Friday, January 29, 2010

জাহাজভাঙা শিল্পের জন্য যা দরকার by মশিউল আলম

সীতাকুণ্ডের উপকূলে পুরোনো জাহাজভাঙা শিল্পে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যায়, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হারায়। যখন এমন ঘটে তখন সংবাদমাধ্যমে খবর হয়, কয়েক দিন লেখালেখি চলে; নড়েচড়ে ওঠে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো। গত ২৬ ডিসেম্বর এ রকম এক দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যু ও ২৫ জনের আহত হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমে যথারীতি সাড়া পড়ে গেল; সীতাকুণ্ড সফর করলেন বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী। সরকারের তরফ থেকে বলা হলো, পুরোনো জাহাজ আমদানি ও ভাঙার বিষয়ে একটি নীতিমালা এবং আইনি বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করবে এমন বিধিমালা তৈরি করা হবে। ১ জানুয়ারি খবর বেরোল, পরিবেশ অধিদপ্তর ৮৪টি জাহাজ ভাঙার ইয়ার্ডকে পরিবেশগত ছাড়পত্র সংগ্রহ করার জন্য নোটিশ পাঠিয়েছে। কিন্তু এই তত্পরতা যে কিছুদিনের মধ্যে স্তিমিত হয়ে যাবে তাতে সন্দেহ নেই। কেননা প্রায় সব সমস্যার ক্ষেত্রেই স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা বা নিরন্তর নজদারির বদলে তাত্ক্ষণিক বা অস্থায়ী সমাধান খোঁজার প্রবণতা সরকারি কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে লক্ষ করা যায়। জাহাজভাঙা শিল্প এমন এক ক্ষেত্র, যেখানে সরকারের অন্তত তিনটি দপ্তরের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
মদিনা এন্টারপ্রাইজ নামের এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের একটি পুরোনো জাহাজ আমদানি ও ভাঙা নিয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের মার্চ মাসে হাইকোর্ট একটি রায় দিয়েছিলেন। ইংরেজিতে লেখা ২২ পৃষ্ঠা দীর্ঘ সে রায়ের ভাষ্য থেকে এ দেশে জাহাজভাঙা শিল্পের একটা চিত্র পাওয়া যায়।
মদিনা এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুরের ইয়ালুম্বা ইন্ক নামের এক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এমটি এন্টারপ্রাইজ নামের একটি পুরোনো তেলট্যাংকার ভাঙার উদ্দেশ্যে আমদানি করে। নিয়ম অনুযায়ী, ভাঙার উদ্দেশ্যে পুরোনো জাহাজ বিদেশ থেকে আমদানি করার জন্য এলসি খুলতে হলে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র নিতে হয়। মদিনা এন্টারপ্রাইজ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখিয়ে অধিদপ্তরের অনাপত্তিপত্র পায় ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৮। তারপর অধিদপ্তর জানতে পারে, গ্রিনপিস নামের আন্তর্জাতিক সংস্থার ক্ষতিকর পদার্থবাহী জাহাজের তালিকায় ওই পুরোনো তেলট্যাংকারটির নাম রয়েছে; অধিদপ্তর অনাপত্তিপত্রটি বাতিল করে। মদিনা এন্টারপ্রাইজ বাতিলাদেশের বিরুদ্ধে আদালতে রিট করে এবং অধিদপ্তরকে তদন্তের আবেদন জানায়। অধিদপ্তর ২০০৮ সালের ২৬ আগস্ট মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টের একজন প্রকৌশলী ও শিপ সার্ভেয়ার, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ডক মাস্টার ও সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান রসায়নবিদকে নিয়ে তিন সদস্যবিশিষ্ট এক তদন্ত কমিটি গঠন করে। সে কমিটি পরের দিনই (২৭ আগস্ট ২০০৮) তদন্ত করে এবং ২৮ আগস্ট প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়: ‘সমুদ্রে চলাচলের সময় এ ধরনের জলযানে যে মাত্রায় বিষাক্ত পদার্থ থাকে, এ জাহাজটিতে বিষাক্ত পদার্থের পরিমাণ তার চেয়ে বেশি নয়।’ ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়কে ২০০৮ সালের ৮ সেপ্টেম্বর এক চিঠি দিয়ে মদিনা এন্টারপ্রাইজকে দেওয়া অনাপত্তিপত্র বাতিলের আদেশ প্রত্যাহারের ইচ্ছা প্রকাশ করে। তখন অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় আদালতকে জানায় যে সরকার মদিনা এন্টারপ্রাইজের বাতিলাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আদালত ১০ সেপ্টেম্বর ২০০৮ এক আদেশে মদিনা এন্টারপ্রাইজকে ‘যথাযথ আইনকানুন মেনে’ উল্লিখিত জাহাজটি ‘ব্যবহারের’ (ভাঙা) স্বাধীনতা দেয়।
এ পর্যায়ে এগিয়ে আসে আইনবিদদের সংগঠন বেলা; ১৪ সেপ্টেম্বর ২০০৮ তারা আদালতে রিট আবেদন করে। রিটের শুনানির পর আদালত ১৭ সেপ্টেম্বর এক রুলনিশি জারি করে প্রথমে দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিতাদেশ দেন, পরে এর মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়। মদিনা এন্টারপ্রাইজ পাল্টা আপিল করে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ২৭ অক্টোবর হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন; কিন্তু তার আগেই মদিনা এন্টারপ্রাইজ আদালতের আদেশ অগ্রাহ্য করেই জাহাজটি কাটা শুরু করে। বেলা আদালত অবমাননার অভিযোগ তোলে, আবার শুনানি চলে, এভাবে পাল্টাপাল্টি যুক্তিতর্ক চলে। ১৭ মার্চ ২০০৯ হাইকোর্ট বেলার মামলার চূড়ান্ত রায় দেন, যেখানে জাহাজ কাটা বন্ধ করার পাশাপাশি অনুমতিহীনভাবে জাহাজভাঙায় নিয়োজিত সব ইয়ার্ড বন্ধ করে দিতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়। সর্বশেষ আপিল বিভাগ ইয়ার্ডগুলো বন্ধের আদেশ স্থগিত করে জাহাজভাঙা শিল্প সম্পর্কে একটি নীতিমালা ও বিধিবিধান প্রণয়নের আদেশ দেন।
মদিনা এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে বেলার দীর্ঘ ও জটিল আইনি লড়াইয়ের এই প্রক্রিয়ায় দেশের জাহাজভাঙা শিল্পের মালিক ও এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষগুলোর আচরণ লক্ষ করা দরকার।
প্রথমত, মদিনা এন্টারপ্রাইজ উল্লিখিত তেলট্যাংকারটি আমদানি করার জন্য এলসি খোলার আগে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের অনাপত্তিপত্রটি নিয়েছে অধিদপ্তরকে ধোঁকা দিয়ে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের আবেদনপত্রে এ তথ্যটি গোপন করেছে যে এমটি এন্টারপ্রাইজ নামের পুরোনো তেলট্যাংকারটি গ্রিনপিসের তালিকাভুক্ত এবং তাতে ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক পদার্থ আছে। আদালতের রায়ে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, মদিনা এন্টারপ্রাইজ সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরকে বিভ্রান্ত (mislead) করেছে।
কিন্তু জাহাজটি গ্রিনপিসের তালিকাভুক্ত, এটা না জানলেও সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ জানত যে জাহাজটি ১৯৭৯ সালে জাপানে তৈরি। আর এও তাদের জানা থাকার কথা যে বাংলাদেশের আমদানিনীতি আদেশ (২০০৬—২০০৯) অনুযায়ী ২৫ বছরের বেশি পুরোনো কোনো জাহাজ ভাঙার উদ্দেশ্যে আমদানি করা নিষিদ্ধ। আমদানির সময় এমটি এন্টারপ্রাইজের বয়স হয়েছিল ২৯ বছর। তাহলে কী করে এই জাহাজ আমদানির জন্য মদিনা এন্টারপ্রাইজ সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের অনাপত্তিপত্র পেল? আদালতের রায়ে এ বিষয়ে বলা হয়েছে: ‘সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর এমটি এন্টারপ্রাইজ নামের পুরোনো জাহাজটি আমদানির জন্য মদিনা এন্টারপ্রাইজকে অনাপত্তিপত্র দিয়েছে এমনভাবে, যেটাকে কারসাজি (subterfuge) বলে আখ্যা দেওয়া যায়।’ সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান রসায়নবিদের ফাইল নোটিং উদ্ধৃত করা হয়েছে আদালতের রায়ে: ‘জাহাজটির তথ্যসমূহ রেজি. সার্টিফিকেট ও এমওএ অনুযায়ী যথাযথ আছে। অনলাইন কানেকশন পাওয়া যায়নি। জাহাজটি গ্রিনপিস তালিকাভুক্ত নয়। এমতাবস্থায় এমটি এন্টারপ্রাইজের অনুকূলে এনওসি নম্বর ০৮০৭০৩৮ অনুমোদন দেওয়া যেতে পারে।’ আদালত বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এই বলে: ‘এটা বোধগম্য নয়, মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা অনলাইন কানেকশন পাওয়া যায়নি স্বীকার করেও কীভাবে সিদ্ধান্ত দিতে পারলেন যে জাহাজটি গ্রিনপিসের তালিকায় নেই।’ তারপর যখন অধিদপ্তর জানতে পারে জাহাজটি গ্রিনপিসের তালিকাভুক্ত, তখন অনাপত্তিপত্র বাতিল করে, কিন্তু প্রধান রসায়নবিদসহ যেসব কর্মকর্তা সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরকে বিভ্রান্ত করে মদিনা এন্টারপ্রাইজকে অনাপত্তিপত্র পাইয়ে দিয়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আদালতের রায়ে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় ফাওজিয়া নামের এক কর্মকর্তার কথা, যিনি অনাপত্তিপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করতে বারবার সুপারিশ করেন। রায়ে বলা হয়েছে, ‘আমাদের অনুভূতি হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, অর্থাত্ ফাওজিয়ার যোগ্যতা-দক্ষতা নিরূপণের লক্ষ্যে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া উচিত; অনুরূপভাবে, প্রধান রসায়নবিদের ভূমিকাও ওপরে বর্ণিত ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্নবিদ্ধ।’
দ্বিতীয়ত, দেরিতে হলেও অধিদপ্তর যখন জানতে পারে যে জাহাজটি গ্রিনপিসের ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক পদার্থবাহী জাহাজের তালিকাভুক্ত এবং সে কারণে মদিনা এন্টারপ্রাইজকে দেওয়া আমদানির অনাপত্তিপত্রটি বাতিল করে, তখন মদিনা এন্টারপ্রাইজ আদালতের শরণ নেওয়ার পাশাপাশি অধিদপ্তরকে আবারও বিভ্রান্ত করে। তারা বারবার দাবি করতে থাকে যে গ্রিনপিসের তালিকায় এমটি এন্টারপ্রাইজ নামের তেলট্যাংকারটি নেই। নিউ আটলান্টিয়া নামের যে তেলট্যাংকারটি আছে, সেটিই যে নাম পাল্টে এমটি এন্টারপ্রাইজ হয়েছে, এ তথ্য তারা অস্বীকার করে। সেই সঙ্গে মদিনা এন্টারপ্রাইজ তদন্ত করার জন্য অধিদপ্তরকে আবেদন জানালে অধিদপ্তর তদন্ত কমিটি গঠন করে, কিন্তু জাহাজটি গ্রিনপিসের তালিকায় আছে কি না তা খতিয়ে না দেখে বরং জাহাজটিতে কী পরিমাণ বিষাক্ত পদার্থ আছে তা নিরূপণ করতে যায়। এবং এটা তারা করে খুব তড়িঘড়ি করে। অধিদপ্তরের তৈরি তদন্ত কমিটি মাত্র এক দিনের মধ্যে জাহাজটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয় যে সমুদ্রগামী এ ধরনের অন্য যেকোনো জাহাজে যে মাত্রায় বিষাক্ত পদার্থ থাকে, এমটি এন্টারপ্রাইজ তেলট্যাংকারটিতে তার চেয়ে বেশি নেই। এ প্রসঙ্গে আদালতের রায়ে বলা হয়েছে: ‘সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের উদ্যোগে পরিচালিত তদন্তটির কার্যপরিধি (টার্মস অব রেফারেন্স) দৃশ্যত আত্মস্বার্থ-প্রণোদিত, উদ্দেশ্যমূলক ও ভ্রান্ত (self-serving, motivated and misconceived)। এতে তদন্তের প্রকৃত উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটেনি। যে পরীক্ষা করা হয়েছে তা অযৌক্তিক, তদন্ত কমিটির দেওয়া তথ্যগুলো অগ্রহণযোগ্য... তদন্তকারীদের আন্তরিকতা নিয়ে আমরা সন্দিগ্ধ।’ রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর তিন সদস্যের যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল, তা যথাযথ প্রতিনিধিত্বশীল ছিল না, বিশেষ করে পরিবেশ অধিদপ্তরের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিত্ব সম্পূর্ণভাবে অগ্রাহ্য করা হয়েছে।
তৃতীয়ত, সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের অনাপত্তিপত্রের বলে বিদেশ থেকে পুরোনো জাহাজ আমদানি করলেই তা ভাঙা/কাটার কাজ শুরু করা যায় না। এ জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছ থেকে পরিবেশগত ছাড়পত্র নিতে হয়। আদালতে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে মদিনা এন্টারপ্রাইজ এমটি এন্টারপ্রাইজ নামের তেলট্যাংকারটি কাটার কাজ শুরু করে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না নিয়েই। আদালতের রায়ে মন্তব্য করা হয়েছে, এ ব্যাপারে ‘পরিবেশ অধিদপ্তর সমস্ত ক্ষমতার অধিকারী হয়েও বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (১৯৯৫) ও এর অধীনস্থ বিধি-বিধান প্রয়োগে মর্মান্তিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে।’ শুধু মদিনা এন্টারপ্রাইজ নয়, পরিবেশ অধিদপ্তরের দেওয়া হিসাবেই ৮৪টি জাহাজ কাটার ইয়ার্ড কাজ করছে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই (বাস্তবে এই সংখ্যা শতাধিক)।
অর্থাত্ জাহাজভাঙা শিল্পের সঙ্গে জড়িত সরকারের দুটি কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে বিরাট ঘাটতি আছে; অনৈতিক অনুশীলনও যে আছে, বেলার মামলার রায়ে তার আভাষ সুস্পষ্ট। এ ছাড়া বিস্ফোরক অধিদপ্তরের ভূমিকাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। কোনো পুরোনো জাহাজ কাটা শুরু করার আগে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিতে হয়। গত ২৬ ডিসেম্বর যে জাহাজটিতে বিস্ফোরণ ঘটে চারজন মানুষ মারা গেল, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা দূর থেকে সেটি দেখে ইয়ার্ডের লোকজনকে বলেন, কাটো, কিন্তু পেছনের দিকে ওই অংশটুকু বাদ দিয়ে। তিনি কোনো লিখিত অনুমতি দিয়ে যাননি। এই একটি ঘটনা থেকেই বোঝা যায়, দেশের সবচেয়ে বিপজ্জনক শিল্পক্ষেত্রের ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা কী মর্মান্তিক। বলা হয়, জাহাজ কাটার মৌখিক অনুমতির ক্ষেত্রেও অবৈধ অর্থযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশে জাহাজকাটা শিল্প সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কর্মক্ষেত্রগুলোর একটি। প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও প্রাণের ঝুঁকি অত্যধিক। কিন্তু এই শিল্প বন্ধ করার ভাবনা অনেক কারণেই বাস্তবসম্মত নয়। প্রয়োজন এ শিল্পের ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতি সর্বোচ্চ মাত্রায় কমিয়ে ফেলা। সে জন্য দরকার সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের দায়িত্বশীলতা, আন্তরিক তত্পরতা ও সততা। আমদানিনীতি আদেশ, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, শ্রম আইন, বাসিল কনভেনশন—এগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী আইনি হাতিয়ার। কিন্তু এসবের যথাযথ প্রয়োগ নেই। গত মঙ্গলবার হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ আগামী দুই মাসের মধ্যে জাহাজভাঙা শিল্প সম্পর্কে পৃথক বিধিমালা ও গেজেট নোটিফিকেশন প্রকাশ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এটা খুবই ভালো ও দরকারি কাজ। কিন্তু বিধিমালা প্রয়োগ করা না হলে সবই নিষ্ফল। ১৭ মার্চের রায়ে আদালত বিদেশ থেকে পুরোনো জাহাজ আনার আগে সেগুলোর প্রি-ক্লিনিং বা বর্জ্যমুক্ত করা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়া নিশ্চিত করতে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর আগের মতোই, অর্থাত্ পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও বর্জ্যমুক্তকরণ নিশ্চিত না করেই বিষাক্ত পদার্থবাহী জাহাজ আমদানির অনুমোদন দিয়ে চলেছে। তাই গত মঙ্গলবার আদালত সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন, ১৭ মার্চ ২০০৯-এর পর থেকে এ পর্যন্ত কতটি পুরোনো জাহাজ ভাঙার উদ্দেশ্যে আমদানি করা হয়েছে এবং সেগুলো কোথায় কীভাবে বর্জ্যমুক্ত করা হয়েছে সে সম্পর্কে জানাতে।
বেলার মামলার রায়ে যে চিত্র ফুটে উঠেছে, এবং ১৭ মার্চ ২০০৯ আদালতের গুরুত্বপূর্ণ রায়টির পরও যে চিত্রে কোনো পরিবর্তন ঘটেনি, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর তেমন আচরণের বিচার ও শাস্তি না হলে অবস্থার উন্নতি হবে না। তাদের দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে জরুরি কাজ।
মশিউল আলম: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
mashiul.alam@gmail.com

শ্রমবাজারে নারী ও সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা by জোবাইদা নাসরীন |

আমেরিকার কর্মক্ষেত্রগুলোতে অল্প কয়েক মাসের মধ্যেই নারীকর্মীরা সংখ্যার দিক থেকে পুরুষকর্মীদের ছাড়িয়ে যাবেন। কয়েকটি ধনী দেশে পেশাজীবী নারীরা এরই মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ওইসিডির (অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) দেশগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েট সংখ্যার দিক থেকে নারীরা পুরুষদের ছাড়িয়ে গেছে। আমেরিকাতে ২০১১ সালের মধ্যে ছেলেদের চেয়ে ২৬ লাখ বেশি মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে। স্ক্যান্ডেনেভিয়ান অঞ্চলের দেশগুলো নারীকর্মী নিয়োগে বিশ্বে প্রথম দিকে রয়েছে। এসব দেশে কর্মজীবী নারীদের সবচেয়ে কম সামাজিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। (সূত্র: দি ইকোনমিস্ট) ধনী দেশগুলোর কর্মক্ষেত্রে নারীদের এই অগ্রগতির খবর নিঃসন্দেহে আমাদেরও আশাবাদী করে। বাংলাদেশকে ২০১৫ সালের মধ্যে সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জন করতে হলে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি।
বৈশ্বিক পরিপ্রেক্ষিতে, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন সমসাময়িক কালের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি। কিছুদিন আগেও গৃহস্থালির মতো একঘেয়েমির কাজে নারীকে সবচেয়ে বেশি দেখা যেত। নারীর জন্য শুধু নির্দিষ্ট কিছু কাজই রাখা হতো পাবলিক পরিসরে। মনে করা হতো, বিয়ে ও সন্তান হওয়ার পর নারী তার ক্যারিয়ার ছেড়ে দেবে। এসব চিন্তায় কম-বেশি পরিবর্তন এসেছে। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি নারী উত্পাদনমূলক নানা কাজে নিজেদের নিয়োজিত করেছে। শুধু চ্যালেঞ্জিং কাজেই নয়, চ্যালেঞ্জিং অনেক সিদ্ধান্তও আসছে নারীদের কাছ থেকে। এ ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এখনো অনেকটাই অসম্পূর্ণ। সমস্যা রয়ে গেছে অনেক।
বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বলা বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ ক্রমান্বয়ে বাড়লেও তা এখনো বেশ কম। বর্তমান সরকারের আমলে মন্ত্রিসভাসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় স্থান পেয়েছে নারীরা। কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদেও আছে তারা। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের ২০০৮ সালের এক রিপোর্ট অনুযায়ী সব মিলে মাত্র ২৬ শতাংশ নারী অর্থনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে, যাদের বেশির ভাগই শ্রমিক। গার্মেন্টসশিল্পে অনেক বেশি নারীর সম্পৃক্ততা বাংলাদেশের নারীর অর্থনৈতিক কাজের সম্পৃক্ততার এ হারকে বাড়াতে সহায়তা করেছে। যদিও এ দেশে বেতন-কাঠামোতেও অনেকাংশে রয়েছে বৈষম্য। ঘরে-বাইরে নারীর অবৈতনিক শ্রম এখানে যুক্ত করা হয়নি।
বাংলাদেশে বর্তমানে শ্রমবাজারের বিভিন্ন খাতে নারীর আগমন গত ১০ বছরে নিঃসন্দেহে অনেক বেড়েছে। তবে প্রতিবছর শ্রমবাজার থেকে নারীর ফিরে যাওয়ার সংখ্যাও অনেক। নারীদের একটি বৃহত্ অংশ শ্রমবাজার থেকে বিভিন্ন কারণে ঝরে পড়ে, যার বেশির ভাগেরই কোনো হিসাব পাওয়া যায় না। শুধু পারিবারিক ও সামাজিক মতাদর্শই নয়, শ্রমবাজার নারীর জন্য এখনো সব দিক থেকে অনুকূল নয় বলে নারীর এই বিপরীতমুখী যাত্রা। এখন অনেক চাকরির বিজ্ঞাপনে নারীদের আবেদন জানাতে উত্সাহিত করে ‘ওমেন আর এনকারেজড টু অ্যাপ্লাই’ লেখা থাকলেও নারীর জন্য কর্মক্ষেত্রগুলো খুব ‘এনকারেজিং’ থাকে না। বাস্তবে কর্মক্ষেত্রে নারীর জন্য অনুকূল পরিবেশ না থাকায় বহু নারী অনেক জায়গাতেই টিকে থাকতে পারে না; তারা বাধ্য হয় তাদের জায়গা ছেড়ে দিতে। ফলে আমাদের চাকরির বাজারে নারীর আগমন যেমন বাড়ছে, তেমনি এখান থেকে নারীর ঝরে পড়ার হারও নেহাত কম নয়।
শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বজুড়ে চাকরির বাজার থেকে নারীর ঝরে পড়ার অন্যতম কারণ, চাকরিজীবী মায়েদের জন্য কর্মক্ষেত্রে পরিবারবান্ধব অবস্থা না থাকা। অনেক চাকরিজীবী মা শুধু ডে কেয়ার সেন্টার থাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কম বেতনেও কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। খোদ আমেরিকার অনেক জায়গাতেই সন্তানহীন নারীর আয় অনেক বেশি, কিন্তু যাদের সন্তান আছে, সেসব নারী অপেক্ষাকৃত কম উপার্জন করে (সূত্র: দি ইকোনমিস্ট)। এ বিষয়গুলো চিন্তা করে সুইডেন ও জার্মানির ৯০ শতাংশেরও বেশি কোম্পানি সুবিধামতো কর্মসময় করেছে। তারা নতুন নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করার চেষ্টা করছে, যাতে কর্মক্ষেত্রে নারীকর্মীর প্রয়োজনগুলো মেটানো যায়।
বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রে ডে কেয়ার সেন্টারের দাবি দীর্ঘদিনের। পাশাপাশি রয়েছে আরও কিছু সমস্যা। কর্মস্থলে যৌন হয়রানি, অসম বেতন এবং যাতায়াতের সমস্যার কারণে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে নারীর জন্য পুরোপুরি নিরাপদ ও অনুকূল কর্মক্ষেত্র করা যায়নি। এমনকি অনেক বড় গার্মেন্টস কারখানা এবং অফিসেও নারীর জন্য পৃথক টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়নি। দেশে এখন অনেক নারীই পরিবার ও সমাজের নানা বাধা জয় করে চাকরির বাজারে প্রবেশ করলেও সেখানে বিরাজমান সমস্যার কারণে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছে। এসব বিষয়ের প্রতি এখনই নজর না দিলে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের কাজ অনেক কঠিন হবে। সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যগুলোর তৃতীয়টি হলো নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী-পুরুষের সমতা বিধান। শ্রমবাজারকে নারীর জন্য অনুকূল করতে না পারলে কোনোভাবেই এই লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে না।
প্রতিবছর কত নারী শ্রমবাজারে, শিক্ষাঙ্গনে প্রবেশ করছে, কোন স্তরের পদে কাজ করছে, এর পাশাপাশি কত নারী এই শ্রমবাজার থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছে, কেন নিচ্ছে, এগুলোর সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে থাকা প্রয়োজন। শুধু তথ্যই নয়, নারীর জন্য অনুকূল কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করতে সরকারকেই আগে উদ্যোগ নিতে হবে। ২০১৫ সালের আর বেশি দেরি নেই। তাই বিষয়টির প্রতি মনোযোগী হওয়ার সময় এখনই।
জোবাইদা নাসরীন: শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
zobaidanasreen@gmail.com

ভুয়া সমিতির নিবন্ধন বাতিল করতে হবে -জলমহাল ইজারা

জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুরের জলমহালের ইজারা নিতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ভুয়া জেলে সেজে সমবায় সমিতির নিবন্ধন করিয়ে নেওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁরা ভালো করেই জানেন এটা বেআইনি। আর এই বেআইনি কাজে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা ও সমবায় কর্মকর্তা সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মত্স্য সমবায় সমিতিগুলোর নিবন্ধনের কাজটি জেলা সমবায় অধিদপ্তর করলেও আবেদনপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব উপজেলা মত্স্য ও সমবায় কর্মকর্তার। এ ক্ষেত্রে সরেজমিন জরিপের বিধান থাকলেও তা করা হয়নি। যে কারণে মাদ্রাসাশিক্ষক থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতারাও মত্স্যজীবী বনে গেছেন। পত্রিকার খবর অনুযায়ী সরকারি জলমহাল ইজারার জন্য নতুন প্রজ্ঞাপন জারির পর ১০টি মত্স্যজীবী সমবায় সমিতি নিবন্ধন নিয়েছে এবং নিবন্ধনের অপেক্ষায় আরও ৪০টি আবেদনপত্র জমা আছে।
ভুয়া মত্স্যজীবী সমবায় সমিতি নিবন্ধনের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা একে অপরকে দায়ী করেছেন। উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা দায় চাপাচ্ছেন মত্স্য কর্মকর্তার ওপর, আবার মত্স্য কর্মকর্তা বলছেন ইউপি চেয়ারম্যানের সনদ অনুযায়ী নিবন্ধনের সুপারিশ করা হয়েছে। এতে একটি বিষয় স্পষ্ট, পরস্পরের যোগসাজশেই ভুয়া মত্স্যজীবী সমবায় সমিতিগুলোকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। এসব নিবন্ধন অবিলম্বে বাতিল করার পাশাপাশি দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। যেসব আবেদন জেলা সমবায় সমিতি অধিদপ্তরে জমা পড়েছে, তা ভালো করে যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। উপজেলা সমবায় ও মত্স্য কর্মকর্তার ভুয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিবন্ধন দেওয়া যাবে না।
সমবায় সমিতির সদস্যরা প্রকৃতই মত্স্যজীবী কি না, তা বের করা কঠিন নয়। ভোটার তালিকায় পেশা হিসেবে তাঁরা কী লিখেছিলেন? রাতারাতি তো পেশা বদলানো যায় না। উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা সরেজমিন জরিপ করার কষ্ট স্বীকার না করলেও ভোটার কার্ডটি পরীক্ষা করে দেখতে পারতেন। এ ধরনের ঘটনা যে শুধু আক্কেলপুরেই ঘটেছে, তা ভাববার কারণ নেই।
যখনই যে দল ক্ষমতায় থাকে, তাদের নেতা-কর্মীরা সবকিছু নিজেদের দখলে নিতে চান। আক্কেলপুরে ভুয়া মত্স্যজীবী সমিতির সঙ্গেও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতার নাম রয়েছে। সরকারি জলমহাল ইজারা পাওয়ার অধিকার একমাত্র জেলে বা মত্স্যজীবীদেরই। রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তি কিংবা অর্থের জোরে সেখানে অন্য কেউ ভাগ বসাবে, তা মেনে নেওয়া যায় না।

আইলা কি ভুলে যাওয়া দুর্যোগ?

আইলা এসেছে ও চলে গেছে আট মাস হলো। কিন্তু উপকূলীয় দুর্গত এলাকার এখনো যে চিত্র, তাতে মনে হতে পারে যেন গত মাসেই এই দুর্যোগ বয়ে গেছে। খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থান, চিকিত্সা-পানি-জীবিকাসহ জীবিত মানুষের যা ছাড়া চলে না, তার সবকিছুরই অভাব এখনো সেখানে তীব্র। আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ৫০ লাখ মানুষ। কিন্তু সরকার যেন এদের নিয়ে ক্লান্ত, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উদ্যোগও দায়সারা। সম্প্রতি প্রথম আলোর ধারাবাহিক প্রতিবেদনে আইলাকে ‘ভুলে যাওয়া দুর্যোগ’ হিসেবে সঠিকভাবেই চিহ্নিত করা হয়েছে।
আমরা সবাই কি ভুলে গেছি, সিডর উপকূলীয় এলাকার জীবন-জীবিকা, প্রতিবেশ, কৃষি, অর্থনীতি ও সামাজিক এবং প্রাকৃতিক সুরক্ষাকে বিপর্যয়ের কিনারে ঠেলে দিয়েছিল। আর আইলা এসে তাদের বিপন্নতার খাদে ছুড়ে ফেলেছে। অন্যের সহযোগিতা ছাড়া এ অবস্থা থেকে তাদের বেরিয়ে আসা এককথায় অসম্ভব। তাই সবাই ‘ভুলে’ থাকলেও আশ্রয়হীন ক্ষুধার্ত ও বিপন্ন আইলা-দুর্গতদের এ কষ্ট ভুলে থাকার কোনো উপায় নেই।
আইলার শিকারের তালিকায় ৫০ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ তো আছেই, এর সঙ্গে তিন লাখ ২৩ হাজার একরের জমির ফসল নষ্ট হয়েছে, গবাদিপশু মারা গেছে দেড় লাখ। ৭০ শতাংশ চিংড়ির ঘেরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবার পুনর্বাসন হয়নি, জলাবদ্ধতার জন্য প্রধান ফসল আমনের চাষ হতে পারেনি। দক্ষিণাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোয় সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনের প্রায় সব শর্তই অনুপস্থিত অথবা থাকলেও অতিসামান্য। এ অবস্থায় অপ্রতুল সরকারি বরাদ্দ মরুতে যেন কয়েক আঁজলা জল। অন্যদিকে বিদেশি সংস্থাগুলো সিডরের সময় যে পরিমাণ সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিল, আইলার বেলায় তারা ততটাই উদাসীন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপি সিডরে দিয়েছিল তিন কোটি ডলারের সাহায্য, কিন্তু আইলার ত্রাণে তাদের অবদান পাঁচ লাখ ডলারের ওপরে ওঠেনি। একই কথা প্রযোজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্যের ডিএফআইডি, যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসএইডের বেলায়ও। অন্যদিকে সরকার মাত্র ১১৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েই হয়রান হয়ে পড়েছে।
প্রথম আলোর বরাতে জানা যাচ্ছে, আইলার আঘাতে ১৬৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো আগের অবস্থায় ফিরিয়ে না আনলে নিরাশ্রয়ী মানুষ আগামী বর্ষায় একেবারেই ভেসে যাবে। এ ক্ষেত্রে দুটি অভিযোগ রয়েছে।
প্রথমত, সরকার কি আইলার ক্ষতকে জিইয়ে রেখে তা দেখিয়ে আন্তর্জাতিক সহায়তা আনার পন্থা গ্রহণ করেছে? দ্বিতীয়ত, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পুনর্নির্মাণ না করার সঙ্গে কি টেন্ডারবাজি ও দলীয়করণের সম্পর্ক রয়েছে?
ফিবছর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ আমরা দেখতে চাই না। আমরা চাই না দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, বিনিয়োগ ও যত্নে গড়া সম্পদ ও অবকাঠামো সিডর ও আইলার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের এক ধাক্কাতেই বিলীন হয়ে যাক। সে জন্যই আমরা বারবার বলে আসছি, ত্রাণ-পুনর্বাসন ও অবকাঠামো নির্মাণ যেন একটি সামগ্রিক পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়। যেন তা উপকূলীয় অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি, জলবায়ু, কৃষি ও উত্পাদনব্যবস্থার সহায়ক হয়। তবে আপাতত বিপর্যয়কর অবস্থার মধ্যে থাকা আইলা-দুর্গতদের জীবন-জীবিকা স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

জাতিসংঘের কালো তালিকা থেকে পাঁচ তালেবান নেতার নাম অপসারণ

আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দায়ে ব্যক্তিবিশেষ বা সংগঠনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে জাতিসংঘের তৈরি করা তালিকা থেকে পাঁচ জ্যেষ্ঠ তালেবান কর্মকর্তার নাম অপসারণ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্যানেল এ কথা জানায়।
প্যানেলের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত সোমবার জাতিসংঘের কালো তালিকা থেকে পাঁচটি নাম অপসারণের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে প্যানেলের বৈঠকে। ওই তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ জব্দ ও অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেছেন, আফগানিস্তানের ওপর লন্ডনে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে জাতিসংঘের কালো তালিকা থেকে তালেবান নেতাদের নাম অপসারণ করার জন্য তিনি চাপ সৃষ্টি করবেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তালেবান জঙ্গিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য তাঁদের অর্থ ও চাকরি দেওয়ার প্রস্তাবের প্রতি পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থন আদায় করতে তিনি সক্ষম হবেন।
জাতিসংঘের কালো তালিকা থেকে যাঁদের নাম অপসারণ করা হয়েছে তাঁরা হলেন সাবেক তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল ওয়াকিল মুতাওয়াকিল, সাবেক উপবাণিজ্যমন্ত্রী ফাইজ মোহাম্মদ ফাইজান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা শামস-উস-সাফা, সাবেক উপপরিকল্পনামন্ত্রী মোহাম্মদ মুসা ও সাবেক সীমান্তবিষয়ক উপমন্ত্রী আবদুল হাকিম।
জাতিসংঘের বিবৃতিতে বলা হয়, আবদুল হাকিম তালেবানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। ২০০৭ সালের মে মাস থেকে আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশের গভর্নরের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। অন্যদিকে ওয়ার্দাক প্রদেশ থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ মুসা।

কশাঘাত করে প্রায়শ্চিত্ত করতেন পোপ দ্বিতীয় জন পল

পোপ দ্বিতীয় জন পল নিয়মিত বেল্ট দিয়ে নিজেকে কশাঘাত করতেন। বেল্টটি তিনি আলমারিতে যত্ন করে রাখতেন। শুধু তা-ই নয়, পদত্যাগসংক্রান্ত একটি গোপন কাগজে সইও করে রেখেছিলেন তিনি। তাতে লেখা ছিল যে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি স্বেচ্ছা অবসরে যাবেন।
একটি নতুন বইয়ে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। হোয়াই এ সেইন্ট? নামের বইটি লিখেছেন মনসিগনর স্লমির ওদার। পোপের দায়িত্ব গ্রহণের আগ পর্যন্ত তাঁর ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বইটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। এতে ওদার লিখেছেন, পোপ দ্বিতীয় জন পল তাঁর কৃত পাপের প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ নিজেকে কশাঘাত করতেন। পোল্যান্ড বংশোদ্ভূত এই পোপ ক্রাকোতে বিশপের দায়িত্ব পালনকালেও নিজেকে কশাঘাত করতেন। পোপ নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি এ ধারা অব্যাহত রাখেন।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম মনসিগনর ওদারের বরাত দিয়ে বলেছে, পোপের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা এ কশাঘাতের শব্দ শুনতে পেতেন। কশাঘাতের জন্য পোপ প্যান্টে ব্যবহূত একটি বেল্ট ব্যবহার করতেন। বেল্টটি তিনি আলমারিতে যত্ন করে রাখতেন। এটি চাবুক হিসেবে ব্যবহার করতেন তিনি।
সিস্টার টোবিয়ানা সবোদকা নামে এক সন্ন্যাসিনী গত বছর প্রথমবারের মতো দাবি করেছিলেন, পোপ দ্বিতীয় জন পল পাপের প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ নিজেকে কশাঘাত করতেন।
পোপের ভ্যাটিকানের অ্যাপার্টমেন্টে কাজ করতেন সিস্টার সবোদকা। তিনি দাবি করেন, অনুশোচনা থেকে পোপ নিজেকে বহুবার শারীরিকভাবে আঘাত করেছেন। পোপ যখন নিজেকে আঘাত করতেন, সেই শব্দ শোনা যেত। উল্লেখ্য, পাঁচ বছর আগে মারা যান পোপ দ্বিতীয় জন পল।

ইয়েমেনে সন্ত্রাসবিরোধী গোপন সামরিক অভিযান ওবামা অনুমোদন করেছিলেন

ইয়েমেনে সম্প্রতি সন্ত্রাসবিরোধী গোপন সামরিক অভিযানের অনুমোদন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাই দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক খবরে এ কথা বলা হয়েছে। ছয় সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এ অভিযানে আল-কায়েদার ছয়জন আঞ্চলিক নেতা নিহত হয়েছেন। ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর সঙ্গে এ অভিযানে মার্কিন সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা অংশ নিয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্ট-এর গতকাল বুধবারের সংস্করণে বলা হয়েছে, গত ২৪ ডিসেম্বর ইয়েমেনে পরিচালিত একটি সামরিক অভিযানের অনুমতি দেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। আল-কায়েদার আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে মার্কিন নাগরিক আনোয়ার আল আউলাকি বৈঠক করছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে ইয়েমেনের একটি ভবনে অভিযান চালানো হয় সে সময়।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা বলেছেন, ওই অভিযানে আনোয়ার আউলাকিকে টার্গেট করা হয়নি। এমনকি তাঁকে হত্যাও করা হয়নি। তবে এ অভিযানের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী নাগরিকদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়। এ তালিকায় আউলাকিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তালিকার সবাইকে হয় গ্রেপ্তার অথবা হত্যা করার নির্দেশ রয়েছে।
ইয়েমেনে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে মার্কিন উপদেষ্টারা অংশ নেননি বলে খবরে বলা হয়েছে। তবে অভিযানের পরিকল্পনা, কৌশল উন্নয়ন ও অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে সহায়তা করেছেন তাঁরা।
ইয়েমেনের সেনাবাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সাহায্য করছে যুক্তরাষ্ট্র। এসবের মধ্যে রয়েছে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ইলেকট্রনিক ও ভিডিও পর্যবেক্ষণ, ত্রিমাত্রিক মানচিত্র এবং আল-কায়েদা নেটওয়ার্ক বিশ্লেষণ।
ওবামা প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে পত্রিকাটি বলেছে, ‘ইয়েমেনের সেনাবাহিনীকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে আমরা সন্তুষ্ট।’
ইয়েমেনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, আরব উপদ্বীপে আল-কায়েদার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দুটি দেশ পরস্পরকে গভীরভাবে সহযোগিতা করছে। তবে ইয়েমেনের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে তথ্য দিয়েই বেশি সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে একটি ‘যৌথ অভিযান কেন্দ্র’ খোলা হয়েছে। সেখানে মার্কিন উপদেষ্টারা ইয়েমেনের সেনাবাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়ের কাজ করছেন। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণের কাজও করছেন তাঁরা।
মার্কিন কর্মকর্তারা ইয়েমেনে আল-কায়েদার বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযানের ব্যাপারে জানালেও মার্কিন যুদ্ধবিমান এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে, সে সম্পর্কে কিছু বলেননি। তবে তাঁরা বলেছেন, মার্কিন সেনাবাহিনী সরাসরি ইয়েমেন অভিযানে অংশ নেয়নি।
ইয়েমেনে সন্ত্রাসবিরোধী এ অভিযানে আরও গুরুত্ব দেওয়ার লক্ষ্যে গতকাল লন্ডনে উচ্চপর্যায়ের একটি আন্তর্জাতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বড়দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েটগামী বিমানে ব্যর্থ বোমা হামলার পেছনে ইয়েমেনভিত্তিক আল-কায়েদাই জড়িত ছিল বলে সংস্থাটি দাবি করার পরিপ্রেক্ষিতে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

হন্ডুরাসে অভ্যুত্থানে জড়িত জেনারেলদের অব্যাহতি

প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল জেলায়াকে ক্ষমতাচ্যুত করার সামরিক অভ্যুত্থানে জড়িত জেনারেলদের ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন হন্ডুরাসের আদালত। এ ছাড়া সে দেশের আইনসভা জেলায়ার জন্য সাধারণ ক্ষমার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। জেলায়াকে ক্ষমতা থেকে অপসারণে জড়িতদের জন্যও আইনসভায় একই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে এ দুটো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার হন্ডুরাসের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে পোরফিরিও লোবোর দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই এই পদক্ষেপগুলো কার্যকর হলো। এর মাধ্যমে হন্ডুরাসে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান হবে বলেই মত প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকেরা।
সুপ্রিম কোর্টের প্রেসিডেন্ট (বিচারক) জর্জ রিভেরা রায়ে বলেছেন, গত ২৮ জুনের সামরিক অভ্যুত্থানের সময় অভিযুক্ত জেনারেলরা তাঁদের ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি। কারণ তদন্তকারীরা এ ব্যাপারে অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন। সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল রোমেও ভাজকুয়েস, বিমানবাহিনীর প্রধান জেনারেল হাভিয়ের প্রিন্স, নৌবাহিনীর প্রধান জেনারেল হুয়ান পাবলো রদরিগেসসহ মোট ছয়জন জেনারেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল।
গত মঙ্গলবার রাতে হন্ডুরাসের কংগ্রেস জেলায়া এবং ওই সামরিক অভ্যুত্থানে জড়িত সবার জন্য সাধারণ ক্ষমা অনুমোদন করে। এ সময় জেলায়ার লিবারেল পার্টির কংগ্রেস সদস্যরা অনুপস্থিত ছিলেন। প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন লোবোর ন্যাশনাল পার্টির সদস্যরা। গতকাল থেকেই জেলায়ার সাধারণ ক্ষমা কার্যকর হয়েছে। এখন তিনি ব্রাজিল দূতাবাস থেকে বের হয়ে দেশে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারবেন।
গত জুনের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত করে জেলায়াকে নির্বাসনে পাঠানোর পর সেপ্টেম্বরে গোপনে দেশে ফিরে ব্রাজিল দূতাবাসে আশ্রয় নেন জেলায়া। তিনি এখনো সেখানেই অবস্থান করছেন। এদিকে গত সপ্তাহে লোবো ও ডোমিনিকান রিপাবলিকের প্রেসিডেন্টের মধ্যে সমঝোতা অনুযায়ী জেলায়া এখন সে দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় নিতে পারেন।

ছাত্ররাজনীতিতে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে by আব্দুল কাইয়ুম

পাকিস্তানের প্রথম যুগের কথা। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগের ভরাডুবি ঘটে, হক-ভাসানির যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করে। সেই নির্বাচনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা দলে দলে নিজ এলাকায় গিয়ে যুক্তফ্রন্টের পক্ষে কাজ করেছিল। নির্বাচনে বিজয়ের পুরস্কার হিসেবে তারা দাবি করে, পরীক্ষা পেছাতে হবে, কারণ দেশের স্বার্থে নির্বাচনী প্রচার চালাতে গিয়ে, আর সে সময় বন্যার কারণে তাদের পড়াশোনা হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বললেন, এটা সম্ভব না। ছাত্ররা বলল, নিশ্চয়ই সম্ভব। তারা দলবেঁধে গেল টিকাটুলির কে এম দাশ লেনে যুক্তফ্রন্টের নেতা শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের বাসায়। সব শুনে তিনি তাদের কিছুটা আশ্বাস দেন। অবশ্য তিনি কখনো নিয়মভঙ্গের পক্ষপাতী ছিলেন না। ছাত্রদের কথা বিবেচনা করে এ ব্যাপারে তিনি কিছুটা ছাড় দেন। কিন্তু পূর্বপাকিস্তানের তত্কালীন গভর্নর রাজি হলেন না। এদিকে ছাত্ররা প্রতিদিনই ধরনা দিচ্ছে। পরে নতুন গভর্নর এলে শেরেবাংলা ফজলুল হকের কথায় তিনি পরীক্ষা পেছানোর ব্যবস্থা করেন। এ অবস্থায় রেজিস্ট্রার একটা নোটিশ টাঙিয়ে দিয়ে লজ্জা ও অপমানে অফিস ত্যাগ করেন। উপাচার্য ডব্লিউ এ জেনকিনস (১৮৯১-১৯৫৮, যিনি ১৯৫৩-১৯৫৬ কালপর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন) তখন দীর্ঘ ছুটিতে লন্ডনে ছিলেন। যাওয়ার আগে তিনি বলে গিয়েছিলেন, কোনো অজুহাতেই যেন পরীক্ষা পেছানো না হয়। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবে নিয়ম ভঙ্গ করা হয়। অবশ্য তাতেও ছাত্ররা সন্তুষ্ট না, কারণ পরীক্ষা পেছানো হয়েছিল মাত্র তিন সপ্তাহ। তখন তারা আবার শেরেবাংলা ফজলুল হকের বাসায় গেল এই দাবি নিয়ে যে, এত কম সময়ে কিছু হবে না। এবার শেরেবাংলা সাংঘাতিক রেগে গেলেন। তিনি বললেন, ‘এখনই গিয়া পড়তে বসো, নইলে পিটাইয়া মাথা ফাটাইয়া দিব, রেললাইনও পার হইতে পারবা না!’ তখন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেললাইনটি টিকাটুলি হয়ে ফুলবাড়িয়ার দিকে বিস্তৃত ছিল।
আজ সেই অনমনীয় মনোভাবের উপাচার্য নেই, সেই কঠিন মনের রেজিস্ট্রারও নেই আর নেই সেই ধরনের ছাত্রনেতাও, যারা সহিংসতার আশ্রয় না নিয়ে দেনদরবার করে পরীক্ষা পেছানোর চেষ্টা করবে। যদি থাকত তাহলে গত ১৮ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের দুই প্রতিপক্ষের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ হতে পারত না। হলেও তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা হতো এবং পেছন থেকে ছাত্রলীগের কিছু কর্মীর ইন্ধন জোগানোর অভিযোগের ভিত্তিতে সেই অভিযুক্ত ছাত্রদেরও গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা হতো। এর কোনোটাই হয়নি, কারণ উপাচার্য সরকারি দলের সক্রিয় সমর্থক। সে হিসেবেই তিনি ওই পদে নির্বাচিত হয়েছেন।
পরীক্ষা পেছানো তো কোনো ব্যাপারই না। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রতিপক্ষ দল বা নিজেদের অন্তর্দ্বন্দ্বে মারপিট, গোলাগুলি, খুনোখুনি আজ প্রায় নিত্যদিনের ব্যাপার। আওয়ামী লীগের বিগত সরকারের সময়, ১৯৯৬ থেকে ২০০১, পাঁচ বছরে পাঁচজন ও পরবর্তী পাঁচ বছরে বিএনপি সরকারের সময় ছয়জন শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই হানাহানিতে প্রাণ দিয়েছেন। দেশের অন্যান্য শিক্ষাঙ্গনে প্রাণহানির সংখ্যাও কম নয়। এ ধরনের রক্তাক্ত হানাহানি কি কোনো স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠে চলতে দেওয়া যায়?
উপাচার্য যদি বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গন থেকে সন্ত্রাসীদের বিতাড়ন করতে চান, তাহলে তিনি তা পারবেন না, এটা কি বিশ্বাসযোগ্য? আসল ব্যাপার হলো, তাঁদের সে রকম কোনো রাজনৈতিক সদিচ্ছা নেই। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই ছাত্রলীগ বিভিন্ন হল থেকে প্রতিপক্ষ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিতাড়ন শুরু করে। এরপর বিতাড়িত নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিয়ে বা তাদের ছাত্রলীগে যোগদানে বাধ্য করে হলে ঢোকার ছাড়পত্র দেয়। অবশ্য তার পরও ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মী হলে স্থান পায় এই শর্তে যে, তারা ক্ষেত্রবিশেষে ‘ছাত্রলীগের অনুগত ছাত্রদল’ হিসেবে কাজ করবে। গত ১৮ জানুয়ারির সংঘর্ষটি ছিল মূলত ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে, এতে সন্দেহের অবকাশ নেই। কারণ বর্তমান ছাত্রদলের সভাপতি একজন অছাত্র এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম থেকেই অপাঙেক্তয় বলে ঘোষিত হয়েছিলেন। সুতরাং তিনি মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে গেলে তাঁর ওপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হামলা চালায়। কিন্তু এর পেছনের ঘটনাটিই আসল তাত্পর্য বহন করে। ধারণা করা হয়, ছাত্রদলের এই নেতা-কর্মীরা হলো সেই ছাত্রদলের নেতা-কর্মী, যাদের ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা প্রথমে বিতাড়িত করে পরে অলিখিত ও অপ্রচারিত শর্তে হলে থাকতে দিয়েছিল। এই ধারণা কতটা সত্য তা অনুসন্ধানের বিষয়। কিন্তু সেদিনের ঘটনায় তাদের ক্ষোভের সংগত কারণ থাকলেও তার সঙ্গে ছাত্রলীগের উসকানি থাকার অভিযোগটি একেবারে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। গৃহীত ভিডিও চিত্রে যাদের লাঠি-রড-কিরিচ হাতে ছাত্রদলের সভাপতির ওপর হামলা চালাতে দেখা গেছে, তাদের কেউ কেউ ছাত্রলীগের কিছুটা অচেনা কর্মী বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপাচার্য বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে এসব ভিডিও চিত্র নিয়ে তদন্তে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে, তার কারণ কি তাহলে রাজনৈতিক? প্রক্টর মহোদয় যে আহত হলেন, তিনি কি কাউকেই চিনতে পারলেন না? তিনি কেন পরিষ্কার বলছেন না কে কে তাঁদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে?
এ ধরনের ঘটনা শুধু ছাত্রলীগেরই একচেটিয়া ব্যাপার না। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির ক্ষমতালাভের পরও একইভাবে বিভিন্ন হল থেকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উচ্ছেদ করা হয়। এমনকি তাদের অনেককে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা মারপিট করে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেয়। তখনো কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছিল নীরব।
ছাত্র-আন্দোলনে বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব ড. আকবর আলি খানের সঙ্গে আলোচনা করলে তিনি বলেন, ‘আমাদের সময়ে কোনো অছাত্র বা বহিরাগত কেউ ছাত্রনেতা হতে পারতেন না। যদি কালেভদ্রে কেউ হতেন, তাহলে এমন সমালোচনা শুরু হতো যে লজ্জায় তিনি নিজেই বিদায় হতেন।’ অথচ আজকাল বিবাহিত শুধু নয়, সন্তানের বাবারাও তথাকথিত ছাত্রনেতা। আকবর আলি খান ষাটের দশকের প্রথমার্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তাঁর সময়ে আইয়ুববিরোধী আন্দোলন ছিল তুঙ্গে। সে সময় ভালো, মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা নেতৃত্বে থাকতেন। কারণ ডাকসু ও হল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সময় সবাই ভেবে দেখতেন, কে কত মেধাবী। আকবর আলি খান বললেন, ‘নিয়মিত ডাকসু নির্বাচন না হলে সহিংসতা বন্ধ হবে না।’ এটা কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ নির্বাচন হলে ছাত্র-সংগঠনগুলো অন্তত ভোট পাওয়ার জন্য ভালো ও নিয়মিত ছাত্রদের নেতৃত্বে নিয়ে আসবে এবং সহিংসতা থেকে দূরে থাকবে।
এখানেও সেই দলীয় রাজনীতির কালো ছায়া। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে ছাত্রলীগ ডাকসু নির্বাচনে বাধা দেয় এই অজুহাতে যে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ছাত্রদলকে জিতিয়ে আনা হবে। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে ছাত্রদল একই অভিযোগে ডাকসু নির্বাচন হতে দেয় না। এ অবস্থায় উপাচার্যেরা দুই পক্ষের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে যুগের পর যুগ কাটিয়ে দিয়ে চলেছেন।
এটা বলতে কষ্ট হয় যে, মূল দুটি ছাত্র-সংগঠন ও সেই সূত্রে ছাত্র-আন্দোলন এখন টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, হলে ব্যক্তিবিশেষকে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়সহ যাবতীয় অপকর্মের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। শিক্ষাঙ্গনে প্রভাব বজায় রাখার জন্য এত মারামারি-হানাহানির পেছনে অবৈধ উপায়ে টাকার পাহাড় গড়ে তোলার সুযোগলাভের প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে। এর সঙ্গে আদর্শের কোনো সম্পর্ক নেই। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশের দোকানপাট, শপিংমল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা ওই এলাকার প্রভাবশালী ছাত্র-সংগঠনের নেতাদের হাতে তুলে দিতে হয়। দুঃখজনক ব্যাপার হলো, মূল রাজনৈতিক দলগুলো এসব তথাকথিত ছাত্রনেতাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় দল ভারী করার অজুহাতে। যদিও, নির্বাচন কমিশনের শর্ত অনুযায়ী, ছাত্র-সংগঠনগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়েছে, কিন্তু সেটা শুধু খাতা-কলমেই। বাস্তবে যেমন ছিল, তেমনই আছে।
ছাত্রনেতাদের রাজনৈতিক আদর্শ সব সময়ই ছিল এবং থাকাই স্বাভাবিক। ষাটের দশকের শেষার্ধে আমরা যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, তখন আমাদের রাজনৈতিক আদর্শ বজায় রেখেই আমরা ছাত্র-সংগঠন করেছি, নেতৃত্বও দিয়েছি, কিন্তু কখনো রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সব সময় রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তিকে অপছন্দ করে।
এখন রাজনৈতিক দলগুলোকে সরাসরি বলতে হবে, তারা কোনো ছাত্র-সংগঠনকে সমর্থন দেবে না। তারা যদি হাত না গুটায়, শিক্ষকেরা যদি দলীয় রাজনীতিমুক্ত না থাকেন, উপাচার্য যদি দলীয় রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে থাকতে না পারেন, তাহলে ছাত্ররাজনীতি খুনোখুনির অশুভ চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে না।
আমরা এখানে অধ্যাপক এ জি স্টকের শরণাপন্ন হব। তিনি ১৯৪৭ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। ১৯৭২ সালে তিনি ঢাকায় বেড়াতে আসেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তখনো মিছিল-স্লোগানসর্বস্ব ছাত্র-আন্দোলন দেখে তিনি বেশ অবাক হন। কারণ স্বাধীন দেশে এ ধরনের বিক্ষোভ অন্তত ছাত্র-অঙ্গনে তিনি আশা করেননি। তাঁর ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি ১৯৪৭-৪৮’ মুখবন্ধে তিনি লেখেন, ‘আমার মনে হয় প্লেটো তাঁর রিপাবলিকে অন্তত একটি অত্যন্ত ভালো কথা বলেছেন, যখন তিনি ঘোষণা করেছেন, যার যার নিজের কাজটি সাধ্যমতো ভালোভাবে করাই একটি ন্যায়বোধে উদ্বুদ্ধ সমাজের গাঁথুনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে সঠিক জ্ঞানার্জন এবং সরল চিন্তার বিকাশ। যদি প্রবল চাপে ঘিরে থাকা এই বিশ্বের যেকোনো চাপের মুখে সে নিজেকেই এই উদ্দেশ্যের যেকোনো একটি থেকেও সরিয়ে নেয়, পৃথিবীর আর কোনো প্রতিষ্ঠানই তাহলে এই মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দেবে না।’ (মূল গ্রন্থের অনুবাদ, মোবাশ্বেরা খানম, এ জি স্টকের ভূমিকা থেকে উদ্ধৃত)
কথাগুলো সরকার থেকে শুরু করে উপাচার্য, রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে শুরু করে ছাত্রনেতৃত্ব পর্যন্ত সবার চোখ খুলে দেওয়া উচিত।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।

মাদক নিয়ে অভিনব কৌশল

ঢাকা শহরের ৫০ শতাংশ হেরোইনের জোগান আসে আগারগাঁওয়ের বিএনপি বস্তি থেকে। সেই কুখ্যাত বিএনপি বস্তিকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে পুলিশ এবার যে অভিনব কৌশল নিয়েছে, তা বেশ চমকপ্রদ। সে জন্যই খবরটি প্রথম আলোর শেষ পৃষ্ঠায় তিন কলামজুড়ে ছাপা হয়েছে; সঙ্গে দুই কলাম ছবিও।
কৌশলটা হচ্ছে, বিএনপি বস্তির মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়েই মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী সভা-সমাবেশ করা। গত শনিবার বিএনপি বস্তির শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী নূর মোহাম্মদকে সভাপতির আসনে বসিয়ে একটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। সে সমাবেশের প্রধান অতিথি ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার তাঁর বক্তৃতায় বলেন, ‘আগারগাঁও বস্তির ২৫ বছরের ইতিহাস পাল্টাতে শুরু করেছে, কারণ যাঁর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ, সেই নূর মোহাম্মদকে দিয়ে মাদকের আখড়া গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।’
সমাবেশের সভাপতি নূর মোহাম্মদ অবশ্য তাঁর বক্তৃতায় বলেছেন অন্য কথা, ‘পুলিশ প্রশাসন বা ডিসি সাহেব যা বলেছেন তা ঠিক নয়। আমি কখনো মাদকের সঙ্গে ছিলাম না, এখনো নেই, ভবিষ্যতেও থাকব না।’ পুলিশ ও এলাকার লোকজনের সূত্রে লেখা হয়েছে এই নূর মোহাম্মদের চার ছেলের মধ্যে একজন মাদকাসক্ত হয়ে মারা গেছেন, একজন মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন; একজন সন্ত্রাসের অভিযোগে ভারতে পালিয়ে আছেন, আরেকজন স্থানীয় যুবলীগের নেতা।
তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য তথ্য হচ্ছে, এই নূর মোহাম্মদ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ও তার পরের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ‘ক্রসফায়ারের’ ভয়ে তিনি ঢাকার বাইরে পালিয়ে ছিলেন। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি দৃশ্যমান হয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন করে অপরাধবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে—এমন দৃষ্টান্ত অত্যন্ত বিরল, নেই বললেই চলে। মাদকদ্রব্যের ব্যাপারে যদি এই কৌশল কাজে দেয়, তাহলে চুরি-ডাকাতি-ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধের ক্ষেত্রে একই কৌশল কেন প্রয়োগ করা হবে না? বলা হতে পারে, মাদক সমস্যার মতো অন্য অপরাধগুলোর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন নেই। পুলিশ বিএনপি বস্তির বিষয়টিকে দেখছে সামাজিক দিক থেকে। তাহলে পুলিশ প্রশাসনের উচিত হবে সরকারি দলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। কারণ, নূর মোহাম্মদের মতো ব্যক্তি কী করে আওয়ামী লীগের একটি ওয়ার্ডের সভাপতির পদে থাকতে পারেন?
পুলিশের এই কৌশল কতটা সফল হয়, তা দেখার বিষয়। সাধারণ মানুষ আগ্রহের সঙ্গেই সেটা লক্ষ করবে। এতে পুলিশের ভাবমূর্তির ঝুঁকি রয়েছে। এই কৌশল কাজ না দিলে মানুষের কাছে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী এসব সমাবেশকে হাস্যকর প্রহসন বলে মনে হতে পারে।

ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণও জরুরি -রংপুর বিভাগ

সোমবার প্রশাসনিক পুনর্গঠন ও পুনর্বিন্যাস-সম্পর্কিত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভায় রংপুরকে বিভাগে উন্নীত করার যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাকে আমরা স্বাগত জানাই। এটি প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের পক্ষে এক ধাপ অগ্রগতি বৈকি। মোট আটটি জেলা নতুন বিভাগের অন্তর্ভুক্ত হবে, যথাক্রমে—রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা, পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও।
সরকারের এ সিদ্ধান্তে উত্তরাঞ্চলের মানুষ নিঃসন্দেহে খুশি হয়েছে। বিভাগ ঘোষণার খবর প্রচারিত হওয়ার পর উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে আনন্দ মিছিল বের হয়েছে, মানুষ মিষ্টিমুখ করেছে।
এত দিন উত্তরাঞ্চলের একমাত্র বিভাগ ছিল রাজশাহী। কিন্তু রাজশাহী থেকে উত্তরাঞ্চলের কোনো কোনো জেলা শহরের দূরত্ব সড়কপথে সাত-আট ঘণ্টারও বেশি। রংপুর বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হলে সেসব এলাকার মানুষ প্রশাসনিক সুবিধা পাবে। রংপুর বিভাগ প্রতিষ্ঠা ছিল উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। অতীতে নেতা-নেত্রীরা প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন করেননি। সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট সরকার নতুন বিভাগ প্রতিষ্ঠা করে উত্তরাঞ্চলের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করল। এটি আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিও বটে। পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী শিগগিরই রংপুরে গিয়ে বিভাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন।
কিন্তু আনুষ্ঠানিক ঘোষণাই যথেষ্ট নয়, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো এর বাস্তবায়ন। আমাদের প্রশাসনিক কাঠামোয় সচিবালয়ের পরই বিভাগের স্থান। নতুন বিভাগ হলে তার প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজটিও দ্রুত শেষ করতে হবে। সেখানে নতুন অফিস স্থাপন এবং কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়টিও সামনে আসবে। বর্তমান রংপুর পৌরসভা সিটি করপোরেশনে উন্নীত হবে। বরিশাল ও সিলেট বিভাগ ঘোষণার পর এসব বাস্তবায়নে অযথা বিলম্ব করা হয়েছিল। রংপুরের ক্ষেত্রে সেটি যাতে না হয়, সে ব্যাপারে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। অফিস ভাড়া করে হলেও অবিলম্বে বিভাগীয় প্রশাসনিক কাজ শুরু করা প্রয়োজন। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সরকার অনেক সময় জনগণের স্বার্থে ভালো ভালো প্রকল্প হাতে নিলেও যথাসময়ে তা বাস্তবায়িত হয় না। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ইচ্ছে করে সময়ক্ষেপণ করেন প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে নেওয়ার জন্য।
রংপুর বিভাগ ঘোষণা যদি সরকারের ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ নীতির অংশ হয়, তা হলে শুধু উত্তরাঞ্চলের নয়, সারা দেশের মানুষই এর প্রতি সমর্থন জানাবে। কিন্তু একদিকে নতুন বিভাগ ঘোষণা, অন্যদিকে স্থানীয় সরকারকে অকার্যকর করা কোন ভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। উপজেলা নির্বাচনের পর সরকার গত এক বছরেও দায়িত্ব নির্দিষ্ট না করায় তার সুফল জনগন পাচ্ছে না। সংবিধানে শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের কথা বলা আছে। জনপ্রতিনিধিত্ব সরকার তা অগ্রাহ্য করতে পারেনা। জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে হলে প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণও জরুরি।

মেলবোর্নে পাঁচজন অভিযুক্ত

অস্ট্রেলিয়ায় দুই ভারতীয় ছাত্রের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। সে দেশের বার্তা সংস্থা এএপি এ তথ্য দিয়েছে।
গত সোমবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে ভারতীয় ওই দুই শিক্ষার্থী নতুন করে হামলার শিকার হন। তাঁদের একজনের বয়স ১৮ বছর। হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি আহত হন। হামলাকারীরা ২২ বছর বয়সী ভারতের আরেক ছাত্রকে এ সময় মাটিতে ফেলে মারধর করে।
দুই শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় নয়জনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে চারজনকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়। অপর পাঁচজনের বিরুদ্ধে দাঙ্গা-হাঙ্গামার অভিযোগ আনা হয়েছে।

নিয়মিত ব্যায়াম বৃদ্ধ বয়সে শরীরকে সুস্থ রাখে

নিয়মিত শরীরচর্চা বৃদ্ধ বয়সে শরীরকে আরও সুস্থ রাখে এবং মানসিকভাবেও তীক্ষ রাখতে সহায়তা করে। গত সোমবার আর্কাইভস অব ইন্টারনাল মেডিসিন-এ প্রকাশিত চারটি গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।
এতে দেখা যায়, হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ এবং উইমেন্স হসপিটাল ও হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষকদের পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব নারী মধ্যবয়সে বেশি শরীর চর্চা করেন, ৭০ বছর বয়সের পর তাঁদের দীর্ঘস্থায়ী রোগ, হূদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার অথবা যেকোনো ধরনের শারীরিক কিংবা মানসিক বৈকল্যে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক কম। মধ্যবয়স বলতে এখানে গড়ে ৬০ বছর বোঝানো হয়েছে।
অন্য এক গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে এক দিন অথবা দুই দিন করে এক বছরের প্রতিরোধ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বৃদ্ধাদের মনোযোগ-পরিধির উন্নতি ঘটায়।
তৃতীয় এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৫৫ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়স্কদের মধ্যে যাঁরা মাঝারি থেকে উচ্চ মাত্রার শারীরিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন, তাঁদের জ্ঞান ও ধারণাসংক্রান্ত বৈকল্যে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অন্যদের চেয়ে অনেক কম।
চতুর্থ এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৬৫ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সী নারী যাঁরা ১৮ মাসের শারীরিক ব্যায়াম কর্মসূচিতে অংশ নেন, তাঁদের হাঁড়ের গঠন যেসব নারীর ওই কর্মসূচির প্রতি আগ্রহ কম, তাঁদের চেয়ে মজবুত। এ ছাড়া অন্যদের চেয়ে তাঁদের শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিও কম।

মোনালিসার রহস্য উন্মোচনে ভিঞ্চির দেহাবশেষ তোলা হতে পারে সমাধি থেকে

লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি তাঁর ‘মোনালিসা’ ছবির মধ্যে সম্ভবত নিজের প্রতিকৃতিই এঁকেছেন। বিষয়টি নিয়ে গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা ভিঞ্চির দেহাবশেষ সমাধি থেকে তোলার পরিকল্পনা করছেন। অনুমতি পেলে তাঁরা দেহাবশেষ থেকে ভিঞ্চির মুখাবয়ব পুনর্গঠনের চেষ্টা করবেন।
ইতালির ন্যাশনাল কমিটি ফর কালচারাল হেরিটেজের বিজ্ঞানী ও ইতিহাসবিদের একটি গবেষক দল ভিঞ্চির সমাধি খোলার অনুমতি চেয়েছে কর্তৃপক্ষের কাছে। ফ্রান্সের লয়ের ভ্যালির অ্যামবোইস ক্যাসলের সমাধিতে ভিঞ্চির মরদেহ রাখা আছে বলে মনে করা হয়। ইতালির রেনেসাঁ যুগের এ প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ১৫১৯ সালে ৬৭ বছর বয়সে লয়ের ভ্যালিতে মারা যান। তাঁকে প্রথম সমাহিত করা হয় একটি গির্জায়। কিন্তু ১৭৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লবের সময় গির্জাটি ধ্বংস হয়ে গেলে ১৮৭৪ সালে তাঁর মরদেহ স্থানান্তর করা হয়।
ভিঞ্চির অমর সৃষ্টি মোনালিসার পরিচয় নিয়ে শত শত বছর ধরে পণ্ডিতদের মধ্যে বিতর্ক চলে আসছে। কোনো কোনো পণ্ডিতের মতে, শিল্পী হয়তো নিজেরই প্রতিকৃতিই তুলে ধরেছেন নারীর অবয়বের মধ্যে। তবে মোনালিসার পরিচয় নিয়ে পণ্ডিতেরা আজ পর্যন্ত কোনো মীমাংসায় পৌঁছাতে পারেননি। তাঁর পরিচয় নিয়ে নানা অনুমান ও ধারণা প্রচলিত আছে। কেউ বলেন, মোনালিসা আসলে ভিঞ্চিরই মা। অন্যরা বলেন, তিনি ছিলেন ফ্লোরেন্সের এক ব্যবসায়ীর স্ত্রী লিসা ঘেরারদিনি।
গবেষক দলের প্রধান নৃবিজ্ঞানী জিওরগিও গ্রুপ্পিওনি জানিয়েছেন, এ প্রকল্প ভিঞ্চির বিখ্যাত মোনালিসা চিত্রটির ওপর নতুন করে আলোকপাত করবে। তিনি বলেন, ‘ভিঞ্চির মাথার খুলি পেলে আমরা তা থেকে তাঁর মুখাবয়ব তৈরি করতে পারব। তখন মোনালিসার সঙ্গে তাঁর চেহারার তুলনা করা যাবে।’
গবেষক দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিঞ্চির দেহাবশেষ সমাধি থেকে তোলার বিষয়ে ফরাসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাগদাদে গাড়িবোমা হামলায় নিহত ১৮

ইরাকের রাজধানী বাগদাদের ফরেনসিক কার্যালয়ে গাড়িবোমা হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত ও ৮০ জন আহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
বাগদাদের সেনা মুখপাত্র মেজর জেনারেল কাসিম আত্তা জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ ও ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। তিনি আরও জানান, গতকাল সকাল পৌনে ১১টার দিকে চালানো ওই হামলায় ফরেনসিক কার্যালয় গুঁড়িয়ে যায়। অধিকাংশ আহত ব্যক্তিকে ভবনটির ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার করা হয়।
এর আগের দিন বাগদাদে তিনটি শক্তিশালী বোমা হামলায় অন্তত ৩৬ জন নিহত ও ৩১ জন আহত হয়। ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের সহযোগী কেমিক্যাল আলীর ফাঁসির রায় গত সোমবার কার্যকর করার ব্যাপারে সরকারি ঘোষণার পর পরই বাগদাদে ওই তিনটি গাড়িবোমা হামলা চালানো হয়।

‘আমি এক মেয়াদের উত্তম প্রেসিডেন্ট হতে চাই’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, তাঁর সব উদ্যোগ বাস্তবায়নে তিনি দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাবেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০১২ সালে তাঁর পুনর্নির্বাচন সমস্যাসংকুল হয়ে উঠলেও দমবেন না তিনি। এবিসি টেলিভিশনের সঙ্গে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ওবামা বলেন, ‘দুই মেয়াদের মধ্যম মানের প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেয়ে আমি এক মেয়াদের উত্তম প্রেসিডেন্ট হতে চাই।’
এক বছর আগে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেন বারাক ওবামা। পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে মার্কিন সমাজে গণজাগরণ তুলেছিলেন তিনি। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ওবামার সংস্কার উদ্যোগ ইতিমধ্যেই নানা বাধার সম্মুখীন। তাঁর বহুল আলোচিত স্বাস্থ্য সংস্কার উদ্যোগ নিয়ে বিভক্ত পুরো যুক্তরাষ্ট্র। স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট গ্রুপ, উদারনৈতিক ও রক্ষণশীলদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বারাক ওবামাকে। চলমান অর্থনৈতিক মন্দার দ্রুত কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। প্রতিটি রাজ্যে বেকারত্বের হার বেড়েই চলছে।
গত সপ্তাহে ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে সিনেটের উপনির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ওবামার ডেমোক্রেটিক প্রার্থীর পরাজয় হয়েছে। দেশজুড়ে অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এ নির্বাচনে। এর মধ্যে প্রেসিডেন্ট ওবামা নিজেও স্বীকার করেছেন, জনগণের প্রত্যাশা পুরোপুরি মোকাবিলা করতে তিনি সক্ষম হননি। জনগণের চাহিদা অনুযায়ী বেশ কিছু বিষয়কে গত এক বছরে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়নি বলে মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরাও বলছেন। এর মাশুল দিতে হয়েছে নিউজার্সি, ভার্জিনিয়ার নির্বাচনেও। এই দুই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের পরাজয় হয়েছে। সর্বশেষ ম্যাসাচুসেটসের নির্বাচনে হেরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উচ্চকক্ষে ৬০ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে।
এখন দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এর মধ্যে জনগণের সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধির নতুন উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এবিসি টিভির সঙ্গে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটনে পুনর্নির্বাচনের একটি ধারা প্রচলিত আছে। তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিদের পুনর্নির্বাচনের বিষয়টি মূল প্রতিপাদ্য হতে পারে না। ওবামা বলেন, জনপ্রতিনিধিরা সমস্যার সমাধান করবেন, জনগণকে সাহায্য করবেন।
আজ বুধবার সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কংগ্রেসে তাঁর ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ বক্তৃতা দেবেন। কংগ্রেসের যৌথ সভায় এ বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ওবামা নতুন করে তাঁর সংস্কার উদ্যোগের কথা বলবেন বলে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।

হাইতি পুনর্গঠনে এক দশক লাগবে

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হাইতি পুনর্গঠনে এক দশক সময় লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছে দাতা দেশ ও ত্রাণকর্মীরা। হাইতিকে সাহায্য করতে আগামী মার্চে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করতে সম্মত হয়েছে দাতা দেশগুলো। এদিকে ত্রাণ বিতরণে অব্যবস্থাপনা এবং লুটপাটের কারণে ভূমিকম্পের পর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও পুনর্বাসনের কাজ ঠিকমতো এগোচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক রেডক্রসের পেইরি ক্রেহেনবুহেল বলেন, এই মুহূর্তে প্রয়োজন মানুষকে বাঁচিয়ে রাখা এবং দ্রুত সুস্থ করে তোলা। এর পরেই আসবে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠনের সময়। এ কাজে ১০ বছরের বেশি সময় লেগে যাবে।
হাইতি পুনর্গঠন বিষয়ে কানাডার মন্ট্রিলে আলোচনায় বসেছে দাতা দেশ, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা। ওই আলোচনায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হার্পারও হাইতি পুনর্গঠনে একই ধরনের সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন।
হার্পার বলেন, ‘প্রতিশ্রুত সব সম্পদ, প্রত্যেক ত্রাণকর্মী, প্রতিটি পরিবহন ও প্রতি ডলারের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে আমাদের কাজ করতে হবে।’
হাইতির প্রধানমন্ত্রী জ্যঁ-ম্যাক্স বিল্লেরিভ বলেন, খাদ্য, পনি, আশ্রয় ও স্বাস্থ্যসেবার আপতত ব্যবস্থা করার পর হাইতির জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশল বিশ্বকে অবশ্যই নিতে হবে।
বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলরি ক্লিনটন বলেন, ‘আমাদের এখনো জরুরি অবস্থা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। আমরা এখনো সবার জন্য খাবার ও পানির ব্যবস্থা করতে পারিনি।’
হিলারি বলেন, অনেকে গুরুতর আহত হয়েছে। এদের মধ্যে যারা চিকিত্সাসেবা পেয়েছে, তাদেরও অনেকের হাত-পা কেটে ফেলতে হয়েছে। অনেকের ঘুমানোর জায়গাও নেই।
আগামী মে মাসে বর্ষাকাল আসার আগেই জরুরি ভিত্তিতে দুই লাখ তাঁবু এবং তিন কোটি ৬০ লাখ প্যাকেট খাবার পাঠানোর জন্য বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন হাইতির প্রেসিডেন্ট রেনি প্রিভাল।

বাঁচার জন্য মরিয়া কাসাব পাকিস্তানের সাহায্য চাইছেন

বাঁচার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত পাকিস্তানি নাগরিক আজমল কাসাব। গত সোমবার মুম্বাইয়ের আদালতে চূড়ান্ত জবানবন্দি দেওয়ার আগে কান্নাকাটি করে মাতৃভূমি পাকিস্তানের সহায়তা চান তিনি।
কাসাব বলেন, ‘এখানে পাকিস্তানের গণমাধ্যমের কোনো ব্যক্তি যদি উপস্থিত থাকেন, তবে তাঁদের মাধ্যমে পাকিস্তান সরকারের কাছে আমি একটি বার্তা পাঠাতে চাই। আমি চাই, পাকিস্তান থেকে আমাকে রক্ষার জন্য সাক্ষী পাঠানো হোক।’ খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
বিচারক এম এল তাহালিয়ানি কাসাবকে মনে করিয়ে দেন যে, তাঁর দেশ এ পর্যন্ত তাঁর জন্য কিছুই করেনি। বিচারক বলেন, ‘আপনার পক্ষে লড়ার জন্য আমরাই আপনাকে আইনজীবী দিয়েছি। আমরাই আপনার আত্মপক্ষ সমর্থনে কথা শুনেছি। বিচারকাজ শুরুর সময় সহায়তা চেয়ে আপনি পাকিস্তানকে যে চিঠি লিখেছেন আজ পর্যন্ত তার কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।’
এমনকি বিচারক কাসাবের পক্ষে পাকিস্তান থেকে সাক্ষী আনারও প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তখন সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন কাসাব।
কাসাব বলেন, ‘আমি শুধু পাকিস্তান সরকারের মাধ্যমে সাক্ষীদের ডেকে আনতে চাই। পাকিস্তান সরকার যদি কোনো প্রতিনিধি পাঠায় তখন আমি তাঁদের সঙ্গে কথা বলব।’
কাসাব দাবি করেন, তিনি যখন পুলিশের হেফাজতে ছিলেন তখন পাকিস্তান থেকে কয়েকজন কর্মকর্তা ভারতে এসে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তিনি তখন তাঁদের কাছে দাবি করেছিলেন, আন্তর্জাতিক আদালতে তাঁর বিচার করা হোক। তখন থেকেই কাসাব নিশ্চিত ছিলেন যে ভারতের আদালত তাঁকে ন্যায়বিচার নাও দিতে পারেন।’
আদালতে শুনানির সময় কাসাব তাঁর বিরুদ্ধে আনা সাক্ষ্য-প্রমাণ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, ২৬/১১ মুম্বাই হামলার কয়েক সপ্তাহ আগেই পুলিশ তাঁকে জুহু চৌপট্টি থেকে আটক করে এবং ‘র’-এর কাছে হস্তান্তর করে। বিচারক ‘র’ এর মানে জানতে চাইলে কাসাব বলেন, তাঁরা হচ্ছেন গোয়েন্দা।
কাসাব আরও অভিযোগ করেন, সিসিটিভিতে ধারণ করা কিছু প্রমাণ নষ্ট করে তাঁকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি জোরালো কণ্ঠে বলেন, আবু আলী নামের আরেকজন বন্দুকধারী ছত্রপতি শিবাজি টার্মিনালের হত্যাকাণ্ডে অংশ নিলেও ক্যামেরায় শুধু তাঁকে দেখানো হয়।

ভোট দিতে পারেননি ফনসেকা

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজের ভোটটি দিতে পারেননি শরত্ ফনসেকা। তিনি জানান, ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় তিনি ভোট দিতে পারেননি।
ফনসেকা বলেন, ‘২০০৮ সালের ভোটার তালিকায় আমার নাম নেই। সে কারণে আমি এই নির্বাচনে ভোট দিতে পারিনি।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, একেবারে শেষ মুহূর্তে জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য বিষয়টিকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে সরকার।
ক্ষমতাসীন দলের আইনপ্রণেতারা গতকাল রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে হাজির হয়ে ফনসেকাকে ভোট না দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, ফনসেকা নির্বাচিত হলেও তিনি অযোগ্য বিবেচিত হতে পারেন।
তবে স্বাধীন নির্বাচন কমিশনার দয়ানন্দ দেশানায়েক বলেন, ভোটার তালিকায় কারও নাম না থাকা মানে অযোগ্যতা নয়।

অপরাধীদের নির্বাচন করতে দেওয়া যাবে না: সোনিয়া

ভারতের কংগ্রেস দলের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী বলেছেন, অপরাধীরা যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে মতৈক্যে আসতে হবে। নির্বাচন কমিশনের হীরক জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
সোনিয়া গান্ধী বলেন, ‘অর্থ এবং পেশিশক্তির দৌরাত্ম্য প্রতিহত করতে আমাদের আরও বেশি কিছু করতে হবে। যাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড, তাঁদের কীভাবে নির্বাচন করতে না দেওয়া যায়, তা নিয়ে আমাদের একটি মতৈক্যে পৌঁছাতে হবে।’
ভারতে বর্তমানে কেউ কোনো মামলায় দুই বছর সাজাপ্রাপ্ত হলেও ওই রায়ের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত আইনমন্ত্রী ভিরাপ্পা মৌলি নির্বাচন কমিশনকে আশ্বস্ত করে জানান, এ বিষয়ে সংস্কারের সব দাবি সরকার বিবেচনা করবে এবং জাতীয় পর্যায়ের একটি পরামর্শক কমিটি এ বছরের জুন মাস থেকেই কাজ শুরু করবে।
ভিরাপ্পা মৌলির পূর্বসূরিরাও একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তবে বাস্তবে কিছু হয়নি। কিন্তু এবার ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান শরিক দল কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর এই তত্পরতায় হয়তো কিছু হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ভালো মানুষ এখন আর রাজনীতিতে আকৃষ্ট হচ্ছে না এবং নির্বাচন-ব্যবস্থায় সংস্কারের ব্যাপারে দলগুলো মতৈক্যে আসতে না পারায় অপরাধীরাও নির্বাচন করছে।
দেশে গণতন্ত্র শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার প্রশংসা করেন সোনিয়া গান্ধী এবং বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির নেত্রী সুষমা স্বরাজ। তবে লোকসভা ও বিধানসভায় নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণে মতৈক্যে পৌঁছাতে না পারায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন সোনিয়া গান্ধী।
সুষমা স্বরাজ বলেন, ভারতে বুলেট নয়, ব্যালটের মাধ্যমে ক্ষমতার হাতবদল হয়। এর পেছনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অনেক। রাজনীতির অনেক রথী-মহারথীকেও নির্বাচন কমিশনের কাছে নত হতে হয়। কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা এতেই প্রমাণিত হয়।
রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিল, উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি, প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, সোনিয়া গান্ধী ও সুষমা স্বরাজ থেকে সবাই রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনার জন্য নির্বাচন কমিশনকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

শ্রীলঙ্কায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণ, সহিংস ঘটনাও ঘটেছে

কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে।
সহিংসতার ভেতর দিয়ে উত্তরাঞ্চলীয় জাফনায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। গতকাল ভোরে ওই এলাকায় অনেক বোমা হামলা চালানো হয়। সেন্টার ফর মনিটরিং ইলেকশন ভায়োলেন্স (সিএমইভি) জানায়, মাহিন্দা রাজাপক্ষের শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টির একজন সংগঠকের বাড়িতে দুটি বোমা নিক্ষেপ করা হয়। ওই বোমা হামলায় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হলেও কেউ হতাহত হয়নি।
নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে ও সাবেক সেনাপ্রধান শরত্ ফনসেকার মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। উভয় পক্ষই নির্বাচনে জয়লাভের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। আজ বুধবার নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হতে পারে। সহিংসতার জন্য উভয় পক্ষ পরস্পরকে দায়ী করেছে। সিএমইভি জানায়, সহিংসতার কারণে অনেক ভোটার ভোট দিতে যাননি। ফলে উত্তরাঞ্চলে ভোট পড়েছে অনেক কম।
দক্ষিণাঞ্চলীয় মুলকিরিগালা নির্বাচনী আসনের একটি ভোটকেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করতে যাচ্ছি। নির্বাচনের পর নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের অবশ্যই প্রস্তুত থাকতে হবে।’ সাবেক এই চলচ্চিত্র অভিনেতা মাত্র ২৪ বছর বয়সে পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন।
গত মে মাসে তামিল টাইগারদের স্বাধিকার আন্দোলন একেবারে নিশ্চিহ্ন করে দেন রাজাপক্ষে ও ফনসেকা। স্বাধীন তামিল রাষ্ট্রের জন্য ১৯৭২ সাল থেকে লড়াই করে আসছিল তামিল টাইগার বিদ্রোহীরা।
কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রের ওই মিত্রের পরস্পরের শত্রুতে পরিণত হতে খুব বেশি সময় লাগেনি। রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ ৫৯ বছর বয়সী ফনসেকা তাঁর সাবেক বসের বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেওয়ার পর দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
শ্রীলঙ্কায় নির্ভরযোগ্য কোনো বুথ ফেরত সমীক্ষা নেই। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, রাজাপক্ষে ও ফনসেকার মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ২২ জন প্রার্থী লড়েছেন।
সিএমইভির জাতীয় সমন্বয়কারী ডি এম দেশানায়েক বলেন, নির্বাচনের দিন মোট ৬৪টি সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৩০টি গুরুতর। ভোটকেন্দ্রের কাছে গুলিবর্ষণ ও বোমা বিস্ফোরণের মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি জানান। সিএমইভি জানায়, তামিল অধ্যুষিত ভাভুনিয়া শহরের একটি ভোটকেন্দ্রের কাছে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছে।
চার মাইল পথ হেঁটে গিয়ে ভোট দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান শরত্ ফনসেকার একজন সমর্থক। তিনি বলেন, ভোট দেওয়ার জন্য তাঁরা অনেক পথ হেঁটেছেন। কারণ তাঁরা মনে করছেন, যুদ্ধের পর এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। কে দেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হবেন, সে সম্পর্কে নিজের পছন্দ ব্যক্ত করার ব্যাপারে তিনি আগ্রহী।
বিরোধীরা বলেছে, ভোট কারচুপির প্রমাণ পাওয়া গেলে তারা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবে না। রাস্তায় বিক্ষোভ প্রদর্শনের আগাম হুমকি দিয়ে রেখেছে ফনসেকার মিত্ররা। নির্বাচনের দিন নিরাপত্তার জন্য ৬৮ হাজার পুলিশ সদস্য এবং ১২ হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়।
গতকাল স্থানীয় সময় বিকেল চারটায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। মঙ্গলবার রাত থেকে প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা শুরু হয়। আজ বুধবার দুপুর নাগাদ চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গ্যাস নিঃসরণ হ্রাসের সময়সীমা মেনে নেবে ভারতসহ চার দেশ

বেসিকভুক্ত চার দেশ ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও চীন জলবায়ু পরিবর্তন রোধে ক্ষতিকর গ্যাস নিঃসরণ হ্রাসের ব্যাপারে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত জাতিসংঘের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা মেনে নিতে একমত হয়েছে। গত রোববার নয়াদিল্লিতে ওই চার দেশের পরিবেশমন্ত্রীদের এক বৈঠকে এ ব্যাপারে সমঝোতা হয়। গত ডিসেম্বরে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক শীর্ষ সম্মেলনের পর এ ব্যাপারে ভবিষ্যত্ আলোচনায় অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছার লক্ষ্যে তাঁরা এ বৈঠক করেন।
ভারতের পরিবেশমন্ত্রী জয়রাম রমেশ বলেন, ক্ষতিকর গ্যাস নিঃসরণ কমাতে ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে উন্নত দেশগুলোর প্রচণ্ড চাপের মুখে বেসিক দেশগুলো কাজ করে যাচ্ছে। বৈঠকে তিনি একটি রাজনৈতিক চুক্তির আদলে করা কোপেনহেগেন চুক্তি বাস্তবায়নে বেসিক দেশগুলোর সমন্বিত সমর্থনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। যদিও জি-৭৭ দেশগুলোর গোষ্ঠীর মধ্যে বেসিক দেশগুলোর এই সিদ্ধান্তের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই, তবু উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে এই চার দেশকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী হিসেবে গণ্য করা হয়।
বেসিক দেশগুলোর এক যৌথ বিবৃতিতে রমেশ বলেন, ৩১ জানুয়ারি নাগাদ জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (ইউএনএফসিসিসি)-বিষয়ক যে কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে, এ ব্যাপারে তথ্যের যোগসূত্র রাখার অভিপ্রায়ও ব্যক্ত করেন চার দেশের মন্ত্রীরা।
এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং কার্বন নিঃসরণ কমানোর ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘের বেঁধে দেওয়া ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমার সিদ্ধান্ত নাকচ করেন। সূত্র জানায়, ৩১ জানুয়ারির মধ্যে কার্বনমিশ্রিত গ্যাসের নির্গমন হ্রাসে পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী লারস লোক্কে সারমুসেন ও জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বারবার চাপ দেওয়ায় তিনি নাখোশ হয়েছিলেন।
২০ জানুয়ারি ইউএনএফসিসিসির নির্বাহী সচিব ইউভো দা বোয়ের মন্তব্য করেন, ৩১ জানুয়ারির সময়সীমা মেনে নেওয়া পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক নয়। কেবল অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, পাপুয়া নিউগিনি ও মালদ্বীপ—এই চারটি দেশ ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। কিউবা এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে। রমেশ বলেন, ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে কোপেনহেগেন চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার পর ধনী দেশগুলো গুরুত্বপূর্ণ কিছু লক্ষ্য অর্জিত হবে বলে প্রত্যাশা করে। একই সঙ্গে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এক হাজার কোটি ডলারের তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু সে লক্ষ্য অর্জিত হয়নি।

হেলমান্দ প্রদেশে বড় ধরনের অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ন্যাটো বাহিনী

আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হেলমান্দ প্রদেশে ন্যাটো বাহিনী বড় ধরনের অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল নিক কার্টার গত সোমবার বলেন, এই এলাকা থেকে তালেবান জঙ্গিদের উচ্ছেদ এবং আফগান সরকারের কর্তৃত্বকে শক্তিশালী করার জন্য এ অভিযান পরিচালিত হবে

থানায় হামলা চালিয়ে কয়েদিকে ছিনতাই

ভারতের ৬১তম প্রজাতন্ত্র দিবসে গতকাল মঙ্গলবার সকালে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার ক্যানিং মহকুমার ছোট মোল্লাখালী থানার সামনে পতাকা উত্তোলনের অনুষ্ঠান চলছিল। এতে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েক শ নেতা-কর্মী।
অনুষ্ঠানের মধ্যেই নেতা-কর্মীরা হঠাত্ দাবি জানান, সোমবার রাতে সোমেন পাত্র নামে যে ব্যক্তিকে ধরে আনা হয়েছে, তাঁকে এক্ষুনি ছেড়ে দিতে হবে। থানার ওসি তাতে আপত্তি জানালে হঠাত্ করে থানায় হামলা চালান তৃণমূলের কর্মীরা। তাঁরা স্লোগান দিয়ে ভাঙতে শুরু করেন থানার লকআপ। এরপর প্রকাশ্যেই ওসি এবং থানার আরও তিন পুলিশকর্মীকে মারধর করে কয়েদিকে ছিনিয়ে নিয়ে যান

মালয়েশিয়ায় মুসলিম নারীদের নিয়ে লেখা বইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাতিল

মুসলিম নারীদের সম্পর্কে লেখা একটি বইয়ের ওপর সরকারের নিষেধাজ্ঞার আদেশ বাতিল ঘোষণা করেছেন মালয়েশিয়ার হাইকোর্ট। গতকাল মঙ্গলবার একজন আইনজীবী এ কথা জানান। বইটিতে ইসলামের ভুল ব্যাখা করা হয়েছে এবং এটা সর্বসাধারণের স্থিতিশীলতার প্রতি হুমকিস্বরূপ—এই অভিযোগে বইটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।
গত কয়েক বছরে মালয়েশিয়ায় বেশ কয়েক ডজন বই নিষিদ্ধ করা হয়। অধিকাংশ বই নিষিদ্ধ করা হয় যৌন-সম্পর্কিত বিষয়বস্তু এবং ইসলামের অপব্যাখা করা হয়েছে—এই বিবেচনা থেকে।
মালয়েশিয়ার নারী অধিকার সংস্থা সিস্টার ইন ইসলামের আইনজীবী মালিক ইমতিয়াজ জানান, গত সোমবার কুয়ালালামপুর হাইকোর্ট রায় দেন, মুসলিম উইম্যান অ্যান্ড দি চ্যালেঞ্জ অব ইসলামিক এক্সট্রিমিজম বইটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি কোনো হুমকি সৃষ্টি করছে না।
সিস্টার ইন ইসলাম বইটি প্রকাশ করেছে। প্রকাশের দুই বছর পর ২০০৮ সালে ওই প্রবন্ধ সংকলনটি নিষিদ্ধ করে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, বইয়ের বিষয়বস্তু মানুষের বিশ্বাসের ভিত্তিকে দুর্বল করতে পারে এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে।
সিস্টার ইন ইসলাম দাবি করেছে, ২১৫ পৃষ্ঠার ওই বইটি পুরোপুরি শিক্ষা-সম্পর্কিত। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে নারী অধিকার নিয়ে কাজ করতে গিয়ে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইরান, মিসর ও ফিলিপাইনের নারী অধিকারকর্মীরা এবং পণ্ডিতেরা যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছেন, সেগুলো ব্যাপকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে ওই বইয়ে।
সংস্থাটি বলেছে, নিষিদ্ধ করার আগে বইটির প্রায় তিন হাজার কপি বিক্রি হয়েছে। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যবই হিসেবেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বইটি।
মালিক ইমতিয়াজ বলেন, হাইকোর্টের বিচারপতি মোহাম্মদ আরিফ মোহাম্মদ ইউসুফ বলেছেন, বইটি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত ছিল অযৌক্তিক। কারণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে সাতটি পৃষ্ঠা সম্পর্কে আপত্তি করেছিল, সেখানে জননিরাপত্তার প্রতি কোনো ধরনের হুমকির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মোল্লা ওমর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি

পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার (আইএসআই) সাবেক এক কর্মকর্তা বলেছেন, আফগানিস্তান-সংকট সমাধানে তালেবান নেতা মোল্লা ওমরের সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত যুক্তরাষ্ট্রের। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছেন এই তালেবান নেতা।
কর্নেল ইমাম নামে পরিচিত পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার সুলতান তারার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাকক্লাটচি পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, মোল্লা ওমর আলোচনায় বসতে রাজি। আফগান-সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র আন্তরিক প্রস্তাব দিলে তালেবান নেতা তা বিবেচনা করে দেখবেন।
কর্নেল ইমাম বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আন্তরিকভাবে আলোচনার প্রস্তাব দিলে তালেবান তাতে সাড়া দেবে। কেননা তালেবানের হূদয় অনেক বড়। কিন্তু তালেবানের ভেতরে ভাঙনের চেষ্টা চালানো হলে তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। কারণ মোল্লা ওমরের আনুগত্য যারা ত্যাগ করে, তারা আর তালেবানের অন্তর্ভুক্ত থাকে না। তারা কেবল তালেবানের সঙ্গে প্রতারণা করারই চেষ্টা করে।’
আফগানিস্তান যুদ্ধ নিয়ে একটা রাজনৈতিক সমাধানে আসতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা যখন গলদঘর্ম, ঠিক তখনই এ মন্তব্য করলেন কর্নেল ইমাম। তিনিই মোল্লা ওমরকে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়েছেন বলে ধারণা করা হয়ে থাকে।

রাহুল ও নিতীশের প্রশংসা করলেন বিল গেটস

ভারতের স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমারের প্রগতিশীল ভূমিকার প্রশংসা করেছেন সফটওয়্যার নির্মাতা মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। বিশ্বের স্বাস্থ্যসেবা-ব্যবস্থার ওপর লেখা বার্ষিক এক চিঠিতে গেটস এ প্রশংসা করেন।
গেটস লেখেন, ‘আমি যখন ভারত সফর করি, তখন দেশটির অন্যতম দরিদ্র রাজ্য বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমারের সঙ্গে কথা হয়। জানতে পারি, টিকা নেওয়ার হার বাড়ানোর ক্ষেত্রে তিনি বেশ কিছু ভালো কাজ করেছেন। ওই কর্মসূচি উন্নয়নের সহযোগিতায় অর্থায়ন করার কথা বিবেচনা করছে বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন।
গেটস আরও লেখেন, ‘এই বিনিয়োগের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য রাজনৈতিক নেতাদের নতুন প্রজন্মের অংশ রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও দেখা করেছিলাম আমি। খুব খোলা মনে রাহুল বলেন যে আকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিদের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর জন্য এখনো প্রচুর অর্থ পাওয়া যায়নি। এটা খুব সহজ কাজও নয়।’
গেটস বলেন, রাহুলের এই নিঃশঙ্কচিত্ত ও খোলামেলা কথা উজ্জীবিত করার মতো, যেখানে আরও অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে দাতাদের অনুত্সাহিত করতে পারে এমন কথা অনেক রাজনীতিবিদ বলতেই চান না। রাহুল ব্যাখ্যা করে বলেন, কীভাবে প্রধানত নারীসহ স্থানীয় দলগুলোকে সংগঠিত করতে হয়।
বিল গেটস বলেন, ‘আমি তাঁর (রাহুল) কাছে শুনতে পাই, কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পেতে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন। এ জন্য সরবরাহব্যবস্থা উন্নত করা হচ্ছে। তিনি এবং অন্য তরুণ রাজনীতিবিদেরা আমাকে আশ্বস্ত করেন যে এক দশকের মধ্যে ভারতে উল্লেখযোগ্য হারে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন হবে।’
বিল গেটস আরও লেখেন, স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভারতের উত্তরাঞ্চলের পরিস্থিতি ভয়াবহ। সেখানে প্রায় ১০ শতাংশ শিশু পাঁচ বছর বয়সের আগেই মারা যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকার এ বিষয়ে তাদের গুরুত্ব বাড়ানো ও স্বাস্থ্য খাতে অর্থ ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

লেবাননের ফ্যাশন ডিজাইনাররা

প্যারিস আর নিউইয়র্কের ফ্যাশন শো ছাপিয়ে কান আর অস্কারের ‘রেড কার্পেট’ অনুষ্ঠানেও অতিথি আর তারকাদের পোশাক তৈরিতে এখন জয়জয়কার লেবাননের পোশাক কারিগরদের। লেবাননের নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে গৃহযুদ্ধবিধ্বস্ত রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল একটি দেশের ছবি, এখনো যাদের প্রতিবেশী ইসরায়েলের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে। কিন্তু এই অস্থিতিশীলতা, অনিশ্চয়তা দমিয়ে রাখতে পারেনি লেবাননের ফ্যাশন ডিজাইনারদের।
কয়েক দশক ধরেই মধ্যপ্রাচ্যে পোশাকের ধরন-ধারণ-চলন নির্ধারণে নেতৃত্ব দিচ্ছে লেবানন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পোশাক প্রদর্শনীগুলোতে অত্যন্ত আদৃত নামে পরিণত হয়েছেন সে দেশের ফ্যাশন ডিজাইনার জর্জেস চক্র, জুহেইর মুরাদ, বাসিল সোদা ও রবিহ কাইরোজ। তাঁদের নকশা করা পোশাকের কদর পশ্চিমা বিশ্বে উত্তরোত্তর বাড়ছে। আর লেবাননের ফ্যাশন ডিজাইনারদের এই এগিয়ে যাওয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন এলি সাব।
ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে সাবের তারকাখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে ২০০২ সালে। ওই বছর সম্মানজনক ‘একাডেমি অ্যাওয়ার্ড’-এর অনুষ্ঠানে পুরস্কার নিতে সাবের নকশা করা পোশাক পরেই মঞ্চে উঠেছিলেন হলিউডের তারকা অভিনেত্রী হ্যালি বেরি। এখন নিয়মিতভাবেই সাবের নকশা করা পোশাক পরছেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, ম্যারিওন কোটিলার্ড আর বিয়ন্সের মতো তারকারা।
লেবাননের সাব ও রাবিহ কাইরোজ হাতেগোনা বিদেশি ফ্যাশন ডিজাইনারদের অন্যতম যাঁরা ফ্রান্সের ‘চেম্বার সিন্ডিকেট ডে লা হট কোট্যুর’-এ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্মান অর্জন করেছেন। বিশ্বের শীর্ষ ফ্যাশন ডিজাইনার আর ফ্যাশন হাউসগুলোর সমন্বয়ে গঠিত একটি বাণিজ্যিক সহযোগিতাবিষয়ক পর্ষদ চেম্বার সিন্ডিকেট ডে লা হট কোট্যুর।
তবে এই আন্তর্জাতিক খ্যাতি আর প্যারিসের সম্মান সাবের হূদয় থেকে বৈরুতকে মুছে দিতে পারেনি। সম্প্রতি লেবাননের রাজধানীতে নিজের কার্যালয়ে এক সাক্ষাত্কারে সাব বলেন, ‘আমি সব সময় বলেছি, লেবাননে আমি অন্য রকমভাবে শ্বাস নিতে পারি। এই দেশের সঙ্গে আমার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। আমার মা-বাবা এ দেশের সন্তান। লেবাননের আলো, এর ইতিহাস আমাকে প্রেরণা জোগায়।’
লেবাননের এই তরুণ ফ্যাশন ডিজাইনারদের অগ্রপথিক হিসেবে বিবেচিত সাব (৪৫) লেবাননের একজন ‘আইকন’ (প্রতীক) হিসেবে বহির্বিশ্বে পরিচিত। তবে নকশাকার হিসেবে তাঁর শুরুটা বেশ সাদামাটা। শৈশবে মায়ের টেবিলক্লথ আর জানালার পর্দার কাপড় কেটে বোনদের জন্য পোশাক তৈরি করতেন তিনি। বেশির ভাগ লেবাননি শিশুর মতো সাবের শৈশবও কেটেছে যুদ্ধ আর সহিংসতার মধ্যে। মাত্র ১৮ বছর বয়সে নিজের শিল্পশালা খোলেন সাব। সে সময় লেবাননে গৃহযুদ্ধ তুঙ্গে ছিল। প্রায় দুই দশক পার হয়ে গেলেও লেবাননের সূচিশিল্পীদের প্রতি আস্থা একটুও টলেনি সাবের। এখনো সেখানকার সুচিশিল্পীদের সেলাই করা পোশাক পরেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পোশাক প্রদর্শনীতে আবির্ভূত হন বিশ্বের নামীদামি তারকা ও মডেলরা।
গৃহযুদ্ধের পর বৈরুতে পুনর্গঠন কার্যক্রম চলে। তবে তাতে যুদ্ধের স্মৃতি মুছে যায়নি। এখন সেখানে বুলেটে ঝাঁঝড়া হওয়া অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছে সুরম্য বিপণি। লেবাননে এখনো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত না হলেও গত কয়েক বছরে দেশটি পর্যটনশিল্পে বেশ এগিয়ে গেছে। সেখানকার রাস্তার পাশের ক্যাফেগুলোতে বছরের বেশির ভাগ সময়ই পর্যটকে ঠাসা থাকে।
নিউইয়র্কভিত্তিক ফ্যাশন ডিজাইনার রিম আক্রা বৈরুতে তার শৈশবের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বলেন, ছোট থাকতেই পোশাকশৈলী সম্পর্কে তাঁর একধরনের ধারণা হয়ে গিয়েছিল। পাঁচ বছর বয়সেই মা তাঁকে নিয়ে বাজারে যেতেন এবং সেখান থেকেই শিখেছেন কীভাবে কাপড় কিনতে হয়। বিয়ের পোশাক তৈরিতে একজন শীর্ষস্থানীয় ডিজাইনার হিসেবে ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন আক্রা।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের স্ত্রীরও একটি পোশাকের ডিজাইন করেছেন আক্রা। তিনি বলেন, ‘ছোট থাকতেই আমি জেনে গিয়েছিলাম দামি পোশাকের কদর রয়েছে এবং কীভাবে দামাদামি করতে হয় তার কৌশলও শিখে গিয়েছিলাম।’
ফ্রান্সের ফ্যাশন বিশ্লেষক এবং এ বিষয়ের লেখক লিদিয়া কামিিসস বলেন, ‘রেড কার্পেটে অংশগ্রহণকারী তারকাদের পোশাক তৈরির ক্ষেত্রে লেবাননের এসব ফ্যাশন ডিজাইনাররা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক বাজার তৈরি করেছেন। কারণ তাঁদের পোশাকগুলো তারকাদের চাহিদা অনুযায়ী আবেদনময় ও জৌলুশপূর্ণ কিন্তু উত্তেজক নয়, নয় অনেক বেশি ব্যক্তিগত। তাঁদের নকশা করা পোশাকগুলো শুধু আকর্ষণীয়ই নয়, পরিধানযোগ্যও।’
হলিউডের রুপালি পর্দার তারকাদের কাছে আরেকটি জনপ্রিয় নাম জর্জেস চক্র। ২০০৬ সালে দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা চলচ্চিত্রের জন্য পোশাকের নকশা করে খ্যাতিমান হয়ে ওঠেন তিনি। এখন টায়রা ব্যাংকস, ক্যারি আন্ডারউড আর কুইন লতিফার মতো তারকারা নিয়মিত জর্জেস চক্রের নকশা করা পোশাক পরে বিভিন্ন প্রদর্শনী আর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হচ্ছেন।
বৈরুতভিত্তিক এই ফ্যাশন ডিজাইনার বলেন, ‘এখানকার বেড়ে চলা তারকা ফ্যাশন ডিজাইনাররা এখন বিশ্বের সামনে বৈরুতের একটি আলাদা পরিচয় তুলে ধরতে পারেন। ১০ বছর আগেও আমরা বলাবলি করতাম, লেবাননের নকশাকারদের এই জনপ্রিয়তা দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু তা হয়নি। বরং এখন মনে হচ্ছে, খুব তাড়াতাড়ি এমনটি ঘটার কোনো সম্ভাবনাও নেই।’

আহমাদিনেজাদকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মেনে নিয়েছেন মেহদি কারৌবি

ইরানের বিরোধীদলীয় নেতা মেহদি কারৌবি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদকে তিনি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মেনে নিয়েছেন। অথচ গত বছর অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল মেনে না নিয়ে কারৌবি অভিযোগ করেছিলেন, আহমাদিনেজাদ ভোট কারচুপির মাধ্যমে নির্বাচনে জিতেছেন।
কারৌবির ছেলে হোসেন কারৌবি জানান, নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে তাঁর বাবার মনে এখনো সংশয় আছে। তবে দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ফলাফলকে অনুমোদন দেওয়ায় তিনি তা মেনে নিয়েছেন।
বাবার উদ্ধৃতি দিয়ে হোসেন বার্তা সংস্থা ফার্সকে বলেন, ‘আমি এখনো মনে করি, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি এবং বড় ধরনের কারচুপি হয়েছে। কিন্তু যেহেতু আলী খামেনি আহমাদিনেজাদকে স্বীকৃতি দিয়েছেন, কাজেই আমিও মেনে নিয়েছি তিনি রাষ্ট্রের প্রধান, অর্থাত্ প্রেসিডেন্ট।’
তবে কারৌবির ছেলে পরে বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, তাঁর বাবার উদ্ধৃতি ফার্স ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে। তাঁর বাবা সতর্কতার সঙ্গে ‘প্রেসিডেন্ট’ শব্দটি এড়িয়ে গেছেন। কেননা, তিনি চান না ‘প্রেসিডেন্ট’ শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে আহমাদিনেজাদের শাসনকে পরিপূর্ণ বৈধতা দিতে।
গত বছরের নির্বাচনের পর ইরানে বড় ধরনের বিক্ষোভ ও সহিংসতা হয়েছিল। এ সময় কয়েক শ বিরোধী কর্মীকে গ্রেপ্তারও করা হয়।

কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ভারতের ৬১তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদ্যাপন

কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার ভারতের ৬১তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদ্যাপিত হয়েছে। প্রজাতন্ত্র দিবসের মূল অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় রাজধানী নয়াদিল্লিতে। সুসজ্জিত সামরিক কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করা হয় সেখানে। এতে ভারতের নতুন কিছু প্রতিরক্ষাব্যবস্থা উন্মুক্ত করা হয়। নয়াদিল্লিতে বার্ষিক সামরিক কুচকাওয়াজ দেখতে হাজার হাজার মানুষ হাজির হয়েছিল। কিন্তু ঘন কুয়াশায় তাদের অনেকেরই সে আশা পূরণ হয়নি। তীব্র কুয়াশার কারণে তারা সামান্য দূরের জিনিসও দেখতে পারেনি। খবর এএফপির।
দেশব্যাপী ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্যেও গতকাল বেশ কয়েকটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। নয়াদিল্লিতে মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগে সীমান্তে ভারত ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মধ্যে গুলিবিনিময় হয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বোমা বিস্ফোরণে আহত হন পুলিশের চারজন সদস্য। এ ছাড়া বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা তো ছিলই।
কাশ্মীরে ভারতের আধাসামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা জে বি সাগওয়ান অভিযোগ করেছেন, সীমান্তবর্তী বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্যদের ভারতে ঢুকতে সহায়তা করতেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী গুলি চালিয়েছে। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ নিয়ে এ বছর দুই দেশের মধ্যে তিন দফা গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটল।
নয়াদিল্লির মূল অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি মিয়ুং-বাক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিল। সামরিক কুচকাওয়াজ প্রদর্শনের সময় তাঁরা দুজনই বুলেটরোধক কাচের ঘরে ছিলেন।
নয়াদিল্লির পুলিশ কমিশনার ওয়াই এস দাদওয়াল বলেন, দিল্লির চারপাশে ১৫ হাজার পুলিশ ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। কুচকাওয়াজ প্রদর্শনের আট কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বালুর বস্তা ফেলে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন বিপুলসংখ্যক আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য। দাদওয়াল বলেন, অনুষ্ঠানে কেউ যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেদিকে নজর দেওয়া হয়। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়ের দিকে গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
বিভিন্ন সমরাস্ত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি কুচকাওয়াজে একদল উট-আরোহী সেনাসদস্য অংশ নেন। এ ছাড়া ইসরায়েলের তৈরি বিশেষ বিমান প্রদর্শন করা হয়। এই বিমান আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম। কিন্তু তীব্র কুয়াশার কারণে উপস্থিত জনতা এই বিমান প্রদর্শনী দেখতে পারেনি।
ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিল তাঁর ভাষণে সে দেশের বিগত ৬০ বছরের অর্জনের প্রশংসা করেন। তবে খাদ্যের চাহিদা ও উত্পাদনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ব্যবধানের ব্যাপারে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন তিনি। খাদ্যশস্যের চাহিদা বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি ভারতের কৃষি উত্পাদন বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার কারণে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। গত শুক্রবার ভারত সরকার সে দেশের সব বিমানবন্দর এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে তাদের দূতাবাসগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দেয়। জঙ্গিরা ভারতের একটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করতে পারে—গোয়েন্দাদের কাছ থেকে এমন বার্তা পাওয়ার পরই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে গতকাল ভারতের সর্বত্র নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তবে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নয়াদিল্লির পাশাপাশি মুম্বাই এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে গুরুত্ব দেওয়া হয় বেশি।
১৯৫০ সালে ভারতের নতুন সংবিধান গ্রহণের দিনটি সে দেশের প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে উদ্যাপিত হয়ে আসছে।

তালেবান নেতাদের সরকারে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে

আফগানিস্তানে নিযুক্ত শীর্ষস্থানীয় মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, তালেবান নেতাদের কাবুলে নতুন সরকারে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ফিনান্সিয়াল টাইমস পত্রিকায় গত সোমবার প্রকাশিত একটি সাক্ষাত্কারে জেনারেল স্টানলি ম্যাকক্রিস্টাল এ কথা বলেছেন।
শীর্ষস্থানীয় তালেবান নেতারা কি তাহলে শেষ পর্যন্ত সরকারের অংশ হবে—জানতে চাইলে ম্যাকক্রিস্টাল বলেন, ‘যদি কেউ ভবিষ্যতে নিজেকে দেশের কাজে লাগাতে চান, তাহলে আমি মনে করি, তাঁরা সরকারে যোগ দিতে পারেন।’
ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, আগামী বৃহস্পতিবার লন্ডনে আফগানিস্তানবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আগে ম্যাকক্রিস্টালের এ মন্তব্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আফগানিস্তানের নিরাপত্তার দায়িত্ব আফগানদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে এক কর্মকাঠামো তৈরি নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা হতে পারে।
আফগানিস্তান সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানের সঙ্গে তালেবানকে সংশ্লিষ্ট করার বিষয়ে মার্কিন নেতারা চলতি মাসের শুরু থেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে শুরু করেছেন। এ ছাড়া তালেবানের সঙ্গে আলোচনা শুরুর জন্য কিছু তালেবান নেতাকে জাতিসংঘের সন্ত্রাসী তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আফগানিস্তানে জাতিসংঘ মিশনের প্রধান কাই এইদে। এ ছাড়া এইদে তালেবানের আরও একটি দাবি—আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক বন্দিশালায় আটক ৭৫০ বন্দীর মুক্তির বিষয়টি পর্যালোচনার গতি জোরদার করার আহ্বান জানান।
এইদে জানান, তিনি আশা করছেন, এ দুটি পদক্ষেপ নেওয়া হলে তালেবানের সঙ্গে আফগান সরকারের সরাসরি আলোচনা আরও সহজ হবে। কেননা, তালেবান নেতাদের অনেকে পাকিস্তানে আত্মগোপন করে আছেন।
অর্থ ও চাকরির বিনিময়ে শীর্ষস্থানীয় তালেবান নেতাদের লড়াই ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিতে একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা তৈরির কাজ শুরু করেছেন আফগান, আমেরিকান ও ন্যাটোর নেতারা। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে শত শত বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। পরিকল্পনাটি নিয়ে লন্ডন সম্মেলনে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে বিশেষ মার্কিন দূত রিচার্ড হলব্রুক গত সপ্তাহে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, জাতিসংঘের সন্ত্রাসী তালিকা থেকে কিছু তালেবান নেতাকে বাদ দেওয়া হতে পারে। কেননা, এ নেতারা সহিংসতা বা আল-কায়েদার সঙ্গে জড়িত নন।
হলব্রুক বলেন, ‘ওই তালিকায় অনেকের অন্তর্ভুক্তির কোনো অর্থ বুঝি না। তালিকার অনেকেই মারা গেছেন। আবার অনেককে তালিকায় তোলাই ঠিক হয়নি।’
আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইও সহিংসতা ছেড়ে দিয়েছেন এবং আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়—এমন তালেবান নেতাদের জাতিসংঘের সন্ত্রাসী তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলেছেন। পশ্চিমা মিত্ররাও এটিকে সমর্থন করে বলে তিনি জানান।

আল-কায়েদার হুমকি ‘ফাঁকা বুলি’ নয়

রাসায়নিক, জীবাণু, এমনকি পরমাণু অস্ত্রের সাহায্যে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলার লক্ষ্য পরিত্যাগ করেনি আল-কায়েদা। পশ্চিমা বিশ্বের ওপর গণবিধ্বংসী অস্ত্রের সাহায্যে তাদের হামলার হুমকি ‘ফাঁকা বুলি’ নয়। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাবেক একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা প্রণীত নতুন এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।
রলফ মোওয়ার্ট লারসেন প্রণীত ওই প্রতিবেদনটি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বেলফার সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স গত সোমবার প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র অর্জনের জন্য আল-কায়েদা নেতারা এতটাই বদ্ধপরিকর ও ধৈর্যশীল যে এ জন্য তাঁরা বছরের পর বছর অপেক্ষা করতেও রাজি। এসব অস্ত্রের সাহায্যে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটানো সম্ভব হবে।
লারসেন বলেন, ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র অর্জনের চেষ্টায়, সাধারণভাবে যা ধারণা করা হয় তার চেয়ে অনেক বেশি সুসংগঠিত আল-কায়েদা গোষ্ঠী। অস্ত্র অর্জনের জন্য ভিন্ন পথেও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জঙ্গি গোষ্ঠীটি।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পর আল-কায়েদা ও গণবিধ্বংসী অস্ত্র বিষয়ে সিআইএর অভ্যন্তরীণ একটি টাস্কফোর্সের নেতৃত্ব দিয়েছেন মোওয়ার্ট লারসেন। পরে জ্বালানি বিভাগের ইনটেলিজেন্স ও কাউন্টার ইনটেলিজেন্সের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২৩ বছর সিআইএতে কাজ করেছেন লারসেন।
প্রতিবেদনে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর ওসামা বিন লাদেনের ব্যাপক গণবিধ্বংসী অস্ত্রের সাহায্যে হামলার হুমকি ‘ফাঁকা বুলি’ নয়। এটা আল-কায়েদার শীর্ষস্থানীয় কৌশলগত লক্ষ্য। ইসলামি বিশ্বে পশ্চিমাপন্থী সরকারগুলোর পতন ঘটানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অর্থনৈতিক বিনাশ চায় জঙ্গি গোষ্ঠীটি।
জীবাণু অস্ত্র, গবেষণাগার নির্মাণ ও প্রাণঘাতী অ্যানথ্রাক্স ব্যাকটেরিয়া তৈরির প্রচেষ্টায় আল-কায়েদার দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা আইমান আল জাওয়াহিরি কীভাবে এক পাকিস্তানি অণুজীববিজ্ঞানী এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মালয়েশিয়া সেনাবাহিনীর এক ক্যাপ্টেনকে তাঁর দলে ভিড়িয়েছিলেন সেটা বর্ণনা করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।
মোওয়ার্ট লারসেন বলেন, ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরের আগেই আল-কায়েদা ওই দুটি লক্ষ্যই অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু অ্যানথ্রাক্স জীবাণুকে সফলভাবে অস্ত্রে রূপান্তরিত করতে পারেনি তারা। আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর অভিযানের পর আফগানিস্তান ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন বিজ্ঞানীরা।

মাস্টারকার্ডের সঙ্গে ব্র্যাক ব্যাংকের সমঝোতা চুক্তির ঘোষণা

ব্র্যাক ব্যাংক ও মাস্টারকার্ড একটি সমঝোতা চুক্তি করার ঘোষণা দিয়েছে।
ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মূহায়মেন এবং মাস্টারকার্ড ওয়ার্ল্ডওয়াইড সাউথ এশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিকাস ভার্মা গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই সমঝোতা চুক্তির ঘোষণা দেন। এ সময় ব্র্যাক ব্যাংক ও মাস্টারকার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইএমভি-সংবলিত নিরাপদ এই মাস্টারকার্ড যেকোনো ধরনের কার্ডসংক্রান্ত প্রতারণার ঝুঁকি এড়ানোর নিশ্চয়তা দেবে। এ ছাড়া কার্ডটির মাধ্যমে গ্রাহকেরা বিভিন্ন কেনাকাটায় তাত্ক্ষণিক মূল্যছাড়, হোটেল বুকিং ও রিওয়ার্ড পয়েন্ট অর্জনসহ বিভিন্ন সুবিধা পাবেন।

দেশের নাগরিক সমাজের সক্রিয়তা বাড়ানো জরুরি

বিদেশি সাহায্যকে কার্যকর ও অর্থবহ করতে দাতাগোষ্ঠী ও সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের সক্রিয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বৈদেশিক সাহায্যের কার্যকারিতায় নাগরিক সমাজের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ অভিমত ব্যক্ত করা হয়।
উন্নয়ন গবেষণা সংগঠন ‘ভয়েস’ এবং ‘এইড অ্যাকাউনটেবিলিটি গ্রুপ’-এর যৌথ উদ্যোগে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত স্টিফান ফ্রোয়েন এবং ডেনমার্ক দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ইয়ান মুলার হ্যানসেন। সভায় সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ।
স্টিফান ফ্রোয়েন বলেন, বিদেশি সাহায্য কার্যকর করতে প্রয়োজন সঠিক কর্মপরিকল্পনা, যেখানে নাগরিক সংগঠনগুলো নিজেদের কার্যক্রমকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য নিরসনে ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, সাহায্যকে কার্যকর করতে সরকার ও দাতাগোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গির অনেক উন্নতি হয়েছে, কিন্তু স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অর্জনে আরও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
ইয়ান মুলার বলেন, বাংলাদেশ বৈদেশিক সাহায্যনির্ভর দেশ নয়, তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিদেশি সাহায্য বাড়ছে। সরকারের উচিত, এই সাহায্য যাতে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা।
ডিএফআইডির বৈদেশিক সাহায্য কার্যকারিতাবিষয়ক উপদেষ্টা বো সান্ডস্টর্ম বলেন, দাতাদের সহায়তা মূলত দেশের নিজস্ব উন্নয়ন কৌশল ও পদ্ধতির সঙ্গে সংগতি রেখে করা উচিত।
আলোচক হিসেবে আরও বক্তব্য দেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, প্রিপ ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক অ্যারোমা দত্ত, ‘নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবির প্রমুখ।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী, সুপ্রর পরিচালক উমা চৌধুরী, স্পিড স্ট্রাস্টের দীপু শামসুল ইসলাম, চেঞ্জমেকার্সের তানবীর সিদ্দিকী প্রমুখ।

অতি মূল্যায়িত শেয়ারে ঋণ দিতে সতর্কতার পরামর্শ

অতি মূল্যায়িত শেয়ারে বিনিয়োগের বিপরীতে গ্রাহকদের ঋণসুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ।
গ্রাহকদের ঋণসুবিধা দিয়ে থাকে এমন ব্রোকারেজ হাউসগুলোর কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ডিএসইতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে গতকাল মঙ্গলবার এ পরামর্শ দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে ডিএসইর সভাপতি রকিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর উচিত ওই শেয়ারে ঋণসুবিধা কমিয়ে আনা, যাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে কোনো হস্তক্ষেপ করতে না হয়।
রকিবুর রহমান বলেন, কোনো শেয়ারের দাম ৫০০ টাকা থাকা অবস্থায় যে হারে ঋণ দেবেন, সেই একই হারে যদি শেয়ারটির দাম এক হাজার টাকা হওয়ার পরও ঋণ দেওয়া হয়, তাহলে নিশ্চিতভাবেই ঝুঁকি বাড়ে। তাই এ ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের ঋণসুবিধা দেয়, এমন অর্ধশতাধিক ব্রোকারেজ হাউসের মালিক ও প্রতিনিধি বৈঠকে যোগ দেন।
ডিএসইর সভাপতি অতি মূল্যায়িত শেয়ারে বিনিয়োগ না করতে বিনিয়োগকারীদের প্রতিও আহ্বান জানান। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আগে বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলতাম অতি মূল্যায়িত শেয়ার কেনার আগে দশবার ভাবেন; আর এখন বিনিয়োগকারীদের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে, তাঁরা যেন কোনো অবস্থাতেই অতি মূল্যায়িত শেয়ার না কেনেন।’
রকিবুর রহমান বলেন, কোনো কোম্পানিতে বিনিয়োগের আগে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস), আয় অনুপাতে দাম (পিই), প্রকৃত সম্পদমূল্য (এনএভি), কোম্পানির ব্যবসায়িক সম্ভাবনাসহ উদ্যোক্তাদের সম্পর্কে ভালোমতো খোঁজখবর নিয়ে বিনিয়োগ করা উচিত। এভাবে বিনিয়োগ করলে স্বল্প মেয়াদে কোনো লোকসান হলেও দীর্ঘ মেয়াদে একজন বিনিয়োগকারী অবশ্যই মুনাফা করবেন। বাজারে এখনো এমন অনেক বিনিয়োগযোগ্য শেয়ার রয়েছে।
বৈঠকে শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাজারে শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া বৈঠকে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে প্রতি সপ্তাহে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর উদ্যোগে অন্তত একটি করে সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। এ বৈঠকে অর্ধশতাধিক ব্রোকারেজ হাউসের কর্তাব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে গতকাল বিকেলে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে এসইসি, ডিএসই ও সিএসই যৌথ বৈঠক করেছে। এ বৈঠকে বাজারের টেকসই উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়।
বাজার পরিস্থিতি: টানা আট দিন অব্যাহতভাবে বাড়ার পর গতকাল উভয় স্টক এক্সচেঞ্জেই শেয়ারের মূল্যসূচক কিছুটা কমেছে।
এদিন ডিএসইর সাধারণ সূচক আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৬৯ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার ২৪৩ পয়েন্টে নেমে এসেছে। আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সূচক ২২৪ পয়েন্ট কমে হয়েছে ১৫ হাজার ১৯১ পয়েন্ট। তবে সূচক কমলেও লেনদেনে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পড়েনি।
ডিএসইতে গতকাল মোট এক হাজার ৪৮২ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের দিনের রেকর্ড লেনদেনের চেয়ে তা ২১ কোটি টাকা কম হলেও পুঁজিবাজারে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৪৫ কোটি টাকার শেয়ার।
বাজার সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত কয়েক দিন প্রধানত গ্রামীণফোনের শেয়ারের ওপর ভর করেই সূচক ও লেনদেন বাড়ছিল। কিন্তু এ লেনদেনকে অস্বাভাবিক আখ্যা দিয়ে এসইসি ও ডিএসই তদন্ত শুরু করা এবং কোনো কোনো মার্চেন্ট ব্যাংকের ঋণসুবিধা বন্ধ করে দেওয়ায় শেয়ারটির দাম কিছুটা কমেছে। মূলত এ কারণেই সূচক কমেছে।

চেন্নাই ওপেন দাবা

চেন্নাই ওপেন দাবায় জয় পেয়েছেন বাংলাদেশের গ্র্যান্ড মাস্টার জিয়াউর রহমান। ভারতের চেন্নাই শহরে অনুষ্ঠানরত টুর্নামেন্টে কাল দ্বিতীয় রাউন্ডে তিনি হারিয়েছেন ভারতের সি আর জি কৃষ্ণাকে। দুই খেলায় দুই পয়েন্ট জিয়ার।

সাকলাইনের সাত, সেঞ্চুরি দেখছেন হাবিবুল

প্রথম রাউন্ডে সিলেটের বিপক্ষে পেয়েছিলেন ১১ উইকেট। ওই ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯ রানে নিয়েছিলেন ৭টি। কাল আবারও ৭ উইকেট পেলেন রাজশাহীর বাঁ হাতি স্পিনার সাকলাইন সজীব। তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়ে ঢাকাকে ১৯৫ রানেই গুটিয়ে দিয়েছে রাজশাহী। চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে কালকের দিনটি যদি হয় সজীবের, তাহলে ফতুল্লায় তা ছিল খুলনার অধিনায়ক হাবিবুল বাশারের। তাঁর অপরাজিত ৮১ রানে দিন শেষে ৫ উইকেটে ২৬৩ রান তুলেছে খুলনা। লিগের টানা চতুর্থ হাফ সেঞ্চুরিটিকে তিন অঙ্কে টেনে নেওয়ার অপেক্ষায় আজ ব্যাট করতে নামবেন বাংলাদেশের সফলতম ক্রিকেট অধিনায়ক। রাজশাহীতে চট্টগ্রামের বোলারদের দাপটে ২০৭ রানে অলআউট সিলেট।
চট্টগ্রামে ঢাকার বিপর্যয়ের শুরু প্রথম ওভারেই। ওপেনার উত্তম সরকারকে (০) ফিরিয়ে যেটি শুরু করেন পেসার শাহাজাদা। তবে ঢাকাকে অল্প রানে মুড়ে দেওয়ার আসল কাজটি করেছেন সাকলাইন। ২৬ ওভারে ১টি মেডেনসহ ৮৫ রানে নেন ৭টি উইকেট। লিগে তিন ম্যাচে এখন পর্যন্ত ২৯ উইকেট নিয়ে উইকেটশিকারিদের তালিকায় শীর্ষে তিনি। ঢাকার হয়ে লড়েছেন আরেক পেসার শরীফউল্লাহ। ৫৪ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। জবাবে দিন শেষে ২৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৭০ রান তুলেছে রাজশাহী। ৩৫ রানে ব্যাট করছেন জহুরুল ইসলাম।
এবারের লিগের শুরু থেকেই রানের মধ্যে আছেন হাবিবুল বাশার। প্রথম রাউন্ডে ঢাকার বিপক্ষে ১৭ ও ৬৯, দ্বিতীয় রাউন্ডে সিলেটের বিপক্ষে করেছেন ৫১ ও ৫৭। কিন্তু ‘মিস্টার ফিফটি’ এবার যদি হাফ সেঞ্চুরির বৃত্ত থেকে বেরোতে পারেন! হাবিবুল ও ওপেনার নাজমুস সাদাতের জোড়া হাফ সেঞ্চুরির (৭৫) সুবাদে দিন শেষে খুলনার স্কোর ২৬৩/৫। বরিশালের আরাফাত সালাউদ্দিন নিয়েছেন ৩টি উইকেট।
চট্টগ্রামের বিপক্ষে সিলেটের হয়ে লড়েছেন দুই ভাই—গোলাম রহমান ও গোলাম মাবুদ। মাবুদের ৪৮ ও রহমানের ৪২ রানে ভর করে অলআউট হওয়ার আগে কোনোক্রমে দুশ পার করেছে তারা। সিলেটের ঘাতক ছিলেন চট্টগ্রামের পেসার তারেক আজিজ। ৪৭ রানে ৪ উইকেট পেয়েছেন তিনি। ইলিয়াস সানি, কাজী কামরুল ও ফয়সাল হোসেনের উইকেট ২টি করে। প্রথম ইনিংসে খেলতে নেমে ১ উইকেটে ২৯ রান করেছে চট্টগ্রাম।

কোচের পদ ছাড়লেন আর্থার

অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথের সঙ্গে সম্পর্কটা শীতল হয়ে পড়েছিল অনেক দিন ধরেই। সম্পর্কটাকে উষ্ণ করে কাজ চালিয়ে যাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ছিল তাঁর জন্য। শেষ পর্যন্ত কোচের পদ থেকে ইস্তফাই দিলেন দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ মিকি আর্থার। আপত্কালীন কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক পেসার করি ফন জিলকে। ভারতের বিপক্ষে দুই টেস্ট ও তিন ওয়ানডের সিরিজের জন্য এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে।
এভাবে দায়িত্ব ছেড়ে খুশি নন আর্থার। সেটাই বললেন, ‘দুই টেস্টের রোমাঞ্চকর ভারত সফরের আগমুহূর্তে এমনটা করা খুবই দুর্ভাগ্যজনক, কিন্তু এই সময়ের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটপঞ্জিতে কখনোই ভালো সময় আসবে না। তবে সব ভালোরই একটা শেষ আছে এবং এখন সময় অন্য কারও দায়িত্ব নেওয়ার।

সিরিজ অস্ট্রেলিয়ার

ওয়ানডের অভিষেকটা সুখকর ছিল না রায়ান হ্যারিসের। গত বছর জানুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওই ম্যাচে ১০ ওভারে দিয়েছিলেন ৫৪ রান। একটি উইকেট যদিও পেয়েছিলেন কিন্তু ওই পারফরম্যান্স দিয়ে জায়গা ধরে রাখা যেত না। ধরে রাখতে পারেনওনি। কিন্তু এক বছর পর হঠাত্ দলে জায়গা পাওয়া ডানহাতি এই পেসার নায়ক হয়ে গেলেন প্রত্যাবর্তন ম্যাচেই। পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার ৪০ রানের জয়ে বড় ভূমিকাটা তাঁরই। পাকিস্তানকে ২৪৬ রানে থামিয়ে দিতে ৪৩ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট। এই জয়ে ৫ ম্যাচের সিরিজ ২ ম্যাচ হাতে রেখেই জিতে নিল অস্ট্রেলিয়া।
অস্ট্রেলিয়া পাকিস্তানের সামনে দিয়েছিল ২৮৭ রানের পাহাড়সমান এক লক্ষ্য। কিন্তু রান তাড়া করতে নেমে ৬০ রানে প্রথম চার ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায় মোহাম্মদ ইউসুফের দল। পঞ্চম উইকেটে উমর আকমল ও ফাওয়াদ আলমের ৮৫ রানের জুটিটাই যা একটু আশা জোগায় তাদের। ৭৬ বলে ইনিংস-সর্বোচ্চ ৫৯ রান করেন উমর। তবে তিনি নন, অস্ট্রেলিয়ার জন্য ব্যাট হাতে সত্যিকারের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন শহীদ আফ্রিদি। সঙ্গে ছিলেন রানা নাভিদ। ব্যাটিং পাওয়ার প্লের প্রথম তিন ওভারেই তাঁরা ৩৭ রান তুলে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিলেন অস্ট্রেলীয় শিবিরে। তবে আরও বড় হুমকি হয়ে ওঠার আগেই ৫৮ রানের এই জুটি ছিন্ন করেন হ্যারিস। দারুণ এক ইয়র্কারে বোল্ড করে দেন আফ্রিদিকে। আফ্রিদি আউট (২৯ বলে ৪০ রান) হওয়ার পর ম্যাচ জেতা সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় অস্ট্রেলিয়ার।
এর আগে টস জেতা অস্ট্রেলিয়া শন মার্শ (৮৩), মাইকেল ক্লার্কের (৮০) ফিফটিতে ৬ উইকেটে করে ২৮৬ রান। পিটার সিডলের পিঠের ইনজুরিতে তাঁরই বিকল্প হিসেবে দলে ডাক পাওয়া রায়ান হ্যারিসই হয়েছেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ। ওয়েবসাইট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: অস্ট্রেলিয়া: ৫০ ওভারে ২৮৬/৬ (মার্শ ৮৩, ক্লার্ক ৮০, হাসি ৪৯, ওয়াটসন ৩৩; গুল ২/৮০, নাভেদ ২/৫৭, আসিফ ১/৫১, আজমল ১/৪১)। পাকিস্তান: ৪৭.৪ ওভারে ২৪৬ (উমর ৫৯, আফ্রিদি ৪০, বাট ৩৪, নাভেদ ৩৩; হ্যারিস ৫/৪৩, ম্যাকে ৩/৪৮, ওয়াটসন ১/৬৬, হরিজ ১/৩৭)।
ফল: অস্ট্রেলিয়া ৪০ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: রায়ান হ্যারিস।

ক্যামেরুনের অভিযান শেষ মিসরে

শিরোপা ধরে রাখা আর বিশ্বকাপের টিকিট না পাওয়ার দুঃখ ভোলা—আফ্রিকান নেশনস কাপে এই ছিল মিসরের মন্ত্র। ক্যামেরুনকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ‘ফারাও’রা পরশু উঠে গেল সেমিফাইনালে। আর দুটি ম্যাচে সাফল্যের হাসি হাসতে পারলেই আফ্রিকান-সেরার মুকুটটা থেকে যাবে তাদের মাথায়। তবে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের অভিযান শেষ হয়ে গেছে জাম্বিয়ার। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলাও গোল-বন্ধ্যা থাকার পর নাইজেরিয়ার কাছে টাইব্রেকারে (৪-৫) হেরেছে তারা। পেনাল্টি ঠেকিয়ে নাইজেরিয়ার জয়ের নায়ক গোলরক্ষক এনিয়েমা।
এবারের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি মিসর অধিনায়ক আহমেদ হাসানের কাছে ছিল বিশেষ কিছু। মিসরের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ (১৭০) খেলার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। শুরুতে অবশ্য সব বিশেষত্বই পণ্ড হতে চলেছিল হাসানের, তাঁর আত্মঘাতী গোলেই পিছিয়ে পড়েছিল মিসর। তবে হতাশাকে মাটিচাপা দিয়ে পরে করেছেন জোড়া গোল, আর তাতেই হাসানের দিনটি হয়েছে রঙিন। এই নিয়ে মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়নশিপে টানা ১৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়ল মিসর।
২৬ মিনিটে হাসান গোল বাঁচাতে গিয়ে বল জড়িয়ে দেন নিজেদের জালে। তবে ১১ মিনিট পরই গোলটি শোধ করে দেন তিনি নিজেই। হতাশা মুছে অতিরিক্ত সময়ে (৯৫ মিনিটে) দলের জয়সূচক গোলটিও করেন হাসানই। এর ৩ মিনিট আগেই অবশ্য ব্যবধান দ্বিগুণ করেছিলেন ন্যাগি।
ম্যাচ শেষে হাসান ছিলেন আনন্দে উদ্বেল, ‘আমরা জিতেছি, খুব খুশি আমি। খুব ভালো খেলেছি আমরা এবং দুই গোল ও ১৭০ ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়ে আমি খুব রোমাঞ্চিত।’ এদিকে ক্যামেরুন কোচ পল লে গুয়েন রাগে-দুঃখে সংবাদ সম্মেলন ছেড়েছেন। রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অধিনায়ক স্যামুয়েল ইতো, ‘রেফারি কিছুটা মিসরকে সমর্থন করেছে।

পিএনজিকে উড়িয়ে প্লেট ফাইনালে বাংলাদেশ

গ্রুপ ম্যাচেও পাপুয়া নিউগিনি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলকে ৫ উইকেটে হারিয়েছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। তবে আইসিসির সহযোগী দেশটি এবার আরও ভয়ংকর রূপ দেখল বাংলাদেশের তরুণদের। প্লেটের সেমিফাইনালে কাল তাদের ৮৫ রানে অলআউট করে দিয়ে বাংলাদেশ জিতেছে ১৬৮ রানে। দলের এই বড় জয়ে ব্যাটে-বলে সমান ঔজ্জ্বল্য ছড়িয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন নূর হোসেন।
টস জিতে ব্যাটিং নিলেও শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। স্কোরবোর্ডে ৩১ রান জমা হতেই বিদায় নেন দুই ওপেনার আনামুল হক ও সৌম্য সরকার। তবে তৃতীয় উইকেটে মোমিনুলকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন সৈকত। ৬৫ রানের এই জুটি ভেঙে গেলে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ২ উইকেটে ৯৬ থেকে দলের রান হয়ে যায় ৬ উইকেটে ১২৬। যার ৬১ রানই দেয় সৈকতের ব্যাট। তবে দলের সর্বোচ্চ স্কোরার তিনি নন। সর্বোচ্চ স্কোরার ৮ নম্বরে ব্যাট করতে আসা নূর হোসেন। ৫০ বলে ৮টি চার ও ১টি ছয়ে ৬৬ রান করেন তিনি। তাসামুলের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে গড়েন ৮০ রানের জুটি। এ কারণেই ৪৯.৪ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে বাংলাদেশ করতে পারে ২৫৩ রান।
রান তাড়া করতে এসে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে পাপুয়া নিউগিনি (পিএনজি)। বড় ইনিংস কেউ খেলতে না পারায় তারা ৩২.৫ ওভারে ৮৫ রানেই অলআউট। দু অঙ্কের রান করেছেন মাত্র ৪ ব্যাটসম্যান। সর্বোচ্চ ১৭ করেছেন ইউরা ও অধিনায়ক কিলা। ৫.৫ ওভারে ১১ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন নূর হোসেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯: ৪৯.৪ ওভারে ২৫৩ (আনামুল ২, সুমায়া ১৭, সৈকত ৬১, মমিনুল ২৭, মাহমুদুল ১, সাব্বির ০, তাসামুল ৪৩, নূর হোসেন ৬৬, আলাউদ্দিন ১৫, কামরুল ৯, শাকের ০; কিলা ২/২৫, রিভা ২/৫৫, হাওডা ২/৬৫, মও ১/৪৭, আমিনি ১/৫০)। পাপুয়া নিউগিনি অনূর্ধ্ব-১৯: ৩২.৫ ওভারে ৮৫ (কিলা ১৭, ইউরা ১৭, আমিনি ১৩, সিয়াকা ১০; আলাউদ্দিন ১/৭, কামরুল ১/১৫, শাকের ২/৭, সৈকত ০/৭, নূর হোসেন ৪/১১, মাহমুদুল ২/২৬, তাসামুল ০/৯)। ফল: ১৬৮ রানে জয়ী বাংলাদেশ।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: নূর হোসেন।

সোনা জিতলে ৫ লাখ, রুপার জন্য ২

দক্ষিণ এশীয় গেমসে ব্যক্তিগত সোনা-রুপা-ব্রোঞ্জ জয়ের জন্য খেলোয়াড়েরা পুরস্কার পাবেন ৫ লাখ, ২ লাখ ও ৫০ হাজার টাকা করে। ফুটবল, ক্রিকেট, হকি দলের জন্য ১৫ লাখ, ১০ লাখ ও ৩ লাখ। কাবাডি, ভলিবল, বাস্কেটবলসহ অন্যসব দলগত খেলায় পুরস্কারের অঙ্কটা ১০ লাখ, ৪ লাখ, দেড় লাখ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া এই ঘোষণা বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন। কোনো সরকার-প্রধান এভাবে গেমসের আগে পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন বলে শোনা যায়নি। পুরস্কারের কথা শুনে খেলোয়াড়েরা খুবই খুশি।
ফেডারেশনগুলো পুরস্কারের ঘোষণা দিয়ে অনেক বারই কথা রাখেনি। না হলে ১৯৯৫ মাদ্রাজ সাফে ২০০ মিটার স্প্রিন্টে সোনাজয়ী মাহবুব আলম কাল রাতে কেন আক্ষেপ নিয়ে বলবেন, ‘তখন ফেডারেশন বলেছিল ১ লাখ টাকা দেবে। আজও দেয়নি।’
গত দক্ষিণ এশীয় গেমসে সোনাজয়ী ৩ খেলোয়াড়কে সরকার কোনো অর্থ পুরস্কার দেয়নি। এ নিয়ে সরকারের কোনো হেলদোলও ছিল না। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন দিয়েছিল এক লাখ করে। এবার রুপা, ব্রোঞ্জের জন্যও পুরস্কার—খেলোয়াড়দের কাছে এ যেন প্রত্যাশাতীত ব্যাপার।

নিউজিল্যান্ড যাচ্ছেন মাশরাফি

নিউজিল্যান্ডগামী বাংলাদেশ দলে বড় কোনো চমক নেই, তবে বড় খবর আছে। দলে ফিরেছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। অবশ্য অধিনায়ক হিসেবে নন, মাশরাফি দলে আছেন সাধারণ সদস্য হিসেবে। একবারেই বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচে খেলতে চান না বলে নিউজিল্যান্ডে শুধু টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে খেলবেন। আর এ জন্যই নিজে থেকেই বোর্ডকে অনুরোধ করেছিলেন অধিনায়কত্বের জন্য তাঁকে বিবেচনা না করতে।
খোলা চোখে দেখলে দলে আফতাব আহমেদের থাকাটাও একটা বড় খবর। ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের দলে ছিলেন না তিনি। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের দলে ছিলেন, আফতাবেরটি তাই ফেরা না বলে বলা যায় জায়গা ধরে রাখা। একই কথা বলা যায় বাঁহাতি স্পিনার আবদুর রাজ্জাকের ক্ষেত্রেও। এই দলটি টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে ও টেস্ট—তিনটি সংস্করণের জন্যই। শুধু টেস্টের আগে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন জুনায়েদ সিদ্দিক।
ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের দল থেকে বাদ পড়েছেন শাহরিয়ার নাফীস এবং পেসার মাহবুবুল আলম। অবশ্য নিউজিল্যান্ড সিরিজের দলে রাখা হবে না জানিয়ে ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের পরই জাতীয় লিগ খেলার জন্য তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। ত্রিদেশীয় সিরিজের দল থেকে নাফীস ছাড়া আর বাদ পড়েছেন বাঁহাতি পেসার সৈয়দ রাসেল।
নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশে আজ রাতেই ঢাকা ছাড়ছে বাংলাদেশ দল। ৩ ফেব্রুয়ারি একমাত্র টি-টোয়েন্টি হ্যামিল্টনে, ৫, ৮ ও ১১ ফেব্রুয়ারি তিনটি ওয়ানডে যথাক্রমে নেপিয়ার, ডানেডিন ও ক্রাইস্টচার্চে, আর ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে একমাত্র টেস্ট হ্যামিল্টনে। টি-টোয়েন্টি, প্রথম ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচটি দিবারাত্রির।