Thursday, October 11, 2018
নাদেজের টার্গেট প্রতিদিন ১০০ ইউরো

তাকে তিনি নিয়ে যান এক ‘জুজু’ উপাসনালয়ে। সেখানে নাদেজেকে শপথ পড়ানো হয়। নাইজেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে একটি রীতি আছে যে, এই জাতীয় উপাসনালয়ে কোনো শপথ করলে তা ভঙ্গ করা যাবে না। সেই শপথের জেরে নাদেজেকে নিয়ে যাওয়া হয় প্যারিসে। এক্ষেত্রে তার খরচ বহন করেন ওই ম্যাডাম নামের দালাল। তবে তাকে নাদেজেকে যে শপথ পড়ানো হয়েছে, তিনি যে ওই ম্যাডামের কাছে ঋণী এ কথা কাউকে বলতে নিষেধ করে দেয়া হয়। শুধু প্যারিস নয়, ইউরোপজুড়ে নাইজেরিয়ার অসংখ্য নারীকে এভাবে যৌন ব্যবসায় বাধ্য করা হয়েছে। আশ্রয়প্রার্থী ও মানবপাচার বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আইনজীবি ইয়েহুদি পেলোসি। তিনি বলেন, এসব নারীকে এভাবে যৌন ব্যবসায় বাধ্য করার সময় এক রকম অনুষ্ঠান করা হয়। তাতে তাকে ‘কোলা’ বাদাম ও মুরগির হৃদপিন্ড খেতে বাধ্য করা হয়। রক্ত এবং বিভিন্ন শষ্যের সংমিশ্রণে তৈরি এক রকম পানীয় পান করতে বাধ্য করা হয়। তাদের বয়োঃপ্রাপ্তির সময়কার শরীরের গুপ্ত লোমের কিছু নিয়ে নেয়া হয়। তাদের মাথা, স্তন ও কাঁধের কিছু অংশে রীতি পালন করতে চিহ্ন এঁকে দেয়া হয়। এসব নিয়ে কাজ করছে এমন দাতব্য সংস্থাগুলো বলছে, এই শপথ পড়ানোর মধ্য দিয়ে নারীদেরকে বলীয়ান করা হয়। তাদেরকে এমন আশ্বস্ত করা হয় বা এমনভাবে বোঝানো হয় যে, এই শপথ ভঙ্গ করলে তিনি পাগল হয়ে যাবেন অথবা মারা যাবেন। শুধু তা-ই নয়। একই সঙ্গে তার পরিবারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দাতব্য সংস্থাগুলো বলছে, যেসব ম্যাডাম এই যুবতীদের বা নারীদের আটকে রেখে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করেন তারা দেশে একদল কুচক্রীকে পালেন। এসব কুচক্রী সেনা স্টাইলের গ্যাং। তারা সংশ্লিষ্ট যুবতীর পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেয়। মাঝে মাঝে পরিবারের সদস্যদের হত্যাও করে। নাদেজে বলেন, তারা আমাকে বলে, আমার পিতামাতা নিরাপদ নন। কিন্তু আমি আমার মাকে ভালবাসি। তার কোনো ক্ষতি হোক এটা আমি চাই না।
নাদেজে কিভাবে ফ্রান্সে গিয়েছেন তা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, প্রথমে আমাকে ম্যাডাম একটি ভুয়া পাসপোর্ট ধরিয়ে দেন আমাকে। সেই পাসপোর্ট নিয়ে আমি একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে উঠে বসি। পৌঁছে যাই প্যারিসে। এর এক সপ্তাহ পরে তিনি পৌঁছেন প্যারিসে। তারপর বোইস পার্কে। এখানেই আমাকে দিয়ে ‘কাজ’ করানো শুরু হয়। ওই সময় আমার বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর। আমার প্যারিসে আসতে ঋণ করতে হয়েছে অনেক অর্থ। ম্যাডাম দিয়েছেন ৫০ হাজার ইউরো। অন্যদের কাছ থেকে নিয়েছি ৬০ হাজার ইউরো। ম্যাডাম আমাকে প্রতিদিন ১০০ ইউরো আয়ের টার্গেট দিয়েছেন। আর ওই যে ভুয়া পাসপোর্ট তা তিনি নিয়ে নিয়েছেন। শুধু তাই নয়। আমি যা আয় করি তার সবটাই তিনি নিয়ে নেন। শুধু খাবার টাকা ও ভাড়ার টাকাটা আমার হাতে দেন। বাকিটা তার। ওই ১০০ ইউরো টার্গেট পূরণ করতে প্রতিদিন আমাকে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত একটানা খদ্দেরের মনোরঞ্জন করতে হয়। তারা যেভাবে চান সেভাবেই তাদের সঙ্গে আচরণ করতে হয়। তাদের মন ভরলেই তো অর্থ। তারা আবার আমার কাছে আসবেন। আমাকে খুঁজবেন। তাই কোনো বাধা নিষেধ থাকে না। তাদের ইচ্ছেকেই প্রাধান্য দিতে হয়। এমনি করে শরীর বিকিয়ে বাসায় ফিরতে সকাল ৮ টা বেজে যায়।
এরপর দিনের বেলায় অন্য কোথাও কাজ করেন নাদেজে। তিনি কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে বিকাল ৩টা থেকে অন্য কোথাও কাজ করেন। যখন সন্ধ্যা ৬টা বেজে আসে তখন তাকে আবার ফিরতে হয় বোইস পার্কের সেই আলো-আধারির পার্কে।
এই পার্কে যেসব নাইজেরিয়ান নারী দেহব্যবসা করেন তাদের বেশির ভাগই যৌনদাসী। তাদেরকে দিয়ে কৃতদাসের মতো এই দেহব্যবসা করানো হচ্ছে। তারা এ ব্যবসা করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাতে অন্যথা হলে তাদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে।
নাদেজে বলেন, একবার আমি এক পুরুষ খদ্দেরকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি কেন এই অন্ধকার জগতে পা রাখেন। ওই পুরুষ আমাকে জবাবে বলেছিলেন, তিনি বিচ্ছেদপ্রাপ্ত। নিজের মনের ও শরীরের ক্ষুধা মেটানোর জন্য তিনি নাদেজের মতো নারীদের কাছে ছুটে যান। তিনি ও অন্য খদ্দেরদের বেশির ভাগই জানেন নাইজেরিয়ান নারীদের অবস্থা। তারা জানেন অল্প টাকায়ই এসব নারীর কাছে পাওয়া যায় শরীর। হারিয়ে যাওয়া যায় নিষিদ্ধ জগতে। তাই তারা এখানেই ছুটে আসেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সমুদ্রগর্ভ থেকে আসবে ৮১ ভাগ সম্পদ -প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শুধু আমাদের নিজের দেশকে নিয়ে ভাবি না, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ অঞ্চলের সব মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনকে সব থেকে গুরুত্ব দিচ্ছি।
নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীগুলোর নাব্য সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য নদী খননের উদ্যোগসহ বন্ধ হয়ে যাওয়া নৌ-রুটগুলো পুনরায় চালুর জন্য ড্রেজিংয়ের উদ্যোগসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমরা আশা করি, বাংলাদেশের জন্য একটি আধুনিক দক্ষ পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নৌ-পরিবহন খাতে যথাযথ কর্মপন্থা গ্রহণ করব। আমাদের কর্মকৌশল হবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়। বাংলাদেশ বিশ্বের বৃহত্তম ব-দ্বীপ অঞ্চল। এর শতকরা ৮০ ভাগ নদ-নদী প্লাবন ভূমি। যার ওপর নির্ভরশীল দেশের বেশিরভাগ জীবনযাত্রা এবং অর্থনীতি। বাংলাদেশ একটি দ্রুত উন্নয়নশীল দেশ। এবারে আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত লাভ করেছি।
এটাকে আমাদের ধরে রাখতে হবে এবং এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশকে আমরা গড়ে তুলতে চাই ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে। কারণ, ২০২১ সালে আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করব। সেই দিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা সব পরিকল্পনা গ্রহণ করছি। মানুষের জীবনযাত্রা উন্নত করা, তাদের পানীয় জল ও খাদ্য-নিরাপত্তা এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন ধরনের কাজগুলো করছি- বলেন শেখ হাসিনা। ব-দ্বীপের বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজেই এ ব-দ্বীপেরও কিছু প্রতিকূলতা থাকে। সেই প্রতিকূলতা বারবার আমরা সম্মুখীন হচ্ছি। কিন্তু যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ এখন যথেষ্ট পারদর্শিতা অর্জন করেছে। সেই দিকে লক্ষ্য রেখেই আমাদের সব উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা আমাদের ব-দ্বীপটাকে আগামী দিনে উন্নত করবো। কারণ, ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
ব-দ্বীপের বিষয়টি মাথায় রেখেই এই অঞ্চলের বসবাসকারী মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতি করতে পারি, সেই দিকে লক্ষ্য রেখেই এরই মধ্যে আমরা ডেল্টা প্লান-২১০০ প্রস্তুত করেছি এবং নেদারল্যান্ড সরকার এ ব্যাপারে আমাদের সহায়তা করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যাতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বা আজকের শিশু আগামী দিনে কেমন জীবনযাপন করবে, সে দিকে লক্ষ্য রেখে পদক্ষেপগুলো নিয়েছি। আমরা মনে করি, বাংলাদেশ একটি অপার সম্ভাবনার দেশ। নৌপরিবহন সেক্টরে রয়েছে বিপুল ব্যবসায়িক সুযোগ। দেশ-বিদেশে কনটেইনার পরিবহন উন্নয়নে ড্রেজিং কার্যক্রমসহ বন্দর ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার ক্ষেত্রে আমাদের দেশি-বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা যাতে আরও আসে তার জন্য আমাদের নীতিমালা আরও উন্নত করেছি এবং উন্মুক্ত করেছি বলেও জানান তিনি। এছাড়া বাংলাদেশের নদীবন্দরগুলোকে আধুনিকায়ন করা, নতুন বন্দর নির্মাণ অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপোগুলোতে জাহাজ ও যাত্রী ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং নৌযানের দক্ষতা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বেসরকারি খাতের জন্য ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।
ভারত-মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা সমাধান হওয়ার দিকটি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেখানে আমরা আমাদের যে সমুদ্রসীমা পেয়েছি, এখানে যে সম্পদ রয়েছে তা আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজে লাগানোর জন্য এরইমধ্যে ব্লু-ইকোনমি পলিসি গ্রহণ করেছি। আমরা মনে করি যে, এ সম্পদ ব্যবহার করে আমরা আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারব। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ ও কর্মসূচি গ্রহণের ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি-উন্নয়নের সূচকগুলোর কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের সাফল্য অর্জনের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সহযোগিতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। বিগত এক দশক ধরে গড়ে আমরা ৬ শতাংশের ওপরে ডিজিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। গত বছর আমরা জিডিপি অর্জন করেছি ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
২০১৫ সালে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যদিও আমরা নিম্ন থাকব না। আমরা অবশ্যই উন্নত দেশ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলব। জাতিসংঘ ২০১৮ সালে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সনদও আমাদের দিয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা আমরা আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে; যা জাতির পিতার লক্ষ্য ছিল। নৌ-পরিবহন খাতে দক্ষিণ এশিয়ায় রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। কাজেই এই খাতকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে এই অঞ্চলের জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রভূত অবদান রাখা সম্ভব বলে আশাবাদ করেন। এর কারণ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শুধু আমাদের নিজের দেশ নিয়ে ভাবি না, আমরা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাদের একটা যোগাযোগ রক্ষা করে আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ অঞ্চলের সব মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের ওপর সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।
দ্বিতীয় দক্ষিণ এশিয়া সামুদ্রিক ও লজিস্ট্রিক ফোরাম-২০১৮’তে যেসব সুপারিশ করা হবে তা আমাদের লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে বলে উল্লেখ করে ফোরামের সাফল্য কামনা করে শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ২০১৭ সালের ৭ই সেপ্টেম্বর ভারতের মুম্বাইয়ে সাউথ এশিয়া মেরিটাইম অ্যান্ড লজিসটিক ফোরামের প্রথম সম্মেলন হয়। এবারের সম্মেলনে ভারত, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটানসহ এশিয়া ও ইউরোপের ২০টি দেশের নৌখাত-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য ও শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সম্মেলনে অংশ নেবেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গ্রেনেড হামলার রায়: বাবর-পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, তারেক-হারিছসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আছেন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিএনপিদলীয় সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। গতকাল ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।
পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ আদালতে এ মামলার বিচারকাজ চলে। ২০০৪ সালে সংগঠিত ঘটনার ১৪ বছর পর রায় হওয়ায় খুশি আহত ও নিহত নেতাকর্মীদের স্বজনরা। তবে তারা অন্য আসামিদেরও সর্বোচ্চ শাস্তি না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, রায়ে তারা অখুশিও নন আবার পুরোপুরি খুশিও নন।
ঘোষিত রায়কে ফরমায়েশি উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি।
দলটির পক্ষ থেকে সাত দিনের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রায়ে ন্যায়বিচার পাননি উল্লেখ করে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন। রায় ঘিরে সারা দেশে কড়া নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। নিরাপত্তার মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ আনন্দ মিছিল করে। তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করে বিএনপি। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক যাবজ্জীবন শাস্তি পাওয়া আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।
গত ১৮ই সেপ্টেম্বর মামলার সবশেষ ধাপ যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে ১০ই অক্টোবর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন আদালত। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২২৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। গত বছরের ৩০শে মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দকে জেরা শেষের মধ্য দিয়ে সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। মামলায় মোট ৫২ আসামির নাম থাকলেও অন্য মামলায় জামায়াতের সাবেক নেতা আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান ও শরীফ শাহেদুল বিপুলের ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ায় মামলার আসামি সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৯ জনে। ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় সাবেক প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের স্ত্রী, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন কয়েক শ’ নেতাকর্মী। ঘটনার সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। তবে, তাঁর শ্রবণ শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার ১৪ বছরের বেশি সময় পর বিচার শেষে এ রায় এলো।
গতকাল রায়ের আগে বিশেষ আদালতের ওই এজলাসে সাংবাদিকদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমের একজন করে প্রতিনিধিকে আদালতে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা। পুলিশের সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের বাকবিতণ্ডা হয়। এ ধরনের সিদ্ধান্তে অনেকেই আদালতের ভিতরে প্রবেশ করতে না পেরে আদালত ভবনের বাইরেই দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে আদালতে প্রবেশের প্রথম ফটকের সামনেও কোনো গণমাধ্যমকর্মীকে দাঁড়াতে দেয়া হয়নি। যেসব গণমাধ্যমকর্মী আদালতের ভেতরে প্রবেশ করেছেন তাদের মোবাইল ফোন জমা দিয়ে আদালতের ভেতরে প্রবেশ করতে হয়েছে। সোয়া ১১টার দিকে গণমাধ্যমকর্মীরা আদালতের এজলাসের সামনে গেলেও প্রথমে তাদের আদালতের এজলাসে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। পরে উপস্থিত সিনিয়র সাংবাদিকরা এর প্রতিবাদ জানালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের অুনরোধে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের প্রবেশে অনুমতি দেন।
সকাল ১১টা ৩৭ মিনিটে ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন এজলাসে তার আসনে বসেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেয়ার সময় ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে বিদ্যুৎ চলে যায়। একই সঙ্গে আদালতে থাকা মাইকও বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থাতেই রায় পড়া শুরু করেন বিচারক। দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ আবারো শুরু হয়। কিন্তু ১২টা ৮ মিনিটে আবারো বিদ্যুৎ চলে যায়। বিচারক রায় পড়ে শেষ করার কিছুক্ষণ আগে বিদ্যুৎ সরবারহ শুরু হয়।
রায়ে ১৪টি বিবেচ্য বিষয় উল্লেখ করে আদালত বলেন, সার্বিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, মূল ঘটনার পূর্বে বিভিন্ন ঘটনাস্থলে অত্র মোকদ্দমার আসামিগণ অভিন্ন অভিপ্রায়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সভা করে পরিকল্পিতভাবে ঘটনাস্থল ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এর সামনে ঘটনার তারিখ ও সময়ে মারাত্মক সমরাস্ত্র আর্জেস গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ ২৪ জনকে হত্যা করে ও শতাধিক নেতাকর্মীকে মারাত্মকভাবে জখম করে মর্মে আসামিগণের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রসিকিউশন পক্ষ প্রমাণে সক্ষম হয়েছে। সে প্রেক্ষিতে আসামিগণকে শাস্তি প্রদান করা যুক্তিসঙ্গত বলে অত্র আদালত মনে করে।
হত্যা মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- লুৎফুজ্জামান বাবর, মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুর রহিম, মো. আব্দুস সালাম পিন্টু ও হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফ, মাওলানা মো. তাজউদ্দিন, শেখ আব্দুস সালাম, মো. আব্দুল মাজেদ ভাট ওরফে মো. ইউসুফ ভাট, আব্দুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ, শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান, আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, আবু তাহের, হোসাইন আহমেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মাসুম বিল্লাহ, মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে খালিদ সাইুফুল্লাহ, মো. উজ্জ্বল ওরফে রতন।
মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। রায়ে বলা হয়েছে হাইকোর্টের অনুমোদন সাপেক্ষে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। একই সঙ্গে আসামিরা চাইলে এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন। এই ১৯ জনকে বিস্ফোরক আইনের মামলাতেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি এই ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিন্ন অভিপ্রায়ে পরিকল্পনা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন আদালত। এছাড়া বিস্ফোরক আইনে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গুরুতর জখমের অভিযোগে এই আসামিদের ২০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, সব মিলিয়ে এই আসামিদের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের সাজাই কার্যকর হবে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই ও জঙ্গিনেতা তাজউদ্দীন এবং হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফ এখনো পলাতক।
হত্যা, বিস্ফোরক ও গুরুতর জখম করার অভিযোগের পৃথক ধারায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- তারেক রহমান ওরফে তারেক জিয়া (পলাতক), হারিছ চৌধুরী (পলাতক), কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (পলাতক), শাহাদাত উল্লাহ ওরফে জুয়েল, আব্দুর রউফ, ওরফে আবু ওমর হোমাইরা, সাব্বির আহমেদ, আরিফ হাসান ওরফে সুমন, মাওলানা ইয়াহিয়া, আবু বকর ওরফে সেলিম হাওলাদার, মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ, মহিবুল মুত্তাকিন (পলাতক), আনিছুল মুরসালিন (পলাতক) মো. খলিল (পলাতক), জাহাঙ্গীর আলম বদর (পলাতক), মো. ইকবাল (পলাতক), লিটন ওরফে মাওলানা লিটন (পলাতক), মুফতি শফিকুর রহমান (পলাতক), মুফতি আব্দুল হাই (পলাতক), রাতুল আহমেদ বাবু (পলাতক)। পাশাপাশি বিস্ফোরক আইনের অন্য ধারায় আসামিদের ২০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে আদালতের রায়ে। তবে, সব সাজা একযোগে কার্যকর হবে বলে এই আসামিদের ক্ষেত্রে শুধু যাবজ্জীবন সাজা খাটতে হবে।
রায়ে এই মামলার আসামি আট পুলিশ ও তিন সেনা কর্মকর্তাকে বিভিন্ন অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন বিচারক। তাঁদের মধ্যে খালেদা জিয়ার ভাগনে ও নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ডিউক, লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ারদার (পলাতক), মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক, সাবেক ডিআইজি খান সাঈদ হাসান (পলাতক), সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন (তদন্ত কর্মকর্তা) ও সাবেক পুলিশ সুপার ওবায়দুর রহমান খানকে (পলাতক) দুই বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত। রায়ের আরেকটি আদেশে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক খোদা বক্স চৌধুরী, সিআইডির সাবেক সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান ও সাবেক এএসপি আবদুর রশীদকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। দুই মামলার ৪৯ আসামির মধ্যে কারাগারে থাকা ৩১ আসামিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তায় ঢাকার ওই আদালতে নিয়ে আসা হয়। কাটগড়ায় তাদের উপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করেন আদালত। আর তারেক রহমানসহ বাকি ১৮ জনকে পলাতক দেখিয়েই এ মামলার বিচারকাজ চলে।
বিরোধী দলের প্রতি উদারনীতি প্রয়োগ করতে হবে: আদালত
গতকাল ২১শে আগস্ট মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, তৎকালীন রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের সহায়তায় প্রকাশ্য দিবালোকে ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যুদ্ধে ব্যবহৃত আর্জেস স্পেশালাইজড মারণাস্ত্র আর্জেস গ্রেনেড বিস্ফোরণের মাধ্যমে এ ঘটনা ঘটানো হয়। প্রশ্ন উঠে, কেন এই মারণাস্ত্রের ব্যবহার? রাজনীতি মানেই কি বিরোধী দলের ওপর পৈশাচিক আক্রমণ? শুধু আক্রমণই নয় দলকে নেতৃত্বশূন্য করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা। আদালত বলেন, রাজনীতিতে অবশ্যম্ভাবীভাবে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের মধ্যে শত বিরোধ থাকবে। তাই বলে কি বিরোধী দলকে নেতৃত্বশূন্য করার প্রয়াস চালানো হবে? এটা কাম্য নয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ক্ষমতায় যে দলই থাকবে, বিরোধী দলের প্রতি তাদের উদারনীতি প্রয়োগের মাধ্যমে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টা থাকতে হবে। বিরোধীদলীয় নেতৃবৃন্দকে হত্যা করে ক্ষতাসীনদের রাজনৈতিক ফায়দা অর্জন করা মোটেই গণতান্ত্রিক চিন্তার বহিঃপ্রকাশ নয়। সাধারণ জনগণ এ রাজনীতি চায় না। সাধারণ জনগণ চায় যেকোনো রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশে যোগ দিয়ে সেই দলের নীতি, আদর্শ ও পরিকল্পনা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান ধারণ করা। আর সেই সমাবেশে আর্জেস গ্রেনেড বিস্ফোরণ করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষকে হত্যার এ ধারা চালু থাকলে পরবর্তীতে দেশের সাধারণ জনগণ রাজনীতি বিমুখ হয়ে পড়বে। আদালত বলেন, সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ:) এর দরগা শরীফের ঘটনা, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ওপর হামলা বা রমনা বটমূলে হামলার মতো ঘটনা এবং এই মামলার ঘটনায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর নৃশংস বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলার পুনরাবৃত্তি আদালত চায়না। আদালত আরো বলেন, আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে উল্লিখিত নৃশংস ও ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব বলে আদালত মনে করে।
আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া: এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মানবজমিনকে বলেন, ‘আমরা যুক্তিতর্কের শুনানিতে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনের বিধান মোতাবেক দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছিলাম। আদালত রায় দিয়েছেন। এখন আমরা এই রায় পর্যালোচনা করে দেখবো। যদি দেখা যায় যে কারো সাজা কম হয়েছে তাহলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে। তিনি বলেন, ওই ঘটনায় নিহতদের স্বজন ও আহতদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান হয়েছে।’ আর রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের অন্য আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল জানান, তারা এ রায় পর্যালোচনা করবেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী এসএম শাহজাহান রায়ের প্রতিক্রিয়া মানবজমিনকে বলেন, ‘রায়ে সন্তুষ্ট কিংবা অসন্তুষ্ট হওয়ার বিষয় নয়। আমরা এই রায়ে হতাশ। আর হতাশ এ কারণে যে আমরা আশানুরূপ রায় পাইনি। এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করবো।’ এ মামলায় বিএনপি নেতা তারেক রহমানের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী একেএম আখতার হোসেন। গতকাল রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘আদালত তাঁর নিজস্ব বিবেচনায় সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। কিন্তু তিনি (তারেক রহমান) যেহেতু দেশে নেই তাই এই রায়ের প্রেক্ষিতে এখন কিছুই বলতে পারছি না।’ তিনি বলেন, ‘যদি দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে কেউ আপিল করতে চান তাহলে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। তাই তারেক রহমানও যদি উচ্চ আদালতে দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে চান তাহলে তাকে আগে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।’ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত লুৎফুজ্জামান বাবরের আইনজীবী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এটি একটি রাজনৈতিক মামলার রায়। আমাদের জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত রায়। যে অভিযোগ দেখিয়ে তাকে (লুৎফুজ্জামান বাবর) মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে তাতে এই সাজা পাওয়ার মতো অপরাধ তিনি করেন নি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবো এবং আশা করি ন্যায়বিচার পাবো।’
ফিরে দেখা: ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে নৃশংস ওই গ্রেনেড হামলার পর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে এ মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অভিযোগ ওঠে। হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে করা দুই মামলায় সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের পর ২০১২ সালের মার্চে দ্বিতীয় দফায় অভিযোগ গঠন করেন সংশ্লিষ্ট আদালত। এরপর সাড়ে ছয় বছর ধরে বিচারকাজ চলেছে। এই মামলায় প্রথম দফা অভিযোগপত্রে ২২ জন আসামি থাকলেও অধিকতর তদন্তে বিএনপি নেতা তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ আরো ৩০ জনকে আসামি করা হয়। ২০১২ সালের ১৮ই মার্চ দ্বিতীয় দফায় অভিযোগ গঠন করেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক। এর আগে ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নতুন করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়। তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ১১ই জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অভিযোগপত্রে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন, হুজি নেতা মুফতি হান্নান (অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর)সহ ২২ জনকে আসামি করা হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর মামলার অধিকতর তদন্ত শুরুর উদ্যোগ নেয়া হয়। তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ২রা জুলাই সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহার আকন্দ সম্পূরক অভিযোগপত্র দেন।
সতর্কাবস্থায় ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: মামলার রায়কে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ঘিরে ছিল কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিপুল র্যাব-পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন ছিল সাদা পোশাকের গোয়েন্দা পুলিশ। গতকাল সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ওই এলাকাসহ পুরো ঢাকাজুড়ে ছিল নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সকাল থেকেই নাজিম উদ্দিন রোড এলাকার প্রবেশপথগুলোতে ব্যারিকেড দিয়ে অবস্থান নেয় পুলিশ। চাঁনখারপুল থেকে শুরু করে আশপাশের সড়কগুলোতে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এ সময় জনসাধারণের চলাচলে ছিল কড়াকড়ি। প্রতিটি মোড়েই পথচারীদের তল্লাশি করতে দেখা গেছে। সকাল থেকেই বিভিন্ন বাড়ি-মার্কেটের ছাদে অবস্থান নেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আদালত ভবনের চারপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। এ এলাকায় বহিরাগতদের প্রবেশে ছিল নিষেধাজ্ঞা। সকাল থেকে রাজধানীর শাহবাগ, ফার্মগেট, মগবাজার, বকশিবাজার, বংশাল, রায়শা বাজার মোড়, জজকোর্ট এলাকায় ছিল বাড়তি পুলিশ মোতায়েন। জজ কোর্ট এলাকায় যাতায়াতকারী প্রায় সবাইকেই তল্লাশি করেছে পুলিশ।
গ্রেনেড হামলা মামলার আসামিদের কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আসা-যাওয়ার পথে ছিল পুলিশ ও র্যাব। প্রিজনভ্যানের আগেপিছে ছিল পুলিশ ও র্যাবের কয়েকটি গাড়ি, পিকআপ। সেইসঙ্গে র্যাবের স্ট্রাইকিং ফোর্স ছিল মোটরসাইকেলে। দুপুর ১টায় আসামিদের যখন আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় তখনই নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয় তাদের যাওয়ার পথ। এ সময় রাস্তায় পথচারীদের সরিয়ে দেয়া হয়। ডিএমপি’র উপকমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় এজন্য পুলিশ সতর্কাবস্থায় ছিল। পুরো রাজধানী জুড়েই পুলিশ বিশেষভাবে তৎপর ছিল বলে জানান তিনি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ঢাবিতে শিক্ষকদের প্রতিবাদী মিছিল

একই সঙ্গে শিক্ষক মাইদুলকে সম্মানের সঙ্গে চাকরিতে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন বলেন, কথা বলতে পারাটা আমাদের অধিকার, আমরা এই অধিকার অর্জন করেছি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। অধ্যাপক ফাহমিদুল হক উচ্চ আদালতকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, নিম্ন আদালত মাইদুল হককে রিমান্ডে পাঠালেও উচ্চ আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেছেন। আমরা এই বিষয়ে ১৭ই অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি মতবিনিময় সভা করবো। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সমালোচনা করে চবি শিক্ষক জি. এস. হাবিব বলেন, চবি শিক্ষক সমিতি ব্যক্তি স্বার্থে কাজ করছে। একজন শিক্ষক কারাগারে আছে, এটা খুবই লজ্জার বিষয়। মাইদুল ছিলেন সত্যের পক্ষে, তাই আমরা তার সঙ্গে আছি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাসির উদ্দিন বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিতে হবে। এখন সময় এসেছে মুখ খোলার। সমালোচনা থেকে ভালোটুকু নিয়ে, খারাপটা বর্জন করতে হবে।
হাইকোর্টে জামিন পেলেন মাইদুল
ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাইদুল ইসলাম। কারাগারে থাকা মাইদুল ইসলাম আইনজীবীদের মাধ্যমে জামিনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করলে গতকাল শুনানি নিয়ে তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের এ আদেশ দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। আদালতে মাইদুল ইসলামের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ। আদেশের পর আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্ট মাইদুল ইসলামকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছে। এর আগে গত সোমবার চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল্লাহ কায়সার মাইদুল ইসলামকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে সমর্থন করে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার অভিযোগে গত ২৩শে জুলাই মাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে হাটহাজারি থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইফতেখারুল ইসলাম। গত ৬ই আগস্ট হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পান মাইদুল ইসলাম। হাইকোর্টের দেয়া আট সপ্তাহের জামিন শেষে গত ২৪শে সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তিনি। শুনানি নিয়ে আদালত আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে ২৫শে সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মাইদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অর্থের জন্য ইসরাইলী নারী সেনাদের পতিতাবৃত্তি!
![]() |
| অর্থের জন্য ইহুদিবাদী এই দেশটির নারী সেনারা পতিতাবৃত্তির মতো কাজে জড়িয়ে পড়ছেন। - ছবি: সংগৃহীত |
ইসরাইলী নারী সেনাদের পতিতাবৃত্তির তথ্য প্রকাশের পর সে দেশের পার্লামেন্টের একজন সদস্য একে ‘ লজ্জার প্রতীক’ বলে উল্লেখ করেছেন। মিশেল রোজিন নামে ইসরাইলের এই নারী সংসদ সদস্য সোমবার জেরুজালেম পোস্ট পত্রিকায় এক মতামত কলামে এ মন্তব্য করেছেন।
এছাড়া, ‘এলেম-ইয়ুথ ইন ডিসট্রেস ভলান্টিয়ার এসোসিয়েশন’র প্রকাশ করা অন্য এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইসরাইলের শতকরা ৩০ ভাগ তরুণ-তরুণী পতিতাবৃতিতে জড়িত যাদের বয়স ১৮ থেকে ২২ বছর। রোজিন বলেন, ইসরাইলের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম এ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে যে, মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ইহুদিবাদী বহু নারী ও পুরুষ সেনারা পতিতাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, দুঃখজনকভাবে পরিস্থিতি সংকটজনক এবং এ অবস্থা ঠেকাতে আমাদেরকে অবশ্যই কাজ করতে হবে।
সংসদ সদস্য মিশেল রোজিন বলেন, ইসরাইলের সেনারা বার বার সহায়তার আবেদন জানালেও তারা কোনো সহযোগিতা পায় নি। ফলে তারা জীবনের প্রয়োজন মেটাতে অর্থ আয়ের জন্য পতিতাবৃত্তির মতো বিকল্প পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে। রোজিন বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইসরাইলের সেনা কমান্ডাররা বিষয়টি জানলেও তারা অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য কোনো ভূমিকা নেন নি। এমনকি পতিতাবৃত্তির কোনো কোনো ঘটনা সেনাঘাঁটির ভেতরেই ঘটেছে।
একটি ঘটনা থেকে জানা গেছে, ইসরাইলি সেনাদের নারী বিষয়ক উপদেষ্টাকে একজন সেনা এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে চেয়েছেন। কিন্তু ওই কর্মকর্তা বলেছেন, সেনাঘাঁটির বাইরে যৌন বিষয়ক ঘটনা সেনাবাহিনীর আওতার বাইরের বিষয়।
সংসদ সদস্য রোজিন জানান, তিনি এরইমধ্যে প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংসদীয় কমিটিতে ইস্যুটি জরুরিভিত্তিতে আলোচনার অনুরোধ জানিয়েছেন। সেনাবাহিনীকে কেন অব্যাহতভাবে উপক্ষোর দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে- কমিটির কাছে সে প্রশ্নের জবাব চাওয়া হবে বলে জানান রোজিন।
তথ্যসূত্র : আনাদোলু এজেন্সি, আলজাজিরা ও এবিসি নিউজ
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ▼ 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
