Saturday, September 20, 2025
আরব দেশগুলো এখন বুঝছে—ইরান নয়, ইসরায়েলই তাদের জন্য বড় হুমকি by সানাম ওয়াকিল
ইসরায়েল বরাবরই তার নিরাপত্তার স্বার্থে আগাম (আক্রান্ত হওয়ার আগেই) ও সীমান্তের বাইরে হামলার যৌক্তিকতা দেখিয়ে এসেছে। গত দুই বছরে ৭ অক্টোবর হামাসের আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল অন্তত ছয়টি দেশে (ফিলিস্তিনসহ) হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলের এসব হামলার লক্ষ্য ছিল দেশটির নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের হুমকি দূর করা।
কিন্তু কাতারের রাজধানী দোহায় হামলা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। কাতার শুধু সমৃদ্ধ উপসাগরীয় রাজতন্ত্রই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা সহযোগী ও ন্যাটোবহির্ভূত একটি মিত্র। একই সঙ্গে এটা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল-হামাস আলোচনার একটি কেন্দ্র।
ফলে এই হামলা আরেকটি ‘টার্গেট কিলিং’ নয়, বরং এক মৌলিক পরিবর্তনের সূচনা। এখন থেকে আরব রাষ্ট্রগুলো শুধু ইরানকেই নয়, ইসরায়েলকেও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার প্রধান উৎস হিসেবে দেখতে শুরু করেছে।
এটাই প্রথম নয় যে ইসরায়েল কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলাকালীন হামলা চালাল। গত দুই বছরে লেবাননে হিজবুল্লাহ, সিরিয়ায় নতুন সরকার আল-শারা, ইয়েমেনে হুতি, এমনকি ইরানের বিরুদ্ধেও, যখন তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা করছিল, উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের হত্যা করা হয়েছে, হামলা চালানো হয়েছে।
এসব হামলা সাধারণত আলোচনার অগ্রগতি ভন্ডুল করার সময়ই হয়েছে, যেন ইসরায়েল দেখাতে পারে যে তাদের কাছে কূটনীতি ও সামরিক চাপ আলাদা নয়। দোহার হামলা এই ধারা অনুসরণ করেছে। তবে এর প্রতীকী গুরুত্ব দীর্ঘ মেয়াদে সুদূরপ্রসারী হবে।
ইসরায়েলের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দোহার এক শান্তিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানে, যেখানে সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প সফর করেছিলেন এবং কাছেই ছিল একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। উপসাগরীয় শাসকদের কাছে বার্তাটি পরিষ্কার: মার্কিন মিত্রতা ও সামরিক ঘাঁটি তাদের রক্ষার নিশ্চয়তা দিতে পারছে না।
ইসরায়েল বহুদিন ধরেই কাতারের প্রতি ক্ষোভ পুষে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অনুমোদনে দোহা গাজায় বহু বছর ধরে অর্থ পাঠিয়েছে, অঞ্চলটিকে স্থিতিশীল রাখার প্রচেষ্টায়।
কিন্তু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর সেই ব্যবস্থাকে হামাসকে শক্তিশালী করার অজুহাত হিসেবে তুলে ধরে ইসরায়েল। পরবর্তীকালে নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা কাতারের অর্থ নিয়ে লবিং করেছেন বলে কেলেঙ্কারি ফাঁস হলে এই ক্ষোভ আরও স্পষ্ট হয়।
তবে ওয়াশিংটনের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। কাতারে অবস্থিত আল-উদেইদ ঘাঁটি মার্কিন সামরিক শক্তির প্রধান ভরকেন্দ্র। এখান থেকেই আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়ার অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ২০২২ সালে জো বাইডেন কাতারকে ‘ন্যাটোবহির্ভূত প্রধান মিত্র’ হিসেবে ঘোষণা করেন।
এমনকি গত জুনে ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের সময় ইরান মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার কাতারে হামলা হওয়া, সেটাও হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের দ্বারা যা যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।
কয়েক দশকে ধরে উপসাগরীয় দেশগুলো আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে ইরানের কেন্দ্রে রেখে সংজ্ঞায়িত করেছিল। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ বাহিনীগুলোকে সহায়তা এবং সীমান্তের বাইরে আঘাত করার সক্ষমতা নিয়ে তারা আশঙ্কায় থাকত। কিন্তু ইসরায়েলের গাজায় নির্বিচার অভিযান, পশ্চিম তীরে তৎপরতা এবং লেবানন-সিরিয়া-কাতারে ক্রমবর্ধমান হামলা এই ধারণা বদলে দিয়েছে।
আরব রাষ্ট্রগুলোর কাছে এখন ইসরায়েলই সবচেয়ে বড় হুমকি। অবশ্যই ইরানের ভূমিকাও মারাত্মক, তবে তার আগ্রাসন পরিচিত ও পূর্বানুমানযোগ্য। বিপরীতে ইসরায়েলের পদক্ষেপ দিন দিন আরও বেপরোয়া হচ্ছে, যা আরব বিশ্বের প্রচলিত কূটনৈতিক ও নিরাপত্তার নিয়ম-নীতি ভেঙে দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষ্ক্রিয়তা এ ধারণাকে আরও শক্ত করেছে। ট্রাম্প ও বাইডেন কেউই ইসরায়েলের হামলা নিয়ন্ত্রণ করেননি। কাতারে হামলার পর উপসাগরীয় শাসকদের বুঝতে হবে যে ওয়াশিংটন হয় অক্ষম, নয় অনিচ্ছুক, তাদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্রকেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে।
এখন উপসাগরীয় দেশগুলো সম্ভবত নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াবে। একই সঙ্গে চীন ও তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ করবে এবং ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিকীকরণের প্রক্রিয়াকে পুনর্বিবেচনা করবে। গাজায় যুদ্ধ চলতে থাকায় আব্রাহাম চুক্তি ও সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের স্বপ্ন কার্যত অকার্যকর হয়ে গেছে।
আরব অঞ্চলের জন্য এর তাৎপর্য স্পষ্ট; যে নিরাপত্তা কাঠামো এত দিন ইরানকেন্দ্রিক ছিল, সেটি এখন নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হচ্ছে, যেখানে ইসরায়েলকেই অস্থিতিশীলতার প্রধান উৎস হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একই সময়ে উপসাগরীয় শাসকেরা বৃহত্তর কৌশলগত স্বয়ংসম্পূর্ণতার অনুসরণে এগিয়ে চলেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতার ঝুঁকি থেকে নিজেদের রক্ষা করার ব্যাপারে ক্রমেই আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হচ্ছেন।
দোহায় হামলাটি শেষ পর্যন্ত একটি সন্ধিক্ষণ হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে; যা এই বোধকে সুস্পষ্ট করে যে ঐতিহ্যবাহী আঞ্চলিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে এবং নিরাপত্তার নামে অংশীদারদের সার্বভৌমত্ব বহুবার ত্যাগ করা হয়েছে।
ফলে এখন প্রশ্নটা কেবল এটা নয় যে আরব রাষ্ট্রগুলো প্রতিক্রিয়া দেখাবে কি না? বরং এখন এটাও প্রশ্ন যে তারা ‘কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে’?
* সানাম ওয়াকিল, চ্যাথাম হাউজের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক
- গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া
![]() |
| কাতারের দোহায় হামাস কর্মকর্তা ও আলোচকদের হত্যার মাধ্যমে ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের জন্য এক নতুন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রিন্সেস ডায়ানা কীভাবে তাঁর দিন শুরু করতেন
কিন্তু জানেন কি, আজ থেকে তিন দশকেরও বেশি সময় আগে এই ওটস খেয়ে দিন শুরু করতেন যুক্তরাজ্যের প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানা। ব্রিটিশ রাজপরিবারের সাবেক শেফ ড্যারেন ম্যাকগ্রান্ডি সম্প্রতি প্রিন্সেস ডায়ানার খাবারদাবার নিয়ে মুখ খুলেছেন। ম্যাকগ্রান্ডি প্রয়াত ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও প্রিন্সেস ডায়ানার জন্য খাবার প্রস্তুত করতেন।
স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে ওটস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়ার অনেক আগে থেকেই প্রিন্সেস ডায়ানা সকালে ওটসভিত্তিক স্বাস্থ্যকর নাশতা খেতেন।
ম্যাকগ্রান্ডি বলেন, ‘৩০ বছরের বেশি সময় আগে সেই ১৯৯৩ সাল থেকে প্রিন্সেস ডায়ানা সকালের নাশতায় রাতভর ভিজিয়ে রাখা ওটস খেতেন।’
২০১২ সালের পর থেকে ট্রেন্ড হিসেবে ওটস খাওয়া জনপ্রিয় হয়ে ওঠে বলে উল্লেখ করেন ম্যাকগ্রান্ডি। তারপর থেকে রাতভর ভিজিয়ে রাখা ওটসের নানা রেসিপি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
শেফ ড্যারেন ম্যাকগ্রান্ডি বলেন, প্রিন্সেস ডায়ানা প্রায় প্রতিদিনই একটি বিশেষ ধরনের ওটসমাখা খেতেন। তাঁর পছন্দের নাশতার এই পদটি একটি সুইস প্রাতরাশ রেসিপি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নেওয়া ছিল। সুইজারল্যান্ডে জনপ্রিয় এই প্রাতরাশ ডিশের নাম ‘বির্চার মিউসলি’। সুইজারল্যান্ডের একটি হেলথ ক্লিনিকে থাকার সময় ডায়ানা প্রথম এই খাবারটি খান।
ডায়ানার জন্য কীভাবে খাবারটি তৈরি করতেন এবং তাতে কী কী থাকত, তা–ও জানিয়েছেন শেফ ম্যাকগ্রান্ডি।
সেখানে থাকত—এক কাপ প্রক্রিয়াজাত ওটস, এক কাপ তাজা কমলার রস, এক কাপ টক দই, এক টেবিল চামচ মধু, এক চিমটি দারুচিনিগুঁড়া, অর্ধেক কাপ কুচানো আপেল, একটি লেবুর রস, এক কাপ তাজা ব্লুবেরি এবং অর্ধেক কাপ ভাজা আখরোট।
ওটসগুলো রাতে একটি পাত্রে কমলার রসে ভিজিয়ে প্লাস্টিকের র্যাপ দিয়ে পাত্রের মুখ মুড়িয়ে রাতভর ফ্রিজে রাখা হতো। পরদিন সকালে ভেজানো ওটসগুলো অন্য পাত্রে তুলে একে একে মেশানো হতো টক দই, মধু ও লেবুর রস। তারপর দেওয়া হতো কুচানো আপেল।
সব উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে ওটস মেশানো খাবারের ওপর ভিজিয়ে দেওয়া হতো অর্ধেক করে কাটা ব্লুবেরি ও ভাজা বাদাম।
১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান প্রিন্সেস ডায়ানা।
![]() |
| প্রিন্সেস ডায়ানা। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কাতার ও ভারতের প্রতি ট্রাম্পের অবমাননা নতুন অস্থিরতা তৈরি করছে by নাসরিন মালিক
এ হামলার পর উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন। যেমন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান দোহায় এসে কাতারের আমিরকে আলিঙ্গন করেছেন। কয়েক বছর আগে যখন এ দুই দেশের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব ছিল, তখন এমন দৃশ্য ভাবাও সম্ভব ছিল না।
এ ছাড়া সৌদি আরব ইসরায়েলি হামলার পর প্রতিক্রিয়া দেখাতে আরব, ইসলামি ও আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এবং ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে অপরাধ বলে নিন্দা জানিয়েছে।
সম্প্রতি আমরা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে চীনের তিয়ানজিনে একত্র হতে দেখলাম। সেখানে তাঁরা হাসিমুখে কথা বলেছেন। এটি এই সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি প্রতিচ্ছবি। এই সমাবেশের পেছনে কারণ হলো ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচরণের কারণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি কিছুটা দূরত্বে চলে গেছেন।
ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরপরই যেসব বিদেশি নেতা ওয়াশিংটনে তাঁকে অভিনন্দন জানাতে গিয়েছিলেন, মোদি তাঁদের একজন। তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে গিয়ে ট্রাম্পকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। সেখানে ট্রাম্প মোদিকে ‘মহান বন্ধু’ বলেছিলেন। সেখানে তাঁরা দুই দেশের মধ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে ব্যবসা দ্বিগুণ করবেন বলে ঠিক করেছিলেন। কিন্তু মাস কয়েক পরই ট্রাম্প ভারতের আমদানি করা পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপান।
ইসরায়েলের দোহা হামলার কয়েক মাস আগে ট্রাম্প কাতারের রাজধানীতে সফর করার সময় বলেছিলেন, ‘আমাদের এই বন্ধুত্ব দীর্ঘজীবী হোক।’ এখন বোঝা যাচ্ছে, ট্রাম্প কাউকে ‘বন্ধু’ বললে তার মানে কিন্তু সম্পর্কের নিশ্চয়তাকে বোঝায় না; বরং এতে সেই ‘বন্ধুর’ বিপদে পড়ার আশঙ্কাই বেশি থাকে।
আসলে এসব সমাবেশ, নতুন একতার প্রকাশ ও আঞ্চলিক জোটের দৃঢ়তা কিছু ক্ষেত্রে কেবল দেখানোর জন্য। ভারত বা কাতারের ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরাসরি যাওয়ার সত্যিই আগ্রহ নেই। তাদের অসন্তোষ কিংবা বন্ধুত্ব দেখানো মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝানোর জন্য যে তারা বিশ্বাসঘাতক নয় এবং তাদের কাছে অন্য বিকল্পও আছে।
তবে এসব আয়োজনকে সত্যিকারের শক্তিশালী জোট তৈরি করার চেষ্টা হিসেবেও দেখা যেতে পারে। ট্রাম্পের মতো সম্ভবত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুও মনে করেন, তাঁরা এমন ‘মূল্য নির্ধারক’ হিসেবে থাকতে পারেন, যাঁদের হাতে বাজারে পণ্যের দাম ঠিক করার ক্ষমতা আছে। ইসরায়েল সম্ভবত মনে করে, তারা যাকে ইচ্ছা তাকে বোমা মেরে শেষ করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ভাবে, তারা যখন-তখন নিরাপত্তাচুক্তি ভঙ্গ করতে পারে এবং নিজের শর্ত যে কারও ওপর চাপিয়ে দিতে পারে।
কিন্তু যদি এটা খুব দীর্ঘ সময় ধরে চলে, তখন যুক্তি মেনে চলা দেশগুলো এই অসংগত পরিস্থিতির সমাধান খুঁজতে শুরু করবেই। এটা এ কারণে নয় যে তারা যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েলকে শক্তিধর দেখতে অপছন্দ করে। উপসাগরীয় দেশগুলোও এর আগে যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট করেছে এবং সেখানকার কোনো কোনো দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে। এখন এই দেশগুলোও মনে করছে, ট্রাম্প খামখেয়ালি এবং ইসরায়েল লাগামহীন। এ কারণে দেশগুলো তাদের নিজেদের ক্ষমতা যাচাই করছে এবং কীভাবে এক হওয়া যায়, সে চেষ্টা করছে। যখন কোনো ঘনিষ্ঠ মিত্রকে ধোঁকা দেওয়া হয়, তখন সবাই বুঝতে পারে, কেউ নিরাপদ নয়।
উদাহরণস্বরূপ, আব্রাহাম চুক্তির অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাত কাতারে হামলার পর ইসরায়েলের প্রতি আগের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ ভাষায় কথা বলেনি। তারা এর তীব্র সমালোচনা করছে। এই চুক্তিগুলোর ভবিষ্যৎ ইতিমধ্যে সন্দেহের মুখে পড়ে গেছে।
ট্রাম্পের বিদেশনীতি এখন যেভাবে চলছে, তাতে তাঁর খামখেয়ালি ধরনটিকে বোঝা জরুরি। ট্রাম্পের এখন খুব একটা বিশ্বাসযোগ্যতা নেই এবং তাঁর অতিরিক্ত বিনিয়োগ সেই আস্থা ফেরাতে খুব একটা কাজে দেবে না।
* নাসরিন মালিক, দ্য গার্ডিয়ান–এর কলামিস্ট
- দ্য গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত
![]() |
| কাতারের আমিরের সঙ্গে দেখা করেন আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কিডনি ভালো আছে কি না, বুঝবেন যেভাবে by রাফিয়া আলম
কেবল প্রস্রাব ঠিকঠাক হলেই বলা যাবে না যে আপনার কিডনি ভালো আছে। প্রস্রাবের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু উপসর্গ ছাড়াও অন্যান্য কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে কিডনি রোগে। এ সম্পর্কে বলছিলেন ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মতলেবুর রহমান।
কিডনি রোগের কিছু উপসর্গ
১.
স্বাভাবিকভাবে প্রতিবার যতটা প্রস্রাব হয়, তার চেয়ে কম বা বেশি পরিমাণ প্রস্রাব হচ্ছে বলে মনে হলে এর কারণ খুঁজে বের করা প্রয়োজন। প্রাপ্তবয়স্ক একজন ব্যক্তির জন্য ২৪ ঘণ্টায় ৪-৮ বার প্রস্রাব হওয়া স্বাভাবিক। এর চেয়ে কম কিংবা বেশি হলেও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিন।
অনেক সময় তরল খাবার কম বা বেশি পরিমাণে গ্রহণ করার কারণে এ রকম হতে পারে কিংবা প্রস্রাবের পরিমাণ কমবেশি হতে পারে। চা, কফি, চকলেট বেশি খেলে বেশি প্রস্রাব হতে পারে। জীবনধারার এসব বিষয় ঠিকঠাক থাকলেও যদি অস্বাভাবিকতা লক্ষ করেন, চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
২.
প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া বা প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা হওয়া কিডনি রোগের লক্ষণ হতে পারে। ডিম ফেটলে যেমন ফেনা হয়, প্রস্রাবের সঙ্গে দেহের প্রয়োজনীয় আমিষ বেরিয়ে গেলে অনেকটা সে রকম ফেনা দেখা দেয় প্রস্রাবে।
এই দুটি লক্ষণকে অবহেলা করতে নেই। জীবাণুর সংক্রমণের ক্ষেত্রেও কখনো কখনো প্রস্রাবে রক্ত যেতে পারে। কারণ খুঁজে বের করা আবশ্যক।
৩.
চোখের চারপাশে, পায়ে কিংবা হাতে পানি আসাও হতে পারে কিডনি রোগের লক্ষণ। কিডনির রোগী বিশ্রাম নিলেও এই পানি খুব একটা কমে না। হাত বা পা উঁচু করে রাখার পর পানি কমে গেলেও তাঁদের ক্ষেত্রে আবার দ্রুতই পানি জমা হয়। ফুসফুসে পানি জমা হয়ে শ্বাসকষ্টও দেখা দেয় মারাত্মক ক্ষেত্রে।
৪.
বমিভাব, বমি এবং খাবারে অরুচির মতো লক্ষণও দেখা দেয় কিডনির রোগে। কোনো কারণ ছাড়া বেশ কিছুদিন এ রকম উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
৫.
কোনো কারণ ছাড়াই অতিরিক্ত ক্লান্তি বা দুর্বলতা অনুভব করা কিডনি রোগের লক্ষণ হতে পারে। এই রোগীরা কাজে মনোযোগ দিতে অসুবিধায় পড়তে পারেন। আবার ক্লান্তি সত্ত্বেও ঘুমাতে সমস্যা হতে পারে তাঁদের।
৬.
পেশির অস্বাভাবিক ব্যথাও কিডনি রোগের লক্ষণ। কারণ ছাড়াই ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে থাকা কিংবা চুলকানোর মতো নিতান্ত সাধারণ লক্ষণও দেখা দিতে পারে কিডনি রোগে।
কারা আছেন ঝুঁকিতে
# ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি।
# যাঁদের কিডনির গঠনগত অস্বাভবিকতা আছে।
# যাঁদের পরিবারে কিডনির রোগের ইতিহাস আছে।
# যাঁরা প্রায়ই ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করেন।
আপনি কি সুস্থ
কিডনি রোগের কোনো উপসর্গ না থাকলেও পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ নেই। তাই ৪০ বছর বয়স পেরোলে একজন সুস্থ ব্যক্তির প্রতিবছরই একবার কিডনির পরীক্ষা করানো উচিত। রক্তের ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা করালে কিডনির কার্যকারিতা সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায়।
তবে যাঁদের কিডনি রোগের ঝুঁকি আছে, তাঁদের অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে কিডনির পরীক্ষা করানো উচিত। এসব ক্ষেত্রে কেবল রক্তের ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা করিয়েই কিডনির বিষয়ে নিশ্চিন্ত থাকার সুযোগ নেই সব সময়। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক অন্যান্য পরীক্ষাও করতে দেবেন।
![]() |
| কেবল প্রস্রাব ঠিকঠাক হলেই বলা যাবে না যে আপনার কিডনি ভালো আছে। ছবি: আনস্প্ল্যাশ |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দুর্নীতি দূর না করতে পারলে দারিদ্র্য হটবে না by মামুন রশীদ
এটির কারণ হিসেবে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ভূরাজনৈতিক কারণকে দায়ী করা হলেও অনেকেই জোরেশোরে বলছেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য না এলে দারিদ্র্য হ্রাসের প্রক্রিয়া টেকসই হবে না। সরকারের সাহায্য বা সুযোগ বণ্টনে বৈষম্য বরং দারিদ্র্য বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করছে।
সংগত কারণেই গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশে অনেক সরকার এসেছে, অনেক সরকার বিদায় নিয়েছে। এঁদের মধ্যে কেউ বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন, কেউবা এশিয়ার উদীয়মান শক্তি হওয়ার বাসনা ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মৌলিক যে অধিকার—অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যায়নি।
দেশের ব্যক্তি খাতের আপাতবিকাশ ও সাফল্যে শহর-নগরে কোথাও কোথাও গতি, প্রবৃদ্ধি আর সেবার মান বাড়লেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানের দৃশ্যমান উন্নতি লক্ষণীয় নয়। তদুপরি অধিক জনসংখ্যা, দুর্বল সড়ক-জনপথ পরিকল্পনা, জমির ব্যবহার নীতির দুর্বলতা আর বিচার না পাওয়ার সংস্কৃতি মানুষের জীবনকে প্রতিনিয়তই ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এখনো দেশের এক-চতুর্থাংশের বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছেন। একটি বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, দেশে এখন দারিদ্র্যের হার ২৭ দশমিক ৯৩ বা প্রায় ২৮ শতাংশ। সরকারি হিসাবেই ২০২২ সালে এই হার ছিল ১৮ দশমিক ৭। দারিদ্র্য বৃদ্ধির এই িচত্র আমাদের উদ্বিগ্ন না করে পারে না। সম্প্রতি পিপিআরসি পরিচালিত ‘ইকোনমিক ডায়নামিকস অ্যান্ড মুড অ্যাট হাউসহোল্ড লেভেল ইন মিড ২০২৫’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, দারিদ্র্যের পাশাপাশি অতিদারিদ্র্যের হারও বেড়েছে। সরকারি হিসাবে ২০২২ সালে অতিদারিদ্র্যের হার ছিল ৫ দশমিক ৬। তিন বছর পর এসে অতিদারিদ্র্যের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩৫-এ।
গবেষণামতে, মূলত ২০২০-২০২২ সালের করোনা মহামারি, মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে দারিদ্র্যের হার বেড়েছে। করোনার প্রভাব অনেকটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু মূল্যস্ফীতির হার এখনো অনেক বেশি। অন্যদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগ বাড়ছে না। বিনিয়োগ না বাড়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাচ্ছে, অথচ প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী কর্মবাজারে প্রবেশ করছেন। শিক্ষার মানের অধোগমনও এখানে প্রভাব ফেলছে।
বিগত সরকারের শেষ সময়ে অর্থনীতিতে যে বিশৃঙ্খল অবস্থা ও লুটপাট চলছিল, তা জনজীবনে মারাত্মক বিরূপ প্রভাব ফেলছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর সামষ্টিক অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও সার্বিক পরিস্থিতি এখনো ভালো বলা যাবে না। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ মূল্যস্ফীতি কমাতে পারলেও বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৮ শতাংশের বেশি। যেখানে সাধারণ মানুষকে খাদ্যপণ্যের পেছনে আয়ের ৫৫ শতাংশ ব্যয় করতে হয়, সেখানে তাঁদের পক্ষে বেঁচে থাকার অন্যান্য উপকরণের জোগান দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। খাদ্যপণ্যের মতো পরিবহন, বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ব্যয়ও বাড়ছে অস্বাভাবিক হারে; যদিও সেই অনুপাতে আয় বাড়েনি।
স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা ছিল অন্তর্বর্তী সরকার দারিদ্র্যের হার কমাতে টেকসই পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু গত এক বছরে তাদের নীতি-পরিকল্পনায় সে রকম ছাপ দেখা যায়নি। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো গতানুগতিকভাবে চলছে। জুলাই অভ্যুত্থানের আগে থেকে চলে আসা রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা পুরোপুরি চলে গেছে, তা বলার মোটেই সুযোগ নেই।
অনেকেই বলেছেন, দারিদ্র্য বৃদ্ধি ঠেকাতে সরকারের উদ্যোগ কম কিংবা উদ্যোগ থাকলেও সাধ্য নেই। তদুপরি সামাজিক সুরক্ষায় যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা-ও সব সময় উপযুক্ত ব্যক্তি পান না। স্বার্থান্বেষী মহল হাতিয়ে নেয়। প্রচুর দুর্নীতি হয়। গরিবের হক ধনীরা মেরে খায়।
অন্তর্বর্তী সরকার ইতিমধ্যে নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করেছে। এ অবস্থায় তাদের পক্ষে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া কতটা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে সংশয় আছে। কিন্তু সরকার অন্তত স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারত, যাতে দারিদ্র্যের হার কিছুটা হলেও কমিয়ে আনা সম্ভব হতো।
এ বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোরও দায়িত্ব আছে। দলগুলোর নেতৃত্ব রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা নিয়ে মাসের পর মাস দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলেও জনগণের অর্থনৈতিক সমস্যার বিষয়ে সীমাহীন উদাসীনতা দেখিয়ে আসছেন। রয়েছে চিন্তার সক্ষমতার বিষয়টিও। দারিদ্র্য বিমোচনে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি ও নীতি-পরিকল্পনা কী, সেটা জানার অধিকার নিশ্চয়ই নাগরিকদের আছে।
সেই সঙ্গে আরও দুঃখজনক হলো দুর্নীতি দূরীকরণে কাউকে এখন পর্যন্ত জোরে শব্দ করতে শোনা যায়নি। বাংলাদেশে দুর্নীতি কমানো সম্ভব—এটা অনেকে সম্ভবত বিশ্বাসও করেন না। সাঁড়াশি অভিযানের জোর সম্ভবত ভোঁতা হয়ে গেছে কিংবা কাজ করানোতে কারও উৎসাহ নেই। অথচ আমরা জানি, দুর্নীতিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দরিদ্র জনগোষ্ঠী।
উপরিউক্ত গবেষণাতেই বলা হয়েছে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য তথা পুষ্টিতে পিছিয়ে পড়ছে দরিদ্র মানুষ। তাদের জন্য বরাদ্দ অর্থের অনেকটাই তাদের কাছে পৌঁছায় না। অন্যদিকে সরকারের আয় কম বলে বরাদ্দও কম। রাজনৈতিক বন্দোবস্তও তাদের পক্ষে নয় বা থাকে না। অধিকতর আয়বৈষম্য তাদের ওপর করালগ্রাস হিসেবে কাজ করে। তাই বলাই যায়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই টেকসই না হলে দারিদ্র্য হ্রাসও দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
* মামুন রশীদ, অর্থনীতি বিশ্লেষক

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1449)
- ▼ 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...



