Wednesday, May 8, 2019

১০ বছর বয়সী ছাত্রের সঙ্গে শিক্ষিকার যৌন সম্পর্ক!

মাত্র ১০ বছর বয়সী একজন ছাত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করার অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। তিনি ৩৪ বছর বয়সী এবং তিন সন্তানের মা। তার নাম ডিড্রি স্মিথ। তিনি লুইজিয়ানার লেক চার্লস চার্টার একাডেমিতে থার্ড গ্রেডের শিক্ষিকা। ওই ছাত্রের সঙ্গে বেশ কয়েক মাস যৌন সম্পর্ক স্থাপন সহ অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে মঙ্গলবার তাকে নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়া হয়। ওই স্কুলের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আসার কয়েক ঘন্টার মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বৃটেনের অনলাইন ডেইলি মেইল।
তদন্ত চলছে এ অভিযোগে। তাতে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে, স্মিথ বিবাহিতা। তার তিনটি সন্তান আছে। একটি মেয়ে ও দুটি ছেলে। এমন একজন শিক্ষিকা হয়ে তিনি ২০১৮ সালের শেষের দিক থেকে ১০ বছর বয়সী একটি ছাত্রের প্রতি আকৃষ্ট হন। তার সঙ্গে গড়ে তোলেন যৌন সম্পর্ক। অভিযোগ আছে, ওই বালককে তিনি শয্যাসঙ্গী করেছেন একাধিকবার। স্কুলের প্রেসিডেন্ট জাজ উলিসিস জিন থিবোডিউক্স বিবৃতিতে বলেছেন, স্মিথের এ ঘটনা বিচ্ছিন্ন। তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। ওদিকে কাউন্টি জেল থেকে স্মিথকে ৫০ হাজার ডলারের বন্ডের বিনিময়ে মুক্তি দেয়া হয়েছে। তদন্তকারী পুলিশ বলছে, এখনও তদন্ত চলছে। তারা মনে করছে, স্মিথের বিরুদ্ধে একই রকম আরো অভিযোগ পাওয়া যেতে পারে।
স্মিথের লিঙ্কডইন পেজের তথ্য অনুযায়ী, লেক চার্লস চার্ডার একাডেমির প্রতিষ্ঠান চার্টার স্কুলস ইউএসএ’তে ২০১২ সাল থেকে নিযুক্ত আছেন স্মিথ। কে-৮ গ্রেড পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি সরকারি স্কুল। স্মিথের ফেসবুকের পোস্ট অনুযায়ী তার স্বামী একটি গ্যাস স্টেশন কোম্পানিতে কর্মরত। তাদের দাম্পত্য জীবন ১২ বছরের।

সবকিছু হারিয়ে ছাড়া পাচ্ছেন উইঘুর নারীরা: আলজিয়ার্সে সবচেয়ে বড় মসজিদ নির্মাণ করলো চীনা প্রতিষ্ঠান

বছর তিনেক আগে হঠাৎ করে উধাও হয়ে যান এক উইঘুর নারী। পরে জানা গেছে, ইসলামী উগ্রপন্থার মোকাবেলায় চীনা ধরপাকড় অভিযানে তাকে আটক করা হয়েছে। অনেক ধকল ও খেসারতের পর এবার তিনি ছাড়া পেয়েছেন। তার পাকিস্তানি স্বামী বলেন, মুক্তি পেয়েছে, তবে অনেক খেসারত দিতে হয়েছে আমাদের। পশ্চিমাঞ্চলীয় চীনা প্রদেশ জিনজিয়াংয়ের ৪০ উইঘুর নারী, যারা প্রতিবেশী পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের বিয়ে করেছেন, দেশটিতে অন্তরীণ ক্যাম্পে তাদেরও আটক করে রাখা হয়েছিল। পরবর্তী সময় ছাড়া পেয়েছেন। যদিও এই অন্তরীণ ক্যাম্পকে চীন সরকার বৃত্তিমূলক শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছে। ইসলামে নিষিদ্ধ এমন কার্যক্রম করতে ক্যাম্পের ভেতর তাদের বাধ্য করা হয়েছে বলে খবরে জানা গেছে। স¤প্রতি জিনজিয়াংয়ে নিজের স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাকিস্তানি ব্যবসায়ী বলেন, ক্যাম্পে তাদের শূকরের মাংস ও অ্যালকোহল খেতে বাধ্য করা হচ্ছে। কাজেই তার স্ত্রী এখন সেই নিষিদ্ধ বস্তু খাচ্ছেন। তিনি বলেন, তার স্ত্রী তাকে জানিয়েছেন- সে যদি কর্তৃপক্ষকে খুশি করতে পারে যে তার ভেতরে কোনো উগ্রপন্থী চেতনা নেই, তবে তিনি বাড়িতে ফিরে আসার সুযোগ পাবেন। ‘ক্যাম্পে তাকে কোরআন ও নামাজ পড়তে নিষেধ করা হয়েছে; তার বদলে ঘরে বিভিন্ন চীনা বই রাখতে হচ্ছে,’ বললেন এই পাকিস্তানি ব্যবসায়ী। কিছু কিছু ব্যবসায়ী কয়েক সপ্তাহ কিংবা মাস তাদের স্ত্রীকে জিনজিয়াংয়ে রেখে নিজ দেশে ব্যবসায়িক কাজে যান। কেবল ইসলামিক প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকায়ও তাদের আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর আগে আটক হওয়া কয়েকজন বলেন, বোরকাপরা ও দাড়ি রাখার মতো ইসলামী ঐতিহ্য মেনে চলার কারণে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু নৃতাত্ত্বিক উইঘুরসহ মুসলমানদের বিরুদ্ধে ব্যাপক নিরাপত্তা ধরপাকড়ে তাদের আটক করা হলেও আন্তর্জাতিক নিন্দা ও পাকিস্তানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার স্বার্থে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। গত দুই মাস ধরে ধীরগতিতে তারা একে একে ছাড়া পাচ্ছেন। অপর এক খবরে বলা হয়, চীনে যেখানে উইঘুর সম্প্রদায়ের মুসলিমদের বন্দিশিবিরে রেখে নির্যাতনের খবর বিশ্বকে নাড়িয়ে দিচ্ছে, ঠিক তখনই একটি চীনা প্রতিষ্ঠান আফ্রিকার সবচেয়ে বড় মসজিদ নির্মাণে কাজ করেছে। আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে চালু হওয়ার জন্য অপেক্ষায় থাকা ওই মসজিদটি নির্মাণে সময় লেগেছে সাত বছর। দ্য গ্রেট মস্ক অব আলজিয়ার্স বা জামা আল জাজেইর নামের এই মসজিদটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১০০ কোটি ডলারের বেশি। চার লাখ স্কয়ার মিটার এলাকার ওপর নির্মিত মসজিদটিতে একটি ২৬৫ মিটার (৮৭০ ফুট) মিনার রয়েছে। ওই মিনারের ভেতর একটি পর্যবেক্ষণ ডেকও রয়েছে। আলজিয়ার্স উপকূলের কাছে অবস্থিত যৌগিক গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদে একসাথে ১২ লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। এছাড়া মসজিদে যে ভূগর্ভস্থ পার্কিং রয়েছে সেখানে সাত হাজার গাড়ি রাখার ব্যবস্থা আছে। মসজিদ কমপ্লেক্সে কুরআনিক স্কুল, লাইব্রেরি, রেস্টুরেন্ট, অ্যাম্ফিথিয়েটার এবং আলজেরিয়ার ইতিহাসের জন্য নিবেদিত একটি গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। নিউজ রিপাবলিক, এএফপি।

পাহাড়ে হার্ডলাইনে আঞ্চলিক দলগুলো by কাজী সোহাগ

নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় হার্ডলাইনে তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির আঞ্চলিক দলগুলো। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, কোনো সদস্য দল ত্যাগ করলেই তাকে হত্যা করা হচ্ছে। অপহরণ করা হচ্ছে। অনেকে গুমের শিকার হয়েছেন। শুধু তাই নয়, পরিবারের সদস্যদের ওপর চালানো  হচ্ছে নির্মম নির্যাতন। কথিত আছে- আঞ্চলিক দলগুলোতে ঢোকা যায়, বের হওয়া যায় না। কেউ বের হতে চাইলে তাকে চরম মূল্য দিতে হয়।
তিন পার্বত্য জেলায় বর্তমানে চারটি আঞ্চলিক সংগঠন বেশ সক্রিয়। এগুলো হচ্ছে জ্যেতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লামার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্রগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস), জেএসএস (সংস্কার), ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রট (ইউপিডিএফ) ও ইউপিডিএফ (সংস্কার)।
এছাড়া সংগঠনগুলোর পৃথক অঙ্গসংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, হিল উইমেন্স ফেডারেশন, যুব সমিতি, মহিলা সমিতি ও গণতান্ত্রিক যুবফোরামসহ একাধিক শাখা সংগঠন রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, শান্তি চুক্তির পর গত ২১ বছরে সশস্ত্র গ্রুপগুলোর দ্বন্দ্বে ৮ শতাধিক খুনের ঘটনা ঘটেছে। ১৫শ’ গুম হয়েছে।
উপজাতি সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর কাছে মূলত জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ পাহাড়িরা। মূলধারার রাজনীতি করতে মানা পাহাড়িদের। ইউপিডিএফ কিংবা জেএসএস ছাড়া মূল ধারার যে কোন রাজনৈতিক দলে যোগ দিলেই তাদের উপর নেমে আসে নানা ধরনের নির্যাতন। স্থানীয়রা জানান, গত ১৪ই এপ্রিল জেএসএস ছেড়ে আওয়ামী লীগ সমর্থন করায় অংক্যচিং মারমা নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে উপজাতি সন্ত্রাসীরা। রাত ১০টার দিকে বান্দরবান রাজবিলা ইউনিয়নের তাইংখালী বাজারপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। অংক্যচিং মারমা একসময় সন্তু লারমার দল জেএসএস এর হয়ে সশস্ত্র কার্যক্রম চালাতো এবং চাঁদাবাজি করতো। তখন তিনি রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী এলাকায় বসবাস করতেন। এক পর্যায়ে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। তখন থেকেই অংক্যচিং মারমাকে হুমকি দিতে থাকে জেএসএস। প্রাণভয়ে অংক্যচিং মারমা রাজস্থলীতে তার নিজ ভিটেমাটি ছেড়ে স্বপরিবারে ৮ বছর আগে বান্দরবান জেলার রাজবিলা ইউনিয়নে এসে বসতি গড়ে।
এরপর অংক্যচিং মারমা আওয়ামী লীগে যোগ দেন। অংক্যচিং মারমার ছেলে বাবুল মারমা রাজবিলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। অংক্যচিং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। তিন পার্বত্য জেলায় এরকম আরো অনেকেই আছেন যারা আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা মূলধারার রাজনীতি করার অপরাধে অপহৃত হয়ে লাশ হয়েছেন। আবার কেউবা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছেন। অনেকেই আছেন অপহরণের শিকার হয়েছেন। দীর্ঘ দিনেও তাদের পরিবার জানেন না তিনি বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন। যেমনটি হয়েছে, বান্দরবানের আওয়ামী লীগ নেতা মংপ্রু মারমার ক্ষেত্রে। ২০১৬ সালের ১৩ই জুন অপহৃত হন তিনি। এরপর থেকে খোঁজ নেই তার। স্বামীর অপেক্ষায় চোখের পানি ফেলছেন স্ত্রী সামা প্রু মারমা। মংপ্রু মারমা বান্দরবান সদর থানার ১ নম্বর রাজবিলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বর এবং সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা ছিলেন। ১৩ই জুন রাত ১০টার দিকে প্রতিবেশি ক্রানু মারমার ঘরে বসে টিভি দেখছিলেন মংপ্রু মারমা। এ সময় জেএসএস সন্তু গ্রুপের দুর্বৃত্তরা তাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
সেই থেকে আজো নিখোঁজ মংপ্রু মারমা। এ ঘটনায় মংপ্রুর জামাতা হামংচিং মারমা বাদি হয়ে বান্দরবান সদর থানায় মামলা করেন। মামলার সকল আসামিই জেএসএসের সদস্য। এর মধ্যে এক নম্বর আসামি কে এস মং মারমা এবং দুই নম্বর আসামি সাধুরাম ত্রিপুরা মিল্টন আঞ্চলিক জেলা পরিষদ সদস্য। ওই সময়ে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মংপ্রু মারমা আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় দুর্বৃত্তরা নির্বাচনের আগে থেকেই তাকে হুমকি দিয়ে আসছিলো। নির্বাচনের পরও তারা একাধিকবার হুমকি দিয়েছিলো। শেষ পর্যন্ত তাকে অস্ত্র ঠেকিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়। জেএসএসের মত একইভাবে সন্ত্রাসের পথে হাঁটছে ইউপিডিএফ। ২০১৬ সালের ২৯শে নভেম্বর খাগড়াছড়িতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের জনসভায় যোগ দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন নীলবর্ণ চাকমা। লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার বর্মাছড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এই সভাপতিকে রাস্তা থেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায় ১০-১২ জন ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের সদস্য। ওবায়দুল কাদেরের জনসভায় যোগ দেয়ায়ই ছিল তার অপরাধ। ‘জীবনে আর কোনো দিন আওয়ামী লীগ করবো না‘- এমন মুচলেকা দিয়ে তিনদিন পর অপহরণকারীদের কাছ থেকে নীলবর্ণ চাকমার মুক্তি মেলে। স্থানীয়রা জানান, জেএসএস গ্রুপের শক্তঘাঁটি রাঙ্গামাটি ।
সন্তু লারমা, ঊষাতন তালুকদারসহ পার্বত্যাঞ্চলের এই আঞ্চলিক সংগঠনটির প্রভাবশালী নেতাদের বাস এই জেলাতেই। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাঙ্গামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৪শ উপজাতি সমপ্রদায়ের লোক আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। এরপর থেকে তাদের উপর নেমে আসে প্রাণনাশের হুমকি। এক সময় জেএসএস হামলা চালিয়ে হত্যা করে জুরাছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অরবিন্দু চাকমাকে। প্রাণনাশের জন্য হামলা চালিয়ে গুরুতরভাবে জখম করা হয় বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রাসেল মার্মা, রাঙ্গামাটি জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ঝর্ণা খীসাসহ অনেক নেতাকর্মীকে। জেএসএস এর লাগাতার সহিংসতার মুখে ওই সময় আওয়ামী লীগ ছাড়তে বাধ্য হয় কয়েকশ উপজাতি নেতা। স্থানীয় উপজাতিরা জানান, পাহাড়ে আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু রাজনীতির চর্চা চাই।
আঞ্চলিক সশস্ত্র রাজনীতির বাঁধা পেরিয়ে জাতীয় রাজনৈতিক দলের হাত ধরে উন্নয়নের রাজনীতিতে শামিল হতে চাই। সাম্প্রদায়িক, বিভেদ ও ঘৃণাত্মক রাজনীতির বেড়া ডিঙিয়ে ধর্ম নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির সঙ্গে জাতীয় চেতনার সঙ্গে থাকতে চাই। সংশ্লিষ্টরা জানান,তাদের এ চাওয়ায় বাধ সাধছে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর নির্মম হার্ডলাইন।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশিরা মৃত্যু আতঙ্কে by দীন ইসলাম

দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীদের আতঙ্ক বিরাজ করছে। বাংলাদেশিদের জন্য দেশটি ক্রমেই আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। বাড়ছে মৃত্যুর ঘটনা। প্রতিদিনই হত্যা, অপহরণ, ছিনতাই, ডাকাতিসহ নানা ঘটনায় বাংলাদেশিদের জন্য দেশটি ‘মৃত্যুকূপে’ পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশিরা আছেন   মৃত্যু আতঙ্কে। গেল বছর দেশটিতে অন্তত ১৫০ বাংলাদেশি খুন হয়েছেন। প্রতি সপ্তাহে গড়ে প্রায় তিনজন করে হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছেন। যদিও দেশটিতে পৃথিবীর সব দেশের মানুষ ব্যবসা বাণিজ্য করার ক্ষেত্রে নিরাপদ বোধ করে।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা বলছেন, যাঁরা খুন হচ্ছেন, তাঁদের বেশির ভাগই দোকানমালিক ও ব্যবসায়ী।
ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে হামলার পরই এসব খুনের ঘটনা ঘটছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা চরম উদ্বেগের মধ্যে আছেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এসব হত্যাকান্ডের সঠিক কারণ জানা না গেলেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানান, চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতিসহ নানা ঘটনার শিকার হয়ে দেশটির কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মম ভাগ্যবরণ করছেন বাংলাদেশিরা। যার বড় একটি অংশ ২০ থেকে ৩০ বছরের তরুণ। দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতিবছর গড়ে ২০০ বাংলাদেশি হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছেন। গত বছর হত্যাকান্ডের পাশাপাশি গুলিবিদ্ধ হয়ে পঙ্গু হয়েছেন ৫৬ বাংলাদেশি। অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ১৮টি। দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে ৫৩৩টি। প্রবাসী বাংলাদেশি সূত্রে জানা গেছে, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির অভিযোগে গত ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর বিদেশিদের দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় জোহানেসবার্গ সংলগ্ন সোয়েটো এলাকার কৃষ্ণাঙ্গরা। এ ঘটনায় বাংলাদেশিসহ অন্তত এক হাজার ৫০০ বিদেশির দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনা চলাকালে চার কৃষ্ণাঙ্গ নিহত হলে ‘সেভ অ্যান্ড ক্লিন সাউথ আফ্রিকা’ নামে একটি সংগঠন সব বিদেশিদের দোকান থেকে বের করে দেয়ার আলটিমেটাম দেয়। এরপর থেকে বিদেশি নাগরিক খুনের ঘটনা বেড়ে গেছে।
গেল বছরের শেষ তিন মাসে কমপক্ষে ২৬ বাংলাদেশি খুন হন। জানুয়ারি থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত কমপক্ষে ২৭ জন বাংলাদেশি খুন হন। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসেই চার জন যুবক খুন হন। ফেব্রুয়ারিতে খুন হন পাঁচ জন। এর মধ্যে ২রা ফেব্রুয়ারি রাতে জোহানেসবার্গের সোয়েটো লোকেশনের এলডেরাডো পার্কের একটি দোকানে নাজমুল হুদা বিপ্লব (২৫) নামে এক প্রবাসীকে গুলি করে হত্যা করে কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীরা। সর্বশেষ গত শনিবার চাটখিল উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে আবদুর রহমান ওরফে সায়মন (২০) খুন হন। ওই দিন রাত ৮টার দিকে সায়মনের মৃত্যুর বিষয়টি তার পরিবার জানতে পারে। সায়মনের স্বজনরা জানান, দেড় বছর আগে প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যয় করে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার জন্য সাউথ আফ্রিকাতে কাজের সন্ধানে যায় সায়মন।
সাউথ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের ফ্রিডম পার্ক এলাকায় তার খালুর দোকানে কাজ করতো সায়মন। গত সোমবার সে দোকানে বেশ কয়েকজন নিগ্রো সন্ত্রাসী ডাকাতির উদ্দেশ্যে হানা দেয়। এ সময় তাদের বাঁধা দিলে সন্ত্রাসীরা গুলি করে দোকান লুট করে পালিয়ে যায়। মারাত্মক আহত অবস্থায় সায়মনকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সয়মন সবার বড়। পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম সায়মনের মৃত্যুতে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। সায়মনের লাশ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে তার পরিবার দাবি জানান। জনশক্তি রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, বৈধভাবে দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার সুযোগ খুব কম। কিন্তু একশ্রেণির দালাল ছয়-সাত লাখ টাকা নিয়ে মোজাম্বিক, জাম্বিয়া, তানজানিয়া, লাইবেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় লোক পাঠায়। এভাবে যাঁরা দক্ষিণ আফ্রিকায় যান, তাঁদের বেশির ভাগেরই বাড়ি নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও মুন্সীগঞ্জে। তাঁদের বেশির ভাগ দোকান চালান। কিন্তু তাঁরা বৈধ নন। ফলে তাঁদের ব্যাংক হিসাব নেই। এ কারণে নিজেদের কাছেই তাঁরা নগদ টাকা রাখেন। আর ওই টাকা ছিনিয়ে নিতেই এসব হামলা হয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার বাংলাদেশ হাইকমিশন বলছে, দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তাদের কাছে এসব ঘটনার প্রতিকার ও ন্যায়বিচার চাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি খুনের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করারও অনুরোধ জানানো হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ থেকে চট্টগ্রামের বাসিন্দা আমিন খান বলেন, এখানে জীবন হারানোর শঙ্কা নিয়ে চলতে হয়। অন্য দেশের কেউ মারা গেলে সে দেশের লোকজন ও এম্বাসি মামলা করে, কিন্তু বাংলাদেশিদের বেলায় কেউ আসে না। দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের অভিযোগ, হত্যাকান্ডের শিকারের পর পুলিশের পক্ষে একটি ইউডি মামলা ছাড়া ভুক্তভোগীর পক্ষে কোনো মামলা হয় না। তাই খুনের ঘটনার কারণ নিয়ে তদন্তও হয় না। তাই কি কারণে এ হত্যাকান্ডটি সংঘটিত হয়েছে তা পুলিশী তদন্তের বাইরে থেকে যায়।
অপরদিকে অন্য কোনো দেশের নাগরিক সেখানে হত্যাকান্ডের শিকার হলে ওই দেশের কমিউনিটি নেতারা সংশ্লিষ্ট থানায় অজ্ঞাত আসামীর নামে মামলা দায়ের করেন। মামলার চুড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত ওই মামলার তদারকি করে যান। এমন কি ওই দেশের অ্যাম্বাসী পর্যন্ত মামলার তদারকির জন্য নিজস্ব আইনজীবি নিয়োগ করে। বাংলাদেশি প্রবাসীদের বেলায় ঘটে উল্টো ঘটনা। যে কোন এলাকায় কোন বাংলাদেশি নাগরিক হত্যাকান্ডের শিকার হলে স্থানীয় বাংলাদেশিরা চাঁদা তুলে লাশটা কোনরকমে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কমিউনিটির কোনো নেতা একটি লাশের তদারকি করতে বা কমিউনিটি বাদী হয়ে মামলা করে না। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রম চুক্তি নেই। যারা হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছেন তাদের প্রায় সবাই ভ্রমণ ভিসা বা চোরাইপথে গিয়ে সেখানে থেকে যাচ্ছেন। ফলে কেউ নিহত হলেও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ থাকছে না।