Sunday, November 9, 2014

বার্ধক্যের ছাপ এড়াতে পাঁচ কথা

ব্রিটেনের অনেক লোকই দীর্ঘায়ুর জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন। এর জন্য তারা নিয়মিত ব্যায়াম এবং খাবার দাবার নিয়ন্ত্রণ করে চলছেন। সম্প্রতি ‘লঙ্গেভিটি সাইন্স প্যানেল’ নামের দীর্ঘাযু বিষয়ক একটি গবেষণা সংস্থা তাদের সদস্যদের জন্য পরামর্শও তৈরি করেছেন। তারা বলেছেন নিয়মিত হাঁটার মতো প্রতিদিনের স্বাভাবিক জীবন যাপন মানুষের শরীরকে সুস্থ রাখতে পারে। এতে শরীর থেকে চিনি, লবন এবং চর্বি কমে যায়। এ ছাড়া খাবারের অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি কোষ বিভাজনের ক্ষেত্রে ভুমিকা রাখবে এমন কিছু ওষুধ গ্রহণ করলে মানুষের শরীরে বার্ধক্যের ছাপ দেরিতে পড়বে।

দ্যা টেলিগ্রাফে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে পরামর্শগুলো তুলে ধরা হয়। সংস্থাটির বিশেষজ্ঞরা বার্ধক্য কী, কিভাবে বার্ধক্য প্রক্রিয়ার গতি ধীর করা যায় এসব বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।
এ ছাড়া তারা ওষুধ ব্যবহারের প্রতিও গুরুত্ব দিয়েছেন, যেগুলো শরীরের কোষ বিভাজনের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
প্যানেলের চ্যায়ারম্যান ড্যমি ক্যারেন বলেন, বার্ধক্য প্রক্রিয়া একটি বায়োলজিক্যাল জটিল বিষয়। প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর খাবার এই প্রক্রিয়াটিকে ধীর করতে ভ’মিকা রাখে।
গবেষকরা বলেন, সাধারণত ধারণা করা হয় কম বয়সিদের চেয়ে বেশি বয়সিদের ওপর বার্ধক্যের প্রভাব বেশি থাকে। কিন্তু এটি অনিবার্য নয়। করণ শরীরের সকল কোষগুলোকে ডিএনএ ব্লু প্রিন্ট ধারণ করে রাখে। আর এটিকে সংরক্ষণ করে রাখে দেহ। কিছু সামুদ্রিক প্রাণীর ক্ষেত্রে বয়স প্রভাব ফেলে না।
তারা বলেন, মানুষ বৃদ্ধ হয় মূলত কোষ বিভাজনের সমস্যার কারণে। এই কোষ বিভাজন মানুষের বেড়ে ওঠা, অঙ্গ প্রত্যঙ্গের উন্নতি এবং মৃত কোষগুলোর যায়গায় নতুন কোষ তৈরি হওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিষয়। একজনের জীবনে অনেক অনেক বিলিয়ন কোষ বিভাজন ঘটে। এসব বিভাজন প্রক্রিয়া চলতেই থাকে। তবে ধূমপান, অ্যালকোহল এবং অতিরিক্ত খাবার এদের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রতিবার একটি কোষ বিভাজনে ডিএনএর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও সঙ্কুচিত করে। এটা টলেমারিস হিসেবে পরিচিত। এই টলেমারিসগুলো একটু বড় হয়ে উঠলেই এরা কোষ বিভাজনে থামিয়ে দেয়। আর এই প্রক্রিয়াটাকেই বলা হয় বার্ধক্য। বার্ধক্য প্রক্রিয়া বাড়তে বাড়তেই শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এটা ধ্বংশ হওয়া কোষগুলোকে তৈরি হতে দেয় না। এ কারণেই শরীরে বার্ধক্যের ছাপ পড়ে।
তারা দাবি করেন নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়াকে ধীর করা যায়। পাশাপাশি কিছু ওষুধ গ্রহণ করে নস্ট কোষগুলোকে সরিয়ে নতুন করে কোষ তৈরি হওয়ার পথ স্বাভাবিক করা যায়।

গবেষকরা তাদের দীর্ঘ গবেষণা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে জানিয়েছেন, মাঝে মাঝে উপবাস থাকলেও শরীরে ভালো প্রভাব পড়ে। এ ছাড়া শরীরে  কম ক্যালরি ধরে রাখা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
তারা দুই হাজার পাঁচ শ’ বছর আগে হিপোকেৃট এর উদাহরণ দিয়ে বলেন, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন হাঁটা শরীরের জন্য উপকারি। সাম্প্রতিক সময়ের গবেষকরাও মানুষকে হেঁটে হেঁটে ক্যালরি খরচ করার উপদেশ দেন।
প্যানেলের সদস্যরা দাবি করেন তাদের উপদেশ মেনে চললে বর্তমানে জন্ম নেয়া মেয়ে শিশুরা গড়ে ৮২.৮ বছর এবং ছেলে শিশুরা ৭৮.৮ বছর বেঁচে থাকতে পারবে। তবে কয়েকজন সদস্য বার্ধক্যের বিপরীত অনুশীলন করে ১২০ বছরও বেঁচে থাকতে চান।
ব্রাইটোন বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োজেরোনটোলোজির অধ্যাপক রিচার্ড ফ্যার‌্যাগার বলেন, দীর্ঘদিন সুস্থ স্বাস্থ্য নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য জীবন যাপনের পদ্ধতির ভ’মিকা বড়। বার্ধক্য আমাদেরকে দীর্ঘদিন বাঁচতে দেয় না।
বার্ধক্যের ছাপ এড়াতে সহজ পাঁচটি উপায়ের কথা বলেছেন তারা। এগুলো হলো ভালো খাবার গ্রহণ করা, কাজ করা, কম পান করা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং কখনো ধূমপান না করা।

পদত্যাগ করতে বলে আরও তিন মন্ত্রীকে আইনি নোটিশ

পদত্যাগ দাবি করে আরও তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান পান্না। মন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও কোম্পানির মালিক হওয়ার কারণে তাঁদের এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
এঁরা হলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী।
আজ রোববার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সচিবালয়ের ঠিকানায় এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। জেড আই খান পান্নার পক্ষে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক এই নোটিশ পাঠান।
নোটিশে সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে এ তিন মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। অন্যথায় হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে একই ধরনের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহদীন মালিক প্রথম আলোকে বলেন, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী থাকা অবস্থায় লাভজনক কোম্পানির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো বিধান নেই। কিন্তু যাঁদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা বিভিন্ন লাভজনক কোম্পানির পরিচালক পদে রয়েছেন, যা সংবিধানের ১৪৭ অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন। এর ফলে তাঁরা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী থাকার অযোগ্য হয়ে পড়েছেন। এ কারণে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে তাঁদের পদত্যাগ দাবি করে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ৩১ অক্টোবর প্রথম আলোতে প্রকাশিত ‘মন্ত্রী হয়েও তাঁরা কোম্পানির পরিচালক’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে উল্লিখিত চার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর বিভিন্ন লাভজনক কোম্পানির পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। নোটিশে প্রথম আলোর ওই প্রতিবেদনের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের শাখা অফিস ডিএমপি: রিজভী

পুলিশ সম্পর্কে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানের বক্তব্য জঙ্গিবাদকে উৎসাহিত করতে পারে- ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)র এ আশঙ্কার সমালোচনা করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের শাখা অফিস হিসেবে কাজ করছে ঢাকা মেট্রো পলিটন পুলিশ। এখানকার কর্মকতারা আওয়ামী লীগের লোক হিসেবে কাজ করছে।” রোববার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। রিজভী বলেছেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন অবৈধ সরকারের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে কাজ করছে। এজন্যই বিরোধী দলের সভা সমাবেশ দেখলেই বন্দুকের নল তাক করে থাকে। সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে তারা একের পর এক ন্যায় ও বিবেকবর্জিত কাজ করে যাচ্ছে। রাজধানীসহ সারা দেশে বিএনপির বিক্ষোভে পুলিশ হামলা করেছে অভিযোগ করে  তিনি এর নিন্দা জানান।

ডিজিটাল সেন্টার উদ্যোক্তা সম্মেলন মঙ্গলবার

ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘ডিজিটাল সেন্টার উদ্যোক্তা সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হবে আগামী মঙ্গলবার। জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্যোক্তা সম্মেলনে তথ্য ও ডিজিটাল সেন্টারের সফলতা তুলে ধরতে রোববার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের চামেলী হাউজে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, এটুআই প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর হোসেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তৃণমূল পর্যায়ে তথ্য-প্রযুক্তি নিয়ে কর্মরত ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করা এবং তাদের কাজের স্বীকৃতি প্রদানের জন্য এ সম্মেলনের আয়োজন ‘ডিজিটাল সেন্টার উদ্যোক্তা সম্মেলন’ হয়েছে। এতে দেশের সকল ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন ডিজিটাল সেন্টারের ১১হাজারের বেশি উদ্যোক্তা অংশ নেবে। তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ অর্ধেকেরও বেশি পথ এগিয়ে গেছে। এ কাজকে এগিয়ে নিয়ে ডিজিটাল ইউনিয়ন সেন্টারগুলোকে বিভিন্নমুখী অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করার কাজ চলছে। এটুআই প্রকল্পের পরিচালক কবির বিন আনোয়ার বলেন, ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তাদের কাজের স্বীকৃতি প্রদান, দেশবাসীকে তাদের কাজের সামর্থ্য সম্পর্কে আরেকবার মনে করিয়ে দেয়া  এবং ওয়ার্ল্ড সামিট অন ইনফরমেশন সোসাইটি পুরস্কার ও ওয়ার্ল্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি এন্ড সার্ভিস এলায়েন্স পুরস্কার উদযাপনের জন্য ডিজিটাল সেন্টার উদ্যোক্তা সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

‘রায়ের কপি পেলেই মৃত্যু পরোয়ানা জারি করবে ট্রাইব্যুনাল ’

আপিল বিভাগ থেকে রায়ের কপি পেলেই ট্রাইব্যুনাল কামারুজ্জামানের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করবে বলে জানিয়েছেন এ্যার্টনি জেনারেল মাহবুবে আলম। তবে তা সংক্ষিপ্ত না পূর্ণাঙ্গ কপি ট্রাইব্যুনালে পাঠাবে- তা আপিল বিভাগের ওপরই নির্ভর করছে বলে তিনি জানান। রোববার নিজের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রয়েছে, নাকি রদবদল হয়েছে- সেটা আপিল আদালতের রায় পৌঁছালে ট্রাইব্যুনাল জানতে পারবে। এরপর ট্রাইব্যুনাল কামারুজ্জামানের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করবে। তিনি বলেন, আমি আগে বলেছি, একটা সংক্ষিপ্ত অর্ডারেই চলবে। এখন আপিল বিভাগ যদি মনে করেন, তারা শর্ট অর্ডার পাঠাবেন না, পূর্ণ আদেশই পাঠাবেন। তাহলে সেটা তাদের বিষয়। এর অগে গত ৩রা নভেম্বর আপিল বিভাগ জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানকে প্রদত্ত ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদ- রায় বহাল রাখে। এরপরে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছিলেন, দ- কার্যকরে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপির প্রয়োজন নেই। তার সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও। এমনকি তিনি মৃত্যুদ- কার্যকরে কারা কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছেন চূড়ান্ত রায়ের কপি পাওয়ার পরে তারা রিভিউ আবেদন করবেন। এরপর কামারুজ্জামান সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি প্রেসিডেন্টের কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন কিনা। এরকম অস্পষ্ট পরিস্থিতিতে যে কোন সময় কামারুজ্জামানের দ- কার্যকর হয়ে যেতে পারে বলে গুঞ্জন তৈরি হয়।

দুই লাখ ৪২ হাজার শূন্যপদ দ্রুত পূরণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর by শরিফুজ্জামান

এক বছরের ব্যবধানে অনুমোদিত সরকারি পদের সংখ্যা বেড়েছে এক লাখ ৬০ হাজার ৯৯৩ । এ মুহূ‌র্তে দেশে দুই লাখ ৪২ হাজার ৪১২টি সরকারি পদ শূন্য রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের নির্দেশ দিয়েছেন। গত ২১ অক্টোবর মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশ দেন। এরপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এ ব্যাপারে প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করেছে। বেশির ভাগ নিয়োগ এই অথর্বছরেই শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রথম শ্রেণির পদ শূন্য রয়েছে ১২ হাজার ৬৯৬টি। এর মধ্যে ১০ হাজার ৬৬৭টি রয়েছে সহকারী সচিব পদমর্যাদার। খুব শিগগির প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা পদে প্রায় দুই হাজার লোক নিয়োগ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে ৩৫তম বিসিএসের আবেদন গ্রহণ শেষ হয়েছে। বাকি শূন্য পদ রয়েছে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর। ইতিমধ্যে নিজ নিজ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শূন্য পদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে শূন্য পদ পূরণের জন্য তাগাদা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, মন্ত্রণালয়গুলো নিজ উদ্যোগেই এগুলো পূরণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। শূন্য পদের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব না হলেও সহনশীল পর্যায়ে নামানোর চেষ্টা চলছে। মন্ত্রিসভার ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন মন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বৈঠকে ১০ হাজারের বেশি শূন্য পদ থাকা সাতটি মন্ত্রণালয়ের তথ্য তুলে ধরা হয়। এ সাতটি মন্ত্রণালয়ে শূন্য পদের সংখ্যাই এক লাখ ৩১ হাজার ৬৩৪। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী পদ সৃষ্টি ও নিয়োগ-প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তিনি এও বলেছেন, এসব নিয়োগ যেন ন্যায়ভিত্তিক ও প্রতিযোগিতামূলক হয়। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত অথর্বছরে (২০১৩-১৪) অনুমোদিত এক লাখ ৬০ হাজারের বেশি পদের মধ্যে বেশির ভাগই নতুন। ২০১২-১৩ অর্থবছরে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনুমোদিত পদ ছিল ১২ লাখ ৬৪ হাজার ৩২৩। গত অর্থবছরে অনুমোদিত পদ বাড়ে প্রায় ১৩ শতাংশ এবং পদের সংখ্যা হয় ১৪ লাখ ২৫ হাজার ৩১৬।

এ প্রসঙ্গে কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, নতুন পদ সৃষ্টি ও শূন্যপদ পূরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। যৌক্তিকতা থাকলে পদ সৃষ্টি বা শূন্য পদ পূরণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সাধারণত আপত্তি করে না।
সচিব কমিটির সাম্প্রতিক এক সভায় নিয়োগে দীঘর্সূত্রতা নিয়ে আলোচনা হয়। সভা থেকে নতুন পদ সৃষ্টি, শূন্য পদ পূরণসহ নিয়োগ-প্রক্রিয়ার ফাইলের অনুমোদন-প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকারের কাছে সুপারিশ করা হয়। এই সুপারিশ অনুযায়ী, মূল মন্ত্রণালয় থেকে ফাইল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে যাবে। অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদন করুক বা না করুক, মূল মন্ত্রণালয়ে ফাইল ফেরত পাঠাবে।
জনপ্রশাসনসচিব বলেন, এতে মাঝখানে অর্থ থেকে জনপ্রশাসন হয়ে মূল মন্ত্রণালয়ে ফাইল যাওয়ার সময়টুকু বাঁচবে।
প্রধানমন্ত্রী দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিলেও চলতি অর্থবছরের মধ্যে এই বিপুলসংখ্যক নিয়োগ সম্পন্ন হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ, প্রচলিত নিয়মে একটি নিয়োগ সম্পন্ন হতে অন্তত এক বছর লাগে, আর জটিলতা বাধলে কয়েক বছরও লেগে যায়।
সাত মন্ত্রণালয়ে শূন্য পদ: স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শূন্য পদ সর্বোচ্চ ৩৬ হাজার ১৪৬টি। বেশির ভাগই চিকিৎসক ও নার্স। বতর্মানে স্বাস্থ্য খাতে এক লাখ ৭৬ হাজার ৪৭৫টি পদ রয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ১৫ হাজার ৫২৪টি পদ শূন্য। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ২১ হাজার ৮৭০টি পদ শূন্য। বেশির ভাগই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ হবে প্রায় ২৪ হাজার। ইতিমধ্যে নয় হাজার শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ-প্রক্রিয়া চলছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০ হাজার ৬১২টি পদ শূন্য, এগুলোর বেশির ভাগই পুলিশ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৩ হাজার ৯১৪টি পদের মধ্যে বেশির ভাগই শিক্ষক। সরকারি কলেজের প্রভাষকের প্রায় তিন হাজার পদ শূন্য। ৩৫তম বিসিএস ও বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকার কলেজগুলোর শূন্য পদ পূরণ করা হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির এক হাজার ৯৬৫টি পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলে আসছে কয়েক বছর ধরে। ২০১৩ সালের জুন মাসে ওই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তার পর থেকে অনিয়মের অভিযোগে ওই নিয়োগ স্থগিত রয়েছে। অথচ জনবলের অভাবে অধিদপ্তর ও এর আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতে কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।
এ ছাড়া ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ১২ হাজার ১০৭ এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ১১ হাজার ৪৯৩টি পদ শূন্য রয়েছে। নতুন বছরের শুরু থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), সমাজসেবা অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, পাট অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তর, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণির পদে ২০ হাজার লোক নিয়োগ করা হবে।
কামাল নাসের চৌধুরী বলেন, জনবল ঘাটতি স্বাভাবিক কাজের ব্যাঘাত ঘটায় এবং যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের সেবার পথ রুদ্ধ করে। তাই সরকারের আন্তরিকতা ও অগ্রাধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে এই অথর্বছরের মধ্যে নিয়োগ চূড়ান্ত করতে না পারলেও প্রক্রিয়া শুরু ও তা এগিয়ে নেওয়ার কাজ অনেক দূর এগোবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।

মোদির সরকারে ২১ নতুন মন্ত্রী

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভায় নতুন ২১ মন্ত্রী যোগ দিয়েছৈন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার ছয় মাস পর মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ ঘটালেন নরেন্দ্র মোদি। আজ চার পূর্ণ মন্ত্রী, তিন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ও ১৪জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নিলেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে মোদির মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিলেন বাবুল সুপ্রিয়। আজ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন আসানসোলের এই এমপি। প্রত্যাশামতোই পূর্ণমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন মনোহর পারিক্কর, সুরেশ প্রভু, জগতপ্রকাশ নাড্ডা ও চৌধুরী বীরেন্দ্র সিং।

স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ক্যাবিনেটে জায়গা পেয়েছেন বন্দারু দত্তাত্রেয়, রাজীব প্রতাপ সিং রুডি ও মহেশ শর্মা।  এছাড়াও ক্যাবিনেটে মোট ১৪ জন প্রতিমন্ত্রীকে সামিল করেছেন মোদি।
প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন, মোক্তার আব্বাস নাকভি, রামকৃপাল যাদব, হরিভাই চৌধুরী, সাওয়ার লাল জাঠ, গিরিরাজ সিং, স্বাধ্বী নিরঞ্জনা জ্যোতি, জয়ন্ত সিনহা, রাজ্যবর্ধন সিং রাঠোরসহ ১৪জন।
কে কোন মন্ত্রণালয় পাচ্ছেন তা এখনো স্পষ্ট না হলেও মনোহর পারিক্কর সম্ভবত প্রতিরক্ষার দায়িত্ব পাচ্ছেন। সুরেশ প্রভুর হাতে যেতে পারে রেল মন্ত্রণালয়। সকালে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের সঙ্গে নিজের বাসভবনে চা-চক্রে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী।

‘আওয়ামী লীগ ভাড়া করা দল নয়’

আওয়ামী লীগ বিএনপি’র মত ভাড়া করা দল নয় বলে মন্তব্য করেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশারফুল ইসলাম। রোববার জয়পুরহাটে জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে তাই ভোটের মাধমে কাউন্সিল করে নেতা নির্বাচন করে। আওয়ামী লীগ ১৯৪৮ সাল থেকেই আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে। ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৬’র ৬ দফা, ৬৯-এর গণ আন্দোলন করেছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করেছে। পৃথিবীতে একমাত্র দল যারা বুকের রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে। কাউন্সিল উদ্বোধন করেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন- ৫ই জানুয়ারি নির্বচন না হলে এখানে কাউন্সিল হত না। সাংবাদিক ভাইয়েরা আপনারা এখানে থাকতে পারতেন না দেশে মার্শাল’ল আসত। শেখ হাসিনা-খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে আসতে বলেছিল, তিনি আসেননি। খালেদা জিয়া জামায়াতের কথা শুনে হরতাল প্রত্যাহার না করে আলোচনায় আসেননি। শেখ হাসিনা বলেছিলেন আপনি কোন পদ নিবেন আসেন সেটা দেয়া হবে তবু নির্বাচন হোক, কিন্তু তিনি আসেননি। খালেদা জিয়া চেয়েছিলেন দেশে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না এসে অন্য কেউ যেন ক্ষমতায় আসে। এটি ছিল খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্য। খালেদা জিয়া দেশে গণতন্ত্র হত্যার চক্রান্ত করেছিলেন। নির্বাচন হয়েছে, দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। জয়পুরহাট জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সামছুল আলম দুদুর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ, এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, কর্ণেল ফারুক খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি প্রমুখ।  কাউন্সিলে জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি এডভোকেট সামছুল আলম দুদু ও সাধারণ সম্পাদক এসএম সোলাইমান আলী পুনরায় যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, সভাপতি  ও সাধারণ সম্পাদক পদে তিন জন করে পার্থী ছিলেন কিন্তু কাউন্সিলে ভোটাভুটি হওয়ার আগেই বাকী দু’জন প্রার্থী তাদের পার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন। ফলে বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হলেন।

কামারুজ্জামানের বিচারপ্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ : হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিচারপ্রক্রিয়া ভয়াবহ রকমের ত্রুটিপূর্ণ অভিহিত করে তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ অবিলম্বে স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। এছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সব মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করারও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। সংস্থাটি রোববার তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ আহ্বান জানায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অবিলম্বে স্থগিত করে তাকে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অধিকার দেয়া উচিত।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর করার প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়ার খবরে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আপিল রায়ের পর কামারুজ্জামানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করায় তার ফাঁসি কার্যকর অত্যাসন্ন বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। কামারুজ্জামান এবং তার আইনজীবী এখনো চূড়ান্ত রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাননি। অথচ যেকোনো মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে সাধারণ নিয়ম অনুসারে ৩০ দিনের মধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন দাখিল করার জন্য পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়া জরুরি। সরকারি কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের আগেই ফাঁসি কার্যকর করা সম্ভব, যা মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে নীতিমালা পরিপন্থী।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়াবিষয়ক পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ড অসংশোধনযোগ্য, মর্যাদাহানিকর এবং নির্মম শাস্তি হওয়ায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সকল পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী। যখন বিচারপ্রক্রিয়া নিরপেক্ষ বিচারের মানদণ্ড অনুসরণ করা হয় না এবং মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ আদালতে আপিল করার অধিকার থাকে না, তখন এটা বিশেষভাবে সমস্যাপ্রবণ।’
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, রাষ্ট্রপতির ক্ষমার বিষয়টি তাত্ত্বিকভাবে সম্ভব হলেও এসব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের ক্ষেত্রে তা মঞ্জুরের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
এতে বলা হয়, কামারুজ্জামানকে ২০১০ সালের জুলাই মাসে গ্রেফতার করা হয়। তাকে তার গ্রেফতারের কোনো কারণ না জানানোয় নির্বিচার গ্রেফতার বিষয়ক জাতিসঙ্ঘ ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইউএন ওয়ার্কিং গ্রুপ অন আরবিট্রারি ডিটেনশন) তার গ্রেফতারকে বিধি-বহির্ভূত এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে। মারাত্মক ক্রুটিপূর্ণ বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন বিচারে ২০১৩ সালের মে মাসে কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। গত ৩ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট ওই দণ্ডাদেশ বহাল রাখে। এক সপ্তাহেরও কম সময়ে যুদ্ধাপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ ছিল যুদ্ধাপরাধ মামলায় তৃতীয় মৃত্যুদণ্ড।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, কামারুজ্জামানের মামলাটিসহ আইসিটির মামলাগুলো ত্রুটিপূর্ণ। কামারুজ্জামানের মামলায় সাক্ষী এবং নথি দাখিল, আসামিপক্ষের সাক্ষী ছিল বিধিবহির্ভূতভাবে সীমিত। গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সাক্ষ্যগুলোতে থাকা অসামঞ্জস্যতাগুলো আদালত প্রত্যাখ্যান করে, আসামিপক্ষকে প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ দিতে অস্বীকার করে।
হিউম্যান রাইটস জানায়, অন্যান্য মামলাতেও এই ধরনের বিশৃঙ্খলার নজির দেখা গেছে। ২০১৩ সালে আবদুল কাদের মোল্লাকে তাড়াহুড়া করে পূর্ববর্তী সময় থেকে কার্যকর (রেট্রোস্পেক্টিভ) বিধানে ফাঁসি দেয়া হয়, যা আন্তর্জাতিক আইনে নিষিদ্ধ। আরেক অভিযুক্ত দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীর ক্ষেত্রে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্যদের হাতে এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে অপহরণ করার বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উপেক্ষতি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্তদের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি বারবার আহ্বান জানিয়েছে।
অ্যাডামস বলেন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ১৯৭১ সালে সংঘটিত নৃশংস অপরাধের বিচার ও জবাবদিহিতাকে সমর্থন করে। তবে এসব বিচার অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানে নিরপেক্ষভাবে হতে হবে।
তিনি বলেন, বিশেষ করে জীবনের ব্যাপার সংশ্লিষ্ট থাকলে রায় প্রদানে সর্বোচ্চ মানদণ্ড অনুসরণ করা প্রয়োজন। মৃত্যুদণ্ড অসংশোধনযোগ্য ও নৃশংস। বাংলাদেশের উচিত এ থেকে চিরতরে সরে আসা।

নীতি–পরিকল্পনা সমন্বিত হতে হবে: পিআরআইয়ের আলোচনায় অধ্যাপক নূরুল ইসলাম

অর্থনৈতিক ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে খাতওয়ারি যেকোনো পরিকল্পনা প্রণয়ন করার দায়িত্ব কোনো একক মন্ত্রণালয়ের হাতে দেওয়া উচিত নয়; বরং খসড়া পরিকল্পনা প্রণয়ন, মতামত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি সমন্বিত ইউনিট তৈরি করা যেতে পারে। প্রয়োজনে এ ধরনের সব নীতি প্রণয়নের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয়ও থাকতে পারে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সবার মত নিয়েই যেকোনো পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

>>পিআরআইয়ের আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পরিকল্পনা কমিশনের প্রথম ডেপুটি চেয়ারম্যান অধ্যাপক নূরুল ইসলাম (সর্বডানে)
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে নীতিনির্ধারণ ও প্রতিষ্ঠানসমূহ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় গতকাল শনিবার দেশের প্রথম পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান ও প্রবীণ অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক নূরুল ইসলাম এসব কথা বলেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (আইএফপিআরআই) ইমেরিটাস রিসার্চ ফেলো হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর এ বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি একমত প্রকাশ করেন সভায় উপস্থিত অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও ব্যাংকাররা। বনানীর পিআরআই কার্যালয়ে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অধ্যাপক ইসলামের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে বক্তাদের অনেকে বলেন, কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সদিচ্ছা ও দক্ষতার অভাব রয়েছে। শাসনব্যবস্থায় জবাবদিহি না থাকলে কিংবা আইনের শাসন না থাকলে কোনো নীতিই কার্যকর করা যাবে না।
শক্তিশালী পরিকল্পনা প্রণয়নের উদাহরণ হিসেবে অধ্যাপক ইসলাম মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন।
জনাব ইসলামের মতে, এ দেশে সব রাজনৈতিক সরকারই তথ্য-উপাত্ত বিকৃত করে থাকে, যা গুরুতর রাজনৈতিক সমস্যা। আর তথ্য-উপাত্ত বিকৃত করা হলে কর্মকর্তাদের দক্ষতা থাকলেও তা কাজে লাগবে না।
রাজনৈতিক প্রভাব কাটিয়ে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার কৌশল জানার জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আই জি প্যাটেলের জীবনী পড়ার জন্য সভায় উপস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমানকে পরামর্শ দেন অধ্যাপক নূরুল ইসলাম।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পরিকল্পনা কমিশন, পরিসংখ্যান বিভাগের স্বাধীন ও গ্রহণযোগ্য প্রতিষ্ঠান থাকতে হবে। ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহি ও এসব প্রতিষ্ঠান একে অপরের পরিপূরক।
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের মতে, পরিসংখ্যান এখন মূলধনের মতো। পরিসংখ্যানের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র উঠে আসে, যা বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘যে দেশে পরিসংখ্যান বিশ্বাসযোগ্য নয়, সে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য হবে কীভাবে?’
ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা সম্পর্কে মাহমুদ বলেন, ‘সব সরকারের আমলেই কিছু লোককে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় সুবিধা দেওয়া হয়। আমাদের ব্যাংকিং খাতেও কিছু “দুষ্টু” ছেলে আছে। সে ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানকে (নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা) বলা হয়, আমার “দুষ্টু” ছেলেকে দুষ্টামি করার সুযোগ দাও। আর বাকিদের ক্ষেত্রে কঠোর হও। তখন দেখা যায়, ওই প্রতিষ্ঠানই দুষ্টামি শুরু করে দেয়।’
নীতিনির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর চাপ থাকে—এ কথা স্বীকার করেন গভর্নর আতিউর রহমান। তিনি বলেন, ‘শেয়ারবাজারে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক যখন নীতি নির্ধারণ করতে গেল, তখন বাইরের অনেক চাপ সামলাতে হয়েছে। নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার সময়ও চাপ সামলাতে হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুরো চাপ সামলাতে পেরেছে, তা নয়। তবে আমরা চেষ্টা করেছি।’ তবে কারা চাপ দিয়েছিল, তা তিনি বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য-উপাত্তে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের উদাহরণ দিয়ে সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমার সময়ে দেখেছি, বিবিএস মূল্যস্ফীতির তথ্য-উপাত্ত দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বলেছেন, রাখো তিন দিন, তথ্য-উপাত্ত দেখি। তবে এখন এমন হয় কি না জানি না।’
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতার মধ্যে সমন্বয় রেখে পরিকল্পনা করতে হবে। রাজনৈতিক কারণেই যেকোনো পরিকল্পনায় অর্জনযোগ্য লক্ষ্যের চেয়ে বেশি মাত্রায় লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শামসুল আলমের মতে, যেকোনো নীতি প্রণয়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। তবে একটা অদ্ভুত ও অদ্বিতীয় বিষয় হলো, বাংলাদেশের রাজনীতি এখনো ১৯৭১ সালে আটকে আছে। যাদের চাপে গণতন্ত্র ও সুশাসন আসবে, তাঁরা এখন ব্যস্ত আছেন ‘জাতীয়তা’, ‘জাতির জনক’, ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ এসব বিষয় নিয়ে। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত এসব বিতর্ক ছিল না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন অনুষ্ঠানের মূল আলোচক অধ্যাপক নূরুল ইসলামকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনাকে যদি আবার পরিকল্পনা কমিশনে ফিরিয়ে আনা হতো, তাহলে কী করতেন? পরিকল্পনা কমিশনে ডেপুটি চেয়ারম্যান থাকাকালে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে কতটা সমন্বয় করেছিলেন?’ অবশ্য এর উত্তর দেননি অধ্যাপক নূরুল ইসলাম।
আলোচনায় আরও অংশ নেন অর্থনীতিবিদ মহিউদ্দিন আলমগীর, সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক মোস্তফা কে মুজেরী ও গবেষণা পরিচালক বিনায়ক সেন, পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান জাইদী সাত্তার, ভাইস চেয়ারম্যান সাদিক আহমদ, নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর প্রমুখ।

মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের আহ্বান

যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করতে আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটি তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ আহ্বান জানিয়েছে। এতে বলা হয়, ১৯৭১-এর স্বাধীনতাযুদ্ধে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় অবিলম্বে স্থগিত করা উচিত। মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে তার আপিলের করার সুযোগ দেয়া উচিত। সরকার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষকে কামারুজ্জামানের মৃত্যুদ- কার্যকর করার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে এবং আপিলের রায়ের পর তাকে সেখানে স্থানান্তর করা হয়েছে এমন সংবাদে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। রায় কার্যকর আসন্ন বলেই এতে ইঙ্গিত মেলে। এখনও তার আইনজীবী পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত রায় হাতে পাননি যা তিরিশ দিনের মধ্যে রায় পর্যালোচনার করার পিটিশন দাখিল করতে প্রয়োজন এবং যে কোন মৃত্যুদ- মামলায় এটা সাধারণ প্রক্রিয়া। সরকারি কর্মকর্তারা এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন পূর্ণাঙ্গ রায় ইস্যু হওয়ার আগেই মৃত্যুদ- কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা মৃত্যুদ- মামলায় ওই নীতিমালার বিরুদ্ধে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বলেন, যে কোন ক্ষেত্রে মৃত্যুদ-ের বিরুদ্ধে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। এটা অপরিবর্তনযোগ্য, অবমাননাকর এবং নির্মম শাস্তি। তিনি আরও বলেন, এটা বিশেষ করে সমস্যার কারণ যখন বিচারপ্রক্রিয়া সুষ্ঠু বিচারিক মানদ- অনুযায়ী হয়নি এবং যেখানে স্বতন্ত্র আদালতের মাধ্যমে মৃতুদ-াদেশের বিরুদ্ধে আপিলের অধিকারের অনুমোদন নেই। ‘প্রেসিডেন্সিয়াল পারডন’ (প্রেসিডেন্টের সাধারণ ক্ষমা) আপাতদৃষ্টিতে সম্ভব হলেও, এ ধরনের মামলায় এর সম্ভাবনা ক্ষীণ। ব্রাড অ্যাডামস বলেন, ১৯৭১-এ যে নির্মম অপরাধ সংঘটিত হয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বরাবরই তার ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা বারবার বলেছি যে, ভুক্তোভুগীদের জন্য সঠিক ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি রক্ষার স্বার্থে এসব বিচারপ্রক্রিয়াকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানদ- অনুসারে হতে হবে।

খালেদার দুর্নীতির দুই মামলা পরবর্তী শুনানি ২৪ নভেম্বর

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার পরবর্তী শুনানি ২৪ নভেম্বর ধার্য করেছেন আদালত। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক বাসুদেব রায় আজ রোববার শুনানি নিয়ে এ তারিখ ধার্য করেন। এই দুই মামলার শুনানিতে অংশ নিতে আজ বেলা ১১টার দিকে বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত-৩-এর অস্থায়ী এজলাসে হাজির হন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তাঁর উপস্থিতিতে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে শুনানি হয়। পরে আদেশ দেন আদালত। আদালত বলেন, ‘আপিল বিভাগে এ মামলা দুটি নিয়ে একটি শুনানি চলমান। মহামান্য আদালতের ওই বিষয়টি আমলে নিয়ে আজকের মতো মামলার কার্যক্রম মুলতবি করছি। মামলার পরবর্তী শুনানি ২৪ নভেম্বর।’ এজলাসে উপস্থিত খালেদা জিয়ার উদ্দেশে আদালত বলেন, ‘আপনি উপস্থিত থাকলে আদালতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে।’
>>জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার শুনানিতে অংশ নিতে আজ সকালে বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত-৩-এর অস্থায়ী এজলাসে হাজির হন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ছবি: ফোকাস বাংলা
শুনানিকালে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের এক আইনজীবী খালেদা জিয়ার উদ্দেশে বলেন, ‘আপনার কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। আমরা আশা করব, মামলার প্রত্যেক নির্ধারিত দিনে আপনি আদালতে হাজির হবেন।’ খালেদা জিয়ার আগমন উপলক্ষে আজ আদালত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। আদালতের বাইরে বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী জড়ো হন। গত ২৬ অক্টোবর এই দুই মামলার শুনানির তারিখ ধার্য ছিল। খালেদা জিয়ার পক্ষে সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ৯ নভেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করেন। আজ শুনানিতে হাজির হলেন বিএনপির চেয়ারপারসন। এ দুটি মামলায় গত ১৯ মার্চ অভিযোগ গঠন করা হয়।
মামলা: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া, তাঁর ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। অন্য আসামিরা হলেন মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমান।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুদক। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। মামলায় হারিছ চৌধুরী শুরু থেকেই পলাতক। ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক।

আইনমন্ত্রীর ব্যাখ্যা মনগড়া ও ভুল : কামারুজ্জামানের আইনজীবী

আইনমন্ত্রী অ্যাডঃ আনিসুল হক আইনের মনগড়া ও ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াত নেতা মুহাম্মাদ কামারুজ্জামানের আইনজীবীরা। আজ রোববার সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য রাখেন কামারুজ্জামানের আইনজীবী শিশির মুহাম্মদ মনির। উপস্থিত ছিলেন- আইনজীবী নজরুল ইসলাম, মতিউর রহমান আকন্দ, সাইফুর রহমান, এসএম কামাল, ফরিদউদ্দিন খান, আব্দুল বাতেন, গিয়াস উদ্দিন মিঠু, গোলাম রহমান, আসাদউদ্দিন, গাজী তামিম প্রমুখ।
শিশির মনির বলেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জেলকোডের ৯৯১ ধারা উল্লেখ করে মুহাম্মাদ কামারুজ্জানের রায় শোনার দিন থেকে ৭ দিনের সময় সীমার মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ আছে মর্মে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন। আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্য জেলকোডের ৯৯১ ধারার অপব্যাখা ছাড়া আর কিছুই নয়।
শিশির মনির জানান, রায় শোনার দিন থেকে সাত দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি কাছে ক্ষমা চাওয়ার বিধান ওই ধারায় উল্লেখ নেই। বরং পুরনো জেলকোড অনুযায়ী মৃত্যু পরোয়ানা গ্রহণের পর ৭ দিনের মধ্যে এবং নতুন জেলকোড অনুযায়ী ১৫ দিনের বিধান রয়েছে।
এ বিষয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য মনগড়া উল্লেখ করে তার বক্তব্যে বিভ্রান্ত না হতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি জানান, গত ৬ নভেম্বর আইনজীবীরা কেন্দ্রীয় কারাগারে কামারুজ্জামানের সাথে দেখা করলে তিনি (কামারুজ্জামান) বলেন, আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের সার্টিফাইড কপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করবেন। রিভিউ আবেদনে নিষ্পত্তির পর দরকার হলে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। কামারুজ্জামান মনে করেন, আপিল বিভাগ রিভিউ আবেদন গ্রহণ করবেন এবং তিনি ন্যায় বিচার পাবেন।
শিশির মনির বলেন, যেহেতু আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় এখনো প্রকাশিত হয়নি সেহেতু রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার ব্যাপারে আইনমন্ত্রী যে সময়সীমার কথা উল্লেখ করেছেন তা বিভ্রান্তিকর ও বেআইনি।
তিনি আরো বলেন আইনমন্ত্রী আইনের মনগড়া ও ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। তিনি জাতিকে বিভ্রান্ত করছেন। আশা করি তিনি জাতির সামানে সঠিক ব্যাখ্যা দিবেন। আগে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা থেকে সরে আসবেন। তিনি গত তিন দিন থেকে একেক সময় একে কথা বলছেন। জাতি তার কাছে এ ধরনের বিভ্রান্তকর কথাবার্তা প্রত্যাশা করে না।

মিরপুরের বেনারসিপল্লি- ৬০ ভাগই ভারতীয় শাড়ি! by আশরাফুল ইসলাম

বলিউডের দেবদাস চলচ্চিত্রে মাধুরী দীক্ষিত আর ঐশ্বরিয়া রাই যেসব বেনারসি শাড়ি পরেছেন, তার অনেকগুলোই ঢাকায় তৈরি এবং মিরপুরের বেনারসিপল্লি থেকে কেনা। সেটা ২০০২ সালের কথা। এখন কিন্তু এই বেনারসিপল্লির শতকরা ৬০ ভাগ শাড়িই ভারতীয়।  ক্রেতাদের মধ্যে এখনো মিরপুরে তৈরি বেনারসির চাহিদা থাকলেও সে অনুযায়ী সরবরাহ করতে পারছেন না স্থানীয় উদ্যোক্তারা। উৎপাদনের খরচ বেশি, মজুরিতে না পোষানোয় কারিগর টিকছে না। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অনেক তাঁত। আবার দেশি শাড়ির চেয়ে ভারতীয় বেনারসির দাম কম। মিরপুরের ব্যবসায়ীরা তাই ভারতীয় বেনারসির আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছেন। মিরপুর বেনারসিপল্লি দোকান মালিক সমিতি, তাঁতি পরিবার কল্যাণ সংস্থাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ভারতের বেনারস থেকে আসা কয়েকজন কারিগর মিরপুরে কাতান-বেনারসি শাড়ি বানানো শুরু করেছিলেন। তারই সূত্র ধরে গড়ে উঠেছিল মিরপুরের বেনারসিপল্লি। পরে স্থানীয় বাঙালিরাও তাঁদের কাছে শিখে জড়িয়ে পড়েন এই শিল্পে। ক্রমে কারিগরেরা এই শিল্পকে নরসিংদী, পাবনার ঈশ্বরদী, মানিকগঞ্জ, টঙ্গী, বগুড়া, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেন।
বেনারসিপল্লি দোকান মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ১১০টি দোকান রয়েছে। তবে বেনারসি তাঁতি পরিবার কল্যাণ সংস্থার হিসাবে ছোট-বড় মিলিয়ে দোকানের সংখ্যা কমপক্ষে ২৫০টি। সমিতির বাইরের দোকানের সংখ্যাই বেশি। বেনারসিপল্লিতে বছরে মোট কত টাকার লেনদেন হয়, তার গোনাগাঁথা হিসাব মেলেনি। তবে দোকান মালিক সমিতি বলছে, এখানে বার্ষিক বেচাকেনার পরিমাণ প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। তাঁতি পরিবার কল্যাণ সংস্থার হিসাবটাও এমনই।

>>মিরপুর ১১ নম্বরের একটি কারখানায় গতকাল বেনারসি শাড়ি তৈরিতে ব্যস্ত এক কারিগর। এই কারখানায় অনেক তাঁত থাকলেও বন্ধ হয়ে গেছে বেশির ভাগ l ছবি: প্রথম আলো
দোকানভেদে মাসে দুই লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকারও হিসাব পাওয়া যায়। অন্তত ১০টি বড় দোকানের মালিক বলেছেন, তাঁদের দোকানে যত শাড়ি বিক্রি হয় এর মাত্র এক-তৃতীয়াংশ দেশি শাড়ি। বাকিটা বেনারসি ছাড়াও নানা ধরনের ভারতীয় শাড়ির দখলে।
দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কাশেম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার দোকানে যত শাড়ি দেখছেন তার ৬০ শতাংশই আমদানি করা। বাকি ৪০ শতাংশের মধ্যে আছে বেনারসি-কাতান, জামদানি, সুতির তাঁত ও সিল্কের শাড়ি।’
তাঁর কথা বলার মধ্যেই দোকানে এলেন পল্লবীর বাসিন্দা জেসমিন আরা। কিনলেন ভারতীয় সিল্কের শাড়ি। দেশি শাড়ি রেখে কেন ভারতীয় শাড়ি কিনলেন? জেসমিন বললেন, এই শাড়ির কাজ, কাপড়ের মান সবই ভালো। দামও কম। দেশি বেনারসি কি কেনা হয় না? এমন প্রশ্নে তাঁর জবাব, ‘কিনি, তবে কম।’ তাঁর মতে দেশি বেনারসিগুলোর নকশা অনেকটাই একঘেয়ে।
আরেকটি দোকানে শাড়ি দেখছিলেন উত্তরা থেকে আসা সেলিনা আমিন। তাঁর হাতভর্তি কাগজের ব্যাগ। জানালেন, চারটি শাড়ি কিনেছেন, সব কটিই ভারতীয় ধুপিয়ান সিল্ক।
দোকানি আর বিক্রেতাদের কাছে অবশ্য এমন কথাও শোনা গেল যে, অনেক বিপণিবিতানে মিরপুরের তৈরি শাড়িকে ভারতীয় বলে চালিয়ে দেওয়া হয়।
কমছে তাঁত, কমছে তাঁতি: তাঁতি পরিবার কল্যাণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বছর দশেক আগেও এই পল্লিতে তাঁতের সংখ্যা ছিল আনুমানিক সাত হাজার। এখন তা কোনোভাবেই দেড় হাজারের বেশি হবে না। এখানে সক্রিয় কারিগর আছেন এক হাজার, যাঁদের মধ্যে দক্ষ হবেন শ তিনেক। দোকান মালিক সমিতির হিসাবও একই রকম।
তবে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, মিরপুর বেনারসিপল্লি এলাকায় এখন চালু আছে ১৯৩টি আর বন্ধ রয়েছে তিন হাজার ৮৭৩টি তাঁত। তাঁত বোর্ডের মিরপুর অঞ্চলের লিয়াজোঁ অফিসার মুস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘মুখে একটা সংখ্যা বলে দিলেই তো আর হয় না। মাঠপর্যায় থেকে আমরা এই হিসাব সংগ্রহ করেছি।’
তাঁতি পরিবার কল্যাণ সংস্থা বলছে, কারিগর সংকটে চাহিদার সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ শাড়ি এখানে তৈরি হচ্ছে। অনেক কারিগরই হতাশ।
৩০ বছর ধরে বেনারসি বুনছেন মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, ‘একটা শাড়ি বুইনা ২০ বছর আগে পাইতাম এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা। এহনো ওইডাই পাই। তখন ঘর ভাড়া ছিল ৩০০ টাকা, এখন ভাড়া হইসে তিন হাজার টাকা। বুঝেন আমরা কেমন আছি!’
তাঁতি পরিবার কল্যাণ সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, মিরপুর এলাকায় তিন হাজারের মতো তাঁতি পরিবার আছে। কিন্তু তাঁদের অনেকেই এই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন।
এমনই একজন মোহাম্মদ রাজু, যিনি টানা ২০ বছর বেনারসির তাঁত চালিয়ে এখন মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনে একটি চায়ের দোকান দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই কাজ কইরা টাকা নাই, তাই ছাইড়া দিছি। চোখের লজ্জায় অনেকে কাজটা ছাড়তে পারে না, আমি সেই লজ্জা করি নাই।’ রিকশা চালিয়েছেন, ফেরি করেছেন, বাবুর্চির কাজও করেছেন রাজু।
৪০ বছর ধরে বেনারসি বুনছেন মুহাম্মদ মুকিম। তাঁর কথা, ‘আর কোনো কাজ শিখি নাই, তাই এই কাজে আছি।’ ছেলেকে এই কাজে দেবেন? তাঁর জবাব, ‘প্রশ্নই আসে না।’
মুকিম কাজ করেন ১১ নম্বর সেকশনের সামা সিল্কের কারখানায়। সেখানে গিয়ে দেখা গেল, ১৫টি তাঁতের মধ্যে আটটিতেই কাজ বন্ধ। কারণ, কারিগর নেই। তিনটি তাঁতে পাতা সুতা নষ্ট হয়ে গেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, তাঁদের অনেকেরই পুঁজি অল্প, তাই তাঁতিদের বেশি টাকা দিতে পারেন না। তবু শাড়ির দাম অনেক বেড়ে যায়। তাঁতি খাটিয়ে যা লাভ থাকে, অপেক্ষাকৃত কম দামের ভারতীয় শাড়িতে মুনাফা তার চেয়ে বেশি।
একাধারে তাঁতিদের নেতা ও ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হানিফ বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের তাঁতিরা নতুন করে এই পেশায় আসছে না। তাঁর মতে, সরকারিভাবে তাঁতিদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
মিরপুর বেনারসি প্রাথমিক তাঁতি সমিতির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ রফিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষরা দেশভাগের পর এ দেশে এসে বেনারসি তৈরি শুরু করেছিলেন। আমরাও সেই ধারা রেখেছি। কিন্তু এখন আর পারছি না। উৎপাদন কম হওয়ায় তাঁতিদেরও মজুরি দিচ্ছি কম। সে কারণে তাঁতিরা থাকছে না। আবার উৎপাদন বাড়ানোর জন্য জায়গাও নাই। সরকার একটা বেনারসিপল্লি শুরু করলেও আমরা কোনো জায়গা পাইনি।’

ছোট খবর

হিটলারের চিত্রকর্ম
আগামী ২২ নভেম্বর জার্মানির নুরেমবার্গ শহরে চিত্রকর্ম নিলামের আয়োজন করা হয়েছে। প্রথম দেখায় নিলামে ওঠা অন্যসব সাধারণ পেইন্টিংয়ের মতোই এই ছবিটিরও কোনো বিশেষত্ব চোখে পড়বে না। সাধারণই মনে হবে। কিন্তু একটু পর্যবেক্ষণ করলে যে কেউই চমকে উঠতে পারেন। কারণ জলরঙে আঁকা মিউনিখের ‘ওল্ড টাউন হল’ চিত্রকর্মটি সাধারণের চেয়ে একটু বেশি কিছুই।
ইসলামাবাদ
নতুন গোয়েন্দা প্রধান
পাকিস্তানের প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স’র (আইএসআই) নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল রিজওয়ান আখতার। শুক্রবার এই দায়িত্বগ্রহণের মাধ্যমে তিনি পাকিস্তান সেনবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জহিরুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘জেনারেল আখতার আইএসআই’র পরবর্তী মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।’ ডন
নিউইয়র্ক
বিচার বিভাগের প্রধান লিঞ্চ
নিউইয়র্কের ফেডারেল প্রসিকিউটর লরেট্টা লিঞ্চকে (৫৫) নয়া এটর্নি জেনারেল হিসেবে মনোনীত করেছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি সাবেক এটর্নি জেনারেল ইরিক হোল্ডারের স্থলাভিষিক্ত হবেন। ওবামার এই মনোনয়ন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সিনেটে পাঠানো হবে। সিনেট অনুমোদন পেলে প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান নারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রধান হবেন তিনি। টেলিগ্রাফ
বার্লিন
২৫ বছর পূর্তি
জার্মানি ঐতিহাসিক বার্লিন প্রাচীর পতনের ২৫ বর্ষপূর্তি উদযাপন শুরু করেছে। ১৯৮৯ সালের ৯ নভেম্বর ইউরোপের শীতল যুদ্ধের আনন্দজনক অবসান উপলক্ষে রোববার এক বিশাল অনুষ্ঠানের আগে পূর্ব জার্মানির নিপীড়নমূলক শাসন থেকে পালাতে গিয়ে নিহতদের স্মরণে তিন দিনব্যাপী এক অনুষ্ঠান চলছে। পূর্ব জার্মানিতে বেড়ে ওঠা বর্তমান জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল এ অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

প্রথমে শ্বাসরোধ, পরে গুলি শেষে মৃতদেহে আগুন!

মেক্সিকোয় নিখোঁজ ৪৩ শিক্ষার্থীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে সন্দেহভাজন মাদক চোরাকারবারি দলের সদস্যরা। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল জেসাস মুরিলো শুক্রবার এ কথা জানিয়েছেন। ছয় সপ্তাহ আগে ওই শিক্ষার্থীরা নিখোঁজ হয়েছিল। জেসাস জানান, তিনটি মাদক চোরাকারবারি দলের সদস্যদের দাবি, পুলিশ ওইসব শিক্ষার্থীদের তাদের হাতে তুলে দিয়েছিল। এদের মধ্যে কাউকে শ্বাসরোধ করে এবং কাউকে গুলি করে হত্যা করে তারা। এরপর আগুন দিয়ে মৃতদেহ পুড়িয়ে দেয়। ২৬ সেপ্টেম্বর ইগুলা শহরে পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষের সময় ওই ৪৩ শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়। তাদের উদ্ধারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে বিক্ষোভ চলছে। শিক্ষার্থীদের নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সম্প্রতি গুয়েরিরস ইউনিডসের বেশ কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানিয়েছে, যে এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা নিখোঁজ হয়েছিল সেই এলাকা থেকে তারা ছয় ব্যাগ দেহাবশেষের সন্ধান পেয়েছে। এর আগে ওই এলাকায় গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায়। তবে প্রাথমিক পরীক্ষার পর জানা যায়, ওইসব কবর নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের নয়। অ্যাটর্নি জেনারেল মুরিলো বলেন, দেহাবশেষ কাদের তা নিয়ে এই মুহূর্তে মন্তব্য করা কঠিন। ডিএনএ পরীক্ষার পরই নিশ্চিত করে বলা যাবে আসলে দেহাবশেষ নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের কিনা। অ্যাটর্নি জেনারেল আরও জানান, ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে এসব লাশ শনাক্ত করা অত্যন্ত কষ্টকর। কেননা তাদের ১৪ ঘণ্টা ধরে আগুনে পোড়ানো হয়েছিল। তবে এসব ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করা না গেলে ওই ছাত্রদের নিখোঁজ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে বলেও জানিয়েছেন ওই অ্যাটর্নি জেনারেল।
এদিকে চক্রের অভিযুক্ত তিন সদস্য জানিয়েছে, এসব ছাত্রদের পুলিশই তাদের হাতে তুলে দিয়েছিল। এদের মধ্যে ১৫ জনকে আগেই শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করেছিল পুলিশ। বাকিদের গুলি করে হত্যা করে মাদক সন্ত্রাসীরা। হত্যার পর তারা মৃতদেহগুলোর ওপর টায়ার, কাঠ এবং নানা প্লাস্টিকসামগ্রী রেখে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। দীর্ঘ ১৪ ঘণ্টা ধরে মৃতদেহগুলো আগুনে পোড়ানো হয়। পরে দেহাবশেষ বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দেয় তারা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে মঙ্গলবার দক্ষিণাঞ্চলীয় ইগুয়ালা নগরীর সাবেক মেয়র যোসে লুই আব্রাকা ও তার স্ত্রীকে মেক্সিকো নগরীর এক শহরতলি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিবিসি।

ভারতের নতুন মন্ত্রীদের শপথ আজ

ভারতের সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। শনিবার এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, রোববার (আজ) দুপুর দেড়টায় রাষ্ট্রপতি ভবনের দরবার হলে নতুন মন্ত্রীদের শপথ হবে। সরকার গঠনের পর এই প্রথম মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নতুন মন্ত্রী হিসেবে কারা আসছেন তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে শনিবার বিজেপির সংসদীয় দলের সভায়। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন মন্ত্রীদের শপথের আগে এক চা-চক্রের আয়োজন করেছেন মোদি। রাষ্ট্রপতি ভবনে যাওয়ার আগে তাদের সম্পর্কে বক্তব্যও দেবেন তিনি। গত মে মাসে ৪৫ জনের টিম নিয়ে মোদি তার যাত্রা শুরু করেন। বর্তমান কেবিনেটে ২২ মন্ত্রী ও ২২ প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। নতুন মন্ত্রী হিসেবে যারা শপথ নিচ্ছেন তাদের মধ্যে প্রথমে রয়েছেন মনোহর পরিকর।
তাকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। শনিবার গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি। অন্য যারা নতুন মন্ত্রীর তালিকায় রয়েছেন তারা হলেন- বিহারের সাবেক মন্ত্রী গিরিজা সিং, লালুর দল থেকে বিজেপিতে আসা রামকিরপাল যাদব, বিজেপির মুখপাত্র মুখতার আব্বাস নাকভি প্রমুখ। অলিম্পিকে রুপা জেতা রাজস্থানের রাজ্যবর্ধন রাঠোর রয়েছেন মন্ত্রীর তালিকায়। রাজস্থান থেকে বিজেপির ২৫টি আসনেই জয় পেয়েছে গত নির্বাচনে। এ রাজ্য থেকে অন্তত একজনকে মন্ত্রী করার সম্ভাবনা প্রবল। শিবসেনা এবং তেলুগু দেশম পার্টি আরও মন্ত্রী পদ পাওয়ার আশা করছে।বিদেশ সফরে নতুন রেকর্ড গড়ার পথে মোদি!দিল্লির মসনদে বসার ছয় মাসের মধ্যেই বিদেশ সফরেও রেকর্ড গড়তে চলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এর আগে এত কম সময়ে কেউ তার মতো এতবার বিদেশ ভ্রমণ করেননি। মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে ইতিমধ্যেই বেশ কটি বিদেশ সফর সেরে ফেলেছেন নরেন্দ্র মোদি। টানা সফরসূচিতে তিনি ঘুরে এসেছেন জাপান-আমেরিকা থেকে শুরু করে নেপাল-ভুটান পর্যন্ত।জানা গেছে, চলতি মাসের শেষে সার্ক সম্মেলনে যোগ দিতে ফের নেপাল যাচ্ছেন মোদি। এছাড়া সামনে রয়েছে তার লম্বা সফরসূচি। ওই সফরে মিয়ানমার, অস্ট্রেলিয়া ও ফিজি ভ্রমণ করবেন মোদি।

কাশ্মীরে ভুল করে হত্যা করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী

ভারতের সেনাবাহিনী গোলযোগপূর্ণ ভারত শাসিত কাশ্মীরে ভুল করে চলতি সপ্তাহে দুই বালককে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। এটি সশস্ত্র বাহিনীর প্রকাশ্যে ভুল স্বীকারের একটি বিরল ঘটনা। সোমবার শ্রীনগরের উপকণ্ঠে এ ঘটনা ঘটে। সৈন্যরা একটি গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালালে ওই দুই কিশোর নিহত ও অপর একজন গুরুতর আহত হয়। খবর এএফপির। শুক্রবার রাতে শ্রীনগরে সেনাবাহিনীর উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান ডিএস হুদা সাংবাদিকদের বলেন, কাশ্মীরে দুই বালকের মৃত্যুর দায়িত্ব স্বীকার করছি। লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুদা আরো বলেন, আমরা আমাদের ভুল স্বীকার করছি। একটি সাদা গাড়িতে সন্ত্রাসী রয়েছে বলে আমাদের কাছে তথ্য ছিল। এই ঘটনাটি অবশ্যই ভুলক্রমে ঘটেছে। হুদা এই ঘটনার তদন্তের প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন। সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সঙ্গে এই তদন্ত পরিচালনা করা হবে। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে স্বাধীন হওয়ার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীরকে বিভক্ত করা হয়।

এবার বিকল্প ‘হিমাগার’ by আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ

বিদ্যুতের প্রয়োজন নেই। জলীয় বাষ্পের খুব সাধারণ একটি ধর্মকে কাজে লাগিয়ে ঘর ঠান্ডা রাখা হবে। আর বাঁশের তৈরি আরেক ধরনের প্রযুক্তি বাতাসের আর্দ্রতা টেনে শুষে নেবে। এ পদ্ধতিতে এই প্রথম একটি বিকল্প ‘হিমাগার’ তৈরি করা হয়েছে।  ৩০০ টন ধারণক্ষমতার এই হিমাগারটি তৈরিতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১৪ লাখ টাকা। প্রচলিত পদ্ধতিতে এ ধরনের একটি হিমাগার তৈরিতে প্রায় আড়াই কোটি টাকা প্রয়োজন।

>>রাজশাহী নগরের নামোভদ্রা এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বিকল্প ‘হিমাগার’। ৩০০ টন ধারণক্ষমতার এই হিমাগার তৈরিতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১৪ লাখ টাকা l ছবি: প্রথম আলো
এটি তৈরি করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এম মনজুর হোসেন। এতে অর্থায়ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ মাসের শেষের দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের হিমাগারটি উদ্বোধন করার কথা। মনজুর হোসেন জানান, আর কোথাও এ ধরনের হিমাগার নেই। এটা হচ্ছে স্বল্প আয়ের কৃষকের জন্য ব্যয়সাশ্রয়ী পচনশীল শস্য সংরক্ষণাগার। তবে অন্তত এক বছর ব্যবহার না করা পর্যন্ত এর উপযোগিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে না বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাজশাহী নগরের নামোভদ্রা এলাকায় হিমাগারটি নির্মাণ করা হয়েছে। ৩ নভেম্বর রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক নিয়ামুল বারি এটি পরিদর্শন করেন। তিনি গ্রিন টেকনোলজি নিয়ে কাজ করেন। এই হিমাগারের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, এর কাঠামো, ভেতরের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার পরিমাপ যা দেখা যাচ্ছে তা থেকে আশা করা যায়, এটি প্রাকৃতিকভাবেই কাজ করবে। তবে আরও এক বছর দেখার পর বলা যাবে, এটি হিমাগারের মতো কাজ করবে কি না।
অল্প খরচে সুরক্ষা: এই হিমাগারে কৃষক অল্প খরচে ফসল সংরক্ষণ করতে পারবেন। ৮৫ কেজির এক বস্তা আলু এখন হিমাগারে রাখতে কৃষকের ৩৫০ টাকা লাগে। এই হিমাগারে লাগবে মাত্র ১০০ টাকা। দেশে আদা ও পেঁয়াজের কোনো সংরক্ষণাগার নেই। এ জন্য কৃষকের ঘরে পেঁয়াজ ও আদা ৬০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়। এই হিমাগারে আদা, পেঁয়াজ ছাড়াও এক মাসের জন্য মরিচ, বেগুন, ফুলকপি ও বাঁধাকপি সংরক্ষণ করা যাবে।
নির্মাণসামগ্রী: হিমাগারটি তৈরি করতে সময় লেগেছে ছয় মাস। নির্মাণকাজ শুরু হয় গত ২৮ এপ্রিল। ৩০০ টন ধারণক্ষমতার তিনতলাবিশিষ্ট এই হিমাগারের আয়তন এক হাজার ৭০০ বর্গফুট। বাইরের আয়তন ৬০ বাই ৩০ ফুট। আর ভেতরের ৫৮ বাই ২৮ ফুট। তৈরির উপকরণ হচ্ছে বাঁশ, খড়, টালি, বালু ও সিমেন্ট। এর মধ্যে বাঁশ হচ্ছে ৬০ ভাগ। ১২ ভাগ খড় আর বাকি অংশ ইট-বালু-সিমেন্ট। হিমাগারের ছাউনি দেওয়া হয়েছে খড়ের। দেয়াল তৈরি করা হয়েছে ইট দিয়ে। দেয়াল প্লাস্টার না করে তার ওপর টালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তিটি কাজ করে যেভাবে: দেয়াল ও টালির মাঝখানে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গা ফাঁকা রাখা হয়েছে। ফাঁকা অংশে বালু ও পানি থাকবে। এখান থেকে জলীয় বাষ্প তৈরি হবে। এই প্রক্রিয়ায় ঘরের ভেতরের তাপ শোষণ করা হবে।
হিমাগারের ভেতরে তিনতলাবিশিষ্ট বাঁশের মাচা তৈরি করা হয়েছে। ওপরে ওঠার জন্য বাঁশের সিঁড়ি বানানো হয়েছে। নিচতলা থেকে ঠান্ডা বাতাস যাতে প্রাকৃতিক উপায়ে ওপরে উঠে যায়, সে জন্য দেয়ালের নিচের দিকে একটু করে ফাঁকা রাখা হয়েছে। সেখান দিয়ে বাইরের গরম বাতাস ভেতরে ঢুকে প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা বাতাসকে ঠেলে ওপরে নিয়ে যাবে।
হিমাগারের ভেতরে যাতে অন্ধকার না হয়, সে জন্য তৃতীয় তলার ওপরে দুই পাশে দুটি কাচের জানালা আছে। আর কখনো নিচের ঠান্ডা বাতাস যদি প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ওপরে না ওঠে, সেই ঠান্ডা বাতাস ওপরে তোলার জন্য দুটি ফ্যানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই ফ্যান সোলার প্যানেলের সাহায্যে চালানো হবে।
পথ প্রদর্শক: এম মনজুর হোসেন জানান, দিনাজপুরের এক ব্যক্তি ভারতে দেখে এসে একটি প্রাকৃতিক হিমাগার তৈরি করেছেন। তাতে মেঝেতে পানি দিয়ে রাখতে হয়। পানির কারণে ঘর যতটুকু ঠান্ডা থাকে, তাতেই যতটুকু কাজ হয়। এটা দেখে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান তাঁকে ডেকে পাঠান। তিনি তাঁকে আধুনিক প্রযুক্তির একটি প্রাকৃতিক হিমাগার তৈরি করতে বলেন। এ জন্য তিনি একটি প্রকল্প প্রস্তাব দিতে বলেন। তিনি ১৪ লাখ টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠান। এরপর করপোরেট রেসপনসিবিলিটি ফান্ড (সিআরএফ) থেকে ১৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়। মনজুর বলেন, প্রথমবার পরীক্ষামূলকভাবে কাজ করার জন্য ব্যয় বেশি হয়েছে। পরেরবার ব্যয় আরও কম হবে।
ঘরামির বক্তব্য: রাজশাহী নগরের মুশরইল এলাকার মিছের আলী নামের একজন ঘরামি এই কাজ করেছেন। তিনিই খড়ের ছাউনি ও ভেতরের বাঁশের কাজ করেছেন। তিনি বলেন, ছাউনির জন্য চিকন উলুখড় আনা হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আর বাঁশ আনা হয়েছে রংপুর থেকে।
>>বিকল্প হিমাগারের নকশা

নায়ক থেকে রাতারাতি ভিলেন

ওসাম বিন লাদেন হত্যা করে হিরো বনে যাওয়া মার্কিন কমান্ডো বাহিনীর রবার্ট ওনিলসহ আরও সাত সদস্য এবার নায়ক থেকে রাতারাতি ভিলেনে পরিণত হয়েছেন। টেলিভিশনে আল কায়দার শীর্ষনেতা হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে ও সিল অপারেশনের তথ্য একটি ভিডিও গেম তৈরির সংস্থার কাছে জানিয়ে নিজেদের বিপদ ডেকে এনেছেন তারা। শপথ ভঙ্গ, প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গোপন তথ্য ফাঁস, কর্তব্যে অবহেলা ও উর্দির অসম্মান করার অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদের ওয়াজিরিস্তান হাভেলির অভিযানের পর আমেরিকার ঘরে ঘরে পরিচিত হয় নেভি সিল-৬ কমান্ডোদের না। পরবর্তীতে ওসামার হত্যাকে বিষয়বস্তু করে তোলা চলচ্চিত্র জিরো ডার্ক ৩০ ও সোমালি জলদস্যুদের থেকে একটি মার্কিন বাণিজ্য জাহাজ উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে তৈরি ক্যাপ্টেন ফিলিপসের মতো সিনেমা সারা বিশ্বে নেভি সিলদের জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দেয়। কীভাবে অপারেশন চালায় এই কমান্ডোরা? সঙ্গে কী কী অস্ত্র থাকে এদের? কেমনভাবে মারা হয়েছিল ওসামা বিন লাদেনকে? সবকিছু জানার আগ্রহ ক্রমশ বাড়তেই থাকে। কিন্তু, বাধ সাধে শপথ। ইউনিটে যোগ দেয়ার আগেই মন্ত্রগুপ্তির শপথ নিতে হয় কমান্ডোদের। কীভাবে অপারেশন, কত দিন আগে থেকে ছক তৈরি হয়, প্রশিক্ষণই বা হয় কোথায়, কোনো কথাই ইউনিটের বাইরে বের হওয়ার নয়।কিন্তু, সেই শপথ ভেঙেই বিপদে পড়েছেন বেশ কয়েকজন কমান্ডো। ওসামা হত্যার অভিযানের ওপর ভর করে তৈরি ভিডিও গেম মেডেল অব অনার : ওয়ারফাইটার তৈরির সময় দুজন সিনিয়র চিফ স্পেশাল অপারেটর ও পাঁচজন চিফ স্পেশাল অপারেটর গেমটির নির্মাতাদের সাহায্য করেছেন বলে অভিযোগ।এই গেমটিতে অ্যাবোটাবাদের ওয়াজিরিস্তান হাভেলিটি দেখানো হয়নি ঠিকই, কিন্তু বাকি সব বর্ণনাই মিলে গিয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, হত্যার ধরন একেবারে লাদেন হত্যার মতোই বলে দাবি করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ। কমান্ডোদের ইউনিফর্ম ও ব্যবহৃত অস্ত্রও অপারেশন নেপচুন স্পিয়ার-এর সঙ্গে মিলে গেছে। যে সাতজন ভিডিও নির্মাতাদের সাহায্য করেছেন, তাদের মধ্যে একজন ২০১১-র অপারেশনের সদস্য ছিলেন। অভিযুক্তরা সবাই অর্থের বিনিময়ে নিজেদের ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও পেশাদারি জ্ঞান ওই নির্মাতাদের কাছে বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ।

শোকে-ক্ষোভে একবছর

শোক-সংহতি-ক্ষোভ নিয়ে টাইফুন হাইয়ানে নিহতদের স্মরণে সাইকেল র‌্যালি করছেন ফিলিপিন্সের সাইকেল গ্র“প। শনিবার ওই বিপর্যয়ের এক বছর পূর্তিতে ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ ও ন্যায়বিচারের দাবিতে কুইজন শহরের মেমোরিয়াল সার্কেল প্রদক্ষিণ করেন তারা।

ওবামার দুঃস্বপ্নের কৃষ্ণাঙ্গ নারী

যুক্তরাষ্ট্রের মরমন খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কৃষ্ণাঙ্গ নারী মিয়া লাভ (৩৮) হয়ে উঠেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দুঃস্বপ্নের নারী। ওবামার কড়া সমালোচক মিয়া লাভই প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী, যিনি রিপাবলিকান পার্টির মনোনীত প্রার্থী হয়ে মার্কিন কংগ্রেসে আসন পেতে যাচ্ছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে উটাহ অঙ্গরাজ্য থেকে জয়ী হয়ে প্রতিনিধি পরিষদে জায়গা নিয়েছেন তিনি। মিয়া লাভ যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে তার কিছু জায়গায় মিল আছে। তখনও ওবামার সমালোচনা করতে ছাড়েননি। মিয়া লাভ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ওবামার আমেরিকা একটি খণ্ডিত আমেরিকা। উপার্জন, লৈঙ্গিকবৈষম্য এবং সামাজিক মর্যাদার প্রশ্নে আমাদের একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে।’
তিন সন্তানের জননী মিয়া লাভ একবার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমি ডেমোক্রেট পার্টিকে পছন্দ করি না। তারা চায় না আমি সেখানে যাই, কিন্তু আমি আসছি।’ মিয়া লাভের জন্ম ১৯৭৫ সালে ব্র“কলিনে। তার হাইতিয়ান বাবা-মা স্বৈরশাসক ফ্রাঙ্কোসিস দুভালিয়ারের অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। নিজ সম্প্রদায়ভুক্ত রাজনীতিবিদ মিট রমনির সহায়তায় তিনি প্রথমবারের মতো কংগ্রেসে পদ পাওয়ার লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করেন।

উন বাবার চেয়েও ভয়ংকর

ইল ছিলেন শতভাগ বিশ্বস্ততাপ্রত্যাশী শাসক এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতার তুচ্ছতম সংবাদও তিনি গুরুতরভাবে নিতেন। ইলকে সবাই ভয় পেত, কারণ কখন তার মেজাজ ভালো থাকে আর কখন খারাপ থাকে তা বোঝা যেত না। মেজাজ খারাপ থাকলে হয়তো কারও হাতও কেটে নিতে দ্বিধা করতেন না তিনি। উত্তর কোরিয়ার সাবেক শাসক কিম জং ইল সম্পর্কে এভাবেই বললেন তার সাবেক দেহরক্ষী লি ইয়ং গুক। সম্প্রতি সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির অভ্যন্তরীণ এবং ইল সম্পর্কিত নানা তথ্য তুলে ধরেন তিনি।
শুক্রবার টেলিগ্রাফ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, লি জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার বর্তমান শাসক ইলের পুত্র কিম জং উন তার বাবার চেয়েও অতি ভয়ংকর। ইলের মৃত্যুর পর তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করে একই ধরনের জীবনযাপন ও দেশশাসন করছেন পুত্র উন। দুজনের ক্ষেত্রে কিছু কিছু জায়গায় রয়েছে অসম্ভব মিল। তার মধ্যে একটি হল তাদের দেহরক্ষী ব্যবস্থা ও অন্যটি হল নিজের সঙ্গে সারাক্ষণ লিপিকার রাখা। যদিও পশ্চিমের গণমাধ্যমগুলো এই দুটি বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কিম জং উনের সমালোচনা করে আসছে।১৯৮০ সালের এক ঘটনায় এই দেহরক্ষী নিজের প্রাণ বাজি রেখে কিম জং ইলের জীবন বাঁচিয়েছিলেন। প্রয়াত শাসক কিম ইল সাং ১৯৭৯ সালে লি ইয়ং গুককে দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন।নিয়োগ-পরবর্তীতে তাকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে এলিট দেহরক্ষী দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। লি ইয়ংয়ের ভাষায়, কিম ছিলেন শতভাগ বিশ্বস্ততাপ্রত্যাশী শাসক এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতার বিন্দুমাত্র সংবাদও তিনি গুরুতরভাবে নিতেন।কিম প্রশাসন লি ইংয়ের ব্রেনওয়াশ করে দিয়েছিল বলেও সিএনএন বরাবর জানান তিনি। কথা প্রসঙ্গে লি সিএনএনকে বলেন, কিম জং ইল যখন গাড়ি করে আসতেন তখন তার পরামর্শকরা তার পেছনে পেছনে দৌড়াতেন। অনেক সময়ই তারা মাটিতে পড়ে যেতেন এবং তাদের পোশাক অপরিষ্কার হয়ে যেত। একজন পরামর্শক কিমের ব্যক্তিগত লিফট এবং অ্যাশট্রে ব্যবহার করার কারণে তাকে আজীবন কারাগারে থাকতে হয় এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়।তবে কিং জং উন সম্পর্কে বলতে গিয়ে লি বলেন, উত্তর কোরিয়ার মানুষকে কিম জং ইলের চেয়ে উনকে ভয় করার যথেষ্ট কারণ আছে। নিজের চাচাকে হত্যার ভেতর দিয়ে তিনি যাত্রা শুরু করেছেন। উন তার ভাবমূর্তি দ্বারা একটি মেকি এবং ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে।দেহরক্ষী হিসেবে লি দীর্ঘদিন কিম পরিবারের সঙ্গে থাকলেও তাকেও সরিয়ে দিতে দ্বিধা করেনি তারা। চীনের সীমান্তের কাছাকাছি থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টার সময় লিকে গ্রেফতার করে উত্তর কোরিয়ার পুলিশ। এরপর বিচারে তাকে শ্রম শিবিরে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে কিম জং ইলের দেহরক্ষী থাকাকালীন সময়কার অভিজ্ঞতা নিয়ে লি একটি বই লেখেন।

বারবার আইনমন্ত্রীর অবস্থান পরিবর্তন

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদ- কার্যকর প্রশ্নে বারবার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। গতকালই দুই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, প্রকাশিত যে রায় আছে, তার ওপরই আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে সন্ধ্যা নাগাদ নিজের অবস্থান বদলে ফেলেন তিনি। এ সময় রাজধানীর একটি হোটেলে সম্পত্তি নিবন্ধন সারগ্রন্থ প্রকাশনা অনুষ্ঠান শেষে আইনমন্ত্রী বলেন, অন্ততপক্ষে সুপ্রিম কোর্টের সংক্ষিপ্ত রায়ের কপি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় কারাগারে না পৌঁছানো পর্যন্ত কামারুজ্জামানের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা উচিত হবে না। গত ৩রা নভেম্বর সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে কামারুজ্জামানের মৃত্যুদন্ড বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এরপর থেকেই এ রায় কখন কার্যকর হবে তা নিয়ে বিতর্ক চলে আসছে। ৫ই নভেম্বর নিজ বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী বলেন, কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকরে প্রস্তুতি নিতে কারাকর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। আইনমন্ত্রী এবং এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম দুই জনই বলেন, কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদন দায়েরের কোন সুযোগ নেই। যদিও দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার রায়ের পর আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, কাদের মোল্লার রিভিউ খারিজের রায় পাওয়ার পরই পরিষ্কার হবে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রিভিউ চলবে কিনা। সে রায় এখনও পাওয়া যায়নি। গতকাল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে এক সেমিনার শেষে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, প্রেসিডেন্টের কাছে কামারুজ্জামানের প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সময়সীমা শেষ হবে রোববার। প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সময় শেষের পর কামারুজ্জামানের দন্ড কার্যকর হতে পারে কি-এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী তখন বলেন, তিনি জানেন না। কারাবিধির ৯৯১ ধারাটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিচারিক আদালতের দেয়া মৃত্যুদন্ড উচ্চ আদালত বহাল রাখলে সর্বশেষ এ রায়টি আসামিকে অবহিত করতে হয়। আর এই অবহিত করার বিষয়টি কাগজপত্রে জানাতে হবে তা নয়। অবহিত করা হয়েছে কিনা সেটিই বড় বিষয়। অবহিত হওয়ার পর ওই আসামি প্রাণভিক্ষার জন্য সাত দিন সময় পান। এটা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। আপিল বিভাগের আদেশ কারাগারে পৌঁছায়নি তাহলে কিভাবে কামারুজ্জামানকে ক্ষমা চাইতে বলা হলো- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আদেশ যায়নি মানে কি? তাকে সর্বশেষ রায় সম্পর্কে জানানো হয়েছে। আমি যত দূর জেনেছি কারা কর্তৃপক্ষ কামারুজ্জামানকে ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদন্ডের রায় আপিল বিভাগ বহাল রেখেছে এটা অবহিত করেছে। তবে কারাগার সূত্রে জানা গেছে, আদেশের কপি কারাগারে না পৌঁছানোয় আনুষ্ঠানিকভাবে কামারুজ্জামানকে কিছুই জানানো হয়নি। তিনি আরও বলেন, কেউ বলছেন, জেল কোড কার্যকর হবে, কেউ বলছেন কার্যকর হবে না। আমি জেল কর্তৃপক্ষকে বলেছিলাম, ফাঁসি কার্যকরের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাখতে। কামারুজ্জামানের ক্ষেত্রে রিভিউর বিধান প্রযোজ্য হবে না বলেও মত দেন তিনি।

লৌহজংয়ে মুয়াজ্জিনের লাশ পদ্মায়

লৌহজং উপজেলার দক্ষিণ হলদিয়া গ্রামে প্রেমিকার বাড়িতে রাত যাপন করতে এসে লাশ হয়ে ফিরল আবদুল্লাহ নামে কেরানীগঞ্জ শুভঢ্যা মসজিদের মুয়াজ্জিন। মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার সকালে পদ্মা নদী থেকে তার ভাসমান লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আবদুল্লাহর ভগ্নিপতি মো. সোহেল শেখের দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। থানা পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার চরকামালদি গ্রামের জামাল মিয়ার ছেলে মো. আবদুল্লাহ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়ার সুভাঢ্যা পূর্বপাড়া জামিয়া চান মিয়া ওহাবুল উলুম মাদ্রাসার দাওরা হাদিসের ছাত্র ও মাদ্রাসা সংলগ্ন মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দুই বছর কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি শুভাঢ্যা এলাকায় এক বাসায় প্রাইভেট পড়াতেন। সেখানে পড়াতে গিয়ে পরিচয় হয় লৌহজং উপজেলার দক্ষিণ হলদিয়া গ্রামের মৃত হাছেন মাদবরের মেয়ে সানজিদা আক্তার সেতুর সঙ্গে। সেতু এ বাড়ির চতুর্থ তলার ভাড়াটিয়া তার স্বামী সাঈদ মালয়েশিয়া থাকেন। তার সাত বছর বয়সের একটি ছেলে ও তিন বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। প্রাইভেট পড়াতে গেলে প্রায় প্রতিদিন সেতুর সঙ্গে দেখা হতো আবদুল্লাহর। সেই থেকে দুজনের মন দেয়া-নেয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেতু আর আবদুল্লাহর পরকীয়ার বিষয়টি আবদুল্লাহর ভগ্নিপতি সোহেল জেনে ফেলে এবং মহল্লাবাসীর মধ্যে জানাজানি হলে সেতু বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চুনকুটিয়ার বাসা ছেড়ে লৌহজংয়ের দক্ষিণ হলদিয়ায় বাবার বাড়িতে চলে আসে। কিন্তু আবদুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ থাকে। এর আগে সেতুর ফোন পেয়ে আবদুল্লাহ বেশ কয়েকবার হলদিয়ায় সেতুর সঙ্গে দেখা করতে আসে। মঙ্গলবার আবদুল্লাহ রাত ১২টা নাগাদ মাওয়া থেকে সেতুদের দক্ষিণ হলদিয়ার বাড়িতে পৌঁছে। আবদুল্লাহ তার মোবাইল ফোনে মসজিদের খাদেম আবুল বাসারকে জানান তার আসতে সকাল হবে। ফজরের জামাতটা যেন তিনি পড়ান। এর পর থেকে আবদুল্লাহর সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা যায়নি। একদিন পার হয়ে যাওয়ায় আবদুল্লাহ ফিরে না আসায় তার ভগ্নিপতি সোহেল কেরানীগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে লৌহজং থানার পুলিশ এলাকাবাসীর কাছে খবর পেয়ে দক্ষিণ হলদিয়া এলাকায় আহাদ আলী মোল্লার বাড়ির সামনে নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় আবদুল্লাহর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে। এ বিষয়ে নিহতের ভগ্নিপতি মো. সোহেল শেখ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ সানজিদা আক্তার সেতুর খোঁজে তার বাবার বাড়িতে গেলে ঘরে তালা ঝোলানো দেখতে পায়।

আশুগঞ্জে পাঁচ মন্দিরে হামলা ভাংচুর

ফেসবুকে মহানবীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার জের ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুর গ্রামে ৫টি মন্দিরে হামলা এবং ভাংচুর চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুরো লালপুর এলাকার সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। ঘটনার পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আশুগঞ্জ থানার ওসি জানান, ৫ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুর গ্রামে দেবাশীষ দাস সোহেল নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে মহানবীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠে। এ ঘটনার পর ওইদিন বিকালে অভিযুক্ত যুবকের বাড়িতে হামলা এবং ভাংচুর চালায় একদল লোক। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে ঘটনার দিন রাতে আশুগঞ্জ থানায় তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক আইনে মামলা হয়। পরে রাতেই অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা দিলীপ দাসগুপ্ত জানান, এ ঘটনার জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় লালপুর গ্রামে লাঠিসোটা নিয়ে মিছিল করে একদল লোক। পরে রাতে একসঙ্গে লালপুর গ্রামের টানপাড়া, দাসপাড়া এবং কান্দাপাড়ায় লোকনাথ মন্দির, কালীমন্দির, রামঠাকুরের মন্দির, দয়াময় মন্দির, অনুকূল ঠাকুরের মন্দিরে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার পর লালপুর গ্রামের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে বলে জানান তিনি। ওসি জানান, মন্দিরে হামলার ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। তিনি জানান, হামলার ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

টঙ্গীতে ঘরে ঢুকে র‌্যাব কর্মকর্তার স্ত্রীকে হত্যা

টঙ্গীর বড় দেওড়া আদর্শপাড়া এলাকায় শনিবার দিনের বেলায় ঘরে ঢুকে র‌্যাব কর্মকর্তার স্ত্রীকে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের নাম সালমা বেগম (২৮)। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়দেবপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। টঙ্গী থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. ইয়াসিন আলী জানান, শনিবার বেলা ১২টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত সালমাকে নিজঘরে তলপেটে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। খবর পেয়ে টঙ্গী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় টঙ্গী থানায় একটি মামলা হয়েছে। নিহতের স্বামী মো. ওমর আলী র‌্যাব-৪ এ নায়েক পদে কর্মরত আছেন। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে টঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইসমাইল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খুনিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।f

বাজেট ঘাটতি পূরণে বাড়ছে বৈদেশিক ঋণনির্ভরতা

ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ কমিয়ে বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়াচ্ছে সরকার। বাজেট ঘাটতি পূরণে দেশীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণ নেয় সরকার। কিন্তু ব্যাংকিং খাত থেকে মাত্রাতিরিক্ত ঋণ নেয়ার বিরূপ প্রভাব এড়াতে চলতি অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের ওপর বেশি জোর দেয়া হচ্ছে। এ জন্য অর্থায়ন ঘাটতি পূরণে সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আসছে। এতে অদূর ভবিষ্যতে সহজ শর্তে ঋণের ক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে আসবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এদিকে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে কঠিন শর্তের ঋণ পরিহার না করা হলে বৈদেশিক ঋণনির্ভরতায় সার্বিক অর্থনীতি ঝুঁকির মধ্যে পড়বে বলে মনে করছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা।সূত্র জানায়, বর্তমানে বিদ্যমান মোট ঋণের ৪৫ শতাংশ বিদেশী ঋণ। এটি এখন সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। তবে বৈদেশিক ঋণ বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক বলে মনে করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। কেননা, ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও ব্যাংকের সুদের হার কম রাখতে হলে দেশীয় উৎস বা ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণ কমাতে হবে। এ জন্যই এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। এ কৌশল বাস্তবায়ন হলে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশের গৌরব অর্জন করা সহজ হবে।সংশ্লিষ্ট সূত্র স্বীকার করেছে, সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। এজন্য মধ্যমেয়াদি ঋণ কৌশল নির্ধারণ করতে বিভিন্ন পক্ষের মতামতও নিয়েছে অর্থ বিভাগ। চলতি অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক ঋণের অংশ ছিল ৪০ ভাগ। বাকি অর্থ আসতো দেশীয় উৎস থেকে। নতুন কৌশল অনুসারে বৈদেশিক অংশ থেকে ৬০ ভাগ ঋণ নিতে চায় সরকার। এর ফলে ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীলতা কমলেও বাড়বে বৈদেশিক ঋণ সহায়তা।অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আগামী ৩ বছর মেয়াদে মধ্যমেয়াদি ঋণ কৌশল নির্ধারণের একটি প্রস্তাবের খসড়া চূড়ান্ত করেছে অর্থ বিভাগ। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে এ সংক্রান্ত একটি সার-সংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ক্রমশ মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশের জন্য অগ্রসর হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে সহজ শর্তে বৈদেশিক ঋণের উৎস সংকুচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সরকারকে চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হবে। এ চ্যালেঞ্জ উত্তরণে নতুন সভরেন বন্ড ছেড়ে এবং দ্বিপক্ষীয় সেমি-কনসেশনাল ঋণ নিয়ে অর্থায়নের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে।এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা মিশনের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, দেশীয় উৎসের বাইরে গিয়ে বৈদেশিক অংশ থেকে ঋণ নিলে ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে। কিন্তু নন-কনসেশনাল লোন (কঠিন শর্ত) অর্থনীতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিতে পারে। কোনোভাবেই নন-কনসেশনাল লোন বাড়ানো যাবে না। তিনি বলেন, পাইপলাইনে সহজ শর্তের বিশাল অর্থ পড়ে আছে। এছাড়া উন্নয়ন পরিকল্পনার বৈদেশিক অংশে গড় ব্যয় ১৭-১৮ শতাংশ। এর ফলে অর্থ থাকলেও ব্যয় করা যাচ্ছে না। এজন্য শুধু ঋণ গ্রহণের পরিমাণ বাড়ালেই হবে না, অর্থ ব্যয় করার সক্ষমতা বাড়াতে হবে।অর্থ মন্ত্রণালয় মধ্যমেয়াদি ঋণ কৌশল নির্ধারণে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের মতামত চেয়েছে। সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতেই এ কৌশল নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্তে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। হুট করে বিদেশী ঋণ ৪০ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত সঠিক হবে না। ভবিষ্যতে বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার কবলে পড়লে বিদেশীরা দ্রুত এ ঋণ তুলে নিতে চাইবে। তখন সমস্যায় পড়বে দেশ।

পাকিস্তানের হয়ে টেন্ডুলকারের ‘আন্তর্জাতিক অভিষেক’!

‘এ কী কথা শুনি আজ...’ শচীন টেন্ডুলকারের অভিষেক হয়েছিল ভারতের বিপক্ষে! তাও আবার পাকিস্তানের হয়ে! আর তার ‘প্রথম অধিনায়ক’ কিনা ইমরান খান। বিশ্বাস করতে বাধ্য হবেন, যখন জানবেন খোদ টেন্ডুলকার নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন। এ তথ্য জানা গেছে ‘লিটল জিনিয়াসে’র সদ্য প্রকাশিত প্লেয়ি ইট মাই ওয়ে বইয়ে।
কিন্তু কীভাবে? কীভাবে পাকিস্তানের হয়ে ভারতের বিপক্ষে ‘আন্তর্জাতিক’ অভিষেক হলো টেন্ডুলকারের? তাহলে ১৯৮৯ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেন্ডুলকারের আন্তর্জাতিক অভিষেক হওয়ার ঘটনা মিথ্যা? মজার ব্যাপার হচ্ছে, তথ্য দুটোই ঠিক! ১৯৮৭ সালে পাকিস্তান যেবার ভারত সফরে এল, একটা প্রদর্শনী ম্যাচ হয়েছিল মুম্বাইয়ে।
ওই ম্যাচে লাঞ্চের সময় জাভেদ মিয়াঁদাদ ও আবদুল কাদির মাঠের বাইরে চলে যান। তখন কিছু সময়ের জন্য ফিল্ডিং করতে টেন্ডুলকারকে (হয়তো বলবয় হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন) ডেকে নেন পাকিস্তান অধিনায়ক ইমরান। টেন্ডুলকারকে লং-অনে ফিল্ডিং করতে বলেছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক। ব্যাটসম্যান কপিল দেব একটি বল বাতাসে উঠিয়ে দিয়েছিলেন। ১৫ মিটার দৌড়েও সে ক্যাচটা লুফে নিতে পারেননি লিটল জিনিয়াস।
আক্ষরিক অর্থে এটি কোনো আন্তর্জাতিক কিংবা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ছিল না, তবে দল দুটিতে যেহেতু ভারত-পাকিস্তানের খেলোয়াড়েরা খেলেছিলেন, ফলে বিষয়টি উড়িয়ে দেবেন কী করে! রসিকতার ছলেই ভারত কিংবদন্তি বলেছেন, জানি না, আমার ‘প্রথম অধিনায়ক’ ইমরান খানের এ ঘটনা মনে আছে কি না! সূত্র: জিনিউজ।

বনশ্রী থেকে ভুয়া এসপি গ্রেফতার

পুলিশের ইউনিফর্ম, র‌্যাঙ্ক ব্যাজ, ক্যাপ সবই আছে। আছে ছড়ি, ব্যাগ, পিস্তলের খাপ, খেলনা পিস্তল এবং ওয়াকিটকি। পুলিশ সুপার পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন জনের সঙ্গে প্রতারণা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করাই তার পেশা। এরকম এক ভুয়া এসপি কাম এসিকে শনিবার গ্রেফতার করেছে খিলগাঁও থানা পুলিশ। আটক ব্যক্তির নাম এমআর মাসুদ ওরফে কাজী মাসুম ওরফে কেএম রেজাউল। খিলগাঁও থানার ওসি মোস্তাফিজ ভূঁইয়া যুগান্তরকে জানান, আটক হওয়া ব্যক্তি একেক সময় একেক নাম ও পদবি ব্যবহার করত। বিভিন্ন সময়ে পুলিশের এসি (অ্যাসিসট্যান্ট কমিশনার), সিনিয়র এএসপি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও পুলিশ সুপার পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি ও প্রতারণা করত। শুক্রবার দুপুরে বনশ্রী এলাকার লাল রায় ও রাজন বিশ্বাস নামে দুই ব্যবসায়ীকে আটক রেখে এসপি পরিচয় দিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে মাসুদ। তিনি কোন ব্যাচের, কোন এলাকার এসপি এসব নিয়ে প্রশ্ন করার একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়। তারা থানা পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পুলিশ তার বনশ্রীর বাসায় অভিযান চালিয়ে মাসুদকে গ্রেফতার করে।
ভুয়া পুলিশ কর্মকর্তার বাসা থেকে র‌্যাঙ্ক ব্যাজসহ পুলিশের ইউনিফর্ম পরিহিত ৩টি ফ্রেমে বাঁধানো বড় ছবি, বিভিন্ন র‌্যাঙ্কসংবলিত সিল, প্যাড, পুলিশের ক্যাপ, জুতা, হ্যাংগিং ব্যাজ, সাভারের বিপিএটিসির ৩৯তম এফটিসি লেখা ট্রেনিং ব্যাগ, ৪টি মোবাইল ফোন সেট (যেগুলোর স্ক্রিন সেভারে পুলিশ ইউনিফর্ম পরিহিত ছবি), ১০টি পুলিশ পরিচয়ধারী ভিজিটিং কার্ড ও একটি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার খিলগাঁও থানায় স্থানীয় অপু কুমার সাহা বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, মাসুদ এসপি পরিচয় দিয়ে দুলাল রায় ও রাজন বিশ্বাসকে জিম্মি করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। অন্যথায় তাদের ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে মামলা দেয়ার হুমকি দেয়। বিষয়টি জানার পর খিলগাঁও থানা পুলিশ ওই ভুয়া পুলিশ কর্মকর্তার ভাড়া বাসায় অভিযান চালায়। তার বাসা থেকে জিম্মি করে রাখা দুলাল রায় ও রাজন বিশ্বাসকে উদ্ধার করা হয় এবং গ্রেফতার করা হয় মাসুদকে।
ওসি আরও জানান, বিভিন্ন স্থান থেকে তার প্রতারণার বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। মাস দুয়েক আগে মিরপুরে এক ব্যক্তির কাছ থেকে সে ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল। ভুয়া এসপির বিরুদ্ধে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির আরও কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।

বিশ্ব আরেকটি স্নায়ুযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে : গর্বাচেভ

ইউক্রেনের ঘটনাটি কেন্দ্র করে পৃথিবীতে আরেকটি শীতল যুদ্ধ বা স্নায়ু যুদ্ধ আসন্ন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিলুপ্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের সাবেক নেতা মিখাইল গর্বাচেভ।
রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর যে দ্বন্দ্ব চলছে, আলোচনার মাধ্যমে সেটির একটি সমাধান খুঁজে বের করতেও তিনি তাগিদ দিয়েছেন।
বার্লিন ওয়াল পতনের ২৫তম দিবস স্মরণ উপলক্ষে রোববার বার্লিনের এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
গর্বাচেভ বলেন, পৃথিবী আজ শীতল যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে এসে উপনীত হয়েছে। শুধু তাই নয়, এমনকি একপ্রকার শীতল যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।
তবে বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, নিজেদের শক্তি প্রকাশ বা দুর্বলতা যে কারণেই হোক না কেন, মিখাইল গর্বাচেভ মূলত সঙ্কটের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের কথাই বলেছেন।
১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকেই বিশ্বে আমেরিকার আগ্রাসী ভূমিকা শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করছেন গর্বাচেভ।
গর্বাচেভ বলছেন, বিশ্বব্যাপী পরিবর্তন আনার নেতৃত্ব না দিয়ে ইউরোপ নিজেও এখন রাজনৈতিক অস্থিরতা, আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় মেতেছে এবং দেখা দিচ্ছে সামরিক দ্বন্দ্ব। আর এসব কিছুর মধ্য দিয়ে ইউরোপ নিজেই ক্রমশ আরো বেশি দুর্বল হয়ে পড়ছে।

কুকুর পোষার শাস্তি ৭৪ বেত্রাঘাত!

কুকুর পুষলে বা সেটিকে রাস্তায় নিয়ে কেউ বাইরে বের হলে শাস্তি হিসেবে ৭৪টি বেত্রাঘাত করার আইন পাস করতে যাচ্ছে ইরানের পার্লামেন্ট। সম্প্রতি দেশটির একটি সংবাদ মাধ্যমে জানানো হয়, ইতিমধ্যে দেশটির ৩২ জন সংসদ সদস্য এ বিষয়ে একটি খসড়া বিলে স্বাক্ষর করেন। এই আইনভঙ্গকারীদের শুধু বেত্রাঘাতই নয়, একইসঙ্গে ৩৭০ ডলার থেকে ৩ হাজার ৭০০ ডলার পর্যন্ত জরিমানা করারও পরামর্শ দেন সংসদ সদস্যরা। ইসলামী দেশ হিসেবে ইরানে মুসলমানদের কাছে কুকুর পোষা অপরিচ্ছন্নতার লক্ষণ বলে বিবেচিত হয়। সে জন্য দেশটিতে কারও বাড়িতে কুকুর দেখা যায় না। যদিও কেউ কেউ গোপনে কুকুর পোষেন।
শুধু কুকুর নয়, বানর পুষলেও মানুষকে একই রকম শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। ওই আইনের খসড়া বিলে উল্লেখ করা হয়, প্রকাশ্যে কোনো স্থানে কুকুর বা বানরের মতো প্রাণী নিয়ে হাঁটা বা সেগুলোর সঙ্গে খেলা করা ইসলামী সংস্কৃতিবিরোধী। তা যেমন অস্বাস্থ্যকর তেমনি অন্যদের বিশেষ করে নারী ও শিশুদের শান্তি বিনষ্টের কারণ। এ ধরনের কোনো প্রাণী কারও কাছে ধরা পড়লে সেগুলোকে চিড়িয়াখানা বা বনে ছেড়ে দেয়া হবে। এনডিটিভি।

সারা দেশে লাইটারেজ জাহাজ ধর্মঘট শুরু

সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য লাইটারেজ জাহাজ শ্রমিক ধর্মঘট শুরু হয়েছে। নদীপথে চাঁদাবাজি, ডাকাতি বন্ধ, লক্ষ্মীপুরে নিখোঁজ শ্রমিকদের খুঁজে বের করা ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার দাবিতে লাইটারেজ শ্রমিকরা শনিবার সকালে অনির্দিষ্টকালের এ ধর্মঘটের ডাক দেয়। মেঘনা নদীর লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর আবদুল্লাহ নামক এলাকায় শানিবার ভোরে মালবাহী কার্গো জাহাজে ডাকাতি ও মাস্টারসহ ১১ কর্মচারী অপহরণের ঘটনা ঘটে। এদের মধ্যে তিনজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও ৮ জন অপহৃত রয়েছে। ডাকাতদের কবলে পড়া ওই জাহাজটির নাম কর্ণফুলী-৪। দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথে প্রায় ২ হাজার ৪০০ লাইটার জাহাজ চলাচল করে। সারা দেশে লাইটার জাহাজের শ্রমিক সংখ্যা প্রায় ২ লাখ। যুগান্তর ব্যুরো, স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-চট্টগ্রাম : নৌ শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে সকাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দর বহির্নোঙরে পণ্য উঠানো নামানো ও লাইটারেজ জাহাজ চলাচল বন্ধ রেখেছে নৌযান শ্রমিকরা। তারা জানিয়েছে, নিখোঁজ শ্রমিকদের না পাওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম-সম্পাদক খোরশেদ আলম জানান, নদীপথে জাহাজে একের পর ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও হামলার ঘটনা ঘটছে। থানায় গেলে পুলিশ জিডি পর্যন্ত নেয় না। ইতিমধ্যে নৌযান শ্রমিকদের নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছি। কিন্তু কোনো সুরাহা মেলেনি। শনিবার ভোর রাতেও একটি জাহাজে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। তাই সারা দেশে ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছে। নৌযান শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের জানান, শ্রমিকদের নিরাপত্তার দাবিতে এই ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। আন্দোলনকারী শ্রমিকরা সকাল থেকে নগরীর মাঝিরঘাট এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। শ্রমিকদের এ কর্মবিরতিতে সকাল থেকে সারা দেশে জাহাজে অভ্যন্তরীণ পণ্য পরিবহন বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে থাকা বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের কাজও বন্ধ হয়ে গেছে।চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (পরিবহন) গোলাম সারওয়ার জানান, ঘটনার বিষয়ে আমাদের কিছু জানা নেই। বহির্নোঙরে শুক্রবারও কাজ হয়েছে। সকালেও কাজ শুরু করেছিল শ্রমিকরা।মংলা : নৌপরিবহন ধর্মঘটে মংলাবন্দরের দেশী-বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজের খালাস বোঝাই কাজ বন্ধ রয়েছে। ধর্মঘটের কারণে মংলাবন্দরে অবস্থানরত জাহাজ থেকে পণ্য বোঝাই খালাস কাজ হলেও বন্ধ রয়েছে পণ্য পরিবহনের কাজ। অনির্দিষ্টকালের ডাকা পরিবহন ধর্মঘটের কারণে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বরাদরের পশুর চ্যানেল ও বহির্নোঙরে ৭টি বাণিজ্যিক জাহাজ রয়েছে। এসব জাহাজের গায়ে থাকা লাইটারগুলো দুপুরের মধ্যেই নদীর বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে শ্রমিকরা ধর্মঘট পালন করছে।লক্ষ্মীপুর ও রামগতি : শনিবার ভোরে লক্ষ্মীপুরের রামগতির চর আবদুল্লাহ এলাকায় কর্ণফুলী এমভি-৫ নামে একটি মালবাহী জাহাজে জলদস্যুরা হামলা করে। এসময় মাস্টার মো. মুক্তিসহ ৮ স্টাফকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে শনিবার সকালে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার বাত্তিরখালের ঘাটে জাহাজটি ভেসে এলে পুলিশ জাহাজের একটি কেবিন থেকে ৩ কর্মচারীকে উদ্ধার করে।কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবির জানান, খবর পেয়ে জাহাজের কেবিনে অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় দু’জন ও মেঘনা নদীর পাড় থেকে জাহাজের অপর এক শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়। এ সময় জাহাজ থেকে রক্তমাখা কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি ডাকাতি না অভ্যন্তরীণ কোন্দল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপহৃতদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। জাহাজে থাকা ১৪ হাজার বস্তা সার অক্ষত রয়েছে।আশুগঞ্জ : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নৌবন্দরে ধর্মঘট পালন করছে নৌ শ্রমিকরা। শনিবার সকাল থেকে আশুগঞ্জ বন্দরে সব ধরনের পণ্য খালাস ও পরিবহন বন্ধ রয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আশুগঞ্জ নৌবন্দরের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিকরা।

২০৪১ সালের মধ্যে দেশ হবে সোনার বাংলা : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে এশিয়ার মধ্যে উন্নত দেশ, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা। বাংলাদেশ হবে আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন একটি দেশ। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম বিমান বাহিনীর জহুরুল হক ঘাঁটিকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০ এর আলোকে বিমান বাহিনীকে একটি যুগোপযোগী চৌকস বাহিনীতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। বিশাল সমুদ্রসীমা ও নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এই বাহিনীকে উন্নত করা হচ্ছে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের আগেই আমরা বিমান বাহিনীকে আরও আধুনিকায়নের মাধ্যমে শক্তিশালী ও কার্যকর বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হব।’তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধে বিমান বাহিনীর সদস্যরা যুদ্ধের প্রয়োজনীয় উপকরণ ছাড়াই শুধু একটি এ্যালুয়েট হেলিকপ্টার, একটি ডিসি-৩ এবং একটি অটার বিমান নিয়ে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করেন। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দুঃসাহসিক বৈমানিকরাই প্রথম বাংলার আকাশসীমায় প্রবেশ করে শত্র“র স্থাপনার ওপর সফলভাবে আঘাত হানে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একটিমাত্র এ্যালুয়েট হেলিকপ্টার ও অটার বিমানের সাহায্যে মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে চল্লিশটিরও বেশি সফল আক্রমণ পরিচালনা করে- যা ছিল আমাদের বৈমানিকদের অসাধারণ দক্ষতার নজির। মহান মুক্তিযুদ্ধে বিমান বাহিনীর কর্মকর্তারা সেক্টর কমান্ডারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন। এ বাহিনীর সদস্যদের সাহসিকতাপূর্ণ অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ করবে।অনুষ্ঠান উপলক্ষে জহুরুল হক বিমান ঘাঁটির প্যারেড গ্রাউন্ডে আকর্ষণীয় কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। গ্রুপ ক্যাপ্টেন সৈয়দ সায়েদুর রহমান কুচকাওয়াজ পরিচালনা করেন। প্রধানমন্ত্রী প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছলে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল মোহাম্মদ এনামুল বারী এবং ঘাঁটির কমান্ডিং অফিসার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর তাকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। এ সময় জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য জহুরুল হক ঘাঁটিকে ‘ন্যাশনাল ফ্লাগ’ উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।চট্টগ্রাম শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি জহুরুল হক দেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলসহ সমুদ্রসীমার সার্বিক নিরাপত্তার প্রয়োজনে স্থাপিত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পর ঘাঁটিটির কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

রাশিয়ায় পারমাণবিক হামলা চেয়েছিলেন চার্চিল

স্নায়ুযুদ্ধে জয়ী হবার লক্ষ্যে রাশিয়ায় (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন) পারমাণবিক হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছিলেন বৃটিশ নেতা উইন্সটন চার্চিল। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানকে বোঝাতে অনুরোধ করেছিলেন সিনেটর স্টাইলস ব্রিজেসকে। চার্চিলের বিশ্বাস ছিল পশ্চিমা বিশ্বে কম্যুনিজমের বিস্তার রোধে জোসেফ স্টালিনের রাশিয়ায় আগে থেকে হামলা করাটাই একমাত্র উপায়। সম্প্রতি এফবিআইয়ের এক গোপন নথি প্রকাশ হবার পর এ তথ্য সামনে এসেছে। এ খবর দিয়েছে ডেইলি মেইল। এফবিআই এজেন্টের লেখা একটি চিরকুটে বলা হয়েছে, চার্চিল ১৯৪৭ সালে ডানপন্থী রিপাবলিকান নেতা সিনেটর স্টাইলস ব্রিজেসকে অনুরোধ করেছিলেন তিনি যেন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানকে পারমাণবিক হামলা চালানোর জন্য বোঝাতে চেষ্টা করেন। সে সময় পারমাণবিক হামলা মোকাবেলা করার মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না রাশিয়ার। তারা ১৯৪৯ সালে প্রথম পারমাণবিক বোমার সফল পরীক্ষা চালায়। উল্লেখ্য, ১৯৪৫ সালে বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চার্চিল পদ হারানোর আগ পর্যন্ত ২য় বিশ্বযুদ্ধে বৃটেন ও সোভিয়েত ইউনিয়ন মিত্র ছিল। ওই চিরকুটে আরও বলা হয়, চার্চিল বলেছেন যদি বোমা হামলায় ক্রেমলিনকে নিশ্চিহ্ন করা যায় তাহলে রাশিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করাটা অনেক সহজ হয়ে যাবে। চার্চিল সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছিলেন, রাশিয়ার ওপর হামলা চালানো না হলে আগামী দু’তিন বছরের মধ্যে যখন তারা পারমাণবিক বোমার মালিক হবে তখন তারা যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালাবে। এফবিআই এজেন্টের লেখা ওই ঘটনাপ্রবাহের দলিল প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হতে যাচ্ছে পুরস্কারজয়ী অনুসন্ধানী সাংবাদিক থমাস মাইয়ারের বইয়ে। ‘হোয়েন লায়োনস রোর: দ্য চার্চিলস এন্ড দ্য কেনেডিস’ শীর্ষক ওই বইটি আগামী মাসে বৃটেন থেকে প্রকাশ হবার কথা রয়েছে।

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান ইইউ পররাষ্ট্র প্রধানের

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান ফেডারিকা মগারিনি। ইসরাইলি আগ্রাসনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ফিলিস্তিনের গাজা পরিদর্শনকালে তিনি একথা বলেন। ফেডারিকা মগারিনি বলেন, আমাদের ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রয়োজন- এটা আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। এ অবস্থান ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব সদস্যের। গাজায় ইসরাইলি বর্বরতার প্রতি ইংগিত করে তিনি বলেন, বিশ্ববাসী আরেকটি গাজা যুদ্ধের ক্ষতি বহন করতে পারবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান এমন সময় এ বক্তব্য দিলেন, যখন অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে প্রায় প্রতিদিনই ইসরাইলি বাহিনী এবং সেটলারদের হামলার শিকার হচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা। এছাড়া মুসলিমদের প্রথম কিবলা এবং তৃতীয় পবিত্রতম স্থান আল-আকসা মসজিদ গুঁড়িয়ে দিয়ে ইসরাইলের টেম্পল মাউন্ট তৈরির নেয়া উদ্যোগের ফলে দখলদার ইহুদি এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সংঘর্ষ চলে আসছে। এএফপি।

কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর নিয়ে বিভ্রান্তি

জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ কার্যকরের প্রক্রিয়া নিয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি একেক সময় একেক রকম বক্তব্য দিয়েছেন। তার ওই সব বক্তব্যের সঙ্গে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মককর্তা, ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের প্রধান এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্যের কোনো মিল নেই। সর্বশেষ শনিবার সন্ধ্যায় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আপিল বিভাগের আদেশের অনুলিপি কারাগারে না পৌঁছাবে ততক্ষণ পর্যন্ত তার ফাঁসি কার্যকর করা হবে না।
গত বছরের ৯ মে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এ রায়ের বিরুদ্ধে পরে তিনি সুপ্রিমকোর্টে আপিল করেন। সুপ্রিমকোর্ট তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেন গত ৩ নভেম্বর। ৪ নভেম্বর এ আসামিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। এরপর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা নিয়ে শুরু হয় নানা গুঞ্জন। রিভিউ আবেদন দায়ের, জেল কোডে (কারাবিধিতে) প্রদত্ত বিধানের অনুসরণ নিয়ে আবারও ওঠে নানা বিতর্ক।
রায় ঘোষণার দিনেই আইনমন্ত্রী আনিসুল হক একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত এ জামায়াত নেতার ক্ষেত্রে কারাবিধি অনুসরণ করা হবে বলে সাংবাদিকদের জানান। এরপর ৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গুলশানে তার বাসভবনে সাংবাদিকদের বলেন, মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকরের প্রস্তুতি নিতে কারা কর্তৃ?পক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কামারুজ্জামানকে আপিল বিভাগের রায় জানানো হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে সেদিন আনিসুল হক বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে কিনা, সে প্রশ্ন আমি আইজি প্রিজন সাহেবকে করি নাই, কিন্তু আমি যতটুকু জানি তাকে (কামারুজ্জামান) জানানো হয়েছে, আপিল বিভাগে খারিজ হয়েছে এবং তার মৃত্যুদণ্ড বহাল আছে।
তিনি আরও জানান, কামারুজ্জামান প্রাণভিক্ষার জন্য ৭ দিন সময় পাবেন। যে মুহূর্ত থেকে তিনি ফাঁসির খবর জেনেছেন সে মুহূর্ত থেকে ওই সাত দিন গণনা শুরু হয়েছে। কামারুজ্জামানের প্রাণভিক্ষার সময় রোববার শেষ হচ্ছে, এখন কী হবে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শনিবার দুপুরে মন্ত্রী বলেন, “প্রকাশিত যে রায় আছে তার ওপরই আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে। কারাবিধির ৯৯১ ধারাটি দেখেন, যখন আসামির মৃত্যুদণ্ড হয় তখন লেখা ছিল হাইকোর্ট এখন আপিল বিভাগ। তাকে এটা জানানোর সঙ্গে সঙ্গে সাত দিন সময় দিতে হয়। এটা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। তাকে মার্সি চাওয়ার জন্য সেই সময় দেয়া হয়েছে।”
কারাবিধি ৯৯১ ধারায় আসামিকে অবহিতকরণের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আনিসুল হক বলেন, ওই ধারাটি যদি পড়েন তাহলে দেখবেন অবহিতকরণের কথা বলা আছে। তার মানে আনুষ্ঠানিকভাবে কাগজপত্রে জানাতে হবে তা নেই। কথা হচ্ছে সে বিষয়টি তাকে জানানো হয়েছে। আদেশ যায়নি।
এ সময় কীভাবে কামারুজ্জামানকে বিষয়টি জানানো হল সাংবাদিকরা মন্ত্রীর কাছে জানতে চান। তিনি বলেন, আদেশ যায়নি মানে কী? তাকে জানানো হয়েছে। ব্যাপারটি হল- আমি যত দূর জেনেছি, প্রিজন অফিসিয়ালস হ্যাভ টোল্ড হিম দ্যাট আপনার আপিল ডিসমিসড হয়েছে। আপনার মৃত্যুদণ্ড বহাল আছে। কিসের ভিত্তিতে জানানো হয়েছে- জানতে চাইলে মন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, তাহলে খবরের কাগজ কি মিথ্যা? এ সময় সাংবাদিকরা কালকের পর কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে পারে কিনা জানতে চান। উত্তরে মন্ত্রী বলেন, তিনি জানেন না। সুপ্রিমকোর্ট মিলনায়তনে একটি সেমিনারের উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
পরে সন্ধ্যায় রাজধানীর সোনাগাঁও হোটেলে এক অনুষ্ঠান শেষে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আপিল বিভাগের সংক্ষিপ্ত আদেশ যতক্ষণ পর্যন্ত কারা কর্তৃপক্ষের কাছে না পৌঁছাবে ততক্ষণ পর্যন্ত তার ফাঁসি কার্যকর করা হবে না।
রায়ের পর গত বৃহস্পতিবার নিজ কার্যলয়ে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, আপিল বিভাগের রায়ের অনুলিপি প্রকাশের পর এটা সরকার যেদিন ঠিক করবে, সেদিন দণ্ড কার্যকর হবে। আর সংক্ষিপ্ত আদেশ নাকি পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি পাঠানো হবে সেটা আপিল বিভাগের বিষয়। তবে আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে, সংক্ষিপ্ত আদেশের কপি দিয়েই তার সাজা কার্যকর করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ আপিল বিভাগ রায় দিয়েছেন। আপিল আদালত যে রায় দেন, সেটা ট্রায়াল কোর্টে (ট্রাইব্যুনালে) যায়। ট্রায়াল কোর্ট সে অনুসারে সিদ্ধান্ত নেন, মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন। তিনি আরও বলেন, এ রায় তো উনারা আগেই পেয়ে গেছেন। এখন এটা কার্যকর সময়ের ব্যাপার মাত্র। সময়ের ব্যাপারের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, এটা এক সপ্তাহ হতে পারে, তিন দিনও হতে পারে। এটা সুপ্রিমকোর্টের আদেশ পাওয়া সাপেক্ষে একমাসও হয়ে যেতে পারে। তবে রায় রিভিউর এবং জেল কোডে প্রদত্ত সুযোগ কামারুজ্জামান পাবেন না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে রায় ঘোষণার দিনেই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের প্রধান গোলাম আরিফ টিপু সাংবাদিকদের বলেন, রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পাওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল মৃত্যু পরোয়ানা জারি করবেন। এরপর সরকারের আদেশে তা কার্যকর করা হবে।
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেনের মতে, আইনমন্ত্রীর এ বক্তব্য সঠিক নয়। যুক্তি হিসেবে তিনি বলছেন, প্রাণভিক্ষার সুযোগ জেল কোডে আছে। কামারুজ্জামানকে এ সুযোগ দিতে হলে জেল কোড অনুযায়ীই দিতে হবে। আর জেল কোড অনুযায়ী মৃত্যু পরোয়ানা জারির পরে আদেশের কপি হাতে নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কামারুজ্জামানকে জানাবে। এই জানানোর পর থেকে তাকে প্রাণভিক্ষার সাত দিনের সুযোগ দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমার জানামতে, আপিল বিভাগের আদেশের কপি এখনও ট্রাইব্যুনালে পৌঁছায়নি এবং ট্রাইব্যুনাল তার মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেননি। তাই প্রাণভিক্ষার সাত দিনের সুযোগ শেষ হওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাইব্যুনাল আইনের ২০(৩) ধারা অনুযায়ী আদেশের কপি হাতে পাওয়ার পর সরকার যখন ইচ্ছা তখন ফাঁসি কার্যকর করতে পারে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন-১৯৭৩ একটি বিশেষ আইন। এ আইনে অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে সংবিধানে পদত্ত মৌলিক অধিকারগুলো স্থগিত রয়েছে। এ আইনের ২০(৩) ধারায় বলা হয়েছে, এ আইনের অধীনে প্রদত্ত দণ্ড কার্যকর করবে সরকার। অন্যদিকে কারাবিধির ৯৯১(১) উপবিধিতে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় ও আদেশ পাওয়ার পর বিচারিক আদালত সাজাপ্রাপ্ত আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করবেন। ওই পরোয়ানা কারা কর্তৃপক্ষ, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। কারা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে পড়ে শোনাবে। কারাবিধির ৯৯১ ধারার ৩ উপবিধিতে বলা হয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ইচ্ছা করলে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন। তবে সাত দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে। আসামির প্রাণভিক্ষার আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে কারা কর্তৃপক্ষ। সঙ্গে পৃথক পত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সম্ভাব্য তারিখ এবং আসামির দণ্ডের বিষয়ও উল্লেখ থাকবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত সাপেক্ষে সেটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে। জবাব দেয়ার সময়সীমা কারাবিধিতে নেই। তবে ১৪ দিনেও জবাব না পাওয়া গেলে রাষ্ট্রপতি আবেদন মঞ্জুর করেননি বলে বিবেচিত হবে। এটা কারা কর্তৃপক্ষকে জানাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সে অনুযায়ী মৃত্যু পরোয়ানা জারির দিন থেকে ২১ দিনের পর এবং ২৮ দিনের মধ্যে রায় কার্যকর করতে হবে। কারাবিধির ৯৯১ ধারার ৫ উপবিধিতে বলা হয়েছে, সাজাপ্রাপ্ত আসামি সাত দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন না করলেও মৃত্যু পরোয়ানা জারির ২১ দিন আগে কারা কর্তৃপক্ষ ফাঁসি কার্যকর করতে পারবে না।
কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষেত্রে জেল কোড প্রযোজ্য হবে না। যেমনটি হয়নি আবদুল কাদের মোল্লার ক্ষেত্রেও। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হয়। ৫ ডিসেম্বর তার মামলার আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। রায়ের কপি প্রকাশের পর ৮ ডিসেম্বর সেটি ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। এরপর ট্রাইব্যুনাল সে দিনেই কাদের মোল্লার মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে আদেশটি ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠায়। রায়ের কপি হাতে পেয়েই তার ফাঁসি কার্যকর করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ ক্ষেত্রে তখন জেল কোড অনুযায়ী রায়ের কপি হাতে পাওয়ার ২১ দিনের আগে নয় ও ২৮ দিনের পরে নয় যে বিধান রয়েছে তা অনুসরণ না করেই ফাঁসি কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়া হয়। তখন বলা হয়েছিল, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের জন্য জেল কোডে প্রদত্ত সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। কিন্তু রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করতে আসামিপক্ষের উদ্যোগের প্রেক্ষাপটে চেম্বার জজ ১০ ডিসেম্বরে ফাঁসির আদেশ স্থগিত করেছিলেন।
কাদের মোল্লার পক্ষে দুটি রিভিউ আবেদন করা হয়েছিল। ১১ ডিসেম্বর আপিল বিভাগে পুনর্বিবেচনার আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শুনানি হয়। ১২ ডিসেম্বর প্রধান বিচারপতি শুধু ঘোষণা দেন যে, বোথ দ্য ক্রিমিনাল রিভিউ পিটিশনস আর ডিসমিসড। কিন্তু তাতে কী কারণে খারিজ হয়েছে তা স্পষ্ট হয়নি। রিভিউ আবেদনটি গ্রহণ করে খারিজ করেছেন নাকি রিভিউ গ্রহণের আগেই খারিজ হয়েছে সেটি স্পষ্ট করেননি আপিল বিভাগ। এমনকি সেই রায়টি এখনও প্রকাশিত হয়নি। তাই রিভিউ করা যাবে কি যাবে না তা নিয়ে আইনি তর্কের মীমাংসা হয়নি। রিভিউ আবেদন খারিজের দিন রাতেই কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এ ক্ষেত্রে জেল কোডের বিধান অনুসরণ করা হয়নি। কামারুজ্জামানের মামলার ক্ষেত্রেও জেল কোডের বিধান অনুসরণ করা হবে না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল। বিষয়টি অনেকটা সরকারের ওপর নির্ভর করছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে আসামিপক্ষ রিভিউর আবেদন করবে বলে জানিয়েছে। আর এ আবেদন দায়েরের জন্য আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপিটি প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

বরিশালে ছাত্রলীগের বেপরোয়া টেন্ডারবাজি

বেপরোয়া টেন্ডারবাজিতে ব্যস্ত বরিশাল ছাত্রলীগ। বিভিন্ন দফতরের কোটি কোটি টাকার টেন্ডার দখলে তারা এখন এতটাই মরিয়া যে, এ নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপ-উপগ্রুপে প্রায়শই সংঘাত-সংঘর্ষ বাধছে। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা পর্যন্ত ক্ষুব্ধ বিষয়টি নিয়ে। যদিও কিছু বলছেন না তারা। টেন্ডার প্রশ্নে তাদেরও যে অসম্মান করে সংগঠনটি। পাশাপাশি সরকারি দফতরগুলোর কর্মকর্তারা হচ্ছেন রোষানলের শিকার।
ক্যাম্পাসের ছাত্রলীগ এখন সরকারি দফতরে। বিশেষ করে যেখানে রয়েছে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ। কাকডাকা ভোর থেকে সূর্যাস্ত, পুরো সময়টাই নেতাকর্মীদের দেখা মেলে এসব জায়গায়।
সাবেক সিটি মেয়র শওকত হোসেন হিরন জীবিত থাকাকালে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ থাকলেও এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। টেন্ডার দাখিল, লটারিতে বাধা অথবা কৌশলে নিজেদের ইচ্ছেমতো সাজানো লটারির মাধ্যমে কাজ দখল আর জোর করে গুছ’র মাধ্যমে কাজ হাতিয়ে নেয়া- সবকিছুই করছে ছাত্রলীগ।
হিরনের জীবদ্দশায় একাজে অগ্রভাগে ছিল তুষার-জসিম গ্র“প। বিএম কলেজের ভিপি মঈন তুষার এবং মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিমউদ্দিন মিলেমিশে করতেন সবকিছু। সঙ্গে ছিলেন বিএম কলেজের জিএস নাহিদ সেরনিয়াবাত। মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অসীম দেওয়ান এবং জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য নেতারা তখন অনেকটাই কোনঠাসা।
হিরনের মৃত্যুর পর কিছুটা চুপচাপ তুষার-নাহিদ। তবে অবস্থান বদলে নিজের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করেন জসিম। জোট বাঁধেন হাসানাত আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠ অসীমের সঙ্গে। এ নিয়ে তুষার-নাহিদদের সঙ্গে তার বেশ কয়েকবার সংঘর্ষ হয়।
এ সময়ে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাকসহ অনেকে মাথা তোলেন টেন্ডার প্রশ্নে। বরিশাল নগরীর একসময়কার আতংক এমন সাবেক ছাত্রলীগ এবং যুবলীগ নেতাও রয়েছেন এ তালিকায়। ভেঙে যায় সংগঠনের চেইন অব কমান্ড। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড শিকেয় তুলে পুরোদমে টেন্ডারবাজিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতারা। কেবল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন সেরনিয়াবাত কিছুটা পিছিয়ে।
বেশ কয়েকজন ঠিকাদার যুগান্তরকে বলেন, গত ৫ মাসে নগরীর বিভিন্ন দফতরে যত টেন্ডার হয়েছে তার সব ক’টিতেই নাক গলিয়েছে ছাত্রলীগ নেতারা। সিডিউল জমা দিয়ে লটারির মাধ্যমে কাজ নিলে জটিলতা ছিল না। কিন্তু তাদের টার্গেটই থাকে কাজ ছিনিয়ে নেয়ার। গুছ’র নামে সাধারণ ঠিকাদারদের সিডিউল তুলে নিতে বাধ্য করাসহ হেন কাজ নেই যা তারা করে না। জেলা পরিষদের এক কর্মকর্তা বলেন, কিছু দিন আগে নগরীর রুপাতলী এলাকায় স্টল নির্মাণের টেন্ডার আহ্বান করা হলে সেখান থেকে ৪টি স্টল দাবি করেন মহানগর ছাত্রলীগের এক নেতা। দাফতরিক প্রক্রিয়ায় বিষয়টির সমাধান করা হবে বলে জানানো হলে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে সরাসরি হুমকি দেন তিনি। এ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার উদ্যোগ নেয়া হলে ঘটনা ধামাচাপা দিতে তার বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ এনে স্মারকলিপি দেয়ান এ ছাত্রলীগ নেতা। সাধারণ ঠিকাদারদের বের করে দিয়ে নিজেদের মতো লটারি করে গত মাসের শেষের দিকে জেলা পরিষদের প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার টেন্ডার হাতিয়ে নেয় তারা। এ নিয়ে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট দফতর। সর্বশেষ ৬ নভেম্বর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের ২৩ কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ে ঘটে সংঘর্ষ।
একাধিক সাধারণ ঠিকাদার যুগান্তরকে বলেন, ‘জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কতিপয় নেতার কথামতো সিডিউল জমা দেয়া থেকে শুরু করে প্রয়োজনে সিডিউল তুলে পর্যন্ত নিতে হয়। আর কথা না শুনলেই শুরু হয় নানাভাবে হয়রানি-হেনস্থা। টেন্ডার মনেই এখন ছাত্রলীগ-যুবলীগ আর তাদের পেশিশক্তি প্রদর্শন।’
বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অসীম দেওয়ান বলেন, ‘টেন্ডারে ছাত্রলীগ নেতাদের সরাসরি জড়িয়ে পড়ার জন্য মূলত সিনিয়র নেতারা দায়ী। তারা যদি সমবণ্টন করে দিতেন তাহলে আমরা ঘরে বসেই কাজ পেতাম। সেক্ষেত্রে আর আমাদের সরকারি দফতরগুলোতে যেতে হতো না।’ ছাত্রলীগ কর্মীরা পড়াশোনা করবে, ক্যাম্পাসে থাকবে, তাদের ঠিকাদারি করতে হবে কেন? জবাবে অসীম বলেন, ‘সংগঠন পরিচালনা করতে অর্থের দরকার। তাছাড়া আমরা এখন আর আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন নই যে, মূল দলের নেতাদের কাছে হাত পাতব। সংগঠন চালাতে টাকা চাই। আর সেই টাকার জোগান আসার উপায় হচ্ছে ঠিকাদারি। তবে বেপরোয়া টেন্ডারবাজির অভিযোগ সঠিক নয়।’

ভুয়া ডাক্তার থেকে সাবধান

ডা. রানা রহমান ওরফে আলম (ভুয়া ডাক্তার)। টেনেটুনে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়েছেন। এই শিক্ষার জোরেই এখন তিনি অভিজ্ঞ ডেন্টিস্ট। তার নামের শেষে বিশেষণ হিসেবে আছে পিডিডিএস, ঢাকা নামের ডিগ্রি। এই পিডিডিএসের ব্যাখ্যা রানা নিজেও জানেন না। রাজধানীর পল্লবীতে স্বপ্নিল ডেন্টাল কেয়ার নামে আলিশান চেম্বারও আছে তার। সেখানেই এ ভুয়া ডাক্তার রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন। তার অনুপস্থিতিতেও চলে এই চেম্বার।
সম্প্রতি র‌্যাবের অভিযানে ধরা পড়েছেন এই ডাক্তার নামধারী প্রতারক। মোবাইল কোর্ট তাকে এক বছরের সাজা ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই মাসের সাজা দিয়েছেন। রানা কারাগারে থাকলেও তার চেম্বারটি এখনও চলছে। তার দূরসম্পর্কের ভাই রিয়াদ ডাক্তার না হয়েও চালিয়ে নিচ্ছেন চেম্বারটি। নিয়মিত দেখছেন রোগী।
ভুয়া ডাক্তারদের চিকিৎসা বন্ধ করতে বিএমডিসির ভূমিকা কি জানতে চাইলে বিএমডিসির ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান যুগান্তরকে বলেন, যে আইনে মোবাইল কোর্টে তাদের সাজা হচ্ছে, ওই আইন সংশোধন করে সাজার মেয়াদ বাড়াতে হবে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব সরকারকে দেয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তাদের যে মেয়াদের সাজাই হোক তারা যদি জামিনে বেরিয়ে আসার সুযোগ না পেত তাহলে হয়তো অন্যরা ভয়ে এ পেশা ছেড়ে দিত।
বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন-২০১০ এর ২২ ধারা ১ উপধারায় বলা আছে, অন্য কোনো আইনে যাই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন নিবন্ধন ব্যতীত কোনো মেডিকেল চিকিৎসক বা ডেন্টাল চিকিৎসক অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা করতে অথবা নিজেকে মেডিকেল চিকিৎসক বলে পরিচয় দিতে পারবেন না। ২ উপধারায় বলা হয়েছে, কেউ ১ উপধারার লংঘন করলে তিনি তিন বছরের কারাদণ্ড অথবা এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
ঢাকা জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আনোয়ারুল কবীর বাবুল যুগান্তরকে বলেন, মোবাইল কোর্টে যে সাজা দেয়া হয় তা নিতান্তই অপ্রতুল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জরিমানার টাকা দিয়ে অথবা কিছুদিন জেল খেটে ভুয়া ডাক্তাররা জামিনে বের হয়ে একই পেশায় ফিরে যায়। এক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন সংশোধন করে সাজার মেয়াদ বৃদ্ধি করা উচিত।
রোববার বিকালে ভুয়া ডাক্তার রানার সেল নম্বরে ফোন দিলে, রিসিভ করেন এক নারী। চিকিৎসা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ডা. রানার স্ত্রী পরিচয় দেন। বলেন, রানা দেশের বাইরে আছেন। মাসখানেক চিকিৎসা করতে পারবেন না। মোবাইল কোর্টের হাতে ধরা পড়ে সাজার বিষয়ে গোপন করেন তিনি। মোবাইল কোর্ট কেন রানাকে সাজা দিয়েছে জানতে চাইলে রানার স্ত্রী অত্যন্ত কৌশলে বলেন, অন্য একটি ডেন্টাল ক্লিনিকের ডাক্তার দুশমনি করে তার স্বামীকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। এর চেয়ে বেশি কিছুই তিনি জানেন না। রানার স্ত্রী বলেন, তার স্বামী জেল থেকে বের না হওয়া পর্যন্ত দেবর রিয়াদ রোগীদের চিকিৎসা দেবেন। এই রিয়াদকে এমবিবিএস ডাক্তার বলেও দাবি করেছেন রানার স্ত্রী। রিয়াদ কোন হাসপাতালের ডাক্তার এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো হাসপাতালের না, উনি আমার খালাতো দেবর। অনেক অনেক ভালো ও বড় ডাক্তার। আপাতত তার কাছে দেখাতে পারেন।
রানা কিংবা রিয়াদই নয়; রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার মতো ভুয়া ডাক্তারের চেম্বারের সন্ধান পাওয়া গেছে। খোদ মিরপুরে একদিনে এ ধরনের ৯টি চেম্বারে ৯ জন ডেন্টিস্টকে সাজা দিয়েছেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আল আমীন। তারা এখন জেলহাজতে।
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. আবু সাফি আহমেদ আমিন যুগান্তরকে বলেন, কোনো মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করার পর বিএমডিসির রেজিস্ট্রেশন নিয়ে একজন ডাক্তার হিসেবে চিকিৎসাসেবা দেয়ার অধিকার অর্জন করেন। এর বাইরে যারা চিকিৎসা করে তারা স্রেফ প্রতারক। এ ধরনের কাজ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই প্রতারকদের কাছ থেকে সবাইকে সাবধান থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর শহরতলি এলাকায় এদের বিচরণ বেশি। ডেমরা, কোনাপাড়া, শ্যামপুর, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, শাহ্আলী, পল্লবী, রূপনগর, উত্তরখান, দক্ষিণখান, টঙ্গী ও আমিনবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য ভুয়া ডাক্তারের ক্লিনিক ও চেম্বার আছে। চিকিৎসার নামে তারা রোগীর সঙ্গে প্রতারণা করছে। এরা চিকিৎসার নামে আদায় করছে মোটা অংকের টাকা।
ভুয়া ডাক্তাররা ঢাকা, কলকাতা, লন্ডন, সিঙ্গাপুরসহ দেশী-বিদেশী নামিদামি মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী পরিচয়ও দিচ্ছে। তৈরি করছে জাল সার্টিফিকেট। এসব সার্টিফিকেট তৈরি ও বিক্রির একাধিক সিন্ডিকেট রয়েছে। রোগীদের কাছে নিজেকে আকর্ষণীয় করতেই এসব মিথ্যা বিশেষণ যোগ করা হয়।
এমনই একজন ডাক্তার মো. আজাদুল ইসলাম। তার নামের শেষে আরএমপি (ভিডি), ডিডিটি (ঢাকা), ডিডিটি (কলকাতা), বিডিএ (কলকাতা) লেখা। তার ক্লিনিকের নাম উপশম ডেন্টাল কেয়ার। ঠিকানা যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়ায়।
সূত্র জানায়, এসব চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়ে রোগীরা নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছে। পাশাপাশি রোগমুক্ত না হয়ে আরও বড় ধরনের জটিল রোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এমনই এক রোগী শোভা আক্তার। তিনি জানান, তার বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। মাস দুই আগে তিনি কুমিল্লা থেকে মেয়ের বাড়ি যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়ায় আসেন। তার একটি দাঁত যন্ত্রণা করত। তিনি কোনাপাড়ায় অ্যাপোলো ডেন্টাল ক্লিনিকে ভুয়া ডাক্তার ফিরোজ সিকদারের কাছে চিকিৎসার জন্য যান। প্রথমে কথিত ডাক্তার ৩০০ টাকা ফি নিয়ে তার চিকিৎসা দেন। ১০ দিন পর আবার আসতে বলেন চেম্বারে। ১০ দিন পর একটি দাঁত উঠিয়ে চার হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। এরপর বলেন, আরও দুটি দাঁত নষ্ট, ১৫-২০ দিনের মধ্যে তুলতে হবে। রোগীর একটি দাঁতে সমস্যা হলেও ডাক্তার জোর করে ৩টি দাঁত তুলে ফেলে। কয়েক দফায় মোট ১৪ হাজার টাকা নিয়েছে তার কাছ থেকে।
জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদফতর, বিএমডিসি, জেলা প্রশাসন, র‌্যাব, পুলিশ যৌথ উদ্যোগে ভুয়া ডাক্তারের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট চালানো অব্যাহত রয়েছে। মোবাইল কোর্টে অর্থদণ্ড কিংবা কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলেও তারা পেশা বদলাচ্ছে না। কারাগার থেকে বেরিয়ে আবার আগের পেশায় ফিরে যাচ্ছে। এটি মনিটরিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে ভুয়া ডাক্তারদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএমডিসির ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান যুগান্তরকে বলেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষার দায়িত্ব সবার। মানুষকে সচেতন হতে হবে। সাইনবোর্ডে কিংবা প্যাডে বিএমডিসির রেজিস্ট্রশন নম্বর দেখে প্রকৃত চিকিৎসক কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে মানুষকে। ভুয়া ডাক্তারদের চিকিৎসা বন্ধ করতে বিএমডিসির ভূমিকা কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিএমডিসির ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার নেই। এছাড়া লোকবলের অভাব। দেশে ভূরি ভূরি ভুয়া ডাক্তার। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে হাজার হাজার মামলা করতে হবে। এটি ব্যয়সাপেক্ষ। এত টাকা ব্যয় করা বিএমডিসির পক্ষে অসম্ভব।
২২ অক্টোবর যাত্রাবাড়ী কোনাপাড়ায় দুই ভুয়া ডাক্তারকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ভ্রাম্যমাণ আদালত। নামের আগে ডাক্তার বিশেষণ দিয়ে ক্লিনিক পরিচালনা ও চিকিৎসা দেয়ার অভিযোগে গ্রামীণ সবুজ ছায়া স্বাস্থ্যসেবা ক্লিনিক, অ্যাপোলো ডেন্টাল কেয়ার ও উপশম ডেন্টাল কেয়ার সিলগালা করে দেয়। সিলগালা ও অর্থদণ্ড করলেও তাদের পেশা তারা বদলায়নি। সোমবার বেলা ১১টায় কোনাপাড়া নাহার সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় গ্রামীণ সবুজ ছায়া স্বাস্থ্যসেবা ক্লিনিকে গিয়ে জানা যায়, ক্লিনিক বন্ধ থাকলেও পাশের একটি কক্ষে কথিত ডাক্তার আনিছুর রহমান রোগীর চিকিৎসা অব্যাহত রেখেছেন। সোমবার রোগী সেজে ওই ক্লিনিকে গেলে, পাশেই সোনার বাংলা ফাউন্ডেশনে বসে থাকা বোরকা পরা এক নারী ও এক পুরুষ ডাক দেন। চিকিৎসা নিতে যাওয়ার কথা শুনেই ওই নারী নিজেকে ডাক্তার সাবিনা পরিচয় দিয়ে বলেন, আমি মহিলা রোগী দেখি। পুরুষ রোগী দেখেন ডা. আনিছুর রহমান। উনি পাশেই আছেন। আপনি বসেন, উনাকে কল করে ডেকে নিয়ে আসছি।
আশপাশের লোকজনের কাছ থেকে জানা যায়, মোবাইল কোর্ট তার ক্লিনিক সিলগালা করে দেয়ার পর তিনি দূরে কোথাও অবস্থান করেন। রোগী এলে কল দিয়ে তাকে ডাকা হয়। রোগীর চিকিৎসা করে আবার সরে যান। একই এলাকায় মোবাইল কোর্টের সিলগালা করা অ্যাপোলো ডেন্টাল কেয়ারে গিয়ে দেখা যায়, বন্ধ এই প্রতিষ্ঠানের ভুয়া চিকিৎসক ফিরোজ সিকদার একটি বিজ্ঞাপন সেঁটেছেন দরজায়। তাতে লেখা বৈদ্যুতিক সমস্যার কারণে আগামী ৫-১১-২০১৪ তারিখ পর্যন্ত ডেন্টাল ক্লিনিক বন্ধ থাকবে। এর নিচে একটি মোবাইল নম্বর দেয়া। রোগী সেজে ওই মোবাইলে সোমবার ফোন দিলে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সমস্যায় বন্ধ আছে। ৫ তারিখ (৫ নভেম্বর) থেকে চিকিৎসা দেয়া হবে। ৫ নভেম্বর অর্থাৎ বৃহস্পতিবার চিকিৎসার জন্য ওই কথিত ডাক্তারকে আবার ফোন দেয়া হয়। এ সময় তিনি বলেন, হরতালে বন্ধ আছে। আগামী সোমবার খুলতে পারি।
কোনাপাড়ায় ২২ অক্টোবর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম যুগান্তরকে বলেন, কোনাপাড়াসহ ঢাকার কয়েকটি এলাকায় আরও ভুয়া ডাক্তারের সন্ধান পাওয়া গেছে। তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই অভিযান চালানো হবে।
৪ সেপ্টেম্বর কারওয়ান বাজারে পাঁচ ভুয়া দন্ত চিকিৎসক এসএম ইলিয়াস হোসাইন, হাসানুর রহমান, আক্তার হোসেন, তোফাজ্জল হোসেন ও আলাউদ্দিনকে এক বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। তারা এসএসসি পাস করে মেডিকেলের জাল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে ডাক্তার সেজে রোগীর চিকিৎসা করে আসছিলেন। টাঙ্গাইলের হাতীরবান্দা এলাকার সবুজ খান সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে´ের সহকারী সার্জন ড. শেখ তৈয়েবুর রহমানের সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে ওই ডাক্তারের নামকরণ করে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন দীর্ঘদিন ধরে। সম্প্রতি আশুলিয়ায় একটি গার্মেন্টে মেডিকেল অফিসার সেজে ডা. তৈয়েবুর রহমান নামে চাকরি নেয়ার পর তিনি র‌্যাব-৪ এর ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে ধরা পড়েন।
র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আনোয়ার পাশা বলেন, রেজিস্টার্ড দন্ত চিকিৎসকের সঙ্গে কিছুদিন কম্পাউন্ডার হিসেবে কাজ করে নিজেই চেম্বার খুলে রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছে এরা, যা উদ্বেগজনক। কম খরচে দাঁতের চিকিৎসা করানোর নামে রোগীদের সর্বনাশ করছে এসব ভুয়া ডাক্তার। চিকিৎসার জন্য তারা যেসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে তা জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা নেই। ফলে চিকিৎসা নিতে এসে অনেকেই নিজের অজান্তে নতুন রোগে আক্রান্তের ঝুঁকিতে পড়ছেন। তিনি আরও বলেন, ওষুধ বিষয়ে তাদের পড়াশোনা না থাকায়, বিভিন্ন মাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথানাশক ট্যাবলেট বা ইনজেকশন দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে শতাধিক ভুয়া ডাক্তার ধরে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। ভুয়া ডাক্তারদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে বলে তিনি জানান।