Tuesday, July 27, 2010

সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে ভারত সফরে যাচ্ছেন ক্যামেরন

সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করার লক্ষ্যে চলতি সপ্তাহে ভারত সফর করবেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। এই সফর নিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ডাউনিং স্ট্রিট থেকে নির্দিষ্ট সময়সূচির ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে ক্যামেরন ও অসবর্ন বেশ আগ্রহ নিয়েই সফরের ব্যাপারে কথা বলছেন। ক্যামেরনের সঙ্গে ব্রিটেনের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা থাকবেন এই সফরে। তিনি বিশ্বের অন্যতম গতিশীল অর্থনীতির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করার ব্যাপারে গুরুত্ব দেবেন।
গত মে মাসে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই ক্যামেরন জানিয়েছেন, তিনি ব্রিটেনের পররাষ্ট্রনীতিকে আরও বাণিজ্যমুখী করে তুলতে চান। সম্প্রতি অর্থনৈতিক মন্দা পার করে আসা ব্রিটিশ অর্থনীতিকে চাঙা করতেই তাঁর এই উদ্যোগ। ক্ষমতায় আসার পর ক্যামেরনের সরকারকে রেকর্ড বাজেট ঘাটতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
গত সপ্তাহে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ব্রিটেনের পররাষ্ট্রনীতিকে আমি ঢেলে সাজাতে চাই, যাতে এটি আরও বেশি বাণিজ্যমুখী হয়ে ওঠে। ব্রিটেন ব্যবসা করতে আগ্রহী, এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাই আমরা।’ ব্রিটেনের নতুন জোট সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতকে আলাদা সহযোগী হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং সরকারের নীতিনির্ধারকেরা বলেছেন, তাঁরা ভারতের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক সৃষ্টিতে আগ্রহী। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ পেতে ভারতকে সমর্থন করছে ব্রিটিশ সরকার। এএফপি।
কোহিনূর ভারতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ
আমাদের কলকাতা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বিশ্বের অন্যতম বড় হীরা কোহিনূরকে ভারতে ফিরিয়ে আনার জন্য এবার উদ্যোগ নিয়েছে ব্রিটেনে বসবাসরত অনাবাসী ভারতীয়রা। এ ব্যাপারে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ আইনপ্রণেতা কিথ ভাজ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের কাছে এক আবেদনে বলেছেন, কোহিনূর ফিরিয়ে দেওয়া নিয়ে আসন্ন ভারত সফরের সময় তিনি যেন কথা বলেন।
কিথ ভাজ বলেন, ভারতের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার এখনই উপযুক্ত সময়। এই সফরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কোহিনূর ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ভারতবাসীর মন জয় করতে পারেন। ভারতই কোহিনূরের আসল মালিক। কারণ, সেখানকার খনি থেকেই এটি পাওয়া গেছে। এবারই কোহিনূরকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার উপযুক্ত সময়। কয়েক শ বছর আগে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের একটি খনিতে পাওয়া গিয়েছিল এই হীরক খণ্ডটি।

যুক্তরাষ্ট্র-ফেরত রুশ গুপ্তচরদের ‘কঠিন সময়’ কাটাতে হয়েছে

রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুক্তি পাওয়া রুশ গুপ্তচরদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের খোঁজখবর নিয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে সাবেক সোভিয়েত আমলের জনপ্রিয় কয়েকটি দেশাত্মবোধক গানও গেয়েছেন তিনি। গত শনিবার ইউক্রেন সফরের প্রাক্কালে তিনি নিজেই সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, মুক্তি পাওয়া গুপ্তচরেরা বিদেশের মাটিতে অত্যন্ত ‘কঠিন সময়’ পার করে এসেছেন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে গুপ্তচরবিনিময় হয়। এর অংশ হিসেবে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে চারজন এবং যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার কাছে ১০ জন গুপ্তচর হস্তান্তর করে।
ষাটের দশকে পূর্ব জার্মানিতে কেজিবির এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, তিনি মুক্তি পাওয়া গুপ্তচরদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের কথা শুনেছেন। তাঁরা একসঙ্গে নেচে নেচে ‘ফ্রম হয়ার দ্য মাদারল্যান্ড বিগিনস’ গানটিসহ বেশ কয়েকটি দেশাত্মবোধক গান গেয়েছেন।
ষাটের দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নে জার্মানিতে কর্মরত এক গুপ্তচরের জীবন নিয়ে একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। এ চলচ্চিত্রে ‘ফ্রম হয়ার দ্য মাদারল্যান্ড বিগিনস’ গানটি ব্যবহার করা হয়। সে সময় গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।
পুতিন বলেন, মুক্তি পাওয়া গুপ্তচরদের প্রত্যেককে জীবনের একটি কঠিন সময় পার করে আসতে হয়েছে। কোনো রকম কূটনৈতিক নিরাপত্তা ছাড়াই বিদেশের মাটিতে শুধু দেশমাতৃকার জন্য তাঁরা কাজ করেছেন। নিজেদের পরিচয় গোপন করতে মতো বিদেশি ভাষা আত্মস্থ করতে হয়েছে। তাঁদের যেভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেভাবে কথা বলতে, এমনকি চিন্তা পর্যন্ত করতে হয়েছে। তবে ওই গুপ্তচরদের সঙ্গে পুতিন কোথায় দেখা করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।
পুতিন বলেন, কিছু লোকের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তাঁরা ধরা পড়েছিলেন। তিনি জানান, যাঁরা বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, তাঁদের পরিচয় তিনি জানতে পেরেছেন। তাঁদের পরিণতি খুব খারাপ হবে। একই সঙ্গে দেশের মাটিতে ফেরত আসা গুপ্তচরেরা সম্মানজনক চাকরি পাবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উত্তর কোরিয়ার হুমকির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার মহড়া শুরু

উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র দিয়ে জবাবের হুমকি সত্ত্বেও জাপান সাগরে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে চার দিনব্যাপী এই মহড়া শুরু হয়।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানান, দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় সময় সকাল সাতটায় পরমাণু শক্তিচালিত মার্কিন রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন জাপান সাগরের উদ্দেশে বুসান বন্দর ছেড়ে যায়। সিউলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, মহড়ায় অংশ নিতে অন্য জাহাজগুলো বুসান ও পাশের জিনহায়ে বন্দর ছেড়ে গেছে। এ ছাড়া মার্কিন সপ্তম নৌবহরের কয়েকটি জাহাজ কোরীয় উপদ্বীপের পূর্ব উপকূলে তাদের সঙ্গে যোগ দেবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানায়, তারা সীমান্তে উত্তর কোরিয়ার সেনাদের তৎপরতা খুব সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। সিউল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বিশ্লেষক ইয়াং মো জিন বলেন, যৌথ মহড়ার জবাব দিতে পিয়ংইয়ং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা পরমাণু পরীক্ষা চালাতে পারে।
দক্ষিণ কোরীয় কর্মকর্তারা জানান, মহড়াটি পীতসাগরেই হওয়ার কথা ছিল। চীনের প্রতিবাদের কারণে তা জাপান সাগরে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে ভবিষ্যতে এমন যৌথ মহড়া দুই সাগরেই করা হবে। কয়েক মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তত ১০টি যৌথ সামরিক মহড়া চালানো হবে।
এবারের মহড়ায় মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন ছাড়াও আরও ২০টি রণতরী ও ডুবোজাহাজ, প্রায় ২০০টি বিমান ও আট হাজার সেনা অংশ নিচ্ছে।
এর আগে গত সপ্তাহে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম তায়ে ইয়ং এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘যৌথ মহড়ার মাধ্যমে আমরা উত্তর কোরিয়ার প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই। সেটি হলো, পিয়ংইয়ংকে অবশ্যই আগ্রাসী আচরণ বন্ধ করতে হবে।’ গত শনিবার উত্তর কোরিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা কমিশন এক বিবৃতিতে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলে, প্রয়োজনে পরমাণু অস্ত্রের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মহড়ার জবাব দেওয়া হবে।
এ ধরনের হুমকি উত্তর কোরিয়া প্রায়ই দিয়ে থাকে বলে দৃশ্যত বিষয়টি বিশেষ আমলে না নেওয়া যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, এমন যুদ্ধংদেহী মন্তব্যের প্রতি তাদের কোনো আগ্রহ নেই। সম্প্রতি সিউল সফরের সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন উত্তর কোরিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেন।
গত মার্চে পীতসাগরে দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধজাহাজ চেওনান ডুবে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা চলছে। আন্তর্জাতিক তদন্ত দলের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ায় তৈরি টর্পেডোর আঘাতেই চেওনান ডুবেছে। তবে নিভৃত কমিউনিস্ট দেশটি বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

আফগানিস্তানে গত সপ্তাহে জঙ্গি হামলায় নিহত ২৭০

আফগানিস্তানে তালেবান জঙ্গিদের লাগাতার হামলাসহ বিচ্ছিন্ন সহিংসতায় গত গত সপ্তাহে ২৭০ জন নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ২০৫ জন তালেবান জঙ্গি, ২১ জন বেসামরিক লোক এবং ৪৪ জন পুলিশ। আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জামারাই বাশারি গতকাল রোববার এ কথা জানিয়েছেন।
মুখপাত্র জানান, সারা দেশে গত সপ্তাহে ১৮৮টি সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। এর অধিকাংশ চালানো হয়েছে রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা এবং ঘরে তৈরি বোমার সাহায্যে। আগের সপ্তাহের তুলনায় গত সপ্তাহে সন্ত্রাসী হামলা ১২ শতাংশ বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাশারি জানান, এসব হামলায় ২১ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৯৫ জন। এ ছাড়া হামলায় ৬৯ জন পুলিশ সদস্যও আহত হন।
মুখপাত্র দাবি করেন, আফগান পুলিশ জঙ্গিদের অনেক হামলা ব্যর্থ করে দেওয়ায় বেসামরিক লোকদের ক্ষয়ক্ষতি আগের তুলনায় গত সপ্তাহে ৬৭ শতাংশ কমেছে।
আফগান ও ন্যাটো সেনাদের যৌথ অভিযানে গত সপ্তাহে ৭৬ জন জঙ্গি আহত হয়। এ সময় ১২৭ জন তালেবান জঙ্গি তাঁদের হাতে আটক হয় বলে মুখপাত্র জানান। এ ছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা জঙ্গিদের পুঁতে রাখা ৪৬৮টি বোমা অপসারণ ও ৬৮টি বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধার করেছেন। অবশ্য গত সপ্তাহে জঙ্গি হামলায় কত জন বিদেশি ও আফগান সেনা নিহত হয়েছেন, তা তিনি বলেননি।

গুজরাটের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গ্রেপ্তার

ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটের সদ্য সাবেক হওয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে গতকাল রোববার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি রাজস্থানের বাসিন্দা সোহরাব উদ্দিন শেখ হত্যা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি।
সোহরাব হত্যার মামলায় গত শুক্রবার বিজেপির নেতা অমিত শাহসহ ১৮ জনের নামে অভিযোগপত্র দেয় সিবিআই। পরদিন শনিবার মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেন অমিত শাহ। গতকাল অনেকটা নাটকীয়ভাবে আহমেদাবাদে বিজেপির প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে হাজির হন তিনি। অমিত শাহ অভিযোগ করেন, তিনি ক্ষমতাসীন দল কংগ্রেসের ষড়যন্ত্রের শিকার। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অমিত শাহ বলেন, গুজরাট রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল ছিল। কংগ্রেস এই রাজ্যের ক্ষমতা নেওয়ার জন্য অবৈধভাবে সিবিআইকে ব্যবহার করছে। তিনি আরও বলেন, ‘আদালতের মাধ্যমে আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।’
দলীয় কার্যালয় থেকে আত্মসমর্পণের জন্য তিনি সিবিআই কার্যালয়ে যান। সেখানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত বন্ধ থাকায় সিবিআই কার্যালয় থেকে গাড়িতে করে তাঁকে বিচারিক হাকিম এ ওয়াই দেবের বাসভবনে নেওয়া হয়। এ সময় সিবিআই কর্মকর্তারাসহ পুলিশের মহাপরিদর্শক এ ওয়াই দেবের বাড়িতে যান।

মিয়ানমারের সামরিক জান্তাপ্রধান থান শোয়ের ভারত সফর শুরু

মিয়ানমারের সামরিক জান্তাপ্রধান থান শোয়ে গতকাল রোববার সরকারি সফরে ভারতে পৌঁছেছেন। জেনারেল শোয়ের এ সফরকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ও সবচেয়ে দমনমূলক রাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিহারের গয়া জেলার বৌদ্ধ ধর্মের পবিত্র স্থান বুদ্ধগয়া পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে ভারত সফর শুরু করেছেন জেনারেল শোয়ে। নয়াদিল্লিতে তাঁর রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শুরু হবে কাল মঙ্গলবার। এ দিন তাঁকে লাল গালিচার সংবর্ধনা দেওয়ার কথা রয়েছে।
একসময় মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সুচির একনিষ্ঠ সমর্থক ছিল ভারত। কিন্তু নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে মিয়ানমারের গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের চেয়ে নিজেদের নিরাপত্তা, জ্বালানি ও কৌশলগত সম্পর্কের ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে শুরু করে নয়াদিল্লি। এ লক্ষ্যে তারা মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়িয়ে দেয়।

ইরানের বিরুদ্ধে ইইউর কঠোর অবরোধ শুরু হচ্ছে

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস শিল্পের বিরুদ্ধে আজ সোমবার থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর অবরোধ শুরু হতে যাচ্ছে। বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে স্থগিত আলোচনায় ফিরতে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য ইইউ এ পদক্ষেপ নিয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এ নিষেধাজ্ঞা উদ্যোগের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, তেহরান দ্রুত এর জবাব দেবে এবং এ জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ‘গভীর অনুশোচনা’ করতে হবে।
প্রেস টিভি চ্যানেলকে ইরানের প্রেসিডেন্ট রোববার বলেন, ‘নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হোক বা এ বিষয়ে নতুন কোনো প্রস্তাব গৃহীত হোক, তা আমরা চাই না। আমরা চাই বন্ধুত্ব এবং একটা যৌক্তিক সমাধান।’
আহমাদিনেজাদ বলেন, ‘আমি আপনাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, যারা ইরানের বিরুদ্ধে জাহাজ বা বিমান তল্লাশির মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, তাদের বিরুদ্ধে তেহরান দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।’ তিনি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, ইরানের এ ধরনের প্রতিক্রিয়ার ফলে তাদের (ইইউ) অনুশোচনা করতে হবে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ গত ৯ জুন ইরানের বিরুদ্ধে চতুর্থ দফা অবরোধ আরোপ করার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউ আলাদাভাবে অবরোধ আরোপের চিন্তাভাবনা করছিল।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন অবরোধ আরোপ করলে এর সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের জ্বালানি খাতের যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি ও সেবা বিক্রি বন্ধ হয়ে যাবে।
কূটনীতিকেরা বলছেন, এর ফলে ইরানের তেল পরিশোধন, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন এবং উত্তোলন ও অন্যান্য উৎপাদন কর্মকাণ্ডে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। ইরান বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অশোধিত তেল উৎপাদক হলেও যথেষ্ট পরিশোধনের সক্ষমতা না থাকায় তাদের চাহিদার ৪০ শতাংশ জ্বালানি আমদানি করতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী কর্মকাণ্ডে সমর্থনকারী দেশগুলোকে ‘তেহরানের শত্রু’ অভিহিত করেন আহমাদিনেজাদ। তিনি বলেন, ‘ইরান যেকোনো হুমকির কঠিন জবাব দেবে।’ তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও এর সহযোগী রাষ্ট্রগুলো ইরানের অগ্রগতিতে আতঙ্কিত। মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের মাধ্যমে ইরানের অগ্রগতি বন্ধ করতে পারবেন বলে তাঁরা মনে করছেন। তাঁরা চান না, ইরান তার প্রাপ্য মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত হোক।’
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের সঙ্গে একইসঙ্গে আলোচনা ও চাপ—এই দ্বিমুখী কৌশলে এগোচ্ছে। অবরোধের উদ্যোগের পাশাপাশি ইইউর পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান ক্যাথারিন অ্যাস্টন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াসহ বিশ্বের ছয়টি প্রভাবশালী দেশের আলোচনা আবার শুরু করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পশ্চিমারা দাবি করছে, ইরান তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ করুক। তেহরান বরাবরই বলে আসছে, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে তারা পরমাণু কর্মসূচি চালাচ্ছে। অভ্যন্তরীণ জ্বালানির চাহিদা মেটানোই তাদের উদ্দেশ্য।
অবরোধের অংশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের কাছে প্রচলিত অস্ত্র তৈরি করা যায়—এমন সব দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্যও রপ্তানি বন্ধ করে দেবে। তা ছাড়া ইইউ অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর যেসব ব্যাংকের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক রয়েছে, সেগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে। এসব ব্যাংক নতুন শাখা খুলতে পারবে না।
একজন ইউরোপীয় কূটনীতিক জানিয়েছেন, এ প্রস্তাবটি অনুমোদনের আগে বেশ কয়েকটি ইইউ দেশকে তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থের সমস্যা কাটিয়ে উঠতে হয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা গত সপ্তাহে বলেছে, জাতিসংঘের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউর অবরোধ অনেক কঠোর হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেননা, এর ফলে ইরানের জ্বালানি খাতের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে।

রাজবাড়ীতে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিষয়ে কর্মশালা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের (বিকেবি) রাজবাড়ীর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্যোগে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধবিষয়ক দিনব্যাপী এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে গত শনিবার অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিকেবির ফরিদপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. হানিফ। এতে অন্যদের মধ্যে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক এ টি এম আনিসুর রহমান ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. লিয়াকত হোসেন মোড়ল এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মানি লন্ডারিংপ্রতিরোধ বিভাগের যুগ্ম পরিচালক এ কে এম এহসান ও সহকারী পরিচালক এ কে এম নুরুন্নবী বক্তব্য দেন। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন কৃষি ব্যাংকের রাজবাড়ী অঞ্চলের ব্যবস্থাপক রবিউল আলম।

ঢাকায় সাত দিনব্যাপী এশীয় বাণিজ্য মেলা ২ আগস্ট শুরু

ঢাকায় সাত দিনব্যাপী ‘এশিয়ান বাণিজ্য মেলা-২০১০’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনী আগামী ২ আগস্ট শুরু হবে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে (বিআইসিসি) আয়োজিত মেলায় সাতটি দেশের ১০০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে।
মেলা আয়োজনের বিস্তারিত জানাতে আয়োজক সংস্থা কনফারেন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড (সেমস) গতকাল রোববার এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সেমসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুন এন ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সেমসের পরিচালক শাহেদ সারোয়ার ও মহাব্যবস্থাপক আহবাব আহমেদ সোবহান।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সেমস এবার একই ছাদের নিচে দুটি মেলার আয়োজন করেছে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য, ভোগ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে এশিয়ান বাণিজ্য মেলা-২০১০ আয়োজন করা হচ্ছে। এ মেলার পৃষ্ঠপোষক রহিমআফরোজ। আর আবাসনশিল্প, নির্মাণসামগ্রী, নির্মাণকৌশল ও যন্ত্রপাতি নিয়ে ‘কনএক্সপো’ আয়োজন করা হয়েছে। এ মেলার পৃষ্ঠপোষক রূপায়ণ গ্রুপ।
এবারের মেলায় স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, ইরান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কার শতাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। মেলায় ইলেকট্রনিকস, যোগাযোগপ্রযুক্তি, খাদ্য ও পানীয়, স্বাস্থ্যসেবা পণ্য, প্রসাধনসামগ্রী, ফ্যাশন ও আনুষঙ্গিক, কারু ও হস্তশিল্প, আবাসন প্রকল্প, নির্মাণসামগ্রী ইত্যাদি প্রদর্শন করা হবে। মেলায় মালয়েশীয় ও পাকিস্তানি পণ্যের সম্পূর্ণ আলাদা প্যাভিলিয়ন থাকবে।
আয়োজকেরা জানান, মেলায় প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রবেশ টিকিটের নম্বরের ওপর ভিত্তি করে র‌্যাফল ড্র অনুষ্ঠিত হবে। এতে ঢাকা-কলকতা-ঢাকা রুটের বিমান টিকিট ও রঙিন টেলিভিশনসহ অন্যান্য পুরস্কার রয়েছে। মেলা প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে।

মানবসম্পদ উন্নয়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে

শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য বর্তমান সরকার মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রতি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সরকারের নতুন শিক্ষানীতিতে যুগের চাহিদ অনুযায়ী দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল গড়ে তোলার উপযোগী শিক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।
গতকাল রোববার রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং ডিসিসিআই বিজনেস ইনস্টিটিউটের (ডিবিআই) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘মডিউলার লার্নিং সিস্টেম ইন সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক সার্টিফিকেট ও ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শিল্পমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টের জ্ঞান দেশে উপযুক্ত ব্যবস্থাপক গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ডিসিসিআই মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ডিসিসিআইয়ের সভাপতি আবুল কাশেম খান, ডিবিআইয়ের সমন্বয়ক ও ডিসিসিআইয়ের সহসভাপতি এম শাহজাহান খান, ডিবিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক মো. হোসেন আলী বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠান শেষে শিল্পমন্ত্রী প্রশিক্ষণ কোর্সে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সনদ দেন। প্রশিক্ষণে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, বাংলাদেশ রেলওয়ে, ইউনিসেফ, ব্র্যাক, আইসিডিডিআরবিসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার ৩৯ জন কর্মকর্তা অংশ নেন।

যৌথ ঘোষণার বাস্তবায়ন দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রজত মিত্তার বলেছেন, ‘দিল্লিতে শীর্ষ বৈঠকের পর ভারত-বাংলাদেশ যে যৌথ ঘোষণা হয়েছিল, তা বাস্তবায়নের পথে আছে।’
রজত মিত্তার উদাহরণ দিয়ে বলেন, ভারত থেকে বিদ্যুৎ নেওয়ার জন্য লাইন স্থাপনের কাজ দুই দেশেই শুরু হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আখাউড়া ও আগরতলার মধ্যে রেললাইন স্থাপনের জন্য স্যাটেলাইট জরিপকাজ সম্পন্ন হয়েছে। অচিরেই বিস্তারিত নকশার কাজ শুরু হবে।
গতকাল রোববার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই বা ফিকি) আয়োজিত মধ্যাহ্ন ভোজসভায় অতিথি হিসেবে রজত মিত্তার এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি এ এম হামীম রহমতউল্লাহ।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, আশুগঞ্জ নৌবন্দরকে ভারতীয় পণ্য পরিবহনের জন্য ‘পোর্ট অব কল’ ঘোষণা করা হয়েছে। একইভাবে আসামের শিলাঘাটকে পোর্ট অব কল ঘোষণা করেছে ভারত। আর বাংলাদেশের যোগাযোগব্যবস্থা ও রেল উন্নয়নের জন্য ১০০ কোটি ডলার ঋণের খসড়া দলিল তৈরি হয়ে গেছে। এখন চূড়ান্ত চুক্তির আগে উভয়পক্ষ কাজ করছে।
রজত মিত্তার দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, ‘ভারত চায় বাংলাদেশও ভারতের মতো উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা অর্জন করুক। দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে ৩০০ কোটি ডলারের বাণিজ্যিক আদান-প্রদান আছে।’
মিত্তার বলেন, ‘বাংলাদেশ বিগত কয়েক বছরে ক্রমেই ভারতের বাজারে রপ্তানি বাড়িয়ে চলেছে। ২০০১-০২ সালে ভারতে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি হয়েছিল ছয় কোটি ২০ লাখ ডলার। আর ২০০৮-০৯ অর্থবছরে এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ কোটি ডলার। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা যাতে ভারতের বাজারে আরও রপ্তানি বাড়াতে পারেন, সে জন্য সাফটার অধীনে অনেকগুলো পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছে।’
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশ যেসব ভারতীয় পণ্য আমদানি করে তার বেশির ভাগই উৎপাদনের কাঁচামাল যেমন তুলা, সুতা, কয়লা, চুনাপাথর, রাসায়নিক দ্রব্য ও ইস্পাত। এ ছাড়া বাংলাদেশ ভারত থেকে খাদ্য ও যন্ত্রপাতি আমদানি করে থাকে। বাংলাদেশের অর্থনীতিই এর দ্বারা উপকৃত হচ্ছে।’
ভারতীয় হাইকমিশনার চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এ দুটি বন্দর এশিয়ার বড় আঞ্চলিক হাব হতে পারে। তবে এর উপযোগী কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।’ ভারতের ব্যবসায়ীরা এ দুটি বন্দর ব্যবহারের জন্য খুবই আগ্রহী বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ফিকির সভাপতি হামীম রহমতউল্লাহ বলেন, ভারতে বাংলাদেশি পণ্যের বিপুল সম্ভাবনা থাকার পরও শুল্ক ও অশুল্ক বাধার কারণে বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে না।
ফিকির সভাপতি বলেন, দুই দেশের বড় রকমের বাণিজ্য ঘাটতি আছে। ভারতীয় উদ্যোক্তারা যদি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে রপ্তানি করে, তাহলে এই ভারসাম্য কমতে পারে। এ ক্ষেত্রে যৌথ বিনিয়োগে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের আগ্রহ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের ভারতীয় ভিসা দেওয়ার বিষয়টি সহজতর ও দীর্ঘমেয়াদি হওয়া উচিত।
পরে এফআইসিসিআইয়ের বেশ কিছু সদস্য নানা বিষয়ে হাইকমিশনারকে প্রশ্ন করেন। হাইকমিশনার এসব প্রশ্নের জবাব দিতে যেয়ে বলেন, বর্তমানে ভারতীয় ভিসার জন্য ই-টোকেন ব্যবস্থা চালু রয়েছে এবং অনলাইন পদ্ধতিও চালু হয়েছে। ফলে কাউকে লাইনে দাঁড়িয়ে আর হয়রানি হতে হয় না।
সীমান্তে দুই দেশের মধ্যে প্রতিনিয়ত সংঘর্ষ প্রসঙ্গে রজত মিত্তার বলেন, ‘বর্তমানে তা কমে এসেছে এবং দুই দেশের সরকারই এ ঘটনা আরও এড়ানোর জন্য কাজ করছে।’
প্রসঙ্গত, ১১ জানুয়ারি দিল্লিতে শীর্ষ বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ দমন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ, বাণিজ্য বৈষম্য বিলোপ, ট্রানজিট, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের নেতারা বিস্তারিত আলোচনা করেন। আলোচনা শেষে দুই দেশ সন্ত্রাসবাদ দমনে তিনটি চুক্তি এবং বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের লক্ষ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। বাংলাদেশের রেলব্যবস্থার সংস্কার, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ও নদী পুনর্খননের জন্য ১০০ কোটি ডলারের ঋণ-সহায়তারও ঘোষণা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

সার্বিক বিনিয়োগ চিত্র মন্দাচ্ছন্ন

দেশের সার্বিক বিনিয়োগ চিত্র এখনো মন্দাচ্ছন্ন বলে মনে করছে ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের অন্যতম সংগঠন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)।
সংগঠনটি আরও মনে করে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে উন্নতির সুস্পষ্ট লক্ষণ থাকলেও বিনিয়োগের প্রকৃত বৃদ্ধি নির্ভর করছে জ্বালানি-বিদ্যুতের স্বল্পতাসহ বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধির পথে যাবতীয় প্রতিবন্ধকতাগুলো সরকার কতটা কার্যকরভাবে দূর করতে পারে তার ওপর।
২০০৯-১০ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর এমসিসিআই যে পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে, তাতে এই অভিমত প্রকাশ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন সূচক থেকে এটাই প্রতীয়মান হয়, বিভিন্ন খাতের অবস্থায় মিশ্র প্রবণতা থাকার পরও অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে এসে অর্থনীতি বেশ ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
এমসিসিআই মনে করে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার বিষয়টি বিনিয়োগ বিশেষত, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর নির্ভরশীল।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে উন্নতি ঘটানোর মাধ্যমে সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) কার্যক্রমের সাফল্যজনক প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ বেসরকারি বিনিয়োগকে টেনে আনতে সহায়তা করবে বলে এমসিসিআই মনে করে।
বাস্তবায়নের সামর্থ্য বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জোরদারকরণ ও দারিদ্র্য হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনসহ সামাজিক লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নের জন্য সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় দ্রুত ও উদ্ভাবনমূলক পদক্ষেপ জরুরি বলে এমসিসিআই মনে করছে।
এমসিসিআইয়ের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আলোচ্য অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দুর্বল থাকার পর চতুর্থ প্রান্তিকে তা গতি পেয়েছে। অর্থনীতির প্রধান প্রধান খাত তুলনামূলকভাবে শেষ প্রান্তিকে ভালো করেছে। এর ফলে অর্থবছর শেষে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ছয় শতাংশে উপনীত হয়েছে বলে মেট্রো চেম্বারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমসিসিআই বলছে, সব খাতই এই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে, যেখানে দাতা সংস্থাসহ কতিপয় গোষ্ঠী নৈরাশ্যমূলক সাড়ে পাঁচ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথা বলেছিল।
এমসিসিআইয়ের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অর্থবছরের প্রথমার্ধে বড় ও মাঝারি আয়তনের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম দুর্বল হলেও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ও ঋণপত্র খোলার হার বৃদ্ধি পাওয়ার মধ্য দিয়ে এটাই প্রতীয়মান হয়, শিল্প খাত ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ বাজারমুখী ক্ষুদ্র শিল্পসহ শিল্পগুলোর কর্মকাণ্ডেও গতিময়তা লক্ষ্য করা গেছে।
এমসিসিআইয়ের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০০৯-১০ অর্থবছরের ১০ মাসে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ সাড়ে ১৭ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে রাষ্ট্রীয় খাতে ঋণপ্রবাহ কমে গেছে ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ।
এতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক জানুয়ারি-জুন (২০১০) সময়কালের জন্য যে মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছিল, তাতে রপ্তানি পুনরুদ্ধার ও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল। এই সময়কালে সেই প্রয়াস অব্যাহত ছিল।
মূল্যস্ফীতির চাপ প্রশমন করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার বিভিন্ন হাতিয়ার যথাযথভাবে ব্যবহার করেছে ও বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে সতর্কতার সঙ্গে হস্তক্ষেপ করেছে বলেও এমসিসিআইয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে গিয়ে এমসিসিআই আরও বলেছে, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জতিক বাজারের মূল্য প্রবণতায় প্রতীয়মান হয় যে, মূল্যস্ফীতির হার এখনো চড়া এবং সামনের মাসগুলোয় উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত থাকবে।
বিশ্বমন্দা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রভাবে বিনিয়োগের জন্য ঋণের চাহিদা বাড়বে, যা একপর্যায়ে চাহিদাজনিত মূল্যস্ফীতি উসকে দিতে পারে বলে এমসিসিআইয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় চাহিদা ও সরবরাহ উভয় দিক থেকে পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে মেট্রো চেম্বার।
বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতির হার এখনো কম থাকলেও মাসওয়ারী মূল্যস্ফীতির হারের মধ্য দিয়ে দেশে মূল্যস্ফীতির চাপটি প্রতীয়মান হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০০৯-১০ অর্থবছরের এপ্রিলে এসে যেখানে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতির হার সাড়ে ছয় শতাংশ ছিল, সেখানে মাসওয়ারি মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে সাড়ে আট শতাংশের ওপরে।
এই বাস্তবতায় রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতির মধ্যে বিচক্ষণভাবে সমন্বয় করে মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেছে মেট্রো চেম্বার।

অনেক আনন্দের এক জয়

ইদানীং বাংলাদেশ দলের জয়েও যেখানে মানুষ রাস্তায় নেমে নাচানাচি করে না, সেখানে পাকিস্তানে এমন উৎসব! ঢোলবাদ্য নিয়ে শত শত মানুষ নেমে পড়েছে লাহোর-ইসলামাবাদের সড়কে, পড়েছে মিষ্টি খাওয়ার ধুম। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সাবেক ক্রিকেটার এমনকি রাষ্ট্রযন্ত্রের শীর্ষ ব্যক্তিরাও প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন ক্রিকেটারদের। এ তো কেবলই একটা জয় নয়, ১৫ বছরের লজ্জার অবসান! হেডিংলিতে অস্ট্রেলিয়া জয়ের উৎসব তাই আনন্দের ঢেউ তুলেছে সাম্প্রতিক সময়ে শুধুই সহিংসতার জন্য সংবাদ শিরোনাম হওয়া পাকিস্তানে। ওয়েবসাইট।
গত বছরের মার্চে লাহোরে শ্রীলঙ্কা দলের ওপর এ রকমই এক সহিংস ঘটনায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নির্বাসনে চলে গেছে পাকিস্তান থেকে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে পাকিস্তানের ‘হোম গ্রাউন্ড’ তাই ইংল্যান্ড। অধিনায়ক হিসেবে প্রথম টেস্টেই অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর সাফল্যের মুখ দেখা সালমান বাটের আফসোস এখানেই, ‘বিশ্বসেরাদের হারানোর জন্য আমি তরুণ এই দলটার প্রতি কৃতজ্ঞ, কৃতজ্ঞ পাকিস্তানের মানুষের প্রতিও। এই ম্যাচটা দেশে দেশের মানুষের সামনে জিততে পারলেই বেশি ভালো লাগত। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটা আপাতত সম্ভব নয়। তার পরও দেশের মানুষকে বলছি, আমরা তাদের মনে রেখেছি।’
পরশুর আগে পাকিস্তান সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল ১৯৯৫ সালে, সিডনিতে। আরেকটি জয়ের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হওয়ায় সবচেয়ে বেশি খুশি বাটের দলই। বাটের খুশির মাত্রা আরেকটু বেড়ে যাচ্ছে হেডিংলি টেস্টের শেষ দৃশ্য উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠায়, ‘ইতিহাসটা জানা থাকার কারণেই শেষটা স্নায়ুক্ষয়ী হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ, সবকিছু ঠিকভাবে শেষ হয়েছে এবং আমরা ম্যাচটা জিতেছি।’
পাকিস্তানের কাছে হেডিংলি টেস্ট জয় যতটা উচ্ছ্বাসের, অস্ট্রেলিয়ার কাছে কিন্তু ততটা হতাশার নয়। অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের দাবি অন্তত সেটাই। তিনি এটাও মনে করেন না যে, এই পরাজয় আসন্ন অ্যাশেজ সিরিজে তাদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে, ‘নভেম্বর আসতে এখনো অনেক দেরি। অ্যাশেজ নিয়ে আমরা এখনই ভাবছি না। আপনার যে কাজগুলো ভালো হচ্ছে না, পরাজয়ে সেসব জিনিস অনেক সময় সামনে চলে আসে। আমরা জানি, আমাদের করার মতো অনেক কিছুই আছে এবং এটাও জানি, কোনো কিছুই নিশ্চিত ধরে নেওয়া ঠিক নয়।’ পাকিস্তানের কাছে পরাজয় অস্ট্রেলিয়ার আত্মবিশ্বাসেও চিড় ধরাবে না বলে মনে করছেন অধিনায়ক।
টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর অভিজ্ঞতা পাকিস্তানের এই দলের সব ক্রিকেটারের জন্যই প্রথম। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া দলটার কোনো ক্রিকেটারও এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে পরাজয়ের স্বাদ পাননি। তবে পাকিস্তান কোচ ওয়াকার ইউনুস ১৯৯৫ সালে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো পাকিস্তান দলে ছিলেন। পুরোনো সেই স্মৃতি পরশু আরেকবার রোমন্থন করলেন সাবেক ফাস্ট বোলার, ‘অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর আনন্দ অসাধারণ। তরুণ এই দলটার নতুন পথচলা শুরু হলো এখান থেকেই। আশা করি, তারা পাকিস্তানের ক্রিকেটকে অনেক দূর নিয়ে যাবে।’
সাবেক অধিনায়ক আসিফ ইকবালের দৃষ্টি অত দূরে নয়, পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৯ জুলাই থেকে শুরু চার টেস্টের সিরিজের জন্যই তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন ইংল্যান্ডকে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়টাকে বাটের জন্য ‘স্বপ্নের শুরু’ আর পাকিস্তানের ক্রিকেটে ‘নতুন যুগের সূচনা’ বলে পিসিবির প্রতি তাঁর অনুরোধ, বাট এবং তাঁর দলকে যেন ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়।
সেটা পিসিবি দিবে কি না কে জানে, আপাতত বোর্ড সভাপতি ইজাজ বাট ক্রিকেটারদের জন্য দিয়েছেন অর্থ পুরস্কারের ঘোষণা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট জেতা ক্রিকেটারদের ৫ লাখ রুপি বোনাস দেবে বোর্ড। ক্রিকেটাররা অভিনন্দন বার্তা পেয়েছেন দেশের প্রেসিডেন্ট আর প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকেও।

শেষ পর্যন্ত রিয়ালেই যাচ্ছেন মাইকন

মাইকন ইন্টার মিলান থেকে রিয়াল মাদ্রিদে নাম লেখাবেন কি না, এই আলোচনা চলছে বেশ কিছুদিন ধরেই। উত্তরটা বোধ হয় ‘হ্যাঁ’-ই হতে যাচ্ছে, কারণ ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার রিয়ালেই যাচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তাঁর বাবা ম্যানুয়েল। ওয়েবসাইট।
হোসে মরিনহো ইন্টার ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে গেছেন। মরিনহো মাইকনকে চাইছেন, মাইকনও ইন্টারের সঙ্গে চার বছরের সম্পর্কে ছেদ টেনে যেতে চাইছেন রিয়ালে। তবে দুই ক্লাবের মধ্যে টাকা-পয়সায় বনছে না বলে ঝুলে আছে ব্যাপারটা।
তবে মাইকনের বাবা স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক এএসকে বলেছেন, ‘রিয়ালের হয়ে খেলতে আমার ছেলের তর সইছে না। ও জানে, ওর ক্যারিয়ারটা মেলে ধরার জন্য ওটাই সঠিক গন্তব্য। ইন্টার মিলানে ও যা যা জিতেছে, সেটা মাদ্রিদেও জিততে পারে। আমার ছেলে আপাতত ব্রাজিলে ছুটি কাটাচ্ছে। তবে একটা ব্যাপার জেনে আমরা নির্ভার, সঠিক লোকজনই আলোচনাটা চালিয়ে যাচ্ছে।

অবশেষে মুখ খুললেন ম্যারাডোনা

আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে ম্যারাডোনা থাকছেন কি না—এটা জানার জন্য উদগ্রীব হয়ে ছিল আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা। কিন্তু ম্যারাডোনার নাগালই পাওয়া যাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে থাকতে রাজি হয়েছেন ম্যারাডোনা। তবে সঙ্গে অনেক শর্তও জুড়ে দিয়েছেন এই ফুটবল কিংবদন্তি। যদি তাঁর কোচিং সহকারীদের স্বাধীনভাবে নির্বাচন করার সুযোগ পান, তবেই কোচ হিসেবে থাকবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন ম্যারাডোনা।
সম্প্রতি আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জুলিও গ্রন্ডোনা সমালোচনা করেছিলেন ম্যারাডোনার সহকারী অস্কার রুগেরির। আর এটাই মেনে নিতে পারছেন না ম্যারাডোনা। তাঁর সহকারীদের ছাঁটাই করা হলে তিনিও বিদায় নেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। আর্জেন্টিনার একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্যারাডোনা বলেছেন, ‘আমি সত্যিই থাকতে চাই কিন্তু এটা নির্ভর করছে গ্রন্ডোনার ওপর। তাঁরা যদি আমার সহকারীদের মধ্যে কাউকে বাদ দেন, তাহলে আমার পক্ষেও আর থাকা সম্ভব হবে না।’
বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে ৪-০ গোলে হেরে দেশে ফিরেছিলেন ম্যারাডোনা। এর পরও দুয়োধ্বনি নয়, উষ্ণ অভ্যর্থনাই পেয়েছেন দেশবাসীর কাছ থেকে। বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়ে ব্রাজিলের কোচ কার্লোস দুঙ্গাকে যেখানে বহিষ্কার করা হয়েছে, সেখানে ম্যারাডোনাকে বহিষ্কার তো দূরে কথা, কোচ হিসেবে তাঁর সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করতেই রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশনকে। শুধু ম্যারাডোনা বলেই তা সম্ভব!

ইংল্যান্ড দলে ব্রড-কলিংউড

ঊরুর চোটের কারণে প্রায় এক মাস কোনো ক্রিকেটই খেলেননি কেভিন পিটারসেন। তার পরও তাঁর ওপর আস্থা রেখেছেন নির্বাচকেরা। পাকিস্তানের বিপক্ষে ট্রেন্ট ব্রিজে ২৯ জুলাই থেকে শুরু প্রথম টেস্টের ১২ সদস্যের ইংল্যান্ড দলে আছেন কেপি।
নির্বাচকেরা চেয়েছিলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে চার টেস্টের সিরিজের আগে পিটারসেন অন্তত কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ারের হয়ে কাল থেকে শুরু ম্যাচটা খেলুক। কিন্তু এ মৌসুমের পরই দল ছেড়ে দেবেন বলে ঘোষণা দিয়ে রাখায় হ্যাম্পশায়ারও কেন্টের বিপক্ষে ম্যাচে দলে নেয়নি তাঁকে।
বাংলাদেশ সিরিজে বিশ্রামে থাকা ফাস্ট বোলার স্টুয়ার্ট ব্রড ও অলরাউন্ডার পল কলিংউড দলে ফিরেছেন। আর বাংলাদেশের বিপক্ষে ভালো খেলে দলে জায়গা ধরে রেখেছেন সাবেক আয়ারল্যান্ড ব্যাটসম্যান এউইন মরগান।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পরশুর জয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও পাকিস্তান উদ্দীপ্ত থাকবে স্বাভাবিক। দল গঠনের সময় সেটা মাথায় ছিল ইংলিশ নির্বাচকদেরও। নির্বাচক জিওফ মিলার বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ে উত্তুঙ্গ আত্মবিশ্বাসী পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের জন্য খুব শক্তিশালী একটা দল গড়েছি আমরা।’
মিলার দল গঠনে কাউন্টির পারফরম্যান্সকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বললেও দলে নেই ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে এসেক্সের হয়ে সেঞ্চুরি করা রবি বোপারা। বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ভালো না করায় বাদ পড়েছেন পেসার টিম ব্রেসনানও। এএফপি।
ইংল্যান্ড দল: অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস (অধিনায়ক), অ্যালিস্টার কুক, জোনাথন ট্রট, কেভিন পিটারসেন, পল কলিংউড, এউইন মরগান, ম্যাট প্রিয়র, স্টুয়ার্ট ব্রড, গ্রায়েম সোয়ান, জেমস অ্যান্ডারসন, স্টিভেন ফ্লিন ও আজমল শাহজাদ।

ব্লাঁর পাশে দাঁড়াতে দেশমের আহ্বান

রেমন্ড ডমেনেখ-যুগ শেষে ফ্রান্সের ফুটবলে শুরু হয়েছে লরাঁ ব্লাঁ-যুগ। নতুন কোচ ব্লাঁ আবার আলোর সন্ধান দিতে চান ফরাসি ফুটবলকে। এই কঠিন মিশনে তাঁকে সফল করতে সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে অনুরোধ করেছেন তাঁর সাবেক সতীর্থ দিদিয়ের দেশম।
বিশ্বকাপে কলঙ্কিত ফরাসি ফুটবলকে আবার আগের সম্মানের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে ফরাসি ফুটবল লিগের ম্যানেজারদের একত্র হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশম। যে যেভাবে পারেন, ব্লাঁকে যেন সাহায্য করেন; ফরাসি লিগ ওয়ানের ক্লাব মার্শেইয়ের কোচ দেশমের আহ্বান এটাই।
‘লিগ ওয়ানের আর সব কোচের মতো ডমেনেখের সঙ্গে আমারও কোনো যোগাযোগ বা সম্পর্ক ছিল না। লরাঁর কর্মপদ্ধতিটা অন্যরকম। আমরা একে অপরকে চিনি, আমাদের সঙ্গে কথাও হয়। আমরা লিগ ওয়ানের কোচরা তাকে তথ্য দেব। ক্লাব এবং জাতীয় দলের মধ্যে এই সম্পর্কটা গুরুত্বপূর্ণ’—ফরাসি পত্রিকা লেকিপকে বলেছেন দেশম।
দেশম আর ব্লাঁ একসঙ্গে খেলেছেন ফ্রান্স দলে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী দলেও ছিলেন দুজন। দেশম ছিলেন সেই দলের অধিনায়ক। তাঁদের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকাটা স্বাভাবিকই। ব্লাঁর সাহায্যে দেশমের এগিয়ে আসার এটা একটা কারণ। এর সঙ্গে আছে ফ্রান্সের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা। সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপে মাঠে ও মাঠের বাইরে ফ্রান্স দলের শোচনীয় দশা খুব ব্যথিত করেছে তাঁকে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে ফ্রান্সের ফুটবল আলোর মুখ দেখবে, এটাই সবচেয়ে বড় চাওয়া দেশমের।

ভাইয়ের জন্য

দুই ভাই দুই ক্লাবে খেলেন। নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ হয় না। কালেভদ্রে দেখা হলেও সেটা ‘শত্রু’ হিসেবে। ডিয়েগো ও গ্যাব্রিয়েল মিলিতো, গ্যারি ও ফিল নেভিল; খুঁজলে এ রকম অনেক ভাইদের নাম পাওয়া যাবে। কিন্তু ভাইয়ের টানে ক্লাব বদলানো কারও নাম কি পাওয়া যাবে?
আগে-পরে থাক আর না-ই থাক, উদাহরণটা তৈরি করলেন আইভরিকোস্টের ইয়াইয়া তোরে। ভাই কোলো তোরের টানেই নাকি বার্সেলোনা ছেড়ে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিয়েছেন ইয়াইয়া। শুধু তা-ই নয়, দুই ভাই একসঙ্গে খেলবেন বলে গত বছর নাকি ফিরিয়ে দিয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডাক।
চলতি মাসের শুরুর দিকে ইয়াইয়া তোরেকে দুই কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডে কিনে এনেছে ম্যানসিটি। নতুন ক্লাবে সপ্তাহে ১ লাখ ৮৫ হাজার পাউন্ড করে বেতন পাবেন ইয়াইয়া। মানে সপ্তাহে প্রায় দুই কোটি টাকা। রুনি-দ্রগবাদের পেছনে ফেলে যা ইংলিশ প্রিমিয়ারশিপে কোনো ফুটবলারের সর্বোচ্চ বেতন।
তবে তোরে বলছেন, অর্থের কারণে নয়, ম্যানসিটিতে এসেছেন তিনি চ্যালেঞ্জ নিতে এবং ভাইয়ের পাশে থাকতে, ‘এখানে আসাটা আমার জন্য বড় একটা চ্যালেঞ্জ। আশা করি, সবকিছু ঠিকমতো চলবে। আমি কেন (বার্সা) ছাড়লাম, তা নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে। তবে আসল ঘটনা হলো, আমি এসেছি ভাইয়ের সঙ্গে খেলব বলে।’
গত তিন মৌসুম বার্সেলোনায় কাটানো ইয়াইয়া বলছেন, গত বছরই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তাঁকে কিনতে চেয়েছিল। কিন্তু তিনি অপেক্ষা করছিলেন ম্যানসিটি থেকে ডাক পাওয়ার জন্য।
ইয়াইয়ার ভাই কোলোও অনেক বড় ক্লাব ছেড়েই গত মৌসুমে নাম লিখিয়েছেন ম্যানসিটিতে। ২০০২ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত আর্সেনালের হয়ে ২২৫টি ম্যাচ খেলেছেন কোলো তোরে।

শেখ জামাল ক্লাবের আগমন এবং...

পরশু বাংলাদেশ লিগ কমিটির সভার আগে আবাহনীর এক কর্মকর্তার ফোন, ‘শেখ জামাল নাম নিয়ে দ্বিতীয় বিভাগের দল ধানমন্ডিকে নাকি পেশাদার ফুটবল লিগে খেলার অনুমতি দিচ্ছে বাফুফে? এটা তো পুরোপুরি বেআইনি। টাকা হলেই সব জায়গায় খেলা যায়?’
ওই কর্মকর্তা তবু ‘বেআইনি’ বলে ক্ষান্ত ছিলেন। মোহামেডানের এক কর্মকর্তা তো হুমকিই দিয়ে বসেন, ‘নিয়ম ভেঙে কোনো ক্লাবকে পেশাদার লিগে ঢোকানো হলে আমরা এই লিগে খেলবই না। বাফুফে এটা কী করছে! দেশের ফুটবলে কি কোনো নিয়মকানুন থাকবে না!’
নিয়মকানুন একেবারেই নেই, এটা বলা অন্যায় হবে। তবে এটা ঘটনা, ‘বি’ লিগ থেকে বাংলাদেশ লিগে রূপান্তরের পরও পেশাদার ফুটবল লিগে দল নেওয়ার এবং অবনমন করার সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড আজও হয়নি। যখন যেভাবে দরকার, সেভাবেই দল নেওয়া হচ্ছে। পরশু শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের খেলার অনুমতি পাওয়া তারই সর্বশেষ উদাহরণ।
অথচ মজাটা হলো, অনুমতি পাওয়ার পর চুপচাপ বড় দুটি দল। আবাহনীর পরিচালক কাজী নাবিল আহমেদ শেখ জামালকে স্বাগতই জানালেন, ‘আমরা ওদের স্বাগত জানাই। নতুন দল এসেছে। ফুটবলের প্রতিযোগিতা বাড়বে। এটা ফুটবলের জন্য ভালোই হবে। মাঠেই দেখা হবে ওদের সঙ্গে।’
মোহামেডান অবশ্য স্বাগত জানায়নি। তবে এই আগমনকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাখ্যানও করেনি। মোহামেডান কর্মকর্তা লোকমান হোসেন ভূঁইয়া দুই দিন আগে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানালেও কাল তিনি নিরুত্তাপ, ‘এখন কিছু বলব না। মিটিং করে তারপর প্রতিক্রিয়া জানাব।’
আরেক বড় দল শেখ রাসেলের সভাপতি নূরুল আলম চৌধুরী শুভেচ্ছা রাখলেন নতুন দলের জন্য ‘বাফুফে কোন মানদণ্ডে শেখ জামালকে অনুমোদন দিয়েছে, জানি না। তবে এই দলটির আগমন ফুটবলের জন্য ভালো হলে অবশ্যই আমরা তাকে স্বাগত জানাই।’
যতই বিতর্ক থাক, শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব বাংলাদেশ লিগে খেলতে যাচ্ছে, এটাই বাস্তবতা। কিসের ভিত্তিতে শেখ জামাল অনুমতি পেল—গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সেটিই। সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে বললেন, ‘গতবার তিনটি দলকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তখন কেউ অভিযোগ করেনি। অতীতের ধারাবাহিকতাই মানা হয়েছে।’
সালাউদ্দিন আরও দাবি করলেন, ‘কোনো অনিয়ম হয়নি। আমাদের বেঁধে দেওয়া মানদণ্ড পূরণ করেই শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব অনুমতি পেয়েছে। আমরা কোনো ডিভিশনের নাম বলে দিইনি। যে কেউ আবেদন করতে পারত। তা ছাড়া বড় বাজেট নিয়ে এ দলটি আসায় ফুটবলের জন্যই তো লাভই।’
বড় বাজেটের দল আসা ফুটবলের জন্য অবশ্যই ভালো খবর। কিন্তু টাকা থাকলেই একটা দল অনুমতি পেয়ে যাবে, সেটিই বা কোন নিয়ম? সিলেট বিয়ানীবাজার, নারায়ণগঞ্জ শুকতারা প্রথম খেলতে এসে সাধ্যমতো টাকা খরচ করেছে। এক বছর পরই দল দুটি বিদায় নিয়েছে পেশাদার লিগ থেকে। লিগের দ্বিতীয় স্তর না থাকায় এই দুটি দল এখন কোথায় খেলবে? দ্বিতীয় স্তর চালু করার উদ্যোগ নিয়েও সেটি যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে!
বিয়ানীবাজারের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ সিলেট থেকে ফোনে প্রশ্ন রাখলেন, ‘আমরা দেড় কোটি টাকা খরচ করে দল গড়লাম। এখন আমাদের কী হবে? আমরা কোথায় যাব? এটা তো একটা লিগের সিস্টেম হতে পারে না! আমাদের আবারও সুযোগ দেওয়ার আবেদন করলেও বাফুফে সাড়া দেয়নি।’
শুকতারার ফুটবল ম্যানেজার রবিউল ইসলামও ক্ষুব্ধ, ‘অনিয়ম করে দ্বিতীয় বিভাগের দলকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অথচ আমরা তো পেশাদার লিগে খেলেছি। আমাদের আবেদন গ্রহণ না করে বাফুফে ঠিক করেনি। এখন আমরা কোথায় খেলব?’
এমন আরও অনেক প্রশ্নকে অমীমাংসিত রেখেই চলছে বাংলাদেশের নামসর্বস্ব পেশাদার লিগ।