Monday, August 26, 2019

রাখাইনে বিদ্রোহী দমন নামে শিশু হত্যায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী

বিদ্রোহী দমনের অজুহাতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী সাধারণ নাগরিকদের হত্যা করছে। এ হত্যায় বাদ নেই শিশুরাও।

শনিবার (২৪ আগস্ট) রাখাইন রাজ্যের মিনব্যা জনপদের নিকটবর্তী পান মায়ুং গ্রামে সেনবাহিনীর আর্টিলারি শেল বিস্ফোরণে তিন শিশু মারা গেছে এবং আরও চার জন আহত হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ইউ হেলা থেইন অং দেশটির গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘রোববার (২৫ আগস্ট) নিহত শিশুদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আহত অন্য তিনজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে এ অঞ্চলে চিকিৎসকের খুবই অভাব।’

গ্রামবাসীরা জানিয়েছে, গ্রামের মাঝামাঝি একটি পাহাড়ে সেনাবাহিনীর বিদ্রোহী দমনের নামে একটি ক্যাম্প তৈরি করেছে। সেখান থেকে ছোড়া শেলের আঘাতে শিশুদের মৃত্যু হয়।

ইউ হেলা থেইন অং বলেন, ‘গ্রামে আরাকান আর্মির (এএ) কোনো সদস্য নেই।’

বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী অহেতুক গুলি চালিয়েছে। চিকিৎসকের অভাব এবং সেনাবাহনীর নির্মম এই ঘটনায় বাসিন্দারা খুবই ক্ষুব্ধ।

আরাকান আর্মির মুখপাত্র ইউ খেইন থুখা বলেছেন, ‘কামান পান মায়ুংয়ের সর থিন কায়ং ওয়ার্ডে এক গ্রামবাসীর বাড়িতে পড়েছিল এবং এতে তিন শিশু মারা গিয়েছে। এদের মধ্যে ১৬ বছর বয়সী কলেজ ছাত্র, একটি ছয় বছর বয়সী এবং একটি নয় বছর বয়সী শিশু মারা গেছে।’

তিনি জানান, একটি সামরিক ইউনিট ছিল গ্রামের কেন্দ্রস্থলে। সেখানকার আশেপাশে কোনও লড়াই হয়নি। ঘনবসতিপূর্ণ আবাসস্থলের মধ্যে তাদের সেনাবাহিনী অবস্থান করা গ্রহণযোগ্য নয়।

রোববার (২৫ আগস্ট) এএ এক বিবৃতি প্রকাশ করে বলেছে যে রাখাইনের জনগণের সহযোগিতায় তারা রাজ্যে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত করার জন্য সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেবে।

রাখাইনে ইন্টারনেট ব্যবহার বন্ধ করার জন্য রাজ্য কাউন্সিলর অং সান সু চি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘সেনা কর্তৃক সংঘটিত অপরাধের আড়াল করতে ইন্টারনেটে বন্ধ রাখা হয়েছে।’

এদিকে, ট্রু নিউজ এজেন্সিতে মেজর জেনারেল সোয়ে নাইং উ শনিবার (২৪ আগস্ট) একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, বিদ্রোহী জোট লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আগে সাবধানতার সঙ্গে চিন্তা করা উচিত। যদি তারা আলোচনায় যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, সামরিক বাহিনী তাদের স্বাগত জানাবে। তবে লড়াই চালিয়ে গেলে সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

জাতীয় মুক্তি বাহিনী, এএ, এবং মিয়ানমার জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট বাহিনী নিয়ে গঠিত এই জোটটি ১৫ আগস্ট থেকে মন্ডল অঞ্চলে পাইয়ন ওউ লুইন এবং শান স্টেটের ন্যাংচোতে সমন্বিত আক্রমণ শুরু করেছে।

অন্যদিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ২০১৮ সালে ২১ ডিসেম্বর থেকে একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল। কিন্তু তার পরেই দুই প্রতিপক্ষের যুদ্ধ থেমে নেই। যদি সেনাবাহিনী যুদ্ধবিরতি দু'বার বাড়িয়ে দিয়েছিল।

রাখাইন নৃতাত্ত্বিক কংগ্রেসের মতে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের জুলাই পর্যন্ত সামরিক বাহিনীর এবং এএ-এর লড়াইয়ে ৬২ জন নাগরিক মারা গিয়েছে এবং দেড় শতাধিকেরও বেশি আহত হয়েছে।

মহাকাশে ইতিহাসের প্রথম অপরাধ, তদন্তে নাসা

মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা সম্ভবত মহাকাশে ঘটে যাওয়া প্রথম অপরাধের এক অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, একজন নভোচারী মহাশূন্য থেকে পৃথিবীতে তার এক সাবেক জীবনসঙ্গীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বেআইনিভাবে ঢুকে পড়েছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকা খবর দিচ্ছে, মহাকাশচারী অ্যানি ম্যাক্লেইন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) থেকে ওই অ্যাকাউন্টে ঢোকার কথা স্বীকার করেন কিন্তু দাবি করেন যে এর মাধ্যমে কোনো আইন ভঙ্গ হয়নি। তার জীবনসঙ্গী সামার ওর্ডেন মার্কিন ফেডারেল ট্রেড কমিশনের কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ করেছেন বলে জানা যাচ্ছে। এই ঘটনার পর মিজ ম্যাক্লেইন পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন।
তার আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন যে তিনি মহাকাশ থেকে সামার ওয়ার্ডেনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেখতে চেয়েছেন যে সেখানে সংসার এবং তাদের সন্তানের পেছনে খরচের জন্য যথেষ্ট টাকাপয়সা রয়েছে কী না। মিজ ম্যাক্লেইন এবং মার্কিন বিমান বাহিনী গোয়েন্দা কর্মকর্তা মিজ ওয়ার্ডেন লেসবিয়ান দম্পতি। তারা ২০১৪ সালে বিয়ে করেন। বেআইনিভাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেখার অভিযোগ দায়েরের পর নাসার তদন্ত বিভাগ দু’জনের সঙ্গেই যোগাযোগ করেছে।
অ্যানি ম্যাক্লেইন মার্কিন সামরিক অ্যাকাডেমি ওয়েস্ট পয়েন্ট-এর গ্র্যাজুয়েট। পাস করার পর সেনাবাহিনীর পাইলট হিসেবে তিনি ইরাকে ৮শ’ ঘণ্টা যুদ্ধকালীন দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি টেস্ট পাইলট হন এবং ২০১৩ সালে নাসার পাইলট পদের জন্য নির্বাচিত হন। তিনি ছয়মাস আইএসএস-এ অবস্থান করেন।
মহাকাশে কোন আইন কাজ করে?
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন আইএসএস-এর মালিকানা পাঁচটি দেশের- যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইউরোপ, জাপান এবং কানাডা। মহাশূন্যে যেকোনো মহাকাশচারী এবং যন্ত্রপাতির ওপর এই দেশগুলোর নিজস্ব আইন কার্যকর হবে বলে আইনি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। সুতরাং কোনো কানাডিয়ান নাগরিক যদি মহাকাশে গিয়ে কোনো অপরাধ ঘটান, তাহলে তিনি কানাডিয়ান ফৌজদারি আইনের আওতায় পড়বেন। একইভাবে রুশ নভোচারীরা রাশিয়ার আইনের অধীন থাকবেন। মহাকাশে ইউরোপকে একটি দেশ হিসেবে দেখা হয়। সেখানে ইউরোপীয় আইন বলবৎ থাকবে। তবে চাইলে ইউরোপের কোনো দেশ তার জাতীয় আইন প্রয়োগ করতে পারবে বলে বিধান রয়েছে। মহাকাশ থেকে অপরাধী প্রত্যর্পণের বিধানও রয়েছে। অপর কোনো দেশের নাগরিক মহাশূন্যে অপরাধ করলে দ্বিতীয় কোনো দেশ তাকে ফেরত চাইতে পারবে। মহাশূন্যে ট্যুরিজমের সম্ভাবনা এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। মহাকাশে ঘটা অপরাধের বিচার ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাও তাই বাড়ছে।
>>মানবজমিন,

দেড় মাসেও খোঁজ মেলেনি সিলেটের নাসিমার: ছাতকের তরুণী রুবিনাও লাপাত্তা by ওয়েছ খছরু

দেড় মাসেও উদ্ধার হয়নি পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে পালিয়ে যাওয়া সিলেটের তরুণী রুবিনা ও নাসিমা। তারা কোথায় আছে, কেমন আছে জানে না কেউ। তারা উদ্ধার না হওয়ায় স্বস্তিতে নেই সিলেটের পুনর্বাসন কেন্দ্রের কর্মকর্তারাও। পুলিশ তাদের উদ্ধারে তৎপর। কিন্তু এখনো মেলেনি তাদের খোঁজ। ছাতকের বাহাদুরপুর গ্রামের আলাউদ্দিনের মেয়ে রুবিনা আক্তার। ইতিমধ্যে তার বিয়েও হয়েছে। সন্তানও আছে।
সিলেট নগরীতেই তিনি বসবাস করতেন। স্বামীর প্ররোচনার কারণে রুবিনা জড়িয়ে পড়ে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে। তাকে নিয়ে বিব্রত পিতা আলাউদ্দিন। পুলিশের হাতে আটকের পর রুবিনাকে সুপথে ফিরিয়ে আনতে সমাজসেবা অধিদপ্তর পাঠায় প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে। অন্যদিকে কোম্পানীগঞ্জের টুকেরগাঁও গ্রামের আব্দুল মালেকের মেয়ে নাসিমা জান্নাত। বয়স ১৫ কিংবা ১৬ বছর। এরই মধ্যে জুটেছে বন্ধু-বান্ধব। তাদের প্ররোচনায় জড়িয়ে পড়ে নেশার জগতে। তার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। অপারগ হয়ে নাসিমাকে তুলে দেন জেলা প্রবেশন অফিসারের কাছে। সেখান থেকে তাকে পাঠিয়ে দেয়া হয় প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে। জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা তমির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, তাদের দুইজনকে পাঠানো হয়েছিল খাদিমনগরে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে।

সেখানে তাদের প্রশিক্ষণও দেয়া শুরু হয়। এর মধ্যে রুবিনার পিতা তাকে ছাড়িয়ে নিতে যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু রুবিনা পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে তিনিও আর আসেন নি। এদিকে, গত ৯ই জুলাই পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রশিক্ষণ ডরমেটরির বাথরুমের অ্যাডজাস্ট ফ্যান ভেঙে পালিয়ে যায় ওই তরুণী। এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের শাহপরাণ (রহ.) থানায় ১০ই জুলাই সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র খাদিমনগরের সহকারী ব্যবস্থাপক যুক্ত কেইস ওয়ার্কার মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান সাধারণ ডায়েরি করেন। তিনি সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করেন, সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের বসবাসকারী দুইজন রুবিনা আক্তার (১৮) ও নাছিমা জান্নাত (১৫) ৯ই জুলাই রাত অনুমানিক ৩টায় কেন্দ্রের ডরমেটরি ভবনের টয়লেটের অ্যাডজাস্ট ফ্যান ভেঙে পালিয়ে গেছে। রুবিনাকে গত ৬ই মার্চ শাহপরাণ (রহ.) থানার সাধারণ ডায়রি মূলে নিরাপদ হেফাজতে ও গত ২৬শে জুন নাছিমা জান্নাতকে প্রবেশন কর্মকর্তার মাধ্যমে নিরাপদ হেফাজতে সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল। গত ৯ই জুলাই তারা দুইজন পালিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

তাই উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করার জন্য শাহপরাণ (রহ.) থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। আর এই সাধারণ ডায়েরির অনুলিপি অবগতির জন্য পরিচালক ও উপ-পরিচালক সমাজসেবা কার্যালয় সিলেট বরাবরে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে সিলেট জেলা বারের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম তার ফেসবুক স্ট্যাটাটে লিখেছেন, ‘মেয়েটির বাড়ি কোম্পানীগঞ্জ। বয়স ১৪-১৫ বছর হবে। যেকোনো কারণে এই মেয়েটি নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। মা-বাবা নিয়ে আসেন আমার কাছে তাকে সংশোধনাগারে পাঠানোর জন্যে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় কিশোরী সংশোধনাগারে পাঠাতে সহযোগিতা চাইলাম প্রবেশন অফিসার তমির হোসেন চৌধুরীর। তার আন্তরিক সহযোগিতায় পাঠানো হলো কিশোরী সংশোধনাগার খাদিমনগরে। কিছুদিন পরে জানানো হলো মেয়েটি পালিয়েছে। কর্তৃপক্ষ শুধু একটা জিডি করেই দায়সারাভাবে দায়িত্ব পালন করলেন। মেয়েটি এখনো নিখোঁজ। হতবাক হলাম কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বোধ দেখে।’ সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র খাদিমনগরের সহকারী ব্যবস্থাপক যুক্ত কেইস ওয়ার্কার মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান গতকাল বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন, ওই দুই তরুণীকে এখনো পাওয়া যায়নি। তবে তারা চেষ্টায় রয়েছেন। তিনি জানান, পালানোর ঘটনায় দুইজন আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

৬ মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৮ হাজার কোটি টাকা

জানুয়ারি মাসে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ঘোষণা দিয়েছিলেন আর এক টাকাও খেলাপি ঋণ বাড়বে না। খেলাপি ঋণ কমাতে অনেক চেষ্টাও হয়েছে। তবে আদতে তা থামানো যায়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। আর এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ৩ মাসে নতুন করে খেলাপি ঋণ আরো বেড়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।  অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক দায় এড়াতে পারে না। কারণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির দেখভাল করার দায়িত্ব ছিল। সেটি ভালোভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা জানান, ঋণ অবলোপনের সময়সীমা ৫ বছর থেকে কমিয়ে ৩ বছর করা হয়েছে।
ঋণ শ্রেণিকরণের সময়সীমায়ও ছাড় দেয়া হয়েছে। এছাড়া বিশেষ পুনঃতফসিল নীতিমালা করা হয়েছে। আসলে এসব সুবিধা দেয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, খেলাপি ঋণের কোনো উন্নতি হয়নি। কারণ খেলাপি ঋণ আদায় করার ব্যাপারে যে সর্বাত্মক চেষ্টা করা উচিত, সেটা আসলে হচ্ছে না। উল্টো ঋণখেলাপিদের ছাড় দিতে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রভাবশালীরা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মতোই বেসরকারি ব্যাংকের টাকাও লুটপাট শুরু করেছে। ফলে বেসরকারি ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে কিছুদিন পর হয়তো বেসরকারি ব্যাংকগুলোকেও বাজেট থেকে ভর্তুকি দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।
গত ছয় মাসে দেশে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৮ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা। এ বিষয়ে গতকাল এক বৈঠকে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, এর আগে খেলাপি ঋণ কমানোর এক্সিট প্ল্যান বাস্তবায়ন না হওয়ায় খেলাপি ঋণ কমেনি। তবে সরকারি কার্যক্রম শুরু হলেই খেলাপি ঋণ কমে আসবে।

এছাড়া তিন মাসের সময় দিয়ে সুদের হার কমিয়ে সিংগেল ডিজিটে আনার কথাও বলেন তিনি।
এর আগে জানুয়ারি মাসে ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছিলেন, এখন থেকে আর এক টাকারও খেলাপি ঋণ বাড়বে না। ওই সময় তিনি বলেন, বৈঠকে বসার আগেই আমার শর্ত ছিল একটা। কোনো কিছু আলাপ করার আগে আমার এক দফা। আজকের পর থেকে খেলাপি ঋণ এক টাকাও বাড়তে পারবে না। এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ খেলাপি ঋণ রয়েছে তাও ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হবে। বৈঠকে উপস্থিত ব্যাংক মালিকদের অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, আপনারা কীভাবে বন্ধ করবেন, কীভাবে টেককেয়ার করবেন, কীভাবে ম্যানেজ করবেন আপনাদের ব্যাপার। তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। তাই বলেছি আজকের পর থেকে খেলাপি ঋণ বাড়বে না ইনশাল্লাহ। এ জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আগের সব রেকর্ড ভেঙে বর্তমানে দেশে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ (জুন-১৯ পর্যন্ত) দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বেশি। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা। তবে গত ডিসেম্বর খেলাপি ঋণ ছিল ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। সে সময় এক লাফে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছিল ১৬ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা। সেই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হলে আরও দেড় হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ সাড়ে ১৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। আর গত ১ বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা।
এ সময়ে বেসরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বাড়লেও সরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমেছে। এতে শতকরা হিসাবে সার্বিক ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার কমেছে। মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের হার ছিল ১১.৮৭ শতাংশ, যা জুনে হয়েছে ১১.৬৯ শতাংশ। প্রতি বছর জুন ও ডিসেম্বর প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ কমে যায়। শতকরা হারের পাশাপাশি পরিমাণগত হিসাবেও কমে খেলাপি ঋণ; কিন্তু এবার জুন প্রান্তিকে শতকরা হিসাবে খেলাপি ঋণ কমলেও পরিমাণগত হিসাবে বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, খেলাপি ঋণের সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। পুনঃতফসিলের নীতিমালা শিথিল করা হয়েছে। ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়েছে। তারপরও যখন খেলাপি ঋণ কমেনি, এতে বোঝা যায়, সুযোগ-সুবিধা দিয়ে খেলাপি ঋণ কমানো যাবে না। বরং এ ধরনের সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে আশকারা পেয়ে খেলাপিরা আরো অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাপ্ত তথ্য মতে, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে মোট বিতরণ করা ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৬২ হাজার ৭৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে অবলোপন বাদে খেলাপি হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১১.৬৯ শতাংশ। এর বাইরে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত অবলোপনের মাধ্যমে ব্যাংকের হিসাবের খাতা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে আরো ৪০ হাজার ১০১ কোটি টাকা। এটি যোগ করলে প্রকৃত খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৫২ হাজার ৫২৬ কোটি টাকা।
আগের প্রান্তিক মার্চ পর্যন্ত অবলোপন বাদে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা, যা ওই সময় পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে মোট বিতরণ করা ঋণের ১১.৮৭ শতাংশ। ফলে মার্চ থেকে জুন- এ ৩ মাসে নতুন করে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা।

২০১৮ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা, যা ওই সময় পর্যন্ত মোট বিতরণ করা ঋণের ১০.৩০ শতাংশ। সে হিসাবে গত ৬ মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ১৮ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা। এর আগে ২০১৭ সালের পুরো সময়ে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বাড়ে প্রায় সাড়ে ১৯ হাজার কোটি টাকা বা ২৫ শতাংশ।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, খেলাপি ঋণের সার্বিক পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। খেলাপি ঋণ বন্ধ করতে হলে বড় বড় ঋণখেলাপি যারা তারা কাদের যোগসাজশে এসব ঋণ নিয়েছে এগুলো চিহ্নিত করে দ্রুতগতিতে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান করতে হবে। এককথায় ব্যাংক খাতে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।

পুঁজিবাদ বিরোধী বিক্ষোভ: প্রথম দিনেই উত্তাপ ছড়াচ্ছে জি-৭ সম্মেলন by অনিম আরাফাত

শিল্পোন্নত দেশগুলোর সংগঠন জি-সেভেন সম্মেলন উপলক্ষে ফ্রান্সে জড়ো হয়েছেন বিশ্ব নেতারা। ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড টাস্ক একে আখ্যায়িত করেছেন একতা ও সংহতির এক কঠিন পরীক্ষা হিসেবে। ইতিমধ্যে ৩ দিনের এ আয়োজনে অংশ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, জাপান, ইতালি, বৃটেন ও স্বাগতিক ফ্রান্সের নেতারা। এ নিয়ে সমগ্র বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে এই সম্মেলনের দিকে।  সম্মেলনে সবথেকে প্রাধান্য পাচ্ছে জলবায়ু ইস্যু, আমাজনে আগুন ও বাণিজ্য যুদ্ধ। সম্মেলন নিয়ে যেমন আছে আশাবাদ তেমনি আছে সংহতির পথে ব্যর্থ হওয়ার শঙ্কাও।

শনিবার ফ্রান্সের সমুদ্র তীরবর্তী শহর বিয়ারিতজে শুরু হয় জি-সেভেন সম্মেলন। বলা হচ্ছে এটি ইতিহাসের সবথেকে বেশি মতভিন্নতা নিয়ে শুরু হওয়া জি-৭ এর শীর্ষ সম্মেলন। এ সম্মেলন যখন চলছে তখন বিশ্ব রাজনীতি উত্তপ্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য যুদ্ধ, ব্রেক্সিট, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এবং আমাজন বনে আগুন নিয়ে।
এরইমধ্যে এসব ইস্যুতে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে এবারের সম্মেলন।

সম্মেলন শুরুর পূর্বে বিশ্ব নেতাদের প্রতি সংহতির আহ্বান জানিয়েছেন ডনাল্ড টাস্ক। তিনি বলেন, দিন দিন আমাদের এক ভাষায় কথা বলা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের এখন আমাদের একতা প্রয়োজন। এটিই রাজনৈতিক একতায় পৌঁছানোর জন্য বিশ্বের সর্বশেষ সুযোগ। ফ্রেঞ্চ প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন বলেন, তিনি চান জি সেভেনভুক্ত দেশগুলো গণতন্ত্র, লিঙ্গ সমতা, শিক্ষা ও পরিবেশের ওপর জোর দিক। একইসঙ্গে তিনি এসব ইস্যুতে চাপ প্রয়োগ করতে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার নেতাদের তাদের সঙ্গে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান।
ডয়েচে ভেলে জানিয়েছে, এর আগে ফ্রান্সে জি-সেভেন সম্মেলনে যোগ দিতে বিমানে ওঠার ঠিক আগেই ফ্রান্সকে রীতিমতো হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প? মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর ডিজিটাল কর বসানোর পালটা প্রতিক্রিয়ায় ফরাসি ওয়াইনের ওপর নতুন কর বসানোর হুমকি দিয়েছেন তিনি। তবে ডনাল্ড টাস্ক এর দ্রুত পাল্টা জবাবে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার ‘হুমকি বাস্তবায়ন করল্থে ইইউ একই ধরনের পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত।

শনিবার বিকালে স্ত্রী মেলানিয়াকে নিয়ে ফ্রান্সে পৌঁছান ডনাল্ড ট্রাম্প। পৌঁছানোর পর তার জন্য অঘোষিত ভূরিভোজের আয়োজন করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোন। এতে দুই ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা করেন দুই নেতা। এরপর সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, এখন পর্যন্ত সব ঠিক আছে। এ সপ্তাহে আমরা এ নিয়ে অনেক আলোচনা করবো এবং এটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবো।

এ ছাড়া, লাতিন আমেরিকায় জ্বলতে থাকা পৃথিবীর ফুসফুস্থ খ্যাত আমাজনে আগুন নিয়ে ব্রাজিল সরকারকে হুমকি দিয়েছেন ম্যাক্রোন। তিনি বলেন, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বলসোনারো আমাজন নিয়ে কার্যকরি পদক্ষেপ না নিলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে থাকা দেশটির চুক্তি বাতিল করা হবে। আগুন থামাতে ও পুনরায় সেখানে বনায়নে ফ্রান্স শুধু আহ্বানই জানাবে না অন্যান্য দেশকে সঙ্গে নিয়ে সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে। তার এই আহ্বানকে সমর্থন জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলও। এক ভিডিও বার্তায় জার্মান চ্যান্সেলর জানিয়েছেন, আমরা সব ধরনের সহায়তার চেষ্টা করবো, স্পষ্ট বার্তা জানাবো যে রেইনফরেস্টটিকে বাঁচাতে সাধ্যের সবকিছুই করতে হবে।

বিশ্ব রাজনীতিতে এখন সবথেকে আলোচিত ইস্যু চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য যুদ্ধ। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতেও। ফলে জি-সেভেন সম্মেলনে এ বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে। তবে এশিয়ার যেসব নেতারা জি-সেভেন সম্মেলনে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন তার মধ্যে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিয়ের নাম নেই। শনিবার চীন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করারোপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একইসঙ্গে একে যুক্তরাষ্ট্রের ভুল পদক্ষেপ আখ্যা দিয়ে এর জবাব দেয়ার হুমকি দিয়েছে দেশটি। প্রথমবারের মতো জি-সেভেন সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন বৃটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ফ্রান্সে এসে তিনি জানিয়েছেন, বাণিজ্য যুদ্ধ, ব্রেক্সিট হবে এ সম্মেলনের সবথেকে আলোচিত ইস্যু।

পুঁজিবাদ বিরোধী বিক্ষোভ
বরাবরের মতো এবারো জি-সেভেন সম্মেলনকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে ফ্রান্সে। বিয়ারিতজের পার্শ্ববর্তী শহর হেন্দায়িতে প্রায় ১০ হাজার বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে এসেছেন। এতে যোগ দিচ্ছেন জি-সেভেন বিরোধিতাকারীরা। বিক্ষোভ থেকে তারা বিভিন্ন ইস্যুতে ব্যর্থতার জন্য বিশ্ব নেতাদের দায় মাথায় নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। এরমধ্যে রয়েছে সমকামীদের অধিকার, ফিলিস্তিনিদের অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন রোধ, বিশ্বায়নের প্রভাব ও স্পেনের কাছে বাস্কের স্বাধীনতা ইস্যুতে বিশ্ব নেতাদের ব্যর্থতা।

এ আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন ফ্রান্সের বিখ্যাত ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের নেতারাও। হলুদ ভেস্ট পরে আসা একজন জানিয়েছেন, এখানে বিশ্বের প্রধান পুঁজিবাদী নেতারা আছেন। আমরা তাদেরকে দেখিয়ে দিতে চাই তাদের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ চলছে। ধনীরা আরো ধনী হচ্ছে কিন্তু গরিবদের জন্য কিছু নেই। আমরা দেখছি আমাজন জ্বলছে, মেরুতে বরফ গলছে। এই নেতাদের আমাদের কথা শুনতে হবে।

আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে ফ্রান্সের অন্য শহরগুলোতেও। দেশটির বেয়োনি শহরে পুঁজিবাদ বিরোধী প্রায় ৪০০ বিক্ষোভকারীর ওপর জল কামান ও টিয়ার গ্যাস ছুড়েছে পুলিশ। শনিবার বিকালে বিক্ষুব্ধদের পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে দেখা যায়। তবে অন্য শহরগুলোতে আন্দোলন ছিল বেশ শান্তিপূর্ণ। সম্মেলনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অতিরিক্ত ১৩ হাজার পুলিশ অফিসারকে দায়িত্ব দিয়েছে ফ্রান্স।

জাতিগত বিদ্বেষ: ইসরায়েলের দুই রাজনীতিক নিষিদ্ধ

আরবদের বিরুদ্ধে জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানোর দায়ে ইসরায়েলের ডানপন্থি রাজনৈতিক দল জিউস পাওয়ারের দুই রাজনীতিবিদকে আগামী নির্বাচনে নিষিদ্ধ করেছে দেশটির আদালত৷
বেনি গোপস্টাইন ও বারুখ মার্জেল এর বিরুদ্ধে আদালতে আরবদের নিয়ে জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ আনে দেশটির বেশ কয়েকটি বামপন্থি রাজনৈতিক দল৷
বেনি গোপস্টাইন দেশটির লেভা নামের একটি সংস্থার প্রধান৷ এ সংস্থাটি ইহুদিদের সঙ্গে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের বিয়ে ও ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি এবং আরবদের অবস্থানসহ নানা ইস্যু নিয়ে আন্দোলন করে থাকে৷  আর বারুখ মার্জেল দেশটির কট্টরপন্থি রাজনীতিবিদ রাব্বি মেইর কাহারনের ডানহাত হিসেবে পরিচিত৷
আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর দেশটির জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা৷ আদালতের এ রায়ের ফলে এ দুই রাজনীতিবিদ এ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না৷
উল্লেখ্য, জিউস পাওয়ার হলো ইসরায়েলের একটি কট্টর  ডানপন্থি রাজনৈতিক সংগঠন, যেটি আরব-বিরোধী ও উগ্র জাতীয়তাবাদ ধারায় বিশ্বাস করে৷ দলটির অন্যান্য রাজনৈতিক  দাবির মধ্যে রয়েছে পশ্চিমতীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করা, ইসরায়েলে বসবাসরত আরবদের পাশ্ববর্তী দেশে স্থানান্তর, এবং ইসরায়েলে রাষ্ট্রীয়ভাবে ধর্মীয় আইন চালু করা৷
কট্টরপন্থি রাজনীতিবিদ রাব্বি মেইর কাহারনের দল কাখ পার্টি থেকেই জিউস পাওয়ার নামের এ দলটির জন্ম হয়৷
এপ্রিলে দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল৷ নির্বাচনে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পুননির্বাচিত হলেও দেশটির সংসদের সংবিধানিক ধারা মেনে নেতানিয়াহু সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হন৷ ফলে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর পুননির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়৷

পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর সাথে 'গোলাগুলিতে' তিন জন নিহত

সেনাবাহিনী তিনটি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করেছে। (ফাইল ফটো)
পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি জেলায় সেনাবাহিনীর সাথে 'গোলাগুলিতে' তিনজন নিহত হয়েছে।

সামরিক জনসংযোগ দপ্তর আইএসপিআর-এর পরিচালক আবদুল্লাহ ইবনে জায়িদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালায় ইউপিডিএফ প্রসীতপন্থী সন্ত্রাসীদের সাথে সেনা টহলের গুলিবিনিময়ে এ তিনজন নিহত হয়েছে।

সোমবার সকালে এই ঘটনাটি ঘটে।

আইএসপিআর জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে তিনটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

নিরাপত্তাবাহিনীর একটি সূত্র বলছে, সে জায়গায় আরো আহত কিংবা নিহত কেউ আছে কিনা সেটি তল্লাশি করে দেখা হচ্ছে।

তাদের ধারণা, সেখানে আরো ভারী অস্ত্র থাকতে পারে।

ইউপিডিএফ পাহাড়িদের অন্যতম সংগঠন হিসেবে পরিচিত।

তবে নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে এই সংগঠনটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা ধরণের অপরাধ তৎপরতায় জড়িয়েছে।

তবে বিষয়টি নিয়ে ইউপিডিএফ-এর কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য অঞ্চলের ঘটনাগুলো নতুন করে অস্থিরতা তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এর আগে গত ১৮ই আগস্ট পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে সেনাবাহিনীর নিয়মিত টহল দলের উপর হামলার একজন সৈন্য নিহত হন।

রাঙ্গামাটি রাজস্থলী আর্মি ক্যাম্প থেকে ৪ কিলোমিটার মতো দুরে সকালে গুলির ঘটনাটি ঘটেছে।

সকাল ১০ টার দিকে পোয়াইতুখুম নামক এলাকায় একটি নিয়মিত টহল দলের উপর সন্ত্রাসীরা অতর্কিতভাবে গুলিবর্ষণ করে।

আরও একটি স্বপ্নের মৃত্যু by কাজল ঘোষ

সহপাঠীদের সঙ্গে তুলনা
তুলনার স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে ল ইয়ার হবে। তুলনা ভাবতো, আইন পড়লে দেশের অন্যায়-অবিচার-অনিয়মের বিরুদ্ধে লড়তে পারবে। মানুষের সেবা করতে পারবে। সামনের নভেম্বরে পিএসসি। জীবনের এক অধ্যায় শেষ করে পরের ধাপে পা রাখবে। কিন্তু তুলনার সব স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল। তাকে কেড়ে নিল মরণব্যাধি ডেঙ্গু।

তুলনার পুরো নাম তাসকিয়া সরকার তুলনা।
টিকাটুলির কামরুননেসা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী। ক্লাসের সেকেন্ড ক্যাপ্টেন ছিল। বরাবরই সে প্রথম পাঁচজনের মধ্যে থাকতো। সহপাঠী নওশিন জাহান জানায়, তুলনা ছিল ক্লাসের হাসিখুশি প্রাণবন্ত শিক্ষার্থী। সারাক্ষণ ক্লাস মাতিয়ে রাখতো হাসি আর আনন্দে। কথাগুলো বলতে গিয়ে বারবার থেমে যাচ্ছিল। নওশিনের চোখে তখন তুলনার জন্য কান্না। নওশিন বলে, বৃহষ্পতিবার তার জন্মদিন ছিল। কথা ছিল তুলনাকে সঙ্গে নিয়ে কেক কাটবে। হইচই করে ক্লাস মাতাবে সবাই মিলে। কেক নিয়ে বন্ধুরা ক্লাসে হাজিরও হয়েছিল। বন্ধুরা সবার জন্মদিনে এমনটাই করে থাকে। কিন্তু দিনটি সহপাঠীদের কেটেছে উদ্বেগে। তুলনার ডেঙ্গু হওয়ার খবর সবাই ততক্ষণে জেনে গেছে।

মা ফাতেমা আক্তার জানান, স্বপ্ন ছিল মেয়েকে বড় হলে ল পড়াবেন। মেয়ের সাধ পূরণ করবেন। বলতেন, মা তুই বড় হ। আমি তোকে ল ইয়ার বানাবার জন্য যা কষ্ট করা দরকার করব। বাবা মোহাম্মদ স্বপন মিয়া গোপীবাগ বাজারে মাছের ব্যবসায় করেন। গোপীবাগ সপ্তম গলির ৮৯/১ নম্বরে তাদের বাসা।

তুলনার বাবা-মা জানায়, ১৯ আগস্ট সোমবার জ্বর এলে রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পরলে প্রথম কদিন বাসায় রেখে ডাক্তারের পরামর্শে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে প্লাটিলেট কমতে থাকলে তাকে নেয়া শাহবাগের বঙ্গবন্ধু পিজি হাসপাতালে। ২২ তারিখ বৃহষ্পতিবার হাসপাতালের ডেঙ্গু সেলে ভর্তি করা হয়। সেখানকার বিশ তলার ড্রেসিং রুমের এক্সর্টা ১৭ নম্বর বেডে তুলনাকে রেখে চিকিৎসা চললেও ঠিক তিনদিনের মাথায় ২৪ তারিখ শনিবার দুপুরে তারা জানায় অবস্থা ভাল না। এখান থেকে তাকে বাইরে কোথাও আইসিইউতে নেয়ার জন্য।

কিন্তু হাসপাতালের এক রুম থেকে আরেক রুমে, এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে কাগজপত্র আর আইসিইউতে নেয়ার তদবির করতেই করতেই হয়রান হয়ে পড়ে তুলনার বাব-মা-স্বজনরা। একটি সিট খালি আছে বললেও বড় স্যারের সঙ্গে কথা বলতে হবে বলে অপেক্ষা করায়।

ওদিকে, ধীরে ধীরে তুলনার শারীরীক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। একসময় তারা জানায়, বাইরে প্রাইভেটে যেখানে আইসিইউ আছে সেখানে নিয়ে যেতে। একসময় পিজি কর্তৃপক্ষ আইসিইউ ব্যবস্থা না করে ডেঙ্গু সেল থেকে রোগীকে শিশু বিভাগে স্থানান্তর করে।

তুলনার অবিভাবকরা জানায়, পিজিতে থাকা অবস্থাতেই সকাল থেকেই তার পেট ফুলে যায়। তীব্র ব্যথা অনুভব করতে থাকে। ডাক্তারদের বারবার বলার পরও এ বিষয়ে কোনও সমাধান দিতে পারেনি ডিউটিরত চিকৎসকরা। একের পর এক প্রেসক্রিপশন দিয়ে ঔষধ আর স্যালাইন আনায়, এটুকুই। কিন্তু রোগী ততক্ষণে ব্যাথায় চিৎকার করতে থাকে। দুপুর দুটার দিকে পিজির ডেঙ্গু সেল থেকে তাদের জরুরি ভিত্তিতে যেখানে আইসিইউ আছে সেখানে নিয়ে যেতে বলে তাদের কিছু করার নেই বলা হয়।

একদিকে মেয়ের কান্না। অন্যদিকে বাবা-মায়ের উদ্বেগ্ন বাড়তে থাকে। কোথায় পাবে আইসিইউ। আশেপাশে যোগাযোগের চেষ্টা করে আইসিইউ না পেয়ে তারা পিজি থেকে বের হয়ে ছুটে যায় উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতাল। সেখানকার ডিউটি ডাক্তাররা রোগীর অবস্থা দেখে আইসিউই খালি নেই বলে না করে দেয়। সেখান থেকে তুলনার অবিভাবকরা ছুটে যায় বসুন্ধরায় অ্যাপোলো হাসপাতালে। জরুরি বিভাগে ডাক্তাররা দেখে আইসিইউ নেই বলে অন্যত্র যেতে বলে।

অ্যাপেলো থেকে অ্যাম্বুলন্স তুলনাকে নিয়ে আসে সিদ্বেশ্বরীর ডা. সিরাজুল মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে। সেখানে আইসিইউতে নেয়ার আধঘন্টার মধ্যেই কর্তব্যরতরা রোগীকে অন্য কোথাও নিতে বলে। উপায়ন্তর না দেখে কাছাকাছি মগবাজারে রাশমোনো জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে তারা জানায়, তুলনাকে লাইফ সাপোর্টে নিতে হবে। ততক্ষণে জীবন-মৃত্যুর সঙ্কটে তুলনা। সেখানেই সকল স্বপ্নের মৃত্যু ঘটে তুলনার। এক আইসিইউ থেকে আরেক আইসিইউতে নেয়ার টানাটানিতে বাঁচার সকল আশা শেষ হয়ে যায়।

দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা এই আট ঘন্টায় তুলনাকে নিয়ে পাঁচবার হাসপাতাল বদল করে তার অবিভাবক। তুলনার অবিভাবকদের ও অভিযোগ, পিজি হাসপাতালে সঠিক চিকিৎসা দেয়া হলে তুলনাকে অকালে মরতে হতো না।

৫ দফা কর্মসূচিতে কাশ্মিরিদের প্রতি প্রতিরোধ আন্দোলনের ডাক হুরিয়ত নেতার

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের সর্বদলীয় হুরিয়ত কনফারেন্সের নেতা আলি শাহ গিলানি কাশ্মিরিদের ৫ দফা দাবিতে ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার ডাক দিয়েছেন। ৮৯ বছরের এই রাজনীতিক গৃহবন্দি থাকা অবস্থায় কাশ্মিরের জনগণের প্রতি এক খোলা চিঠিতে এ আহ্বান জানিয়েছেন। খোলা চিঠিটি ২৩ আগস্ট লেখা হলেও রবিবার তা প্রকাশিত হয়েছে।
খোলা চিঠিতে গিলানি কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষ অধিকার বাতিলের নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে গত তিন সপ্তাহ ধরে সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করা এবং লকডাউনেরও সমালোচনা করেছেন তিনি।

গিলানি ৫ দফা কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, ভারতের নগ্ন নৃশংসতার বিরুদ্ধে জম্মু-কাশ্মিরের নাগরিকদের সাহসিকতার সঙ্গে শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ, হয়রানি ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মকর্তা ও পুলিশের প্রতিবাদ, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা কাশ্মিরিদের দূত হিসেবে কাজ করা, পাকিস্তানি নেতাদের এগিয়ে আসা এবং জম্মু ও লাদাখের বাসিন্দাদের নিজেদের পরিচয় ধরে রাখা।

খোলা চিঠিতে গিলানি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এসব কর্মসূচি পালনের সময় আমাদের অবশ্যই সুশৃঙ্খল থাকতে হবে। সশস্ত্র ও হত্যার প্রস্তুতি নিয়ে শত্রুদের আমাদের জীবন ও সম্পদ বিনষ্ট করার কোনও সুযোগ দেওয়া যাবে না। এটা গুরুত্বপূর্ণ যে আমাদের বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকতে হবে, যাতে অনেক মানুষ এতে যোগ দিতে পারে। যদি ভারতীয় সশস্ত্রবাহিনী আমাদের সমাবেশে হামলা অব্যাহত রাখে তাহলে যেকোনও প্রাণহানি ও সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার জন্য তারাই দায়ী থাকবে। সারা বিশ্ব তাদের আচরণ দেখবে।

সরকারি কর্মকর্তা ও পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এই রাজনীতিক লিখেছেন, আমরা সবাই দেখেছি। গত কয়েক দিনের ঘটনায় জম্মু ও কাশ্মিরের পুলিশ বাহিনীকে নিরস্ত্র করা হয়েছে এবং ভারতীয় সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর হাতে পুরো নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া হয়েছে। এমন অপমানের পরও যদিও তারা রুখে না দাঁড়ায় ও প্রতিবাদ না করে, তাহলে হয়তো কোনও কিছুই তাদের জাগাতে পারবে না।

বিদেশগামীদের সঙ্গে প্রতারণা ঠেকাতে নজরদারি জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বিদেশে যাওয়ার সময় সাধারণ জনগণ যেন প্রতারিত না হয়, সেজন্য ব্যাপক প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি নজরদারি জোরদারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেননা তারা আমাদের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে তুলতে রেমিট্যান্স পাঠানোর মাধ্যমে ব্যাপক ভূমিকা রাখছেন। গতকাল প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান নীতি ২০১৬-এর আলোকে গঠিত অভিবাসন বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম সভায় তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা যেন অকালে হারিয়ে না যায় সেজন্য তাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। কেননা, তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের দিকে নজর দেয়া আমাদের দায়িত্ব, যেহেতু তারা আমাদের দেশেরই নাগরিক। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি বিশ্বের প্রায় একশ’টি দেশে অবস্থান করে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে।

যা আমাদের দারিদ্র বিমোচন এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। যারা কাজের জন্য বিদেশ যাচ্ছে তাদের জীবন বৃত্তান্ত সহযোগে একটি ডাটাবেজ প্রস্তুত করার জন্যও সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষকে নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে তারা কোন কাজের জন্য কোন দেশে যাচ্ছে তার বিবরণ থাকতে হবে।
বিদেশে গমনেচ্ছুরা যে কাজের জন্য বিদেশে যাচ্ছে তার প্রশিক্ষণ এবং সে দেশের ভাষার ওপর দখল থাকার বিষয়ে গুরত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে আমরা যৌথভাবেই প্রশিক্ষণের আয়োজন করতে পারি, যেমনটি অতীতেও করা হয়েছে। অভিবাসন বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, দেশে এক শ্রেণীর দালাল ও প্রতারক চক্র রয়েছে যারা বিপুল অর্থের বিনিময়ে বিদেশে লোক পাঠায়। আর বিদেশে গমনেচ্ছুরা দিন বদলের আশায় তাদের সর্বস্ব বিক্রি করে, ঋণ করে তাদের টাকার জোগান দেয়। এমনও দেখা গেছে যে, এদেরকে বিদেশে নিয়ে দালাল চক্র দেশে থাকা তাদের আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকেও চাপ প্রয়োগ করে অর্থ আদায় করে।

কাজেই আমাদের এই পুরো প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে নজরদারিতে আনতে হবে। সারাদেশে সরকার ৫ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল সেন্টার স্থাপনের পরও জনগণ এসব প্রতারকদের ফাঁদে পড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশে গমনেচ্ছুরা চাইলে সারাদেশে থাকা এসব ডিজিটাল সেন্টার থেকে বিদেশে যাওয়ার জন্য নাম রেজিস্টার করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিদেশে গমনেচ্ছু জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছি যে, তারা দালালের কাছে না গিয়ে বিদেশ যেতে চাইলে এসব ডিজিটাল সেন্টারে গিয়ে যেন নাম রেজিস্ট্রেশন করান। তিনি এ বিষয়ে মিডিয়াকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহবান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশের মহিলারাও কাজের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে এবং বিদেশে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। কাজেই আমরা এখন তাদের জন্য স্মার্ট কার্ড এবং মোবাইল ফোন দিচ্ছি, যাতে করে তারা এ ধরনের দুর্ভোগ থেকে বাঁচতে পারে। তার সরকার বিদেশ গমনেচ্ছুদের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাতে করে এই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তারা বিদেশে যেতে পারেন। তিনি বলেন, তাদেরকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে আমাদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে এবং এখন থেকে আমরা দক্ষ জনশক্তিই বিদেশে পাঠাব। এ প্রসঙ্গে সরকার প্রধান আরো বলেন, ভবিষ্যতে আমরা আর কেবলমাত্র জনশক্তি বিদেশে পাঠাব না কেননা আমাদেরই দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন পড়বে। কারণ সমগ্র দেশজুড়ে আমরা একশ’ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি এবং আইসিটি ক্ষেত্রের বিকাশ সাধন করছি।

অভিবাসন বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যবৃন্দ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল, স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো.তাজুল ইসলাম, পররাষ্টমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক, প্রবাসী কল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান সভা সঞ্চালনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ এবং প্রেস সচিব ইহসানুল করিমও এসময় উপস্থিত ছিলেন।

ভারত-পাকিস্তান পারমাণবিক যুদ্ধের স্ফুলিঙ্গ ছড়াতে পারে কাশ্মির: মার্কিন থিংকট্যাংক

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর ভারত-পাকিস্তানের তিনটি যুদ্ধের মধ্যে দুটি সংঘটিত হয়েছে কাশ্মির ইস্যুতে। গত ৫ আগস্ট (সোমবার) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এর প্রতিবাদে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস করাসহ ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে বহিষ্কার করেছে পাকিস্তান। দুই দেশের সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। কাশ্মির সীমান্তে চলছে টানটান উত্তেজনা। একইসঙ্গে সব ধরনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত ও ভারতের স্বাধীনতা দিবসকে কালো দিবস হিসেবে পালন করেছে পাকিস্তান।

কাশ্মির নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের উত্তেজনার মধ্যেই ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে পাকিস্তানের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। ১৬ আগস্ট তিনি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে ভবিষ্যতে কী হবে তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। ভারত তার ‘প্রথম হামলা না চালানোর’ নীতি থেকেও সরে আসতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অস্টিনভিত্তিক ভূ-রাজনৈতিক গোয়েন্দা প্ল্যাটফর্ম স্ট্রাটফর। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারমাণবিক অস্ত্রধারী প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত-পাকিস্তান। ভারত শাসিত কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর এই দুই দেশের মধ্যে ‘পারমাণবিক যুদ্ধের অপচ্ছায়া’ উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কাশ্মির ইস্যুটি কী ভারতের "অভ্যন্তরীণ বিষয়’, নাকি ভারত ও পাকিস্তানের ‘দ্বিপক্ষীয়’ ইস্যু; তার শ্রেণিবিন্যাস নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।

প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বিশ্বকে একটি পারমাণবিক যুদ্ধ থেকে বিরত রাখার একমাত্র উপায় হলো কাশ্মিরিরা যা চায় তা তাদের দেওয়া।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দখলকৃত উপত্যকায় সাম্প্রতিক সফরের সময়, নিউইয়র্ক টাইমসের সংবাদদাতারা কাশ্মিরের রাজধানী শ্রীনগরে এক পশুপালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। প্রতিবেদককে বহনকারী একটি গাড়ি যখন তার কাছে আসতে ধীরগতিতে চললো, তখন পশুপালকটি উঠে এসে জানালা নাড়ালো। ‘আমরা বন্দুক তুলতে প্রস্তুত’—তিনি বলেছেন।

প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ‘কয়েক দশক আগে, কাশ্মিরের জনগণকে গণভোটের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিলো, যা কখনও অনুষ্ঠিত হয়নি। তাদের কাছে কখনও জানতে চাওয়া হয়নি, তারা কী চায়?’

যৌন কেলেঙ্কারি: জামালপুরের ডিসি ওএসডি, সেই নারী লাপাত্তা

নারী অফিস সহায়কের সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় জামালপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ কবীরকে ওএসডি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর তিনি নীরবে জামালপুর ছেড়েছেন। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গতকাল জানিয়েছেন আহমেদ কবীরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে। তার শুদ্ধাচার সনদ কেড়ে নেয়া হবে। এদিকে এ ঘটনায় সারা দেশের মাঠ প্রশাসনেও তোলপাড় চলছে। স্থানীয়ভাবে ঘটনায় জড়িত নারী কর্মচারীর কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন অনেকে। ঘটনা প্রকাশের পর থেকে ওই নারী লাপাত্তা।

এদিকে নতুন করে জামালপুরের ডিসির দায়িত্ব পেয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপ-সচিব) মোহাম্মদ এনামুল হক।
গতকাল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ওএসডি এবং নতুন নিয়োগ সংক্রান্ত আলাদা আলাদা আদেশ জারি করা হয়েছে। এদিকে ওএসডি উপ-সচিব আহমেদ কবীরের সঙ্গে নারী অফিস সহায়কের আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তদন্ত কমিটিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (জেলা ও মাঠ প্রশাসন অধিশাখা) মুশফিকুর রহমানকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনারের একজন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) একজন প্রতিনিধি। সদস্যরা কেউ উপসচিব পদমর্যাদার নিচে হতে পারবেন না। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন শৃঙ্খলা অধিশাখার উপসচিব সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটি গঠন সংক্রান্ত আদেশে কমিটিকে প্রকাশিত ভিডিওটির সঠিকতা যাচাই করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এছাড়া কমিটি প্রয়োজনে সরেজমিন পরিদর্শন করবে এবং ভিডিওটি যাচাইয়ের বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেবেন। কমিটিতে প্রতিবেদনে সুস্পষ্ট মতামত দিতে হবে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়। এদিকে গতকাল দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, তদন্ত করে সাবেক এ ডিসি ও নারী সহকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আহমেদ কবীরকে এর আগে শুদ্ধাচার পদক দেয়া হয়েছিল। সেটি ফিরিয়ে নেব। যাতে এ ধরনের কাজ ভবিষ্যতে অন্য কেউ না করতে পারে। আগামীতে ডিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে নৈতিকতা বিবেচনা করে নিয়োগ দেয়া হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তদন্ত কমিটি প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, কমিটি ভালোভাবে তদন্ত করে, বুঝে, কী ঘটেছে সেখানে, কতটুকু অনৈতিকতা সেখানে হয়েছে- সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন দেবে। সেটির ভিত্তিতে আমরা এক্সামপ্লিয়ারি একটা প্রিম্যাটিক মেজার্স নেব। তিনি বলেন, জামালপুরের ডিসি অনৈতিক কাজ করেছেন। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হযেছে। অধিকতর তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি যে নারীর নাম এসেছে তাকেও তদন্তের আওতায় আনা হবে। এ ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তদন্ত কমিটি করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, জেলায় একজন ডিসি অনুকরণীয় ব্যক্তি। তার কাছ থেকে এ রকম অনৈতিক কর্মকাণ্ড কাম্য নয়। তার বিরুদ্ধে তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, অবশ্যই উদাহরণ সৃষ্টি করার মতো শাস্তি তার হবে। আমাদের চাকরির বিধানে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ রয়েছে। সেটিই হবে।

আশা করছি আমরা দ্রুত একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারব। সমপ্রতি জামালপুরের ডিসির একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে ডিসি আহমেদ কবীরের সঙ্গে তার অফিসের এক নারীকর্মীকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায়। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে খন্দকার সোহেল আহমেদ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে জেলা প্রশাসকের আপত্তিকর ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। যদিও বিষয়টি অস্বীকার করে ঘটনাটি ‘সাজানো’ বলে দাবি করেন ডিসি আহমেদ কবীর।

পুড়ে ছাই হচ্ছে আমাজন, আট মাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ৭৫ হাজারেরও বেশি

এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ আগুনে পুড়ছে আমাজন। ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ হিসেবে খ্যাত আমাজনে এ বছর রেকর্ডসংখ্যক আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কতটা ভয়াবহ এ আগুন?
পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯ সালে আমাজনে যতগুলো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, আর কখনো তা হয়নি। ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা দ্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্পেস রিসার্চ (ইনপে) জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে আমাজনে রেকর্ডসংখ্যক আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের এই সময়ের তুলনায় এ বছর ৮৫ শতাংশ বেশি আগুন লেগেছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে আমাজনে ৭৫ হাজারেরও বেশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত বছর আগস্ট পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০ হাজার। আরও ভয়ংকর তথ্য হলো, ২০১৩ সালে পুরো ব্রাজিলে যত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল, চার মাস বাকি থাকতেই এ বছর তার চেয়ে বেশি আগুন লেগেছে। শুষ্ক মৌসুমে, বিশেষ করে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আমাজনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা একেবারে বিরল নয়। কিন্তু এবারের মতো এত ভয়াবহ আগুনে কখনো পোড়েনি বিশ্বের বৃহত্তম গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এই বনাঞ্চল।
আমাজনের প্রায় ৬০ শতাংশ অবস্থিত ব্রাজিলে। বারবার এমন অগ্নিকাণ্ডে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্তও হচ্ছে ব্রাজিলের উত্তরাংশের রাজ্যগুলো। বিশেষ করে উত্তরাংশের চারটি রাজ্যে গত চার বছরে আগুন লাগার হার বেড়েছে ব্যাপকভাবে। পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে, আমাজনে লাগা আগুনের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রোরাইমা, একর, রন্ডোনিয়া ও আমাজোনাস—এই চারটি প্রদেশ। গত চার বছরে রোরাইমাতে ১৪১, একরে ১৩৮, রন্ডোনিয়ায় ১১৫ ও আমাজোনাসে ৮১ শতাংশ আগুন লাগার হার বেড়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণের প্রদেশ মাতো গ্রোসো দো সালে আগুন লাগার হার বেড়েছে প্রায় ১১৪ শতাংশ। অগ্নিকাণ্ডের কারণে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় প্রদেশ আমাজোনাসে এরই মধ্যে জরুরি অবস্থাও জারি করা হয়েছে।
বারবার এমন অগ্নিকাণ্ডের কারণে বিরূপ প্রভাব পড়ছে পরিবেশের ওপরও। আগুনের ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বনাঞ্চলে। শুধু আমাজনেই নয়, বনাঞ্চল ছাড়িয়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়েছে অন্য প্রদেশগুলোতেও। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস অ্যাটমোসফিয়ার মনিটরিং সার্ভিসের (কামস) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আমাজনের আগুনের এ ধোঁয়া সুদূর আটলান্টিক মহাসাগর পর্যন্তও বিস্তৃত হচ্ছে। আমাজনে লাগা আগুনের ভয়াবহতা বুঝতে সহায়ক হবে আরেকটি তথ্য। আমাজন থেকে প্রায় ৩ হাজার ২০০ কিলোমিটার দূরের রাজ্য সাও পাওলোর আকাশও ছেয়ে গেছে ভয়াবহ এ আগুনের ধোঁয়ায়!
আমাজনের মোট আয়তনের প্রায় ৬০ শতাংশই ব্রাজিলে অবস্থিত। তবে আগুনের রুদ্রমূর্তি কেবল ব্রাজিল অংশের আমাজনে নয়, বরং লাতিন আমেরিকার অন্য দেশগুলোও দেখছে। ভেনেজুয়েলার আমাজনে এ বছর ২৬ হাজারেরও বেশি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। বলিভিয়া অংশে ১৭ হাজারেরও বেশিবার আগুন লেগেছে। কলম্বিয়াতেও আগুন লেগেছে ১৪ হাজারের বেশিবার।
এদিকে আমাজনের অগ্নিকাণ্ডের পেছনে বেসরকারি সংস্থাগুলোর হাত দেখছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জায়ার বোলসোনারো। যেসব বেসরকারি সংগঠনের (এনজিও) তহবিল বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে আমাজনে আগুন দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি তিনি। অপরদিকে ব্রাজিলের কংগ্রেস সদস্য ও নিম্নকক্ষের পরিবেশবিষয়ক ককাসের নেতা নিলতো তাত্তো বলেছেন, এনজিওগুলোর প্রতি বোলসোনারোর এ অভিযোগ ব্রাজিলের ৩০ বছরের পরিবেশ সুরক্ষা নীতিতে তাঁর প্রশাসনের ব্যর্থতা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা। আমাজনের এমন দুরবস্থার পেছনে বোলসোনারোকে দোষারোপ করেছেন রক্ষণশীলেরাও। বোলসোনারো কাঠুরে ও কৃষকদের জমি সাফ করতে উৎসাহিত করছেন বলে বারবার বনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।
পৃথিবীতে মোট অক্সিজেনের প্রায় ২০ শতাংশই সরবরাহ দেয় আমাজন। ধোঁয়ার কারণে বায়ুমণ্ডলে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হচ্ছে। কামসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধু আমাজনে লাগা আগুনের কারণে এ বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ২২৮ মেগা টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে নির্গত হয়েছে। ২০১০ সালের পর কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের এ হার সর্বোচ্চ। শুধু কার্বন ডাই-অক্সাইড নয়, বিপুলসংখ্যক গাছ পোড়ার কারণে বাতাসে বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসও নির্গত হচ্ছে।
বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে আমাজন। প্রায় ৩০ লাখ স্বতন্ত্র প্রজাতির গাছপালা ও প্রাণীর আবাসস্থল এই আমাজন। প্রতিবছর মিলিয়ন মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে নেয় আমাজনের বিস্তৃত বনাঞ্চল। এই গাছগুলো যখন কাটা হয় বা আগুনে পুড়ে যায়, তখন শোষণ করে রাখা কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে।
আগুনে গাছ ধ্বংসের কারণে বায়ুমণ্ডলে বাড়ছে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা। ছবি: রয়টার্স
 আগুনে পুড়ে ছাই হচ্ছে আমাজনের বিস্তৃত বনভূমি। গত এক দশকে এমন ভয়াবহ আগুন দেখেনি আমাজন। ছবি: রয়টার্স
 এ বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে আমাজনে ৭৫ হাজারেরও বেশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ছবি: রয়টার্স

‘ভারত যুদ্ধ চাপিয়ে দিলে শেষ করবে পাকিস্তান’

কাশ্মীর ছাড়া ভারতের সঙ্গে কোনো সংলাপ নয়। তারা যদি যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে কখনো, তবে পাকিস্তান সেই যুদ্ধ শেষ করবে। সেই যুদ্ধ শুধু শ্রীনগর অথবা জম্মুতে শেষ হবে না। তা শেষ হবে দিল্লিতে। ভারতকে উদ্দেশ্য করে এমন কড়া বার্তা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের তথ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. ফিরদৌস আশিক আওয়ান। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের যুদ্ধ হিস্টেরিয়া সৃষ্টির বিষয়ে তিনি এমন কথা বলেছেন। তিনি রাজনাথ সিংয়ের হুমকির জবাব দিয়েছেন ওই ভাষা ব্যবহার করে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।

ফিরদৌস আশিক আওয়ান শনিবার পাকিস্তানে গভর্নর হাউজে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।
সেখানে তিনি বলেন, পাকিস্তান কখনো যুদ্ধ শুরু করবে না। লঙ্ঘন করবে না আন্তর্জাতিক আইন। কিন্তু যদি যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হয় তাহলে সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি প্রতিজন পাকিস্তানি যুদ্ধ করবেন। তিনি আন্তর্জাতিক সংগঠন ও মানবাধিকারের চ্যাম্পিয়নদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভারতের আসল চেহারা বিশ্বের সামনে তুলে ধরতেই হবে। কাশ্মীরে মুসলিমদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর জন্য তৈরি হচ্ছে ভারত। তিনি আরো বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এরই মধ্যে কাশ্মীর ইস্যু আন্তর্জাতিক সব ফোরামে তুলে ধরেছেন। তিনি আগামী ২৭শে সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তার বক্তব্যে এ ইস্যুটি তুলে ধরবেন। ব্যাখ্যা করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের মনোভাব। তারা কাশ্মীর উপত্যকাকে জেলে পরিণত করেছে। এ ছাড়া ইমরান খান জাতিসংঘকে তার ১১টি রেজ্যুলুশন বাস্তবায়নের আহ্বান জানাবেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের কাছে বলেছেন, ভারতের সঙ্গে আলোচনার আর কোনো ইস্যু নেই। এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ড. ফিরদৌস আশিক আওয়ান বলেন, একজন আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন নেতার বক্তব্য এটা। ইমরান খানের ওই বক্তব্য এটাই ব্যাখ্যা করে যে, কাশ্মীর ইস্যুতে শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যা সমাধানে পাকিস্তানকে দুর্বল ভাবা উচিত হবে না। যদি কাশ্মীরকে আলোচনার অংশ করা না হয় তাহলে ভারতের সঙ্গে কোনো সংলাপে বসবে না পাকিস্তান।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ইমরান খানের বক্তব্য দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন ইভেন্ট চালু করবে। ইমরান খান এ বিষয়ে বিভিন্ন গ্রুপকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি কাশ্মীরিদের অধিকারের বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে তা বিশ্বের সর্বত্র প্রচারিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। একতা, সম্প্রীতি, কাশ্মীরের মালিকানার বিষয়ে একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে এ ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যে ন্যাশনাল সলিডারিটি ডে উদযাপিত হবে। ফিরদৌস আশিক আওয়ান বলেন, শিখ, খ্রিস্টান, হিন্দু সহ পাকিস্তানের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ও কাশ্মীরের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। ভারতের মুসলিমরাও সংহতি প্রকাশ করেছেন।

অভিযোগ ভিত্তিহীন, ‘দায়বদ্ধতা’ ও ‘প্রতিশ্রুতি’র বাস্তবায়নে মনোযোগী হোন -মিয়ানমারকে বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা সমস্যার উপযুক্ত সমাধানে ‘দায়বদ্ধতা’ এবং ‘প্রতিশ্রুতি’র বাস্তবায়নে পুরোপুরিভাবে মনোনিবেশ করতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। সঙ্কটের টেকসই সমাধানে এটা ‘জরুরি’ বলে মনে করে ঢাকা। রোববার রোহিঙ্গা ঢলের দুই বছরপুর্তিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে জারি করা আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ এ আহ্বান জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোহিঙ্গা সংকটের জন্য স¤পূর্ন দায়ি দেশটি কর্তৃক প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ ভিত্তিহীন, অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এতে আরো বলা হয়, রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়া, প্রত্যবাসন প্রক্রিয়া তদারকি করা এবং মিয়ানমারে বসবাসরত অন্য জাতি-গোষ্ঠির মধ্যে রোহিঙ্গাদের রিইন্ট্রগ্রেশন বা ফের একত্রিকরণের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে মিয়ানমার সরকারের উচিত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলে একটি ‘সমন্বিত পদেক্ষেপ’ বা উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা।

বিজ্ঞপ্তিতে এটা স্পষ্ট করেই বলা হয়- যারাই ফিরতে চায়, যে কোনো সময় তাদের ফেরৎ পাঠাতে বাংলাদেশ সরকার জাতিগত ও ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে ‘কাউকে বাধা না দেয়ার’ নীতিগত অবস্থান বজায় রেখে চলেছে।

মিয়ানমার বিভিন্ন সময়ে দাবি করেছে যে তারা বাস্তুচ্যুতদের গ্রহণে প্রস্তুত। এই লক্ষ্যে গত ২৭-২৮ জুলাই বাস্তুচ্যুতদের ফিরে যেতে রাজী করাতে তাদের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের কক্সবাজার ক্যাম্প পরিদর্শন করেছে। এসময় তারা বাস্তচ্যুত (রোহিঙ্গা) প্রতিনিধিদের সঙ্গে  আলোচনা করে।  এরই প্রেক্ষিতে ২২ শে আগস্ট প্রত্যাবাসন শুরু করতে সহায়তায় রাজি হয়েছিল বাংলাদেশ।
রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমারের ভেরিফাই করা ৩৪৫০ জনের একটি তালিকা জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর মধ্যমে গত ৮ই আগস্ট জাতিসংঘের শরনার্থী বিষয় সংস্থা ইউএনএইচসিআরকে হস্তান্তর করেছিল। উদ্যেশ্য ছিল এটা যাচাই করতে যে, সেখানে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বাস্তুচ্যুতরা রাখাইনে স্বেচ্ছায় ফিরতে রাজী কি-না? একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার তার দায়িত্ব অনুযায়ী বাস্তুচ্যুতদের নিরাপত্তা এবং ফেরত পাঠানোর প্রয়োজনীয় লজিস্টিক (বাস-ট্রাক) নিয়ে প্রস্তুত ছিল।

তালিকা ধরে ২২ শে আগস্ট পর্যন্ত ইউএনএইচসিআর ১ হাজার ২শ ৭৬ জনের ৩৩৯ টি পরিবারের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে। সাক্ষাৎকার গ্রহণের ওই প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত সব তথ্য এবং মিয়ানমার সরকার কতৃক প্রেরিত ফ্যাক্ট শিট ( রাখাইনের বিদ্যমান অবস্থা সংক্রান্ত তথ্য) শেয়ার করা হয় পরিবারগুলোর সঙ্গে। তাদের এমন একটি পরিবেশে বিশেষ করে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয় যেখানে তারা তাদের মতামত মুক্তভাবে ব্যক্ত করতে পারে। কিন্তু দর্ভাগ্যজনক বিষয় হচ্ছে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কোন পরিবারের একজনও ফেরত যেতে রাজী হয়নি। তারা মনে করে রাখাইনে এখনও নিরাপত্তার ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। সার্বিকভাবে রাখাইনে তাদের ফেরার মতো পরিবেশ এখনও নিশ্চিত হয়নি। তারা বিশেষভাবে রাখাইনে ফেরার পর তাদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। বেশীরভাগ পরিবারের তরফে বলা হয়, এখনও রাখাইনের প্রত্যাবাসের প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়া, বিশেষ করে আইনের শাসন, তাদের অধিকার বিষয়ক ইস্যুগুলো যেমন নাগরিকত্ব, মুক্তভাবে চলাফেরার নিশ্চয়তা এবং বলপূর্বক কেড়ে নেয়া বসতভিটা-জমি জমার অধিকার ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে।

তারা কেউ বলেনি ফিরতে চায় না, তারা সবাই বলেছে ফিরতে চায়, কিন্তু অবশ্য তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো মিয়ানমার সরকারকে মানতে হবে। তাদের সঙ্গে মিয়ানমার সরকারের যে আলোচনায় তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, প্রত্যাবাসন তদারকি এবং রি-ইন্টিগ্রেশনে রাখাইনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উপস্থিতির দাবি করেছিল। মিয়ানমারও তাদের নাগরিকত্বসহ মৌলিক দাবিগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে মেনে নেয়া এবং সংকটের গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে পেতে নির্দিষ্ট সময় অন্তরান্তর বাস্তচ্যুতদের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছিলো। কিন্তু এ নিয়ে মিয়ানমারের পরবর্তী কোন পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হওয়ায় রোহিঙ্গারা তাদের বিরক্তি প্রকাশ করে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী বাস্ত্যচ্যুতদের প্রত্যাবাসনে উৎসাহিত করা স¤পূর্নরূপে মিয়ানমারের দায়িত্ব। একইসঙ্গে রাখাইনে একটি যথাযথ পরিবেশ নিশ্চিত করা ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে থাকা আস্থার সংকট দূর করাও তাদের দায়িত্ব। এ জন্য রাখাইনের বাস্তব অবস্থা রোহিঙ্গাদের কাছে তুলে ধরার কথাও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে। রোহিঙ্গাদের অনিচ্ছার কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ব্যহত হলে মিয়ানমার সরকারের অঙ্গীকার ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। আনান কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী মিয়ানমার সরকারকে রোহিঙ্গাদের জন্য রাখাইনে একটি যথাযথ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ শে আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থী আগমনের ঢল নেমেছিল। এদিন থেকে পরবর্তী প্রায় একমাসে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এখানে আগে থেকে ছিল প্রায় ৪ লাখ। বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার উখিয়া টেকনাফের বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া এসব শরণার্থীদের ৯২ হাজার শিশু জন্ম নিয়েছে। সব মিলে কক্সবাজারে এখন প্রায় সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু অস্থায়ী আশ্রয়ে রয়েছে।

এ কেমন শত্রুতা!

শেরপুরের শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতীতে দু’টি পৃথক মৎস্য খামারে বিষ প্রয়োগ করে বিপুল পরিমাণ মাছ নিধন করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে উভয় খামারের প্রায় ৮-৯ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত খামারি পরিবার ও স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, মাছের সঙ্গে এ কেমন শত্রুতা!

জানা যায়, শনিবার রাতের আঁধারে শ্রীবরদী  পৌর শহরের তাতিহাটি জালকাটা এলাকায় প্রায় ১ একর জমির নুরনবী মৎস্য খামারে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা বিষ প্রয়োগ করে। এতে তেলাপিয়া, রুই, কাতল, মৃগেল, বাউশ ও দেশীয়সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ রোববার সকালে মরে ভেসে উঠে প্রায় ৫-৬ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা পেয়েছেন। খামার মালিক নুর নবীর অভিযোগ, কিছুদিন আগে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার মৎস্য খামারে নেমে মাছ চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় হাতেনাতে তাদের ধরে ফেলেন। পরে তারা আর মাছ চুরি করবে না মর্মে অঙ্গীকার করলে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
কিন্তু এরপর খামারে বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটায় তিনি তাদেরকেই সন্দেহ করছেন।

অপরদিকে একইভাবে ঝিনাইগাতী উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নের কুচনীপাড়া গ্রামে কৃষক মোবারক হোসেনের মৎস্য খামারে মাছ নিধনের ঘটনা ঘটেছে। কৃষক মোবারক হোসেনের অভিযোগ, পূর্ব শত্রুতার কারণে স্থানীয় একটি পক্ষ তার মৎস্য খামারে বিষ প্রয়োগ করে ওই ঘটনা ঘটিয়েছে। এতে তার প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

‘কাশ্মীরে সব শান্ত! রাগে ফুঁসছে আমার পাড়া’

কিছুতেই বাড়িতে থাকবে না আমার ভাইপো। স্কুলে যাবে। হাত ছুড়ছে। মাটিতে পা ঠুকছে, তীক্ষ্ণ চিৎকারে খানখান করে দিতে চাইছে সুনসান সকালকে। ভীষণ রাগে ফুটছে চার বছরের ছেলেটা।

কড়া চোখে ছেলের বেয়াদপি দেখছেন মা তবস্সুম। এমনিতে শান্ত স্বভাবের মেয়ে। হঠাৎই তীব্র চিৎকার করে উঠলেন। ছেলেটা থমকে গেল। মাকে এমন চিৎকার করতে সে দেখেনি। বলে চলেছেন মা, ‘‘কী ভাবে তোকে স্কুলে পাঠাই? দুপুরে যে কার্ফু জারি হবে না কে বলতে পারে! কী করে বাড়ি নিয়ে আসব? মোবাইলটাও নেই যে খবর পাব! কবে থেকে বন্ধ। চার্জ দিয়ে রাখছি। দিনে চোদ্দ বার কানে দিয়ে ভাবছি এই বুঝি চালু হল! কী হবে এটা রেখে!’’ ভীষণ রাগে তবস্সুম ছুড়ে ফেললেন মোবাইল ফোনটাকে।

পাশের ঘর থেকে এ বার চিৎকার তাঁর বৃদ্ধ দাদু কাজি ওমরের। ‘‘ছেলেকে স্কুলে পাঠিয়ে দেখাতে হবে কাশ্মীর শান্ত! ফেরার পথে পুলিশ তাকে ছররা মারবে না, সে গ্যারান্টি আছে? কেন তাকে স্কুলে পাঠাব!’’ শ্বশুরকে কখনও এত জোরে কথা বলতে শোনেননি তবস্সুম।

রাগে ফুটছে শ্রীনগরের এয়ারপোর্ট রোড সংলগ্ন অভিজাত এলাকার পরিবারটি। সব বাড়িই আজ জেলখানা। এখানে আমারও বাড়ি। একমাত্র এই এলাকায় রোজ গাড়ি ছুটেছে। রাস্তায় বিধিনিষেধ কম। এক কিলোমিটার দূরে মাইজ়মাতেই রাস্তায় কাঁটা তারের বেড়া। মোড়ে মোড়ে রাইফেল উঁচিয়ে পাহারা। সেখানে আমাদের যৌথ পরিবার কেমন আছে জানতে গিয়ে বারে বারে ফিরে এসেছি। বাড়ির ঠিকানার প্রমাণ দিয়েও ঢুকতে পারিনি। ১৫ দিন জানতে পারিনি, কে কেমন আছেন।

বেরোনো বারণ। বাড়িতে বসে টি‌ভি দেখা আর খাওয়া। মেরুদণ্ডের নীচে তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে যেতে হল হাসপাতালে। কেন এই যন্ত্রণা? হাসিখুশি মেজাজের ডাক্তারের মেজাজও বদশরিফ। খিঁচিয়ে উঠে জানালেন— হাঁটাহাঁটি নেই, গোটা দিন গোল হয়ে বাড়িতে বসে থাকলে মেরুদণ্ডের আর দোষ কী!

ট্র্যাভেল এজেন্সির ব্যবসা চৌপাট। ছোট্ট দফতরটা যে খুলতে যাব, গাড়িঘোড়া নেই। সাহসও নেই। ব্যবসায়ী সমিতির নেতাকে তুলে নিয়ে গিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। সতর্কতামূলক গ্রেফতার। পর্যটকদের ভাড়া দেব বলে একটা মোটরগাড়ি কিনেছি সদ্য। পড়ে ধুলো খাচ্ছে সেটা। গরমের মরসুমে ব্যবসা হল না। পুজোও কাটবে এ ভাবেই। সরকার দেখাতে চাইছে কাশ্মীর শান্ত। বিধিনিষেধ হালকা হতেই নতুন নতুন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়াচ্ছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই এয়ারপোর্ট রোডেও ছেলেরা পাথর ছুড়েছে। সন্ধ্যায় পাহারা কমলে মানুষ দ্রুত দোকান বাজার সেরে ঘরে ফেরেন। সারাটা দিন খাঁ খাঁ রাস্তা। এ যেন কবরখানার শান্তি!

টিভিতে দেখছিলাম অমর্ত্য সেন বলছেন— ব্রিটিশরা এ ভাবে শাসন করত। এতে কাশ্মীরের মানুষ কখনও খুশি হতে পারেন না। ঠিক কথা।

রাজনৈতিক নেতা, হুরিয়তের মাথা, ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রধান— হাজার হাজার মানুষকে জেলে ভরা হয়েছে। বন্দুক দেখিয়ে গৃহবন্দি করা হয়েছে গোটা উপত্যকাকে। এ রাগ সহসা মোছার নয়। রাইফেল কত দিন তা দমিয়ে রাখবে?
>>>আনন্দবাজার পত্রিকা

নিজের বিয়ে নিজেই ভেঙ্গে দিলেন by আবু সাইদ খোকন

বরগুনার আমতলী পৌর শহরের নিজের বিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে ২য় শ্রেণীর ছাত্রী মনিকা (১০)। ঘটনাটি ঘটেছে ২৩ আগস্ট শুক্রবার রাতে। এ ঘটনায় বরের মা ও কনের মাকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা ও অনাদায়ে বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।
জানাগেছে, আমতলী পৌর শহরের ৮নং ওয়ার্ডের বাসুগী এলাকার রিক্সা চালক জুয়েল প্যাদার মেয়ে আমতলী মফিজ উদ্দিন বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণীর ছাত্রী মনিকার সাথে পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের রিক্সা চালক মোঃ তৌফিকের পুত্র পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মী সুমন (১৪) এর সাথে পারিবারিক ভাবে বিবাহের সিদ্ধান্ত হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। শিশু মনিকা তার বিয়ের কথা জানতে পেরে শুক্রবার বিকেলে কৌশলে বাসা থেকে বের হয়ে বান্ধবী কনিকা ও ফারজানাকে নিয়ে পরামর্শ করে বিয়ে বন্ধ করার জন্য প্রথমে তারা আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে যায়। কোর্ট বন্ধ দেখে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করে মনিকা তার বান্ধবীদের নিয়ে আমতলী থানায় আসে। থানার ওসিকে সব ঘটনা খুলে বললে তাৎক্ষনিক এসআই নাসরিন সুলতানাকে দায়িত্ব দিয়ে বর সুমন, বরের মা ডলি বেগম ও কণ্যার মা শাহানাজ ওরফে শাহিনুরকে আটক করে। পরে পুলিশ আটককৃতদের ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ করে।
ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক সহকারী কমিশনার (ভূমি) কমলেশ মজুমদার বাল্যবিয়ে নিরোধ আইনের ২০১৭ এর ৮ ধারা মোতাবেক বরের মা ডলি বেগমকে ২ হাজার টাকা ও কনের মা শাহানাজ ওরফে শাহিনুরকে ১ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।
সাহসী শিশু কণ্যা মনিকা জানান, আমি দুপুরে জানতে পারি শুক্রবার সন্ধ্যায় আমার বিবাহ হবে। আমি বিকেলে বান্ধবী কনিকা ও ফারজানার সাথে কোর্টে যাই। সেখানে কাউকে না পেয়ে আমতলী থানায় এসে বড় স্যারকে সব খুলে বলি। আমি লেখাপড়া করে অনেক বড় হতে চাই।
আমতলী থানার ওসি মোঃ আবুল বাশার বলেন, আমি সব ঘটনা শুনে পুলিশ পাঠিয়ে বর, বরের মা ও কনের মাকে আটক করে থানায় এনে ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ করি।
ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক সহকারী কমিশনার (ভূমি) কমলেশ মজুমদার বলেন, এর পূর্বে অনেক বাল্য বিবাহ রোধ করেছি। সার্বিক বিবেচনায় আমার নিকট এটি একটি হৃদয়বিদারক বাল্যবিয়ে। ধন্যবাদ জানাই সাহসী কণ্যা মনিকাকে। এত অল্প বয়সে নিজে নিজের বিয়ে ভেঙ্গে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন বলেন, সাহসী কণ্যা মনিকা যতদূর লেখাপড়া করতে চায় আমরা তার জন্য সার্বিক সহযোগিতা করবো।

বিরোধী নেতার পদ নিয়ে জাপায় চাপান-উতোর by হাফিজ মুহাম্মদ

জাতীয় পার্টি। সংক্ষেপে জাপা। সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এর প্রতিষ্ঠাতা। এরশাদ শক্ত হাতেই চালিয়েছেন দল। ক্ষণে ক্ষণে মত পরিবর্তনের ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তিনি। এজন্য জীবদ্দশায় কম কথা শুনতে হয়নি তাকে। কিন্তু এখন? এরশাদবিহীন রাজনীতিতে পার্টি কেমন চলছে? এরশাদের মৃত্যুর পর দুটি পদ শূন্য হয়। একটি দলীয় প্রধানের পদ।
অন্যটি সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার পদ। এছাড়া রংপুরের এরশাদের আসনও শূন্য হয়। এরমধ্যে পার্টির চেয়ারম্যান পদে এরশাদের সহোদর ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের চেয়ারম্যান হন। এক সংবাদ সম্মেলনে পার্টির মহাসচিব সাংবাদিকদের ডেকে চেয়ারম্যান হিসেবে জিএম কাদেরের নাম ঘোষণা করেন। পার্টির চেয়ারম্যান তিনি হলেও এখনো শূন্য রয়েছে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার পদ। রংপুরে এরশাদের শূন্য আসনে কে প্রার্থী হবেন এ নিয়েও আলোচনা চলছে বেশ কয়েকজন প্রার্থীকে নিয়ে। তদের বেশিরভাগ রংপুরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এরই মধ্যে জিএম কাদেরের চেয়ারম্যান পদ নিয়ে খোদ পার্টির মধ্যেই দেখা দেয় প্রশ্ন। পার্টির অনেক সিনিয়র নেতা প্রশ্ন তুলেন। সমালোচনাও করেন অনেকে। স্বয়ং রওশন এরশাদসহ পার্টির ১০ প্রেসিডিয়াম সদস্য জিএম কাদেরের চেয়ারম্যান পদ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিবৃতি দেন। তারা বলেন, তিনি যথাযথ নিয়মানুযায়ী পার্টির চেয়ারম্যান হননি।

তাকে নিয়ে ফোরামে কোনো আলোচনাও হয়নি। তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবেই গণ্য হবেন। তখন এ বিবৃতি নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলে জিএম কাদের বলেন, এটা কারা করেছে আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে দলে দুটি ধারা তৈরি হয়। একটি রওশন এরশাদপন্থী । অন্যটি জিএম কাদের পন্থী। পার্টির অনেক সিনিয়র নেতাকর্মীকে রওশনের পক্ষ নিতে দেখা যায়। এরমধ্যে পার্টির প্রেসিডিয়াম ও সংসদ সদস্যদের বৈঠকও তারা বয়কট করেন। অনুপস্থিত দেখা যায় পার্টি অফিসেও। এরই মধ্যে অধিক সময় গড়িয়ে গেছে। পার্টির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকর্মীরা জিএম কাদের ও রওশনকে নিয়ে আলোচনা করলেও কিছুটা আড়ালে পড়ে সংসদে বিরোধী দলের প্রধান শূন্য পদ নিয়ে আলোচনা। সর্বশেষ ঈদের পরে এরশাদের চল্লিশা নিয়ে বৈঠকে বসে জাপার প্রেসিডিয়াম ও সংসদ সদস্যরা। গত শনিবারের এ বৈঠকে কয়েকজন প্রেসিডিয়াম সদস্য জিএম কাদেরকে সংসদে বিরোধী দলীয় প্রধান হওয়ার প্রস্তাব করেন। কিন্তু তাদের বক্তব্য শুনে জিএম কাদের বলেন, পার্টির মধ্যে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এরপরই আবার নানা কথাবার্তা শুরু হয় জাপায়। যারা রওশনপন্থী বলে পরিচিত এমন প্রস্তাবে তারা কঠোর সমালোচনা শুরু করেন প্রস্তাবকারীদের।

বলেন, অতি উৎসাহীরা এমন বলেছে। তারা জিএম কাদেরের কাছে ভাল সাজতে চাইছে। এছাড়া পার্টির চেয়ারম্যান নিয়ে রওশনপন্থীদের বিবৃতির কারণেও জিএম কাদের পন্থীরা এ প্রস্তাব করেছেন বলে জানান কয়েক নেতা। কিন্তু জিএম কাদের নিজেও চান রওশন এরশাদ এ পদে আসিন হোক। তাকে সম্মানীত করা হোক। জিএম কাদের ভাবী রওশনকে তার মায়ের মত সম্বধোন করে বলেছেন, তিনি তার সম্মান পাবেন এবং তার পরামর্শ নিয়েই পার্টি সামনে এগিয়ে নিবেন।
এ নিয়ে পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন মানবজমিনকে বলেন, সংসদে কে বিরোধী দলের নেতা হবেন সেটা জাপার সংসদীয় বোর্ড বৈঠক করেই সিদ্ধান্ত নিবেন। তাছাড়া নীতি নির্ধারণী ফোরামেও আলোচনা হবে। পার্টির আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুর রহমান সেন্টু বলেন, জিএম কাদেরতো বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, ভাবী (রওশন এরশাদ) কে সম্মান দেয়া হবে। আমরাও চাইছি পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যানই এই পদে মনোনীত হোক।
জাপার প্রেসিডিয়াম ও সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, আাগামী অধিবেশনের এক দুই দিন আগেই বৈঠক করে সংসদীয় বোর্ড সিদ্ধান্ত নিবেন কে হবেন বিরোধী দলীয় নেতা। আর তাতে রওশন এরশাদই মনোনীত হবেন। আমরাও চাই ম্যাডাম সংসদ পরিচালনা করবে আর জিএম কাদের পার্টি চালাবে।

ওইদিন জাপার প্রেসিডিয়াম ও সংসদ সদস্যদের বৈঠকে জিএম কাদেরকে সংসদে বিরোধী দলের প্রধান নেতা হওয়ার প্রস্তাব করেন প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন। তিনি বলেন, ওই বৈঠকে আমি আমার মতামত ব্যক্ত করেছি। আমি মনে করি, একই ব্যক্তি যদি পার্টির প্রধান এবং সংসদেও বিরোধী দলের প্রধান হয় তাহলে পার্টি আরো চাঙা হবে। এছাড়া কার্যক্রমও এগিয়ে নেয়া যাবে। এছাড়া সম্প্রতি জিএম কাদের পার্টি এবং দেশের বিভিন্ন সমস্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন ও প্রসংসিত হয়েছেন। এছাড়া রওশন এরশাদকে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা জিএম কাদেরের মত গ্রহণ করেননি। তারও অনেক বয়স হয়েছে। তিনি পার্টির সভা-সেমিনারে আসছেন না। তাই আমি জিএম কাদেরকেই এ পদের জন্য যোগ্য মনে করছি।

কী আছে আমাজনে, কেন এই দাবানল

দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন নদের পাশে প্রায় ৫৫ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে গড়ে উঠেছে সুবিশাল বৃষ্টি-অরণ্য (রেন ফরেস্ট) আমাজন। পৃথিবীর ২০ শতাংশ অক্সিজেনের আমদানি হয় ওই বৃষ্টি-অরণ্য থেকে। নানা নাম না জানা উপজাতির বাসস্থান আমাজন জঙ্গলে রয়েছে ১৬ হাজার প্রজাতির গাছগাছালি। কিন্তু ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ আজ বিপন্ন। আগুনের লেলিহান শিখা ক্রমশ গ্রাস করছে ওই চিরহরিৎ বনভূমিকে।

ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘ইনপে’-র সমীক্ষা বলছে এ বছর আমাজন বৃষ্টি-অরণ্যে ৭২,৮৪৩টি দাবানলের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। গত বছরের এই সময়ের তুলনায় যা ৮৩% বেশি! এবং ২০১৩-র তুলনায় দ্বিগুণ! এই প্রকোপ আগের সমস্ত রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে বলে দাবি ব্রাজিলের ওই সংস্থার।

মুখ ঢাকা পড়েছে সূর্যের। যে দিকে তাকানো যায় শুধু কুণ্ডলী পাকানো ধোঁয়া।ছাড় পায়নি ২৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিতব্রাজিলের সাও পাওলোর আকাশ।দুপুরের আকাশ যেন ‘রাতের চেয়েও অন্ধকার’। ব্রাজিলের রোরাইমা প্রদেশ থেকে পেরুর আকাশেও হানা দিয়েছে ধোঁয়া।

মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার উপগ্রহ চিত্রেও ধরা পড়েছে আমাজনে ঘটতে থাকা ৯৫০৭টি নতুন দাবানলের চিত্র।আমাজনের আগুনের উপর নজর রাখছে নাসা। আগুনের তীব্রতার ছবিও পাঠাচ্ছে নাসার একাধিক স্যাটেলাইট।তবে আগুনের থেকেও বিজ্ঞানীদের বেশি ভাবাচ্ছে আগুন থেকে উৎপন্ন ধুম্রজাল। প্রায় ১৭০০ কিমি দূরত্ব পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে কালো ধোঁয়া।

বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল হওয়ায় বছরের বেশিরভাগ সময় ওই বৃষ্টি-অরণ্যে জুলাই-অগস্ট মাসে আমাজনের আবহাওয়া কিছুটা শুষ্ক হয়ে ওঠে। তবে স্থানীয় পরিবেশবিদদের ধারণা, প্রাকৃতিক ভাবে এই আগুন লাগেনি। তাহলে?

ব্রাজিলের ফেডেরাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের একাংশ বলছেন, শুকনো বাতাসে দাবানল জ্বলে ওঠা অস্বাভাবিক কিছু নয়।তবে এ ক্ষেত্রে দাবানলের প্রকোপে আগুন লাগেনি বলেই মনে করছেন তারা। ওই বিজ্ঞানীদের মতে, অনেক সময়েই চাষের জন্য জমি বা খামার তৈরি করতে ইচ্ছাকৃতভাবে জঙ্গলে আগুন ধরিয়ে দেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। সেখানেও এমনটাই হচ্ছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

জলবায়ুবিজ্ঞানী কার্লোস নোব্রে বলেছেন, গবাদিপশুর চারণভূমি হিসেবে জমি ব্যবহার করতে চাওয়া কৃষকেরা জায়গা পরিষ্কার করতে শুকনো আবহাওয়ার জন্য অপেক্ষা করেন। এ সময় বন দাহ্য হয়ে থাকে এবং খুব সহজেই তাতে আগুন লাগে।যদিও সাও পাওলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজের গবেষক নোব্রের মতে আমাজনে কর্মরত এনজিওগুলো কৃষিকাজে আগুন ব্যবহার করে না। তারা বরং লোকজনকে আগুন ব্যবহার না করতে উৎসাহিত করে।

খনিজ পদার্থের ভাণ্ডার আমাজন। খনিজ পদার্থ অন্বেষণের জন্য আমাজন অরণ্যে লাগাতার জঙ্গল সাফ করে খনন কাজ চালানো হয়। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি মিনিটে একটি ফুটবল মাঠের মাপের জঙ্গল কাটা হয় এখানে।ফলে স্বল্প বৃষ্টিপাতও আমাজনে আগুন লাগার অন্য একটি কারণ হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীদের আর এক অংশ। কার্বন ছাকনি হিসেবে পরিচিত চিরসবুজের ওই জায়গা যে এই ঘটনার পর তার কার্যক্ষমতা হারাবে সে বিষয়ে নিশ্চিত প্রায় সমস্ত গবেষক।

আমাজনে ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য দক্ষিণপন্থী প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর নীতিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন পরিবেশবিদেরা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার আগে আন্তর্জাতিক হুঁশিয়ারির তোয়াক্কা না-করেই আমাজন অঞ্চলকে চাষ ও খনিজ উত্তোলনের কাজে ব্যবহারের কথা বলেছিলেন তিনি।

তার এ উদ্যোগের ফলে বন উজাড় হয়ে যেতে পারে—আন্তর্জাতিক মহলের এমন উদ্বেগ দিনের পর দিন উপেক্ষা করে গেছেন বোলসোনারো। ফলস্বরূপ আমাজনে অন্তত ৭২ হাজার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মৃত্যু হয়েছে অনেক পশুপাখীরও।

যদিও বোলসোনারোর বলেছেন, অযথা এ সব নিয়ে দোষারোপ করা হচ্ছে তাকে। এই সময়ে আগুন জ্বালিয়ে চাষের জমি তৈরি করেন চাষিরা। সেটাই হয়ে আসছে। ইনপে-র পরিসংখ্যানকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়ে ইনপে-র ডিরেক্টরকে বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট।

রোগীকে বেশি ঔষধ দেয়া ঠেকাতে আসছে মোবাইল কোর্ট

বাংলাদেশে ডাক্তারদের প্রেসক্রিপশনে লেখার অস্পষ্টতা এবং রোগীকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ঔষধ দেয়া নিয়ে নানা অভিযোগের মুখে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, সারাদেশে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তারা বিষয়টির তদারকি করবে।
স্বাস্থ্য অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারিরা বলছেন, এ নিয়ে আইনকানুন না থাকায় ডাক্তারদের অনেকেই ঔষধ কোম্পানীগুলোর স্বার্থ দেখছেন এবং রোগীর প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি ঔষধ দিয়ে প্রেসক্রিপশন লিখছেন।
তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, চিকিৎসক এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অল্প সময়ের মধ্যে তারা একটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছেন।
প্রেসক্রিপশনে লেখার অস্পষ্টতার বিষয়টি হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল দুই বছর আগে ২০১৭ সালে। আদালত চিকিৎসকদের স্পষ্ট এবং পড়ার উপযোগী করে প্রেসক্রিপশন বা ব্যবস্থাপত্র লিখতে বলার পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে তা তদারকি করতে বলেছিল।
এছাড়া চিকিৎসকদের অনেকে রোগীকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ঔষধ দিয়ে প্রেসক্রিপশন ভারী করে দিচ্ছেন, এটিকে এখন বড় অভিযোগ হিসেবে সামনে আনছেন স্বাস্থ্য অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারিরা।
তারা বলছেন, অনেক চিকিৎসক ঔষধ কোম্পানির স্বার্থ দেখে প্রেসক্রিপশন লিখছেন।
বেসরকারি সংগঠন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্নধার ড: জাফরউল্লাহ চৌধুরী বলছিলেন, কোন আইন বা নীতিমালা না থাকায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক দিকেই এগুচ্ছে।
"সরকারের কোনরকম নীতিমালা নেই। অন্যদেশে যেমন ধরেন, ব্রিটেনে রোগীদের জন্য যত প্রেসক্রিপশন লেখা হয়, সেগুলো র‍্যানডম বাছাই করে প্রেসক্রিপশন অডিট করা হয়। এর বেসিসে হেলিথ সার্ভিস থেকে ডাক্তারকে প্রতিমাসে চিঠি লিখে ভুল থাকলে তা ধরিয়ে দেয়া হয়।"
"কিন্তু আমাদের দেশে এই কাজটা হয় না। ফলে ঔষধ কোম্পানির স্বার্থকে তারা দেখে।"
কিছুদিন আগে কুষ্টিয়ায় ৩৫ বছর বয়স্ক একজন নারী জ্বরে আক্রান্ত হয়ে স্থানীয় একজন চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন। তার নানা বিষয়ে ডায়াগনসিস করার পর তাঁকে জ্বরের ঔষধ ছাড়াও ছয়টি ঔষধ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু অসুস্থাতা যখন বাড়ছিল, তখন তিনি ঢাকায় এসে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখিয়ে ঔষধ কমিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে অনেকদিন ভুগতে হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনী বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক মালিহা রশিদ বলছিলেন, অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগ চিহ্নিত করার পরই সে জন্য সুনির্দিষ্ট ওষধই দিয়ে থাকেন।
"রোগটা যখন চিহ্নিত করা যায়, তখন ঐ রোগের সুনির্দিষ্টভাবে চিকিৎসা করাটাই আমি ভাল মনে করি।এছাড়া যারা অভিজ্ঞ ডাক্তার, তাদের প্রেসক্রিপশনের সাইজ অত বড় করার কারণ নেই।"
যদিও চিকিৎসকদের অনেকে বিষয়গুলো মানতে রাজি নন। কিন্তু বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন বা বিএমএ'র একজন কর্মকর্তা ড: জামালউদ্দিন বলছিলেন, প্রয়োজনের বেশি ঔষধ দেয়ার বিষয় এলে, তখন নৈতিকতার প্রশ্ন আসে। এসব বিষয়ে কোন অভিযোগ না এলে তাদের এসোসিয়শনের কিছুই করার নেই বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
একইসাথে তিনি বলেছেন, "অনেক সময় ডাক্তার একটা বা দুইটা ঔষধ লিখলে, তাতে রোগীরা সন্তুষ্ট হতে চায় না। তারা মনে করে কি ডাক্তার যে কম ঔসধ দিল। এমন অভিজ্ঞতা আমার আছে।ফলে বেশি ঔষধ লেখা- এটা দুই দিকেই সাইক্লোজিক্যাল একটা বিষয়ও থাকে।"
এদিকে জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনে স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালিক মানুষের উদ্বেগের বিসয় তুলে ধরে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব বাবলু কুমার সাহা বলছিলেন, "ডাক্তারদের এ ধরণের নির্দেশনা আমরা দিয়ে থাকি, যাতে রোগীর ওপর বারডেন বা চাপ না হয়।যে ঔষধটি তাকে দেয়ার কথা, সেটিই যেনো দেয়া হয়। ইভেন অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে একটা কথা হচ্ছে, হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে। সে ব্যাপারেও আমরা নির্দেশ দিয়েছি যে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করা যাবে না।"
কিন্তু এটি মনিটরিংয়ের কোন ব্যবস্থা আছে কিনা, সেই প্রশ্নে তিনি বলেছেন, "এ বিসয়েও মাননীয় মন্ত্রী বুধবার সকল জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমেও বিষয়গুলো তদারকি করা হয়।"
কোন আইন বা নীতিমালা না থাকার প্রশ্নও যে আসছে, সে ব্যাপারে জানতে চাইলে বাবলু কুমার সাহা বরছিলেন, "স্বাস্থ্য সেবা এবং সুরক্ষা নামের একটি আইন প্রক্রিয়াধীন আছে। এটি আমরা মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে পাঠিছিলাম। তারা কিছু বিষয়ে সংশোধনীর জন্য ফেরত পাঠিয়েছে। আমরা সেগুলো সংশোধন করে এখন দ্রুত আবার ভেটিং এর জন্য পাঠানোর চেষ্টা করছি।"
"এই আইন পাস হলে রোগী এবং চিকিৎসক উভয়েরই নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।"
তবে এর খসড়ায় কিছু বিষয়ে চিকিৎসকদের সংগঠনগুলো আপত্তি ছিল এবং সেগুলো নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চলছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

পর্যটকদের মৃত্যুকূপ যে পর্যটন স্থান

সবশেষ নয় নম্বরে যে ব্যক্তিটি মারা গেছেন তিনি নিউজার্সির। ৫৫ বছর বয়সী জোসেফ অ্যালেনের আত্মীয়রা বলছেন, জোসেফ স্বাস্থ্যবান ছিলেন এবং প্রায়ই ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের দেশ ডোমিনিকান রিপাবলিকে ভ্রমণে যেতেন।
বেশ কয়েকজন পর্যটক যারা গত এক বছরে মারা গেছেন তাদের পরিবার বলছে যে তারা সেখানকার বার থেকে মদ পান করার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সাহায্য করছে কোন প্রকার বিষক্রিয়া হচ্ছে কিনা সেটা পরীক্ষা করার জন্য। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এসব মৃত্যুর কোন যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।
জোসেফ অ্যালেনের পরিবার বলছে জুনের ৯ তারিখে তিনি টেরা লিন্ডা রির্সোট এ যান তার একজন বন্ধুর জন্মদিন উৎযাপন করার জন্য। তার বোন এবিসি নিউজকে বলেছেন, ১২ ই জুন জোসেফ তার বন্ধুদের বলেন তার অতিরিক্ত গরম লাগছে এবং তিনি গোসল করে একটু আগেই ঘুমিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তার বোন জেমি রিড বলছিলেন, পরের দিন তার দরজায় টোকা দিলে তিনি কোন সাড়া দেননি। এরপর দরজা খুলে দেখা যায় তিনি মাটিতে পরে আছেন। তার দেহ ঠাণ্ডা এবং শক্ত হয়ে আছে। এখন তার পরিবার চেষ্টা করছে, আমেরিকাতে তার লাশ নিয়ে যেয়ে ময়নাতদন্ত করতে। যাতে করে মৃত্যুর রহস্য উৎঘাটন করা যায়।
আর কে কে মারা গেছে?
ক্যালিফোর্নিয়া থেকে রবার্ট বেল ওয়ালেস গিয়েছিলেন এপ্রিলের ১৪ তারিখে। ৬৭ বছর বয়সী রবার্ট সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়েন। একই মাসে জন করকোরান তার হোটেলের রুমে মারা যান।
২৫ মে মারা যান মিরান্ডা। মার্কিন গণমাধ্যমে সংবাদ বের হয় তিনি তার হোটেলের মিনিবার থেকে মদ পান করার পর মারা যান। ৪১ বছরের মিরিন্ডার লাশ পাওয়া যায় হোটেলে চেক ইন করার কয়েক ঘণ্টা পরেই।
মে মাসের ৩০ তারিখে নিজেদের হোটেল রুমে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় সিনথিয়া অ্যান ডে এবং এডওয়ার্ডকে। স্থানীয় তদন্তকারীরা বলেছেন তাদের দুজনের দেহের ভিতরে রক্তক্ষরণ এবং ফুসফুসে তরল পদার্থ পাওয়া গেছে।
এভাবে লেইলা কক্স, ডেভিড হ্যারিসন, ইয়াভেট মনিকের মৃত্যুর কারণ হার্ট অ্যাটাক বলে জানা গেছে।
সব মৃত্যুই কি কাকতালীয়?
স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, একটা মৃত্যুর সাথে আরেকটার কোন যোগসূত্র নেই। সবগুলোই বিচ্ছিন্ন এবং স্বাভাবিক মৃত্যু বলে দেখছে তারা। রাজধানী সানটো ডোমিনগোতে আমেরিকান দূতাবাস বলছে, তারা এখনো পর্যন্ত এক কেসের সাথে আরেকটা কেসের যোগসূত্র পায়নি।
৭০ লাখের মত পর্যটক প্রতিবছর দেশটিতে যায় এর মধ্যে অর্ধেক যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। সূত্র : বিবিসি।

ভারত বিনা যুদ্ধেই জঙ্গি বিমান হারাচ্ছে, নিহত হচ্ছেন পাইলট

বিধ্বস্ত মিগ-২৭ জ্বলছে
ভারতে চলতি বছরের বিনা যুদ্ধে অন্তত ১০ ঘটনায় ১১ যুদ্ধ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে এবং ২২ ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। সব মিলিয়ে ২০১৯ সালে ভারতীয় বিমান বাহিনীর জন্য একটি রক্তাক্ত বছরে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে ভারতের একটি সংবাদ মাধ্যম।

সর্বশেষ ধারাবাহিক যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ভারতের অসম রাজ্যের তেজপুরে। চলতি মাসের ৮ তারিখে রাতে আকাশে ওড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই একটি ধান ক্ষেতে বিধ্বস্ত হয় সুখোই এসইউ এমকেআই। দুই পাইলটই সৌভাগ্যক্রমে বিমান থেকে বের হয়ে আসতে পেরেছিলেন। তবে একজন এ ঘটনায় মারাত্মক ভাবে আহত হয়েছেন এবং ভবিষ্যতে আর বিমান চালাতে পারবেন না তিনি।

ভারতের জন্য চলতি বছরটি শুরু হয়েছিল জাগুয়ার বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মাধ্যমে। ২৮ জানুয়ারি উত্তর প্রদেশের কুশিনগর জেলায় এ ঘটনা ঘটে। এটিও আকাশে ওড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিধ্বস্ত হয়। গোরখাপুর বিমান ঘাঁটি থেকে ছক বাঁধা প্রশিক্ষণের জন্য আকাশে উড়েছিল বিমানটি। অবশ্য, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে পাইলট নিরাপদে বের হয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিলেন।

কয়েকটি সূত্র থেকে বলা হয়েছে, কারিগরি ত্রুটি আঁচ করতে পেরেছিলেন চালক। তাই বিমান থেকে জরুরি ভাবে বের হয়ে আসার আগেই একে জনবহুল এলাকা থেকে দূরে সরিয়ে নেন তিনি।

পরবর্তী মাসটি ভারতের বিমান বাহিনীর জন্য বেশ তিক্ত হয়ে থাকবে। পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের বালাকোটে চালানো বিমান হামলাকে ভারত সফল হিসেবে দাবি করা সত্ত্বেও এ মাসটি বেশ তিক্ত হিসেবে গণ্য করা হয়। ফেব্রুয়ারি মাসের পয়লা তারিখে পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের সময়ে বিধ্বস্ত হয় ভারতীয় বিমান বাহিনীর মান-উন্নত মিরেজ ২০০০। এ ঘটনায় নিহত হন দুই পাইলই। এ দিকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের জয়সালমারে বিধ্বস্ত হয় মিগ-২৭। অবশ্য ভারতীয় বিমান বাহিনীর পাইলট নিরাপদে বের হতে সক্ষম হয়েছিলেন।

এদিকে, ১৯ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় বিমান কসরত বা অ্যাক্রোবেটিক দল সূর্য কিরণের দু’টি বিমান বিধ্বস্ত হয়। এয়ার ইন্ডিয়া শোর মাত্র একদিন আগেই ব্যাঙ্গালুরের ইয়েলাহানকা বিমান ঘাঁটির কাছে বিমান দু’টি বিধ্বস্ত হয়। বিমান থেকে দু’জন পাইলটই বের হয়ে আসতে সক্ষম হলেও একজন পাইলট শেষ পর্যন্ত নিহত হয়েছিলেন।

এদিকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান বিমান বাহিনীর সঙ্গে আকাশ যুদ্ধে ভারত অন্তত একটি মিগ-২১ হারায়। পাকিস্তান দাবি করেছে ভারতীয়

দু’টি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এর একটি ভারতীয় সীমানার মধ্যে পড়েছে। যাই হোক, মিগ-২১’এর পাইলট অভিনন্দনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছিল পাকিস্তান।

একই দিনে আরও একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তানের সঙ্গে আকাশ যুদ্ধ যে এলাকায় হয়েছে তার থেকে অন্তত ১০০ কিলোমিটার দূরে এ ঘটনা ঘটে। ভারতীয় বিমান বাহিনীর এমআই-১৭ভি৫ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ভারতীয় বিমান প্রতিরক্ষা বিভাগের হামলায়। এ ঘটনায় ছয় সেনা সদস্য এবং ভূমিতে এক বেসামরিক নাগরিকসহ মোট সাত জন প্রাণ হারান।

মার্চে ৮ এবং ৩১ তারিখে ভারত হারায় দু’টি মিগ বিমান। রাজস্থানের বিকানারে বিধ্বস্ত হয় মিগ-২১। এটি পাখির আঘাতে ভূপাতিত হয়েছিল। আর যোধপুরে বিধ্বস্ত হয় মিগ-২৭। দুই পাইলটই নিরাপদে বের হয়ে আসতে পেরেছিলেন।

তিন মাস পরে জুনের ৩ তারিখে ১৩ আরোহীসহ নিখোঁজ হয়ে যায় ভারতীয় বিমান বাহিনীর এএন-৩২ পরিবহন বিমান। কয়েক দিনব্যাপী তল্লাসি অভিযান চালিয়ে বিধ্বস্ত বিমানটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। চীন সীমান্তবর্তী অসমের জোরহাটের মেচুকা বিমান ক্ষেত্রে যাওয়ার পথে এটি বিধ্বস্ত হয়।
ধান ক্ষেতে বিধ্বস্ত সুখোই এসইউ এমকেআই'এর আগুন নেভানোর চেষ্টা চলছে

ইয়েলো ক্যাব চালকের স্বপ্নভঙ্গের দায় কার? by রাজুব ভৌমিক

নিউইয়র্ক সিটির ইয়েলো ক্যাব চালকদের আত্মহত্যার খবর নতুন কিছু নয়। গত বছরে তিনজন ট্যাক্সি মালিক এবং পাঁচজন ইয়েলো ক্যাব চালক আত্মহত্যা করেছে। নিউইয়র্ক সিটির ইয়েলো ক্যাব চালকদের আত্মহত্যার খবর আমেরিকার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচার হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির ট্যাক্সি কমিশনার মীরা জোসি ক্যাব চালকদের আত্মহত্যাকে মহামারির সঙ্গে তুলনা করেছেন। এ ব্যাপারে প্রশ্ন ওঠাটাই স্বাভাবিক যে, চালকেরা কেন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন?
এ প্রশ্নের যত না উত্তর আছে তার চেয়ে অনেক বেশি আছে প্রশ্ন। আর এর পেছনের কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো, ইয়েলো ক্যাবে মেডালিয়ানের দাম কমে যাওয়া। যা এক সময় ছিল দশ লাখ ডলারেরও বেশি সেটাই এখন দুই লাখ ডলারেরও কম। এখানে আবার প্রশ্ন জাগে, একটি ট্যাক্সি ক্যাব মেডালিয়ানের দাম কীভাবে দশ লাখ ডলার হয়? আর যদি দাম দশ লাখ ডলার হয় তাহলে যে চালকদের বার্ষিক আয় বাইশ হাজার ডলার তারাই বা কীভাবে এই অর্থ ঋণ পায়। নিউইয়র্ক টাইমসের এক তদন্তে জানা যায়, মেডালিয়ানের এই দাম বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে ব্যাংকের কর্মকর্তা, মালিক ও ব্রোকাররা। তারা ইচ্ছে করে মেডালিয়ানের দাম বাড়িয়ে সাধারণ ক্যাব চালকদের কাছ থেকে লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে নেয়।
ইয়োলো ক্যাবের চালক মো. আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘আগে ক্যাব চালিয়ে ভালোই আয় হতো। কিন্তু এখন কোনোমতে ক্যাব চালিয়ে পেট চালাই।’ ৪০ বছর বয়সী আলমগীর হতাশার সঙ্গে বলেন, ‘ক্যাব চালকেরা আত্মহত্যা না করে কি করবে। সংসারের খরচ মিটাতেই কষ্ট হয়ে যায় তার ওপর যারা আগে মেডালিয়ান কিনেছে তাদের ব্যাংকের টাকা অতিরিক্ত সুদে দিতে হয়।’
শেখ আনিসুল ইসলাম গত প্রায় ২০ বছর ধরে নিউইয়র্ক সিটিতে ইয়েলো ক্যাব চালাচ্ছেন। তিনি নিজ দেখেছেন, কীভাবে ব্যাংকের কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে ধোঁকা দিয়ে লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে নিয়েছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার এক পরিচিত চারটি মেডালিয়ান কিনেছে। শেষের মেডালিয়ানটি কিনেছে ক্যাবের দাম পড়ার সময়। লোকসানে তিনটি মেডালিয়ান বিক্রি করে দিয়েছে। এখন উনি আমাকে মাঝে মাঝে বলে বাসার ভাড়া পর্যন্ত দিতে পারছেন না।’
৪৮ বছর বয়সী মোস্তফা কামাল ১৫ বছর ধরে ক্যাব চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘ভাই সংসার ঠিকমতো চালাতে পারছি না। আমি অনেককেই জানি যারা মেডালিয়ান কিনে সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে। তার ওপর সিটি এখন কাস্টমার প্রতি ৩.৮০ ডলার কনজেসসান ফি নিয়ে যায়। দৈনিক ১০ ঘণ্টা কাজ করে ১০০ ডলারও বাড়িতে নিতে পারি না।’
মো. আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভাই উবার এসে আমাদের ধ্বংস করে দিয়েছে। এখন ১ লাখ ৪০ হাজারের মতো উবার চালক আছে। কিছুদিন আগে আমার এক বন্ধু জ্যাকসন হাইটসে আত্মহত্যা করেছে। সে ইয়োলো ক্যাব চালাত।’ তাঁর অনুরোধ, ‘আমাদের একটু দেখেন।’
স্বদেশির সঙ্গে কথা বলছেন এক বাংলাদেশি ক্যাবচালক

রাখাইনে নির্যাতন অব্যাহত, কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের আহ্বান

রাখাইনে এখনও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতন অব্যাহত আছে। এ অবস্থায় রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বলা হয়েছে, ওই সুপারিশে মিয়ানমার ও রাখাইনের সব মানুষের জন্য উত্তম সমাধানের পথ রয়েছে। একই সঙ্গে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে মিয়ানমার সরকারকে উৎসাহিত করতে আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র অব্যাহতভাবে কাজ করছে, যাতে শরণার্থীরা তাদের মূল বাসস্থানে অথবা তাদের পছন্দমতো স্থানে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে টেকসইভাবে ফিরে যেতে পারেন। ২৪ শে আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের অফিস থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়।

এতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, দুই বছর আগে মিয়ানমারের নিরাপত্তারক্ষীরা নারী, পুরুষ ও শিশুদের বিরুদ্ধে নৃশংসতা চালায়। রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে নিরাপত্তারক্ষীদের পোস্টে উগ্রপন্থিদের হামলার জবাবে ভয়াবহভাবে বৈষম্যমুলকভাবে অভিযান শুরু করে তারা।
এতে কমপক্ষে ৭ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। মিয়ানমারের ওই নৃশংসতাকে অভিহিত করা হয়েছে জাতি নিধন হিসেবে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, গত ৭০ বছরের বেশি সময়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী শুধু রাখাইন রাজ্যেই মানবাধিকার লঙ্ঘন করেনি। জবাবদিহিতা না থাকায় এবং সেনাবাহিনীর ওপর বেসামরিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে এখনও রাখাইন রাজ্যে নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে সেনারা। একই সঙ্গে নির্যাতন চালাচ্ছে কাচিন, শান রাজ্যে ও মিয়ানমারের অন্যান্য স্থানে। আমরা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানাই মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে। নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশের মানবিক অনুমোদন দিতে হবে। শান্তির লক্ষ্যে যুক্ত থাকতে হবে রাজনৈতিক সংলাপে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, রাখাইন সঙ্কটে মানবিক সহায়তায় শীর্ষস্থানীয় অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৭ সালের আগস্টে সহিংসতা শুরুর পর থেকে এ খাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৫৪ কোটি ২০ লাখ ডলার দিয়েছে। মানবিক সহায়তায় অন্যদের যুক্ত হতে আহ্বান জানাই আমরা। নির্যাতনে যারা প্রাণ হারিয়েছেন এবং নির্যাতনের ফলে কমপক্ষে ১০ লাখ শরণার্থী, যারা বাংলাদেশে আশ্রয় পেয়েছেন- তাদের সবার প্রতি আমাদের সহানুভূতি। মিয়ানমার চেষ্টা করছে শক্তিশালী, শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ একটি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য। কিন্তু এক্ষেত্রে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা একটি অত্যাবশ্যকীয় বিষয়। একই সঙ্গে মিয়ানমারে ন্যায়বিচার ও স্বেচ্ছায় রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার পরিবেশ সৃষ্টিতে অন্যদের প্রতি আহ্বান জানায় যুক্তরাষ্ট্র।

কাশ্মীর ইস্যুতে নাছোড় পাকিস্তান by লং শিংচুন

প্রয়োজন হলে কাশ্মীর ইস্যুতে ‘শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে’ পাকিস্তান প্রস্তুত। পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে বুধবার দেয়া এক বক্তৃতায় এ কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। খান বলেন, “আমি যুদ্ধ চাই না, কিন্তু এটা এখন স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, তারা (ভারত) আলোচনা চায় না”। পাকিস্তানের ৭৩তম স্বাধীনতা দিবসটি বুধবার ‘কাশ্মীর সংহতি দিবস’ হিসেবে পালিত হয়েছে। কাশ্মীরের জনগণের প্রতি সমর্থন জানাতেই এই দিবসটি পালিত হয়েছে।

৫ আগস্ট ভারত একতরফাভাবে অধিকৃত কাশ্মীরের বিশেষ স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা বাতিল করে এবং এর মাধ্যমে কাশ্মীরকে ভারতের কথিত অঞ্চলে পরিণত করা হয়। ভারতের পদক্ষেপের জবাবেই খান এ সব কথা বলেছেন এবং সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের বিরোধীতা ও ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সীমান্তে সঙ্ঘাত হয়েছে। এবং এতে অন্তত তিনজন পাকিস্তানী এবং পাঁচজন ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছে। এই ধরনের সঙ্ঘাত এড়ানো কঠিন, কিন্তু পাকিস্তান কোন বড় ধরনের যুদ্ধে জড়াবে না। সে কারণের পাকিস্তানের বর্তমান পদক্ষেপগুলো সবই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক। সামরিক পদক্ষেপের এখানে কোন সুযোগ নেই।

পাকিস্তান পুরো কাশ্মীরকে নিজেদের করতে চায়, কিন্তু এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করাটা কঠিন। সে কারণে পাকিস্তান তাদের কথায় ও রাজনীতিতে একটা আপসহীন অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা কোন পদক্ষেপ নেয়নি। পাকিস্তানী জনগণকে শান্ত রাখার জন্য খানকে শক্ত কথা বলতে হচ্ছে।

ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের স্ট্যাটাস বাতিলের বিষয়টি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা। ২০১৯ সালে ভারতের সাধারণ নির্বাচনের সময়, বিজেপি কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মোদি প্রশাসনের সিদ্ধান্ত বিজেপি সমর্থকদের এবং সার্বিকভাবে ভারতীয় সমাজের ব্যাপক সমর্থন পাবে। এমনকি ভারতের প্রধান বিরোধী দল ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের মধ্যেও অনেকে মোদির পদক্ষেপকে সমর্থন করেন। এখন মোদি প্রশাসন যেহেতু তার প্রতিশ্রুতি রেখেছে, তাই এই সম্ভাবনা কম যে ভারত সেটা বাতিল করবে।

ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের ব্যাপারেই পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত এবং সেটার প্রভাব নিয়ন্ত্রণ রেখা পার হয়নি। তবে, কাশ্মীর বিবাদের যেহেতু এখনও মীমাংসা হয়নি, ভারতের একতরফা সিদ্ধান্ত তার দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এটা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করতে পারে। তাছাড়া, কাশ্মীরের অধিবাসীরা অধিকাংশই মুসলিম। ভারতের সিদ্ধান্ত কার্যকরের পর, বহু হিন্দু কাশ্মীরে প্রবেশ করতে পারে, যেটা স্থানীয় মুসলিমদের প্রতিরোধের মুখে পড়তে পারে এবং এ অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি সহিংসতা উসকে দিতে পারে। অন্যান্য ইসলামী দেশগুলোর বিরোধীতার মুখেও পড়তে পারে এ সিদ্ধান্ত।

চীন-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের পদক্ষেপ চীন-ভারত সীমান্তের নিয়ন্ত্রণরেখাকেও পরিবর্তন করবে না, বা চীনের সার্বভৌমত্বের উপরও প্রভাব ফেলবে না। কাশ্মীরের ব্যাপারে চীনের মনোভাব মূলত নিরপেক্ষ। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সশস্ত্র সঙ্ঘাত দেখতে চায় না চীন, এবং আমরা আশা করি যে, দুই দেশ শান্তিপূর্ণভাবে বিবাদের মীমাংসা করতে পারবে। এ ব্যাপারে ভারত সবসময় তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার বিরোধী। শেষ বিচারে একমাত্র ভারত ও পাকিস্তানই কেবল কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করতে পারে।