Monday, May 18, 2015

তৃতীয় কোন দেশে সালাহউদ্দিনের চিকিৎসা করাতে চান হাসিনা আহমেদ

দীর্ঘ প্রায় আড়াই মাস পর  স্বামী সালাহ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তার স্ত্রী ও সাবেক এমপি হাসিনা আহমেদ। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন ছোট বোনের স্বামী মাহবুবুল কবির ও বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি।
সোমবার রাত সোয়া ৮টার দিকে শিলংয়ের সিভিল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্বামীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। অসুস্থ্য সালাউদ্দিন স্ত্রীকে দেখেই আবেগ্লাপুত হয়ে পড়েন। এসময় স্ত্রী হাসিনাও স্বামীর সান্নিধ্য পেয়ে শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন। তারা কিছুক্ষণ কথা বলেন। সালাউদ্দিন দ্রুত চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থাা করতে স্ত্রীকে পরামর্শ দেন।
স্বামীর সাথে সাক্ষাত শেষে হাসিনা আহমেদ সাংবাদিকদের কাছে স্বামীকে আশ্রয় দেয়ার জন্য ভারত সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, তৃতীয় কোন দেশে চিকিৎসার জন্য তিনি আইনজীবিদের সাথে কথা বলবেন।
এর আগে  স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে সোমবার দুপুরে শিলংয়ে পৌঁছেন  সালাহ উদ্দিন আহমদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ।
রোববার বিকালে ভারতের ভিসা হাতে পেয়ে রাতেই কলকাতার উদ্দেশে বিমানে ঢাকা ছাড়েন সালাহ উদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। রাত পৌনে ৯টায় এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে তিনি শিলংয়ের পথে কলকাতায় পাড়ি জমান। রাতে তিনি সেখানেই অবস্থান করেন। যুগান্তরের কলকাতা প্রতিনিধি জানান, আজ স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১০ মিনিটে তিনি বিমানে গৌহাটি যান। সেখান থেকে সড়কপথে শিলংয়ে পৌঁছান।
হাসিনা আহমেদের সঙ্গে রয়েছেন সালাহ উদ্দিনের বোন জামাই মাহবুবুল কবির মুনমুন। রোববার রাত ৮টা ৫ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন তারা। প্রথমে সড়কপথে যাওয়ার প্রস্ততি থাকলেও শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতার কারণে বিমানপথে শিলং যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
দুই মাসের বেশি সময় নিখোঁজ থাকার পর সোমবার ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে সন্ধান মেলে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদের। পরের দিন সেখানকার একটি মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।
স্বামীকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন হাসিনা আহমেদ
দুই মাস ১৫ দিন পর  স্বামী সালাহউদ্দিন আহমেদকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন তার স্ত্রী ও সাবেক এমপি হাসিনা আহমেদ। রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে শিলংয়ের সিভিল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্বামীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। ১০ মিনিট পর তিনি হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসেন। সাক্ষাতের সময় হাসিনা আহমেদের ছোট বোনের স্বামী মাহবুবুল কবির ও বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনিসহ কয়েকজন স্বজন উপস্থিত ছিলেন। হাসিনা আহমেদের কান্না দেখে তারাও আপ্লুত হয়ে পড়েন। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে হাসিনা আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, এদেশের কর্তৃপক্ষ সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রতি যে ব্যবহার করছে আমরা তার জন্য কতৃজ্ঞতা জানাই। সালাহউদ্দিন আহমেদের শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। তার আরও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা আইনি লড়াই চালাবো। মঙ্গলবার আবারও স্বামীকে দেখতে আসবেন বলে জানান তিনি।
সালাউদ্দিনকে নিয়ে ‘গল্প’ তৈরি হচ্ছে -সুরঞ্জিত
বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে একের পর এক গল্প তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তিনি বলেছেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সালাহ উদ্দিনকেও আইনী জটিলতা অতিক্রম করেই রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরে আসতে হবে। সোমবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু একাডেমী আয়োজিত চলমান রাজনীতি বিষয়ক এক আলোচনাসভায় এসব কথা বলেন তিনি। সুরঞ্জিত বলেন, সালাহউদ্দিনকে নিয়ে একটার পর একটা গল্প তৈরি হচ্ছে। আজকে দেখলাম তার স্মৃতিভ্রম হয়েছে। যদি স্মৃতিভ্রম হয় তাহলে স্ত্রীর সঙ্গে ১১ মিনিট কীভাবে কথা বলেছেন? বিএনপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তাদেরকেই বলতে হবে তিনি এতোদিন কোথায় ছিলেন? কার সঙ্গে ছিলেন? যতক্ষণ পর্যন্ত বিএনপি তার অবস্থান সম্পর্কে কথা না বলবে, ততক্ষণ পর্যন্ত নানা রকমের গুজবের উপর নির্ভর না করে তার প্রকৃত অবস্থা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তবে আইনানুগভাবে তিনি দেশে ফিরে আসবেন এটাই আমাদের কামনা থাকবে। বর্ষবরণের দিন টিএসসিতে নারী লাঞ্চনার বিষয়ে আওয়ামী লীগের এই প্রবীণ নেতা বলেন, আইজিপি সাহেব এই ঘটনা নিয়ে উনার মত পরিবর্তন করেছেন। পুরস্কারও ঘোষণা করেছেন।

মোদির টার্গেট কানেকটিভিটি by মাসুদ করিম

কানেকটিভিটি'র (সংযোগ) নামে ভারতকে
ট্রানজিট দেয়ার বিষয়টি আবারো আলোচনায়
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসন্ন বাংলাদেশ সফরকালে কানেকটিভিটি বাড়ানোর ওপর দেশটি অধিক গুরুত্ব আরোপ করছে। এই কানেকটিভিটির আওতায় বাংলাদেশের পায়রায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে আগ্রহী ভারত। চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ওই দেশটি আরও ১৫টি রুটে ট্রানজিটও চায়। এছাড়া তাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য এবং যাত্রী পরিবহনে নৌ, সড়ক, রেল ও সমুদ্রপথে সংযোগ বাড়াতে চায় ভারত। এজন্য উপযুক্ত অবকাঠামো উন্নয়নে তারা প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতেও প্রস্তুত।
জুনের প্রথমার্ধে বাংলাদেশ সফরে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ভারতের পক্ষ থেকে আগামী ৬ ও ৭ জুন এই সফরের প্রস্তাব করা হয়েছে। চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হবে সফরের ১০ দিন আগে। মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ার নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তার অংশ হিসেবে তিনি প্রথম সফর করেন ভুটান। বাংলাদেশ সফরও এরই অংশ। এই সফরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি, প্রটোকল ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা আছে। সম্প্রতি সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করেছে ভারত। এতে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সমস্যার সমাধান হচ্ছে। এই বিল পাস করায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে উষ্ণতার আবহ তৈরি হয়েছে, যা এই সফরের ওপর প্রভাব ফেলবে। এছাড়া তিস্তার ব্যাপারেও কিছুটা সুখবর দিতে পারেন মোদি। ইতিমধ্যেই তিনি এ বিষয়ে মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে আলোচনা করেছেন। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের মধ্যে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। মোদির সফরে তিস্তা চুক্তির সম্ভাবনা কম। তবে চুক্তি সম্পাদনে মোদির সদিচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করতে পারেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন বাংলাদেশ সফরকালে যেসব ক্ষেত্রে বড় চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা আছে সেগুলোর সঙ্গেও কানেকটিভিটির প্রশ্ন জড়িত। উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চুক্তি সই হলে ভারতের তিনটি সমুদ্রবন্দর অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তম, উড়িষ্যার প্যারাদ্বীপ ও কলকাতার হলদিয়া বন্দরের সঙ্গে বাংলাদেশের মংলা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হবে। এই বন্দরগুলোর মধ্যে মাঝারি আকৃতির পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করবে। এদিকে দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান নৌ ট্রানজিট চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির ফলেও কানেকটিভিটি বাড়বে।
চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে আরও ১৫টি রুটে ট্রানজিট চাইছে ভারত। এসব বিষয় এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। দুর্বল অবকাঠামো, পর্যাপ্ত পরিবহনের অভাব এবং ট্রানজিট ও ট্রানশিপমেন্টের চূড়ান্ত মাশুল নির্ধারণ না হওয়ায় এসব বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি সাধন করা সম্ভব হচ্ছে না। নরেন্দ্র মোদির আসন্ন বাংলাদেশ সফরকালে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার এসব ক্ষেত্রে গতি সঞ্চারের চেষ্টা থাকবে বলে মনে হচ্ছে।
মোদির সফরে কী ইস্যু অধিক গুরুত্ব পাবে জানতে চাইলে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন করেছেন ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি রোববার টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন বাংলাদেশ সফর খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশে এটা তার প্রথম সফর। সফরকালে সব ইস্যুই আলোচনা হবে। বিশেষ করে এই সফরের ঠিক আগে ভারতের পার্লামেন্টে সীমান্ত চুক্তির বিল পাস হওয়ায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনপুট হিসেবে কাজ করবে। এছাড়াও অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন, কানেকটিভিটি প্রভৃতি ইস্যুতে আলোচনা হবে বলে মনে করি।’ কানেকটিভিটি ইস্যু সম্পর্কে বীণা সিক্রি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরে কানেকটিভিটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে আলোচনা হবে। নৌ ট্রানজিটসহ অন্যান্য ট্রানজিটের ব্যাপারে অনেক চুক্তি ও ডকুমেন্ট ইতিমধ্যেই দু’দেশের মধ্যে রয়েছে। এখন সেগুলোর কার্যকর ব্যবহারের লক্ষ্যে আরও আলোচনা হবে। বাংলাদেশকে ১০০ কোটি ডলারের ঋণ ভারত আগেই দিয়েছে। আমি নিশ্চিত, প্রধানমন্ত্রী মোদি ঢাকা সফরকালে বাংলাদেশের জন্য আরও নতুন ঋণ ঘোষণা করবেন।’
মোদির সফর সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন রোববার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত অভিমত, মোদি এবারের সফরকালে ট্রানজিটের ব্যাপারে বড় কোনো চাপ সৃষ্টি করবেন না। কারণ এটা তার প্রথম সফর। তিনি সম্ভবত কানেকটিভিটির জন্য অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তার প্রতি জোর দেবেন। অবকাঠামো উন্নয়ন হয়ে গেলে ট্রানজিট পাওয়ার বিষয়ে ভারতের পক্ষে বড় একটি যুক্তি দাঁড় করানো সম্ভব হবে। এই মুহূর্তে ট্রানজিটের পক্ষে বড় যুক্তি দেখানো সম্ভব নয়।’
তৌহিদ হোসেন মনে করেন, ‘সীমান্ত চুক্তি সম্পাদন করে ভারত আসলে বাংলাদেশকে কিছু দেয়নি। দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা একটি সমস্যার নিষ্পত্তি করেছে। তার বিনিময়ে ট্রানজিট পাওয়া যৌক্তিক নয়। তাছাড়া তিস্তা চুক্তি এখনই হচ্ছে না। মোদি তার সফরে মমতা ব্যানার্জিকে সঙ্গে নিয়ে আসার মানে হল তিস্তার ইস্যুতে কিছু অগ্রগতি হতে পারে। ফলে এই সফরেই ট্রানজিটের জন্য জোরালো কিছু হওয়ার কথা নয়। ট্রানজিট নিয়ে নীতিগত আলোচনা হতে পারে।’
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে ভারতের প্রধান দুই উদ্বেগ হল নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দেশটির অবশিষ্ট অংশের সংযোগ স্থাপনে সহযোগিতা। শেখ হাসিনার সরকার গত ছয় বছরে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনে ভারতকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে নিরাপত্তার উদ্বেগ দূর করেছে। ভারত এ বিষয়ে সহযোগিতার কারণে বাংলাদেশের প্রতি সন্তুষ্ট। এখন কানেকটিভিটি স্থাপনে উদ্বেগ দূর করতে চায়। এক্ষেত্রে অবকাঠামো সমস্যা বড় বাধা হয়ে আছে। এজন্য তারা উপযুক্ত অবকাঠামো নির্মাণে সহায়তা দিতেও প্রস্তুত বলে জানা গেছে।
ঢাকায় ভারতের একজন কূটনীতিক বলেছেন, মোদির সরকারের ঝোঁক হল ব্যবসা-বাণিজ্য জোরদারের মাধ্যমে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা। আর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য কানেকটিভিটি অপরিহার্য। যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন হলে বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণ উপকৃত হবেন। ফলে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতেই দুই দেশ উন্নয়নের পথে অগ্রসর হবে।
নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সূত্র মতে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে ভারতকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের ওপর দিয়ে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে অবকাঠামো উন্নয়নে ভারতকে সহায়তা করতে হবে। বাংলাদেশের সরকারি হিসেবে, কানেকটিভিটির জন্য বাংলাদেশকে উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে অবকাঠামো খাতে কমপক্ষে এক হাজার চারশ’ কোটি ডলার বিনিয়োগ দরকার। সরকারের একার পক্ষে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগান দেয়া সম্ভব নয়। তাই এই খাতে বিদেশী বিনিয়োগকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবে ভারত বেশি সুবিধা ভোগ করবে বিধায় অবকাঠামো উন্নয়নে ভারতের এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এমন দাবিকে ভারত যৌক্তিক বলে মনে করে বিধায় অবকাঠামোর উন্নয়নে সহায়তার হাত বাড়িয়েছে। এক্ষেত্রে ভারত ইতিমধ্যেই দেয়া একশ’ কোটি ডলারের পাশাপাশি নতুন আরও প্রায় তিনশ’ কোটি ডলার ঋণ দিতে আগ্রহী বলে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু এতেও অবকাঠামো পুরোপুরি উপযুক্ত হবে না। এ অবস্থায় ভারত নৌপথের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের ঋণ গ্রহণে আন্তর্জাতিক সংস্থাটির কাছে দু’দেশের যৌথ প্রস্তাব দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের আগে কানেকটিভিটি জোরদারে অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা করতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বর্তমানে ভারত সফর করছেন। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন রোববার এক বিবৃতিতে জানায়, ভারতের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিষয়ক মন্ত্রী নিতিন গড়কড়ির আমন্ত্রণে ওবায়দুল কাদের এই সফর করছেন। ১৬ থেকে ২০ মে পর্যন্ত ওবায়দুল কাদেরের এ সফর। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে অবকাঠামো খাতে ঋণের বিষয়ে সফরকালে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে। এদিকে মোদির সফরের আগে ঢাকায় দু’দেশের বিদ্যুৎ সচিব পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। ঢাকায় এখন দু’দেশের বাণিজ্য সচিব পর্যায়ে বৈঠক চলছে। মোদির সফরের প্রস্তুতির লক্ষ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী শিগগিরই ভারত সফরে যেতে পারেন।
ঢাকায় উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ভারত আগের ঋণের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের যোগাযোগ অবকাঠামো ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রায় তিনশ’ কোটি ডলার নতুন ঋণ দিতে আগ্রহী রয়েছে। নতুন ঋণে নতুন প্রকল্প যেমন আছে, তেমনি আগের প্রকল্পও থাকবে। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ২১৫ কোটি ডলার ঋণের প্রকল্প প্রস্তাব প্রস্তুত করতে পেরেছে। ফলে যাচাই-বাছাইয়ের পর সেখান থেকে চূড়ান্ত প্রকল্পগুলোর জন্য আসন্ন সফরে ঋণ ঘোষণা করতে পারেন মোদি।
ভারতীয় ঋণের প্রকল্পে অগ্রাধিকার কানেকটিভিটি : ভারতের ঋণে যেসব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলোতে কানেকটিভিটি অগ্রাধিকারে রয়েছে। এসব প্রকল্পে ভারতীয় ঋণের অংশ বাদে অবশিষ্ট অর্থ বাংলাদেশ সরকার বহন করবে। ভারতীয় ঋণে ডবল ডেকার, সিঙ্গেল ডেকার, এসি ও নন-এসি আর্টিকুলেটেড বাস ক্রয়, রেলের জন্য ট্যাঙ্কার ওয়াগন, বগি ক্রয় ও কনটেইনার ব্রেকার, ব্রডগেজ ও ডিজেল ইলেক্ট্রিক লোকোমোটিভ, নৌপথ ও মংলা বন্দরের জন্য ড্রেজার ক্রয়, খুলনা-মংলা বন্দর রেললাইনের সম্ভাব্যতা যাচাই, ভৈরব সেতু ও অ্যাপ্রোচ রেললাইন নির্মাণ প্রভৃতি প্রকল্প রয়েছে।
নতুন করে ২১৫ কোটি ডলার প্রস্তাবিত ঋণে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেললাইন, দর্শনা-খুলনা রেললাইন, সৈয়দপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপ নির্মাণ প্রকল্প রয়েছে। বিদ্যুৎ খাতে প্রকল্পের মধ্যে আছে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া সঞ্চালন লাইন এবং ১৫ থেকে ২০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি প্রকল্প। নৌ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আশুগঞ্জ নদীবন্দর উন্নয়নে সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্প। মহাসড়ক বিভাগের অধীনে মহাসড়ক নির্মাণে সরঞ্জাম ক্রয় এবং ১০০টি ট্রাক ক্রয় প্রকল্প। তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও দুটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
উপকূলীয় জাহাজ চলাচল ও নৌ ট্রানজিট : মোদির সফরকালে উপকূলীয় জাহাজ চলাচলে একটি চুক্তি সই হচ্ছে। এই চুক্তির অধীনে ভারতের তিনটি সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে বাংলাদেশের দুটি সমুদ্রবন্দরের মধ্যে মাঝারি আকৃতির জাহাজ চলাচল করবে। এতে সমুদ্রপথেও দু’দেশের মধ্যে কানেকটিভিটি জোরদার হবে। এই চুক্তির আওতায় শুধু পণ্য আনা-নেয়া করা যাবে। কোনো যুদ্ধজাহাজ কিংবা জরিপ জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। এদিকে সমুদ্রপথে কানেকটিভিটি জোরদারে পায়রায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে আগ্রহ ব্যক্ত করেছে ভারত। ভারতের দিক থেকে স্পর্শকাতরতার কারণে বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই চীনের অর্থায়নে সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের প্রকল্প থেকে সরে এসেছে। এখন পায়রায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের চিন্তাভাবনা চলছে। এদিকে সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং সমুদ্র নিরাপত্তার প্রশ্নে ভারতের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অস্ত্র সমুদ্রপথে আসার সন্দেহ রয়েছে ভারতের। বাংলাদেশের টহল দল অস্ত্র চোরাচালানি ধরতে গেলে চোরাচালানকারিরা অস্ত্র সাগরের পানিতে ফেলে দেয় বলেও ভারত মনে করে। এক্ষেত্রেও সহযোগিতা জোরদার চায় ভারত। এদিকে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে নদীপথে পণ্য চলাচলে বিদ্যমান চুক্তি প্রতি দু’বছর পরপর নবায়ন করতে হয়। মোদির সফরকালে এই চুক্তি নবায়নের মেয়াদ পাঁচ বছর করা হবে। চার বছর পর কোনো পক্ষ আপত্তি না করলে পাঁচ বছর পর স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে চুক্তি নবায়ন হয়ে যাবে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে নদীপথে ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ প্রবেশ করে আশুগঞ্জ নদীবন্দরে তা খালাস করা হয়।
১৫ রুটে ট্রানজিট চায় ভারত : বাংলাদেশের ওপর দিয়ে নদী, স্থল, রেলপথে ট্রানজিট চালুর প্রস্তাব অনেক আগেই দিয়ে রেখেছে ভারত। এসব প্রস্তাব বাংলাদেশ এখন যাচাই-বাছাই করছে। তবে অবকাঠামো উন্নত না হওয়া ও মাশুল চালুর সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত না হওয়ায় প্যাকেজ আকারে ট্রানজিট প্রস্তাব ঝুলে থাকলেও এসব বিষয়ে পৃথকভাবে অগ্রগতি হচ্ছে।
বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ভারত তার ট্রানজিট প্রস্তাবে ১৫টি রুটের উল্লেখ করেছে। এসব রুট চট্টগ্রাম কিংবা মংলা সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে বিদ্যমান সংযোগের বর্ধিত অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। এসব রুট হল বাংলাদেশের এক অংশ থেকে ভারতের অন্য অংশে সংযোগ স্থাপন করবে। রুটগুলো হল আখাউড়া-আগরতলা, সাবরুম-রামগড়, দেমাগিরি-তেগামুখ, বিবিরবাজার-শ্রীরামপুর, বিলোনিয়া-বিলোনিয়া, বেতুলি-পুরনো রংনা বাজার, চাতলাপুর-মনু, তামাবিল-ডাউকি, বরসরা-বরসরা, হালুয়াঘাট-ঘাসুয়াপাড়া, সুনামগঞ্জ-সেলবাজার, দর্শনা-গেদে, রোহনপুর-সিঙ্গাবাদ, বিরল-রাধিকাপুর এবং বেনাপোল-পেট্রাপোল। এসব রুটের কোনো কোনোটির ব্যাপারে মোদির সফরে অগ্রগতির আশা করা হচ্ছে। যদিও এসব রুটের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে প্রত্যেকটির ধরন বুঝে পৃথক ছোট ছোট চুক্তির মাধ্যমে অগ্রসর হতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রেলপথে কানেকটিভিটি : ভারত রেলপথে বাংলাদেশের সঙ্গে কানেকটিভিটি জোরদারে আগ্রহী বেশি। কেননা রেলপথে কোনো যানজট হয় না। সময় ও খরচও কম। ফলে রেললাইনের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প নিয়েছে। আখাউড়া ও আগরতলার মধ্যে ভারত একটি রেললাইন স্থাপন করে দেবে বলে জানিয়েছে। এতে করে নৌ ট্রানজিট রুটে আসা পণ্য রেলপথে আগরতলায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। ভারতের সঙ্গে রেলপথে যোগাযোগ বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়েছে দুই দেশ। বর্তমানে ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস চালু আছে। রোহনপুর-সিঙ্গাবাদ হয়ে মালবাহী ট্রেনের পরীক্ষামূলক চলাচলও হয়েছে। এদিকে খুলনা থেকে পশ্চিমবঙ্গে আরেকটি মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশ রেলওয়ের লাইনগুলো উন্নয়ন, মিটারগেজ ও ব্রডগেজের সমন্বয় সাধনেও উদ্যোগী ভারত। কারণ যমুনা সেতু এবং পদ্মা সেতুসহ বিদ্যমান গোটা রেলব্যবস্থা ব্যবহারে আগ্রহী ভারত। ভারতের অনুদানের ২০ কোটি ডলার পদ্মা সেতুতে ব্যবহার করবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ।
চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের সুযোগ চাইছে ত্রিপুরা : বিবিসি জানায়, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার প্রতিবেশী বাংলাদেশের কাছ থেকে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের সুযোগ এবং সড়কপথে ট্রানজিটের সুবিধা চেয়েছেন। বিবিসিকে তিনি বলেছেন, ভারতের পার্লামেন্টে স্থলসীমান্ত বিল পাস হওয়ার পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে আস্থা তৈরি হয়েছে তাতে তিনি আশা করছেন যে দিল্লি এবার এই বিষয়গুলোও ঢাকার কাছে উত্থাপন করবে।
ত্রিপুরার পালাটানা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে চলতি বছরেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন বাংলাদেশ সফরে মি. সরকারও তার সঙ্গী হবেন আর এই পটভূমিতে ত্রিপুরার দাবিকে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।
মি. সরকার জানান, বাংলাদেশের কাছে তাদের প্রথম চাওয়া হবে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের সুযোগ। তার কথায়, ‘ত্রিপুরাসহ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলো যদি চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করতে পারে, সেখান থেকে মালামাল পরিবহনের সুযোগ পায় তাহলে লাভ হবে দু’দেশেরই।’
তিনি বলেন, ‘এই প্রস্তাবটি বাংলাদেশের বিবেচনায় আছে বলেই আমি জানি। তারা সরাসরি এটি কখনও নাকচ করে দেননি, আবার পরিষ্কার করে ছাড়পত্রও দেননি।’
জুনে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে আসছেন। সেই সফরে মি. সরকার নিজেই সড়কপথে ট্রানজিট এবং চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের দাবির পক্ষে সওয়াল করবেন, আর তাতে সমর্থন থাকবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারেরও।

অথৈ সাগরে বাঁচার লড়াই

আন্দামান সাগরে ডুবন্ত নৌকা থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া রোহিঙ্গাদের
হাড্ডিসার শরীর বলে দেয় কতদিন তারা খেতে পায়নি
মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের অমানবিক আচরণের কারণে কয়েক হাজার বংলাদেশী ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক মরতে বসেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও দেশের অনুরোধ সত্ত্বেও এসব অভিবাসীকে উপকূলে ভিড়তে দিচ্ছে না দেশ তিনটি। আর এ কারণে সাগরে ভেসে থাকা বোটগুলোতে নেমে এসেছে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। খাদ্য ও পানি সংকটে মরছে মানুষ। ঘটছে বোটডুবির মতো দুর্ঘটনা। শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার আচেহ উপকূলে অভিবাসী বোঝাই একটি বোট ডুবে যায়। এ সময় স্থানীয় জেলেরা ৬১ শিশুসহ ৭৫০ জনকে উদ্ধার করে। এর মধ্যে চারশ’ বাংলাদেশের নাগরিক বলে জানা গেছে। এদিকে অভিবাসীদের জীবন বাঁচাতে থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র। এর সমাধান খুঁজতে আগামী ২৯ মে সম্মেলনের আহ্বান করেছে থাইল্যান্ড। এ বিষয়ে আলোচনা করতে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া যৌথ কমিশনের চতুর্থ বৈঠক বসছে। আপডেট -১৬ মে, ২০১৫ খবর এএফপি, বিবিসি, সিএনএন ও যুগান্তরের মালয়েশিয়া প্রতিনিধির।
মালয়েশিয়া থেকে যুগান্তরের প্রতিনিধি আহমাদুল কবির জানান, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ার অদূরে গন্তব্যহীনভাবে ভাসতে থাকা বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গাদের বহনকারী একটি বোট শুক্রবার ডুবে যায়। ইন্দোনেশিয়ার কোস্টগার্ড ও স্থানীয় জেলেরা বোট থেকে নারী ও শিশুসহ ৭৫০ জনকে উদ্ধার করেছে। এদের মধ্যে প্রায় চারশ’ বাংলাদেশী রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ডুবে যাওয়া বোটটিতে ঠিক কতজন অভিবাসী ছিল তা জানা যায়নি। ইন্দোনেশিয়া কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব অভিবাসী রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশী। তাদের আচেহ প্রদেশের লাংসা শহরে রাখা হয়েছে। মালয়েশিয়া থেকে বিতারিত হয়ে ফেরার পথে সুমাত্রা দ্বীপের পূর্ব উপকূলে এসব অভিবাসীকে বহনকারী বোটটি ডুবে যায়।
লাংসার পুলিশপ্রধান সুনারয়া বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা তাদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি তারা মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। কিন্তু সে দেশের নৌবাহিনী তাদের ইন্দোনেশিয়ার জলসীমায় ঠেলে দেয়।’ তিনি বলেন, উপকূলের কাছাকাছি অন্য আরেকটি নৌকায় ছিল ৪৭ জন অভিবাসী। ক্ষুধার্ত এসব মানুষ পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে উদ্ধার মিনতি জানায়। স্থানীয় জেলেরা তাদের উদ্ধার করে।
এদিকে সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশী ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো হবে না বলে জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসির বলেছেন, ইন্দোনেশিয়া ১৯৫১ সালের উদ্বাস্তু বিষয়ক সম্মেলনে স্বাক্ষর না করলেও অভিবাসীদের ফেরত পাঠাবে না।
গত সপ্তাহের শেষদিকে প্রায় ছয়শ’ বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গা অভিবাসী উদ্ধার করেছে ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ। তাদের বর্তমানে আচেহ প্রদেশের উত্তরাঞ্চলে লোকসুকোন শহরে একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এই অভিবাসীদের সাগরে প্রায় ডুবন্ত অবস্থা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার পাওয়া অভিবাসীদের পুনর্বাসন করতে ইন্দোনেশিয়ায় একটি বসতিহীন দ্বীপ ঠিক করা হবে বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের (আইওম) আঞ্চলিক প্রশাসন। মানব পাচারের এই সমস্যার জন্য মিয়ানমার সরকারকে অনেকাংশে দায়ী করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উপ-এশিয়া পরিচালক ফিল রবার্টসন বলেছেন, দেশটির সরকার রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন চালিয়ে এই সমস্যার জন্ম দিয়েছে।
অপরদিকে মানব পাচার প্রকট আকার ধারণ করায় এর সমাধান খুঁজতে ২৯ মে সম্মেলনের আহ্বান করেছে থাইল্যান্ড সরকার। গত মঙ্গলবার থাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যাংকক সম্মেলন আহ্বান করে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো। ব্যাংকক সম্মেলনে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। এছাড়া এই সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন কম্বোডিয়া, লাওস, যুক্তরাষ্ট্র, ভিয়েতনাম ও অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিরাও। থাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মানব পাচার রোধে আঞ্চলিক সরকারগুলোকে এই বিশেষ বৈঠকে যোগ দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমান সংকট নিরসন করতে হলে সবগুলো সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। বৈঠকে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক কমিশন (ইউএনএইচসিআর), ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম), অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংগঠনকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
যুগান্তরের মালয়েশিয়া প্রতিনিধি আরও জানান, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া যৌথ কমিশনের চতুর্থ বৈঠক বসছে আজ। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। বৈঠকে যোগ দিতে চার দিনের সফরে মালয়েশিয়া গেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আজ শনিবার থেকে দেশটির সাবাহ প্রদেশের কোতা কিনাবালুতে দু’দিনের ওই বৈঠক বসছে। দ্বিপক্ষীয় অন্য বিষয়গুলোর পাশাপশি মানব পাচার বন্ধের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বর্ডার থেকে অবৈধভাবে মালয়েশিয়াসহ ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে যেভাবে মানব পাচার হচ্ছে তা নিয়ে ঢাকা উদ্বিগ্ন। মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশীদের যেভাবে নিয়ে যাচ্ছে সংঘবন্ধ মানব পাচারকারী চক্র সেটি ভাবিয়ে তুলছে সরকারকে। এটি বন্ধে দ্বিপক্ষীয় সহয়োগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক উদ্যোগ চায় ঢাকা। কোতা কিনাবালুতে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট কমিশনের বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলতে চান বাংলাদেশের কর্মকর্তারা। এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রতিনিধি দলের একাধিক সদস্য। কর্মকর্তারা বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মানব পাচার বন্ধের জন্য যৌথ উদ্যোগ আলোচনায় অগ্রাধিকার পাবে। মানব পাচার বন্ধে বৃহত্তর পরিসরে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে আলোচনার জন্য বাংলাদেশ মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ডকে আগেই চিঠি দিয়েছে। অবৈধভাবে মালয়েশিয়া বা থাইল্যান্ড গিয়ে বাংলাদেশী যারা আটকা পড়েছেন, তাদের ফেরত আনার ব্যাপারেও বাংলাদেশ সহযোগিতা চাইছে। কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রমবিষয়ক কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম মুকুল এ প্রতিবেদককে জানান, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের সময় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে মানুব পাচার বন্ধের বিষয়টি। যারা ইতিমধ্যে পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে মালয়েশিয়া বা থাইল্যান্ডে গিয়ে আটকে পড়েছে তাদের কিভাবে ফেরত আনা যায়, সেটা নিয়েও আজকের বৈঠকে কথা হবে।
মানবিক বিপর্যয় : মালয়েশিয়াগামী বোটগুলোকে তিন দেশের উপকূলে ভিড়তে না দেয়ায় সাগরে ভেসে থাকা কয়েক হাজার বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গা নাগরিক এখন মৃত্যুপথ যাত্রী। খাদ্য ও পানি সংকটে বোটগুলোতে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। বিবিসির একজন সংবাদিক জানিয়েছেন, বেঁচে থাকার জন্য ক্ষুধার্ত অভিবাসীরা নিজেদের মূত্র পান করতে বাধ্য হচ্ছেন। থাইল্যান্ড উপকূলে তিনি এ দৃশ্য দেখতে পান। না খেয়ে এ পর্যন্ত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে এএফপির এক খবরে বলা হয়েছে। বার্তা সংস্থাটি জানায়, নিজেদের ভূখণ্ডে যাতে না ভিড়ে, এজন্য কৌশল হিসেবে ভাসমান বোটগুলোতে হেলিকপ্টারের সাহায্যে কিছু খাবার ফেলছে থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া। অপ্রতুল এ খাবার নিয়ে অভিবাসীদের মধ্যে কাড়াকাড়ি লেগে যায়। হেলিকপ্টার থেকে সাগরের পানিতে পড়ে যাওয়া প্যাকেট খাবার আনতে সাগরে ঝাঁপ দিয়ে সাতরিয়ে উঠতে না পেরে ১০ জনের প্রাণহানি হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভয়াবহ এ পরিস্থিতি দেখেও মন গলছে না মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের। তারা সামান্য কিছু খাবার দিয়ে কোনো মতে অভিবাসীদের বাঁচিয়ে রেখে বোটগুলোকে প্রত্যার্পণের কৌশল গ্রহণ করেছে। কিন্তু তাদের এই কৌশলের কারণে মরতে বসেছে কয়েক হাজার বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গা। বোটগুলোকে তিন দেশের উপকূলে ভিড়তে দেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও দেশ বারবার আহ্বান জানানোর পরও তা গ্রাহ্য করছে না মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ড।
এদিকে মালয়েশিয়ায় ভিড়তে না পেড়ে মিয়ানমারের নাগরিক বোঝাই একটি বোটকে বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার মধ্যবর্তী অন্দামান সাগারে ভাসতে দেখা গেছে। অন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কয়েকজন সাংবাদিক ওই বোটের কাছে গিয়ে ক্ষুধার্ত মানুষের আহাজারি দেখতে পান। বোট থেকে তারা সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমাদের কছে কোনো পানি নেই। আমাদের সাহায্য করুন।’ মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চল থেকে আগত সিরাজ নামের ১৫ বছরের এক তরুণ বলেন, ‘আমরা ক্ষুধার্ত। আমাদের খাবার দিন।’
বারবার ঠেলে দেয়া সত্ত্বেও অভিবাসী বোঝাই বোটগুলো উপকূলে ভেড়ার জন্য পুন:পুন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। থাইল্যান্ডের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান, মালয়েশিয়া থেকে প্রত্যাখ্যাত একটি জাহাজ থাইল্যান্ড উপকূলে প্রবেশের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।
অভিবাসীদের বাঁচানোর আহ্বান জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের : মানব পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে সাগরে নৌযানে ভাসতে থাকা বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গা মুসলিম অভিবাসীদের জীবন বাঁচাতে থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার পৃথক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানায় তারা। এর আগে নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) দুর্গত অভিবাসীদের জায়গা দিতে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডকে তাগিদ দেয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘ মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, ‘মানব পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে আন্দামান ও মাল্লাকা প্রণালীতে নৌযান ভাসতে থাকা হাজারো অভিবাসীর বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব বেশ উদ্বিগ্ন। ওইসব অভিবাসী ও শরণার্থী বহনকারী নৌযানগুলো প্রবেশে কিছু দেশ বাধা দেয়ার খবর তার (মহাসচিব) কাছে রয়েছে। সরকারগুলোর প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, সাগরে উদ্ধারের বাধ্যবাধকতা যেন নিশ্চিত করা হয় এবং উদ্বাস্তুদের নিষিদ্ধ করার বিষয়টি যথাযথ আইনে যেন রক্ষা করা হয়।’
মুখপাত্র আরও বলেন, ‘তিনি (মহাসচিব) সরকারগুলোর প্রতি আরও আহ্বান জানিয়েছেন, (অভিবাসীদের) যথাসময়ে উপকূলে ভেড়ার সুযোগ দিতে হবে এবং সীমান্ত ও বন্দর উন্মুক্ত রেখে সেসব বিপন্ন লোকদের সহায়তা করতে হবে, যাদের এটা দরকার।’
বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গা মুসলিম অভিবাসীদের সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে মানবাধিকার সংগঠন এবং কংগ্রেসের কিছু সদস্য। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সাগরে ভাসমান অভিবাসীরদের রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেফ রাথকে বলেন, ‘এটা একটা আঞ্চলিক ইস্যু। তাৎক্ষণিকভাবে দরকার এর আঞ্চলিক সমাধান। তবে এ জন্য মেরিটাইম ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে বিশ্বসম্প্রদায় আঞ্চলিক দেশগুলোকে সহয়তা করতে পারে।

উন্নয়নের নামে ঐতিহ্য ধ্বংস

সড়ক সম্প্রসারণের জন্য রাজশাহী নগরের
মিশন হাসপাতাল মোড়ের ঢোপকলটি সম্প্রতি
অপসারণ করা হয় l প্রথম আলো
রাজশাহী নগরে সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য একসময় প্রসিদ্ধ ছিল ঢোপকল। ৭০ থেকে ৮০ বছর আগে বসানো এসব ঢোপকলের অনেকগুলোই এখনো সচল। নগরের সড়ক সম্প্রসারণের নামে একের পর এক ঢোপকল উচ্ছেদ চলছেই।
২০১০ সালের দিকে নগরে প্রায় ২০টি ঢোপকল ছিল। রাস্তা প্রশস্তকরণ ও বর্তমান পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ না খাওয়ায় রাজশাহী সিটি করপোরেশন এসব ঢোপকলের বেশির ভাগই ভেঙে ফেলেছে।
সর্বশেষ ১৩ মে নগরের চণ্ডীপুর এলাকায় একটি ঢোপকল অপসারণ করা হয়। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রাস্তা চওড়া করার জন্য এটি অপসারণ করতে হয়েছে।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রায় ডি এন দাশ গুপ্ত (১৯৩৪-৩৯) রাজশাহী পৌরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালে তাঁর উদ্যোগ এবং রাজশাহী অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় নগরবাসীর জন্য সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সে সময় রাজশাহী অ্যাসোসিয়েশন মহারাণী হেমন্ত কুমারীসহ অন্যান্য দানশীল ব্যক্তিকে এ ব্যাপারে এগিয়ে আসার অনুরোধ করে। তখন হেমন্ত কুমারী একাই ৬৫ হাজার টাকা অনুদান দেন। বিশাল অঙ্কের একক অনুদানের কারণে রাজশাহী জেলা বোর্ডের দান করা জমিতে মহারাণী হেমন্ত কুমারীর নামেই ‘ওয়াটার ওয়ার্কস’ স্থাপিত হয়। সেই সময় ঢোপকলে পানি সরবরাহ ব্যবস্থার পাইপগুলো ছিল কাস্ট আয়রনের এবং অন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যগুলো ছিল পিতলের তৈরি। সিমেন্টের তৈরি ঢোপকলগুলো ব্যতীত অন্য সবকিছুই ইংল্যান্ড থেকে আনা হয়েছিল। সে সময় হেমন্ত কুমারী ওয়াটার ওয়ার্কসে প্রতিদিন ভূ-গর্ভস্থ পানি শোধন করা হতো। এই পানি শোধন কেন্দ্রে আয়রন, ম্যাংগানিজ ও পানির ক্ষারতা দূর করার ব্যবস্থা ছিল। এই শোধিত পানি রাজশাহী নগরের মোড়ে মোড়ে স্থাপিত ১০০টিরও বেশি ঢোপকলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে সরবরাহ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ঢোপকলের প্রতিটির পানি ধারণক্ষমতা ৪৭০ গ্যালন। এগুলোর প্রতিটিই ছিল একটি ‘রাফিং ফিল্টার’। এতে বালি ও পাথরের স্তর ছিল যাতে সরবরাহকৃত পানি আরও পরিশোধিত হয়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাত। সে সময় সারা দিনে মাত্র দুই ঘণ্টা পানি সরবরাহ করা হতো। এ জন্য প্রতিটি ঢোপকলকে পানি রিজার্ভ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হতো।
বর্তমানে সড়ক প্রশস্তকরণের নামে এসব ঢোপকল সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। শুধু সিটি করপোরেশন নয়, অন্য লোকজনও নিজের সুবিধার জন্য ঢোপকল সরিয়ে ফেলছেন। এ নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রাজশাহী ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি আহসান কবির বলেন, রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী এই ঢোপকল দেশে আর কোথাও নেই। তৎকালীন সময়ে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহের যে দৃষ্টান্ত তা বিরাট ঐতিহ্য। নির্বিচারে এই ঢোপকলগুলো ভেঙে ফেলা হচ্ছে। তিনি এগুলো সংরক্ষণের জোর দাবি জানান।
হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি মাহাবুব সিদ্দিকী বলেন, ঢোপকলগুলো রাজশাহীর ঐতিহ্য। ঢোপকলের মতোই রাজশাহীর অনেক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ভেঙে ফেলা হচ্ছে। এই ঐতিহ্যগুলো রক্ষার জন্য অতিসত্বর রাজশাহীতে একটি নগর জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা উচিত। এ ছাড়াও রাজশাহীতে যেসব ঐতিহাসিক নিদর্শন এখনো টিকে আছে সেগুলো রক্ষার জন্য সবাইকে উদ্যোগী ও সচেতন হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, ‘রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য ঢোপকলগুলো ভাঙা হয়েছে। সবগুলো ঢোপকল আর চালু নেই। রাস্তা বড় করতে গেলে এগুলো আর রাখা যাচ্ছে না। তা ছাড়াও বর্তমান পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে এগুলো যায় না।’ তিনি জানান, যেসব ঢোপকল অপসারণ করা হচ্ছে তা ঐতিহ্য হিসেবে ফুটপাতে এমনি বসিয়ে রাখা হবে। যাতে ভবিষ্যতে মানুষ বুঝতে পারে যে এগুলো দিয়ে একসময় নগরে পানি সরবরাহ করা হয়েছে।

অনন্ত হত্যা- ফেরিওয়ালা সেজে বাসা চিনেছিল খুনিরা? ...দেয়ালে ‘অনন্তকাল’

লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ রিপন হত্যা
সিলেটে লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশকে হত্যার ২১ থেকে ২৫ দিন আগে খুনিরা মুঠোফোনে তাঁকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। এমনকি হুমকিদাতারা ফেরিওয়ালা সেজে অনন্তর বাসা ও আশপাশের রাস্তা-গলি সম্পর্কে ধারণা নিয়েছিল। আর এসব খবর জানতেন অনন্ত নিজেই। তবে অসুস্থ বাবা-মায়ের কথা চিন্তা করে সে খবর অনন্ত তাঁর পরিবারের সদস্যদের জানাননি। তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু প্রথম আলোকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, পুলিশও এখন এসব বিষয় নিয়ে তদন্ত করছে। গতকাল রোববার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিলেট মহানগরের বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নুরুল আলম জানান, অনন্তর মুঠোফোনের কললিস্ট পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি স্পর্শকাতর। তাড়াহুড়া না করে ঘটনার আদ্যোপান্ত জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। ফেরিওয়ালা সেজে বাসা ও আশপাশের গলি চেনার বিষয়টি ফোনে হুমকি দেওয়ার সময় হুমকিদাতারাই জানায় অনন্তকে গত দুই দিনে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা হয় অনন্তর তিনজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর। তাঁরা জানান, ফেরিওয়ালা সেজে বাসা ও আশপাশের গলি চেনার বিষয়টি ফোনে হুমকি দেওয়ার সময় হুমকিদাতারাই জানিয়েছিল অনন্তকে। হত্যাকাণ্ডের ২০ থেকে ২৫ দিন আগে বাসা পর্যবেক্ষণ করা হয়ে থাকতে পারে।
সিলেটে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ গতকাল বিকেলে নগরের
শহীদ মিনার থেকে ‘আমিই অনন্ত’ শীর্ষক প্রতিবাদী মিছিল
বের করে। পরিষদের কর্মীরা নিহত ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশের
মুখাবয়বের ছবি পরে মিছিলে যোগ দেন l ছবি: প্রথম আলো
অনন্তের এক বন্ধু বলেন, ‘হুমকির বিষয়টি অনন্ত আমাদের বললেও তাঁর মধ্যে তেমন উদ্বেগ ছিল না। অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলার ফাঁকেই হুমকির কথা আমাদের জানিয়েছিল সে। হুমকি-ধমকি নিজে সয়ে পরিবারকে নিরুদ্বেগ রাখার চেষ্টা দেখা যেত অনন্তের চোখে-মুখে।’
আরেক বন্ধু জানান, হুমকিকে পাত্তা না দিয়ে অনন্ত বলতেন, ‘ধুৎ, কিচ্ছু হবে না... হুমকি দিয়ে আসলে কেউ কিছু করতে পারে না...।’
অনন্তর বড় বোনের স্বামী আইনজীবী সমরবিজয় শেখর বলেন, ‘হুমকির বিষয়টি অনন্ত পরিবারের সদস্যদের কাছে চেপে গেছে। মৃত্যুর পর তার বন্ধুদের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরেছি। পুলিশ দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তার করুক, এটাই আমরা চাই।’
মুঠোফোন কোম্পানির কাছ থেকে মুঠোফোনের এক মাসের তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হত্যাকাণ্ডের তদন্ত সমন্বয় করা সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. রহমত উল্লাহ। গতকাল তিনি বলেন, ‘অনন্তর কিছু খুদে বার্তায় তাঁর হুমকি পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। খুনিরা তাঁকে পর্যবেক্ষণ করছে, এটি বিভিন্ন সময়ে সে তার বন্ধুবান্ধবকে বলেছে। কারা এসব হুমকি দিয়েছে, সেটা এখন আমরা খতিয়ে দেখছি।’
গত মঙ্গলবার সকালে কর্মস্থলে যেতে বাসা থেকে বের হয়ে সিলেট নগরের সুবিদবাজারের নূরানী আবাসিক এলাকার চৌরাস্তা মোড়ে পৌঁছালে অনন্তকে কুপিয়ে হত্যা করে মুখোশধারী চার দুর্বৃত্ত।
কর্মসূচি: অনন্ত হত্যার প্রতিবাদে সিলেটের প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্যোগে গতকাল বেলা পাঁচটায় নগরের কোর্ট পয়েন্টে মানববন্ধন ও প্রতিবাদী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিকেল চারটায় সম্মিলিত নাট্য পরিষদ ‘আমিই অনন্ত’ নামে মিছিল করেছে। অনন্তের ছবিসংবলিত ব্যানার হাতে নিয়ে নিজের মুখে অনন্তর মুখাবয়বের প্রতিকৃতি লাগিয়ে নগরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে কোর্ট পয়েন্ট পর্যন্ত মিছিল করে নাট্য পরিষদ। পরে প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের মানববন্ধনে একাত্ম হয় মিছিলটি।
দেয়ালে ‘অনন্তকাল’
লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ হত্যার স্থানটির পাশের দেয়ালে
‘অনন্তকাল’ শিরোনামে এই চিত্রটি (ইনসেটে) অঙ্কন করা হচ্ছে।
আজ সোমবার এটি উন্মোচন করা হবে l ছবি: প্রথম আলো
সেই চৌরাস্তার মোড়টি দেয়ালঘেঁষা। সিলেট নগরের সুবিদবাজার এলাকায় পিটিআইর দেয়ালের পাশটাই ঘটনাস্থল। সিটি করপোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নূরানী আবাসিক এলাকার চৌরাস্তার মোড়ে গত মঙ্গলবার সকালে আক্রান্ত হয়েছিলেন বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ (৩২)। মুখোশধারী চার দুর্বৃত্ত অনন্তকে কুপিয়ে লাশ ফেলে গিয়েছিল সেখানে। সেই থেকে চৌরাস্তার মোড় পরিণত হয় দর্শনার্থী মানুষের পুঞ্জীভূত শোক আর ক্ষোভ প্রকাশের একটি স্থানে। অনন্তর রক্ত ছিটকে পড়েছিল দেয়ালেও। ঘটনার পর থেকে হত্যার স্থানটি পলিথিন দিয়ে ঢাকা। পরদিন বুধবার এলাকাবাসীর উদ্যোগে ওই স্থানে হয় মানববন্ধন। সেটি ছিল এলাকাবাসীর প্রথম প্রতিবাদ। এবার অনন্তের রক্তে রঞ্জিত দেয়ালের ওই অংশ স্থায়ী প্রতিবাদ হয়ে প্রকাশ পাচ্ছে। নিকষ কালো জমিনের ওপর ছোপ ছোপ রক্ত, তাতে সাদা অক্ষরে লেখা—‘জ্ঞানের জ্যোতি ছড়াবে অনন্ত/অনন্তকাল।’ অন্য পাশে অনন্তর লেখা থেকে কথা আর কলমযোদ্ধার মুষ্ঠিবদ্ধ হাতের চিত্র। এ যেন দেয়ালে ‘অনন্তকাল’।
গতকাল বিকেলে নূরানী আবাসিক এলাকার চৌরাস্তার মোড়ে গিয়ে দেখা গেছে, অনেকটা ছাপচিত্রের মতো করে দেয়ালে ‘অনন্তকাল’ অঙ্কন চলছে। এ চিত্রের নির্দেশক সিলেটের নাট্য ও সংস্কৃতি সংগঠন নগরনাট সভাপতি অরূপ দাশ। ‘ওইখানে আমিও আছি/যেখানে সূর্যোদয়, প্রিয় স্বদেশ পাল্টে দেব/তুমি আর আমি বোধ হয়...’ অনন্তের লেখা থেকে এ ছন্দকথা তিনিই চয়ন করেছেন। অরূপ জানান, অনন্তের শুভানুধ্যায়ী ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় এটি হচ্ছে। গতকাল বিকেল থেকে দেয়ালের এ কাজ শুরু হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে সেটি উন্মোচন করা হবে।
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সমাজকর্ম বিভাগ থেকে পাস করে পূবালী ব্যাংকের সুনামগঞ্জের জাউয়াবাজার শাখায় ‘ডেভেলপমেন্ট অফিসার’ পদে কর্মরত ছিলেন।
লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ হত্যার স্থানটির পাশের দেয়ালে
‘অনন্তকাল’ শিরোনামে এই চিত্রটি (ইনসেটে) অঙ্কন করা হচ্ছে।
আজ সোমবার এটি উন্মোচন করা হবে l ছবি: প্রথম আলো
অনন্ত মুক্তমনা ও সামহয়্যার ইন ব্লগে নিয়মিত লেখালেখি করতেন। পাশাপাশি তিনি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকেও সক্রিয় ছিলেন। সিলেটে গণজাগরণ মঞ্চেরও একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। বিভিন্ন সময় বস্তুবাদ ও যুক্তিবাদ নিয়ে ব্লগে লিখতেন। তাঁর লেখা ও সম্পাদিত বইয়ের মধ্যে পার্থিব (শুদ্ধস্বর, ২০১১, সহলেখক সৈকত চৌধুরী), সোভিয়েত ইউনিয়নে বিজ্ঞান ও বিপ্লব: লিসেস্কো অধ্যায় (শুদ্ধস্বর, ২০১২), ডারউইন: একুশ শতকে প্রাসঙ্গিকতা এবং ভাবনা (অবসর, ২০১১) উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়াও তিনি বিজ্ঞানবিষয়ক ছোটকাগজ যুক্তি নামে একটি পত্রিকা নিয়মিত সম্পাদনা করতেন। হত্যাকাণ্ডের পর এলাকাবাসীর উদ্যোগে প্রথম মানববন্ধন হয়েছিল ‘অনন্ত হারানোর নয়...’ ব্যানারে। উদ্যোক্তাদের একজন নূরানী সামাজিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহিন সিদ্দিকী দেয়ালে ‘অনন্তকাল’ অঙ্কনকে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সাদরে গ্রহণ করেন। শাহিন বলেন, ‘আমরা মানববন্ধনের দিনও দাবি করেছিলাম, ঘটনাস্থলে অনন্তের স্মৃতি রক্ষায় কোনো স্মারক বা স্তম্ভ হোক। এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরকেও আমরা জানিয়েছি।’ দেয়ালের এই অঙ্কন দেখে যেন সিটি করপোরেশন উদ্যোগী হয়—এ আহ্বান তাঁর।

মানব পাচার- বন্দিশালায় কষ্টের জীবন by টিপু সুলতান

নিজের নাম-পরিচয়সংবলিত বোর্ড হাতে বাংলাদেশি
অভিবাসী জমির হোসেন (২৪)। ইন্দোনেশিয়ার আচেহ
প্রদেশের কুয়ালা লাঙ্গসা বন্দরের একটি আশ্রয়শিবিরে
উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের তথ্য নথিভুক্ত করার সময়
গতকাল নিজের পরিচয় তুলে ধরেন তিনি l ছবি: এএফপি
সাগরপথে মানব পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে অসংখ্য বাংলাদেশি এখন থাইল্যান্ডের বিভিন্ন বন্দিশালায় ধুঁকছেন। কেউ কারাগারে, কেউ অভিবাসন পুলিশের ক্যাম্পে, আবার কেউ বা থানাহাজতে। এঁদের কারও কারাবাসের মেয়াদ দুই দিন, কারও দুই বছর বা তারও বেশি।
থাইল্যান্ডে বন্দিশালায় এ মুহূর্তে কত বাংলাদেশি আছেন, তার পুরো হিসাব বাংলাদেশ দূতাবাস, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বা ইউএনএইচসিআর—কারও কাছে নেই।
থাইল্যান্ডের স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশি বন্দীর সংখ্যা হবে কয়েক হাজার। অবস্থা এমন হয়েছে যে সমুদ্র উপকূলবর্তী দক্ষিণ থাইল্যান্ডের দুটি প্রদেশ সংখলা ও পুকেটের কারাগার ও ডিটেনশন ক্যাম্পে আর জায়গা হচ্ছে না। তাই অনেক বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাকে দেশটির উত্তরাঞ্চলের চিয়াংরাই প্রদেশসহ কম্বোডিয়ার সীমান্তে স্থাপিত বিভিন্ন ডিটেনশন ক্যাম্পে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন মুখপাত্র জানান, তাঁদের কাছে ১১ মে পর্যন্ত যে হিসাব আছে, তাতে এ দেশে বন্দী বাংলাদেশির সংখ্যা ৪১৯। তিনি বলেন, শুধু সাজা শেষ হলে, তারপর আদালতের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ইমিগ্রেশন ক্যাম্পে পাঠানোর পর থাই কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাসকে জানায়। এরপর দূতাবাসের কর্মকর্তারা সাক্ষাৎকার নিয়ে তাঁদের নাম-ঠিকানা ঢাকায় পাঠান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এঁদের নাগরিকত্ব ঠিক আছে বলে ছাড়পত্র আসার পরই দূতাবাস দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে যাঁরা আটক হয়েছেন, তাঁদের সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই। এমনকি দু-তিন বছর আগে আটক হওয়া অনেকের তথ্য দূতাবাসের কাছে নেই। প্রথম আলোর অনুসন্ধানে ১৬ তরুণের সন্ধান মিলেছে, যাঁরা প্রায় দুই বছর ধরে কারাগারে বা পুলিশ হাজতে আছেন। কিন্তু বাংলাদেশ দূতাবাস তা জানে না বা থাই কর্তৃপক্ষ দূতাবাসকে জানায়নি। এঁদের দুজন ইতিমধ্যে মারা গেছেন। স্বজনেরা লাশও পাননি।
দূতাবাসের ওই মুখপাত্র জানান, দূতাবাসের কাউন্সিলর শাখার কর্মকর্তারা গত বছরের মার্চ থেকে এ বছরের ১০ মে পর্যন্ত আটক থাকা ১ হাজার ২১৪ জন বাংলাদেশির সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পরিচয় নিশ্চিত হতে। আর গত বছরের ১৩ জুন থেকে ৮ মে পর্যন্ত ৭৯৯ জনকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ বিমানের কান্ট্রি ম্যানেজার নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, এই ৭৯৯ জনের মধ্যে ১৩ জন থাই এয়ারওয়েজে এবং অন্যরা বাংলাদেশ বিমানে দেশে ফিরেছেন। বিমান ভাড়া দিয়েছে তাঁদের পরিবার।
এ ছাড়া আটক বাংলাদেশিদের পরিচয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ছাড়পত্র না এলে তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে এখানকার সরকার বা বাংলাদেশ দূতাবাস কিছু করতে পারে না। কিন্তু এ পরিচয় নিশ্চিত করার কাজটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় করে স্থানীয় পুলিশের মাধ্যমে। এ ক্ষেত্রে পুলিশকে টাকা না দিলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন আসে না, এমন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
আইওএম-এর ব্যাংকক কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিককালে যাঁরা ধরা পড়েছেন, তাঁদের প্রথম যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করছে থাই কর্তৃপক্ষ। এরপর দ্বিতীয় ধাপে গিয়ে তারা আইওএম ও ইউএনএইচসিআরকে ডাকবে।
এই কর্মকর্তা আরও জানান, আটক হওয়ার পর শুরুতে কোনো কোনো বাংলাদেশি নিজেদের রোহিঙ্গা বলে দাবি করেন। তাঁদের ধারণা, রোহিঙ্গা দাবি করলে শরণার্থী মর্যাদা পাওয়া যাবে এবং এ দেশে থেকে কাজ করা যাবে। পরে ভুল ভাঙলে অনেকে আইওএম বা ইউএনএইচসিআরের কাছে আসল পরিচয় স্বীকার করেন।
থাইল্যান্ডের ​একটি আটককেন্দ্রে গতকাল অবৈধ অভিবাসীদের তথ্য সংগ্রহ করে সেখানকার পুলিশ। এ সময় তথ্য দেওয়ার জন্য অনেকে হাত উঁচু করেন l প্রথম আলো
এদিকে সংখলা প্রদেশের রাত্তাফোমে এ মাসের প্রথম সপ্তাহে তিন দফায় যে ২২০ জনকে আটক করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ১৮০ জনই বাংলাদেশের বলে জানিয়েছেন সেখানকার ডিটেনশন ক্যাম্পের কর্মকর্তারা। অন্যরা মিয়ানমারের আরাকানের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। থাই সরকারের অভিযানের মুখে মানব পাচারকারীরা তাঁদের জঙ্গলে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। সর্বশেষ গত শুক্রবার পুকেটের পাঙ্না দ্বীপে আরও ১০৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এঁদের কতজন বাংলাদেশি তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পুকেটের স্থানীয় একজন সাংবাদিক এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, সেখানেও বাংলাদেশি নাগরিক আছে বলে তিনি জেনেছেন।
এ প্রতিবেদক গত তিন দিনে সংখলা প্রদেশের বিভিন্ন জেলায় তিন ধরনের তিনটি বন্দিশালায় (কারাগার, পুলিশের হাজতখানা ও অভিবাসন) বাংলাদেশি বন্দীদের সঙ্গে অল্প সময় কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন। এঁদের মধ্যে সাদাও জেলা কারাগারে থাকা বগুড়ার মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘এখানে যে কী কষ্ট, কীভাবে বলব, বোঝাতে পারব না। খাবার কষ্ট, থাকার কষ্ট, ঠিকভাবে বসা যায় না, অতটুক জায়গায় ঘুমাতে হয়।’
সাতক্ষীরার রবিউল হোসেন বলেন, ‘ওদের ভাষা বুঝি না। আমরা বিদেশি বলে লাথি-গুঁতা মারে, ঘৃণা করে। অসুখ হলে চিকিৎসা দেয় না। দুজন মারা গেছে, গ্যাস্ট্রিকের জন্য তারা খেতে পারত না।’
এর চেয়েও খারাপ দশা অভিবাসন পুলিশের ডিটেনশন ক্যাম্পে। একসঙ্গে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি মিলিয়ে শত শত মানুষ গাদাগাদি করে রাখা। একই কষ্টের কথা জানিয়েছেন হাজ্জাই থানাহাজতে থাকা ১২ বাংলাদেশি তরুণও। কারাবন্দী এসব বাংলাদেশি জানেন না, তাঁদের এ দুর্দশা কবে শেষ হবে।

সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি: টিআইবি

তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি বলে মন্তব্য করেছে দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। নির্বাচনে সেনা মোতায়নে দোদুল্যমনতা, প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘণে সমানভাবে পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থতা, ভোট জালিয়াতি, কারচুপি এবং ভোট কেন্দ্র দখলে সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারায় নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দায়ি করেছে সংস্থাটি। এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটি দাবি করেছে, নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠানে ও সংসদ সদস্যদের প্রভাব বিস্তারের কারণে সামগ্রিকভাবে তিনটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠুৃ ও নিরপেক্ষ বলা যায় না। আজ সকালে সংস্থার ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে ‘ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ২০১৫: প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি। প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকাংশ প্রার্থীর বিভিন্ন আচরণবিধি লঙ্ঘণ, প্রার্থী কর্তৃক অনুমোদিত সীমার তিনগুণের বেশী ব্যয় এবং নির্বাচন কমিশনের দৃঢ় ভূমিকার অভাব ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষপাতিত্বে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী একটি প্রার্থীর নির্বাচনে প্রতিযোগিতার মনোভাবের ঘাটতির কারণে গত ২৮শে এপ্রিল সমাপ্ত তিনটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
টিআইবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এ টি এম শামসুল হুদা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আইনে নির্দলীয় নির্বাচনের কথা বলা হলেও বাস্তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এই দ্বৈততার কারণেই নির্বাচনে নানা অনিয়ম দেখা যায়। এক্ষেত্রে নির্বাচনী আইনটি পরিবর্তন করে দলীয় করা যেত পারে, যাতে দলীয় প্রার্থী ছাড়া অন্য কেউ মনোনয়ন না পায়। এতে আর্থিক অনাচার ও অনিয়মের সুযোগ কমে আসবে। এছাড়া এই নির্বাচনে সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদ ছাড়া সাধারণ আসনে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল না, যা অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক। তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রবর্তনের দাবি জানান।
টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়নি। কোন কোন ক্ষেত্রে অনুমোদিত নির্বাচনী ব্যয়ের তুলনায় সাত, এগারো বা একুশ গুণ বেশি অর্থ ব্যয়িত হয়েছে। নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘণ করে ব্যাপক ভোট জালিয়াতি হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। নেতৃত্বের দুর্বলতার কারণে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।

হোটেলে মানুষের মাংস!

খাবার হিসেবে মানুষের মাংস পরিবেশন করা হয় নাইজেরিয়ার এক রেস্টুরেন্টে। গা ছমছম করার মতো শোনালেও ঘটনা সত্য। নাইজেরিয়ার আনামব্রাতে এক রেস্টুরেন্টে। মানুষের মাংস পরিবেশন করার অভিযোগ করায় বন্ধ করে দেয়া হয় সেই রেস্টুরেন্টটি। বিবিসি নিউজ সোহিলির খবরে প্রকাশ, ওই হোটেলের কাস্টমাররা অভিযোগ করেন তাদের মানুষের মাংস পরিবেশন করা হয়েছে। গুজব না সত্যি যাচাই করতে তদন্তে নামে পুলিশ। বিবিসির রিপোর্টে প্রকাশ, পুলিশ রেস্টুরেন্টে তদন্ত চালানোর পর যা উদ্ধার করে তা সত্যি ভয়ানক। উদ্ধার হয় তাজা রক্তাক্ত মানুষের মাথা। তখনও গলগল করে রক্ত বেরোচ্ছে। সেখান থেকে কিছু ধারলো অস্ত্র ও মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়। বিবিসিকে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, যখনই বাজারে যাই, দেখি হোটেলে সন্দেহজনক কারবার চলছে। ওই হোটেলের কর্মচারীদের কখনোই পরিষ্কার জামায় দেখা যেত না। তাদের চোখে-মুখে কিসের যেন একটা ভয়! এক সন্ন্যাসী ওই হোটেলে খেতে গেলে তার বিল হয় ৭০০ নায়ার অর্থাৎ ২.২০ ইউরো। যেটা অন্য হোটেলের চেয়ে অনেক বেশি। তিনি জানান, ‘আমাকে ছোটো ছোটো মাংসের টুকরো খেতে দেয়া হয়, যার মূল্য ভাবতেও পারিনি। এ ঘটনা জানার পর তিনি উদ্বেগের সঙ্গে জানান, আমি কখনোই ভাবতে পারিনি, আমাকে মানুষের মাংস দেয়া হয়েছে। আর যার দাম এত বেশি! পুলিশ এখন পর্যন্ত দশ জনকে গ্রেফতার করেছে।

সবাই জিতল, হারল নির্বাচনটাই! by সোহরাব হাসান

তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের লাভ-ক্ষতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এখন নানা হিসাব-নিকাশ চলছে। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী উভয় পক্ষ নিজেদের ‘বিজয়ী’ বলে দাবি করছে। কীভাবে করছে, সেই আলোচনায় পরে আসছি।
তার আগে বাংলাদেশের একটি স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের আগ্রহ ও উদ্বেগের বিষয়েও কিছু কথা বলা দরকার। নির্বাচনের আগে তিন মাসজুড়ে দেশে নৈরাজ্য চলছিল। অর্থনীতি হয়ে পড়ছিল স্থবির। তাই অনেকেই ভেবেছিলেন, স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনটি রাজনীতিতে সুস্থ ধারা ফিরিয়ে আনার পথ সুগম করবে। জাতিসংঘ মুখপাত্র বলেছিলেন, তাঁরা এই নির্বাচনকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হবে বলে আশা করছেন। এখন বলেছেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর তদন্ত হওয়া উচিত। ভোটের চিত্র দেখে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতদ্বয়ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকেরা বলেছেন, নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি।
নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, তিন সিটিতে গড়ে ৪৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্রের ভোটচিত্রের সঙ্গে এই পরিসংখ্যান মেলে না। বিএনপির সমর্থক তিন মেয়র প্রার্থী বেলা সাড়ে ১২টার মধ্যে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেওয়ার পরও তাঁদের ঝুলিতে নয় লাখের বেশি ভোট পাওয়া অবিশ্বাস্য। তাঁদের প্রাপ্ত ভোটের সঙ্গে বিএনপি-সমর্থক কাউন্সিলর প্রার্থীদের ভোটের হারও মেলে না। ঢাকা উত্তরে বিএনপি-সমর্থক মেয়র প্রার্থী ৩ লাখ ২৫ হাজার ভোট পেলেও কাউন্সিলর পদে জিতেছেন মাত্র একজন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নির্বাচনে অনিয়ম হলে বিএনপির সমর্থক মেয়র প্রার্থীরা এত বেশি ভোট পেলেন কীভাবে? একই প্রশ্ন আমাদেরও। দুপুর ১২টার আগেই যদি তাঁরা ৯ লাখ ২৪ হাজার বা প্রদত্ত ভোটের ৩৫ শতাংশ পেতে পারেন, পুরো সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলে তো তাঁদের ভোটের পরিমাণ সরকার-সমর্থক প্রার্থীদের র দ্বিগুণ হওয়ার কথা। আসলে পুরো হিসাবেই শুভংকরের ফাঁকি আছে বলে ধারণা করি।
তিন সিটিতে মেয়র পদে তিন আওয়ামী লীগ সমর্থক প্রার্থী জিতেছেন ১৪ লাখ ৭০ হাজার ভোট পেয়ে। শতাংশের হিসেবে ৫৫ ভাগ। কাউন্সিলর পদেও তাঁদের ৯০ শতাংশ প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং একে হরতাল-অবরোধের বিরুদ্ধে জনগণের রায় বলে উল্লেখ করেছেন। নির্বাচনী ফল প্রকাশের পর ক্ষমতাসীনেরা বিজয়ের আনন্দে ভাসছেন। ফুলেল শুভেচ্ছায় অভিনন্দিত হচ্ছেন বিজয়ী প্রার্থীরা। মিষ্টিমুখ করার ছবিও পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। ফলে তাঁরা নিজেদের বিজয়ী দাবি করতেই পারেন।
অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ভোট গ্রহণের চার ঘণ্টার মাথায় ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছিলেন আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের নেতা অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ। আর ভোট বর্জন ও প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ। বিএনপির নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেও নিজেরা ভোটকেন্দ্রে যাওয়া কিংবা পোলিং এজেন্টরা গিয়েছেন কি না, সেটি দেখার প্রয়োজন বোধ করেননি। এমনকি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেওয়ার আগে নির্বাচন কমিশনে একটি নালিশও কেউ জানাননি। তাঁরা সম্ভবত নির্বাচনে প্রার্থীর জয়ের চেয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনই যে সুষ্ঠু ও অবাধ হতে পারে না, সেটি প্রমাণ করতে বেশি উৎসাহী ছিলেন। নাহলে এভাবে আওয়ামী লীগ কর্মীদের হাতে মাঠ ছেড়ে দিতেন না। তাঁরা এখন বলবেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে না যাওয়া এবং নির্দলীয়, নিরপেক্ষ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করা সঠিক ছিল। অতএব বিএনপিও নিজেকে বিজয়ী দাবি করতে পারে। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘দুই দলই কৌশলে জিতেছে।’ আসলে এটি কৌশল নয়, অপকৌশল।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ দাবি করেছেন, তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। কোথাও অনিয়ম ও কারচুপির ঘটনা ঘটেনি। এ জন্য তিনি নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন, বিশেষ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারও এ রকম একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নিজেকে বিজয়ী বলে দাবি করতে পারেন। হুদা কমিশন শত চেষ্টা করেও ঢাকা সিটি করপোরেশনে একটি নির্বাচন করতে পারেনি। অথচ রকিব কমিশন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করে দেশবাসী তো বটেই, বিশ্বসম্প্রদায়কেও তাক লাগিয়ে দিয়েছে। অন্যান্য নির্বাচন কমিশন যেখানে একটি-দুটি সিটির নির্বাচন করতেই হিমশিম খায়, সেখানে রকিব কমিশন অনেকগুলো সিটির নির্বাচন করে দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে। ২০১৩ সালে পাঁচ সিটি করপোরেশনে বিএনপির সমর্থক প্রার্থীরা জয়ী হওয়ায় স্থানীয় সরকার সংস্থায় যে রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, রকিব সাহেব তিন সিটিতে আওয়ামী লীগকে জিতিয়ে সেই ভারসাম্যও ফিরিয়ে এনেছেন। এই মহতী দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি ও তাঁর কমিশন কৃতিত্ব দাবি করতে পারে।
তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থক-শুভানুধ্যায়ী, লেখক-বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবীদের নিয়ে দুটি কমিটি গঠিত হয়। বিএনপির সমর্থক কমিটির নেতৃত্ব দেন অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ আর আওয়ামী লীগ-সমর্থক কমিটির নেতৃত্ব দেন লেখক-কবি সৈয়দ শামসুল হক। সৈয়দ হকের কমিটি তাদের সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ে অভিনন্দন জানিয়েছে। আর এমাজউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন কমিটি ভোট বাতিল করে নতুন নির্বাচনের কথা বলেছে। তারা দুই পক্ষই নিজেদের যুক্তি ও দাবি সঠিক মনে করে। তাই তারাও নিজেদের বিজয়ী বলে দাবি করতে পারে।
সিটি নির্বাচন উপলক্ষে সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা পুলিশ র্যা ব বিজিবি মিলে ৮০ হাজার সদস্যকে নিয়োগ করেছিল। তাঁরা সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলেই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ভাষায় একটি ‘সুন্দর’ নির্বাচন হতে পেরেছে। অতএব তাঁরাও নিজেদের বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করতে পারেন। সকাল ৮টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সবার অংশগ্রহণে, এরপর থেকে চারটা পর্যন্ত বিরোধী দলের বর্জনের মুখে এবং আওয়ামী লীগের বিবদমান কাউন্সিলর প্রার্থীদের গোলাগুলি, হাঙ্গামার মধ্যে নির্বাচন করা চাট্টিখানি কথা নয়। তারা এও প্রমাণ করেছে যে সেনাবাহিনী মোতায়েন ছাড়াও বাংলাদেশে নির্বাচন হতে পারে। ভোটের সময় বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সংঘাত-সংঘর্ষ রোধে তারা শক্তি প্রয়োগ না করে তাদের বুঝিয়ে শান্ত রাখতে চেষ্টা করেছে। অনেক কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত সদস্যদের পাশাপাশি অল্প বয়সী তরুণেরা আনসার ভিডিপির পোশাক পরে দায়িত্ব পালন করেছে। তাদের কেউ ছাত্র, কেউ দলের কর্মী। বাংলাদেশে পোশাকধারী ও সিভিলিয়ানদের মধ্যে সহযোগিতার এই দৃষ্টান্ত অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে নির্বাচন করতে হয়তো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত সদস্যদেরই প্রয়োজন হবে না। তাদের পোশাকটিই কেবল কাজে লাগানো হবে। এই নির্বাচনে আনসার ভিডিপির পোশাক পরিয়ে যে শত শত তরুণকে নামানো হয়েছিল, তাঁরা সজাগ ও সতর্ক ছিল বলেই জনগণ স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছে, অতএব তাঁরাও নিজেদের বিজয়ী বলে দাবি করতে পারেন।
তবে এই নির্বাচনে জয়ের দাবি করতে পারবেন না সাধারণ ভোটাররা, যাঁরা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখেছেন, তাঁদের ভোটটি দেওয়া হয়ে গেছে। অথবা ভোট দিতে গিয়ে শুনেছেন, ভাই, আপনার কষ্ট করার দরকার নেই, আমরাই আপনার ভোটটি দিয়ে দেব। এই নির্বাচনে তাঁরাও নিজেদের জয়ী দাবি করতে পারবেন না, টিভিতে ভোটকেন্দ্রের ছবি দেখে ভোটকেন্দ্রে যেতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। এই নির্বাচনে তাঁরাও বিজয়ী দাবি করতে পারছেন না, যাঁরা প্রকৃতপক্ষেই একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চেয়েছিলেন। যাঁরা ভেবেছিলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনটি ভালোয় ভালোয় হয়ে গেলে, জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট বিরোধেরও শান্তিপূর্ণ মীমাংসা হয়ে যেতে পারে। এই নির্বাচনে তারাও জয়ী হননি, যাঁরা চেয়েছিলেন, হরতাল-অবরোধ, আগুনে–বোমার পাশাপাশি পাইকারি মামলা-হামলার উৎকট মহড়া থেেকও দেশ মুক্ত হলো।
নির্বাচন হলো এমন এক ব্যবস্থা, যা ভোটারদের পছন্দসই প্রতিনিধি বাছাইয়ের সুযোগ করে দেয়। যে ব্যবস্থা ভোটকেন্দ্রে যেতে ভোটারদের উৎসাহিত করে। কিন্তু আমরা কিছুদিন পর পর এমন নির্বাচনের আয়োজন করি, যা দেখে ভোটাররা ভয় পান, বিদেশি কূটনীতিক আতঙ্কে থাকেন (সুইডিশ রাষ্ট্রদূতের অভিজ্ঞতা স্মরণ করুন)। নির্বাচন মানেই গণতন্ত্র নয়; গণতন্ত্রের একটি অতি আবশ্যকীয় উপাদান। আমরা স্বাধীনতার ৪৪ বছরেও সেই নির্বাচনটি কীভাবে হবে, কাকে নিয়ে হবে, কার অধীনে হবে, সেসব বিষয়ে স্থির সিদ্ধান্তে আসতে পারিনি। কেন পারিনি, সেই প্রশ্নের জবাব যাঁদের কাছে চাওয়ার, তাঁরা নিজেদের ছাড়া অন্য কারও কথা শুনতে অভ্যস্ত নন। মঙ্গলবারের ভোটের মহড়ায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন—সবাই জিতেছে, হেরেছে কেবল নির্বাচনটাই।
তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন আবার প্রমাণ করল আমরা গণতন্ত্রের যোগ্য হয়ে উঠিনি। কবে যোগ্য হয়ে উঠব?
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrab০3@dhaka.net

আমি বাংলাদেশে ফিরতে চাই -সালাহউদ্দিন আহমেদ by দীন ইসলাম

হাত,পা, চোখ ও কান বাঁধা অবস্থায় ফেলে রাখা হয়...
আমি বাংলাদেশে ফিরতে চাই। অথচ সরকার আমার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড এ্যালার্ট জারি করেছে। এটা ঠিক করেনি। কারণ আমি কোন দাগী আসামি নই। আমি বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ। মেঘালয়ের শিলং সিভিল হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ আজ সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। দুপুরে তাকে সিটি স্ক্যান করাতে হাসপাতালের এক বিল্ডিং থেকে আরেক বিল্ডিংয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় সাংবাদিকদের বেশ কয়েকটি প্রশ্নে তিনি বলেন, হাত,পা, চোখ  ও কান বাঁধা অবস্থায় আমাকে ফেলে রাখা হয়। পরে স্থানীয়দের অনুরোধ করলে তারা পুলিশকে খবর দেয়। সেখান থেকে আমাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বলেন, প্রায় ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা জার্নি করার পর এখানে ফেলে রাখা হয়। গাড়িতে কোন কথাবার্তা শুনেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওরা আমার কানও বেঁধে রাখে। তাই কোন ধরণের কথা শুনতে পারিনি। দেশে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, কেন দেশে ফিরবো না। বাংলাদেশ আমার দেশ। শরীরের অবস্থা জানাতে গিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, খুবই অসুস্থ হয়ে আছি। অনেককিছু ঠিকমতো করতে পারছি না। এদিকে আইনী লড়াই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছুক্ষনের মধ্যে স্ত্রী আসছেন। তার সঙ্গে আলাপ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। এদিকে  স্বামীকে দেখতে কয়েক ঘন্টার মধ্যে শিলংয়ে আসছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী সাবেক এমপি হাসিনা আহমেদ। কলকাতা থেকে জেট এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তিনি গোহাটি আসবেন। সেখান থেকে বাইরোডে শিলং এসে পোঁছাবেন। আনুমানিক সাড়ে তিনটা থেকে চারটার মধ্যে তিনি হাসপাতালে আসবেন বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দিনের আত্মীয়রা। এদিকে অসুস্থ সালাহউদ্দিনের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আজ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হবে বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
শিলংয়ের পথে হাসিনা আহমেদ
মেঘালয়ের শিলং সিভিল হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন স্বামীকে দেখতে কয়েক ঘন্টার মধ্যে শিলংয়ে আসছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী সাবেক এমপি হাসিনা আহমেদ। কলকাতা থেকে জেট এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তিনি গোহাটি আসবেন। সেখান থেকে বাইরোডে শিলং এসে পোঁছাবেন। আনুমানিক সাড়ে তিনটা থেকে চারটার মধ্যে তিনি হাসপাতালে আসবেন বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দিনের আত্মীয়রা। এদিকে অসুস্থ সালাহউদ্দিনের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আজ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হবে বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এর আগে
 গতরাত ৯টা ৫০ মিনিটে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ভারতের কলকাতার উদ্দেশে রওনা হন তিনি।  রোববার বিকালে ভারতের ভিসা পানছন হাসিনা আহমেদ। দুই মাস ধরে নিখোঁজ সালাহউদ্দিন আহমেদের সন্ধান মিলে গত মঙ্গলবার। শিলংয়ের একটি মানসিক হাসপাতাল থেকে ফোন করে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

বেশি গণতন্ত্রে আমরা বিশ্বাস করি না: নাসিম

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, কিন্তু বেশি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি না। তিনি আরও বলেছেন, মালয়েশিয়ার মাহাথির মোহাম্মদ ও সিঙ্গাপুরের লি কুয়াং যে গণতন্ত্রের মাধ্যমে তাদের দেশকে গড়ে তুলেছেন সেই পথে আমরা বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই। শনিবার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত এ আলোচনা সভায় একথা বলেন তিনি। ১৭ই মে শেখ হাসিনার ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তন’ দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সবার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ। নাসিম বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে চাই, আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, বেশি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি না। সেই গণতন্ত্রে আমাদের বিশ্বাস নাই। তিনি বলেন, যে গণতন্ত্র পেট্রল দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারে, যে গণতন্ত্র বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেয় সেই গণতন্ত্রে আমরা বিশ্বাস করি না। নাসিম বলেন, মালয়েশিয়ার মাহাথির মোহাম্মদ যে গণতান্ত্রিক পথে মালয়েশিয়াকে গড়ে তুলেছেন,  সিঙ্গাপুরের লি কুয়াং যে গণতান্ত্রিক পথে সিঙ্গাপুরকে গড়ে তুলেছেন, সেই গণতান্ত্রিক পথে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা বাংলাদেশকে গড়ে তুলবো। সেই পথে আমরা এগিয়ে যাবো। তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাস করি, মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকারে বিশ্বাস করি। আমাদের টার্গেট একটাই ২০১৯ সালের নির্বাচনে জনগণের রায় নেয়া। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, বেগম জিয়াকে আমরা আবার পরাজিত করেছি। আমরা ঐক্যবদ্ধ ছিলাম বলেই তাকে পরাজিত করতে পেরেছি। বেগম জিয়াকে বলবো আপনি বারবার ভুল করছেন। যে কারণে বিএনপি এখন আন্ডার গ্রাউন্ডের দল হয়ে গেছে। আপনি প্রকাশ্যে আসেন। জনসভায় আমাদের সমালোচনা করেন, আমাদের কোন আপত্তি নেই। কিন্তু পেট্রলবোমা মেরে মানুষ মারবেন গাড়ি জ্বালিয়ে দেবেন আর আমরা বসে বসে লেমন চুষবো তা হতে পারে না। আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল। কোন রামকৃষ্ণ মিশন নয়। যেভাবে দেশ পরিচালনা করা দরকার সেভাবেই দেশ পরিচালনা করবো। তিনি বলেন, পানি ছাড়া যেমন মাছ বাঁচতে পারে না, তেমনি নির্বাচন ছাড়া কোন রাজনৈতিক দল টিকতে পারে না। আওয়ামী লীগ নির্বাচনের দল ভোটের দল। দু-একটি বাদে মার্শাল ল’ এর মধ্যেও আমরা নির্বাচন করেছি। নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাস্তবতা উপলব্ধি করতে হবে। এই দেশের মানুষ জামায়াতকেও ভোট দিয়েছে। সিটি নির্বাচনে তাদের ৩ জন প্রার্থী জয়লাভ করেছে। তাদের মেয়ররা ৯ লাখ ভোট পেয়েছে। ৯ লাখ ভোট পাওয়া কম কথা নয়। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। যে কাজ করলে দুর্নাম হয় সেই কাজ করা যাবে না। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় নেতাদের নামে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে দাবি করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আমরা সবাই নিরলসভাবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাজ করেছি। সবাই কাজ করেছি বলেই আমাদের সমর্থিত প্রার্থী জয়লাভ করেছে। কিন্তু এ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ।

মুক্তিপণ দিয়ে ছেলেকে ছাড়ালেন বাবা, ১ কোটি ৮০ লাখ টাকাসহ পাঁচজন আটক

মুক্তিপণ হিসেবে দেওয়া ২ কোটি টাকার মধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে
১ কোটি ৮০ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। গতকাল র‍্যাবের সংবাদ
সম্মেলনে টেবিলে ওই টাকা সাজিয়ে রাখা হয় l ছবি: প্রথম আলো
দুই কোটি টাকা মুক্তিপণ দিয়ে আট বছর বয়সী অপহৃত ছেলেকে ফিরে পেয়েছেন তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী বাবা। এর ১২ দিন পর গতকাল রোববার অভিযান চালিয়ে ওই অপহরণে জড়িত অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে র‌্যাব। মুক্তিপণের টাকার মধ্যে ১ কোটি ৮০ লাখ ৬৫ হাজার টাকা উদ্ধারের দাবিও করেছে র‌্যাব।
আটক পাঁচজন হলো রেজাউল করিম (৩৬), নজরুল ইসলাম (৩২), জহির উদ্দিন মো. বাবর (৩৭), মিজানুর রহমান (৩৪) ও শাহ মো. অলিউল্যা (৩৭)। এঁদের মধ্যে প্রথম তিনজন রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান টিএনজেড গ্রুপের কর্মী। টিএনজেড গ্রুপের মালিক শাহাদাত হোসেনের ছেলে আবিরকেই অপহরণ করেছিল অপহরণকারীরা। বিকেলে র‌্যাবের সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে টেবিলের ওপর ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা সাজিয়ে রাখা হয়। সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, শিশু আবির উত্তরার একটি মাদ্রাসায় পড়ে। তাকে অপহরণের জন্য প্রায় চার মাস ধরে পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও তথ্য সংগ্রহ করেছিল অপহরণকারীরা। এ জন্য পল্লবীতে একটি বাসাও ভাড়া করা হয়। তাঁরা নিয়মিত শিশুটির গতিপথ অনুসরণ করে। যে মাদ্রাসায় শিশুটি পড়ে সেই মাদ্রাসায় পরিচিত একজনের বাচ্চাকে ভর্তিও করে অপহরণকারীরা। এ ছাড়া অপহরণকারীদের সঙ্গে যুক্ত টিএনজেড গ্রুপের তিন কর্মী বিশেষ করে গাড়িচালক রেজাউল নিয়মিত তথ্য দিত। পরে ২ মে শিশুটি গাড়িতে করে মাদ্রাসা থেকে ফেরার পথে বনানী উড়ালসড়কের নিচে অপহরণকারীরা তিনটি গাড়ি নিয়ে ওই গাড়ির গতিরোধ করে। নিজেদের একটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে শিশুটি, ওই গাড়ির চালক ও শিশুটির তত্ত্বাবধানকারীকে নিজেদের গাড়িতে তুলে নেয় অপহরণকারীরা। প্রথমে শিশুটিকে তারা আশ্বস্ত করে যে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, অপরাধীদের হাত থেকে তাকে রক্ষা করতে এসেছে। এরপর শিশুটিকে নিয়ে তারা পল্লবীর ভাড়া বাসায় যায়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে শিশুটি কাঁদতে থাকে। অপহরণকারীরা শিশুটির বাবাকে ফোন করে তার কান্নার শব্দ শোনায়। শিশুটির মুক্তিপণ হিসেবে ১০ কোটি টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা। শুরু হয় দর-কষাকষি। ওই রাতেই শিশুটিকে বহনকারী গাড়িটি ৩০০ ফুট (পূর্বাচল) সড়কে গাড়ির চালক ও তত্ত্বাবধানকারীসহ বিমানবন্দর এলাকায় ফেলে রেখে আসে অপহরণকারীরা।
র‌্যাব জানায়, চার দিন দর-কষাকষির পর দুই কোটি টাকায় রফা হয়। ৬ মে তিনটি ব্যাংকের মাধ্যমে ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা অপহরণকারীদের ব্যাংক হিসেবে স্থানান্তর করেন শাহাদাত হোসেন। ওই দিন সন্ধ্যায় হোটেল র‌্যাডিসনের সামনে ২৭ লাখ নগদ টাকা নিয়ে নিজেই অপহরণকারীদের দেন তিনি। এরপর একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আসা অপহরণকারীরা শিশু আবিরকে তার বাবার কাছে বুঝিয়ে দেয়। ব্যবসায়ী তাঁর সন্তানকে ফিরে পাওয়ার পর অপহরণকারীদের ধরতে তৎপরতা শুরু করে র‌্যাব। র‌্যাব বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যাংক হিসাব থেকে অপহরণকারীদের টাকা তোলার সুযোগ বন্ধ করে দেয়। তাঁদের আটকের পর মিজানুরকে নিয়ে ব্যাংক থেকে ওই টাকা তোলা হয়।
র‌্যাবের কর্মকর্তা মুফতি মাহমুদ খান বলেন, শিশুটির ক্ষতি হতে পারে—এই ভেবে তাঁরা শিশুটিকে বুঝে পাওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো ধরনের দৃশ্যমান তৎপরতা চালায়নি। তবে র‌্যাবের গোয়েন্দা সদস্যরা শুরু থেকেই কাজ করে যাচ্ছিলেন। র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেন, অপহরণের পরপর শিশুটির পরিবার র‌্যাবকে সহায়তা করতে চায়নি। শেষ পর্যন্ত পরিবার শিশুটিকে বুঝে পাওয়ার পর র‌্যাব তৎপরতা শুরু করে।
মুফতি মাহমুদ খান জানান, আটক হওয়া টিএনজেড গ্রুপের গাড়িচালক রেজাউল জানায়, আটক মিজানুর তাদের নেতা। বিভিন্ন সময় রেজাউল তার গাড়িতে করে নগদ টাকা আনা-নেওয়া করত। মিজানুর সেই টাকা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। পরে তাদের মনে হয় যে মালিকের ছেলেকে অপহরণ করলে আরও বেশি টাকা পাওয়া যাবে। সেই ধারণা থেকে তারা পরিকল্পনা শুরু করে। পুরো ঘটনায় ১৪ জনের মতো যুক্ত ছিল। এদের মধ্যে পলাতক মন্টু, কাওসার, শুভ, চন্দন, সজীব ও আবদুল্লাহ পেশাদার অপরাধী।

আজকের যানজটের নেপথ্যে by কমল জোহা খান

আজ সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে প্রচণ্ড যানজট।
এতে বিভিন্ন গন্ত্যেবে যেতে নগরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ছবিটি বেলা সোয়া ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের
সড়ক থেকে তোলা। ছবি: জাহিদুল করিম
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে যানজটে আটকে আছে গাড়ি।
ছবিটি আজ বেলা সোয়া ১১টার দিকে তোলা। সকাল থেকে
রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যানজট থাকায় কর্মব্যস্ত যাত্রীদের
দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ছবি: জাহিদুল করিম
রাজধানীর মানুষ আজ সোমবার প্রচণ্ড যানজটের মধ্যে পড়েছেন। যানজটে কার্যত থমকে যায় মহানগর। দুর্ভোগের শিকার হন যাত্রীরা। সড়কে পরীক্ষামূলক ডিজিটাল সংকেত ব্যবস্থা চালু এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (ভিআইপি) চলাচলই আজকের যানজটের কারণ বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ।
রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে এবং প্রত্যক্ষদর্শী, যাত্রী ও ঢাকা মহানগর (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে আজ সকাল থেকে প্রচণ্ড যানজট দেখা দেয়। ভিআইপি সড়কেও একই চিত্র। যানজটের কারণে সড়কে তৈরি হয় যানবাহনের দীর্ঘ সারি। এতে কখনো গাড়ির চাকা ছিল থমকে, কখনো ঘুরেছে ধীর গতিতে।
যানজটের কবলে পড়ে রীতিমতো অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন যাত্রী ও চালকেরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাঁরা সড়কেই কাটান। এমনই একজন ভুক্তভোগী ব্যাংক কর্মকর্তা রোকেয়া বেগম। চার ঘণ্টায় মিরপুর থেকে মতিঝিল যাওয়ার পর তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘গাড়ি তো আজ চলেই না। এ কেমন শহর? ’
উত্তরা থেকে তিন ঘণ্টায় ধানমন্ডি এসেছেন জানিয়ে আরেক ভুক্তভোগী নাহিদ হোসেন বলেন, আজ যানজট অসহনীয় রূপ নিয়েছে।
বিশেষ করে ভাড়ায়চালিত বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা এ প্রতিবেদকের কাছে যানজটের বিষয়ে তাঁদের ক্ষোভ জানান। তাঁদের আশঙ্কা, আজ খরচই উঠবে না।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কাকলী থেকে শাহবাগ পর্যন্ত ভিআইপি সড়কে পরীক্ষামূলকভাবে ডিজিটাল সংকেত ব্যবস্থা চালু এবং সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক উপলক্ষে ভিআইপিদের চলাচলের জন্য আজ রাজধানীতে বেশ যানজট।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে গত শুক্রবার থেকে সংশ্লিষ্ট সড়কে যান চলাচলে পরীক্ষামূলকভাবে ডিজিটাল সংকেত বাতি অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেস বা ক্লিন এয়ার অ্যান্ড সাসটেইনাবল এনভায়রনমেন্ট প্রকল্পের অধীনে দুই সিটি করপোরেশন ও ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে এই কার্যক্রম শুরু করে।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার ভাষ্য, নতুন পদ্ধতি চালুর দিন সংশ্লিষ্ট সড়কে তেমন যানজট হয়নি। পরদিন শনিবার বিরূপ প্রভাব দেখা দেয়। গতকাল রোববার ছিল সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস। এদিন শহরজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। আজ যানজট প্রকট আকার ধারণ করে।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের সূত্র জানায়, আজ সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক থাকায় প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চলাচলে সড়কে নিরাপত্তা দিতে হয়েছে। সড়ক উন্মুক্ত রাখতে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে যানজট সৃষ্টি হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ডিজিটাল সিগন্যাল পদ্ধতির বিরূপ প্রভাব। এ দুটি বিষয় মিলিয়ে যানজটের পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে।
ট্রাফিক বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভাষ্য, সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের জন্য সড়ক উন্মুক্ত করতে এক ঘণ্টা লেগে গেছে।
ডিএমপি সূত্র জানায়, পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় আজ সকালে যানজট পরিদর্শনে বের হন কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। এ সময় তিনি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা ডিজিটাল সিগন্যাল পদ্ধতিকে ম্যানুয়াল করার নির্দেশ দেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ম্যানুয়াল পদ্ধতি বহাল রাখার কথাও বলা হয়েছে।
ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়, ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশের পর আজ সকাল সোয়া নয়টার পর থেকে সংশ্লিষ্ট সড়কে ডিজিটালের বদলে ম্যানুয়াল সিগন্যাল পদ্ধতি পুনরায় চালু করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মোসলেউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, মূলত ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরণ করতে গিয়ে এই যানজট সৃষ্টি হয়েছে। তা ছাড়া শুধু তো যানবাহনের কারণেই যানজট হয় না, অন্য কারণও আছে।
ট্রাফিক বিভাগ থেকে জানা গেছে, কাকলী থেকে শাহবাগ পর্যন্ত ভিআইপি সড়কে ১১টি সিগন্যাল পয়েন্ট আছে। আছে রেলক্রসিং।
যানজট প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কেস প্রকল্পের প্রধান ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শিহাব উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ডিজিটাল সিগন্যাল বাতির পদ্ধতিটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। এর সমস্যাগুলো কীভাবে কাটানো যায়, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছি।’

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা- তথ্যমন্ত্রীর দাবি ও চলমান বাস্তবতা by রোবায়েত ফেরদৌস

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর দাবি: ‘বাংলাদেশের সাংবাদিক ও গণমাধ্যম পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে...রাজনীতি ও প্রশাসনিক অঙ্গনে বিভিন্ন সমস্যা থাকতে পারে, ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকতে পারে; কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার বিগত ছয় বছরেও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, ক্রমাগত এর সম্প্রসারণ ও বিকাশ সাধন করেছে। এ পর্যন্ত এমন কোনো আইন তৈরি করা হয়নি, যেটা গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সংকোচন করে কিংবা একজন পেশাদার সাংবাদিকের কর্মের স্বাধীনতাকে খর্ব করে’—তথ্যমন্ত্রী এমনটাই মনে করেন। (প্রথম আলো, ৪ মে ২০১৫)
তথ্যমন্ত্রীর দাবি সত্য হলে আমরা সবাই খুশি হতাম; কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। ধরা যাক সদ্য সমাপ্ত সিটি নির্বাচনের কথা। সেদিন সরকার-সমর্থকেরা সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে অন্তত আটজন সাংবাদিকের ওপর শারীরিক আক্রমণ হয়েছে; তাঁদের মোবাইল ফোন, পরিচয়পত্র কেড়ে নেওয়া হয়েছে; কোথাও সাংবাদিকদের আটকে রাখা হয়েছে; ভয় দেখিয়ে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা হয়েছে কমপক্ষে ১৫ জন সাংবাদিককে; একজন অনলাইন সাংবাদিক গুলিবিদ্ধও হয়েছেন; পুলিশও কিছু কেন্দ্রে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দিয়েছে। এসব তথ্য তথ্যমন্ত্রীর দাবির বিপরীত। এ ছাড়া জাতীয় সংবাদপত্রগুলোর সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ সম্প্রতি জেলা সংবাদদাতাদের ওপর পুলিশ, রাজনীতিক ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের হুমকি-ধমকি-নির্যাতনের ক্রমবর্ধমান ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে।
গণমাধ্যম গণতন্ত্রের সহায়ক, কোনো সরকার একে প্রতিপক্ষ ভাবলে তা হবে গণতন্ত্র, জনগণের তথ্য জানা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি হুমকি। কিন্তু মন্ত্রী মহোদয় যেদিন ওপরের ওই দাবি তুলেছেন, ওই দিনের পত্রিকায়ই বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকের স্বাধীনতা নিয়ে আর্টিকেল-১৯ ‘ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন ইন বাংলাদেশ-২০১৪’ শীর্ষক প্রতিবেদনের খবর আসে, যেখানে ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে সাংবাদিক হত্যা, নির্যাতন ও হয়রানির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে (প্রথম আলো, ৪ মে, শেষ পৃষ্ঠা)। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে: বাংলাদেশে রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন, হয়রানি ও আক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
২০১৩ সালে বাংলাদেশে রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে সাংবাদিক নির্যাতনের হার ছিল ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে ২০১৪ সালে এই হার হয়েছে ৩৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এর প্রায় ২৩ শতাংশ নির্যাতনই হয়েছে পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের হাতে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাইরে সরকারি কর্মকর্তাদের হাতে ১১ শতাংশ আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালে রাষ্ট্রযন্ত্রের বাইরে সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে ৬৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের হাতে ৩৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ ঘটনা ঘটেছে। ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৪ সালে সাংবাদিকদের হয়রানির পরিমাণ বেড়েছে ১০৬ শতাংশ। হয়রানির মধ্যে মানহানির দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলাও রয়েছে।
২০১৩ সালে হয়রানির ঘটনা ছিল ৩৩টি; ২০১৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮টিতে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ১০টি ফৌজদারি মামলা হয়েছে। ২০১৪ সালে মোট ২১৩ জন সাংবাদিক ও আটজন ব্লগার বিভিন্নভাবে আক্রমণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে চারজন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। গুরুতর জখম হয়েছেন ৪০ জন। আর শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৬২ জন সাংবাদিক। সম্পাদক, প্রকাশক, সাংবাদিক নেতাসহ ১৩ জন মিডিয়া ব্যক্তিত্বকে আদালত অবমাননার অভিযোগের মুখোমুখি করা হয়েছে। গত বছর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ঘটা সহিংস ঘটনার একটিরও বিচার বা শাস্তি হয়নি। মাত্র পাঁচটি ঘটনার তদন্ত শেষ করা হয়েছে। ২৭ শতাংশ ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়াধীন। প্যারিসভিত্তিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস-এর ২০১৪ সালের সংবাদপত্রের স্বাধীনতার বৈশ্বিক সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৬। ভারত, ভুটান, নেপাল ও মালদ্বীপের অবস্থানও আমাদের ওপরে!
এই হচ্ছে বাস্তবতা! তথ্যমন্ত্রীর দাবি এবং ওপরের বাস্তবতাগুলো মিলিয়ে নিলেই দেখা যায়, বাংলাদেশে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কতটা স্বাধীন। প্রকৃত প্রস্তাবে আইনের অস্পষ্টতা ও দুর্বলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাংবাদিক ও অনলাইনের কর্মীদের হয়রানির সুযোগ পায়। যেমন, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় সুস্পষ্টভাবে অপরাধকে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। ফলে অনেক ক্ষেত্রে অনলাইনে নির্দোষ প্রচারণার কারণেও সাংবাদিক ও অনলাইন লেখকেরা আইনি হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বিচারহীনতার কারণে রাষ্ট্রযন্ত্র, এমনকি রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা অনেক সময় সহিংসতা ও আক্রমণের ঘটনা ঘটান। বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর অযাচিত আক্রমণ, সহিংস ঘটনার তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি বর্তমানে গণমাধ্যমের কর্মীদের জন্য চরম বাস্তবতা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ কারণে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য কার্যকর সুরক্ষা কৌশল ও নীতিমালা করা দরকার; পাশাপাশি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইন, মানহানি ও আদালত অবমাননাসংক্রান্ত আইনকে মত প্রকাশের স্বাধীনতাবিষয়ক আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করাও জরুরি।
গণতন্ত্রের জন্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কেন দরকার? একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ নির্মাণে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অত্যন্ত জরুরি। লাতিন প্রবাদ বলছে, জনগণের কণ্ঠস্বরই ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর। গণতন্ত্রেরই অন্যতম অনুষঙ্গ তাই মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা। কোনো রাষ্ট্র যদি নিজেকে গণতান্ত্রিক দাবি করে, তবে সেখানে গণমাধ্যমের নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা থাকতেই হবে। যে গণমাধ্যম সরকারের সমালোচনা করবে সেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আবার সেই সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে। অনেকটা সংসদে বিরোধী দলের অবস্থানের মতো, তারা সংসদে সরকারের কাজের সমালোচনা বা বিরোধিতা করবে, তারা যেন সংসদে তা সুষ্ঠুভাবে করতে পারে, সেই সুযোগ সরকারি দলকেই নিশ্চিত করতে হবে।
‘আমি তোমার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে পারি, কিন্তু তোমার কথা বলতে দেওয়ার জন্য আমি আমার জীবন দিতে পারি’—ভলতেয়ারের এই উক্তিই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির মৌল চেতনা। এই চেতনার চর্চার ভেতরেই লুক্কায়িত থাকে গণতন্ত্রের প্রাণভোমরা। গণমাধ্যম নাগরিকদের বহুমুখিন যোগাযোগের পাটাতনটি তৈরি করে দেয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র মানে যেহেতু খোলা সমাজ, তাই মানুষকে এখানে বহু স্তরে, বহু পর্যায়ে, বহু ধরনের তথ্য আদান-প্রদান করতে হয়। গণমাধ্যম মানুষের জন্য তথ্য পাওয়ার বৃহত্তর সুযোগ তৈরি করে দেয়। সরকারকে চোখে চোখে রাখার মধ্য দিয়ে ‘গণতন্ত্রের প্রহরী’র ভূমিকা পালন করে। গণমাধ্যম পাবলিক ডিবেট উসকে দেয়, পলিসি এজেন্ডা নির্ধারণ করে, নাগরিক মতামতের ফোরাম তৈরি করে, যেখানে জনগণ রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে তাদের ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়। দুর্নীতির ওপর সার্চলাইট ফেলে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। অজ্ঞতা ও ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি না করে জনগণ রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞাত হয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে পারে। সচেতন ভোটাররা তখন খারাপ শাসককে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে পারেন। গণমাধ্যম প্রতিনিয়ত জনপরিসর বাড়িয়ে রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে সেতু গড়ে।
রোবায়েত ফেরদৌস: সহযোগী অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
robaet.ferdous@gmail.com

পুরুষসঙ্গীর সঙ্গেই সংসার পাতলেন লুক্সেমবার্গের সমকামী প্রধানমন্ত্রী

গেল বছর আগস্টেই বিয়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, সমকামী সঙ্গীর সঙ্গেই সংসার পাতবেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তাই-ই করলেন। পুরুষসঙ্গীকেই বিয়ে করলেন লুক্সেমবার্গের সমকামী প্রধানমন্ত্রী জাভিয়ের বেটেল। বিশ্বে দ্বিতীয় ও দায়িত্ব পালনরত ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাষ্ট্রগুলোর নেতাদের মধ্যে তিনিই প্রথম সমলিঙ্গ-বিয়ে করলেন। শুক্রবার রাজধানী লুক্সেমাবার্গ সিটির টাউন হলে এক অনাড়ম্বর পারিবারিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাভিয়ের তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী গাউথিয়ের ডেসটেনেয়কে বিয়ে করেন।
এ সময় তাদের আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব এবং রাষ্ট্রীয় অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। গত বছর দেশটিতে সমলিঙ্গ-বিয়ে বৈধতা পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী জাভিয়েরই প্রথম এ ধরনের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন। তার সঙ্গী গাউথিয়ের পেশায় একজন স্থপতি। এর আগে ২০১০ সালে আইসল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জোহান্না সিগুরদারদোত্তির তার সমলিঙ্গের বান্ধবীকে বিয়ে করেন। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী জাভিয়ের সরকার গঠন করেন। আর এর মাধ্যমে লুক্সেমবার্গবাসী প্রথমবারের মতো একজন সমকামীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করে। বিয়ের আগে প্রধানমন্ত্রী জাভিয়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন, আইনপ্রণেতারা সমলিঙ্গ-বিয়ের অনুমোদন দিয়ে বিল পাস করলে তিনি তার সঙ্গী গাউথিয়েরকে বিয়ে করবেন। জাভিয়েরের আগে বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এলিও ডি রুপো ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম স্বীকৃত সমকামী রাষ্ট্রনেতা। তবে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হননি। ১৯৯০ সাল থেকেই নিজেকে সমকামী হিসেবে পরিচয় দেন রুপো। নববিবাহিত সঙ্গীকে নিয়ে অচিরেই মধুচন্দ্রিমায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী জেভিয়ের বেটেল, তবে কাজাখস্তানে এক অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দেয়ার শিডিউল থাকায় এখনই হচ্ছে না সেই কাক্সিক্ষত মধুচন্দ্রিমা। উল্লেখ্য, লুক্সেমবার্গের উপপ্রধানমন্ত্রী এটিনে সিনেয়ডারও সমকামী। বিবিসি, ডেইলি মেইল, রয়টার্স।

ভাষণ ব্যবসায় ক্লিনটন দম্পতির আয় ২৪০ কোটি!

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং তার স্ত্রী হিলারি ক্লিনটন শুধু ভাষণ দিয়ে আয় করেছেন আড়াই কোটি ডলার। আর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন নিয়ে হিলারি ক্লিনটনের আত্মজীবনী ‘হার্ড চয়েস’ থেকে আয় করেছে ৫০ লাখ ডলার। সব মিলিয়ে গত ১৬ মাসে তাদের আয় তিন কোটি ডলারের বেশি আয় করেছেন। এ আয়ের একটি বড় অংশই এসেছে ১০০টি বক্তৃতা থেকে। বিভিন্ন ব্যাংক বীমা ও কর্পোরেট কোম্পানিগুলোই ভাষণ দিয়েই ক্লিনটন দম্পতি আয় করেছে ৩ কোটি ডলারের বেশি (২৪০ কোটি টাকা) যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনে শুক্রবার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে এ তথ্য দিয়েছেন হিলারি। নিয়মানুয়ায়ী, ২০১৬ সালের অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক সব প্রার্থীকে ব্যক্তিগত আয়-ব্যয়ের তথ্য দিতে হয়েছে।এতে ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে আয়-ব্যয়ের তথ্য দিয়েছেন তারা। হিলারির দাখিল করা প্রতিবেদনে দেখা যায়,
গত ১৬ মাসে বক্তৃতা করে ক্লিনটন দম্পতি ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা প্রায় ২০০ কোটি টাকা বাংলাদেশী মুদ্রা আয় করেছেন। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে, বিশেষ করে আর্থিক শিল্পের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নিয়ে বক্তৃতা দেয়ার জন্য সমালোচিত হচ্ছেন জনপ্রিয় এ রাজনীতিক দম্পতি। প্রতিটি বক্তৃতার জন্য হিলারি ক্লিনটন ২ লাখ ডলার বা প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা, কখনো কখনো এর চেয়ে বেশি অর্থও, নিয়ে থাকেন। বিল ক্লিনটনও একই পরিমাণ অর্থ নেন। তবে ২০১২ সালে নাইজেরিয়ার লাগোসে একটি কোম্পানিতে বক্তৃতা দিয়ে বিল ক্নিনটন নিয়েছিলেন ৭ লাখ ডলার। এছাড়া বিল ক্লিনটনের ৭০টি সম্মানি ভাতা রয়েছে। সম্পদের বিবরণীতে জানানো হয় যে হিলারির পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন ঘটনাবলী নিয়ে তার লেখা বই ‘হার্ড চয়েসেস’ থেকে এখন পর্যন্ত আয় হয়ছে অর্ধ কোটি ডলার বা প্রায় ৪০ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, গতবছর হিলারি ক্লিনটন দাবি করেন, ২০০১ সালে বিল ক্লিনটন হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় দুজনার কারো কাছেই কোনো টাকা ছিল না। নিউইয়র্ক টাইমস।