Friday, June 30, 2017

হ্যালি বেরির কাছে অস্কার কিছুই না!

অস্কারে বর্ণবৈষম্য নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। বিতর্ক সামাল দিতে এবারের অস্কার পুরস্কারে কিছুটা ব্যালেন্সও কি করল তারা! ফলাফল তো তা-ই বলে। এবার অস্কারে সেরা অভিনয়শিল্পী ও সেরা সহ-অভিনয়শিল্পীর পুরস্কার পেয়েছেন দুজন সাদা ও দুজন কালো মানুষ।
কিন্তু তাতেও মন ভরেনি হ্যালি বেরির। ২০০২ সালে মনস্টারস বল সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর অস্কার পাওয়া প্রথম ও একমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ শিল্পী তিনি। নিজের অস্কার উৎসর্গ করেছিলেন কালোদের প্রতি। কিন্তু ১৫ বছর পর তাঁর মনে হচ্ছে, এই পুরস্কারের কোনো মানে নেই। ২০০২ সাল থেকে এ পর্যন্ত আর কোনো কালো মেয়েই সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জেতেননি। এবার ভায়োলা ডেভিস পেয়েছেন সেরা সহ-অভিনেত্রীর পুরস্কার।
টিন ভোগ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে  হ্যালি বেরি বলেন, অস্কার–দৌড়ে এখনো বৈচিত্র্যের অভাব একটি বড় ব্যাপার। তিনি মনে করেন, তাঁর অস্কার বক্তৃতাও তেমন প্রভাব ফেলেনি। হ্যালি বলেন, ‘এই বক্তৃতার কোনো মানে নেই। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম এটি অনেক কিছু, কিন্তু পরে দেখলাম কিছুই না।’ হ্যালি আরও বলেন, ‘আমি  ছবি বানানো শুরু করতে চাই। প্রযোজনাও করতে চাই। আমি কালোদের জন্য আরও সুযোগ তৈরি করতে চাই।’

ড্রাইভিং সিটে ভোট রাজনীতি by এম এম মাসুদ

আখেরে অবস্থান বদলালেন অর্থমন্ত্রী। নিজের বিরুদ্ধে নিজেই দাঁড়ালেন। আর এর মাধ্যমে ভোট রাজনীতির কাছে হেরে গেল তার জিদ। ভ্যাট আর আবগারি শুল্ক ইস্যুতে নিজের অনড় অবস্থানের কথাই বারবার ঘোষণা করেছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বলেছিলেন, কোনো পরিবর্তন হবে না। তার এ অবস্থান দলের ভেতরে-বাইরে বিপুল সমালোচনা তৈরি করেছিল। সব মহল থেকেই প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। অবশ্য কেউ কেউ তার পাশেও ছিলেন। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাজেটে পরিবর্তন আনলেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। বুধবার অর্থবিল পাসের পর গতকাল বাজেটও পাস হয়ে গেছে সংসদে।
অর্থমন্ত্রী এটিকে বলেছিলেন তার জীবনের শ্রেষ্ঠ বাজেট। বাজেটের খোলনলচে বদলে যাওয়ার পরও তিনি একই কথা বলছেন। এই হিসাব অবশ্য বোঝা দায়। কিন্তু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বাজেটে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে গেছে- ভোট রাজনীতি এখন ড্রাইভিং সিটে। মূলত নির্বাচন বিবেচনাতেই দুই বছর পর্যন্ত নতুন ভ্যাট আইন স্থগিত করা হয়েছে। অর্থাৎ ভোটের আগ পর্যন্ত নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হবে না। আবগারি শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব শুধু নাকচই হয়নি, আগের হার থেকেও বেশ কমিয়ে দেয়া হয়েছে। অনেকে সরকারের এ সিদ্ধান্তের প্রশংসা করছেন। বলছেন, জনগণের পালস বুঝতে সক্ষম হয়েছে সরকার। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ভ্যাট আইন কার্যকর স্থগিত হয়ে যাওয়ায় বাজেট বাস্তবায়ন এখন অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে। হিসাব মেলানো হবে কঠিন। নির্বাচনের পর গঠিত সরকারকেই এখন ভ্যাট আইনের ঝক্কি-ঝামেলা মোকাবিলা করতে হবে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, এমনিতেই এত বড় আকারের বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব হতো না। এর মধ্যে আবার কর আদায়ের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত অর্থবিল পাসের সময় দুটি বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এটা ইতিবাচক দিক। তবে এটা নিশ্চিত, এতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে না। এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল সেটাও পূরণ হতো না। সব মিলিয়ে বাজেটে ঘাটতি ও ঋণের পরিমাণ বাড়বে। রাজস্ব আহরণ ঠিক রাখতে ভ্যাট ও আয়কর জাল সম্প্রসারণের পরামর্শ দিয়ে মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, দুই বছর পর যখন থেকে এই আইন কার্যকর করা হবে, তখন আগে থেকে ঠিক করে নিতে হবে একক হারে এটা বাস্তবায়ন হবে কিনা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ বলেন, নতুন ভ্যাট আইনের কার্যকারিতা আরো দুই বছরের জন্য স্থগিত করায় আগামীতে নতুন সরকারের জন্য এই আইন বাস্তবায়ন চালেঞ্জ হবে। একই সঙ্গে এটা একটা বাজে নজির হয়ে থাকলো। আবদুল মজিদ বলেন, ভ্যাট আইন দুই বছরের জন্য স্থগিত করার মানে হলো, এতে রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে বর্তমান সরকার। অর্থাৎ এ সরকারের আমলে ভ্যাট আইন নিয়ে আর কোনো টুঁ-শব্দটি করা লাগবে না। দুই বছর পর নতুন যে সরকার আসবে তারাই তখন এটি বাস্তবায়ন করবে। এটাই ভোটের রাজনীতি। আর নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে কোনো বেগ পেতে হবে না। তিনি বলেন, এর আগে বিএনপি সরকারের আমলে যখন ভ্যাট আইন সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান বাস্তবায়ন করেন ওই সময়টা ছিল সরকারের প্রথম বছর। কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু শেষ সময় হলে আন্দোলন হওয়ার সম্ভবনা থাকতো বলে মনে করেন তিনি। সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আগের ভ্যাট আইনে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাধাগ্রস্ত হবে সরকার। এছাড়া এতে সরকারের উন্নয়ন ব্যয় কম হতে পারে। ব্যাংক ঋণ নেয়ার হার বাড়বে। তিনি বলেন, নতুন ভ্যাট আইনে শাস্তির ব্যবস্থা ছিল। স্থগিত হওয়ায় সেটা আর হবে না। তবে স্থগিত হওয়ায় আগামী নির্বাচনের পর যে নতুন সরকার আসবে তাদের জন্য এই আইন বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তিনি বলেন, আগেই ভাবা উচিত ছিল ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করা হবে কি হবে না। আর ভবিষ্যতের জন্য বাজে নজির হয়ে থাকলো এটি। কারণ, নতুন সরকার এসেও চিন্তাভাবনা করবে ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করবে কি করবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, নতুন ভ্যাট আইন স্থগিত ও ব্যাংকের আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক হার কমানো, এসবের মাঝে নিশ্চয় রাজনৈতিক বিবেচনা আছে। কিভাবে দেশের জনগণের মন জয় করা যায়, তার একটি মেসেজ রয়েছে এতে। তাছাড়া দিনশেষে ভ্যাটের চাপটা পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। ভ্যাট আইন স্থগিত করায় সাধারণ জনগণ উপকৃত হবে। এছাড়া নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে আগে থেকেই কোনো প্রস্তুতি ছিল না। থাকলে এরকম পরিস্থিতিতে সরকারকে পড়তে হতো না।  
এদিকে এক গণমাধ্যমকে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের জ্যেষ্ঠ গবেষক নাজনীন আহমেদ বলেন, রাজনীতির কাছে অর্থমন্ত্রী হেরেছেন। বাজেটে চমক বলতে ভ্যাট আইনটিই ছিল। নাজনীন আহমেদ মনে করেন, ব্যবসায়ীদের চাপের মুখে এ পরিবর্তন অর্থনীতির জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না। ভোটের জন্য এমনটা করার প্রয়োজন হলে সরকার তা আগেই ভাবতে পারতো। তাহলে এখন রাজনীতির কাছে অর্থমন্ত্রীর পরাজয় হতো না। অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, পরবর্তী বাজেট হবে নির্বাচনী বাজেট। কিন্তু এখন এ বাজেটটিই হয়ে গেল নির্বাচনী বাজেট।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন না হওয়ায় এলোমেলো ভাব বাজেট কাঠামোয় থেকে যাবে। বাজেটে রাজস্ব আদায়ে আয়কর থেকে ৩৬ শতাংশ ও ভ্যাট থেকে ৩৩ শতাংশ লক্ষ্য রাখা হয়েছিল। এ জায়গায় এখন একটা চাপ তৈরি হবে। বাস্তবায়ন না হওয়ায় এখন ঘাটতির চাপ পড়বে। এখন সরকারকে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অর্থায়ন করতে হবে। যা অর্থনীতির জন্য দুর্বলতা তৈরি করবে। বাজেটের ঘাটতিজনিত প্রক্রিয়ার সমন্বয় এখন একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াল। গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এ বাজেট কি কর্মসংস্থানমুখী? কর্মসংস্থান না হলে এটা হবে বেশি দুশ্চিন্তার বিষয়।
উল্লেখ্য, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে নতুন ভ্যাট আইন ২০১৭ সালের ১লা জুলাই থেকে বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়া ছিল। কিন্তু বছরজুড়েই ব্যবসায়ীরা প্রবলভাবে এর বিরোধিতা করে আসছিলেন। তারপরও নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েই বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুই বছরের জন্য স্থগিতই রাখতে হলো নতুন ভ্যাট আইন।

বদলে গেছে আড্ডার বিষয় by শামীমুল হক

বদলে গেছে আড্ডার বিষয়। চা স্টল, গ্রামীণ বাজারের রেস্টুরেন্ট কিংবা গ্রামের মোড়ে মোড়ে আলোচনা এখন নির্বাচন নিয়ে। ঈদে সম্ভাব্য প্রার্থীরা এ বিষয়কে আরো উসকে দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা ঈদকে পুঁজি করে ছুটে বেড়িয়েছেন নির্বাচনী আসনের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। ভোটারদের সঙ্গে কোলাকুলি করেছেন। কেউ কেউ জড়িয়ে ধরেছেন। আবার কেউ কেউ শক্রতা মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করেছেন। সবার উদ্দেশ্য একটাই- নির্বাচনী প্রচারণা। ভোটারের মন জয় করা। দৃষ্টি কাড়া। এ অবস্থায় এবারের ঈদ যেন হয়ে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণার ঈদ। ঈদ উপলক্ষে দূরদূরান্ত থেকে সবাই গ্রামে ছুটে যান। একে অপরের সঙ্গে দেখা, পুরনো স্মৃতি নিয়ে আলোচনা হয়ে উঠে আড্ডার মধ্যমণি। কিন্তু এবার সেই জায়গা দখল করেছে নির্বাচন। আগামী বছর ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে এটা গ্রামেগঞ্জেও ছড়িয়ে পড়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে অনেকেই ভোট দিতে যাননি। নির্বাচন নিয়েও রয়েছে নানা কথা। সেই সব বিষয়ও আলোচনায় ঠাঁই করে নিচ্ছে। মঙ্গলবার শাহবাজপুর বাজারের এক আড্ডায় নির্বাচন প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হচ্ছিল। আলাউদ্দিন নামের একজন বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা এখনও রয়ে গেছে। সরকার ২০১৪ সালের মতো আরেকটি নির্বাচন না দিলেও নিজেরা ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন দেয়া এটা সন্দেহের। মহব্বত আলী নামের একজন তার কথার রেশ ধরে বলেন, এমনটি আর হবে না। এবার বিএনপি খালি মাঠে গোল দিতে দেবে না। বারৈউরা বাজারের এক চা স্টলে নির্বাচন নিয়ে তুমুল বিতর্ক। একজন বলছেন, আগামী নির্বাচনও শেখ হাসিনার অধীনেই হবে। মন্ত্রীরা এমন কথা জোর দিয়ে বলছেন। অন্যদিকে বিএনপি বলছে, সহায়ক সরকার ছাড়া দেশে নির্বাচন হবে না। এ অবস্থায় নির্বাচন ঘনিয়ে এলে দেশ ফের সংকটে পড়বে। আবারও দুই দল মুখোমুখি হবে রাজপথে। অন্যজন বলছেন, না এবার যে ভাবেই হউক বিএনপি নির্বাচনে যাবে। আর একবার বিএনপি নির্বাচনে গেলে চিত্র পাল্টে যাবে। শাহজাদাপুর ইউপি চেয়ারম্যন রফিকুল ইসলাম খোকনের কার্যালয়েও ঈদ উপলক্ষে জমজমাট আড্ডা। এর প্রধান ইস্যু নির্বাচন। নির্বাচনী প্রচারণায় বেরুলে সব সম্ভাব্য প্রার্থীই যাচ্ছেন চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে। সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন। নিজের জন্য দোয়া কামনা করছেন প্রার্থীরা। এ ব্যাপারে রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, নির্বাচনের এখনও বছর দেড়েক বাকি। তারপরও ঈদে সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের নিজ নিজ সমর্থকদের নিয়ে গ্রামে গ্রামে যাচ্ছেন। ভোটারদের খোঁজ খবর নিচ্ছেন। এটা ভালো  দিক। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন যে সবার অংশগ্রহণে হবে এটাই তার নমুনা। বিএনপি যতই বলুক নির্বাচনে যাবে না। অবস্থা দেখে কিন্তু তা মনে হয় না। আর ভোটারদেরও আশা সবার অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। সরাইল প্রেস ক্লাবের সভাপতি আইয়ুব খান বলেন, এবারের ঈদে বাড়তি আকর্ষণ ছিল নির্বাচনী প্রচারণা। মনে হচ্ছে যেন নির্বাচন সামনে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ এমনটাই বুঝা যাচ্ছে। তিনি বলেন, এখন সর্বত্র আলোচনার বিষয় নির্বাচন। সরাইল বিশ্বরোড মোড়ের ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান বলেন, বহুদিন পর এবার দুই দলের নেতাদের একে অপরের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতে দেখলাম। এমন দৃশ্য বাংলাদেশে অনেক দিন দেখা যায়নি। এ দৃশ্যই বলে দিচ্ছে এবার নির্বাচন হবে অন্যরকম। দেশের সাধারণ মানুষ যেরকম নির্বাচন চান সেরকম নির্বাচন। যে নির্বাচনে সকল দল অংশ নেবে। কেন্দ্রে ভোট দেবে বিনা বাধায়। যাকে খুশি তাকে ভোট দেবে। কেন্দ্র দখল হবে না। এমন নির্বাচনের অপেক্ষায় আছি আমরা। তিনি বলেন, আশা করি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব আমাদের এ চাওয়া পূরণ করবেন। সরাইল সকাল বাজারের ব্যবসায়ী মমিন বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীরা দোয়া নিতে আসছেন। হাত মিলাচ্ছেন। কোলাকুলি করছেন। খুব ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে কদিন পরই যেন নির্বাচন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শাহবাজপুর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংবর্ধনা দেয়া হয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপপরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ইফতেখার আহমেদ চৌধুরীকে। সেখানেও বক্তব্যে উঠে আসে নির্বাচন প্রসঙ্গ। বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তি নিয়ে ঘরে ঘরে যেতে হবে। বর্তমান সরকার জনবান্ধব সরকার। এ সরকারের আমলে রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। মাথা পিছু আয় বেড়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এসব জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব নিতে হবে আওয়ামী লীগে নেতা-কর্মীদের। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী দৌড়ঝাঁপ করছেন। এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে রয়েছেন উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম শিউলি আজাদ। নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠে নেমেছেন বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু। ঈদকে কেন্দ্র করে আরো  কয়েকজন মাঠে নেমেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা মঈন উদ্দিন মঈন, ফরহাদ রহমান মাক্কি। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরাও বসে নেই। বিএনপির যারা আলোচনায় রয়েছেন তার মধ্যে অন্যতম সাবেক প্রতিমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, একাধিকবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুস সাত্তার উকিল, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শেখ মোহাম্মদ শামীম। সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি, উপজেলা চেয়ারম্যন অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মাস্টার, ড. আজিজুর রহমান। আর জাতীয় পার্টি থেকে বর্তমান সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা। ইসলামী ঐক্যজোটের হাসনাত আমিনীকে ঘিরে তার কর্মী-সমর্থকরাও বসে নেই। এর মধ্যে কেউ কেউ ঈদে বিতরণ করেছেন উপহার সামগ্রী। বুধবার শাহজাদাপুর ইউনিয়নের সবক’টি গ্রামে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন শিউলি আজাদ। তিনি ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের খোঁজ খবর নিয়েছেন। দুয়েকটি পথসভাও করেছেন। শাহজাদাপুর ইউনিয়নে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়কালে শিউলি আজাদ বলেন, ধারাবাহিক সরকার থাকলে দেশের যে পরিবর্তন হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা দেখিয়ে দিয়েছেন। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আরো একবার আপনারা আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনুন। দেখবেন বাংলাদেশ বিশ্বে স্বয়ংসম্পূর্ণ এক দেশ হিসাবে স্থান করে নিয়েছে। এমনিতেই শেখ হাসিনার সরকার দেশকে পরনির্ভরশীলতা থেকে মুক্ত করে এনেছে। জঙ্গিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে সরকার। শিক্ষাখাতকে গুরুত্ব দিয়ে নিরক্ষরতার হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনছে। এ ছাড়া বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী শেখ শামীম লালপুর, শরীফপুর, তালশহর ও তারুয়া ইউনিয়নের ভোটারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। সরাইল সদর, কালিকচ্ছ, নোয়াগাঁও ও আশপাশের ইউনিয়ন চষে বেড়িয়েছেন অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ওদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী সরাইল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মাস্টারও মাঠে নেমেছেন। তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে যাবে কিনা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তারপরও আমরা এলাকায় কাজ করছি। ভোটারদের কাছে সরকারের দুঃশাসন, লুটপাটের চিত্র তুলে ধরছি।

ট্রাম্প কী কাশ্মীর প্রশ্নে মধ্যস্থতা করতে যাচ্ছেন? by হামিদ মীর

বিষয়টা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র  মোদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঈদ উপহার প্রদানের মতো। মার্কিন প্রশাসন ২৬শে জুন যখন হিজবুল মুজাহিদীন প্রধান সৈয়দ সালাহউদ্দিনকে বিশেষ বৈশ্বিক সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা করলো, তখন উপমহাদেশের মুসলমানেরা ঈদুল ফিতর উদযাপন করছিল। কিছুক্ষণ পর ওয়াশিংটনে মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ট্রাম্প। ভারতীয় মিডিয়া এই ঘোষণাকে ‘ভারতের জন্য বড় একটি’ জয় হিসেবে তুলে ধরে। পাকিস্তানি মিডিয়া একে ‘মোদিকে খুশি করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যায় কাজ’ হিসেবে অভিহিত করে। ওই রাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা নীরব থাকলেও দুই  দেশের মিডিয়া যুদ্ধ, বিশেষ করে টিভি চ্যানেলগুলোর মধ্যে বাদানুবাদ এমন উগ্র জাতীয়তাবাদে পরিণত হয় যে, তা কর্মকর্তাদের মধ্যকার কূটনৈতিক বিরোধের চেয়েও খারাপ হয়ে দাঁড়ায়।
নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, ওই রাতে দক্ষিণ এশিয়ার পরমাণু শক্তিসম্পন্ন দুই  দেশের মধ্যকার বাড়তে থাকা উত্তেজনাই ফুটিয়ে তুলেছিল ওই মিডিয়া যুদ্ধ। প্রশ্ন হলো, কেন অনেক ভারতীয় সৈয়দ সালাহউদ্দিনকে ‘সন্ত্রাসী’ বিবেচনা করে আর  বেশিরভাগ পাকিস্তানি তাকে ‘স্বাধীনতা  যোদ্ধা’ বিবেচনা করে? ধারণা সব সময় বাস্তব না হলেও প্রায়ই তা বাস্তবতার  চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা প্রায়ই অতিরঞ্জিত হওয়ার কারণ বাস্তব তথ্য ও অভিমতের মধ্যে বিভ্রান্তি থাকে। ভারতের বোঝা প্রয়োজন, পাকিস্তানে লস্কর-ই-তৈয়বার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সাইয়িদ এবং জৈশ-ই-মোহাম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারকে যে দৃষ্টিতে দেখা হয়, সৈয়দ সালাহউদ্দিনকে বিবেচনা করা হয় ভিন্নভাবে। অনেক পাকিস্তানি জম্মু ও কাশ্মীরে হাফিজ সাইয়িদ ও মাসুদ আজহারের ‘হস্তক্ষেপ’ পছন্দ করে না। কারণ এ দুজন কাশ্মীরি নন। কিন্তু সৈয়দ সালাহউদ্দিনের ব্যাপারে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা মনে করে, তিনি শ্রীনগর থেকে আসা শিক্ষিত কাশ্মীরি, তিনি ১৯৮৭ সালে জম্মু ও কাশ্মীরে ভোট কারচুপির পর বন্দুক হাতে তুলে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
হিজবুল মুজাহিদীনের (এইচ এম) মধ্যে পীর সাহেব নামে তিনি পরিচিত। সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সেনাপ্রধান পারভেজ মোশাররফও তাকে এমনই বিবেচনা করেন। সালাহউদ্দিন ১৯৮৭ সালে মুসলিম ইউনাইটেড ফ্রন্টের (এমইউএফ) হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। ন্যাশনাল কনফারেন্স অভিযোগ করে, পিডিএফ-প্রধান মুফতি  মোহাম্মদ সাইয়িদ নীরবে সৈয়দ সালাহউদ্দিনকে (তিনি সৈয়দ ইউসুফ শাহ নামে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন) সমর্থন করছেন।
নির্বাচনে সালাহউদ্দিন হেরে যান। পরে তিনি নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ আনেন। তাকে গ্রেপ্তার করে দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়। ১৯৮৯ সালে তিনি এইচএমে যোগ দেন। এই দলটি আসলে শুরু করেছিলেন সাবেক স্কুলশিক্ষক মাস্টার আহসান দার। সীমান্ত অতিক্রম করে তিনি আফগানিস্তানে প্রবেশ করেন। খোশত এলাকায় গিয়ে পীর সাহেব আলবদর প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে যোগ দেন। এই ক্যাম্পটি একসময় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন হিজব-ই-ইসলামী প্রধান গুলবুদ্দিন  হেকমতিয়ার। প্রথমদিকে এইচ এম ক্যাডাররা পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে নয়, বরং আফগানিস্তানের আল-বদর ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নিতেন। সাবেক সোভিয়েত  সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র তাদেরকে অস্ত্র সরবরাহ করতো। পীর সাহেব ১৯৯১ সালে এইচএমের প্রধান কমান্ডার হন। অস্বীকার করার উপায় নেই, ১৯৯৫ সালে বেনজির ভুট্টো তালেবান আন্দোলনের প্রতি সমর্থন দিতে শুরু করলে পাকিস্তান এস্টাবলিশমেন্টের সঙ্গে ব্যবধান বাড়তে থাকে হেকমতিয়ারের। হিজব-ই-ইসলামী এবং এইচএম- উভয়ের সঙ্গে পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। আর ওই সময় জামায়াতে ইসলামী ছিল বিরোধীদলীয় নেতা নওয়াজ শরিফের ঘনিষ্ঠ মিত্র। ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝিতে পীর সাহেব ঘোষণা করেন, তিনি তার সংগঠনকে জামায়াতে ইসলামীর সংশ্লিষ্টতা থেকে সরিয়ে নিচ্ছেন। এইচএম আর কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকবে না। আর জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণ ‘সশস্ত্র প্রতিরোধ’ আন্দোলন শুরু করবে। এই পদক্ষেপ হিজবুল মুজাহিদীনের মধ্যে ভাঙনের সৃষ্টি করে। জামায়াত ও  হেকমতিয়ারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কিছু জঙ্গি স্থানীয় পশতু বখত জামিন খানের কমান্ডে আলবদর মুজাহিদীন প্রতিষ্ঠা করে।
জামায়াতের কাছ থেকে সম্পর্কচ্যুত হওয়াটা ছিল পীর সাহেবের একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ। তিনি পাকিস্তানের সব রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে আরো বেশি সমর্থন লাভ করতে চেয়েছিলেন। তিনি এরপর প্রধান প্রধান সব রাজনৈতিক দলের  নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শুরু করেন। ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে তার সঙ্গে আমার প্রথম বৈঠকের কথা মনে আছে। আমার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি স্রেফ সিংয়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করছি। তিনি যদি মুক্তিযোদ্ধা হয়ে থাকেন, তবে আমিও তা। তিনি সন্ত্রাসী হয়ে থাকলে, আমিও তা।’ পীর সাহেব জম্মু ও কাশ্মীরের সশস্ত্র সংগ্রামকে আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং আইরিশ রিপাবলিকান আর্মির রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করার মাধ্যমে পাকিস্তানের অনেক উদার রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবীর মনোযোগ আকর্ষণ করেন। বস্তুত, তিনি ইউনাইটেড জিহাদ কাউন্সিলের কাঠামোর মধ্যে লস্কর-ই- তৈয়বা এবং জৈশ-ই-মোহাম্মদের সঙ্গে  যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তবে তিনি কখনো হাফিজ সাইয়িদ ও মাসুদ আজহারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বলেননি। তারপর নওয়াজ শরিফ সরকারের সঙ্গে তার মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়। ১৯৯৯ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ি বাসে করে লাহোরে গেলে এইচএমের অন্যতম কমান্ডার আবদুল মজিদ দার ইসলামাবাদে সংবাদ সম্মেলন করে ‘কাশ্মীরিদের সঙ্গে গাদ্দারি’ করার জন্য নওয়াজ শরিফকে অভিযুক্ত করেন। এর কিছুদিন পরই ১৯৯৯ সালের অক্টোবরে মোশাররফ উৎখাত করেন নওয়াজ শরিফকে।
ইতিহাসের চাকাটি কিভাবে বৃত্ত পূরণ করলো, তা দেখতে পাওয়াটা খুবই আগ্রহ-উদ্দীপক ঘটনা। আমেরিকান বার্তাবাহক মনসুর ইজাজের মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসন পীর সাহেবের সঙ্গে  যোগাযোগ করে। ইজাজের সঙ্গে তার প্রথম বৈঠকটি নির্ধারণ করে দেন সাবেক আইএসআই অপারেটর খালিদ খাজা। পীর সাহেবের মতে, ক্লিনটন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইজাজ একটি বার্তা তাকে পৌঁছে দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় বৈঠকে ইজাজের মা যোগ দেন। তিনি ছিলেন মোশাররফের মায়ের পুরনো বান্ধবী। পীর সাহেবের কাছে শান্তিচুক্তি প্রদানের আগে ইজাজ দিল্লি ও শ্রীনগরের অনেক কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। ভারতের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার জন্য মোশাররফও পীর সাহেবের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। তারপর ২০০০ সালের জুলাই মাসে আইএসআই প্রধান জেনারেল মেহমুদ আহমদ শান্তিচুক্তিতে রাজি করান আবদুল মজিদ দারকে। ক্লিনটন প্রশাসন নীরব থাকে, তবে মনসুর ইজাজ নিশ্চিতভাবেই তৃতীয় পক্ষের হয়ে কাজ করছিলেন। পাকিস্তান ঠিক যা চাইছিল, তা-ই ঘটে। বাজপেয়ির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার হিজবুল মুজাহিদীনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। তবে দলটির মধ্যেই বিদ্রোহ  দেখা দেয়। নিয়ন্ত্রণ রেখা জুড়ে থাকা অনেক হিজব কমান্ডার পীর সাহেবের কাছে বার্তা পাঠিয়ে বলতে থাকেন, ভারত এটাকে ‘স্বাধীনতা আন্দোলনের’ মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করতে ব্যবহার করবে। কিন্তু যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হয়নি। ফলে আলোচনার মাঝপথেই পীর সাহেব তা থেকে সরে আসেন।
২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক দৃশ্যপট বদলে যেতে থাকে। কাশ্মীরের ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে যুক্তরাষ্ট্র। আবদুল মজিদ দার নিজেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দেখতে পান। কিছু দিন পর তিনি গুপ্তহত্যার শিকার হন। এখন প্রশ্ন হলো, হিজবুল মুজাহিদীন যদি সন্ত্রাসী সংগঠনই হবে, তবে কেন বিজেপি সরকার তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে গেল? সাবেক ‘র’-প্রধান এ এস দৌলতের বই ‘কাশ্মীর- দি বাজপেয়ি ইয়ার্স’-এ সালাহউদ্দিনের ব্যাপারে আরো অনেক কাহিনী দেখা যায়। এক ঘটনায় দেখা যায়, সালাহউদ্দিন তার ছেলেকে  মেডিকেল কলেজে ভর্তি করার কাজে সহায়তা করার জন্য আইবি অফিসার  কে এম সিংয়ের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। ফারুক আবদুল্লাহ রাজি হয়েছিলেন। তিনি পীর সাহেবকে ভক্তি করতেন। তার ছেলে ভর্তি হয়েছিল, পীর সাহেব  কে এম সিংকে ডেকে বলেছিলেন, ‘তোমার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’ এ এস  দৌলত তার বইয়ে যে দাবি করেছেন,  সে ব্যাপারে আমি জানতে চাইলে পীর সাহেব তা প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, তার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এই তথ্য বিকৃতি করেছে।
সালাহউদ্দিন যে ভণ্ড তা প্রমাণ করার জন্য পীর সাহেবের অনেক বিরোধী এই বইটি ব্যবহার করেন। এমন  প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসন তাকে বিশেষ সন্ত্রাসী ঘোষণায় তা তার জন্য বেশ ভালো ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। মোদি ও সৈয়দ সালাহউদ্দিন উভয়কেই খুশি করেছেন ট্রাম্প। পীর সাহেব এমনটাই  চেয়েছিলেন। কাশ্মীরিদের স্বার্থের ব্যাপারে কেউ তার আন্তরিকতা নিয়ে সংশয় পোষণ করতে পারে না। মোদি ও পীর সাহেব উভয়কেই ঈদ উপহার দিলেন ট্রাম্প। সম্ভবত হিজবুল মুজাহিদীন কেবল জম্মু ও কাশ্মীরেই নয়, পাকিস্তানেও মার্কিনবিরোধী ভাবাবেগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে। এইচএম কমান্ডার বুরহান মুজাফফর ওয়ানির প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী ৮ই জুলাই। ট্রাম্প কাশ্মীর উপত্যকায় ভারতীয় পতাকার পাশাপাশি আমেরিকান পতাকাও  পোড়ানোর সুযোগ করে দিলেন। তবে এটা কাশ্মীর আন্দোলনে জোরালো বিবৃতি দিতে নওয়াজ শরিফের ওপর আরো চাপই সৃষ্টি করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সৈয়দ সালাহউদ্দিনকে বিশ্ব সন্ত্রাসী ঘোষণায় তার ওপর কী প্রভাব পড়বে? তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফর করতে পারবেন না বা যুক্তরাষ্ট্রে কোনো সম্পদ রাখতে পারবেন না।
বস্তুত এটা ভারতের জন্য একটি কূটনৈতিক জয়। একইভাবে এটা পীর সাহেবের জন্য কোনো সমস্যা সৃষ্টি করবে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফর করতে আগ্রহী নন বা সেখানে সম্পদও জমাতে চান না। ওসামা বিন লাদেনের সহযোগী তার গুরু হেকমতিয়ারকেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বিশ্ব সন্ত্রাসী  ঘোষণা করেছিল। তিনি জাতিসংঘেরও কালো তালিকাভুক্ত ছিলেন। ২০১৬ সালে তিনি আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। বৃটিশ গার্ডিয়ান পত্রিকায় হেকমতিয়ার সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘আফগান শান্তিচুক্তিতে কাবুলের কসাইকে ক্ষমা করা হয়েছে।’ হেকমতিয়ার গত ৪ঠা  মে কাবুলে ফিরেছেন। এতে ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্ণ সমর্থন ছিল। পাকিস্তানে অনেকে সৈয়দ সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষণাটিকে দিল্লির সঙ্গে আলোচনা শুরুর জন্য হিজবুল মুজাহিদীনের ওপরই নয়, সেই সঙ্গে পাকিস্তানের ওপরও একটি কৌশলী চাপ বলে মনে করেন। কেউই অস্বীকার করে না, কাশ্মীর বিরোধের চূড়ান্ত সমাধান নিহিত রয়েছে সংলাপে। কিন্তু মনে হচ্ছে, ভারতীয় ও পাকিস্তানি মিডিয়া তা না চাইলে সেটা হওয়ার নয়। তারা আরো দীর্ঘ সময় একে অপরকে অভিযুক্ত করে যাবে। এদিকে জম্মু ও কাশ্মীরে চরমপন্থিদের হুমকি নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে। কারণ আইএসআইএস কাশ্মীরি পাথর-নিক্ষেপকারীদের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের  চেষ্টা করছে। তবে একদিন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ আলোচনায় বসে সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে কথা বলবে।
নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, ট্রাম্প ভারত-পাকিস্তান ‘দ্বিপক্ষীয়’ সম্পর্কে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছেন। এটা সম্ভবত কাশ্মীর বিরোধে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার শুরু।
[লেখক: পাকিস্তানের শীর্ষ স্থানীয় সাংবাদিক, জিও নিউজের ডেইলি শো ‘ক্যাপিটাল টক’-এর উপস্থাপক]
মূল: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। অনূদিত নিবন্ধটি নেয়া হয়েছে সাউথ এশিয়ান মনিটর থেকে।

কেন এখনো সিঙ্গেল টাবু!

অন্য ধারার অভিনয়ে চিরকালই দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন টাবু। একের পর এক জুটি বেঁধেছেন বিভিন্ন নায়কের সঙ্গে। পেয়েছেন দর্শকের প্রশংসা। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এখনো সিঙ্গল। কিন্তু কেন তিনি সিঙ্গেল? এই নিয়ে এতদিন পরে মুখ খুলে বিস্ফোরক উত্তর দিলেন অভিনেত্রী। মুম্বই মিররকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কাজলের স্বামী অজয় দেবগণের জন্য নাকি তিনি আজও সিঙ্গেল! তবে টাবুর সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক ছিল অজয়ের? সে কারণেই কি আজও একা রয়েছেন তিনি? আসল ঘটনাটি ঠিক কী? আসলে টাবু ও অজয় দীর্ঘ ২৫ বছরের বন্ধু। ছোটবেলায় টাবুর তুতো ভাই সমীরের প্রতিবেশী ছিলেন অজয়। সে সময় থেকেই টাবুর সঙ্গেও আলাপ তার। নায়িকা জানিয়েছেন, সে সময় তার ভাই সমীর এবং অজয় নাকি সব সময় তার ওপর নজরদারি করতেন। তিনি কোথায় যাচ্ছেন, কার সঙ্গে কথা বলছেন সব খোঁজ রাখতেন দু’জন। এমনকি কোনো ছেলে যদি তার সঙ্গে শুধুমাত্র কথা বলতেন, তা হলেই তারা তাকে পেটানোর হুমকি দিতেন। আর সে কারণেই হয়তো আজও তিনি সিঙ্গল থেকে গেলেন! টাবুর কথায়, অজয় যা করেছে তার জন্য নিশ্চয়ই এখন অনুতাপ করে। আমি ওকে একদিন বলেছিলাম, আমার জন্য যেন ভালো  ছেলে খুঁজে দেয়। ‘বিজয়পথ’, ‘হকিকত’, ‘দৃশ্যম’, ‘ফিতুর’, ‘তক্ষক’-এর পর ফের ‘গোলমাল এগেন’-এ এক সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করবেন টাবু ও অজয়। তবে টাবুর এ হেন ‘অভিযোগের’ জবাবে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি অজয়।

ভারতে গরুর গোশত নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে মুসলিম ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা

ভারতে বিজেপিশাসিত ঝাড়খন্ডে আজ উন্মত্ত জনতা এক মুসলিম ব্যক্তিকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। ঝাড়খন্ডের রামগড় জেলায় বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা নাগাদ উগ্রহিন্দুত্ববাদী জনতার হাতে আলিমুদ্দিন (৪২) ওরফে আসগার আলী নিহত হন।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি একটি মারুতি গাড়িতে করে গরুর গোশত নিয়ে যাচ্ছিলেন। তাকে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে মারমুখী জনতা। প্রকাশ্য দিবালোকে ওই দুর্বৃত্তরা মারুতি গাড়িটি ভাঙচুর করে সেটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। পুলিশ আহত ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ নিয়ে গত ৩ দিনে রাজ্যটিতে এ ধরণের দ্বিতীয় ঘটনা ঘটল।
গত ২৭ জুন ঝাড়খণ্ডে মৃত গরু উদ্ধারকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে উসমান আনসারি নামে এক মুসলিম ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই উসমানের বাসায় আগুন ধরিয়ে দেয় উন্মত্ত জনতা।
হামলাকারী জনতার দাবি, আনসারির বাড়ির বাইরে থেকে এক মরা গরু উদ্ধার হয়েছে। এদিকে, আজ রামগড়ের ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা থাকায় এলাকায় পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ঝাড়খণ্ড পুলিশের মুখপাত্র এবং এডিজি (অপারেশনস) আর কে মল্লিক বলেন, ওই ঘটনায় পুলিশ এফআইআর দায়ের করছে। উদ্ধার হওয়া গোশতের নমুনা ফরেন্সিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। এরপরেই বোঝা যাবে তার কাছে কীসের গোশত ছিল।
সূত্র : ওয়েবসাইট

আল জাজিরার পাশে মানবজমিন

খুব সম্ভবত, ইতিহাসের এক নজিরবিহীন অধ্যায়ের সাক্ষী হচ্ছি আমরা। তার আগে একটু পেছনে তাকিয়ে দেখা যাক। চিন্তা আর বিবেকের স্বাধীনতার লড়াইয়ের ইতিহাস বহু পুরনো। সপ্তদশ শতকে ইংরেজ কবি জন মিল্টন বৃটিশ রাজার সঙ্গে এ নিয়ে লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছিলেন। অ্যারিওজিটিকায় তার দৃপ্ত উচ্চারণ ছিল- ‘দাও আমায়, জ্ঞানের স্বাধীনতা দাও, কথা কইবার স্বাধীনতা দাও, মুক্তভাবে বিতর্ক করার স্বাধীনতা দাও। সবার উপরে আমাকে দাও মুক্তি।’
কিন্তু সেই মুক্তি যে কতদূর- মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি তা আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। কাতার ইস্যুতে মুসলিম দুনিয়া এখন কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত। সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ সৌদি আরবের পক্ষে। সৌদি জোটের অবরোধের কারণে কাতার এখন অনেকটাই কোণঠাসা। এ পরিস্থিতিতে দেশটির প্রতি ১৩ দফা দাবি জানিয়েছে সৌদি জোট। যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে- আল জাজিরা টিভি নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়ার শর্ত। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো রাজনৈতিক-কূটনৈতিক সংকটের সুরাহায় এমন দাবি আর উত্থাপিত হয়েছে কি-না কে জানে।
আল জাজিরার শুরুর ইতিহাস ছিল চমকপ্রদ। দুই দশক আগে কাতারের রাষ্ট্রীয় মালিকানায় যাত্রা শুরুর সময়ই এই চ্যানেল ঘোষণা করেছিলো, সম্পাদকীয় নীতির ক্ষেত্রে তারা থাকবে স্বাধীন। বহু ক্ষেত্রেই হয়তো তাদের ঘোষণা বাস্তবে সত্য হয়নি। তবে যাদের কোনো কণ্ঠ ছিল না এমন অনেকের পক্ষেই সোচ্চার হয়ে সংবাদ মাধ্যমের ইতিহাসে নিজের জায়গা নিশ্চিত করে আল জাজিরা। নিপীড়িত ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর পক্ষে দাঁড়িয়ে প্রশংসা কুড়ায় সাধারণ মানুষের। আল জাজিরাই প্রথম ফিলিস্তিনের ওপর নিপীড়নের লাইভ সম্প্রচার শুরু করে। তবে ওসামা বিন লাদেনের টেপ প্রচার করে সমালোচনার মুখেও পড়ে টিভি নেটওয়ার্কটি।
আল জাজিরার ওপর সৌদি জোটের রাগ অবশ্য বহু পুরনো। এখন জানা যাচ্ছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান মার্কিন সামরিক বাহিনীকে আল জাজিরা চ্যানেলের অফিসে বোমা মারার আহ্বান জানিয়েছিলেন। আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ চলার সময় ও ইরাক যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে মার্কিন কূটনীতিকদের কাছে এ আহ্বান জানান তিনি। উইকিলিকসের ফাঁস করা একটি মার্কিন কূটনীতিক তারবার্তায় এমন ইঙ্গিত মিলেছে। ২০১১ সালে আরব বসন্তের সময় আল জাজিরা রীতিমতো প্রতিষ্ঠিত। এ আন্দোলনে সবচেয়ে বড় উদ্দীপনা হিসেবে কাজ করেছে চ্যানেলটি। অনেক আরব শাসকই এ ব্যাপারে ভীত ছিলেন। মুসলিম ব্রাদার হুডের মতো সংগঠনের প্রতি আল জাজিরার এক ধরনের সমর্থন রয়েছে। যে সংগঠনটির ব্যাপারে আবার ভীতি রয়েছে পুরো আরব বিশ্বেই।
অবশ্য আল জাজিরা যখন চাপে রয়েছে তখন ‘মুক্তবিশ্ব’ প্রতিষ্ঠানটির পাশে দাঁড়িয়েছে। ৮০টির মতো সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও এ নিয়ে মুখ খুলেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের মত প্রকাশ ও বাকস্বাধীনতা বিষয়ক দূত ডেভিড কায়ি বলেছেন, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি বন্ধের শর্ত মিডিয়ার স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ভয়াবহ হুমকি। ওয়াশিংটন পোস্টের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জগতে সংবাদমাধ্যমে যে একমুখী কণ্ঠস্বর প্রতিধ্বনিত হতো, আল-জাজিরা সেই অচলায়তন ভেঙে নিয়ে ভিন্নধারায় খবর পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জনপ্রিয় হতে থাকে। ইসলামী শরীয়াকে আলোচনায় নিয়ে আসে সংবাদমাধ্যমটি। যেটা আরব দুনিয়ার অন্যান্য মিডিয়ায় আগে কখনও আলোচিত হয়নি। আল জাজিরার পক্ষে অবস্থান ব্যক্ত করেছে সংবাদমাধ্যমগুলোর জোট ডিজিটাল কনটেন্ট নেক্সট। বিবিসি, গার্ডিয়ান, নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতো শীর্ষ সংবাদমাধ্যম এ জোটের অন্তর্ভুক্ত। ডিজিটাল কনটেন্ট নেক্সটের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকের স্বাধীনতাকে সমর্থন করি। সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরুদ্ধ করা এর পরিপন্থি। বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক সম্পাদকীয় ভাষ্যে বলা হয়েছে, পুরনো ধারার একমুখী আরবীয় স্বরের বিপরীতে আল জাজিরা ভিন্ন স্বর নিয়ে হাজির হওয়া এক মিডিয়া। আর নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর সম্পাদনা পরিষদের মতামতে বলা হয়েছে, আল জাজিরা বন্ধের পাঁয়তারা একটি জোরালো কণ্ঠস্বরকে দমন করার প্রচেষ্টা। এই পরিস্থিতিতে মানবজমিন তার সুস্পষ্ট সমর্থন ঘোষণা করছে আল জাজিরার প্রতি। আসুন আমরা আল জাজিরার পাশে দাঁড়িয়ে আওয়াজ তুলি, মুক্ত দুনিয়া রুখে দাঁড়াও।
এটা খোলাসা করা প্রয়োজন, আল জাজিরার সম্পাদকীয় নীতির বহু কিছুই আমরা সমর্থন করি না। কিন্তু কোনো সংবাদমাধ্যমকে হত্যা করার নীতিও আমরা সমর্থন করি না। বরং আমরা স্মরণ করি ভলতেয়ারের উক্তি বলে পরিচিতি পাওয়া সেই বিখ্যাত উক্তিটি- ‘আমি তোমার মতের সঙ্গে একমত না হতে পারি, কিন্তু তোমার মত প্রকাশের অধিকার রক্ষায় আমি জীবন দিতেও প্রস্তুত।’ সবার উপরে বলি, ‘সাংবাদিকতা পাপ নয়।’

পকেটমার চার বোনের রাজত্ব by প্রতীক ওমর

যে কোনো পেশার মানুষ যদি নিবেদিত হয়, পেশার প্রতি অবহেলা না করে তাহলে তারা এক সময় প্রতিষ্ঠিত হবেই। এটাই স্বাভাবিক। পকেটকাটা পেশায় এরকম দৃষ্টান্ত রাখলেন বগুড়ার সেই পকেটমার পল্লীর আপন চার বোন। শহরের উত্তর চেলোপাড়ার তাজের মেয়ে বললেই সেখানকার মাটিসুদ্ধ তাদের চেনে। দুলি বেগম, রেখা বেগম, সূর্য বেগম এবং রাজ কুমারী। একসময় তারা যাযাবর জীবনযাপন করলেও বর্তমানে তারা কোটি কোটি টাকার মালিক। জায়গাজমি বিল্ডিংবাড়িও আছে। উত্তর চেলোপাড়ায় চার বোনের জায়গা জমি এবং বিল্ডিংবাড়ি এক সঙ্গেই। এদের মধ্যে দুলি বেগমের বাড়ি দুটি। বাকিগুলোর একটি করে হলেও নিজ এরিয়ায় একাধিক জায়গা কেনা আছে তাদের। সুযোগমতো সে জায়গাগুলোতেও হয়তো বিল্ডিংবাড়ি উঠে যাবে। বর্তমানে এই চার বোনের রাজত্ব চলছে উত্তর  চেলোপাড়া জুড়ে। এই চার বোনের বয়স ২৫ থেকে ৩৪ বছরের মধ্যে। ছোট থেকেই পকেটকাটা পেশার সঙ্গে যুক্ত হয় তারা। এক সময় হয়ে উঠে এই পেশার অন্যতম পরিচিত জন হিসেবে।
বিয়ে হয় পর্যায় ক্রমে নান্টু, রশিদ, মজনু এবং পাতারুর সাথে। এরা দেশ বিখ্যাত পকেটমার। এদের মধ্যে নান্টু এবং পাতারু বেশি অভিজ্ঞ। এরা বেশির ভাগ সময় দেশের বাইরে ভারতে পকেটমারের কাজ করে। তিন চার মাস পরপর এলাকায় আসে সংক্ষিপ্ত সফরে। দুলি বেগমরা বর্তমানে পকেটমারের সঙ্গে জড়িত না থাকলেও নেতৃত্ব দিচ্ছে বলে জানা গেছে। এর পাশাপাশি এরা বর্তমানে দাদন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এই দাদন ব্যবসাই রাতারাতি এই চার বোনকে রাজত্ব এনে দিয়েছে। আগের পর্বে উল্লেখ করেছিলাম এই পল্লীর নারীরা মাথায় করে বাড়ি বাড়ি ফেরি করে চুরি ফিতাসহ মেয়েদের প্রসাধনী বিক্রি করে থাকে। এই সব ব্যবসায়ী নারীদের তারা চড়া সুদে টাকা লোন দিয়ে থাকে। নিম্ন শ্রেণির এই সব মানুষের পাশাপাশি সাধারণ অনেক মানুষও এই চার বোনের সুদের টাকার কাছে হার মেনেছে।
স্থানীয় কিছু মানুষের সাথে কৌশলে কথা বলে জানা যায়, যেসব ব্যক্তি সুদের টাকা নিয়ে তাদের ফেরত দিতে পারেনি এক সময় আসল এবং সুদ মিলে মোটা অঙ্কের টাকা ঋণ হয়ে যায় তখন জোর করে তাদের জায়গা জমি দলিল করে নেয়। টাকা দিতে না পেরে এই সব মানুষ বাধ্য হয়েই তাদের কাছে জমি দলিল করে দেন। দুলি বেগমের নির্মাণাধীন নতুন বাড়ির জায়গাটিও এভাবেই দলিল করে নেয়া।
দুলি বেগমেরা চার বোন ছাড়াও এদের মতো আরো বেশ কিছু পকেটমার পরিবার এখানে জায়গা জমি কিনে ইটের বাড়ি করেছে। আয়ের অন্য কোনো পথ না থাকলেও এখানকার সেই পকেটমাররা রাজার হালেই চলছে। এদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপরাধের শতশত অভিযোগ থাকলেও প্রশাসন স্থানীয় বাসিন্দরা কেউ তাদের সঙ্গে পেরে উঠতে পারছেন না। সাধারণ মানুষ অনেকটাই জিম্মি হয়ে পড়েছে তাদের কাছে।
বগুড়া সদরের নারুলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, ওই চার বোন এক সময় বগুড়ার কুখ্যাত পকেটমার ছিল। এখন তারা সরাসরি এই পেশায় জড়িত না থাকলেও দাদন ব্যবসা করে তারা কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। উত্তর চেলোপাড়ায় তারা বিল্ডিংবাড়িও তৈরি করেছে।

Thursday, June 29, 2017

এই চোখ ধাঁধানো সেন্টারে হবে মেসির বিয়ে

বিয়ের বাদ্যি বাজিয়েছেন বেশ আগে। এরপর থেকেই উৎসাহ নিয়ে ৩০ জুনের দিকে তাকিয়ে ফুটবল বিশ্ব ও রোসারিওবাসী। আগামীকাল আন্তোনেল্লা রোকুজ্জোকে বিয়ে করছেন লিওনেল মেসি। বিয়ের ভেন্যুর জন্য কোনো নয়নাভিরাম দ্বীপ নয়, নিজের জন্মস্থানে ফিরে গেছে এই জুটি। রোসারিওর পাঁচ তারকা সিটি সেন্টারে একদম কাছের লোকজনদের নিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে (অবশ্য বিয়েটা দাঁড়িয়েই হওয়ার কথা) বসবেন দুজন। সবার তাই আগ্রহ, কোথায় এই সিটি সেন্টার, কেমন সে ভেন্যু যেখানে শুধু মেসি নন, নেইমার সুয়ারেজ থেকে পপ শিল্পী শাকিরাও হাজির হবেন? ডেইলি মেইল সে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছে ছবিতে ছবিতে—
পাখির চোখে রোসারিওর হোটেল সিটি সেন্টার ক্যাসিনো। এখানেই রাত ১০টায় অতিথিরা জড়ো হবেন। বিয়ের অনুষ্ঠান ও এর পরের উৎসব এই হোটেলেই অনুষ্ঠিত হবে।
পাঁচ তারকা সিটি সেন্টারে অতিথিদের জন্য থাকছে সুইমিংপুল ও স্পা। তবে এ ঝরনা শুধু শোভাবর্ধনের জন্য।
এই সেই বিশাল সুইমিংপুল, যেখানে অতিথিদের জন্য রাখা হয়েছে বিনোদনের নানা ব্যবস্থা।
সময় কাটানোর জন্য চাইলে ক্যাসিনোতেও যেতে পারবেন।
এ রকম বিলাসবহুল সব রুমেই ক্ষণিক আবাস করবেন মেসি ও তাঁর বন্ধুরা।
মেসি শুধু রুম নয়, পুরো রিসোর্ট ভাড়া করেছেন। সেখানে আছে বেশ কিছু রেস্তোরাঁ ও বার, যা শুধু মেসিদের জন্য খোলা থাকবে।
বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে কারও একটু টেনিস খেলার ইচ্ছা জাগলে তা পূরণের ব্যবস্থাও আছে সিটি সেন্টারে।
পাখির চোখে রোসারিওর হোটেল সিটি সেন্টার ক্যাসিনো। এখানেই রাত ১০টায় অতিথিরা জড়ো হবেন। বিয়ের অনুষ্ঠান ও এর পরের উৎসব এই হোটেলেই অনুষ্ঠিত হবে।

সম্পত্তি রক্ষায় মমতাকে এরশাদের চিঠি

পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারে পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে চিঠি লিখেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তবে মমতা সেই চিঠির উত্তর দেননি বলে জানিয়েছেন তিনি।
গত ফেব্রুয়ারিতে মমতার কাছে লেখা আবেগী এক চিঠিতে এরশাদ দাবি করেন, কোচবিহার জেলায় তাঁর পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি (যেখানে তাঁর দুই চাচাতো ভাই ও তাঁদের পরিবার বাস করছে) বেদখল হয়ে যাচ্ছে। সেখানে অবৈধভাবে মন্দির নির্মাণ করা হচ্ছে। এটা বন্ধের জন্য চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীর সাহায্য চান তিনি।
কোচবিহারের দিনহাটা এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এরশাদের পৈতৃক সম্পত্তির অবস্থান। এরশাদ চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, তাঁর স্বজনেরা এ ব্যাপারে পুলিশের কাছে অভিযোগ দাখিল করেছেন। তবে তাঁরা অসহায় হয়ে পড়েছেন।
এরশাদ সম্প্রতি ফোনে ভারতের দৈনিক দ্য হিন্দুকে বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর চিঠির কোনো উত্তর দেননি। এরশাদ বলেন, ‘তবে আমার কাছে মনে হচ্ছে তিনি (মমতা) এই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। কারণ, আমার পরিবারকে এখন কেউ বিরক্ত করছে না। আমার মনে হয় মন্দির নির্মাণের কাজ স্থগিত করা হয়েছে।’
যদিও জাকারিয়া হোসেন নামে এরশাদের এক ভাতিজা বলেছেন, তাঁরা এখনো হুমকির মধ্যে রয়েছেন। জাকারিয়া বলেন, ‘এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সম্পত্তিটি দখল করতে চান। ওই জমির পরিমাণ ৭০ শতাংশ। ওই ব্যক্তিরা স্থানীয় একটি বয়েজ ক্লাবের মাধ্যমে সম্পত্তিটি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন। এর আগে তাঁরা সামান্য অর্থের বিনিময়ে জমিটি ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আমরা তা গ্রহণ করিনি। এখনো আমরা পরোক্ষভাবে হুমকি পাচ্ছি।’
জাকারিয়া পেশায় আইনজীবী। তিনি অভিযোগ করেন, ক্লাবের সদস্যদের উদ্দেশ্য ওই সম্পত্তিতে একটি রেসিডেনসিয়াল কমপ্লেক্স গড়ে তোলা। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
এ অভিযোগের বিষয়ে দ্য হিন্দুর পক্ষ থেকে কোচবিহারের পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। ওই ক্লাবের সদস্যদেরও মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
প্রায় ৭০ বছর আগে কোচবিহারের ওই পৈতৃক এলাকা ছাড়েন এরশাদ। তবে প্রায় প্রতিবছরই তিনি স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে সেখানে যান। স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের নেতাদের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। সর্বশেষ সফরে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লেখেন।
সূত্র: দ্য হিন্দু।

‘পুলিশ হয়্যা গুন্ডাক ধরিম’ by গোলাম মোর্তুজা

দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া নয়ন। ছবি: গোলাম মোর্তুজা
নয়নের সামনের দাঁতগুলো ভেঙেছে পড়ে গিয়ে। তাতে তার শৈশবের উচ্ছ্বাসে ভাটা পড়েনি। দ্বিতীয় শ্রেণিপড়ুয়া নয়নের সঙ্গে দেখা হলো ঠাকুরগাঁও শহর থেকে ১০ মিনিট দূরত্বে দেওগাঁও গ্রামে। বিকেলে চতুর্থ শ্রেণিপড়ুয়া মামাতো ভাই নিমাইকে সঙ্গে নিয়ে গরু আনতে যাচ্ছিল সে।
নয়নের হাসিটাই ওর সঙ্গে কথা বলার আগ্রহটা বাড়িয়ে দিল। জিজ্ঞেস করলাম বড় হয়ে সে কী হতে চায়। উত্তর এল, ‘পুলিশ’। কেন রে, এত কিছু রেখে কেন পুলিশ হতে ইচ্ছে হলো। উত্তর এল, ‘পুলিশ হয়্যা গুন্ডাক ধরিম।’ জানতে চাইলাম নয়নের বাবা কী করে। নিমাই জানাল, তার বাবা ইটের ভাটায় কাজ করে। আর মা ঘরের কাজ করে।
মনে মনে শঙ্কা হয়, এই নয়ন-নিমাইয়ের মনের ইচ্ছে কি আদৌ পূরণ হবে! ভাবছিলাম বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক আতিউর রহমানের কথা। দারিদ্র্যকে জয় করে পড়াশোনা শেষ করতে কঠোর সংগ্রাম করতে হয়েছে তাঁকে।
শুধু অধ্যাপক আতিউরই নন, তাঁর সমবয়সী যাঁরা এখন দেশের প্রশাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা বা ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে সফল, তাঁদের বেশির ভাগেরই অতীতটা সংগ্রামের। আর তাঁদের বেশির ভাগই এসেছেন গ্রাম থেকে। হাল চাষ করে কাদা মাখা পায়ে স্কুলে যাওয়া, কিংবা স্কুল থেকে ফেরার পরে ধান-পাট নিয়ে হাটে যাওয়ার গল্প শোনা যায় অধ্যাপক আতিউরদের প্রজন্মের বেশির ভাগের মুখ থেকে।
কিন্তু এখন যখন ঢাকা শহরে একেকটি বাচ্চার স্কুলে যাতায়াতের জন্যই মধ্যবিত্ত বা উচ্চ মধ্যবিত্তদের মাসে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে গাড়ি পালতে হচ্ছে, আছে কোচিং আর টিউটরের খরচ। এই আমলে নয়ন আর নিমাইরা কি এই শহুরে সুবিধাপ্রাপ্ত শিশুদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকতে পারবে। হয়তো তাদের জীবনও তাদের বাবা-কাকাদের মতোই ইটের ভাটায় কাটবে।
নিমাইয়ের হাতে খুটসহ গরুর রশি। সন্ধ্যার আগেই গরু নিয়ে ঘরে ফিরতে হবে। অবশ্য তখনো সূর্য লাল হয়নি। মানে দুজনের হাতে খেলাধুলা করার আরও কিছু সময় আছে। আলাপ করার ইচ্ছে মোটেই নেই নয়নের। তরতর করে গাছে উঠে যাচ্ছে। এদিকে নিমাই গরুর রশি গাছের ডালে বেঁধে চমৎকার দোলনা বানিয়ে বসেছে। বললাম পড়ে গেলে মজাটা টের পাবে। কিন্তু নিমাই আত্মবিশ্বাসী।

সড়কে ঝরল স্বামী-স্ত্রী-সন্তানসহ ছয়জনের প্রাণ

গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় এক পরিবারের পাঁচজনসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে জেলার কাশিয়ানী উপজেলার মাঝিগাতী এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন সৌদিপ্রবাসী হালিম আকন্দ (৪৯), তাঁর স্ত্রী আসমা বানু (৪২), তাদের দুই ছেলে সুমন আকন্দ (১৮) ও সিহাব আকন্দ (৬), হালিম আকন্দের শ্যালক বাদল হাওলাদার (৪৫) ও তাঁদের বহনকারী প্রাইভেটকারের চালক। এক পরিবারের সদস্যদের বাড়ি বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায়। তবে চালকের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাটগামী প্রাইভেটকারের সঙ্গে ঢাকাগামী সেবা গ্রিন লাইন পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে প্রাইভেটকারটি দুমড়ে মুচড়ে বাসের নিচে চলে যায়। এতে প্রাইভেটকারের যাত্রী ও চালকসহ ছয়জন নিহত এবং ১০ জন আহত হন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দল গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে।
নিহত বাদল হাওলাদারের বড় ভাই হালিম হাওলাদার প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল বুধবার রাতে হালিম আকন্দ সৌদি আরব থেকে ঢাকায় পৌঁছান। তাঁকে স্বাগত জানাতে তাঁর ছোট ভাই, বোন ও ভাগনেরা ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান। সেখান থেকে আজ ভোররাতে তাঁরা বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।
কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আলী নূর হোসেন দুর্ঘটনায় এক পরিবারের পাঁচজনসহ ছয়জনের মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
গোপালগঞ্জে আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রাইভেটকার ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে প্রাইভেটকারটি দুমড়ে মুচড়ে বাসের নিচে চলে যায়। ছবি: প্রথম আলো

গো-ভক্তির নামে মানুষ খুন মেনে নেয়া যায় না : নরেন্দ্র মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, গো-ভক্তির নামে মানুষ খুন কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।
গো-রক্ষার নামে একের পর এক খুনের বিরুদ্ধে অবশেষে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী। গো-ভক্তির নামে যেভাবে একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনা ঘটছে দেশে, তার বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিলেন ফশফনএ
সবরমতী শতবার্ষিকী উদযাপনের সূচনা করতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার বলেছেন, ‘গো-ভক্তির নামে মানুষকে খুন করা মেনে নেয়া যায় না। মহাত্মা গান্ধী কখনোই একে সমর্থন করতেন না।’
গো-রক্ষার নামে বা গোমাংস বিতর্ককে কেন্দ্র করে সারা দেশেই একের পর হিংসাত্মক ঘটনা সামনে আসছে।
প্রতিটি ঘটনাতেই নাম জড়াচ্ছে বিজেপির বা কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নীরব কেন? প্রশ্ন উঠছিল বিভিন্ন শিবির থেকে। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী সে বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন।
মহাত্মা গাঁধীর সবরমতী আশ্রম প্রতিষ্ঠার শতবার্ষিকী উদযাপনের জন্য বিশেষ কর্মসূচি আয়োজিত হয়েছে গুজরাতে। নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার সেই কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। সেখানে নিজের ভাষণে তিনি গান্ধীর অহিংস নীতির পক্ষেই বলেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গো-রক্ষার অর্থ কি একজন মানুষকে খুন করা? কখনোই নয়। অহিংসাই আমাদের জীবনের পথ।’
গো-সম্পদ রক্ষার জন্য হিংসাত্মক পথ নেয়ার প্রয়োজন পড়ে না বলে এ দিন বার বার বার্তা দেয়ার চেষ্টা করেছেন মোদি।
গান্ধীর জীবনদর্শন স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘গো-রক্ষার কথা মহাত্মা গান্ধী বা বিনোবা ভাবের চেয়ে বেশি আর কেউ বলেননি।’
হরিয়ানায় ও ঝাড়খণ্ডে গো-রক্ষার নামে সদ্য দু’টি ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে গেছে। তা নিয়ে গোটা দেশে গো-রক্ষা বিতর্ক ফের তুঙ্গে। ‘নট ইন মাই নেম’-এর ডাকে দেশ জুড়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে। এ বার প্রধানমন্ত্রী নিজেও মুখ খুললেন। গো-রক্ষার নামে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার চেষ্টা করলে বরদাস্ত করা হবে না বলে তিনি বার্তা দিলেন।

যেভাবে আড়াল পড়ে যায় ঐতিহাসিক এক অধ্যায় by চৌধুরী মুমতাজ আহমদ

বৃটিশদের বিরুদ্ধে প্রথম হুঙ্কার উঠেছিল বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বের জনপদ সিলেট থেকেই। উপমহাদেশে ভালোভাবে শিকড় গেঁড়ে উঠার আগেই সিলেটে বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন সৈয়দ মোহাম্মদ হাদী ও সৈয়দ মোহাম্মদ মাহদী দুই ভাই। বৃটিশবিরোধী আন্দোলনে প্রথম শহীদ হন তারাই। স্থানীয়ভাবে হাদা মিয়া ও মাদা মিয়া নামে পরিচিত এ দুই বীর সোয়া দুই শ’ বছর ধরে চির ঘুম ঘুমিয়ে আছেন সিলেট নগরীর মীরবক্সটুলায় একটি টিলার মাঝে। তবে এ দুই বীর যোদ্ধাকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে চিনিয়ে দেয়ার দায় যেন কারো নেই। এমনকি এ দুই বীরের কবর রক্ষারও কোনো উদ্যোগ নেই। 
সোয়া দুই শ’ বছরে তারা আড়াল হয়ে গেছেন ইতিহাসের পাতা থেকে। অথচ কি দোর্দণ্ড প্রতাপে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন বৃটিশ রাজের বিরুদ্ধে। বৃটিশের শোষণ, অন্যায় ও নিপীড়নের প্রতিবাদে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন হাদা মিয়া ও মাদা মিয়া। তখনকার বৃটিশ কর্মকর্তা রবার্ট লিন্ডসের জবানে সে লড়াইয়ের বর্ণনা মেলে। ১৭৮২ সালে আশুরা উপলক্ষে ইংরেজ রাজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন হাদা মিয়া ও মাদা মিয়া। তারা পরিকল্পনা করেছিলেন আশুরার মিছিল থেকেই সিলেটের মাটি থেকে বিতাড়িত করবেন বৃটিশ রাজত্ব। তবে সে পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায়। সিলেটে শাহী ঈদগাহ ময়দানে আশুরার মিছিলগুলো জড়ো হওয়ার সঙ্গেই বাধা আসে বৃটিশ রাজের তরফ থেকে।
সিলেটের তৎকালীন কালেক্টর রবার্ট লিন্ডসের নেতৃত্বে বৃটিশবাহিনী বাধা দেয় বিদ্রোহীদের। হাদা মিয়া ও মাদা মিয়া দুজনে বাধা ভেঙে সামনে এগিয়ে আসতে চাইলে লিন্ডসের গুলিতে নিহত হন দুই ভাই। ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতা’র অপরাধে দুই ভাইয়ের লাশ সমাধিস্থ না করে ফেলে রাখা হয়েছিল ঈদগাহ’র ময়দানে। পরে স্থানীয়দের অনুরোধে লাশগুলো অযত্নে সমাধিস্থ করা হয় পাশের একটি টিলায়। যা পরে হাদা মিয়া মাদা মিয়ার টিলা নামে পরিচিতি পায়। আরো পরে ঐ টিলার কাছে চার্চ নির্মাণ হওয়ায় তা পরিচিত হয় পাদ্রির টিলা নামে। আড়াল পড়ে যায় ঐতিহাসিক এক অধ্যায়। বৃটিশ আমলের পর, পাকিস্তান আমল পেরিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও সে ইতিহাস রক্ষায় তেমন কোনো উদ্যোগ আর নেয়া হয়নি। উল্টো বেদখল হয়ে পড়ে দুই বীরের সমাধিস্থলের ১০.৮১ শতক ভূমি। পাশের একটি মাদরাসার দখলে চলে যায় কবরস্থানের ভূমি। বিষয়টি পরে ইতিহাস সচেতন কিছু ব্যক্তির নজরে পড়লে গঠিত হয় সৈয়দ হাদী ও সৈয়দ মাহদী স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ। ঐ পরিষদের তৎপরতায় গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় প্রশাসন কবর এলাকার ভূমি দখলমুক্ত করে। পরবর্তীতে কবরস্থানের সীমানা চিহ্নিত করে দেয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সিলেট সিটি কর্পোরেশন। সিটি কর্পোরেশনের দীর্ঘসূত্রতার সুযোগে কবরস্থানের ভূমি আবারো দখলে চলে যায় পাশের মাদরাসার দখলে। আবারো আড়ালে পড়ে যায় উপমহাদেশে বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহীদ সৈয়দ মোহাম্মদ হাদী ও সৈয়দ মোহাম্মদ মাহদীর স্মৃতি।
হাদা মিয়া ও মাদা মিয়ার মাজার রক্ষায় তৎপরতা অব্যাহত থাকে সৈয়দ হাদী ও সৈয়দ মাহদী স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের উদ্যোগে। তাদের প্রচেষ্টায় ২০১৫ সালের ২৫শে জুন আবারও শুরু হয় কবরস্থানের সীমানা নির্ধারণের কার্যক্রম। সরকারি ভূমি অফিস ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগে চিহ্নিত করা হয় কবরস্থানের সীমানা। সিলেট মিউনিসিপ্যালিটি মৌজার ৮২৯৭ নং দাগে কবর এলাকার প্রায় নয় শতক ভূমি চিহ্নিত করা হয়। পরবর্তীতে কবর এলাকার এক দিকে দেয়াল তোলা হলে তিন দিক এখনও অরক্ষিতই রয়ে গেছে।
সিলেট ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান চৌধুরী মানবজমিনকে বলেন, নগরীর মীরবক্সটুলায় বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহীদ হাদা মিয়া ও মাদা মিয়ার কবর বেদখল করার জন্য একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে পাঁয়তারা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, প্রায় ৯ শতক জায়গার এই কবরস্থানের এক দিকে দেয়াল নির্মিত হলেও তিন দিকে কোনো দেয়াল নেই। ফলে অরক্ষিত অবস্থায় থাকা কবরস্থানের ভূমি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে একটি প্রভাবশালী মহল। তিনি ঐতিহাসিক গুরত্বপূর্ণ কবরস্থানটি রক্ষায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

মৃত্যুর ভয়ে টয়লেট তৈরি করেন না এ গ্রামের মানুষরা!

স্বচ্ছ ভারত প্রকল্পের চাপে গ্রামে গ্রামে টয়লেট বা শৌচালয় তৈরি হলেও, বিহারের এই গ্রাম সেই সুবিধা নিতেই রাজি নয়। গ্রামটিতে এসি, ফ্রিজ, গাড়ি, রঙিন টিভি, গিজার- সব আধুনিক জিনিস রয়েছে। নেই শুধু শৌচালয়। গোটা গ্রামের মানুষ জীবন চলে গেলেও শৌচালয় তৈরি করতে দেবে না। হ্যাঁ, এটাই সত্যি।
বিহারের এই গ্রামের নাম গাজিপুর। গাজিপুরে সকলের পাকা বাড়ি রয়েছে। কিন্তু শৌচালয়েই ‘না’। গ্রাম পঞ্চায়েত পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক শৌচকর্মের স্থান নির্ধারিত করে দিয়েছে মাঠে। সেখানেই গোটা গ্রাম শৌচকর্ম সারেন। সকাল-বিকেল-সন্ধে-রাত, শৌচকর্ম মানেই প্লাস্টিকের বোতলে জল ভরে সবাই মাঠমুখী।
কেন এই অবস্থা?
এ অবস্থার পেছনে রয়েছে একটি কুসংস্কার। আসলে ওই গ্রামের মানুষের ধারণা, পাকা শৌচালয় তৈরি করলেই পরিবারের কারও মৃত্যু হবে। ১৯৮৮ সালে এরকম দুটি ঘটনা ঘটেছিল। সেই ভয়েই কেউ শৌচালয় তৈরি করেন না।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

নারী সাংবাদিকের ‘সুন্দর হাসি’র প্রশংসা ট্রাম্পের

এক নারী সাংবাদিকের হাসি নিয়ে মন্তব্য করে আবারো আলোচনার জন্ম দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার ওভাল অফিসে বসে টেলিফোনে আয়ারল্যান্ডের নতুন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তখনই আইরিশ একটি বার্তা সংস্থার এক সাংবাদিক তার নজরে পড়েন।
আইরিশ প্রধানমন্ত্রী লিও ভারাদকারকে ট্রাম্প বলছিলেন, আইরিশ অনেক সংবাদমাধ্যম আমাদের দেখছে। এরপরই তার নজরে পড়া সাংবাদিক ক্যাট্রিওনা পেরিকে তার কাছে আসতে বলেন ট্রাম্প।
এরপর তার কাছে পরিচয় জানতে চান ট্রাম্প। পেরি নিজের পরিচয় দেয়ার পর ট্রাম্প আইরিশ প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ওর হাসিটা খুব সুন্দর, আমি নিশ্চিত সে আপনাকে ভালো চোখেই দেখে।
এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকে ট্রাম্পের সমালোচনা করেন। নারীদের প্রতি ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি নিয়ে তার সমালোচনা চলছে।
ইন্টারন্যাশনাল উইমেন্স মিডিয়া ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এলিসা লিস মুনজ এ বিষয়ে বলছেন, কখনো পুরুষ সহকর্মীদের সঙ্গে এমন হয় না। এর সমাধান কী আমার জানা নেই।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস

আল জাজিরা গুড়িয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানান আমিরাতি যুবরাজ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান মার্কিন সামরিক বাহিনীকে কাতার-ভিত্তিক আল জাজিরা চ্যানেলের অফিসে বোমা মারার আহ্বান জানিয়েছিলেন। আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ চলার সময় ও ইরাক যুদ্ধ শুরুর প্রাক্বালে মার্কিন কূটনীতিকদের কাছে এ আহ্বান জানান তিনি। উইকিলিকসের ফাঁস করা একটি মার্কিন কূটনীতিক তারবার্তায় এমন ইঙ্গিত মিলেছে। এ খবর দিয়েছে আল আরাবি।
উইকিলিকসের ফাঁস করা তারবার্তায় দেখা যায়, জায়েদ মার্কিন প্রশাসনকে ইরাক যুদ্ধ নিয়ে আরব জনমত সামলাতে আল জাজিরা নেটওয়ার্কে ‘তাণ্ডব চালানো’র গুরুত্ব বোঝাচ্ছিলেন। তারবার্তায় একটি কথোপকথন উদ্ধৃত করা হয়। এতে দেখা যায়, সাবেক কাতারি আমির হামাদ বিন খলিফা আল-থানি একবার তৎকালীন আমিরাতি প্রেসিডেন্ট (প্রিন্স জায়েদের পিতা)-এর কাছে অভিযোগ করেছিলেন যে, মার্কিন জেনারেল ফ্রাঙ্কসকে জায়েদ আল জাজিরায় বোমা মারতে বলেছিলেন।
প্রিন্স জায়েদ মার্কিন কূটনীতিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় ওই কথা হেসে হেসে মনে করেন। জায়েদ বলেন, তার পিতা তখন কাতারের আমিরকে কটাক্ষের সুরে পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কি তাকে (জায়েদ) দোষ দিতে পারেন?’
একই তারবার্তায় বলা হয়, জায়েদ যুক্তরাষ্ট্রকে ইরাক হামলার সময় সাংবাদিকদের নিষিদ্ধ করারও আহ্বান জানান। এতে বলা হয়, ‘তিনি যোদ্ধাদের সঙ্গে সাংবাদিক পাঠানোর বিরুদ্ধে সুপারিশ করেন, অন্তত শুরুর দিকে। কারণ, বেসামরিক মানুষ হতাহত হওয়ার দৃশ্য টেলিভিশনে দেখানো হলে তা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যেতে পারে।’
উল্লেখ্য, আফগানিস্তান ও ইরাকে আল জাজিরা অফিসে সত্যি সত্যি মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছিল। তবে উভয় হামলায় উদ্দেশ্যমূলক ছিল না বলে দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র।
২০০১ সালে চালানো একটি মিশাইল হামলায় আল জাজিরার কাবুল কার্যালয় সম্পূর্ণ ধসে যায়। অপরদিকে ২০০৩ সালে আল জাজিরার বাগদাদ অফিসে চালানো হামলায় এক সাংবাদিক নিহত ও অন্য কয়েকজন আহত হয়।
উইকিলিকসের এই ফাঁস করা তারবার্তা এমন সময় সামনে এল যখন কাতারের বিরুদ্ধে সৌদি আরব ও আমিরাত নেতৃত্বে কয়েকটি দেশ অবরোধ আরোপ করেছে। এই অবরোধের নেপথ্যে আমিরাতের প্রিন্স মোহাম্মদ বিন জায়েদের বড় ভূমিকা ছিল বলে ধারণা করা হয়। কাতারি কর্তৃপক্ষকে ১৩ দফা দাবি সম্বলিত একটি তালিকা দিয়েছে সৌদি আরব ও আমিরাত। এসব দাবি পূরণ না হলে সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এ দাবির একটি হলো আল জাজিরা টিভি স্টেশনটি বন্ধ করে দেওয়া।

মাদকের রমরমা বাণিজ্য- দেশে মাদক ব্যবসায়ী ১,৬০,০০০ by আল-আমিন

সারা দেশে মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা ১ লাখ ৬০ হাজার। এর মধ্যে ২৭ হাজার ৩০০ জন নারী মাদক ব্যবসায়ী। যা মোট মাদক ব্যবসায়ীর ১৭.৬ শতাংশ। এসব নারীর বয়স ১৫ থেকে ৬০ বছর। এছাড়াও নারীরা মাদক বহনে ৪০ শতাংশ শিশু ব্যবহার করে। প্রতিদিন ৬ কোটি টাকার ব্যবসা করে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে। সূত্র মতে, কক্সবাজার জেলায় মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা বেশি। সেখানে কমপক্ষে সাড়ে ৬ হাজার পুরুষ ও নারী মাদক ব্যবসায় জড়িত। মাদক নিয়ন্ত্রণে এবং আন্দোলনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯০ সালের ধারাগুলোর ত্রুটি- বিচ্যুতি দূর করতে হবে। পাশাপাশি এই ব্যবসাকে দমনের জন্য ব্যবসায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও গোয়েন্দা) সৈয়দ তৌফিক উদ্দিন আহমেদ মানবজমিনকে জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা ১ লাখ ৬০ হাজার। এদের দমন করতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরো জানান, মাদকের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ কারণে মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা বাড়ছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ মাদক বিদেশ থেকে পাচার হয়ে দেশে প্রবেশ করে। মিয়ানমার ও ভারতের সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে মাদক প্রবেশ করে।  মাদক ব্যবসায়ীদের চোরাচালানের বড় রুট হচ্ছে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত।  প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে রয়েছে বাংলাদেশের বড় সীমান্ত এলাকা।
দেশে মাদকের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এতে মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যাও বাড়ছে। এছাড়াও মাদক চোরাচালানিদের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী হওয়ার কারণে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে একস্থান থেকে আরেকস্থানে মাদক পৌঁছে দিচ্ছে।
সূত্র জানায়, দেশে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা মাদক সরবরাহে নারী ও পুরুষদের ব্যবহার করে। যারা মাদক বহন করে তাদের ব্যবসায়ীরা মোটা অঙ্কের টাকা  দেয়। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মাদক ব্যবসায়ীদের প্রায় ৪৫ শতাংশ বেকারত্ব সমস্যায় ভুগছিলো।  তারা নির্দিষ্ট কোনো কর্মক্ষেত্র না পাওয়ার কারণে এই অবৈধ পেশায় জড়িয়ে পড়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা বেশি। তারা ওই এলাকার বাসিন্দা হওয়ার কারণে সহজেই সীমান্তের ওপারের লোকদের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে বাংলাদেশে মাদক নিয়ে আসে। তারা সীমান্ত প্রহরীদের হাত করে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও ঢাকা এবং বিভাগীয় শহর এলাকা থেকে জেলা ও থানা এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা বেশি। মোট ব্যবসায়ীর প্রায় ৭০ শতাংশ জেলা ও থানায় মাদক ব্যবসা করে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে দেশে মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা ছিল ৯৫ হাজার ৪০০ জন। ২০১৬ সালে এই সংখ্যা দাঁড়ায়  ১ লাখ ৩০ হাজার ১০ জনে। ২০১৭ সালে এই সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৬০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত  ১ বছরে দেশে মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা বেড়েছে ২৯ হাজার ৯ শ’ ৯০ জন।
এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থার (মানস) সভাপতি অধ্যাপক ডা. অরূপ রতন চৌধুরী বলেন, দেশে মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা অনেক। সঠিক পরিসংখ্যান করলে ভয়াবহ তথ্য বের হয়ে আসবে। এটা নির্ণয় জরুরি। সরকারের কাছে একটি পরিসংখ্যান থাকা দরকার।
তিনি বলেন, মাদক লাভজনক ব্যবসা। এ কারণে ব্যবসায়ীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। মাদক ব্যবসায়ীদের দমনের জন্য যেমন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কাজ করতে হবে পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ  নেয়া হবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জনবল বাড়াতে হবে। এছাড়াও  ১৯৯০ সালের যে অধ্যাদেশ আছে এটির সংশোধন করতে হবে। যাতে মাদক ব্যবসায়ীরা কোনোভাবেই দ্রুত জামিন না পেয়ে যায়।
এদিকে, ২০১৭ সালের এপ্রিলের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সারা দেশে মাদকাসক্ত হচ্ছে ৫০ লাখ। এর মধ্যে নারী মাদকসেবী ৫ লাখ ৯০ হাজার।  এছাড়াও শিশু ও কিশোর মাদকাসক্ত রয়েছে ৩ লাখ ২৪ হাজার। যা মাদকাসক্তের শতকরা ৪০ ভাগই শিশু ও কিশোর। সারা দেশে ইয়াবাসেবী রয়েছে প্রায় ২ লাখ। যা মোট মাদকসেবীর ২.৫০ শতাংশ। তার মধ্যে প্রায় ৯০ হাজার শিক্ষার্থী মরণ নেশা ইয়াবাতে আসক্ত। তারা অধিকাংশ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া। আবার ইয়াবাসেবীর মধ্যে রয়েছে ১০ হাজার নারী শিক্ষার্থী।

ভারতের যৌনপল্লিতে বাড়ছে বাংলাদেশি নারী-শিশু

দুই প্রতিবেশী দেশের পাচারকারী চক্র বাংলাদেশের ভাগ্য বিড়ম্বিত নারী ও শিশুদের সরলতা ও অসচেতনতাকে পুঁজি করে তাদের বিক্রি করে দিচ্ছে যৌনপল্লিতে। ফলে ভারতের যৌনপল্লিগুলোতে শিশু, কিশোরী ও নারীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যশোর, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট ও কুষ্টিয়ার লোকজন এই প্রতারণার শিকার হচ্ছে।
ভারতে মানব পাচার বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে লেখা এক চিঠিতে এমন অভিমত দিয়েছেন দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী।
আজ বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটির আগে দিল্লি থেকে চিঠিটি ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। মে মাসে মুম্বাইতে সরেজমিনে বেশ কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে জনা পঞ্চাশেক বাংলাদেশি নারী ও শিশুর সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সম্পর্কে ঢাকার কাছে পর্যবেক্ষণ পাঠানো হয়েছে।
দিল্লি ও মুম্বাইয়ের কূটনীতিক সূত্রে সম্প্রতি যোগাযোগ করে জানা গেছে, ভারতের পতিতালয়গুলোতে বাংলাদেশের শিশু, কিশোরী ও নারীর সংখ্যা যথেষ্ট বাড়ছে। বেশ কয়েক মাস ধরে এমন তথ্য পাওয়ার পর গত মে মাসে দিল্লি ও মুম্বাইতে কর্মরত বাংলাদেশের কূটনীতিকেরা মুম্বাইয়ের বেশ কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া শিশু, কিশোরী ও নারীর সঙ্গে কথা বলেন। এদের সঙ্গে কথা বলে ভারতে পৌঁছানোর রহস্য জানতে পারেন কূটনীতিকেরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিক এই প্রতিবেদককে বলেন, একটি আশ্রয়কেন্দ্রের ৪০ জন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, এদের ২৯ জনই এসেছে বাংলাদেশ থেকে। পরিস্থিতি যে কতটা খারাপ এ থেকে একটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
সরেজমিনে পরিদর্শনের পর পাওয়া পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে ঢাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠান হাইকমিশনার। চিঠিতে বলা হয়েছে, দরিদ্র মা-বাবা অভাবের কারণে সন্তানকে অপরিচিত লোকের হাতে তুলে দিচ্ছেন। আবার কেউ বিয়ে বা বিদেশে চাকরির ফাঁদে পা দিয়ে মানব পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ছেন। আবার উন্নত জীবনের আশায় নিম্নবিত্ত নারীরা পাচারকারীদের শিকারে পরিণত হচ্ছেন। চূড়ান্তভাবে তাঁদের ঠাঁই হচ্ছে ভারতের যৌনপল্লিগুলোতে। একই সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে থাকার পরও ভারতের যৌনপল্লিগুলোতে পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর নারী ও শিশুর সংখ্যা যথেষ্ট কম। ভারতের গণমাধ্যমে মানব পাচার নিয়ে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের প্রচার এবং মানব পাচার রোধের আইনের কঠোর প্রয়োগ বড় ভূমিকা রাখছে বলে মত দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে মানব পাচার রোধের আইন প্রয়োগের শিথিলতা ও সচেতনতার অভাবে ভারতে মানব পাচারের পথ করে দিচ্ছে। তাই আইনের কঠোর প্রয়োগ ও সীমান্তে পাহারা জোরদারের সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া মানব পাচার রোধে জনসচেতনতার জন্য গণমাধ্যমে নিয়মিত প্রামাণ্যচিত্র, নাটক ও বিজ্ঞাপন প্রচারের কথাও চিঠিতে বলা হয়েছে।
এদিকে মুম্বাইয়ের আশ্রয়কেন্দ্র ঘুরে আসা একাধিক কূটনীতিক প্রথম আলোকে জানান, মুম্বাই ছাড়াও গোয়া, পুনে এই শহরগুলোর যৌনপল্লিগুলোতে উদ্বেগজনক হারে বাংলাদেশিদের সংখ্যা বাড়ছে।
জানতে চাইলে মুম্বাইতে বাংলাদেশের উপহাইকমিশনার সামিনা নাজ গতকাল বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৬ সালে ডিসেম্বর পর্যন্ত মুম্বাই, গোয়া, পুনে, কেরালা, দামান ও তামিলনাড়ু থেকে উদ্ধারের পর অন্তত ৩৭০ জন নারী ও শিশুকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

'নট ইন মাই নেম' : মুসলিম হত্যার বিরুদ্ধে ভারতজুড়ে নাগরিক বিক্ষোভ

ভারতে একের পর এক মুসলমানদের পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বুধবার সে দেশের নাগরিক সমাজ প্রতিবাদ বিক্ষোভে নেমেছিলেন।
একটি বেসরকারি হিসাবে বলা হচ্ছে ২০১৫ থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩টি এধরণের ঘটনা হয়েছে, যেখানে মুসলমান কোনো ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে মারধর করা হয়েছে।
গত তিন মাসে এধরণের গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৬জন মুসলমানের। এধরণের ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধেই আজ দিল্লিসহ ভারতের নানা জায়গাতেই সামাজিক মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে দিয়ে 'নট ইন মাই নেম' নাম দিয়ে প্রতিবাদে নেমেছিলেন সাধারণ মানুষ। প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে কলকাতাতেও।
দক্ষিণ কলকাতার একটি খোলামেলা বিপনি বিতান চত্বরে কয়েক শ' মানুষ জড়ো হয়েছিলেন শুধুমাত্র একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ বা ফেসবুক পোস্ট দেখে। 'নট ইন মাই নেম' হ্যাশ ট্যাগও চালু হয়েছে মুসলমানদের চিহ্নিত করে গণপিটুনির ঘটনাগুলির বিরুদ্ধে।
কলকাতায় যারা এই প্রতিবাদ সমাবেশের উদ্যোগটা নিয়েছিলেন, তাদেরই অন্যতম অঞ্চিতা ঘটক বলছিলেন, "চতুর্দিকে যেসব ঘটনা হচ্ছে, তাতে সত্যিই আমরা বিচলিত। আমাদের মনে হচ্ছে দেশে হিন্দুত্বের একটা আগ্রাসন শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে খুবই উগ্র জাতীয়তাবাদও তৈরী করা হচ্ছে, যার সঙ্গে আবার হিন্দু ধর্মকে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে।"
কলেজ শিক্ষক সম্রাট সেনগুপ্ত বলছিলেন কেন তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মুসলমানদের চিহ্নিত করে গণপিটুনি দিয়ে আহত - এমনকি মেরে ফেলার ঘটনাও খুব বেশি ঘটতে শুরু করেছে।
"একটা শ্রেণীর মানুষের হাতে একরকম ক্ষমতায়ন হয়েছে, যাদের মধ্যে প্রচন্ড শক্তিশালী মুসলিম বিদ্বেষ আগে থেকেই ছিল। কেন্দ্রে যে দল এখন ক্ষমতায় রয়েছে, তাদের বলে বলীয়ান হয়ে ওই শ্রেণীর মানুষ নিজেদের বিদ্বেষটাকে উগরে দিতে শুরু করেছে," বলছিলেন সেনগুপ্ত।
সমাবেশে প্রগতিশীল লেখক-বুদ্ধিজীবি, কবি, গায়ক, ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গেই হাজির ছিলেন কলকাতার বেশ কিছু মুসলমান যুবক। তাদেরই একজন মুহম্মদ রাফে সিদ্দিকির কাছে জানতে চেয়েছিলাম সম্প্রতি মুসলমানদের পিটিয়ে মারার যেসব ঘটনা হচ্ছে ভারতে, তাতে তারা কতটা আতঙ্কিত।
সিদ্দিকির কথায়, "পশ্চিমবঙ্গে অন্তত আমাদের সেই ভয়টা নেই। কিন্তু উত্তরপ্রদেশ বা মধ্যপ্রদেশে আত্মীয়-বন্ধুদের কাছ থেকে যা খবর পাই, তাতে ওরা খুবই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। গোরক্ষার নাম করে হোক বা অন্য যে কোনও নামেই, কেন্দ্রীয় সরকারের তো দায়িত্ব এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার। এই পরিস্থিতি মেনে নেওয়া যায় না, এটা আনএক্সেপ্টেবল।"
ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে আজ যে নাগরিক প্রতিবাদ হয়েছে, কলকাতার সমাবেশের খবরও সামাজিক মাধ্যম দিয়েই ছড়িয়েছিল প্রথমে। আইনজীবি অধিরাজ রায় ফেসবুকের একটি পোস্ট দেখেই প্রতিবাদে যোগ দিতে এসেছিলেন।
তিনি বলছিলেন, "এরকম একটা নাগরিক এবং গণতান্ত্রিক জমায়েতের খুব দরকার ছিল, যেখানে কোনও রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক ব্যানার ছাড়া সমাজের নানা মানুষ এক জায়গায় জড়ো হবেন, একটাই দাবী নিয়ে, একটাই বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে। সেদিক থেকে এটা নিঃসন্দেহে একটা ভাল উদ্যোগ।"
ঘটনাচক্রে, আজকের প্রতিবাদ সমাবেশগুলি কোনও রাজনৈতিক অথবা অরাজনৈতিক সংগঠন আয়োজন করে নি। কোথাও কোনও সংগঠনের প্রতিনিধিত্বকারী ব্যানার পোস্টারও ছিল না - একটাই কথা প্রতিবাদে সামিল সকলের বুকে ঝোলানো প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল - নট ইন মাই নেম - যেরকমটা যুক্তরাষ্ট্রে ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী প্রতিবাদ সভাগুলিতে বলা হতো একটা সময়ে।
সূত্র : বিবিসি

Wednesday, June 28, 2017

বাংলাদেশে রাতের পার্টি মাতানো ডিজে দুনিয়া কেমন?

ডি-জে' বা ডিস্ক জকি- বিশ্বের অনেক দেশেরই আমোদপ্রিয় মানুষের কাছে বেশ পরিচিত। বাংলাদেশে একটা সময় পুরুষদের মধ্যে কাজটি সীমাবদ্ধ থাকলেও কয়েক বছর ধরে এর প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে মেয়েদেরও।
বিভিন্ন পার্টিতে গানের মিক্সিং করে তার তালে তালে অতিথিদের মাতানোর কাজটি করেন একজন ডিজে। নারীদের অনেকেই পেশাদার ডিজে হিসেবে কাজ করছেন। কেমন এই ডিজে দুনিয়া?
বিশ্ববিদ্যালয়ের পুনর্মিলনী, বিয়ে বা কর্পোরেট অনুষ্ঠান বাদ নেই ডিজে পার্টি
লাউড স্পিকারে গান বাজছে। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ব্যাচের পুনর্মিলীন অনুষ্ঠান।
মিউজিকের তালে তালে নাচছে শিক্ষার্থীরা। ক্ষণে ক্ষণে পাল্টে যাচ্ছে মিউজক আর গান।
মঞ্চে নিপুন মুন্সিয়ানায় কাজটি করছেন একজন ডিস্ক জকি। যিনি ডিজে নামেই পরিচিত বেশি।
মঞ্চের ওপর যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি ডিজে সুমি।
গানের মিক্সিং এবং সাউন্ড ইফেক্ট এর কল্যাণে জমে উঠেছে পার্টি।
"এমন একটি অনুষ্ঠানে দর্শকরো উঠে দাঁড়িয়ে যখন মিউজিকের সাথে সাথে তাল মেলাতে থাকেন, নাচতে থাকেন তখনই একজন ডিজের সার্থকতা" বলছিলেন ডিজে সুমি। পুরো নাম রাজিয়া সুলতানা সুমি।বাংলাদেশে মেয়েদের মধ্যে প্রথম ডিজে হিসেবে মনে করা হয় যাকে, সেই ডিজে সনিকাকে দেখে আগ্রহী হয়ে ২০০৭ সাল থেকে কাজ শুরু করেন সুলতানা রাজিয়া সুমি ।
শহরাঞ্চলে এখনকার তরুণ-তরুণীদের কাছে ডিজে পার্টি বা ডিজে শো খুব পরিচিত ।
নিউইয়ার পার্টি, থার্টি ফার্স্ট নাইট, বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক অনুষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়ের রি-ইউনিয়ন থেকে শুরু করে জন্মদিন বিয়ে সবকিছুতেই ডিজে মানে বিশেষ আনন্দ।
'মেয়েদের জন্য এখনও ঝুঁকিপূর্ণ পেশা''
ডিজে দুনিয়ায় 'ডিজে সনিকা' হিসেবে পরিচিত হলেও পুরো নাম মারজিয়া কবীর।
সনিকা শুধু দেশেই নন, ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন শোতে নিয়মিত ডিজে হিসেবে কাজ করেন।
ডিজেদের ডাক পড়ে বড় বড় রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানেও। আইসিসি ওয়ার্ল্ড কাপ ২০১১ ইভেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কিংবা হাতিরঝিলে ডান্স অব ফাউন্টেন এর উদ্বোধনে মিউজিক করার তেমনই অভিজ্ঞতার কথা জানান ডিজে সনিকা।
কিন্তু 'মেয়েদের জন্য এখনো এটি ঝুঁকিপূর্ণ পেশা' বলে মনে করেন তিনি।সনিকা বলেন, আমি একেবারে মিডিয়া থেকে আলাদা ছিলাম। কিন্তু ডিজে রাহাত তার ডিজে স্কুলে বাংলাদেশে প্রথম কোনও ডিজে শিখতে আগ্রহী প্রথম ব্যাচকে বিনামূ্ল্যে শেখাবে। তখন প্রথম আমি জানলাম মেয়ে ডিজে নাই দেশে। আমার তখন মনে হলো এটা করতে হবে"।
তবে সনিকা বলেন, "মূলত লোকজন সন্ধ্যার দিকেই ডিজে করতে পছন্দ করে। খুব কম দিনে হয়। জন্মদিন বা পিকনিক এগুলো দিনে হয়। বাকিটা কিন্তু রাতেই হয়। একটা মেয়ের জন্য রাতে বের হয়ে কাজ করা অনেক বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। সেক্ষেত্রে আমাকে তো সেরকম সিকিউরিটি নিয়ে যেতে হবে। যাতে নিরাপদে গিয়ে নিরাপদে ফিরতে পারি। দুজন মানুষেকে সাথে রাখতে হয়"
আগে ডিস্কের মাধ্যমে গানের ব্যবহার করা হলেও, বর্তমান পেনড্রাইভ এর যুগে কাজটি সেভাবে আর করতে হয়না।
পুরুষদের মধ্যে ডিজে হিসেবে অনেকেই কাজ করছেন বেশ আগে থেকেই এবং তাদের মধ্যে অনেকেই পরবর্তীতে সঙ্গীত পরিচালনা, বিজ্ঞাপনের কাজ ইত্যাদিতেও যুক্ত হয়েছেন।
প্রথমদিকে যারা বাংলাদেশে ডিজে সংষ্কৃতি চালু করেন তাদের মধ্যে ডিজে প্রিন্স, ডিজে রাহাত, ডিজে লিটন, ডিজে মিরাজসহ অনেকে এই নামগুলো উঠে আসে। তাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বর্তমানে আরো অনেক তরুণ-তরুণীই কাজ করছেন।
ডিজে মিরাজ ১০ বছর ধরে বিভিণ্ন অনুষ্ঠানে পারফর্ম করছেন। তিনি নিজেই প্রশিক্ষণও দিচ্ছেন উঠতি অনেক ডিজেকে।
পেশা হিসেবে কতটা গ্রহণ করার মত?  ডিজে মিরাজ বলেন, " যেহেতু এখন কর্পোরেট ইভেন্ট বা ওয়েডিং ইভেন্ট বর্তমানে অনেক বিস্তার লাভ করেছে। অনেকব বেশি হয় সেক্ষেত্রে আমি বলবো এখন যদি কেউ এটাকে পেশা হিসেবে নিতে চায় ডিজে পেশা অন্য অনেক পেশার চেয়ে তুলনামূলক অনেক ভালো"
রাত গভীর হলেই মূলত শুরু হয় তাদের কাজ।
দিনের বেলাতেও অবশ্য ডাক পড়ে বিভিন্ন আয়োজনে। বাংলাদেশে ডিজে হিসেবে এখন রাতভর কাজ করছে মেয়েরাও। কিন্তু রাতের কাজ হওয়াতে সামাজিক ভাবে বিষয়টি কিভাবে দেখা হয়?
সুমি বলেন, " ডিজেটা শুধু না মিডিয়া বলতেই সাধারণ মানুষ অন্য একটা দেখে। আর আমরা যেহেতু রাতের বেলা কাজটা করি। রাতের বেলাই কাজ শেষে করে ফিরি। সেক্ষেত্রে অনেকে কটূক্তি করে। কিন্তু তারপরও ওই চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। নাহলে তো আমাদের স্বপ্নটা পূরণ করতে পারবো না"।।
প্রশিক্ষণ নিচ্ছে অনেকেই
ডিজে বা ডিস্ক জকি হওয়ার জন্য এখন প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন অনেক তরুণ-তরুণী। প্রতিষ্ঠিত ডিজেরাই খুলেছেন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
রোজগারের সুযোগও রয়েছে প্রচুর।
একটা সময় ঢাকা- চট্টগ্রামের মত বড় শহরে এধরনের আয়োজন করা হলেও এখন ডাক পড়ছে মফস্বলের অন্যান্য এলাকাতেও। ডিজে সনিকা বা সুমির মত ডিজে মারিয়া, ডিজে ফারজানা, ডিজে পরী এবং আরো অনেক মেয়েই মঞ্চ মাতাচ্ছেন।
তবে ডিজেদের সাজ-পোশাক নিয়ে অনেকসময় অনাকাঙ্খিত মন্তব্য এড়াতে সতর্ক থাকতে হয়। সুমি বলেন, বিয়ে ববাড়িতে বা জন্মদিনে যে পোশাক পড়ে যাওয়া যায় সে পোশাক কর্পোরেট কোনও অনুষ্ঠানে পড়া যায় না।
ফলে বাড়তি সতর্কতা রাখতেই হয়, জানান সুমি।
ডিজেদের মধ্যে কেউ কেউ অ্যালবামে মিউজিক করছেন, কেউ কেউ চলচ্চিত্রে সুর দিচ্ছেন। সুযোগ আছে অর্থ ও পরিচিতি দুটোই পাওয়ার।
আবার কেউ কেউ বিজ্ঞাপন বা মিউজিক ভিডিওতে মডিলং করছেন বা অংশ নিচ্ছেন নাটক অথবা নাচের প্রোগ্রামে। তাই আগ্রহী হচ্ছেন অনেক তরুণ।
তবে এখনও এ পেশার প্রতি সামাজিক মনোভাব যথেষ্ট ইতিবাচক হয়ে উঠতে আরও সময় লাগবে বলে মনে করেন ডিজেরা।
সুত্রঃ বিবিসি বাংলা

প্রচ্ছদে অন্তঃসত্ত্বা সেরেনা, গায়ে সুতোটি নেই

প্রসিদ্ধ ভ্যানিটি ফেয়ার সাময়িকীর আগস্ট সংখ্যাটির প্রচ্ছদে এসেছেন মার্কিন টেনিস তারকা সেরেনা উইলিয়ামস। তাঁর মধ্যে সন্তানসম্ভবা হবু মায়ের রূপটি স্পষ্ট। তবে গায়ে একরত্তি সুতোও নেই।
বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভ্যানিটি ফেয়ার সাময়িকীর আগস্ট সংখ্যার প্রচ্ছদকন্যা হয়েছেন সেরেনা। সাময়িকীটির আগস্ট সংস্করণ আগামী ৭ জুলাই থেকে বাজারে পাওয়া যাবে।
৩৫ বছর বয়সী সেরেনার সঙ্গে গত ডিসেম্বরে বাগদান হয় রেডিটের সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যালেক্সিস ওহানিয়ানের। গত জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের আগে সন্তান ধারণ করেন সেরেনা। গর্ভে সন্তান নিয়েই জেতেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেন।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের পর হাঁটুর চোটের কথা বলে আর কোর্টে নামেননি উন্মুক্ত যুগে সবচেয়ে বেশি গ্র্যান্ড স্লাম একক জেতা এই টেনিস তারকা।
ভ্যানিটি ফেয়ার সাময়িকীকে সেরেনা জানিয়েছেন, কোর্টের পাশে অনুশীলনের একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তার আগে গর্ভধারণের বিষয়টি বুঝতেই পারেননি।
সেরেনা বলেন, তিনি কিছু বুঝতে না পারলেও তাঁর বন্ধু ধারণা করেছিলেন যে তিনি (সেরেনা) সম্ভবত অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন। সেরেনাকে পরীক্ষা করারও পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি।
পরে পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল আসে। ফল দেখে বিস্মিত হন সেরেনা। তিনি বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। পরে বন্ধু জেসিকা পরীক্ষার একাধিক কিট কিনে আনেন। আর প্রতিবারই ইতিবাচক ফল আসে।
ভ্যানিটি ফেয়ার সাময়িকীর নিবন্ধে অ্যালেক্সিস ও সেরেনা কীভাবে ২০১৫ সালে প্রেম শুরু করেন, তার বিবরণ আছে।
গত ডিসেম্বরে ইতালির একটি হোটেলে সেরেনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন অ্যালেক্সিস। আর মজার ব্যাপার হলো, এই হোটেলেই দুজন পরস্পরের সঙ্গে প্রথম কথা বলেছিলেন।

সিরিয়ায় সরাসরি হামলার মতলব করছে যুক্তরাষ্ট্র? by শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ নতুন করে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন—এমন একটা অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। আজ মঙ্গলবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, গতকাল সোমবার হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, আবার রাসায়নিক হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাশার। বিষয়টি তারা শনাক্ত করেছে। বাশারের দিকে তর্জনী তুলে কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা। বলেছে, রাসায়নিক অস্ত্র নিয়ে আগ বেড়েছো তো মরেছো। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এ জন্য ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে।
তাদের এই হুঁশিয়ারি ইরাকের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের পতন আর ইরাকের দুর্গতির কথা মনে করিয়ে দেয়। তৎকালীন সাদ্দাম ব্যাপক গণবিধ্বংসী অস্ত্র মজুত রেখেছেন, এই ধোয়া তুলে ২০০৩ সালের ২০ মার্চ ইরাকে অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী। ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞের পর দেখা গেল, সাদ্দামের গণবিধ্বংসী কোনো অস্ত্রই নেই। মাঝখান থেকে ইরাক পরিণত হলো যুদ্ধের ডামাডোলে ভরা এক ধ্বংসের দেশে। যার জের এখনো চলছে।
ঘটনা এখানেই শেষ নয়। মার্কিন মাতব্বরির ছড়ি চরকির মতো ঘুরতে ঘুরতে যেদিকেই গেছে, সেখানের জনপদ আর জনমানবের সাড়ে সর্বনাশ করে ছেড়েছে। লিবিয়ায় গাদ্দাফিকে ইঙ্গো-মার্কিন জোট কীভাবে উৎখাত করেছে, দুনিয়ার মানুষ তা দেখেছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্য যেসব দেশে শাসকদের বিরুদ্ধে উৎখাত আন্দোলন হয়েছে, সশস্ত্র বিদ্রোহ হয়েছে, প্রতিটিতেই কম-বেশি মার্কিন মদদ রয়েছে। তারা গলা ফুলিয়ে রব তুলেছে—এরা স্বৈরাচার, এদের হটাও। কিন্তু অন্তরালে থাকা সুপ্ত বাসনার কথা তারা প্রকাশ করেনি। যদিও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কল্যাণে এখন তাদের অভিলাষ দিবালোকের মতো ফকফকে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি পদক্ষেপের মূলে ছিল তেলসম্পদ বাগানো আর অস্ত্র-বাণিজ্য করা। কাতারকে ঘিরে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটেও যুক্তরাষ্ট্রের হাত রয়েছে।
নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর পশ্চিমা মদদে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ সারা বিশ্বে একক আধিপত্য বিস্তার করে চলেছে। ইরান এবং জঙ্গি ও সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে মদদ এবং অর্থসহায়তা দেওয়ার অভিযোগে কাতারকে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলো একঘরে করেছে। দেশগুলো হচ্ছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর ও বাহরাইন। কাতারের সঙ্গে তারা স্থলভাগ, আকাশপথ ও নৌপথে সব ধরনের যোগাযোগ ছিন্ন করেছে। কাতার অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে, তাদের সার্বভৌমত্ব আর পররাষ্ট্রনীতিকে খর্ব করতেই এ নিষেধাজ্ঞা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে কাতারকে একঘরে করার বিষয়টিকে সমর্থন করলেও পরে অবস্থান থেকে পিছিয়ে আসে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন তো বলেই দিয়েছেন, প্রতিবেশী দেশগুলো যে ১৩টি শর্ত দিয়ে কাতারকে একঘরে করেছে, এর কিছু শর্ত পূরণ করা সতি৵ই কঠিন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, উগ্রপন্থী সংগঠনগুলোর সঙ্গে কাতারের যোগসূত্র থাকার কথা বলে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এটা আসলে তাদের অস্ত্র বিক্রির ধান্দা। সৌদি আরবে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করবে বলে ঠিক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে এর মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
সিরিয়াকে রাসায়নিক অস্ত্রের প্রস্তুতির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারিকে অনেকেই বাঁকা দৃষ্টিতে দেখছে। সিরিয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগী রাশিয়া এর মধ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা বলছে, রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতির কথা বলে যুক্তরাষ্ট্র আসলে দামেস্কে হামলা চালাতে চাইছে। বাশার এর মধ্যে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যা বলেছ, তা অতিরঞ্জিত। এর আগে ২০১৩ সালে বাশারের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের জোরালো অভিযোগ ওঠে। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় সরাসরি হামলা চালানোর প্রস্তুতি নেয়। তখন রাশিয়ার মধ্যস্থতায় সিরিয়া তার রাসায়নিক অস্ত্রের মজুত জাতিসংঘের কাছে হস্তান্তর করে। পরে এসব ধ্বংস করে ফেলা হয়।
গত এপ্রিলেও সিরিয়ার বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ তোলে যুক্তরাষ্ট্র। দাবি করা হয়, বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বাশারের সেনারা এ অস্ত্র ব্যবহার করেছে। যে বিমানঘাঁটি থেকে এই অস্ত্র ব্যবহার করা হয় বলে যুক্তরাষ্ট্র সন্দেহ প্রকাশ করে, সেখানে তারা ৫৯টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। সিরিয়ায় এটা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হামলা। রাশিয়া মনে করছে, এবারও যুক্তরাষ্ট্র কোনো ছলছুতো করে সিরিয়ায় হামলা চালাতে চাইছে। ক্রেমলিন এর মধ্যে বলেছে, বাশারের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তারা পাশে আছে তাঁর।
মধ্যপ্রাচ্যে সিরিয়াই একমাত্র দেশ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র সরকার উৎখাতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তেমন সুবিধা আদায় করতে পারেনি। ২০১১ সালের মার্চে সিরিয়ার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সেখানে এ পর্যন্ত ৩ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র সেখানে নতুন করে হামলার চেষ্টা চলালে সংঘাত আরও বাড়বে বই কমবে না। কারণ, এখন রাশিয়া আছে সিরিয়ার ক্ষমতাসীন বাশারের পাশে। বাশারকে টিকিয়ে রাখতে তারা যে চেষ্টার ত্রুটি করবে না, তা এর আগে তারা বহুবার জানান দিয়েছে।
শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া: কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক
sharifrari@gmail. com