Tuesday, June 6, 2017

ভুল পথে মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম রাজনীতি by মাহবুব মাসুম

ক্রমেই জটিলতর হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি। মরবে মুসলমানরা। বাইরে থেকে তালি বাজাবে আমেরিকা আর ইহুদিবাদী ইসরাঈল। তাদের কূটকৌশল আজ অনেকটা সফলতার পথে। আসলে আমেরিকা যে দেশের বন্ধু সে দেশের শত্রুর প্রয়োজন নেই! শয়তান কখনো মুসলমানের বন্ধু হতে পারে না। সম্প্রতি আমেরিকার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইশারায় ইরান বিরোধী জোট গঠন করেছে সৌদি আরব-মিশর সরকার। ঘটনাক্রমে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকারও এই জোটে যোগ দিয়েছে। আশংকার বিষয় হচ্ছে এ সিদ্ধান্তের কারণে বড় ধরণের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে বাংলাদেশ। সৌদি আরব-মিশর তাদের অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ইরান, হামাস, হিজবুল্লাহ ও মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো ইসলামী সংগঠনগুলোকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিচ্ছে। অথচ প্রকৃত সন্ত্রাসীগোষ্ঠী ও আমেরিকার-ইসরাঈলের মতো সন্ত্রাসী ইসলাম বিরোধী রাষ্ট্রকে বন্ধু হিসেবে নিয়েছে সৌদি-মিশর জোট।
আল্লাহ কোরআনে সূরা নিসার ১১৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন- ‘যে শয়তানকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করে, সে প্রকাশ্য ক্ষতিতে পতিত হয়।’ বর্তমান সৌদি রাজপরিবারের বিলাসী জীবনযাপনের কাহিনী কে না জানে! আমারিকা-ইসরাঈলকে বন্ধু বানিয়ে নিরহ ইয়েমেনিদের হত্যা করছে সৌদি। কি জঘন্য ক্ষমতার রাজনীতি! বিপর্যস্ত ইয়েমেনবাসী না খেয়ে ধংশস্তুপের নিচে মারা যাচ্ছে। অন্যদিকে মদ-জুয়া-নারী নিয়ে ফুর্তি করছে তথাকথিত সৌদি আরবের রাজ পরিবারের সদস্যরা। ইসলামী রীতি-নীতি তোয়াক্কা করে না তারা। এসবতো সবারই জানা। মিশরের কথা আর কি বলবো! মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো জনপ্রিয় জনগণের ভোটে নির্বাচিত বৈধ সরকারকে হটিয়ে আমেরিকার সমর্থনে ক্ষমতাকে আকড়ে ধরে আছে বর্তমান অবৈধ সরকার। আমেরিকার মদদপুষ্ট এসব অবৈধ সরকারগণ সম্প্রতি নতুন জোট করেছে। নাম দিয়েছে সুন্নী সামরিক জোট। আসলে প্রকৃত মুসলমাদের শিয়া বা সুন্নী বলতে কিছু নেই। আমেরিকা-ইসরাঈলের সহায়তায় এরা মুসলমানদের বিভক্তি করছে। পেছন থেকে তালি বাজাচ্ছে আমেরিকা। কারণ মুসলমানদের ধংশ করতে তারা মুসলমানদের ব্যবহার করার কৌশলে শতভাগ সফল।
এবার আসা যাক চলতি সপ্তাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ এ।  কাতারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে মধ্যপ্রাচ্যের চার দেশ। সৌদি আরব, আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিশর। শুধু তাই নয় দেশটির সাথে সব ধরণের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। ফলে সে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরণের ধ্বস নামার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগেই বলে  নিচ্ছি এ দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৫ লক্ষাধিক শ্রমিক কাজ করে। তাদের ঘাম জড়ানো অর্থে সচল আমাদের অর্থনীতি। এ অবস্থায় অনিশ্চিয়তার পথে এসব শ্রমিকের ভাগ্য।  কাতারের অপরাধ কি? কাতারের অপরাধ হলো তারা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী  সংগঠন হামাসকে আর্থিক ও আশ্রয় দিয়ে সাহায্য করছে। তারা মিশরসহ মধ্যেপ্রাচ্যের নির্যাতিত সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের পাশে দাঁড়িয়েছে। কাতার ইরানের সাথে অন্ধ বিদ্বেষ বজায় না রেখে সম্পর্ক রেখেছে। কাতার মুসলমানদের জন্য আলজাজিরার মত একটি স্ট্রং ভয়েস তৈরী করেছে। যেটি  মিশরের সিসি ও সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের ডিক্টেটরদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাতার বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সৌদি/মিশর/দুবাই থেকে ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল তারাই আয়োজন করবে।
এসব কারণেই মূলত আমেরিকা ও ইসরাইলের এই ৪ পুতুল কাতারের বিরুদ্বে এক হয়ে মাঠে নেমেছে।  ট্রাম্পের সৌদি সফরের সময় কেনা অস্ত্র সৌদি জোটের ইয়েমেন হামলার পর এখন কাতারের উপরে ব্যবহার করার আশঙ্কা করছে অনেকে। কাতারের মত একটি ছোট মুসলিম কান্ট্রি, আলজাজিরার মত একটি বড় মিডিয়া নেটওয়ার্ক চালাচ্ছে তা মুলত ধংশ করবে আমেরিকা ও ইসরাঈল। এরপর আর কোন গণমাধ্যম মুসলিমদের পক্ষে কথা বলার থাকবে না। প্রকৃত বিজয় হবে আমেরিকা-ইসরাঈলের!
সাম্প্রতিক সময়ে কাতার বেশ কিছু বিষয়ে প্রকাশ্যে ইরানের পক্ষ নিয়েছে। দেশটি বলেছে, ইরান প্রকৃত ইসলামি শক্তি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় বড় ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া, হামাস, হিজবুল্লাহ ও মুসলিম ব্রাদারহুড সন্ত্রাসী সংগঠন নয়। এসব সংগঠন প্রকৃত ইসলামিক সংগঠন।স্বাভাবিকভাবেই শয়তানরা এ বক্তব্য মেনে নিতে পারেনি।  এখন দেখার বিষয় সত্যের পক্ষে টিকে থাকতে পারবে তো কাতার? আমেরিকার দালাল মিশর-সৌদি শাসকদের পতন কি হবে? যে সৌদি শাসকদের কারণে গোটা মুসলিম বিশ্বে আজ ভাঙন, ফাটল ও অনৈক্য সৃষ্টি হয়েছে এবং আরো বড় পরিসরে হতে যাচ্ছে সেখানে সৌদি শাসকদের পতন ছাড়া এ ক্ষতি ঠেকানো কঠিন। কারণ আমেরিকা সরাসরি সমর্থন করছে রাজপরিবারের বেহায়াপনাকে। আমেরিকা দিচ্ছে অস্ত্র নিচ্ছে তেলসহ মুল্যবান সব সম্পদ। তারপরও ক্ষমতার লোভে বেহুঁশ সৌদি। তবে পাকিস্তান বলে দিয়েছে- তারা কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পরিকল্পনা করছে না। বাকি মুসলিম বিশ্ব কে কী করবে তা তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়। হে আল্লাহ এই রমজানে শয়তারদের তুমি হেদায়েত দাও। তা যদি না থাকে তাহলে দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নাও। শান্তিময় পৃথিবী চাই। মুসলিমদের ঐক্য চায়।
লেখক: জাপান প্রবাসী সাংবাদিক
masum86cu@yahoo.com

সঙ্কটে কাতারের পারফিউম ব্যবসা

বাংলাদেশের ব্যবসায়ী শরিফুল হক সাজু ১৮ বছর যাবত কাতারের রাজধানী দোহায় ব্যবসা করছেন। দুবাই থেকে পারফিউম আমদানি করে কাতারে তিনি বিক্রি করেন। পারফিউমের এ ব্যবসা ভালোই চলছিল সাজুর। প্রতিবছর রমজান মাসে পারফিউম বিক্রি হয় সবচেয়ে বেশি। কাতারের সাথে সৌদি আরব এবং আরব আমিরাতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্ক ছিন্ন করার কারণে এবার বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বাংলাদেশের এ ব্যবসায়ী। এসব দেশ কাতারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার কারণে পণ্য আমদানি নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছেন তিনি। সাজু বলেন, "দুবাইতে বিভিন্ন দেশ থেকে পারফিউম আসে। সেখান থেকে আমরা আমদানি করি। আমি যখন দুবাইতে কথা বললাম, তখন তারা জানালেন পারফিউম যাবে না।" কারণ দুবাই থেকে কাতারে পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে।
যদি এভাবে পণ্য না আসে তাহলে সেটি কাতারের মানুষের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে জানান সাজু। সোমবার থেকে কাতারে স্থল পথে পণ্য আমদানি বন্ধ রয়েছে। "আমাদের এখানে (কাতারের দোহায়) সৌদি কাস্টমার অনেক। সড়ক পথে সৌদি আরবের সাথে আমাদের বর্ডার। সৌদি আরবের অনেক নাগরিক দোহা সিটি থেকে শপিং করে," বলছিলেন সাজু। সৌদি আরব থেকে ক্রেতা আসলে দোহা শহরে ব্যবসা ভালো হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সৌদি আরব এবং কাতার মিলে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করবে। সাজু আশঙ্কা করছেন, বর্তমান অচলাবস্থায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে পারফিউম ব্যবসায়ীরা। কারণ সৌদি আরব, ফ্রান্স এবং আরব আমিরাতে পারফিউম শিল্প গড়ে উঠেছে। ফলে সৌদি আরব এবং আরব আমিরাত থেকে যদি সড়ক পথে পারফিউম আমদানি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সেটি ব্যবসার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি জানান, সোমবার দুপুর থেকেই সড়ক পথে পারফিউম আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। সূত্র : বিবিসি

প্রতিবেশিদের আকাশ ব্যবহার করতে পারবে না কাতার

কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পর এবার কাতারকে আকাশসীমা ব্যবহার করতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিবেশি দেশ মিশর। মঙ্গলবার দেশটির তরফ থেকে এমন তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মিশরের এমন পদক্ষেপের পথে কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা দেশগুলোও হাঁটবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর বিবিসির। মিশর তাদের ঘোষণায় জানিয়েছে, কাতারের জন্য মঙ্গলবার থেকেই তাদের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাবে। পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এ অবস্থা বলবৎ থাকবে। এদিকে প্রতিবেশিদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে না পারলে বিমান পরিচালনায় বড় ধরনের সমস্যায় পড়বে কাতার। দেশটির জাতীয় বিমান সংস্থা সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়বে। দুবাই, আবুধাবি, রিয়াদ এবং কায়রোর মত জায়গায় তাদের ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাবে। এছাড়া তাদের বর্তমান রুট পরিবর্তন করে অন্য রুটে বিমান পরিচালনা করতে হলে সময় ও জ্বালানি দুটিই বেশি লাগবে। যা কাতার এয়ারওয়েজের সেবা নিতে যাত্রীদের অনুৎসাহিত করবে। তবে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেইখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রাহমান আল থানি আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, তাদের আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা এবং আন্তর্জাতিক আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। এদিকে নিষেধাজ্ঞার কারণে কাতারের রাজধানী দোহার বিমানবন্দরে বিমান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।
ইতিমধ্যে বিমান সংস্থা ফ্লাইদুবাই এবং এয়ার অ্যারাবিয়াও তাদের দোহার ফ্লাইটগুলো বাতিল করেছে। অপরদিকে এতিহাদ এয়ারওয়েজ এবং এমিরেটসও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বর্তমানে এতিহাদ এয়ারওয়েজ এবং এমিরেটস এই দুই বিমান সংস্থা দোহাতে দিনে চারটি ফ্লাইট পরিচালনা করে। সোমবার সৌদি আরব ও তার তিন মিত্র কাতারের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠনকে সমর্থন ও সহযোগিতার অভিযোগ তুলে। পাশাপাশি কাতারের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে বলেও অভিযোগ করে সম্পর্ক ছিন্ন করে দেশগুলো। প্রথম দফায় সৌদি আরব, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন সম্পর্ক ছিন্ন করলেও পরের দফায় লিবিয়া এবং ইয়েমেনও কাতারের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করে। কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা দেশগুলোর নাগরিকদের কাতারে যাওয়া, সেখানে বসবাস করা বা কাতার হয়ে অন্য কোন দেশে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব দেশের নাগরিকদের দুই সপ্তাহের মধ্যে কাতার ছাড়তে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব, আরব আমিরাত এবং বাহরাইনে বসবাসরত কাতারিদেরও একই সময়ের মধ্যে এসব দেশ ছেড়ে যেতে বলা হয়েছে।

সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বেশি থাকা উচিত: অর্থমন্ত্রী

ব্যাংক রেটের চেয়ে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ২ শতাংশ বেশি থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।

দেশে লাইসেন্স-ফিটনেসবিহীন কোনো নৌযান নেই

দেশে বর্তমানে কোনো লাইসেন্সবিহীন এবং ফিটনেসবিহীন নৌযান নেই বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য বেগম উম্মে রাজিয়া কাজলের তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান। শাজাহান খান বলেন, লঞ্চ চলাচলের জন্য প্রথমত নৌপরিবহন অধিদফতর ফিটনেস প্রদান করে থাকে। ফিটনেস সনদের মেয়াদ থাকা সাপেক্ষে বিআইডব্লিউটিএ রুট পারমিট এবং টাইম টেবিল প্রদান করে। ফলে ফিটনেসবিহীন লঞ্চ চলাচলের কোন সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনিবন্ধিত ছোট ছোট কিছু পণ্যবাহী, বালিবাহী, যাত্রীবাহী বোট চলাচল করে। প্রত্যন্ত এলাকায় পণ্য পরিবহণ ও যাত্রী সাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে এসব নৌযানগুলোকে বন্ধ না করে সরকার ইতোমধ্যে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। সরকারি দলের সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর অপর এক প্রশ্নের জবাবে শাজাহান খান বলেন, বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে ৬ হাজার কিলোমিটার ও শুষ্ক মৌসুমে ৪ হাজার ৫শ’ কিলোমিটার নৌপথ রয়েছে। এসব নৌপথে বর্তমানে ১০ হাজার ৭শ’ রেজিস্ট্রেশন করা নৌযান চলাচল করে।

ঘুষ গ্রহণে অফিস সহায়কের ৬ মাস কারাদণ্ড

আঘুষ গ্রহণের অভিযোগে পাবনার চাটমোহরে মূলগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক (পিয়ন) মো. মকবুল হোসেনকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমানের ভ্রাম্যমাণ আদালত এ কারাদণ্ডাদেশ দেন। দণ্ডিত মকবুল হোসেন পাবনা সদরের নওদাপাড়া গ্রামের মহসীন আলীর ছেলে। জানা গেছে, ছাইকোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত অবস্থায় খারিজ দেয়ার কথা বলে ওই এলাকার হাসান আলী নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ঘুষ নেন মকবুল হোসেন। সম্প্রতি সে মূলগ্রাম অফিসে বদলি হয়ে আসলে কাজটি করে দিতে না পারায় টাকা ফেরত চান হাসান আলী। মকবুল হোসেন টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানালে হাসান আলী বিষয়টি এসিল্যান্ড (সহকারি কমিশনার-ভূমি) মো. মিজানুর রহমানকে জানান। পরে সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মকবুল হোসেনকে ৬ মাসের বিনাশ্রম দণ্ডাদেশ দেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায় শেষে দুপুরে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে মকবুলকে পাবনা জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

মানিকগঞ্জে উমা হত্যা মামলায় ৫ জনের ফাঁসি

ইত্তেফাকের সিংগাইর প্রতিনিধি মানবেন্দ্র চক্রবর্তীর মা উমা দেবী হত্যা ও ডাকাতি মামলায় ৫ জনকে ফাঁসির আদেশ ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার রায় দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আল মাহমুদ ফায়জুল কবীর এই রায় ঘোষণা করেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ইসহাক ভূইয়া (৪০), ইমান আলী (৪৫), বাচ্চু (৪৫), শহিদুল ইসলাম (৪০) ও নান্নু মিয়া (২৪)। এরমধ্যে শহিদুল ইসলামের বাড়ি সাভারের আশুলিয়া দক্ষিণ বাইপাইল এবং অন্যদের বাড়ি সিংগাইর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।
২০১০ সালের ৯ আগস্ট রাতে সিংগাইর পুকুরপাড় এলাকায় উমা দেবীকে তার নিজ বাড়িতে শ্বাসরোধে হত্যা করে ডাকাতরা। এসময় তারা ওই বাড়ি থেকে ১২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার পরের দিন উমা দেবীর ছেলে মানবেন্দ্র চক্রবর্তী সিংগাইর থানায় একটি হত্যা ও ডাকাতি মামলা দায়ের করেন। ২০১১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালাম আদালতে ওই ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এই মামলায় মোট ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। এ মামলার দুই আসামি ইমান আলী ও নান্নু মিয়া জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অতিরিক্ত পিপি মধুর নাথ সরকার। আর আসামিপক্ষে ছিলেন মেজবাউল হক মেজবা, মাধব সাহা ও শিপ্রা রাণী সাহা।

কাবুলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দেড় শতাধিক

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের কূটনৈতিক পাড়ায় গত সপ্তাহের ভয়াবহ ট্রাক বোমা হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫০ জনেরও বেশি হয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ঘানি একথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘এই হামলায় দেড় শতাধিক আফগান সন্তান নিহত এবং তিন শতাধিক আহত হয়েছেন। তাদেরকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’ এর আগে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, এই ঘটনায় ৯০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

অরুন্ধতির নতুন উপন্যাস

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মঙ্গলবার বাজারে এসেছে অরুন্ধতি রায়ের দ্বিতীয় উপন্যাস ‘দ্য মিনিস্ট্রি অব আটমোস্ট হ্যাপিনেস’। প্রথম উপন্যাস ‘দ্য গড অব স্মল থিংস’ এর ২০ বছর পর দ্বিতীয় উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছে। ‘দ্য গড অব স্মল থিংস’ এর জন্য অরুন্ধতি বুকার পুরস্কার এবং বিশ্বব্যাপী খ্যাতি পেয়েছেন। তিনিই প্রথম ভারতীয় নারী লেখক যিনি এই মর্যদাপূর্ণ পুরস্কার পান। অরুন্ধতি প্রথম উপন্যাসে ভারতের জাতপাত, শ্রেণী ও ধর্মের গণ্ডি ছাড়িয়ে মানবিক সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বইটিতে ভারতের প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করেন। বইটি প্রকাশের পর অরুন্ধতি রাতারাতি সাহিত্য জগতের তারকা হয়ে যান। বইটির ৮০ লাখ কপি বিক্রি হয়। প্রথম বই প্রকাশের পর তিনি দীর্ঘদিন ধরে নন-ফিকশন লেখালিখি করেন। এ সময় তিনি দারিদ্র এবং কাশ্মির সঙ্কটের মতো ইস্যুগুলো নিয়ে আর্টিকেল লিখেন। তার লেখনীগুলোর অধিকাংশই ভারতের শাসকগোষ্ঠীর কঠোর সমালোচনামূলক। এ কারণে তিনি তাদের রোষানলেও পড়েন। এইসব ঘটনার প্রভাবও পড়েছে তার নতুন উপন্যাস ‘দ্য মিনিস্ট্রি অব আটমোস্ট হ্যাপিনেস’ এ। তিনি বলেন, তিনি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে উপন্যাসটি লিখেছেন। প্রকাশনী সংস্থা পেঙ্গুইনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘উপন্যাসটি পাঠকদের পুরনো দিল্লির পিছিয়ে পড়া ও দলিত সম্প্রদায় অধ্যুষিত এলাকাগুলো থেকে কাশ্মির উপত্যকা এবং মধ্যভারতের মাওবাদীদের কাছে নিয়ে যাবে। ওই অঞ্চলের জঙ্গলে তারা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্রোহ তৎপরতা চালাচ্ছে।’ তিনি তার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আদালত অবমাননার দায়ে কিছু সময়ে কারাগারে ছিলেন।
২০১০ সালে গোলযোগপূর্ণ কাশ্মির অঞ্চলে ভারত শাসনের অধিকারকে চ্যালেঞ্জ করে একটি লেখা প্রকাশ করলে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করা হয়। এখনও তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা চলছে। তিনি বিভিন্ন লেখনিতে তুলে ধরেন যে ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ফলে মুষ্টিমেয় কিছু লোক আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। এরা দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে শোষণ করে, ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে তাদের অর্থের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। তিনি তার গবেষণা চালাতে মাওবাদী বিদ্রোহীদের সাথেও সময় কাটিয়েছেন। মাওবাদী বিদ্রোহীরা ভারতের মধ্যাঞ্চলের সম্পদ সমৃদ্ধ জঙ্গলে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম করে যাচ্ছে। তিনি ক্ষমতাসীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেটি)’র তীব্র নিন্দা করে বিভিন্ন লেখা লিখেছেন। ২০০২ সালে গুজরাটে মুসলিম বিরোধী ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী দাঙ্গার ঘটনায় তিনি একবার মোদিকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। ওই ঘটনার সময় মোদি রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। মোদির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি মুসলিমদের বিরুদ্ধে গুজরাটে ভয়াবহ দাঙ্গার সময় নির্লিপ্ত থাকেন।

চীনে মার্কিন দূতাবাসের শীর্ষ কূটনীতিকের পদত্যাগ

চীনে মার্কিন দূতাবাসের শীর্ষ কূটনীতিক পদত্যাগ করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জলবায়ু নীতির বিরোধিতার প্রেক্ষাপটে তিনি পদত্যাগ করলেন। বেইজিংয়ে আমেরিকান এক কর্মকর্তা মঙ্গলবার তার পদত্যাগের খবর নিশ্চিত করেন। খবরে বলা হয়, অ্যাম্বাসি চার্জ দ্য’অ্যাফেয়ার্স ডেভিড র‌্যাঙ্ককে (২৭) গত বছরের জানুয়ারি মাসে বেইজিংয়ে দায়িত্ব পালনে নিয়োগ দেয়া হয়।
তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ছিলেন। মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র ম্যারি বেথ পলি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘এটি র‌্যাঙ্কের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে আমরা তার কয়েক বছরের কাজের প্রশংসা করছি।’ পলি জানান, মার্কিন দূতাবাস সোমবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছে, জনাথন ফ্রিজ চার্জ দ্য’আ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে র‌্যাঙ্কের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে স্থায়ীভাবে কবে নাগাদ নিয়োগ দেয়া হবে সে ব্যাপারে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

বেনাপোলে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ

যশোরের বেনাপোল বন্দর এলাকা থেকে সোমবার রাতে কাগজপত্রবিহীন এক ট্রাক ভারতীয় গার্মেন্টস ও ইমিটেশন জুয়েলারি জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। জব্দকৃত মালামালের মূল্য অর্ধকোটি টাকা বলে কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে। বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার শওকাত হোসেন জানান, গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানা যায়, বেনাপোল বন্দরের ২৯ নম্বর সেড থেকে একটি কভার ভ্যানে ভারতীয় থ্রিপিস ও ইমিটেশন জুয়েলারি বোঝাই করে বন্দর এলাকায় অবস্থান করছে, যার সাথে কাস্টমস থেকে খালাসকৃত কোনো ডকুমেন্টস নেই। এ ধরনের সংবাদের মাধ্যমে কাস্টমসের স্পেশাল এসাইনমেন্ট গ্রুপ (স্যাগ) এর সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল্লা আল মানুনের নেতৃত্বে বন্দর এলাকা থেকে ঢাকা মেট্রো ট-১৪-৭২৩৩ নম্বরের একটি কভার ভ্যান জব্দ করা হয়। এসময় গাড়িতে রক্ষিত মালামালে কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। পরে গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় থ্রিপিস, ইমিটেশন জুয়েলারি ও কসমেটিকস সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। আলিফ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ট্রান্সপোর্ট বন্দরের ২৯ নম্বর সেড থেকে মালামাল লোড করেন। তবে মালামালের প্রকৃত মালিকের সন্ধান পাওয়া যায়নি। ট্রাকের ড্রাইভার হেলপার ও স্কটকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

দেবিদ্বারে ভানী ইউপির উপ-নির্বাচন ১৩ জুলাই

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ভানী ইউনিয়ন পরিষদের শূন্য চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার দুপুরে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাচন অফিসার মাহবুব রোমান চৌধুরীর স্বাক্ষরিত একটি গণ-বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক আগামী ১৩ জুলাই উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়টি জানানো হয়। রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিকট মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১২ জুন এবং মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের তারিখ ১৪ জুন ২০১৭ ধার্য করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের প্রথম পর্যায়ে ইউপি নির্বাচনে দেবিদ্বার উপজেলার ভানী ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মোঃ নুরুজ্জামান ভূইয়া মুকুলকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু বিসিআইসি’র সারের ডিলার হওয়ার কারণে উপজেলা ও জেলা রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুরুজ্জামান ভূইয়া মুকুলের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। পরে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পেতে রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করেন। ওই রিটের গত বছরের ২ মার্চ তারিখের আদেশে রুলের চূড়ান্ত আদেশের মাধ্যমে পিটিশনের ভাগ্য নির্ধারিত হবে এই শর্তে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অনুমতি প্রদান করেন। এ আদেশবলে মো: নুরুজ্জামান ভূইয়া মুকুল নির্বাচনে অংশ নিয়ে চেয়ারম্যান হিসেবে বিজয়ী হন।
কিন্তু শপথ গ্রহণের পর রিট মামলার শর্তানুযায়ী রুলের চূড়ান্ত শুনানি না করে মামলাটি তুলে নেন। রিট মামলার চূড়ান্ত শুনানি না করে মামলাটি তুলে নেওয়ায় উপজেলা ও জেলা রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক রায়টি বৈধ দাবী করে ওই নির্বাচনে নুরুজ্জামান ভূইয়া মুকুলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান এম.এ হান্নান, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চেয়ারম্যান পদ থেকে নুরুজ্জামান ভূইয়া মুকুলকে অপসারণের জন্য আবেদন করেন। প্রতিদ্বন্দ্বী ওই প্রার্থীর আবেদনের প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ তদন্ত শেষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, ইপ-১ অধিশাখা এর ২২/৩/২০১৭ তারিখে ৪৬.০০.০০০০.০১৭.৯৯.০১০.১৬(অংশ-১)-২২৮ নং অফিস আদেশে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ৩৪(৪)(খ) ধারা মোতাবেক মো: নুরুজ্জামান ভূইয়া মুকুলকে তার স্বীয় পদ থেকে অপসারণ করেন এবং দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পদটি শূন্য ঘোষণা করে গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করার জন্য বলা হয়। ওই সূত্রে গত ৩ এপ্রিল দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম ওই পদটি শূন্য ঘোষণা করে গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করেন।

ভারতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫

ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজস্থান রাজ্যে মঙ্গলবার একটি গাড়ির সাথে মাল বোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় কমপক্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো বেশ কয়েকজন। পুলিশ এ কথা জানিয়েছে। রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরের চোমু হাউস চত্বর এলাকার কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘এখানে আজ এক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত ও আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাস্থল থেকে লাশগুলো উদ্ধার এবং আহতদের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।’ কর্মকর্তারা জানান, লবণ ভর্তি ট্রাক একটি ছোট গাড়িকে ধাক্কা দিলে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে একটি মামলা দায়ের এবং দুর্ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আবগারি শুল্কারোপে অর্থমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা সংসদে

ব্যাংকের আমানতের ওপর আবগারী শুল্ক আরোপের বিরুদ্ধে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, আগে ব্যাংকে সুদ থেকে শুল্ক কাটা হতো, এবারের বাজেটে জনগণের গচ্ছিত আসল টাকাতেই হাত দেয়া হয়েছে। এতে সরকারের শুধু ইমেজই ক্ষুণ্ন হয়নি, ভোট ব্যাংকেও আঘাত হানবে। জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, এটি নতুন কোনো কর নয়। বহু বছর ধরেই মানুষ এই কর দিয়ে যাচ্ছে। এবারের বাজেটে আমি শুধু করের হার একটু বাড়িয়েছি। আর আমি কখনোই জাতীয় পার্টি করিনি, এ দলটির সদস্য কিংবা মন্ত্রীও ছিলাম না। আজ মঙ্গলবার প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং পরে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা এসব কথা বলেন। পরে কন্ঠভোটে সম্পূরক বাজেট জাতীয় সংসদে পাস হয়। আলোচনায় অংশ নেন সরকারি দলের আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন, অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিন, মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আবদুল ওয়াহাব, জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, ফখরুল ইমাম ও নুরুল ইসলাম ওমর। আলোচনায় অংশ নিয়ে সমাপনী বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, অনেকে বলেছেন, আমি নাকি জাতীয় পার্টির মন্ত্রী হিসেবে সংসদে প্রথম বাজেট দিয়েছি।
বাস্তবে এটি ঠিক নয়। আমি কখনো জাতীয় পার্টি করিনি, জাতীয় পার্টির সদস্য বা মন্ত্রীও ছিলাম না। হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সাহেব একজন স্বজ্জন মানুষ। উনি যখন অন্তবর্তীকালীন সরকার প্রধান হন, তখন ওই অন্তবর্তীকালীন সরকারের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করি। ওই সময় আমার সঙ্গে তার কথা হয়েছিল, আমি কোনো দলের সদস্য হব না। এরশাদ দল করলে মন্ত্রী থেকে চলে যাব। দেশের একমাত্র মন্ত্রী হিসেবে আমি পদত্যাগপত্র দিয়ে পদত্যাগ করেছি। এর আগে জাতীয় নেতা তাজউদ্দীন আহমদ পদত্যাগ করেছিলেন। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ১৯৮৩ সালে এরশাদ সাহেব আমাকে বললেন, আমি একটি পার্টি করবো। আপনি থাকেন। আমি বলেছি, আমার সিদ্ধান্তে আমি অটল। রাজনৈতিক দলে থাকতে পারবো না। তখন তিনি আমাকে বললেন, আপনি যেতে পারেন। আমি পদত্যাগ করলাম। তখন আমাকে বলা হলো দল গঠনে আরও কিছুদিন বিলম্ব হবে। আপনি মন্ত্রী থাকেন। আমি থাকলাম। পরে ১৯৮৪ সালের ৮ জানুয়ারি আমাকে এরশাদ সাহেব বিদায় দিলেন। অত্যন্ত সদয় বিদায় দিয়েছিলেন মন্ত্রিসভায় অনুষ্ঠান করে। এজন্য সাবেক রাষ্ট্রপতি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে ধন্যবাদও জানান অর্থমন্ত্রী। সম্পূরক বাজেট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটা খরচের জন্য সংসদ অনুমতি দেয়। বাজেট বরাদ্দের অতিরিক্ত ব্যয় হলেও সংসদের অনুমতি নিতে হয়। সব টাকা দেয়ার ক্ষমতা একমাত্র সংসদের। ব্যাংকের কর ধার্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি নতুন কোনো কর নয়। বহু বছর ধরে মানুষ তা দিয়ে যাচ্ছে। আমি শুধু কর একটু বাড়িয়েছি। দেশ থেকে টাকা পাচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদেশে টাকা পাচার রোধে যেসব প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সেটা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। টাকা পাচার বেআইনি। দেশে কালো টাকা তৈরির সুযোগ কমাতে অনেক ব্যবস্থা নিয়েছি। আগামী মাসের মধ্যে দেখবেন কী কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নাকচ করে দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, কালো টাকা সাদা করার প্রস্তাব কয়েক বছর ধরে দিচ্ছি না। তবে নিয়মিতভাবে কালো টাকা সাদা করার আইন বাংলাদেশে আছে, সেক্ষেত্রে শতকরা ২০ ভাগ জরিমানা দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রয়েছে।
সঞ্চয়পত্র প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, সঞ্চয়পত্রে যে সুদের হার রয়েছে, তা কিছুটা কমানো হবে। তবে বাজারে যে সুদের হার রয়েছে তার চেয়ে দুই ভাগ বেশি হবে। রেমিট্যান্স কমার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক প্রবাসীই বিদেশে স্থায়ী হচ্ছেন, সেখানে বিপুল পরিমাণ অর্থ রাখছেন। বেসরকারি সূত্রে রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। সহজশর্তে রেমিটেন্স দেশে পাঠাতে পারেন সেজন্য একটি স্ক্রিম তৈরি করছি। আগামী দু’মাসের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করা হবে। ৮৪ বছরের অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতা দিয়ে অত্যন্ত ভালো বাজেট দিয়েছি উল্লেখ করে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, সম্পূরক বাজেটে যে দাবিগুলো আনা হয়েছে, তা জনগণের কল্যাণেই ব্যয় করা হয়েছে। আমি আশা করি, খুশি মনে সংসদ সদস্যরা সম্পূরক বাজেট পাস করে দেবেন। জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম বলেন, একজন সিনিয়র মন্ত্রী সংসদে বলেছেন সমুদ্র কি নৌকা দিয়ে পাহারা দেওয়া যায়? আমিও তাই বলি, যায় না। গত তিন তিনবার আমরা লাঙ্গল দিয়ে আপনাদের (আওয়ামী লীগ) সাহায্য করেছি। আরও চাইলে দেয়া হবে। তিনি বলেন, এডিবি বাস্তবায়নের ৭০ শতাংশ বাকি আছে। এটা কী বাকি তিন মাসে বাস্তবায়ন সম্ভব? ব্যাংক গ্রাহকদের আমানতের ওপর আবগারি ট্যাক্স আরোপে জনগণ আতঙ্কিত। তবে কী মানুষ ব্যাংকে টাকা না রেখে বালিশের নিচে, মাটির নিচে রাখবে? আর ১২ বছরে এক লাখ কোটি টাকার গরমিল হয়েছে। ৩০ জুনের মধ্যে অর্থমন্ত্রী কীভাবে ম্যানেজ করবেন জানি না। তিনি বলেন, দেশ থেকে অবাধে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়ে যাচ্ছে। পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে কোনো উদ্যোগ নেই। মেগা প্রকল্প নিয়ে সরকার মেগাজটে পড়েছে। দেশে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও কর্মসংস্থান বাড়ছে না। অর্থনীতি ভয়াবহ অবস্থায় আছে। আশা করি অর্থমন্ত্রী সবকিছু উৎরিয়ে দেশকে এগিয়ে নেবেন। সরকারি দলের সোহরাব উদ্দিন অনাদায়ী ট্যাক্স আদায়ে ট্যাক্সেস আপীল ট্রাইব্যুনালকে আরও সক্রিয় করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, তাহলে বাজেটের বড় একটি অংশ এখান থেকে আসতে পারে। কালো টাকা সাদা করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অপ্রদর্শিত আয় প্রকাশের সুযোগ দেওয়া উচিত। তাহলে অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।
ব্যাংকের আমানতের ওপর আবগারী শুল্ক আরোপের বিষয়ে তিনি বলেন, এর সঙ্গে প্রান্তিক মানুষ জড়িত। আমি মনে করি না প্রধানমন্ত্রী এতে সমর্থন দেবেন। কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকা যেনতেনভাবে খরচ করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী দেশের সব মানুষকে পুতুল মনে করেন। যেন জনগণ বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে। এক লাখ কোটি টাকা বিদেশে ইতোমধ্যে পাচার হয়ে গেছে। অনেক মন্ত্রী ৯ মাস পর্যন্ত বিদেশে থাকেন, কিন্তু কী অর্জন করে নিয়ে আসেন কেউ জানে না। ব্যাংকে আবগারি শুল্ক আরোপের নামে বর্তমান সরকারের ভোট বিপুল পরিমাণ নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষমতার কালো চশমা পড়ে তারা তা দেখছে না। ব্যাংকগুলো অবাধ লুটপাটের জায়গায় পরিণত হয়েছে। লুটেরাদের বিচার না করে ব্যাংকগুলোকে বাঁচাতে জনগণের ওপর ট্যাক্স-ভ্যাট বসাচ্ছে। সব কালো টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার আস্তিক-নাস্তিক, বামপন্থী-চরমপন্থী সব উঠানোর কারণে নৌকা এখন ডুবুডুবু। জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম ওমর ব্যাংক আমানতের ওপর আরোপিত আবগারি শুল্ক আরোপের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ব্যাংকে টাকা রাখা নিয়ে দেশের জনগণের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যেভাবে বিষয়টি প্রচার হয়েছে তাতে আবগারী শুল্ক প্রত্যাহার করে নিলেও সরকারের যে ইমেজ ক্ষুন্ন হয়েছে তা পূরণ হবে না। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেন- পৃথিবীর সব দেশে নাকি ব্যাংকে চুরির ঘটনা ঘটে। কিন্তু বাংলাদেশের মতো কোথাও এভাবে সাগর চুরির ঘটনা ঘটে না।

আস্তিক-নাস্তিক-বামপন্থী-চরমপন্থীতে আ’লীগের নৌকা এখন ডুবুডুবু : ফিরোজ রশীদ

আস্তিক-নাস্তিক, বামপন্থী-চরমপন্থী সব এখন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকায় ওঠায় নৌকা এখন ডুবুডুবু। আস্তিক, নাস্তিক নিয়ে সাগর পাড়ি দিবেন কিভাবে? অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেছেন, ১৯৭০ সালের বঙ্গবন্ধুর নৌকা আর এখনকার নৌকা এক নয়। বাজেট অনেক বড়, নৌকাও অনেক বড়। নৌকায় কাকে উঠিয়েছেন এখন? আস্তিক, নাস্তিক, বামপন্থী, চরমপন্থী সব নৌকায় ওঠালেন। এত পরিমাণ উঠেছে যে নৌকা এখন ডুবুডুবু। এসব আস্তিক, নাস্তিক নিয়ে আপনি সাগর পাড়ি দেবেন কিভাবে? পারবেন না, কারণ নৌকাতো ডুবুডুবু। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। কাজী ফিরোজ বলেন, নৌকায় আওয়ামী লীগের যারা উঠতে পারেনি তারা এখন পাড়ে বসে শুধু লাফালাফি করছে। ভোট নিলে দেখা যাবে, আস্তিক, নাস্তিক আর হাইব্রিড আওয়ামী লীগের সাথে ত্যাগী আওয়ামী লীগের কত দূরত্ব বেড়েছে এবং কি অবস্থা দাঁড়ায়। তিনি বলেন, আমরা আজকে উন্নয়নের মহাসড়কে উঠে গেছি- এমন কথা অনেক মন্ত্রী বলে থাকেন। কিন্তু লাখ লাখ গাড়ি নিয়ে কি মহাসড়কে চলা যায়? মহাসড়কে গতি থাকবে সর্বনিম্ন ৮০ থেকে ১০০ মাইল। আর আপনি এখন চালাচ্ছেন ১০ থেকে ২০ কিলোমিটারে গাড়ি। এই গাড়ির চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সও নেই। বাজেট অধিবেশন চলাকালীন মন্ত্রীদের বিদেশ সফরের বিষয়ে কঠোর সমালোচনা করে ফিরোজ রশীদ বলেন, সংসদে বাজেট অধিবেশন চলছে, অথচ অনেক মন্ত্রী সংসদে নেই। তারা বিদেশে অবস্থান করছেন কেন? বিদেশে কি আরেকটা বাজেট অধিবেশন বসেছে? কেন তাদেরকে যেতে দেন, কি অর্জন তারা দেশের জন্য নিয়ে আসবেন? এই মন্ত্রী সাহেবরা গাড়ি আর পুলিশ নিয়ে জনগণের টাকায় চলছেন।
এটাতো চলবে না। বাজেট অধিবেশনে মন্ত্রীদের থাকতে হবে। দেশের শেয়ার বাজার থেকে আবারও টাকা চুরি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, একটা সিন্ডিকেট হাজার হাজার টাকা চুরি করবে, তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এসময় অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, এ স্টক মার্কেটকে বাঁচান, ব্যবস্থা নিন। সংসদে নিজ দল প্রসঙ্গে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, আমরা যারা এই সংসদে আছি, মানুষ আমাদেরকে কি বলে? আমরা ডানে সরকারি দল, বামে বিরোধী দল। কেউ বিরোধী দল মনে করতে চায় না। আমি বলি, বিরোধী দল হয়ে কথা বলার চেষ্টা করি, মানুষ শুনে হাসে। করার তো কিছু নেই। কারণ আমাদের ভাগ্যের লিখন, না যায় খন্ডন। জাপার এই নেতা বলেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকা যেনতেনভাবে খরচ করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী দেশের সব মানুষকে পুতুল মনে করেন। যেন জনগণ বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে। এক লাখ কোটি টাকা বিদেশে ইতোমধ্যে পাচার হয়ে গেছে। অনেক মন্ত্রী ৯ মাস পর্যন্ত বিদেশে থাকেন, কিন্তু কী অর্জন করে নিয়ে আসেন কেউ জানে না। ফিরোজ রশীদ বলেন, ব্যাংকে আবগারি শুল্ক আরোপের নামে বর্তমান সরকারের ভোট বিপুল পরিমাণ নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষমতার কালো চশমা পড়ে তারা তা দেখছে না। ব্যাংকগুলো অবাধ লুটপাটের জায়গায় পরিণত হয়েছে। লুটেরাদের বিচার না করে ব্যাংকগুলোকে বাঁচাতে জনগণের ওপর ট্যাক্স-ভ্যাট বসাচ্ছে। সব কালো টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে।

সরকার বদলানো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য, আমাদের বেঁচে থাকার জন্য এই সরকার পাল্টানো ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ নেই। দেশের রাজনৈতিক সামাজিক পরিবেশসহ সকল সেক্টরকে ধ্বংস করে দিয়েছে এই সরকার। তাই এই সরকারকে পাল্টানো ছাড়া কোনো কিছুই ঠিক হবে না। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। জিয়াউর রহমানের ৩৬তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শহীদ জিয়া, গণতন্ত্র ও বর্তমান প্রেক্ষাপট শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। সরকারের বাজেটের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার যে বাজেট দিয়েছে এর মধ্যে অনেক খাতকেই কোনোরকম গুরুত্বই দেয়া হয়নি।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাত এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকার আগে বলতেন, গণতন্ত্রের আগে উন্নয়ন কিন্তু এখন তারা আর এ কথাগুলো বলে না। কারণ তারা উপলব্ধি করতে পারছে যে আগে গণতন্ত্র পরে উন্নয়ন। আর এই বাজেটে তারই প্রমাণ দেখা গেছে। নির্বাচন নিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন এদেশে আর হবে না। আপনারা ভালোই ভালোই সুষ্ঠু নির্বাচন দিন। না হলে অতীতে স্বৈরাচারীদের যে অবস্থা হয়েছে আপনাদেরও সেই অবস্থা হবে। আপনারা নির্বাচন না দিলে এদেশের মানুষ নিজেদের ভোটের অধিকার আদায় করে নিবে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড্যাবের মহাসচিব এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সঞ্চালনায় এসময় চেয়াপারসনের উপদেষ্টা ডা. অধ্যাপক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, কেন্দ্রীয় নেতা জাহানারা হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

দেশে কোনো লাইসেন্সবিহীন ও ফিটনেসবিহীন নৌযান নেই : সংসদে মন্ত্রী



নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান সংসদকে জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে কোনো লাইসেন্সবিহীন এবং ফিটনেসবিহীন নৌযান নেই। তিনি বলেন, লঞ্চ চলাচলের জন্য প্রথমত নৌপরিবহন অধিদপ্তর ফিটনেস প্রপ্রদান করে থাকে। ফিটনেস সনদের মেয়াদ থাকা সাপেক্ষে বিআইডব্লিউটিএ রুট পারমিট এবং টাইম টেবিল প্রদান করা হয়। ফলে ফিটনেসবিহীন লঞ্চ চলাচলের কোনো সুযোগ নেই। আজ মঙ্গলবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদে সরকারি দলের সদস্য বেগম উম্মে রাজিয়া কাজলের তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনিবন্ধিত ছোট ছোট কিছু পণ্যবাহী, বালিবাহী, যাত্রীবাহী বোট চলাচল করে। প্রত্যন্ত এলাকায় পণ্য পরিবহণ ও যাত্রী সাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে এসব নৌযানগুলোকে বন্ধ না করে সরকার ইতোমধ্যে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি দলের সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর অপর এক প্রশ্নের জবাবে শাজাহান খান বলেন, বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে ৬ হাজার কিলোমিটার ও শুষ্ক মৌসুমে ৪ হাজার ৫০০ কিলোমিটার নৌপথ রয়েছে। এসব নৌপথে বর্তমানে ১০ হাজার ৭০০ রেজিস্ট্রেশন করা নৌযান চলাচল করে।

কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন : মীমাংসার চেষ্টা করছে কুয়েত!

উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক সঙ্কট নিরসনে মধ্যস্ততার উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটি কাতারের সাথে অন্য দেশগুলোর উত্তেজনা আর না বাড়াতে এবং সংযত থাকতে সব পক্ষের প্রতি আহ্বানো জানিয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল সানি আলজাজিরাকে বলেছেন, আঞ্চলিক সঙ্কট নিরসনে কাজ করছে কুয়েত। উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয়টি আরব দেশ কাতারের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দিলে এই সঙ্কটের সৃষ্টি হয়। এই দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন, বাহরাইন।
তারা সন্ত্রাসী এবং ইরানকে সমর্থন করার অভিযোগ এনেছে কাতারের বিরুদ্ধে। তাদের সাথে যোগ দিয়েছে মালদ্বীপ ও লিবিয়া। এসব দেশ কাতারের সাথে পরিবহন যোগাযোগও ছিন্ন করেছে। কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কুয়েতের শাসক শেখ সাবাহ আল আহমদ আল জাবের আল সাবাহ মঙ্গলবার ভোরে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল সানির সাথে কথা বলেছেন।

কাতার সম্পর্কে পাঁচটি বিস্ময়কর তথ্য

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার এখন আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে। সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ প্রতিবেশী দেশগুলো কাতারের সাথে সম্পর্ক ছেদ করায় বেশ বিপাকে পড়েছে ছোট দেশ কাতার। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক দেশ কাতার। এর বাইরে কাতার সম্পর্কে মানুষ কতটা জানে? এখানে কাতার সম্পর্কে পাঁচটি তথ্য তুলে ধরা হলো, যেগুলো আপনি হয়তো জানেন না। প্রথমত: কাতারে জনসংখ্যায় নারীর চেয়ে পুরুষের সংখ্যা অনেক বেশি। দেশটির মোট জনসংখ্যা ২৫ লাখের মতো। কিন্তু এর মধ্যে নারীর সংখ্যা সাত লাখের কম। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাতারে হঠাৎ করে জনসংখ্যা বৃদ্ধি। ২০০৩ সালে দেশটিতে মোট জনসংখ্যা ছিল সাত লাখের নিচে। কিন্তু ২০১৬ সালে মোট জনসংখ্যা হয়েছে প্রায় ২৫ লক্ষ। অভিবাসী শ্রমিকদের দ্বারা কাতারে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে। গত দশ বছরে বিপুল পরিমাণে বিদেশী শ্রমিক কাতারে এসেছে। এদের বেশিরভাগই যুবক এবং পুরুষ। ফলে মোট জনসংখ্যায় নারী-পুরুষ ভারসাম্য নেই। দ্বিতীয়ত: গত এক দশকে লন্ডনে প্রচুর সম্পদ কিনেছে কাতার। কয়েকমাস আগে কাতারের অর্থমন্ত্রী বিবিসিকে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাজ্যে তাদের বিনিয়োগের পরিমাণ ৪৫ থেকে ৫১ বিলিয়ন ডলারের মতো। তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আরো পাঁচ বিলিয়ন পাউন্ডের মতো সম্পদ ক্রয়ের ইচ্ছা আছে মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশটির। তৃতীয়ত: পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মাথাপিছু আয়ের দেশ কাতার।
ছোট এ দেশটিতে তেল ও গ্যাসের বিশাল মজুতের কারণে এটি সম্ভব হয়েছে। ২০১৬ সালের এক হিসেবে দেখা যায়, কাতারে মাথাপিছু আয় প্রায় এক লাখ ত্রিশ হাজার ডলার। কাতারের পরে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ইউরোপের দেশ লুক্সেমবার্গ। তাদের মাথাপিছু আয় কাতারের চেয়ে ২০ হাজার ডলার কম। তবে কাতারের সম্পদ বণ্টন বেশ অসামঞ্জস্য। দেশটির সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানির সম্পদের পরিমাণ ২.৪ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু কাতারে একজন অভিবাসী শ্রমিকের মাসিক আয় ৩৫০ ডলার। চতুর্থত: কাতার একটি রক্ষণশীল দেশ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু গত কয়েক বছরে দেশটি শিল্পকলার জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছে। দেশটি নামী-দামী বেশ কয়েকটি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। কাতার আমিরের বোন চিত্রকর্মের জন্য বছরে এক বিলিয়ন ডলারের মতো ব্যয় করেছে বলে জানা যায়। রাজধানী দোহায় ইসলামিক আর্ট জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। প্রায় ১৪০০ বছরের নানা ধরনের চিত্রকর্ম এখানে প্রদর্শিত হচ্ছে। পঞ্চম: শিল্পকর্মের প্রতি কাতারের আগ্রহ জাদুঘর থেকে বিস্তৃত হয়ে খোলা জায়গায় এসেছে। যারা দোহার হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়েছেন তাদের চোখে বিশাল আকৃতির একটি ভাল্লুকের শিল্পকর্ম চোখে পড়েছে নিশ্চয়ই। প্রায় এক দশক আগে সুইজারল্যান্ডের একজন ভাস্করের তৈরি এ ভাস্কর্যটি ব্রোঞ্জের তৈরি এবং এর ওজন প্রায় ২০টন। ২০১১ সালে নিউইয়র্কে এক নিলাম থেকে প্রায় সাত মিলিয়ন ডলার খরচ করে এ ভাস্কর্যটি ক্রয় করে কাতার সরকার।

ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে এক ফিলিস্তিনি নিহত

ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে আরো এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ১৯৪৮ সালে দখলীকৃত কুফার কাসেম শহরে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। লেবাননের আল মায়েদিন টিভি চ্যানেল জানিয়েছে, ওই ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই শহরে আরো ইসরাইলি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। এ সংঘর্ষে কয়েকজন সেনাও আহত হয়েছেন।

বোনাস দাবি করায় ৩০ সৈন্য গ্রেফতার

ক্যামেরুনে বোনাস ও ছুটির দাবি করায় প্রায় ৩০ সৈন্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই সৈন্যরা নাইজেরিয়ার বিদ্রোহী সংগঠন বোকো হারামের সঙ্গে লড়াই করছে। সোমবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একথা জানায়। রাষ্ট্রীয় বেতারে মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই সৈন্যরা রোববার জাতীয় এক নম্বর রুটে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।
খবর এএফপি’র। এই লোকেরা অবিলম্বে ছুটি দেয়ার পাশাপাশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ‘আন্তর্জাতিক সৈন্যদের’ বোনাস প্রদানের দাবি জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় আরো জানায়, এই সৈন্যদের উত্তর প্রান্তের জিগুয়ে এলাকা থেকে রাজধানী ইয়াঙ্গদেতে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে একটি বিচারিক তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিকে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে দেশের অন্যান্য স্থানে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে।

অগ্নিশর্মা মমতাকে দেখেই দৌড় বিক্ষোভকারীদের!

তিনি যখন বিরোধী দলনেত্রী ছিলেন, তখন সিপিএমের ক্যাডারদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তিনি রুখে দাঁড়িয়েছেন বারবার৷ এখন তিনি মুখ্যমন্ত্রী৷ সোমবার মিরিকে তাকেই ফের দেখা গেল অগ্নিকন্যার মেজাজে৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কালো পতাকা দেখাতে এসে তার অগ্নিশর্মা মেজাজ দেখে কার্যত পালালেন বিমল গুরুংয়ের সমর্থকরা! তখন বিকেল পাঁচটা ছুঁই ছুঁই৷ মিরিকে ঢোকার কিছুক্ষণ আগে সৌরিনি বাজারে আচমকাই মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ের সামনে এসে হাজির জনা তিরিশেক মোর্চা কর্মী৷ প্রত্যেকের হাতেই ছিল কালো পতাকা৷ মুখে ‘গো ব্যাক মমতা’ স্লোগান৷ মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের হাত তখন সার্ভিস রিভলভারে৷ এমন সময় সবাইকে অবাক করে গাড়ির দরজা খুলে নেমে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই৷ মোর্চা সমর্থকদের চোখ রাঙিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘আ যাও আ যাও’৷ তা শুনেই দে দৌড় মোর্চা কর্মীদের৷ মুখ্যমন্ত্রীর পাঁচ দিনের পাহাড় সফরকে কেন্দ্র করে বিমল গুরুংদের হুঙ্কারে কয়েক দিন ধরেই উত্তেজনার পারদ চড়ছিল দার্জিলিংয়ে৷ মুখ্যমন্ত্রীর সামনে মোর্চা বিক্ষোভ দেখাতে পারে, এই আশঙ্কা থেকে গোটা পাহাড়ে দুই হাজার পুলিশকর্মী নিয়োগ করা হয়েছে৷ আধা-সামরিক বাহিনী রয়েছে ৯ কোম্পানি৷ তৃণমূল সমর্থকরা বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে দলীয় পাতাকা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে অভিবাদন জানিয়েছেন৷ গুরুংদের ঘোষিত ‘ব্ল্যাক ডে’র পাল্টা হিসেবে ঝলমলে এলইডি আলোয় মিরিক শহরকে সাজিয়েছিল স্থানীয় প্রশাসন৷ এর উল্টো দিকে মোর্চা কী করেছে? মুখ্যমন্ত্রী এসে পৌঁছানোর আগেই মুখ্যমন্ত্রীর কুশপুতুল জ্বালানো হয়৷ দার্জিলিংয়ের সিংমারি থেকে চকবাজার পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল বার করেন মোর্চা নেতারা৷ তার পর বিমল গুরুং পাহাড়ের বাসিন্দাদের অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধের প্রস্ত্ততি নিতে নির্দেশ দেন৷
তবে বড় কোনও গোলমাল কোথাও হয়নি৷ কী প্রতিক্রিয়া মুখ্যমন্ত্রীর? তিনি যা বলেছেন, তাতে ২০১৩ সালের ফের পাহাড়ে রাজ্য সরকার বনাম মোর্চার মধ্যে যেন ‘যুদ্ধ’ পরিস্থিতি৷ গুরুংদের উপর পাল্টা চাপ সৃষ্টি করতে জিটিএর স্পেশ্যাল অডিট করার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা৷ তাতে অনিয়ম ধরা পড়লে জেলে পোরার হুমকি দিয়েছেন মমতা৷ বলেছেন, ‘জিটিএতে চুরি করলে সচিবকেও ছাড়ব না৷ কোচবিহারের চেয়ারম্যানকেও আমি ছাড়িনি৷’ তার তর্জন, ‘কিছু লোক ওকে ভগবান মনে করে৷ কিন্ত্ত উনি তো শয়তান৷ কিছু লোক আজ কালো পতাকা দেখাতে এসেছিল, আমি যেই বললাম এসো, দেখি ছুটে পালাল৷’ গুরুংকে মমতার হুঁঁশিয়ারি, ‘যাদের বিরুদ্ধে মদন তামাং হত্যাকাণ্ডের মামলা ঝুলছে, চাইলেই সরকার তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে৷ আমরা রাজনৈতিক ভদ্রতার কারণে সে সব করছি না৷’ পাশাপাশি তার অভিযোগ, আসন্ন জিটিএ ভোটের দিকে তাকিয়েই গোর্খাল্যান্ডের দাবি ছেড়ে বাংলা ভাষাকে ইস্যু করে মিথ্যা প্রচারে নেমেছে মোর্চা৷ মমতার কথায়, ‘আমি কখনও বলিনি বাংলা কম্পালসারি করতে৷ পাহাড় এবং তরাই ডুয়ার্সে চতুর্থ ঐচ্ছিক ভাষা হিসেবে বাংলাকে রাখতে বলেছি৷’ মোর্চা নেতা বিনয় তামাংয়ের অবশ্য যুক্তি, ‘কুশপুতুল জ্বালানো কিংবা কালো পতাকা দেখানো গণতান্ত্রিক আন্দোলনেরই অংশ৷ রাজ্য সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত আমাদের পছন্দ নয়৷ আমরা তো পুলিশ কিংবা মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ করে বোমা মারছি না৷’ মিরিকের আলে প্রাঙ্গণে সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠান থেকে এদিন স্থানীয় মানুষের জন্য একগুচ্ছ উন্নয়ন প্রকল্প ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তার মধ্যে মিরিকের রাস্তা সংস্কার খাতে ১২ কোটি টাকার অনুমোদন, কুয়াশা ঢাকা মিরিকের রাস্তায় হাইমাস্ট লাইট বসানোর জন্য ১০ কোটি, নিকাশি খাতে ১০ কোটি এবং মিরিক লেক সৌন্দর্যায়নেও ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে৷ এ ছাড়া মিরিকের জন্য একটি পৃথক দমকল কেন্দ্র এবং ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি জল প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ সূত্র: এই সময়

৮ মাসের শিশুকে গাড়ি থেকে ছুড়ে হত্যা, মাকে ধর্ষণ

মায়ের কোল থেকে ৮ মাসের শিশুকন্যাকে ছিনিয়ে নিয়ে অটো থেকে ছুড়ে ফেলে দিল ৩ ধর্ষক। এরপর চলন্ত অটোতেই ২৩ বছরের ওই যুবতীর উপর চলল নৃশংস অত্যাচার। মাথায় গভীর আঘাত লেগে মৃত্যু হয় শিশুটির। মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে ভারতের রাজধানীর কাছাকাছি হরিয়ানা রাজ্যের গুরুগ্রামে। ২৯ মে মাঝরাতে এই ঘটনা ঘটলেও তা প্রকাশ্যে আসে সোমবার। ওইদিনই ৩ ধর্ষকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ধর্ষিতা। তার স্বামী কাজের প্রয়োজনে বাইরে থাকেন। প্রতিবেশীদের সঙ্গে কোনো কারণে ঝামেলা হওয়ায় সদ্যোজাত সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়িতেই রাত কাটাবেন বলে ঠিক করেন ওই যুবতী। পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, ‘অটোর আসনে বসার কয়েক মিনিট পর থেকেই অভিযুক্তরা আমার শ্লীলতাহানি করতে শুরু করে। আমি বাধা দিই। চিত্‍‌কার করি।
আমার সন্তানও কাঁদতে শুরু করে। তখনই ওরা মেয়েটাকে আমার কোল থেকে টেনে নিয়ে রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দেয়। আমি পাগলের মতো কাঁদতে থাকি। তাতে ভ্রূক্ষেপও করেনি ওরা। উল্টে ওরা আমায় গণধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।’ পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারী ইন্ডাস্ট্রিয়াল মডেল টাউনশিপ (আইএমটি) মানেসরের কাছাকাছি একটি গ্রামে থাকেন। সেখান থেকে প্রথমে চালককে অনুরোধ করে একটি ট্রাকে চেপে বসেন। কিন্তু ট্রাকচালক মদ্যপ থাকায় এবং তাকে বিরক্ত করায় খেরকি দৌলা টোল প্লাজায় এসে তিনি নেমে পড়েন। কিন্তু এরপর তার সঙ্গে আরও ভয়াবহ ঘটনা ঘটল। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুন ও ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

লন্ডনের দুই হামলাকারীর পরিচয় জানিয়েছে পুলিশ

লন্ডনে সন্ত্রাসী হামলা চালানো দুইজনের পরিচয় প্রকাম করেছে ব্রিটিশ পুলিশ। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড বলেছে, খুররম বাট নামের ২৭ বছর বয়সী প্রথম হামলাকারী পূর্ব লন্ডনের বারকিং এলাকায় বসবাস করত। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এই বিবাহিত যুবক এক সন্তানের জনক ছিল। ব্রিটিশ পুলিশ দাবি করেছে, দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৫’র সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তালিকায় খুররমের নাম থাকলেও সে এরকম একটি হামলা চালিয়ে বসবে তা বুঝতে পারেনি ওই সংস্থা। অপর হামলাকারী লিবিয় বংশোদ্ভূত ৩০ বছর বয়সী রাশিদ রেদোয়ান। তার নামের বানান ফরাসি ভাষায় লেখা বলে মনে করা হচ্ছে। রেদোয়ানও লন্ডনের বারকিং এলাকায় বসবাস করত। শনিবার রাতে খুররম ও রেদোয়ান তৃতীয় আরেক ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে লন্ডন ব্রিজ এলাকায় হামলা চালায়। তারা সাদা রঙের একটি কাভার্ড ভ্যান পথচারীদের ওপর চালিয়ে দেয় এবং পরবর্তীতে নিকটবর্তী বারো মার্কেট এলাকায় ছুরিকাঘাতে কয়েকজনকে হত্যা করে। তাদের হামলায় মোট সাত ব্যক্তি নিহত হয় এবং পুলিশ গুলি করে তিন হামলাকারীকে হত্যা করে। শনিবার রাতের সন্ত্রাসী হামলায় আহত ৩৬ জন এখনো হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। যাদের মধ্যে ১৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ওই দুই হামলাকারীর পরিচয় প্রকাশের পর লন্ডন পুলিশের হাতে আটক সন্দেহভাজন ১২ ব্যক্তির সবাইকে কোনো চার্জ গঠন ছাড়াই ছেড়ে দেয়া হয়েছে। রোববার লন্ডনের বার্কিং এলাকা থেকে ওই সাত নারী ও পাঁচ পুরুষকে আটক করেছিল ব্রিটিশ পুলিশ।

গুলেনসহ ১৩০ প্রবাসীর নাগরিকত্ব বাতিল করবে তুরস্ক

তুরস্ক সরকার ঘোষণা করেছে, দেশটি আমেরিকা প্রবাসী বিরোধী নেতা ফতেউল্লাহ গুলেনসহ ১৩০ জন প্রবাসীর নাগরিকত্ব বাতিল করে দেবে। ৫ জুন থেকে পরবর্তী তিনমাসের মধ্যে এসব নাগরিককে তুরস্কে ফিরে আসার চূড়ান্ত সময়সীমা বেধে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফিরে না আসলে তারা তুরস্কের নাগরিকত্ব হারাবেন। তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এ খবর দিয়েছে। ওই ১৩০ ব্যক্তির মধ্যে কুর্দিপন্থী পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির দুই সংসদ সদস্য ফয়সাল সারিলদিজ ও তুগবা হেজের এবং দলের সাবেক এমপি ওজদাল উজের রয়েছেন। গত বছরের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পর তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।
২০১৬ সালের জুলাই মাসে তুরস্কে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পরপরই এর পরিকল্পনার জন্য গুলেনকে দায়ী করে আঙ্কারা। ওই রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় ২৫০ ব্যক্তি নিহত ও কমপক্ষে দুই হাজার মানুষ আহত হন। প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান সরকারের বিরুদ্ধে চালানো ওই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় নিজের জড়িত থাকার অভিযোগ কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছেন গুলেন। এরদোগান বিদ্বেষী এই নেতা ১৯৯৯ সাল থেকে আমেরিকায় স্বেচ্ছা নির্বাসনে রয়েছেন। তুর্কি সরকার ফতেউল্লাহ গুলেনের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনকে ‘ফতেউল্লাহ সন্ত্রাসী সংস্থা’ বা এফইটিও নামে অভিহিত করেছে। এ ছাড়া, আঙ্কারা এ পর্যন্ত বহুবার গুলেনকে তুরস্কের কাছে হস্তান্তরের জন্য ওয়াশিংটনকে রাজি করানোর ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছে। সূত্র : ওয়েবসাইট

বাজেট নিয়ে স্বস্তিতে নেই আওয়ামী লীগ

২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে স্বস্তিতে নেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বাজেটে ভ্যাট ও ব্যাংকে আমানতের ওপর শুল্কের হার বৃদ্ধি, রফতানিতে উৎসে কর, করপোরেট ট্যাক্স না কমানো এবং সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমানোর প্রস্তাবে ুব্ধ সংশ্লিষ্ট মহল। বিশেষ করে আশ্বাসের পরও ভ্যাটের হার না কমানো এবং ব্যাংকে আমানতের ওপর শুল্কের হার বৃদ্ধির প্রস্তাবে বাজেট নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে দেশজুড়ে। অর্থনীতিবিশ্লেষক ছাড়াও ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকার এবং অর্থমন্ত্রীর সমালোচনায় মুখর সর্বস্তরের মানুষ। বিষয়টি সরকারের নীতি নির্ধারকদের বেশ বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। এমন প্রেক্ষাপটে টনক নড়ছে সরকারের নীতিনির্ধারকদের। বাজেটে জনগণের আকাক্সক্ষার বিষয়গুলো সমাধানের আশ্বাসও দিচ্ছেন তারা।  প্রস্তাবিত বাজেটের বেশ কিছু বিষয় সংশোধনে অর্থ প্রতিমন্ত্রীর ইঙ্গিতের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলেছেন, ‘বাজেট কেবল পেশ করা হয়েছে। তা সংসদে এখন আলোচনা হবে। আলোচনা শেষে কোনো দুর্বলতা থাকলে তা সংশোধন করা হবে।’ বাজেটে ব্যাংকে আবগারি শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব সংশোধনের কথা জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল সোমবার বলেছেন, ‘এটা সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে। জনগণের কোনো ধরনের তি হয় এমন বাজেট জনবান্ধব সরকার গ্রহণ করবে না। আবগারি শুল্ক নিয়ে কোনো রাজনীতি করার সুযোগ নেই। এটা পরিবর্তন করে সহনীয় পর্যায়ে আনা হবে। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য এ যাবৎকালের সর্ববৃহৎ ৪০০,২৬৬ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। ‘উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের’ শীর্ষক এ বাজেটে ব্যবসায়ীদের দাবি পুরোপুরি উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত ভ্যাটের নতুন হার ১৫ শতাংশই রাখা হলো।
১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া নতুন অর্থবছরে ব্যবসায়ীরা এই হারেই ভোক্তাদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করবেন। এর ফলে এক বছরেই ভ্যাটের মাধ্যমে জনগণের পকেট থেকে নিয়ে নেয়া হবে প্রায় লাখ কোটি টাকা। বর্ধিত এই ভ্যাটের হারে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষেরা চাপে পড়লেও অর্থমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, ‘আগামী তিন বছর ১৫ শতাংশ হারেই ভ্যাট আদায় করা হবে।’ শুধু তা-ই নয়, ব্যাংকে আমানতের ওপর শুল্ক হার বৃদ্ধি এবং সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমানোরও প্রস্তাব করেন তিনি। এ ছাড়া রফতানিতে উৎসে কর, করপোরেট ট্যাক্স না কমানোর প্রস্তাবে ুব্ধ সংশ্লিষ্ট মহল।  বিশ্লেষকেরা এ বাজেটকে ‘ভ্যাটের মহাসড়কে দেশ’ বলেও মন্তব্য করেন। বিশেষ করে ব্যাংক আমানতে শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাবের সমালোচনা করে তারা বলছেন, এ প্রস্তাবের ফলে মানুষ ব্যাংকবিমুখ হয়ে অবৈধ লেনদেনের দিকে ঝুঁকবে। এতে অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখা দেবে।  অর্থমন্ত্রীর এ প্রস্তাবে বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের সমালোচনায় মুখর সাধারণ মানুষ। ুব্ধ মানুষদের আগুনে ঘি ঢালার মতো হয় বাজেটের পরদিন শুক্রবার অর্থমন্ত্রীর আরেক মন্তব্য। তিনি বললেন, ‘ব্যাংকে লাখ টাকা আমানতকারীরা যথেষ্ট সম্পদশালী।’ সংবাদ সম্মেলনে তার এ মন্তব্যের পর যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দা-ধিক্কারের ঝড় বইছে। নানা ধরনের ব্যঙ্গাত্মক কার্টুনে ক্ষোভ প্রকাশ করছে মানুষ। সমালোচনাকারীরা বলছেন, হলমার্ক ও বিসমিল্লাহ কেলেঙ্কারি নিয়ে এ অর্থমন্ত্রীই বলেছিলেন, ‘৪ হাজার কোটি টাকা কিছুই না।’ এখন তিনিই আবার বলছেন, ‘এক লাখ টাকার আমানতকারীরা সম্পদশালী।’ আসলে তার কথার কোনো ঠিক নেই। সমালোচনাকারীদের কেউ কেউ অর্থমন্ত্রীকে ‘বয়সের ভারে ন্যুব্জ’ উল্লেখ করে রাজনীতিকদের অবসরের বয়সসীমা নিরূপণেরও তাগিদ দেন।  আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, সরকারের এ মেয়াদে বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ফান্ড প্রয়োজন। কিন্তু সরকারের হাতে সময় আছে দেড় বছরেরও কম সময়। জাতীয় নির্বাচনের আগে এটিই সরকারের পূর্ণাঙ্গ বাজেট। আগামী অর্থবছরে মাত্র অর্ধবার্ষিক বাজেট দিতে পারবে তারা। সে জন্য এবারের বাজেটকে টাকা নেয়ার বড় উপায় হিসেবে বেছে নিয়েছে সরকার। তাই ভ্যাট হার ১৫ শতাংশ নির্ধারণসহ ট্যাক্সের আওতা বৃদ্ধি এবং ব্যাংকের টাকার ওপর নজর দিয়েছে সরকার। এ বাজেটে জনগণের ওপর বড় ধরনের চাপ পড়লেও নির্বাচনের আগের অর্ধ বার্ষিক বাজেটে তা পুষিয়ে দেয়া হতে পারে। এতে সাধারণ মানুষ এবারের বাজেটের কথা ভুলে গিয়ে ওই বাজেটের সুফল ভোগ করবে এবং নির্বাচনে আবারো আওয়ামী লীগকেই বেছে নেবে। এক কথায় সরকারের বিশাল অঙ্কের টাকার সঙ্কুলান এবং আগামী নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই এবারের বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা আলাপকালে বলেন, এ বাজেটে মধ্যবিত্তের ওপর চাপ পড়লেও কিছু বিষয় অতি মাত্রায় বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে। বিশেষ করে ভ্যাট এবং আমানতের ওপর শুল্ক বৃদ্ধির বিষয়টি। এ দুইটি বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষের মতো সরকারের ভেতরেও বেশ সমালোচনা হচ্ছে। ক্ষমতাসীন দল হিসেবে বাজেটকে সমর্থন দিতে হয়। সে জন্য কেউ হয়তো সরাসরি সমালোচনা করতে পারছেন না। তবে দলের বিভিন্ন ফোরাম এবং ঘরোয়া আলোচনায় এসব বিষয়ে বেশ সমালোচনা চলছে। ক্ষমতাসীন ১৪ দলের শরিকরাও বাজেট নিয়ে দলীয় ফোরামে অনেক সমালোচনা করছেÑ যা সরকারের জন্য চরম বিব্রতকর। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘বাজেট কেবল পেশ করা হয়েছে, পাস হয়নি। সংসদে আলোচনার পরই তা পাস হবে। আওয়ামী লীগের রাজনীতি সাধারণ মানুষের জন্য। আর জনগণের ক্ষতি হয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেবে না। বাজেটে বিতর্কিত বিষয়গুলো জনস্বার্থে সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।’  দলের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বাজেট নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও সমালোচনা হবে, এটাই স্বাভাবিক। আর এটাই গণতান্ত্রিক সরকারের বৈশিষ্ট্য। এখানে বিব্রত হওয়ার কিছু নেই। সংসদে আলোচনার পর জনগণের জন্য কল্যাণকর হলে যেকোনো বড় বিষয়ও সংশোধন হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছেন।’

চাহিদার ৯৮ ভাগের বেশি ওষুধ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হচ্ছে : সংসদে নাসিম

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সংসদকে জানিয়েছেন, সরকারের উদারতা ও আন্তরিকতার ফলে দেশের ওষুধ শিল্প অন্যতম সেক্টরে পরিণত হয়েছে। দেশীয় চাহিদার শতকরা ৯৮ ভাগেরও বেশি ওষুধ বর্তমানে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। এমনকি বর্তমানে দেশে উৎপাদিত বিভিন্ন প্রকার ওষুধ ও ওষুধের কাঁচামাল বিশ্বের ১২৭টি দেশে রফতানি হচ্ছে। এ ওষুধ রফতানির পরিমাণ ও দেশের জনসংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। আজ মঙ্গলবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদের ১৬তম অধিবেশনে জাসদের বেগম লুতফা তাহেরের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী সংসদকে এ তথ্য জানান। মন্ত্রী জানান, জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তার স্বার্থে ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ বিক্রয় ও উৎপাদনকারী ফার্মেসি ও ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির বিরুদ্ধে সরকারের ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদাই সচেষ্ট রয়েছে এবং সরকার এ ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করছে। গতবছরের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে ভেজাল ও নকল ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রির দায়ে বিভিন্ন ফার্মেসি ও ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতে ২৭৭৫টি মামলা দায়ের করে ৭ কোটি ৪৩ লাখ ৬ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ৬৬ জন আসামকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।
১৮ কোটি টাকার ওষুধ জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে। একই একই সাথে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ড্রাগকোর্টে ৪৭টি ও ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে ৬৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার জিএমপি গাইডলাইন যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় এবং ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদনের দায়ে এ পর্যন্ত ৮৬টি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সাময়িক বাতিল ও ১৯টির লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে। একই সময়ে নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদনের কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৬১টি পদের রেজিস্ট্রেশন বাতিল এবং ১৪টি পদের রেজিস্ট্রেশন সাময়িক বাতিল করাসহ প্রতিষ্ঠানগুলোর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জাপার সেলিম উদ্দিনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জানান, হিমোফিলিয়া ফাউন্ডেশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে প্রায় ৩০০০ হিমোফিলিয়া রোগী আছে। এ রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। দেশের সকল সরকারি হাসপাতাল হিমোফিলিয়া রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা সুবিধা রয়েছে।

লতিফুর রহমানের শ্রদ্ধায় আধাবেলা বসছেন না সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগ

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, সাবেক প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচার কাজ আধাবেলা বন্ধ থাকছে। একই সঙ্গে আজ বাদ জোহর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনে সাবেক এই প্রধান বিচারপতির জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া বেলা ১১টার পর আপিল বিভাগ ও দুপুরের পর হাইকোর্ট বিভাগে বিচার কাজ হচ্ছে না। একইভাবে চলবে না চেম্বার আদালতের কার্যক্রমও বন্ধ থাকছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার সাব্বির ফয়েজ। বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমান রাজধানীর শমরিতা হাসপাতালে আজ মঙ্গলবার সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমান আর নেই

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমান আর নেই। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও বিচারপতি লতিফুর রহমান। তিনি আরো জানান, লতিফুর রহমান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তিনি নিউমোনিয়াসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। এদিকে মরহুমের মৃত্যুর খবর শুনে হাসপাতালে দেখার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ছুটে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। লতিফুর রহমানের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিএনপি চেয়াপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপি মহাসচিব। লতিফুর রহমান ১৯৩৬ সালের ১ মার্চ যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। পেশাজীবনের শুরুতে তিনি কায়েদে আজম কলেজ (বর্তমান শহিদ সোহরাওয়ার্দি কলেজ) ও জগন্নাথ কলেজে (বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) প্রভাষক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৬০ সাল থেকে তিনি ঢাকা হাই কোর্টে আইন পেশা শুরু করেন। তিনি শুরুতেই এম.এইচ. খন্দকারের নিকট শিক্ষানবিশ ছিলেন।
খন্দকার বাংলাদেশের প্রথম অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন। ১৯৭৯ সালে লতিফুর রহমান সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। ১৯৮১ সালে তার বিচারকের চাকুরি স্থায়ী হয়। ১৫ জানুয়ারি ১৯৯১ তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। ২০০১ সালের ১ জানুয়ারি তিনি দেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রধান বিচারপতি থাকাকালীন অবসর গ্রহণ করেন। সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি হিসেবে তিনি ২০০১ সালের ১৫ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের ৩০ মিনিটের মধ্যে তিনি ১৩ জন সচিবকে ওএসডি করে। অষ্টম জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১ অক্টোবর ২০০১ সালে এবং লতিফুর রহমান ১০ অক্টোবর নতুন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। তার অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। বিএনপি এই নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় লাভ করে এবং আওয়ামী লীগ ৫৮টি আসন পায়। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এই নির্বাচনের ফলাফল প্রথমে প্রত্যাখ্যান করে এবং শপথ নিতে অস্বীকার করে। আওয়ামী লীগ বিচারপতি লতিফুর রহমান ও তার উপদেষ্টামণ্ডলীর ও ব্যাপক নিন্দা করে। যদিও কিছুদিন পর আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করে ও সংসদে বিরোধী দল হিসেবে যোগ দেয়।

আজ পাস হচ্ছে সম্পূরক বাজেট

দশম জাতীয় সংসদের ১৬তম (বাজেট) অধিবেশন আজ মঙ্গলবার সকাল পৌণে ১১টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে পুনরায় শুরু হয়েছে। অধিবেশন আধাঘন্টা চলার পর এখন ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বি মিঞার সভাপিতত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারন আলোচনা চলছে। সকাল সাড়ে ১১টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আলোচনায় অংশ নিয়েছেন সরকারি দলের অ্যাডভোকেট সোহরাব আলী, আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন ও বিরোধী দল জাপার ফখরুল ইমাম। আলোচনা শেষে আজ মঙ্গলবার সম্পূরক বাজেটটি পাস হওয়ার কথা রয়েছে।

মেহেরপুরে পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১

মেহেরপুর সদর উপজেলার নুরপুর গ্রামে পুলিশের সাথে 'বন্দুকযুদ্ধে' ফিরাতুল ইসলাম (৪৪) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। সোমবার রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, ফিরাতুল ১১ মামলার আসামি। তার বাড়ি মেহেরপুর সদরের পিরোজপুর ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামে। জেলার সহকারী পুলিশ সুপার আহসান হাবীব বলেন, 'নূরপুর গ্রামের এক কাঁঠালবাগানে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীরা অবস্থান করছিল। খবর পেয়ে পুলিশ গেলে তারা গুলি করে। পুলিশ পাল্টা গুলি করলে কিছুক্ষণ বন্দুকযুদ্ধ হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ফিরাতুলের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।'
ঘটনাস্থল থেকে একটি শটগান, পাঁচটি গুলি, পাঁচটি ককটেল ও তিনটি রামদা উদ্ধার করা হয়েছে। ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বন্দুকযুদ্ধে পাঁচ পুলিশ আহত হলে তাদের মেহেরপুর সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। সদর থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী বলছেন, 'ফিরাতুল এলাকার একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ডাকাত ছিল। তার নামে সদর ও মুজিবনগর থানায় হত্যা, ডাকাতি, বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন অপরাধে ১১টি মামলা রয়েছে।'

মাঠেই লুটিয়ে পড়লেন ফুটবলার, তারপর...

অনুশীলনের সময়ই মারা গেলেন আইভরি কোস্টের মিড-ফিল্ডার চিয়েক তোতের। সোমবার চীনের ক্লাবের হয়ে অনুশীলন করার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ৩০ বছরের সাবেক নিউক্যাসেল মিডিও। চলতি বছরেই চীনের দ্বিতীয় ডিভিশন ক্লাব বেইজিং এন্টারপ্রাইজের সই করেন তোতে। এদিন অনুশীলনের সময় হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যান। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তোতের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের কোচ রাফায়েল বেনিতেজ। তার এজেন্ট এমানুয়েল পাল্লাডিনহো বিবৃতি দিয়ে জানান, ‘আমার ক্লাইন্ট চিয়েক তোতে মারা গেছেন। বেইজিং এন্টারপ্রাইজ ক্লাবের হয়ে ট্রেনিং করার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাযন।’ দিদিয়ের দ্রোগবার দেশের এই ফুটবলার আইভরি কোস্টের হয়ে ২০১০ ও ২১৪ বিশ্বকাপ দলের সদস্য ছিলেন। ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ম্যাচও খেলেন তিনি। এছাড়াও ২০১০ থেকে চলতি বছর শুরু পর্যন্ত ইংলিশ ফুটবল ক্লাব নিউক্যাসেলের হয়ে খেলেছিলেন তোতে।

৪ হাজারি ক্লাবে ওয়ার্নার

বাংলাদেশের বিপক্ষে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পঞ্চম ম্যাচে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে চার হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার মারকুটে ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। এই মাইলফলক স্পর্শ করতে গিয়ে দ্রুত চার হাজার রান করার তালিকায় তৃতীয়স্থানে নিজের নাম তুলেছেন তিনি। তবে তৃতীয়স্থানে যৌথভাবে ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলির সাথে আছেন ওয়ার্নার। কোহলির মতই ক্যারিয়ারের ৯৩তম ইনিংসে চার হাজার রান পূর্ণ করেন ওয়ার্নার।
এই তালিকায় সবার উপরে আছেন দক্ষিণ আফ্রিকার হাশিম আমলা। ৮১ ইনিংসে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে চার হাজার রান করে এখন অনন্য রেকর্ডের মালিক তিনি। দ্বিতীয়স্থানে আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্যার ভিভ রিচার্ডস। ১৯৮৫ সালে মাত্র ৮৮ ইনিংসে চার হাজার রান পূর্ণ করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন রিচার্ডস। আর ২০১৩ সালে রিচার্ডসের ২৮ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙ্গে আমলা নিজেই হয়ে যান নতুন রেকর্ডের মালিক।

কী কী হলে সেমিতে যেতে পারবে বাংলাদেশ

বৃষ্টির কারণে অস্ট্রেলিয়ার সাথে পয়েন্ট ভাগাভাগি হওয়ায় বাংলাদেশের সেমিফাইনালে যাওয়ার পথ কিছুটা প্রশস্ত হয়েছে। এখনো গ্রুপপর্বের কয়েকটি ম্যাচ বাকি, একটি ম্যাচের হার-জিতের উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। তবে বাংলাদেশের সেমিতে পৌঁছাতে হলে শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর পাশাপাশি আরো কিছু হিসেব-নিকেশ আছে।
১) আজ ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারতে হবে, শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে হবে বাংলাদেশকে এবং ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে জিততে হবে ইংল্যান্ডকে। তাহলে পয়েন্ট দাঁড়াবে, ইংল্যান্ড-৬, বাংলাদেশ -৩, অস্ট্রেলিয়া- ২ এবং নিউজিল্যান্ড -১।
২) আর যদি নিউজিল্যান্ডের কাছে ইংল্যান্ড হেরে যায়, তাহলে অস্ট্রেলিয়ার কাছেও ইংল্যান্ডকে হারতে হবে। অর্থ্যাৎ ইংল্যান্ডকে দুই ম্যাচেই হারতে হবে। আর শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারাতে হবে বাংলাদেশকে। তখন পয়েন্ট দাঁড়াবে, অস্ট্রেলিয়া -৪, বাংলাদেশ -৩, নিউজিল্যান্ড-৩, ইংল্যান্ড -২। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এবং নিউজিল্যান্ডের যে রান রেটে এগিয়ে থাকবে, তারাই যাবে সেমিতে। এর বাইরে বাংলাদেশ যদি শেষ ম্যাচ হেরে যায়, তাহলে তো কথাই নেই- বিদায় নেবে বাংলাদেশ। আবার ইংল্যান্ড যদি আজ জিতে যায় এবং শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে যায়, তাহলে অস্ট্রেলিয়া আর ইংল্যান্ডই উঠে যাবে সেমিতে। বিদায় নেবে বাংলাদেশ আর নিউজিল্যান্ড। আর যদি নিউজিল্যান্ড বাকি দুই ম্যাচ জিতে যায়, তখন ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে বিজয়ী দলই পাবে সেমির টিকিট।

ইংল্যান্ড বনাম নিউজিল্যান্ড

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আজকের ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় ম্যাচটি শুরু হবে। আজকের ম্যাচটি 'এ' গ্রুপের বাকি দুই দল বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই গ্রুপের দুটি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি হয়েছে। ফলে অনেক হিসেব-নিকেশই পাল্টে গেছে। এই ম্যাচের উপরই বাংলাদেশের সেমিতে যাওয়া অনেকটা নির্ভর করছে। আজ যদি ইংল্যান্ড জিতে, তাহলে শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারালেই ৩ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছাবে বাংলাদেশ।

কৌশলী মাশরাফিই বাংলাদেশের ভাগ্য ফেরালেন

বৃষ্টি যেন আর্শীবাদ হয়ে ঝরলো কাল ওভালে। আর মাশরাফির কৌশল তাতে চার চান্দ লাগালো! ফলাফল সেমিফাইনালে যাওয়ার সূবর্ণ সুযোগ। ৯৫ রানে তামিমের আউটের পর একের পর এক বিপর্যয়ে ২০০ তে পৌঁছাতে পারল না বাংলাদেশ। মাঠে তখন অস্ট্রেলিয়ার আধিপত্য। অসহায় বাংলাদেশ, মাশরাফি চেষ্টা করেছেন প্রকৃতির আশ্রয় নেয়ার। অস্ট্রেলিয়ার ছিল তাড়া, দ্রুত ২০ ওভার শেষ করার। স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের সেখানে রাজ্যের অনিচ্ছা। নিয়মের মধ্যে থেকেই দল চেষ্টা করে গেছে শেষ উপায়টুকু কাজে লাগানোর। যদি বৃষ্টি আসা পর্যন্ত ২০ ওভারের কম করা যায়! অফিসিয়াল স্কোর থেকে জানা যাচ্ছে, এক পর্যায়ে মাশরাফির এক ওভার শেষ করতে সময় লেগেছে ৮ মিনিট। রুবেলের এক ওভার শেষ হতে ৬ মিনিট। বাংলাদেশের ১৬ ওভারের ১৫ ওভারই করেছেন পেসাররা। এক ওভার যে স্পিনার করেছেন, সেটিই আসলে ছিল বিস্ময়। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই কৌশলের কথাও লুকাননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। “এই কথা এখানে বলা উচিত নয় হয়তো। তবে সত্যি বলতে আমাদের চিন্তা ছিল যে ম্যাচে তো পেছনে চলেই গেছি,
একমাত্র উপায়ই ছিল যে ২০ ওভারের আগে যতটুকু সময় নেওয়া যায়। খেলাটাকে লম্বা করা। এজন্য মিরাজকে এক ওভার দিয়ে পরে এনেও আবার সরিয়ে নিয়েছি যাতে খেলাটা দূরে সরিয়ে নেওয়া যায়।” ১৬ ওভার শেষে পানি পানের বিরতি যখন হলো, তখন বৃষ্টি শুরু হয়েছে। তবে দল নিশ্চিত হতে পারছিল না। খেলা শেষ হওয়ার সময়টাও তখন এত দূরে ছিল যে, ড্রেসিং রুমে গিয়েও আকাশের দিকেই তাকিয়ে ছিল দল। “সত্যি কথা বলতে, ১৬ ওভার যখন শেষ হলো, আমরা বুঝতে পারছিলাম না খেলা আরও হবে কিনা বা ২-১ ওভার চালিয়ে যাবে কিনা। পানি পানের বিরতির সময় বুঝিনি যে তখনই খেলা বন্ধ করে দেবে। জানতাম যে সাড়ে ৬টা বা ৭টায় বৃষ্টি আসতে পারে। তবে সেটার জন্য অপেক্ষা করে তো লাভ নেই। খেলা চালিয়ে যেতেই হতো। আমরা চেষ্টা করেছি টেনে নিয়ে যেতে যতটা যাওয়ায় যায়।” মাঠে বাংলাদেশ যখন ওভার শেষ করতে সময় নিচ্ছে, মাঠে তখন গজরাচ্ছেন ডেভিড ওয়ার্নার। তবে তাতে কান দেবেন কেন মাশরাফিরা! শেষ পর্যন্ত বৃষ্টিস্নাত এক পয়েন্টে জয় হয়েছে কৌশলেরও।

অল্পের জন্য রেকর্ড মিস হলো তামিমের

সেঞ্চুরি থেকে মাত্র পাঁচ রান দূরে থাকতেই সাজঘরে ফিরলেন তামিম। এ নিয়ে তিনবার ওয়ানডেতে ৯৫ রানে আউট হন তিনি। তবে এবার আক্ষেপটা যেন একটু বেশিই তামিমের কারণ পাঁচ রানের সাথে সাথে মর্যাদার একটি রেকর্ড থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। বিশ্বকাপের পর মর্যাদার দিক থেকে দ্বিতীয় সেরা টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে টানা দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি আছে সাকুল্যে সাতজন ক্রিকেটারের। এরা হলেন- সাইদ আনোয়ার (২০০০), সৌরভ গাঙ্গুলি (২০০০), হার্শেল গিবস (২০০২), উপুল থারাঙ্গা (২০০৬), ক্রিস গেইল (২০০৬), শেন ওয়াটসন (২০০৯), শিখর ধাওয়ান (২০১৩)।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে নিজের নামের পাশে আর পাঁচটি রান যোগ করলেই এই তালিকার অষ্টম ক্রিকেটার হিসেবে নাম লেখাতেন তামিম। এমন মোক্ষম সুযোগ আর কোনো বাংলাদেশী ব্যাটসম্যান কবে পাবেন, তা যথেষ্ট ভাবনার বিষয়! এদিকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করতে বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের দুর্বোধ্যতাও অব্যাহত রইল। কার্ডিফে ঐতিহাসিক ম্যাচে মোহাম্মদ আশরাফুলের সেঞ্চুরির পর আর কোনো বাংলাদেশী ক্রিকেটারই অসিদের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করতে পারনেনি। সেঞ্চুরির ঠিক আগমুহূর্তে তামিমের ভুল শটে আত্মাহুতি সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে স্মিথদের মুখে হাসিই ফুটালো।

দারুণ কৌশলেই সেমির সম্ভাবনায় মাশরাফিরা

খেলা কেবল ব্যাট আর বলের খেলা নয়। নানা কৌশলও অবলম্বন করতে হয়। সোমবার লন্ডনে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে সেই কৌশল মাশরাফিরা বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছে। বৃষ্টির মধ্যে সেই কৌশলের জোরেই সেমিফাইনালের সম্ভাবনা জিইয়ে রাখল বাংলাদেশ। নিয়ম অনুযায়ী ওডিআইয়ের ফলাফল হতে ২০ ওভার খেলতে হয়। অক্ট্রেলিয়া ১৬ ওভার খেলতে পারায় ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। বাংলাদেশের ১৮২ রানের জবাবে অস্ট্রেলিয়া ১৬ ওভারে করেছিল ৮৩ রান। অস্ট্রেলিয়া ২০ ওভারেও এই রান করলে তারা জিতে যেত।
কেবল ৪ ওভার এক রান না করলেও তাদের চলত। ঠিক এই কারণেই তারা বৃষ্টির আশঙ্কায় রান নিচ্ছিল না। একপর্যায়ে মাশরাফির টানা ৫ বল কেবল ব্লক করেই কাটিয়ে দেয়। তবে বাংলাদেশও কম যায়নি। তারাও বল করতে তাড়াহুড়া করেনি। তারা জানত, কোনোভাবে ২০ ওভারের কম খেলতে পারলে হারতে হবে না। এই লক্ষ্যেই মাত্র এক ওভার বল করিয়েছে স্পিনার দিয়ে। বাকিটা ফাস্ট বোলার দিয়ে। এতে সময় বেশি লেগেছে। আর তাতেই বাজিমাত। নিশ্চিত হারার ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়ে পয়েন্ট পেয়ে গেল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা কতটা?

বৃষ্টির কারণে পয়েন্ট ভাগাভাগির পর এখন বাংলাদেশের সামনে সেমি-ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে। তবে সবকিছু নির্ভর করবে পরবর্তী তিনটি ম্যাচের ফলাফলের ওপর। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে গতকাল ওভালে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচের মূল খেলাটা খেলেছে বৃষ্টি। কারণ বাংলাদেশের ১৮২ রানের জবাবে অস্ট্রেলিয়া যখন অনেকটাই জয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তখন বৃষ্টির বাধা। এরপর অপেক্ষা। তবে শেষ পর্যন্ত খেলা আর মাঠে গড়াতে পারেনি। মাঠে ছিলেন বিবিসি বাংলার শাকিল আনোয়ার। তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে পয়েন্ট ভাগাভাগির পর এখন বাংলাদেশের সামনে সেমি ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে। কিন্তু সেজন্য রয়েছে বেশকিছু হিসাব-নিকাশ। কারণ বাংলাদেশের এই আসরে ভবিষ্যত নির্ভর করবে পরবর্তী তিনটি ম্যাচের ফলাফলের ওপর। "আজ যে ম্যাচটি হবে সেখানে ইংল্যান্ড যদি নিউজিল্যান্ডকে হারায় এবং পরের ম্যাচে যদি অস্ট্রেলিয়াকে ইংল্যান্ড হারায় এবং বাংলাদেশ যদি তাদের পরবর্তী ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারে তাহলে ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশ যাবে পরের রাউন্ডে অর্থাৎ সেমিফাইনালে। আবার ইংল্যান্ড যদি নিউজিল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে যায় তাহলে হিসেব বদলে যাবে" বলেন শাকিল আনোয়ার।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তামিম ইকবাল ৯৫ রান করেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও খেলেছিলেন ১২৮ রানের ইনিংস। গতকাল ওভালে বাংলাদেশের খেলা দেখতে মাঠে হাজির ছিলেন প্রায় ২০ হাজারের মত সমর্থক। তবে বাংলাদেশের ব্যার্টিং পারফর্ম্যান্স তাদের জন্য ছিল হতাশাজনক। টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ৪৪ ওভার ৩ বল খেলে মাত্র ১৮২ রান করে আউট হয়ে যায় বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। ব্যাটিং করতে নেমে ভালই জবাব দিচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া দল। কিন্তু ১৬ ওভারে তাদের সংগ্রহ যখন ৮৩ রান তখন বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত পরিত্যক্ত হয় ম্যাচটি। বাংলাদেশের সমর্থকরা ওভালে হতাশ হয়েছেন বলে জানান শাকিল আনোয়ার। তিনি জানান, যে মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩০৫ রান করেছিল, সেখানে স্কোর এত কম হওয়ার কারণ 'আবহাওয়া'। এই সুযোগটা অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা কাজে লাগিয়েছেন। সেখানে তামিম ইকবাল ছাড়া বাংলাদেশের আর কেউই দাঁড়াতে পারেননি। সোমবারের ম্যাচে তামিম ইকবাল বাংলাদেশের পক্ষে সবোর্চ্চ ব্যক্তিগত ৯৫ রান করেন ১১৪ বল খেলে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি সংগ্রহ করেছিলেন ১২৮ রান। সূত্র : বিবিসি

নেপালের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করছে চীন

নেপালের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের জন্য চীনা একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছে স্থলবেষ্টিত দেশটির সরকার। নেপালের জ্বালানিমন্ত্রী জনার্ধন শর্মা রোববার চায়না গেঝুবা গ্রুপ কর্পোরেশনের (সিজিজিসি) সঙ্গে চুক্তি করেন। চুক্তির আওতায় ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বুধি-গান্ধকি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫০ কোটি ডলার বা প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। খবর এএফপির। নদীবেষ্টিত নেপালের পাহাড়ি নদী ব্যবস্থাকে কাজে লাগাতে পারলে দেশটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। তবে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক সংঘাতে পর্যুদস্ত দেশটি ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেপালে ৮৩ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। বর্তমানে এর মাত্র ২ ভাগ উৎপাদিত হচ্ছে। অনুন্নত নেপালে বিনিয়োগ না থাকায় এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা অপ্রতুল হওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদার চেয়ে সরবরাহ বেশি। এ কারণে দেশটিতে শিল্পকারখানা গড়ে ওঠেনি এবং বিদেশি বিনিয়োগও আসেনি। ২০০৬ সালে দেশটিতে মাওবাদী বিদ্রোহের অবসান এবং তার দুই বছর পর রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হলেও দেশটিতে রাজনৈতিক সংঘাত লেগেই আছে। নেপালে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছে ভারত ও চীন। দুটি দেশই নেপালের বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে। সিজিজিসি নেপালে বর্তমানে তিনটি ছোট জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করছে। এছাড়া আরও একটির নির্মাণ শেষ করেছে। চীনের সহায়তায় নেপাল সরকার ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করছে। অন্যদিকে ভারতও নেপালে দুটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
প্রতিটি প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০০ কোটি ডলার করে। কয়েক বছর বিলম্বের পর চলতি বছরের শেষ নাগাদ এর কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারতবিরোধিতা প্রবল : ভারতীয় কূটনীতিবিদদের একাংশ মনে করে, নেপালে দীর্ঘদিনের অনুন্নয়ন, বেকারত্ব, নাজেহাল পরিকাঠামোর ফলে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তার মুখ সুকৌশলে একদিকে ঘোরানোর প্রয়োজন ছিল। দু’বছর মহাদেশীয়দের বিক্ষোভ সেই জমে থাকা বারুদে দেশলাই কাঠি জ্বেলে দেয়। আর তখনই বড় আকারে খেলায় নামে চীন। নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে চীনের ওপর দৈনন্দিন নির্ভরশীলতার সেই শুরু। নেপালে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তৈরি করতে ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দান থেকে শুরু করে পরিকাঠামো, জলবিদ্যুৎ, রেল, সড়ক নির্মাণের মতো বিরাট চীনা প্রকল্পগুলো রমরম করে চলছে। কাঠমান্ডু থেকে পোখরা যাওয়ার ২০০ কিলোমিটার সড়কপথে চীনের প্লাকার্ড দেয়া ছাউনিতে চলছে উন্নয়ন যজ্ঞ। সম্প্রতি প্রথমবারের মতো চীন-নেপাল সামরিক মহড়াও হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাস সূত্রের বরাতে আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘চীন এখানে যা করছে তা নিছক মানবপ্রীতির খাতিরে করছে- এমন কেউই বলবে না। এর পেছনে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক, কৌশলগত উদ্দেশ্য রয়েছে।’ ভারতের আরও শঙ্কার কারণ, কেপি ওলির নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউনিফাইড মার্কসিস্ট-লেনিনিস্ট) কেন্দ্রীয় নির্বাচনে নেপাল কংগ্রেস এবং মাওবাদীদের কাছে হেরে গেলেও চলতি স্থানীয় পঞ্চায়েত নির্বাচনে খুব ভালো ফল করছে। তাদের জনসভায় ভিড়ও হচ্ছে যথেষ্ট। সেই জনসভায় ভারতবিরোধিতার স্বর প্রচ্ছন্ন নয়। ওলি’র নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ই চীনের সঙ্গে ব্যবসা ও ট্রানজিটবিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

ব্যতিক্রমী রাজনীতিক জেরেমি করবিন

ব্রিটেনের আগাম নির্বাচনে অনেকটা বহিরাগত হিসেবেই প্রচারণা শুরু করেছিলেন লেবার দলের নেতা জেরেমি করবিন। তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে গত এপ্রিলে আগাম নির্বাচন ঘোষণা দেয়ার পর গত দু’মাসে ব্যাপক জনসমর্থন লাভ করেছেন করবিন। ব্যাপক এ জনসমর্থন আগামী বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে তাকে প্রধানমন্ত্রীর পদে অধিষ্ঠিত করবে বলে আশা করছেন তিনি। ৬৮ বছর বয়সী অদম্য এ নেতা এখন ব্রিটিশ রাজনীতিতে আর বহিরাগত নন। এদিক থেকে তাকে এক ব্যতিক্রমী রাজনীতিকই বলতে হবে। এএফপি জানায়, ১৯৮৩ সাল থেকে দীর্ঘসময় ধরে পার্লামেন্ট সদস্য থাকলেও সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শের কারণে বেশিরভাগ সময় ছিলেন কোণঠাসা ও উপেক্ষিত। তবে নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে ২০১৫ সালে লেবার দলের নেতৃত্বে চলে আসেন তিনি। বামপন্থী তৃণমূলের সমর্থকরাই মূলত করবিনের শক্তি। ২০১৬ সালে দলের দুই-তৃতীয়াংশ এমপির বিরোধিতা সত্ত্বেও পুনরায় দলের প্রধান পদে নির্বাচিত হন তিনি। ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী তেরেসা তাকে দুর্বল, অগোছালো ও সরকার চালানোর ক্ষেত্রে অযোগ্য এবং ব্রিটেনের নিরাপত্তা ও উন্নতির প্রতি ঝুঁকি বলে আখ্যায়িত করেছেন। উত্তর আয়ারল্যান্ড সংঘাতের ক্ষেত্রে আইরিশ রিপাবলিকান আর্মির কর্মকাণ্ডের (আইআরএ) নিন্দা জানানোর ব্যর্থতার কারণে ডানপন্থীদের পক্ষ থেকে প্রায়ই তাকে সমালোচনা করা হয়।
গত তিন মাসে তিনটি বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পর এ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে করবিন বলেন, উত্তর আয়ারল্যান্ড সমস্যার সমাধানে তিনি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে করবিনের নেতৃত্বে লেবার দল যে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে তা দেশটির ভোটারদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তেরেসা সরকারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগ করেছেন করবিন। তেরেসা যেখানে পুলিশের সংখ্যা কমানোর কথা বলছেন, সন্ত্রাস দমনের লক্ষ্যে করবিন তখন ১০ হাজার নতুন পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হবে বলে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। লেবার দলের নির্বাচনী ইশতেহারে করবিনের মধ্যপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে। একজন আজীবন প্রতিবাদী রাজনীতিক ও প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ব্যবস্থাবিরোধী ইমেজ দেশটির তরুণ ভোটারদের কাছে তাকে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তুলেছে। ব্যক্তিগত জীবনে মধ্যপন্থা অবলম্বন করেন করবিন। কোনো রকম বিলাসিতা পছন্দ করেন না তিনি। এমনকি তার কোনো গাড়ি নেই। উত্তর লন্ডনের ইসলিংটনের এ এমপি আজও একটি বাইসাইকেল চড়েন। তার স্ত্রী লরা আলভারেজ একটি কফি কোম্পানি পরিচালনা করেন। বয়সের দিকে লরা করবিনের চেয়ে ২০ বছরের ছোট। এল গ্যাটো নামে তাদের একটা বিড়াল আছে। এ বিড়ালটির মধ্যেও সমাজতান্ত্রিক প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়, করবিন মন্তব্য করেছেন।

তেরেসার রঙিন স্বপ্ন কী দুঃস্বপ্ন হতে যাচ্ছে

ব্রিটেনের নির্বাচন সম্ভবত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মের জন্য দুঃস্বপ্ন হতে যাচ্ছে। গত ১৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে ব্রিটেনে আগাম নির্বাচনের ডাক দেন। তখন অনেকেই বলেছিলেন, নির্বাচনে বড় ধরনের জয় পেতে যাচ্ছেন তেরেসা। বলা হয়েছিল, এক্ষেত্রে তেরেসার দুটো বড় ধরনের সুবিধা রয়েছে। একটি ব্রেক্সিট ইস্যুতে নিজেকে একজন শক্তিশালী নেতৃত্ব হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ। অপর সুবিধা হচ্ছে, তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্ব^ী প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন। তেরেসাসহ অনেকেই করবিনকে দুর্বল ও কর্মক্ষম বলে তিরস্কার করে থাকেন। এএফপি জানায়, আগামী বৃহস্পতিবার নির্বাচন সামনে রেখে সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, এসব প্রত্যাশা ক্রমেই অনিশ্চয়তার মেঘে ঢেকে যাচ্ছে। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের রাজনীতির অধ্যাপক আয়ান বেগ বলেন, ‘তিনি মনে করেছিলেন, নির্বাচনে হেসেখেলেই জিততে যাচ্ছেন তিনি। তার এ ধারণা এখন ভেঙে গেছে।’ নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রচারণার ক্ষেত্রে ভুল পদক্ষেপ এবং প্রতিদ্বন্দ্ব^ী নেতা করবিনের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো পারফরমেন্স তেরেসার ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে আর মাত্র কয়েকটা দিন হাতে রয়েছে। এ মুহূর্তে প্রচারণায় গিয়ে তিনি ভোটারদের অদ্ভুত সব প্রশ্নের সম্মুখীন হতে পারেন। ভোটাররা জানতে চাইতে পারেন, ব্রিটেনের নিরাপত্তা বাহিনী কেন সন্ত্রাসী হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে।
গত তিন মাসে দেশটিতে তিনটা সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। এতে অন্তত ৩৪ জন নিহত ও ২ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তেরেসার জনসমর্থন কেবলই কমছে। রোববারের এক জনমত জরিপ বলেছে, ক্ষমতাসীন টোরি পার্টি লেবার দলের চেয়ে মাত্র ১ পয়েন্ট এগিয়ে আছে। গত সপ্তাহে ইউগভের চালানো এক জনমত জরিপে বলা হয়, তেরেসার রক্ষণশীল দল নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না। সরকর গড়তে হলে অন্য দলের সমর্থন লাগবে দলটির। এমনকি একটা ঝুলন্ত পার্লামেন্ট গঠিত হতে পারে বলে জানানো হয় জরিপে। নির্বাচনী প্রচারণায় তেরেসার একমাত্র মন্ত্র হচ্ছে, ব্রেক্সিট কার্যকর করতে তার মতো শক্তিশালী ও স্থায়ী নেতৃত্ব প্রয়োজন। তবে জনসমক্ষে তেরেসার আচরণ ও স্বাস্থ্য খাত, নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোতে তার দলের অবস্থান তার ভাবমূর্তি অনেকটাই মলিন করে দিয়েছে। একদিকে ব্রেক্সিট ইস্যু ভোটারদের মধ্যে আশানুরূপ আলোড়ন তৈরি করতে পারেনি। অন্যদিকে নির্বাচনী ইশতেহারে বার্ধক্য ভাতা, স্কুল তহবিল ও ন্যাশনাল হেল’ সার্ভিস (এনএইচএস) বা জাতীয় স্বাস্থ্যসেবায় তেরেসার দলের ভর্তুকি কমিয়ে দেয়ার ঘোষণায় ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। দুটো ব্যাপারই লেবার দলের জন্য শাপেবর হয়েছে। লেবার পার্টি সরকারি পরিষেবায় ভর্তুকি বৃদ্ধি, ধনী ও ব্যবসায়ীদের ওপর উচ্চ হারে কর বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

খুনিদের পরিচয় জেনেছে পুলিশ

লন্ডন ব্রিজ ও বোরো মার্কেট এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে ব্রিটিশ পুলিশ। হামলাকারীদের নাম ‘যত দ্রুত সম্ভব’ প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ। হামলার ৮ মিনিটের মাথায় তাদেরকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ। খবর বিবিসির। শনিবার রাতের ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। রোববার আইএসের মুখপত্র আমাক নিউজ এজেন্সি বলেছে, ‘আইএসের প্রতি অনুগতরা লন্ডনে হামলা চালিয়েছে।’ এ বিষয়ে লন্ডন পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। শুধু জানানো হয়েছে,
শিগগির নিহত ৩ হামলাকারীর পরিচয় প্রকাশ করা হবে। সোমবার সকালে ব্রিটিশ পুলিশ জানায়, তাদের কর্মকর্তারা পূর্ব লন্ডনের নিউহ্যাম ও বার্কিং এলাকার দুটি স্থানে তল্লাশি চালান। এর মধ্যে বার্কিং থেকে ১২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হলেও ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে পরে ছেড়ে দেয়া হয়। মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ক্রেসিডা ডিক জানান, হামলাকারীদের গাড়ি ও পুলিশি তল্লাশি থেকে বিশাল পরিমাণ দলিল-প্রমাণ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে চলছে। হামলার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা সেটাই খুঁজে দেখা হচ্ছে।

হবু স্বামীর কোলেই নিভে গেল প্রাণপ্রদীপ

খুব শিগগির গাঁটছড়া বাঁধার কথা ছিল ক্রিস্টিন আরচিবল্ড ও টেইলার ফার্গুসনের। বিয়ের আগে এই হবু দম্পতি ঘুরতে গিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের বোরো মার্কেট এলাকায়। কে জানত, সেদিনই তারা আলাদা হয়ে যাবেন চিরকালের মতো। সেদিন রাতে হঠাৎ হামলা হয় লন্ডনে। দ্রুতগতিতে ভ্যানগাড়ি চালিয়ে এসে তিন হামলাকারী চাপা দেয় লন্ডন ব্রিজের ওপরে থাকা পথচারীদের। তারপর তারা যায় নিকটবর্তী বোরো মার্কেট এলাকায়। ভ্যান থেকে নেমে সাধারণ মানুষের ওপর এলোপাতাড়ি ছুরি চালাতে থাকে তিন হামলাকারী। তাদের ছুরির প্রথম শিকার হন ক্রিস্টিন।
দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানায়, ছুরির আঘাতে গুরুতর আহত হন ক্রিস্টিন। লুটিয়ে পড়েন হবু স্বামী ফার্গুসনের কোলে। ভালোবাসার মানুষটির কোলে মাথা রেখেই শেষ হয় ক্রিস্টিনের মৃত্যুযন্ত্রণা। টেইলারের বোন ক্যাসি ফার্গুসন কানাডার সিবিসি নিউজকে জানান, ওই ঘটনার পর ভেঙে পড়েছেন তার ভাই। তিনি নিজ চোখে ক্রিস্টিনকে মারা যেতে দেখেছেন। টেইলারের কোলেই মারা যান তিনি। এতে ফার্গুসন ভেঙে লাখো টুকরায় পরিণত হয়েছেন। ক্রিস্টিনের পরিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, সুন্দরী, প্রিয়তম কন্যা ও বোনের মৃত্যুতে তারা শোকে বিহ্বল।

কাশ্মীরে গুলিতে ৪ আত্মঘাতী নিহত

জম্মু-কাশ্মীরের বান্দিপোরায় সোমবার ভোরে আধা সামরিক বাহিনী সিআরপিএফের ক্যাম্পে গেরিলা হামলা চালিয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। এ সময় পুলিশ ও সিআরপিএফের পাল্টা হামলায় ৪ বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছে। সিআরপিএফের ৪৫ ব্যাটালিয়নের সদর দফতরের ওই হামলাকে বানচাল করে দিয়েছে যৌথ বাহিনী। এনডিটিভি জানায়, ভোর পৌনে ৪টা নাগাদ অজ্ঞাত ওই বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সিআরপিএফ ক্যাম্পটি আগুনে পোড়ানোর পরিকল্পনা করেছিল। ক্যাম্পটিতে প্রবেশ করে আত্মঘাতী হামলার লক্ষ্যে ৩ পেট্রুলবোমা, ৪টি একে-৪৭ রাইফেল, একটি ইউবিজিএলসহ এক ডজনেরও বেশি গ্রেনেড এবং প্রচুর গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়েছিল। জওয়ানদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে হামলাকারীরা। তৎক্ষণাৎ জবাব দেয় জওয়ানরা। উভয় পক্ষের মধ্যে কমপক্ষে ৪৫ মিনিট ধরে সংঘর্ষ চলে। কাশ্মীর পুলিশের আইজি জুলফিকার হাসান সফলভাবে গেরিলা হামলা মোকাবিলা করার জন্য সিআরপিএফের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, এটি একটি ভয়ানক হামলা ছিল কিন্তু জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের সঙ্গে আমাদের সতর্ক জওয়ানরা তা বানচাল করে দিয়েছে।

সন্তানকে ছুড়ে ফেলে হত্যার পর মাকে গণধর্ষণ

চলন্ত অটোরিকশা থেকে নয় মাস বয়সী সন্তানকে ছুড়ে ফেলে হত্যার পর মাকে গণধর্ষণ করেছে তিন দুর্বৃত্ত। ভারতে দিল্লির কাছের গুরগাঁও এলাকায় এ ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। খবর এনডিটিভির। সোমবার পুলিশ জানায়, ২৯ মে রাতে ধর্ষণের শিকার ২৩ বছর বয়সী ওই নারীর তার স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে তিনি রাগ করে শিশু সন্তানকে নিয়ে গভীর রাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে তাকে রাস্তায় একা পেয়ে অটোরিকশাতে জোর করে তুলে নেয় তিন ধর্ষক। ওই নারী পুলিশকে জানায়, গাড়িতে ওঠার পর থেকেই তিন ধর্ষক তার সঙ্গে অসভ্যতা শুরু করে।
পরে তাদের সঙ্গে ওই নারীর ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় তার কোলের শিশুটি কান্না করে উঠলে ধর্ষকরা তাকে কেড়ে নিয়ে রাস্তায় ছুড়ে ফেলে হত্যা করে। পরে তারা মিলিতভাবে তাকে ধর্ষণ করে। পুলিশ জানায়, মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়। ঘটনার তদন্তে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় হত্যা ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে দোষীদের ধরার জন্য তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ সদস্যরা। গত মাসে হরিয়ানায় এটি তৃতীয় ধর্ষণের ঘটনা। এর আগে এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এছাড়া অন্য এক তরুণীকে ধর্ষণের পর অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

নেটওয়ার্ক পেতে মই বেয়ে গাছে উঠলেন মন্ত্রী!

তথ্যপ্রযুক্তিতে বহুদূর এগিয়েছে ভারত। কিন্তু দেশটির বহু এলাকা এখনও আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধাবঞ্চিত। এমনই একটি এলাকা সফরে গিয়ে অভিনব অভিজ্ঞতা হয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় অর্থ ও কর্পোরেট বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়ালের। প্রত্যন্ত এক গ্রামে সফরকালে মোবাইলের নেটওয়ার্ক পেতে তাকে মই বেয়ে গাছে উঠতে হয়েছে! রোববার অর্জুন রাজস্থানে তার নির্বাচনী এলাকার অন্তর্গত প্রত্যন্ত ধোলিয়া গ্রামে সফরে যান। সফরকালে তিনি গ্রামবাসীর সঙ্গে তাদের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে গ্রামবাসীও তাদের অভিযোগ জানান। বলেন, স্থানীয় হাসপাতালে নার্সের সংখ্যা কম। এ কারণে তাদের স্বাস্থ্যসেবা পেতে বেশ অসুবিধার মুখোমুখি হতে হয়। এ অভিযোগ পেয়ে তিনি পাশের শহরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ফোন দেন। এতেই বাধে বিপত্তি। বারবার চেষ্টা করার পরেও নেটওয়ার্ক পেতে ব্যর্থ হন তিনি। গ্রামবাসীর সামনে বিব্রত হতে হয়। সমাধানে এগিয়ে আসেন গ্রামের মানুষই।
তারা প্রতিমন্ত্রীকে গাছে উঠে কথা বলার পরামর্শ দেন। এ বুদ্ধি পছন্দ হয় অর্জুনের। সঙ্গে সঙ্গেই জোগাড় করা হয় মই। তা বেয়ে সটান গাছে উঠে যান ৬২ বছর বয়সী এ রাজনীতিক। দেখা মেলে নেটওয়ার্কের। প্রয়োজনীয় কথা সেরে নিরাপদেই নেমে আসেন তিনি। এ সময় সরকারি কর্মকর্তারা নিচে দাঁড়িয়ে মই ধরে ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করেন। গ্রামবাসী জানান, নিকটস্থ শহর থেকে ৮৫ কিলোমিটার দূরের এ গ্রামটিতে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক পাওয়া বেশ দুষ্কর। মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক পেতে অহরহ তাদের গাছে উঠতে হয়! এ ঘটনার ছবি ভাইরাল হলে আলোচনা-সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এ ঘটনাকে মোদির ডিজিটাল ভারত গড়ার স্বপ্নের বাস্তব অবস্থা বলে সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপে মেতে ওঠেন। তবে গাছে উঠেই ক্ষান্ত হননি প্রতিমন্ত্রী অর্জুন মেঘওয়াল। সমস্যা সমাধানে তাৎক্ষণিকভাবে ১৩ লাখ রুপি বরাদ্দ করেন। এ অর্থের বিনিময়ে আগামী ৩ মাসের মধ্যে গ্রামটিতে মোবাইল টাওয়ার ও বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের নির্দেশ দেন তিনি। এনডিটিভি।

৬০ কোটি ডলার নিয়ে উধাও মার্কিন অ্যাটর্নি

যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকির প্রতিবন্ধীবিষয়ক একজন অ্যাটর্নি ফেডারেল সরকারের ৬০ কোটি (৪৮০০ কোটি টাকা) হাতিয়ে উধাও হয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে এফবিআই। এরিক কন নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে গত মার্চে কেন্দ্রীয় সরকারের তহবিল তসরুপ এবং বিচারকদের ঘুষ দেয়ার অভিযোগ দায়ের করা হয়। তাকে ওই অর্থ ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আগামী মাসে তার সাজা ঘোষণা করা হবে। এফবিআই বলছে, তিনি জামিনের শর্ত ভঙ্গ করেছেন।
তার গায়ে যে ইলেকট্রুনিক নজরদারি ডিভাইস ছিল তা তিনি খুলে ফেলেছেন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে ফের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বর্তমানে সে কোথায় আছে তা জানা যায়নি। এপি জানায়, ১৯৯৩ সালে আইন ব্যবসায় নাম লেখান এরিক। এরপর তার প্রতিষ্ঠানটি দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিবন্ধীবিষয়ক আইনি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। তিনি টিভিতে নিজের ব্যতিক্রমী বিজ্ঞাপন দিয়ে সবার নজর কাড়েন।

কোরআন পোড়ানো ব্যক্তিকে রক্ষায় আইন বাতিল!

পবিত্র কোরআন পোড়ানো এক ব্যক্তিকে মুক্তি দিতে ডেনমার্ক ৩৩৪ বছরের পুরনো ধর্ম অবমাননা বা ব্ল্যাসফেমি আইনটি রহিত করেছে। ডেনমার্কের ৪২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি কোরআন পোড়ানোর ছবি ফেসবুকে দিয়েছিল। চামড়ায় বাঁধানো বড় একটি কোরআনের কপিতে আগুন দিয়ে সে চার মিনিটের একটি ক্লিপ ফেসবুকে পোস্ট করে।
এর শিরোনাম দেয়া হয় : আপনার প্রতিবেশীর কথা মাথায় রাখুন- এটা যখন জ্বলে তখন এটা থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ইসলামবিদ্বেষী একটি গোষ্ঠী ফেসবুকে সেটি পোস্ট করে। বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে ওই লোকটির চার মাসের কারাদণ্ড হওয়ার পথ সুগম হয়েছিল। ডেনমার্কের দণ্ডবিধির ১৪০ ধারায় তার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ দায়ের করা হয়। এই ধারায় প্রকাশ্যে কেউ ধর্ম অবমাননা করলে তার শাস্তির কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ৩৩৪ বছরের পুরনো সেই ধারাটি বাদ দিয়েছে ডেনমার্কের সংসদ। এমপিরা বলছেন, তারা বাক-স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ধর্মকে রক্ষাকারী এমন আইনের প্রয়োজনীয়তা দেখছেন না।

লন্ডনে হামলাকারীদের পরিচয় প্রকাশ

লন্ডনে শনিবার সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত তিন হামলাকারীর মধ্যে দু'জনের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করেছে ব্রিটেনের পুলিশ। এই দু'জনের একজন মরক্কো ও অন্যজন লিবিয়ান বংশোদ্ভূত। শনাক্ত করা দুজনই পূর্ব লন্ডনের বার্কিং এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশের দাবি, হামলাকারীদের একজন ২৭ বছর বয়সী খুরাম বাট্। তিনি বিবাহিত ও এক সন্তানের বাবা ছিলেন। ইসলামপন্থী উগ্রবাদীদের নিয়ে তৈরি একটি প্রামাণ্যচিত্রে তাকে দেখা গিয়েছিল এবং পুলিশ তার সম্পর্কে আগেই জানতো। অন্যজনের নাম রাশিদ রেদুয়ান। তার বয়স ছিল ৩০। শনিবার তিন হামলাকারী লন্ডন ব্রিজ ও বারো মার্কেট এলাকায় গাড়িচাপা ও ছরি নিয়ে এলোপাথাড়ি হামলা চালিয়ে সাত জনকে হত্যা করে। হামলায় অন্তত পঞ্চাশ জন আহত হন। পরে পুলিশের গুলিতে তিন হামলাকারী নিহত হয়। ওদিকে ব্রিটেনের ১৩০ জন ইমাম ও ধর্মীয় নেতা লন্ডন হামলাকারীদের জানাজা পরাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

আল-জাজিরার অফিসও বন্ধ করে দিচ্ছে সৌদি আরব

কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পর দেশেটির সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার বিরুদ্ধেও খড়গহস্ত হয়েছে সৌদি আরব। এরই মধ্যে দেশটিতে আল জাজিরার সম্প্রচারের লাইসেন্স বাতিল এবং কার্যালয় বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সৌদি সরকার। এছাড়া আল জাজিরায় কর্মরত সৌদি সাংবাদিকদেরও বাড়ি ফেরার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সৌদি সংবাদ সংস্থা আজেল মিডিয়ার বরাতে এই খবর জানিয়েছে রাশিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা স্পুটনিক নিউজ। এতে বলা হয়, সোমবার কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরব, বাহরাইন, মিশর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। একই পদক্ষেপ নেয় লিবিয়া, ইয়েমন এবং মালদ্বীপ। এরপরই কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার বিরুদ্ধে খড়গহস্ত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে সৌদি আরব। স্পুটনিক জানায়, সৌদির রাজধানী রিয়াদে আরব ইসলামি আমেরিকান সম্মেলনের এক সপ্তাহের মাথায় দোহার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা আসে। ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক সহজ করতে চান বলে কাতারের আমিরের একটি বক্তব্য প্রচার করে দেশটির একটি সংবাদ সংস্থা। এরপর কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি বলেন, যে সংবাদ সংস্থায় বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে তা হ্যাক হয়েছিল। আর আমিরের বক্তব্য হ্যাকাররাই প্রচার করেছে জানিয়ে এ ক্ষেত্রে তার কিছুই করার ছিল না। তবে এ বক্তব্যের পরেও সৌদি, আমিরাত এবং বাহরাই মনে করে ইরানের সঙ্গে সত্যিই কাতারের আমির সম্পর্ক সহজ করতে চান। প্রসঙ্গত, ইরানের সঙ্গে আরব দেশগুলোর বৈরিতা চলছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক বিভিন্ন দ্বন্দ্বের কারণে সৌদি আরবের সঙ্গে দেশটির বিরোধ চলছে।

কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ায় কাতার কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে?

কাতারের সঙ্গে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মিসরসহ ছয়টি দেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। এর ফলে অর্থনৈতিক সম্পর্কও ভেঙে পড়বে। আঞ্চলিক সম্পর্কের হঠাৎ এ অবনতির কি প্রভাব পড়বে কাতারের অর্থনীতিতে এবং সেই দেশের অধিবাসীদের ওপরে? মাত্র ২৭ লাখ মানুষের বসবাস আরব উপদ্বীপের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত এ ছোট রাষ্ট্রে। তবে কাতার তার ওজনের চেয়ে অনেক উপরের পর্যায়ে খেলার চেষ্টা করে। মানুষ কাতারকে চেনে আংশিকভাবে জাতীয় বিমান পরিবহন সংস্থা কাতার এয়ারওয়েজ এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরার জন্য। আরও পরিচিতি এসেছে ক্রীড়া জগতে কিছু সাফল্যের মাধ্যমে, যেমন ২০২২ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের অধিকার অর্জন এবং বিশ্বের সব চেয়ে জনপ্রিয় ফুটবল দলগুলোর মধ্যে অন্যতম বার্সেলোনাকে স্পন্সর করে। আর রাজধানী দোহা ব্যাপক আধুনিক উন্নয়নের মাধ্যমে অনেক বহুজাতিক কোম্পানিকে সেখানে অফিস খুলতে আকৃষ্ট করেছে। কাজেই, এ সংকট অনেক কিছুকেই প্রভাবিত করতে পারে। আবুধাবির ইতিহাদ এয়ারওয়েজ এবং দুবাইভিত্তিক এমিরেটস মঙ্গলবার থেকে তাদের দোহাগামী বা দোহা থেকে সব ফ্লাইট স্থগিত করবে। বর্তমানে এ দুই বিমান সংস্থা দোহাতে দিনে চারটি ফ্লাইট পরিচালনা করে। স্বল্প ব্যয়ের বিমান সংস্থা ফ্লাই দুবাই এবং এয়ার অ্যারাবিয়াও তাদের দোহা ফ্লাইটগুলো বাতিল করছে।
ধারণা করা হচ্ছে, অন্যান্য বিমান সংস্থা যেমন বাহরাইনের গালফ এয়ার এবং মিসরের ইজিপ্টএয়ারও তাদের দোহা ফ্লাইট বাতিল করবে। এর আগে সৌদি আরব, আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং মিসর ঘোষণা করে যে তারা কাতারের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ ছিন্ন করবে এবং নিজেদের আকাশপথ কাতার এয়ারওয়েজের জন্য বন্ধ করে দেবে। কাতারের জাতীয় বিমান সংস্থা এখানে সবচেয়ে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হবে। দুবাই, আবুধাবি, রিয়াদ এবং কায়রোর মতো জায়গায় তাদের ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাবে। তারা ইতিমধ্যেই সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। কিন্তু এ অঞ্চলের আকাশপথের একটি বড় অংশ তার জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা বাধ্য হবে তাদের যাত্রাপথ বদলাতে। এর ফলে অনেক রুটে সময় বেশি লাগবে। যেমন ইউরোপ যাত্রায় আগে ৬ ঘণ্টা লাগত, সেটা যদি এখন রুট বদল করার ফলে ৮-৯ ঘণ্টা লাগে তাহলে যাত্রীদের জন্য আর সুবিধাজনক থাকবে না এবং তারা বিকল্প খুঁজতে পারেন। মরুভূমির দেশগুলোর স্বাভাবিক কারণেই খাদ্য ফলাতে কষ্ট হয়। খাদ্য নিরাপত্তা কাতারের জন্য বড় একটি বিষয়। কারণ স্থলপথে দেশে প্রবেশ করার একটিই পথ এবং সেটা হচ্ছে সৌদি সীমান্ত দিয়ে। প্রতিদিন শত শত ট্রাক এ সীমান্ত দিয়ে আসে এবং মালামালের একটি বড় অংশ খাদ্যদ্রব্য। ধারণা করা হয়, কাতারের খাদ্য আমদানির ৪০ শতাংশ এ পথে আসে। সৌদি আরব বলেছে তারা এ সীমান্ত বন্ধ করে দেবে এবং ট্রাক আসা বন্ধ হলে কাতার বিমান এবং সমুদ্রপথে মালামাল আমদানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। এর ফলে মুদ্রাস্ফীতি ঘটবে যেটা সাধারণ মানুষকে সরাসরি আঘাত করবে। কাতারে এ মুহূর্তে কয়েকটি বড় নির্মাণ প্রকল্প চলছে, যাদের মধ্যে আছে একটি নতুন বন্দর, মেডিকেল এলাকা, মেট্রো প্রকল্প এবং ২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য আটটি স্টেডিয়াম। নির্মাণ শিল্পের প্রয়োজনীয় উপকরণ যেমন কংক্রিট এবং ইস্পাত জাহাজে এলেও, স্থলপথ দিয়ে সৌদি আরব হয়েও আসে। সীমান্ত বন্ধ হলে খাদ্যদ্রব্যের মতো নির্মাণ উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাবে এবং কাজ সময়মতো শেষ করা কঠিন হয়ে যাবে। সৌদি সরকার বলেছে, সম্পর্ক ছিন্ন করার অংশ হিসেবে সৌদি আরব, মিসর, বাহরাইন, আরব আমিরাত, লিবিয়া এবং ইয়েমেনের নাগরিকদের কাতারে যাওয়া, সেখানে বসবাস করা বা কাতার হয়ে অন্য কোনো দেশে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাদের ১৪ দিনের মধ্যে কাতার ছাড়তে বলা হয়েছে। বিবিসি।

বন্যায় সিলেট অঞ্চলে শতাধিক গ্রাম প্লাবিত

পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির কারণে সিলেটসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা, কুশিয়ারা, মুন, খোয়াই ও ধলাই নদীতে পানি বিপদসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে এ পাঁচ নদীর অববাহিকায় থাকা শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে ওসমানীনগরের ১৮ গ্রামের অবস্থা খুবই খারাপ। কুশিয়ারা বাঁধ ভেঙে এসব গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এদিকে আবহাওয়া বিভাগ (বিএমডি) জানিয়েছে, লঘু চাপের বর্ধিতাংশ ভারতের বিহার থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর হয়ে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে অবস্থান করছে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ঢাকা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগ পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে। এ কারণে এসব এলাকায় বৃষ্টিপাত বেড়েছে। বিশেষ করে সোমবার ঢাকাসহ আশপাশ এলাকায় সারা দিনই কমবেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর বাইরে সিলেট এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘ভারতের ত্রিপুরা, আসাম ও মেঘালয় অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে। পাশাপাশি সিলেট অঞ্চলেও শনি এবং রোববার প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। ভারতের পাহাড়ি ঢলের পানি ভাটিতে নামছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সিলেট অঞ্চলের বৃষ্টির পানি। এ দুই পানি সুরমা, কুশিয়ারাসহ অন্য নদী দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এটাই বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।’ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের এক বুলেটিনে দেখা যায়, পাঁচ নদীর ৯ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টা ধরে এসব নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, গঙ্গা-পদ্মা, সুরমা ও কুশিয়ারা নদ-নদীর পানির সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আগামী ২৪ ঘণ্টা তা অব্যাহত থাকবে। তবে দু’একদিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সুরমা নদী কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৭ মিটার ওপরে আছে। কুশিয়ারার পানি অমলশীদ, শেওলা শেরপুর-সিলেট পয়েন্টে বিপদসীমার ওপরে আছে। এর মধ্যে অমলশীদে সর্বোচ্চ ১০৩ সেন্টিমিটার ওপরে বইছে। মনু নদীর পানি মনু রেলওয়ে ব্রিজ ও মৌলভীবাজার পয়েন্টে বিপদসীমার ওপরে আছে। এর মধ্যে মনু ব্রিজ এলাকায় ১ মিটার ওপরে বইছে। খোয়াই নদী বাল্লা ও হবিগঞ্জে এবং ধলাই নদী কমলগঞ্জে বিপদসীমার ওপরে আছে। এর মধ্যে হবিগঞ্জে ১৪০ সেন্টিমিটার ওপরে বইছে খোয়াই নদীর পানি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন জানান, শনি ও রোববার সিলেট এলাকায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়। তবে সোমবার তা অনেকটা কমে যায়। মেঘনা বেসিনে ১৭ স্টেশনে বৃষ্টিপাত পরিমাপ করা হয়। এর মধ্যে ৮ স্টেশনে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা গেছে। এ তথ্য থেকে আশা করা যায়, দু’একদিন পর নদ-নদীতে পানির প্রবাহ কমবে। এ প্রক্রিয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটবে। ওসমানীনগর (সিলেট) প্রতিনিধি জানান, ওসমানীনগরে কুশিয়ারা বাঁধ ভেঙে ১৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সোমবার ভোরে উপজেলার সাদীপুর ইউপির লামা তাজপুর জব্বার মিয়ার বাড়ির পাশে ডাইকের প্রায় ৫০ ফুট এলাকা কুশিয়ারার নদীর পানির প্রবল সে াতে ভেঙে গিয়ে গ্রামগুলো প্লাবিত হয়। এর ফলে সাদীপুর ইউপির ১নং ওয়ার্ডের সুরিকোনা, ইসলামপুর,
দক্ষিণকালনীচর, উত্তরকালনীচর, পূর্ব কালনীচর, ২নং ওয়ার্ডেও সুন্দিখলা, সম্মানপুর, মোকামপাড়া, রহমতপুর, চাতলপাড়, পূর্ব সুন্দিখলা, সম্মানপুর, ৭নং ওয়ার্ডের সাদীপুর, সৈয়দপুর ও ৮নং ওয়ার্ডের লামা তাজপুর, চরা তাজপুর, পূর্ব তাজপুর, টুকরাগাঁও গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার অধিবাসী দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। গত শীত মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তালিকাভুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবুল হোসেন এন্টারপ্রাইজের অনিয়মের কারণে কুশিয়ারা নদীর পানির চাপের কারণে বাঁধ ভেঙে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন সাদীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রব ও এলাকাবাসী। অনিয়মের বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল লতিফ বলেন, ‘আমি এখানে যোগদান করেছি বেশি দিন হয়নি। সাদীপুর ইউপির চেয়ারম্যানের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কাজের বিল না দেয়ার কথা নির্বাহী প্রকৌশলী ও আমাকে জানিয়েছেন।’ এদিকে ওসমানীনগরের সাদীপুরে কুশিয়ারা বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে ভাঙনস্থল পরিদর্শ করেছেন সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল লতিফ, ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান ও সাদীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রব।