Showing posts with label আবু সাঈদ খান. Show all posts
Showing posts with label আবু সাঈদ খান. Show all posts

Thursday, March 1, 2018

বিপিন রাওয়াতের বক্তব্য কতটুকু গ্রহণযোগ্য by আবু সাঈদ খান

ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াতের বক্তব্য বিস্ময়কর। ইতিমধ্যে যা বাংলাদেশ ও ভারতে আলোচিত-সমালোচিত হচ্ছে। "জেনারেল রাওয়াত বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮) দিল্লিতে এক সেমিনারে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেন, 'ভারতের বিরুদ্ধে ছায়াযুদ্ধের অংশ হিসেবেই পাকিস্তান উত্তর-পূর্ব ভারতে বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশে মদদ দিচ্ছে। আর সে কাজে তাদের সাহায্য করছে চীন।' বাংলাদেশ থেকে সুপরিকল্পিতভাবে মুসলিমদের পাঠানোর ফলে আসামে বছর কয়েক আগেও মাত্র পাঁচটি জেলায় মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল, এখন সে রাজ্যে আট থেকে নয়টি জেলা সে অবস্থায় চলে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।" (বিবিসি, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮)। জেনারেল রাওয়াতের কথায় মনে হচ্ছে, বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও জনগণ যেন পাকিস্তানের হুকুম-আহকামে চলছে! তিনি অবহিত না থাকলেও তার পূর্বসূরি মার্শাল শ্যাম মানেক শ, লে. জেনারেল জে এফ আর জ্যাকব, লে. জেনারেল জগৎ সিং অরোরা, মেজর জেনারেল সুজান সিং উবানসহ একাত্তরে যারা বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, রণাঙ্গনে আমাদের হয়ে লড়েছিলেন; তারা বাংলাদেশের মানুষের মানসিকতার সঙ্গে অবহিত ছিলেন। এখনও মিত্র যোদ্ধাদের অনেকেই বেঁচে আছেন, তাদের কাছে জেনারেল রাওয়াত পাকিস্তান সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের মানসিকতার কথা জানতে পারবেন। বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর প্রতি ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ করছে, সোশাল মিডিয়ায় একাত্তরের কৃতকর্মের জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য দাবি তুলছে। এটি সবারই বোঝা দরকার, আমরা ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা এনেছি, পাকিস্তানের নির্দেশ তামিলের জন্য নয়। তাই পাকিস্তানের মদদে বাংলাদেশি মুসলমানরা আসামে অনুপ্রবেশ করেছে- এর চেয়ে হাস্যাস্পদ আর কী হতে পারে! প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশের মানুষ আসামে কেন যাবে? বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমান এখন আসামের চেয়ে অনেক ভালো। বাংলাদেশ জীবনমানের কোনো কোনো সূচকে ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ থেকে এগিয়ে আছে; সে প্রশংসা অমর্ত্য সেনসহ অনেকে ভারতীয় অর্থনীতিবিদ-সমাজবিদরা করছেন। এ প্রসঙ্গে সিটমহল বিনিময়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করতে চাই। তখন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১টি সিটমহলে ৪৫ হাজার ৪৭১ জনের বসবাস ছিল। যাদের ভারতে পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ ছিল; তা সত্ত্বেও তাদের মধ্যে মাত্র ৯৮০ জন ভারতে গেছে। আর অবশিষ্টরা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিয়ে এখানে থেকে যায়। যাদের মধ্যে হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের লোক রয়েছে। এটি সত্য, ব্রিটিশ ভারতে বাঙালিসহ ভারতের নানা রাজ্যের লোক আসামে বসতি গড়েছিলেন, আসামের ভূমিকে আবাদযোগ্য করে তুলেছিলেন। সেটি নিশ্চয়ই অনুপ্রবেশ ছিল না।
তখন আসাম ও পূর্ববঙ্গের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়াও ছিল না। তাছাড়া ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত বরাক অববাহিকায় অবস্থিত আসামের করিমগঞ্জ, কাছাড় ও হাইলাকান্দি ছিল সিলেটের অন্তর্গত। আর উনিশ শতকেও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় আসামের চার জেলা ধুবরি, গোয়ালপাড়া, কোকরাঝাড় ও বঙ্গাইগাঁও ছিল রংপুরের অংশ। ১৮২২ সালে এটিকে রংপুর থেকে পৃথক করে নর্থ ইস্ট রংপুর জেলা করা হয়, যা এখন আসামের চার জেলা। তাছাড়া মেঘালয়ের গারো হিল জেলাটি ১৮৬৬ সাল পর্যন্ত গোয়ালপাড়ার অংশ। এসব তথ্য গোয়ালপাড়া জেলা আদালতের ওয়েবসাইটে জাজ্বল্যমান। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের আগ পর্যন্ত দুই দেশের যাতায়াতে কোনো ছেদ পড়েনি। যুদ্ধের আগ পর্যন্ত চাঁদপুর-গুয়াটি জাহাজ চলাচল করত। এমন সঙ্গত কারণেই অনেক পরিবার আছে- যাদের একাংশ বাংলাদেশে, অপরাংশ আসাম, ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ বা সীমান্তবর্তী অন্যান্য রাজ্যে। এ জেলাগুলোতে বাঙালিরা বহিরাগত নয়, তারাই আদিবাসী। আমার বিশ্বাস, এ সত্য জেনারেল রাওয়াতের না জানার কথা নয়। না জানার কথা নয় বিজেপি সরকারের- যারা নাগরিকত্ব নিবন্ধনে তাদের 'বাংলাদেশি' বলে চিহ্নিত করতে চাইছে। বাংলাদেশি বিতাড়নের স্লোগানের হোতা হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি। অতি আশাবাদী কেউ কেউ বলেন, এটি ফাঁকা আওয়াজ, নির্বাচনী কৌশল। তাদের যুক্তি, ২০১৪ সালে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি এক কোটি বাংলাদেশি হটানোর ধুয়া তুলেছিল। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এবারও নির্বাচনের সামনে এসব বলা হচ্ছে। কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। এ ধরনের পদক্ষেপ না নেওয়া হলেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। আসামসহ ভারতের নানা রাজ্যের সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। বিজেপির শাসনামলে গোরক্ষার নামে মানুষ হত্যা, 'লাভ জেহাদ' প্রতিরোধ, 'ঘর ওয়াপাসি'সহ নানা হিন্দুত্ববাদী কার্যক্রমে মুসলমান ও দলিতরা ভীতসন্ত্রস্ত। তার ওপর দেশত্যাগের হুমকি সংখ্যালঘুদের উদ্বেগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে. তাদেরকে দিশেহারা করেছে। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্যও উদ্বেগের বিষয়। আমরা জানি না, ভারত সরকার শেষ পর্যন্ত কী করবে? তবে এতদিন যা কিছু হচ্ছিল তা রাজনীতির খেলা বলে মনে করা যেত। কিন্তু যখন সেনাপ্রধান একই সুরে কথা বলেছেন, তখন এটিকে নেহাত রাজনীতির কৌশল বলে মানা যায় না। আমাদের বিশ্বাস ছিল, রাজনীতিতে যাই হোক, ভারতের রাষ্ট্রযন্ত্র অর্থাৎ প্রশাসন-সেনাবাহিনী ধর্মনিরপেক্ষ। বিপিন রাওয়াতের এ বক্তব্য তাতে চিড় ধরাল। যদিও বলা হচ্ছে, এটি সরকারের বক্তব্য নয়। তবে সেনাপ্রধান সরকারের বাইরে, তা কী করে বিশ্বাস করি? আর সে দেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিজয় কুমার সিংহ সেনাপ্রধানের বক্তব্য সমর্থন করে বলেছেন, 'সেনাপ্রধান যা বলতে চান, তা বলতে পারেন। আমাদের দোষ হলো, সবকিছুর মধ্যে রাজনীতি খুঁজি।' জেনারেল রাওয়াতের এ বক্তব্যের পর বিজেপির পালে বাতাস লেগেছে। দলটির অনেক নেতাই তাকে বাহবা দিচ্ছেন। জানি না, জেনারেল রাওয়াতের বক্তব্য বাংলাদেশের প্রতি কোনো উষ্ফ্মার প্রকাশ কিনা! ভারতের পত্রপত্রিকায় এসেছে, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা, বিশেষ করে চীনের কাছ থেকে সাবমেরিন ক্রয়ে ভারত অসন্তোষ্ট। যদিও বাংলাদেশকে তার সমুদ্র সীমানার নিরাপত্তার প্রয়োজনে এটি কিনতে হয়েছে। এটি সবারই বোধগম্য, নৌশক্তি বাড়াতে বাংলাদেশকে চীন, রাশিয়া বা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যাওয়ার বিকল্পও নেই। ভারতকে তার সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করতে পরাশক্তির সাহায্য নিতে হয়েছিল, এখন নিতে হচ্ছে। ভারতের সঙ্গে চীনের সমস্যা আছে। তাই বলে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানামুখী সহযোগিতা কার্যক্রম থেমে নেই। এ প্রসঙ্গে বলা দরকার যে, ভারতের আপত্তির কারণে বাংলাদেশ চীনের সহায়তায় কক্সবাজারের সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের উদ্যোগ নিতে পারেনি। চীন বাংলাদেশের সাড়া না পেয়ে সেটি মিয়ানমারের রাখাইনে করছে। সেটি নির্মিত হলে বাংলাদেশকে সঙ্গত প্রয়োজনেই রাখাইনের কাওয়াকফু সমুদ্রবন্দরটি ব্যবহার করতে হবে। হয়তো ভারতকেও ওই সমুদ্রবন্দরটি ব্যবহার করতে হবে। আমাদের কষ্ট, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর হলে বাংলাদেশ মহাজন থাকত, আর তাওয়াকফু সমুদ্রবন্দরে হতে হবে ফড়িয়া। বলা বাহুল্য, সোনাদিয়ায় চীনের বিনিয়োগ থাকলে রোহিঙ্গা ইস্যুতে দেশটি বাংলাদেশের পাশে সক্রিয় থাকত। এখন চীন নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমারের পক্ষে থাকছে; ভারতও বাংলাদেশের হয়ে কিছু করছে না। এটি সবাইকে মানতে হবে, একটি বন্ধুরাষ্ট্রের পক্ষে আরেকটি বন্ধুরাষ্ট্রের একশ' ভাগ মন জুগিয়ে চলা সম্ভব নয়। আর এমন মতপার্থক্য মানে বন্ধুত্বের অবসান নয়। মুত্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বের বুনিয়াদ প্রতিষ্ঠিত। এ সরকারের আমলে তা নতুন মাত্রা লাভ করেছে। শেখ হাসিনার সরকার উত্তর-পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ভারতের কাছে তুলে দিয়েছে। নিশ্চিত করছে, ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা কখনও বাংলাদেশে আশ্রয় পাবে না। ভারতকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সহজশর্তে ট্রানজিট দিয়েছে। ভারতও বাংলাদেশের উন্নয়নে অংশীদার। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামো নির্মাণে সহযোগিতা করছে। দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হলে উভয়কে সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে, কোনো প্রকার চাপ সৃষ্টি নয়। আশার কথা, ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের বড় শক্তি দুই দেশের নাগরিক সমাজ। বাংলাদেশকে তিস্তাসহ বিভিন্ন নদীর পানির হিস্যা প্রদানে ভারতের নাগরিক সমাজ বরাবরই সোচ্চার। আসাম থেকে 'বাংলাদেশি' হটানোর বিরুদ্ধে ভারতের সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিবাদ জানাচ্ছে। প্রতিবাদ জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি কড়া ভাষায় বলেছেন, তারা এ অন্যায় কিছুতেই মেনে নেবেন না। আসাম থেকে বাংলাভাষীদের তাড়িয়ে দিলে পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় দেবেন। ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির এ অবস্থান আমাদের আশ্বস্ত করে। আশাবাদী হই যে, ভারতে সাম্প্রদায়িক বিভাজন নীতি কাজ করবে না।
ask_bangla71@yahoo.com
সাংবাদিক ও লেখক

Thursday, January 16, 2014

সাম্প্রতিক বাংলাদেশে বুদ্ধিবৃত্তির মত ও পথ by আবু সাঈদ খান

বিভক্তির ছুরিতে দেশের রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে শ্রেণী-পেশার সংগঠন আজ ক্ষত-বিক্ষত। তবে এতে ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বী দুই বড় দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তেমন আক্রান্ত হয়নি। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাম দলগুলো। বিভক্তির ঘাত-প্রতিঘাতে তারা ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র হয়ে পড়েছে। এসব বিভাজন যতটা না আদর্শকেন্দ্রিক, তার চেয়ে বেশি ব্যক্তি ও গোষ্ঠী বা কোটারির স্বার্থে সংঘটিত। সাংবাদিক-শিক্ষক-চিকিৎসক-প্রকৌশলী-আইনজীবীরাও আজ বিভক্ত। এসব পেশাজীবী বিভক্ত হয়ে এক দল হয়েছে আওয়ামী লীগপন্থি, অপর দল বিএনপিপন্থি। এ বিভাজনে লাভবান হচ্ছেন বিভাজিত সংগঠনের নেতারা। দল ক্ষমতায় গেলে সে দলের সমর্থকদের ভাগ্য খুলে যায়। তাদের পদোন্নতি হয়, বড় বড় দায়িত্ব মিলে, সুযোগ-সুবিধা বাড়ে, অর্থযোগ ঘটে। আর দলাদলিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কর্মপরিবেশ, নিম্নগামী হয় সেবার মান।
প্রশ্ন উঠতে পারে, পেশাজীবীদের কি মতাদর্শ থাকবে না? নিশ্চয়ই থাকবে। এমনকি চাকরিবিধি বাধা নেই_ এমন সব পেশাজীবী প্রত্যক্ষ রাজনীতিও করতে পারেন। কিন্তু পেশার সংগঠনগুলোকে রাজনৈতিক লেজুড়ে পরিণত করা মোটেই সমর্থনযোগ্য নয়। তবে তার চেয়ে ভয়াবহ বুদ্ধিবৃত্তিক লেজুড়বৃত্তি। বুদ্ধিজীবীদের বলা হয় জাতির বিবেক। সেই বুদ্ধিজীবীরা যখন হীন স্বার্থে সত্যকে সত্য, মিথ্যাকে মিথ্যা বলতে বিরত থাকেন কিংবা মিথ্যার বেসাতি করেন, তখন জাতি হয়ে পড়ে দিশাহীন।
বুদ্ধিজীবী বা সিভিল সোসাইটির কর্ণধররাও পেশাজীবীদের মতোই দুটি বলয়ের মধ্যে ঢুকে পড়েছেন। তাদের ভূমিকা পক্ষপাতদুষ্ট। তারাও এখন আওয়ামীপন্থি বা বিএনপিপন্থি। এ ক্ষেত্রে বিশ্বাসের চেয়ে স্বার্থের ব্যাপারটা বেশি ক্রিয়াশীল। বুদ্ধিজীবীদের প্রত্যক্ষ রাজনীতি করার বিরোধী নই আমি। সেক্ষেত্রে কথা হচ্ছে_ রাজনৈতিক দলভুক্ত বুদ্ধিজীবীদেরও হতে হবে দলের যৌক্তিক সমালোচনায় দ্বিধাহীন। বুদ্ধিজীবীদের এই দুই পন্থার বাইরেও আরও একটি পন্থার সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এনজিও কর্মকর্তা, এনজিও প্রকল্পের গবেষক, অবসরপ্রাপ্ত বেসামরিক-সামরিক আমলাদের নিয়ে গড়ে ওঠা শক্তি_ যারা সিভিল সোসাইটি বা সুশীল সমাজের লোক বলে অধিক পরিচিত। সিভিল সোসাইটির প্রচলিত বাংলা 'নাগরিক সমাজের' স্থলে 'সুশীল সমাজ' শব্দটি এখন বহুল ব্যবহৃত।
ইউরোপ-আমেরিকার নাগরিক সমাজের সঙ্গে তাদের ভূমিকা তুলনীয় নয়, এমনকি তুলনীয় নয় ভারতের নাগরিক সমাজের সঙ্গেও। ভারতে নাগরিক সমাজের শিকড় আম আদমি বা আমজনতার মধ্যে প্রোথিত। ফলে সেখানে গড়ে উঠছে শক্তিশালী নাগরিক আন্দোলন। বাংলাদেশেও নাগরিক আন্দোলন হচ্ছে। তবে সিভিল সোসাইটি বলে পরিচিত এলিটরা সে আন্দোলনে শরিক নন। সাম্প্রতিক সময়ে চলমান যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও তেল-গ্যাস-বন্দর রক্ষা আন্দোলন থেকে নিরাপদ দূরত্বে তাদের অবস্থান। তবে পরিবেশ বা মানবাধিকার রক্ষার কোনো কোনো আন্দোলনে এনজিও কর্মীরা শরিক থাকছেন। এনজিও-আমলাকেন্দ্রিক সিভিল সোসাইটিও দুই পন্থার থাবা থেকে একেবারে মুক্ত নয়। তবে এর বাইরে বড় অংশের অবস্থান। সিভিল সোসাইটির বড় অংশ গণতন্ত্রের প্রশ্নে সোচ্চার। অর্থবহ নির্বাচনের কথা বলছেন তারা, সে কারণে বিএনপি তাদের ওপর সন্তুষ্ট। ক্ষুব্ধ হয়েছে আওয়ামী লীগ। তাদের ১/১১-এর কুশীলব বলে অভিহিত করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদের প্রতি সমালোচনার তীর ছুড়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থক বুদ্ধিজীবীরাও। তবে এটি সত্য যে, সিভিল সোসাইটির মূলধারা অর্থবহ নির্বাচনের প্রশ্নে সোচ্চার হলেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে মৌন। তাদের কণ্ঠ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মূখপাত্রদের সঙ্গে একাকার। ১/১১-এর প্রাক্কালে তারা একইভাবে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে কথা বলেছিলেন বলে তাদের ১/১১-এর অনুঘটক বলে চিহ্নিত হতে হচ্ছে। সে যাই হোক, ১/১১-এর পেছনে রাজনৈতিক দলের সংযত ও ব্যর্থতাই ছিল মূল কারণ। তবে ১/১১-এর পেছনে সিভিল সোসাইটির একাংশের সংশ্লিষ্টতা ছিল না বলা যাবে না।
এবার আওয়ামী লীগপন্থি ও বিএনপিপন্থি বুদ্ধিজীবীদের কথায় আসা যাক। আওয়ামী লীগ ঘরানার বুদ্ধিজীবীরা বলছেন, 'দেশ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে, অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে। আবার বিএনপি সমর্থক বুদ্ধিজীবীদের কাছেও দেশ দু'ভাগে বিভাজিত। সেটি গণতন্ত্রের পক্ষ-বিপক্ষ। তাদের কথা_ আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র হত্যা করছে আর বিএনপি তা উদ্ধারের চেষ্টা করছে। এ অংশের কাছে জঙ্গিবাদ-মৌলবাদ কোনো বড় সমস্যা নয়, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে 'মাতামাতি'ও ঠিক নয়। আসল কাজ হচ্ছে_ অর্থপূর্ণ- অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থক বুদ্ধিজীবীদের কথা, নির্বাচন কেমন হলো তা বিচারের সময় এখন নয়। আসল কাজ হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, মৌলবাদ-জঙ্গিবাদের দমন।
দুই দলের কথার মধ্যেই সত্যতা আছে। তবে তা অর্ধসত্য। দেশের সামগ্রিক কল্যাণেই জঙ্গিবাদ-মৌলবাদের বিচার করতে হবে; একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদেরও বিচারের মধ্য দিয়ে কলঙ্কমোচন করতে হবে_ এ নিয়ে বিতর্কের সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ বা ১৪ দলের অবস্থান অবশ্যই সাধুবাদযোগ্য। কিন্তু ইতিবাচক অবস্থানের কারণে একতরফা ও ভোটারবিহীন নির্বাচনকে জায়েজ করতে পারে না। পক্ষান্তরে অর্থবহ নির্বাচনের জন্য বিএনপির দাবি সমর্থনযোগ্য। এ দাবিতে তাদের আন্দোলন করার অধিকার আছে। কিন্তু আন্দোলনের নামে সহিংসতা কিংবা যুদ্ধাপরাধী সংগঠনের সঙ্গে হাত ধরাধরি করে দেশে অরাজক অবস্থা সৃষ্টির অধিকার নেই। আমাদের মনে রাখা দরকার, গণতন্ত্রের সংগ্রাম, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জঙ্গিবাদ-মৌলবাদের দমন_ একই সূত্রে গাঁথা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়তে হলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও জঙ্গিবাদ-মৌলবাদের দমন যেমনি প্রয়োজন, তেমনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াও সচল রাখা প্রয়োজন।
জাতির সামনে এখন দুটি বড় এজেন্ডা। একটি অর্থবহ নির্বাচন, অপরটি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ জঙ্গিবাদ-মৌলবাদের অবসান। একটি অন্যটির বিকল্প নয়। দেশের সামগ্রিক কল্যাণে এই দুটি ইস্যুর নিষ্পত্তি করতে হবে।
প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে, তা কে করবে_ রাজনৈতিক দল না বুদ্ধিজীবীরা? দেশের পরিবর্তন বা অগ্রগতির চালিকাশক্তি রাজনীতি। বুদ্ধিজীবীরা পথ দেখাতে পারেন, মতামত দিতে পারেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক দলকে নিতে হবে এবং তাদেরই তা বাস্তবায়ন করতে হবে। তাই বুদ্ধিজীবী বা সিভিল সোসাইটিকে গালি না দিয়ে বরং তাদের মতামত প্রদানের সুযোগ অবারিত রাখাই হচ্ছে রাজনৈতিক কর্তব্য।
মানুষ লেখক-সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবীদের কাছ থেকে যৌক্তিক ভূমিকা আশা করে। সেক্ষেত্রে বাধা হয়ে আছে সুবিধাবাদিতা। স্বার্থের মোহে বুদ্ধিজীবী সমাজ দিকভ্রান্ত। বুদ্ধিবৃত্তিক সুবিধাবাদ অতীতেও ছিল। তা সত্ত্বেও ব্রিটিশ ভারত ও পাকিস্তান আমলে বুদ্ধিজীবীদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা লক্ষণীয়। ইসলাম ও পাকিস্তানের ডামাডোলে ড. মুুহম্মদ শহীদুল্লাহর সাহসী উচ্চারণ, 'আমরা হিন্দু-মুসলমান সত্য। তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি। প্রকৃতি মাতা আমাদের এমনভাবে গড়েছেন যে, টুপি-টিকি পরে তা আলাদা করার জোঁ নেই।' আমাদের জাতীয় চেতনা বিকাশে ড. মুুহম্মদ শহীদুল্লাহ থেকে আহমদ শরীফ পর্যন্ত এক ঝাঁক বুদ্ধিজীবীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে স্বাধীনতা-উত্তর বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া করেছিলেন সে সময়ের তরুণ লেখক আহমদ ছফা। তার প্রত্যাশা ছিল আরও বেশি। এমন বুদ্ধিজীবী সমাজ চেয়েছিলেন যারা হবেন যুগের দিশারি। গ্রামসির ভাষায়, 'বিপ্লবী বুদ্ধিজীবী'। সে আকাঙ্ক্ষা থেকে প্রচলিত ধারার বুদ্ধিজীবীদের সমালোচনা, 'বুদ্ধিজীবীরা যা বলতেন শুনলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। এখন যা বলছেন শুনলে বাংলাদেশে সমাজ কাঠামোর আমূল পরিবর্তন হবে না। আগে বুদ্ধিজীবীরা পাকিস্তানি ছিলেন বিশ্বাসের কারণে নয়_ প্রয়োজনে। এখন অধিকাংশ বাঙালি হয়েছেন_ সেও ঠেলায় পড়ে।' স্বাধীনতার ৪২ বছর পর বুদ্ধিবৃত্তিক দীনতা আরও প্রকট, সুবিধাবাদিতাই আজ বড় প্রতিবন্ধকতা। তবে এসব কিছুর মাঝে কিছু সাহসী কণ্ঠে সত্য প্রকাশমান।
সুবিধাবাদিতা ও আপসকামিতা রুখে বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ, নাগরিক সমাজ কবে, কখন মাথা তুলে দাঁড়াবে_ সেটিই আজ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
ask_bangla71@yahoo.com
www.abusayeedkhan.com
সাংবাদিক

Thursday, January 9, 2014

কঠোর হস্তে দমন করুন by আবু সাঈদ খান

এ কোন বর্বরতা! এ কোন অসভ্যতা! একের পর এক ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাড়িতে হামলা হচ্ছে, তারা ঘরছাড়া হচ্ছেন, দেশছাড়া হচ্ছেন। নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানের হিন্দু জনগোষ্ঠী দুর্বৃত্তের হামলার শিকার। টেলিভিশনের পর্দায় আতঙ্কিত শিশুর মুখ দেখছি। ভয়ার্ত নারীর আর্তনাদ শুনছি। এই কি সেই বাংলাদেশ, যে দেশের জন্য লাখ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছেন। দেশে মানবতা আজ পদদলিত। ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার ভূলুণ্ঠিত। নতুন করে সংঘটিত হচ্ছে মানবতাবিরোধী অপরাধ। স্বাধীনতার চার দশক পর আমরা কী দেখছি? সাম্প্রদায়িক শক্তি বিভিন্ন অজুহাতে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নর-নারীর ওপর হামলা করছে, বাড়িঘর ও উপাসনালয়ে ভাংচুর করছে, আগুন দিচ্ছে। সংখ্যালঘুরা দেশ ত্যাগে বাধ্য হচ্ছেন। নির্বাচনের পর যশোর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, গাইবান্ধা, মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিকল্পিত হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। কারণ হিসেবে যেটি জানা যাচ্ছে, বিরোধী দল নির্বাচন বর্জন করার পরও তারা কেন ভোট দিয়েছে। হিন্দুরা আওয়ামী লীগের সমর্থক, তাই তাদের শিক্ষা দিতে হবে, দেশছাড়া করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের বক্তব্য, সংবাদমাধ্যম ও পুলিশের বয়ানে এটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে, প্রধানত জামায়াত-শিবির, কোথাও কোথাও বিএনপির কর্মীরা এই অপকর্মের হোতা। কিছু বিভ্রান্ত ও সাম্প্রদায়িক মানসিকতার লোকও উৎসাহ নিয়ে এদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। ইতিপূর্বে রামুতে সংঘটিত বৌদ্ধপল্লীর হামলায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের কর্মীদের মুখ্য ভূমিকায় দেখা গেছে। পাবনার সাঁথিয়াতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলায় প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুর লোকজন জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। যতদূর জানা যায়, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী নেতা অধ্যাপক আবু সাইয়িদের সভায় যোগ দেওয়ার কারণে প্রতিমন্ত্রীর লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে এ অপকর্ম সংঘটিত করে। এর প্রতিদানও মিলেছে। সারাদেশে জামায়াত-শিবির নির্বাচন বর্জন করলেও ওই এলাকায় জামায়াত-শিবিরের স্থানীয় নেতাকর্মীরা টুকু সাহেবের জন্য ক্যাম্পেইন করেছে বলে শোনা গেছে।
নির্বাচন-উত্তর সংঘটিত সহিংস ঘটনার দায় কেবল জামায়াত-শিবিরই নয়, এ দায় প্রধান বিরোধী দলের ওপরও বর্তায়। অনেক স্থানে বিএনপির কর্মীরা হামলায় অংশ নিয়েছে। তার চেয়ে বড় কথা, জামায়াত-শিবির বিএনপির ছত্রছায়ায় এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। রাজনীতিতে বিএনপি ও জামায়াত হাত ধরাধরি করে চলছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা নিয়ে বিএনপি কোনো উচ্চবাচ্য করছে না। দলের নেতারা বক্তৃতা-বিবৃতিতে পুলিশি ভূমিকার নিন্দা করছেন, নিহত দুর্বৃত্তদের জন্য সহানুভূতি জানাচ্ছেন। অথচ নিরপরাধ হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ব্যাপারে কিছুই বলছেন না। বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মুখে এটিকে সরকারের ষড়যন্ত্র বলে অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করছেন।
অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এ কাজে যেন তাদের অনুমোদন রয়েছে! অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে। প্রতিকারের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না। হয়তো ভাবছে যে, বিরোধীদের এ অপকর্ম তাদের রাজনৈতিক প্রচার-প্রচারণার পুঁজিতে পরিণত হবে।
অভয়নগরের চাপাতলার ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন, এক ঘণ্টা আগে পুলিশ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীদের জানানো হয়েছিল। কেউ এগিয়ে আসেনি। রাজনৈতিক দল হিসেবে কি এটি আওয়ামী লীগের কর্তব্য নয়? সামাজিক প্রতিরোধের যে ঐতিহ্য ছিল _সেটিও থিতিয়ে গেছে। এসব অপশক্তির মোকাবেলা করা রাজনৈতিক দলগুলোর তো বটেই, জনগণেরও এগিয়ে আসা কর্তব্য।
হিন্দুদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা যে, হয়তো আওয়ামী লীগকে সমর্থন করায় তারা জামায়াত-শিবির ও বিএনপির টার্গেটে পরিণত হয়েছে। সেই আওয়ামী লীগও তাদের পাশে নেই। কখনও কখনও আওয়ামী লীগ কর্মীদের থাবায় তাদের আক্রান্ত হতে হচ্ছে।
পুলিশ-প্রশাসনের গাফিলতি আমাদের বিস্মিত করে। নির্বাচন উপলক্ষে সারাদেশে পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবি-সেনাসদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন। এ পরিস্থিতিতেও সংখ্যালঘুরা আক্রান্ত হচ্ছে। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ রামুতে উঠেছিল। তা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। যশোরের অভয়নগরেও পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে। এসব খতিয়ে দেখা দরকার, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।
এটি সত্য যে, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা মুষ্টিমেয় দুর্বৃত্তের কাজ। এর সঙ্গে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে এর পেছনে কতিপয় রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক কারণ আছে। এ অপরাধের মূলোৎপাটন করতে হলে সেসব কারণ পর্যালোচনার দাবি রাখে। সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা প্রতিস্থাপিত হলেও সমাজ ও রাজনীতিতে অসাম্প্রদায়িক এবং ধর্মনিরপেক্ষ সংস্কৃতির চর্চা হচ্ছে না। বরং হীন স্বার্থে রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার হচ্ছে। মৌলবাদ-জঙ্গিবাদের চর্চা হচ্ছে। ফলে ধর্মাশ্রয়ী দলগুলো তো বটেই, এর বাইরের দল বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি প্রভৃতি দলের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতা বাসা বেঁধেছে। অনেকেই পাকিস্তান আমলের মতো ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক বলে গণ্য করছে। এর বাইরে রয়েছে সমাজের দুর্জনদের লোভাতুর দৃষ্টি। তারা অপেক্ষায় আছে_ কবে, কত জলদি হিন্দুরা দেশ ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেবে। আর তারা সুলভ মূল্যে হিন্দুদের বাড়িঘর, পুকুর, জমি খরিদ করতে পারবে। যে কারণে এই দুর্জনরা অপকর্মে মদদ দিচ্ছে। এসব রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণে সংখ্যালঘুদের জন্য দেশটি ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশ চেতনায় অসাম্প্রদায়িক। হাজার বছর ধরে সুফি-বৈষ্ণব-ভিক্ষু-পাদ্রি-বাউলরা এখানে মানবিক চেতনা লালন করে আসছেন। চণ্ডীদাস-লালন-মাইকেল-রবীন্দ্র-নজরুলের মানবপ্রেম ও সাম্যের গানে মানুষ সদা উদ্দীপ্ত হচ্ছে। লাখো শহীদের রক্তস্নাত এ দেশ। হক-ভাসানী-মুজিব-তাজউদ্দীনের ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ। এমন কর্ষিত মানবজমিনে সাম্প্রদায়িক বর্বরতা ঘটবে, সংখ্যালঘুরা আর্তনাদ করবে_ তা কি মেনে নেওয়া যায়?
বাংলাদেশের সংবিধানে আছে_ দেশের মালিক জনগণ। এর মানে এই যে, মুসলমানরা ধর্মীয় দিক থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও এখানে মুসলমান নর-নারীর যতটুকু অধিকার, সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান নর-নারীর ততটুকু অধিকার। এ কথা জাতিগত সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের ক্ষেত্রে সত্য। আমাদের সংবিধানের মর্মবাণী হচ্ছে_ বাংলাদেশে সব ধর্মের, সব জাতির, সব মানুষের সমঅধিকারের দেশ। দ্বিজাতিতত্ত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠার পর ধারণা দেওয়া হয়েছিল, এটি মুসলমানের দেশ। সেই অনুযায়ী পাকিস্তানের সংবিধানও প্রণীত হয়েছিল। বলা হয়েছিল, সেটি ইসলামী প্রজাতন্ত্র। 'মুসলমানের দেশে' সংখ্যালঘুদের করা হয়েছিল দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক। সে সময় একাধিক দাঙ্গা বাধিয়ে হিন্দু বিতাড়ন ও নিধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ একাত্তরে ইসলাম ও পাকিস্তান রক্ষার নামে হিন্দু নিধন চলেছিল। হিন্দুরা ছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পয়লা টার্গেট। একাত্তরে লাখো শহীদের লাশের তলায় সেই দ্বিজাতিতত্ত্ব ও পাকিস্তানের কবর হয়ে গেছে। কিন্তু পাকিস্তানি ভূত এখন বাংলাদেশে আছর করেছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশকে কি আমরা মিনি পাকিস্তান বানাব, না বর্বরতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব? আর রুখে দাঁড়াতে হলে সর্বাগ্রে প্রয়োজন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। সবধরনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নির্মূল করতে জাতিকে একাত্তরের চেতনায় ফিরে যেতে হবে। মৌলবাদী-জঙ্গিবাদী রাজনীতি কঠোর হস্তে দমনের পাশাপাশি অসাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিতে দেশ পরিচালনা করতে হবে, সেই সংস্কৃতির চর্চা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন একাত্তরের চেতনায় নবজাগরণ, নবউত্থান।
সরকার-প্রশাসনের একান্ত কর্তব্য হচ্ছে, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। প্রধানমন্ত্রী 'জিরো টলারেন্সের' কথা বলছেন। সেই লক্ষণ আমরা দেখছি না। আমরা এসব দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানাই। এ ক্ষেত্রে নমনীয়তার সুযোগ নেই। সাম্প্রদায়িক সহিংসতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে বিচার করাই হবে যৌক্তিক পদক্ষেপ।
রাজনৈতিক মতানৈক্যের ঊধর্ে্ব আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ সব দল ও মতের মানুষ ধর্মীয় এবং জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐকমত্যে পেঁৗছবে_ সেটিই প্রত্যাশিত।
সাংবাদিক
ask_bangla71@yahoo.com

Thursday, July 11, 2013

নারীর অধিকার-হেফাজত আমিরের নসিহত ও তেঁতুলতত্ত্ব by আবু সাঈদ খান

একদা নারী ছিল অবরোধবাসিনী। রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রমুখ মনীষীর প্রচেষ্টায় উনিশ শতকে হিন্দু নারীরা যখন শিক্ষাদীক্ষায় এগিয়ে গিয়েছিলেন, পুরুষের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করেছিলেন, তখনও বাংলার মুসলিম নারীরা গৃহবন্দি।

নারীর অধিকার-হেফাজত আমিরের নসিহত ও তেঁতুলতত্ত্ব by আবু সাঈদ খান

একদা নারী ছিল অবরোধবাসিনী। রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রমুখ মনীষীর প্রচেষ্টায় উনিশ শতকে হিন্দু নারীরা যখন শিক্ষাদীক্ষায় এগিয়ে গিয়েছিলেন, পুরুষের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করেছিলেন, তখনও বাংলার মুসলিম নারীরা গৃহবন্দি।

Thursday, June 27, 2013

জাতীয় সংসদে কুবচন-অপসংস্কৃতি রোধে চাই শীর্ষ নেতৃত্বের অঙ্গীকার by আবু সাঈদ খান

আমরা কত আবেদন-নিবেদন করেছি_ বিরোধী দল সংসদে ফিরে আসুক, সংসদ সচল হোক। সাড়ে চার বছর পর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিরোধী দল সংসদে ফিরে এসেছে। ইতিমধ্যেই সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের অংশগ্রহণে সংসদে প্রাণের ছোঁয়াও লেগেছে।

Saturday, June 22, 2013

সিটি করপোরেশন নির্বাচন-রাজনীতি, ধর্মকার্ড ও টাকার খেলা by আবু সাঈদ খান

সারাদেশই এখন চার সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও জয়-পরাজয়ের আলোচনায় মুখরিত। তবে বিজয়ী মেয়র ও কাউন্সিলরদের নিয়ে যতটা না কথাবার্তা হচ্ছে, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি আলোচিত হচ্ছে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও আওয়ামী লীগ বা ১৪ দল এবং বিএনপি বা ১৮ দলের লাভ-লোকসানের হিসাব-নিকাশ।

Wednesday, January 30, 2013

বিএনপির রাজনীতি-জামায়াতের হাত ছেড়ে দিন by আবু সাঈদ খান

যেদল বা জোট নির্বাচনে জিতবে, সেই বিজয়ী শক্তি পাঁচ বছরের জন্য দেশ চালাবে_ কথাটি সত্য। একইভাবে এও সত্য যে, ওই মেয়াদে রাজা-বাদশাহর মতো সরকারের যা ইচ্ছা তা-ই করার সুযোগ নেই।

Thursday, January 24, 2013

সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ-পুলিশ পদক ও একটি অনভিপ্রেত নজির by আবু সাঈদ খান

জানুয়ারির ২২ তারিখ টেলিভিশনের খবরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরের 'উক্তিটি' শুনে আমার আক্কেল গুড়ূম। ভাবলাম, ভুল শুনিনি তো? আরেক চ্যানেলে দ্বিতীয়বার উক্তিটি শুনে নিশ্চিত হলাম।

Wednesday, January 9, 2013

সরকারের চার বছর-জনগণের চোখে নিজেকে দেখুন by আবু সাঈদ খান

সরকার যত চক্ষুষ্মান হোক না কেন, নিজেকে পুরোপুরি দেখতে পায় না। ক্ষমতায় থাকলে চক্ষুষ্মানও একচোখা হয়ে যায়। তখন নিজের ভুলত্রুটি আর চোখে পড়ে না। তাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের চোখে দেখার সংস্কৃতিই সর্বোত্তম পন্থা।

Friday, January 4, 2013

মুক্তিযুদ্ধ-ইতিহাসের কিছু অনালোকিত প্রসঙ্গ by আবু সাঈদ খান

আজকের বাস্তবতায় নয়, সেদিনের প্রেক্ষাপটে ইতিহাসে যার যতটুকু প্রাপ্য, তা স্বীকার করতে হবে। সর্বোপরি, জনগণই ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রাণশক্তি_ মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনযুদ্ধ।

Wednesday, December 26, 2012

সমকালীন প্রসঙ্গ-যুদ্ধাপরাধের বিচার দলীয় রাজনীতির ঊধর্ে্ব রাখুন by আবু সাঈদ খান

একাত্তরের বিজয়ের পর যেসব বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, আমাদের দুর্ভাগ্য_ স্বাধীনতার ৪১ বছর পর সেসব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক করতে হচ্ছে। এসবের মধ্যে রয়েছে_ যুদ্ধাপরাধের বিচার, যুদ্ধাপরাধী রাজনৈতিক দল জামায়াত এবং সাম্প্রদায়িক-ধর্মভিত্তিক দলগুলোর রাজনীতি করার সুযোগ পাওয়া না-পাওয়ার প্রশ্ন।

Wednesday, December 19, 2012

বাউল নির্যাতন-সালিশনামার জোরেই কি অপরাধী পার পেয়ে যাবে? by আবু সাঈদ খান

পাংশার ঘটনাটি মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বাংলাদেশ একটি বহুত্ববাদী সমাজ, ধর্মনিরপেক্ষতা এখানে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে স্বীকৃত। এখানে সব ধর্মের, সব মতের মানুষের স্ব-স্ব বিশ্বাস অনুযায়ী চলার অধিকার রয়েছে। তা সংরক্ষণ করা সমাজ ও রাষ্ট্রের কর্তব্য।

কোটা ব্যবস্থা-কোথায় যৌক্তিক, কোথায় অযৌক্তিক? by আবু সাঈদ খান

সরকার বা কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে দাবি-দাওয়া, আবেদন-নিবেদন করা গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে তা আদায়ে জোর খাটানো বা হুমকি-ধমকি দেওয়া কেবল অগণতান্ত্রিক পন্থাই নয়, রীতিমতো অপরাধ।

Wednesday, December 5, 2012

পার্বত্য চট্টগ্রাম-শান্তিচুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে বাধা কোথায়? by আবু সাঈদ খান

পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তিচুক্তি এক অনন্য ঘটনা। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সরকার ও জনসংহতি সমিতির মধ্যে সম্পাদিত এই চুক্তি পার্বত্য চট্টগ্রামের সুদীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ থামিয়েছিল।

Wednesday, November 28, 2012

শিক্ষাঙ্গন-গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচন by আবু সাঈদ খান

নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ গঠিত হলে এবং সরকার ও বিরোধী দলের অংশগ্রহণে তা কার্যকর থাকলে দেশে গণতন্ত্র কায়েম হয়ে যায় বলে একটি ধারণা অনেকের মধ্যে বদ্ধমূল রয়েছে। এ কথা ঠিক, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য জনপ্রতিনিধিত্বশীল সংসদ অপরিহার্য।

Tuesday, November 27, 2012

বাংলা নববর্ষ-সম্প্রীতির মহোৎসবে মিলিত হোক সকল ধারা by আবু সাঈদ খান

বাংলাদেশ রাষ্ট্রের করণীয় হচ্ছে, নতুন আঙ্গিকে নববর্ষ উদযাপনের ক্ষেত্রে সব বাঙালিকেই এক মিছিলে আনা। এখানে আদিবাসীদেরও সম্পৃক্ত করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, মানুষের এই মিলনমেলার শক্তি অপরাজেয়।

Wednesday, November 21, 2012

অতীত প্রসঙ্গ-বাঙালি-মুসলিম যুবকের সঙ্গে গান্ধী পৌত্রীর প্রেম এবং অতঃপর... by আবু সাঈদ খান

গান্ধীবাদী না হলেও মহাত্মা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর জীবন ও সংগ্রামের প্রতি বরাবরই আমার কৌতূহল। কী করে ক্ষীণকায়, স্বল্পদৈর্ঘ্যের ধুতি পরা সাদামাটা মানুষটি অহিংসার বাণীকে ধারণ করে ভারতের মুক্তিসংগ্রামের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, কোন সম্মোহনী ক্ষমতায় দল-মত-নির্বিশেষে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মধ্যমণিতে পরিণত হয়েছেন_ তা আজও বিস্ময় জাগায়।

Wednesday, November 14, 2012

সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ-'জাত গেল জাত গেল বলে একি আজব কারখানা' by আবু সাঈদ খান

ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার ছোবলে যখন রামু-উখিয়া-পটিয়ার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের হৃদয় বিদীর্ণ, তখন কিছু বর্ণাশ্রয়ী লোকের অমানবিক আচরণে জয়পুরহাটের আদিবাসী নর-নারীরা ক্ষোভে-অপমানে বিহ্বল। যারা আদিবাসীদের প্রতি বর্ণবাদী ও ঘৃণ্য আচরণ করেছে, তারা শিক্ষার আলোবঞ্চিত বা বখাটে শ্রেণীভুক্ত নন_ বরং আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত, ডিগ্রিধারী ব্যক্তি_ ওকালতির মতো জনগুরুত্বপূর্ণ সামাজিক পেশায় নিয়োজিত।

Wednesday, November 7, 2012

সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ-খালেদা জিয়ার দিলি্ল সফর এবং রাজনীতির হিসাব-নিকাশ by আবু সাঈদ খান

গণমাধ্যমের চোখে বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়ার ভারত সফর তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশ-ভারতের সংবাদপত্র ও বৈদ্যুতিন মাধ্যমগুলো সফরের সংবাদ পরিবেশন করে থেমে নেই। এখন পর্যালোচনা ও বিচার-বিশ্লেষণ চলছে।