Showing posts with label ক্রীড়া. Show all posts
Showing posts with label ক্রীড়া. Show all posts

Friday, June 12, 2026

ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি, ‘অননুমোদিত’ পতাকা বা স্লোগান উঠলেই ম্যাচ বন্ধ!

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর আগেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ইরান। স্টেডিয়ামে ‘অননুমোদিত’ পতাকা প্রদর্শন কিংবা জাতীয় দলের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হলে ম্যাচ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দোনিয়ামালির বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে ফিফাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। বিশ্বকাপে ইরানের ম্যাচ চলাকালে যদি অনুমোদনহীন পতাকা প্রদর্শন করা হয় অথবা দলের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়, তাহলে দলের ম্যানেজার খেলা বন্ধ করার উদ্যোগ নেবেন।

আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ইরান। এরপর একই ভেন্যুতে ২১ জুন বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২৬ জুন সিয়াটলে প্রতিপক্ষ মিসর।

বিশ্বকাপকে ঘিরে ইরানের এই অবস্থানের পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা বিতর্ক। বিশেষ করে সিয়াটলে ইরান-মিসর ম্যাচকে স্থানীয় আয়োজকেরা ‘প্রাইড ম্যাচ’ হিসেবে ঘোষণা করায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। সিয়াটলের প্রাইড সপ্তাহের সঙ্গে মিল রেখে ম্যাচটি আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

এ নিয়ে আগেই ইরান ও মিসরের ফুটবল ফেডারেশন ফিফার কাছে যৌথভাবে অনুরোধ জানিয়েছিল, যাতে ম্যাচ চলাকালে এলজিবিটিকিউ-সংক্রান্ত কোনো কার্যক্রম বা প্রতীকী আয়োজন মাঠের ভেতরে না থাকে।

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ইরানকে ঘিরে আরও কয়েকটি বিতর্ক সামনে এসেছে। গত এপ্রিলে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসের বাইরে বিক্ষোভকারীরা ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, জাতীয় দলটি দেশের জনগণের পরিবর্তে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের প্রতিনিধিত্ব করছে।

এর পাশাপাশি টিকিট বিতরণ নিয়েও সমস্যায় পড়েছে ইরান। দেশটির ফুটবল ফেডারেশন অভিযোগ করেছে, টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে তাদের জন্য নির্ধারিত টিকিট বরাদ্দ প্রত্যাহার করা হয়। ফলে অনেক সমর্থক আগেই ভ্রমণের পরিকল্পনা করলেও প্রিয় দলের ম্যাচ দেখার সুযোগ হারিয়েছেন।

বর্তমানে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় অনুশীলন করছে ইরান দল। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ভিসা নীতির কারণে তারা ম্যাচের ঠিক একদিন আগে দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি পাবে বলে জানিয়েছে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ।

সব মিলিয়ে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই রাজনৈতিক উত্তেজনা, নিরাপত্তা উদ্বেগ, ভিসা জটিলতা এবং সমর্থকদের উপস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্নের কেন্দ্রে চলে এসেছে ইরান। এখন দেখার বিষয়, বিশ্বকাপের মঞ্চে এসব বিতর্ক কতটা প্রভাব ফেলে দলটির পারফরম্যান্সে।

ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি, ‘অননুমোদিত’ পতাকা বা স্লোগান উঠলেই ম্যাচ বন্ধ!

Wednesday, September 25, 2019

তির-ধনুকে ‘রোমান সাম্রাজ্য’ by বদিউজ্জামান

স্কুলে মন টিকত না ছেলেটির। পড়ার বইয়ের চেয়ে বেশি টানত স্কুলের পাশের বাগান। স্কুল পালিয়ে প্রায়ই বেরিয়ে পড়ত শখের গুলতি নিয়ে। গুলতি দিয়ে নিশানা ভেদের সেই যে আকর্ষণ পেয়ে বসল ছোটবেলায়, সেটা আজও কাটেনি রোমান সানার। তাই তো ৭০ মিটার দূরের ‘বুলস আই’–এ অনায়াসেই ছুড়ে দেন হাতের তির। ধনুক থেকে বেরিয়ে যাওয়া তিরটা তুলে এনে যখন স্কোরকার্ডের দিকে নজর বোলান, আনন্দে চোখটা চকচক করে ওঠে বাংলাদেশের এই তরুণ তিরন্দাজের।
তিরন্দাজ রোমান সানা। ছবি: শামসুল হক
রোমান সাম্রাজ্য তো পৃথিবীর বিস্ময়। ইউরোপ, আফ্রিকা ছাপিয়ে একসময় যার বিস্তৃতি ছিল এশিয়া পর্যন্ত। তির-ধনুকের খেলা আর্চারিতেও রোমান একের পর এক বিস্ময় উপহার দিয়ে চলেছেন বিশ্বজুড়ে। দেশের আর্চারিতে গড়ে তুলেছেন সাফল্যের সাম্রাজ্য। যে মুকুটের শেষ পালকটা মাথায় তুলেছেন গত সপ্তাহে। ১৩ জুন হল্যান্ডে হুন্দাই বিশ্ব আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপে ছেলেদের ব্যক্তিগত রিকার্ভে হল্যান্ডের সেফ ফন ডেন বার্গকে হারিয়ে ওঠেন সেমিফাইনালে। আর এতেই ইতিহাস গড়েন খুলনার যুবক। আগামী বছরের জুলাইয়ে টোকিও অলিম্পিকে সরাসরি খেলবেন রোমান।
অর্জনটা বাংলাদেশের গোটা ক্রীড়াঙ্গনের জন্যই অনেক বড়। বাংলাদেশের কোনো আর্চার এই প্রথম সরাসরি অলিম্পিকে যাবেন নিজের যোগ্যতায়। এর আগে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে যে গর্বের কীর্তিটি গড়েছিলেন শুধুই গলফার সিদ্দিকুর রহমান। তবে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিযোগিতায় নয়, ওই সময় র‌্যাঙ্কিংয়ে সেরা ৬০ এর মধ্যে (৫৪ তম) থেকে সর্বশেষ রিও অলিম্পিকে সিদ্দিকুর খেলেছিলেন সরাসরি।
জহুরির চোখে
ঘটনাটা ২০০৮ সালের। আর্চারি ফেডারেশনের প্রতিভা অন্বেষণ ক্যাম্প হয়েছিল খুলনা শহরের পুরোনো স্টেডিয়ামের পাশের সোনালী অতীত ক্লাবের মাঠে। অন্যদের মতো সেদিন খুলনা শিশু উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র রোমানও এসেছিলেন ট্রায়ালে। রোমানের তির ছোড়ার কৌশল আর প্রতিভা কোচ সাজ্জাদ হোসেনকে মুগ্ধ করেছিল। কিন্তু সেদিন বাছাইয়ে রোমান টিকলেও তাঁর বদলে স্থানীয় আরেকজনকে নিতে চাপ দিয়েছিলেন খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তা এবং ছেলেটির বাবা। সাজ্জাদও নাছোড়বান্দা, ‘আমি বলেছিলাম যদি একটি ছেলেকেও ঢাকায় নিয়ে যাই, সে রোমান।’ এতে কাজ হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত রোমানকেই বেছে নিতে পেরেছিলেন সাজ্জাদ। তাই তো রোমান অলিম্পিকে সুযোগ পাওয়ার পর কোচ সাজ্জাদ বলছিলেন, ‘আজ আমার খুব ইচ্ছা করছিল তাঁদের জানাতে—দেখেন, আমি সেদিন ভুল ছেলেকে বাছাই করিনি।’
হার না মানা প্রতিজ্ঞা
ক্যাম্পের শুরুর দিন থেকেই রোমানের ভেতরে ছিল হার না মানার এক অবিচল আকাঙ্ক্ষা। ক্যাম্পের শুরুর দিনে একবার ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দিন ঘোষণা দেন, যে ছেলে তির ছুড়ে সবচেয়ে বেশি স্কোর করতে পারবে, তাকে দেওয়া হবে আর্থিক পুরস্কার। রোমান চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেদিন টাকাটা জিতে নিয়েছিলেন। ২০০৮ সালে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচিতে খুঁজে পেলেও ফেডারেশন বেশি দিন তাঁকে ধরে রাখতে পারেনি। মাঝে দুই বছর খেলা ছেড়ে খুলনায় চলে গিয়েছিলেন রোমান। একসময় তো মনে হয়েছিল, আর কখনো তির-ধনুক হাতে নেওয়াই হবে না।
২০১২ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় রোমান পা হারাতে বসেছিলেন। খুলনায় হাসপাতালে ছিলেন তিন মাস। পাঁচ মাস ছিলেন পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে। সেদিনের সেই দুঃস্মৃতির কথা মনে করে রোমান বলছিলেন, ‘আমি তো ভেবেই নিয়েছিলাম আর কখনো খেলতে পারব না। সারাক্ষণ কান্নাকাটি করতাম। মাও কান্নাকাটি করত। তারপরও নিজের ওপর আস্থা হারাইনি।’
চমক বাংলাদেশ গেমস দিয়ে
বাংলাদেশ আনসারে রোমানকে বেছে নিয়েছিলে কোচ জিয়াউর রহমান। এই দলের হয়ে ঢাকায় বাংলাদেশ গেমসে যখন তির হাতে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন রোমান, অনেকেই তাচ্ছিল্যের চোখে তাকিয়েছিল। কিন্তু সেদিন সেরা আর্চারদের পেছনে ফেলে রিকার্ভের ব্যক্তিগত ইভেন্টে সোনা জিতে সবাইকে জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘আমি আসছি।’
নেদারল্যান্ডসে ব্রোঞ্জ পদক জয়ের পর অন্য দুই প্রতিযোগীর সঙ্গে রোমান সানা (ডানে)
এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি রোমানের। ২০১৮ সাল পর্যন্ত জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে জিতেছেন টানা সোনার পদক। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও রোমানের সাফল্য আসছে নিয়মিত। ব্যাংককে এশিয়া কাপ স্টেজ ওয়ানে সোনা জেতেন ২০১৪ সালে। ২০১৭ সালে কিরগিজস্তানে আন্তর্জাতিক আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপেও জেতেন সোনার পদক। গত বছর ঢাকায় হওয়া আন্তর্জাতিক সলিডারিটি আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপ এবং বিকেএসপিতে দক্ষিণ এশিয়ান আর্চারিতে জেতেন রুপা। এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে টঙ্গীতে হওয়া সর্বশেষ আন্তর্জাতিক সলিডারিটি আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপে জেতেন রুপা। আর গত সপ্তাহে হুন্দাই বিশ্ব আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপে অলিম্পিকে সুযোগ পাওয়ার পরপরই জেতেন ব্রোঞ্জ। লন্ডন আর বেইজিং অলিম্পিকে খেলা অভিজ্ঞ ইতালির মাওরো নেসপলিকে হারিয়ে বিশ্ব আসরে জেতেন বাংলাদেশের প্রথম পদক। আর এত সব সাফল্যের পেছনের কারিগর অবশ্যই জাতীয় দলের জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখ।
স্বপ্নের শুরু, তবে শেষ নয়
হল্যান্ড থেকেই উত্তাপটা টের পাচ্ছিলেন রোমান। ক্রিকেট বিশ্বকাপের ডামাডোলের মধ্যেও যে কীর্তিটা গড়েছেন, সেই রেশ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা আর অভিনন্দনের জোয়ার। ১৮ জুন দেশে ফিরেই পেয়েছেন উষ্ণ সংবর্ধনা। এত ভালোবাসায় মুগ্ধ রোমান বলছিলেন, ‘সবকিছু স্বপ্নের মতো লাগছে। যদিও অলিম্পিক এখনো অনেক দূরে। সেখানে কী করতে পারব জানি না। কিন্তু হল্যান্ডে যেভাবে পদকমঞ্চে উঠেছি, সেভাবে অলিম্পিকেও উঠতে চাই।’
চোখে মাইনাস পাওয়ারের চশমা। কিন্তু শান্ত-সৌম্য রোমান তির-ধনুক হাতে নিলে হয়ে ওঠেন অশান্ত। টোকিও অলিম্পিকে পতাকা বহনই করতে চান না, লাল-সবুজের পতাকা মাথার ওপরে তুলে ধরতে যেন তর সইছে না রোমানের।
‘আমাদের ছেলে দেশের গর্ব’
আনন্দের খবরটা প্রথম দেখেছিলেন টেলিভিশনের স্ক্রলে। রোমান সানা অলিম্পিকে সরাসরি খেলার সুযোগ পেয়েছেন, টেলিভিশনে ছেলের এমন কীর্তির খবরটা দেখে আনন্দে কেঁদেই ফেলেছিলেন বাবা আবদুল গফুর সানা আর মা বিউটি পারভীন। রোমানদের অভাবের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর জোগাড়। আবদুল গফুর দেড় যুগ ধরে খুলনার একটি মৎস্য খামারে চাকরি করেন মাত্র ছয় হাজার টাকা বেতনে! ছেলে পড়াশোনা করে একটা ভালো চাকরি করবে, সেটাই স্বপ্ন ছিল বাবার। কিন্তু বাবার সেই স্বপ্নকেও ছাড়িয়ে গেছেন রোমান। বাবা ঢাকা শহরেই এসেছেন একবার, তা–ও আবার বিশ্ব ইজতেমার সুবাদে। কিন্তু আর্চারি খেলতে গিয়ে ছেলে রোমান সানা এরই মধ্যে ঘুরে ফেলেছেন থাইল্যান্ড, ইরান, তাইওয়ান, তুরস্ক, ডেনমার্ক, দক্ষিণ কোরিয়া, কিরগিজস্তান, চীন, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি ও হল্যান্ড। একের পর এক পদক জিতছেন ছেলে। অলিম্পিকে খেলার মর্যাদাটা এখনো বুঝতে পারেননি মফস্বলের এই শ্রমিক বাবা। কিন্তু একটা জিনিস ঠিকই বুঝেছেন, ছেলে বাংলাদেশের জন্য বড় একটা অর্জন নিয়ে এসেছেন। তাই তো মুঠোফোনের অন্য প্রান্তে যখন কথাগুলো বলছিলেন, কেঁপে কেঁপে উঠছিল রোমানের বাবার কণ্ঠ, ‘ছেলে আমার একার নয়, ও বাংলাদেশের সবার ছেলে। ও বাংলাদেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে। আমাদের ছেলে দেশের গর্ব। আমি গরিব মানুষ, মাত্র অল্প টাকা বেতন পাই। ঠিকমতো সংসার চলে না। কিন্তু ওর এই অর্জনে নিজেকে অনেক ধনী মনে হচ্ছে।’
রোমান সানার বাবা–মা। ছবি: সাদ্দাম হোসেন

Saturday, October 4, 2014

তবু ফিরতে হচ্ছে আফসোস নিয়ে by তারেক মাহমুদ

সবখানে বিদায়ের সুর। করুণ রাগিণী। আজ সমাপনী অনুষ্ঠান দিয়ে পর্দা নামবে ১৭তম ইনচন এশিয়ান গেমসের। আর এর মধ্যেই এল ‘গেচ্ছন জন্নাল’। স্থানীয় ভাষায় গেচ্ছন জন্নালই বলা হয় কোরিয়ার জন্মদিনকে। কাল ছিল সেই জন্মদিন, যে দিনে পাঁচ হাজার বছর বয়স পূর্ণ করল কোরিয়ানরা। এই জন্মদিনের সঙ্গে আবার স্বাধীনতার ব্যাপার-স্যাপার মেলাবেন না। এই দিনে কোরিয়ার মানুষ জন্মদিনটা পালন করে প্রাচীন সংস্কৃতির একটা রীতি মেনে।
গেচ্ছন জন্নালের সৃষ্টি নিয়ে বিরাট গল্প আছে। সেদিকে আপাতত না গিয়ে জন্মদিনে এশিয়ান গেমসের ছবিটাই দেখুন। জন্মদিন উপলক্ষে দক্ষিণ কোরিয়ায় কাল ছিল সরকারি ছুটি এবং তার প্রভাব পড়ল গেমসেও। ছুটির দিনে অসংখ্য মানুষ সপরিবারে এলেন ইনচনের মূল স্টেডিয়াম এলাকায়। উৎসবের আবহ গায়ে মেখে ঘুরে বেড়ালেন স্টেডিয়াম চত্বরে বসা ফুড ফেয়ার আর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টলে। তাদের উৎসবের সঙ্গে একটা উৎসব মিলে গেল বাংলাদেশ ক্রিকেট দলেরও। কোরিয়ানদের গেচ্ছন জন্নালের দিনেই যে তৃতীয় স্থাননির্ধারণী ম্যাচে হংকংকে ২৭ রানে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পেল বাংলাদেশ! এবারের গেমসে এটি বাংলাদেশের তৃতীয় পদক, যার দুটিই এসেছে ক্রিকেট থেকে। অন্যটি পেয়েছে মহিলা কাবাডি দল।

বলতে পারেন সোনা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে আসা গেমসে ব্রোঞ্জ পেয়ে আবার কিসের উৎসব! আসলে বাংলাদেশ দল যে সোনা জয়ের লড়াইটা লড়তে পারল না, সেটা তো নিতান্তই দুর্ভাগ্যের কারণে। টস নামক নিয়তিই ছিটকে দিয়েছে তাদের সেই দৌড় থেকে। তার চেয়ে বরং হংকংয়ের বিপক্ষে যে বাংলাদেশ দল বাংলাদেশ দলের মতোই খেলে ব্রোঞ্জ জিতল, ব্যর্থতার দীর্ঘ সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে একটু আশার আলো দেখাল, সেটাই বা কম কী! ব্যর্থতার ক্লান্তিময় পথ পেরিয়ে হয়তো এখান থেকেই আবার শুরু হবে নতুন পথচলা।
এশিয়ান গেমসে কাল প্রথমবারের মতো টসে জিতলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। আগে ব্যাটিং নিয়ে হংকংয়ের সামনে লক্ষ্য দিলেন ১৬৩ রানের। জবাবে হংকং একেবারে খারাপ করেনি। ৭ উইকেটে ১৩৫ রান তাদের জন্য ভালোই সান্ত্বনা হতে পারে। অবশ্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুই দলের সর্বশেষ ম্যাচটা যেহেতু হংকংই জিতেছিল, থাকতে পারে আরেকটি অঘটন ঘটাতে না পারার মৃদু আফসোসও।
কুয়েতের বিপক্ষে ম্যাচে ব্যাট হাতে তেমন কিছু করতে পারেননি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যে ১১ ওভার ব্যাটিং করেছিল বাংলাদেশ, সাকিব আল হাসান আউট হয়ে গিয়েছিলেন তাতেও। বহিষ্কারাদেশ থেকে খেলায় ফেরা এই অলরাউন্ডার অপেক্ষায় ছিলেন ফর্মে ফেরার। কাল ব্যাট হাতে দুই ছক্কায় ৩৭ বলে ৪৬ রান আর বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে সাকিব যেন ফিরে আসারই ঘোষণা দিলেন। দুই ছক্কা আর এক বাউন্ডারিতে ২১ বলে ৩৫ রান করে মাহমুদউল্লাহও ধরে রেখেছেন সদ্য ফিরে পাওয়া ফর্মটা।
হংকংয়ের ব্যাটিং দেখে কখনোই মনে হয়নি তারা বাংলাদেশের ১৬২ রান তাড়া করে জেতার জন্য খেলছে। বরং বাংলাদেশের স্পিনারদের খেলতে কষ্টই হচ্ছিল তাদের। সাকিবের ২ উইকেটের পাশে ২২ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন আরাফাত সানিও।
তা সোনা ধরে রাখতে এসে ব্রোঞ্জ জিতে কেমন লাগল খেলোয়াড়দের? ম্যাচ শেষে দলের প্রতিনিধি হয়ে আসা মাহমুদউল্লাহ জানালেন, ‘মিশ্র অনুভূতি হচ্ছে। ভালো লাগছে কারণ আজ (গতকাল) আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি। পদক পেয়েছি। আবার আফসোসও আছে, কারণ আমরা সোনা জয়ের জন্য এসেছিলাম। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটা হয়নি। টস তো যেকোনো দিকেই যেতে পারে। সে জন্য আফসোসটাই বেশি।’ তবে মাহমুদউল্লাহ এর মধ্যেও খুঁজে নিতে চান ভালো কিছু, ‘আজ (গতকাল) ভালো ক্রিকেট খেলতে পারাটাই আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল। সবাই সেটা করতে পারায় আমরা খুশি।’
কালই হওয়া ফাইনালে আফগানিস্তানকে ৬৮ রানে হারিয়ে সোনা জিতেছে শ্রীলঙ্কা। আর বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের প্রাপ্তির খাতায় একটা ব্রোঞ্জ পদকের সঙ্গে থাকবে গেমসে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতাও। দলের কারও কারও সে অভিজ্ঞতা আগেই হয়েছে, যদিও মাহমুদউল্লাহসহ বেশির ভাগ খেলোয়াড়ের জন্য তা নতুন। মাহমুদউল্লাহ বলছিলেন, ‘শামসুর-সাব্বিরসহ বেশ কয়েকজন এর আগেও এশিয়ান গেমসে খেলেছে। তবে আমার এবং মাশরাফি, সাকিব, তামিমসহ অনেকেরই এটা প্রথম অভিজ্ঞতা। গেমস নিয়ে অনেক গল্প শুনেছি। এবার আমারও অন্য রকম একটা অভিজ্ঞতা হলো। সব মিলিয়ে ভালোই লেগেছে।’
গত গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে খেলা সাব্বির অবশ্য ইনচন এশিয়ান গেমসের তুলনায় এগিয়ে রাখলেন প্রথম অভিজ্ঞতাকেই, ‘চীনের এশিয়ান গেমসটাই ভালো হয়েছিল। সুযোগ-সুবিধা অনেক বেশি ছিল সেবার।’
ইনচনের চেয়ে গুয়াংজুকে এগিয়ে রাখার আরেকটা কারণও আছে। গুয়াংজু থেকে বাংলাদেশ দল দেশে ফিরেছিল গলায় সোনার পদক পরে। অথচ গতবারের তুলনায় শক্তিশালী দল নিয়ে এসেও ভাগ্যের ফেরে আজ বাংলাদেশ দল দেশের বিমানে উঠবে ব্রোঞ্জ নিয়ে। সোনা জয়ের সুখস্মৃতি আছে যাঁদের, ব্রোঞ্জ গলায় ঝোলাতে নিশ্চয়ই তাঁদের খারাপ লাগবে?
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৬২/৬ (তামিম ২২, এনামুল ১১, শামসুর ২৬, সাকিব ৪৬, সাব্বির ১১, মাহমুদউল্লাহ ৩৫*, শুভাগত ১, মাশরাফি ২*; আদিল ০/২০, ইরফান ০/৩৯, নাদিম ৩/৩৬, নিজাকাত ১/৩০, আইজাজ ১/২৫, ওয়াকাস ০/১২)। হংকং: ২০ ওভারে ১৩৫/৭ (ইরফান ৩১, ওয়াকাস ০, অ্যাটকিনসন ৭, নিজাকাত ০, চ্যাপম্যান ৩৮, শাখাওয়াত ১১, আইজাজ ২৬*, ল্যামস্যাম ৩, নাদিম ১০*; মাশরাফি ০/২৬, আরাফাত ৩/২২, রুবেল ১/৩৫, সাকিব ২/২৩, তাসকিন ০/১১, শুভাগত ০/১৩)। ফল: বাংলাদেশ ২৭ রানে জয়ী।

Saturday, July 26, 2014

কেঁদেই দিলেন সানিয়া মির্জা

কান্নায় ভেঙে পড়লেন সানিয়া মির্জা। ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল এনডিটিভিকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাত্কারে এই টেনিস তারকার মন্তব্য, ‘আর কী করলে প্রমাণিত হবে যে আমি একজন ভারতীয়!’

সানিয়ার এই মন্তব্য ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিজেপির এক সাংসদের মন্তব্যের পরপরই। নবগঠিত তেলেঙ্গানা রাজ্যের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরপরই সেই সাংসদ অভিযোগ করেন, ‘এই সানিয়া পাকিস্তানের গৃহবধূ। তাঁর তেলেঙ্গানার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার কোনো নৈতিক ভিত্তি নেই। এই রাজ্য গঠনের আন্দোলনের সঙ্গে তাঁর কোনো আত্মিক সম্পর্ক নেই।’
এনডিটিভি অবশ্য বিজেপির নেতার এই মন্তব্যকে অভিহিত করেছে রাজনৈতিক ‘ফাউল প্লে’ হিসেবে। সানিয়াকে ভারতের ‘জাতীয় আইকন’ হিসেবে অভিহিত করে এনডিটিভি বলেছে, এর মাধ্যমে সানিয়াকে অপমান করা হয়েছে।
সাক্ষাত্কারের একপর্যায়ে সানিয়া কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, ‘সাংসদের এই মন্তব্য আমাকে নিদারুণ আহত করেছে। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে ভারতে জন্ম নিয়ে, ভারতে সারাটা জীবন কাটিয়েও আমাকে প্রমাণ করতে হচ্ছে আমি আদৌ ভারতীয় কি না।’
পাকিস্তানি ক্রিকেটার শোয়েব মালিককে বিয়ে করেই মূলত ভারতীয়দের একাংশের কাছে সমালোচিত এই নারী টেনিস তারকা। রাজনৈতিক ‘চিরশত্রু’ পাকিস্তানের ‘বধূ’ হওয়ার ব্যাপারটি ভারতীয় কট্টরপন্থীরা কখনোই মেনে নিতে পারেনি, সে কারণে প্রায়ই সানিয়াকে উগ্র সমালোচনার শিকার হতে হয়েছে। এ ব্যাপারে এনডিটিভির কাছে তিনি প্রকাশ করেছেন চরম বিরক্তি ও হতাশা, ‘ছোটবেলা থেকেই
পারিবারিকভাবে আমি জাতি-ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে ভাবতে শিখেছি। অন্য জাতি বা ধর্মের কারও সঙ্গে কথা বলা বা মেশার সময় এসব কখনোই আমার মাথায় থাকে না। শোয়েবের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার সময়ও এসব নিয়ে আমি ভাবিনি। এসব নিয়ে কথা ওঠাটা খুবই দুঃখজনক।’
সানিয়া শ্লেষের সঙ্গে বলেন, ‘পৃথিবীতে এমন একটি দেশ হয়তো আর খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে কাউকে প্রতিনিয়ত তাঁর জাতীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।’
সানিয়া বলেন, ‘শোয়েবকে বিয়ে করার পরও আমি ভারতের হয়ে পদক জিতেছি। কেউ যদি আমার দেশাত্মবোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন সেটা আমাকে খুবই কষ্ট দেয়।’
বিজেপি সাংসদের ওই মন্তব্য অবশ্য ভারতজুড়ে যথেষ্ট সমালোচনা ও নিন্দার জন্ম দিয়েছে। সুশীল মহলের অনেকেই সানিয়াকে তেলেঙ্গানার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর করা নিয়ে করা ওই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে একে ‘নিচু মানসিকতা’ ও ‘পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এনডিটিভির সঙ্গে সাক্ষাত্কারে সানিয়া ধন্যবাদ দিয়েছেন সবাইকে তাঁর পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য। তিনি বলেন, ‘এই দেশের ৮০ শতাংশ মানুষই উদার। তারা এসব নিয়ে একেবারেই ভাবে না। তাদের ভালোবাসা শেষ পর্যন্ত আমাকে মুগ্ধই করেছে। কিন্তু বিজেপির সাংসদের এই মন্তব্য সত্যিই আমাকে খুব আহত করেছে।’
সবশেষে সানিয়া জানিয়েছেন, ‘এই ভারতে রয়েছে আমার ও আমার পরিবারের শিকড়। আমি আমৃত্যু একজন ভারতীয় হিসেবে নিজেকে পরিচিত করতে অসম্ভব গর্ববোধ করব।’

Wednesday, July 23, 2014

সানিয়া মির্জার জন্য এক কোটি রুপি

মৌসুমের শেষ গ্র্যান্ডস্লাম ইউএস ওপেন ও অন্যান্য টুর্নামেন্টের প্রশিক্ষণ এবং খরচের জন্য ভারতের টেনিস তারকা সানিয়া মির্জাকে এক কোটি রুপি অনুদান দিচ্ছে ভারতের তেলেঙ্গানা সরকার। এই ঘোষণা দিয়েছেন নবগঠিত তেলেঙ্গানা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও। মঙ্গলবার সানিয়ার হাতে চেক তুলে দেয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রীর।

মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও টেনিস তারকা সানিয়া মির্জার জন্য এক কোটি রুপি অনুদান ঘোষণা করেছেন। ইউএস ওপেন ও আসন্ন অন্যান্য টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের খরচের জন্য মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী নিজে সানিয়ার হাতে চেক তুলে দেবেন। সম্প্রতি ডব্লিউটিএ ডাবলস র‌্যাংকিংয়ে ক্যারিয়ারে প্রথমবার পঞ্চম স্থানে উঠে আসেন ভারতীয় এই টেনিস তারকা। ওয়েবস

Saturday, January 11, 2014

তামিম-সিদ্দিকুররা পুরস্কৃত হচ্ছেন আজ

বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতির বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদের পুরস্কার প্রদান করা হবে আজ। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ টাওয়ারের অডিটোরিয়ামে ২০১১-১২ দুই বছরের বর্ষসেরা পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে বিজয়ীদের হাতে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ১৮ জন ক্রীড়াবিদ, পৃষ্ঠপোষক ও সংগঠকের হাতে সম্মাননা তুলে দেবেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।
২০১১ বর্ষসেরা পুরস্কার পাচ্ছেন যারা_
এসএ মহসিন ট্রফি (বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ) সিদ্দিকুর রহমান (গলফ), মামুনুল ইসলাম (ফুটবল), সাকিব আল হাসান (ক্রিকেট), সালমা খাতুন (মহিলা ক্রিকেট), সাইক সিজার (জিমন্যাস্টিক), আ হ ম মোস্তফা কামাল (সংগঠক), ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (পৃষ্ঠপোষক), বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রীড়াবিদ (দাবা) ফাহাদ রহমান, বিশেষ সম্মাননা (অ্যাথলেট) সাইদুর রব।
২০১২ বর্ষসেরা পুরস্কার পাচ্ছেন যারা_
এসএ মহসিন ট্রফি (বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ) তামিম ইকবাল (ক্রিকেট), মামুনুর রহমান চয়ন (হকি), মুশফিকুর রহিম (ক্রিকেট), এনামুল হোসেন রাজীব (দাবা), মাহবুব হারুন (কোচ হকি), সোহাগ গাজী (বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রীড়াবিদ, ক্রিকেট), লুৎফর রহমান বাদল (সংগঠক), ওয়ালটন (পৃষ্ঠপোষক), রিয়াজ উদ্দিন আল মামুন (বিশেষ সম্মাননা)।

Thursday, July 19, 2012

অলিম্পিকে দ্যুতি ছড়াবেন যেই অগ্নিকন্যারা

অলিম্পিক ২০১২ শুরু হচ্ছে ২৭ জুলাই। বিশ্বের নানা দেশ থেকে লন্ডনে যেতে শুরু করেছেন খেলোয়াড়রা। প্রতিবারের মতো লন্ডন অলিম্পিকেও দ্যুতি ছড়াবেন একদল আবেদনময়ী নারী অ্যাথলেট। টেনিস কোর্ট, রেস ট্র্যাক, সুইমিং পুল ও বিচ ভলিবলে তাদের ছড়াছড়ি থাকবে।

Friday, April 20, 2012

প্রীতি জিনতার আচরণে ক্ষুব্ধ আইপিএল

আইপিএল-এ কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ও কোলকাতা নাইট রাইডার্সের ম্যাচ চলাকালে প্রীতি জিনতার অসদাচরণের বিষয়টি নিয়ে ভালোই টানা-হ্যাঁচড়া চলবে বলে মনে হচ্ছে। আইপিএল কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে ম্যাচ রেফারির কাছে রিপোর্ট চেয়েছে।

Saturday, April 7, 2012

পঞ্চম আইপিএলের জমকালো উদ্বোধন

জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন হয়েছে আইপিএল-এর পঞ্চম আসর। ভারতীয় ক্রিকেটের চূড়ান্ত দুঃসময়ের মধ্যেই ঢাকঢোল পিটিয়ে শুরু হলো আইপিএলের পঞ্চম সংস্করণ। যেসব ভারতীয় ক্রিকেটাররা অস্ট্রেলিয়া সফর ও এশিয়া কাপে দেশের হয়ে পারফরমেন্স করতে পারেননি তারাই আগামী ৫৪ দিন ধরে সীমিত ওভারের নতুন ফরম্যাটে ভারতের নয়টি শহরের দলের হয়ে মাঠে নেমে মাতিয়ে রাখবেন ক্রীড়াপ্রেমীদের।

Friday, February 10, 2012

দর্শকদের টানতেই পারল না বিপিএল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

তুলনাটা ঘুরেফিরে আসছে। বলা ভালো, কর্তাব্যক্তিরাই নিয়ে আসছেন তা। ২০১১ বিশ্বকাপ আয়োজনে সফলতার তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলার পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগও (বিপিএল) তেমন 'ফাটানো' কিছু হবে, তাঁদের বিশ্বাস। কিন্তু সকালের সূর্য যদি দিনের পূর্বাভাস দেয়, তাহলে সর্বনাশ! কাল বিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ইঙ্গিত দিচ্ছে নিজেরাই 'ফেটে' যাওয়ার। ক্রিকেটের মোড়কে নানা মসলার জগাখিচুড়ির ফ্লপ শোর!

Saturday, December 3, 2011

ফর্মের জন্য নয়, অবসর নিয়েছি অন্য কারণে :সৌরভ

৭৮ বলে ১৩৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন সৌরভ গাঙ্গুলী। তবুও রনজি ট্রফিতে তার নিজের দল পশ্চিমবঙ্গ লিড নিতে পারেনি। বিস্ময়করভাবে লিড হাতছাড়া হওয়ায় হতাশ সৌরভ। জনপ্রিয় পত্রিকা আনন্দবাজারের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে সে হতাশাই ব্যক্ত করেছেন তিনি।সমকাল পাঠকের জন্য সৌরভের সে সব কথার কিছু অংশ...
প্রশ্ন : সেঞ্চুরি করেও খুব হতাশ?

রামপালের বিশ্বরেকর্ডেও হারল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

বিশাখাপত্তমে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন রবি রামপাল। দশ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে তিনি ৮৬ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেছেন। ওয়ানডে ইতিহাসে যা বিশ্বরেকর্ড। এর আগে ২০০৯ সালে আবুধাবিতে দশ নম্বরে নেমে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন মোহাম্মদ আমের। গতকাল সে রেকর্ড ভেঙে ৬৬ বলে ৮৬ রান করে অপরাজিত ছিলেন রামপাল। মূলত তার ব্যাটিং তাণ্ডবে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জেতার মতো ২৬৯ রানের স্কোর

ব্যাটিং নিয়ে হতাশ নির্বাচকরাও

ছুটির দিনে পাঞ্জাবি পরে একটু অন্যরকমভাবেই গতকাল মাঠে এসেছিলেন দুই নির্বাচক আকরাম খান এবং মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। বেশে ছুটির ছটা থাকলেও মনে তা একেবারেই ছিল না। আগের রাতে ৯১ রানে ছেলেদের অল আউট হয়ে যাওয়ার কষ্টটা দুই নির্বাচকের চোখে-মুখেই ধরা পড়েছিল; কিন্তু কেন এমন হচ্ছে? কেন আমাদের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা রান পাচ্ছেন না? কোনো অফিসিয়াল ব্রিফিং ছিল না, সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা হয়ে যাওয়াতেই তাই

নিস্তব্ধ বাংলাদেশ শিবির by সঞ্জয় সাহা পিয়াল

গের রাতের বাসি স্কোর বোর্ডটা হয়তো ভুল করেই সরানো হয়নি। মূল স্টেডিয়াম থেকে ইনডোরে যাতায়াতের পথেই তাই দাঁত খিঁচিয়ে থাকা স্কোর বোর্ডটি বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছিল_ বাংলাদেশ ৯১ অল আউট! একবার সেদিকে তাকিয়েও মাথা নামিয়ে ফেললেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। অভিশপ্ত রাতের সাক্ষী হয়ে মিরপুরের ছয় নম্বর উইকেটটিও খোলা চোখে চেয়ে ছিল গতকাল অনুশীলনে আসা বাংলাদেশিদের দিকে।

মানুষের কথা ভেবেই আয়োজক কমিটিতে রোনালদো

কসময়ের সতীর্থ ও ব্রাজিলের আইনসভার নিম্নকক্ষের নির্বাচিত সদস্য রোমারিও বলেছিলেন, স্বয়ং যিশু এসেও নাকি যথাসময়ে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি সমপন্ন করতে পারবেন না! ধরিত্রীর বুকে দ্বিতীয়বারের মতো নেমে আসেননি 'ঈশ্বরের পুত্র', কিংবা তাঁর পুনরাগমনের জন্য মঞ্চটা প্রস্তুত করতে পারেনি ব্রাজিলের স্থানীয় আয়োজক কর্তৃপক্ষ। লৌকিক পর্যায়ে সর্বোচ্চ যেটা করা সম্ভব তাই করেছে রিকার্দো তিসেইরার স্থানীয় আয়োজক কমিটি

ভুল ওষুধ খেয়ে প্রলাপ বকছেন পেলে!-বললেন ম্যারাডোনা

ছাইপাশ খাওয়ার অভ্যেসটা ডিয়েগো ম্যারাডোনারই ছিল, সব ছেড়েছুড়ে এখন অবশ্য নিজেকে সুস্থ বলেই দাবি করেন 'আর্জেন্টাইন ফুটবল-ঈশ্বর'। জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিয়ে এখন দুবাইতে আল ওয়াসলকে কোচিং করাচ্ছেন ম্যারাডোনা, আকাশি-নীলদের খেলাও নাকি খুব একটা দেখা হয় না তাঁর। ভৌগোলিকভাবে অনেকটা দূরে থাকলেও ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের সঙ্গে ব্যক্তিত্বের লড়াইটা এখনো চালিয়ে যাচ্ছেন ম্যারাডোনা।

প্র্যাকটিস ম্যাচের ঘাটতিকে দুষছেন কোচ-সনৎ বাবলা,

ম্যাচ শেষে ইলিয়েভস্কি আহাজারি করলেন ভালো মানের দলের বিপক্ষে প্র্যাকটিস ম্যাচের অভাবের জন্য। তাঁর নিজের মতো করেই দেওয়া অপূর্ণতার দোহাইকে আমলে নিলে বাংলাদেশ অবশ্যই জিতবে দ্বিতীয় ম্যাচে! পাকিস্তানের বিপক্ষে কালকের ম্যাচটিকে প্র্যাকটিস ম্যাচ ধরলে তো সামনের ম্যাচগুলোতে আর সমস্যা হওয়ার কথা নয়!দেশে দলটিই ছিল প্র্যাকটিস ম্যাচের ওপর। কখনো শেখ জামাল, কখনো আফ্রিকান একাদশ, এ ছাড়া বয়সভিত্তিক

মুখোমুখি প্রতিদিন-এক পয়েন্ট পেয়েছি এটাই ভাগ্যের ব্যাপার

ফেভারিট দলের তকমা ছিল বাংলাদেশের গায়েই। কিন্তু সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে হারাতে পারেনি লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। কেন এমন হলো সেটা জানতেই কালের কণ্ঠ স্পোর্টস মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক কোচ শফিকুল ইসলাম মানিকেরকালের কণ্ঠ স্পোর্টস : কিছুদিন আগেই পাকিস্তানকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানই বরং আধিপত্য বিস্তার

'হাতি' পুষছে অস্ট্রেলিয়া!

পৃথিবীর সবচেয়ে হাসি-খুশি প্রাণী কোনটা? স্কুল শিক্ষকের এমন প্রশ্নের জবাবে দুষ্টু ছাত্রের জবাব, 'স্যার, হাতি সব সময় দাঁত দুটি বের করে রাখে!' সেই হাতির সঙ্গেই তুলনা হচ্ছে রিকি পন্টিংয়ের, তবে তাঁর মোটেই 'হাসি-খুশি' অবস্থা নয়! ডন ব্র্যাডম্যানের পর অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে সফল তিনি। অথচ সেই পন্টিংকেই এখন দলে রাখাটা 'হাতি পোষা' মনে হচ্ছে নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ক্রিস কেয়ার্নসের। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের

ছয় বছর ধরে খেলছি কখনো নিজেকে তারকা মনে হয়নি

লা মেসিয়াতে মেসি, জাভিদের সঙ্গে বেড়ে উঠলেও পেশাদার ফুটবলে তাঁর শুরুটা ইংল্যান্ডে। ২০০৩ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে সেস্ক ফ্যাব্রেগাস যোগ দিয়েছিলেন আর্সেনালে। সেখানে প্রায় আট বছর খেলার পর এ মিডফিল্ডার আবারও ফিরে এসেছেন শৈশবের ক্লাবে। তারায় ভরা বার্সেলোনায় মানিয়েও নিয়েছেন ভালোভাবে। শৈশবের ক্লাবে ফিরে আসা, আর্সেনালে খেলার অভিজ্ঞতা এবং সেই সঙ্গে সামনের ক্লাব বিশ্বকাপ। ফিফা ডটকমকে দেওয়া