Wednesday, August 21, 2013

১৫ দিন নিখোঁজ ছিল ঐশী by নূরুজ্জামান

বাসা থেকে পালিয়ে ১৫ দিন নিখোঁজ ছিল নিহত পুলিশ দম্পতির কন্যা ঐশী রহমান। উঠেছিল রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় বয়ফ্রেন্ডের ভাড়া করা বাসায়। অবাধ মেলামেশা ও মাদক সেবনের পরিবেশ খুঁজতেই সে পরিবার ছেড়েছিল।

আর নয় প্রীতিদের অপ্রীতিকর চলে যাওয়া by মোহাম্মাদ মাহাবুবুর রহমান

মামুন বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ করে ফেসবুকে আমার ওয়ালে লিখেছে, ‘ভাইয়া, আপনাকে খুব প্রয়োজন ছিল। অনেকবার কল করেছি। কিন্তু, ফোন বন্ধ পেয়েছি। প্লিজ, আমাকে কি একটা কল দেবেন?’

উপদেষ্টাদের সময় কাটছে যেভাবে- by দীন ইসলাম

নানা কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন সরকারের উপদেষ্টারা। কেউ লিখছেন বই। কেউ-বা আগামী নির্বাচনে মহাজোট সমর্থিত প্রার্থী হতে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

ফ্রন্টলাইনে শিবির by সাজেদুল হক ও জাকারিয়া পলাশ

বিপর্যস্ত জামায়াত। আক্রমণের পর আক্রমণে ছিন্নভিন্ন। নির্বাচনী রাজনীতিতে নিষিদ্ধ। কিন্তু এরপর কি? মঞ্চে হেফাজতে ইসলামের আবির্ভাব। আবার ফ্লাশআউট। বিপদের মুখে পলিটিক্যাল ইসলাম।

জামায়াত নিষিদ্ধ নিয়ে যত আলোচনা by সাজেদুল হক ও জাকারিয়া পলাশ

বিপর্যস্ত জামায়াত। আক্রমণের পর আক্রমণে ছিন্নভিন্ন। নির্বাচনী রাজনীতিতে নিষিদ্ধ। কিন্তু এরপর কি? মঞ্চে হেফাজতে ইসলামের আবির্ভাব। আবার ফ্লাশআউট। বিপদের মুখে পলিটিক্যাল ইসলাম।

খুলনায় বহু বিয়ের হোতা বুরুজকে নিয়ে আওয়ামী লীগ বেকায়দায় by রাশিদুল ইসলাম

‘আমার নাম বুরুজ। আমি যা কই তা-ই করি। তার বাইরে কেউ কিছু করলে পরিণতি হবে বিথারের মতো। বিথারও আমার সঙ্গে বাড়াবাড়ি করে টিকে থাকতে পারেনি। বিথার হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হওয়ার পরেও কেউ আমার কিছু করতে পারেনি।

চুল নড়বে নাকি ঢেঁকি নামবে? by মাকসুদুল আলম

জাপানি ভাষায় প্রবাদ আছে- ‘মুখের ভাষাই সর্বনাশের মূল’। মানুষের মুখের ভাষা মধুর হলে তা শত্রুকেও বন্ধু করে। আর তিক্ত হলে বন্ধুকেও করে শত্রু। দৈনন্দিন সামাজিক জীবন থেকে শুরু করে পেশাগত জীবনেও মানুষকে ভেবেচিন্তে কথা বলতে হয়।

মাছের আড়তে কাজ করেন জজ মিয়া by রহমত উল্যাহ

আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। এ ষড়যন্ত্রের কারণে সামাজিক মর্যাদা হারিয়ে ফেলেছি। জীবনটা দুঃসহ মনে হয়।  নামের কারণে আমাকে এত মাসুল দিতে হবে জানলে নামটা পাল্টে ফেলতাম। চার বছর দু’মাস ১৭ দিনের (১৫৩৮ দিন) স্মৃতি আমাকে কুরেঁ কুঁরে খাচ্ছে।

ব্রাদারহুডের আধ্যাত্মিক নেতা গ্রেপ্তার

মোহাম্মদ বাদি
মিসরের সরকার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের আধ্যাত্মিক নেতা মোহাম্মদ বাদিকে গ্রেপ্তার করেছে। সরকারি কর্মকর্তারা এ খবর দিয়েছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সোমবার জানিয়েছে, তারা মিসরকে দেওয়া অর্থনৈতিক বা সামরিক সহায়তা কাটছাঁট করতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ব্রাদারহুড নেতা বাদি এত দিন পলাতক ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়া এবং গত জুন মাসে কায়রোতে ব্রাদারহুডের সদর দপ্তরের বাইরে বিরোধী আট বিক্ষোভকারীকে হত্যার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
মিসরের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, উত্তর-পূর্ব কায়রোর নাসর সিটির একটি ফ্ল্যাট থেকে বাদিকে আটক করা হয়। এই নাসর সিটির রাব্বা আল-আদাবিয়া মসজিদের বাইরেই মুরসি-সমর্থকদের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ শিবির ছিল। মার্কিন সহায়তা কাটছাঁট হবে?: এদিকে মিসরকে দেওয়া অর্থনৈতিক বা সামরিক সহায়তা কাটছাঁট করা হতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রোববার প্রিজন ভ্যানে ৩৭ ইসলামপন্থী বন্দী নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছে দেশটি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জেন পিসাকি সোমবার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, তাঁদের কাছে ঘটনাটি ‘সন্দেহজনক’ বলে মনে হয়েছে। এদিকে মিসরের কর্তৃপক্ষ বলছে, সিনাই উপত্যকায় নিহত ২৫ পুলিশ সদস্য ঘটনার সময় কর্তব্যরত ছিলেন না। তাঁদের বাস থেকে নামিয়ে পিঠে ও মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। পৃথক ঘটনায় উত্তর সিনাইয়ের আল-আরিশ শহরে আরেক পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে। সাংবাদিক হত্যা: মিসরের রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র আল-আহরাম-এর একজন প্রাদেশিক ব্যুরোর প্রধানকে গুলি করে হত্যা করেছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় আরেকটি সংবাদপত্র আল জমহুরিয়ার একজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
মিসরের সেনাবাহিনী বলেছে, আল-আহরামের বুহাইরা প্রদেশের ব্যুরোপ্রধান তামের আবদেল রউফ ও আল জমহুরিয়ার একজন সাংবাদিক সোমবার রাতে কারফিউয়ের সময় গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন। সেনাদের থামার সংকেত না মানায় গাড়িতে গুলি করা হয়। মুরসির আটকাদেশ আবার বাড়ল: মিসরের সরকারি অভিযোক্তারা নতুন কয়েকটি অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির আটকাদেশ আরও ১৫ দিন বাড়িয়েছেন। মুরসির বিরুদ্ধে গত ডিসেম্বর মাসে কায়রোতে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের বাইরে বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। মোবারক মুক্তি পাচ্ছেন?: এদিকে ক্ষমতাচ্যুত দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের একজন আইনজীবী জানিয়েছেন, মোবারক আগামী দুই দিনের মধ্যে কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন বলে তিনি আশা করছেন। ২০১১ সালে মিসরে ‘আরব বসন্তের’ সময় বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর ঘটনায় মোবারকের বিরুদ্ধে মামলার পুনর্বিচার চলছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, তাঁকে মুক্তি দেওয়া হলে অনেক মিসরীয়ই বিষয়টিকে দেখবে ২০১১ সালের বিপ্লবের মাধ্যমে আসা পরিবর্তনকে সেনাবাহিনীর উল্টো পথে নেওয়ার একটা সংকেত হিসেবে। বিবিসি, এএফপি ও রয়টার্স।

ইরানের মোসাদ্দেককে উৎখাতের কথা সিআইএ নথিতে স্বীকার

ইরানে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ মোসাদ্দেককে উৎখাতে ১৯৫৩ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে মুখ্য ভূমিকা রাখার কথা স্বীকার করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)। অভ্যুত্থানের ৬০তম বার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় নিরাপত্তা মহাফেজখানা প্রথমবারের মতো এ-সংক্রান্ত সিআইয়ের নথিপত্র প্রকাশ করেছে। ১৯৫৩ সালের ওই অভ্যুত্থানের পর তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে তিক্ততা তৈরি হয় যা আবার ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর নতুন মাত্রা লাভ করে।
জাতীয় নিরাপত্তা মহাফেজখানার প্রকাশ করা একটি নথিতে বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী সিআইয়ের নির্দেশনায় ওই সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানো হয়। ইরানের তেলশিল্পের জাতীয়করণের চেষ্টার প্রেক্ষাপটে অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোসাদ্দেক ও তাঁর ন্যাশনাল ফ্রন্টের মন্ত্রিসভাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। তবে অভ্যুত্থানে সিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে তেমন লুকোছাপা করেনি যুক্তরাষ্ট্র। সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাডেলিন অলব্রাইট ২০০০ সালে ওই অভ্যুত্থানে সিআইয়ের সংশ্লিষ্টতার কথা প্রকাশ্যে বলেন। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও ২০০৯ সালে কায়রো ভাষণের সময় সিআইয়ের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেন। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এত দিন তা ঢালাওভাবে অস্বীকার করে আসছিল। নথিপত্র থেকে জানা গেছে, ইরানে ওই অভ্যুত্থানের সময় সিআইয়ের পাশাপাশি ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই সিক্সও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিল। কারণ মোসাদ্দেক অ্যাংলো-ইরানীয় তেল কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যুক্তরাজ্যকে ক্ষুব্ধ করেছিলেন। ইরানের অভ্যন্তরীণ ইতিহাসবিষয়ক সিআইয়ের এসব নথিপত্রের সম্পাদক ম্যালকম বাইরন বলেছেন, নানা দিক থেকেই নথিগুলো গুরুত্বপূর্ণ। অনেক অজানা তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এসব নথিপত্রে ইরানের ওই অভ্যুত্থানের আগে ও পরে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকার কথা বলা আছে। তথ্য অধিকার আইনের আওতায় এসব নথিপত্র সংগ্রহ করে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা মহাফেজখানা। বিবিসি।

বিমান আবিষ্কারের ১৩ বছর আগে জন্ম তাঁর

ফ্লোরেস লরা
বলিভিয়ার রাজধানী লা পাজ থেকে ১০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সুন্দর ছিমছাম পাহাড়ি গ্রাম ফ্রাসকিয়া। এই সাধারণ গ্রামের এক অসাধারণ চরিত্র আইমারা আদিবাসী বৃদ্ধ কারমেলো ফ্লোরেস লরা। পেশায় কৃষক কারমেলোর বয়স নাকি ১২৩। এ তথ্য নিশ্চিত করা গেলে তিনিই হতে পারেন বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তি। বলিভিয়া সরকারের দেওয়া পরিচয়পত্র অনুযায়ী কারমেলো ফ্লোরেস লরার জন্ম তারিখ ১৬ জুলাই ১৮৯০। দেশটির নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল নিশ্চিত করেছে তাঁর বয়স। নথিপত্র অনুযায়ী তাঁর এবং ফ্রান্সের স্বনামখ্যাত প্রেসিডেন্ট শার্লস দ্য গল ও ভিয়েতনামের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট হো চি মিনের জন্ম একই সময়ে। আর সময়টি রাইট ভাইদের বিমান আবিষ্কারেরও ১৩ বছর আগে! কারমেলো এখনো লাঠির সাহায্য ছাড়াই চলাচল করতে পারেন। চোখের দৃষ্টিতেও নেই কোনো সমস্যা। বলা হচ্ছে, তাঁর এই নিরোগ স্বাস্থ্যের রহস্য হতে পারে পাহাড়ি অঞ্চলের আবহাওয়া ও খাবার। বেঁচে থাকার রহস্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি অনেক হাঁটি, এই যা। পোষা গরু আর ভেড়াদের সঙ্গে মাঠে মাঠে ঘুরি। ভাত বা নুডলস খাই না। শুধু বার্লি খাই।’ তিন সন্তানের জনক কারমেলোর মাত্র এক ছেলে বেঁচে আছেন। আর আছে ১৪ নাতি ও ৩৯ প্রপৌত্র-প্রপৌত্রী। বলিভিয়া সরকার গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে কারমেলোকে বিশ্বের প্রবীণতম ব্যক্তির স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন করবে। এএফপি।

চুল নিয়ে চুলাচুলি by জিনিয়া জাহিদ

দেশে এখন চলছে চুল নিয়ে তুঘলকি কারবার। এই তো কয়েকদিন আগে নারীর চুল ঢাকা তথা ঘোমটা নিয়ে সঙ্গীতশিল্পী মিতা হক বিশাল এক ‘ঘোমটা-তত্ত্ব’ দিয়ে পত্রিকায়, ফেসবুকে আলোড়ন সৃষ্টি করলেন।

বেনজির হত্যা মামলায় অভিযুক্ত মোশাররফ

পারভেজ মোশাররফ
পাকিস্তানের সাবেক সেনাশাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফকে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করেছেন আদালত। সরকারি অভিযোক্তা বলেছেন, হত্যা, হত্যার ষড়যন্ত্র ও হত্যাকাণ্ডে সহায়তার তিনটি অপরাধে আদালত গতকাল মঙ্গলবার মোশাররফকে অভিযুক্ত করেন। রাওয়ালপিন্ডির একটি আদালতে এ মামলার বিচার হচ্ছে। শুনানিতে পারভেজ মোশাররফ কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য করেননি। তবে তিনি এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আদালত আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাঁকে গতকাল আদালতে হাজির করা হয়। পাকিস্তানে কোনো সাবেক সেনাপ্রধানকে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করার ঘটনা এটিই প্রথম। দেশটিতে স্বাধীনতার পর থেকে অর্ধেকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় ছিল পরাক্রমশালী সেনাবাহিনী। সাবেক প্রেসিডেন্ট মোশাররফ ছাড়াও আরও ছয় ব্যক্তিকে একই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চারজন সন্দেহভাজন জঙ্গি ও পুলিশের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়েছেন। পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) প্রধান বেনজির ভুট্টো ২০০৭ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে একটি নির্বাচনী জনসভায় আততায়ীর হামলায় নিহত হন।
পারভেজ মোশাররফ দাবি করে আসছেন, তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলকভাবে এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য তিনি স্বেচ্ছা নির্বাসন থেকে চলতি বছরের শুরুতে দেশে ফিরে আসেন। তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে নির্বাচন কমিশন তাঁকে অযোগ্য ঘোষণা করে। মোশাররফের আইনজীবী সৈয়দা আফশান আদিল বলেন, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। তাঁরা এ ব্যাপারে শঙ্কিত নন। আইনি-প্রক্রিয়ায় বিষয়টি মোকাবিলা করা হবে। ৭০ বছর বয়সী মোশাররফ বর্তমানে ইসলামাবাদের বাইরে তাঁর খামারবাড়িতে গৃহবন্দী রয়েছেন।
নওয়াজ শরিফকে ১৯৯৯ সালে এক রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত করেন জেনারেল মোশাররফ। টানা নয় বছর দেশ শাসনের পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজিত হয়ে তিনি ক্ষমতা ছাড়েন এবং স্বেচ্ছা নির্বাসনে বিদেশে চলে যান। তখন থেকে তিনি দুবাই ও লন্ডনে বাস করতে থাকেন। বেনজির হত্যা মামলা ছাড়াও ২০০৬ সালে বেলুচ নেতা নওয়াব আকবর বুগতি হত্যা এবং ২০০৭ সালে উচ্চ আদালতের বিচারপতিকে বরখাস্ত করার ঘটনার জন্য মোশাররফের বিরুদ্ধে আরও মামলা রয়েছে। তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়া নওয়াজ শরিফের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারও মোশারফের বিরুদ্ধে জোরালো আইনি ব্যবস্থা নিতে চায়। তবে হত্যাকাণ্ডের দায়ে তাঁকে আদালতে দোষী সাব্যস্ত করার সম্ভাবনা খুব কম বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। কারণ, দেশটিতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক মামলার দৃষ্টান্ত আগেও দেখা গেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে পারভেজ মোশাররফ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করার পর তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছিল। তবে পরে তাঁকে সৌদি আরবে নির্বাসনে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ২০১০ সালে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারের জন্য বেনজিরের মৃত্যুর ঘটনাটি ঠেকানোর সুযোগ ছিল। তৎকালীন মোশাররফ সরকার বেনজির ভুট্টোকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছিল। এএফপি, রয়টার্স ও বিবিসি।

কিন্নরী’র বন্ধু বলছি by তুষার আবদুল্লাহ

ঈদের ছুটির পর কিন্নরীর স্কুল খুলেছে। ওকে স্কুলে দিতে যাচ্ছি। শরতের বাতাসের আদর নিচ্ছি বাবা-মেয়ে। ঝিরঝির বৃষ্টিও হচ্ছে। রিকশা নেই পুরো এলাকা জুড়ে।

বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন এল বারাদি

মিসরের পদত্যাগী অন্তর্বর্তী ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এল বারাদির বিরুদ্ধে জাতির সঙ্গে ‘বিশ্বাস ভঙ্গের’ অভিযোগে মামলা হয়েছে। সম্প্রতি মুসলিম ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধে রক্তাক্ত সেনা অভিযানের দায় নিতে অস্বীকার করে পদত্যাগ করায় বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাঁকে। দেশটির বিচার বিভাগীয় সূত্র গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য জানায়। কায়রোর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক এল বারাদির বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাস ভঙ্গের’ অভিযোগ এনে মামলাটি করেন। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর কায়রোর একটি আদালতে মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ১৪ আগস্ট এল বারাদি পদত্যাগ করেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে, পদত্যাগ করে তিনি দেশের জনগণের সঙ্গে ‘প্রতারণা’ করেছেন। অভিযোগটি প্রমাণিত হলে আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থার (আইএইএ) সাবেক প্রধানকে এক হাজার ৪৩০ মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে হবে। সদ্য ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির অন্যতম বিরোধী ছিলেন শান্তিতে নোবেলজয়ী এল বারাদি। মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। গত ৩ জুলাই সেনাবাহিনীর প্রধান ফাত্তাহ আল-সিসি মুরসিকে সরিয়ে দেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ পান শান্তিতে নোবেলজয়ী এল বারাদি।
মুরসিকে ক্ষমতায় পুনর্বহালের দাবিতে মুরসি-সমর্থকদের ওপর ১৪ আগস্ট সেনা অভিযানে শত শত লোক নিহত হওয়ার ঘটনার পর পদত্যাগ করেন মোহাম্মদ এল বারাদি। পদত্যাগের পরদিনই তিনি মিসর ছেড়ে ভিয়েনায় চলে যান। মুরসির পতনে মূল ভূমিকা পালনকারী ন্যাশনাল স্যালভেশন ফ্রন্টের সাবেক মুখপাত্র খালেদ দাউদ বলেছেন, আদালতে মামলা তোলার ব্যাপারে প্রসিকিউটর জেনারেলের সিদ্ধান্ত সম্ভবত দেশের বর্তমান মেরুকরণকৃত পরিবেশেরই প্রভাব। এল বারাদি ধর্মনিরপেক্ষ স্যালভেশন ফ্রন্টের অন্যতম নেতা। খালেদ দাউদ বলেন, এল বারাদির বিরুদ্ধে মামলা মিসরের বর্তমান পরিস্থিতির প্রতিফলন। তিনি বলেন, তাঁর (এল বারাদি) যেকোনো ব্যবস্থাই রাজনৈতিক। সেনা অভিযানের সমালোচনায় তাঁর বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা। খালেদ দাউদ বলেন, ‘আপনি কোনো স্বতন্ত্র অবস্থান নিতে পারেন না বা অন্য কোনো কিছু করলেই জাতীয় বিশ্বাস ভঙ্গকারী হিসেবে বিবেচনা করা হবে আপনাকে।’ রয়টার্স, আল-জাজিরা।

স্নোডেনের নথি ধ্বংস করতে বাধ্য করে ব্রিটিশ সরকার

এডওয়ার্ড স্নোডেনের ফাঁস করা গোপন মার্কিন নথিগুলো ধ্বংস করতে দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকাকে বাধ্য করেছে ব্রিটিশ সরকার। অন্যথায় ওই নথি প্রকাশের দায়ে মামলার হুমকি দেওয়া হয়। পত্রিকাটির সম্পাদক গতকাল মঙ্গলবার এই দাবি করেছেন। গার্ডিয়ান সম্পাদক অ্যালান রাসব্রিজার তাঁর গতকালের পত্রিকায় লেখেন, তাঁর সঙ্গে ‘খুবই জ্যেষ্ঠ একজন সরকারি কর্মকর্তা’ যোগাযোগ করেন। ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, তিনি ‘প্রধানমন্ত্রীর মতামতের প্রতিনিধিত্ব’ করছেন। এরপর দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় যেখানে ওই সরকারি কর্মকর্তা দাবি করেন, গার্ডিয়ান যেসব নথি নিয়ে কাজ করছে, তার সবগুলো হয় ফেরত দিতে হবে না হয় ধ্বংস করে ফেলতে হবে। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) ও ব্রিটিশ সংস্থা জিসিএইচকিউয়ের নজরদারি কর্মসূচিসংক্রান্ত বেশ কয়েক হাজার নথি গার্ডিয়ানকে দিয়েছিলেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা এনএসএর সাবেক কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেন। নিবন্ধেগার্ডিয়ান সম্পাদক রাসব্রিজার দাবি করেন, সরকারি কর্তৃপক্ষ তাঁকে বলে: ‘আপনারা যথেষ্ট মজা নিয়েছেন। এখন ওই নথিগুলো আমরা ফেরত চাই।’
ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ সন্ত্রাস দমন আইনেগার্ডিয়ান-এর একজন সাংবাদিকের সঙ্গীকে রোববার প্রায় নয় ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনার পর সম্পাদক রাসব্রিজারের ওই নিবন্ধ এল। ডেভিড মিরান্ডা নামের ওই ব্রাজিলীয় নাগরিকের সঙ্গী মার্কিন সাংবাদিক গ্লেন গ্রিনওয়াল্ড গোপন নজরদারির ওই কার্যক্রম ফাঁস করতে স্নোডেনের সঙ্গে কাজ করেছিলেন। চাপের মুখে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ: ডেভিড মিরান্ডা রোববার জার্মানির বার্লিন থেকে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর হয়ে রিও ডি জেনিরোতে ফিরছিলেন। এ সময় হিথ্রো বিমানবন্দরে তাঁকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নয় ঘণ্টা আটকে রাখে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রাজিল তার নাগরিককে কয়েক ঘণ্টা কার্যত ‘নির্জন কারাগারে অন্তরীণ’ করে রাখার বিষয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, মিরান্ডা ‘স্পষ্টতই পরোয়ানাবহির্ভূত প্রতিশোধপরায়ণ কৌশলের একজন শিকার’। আর সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস বলেছে, মিরান্ডার আটকের ঘটনায় সংগঠনটি ‘ক্ষুব্ধ’। যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ মিরান্ডাকে আটক করে বলে অভিযোগ উঠলেও হোয়াইট হাউসের উপ মুখপাত্র জেসি আর্নস্ট তা নাকচ করে দিয়েছেন। এএফপি।