Thursday, May 8, 2025

প্রতিটি রক্তবিন্দুর প্রতিশোধ নেওয়া হবে : শেহবাজ

ভারতের বিমান হামলায় নিহত ব্যক্তিদের ‌‘প্রতিটি রক্তের ফোঁটার’ প্রতিশোধ নেওয়া হবে বলে অঙ্গীকার করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। এ ছাড়া তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর আক্রমণ করার কারণে শত্রুকে কাপুরুষ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

বুধবার (৭ মে) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এই অঙ্গীকার করেন। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ডন।

শেহবাজ বলেন, ‘এটি সেই কাপুরুষ শত্রু, যারা নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের ওপর আক্রমণ করে এবং নিজেকে আরও শক্তিশালী মনে করে। কিন্তু আমরা গত রাতে প্রমাণ করেছি যে পাকিস্তান জানে কীভাবে তার প্রতিরক্ষায় উপযুক্ত জবাব দিতে হয়। জাতি সশস্ত্র বাহিনীর সাহসিকতা ও শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পাকিস্তান বিমানবাহিনী ভারতীয় বাহিনীর এত ক্ষতি করেছে যে তারা এই ক্ষত “সহজে সারতে পারবে না”।’

তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর শত্রুকে নতজানু করতে “মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময় লেগেছে”। আল্লাহর কৃপায়, আমাদের বিমানগুলো আকাশে এমন ঝড় তুলেছিল যে শত্রুরা চিৎকার করে উঠল। ভারতের গর্ব ছিল, এমন পাঁচটি যুদ্ধবিমান এখন কেবল ছাই ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।’

‘ভারতের কাপুরুষোচিত আক্রমণে ২৬ জন নিরীহ বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৪৬ জন আহত হয়েছে। আমরা মাত্র সাত বছর বয়সী এক শিশু ইরতাজা আব্বাসের জানাজা আদায় করেছি।’

ভারতকে তাদের বিমান হামলার ‘পরিণাম ভোগ করতে হবে’ হুঁশিয়ার করে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ বলেন, ‘হয়তো তারা ভাবছিল আমরা পিছু হটব, কিন্তু তারা ভুলে গেছে যে এটা এমন একটা জাতি, যারা তাদের দেশের জন্য লড়াই করতে জানে।’

প্রচলিত যুদ্ধে শত্রুর ওপর পাকিস্তান সামরিক বাহিনী আবারও তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ। তিনি দেশের সামরিক, নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং বলেন যে সমগ্র জাতি তাদের জন্য গর্বিত।

বিবিসি জানিয়েছে, শেহবাজ শরিফ ভারতের হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ বলে নিন্দা করে বলেছেন, ‘পাকিস্তান গত রাতে দেখিয়ে দিয়েছে যে তারা পাল্টা লড়াই করতে জানে। এক ঘণ্টার মধ্যে নিয়ন্ত্রণরেখায় (এলওসি) ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কার্যত সীমান্তে “অবিরাম যুদ্ধ” হয়েছিল, যেখানে সেনাবাহিনী তাদের সাহসিকতা প্রদর্শন করে লড়াই করেছিল। তারা আক্রমণকারী ও শত্রুদের বিমান ধ্বংস করে দিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী দিল্লির উদ্দেশে বলেন, ‘পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ভারতীয় বিমান ভূপাতিত করেছে, অথচ এ বিষয়ে দিল্লি কোনো মন্তব্য করেনি।’

পাকিস্তানি জনগণকে সাহস দেখানোর আহ্বান জানিয়ে শেহবাজ শরিফ বলেন, ‘আমার পাকিস্তানি জনগণের নিরাপত্তার জন্য, আমাদের সেনাবাহিনী ও আমাদের জনগণের জন্য সর্বদা ঐক্যবদ্ধ থাকব। আমরা অবশ্যই তাদের (ভারতের) বিরুদ্ধে দাঁড়াব এবং জিতব।’

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ভাষণের শেষাংশে বলেন, ‘দেশের নিরাপত্তার জন্য পাকিস্তানি জনগণের সাহসের প্রয়োজন এবং আমরা সবাই সত্যের জন্য লড়াই করছি। আশা করি আল্লাহ সর্বদা আমাদের সাথে থাকবেন।’

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। ছবি : সংগৃহীত

গ্রাফিতির চাওয়াগুলো কি তবে ভুল ছিল by আনু মুহাম্মদ

পরপর তিনটি নির্বাচনী তামাশার মাধ্যমে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার পর রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের ৯ মাস পূর্ণ হলো। ১৯৬৯ বা ১৯৯০-এর মতো এবারের গণ-অভ্যুত্থানেও কোনো দলীয় নেতৃত্ব ছিল না। ক্ষুব্ধ ও ক্রুদ্ধ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি, ধর্ম, জাতি, পেশা, বয়সের নারীর অংশগ্রহণ এই আন্দোলনকে অপ্রতিরোধ্য শক্তি দিয়েছিল।

দেয়ালের গ্রাফিতিতে সমাজের বিক্ষুব্ধ মানুষের যে আকাঙ্ক্ষা, দাবি ও প্রত্যাশা প্রকাশিত হয়েছিল, সেটাই ঘোষণাপত্রের কাজ করেছে। সেখানে কথা, স্লোগান, ছবি, কার্টুনে জাতিগত, লিঙ্গীয়, শ্রেণিগত বৈষম্য এবং নিপীড়ন আধিপত্য স্বৈরশাসন থেকে মুক্ত এক দেশের প্রত্যাশা প্রকাশিত হয়েছিল।

কিন্তু ৫ আগস্টের পর থেকে দেশে এর উল্টো তৎপরতা ক্রমেই বৃদ্ধি পায়। বৈষম্যবাদীদের দাপট বাড়তে থাকে। মাজার-মসজিদ, মন্দির, নারী, শিল্পকর্ম, ভিন্নমতাবলম্বীদের প্রতি বিদ্বেষী ও আক্রমণাত্মক তৎপরতা বাড়ে। ভাস্কর্য, নাটক, গান, মেলা, গ্রন্থাগার ও শিল্প-সংস্কৃতির কেন্দ্র বহুবার আক্রমণের শিকার হয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জোরজবরদস্তি করে কাউকে বসানো কাউকে নামানো।

নারী শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হিংসা-বিদ্বেষ, মব সহিংসতা চলতেই থাকে। আগের মতো চাঁদাবাজি দখল আবার শুরু হয়। শ্রমিক আন্দোলনে হামলা-মামলা, এমনকি গুলিও চলেছে। বিশেষ ক্ষমতা আইন ব্যবহার করে ধরপাকড় চলছে। শ্রমিক স্বার্থ রক্ষায় সরকার ১৮ দফা চুক্তি করলেও তা বাস্তবায়ন করেনি।

নিহত ও আহত ব্যক্তিদের নিয়ে এখনো যথাযথ তালিকা, পুনর্বাসন, চিকিৎসা সম্পন্ন হয়নি। জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে যে টালবাহানা চলছে। তার প্রমাণ বাছবিচারহীনভাবে শিক্ষক, লেখক, শিল্পী, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা পাইকারি হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলা। আর সঙ্গে অজ্ঞাতনামা শত শত আসামি।

এগুলোতে লাভ হচ্ছে গ্রেপ্তার ও আটক বাণিজ্যে নিয়োজিত ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত লোকজনের। লাভ হচ্ছে আসল খুনি লুটেরাদের এবং শেষমেশ আওয়ামী লীগেরও। ত্রাস ছড়ানোর ফলে বহু শিক্ষা–সংস্কৃতির তৎপরতা বন্ধ হয়ে গেছে।

অনেক মামলায় খুব দ্রুত সমাধান হয়ে যায়। কিন্তু বহুল আলোচিত ত্বকী, তনু, সাগর-রুনি, মুনিয়াসহ বহু মামলার সমাধান হয় না। ফুলবাড়ীতে ১২ বছরের পুরোনো হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার হয় না। শিশুসহ বম মানুষদের ভয়ংকর মিথ্যা মামলা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে।

মিথ্যা মামলায় আটক দলিত-হরিজনদের জামিনের শুনানি পর্যন্ত হচ্ছে না। হাসিনা আমলে আদালতে বিচারের রায় কী হবে আমরা বুঝতাম। এখনো কে জামিন পাবে, কে আটকে থাকবে আগেই বোঝা যায়। এই সরকার যে সংস্কার বা পরিবর্তন করতে আগ্রহী, তার প্রকাশটা কোথায়?

সংস্কার আর নির্বাচন নিয়ে অহেতুক বিতর্ক তোলা হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার যে সংস্কারগুলো করতে পারে, সেগুলো করতে বাধা কোথায়? ফসলের ন্যায্য দাম না পেয়ে কৃষকের আত্মহত্যা বেড়ে গেছে। হিমাগার, কিংবা সরকারি ক্রয়ের মতো সাধারণ কাজগুলো করলে কৃষকের জন্য বড় একটা পরিবর্তন হয়।

মার্কিন কোম্পানি থেকে এলএনজি আমদানির চুক্তি করা হয়েছে পেট্রোবাংলাকে না জানিয়েই। অথচ আমাদের দরকার এলএনজি আমদানি, কয়লামুখী নীতি থেকে বের হয়ে আসা। তাই গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ক্ষেত্রে জাতীয় সক্ষমতা বাড়িয়ে এই সম্পদ আমরা যাতে পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারি, সেই উদ্যোগ ছিল জরুরি। দরকার ছিল আদানি-রামপাল-রূপপুর চুক্তি বাতিলের রাস্তা তৈরি। ৯ মাসে এসবে সরকারের উদ্যোগ দেখা যায়নি। তারা গত সরকারের নীতিমালা অনুযায়ীই কাজ করে যাচ্ছে।

স্টারলিংকের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। রাখাইনে করিডর এখন উদ্বেগ আর আলোচনার বিষয়। লাভজনক হওয়া সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার বন্দোবস্ত হচ্ছে। দেশের মানুষ কিছুই জানে না। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বা বিশেষ সহকারীরা বললেই তো হবে না। দেশের মানুষকে তো জানতে হবে, তাদের জীবন–সম্পদ নিয়ে আসলে কী করা হচ্ছে। স্বচ্ছতা আর জবাবদিহির ব্যবস্থা না করে পুরোনো পথই কেন সরকারের পছন্দ?

এর মধ্যে ভালো কাজ হয়েছে ১১টা বিষয়ে কমিশন গঠন। সেগুলোর রিপোর্টও এসেছে। এর মধ্যে সংবিধান, নির্বাচন, গণমাধ্যম, প্রশাসন, নারী ও শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনগুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনগুলোতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ আছে, যেগুলো ৫ আগস্টের পর আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটিরও বক্তব্য ছিল।

যেমন বলেছিলাম, ‘উত্তরাধিকার সূত্রে জমি-সম্পত্তিতে নারীদের সমানাধিকার নিশ্চিত করা এবং সব কাজে সমশ্রমে সমমজুরি নিশ্চিত করার কথা। যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে ২০০৯ সালের হাইকোর্ট নির্দেশনা অবলম্বন করে কারখানা-সচিবালয়সহ সব প্রতিষ্ঠানে “যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা” কার্যকর করা।’ শ্রমিক বিষয়ে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার, নিয়মিত মজুরি পরিশোধের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ইত্যাদি অন্যতম। এ রকম অনেক সুপারিশই বর্তমান সরকার দ্রুত বাস্তবায়ন করতে পারে।

সংস্কার কমিশনগুলোর রিপোর্ট নিয়ে সমাজে যথেষ্ট আলোচনা নেই। তবে ধর্মীয় দল-গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন নিয়ে। উত্তরাধিকার প্রশ্ন কিংবা নারীর অধিকার প্রশ্ন এলেই বাংলাদেশের বৈষম্যবাদী রাজনীতি বা মতাদর্শ ধারণকারীদের ভয়ংকর প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

কোনো যুক্তিযুক্ত আলোচনা নয়, ধর্ম আর সংস্কৃতির নামে হুংকার শোনা যায়, উন্মাদনা ও সহিংসতা তৈরি করার চেষ্টা চলে। এবারও তাই হচ্ছে। নারীকে প্রতিপক্ষ ধরে তাদের সক্রিয়তা হুংকার যত আওয়াজ দেয়, সমাজের বৈষম্য, নিপীড়ন, জাতীয় স্বার্থবিরোধী তৎপরতা নিয়ে তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায় না।

সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের অনেকগুলোর সঙ্গে আমরা একমত। তবে দুটি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা দরকার। মূলনীতি নতুনভাবে দাঁড় করাতে গিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এর যুক্তিটাই সমস্যাজনক।

বলা হয়েছে, ‘ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণাটি সমাজ ও রাষ্ট্রে বিভক্তি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে...এটি বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সমাজের ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।...’ কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দিলে বহুত্ববাদ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক কী করে হয়? কারণ, ধর্মনিরপেক্ষতা মানে—রাষ্ট্র সব ধর্মের ব্যাপারে নিরপেক্ষ থাকবে, সব ধর্ম–মতের মানুষকে ধারণ করবে। এতে কীভাবে ‘বিভক্তি ও বিভ্রান্তি’ তৈরি হয়? দেয়ালের গ্রাফিতিতে বহু জায়গায় বলা হয়েছে ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’। সেটাই ধর্মনিরপেক্ষতা।

শুধু অন্য ধর্মের মানুষ নয়, সংখ্যাগরিষ্ঠের মধ্যেও বহু সংখ্যালঘু থাকে। তাদের জন্যও নীতি–বিধিব্যবস্থা প্রণয়নে রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ। কমিশনের আরও দাবি—এটি ‘অতীতে ফ্যাসিবাদী শাসনের আদর্শিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে’। বস্তুত, উল্টো সেই শাসন তৈরি হয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে প্রতারণা করে, ধর্মীয় গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে, নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা জারি করে, মুক্তিযুদ্ধকে অপব্যবহার করে এবং জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন ও পাচারের ব্যবস্থা করে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার উদগ্র বাসনায়।

সংবিধানের মূলনীতিতে ‘সমাজতন্ত্র’ ছিল অলংকার হিসেবে। তবে এটি বাদ দেওয়ার যুক্তিটিও ভুল। বলা হয়েছে, ‘সমাজতন্ত্র মূলত গণতন্ত্রবিরোধী শাসনব্যবস্থা।’ সমাজতন্ত্রের সঙ্গে তুলনা করতে হবে পুঁজিবাদ আর গণতন্ত্রের সঙ্গে তুলনা করতে হবে স্বৈরতন্ত্রকে। পুঁজিবাদের মতো সমাজতন্ত্রেরও বিভিন্ন ধরন আছে।

বর্তমানে নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভেনেজুয়েলা, পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়ার মতো বহু দেশে বামপন্থী/সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচিত দলগুলো নির্বাচন করছে, ক্ষমতায়ও যাচ্ছে। ইউরোপের বহু দেশে ডানপন্থী আক্রমণের মুখে প্রবাসী মানুষ এ রকম দলের ভরসাতেই থাকেন।

কমিশন ‘মুক্তবাজার অর্থনীতি’র কথা বলেছে। আসলে এটি কতিপয় গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত প্রাণবিনাশী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। সেই পন্থী কিছু গোষ্ঠী ছাড়া দুনিয়ার কেউ এটাকে আর কাঙ্ক্ষিত পথ বলে মনে করে না; ইউরোপ-আমেরিকাতেও নয়।

এই পথ ধরলে এটাও বলতে হবে—‘সাম্য’ ও ‘সামাজিক ন্যায়বিচার’ কথাগুলো আমরা রেখেছি অলংকার হিসেবে। আর এটাও বলতে হবে যে বৈষম্যহীনতার দিকে যাওয়ার পরিবর্তে বৈষম্য বৃদ্ধির দিকে যাওয়ার অর্থনীতিই অব্যাহত থাকবে। বলতে হবে এটাই ‘বৈশ্বিক এবং জাতীয় প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক’। মানতে হবে যে দেয়ালের গ্রাফিতিতে ভুল প্রত্যাশা প্রকাশ করা হয়েছিল!

আনু মুহাম্মদ শিক্ষক, লেখক এবং ত্রৈমাসিক জার্নাল সর্বজনকথার সম্পাদক

গ্রাফিতির চাওয়াগুলো কি তবে ভুল ছিল

ইসরাইলি হামলায় গাজায় নিহত আরও ৩১

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে আরও ৩১ জন। এ ছাড়া উপত্যকাটিতে দু’মাস ধরে সহায়তা উপকরণ পৌঁছাতে বাধা দিয়ে যাচ্ছে দখলদাররা। এতে তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে অনাহারে দিন পার করছেন অসহায় ফিলিস্তিনিরা।  এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। বুধবার গাজার তুফাহ এলাকায় আল-কারামা স্কুলে হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। এতে প্রাণ হারান ১৩ জন। জাবালিয়ার একটি বাড়িতে হামলা চালানো হয়। সেখানে নিহত হন তিনজন। আহত হন বেশ কয়েকজন। গাজার দক্ষিণে একটি বাড়িতে হামলা চালানো হয়। সেখানে এক ব্যক্তি ও তার সন্তানসহ নিহত হন আটজন। এ ছাড়া দেইর-আল-বালার একটি তাঁবুতে হামলা চালায় দখলদার বাহিনী। এক শিশুসহ সেখানে নিহত হন আরও তিনজন। বনি সুহেইলার একটি গ্রামে হামলা চালালে সেখানে এক দম্পতি নিহত হন। ইসরাইল একদিকে গাজায় প্রয়োজনীয় সহায়তা উপকরণ পৌঁছাতে বাধা দিয়ে আসছে। অন্যদিকে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। এতে নাকাল অবস্থা গাজাবাসীর।

২রা মার্চ থেকে উপত্যকাটির উদ্দেশ্যে যাওয়া সকল সহায়তা উপকরণ প্রবেশে বাধা দিয়ে আসছে ইসরাইল। গাজায় সহায়তা দেয় এমন সংস্থাগুলো বলছে, সেখানে খাবারের সরবরাহ শেষের দিকে। গাজায় ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘ সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) সহায়তায় আশ্রয় নেয়া ছয় সন্তানের জনক এক নারী বলেন, আমাদের কাছে রুটি ছাড়া আর কোনো ধরনের খাবার নেই। এক্সের এক পোস্টে ইউএনআরডব্লিউএ বলেছে, ইসরাইলকে অবশ্যই অবরোধ তুলে নিতে হবে। এতে আরও বলা হয়, এই মানবিক বিপর্যয় যাতে নতুন মাত্রায় পৌঁছাতে না পারে এর জন্য আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে। গাজায় মানবিক সংকটের অবসান ও আরেকটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে মিশর ও কাতার। উল্লেখ্য, প্রথম মেয়াদের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি মিশর ও কাতার মধ্যস্থতা করে।

হামাসের কাছে বন্দি জিম্মির মধ্যে ৩ জন জনের মৃত্যু হয়েছে: দাবি ট্রাম্পের

ফিলিস্তিনের গাজায় হামাসের হাতে বন্দি জিম্মিদের মধ্যে মাত্র ২১ জন জীবিত আছেন বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার তিনি বলেন, তাদের কাছে বন্দি জিম্মিদের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন। যাতে এখন জীবিত জিম্মির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ জনে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আরব নিউজ। তবে যেসব জিম্মি মারা গেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে তাদের বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি ট্রাম্প। যে ২৪ জন জিম্মি জীবিত আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছিলো তাদের মধ্যে এডান আলেকজান্ডার নামে এক মার্কিন নাগরিকও ছিলেন। উল্লেখ্য, সোমবার গাজা দখলের পরিকল্পনা অনুমোদন দেয় ইসরাইল। একে অবশ্য জিম্মি মুক্তির জন্য হামাসের ওপর চাপ বৃদ্ধির পরিকল্পনা হিসেবে অভিহিত করে তারা। ইসরাইলের ওই পরিকল্পনা অনুমোদনের পরই জিম্মিদের বিষয়ে এমন তথ্য দিলেন ট্রাম্প। এদিকে দখলদার রাষ্ট্রটির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে গাজায় তাদের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হবে এবং তা আন্তর্জাতিক বিরোধিতারও সম্মুখীন হবে।

mzamin

ভারতের অপারেশন সিঁদুর,পাকিস্তানের কড়া জবাব

ভারতের প্রিসিশন স্ট্রাইক। পাকিস্তানের কড়া জবাব, হুঁশিয়ারি। ভারত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানে। এতে নিহত হয়েছেন ২৬ জন। পাল্টা হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানও। এতে ভারতে নিহত হয়েছেন ১৫ জন। ভারতের ৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে পাকিস্তান। ১৯৭১ সালের পর এই প্রথম পাকিস্তানে স্থল, নৌ ও আকাশপথে হামলা চালিয়েছে ভারত। ওদিকে নতুন করে ভারতে হামলা চালাতে সেনাবাহিনীকে অনুমতি দিয়েছে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি। ফলে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা আছে। এরই মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ পারমাণবিক যুদ্ধের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি এই উত্তেজনার মধ্যে বুধবার পার্লামেন্টে বক্তব্য রেখেছেন। বলেছেন, ভারত কাপুরুষের মতো রাতের অন্ধকারে হামলা করেছে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীও উপযুক্ত জবাব দিয়েছে। তিনি বলেন, পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ভারতের আকাশসীমায় প্রবেশ করেনি। তা সত্ত্বেও তিনটি রাফাল সহ ৫টি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে পাকিস্তান। তার দু’টি পতিত হয়েছে কাশ্মীরে এবং একটি বাথিন্ডায়। দু’টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

শেহবাজ শরীফ বলেন, এটা প্রচলিত অর্থে যুদ্ধ। যারা বলে প্রচলিত যুদ্ধে পাকিস্তানকে ভারত  পেছনে ফেলেছে, এখন তারা জানবে আমরা কি- হোক সেটা পারমাণবিক যুদ্ধ বা প্রচলিত যুদ্ধ। ওদিকে, পাকিস্তানে ভারতের এই হামলাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ভারতের এ হামলাকে ‘দুঃখজনক’ অভিহিত করেছে চীন। তারা পাকিস্তানের পক্ষে থাকবে। পাকিস্তানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে তুরস্ক। উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। পারমাণবিক শক্তিধর এই দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিশ্বনেতারা। তাদের অনেকেই সর্বোচ্চ সংযমের আহ্বান জানিয়েছেন। ২২শে এপ্রিল কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার জবাবে ভারত মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১টা ৪৪ মিনিটে পাকিস্তানে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে হামলা চালায়। হামলায় মসজিদ, বাড়ি সহ বিভিন্ন স্থান ধ্বংস হয়েছে। ২৫ মিনিটের ওই হামলায় পাকিস্তানও জবাব দিয়েছে। তাতে ভারতের ৫টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে পাকিস্তান। তবে ভারত ৩টি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে।

রাতের আঁধারে হামলা-পাল্টা হামলা হওয়ায় এর তীব্রতা অনুমান করা কঠিন। কিন্তু যখন ভারতের যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করার কথা স্বীকার করা হয়েছে, তখন আন্দাজ করা যায় তীব্রতা কেমন ছিল। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এই শত্রুতা চিরদিনের। দুই দেশের হাতেই আছে পারমাণবিক অস্ত্র। এ জন্যই তাদের সংঘাত নিয়ে এত বেশি ভয়। যদি কোনো পক্ষ বড় কোনো ভুল করে এসব অস্ত্রের সুইচে হাত রাখে, তাহলে ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়ে যাবে। অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, এমন হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। তাতে শুধু ভারত-পাকিস্তানই আক্রান্ত হবে এমন নয়, একই সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে। এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়বে পুরো ভারত উপমহাদেশে। মঙ্গলবার রাতে হামলা সরাসরি মনিটরিং করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে বুধবার বিভিন্ন রাজ্যে হয়েছে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মহড়া। পেহেলগাম হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পাকিস্তানে প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোর হুমকি দিয়ে আসছিল ভারত। ওই হামলার জন্য তারা পাকিস্তানকে দায়ী করে। কিন্তু পাকিস্তান সে দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে,  কোনো তথ্যপ্রমাণ দিতে পারেনি ভারত। পক্ষান্তরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে পাকিস্তান। তাদের সে দাবির প্রতি তোয়াক্কা করেনি ভারত। তারা একতরফাভাবে পাকিস্তানকে দায়ী করে যেতেই থাকে। এর প্রেক্ষিতে পাকিস্তানে হামলার প্রস্তুতি নিতে থাকে। পেহেলগাম হামলার দুই সপ্তাহ পরে মঙ্গলবার সেই হামলা চালিয়েছে তারা। এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি হামলা চালাতে যে অনুমোদন দিয়েছে, তার ফলে কখন ভারতে তারা হামলা চালাবে তা পরিষ্কার নয়। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানে যেমন সব রাজনৈতিক দল ঐকমত্যে এসেছে, তেমনি ভারতেও। ভারত শাসিত কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একইভাবে পাকিস্তানের পাঞ্জাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে স্কুল-কলেজ।

রাতের অন্ধকারে হামলা কাপুরুষোচিত:
বুধবার পাকিস্তান পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বলেন, মঙ্গলবার রাতে আমাদের শত্রুরা ঘুমাতে পারেনি। আমাদের বন্ধুরা অনুধাবন করতে পেরেছেন যে, পাকিস্তান যখন কঠিন সময়ে পড়বে তখন সহায়তার জন্য তারা এগিয়ে আসবেন। এর চেয়ে বেশি সম্মানের কিছু নেই পাকিস্তানের। এ সময় তিনি সব রাজনৈতিক দলের নেতাকে একত্রিত হয়ে ঐক্যবদ্ধ একটি জাতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি বিরোধীদের সঙ্গে পার্লামেন্ট চেম্বারে বসার আগ্রহ প্রকাশ করেন। মঙ্গলবার রাতের পরিস্থিতি পাকিস্তানের সেনাবাহিনী যেভাবে মোকাবিলা করেছে তার জন্য তাদের প্রশংসা করেন তিনি। একটি রেজ্যুলুশনের মাধ্যমে তাদেরকে স্যালুট জানাতে হাউজের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সেনাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তারা পাকিস্তানের সম্মান পুনরুদ্ধার করেছেন। একই অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন বিরোধী দল পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি। তিনি বলেন, রাতের অন্ধকারে হামলা কাপুরুষোচিত। যদি তাদের সাহস থাকতো তাহলে দিনের বেলায় যুদ্ধ  ঘোষণা করতো। রাতের বেলা তারা আমাদের সেনাদের সামনে পড়েছে। তাদের হামলার নিন্দা জানাচ্ছে পুরো বিশ্ব।

ভারতের হামলায় নিহত ২৬, পাঁচ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে পাকিস্তান
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ভারতের বিমান বাহিনীর ৫টি যুদ্ধবিমান, একটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে। একই সঙ্গে একটি ব্রিগেড হেডকোয়ার্টার ধ্বংস করেছে বলে খবর দিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ। ভারত দাবি করেছে যে, তারা স্থানীয় সময় রাত ১টা ৪৪ মিনিটে  পাকিস্তান ও পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরের ভেতরে ‘সন্ত্রাসী’দের অবকাঠামোতে হামলা করেছে। এই অভিযান অব্যাহতভাবে মনিটরিং করছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই অভিযানের নাম দেয়া হয়েছে ‘অপারেশন সিঁদুর’। মোট ৯টি স্থাপনায় এই হামলা চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট  জেনারেল আহমেদ শরীফ  চৌধুরী জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতের পর  কোটলি, ভাওয়ালপুর, মুরিদকে, বাগ ও মুজাফ্‌ফরবাদে ‘কাপুরুষোচিত’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ভারত। পাকিস্তান  সেনাবাহিনী এর বদলা নিতে শুরু করেছে। উল্লেখ্য, গত ২২শে এপ্রিল ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর হামলায় ২৬ জনের প্রাণহানি হয়। এরপর  থেকে পারমাণবিক ক্ষমতাধর দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ হামলা চালালো ভারত। আইএসপিআরের মহাপরিচালক বলেন, ‘কাপুরুষ শত্রু ভারত ভাওয়ালপুরের আহমেদ ইস্ট এলাকার সুবহান্নাল্লাহ মসজিদ,  কোটলি ও মুজাফ্‌ফরবাদের অন্তত তিন জায়গায় বিমান হামলা চালিয়েছে।’ হামলাগুলো ভারতের আকাশসীমা থেকে চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। পাকিস্তান এর সমুচিত জবাব দেবে উল্লেখ করে এই  সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘এই ঘৃণ্য উস্কানি জবাব ছাড়া পার পাবে না।’ তিনি জানান, আহমেদপুরে একটি মসজিদে হামলা হয়েছে। কাছের একটি বাড়িও আক্রান্ত হয়েছে। সেখানে একটি শিশু ও তার বাবা-মা আটকা পড়েছেন। তাদেরকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছিল।  কোটলিতেও একটি মসজিদে হামলা হয়েছে। মুজাফ্‌ফরবাদে একটি সড়কে ক্ষেপণাস্ত্র পড়েছে। তাতে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। পাকিস্তানি বাহিনী স্থল ও আকাশপথে এই হামলার জবাব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এদিকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর কোনো স্থাপনাকে এই অভিযানে নিশানা করা হয়নি। পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের মুজাফ্‌ফরাবাদে বুধবার গভীর রাতে বড় ধরনের একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা  গেছে।

ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি সম্ভাব্য নিশানা ছিল মুজাফ্‌ফরাবাদের বিলাল মসজিদ। ওই মসজিদের পাশেই বসবাস করেন মোহাম্মদ ওয়াহিদ। তিনি বলেন, আমার খুব ঘুম পাচ্ছিল এমন সময় প্রথম বিস্ফোরণে আমার বাড়িটা  কেঁপে ওঠে। আমি দৌড়ে রাস্তায়  বের হই। সেখানে দেখি অন্যরাও একই কাজ করছে। আমরা তখনো বুঝে উঠতে পারিনি কী হচ্ছে। এর মধ্যেই আরও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা  দেখা দেয়। পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের রাজধানী মুজাফ্‌ফরাবাদে ভারতের  ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একটি জায়গার আশপাশের বাসিন্দারা প্রাণ ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে আসেন। ওয়াহিদ বলেন, ডজনখানেক মানুষ আহত হয়েছেন এবং তাদের প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে ওয়াহিদ বলেন, ‘বাচ্চারা কাঁদছে, মহিলারা দৌড়াদৌড়ি করছে, তারা নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে। আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। আমরা জানিই না কী করবো। মানুষ ঘরবাড়ি  ছেড়ে পালাচ্ছে, আর চারদিকে এক অজানা অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়েছে।’ তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তিনি বুঝে উঠতে পারছিলেন না একটি মসজিদ কেন হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হলো। ওয়াহিদ বলেন, ‘এটা তো সাধারণ একটা মসজিদ ছিল,  যেখানে আমরা দিনে পাঁচবার নামাজ পড়তাম। আমরা এই মসজিদ ঘিরে কখনো সন্দেহজনক কিছু দেখিনি।’

পাল্টা জবাব পাকিস্তানের: ভারতের আগ্রাসনের জবাবে পাকিস্তান প্রতিরক্ষা বাহিনী পাল্টা আঘাত হেনেছে। তারা পাঁচটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। এই তথ্য জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। মঙ্গলবার জিও নিউজকে  দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পাকিস্তান তাদের প্রতিক্রিয়ামূলক পদক্ষেপে বেশি অর্জন করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও জানান, পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব ও  ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য অত্যন্ত দৃঢ় ও সুনির্দিষ্টভাবে পদক্ষেপ নিয়েছে।  সেনাবাহিনীর মুখপাত্রও বলেন, ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী উপযুক্ত জবাব দিচ্ছে। এর কিছুক্ষণ পরই পাকিস্তানের পাল্টা হামলা শুরু হয়। সূত্র মতে, বারনালা সেক্টরে পাকিস্তান সেনাবাহিনী একটি ভারতীয়  ড্রোনও ভূপাতিত করেছে। জিও নিউজের তথ্যে বলা হয়, ভারতের হামলায় কেবল নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদেরই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, এবং তাদের রক্তের প্রতিশোধ অবশ্যই  নেয়া হবে। পাকিস্তান আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী জানান, ভারতীয় সেনাবাহিনী পাঞ্জাব ও আজাদ কাশ্মীরের বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, সব পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান আকাশে রয়েছে। ভারতের এই কাপুরুষোচিত হামলা তাদের নিজস্ব আকাশসীমা থেকে চালানো হয়েছে। তারা কখনোই পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারেনি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই উস্কানিমূলক হামলার উপযুক্ত জবাব পাকিস্তান দেবে- সময় ও স্থান আমাদের পছন্দ অনুযায়ী তা হবে। তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে এবং বিস্তারিত তথ্য সময়মতো জানানো হবে। রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, মুজাফ্‌ফরাবাদ ও তার আশপাশের পাহাড়ি অঞ্চলে বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং অন্ধকারে ডুবে যায় শহরটি।

উপযুক্ত সময়ে জবাব দেবে পাকিস্তান: ভারতের বিমান বাহিনী পাকিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন না করলেও আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর পাকিস্তানের ভূখণ্ডে স্ট্যান্ডঅফ অস্ত্র ব্যবহার করে বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মুরিদকে, ভাওয়ালপুর, কোটলি এবং মুজাফ্‌ফরাবাদে এই হামলা চালানো হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শাফকাত আলী খান এক বিবৃতিতে বলেন, ভারতের এই বিনা উস্কানিতে সরাসরি আগ্রাসনমূলক কার্যকলাপে অনেক বেসামরিক, নারী ও শিশু নিহত হয়েছেন। এই হামলা বাণিজ্যিক আকাশপথের জন্যও মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে। তিনি আরও বলেন, আমরা ভারতের এই কাপুরুষোচিত আগ্রাসনকে জোরালোভাবে নিন্দা জানাচ্ছি, যা জাতিসংঘ সনদ, আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্র-পররাষ্ট্র সম্পর্কের প্রতিষ্ঠিত নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন। পেহেলগাম হামলা প্রসঙ্গে এই মুখপাত্র বলেন, ভারতের নেতৃত্ব আবারো ‘সন্ত্রাসবাদের ভুয়া অজুহাত’ তুলে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করছে। তাদের এই বেপরোয়া পদক্ষেপ দুই পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রকে বড় ধরনের সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, পাকিস্তান তার প্রতিক্রিয়া দেয়ার পূর্ণ অধিকার সংরক্ষণ করে-যেকোনো সময় ও স্থান নির্বাচন করার স্বাধীনতাসহ, জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় এটা করতে পারে। বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার, সশস্ত্র বাহিনী এবং দেশের জনগণ একত্রিতভাবে ভারতের এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় তারা দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাবে।
এর আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ও তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, পাকিস্তান এরই মধ্যে ভারতের পাঁচটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে এবং একটি  ড্রোন গুলি করে নামানো হয়েছে।  সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জানান, পাকিস্তানি বিমান বাহিনী আকাশে সক্রিয় রয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী দেশ উপযুক্ত জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা: ভারত-পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে। হামলার পর ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এক্স (সাবেক টুইটার)-এ ‘ভারত মাতা কি জয়’ লিখে বার্তা দেন। ভারতীয় সেনাবাহিনী জানায়, ‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জয় হিন্দ।’ ভারতীয় সেনাবাহিনীর সূত্র অনুযায়ী, হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে অত্যাধুনিক স্ক্যালপ (স্টর্ম শ্যাডো) ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এই ক্ষেপণাস্ত্র ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের যৌথ উদ্যোগে তৈরি। ভারতের রাফাল যুদ্ধবিমানে তা ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়াও হ্যামার স্মার্ট বোমা ব্যবহারেরও খবর পাওয়া গেছে। এসব তথ্য দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। এতে বলা হয়, ভারতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এই বিমান হামলার জবাবে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণ রেখার পুঞ্চ-রাজৌরি সেক্টরের ভিম্বার গলি এলাকায় গোলাবর্ষণ করেছে। তবে ভারতীয় সেনারা ‘পর্যাপ্ত ও নিয়ন্ত্রিতভাবে’ জবাব দিচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং ভারতীয় অভিযানের বিষয়ে তাদের বিস্তারিত অবহিত করেন। উভয় পক্ষই এখন ‘সময় ও স্থানের পছন্দ অনুযায়ী জবাব’ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
mzamin

এমসি’র ছাত্রাবাসের ধর্ষণের বিচার সাড়ে ৪ বছর পর শুরু

মাঝখানে কেটে গেছে সাড়ে চার বছর। আসামি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। ফলে আইনের ফাঁকফোকরে নানা প্রতিবন্ধকতা। অথচ মামলার তদন্তকালে পাঁচ আসামির স্বীকারোক্তি। ছয় আসামির ডিএনএ টেস্টে মিল পাওয়া যায়। এটি সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসের আলোচিত ধর্ষণকাণ্ডের ঘটনা। আশার কথা হলো- দীর্ঘদিন পর সকল আইনি জটিলতা কাটিয়ে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে আলোচিত এ ধর্ষণকাণ্ডের বিচার। উচ্চ আদালতের সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির ঘটনায় দায়ের করা দু’টি মামলার বিচার একসঙ্গে শুরু হলো। ২০২০ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর বিকালে দক্ষিণ সুরমার জৈনপুরের ২৪ বছর বয়সী এক যুবক তার ১৯ বছর বয়সী নববিবাহিতা স্ত্রীকে নিয়ে প্রাইভেটকারযোগে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে ঘুরতে যান। এ সময় কয়েকজন যুবক ওই স্বামী ও তার স্ত্রীকে ঘিরে ধরে। একপর্যায়ে প্রাইভেটকারসহ তাদেরকে জোরপূর্বক জিম্মি করে কলেজের ছাত্রাবাসের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। এরপর স্বামীকে আটকে রেখে ছাত্রাবাসের ৭ নম্বর ব্লকের পঞ্চম তলা বিল্ডিংয়ের সামনে প্রাইভেটকারের মধ্যেই গৃহবধূকে জোরপূর্বক গণধর্ষণ করে। তারা দম্পতির সঙ্গে থাকা টাকা, স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আটকে রাখে তাদের প্রাইভেটকারও। ওই রাতেই নির্যাতিতার স্বামী মাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে শাহপরান থানায় মামলা করেন।

গণধর্ষণের ঘটনায় ছাত্রলীগ কুর্শী বালাগঞ্জ উপজেলার চান্দাইপাড়ার তাহিদ মিয়ার পুত্র সাইফুর রহমান, হবিগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার বাগুনীপাড়ার শাহ জাহাঙ্গীর মিয়ার পুত্র শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি, সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার উমেদনগরের মৃত রফিকুল ইসলামের পুত্র তারেকুল ইসলাম তারেক, জকিগঞ্জের আটগ্রামের মৃত অমলেন্দু লস্কর ওরফে কানু লস্করের পুত্র অর্জুন লস্কর, দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুরের দেলোয়ার হোসেনের পুত্র রবিউল ইসলাম, কানাইঘাট উপজেলার লামা দলইকান্দির সালিক আহমদের পুত্র মাহফুজুর রহমান মাসুম, সিলেট নগরীর গোলাপবাগ আবাসিক এলাকার মৃত সোনা মিয়ার পুত্র আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও বিয়ানীবাজার উপজেলার নটেশ্বর গ্রামের মৃত ফয়জুল ইসলামের পুত্র মিজবাউল ইসলাম রাজনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করে পুলিশ। এতে ৫২ জনকে সাক্ষী রাখা হয়। ঘটনার মাত্র ২ মাস ৮ দিন পর ১৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রটি আদালতে জমা দেয়া হয়। গণধর্ষণের পর পুলিশ ও র‌্যাব ৮ ধর্ষককে গ্রেপ্তার করে। তারা ছাত্রলীগের টিলাগড় গ্রুপের গডফাদার রনজিত সরকারের অনুসারী। গ্রেপ্তারের পর ৮ আসামির সকলেই অকপটে একেবারে সহজ-সরলভাবে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

আসামিদের মধ্যে সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক, অর্জুন লস্কর, মিজবাহুল ইসলাম রাজন ও আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ১৯ বছর বয়সী ওই নববধূকে সরাসরি গণধর্ষণ করে। রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান মাসুম ধর্ষণে সহযোগিতা করে। ডিএনএ রিপোর্টে ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম তারেক, অর্জুন লস্কর ও মাহবুবুর রহমান রনির ডিএনএ মিল পাওয়া যায়। এদিকে, আইনুদ্দিন ও মিজবাউল ইসলাম রাজনের ডিএনএ মিল পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধেও ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ঘটনার পর থেকে আসামিরা সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছে। আদালত সূত্র জানায়, গত ১৭ই মার্চ সোমবার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস থেকে করা লিভ টু আপিল বাতিলের আদেশ দিয়ে মামলা দুটোর নথিপত্র ৩০ দিনের মধ্যে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে প্রেরণের আদেশ দেন।

এর আগে বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস থেকে লিভ টু আপিল প্রত্যাহারের আবেদন করা হলে ওই দিন এ বিষয়ে শুনানি শেষে উচ্চ আদালত ওই আদেশ দেন। উচ্চ আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে বহুল আলোচিত এই ধর্ষণ মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট শহীদুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, মামলার পরবর্তী তারিখ হচ্ছে ১৩ই মে। এদিন আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। আদালতে বিচার শুরু হলেও এখনো সশরীরে বাদী আদালতে আসেননি। পরবর্তী তারিখে তার উপস্থিত থাকার কথা। তিনি বলেন, দুটো মামলার বিচার কার্যক্রম একসঙ্গে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে করার জন্য প্রথম থেকেই বাদী পক্ষ বলে আসছে। কিন্তু ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত করতে পদে পদে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছিল। এমনকি উচ্চ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস থেকে আপিল দায়ের ছিল নজিরবিহীন ঘটনা। শেষ পর্যন্ত দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে একইসঙ্গে দুটো মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

mzamin

চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে শিক্ষার্থীকে ফেলে দিলো ছিনতাইকারীরা

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে আফতাব আহমেদ (২০) নামে এক তরুণকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে ছিনতাইকারীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি ঢামেকের নিউরো সার্জারি বিভাগের ১০৩ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত এই তরুণ উত্তরা ইউনাইটেড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে ঘটনাটি ঘটে।

আফতাবের বাবা আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, গতকাল বিকালে আফতাব দক্ষিণখান আশকোনার বাসা থেকে গোপীবাগে এক আত্মীয়ের বাসায় যান। রাতে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ট্রেনের ছাদে উঠে বিমানবন্দর রেলস্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাত ৯টার দিকে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ট্রেনের ছাদে অবস্থানকারী তিন-চার ছিনতাইকারী আফতাবকে ঘিরে ধরে মারধর করে এবং সঙ্গে থাকা ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এরপর তারা আফতাবকে ট্রেনের ছাদ থেকে নিচে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। তিনি বলেন, আহত অবস্থায় আফতাবকে পথচারীরা প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আফতাবের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দিতে। তিনি বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে দক্ষিণখান আশকোনা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, আফতাবের মাথায় আঘাত লেগেছে। তার শরীরের কয়েকটি স্থানেও জখম ছিল।

mzamin

ভারতের হামলায় পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, তার ছোট ভাই ও সেনাকর্মকর্তার সন্তান নিহত

ভারতের হামলায় পাকিস্তানে এ পর্যন্ত ২৬ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪৬। এর মধ্যে পাকিস্তানের আজাদ কাশ্মীরের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, তার ছোট ভাই ও পাকিস্তানি সেনাকর্মকর্তার ৭ বছরের সন্তানের মৃত্যু উল্লেখযোগ্য। জবাবে পাকিস্তানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের পাঁচটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, একটি ড্রোন ও একটি  বিগ্রেড হেড কোয়ার্টার ধ্বংস করেছে পাকিস্তান। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ। কোটলিতে আব্বাস মসজিদের কাছে একটি বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। এতে প্রাণ হারান ২২ বছর বয়সী মিসবাহ কওসার ও তার ছোট ভাই ওমর মুসা। মিসবাহ কোটলি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র ছিলেন। পৃথক আরেকটি হামলায় লেফটেন্যান্ট জেনারেল জহির আব্বাসের ৭ বছরের ছেলে ইরতিজা আব্বাস নিহত হন।

ভাওয়ালপুর ও মুরদিকসহ অন্য শহর গুলোতে ভারতীয় হামলায় নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজায় অনেক মানুষ সমবেত হন। মুজাফফারবাদে ৮০ বছর বয়সী মুহাম্মদ ইয়াকুবের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মিসবাহ কওসার ও তার ভাইয়ের জানাজা হয়েছে নাকইয়ালে। আজাদ কাশ্মীরের মন্ত্রী, আইনপ্রণেতা, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। জানাজার পর ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়। নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মকর্তারা ভারতের আগ্রাসনের সমালোচনা করে একে ‘কাপুরুষোচিত’ হামলা বলে অভিহিত করেছেন। এক কর্মকর্তা বলেন, এগুলো নিষ্ঠুর ও অমানবিক কার্যক্রম। যা পুরো রাষ্ট্রকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

mzamin