Sunday, April 24, 2016

একজন ‘প্রিন্স’-এর জন্য কাঁদি, ৫০০ শরণার্থীর জন্য নয় by রবার্ট ফিস্ক

সংবাদ লেখায় আমাদের নৈতিকতার কিছু কি হারিয়ে গেছে? গত সপ্তাহে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে গত ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বোমা হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৬৪ আফগান নাগরিক। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৪০ জন। অভিজান নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী, যারা রাজধানীকে রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত, তাদের খুব কাছেই তালেবানরা এ হামলা চালিয়েছে। এতে কয়েকটি পরিবারের সবাই মারা গিয়েছেন। তাদের জন্য কোন ময়না তদন্ত হয় নি। স্থানীয় টেলিভিশনে দেখানো ফুটেজে দেখা গেছে মা, তার স্বামী ও তিন সন্তানের পুরো একটি পরিবার মিলি সেকেন্ডের মধ্যে টুকরো টুকরো হয়ে গেছেন। শহরের এম্বুলেন্স সার্ভিস থেকে বলা হয়েছে, তাদের সবগুলো এম্বুলেন্স (১৫টি) উদ্ধার অভিযানে লাগানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি এম্বুলেন্সে এত বেশি আহত ব্যক্তিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল যে, এর পিছনের দরজার পাল্লা এক সময় খুলে যায়।
এখন আফগানিস্তান হলো সেই দেশ, যেখানে আমরা ও আমাদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশীদাররা শরণার্থীদের ফেরত পাঠিয়ে তুষ্ট হচ্ছি। আর বলছি কাবুল ও এর আশপাশের প্রদেশ এখন নিরাপদ। অবশ্যই এটা একটি ডাহা মিথ্যা কথা। যেমন ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের আগে ব্যাপক বিধ্বংসী মারণাস্ত্রের কথা বলা হয়েছিল অসৎ উদ্দেশে। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, তাদেরকে আমরা ফেলে যাব না। সোভিয়েত যুুদ্ধের পর তাদেরকে যেভাবে আমরা ভুলে গিয়েছিল সেভাবে ভুলবো না। অবশ্যই ওই সময়ের প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের দেয়া সেই প্রতিশ্রুতির কোন মূল্যই নেই।
গত সপ্তাহে আফগানিস্তানের টেলিভিশনে আরেকটি খবর দেয়া হয়েছে। তাতে তাদের ভবিষ্যত কেমন অন্ধকারাচ্ছন্ন হতে পারে তা তুলে ধরা হয়। দু’জন আমেরিকানকে হত্যার জন্য সবুর নামে এক যুবককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সে আদালতে বলেছে, এ জন্য তার কোন অনুশোচনা নেই। সঙ্গে সঙ্গে আফগানিস্তানের সামাজিক মিডিয়ায় এই যুবকের পক্ষে সমর্থন উপচে পড়ে। একজন বলেন, ওই যুবকই হলেন খাঁটি আফগান। আরেকজন বলেন, তিনি প্রকৃত আফগান।
কিন্তু এই সপ্তাহে মারা গিয়েছেন সঙ্গীতশিল্পী প্রিন্স।
তারপর রয়েছে সর্বশেষ ভূমধ্যসাগরীয় বিপর্যয়। একটি বড় বোটে ছিলেন মিশরীয়, ইথিওপিয়ান, সোমালিয়ার মানুষ ও সুদানিরা। একটি ছোট বোট থেকে তাতে আরও শরণার্থী তাতে তুলে দেয়ার পর ওই বোটটি ডুবে মারা গেছেন ৫০০ শরণার্থী ও অভিবাসী। যারা বেঁচে আছেন তাদেরকে গ্রিসে নামানো হয়েছে। তাদের অনেকে নিজের পরিবারকে ডুবে মরতে দেখেছেন। কিন্তু তাদের ডুবে যাওয়ার কোন ছবি নেই। অবশ্যই তাদের কোন ময়না তদন্তও নেই। ছোট্ট আয়লান কুর্দির মতো কেউ সমুদ্রতীরে ভেসে আসে নি কারো মৃতদেহ। তাই কোন ক্যামেরাও এর ছবি পায় নি। তারা সোজা সাগরের গভীরে ডুবে গেছেন। যোগ দিয়েছেন সেই সব হাজার হাজার মানুষের কংকালের সঙ্গে যারা আর কোনদিন ইউরোপে যেতে পারবেন না। বিখ্যাত টাইটানিক ডুবে যে পরিমাণ মানুষ মারা গিয়েছিলেন তার এক তৃতীয়াংশ হলো সর্বশেষ ডুবে মরা এই ৫০০ শরণার্থী। ওই ঘটনার সঙ্গে এটাকে মিলিয়ে দেখবেন না। এটাও বলবেন না যে, এখনও এক মিলিয়ন মানুষ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেয়াকেই বেছে নিয়েছেন, আমরা গ্রিস ও তুরস্কের মধ্যকার প্রণালী বন্ধ করে দিচ্ছি।
না, যারা মেধাবী এই মেধাবী সঙ্গীতশিল্পীর (প্রিন্স) মৃত্যুতে বিলাপ করছেন, সামাজিক মিডিয়ায় ঝড় তুলেছেন তাদেরকে আমি রুষ্ঠ করতে চাই না। ‘পারপেল রেইন’-এর এই সুপারস্টারের ভক্ত রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে। সেখানে আরবে যে ফেসবুক রয়েছে তাতে এই সুপারস্টারের মৃত্যুতে বেদনায় পূর্ণ। আমরা যদি আর একটু এগিয়ে যাই তাহলে বিস্মিত হতে হয়। যখন যখন টেলিভিশনের উপস্থিাপক-উপস্থাপিকারা মিনিয়াপোলিশের মেয়রের কাছে তাদের বেদনা প্রকাশ করছেন, আইফেল টাওয়ার রক্তবর্ণ ধারণ করেছে, তখন অবশ্যই এমন একটি সময় এসেছে যখন আমরা নিজেদের কাছে প্রশ্ন করতে পারি, আমাদের অগ্রাধিকারের সব উদ্দেশ্য কি হারিয়ে যায় নি। কাবুলে যে তিনটি শিশু মারা গিয়েছে তাদের কেউ একজনও কি একজন ‘প্রিন্স’ হয়ে উঠতে পারতো না? অথবা ভূমধ্যসাগরে যে ৫ শত মানুষ ডুবে মরেছেন তাদের মধ্য থেকে কোন শিশু কি তা হতে পারতো না? একটি ছেলে বা একজন মেয়ে শিশু কি হতে পারতো না এক একজন সুপারস্টার? কতজন টিভি উপস্থাপক বা উপস্থাপিকা এসব শিশুর মৃত্যুতেও দুঃখ প্রকাশ করেছেন? অবশ্যই রক্তবর্ণের চেয়ে রঙটা হতে পারতো কালো। আইফেল টাওয়ারের আলো নিভিয়ে দেয়া হতে পারতো।
কিন্তু তা হবে না। কারণ, এ সপ্তাহে ‘প্রিন্স’ মারা গিয়েছেন।
(রবার্ট ফিস্ক ইংলিশ ভাষার সাংবাদিক ও লেখক। লন্ডনের দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকায় মধ্য প্রাব্য বিষয়ক সাংবাদিকতরা করছেন ২০ বছরের বেশি। )
(অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টে প্রকাশিত লেখার অনুবাদ)

ওবামা কেন ব্রেক্সিটের বিপক্ষে?

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়া (ব্রিটেন+এক্সিট = ব্রেক্সিট) ঠেকাতে এবার প্রকাশ্যে দালালি শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা শুক্রবার লন্ডন সফরকালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে ব্রেক্সিটের বিপক্ষে ওকালতি করেছেন। টেলিগ্রাফ পত্রিকায় উপ-সম্পাদকীয় লিখে ইনিয়ে বিনিয়ে বলেছেন, ইউরোপে থাকা ব্রিটেনের নিজের স্বার্থে কতটা জরুরি। ওবামার এসব কার্যকলাপ যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে ‘নাক গলানো’ হিসেবে দেখছেন অনেকেই। সমালোচকরা বলছেন, ব্রিটেন ইউরোপে থাকবে কি থাকবে না, সেটা সম্পূর্ণ ব্রিটিশদের ব্যাপার। যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের ভোট শেখানোর জন্য ওবামাকে নিয়োগ করা হয়নি। কিন্তু ওবামা কেন ব্রেক্সিটের বিপক্ষে অবস্থান নিলেন? বিশ্লেষকরা বলছেন, ইইউ ত্যাগ করলে ব্রিটেনের নিজের যতটা না ক্ষতি, তার চেয়ে বেশি ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের। যুক্তরাজ্য ও ইইউকে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে তার নিজের স্বার্থে ‘ব্যবহার’ করে আসছে- তা এখন হুমকির মুখে পড়বে। দি ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপের মধ্যে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা বাজেট সবচেয়ে বেশি।
এই দেশের আছে বিদেশে মোতায়েনযোগ্য বিশাল সেনাবাহিনী। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তির কারণে এই সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। ইউরোপের সংঘাত রোধ, মধ্যপ্রাচ্য লুটপাট কিংবা এশিয়ায় দখলদারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে সবসময় নিজের সেনাবাহিনী প্রেরণ করা লাগে না। ন্যাটোর মাধ্যমে অনেক কাজই হাসিল করতে পারে দেশটি। মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়াকে দমিয়ে রাখার যন্ত্রও এই ন্যাটো। ইউক্রেনসহ এশিয়ায় রাশিয়ার প্রভাব ঠেকাতে মস্কোর ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ আরোপ করা হয়, তার মূল শক্তি ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এদের সম্মিলিত চাপাচাপিতে আটকে যায় রাশিয়ার উদ্ধত পদচারণা। আমেরিকার অবরোধে নয়, বরং ইইউ নিষেধাজ্ঞার কারণেই পরমাণু চুক্তিতে আলোচনায় বসতে বাধ্য হয় ইরান। ইরাক-সিরিয়াভিত্তিক ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে কথিত লড়াইয়ে আমেরিকার বড় সঙ্গী এই ব্রিটেন। সিএনএন জানিয়েছে, পৃথিবীর পঞ্চম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ যুক্তরাজ্য।
বিশ্বের শীর্ষ ২৫০ কোম্পানির ৪০ শতাংশের হেডকোয়ার্টার লন্ডনে। লন্ডন থেকেই ইইউর বাকি ২৭ দেশে বিনা ঝামেলায় বাণিজ্য করা যায়। একটা ব্রিটিশ পাসপোর্ট থাকলেই বাকি দেশগুলোতে ভ্রমণ বা পণ্য পরিবহনে বাধা নেই। ইউরোপে মার্কিন কোম্পানিগুলোর যত পণ্য বিক্রি হয়, তার ৩০ শতাংশই ব্রিটেনে। এখন ইউরোপ থেকে ব্রিটেন বের হয়ে গেলে এই বাণিজ্য হুমকির মুখে পড়বে। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক পার্টনার যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের দিক দিয়ে এ অবস্থান সপ্তম। ২০১৫ সালে ব্রিটেনে ৫৬০০ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করেছে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে ব্রিটেনের মোট রফতানির ১০ শতাংশ চালান হয় যুক্তরাষ্ট্রে। গত বছর পরিমাণ ছিল ৫৮০০ কোটি ডলার। ওয়াশিংটনের বৈদেশিক মুদ্রার বড় উৎস লন্ডন। ২০১৪ সালের হিসাব অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ বিনিয়োগের পরিমাণ ৫২ হাজার কোটি ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশী বিনিয়োগের ১৮ শতাংশ। এতে অন্তত ১০ লাখ মার্কিনীর কর্মসংস্থান হয়েছে। অন্যদিকে ২০১৪ সালে ব্রিটেনে মার্কিন কোম্পানিগুলোর সম্পদের পরিমাণ ছিল ৫ ট্রিলিয়ন ডলার।

বন্ধু তুমি শত্রুও তুমি

বন্ধু তুমি শত্রুও তুমি। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নির্বাচনে এ চিরন্তন প্রবাদটি নির্মম হয়ে দেখা দিয়েছে। বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের সঙ্গে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের সভাপতি মনজুর কাদেরের বন্ধুত্ব চার দশকেরও বেশি সময় ধরে। সালাহউদ্দিন যখন আবাহনীর ফুটবলার, কাদের তখন আবাহনীর ম্যানেজার। খেলা ছাড়ার পরেও দু’জনের সম্পর্ক ছিল অটুট। কাদের আবাহনী ছেড়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া গড়লে সালাউদ্দিনও কোচ হিসেবে যোগ দেন। সালাউদ্দিন মুক্তিযোদ্ধাকে ফেডারেশন কাপ চ্যাম্পিয়ন করিয়ে ফুটবল থেকে ১০ বছর বিচ্ছিন্ন থাকেন। কাদেরও ফুটবল থেকে দূরে ছিলেন অনেক দিন। ২০০৮ সালে সালাউদ্দিন বাফুফে সভাপতি হলে ২০১০ সালে শেখ জামালকে প্রিমিয়ারে খেলার সুযোগ করে দেন বাফুফের সভাপতি।
কাদের-সালাউদ্দিনের বন্ধুত্বের রসায়ন বেশ ভালোই চলছিল। কিন্তু বাফুফের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন দু’জন দুই মেরুতে। কাদের নিজে সরাসরি বাফুফে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও সালাউদ্দিনবিরোধী ‘বাঁচাও ফুটবল’ প্যানেলের মূল হর্তাকর্তা। স্বতন্ত্র সভাপতি পদপ্রার্থী ও আবাহনীর পরিচালক গোলাম রব্বানী হেলালের সঙ্গে সালাউদ্দিনের সম্পর্ক ১৯৭৪ সাল থেকে। এখন সেই হেলাল সালাউদ্দিনের প্রতিদ্বন্দ্বী। শুধু তাই নয় ‘বাঁচাও ফুটবল’ প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী কামরুল আশরাফ খান পোটন এমপির সঙ্গে হেলালের বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের। বাফুফের নির্বাচনে তারাই এখন নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বী। সাবেক তারকা ফুটবলার নওশের উজ্জামান, আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু, বাদল রায়, খুরশিদ আলম বাবুল, আবদুল গাফফার, শেখ মো. আসলাম, হাসানুজ্জামান খান বাবলু, ইমতিয়াজ সুলতান জনি, কায়সার হামিদ, সৈয়দ রুম্মান বিন ওয়ালী সাব্বির, সত্যজিৎ দাস রুপু, ইকবাল হোসেন, বিজন বড়ুয়া, অমিত খান শুভ্র, সাইফুর রহমান মনিরা পড়েছেন একই বিড়ম্বনায়। শুধু তাই নয়, আবাহনীর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ, নজিব আহমেদ, কাজী নাবিল আহমেদ, শওকত আলী খান জাহাঙ্গীর, ফজলুর রহমান বাবুল, মহিউদ্দিন আহমেদ মহি,
আবু হাসান চৌধুরী প্রিন্স, কামরুন নাহার ডানারাও নেই স্বস্তিতে। আবাহনীর চুন্নু ও মোহামেডানের বাদল রায় ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। আওয়ামী লীগ ঘরানার এই দুই ফুটবলার এখন সহ-সভাপতি পদে নিজেরাই প্রতিদ্বন্দ্বী। আওয়ামী লীগের দুই এমপি ঢাকা আবাহনীর পরিচালক কাজী নাবিল আহমেদ ও চট্টগ্রাম আবাহনীর মহাসচিব শামসুল হক চৌধুরী এবং যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও ব্রাদার্সের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ মহিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সহ-সভাপতি পদে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন বিসিবির পরিচালক নজিব আহমেদ, মোহামেডানের সাবেক খেলোয়াড় ও আওয়ামী লীগ নেতা খুরশিদ আলম বাবুল, আরামবাগের ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা মুমিনুল হক সাঈদ। ক্রীড়াঙ্গণে আওয়ামীপন্থী সংগঠকদের সংগঠন সম্মিলিত ক্রীড়া পরিবার। এ সংগঠনের অন্যতম রূপকার হারুনুর রশিদ, ফজলুর রহমান বাবুল,
শওকত আলী খান জাহাঙ্গীর, সত্যজিৎ দাস রুপুদের প্রতিপক্ষ প্যানেলে যোগ দিয়েছেন তাদের ঘরানারই আবদুল গাফফার, হাসানুজ্জামান খান বাবলু, ইমতিয়াজ আহমেদ জনিরা। মোহামেডানের কামরুন নাহার ডানা, কায়সার হামিদ, সাব্বির, প্রিন্সরাও আজ বাঁচাও ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত। বাফুফের নির্বাচন মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে আরও অনেককেই। বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি তাবিথ আউয়ালকে প্যানেলে রাখেনি সম্মিলিত পরিষদ। অথচ গত চার বছর কাজী নাবিলের নেতৃত্বে জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন তাবিথ। সেই তাবিথই এখন নাবিলের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী। ঢাকা মহানগরী লীগ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে শেখ মারুফ হাসান সফল হলেও সম্মিলিত পরিষদ তাকে রাখেনি। বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মারুফ হাসান সহ-সভাপতি পদে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। সব মিলিয়ে বাফুফের নির্বাচন ক্রীড়াঙ্গনে নানা মেরুকরণের জন্ম দিয়েছে।

সিনেমায় ফের জুটি হচ্ছেন ওমর সানী-মৌসুমী

চলচ্চিত্রে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বাস্তবেও জুটি বেঁধেছেন ওমর সানী ও মৌসুমী। গেল কয়েক বছর ধরে নাটক ও টেলিফিল্মে এ জুটিকে মাঝে মাঝে দেখা গেলেও চলচ্চিত্রে একেবারেই যেন অনুপস্থিত তারা। তবে ব্যস্ততা ঠেলে এবার ফের চলচ্চিত্রে জুটি বাঁধতে যাচ্ছেন এ তারকা দম্পতি। বদিউল আলম খোকন পরিচালিত ‘হারজিৎ’ নামের একটি ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করতে দেখা যাবে তাদের। আগামী সপ্তাহেই শুরু হবে ছবিটির শুটিং।
এ প্রসঙ্গে ওমর সানী বলেন, ‘নানা ব্যস্ততার কারণে সিনেমায় বেশ কয়েক বছর ধরে মৌসুমীর সঙ্গে কাজ করা হয়ে উঠছে না। খোকন ভাইয়ের কল্যাণে আমরা আবার একসঙ্গে ছবিতে অভিনয় করতে যাচ্ছি। আশা করি ভালো কিছু হবে।’ মৌসুমী বলেন, ‘ছবিটির স্ক্রিপ্ট পড়েই গল্পটি ভালো লেগে যায়। তারপর খোকন ভাই যখন বললেন, আমার সঙ্গে ওমর সানীও অভিনয় করবেন, তখন চোখ-কান বন্ধ করেই রাজি হয়ে যাই। অনেকদিন ধরেই ওমর সানীর সঙ্গে সিনেমায় অভিনয় করা হচ্ছে না। দেখি আমাদের পুরনো জুটিকে দর্শকরা কিভাবে নেন।’

হারে শুরু পাকিস্তানের

বিশ্বকাপের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের শুরুটা হার দিয়েই হলো পাকিস্তানের। গতকাল একমাত্র টি-টোয়েন্টিতে জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও জয় পায়নি আফ্রিদিরা। ১৫১ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে দেবেন্দ্র বিশোর দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১৪৩ রানেই শেষ হয় পাকিস্তান ইনিংস। ৪ ওভার বল করে মাত্র ১৭ রানের বিনিময়ে চারটি উইকেট নিয়েছেন এই উইন্ডিজ লেগস্পিনার।
টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন উইন্ডিজ অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি। দ্বিতীয় ওভারে আন্দ্রে ফ্লেচার, আবদুর রেহমানের বলে আউট হয়ে ফিরে গেলেও দ্বিতীয় উইকেটে ৯৯ রানের জুটি গড়ে শক্ত ভিত্তি দাঁড় করান ওপেনার লেন্ডি সিমনস ও ড্যারেন ব্রাভো। সিমনস খেলেন ৪৪ বলে ৬৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। ব্রাভোর ব্যাট থেকে আসে ৪২ রান। এরপর আর কোনো বড় জুটি গড়তে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেষ পর্যন্ত ডানজা হাইটের ১৪ ও ক্রিস্টোফার বার্নওয়েলের ১১ রানের সুবাদে উইন্ডিজ স্কোরবোর্ডে জমা হয় ১৫০ রান।
জয়ের জন্য ১৫১ রানের টার্গেট নিয়ে ব্যাট করতে নেমে প্রথম চার ওভারের মধ্যে মাত্র ২০ রানেই দুই ওপেনার মোহাম্মদ হাফিজ ও আজমল শেহজাদকে হারিয়ে চাপের মুখে পড়ে যায় পাকিস্তান। এর পরও কেউই গড়তে পারেননি বড় কোনো জুটি। রবি রামপল আর দেবেন্দ্র বিশোর দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে খুব বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি কোনো পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানই। উমর আকমল ৪১ বলে ৪১ রানের ইনিংসটি খেলে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেটা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান ইনিংস শেষ হয় ১৪৩ রানে। মাত্র ১৭ রানের বিনিময়ে ৪টি উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন বিশো। রামপল নিয়েছেন তিনটি উইকেট।