Tuesday, November 11, 2014

বিচার নিয়ে কোনো রাষ্ট্র বা সংস্থার কথা গ্রহণযোগ্য নয় -মিজানুর রহমান

বাংলাদেশের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে বাইরের কোনো রাষ্ট্র বা সংস্থা কথা বলবে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি বন্ধে জাতিসংঘের আহ্বান সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাস দমনের নামে সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রাষ্ট্রে হামলা চালিয়ে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করছে। তখন তো জাতিসংঘ সেগুলোয় সমর্থন করে যায়। অথচ স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় যারা এ জাতির ওপর অমানবিক হত্যাকাণ্ড চালায়, তাদের বিচার যখন দেশের প্রচলিত আইনানুযায়ী হচ্ছে, তখন জাতিসংঘ ফাঁসি বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে।’ দেশের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি ‘স্থিতিশীল’ আছে বলে মন্তব্য করেন মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, এটি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা যেহেতু দিনে দিনে উন্নতি হচ্ছে, সেহেতু মানবাধিকার অবস্থারও ক্রমান্বয়ে উন্নতি হচ্ছে। এর আগে মানবাধিকার চেয়ারম্যান রাজশাহীর একটি অভিজাত হোটেলে সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা ও শিশু সংবাদ প্রসঙ্গবিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন। ইউনিসেফ ও এমআরডিআই ওই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

খালেদাকে শুভেচ্ছা জানাতে ৬ শতাধিক তোরণ

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আগামীকাল বুধবার কিশোরগঞ্জ যাচ্ছেন। বিকেলে তিনি গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেবেন। নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্ব্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে সারা দেশ সফরের অংশ হিসেবে খালেদা জিয়া কিশোরগঞ্জ যাচ্ছেন। এর আগে একই দাবিতে খালেদা জিয়া নীলফামারী, নাটোর ও মুন্সিগঞ্জে ২০–দলীয় জোটের সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শরীফুল আলম। জেলা সদরসহ উপজেলা থেকে কর্মী-সমর্থকদের সমাবেশে উপস্থিত রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। হাওর উপজেলা অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন থেকে কর্মী-সমর্থকদের জড়ো করতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে শতাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া করা হয়েছে। অন্যান্য উপজেলাগুলো থেকে নেতা-কর্মীদের আনা হবে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে। শুধু ভৈরব ও কুলিয়ারচর উপজেলার জন্য শতাধিক বাস প্রস্তুত রাখা আছে। এদিকে নেত্রীকে স্বাগত জানাতে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ৫৬ কিলোমিটার পথসহ জেলা শহরের ভেতরে অন্তত সাড়ে ৬০০ তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। এসব তোরণে খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি নেতাদের ব্যক্তিগত পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে। তা ছাড়া নানা সংগঠনের ব্যানারে হয়েছে অসংখ্য তোরণ। বিএনপির নেতারা জানান, দেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিল্লুর রহমান ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায়। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ সদর আসনের সাংসদ। এ কারণে কেন্দ্রীয় বিএনপি সমাবেশটিকে সফল করার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। আয়োজকরাও বিষয়টি মাথায় রেখে তাঁদের কর্মপন্থা নির্ধারণ করে এখন তাদের কাজ বাস্তবায়ন করে চলেছেন। এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শরীফুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, নানা কারণে কিশোরগঞ্জের সমাবেশটি দেশের অন্য যেকোনো জেলার সমাবেশে থেকে বাড়তি গুরুত্ব বহন করে। তাঁর দাবি, সমাবেশের লোক সমাগম থেকে শুরু করে আয়োজন দেখে দলের কর্মী-সমর্থকেরা নতুন করে প্রেরণা খুঁজে পাবে, যা পরবর্তী লড়াই–সংগ্রামে কাজে আসবে। এদিকে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হিলালী পক্ষ মূল মঞ্চে না থাকার সিদ্ধান্তে অনড় আছে। তাঁরা কোথাও দাঁড়িয়ে নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানানোর পরিকল্পনা থেকেও সরে এসে দিনটি নীরবে কাটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মাসুদ হিলালী বলেন, দিনটি আমি ঘরে বসেই কাটিয়ে দেব।

‘স্বৈরাচার–ব্যবস্থা এখনও অটল’ -আনু মুহাম্মদ

তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব আনু মুহাম্মদ বলেছেন, ‘স্বৈরাচারকে সাথে নিয়েই ঘটা করে স্বৈরাচারদের গুলিতে নিহতদের স্মরণ করা হচ্ছে। ১০ নভেম্বর (গতকাল সোমবার) দুই শহীদকে স্মরণ করা হয়েছে। কিন্তু যে স্বৈরাচারের গুলিতে নূর হোসেন জীবন দিয়েছেন, যেই স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পতনের জন্য বাংলাদেশের মানুষ ষাটের দশকে, আশির দশকে আন্দোলন করেছে। সেই স্বৈরাচার–ব্যবস্থা এখনো অটল আছে।’ আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমীর হলরুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ভাষাসংগ্রামী আবদুল মতিন স্মরণসভা কমিটি আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সদস্যসচিব আনু মুহাম্মদ এসব কথা বলেন। আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরও একটা আন্তর্জাতিক কিংবা উন্নতমানের হাসপাতাল নির্মিত হয়নি এ দেশে। মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতিরা অসুস্থ হলে বিদেশে চলে যান। এ দেশের সাধারণ মানুষের কোনো নাগরিক সুবিধা নেই। অথচ কিউবার মতো অনেক কম সম্পদের ছোট রাষ্ট্রে সব নাগরিকের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রকৌশলীদের সম্পর্কে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘আমাদের মধ্যে থাকা খনিজ সম্পদ উত্তোলনের জন্য এখনো দক্ষ প্রকৌশলী তৈরি হয়নি। বঙ্গোপসাগরে যে গ্যাস সম্পদ রয়েছে, তা দিয়ে শত বছরের জ্বালানি সমস্যা মিটে যেত। কিন্তু সেই সম্পদ উত্তোলনে আমাদের দক্ষ প্রকৌশলী নেই। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ভাষাসংগ্রামী আবদুল মতিন স্মরণসভা কমিটির আহ্বায়ক মতিলাল বণিকের সভাপতিত্বে ও অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক আবদুন নূরের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন কমিটির সদস্যসচিব নাসির মিয়া। সভায় আরও বক্তব্য দেন ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক কাজী মাসুদ আহমেদ, সিপিবির নেতা ঈসা খাঁন, জেলা জাসদের সভাপতি আকতার হোসেন সাঈদ, নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চার আহ্বায়ক সৈয়দ সালাউদ্দিন মুকুল ও ঐক্য-ন্যাপ সভাপতি প্রবীর কুমার দেব। সভায় একুশের কবিতা আবৃত্তি করেন বাচিকশিল্পী মো. মনির হোসেন, হাবিবুর রহমান পারভেজ ও বাছির দুলাল।

চাকরির জন্য লোক ধরাধরি অবমাননাকর: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শিক্ষা সমাপনের পর চাকরির জন্য এখানে-সেখানে লোকজনকে ধরাধরি করা শিক্ষিত লোকজনের জন্য অবমাননাকর। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির (আইসিটি) সহায়তা নিয়ে উদ্যোক্তা হয়ে অন্যদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য দেশের যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ডিজিটাল সেন্টার উদ্যোক্তাদের সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র (ইউআইএসসি) হিসেবে পরিচিত চার হাজার ৫০০ ডিজিটাল সেন্টারের প্রায় ১১ হাজার উদ্যোক্তা এ সম্মেলনে যোগ দেন। খবর বাসসের। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই না, আমাদের যুবসমাজ তাদের চাকরির জন্য এখানে-সেখানে ঘোরাফেরা করুক। অন্যের ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে আমাদের যুবসমাজ স্ব-উদ্যোক্তায় পরিণত হোক, নিজের পায়ে দাঁড়াক এবং অন্যের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করুক।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রতিটি ব্যক্তিকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করার লক্ষ্যেই ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। নিজের পায়ে দাঁড়ানো শুধু বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, আমরা আমাদের বেকার যুবকদের জন্য এমন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব, যাতে তাঁরা বিদেশে গিয়েও কর্মসংস্থান করতে পারে।’ প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল সেন্টার উদ্যোক্তাদের দেশের ‘ডিজিটাল সন’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে আত্মনিয়োগ করতে আহ্বান জানান। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব এম মঞ্জুর হোসেনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর তথ্য প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, তথ্য ও যোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এবং ইউএনডিপির কান্ট্রি ডিরেক্টর পাওলিন তামেসিস বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন।
>>রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আজ মঙ্গলবার ডিজিটাল সেন্টার উদ্যোক্তাদের সম্মেলনে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ফোকাস বাংলা

চাকরির জন্য লোক ধরাধরি অবমাননাকর: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শিক্ষা সমাপনের পর চাকরির জন্য এখানে-সেখানে লোকজনকে ধরাধরি করা শিক্ষিত লোকজনের জন্য অবমাননাকর। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির (আইসিটি) সহায়তা নিয়ে উদ্যোক্তা হয়ে অন্যদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য দেশের যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ডিজিটাল সেন্টার উদ্যোক্তাদের সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র (ইউআইএসসি) হিসেবে পরিচিত চার হাজার ৫০০ ডিজিটাল সেন্টারের প্রায় ১১ হাজার উদ্যোক্তা এ সম্মেলনে যোগ দেন। খবর বাসসের। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই না, আমাদের যুবসমাজ তাদের চাকরির জন্য এখানে-সেখানে ঘোরাফেরা করুক। অন্যের ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে আমাদের যুবসমাজ স্ব-উদ্যোক্তায় পরিণত হোক, নিজের পায়ে দাঁড়াক এবং অন্যের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করুক।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রতিটি ব্যক্তিকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করার লক্ষ্যেই ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। নিজের পায়ে দাঁড়ানো শুধু বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, আমরা আমাদের বেকার যুবকদের জন্য এমন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব, যাতে তাঁরা বিদেশে গিয়েও কর্মসংস্থান করতে পারে।’ প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল সেন্টার উদ্যোক্তাদের দেশের ‘ডিজিটাল সন’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে আত্মনিয়োগ করতে আহ্বান জানান। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব এম মঞ্জুর হোসেনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর তথ্য প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, তথ্য ও যোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এবং ইউএনডিপির কান্ট্রি ডিরেক্টর পাওলিন তামেসিস বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন।
>>রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আজ মঙ্গলবার ডিজিটাল সেন্টার উদ্যোক্তাদের সম্মেলনে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ফোকাস বাংলা

চট্টগ্রামে দানবাক্সের পাঁচ লাখ টাকা লুট

নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদের দানবাক্সের প্রায় ৫ লাখ টাকা লুট করেছে ছাত্রলীগ-যুবলীগ নামধারীরা। রোববার দুপুর ১টার দিকে মসজিদ কমপ্লেক্সের ইসলামিক ফাউন্ডেশন অফিস থেকে এ লুটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত টাকাগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার দুপুরে জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদের দানবাক্সগুলো একসঙ্গে খোলা হয়। এরপর টাকাগুলো গণনা করা হয়। গণনা করে দেখা যায় গত এক সপ্তাহে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দানবাক্সে পড়ে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন অফিসে দানবাক্স থেকে সংগৃহীত আগের সাড়ে ৩ লাখ টাকা জমা ছিল। টাকা গণনার পর মুসল্লি কমিটি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের মধ্যে টাকা জমা রাখাকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
একপর্যায়ে সরকার দলীয় স্থানীয় নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের কাছ টাকাগুলো ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
সূত্র জানায়, মুসল্লি কমিটির সভাপতি ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম ও আমজাদ হাজারীর নেতৃত্বে ১১-১৩ নেতাকর্মী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। লুট হওয়া টাকাগুলো হাজী আবদুল হাই নামে একটি হিসাবে জমা রাখা হয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। নিয়মানুসারে সরকারি মসজিদের আর্থিক বিষয়গুলো দেখাশোনার দায়িত্ব ইসলামিক ফাউন্ডেশনের। মুসল্লি কমিটির নয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন আইনে তা স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের লোকজন ক্ষমতার জোরে টাকাগুলো লুট করেছে।
টাকা লুটের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) বোরহান উদ্দিন মো. আবু হাসান যুগান্তরকে জানান, লুট হওয়া টাকা এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আমরা লুট হওয়া টাকাগুলো উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে টাকা লুটের ব্যাপারে জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) নেজাম উদ্দিন যুগান্তরকে জানান, বিষয়টি প্রথম আপনার কাছে থেকে জানলাম। ঘটনা সত্য হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে মুসল্লি কমিটির সভাপতি ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম জানান, টাকাগুলো আমার কাছে জমা রাখা হয়েছে, লুট করা হয়নি। মসজিদের টাকা আপনার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টাকাগুলো ওখান থেকে তুলে মসজিদের উন্নয়নে খরচ করলে কারও অসুবিধা থাকার নয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন জেলা প্রশাসককে কেন অভিযোগ দিয়েছেন তা বোধগম্য নয়।

সিলেটে ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের নামে কোটি টাকা আত্মসাৎ

সিলেটে ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের নামে কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে একটি প্রতারক চক্র। প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের নামে জামানত হিসেবে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নেয় এ চক্র। সোমবার সন্ধ্যায় প্রতারিত শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা কথিত ট্রেনিং ইন্সটিটিউট ঘেরাও করেন। প্রায় ৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রেখে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন তারা। এতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন অধ্যক্ষ মোছা. নিপাসহ প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা। এ সময় তারা হজরত শাহজালাল (র.) মাজার সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রথমে তারা অবরোধকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও সফল হননি। একপর্যায়ে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের চাপের মুখে অধ্যক্ষ মোছা. নিপাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। তবে তার স্বামী আমিনুল ইসলাম পালিয়ে যান। বিতর্কিত এ প্রতিষ্ঠানের নাম সিলেট প্রফেশনাল টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট। নগরীর হযরত শাহজালাল (র.) মাজার সংলগ্ন দরগাহ গেট এলাকায় একটি ভবন ভাড়া করে ৪ বছর ধরে তারা এমন প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি- এ ইন্সটিটিউটটি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত। অভিযোগ পাওয়া গেছে, এ প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটারসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের নামে ছাত্র ভর্তি করা হয় বিভিন্ন ব্যাচে। প্রশিক্ষণ শেষ হলে কর্মসংস্থানের কথা বলে জামানত হিসেবে চাওয়া হয় লাখ লাখ টাকা। টাকার বিপরীতে তাদের চেকও দেয়া হয়। এভাবে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ ও চাকরি প্রদানের কথা বলে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। ছোট্ট একটি অফিসের নামকাওয়াস্ত বিভিন্ন পদ দেখিয়ে শত শত লোককে নিয়োগ এবং জামানত হিসাবে লাখ লাখ টাকা আদায় সন্দেহের অবতারণা করে নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে। তাছাড়া চাকরি ও বেতন দুটোই হবে হচ্ছে এমন আশ্বাস দিয়ে মাসের পর মাস বিলম্ব করতে থাকায় ধৈর্যহীন হয়ে পড়েন নিয়োগপ্রাপ্তরা। একপর্যায়ে সোমবার তারা সংগঠিত হয়ে কথিত ট্রেনিং ইন্সটিটিউটটি ঘেরাও করেন। বিকাল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তারা ঘেরাও করে রাখেন ইন্সটিটিউটটি। প্রতারণার শিকার শিক্ষার্থী কুলাউড়ার জয়পাশা গ্রামের এমদাদুর রহমান জানান, চলতি বছর জানুয়ারিতে ৪ বছরের ডিপ্লোমা কোর্সে (সিভিল ইঞ্জিনিয়ার) ভর্তি হন তিনি। ৮ সেমিস্টারে ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা পরিশোধের শর্তে জানুয়ারি মাসে ২০ হাজার টাকা দিয়ে তিনি ভর্তি হন। জুলাই মাসে দ্বিতীয় সেমিস্টারে আরও ২০ হাজার টাকা দেন। কিন্তু ক্লাস নিয়মিত হয় না। শিক্ষক নেই এমন অব্যবস্থাপনার মধ্যে চলছে। এভাবে প্রায় ১২০ জন ছাত্রের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা করে ২৪ লাখ টাকা নিয়ে ভর্তি করে তারা। জুলাই মাসে ২য় সেমিস্টারের টাকা ২০ হাজার করে আরও ২৪ লাখ টাকা নেয়। কিন্তু শিক্ষক নেই। ২-৩ মাস পরপর শিক্ষক চলে যান। এমন অব্যবস্থাপনার কারণে অভিভাবকরা খবর নেন বাংলাদেশ কারিগর শিক্ষা বোর্ডে। তারা জানতে পারেন সিলেট প্রফেশনাল টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট নামে কোনো অনুমোদিত ইন্সটিটিউট নেই। এ খবর ছাত্রদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তারা ইন্সটিটিউটটি ঘেরাও করেন। এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ওসি আসাদুজ্জামান জানান, ভুয়া ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের নামে দীর্ঘদিন থেকে চক্রটি প্রতারণা করে আসছিল। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ইন্সটিটিউট ঘেরাও করলে অধ্যক্ষ মোছা. নিপাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। তার বাড়ি মাদারীপুর জেলায় বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিগন্যাল ছাড়াই চলবে গাড়ি

একবার ভাবুন তো উত্তরা থেকে মতিঝিল কিংবা মতিঝিল থেকে মিরপুর যেতে আপনার গাড়িটি একবারও সিগন্যালে না পড়ে তাহলে কেমন হয়! নিশ্চয়ই অনেক মজা। কারণ মাত্র ৩০ মিনিটেরও কম সময়ে মতিঝিল থেকে উত্তরা বা ২০ মিনিটের মধ্যে মতিঝিল থেকে মিরপুর পৌঁছানো সম্ভব। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজট নিরসনে এমনই কিছু আশার বাণী শুনিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, এ জন্য প্রয়োজন ২০টি বেহিকুলার আন্ডারপাস বা মাটির নিচের রাস্তা। এই আন্ডারপাসগুলো তৈরি হলেই কোনো সিগন্যালে পড়া ছাড়াই মতিঝিল থেকে মিরপুর বা উত্তরা পর্যন্ত দ্রুতগতিতে চলবে সব ধরনের গাড়ি।
রাজধানী ঢাকায় যানজট নিরসনে এমনই বেশ কিছু বেহিকুলার আন্ডারপাস নির্মাণের পদক্ষেপ নিয়েছে ডিএসসিসি। শুরুতে মিরপুর রোডে ৬টি, ফকিরাপুল ও রাজারবাগে দুটিসহ মোট ১০টি বেহিকুলার আন্ডারপাস নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এসব আন্ডারপাস দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল করবে।
ডিএসসিসি সূত্র জানায়, রাজধানীর ২০টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংযোগস্থলে এ ধরনের আন্ডারপাস নির্মাণ করার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। তবে দু’ভাগে এগুলো নির্মাণ করা হবে। প্রথম ধাপে নির্মাণ করা হবে ফকিরাপুল ও শাহজাহানপুরসহ মিরপুর রোডের ১০টি স্থানে। এ ১০টির জন্য ৬৪০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদন চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে ডিএসসিসি। একইভাবে এয়ারপোর্ট রোডে ১০টি আন্ডারপাস নির্মাণের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, ঢাকার যানজট দীর্ঘদিনের। যানজটে পড়ে হাজার হাজার কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। ক্ষতি হয় মানুষ ও গাড়ির। থেমে যায় কর্মস্পৃহা, নেমে আসে অবসাদ। এই যানজট যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে পড়েছে। এ থেকে নগরবাসীকে রেহাই দিতে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ওই সব প্রকল্প ও পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। সংশ্লিষ্টরা নতুন করে মনে করছেন, যানজটের অন্যতম কারণ সড়কের গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিং। একদিক থেকে গাড়ি যেতে আরেক সড়ক বন্ধ রাখতে হয়। ফলে দীর্ঘ যানজট লেগে যায়। এই ক্রসিংয়ে গাড়ি চলাচলে যাতে কোনো সড়ক বন্ধ না থাকে সে জন্যই মাটির নিচ দিয়ে রাস্তা (বেহিকুলার আন্ডারপাস) নির্মাণ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সিটি কর্পোরেশন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রথম ধাপে মিরপুর রোডের ধানমণ্ডি ২৭ নম্বরে, ৭ নম্বরে ও ২ নম্বরে, রাসেল স্কোয়ার, সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়, নীলক্ষেত, মানিক মিয়া এভিনিউয়ের মাথায়, টিচার্স ট্রেনিং সেন্টার, ফকিরাপুল ও শাহজাহানপুর সংযোগস্থলে আন্ডারপাস নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্প অনুমোদনের জন্য ২৬ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে ডিএসসিসি। একইভাবে ২য় পর্যায়ের ১০টি আন্ডারপাস নির্মাণের প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এই ১০টির মধ্যে রয়েছে- মৎস্য ভবন ক্রসিং, শাহবাগ, সাকুরা (সাবেক শেরাটন হোটেল), বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, বিজয় সরণির পশ্চিমে, মহাখালী, কামাল আতাতুর্ক ও বনানী ক্রসিং।
ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন) মো. আশিকুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, বেহিকুলার আন্ডারপাস নির্মাণ করা হলে নগরীর সৌন্দর্য বিঘ্নিত না করে যানজট নিরসনে সময়োপযোগী সমাধান হবে। এ ছাড়াও এটা ভবিষ্যতে মেট্রো লাইন নির্মাণ বা এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মাণে কোনো বাধার কারণ হবে না। তিনি আরও বলেন, একটি সড়ক সংযোগস্থলে ফ্লাইওভার নির্মাণ বাবদ ব্যয় হয় কমপক্ষে ৩৫০ কোটি টাকা। সেখানে আন্ডারপাস নির্মাণ করা হলে ব্যয় পড়বে ৪৫ কোটি টাকা।
এ ছাড়া একটি আন্ডারপাস নির্মাণস্থলে পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য ১৮ কোটি টাকা ও কনসালটেন্সি বাবদ এক কোটি টাকা। অর্থাৎ সব মিলিয়ে একটি বেহিকুলার আন্ডারপাস নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৪ কোটি টাকা। তিনি বলেন, ইউটিলিটি সংস্থার সহায়তায় ৯ মাসের মধ্যে আন্ডারপাস নির্মাণ করা সম্ভব।

ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি অবরোধে অচল চবি

ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও অবরোধে অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ছাত্রলীগ কর্মী মিঠুনের ওপর হামলাকারী ভিএক্স গ্রুপের নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের দাবিতে শাটল ট্রেন অবরোধ করেছে ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। সোমবার ছাত্রলীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সুমন মামুন ও সহসভাপতি অমিত কুমার বসুর অনুসারীরা এ অবরোধ পালন করে। এ সময় তারা শাটল ট্রেনের লাইনে টায়ার জ্বালিয়ে কয়েক দফা বিক্ষোভ মিছিল করে। অন্যদিকে ছাত্রলীগের ভিএক্স গ্রুপের কর্মীদের ওপর সুমন মামুন গ্র“পের কর্মীদের হামলার পাল্টা অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়েছে প্রতিপক্ষ গ্রুপের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা দুঘণ্টা প্রধান ফটক অবরোধ করে রাখে এবং কয়েক দফা বিক্ষোভ মিছিল করে। উভয় গ্রুপের কর্মসূচিতে কার্যত অচল হয়ে পড়ে ক্যাম্পাস।
গ্র“প দুটি নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী। দুপক্ষের অবরোধে চরম ভোগান্তিতে পড়ে শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি। অবরোধ করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসও।জানা গেছে, সোমবার সকাল পৌনে আটটার দিকে ষোলশহর রেলস্টেশনে বিশ্ববিদ্যালয়গামী প্রথম শাটল ট্রেনটি প্রথমে অবরোধ করে সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সুমন মামুন ও সহসভাপতি অমিত কুমার বসুর অনুসারীরা। এ সময় তারা শাটল ট্রেন না চালাতে স্টেশন মাস্টার ও লোকোমাস্টারকে হুমকি দিলে লোকোমাস্টার ট্রেনের ইঞ্জিন ষোলশহর থেকে বটতলী স্টেশনে নিয়ে যায়।এরপর ছয় দফা দাবিতে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করে তারা। ফলে ষোলশহর স্টেশন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গামী দিনের কোনো ট্রেন চলাচল করেনি।অবরোধের বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা এসএম আলাউদ্দিন আলম যুগান্তরকে জানান, আমাদের দুজন নেতাকর্মী রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে গেলে ছাত্রলীগ ক্যাডার জালাল-রবিন-রূপমের নেতৃত্বে কয়েকজন তাদের ওপর হামলা করে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে নামব।এ বিষয়ে ষোলশহর রেলস্টেশনের পুলিশ ইনচার্জ আরব আলী জানান, সকাল পৌনে আটটার দিকে ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী শাটল ট্রেন চালাতে নিষেধ করলে ট্রেন বটতলী স্টেশনে ফেরত যায়। বিশ্ববিদ্যালয় বা পুলিশ প্রশাসন থেকে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে বিষয়টি অবহিত করেছি। উনারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।এদিকে ভিএক্স গ্রুপের নেতাকর্মীদের ওপর সুমন গ্র“পের কর্মীদের হামলার অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দুঘণ্টা অবরোধ পালন করেছে ভিএক্স গ্র“পের নেতাকর্মীরা। সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এ অবরোধ করে তারা। এ সময় মূল ফটকে তালা লাগিয়ে তারা সড়কে অবস্থান নেয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে হামলার ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিতের আশ্বাস দেয়া হলে তারা ফটকের তালা খুলে দেয়। বগিভিত্তিক ভিএক্স গ্রুপটি নিয়ন্ত্রণ করেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক দফতর সম্পাদক জালাল আহমেদ, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক রূপম বিশ্বাস, হাবিবুর রহমান রবিনসহ কয়েকজন নেতা।ভিএক্স গ্র“পের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, রোববার রাত ১০টা থেকে সোমবার সকাল আটটা পর্যন্ত দুই দফা হামলায় তাদের পাঁচ কর্মী আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন- ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের গোলাম রব্বানি, গণিত বিভাগের অনুপম বড়ুয়া, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সায়মন, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের কায়সার শাকিল এবং ফলিত ও পদার্থবিদ্যা বিভাগের নাজিম হোসেন পলাশ।এদের মধ্যে প্রথম চারজনকে রাত ১০টায় এবং পলাশকে সকাল আটটার দিকে ষোলশহর স্টেশনে হামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভিএক্স গ্র“পের নেতা সরোয়ার পারভেজ জনি।প্রধান ফটকে তালা ঝুলানোর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির দফতর সম্পাদক জালাল আহমেদ জানান, অমিত-সুমনের নেতাকর্মীরা আমাদের পাঁচ নেতাকর্মীর ওপর হামলা করেছে। হামলার মধ্য দিয়ে তারা শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের শাস্তির আওতায় না আনলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।তবে ভিএক্স কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা সাজানো নাটক বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিপক্ষ গ্রুপের নেতা অমিত কুমার বসু। তিনি জানান, আমাদের এক কর্মীর ওপর হামলার ঘটনায় চলমান প্রতিবাদী আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য এ মিথ্যা নাটক সাজানো হচ্ছে।বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর সিরাজ উদদৌলাহ জানান, রোববারের ঘটনায় জড়িতদের সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবুও শাটল ট্রেন অবরোধ করা হয়েছে তা বোধগম্য নয়। ভিএক্স গ্রুপের নেতাকর্মীদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, তাদের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পেয়েছি। ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক খান তৌহিদ ওসমানকে প্রধান করে দুসদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

চার বিভাগে ট্রেন চলাচল বন্ধের উপক্রম

স্টেশন মাস্টার, গার্ড ও চালক স্বল্পতায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে রেলওয়ের চার বিভাগে ট্রেন চলাচল। ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে একটি রুট। জরুরি ভিত্তিতে এসব পদে লোক নিয়োগ না হলে খুব শিগগিরই বন্ধ হবে বাকি রুটগুলোর ট্রেন চলাচল। পাশাপাশি মাস্টারের অভাবে পুনরায় চালু করা সম্ভব হচ্ছে না বন্ধ হওয়া ১৩২টি স্টেশন। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে দুইজনের পরিবর্তে একজন করে চালক ও গার্ড দিয়ে ঝুঁকিতে চলছে বিভিন্ন রুটের ট্রেন। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, স্টেশন মাস্টার, চালক ও গার্ড- এ তিন পদে কর্মরতদের অধিকাংশই চুক্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন। সম্প্রতি এদের বেশির ভাগেরই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এ সংকট দেখা দিয়েছে। অবসরপ্রাপ্তদের চুক্তিতে নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি এখন রেলওয়ে বিভাগের একটি স্থায়ী সংস্কৃতি। এর পেছনে মোটা অংকের লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের আরও অভিযোগ, যথাসময়ে নতুন লোক না নিয়ে এই মুহূর্তে সৃষ্টি করা হয়েছে একটি কৃত্রিম সংকট। যাতে আবারও চুক্তিতে লোক নিয়োগ দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। কারণ এই মুহূর্তে যদি নতুন লোক নিয়োগ দেয়াও হয়, সেক্ষেত্রে তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ শেষে পুরোদমে কাজ শুরু করতে লেগে যাবে এক থেকে দুই বছর।
আরও জানা গেছে, চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া ২৩ জন চালক ও ৫২ জন গার্ডের চাকরির মেয়াদ গত ১৮ নভেম্বর শেষ হয়েছে। ফলে রেলওয়ের পাকশী, ঢাকা, লালমনিরহাট ও চট্টগ্রাম- এ চার বিভাগে রেল চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। গার্ড ও চালকের স্বল্পতায় সিলেটের শায়েস্তাগঞ্জ-ভৈরব রুটের লোকাল বাল্লা ট্রেনটি ২১ অক্টোম্বর থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে শূন্য পদগুলোতে আবারও চুক্তিতে চালক, গার্ড ও স্টেশন মাস্টার নিয়োগ দিতে না পারলে চলতি মাসেই আরও ৫/৭টি লোকাল ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিতে হবে।
রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সম্পতি সারা দেশে ৫৩ জন ট্রেন চালককে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে যথাযথ প্রশিক্ষণ শেষে তাদের যাত্রীবাহী ট্রেন চালাতে দেয়া হবে। এছাড়া ১৭৭ জন চালক, ৩শ স্টেশন মাস্টার ও ৯৩ জন গার্ড নিয়োগের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক চাপ ও নানা অনিয়মের অভিযোগে এ নিয়োগ সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। আর স্টেশন মাস্টারের অভাবেই চালু করা যাচ্ছে না ১৩২টি স্টেশন।
এছাড়া নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ট্রেনে ২ জন করে চালক ও গার্ড থাকার কথা। কিন্তু এ মুহূর্তে উল্লেখিত রুটগুলোতে একজন করে থাকছে। এ প্রসঙ্গে লালমনিরহাট বিভাগের বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, চালক ও গার্ড স্বল্পতায় বিভিন্ন যাত্রীবাহী ট্রেন একজন দিয়ে চালাতে হচ্ছে। ফলে ট্রেন চলাচলে ঝুঁকি থাকছেই। পাকশী বিভাগের বাণিজ্যিক কর্মকর্তা সুবিত কুমার বিশ্বাস জানান, জরুরি ভিত্তিতে গার্ড ও চালক নিয়োগ করা না গেলে ট্রেন চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
জানতে চাইলে রেলওয়ে মহাপরিচালক তাফাজ্জল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ১৭৭ জন ট্রেন চালক, ৩শ স্টেশন মাস্টার ও ৯৩ জন গার্ড নিয়োগের কাজ অচিরেই সমাপ্ত হবে। এসব পদে নিয়োগ সম্পন্ন হলে সমস্যা মিটে যাবে। তখন আর অবসরপ্রাপ্তদের দিয়ে চুক্তি ভিত্তিতে ট্রেন চালাতে হবে না।
গার্ড ও চালকের অভাবে বন্ধ করে দেয়া বাল্লা ট্রেনটিও দ্রুত সময়ের মধ্যে চালু করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র অভিযোগ করেছে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শূন্য পদে লোক নিয়োগ না করে অবসরপ্রাপ্তদের দিয়ে চুক্তিভিত্তিক কাজ করানো হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে অবৈধ অর্থবাণিজ্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ে শ্রমিক লীগের এক নেতা বলেন, যথাসময়ে নতুন লোক নিয়োগ না দিয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে মহাব্যস্ত রয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আর এসব চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে অহেতুক মোট অংকের অর্থ গচ্চা দিচ্ছে সরকার। কারণ চুক্তিতে নিয়োগপ্রাপ্তরা নিয়মিতদের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দৈনিক ভাতা পাচ্ছেন।

সিটি ব্যাংকে পারটেক্স গ্রুপের স্বেচ্ছাচারিতা

বেসরকারি খাতের সিটি ব্যাংকে পারটেক্স গ্র“পের স্বেচ্ছাচারিতা চলছে। কর্পোরেট ব্যবস্থাপনার পরিবর্তে ব্যাংকটি এখন পরিণত হয়েছে পারিবাবিক প্রতিষ্ঠানে। দেশের আইন-কানুন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে খেয়ালখুশি মতো প্রতিষ্ঠানটি চালাচ্ছেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান রুবেল আজিজ।
নিয়মানুযায়ী, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একই পরিবারের দুজনের বেশি থাকা যায় না। কিন্তু সিটি ব্যাংকে ১৪ পরিচালকের মধ্যে এক পরিবারেরই রয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন- চেয়ারম্যান রুবেল আজিজ, সাবেক চেয়ারম্যান এবং বর্তমান পরিচালক আজিজ আল কায়সার, পরিচালক আজিজ আল মাহমুদ, তাবাসসুম কায়সার এবং সৈয়দা শায়রিন আজিজ। বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংখ্যা দুজনের মধ্যে নামিয়ে আনার জন্য সর্বশেষ সময় বেঁধে দিয়েছিল ৩০ অক্টোবর। কিন্তু সে নির্দেশও আমলে নেয়নি তারা।
দৈনন্দিন কাজে চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ করায় ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে মাহমুদ সাত্তারকে চাকরি হারাতে হয়েছিল। এছাড়া জালিয়াতির মাধ্যমে বিশ্বাস গ্রুপকে ঋণ দেয়া এবং ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতিসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে ব্যাংকটির একাধিক অনিয়ম ধরা পড়েছে। পারটেক্স গ্র“প ব্যাংক কোম্পানি আইনের তিনটি ধারার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এ ব্যাংকে অবাধে কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।
পরিবারতন্ত্র : পরিচালনা পর্ষদে একই পরিবারের দুই সদস্যের বেশি না থাকার বাধ্যবাধকতা মানছে না সিটি ব্যাংক। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তিন দফা নির্দেশনা দেয়া হয়। কিন্তু তারা তা আমলে নেয়নি। একই পরিবারের ৫ সদস্যকে পর্ষদে রাখার জন্য ভিন্ন এক কোম্পানির নামে একজন পরিচালককে নিয়োগ দিয়ে আইনকে শুভংকরের ফাঁকি দিয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এটি মেনে নেয়নি। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে দেয়া সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুসারে ৮৩৪ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের এ ব্যাংকটিতে উদ্যোক্তাদের মোট শেয়ার ৩১ দশমিক ২২ শতাংশ, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ৫৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এর মধ্যে একই পরিবারের ওই ৫ পরিচালকের সম্মিলিত শেয়ার ১১ দশমিক ৪১ শতাংশ। উদ্যোক্তা শেয়ারের মধ্যে ব্যাংকের চেয়ারম্যান রুবেল আজিজের রয়েছে ১ কোটি ৭৫ লাখ ৫ হাজার ৯০৮টি, যা ব্যাংকের মোট শেয়ারের ২ দশমিক ৪৯ শতাংশ, তার স্ত্রী সৈয়দা শায়রিন আজিজের ২ দশমিক ০১ শতাংশ এবং ভাই আজিজ আল কায়সারের ২ দশমিক ৯১ শতাংশ। এছাড়া তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পরিচালক আজিজ আল মাহমুদের ২ শতাংশ এবং তাবাসসুম কায়সারের ২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের কাছে কোনো ব্যাংকের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার রাখা যাবে না। কিন্তু ওই পরিবারের কাছে রয়েছে ১১ দশমিক ৪১ শতাংশ শেয়ার। ওই আইন লংঘনের দায়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সমুদয় বা অতিরিক্ত শেয়ার বাজেয়াপ্ত করতে পারে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ওই ধারা বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।
আইন লংঘন : ব্যাংক কোম্পানি আইন (সংশোধন)-২০১৩ এর ধারা ১৫-এর উপধারা (১০)-এ বলা আছে, বলবৎ অন্য কোনো আইন অথবা কোনো ব্যাংক- কোম্পানির সংঘস্মারক ১ (এক) বৎসর অতিবাহিত হইবার পর হইতে কোনো একক পরিবার হইতে দুই জনের অধিক সদস্য একই সময়ে কোনো ব্যাংক-কোম্পানির পরিচালক পদে অধিষ্ঠিত থাকিবে না। আইনটিতে এ উপধারার ব্যাখ্যা দেয়া আছে এভাবে, এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে পরিবারের সদস্য হিসেবে স্বামী বা স্ত্রী, পিতা, মাতা, পুত্র, কন্যা, ভাই ও বোন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল সকলেই অন্তর্ভুক্ত হইবেন। সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইন-২০১৩ পাস হয়েছে গত বছরের ২২ জুলাই। সে হিসেবে ২০১৪ সালের ২২ জুলাই এক বছর পার হয়েছে। আর এ উপধারাটিও কার্যকরী হয়েছে। তাই এখন কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একই পরিবারের দুজনের বেশি সদস্য পরিচালক হিসেবে থাকলে তা হবে অবৈধ।
প্রচলিত আইন অনুযায়ী একই সময়ে কোনো ব্যক্তি কোনো ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হতে পারবেন না। কিন্তু সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান রুবেল আজিজ একই সঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসিরও পরিচালক, যা ব্যাংক কোম্পানি আইনের লংঘন। এ বিষয়েও কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নির্দেশনা দেয়া হলেও তারা তা মানছেন না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য : এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মাহফুজুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারগুলো নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। যারা নিয়ম মানছে না বা নিয়ম না মেনে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করেছে তাদের চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। এর পরও কেউ অবস্থান ঠিক না করলে তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
এমডির বিদায় : ব্যাংক কোম্পানি আইন মোতাবেক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, চেয়ারম্যান বা পরিচালকরা ব্যাংকের স্বাভাবিক ও দৈনন্দিন কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। কিন্তু রুবেল আজিজ তা মানতে নারাজ। তাই তার নির্দেশ ছাড়া ব্যাংকের সামান্য কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা ছিল না কে মাহমুদ সাত্তারের। এক পর্যায়ে কে মাহমুদ সাত্তার চেয়ারম্যানের কাজের বিরোধিতা করলে তাকে পদত্যাগ করতে বলেন রুবেল আজিজ।
সূত্র জানায়, ২০০৭ সালে কে মাহমুদ সাত্তার সিটি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নেন। তখন আজিজ আল কায়সার ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন। কিন্তু পরে চেয়ারম্যান রুবেল আজিজের সঙ্গে কোনোভাবে মিলে কাজ করতে পারছিলেন না তিনি। সূত্র বলছে, রুবেল আজিজ ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রমে রীতিমতো নাক গলাতে শুরু করেন। এমনকি তিনি ব্যাংকের ঋণ অনুমোদনেও খামখেয়ালিপনা করেন। নিকটজন ও পরিচিত ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণ দিতেই তিনি বেশি আগ্রহ বোধ করেন।
ঋণ জালিয়াতি : বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ঋণ জালিয়াতি করে নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান বিশ্বাস গ্র“পকে ৬৫ কোটি টাকা আত্মসাতের সুযোগ করে দেয় ব্যাংকটি। আর সাবেক চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সারের এ সিদ্ধান্তে ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখা থেকে ঋণ দেয়া হয়। পরবর্তীকালে বর্তমান চেয়ারম্যান রুবেল আজিজের সিদ্ধান্তে আবার সেই ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বাস গ্র“পের যে আট প্রতিষ্ঠানের জন্য ঋণ দেয়া হয়েছিল তার সবগুলোই নামসর্বস্ব। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান কখনোই চালু হয়নি। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৬৫ কোটি টাকা আদায় অযোগ্য হিসেবেই দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সিটি ব্যাংকের কাছে গ্র“পটির যে সম্পদ বন্ধক আছে, তার বাজারমূল্য সাকুল্যে ১৬ কোটি টাকার মতো। এছাড়া ব্যাংকের একক ঋণসীমা ছিল ৪০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ সীমা অতিক্রম করে ঋণ দেয়া হয়েছে।
কার্ড জালিয়াতি : গত দেড় বছরে ব্যাংকটি থেকে গ্রাহকের ক্রেডিট ও ডেভিড কার্ডের ৬ কোটি টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আÍসাতের তথ্য পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটি বিভিন্ন সময়ে গ্রাহকের অজ্ঞাতে টাকা তুলে নেয়। পরে গ্রাহকের কোনো অভিযোগও আমলে নেয় না। এভাবে গ্রাহকের অজান্তে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে।
খেলাপি ঋণ : বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুসারে ব্যাংকটির খেলাপি ও অবলেপন মিলিয়ে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ৫৯৩ কোটি এবং অবলেপন ৯৯৭ কোটি টাকা।
কে এই রুবেল আজিজ : রুবেল আজিজ হলেন বিএনপি-জামায়াতপন্থী ব্যবসায়ী পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ হাশেমের ছেলে। সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছাড়াও বর্তমানে তিনি আইডিএলসির পরিচালক ও এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান। রুবেল আজিজ পারটেক্স গ্র“পের বেশ কয়েকটি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদেও রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে- পারটেক্স বেভারেজ, পারটেক্স জুট মিল, পারটেক্স প্লাস্টিক, পারটেক্স এক্সেসারিজ। এছাড়া তিনি পারটেক্স অ্যাম্বার কটন মিলস, পারটেক্স সুগার মিলস, পারটেক্স ডেনিমের পরিচালক। তিনি জড়িত রয়েছেন জনতা ইন্স্যুরেন্স, বনানী ক্লাব অ্যান্ড বনানী সোসাইটি এবং ইবাইস ইউনিভার্সিটির সঙ্গেও।

বিএনপির রাজনীতিতে আঁতাত ফ্যাক্টর : হতাশা তৃণমূলে


ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে ‘আঁতাতের’ রাজনীতি করছেন ফরিদপুর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কয়েকজন নীতিনির্ধারণী নেতা। বিনিময়ে সরকারি দল থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও পেয়েছেন এবং পাচ্ছেন। হামলা-মামলা থেকে নিজেদের রেখেছেন নিরাপদ। অন্যদিকে যেসব নেতাকর্মী মাঠে নেমে সরকারবিরোধী আন্দোলন করছেন তারা শিকার হচ্ছেন হামলা, মামলাসহ নানা হয়রানির। কেউ কেউ জেল খেটেছেন। অনেকে এলাকা ছেড়ে রয়েছেন আত্মগোপনে। এসব কারণেই ফরিদপুরে বিএনপি সরকারবিরোধী বড় কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি বলে মনে করেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, কিছু নেতার আঁতাতের রাজনীতির কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমনকি কেন্দ্র ঘোষিত দলীয় কর্মসূচি পালনের আগে সরকারি দলের নেতাদের অনুমতি নেন এসব নেতা। বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতার সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে কিছু নেতার আঁতাতের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ কোন্দলেও বিপর্যস্ত ফরিদপুর জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলো। ফরিদপুর জেলা শহরে বিএনপির দলীয় কোনো কার্যালয় নেই। হাট-বাজার, চায়ের দোকান, নেতাদের বাসাবাড়িতে পরিচালিত হচ্ছে সাংগঠনিক কার্যক্রম। ৫ বছর ধরে দলের কাউন্সিল হচ্ছে না। দুই দফায় উদ্যোগ নেয়া হলেও তা ভেস্তে যায়। দলটির নিবেদিতপ্রাণ নেতারা জানান, ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সমঝোতা ও হামলা-মামলার ভয়ে জেলার সিনিয়র নেতারা সরকারবিরোধী বড় আন্দোলনে নামতে নারাজ। তাদের ভাষ্য, ফরিদপুরের আন্দোলনে সরকারের পতন হবে না। সুতরাং আন্দোলন-সংগ্রাম করে লাভ হবে না। উল্টো হামলা-মামলার শিকার হতে হবে বলে কর্মীদের সাফ জানিয়ে দেন তারা। এ নিয়ে দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেক নেতাকর্মী নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন।এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সহসভাপতি শহীদ পারভেজ বলেন, বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতার সরকারি দলের সঙ্গে আঁতাত থাকায় সরকারবিরোধী তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এমনকি দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের আগে সরকারি দলের নেতাদের জানিয়ে মৌখিক অনুমতি নেন তারা। সরকারি দলের পরামর্শ অনুযায়ী স্বল্প পরিসরে আন্দোলন পরিচালিত হয়। তিনি আরও বলেন, দলের বেশিরভাগ অঙ্গসংগঠনের নেতা জেলা কমিটির সঙ্গে রয়েছে। তবুও বড় আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না।একই ধরনের অভিযোগ করে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক একেএম কিবরিয়া স্বপন বলেন, জেলা কমিটির কয়েকজন নেতা সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন। নিজেদের নিরাপদে রাখতে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে তারা সরকারি দলের নেতাদের সঙ্গে আঁতাত করছেন। এ কারণে বেশিরভাগ নেতাকর্মী জেলা কমিটির সঙ্গে নেই। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ তাবরীজ একই ঈঙ্গিত দিয়ে বলেন, সরকারি দোকানসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন বেশ কয়েকজন নেতা। আঁতাতের রাজনীতি করায় তারা নিরাপদে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলাও হয় না। অথচ মাঠে আন্দোলনকারী নেতাকর্মীরা পুলিশি হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন। অনেকে জেল খেটেছেন। এ কারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ অন্যান্য দাবি আদায়ে জেলা বিএনপি কঠোর কর্মসূচি পালন করতে পারে না।জেলা বিএনপির সভাপতি মো. জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া বলেন, ‘আমি সরকারের সঙ্গে কোনো আঁতাত করিনি। এ কারণে আমার ঠিকাদারি লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। আমার জুটমিল ধ্বংসের উপক্রম হয়েছে। যারা আঁতাত করে চলে তারা ভালো আছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে আমি নেতৃত্ব দেই। আমার সঙ্গে বেশি লোকজন নেই এটা সত্য। তবে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, মহিলা দলসহ অন্য সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী আমার সঙ্গে রয়েছেন।’ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা বলেন, সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে কিছু লোক দলের বিরুদ্ধে কাজ করেন। তাদের সঙ্গে জেলা কমিটির দূরত্ব রয়েছে। যারা আমাদের বিরুদ্ধে আঁতাতের অভিযোগ করেছেন দলে তাদের কোনো অবস্থান নেই। দলীয় কোন্দল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বড় দলে ছোটখাটো কিছু সমস্যা থাকে। ফরিদপুরেও এ সমস্যা রয়েছে।তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, মূলত বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ও জেলা বিএনপির সভাপতি মো. জহিরুল হক শাহজাদা মিয়ার নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। জেলা কমিটির নেপথ্যে রয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদ। বেশিরভাগ দলীয় কর্মসূচিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম আলাদাভাবে পালন করেন দলটির নেতাকর্মীরা। আবার উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিগুলোতে রয়েছে নানা গ্র“প। এসব কারণে দলের অভ্যন্তরীণ শৃংখলা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। জেলার সিনিয়র নেতারা সংগঠনকে শক্তিশালী করার বদলে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বেশি ব্যস্ত। চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ দীর্ঘদিন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী থাকায় ফরিদপুরে তার সমর্থক সংখ্যা বেশি। তার সমর্থকদের আশা, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তিনি আবারও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাবেন। এ কারণে দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী তার সঙ্গে রয়েছেন। অপরদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে বর্তমান কমিটির বেশিরভাগ সদস্য রয়েছেন। যদিও এই কমিটি গঠন নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। কমিটির বিরুদ্ধে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছে কয়েকবার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন নেতা।বেকায়দায় সাধারণ নেতাকর্মীরা : বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে আঁতাত করায় নিরাপদ অবস্থানে রয়েছেন দলের সিনিয়র নেতারা। তাদের বিরুদ্ধে তাই মামলা নেই। ব্যবসা-বাণিজ্য নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছেন। নিচ্ছেন সরকারি সুযোগ-সুবিধা। সর্বশেষ গত উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে গোপনে কাজ করেছেন জেলা কমিটির সিনিয়র কয়েকজন নেতা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদপুরের বিতর্কিত সরকারি তিতুমীর মার্কেটে দোকান বরাদ্দ পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছার স্ত্রী, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন মৃধার স্ত্রী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক একেএম কিবরিয়া স্বপনসহ বেশ কয়েকজন নেতা। অপরদিকে যেসব নেতাকর্মী সরকারবিরোধী আন্দোলন, দলীয় মিছিল-মিটিংয়ে নিয়মিত অংশ নেন তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হচ্ছে। অনেককে জেলে যেতে হয়েছে। পুলিশ ও সরকারি দলের হামলা-মামলার ভয়ে বিপুলসংখ্যক কর্মী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির জেলা সভাপতি মো. জহিরুল হক শাহজাদা মিয়াসহ সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছার বিরুদ্ধে একটি মানহানি মামলা হয়েছে। অপরদিকে জেলা যুবদল সভাপতি আফজাল হোসেন খান পলাশের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা ও সাধারণ সম্পাদক একেএম কিবরিয়া স্বপনের বিরুদ্ধে ১০টি, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক জুলফিকার হোসেন জুয়েলের বিরুদ্ধে ১৭টি, জেলা ছাত্রদল সভাপতি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বেনজির আহম্মেদ তাবরীজের বিরুদ্ধে ১১টিসহ বিএনপির আন্দোলনকারী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। অনেকেই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে বন্ধুকে ভবন থেকে ফেলে হত্যা

রাজধানীর শান্তিবাগে মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে একটি নির্মানাধীন ভবন ফেলে জামাল মিয়া (৩৫) নামে একজনকে হত্যা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে পল্টন থানাধীন ৪০/১ শান্তিনগরে ইউরেকা প্রোপার্টিজের একটি নির্মানাধীন বহুতল ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অপর বন্ধুরা পলতাক রয়েছে। ভবনের কেয়ারটেকার হারুনুর রশিদ জানান, মাঝে মধ্যেই এলাকার ছেলে পরিচয় দিয়ে কয়েকজন যুবক ওই নির্মানাধীন ভবনে আসতো। বেশির ভাগ সময় তারা দ্বিতীয় তলায় উঠে মাদক সেবন করতো। এ কাজে তাদের নিষেধ করলেও কেয়ারটেকার ও শ্রমিকদের হত্যার হুমকি দিতো। তিনি বলেন, মঙ্গলবার দুপুরেও তারা ওই ভবনে আসে। যথারীতি দ্বিতীয় তলায় উঠে মাদক সেবন করে। এ সময় তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। দুপুর দুইটার দিকে ঝগড়ার মাত্রা বেড়ে যায়। এর কিছু সময় পরই ওদের মধ্যে কে বা কারা জামালকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেয়। ভবনটি নির্মানাধীন হওয়ায় সেখানো রেলিং ছিলো না। ধাক্কা দেয়ায় জামাল নিচে থাকা রডের ওপর পড়ে। এতে দুটি রড তার বুক ও পেটে ঢুকে যায়। এ দৃশ্য দেখে জামালের সাথে থাকা বন্ধুরা পালিয়ে যায়। পরে হারুন ও পল্টন থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষনা করেন।  এস আই শ্যামল জানান, জামালের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

ডেটিং সাইট থেকে সাবধান

ফেক প্রোফাইল প্রদর্শন এবং রোবোটিক মেসেজ পাঠিয়ে গ্রাহকদের প্রলুব্ধ করছে ডেটিং সাইটগুলো। এ অভিযোগে ব্রিটেনের কয়েকটি ডেটিং সাইটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানায় ডেইলি মেইল।

মামলা মোকাবেলার জন্য একটি সাইটকে  ছয় লাখ ১৬ হাজার সাত শ ৬৫ ডলার খরচ করতে হয়েছে। সাইটটির বিরুদ্ধে ফেক প্রোফাইল এবং সেসেজ দেয়ার অভিযোগ ছিলো।
সাধারণত ডেটিং সাইটগুলোতে সাবস্ক্রাইব করার পর নানাভাবে গ্রাহকদের আকর্ষণ করা হয়। এর জন্য ভ’য়া প্রোফাইল এবং ছবি ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া রোবো মেসেজিং এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকদের আকর্ষণ করার মতো মেসেজ পাঠানো হয়। খুঁজ নিয়ে দেখা যায় এগুলোর বেশিরভাগই অস্তিত্বহীন।
সম্প্রতি ফেডারেল ট্রেড কমিশনের তদন্তে এ ধরনের ১৭টি  কোম্পানীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। তবে একটি কোম্পানী তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলে, আমরা কোনো ভ’য়া কাজ করিনি। তবে টাকা খরচ করে মামলাটির সমাধান করতে পারায় আমরা খুশি।
মামলা পরিচালনাকারি স্টিভ ব্যকার সানডে টাইমসে বলেন, ইন্টারনেটের ডেটিং ইন্ডাস্ট্রিগুলো এ ধরনের কাজ করে সেটা আমরা জানতাম। তাই কয়েকজন ভোক্তা এবং এসব সাইটে কাজ করেছে এমন কয়েকজনকে আমাদের কাছে নিজেদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করার জন্য আমরা উদ্বোধ্য করি।
লিওচিস্টার ইউনিভার্সিটির সাইবার সাইকোলজিস্ট মনিকা হিট্টি বলেন, ডেটিং সাইগুলোতে ব্রিটেনে পাঁচ হাজারের মতো লোক পয়সা খরচ করছেন। কিন্তু এরা প্রতারিত হচ্ছেন। এসব সাইট বিশ্বকে অশুভর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ডেইলি মেইল জানায়, ব্রিটেনে দেড় হাজারেরও বেশি ডেটিং সাইট রয়েছে। এরা প্রতি সাবস্ক্রাইবারের কাছ থেকে বছরে ১৫৯ পাউন্ড নেয়। তবে সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতারণা করে।

নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের তদন্ত থেকে সিআইডি বাদ

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের তদন্ত থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) বাদ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। সোমবার প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেয়। একদিন আগে আদেশ হলেও বিষয়টি জানাজানি হয় আজ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুটি সংস্থা একইসঙ্গে সমান্তরালভাবে একটি ঘটনার তদন্ত করতে পারে না- এই যুক্তি দেখিয়ে গত ৫ই মে হাইকোর্টে আবেদন করেছিল রাষ্ট্রপক্ষ। সাত খুনের ঘটনায় সিআইডির তদন্ত বন্ধের ওই আবেদন নাকচ করে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ গত ১০ই জুলাই আগের আদেশে সামান্য পরিবর্তন আনে। নতুন আদেশে সিআইডিকে ‘ইনভেস্টিগেশন’ এর পরিবর্তে ‘ইনকয়ারি’ করতে বলা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করলে এ বিষয়ে তাদের দুটি আবেদনের নিষ্পত্তি করে আপিল বিভাগ সিআইডিকে তদন্ত থেকে বাদ দেয়। আপিল বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম নাজমুল হক তার সঙ্গে ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২৭শে এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিম অপহৃত হন। পরে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারণেই আন্তর্জাতিক ফোরামে বিজয়’ -স্পিকার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বের কারণে আইটিইউ, সিপিএসহ একাধিক আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের বিজয় সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার ও কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি এসোসিয়েশনের (সিপিএ) নবনির্বাচিত চেয়ারপারসন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। রোববার পূর্ব লন্ডনের অট্রিয়াম হলে এক নাগরিক সংবর্ধনায় তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার বলেন, মানুষের চাওয়া-পাওয়া এবং উন্নয়নের মাপকাঠিতে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে।  বাংলাদেশ এখন আর তলাবিহীন ঝুড়ি নয়। ২০২১ সালে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। জাতীয় উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে নারীদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে।  বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমে এসেছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে ও ও গণতন্ত্রের যাত্রা অব্যাহত রাখতে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিশ্বের পঞ্চাশটি দেশের পার্লামেন্টের সম্মিলিত সংগঠন সিপিএ‘র নেতৃত্ব দিচ্ছে আজ বাংলাদেশ। স্পিকার দেশের সকল দুর্যোগে ও জাতীয় উন্নয়নে প্রবাসীদের অবদানের কথা উল্লেখ করেন ও তাকে সংবর্ধনা দেয়ার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল গাফফর  চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুকের পরিচালনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংদসদীয় কমিটির সদস্য ইমরান আহমদ এমপি, জাতীয় সংসদের মহিলা সাংসদ সাবিনা আক্তার তুহিন, প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সুলতান মাহমুদ শরীফ।

ঢাবি এখন দখলদার কবলিত :শফিউল আলম প্রধান

জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের ছত্রছায়ায় ছাত্রলীগ প্রতিবাদী ছাত্রদের উপর বেপরোয়া হামলা চালাচ্ছে। এরা প্রশাসনের সহায়তায় নারীদের ইজ্জত-আব্র“’র উপর হাত দিচ্ছে। সকল মহৎ আন্দোলনের সুতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন দখলদার-হানাদার কবলিত। আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস কাবের সামনে জাগপা ছাত্রলীগ আয়োজিত প্রতিবাদী ছাত্র সমাবেশে তিনি একথা বলেন। প্রধান বলেন, প্রসাশনের সহায়তায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হিজাব, দাঁড়ি ও ধর্মপ্রাণ ছাত্র-ছাত্রীদের হল থেকে বহিস্কার করছে। সমাবেশে ছাত্র নেতৃবৃন্দ বলেন, ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠনের পর ৭১’র মত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে হানাদার ও দখলদারমুক্ত করা হবে। বাংলাদেশের মাটিতে ধর্মদ্রোহী ভারতীয় দালালদের ঠাঁই নাই। জাগপা ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুল আলম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আলম চৌধুরী রাজিবের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ৯০’র ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা জাগপা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান খান। এতে বক্তব্য রাখেন ইসলামী ছাত্র সমাজের সভাপতি মোঃ ইলিয়াস আতাহারী, জাগপা ছাত্রলীগের রাকিবুল ইসলাম রুবেল, নাহিদ হাসান, মিনহাজ প্রধান রাব্বি, আবু নাঈম, ঢাকা মহানগর জাগগা ছাত্রলীগ নেতা আব্দুর রহমান ফারুকী, সালাউদ্দিন আহমেদ, মোঃ জীবন প্রমুখ।

টার্গেটে চীনের কট্টরপন্থী ইমামরা, ২২ জনকে কারাদণ্ড

চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং প্রদেশে অবৈধভাবে ইসলাম ধর্ম প্রচারের অভিযোগে সন্দেহভাজন ২২ জনকে কারাদ- দেয়া হয়েছে। উইগুর সম্প্রদায়ের কট্টরপন্থী ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের বিরুদ্ধে পৃথক রাষ্ট্র গঠনে সহিংস প্রচারণা চালানোর অভিযোগ এনেছে সরকার। জিনজিয়াংয়ের একটি আদালতে অনুষ্ঠিত এক গণ-শুনানিতে সন্দেহভাজন ২২ ব্যক্তিকে ৫ বছর থেকে শুরু করে ১৬ বছর মেয়াদ পর্যন্ত কারাদ- দেয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। জিনজিয়াংয়ে মূলত উইগুর সম্প্রদায়ের মুসলমানদের বসবাস। ইমাম, ধর্মীয় নেতা ও পদে আসীন থাকার সময় দায়িত্ব পালনকালে আইন ভঙ্গ করায় সন্দেহভাজন মোট ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল। পৃথক রাষ্ট্র গঠনে সহিংস প্রচারণার অভিযোগ আনা হয় ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের বিরুদ্ধে। এছাড়াও সাম্প্রদায়িক ঘৃণা উস্কে দেয়া, কুসংস্কারের আশ্রয় নিয়ে আইন লঙ্ঘন, বিবাদে জড়ানো ও সমস্যা উস্কে দেয়ার অভিযোগও আনা হয় অনেকের বিরুদ্ধে। এদিকে নির্বাসিত সংগঠন ওয়ার্ল্ড উইগুর কংগ্রেস এক বিবৃতিতে এ রায়ের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। চীনা সরকার কট্টর ধর্মীয় নেতাদের গ্রেপ্তারে বেশ কিছুদিন ধরেই অভিযান পরিচালনা করছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল মিয়ানমার by ডয়েচে ভেলে

বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থী ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরুর অনুরোধ জানিয়েছিল সরকার৷ সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট৷ ফেসবুকে এ খবর জানিয়েছেন, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের এক মুখপাত্র৷ মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের মুখপাত্র ইয়ে হটুট ফেসবুকে লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন বলেছেন, মিয়ানমার বাংলাদেশ থেকে শরণার্থী ফিরিয়ে নেয়া শুরু করতে প্রস্তুত, তবে এ প্রক্রিয়া আমাদের চারটি নিয়মের আওতায় হতে হবে৷ চারটি নিয়মের মধ্যে প্রধান হলো, বাংলাদেশে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের প্রশ্নটি৷ মিয়ানমার সরকার বলছে, যে শরণার্থীদের বাবা-মা দুজনই সে দেশের নাগরিক ছিলেন, তাঁদেরই শুধু ফিরিয়ে নেয়া হবে৷ জাতিসংঘের শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন বিষয়ক সংস্থার হিসেব অনুযায়ী, চট্টগ্রামের কক্সবাজারের দুটি সরকারি শরণার্থী শিবিরে ৩০ হাজার মিলিয়ে বাংলাদেশে মোট ২ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে৷ ১৯৮২ সালে প্রণয়ন করা নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী তাদের অধিকাংশের নাগরিকত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে মিয়ানমার সরকার৷ পিতা-মাতা দুজনই নাগরিক ছিলেন এমন শরণার্থীদেরই শুধু ফিরিয়ে নিতে রাজি মিয়ানমার৷
গত রবিবার বেইজিংয়ে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকনমিক ফোরাম, অর্থাৎ অ্যাপেক সম্মেলন শুরুর আগে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের আলোচনা হয়৷ দুই রাষ্ট্রপ্রধানের এ আলোচনা সম্পর্কে ফেসবুকে ইয়ে হটুট লিখেছেন, থেইন সেইন বলেছেন, তাদেরকে (রোহিঙ্গা শরণার্থী) খুব তাড়াতাড়ি ফিরিয়ে নেয়া অসম্ভব৷

২০০৫ সাল থেকে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন বন্ধ রেখেছে মিয়ানমার৷ বাংলাদেশ সরকার চায় নিজের দেশ ছেড়ে আসতে বাধ্য হওয়া এই মুসলিম শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফিরতে দেয়া হোক৷ কিন্তু মিয়ানমার সরকার এবং সে দেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য রাখাইনের সংখ্যাগুরু বৌদ্ধরা গত দু দশকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া মানুষগুলোকে মিয়ানমারের নাগরিক মানতে নারাজ৷ তারা মনে করে, বাংলাদেশ সরকার যাদের মিয়ানমারের নাগরিক এবং রোহিঙ্গা বলছে, তাদের প্রায় সবাই মিয়ানমারের নাগরিক নয়, রোহিঙ্গাও নয়, তারা বাঙালি৷ এ অবস্থায় গত সেপ্টেম্বরে দু মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে মাত্র ২,৪১৫ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছিল মিয়ানমার৷ প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের বর্তমান বক্তব্য খুব তাড়াতাড়ি সেই প্রক্রিয়া শুরুর সম্ভাবনারও পরিপন্থি৷

কাদের সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার নির্দেশ

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকার অতিরিক্ত সিএমএম আলী মাসুদ শেখ এ আদেশ দেন। একটি মানহানি মামলায় কাদের সিদ্দিকী আদালতে হাজির না হওয়ায় এ আদেশ জারি করা হয়।

‘রাজাকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রেখে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্ভব নয়’ সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে এমন মন্তব্যের কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। রুহুল আমীন মজুমদার নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি আদালতে মামলা করলে আদালত সমন জারি করেন। পরে কাদের সিদ্দিকী জামিন নেন। এরপর আনীত অভিযোগের শুনানি শেষে আদেশের জন্য তারিখ ধার্য করা হয়। এরপর মামলাটি বদলী হয়ে আলী মাসুদ শেখের আদালতে নেয়া হয়। আদালতের ১৪ টি তারিখ অতিবাহিত হলেও কাদের সিদ্দিকী হাজির হননি। যার কারণে আজ আদালত জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন এবং আদালতে উপস্থিত না হবার কারণ জানাতে নির্দেশ দেন।

ধৈর্য্য ও সাহসের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে : শিবির

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল জব্বার বলেছেন, ইসলামী আন্দোলনের চলার পথে অনেক বিপদ, চ্যালেঞ্জ থাকবে। কিন্তু ধৈর্য্য ও সাহসের সাথেই আমাদেরকে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে।
তিনি আজ ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা ও বরিশাল অঞ্চলের সদস্যপ্রার্থী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ফেনীর এক মিলনায়তনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক মুহসিনুল কবিরের পরিচালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক তারেক মনোয়ার, স্কুল কার্যক্রম সম্পাদক মশরুর হোসাইন,মিডিয়া সম্পাদক রিয়াদ হোসেন রায়হান, ক্রীড়া সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ, কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি শাহ আলম, ফেনী শহর সভাপতি তারেক মাহমুদ প্রমুখ।
শিবির সভাপতি বলেন, জামায়াত-শিবিরকে নিয়ে আওয়ামীলীগ ও তার দোসরেরা বারবার নানা চক্রান্তে মেতে উঠেছে। কিন্তু তাদের চক্রান্ত কখনোই সফল হয়নি। উল্টো জামায়াত-শিবির বাংলাদেশের মানুষের আরো কাছাকাছি এসেছে। এখনো তারা জামায়াত-শিবির দমনে নানাভাবে চক্রান্ত করে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের সকল অপচেষ্টাই বুমেরাং হবে ইনশাআল্লাহ। আর বেশি সময় নেই, নিজেদের চক্রান্তের জালে আওয়ামীলীগ নিজেরাই জড়িয়ে যাবে।
তিনি বলেন, কোন পরিস্থিতিতেই ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের পিছু হটার কোন সুযোগ নেই। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা সামনের দিকে চলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার যে লক্ষে আমরা কাজ করছি, সেই লক্ষের দিকে আমাদের অবিরাম এগিয়ে যেতে হবে। বন্দুকের গুলি কিংবা ফাঁসির মঞ্চ আমাদেরকে লক্ষ্য থেকে একচুলও সরাতে পারবে না।
শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লাসহ ইসলামী আন্দোলনের নেতারা যুগে যুগে ইসলামী আন্দোলনের প্রয়োজনে আত্মত্যাগের যে নজির স্থাপন করেছেন, তার থেকে শিক্ষা নিয়েই আমাদের পথ চলতে হবে।
তিনি সদস্যপ্রার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদেরকে রাজপথের আন্দোলনে যেমন সক্রিয় থাকতে হবে, একইভাবে সক্রিয় থাকতে হবে সংগঠনের নিয়মিত কাজে। পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক কাজের মাধ্যমেই ছাত্রশিবিরকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। নিয়মিত কাজের ক্ষেত্রে কোন বাধা এলে কৌশল অবলম্বন করতে হবে। যে ভাবেই হোক আমাদের সাংগঠনিক কাজ যেন নিয়মিত থাকে সেজন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
তিনি ছাত্রজনতাকে সাথে নিয়ে রাজপথের আন্দোলনে জোরদার ভূমিকা পালন করতে সদস্যপ্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান। বিজ্ঞপ্তি

নতুন এমএলএম কোম্পানি অনুমোদন পাবে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

নতুন কোনো বিতর্কিত বহুস্তর বিপণন (এমএলএম) কোম্পানিকে অনুমোদন দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, যে পাঁচটি এমএলএম কোম্পানি আছে, সেগুলোকে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
আজ মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির বৈঠক হওয়ার পর সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এ কথা জানান মন্ত্রী। তোফায়েল আহমেদ দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা (জিএসপি) পাওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ১৬টি শর্ত পূরণ করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখন কোনো দেশকেই জিএসপি সুবিধা দিচ্ছে না। অন্য দেশ পেলে বাংলাদেশকেও দেবে।

তৈরি পোশাক খাতে (আরএমজি) ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র তদন্ত করে যে প্রতিবেদন দিয়েছে, তা ৯০ ভাগ সঠিক বলে মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, নতুন করে বিনিয়োগে আর কোনো সমস্যা নেই। আরএমজিতে নতুন নতুন অর্ডার আসছে। গার্মেন্টসে কোনো ট্রেড ইউনিয়ন না থাকলেও শ্রমিক কল্যাণ সংস্থা থাকায় কোনো অসন্তোষ নেই বলে মনে করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, শ্রমিকদের সর্বনিম্ন বেতন ১০ হাজার টাকা। কাজের পরিবেশও ভালো। মন্ত্রী জানান, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় বাংলাদেশ আবার এক নম্বরে এসেছে। যেকোনো সময় মধ্যম আয়ের দেশের তালিকাভুক্ত হবে বাংলাদেশ। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম চৌধুরী, নুরুল মজিদ হুমায়ুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

‘শর্ত পূরণ হলেই বাংলাদেশ জিএসপি ফিরে পেতে পারে’

মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা বলেছেন, বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়া নির্ভর করছে কারখানার কর্ম পরিবশে, শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার, ত্রুটিপূর্ণ গার্মেন্টগুলো সংস্কার করার উপর। এসব শর্ত পূরণ হলেই বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে পারে। আজ দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘ইউএস বাংলাদেশ ট্রেড দ্যা ওয়ে ফরওয়ার্ড’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থনৈতিক রির্পোটার্স ফোরাম আয়োজিত এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সুলতান মাহমুদ ও পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান। অনুষ্ঠানে মজিনা বলেন, বাংলাদেশ-আমেরিকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। রপ্তানিতে বাংলাদেশের জন্য আমেরিকার একটি বৃহত্তম মার্কেট। বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক এই অর্থনেতিক সম্পর্ককে আমেরিকা আরও সমৃদ্ধ দেখতে চায়।

পাকিস্তানে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৫৬

পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৮ শিশু ও ১৭ নারীসহ কমপক্ষে ৫৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৮ জন। তাদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে ৮০ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন। বাকি যাত্রীদের ভাগ্যে কি ঘটেছে, তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। সুক্কুর জেলার থেরি বাইপাসের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গাড়ির চালক ঘুমিয়ে পড়ায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় বাসটির। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি ও আইএএনএস। সোয়াত জেলা থেকে করাচিতে যাচ্ছিল দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি। প্রেসিডেন্ট মামনুন হুসেইন ও সিন্ধু প্রদেশের গভর্নর ইশরাত ইবাদ এ দুর্ঘটনায় নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। আহতদের দ্রুত সুচিকিৎসা নিশ্চিতেরও নির্দেশ দিয়েছেন।

আইসক্রিম যখন বেঁচে থাকার হাতিয়ার

আফগানিস্তানের হেরাতে একটি স্কুলের সামনে ছোট ছোট সমবয়সী মেয়ের ঝাঁক হাসতে হাসতে লুটোপুটি নিজেদের মধ্যে গল্পে মজে খেয়ে স্কুল থেকে বেড়োচ্ছে। খানিক দূরে দাঁড়িয়ে ওদেরই বয়সী আরো একটি ছোট্ট মেয়ে। পরনে স্কুলের সাদা-কালো ইউনিফর্ম নেই, বন্ধুদের সঙ্গে খেলা বা হাসিতে মেতে থাকার অবকাশও নেই। ৮ বছরের ফাতিমা। সমবয়সীরা যখন স্কুলে ব্যস্ত পড়াশোনায়, সে তখন রুটি-রুজির তাগিদে স্কুলের বাইরে আইসক্রিম বিক্রিতে ব্যস্ত।
স্কুলে পড়াশোনা ফতিমার কাছে বিলাসিতা। যে স্কুলের সামনে ফাতিমা আইসক্রিম বেচে সেই স্কুলের পড়ুয়ারাই তার ক্রেতা। সে-ও চায় স্কুলে যেতে।  কিন্তু উপায় নেই। পঙ্গু বাবা, পাঁচ বোন আর দুই মায়ের সংসারে একমাত্র রোজগেরে সে।  ফাতিমার বাবার দুই স্ত্রী। ছটি মেয়ে। আটজনের বড় সংসার জীর্ণ দুই কামরার ভাড়া বাড়িতে কোনো রকমে দিন গুজরান করে।

সকাল ৭টা বাজতে না বাজতেই বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায় ফতিমা। হোলসেলারের কাছ থেকে আইসক্রিমের বাক্সগুলো নিয়ে ভর্তি করে তার আইসক্রিম গাড়ি। ছোট্ট ছোট্ট হাতে কোনওরকমে সেই গাড়ি ঠেলতে ঠেলতে পশ্চিম আফগানিস্তানের হেরাটের এবড়োখেবড়ো রাস্তায় আইসক্রিম বেচে বেড়ায় সে। বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে তার যুদ্ধ।
‘আমি যখন স্কুলের সামনে আইসক্রিম বেচি, যখন দেখি মেয়েরা হাসি মুখে স্কুলে যাচ্ছে, তখন আমারও ভীষণ স্কুলে যেতে ইচ্ছা করে। অনেক টাকা জমাতে চাই। যাতে আর আমাকে কাজ করতে না হয়। অন্য মেয়েদের মতো স্কুলে যাওয়া আমার একমাত্র স্বপ্ন।’ একটি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে ৮ বছরের এই কিশোরী।
শিশুশ্রমিক আফগানিস্তানে ভীষণ সাধারণ। সে দেশের ৭থেকে ১৪ বছর বয়সী ১৭% কিশোরীরাই হয় বাড়ির বাইরে কাজ করে অথবা বাড়ির মধ্যে যাবতীয় গৃহস্থালির কাজকর্ম করে তারা। জানাচ্ছে ইউনিসেফ-এর রিপোর্ট। ফাতিমা দিনে অল্প কিছু অর্থ উপার্জন করে। পুরোটাই চলে যায় তার বড় পরিবারের খিদে মেটাতে। চার বছর আগে একটি দুর্ঘটনায় চলনশক্তি লোপ পান ফাতিমার বাবা। হুইলচেয়ারই তার একমাত্র অবলম্বন। যে যে দিন একটু সুস্থ থাকেন মোবাইল ফোনের রিচার্জ কার্ড বেচে মেয়েকে সাহায্য করার চেষ্টা করেন তিনি। বাড়ি ফিরে এসেও ছুটি হয় না ফাতিমার। বাকি দিনটা কেটে যায় পঙ্গু বাবার সেবা যত্নে।

আমি ‘ক্রিকেটঈশ্বর’ নই : শচিন

বিশেষজ্ঞরা তাকে ‘ক্রিকেটঈশ্বর’ বলেই মানেন। ভক্তরা তাকে ঈশ্বররূপে পূজো করেন। কিন্তু, তিনি নিজে মনে করেন মাঠে প্রচুর ভুল করেছেন, তাই তিনি ঈশ্বর হতে পারেন না। তিনি অন্যদের মতোই সাধারণ। তিনি শচিন টেন্ডুলকার। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানান আন্তজার্তিক ক্রিকেট সর্বাধিক রানের মালিক।

গত বছর নভেম্বরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন শচিন। ২৪ বছরের ক্যারিয়ারে ৩৪ হাজারেরও বেশি রান রয়েছে মাস্টার ব্লাস্টারের ঝুলিতে। প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০০ সেঞ্চুরির নজির গড়েছেন শচিন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পা-রাখা মারাঠি আড়াই দশক ধরে শাসন করেছে ক্রিকেটবিশ্বকে। তাকে নিয়ে আর কোনো বিশেষণ খুঁজে না-পেয়ে ক্রিকেটঈশ্বর অ্যাখ্যা দিয়েছেন ক্রিকেট লিখিয়েরা। কোটি কোটি ভক্তের ভালোবাসায় প্লাবিত শচিন বলেন, ‘আমি ভাগ্যবান, মানুষ আমাকে এত ভালোবাসে। প্রত্যেককে অসংখ্য ধন্যবাদ৷ যদিও তা যথেষ্ট নয়।’

রুশ সুন্দরী থেকে সাবধান!

রাশিয়া বা চীনের সুন্দরীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়তে নিষেধ করা হয়েছে ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের। গুপ্তচর বৃত্তির কারণেই এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ব্রিটেন। সম্পর্কিত এক রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিরাপত্তা বৃদ্ধির কারণেই ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের সুন্দরী নারীদের থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ এই সুন্দরী নারীরা গুপ্তচর হতে পারেন বলেই মনে করছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ে তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই সুন্দরীরা যৌনতার জাল বিস্তার করে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে গোপন তথ্য জেনে নিতে পারেন। যা পরে ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গত ২০১০ সালে এমনই এক গুপ্তচড় বৃত্তির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছিল। অ্যানা চ্যাপম্যান নামের এক রাশিয়ান নারীকে নিউ ইয়র্ক থেকে রাশিয়ার হয়ে গুপ্তচড়বৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। যদিও অ্যানা ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন। সে বছরের শেষের দিকেই অপর এক রাশিয়ান নারীকেও এই অপরাধে গ্রেফতার করা হয়।

জীবননগরে মৌমাছিতে কুপোকাত ৩

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বাঁকা গ্রামে ক্ষেতে কাজ করার সময় মৌমাছির কামড়ে আহত হয়েছে তিন কৃষক।  আহতরা হচ্ছেন উপজেলার বাঁকা গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে আলমগীর হোসেন (৩৫),মগরেব মন্ডলের ছেলে রাসেল (১৮) ও আবুল কালামের ছেলে আমির হোসেন (১৮)। আহতদেরকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়,জীবননগর উপজেলার বাঁকা গ্রামের আলমগীর, রাসেল ও আমিরসহ অন্যান্য কৃষকেরা সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে ক্ষেতে কাজ করার সময় হঠাৎ এক ঝাঁক মৌমাছি ধাওয়া করে। মৌমাছির কামড়ের শিকার আলমগীর,আমির ও রাসেলকে আহত অবস্থায় অন্য কৃষকরা উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেণ।
বাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য খলিলুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কৃষকরা মাঠে কৃষি কাজ করছিলেন। তারা এ সময় মৌমাছির কামড়ের শিকার হয়। আহতদের মধ্যে তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলম জানান, মৌমাছির কামড়ের শিকার আহতদের অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।

ইবোলা আক্রান্ত মার্কিন চিকিৎসক সেরে ওঠেছেন

আমেরিকার প্রথম ইবোলা আক্রান্ত চিকিৎসক ক্রেইগ স্পেনসার পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠায় মঙ্গলবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাচ্ছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, মরণঘাতী ভাইরাসের চিকিৎসা নেয়ার পর ৩৩ বছর বয়সী স্পেনসার মঙ্গলবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেতে পারেন।

তিনি গিনিতে মেডিসিন স্যানস ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ)’র হয়ে কাজ করতেন। গত ২৩ অক্টোবর দেশে ফেরার পর তার দেহে ইবোলা রোগ ধরা পড়ে। এরপর তাকে নিউইয়র্কের বেলভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সংশ্লিষ্ট এক সূত্র নিউইয়র্ক টাইমসকে জানায়, ডা. স্পেনসারকে হাসপাতাল থেকে ছাড়ার ঘোষণা প্রকাশ্যে দেয়া হয়নি। তবে তার চিকিৎসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তি সোমবার তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়ার খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষনিকভাবে খবরটি নিশ্চিত করেনি।
পশ্চিম আফ্রিকার গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরালিওনে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস মহামারী রূপ নিয়েছে। এ রোগে এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার লোক নিহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত নয়জন ইবোলা রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে কেবল লাইবেরিয়ার একজন মারা গেছেন। তিনি তার নিজ দেশ ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার জন্য আসেন।

ঘুষ নিয়েছিলেন টনি ব্লেয়ার

চীনের সঙ্গে তেল চুক্তি করিয়ে দিতে সৌদি আরবের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছিলেন ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। ২০১০ সালের নভেম্বরে ব্লেয়ার এই সৌদি আরবের সঙ্গে ঘুষ নেয়ার ব্যাপারে গোপন চুক্তি করেন। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া এক গোপন নথির বরাত দিয়ে প্রভাবশালী ব্রিটিশ পত্রিকা দৈনিক ডেইলি মেইল ও সানডে টাইমস সোমবার এ খবর প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, টনি ব্লেয়ারের এক সহযোগী ২১ পৃষ্ঠার এ গোপন চুক্তির কথা ফাঁস করে দিয়েছেন। ব্লেয়ারের সহযোগিতায় গোপন এ চুক্তি হওয়ার কারণে চীনের সঙ্গে সৌদি আরবের বাণিজ্য সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। সৌদি রাজপরিবারকে শর্ত অনুযায়ী চীনের সঙ্গে চুক্তি হলে কমিশন হিসেবে তাকে দিতে হবে তেল বিক্রির শতকরা ২ ভাগ অর্থ। চীনের সঙ্গে চুক্তির বিনিময়ে ব্লেয়ারকে সৌদি আরবের প্রতি মাসে ৪১ হাজার পাউন্ড দিতে হবে। তবে চুক্তির ক্ষেত্রে ব্লেয়ার যে মধ্যস্থতাকারী ছিলেন তা নিয়ে কোনো কথা প্রকাশ করা যাবে না। যে তেলক্ষেত্র থেকে ব্লেয়ার চীনের কাছে তেল বিক্রির চুক্তি করে দিতে চেয়েছিলেন তা সৌদি আরবের ব্যবসায়ী তারেক ওবাইদ এবং সৌদি যুবরাজ প্রিন্স তুর্কি বিন আবদুল্লাহ আল সৌদের ছিল।

যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধ করবে না

সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এরই অংশ হিসেবে ইরাকে আরও সেনা পাঠানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার সিবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ওবামা বলেন, এই নতুন পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই ইরাকে অতিরিক্ত ১৫০০ সেনা পাঠানো হচ্ছে। এসব মার্কিন সেনা ইরাকি ও তুর্কি বাহিনীকে সামরিক প্রশিক্ষণ এবং পরামর্শ দেয়ার কাজ করবে। তারা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে না।
তিনি বলেন, ইরাক সরকার সফলভাবে প্রথম ধাপ সম্পন্ন করেছে। আমরা এখন আর একটি নতুন ধাপ শুরু করতে যাচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্র সরকার যে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে তার মাধ্যমে ইরাকের স্থলবাহিনী আইএস যোদ্ধাদের পরাজিত করতে পারবে বলে তিনি দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ওবামা আরও বলেন, আমরা কাছ থেকে বিমান হামলার মাধ্যমে ইরাকি সেনাদের এই লড়াইয়ে সহায়তা করব। তবে আমাদের সেনারা সরাসরি লড়াইয়ে অংশ নেবে না।
এর আগে পেন্টাগন এক বিবৃতিতে জানায়, নতুন এ সেনাদের সাতটি ইরাকি ব্রিগেড ও তিনটি কুর্দি পেশমার্গা ব্রিগেডে যুক্ত করা হবে।

ভূমিকম্পের ভবিষ্যদ্বাণী করতে না পারায় বিজ্ঞানীদের জেল!

ইতালিতে ভূমিকম্পের ব্যাপারে আগাম সতর্ক করতে ব্যর্থ হওয়ায় ছয় বিজ্ঞানীকে ছয় বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ২০০৯ সালের ওই ভূমিকম্পে অন্তত ৩০৯ জন নিহত হন। আহত হন এক হাজারেরও বেশি। এছাড়া ঘরহারা হন কয়েক হাজার মানুষ।

ইতালির এল আকুইলা শহরে আঘাত হানে রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প। তার কিছু দিন আগে বিজ্ঞানীরা ওই শহর পরিদর্শন করে তেমন ঝুঁকিপূর্ণ নয় বলে বিবৃতি দেন। কিন্তু কয়েকদিন পরই ভূমিকম্পে বহু লোক মারা যান। এরপর ২০১২ সালে বিজ্ঞানীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বিচার শুরু হয়।
বিচারক বলেন- বিজ্ঞানীদের বিবৃতির ওপর আস্থা রেখে অন্তত ২৯ জন লোক তাদের বাড়িতে অবস্থান করেন। তারা ওই শহর ছেড়ে যেতে চেয়েছিলেন। ভূমিকম্পের ফলে তারা মারা যান।
এ ঘটনায় ছয় বিজ্ঞানীকে ৬ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। একই সাথে তাদেরকে সাত মিলিয়ন ইউরো ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই ঘটনায় সরকারের এক কর্মকর্তাকে ২ বছরের সাজা দেয়া হয়েছে।
সূত্র : মেইল অনলাইন

ভারতে কার কোন মন্ত্রণালয়

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভা সদস্য বেড়ে এখন ৬৫। রোববার নতুন আরও ২১ মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। নতুন মন্ত্রীদের দায়িত্বও বণ্টন করে ফেলেছেন মোদি। প্রত্যাশা মতোই গোয়ার মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে আসা মনোহর পারিক্কর পেয়েছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। রেল মন্ত্রণালয় পেয়েছেন সুরেশ প্রভু, আইনে সদানন্দগৌড়া, কলকাতার আসানসোল থেকে নির্বাচিত বাবুল সুপ্রিয় পেয়েছেন নগরোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রিত্বের দায়িত্ব।
রদবদল হয়েছে পুরনো মন্ত্রীদের দায়িত্বও। অরুণ জেটলি হাতে থাকছে অর্থ, কর্পোরেটবিষয়ক ও তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। সদানন্দ গৌড়ার পরিবর্তে রেল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন সুরেশ প্রভু। আর আইন মন্ত্রণালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে গৌড়াকে। রবিশঙ্কর প্রসাদের হাতে থাকছে আইটি মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভার দেয়া হয়েছে জেপি নাড্ডাকে। হর্ষবর্ধন সামলাবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী হলেন চৌধুরী বীরেন্দ্র সিং। স্কিল ডেভেলপমেন্ট এন্টারপ্রেনরশিপ এবং সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হলেন রাজীব প্রতাপ রুডি। বন্দারু দত্তাত্রেয়কে করা হয়েছে শ্রম প্রতিমন্ত্রী এবং মহেশ শর্মা পেলেন পর্যটনের দায়িত্ব। মোদির সংসারে বাংলার একমাত্র প্রতিনিধি (পশ্চিমবঙ্গের গায়ক) বাবুল সুপ্রিয়কে দেয়া হয়েছে নগরোন্নয়ন, আবাসন, দারিদ্র্য দূরীকরণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। বিজেপির সংখ্যালঘু মুখতার আব্বাস নাকভি হয়েছেন সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন সাবেক অলিম্পিয়ান রাজ্যবর্ধন সিং রাঠোর। সোমবার বিকালে বর্ধিত ক্যাবিনেট বৈঠক হয়। এ বৈঠকের আগে সব মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন মোদি। জিনিউজ।
প্রথম যোগ মন্ত্রণালয় : নিরামিষভোজী মোদির যোগ ব্যায়ামের প্রতি দুর্বলতা রয়েছে অনেক আগ থেকেই। যোগপ্রীতি থেকেই এবার এর জন্য নতুন মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করলেন তিনি। ভারতের প্রথম যোগমন্ত্রী হিসেবে রোববার শপথ নিয়েছেন সাবেক পর্যটনমন্ত্রী শ্রীপদ যশোনায়েক। খবর এএফপির। চলতি বছরের মে মাসে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যোগের প্রচারণা শুরু করে মোদি সরকার। এরই অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা করে যোগ মন্ত্রণালয় নামে নতুন মন্ত্রণালয় গঠন করা হল।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভা সদস্য বেড়ে এখন ৬৫। রোববার নতুন আরও ২১ মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। নতুন মন্ত্রীদের দায়িত্বও বণ্টন করে ফেলেছেন মোদি। প্রত্যাশা মতোই গোয়ার মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে আসা মনোহর পারিক্কর পেয়েছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। রেল মন্ত্রণালয় পেয়েছেন সুরেশ প্রভু, আইনে সদানন্দগৌড়া, কলকাতার আসানসোল থেকে নির্বাচিত বাবুল সুপ্রিয় পেয়েছেন নগরোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রিত্বের দায়িত্ব।
রদবদল হয়েছে পুরনো মন্ত্রীদের দায়িত্বও। অরুণ জেটলি হাতে থাকছে অর্থ, কর্পোরেটবিষয়ক ও তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। সদানন্দ গৌড়ার পরিবর্তে রেল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন সুরেশ প্রভু। আর আইন মন্ত্রণালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে গৌড়াকে। রবিশঙ্কর প্রসাদের হাতে থাকছে আইটি মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভার দেয়া হয়েছে জেপি নাড্ডাকে। হর্ষবর্ধন সামলাবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী হলেন চৌধুরী বীরেন্দ্র সিং। স্কিল ডেভেলপমেন্ট এন্টারপ্রেনরশিপ এবং সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হলেন রাজীব প্রতাপ রুডি। বন্দারু দত্তাত্রেয়কে করা হয়েছে শ্রম প্রতিমন্ত্রী এবং মহেশ শর্মা পেলেন পর্যটনের দায়িত্ব। মোদির সংসারে বাংলার একমাত্র প্রতিনিধি (পশ্চিমবঙ্গের গায়ক) বাবুল সুপ্রিয়কে দেয়া হয়েছে নগরোন্নয়ন, আবাসন, দারিদ্র্য দূরীকরণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। বিজেপির সংখ্যালঘু মুখতার আব্বাস নাকভি হয়েছেন সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন সাবেক অলিম্পিয়ান রাজ্যবর্ধন সিং রাঠোর। সোমবার বিকালে বর্ধিত ক্যাবিনেট বৈঠক হয়। এ বৈঠকের আগে সব মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন মোদি। জিনিউজ।
প্রথম যোগ মন্ত্রণালয় : নিরামিষভোজী মোদির যোগ ব্যায়ামের প্রতি দুর্বলতা রয়েছে অনেক আগ থেকেই। যোগপ্রীতি থেকেই এবার এর জন্য নতুন মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করলেন তিনি। ভারতের প্রথম যোগমন্ত্রী হিসেবে রোববার শপথ নিয়েছেন সাবেক পর্যটনমন্ত্রী শ্রীপদ যশোনায়েক। খবর এএফপির। চলতি বছরের মে মাসে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যোগের প্রচারণা শুরু করে মোদি সরকার। এরই অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা করে যোগ মন্ত্রণালয় নামে নতুন মন্ত্রণালয় গঠন করা হল। - See more at: http://www.jugantor.com/ten-horizon/2014/11/11/172179#sthash.SYHHfLEl.dpuf

ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি নাও হতে পারে : ওবামা

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি নাও হতে পারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এমন হুশিয়ারির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এ দুদেশের মধ্যে ওমানে সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো বৈঠক হয়েছে। রোববার সিবিএস টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ওবামা আবার বলেন, উভয়পক্ষ এখনও মতৈক্যে পৌঁছাতে পারেনি। ওবামা পাল্টা প্রশ্ন করেন, আমরা কি আমাদের মতপার্থক্য দূর করতে সক্ষম হব যাতে করে ইরান আবার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বলয়ে প্রবেশ করতে পারবে, নিষেধাজ্ঞা ধীরে ধীরে প্রত্যাহার হয়ে যাবে এবং আমরা নিশ্চিত হব ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না? তিনি বলেন, এখনও অনেক মতপার্থক্য রয়েছে। আমরা সম্ভবত সেগুলো নিরসন করতে পারব না। এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি রোববার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাভেদ জারিফের সঙ্গে বৈঠক করেন। পারমাণবিক চুক্তির বিষয়ে ইরানের সঙ্গে পশ্চিমাদের আলোচনায় অচলাবস্থা দূর করতে তারা এ বৈঠক করেন। ইরান ও পশ্চিমাদের মধ্যে পারমাণবিক চুক্তির জন্য আগামী ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত মাত্র সময় রয়েছে। তবে একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি কেমন হবে তা এখনও ঠিক করতে পারেনি তেহরান ও বিশ্বশক্তি। আলোচনা চালিয়ে যেতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের ওপর নিজ নিজ দেশের চাপ রয়েছে। জাতিসংঘের স্থায়ী পরিষদের পাঁচ সদস্য ব্রিটেন, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র এবং জার্মানি ও ইরান গত জুলাই মাসে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি হ্রাসে একটি সমন্বিত চুক্তিতে পৌঁছাতে আগামী ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বৃদ্ধির বিষয়ে একমত হয়।
তবে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলো ও ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও অধরা রয়ে গেছে। পশ্চিমাদের অভিযোগ, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচির আড়ালে আণবিক বোমা তৈরি করছে। তবে ইরান এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরানের দাবি, তারা বেসামরিক কাজে পারমাণবিক কর্মসূচি চালাচ্ছে। মাসকাটে কেরি, জারিফ ও ইইউর সাবেক পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ক্যাথরিন অ্যাস্টোন রোববার দুটি বৈঠক করেন।

ওবামা নিহত!

বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নিহত হয়েছেন! এ রকম সংবাদই প্রকাশ পেয়েছে খোদ মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিএনএন টেলিভিশনে। কিন্তু বাস্তবে এ খবর ভিত্তিহীন। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল কায়দা প্রধান ওসামা বিন লাদেন হত্যা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে ‘ওসামার’ স্থলে ভুল করে ‘ওবামা’ লেখা হয় টিভি চ্যানেলটির নিউজ স্ক্রলে। টিভির নিউজ অ্যাঙ্কর রাইটার ভুল করে এটি লেখেন। তবে সংবাদটি পাঠ করার সময় সংবাদ পাঠিকার ভুল হয়নি। তিনি ওবামা না বলে ওসামাই বলেছেন। ওসামা বিন লাদেন হত্যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলছে জোর বির্তক। আর তা উসকে দিয়েছেন মার্কিন বিশেষ কমান্ডো বাহিনী নেভি সিলের দুই সাবেক সদস্য। তারা নিজেদেরকে লাদেনের হত্যাকারী হিসেবে তুলে ধরেছেন। আর এতেই বেধে গেছে গোলমাল। নেভি সিলের দুই সাবেক সদস্যের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র এবং বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমে ঝড় ওঠে। গণমাধ্যমগুলো এই খবরটিকে গুরুত্বের সঙ্গে করে ফলাও প্রচার করে। সিএনএন টিভি রোববার এ ব্যাপারে সংবাদ প্রচার করছিল। এক সময় চ্যানেলটির স্ক্রলে ‘সিল হু ক্লেইমস হি কিলড ওবামা আন্ডার অ্যাটাক’ শিরোনাম লেখা উঠে আসে। এটি স্ক্রলে ৫০ সেকেন্ড ধরে চলছিল। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রে হৈ চৈ ফেলে দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে শুরু হয় সমালোচনা-আলোচনার ঝড়।

বিল গেটসের বাড়ির ষোলকথা

৮১৫০ কোটি ডলার মূল্যের সম্পত্তির অধিকারী, মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস এই মুহূর্তে আমেরিকার সবচেয়ে বিত্তবান ব্যক্তি। তার বিলাসবহুল প্রাসাদটিতেও রয়েছে প্রযুক্তি ও ঐশ্বর্যের ঝলকানি। ১৯৮৮ সালে ২০ লাখ ডলারের বিনিময়ে ওয়াশিংটন এস্টেট কেনেন গেটস। যার বর্তমান মূল্য ১২.৩৫৪ কোটি টাকা। বছরে মোট ১০ লাখ ডলার কর দেন গেটস।
এরপর দীর্ঘ সাত বছর ধরে একটু একটু করে গড়ে ওঠে তার স্বপ্নের বাসভবন। বাড়িটি নির্মাণে খরচ হয় ৬.৩ কোটি ডলার। ‘সিটিজেন কেন’ ছবির নায়ক চার্লস ফস্টার কেনের বাড়ির আদলে গেটস তার আস্তানার নাম রেখেছেন ‘জানাডু ২.০’।
গেটসের বাড়ির কিছু বৈশিষ্ট্য
১. ৬৬,০০০ বর্গফুটের বাড়ি তৈরি হয়েছে ৩০০ নির্মাণ শ্রমিকের সাহায্যে। এদের মধ্যে ২০০ বিদ্যুৎকর্মী। বাড়ি তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে ৫০০০ বর্গফুট কাঠ। বাড়ি লাগোয়া হ্রদের তীরের সৌন্দর্য বাড়াতে বসানো হয়েছে ৫০০ বছরের প্রাচীন ‘ডগলাস ফার’ গাছের সারি। ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ থেকে বার্জে ভাসিয়ে আনা হয়েছে বালি, যা দিয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে জলাশয়ের পাড়।
২. জানাডু ২.০-র প্রতি ঘরে হাইটেক সেন্সরের সাহায্যে পছন্দসই তাপমাত্রা এবং আলো সৃষ্টির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই বাড়িতে থাকতে এলে অতিথিদের নিজস্ব পিন নম্বর দেয়াই ‘জানাডু ২.০’-এর দস্তুর। নম্বর উল্লেখ করলেই মেলে অত্যাধুনিক পরিষেবা। ঘরের ওয়ালপেপারের পেছনে লুকানো স্পিকার থেকে বাড়ির সর্বত্র পছন্দ অনুযায়ী গান শোনার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
৩. এই বাড়ির পারিপার্শ্বিক প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগিয়ে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
৪. গেটসের বাড়ির দেয়ালের ছবি ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করার ব্যবস্থা হয়েছে। এজন্য বাড়ির আনাচে-কানাচে মোট ৮০ হাজার ডলার অর্থমূল্যের কম্পিউটার স্ক্রিন বসানো হয়েছে।
৫. বাড়ির ৬০ ফুট লম্বা সুইমিং পুলটির আয়তন ৩,৯০০ বর্গফুট।
৬. শরীরচর্চার স্থানটির মোট আয়তন ২,৫০০ বর্গফুট।
৭. অভ্যর্থনা কক্ষের আয়তন ২,৩০০ বর্গফুট। এখানে ২০০ জনের ককটেল পার্টি এবং ১৫০ জনের বসে খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
৮. রয়েছে মোট ২৪টি শৌচাগার। এর মধ্যে ১০টি অভিনব পরিষেবাযুক্ত।
৯. বাড়িতে রয়েছে মোট ৬টি খাবার ঘর।
১০. বিল গেটসের বইয়ের নেশা সর্বজনবিদিত। তার ২১০০ বর্গফুট গ্রন্থাগারের সিলিংটি গম্বুজাকৃতির।
১১. জানাডু ২.০-এর নিজস্ব মুভি থিয়েটারে ২০ জনের বসার ব্যবস্থা রয়েছে।
১২. মোট ২৩টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে এই বাড়ির বিভিন্ন গ্যারাজে। এর মধ্যে রয়েছে স্টেনলেস স্টিল ও কংক্রিটের তৈরি একটি কৃত্রিম গুহা। ১৩. বিল গেটস বৃক্ষপ্রেমী। তবে তার সবচেয়ে প্রিয় গাছ একটি ৪০ বছরের প্রাচীন ম্যাপল গাছ।
১৫. বাড়ির একপাশ দিয়ে বয়ে চলেছে মিষ্টি পানির নালা। সেখানে বসবাস করে স্যামন ও কাটথ্রোট ট্রাউট মাছের ঝাঁক।
১৬. বিল গেটসের বাড়িতে অতিথি হতে গেলে অংশগ্রহণ করতে হবে মাইক্রোসফটের বাৎসরিক নিলামে। তথ্য বলছে, একদা জানাডু ২.০-এর অতিথি হতে এক মাইক্রোসফট কর্মী খরচ করেছিলেন ৩৫ হাজার ডলার। নিলামের যাবতীয় অর্থ জমা পড়ে সংস্থার ত্রাণ তহবিলে।

চীন আরও ভালো করুক : ওবামা

বিশ্ব অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগী চীনের ক্রমবর্ধমান উন্নতিকে ‘স্বাগত’ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশ ‘আরও ভালো করুক’ বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোটের (অ্যাপেক) শীর্ষ সম্মেলনে সোমবার ওবামা এই মন্তব্য করেন। এ সময় চীনের সঙ্গে একটি ভিসাচুক্তির ঘোষণা দেন তিনি। ওবামা বলেন, ‘একটি সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল চীনের সামনে এগিয়ে যাওয়াকে যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানায়।’ তবে চীনের বাজার উন্মুক্তকরণ, মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ, মানবাধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহ্বান জানান ওবামা। চীন কর্তৃত্বাধীন আধা স্বায়ত্তশাসিত হংকংয়ের আন্দোলনের ব্যাপারেও প্রথমবারের মতো মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এদিকে, চীনের সঙ্গে একটি ভিসা চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওবামা। এই চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে চীনা ভ্রমণকারীদের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এতে ছাত্রভিসার মেয়াদ পাঁচ বছর বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী ও পর্যটক ভিসাও বাড়ানো হয়েছে। গত বছর চীনের ১৮ লাখ নাগরিক যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছেন।
ওবামা জানান, তারা অর্থনীতিতে ২১০০ কোটি ডলার অবদান ও ১ লাখ কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়েছে।বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত দক্ষিণ কোরিয়া-চীন : দক্ষিণ কোরিয়া ও চীন এক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরে সম্মত হয়েছে। অ্যাপেক সম্মেলনের ফাঁকে সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন হাই ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর আগে দুই দেশের মধ্যে ১৪ দফা বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট অফিস থেকে এক বিবৃতিতে এই বৈঠককে ফলপ্রসূ ও তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি বলে অভিহিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এই চুক্তির ফলে ৯০ শতাংশ পণ্যের ওপর থেকে গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে করা শুল্ক আরোপ উঠিয়ে নেবে চীন।আগামী বছর জাপান সফরে যাবেন পুতিন :২০১৫ সালে সুবিধাজনক সময়ে জাপান সফরে যেতে সম্মত হয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিন। রোববার অ্যাপেক সম্মেলনের প্রাক্কালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে এক বৈঠকে এই প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন পুতিন। সোমবার জাপানের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়।

চীন-জাপান নতুন যুগের সূচনা

অবশেষে আঞ্চলিক বিরোধ ভুলে নতুন যুগের সূচনা করল চীন-জাপান। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের মধ্যে বেইজিংয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছে। আঞ্চলিক বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে দুই বছরের বেশি সময়ের পর দু’দেশের মধ্যে বহুপ্রত্যাশিত এই বৈঠকটি অনুুষ্ঠিত হল। আবে এই বৈঠককে দু’দেশের মধ্যে ‘সম্পর্ক উন্নয়নের’ প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। খবর এএফপির।
শি জিনপিং ও শিনজো আবের মধ্যে এটাই প্রথম বৈঠক। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোট অ্যাপেকের শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সোমবার বেইজিংয়ের গ্রেট হলে দুই নেতার মধ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আধ ঘণ্টার বৈঠক শেষে শিনজো আবে বলেন, পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে দুই দেশের স্বার্থরক্ষার কৌশলগত সম্পর্ক পুনরায় শুরু করার জন্য এটি প্রথম পদক্ষেপ।পূর্ব চীন সাগরে বিরোধপূর্ণ দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপপুঞ্জ চীনে দিয়ায়ু এবং জাপানে সেনকাকু নামে পরিচিত। দ্বীপপুঞ্জ জাপানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে টোকিও দ্বীপপুঞ্জের জাপানি মালিকের কাছ থেকে তিনটি দ্বীপ কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এতে করে চীনের সঙ্গে দেশটির বিরোধ ঘনীভূত হয়।আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে চীনে জাপানি দখলদারিত্ব ও গত দুই বছর ধরে কয়েকটি জনহীন দ্বীপের মালিকানা নিয়ে চীন-জাপানের বিরোধ আরও প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এশিয়ার শীর্ষ ও বিশ্বের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দুই অর্থনীতি প্রধানের এই বৈঠক দুই দেশের বৈরী অবস্থা অবসানে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ১০-১১ নভেম্বর বেইজিংয়ে এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা (অ্যাপেক) সম্মেলন চলাকালে চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের মিলিত হওয়ার প্রস্তাব দেন জাপানি প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে চীনের বেশ কয়েকটি দাবির প্রতি জাপানের নমনীয় মনোভাবের পর আলোচনার পথ প্রশস্ত হয়। শুক্রবার দুই দেশের শীর্ষ কূটনৈতিক পর্যায়ের বৈঠকের পর শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয় উভয়পক্ষ। এর আগে চীনের প্রেসিডেন্ট ও জাপানের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে সমুদ্র সীমানার বিতর্ক ও সংঘাত এড়াতে একটি হটলাইন প্রতিষ্ঠার জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বিতর্কিত দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা ও জলসীমায় নৌকা চলাচলের ব্যাপারে সমঝোতার ভিত্তিতে একটি সীমারেখা টানার জন্য তিনি জিনপিংকে আহ্বান করেন। আবে বলেন, ‘আমি তাকে (জিনপিং) বলেছি, সমুদ্রসীমানায় যোগাযোগের একটি ম্যাকানিজম বাস্তবায়ন করতে। আমি মনে করি, এটাই হবে বিরোধ মীমাংসার পথে একটি বাস্তব পদক্ষেপ।’ বৈঠক-পরবর্তী এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি একথা জানান।এদিকে, চীন সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে পূর্ব চীন সাগরের জলসীমা ও দিয়ায়ু দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দুই দেশের উত্তেজনা প্রশমনে একমত হয়েছে দুই পক্ষ। সংকট কাটাতে সংলাপ ও আলোচনার ভিত্তিতে কার্যকর ম্যাকানিজম প্রতিষ্ঠা করা হবে।

রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপিই যাবে ট্রাইব্যুনালে

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ বহাল রেখে আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হতে পারে। আর সেই লক্ষ্যেই এই রায় লেখা শুরু হয়েছে। রায় লেখা শেষ হতে সপ্তাহখানেক বা তারও বেশি সময় লেগে যেতে পারে। আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, আপিল বিভাগ যেহেতু এখনও সংক্ষিপ্ত আদেশের কপি ট্রাইব্যুনালে পাঠাননি, সেহেতু হয়তো পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপিই পাঠাবেন। সেক্ষেত্রে সাজা কার্যকর কিছুটা বিলম্ব হতে পারে।৩ নভেম্বর আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ কামারুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতির মতামতের ভিত্তিতে তার ফাঁসির দণ্ড বহাল রেখে ওইদিন সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করা হয়। বেঞ্চের অপর তিন সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী। রায় ঘোষণার পরের দিনেই কামারুজ্জামানকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত এই আলবদর নেতার ফাঁসির আদেশ বহাল থাকায় তাকে ফাঁসির কাষ্ঠেই যেতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর কত দ্রুত তার ফাঁসি কার্যকর হবে তা মূলত নির্ভর করছে আপিলের রায়ের অনুলিপি প্রকাশের ওপর। কারণ এর পরই কেবল ফাঁসি কার্যকরের অন্য ধাপ শুরু হবে।রায় ঘোষণার পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কামারুজ্জামানের ফাঁসি দ্রুতই কার্যকর হয়ে যাবে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে প্রায় সব মহলে। উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন কামারুজ্জামানের পরিবারের সদস্য ও তার আইনজীবীরা। রায়ের কপি প্রকাশের পর রিভিউ আবেদন দায়ের করা হবে এবং রিভিউ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসি কার্যকর না করার আহ্বান জানান তারা।সর্বশেষ আইনমন্ত্রী শনিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, আপিল বিভাগের রায়ের অনুলিপি কারাগারে না পৌঁছানো পর্যন্ত তার ফাঁসি কার্যকর করা হবে না। রোববার নিজ কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, যখন ট্রাইব্যুনাল আপিল বিভাগের আদেশের কপি পাবে, তাদের দণ্ড বহাল থাকলে তখনই তারা মৃত্যু পরোয়ানা জারি করবে। জেলখানায় সেটা যাবে। তখন আসামিকে জানানো হবে যে, আপনার দণ্ড বহাল রয়েছে এবং পরোয়ানা এসে গেছে। এরপর সরকারের আদেশে ফাঁসি কার্যকর হবে। এসব বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট যে, কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর করতে হলে আগে আপিল বিভাগের রায়ের অনুলিপি ট্রাইব্যুনালে (বিচারিক আদালতে) পৌঁছাতে হবে।গত বছরের ৯ মে কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনা সাতটি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি প্রমাণিত হওয়ায় মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন ট্রাইব্যুনাল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে কামারুজ্জামান আপিল করেন। ট্রাইব্যুনালের রায়ে প্রমাণিত হওয়া ৫ অভিযোগের ওপর আপিল বিভাগ ৩ নভেম্বর রায় প্রদান করেন। মাত্র দেড় মিনিটে দেয়া আপিল বিভাগের এই সংক্ষিপ্ত রায়ে আসামি কামারুজ্জামানের আপিল আংশিক মঞ্জুর করা হয়। আপিল বিভাগের ওই সংক্ষিপ্ত রায় পর্যালোচনায় দেখা যায়, রায়ে কামারুজ্জামানকে সাজা প্রদানের ক্ষেত্রে সব বিচারপতি একমত হতে পারেননি।তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনা এক নম্বর অভিযোগ একাত্তরে বদিউজ্জামানকে হত্যার দায়ে ট্রাইব্যুনাল যাবজ্জীবন দণ্ড দিলেও আপিল বিভাগ খালাস দিয়েছেন। দ্বিতীয় অভিযোগে শেরপুর কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ আবদুল হান্নানকে অমানবিক নির্যাতনের দায়ে ট্রাইব্যুনালের দেয়া ১০ বছরের সাজা বহাল রয়েছে। তৃতীয় অভিযোগে সোহাগপুর গ্রামে (বর্তমানে বিধবাপল্লীতে) গণহত্যা ও নারী ধর্ষণের দায়ে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে। চতুর্থ অভিযোগে গোলাম মোস্তফাকে হত্যার দায়ে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করা হয়েছে। সপ্তম অভিযোগে দারা ও টেপা মিয়াকে অপহরণ এবং পরে দারাকে হত্যার দায়ে ট্রাইব্যুনালের দেয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রয়েছে আপিলের এই রায়ে।এই দণ্ড দেয়ার ব্যাপারে কোন বিচারপতি একমত হননি তা রায় ঘোষণার সময় জানানো হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা এই জামায়াত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার ব্যাপারে বেঞ্চের অন্য বিচারপতিদের সঙ্গে একমত হতে পারেননি। তিনি সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়ার পক্ষে রায় দিয়েছেন। রোববার থেকে এই বিচারপতি তার রায়ের অংশ লেখা শুরু করেছেন।মৃত্যুদণ্ড দেয়ার পক্ষে রায় লেখা শুরু করেছেন বিচারপতি এসকে সিনহা। রায় লেখা শেষ হলে তা পাঠানো হবে ট্রাইব্যুনালে। এরপর ট্রাইব্যুনাল ওই রায়ের ওপর ভিত্তি করেই কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করবেন। এর আগে যেমনটি করা হয়েছিল জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার ক্ষেত্রে।গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতির মতামতের ভিত্তিতে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির আদেশ দেন। প্রায় আড়াই মাসেরও বেশি সময় পর ৫ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। ওই রায়ে কাদের মোল্লাকে ফাঁসি দেয়ার পক্ষে একমত ছিলেন না বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা। রায়ের কপি প্রকাশের পর ৮ ডিসেম্বর সেটি ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। এরপর ট্রাইব্যুনাল সেদিনেই কাদের মোল্লার মৃত্যুপরোয়ানা জারি করে আদেশটি ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠায়।রায়ের কপি হাতে পেয়েই তার ফাঁসি কার্যকর করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। এক্ষেত্রে তখন জেল কোড অনুযায়ী রায়ের কপি হাতে পাওয়ার ২১ দিনের আগে নয় ও ২৮ দিনের পরে নয় যে বিধান রয়েছে তা অনুসরণ না করেই ফাঁসি কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের জন্য জেল কোডে প্রদত্ত সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। কিন্তু রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করতে আসামিপক্ষের উদ্যোগের প্রেক্ষাপটে চেম্বার জজ ১০ ডিসেম্বরে ফাঁসির আদেশ স্থগিত করেছিলেন।কাদের মোল্লার পক্ষে দুটি রিভিউ আবেদন করা হয়েছিল। ১১ ডিসেম্বর আপিল বিভাগে পুনর্বিবেচনার আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শুনানি হয়। ১২ ডিসেম্বর প্রধান বিচারপতি কেবল ঘোষণা দেন যে, বোথ দ্য ক্রিমিনাল রিভিউ পিটিশনস আর ডিসমিসড। রিভিউ আবেদন খারিজের দিন রাতেই কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। কিন্তু রিভিউ আবেদন কী কারণে খারিজ হয়েছে তা স্পষ্ট করেননি আপিল বিভাগ। রিভিউ সংক্রান্ত রায়ের কপি এখনও প্রকাশিত না হওয়ায় আপিল বিভাগ রিভিউ আবেদন গ্রহণ করে খারিজ করেছেন নাকি রিভিউ গ্রহণের আগেই খারিজ হয়েছে সেটি এখনও জানা যায়নি। তাই রিভিউ করা যাবে কি যাবে না তা নিয়ে আইনি তর্কের মীমাংসা হয়নি।একই কারণে কামারুজ্জামানের রায় রিভিউয়ের আবেদন নিয়েও অস্পষ্টতা কাটেনি। আরেক জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে আপিল বিভাগের দেয়া পূর্ণাঙ্গ আদেশের অনুলিপি প্রকাশ হলেই রিভিউ নিয়ে অস্পষ্টতা ঘুচবে বলে রোববার মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করার অভিজ্ঞতা থেকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রায়ের কপি প্রকাশের পর ট্রাইব্যুনাল মৃত্যু পরোয়ানা জারি করলে বাকি প্রক্রিয়া শেষ হতে সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। সে অনুযায়ী চলতি মাসের শেষের দিকে অথবা আগামী ডিসেম্বরের যে কোনো সময় তার ফাঁসি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।আমি চ্যালেঞ্জ করছি বাবা কোনো অভিযোগে জড়িত নয় : শেরপুরের সোহাগপুরের ঘটনার সঙ্গে কামারুজ্জামানের কোনো সম্পর্ক নেই বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তার ছেলে হাসান ইকবাল। সোমবার সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে কামারুজ্জামানকে নির্দোষ দাবি করে এই চ্যালেঞ্জ ছোড়েন তিনি। এ সময় কামারুজ্জামানের স্ত্রী, ছেলেমেয়ে, ভাই ও শ্যালক উপস্থিত ছিলেন।হাসান ইকবাল বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি। সোহাগপুরের ঘটনার সঙ্গে আমার বাবার দূরতম সম্পর্ক নাই। তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। আমার বাবা সম্পূর্ণ নির্দোষ। অন্যায়ভাবে সাজানো অভিযোগে তাকে ফাঁসির দণ্ড দেয়া হয়েছে। আমার বাবা কখনও সোহাগপুরে যাননি। এমনকি রাষ্ট্রপক্ষের দাখিল করা ফর্মাল চার্জেও সোহাগপুর গণহত্যার সময় সেখানে তিনি উপস্থিত ছিলেন মর্মে কোনো অভিযোগ নাই।তিনি বলেন, এই মামলায় মূল সাক্ষীর তালিকায় ৪৬ জনের নাম ছিল। তাদের মধ্যে ১০ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেয়ার পর নতুন করে তিনজন মহিলাকে অতিরিক্ত সাক্ষীর মাধ্যমে এসব অভিযোগে আনা হয়েছে। হাসান ইকবাল বলেন, স্বাধীনতার সময় সাক্ষীরা আমার বাবাকে চিনতেনও না। তাদের কথায় আমার বাবার বিরুদ্ধে রায় হয়েছে। এ রায় ন্যায়ভ্রষ্ট।তিনি বলেন, ২০১১ সালে সোহাগপুরের গণহত্যা নিয়ে সাংবাদিক মামুন-উর রশিদ উক্ত এলাকা পরিদর্শন করে সোহাগপুরের বিধবা কন্যারা নামে একটি বই প্রকাশ করেন। সেখানে অনেক সাক্ষীর সাক্ষাৎকার আছে। তাতে কেউ একবারের জন্যও বলেনি যে আমার বাবা এ ঘটনায় যুক্ত ছিলেন। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহমান তালুকদারের ২০১১ সালের অনুপম প্রকাশনী মুক্তিযুদ্ধে নালিতাবাড়ী বইতেও আমার বাবার সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়নি। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই মামলায় আমার বাবাকে জড়ানো হয়েছে। রিভিউ আবেদনে আশা করি তিনি খালাস পাবেন।কামারুজ্জামানের ছেলের বক্তব্য আদালত অবমাননাকর : মানবতাবিরোধী অপরাধী কামারুজ্জামানের ছেলের বক্তব্য আদালত অবমাননাকর বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য দম্ভোক্তি এবং শালীনতাবোধ বর্জিত। দুপুরে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে কামারুজ্জামানের ছেলে হাসান ইকবালের সংবাদ সম্মেলনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। আ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, কামারুজ্জামানের ছেলে যে কথাগুলো সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, এসব বক্তব্য তার আইনজীবীরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আদালতে উপস্থাপন করেছেন। এসব বক্তব্য বিবেচনা করেই আদালত তার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। সর্বোচ্চ আদালত সম্পর্কে একজন যুদ্ধাপরাধীর ছেলের দম্ভোক্তি এবং শালীনতাবোধ বর্জিত বক্তব্য দুঃখজনক। এটা আদালতের নজরে আনবেন কি-না এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেক সময় মানুষ পাগলের প্রলাপ বকে। সব পাগলকে তো আর আদালতের সামনে নিয়ে যাওয়া যায় না। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের ব্যাপারে ক্ষোভ থাকলে তার প্রকাশ এ ধরনের হওয়া উচিত না। বিশেষ করে ন্যায়ভ্রষ্ট কথাটা তাকে কে শিখিয়ে দিয়েছে আমি জানি না। এটার সম্পূর্ণ অর্থ জেনেই বলা উচিত। অবশ্যই আদালতের প্রতি এ ধরনের বক্তব্য আদালত অবমাননাকর বলে উল্লেখ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে তিনি বলেন, দণ্ড কার্যকর হবে ২০(৩) ধারা মতে, সরকারের নির্দেশ অনুসারে। কাজেই সরকার যেভাবে সময় প্রদান করবে, সেভাবেই রায় কার্যকর হবে। তিনি বলেন, রিভিউ যদি কেউ করেনও সেই রিভিউয়ের জন্য দণ্ড স্থগিত থাকবে না। আপিল বিভাগ স্থগিতাদেশ দেয়ার আগ পর্যন্ত দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া কারা কর্তৃপক্ষ চলমান রাখবে।

মেঘনা থেকে এমভি কর্ণফুলীর চালকের লাশ উদ্ধার

লক্ষ্মীপুরের রামগতির মেঘনা নদী থেকে এমভি কর্ণফুলী-৫ জাহাজের নিখোঁজ চালক নূর নেওয়াজের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার গভীর রাতে মেঘনা নদীর আলেকজান্ডার মাছঘাট থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। তিনি মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার বালিদীয়া গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পুলিশ চালককে উদ্ধার করলেও এখনও জাহাজের দুজন কর্মচারী নিখোঁজ রয়েছেন। এদিকে এ ঘটনায় শনিবার থেকে শুরু হওয়া নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট সোমবার রাতে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নৌযান শ্রমিকদের দাবি মেনে নেয়ায় ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেয় বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন। সোমবার বিকালে নৌ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের সঙ্গে বৈঠকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে নৌপথের নিরাপত্তাসহ শ্রমিকদের ৫ দফা দাবি মেনে নেয় মন্ত্রণালয়।
সমঝোতার পর ধর্মঘট প্রত্যাহার : বৈঠক শেষে নৌমন্ত্রী যুগান্তরকে বলেন, নৌযান শ্রমিকদের দুপক্ষের সঙ্গে বৈঠক সফল হয়েছে। তারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে সমঝোতা স্বাক্ষর করেছেন। একই সঙ্গে তাদের দাবি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. শাহ আলম বলেন, সমঝোতার পর ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন থেকে সব জাহাজ চলবে।বৈঠক সূত্র জানায়, শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার পর বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে, কর্ণফুলী-৫ জাহাজের নিখোঁজ শ্রমিকদের উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হবে এবং আগামী ৭ দিনের মধ্যে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা হবে। নিহত শ্রমিকদের অনুদানের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সারা দেশে নৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ডাকাতি বন্ধে এখন থেকেই নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ড এবং জেলা পুলিশের টহল কার্যকরভাবে অব্যাহত রাখা হবে। নৌপথের নিরাপত্তার জন্য কার্যকর স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে আগামীকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, নৌযান মালিক ও শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে একটি যৌথ সভা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। এছাড়া বালুমহালে সব ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধ করা হবে। বৈঠকে শ্রমিক নেতা ও বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান, সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।এর আগে গত শুক্রবার রামগতির কর আবদুল্লাহ এলাকায় কর্ণফুলী এমভি-৫ জাহাজে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে চালকের ওপর হামলা হয়। পরে ওই চালকসহ ৩ জন নিখোঁজ হন। শনিবার রাতে জাহাজের মালিক আবদুস সালাম বাদী হয়ে জাহাজের চার কর্মচারীসহ পাঁচজনকে আসামি করে কমলনগর থানায় মামলা দায়ের করেন। এই ঘটনাকে লাইটারেজ শ্রমিক তথা নৌযান শ্রমিকরা ডাকাতির ঘটনা অভিহিত করে এবং এর সঙ্গে আরও কিছু দাবি তুলে ধরে পরদিন শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করে। সোমবার তৃতীয় দিনে চট্টগ্রাম, মংলা, বরিশাল, আশুগঞ্জ, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ীসহ বেশ কয়েকটি অভ্যন্তরীণ নৌবন্দর অচল হয়ে পড়ে। বন্ধ থাকে পণ্য ওঠা-নামা। রোববার নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা চট্টগ্রামে নৌযান শ্রমিক নেতাদের মধ্যে বৈঠকের পর শ্রমিক নেতারা ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও শ্রমিকদের একাংশ ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন রাতে চালক নুর নেওয়াজের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।লক্ষ্মীপুর ও রামগতি থেকে প্রতিনিধি জানান, রোববার রাতে মেঘনা নদীর রামগতির আলেকজান্ডার মাছঘাট এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। রাতে নদীতে লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে রামগতি থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে কমলনগর থানায় প্রেরণ করে। কমলনগর থানা পুলিশ সোমবার সকালে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে মর্গে তার লাশ নিয়ে আসে। নিহত নুর নেওয়াজের লাশ শনাক্ত করেছেন তার ছোট ভাই শরিফুল ইসলাম।চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, নৌযান শ্রমিকরা ধর্মঘট অব্যাহত রাখায় চট্টগ্রাম বন্দর বহির্নোঙরে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাসে অচলাবস্থা কাটেনি। ১৫টি মাদার ভেসেলে ২০ লাখ টন এবং আরো প্রায় ৩শ লাইটারেজ জাহাজ ৭ লাখ টন পণ্য নিয়ে অলস বসে থাকে।শাহজাদপুর প্রতিনিধি জানান, সোমবার উত্তরবঙ্গের একমাত্র নদীবন্দর বাঘাবাড়ী দিয়ে কোনো পণ্য ওঠা-নামা করেনি। বাঘাবাড়ী বন্দরের ইজারাদারের প্রতিনিধি আবুল হোসেন জানান, ধর্মঘটের কারণে জাহাজ চলাচল বন্ধের পাশাপাশি বন্দরে থাকা ৩০টি সার ও তেলবাহী জাহাজ থেকে নৌযান শ্রমিকদের বাধার কারণে মালামাল খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বন্দরের সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।আশুগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট অব্যাহত থাকায় আটকা পড়েছে দেড়শতাধিক পণ্যবাহী কার্গো। এতে পণ্য সরবরাহ ও লোড-আনলোড ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। নৌযান ধর্মঘট তৃতীয় দিনে জাহাজ থেকে মালামাল খালাস বন্ধ থাকায় আশুগঞ্জ বন্দরের কয়েক হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েন।নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী তীরে লাইটারেজ জাহাজের পাশাপাশি বালুবাহী কার্গো ট্রলারগুলোকে নদীতে অলস বসে থাকতে দেখা যায়।

এলো ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের স্কুলে ভর্তির মৌসুম

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভর্তি-মৌসুম আবার এলো। রাজধানীসহ দেশের প্রধান শহরগুলোতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা সেই প্রস্তুতিতে রীতিমতো যুদ্ধে নেমে পড়েছেন। বাবা-মায়ের ঘুম হারাম অবস্থা। পছন্দের স্কুলে ভর্তি করানোর প্রাণান্তকর চেষ্টার অংশ হিসেবে সন্তানদেরও দিনরাত পড়ালেখায় নিবিষ্ট রাখা হচ্ছে। প্রথম শ্রেণীর ভর্তি আগের মতোই লটারির মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
এবার ঢাকায় সবার আগে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করেছে ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল ও কলেজ। এরপরই ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ। এর মধ্যে ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল সোমবার ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের বাছাই তালিকা প্রকাশ করেছে। আর ভিকারুননিসা এদিন ফরম বিতরণ শুরু করেছে। বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল ও কলেজ, উদয়ন উচ্চ বিদ্যালয়, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। এগুলোর মধ্যে বনানী বিদ্যানিকেতনে আজ, উদয়নে ১৫ নভেম্বর এবং আইডিয়ালে ১৭ নভেম্বর ভর্তি ফরম বিতরণ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অগ্রণী স্কুল ও কলেজ, মতিঝিল মডেল স্কুল ও কলেজ, মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়সহ রাজধানীর আরও বেশকিছু স্কুল ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) সূত্র জানায়, রাজধানীতে ৩০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, তিন শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রায় পাঁচশ বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং চার শতাধিক ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল ও অন্তত ৫ সহস াধিক কিন্ডারগার্টেনসহ প্রায় সাড়ে ৬ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব স্কুলে প্রতি বছর অন্তত ৫ লাখ ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়। ভর্তিচ্ছুদের প্রায় ৯০ ভাগই তাদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারে না। কেননা রাজধানীতে সহস াধিক স্কুল থাকলেও দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক পাঠদান পদ্ধতিসহ মানসম্মত স্কুলের সংখ্যা বড়জোর শতাধিক। সেগুলোর দিকেই শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের নজর থাকে বেশি। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী সীমিত সংখ্যক আসন দখলের জন্য রীতিমতো ভর্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, কঠোরতম ভর্তি পরীক্ষায় সর্বসাকুল্যে ২৫-৩০ হাজার শিক্ষার্থী পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারে। সন্তানকে পছন্দের প্রতিষ্ঠানটিতে ভর্তি করাতে অভিভাবকের চেষ্টার ত্র“টি থাকে না। এজন্য শিশু শিক্ষার্থীর পেছনে একাধিক প্রাইভেট টিউটর লাগিয়ে দেন। অনেকে সন্তানকে পাঠান কোচিং সেন্টারে। এর বাইরে বাবা-মায়ের নিজস্ব বিশেষ যত্ন তো রয়েছেই।
এর বাইরে শিশুদের ভর্তি নিয়ে অভিভাবকদের আরেক ঝক্কির দিক হল ফরম সংগ্রহ। তবে গত কয়েক বছর ধরে ফরম বিতরণে কিছুটা সুষ্ঠু পরিস্থিতি ফিরেছে। একসময় রাজধানীর ভিকারুননিসা ও মতিঝিল আইডিয়ালের ফরম তোলার জন্য অনেক বাবা-মাকে আগের রাতে স্কুল গেটে অবস্থান করতে দেখা গেছে। এবার ভিকারুননিসা তাদের ভর্তি ফরম ছেড়েছে অনলাইনে। সরকারি স্কুলগুলোও অনলাইনে ফরম বিতরণের প্রস্তাবনা তৈরি করেছে। এ নিয়ে আজ মন্ত্রণালয়ে বৈঠক বসার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজধানীর স্কুলগুলোর মধ্যে সাধারণত ৩০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভিকারুননিসা, মতিঝিল আইডিয়াল, মতিঝিল মডেল, মনিপুর, উদয়ন, অগ্রণী গার্লস, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল, দনিয়ার একে হাইস্কুলসহ বিভিন্ন স্কুল অভিভাবকদের পছন্দের শীর্ষে থাকে। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ও অভিভাবকদের পছন্দের শীর্ষে থাকে।
অভিযোগ রয়েছে, সন্তানের ভর্তি নিয়ে অভিভাবকদের এই উৎকণ্ঠা আর দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন স্কুলের একশ্রেণীর অসৎ শিক্ষক ভর্তিবাণিজ্যে নেমে পড়েন। নামিদামি অনেক স্কুলের বিরুদ্ধেও ভর্তিবাণিজ্যের ঘোরতর অভিযোগ রয়েছে। যে কারণে ভর্তি মৌসুম এলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে একশ্রেণীর দালাল। সংশ্লিষ্টরা জানান, এই মানসিকতা থেকেই এবার সরকারি নীতিমালা বা সিদ্ধান্তের আগেই বিভিন্ন স্কুল ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি সিদ্ধান্তের আগে এভাবে ফরম বিতরণের মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করা রীতিমতো স্বেচ্ছাচারিতার শামিল। এটা কাক্সিক্ষত নয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (মাধ্যমিক) জাকির হোসেন ভূইঞা বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া এভাবে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত নয়। যদি মন্ত্রণালয় নীতিমালা জারি না করে আর স্কুলগুলোকে তাদের কার্যক্রম শুরু করতে হয়, সে ক্ষেত্রে তারা নির্দেশনা চাইতে পারে। অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে সোমবার শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা পর্যায়ক্রমে সব ধরনের ভর্তি অনলাইনের অধীনে নিয়ে আসব।
সরকারি স্কুলে ভর্তি নিয়ে আজ বৈঠক : রাজধানীসহ সারা দেশের অভিভাবকদের কাছে অতি আকর্ষণীয় সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর ভর্তি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। ওই সব স্কুলের ভর্তির ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আজ বৈঠক ডাকা হয়েছে। এ বৈঠকে নতুন বছরের ভর্তির নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে মাউশির উপপরিচালক (মাধ্যমিক) মোস্তফা কামাল গতকাল যুগান্তরকে বলেন, ভর্তি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে কাল (আজ মঙ্গলবার) বৈঠক ডাকা হয়েছে। মন্ত্রণালয় নীতিমালা ঠিক করে দেবে। এরপর আমরা বৈঠকে বসব।