Saturday, June 1, 2019

কী করতে চান, অমিত শাহ প্রথম দিনেই জানালেন by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

নরেন্দ্র মোদি মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য গত শুক্রবার দায়িত্বভার গ্রহণ করলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নতুন দায়িত্ব নিলেন আজ শনিবার দুপুরে। সাদা পাঞ্জাবির ওপর হাল্কা নীল রংয়ের জ্যাকেট পরে ৫৪ বছরের এই ‘স্ট্রং ম্যান’ নর্থ ব্লকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসেন আজ বারবেলা কাটিয়ে। তাঁকে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব রাজীব গৌবা ও অন্যান্য পদস্থ আমলারা।
অমিত শাহর সঙ্গেই আজ কাজে যোগ দিলেন তাঁরই দুই প্রতিমন্ত্রী তেলেঙ্গানার সেকেন্দ্রবাদ থেকে জয়ী জি কিষাণ রেড্ডি এবং বিহারের উজিয়ারপুর কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত নিত্যানন্দ রাই যাদব। দুজনেই অমিত শাহর অতি ঘনিষ্ঠ। সেই অর্থে একান্ত অনুগত ও বিশ্বস্তদের সঙ্গী করে অমিত শাহ শুরু করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে তাঁর পথ চলা।
প্রথম দিনেই অমিত শাহ মন্ত্রণালয়ের আমলাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন ঠিক কী তিনি করতে চান। মন্ত্রণালয় সূত্রে খবর, আনুষ্ঠানিকতার পর পদস্থ কর্তাদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকেই তিনি বলেন, দলের নির্বাচনী ইশতেহারে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত যে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া আছে, প্রতিটি অক্ষরে অক্ষরে তিনি পালন করবেন। বৈঠকে তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থের সঙ্গে তাঁদের সরকার কোনোরকম আপস করবে না। তাঁরা প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার পালন করবেন বলেই দেশের মানুষ তাঁদের প্রতি ভরসা রেখেছেন।
প্রথম বৈঠকে অমিত শাহর এই মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়ে গেছে। জল্পনা প্রধানত চারটি বিষয়কে কেন্দ্র করে। ১) আসামের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সহ অন্যত্র জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন তৈরি (এনআরসি)। ২) নাগরিকত্ব সংশোধন বিল পাশ করা। ৩) জম্মু–কাশ্মীরের জন্য বিশেষ সাংবিধানিক রক্ষাকবচ ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার এবং ৪) কাশ্মীরের জন্য ভারতীয় সংবিধানের ৩৫(ক) ধারা বাতিল। নির্বাচনী ইশতেহার, বিজেপি যাকে ২০১৯ সালের নির্বাচনের ‘সংকল্প পত্র’ বলেছে, তাতে এই চারটি বিষয় কার্যকর করার কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, অমিত শাহ জোর দিলেও এই প্রতিশ্রুতিগুলো কার্যকরের চেষ্টা আদৌ করা হবে নাকি প্রতিশ্রুতিগুলো নিতান্তই কাগজে–কলমে থেকে যাবে তা নিয়ে।
শুধু সংকল্প পত্রেই এই বিষয়গুলোর উল্লেখ করা নয়, নির্বাচনী প্রচারে নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ বারবার এই চার বিষয়ের উল্লেখ করেছেন। জম্মু–কাশ্মীরে উল্লেখ করেছেন ৩৭০ ও ৩৫(ক) ধারা বাতিলের, পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম সহ গোটা উত্তর–পূর্ব ভারতে বলেছেন জেতার পর সব রাজ্যে এনআরসি তৈরি করা হবে। পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ারে এবারের নির্বাচনী জনসভায় শাহ বলেন, ‘ক্ষমতায় এলে আমরা পশ্চিমবঙ্গেও এনআরসি চালু করব। সব অনুপ্রবেশকারীকে তাড়িয়ে বিদায় করব। তবে আমরা দেখব, হিন্দু শরণার্থীরা যেন নিরাপদ থাকেন।’ একাধিক জনসভায় তিনি ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ তুলনা করেছিলেন ‘উইপোকা’র সঙ্গে। বলেছিলেন, ‘সবাইকে আমরা দেশ থেকে তাড়াব, কেননা, এদের জন্য প্রকৃত নাগরিকদের ভোগান্তির শেষ নেই।’
সংবিধানের ৩৭০ ধারা জম্মু–কাশ্মীরকে পৃথক মর্যাদা দিয়েছে। এই ধারা জম্মু–কাশ্মীরকে আলাদা পতাকা ও সংবিধান দিয়েছে। ‘দেশের একতা ও অখন্ডতার স্বার্থে’ এই ধারা প্রত্যাহারের দাবি সেই জনসংঘের আমল থেকেই। ৩৫(ক) ধারায় নির্ধারিত জম্মু–কাশ্মীরের প্রকৃত স্থায়ী নাগরিক কারা। ওই ধারায় প্রকৃত নাগরিক ছাড়া অন্য কারো ওই রাজ্যে জমি কেনার অধিকার নেই। বিজেপি মনে করে, এই ধারাও ওই রাজ্যের মানুষজনের স্বার্থ পরিপন্থী। জম্মু–কাশ্মীরের রাজনৈতিক দল পিডিপির সঙ্গে জোট বেঁধে কিছুদিন সরকার চালিয়েছিল বিজেপি। যতদিন তারা সরকারে ছিল ততদিন এই দুই বিষয়ের উপস্থাপনা তারা করেনি। এখন নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই বিষয়ে জোর দিলেও তা কতখানি কার্যকর হবে সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠছে।
আসামে এনআরসি তৈরি করা হচ্ছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। ১৯৮৫ সালের আসাম চুক্তিতে এই নাগরিক নিবন্ধন তৈরির কথা ছিল। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্যগুলোয়, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে, বিজেপি এই নাগরিক নিবন্ধনকে বড় নির্বাচনী ইস্যু করে তুলেছে। একই সঙ্গে জোর দিয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধন বিলের ওপর। এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ‘অত্যাচারিত হয়ে চলে আসা অ–মুসলমান নাগরিকদের’ ভারতীয় নাগরিকত্ব দিতে চায় বিজেপি। এই বিষয়ে আপত্তি অধিকাংশ অ–বিজেপি দলের। অ–বিজেপি দলগুলো এ নিয়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বারবার বলেছে, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নাগরিকদের হুমকির মুখে ফেলতে পারে। কিন্তু বিজেপি তাদের সিদ্ধান্তে অনড়।
এনআরসি ও নাগরিকত্ব বিল নিয়ে বাংলাদেশের ‘দুশ্চিন্তা’ দূর করতে সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার বলা হয়েছে দুটিই ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ’ সমস্যা। সরকারি এই বক্তব্য সত্ত্বেও দলগতভাবে বিজেপির শীর্ষ নেতারা বারবার ‘অ–নাগরিকদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে ফেরত পাঠানোর’ কথা বলে চলছেন। অমিত শাহও বলেছেন। যদিও কোথায় ফেরত পাঠানো হবে তা বলা হচ্ছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে প্রথম বৈঠকেই মন্ত্রণালয়ের কর্তাদের ‘সংকল্প পত্র’ কার্যকর করার কথা জোর দিয়ে বললেও কীভাবে ও কতটা সম্ভবপর সেই প্রশ্ন অতএব থেকেই যাচ্ছে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ হলে গোটা মধ্যপ্রাচ্য জ্বলবে: হিজবুল্লাহ মহাসচিব

লেবাননের হিজবুল্লাহ মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হলে সে আগুনে গোটা মধ্যপ্রাচ্য জ্বলবে। তিনি গত শুক্রবার রাতে কুদস দিবস উপলক্ষে এক ভাষণে এ কথা বলেন।
নাসরুল্লাহ বলেন, যুদ্ধ শুরু হলে তা ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং যুদ্ধের আগুন গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে গ্রাস করবে। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার গোয়েন্দা বাহিনী এটা ভালো করে জানে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পরিণতিতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ ও সেনাবাহিনী ধ্বংস হবে এবং সৌদি শাসক গোষ্ঠী ও ইহুদিবাদী ইসরাইলের মতো যারা আমেরিকার সঙ্গে সহযোগিতা করছে তাদেরকে যুদ্ধের পরিণাম ভোগ করতে হবে।
হিজবুল্লাহ মহাসচিব আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হলে আন্তর্জাতিক বাজারে এক ব্যারেল তেলের দাম হবে ২০০ থেকে ৩০০ ডলার এবং ট্রাম্প ২০২০ সালের নির্বাচনে হেরে যাবে। নানা কারণেই ইরানের সঙ্গে আমেরিকা যুদ্ধে যাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি প্রসঙ্গে নাসরুল্লাহ বলেন, ‘আমরা মিথ্যা বলি না। আমি আবারও গোটা বিশ্বের সামনে বলছি আমাদের কাছে লক্ষ্যে নিখুঁতভাবে আঘাত হানার মতো যথেষ্ট পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের চেহারা পরিবর্তন করে দেওয়া সম্ভব'। এ সময় তিনি ট্রাম্পের ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’-কে ফিলিস্তিনিদের অধিকার হরণের ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করে তা মোকাবেলার ঘোষণা দেন।

উ. কোরিয়া: ট্রামেপর সঙ্গে সম্মেলন ব্যর্থ হওয়ার দায়ে পাঁচ কর্মকর্তাকে হত্যা

গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রামপ ও উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের মধ্যে অনুষ্ঠিত সম্মেলন ব্যর্থ হওয়ার দায়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বিশেষ দূতসহ পাঁচ কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে উত্তর কোরীয় কর্তৃপক্ষ। মার্চেই তাদের মেরে ফেলা হয় বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরীয় একটি পত্রিকা। তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়েছিল। এ খবর দিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
ফেব্রুয়ারিতে ভিয়েতনামের রাজধানী হানোইয়ে দুই নেতার মধ্যে কোরীয় উপদ্বীপের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে দ্বিতীয় দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু আলোচনায় কোনো চুক্তিতে সম্মত হতে পারেনি দুই পক্ষ।
দক্ষিণ কোরীয় পত্রিকা চসুন ইলবো জানিয়েছে, সম্মেলনের ওই ব্যর্থতার দায়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বিশেষ দূত কিম হিয়ক চল ও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মেরে ফেলা হয়েছে। তবে গার্ডিয়ান জানিয়েছে স্বতন্ত্রভাবে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। উত্তর কোরীয় কর্মকর্তারা, পত্রিকাটির দাবি অস্বীকার করেনি তবে স্বীকারও করেনি।
যদিও পূর্বে এরকম প্রতিবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেছে দেশটির কর্মকর্তারা। এদিকে, দক্ষিণ কোরীয় সরকারও তথ্যটির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।
উত্তর কোরিয়ার নাম অনুল্লিখিত এক সূত্রের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি আরো জানায়, সম্মেলনের পর কিম হিয়ক চলের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো হয়। পরবর্তীতে মিরিম বিমানবন্দরে তাকে ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরো চার কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়েছিল।
এদিকে, সম্মেলনের পূর্বে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে কিম জং উনের প্রতিনিধি ছিলেন কিম ইয়ং চল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পমেপওর সঙ্গে সকল আলোচনা তিনিই করতেন। তাকেও দেয়া হয়েছে কঠোর শাস্তি। আদর্শগত শিক্ষা ও জোরপূর্বক শ্রমদানের শিকার হয়েছেন তিনি। তাকে জাগাং প্রদেশে মজুরি খাটার নির্দেশ দেয়া হয়।
অন্যদিকে, কিম হিয়ক চলের এক সহকারী কিম সং হিয়েকে পাঠানো হয় রাজনৈতিক বন্দি শিবিরে। হানোইয়ে কিম জং উনের দোভাষী হিসেবে কাজ করা শিন হিয়ে-ইয়ংকেও পাঠানো হয়েছে বন্দি শিবিরে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি এমন একটি অনুবাদ করেছেন যেটিতে কিমের আধিপত্য কম বোঝা গেছে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে কিমের চাচা ও গুরু জ্যাং সং-থায়েককে হত্যার পর সরকারি নির্দেশে হওয়া প্রথম হত্যাকাণ্ড এটি। খুব সামান্য কারণে উত্তর কোরিয়ায় কাউকে মেরে ফেলার নির্দেশ দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে পূর্বে। কিম জং উনের প্রতি অসম্মান প্রকাশের দায়েও অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন। ২০১৬ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে এক বৈঠকে ঘুমিয়ে পড়ার কারণে মেরে ফেলা হয়। এর এক বছর আগে উত্তর কোরিয়ার সাবেক এক প্রতিরক্ষা বিষয়ক প্রধানকেও এক সামরিক সমাবেশ চলার সময় ঘুমানোর কারণে মেরে ফেলা হয়।

আবারও সোনিয়া গান্ধী

আবারো কংগ্রেস পার্লামেন্টারি পার্টির (সিপিপি) চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়েছেন সোনিয়া গান্ধী। সদ্য অনুষ্ঠিত লোকসভার নবনির্বাচিত ৫২ জন দলীয় সদস্য তাকে এ পদে পুনঃনির্বাচিত করে। পার্লামেন্টের সেন্ট্রাল হলে নিজ দলের রাজ্যসভার সদস্যরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। 
উত্তর প্রদেশের রায়বেরেলি থেকে নির্বাচিত সোনিয়া গান্ধী। তিনি একই সঙ্গে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্সের (ইউপিএ) চেয়ারপারসন। তিনি সিপিপির বৈঠকে বক্তব্যে ১২ কোটি ১৩ লাখ ভোটারকে ধন্যবাদ জানান, যারা কংগ্রেস পার্টির প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন আবারও। সোনিয়া গান্ধীর এই বক্তব্যের বিষয়ে টুইট করেছেন কংগ্রেস নেতা রণদীপ সিং সুর্য্যওেয়ালা।
বৈঠকে সিপিপির চেয়ারপারসন হিসেবে সোনিয়া গান্ধীর নাম উত্থাপন করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। তার প্রস্তাব সমর্থন করেন ঝাড়খন্ডের এমপি জ্যোতিমানি এস এবং কেরালার এমপি কে সুধাকরণ।  এরপর বক্তব্যে লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধীর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন সোনিয়া। তিনি বলেন, রাহুলের নেতৃত্বে দল নতুন উদ্যম পেয়েছে। তিনি আরো জানান, ৫২ জন এমপি নিয়েই লোকসভায় তার দল আন্তরিক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে এবং জনসম্পৃক্ত ইস্যুগুলো সামনে তুলে ধরবে।
সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেস পার্লামেন্টারি পার্টির নেত্রী নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়ে টুইট করেছেন তার ছেলে ও দলীয় সভাপতি রাহুল গান্ধী। তিনি টুইটে বলেছেন, কংগ্রেস পার্লামেন্টারি পার্টির নেত্রী নির্বাচিত হওয়ায় আপনাকে অভিনন্দন শ্রীমতি সোনিয়া গান্ধী। আপনার নেতৃত্বে কংগ্রেস শক্তিশালী ও কার্যকর বিরোধী দলের প্রমাণ দেবে। এই দল ভারতের সংবিধান রক্ষার পক্ষে লড়াই করবে।
ওই বৈঠকে পার্লামেন্টের আসন্ন অধিবেশনে দলীয় কৌশল কি হবে তাও নির্ধারণ করেছে। লোকসভা নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর ২৫ মে দলের সেন্ট্রাল ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক হয়। তারপর এটাই হলো দলীয় প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

ইরানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাল ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস

হামাসের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ইসমাইল রেদোয়ান
ফিলিস্তিনি জাতির প্রতিরোধ সংগ্রামের প্রতি সমর্থন জানানোর জন্য ইরানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস। হামাসের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ইসমাইল রেদোয়ান শুক্রবার গাজায় এক বক্তৃতায় এ কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে বছরের একটি দিনকে ‘বিশ্ব কুদস দিবস’ হিসেবে নামকরণের পাশাপাশি ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগ্রামীদের আর্থিক, নৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা দেয়ার জন্য ফিলিস্তিনি জাতি ইরানের প্রতি কৃতজ্ঞ। 
রেদোয়ান বলেন, এ বছরের বিশ্ব কুদস দিবসের শোভাযাত্রায় লক্ষ-কোটি মুসলমান অংশগ্রহণ করে সেইসব আরব নেতাদের প্রতি চপেটাঘাত করেছেন যারা দখলদার ইসরাইল সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে উঠেপড়ে লেগেছেন।
এর আগে হামাসের মুখপাত্র সামি আবুজুহরি এক বক্তৃতায় বলেছিলেন, যে বিষয়টি মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে ইরানের পার্থক্য করে দিয়েছে তা হলো ফিলিস্তিনি জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি তেহরানের সুস্পষ্ট ও নীতি নির্ধারণী অবস্থান গ্রহণ।
১৯৭৯ সালে ইরানের ইমাম খোমেনী (রহ.) ফিলিস্তিন ও মুসলমানদের প্রথম কিবলাকে মুক্ত করতে রমযানের শেষ শুক্রবারকে 'আল-কুদস দিবস' হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই থেকে প্রতিবছর আল-কুদস দিবস পালন করা হচ্ছে।
হামাসের মুখপাত্র সামি আবুজুহরি

ভারতে ৫৮ জনের মন্ত্রিসভায়: ৯০ শতাংশ মন্ত্রীই কোটিপতি- নতুন মুখ ২৩

ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ৫৮ জনের নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছে। এই নতুন মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ ২৩ জন। আর নারী মন্ত্রী হয়েছেন মাত্র ৬ জন। প্রথম সংসদ সদস্য হয়েই মন্ত্রী হয়েছেন ৬ জন। এর মধ্যে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের রায়গঞ্জ থেকে নির্বাচিত দেবশ্রী চৌধুরী। গতবার এই সংখ্যাটি ছিল ৮ জন। মন্ত্রিসভায় সংখ্যালঘু মুখ মাত্র ১ জন। তিনি হলেন মুক্তার আব্বাস নকভি।
তিনি গতবারও মন্ত্রী ছিলেন। এবারের মন্ত্রিসভায় সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সংসদ সদস্যদের থেকে ১৯ শতাংশকে মন্ত্রী করা হচ্ছে। গতবার ছিল ১৭.৪ শতাংশ। এবারের মন্ত্রীদের মধ্যে ৫৩ জনই বিজেপির, একজন সাবেক কূটনীতিবিদ। শরিক দলগুলো থেকে এবার মাত্র ৪ জন মন্ত্রী হয়েছেন। এনডিএ-র শরিক দলগুলোর মধ্যে সংযুক্ত জনতা দল, এডিএমকে ও আপনা দল এবারের মন্ত্রিসভায় যোগ দিতে রাজি হয়নি।  গত মন্ত্রিসভার হেভিওয়েট মন্ত্রী  হিসেবে পরিচিত সাবেক অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ অসুস্থতার কারণে মন্ত্রিসভায় আসতে রাজি হন নি। তবে বাদ পড়েছেন মানেকা গান্ধী, সুরেশ প্রভু, জয়ন্ত সিনহা, রাজ্যবর্ধন রাঠোরে, জুয়েল ওরাঁও, মহেশ শর্মা, রাধা মোহন সিং, অনুপ্রিয়া প্যাটেল ও জেপি নাড্ডার মতো হেভিওয়েটরা। অবশ্য জেপি নাড্ডাকে বিজেপির সভাপতি করার ভাবনা চিন্তা চলছে বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী গত মন্ত্রিসভার ৪৪ শতাংশ মন্ত্রীকেই বাদ দিয়েছেন।
জানা গেছে, জাতপাতের অঙ্ক ও আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রেখেই মন্ত্রিসভার সদস্য বাছাই করা হয়েছে। তবে আগামী দিনে মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা আরো বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল। ২০১৪ সালে মোদি প্রথম সরকার গঠন করেছিলেন ৪৬ জনকে নিয়ে। এর মধ্যে পূর্ণমন্ত্রী ছিলেন ২৪ জন, স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন ১০ জন এবং প্রতিমন্ত্রী ছিলেন ১২ জন। পরে অবশ্য মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পেয়ে ৭১-এ পৌঁছেছিল। এবার ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী, ৯ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছে। তবে লোকসভার সদস্য সংখ্যার বিচারে মন্ত্রিসভার আয়তন ৮১ পর্যন্ত (১৯ শতাংশ) বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। এবারের মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে বেশি মন্ত্রী হয়েছেন হিন্দি বলয় বলে পরিচিত রাজ্যগুলো থেকে। মোট ৩১ জন এই হিন্দি বলয় থেকে মন্ত্রী হয়েছে। আর রাজ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মন্ত্রী হয়েছেন উত্তর প্রদেশ থেকে ৯ জন।
এরপরেই বেশি মন্ত্রী হয়েছেন মহারাষ্ট্র থেকে ৮ জন। এবারের মন্ত্রিসভায় ১৫টি রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই। জানা গেছে, মন্ত্রিসভার সদস্যদের ৯০ শতাংশই কোটিপতি। সবচেয়ে ধনী মন্ত্রী হলেন হরসিমরাত কাউর বাদল। তার সম্পদের পরিমাণ ২১৭.৯ কোটি রুপি। আর সবচেয়ে গরিব মন্ত্রী হলেন প্রতাপ চন্দ্র সারেঙ্গি। তার সম্পদের পরিমাণ মাত্র ১৩ লাখ রুপি। মন্ত্রিসভার সবচেয়ে কনিষ্ঠতম সদস্য হলেন ৩৫ বছরের  কৈলাশ চৌধুরী এবং সবচেয়ে প্রবীণ মন্ত্রী হলেন ৭২ বছরের রামবিলাস পাশোয়ান। মন্ত্রিসভার মাত্র ১০ জন মন্ত্রীর বয়স ৫০ বছরের নিচে। বাকিদের বয়স ৫১ থেকে ৭২ বছরের মধ্যে। রামবিলাস পাশোয়ান ১০ বার সংসদ সদস্য হয়ে রেকর্ড করেছেন। অন্যদিকে সন্তোষ গাঙ্গোয়ার ৭ বার সংসদ সদস্য হয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি ভবনের সামনে এক রাজকীয় অনুষ্ঠানে প্রায় ৮ হাজার অতিথির উপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সকলকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন।

নির্বাচনি জোটগুলোর খবর কী? by আদিত্য রিমন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে ছোটবড় বেশ কয়েকটি জোট হয়েছিল। এসব জোট গঠনের কেন্দ্রে ছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এই দুই দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেয়। তবে নির্বাচনের পর জোটগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে। কোনও কোনও জোটে স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও টানাপড়েন শুরু হয়েছে।
৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে ছয়টি রাজনৈতিক জোট গঠিত হয়। এগুলো হলো- ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট, বাম গণতান্ত্রিক জোট, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট, মিছবাহুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স, নাজমুল হুদার নেতৃত্বাধীন জাতীয় জোট (বিএনএ)।
এর বাইরে আটটি জোট ছিল। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট রয়েছে। ছিল বাম মোর্চা ও সিপিবি-বাসদ জোট। এছাড়া বিভিন্ন সময় গঠিত হয়েছে এরশাদের নেতৃত্বে সম্মিলিত জাতীয় জোট, জাকির হোসেনের নেতৃত্বে প্রগতিশীল জোট, শেখ ছালাউদ্দিন ছালুর নেতৃত্বে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট, আলমগীর মজুমদারের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক জোট।
আর্দশ, লক্ষ্যহীন ও স্বার্থকে কেন্দ্র করে গঠিত এসব নির্বাচনি জোট শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন সামনে রেখে সুযোগ-সুবিধার আশায় অনেক জোট গঠন হয়। ভুঁইফোড়, কর্মী-সংগঠনবিহীন ব্যক্তিরা জোট গঠন করে বড় দলগুলোর কাছে ঘেঁষতে চায়। নির্বাচন হয়ে গেলে তরা সটকে পড়েন। ব্যস্ত হয়ে যান নিজেদের কাজে।
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘নির্বাচনের হালুয়া রুটি ভাগের আসায় ভুঁইফোড়, কর্মী-সংগঠনবিহীন ব্যক্তিরা জোট গঠন করেন। নির্বাচন শেষে এই জোটর মধ্যে টানাপড়েন শুরু হয়ে যায়। কারণ এসব জোটের কোনও আর্দশ, লক্ষ্য থাকে না।’
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের মধ্যে টানাপড়েন
নানান চড়াই-উতরাইয়ের পর একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বিএনপি, গণফোরাম, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে এই জোট গঠন হয়। জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করে তারা। কিন্তু নির্বাচনে ভরাডুবির পর বিভিন্ন ইস্যুতে জোটের শরিকদের মধ্যে টানাপড়েন শুরু হয়। বিএনপির শীর্ষ দুই নেতা জোটের বৈঠকে যাওয়া বন্ধ করে দেন। সর্বশেষ সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণকে কেন্দ্র করে অনেকটা কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলেছে এই জোট।
নির্বাচনের দিন রাতেই ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান করেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। জোটের নির্বাচিত কোনও সদস্য শপথগ্রহণ করবে না বলেও জানান তারা। কিন্তু জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রথম শপথগ্রহণ করেন গণফোরাম থেকে নির্বাচিত সুলতান মোহাম্মদ মুনসুর। এরপর জোটের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন এবং মুখপাত্র বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘যারা শপথ নেবেন তারা জাতীয় বেঈমান।’ সুলতান মুনসুরকে জোট থেকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু ব্যতিক্রম ঘটে মোকাব্বির খানের সময়। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করেন ড. কামাল।
এরপর ২৫ এপিল শপথগ্রহণ করেন বিএনপির সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নেওয়ায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করে দলটি। কিন্তু ২৯ এপ্রিল শপথগ্রহণের শেষ দিন বিকালে চারজনকে শপথ নেওয়ার অনুমতি দেয় বিএনপি। ওই দিন রাতে সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তে বিএনপির চার জন শপথ নিয়েছেন।’ পরে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘তাদের সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল।’
চার সংসদ সদস্যকে শপথগ্রহণের অনুমতি দেওয়ায় জোটের শরিকরা ক্ষুব্ধ হয় বিএনপির ওপর। ফলে জোটের গণজমায়েত কর্মসূচিও বাতিল করা হয়। রমজানে ইফতার মাহফিল করার কথা থাকলেও তাও হচ্ছে না। এছাড়া জোটের নানা অসঙ্গতির সমাধান করা না হলে ৮ জুন জোট ছাড়ার ঘোষণা দেন কাদের সিদ্দিকী।
জোটের সার্বিক বিষয় নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে জোটের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা রয়েছে। এই কারণে জোট ঘোষিত কর্মসূচিগুলো বাতিল করা হয়েছে। আমরা এখন সবাই নিজ নিজ দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত আছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আশা করি ঈদের পর জোটের বৈঠক করে কীভাবে সামনের দিকে এগোনো যায় সেসব নিয়ে কথা বলবো।’
নিষ্ক্রিয় যুক্তফ্রন্ট
বিকল্পধারার চেয়ারম্যান বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিএনপিকে ১৫০ আসন এবং জামায়াত ছাড়ার শর্ত দিলে তাদের বাদ গঠিত হয় ঐক্যফ্রন্ট। এরপর বি. চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত হয় যুক্তফ্রন্ট। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করে জোটটি। নির্বাচনে বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান ও যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরী নির্বাচিত হন।
যুক্তফ্রন্টের দলগুলো হলো, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, বিএলডিপি (সভাপতি নাজিম উদ্দিন আল আজাদ), বাংলাদেশ ন্যাপ (সভাপতি জেবেল রহমান গানি), এনডিপি (চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তুজা), জাতীয় জনতা পার্টির (সভাপতি শেখ আসাদুজ্জামান), বাংলাদেশে জাতীয় পার্টি (সভাপতি অধ্যক্ষ মতিন), গণসাংস্কৃতিক দল (সভাপতি সর্দার শামস আল মামুন), বাংলাদেশ জনতা লীগ (সভাপতি ওসমান গণি বেলাল), বাংলাদেশ শরীয়া আন্দোলন (সভাপতি মাসুম বিল্লাহ) ও বাংলাদেশ লেবার পার্টি।
যুক্তফ্রন্টের শরিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই জোট গঠন করে লাভবান হয়েছে বিকল্পধারা। কারণ জোটের মধ্যে ১০টি দল থাকলেও বিকল্পধারার নেতারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছে শুধু নিজেদেরটা। এই কারণে আওয়ামী লীগ বিকল্পধারাকে দু’টি আসনে ছাড় দিয়েছে। অন্য কোনও দলের নেতাদের ছাড় দেয়নি। এই নিয়ে জোটের শরিকরা মনক্ষুণ্নও হয়। এসব কারণে জোট শরিকরা নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। রাজনৈতিক কার্যক্রম বাদ দিয়ে সবাই ব্যস্ত নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্যে।
বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য শমসের মবিন চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আপাতত জোটের কোনও কর্মসূচি নেই। রমজান মাস, সবাই এই নিয়ে ব্যস্থ আছে। ঈদের পরে জোটের শরিকদের সক্রিয় করা চেষ্টা করা হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জোটের সব দলের চাওয়া-পাওয়া তো পূরণ করা সম্ভব নয়। ফলে যাদের চাওয়া পূরণ হবে না তাদের মন খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক।’
কোথাও নেই বিএনএ
বিএনপির সাবেক নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার নেতৃত্বে নির্বাচনের আগে গঠিত হয় বাংলাদেশ জাতীয় জোট (বিএনএ)। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটগতভাবে নির্বাচন করারও ইচ্ছাও জানান তারা। ঢাকা-১৭ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্রও কেনেন তিনি। কিন্তু আওয়ামী লীগ তাকে মনোনয়ন দেয়নি। বর্তমানে দলটির কোনও কার্যক্রম নেই। আওয়ামী লীগও তাদের কোনও কর্মসূচিতে তাদের ডাকে না।
নাজমুল হুদা বলেন, ‘আপাতত আমাদের জোটের কোনও কর্মসূচি নেই। জোটও সক্রিয় নেই। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট কোনও অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিলে যাই। আগামীতে জোটকে সক্রিয় করার চিন্তা আছে।’
এই জোটের দলগুলো হলো- তৃণমূল বিএনপি, গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স, সম্মিলিত ইসলামিক জোট, কৃষক শ্রমিক পার্টি, একামত আন্দোলন, জাগো দল, ইসলামিক ফ্রন্ট ও গণতান্ত্রিক জোট। এর আগে ২০১৫ সালে নাজমুল হুদার নেতৃত্বে ২৫ দলীয় জোট বাংলাদেশ জাতীয় জোট (বিএনএ) গঠিত হলেও তা কিছুদিন পরই ভেঙে যায়।
ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স জোট থেকে দলে পরিণত
একাদশ নির্বাচন সামনে রেখে ১৫টি ইসলামি দল মিলে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স জোট গঠিত হয়। নির্বাচনে এই জোট ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে। যদিও এই জোট থেকে কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হননি। কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ার চার মাসের মাথায় এই জোট ভেঙে একটি দলে পরিণত হচ্ছে। আগামী ২৫ মে সম্ভাব্য ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টি (আইডিপি) নামে দলটির আত্মপ্রকাশ হবে। বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরীকে চেয়ারম্যান, সাবেক সংসদ সদস্য এমএ আউয়ালকে কো-চেয়ারম্যান ও মুখপাত্র এবং অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম মহাসচিব হিসেবে নতুন দলের দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানা গেছে।
ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স মুখপাত্র এমএ আউয়াল বলেন, ‘আমাদের জোট ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। তবে জোটের মধ্যে থাকা সব দল মিলে একটি দল করা হচ্ছে। আগামী ২৫ মে নতুন দলের ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।’
ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স জোটভুক্ত দলগুলো হলো, মিছবাহুর রহমান চৌধুরীর বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট, নুরুল ইসলাম খানের গণতান্ত্রিক ইসলামিক মুভমেন্ট, এমএ রশিদ প্রধানের বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি, হাসরত খান ভাষানীর বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ন্যাপ (ভাষানী গ্রুপ), রুমা আলীর বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট, মাওলানা শাহ মোস্তাকিম বিল্লাহ ছিদ্দিকীর বাংলাদেশ জমিয়তে দারুসসুন্নাহ, মাওলানা হারিছুল হকের বাংলাদেশ ইসলামী ডেমোক্রেটিক ফোরাম, হাকিম গোলাম মোস্তফার বাংলাদেশ গণকাফেলা, মুফতি ফখরুল ইসলামের বাংলাদেশ জনসেবা আন্দোলন, কাজী মাসুদ আহমদের বাংলাদেশ পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি, রেজাউল করিম চৌধুরীর বাংলাদেশ ইসলামী পেশাজীবী পরিষদ, মুফতি সৈয়দ মাহাদী হাসান বুলবুলের ইসলামী ইউনিয়ন বাংলাদেশ, খাজা মহিবুল্লাহ শান্তিপুরীর বাংলাদেশ মানবাধিকার আন্দোলন ও আব্দুল্লাহ জিয়ার ন্যাশনাল লেবার পার্টি। তবে নতুন দলে এখান থেকে আটটি দল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিভিন্ন ইস্যুতে সক্রিয় বাম গণতান্ত্রিক জোট
নির্বাচনি জোটগুলোর মধ্যে একমাত্র ব্যতিক্রমী বাম গণতান্ত্রিক জোট। এই জোটটি আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপি কারও সঙ্গে জোটভুক্ত হয়ে নির্বাচন করেনি। তারা নিজেদের ব্যানারে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। এখন পর্যন্ত এই জোটে ভাঙন বা টানাপড়েনের খবর পাওয়া যায়নি। তবে মাঠের রাজনীতিতে জোটটির সক্রিয়তা কিছুটা কমেছে।
নির্বাচনের পরে এই জোটটি প্রথম ‘নির্বাচনের কারচুপি’র ওপর গণশুনানি করে। পুনর্নির্বাচনের দাবিতে বেশ কয়েকটি আলোচনাসভাও করে। বর্তমানে তারা গ্যাস-বিদ্যুতের দামবৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং ধানের মূল্যবৃদ্ধির কর্মসূচি পালন করছে।
বাম গণতান্ত্রিক জোটের দলগুলো হলো, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী), গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন।
বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাইফুল হক বলেন, ‘আমাদের জোটের কর্মসূচি অব্যাহত আছে। পুনর্নির্বাচনের দাবিতে আগামীতে আরও কর্মসূচি দেওয়া হবে। এছাড়া তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের দামবৃদ্ধির প্রতিবাদেও আমরা কর্মসূচি পালন করছি।’
এর বাইরেও একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মহাজোটের সঙ্গী ছিল সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। কিন্তু নির্বাচনে পরে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের জোট ছেড়ে সংসদের বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে।
একাদশ সংসদে সরকারের মন্ত্রিসভায় ১৪ দলীয় জোটের কাউকে না রাখায় শরিকদের মধ্যে অসন্তুষ্টি দেখা দেয়। প্রকাশ্যে জোটের নেতারা এই নিয়ে বক্তব্য দেন। আর ২০ দলীয় জোটে ভাঙনের শুরু হয়। বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়াসহ বিভিন্ন কারণে গত ৭ মে জোট ছাড়ে আন্দালিভ রহমানের পার্থের দল বিজেপি। এছাড়া সম্মিলিত জাতীয় জোট নিষ্ক্রিয়। এই জোটের কোনও কার্যক্রম নেই।

প্রশাসক বসছেন সিলেট চেম্বারে by ওয়েছ খছরু

শেষ পর্যন্ত প্রশাসকই বসছেন সিলেট চেম্বারে। ৩০শে মে শেষ হয়ে গেছে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ। সুতরাং এখন সংকট কাটাতে হলে প্রশাসকই বসাতে হবে চেম্বারে। তবে- গতকাল পর্যন্ত এ ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি। এদিকে- সিলেট চেম্বারের এই শনির দশায় বেশির ভাগ ব্যবসায়ী অখুশি।
এজন্য তারা সিলেট চেম্বারের বিদায়ী সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদের বিতর্কিত ভূমিকাকে দায়ী করেছেন। তারা জানান- খন্দকার শিপার আহমদের সদিচ্ছা থাকলে তিনি এ সংকট থেকে চেম্বারকে উত্তরণ ঘটাতে পারতেন। কিন্তু একটি বিশেষ মহলের ইন্ধনে উল্টো তিনি নিজেই চেম্বারকে বিতর্কের মুখে ফেলে দিয়েছেন।
সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু পরিচালকদের কারণেই বার বার বিতর্কের মুখে পড়ে এই প্রতিষ্ঠান। বিগত কয়েক দশক ধরে নির্বাচন নিয়েই জটিলতা দেখা দেয় সিলেট চেম্বারে। নির্বাচন এলেই ভুয়া ভোটার তালিকা, জোরপূর্বক ক্ষমতা দখলসহ নানা কারণে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুণ্ন্ন করেছে পরিচালনায় থাকা সদস্যরা। কেউ কেউ ঘুরে ফিরে বার বারই ক্ষমতায় আসতে চাওয়ার কারণে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর নির্বাচন নিয়ে নানা সংকট তৈরি হওয়ার কারণে সিলেটের ব্যবসায়ীদের একাংশ নির্ভেজাল সংগঠন গড়ার লক্ষ্যে সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স গড়ে তোলেন। এই প্রতিষ্ঠানটি সিলেট চেম্বারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বিতর্ক ছাড়াই তার অবস্থান ব্যবসায়ীদের মধ্যে সুদৃঢ় করেছে। পাশাপাশি সিলেট চেম্বারে মহিলা ব্যবসায়ীরা তেমন সুবিধা না পাওয়ায় সিলেটে উইমেন্স চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ গড়ে তোলা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন- সিলেট চেম্বারে এখন আর বিরোধ থাকার কথা নয়। এর কারণ- যারা এখন চেম্বারকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা সবাই প্রায় এক বলয়ের মানুষ। ব্যবসায়িক ভাবেও তাদের সম্পর্ক নিবিড়।
এ কারণে সিলেট চেম্বারে নির্বাচন নিয়ে সংকট থাকার কথা নয়। কিন্তু ২০১৯ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে অনিয়ম করে তিনটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা এবং প্রায় ৮০ জনকে অবৈধ ভোটার করায় এবার সংকট দেখা দেয়। সাধারণ ব্যবসায়ীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটি তদন্ত করে এর সত্যতা পায়। এদিকে- বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্রায় ১ মাস আগে সিলেট চেম্বারে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ও আপীল বোর্ড পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। এদিকে- গত ৩০শে মে ছিলো সিলেট চেম্বারের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ। এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন করতে না পারার কারণে এখন চেম্বারে বসছেন প্রশাসক। কে হচ্ছেন চেম্বারের প্রশাসক- এ নিয়ে এখন জল্পনার অন্ত নেই সিলেটে। প্রশাসক পদে সরকারি কর্মকর্তা এবার যদি নিয়োগ করা না হয় তাহলে ব্যবসায়ী, সুশীল, বা ক্লিন ইমেজের যে কাউকে প্রশাসক পদে আসতে পারেন।
তবে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যস্ততা থাকায় ভোট কার্যক্রম স্বচ্ছ কিংবা নির্বাচন যথাসময়ে সম্পন্ন করা নিয়ে সময় ক্ষেপন হওয়ার বিষয়টিও ভাবছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে এদিক বিবেচনায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে কাউকে চূড়ান্ত করা সম্ভব না হলে সেক্ষেত্রে প্রশাসক হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে তিনজনের নাম। এই তিনজন হলেন, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত ও সীমান্তিকের চেয়ারম্যান ড. আহমদ আল কবির এবং সাবেক অর্থমন্ত্রীর স্নেহধন্য জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহিউদ্দিন সেলিম। এ ব্যাপারে সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন- সভাপতি হিসেবে আজ ৩০শে মে পর্যন্ত আমার মেয়াদ ছিল। এখন নিয়ম অনুযায়ী প্রশাসক দায়িত্ব নেয়ার কথা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত কাজ শেষ করেছে বলে শুনেছি।

অর্ধেক শ্রমিক বোনাস পাননি by শুভংকর কর্মকার

বরাবরের মতো এবারও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শ্রমিকের ঈদ বোনাস দিলেন না প্রায় অর্ধেক পোশাকশিল্পের মালিক। অথচ তাঁদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা গত ৩০ মের মধ্যে বোনাস পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছিলেন।
কয়েকজন শ্রমিকনেতা বলছেন, বড় পোশাক কারখানাগুলো গতকাল পর্যন্ত শ্রমিকের ঈদ বোনাস দিয়েছে। ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো আগামী রোববার ও সোমবারের মধ্যে মজুরির সঙ্গে বোনাস দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছে। অন্যদিকে পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর নেতারা দাবি করছেন, তাঁদের অধিকাংশ সদস্য কারখানাই বোনাস পরিশোধ করেছে।
শিল্প পুলিশের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ঢাকা মহানগর ছাড়া আশুলিয়া, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও খুলনায় ৩ হাজার ৫৩৬ পোশাক কারখানার মধ্যে গতকাল রাত আটটা পর্যন্ত ৫৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ বা ১ হাজার ৯২৭টি কারখানা শ্রমিকের ঈদ বোনাস দিয়েছে। আর চলতি মে মাসের বেতন দিয়েছে ২৩৬টি কারখানা। অন্যদিকে এসব এলাকায় পোশাকশিল্পের বাইরে অন্যান্য শিল্পকারখানা আছে ৩ হাজার ৯০৪টি। সেগুলোর মধ্যে ৫৪ দশমিক ১২ শতাংশ বা ২ হাজার ১১৩টি কারখানা শ্রমিকের ঈদ বোনাস ও ৮ শতাংশ বা ৩১৪টি কারখানা চলতি মে মাসের মজুরি পরিশোধ করেছে।
পোশাকশিল্পে আশুলিয়া অঞ্চলের কারখানাগুলো বোনাস দেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে। সেখানকার ৭৯১টি কারখানার মধ্যে ৯৫ শতাংশ বা ৭৫০টি বোনাস পরিশোধ করেছে। নারায়ণগঞ্জের ৬৪২ কারখানার মধ্যে ৬২ শতাংশ বা ৩৯৬টি, গাজীপুরের ১ হাজার ৩৪৫ কারখানার মধ্যে ৩০ শতাংশ বা ৪০২টি, চট্টগ্রামের ৬৯৭ কারখানার মধ্যে ৪৭ শতাংশ বা ৩৩০টি, ময়মনসিংহের ৫৬ কারখানার মধ্যে ৪৪টি এবং খুলনা অঞ্চলের ৫টি কারখানার সব কটিই শ্রমিকদের বোনাস পরিশোধ করেছে।
২৩ মে ঢাকায় শ্রম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক কোর কমিটির ৪২তম সভা হয়। সেই সভায় শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান শ্রমিকদের ঈদ বোনাস ৩০ মে এবং মে মাসের মজুরি ২ জুনের মধ্যে পরিশোধের জন্য পোশাকশিল্প মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান। মালিকপক্ষ সে অনুযায়ী বেতন-ভাতা দিতে সম্মত হয়।
জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বড় কারখানাগুলো বোনাস দিয়েছে। ছোট-মাঝারি কারখানা দেয়নি। তাতে ৫০ শতাংশ কারখানা বোনাস পরিশোধ করেনি। তিনি আরও বলেন, ঈদের আগে মজুরি-ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রে শ্রম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বা সময়সীমা কখনোই মানেন না মালিকেরা। তাঁরা তাঁদের ইচ্ছামতো মজুরি–ভাতা দেন। শেষ মুহূর্তে মজুরি-ভাতা দেওয়ার কারণে অনেক শ্রমিকই প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হন। তাই সময়সীমা মেনে মালিকেরা যাতে শ্রমিকের পাওনা বুঝিয়ে দেন, সে জন্য সরকারের শক্ত অবস্থান নেওয়া দরকার।
*মালিকপক্ষ ৩০ মের মধ্যে বোনাস দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
*তবে প্রায় অর্ধেক মালিক সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি।

জানতে চাইলে শ্রমিকনেতা বাবুল আখতার বলেন, ‘বড় কারখানাগুলো বোনাস দিয়েছে। বাকিরা শেষ মুহূর্তে দেবে। শ্রম আইনের মারপ্যাঁচের কারণে শ্রমিকের চাকরির বয়স এক বছরের কম হলে বোনাস পাচ্ছেন না। বিষয়টি নিয়ে জটিলতা হচ্ছে।’
বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ফয়সাল সামাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিজিএমইএর সদস্য ৯০ শতাংশ কারখানা সরকারের ঘোষিত সময়ে বোনাস দিয়ে দিয়েছে। যারা দেয়নি তারা দু–তিন দিনের মধ্যে দিয়ে দেবে। মজুরি-ভাতা নিয়ে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সে জন্য আমরা কাজ করছি।’
জানতে চাইলে বিজিএমইএর সহসভাপতি এস এম মান্নান বলেন, ‘সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ৮০০ পোশাক কারখানায় মজুরি-ভাতা নিয়ে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা করেছিল। আমরা সেগুলো কঠোর নজরদারির মধ্যে রেখেছি। ইতিমধ্যে ৬৫টি কারখানার সমস্যাও সমাধান হয়েছে। বর্তমানে ১০-১২টি কারখানা ঝুঁকির মধ্যে আছে। সেগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি।’
আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন কারখানাটির শ্রমিকেরা। গতকাল রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে। ছবি: প্রথম আলো

মোদির মন্ত্রিসভায় অমিত স্বরাষ্ট্র, জয়শঙ্কর বিদেশমন্ত্রী

ভারতে নতুন সরকার গঠনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করা হয়েছে। মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন ৫৮ মন্ত্রী। এর মধ্যে পূর্ণমন্ত্রী ২৫ জন, স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী ৯ জন, রাষ্ট্রমন্ত্রী ২৪ জন। এছাড়া নতুন মন্ত্রী হয়েছেন ২৩ জন ও নারী মন্ত্রী রয়েছেন ৬ জন।
ভারতের বিগ ফোর বলে পরিচিত চার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকে নতুন ও পুরনো মুখের জায়গা হয়েছে। ভারতের নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ। আগে এই পদে ছিলেন রাজনাথ সিং। রাজনাথ সিংকে দেয়া হয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব। অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন নির্মলা সীতারমন।
কর্পোরেট সংক্রান্ত মন্ত্রকের দায়িত্বও পেয়েছেন তিনি। তিনি গত মন্ত্রিসভায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন। অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নতুন করে নিতে চাননি অরুণ জেটলি। তিনি অসুস্থ বলে আগেই চিঠি লিখে প্রধানমন্ত্রীকে সে কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন। একইভাবে অসুস্থতার কারণে সুষমা স্বরাজও সরে দাঁড়িয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সেই শূন্য জায়গায় দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সাবেক কূটনীতিবিদ ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্করকে। ভারতে এই প্রথম কোনও কূটনীতিককে পররাষ্ট্র মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন দুই জায়গাতেই তিনি রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন। এদিন দুপুরে মন্ত্রীদের মন্ত্রকের দায়িত্ব বণ্টন করে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজের হাতে রেখেছেন কর্মীবর্গ, পেনসন, আণবিক শক্তি, মহাকাশ গবেষণা ও নীতি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর এবং এখন পর্যন্ত বণ্টন করা হয়নি এমন সব মন্ত্রক। মন্ত্রিসভার পঞ্চম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে নিতিন গডকড়ীকে দেয়া হয়েছে সড়ক ও পরিবহণ মন্ত্রক। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের দায়িত্বও তারই হাতে দেয়া হয়েছে। রামবিলাস পাসোয়ান ক্রেতা সুরক্ষা, খাদ্য এবং গণবণ্টন মন্ত্রকের দায়িত্বে এসেছেন। নরেন্দ্র সিংহ তোমর কৃষি, গ্রামোন্নয়ন, পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রকের দায়িত্ব পেয়েছেন। রবিশঙ্কর প্রসাদকে আগের মতোই আইন মন্ত্রকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সঙ্গে যোগাযোগ,  বৈদ্যুতিক ও তথ্যপ্রযুক্তির দায়িত্বও পেয়েছেন তিনি। হরসিমরত কউর বাদলকে দেয়া হয়েছে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রকের দায়িত্ব। থবরচন্দ গেহলট সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন বিভাগের দায়িত্ব পেয়েছেন। মন্ত্রিসভার নতুন মুখ রমেশ পোখরিয়াল নিশাঙ্ক মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী হয়েছেন। ঝাড়খণ্ডের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অর্জুন মুন্ডা প্রত্যাশিতভাবে পেয়েছেন আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রকের দায়িত্ব। স্মৃতি জুবিন ইরানি হয়েছেন নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী। বস্ত্র মন্ত্রকের দায়িত্বেও থাকছেন তিনি। সদানন্দ গৌঢ়াকে রসায়ন এদিকে পশ্চিমবঙ্গেও দুই মন্ত্রীরও মন্ত্রক বণ্টন হয়েছে। বাবুল সুপ্রিয়কে দেয়া হয়েছে বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। অন্যদিকে দেবশ্রী চৌধুরিকে স্মৃতি ইরাণির সহকারী হিসেবে নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
রেল মন্ত্রকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পীযূষ গোয়েলকে। সেইসঙ্গে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রকেরও দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। পাণি সম্পদ মন্ত্রকের দায়িত্ব পেয়েছেন গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত। গতবারের মত ধর্মেন্দ্র প্রধান এবারও পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের দায়িত্ব পেয়েছেন। সঙ্গে তাকে দেয়া হয়েছে ইস্পাত মন্ত্রকের দায়িত্ব। দেশটির সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী করা হয়েছে মুখতার আব্বাস নকভিকে। প্রহ্লাদ যোশী হয়েছেন সংসদ বিষয়ক, কয়লা ও খনিমন্ত্রী। মহেন্দ্র নাথ পান্ডেকে দেয়া হয়েছে স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও এন্টারপ্রেণারশিপ মন্ত্রকের দায়িত্ব। ভারী শিল্প মন্ত্রী হয়েছেন অরবিন্দ জ্ঞানপথ সাওয়ান্ত। এবং গিরিরাজ সি কে দেয়া হয়েছে প্রাণী সম্পদ বিকাশ, ডেয়ারি ও মৎস্য মন্ত্রকের দায়িত্ব। এদিকে স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে সন্তোষ কুমার গাঙ্গোয়ার পেয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক, রাও ইন্দ্রজিত সিং পরিসংখ্যান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পরিকল্পনা মন্ত্রক, শ্রীপাদ ইসো নায়েক আয়ুর্বেদ, ইউনানি, যোগ, আয়ূশ, জিতেন্দ্র সিং উত্তরপূর্ব ভারত উন্নয়ন, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, পেনশন, পরমাণু শক্তি মন্ত্রক, কিরেন রিজিজু যুব ও ক্রীড়া, সংখ্যালঘু উন্নয়ন, প্রহ্লাদ সিং প্যাটেল পর্যটন ও সংস্কৃতি, রাজ কুমার সিং শক্তি মন্ত্রক ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট, হরদীপ সিং পুরী আবাসন ও নগর উন্নয়ন, অসামরিক বিমান পরিবহন, শিল্প ও বাণিজ্য এবং মনসুখ মান্ডভিয় পেয়েছেন জাহাজ মন্ত্রক, সার ও রসায়ন মন্ত্রকের দায়িত্ব।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ফগন সিং কুলন্তেকে ইস্পাত মন্ত্রক, অশ্বিনী কুমার চৌবেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক, অর্জুন রাম মেঘওয়ালকে সংসদ বিষয়ক ও ভারী শিল্প, ভি কে সি কে সড়ক পরিবহন ও হাইওয়ে, কৃষাণ প্যাটেলকে সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন, রাওসাহেব দাদারাকে খাদ্য ও বণ্টন, উপভোক্তা বিষয়ক, জি কিষেণ রেড্ডিকে স্বরাষ্ট্র, পুরুষোত্তম রুপালাকে কৃষি ও কৃষক উন্নয়ন, রামদাস আটওয়ালেকে সামাজিক ন্যায়, সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতিকে গ্রামীণ উন্নয়ন, বাবুল সুপ্রিয়কে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, সঞ্জীব বালিয়ানকে পশুপালন ও ডেয়ারি, সঞ্জয় শামারাওকে মানব উন্নয়ন ও তথ্য-প্রযুক্তি, অনুরাগ সিং ঠাকুরকে অর্থ ও করপোরেট অ্যাফেয়ার্স, অঙ্গাদি সুরেশকে রেল, নিত্যানন্দ রাটইকে স্বরাষ্ট্র, রতন লাল কাটারিয়াকে পানি সম্পদ ও সামাজিক ন্যায়, ভি মুরলীধরনকে পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক, রেণুকা সিংকে উপজাতি বিষয়ক, সোম প্রকাশকে শিল্প ও বাণিজ্য, রামেশ্বর তেলিকে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, প্রতাপ চন্দ্র সারেঙ্গিকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, কৈলাশ চৌধুরীকে কৃষি ও কৃষক উন্নয়ন এবং দেবশ্রী চৌধুরীকে মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রকের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

ভোগান্তি নিয়েই বাড়ি ফেরা

ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। ঈদযাত্রার শুরুতেই বাস ট্রেন-লঞ্চে ঘরমুখো মানুষের ভিড় ছিল ব্যাপক। বৃহস্পতিবার অনেকেই অফিস শেষে বাড়ি চলে গেছেন। তবে ২২শে মে যারা ট্রেনের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করেছেন তারাই গতকাল ভ্রমণ করেছেন। বরাবরের মতো এবারও শিডিউল বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ট্রেনে ঈদযাত্রা। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ছেড়েছে বিভিন্ন গন্তব্যের ট্রেন। ফলে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ব্যাপক প্রস্তুতি সত্ত্বেও ঈদযাত্রার শুরুতেই ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ে ভোগান্তির শিকার হওয়ায় যাত্রীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন।
তিনি বলেন, ৩ থেকে ৪টি ট্রেন ছাড়তে দেরি হয়েছে। এজন্য যাত্রীদের ভোগান্তি সইতে হয়েছে । আমরা এজন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।
ঈদযাত্রায় এ বছর ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের চারটি সিটি করপোরেশনসহ এই তিন জেলা ছেড়ে যাচ্ছেন এক কোটি ৪৭ লাখ মানুষ। এর মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও জেলার অন্যান্য স্থান  থেকে যাবে এক কোটি ১০ লাখ মানুষ। নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির ঈদ-পূর্ব বার্ষিক প্রতিবেদনে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে।
গতকাল কমলাপুর রেলস্টেশন, গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সকাল থেকেই যাত্রীচাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিকালের দিকে তা আরো বেড়ে যায়। ঈদের ছুটি একটু বেশি হওয়ায় অনেকেই পরিবারের সদস্যদের আগেভাগেই বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছেন।  গাবতলী বাস টার্মিনালে ভিড় ছিল। এখানে ঈদে বেশি ভাড়া নেয়ার অভিযোগ করেন যাত্রীরা। টার্মিনালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয় রয়েছেন। সায়দাবাদ বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় ব্যাংক কর্মকর্তা আতাউর ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি এখনো ছুটি পাইনি। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পরে গেলে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হবে। তাই সবাইকে  আগে বাড়ি পাঠিয়ে দিলাম। আমি যাবো চার তারিখে। একা গেলে ভোগান্তি কম হবে। সায়াদাবাদ বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় এশিয়া বাসের চালক আলমগীর হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঢাকা কুমিল্লায় এখন আর তেমন যানজট নেই। আমরা খুব স্বস্তি নিয়ে গাড়ি চালাতে পারছি। যাত্রীরাও খুব আরামে যাচ্ছেন। চট্রগ্রামের যাত্রী আয়েশা আলম বলেন, মেঘনা গোমতী সেতু চালু হওয়ার পর আর বাড়ি যাওয়া হয়নি। এবারই প্রথম যাচ্ছি, শুনলাম যানজটবিহীন যাওয়া। দেখা যাক কি হয়। তবে সায়েবাদ আসতে আসতেই আমার বারোটা বেজে গেছে যানজটের কারণে। বাস কাউন্টারের কর্মীরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়েই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে বাস।
এদিকে শুক্রবার রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেন সকাল ৬টায় কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও ট্রেনটি সোয়া ৮টায় ছাড়ে। উত্তরবঙ্গগামী রংপুর এক্সপ্রেস সকাল ৯টায় ছাড়ার নির্ধারিত সময় থাকলেও ট্রেনটি বেলা ১টার পরে ছেড়ে যায়। লালমনি এক্সপ্রেস প্রায় ৭ ঘণ্টা দেরি করে। যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রামগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে ছাড়ার নির্ধারিত সময় থাকলেও কমলাপুর ছেড়ে যায় সকাল সোয়া ৮টায়। সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে ছাড়ার নির্ধারিত সময় থাকলেও ছেড়ে যায় সাড়ে ৭টায়। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন রংপুরগামী যাত্রীরা। ‘রংপুর এক্সপ্রেস’ ট্রেনটির কমলাপুর ছেড়ে যাওয়ার কথা সকাল ৯টায়। সেই ট্রেনটি দুপুরে স্টেশনে প্রবেশ করে। ঈদে ঘরমুখো মানুষগুলোকে স্টেশনে পরিবার-পরিজন নিয়ে এই গরমের মধ্যে কষ্ট করতে হয়েছে। আবার কয়েকটি ট্রেন সঠিক সময়েও স্টেশন ছেড়ে গেছে। ধূমকেতু এক্সপ্রেসের যাত্রী মোবারক প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছিলেন। ট্রেন সঠিক সময়ে না ছাড়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ আমিনুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, কিছুটা দেরিতে ট্রেন ছেড়ে গেছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি, যাতে নির্ধারিত সময়ে ট্রেন ছেড়ে যেতে পারে।
মন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ: গতকাল সকাল ১০টায় কমলাপুর রেলস্টেশনে ঈদ উপলক্ষে রেলওয়ের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করতে এসে রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ঈদযাত্রার শুরুতেই ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ে ভোগান্তির শিকার হওয়ায় যাত্রীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি বলেন, ব্যাপক প্রস্তুতি সত্ত্বেও ৩ থেকে ৪টি ট্রেন ছাড়তে দেরি হয়েছে, এজন্য যাত্রীদের ভোগান্তি সইতে হচ্ছে। আমরা এজন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। তিনি বলেন, শনিবার থেকে আশা করছি শিডিউল অনুযায়ী ট্রেন চলবে। রেলপথমন্ত্রী বলেন, ঈদ উপলক্ষে শুক্রবার ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত কমলাপুর থেকে ১৮টি ট্রেন ছেড়ে গেছে। তন্মেধ্য ১৪টি ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে গেছে। সুন্দরবন, ধুমকেতু ও রংপুর এক্সপ্রেসসহ উত্তরবঙ্গগামী চারটি ট্রেন ছাড়তে দেরি হচ্ছিল। রংপুর এক্সপ্রেস সাত ঘণ্টা দেরিতে ছেড়েছিল। এজন্য রেলপথ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, আশা করছি শনিবার রংপুর এক্সপ্রেসে শিডিউল বিপর্যয় থাকবে না।
কারণ রংপুর থেকে আলাদা ট্রেনের ব্যবস্থা করেছি, ওটা সময়মতো ঢাকা এসে পৌঁছাবে। রেলপথ মন্ত্রী বলেন, সফলতা ব্যর্থতা জনগণ বিচার করবে। তবে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় রেল ভালো সেবা দিচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। ট্রেনের সংকট আগামী ঈদে থাকবে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কোরবানির ঈদের আগে আরও তিন-চারটি নতুন ট্রেন যোগ হবে। এছাড়া আগামী জুলাইয়ের মধ্যে আরও ৫০টি নতুন কোচ রেলে যোগ হবে। নতুন কোচ দিয়ে লালমনিরহাট ও রংপুর রুটে চালানো হবে। দুর্ঘটনা এড়াতে স্টেশনে কোনো মই থাকবে না জানিয়ে রেলপথমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি ছাদে যায়, তাহলে নিজ দায়িত্বে ঝুঁকি নিয়ে যাবে। এতে কোনো অঘটন ঘটলে রেল মন্ত্রণালয় দায় নেবে না। তিনি ছাদে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। ‘রংপুর এক্সপ্রেসে’র দেরি হওয়ার ব্যাপারে রেলপথমন্ত্রী বলেন, এটি যাত্রীরা অবগত আছেন। পরে অতিরিক্ত ট্রেন দিয়ে এই সমস্যাগুলো সমাধান করা হবে। এই সময় রেল সচিব মোফাজ্জেল হোসেন, রেলওয়ের মহাপরিচালক কাজী রফিকুল আলম ও কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ আমিনুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রাজনৈতিক দলে না থাকলেও ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে থাকবো -মোস্তফা মোহসীন মন্টু by আব্দুল আলীম

গণফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেছেন, গণফোরামের কোনো দায়িত্বে না থাকলেও নতুন কোন দল গঠন বা অন্য কোন দলে যোগ দিচ্ছেন না। কোন রাজনৈতিক দলে না থাকলেও তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গেই থাকবেন। মানবজমিনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি বলেন, গণফোরামে আমার বর্তমান অবস্থন কেমন সেটা যদি আমি সোজাভাবে বলি তাহলে বলব কচুরিপনার মতো। তবে এই মুহুর্তে কোনো দল গঠন বা অন্য কোনো দলে যোগদানেরও কথা ভাবছিনা। যদি কখনো কোনো খবর থাকে সেটা অবশ্যই জানাব। মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন, আমি ঐক্যফ্রন্টকে পছন্দ করি। যদি আমি কোনো রাজনৈতিক দল নাও করি তবুও আমি ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে থাকব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্টের অস্থিত্ব বিলিন হয়ে যাচ্ছে না। ঐক্যফ্রন্ট থাকবে। আমরা বিশ্বাস করি ঐক্যফ্রন্ট জনগণের মধ্যে এমন একটি আশা সৃষ্টি করেছে। এই ঐক্যফ্রন্ট ছাড়া মানুষকে ডাক দেয়া বা জাগ্রত করা দলীয়ভাবে আর সম্ভব না।
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর আল্টিমেটামের বিষয়ে তিনি বলেন, আল্টিমেটাম দেয়ার পর উনার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমরা উনাকে বুঝিয়েছি আপনি ধৈর্য্য ধরেন। এখনই ঐক্যফ্রন্ট ভাঙ্গার পথ করবেন না। আমাদের কথা মতো আল্টিমেটামের সময় আরো এক মাস উনি বাড়াবেন। আমরা আশা করছি উনি আমাদের সঙ্গে থাকবেন। এসময় তিনি বলেন, ভারতের নির্বাচনটা আমাদের জন্য একটি অশনি সংকেত হয়ে দাঁড়ালো। আমরা এটা নিয়ে আতঙ্কিত। ভারত কিভাবে আমাদের দেশের প্রশাসনকে ব্যবহার করে সেটা নিয়ে আমরা চিন্তিত। কারণ ইতিমধ্যে মনে হচ্ছে আমাদের দেশের প্রশাসন তাদের কাছে ব্যবহৃত হচ্ছে। আমাদের এখন তাদের কথা মতোই চলতে হচ্ছে।
গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক থেকে বাদ পড়া এবং দলের অভ্যন্তরীন বিষয়ে তিনি বলেন, কমিটি গঠনের আগে যখন নতুন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের প্রসঙ্গ এসেছে তখন আমি বলেছিলাম সাধারণ সদস্য হিসেবে থাকব। আমাকে প্রেসিডিয়াম সদস্য করে কোনো অফিসিয়াল দায়িত্ব দিলে আমি পদত্যাগ করব। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ড. রেজা কিবরিয়ার নাম উঠলে আমি বলেছি ওকে কোনো সমস্যা নেই। মন্টু বলেন, নির্বাচনের পরে আমাদের ঐক্যফ্রন্টের একটা মিটিং ছিল। সেখানে সিদ্ধান্ত হল এই নির্বাচন আমরা মানিনা। অবিলম্বে নতুন নির্বাচন দিতে হবে। সেখানে আমাদের গণফোমের পক্ষ থেকে ড. কামাল হোসেন, আমি ও সুব্রত চৌধুরীসহ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলাম।
তাহলে আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত হল আমরা এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করলাম। পরদিন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র হিসেবে সংবাদ সম্মেলন করে এটা ঘোষণা দিলেন। এরপর আ স ম আবদুর রব, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ সবাই যার যার জায়গা থেকে এ বিষয়ে বক্তব্য দিলেন। যখন ঐক্যফ্রন্ট ও সবগুলো দলের সিদ্ধান্ত হয়ে গেলে নির্বাচন ও ফলাফল বর্জনের। সুতরাং এখানে তো কেউ শপথ নিলে তাকে কারণ দর্শানোর কোনো অবকাশ নেই। যে আমার দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাবে আমি তো সরাসরি তার বিরুদ্ধে এ্যাকশনে যাব। এই কারণে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই তাকে বহিষ্কার করে দিলাম। ড. কামাল হোসেন আমাকে বললেন আপনি আমার সঙ্গে আলাপ না করেই বহিষ্কার করে দিলেন কেন? তখন আমি বললাম এখানে তো আলাপ করার প্রয়োজন পড়ে না। সাংবাদিকরা আমাকে এমনভাবে ধরেছে।
তখন না দিলে আমিও বাঁচিনা। আপনিও বাঁচেন না। আবার দলও বাঁচে না। এরপর মোকাব্বির খানের শপথের সময় উনি বললেন তাকে শোকজ করা হোক। এটা নিয়ে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে আমার অনেক বাক বিতন্ডা হল। এরপর জানা গেলো মোকাব্বির শপথ নেয়ার পরও গণফোরামের সম্মেলনে আসবে। এখন মোকাব্বির যে সম্মেলনে আসবে সেই সম্মেলনে তো আমি যাব না। আমি ড. কামাল হোসেনকে বলে দিয়েছি মোকাব্বির হোসেন যদি সম্মেলনে আসে তাহলে আমি নাই। কারণ যেখানে আমরা দেশের মানুষকে একটা স্বপ্ন দেখালাম যে গণতান্ত্রিক একটি পরিবেশ তৈরি করব। আমরা নির্বাচনে জিতি বা হারি মোটামুটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জাতি এগিয়ে যাবে। একথা জনগণের কাছে বার বার বলেছি। জনগণের চিন্তা চেতনা প্রকাশ পায় মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে। তাদের যদি আমরা বুঝতে না পারি তাহলে আমরা কিসের রাজনীতি করি? তিনি বলেন, বিএনপির এমপিরা শপথ নিলে তাদের সঙ্গে কথা বললাম। তারা বললো আপনাদের দুইটা শপথ নেয়ার পর আমাদেরগুলোকে তো ঠেকাতে পারছিলাম না।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তিনি বলেন, এখন রাজনীতিটা অনেক কঠিন হয়ে গেছে। তবে আমাদের নীতি নির্ধারণ হওয়া উচিৎ দেশের রাজনীতির উপর ভিত্তি করে।
তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনটা এভাবে দেয়ার কোনো দরকারই ছিল না। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী জনগণের ভোটের মাধ্যমে একটি প্রতিনিধি বা সরকার গঠিত হবে। ওই সরকারের মাধ্যমে প্রশাসন পরিচালিত হবে। কারণ ১৬ কোটি মানুষের পক্ষে সংসদে যাওয়া সম্ভব না। জনগণের অধিকার যদি প্রশাসনের হাতে চলে যায় তাহলে গণতন্ত্র কোথায় যায় সেটা তো আমরা উপলব্ধি করছি। অর্থাৎ প্রশাসন জগণের কর্মচারি হওয়ার কথা কিন্তু আজকে তারাই জনগণের শাসক হয়ে গেছে।

রাজপালঙ্কের খোঁজ মিলল ডিসির বাসভবনে

রাজা সীতারাম রায়ের রাজপ্রাসাদ
রাজপালঙ্ক অমূল্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। রাজাদের অস্তিত্ব না থাকায় এ ধরনের প্রত্নসামগ্রী এখন শোভা পায় দেশের বিভিন্ন জাদুঘরে। কিন্তু ৩০০ বছরের বেশি পুরোনো রাজা সীতারাম রায়ের একটি পালঙ্কের খোঁজ পাওয়া গেছে মাগুরার জেলা প্রশাসকের বাসভবনে।
জেলা প্রশাসক (ডিসি) আলী আকবর পালঙ্কটি ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, পালঙ্কটি তাঁর বাসভবনে সংরক্ষিত রয়েছে। এটি তিনি মেরামত করেছেন।
ইতিহাস ঘেঁটেজানা যায়, ১৬৮৬ সালে সম্রাট আওরঙ্গজেবের রাজসভা থেকে রাজা উপাধি লাভ করেন সীতারাম রায়। তাঁর রাজত্বের সীমারেখা ছিল উত্তরে পাবনা ও দক্ষিণে সুন্দরবন পর্যন্ত। প্রতাপশালী এই রাজা রাজধানী গড়ে তোলেন মাগুরার মহম্মদপুরে। কীর্তি হিসেবে সেখানে এখনো রয়েছে তাঁর রাজপ্রাসাদ, কাচারিবাড়ি, দোলমঞ্চসহ অনেক কিছু। রাজত্বকালে তিনি গড়ে তোলেন অস্ত্র তৈরির কামারশালা। প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর রাজপ্রাসাদ ও দোলমঞ্চ সংস্কারের কাজ করলেও কালের বিবর্তনে রাজপ্রাসাদ থেকে হারিয়ে গেছে রাজার ব্যবহৃত অনেক কিছুই।
রাজা সীতারামের অস্ত্রভান্ডারের স্মৃতি হিসেবে অস্ত্রসহ কিছু সামগ্রী মহম্মদপুর থানায় পুলিশের মালখানায় সংরক্ষিত আছে। আর সীতারামের একটি পালঙ্ক দীর্ঘদিন ধরে ছিল মাগুরা জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কারকাজের সময় প্রত্নতাত্ত্বিক এই নিদর্শন ট্রেজারি থেকে কখনো রেকর্ড রুমে ও কখনো জিমখানার অন্যান্য অব্যবহৃত উপকরণের পাশে জায়গা পেয়েছে। সব শেষ পালঙ্কটি ছিল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেকর্ড রুমে দলিল-দস্তাবেজের সঙ্গে।
জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, ডিসির কার্যালয় থেকে চার মাস আগে পালঙ্কটি নিয়ে যাওয়া হয় ডিসির বাংলোয়। এটি ডিসি আলী আকবরের শয়নকক্ষে স্থান পেয়েছে বলেও একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। সম্প্রতি এই প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে ওই সূত্র বলেন, ‘স্যার (ডিসি) তো এটিতে ঘুমান।’
মাগুরার সাবেক জেলা প্রশাসক আতিকুর রহমান ও মাহাবুবুর রহমানের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা জানান, কয়েক বছর আগে জেলা প্রশাসনেরএক কর্মচারী এ পালঙ্ক চুরির চেষ্টা করেছিলেন। তখন সেটি উদ্ধার করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রাখা হয়। বর্তমানে রেলমন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) ও মাগুরার সাবেক জেলা প্রশাসক আতিকুর রহমান বলেন, ‘আমি গত বছরের অক্টোবরে দায়িত্ব ছেড়ে আসার সময় পালঙ্কটি রেকর্ড রুমে সংরক্ষিত ছিল।’
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২ ফেব্রুয়ারি নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) রাজীব চৌধুরীর সহায়তায় গোপনে পালঙ্কটি রেকর্ড রুম থেকে বের করে ডিসির বাংলোয় নিয়ে যাওয়া হয়, যে কারণে জেলা প্রশাসনের রেকর্ড রুম বা ট্রেজারিতে এ বিষয়ে কোনো তথ্য রাখা হয়নি। তবে এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান জেলা প্রশাসনের এই কর্মকর্তা। ২৯ মে দুপুরে এনডিসি রাজীব চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এখানে আসার পর শুনেছি এ রকম একটি খাট ছিল। তবে এটি এখন কোথায় আছে, খুঁজে দেখতে হবে।’ রাজীব চৌধুরী এখানে যোগ দেন গত ১৮ জানুয়ারি। তাঁর আগে এখানে এনডিসি ছিলেন বর্তমানে প্রশিক্ষণে থাকা মো. ইসাহাক আলী। তিনি মুঠোফোনে বলেন, পাঁচ মাস আগে তিনি দায়িত্বে থাকাকালে পালঙ্কটি জেলা প্রশাসনের রেকর্ড রুমে সংরক্ষিত ছিল।
এ বিষয়ে বর্তমানে রেকর্ড রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাদিয়া ইসলাম বলেন, ‘এ রকম একটি পালঙ্ক ছিল বলে শুনেছি। এটি এখন কোথায় আছে, তা খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।’
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খুলনার আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খানবলেন, প্রত্নতাত্ত্বিক কোনো নিদর্শন কারও ব্যক্তিগত ব্যবহারের বা বেডরুমে রাখার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘লোকবলের সংকট থাকায় এসব সংরক্ষণের জন্য আমাদের স্থানীয় প্রশাসনের ওপর নির্ভর করতে হয়। কারও কাছে কোনো নিদর্শন সংরক্ষিত থাকলে তা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে জমা দেওয়ার জন্য ২০১৮ সালে একটি চিঠি দেওয়া হয় সব জেলার জেলা প্রশাসক বরাবর।’
তবে জেলা প্রশাসক আলী আকবর বলেন, এ ধরনের কোনো চিঠি তাঁর নজরে আসেনি। উল্টো মাগুরা প্রশাসন থেকে কয়েকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে জাদুঘরে এই পালঙ্ক নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসক বলেন, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এ ধরনের উদ্যোগ নিলে অবশ্যই এগুলো তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তামিমকে নিয়ে দুশ্চিন্তা by ইশতিয়াক পারভেজ

কালই শুরু হবে বাংলাদেশ দলের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের আসল লড়াই। সেই লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে ওভাল স্টেডিয়ামে বেশ ফুরফুরে মেজাজেই মাঠে আসে  বাংলাদেশ দল। কিন্তু  অনুশীলন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই দুশ্চিন্তার কালো মেঘ জমতে শুরু করে টাইগারদের ক্রিকেট আকাশে। নেটে ব্যাটিং অনুশীলন করছিলেন দেশের সেরা ওপেনার ও দলের সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। তখন থ্রোয়ার থেকে ছুটে যাওয়া একটি বল তার বাম হাতে এসে  আঘাত হানে। তাতেই ব্যথা পেয়ে মাঠ ছাড়েন দলের অন্যতম ব্যাটিং কাণ্ডারি। ধীরে ধীরে জমতে শুরু করে শঙ্কার মেঘ। প্রশ্ন তৈরি হয় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেনতো তিনি! যদিও দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন জানিয়েছেন খুব বেশি চিন্তা নেই তাকে নিয়ে।
অন্যদিকে সংবাদ সম্মেলনে এসে বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশও  তেমন কোনো তথ্য জানাতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘সে মাত্রই নেটে চোট পেয়েছে। কি পরিমান চোট তা এখনই বলতে পারছি না। আমার মনে হয় অপেক্ষা করতে হবে। এখনি কথা বললে বিভ্রান্তি  তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে।’
তামিমকে নিয়ে শঙ্কা মানে দলের জন্য সত্যি বড় দুঃসংবাদ। কারণ তার উপরই নির্ভর করছে দলের অনেক আশা। অন্যদিকে টিম ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে, কোন রকম ঝুঁকি না নিতেই হাতে ব্যথা পাওয়ার পর মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে গেছেন তামিম। তার চোটের জায়গাতে এক্সরে করানো হবে। হাতে এখনো এক দিন সময় আছে। এরপর যদি তিনি খেলতে না পারেন তাহলে কী হবে? হ্যা, আশা একেবারেই নেই তা নয়। বিকল্প হিসেবে দলে আছেন সৌম্য সরকার। তিনি দারুণ ফর্মে আছেন আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে। এছাড়াও লিটন কুমার দাস আছেন। এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে নিজের দৃঢ়তা দেখিয়েছেন ব্যাট হাতে। তাই একটু হলেও আশা রাখা যায় তাদের উপর। তবে ওপেনিংয়ে তামিম মাঠে নামতে না পারলে সত্যি বড় বিপদই আছে টাইগারদের সামনে।
অন্যদিকে দলে আরো বেশ কয়েকজন সদস্য আছেন ইনজুরিতে। এর মধ্যে তরুণ  পেসার সাইফউদ্দিন ছাড়াও আছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাও। ইংলিশ কন্ডিশনে পেসারদের বিকল্প নেই। তাদের ভালো করার উপরই দলের জয় পরাজয় নির্ভর করছে। বোলিং কোচ জানালেন সাইফুদ্দিনের অবস্থা জানাতে তারা আরো কিছুটা সময় নিবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আরও দুদিন সময় পাচ্ছি। সাইফউদ্দিনের শেষ ম্যাচে একটা চোট ছিল। তাই আজ ওকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখা হয়েছে। সে কতটা সেরে উঠল কাল আমরা পর্যবেক্ষণ করে দেখব।’ এছাড়াও অধিনায়ক মাশরাফিকে নিয়েও চিন্তার শেষ নেই। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লেগেছে তার। তাকে নিয়ে কোচ ওয়ালশ অবশ্য আশার কথাই শোনালেন। তিনি বলেন ‘আমার মনে হয় ম্যাশের কিছুটা অস্বস্তি ছিল তাই আজ তেমন অনুশীলন করেনি। সেটাও কাল দেখব কী অবস্থা। মোস্তাফিজ ঠিক আছে, ওরও  সমস্যা ছিল কিছুটা। কিন্তু আজ ভালোই বল করেছে।’
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে একাদশ কেমন হবে তা নিয়ে যত আলোচনা তার চেয়ে বেশি আলোচনা এখন পেসারদের নিয়ে। কারা হবেন মাশরাফির পেস আক্রমণের সঙ্গী? রুবেল হোসেন ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছেন। প্রস্তুতি ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে করেছেন দারুণ বোলিংও। রান খরচ করলেও তুলে নিয়েছেন দুটি উইকেট। মোস্তাফিজও আছেন ভালো অবস্থাতে। প্রস্তুতি ম্যাচ মোস্তাফিজের বলের গতি দেখে স্বস্তি প্রকাশ করেন অধিনায়ক মাশরাফি। সাইফউদ্দিনের খেলার সম্ভাবনা এখনো দেখা যাচ্ছে না। যদি তিনি না খেলেন তাহলে পেস বোলিং অলরাউন্ডারের ভূমিকাট পালন করতে হবে সৌম্য সরকারকেই। তবে সাইফউদ্দিরের উপর দারুণ আস্থা কোচের। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের আগে রুবেল খুব বেশি ম্যাচ পায়নি। কিন্তু তিন পেসার নিয়ে খেললে তাকে পাওয়া বেশ ভালো। তবে আমার মনে হয় এতদিন যাকে (সাইফউদ্দিন) খেলানো হয়েছে তার উপরই আস্থা থাকবে বেশি। কিন্তু সমস্যা হলো এখন সাইফউদ্দিনের ইনজুরি আছে। এটা আবার সমান সমান করে দিয়েছে পরিস্থিতি। কাজেই বলা যাচ্ছে না কে খেলবে। সাইফউদ্দিন যদি কাল ফিট না হয় তাহলে তো ভিন্ন চিন্তায় যেতেই হবে। কিন্তু যদি সে ফিট থাকে তাহলে নির্বাচকদের মাথা ব্যথা বাড়বে। এই মূহূর্তে আমরা বেশ আত্মবিশ্বাসী যে আমাদের বোলিংয়ে বেশ ভালো রসদ আছে। কাল সব কিছু চূড়ান্ত করার দিন। দলে জায়গা পেতে এরকম লড়াই বেশ ইতিবাচক।

২০ বছরের মধ্যে ইইউ ভেঙে পড়বে বলে ধারণা ইউরোপীয়দের

আগামী দুই দশকের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে অনেক দেশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে বলে মনে করেন ইউরোপীয়রা । ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রিয়া, স্লোভাকিয়া, রোমানিয়া, গ্রিস, চেক রিপাবলিক ও পোল্যান্ডেরে অর্ধেকর বেশি মানুষ মনে করেন, আগামী ১০ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ইইউয়ের বিচ্ছিন্ন হওয়ার বাস্তবিক সম্ভাবনা রয়েছে।
ফ্রান্সে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ইউরোপীয় কাউন্সিল অব ফরেন রিলেশন্স এর থিংক ট্যাংকের ইউগভ এর করা গবেষণায় দেখা যায় ফ্রান্সের ৫৮ শতাংশ দেশ মনে করে আগামী ২০ বছরের মধ্যে ভেঙে পড়বে ইইউ। এই দিক শুধু মাত্র স্লোভাকিয়াই ফ্রান্সের চেয়ে এগিয়ে। দেশটির ৬৬ শতাশং জনগণের ধারণা এমন। ইউরোপের ১৪ টি দেশের জনগণের ওপর এই জরিপ চালানো হয়।  শুধুমাত্র সুইডেন (৪৪), ডেনমার্ক (৪১) ও স্পেন (৪০) এর জনগণের মতামতেই এর প্রতিফলন অর্ধেকের কম।
ইউরোপীয় কয়লা ও স্টিল কমিউনিটি ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসকে একসঙ্গে করেছিলো যে পরবর্তীতে কোনও যুদ্ধ না হয়। তবে এখন এই দেশগুলো প্রতি ১০ জনের তিনজন বলছেন ই্ইউর দেশগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের বাস্তব সম্ভাবনা হয়েছে।
আর ফ্রান্স ও পোলান্ডের এক-তৃতীয়াংশ জনগণের ধারণা যুদ্ধও লেগে যেতে পারে।  ফ্রান্সে মারিন লেপেনের দল আরএনের ৪৬ শতাংশ ও জার্মানির ফার ডাচল্যান্ড দলের ৪১ শতাংশ সমর্থকদের মধ্যে এই ধারণা প্রবল।
এছাড়াও ইউরোপীয়রা উন্নয়ন নিয়ে উদ্বিগ্ন। জরিপে দেখা যায় এক তৃতীয়াংশ জার্মান, এক চতুর্থাংশ ইতালিয়ান ও ফরাসিদের প্রয়োজনীয় খরচের পরে মাস শেষে বিনোদন কিংবা সঞ্চয়ের টাকা থাকে। 
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ টি দেশের ওপর ব্রেক্সিটের প্রভাবের পরও পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলীয় দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ স্পষ্ট। রোমানিয়া, পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরির সরকার ইউরোপীয় কমিশনের ওপর আইন বাস্তবায়নে ব্যর্থতার দায় চাপিয়েছেন।
ইউরোপজুড়ে চারভাগের তিনভাগ ভোটার মনে করেন, জাতীয় কিংবা ইইউ পর্যায়ে রাজনীতি ভেঙে পড়েছে। মাত্র ১৫ শতাংশ ফরাসি মনে করেন রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভালোভাবে কাজ করছে।

ঈদের ছুটিতে বিদেশ যাচ্ছেন ৬ লাখ বাংলাদেশি by দীন ইসলাম

ঈদের ছুটিতে বিদেশ ভ্রমণে ছুটছেন বাংলাদেশিরা। এবার ঈদের ছুটি একটু দীর্ঘ হওয়ায় বিদেশ ভ্রমণে আগ্রহ বেড়েছে অনেকের। অবশ্য গত ১০ বছরে দেশের বাইরে ঈদ করা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় পাঁচগুণ। এবার অন্তত ছয় লাখ বাংলাদেশী ঈদের ছুটিতে বিদেশ ভ্রমণে যাবেন বলে ট্রাভেল এজেন্সি সূত্র জানিয়েছে। অনেক বাংলাদেশী বিদেশে গেলেও কমেছে দেশে আসা পর্যটকের সংখ্যা। যদিও দেশের মধ্যে ভ্রমণের সংখ্যা বাড়ছে। ট্যুর অপারেটর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরেই ঈদের ছুটি কাটাতে বাংলাদেশী পর্যটকরা থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া বা সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন। বিত্তবানরা যাচ্ছেন তুরস্কসহ ইউরোপের গন্তব্যগুলোতে। তবে হঠাৎ করেই বাংলাদেশী পর্যটকদের ভ্রমণ গন্তব্য হিসেবে জনপ্রিয় হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য।
মূলত ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় এ বছর ঈদের ছুটি কাটাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশী পর্যটকদের জন্য আকর্ষনীয় গন্তব্যে পরিনত হয়েছে। খাত সংশিষ্টরা বলছেন, এ বছর ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে যেতে বাংলাদেশী পর্যটকরা বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এর একটি বড় কারণ এবার এক সঙ্গে অনেক লম্বা ছুটি পড়েছে। একই সঙ্গে দেশের পর্যটন স্থানগুলো ঘুরে দেখার পর পর্যটকদের মধ্যে নতুন জায়গা দেখার আগ্রহ বাড়ছে। মানুষের অর্থনৈতিক সামর্থ্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশীদের মধ্যে দেশের বাইরে ঈদ করার প্রবণতা বেড়েছে। গত বছর ঈদের ছুটিতে শুধু থাইল্যান্ডেই বেড়াতে গিয়েছিল ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি। এ বছরও থাইল্যান্ডের পাশাপাশি পরিবারের সবাই মিলে যাবেন পাতায়া, বালির মতো দর্শনীয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে।
ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠানগুলো সূত্রে জানা গেছে, এবারের ঈদের ছুটিতে বাংলাদেশিরা বরাবরের মতই নেপাল, ভূটান, ভারত, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। একই সঙ্গে সাধারণত মধ্যবিত্ত, উচ্চমধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাত মিশরেও ভ্রমণের জন্য বুকিং দিয়েছেন। পাশাপাশি উচ্চবিত্তরা এ বছর তুরস্কসহ ইউরোপের দেশগুলোর ভ্রমণ প্যাকেজ বেশি নিয়েছেন। রফিকুল ইসলাম দিপু ভারতে গার্মেন্টে তৈরি কাপড়ের ব্যবসা করেন। তার ভারতীয় পার্টি এরই মধ্যে বাংলাদেশ ঘুরে গেলেও দিপুর যাওয়া হয়নি। তাই বেশি ছুটি বলে ঈদের সময়টা বেছে নিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে তার পাঁচ দিন থাকা হবে। তামান্না খান কাজ করেন একটি বেসরকারি ব্যাংকে। ঈদ-উল আযহা তিনি দেশের বাইরে উদযাপন করেন। এবার ঈদুল ফিতরে মা বাবাকে নিয়ে যাচ্ছেন সিঙ্গাপুরে।
ভ্যালেন্সিয়া ট্রাভেলসের ভিসা বিভাগের প্রধান কামাল হোসেন জানান, এবার মানুষের দেশের বাইরে যাওয়ার হার একটু কম দেখা যাচ্ছে। দুই তিন বছর আগে ঈদের এক মাস আগে থেকে সিঙ্গাপুর, থ্যাইল্যান্ডের টিকিট সংকট দেখা যেত। এবার তেমনটা দেখা যাচ্ছে না। কারণ হয়তবা মানুষের হাতে টাকা কম। ঈদকে সামনে রেখে বিদেশ থেকে অনেকই দেশে আসে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ঈদ করতে। এবার সে পরিমাণটাও কম। এবছর তার ট্রাভেল এজেন্সি থেকে সিঙ্গাপুর, বালি, থাইল্যান্ডে মানুষ বেশি যাচ্ছে বলে জানান তিনি। এর বাইরে কিছু মানুষ যাচ্ছে ইউরোপে। গত বছর যারা এশিয়ার দেশে ঘুরেছেন তাদের প্রায় ৫০ থেকে ৩০ শতাংশ মানুষ এবার ইউরোপ-আমেরিকা যাচ্ছেন। গ্রীষ্মকাল থাকায় এবার ইউরোপ-আমেরিকাতে বেশি মানুষ বেড়াতে যাচ্ছেন।
টোয়াবের প্রেসিডেন্ট তৌফিক উদ্দিন আহমেদ জানান, সারা বছর ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষ দেশের বাইরে ভ্রমণ করে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ করে ঈদের এই লম্বা ছুটিতে। দেশের কিছু কিছু এয়ারলাইন্স বিদেশি কিছু হোটেলের সঙ্গে যৌথভাবে এসময় প্যাকেজ ট্যুরের ব্যবস্থা করে। আমাদের দেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি যায় ভারতে। গত বছর এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ভারত ভ্রমণে বাংলাদেশ এখন প্রথম স্থানে আছে। প্রতিদিন সাড়ে ছয় হাজার মানুষ ভারতের ভিসা পায়। সেই মতে বছরে ১৫ লাখ লোক ভারত যায়। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে কলকাতা যাওয়া কক্সবাজার থেকেও সুলভ। তাই দেশের বাইরে ভ্রমণের কথা এলে আমাদের ভারতের কথাই প্রথম আসে। তিনি বলেন, শুধু অবকাশ নয় এখন মানুষের হাতে টাকা আছে বলেই তারা দেশের বাইরে বেড়ানোর কথা ভাবতে পারেন। দেশের মধ্যেও প্রতিবছর ৫০ হাজার মানুষ ভ্রমণ করে। তবে বিদেশে যাওয়ার সাথে সাথে আমাদের দেশে আসা এবং দেশের মধ্যে ভ্রমণ করাকে উৎসাহিত করতে হবে।
একই কথা বলেন, ট্যুরিজম ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টিডাব) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জামিউল আহমেদ। তিনি বলেন, প্রতি বছর ২৫ লাখ মানুষ দেশের বাইরে ভ্রমণ করলেও বিদেশ থেকে দেশে আসে এক লাখের কিছু বেশি। আমাদের এই দিককে গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের দর্শনীয় স্থানগুলোকে আরো আকর্ষণীয় করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা আমাদের নাইট লাইভ করতে হবে। যা নেই। একজন ট্যুরিস্ট ২৪ ঘণ্টার ১৬ ঘণ্টা বেড়ায়। বিষয়টি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি বিভাগের অধ্যাপক রাশেদুল হাসান বলেন, কোনো একটি বিশেষ সময়কে কেন্দ্র করে ভিনদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারছে না বাংলাদেশ কথাটা সত্যি। এ বিষয়ে সরকারে দায়িত্ব হলো, নীতি করা। কিভাবে ট্যুরিজমকে আকর্ষণীয় করা যায় তা নিয়ে আরো কাজ করতে হবে।

এক কাতারে, এক আহারে by উজ্জ্বল মেহেদী

২৬ মে ২০১৮: ইফতার আয়োজন সাদামাটা। ভুনা কিংবা পাতলা খিচুড়ি আর আখনি। ইফতারে এ দুটি পদই সিলেটিদের সবচেয়ে প্রিয়। খেজুর, শরবত, ছোলা, পেঁয়াজিসহ নানা পদের ইফতারি থাকলেও আখনি-খিচুড়ি থাকবেই। রমজান মাসজুড়ে ইফতার আর সাহ্‌রি পর্বে সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহে এ আয়োজন থাকে প্রতিবছর। মাজারভক্ত নারী-পুরুষেরা ইফতার বা সাহ্‌রিতে অংশ নেন। সবাই এক কাতারে। প্রায় ৭০০ বছরের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় মুসাফিরদের জন্য এমন আয়োজন চলছে এবারও।
দুপুর গড়ালেই শুরু হয় আয়োজন। একদিকে চলে রান্না, আরেক দিকে জড়ো হন নানা বয়সী মানুষ। তাঁরা সবাই এখানে ‘মুসাফির’। যে ঘরে রান্নাসহ খাবার পরিবেশন চলে, সেটি ‘লঙ্গরখানা’। এ ছাড়া দরগাহ মসজিদেও ইফতার করেন নগরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মসজিদে ইফতারির ব্যবস্থা দরগাহ থেকে হয় না। রোজাদারদের সঙ্গে করে নিয়ে আসা ইফতারি ভাগাভাগি করে খাওয়া হয়। নগরের বিভিন্ন স্থান থেকেও লোকজন ইফতারি পাঠান মসজিদে। সব মিলিয়ে প্রতিদিন সহস্রাধিক রোজাদার ইফতার করেন হজরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহে।
রান্নায় রান্নায় ৫০ বছর
২২ মে বেলা তিনটা। দরগাহের রান্নাঘরে চলছে এমনই ইফতারি তৈরির প্রস্তুতি। লঙ্গরখানার ঘরে ছোট-বড় ১২টি চুলার মধ্যে ৪টি চুলায় রান্নায় ব্যস্ত ষাটোর্ধ্ব মো. মানিক মিয়া। তাঁর সঙ্গে আছেন ফারুক মিয়া ও মিজানুর রহমান নামের দুই সহযোগী। রান্নাঘরেই আলাপ হয় মানিক মিয়ার সঙ্গে। কিশোর বয়স থেকে এ কাজ করছেন। কথায় কথায় হিসাব কষলেন। প্রায় ৫০ বছর ধরে দরগাহে রান্নার কাজ করছেন। এর আগে তাঁর বাবাও এ কাজ করতেন। মানিক মিয়া জানান, রমজান মাসজুড়ে দরগাহে ইফতার ও সাহ্‌রির আয়োজন করা হয়। ইফতারিতে থাকে ভুনা খিচুড়ি, ছোলা। অনেকে খেজুরসহ ফল, মাংস দিয়ে যান। ৩০০ থেকে ৪০০ মানুষের পাতে দেওয়া হয় ইফতারি। এর মধ্যে বৃহস্পতি ও শুক্রবার দরগাহে ভক্তদের ভিড় বেশি থাকায় আয়োজন দ্বিগুণ করতে হয়। ২৫ কেজি পরিমাণ চাল ও ডালের খিচুড়ি রান্না করা হয়।
ব্যস্ততা বাড়ল লঙ্গরখানায়
বিকেল সাড়ে পাঁচটা। রান্নাঘরের ব্যস্ততা শেষ। ব্যস্ততা বাড়ল পাশের লঙ্গরখানায়। খিচুড়ির বড় পাতিল থেকে প্লাস্টিকের থালায় নিতে ব্যস্ত মানিকের দুই সহযোগী ফারুক মিয়া ও মিজানুর। তাঁদের সঙ্গী স্বেচ্ছাসেবী আরও কয়েকজন তরুণ। একজন খিচুড়ির বড় পাতিল থেকে থালায় নিচ্ছেন, অন্যজন সেই থালায় ছোলা তুলছেন; আবার অন্যজন খেজুর দিয়ে থালাগুলো স্তর করে সাজিয়ে রাখছেন। আবদুল মুকিত নামের স্বেচ্ছাসেবী ছয় বছর ধরে মাজারে ইফতার আয়োজনে সহযোগিতা করেন। তাঁর সঙ্গী বাবলু মিয়া ও ইনসান আলী। তাঁরা স্বেচ্ছায় এ কাজ করছেন। মানুষের সেবা করার জন্য স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন বলে জানান তাঁরা।
সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। লঙ্গরখানার নিচতলায় নারী মুসাফিররা। দ্বিতীয় তলায় পুরুষ মুসাফির। সবাই সারিবদ্ধভাবে নির্দিষ্ট আসনে বসা। প্রবেশপথে মুসাফিরদের নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বে থাকা বোরহান উদ্দিন নামের আরও একজন স্বেচ্ছাসেবী জানান, আগে টোকেন দিয়ে ইফতারের আয়োজন করা হতো। এখন টোকেন পদ্ধতি আর করা হয় না। গত বছর থেকে এই পদ্ধতি বন্ধ করা হয়েছে। বোরহানের সঙ্গে কথা বলার ফাঁকে দেখা যায় মাজারের কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী থালায় পরিবেশন করা ইফতারি বিশ্রামাগারের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যাচ্ছেন।
দ্বিতীয় তলায় মুসাফিরদের হাতে হাতে ইফতারি তুলে দেওয়া হচ্ছে। এর আগেই মুসাফিরদের হাতে পানির গ্লাস তুলে দিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। আজানের সঙ্গে সঙ্গে সবাই একসঙ্গে ইফতারে অংশ নেন।
মুসাফিরখানায় প্রায় অধিকাংশ নিরন্ন শ্রেণির মানুষ। এর মধ্যে মাজারভক্ত থেকে মুসাফিরদের সঙ্গে এক সারিতে বসে ইফতার করতে বসতে দেখা গেছে অবস্থাসম্পন্ন মানুষজনকে। মাজারভক্ত থেকে এ ইফতারে অংশ নেওয়া ইমন আহমদ জানান, প্রতিবছর মাজারে একদিন ইফতারে অংশ নেন। তাঁর ভাষ্য, সবাই একসঙ্গে এক কাতারে বসে ইফতার, এতে মনে অন্য রকম এক প্রশান্তি মেলে।
সিলেটের বিশ্বনাথ থেকে মুসাফিরখানায় এসেছেন ফারুক আহমদ। ইফতারের আয়োজন তাঁর দাদার মুখ থেকে শুনেছেন। বললেন, ‘অইজকু (মঙ্গলবার) শহরে কিছু কাজ আছিল। কাজ সেরে মাজারে আইছি। ইফতারি রান্না দেখছি, এক পাতে অংশ নিছি।’
মুসাফিরদের সঙ্গে আছেন মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী একজন। আবু তাহের নামের ওই তরুণ বলেন, ‘কলেজ বন্ধ থাকায় তিন বন্ধু সিলেটে বেড়াতে এসেছিলাম। মাজারে ঘুরতে এসে জানতে পারি ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিদিন একসঙ্গে এত মানুষ এক জায়গায় ইফতারের আয়োজন করা হয় শুনে অবাক লেগেছে। দেখেছি, ইফতারও করেছি।’
ঐতিহ্যের ইফতারি
দরগাহের অভ্যর্থনা দপ্তর থেকে জানা গেছে, রোজার মাসে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ নারী-পুরুষের ইফতারি তৈরি হয়। বৃহস্পতি ও শুক্রবার আয়োজন থাকে দ্বিগুণ। এই ইফতারি শুধু বিতরণ করা হয় সিলেটের বাইরে থেকে আসা মুসাফিরদের জন্য। এটি দরগাহখানার একটি অন্যতম আয়োজন হিসেবে পরিচিত। দরগাহ পরিচালনায় অন্যান্য দপ্তরের সঙ্গে এর কোনো যোগাযোগ নেই। বংশপরম্পরায় সরাসরি তত্ত্বাবধান করা হয় দরগাহের মোতোয়ালি পরিবার থেকে। কথা হয় বর্তমান মোতোয়ালি সরেকুম ফতেহ আল আমানের সঙ্গে। মুসাফিরদের নিয়ে লঙ্গরখানার এমন আয়োজনের ইতিহাস ৭০০ বছরের পুরোনো বলে তিনিও পরম্পরায় শুনেছেন। তবে এ-সংক্রান্ত কোনো নথি রাখার রেওয়াজ নেই বলে তা সংরক্ষণের মধ্যে নেই। হজরত শাহজালাল (রহ.) রমজান মাসে তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে একসঙ্গে বসে ইফতার করতেন। তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর অনুসারীরা একইভাবে ইফতার করতেন।
সরেকুম ফতেহ আল আমান বলেন, সেই ঐতিহ্যের ধারায় ইফতার চলছে। ধনী-গরিব ভেদাভেদ নেই, সবাই এক কাতারে বসে পরিবেশন করা একই খাবারে ইফতার করেন। রেওয়াজ অনুযায়ী এ আয়োজন এককভাবে মোতোয়ালি পরিবারের। তবে এতে চাইলে অন্য যে কেউ অংশ নিতে পারেন।

টাঙ্কি পাহাড়ে বসবাসের ঝুঁকি ফায়ার সার্ভিসের সতর্কবার্তা

বান্দরবানের জেলা শহরের ইসলামপুর টাঙ্কি পাহাড়ে ধসের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে ৫০টি পরিবার। অগ্নিনির্বাপণ সংস্থা ফায়ার সার্ভিস ওই পাহাড়কে অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে দ্রুত সরে যাওয়ার অথবা সরিয়ে নেওয়ার জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে। ফায়ার সার্ভিস বলছে ভারী বর্ষণে ওই এলাকায় পাহাড়ধসে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। গত শনিবার ফায়ার সার্ভিস ওই এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের সরে যেতে অনুরোধ করেছে।
গত বুধবার অগ্নিনির্বাপণ সংস্থার স্টেশন কর্মকর্তা ফরহাদ উদ্দিন গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে বলেছেন, টাঙ্কি পাহাড়ে শুকনো মৌসুমে শুকিয়ে যাওয়া ঝরনা ও খাঁড়া দুই পাড় দখল করে কিছু পরিবার বাসাবাড়ি নির্মাণ করেছে—যা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
ফরহাদ উদ্দিন আরও বলেন, গত শনিবার কয়েক ঘণ্টার হালকা বৃষ্টিপাতেই কয়েকটি ঝরনার খাঁড়া পাড় ধসে পড়েছে এবং ঝরনার ওপর নির্মিত বাড়ি পানির প্রবাহে ভেসে গেছে। যেকোনো সময় ভারী বৃষ্টি হলে সেখানে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। এ জন্য ভারী বৃষ্টির আগে ওই পরিবারগুলোকে দ্রুত সরে যাওয়ার জন্য অথবা সরিয়ে নিতে মাইকিং করা হয়েছে।
টাঙ্কি পাহাড়ে গিয়ে দেখা যায়, পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ম্যাক্সি খালের পশ্চিম পাশে খাঁড়া পাহাড়ে একটি ঝরনা শঙ্খ নদে গিয়ে পড়েছে। ওই ঝরনা ও ঝরনার অতি খাঁড়া দুই পাড় দখল করে প্রায় ৫০টি পরিবার বাসাবাড়ি নির্মাণ করে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। ঝরনার খাঁড়া পাড়ে কারও কারও বাড়ির কিছু অংশ ইতিমধ্যে ধসে পড়েছে।
ঝরনা দখল করে নির্মিত বাসায় ভাড়া থাকেন আয়েশা আক্তার ও রহিমা বেগম। আয়েশা আক্তার বলেন, রিকশাচালক স্বামীর আয়ে দুই হাজার টাকা বাসা ভাড়া দিয়ে পরিবার চালাতে হয়। মৃত্যুর ভয় রয়েছে জেনেও এখানে থাকছেন, কারণ অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।
আয়েশা আক্তার আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিসের লোকজন তাঁদের বলে গেছেন বাসা থেকে চলে যেতে। কিন্তু কোথায় তাঁরা যাবেন বলেননি।
ঝরনার খাঁড়া পাড়ে বসবাসকারী সোহরাব শিকদারের বাসার একাংশ ধসে পড়েছে। তিনি বলেছেন, ভারী বৃষ্টি হলে তাঁর বাসাসহ দুই পাড়ে আরও আট-নয়টি পরিবারে বাড়ি ধসে পড়বে। ঝরনায় থাকা ছয়-সাত পরিবারের বাড়ি ভেসে যাবে। কিন্তু তাঁরা গরিব মানুষ। কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। সরে যাওয়ার জন্য জায়গা দিতে প্রশাসনের কাছে দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
টাঙ্কি পাহাড় জামে মসজিদের ইমাম মো. সিরাজুল ইসলাম ও প্রবীণ গোলাম সোবহান বলেছেন, লাঙ্গিপাড়া ইউকে চিং বীরবিক্রম সড়ক পানির টাঙ্কি পর্যন্ত এলাকায় ঝরনার পাড়ে বসবাসরত কারও বাসাবাড়ি থাকবে না। মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে থাকা ৫০টি পরিবার এখনই সরে না গেলে বর্ষা মৌসুমে দুর্ঘটনার শিকার হবে।
বান্দরবান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কালাম বলেছেন, ৫০–এর অধিক পরিবারকে টাঙ্কি পাহাড় এলাকা থেকে সরে যাওয়ার জন্য কয়েকবার বলা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ১২-১৫টি পরিবারকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া দরকার।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নোমান হোসেন বলেছেন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের বর্ষার আগে সরে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
বান্দরবান জেলা শহরের টাঙ্কির পাহাড়ে ঝরনা ও ঝরনার পাড় দখল করে ঝুঁকিপূর্ণ বাসাবাড়ি। গত৩০ মে দুপুরে। প্রথম আলো

ভারতে নির্বাচিত প্রার্থীদের ৪৭৫ জন কোটিপতি, পশ্চিমবঙ্গে ৩১

ভারতের সপ্তদশ লোকসভার ৫৪২ আসনের জয়ী প্রার্থীদের মধ্যে এবার কোটিপতির সংখ্যা ৪৭৫। অ্যাসোসিয়েশন অব ডেমোক্রেটিক রিফরমস (এডিআর) নির্বাচনের সময় মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রার্থীদের উল্লেখ করা সম্পত্তির তথ্য বিশ্লেষণ করে এ কথা জানিয়েছে। ২৭ মে সোমবার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এই তথ্য।
পশ্চিমবঙ্গ ইলেকশন ওয়াচ একইভাবে শুধু পশ্চিমবঙ্গের প্রার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে গতকাল রোববার জানায়, রাজ্যের লোকসভার ৪২ আসনে জয়ী প্রার্থীদের মধ্যে ৩১ জনই কোটিপতি। ২০১৪ সালের তুলনায় এ সংখ্যা পাঁচজন বেড়েছে। ২০১৪ সালে ছিল ২৬ জন।
ভারতের লোকসভার আসনসংখ্যা ৫৪৫ হলেও এর মধ্যে দুজন মনোনীত হন। বাকি ৫৪৩ আসনের মধ্যে এবার নির্বাচন হয় ৫৪২ আসনে। তামিলনাড়ুর একটি আসনে এবার নির্বাচন হয়নি।
পশ্চিমবঙ্গ ইলেকশন ওয়াচের রাজ্য সমন্বয়ক উজ্জয়িনী হালিম বলেছেন, এবার পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি লোকসভা আসনে লড়েছেন ৪৬৬ জন প্রার্থী। এই ৪৬৬ জনের মধ্যে কোটিপতি প্রার্থী সংখ্যা ছিল ১০৯। এর মধ্যে সবচেয়ে ধনী প্রার্থী ছিলেন কলকাতা দক্ষিণের কংগ্রেস প্রার্থী মিতা চক্রবর্তী। এরপর রয়েছেন মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরের তৃণমূল সাংসদ খলিলুর রহমান এবং তৃতীয় স্থানে ঘাটালের তৃণমূল প্রার্থী অভিনেতা দেব। এই তিনজনের মধ্যে মিতা চক্রবর্তী ছাড়া বাকি দুজন জিতেছেন।
পশ্চিমবঙ্গে এখন সবচেয়ে উপার্জনকারী সাংসদ হলেন তৃণমূলের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বার্ষিক আয় ১৭ কোটি রুপির বেশি। এরপর রয়েছেন দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু সিং বিস্ত, ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ মুখ্যমন্ত্রী মমতার ভাইয়ের ছেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
ইলেকশন ওয়াচের প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গে এবার জয়ী ২২ জন তৃণমূল প্রার্থীর মধ্যে ২০ জনই কোটিপতি, গড় সম্পত্তির পরিমাণ ছয় কোটি। বিজেপির ১৮ জন জয়ী প্রার্থীর মধ্যে ৯ জন কোটিপতি, গড় সম্পত্তির পরিমাণ দুই কোটি রুপি। কংগ্রেসের জয়ী দুজনই কোটিপতি। তবে এবার বাম দলের কোনো প্রার্থী জয়ী না হওয়ায় কোটিপতি জয়ী প্রার্থীর তালিকায় উঠে আসেনি তাঁদের নাম।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজয়ী ৪২ প্রার্থীর মধ্যে ২৩ জনের বিরুদ্ধে নানা ফৌজদারি অপরাধের মামলা রয়েছে।
লোকসভা নির্বাচনে জয়ী ৪৭৫ জন কোটিপতি প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে ধনী প্রার্থী ছিলেন মধ্যপ্রদেশের ছিন্দোয়াড়ার কংগ্রেসদলীয় মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথের পুত্র নকুল নাথ। তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ৬৬০ কোটি রুপি। দ্বিতীয় স্থানে তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারী আসনের কংগ্রেস প্রার্থী বসন্ত কুমার এইচ। তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ৪১৭ কোটি রুপি। আর তৃতীয় স্থানেও কংগ্রেসের বেঙ্গালুরু রুরাল কেন্দ্রের প্রার্থী ডি কে সুরেশ।
এডিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জয়ী ৪৭৫ জন কোটিপতি প্রার্থীর মধ্যে বিজেপির ২৬৫ জন, শিবসেনার ১৮ জন ও কংগ্রেসের ৪৩ জন। ২০১৪ সালে লোকসভায় জয়ী কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৪৪৩ এবং ২০০৯ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩১৫।

ঢাকায় ঘুরে বেড়াতো ভয়ঙ্কর এই চক্র by জিয়া চৌধুরী

সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ঘুম, অতঃপর শুরু কাজের তোড়জোড়। সন্ধ্যা থেকে ভোর রাত এই সময়ে নিরীহ মানুষকে জোর করে গাড়িতে তুলে ডাকাতি ও ছিনতাই করতো ১০ থেকে ১২ জনের একটি চক্র। টাকা-পয়সা কিংবা দামি মুঠোফোন, জিনিসপত্র নিয়েও ক্ষান্ত হতো না ডাকাত দলের সদস্যরা। ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের শিকার ব্যক্তিদের বিদায় বেলায় নিজেদের কায়দায় চুরি বা চাকু দিয়ে আঘাত করে বিদায় সম্ভাষণ জানাতো। কখনো কখনো ছিনতাইয়ের শিকার ব্যক্তির সঙ্গে কোন নারী সদস্য থাকলে তাকেও যৌন হয়রানি করতো চক্রের সদস্যরা। রাজধানীর মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ, বছিলা ও ঢাকা উদ্যান এলাকা ছিল এই ডাকাত চক্রের নিয়ন্ত্রণে। তবে ঢাকার বাইরেও চক্রটি কয়েকটি জায়গায় ডাকাতি করেছে। গত ২৫ মে শনিবার রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের অর্গানাইজড ক্রাইম প্রিভেনশন টিমের অভিযানে ডাকাত দলের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরা হলো, মো. নাসির সরদার(২২), মো. কামাল মাদবর(২৩), মো. শহীদ বেপারী(৩৫), মো. মনিরুল হাসান(১৮) ও মো. মাহাবুব মিয়া(৩০)। ডাকাত দলের আরো অন্তত সাত সদস্য ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে। গ্রেপ্তার পাঁচ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৯৯ ও ৪০২ ধারায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডাকাত দলটি সংঘবদ্ধভাবে অনেক দিন ধরে মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ ও ঢাকা উদ্যানের প্রধান সড়কের সামনের এলাকায় ডাকাতি ও ছিনতাই করতো। গ্রেপ্তার হওয়া ৫ জনের মধ্যে বয়সে জ্যেষ্ঠ মাহাবুব মিয়া ডাকাত দলের যানবাহন বিভাগের দায়িত্ব সামলাতেন। প্রতিদিন বিকালে গাড়ি ঠিক করে দলের বাকি সদস্যদের ফোন করে ঘুম ভাঙাতেন তিনি। পরে প্রত্যেককে গাড়িতে তুলে বেড়িবাঁধের আশেপাশের এলাকায় চলে যেতেন। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ডাকাত দলটির বেশিরভাগ সদস্য বয়সে তরুণ ও মাদকাসক্ত। মাদকের টাকা জোগাতে এরা ডাকাতির মতো অপরাধমূলক কাজে যোগ দেয়। তবে, রাতে ডাকাতি করার কারণে দলের সবাই সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ঘুমাতো। বিকালের দিকে মাহাবুব গাড়ি ঠিক করে তাদের নিয়ে ঢাকা উদ্যানের প্রধান সড়কের দিকে চলে যেতো। আলো নামলেই রিকশা আরোহী থেকে শুরু করে পথচারী ও গাড়ির আরোহীদেরও টার্গেট করতো ডাকাতরা। ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের পর কৌশলে চাপাতি ও চাকু দিয়ে তাদের আঘাত করে নিরাপদ দুরত্বে দিয়ে আসতো। ভোলা থেকে সদ্য উচ্চ মাধ্যমিক পাস করা এক তরুণ সম্প্রতি তাদের হাতে ডাকাতির শিকার হয়। আরো একজন বেসরকারি চাকরিজীবী তার স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকা উদ্যানের সড়কে যাবার সময় ডাকাত দলের হাতে পড়েন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই চাকরিজীবী জানান, তার স্ত্রীকেও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে ডাকাতরা। ডিবি’র সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. নাজমুল হক বলেন, মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করার সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে ডাকাত দলের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধ হয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি। তাদের কাছ থেকে দুইটি স্টিলের চাপাতি এবং ৩ টি স্টিলের চাকু উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ডাকাতি করে বলে স্বীকার করেছে। গ্রেপ্তার ৫ জনের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন থানায় ডাকাতিসহ ছিনতাই ও মাদক মামলা হয়েছে।

সরজমিন মিরপুর বিআরটিএ কার্যালয়: এখনো দালালদের দৌরাত্ম্য by শাহনেওয়াজ বাবলু

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) মিরপুর কার্যালয়। পরিবহন সংক্রান্ত এ অফিসটি যেন দালালের রাজ্য। বিআরটিএর এ আঞ্চলিক কার্যালয়ের সব ধরনের কাজ নানা কৌশলে দালালরাই নিয়ন্ত্রণ করে। দালাল ছাড়া কাজ করতে ভোগান্তি পোহাতে হয় পদে পদে। গাড়ির লাইসেন্স, ড্রাইভিং লাইসেন্স, মালিকানা হস্তান্তর, ফিটনেস সার্টিফিকেটসহ সকল কাগজপত্র ঠিক করতে সরকারি ফি জমা দেয়ার আগে দালালের কমিশন পরিশোধ করতে হয়। আর কমিশনের একটা অংশ যায় বিআরটিএ কর্মকর্তাদের পকেটে। এছাড়া কাগজপত্র ঠিক করতে গিয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে দালাল, কর্মচারী-কর্মকর্তাদের কাছে নাজেহাল হতে হয় সাধারণ মানুষকে। সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লাইসেন্সের জন্য ফিল্ড টেস্ট দিতে গেলে ৩০ সেকেন্ড গাড়ি চালানো সুযোগ দেয়া হয়। এ জন্য প্রত্যেককে গুনতে হয় ২০০ টাকা করে। যদিও ফিল্ড টেস্টে কোনো টাকা নেয়ার তালিকায় নেই। প্রতিদিন এ কার্যালয়ে প্রায় ১ হাজার গ্রাহক ফিল্ট টেস্টে অংশ নেন।
গত রোববার মিরপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে ঘুরে দেখা যায়, নতুন কেউ কাগজ করাতে গেলেই তাকে ঘিরে ধরছে একটি গ্রুপ। অল্পসময়ে কাজ সম্পূর্ণ করে দেয়ার কথা বলে আদায় করে নিচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। কার্যালয়ের ভিতরে বিভিন্ন কক্ষের আশপাশে, ব্যাংকের সামনে, গাছতলায় সর্বত্র দালালরা তৎপর। মূল ফটকের পাশে স্ট্যাম্প, ফটোকপির দোকানগুলো দালাল চক্রের মূল আস্তানা। ব্যাংকে ফি জমা দেয়ার ক্ষেত্রেও দালালদের অগ্রাধিকার। অথচ সেখানে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছে। প্রত্যেক রুমের সামনেই নিরাপত্তা কর্মীরা থাকে। প্রয়োজনেও সেখানে কেউ ঢুকতে পারে না। কিন্তু দালালরা সহজেই সেখান ঢুকে কাজ করিয়ে নিচ্ছে।
আল আমিন হোসেন নামের একজন বলেন, ফিল্ড পরীক্ষা দিতে গেলে আরো বড় ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। যারা আগ থেকে যোগাযোগ করা থাকে তারাই আগে টেস্টে অংশ নিতে পারে। গ্রাহকদের ফিল্ড পরীক্ষায় ৩০ সেকেন্ড গাড়ি চালানোর জন্য প্রত্যেককে ২০০ টাকা করে দিতে হয়। আমি তাদের কাছে জানতে চাইলাম, এখানে টাকা দেয়ার কথা কোথাও তো উল্লেখ নেই। তখন তারা বলে এটা নাকি ‘ফিক্সড টাকা’।
কাজল নামে এক ব্যক্তি জানান, তিনি দালালকে দিয়েই সব কাজ করাচ্ছেন। তিনি বলেন, ওখানে কেউই খুশি নয়। টাকাটাই সবার ধান্ধা। দালালদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের যোগসাজশ থাকে। দালালরা কর্মকর্তাদের নিয়মিত টাকা দিয়ে একটি সম্পর্ক করে রাখে, যাতে কাজ দ্রুত হয়ে যায়। অনেক কর্মকর্তা আছেন যারা সাধারণ গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা নেন না। আর কাজও করে দেয় না। নানা অজুহাতে টালবাহানা করেন। কিন্তু দালালের কাছে দিলে ঠিকই কাজ করে দেন। তখন আর বুঝতে বাকি থাকে না, ওই কর্মকর্তা টাকার জন্যই এসব করেছেন। কাওসার নামের একজন বলেন, আমি গেট দিয়ে প্রবেশের সঙ্গেই প্রস্তাব দেয়া হয়, বিআরটিএতে যে খরচ হয়, তার চেয়ে দুই-তিন হাজার টাকা বেশি দিলেই কাজ হয়ে যাবে। এ জন্য আমাকে মাত্র আধা ঘণ্টা বসতে হবে। ১ হাজার ৩০০ সিসির গাড়ির কাগজের জন্য বিআরটিএকে দিতে হয় ১৮ হাজার টাকা। এক হাজার ৫০০ সিসির গাড়ির জন্য দিতে হয় ২৩ হাজার টাকা। এর চেয়ে দুই-তিন হাজার টাকা বেশি দিলেই দালালরা আধা ঘণ্টার মধ্যে কাগজ এনে দেয়। সেবা নিতে আসা গুলশান শাহজাদপুর এলাকার আহসান আলী মোক্তার, মহাখালী দক্ষিণপাড়ার রুহুল আমীন, মুরাদ আহমেদ, তেজগাঁও নাখালপাড়া রেলগেটের ইউনুস আহমেদসহ কয়েকজন অভিযোগ করেন, সাধারণ প্রক্রিয়ায় সেবা পেতে অযথা হয়রানি করা হয়। অথচ দালালদের দিয়ে দ্রুত কাজ হয়ে যাচ্ছে। তারা জানান, কর্মকান্ডে দক্ষ মাস্টার রোলের অস্থায়ী কর্মীদের হঠাৎ করেই সরিয়ে দিয়ে অদক্ষ কর্মীরা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে নানা জটিলতা ও সময়ক্ষেপণ করছে।
কার্যালয়টির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরাও হাত গুটিয়ে বসে নেই। বিভিন্নভাবে তারাও কাজ করেন। প্রধান গেটের বাম পাশেই দেয়া হয় তথ্য সেবা ও লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স। কিন্তু ২০০ টাকা না দিলে তা পেতে অনেক রকমের হয়রানি পোহাতে হয়। তার পাশেই ডিজিটাল নম্বর-প্লেট প্রদান শাখা। সেখানেও ৫০০ টাকা করে দিতে হয়। দালালদের ভাষায় এটা ‘ফিক্সড টাকা’। এ টাকা না দিলে নম্বর-প্লেট যে কতদিনে মিলবে তা জানা নেই। এক নম্বর ভবনের নিচে লোকজনের ভিড়। সেখানে দুই-আড়াই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও ছবি তোলার সিরিয়াল মেলে না। তবে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের হাতে ২০০ টাকা দিলেই ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যেই ছবি তোলা সম্পন্ন হয়ে যায়।
এ বিষয়ে জানতে বিআরটিএ’র উপ-পরিচালক (প্রকৌশল) মো. মাসুদ আলম বলেন, দালাল প্রতিরোধে দফায় দফায় অভিযান চালানো হচ্ছে। এই কার্যালয় এখন সেবা গ্রহীতাদের আস্থার স্থল হয়ে উঠেছে। সেবা গ্রহীতারা কোনোরকম ঝক্কি-ঝামেলা ছাড়া নিজেরাই বিভিন্ন শাখায় প্রয়োজনীয় কাজ করছেন এবং হাসিমুখে ফিরে যাচ্ছেন। মিরপুর কার্যালয়ে ঘুষ, হয়রানি, দালালদের উৎপাতের অভিযোগ সত্য নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

ফেসবুকের চেয়ারম্যান হিসেবে জুকারবার্গের দিন শেষ!

ফেসবুকের সিইও মার্ক জুকারবার্গকে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে যেতে হতে পারে। গত বৃহসপতিবার এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটির অংশীদারদের সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বিবিসি জানিয়েছে, এ সভায় একটি ভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে জুকারবার্গের হেরে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ তিনি ফেসবুকের ৬০ ভাগ শেয়ারের মালিক, তাই অন্য অংশীদাররা তার বিপক্ষে ভোট দিতে পারেন। আর এ থেকেই বোঝা যাবে অংশীদারদের মধ্যে কত ভাগ এখনো মার্ক জুকারবার্গের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন।
ফেসবুকের প্রায় ৫ মিলিয়ন ডলারের শেয়ার আছে এমন একটি প্রতিষ্ঠান হলো ট্রিলিয়াম অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট। এটিই মূলত মার্ক জুকারবার্গের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছে। এরপর থেকে তার পদত্যাগের জন্য চাপ বাড়তে শুরু করে।
তথ্য পাচার কেলেঙ্কারির পর থেকে ফেসবুকের নিয়ন্ত্রণ তার হাত থেকে সরিয়ে নিতে চায় অন্যান্য অংশীদাররা। তবে তাদের সকল আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন জুকারবার্গ।
ফ্রান্স-২ কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জুকারবার্গ তার দীর্ঘ সময়ের বন্ধু ও ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস হিউগসের দাবিকে উড়িয়ে দেন। জুকারবার্গের অত্যধিক প্রভাবের কারণে ক্রিস ফেসবুককে বিভক্তের পক্ষে ছিলেন। ফেসবুকের সাবেক নিরাপত্তা প্রধান অ্যালেক্স স্টামোসও জুকারবার্গকে ফেসবুকের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে যেতে বলেছিলেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, জুকারবার্গের উচিত ফেসবুকের উপর থেকে কর্তৃত্ব কমিয়ে দেয়া এবং একজন নতুন সিইও নিয়োগ দেয়া।

বাজির লড়াই

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ব্যাটে-বলের যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে অন্য এক যুদ্ধ। না, যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণান্ত্র নিয়ে নয় সেই যুদ্ধ। এ যুদ্ধ হলো বেটিং বা বাজির যুদ্ধ। পশ্চিমবঙ্গে, বিশেষ করে কলকাতায় এ নিয়ে মেতে উঠেছে বাজিপাড়া। ব্যবহার করা হচ্ছে ১২টি অ্যাপ। লোকসভা নির্বাচনে সবকিছু ওলট-পালট হয়ে যাওয়ায় বাজিগররা যেন খোলা মাঠ পেয়েছেন। বিশ্বকাপে ভারতের জয়-পরাজয় নিয়ে চলছে বাজি।
প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এমএস ধোনি সেঞ্চুরি পাবেন কিনা তা নিয়ে বাজিতে তাদের পালে হাওয়া লেগেছে। উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছেন বাজিগররা।
বিভিন্ন সূত্র বলছে, বুড়াবাজার, লেক টাউন এবং হাওড়ায় এবার ফেভারিট টিম নয় ভারত। বাজিতে বলা হচ্ছে, ইংল্যান্ড এবার জেতার চান্স ৫। হেরে যাওয়ার চান্স ২। তারা ভারতের ক্যাপ্টেন বিরাট কোহলির স্কোয়াডের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে। ভারতের জেতা ও পরাজিত হওয়ার বাজি হলো ৩-১। অস্ট্রেলিয়ার বেলায় তা ৪-১। এ বছর ইংল্যান্ড পরাজিত করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে। এ ছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে তারা ২-২ এ টাই করেছে। আন্তর্জাতিক হিসাবে ইংল্যান্ডের জেতার সম্ভাবনা ৭। হারার সম্ভাবনা ২। আরো মজার বিষয় হলো টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগেই ভারতের ক্যাপ্টেন বিরাট কোহলি এবং বোলার যাসপ্রিত বুমরাহ সেরা ক্রিকেটার হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছেন। তবে এক্ষেত্রে বেটিংটা আরো জোরালো হয়েছে ইংল্যান্ডের জো রুট, অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার ও মিশেল স্টার্ককে নিয়ে। এ নিয়ে এক বাজিকর বলেছেন, বিশ্বকাপ ক্রিকেট একটি দীর্ঘ সময়ের টুর্নামেন্ট। ভারত যখন খেলা শুরু করবে তখন এর জয় পরাজয়ের হিসাবে উত্থান পতন ঘটবে।
বাজি আরো জোরালো হবে। বর্তমানে আমরা আন্তর্জাতিক রেটিংটাকে গ্রহণ করছি। শিগগিরই আমরা আমাদের নিজেদের রেটিং ব্যবহার করবো। টুর্নামেন্ট এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে আমরাও বেটিং বা বাজি শুরু করবো। তাতে বলা হবে কে সবচেয়ে বেশি সিক্স বা ছক্কা মারবেন, এক ওভারে কে সবচেয়ে বেশি রান পাবেন, একটি ইনিংসে কতটা অতিরিক্ত রান হবে তা নিয়ে। কিন্তু এখন আমরা শুধু প্রতিটি গেম নিয়ে বাজি ধরছি। তবে এক্ষেত্রে বাজিটা জমে ওঠে, যদি ম্যাচটা হয় ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে। এ সময় হিউজ ব্যবসা হয়। শুধু আইপিএলে বাজি ধরার জন্য মোট গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৩ জনকে। পুলিশ বলেছে, যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছেন মহারাষ্ট্র ও মধ্যপ্রদেশের মানুষ। আর এখন কলকাতার গেস্ট হাউজগুলোতে গ্যাং সদস্যদের ওপর কড়া দৃষ্টি রাখা শুরু করেছে এন্টি রাউডি স্কোয়াডের সদস্যরা।
সূত্র বলেছে, এবার বাজি ধরার জন্য ১২টি অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া অর্থের বিনিময়ে অনলাইনে ম্যাচ দেখার সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। এমন সব অ্যাপের মধ্যে রয়েছে বেটফেয়ার, বেট৩৬৫। অনেক দেশে বাজি বৈধ। তাই এসব ব্যবহার করে বাজিগররা সহজেই ঢুকে যেতে পারছেন লাইনে। এসব বাজিতে আবহাওয়া, টস, ম্যান অব দ্যা ম্যাচ ইস্যুও ব্যবহার করা হয় বলে জানাচ্ছে পুলিশের সোর্স।
এবার বাজির নিয়মে বলা হয়েছে, যদিও বাজি অবৈধ, তবু যদি কেউ ইংল্যান্ডের পক্ষে বাজি ধরে তাহলে তাকে পরিশোধ করতে হবে ২০০ রুপি। যদি বাজিতে তিনি জিতে যান তাহলে তাকে ফেরত দেয়া হবে অতিরিক্ত ৫০০ রুপি। যদি কেউ ভারতের পক্ষে ১০০ রুপি বাজি ধরেন এবং তিনি জিতে যান বাজিতে তাহলে তিনি ফেরত পাবেন অতিরিক্ত ৩০০ রুপি। কেউ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে বাজি ধরে জিতলে ফেরত পাবেন অতিরিক্ত ৪০০ রুপি। সব লেনদেন করা হচ্ছে অনলাইনে।