • সুন্দর একটি তথ্য বহুল মন্তব্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।
    • some people is disgusting , they always say AL want destroy army . when they get news AL making our army strong they try 2 find corruption or say we no need army . when this kind people will be Bangladeshi ? when they will love Bangladesh ? whey will see positive ?
  • ১০
    How many padma bridge is possible by that money?
    • ১৪
      অর্ধেকটা বানানো যেত।
    • ১২
      সামরিক ব্যয়ের প্রয়োজন আছে এবং সেটা করতেই হবে। ওই টাকা দিয়ে কি করা যেত কথা অবান্তর।
    • Sadiq , you always thinking negative why ? any government will come they will make padma bridge . we need strong and smart army 4 our safety .
  • ১৭
    ১৪
    এই রিপোট লিখার সময় যে সব বিশেষগগের মতামত নেওয়া হয়েছে তারা কেউ বলেনি এইসব সামরিক সরঞ্জাম কেনার প্রয়োজন নাই। হয়তো বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট হওয়ায় প্রকাশ করা হয়নি। আমরা নেগেটিভ ভাবে না দেখে এটাও আওয়ামি লীগ সরকারের সাফল্য হিসাবে দেখতে পারি।
  • ২৮
    সামরিক দিক দিয়ে শক্তিশালী হওয়া ছাড়া উপায় নেই। তবে স্বাস্থ্যখাত( প্রেশার বাড়লে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে যেন যেতে না হয়) এবং দেশের সবচেয়ে গরীব মানুষগুলার চিকিতসা ব্যয় কিভাবে সামাল দেয়া যায় সেগুলাও মাথায় রাখা দরকার, শিক্ষাখাত কেও যেন কম গুরুত্ব দেয়া না হয়, ইদানীং সার্টিফেকটধারী তৈরি হচ্ছে অনেক, কিন্তু শিক্ষিত হচ্ছে কয়জন সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ। আমাদের দেশে নামেই ভার্সিটি তৈরি হচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের দেশের সব ভার্সিটিগুলাতে নিয়মিত গবেষণা হচ্ছে কি? ভার্সিটি মানে নিশ্চয় খালি পরীক্ষা না, এখানে তো আন্তর্জাতিক মানের অনেক গবেষণা হওয়ার কথা, অনেক পেপার বের হওয়ার কথা নিয়মিত, যেগুলা বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য হবে। গবেষণা না হয়ে মারামারি করে ই তো অনেক সময় চলে যায়। সকল দিকে যেন মনোযোগ দেয়া হয়। সমন্বিত উদ্যোগ অনেক বেশি প্রয়োজন। আমাদের দেশটা অনেক ছোট দেশ। এই ছোট দেশ এ সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ না করলে সব জগাখিচুড়ি পাকিয়ে যাবে। মিয়ানমার এবং ভারতের প্রতিবেশি দেশ হিসেবে সামরিক খাতে ব্যয় কে অপ্রয়োজনীয় ভাবাটাই বোকামি। তবে যা কেনা হচ্ছে, তা সামরিক বিশেষজ্ঞ রাই বলতে পারবে ঠিক আছে কিনা। সাধারণ মানুষ হিসেবে আমরা খালি বুঝতে চাইব যে , সীমান্তে বিএসএফ বা নাসাকা যেন বাড়াবাড়ি করার আগে ভয় পায়। সমুদ্র সীমায় আমাদের জেলেরা যেন নির্ভয়ে মাছ ধরতে পারে। জলদস্যুরা যেন বাংলাদেশের জাহাজ কে এটাক করার আগে দুইবার ভাবে। সেগুলা পেলেই জনতা খুশি। সব দিকেই মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
    • আমাদের সামরিক শক্তিকে ভয় পায় বলেই বিএস এফ সীমান্তে জীবন্ত টার্গেট প্র্যাকটিস করে।
  • ১২
    ১০
    Just want to know how much perchantages goes govt pocket....
  • পদ্মা সেতু সেনাবাহিনির অংশ হলে ভালো হতো !!!
  • Arms purchase deal of Tk 15,104 crore, without letting the people/parliament know about this? What does this indicate? How long people can condone this type of arrogance of this government?
    • It never happens (making military expenditures public). This is not due arrogance of the govt; this is what Bangladesh armed forces do not want to be disclosed.
  • ১১
    ১০
    এতে করে আসলেই কিছু ব্যক্তির চিন্তাভাবনার এবং আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে, এতে করে জনগনের চুড়ান্ত ক্ষতি সাধিত হবে।
  • ১০
    যে বা যাহারা যতই বলুক না কেন, এতো টাকা খরচ করে সরঞ্জাম কিনার কি দরকার? আমরা কার সাথে যুদ্ধ করবো? আমাদের তো কোন শত্রু নেই। তাহলে বলবো আমাদের আশে পাশে ঘাপ্টি মেরে আছে কিছু শত্রু যারা চাইলে অনেক কিছুই করতে সক্ষম সরাসরি হোক আর ইন-ডিরেক্ট হোক। আমাদের বাহিনী আছে এবং তা আমাদের প্রাইড ও তাই তাদের সক্ষমতা অর্জন করা খুব দরকার, তবে এই কেনাকাটার প্রক্রিয়া টা স্বচ্ছ যেমন হওয়া দরকার ঠিক দরকার একটা ভিশন এর উপরে ভিত্তি করে এগিয়ে নেওয়া। যেমন আমাদের নৌ- বাহিনীর জন্যে সাব মেরিন অবশ্যই দেশের ইতিহাসে মাইলফলক হতে যাবে তবে তা পারমাণবিক নয়। এখন যারা আমাদের ঘাটাতে চাইবে তারা একবার হলেও ভাববে আমাদের দিকে এগিয়ে আসার আগেই।
  • We need to understand few things. 1. our armed forces weapons and equipments are now very old. To keep it up to date we need to improve and increase fire power. 2. we are spending only 1.5% of our GDP. 3. Both of our neighbors are increasing their firepower heavily, specially upcoming superpower India after china. I am not saying that we will have war with them but who knows after 15 to 20 years what will happen. 4. our armed forces are trying to keep things secret because you can win half battle by just knowing enemy strength, so whoever will be the enemy, our armed forces are trying to keep them blind about our strength as much as possible, if we disclose it in public then all will know our strength and weakness. 5. according to official, BD will pay to russia from earnings of UN mission. 6. When you convert USD purchase amount into BDT, please also convert BD economy size into BDT too. for your help, now BD economy is $122 billion USD, now do the math.
    • Well said bro... in case of war or criminal activity, it will not wise to get help from others if we can manage ourselves alone with strong defense.
    • Our neigbers secret agents are everywhere in Bangladesh. So although we don't know our & their strength, they know everything.
  • We can not fight with our neighbours, good relatioship with neighbours always good. Yes we believe we need better naval force, our fishing industries , off shore area unprotected. But heavy arms in land area suspicious. Shopping spree before departure of govt, carring wrong messages, Purchasing from old suviet countries are more suspicious because they are no more old socialist govt. Their govt is in transition of capitalist structure systems,They are fighting with corruption as well. These huge arms shopping no doubt will carry controvercy,rather than necesity of the of our defence
  • Forgot to mention 1 more thing, for taking that credit from Russia, they will pass technology to Bangladesh which is very importand, it is not easy get just deal if you are not very close ally.
  • ১০
    সামরিক সরঞ্জাম কেনা মানেই বিরাট %
  • ১০
    ভারত তার নিজের টাকায় দেশের প্রযুক্তি তে বিমানবাহি যুদ্ধজাহাজ বানালেও আপনারা কটাক্ষ করে বলেন "গরিবের ঘোড়া রোগ" . এবার আপনাদের এই " বার্ষিক ৪ শতাংশ সুদে অস্ত্র-সরঞ্জাম ক্রয় " কে আপনারা কি বলবেন ???
    • ১২
      এইটা ভারতের প্রতি এলারজি থেকেই বলা। আর এই এলারজি জন্য ভারতও বহুলাংশে দায়ি।
    • প্লিজ লজ্জা দিবেন না, এসবে আম জনতার কোন হাত নেই।
    • আপনাকেও লাইক দিলাম। আপনার এই মন্তব্যটা একদম সঠিক।
  • ১৪
    যদি সামরিক সরন্জাম কিনতে হয়, তবে সেটা কিনতে হবে আমাদের দাতা দেশগুলো থেকে। সে সন দেশে আমাদের তৈরী পোষাক যায়, তার মধ্যে আমেরিকাই প্রধান। এ ছাড়া ইংল্যান্ড, ক্যানাডা, অস্ট্রেলিয়া সহ ইউরোপের অনেক দেশেই যায়। ওসব দেশ বাদ দিয়ে অখ্যাত দেশ থেকে অস্র কেনার আসল কারন কি? কমিশন????
    • ১২
      bro, plz do not talk what you do not know, if you buy from those countries our purchase cost will increase by 2 to 3 times. Which unpopular country are talking about from whom we are buying weapons ? first study on defence related issues.
    • একই ধরনের সামরিক সরঞ্জাম দাতা দেশগুলো থেকে কিনতে গেলে যেমন খরচ অনেক বেশী হয় তেমনি ওরা সরাসরি জেনে ফেলে আমাদের সামরিক শক্তির পরিমান। এছাড়া দাতা দেশগুলো আমাদের অস্ত্র সম্ভার নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ পেয়ে যাবে।
    • Quality of weapon is not important here priority goes to the country who can understand the percentage deal . which is really very important for awamilegue before the upcoming election .
    • .............বন্ধুত্ব মানে সীমাবদ্ধতা নয় @ইবনে নিজান, সব কাজে বিরোধিতা করা মানে বোকামি করার সামিল.
  • ১২
    এর আগে এত চড়া সুদে কখনো ঋণ নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। এই ঋণের অর্থ তো সাধারণ মানুষের পকেট থেকেই যাবে।
  • ১২
    ১৫,০০০ কোটি টাকার ২০% কত হয়? ৩,০০০ কোটি টাকা। এই বিপুল কমিশন কাদের পকেটে যাচ্ছে বা যাবে তা খুব ভালভাবে বোঝা যায় কেন এই সরকার ক্ষমতা ছাড়তে একেবারেই ইচ্ছুক নয়। তারা ক্ষমতায় না থাকলে এই বিপুল পরিমান কমিশন অন্যদের পকেটে চলে যাবে না? তবে সবচেয়ে বিস্মযকর ও বিমূঢ় করে দেবার মত ব্যপার হচ্ছে জনগনের স্বার্থরক্ষার কথা বলে জনগনের টাকার এরকম অপচয় - বিশেষ করে আমাদের প্রধান প্রতিবেশীর সাথে যুদ্ধের যেখানে দুরতম কোন সম্ভবনা নেই - সেখানে এরকম হঠকারী কান্ড কিভাবে কোন বিবেচনায় সম্ভব? তবে কি এই সরকার বুঝে গেছে যে ঘর পুড়ে গেলে যা পাওয়া যায় তাই লাভ? এনারা কি 'নির্নয় লে লিয়া হ্যায় কে বহুত দের নেহী ইয়ে দেশ ছোড়নে কো'? কি জানি?
    • ভাইজান, ভিন্দেশী ভাষায় কী লিখলেন বুজলাম না। পারসেন্টেজ ভাগাভাগির বৈঠকে কি আপনারে ডাকা হইছিল? এত কথা জানেন কিমুন কইরা? সশস্র বাহিনীর লোকজনের সাথে একটু আলাপ করে জেনে নিয়েন, অস্রের অপূর্ণটা নিয়ে তাদের আক্ষেপ কত? তাদের প্রশিক্ষন আরে ব্যবহৃতব্য অস্রের মধ্যে তফাৎ কত? তাছাড়া আর্মির কেনাকাটায় পলিটিশিয়ানরা কতটুকু ভাগ বসাইতে পারে একটু জেনে নিয়েন। এগুলো খাম্বা না, ফাইটার, ট্যাঙ্ক, ম্যারিন বোট।
    • correct
  • ১০
    আমাদের দেশের জন্য এত বড় সশস্ত্র বাহিণী রাখার কোন যৌক্তিকতা নেই। এদের খোর পোষের পেছনে এত টাকা ব্যয় করা অর্থহীন। এখান থেকে কিছু টাকা ব্যয় করলেই দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানের গবেষনাগার স্থাপন করা যায়। সশস্ত্র বাহিণীর আকার ছোট করে দেশে বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে; যেন প্রয়োজনীয় মুহুর্তে আপামর জনসাধারণ যুদ্ধে অংশ নিতে পারে।
    • এতো বড় সামরিক বাহীনির বেশীর ভাগ ই জাতি সংঘ শান্তি মিশনে নিয়োজিত। যার ফলে আমরা প্রচুর বৈদেশিক মূদ্রা আয় করতেছি শুধুমাত্র সামরিক বাহীনির মাধ্যমেই। আর আপনি কি জানেন যে, বাংলাদেশ ই বিশ্বের সবচেয়ে বেশী আর্মি প্রেরনকারী রাষ্ট্র। তাই বেশী বেশী বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য আমাদের সামরিক বাহিনী আরো বড় করা দরকার।
    • 1. same people will say government did nothing to our armed forces when we will face difficulties. 2. you do not support expense of 5,00,000 armed forces size but supporting arms training of 16 crore people ? then some of them will start terrorism with the training. What a Logic ! ! ! i am impressed
  • ১৪
    দেশের সার্বভৌমত্ত রক্ষা তথা প্রতিরক্ষা বিভাগকে শক্তিশালী করার জন্য অস্ত্র-সরঞ্জাম ক্রয় করা যেতেই পারে।
    • লাইক দিলাম, ভাল কথা কইছেন।
  • ১৬
    নিজেদের নিরাপদ রাখতে হলে প্রতিরক্ষার জন্য ব্যয় করতে হবে। এর প্রয়োজন আছে।সক্ষমতার জন্য দরকার সামরিক সরঞ্জাম।তবে দাম যাই হোক না কেন, কেনাকাটা অবশ্যই স্বচ্ছ হওয়া চাই, যাতে মানুষের কোনো সন্দেহ না থাকে।
    • ১১
      যু্দ্ধটা কার সাথে করতে চাইছেন ?
    • saiful @ আপনার কাছে এটম বোমা আছে ওইটা মারার দরকার নাই, আছে জানলেই আরেক জন আপনার সাথে লাগতে আসার আগে দশ বার চিন্তা করব। এত করার পরও প্রতিবেশি দেশের মন ভরে না প্রতিদিন গুলি করে মানুষ মারে। কারণ আপনার দেশ দুবল।
  • অস্ত্র। এক আতঙ্কের নাম। একটা ভয়। এই অস্ত্রই না আবার দেশের জন্য আতঙ্কের হয়ে পড়ে !
  • Our force must have the capability. Military competencies required for military equipment. We are purchasing on n on but no goal. Bangladesh is sovereign country. But there is no Defense Policy for the country yet. But why????? Military shopping shud follow Defense Policy.
  • আমরা যুদ্ধ করব কার সাথে?
    • Ok we will dismiss our armed forces, can you guarenty us our national safety not just short term but also long term like about 20 years ?
    • you should be happy that at least this sector is getting good shape which is rare case of Bangladesh
    • শুধু মায়ানমার এর কথা চিন্তা করুন, তারা কতবার আমাদের সমুদ্রসীমা লংঘন করেছে। আমরা ধাওয়া না দিয়ে আলোচনার মাধ্রমে সমাধান করার চেষ্টা করেিছ। কিন্তু জবাব দেয়ার মতো উপযুক্ত ফায়ার পাওয়ার থাকলে তারা সমুদ্রসীমা লংঘন করার সাহস পেতনা।
  • WE HAVE HEARD THE TERMS/WORDS - TENDER BANIJJO, NIYOG BANIJJO ETC. NOW WE ARE WAITING TO HEAR THE WORD - KROY BANIJJO.
  • ২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে শুরু করে ২০১২-১৩ অর্থবছর—এই চার বছরে তিন বাহিনীর জন্য ১৮৮ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৫ হাজার ১০৪ কোটি টাকার সামরিক সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। তাছাড়া ইতপূর্বকার অস্ত্র ক্রয় এবং ভবিষ্যৎ ক্রয় পরিকল্পনার বিশাল ফিরিস্তি দেখে অবাক লাগে কারন এগুলো কেনার পর রক্ষনাবেক্ষনের জন্যও বেয় করতে হবে প্রচুর অর্থ । আমাদের মত গরিব দেশে অর্থ বেয়ের আরও অনের প্রাইওরিটি আছে বলে আমি মনে করি ।
  • ১১
    AL is much better than BNP. They want to do something for country.
  • ১৫
    আমাদের সেনাবাহিনীর হাতে যদি পর্যাপ্ত সামরিক সরাঞ্জাম না থাকে তা হলে বাহিনী রেখে লাভ কি ? আমরা কার সাথে যুদ্ধ করব? আসে পাশে তাকালেই দেখতে পাবেন।
  • ১১
    @সৌরভ রায় (কোলকাতা)২০১৩-০৮-২৪ ০৮:৫১ via computer আপনারা যেভাবে সিমান্তে পেশী শক্তি দেখান আর মানুষ মারেন, তাতে অস্ত্র না কিনে কি কোন উপায় আছে? আমাদের দেশে একটি প্রবাদ আছে “বেড়ায় খেত খায়”
    • চোরা কারবারি বন্ধ হলেই সীমান্তে গুলি বর্ষণ বন্ধ হবে. BSF কখনোই বাংলাদেশের মধ্যে প্রবেশ করে এ্‌ই হত্যা করে না .
  • যুদ্ধটা কার সাথে ?
  • একটি দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে অস্ত্র ক্রয় করা অবশ্যই প্রশংসনিয়। কিন্তু যে দেশের মানুষ শীতের সময় গরম কাপড়ের অভাবে মারা যায়, বিনা চিকিতসায় মারা যায়, যে দেশে আজও মানুষের মৌলিক চাহিদা পুরন হয়না সে দেশে ১৫০০০ কোটি টাকার অস্ত্র ক্রয় হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই নয়। আমাদেরকে বাচতে সহায়তা করুন, আমাদের মৌলিক চাহিদি পুরনে সহায়তা করুন। কোন সভ্য দেশই এখন যুদ্ধ চায়না। আর আমাদেরতো তেলের খনি নেই যে আমেরিকা আমাদের উপর আক্রমন চালাবে রাষায়নিক অস্ত্র আছে বলে !!!!
    • that totally nonsense ! ! we spend only 1.5% GDP in defence, why are you obsessed with this 1.5% ? what about 98.5% of GDP ? use them properly then you will not see any type of that situation, if you can not take care of 98.5% GDP properly, do not talk about 1.5%
  • বড় বড় ডিল, বড় বড় %।
  • যুদ্ধ করি বা না করি নিজেদের নিরাপদ রাখতে হলে প্রতিরক্ষার জন্য ব্যয় করতে হবে । তবে তা েগাপনে করাটা ঠিক হয় নি ..... কারন আগে একই ভাবে অস্ত্র কিনে অভিজুগ উঠেচিল । এবার ও সেই একই প্রশন .. কমিশন নয় তু ????????? অবশ্য এটা বাংলাদেশের কালচার .......।
  • Hope to know that awamileague government has changed its policy regarding Armed Forces...!! Good for the country and people...Hope we will be more secured from any outside attack...It would be nice if we could secure our border more...
  • সাবাশ ......... পতিরক্ষা ছাড়া দেশ , হাট পা হীন পঙ্গুর মতো ।
  • এজননই পরতিবেশি দেশগুলু আওয়ামিলিগ সরকারকে কিছুটা হলেও ভয় পায় | সেনা বাহিনির শ্বংখলা বজায় রাখতে হবে | এ| সরকার সফলতার সাথে মিয়ানমার এর নিকট থেকে ১১১০০০ বরগ কিলমিটারের সমুধর বিশাল এলাকা জয় করে দেশের আয়তন বাড়িয়ে দেশকে মৎস ও খনিজ সমপদে সমরিধধ করেছে | তবে কেনা কাটায় সছচতা থাকা উচিত|
  • sob i thik ache, ja dorkar ta kinuk :) Proti bochor shoto koti taka r gola barud expire hoi jai, ogula agun a jalai dewa hoi.
  • It will be discovered after Awami govt. that all of them (weapon) are so obsolete which are kind of trash & 50% commission in govt. pocket. Why they buy from Russia only? I am positive there are some very sweet honey for these types of deal.
    • কারন রাশিয়া হচ্ছে এমন একটি দেশ যারা বাংলাদেশকে সব সময় সাপোর্ট করেছে ...... ৭১ সালে আমেরিকান নৌ বাহিনীর বিরুধে জবাবটা রাশিয়াই দিয়েছিল..........।
    • mohammad , read history , Russia was always our good friend , they saved us 4m USA navy in 1971 .
  • দেশও আমাদের সেনাবাহিনীও আমাদের। তার প্রয়োজনও মেটাতে হবে আমাদেরকেই। কিন্তু ষেঅল কোটি মানুষের বিপুল অনিশ্চয়তার মাঝে কতোটা জবাবদিহিতার মানদণ্ড ধরে রাখে নৈতিকতার বিচারে। ষোলকোটি মানুষ যদি তাদের সিনা চেতিয়ে স্ব-দেশ স্ব-জন এবং স্ব-কালকে রক্ষা করতে না পারে তবে কোন সেনাবাহিনী আছে তা করবে বা করতে পারে? শিক্ষা স্বাস্থ্য জনপরিষেবা যেখানে এখনো আধুনিক পৃথিবী থেকে লক্ষ যোজন দূরে সেখানে ধার করে বিলাস করবার রাষ্ট্রীয় নৈতিকতা আদৌ মানা সম্ভব? গাছেরটা খাওয়া আর তলারটার কুড়াবার নীতিতে এগিয়ে চলা বাহিনী স্বচ্ছতা ছাড়া গণতান্ত্রিকতার দায় কতোটা মেটাতে পারে? গর্ব যেমন আমরা করি তেমনি কালো ইতিহাসও কম নয়, সেটা বিবেচনায় না নিয়ে স্বচ্ছতাকে পাশ কাটিয়ে চলতে গেলে লক্ষ্য হাসিলের সম্ভাবনা বরাবরই কম। আর এটা রাষ্ট্রে মৌলনীতিরও পরিপন্থি বটে।
  • আমার কেন জানি মনে হচ্ছে আমরা বার্মার সাথে ভবিষ্যতে সামরিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ব, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সামরিক intervention এর কোনো বিকল্প দেখছিনা, আমি মনে করি আমাদের বিমান বাহিনীকে আরো সম্মৃদ্ধশালী করা উচিত, modern warfare এ যুদ্ধ বিমানের বিকল্প নেই. আমাদের এ কথাও মনে রাখা উচিত যে UN এর peace mission গুলিতে আমরা আমাদের সমরাস্ত্র ব্যবহার করতে পারি এমং এর জন্য আমরা উপযুক্ত পারিশ্রমিক পাবো
  • এইখানে যারা বলছেন সামরিক সরঞ্জাম কিনে কি হবে, যুদ্ধ কার সাথে করব ইত্যাদিইত্যাদি..। আল্লাহ না করুক যদি বাংলাদেশ কোনদিন আক্রান্ত হয় ঠিক তারাই বলবেন সামরিক খাতে বাজেটে বরাদ্দ টাকা দিয়ে কি ঘাশ কাটা হয় নাকি, টাকা গেসে কই ব্লা ব্লা.. অথচ দক্ষিণ এশিয়াতে বাংলাদেশ সামরিক খাতে জিডিপি পারসেনটেজ হিশেবে সবচেয়ে কম খরচ করে। এমনকি নেপালের মত দেশের চাইতেও কম পারসেনটেজ খরচ করে। Sri Lanka: 3.5% of the GDP, Pakistan: 2.7% of the GDP, India: 2.5% of the GD, Nepal: 2.0% of the GDP, Bangladesh: 1.5% of the GDP Source: http://en.wikipedia.org/wiki/List_of_countries_by_military_expenditures অস্ত্র ছাড়া আর্মি কি হাত পা নাক মুখ দিয়ে দেশ রক্ষা করবে কামান, রাইফেল, বিমানের বিরুদ্ধে? ডাবল স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন না করে দেশের স্বার্থ বুঝেন।
    • যারা বলছেন সামরিক সরঞ্জাম কিনে কি হবে, তাদের উদ্দেশ্য আমার আর একটু কথা । ঘড়ে তরকারি কাটতে বটি লাগে হাত দিয়ে তা কাটা যায় না বা পাসের বাড়ির আন্টি আপনার তরকারি প্রতিদিন কেটে দেবে না .... দেশের সুরক্ষার বাবস্থা দেশকেই করতে হবে ।
  • We have need first infrastructure development for increase our GDP growth. No need unnecessary purchase Military arms & equipment's. We are a peaceful nation & we always want a peaceful world..
    • we may want peace without arms, does others think like us ?
  • so painful...our army is also corrupted!!! They're sucking people's blood money!!!
  • সংবাদের শিরোনামটিই ছিল আতংকের। পড়ে দেখি স্বাভাবিক। একটি দেশে সেনাবাহিনী থাকলে অস্ত্র লাগবেই। একটি দেশ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মত দুর্নীতিবাজ থাকলে দুর্নীতি হবেই। কোনটাই অস্বাভাবিক নহে।
  • আচ্ছা এই টাকা দিয়ে সিংগাপুরের হসপিটালের মত একটা হসপিটাল করা যেতনা? ওরকম একটা হসপিটাল হলে আমাদের রুগ্ন রাষ্ট্রপতি মন্ত্রী নেতা নেত্রীদের সিংগাপুর ব্যাংককে যেয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর দরকার পরত না?
  • I do strongly support to strengthen the state defence as a whole. But the problem is that we do spend the hard-earning money of the public to buy weapons that are normally obsolete - demo is MIG 29!!! Why do not we spend money on the latest military equipment??? The concerning point is also to buy from Russia because civil service along with the government of Russia is like our big brother in terms of corruption - they are much more corrupted. I do not also understand why we should buy weapons from Belarus with which we have just started to make relations. Please note that when we buy weapons from any country, it is the selling country that also gains more than the buying country!
  • রাডার (Rudder) না, রেডার। A rudder is a device used to steer a ship, boat, submarine, hovercraft, aircraft, or other conveyance that moves through a medium (generally air or water). On an aircraft the rudder is used primarily to counter adverse yaw and p-factor and is not the primary control used to turn the airplane. A rudder operates by redirecting the fluid past the hull or fuselage, thus imparting a turning or yawing motion to the craft. In basic form, a rudder is a flat plane or sheet of material attached with hinges to the craft's stern, tail, or after end. Radar is an object detection system which uses radio waves to determine the range, altitude, direction, or speed of objects. It can be used to detect aircraft, ships, spacecraft, guided missiles, motor vehicles, weather formations, and terrain. The radar dish or antenna transmits pulses of radio waves or microwaves which bounce off any object in their path. The object returns a tiny part of the wave's energy to a dish or antenna which is usually located at the same site as the transmitter.
  • মিয়ানমার এবং ভারতের প্রতিবেশি দেশ হিসেবে সামরিক খাতে ব্যয় কে অপ্রয়োজনীয় ভাবাটাই বোকামি। সাধারণ মানুষ হিসেবে আমরা খালি বলতে চাইব যে , সীমান্তে বিএসএফ বা নাসাকা যেন বাড়াবাড়ি করার আগে ভয় পায়। সমুদ্র সীমায় আমাদের জেলেরা যেন নির্ভয়ে মাছ ধরতে পারে। জলদস্যুরা যেন বাংলাদেশের জাহাজ কে এটাক করার আগে দুইবার ভাবে।
  • আমাদের দেসের ৪০%মানুষ এখন দরিদ্র। আর অস্র কেনায় খরচ হচ্ছে এত্ত টাকা। মানতেই পারছিনা।
  • ভিনদেশে কোনো শত্রুরতো কোনো আলামত নাই ( অন্তত অস্র যুদ্ধ করার মতোন ) .. তাহলে কি শুধুমাত্র ঘরের শত্রুকে মারতেই ১৫ হাজার কোটি টাকার অস্র ?? কেনোরে বাবা লাঠি , চাকু , ছুরি , রামদা এগুলো দিয়েইতো ভালো কাজ চলে ।
  • আমরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে এত ভাবছি, শাহিনাদের নিরাপত্তার কথা কে ভাববে?
  • বাংলাদেশ মনে হয়ে আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে! অথবা এই সমস্ত ব্যয় অপ্রয়জনীয় ভাবে বিমান বন্দর বানানোর উছিলা দিয়ে অর্থ লুটপাট করার পথ সুগম করার মত নতুন লুটপাটের পথ। এই ভাবেই আমাদের ভবিষ্যত লুটপাট করে নিচ্ছে ওরা।
    • only on sentence for you, study on defense.
  • Dr. Bijon I know you are well educated person. But apnar comments dekhe mone hoy apni asole AL er...nije educated hoye kivabe bolen je akti desh er morjada r evaluation hoye military power diye..ai sob bad diye parle desh er jonno valo kichu korun..ar valo ke valo ar karap ke karap bolte sikhun..don't take my comments as advice
  • সশস্ত্র বাহিনীর কেনাকাটার ব্যাপারে জানতে চেয়ে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে গত ১ মার্চ আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারের কাছে লিখিতভাবে তথ্য চাওয়া হয়। জবাবে আইএসপিআর থেকে ২৫ মার্চ লিখিতভাবে জানানো হয়, ‘বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট হওয়ায় উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়।’ - যেইনা সমরশক্তি! তার আবার গোপনীয়তা! সবাই যেখানে নিজেদের সমরাস্ত্র নিয়ে যৌথ মহড়ায় অংশ নিয়ে নিজেদের শক্তি বিশ্বের সামনে প্রদর্শন করতে উঠে পড়ে লাগে, সেখানে এদেশের কর্মকর্তারা কি এমন বাহাদূরী গোপনীয়তা বুঝাচ্ছেন - তা বোধগম্য নয়। তবে নিজেদের উদ্ভাবিত সমরাস্ত্র হয়ে থাকলে তার গোপনীয়তার বিষয়টি না হয় গুরুত্ব পেত। অনেকেই মনে করছে পদ্মা সেতুর মত কোন ঘটনা ঘটলো কিনা তা জানার অধিকার দেশের জনগণের রয়েছে।
  • জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেলারুশ সফরের সময় দুই পক্ষের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি হয় বলে জানা যায়। তবে সরকারিভাবে এসব চুক্তির কথা স্বীকার করা হয়নি। ----------সামরিক বাহিনীর সব প্রকাশ করা উচিত নয়, আপনারা কি এই বিষয়ও বোঝেন না
  • The Parliament should have been informed by the govt. about these purchase. Without the oversight of the parliamentary committee, there is always chance of corruption. And the bottom line is if the money is paid from tax payer's pocket, they have the right to know where it will be spent.
  • বাংলাদেশে প্রতিরক্ষা নীতি নাই এখনো, শুনতে কেমন কেমন লাগে।
  • i agree with you @milon (Gazipur)
  • বেলারুশ থেকে মানধাতা আমলের অসএ কেনার কোন মানে নেই । অযথা পয়সা জলে ফেলা !