Showing posts with label পশ্চিমবঙ্গ. Show all posts
Showing posts with label পশ্চিমবঙ্গ. Show all posts

Sunday, August 23, 2026

পশ্চিমবঙ্গে থাকতে হলে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে—শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি

পশ্চিমবঙ্গে থাকতে হলে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতেই হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ‘বন্দে মাতরমকে ভারতের জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের সঙ্গে এক কাতারে নিয়ে এসে দাবি করেছেন, তার সরকার এই বিষয়ে কোনো আপস করবে না।

শনিবার নিজের ভবানীপুর নির্বাচনি এলাকায় এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘বাংলায় থাকতে হলে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতেই হবে। জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের প্রশ্নে এই মুখ্যমন্ত্রী কোনো আপস করবেন না।’

এ সময় অধিকারীর অভিযোগ করেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি, রাজ্য শিক্ষা দপ্তরকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং ক্যাম্পাসে সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতে দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া এবং প্রজাতন্ত্র দিবস ও স্বাধীনতা দিবস পালনের বিরোধিতা করার জন্য ‘টুকড়ে-টুকড়ে গ্যাং’ এবং ‘জিহাদি’ শক্তিকে অভিযুক্ত করেন।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘দেশবিরোধীদের সমর্থনে গণমাধ্যমের একটি অংশ যা-ই লিখুক না কেন, আমরা যাদবপুরের ভেতরে ও বাইরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করব।’

তার সরকারের লক্ষ্য শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয়তাবাদ, ভারতীয় সংস্কৃতি ও ‘সনাতন’ সংস্কৃতির প্রতিফলন থাকতে হবে।

বাম দলগুলোরও সমালোচনা করে শুভেন্দু অধিকারী তাদের নেতাদের ‘লাল বাবু’ বলে কটাক্ষ করেন এবং দাবি করেন, চলতি বছরের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে তাদের প্রার্থীরা জামানত হারিয়েছেন।

সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া
পশ্চিমবঙ্গে থাকতে হলে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে—শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি
শুভেন্দু অধিকারী

Wednesday, August 19, 2026

কলকাতায় হোটেলে আগুন : স্ত্রী, সন্তান, শ্বশুরসহ কুষ্টিয়ার সাংবাদিকের মৃত্যু

ভারতের কলকাতায় আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে চারজনের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। তাঁদের মধ্যে আছেন এক সাংবাদিক, তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও শ্বশুর।

মৃত দেবাশীষ দত্ত আজকের পত্রিকা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ছিলেন। এ ছাড়া তিনি কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত আজকের আলো পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন। ওই ঘটনায় তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), ছেলে শর্ণশীষ দত্ত (৩) ও শ্বশুর আকরাম হোসেন (৬০) মারা গেছেন। চিকিৎসার জন্য ১৫ দিন আগে তাঁরা ভারতের কর্নাটকের বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন। আজ বুধবার তাঁদের দেশে ফেরার কথা ছিল।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে কলকাতায় নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ৯ ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এর মধ্যে কুষ্টিয়ার ওই চারজন ছিলেন।

সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৩৯) কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার দিলীপ দত্তের ছেলে। আজ সকালে দিলীপ দত্ত ছেলে, পুত্রবধূ ও তাঁদের সন্তানের মৃত্যুর খবর পান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ছেলের (দেবাশীষ) লাশের ছবি দেখেছেন।

দিলীপ দত্ত আজ দুপুরে প্রথম আলোকে জানান, দেবাশীষের এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে ফাহিমাকে (৮) রেখে ৩ আগস্ট তিনি স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ভারতে যান। দুই দিন পর তাঁর শ্বশুরও কলকাতায় যান। প্রথমে তাঁরা কলকাতায় দুই দিন ছিলেন। এরপর স্ত্রী ও ছেলের চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরুতে যান। গত সোমবার রাত এগারোটায় উড়োজাহাজে করে কলকাতায় আসেন তাঁরা। সেখানে হোটেলে উঠেছিলেন। আজ সকালে দিলীপ দত্ত জানতে পারেন যে অগ্নিকাণ্ডে তাঁরা সবাই মারা গেছেন।

দেবাশীষের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আজ সকাল থেকে তাঁর বাড়িতে বন্ধু, সাংবাদিক ও প্রতিবেশীরা ভিড় করেন। ছেলেকে হারিয়ে মা স্বপ্না দত্ত পাগলপ্রায়। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলতে থাকেন, ‘আমার দেবা (দেবাশীষ) একটু পরই বাড়িতে আসবে। এত দেরি করছে কেন? রাতে বলেছিল, ব্যাগ গোছাচ্ছে। সকালেই রওনা দেবে বাড়ির উদ্দেশে।’

কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে মৃত দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন ও ছেলে শর্ণশীষ দত্ত। ভারতে গিয়ে ৪ আগস্ট ফেসবুকে ছবিটি পোস্ট করেন দেবাশীষ দত্ত
কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে মৃত দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন ও ছেলে শর্ণশীষ দত্ত। ভারতে গিয়ে ৪ আগস্ট ফেসবুকে ছবিটি পোস্ট করেন দেবাশীষ দত্ত। ছবি : দেবাশীষ দত্তের ফেসবুক থেকে

Tuesday, August 18, 2026

এবার মোদি সরকারের বিরুদ্ধে নতুন লড়াই, উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ

‘তেলাপোকা’ আন্দোলনে নয়া কর্মসূচির লক্ষ্য সরকারি স্কুলঃ ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে আলোচিত ‘ককরোচ’ বা ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন এবার সরকারি স্কুলগুলোর দুরবস্থা নিয়ে নতুন কর্মসূচি শুরু করেছে। তবে এই কর্মসূচি শুরুর মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে এক আন্দোলনকর্মীর বাবার মৃত্যুর ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি নামের এই চাপসৃষ্টিকারী সংগঠন সম্প্রতি ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে ভূমিকা রাখার দাবি করে। ৩৭ দিনের অবস্থান কর্মসূচির পর দেশজুড়ে সরকারবিরোধী তরুণদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে গত জুলাইয়ে তিনি পদত্যাগ করেন।

এবার সংগঠনটির নতুন কর্মসূচির নাম ‘ফিক্স দ্য স্কুলস’। এর আওতায় সমর্থকদের নিজ নিজ এলাকার সরকারি স্কুল পরিদর্শন করে সেখানকার অবস্থা যাচাই করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে নিরাপদ পানীয় জল, কার্যকর শৌচাগার, বিদ্যুৎ, ব্যবহারযোগ্য শ্রেণিকক্ষ, স্কুলের নিরাপত্তা, মধ্যাহ্নভোজ এবং শিক্ষকদের উপস্থিতির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত ১৩ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান ২৬ বছর বয়সী আবদুল হাফিজ। ওই স্কুলেই একসময় পড়াশোনা করেছিলেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, স্কুল পরিদর্শনের কয়েক ঘণ্টা পর স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা তার বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় হাফিজ ও তার বাবা মোহাম্মদ মাফিক আহত হন। দুই দিন পর ৫১ বছর বয়সী মাফিক মারা যান।

তবে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতৃত্ব হামলাকারীদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছে এবং ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। বাবার মৃত্যুর পরও আবদুল হাফিজ জানিয়েছেন, উন্নত শিক্ষার দাবিতে তাদের আন্দোলন বন্ধ হবে না।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, শুধু ভালো স্কুলের দাবি জানানোর কারণে মানুষের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এদিকে রাজস্থানের আলওয়ার জেলায় স্কুলে অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার ও পানীয় জলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন সংগঠনের এক নেতা। স্থানীয় কর্মকর্তারা পরে এসব দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানান।

তবে রাজস্থান সরকার সরকারি স্কুলে বহিরাগতদের প্রবেশ এবং ছবি বা ভিডিও ধারণের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তার কথা উল্লেখ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও আন্দোলনকারীরা এটিকে তাদের কর্মসূচি ঠেকানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

শিক্ষাবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের অনেক সরকারি স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও শিক্ষার নিম্নমানের মতো সমস্যা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন এসব বিষয়কে নতুন করে জাতীয় আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংগঠনটির কর্মীরা রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হওয়ায় তারা হামলা ও সহিংসতার ঝুঁকিতে রয়েছেন। তা সত্ত্বেও সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, বাধা যতই আসুক সরকারি স্কুলগুলোর জবাবদিহি ও সংস্কারের দাবিতে তাদের আন্দোলন চলবে।

এবার মোদি সরকারের বিরুদ্ধে নতুন লড়াই, উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ
ভারতের নয়াদিল্লিতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট চলাকালে ২০২৬ সালের ১৯শে জুলাই তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থকরা স্লোগান দিচ্ছেন এবং ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে মোবাইল ফোন নাড়াচ্ছেন। রয়টার্স

পশ্চিমবঙ্গে পরপর তিন খুন ঘিরে উত্তেজনা, নিহতদের সবাই মুসলিম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বাঁকুড়ায় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) এক কর্মীর বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ওই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) শীর্ষ নেতা আশুতোষ রাঙ্কা রাজ্য সরকারকে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং স্থানীয় পুলিশের ওপর চাপ বজায় রাখতে তাঁরা আপাতত বাঁকুড়া জেলাতেই অবস্থান করছেন তিনি।

পাশাপাশি রাঙ্কা পুরো ঘটনার একটি আদালতের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্ত, নিহতের পরিবারের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা এবং নিহত ব্যক্তির স্মৃতিতে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিদ্যালয় স্থাপনেরও দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ প্রশাসনের দাবি, ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিবারটির অভিযোগ, সিজেপির কর্মীর বৃদ্ধ বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ গত সপ্তাহান্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে খুনের ঘটনায় রাজ্যে কিছুটা রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। গত শনিবার রাতে নদীয়া জেলায় বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা ৫৪ বছর বয়সী আনিসুর রহমান এবং তাঁর ২৩ বছর বয়সী ছেলে আবু সুফিয়ানকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের হাত। গত রোববার এই ঘটনায় পুলিশ স্থানীয় হরনগর পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান ফাতেমা বিবি এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী সাহেব আলী মণ্ডল ও মিঠু শেখকে গ্রেপ্তার করেছে। ঠিক এই সময়ই অর্থাৎ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় একের পর এক তাণ্ডব চলার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভার সাবেক ডেপুটি স্পিকার আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় আত্মহত্যা করেন।

এই চারটি মৃত্যুর জেরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি উত্তাল হয়ে উঠেছে। ক্ষমতাসীন বিজেপি স্বাভাবিকভাবেই এসব খুনের দায় এড়াতে পারে না; কারণ, তারা রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে। কিন্তু বিরোধী পক্ষ সরকারকে খুব একটা কোণঠাসা করতে পারেনি। কারণ, প্রধান বিরোধী মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে।

এ ছাড়া বাকি তিন বিরোধী অর্থাৎ সিপিআইএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট, কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ঋতব্রতপন্থী অংশ এখনো ঘর গুছিয়ে উঠতে পারেনি। ফলে বিজেপির ওপর চাপ খুব একটা বাড়েনি। তবে পরপর এতগুলো খুন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রবল উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

বাঁকুড়ার ঘটনা

ককরোচ জনতা পার্টির নেতা আশুতোষ রাঙ্কা দিল্লি থেকে সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ইন্দাসের কারিশুন্ডা গ্রামে এসে পৌঁছান এবং বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মারা যাওয়া মোহাম্মদ মাফিকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন।

দুদিন আগে নিজের বাড়িতেই নির্মমভাবে পেটানোর পর মাফিকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী। তাঁদের আসার ও এই ঘটনা নিয়ে আন্দোলনে নামার কারণ, নিহত মাফিকের ছেলে আবদুল হাফিজ সিজেপির সদস্য। দিল্লিতে সিজেপির প্রতিবাদ চলাকালে তিনি সক্রিয়ভাবে কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন।

রাঙ্কা জানিয়ে দেন, ১০ দিনের মধ্যে সব অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত আইনি ধারায় কঠোর সাজা দিতে হবে এবং ইন্দাস থানার পুলিশ কর্মীদের ভূমিকা নিয়েও আদালত-পর্যবেক্ষিত নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। কারণ, পুলিশ প্রশাসন পরিবারটির পাশে সঠিকভাবে দাঁড়ায়নি।

​নিহত মাফিকের পরিবার রাজ্য সরকারের আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং মাফিকের ছেলে আবদুল হাফিজ তাঁর বাবার স্মরণে একটি আন্তর্জাতিক মানের স্কুল গড়ে তোলার দাবি তুলেছেন।

হাফিজের কথায়, শিক্ষা প্রসারের মাধ্যমে এ ধরনের স্কুল তৈরি হওয়াই হবে তাঁর বাবার প্রতি সঠিক শ্রদ্ধাঞ্জলি। এই দাবিকে সমর্থন জানিয়ে সিজেপি নেতা রাঙ্কা ঘোষণা করেন, তাঁরা হাফিজকে আর্থিক সহায়তা দেবেন এবং রাজ্যজুড়ে ‘স্কুল ঠিক করো’ আন্দোলন গড়ে তুলবেন, একই সঙ্গে সময়সীমার মধ্যে আসামিরা গ্রেপ্তার না হলে জেলা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করারও হুঁশিয়ারি দেন।

নদীয়া জেলার ঘটনা

​এরই মধ্যে নদীয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া তৃণমূল নেত্রীসহ তিনজনকে শারীরিক পরীক্ষার পর আদালতে পেশ করে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে চায়। আদালত তাঁদের ৯ দিনের পুলিশি রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

শনিবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ কংগ্রেসের নদীয়া জেলা সম্পাদক আনিসুর রহমান তাঁর ছেলে, পেশায় আইনজীবী আবু সুফিয়ানকে নিয়ে গাড়িতে বাড়ি ফিরছিলেন। একটি রেলওয়ে আন্ডারপাসের কাছে তাঁদের গাড়ি আটকে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয় এবং পরে গাড়ি থেকে টেনে বের করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁদের হত্যা করা হয়।

​তদন্তের শুরুতেই পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ইঙ্গিত দিয়েছে, এই জোড়া হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ফল। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অতুল ভি এই তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার খবর নিশ্চিত করেছেন।

তবে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য কী এবং এর পেছনে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা নিয়ে এখনই মন্তব্য করা তড়িঘড়ি হয়ে যাবে বলে তিনি জানান।

নিহত কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান (বাঁয়ে) ও তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ান
নিহত কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান (বাঁয়ে) ও তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ান ছবি: সংগৃহীত। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়ায় বাড়ি ফেরার পথে এক কংগ্রেস নেতা ও তাঁর ছেলেকে কুপিয়ে এবং গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। নিহত ব্যক্তিরা হলেন আনিসুর রহমান ও তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ান। গত শনিবার রাতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এতে জড়িত সন্দেহে স্থানীয় এক পঞ্চায়েতপ্রধানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, কারাবন্দী তৃণমূল নেতা জব্বার শেখের পরিকল্পনা ও নির্দেশে এই জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর আগে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশ জব্বারকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুমান, নিজের গ্রেপ্তারের বদলা নিতেই এই নেতার নির্দেশে প্রতিপক্ষ কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান ও তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া পঞ্চায়েতপ্রধান ফাতেমা বিবি জব্বার শেখের স্ত্রী। রাজ্য সচিবালয়ে রোববার সাংবাদিকদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘তৃণমূলই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশ আমাকে জানিয়েছে, জব্বার শেখ এখন জেলে আছে। জেল থেকেই সে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। জব্বার শেখের স্ত্রীও গ্রেপ্তার হয়েছেন, যিনি তৃণমূলের পঞ্চায়েতপ্রধান।’ জব্বার শেখের স্ত্রী হরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। তাঁর নাম ফাতেমা বিবি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাতে নদীয়ার নাগাদি রেলগেটের কাছে একদল দুষ্কৃতকারী বেথুয়াডহরী থেকে ফেরার পথে আনিসুর রহমানের গাড়ি আটকে বোমা ছুড়ে তাঁকে গাড়ির ভেতর থেকে টেনে বের করে পিটিয়ে এবং গুলি করে হত্যা করে। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে বেথুয়াডহরী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। জব্বার শেখের গ্রেপ্তারের বদলা নিতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে কি না, তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

Monday, July 27, 2026

কলকাতায় ৬৫৩ বছরের পুরোনো মসজিদে পূজার আয়োজন

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মসজিদ ভাঙা কিংবা মসজিদের মধ্যে মন্দিরের অবস্থানের কথা উল্লেখ করে প্রতিনিয়তই বিদ্বেষ বাড়ছে। দেশের সংখ্যালঘু মুসলিমদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠা এই বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ছে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে। সম্প্রতি কলকাতার পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার পান্ডুয়া এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক আদিনা মসজিদকে ঘিরে হিন্দুত্ববাদীরা তাদের দাবিকে আরো তীব্র করেছে। তাদের দাবি আদিনা মসজিদ নাকি আদিনাথের প্রাচীন শিবমন্দির—আর এই দাবিকে কেন্দ্র করে মসজিদটির কাছাকাছি এলাকায় শিবপূজা ও রুদ্রাভিষেকের আয়োজন করা হয়েছে।

সোমবার প্রায় ৬৫৩ বছরের পুরোনো এই স্থাপনার ৫০ মিটারের মধ্যে একটি শিবলিঙ্গ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সেখানে আদিনাথের রুদ্রাভিষেকের (হিন্দু ধর্মে দেবাদিদেব মহাদেবের পবিত্র মন্ত্রপাঠ সহকারে জল ও পঞ্চামৃত দিয়ে শিবলিঙ্গ স্নান করানোর একটি বিশেষ পূজা) আয়োজন করা হয়েছে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বর্ষাকালীন অধিবেশনে বিজেপির রাজারহাটের বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারি আদিনা মসজিদকে আদিনাথ মন্দির হিসেবে দাবি করলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৩৭৩ খ্রিস্টাব্দে সুলতান সিকান্দর শাহ আদিনা মসজিদ নির্মাণ করেন। তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকে স্থাপনাটির বিভিন্ন কারুকাজে শিবসহ হিন্দু দেবদেবীর নিদর্শন রয়েছে—এমন দাবি তুলে একাংশের মানুষ এটিকে প্রাচীন আদিনাথ শিবমন্দির বলে দাবি করে আসছেন।

এ নিয়ে বর্তমানে আদালতেও মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মসজিদের নিকটবর্তী এলাকায় শিবপূজার আয়োজনকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ উপলক্ষে আশপাশের এলাকাও সাজসজ্জা করা হয়েছে।

আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা কাজল গোস্বামীর দাবি, স্থাপনাটির বিভিন্ন কারুকাজে আদিনাথ ও অন্যান্য হিন্দু দেবদেবীর উপস্থিতির প্রমাণ রয়েছে। তার ভাষ্য, এটি মূলত একটি প্রাচীন শিবমন্দির, যা পরবর্তীতে মসজিদে রূপান্তর করা হয়।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও একই ধরনের দাবি করে বলেন, প্রত্নতাত্ত্বিক খননের সময় শিব ও দুর্গার মূর্তি উদ্ধার হয়েছে। তাই তারা স্থাপনাটিকে মন্দির হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।

আদিনাথ শিব মন্দির ও মেলা কমিটির পক্ষ থেকে কাজল গোস্বামী আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা এই দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। আদালতের নির্দেশনা মেনে ভবিষ্যতে শিবলিঙ্গ নির্দিষ্ট স্থানে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্তমানে স্থাপনাটি ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ (এএসআই)-এর অধীনে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে, স্তম্ভটিকে ঘিরে দীর্ঘস্থায়ী বিতর্কের একটি অন্যতম বিষয় হলো এর কিছু ব্যাসল্ট পাথরের দেয়াল ও দরজায় খোদাই করা হিন্দু চিত্রকলার উপস্থিতি।

স্থাপত্য ইতিহাসবিদরা সাধারণত এই খোদাইগুলোকে পূর্ববর্তী কাঠামোর উপকরণ পুনঃব্যবহারের ফল বলে মনে করেন—যা মধ্যযুগীয় নির্মাণে একটি সাধারণ রীতি ছিল—অন্যদিকে পণ্ডিতরা স্মৃতিস্তম্ভটিকে ইসলামি ও দেশীয় স্থাপত্য ঐতিহ্যের সংশ্লেষণ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।

তবে, পুনঃব্যবহৃত উপকরণগুলোর সঠিক উৎস নিয়ে ইতিহাসবিদ এবং স্থানীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

নতুন করে আন্দোলন জোরদার হওয়ায় জেলা প্রশাসন স্মৃতিস্তম্ভটির চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

যদিও হিন্দু সংগঠনটি জানিয়েছে যে এ বছরের আচার-অনুষ্ঠান নিকটবর্তী মন্দিরেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং স্মৃতিস্তম্ভটির ওপর ভবিষ্যতের যেকোনো দাবি শুধুমাত্র বিচারিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমেই উত্থাপন করা হবে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ আবারও শতবর্ষী আদিনা মসজিদকে প্রত্নতত্ত্ব, ইতিহাস, ধর্ম ও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এক বিতর্কিত আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

বিজেপি এখন পশ্চিমবঙ্গ শাসন করছে, তাই এই বিবাদটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে, কারণ ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে পরস্পরবিরোধী বয়ান জনমতকে প্রভাবিত করে চলেছে।

ওই স্থানে প্রস্তাবিত ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মালদা জেলা পুলিশও একটি জনবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জনগণকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই স্মৃতিস্তম্ভটি ১৯৫৮ সালের প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভ এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান ও ধ্বংসাবশেষ আইনের অধীনে সুরক্ষিত। এতে সতর্ক করা হয়েছে যে, অনুমতিবিহীন ধর্মীয় কার্যকলাপ আয়োজন বা এই সুরক্ষিত কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আনার চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতেরও পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আদালতের মাধ্যমে আদিনাথ শিবমন্দির পুনঃপ্রতিষ্ঠার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে আদিনা মসজিদের ঐতিহাসিক পরিচয় ও মালিকানা নিয়ে বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন থাকায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।

কলকাতায় ৬৫৩ বছরের পুরোনো মসজিদে পূজার আয়োজন
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মালদা জেলার পান্ডুয়া এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক আদিনা মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত।

Wednesday, July 22, 2026

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষের ৭০ শতাংশ মুসলিম: সমীক্ষার তথ্য

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) জেরে যেসব ভোটার ‘বিচারাধীন’ অবস্থায় রয়েছেন, তাঁদের ৭০ শতাংশের বেশি মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি বাঙালি। এ কারণে ধরে নেওয়া যেতে পারে, বাদ পড়া ভোটারের অধিকাংশই বাঙালি মুসলিম। সম্প্রতি এক সমীক্ষার প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ কথা জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠিত গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সবর ইনস্টিটিউট।

এসআইআরে বাদ যাওয়া ও পশ্চিমবঙ্গের ‘বিচারাধীন’ তালিকায় থাকা ২৭ লাখের বেশি ভোটারের মধ্যে ৭০ দশমিক ১৭ শতাংশ মুসলিম এবং মোট ৫১ শতাংশ নারী। তাঁদের অধিকাংশকেই তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ বা ‘যৌক্তিক অসংগতি’র কারণে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই যৌক্তিক অসংগতির বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে চালু করা হয়েছিল, যার জেরে এত মানুষ ভোট দিতে পারেননি।

এই ২৭ লাখ মানুষ ছাড়াও আরও প্রায় ৬৪ লাখ ভোটারের নাম ‘সাপ্লিমেন্টারি’ বা অতিরিক্ত তালিকা থেকে বাদ গেছে। এর মধ্যে স্থানান্তরিত, অনুপস্থিত, মৃত বা দ্বৈত (ডুপ্লিকেট) ভোটার বলে তাঁদের নাম কাটা হয়েছে। বর্তমানে এই ৬৪ লাখ ভোটারের তথ্যও নতুন করে বিশ্লেষণের কাজ চলছে।

গোটা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে সবর ইনস্টিটিউট একটি উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার বা ‘ওপেন ডেটাবেজ’ প্রকাশের কাজ করছে। সাধারণ মানুষের জন্য তৈরি এই ডেটাবেজে ধর্ম ও লিঙ্গ অনুযায়ী সব তথ্য সাজানো থাকবে। এর ফলে সাধারণ নাগরিক ও গবেষকেরা খুব সহজেই বুঝতে পারবেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাতিল হওয়ার ফলে নির্দিষ্ট কোন সম্প্রদায় কীভাবে সমস্যায় পড়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রকাশিত মুসলিম সমাজের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় বলা হয়েছে, এই তদন্ত জরুরি। কারণ, ২৭ লাখের বেশি মানুষকে ‘অত্যন্ত আপত্তিকর ও অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে’।

যেমন কোনো দম্পতির ছয়জন বা এর বেশি সন্তান থাকলে তাঁদের নাম সাধারণভাবে বাদ পড়েছে। আবার মা–বাবার নামের বানানে সামান্য অমিল থাকলে বা মা–বাবার সঙ্গে সন্তানের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের কম হওয়ার মতো অদ্ভুত কারণ দেখিয়েও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের তথ্য উঠে এসেছে সবর ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদনে।

পশ্চিমবঙ্গে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় একেবারে গোড়াতেই প্রায় ৬১ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ‘সাপ্লিমেন্টারি’ তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, মোট প্রায় ৯১ লাখ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে গেছে। এর ফলে গত নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে মোট ভোটারের সংখ্যা ৮ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ কমে যায়। গত বিধানসভা নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৪ লাখ।

নির্বাচন কমিশন দাবি করেছিল, মূলত মৃত, স্থানান্তরিত বা যাঁদের খুঁজে পাওয়া যায়নি, তাঁদের নামই বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রকৃত চিত্র ছিল অন্য রকম। বহু প্রকৃত ও বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ও হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে এসআইআর ট্রাইব্যুনাল গঠন করে কাজ শুরু হয়।

নির্বাচন শুরুর আগে এবং হেরে যাওয়ার পরে তৃণমূল কংগ্রেস জোর দিয়ে বলেছে, ভোটার তালিকা থেকে মানুষের নাম বাদ দিয়ে, বিশেষত মুসলিম সমাজের মানুষের নাম বাদ দিয়ে তাদের হারানো হয়েছে।

অবশ্য বিজেপির তরফে বলা হয়, তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের মতো করে ভোটার তালিকা বানিয়ে এবং তাতে অসংখ্য ভুয়া ভোটারের নাম ঢুকিয়ে গত নির্বাচনে জিতেছিল। এবার তারা সেটা করতে না পারায় হেরে গেছে।

নির্বাচনপ্রক্রিয়া চলাকালে ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়। এরপর বাতিল হওয়া ভোটারদের প্রায় ৩৪ লাখ আবেদন সেখানে জমা পড়ে। কিন্তু এই ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়ার গতি নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। এত বিশালসংখ্যক মানুষের আবেদন বিবেচনা করতে ঠিক কত দিন সময় লাগতে পারে, সে সম্পর্কে কারও কাছেই কোনো স্পষ্ট উত্তর নেই।

দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, সংখ্যালঘু–অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেই বেছে বেছে ভোটারদের নাম বেশি কাটা হয়েছে। উপযুক্ত তথ্য–প্রমাণের অভাবে এ নিয়ে জোরালো বক্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি। কিন্তু সবর ইনস্টিটিউটের এ প্রতিবেদন প্রমাণ করছে, নির্দিষ্টভাবে মুসলিমপ্রধান অঞ্চল থেকেই ভোটারদের নাম অন্তত এ নির্বাচনে ছেঁটে ফেলা হয়েছে।

কারণ হচ্ছে, মুসলিম ভোটারদের বড় অংশই তৃণমূল কংগ্রেসকে এত দিন ভোট দিয়েছে এসেছে। তাই ধরে নেওয়া যেতে পারে, এই ভোট না পাওয়ার কারণেই হেরেছে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক ক্ষমতাসীন দল। এই ভোটাররা কবে ভোটার তালিকায় ফিরবেন এবং ভোট দিতে পারবেন, সে বিষয় এখনো অনিশ্চিত।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনায় দলের এগিয়ে থাকার খবর শোনার পর ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপির সমর্থকেরা উল্লাস শুরু করেন। ৪ মে ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনায় দলের এগিয়ে থাকার খবর শোনার পর ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপির সমর্থকেরা উল্লাস শুরু করেন। ৪ মে ২০২৬ ছবি: এএফপি

Monday, July 13, 2026

কলকাতা বিমানবন্দর–সংলগ্ন মসজিদে নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা, কী কারণ বলছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতা বিমানবন্দর–সংলগ্ন অঞ্চলে ১৩৬ বছরের পুরোনো একটি মসজিদে নামাজ আদায় আপাতত বন্ধ করে দিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। গত শুক্রবার এই মসজিদে নামাজ পড়া হলেও গত শনিবার মুসল্লিদের মসজিদে যাওয়ার প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই ফটক হলো বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশের পথ, যা দিয়ে মসজিদে ঢুকতে হয়।

পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম কোনো মসজিদ বন্ধ করে দেওয়া হলো। বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্যের জন্য বিতর্কিত শুভেন্দু অধিকারী বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে আগাম কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি বলে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ জমিরউদ্দিন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তবে মসজিদটি স্থানান্তর করতে মসজিদ কমিটির সঙ্গে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। মসজিদটির জন্য আরও প্রশস্ত একটি জায়গা দেওয়া হবে বলেও অতীতে জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী বিমান ওঠানামার পথ বা রানওয়ে থেকে কোনো অবকাঠামোর দূরত্ব ন্যূনতম ২৪০ মিটার থাকা প্রয়োজন। ‘বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদ’ নামে এই মসজিদ রানওয়ে থেকে ১৬৫ মিটার দূরে অবস্থিত। সে কারণে এটিকে স্থানান্তরিত করা প্রয়োজন।

বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ বলেছে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তার জন্য যে অঞ্চল চিহ্নিত করা হয়েছে, মসজিদটি তার ভেতরে অবস্থিত। সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ) নামে একটি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে রয়েছে অঞ্চলটি। ভারতে সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তার দায়িত্বে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে সিআইএসএফ। তারাও এই স্থাপন নিয়ে অতীতে আপত্তি জানিয়েছে। তবে এখনো পশ্চিমবঙ্গে বড় মাপের কোনো মসজিদ বন্ধ করা হয়নি বা সেখানে নামাজ পড়ায় বাধা দেওয়া হয়নি। এই প্রথম শনিবার বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদে নামাজ বন্ধ করে দেওয়া হলো।

সমস্যা হলো, কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থাপিত হয়েছে ১৯২৪ সালে আর মসজিদটি স্থাপিত হয়েছে ১৮৯০ সালে। অর্থাৎ বিমানবন্দর তৈরির ৩৪ বছর আগে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এ অঞ্চল সে সময় অবিভক্ত বাংলার অংশ ছিল এবং গ্রামের মানুষের টাকায় মসজিদটি বানানো হয়।

আজ যেখানে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা, একসময় সেখানকার গ্রাম থেকেও মানুষ এসে এই ঐতিহাসিক মসজিদে নামাজ আদায় করতেন, যেমন আসতেন পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর মহকুমার মানুষও। আঞ্চলিক ইতিহাস নিয়ে রচিত প্রবন্ধে মসজিদটির যে উল্লেখ রয়েছে, সেখান থেকেই এ তথ্য পাওয়া যায়।

ওই সময় মসজিদটির নাম ছিল ‘গৌরীপুর জামে মসজিদ’ এবং বর্তমানে এটির নাম ‘বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদ’। বাংলাদেশ–লাগোয়া উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ এ মসজিদে এখনো নামাজ আদায় করেন।

এ ঘটনায় যাতে উত্তেজনা না ছড়ায়, সেদিকে নজর রাখতে মসজিদ কমিটিসহ স্থানীয় সব সামাজিক সংগঠনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন ভারতের বৃহত্তম মুসলিম সংগঠন জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক, কিন্তু এ নিয়ে কেউ রাস্তায় নামবেন না। আমরা বিজেপির সঙ্গে ঝগড়া চাই না। আমরা চাই যেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ মসজিদে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে। জোর করে মসজিদের দরজা বন্ধ করে দেওয়া ঠিক কাজ হয়নি।’

বিষয়টি সম্পর্কে বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন যেমন দারুল উলুম দেওবন্দ, মুসলিম পারসোনাল ল বোর্ড এবং জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য আবেদন জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক গ্রন্থাগারমন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফাইল ছবি

Thursday, July 9, 2026

পশ্চিমবঙ্গে ‘এনকাউন্টার’ শুরু করে কি যোগী হতে চলেছেন শুভেন্দু

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ভোটের আগে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী বারবার বলেছেন, ক্ষমতায় এলে গুন্ডা, খুনি ও ধর্ষকদের ঘুম কেড়ে নেওয়া হবে। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিন্দুত্ববাদী যোগী আদিত্যনাথের দেখানো পথে তাঁরাও এগোবেন। অপরাধীকে ‘সকালে জমা নেওয়া হবে, বিকেলে খরচ করে দেওয়া হবে।’

ভোটে জিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে শুভেন্দু অধিকারী দ্রুত সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে এগোচ্ছেন। সরকারে থিতু হওয়ার আগেই চালু হয়ে গেছে ‘বুলডোজার নীতি।’ কয়েক দিন আগে বিধানসভায় পাস হয়েছে গুন্ডা দমন আইন, যে আইনে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বিনা বিচারে ১২ মাস আটক রাখা যাবে। এবার শুরু হলো ‘পুলিশি এনকাউন্টার’।

পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু হয়েছে পুলিশের গুলিতে। পুলিশের দাবি, গভীর রাতে ঘটনার তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থলে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত প্রভাস পুলিশের রিভলবার ছিনিয়ে গুলি ছুড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ চালালে গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়।

এ নিয়ে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়। কংগ্রেসসহ বিরোধীরা বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানালেও শাসক বিজেপি নির্বিকার। শাসকদলীয় নেতারা বলছেন, সরকার প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে। ভোটের প্রচারেই বলা হয়েছিল, অপরাধীদের রেয়াত করা হবে না। প্রথম সুযোগেই তা বুঝিয়ে দেওয়া হলো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কথায়, ‘বিড়াল প্রথম রাতেই মারতে হয়। তাহলেই সবার কাছে বার্তা পৌঁছায়।’

কথায় ও কাজে ফারাক না রেখে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর পদাঙ্ক অনুসরণ করলে অর্ধশতাব্দী পর পশ্চিমবঙ্গে আবার ‘এনকাউন্টার নীতির’ প্রত্যাবর্তন ঘটবে।

সত্তরের দশকে নকশালপন্থীদের দমনের নামে কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শংকর রায় পুলিশকে নির্বিচার হত্যার অনুমতি দিয়েছিলেন। মানবাধিকার রক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন মানুষের মতে, সেই সময় ১৯৭০ থেকে ১৯৭২ সালের মধ্যে ‘এনকাউন্টারে’ নিহত হয়েছিলেন ২ হাজার থেকে ৫ হাজার নকশালপন্থী তরুণ ও রাজনৈতিক কর্মী।

দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন অধ্যাপকদের এক কমিটির হিসাব অনুযায়ী, শুধু কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকাতেই ৬ হাজার নকশালপন্থীর মৃত্যু হয়েছিল।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যাঁকে অনুসরণ করতে চাইছেন, সেই যোগী আদিত্যনাথের রাজ্য উত্তর প্রদেশ ‘এনকাউন্টারে’ এখনো এক নম্বরে। গত ১৮ মে উত্তর প্রদেশ সরকার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, ২০১৭ সালের মার্চ মাসে যোগী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজ্যে ১৭ হাজার ৪৩টি ‘এনকাউন্টারের’ ঘটনা ঘটেছে। এসব বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন ২৮৯ জন ‘কুখ্যাত অপরাধী’, আহত হয়েছেন ১১ হাজার ৮৩৪ জন।

অর্থাৎ, গত ৯ বছরে প্রতিদিন গড়ে উত্তর প্রদেশে ৫টি করে পুলিশি ‘এনকাউন্টারের’ ঘটনা ঘটেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই সময়ের মধ্যে ৩৪ হাজার ২৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাঁরা বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। এনকাউন্টারের ঘটনায় মোট ১৮ জন পুলিশ সদস্যেরও মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১ হাজার ৮৫২ জন।

রাজ্যের কোন অঞ্চলে কত এনকাউন্টার হয়েছে, তাতে কতজন নিহত হয়েছেন, সেই তথ্যও উত্তর প্রদেশ পুলিশ প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, মিরাট জোনে সবচেয়ে বেশি ‘কুখ্যাত অপরাধী’ নিহত হয়েছেন। এই অঞ্চলে মারা গেছেন ৯৭ জন, আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৫১৩ জন। এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটেছে ৪ হাজার ৮১৩টি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী আসন বারানসি জোনে ১ হাজার ২৯২টি পুলিশি এনকাউন্টারে মারা গেছেন ২৯ ‘কুখ্যাত অপরাধী’। আগ্রা জোন রয়েছে তৃতীয় স্থানে। সেখানে ২ হাজার ৪৯৪টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৪ জন। পুলিশের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এই তিন এলাকা ছাড়াও এনকাউন্টারের বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে লক্ষ্ণৌ, কানপুর, প্রয়াগরাজ (সাবেক এলাহাবাদ), বেরিলি ও গাজিয়াবাদ এলাকায়।

মানবাধিকার আন্দোলনকর্মী ও বিরোধীদের সমালোচনা মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে ‘এনকাউন্টার’ নীতি থেকে সরাতে পারেনি। কোনো সমালোচনার তোয়াক্কা না করে তিনি তাঁর মতো এগিয়ে চলেছেন। শুভেন্দু অধিকারীও কি সেভাবে পথে চলবেন? এই প্রশ্ন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে উঠতে শুরু করেছে।

বিরোধীরা সমালোচনায় মুখর হলেও বিজেপি নেতারা বলে চলেছেন, তৃণমূল জমানার পুনরাবৃত্তি বিজেপি আমলে হবে না। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, নারীসহ সবাইকে ভোটের আগে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিল ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’। সরকার সেই নীতিই অনুসরণ করছে। করবেও। অপরাধীদের রেয়াত করা হবে না।

বিজেপি নেতারা আরও একটা কথা বলছেন। সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে তাঁরা বলছেন, ভয় তাঁদেরই পাওয়ার কথা যাঁরা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। যাঁরা শান্তিপ্রিয়, নিরপরাধ তাঁদের ভয় পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

শুভেন্দু অধিকারী ও যোগী আদিত্যনাথ
শুভেন্দু অধিকারী ও যোগী আদিত্যনাথ। ফাইল ছবি: এএনআই

Saturday, June 27, 2026

ভারতে ধর্মান্তরবিরোধী কঠোর আইনের ঘোষণা দিলেন শুভেন্দু

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) কার্যকর, ধর্মান্তরবিরোধী কঠোর আইন প্রণয়ন এবং অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রাজ্যের বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তার দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষার স্বার্থেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অর্থাৎ এ আইন কার্যকর হলে ভারতে হিন্দুদের মধ্যে ভিন্ন ধর্ম গ্রহণের যে প্রবণাতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল তা আর ইচ্ছামত তারা গ্রহণ করতে পারবেন না। এ বিষয়ে রাষ্ট্র যে সিদ্ধান্ত নেবে সে আলোকে তাদের সিন্ধান্ত নিতে হবে।

শুক্রবার কলকাতার রবীন্দ্র সদনে ‘বন্দে মাতরম’-এর সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের ফলে পশ্চিমবঙ্গে ধর্মান্তরের প্রবণতা এবং জনসংখ্যার ভারসাম্যে পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। তার মতে, এ পরিস্থিতি রাজ্যের সামাজিক কাঠামো ও দেশের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ।

তিনি বলেন, কিছু সময়ের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে ধর্মান্তরবিরোধী কঠোর আইন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এবং এনআরসি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শুভেন্দুর দাবি, বিজেপি সরকার সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দিয়েছে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত ও ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে আটক কেন্দ্রও গড়ে তুলেছে।

তিনি আরও বলেন, যারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে দেশের সংস্কৃতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন বা সিএএ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দুরা অনুপ্রবেশকারী নন। সিএএ অনুযায়ী তারা ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, যারা ভারতে বসবাস করেও দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে অসম্মান করে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর বিরোধিতা করে বা পেহেলগাম ইস্যুতে নীরব থেকে শুধু মানবতার কথা বলে, তাদের এমন কর্মকাণ্ড পশ্চিমবঙ্গে বরদাশত করা হবে না।

সূত্র: এনডিটিভি

ভারতে ধর্মান্তরবিরোধী কঠোর আইনের ঘোষণা দিলেন শুভেন্দু

Monday, June 22, 2026

বিজেপি গুজরাটের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেবে, এই ভয়েই কি ইউসুফ পাঠান তৃণমূল ছাড়লেন

ভারতের সাবেক তারকা ক্রিকেটার এবং পশ্চিমবঙ্গের সাবেক ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভা সদস্য (এমপি) ইউসুফ পাঠান একটি জমি নিয়ে বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক সংকটে পড়েছেন। গুজরাটের ভদোদরা শহরে ২০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের একটি সরকারি জমি অবৈধভাবে দখলে রাখার অভিযোগে ওই জমি প্রকাশ্যে নিলামে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্থানীয় পৌরসভা।

একই সঙ্গে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর নিজের দল তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরেও তীব্র রাজনৈতিক কোন্দল ও কাদা-ছোড়াছুড়ি শুরু হয়েছে।

ঘটনাটি গুজরাটের ভদোদরা শহরের তানদালজা এলাকার। ২০১২ সালে সাবেক এই অলরাউন্ডার ক্রিকেটার ওই এলাকার ৯৭৮ বর্গমিটারের একটি সরকারি প্লট ৯৯ বছরের জন্য ইজারা (লিজ) নেওয়ার আবেদন করেন। ভদোদরা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (ভিএমসি) সে সময় কোনো প্রকাশ্য নিলাম ছাড়াই প্রতি বর্গমিটার ৫৭ হাজার ২৭০ রুপি দরে জমিটি পাঠানের নামে বরাদ্দ করার প্রস্তাব অনুমোদন করে।

প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য গুজরাট রাজ্যের নগর উন্নয়ন দপ্তরের কাছে পাঠানো হলে বাধে বিপত্তি। ২০১৪ সালের জুনে দপ্তরটি এই বরাদ্দ বাতিল করে দেয়। তাদের যুক্তি ছিল, প্রকাশ্য নিলাম বা দরপত্র ছাড়া সরকারি জমি এভাবে দেওয়া যাবে না। জমি বরাদ্দ বাতিল হলেও ইউসুফ পাঠান জায়গাটি কাঁটাতারের বেষ্টনী দিয়ে নিজের দখলেই রেখে দেন।

দীর্ঘ ১০ বছর পর ২০২৪ সালে ইউসুফ পাঠান পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর আসন থেকে তৃণমূলের টিকিটে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন। এর পরপরই বিজেপি-নিয়ন্ত্রিত ভদোদরার পৌরসভা তাঁকে সরকারি জমি অবৈধ দখলের নোটিশ পাঠায়। পাঠান এই নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যান।

তবে গত বছরের আগস্টে গুজরাট হাইকোর্ট সরকারের আগের বাতিল আদেশই বহাল রাখেন। এরপর চলতি বছরের ১৫ জুন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ পাঠানকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদ কোটায় জমি পাওয়ার আবেদনের জন্য চার সপ্তাহ সময় দিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে আদালত কড়া প্রশ্ন তুলেছেন, ২০১৪ সালে বরাদ্দ বাতিল হওয়ার পরও কোনো অর্থ পরিশোধ না করে তিনি কীভাবে ১২ বছর ধরে এই মূল্যবান সরকারি জমি দখলে রাখলেন।

আদালত ইঙ্গিত দিয়েছেন, অবৈধ দখলের জন্য পাঠানকে বর্তমান বাজারদরে ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ওই জমির মূল্য প্রায় ৩ গুণ বেড়ে ২০ কোটি ৫০ লাখ রুপিতে দাঁড়িয়েছে। পৌরসভা এখন জমিটি নিলামে তোলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জমি বিতর্ক থেকে তৃণমূলে কোন্দল

এই জমি নিয়ে বিতর্ক ভারতের লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরের একটি বড় রাজনৈতিক সংকটকে সামনে এনেছে। ইউসুফ পাঠান সম্প্রতি তৃণমূলের একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগ দিয়েছেন, যারা সংসদে মূল দল থেকে আলাদা হয়ে নতুন ব্লক বা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি চাচ্ছে। দলবিরোধী এই অবস্থানের কারণে তৃণমূল নেতৃত্বের তোপের মুখে পড়েছেন তিনি।

এই রাজনৈতিক নাটকীয়তা প্রকাশ্যে আসে ১৫ জুন। ওই সময় জম্মু-কাশ্মীরের সংসদ সদস্য আগা সৈয়দ রুহুল্লাহ মেহদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে এক মুসলিম সংসদ সদস্য তৃণমূলের সংসদ সদস্য ইউসুফ পাঠানকে ভয় দেখিয়েছিলেন, সংসদে বিরোধী দলের আন্দোলনে যোগ দিলে গুজরাটে পাঠানের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিতে পারে বিজেপি সরকার। ওই সময় তৃণমূলের শীর্ষ নেত্রী মহুয়া মৈত্র পাঠানকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে বিরোধী দল তাঁর পাশে থাকবে।

এই দাবির জবাবে মহুয়া মৈত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, পাঠানকে ভয় দেখানো ওই মুসলিম এমপি ছিলেন সর্বভারতীয় মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। এরপরই বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়া ইউসুফ পাঠানের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে মহুয়া মৈত্র লেখেন, ‘খুব আফসোস হচ্ছে, আমি এমন একজন বিশ্বঘাতকের জন্য লড়াই করেছিলাম, যাঁর কোনো সাহস বা মেরুদণ্ড নেই। এর চেয়ে মাঠে ক্রিকেট ধারাভাষ্য দেওয়া তাঁর জন্য অনেক ভালো ছিল।’

এই সমালোচনার জবাবে আসাদউদ্দিন ওয়াইসি পাল্টা আক্রমণ করে লিখেছেন, তৃণমূলের অন্য ১৯ জন এমপি কেন দল ছাড়লেন বা বিদ্রোহী হলেন, সেই ব্যর্থতার দায় দলটির শীর্ষ নেতারা এড়াতে পারেন না।

ইউসুফ পাঠান
ইউসুফ পাঠান। ফাইল ছবি: এএনআই

Friday, June 19, 2026

এবার বাংলাদেশে চলে যান, মমতাকে দিলীপ ঘোষ

‘মুসলমানদের যদি এতই নামাজ পড়তে হয় তো বাংলাদেশ বা পাকিস্তান চলে যাক। ওরা কোন হরিদাস পাল!’—পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু মুসলমানদের উদ্দেশে ঠিক এ ভাষাতেই মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন বিজেপি নেতা ও মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। আর এবার খোদ মমতা ব্যানার্জিকে নিশানা করে কামান দাগালেন তিনি। রাজ্যের সাবেক সরকারপ্রধানকে সরাসরি বাংলাদেশে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন বিজেপির এ মন্ত্রী।

কালীঘাটে চরম উত্তেজনার মধ্যে একটি প্রতিবাদ মিছিলের ঠিক পরই মমতা ব্যানার্জির দীর্ঘদিনের ‘বিশ্বস্ত’ নিরাপত্তারক্ষীদের সরিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। আর এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ময়দানে নেমে সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ ও কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন দিলীপ।

গত বুধবার রাতে রাজ্যসভায় তৃণমূলের দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন জানিয়েছেন, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কালীঘাটের বাড়ি থেকে তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পিএসওদের সরিয়ে অন্য তিন পিএসও নিয়োগ করা হয়। ডেরেকের দাবি, ‘যে পিএসওরা বিগত ২০ বছর ধরে তৃণমূল নেত্রীর ছায়াসঙ্গী ছিলেন, মূলত তাদেরই প্রত্যাহার করেছে প্রশাসন।’ এ প্রসঙ্গ টেনেই গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তীব্র আক্রমণ শানান দিলীপ ঘোষ।

সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা কমানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাকে সরকার একসময় দুজন নিরাপত্তা রক্ষী দিয়েছিল, আমি তো চয়েস করিনি। সরকার দিয়েছিল, তারা থাকতেন। তাহলে তিনি কেন চয়েস করবেন?’ পুরোনো প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরো বলেন, তিনি যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন এগুলো সঞ্চালনা করেছেন কাকে কোথায় পাঠাবেন! ছয় মাস অন্তর চেঞ্জ করে দিতেন। তার থানা কালীঘাটে কোনোদিন ওসি বদল হয়নি। এয়ারপোর্ট থানায় কোনোদিন ওসি বদল হয়নি। তো এখন যিনি সরকারের মুখে আছেন, তার অধিকার আছে এটা দেখার। সেটা মুখ্যমন্ত্রী করছেন, তাহলে তিনি মানবেন না কেন?

এরপর চরম বিতর্কিত সে মন্তব্যটি করেন দিলীপ ঘোষ। বলেন, ‘তিনি সংবিধান মানবেন না, সরকার মানবেন না। এ দেশে আছেন কেন? চলে যান বাংলাদেশে।’

শুধু নিরাপত্তা ইস্যুই নয়, মমতা ব্যানার্জির সাম্প্রতিক প্রতিবাদ মিছিল এবং রাজ্যের হকার সমস্যা নিয়েও চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেছেন তিনি। সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে দিলীপ বলেন, ‘তিনি মিছিল করুন, সময় আছে তো। মিছিল করে নিজেকে জীবিত রাখুন।’

হকার উচ্ছেদ প্রসঙ্গে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এ হকারদের পয়সা নিয়ে বসিয়েছে তার লোকেরা। সিপিএমও চেঁচাচ্ছে। তারাও বসিয়েছে হকারদের পয়সা নিয়ে। রাস্তাঘাট ব্যবসা করার জন্য নয়, হকার সমস্যার দায় পুরোপুরি তৃণমূলের ওপর চাপিয়ে দিলীপ বলেন, ‘হকারদেরও দায়িত্ব আছে, যাদের টাকা দিয়েছে, যারা বসিয়েছে, তাদের গিয়ে বলুন! সরকার দায়িত্ব নিয়েছে সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার, তাদের জীবন সচল রাখার দায়িত্ব সরকার পালন করবে।’

রাজ্যের সাম্প্রতিক দুই হেভিওয়েট নেতার গ্রেপ্তার হওয়া নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। সাবেক মন্ত্রী উদয়ন গুহর গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে দিলীপ বলেন, ‘আপনারা উদয়ন গুহর যেসব বাইট দেখাতেন। তিনি এতদিন বাইরে ছিলেন কী করে? সমাজবিরোধীদের মতো কথাবার্তা! আগেই গ্রেপ্তার হওয়া উচিত ছিল।’

অন্যদিকে সুশান্ত ঘোষের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে বলেন, এত সব একই ব্যাপার। এরা প্রতিদিন সকালে (কাউন্সিলররা) লোকজনকে ফোন করত, টাকা চাইত। এতদিন ভয়ে লোকজন কথা বলতে পারেনি। এখন অভিযোগ করছে। লোকের ফ্ল্যাট নিয়ে নিয়েছে, জমি নিয়ে নিয়েছে। ক্লাব দখল করে নিয়েছে, ভেরি দখল করে নিয়েছে- এতদিন কিছু বলতে পারেনি। জনগণ ভরসা পেয়ে এখন অভিযোগ করছে।

এবার বাংলাদেশে চলে যান, মমতাকে দিলীপ ঘোষ

Thursday, June 11, 2026

পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত ও আটককেন্দ্রে দুর্দশাগ্রস্ত কথিত ৪৭১ বাংলাদেশি

ভারতে এখন চরম বিপদের মুখে পড়েছেন কথিত বহু বাংলাদেশি নাগরিক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁদের ধরে নিয়ে বিভিন্ন ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটককেন্দ্রে রাখছে। আবার কাউকে আটকে থাকতে হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তের মধ্যবর্তী অঞ্চল, অর্থাৎ ‘নো ম্যানস ল্যান্ডে’।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, উত্তর চব্বিশ পরগনার বসিরহাট সীমান্তবর্তী এলাকায় কথিত অনুপ্রবেশকারীদের ভিড় বাড়ছে। প্রশাসনিক কর্তারা জানিয়েছেন, বসিরহাটের বিথারী-হাকিমপুর পঞ্চায়েত এলাকার হাকিমপুর চেকপোস্টে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৮২ জন কথিত বাংলাদেশি নাগরিক সে দেশে ঠেলে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। বাদুড়িয়া ও স্বরূপনগর এলাকার তিনটি ‘হোল্ডিং সেন্টারে’ সব মিলিয়ে ৪৭১ জন কথিত বাংলাদেশি নাগরিককে আটকে রাখা হয়েছে।

আটক এই মানুষদের সিংহভাগই অত্যন্ত সাধারণ শ্রমজীবী শ্রেণির। ভারতের সংবাদমাধ্যমের দাবি, অভাবের তাড়নায় বা ভালো কাজের লোভে তাঁরা বিভিন্ন সময়ে পশ্চিমবঙ্গের নানা সীমান্ত এলাকা দিয়ে দালালদের মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। অনুপ্রবেশের পর তাঁরা কেবল পশ্চিমবঙ্গেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, কাজের খোঁজে ছড়িয়ে পড়েছিলেন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও।

বর্তমানে বাদুড়িয়া ও স্বরূপনগরের ওই তিনটি আটককেন্দ্রে থাকা ৪৭১ জনের সঠিক নাম, পরিচয় ও নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার কাজ চলছে। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) আধিকারিকেরা আটক ব্যক্তিদের আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) থেকে শুরু করে যাবতীয় বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের কাজ করছেন।

বিএসএফ সূত্রকে উদ্ধৃত করে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ সঠিক ও নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত কাউকেই বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে না।

পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়, আটককেন্দ্রের বন্দিদশা স্বস্তির না হলেও সেখানে থাকা শিশু, নারী ও পুরুষদের মানবিক দিকটি বিবেচনা করছে প্রশাসন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে তাঁদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা, নিয়মিত খাওয়াদাওয়া ও নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভাল করা হচ্ছে, যাতে নিজ দেশে ফেরার আগে তাঁদের বড় ধরনের কোনো শারীরিক বা মানসিক অসুবিধা না হয়। পাশাপাশি অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আটককেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্তরে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিজেপি সরকার দেশের সীমান্তগুলোতে কথিত অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বাড়তি নজর দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর কথিত অনুপ্রবেশ নিয়ে আরও বেশি শোরগোল শুরু করেছে এবং কথিত বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা বলে অনেক মানুষকে ধরপাকড় করছে, যাঁদের বেশির ভাগই মুসলিম। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের ২ হাজার ২০০ কিলোমিটারের সীমান্ত রয়েছে।

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ দ্রুত শেষ করতে বিএসএফের হাতে জমি তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার। এই সামগ্রিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাজ্যের প্রশাসনিক বৈঠকেও কথিত অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে নিজের কঠোর ও আপসহীন অবস্থানের কথা বারবার বলছেন উগ্রপন্থী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কলকাতার কাছে যাচাই–বাছাইয়ের জন্য নথিপত্রহীন এক কথিত বাংলাদেশি অভিবাসীকে আটকে রাখা হয়। ২৮ মে ২০২৬, হাকিমপুর
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কলকাতার কাছে যাচাই–বাছাইয়ের জন্য নথিপত্রহীন এক কথিত বাংলাদেশি অভিবাসীকে আটকে রাখা হয়। ২৮ মে ২০২৬, হাকিমপুর। ছবি: এএফপি

Sunday, March 22, 2026

কলকাতার মুসলিম এলাকায় জমজমাট ইফতারির বাজার by অমর সাহা

পবিত্র রমজান মাস চলছে। রোজা ঘিরে এখন কলকাতায় বিশেষ করে মুসলিম এলাকায় ইফতারির বাজার জমে উঠেছে। ঐতিহ্যবাহী নানা বাহারি খাবার আর ফলমূল থাকছে কলকাতার ইফতারির বাজারে।

কলকাতার মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় বরাবরই ইফতারির বাজার জমজমাট থাকে। তবে দুই বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে ভিসা ইস্যু এক রকম বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় পর্যটক আসা একদম কমে গেছে। এতে কলকাতা ইফতারির বাজারে কিছুটা ভাটার টান চলছে।

অবশ্য কলকাতার মুসলিম এলাকার ব্যবসায়ীরা আশায় আছেন, এই পরিস্থিতির উন্নতি হবে। পার্ক সার্কাস এলাকার ইফতারির দোকানদার আফতাব আহমেদ বলেছেন, এটা সাময়িক। বাংলাদেশি পর্যটকদের আসা শুরু হলে আবার ভিড় জমবে কলকাতার ইফতারির বাজারে।

এখন মেডিক্যাল ভিসায় আসা হাতেগোনা কিছু পর্যটকের দেখা মিলছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে নিউমার্কেটে এক বাংলাদেশি পর্যটক আশা প্রকাশ করে বলছিলেন, ভিসা সমস্যা অচিরেই কেটে যাবে। আবার চলবে দুই দেশের মধ্যে ট্রেন ও বাস পরিষেবা। ফিরে আসবে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সুদিন।

তবে কলকাতার বাংলাদেশি ক্রেতাদের পছন্দের জায়গা হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলো এখন অনেকটাই ফাঁকা। প্রতিবছরই বহু বাংলাদেশি ঈদের কেনাকাটা করতে কলকাতায় আসেন। থাকেন কলকাতার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে। কলকাতার ইফতারির বাজার থেকে নানা ইফতারি কেনেন। অনেকে বিভিন্ন হোটেলে গিয়ে ইফতার করেন। বাংলাদেশি পর্যটক না থাকায় ওইসব এলাকায় ইফতারির বাজারের জৌলুশ অনেকটা কমে গেছে।

কলকাতার নিউমার্কেট, সদর স্ট্রিট, মার্কুইস স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট, এসএন ব্যানার্জি রোড, রফি আহমেদ কিদোয়াই রোড, বড়বাজার—এসব এলাকায় পবিত্র রমজানে ইফতারির বাজার জমজমাট থাকে। এবারও ব্যতিক্রম নয়। নিউমার্কেট, জাকারিয়া স্ট্রিটের নাখোদা মসজিদ–সংলগ্ন ইফতারির বাজার, ধর্মতলার টিপু সুলতান মসজিদ–সংলগ্ন ইফতারির বাজার আর জাকারিয়া স্ট্রিট, পার্ক সার্কাসের ইফতারির বাজার বেশ জমজমাট। গ্রাহকেরা কিনে নিচ্ছেন হরেক রকম ইফতারি।

ইফতারির বাজারে ব্যবসায়ীরা ফলমূল থেকে মাংসের নানা পদ, পেঁয়াজু, জিলাপিসহ নানা ঐতিহ্যবাহী খাবারের পসরা সাজিয়েছেন। এখানে মিলছে ইফতারির নানা ঐতিহ্যবাহী খাবার। বাড়িতে রান্নার ঝামেলা না করে অনেকেই কিনে নিচ্ছেন বাজার থেকে ইফতারির নানা পদ।

সবকিছুর পরও বাংলাদেশি পর্যটকদের নিয়ে আফসোসটা রয়েই যাচ্ছে কলকাতার ব্যবসায়ীদের। ধর্মতলার টিপু সুলতান মসজিদ–সংলগ্ন ইফতারির বাজারের ব্যবসায়ী মুক্তার খান বলছিলেন, ‘এখন বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠন হয়েছে। আমরা আশা করি, এই সরকারের আমলে ফের কলকাতার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আবার পূর্বাবস্থায় ফিরে আসবে। ইফতারির বাজার জমজমাট হবে।’

নিউমার্কেটের ফুটপাতের ব্যবসায়ী আজাদ বলেছেন, ‘আমরা নতুন করে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠার স্বপ্ন দেখছি। মনে করছি, আবার জমজমাট হবে কলকাতার ঈদ ও ইফতারির বাজার।’

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় ইফতারির পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, জাকারিয়া স্ট্রিট
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় ইফতারির পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, জাকারিয়া স্ট্রিট। ছবি: ভাস্কর মুখার্জি

Sunday, January 11, 2026

'মুসলমান তোষণের' তকমা মুছতেই কি একের পর এক মন্দির উদ্বোধন মমতা ব্যানার্জীর? by অমিতাভ ভট্টশালী

এপ্রিল মাসে পশ্চিমবঙ্গের সৈকত শহর দীঘায় জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধন, গত সপ্তাহে কলকাতা সংলগ্ন নিউটাউনে দুর্গা অঙ্গন পরিসরের শিলান্যাসের পরে জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে মমতা ব্যানার্জী উত্তরাঞ্চলীয় শিলিগুড়ি শহরে একটি মহাকাল মন্দির পরিসরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

এছাড়াও সম্প্রতি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র বেশ কয়েকটি তীর্থস্থানের পরিকাঠামো উন্নয়নও করেছে তার সরকার।

এর মধ্যে সর্বশেষ প্রকল্পটির উদ্বোধন করেছেন তিনি সোমবার, পাঁচই জানুয়ারি। বঙ্গোপসাগরের তীরে গঙ্গাসাগরের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সড়ক যোগাযোগের জন্য ১৭০০ কোটি ভারতীয় টাকার মূল্যের একটি সেতু প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন তিনি।

বিজেপি যে তার দিকে মুসলমান তোষণের রাজনীতি করেন বলে আঙ্গুল তুলত, সেই তকমা কাটানোই কি এই হিন্দু ধর্মীয় পরিসরগুলি গড়ছে তার সরকার? সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এই সব উদ্যোগ কি কয়েকমাসের মধ্যে হতে চলা রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে আরও কিছু হিন্দু ভোট তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে নিয়ে আসার প্রচেষ্টা?

তার দল বলছে অযোধ্যায় যখন রাম মন্দির গড়া এবং তার উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীই মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন, তখন তো এসব প্রশ্ন ওঠে না!

বিশ্লেষকরা অবশ্য মনে করছেন যে আরও কিছু হিন্দু ভোট টানার উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী যে 'নরম হিন্দুত্বের পথ' নিয়েছেন, সেই প্রচেষ্টা দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বা ছত্তিশগড়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল, এমনকি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীরাও করেছিলেন, তবে সকলেই ব্যর্থ হয়েছেন। 'হিন্দু ধর্মীয় ভাবাবেগ' কীভাবে ভোটে রূপান্তরিত করা যায়, সে ব্যাপারে বিজেপি বহুগুণ বেশি পারদর্শী।

উদাহরণস্বরূপ, বিশ্লেষকরা দেখাচ্ছেন যে, নাগরিকত্ব, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপরে অত্যাচার বা সর্বশেষ মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে ছেড়ে দেওয়ার মতো ইস্যুগুলিকে লাগাতার বিজেপি তুলে ধরছে – যাতে 'হিন্দু ভাবাবেগ' ব্যবহার করা যায় ভোটযন্ত্রে।

মন্দির গড়তে কী কী প্রকল্প মমতা ব্যানার্জীর?

গত বছর এপ্রিল মাসে সৈকত শহর দীঘায় এক নতুন জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। এরপরে গত সোমবার কলকাতা লাগোয়া নিউটাউনে দুর্গা অঙ্গনের শিলান্যাস করেন তিনি।

প্রায় ১৭ একর জমির ওপরে দুর্গা অঙ্গনটি গড়ে উঠবে। সেখানে মন্দিরের পাশাপাশি গড়া হবে সাংস্কৃতিক অঙ্গনও।

ইউনেস্কো আগেই কলকাতার দুর্গাপুজোকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এখন সরকার চাইছে দুর্গা অঙ্গনকে কেন্দ্র করে যাতে আরও পর্যটক আকৃষ্ট করা যায়। ইতোমধ্যেই কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গ আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে দ্বিতীয় সব থেকে পছন্দের গন্তব্য হয়ে উঠেছে।

ওই শিলান্যাস অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মিজ. ব্যানার্জী বলেছিলেন, "অনেকে আমাকে তোষণের রাজনীতির জন্য দোষারোপ করেন। কিন্তু আমি সত্যিকারের ধর্মনিরপেক্ষ। প্রতিটা ধর্মের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাস করি আমি। এমন একটাও ধর্মীয় উৎসব দেখাতে পারবেন না যেখানে আমি যাই না। গুরদোয়ারায় গেলে কাপড় দিয়ে মাথা ঢেকে নিই। রোজায় যখন যাই তখন কেন আপত্তি ওঠে? প্রতিটা ধর্মের নিজস্ব সংস্কৃতি আছে। সেগুলোর কোনও একটিকে আমি অশ্রদ্ধা কেন করব?"

দুর্গা অঙ্গনের শিলান্যাসের আগেই মিজ. ব্যানার্জী ঘোষণা করেছিলেন যে উত্তরাঞ্চলীয় শহর শিলিগুড়িতে একটা মহাকাল মন্দির গড়া হবে। হিন্দুদের উপাস্য মহাকাল শিবেরই আরেকটি নাম। শিলিগুড়ি থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরের শৈল শহর দার্জিলিংয়ে একটি প্রাচীন ও বিখ্যাত মহাকাল মন্দির আছে।

গত বছর নভেম্বর মাসে রাজ্য মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে শিলিগুড়ির মাটিগাড়া এলাকায় মহাকাল মন্দির এবং সঙ্গে একটি সাংস্কৃতিক পরিসর গড়া হবে। মন্দিরের জন্য ২৫ একর জমি এবং সাংস্কৃতিক পরিসরের জন্য আরও তিন একর জমি চিহ্নিত করা হয়েছে।

মমতা ব্যানার্জীর ১৬ই জানুয়ারি ওই প্রকল্পটির শিলান্যাস করার কথা আছে।

দীঘা, নিউটাউন এবং শিলিগুড়ি – তিনটি মন্দিরের ক্ষেত্রেই লাগোয়া সাংস্কৃতিক পরিসর গড়া হচ্ছে এবং পুরো পরিসর পরিচালনার জন্য ট্রাস্ট গড়া হচ্ছে।

কী যুক্তি দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস?

একের পর এক মন্দির গড়ার পিছনে কোনও রাজনীতি আছে, এটা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে না তৃণমূল কংগ্রেস। তবে একান্ত আলোচনায় তারা বলে থাকেন যে বিজেপি যেভাবে হিন্দু ভোট একজোট করতে মেরূকরণের রাজনীতি করে থাকে, তারই পাল্টা মমতা ব্যানার্জীর এই মন্দির গড়ার পরিকল্পনা।

আনুষ্ঠানিকভাবে দলটির অন্যতম মুখপাত্র অধ্যাপক মনোজিৎ মন্ডল বলছিলেন, "কোনও মন্দিরই কিন্তু সরাসরি সরকার গড়ছে না। স্বশাসিত সংস্থাগুলি বানাচ্ছে এবং ট্রেজারি থেকেও কোনও অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে না বলেই আমি জানি।

"এইসব মন্দিরগুলি তো বিপুল সংখ্যক পর্যটক আকৃষ্ট করছে। দীঘার মন্দিরটি উদ্বোধনের পরে কয় মাসের মধ্যেই এক কোটিরও বেশি মানুষ সেখানে গেছেন। পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন যদি হয়, সেটা কি খারাপ?" প্রশ্ন মি. মণ্ডলের।

তিনি আরও বলছিলেন যে অযোধ্যায় রামমন্দির যখন একটি অ-সরকারি ট্রাস্ট বানায় কিন্তু তার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় আকর্ষণ হয়ে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী – তখন তো কোনও প্রশ্ন ওঠে না!

তার কথায়, "অযোধ্যায় যখন প্রধানমন্ত্রীর পৃষ্ঠপোষকতায় রামমন্দির গড়া হয়, তার উদ্বোধনের দিন হিন্দু সাধু সন্ন্যাসীদের বদলে তিনিই হয়ে ওঠেন কেন্দ্রীয় আকর্ষণ বিন্দু – তখন তো কেউ প্রশ্ন তোলে না! তাহলে পশ্চিমবঙ্গে কেন মন্দির আর তার সঙ্গে সাংস্কৃতিক অঙ্গন গড়া হলে সেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে?"

'বড়ো দেরি করে ফেলেছেন'

বছরের শেষে কলকাতায় তিন দিনের সফরে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি মূলত নির্বাচন নিয়েই বিজেপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা সারেন। তারই মধ্যে একটি সংবাদ সম্মেলনে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল মমতা ব্যানার্জীর একের পর এক মন্দির গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে।

"অমিত শাহ ওই সংবাদ সম্মেলনে যেটা বলেছেন, আমিও সেই একই কথা বলব। একজন গর্বিত হিন্দু হিসাবে আমি মন্দির গড়াকে খারাপ কেন বলব? কিন্তু মমতা ব্যানার্জী বড়ো দেরি করে ফেলেছেন," বলছিলেন বিজেপি নেতা অধ্যাপক বিমল শঙ্কর নন্দ।

তার কথায়, "এতদিন মমতা ব্যানার্জী সংখ্যালঘু তোষণ করে এসেছেন। এখন তার মনে ভয় ঢুকেছে যে হিন্দুদের ভোট তিনি পাবেন না এবারের নির্বাচনে। তাই তাদের মন জিততে মন্দির বানাচ্ছেন। চেষ্টা করছেন যদি হিন্দুদের মন ঘোরানো যায়। কিন্তু অমিত শাহের মতোই আমিও বলব তিনি বড়ো দেরি করে ফেলেছেন।"

'নরম হিন্দুত্ব'-র পথ কি আরও হিন্দু ভোট টানতে পারবে?

বিশ্লেষকরা বলছেন, সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপির প্রাপ্ত ভোটের ফারাক মাত্রই চার থেকে পাঁচ শতাংশ। তবে এলাকা বিশেষে ভোটের এই ফারাকটা যদিও কম বেশি আছে। বিজেপি এই ফারাকটা মেটাতে পারলেই তারা তৃণমূল কংগ্রেসকে টপকিয়ে যেতে পারবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে এক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেসের একটা 'প্লাস পয়েন্ট' হলো তাদের অতি শক্তপোক্ত সংগঠন এবং পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের গড়ে তোলা কর্মী-দলের কাঠামো।

এখানে একটি বিষয় মাথায় রাখা দরকার যে বিজেপি কিন্তু প্রায় ৩০ শতাংশ মুসলমান ভোটারদের সমর্থন কখনই পায় না। তাই আদতে তাদের প্রাপ্ত ভোটের হিসাব কষতে হয় বাকি ৭০ শতাংশের মধ্যে থেকে।

আবার তৃণমূল কংগ্রেসেরও আশঙ্কা আছে যে তাদের দিকে যে হিন্দু ভোটাররা আছেন, সেখান থেকে কিছুটা বিজেপি টেনে নিতে যাতে না পারে।

"বিজেপি এখন তাই হিন্দু ভোটের আরও মেরূকরণ করতে চাইছে। তারা বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপরে অত্যাচার, নাগরিকত্ব এবং একেবারে সম্প্রতি মুস্তাফিজুর রহমানের মতো বিষয়গুলিকে তুলে আনছে নির্বাচনের আগে। এতে তারা মনে করছে যে হিন্দু ভোটারদের একটা অংশ তাদের দিকে ঘুরে যেতে পারে," বলছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক ও দ্য ওয়াল সংবাদ পোর্টালের এক্সিকিউটিভ এডিটর অমল সরকার।

তার কথায়, "ধর্মীয় মেরূকরণের হিসাব গত কয়েকটি নির্বাচন থেকেই হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে, কিন্তু এবারের নির্বাচনে সেটাই কেন্দ্রস্থলে চলে আসবে বলে মনে হচ্ছে। আবার আসাম আর কেরালাতেও মোটামুটি একই সময়ে নির্বাচন আছে। মুসলমান-বিরোধী হাওয়া তুলতে পারলে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেই আসাম এবং কেরালাতেও তারা নিজেদের পালে হাওয়া লাগাতে পারবে বলে বিজেপি সম্ভবত হিসাব কষছে। এটারই পাল্টা চাল হিসাবে মমতা ব্যানার্জীর এই একের পর এক মন্দির নির্মাণের ঘোষণাকে দেখতে হবে।"

যদিও বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্প এবং সরাসরি নগদ দেওয়া হয়, এরকম নানা প্রকল্প মমতা ব্যানার্জীর সরকার অনেকদিন আগে থেকেই নিয়েছেন। কাকে তারা ভোট দেবেন, সেই ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের কাছে এ ধরনের প্রকল্পগুলি চিরকালই একটা নির্ণায়ক হয়ে থেকেছে – সেই বামফ্রন্ট আমল থেকেই।

আর নারীদের মধ্যে মমতা ব্যানার্জীর জনপ্রিয়তা আছেই।

এসব সত্ত্বেও কেন আরও হিন্দু ভোট টানতে মমতা ব্যানার্জীকে মন্দির গড়তে হচ্ছে – এই প্রশ্নের জবাবে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির গবেষক স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য বলছিলেন, "সংখ্যালঘু তোষণের রাজনীতি করেন বলে মমতা ব্যানার্জীর বিরোধীরা যে অভিযোগ করেন, সেটা তো এই মন্দির গড়ার ঘোষণাগুলির মাধ্যমে ব্যালান্স করার একটা চেষ্টা তার আছেই। তবে সেই প্রচেষ্টা কিন্তু এখন নয়, ২০২১ এর ভোটের আগে থেকেই তিনি শুরু করেছিলেন। তবে যে ভোটাররা হিন্দু সংখ্যাগুরুবাদে বিশ্বাস করেন, তাদের কিন্তু এইসব দেখিয়ে মমতা ব্যানার্জী নিজের দিকে টানতে পারবেন না।

"এই অংশটা হচ্ছে বিজেপির ডেডিকেটেড ভোট ব্যাংক। কিন্তু তার বাইরে যে ফ্লোটিং হিন্দু ভোট আছে, তাদের একটা অংশকে যদি মন্দির প্রকল্পগুলি দেখিয়ে টানতে পারে, তৃণমূল কংগ্রেস সেই চেষ্টা করছে," বলছিলেন মি. ভট্টাচার্য।

তিনি এই আশঙ্কাও প্রকাশ করছিলেন যে এর আগে যে অ-বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতাসীন দলগুলি বিজেপির মোকাবিলা করে হিন্দু ভোট টানার জন্য এই 'নরম হিন্দুত্বের লাইন' নিয়েছেন, কেউই কিন্তু সফল হননি।

তার কথায়, "যেমন দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল চেষ্টা করেছেন বড়ো বড়ো হনুমান মন্দির বানিয়ে – তিনি পরাজিত। ছত্তিশগড়ের কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল রামচন্দ্রের বনবাসে যাওয়ার পথ গড়েছিলেন, তিনিও হেরেছেন। মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস চেষ্টা করেছে – তারাও আজ পরাজিত। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী হঠাৎ শিব-ভক্ত হয়ে গিয়েছিলেন। আসলে হিন্দুত্বের রাজনীতিতে বিজেপি অন্যদের থেকে শত যোজন এগিয়ে আছে। এটা তাদের পরিচিত মাঠ।"

অমল সরকারের কথায়, "হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিকে একটা সময় মোকাবিলা করার জন্য ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা হত। কিন্তু এখন একটা ট্রেন্ড চলছে যে হিন্দুত্ব দিয়েই তাদের মোকাবিলা করার চেষ্টা হচ্ছে। এটা ভারতের রাজনীতিতে গত কয়েক বছর ধরে শুরু হয়েছে।"

কলকাতা লাগোয়া নিউ টাউনে দুর্গা অঙ্গনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী
কলকাতা লাগোয়া নিউ টাউনে দুর্গা অঙ্গনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী

Saturday, January 10, 2026

তৃণমূলের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আই–প্যাকে ইডির তল্লাশির প্রতিবাদে মমতার নেতৃত্বে কলকাতায় বিক্ষোভ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী পরামর্শক সংস্থা আই–প্যাকের কলকাতার কার্যালয় ও প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার প্রতীক জৈনর বাসভবনে তল্লাশি চালানোর প্রতিবাদে তৃণমূল সভানেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে আজ শুক্রবার কলকাতায় বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের চাঞ্চল্যকর কয়লা দুর্নীতি মামলাকে কেন্দ্র করে গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) প্রতীক জৈনর বাসা ও আই–প্যাকের কার্যালয়ে তল্লাশি চালায়।

ওই ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল কলকাতার যাদবপুরের এইট–বি বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণ কলকাতার হাজরা মোড়ে শেষ হয়। যাদবপুর এইট–বি বাসস্ট্যান্ড থেকে হাজরা মোড়ের দূরত্ব প্রায় সাত কিলোমিটার। এই প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

বেলা তিনটায় প্রতিবাদ মিছিল শুরুর আগে মমতা দাবি করেন, তল্লাশির নামে ইডি গতকাল আই–প্যাকের দপ্তর ও কর্ণধারের বাসভবন থেকে তৃণমূলের বহু নথি নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, ওই দুই দপ্তর থেকে চুরি হওয়া নথি যেন আদালত সংরক্ষণ করে রাখে।’ পরে প্রতিবাদ মিছিল শেষে হাজরা মোড়ে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় মমতা বলেন, ‘ইডি আমাদের আসন্ন বিধানসভার ভোট–সংক্রান্ত নথি চুরি করে নিয়ে গেছে।’

ইডি দাবি করেছে, তারা আই–প্যাক দপ্তরে গিয়ে কোনো নথি বা নথির কোনো কপি সংগ্রহ করতে পারেনি। তল্লাশির সময়ও কোনো নথি নিয়ে যায়নি; বরং তাদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী কার্যত ওই দুই দপ্তর থেকে মূল্যবান নথি নিয়ে গেছেন।

এসব ঘটনার প্রতিবাদে কলকাতা হাইকোর্টে দুটি পৃথক মামলা করা হয়েছে। আজ মামলার শুনানির কথা ছিল। তবে শুনানির সময় উভয় পক্ষ আদালতের এজলাসে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। এমন পরিস্থিতিতে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ এই মামলার শুনানি ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছেন।

যদিও ইডি আজ কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে এক আবেদনে এই মামলার শুনানি আজই করার দাবি জানায়। একই সঙ্গে তারা এই মামলা অবিলম্বে সিবিআই দিয়ে তদন্ত করার দাবিও তোলে। সেই আবেদনে প্রধান বিচারপতি সাড়া দেননি।

ইডির তল্লাশির বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিবাদ মিছিলে নেতা–কর্মীদের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। ৯ জানুয়ারি, ২০২৬
ইডির তল্লাশির বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিবাদ মিছিলে নেতা–কর্মীদের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ছবি: ভাস্কর মুখার্জি

Friday, January 9, 2026

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের নির্বাচনী পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইপ্যাকে ইডির অভিযান, ছুটে গেলেন মমতা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চাঞ্চল্যকর কয়লা দুর্নীতি মামলায় বৃহস্পতিবার সকালে তদন্তে নেমেছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। দিল্লির নির্দেশেই এই তদন্ত শুরু হয়। কলকাতার ৬টি এবং দিল্লির ৪টি স্থানে তল্লাশি অভিযান চালায় ইডি।

শুরুতেই সকালে কলকাতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের নির্বাচনী পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের কলকাতার ল্যান্সডাউন স্ট্রিটের বাসভবনে তল্লাশি চালায় ইডি। এই খবর মমতার কানে পৌঁছালে তিনি ছুটে যান আই প্যাকের কর্ণধারের বাসভবনে। সেখানে আরও ছুটে আসেন কলকাতা ও রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তারা।

এরপর ইডি যায় আইপ্যাকের সল্টলেকের সেক্টর ফাইভের কার্যালয়ে। পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারাও মমতার সঙ্গে সেখানে যান। ইডি সেখানে তল্লাশি অভিযান শুরু করে বেশ কিছু নথি জব্দ করে। তবে মমতা সেখান থেকে সব নথি নিয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ল্যাপটপ, হার্ডডিস্ক ও অন্যান্য প্রামাণ্য নথি।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, মমতা আইপ্যাকের দপ্তরে কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করেন। তিনি নিজেই প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকেও বেশ কিছু নথি নিজের হাতে গাড়িতে তুলে বিকেলের দিকে বেরিয়ে যান।

মমতার অভিযোগ, এভাবে তাঁর দলের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইপ্যাকের দপ্তরে তল্লাশি তাঁরা মেনে নেবেন না।

যদিও এই বাধার পর ইডি সঙ্গে সঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টে সরকারি তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলে। হাইকোর্ট ইডির আবেদন গ্রাহ্য করে আগামীকাল শুক্রবার তাদের আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করেন। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চে এই শুনানি হবে।

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সারদা দুনীতি মামলার তদন্তে কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের ল্যান্সডাউনের সরকারি বাসভবনে সিবিআইর কর্মকর্তারা অভিযানে গেলে তাঁদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সেখানেও ছুটে গিয়েছিলেন মমতা। সেই পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার এখন পশ্চিমবঙ্গের পুলিশের মহানির্দেশক বা ডিজি। এবার ছয় বছর পর ইডির অভিযানের কথা শুনে আইপ্যাকের কার্যালয়ে গেলেন মমতা।

পশ্চিমবঙ্গের কয়লা পাচার কাণ্ডের মামলাটি পুরোনো হলেও আজ নতুন করে এই মামলার তদন্তের স্বার্থে তল্লাশি অভিযান শুরু করে ইডি। তল্লাশিতে মমতার বাধা দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে একটি বিবৃতি জারি করে ইডি বলেছে, ‘সাংবিধানিক পদে থেকে এভাবে একটি দপ্তরে ঢুকে নথি ছিনিয়ে নেওয়া আইনবিরুদ্ধ কাজ। আমরা এর বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেব।’

ইডির তল্লাশির পর রাজ্যে সংস্থাটির অপতৎপরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে আজ বিকেলে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছেন মমতা। তিনি বলেছেন, তাঁর দলের বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি ইডি নিয়ে গেছে।

মমতার দাবি, দলের নানা গুরুত্বপূর্ণ নথিসহ আসন্ন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের বহু মূল্যবান নথিপত্র ইডি নিয়ে গেছে। তবে বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছেন, আইপ্যাক দপ্তর থেকে বিভিন্ন নথি ছিনিয়ে নিয়ে মমতা বিকেলেই আইপ্যাক দপ্তর ছেড়ে চলে যান।

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় আইপ্যাকের দপ্তর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৮ জানুয়ারি ২০২৬, কলকাতা
পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় আইপ্যাকের দপ্তর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৮ জানুয়ারি ২০২৬, কলকাতা। ছবি: এএনআই

জানুয়ারিতে কলকাতায় স্মরণকালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, দার্জিলিংয়ে ১.৩ ডিগ্রি

প্রকাশ ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ঃ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় আজ মঙ্গলবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে হয়েছে ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জানুয়ারি মাসে এটিই কলকাতায় শীতের সর্বকালীন রেকর্ড বলে কলকাতার আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

কলকাতায় জানুয়ারি মাসে এমন শীত আগে কখনো পড়েনি। পশ্চিমবঙ্গের কোনো কোনো স্থানে তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে।

আজ মঙ্গলবারও কলকাতাসহ শহরতলীর বিভিন্ন এলাকায় ঘন কুয়াশা ছিল। ছিল মেঘলা আকাশ। আরও ছিল উত্তুরে হাওয়া।

পশ্চিমবঙ্গের পাহাড়ি জনপদ দার্জিলিংয়ের সর্বনিম্ন¤তাপমাত্রা গতকাল সোমবার ছিল ১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কলকাতার আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর আজ এই রাজ্যের আট জেলায় শৈত্যপ্রবাহের আগাম সতর্কতা জারি করেছে। জেলাগুলো হলো দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, মুর্শিদাবাদ ও পশ্চিম বর্ধমান।

তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তরবঙ্গে তুষারাপাতের আশঙ্কার কথা বলেছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। বলা হয়েছে মানেভঞ্জন, সান্দাকফু, ঘুমসহ পাহাড়ের উঁচু এলাকায় শৈত্যপ্রবাহ চলবে। আর উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘনকুয়াশা থাকবে। মুর্শিদাবাদ ও বীরভূমে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা থাকবে; পাশাপাশি সাগরদ্বীপ, দীঘা, ডায়মন্ডহারবারসহ উপকূল এলাকায় কুয়াশার দাপট বাড়বে। আবহাওয়া দপ্তর আরও জানিয়েছে, ২১ দিন ধরে এই রাজ্যে স্বাভাবিকের নিচে রয়েছে তাপমাত্রা।

এদিকে কলকাতাসহ এই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাস্তায় মানুষের চলাচল কমে গেছে। যানবাহন কমেছে। ট্রেন চলাচলে কুয়াশা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তীব্র ঠান্ডাকে মাথায় নিয়ে চাকরিজীবীরা সকাল থেকে ছুটছেন কর্মস্থলে। তবে হাটবাজারে ক্রেতা কম। অনেক ব্যবসায়ী তীব্র শীতে দোকানপাট খোলেননি। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় কাঠ আর গাড়ির টায়ার পুড়িয়ে শীতকে সামাল দিচ্ছেন অনেকে। স্কুল–কলেজেও শীতের কারণে অনেকেই স্কুলমুখী হয়নি। বাস, ট্রেন, উড়োজাহাজসহ অন্যান্য যান চলাচলে এই প্রচণ্ড শীতের পাশাপাশি ঘন কুয়াশা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দিল্লির আবহাওয়া দপ্তরও সতর্কতা জারি করে বলেছে, দিল্লি, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড় ও রাজস্থানে শৈত্যপ্রবাহ বইবে। জারি করা হয়েছে সতর্কতা। বিহার, ঝাড়খন্ড, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ ও উত্তরাখন্ডে তীব্র ঠান্ডার আভাস দেওয়া হয়েছে; পাশাপাশি ওডিশা, দিল্লি ও মধ্যপ্রদেশে ঘনকুয়াশা থাকার আভাস দিয়েছে।

শীতে জড়সড় হয়ে একদল ব্যক্তি আগুনের তাপ নিচ্ছে। ৬ জানুয়ারি, কলকাতা
শীতে জড়সড় হয়ে একদল ব্যক্তি আগুনের তাপ নিচ্ছে। ৬ জানুয়ারি, কলকাতা ছবি: ভাস্কর মুখার্জি

Sunday, December 28, 2025

পশ্চিমবঙ্গে হুমায়ুন কবিরের নতুন দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ লড়বে ১৮২ আসনে

জনতা উন্নয়ন পার্টি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টির মধ্যে ১৮২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের তৃণমূল কংগ্রেসের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবির সদ্য এই দল তৈরি করেন।

বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসকে রাজ্য থেকে বিদায় দেওয়া নিজেদের লক্ষ্য মন্তব্য করে আজ শনিবার হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের জানান, নতুন জোটে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) এবং অলইন্ডিয়া মজলিশ-এ-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) থাকবে। তিনি আশা করছেন, এই জোট এবং তাঁর দল রাজ্যে নির্বাচনে নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে। ৯০টি আসনে জয়লাভ করা তাঁর লক্ষ্য।

হুমায়ুন কবির ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদের নামে একটি মসজিদ তৈরির ঘোষণা দেন। সেই দিন রাজ্যের রেজিনগরে আয়োজিত এক জনসভার মাধ্যমে সেই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এরপর তিনি বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে নতুন দল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেন। ২২ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন দল গঠনের ঘোষণা দেন।

হুমায়ুন কবির ৪০ বছর ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন। রাজ্যে এর আগেও বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে নতুন দল তৈরি হয়েছিল। সর্বশেষ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৈরি হয়েছিল আইএসএফ। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ভাঙর আসন থেকে দলটির একজন বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর নাম নওশাদ সিদ্দিকী।

পাঁচ বছর পর রাজ্যে নতুন দল তৈরি করলেন হুমায়ুন কবির। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকারের ওয়াকফ আইন এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তৃণমূল সমালোচিত। সেই কারণে তাঁর দল নির্বাচনে নতুন বিকল্প হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

পশ্চিমবঙ্গের বিধায়ক হুমায়ুন কবির
পশ্চিমবঙ্গের বিধায়ক হুমায়ুন কবির। ছবি: ভাস্কর মুখার্জি

Wednesday, December 24, 2025

পশ্চিমবঙ্গের কারাগারেই সবচেয়ে বেশি বিদেশি বন্দি, সর্বোচ্চ বাংলাদেশি

এনসিআরবি প্রতিবেদনঃ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কারাগারে দেশের অন্য যেকোনো রাজ্যের তুলনায় সবচেয়ে বেশি বিদেশি বন্দি অবস্থান করছে। জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরো (এনসিআরবি) প্রকাশিত ‘প্রিজন স্ট্যাটিস্টিকস অব ইন্ডিয়া ২০২৩’ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোট ৬,৯৫৬ জন বিদেশি বন্দি আছেন। তার মধ্যে ২,৫০৮ জন, অর্থাৎ ৩৬ শতাংশ পশ্চিমবঙ্গের সংশোধনাগারে আটক আছেন। এই বিদেশিদের মধ্যে ৮৯ শতাংশ অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের দায়ে অভিযুক্ত। তাদের বেশিরভাগই বাংলাদেশি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। বিদেশি বন্দিরা রাজ্যের মোট ২৫,৭৭৪ বন্দির মধ্যে শতকরা ৯ ভাগ। বাংলাদেশি বন্দিদের মধ্যে ৭৭৮ জন দণ্ডপ্রাপ্ত এবং ১৪৪০ জন বিচারাধীন। দ্বিতীয় স্থানে আছে মিয়ানমার। এদেশটির বিচারাধীন বন্দিদের বেশির ভাগের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। রাজ্যের কারাগারে থাকা ৭৯৬ জন বিদেশি দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির মধ্যে ২০৪ জন নারী। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ৪,৯০৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের অর্ধেকেরও বেশি অংশ পশ্চিমবঙ্গে। ফলে রাজ্যে বিদেশি বন্দির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। ২০২৩ সালে রাজ্যের কারাগারগুলোতে ছিল ৭৯৬ জন বিদেশি দণ্ডপ্রাপ্ত এবং ১,৪৯৯ জন বিচারাধীন বন্দি।

এনসিআরবির তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে বিচারাধীন বন্দির সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। একজন আইনি সহায়তা পরামর্শক বলেন, বিচারাধীন বন্দির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ আছে। তার মধ্যে অন্যতম আইনজীবীর খরচ বহন করতে না পারা,বিচারিক বেঞ্চের অভাব এবং আগেই অতিরিক্ত চাপে থাকা আদালতগুলো। একজন জ্যেষ্ঠ রাজ্য কর্মকর্তা জানান, অবৈধ বাংলাদেশি বন্দিদের সাধারণত ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও)-এর নির্দেশে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

কিন্তু আমাদের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গে ডিপোর্টেশনের হার অত্যন্ত কম। ২০২৩ সালে পশ্চিমবঙ্গের কারাগারগুলোর অকুপেন্সি রেট (দখল হার) ছিল ১২০ শতাংশ। অর্থাৎ, ২১,৪৭৬ জনের ধারণক্ষমতার জায়গায় ২৫,৭৭৪ জন বন্দি (দেশি ও বিদেশি) রাখা হয়েছিল মোট ৬০টি কারাগারে। রাজ্যের একমাত্র নারী কারাগারের বন্দি উপস্থিতির হার ছিল ১১০.২ শতাংশ। ২০৪ জন নারী এবং ১২ জন ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি আছেন। ৩৭১ জন নারী এবং ৯ জন ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি, যারা মোট ১,৪৯৯ জন বিচারাধীন বিদেশি বন্দির অংশ।

https://mzamin.com/uploads/news/main/183216_Abul-3.webp

Tuesday, December 23, 2025

মুর্শিদাবাদে হুমায়ুন কবিরের নতুন দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ ভরতপুরের তৃণমূলের বহিস্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবির সোমবার দুপুরে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। দলটি হবে ধর্মনিরপেক্ষ। তিনি বলেছেন, যারা তৃণমূল ও বিজেপি বিরোধী তারা সবাই এই দলে স্বাগত।

দলের নাম রাখা হয়েছে ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (জেইউপি)। হুমায়ুন কবির রাজ্য বিধানসভায় দু’বার বিধায়ক হয়েছেন। দলের আটজন প্রার্থীর নামও ঘোষণা করেছেন তিনি।

হুমায়ুন কবির বলেছেন , তিনি মুর্শিদাবাদের রেজিনগর ও বেলডাঙ্গা বিধানসভা আসনে লড়বেন। তবে মুর্শিদাবাদ আসনে লড়বেন তাঁর দলের মনীষা পান্ডা।

গত ৬ ডিসেম্বর পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী হুমায়ুন কবির মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে ‘বাবরি মসজিদের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। তখনই তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২২ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ও মমতা বিরোধী নতুন একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দল গড়বেন। সেই লক্ষ্য নিয়ে সোমবার দুপুরে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গার খাগড়–পাড়া মোড়ে এক বিশাল জনসভার মাধ্যমে নতুন দল গড়ার ঘোষণা দেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, তার দল ধর্মনিরপেক্ষ হবে এবং বিজেপি ও তৃণমূল বিরোধী আদর্শে পরিচালিত হবে। তিনি জানান, গত শুক্রবারের বদলে সোমবার নতুন দল গড়ার ঘোষণা দেওয়ার কারণ হলো, সোমবার তার মায়ের ১০০তম জন্মদিন ছিল। দিনটিকে তিনি বিশেষ মনে করেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, তার নতুন দলের লক্ষ্য হবে রাজ্যের বিধানসভার ২৯৪টি আসনের মধ্যে ৯০টি আসনে জিতে রাজ্য সরকার গড়ার নির্ণায়ক শক্তি হওয়া। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর দল ২৯৪টি আসনে লড়ার ক্ষমতা রাখে। নতুন দলের অনুষ্ঠানে তিনি বিজেপি ও তৃণমূল বিরোধী সব দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, আসন ভাগাভাগি করে নির্বাচন লড়তে পারলে তৃণমূল ও বিজেপিকে বাদ দেবেন। কিন্তু যদি কোনো আপত্তি আসে তবে তিনি একাই ২৯৪টি আসনে লড়বেন।

হুমায়ুন কবির দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু নতুন দল প্রকাশের দিন কংগ্রেস ও সিপিএম তার ডাকে সাড়া দেয়নি।

নতুন দলের প্রতীকের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ২০১৬ সালে নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে তিনি ‘টেবিল’ প্রতীক নিয়ে লড়েছিলেন। এবারও প্রথম পছন্দ টেবিল, দ্বিতীয় পছন্দ ‘জোড়া গোলাপফুল’। এই দুটির কোনটি না পেলে তৃতীয় কোনো প্রতীক বেছে নেবেন।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে নতুন দল গঠন হয়েছিল। নাম ছিল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)। সেই দল থেকে কেবল একজন বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি নওশাদ সিদ্দিকী। নির্বাচিত হয়েছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙর আসন থেকে।

দীর্ঘ পাঁচ বছর পর ফের মুর্শিদাবাদে নতুন দল গঠন করলেন হুমায়ুন কবির। তিনি বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুর্হতে এলাকাবাসীর দাবির মুখে তিনি ইস্তফা না দিয়ে নতুন দল গড়ার ঘোষণা দেন। দল ঘোষণা করে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, তার লক্ষ্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের শাসন ভেঙে ফেলা।

পশ্চিমবঙ্গের বিধায়ক হুমায়ুন কবির
পশ্চিমবঙ্গের বিধায়ক হুমায়ুন কবির। ছবি: ভাস্কর মুখার্জি