Thursday, August 27, 2026

পুরোনো জাহাজ নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়ালেন নেতানিয়াহু ও তার নিরাপত্তামন্ত্রী বেন গভির

ইসরাইলের রাজনীতিতে পুরোনো এক অধ্যায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ডুবে যাওয়া ইরগুনের অস্ত্রবাহী জাহাজ আলতালেনা ঘিরে মুখোমুখি হয়েছেন দেশটির উগ্রপন্থি দুই নেতা—প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।

ইরগুন ছিল ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে ও ১৯৪৮ সালের যুদ্ধের সময় সক্রিয় একটি ইহুদি আধাসামরিক সংগঠন। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডে সংগঠনটির জড়িত থাকার ইতিহাস রয়েছে। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়। ফিলিস্তিনিদের কাছে এ ঘটনা ‘নাকবা’ বা মহাবিপর্যয় হিসেবে পরিচিত।

সোমবার আলতালেনার ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়ার ঘোষণা দেন বেন-গভির। তার ঘোষণার পরই বিষয়টি রাজনৈতিক গুরুত্ব পায়। দ্রুত ঘটনাস্থলে যান নেতানিয়াহুও। এরপর একই স্থান থেকে আলাদা ভিডিও বার্তা দেন দুই নেতা।

জাফার কাছে ইরগুনের হিব্রু নাম ‘এতজেল’-এর নামে প্রতিষ্ঠিত এতজেল জাদুঘরে গিয়ে নেতানিয়াহু আলতালেনার ইতিহাস তুলে ধরেন। তার দল লিকুদ নিজেদের ইরগুনের রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে দাবি করে।

কী হয়েছিল আলতালেনার

১৯৪৮ সালের জুনে ফ্রান্স থেকে ইরগুনের জন্য অস্ত্র নিয়ে ইসরাইলে আসে আলতালেনা। কিন্তু অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরগুন ও নবগঠিত ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

ইসরাইলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন-গুরিয়নের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত জাহাজটি ডুবিয়ে দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় ইসরাইলিদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

নেতানিয়াহু তার বক্তব্যে ওই সময়ের ইরগুন কমান্ডার মেনাখেম বেগিনের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইসরাইলি বাহিনী গুলি চালালেও বেগিন তার যোদ্ধাদের পাল্টা গুলি না চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এরপর নেতানিয়াহু বর্তমান সময়ের রাজনীতির সঙ্গে ওই ঘটনার তুলনা করেন। নিজের ও লিকুদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও ইসরাইলিরা পরস্পরের ভাই।

নাকবার রক্তাক্ত ইতিহাস

ইরগুনের সঙ্গে ইসরাইলের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস যেমন জড়িয়ে আছে, তেমনি জড়িয়ে আছে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি ও সহিংসতার ইতিহাসও।

১৯৪৮ সালের এপ্রিলে জেরুজালেমের কাছে দেইর ইয়াসিন গ্রামে ইরগুন ও আরেক উগ্রপন্থি আধাসামরিক সংগঠন লেহির যোদ্ধারা হামলা চালান। নারী ও শিশুসহ শতাধিক গ্রামবাসী নিহত হন। এর আগে গ্রামটির সঙ্গে নবগঠিত ইসরাইলি বাহিনীর অনাক্রমণ চুক্তি হয়েছিল বলে ইতিহাসবিদেরা উল্লেখ করেছেন।

এর কয়েক সপ্তাহ পর জাফায় হামলা চালায় ইরগুন। শহরের প্রান্তে গোলাবর্ষণসহ ওই অভিযানের পর বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি বাসিন্দা জাফা ছেড়ে পালিয়ে যান।

ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগেও ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভিযান চালিয়েছিল ইরগুন। ১৯৪৬ সালে জেরুজালেমের কিং ডেভিড হোটেলে বোমা হামলায় ৯০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।

তবে ইসরাইলি সমাজবিজ্ঞানী ইয়েহুদা শেনহাভ-শাহরাবানি মনে করেন, নাকবার সব দায় শুধু ইরগুনের ওপর চাপানো ঠিক নয়। তার মতে, ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করার ঘটনায় লেবার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত জায়নবাদী আধাসামরিক সংগঠনগুলোরও প্রধান ভূমিকা ছিল।

নির্বাচনের আগে নতুন সমীকরণ

আলতালেনার ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পাওয়ার ঘটনা এমন সময়ে সামনে এল, যখন অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক চাপে রয়েছেন নেতানিয়াহু। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে তার দল লিকুদ প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের ইয়াশার পার্টির পেছনে রয়েছে।

এই নির্বাচনে কট্টর উগ্রপন্থি ভোটারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আর সেই ভোটারদের মধ্যে বেন-গভিরেরও শক্তিশালী সমর্থন রয়েছে।

তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড্যানিয়েল বার-তালের মতে, আলতালেনা নিয়ে নতুন করে আগ্রহ মূলত নেতানিয়াহু ও বেন-গভিরের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণেই। অধিকাংশ ইসরাইলি ভোটারের কাছে বিষয়টির তেমন গুরুত্ব নেই।

বার-তালের ভাষ্য, আলতালেনা আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়ে বেন-গভির নেতানিয়াহুকে কিছুটা চাপে ফেলেছেন। পরে প্রধানমন্ত্রী তার সঙ্গে একই মঞ্চে ছবি তুলতে রাজি হননি—এ বিষয়টিও সামনে আনেন বেন-গভির।

বেন-গভির নিজেকে মেনাখেম বেগিনের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, অন্যরা যখন তার সঙ্গে একই মঞ্চে ছবি তুলতে চায় না, তখন বেগিনের মতো তিনিও সেই পরিস্থিতির স্বাদ জানেন।

‘বেন-গভির নেতানিয়াহুকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছেন’

চ্যাথাম হাউসের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক ইয়োসি মেকেলবার্গের মতে, ‘বেন-গভির নেতানিয়াহুর চেয়েও বেশি নেতানিয়াহু হয়ে উঠছেন।’

তার মতে, অন্য দেশের জনতুষ্টিবাদী নেতাদের মতো নেতানিয়াহু ও বেন-গভির—দুজনই নিজেদের সবচেয়ে বেশি নিপীড়িত ও অন্যায়ের শিকার হিসেবে তুলে ধরতে চান। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের রাজনৈতিক সমর্থকদের কাছে আরো জনপ্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন।

ইসরাইলে রাজনৈতিক সহিংসতা বাড়ার সময়ে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কার কথা বলা মূলত রাজনৈতিক বক্তব্য ও প্রচারণার অংশ বলে মনে করেন মেকেলবার্গ। তবে এমন বক্তব্যকে তিনি বিপজ্জনক বলেও সতর্ক করেছেন।

১৯৯৫ সালে প্রধানমন্ত্রী আইজাক রবিন হত্যার আগে ইসরাইলে উসকানিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরিতে নেতানিয়াহুর ভূমিকা ছিল—এমন দীর্ঘদিনের অভিযোগের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

মেকেলবার্গের মতে, নেতানিয়াহু সংকটের অনুভূতি জিইয়ে রাখতে এ ধরনের বক্তব্য ব্যবহার করেন। এরপর নিজেকেই সেই সংকট থেকে দেশকে উদ্ধারের নেতা হিসেবে তুলে ধরেন।

পুরোনো জাহাজ নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়ালেন নেতানিয়াহু ও তার নিরাপত্তামন্ত্রী বেন গভির
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ইতামার বেন গভির। ছবি: সংগৃহীত

দৈনন্দিন খাবারে সিসার ঝুঁকি থেকে কীভাবে মুক্ত হবেন by ডা. হিমেল বিশ্বাস

সাম্প্রতিককালে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনগুলো আমাদের রোজকার খাদ্যে সিসার উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। প্রোটিন পাউডার, দারুচিনি, আপেল এমনকি ডার্ক চকলেটের মতো জনপ্রিয় পণ্যগুলোয়ও সিসা পাওয়া যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, আমাদের খাবার কি তবে এক ‘অদৃশ্য ঘাতক’-এর কবলে?

লেড বা সিসা একটি মৌলিক উপাদান, যা মাটি ও পরিবেশে সব জায়গায় বিদ্যমান। ফলে গাছপালা এবং প্রাণিজ খাদ্যে সামান্য পরিমাণে সিসা থাকা স্বাভাবিক। তবে এই সামান্য উপস্থিতি থেকে সৃষ্ট ঝুঁকি এবং জনমনে তৈরি হওয়া আতঙ্কের মধ্যে একটি বড় ফারাক রয়েছে, যাকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ‘ঝুঁকি উপলব্ধির ব্যবধান’।

ঝুঁকির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে শিশুরা

সিসার কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশুরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্পষ্ট জানিয়েছে, শিশুদের জন্য সিসার সংস্পর্শে আসার কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। এমনকি সামান্য মাত্রাও তাদের স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি করে, যা বুদ্ধিমত্তার বিকাশে বাধা দেয়। বাংলাদেশেও কোটি কোটি শিশু সিসা দূষণের শিকার।

২০২২ থেকে ২০২৪ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকার শিশুদের রক্তে সিসার গড় ঘনত্ব হলো লিটারপ্রতি ৬৭ মাইক্রোগ্রাম। মার্কিন রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) নিরাপদ মান লিটারপ্রতি ৩৫ মাইক্রোগ্রাম, মানে স্বাভাবিকের চেয়ে এই মাত্রা অনেকটা বেশি বলতে গেলে প্রায় দ্বিগুণ। সিসা কোনো মাত্রায় গ্রহণযোগ্য নয়। এই নীরব বিষ শিশুদের আইকিউ কমিয়ে দিচ্ছে, আচরণগত সমস্যা বাড়াচ্ছে।

তবে এ সমস্যায় আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে হবে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ঝুঁকির মাত্রা পরিমাপের ক্ষেত্রে ‘ডোজ’ বা পরিমাণের গুরুত্ব অপরিসীম। মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) সিসা গ্রহণের যে সর্বোচ্চ দৈনিক সীমা (আইআরএল) নির্ধারণ করেছে, তা যথেষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই করা হয়েছে।

আমাদের করণীয় কী?

১. খাদ্যের বৈচিত্র্য: সিসা দূষণ এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনা। কোনো একটি নির্দিষ্ট খাবার বেশি পরিমাণে বা নিয়মিত না খেয়ে, সব ধরনের খাবার পরিমিত পরিমাণে খান। এটি সিসাসহ যেকোনো পরিবেশগত দূষণকারীর সংস্পর্শ কমিয়ে দেবে।

২. সরকারি নজরদারি: সিসার প্রধান উৎস, যেমন পুরোনো রং, দূষিত পানি ও ব্যাটারি কারখানার বর্জ্য—এগুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে।

৩. সচেতনতা বৃদ্ধি: সিসাযুক্ত মসলা, খেলনা বা প্রসাধনী ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। শিশুদের মাটি বা পুরোনো পেইন্টযুক্ত দেয়ালে খেলতে নিরুৎসাহিত করুন।

প্রয়োজন দ্রুত ও সম্মিলিত পদক্ষেপ

২০৪০ সালের মধ্যে ‘সিসামুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে, যা বাস্তবায়নে গৃহীত কর্মপরিকল্পনাগুলো হচ্ছে:

১. উৎস অপসারণ: সিসা দূষণের হটস্পট চিহ্নিত করে দ্রুত অপসারণ ও মাটি পরিষ্কার করা।

২. নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রয়োগ: সিসাযুক্ত রং, মসলা ও পণ্যের উৎপাদন ও বিক্রির ওপর কঠোর নজরদারি এবং আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

৩. জনসচেতনতা: সিসা দূষণ প্রতিরোধের উপায় (যেমন: ঘন ঘন হাত ধোয়া, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া ও পুরোনো রং করা দেয়াল থেকে শিশুদের দূরে রাখা) নিয়ে ব্যাপক গণসচেতনতা তৈরি করা।

সিসা নিয়ে ‘ভূতের ভয়’ নয়, বরং বৈচিত্র্যময় ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাসই হোক সুস্থ থাকার মূলমন্ত্র। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে একটি সিসামুক্ত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে।

সোর্স: ওয়েব এমডি, জার্নাল অব হেলথ অ্যান্ড পলিউশন

* ডা. হিমেল বিশ্বাস, ক্লিনিক্যাল স্টাফ, স্নায়ুরোগ বিভাগ, স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড, ঢাকা

দারুচিনি, আপেল এমনকি প্রোটিন পাউডারের মতো জনপ্রিয় পণ্যগুলোয়ও সিসা পাওয়া যাচ্ছে
দারুচিনি, আপেল এমনকি প্রোটিন পাউডারের মতো জনপ্রিয় পণ্যগুলোয়ও সিসা পাওয়া যাচ্ছে। ছবি: গ্রাফিকস

ফিলিস্তিনে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে ইউএনআরডব্লিউএ

আল-জাজিরাঃ ইসরাইল কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্র দখলে নিলেও ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর প্রধান ক্রিশ্চিয়ান সন্ডার্স।

তিনি বলেন, ‘আমরা কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা করছি না।’

আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সন্ডার্স এ কথা বলেন। এ সময় কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্র দখল নিয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের দেওয়া বিভিন্ন দাবিরও জবাব দেন তিনি।

ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের দাবি, কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি ইহুদি ন্যাশনাল ফান্ডের মালিকানাধীন। পরিকল্পিত একটি কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য জায়গাটি জেরুজালেম পৌরসভাকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া ২০২৪ সালের অক্টোবরে পাস হওয়া একটি আইনের কথাও উল্লেখ করেছে তারা। ওই আইনে ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রম সীমিত করার কথা বলা হয়।

ইউএনআরডব্লিউএ অবশ্য এসব দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটির বক্তব্য, কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্র জাতিসংঘের একটি স্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় এটি সুরক্ষিত।

সন্ডার্স বলেন, ইউএনআরডব্লিউএর দায়িত্ব জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সরাসরি দিয়েছে। ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সংস্থাটির কাজ হলো ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের মানবিক ও জনসেবা দেওয়া।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি মানবিক সংস্থা। আমরা উন্নয়নমূলক কাজও করি। গুরুত্বপূর্ণ সেবা দেওয়ার জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে।’

সন্ডার্স জানান, সাধারণ পরিষদ অন্য কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত অথবা ফিলিস্তিন প্রশ্নের একটি স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ইউএনআরডব্লিউএ তার কাজ চালিয়ে যাবে।

ইসরাইলি বাহিনীর অভিযানের পর কর্মী ও স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। এর মধ্যে নিরাপত্তা মূল্যায়ন, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

তবে জাতিসংঘের স্থাপনায় ইসরাইলি বাহিনীর বলপ্রয়োগের সমালোচনা করেছেন সন্ডার্স। তার মতে, এ ধরনের বলপ্রয়োগের পথ বেছে নেওয়া ঠিক হয়নি। এসব সমস্যার সমাধান আলোচনার মাধ্যমেই করতে হবে।

সন্ডার্স বলেন, ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের মুখোমুখি বসে এসব সমস্যা সমাধানের সময় অনেক আগেই এসেছে।

ইউএনআরডব্লিউএর ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা করছি না।’ ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ সেবা দিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

ফিলিস্তিনে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে ইউএনআরডব্লিউএ
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় ‘বোর্ড অব পিস’ ব্যর্থ -:এআইডিএর প্রধান

গাজার ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ ব্যর্থ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক ত্রাণ ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর জোট অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিজের (এআইডিএ) নির্বাহী পরিচালক অ্যাথেনা রেবার্ন।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে (ইউএনএসসি) দেওয়া বক্তব্যে রেবার্ন বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, ইসরাইলের অবৈধ উপস্থিতির অবসান এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের দিকে অগ্রগতি—এই তিনটি বিষয় দিয়ে বোর্ড অব পিসের কার্যক্রম বিচার করা উচিত। এসব মৌলিক মানদণ্ডে বোর্ডটি ব্যর্থ।

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে কাজ করা শতাধিক আন্তর্জাতিক ত্রাণ ও সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে এআইডিএ। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে রেবার্ন নিরাপত্তা পরিষদের সামনে গাজার বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবের অধীনে বোর্ড অব পিস গঠিত হয়েছে। এই প্রস্তাব সহিংসতা কমানোর সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু একই সময়ে এটি ইসরাইলের ‘অবৈধ উপস্থিতি’ আরো পাকাপোক্ত করার কাজ করেছে।

রেবার্নের অভিযোগ, গাজার ফিলিস্তিনিদের অধিকার এখন তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকারী পক্ষের ‘দূরপ্রসারী, খামখেয়ালি ও স্বেচ্ছাচারী’ শর্তের নিচে চাপা পড়ে গেছে।

তিনি বলেন, বর্তমান ব্যবস্থা এমন একটি পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করে তুলেছে, যেখানে প্রায় ২০ লাখ মানুষ গাজায় আটকা পড়ে আছেন। তাদের বেঁচে থাকার জন্য মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অথচ সেই সহায়তার প্রবেশ ও বিতরণ নিয়ন্ত্রণ ও সীমিত করছে সেই রাষ্ট্র, যার নীতির কারণে এই সংকট ও ঘাটতির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

রেবার্নের ভাষায়, ফিলিস্তিনিদের অধিকারকে অগ্রাধিকার না দিয়ে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে তাদের জীবনযাপন ক্রমেই মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

নিরাপত্তা পরিষদে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, গাজার বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দিকে অগ্রসর হওয়াই যেকোনো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। সেই মানদণ্ডে বর্তমান বোর্ড অব পিসের কার্যক্রম সন্তোষজনক নয়।

ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় ‘বোর্ড অব পিস’ ব্যর্থ
ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের আল-মাখা বন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইয়েমেনি সেনাবাহিনী একটি সূত্রের বরাতে দাবি করেছে যে, ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠী দেশটির আল-মাখা (মোখা) বন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে । খবর আলজাজিরার।

বুধবার হামলায় শহরের বন্দর এলাকায় অন্তত তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র আল-বারাহ মোড়ের দিকে গিয়ে পড়ে।

হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। হুতিরাও এখন পর্যন্ত হামলার দায় স্বীকার করেনি।

এদিকে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলীয় হোদেইদা গভর্নরেটের আল-খাওখাহ এলাকায় অন্তত পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তাইজের পূর্বে হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে ছোড়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মাখা ও এর বন্দর এলাকায় হুতিদের হামলা বেড়েছে। এর আগে আগস্টেও বন্দরনগরীটিতে হুতি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। 

হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন
হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন > হরমুজ প্রণালিতে একটি ট্যাংকারে আগুন ধরে গেছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এ তথ্য জানিয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে ইউকেএমটিও বলেছে, ট্যাংকারটিতে লাগা আগুন পরে নিভিয়ে ফেলা হয়েছে। জাহাজটির সব ক্রু নিরাপদে আছেন এবং তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। ঘটনায় এখন পর্যন্ত পরিবেশের ওপর কোনো ক্ষতিকর প্রভাবের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ট্যাংকারটিতে আঘাত করা বস্তুটি কী ছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ইউকেএমটিওও ঘটনাটিকে ‘অজ্ঞাত বস্তুর’ আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি। এই সমুদ্রপথে চলাচলকারী একটি ট্যাংকারে আগুন লাগার ঘটনায় জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

মার্কিন শক্তি প্রদর্শনের মিশনে ব্যর্থ রণতরী আব্রাহাম লিংকন : ইরান

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, দীর্ঘ সময় মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকার পর সমস্যাগ্রস্ত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এর নাবিকরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। খবর আলজাজিরার।

বুধবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বাঘাই বলেন, ‘আমেরিকানরা শক্তি প্রদর্শনের জন্য ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে এই অঞ্চলে পাঠিয়েছিল।’

এরপর তিনি ইঙ্গিত দেন যে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীটি তার মিশনে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, “কয়েক মাসের যুদ্ধের পর – এবং ২০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে কোনো বন্দরে না ভেড়ার পর – এটি এখন নাবিকদের [বিশ্রাম ও বিনোদনের জন্য] থাইল্যান্ডের দিকে যাচ্ছে।

থাই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ সামরিক মিশন শেষে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন আগামী সপ্তাহে থাইল্যান্ডে সংক্ষিপ্ত বিরতি নেবে। রণতরীটি টানা ২৫০ দিনেরও বেশি সময় সমুদ্রে থাকার পর সেখানে নোঙর করবে।

থাই প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সফরটির উদ্দেশ্য মূলত নাবিকদের বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধার। এ সময়ে থাই নৌবাহিনীর সঙ্গে কোনো যৌথ সামরিক মহড়া বা অভিযান হবে না।

এদিকে, দীর্ঘ সময়ের এই মোতায়েন রণতরীটির প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিনের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির পাশাপাশি খাবার ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীর ঘাটতির কথা জানিয়েছেন। 

মার্কিন শক্তি প্রদর্শনের মিশনে ব্যর্থ রণতরী আব্রাহাম লিংকন : ইরান

ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইস্যু ‘মুছে ফেলতে’ চায় ইসরাইল -:ইউএনআরডব্লিউএ প্রধান

ইসরাইল জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএকে বিলুপ্ত করে ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইস্যুটিই ‘মুছে ফেলতে’ চায় বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির প্রধান ক্রিশ্চিয়ান সন্ডার্স।

তার মতে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জাতিসংঘের উপস্থিতি বিলীন করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই ইউএনআরডব্লিউএর একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে অভিযান চালানো হয়েছে।

আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সন্ডার্স এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের কাছে কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ইসরাইলি বাহিনীর অভিযান শুধু একটি স্থাপনা দখলের ঘটনা নয়। এর পেছনে আরো বড় লক্ষ্য রয়েছে।

মঙ্গলবার কাফর আকাব এলাকায় অবস্থিত ওই প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি দখলে নেয় ইসরাইলি বাহিনী। অভিযানে ইউএনআরডব্লিউএর কর্মীরা সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য হন। এ সময় ইসরাইলি বাহিনীর ছোড়া গুলিতে অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি আহত হন।

অভিযানে অংশ নেন ইসরাইলের কট্টরপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। সেখানে তিনি ঘোষণা দেন, ‘জেরুজালেম ও ইসরাইলে এই সংস্থার কোনো জায়গা নেই।’

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এই অভিযান ও স্থাপনা খালি করার সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি দাবি করেন, ইসরাইলি আইনের আওতায় এ পদক্ষেপ বৈধ। একই সঙ্গে ইউএনআরডব্লিউএর বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় হামাসকে সহায়তা করার অভিযোগ তোলেন তিনি।

তবে ইউএনআরডব্লিউএর প্রধান সন্ডার্সের বক্তব্য, এর লক্ষ্য আরো গভীরে।

তার ভাষ্য, সংস্থাটিকে অর্থসংকটে ফেলে বিলুপ্ত করা গেলে ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইস্যুটিও আর থাকবে না—এমনটাই আশা করছে ইসরাইল।

সন্ডার্স বলেন, ইউএনআরডব্লিউএর অর্থায়ন বন্ধ করে সংস্থাটিকে বিলুপ্ত করা হলে ফিলিস্তিনি শরণার্থী সমস্যাটি ‘শেষ হয়ে যাবে’। একই সঙ্গে শরণার্থীদের নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার, পুনরুদ্ধার এবং ক্ষতিপূরণের দাবিও আর থাকবে না।

কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সন্ডার্স। তিনি বলেন, কেন্দ্রটি স্থানীয় তরুণদের জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছিল।

তার ভাষ্য, কেন্দ্রটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৩৪০ তরুণ প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত হবে। এই কর্মসূচি তরুণদের দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন গড়ার সুযোগ করে দিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সন্ডার্স বলেন, প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি হারানোর অর্থ শুধু একটি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। এর সঙ্গে শত শত তরুণের শিক্ষা, দক্ষতা অর্জন এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও বন্ধ হয়ে গেল।

ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইস্যু ‘মুছে ফেলতে’ চায় ইসরাইল
ছবি: এপি

ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ছাড়া শান্তি আসবে না: জাতিসংঘে কাতার

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ঘটাতে হবে বলে জানিয়েছে কাতার। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক অধিবেশনে এ কথা বলেছেন জাতিসংঘে কাতারের রাষ্ট্রদূত আলিয়া আহমেদ সাইফ আল-থানি। খবর আলজাজিরা।

গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে আয়োজিত ওই অধিবেশনে আরব গোষ্ঠীর পক্ষে বক্তব্য দেন আল-থানি। তিনি বলেন, ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান না ঘটালে ন্যায়সংগত, পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই শান্তি অর্জন করা সম্ভব নয়।

তিনি গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলের চলমান ‘গুরুতর লঙ্ঘনের’ নিন্দা জানান। আল-থানি বলেন, এর মধ্যে রয়েছে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র এবং ২০২৫ সালের ব্যাপক পরিকল্পনা—যুদ্ধ বন্ধ, জিম্মিদের মুক্তি এবং গাজা উপত্যকা পুনর্গঠনের জন্য মার্কিন নেতৃত্বাধীন একটি বহুপাক্ষিক চুক্তি—উভয়কেই ইসরায়েলের প্রত্যাখ্যান।

আল-থানি বলেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে মৌলিকভাবে দুর্বল করা হচ্ছে। এ কারণে তিনি পরিকল্পনাটির পূর্ণ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

তিনি আরো বলেন, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রমবর্ধমান স্বীকৃতি দেওয়ার ঘটনাকে স্বাগত জানান কাতারের এই রাষ্ট্রদূত।

ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ছাড়া শান্তি আসবে না: জাতিসংঘে কাতার

ভারতে হিজাব পরায় বাধা, ক্ষুব্ধ ওয়াইসি বললেন ‘এটি ইসলামের ওপর আঘাত’

ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি স্কুলছাত্রীর ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার আবেদন খারিজের রায়ের সমালোচনা করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) সভাপতি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তিনি এ রায়কে ‘ইসলামের ওপর আঘাত’ বলে মন্তব্য করেছেন।

মঙ্গলবার এআইএমআইএমের দারুস সালাম কার্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত ‘জালসা-এ-রহমাতুল লিল আলামিন’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ওয়াইসি এ মন্তব্য করেন।

ওয়াইসি বলেন, স্কুলে কোনো ছাত্রী হিজাব পরতে পারবে না—আদালতের এমন সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি একমত নন। তিনি প্রশ্ন করেন, সুপ্রিম কোর্টের নয় বিচারপতির বেঞ্চে সাবরিমালা-সংক্রান্ত বিষয়টি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় হাইকোর্ট কেন কোনো ধর্মীয় অনুশীলন ইসলামের জন্য অপরিহার্য কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিল।

তিনি বলেন, “আজকের রায় ভারতের সংবিধানের ২৫ ও ১৯ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। ইসলামের জন্য কোনটি অপরিহার্য, তা নির্ধারণ করার অধিকার আপনাদের কে দিয়েছে? মেয়েরা মাথায় হিজাব পরে, মনে নয়।”

এর আগে এলাহাবাদ হাইকোর্ট বলেছিল, বৈষম্যহীন ও সৎ উদ্দেশ্যে নির্ধারিত ইউনিফর্ম নীতিমালা স্কুল কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারভুক্ত। ওই ছাত্রী আগের বছরগুলোতে কোনো আপত্তি ছাড়াই মাথায় স্কার্ফ পরলেও এবার পোশাকবিধির কারণ দেখিয়ে তাঁকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি দেওয়া হয়নি।

এদিকে আসাম ও উত্তরাখণ্ডে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি প্রণয়নের উদ্যোগেরও সমালোচনা করেন ওয়াইসি। তার দাবি, ইউসিসির নামে হিন্দু ব্যক্তিগত আইন, যেমন হিন্দু বিবাহ আইন, বিবাহবিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত আইন অনুসরণে মুসলমানদের বাধ্য করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মুসলমানদের কেন এসব আইন অনুসরণ করতে হবে। তাঁর ভাষ্য, ধর্মীয় বিশ্বাসে অটল মুসলমানরা কোরআন ও সুন্নাহ অনুসরণ করেই চলবেন।

‘বন্দে মাতরম’ নিয়েও বক্তব্য দেন ওয়াইসি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুভাষচন্দ্র বসু ও মহাত্মা গান্ধীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, গানটির প্রথম দুটি স্তবকই গাওয়ার জন্য নির্ধারিত ছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁদের চেয়ে নিজেকে বেশি জ্ঞানী মনে করেন কি না—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

ওয়াইসি বলেন, ভারত সবার এবং পরিণতি যা-ই হোক, তিনি কালেমা ঘোষণা করে যাবেন।

এ সময় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) ও বিজেপিরও সমালোচনা করেন এআইএমআইএম সভাপতি। তার দাবি, ভারতের সংবিধান গৃহীত হওয়ার কয়েকদিন পরই আরএসএসের মুখপত্র সংবিধানের পরিবর্তে মনুস্মৃতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।

তিনি আন্দামান কারাগারে বিনায়ক দামোদর সাভারকারের আচরণের সঙ্গে মুসলিম স্বাধীনতাসংগ্রামীদের ভূমিকার তুলনা করেন এবং দাবি করেন, মুসলিম স্বাধীনতাসংগ্রামীরা কখনো ব্রিটিশদের অনুগ্রহ চাননি। স্বাধীনতা সংগ্রামে আরএসএস কোনো ত্যাগ স্বীকার করেনি বলেও দাবি করেন তিনি।

সূত্র: এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া, মুসলিম মিরর

ভারতে হিজাব পরায় বাধা, ক্ষুব্ধ ওয়াইসি বললেন ‘এটি ইসলামের ওপর আঘাত’
ছবি: সংগৃহীত।

ব্রিটেনে ইসলামি প্রজাতন্ত্র গড়ছেন না মুসলিমরা—এটি তাদেরই দেশ

কয়েকদিন আগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটির অন্যতম প্রাচীন মিত্র ব্রিটেন সম্পর্কে একটি চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন। যেখানে নেতানিয়াহু ইসরাইলি আর্মি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রিটেনকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অফ ব্রিটেন’ এবং ‘পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনকারী প্রথম ইসলামিক প্রজাতন্ত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এর মাধ্যমে মূলত তিনি একটি সতর্কবাণী দিয়েছিলেন। কিন্তু এই সতর্কবার্তা ব্রিটেন শহর সম্পর্কে জানার চেয়ে বরং এই উক্তিটির পেছনের রাজনীতিকেই বের করে আনে।

মুসলিমদের দৃশ্যমানতা ও ‘ইসলামীকরণ’ বিতর্ক

ব্রিটেন একটি বৈচিত্র্যময় গণতন্ত্র, যেখানে মুসলিমরা মোট জনসংখ্যার প্রায় ছয় শতাংশ। রাজনীতি, সংস্কৃতি, পেশাগত ক্ষেত্র এবং জনজীবনে তাদের ক্রমবর্ধমান দৃশ্যমানতা হলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বসতি স্থাপন, নাগরিকত্ব এবং অংশগ্রহণের এক স্বাভাবিক পরিণতি।

কিন্তু মুসলিম-বিরোধী আতঙ্কের রাজনীতিতে, দৃশ্যমানতাকে আধিপত্য, বৈচিত্র্যকে ‘ইসলামীকরণ’ এবং অংশগ্রহণকে অনুপ্রবেশ হিসেবে নতুন রূপ দেওয়া হয়। এর অন্তর্নিহিত প্রস্তাবনাটি বেশ অদ্ভুত: যখন একটি গণতন্ত্রে মুসলমানরা যথেষ্ট দৃশ্যমান হয়ে ওঠে, তখন গণতন্ত্র নিজেই কোনোভাবে মুসলিম হয়ে যায়।

ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বাছাই করা আতঙ্ক

এই বাছাই প্রক্রিয়াটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ব্রিটেনে সম্প্রতি ঋষি সুনাকের মতো একজন প্র্যাক্টিসিং হিন্দু প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, নেতানিয়াহু এবং তার আদর্শগত মিত্ররা তখন ব্রিটেনের মধ্যে কেনো ‘হিন্দুকরণ’ আঁচ করতে পারেননি। এমনকি ওয়েস্টমিনস্টার যে একটি হিন্দু প্রজাতন্ত্রে পরিণত হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো সতর্কবার্তা ছিল না।

সুনাকের স্থলাভিষিক্ত হন কিয়ার স্টারমার, যার স্ত্রী ইহুদি এবং সন্তানরা ইহুদি ঐতিহ্য অনুসারে বেড়ে উঠেছে। এবারও ‘ব্রিটেনের ইহুদিকরণ’ নিয়ে কোনো কথা হয়নি, কিংবা টেমস নদীর তীরে একটি ইহুদি প্রজাতন্ত্র গড়ে ওঠার কোনো জল্পনাও শোনা যায়নি।

ব্রিটেনের বর্তমান নেতৃত্ব দিচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, যিনি একজন ক্যাথলিক। এখন পর্যন্ত, ‘ব্রিটেনের ক্যাথলিকীকরণ’ দৃশ্যত নেতানিয়াহুরও দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে।

জাতিগত বৈচিত্র্য

কিন্তু মুসলিমরা রাজনীতি বা পেশাগত ক্ষেত্রে দৃশ্যমান হলেই তাকে ‘ইসলামীকরণ’ বা ‘অনুপ্রবেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়। মুসলিম মেয়র, এমপি, ডাক্তার, আইনজীবী এবং ভোটাররা কেবল অংশগ্রহণের প্রমাণ নয়, বরং ‘ইসলামীকরণের’ প্রমাণ হয়ে ওঠে। তাদের দৃশ্যমানতা হয়ে দাঁড়ায় জনসংখ্যাতাত্ত্বিক হুমকি; তাদের রাজনৈতিক প্রভাব হয়ে ওঠে অনুপ্রবেশ।

মনে হচ্ছে, ধর্মীয় বহুত্ববাদ বহুত্ববাদই থেকে যায়—যতক্ষণ না সেই ধর্মটি ইসলাম হয়।

ব্রিটেনে মুসলিমদের বাস্তব অবস্থান

বাস্তবতা ততটা চাঞ্চল্যকর নয়। ব্রিটেনে প্রায় চল্লিশ লাখ মুসলিম বসবাস করেন, যা একটি ক্ষুদ্র সংখ্যালঘু মাত্র। সেখানে কোনো উল্লেখযোগ্য আন্দোলন নেই যা একটি ইসলামিক রাষ্ট্র বা খিলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

ব্রিটিশ রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং আইন সম্পূর্ণ ব্রিটিশই রয়েছে; সংসদ কোনো শুরা কাউন্সিল দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়নি এবং ব্রিটিশ আইনও ইসলামিক আইন দ্বারা উচ্ছেদ করা হয়নি।

পরিবর্তনটি মূলত দৃশ্যমানতার ক্ষেত্রে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী ইংল্যান্ডে প্রায় ১৩,০০০ মুসলিম ডাক্তার কর্মরত ছিলেন, যা মোট চিকিৎসকদের প্রায় ১০% (জনসংখ্যার অনুপাতের প্রায় দ্বিগুণ)। তারা নির্বাচনে ভোট দেন এবং তাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিরা ইংরেজিকে প্রথম ভাষা হিসেবে ব্যবহার করে ব্রিটেনকেই তাদের নিজের বাড়ি মনে করে।

এটিকে ইসলামী দখলের প্রমাণ হিসেবে চিত্রিত করা মানে নাগরিকত্বকে বিজয়ের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা—এবং এই বিভ্রান্তির একটি ইতিহাস রয়েছে।

ইউরোপের ইতিহাসে ইসলামের দীর্ঘ উপস্থিতি

ইউরোপের ইতিহাসে ইসলাম কোনো নতুন বিষয় নয়। সহস্রাধিক বছর ধরে যুদ্ধ, বাণিজ্য, পাণ্ডিত্য, অভিবাসন, কূটনীতি এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের মাধ্যমে ইউরোপ ও মুসলিম বিশ্বের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে।

আল-আন্দালুসে বহু শতাব্দী ধরে মুসলিম সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল। খ্রিস্টান ইউরোপের রাজনৈতিক কল্পনায় আরব ও অটোমানরা বারবার আবির্ভূত হয়েছিল। পোয়াতিয়ে থেকে ভিয়েনা পর্যন্ত, এই মুসলিম ‘অন্য’ সত্তাটি ইউরোপকে তার আত্মপরিচয় নির্ধারণে সহায়তা করেছিল।

সুতরাং ইসলাম কখনোই ইউরোপীয় ইতিহাসের বাইরে ছিল না। এটি ছিল সেই শক্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম, যার বিরুদ্ধে এবং যার সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরোপ নিজেকে গড়ে তুলেছিল।

যুদ্ধোত্তর অভিবাসন ও ইউরোপ পুনর্গঠন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সেই সম্পর্কটি মৌলিকভাবে বদলে যায়। বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনকারী ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের উপনিবেশ ও সাবেক উপনিবেশগুলো থেকে শ্রমিক নিয়ে আসে। ব্রিটেন দক্ষিণ এশিয়া ও অন্যান্য স্থান থেকে অভিবাসী গ্রহণ করে; ফ্রান্স উত্তর আফ্রিকা থেকে; এবং অন্যান্য ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো তাদের নিজস্ব ঔপনিবেশিক প্রভাবাধীন অঞ্চল বা শ্রম সংগ্রহের এলাকা থেকে শ্রমিক নেয়।

এইসব পুরুষ ও মহিলা কারখানা, পরিবহন ব্যবস্থা, হাসপাতাল এবং সরকারি পরিষেবাগুলিতে কাজ করতেন। তাঁরা প্রায়শই সমাজের প্রান্তিক অবস্থানে থেকেও ইউরোপ পুনর্গঠনে সহায়তা করেছিলেন।

কিন্তু সেটাও গল্পের শুরু ছিল না।

যুদ্ধ, আত্মত্যাগ ও ব্রিটিশ ইতিহাসে মুসলিমদের ভূমিকা

যুদ্ধোত্তর অভিবাসন ব্রিটেনকে বদলে দেওয়ার অনেক আগেই, মুসলমানরা ব্রিটিশ ও মিত্রশক্তির পাশাপাশি বিপুল সংখ্যায় যুদ্ধ করেছিল এবং প্রাণ দিয়েছিল। সংসদে উদ্ধৃত হিসাব অনুযায়ী, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তাদের অবদান ছিল কমপক্ষে ২৫ লক্ষ সৈন্য ও শ্রমিক এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ৫৫ লক্ষ, এবং ধারণা করা হয় যে এই দুই সংঘাত জুড়ে প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ যুদ্ধে নিহত হয়েছিল।

মুসলিম সৈন্যরা ফ্রান্স ও বেলজিয়ামের পরিখায়, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এবং সুদূর প্রাচ্যের যুদ্ধাভিযানে লড়াই করেছিল। শুধুমাত্র প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ই ব্রিটিশ ভারত থেকে চার লক্ষেরও বেশি মুসলিম যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল।

তাদের এই আত্মত্যাগ এমন এক সমসাময়িক রাজনীতির পাশে বেমানান মনে হয়, যা খুব সহজেই মুসলমানদের নবাগত, বহিরাগত অথবা এমন এক জনগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করে যাদের অন্তর্ভুক্তির প্রমাণ ক্রমাগত দিতে হয়। মুসলমানরা ব্রিটিশ ইতিহাসে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত কোনো ভিনগ্রহী সত্তা নয়। তারা এর যুদ্ধগুলোতে লড়তে, এর স্বাধীনতা রক্ষা করতে এবং এর ইতিহাস গঠনে সাহায্য করেছে।

অভিবাসী থেকে নাগরিক

তারা থিতু হলেন। তাদের সন্তান জন্মালো, তারপর নাতি-নাতনি। সেই ‘অভিবাসী’ নাগরিক হয়ে উঠলেন।

এই রূপান্তরটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আজকের অধিকাংশ কথাবার্তাই আগমনের পরিভাষায় আটকে আছে, যেন মুসলিম পটভূমির লক্ষ লক্ষ ইউরোপীয় এইমাত্র একটি নৌকা থেকে নেমেছেন এবং যেকোনো মুহূর্তে তাদের অন্য কোথাও ফিরে যেতে প্ররোচিত করা যেতে পারে।

কিন্তু চতুর্থ প্রজন্মের একজন লন্ডনবাসী ঠিক কোথায় “ফিরে” যাবে? ব্রিটেনই তো তার বাড়ি। এটাই সেই বাস্তবতা, যার সঙ্গে চিরস্থায়ী পরদেশীত্বের রাজনীতি লড়াই করতে হিমশিম খায়।

আধুনিক ব্রিটেন ও বহুত্ববাদ

আধুনিক ব্রিটেন কোনো অপরিবর্তনীয় সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার নয়, যা এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে অবিকৃতভাবে চলে আসে। এটি এমন একটি সমাজ যা এর অধিবাসীরাই ক্রমাগত রূপদান করে। খ্রিস্টান, ইহুদি, মুসলিম, হিন্দু, শিখ, ধর্মনিরপেক্ষ এবং অধার্মিকদের জীবনযাত্রা এখন একই জাতীয় পরিসরে একে অপরের সাথে মিশে গেছে।

আর একীকরণ মানে কখনোই এই নয় যে সংখ্যালঘুরা অপরিবর্তিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সংস্কৃতির সাথে কেবল বিলীন হয়ে যাবে। এটি উভয় দিকেই কাজ করে।

নাগরিকত্ব, পরিচয় ও অন্তর্ভুক্তি

এই কারণেই “ইসলামিক রিপাবলিক অফ ব্রিটেন” কথাটি শুধু উপহাসের চেয়েও বেশি কিছু দাবি করে। এর অযৌক্তিকতার আড়ালে নাগরিকত্বের এক গভীর বর্জনমূলক ধারণা নিহিত রয়েছে: যে কিছু নাগরিক স্বাভাবিকভাবেই জাতির অন্তর্ভুক্ত, আর অন্যরা স্থায়ী অতিথি হয়ে থাকে, যাদের রাজনৈতিক দৃশ্যমানতার জন্য ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়।

একজন মুসলমান আপাতদৃষ্টিতে ব্রিটিশ হতে পারেন—যদি তার ব্রিটিশ পরিচয় যথেষ্ট পরিমাণে অস্পষ্ট থাকে।

কিন্তু নাগরিকত্ব এভাবে কাজ করে না। সংসদে একজন ব্রিটিশ মুসলিম নির্বাচিত হওয়াটা এই প্রমাণ দেয় না যে মুসলিমরা ব্রিটেন দখল করে নিয়েছে। বরং এটি প্রমাণ করে যে ব্রিটিশ মুসলিমরা ভোট দেয় এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।

জাতীয় স্বাস্থ্য সেবায় একজন মুসলিম ডাক্তার থাকা ইসলামীকরণের প্রমাণ নয়। গির্জা, সিনাগগ বা মন্দিরের পাশে একটি মসজিদ থাকাও বিজয়ের প্রমাণ নয়।

কোনো মুসলিম পরিবার, যাদের দাদা-দাদি বা নানা-নানি পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, সোমালিয়া বা মরক্কো থেকে এসেছিলেন, তারা তাদের জাতীয় উত্তরাধিকারের পাশাপাশি একটি ধর্মীয় উত্তরাধিকার ধরে রাখার কারণে কম ব্রিটিশ হয়ে যান না।

আধুনিক ব্রিটেন

বহুত্ববাদ মানে ব্রিটেনের বিলুপ্তি নয়। এটিই সমসাময়িক ব্রিটেন – এবং মুসলিমদের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উপস্থিতিকেও সেইভাবেই বোঝা উচিত। বিভিন্ন সম্প্রদায় যখন প্রতিষ্ঠিত, শিক্ষিত ও সামাজিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায়। গণতান্ত্রিক সমাজজুড়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর ক্ষেত্রে এই একই প্রক্রিয়া বারবার ঘটেছে।

সূত্র:মিডল ইস্ট আই

ব্রিটেনে ইসলামি প্রজাতন্ত্র গড়ছেন না মুসলিমরা—এটি তাদেরই দেশ
ছবি: সংগৃহীত।

পুরুষের সমস্যা ভেরিকোসিল কেন হয়, চিকিৎসা কী? by অধ্যাপক ডা. আজফার উদ্দীন শেখ

অণ্ডকোষ বা টেস্টিসের শিরাগুলো যখন অনেক মোটা হয়ে যায়, তাকে ভেরিকোসিল বলে। ভেরিকোসিল অণ্ডকোষে ব্যথার অন্যতম কারণ। ভেরিকোসিল আর ভেরিকোস ভেইন এক নয়; ভেরিকোস ভেইন সাধারণত পায়ের মোটা ও আঁকাবাঁকা শিরাকে বোঝায়।

ভেরিকোসিলে সমস্যা

ভেরিকোসিলের জন্য অণ্ডকোষ/ অণ্ডথলি মোটা দেখায়, হালকা ধরনের বিরক্তিকর ব্যথা থাকে; যা অণ্ডকোষ, কুঁচকি হয়ে পশ্চাৎ পিঠেও যেতে পারে। শিশুকাল বা যৌবনের শুরুতে ভেরিকোসিল হলে অণ্ডকোষ ছোট হয়ে যেতে পারে। ভেরিকোসিল থাকলে অণ্ডকোষের তাপমাত্রা ও ফ্রি–রেডিকেল বেড়ে যায়, ফলে স্বাভাবিক শুক্রাণু উৎপাদন ও এর চলন ব্যাহত হয়। শুক্রাণুর এসব সমস্যা পুরুষের বন্ধ্যত্বের জন্য দায়ী। তা ছাড়া ভেরিকোসিল থাকলে অণ্ডকোষ থেকে টেস্টোসটেরন হরমোন তৈরি কমে যেতে পারে, এ কারণে যৌন দুর্বলতা ও যৌন সম্পর্কে অনাগ্রহ দেখা দিতে পারে।

কারণ

অণ্ডকোষের শিরাগুলো যদি ঠিকভাবে রক্ত অণ্ডকোষ থেকে পেটের ভেতর বহন করতে না পারে, তাহলে ভেরিকোসিল হতে পারে। এ ক্ষেত্রে শিরার ভেতরের ভালভগুলো নষ্ট হয়ে যায় বা কাজ করে না। তা ছাড়া পেটের ভেতরের অপেক্ষাকৃত উষ্ণ রক্ত রিফ্লাক্স হয়ে বা উল্টোপথে অণ্ডকোষে চলে এলে সেখানকার তাপমাত্রা বেড়ে যায়।

রক্ত জমে থাকতে থাকতে শিরাগুলো ফুলে যায় ও আঁকাবাঁকা হয়ে যায়। অণ্ডকোষের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া, ফ্রি–রেডিকেল ও শুক্রাণুর ডিএনএতে ক্ষতিসাধনের মাধ্যমে ভেরিকোসিল শুক্রাণু উৎপাদন ও চলনের ক্ষতি করে বন্ধ্যত্ব সৃষ্টি করতে পারে। তাই যাঁদের সন্তান হচ্ছে না ও সিমেন অ্যানালাইসিসে শুক্রাণুর সমস্যা আছে, তাঁদের ভেরিকোসিল আছে কি না, পরীক্ষা করে দেখতে হবে এবং এর চিকিৎসা নিতে হবে।

চিকিৎসা

● ওষুধের মাধ্যমে ভেরিকোসিলের ভালো চিকিৎসা নেই। প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যথার জন্য ওষুধ ও অণ্ডকোষের সাপোর্ট বা টাইট আন্ডারওয়্যার ব্যবহার করলে সাময়িক আরাম পাবেন; কিন্তু পুরোপুরি রোগ নিরাময় হবে না।

● অনেক ক্ষেত্রে অনেক দিন ধরে অণ্ডকোষে ব্যথা থাকে। ব্যথার ওষুধ আর অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে অনেকে আশ্বাস পান যে এতেই ভালো হয়ে যাবেন। এমন রোগীর অনেকেরই কিন্তু ভেরিকোসিল আছে, যা ধরা পড়তে দেরি হয়। তাই ভেরিকোসিল সন্দেহ হলে বা অণ্ডকোষে ব্যথা হলে অভিজ্ঞ ইউরোলজিস্ট ও ইন্ডোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

● ভেরিকোসিলের সঠিক ও সর্বোত্তম চিকিৎসা হলো মাইক্রোসার্জিক্যাল ভেরিকোসিলেকটমি। এতে রোগটি ফিরে আসার আশঙ্কা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বা নেই বললেই চলে। এ পদ্ধতিতে সর্বাধুনিক মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে মাইক্রোসার্জিক্যাল সেন্টারে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের জন্য মাত্র এক দিন হাসপাতালে থাকতে হয়। দুই দিন পর থেকেই স্বাভাবিক কাজকর্ম করা সম্ভব। এ অস্ত্রোপচার অত্যন্ত নিরাপদ ও সবচেয়ে কার্যকর।

* অধ্যাপক ডা. আজফার উদ্দীন শেখ, বিভাগীয় প্রধান, ইউরোলজি ও ইন্ডোলজি, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ

ভেরিকোসিল থাকলে টেস্টোসটেরন হরমোন তৈরি কমে যেতে পারে
ভেরিকোসিল থাকলে টেস্টোসটেরন হরমোন তৈরি কমে যেতে পারে। ছবি: আনস্প্ল্যাশ