Wednesday, August 26, 2026
কেউ আমার অভিনয় দেখতে না চাইলে কিছু করার নেই: অঞ্জন দত্ত
অঞ্জন দত্ত লিখেছেন, ‘খুব বেছে বেছে কাজ নিয়েছি। চেষ্টা করেছি খুব সস্তার গান বা নিম্ন রুচির কিছু না করার। সব সময় পারিনি। তিনটি সিনেমা নিয়ে আজও আমি বিব্রত, লজ্জিত। নিজের বলে স্বীকার করে নিতে অসুবিধে হয়। রাজনীতি, বিতর্ক, ঝগড়া, বোকামি, মধ্য মেধা এড়িয়ে চলেছি। পরিস্থিতির রং যতই বেগুনি হোক। আমার বয়স ৭২। কৌতুকবোধ আমার বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল।’
পোস্টে তিনি লেখেন, শীত, সকাল-বিকেলের রোদ্দুর, ফুলঘাটের স্টিমার, হুগলি নদীর সূর্যাস্ত—এসব তাঁর মন ভালো করে দেয়। একই সঙ্গে কলকাতার প্রতি নস্টালজিয়াও উঠে এসেছে তাঁর লেখায়। তিনি লিখেছেন, ‘কিন্তু এরই মধ্যে কার সিনেমা কতবার অলমোস্ট হাউসফুল হয়ে রমরমিয়ে ব্যবসা করছে, সেটা প্রমাণ করবে ফেসবুক। জেদি বাছুরের মতো দর্শক কিছুতেই সিনেমা হলে যেতে চাইছে না। পর্বতপ্রমাণ প্রচার করে, যেনতেন প্রকরণে তাদের টেনে, হিঁচড়ে হলে ঢোকানোর আপ্রাণ চেষ্টা চলছে, চলবে। আমিও সেই দলে আছি। কিন্তু আমার অভিনয় হলে গিয়ে কেউ দেখতে না চাইলে আমার কিছু করার নেই। যদি দু–একজন ভুল করে ঢুকে পড়ে, তাহলে তাদের মুখের কথা আমার একমাত্র সম্বল। তা ছাড়া আমরা এমন কোনো সিনেমা বানাচ্ছি না, যেটা না দেখলে জীবন ব্যর্থ হয়ে যাবে। আর একটা সিনেমার জন্য জীবন ব্যর্থ বা সার্থক হবেই বা কেন? আমরা তো কেউ যুগান্তকারী কিছু বানাচ্ছি না।’
সংবাদমাধ্যম ও চলচ্চিত্র সমালোচকদের প্রভাব নিয়েও স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, মিডিয়া বা সাংবাদিকদের লেখার ধার বা দাম এতটাই কম যে তারা গাদা গুচ্ছের লিখে গেলেও দর্শক হলমুখী হবে না। তিনি লিখেছেন, ‘আমরা কয়েকজন চেষ্টা করে যাচ্ছি একটু ভালো সিনেমা করার। কারণ, এটা করেই আমাদের রোজগার। সাংবাদিক বা পডকাস্টের দলবল চেষ্টা করছে বাজার ঠান্ডা বা গরম করার। পোস্টারের ওপরে পোস্টার পড়ে যাচ্ছে। সবই বাসী খবর।’
দর্শকদের উদ্দেশে অঞ্জন লিখেছেন, ‘তবে এটাও ঠিক যে আপনারা অর্থাৎ দর্শকদের হাতে একদম সময় নেই বা আপনাদের পকেট গড়ের মাঠ, এ রকম আদৌ নয়। আপনারাও কিন্তু চাইলে কিছুক্ষণের জন্য নিজেদের টেলিফোনটা বন্ধ করে ফেলতে পারেন। সর্বক্ষণ ওটা নিয়ে গেম খেলা, একই রান্নার একই রেসিপি দেখা, কী করলে রোগা হবেন, হজম শক্তি বাড়বে, কোথায় ধস নামল, কে ছাদে উঠে নাচ্ছে, কে কী গোগ্রাসে খাচ্ছে, আগামী সপ্তাহে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে কি না, সেই নিয়ে কারুর বাতেলা শোনা এসব কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ করে একটু ভেবে দেখতে পারেন, আপনার পছন্দ হতে পারে এ রকম একটা সিনেমার হলে ঢুকবেন কি না। বিশাল কোনো ক্ষতি হবে না।’
দর্শকদের প্রতি একটি অনুরোধও রেখেছেন অঞ্জন। বলেন, ‘নিজের পছন্দটা ঠিক করতে হবে। আমি লিখছি বলে নয়। আমি একটা প্রস্তাব দিচ্ছি মাত্র। নিজের পছন্দ নির্ধারিত করার। যা চলছে তার মধ্যে কিসসু পছন্দ না হলে ফোনটা নিয়েই থাকুন। কোনো সমস্যা নেই। আমারও বেশির ভাগ সময় হলে যেতে ইচ্ছে করে না। কারণ, আমার কোনোটাই পছন্দ হচ্ছে না। কিন্তু যদি পছন্দ হয় বা ইচ্ছে করে, তাহলে ঢুকে পড়ুন।’
নতুন ছবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের সিনেমার নাম “দেরি হয়ে গেছে”। নামটা শুনে দেরি করে দেখব ভাবলে দেখতে পারবেন না, কারণ দেরি না করেই উঠে যাবে…মমতা শঙ্কর, আমার মতে, তার ইদানীংকালের শ্রেষ্ঠ অভিনয় করেছেন…আমি একটা রবীন্দ্রনাথের গান গেয়েছি শ্রাবণী সেনের সঙ্গে। গপ্পোটা মন্দ নয়।’
শেষে দর্শকদের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, ‘টেলিফোন বন্ধ করবেন না করবেন না?’
![]() |
| অঞ্জন দত্ত। ছবি: ফেসবুক থেকে |
Tuesday, August 25, 2026
পথ হারিয়ে ফেলা সেই ইয়ামিই এখন...
টেলিভিশন থেকে বড় পর্দা
টেলিভিশনে কাজের মাধ্যমে অভিনয়জীবন শুরু হলেও ইয়ামির স্বপ্ন ছিল বড় পর্দা। ধারাবাহিক ও বিজ্ঞাপনচিত্রের পরিচিত পরিসর পেরিয়ে তিনি যখন সিনেমার দিকে এগোলেন, শুরুটা কিন্তু হিন্দি ছবি দিয়ে নয়। তাঁর প্রথম বড় পর্দার অভিজ্ঞতা কন্নড় ছবিতে। ভাষা, সংস্কৃতি—সব মিলিয়ে সেই শুরুটা সহজ ছিল না। তবে লড়াইয়ের মধ্যেই তৈরি হচ্ছিল প্রস্তুতি।
২০১২ সালে সুজিত সরকারের ‘ভিকি ডোনার’ দিয়ে হিন্দি ছবিতে তাঁর আগমন। আয়ুষ্মান খুরানার বিপরীতে সেই ছবিতে ইয়ামিকে দেখা গেল সাবলীল, সংযত অথচ দৃঢ় এক নারীর ভূমিকায়। ছবির সাফল্য তাঁকে রাতারাতি পরিচিত করে দেয়; কিন্তু এখানেই শেষ নয়, বরং এখান থেকেই শুরু হয় আরেক রকম সংগ্রাম।
সাফল্যের পরেও বিভ্রান্তি
প্রথম বড় সাফল্যের পর ইয়ামি নিজেই স্বীকার করেছেন এক অদ্ভুত মানসিক অবস্থার ভেতর দিয়ে যাওয়ার কথা। তিনি বলেন, ‘মনে হয়েছিল নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি। বুঝতে পারছিলাম না, কোন পথে যাব।’ সফলতার পরপরই কাজের ঝাঁপটা, প্রত্যাশার চাপ—সব মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় ছিলেন তিনি। অভিনয় করবেন, নাকি সেই সফলতার সুযোগকে অন্যভাবে ব্যবহার করবেন—নিজের কাছেই প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছিলেন।
এই সময়টা তাঁর কাছে ছিল নিজের সঙ্গে নিজের বোঝাপড়ার। কেন তিনি নিজের শহর ছেড়ে মুম্বাই এসেছিলেন, অভিনয়ের উদ্দেশ্যই বা কী—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজছিলেন। সময় লেগেছে; কিন্তু সেই থেমে যাওয়ার মধ্যেই তৈরি হয়েছেন পরিণত ইয়ামি।
মঞ্চভীতি থেকে ক্যামেরার সামনে
হিমাচল প্রদেশের বিলাসপুরে জন্ম ইয়ামির। বেড়ে ওঠা চণ্ডীগড়ে, এক মধ্যবিত্ত পরিবারে। তিনি নিজেই বলেছেন, স্কুলে থাকার সময় মঞ্চে উঠতে ভয় পেতেন। কবিতা আবৃত্তি তো দূরের কথা, অনেক মানুষের সামনে দাঁড়ালেই ঘাবড়ে যেতেন। আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল স্পষ্ট। অথচ পড়াশোনায় ছিলেন ভালো।
সময়ের সঙ্গে সেই ভয় কাটতে শুরু করে। সিনেমা দেখার পর প্রিয় দৃশ্যগুলো তিনি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অভিনয় করতেন—নীরবে, একান্তে। সেখান থেকেই হয়তো ধীরে ধীরে তৈরি হয় ক্যামেরার সামনে আত্মবিশ্বাসী ইয়ামি গৌতম।
পরিণত অভিনয়ের দিকে যাত্রা
‘উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’, ‘বালা’, ‘থার্সডে’—এই ছবিগুলোর মাধ্যমে ইয়ামি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ভিন্ন ভিন্ন রূপে। দেশপ্রেমের আবেগ, সামাজিক বক্তব্য কিংবা মনস্তাত্ত্বিক উত্তেজনা—সব জায়গাতেই তিনি ভরসাযোগ্য। হিন্দির পাশাপাশি তামিল, তেলেগু, মালয়ালম, কন্নড় ও পাঞ্জাবি ভাষার ছবিতেও কাজ করেছেন। প্রায় ২৭টি সিনেমার ক্যারিয়ারে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন দক্ষ অভিনেত্রী হিসেবে।
প্রচারবিমুখ হওয়াটাও ইয়ামির ব্যক্তিত্বের অংশ। তিনি মনে করেন, মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষা তাঁকে মাটিতে পা রাখতে শিখিয়েছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার চেয়ে কাজের মাধ্যমেই নিজেকে তুলে ধরতে চান তিনি।
আজকের ইয়ামি
২০২১ সালের জুনে হিমাচলের বাড়িতে ব্যক্তিগত আয়োজনে পরিচালক আদিত্য ধরকে বিয়ে করেন ইয়ামি। তাঁদের পরিচয় ও সম্পর্কের শুরু ‘উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’–এর সেটে। দুই বছরের প্রেমের পর সেই বন্ধন আরও দৃঢ় হয়েছে।
‘আর্টিকেল ৩৭০’–এ বন্দুক হাতে এনআইএ এজেন্টের চরিত্রে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন ইয়ামি। আর এবার সুপর্ণ ভার্মার ‘হক’ ছবিতে দেখা গেছে তাঁকে বাস্তব ইতিহাসের এক সাহসী নারীর ভূমিকায়। ১৯৮৫ সালের ঐতিহাসিক সাহো বানু বেগম মামলাকে অবলম্বন করে নির্মিত ছবিতে ইয়ামি অভিনয় করেছেন সাহো বানুর চরিত্রে, আর তাঁর বিপরীতে আহমেদ খান হিসেবে আছেন ইমরান হাশমি। ছবিটি নভেম্বরেই মুক্তি পেয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
টেলিভিশনের সেই লাজুক মুখ থেকে আজকের সাহসী, পরিণত অভিনেত্রী—ইয়ামি গৌতমের এই উত্তরণ সহজ ছিল না। মঞ্চভীতি, আত্মবিশ্বাসের সংকট, সাফল্যের পর বিভ্রান্তি—সব পেরিয়ে তিনি আজ স্থির, সংযত ও নিজের জায়গায় আত্মবিশ্বাসী।
হিন্দুস্তান টাইমস, টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে
![]() |
| ইয়ামি গৌতম। ইনস্টাগ্রাম থেকে |
Saturday, August 22, 2026
দুই বছরের সম্পর্কে ভয়ংকর নির্যাতনের শিকার, প্রতিদিনই কাঁদতেন এই অভিনেত্রী
অনুপমা ‘আই অ্যাম উইথ ধন্য ভার্মা’ অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন। কার সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন, তাঁর নাম অবশ্য প্রকাশ করেননি। তবে অনুপমার ভাষ্য, ওই সম্পর্কে থাকাকালে তিনি নিজেকে ক্রমেই হারিয়ে ফেলছিলেন। পরে নিজেকে ফিরে পাওয়ার পথেই হাঁটেন।
অনুপমার ভাষ্য অনুযায়ী, সম্পর্কটিতে কখনো স্থিরতা ছিল না। কখনো বিচ্ছেদের কথা বলা হতো, আবার দুই দিন পরই সব ঠিক করে ফেলার চেষ্টা চলত। এই চরম ওঠানামার প্রভাব পড়ে তাঁর শরীর ও মনে।
তিনি জানান, সম্পর্কে থাকার সময় তাঁর প্যানিক অ্যাটাক, উদ্বেগ, ব্ল্যাকআউট, ওজন কমে যাওয়া এবং বমির মতো সমস্যা দেখা দিয়েছিল। এমনকি তাঁর ডান চোখ অনবরত কাঁপতে শুরু করায় শুটিং পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
‘কোনো কোনো কথোপকথনের পর আমি বমি করে ফেলতাম, কিছুই খেতে পারতাম না। অনেক ওজন কমে গিয়েছিল। প্রতি রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাঁদতাম। এরপর সকালে উঠে শুটিংয়ে যেতে হতো’—এমন অভিজ্ঞতার কথাই জানিয়েছেন তিনি।
শুধু তা-ই নয়, অনুপমার চোখের অশ্রুগ্রন্থিও ফুলে গিয়েছিল। পরে অস্ত্রোপচার করাতে হয় তাঁকে।
‘কেন বেরিয়ে আসতে পারিনি?’
এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে অনুপমা বলেন, বাইরে থেকে বিষয়টি যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে ততটা নয়। তাঁর কাছে পুরো সম্পর্কটিকে মনে হয়েছিল মাকড়সার জালের মতো।
তাঁর ভাষায়,পরিস্থিতির জন্য তাঁকেই দায়ী করার প্রবণতা—সবকিছু যেন একটি নির্দিষ্ট ছকের মতো চলছিল। একপর্যায়ে তিনি ওই ব্যক্তিকে স্পষ্ট করে জানান, তাঁর মানসিক শান্তি নষ্ট হচ্ছে এবং এভাবে আর সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
এরপর ধীরে ধীরে তিনি ওই ব্যক্তির কথার অসংগতি ও মিথ্যাগুলো বুঝতে শুরু করেন। প্রশ্ন করতে থাকেন, মুখোমুখি হন। অনুপমার দাবি, তখন উল্টো তাঁকেই সমস্যার কারণ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়।
‘শেষ ১০ সেকেন্ডে মুখোশ খুলে যেতে দেখেছি’
অনুপমা জানান, একপর্যায়ে এমন একটি ঘটনা ঘটে, যার পর সম্পর্কটির পুরো বাস্তবতা তাঁর সামনে স্পষ্ট হয়ে যায়। দুই পরিবারের সদস্যরাও বিষয়টির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এরপর সম্পর্কের এত দিনকার ‘বুদ্বুদ’ যেন এক মুহূর্তে ফেটে যায়।
অনুপমা আরও বলেন, ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার জন্য শেষ পর্যন্ত তাঁকে হুমকি দিতে হয়েছিল। কারণ, তাঁর দাবি, ওই ব্যক্তি নিজের কোনো কাজের দায় স্বীকার করতেন না।
অনুপমার শেষ সাক্ষাতের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, শেষ ১০ সেকেন্ডে ওই ব্যক্তির দিকে তাকিয়ে তাঁর মনে হয়েছিল, মুখোশটি খুলে যাচ্ছে এবং তিনি যেন ‘একজন দানবকে’ দেখতে পাচ্ছেন।
সম্পর্কের গুঞ্জন কেন ধ্রুব বিক্রমকে ঘিরে
২০২৫ সালের শুরুর দিকে অনুপমা ও ধ্রুব বিক্রমকে ঘিরে প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের চুম্বনের একটি অযাচাইকৃত ভিডিও ছবি ছড়িয়ে পড়ে। ভক্তদের একাংশ দাবি করেছিলেন, ছবিটি নাকি তাঁদের দুজনের যৌথ স্পটিফাই প্লেলিস্টের প্রোফাইল ছবি ছিল।
তবে অনুপমা তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যে কারও নাম বলেননি।
হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে
![]() |
| অনুপমা পরমেশ্বরন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে |
ট্রাম্প প্রশাসনের পোস্টে নিজের গান, ক্ষুব্ধ গায়িকা
বৃহস্পতিবার ‘টিম ট্রাম্প’–এর টিকটক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে ট্রাম্পকে একটি মঞ্চের দিকে হেঁটে যেতে দেখা যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘এটা বিতর্কিত হওয়ার কথা নয়!’ সঙ্গে ব্যবহার করা হয় ট্রাম্প, আরিয়ানা গ্রান্দে ও ‘মাগা’–সংক্রান্ত হ্যাশট্যাগ।
পোস্টটিতে গ্রান্দের গান ব্যবহার করা হয়েছে দেখে তিনি সরাসরি মন্তব্যের ঘরে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। লেখেন, ‘আমার গান আর কখনো ব্যবহার করবেন না। আর আপনাদের সত্য মিথ্যা।’
দুই মাসে দ্বিতীয়বার
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে গ্রান্দের এমন বিরোধ এবারই প্রথম নয়। মাত্র দুই মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার তাঁর গান রাজনৈতিক পোস্টে ব্যবহৃত হলো, আর প্রতিবারই তিনি এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
জুনে হোয়াইট হাউস গ্রান্দের আরেকটি গান ‘বাই’–এর একটি সংস্করণ ব্যবহার করেছিল টিকটক ভিডিওতে। সেই ভিডিওতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইস–এর কর্মকর্তাদের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পরাতে দেখা যায়।
সেবারও গ্রান্দে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘এই বর্বর, অমানবিক ও জঘন্য কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমার গান কখনোই ব্যবহার করবেন না।’ এরপর তাঁর দলের উদ্যোগে ওই পোস্ট থেকে গানটির অডিও সরিয়ে দেওয়া হয়।
তবে এবার ‘উই কান্ট বি ফ্রেন্ডস’কে ঘিরে তৈরি পোস্ট থেকে এখনো গানটি সরানো হয়নি।
শিল্পীদের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের টানাপোড়েন
গ্রান্দে একা নন। ট্রাম্প প্রশাসন ও হোয়াইট হাউসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে শিল্পীদের গান ব্যবহার নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
টেইলর সুইফট ও ব্যাড বানির গানও ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট পোস্ট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সংগীতশিল্পী নোয়া কাহান জুলাইয়ের শেষ দিকে আরও স্পষ্ট ভাষায় আপত্তি জানান। হোয়াইট হাউস তাঁর ‘আমেরিকান কারস’ গানটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ব্যবহার করার পর কাহান লিখেছিলেন, তাঁর গান ট্রাম্প বা তাঁর প্রশাসনের সমর্থনে ব্যবহারের কোনো অনুমতি তিনি কখনোই দেবেন না।
এ ধরনের ঘটনায় মূল প্রশ্ন হয়ে উঠেছে শিল্পীর গান রাজনৈতিক বার্তা প্রচারে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কি না। গ্রান্দের সাম্প্রতিক মন্তব্যও সেই বিতর্ককে আবার সামনে নিয়ে এসেছে।
গ্রান্দের অবস্থান বরাবরই স্পষ্ট
আরিয়ানা গ্রান্দে এর আগেও বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছেন। এবারও তিনি দীর্ঘ বক্তব্য না দিয়ে মাত্র কয়েকটি বাক্যেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন—তাঁর গান যেন ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত না করা হয়।
বিশেষ করে ‘উই কান্ট বি ফ্রেন্ডস’ গানটি মূলত সম্পর্ক, বিচ্ছেদ ও আবেগের জটিলতা নিয়ে লেখা। সেই গানকে সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্যের পটভূমিতে ব্যবহার করায় গ্রান্দের আপত্তি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভ্যারাইটি, তবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
![]() |
| আরিয়ানা গ্রান্দে। রয়টার্স |
Friday, August 21, 2026
সুন্দরী প্রতিযোগিতা থেকে প্রাপ্তবয়স্কদের প্ল্যাটফরমে পিয়া বিপাশা
তবে হঠাৎ করেই ছয় বছর আগে দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান পিয়া বিপাশা। তার আগে অবশ্য স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় তার। একমাত্র মেয়েকে নিয়ে নিউ ইয়র্কে বসবাস শুরু করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের এক নাগরিকের সঙ্গে তার প্রেম তৈরি হয়। তারপর তারা বিয়ে করেন। তবে পিয়া বিপাশার গল্প যেন নাটকের মতোই নাটকীয়। নিউ ইয়র্কে বিপাশা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মডেল হিসেবে কাজ করেন। ব্যাপক খোলামেলা রূপে ফটোশুটে অংশ নেন। সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিয়ে তুমুল সমালোচনায় পড়েন। কারণ দেশের পিয়া বিপাশার বিদেশে গিয়ে এতটা বদল মেনে নিতে পারেননি নেটিজেনরা। এদিকে, মডেলিং শুরুর পর নিউ ইয়র্কে একটি প্রাপ্তবয়স্কদের প্ল্যাটফরমে নিজেকে যুক্ত করেন পিয়া। সেখানে বেশ কিছু কনটেন্টে অংশ নেন তিনি। বিপরীতে পান বড় অঙ্কের সম্মানী। যদিও তীব্র সমালোচনায় পড়ে যান সে সময়। নেটিজেনদের আক্রমণের শিকার হন। অনেকে পিয়া বিপাশাকে পর্নোতারকা আখ্যা দেন।
যদিও সেই সমালোচনা মেনে নিয়েছেন তিনি। এখন মডেলিং ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত পিয়া বিপাশা। গত ছয় বছরে নিউ ইয়র্কে নিজের সব স্বপ্নই পূরণ করেছেন এই আলোচিত মডেল। তিনি জানান, এখন আর কোনো স্বপ্ন নেই তার। গত ছয় বছরে সবই অর্জন করেছেন। অর্থ, সুন্দর জীবন, ভালো স্বামীÑ সবই তার হয়েছে। এভাবেই জীবনটা উপভোগ করে যেতে চান বলে জানালেন পিয়া বিপাশা।

বাঙালিকন্যাকে বিগ বসে আনতে মোটা অঙ্কের প্রস্তাব
বিবিটকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘বিগ বস ২০’-এ অংশ নেওয়ার জন্য মৌনী রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন অনুষ্ঠানের নির্মাতারা। তাকে দেওয়া হয়েছে মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিকের প্রস্তাব। এই লোভনীয় প্রস্তাবে মৌনী সম্মতি দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
এদিকে মৌনীর সম্ভাব্য অংশগ্রহণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা। কেউ কেউ মনে করছেন, মৌনীর মতো বড় তারকার ‘বিগ বস’-এ এলে অনুষ্ঠানটির আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দেবে।
মৌনী ছাড়াও সম্ভাব্য প্রতিযোগীদের তালিকায় মাহি ভিজ, গীতা বসরা, সুনীল পাল ও শোয়িক চক্রবর্তীর নাম শোনা যাচ্ছে। এ ছাড়া এলনাজ নোরৌজি ও মেরি কমের সঙ্গেও নির্মাতারা যোগাযোগ করেছেন বলে খবর।
এদিকে সম্প্রতি বিগ বসের নতুন সিজনের প্রোমো প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে ‘এক্সট্রা জীবন দান’ এবং সালমান খানের নিজস্ব ভঙ্গিতে ‘তথাস্তু’ শব্দটি ব্যবহার করে নতুন মৌসুমের বিশেষ চমকের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
‘বিগ বস ২০’ বিষয়ে সালমান খান জানিয়েছেন, এবার শুধু খেলা নয়, খেলার ধরনও বদলাবে। ‘জীবন দান’ শুনতে যতটা সহজ মনে হচ্ছে, বিষয়টি ততটা সরল নয় বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ‘টাইগার’ খ্যাত এই অভিনেতা।
কীভাবে আসন্ন ‘বিগ বস ২০’-এ জীবন দানের এই নতুন নিয়ম কাজ করবে, তা জানা যাবে অনুষ্ঠান শুরু হলে।
![]() |
| বাঙালিকন্যা মৌনী রায়। ছবি: সংগৃহীত |
সবচেয়ে বেশি ট্রল হওয়া মানুষ আমিই: রিয়া চক্রবর্তী
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি জানান, ২০২০ সালে মাদক সংক্রান্ত মামলায় রিয়া ও তার ভাই শৌভিককে গ্রেপ্তারের পর তাদের জীবন সম্পূর্ণ ওলটপালট হয়ে যায়। জেল থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর চারপাশের মানুষ এবং গোটা সমাজ তাদের এমনভাবে বয়কট করেছিল যে, স্বাভাবিক জীবনে ফেরাই কঠিন হয়ে উঠেছিল। দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল জীবন।
সামাজিক ট্রলিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার সময়ের কথা স্মরণ করে রিয়া আরও বলেন, ‘দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ট্রল হওয়া মানুষ সম্ভবত আমিই। আপনারা সবাই জানেন এর পেছনে কী কারণ রয়েছে। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার, আমি সহজে কাউকে বিশ্বাস বা প্রভাব বিস্তার করতে দিই না।’
তবে সব ঝড়ঝাপ্টা ও সমাজের তীব্র সমালোচনা পেরিয়ে ভাই-বোন মিলে নিজেদের ক্যারিয়ার নতুন করে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। বিনোদন জগৎ এবং করপোরেট জীবনের দরজা বন্ধ দেখে তারা নিজেদের উদ্যোগেই জীবনের ‘চ্যাপ্টার টু’ বা দ্বিতীয় অধ্যায় নামে একটি যৌথ চ্যাট শো শুরু করেন।
কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ থেকে মুক্ত হয়ে নতুন করে জীবন গুছিয়ে তোলার পথটি রিয়া ও শৌভিকের জন্য মোটেই মসৃণ ছিল না। এ বিষয়ে রিয়া বলেন, এত কষ্টের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় এখন আবার নতুন করে কোনো দুর্যোগের ভয় কাজ করে।
সমাজের কটূক্তি জয় করে নিজের পায়ে দাঁড়ানো যে কতটা কঠিন, বিনোদন জগতের এই খবরের আড়ালে থাকা সত্যিটি তা আরও একবার প্রকাশ্যে এনে দিল।
সূত্র: পিটিসি পাঞ্জাব
![]() |
| রিয়া চক্রবর্তী। ছবি: সংগৃহীত |
আমার এখনো বিয়ে হয়নি: পূজা চেরি
সম্প্রতি নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও বিয়ে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) গভীর রাতে এক ফেসবুক পোস্টে এ কথা বলেন পূজা চেরি।
বিবৃতিতে পূজা বলেন, ‘গত কিছুদিন ধরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আমার বিয়ে এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একের পর এক ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। কখনো অমুক পেশার কারও সঙ্গে, কখনো অন্য কারও সঙ্গে নাম জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিউজ তৈরি করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত বিব্রতকর এবং দুঃখজনক।’
পূজা জানান, তিনি আগেই একটি সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে বলেছিলেন যে তিনি এনগেজড এবং পারিবারিকভাবে তার বিয়ে ঠিক করা হয়েছে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে তিনি নিজেই আনন্দের সঙ্গে বিষয়টি প্রকাশ্যে জানাবেন বলেও জানিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আমি আগেই একটি সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে বলেছিলাম—আমি এনগেজড এবং পারিবারিকভাবেই আমার বিয়ে ঠিক করা হয়েছে।’
বর্তমানে নিজেকে কিছুটা সময় দেওয়ার পাশাপাশি নতুন কাজের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান পূজা। এ কারণেই তাকে ক্যামেরার সামনে তুলনামূলকভাবে কম দেখা যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে তথ্য যাচাই না করে বারবার তাকে জড়িয়ে অসত্য সংবাদ প্রকাশের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই অভিনেত্রী। তার ভাষায়, ‘বারবার বলতে চাই, আমার এখনও বিয়ে হয়নি। যখন হবে, আপনারাই প্রথম জানতে পারবেন।’
নিজের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সুনাম রক্ষার অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে পূজা বলেন, ‘সবাইকে স্মরণে করিয়ে দিতে চাই, অনুমতি ছাড়া কারো ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা এবং কোনো নাগরিককে নিয়ে ভিত্তিহীন বা মিথ্যা তথ্য প্রচার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।’
এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ ও ৪৩ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩-এর ২৫ ধারার কথাও উল্লেখ করে ডিজিটাল মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে মিথ্যা, অপমানজনক বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিষয়ে সতর্ক করেন।
পূজা বলেন, তিনি সবসময় দর্শকদের ভালোবাসা এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতাকে সম্মান করে এসেছেন। তবে তার নীরবতাকে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা হলে নিজের আইনি অধিকার রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবেন।
গণমাধ্যমকর্মীদের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে পূজা চেরি অসত্য সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান।
![]() |
| পূজা চেরি। ছবি : ফেসবুক আইডি থেকে নেওয়া |
Wednesday, August 19, 2026
‘পাওনা চাইতে গিয়ে’ খুন পাকিস্তানি জনপ্রিয় টিকটকার
ঘটনার দিন কাশিফ নামের এক যুবকের ফোন পেয়ে ভাই নিয়ামাতুল্লাহ ও বোন আসিমাকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন শামসো বিবি। এর কিছু পরই এক পেট্রোল পাম্পের কাছে বাইকে আসা দুই অজ্ঞাতপরিচয় যুবক তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এ সময় ঘাড়ে গুলি লেগে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এই বিনোদন তারকা। একই সময় তার বোনও গুরুতর আহত হন।
ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারে শামসোর ওপর আততায়ীদের হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ্য হয়েছে। সেই ভিডিওটি ব্যাপক ভাইরাল হয়। যদিও সেই এর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডটকম।
শামসুর পরিবারের দাবি, কাউসার ও জাভেদ নামে দুই ব্যক্তির কাছে টাকা পাওনা কেন্দ্র করে আগে থেকেই খুনের হুমকি পাচ্ছিলেন এই তারকা।
রাওয়ালপিন্ডি পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
বিনোদন জগতের এই উজ্জ্বল তারকার নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের কড়া শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন তার পরিবার ও অনুরাগী মহল।
![]() |
| পাকিস্তানি জনপ্রিয় টিকটক তারকা শামসো বিবি। ছবি: সংগৃহীত |
নায়িকা থেকে ব্যাংকার, জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু তমা মির্জার
অভিনয়ের বাইরে নতুন ব্যাংকিং পেশাকে নিজের জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখছেন তমা মির্জা।
এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমি খুব বেছে বেছে কাজ করি। বছরে একটা কিংবা দুটো সিনেমায় কাজ করি। জীবনের বাকি সময়টা অন্য কিছু এক্সপ্লোর করতে পারাটা দারুণ একটা সুযোগ। সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে আমার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাই। তবে অভিনয়ই আমার প্রথম ভালো লাগা ও ভালোবাসার জায়গা। তাই অভিনয় থেকে দূরে সরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।’
উল্লেখ্য, আফরান নিশোর বিপরীতে ‘সুড়ঙ্গ’ ও ‘দাগি’ সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন তমা। ২০১৫ সালে ‘নদীজন’ চলচ্চিত্রে চমৎকার অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী) লাভ করেন। এম বি মানিকের ‘বলো না তুমি আমার’ সিনেমার মাধ্যমে ২০১০ সালে চলচ্চিত্রে তমা মির্জার অভিষেক হয়। এরপর অনন্ত হীরা পরিচালিত ‘ও আমার দেশের মাটি’ সিনেমায় চিত্রনায়িকা হিসেবে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন তিনি।
![]() |
| তমা মির্জা। ছবি : সংগৃহীত |
নার্সের ভুলে ‘ব্রুস লি’, রাস্তায় মার খাওয়া ছেলেটিই কুংফুর রাজা
যদিও জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে, তবে ব্রুস লির পারিবারিক শিকড় ছিল হংকংয়ে। জন্মের এক বছরের মধ্যেই ক্যান্টনিজ অপেরার জনপ্রিয় শিল্পী বাবা লি হুই চোয়েন পরিবার নিয়ে ফিরে যান হংকংয়ে। সেখানেই মঞ্চ, আলো ও ক্যামেরা আর অভিনয়ের আবহে বেড়ে ওঠে এই শিশু, যাঁর জীবন মাত্র ৩২ বছরেই থেমে গেলেও প্রভাব রেখে গেছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। আজও ব্রুসলিকে নিয়ে চর্চা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ছবি ও পোস্টার শেয়ার হয়।
শিশুশিল্পী থেকে আত্মগঠনের কঠিন পথ
ফিল্ম স্টুডিওই ছিল ব্রুস লির প্রথম খেলার মাঠ। বাবার হাত ধরে ছোটবেলা থেকেই ক্যামেরা, আলো, সেট—সবই তাঁর কাছে হয়ে ওঠে স্বাভাবিক পরিবেশ । মাত্র ছয় বছর বয়সে ‘দ্য বিগিনিং অব আ বয়’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁর চলচ্চিত্রযাত্রা । সমালোচকদের মতে, সাত বছর বয়সেই ক্যামেরার সামনে তাঁর উপস্থিতি ছিল বিস্ময়করভাবে স্বচ্ছন্দ—চোখের দৃষ্টি স্থির, শরীরী ভঙ্গি নিয়ন্ত্রিত, যেন বয়সের আগেই তিনি বুঝে ফেলেছিলেন ফ্রেমের ভাষা।
কিন্তু পর্দার এই শান্ত শিশুটির বাস্তব জীবন ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। কৈশোরে পা রাখার আগেই হংকংয়ের রাস্তায় ব্রুস লি পরিচিত হয়ে ওঠেন ঝগড়া আর মারামারির জন্য। সমবয়সীদের নিয়ে ছোটখাটো একটি ‘গ্যাং’ তৈরি করেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া আর জমে থাকা আগ্রাসী মানসিকতা তাঁকে বারবার সংঘর্ষে জড়িয়ে ফেলে।
সমস্যা ছিল একটাই—শরীর। ছিলেন হালকা-পাতলা। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের কাছে বহুবার মার খেতে হয়েছে তাঁকে। এই অপমান, ক্ষত আর ব্যর্থতার অভিজ্ঞতাই ধীরে ধীরে তাঁকে ঠেলে দেয় মার্শাল আর্টের দিকে। কুংফু তাঁর জীবনে আসে সমাধান হিসেবে নয়; বরং আত্মরক্ষার জরুরি প্রয়োজন হিসেবে। এরপর যুক্ত হয় উইং-চুন-চীনা আত্মরক্ষার এক সূক্ষ্ম, নিয়ন্ত্রণনির্ভর শৈলী, যেখানে শক্তির চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় সময়জ্ঞান, দূরত্ব আর প্রতিক্রিয়ার বুদ্ধিমত্তা। দিনের পর দিন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলা কঠোর অনুশীলনই ব্রুস লিকে ধীরে ধীরে বদলে দেয়।
রিং, ছন্দ আর ‘খুদে ড্রাগন’
সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার স্কুলে পড়ার সময় একটি ঘটনাই প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে জানিয়ে দেয়—ব্রুস লি সাধারণ ছাত্র নন । দুর্বিনীত আচরণে বিরক্ত হয়ে এক শিক্ষক, ব্রাদার এডওয়ার্ড, তাঁকে শাস্তি দিতে স্কুলের বক্সিং রুমে নিয়ে যান। উদ্দেশ্য ছিল কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা। শিক্ষক তাঁকে রিংয়ে নামতে বলেন।
বাস্তবতা হলো, সে সময় ব্রুসের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্সিং প্রশিক্ষণ ছিল না; কিন্তু রিংয়ের ভেতরে দাঁড়িয়েই তিনি নির্ভর করেন নিজের শেখা উইং-চুন কৌশল, দ্রুত পা চালনা আর আত্মবিশ্বাসের ওপর । কয়েক মিনিটের মধ্যেই অভিজ্ঞ শিক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। শাস্তির বদলে সেখানে জন্ম নেয় বিস্ময়। ব্রাদার এডওয়ার্ড রাগ না করে মুগ্ধ হন এবং ব্রুসকে স্কুল বক্সিং দলে নেন। সেই বছরই আন্তবিদ্যালয় টুর্নামেন্টে তিন বছর ধরে অপরাজিত চ্যাম্পিয়নকে হারান ব্রুস লি।
এ সময়েই তাঁর মার্শাল আর্টে যুক্ত হয় আরেক গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা—নৃত্য । খুব কম মানুষই জানেন, ব্রুস লি ছিলেন দক্ষ চা-চা নৃত্যশিল্পী এবং কিশোর বয়সেই হংকংয়ে চা-চা প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। নাচ থেকে পাওয়া ভারসাম্য, পায়ের সূক্ষ্ম কাজ, শরীরের ঘূর্ণন পরে এসে মিশে যায় তাঁর মার্শাল আর্টে। ফলে তাঁর লড়াই হয়ে ওঠে শক্তির প্রদর্শন নয়; বরং গতি ও ছন্দে গড়া এক জীবন্ত কোরিওগ্রাফি। ১৮ বছর হওয়ার আগেই তিনি অভিনয় করেন ২০টির বেশি হংকং চলচ্চিত্রে। দর্শকের কাছে তাঁর নাম হয়ে ওঠে ‘লি সিউ লুং’ বা খুদে ড্রাগন।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় নির্বাসন
একটি মারামারির ঘটনায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর পরিবারের উদ্বেগ চরমে পৌঁছায়। মা বুঝে যান, এই পরিবেশে ছেলেকে রাখা আর নিরাপদ নয়। সেই সিদ্ধান্ত থেকেই ব্রুস লিকে পাঠানো হয় যুক্তরাষ্ট্রে। ষাটের দশকের শুরুতে সিয়াটলে শুরু হয় নতুন অধ্যায়—যা ছিল নির্বাসনের মতো।
পড়াশোনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ, বাসা ভাড়া, দৈনন্দিন ব্যয়—সব মিলিয়ে অর্থকষ্ট ছিল নিত্যসঙ্গী । খণ্ডকালীন কাজ করতে হয়েছে তাঁকে। এই সংগ্রামের মধ্যেই ব্রুস নতুন করে নিজেকে গড়তে শুরু করেন। সিয়াটলেই তিনি কুংফু শেখানো শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে মার্শাল আর্ট স্কুল গড়ে তোলেন। এখানেই তাঁর জীবনে আসে লিন্ডা এমেরি। ছাত্রী থেকে ভালোবাসা, ভালোবাসা থেকে বিয়ে, ১৯৬৪ সালে তাঁদের বিয়ে হয় । ১৯৬৫ সালে জন্ম নেয় তাঁদের ছেলে ব্র্যান্ডন লি।
এ সময়েই জন্ম নেয় ব্রুস লির চিন্তার সবচেয়ে বড় অবদান—জিৎ কুনে দো । কুংফু, বক্সিং, ফেন্সিং আর বাস্তব স্ট্রিট ফাইটের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে তিনি বোঝেন, কোনো একক স্টাইলে আটকে থাকা অর্থহীন। জিৎ কুনে দো কোনো নির্দিষ্ট ধারা নয়, এটি ‘ফর্মহীনতার দর্শন’। পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেকে বদলাতে পারাই প্রকৃত শক্তি—এই উপলব্ধিই তাঁকে একজন দার্শনিক শিল্পীতে রূপ দেয় ।
হলিউডে প্রশিক্ষক
হলিউডে ব্রুস লি তখন পরিচিত নাম; কিন্তু অভিনয়ের জন্য নয়। তিনি ছিলেন তারকাদের প্রশিক্ষক। স্টিভ ম্যাককুইন, জেমস কোবার্ন, করিম আবদুল জব্বার নিয়মিত তাঁর কাছে প্রশিক্ষণ নিতেন। সে সময় এক ঘণ্টার প্রশিক্ষণের পারিশ্রমিক ছিল ২৫০ ডলার—অস্বাভাবিক বড় অঙ্ক ।
কিন্তু অভিনয়ের জগতে তিনি ছিলেন অবহেলিত। কারণ একটাই—তিনি এশিয়ান। ১৯৬৬ সালে এবিসির সিরিজ ‘দ্য গ্রিন হর্নেট’-এ ‘কেটো’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়লেও মূল নায়কের স্বীকৃতি পাননি তিনি। এরপর ‘কুং ফু’ সিরিজে এশীয় চরিত্র দেওয়া হয় শ্বেতাঙ্গ অভিনেতা ডেভিড ক্যারাডাইনকে । তখনই ব্রুস বুঝে যান, নিজের পথ নিজেরই তৈরি করতে হবে ।
হংকংয়ে ফিরে ইতিহাস লেখা
হংকংয়ে প্রত্যাবর্তন হলিউডে বারবার ঠেকে গিয়ে ১৯৭০ সালের শেষ দিকে ব্রুস লি যখন হংকংয়ে ফেরেন, তখন তিনি আর কেবল একজন প্রতিভাবান মার্শাল আর্টিস্ট নন, তিনি ভেতরে–ভেতরে এক গভীর ক্ষোভ আর দৃঢ়সংকল্প বয়ে আনছিলেন। এ সময়েই তার দেখা হয় প্রযোজক রেমন্ড চোয়ের সঙ্গে, যিনি সদ্য প্রতিষ্ঠিত গোল্ডেন হার্ভেস্ট স্টুডিওকে দিয়ে হংকং চলচ্চিত্রে নতুন এক ধারা গড়তে চাইছিলেন। ব্রুস লি ও রেমন্ড চোয়ের এই হাত মেলানোই পরবর্তী কয়েক বছরে কুংফু চলচ্চিত্রের ইতিহাস বদলে দেয়। ১৯৭১ সালে মুক্তি পায় প্রথম ছবি ‘দ্য বিগ বস’ (চীনা নাম: তাং শান দা শিওং)। থাইল্যান্ডের পটভূমিতে নির্মিত ছবিটি প্রথমে খুব বড় প্রত্যাশা নিয়ে মুক্তি পায়নি; কিন্তু হলঘরে বসে দর্শকেরা যা দেখলেন, তা তাঁদের পূর্বপরিচিত কুংফু নায়কের চেনা ছক ভেঙে দিল। ব্রুস লির শরীরী ভাষা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন—অস্বাভাবিক গতি, আকস্মিক বিস্ফোরণ আর চোখেমুখে জমে থাকা আগুন। প্রথম ফ্লাইং কিকের পর থেকেই দর্শকের উচ্ছ্বাস থামেনি। বক্স অফিসে ‘দ্য বিগ বস’ হংকংয়ের আগের সব আয়ের রেকর্ড ভেঙে দেয় এবং এক রাতেই ব্রুস লিকে সুপারস্টার বানিয়ে ফেলে।
এর ঠিক পরের বছর ১৯৭২ সালে আসে ‘দ্য চায়নিজ কানেকশন’—আন্তর্জাতিকভাবে বেশি পরিচিত ‘ফিস্ট অব ফিউরি’ নামে। জাপানি দখলযুগে সাংহাইয়ের পটভূমিতে নির্মিত এই ছবিতে ব্রুস লির চরিত্র চেন ঝেন হয়ে ওঠে অপমানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের প্রতীক। ছবিটি কেবল বক্স অফিসে সফল নয়, সাংস্কৃতিক বিস্ফোরণও ঘটায়। মুক্তির পর হংকং ও তাইওয়ানে আগের আয়ের রেকর্ড ভেঙে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করে ছবিটি। চেন ঝেনের চরিত্র এশীয় দর্শকদের মধ্যে এক অবদমিত গর্ববোধকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসে, যা ব্রুস লিকে জনপ্রিয়তার নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। একই বছর ব্রুস লি নিজের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করেন ‘ওয়ে অব দ্য ড্রাগন’-এ। এই ছবির বিশেষত্ব ছিল—এখানে তিনি শুধু অভিনয় করেননি, নিজেই ছিলেন গল্পকার, চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক। পশ্চিমা দর্শকের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে যাওয়ার লক্ষ্যে ছবিটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ রোমে শুট করা হয়। রোমান কলোসিয়ামে মার্কিন কারাতে চ্যাম্পিয়ন চাক নরিসের সঙ্গে ব্রুস লির চূড়ান্ত লড়াই আজও অ্যাকশন চলচ্চিত্র ইতিহাসে এক ক্ল্যাসিক দৃশ্য হিসেবে বিবেচিত। এই লড়াইয়ে কোনো অতিরিক্ত কাট, কোনো বাহুল্য কৌশল নেই—শুধু শরীর, সময় আর মানসিক দৃঢ়তার দ্বন্দ্ব। চাক নরিস নিজেই পরে বলেছেন, ব্রুসের লড়াইয়ের স্টাইল কারও পক্ষে নকল করা সম্ভব নয়, ওটা একান্তই তাঁর নিজের।
এই ধারাবাহিক সাফল্যের মধ্য দিয়ে ব্রুস লি আর কেবল হংকং বা এশিয়ার নায়ক থাকেননি। ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের নানা দেশে তাঁর ছবিগুলো ডাবিং ও পুনর্মুক্তির মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক দর্শক টানে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন এশীয় অভিনেতা হয়ে উঠলেন সত্যিকারের বৈশ্বিক অ্যাকশন তারকা—যাঁর উপস্থিতি বক্স অফিসের গ্যারান্টি। এ সময়েই ব্রুস লির পারিশ্রমিক আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। সমকালীন এশীয় সিনেমায় যা ছিল কল্পনাতীত, ব্রুস লি সেখানে চলচ্চিত্রপ্রতি নজিরবিহীন অঙ্কের পারিশ্রমিক দাবি ও আদায় করতে সক্ষম হন।
অনেক গবেষকের মতে, তিনিই প্রথম এশীয় অভিনেতা, যাঁর চলচ্চিত্রমূল্য আন্তর্জাতিক বাজারে মিলিয়ন ডলার পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি করে—যা পরবর্তীকালে ‘এন্টার দ্য ড্রাগন’-এর মাধ্যমে বাস্তবেই নিশ্চিত হওয়ার পথে ছিল। হংকংয়ে ফিরে এসে মাত্র দু-তিন বছরের মধ্যেই ব্রুস লি প্রমাণ করে দেন নায়ক হতে হলে কারও অনুমোদনের অপেক্ষা করতে হয় না। নিজস্ব ভাষা, নিজস্ব শরীর আর নিজস্ব দর্শন দিয়েও ইতিহাস লেখা যায়। এই অধ্যায়ই তাঁকে একজন সফল অভিনেতার সীমা ছাড়িয়ে নিয়ে যায় বিশ্ব সংস্কৃতির এক স্থায়ী প্রতীকে।
অকালে চলে যাওয়া
মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে হংকং ও আন্তর্জাতিক সিনেমায় অভাবনীয় সাফল্য পেলেও ব্রুস লির জীবন তখন চরম চাপে ভারাক্রান্ত। একদিকে একের পর এক ছবির শুটিং, অন্যদিকে চিত্রনাট্য লেখা, ফাইট কোরিওগ্রাফির পরিকল্পনা, প্রতিদিনের দীর্ঘ শরীরচর্চা ও নতুন কৌশলের পরীক্ষা—সব মিলিয়ে তাঁর জীবন ছিল প্রায় নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রমের এক চক্রে বাঁধা। অনিদ্রা তাঁর নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছিল। নিজের শরীর আর মনের সীমা তিনি বারবার ঠেলে দিচ্ছিলেন আরও সামনে। ঠিক এ সময়েই তাঁর সামনে ছিল সবচেয়ে বড় লক্ষ্য—হলিউডের মূলধারার বাজারে পূর্ণ শক্তিতে প্রবেশ। সেই স্বপ্নের নাম ছিল ‘এন্টার দ্য ড্রাগন’—ওয়ার্নার ব্রাদার্সের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত প্রথম বড় কুংফু চলচ্চিত্র, যা ব্রুস লিকে একযোগে এশিয়া ও পশ্চিমের বাজারে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা করার কথা ছিল।
এই চাপের মধ্যেই ১৯৭৩ সালের মে মাসে একবার ডাবিংয়ের সময় ব্রুস লি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসকেরা তাঁর মস্তিষ্কে সেরিব্রাল এডিমা—মস্তিষ্কে পানি জমে ফুলে ওঠার গুরুতর লক্ষণ শনাক্ত করেন। দ্রুত চিকিৎসায় সেই বার তিনি ফিরে আসেন; কিন্তু সেই ঘটনা ছিল ভবিষ্যতের এক ভয়াবহ সতর্কসংকেত। এর মাত্র দুই মাস পর, ২০ জুলাই ১৯৭৩ সালে হংকংয়ের কাউলুন টং এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে ব্রুস লির মাথাব্যথা শুরু হয়। বিশ্রামের আগে একটি ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণ করেন ও শুয়ে পড়েন; কিন্তু আর ওঠেননি। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৩২ বছর।
এই অতর্কিত মৃত্যু বিশ্বজুড়ে নেমে আনে শোকের ঢেউ। হংকংয়ে তাঁর মরদেহ একনজর দেখার জন্য রাস্তায় নেমে আসেন হাজার হাজার মানুষ। শোকাহত জনতাকে সামলাতে পুলিশকে ব্যারিকেড দিতে হয়।
ব্রুস লির মৃত্যুর পরপরই মুক্তি পায় ‘এন্টার দ্য ড্রাগন’। ছবিটি সেই স্বপ্নই বাস্তবে পরিণত করে, যা তিনি দেখে যেতে পারেননি। বিশ্বজুড়ে শুরু হয়ে যায় অভূতপূর্ব কুংফু উন্মাদনা। পশ্চিমা দর্শকের কাছে মার্শাল আর্ট প্রথমবারের মতো মূলধারার বিনোদনে পরিণত হয়, আর ব্রুস লি হয়ে ওঠেন এমন এক কিংবদন্তি, যিনি মৃত্যুর পরও তারকাখ্যাতির শিখরে উঠতে থাকেন। পরবর্তী সময়ে টাইম ম্যাগাজিন তাঁকে বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। তবে ব্রুস লির প্রকৃত উত্তরাধিকার কেবল সিনেমা বা বক্স অফিস সাফল্যে সীমাবদ্ধ নয়।
ব্রুস লির সবচেয়ে বড় অবদান ছিল দৃষ্টিভঙ্গিতে। তিনি মার্শাল আর্টকে দেখিয়েছেন আত্ম-অন্বেষণের ভাষা হিসেবে, যেখানে শরীর কেবল শক্তির মাধ্যম নয়; বরং চিন্তা, প্রতিবাদ আর মুক্তির প্রকাশ। একজন এশীয় হিসেবে পশ্চিমা সাংস্কৃতিক আধিপত্যের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে নিজের শরীরকেই তিনি বানিয়েছিলেন প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের শক্তিশালী মাধ্যম।
![]() |
| ব্রুস লি। আইএমডিবি |
Tuesday, August 18, 2026
বিয়ে করে সংসারী পপি, ইরিন নিউজার্সিতে, সিমলা ও জেবা কোথায়
পপি : ছয় ভাইবোনের মধ্যে পপি সবার বড়। তাঁর বাবা আমির হোসেন পেশায় একজন ঠিকাদার। মা মরিয়ম বেগম গৃহিণী। তাঁর জন্ম খুলনা শহরের সোনাডাঙ্গায়। তিনি যখন খুলনার একটি স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়তেন, তখন লাক্স আনন্দ বিচিত্রা ফটোসুন্দরী প্রতিযোগিতা চলছিল। পত্রিকায় এই খবর দেখে তাঁর মা পপির ছবি পাঠান। এরপর মায়ের ইচ্ছায় পপি ওই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। কিশোরী পপি সবাইকে অবাক করে লাক্স আনন্দ বিচিত্রা ফটোসুন্দরী চ্যাম্পিয়ন হন। এরপর তাঁকে নিয়ে শুরু হয় আলোচনা। এর মধ্যে শেষ হয় স্কুলজীবন। এরপর মাকে সঙ্গে করে পপি চলে আসেন ঢাকায়। ভর্তি হন লালমাটিয়া মহিলা কলেজে।
পপির মা মেয়েকে চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। এর মধ্যে পরিচয় হয় পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের সঙ্গে। তাঁর হাত ধরেই পপির সিনেমাযাত্রা শুরু। প্রথম সিনেমা ‘আমার ঘর আমার বেহেশত’। নায়ক শাকিল খান। তবে এই ছবিতে প্রথম অভিনয় করলেও পপিকে মানুষ চেনে ‘কুলি’ সিনেমা দিয়ে। তাঁর নায়ক ছিলেন ওমর সানী, পরিচালক মনতাজুর রহমান আকবর।
ব্যবসাসফল ‘কুলি’ সিনেমার জনপ্রিয়তার পর পপিকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। অল্প বয়সেই পপি বিরাট তারকাখ্যাতি পেয়ে যান। হাতে আসতে থাকে একের পর এক সিনেমা। দিনরাত অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হতো। তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অসংখ্য জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করে তিনি দর্শকের মন জয় করেন।
পপি ২০২০ সালে সর্বশেষ ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ নামের একটি সিনেমার শুটিং করেন। এরপর একেবারে আড়ালে চলে যান। পাঁচ বছর আড়াল জীবনযাপনের পর এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ্যে আসেন তিনি। আড়াল ভাঙার পর জানা যায়, পপি বিয়ে করে পুরোদস্তুর সংসারী। তিনি এক পুত্রসন্তানের মা।
জেবা : তুমি চাঁদের জোছনা নও, ফুলের উপমা নও/ নও কোন পাহাড়ি ঝরনা, তুমি হৃদয়ের আয়না...এই গান সব শ্রেণির দর্শকের মন কেড়েছিল। ১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘হৃদয়ের আয়না’ ছবির গানটির কথা অনেকেরই মনে আছে। প্রেমের গল্পের এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন ওই সময়ের জনপ্রিয় নায়ক রিয়াজ।
ছবিটিতে রিয়াজের বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন নবাগতা জেবা, আসল নাম জেবা হলেও চলচ্চিত্রে আয়না নামেই পরিচিত ছিলেন তিনি। ‘হৃদয়ের আয়না’ ছবিতে অভিনয়ের পর আয়না নামেই পরিচিতি পান।
‘আয়না’ চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা পেয়েছিলেন তিনি। ওই এক ছবি করার পরই হারিয়ে যান এই নায়িকা। আর কোনো ছবিতে দেখা যায়নি তাঁকে। নুরুল ইসলাম পারভেজ পরিচালিত এই ছবিটির পরিচালক মোখলেছুর রহমান। জানা গেছে, ধানমন্ডিতে স্বামী সন্তান নিয়ে থাকে এই চিত্রনায়িকা।
ইরিন : সোহানুর রহমান সোহানের হাত ধরে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মাধ্যমে সিনেমায় অভিষেক ঘটে চিত্রনায়িকা মৌসুমীর। একই পরিচালকের সিনেমা অনন্ত ভালোবাসা দিয়ে ঢালিউডে অভিষেক ঘটে তাঁরই ছোট বোন চিত্রনায়িকা ইরিন জামানের। এই সিনেমা দিয়ে ঢালিউডে অভিষেক ঘটে শাকিব খানেরও।
১৯৯৯ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবি দিয়ে আলোচনায় আসেন ইরিন। এরপর বেশ কয়েকটি ছবিতে তাঁকে দেখা গেলেও নজর কাড়তে পারেননি পরিচালক, প্রযোজক বা দর্শকদের।
অভিনয়ের পাশাপাশি গায়িকা হিসেবে তাঁকে মাঝেমধ্যে পাওয়া গেছে। ২০১৪ সালের এপ্রিলে ‘মধুরাত’ ও ‘তোমায় দেখবো ছুঁয়ে’ নামের দুটি অ্যালবাম মুক্তি পায় তাঁর। এরপর থেকে খবরে নেই এই নায়িকা-গায়িকার। স্বামী-সন্তান নিয়ে থিতু হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে।
সিমলা : ঢালিউডে অভিষেক সিনেমায় ‘ফুলি’ এবং ‘সিমলা’ নামের দুটি চরিত্রে অভিনয় করে জিতে নিয়েছিলেন ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’। ১৯৯৯ সালে শহিদুল ইসলাম খোকন পরিচালিত সেই ছবিতে সিমলার অভিনয় দেখে, অনেক চলচ্চিত্র বোদ্ধাই তাঁকে নিয়ে নানা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন।
কিন্তু পরবর্তী সময়ে আর আলো ছড়াতে পারেননি এই নায়িকা। বরং ছড়িয়েছেন সমালোচনা। ২০১৫ সালে ‘নিষিদ্ধ প্রেমের গল্প’ নামের একটি ছবিতে ১৫ বছরের এক বালকের নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করে সমালোচিত হন তিনি।
‘ম্যাডাম ফুলি’ ছবির পর আর কোনো ছবিতেই সাফল্যের দেখা পাননি তিনি। তবে ‘ম্যাডাম ফুলি টু’ দিয়ে তিনি চলচ্চিত্রে ফিরে আসবেন বলে শোনা গেলেও, আর ফিরে আসেননি। এদিকে কয়েক বছর আগে আবারও নতুন করে সমালোচনার শিকার হন এই নায়িকা।
![]() |
| ইরিন জামান, শিমলা, জেবা ও পপি। কোলাজ |
৭৯ বছর বয়সে বাবা হওয়া; ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক এই তারকার জীবন সিনেমার মতোই
আজ ৮৩ বছরে পা দিলেন এই অভিনেতা। জন্ম ১৯৪৩ সালের ১৭ আগস্ট, নিউইয়র্কের ম্যানহাটানে। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে সিনেমায় কাজ করেও অবসর নেওয়ার কোনো লক্ষণ নেই তাঁর। বরং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিনয়ের পাশাপাশি পরিবার, ব্যবসা ও নতুন প্রজন্মের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও হয়ে উঠেছে জীবনের বড় অংশ। ২০২৫ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসব তাঁকে আজীবন সম্মাননা হিসেবে অনারারি পাম দ’র দিয়েছে, যা তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের আরেকটি ঐতিহাসিক স্বীকৃতি।
শিল্পী পরিবারে জন্ম, কিন্তু অভিনয়ের পথ সহজ ছিল না
রবার্ট অ্যান্টনি ডি নিরোর জন্ম নিউইয়র্কের গ্রিনউইচ ভিলেজে। বাবা রবার্ট ডি নিরো সিনিয়র ছিলেন কবি, ভাস্কর ও চিত্রশিল্পী; মা ভার্জিনিয়া অ্যাডমিরালও ছিলেন চিত্রশিল্পী। মা–বাবার বিচ্ছেদের পর মূলত মায়ের কাছেই বড় হয়েছেন তিনি। শৈশব কেটেছে গ্রিনউইচ ভিলেজ ও লিটল ইতালির পরিবেশে। তাঁর গায়ের ফরসা রঙের কারণে ছোটবেলায় ডাকনাম ছিল ‘ববি মিল্ক’।
অভিনয়ের সঙ্গে প্রথম পরিচয় খুব ছোট বয়সেই। ১০ বছর বয়সে স্কুলের মঞ্চে চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর কিছুটা সময় অভিনয় থেকে দূরে সরে গেলেও ১৬ বছর বয়সে আবার মঞ্চে ফেরেন। পরে স্টেলা অ্যাডলার ও লি স্ট্রাসবার্গের কাছে অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নেন। সেখান থেকেই তৈরি হয় সেই অভিনয়পদ্ধতি, যা পরবর্তী সময়ে তাঁকে হলিউডের সবচেয়ে প্রভাবশালী অভিনেতাদের একজন করে তোলে।
তবে ডি নিরোর অভিনয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল চরিত্রের ভেতরে ঢুকে যাওয়া। তিনি শুধু সংলাপ বলতেন না; চরিত্রের হাঁটা, কথা বলার ধরন, চোখের ভাষা, শরীরের ভঙ্গি—সবকিছু বদলে ফেলতেন। ফলে পর্দায় রবার্ট ডি নিরোকে নয়, চরিত্রটিকেই দেখা যেত।
স্করসেজির সঙ্গে যে বন্ধুত্ব বদলে দিল সিনেমা
রবার্ট ডি নিরোর ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলতে গেলে একজন পরিচালকের নাম বারবার ফিরে আসে—মার্টিন স্করসেজি। ১৯৭৩ সালের ‘মিন স্ট্রিটস’ দিয়ে তাঁদের সৃজনশীল জুটি শুরু। এরপর ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’, ‘রেজিং বুল’, ‘দ্য কিং অব কমেডি’, ‘গুডফেলাস’, ‘ক্যাসিনো’ থেকে ‘দ্য আইরিশম্যান’—দুজনের সহযোগিতায় তৈরি হয়েছে আমেরিকান সিনেমার একাধিক মাইলফলক। আমেরিকান একাডেমি অব আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসও তাঁদের দীর্ঘ সহযোগিতাকে ডি নিরোর ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছে।
‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’-এ ট্রাভিস বিকল চরিত্রটি ডি নিরোর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শহরের একাকিত্ব, মানসিক অস্থিরতা ও সহিংসতার দিকে এগিয়ে যাওয়া এক মানুষের চরিত্রে তাঁর অভিনয় আজও চলচ্চিত্রের শিক্ষার্থীদের কাছে আলোচনার বিষয়।
আর ‘রেজিং বুল’-এ নিরো যেন অভিনয়ের সংজ্ঞাই বদলে দেন। কিংবদন্তি বক্সার জেক লামোটার চরিত্রে অভিনয়ের জন্য নিজের শরীরকে আমূল পরিবর্তন করেছিলেন। সেই অভিনয় তাঁকে এনে দেয় সেরা অভিনেতার অস্কার।
দুই অস্কার, অসংখ্য অবিস্মরণীয় চরিত্র
ডি নিরো প্রথম অস্কার পান ১৯৭৪ সালে ‘দ্য গডফাদার ২’-এ তরুণ ভিটো করলিওনে চরিত্রে অভিনয়ের জন্য। এই পুরস্কার ছিল সেরা পার্শ্ব অভিনেতার। দ্বিতীয় অস্কার আসে ১৯৮০ সালে ‘রেজিং বুল’-এর জন্য সেরা অভিনেতা হিসেবে। তবে পুরস্কারের হিসাব দিয়ে ডি নিরোর প্রভাব মাপা কঠিন। একই অভিনেতা যে এত বিচিত্র চরিত্রে বিশ্বাসযোগ্য হতে পারেন, ডি নিরো এর অন্যতম বড় উদাহরণ।
মাফিয়া চরিত্রের সঙ্গে এত মিল কেন
ডি নিরোকে নিয়ে দর্শকের একটি ধারণা দীর্ঘদিনের—তিনি মাফিয়া বা অপরাধজগতের চরিত্রে অসাধারণ।
এর পেছনে কেবল অভিনয়প্রতিভা নয়, গবেষণার অভ্যাসও ছিল। ‘দ্য গডফাদার ২’-এর তরুণ ভিটো করলিওনে চরিত্রের জন্য তিনি ইতালীয় বংশোদ্ভূত মানুষের উচ্চারণ ও শরীরী ভাষা নিয়ে কাজ করেছিলেন। ‘রেজিং বুল’-এর জন্য বক্সারের শরীরী প্রস্তুতি, ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’-এর জন্য নিউইয়র্কের অন্ধকার রাস্তাঘাট পর্যবেক্ষণ—চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করতে তাঁর প্রস্তুতি ছিল দীর্ঘ ও নিবিড়।
নিরোর এই অভিনয়পদ্ধতি পরবর্তী প্রজন্মের অসংখ্য অভিনেতাকে প্রভাবিত করেছে।
পরিচালক ডি নিরো
অভিনেতা হিসেবে খ্যাতির পাশাপাশি পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন ডি নিরো। ১৯৯৩ সালে ‘আ ব্রঙ্কস টেল’ দিয়ে পরিচালক হিসেবে অভিষেক। ছবিতে তিনি নিজেও অভিনয় করেন। এরপর ২০০৬ সালে পরিচালনা করেন ‘দ্য গুড শেফার্ড’। তাঁর পরিচালনায় অপরাধ, ক্ষমতা, আনুগত্য ও আমেরিকান ইতিহাসের মতো বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। অর্থাৎ ক্যামেরার সামনে থাকার পাশাপাশি ক্যামেরার পেছনের ভাষাটিও তিনি বুঝতেন।
সিনেমার বাইরে তাঁর আরেক সাম্রাজ্য
রবার্ট ডি নিরোর সম্পদের গল্পও কম আকর্ষণীয় নয়। ২০২৬ সালে তাঁর আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ৫০ কোটি মার্কিন ডলার। তবে এটি কোনো সরকারি বা অডিট করা হিসাব নয়; তারকাদের সম্পদের হিসাব সাধারণত বিভিন্ন প্রকাশ্য তথ্যের ভিত্তিতে অনুমান করা হয়। তাঁর অর্থের উৎস শুধু অভিনয় নয়; রেস্তোরাঁ, হোটেল, প্রযোজনাপ্রতিষ্ঠান ও বিনোদন ব্যবসাও গুরুত্বপূর্ণ।
ডি নিরোর সবচেয়ে সফল ব্যবসায়িক উদ্যোগগুলোর একটি নোবু। জাপানি রন্ধনশিল্পী নোবু মাতসুহিসা ও মেইর টেপারের সঙ্গে তাঁর অংশীদারত্বে গড়ে ওঠে এই রেস্তোরাঁ ও হোটেল সাম্রাজ্য।
১৯৯৪ সালে প্রথম রেস্তোরাঁ চালু হওয়ার পর সেটি ধীরে ধীরে বিশ্বজুড়ে বিলাসবহুল খাবার ও আতিথেয়তার ব্র্যান্ডে পরিণত হয়। নিউইয়র্কের কয়েকটি হোটেলের সঙ্গেও ডি নিরোর ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা রয়েছে।
ট্রাইবেকা: নিজের শহরের জন্য নিজের সিনেমাজগৎ
ডি নিরোর আরেক বড় উদ্যোগ ট্রাইবেকা। ২০০৩ সালে রবার্ট ডি নিরো, জেন রোজেনথাল ও ক্রেগ হ্যাটকফ মিলে ট্রাইবেকা এন্টারপ্রাইজ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, সংগীত, গেমস ও নানা ধরনের গল্প বলার মাধ্যম নিয়ে কাজ করে এবং ট্রাইবেকা উৎসব পরিচালনা করে।
নিউইয়র্কের ৯/১১-এর পরবর্তী সময়ে ট্রাইবেকা এলাকার পুনরুজ্জীবনের সঙ্গে চলচ্চিত্র উৎসবটির সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের সঙ্গে ট্রাইবেকা উৎসব স্বাধীন ও বিকল্পধারার সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত হয়েছে। ডি নিরোর কাছে এটি শুধু ব্যবসা নয়, নিজের শহরের প্রতি একধরনের দায়বদ্ধতাও।
ব্যক্তিগত জীবন: দুই বিয়ে, একাধিক সম্পর্ক
ক্যামেরার সামনে ডি নিরো যতটা দৃশ্যমান, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এর বিপরীত। নিজের পরিবার ও সম্পর্ক নিয়ে সাধারণত খুব বেশি কথা বলেন না।
১৯৭৬ সালে অভিনেত্রী ডায়ান অ্যাবটকে বিয়ে করেন। তাঁদের ছেলে রাফায়েল। অ্যাবটের আগের সম্পর্কের মেয়ে ড্রেনাকেও ডি নিরো দত্তক নেন। ১৯৮৮ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়।
এরপর মডেল টুকি স্মিথের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক ছিল নিরোর। এ সম্পর্ক থেকে যমজ সন্তান জুলিয়ান ও অ্যারন জন্ম নেন ১৯৯৫ সালে সারোগেসির মাধ্যমে। অ্যারন পরবর্তী সময়ে এয়ারিন নাম গ্রহণ করেন এবং ২০২৫ সালে প্রকাশ্যে ট্রান্স নারী হিসেবে নিজের পরিচয় জানান। বাবা ডি নিরো তাঁর পরিচয়কে সমর্থন করেছেন।
১৯৯৭ সালে অভিনেত্রী ও গায়িকা গ্রেস হাইটাওয়ারকে বিয়ে করেন ডি নিরো। তাঁদের ছেলে এলিয়ট জন্ম নেন ১৯৯৮ সালে। ১৯৯৯ সালে দম্পতির বিচ্ছেদের উদ্যোগ হলেও পরে তাঁরা আবার সম্পর্ক জোড়া লাগান এবং ২০০৪ সালে পুনরায় বিয়ের অঙ্গীকার করেন। ২০১১ সালে সারোগেসির মাধ্যমে তাঁদের মেয়ে হেলেন গ্রেস জন্ম নেয়। শেষ পর্যন্ত ২০১৮ সালে তাঁদের বিচ্ছেদের খবর প্রকাশ্যে আসে।
৭৯ বছর বয়সে আবার বাবা
ডি নিরোর জীবনের সবচেয়ে আলোচিত সাম্প্রতিক অধ্যায়গুলোর একটি তাঁর সপ্তম সন্তান। ২০২৩ সালে ৭৯ বছর বয়সে নিরো কন্যাসন্তানের বাবা হন। সন্তানের নাম জিয়া ভার্জিনিয়া চেন-ডি নিরো। শিশুটির মা তিফানি চেন। তখন সাক্ষাৎকারে ডি নিরো নিজেই জানান, তাঁর ছয় সন্তান নয়, আসলে সাত সন্তান হয়েছে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সন্তানদের প্রতি নিরোর দৃষ্টিভঙ্গিও বদলেছে। ২০২৩ সালে ৮০ বছর বয়সে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, জিয়াকে দেখলে তাঁর উদ্বেগ ও চিন্তাগুলো যেন দূরে সরে যায়।
এখন সাত সন্তানের পাশাপাশি নিরো দাদাও। তাঁর বড় মেয়ে ড্রেনার ছেলে লিওন ২০২৩ সালে ১৯ বছর বয়সে দুর্ঘটনাজনিত ওভারডোজে মারা যান, যা পরিবারটির জন্য ছিল গভীর শোকের ঘটনা।
কান তাঁকে যখন ‘সিনেমার কিংবদন্তি’ বলল
২০২৫ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসব ছিল ডি নিরোর ক্যারিয়ারের আরেক স্মরণীয় মুহূর্ত। উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁকে দেওয়া হয় সম্মানসূচক স্বর্ণপাম। এর আগে ২০১১ সালে তিনি কান উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগের জুরি সভাপতি ছিলেন।
কান নিরোকে সম্মান জানাতে গিয়ে তাঁর অভিনয়ের একটি বৈশিষ্ট্য আলাদা করে উল্লেখ করেছিল, তাঁর ‘অন্তর্মুখী’ অভিনয়শৈলী, যা কখনো মৃদু হাসি, কখনো কঠিন দৃষ্টির মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়।
২০২৫ সালের কান মাস্টারক্লাসে নিজের বাবা ও পরিবার নিয়েও কথা বলেন ডি নিরো। বাবার রেখে যাওয়া স্টুডিও, চিঠি ও ছবির ঐতিহ্য নিয়ে শিল্পী জেআরের সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত প্রকল্পে কাজ করছেন বলেও জানান। সেখানে তিনি বলেছিলেন, তাঁর বাবা তাঁকে সত্যিকারের ভালোবাসতেন, আর তিনিও তাঁর সন্তানদের ভালোবাসেন।
ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক
হলিউডে রাজনীতি নিয়ে কথা বলা নতুন কিছু নয়। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে রবার্ট ডি নিরোর অবস্থান অন্য রকম। তিনি শুধু ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করেননি, বহুবার সরাসরি আক্রমণ করেছেন তাঁর চরিত্র, রাজনৈতিক দর্শন ও নেতৃত্বের ধরনকে। কখনো পুরস্কার বিতরণীর মঞ্চে, কখনো নির্বাচনী প্রচারে, কখনো আদালতের বাইরে, আবার কখনো কান চলচ্চিত্র উৎসবের মতো আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক আয়োজনে—ডি নিরো বারবার একই বার্তা দিয়েছেন, ট্রাম্পের রাজনীতিকে তিনি আমেরিকার গণতন্ত্র ও সংস্কৃতির জন্য হুমকি মনে করেন। এই বিরোধের বয়সও কম নয়। ট্রাম্পের সঙ্গে ডি নিরোর প্রকাশ্য দ্বন্দ্বের শুরু ২০১১ সালে। এরপর একের পর এক নির্বাচনী প্রচারণা, ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্সি, ২০২১ সালের ক্যাপিটল হামলা, ২০২৪ সালের নির্বাচন, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ—প্রতিটি পর্যায়েই ডি নিরো তাঁর অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছেন। ২০২৫ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে আজীবন সম্মাননা পাওয়ার মঞ্চেও তিনি ট্রাম্পকে আক্রমণ করেন। আর ২০২৬ সালের জুনে নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের জন্মদিনের সময়ও তাঁকে রেহাই দেননি।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রবার্ট ডি নিরোর রাজনৈতিক বিরোধ যখন প্রকাশ্যে আসে, তখন ট্রাম্প প্রেসিডেন্টই হননি। ২০১১ সালে তিনি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জন্মস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে ‘বার্থার’ ষড়যন্ত্রতত্ত্বকে সামনে আনছিলেন।
সেই সময় ডি নিরো ট্রাম্পের নাম সরাসরি না নিয়ে এ ধরনের বক্তব্যের সমালোচনা করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল—কোনো মানুষের বিরুদ্ধে এমন কথা বলার আগে তথ্যপ্রমাণ দেখা উচিত।
সেখান থেকেই শুরু হয় দুই নিউইয়র্কবাসীর দীর্ঘ প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব। দুজনের পথ আলাদা হলেও দুজনই নিউইয়র্কের মানুষ। আর সেই একই শহরের রাজনীতি, সংস্কৃতি ও জনজীবনকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বিরোধ ক্রমে ব্যক্তিগত পর্যায়েও পৌঁছায়।
ডি নিরোর ট্রাম্পবিরোধী অবস্থানের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটি আসে ২০১৮ সালের টনি অ্যাওয়ার্ডসে। সেদিন ব্রুস স্প্রিংস্টিনকে মঞ্চে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে ডি নিরো হঠাৎ ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ করেন। টেলিভিশন সম্প্রচারে শব্দটি ‘বিপ’ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। কিন্তু হলভর্তি দর্শকের প্রতিক্রিয়া ছিল স্পষ্ট—উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে করতালি দেন অনেকে। এরপর ডি নিরো ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং স্প্রিংস্টিনের সত্য, স্বচ্ছতা ও সরকারের সততার পক্ষে অবস্থানের প্রশংসা করেন।
আর ট্রাম্পও চুপ থাকেননি। সময়ের সঙ্গে পাল্টা আক্রমণ করেছেন ডি নিরোকে। কখনো তাঁকে ‘লো আইকিউ’ ধরনের অপমানজনক বিশেষণে আক্রমণ করেছেন, কখনো তাঁর অভিনয়জীবন নিয়েও কটাক্ষ করেছেন। ফলে দুই তারকার দ্বন্দ্ব একসময় মার্কিন রাজনীতির বৃহত্তর সাংস্কৃতিক বিভাজনের প্রতীক হয়ে ওঠে।
২০১৬ সালে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ডি নিরোর অবস্থান আরও কঠোর হয়। ট্রাম্পের অভিবাসননীতি, বক্তব্য, প্রশাসনের ধরন, শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে সরকারি অর্থায়ন নিয়ে তাঁর অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসতে থাকে। তিনি ট্রাম্পকে শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখেননি; তাঁর কাছে ট্রাম্পের রাজনীতি ছিল আমেরিকার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য বিপজ্জনক।
ট্রাম্প প্রশাসনের রাশিয়া তদন্তের সময় ডি নিরো ‘সেটারডে নাইট লাইভ’-এ বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট মুলারের চরিত্রেও অভিনয় করেন। পাশাপাশি ট্রাম্পকে অভিশংসনের দাবির পক্ষেও অবস্থান নেন। ডি নিরোর বক্তব্যের ভাষাও ক্রমে আরও কঠোর হতে থাকে। তিনি ট্রাম্পকে ‘স্টুপিড’, ‘ইভিল’ ও ‘ম্যালিগন্যান্ট নার্সিসিস্ট’-এর মতো শব্দে আক্রমণ করেছেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনী লড়াইয়ে এসে ডি নিরোর বক্তব্য আরও রাজনৈতিক হয়ে ওঠে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিউইয়র্কের ফৌজদারি মামলার বিচার চলাকালে আদালতের বাইরে জো বাইডেনের নির্বাচনী প্রচারণার এক অনুষ্ঠানে অংশ নেন ডি নিরো। সেখানে তিনি ট্রাম্পকে ‘ক্লাউন’ বলে আখ্যা দেন এবং সতর্ক করেন, ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় ফিরলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক স্বাধীনতা ও নির্বাচনব্যবস্থা বিপদের মুখে পড়তে পারে।ডি নিরোর বক্তব্যের অন্যতম কেন্দ্র ছিল ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হামলা। তিনি মনে করতেন, ট্রাম্পের রাজনৈতিক বক্তব্য ও নির্বাচনের ফল নিয়ে তাঁর প্রচারণা আমেরিকান গণতন্ত্রকে এমন জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল, যেখানে রাজনৈতিক ক্ষমতা শান্তিপূর্ণভাবে হস্তান্তরের মৌলিক ধারণাই প্রশ্নের মুখে পড়ে।
আদালতের বাইরে সেদিন তাঁর উপস্থিতিও ছিল প্রতীকী। একদিকে ট্রাম্পের ফৌজদারি মামলা, অন্যদিকে ৬ জানুয়ারির স্মৃতি—এই দুই বিষয় সামনে এনে ডি নিরো বলেছিলেন, ট্রাম্পকে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরানো মানে বড় ঝুঁকি নেওয়া।
২০২৫ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসব ছিল ডি নিরোর ট্রাম্পবিরোধী অবস্থানের সবচেয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চগুলোর একটি। কানে তাঁকে সম্মানসূচক পাম দ’অর দেওয়া হয়। সাধারণত এমন মুহূর্তে একজন অভিনেতা নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ার, সহকর্মী ও সিনেমা নিয়ে কথা বলেন। ডি নিরোও সেগুলো করেছেন। কিন্তু এরপরই তাঁর বক্তব্য ঘুরে যায় রাজনীতির দিকে।
ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বিদেশি চলচ্চিত্রে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনার সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের সারকথা ছিল—সৃজনশীলতার কোনো মূল্য নির্ধারণ করা যায় না, অথচ চলচ্চিত্রের ওপর শুল্ক বসানোর পরিকল্পনা সেই সৃজনশীলতাকেই বাধাগ্রস্ত করবে। তিনি ট্রাম্পকে ‘ফিলিস্তিন’—অর্থাৎ শিল্প-সংস্কৃতির মূল্য না বোঝা ব্যক্তি—হিসেবে আক্রমণ করেন এবং শিল্প, মানবিক বিদ্যা ও শিক্ষায় কাটছাঁটেরও সমালোচনা করেন।
ট্রাম্প আবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও ডি নিরোর অবস্থান বদলায়নি। বরং ২০২৬ সালে তাঁর বক্তব্য আরও আবেগপ্রবণ হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণের আগে ডি নিরো একটি অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যে আশঙ্কা ছিল, ট্রাম্প ক্ষমতা ছাড়তে চাইবেন না এবং তাঁকে থামানোর দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত মার্কিন নাগরিকদেরই নিতে হবে।
তার কয়েক মাস পর, জুনে নিউইয়র্কে ‘রাইজ আপ, সিং আউট: আ কনসার্ট ফর দ্য ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট’ অনুষ্ঠানে আবারও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরব হন ডি নিরো।
সেদিন ছিল ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন। ডি নিরো অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের একটি সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর বিখ্যাত সিনেমা ‘মিডনাইট রান’-এর সংলাপ ব্যবহার করে ট্রাম্পকে চুপ করতে বলেন। এরপর দর্শকদের সঙ্গে নিয়ে সেই বাক্যটি স্লোগানে পরিণত করেন।
এবার তাঁর বক্তব্য শুধু ট্রাম্পকে ঘিরে ছিল না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি, যুদ্ধ, স্বাস্থ্যসেবা, পুলিশের সহিংসতা ও বর্ণবৈষম্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে যখন ডি নিরো বলেন, তিনি আবার তাঁর দেশকে ভালোবাসতে চান। দেশপ্রেমের প্রচলিত ধারণাকেও তিনি উল্টে দেন। তাঁর ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের প্রতি ভালোবাসার কথা বলা অনেকটা এমন—যেন নির্যাতনের শিকার কেউ তাঁর নির্যাতনকারীকে ভালোবাসার কথা বলছেন। একই বক্তৃতায় তিনি ট্রাম্পকে বর্ণবাদী, নারীবিদ্বেষী ও বিদেশিবিদ্বেষী স্বৈরাচারী হিসেবে বর্ণনা করেন।
আইএমডিবি ও ভ্যারাইটি অবলম্বনে
![]() |
| ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রবার্ট ডি নিরো। ছবি: রয়টার্স |
নগ্ন ছবি তুলে ব্ল্যাকমেল! স্বামীর বিরুদ্ধে সেলিনার যত অভিযোগ
২০১০ সালে অস্ট্রিয়ার উদ্যোক্তা ও হোটেলিয়ার পিটার হাগের সঙ্গে বিয়ে করা সেলিনার এই সম্পর্কের গল্প প্রকাশ্যে আসার পরই চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের তিন সন্তান—যমজ ছেলে উইনস্টন ও বিরাজ (২০১২ সালে জন্ম) ও আর্থার (২০১৭)। এ ছাড়া এক যমজ ছেলে শমশের হৃদ্রোগে মারা গেছে। মামলায় সেলিনা উল্লেখ করেছেন, পিটার অনেকবারই তাঁকে সন্তানদের সামনে অপমানিত করেছেন।
মধুচন্দ্রিমা থেকে শুরু
সেলিনা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের দাম্পত্য জীবনে অব্যাহত মানসিক চাপ ছিল। স্বামীর রাগী স্বভাব ও কথিত মদ্যপান সম্পর্ককে কঠিন করে তুলেছিল। তিনি আরও দাবি করেছেন, পিটার প্রায়ই তাঁকে আর্থিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছিলেন এবং তাঁর ভঙ্গুর অবস্থার সুযোগ নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে শোষণ করেছেন।
দাম্পত্য জীবনের প্রথম দিনগুলোও সরাসরি নিরাপত্তাহীনতা দিয়ে শুরু হয়। মধুচন্দ্রিমায় তাঁরা গিয়েছিলেন ইতালিতে, তখন সেলিনা স্বাস্থ্যের সমস্যার কথা উল্লেখ করলে পিটার রেগে যান, চিৎকার করেন এবং একটি গ্লাস দেয়ালে ছুড়ে ফেলেন। সন্তান জন্মের পরও পরিস্থিতি বদলায়নি। জোড়া সন্তান জন্মানোর কয়েক সপ্তাহ পরে যখন তিনি স্বামীকে পিতৃত্বকালীন ছুটির জন্য অনুরোধ করেন, তখন পিটার রেগে গিয়ে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
যৌন নির্যাতনের অভিযোগ
স্বামীর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগও করেছেন সেলিনা। অভিনেত্রী দাবি করেছেন, তিনি স্বামীর যৌন হুমকির শিকার হয়েছেন। এমনকি একপর্যায়ে তাঁকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে। সেলিনার আরও অভিযোগ, পিটার প্রায়ই তাঁকে অন্য পুরুষদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ দিতেন, যাতে তাঁর কর্মজীবনে সুবিধা পাওয়া যায়। পাশাপাশি কিছু অস্বাভাবিক যৌন সম্পর্কের জন্যও চাপ প্রয়োগ করা হতো।
সেলিনা আরও অভিযোগ করেছেন, পিটার তাঁকে নগ্ন ছবি তুলতে বাধ্য করেছিলেন এবং সেই ছবির মাধ্যমে ব্ল্যাকমেল করতেন। এ ছাড়া সন্তানদের সামনে প্রায়ই কটু ভাষা ব্যবহার করতেন, যা সেলিনার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলেছে।
এখনো চুপ পিটার
সেলিনার করা সব অভিযোগই আদালতে বিচারাধীন। এ বিষয়ে পিটার হাগের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে
![]() |
| সেলিনা জেটলি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে |
Monday, August 17, 2026
৩০ ঘণ্টার ভ্রমণ! চঞ্চল বললেন, কাজাখস্তান পৌঁছাতেও দম লাগে...
চঞ্চল চৌধুরী জানালেন, মঙ্গলবার ভোরে ঢাকার বাসা থেকে বের হন তিনি। এরপর বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সেরে তিনি ঢাকা থেকে শারজাহ হয়ে কাজাখস্তান পৌঁছান। এরপর বিমানবন্দর থেকে হোটেল পর্যন্ত পৌঁছাতে লেগে যায় আরও ৭ ঘণ্টার মতো। চঞ্চল প্রথম আলোকে বললেন, ‘আমার জীবনে এত লম্বা জার্নি কখনো করিনি। ট্রানজিট ও টানা ভ্রমণে মোটামুটি হাঁপিয়ে উঠি। কী যে ঠান্ডা এখানে, এই মুহূর্তে মাইনাস টু। তবে মাইনাস টু হলেও ফিল লাইক ৭–৮–এর মতো। আমার জীবনে এত ঠান্ডার মধ্যে শুটিং করিনি। এবার হয়তো অন্য রকম অভিজ্ঞতা হবে।’
কথা প্রসঙ্গে চঞ্চল বললেন, ‘ঠান্ডা জানতাম, কিন্তু এতটা ঠান্ডা হবে বুঝতে পারিনি। আমি যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়ে এসেছি, কয়েকটা জামা পরেছি, তারপরও ঠান্ডা মানানো যাচ্ছে না। বিমানবন্দরে নেমে ঠান্ডার তীব্রতা বুঝতে পেরেছি। তবে দিনের আবহাওয়া আবার একটু অন্য রকম।’
‘দম’ ছবিটি পরিচালনা করছেন রেদওয়ান রনি। এই সিনেমার মাধ্যমে বেশ কয়েক বছর পর চলচ্চিত্র পরিচালনায় ফিরছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘সত্য ঘটনার অনুপ্রেরণায় তৈরি হচ্ছে সিনেমার কাহিনি, যেখানে থাকবে সারভাইভাল ড্রামা। এটি একজন সাধারণ মানুষের জ্বলে ওঠার গল্প। চরিত্রটির মধ্যে এমন এক শক্তি আছে, যা শুধু আমাকে নয়, দর্শকদের জীবনেও অনুপ্রেরণা জোগাবে।’
এরই মধ্যে ‘দম’ ছবির একটি টিম কাজাখস্তানে আগে থেকেই শুটিং করছে, সেই দলে আছেন আফরান নিশো, পূজা চেরী প্রমুখ। কাল থেকে যোগ দেবেন চঞ্চল চৌধুরী। বললেন, ‘কাল থেকে আমার অংশের শুটিং শুরু হবে। হোটেলে বসে শুটিংয়ের প্রস্তুতি চলছে।’
এদিকে কাজাখস্তান পৌঁছার পর ফেসবুকে নিজের স্থিরচিত্র পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘কাজাখস্তান পৌঁছাতেও দম লাগে …। রাস্তা যেন শেষই হয় না! আর পৌঁছানোর পর...এত শীত সইব কেমন করে?’
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ‘দম’ সিনেমার ঘোষণা আসে। তখনই জানা যায়, এতে অভিনয় করবেন চঞ্চল চৌধুরী। পরে যুক্ত হন আফরান নিশো। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের রোজার ঈদে মুক্তি পাবে ‘দম’। সব মিলিয়ে বলা যায়, কাজাখস্তানের দুর্গম পাহাড়-প্রান্তরে চলছে ‘দম’-এর দম পরীক্ষা।
![]() |
| কাজাখস্তানে চঞ্চল চৌধুরী। ছবি : চঞ্চলের ফেসবুক |
Sunday, August 16, 2026
বাবা ডাববিক্রেতা, মা পরিচারিকা; এই অভিনেতার গল্প সিনেমাকেও হার মানায়
বস্তির দিনগুলো
১৯৯৪ সালের ৬ জুলাই এক গুজরাটি পরিবারে বিশালের জন্ম হয়। বাবা নরেশ জেঠওয়া ও মা প্রীতি জেঠওয়া। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা বিশাল ছোট থেকে অভাবের মধ্যে বড় হয়েছেন। জীবিকার খোঁজে বিশালের বাবা একসময় মুম্বাই পাড়ি দেন। বাণিজ্য নগরীতে এসে অকূলপাথারে পড়েছিল জেঠওয়া পরিবার। ছোটখাটো কাজকর্ম করে যা আয় হতো, তা দিয়ে সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছিল না। তাই পরিবারের অন্ন সংস্থান করার জন্য মুম্বাইয়ের সড়কে ডাব বিক্রি করা শুরু করেন নরেশ। মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছিল ঘিঞ্জি বস্তিতে। ছোট থেকে অভাব নিত্যসঙ্গী হলেও লেখাপড়ার জন্য ছেলেকে উৎসাহ দিতে নরেশ ও প্রীতি।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিশাল বলেন, ‘বস্তিতে বেড়ে ওঠা প্রতিটি শিশুর মতো আমিও আকাশে উড়ে যাওয়া উড়োজাহাজের দিকে তাকিয়ে মুগ্ধ হতাম। বিদেশে ভ্রমণের স্বপ্ন ছিল আমার। মনে আছে, যখন লন্ডনে থাকা কোনো এক চাচা আমাদের দেখতে আসতেন, আমরা ভাবতাম, “কত বড় মানুষ”।’
টিভি থেকে শুরু
বিশাল ২০১৩ সালে টিভি শো ‘মহারাণা প্রতাপ’ দিয়ে অভিনয়জীবন শুরু করেন। এই শোয়ের সময় প্রথমবার উড়োজাহাজে ওঠার সুযোগ পেয়েছিলেন, তবে তিনি সেই ফ্লাইট মিস করেন! এরপর তাঁকে দেখা যায় ‘ভারত কা বীর পুত্র’, ‘ডিয়া অউর বাতি হাম’, ‘পেশওয়া বাজিরাও’ ইত্যাদি সিরিয়ালে। কম মানুষই জানে, তিনি ‘সা রে গা মা পা’ রিয়েলিটি শোতে ব্যাকগ্রাউন্ড ড্যান্সার হিসেবেও ছিলেন।
‘মর্দানি ২’ দিয়ে ভাগ্যবদল
পর্দায় তাঁর দৃষ্টির নিষ্ঠুর শীতলতায় চমকে উঠেছিল সিনেপ্রেমীরা। রানি মুখার্জির সঙ্গে সমানতালে সাবলীলভাবে অভিনয় করে নিজের জাত চিনিয়ে দিয়েছিলেন ছোটপর্দা থেকে উঠে আসা এই অভিনেতা। ‘মর্দানি ২’-এর খলচরিত্র কিশোর অপরাধী ‘সানি’র ভূমিকায় তাঁর হাড় হিম করা উপস্থিতি কাঁপিয়ে দিয়েছিল দর্শকের বুক। আলোচিত এই সিনেমার পর আর পেছনে তাকাতে হয়নি।
অভিনেতা বিশাল জানান, ‘মর্দানি ২’ ছবির সময় প্রযোজক আদিত্য চোপড়ার দেওয়া একটি উপদেশ আজও মেনে চলেন তিনি। ‘তাঁর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে বলেছিলেন নিজেকে পরিচালকের কাছে পুরোপুরি সঁপে দিতে। সেই মন্ত্র আমি এখনো মেনে চলি। “হোমবাউন্ড”-এও নিজেকে পুরোপুরি সঁপে দিয়েছিলাম। এর বাইরে আমার কী করা উচিত, তা আমার জানা ছিল না। ছবিটা করার সময় একটা কথাই আমার মনে হয়েছিল যে নীরজ স্যার এই ছবির জন্য সময়, পরিশ্রম, প্রচেষ্টা—সবকিছু উজাড় করে দিচ্ছেন, আমাকে তার যথাযোগ্য সম্মান দিতে হবে।’
‘হোমবাউন্ড’ দিয়ে আন্তর্জাতিক খ্যাতি
চলতি বছর কানে ‘হোমাবাউন্ড’ সিনেমার প্রিমিয়ারের পরেই আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান বিশাল। কান উৎসবে প্রদর্শনের পর ৯ মিনিট ধরে স্ট্যান্ডিং ওবেশন পায় সিনেমাটি। এরপর ভারত সিনেমাটিকে অস্কারে পাঠিয়েছে, অস্কার মনোনয়নের চূড়ান্ত তালিকায় সিনেমাটি জায়গা পাবে কি না, সেটা জানা যাবে সামনের মাসে।
উত্তর প্রদেশের এক গ্রামকে ঘিরে বোনা হয়েছে ‘হোমবাউন্ড’-এর কাহিনি। দুই তরুণের নিখাদ বন্ধুত্ব, পুলিশে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন আর এর ভেতর দিয়ে সমাজের জাতপাত ও ধর্মীয় বৈষম্যের মতো বিষয় উঠে এসেছে। ছবিতে ‘চন্দন কুমার’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিশাল। এই সিনেমা বদলে দিয়েছে বিশালের দর্শনও। তিনি বলেন, ‘আমাদের সমাজে ইংরেজি বলতে পারলেই কেউ উচ্চশ্রেণির হয়ে যায়। আমি ঝরঝরে ইংরেজি বলতে পারতাম না, তাই হীনম্মন্যতায় ভুগতাম। কিন্তু এই ছবির পর আমি নিজেকে গ্রহণ করতে শিখেছি।’
স্বপ্নপূরণ
শৈশবে বস্তিতে দাঁড়িয়ে যে কিশোর উড়োজাহাজে চড়ার স্বপ্ন দেখতেন, তিনিই আজ ‘হোমবাউন্ড’ সিনেমা নিয়ে ঘুরেছেন পাঁচটি শহর। ‘আমি ১৫ বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে আছি, কিন্তু বিদেশে কাজের জন্য যাওয়া হয়নি। (তবে) গত এক বছরে আমি এ ছবির জন্য লন্ডন, সুইজারল্যান্ড, প্যারিস, কান, দুবাই ও টরন্টোতে ঘুরেছি। এই সিনেমা আমার জীবনে অনেক কিছু নিয়ে এসেছে।’
তবে বিশালের জন্য সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল মায়ের সঙ্গে বিদেশভ্রমণ। তিনি বলেন, ‘মায়ের সঙ্গে সফর আমার জন্য অমূল্য স্মৃতি। অন্যদের জন্য এটি সাধারণ হতে পারে, কিন্তু আমার জন্য মায়ের সঙ্গে বিজনেস ক্লাসে যাত্রা এক বিশেষ অভিজ্ঞতা। আমি এই মুহূর্ত নিয়ে গর্বিত।’
হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে
![]() |
| বিশাল জেঠওয়া অভিনীত বিভিন্ন সিনেমার দৃশ্য। কোলাজ |
গায়ক পলাশের সঙ্গে অন্তরঙ্গ চ্যাট, মুখ খুললেন সেই তরুণী
২৩ নভেম্বর ২০২৫ ভারতীয় ক্রিকেটার স্মৃতি মান্ধানার সঙ্গে পলাশের বিয়ের কথা ছিল। বাগদান থেকে গায়েহলুদও সেরেছেন তাঁরা। তবে স্মৃতির বাবার অসুস্থতার কারণে শেষ মুহূর্তে বিয়েটা হয়নি।
তবে গুঞ্জন রয়েছে, সেই নারীর সঙ্গে পলাশের সম্পর্কের বিষয়টি জেনে বিয়েটা স্থগিত করেছেন স্মৃতি মান্ধানা।
বিষয়টি নিয়ে চর্চার মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে পলাশের সঙ্গে চ্যাট প্রকাশ করেন মেরি ডি’কস্তা। পলাশের সঙ্গে মেরির সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়াতে থাকে।
চ্যাটের স্ক্রিনশটে দেখা গেছে, মেরি ডি’কস্তাকে একটি হোটেলে একসঙ্গে সাঁতার কাটার জন্য ডেকেছেন পলাশ। পাশাপাশি স্মৃতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা আর আগের মতো নেই, এমনও বলতে দেখা গেছে পলাশকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব স্ক্রিনশটের সত্যতা যাচাই করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি স্মৃতি বা পলাশ কেউই।
এর মধ্যে স্মৃতির সাংলির বাসা ছেড়ে মুম্বাইয়ে ফিরেছেন পলাশ। বাগদানের ছবি ইনস্টাগ্রাম থেকে মুছে ফেলেছেন স্মৃতি। পলাশকে ইনস্টাগ্রামে আনফলো করেছেন স্মৃতির ভাই।
শেষ পর্যন্ত স্মৃতির সঙ্গে পলাশের বিয়েটা হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর পেছনে ঘুরেফিরে মেরি ডি’কস্তার নামটাই সামনে আসছে।
মুখ খুললেন মেরি
পলাশের সঙ্গে চ্যাট প্রকাশ করে রাতারাতি পরিচিতি পেয়েছেন মেরি ডি’কস্তা। সংবাদের শিরোনামে এসেছেন তিনি।
কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, স্মৃতি ও পলাশের বিয়ের সংগীত অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিচালনার দায়িত্বেও নাকি মেরিই ছিলেন। বাগদানের চার দিন আগে মেরির সঙ্গে পলাশকে চুম্বন করতে দেখা গিয়েছিল।
পাশাপাশি পলাশের সঙ্গে মেরির সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা তুঙ্গে। বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে মুখ খুলেছেন মেরি, তিনি বলছেন ভিন্ন কথা। এক ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে মেরি লিখেছেন, ‘বিষয়টি মনে রাখবেন, আমি কখনোই তাঁর সঙ্গে দেখা করিনি।’
বলিউড শাদিস ডটকম অবলম্বনে
![]() |
| স্মৃতি মান্ধানার সঙ্গে পলাশের বিয়ে স্থগিতের পেছনে মেরির নাম সামনে আসছে। কোলাজ |
Saturday, August 15, 2026
প্রথম স্ত্রীর সম্মতি নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করছেন আজলান
আজলান ও ওয়ারিশা দম্পতির সংসারে আজওয়া নামের দুই বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে।
ওয়ারিশার সঙ্গে বিচ্ছেদের আগেই দ্বিতীয় বিয়ের পরিকল্পনা করেছেন আজলান শাহ। গতকাল মঙ্গলবার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন তিনি। এরপর এ নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।
ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে আজলান জানান, একজন পাবলিক ফিগার হিসেবে দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে বিষয়টি প্রকাশ করেছেন তিনি।
আজলান লিখেছেন, ‘আপনাদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেয়ার করতে চেয়েছি। একজন পাবলিক ফিগার হিসেবে অন্য কারও মাধ্যমে জানার আগেই এটা আপনাদের জানানো আমার দায়িত্ব বলে মনে করি।’
দ্বিতীয় বিয়ের পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পর বিতর্কের ঝড় উঠেছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের আগেই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন কেন?
আজলান শাহর দাবি, প্রথম স্ত্রী ওয়ারিশা খানের পূর্ণ সম্মতি নিয়েই সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন তিনি। তিনি লিখেছেন, ‘যতই অদ্ভুত শোনাক, আমি আবার বিয়ে করছি। আমার স্ত্রী এতে সম্মতি দিয়েছেন। তাই দয়া করে আমার পরিবারকে এ বিষয়ে জড়াবেন না, এটা আমার ব্যক্তিগত বিষয়। ধন্যবাদ।’
এ সময়ে পরিবারের গোপনীয়তাকে সম্মান জানানোর অনুরোধ করেছেন আজলান। তিনি লিখেছেন, ‘আপনাদের দোয়া কামনা করছি।’
তবে বিষয়টি নিয়ে ওয়ারিশা খানের কোনো বক্তব্য সামনে আসেনি।
এআরআই নিউজ অবলম্বনে
![]() |
| স্ত্রী ওয়ারিশা খানের সঙ্গে কনটেন্ট ক্রিয়েটর আজলান শাহ। ইনস্টাগ্রাম থেকে |
‘প্রথম শুটেই বিকিনি পরা সহজ ছিল না’
একটি ভিডিও শেয়ার করে সোনম খান লেখেন, ‘“বিজয়” ছবির প্রথম দিনের শুটিংয়ের কথা ভাবলে এখনো আবেগাপ্লুত হয়ে যাই। আমি খুব নার্ভাস ছিলাম। এটাই ছিল ক্যামেরার সামনে আমার প্রথম কাজ, আর তখন আমাকে বিকিনি পরে একটি দৃশ্য করতে হয়েছিল। সেই দৃশ্যটির শুটিং হয়েছিল মাধ আইল্যান্ডে। সৌভাগ্যবশত, সবকিছু খুব ভালোভাবে হয়—এ জন্য যশজী ও ঋষি কাপুর স্যারের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’
সোনম আরও লেখেন, ‘এই রিলটি শেয়ার করার জন্য হয়তো আমাকে ট্রল করা হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমি তখন কাজ করেছিলাম আমার মা–বাবাকে সাহায্য করার জন্য। সত্যিই আমি খুব সাহসী মেয়ে ছিলাম—বিশেষ করে প্রথম শুটেই বিকিনি পরা মোটেও সহজ ছিল না। আজ এই রিলটি দেখে নিজেকেই বাহবা দিয়েছি—তখন যেমন ছিলাম, আজও ঠিক তেমনই আছি—সম্পূর্ণ নিজের মতো, নিঃসংকোচ। মানুষ আমাকে বিচার করুক বা না করুক, সেটা তাদের ব্যাপার। আমার মা–বাবা ও ঈশ্বর সব জানেন, সেটাই আমার কাছে আসল।’
শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, লাল রঙের বিকিনি পরে সমুদ্রের পানিতে শুয়ে রয়েছেন সোনম খান। তাঁর পাশেই রোমান্টিক দৃশ্যে রয়েছেন ঋষি কাপুর। গত মাসেও এই অভিনেত্রী ছবিটির আরেকটি বিকিনি দৃশ্যের একটি ক্লিপ শেয়ার করেছিলেন। সে সময় তিনি লিখেছিলেন, ‘দৃশ্যটি নিয়ে বলতে গেলে, যখনই যশজী “কাট”বলতেন, সঙ্গে সঙ্গে আমার হেয়ার স্টাইলিস্ট দৌড়ে এসে আমার দিকে ড্রেসিং গাউন এগিয়ে দিতেন। যশজী ও ঋষি কাপুর স্যার আমার স্টাইলিস্টকে এমন নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিল অসাধারণ ভদ্রতা ও মর্যাদা। আর ঠিক এই দৃশ্য দিয়েই ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতে আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল।’
১৯৮৭ সালে তেলেগু সিনেমা ‘সম্রাট’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক সোনমের। নির্মাতা যশ চোপড়ার হাত ধরে তাঁর হিন্দি সিনেমায় যাত্রা। পর্দায় সাহসী অভিনয়ের জন্য তিনি আলাদা করে নজর কেড়েছিলেন। রাজেশ খান্না, ঋষি কাপুর, হেমা মালিনী, অনিল কাপুরের মতো তারকার সঙ্গে কাজ করেছেন অভিনেত্রী।
মাত্র ১৮ বছর বয়সেই সোনম বিয়ে করেন নিজের থেকে দ্বিগুণ বয়সী পরিচালক রাজীব রাইকে। রাজীব ছিলেন বিখ্যাত প্রযোজক গুলশান রাইয়ের ছেলে, যিনি ‘দেওয়ার’, ‘মোহরা’র মতো ছবি উপহার দিয়েছেন বলিউডকে। বিয়ের পর সোনম ধর্ম পরিবর্তন করেন এবং সিনেমার জগৎ থেকে সরে দাঁড়ান।
কিছুদিন পরই সম্পর্কে ফাটল দেখা দিল। শোনা যায়, রাজীব রাই আন্ডারওয়ার্ল্ড, বিশেষ করে আবু সালেমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। এ ভয়েই তাঁরা মুম্বাই ছেড়ে বিদেশে চলে যান। তবে সোনম বিদেশে স্থায়ী হতে চাননি। তিনি ছেলেকে নিয়ে মুম্বাই ফিরে আসেন এবং একাই ছেলেকে মানুষ করেন। ছয় বছরের মাথায় ভেঙে যায় তাঁদের সংসার।
অনেক বছর পর, ২০১৭ সালে আবার বিয়ে করেন সোনম। বর মুরালি নামের এক ব্যক্তি। তিনি সিনেমা–দুনিয়ার কেউ নন। তখন সোনমের ছেলে গৌরবের বয়স ২৫। মজার ব্যাপার, দ্বিতীয় বিয়ের খবরটি সোনম প্রকাশ করেন আরও আট বছর পর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে।
ইন্ডিয়াডটকম অবলম্বনে
![]() |
| সিনেমার দৃশ্যে সোনম খান। কোলাজ |
Friday, August 14, 2026
কুকুরকে খাইয়ে নিজে খেতেন নিরামিষ, অর্জুন রামপালের কঠিন দিনগুলো
পপ ডায়েরিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অর্জুন রামপাল জানান, যে ছবিটি দিয়ে তাঁর অভিনয়ে অভিষেক হওয়ার কথা ছিল, সেটির মুক্তি পেতে লেগে যায় প্রায় ছয় বছর। এই দীর্ঘ সময়ে তাঁর ছিল না কোনো নিশ্চিত আয়ের উৎস।
তখন অর্জুন রামপাল সফল এক মডেল, কিন্তু চিত্রগ্রাহক অশোক মেহতার পরিচালনায় প্রথম ছবি ‘মোক্ষ’র প্রস্তাব পেয়ে দ্বিধা না করেই রাজি হয়ে যান। মনীষা কৈরালার বিপরীতে শুটিং শুরু হলেও ক্যামেরায় নিজের উপস্থিতি দেখে সন্তুষ্ট হতে পারেননি তিনি। মডেলিংয়ের অভ্যাসের কারণে তাঁর অঙ্গভঙ্গি, দেহভাষা—কিছুই তাঁকে অভিনেতার মতো মনে করাচ্ছিল না। তাই হঠাৎই সিদ্ধান্ত নেন পুরোপুরি মডেলিং ছেড়ে দিয়ে অভিনয়কে সময় দেওয়ার। কিন্তু তখন তিনি ভাবতেও পারেননি, কী সংগ্রাম অপেক্ষা করছে তাঁর জন্য।
ছবিটি মুক্তি পেতে সময় লাগে ছয় বছর। এই দীর্ঘ সময়ে অর্জুনের হাতে কোনো কাজ বা আয়ের উৎস ছিল না। সে সময় তিনি সেভেন বাংলোজ এলাকায় থাকতেন। বাড়িভাড়াও ঠিকমতো দিতে পারতেন না। সেই কঠিন পরিস্থিতিতে বাড়িওয়ালা তাঁর পাশে দাঁড়ান। স্মৃতিচারণা করে অভিনেতা বলেন, ‘ওই সময়ে আমার আয়ের কোনো উৎস ছিল না। প্রতি মাসের এক তারিখে আমার বাড়িওয়ালা আসতেন, আর আমি তাঁর দিকে তাকাতাম। তিনি বলতেন, ‘‘টাকা নেই, তাই তো?’’ আমি মাথা নেড়ে “হ্যাঁ” বলতাম। তিনি বলতেন, ‘‘কিছু মনে কোরো না, তুমি ঠিক পরিশোধ করে দেবে।”’ অর্জুন বলেন, জীবনের এই ধরনের সহায়তা খুব দরকার।
অর্জুন জানান, একসময় ভাড়া দিতে না পারায় তাঁকে বাড়ি বদলাতে হয়। সেই সময় তাঁকে নিজে নিরামিষ খেয়েও দুটি কুকুরকে আমিষ খাবার খাওয়াতে হতো। এই অভিজ্ঞতাকে তিনি ‘দুঃস্বপ্ন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে এ ঘটনাই তাঁকে জীবনে কৃতজ্ঞ হতে শিখিয়েছে বলে জানান অভিনেতা।
অর্জুন পরে সেই বাড়িওয়ালার সব টাকা শোধ করে দেন। বাড়ি পরিবর্তন করার পরও তিনি সেই উদার বাড়িওয়ালাকে তাঁর ছবির প্রিমিয়ারে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
![]() |
| অর্জুন রামপাল। ছবি:ইনস্টাগ্রাম |
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
-
▼
2026
(1756)
-
▼
August
(303)
-
▼
Aug 27
(10)
- দৈনন্দিন খাবারে সিসার ঝুঁকি থেকে কীভাবে মুক্ত হবেন...
- ফিলিস্তিনে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে ইউএনআরডব্লিউএ
- ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় ‘বোর্ড অব পিস’ ব্যর্থ ...
- ইয়েমেনের আল-মাখা বন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
- মার্কিন শক্তি প্রদর্শনের মিশনে ব্যর্থ রণতরী আব্রাহ...
- ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইস্যু ‘মুছে ফেলতে’ চায় ইসরাইল ...
- ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ছাড়া শান্তি আসবে না: জা...
- ভারতে হিজাব পরায় বাধা, ক্ষুব্ধ ওয়াইসি বললেন ‘এটি ই...
- ব্রিটেনে ইসলামি প্রজাতন্ত্র গড়ছেন না মুসলিমরা—এটি ...
- পুরুষের সমস্যা ভেরিকোসিল কেন হয়, চিকিৎসা কী? by অধ...
-
▼
Aug 27
(10)
-
▼
August
(303)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


















