Monday, December 30, 2013
নতুন করে শিক্ষা নিয়ে ভাবুন by মোঃ মুজিবুর রহমান
রাজনৈতিক কার্যক্রম কিভাবে চলবে তা রাজনীতিকদের ওপর নির্ভর করলেও শিক্ষা কার্যক্রম কিভাবে পরিচালিত হবে সেটা নিয়েও রাজনীতিকদের ভাবার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি নির্ভর করে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর। একইভাবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন নির্ভরশীল। যে দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি যত বেশি স্থিতিশীল, সে দেশ তত বেশি উন্নয়ন নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে পারে। অথচ আমাদের দেশে উন্নয়নকামী মানুষরা শিক্ষা নিয়ে সৃষ্টিশীল চিন্তা করবে কখন, তাদের অধিকাংশের সময় কাটে রাজনৈতিক মারপ্যাঁচের হিসাব করতে। আমরা দেখছি, বর্তমানে দেশে শিক্ষা যেন কোনো গুরুত্বই পাচ্ছে না। বরং এক কথায় বলা যায়, শিক্ষা সবচেয়ে অবহেলিত খাত হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। বিগত কয়েক বছরে শিক্ষায় যতটুকু সফলতা অর্জিত হয়েছিল তাও এখন মলিন হতে চলেছে। শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার প্রধান দায়িত্ব যেমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের, তেমনি দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দায়িত্বও রাজনৈতিক নেতৃত্ব এড়াতে পারে না। বরং শিক্ষাসহ সব খাতের নিরাপদ পরিচালনা নির্ভর করে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর। দেশে যদি সারা বছর রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করে তাহলে কোনো কার্যক্রমই স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। মোটা দাগে কথা হল, রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে সব ধরনের কর্মকাণ্ড মুখ থুবড়ে পড়ে, বিঘ্নিত হয় উন্নয়ন কার্যক্রম। শিক্ষা এমন একটি খাত যে খাতের স্বাভাবিক বিকাশ এবং সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। অথচ এটাই আমাদের দেশে সম্ভব হয়নি আজও।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এরা যদি অবরোধকারী, পিকেটার, রাজনৈতিক নেতাকর্মী হয়ে থাকে, তাহলে সন্ত্রাসী, দুর্বৃত্ত, দুষ্কৃতকারী কারা? by মহিউদ্দিন আহমদ

গত ২৪ ডিসেম্বর মঙ্গলবার চ্যানেল আই-এর দুটার খবর দেখছিলাম। প্রথম ৫ মিনিটে ১০ বারের মতো ‘অবরোধকারী’ শব্দটি ব্যবহার করা হল দেশের বিভিন্ন জায়গার অবরোধের খবর দিতে গিয়ে। তারা বোমা হামলা চালিয়েছে, মানুষ মেরেছে, ককটেল ফুটিয়েছে, গাছ কেটেছে, রাস্তা কেটেছে, রেললাইন উপড়ে তুলেছে, গাড়িতে আগুন দিয়েছে, তারপরও তারা সন্ত্রাসী নয়, পিকেটার নয়, দুর্বৃত্ত নয়, দুষ্কৃতকারী নয়; তারা অবরোধকারী, পিকেটার, শিবির বা বিএনপির নেতাকর্মী!! ২৫ তারিখ বুধবার সকাল ৬টায় এটিএন নিউজে খবর দেখছিলাম। আগের দিন রাতে পুলিশ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে বাংলামোটরের পুলিশের রিকুইজিশন করা বাসে আগুন দিয়ে। তখন দেখলাম ‘দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে’ শব্দগুলো ব্যবহার হতে। কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পর আবার ‘অবরোধকারী’ শব্দে ফিরে গেল এটিএন নিউজ। আজ (শুক্রবার) ভোর ৬টায় এটিএন নিউজের প্রতি ঘণ্টার খবরের সঙ্গে ‘অবরুদ্ধ বাংলাদেশ’-এর ওপর আগামী দুই দিন বিশেষ খবর দেখানো হবে বলা হয়েছে। কিন্তু একই খবরে রাজশাহীর পুলিশ সদস্য সিদ্ধার্থ রায়ের হত্যা ১৮ দলীয় সমর্থকদের বোমা হামলায় ঘটেছে, বলা হয়েছে। এর বিপরীতে শুক্রবার সকাল ৭টায় চ্যানেল ’৭১-এর খবরে সিদ্ধার্থ রায়ের হত্যাকারীদের কয়েকবারই ‘দুর্বৃত্ত’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এক চ্যানেলের খবরে যারা ‘দুর্বৃত্ত’ অন্য চ্যানেলের খবরে তারা ‘সমর্থক’ কেন? এটিএন-এর বুলেটিনে যারা বোমা মেরেছে, ককটেল ফুটিয়েছে, তারা কি সন্ত্রাসী নয়? তাহলে তাদের আবার ‘অবরোধকারী’, ১৮ দলীয় সমর্থক হিসেবে বর্ণনা করা হল কেন? অবরোধকারী তাদেরই বলা যাবে, যারা আইন মেনে শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ করবে। প্রতিবাদ করতে, রাস্তায় শুয়ে পড়তে এবং নিজ ইচ্ছায় দলে দলে গ্রেফতার হতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রজীবনে এবং পরেও অনেক দেখেছি।
সেই ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের কয়েকটি ছবি ঐতিহাসিক মর্যাদা পেয়েছে। এমন একটি ছিল মওলানা ভাসানী রাস্তায় হাত তুলে নামাজের নিয়ত করছেন, আর একটিতে দেখি প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্তায় পাকিস্তানের এক এয়ারফোর্স চিফ এয়ার মার্শাল (অবসরপ্রাপ্ত) আসগর খানের ওপর পুলিশের গাড়ি থেকে পানি ছিটানো হচ্ছে। একটি উদোম গায়ের সাত-আট বছরের এক শিশুকে আর একটি ছবিতে কচি হাত তুলে চিৎকার করে স্লোগান দিতে দেখি একটি মিছিলের আগে আগে। যতটুকু মনে পড়ছে ছবিটি তুলেছিলেন রশিদ তালুকদার। মনে রাখা জরুরি এবং ‘ফরজ’ যে, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানটি ছিল একজন সামরিক শাসক আইউব খানের বিরুদ্ধে, জাতীয় সংসদের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসন নিয়ে বিজয়ী কোনো নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে নয়।
দুই.
দৈনিক ‘প্রথম আলো’ এবং ইংরেজি দৈনিক ‘ডেইলি স্টার’কে দেশের প্রথম শ্রেণীর, প্রভাবশালী পত্রিকা হিসেবে বর্ণনা করতে গিয়ে আমি গত দুই-তিন বছরে কত জায়গায় যে সমালোচিত এবং নিন্দিত হয়েছি, তার বর্ণনা দিতে হলে আমাকে আলাদা একটি কলাম লিখতে হবে। কিন্তু তাই বলে আমি দমিনি। পত্রিকা দুটি বিভিন্ন সময়ে যেসব গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে এবং এখনও করে যাচ্ছে আমি তার তারিফ করি। কাদের সিদ্দিকীর (‘ব্রিজোত্তম’, এই উপাধিটি মুনতাসীর মামুনের) ওপর কয়েক বছর আগে প্রথম আলো যে বিশেষ সংখ্যাটি প্রকাশ করেছে তা এখনও আমি সংরক্ষণ করে চলেছি। বসুন্ধরা গ্র“পের পত্রিকা ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’-এ এই ‘ব্রিজোত্তম’ একজন মর্যাদাবান কলাম লেখক। কিন্তু এই ‘ব্রিজোত্তম’ টাঙ্গাইল-ময়মনসিংয়ের এতগুলো কন্ট্রাক্ট পেয়ে প্রায় সব টাকা তুলে নিলেন, কিন্তু ব্রিজগুলোর একটির কাজও কেন শেষ করলেন না- এ প্রশ্নটির জবাব এই কয়েক বছর দৈনিক প্রথম আলোর মতো আমিও খুঁজে চলেছি। ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ কি কোনো দিন তাকে এ প্রশ্নটি করেছে? গোলাম মাওলা রনি চার মাস আগে সাংবাদিক পিটিয়ে এই দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন অফিস থেকে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে জেলে গেলেন, জেল থেকে মুক্তি পেয়ে আবার ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’-এর একজন বিশিষ্ট কলাম লেখক!! যেমন বিশিষ্ট লেখক নূরে আলম সিদ্দিকী! উদোম গায়ে নূরে আলম সিদ্দিকীকে প্রথম দেখি ছবিতে, ১৯৭২ এর প্রথম দিকে লন্ডনে সাংবাদিক সাইমন ড্রিং আয়োজিত বাংলাদেশের ওপর একটি ‘ফটোগ্রাফিক একজিবিশন’-এ। ছবিতে নূরে আলম সিদ্দিকীর কোমরে একটি রিভলবার, তখনও দাপটশালী চার খলিফার এক খলিফা। তারপর ডলার ব্যবসায়ে তার উত্থান পর্বে তাকে দেখি দ্বিতীয়বার সামনাসামনি, আমার সম্পর্কে চাচাতো ভাই মরহুম আমীর হোসেনের দিলকুশা সোনালী ব্যাংকের অফিসে। বিডিআরের ডাইরেক্টর জেনারেল শহীদ মেজর জেনারেল শাকিলের শ্বশুর মরহুম এই আমীর হোসেন তখন এই সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার। ডরিন টাওয়ার নিয়ে তার সব অপকীর্তি ডেইলি স্টার ছবিসহ প্রকাশ করেছে দুই বছর আগে। আওয়ামী লীগের টিকিটে ঝিনাইদহে এমপি নির্বাচনে দুইবার ব্যর্থ নূরে আলম সিদ্দিকী; এবার তার ছেলে একই নির্বাচনী এলাকা থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী!
দৈনিক প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার এই তিন জনপ্রতিনিধির ওপর বিভিন্ন সময়ে যেসব রিপোর্ট প্রকাশ করেছে সেগুলোকে আমি তারিফ করেছি। আমার ধারণা, প্রথম আলো তাদের অপকর্ম-অপকীর্তি উন্মোচন করেছে বিভিন্ন সময়ে; বসুন্ধরা গ্র“পের এই পত্রিকায় তাদের এত ইজ্জত-মর্যাদা-সম্মান। বিএনপির মিডিয়াপল্লী শিরোনামের রিপোর্টটিও আমি সংরক্ষণ করে চলেছি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণাকারী আমাদের কিছু পত্র-পত্রিকা এবং টিভি চ্যানেল বিএনপি-জামায়াত জমানায় কেমন সব সুযোগ-সুবিধা নিয়েছে তার ওপরও কতগুলো ফাইল আমার কাছে আছে।
আমাদের কয়েকটি টিভি চ্যানেল এই-সেই উপলক্ষে যেসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেসব অনুষ্ঠানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণাকারী কুতুবমিনার সাইজের কিছু ‘সিভিল’কেও দেখি। গত ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ টেলিভিশনের ৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে একটি প্রাইভেট টিভি চ্যানেলকেও উৎসব করতে দেখলাম। সেখানে বড় বড় এই ‘সিভিল’দের সাক্ষাৎকারও ছিল। ভালো কথা। কিন্তু এইসব সিভিল, আমাদের সৈয়দ শামসুল হক, সৈয়দ আবুল মকসুদ, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এবং অধ্যাপক আবু সায়ীদ কোনোদিন কি তাদের এইসব টিভিতে বিজ্ঞাপন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একটি কথাও বলেছেন? তারপর এসব সিভিলের বোধ হয় জানা নেই; A corrupt media cannot fight corruption. দুর্নীতিগ্রস্ত গণমাধ্যম দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে না। কথাটি আমার নয়। কথাটি বলেছেন তুরস্কের এক কলাম লেখক ইয়াভুজ বেদর (Yavuz Baydor)। গত ১৯ জুলাই দুনিয়ার পাঁচটি প্রভাবশালী দৈনিকের একটি, নিউইয়র্ক টাইমস-এ ‘In Turkey Media- Bosscs Are Undermining Democrac’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রবন্ধে।
বাংলাদেশেও তুরস্কের মতো এমনটি হচ্ছে না তো?
তিন.
আবদুল কাদের সিদ্দিকীর ওপর প্রথম আলোতে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যাটির কথা প্রতিবারই মনে পড়ে যখন তার কোনো লেখা বা বক্তৃতা-বিবৃতি বা সাক্ষাৎকার পড়ি বা দেখি। গতকালই বোধ হয় বাংলাদেশ প্রতিদিন-এ কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়লেই দেশে শান্তি ফিরে আসবে। যোগ্য লোকের যোগ্য প্রেসক্রিপশন! মুক্তিযুদ্ধে কাদের সিদ্দিকীর বীরত্বের তারিফ করি। তারিফ করি বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর তার প্রতিরোধের চেষ্টা। তাকে সম্মান করি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার দিন থেকে তিনি কোনো দিন মাংস মুখে নেননি। কিন্তু তিনি এমন নিশ্চিত হলেন কি করে যে, জামায়াত নির্বাচনে না এলে বিএনপি নির্বাচনে আসবে? প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলেও বিএনপি কি তখন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগের দাবিতে আবার অবরোধ-হরতাল দেবে না? বিএনপির কি কখনও উছিলার অভাব হয়েছে?
প্রথম আলো ফজলে নূর তাপসের যে সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করেছে- তা পড়ে আমি আঁতকে উঠেছিলাম। তার বাবা শেখ ফজলুল হক মণির নেতৃত্বে ৬০-এর দশকের প্রথমদিকে ছাত্রলীগ করতাম। ১৯৬১-তে সলিমউল্লাহ মুসলিম হলের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগ প্রার্থীদের ‘ক্রেডেনসিয়েল’ কয়েকশ’ টাকার অভাবে ছাপাখানা থেকে যখন আনা যাচ্ছিল না, তখন এই মণি ভাই হাতের আঙুলের আংটিটি খুলে দিয়েছিলেন, স্মৃতিটা এখনও জ্বলজ্বল করে। একটি দৈনিক পত্রিকা- এমনি এমনিতে তো পত্রিকাটির পেইড সার্কুলেশন সাড়ে ৫ লাখ নয়। এতসব কৃতিত্ব পত্রিকাটির, কিন্তু এই পত্রিকাটি যে এখন বর্তমান মহাজোট সরকারবিরোধী তা আর প্রচ্ছন্ন নয়, বলতে গেলে এখন তা প্রকাশ্য। কিন্তু তাতেও আমার আপত্তি নেই। আমাদের এই দেশে তো দৈনিক সংগ্রাম, দৈনিক ইনকিলাব, দৈনিক নয়া দিগন্ত এবং দৈনিক দিনকালও আছে। দৈনিক প্রথম আলো তো এই পত্রিকাগুলোর মতো মৌলবাদের প্রচার করছে না, যদিও মাঝে মাঝে বিভ্রান্ত হই।
কিন্তু এই প্রথম আলো গত ১২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার যে জনমত জরিপটি প্রকাশ করেছে, তা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। দৈনিক প্রথম আলো প্রতিদিন তার প্রথম পৃষ্ঠায় প্রথম কলামে ‘অনলাইন ভোট’ শিরোনামে আগের দিন একটি বিষয়ের ওপর প্রশ্ন রাখে এবং এ প্রশ্নের পক্ষে-বিপক্ষে পরদিন প্রাপ্ত ভোট প্রকাশ করে থাকে। ১১ তারিখ বুধবারের প্রশ্নটি ছিল এমন- ‘১৮ দলীয় জোটের অবরোধ-কর্মসূচি শুক্রবার ৬টা পর্যন্ত বাড়ালো- সমর্থন করেন কি?
পরদিন বৃহস্পতিবার প্রথম আলোতে প্রকাশিত রেজাল্টটি ছিল এমন : অবরোধ বাড়ানোর পক্ষে হ্যাঁ, ৭০.৩২%; না, ২৭.০৫% এবং বক্তব্য নেই, ২.৬৩%!!
মানেটা কি দাঁড়াল? দেশের ৭০.৩২% মন্তব্যদানকারী বিএনপির নেতৃত্বে ১৮ দলের অবরোধ সমর্থন করে? তার মানেটা কি আরও এই যে, এই সমর্থনকারীরা অবরোধের পক্ষে? সন্ত্রাসী, দুর্বৃত্ত ও দুষ্কৃতকারীদের এতসব নিরীহ মানুষ হত্যা, গাছ হত্যা, বাসে-গাড়িতে-সিএনজিতে আগুন দেয়ার পরও এত বিশাল সংখ্যার সমর্থক এই বাংলাদেশে?
যদি প্রথম আলোর এই জনমত সঠিক হয়ে থাকে তাহলে এতসব টিভি চ্যানেল, পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত ভয়ঙ্কর ভয়াবহ সব ছবি কি দেশের মানুষদের চিন্তাচেতনা-ভাবনায় কোনোই প্রভাব ফেলছে না! প্রথম আলোর বিভিন্ন পাতায় এতসব মর্মান্তিক ছবিসহ প্রকাশিত খবর সম্পাদকীয়-উপসম্পাদকীয়র কোনোই কি আছর পড়ছে না? তাহলে দৈনিক প্রথম আলোই বা কেন এতসব সম্পাদকীয়-উপসম্পাদকীয় ছবি খবর ছাপাচ্ছে? মূল্যবান নিউজপ্রিন্টের এমন বিপুল অপচয় করছে? ১২ ডিসেম্বরের দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠাতেই একটি সড়কের ওপর বড় বড় ১০-১২টি কাঠের গুঁড়ি দিয়ে সড়ক অচল করে দেয়ার ছবি আছে। একই প্রথম পৃষ্ঠায় আরও একটি ছবি,- ছবিটির ক্যাপশন এমন : ‘জামায়াতে ইসলামীর নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় মঙ্গলবার রাতে কার্যকর করা হবে, এমন খবর প্রচার হওয়ার পরই দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাংচুর ও নাশকতার ঘটনা ঘটে। সেই রাতেই ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের শাহজাহানপুর উপজেলার ফত্কী সেতুর রেলিং ভাংচুর করেন শিবিরের কর্মীরা। গতকাল সকালে তোলা ছবি। প্রথম আলো।’ প্রথম আলোর ক্যাপশনের শেষ বাক্যটি আবার দেখুন! ‘ভাংচুর করেন শিবিরের কর্মীরা’। ভাংচুর করেন? এখানে দন্ত্য ‘ন’ দিতে হবে? দন্ত্য ‘ন’ যারা ভাংচুর করেছে তাদের জন্যও থাকবে? তারা ‘শিবিরের কর্মীরা’? তারা শিবিরের সন্ত্রাসী নয়? তারা শিবিরের দুর্বৃত্ত নয়?
শিবিরের সন্ত্রাসীদের সম্মান-মর্যাদা দিয়ে তাজীমের সঙ্গে উদ্ধৃত করতে হবে? লিখতে হবে? এই দিন ১২ ডিসেম্বরের প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠায় ‘২০ জেলায় জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডব দ্বিতীয় শিরোনামের পরও?’ এই একই দিন পত্রিকাটির ভেতরের অন্যসব পাতায় অবরোধে সন্ত্রাসী, দুর্বৃত্ত, দুষ্কৃতকারীদের হামলা-ভাংচুর, মানুষ হত্যা, গাছ কাটার ওপর ১১টি মর্মান্তিক ছবি আছে। বাংলাদেশে বিএনপি, আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল এবং দেশের কতগুলো টিভি চ্যানেল এবং পত্র-পত্রিকা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জামায়াত এবং ছাত্রশিবিরকে সমর্থন, মর্যাদা এবং গুরুত্ব দিচ্ছে। কিন্তু এই জামায়াতের প্যারেন্ট রাজনৈতিক দল মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে মিসরের সরকার। মুসলিম ব্রাদারহুডকে একেবারেই সমর্থন করে না, পছন্দ করে না সৌদি সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার মুসলিম ব্রাদারহুডকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে মিসর সরকার। আর তাতে তাৎক্ষণিক সমর্থন জানিয়েছে সৌদি আরব। কিন্তু বাংলাদেশে মুসলিম ব্রাদারহুডের এক সন্তান জামায়াতে ইসলামকে বুকে কোলে তুলে নিয়েছে বিএনপি!!
চার.
বাংলাদেশের পত্র-পত্রিকা, টিভি সম্পর্কে আমি একটু খোঁজখবর রাখার চেষ্টা করি। গত অক্টোবর-নভেম্বরে আমার নিউইয়র্ক সফর শেষে আমি যে বিশ-পঁচিশটি বই এনেছি, তার মধ্যে ১০-১২টি মিডিয়ার ওপর। একটি বই দুনিয়ার মিডিয়া মোঘল রুপার্ট মারডক এবং অন্য একটি আলজাজিরা টিভি চ্যানেলের ওপর। আমাদের এই গণতন্ত্রের দেশে আমাদের টিভি এবং পত্র-পত্রিকাগুলো সবার ওপরেই খবরদারি করে প্রত্যাশিতভাবেই। কিন্তু আমাদের মিডিয়ার ওপর কার্যকর খবরদারি করার কোনো ব্যবস্থা নেই এই দেশে। তথ্য জানার অধিকার আইনে সরকারের অনেক ধরনের তথ্য জানার অধিকার আমাদের মিডিয়ার তো আছেই, আছে আমাদের সাধারণ নাগরিকদেরও।
কিন্তু আমাদের এতসব পত্র-পত্রিকা, টিভি সম্পর্কে কিছুই জানার অধিকার রাখা হয়নি তথ্য অধিকার আইনে। বিশ্বাস হয়? কিন্তু আমাদের মিডিয়াকেও খোলামেলা স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিতামূলক হতে হবে নিজেদের স্বার্থে, বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে হলে।
অন্যের জবাবদিহিতা চাইবেন প্রতিদিন, অথচ নিজেরা তার ঊর্ধ্বে থাকবেন, তা কি হয়? এ পর্যায়ে বিষয়ের ওপর সম্পাদক সাংবাদিক সাহেবদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এক. মোহতারেমা খালেদা জিয়া গত ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তার প্রেস কনফারেন্সে কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর করার প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যে নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করেছে তাতে মর্মাহত হয়েছেন বলেছেন, কিন্তু পাকিস্তানের এই প্রস্তাব গ্রহণকে তিনি নিন্দা জানাননি। তার এই ‘ওমিশন’টিকে আমি ইচ্ছাকৃত মনে করি। কূটনীতিবিদ হিসেবে আমাদের যা প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে, তাতে যা দৃশ্যমান তা যেমন আমরা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করি, যা বলা হয়নি বা অদৃশ্য এবং যা যা সব ‘ওমিশন’, তার ব্যাখ্যাও আমরা করে থাকি। মোহতারেমার এই ওমিশনটি গুরুতর মনে করি।
দুই. ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতরা ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের ভোরে সাভার স্মৃৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে না গিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ এবং বিজয় দিবসকে অপমান করেছেন মোহতারেমা খালেদা জিয়া ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতদের এই আচরণের ওপর কোনোই মন্তব্য করেননি তার প্রেস কনফারেন্সে। কেন তার এই ‘ওমিশন’?
তিন. প্রেস কনফারেন্সে মোহতারেমা খালেদা জিয়া কোনো সাংবাদিকের কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি। তার মানে তিনি কি আগেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলেন, সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের জবার দেয়া হবে না, সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্ন ‘এনটারটেইন’ করা হবে না?
তাহলে এই প্রেস কনফারেন্স এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, নয়াপল্টন এবং দেশের অন্যসব জায়গায় বা জাতীয় সংসদে তার দেয়া বক্তৃতার মধ্যে কী ফারাক থাকল? তাহলে প্রেস কনফারেন্স এবং প্রপাগান্ডা কনফারেন্সের কী পার্থক্য? আমরা অতীতেও দেখেছি, সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে তিনি চান না। তার জোট আরোপিত এতসব হরতাল-অবরোধে দেশের যে এত বিপুল বিশাল পরিমাণে ক্ষতি হচ্ছে, এতসব মানুষ আগুনে পুড়ে, বোমা, ককটেল হামলায় মারা যাচ্ছেন, তার কি কোনো জবাবদিহিতা থাকবে না? সম্পাদক সাংবাদিকরা যদি এই জবাবদিহিতা আদায় করতে না পারেন, গত কয়েক মাসে দেশের হাজার হাজার অসহায়, নিষ্পাপ শিশু, কিশোর-কিশোরী, মা-বাবা, ভাইবোন, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, বিধবার চোখের পানি বুকফাটা আর্তনাদও যদি প্রশ্ন করতে আপনাদের এতটুকু সাহস না জোগায়, তাহলে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভের কী দায়িত্বটা আপনারা পালন করছেন?
সবশেষে একটি সতর্কবার্তা ও একটি প্রস্তাব। সতর্কতা,- বাংলাদেশ রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আতাউর রহমান আবার ঢাকায় ফিরেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে বায়ান্ন জনকে একই বছর ফার্স্ট ক্লাস দিয়ে তিনি ‘খ্যাতিমান’ হয়ে উঠেছিলেন। অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার কারণে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এক-এগারোর সরকারকে জায়েজ করার জন্য তিনি প্রবল ভূমিকা রেখেছিলেন। বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে আসলেই কী ঘটতে যাচ্ছে, সে সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী জানতে বাংলাদেশ প্রতিদিন বা প্রথম আলো তার একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করতে পারে।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সহিংসতার বিরুদ্ধে চাই জনতার প্রতিরোধ by মোঃ আবু সালেহ সেকেন্দার
আমরা যে ঢাকা শহরে বাস করছি, সে শহরও কি নিরাপদ? এখানে গাড়িতে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটছে অহরহ। কোথাও মানুষ পুলিশের গুলিতে মরছে, কোথাও ককটেলে ঝলসে যাচ্ছে। কোথাওবা পিকেটারের ছোড়া হাতবোমায় জনগণের প্রাণপাখি উড়ে যাচ্ছে। নষ্ট এই রাজনীতির খেলায় শহর-গ্রাম, রাজপথ-রেলপথ জ্বলে-পুড়ে ছারখার হয়ে গেলেও রাজনীতিকদের যেন কোনো দায় নেই! সরকারি দল-বিরোধী দল কারোই যেন কোনো ভাবান্তর নেই। আর জনগণ অসহায় নাকি ভাবলেশহীন- এর উত্তর পেতে আমাদের হয়তো আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। ইতিহাস বলে, বাঙালির সবকিছু মেনে নেয়ার ক্ষমতা অনেক বেশি। তারা দেয়ালে পিঠ ঠেকে না গেলে প্রতিবাদ করে না। মুঘল সম্রাট বাবর বাঙালির এ চরিত্রকে উপলব্ধি করে তার আÍজীবনীতে লিখেছেন- বাংলাদেশে অদ্ভুত রীতি আছে, এখানে জনগণ সিংহাসনকে শ্রদ্ধা করে। রাজাকে হত্যা করে যে কোনো ব্যক্তি সিংহাসনে বসুক না কেন, তাকে সবাই রাজা বলে স্বীকার করে।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বর্তমান সংকটে ক্যাপটিভ এডিটর ও সুশীল সমাজের ভূমিকা by আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

নির্বাচনী প্রচারযুদ্ধ শুরু হতেই যখন বোঝা গেল, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন অনিবার্য, তখন এই নির্বাচন স্থগিত করা, বিলম্বিত করা অথবা বাতিল করার জন্য সামরিক শাসকচক্র এবং দেশটির কায়েমি স্বার্থ উঠেপড়ে লাগে। পূর্ব পাকিস্তানেও সাম্প্রদায়িক দলগুলো এবং কিছু কট্টর আওয়ামীবিরোধী নেতা ও মিডিয়া এই চক্রান্তে হাত মেলায়। হামিদুল হক চৌধুরী ও তার অবজারভার গ্র“পের পত্রিকাগুলো পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবির সমর্থক হলেও আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের চরম বিদ্বেষী হওয়ায় এ নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে যোগ দেয়। পূর্ব পাকিস্তানে তখন বহুল পঠিত ইংরেজি দৈনিক ছিল পাকিস্তান অবজারভার (বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর নাম হয়েছিল বাংলাদেশ অবজারভার)। আবদুস সালাম ছিলেন সম্পাদক, তখনকার বিখ্যাত ত্রয়ী সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, জহুর হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে তিনি ছিলেন একজন। স্বাধীনচেতা এবং পূর্ব পাকিস্তানের দাবি-দাওয়ার ব্যাপারে ছিলেন আপসহীন। কিন্তু পত্রিকার মালিক হামিদুল হক চৌধুরীর চাপে তাকে তার মতামত প্রকাশের ব্যাপারে অনেক সীমাবদ্ধতা মেনে চলতে হতো।
’৭০ সালের নির্বাচনের ব্যাপারেও অবজারভারের ভূমিকা ছিল বিতর্কিত। এ সময় যেন সামরিক জান্তার মনোবাসনা পূর্ণ করার জন্যই নির্বাচনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের ঠিক আগে ১৯৬৯ সালের নভেম্বর মাসের গোড়ায় এক ভয়াবহ সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ও সাইক্লোন হল পূর্ব পাকিস্তানে। এক রাতে ১০ লাখ নরনারী মারা যায়। পূর্ব পাকিস্তানের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। এর সুযোগ নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানে রাওয়ালপিন্ডির সামরিক জান্তার সমর্থক মহল, এমনকি কিছু অনুগ্রহভোগী বুদ্ধিজীবী ও কলামিস্ট দাবি তোলেন, বিপন্ন মানবতার উদ্ধারকার্য ও ত্রাণকার্যের স্বার্থে নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে দেয়া হোক। ঢাকার রাস্তায় স্লোগান উঠল, আগে বিপন্ন মানবতার ত্রাণ, তারপর নির্বাচন। এ সময় মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) খণ্ডিত অংশটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী একটি রাজনৈতিক দল। মওলানা ভাসানী ধ্বনি তুললেন, ভোটের আগে ভাত চাই। তা নইলে নির্বাচন বর্জন। সঙ্গে সঙ্গে প্রচার শুরু হল, ন্যাপের (ভাসানী) মতো দেশের একটি বৃহত্তম রাজনৈতিক দল নির্বাচনে না এলে এই নির্বাচন ‘সকলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে না।’ সুতরাং নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য পেছাতেই হবে।
এ প্রচারণার জবাবে বঙ্গবন্ধু এবং তার আওয়ামী লীগের বক্তব্য ছিল, পাকিস্তানের পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে যে, আর একদিনও সামরিক শাসন বহাল রাখতে দেয়া যায় না। যথাসময়ে নির্বাচন করতে হবে। একমাত্র জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক সরকারই বিপন্ন মানবতা ও দুর্গত ত্রাণে দ্রুত দায়িত্ব পালনে সক্ষম। সুতরাং নির্বাচন পেছালে চলবে না। শুধু ভয়ানকভাবে বিধ্বস্ত অঞ্চলগুলোতে নির্বাচন স্থগিত রেখে পরবর্তী কাছাকাছি একটা সময়ে তা সম্পন্ন করে ফেলা যাবে।
ঢাকার ইংরেজি দৈনিক ‘অবজারভার’ পত্রিকাটি তখন নির্বাচন স্থগিত রাখার প্রশ্নে ক্যাম্পেইন শুরু করে। যেমন- বর্তমানে শুরু করেছে হালের একটি ইংরেজি দৈনিক। অবজারভার সম্পাদক আবদুস সালাম তখন স্বনামে একাধিক উপ-সম্পাদকীয় লেখেন। একটি লেখায় তিনি শেখ মুজিবকে রাজা ক্যানিউটের সঙ্গে তুলনা করে লেখেন, “শেখ মুজিব কি রাজা ক্যানিউটের মতো ভাবেন, তার হুকুমে ঝড় বন্যা সমুদ্রের ঢেউ স্থগিত হয়ে থাকবে? বাংলাদেশে এই শীতের মৌসুমে একটা বড় গর্কি (সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস) হয়ে গেছে। আরেকটি শিগগিরই হওয়া সম্পর্কে আবহাওয়া বিশারদরা সতর্কবাণী উচ্চারণ করছেন। তা সত্ত্বেও শেখ মুজিব যথাসময়ে নির্বাচন চান। তা পেছাতে চান না। তিনি কি ভাবছেন, তার নির্দেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগও মান্য করে চলবে?”
তখনকার একাধিক শক্তিশালী মিডিয়া এবং তৎকালীন এলিট শ্রেণী বা সুশীল সমাজের একটি অংশের এই জোর বিরোধিতা সত্ত্বেও সামরিক শাসকরা নির্বাচন মুলতবি ঘোষণা করতে সাহসী হননি। মাত্র কয়েক দিন পিছিয়ে ডিসেম্বর মাসেই (১৯৭০) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কয়েকটি দুর্গত এলাকায় কিছু পরে স্থগিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ সময় একদিন একটি সরকারি প্রেস ব্রিফিং-মিটিংয়ে গেছি। মানিক মিয়া তখন নেই। আমি ইত্তেফাকে কর্মরত। তখনকার অবজারভার সম্পাদক আবদুস সালামও এসেছেন সেই ব্রিফিং-মিটিংয়ে। ‘পাসবান’ নামে একটি উর্দু দৈনিক তখন ঢাকায় ছিল। এই পত্রিকার বিহারি সম্পাদক ছিলেন অত্যন্ত ভালো মানুষ। তিনি নির্বাচন বন্ধ বা স্থগিত রাখার ক্যাম্পেইনের সমর্থন করেননি। তখন জোর প্রচারণা চালানো হচ্ছিল যে, মওলানা ভাসানীর ন্যাপের মতো দেশের একটি বৃহৎ দল যখন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না, তখন এই নির্বাচন জনগণের সার্বিক ম্যান্ডেট হিসেবে বৈধতা পাবে না। ‘পাসবান’ কাগজটি এই প্রচারণার জবাবে লিখেছিল, ‘নির্বাচনের দরজা কোনো দলের জন্য বন্ধ রাখা হয়নি। ভাসানী ন্যাপ যদি স্বেচ্ছায় এই নির্বাচনে না আসে, তাহলে দেশের ভাগ্য নির্ধারণকারী একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন শুধুমাত্র একটি দলের খেয়ালখুশিকে প্রশ্রয়দানের জন্য বন্ধ রেখে দেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তোলা কি উচিত হবে?’ আমার ধারণা ‘পাসবান’ কাগজটি আজ বেঁচে থাকলে ২০১৩ সালেও বিএনপি ও সুশীল সমাজের নির্বাচন বন্ধ রাখার দাবি সম্পর্কে একই কথা লিখত।
যা হোক সরকারি ব্রিফিং-মিটিংয়ের কথায় ফিরে আসি। এই মিটিংয়ে পাসবান সম্পাদক হঠাৎ অবজারভার সম্পাদক আবদুস সালামকে জিজ্ঞাসা করে বসলেন, ‘সালাম ভাইয়া, মানিক মিয়া, জহুর হোসেন চৌধুরী এবং আপনাকে বলা হয় পূর্ব পাকিস্তানের জাগ্রত বিবেক। মানিক মিয়া আজ নেই। তিনি আজ বেঁচে থাকলে সামরিক জান্তাকে খুশি করার জন্য বা অন্য যে কোনো কারণেই হোক নির্বাচন বন্ধ করার ক্যাম্পেইনে সমর্থন দিতেন না। আপনি তো বেঁচে আছেন। আপনি কেন এ ক্যাম্পেইনে সমর্থন দিতে গেলেন?’ দীর্ঘকাল আগের কথা। তবু এখনও আমার স্পষ্ট মনে আছে, সালাম সাহেব বিমর্ষ হাসি হেসে বলেছিলেন, ‘আপনিও তো একজন এডিটর। কিন্তু স্বাধীন এডিটর। নিজেই কাগজের মালিক। মানিক মিয়াও ছিলেন তাই। ইত্তেফাকের মালিক। আপনারা নিজেদের স্বাধীন মত স্বাধীনভাবে ব্যক্ত করতে পেরেছেন এবং এখনও পারেন। কিন্তু আমি তো ক্যাপটিভ এডিটর। আমার মাথার উপরে সব সময় সূক্ষ্ম দড়িতে বাঁধা একটি তলোয়ার ঝোলে। আমি কি ইচ্ছা করলেই সব সময় স্বাধীনভাবে নিজের মত ব্যক্ত করতে পারি?’
দীর্ঘ ৪৩ বছর পর প্রয়াত অবজারভার সম্পাদক আবদুস সালামের মুখে উচ্চারিত এই ক্যাপটিভ এডিটর কথাটি আমার মনে পড়েছে ঢাকায় অধুনা বহুল পঠিত একটি ইংরেজি কাগজের সম্পাদকের শেখ হাসিনার কাছে নির্বাচন বন্ধ রাখার অনুরোধ(?) জানানো প্রতিবেদনটি পাঠ করে। কারণ তিনিও কাগজটির মালিক নন। আংশিক মালিকানা থাকতে পারে, কিন্তু বেতনভোগী সম্পাদক। দেশ-কাল পরিস্থিতি এখন বদলে গেছে। এ ধরনের সম্পাদকদের মাথার ওপর এখন আর শুধু মালিকের বিধিনিষেধের সূক্ষ্ম তরবারি ঝোলে না, আরও অনেক স্বার্থ সুবিধার তরবারি ঝোলে। এগুলো হল বিগ এনজিও, বিগ বিজনেস, মৌলবাদী অর্থভাণ্ডার ও বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের অঢেল অর্থ ও অনুগ্রহ। এগুলোর কাছে আজ বিবেক, আত্মা ও সততা বন্ধক রাখার একটা হিড়িক পড়েছে বাংলাদেশে। কেবল একজন কি দুজন ক্যাপটিভ এডিটরকে দোষ দিয়ে লাভ কি? একটি ক্যাপটিভ সিভিল সোসাইটিও গড়ে উঠেছে বাংলাদেশে।
এ লেখার শুরুতে আমাদের ইংরেজি সাংবাদিকতায় ইতিহাসের পুনরাবৃত্তিতে প্রথমে ট্রাজেডি এবং পরে ফার্স বা প্রহসন ঘটার কথা উল্লেখ করেছি। ১৯৭০ সালে নির্বাচন বন্ধ রাখার ক্যাম্পেইন সফল না হলেও নির্বাচনটি ট্রাজিক পরিণতি ডেকে এনেছিল। অর্থাৎ ইয়াহিয়ার সামরিক জান্তা নির্বাচনের রায় মেনে না নিয়ে বাংলাদেশে বর্বর গণহত্যা চালিয়েছিল। অন্যদিকে ২০১৩ সালে নির্বাচন বন্ধ বা পিছিয়ে দেয়ার ক্যাম্পেইনটিও সফল হবে মনে হয় না। প্রহসনে পরিণত হবে মনে হয়। তবে এই প্রহসনেও দেশের মানুষের রক্ত ঝরছে। সেদিকে ক্যাপটিভ এডিটর বা ক্যাপটিভ সুশীল সমাজের নজর নেই।
বিস্ময়ের কথা, নির্বাচন বন্ধ রাখার দাবিতে ৪৩ বছর আগে ঢাকার তখনকার ইংরেজি দৈনিকটি যেসব কথা লিখেছিল, ৪৩ বছর পর আজ তারই প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে আরেকটি ইংরেজি দৈনিকের কণ্ঠে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনটি ছিল বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির জন্য একটি ভাগ্য নির্ধারণকারী নির্বাচন। প্রশ্ন ছিল বাংলা মুক্ত স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশ হবে, না ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী পাকিস্তানের জঙ্গিশাহীর পদানত দেশ হয়ে থাকবে? তেমনি বর্তমানের (২০১৩-১৪) নির্বাচনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব এই যে, এই নির্বাচন দ্বারাই অথবা তা অনুষ্ঠিত হওয়া বা না হওয়ার মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন মুক্ত ও গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে টিকে থাকবে, না ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের পতাকাবাহী রাজনৈতিক জোটের আধা তালেবানি শাসনের অধীনে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মতো স্থায়ী কিলিং ফিল্ডে পরিণত হবে? এই শেষোক্ত পরিণতির একমাত্র প্রতিষেধক ৫ জানুয়ারির নির্বাচন। কোনো অজুহাতেই এ নির্বাচন ঠেকিয়ে রাখা উচিত হবে না।
১৯৭০ সালে নির্বাচন ঠেকিয়ে রাখার পক্ষে যুক্তি দেখানো হয়েছিল, নির্বাচন করতে গেলে দুর্গতদের ত্রাণকার্য ব্যাহত হবে এবং ভাসানী ন্যাপের সম্ভাব্য নির্বাচন বর্জনের আন্দোলনের ফলে রক্তপাত হবে, নির্বাচন কেন্দ্র আক্রান্ত হবে এবং দেশে বিপর্যয় দেখা দেবে। ২০১৩ সালের ইংরেজি দৈনিকটির কণ্ঠেও একই যুক্তি। নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নেই। বিএনপির নির্বাচন বর্জনের ফলে দেশে রক্তপাত ঘটবে। নির্বাচন বৈধতা পাবে না। দেশের সর্বনাশ হবে।
কিন্তু ক্যাপটিভ এডিটর মহোদয় এ কথা বুঝতে চাইছেন না যে, দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগেই ভয়াবহ রক্তপাত হচ্ছে। তা ঘটাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত-শিবিরই এবং কিছু তুচ্ছ দাবি তুলে বিএনপি স্বেচ্ছায় এ নির্বাচনে আসছে না। এ ব্যাপারটি ক্যাপটিভ সুশীল সমাজেরও দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে। সম্প্রতি তথাকথিত সুজন, ট্রান্সপারেন্সির উদ্যোগে যেসব সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে তাতে রেহমান সোবহান, দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রমুখ সুশীল সমাজের মাথাওয়ালা ব্যক্তিরাও হাজির হয়েছিলেন। নির্বাচন পেছানোর জন্য তারা যে যুক্তি দেখিয়েছেন তার সঙ্গে ইংরেজি দৈনিকের প্রতিবেদনের যুক্তির বিস্ময়কর মিল। বুঝতে অসুবিধা হয় না এসব যুক্তিতর্কের উৎস এবং উৎসাহদাতা অভিন্ন। এ বিতর্ক সভায় রাশেদ খান মেনন একটি চমৎকার কথা বলেছেন। তিনি নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার দাবির জবাবে বলেছেন, ‘নির্বাচন না হয় পিছিয়ে দেয়া গেল, কিন্তু পিছিয়ে দেয়ার পরও বিএনপি নির্বাচনে আসবে তার নিশ্চয়তা কি কেউ (সুশীল সমাজ) দিতে পারেন?’ মেননের এ প্রশ্নের জবাব ইংরেজি পত্রিকাটির সম্পাদকের কাছে নেই। তিনিও আজকাল বিভিন্ন টকশোতে জোরেশোরে অংশ নিচ্ছেন।
যেখানে এই ইংরেজি কাগজের সম্পাদক ও সুশীল সমাজের উচিত ছিল, নির্বাচন বন্ধ করার দাবি জানানোর আগে বিএনপির কাছে আন্দোলনের নামে এই বিভৎস হত্যাকাণ্ড, অগ্নিকাণ্ড, গুপ্তহত্যা বন্ধ করার জন্য এবং যুদ্ধাপরাধী সন্ত্রাসী দল জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক রাজনীতির পথে ফিরে আসার জন্য দাবি জানানো এবং তারপর প্রয়োজন হলে সরকারকে নির্বাচন স্থগিত রাখার পরামর্শ দেয়ার, সেখানে তারা সরকারকে সব অপরাধে অপরাধী করে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের রাজনীতির কাছে আত্মসমর্পণের জন্য দাবি জানাচ্ছেন! এরা কি সত্যিই একটি দেশের দেশপ্রেমিক সুশীল সমাজ?
এদের তো জানা উচিত ছিল আগামী ৫ জানুয়ারির নির্বাচন একটি স্বাভাবিক সময়ের স্বাভাবিক নির্বাচন নয়। এটা সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার নির্বাচন নয়। এটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে স্বাধীনতাবিরোধী শিবির ও সন্ত্রাসীদের হামলা থেকে মুক্ত রাখার নির্বাচন। এ নির্বাচনের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কিন্তু দেশের অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রকাঠামো রক্ষা করার জন্য বর্তমান সরকারের সামনে এর কোনো বিকল্প পথও নেই। অবশ্যই এ নির্বাচনের রায় দ্বারা হাসিনা সরকার আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশ শাসন করতে চাইবে না। দেশ এই ক্রাইসিস পিরিয়ড মুক্ত হলে, মৌলবাদী সন্ত্রাস দমন হলে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতন্ত্র বিপদমুক্ত হয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলে অবশ্যই অতি দ্রুত (ছয় মাস কিংবা এক বছরের মধ্যে) আরেকটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ততদিন আল্লাহর ওয়াস্তে, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এই ক্যাপটিভ এডিটর ও ক্যাপটিভ সুশীল সমাজ তাদের মায়াকান্না বন্ধ করুন। নইলে ইতিহাসের কাছে তারা দেশের আপতকালের ‘চরম অমিত্র’ বলে গণ্য হতে পারেন এবং সেদিনটি খুব দূরে নয়।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠেছে!
অন্য দিকে সরকার বেগম খালেদা জিয়াকেও সংঘাতের আশঙ্কায় ও সরকারের বিরুদ্ধে কর্মসূচি পালন করতে না দিতে নয়াপল্টনে তাকে যেতে দিবে না। ওই দিন তাকে বাড়ি থেকে বাইরে বের হতে দেওয়া হবে না। নয়াপল্টনে গেলে ও সারাদেশ থেকে নেতাকর্মীরা সেখানে আসলে তিনি উস্কে দিলে সেখানে পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হতে পারে। সেই সঙ্গে নির্বাচন বানচাল করার জন্য ওই সমাবেশ থেকে যে কোনো ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা হতে পারে। তাদের টার্গেট করেও নাশকতার ঘটনা ঘটানো হতে পারে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায়, সরকারি অফিসেও হামলা ও জ্বালাও-পোড়াওয়ের মতো ঘটতে পারে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সরকার আশঙ্কা করছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও সরকারের কাছে এই ধরনের আশঙ্কার কথাই জানিয়েছে। সরকারের কাছে ওই দিনের ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে বলেও তথ্য রয়েছে। তারা জানতে পেরেছে বিএনপি ওই দিন মরণ কামড় দিবে। এই কারণে সরকার কোনোভাবেই বিএনপিকে সমাবেশ করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইতোমধ্যে ডিএমপি কমিশনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিএনপিকে নয়াপল্টনে ২৯ ডিসেম্বর সমাবেশ করার অনুমতি দিবেন না। ওই দিন কর্মসূচি পালন করতে দিলে নিরাপত্তা বিঘিœত হতে পারে মনে করে তারা বিভিন্ন নাশকতার আশঙ্কায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে এরপরও তাদের কাছে খবর রয়েছে বিএনপি ও ১৮ দলের নেতাকর্মীরা এবং সব বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে ঢাকায় আসার চেষ্টা করবেন। ইতোমধ্যে অনেকেই ঢাকায় চলে এসেছেন। তারা সকল বাধা উপেক্ষা করে সেখানে যাবেন। গতকাল পর্যন্ত নেতাদের প্রতি সুস্পষ্ট কোনো দিক নির্দেশনা বেগম খালেদা জিয়ার দিক থেকে ছিল না। গতকাল তিনি এক ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে সেই দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। দেড় মিনিটের ওই ভিডিও বার্তাতে বেগম খালেদা জিয়া সকল বাধা উপেক্ষা করে ২৯ ডিসেম্বর রোববার গণতন্ত্রের অভিযাত্রা কর্মসূচি সফল করতে সবাইকে ঢাকায় আসার আহ্বান জানান। গতকাল বিকেলে ভিডিও বার্তায় খালেদা জিয়া আরো বলেছেন, আমি আপনাদের পাশে আছি, থাকব সব সময়। যদি আমি আপনাদের পাশে থাকতে না পারি, তাহলেও আপনারা আপনাদের এই কর্মসূচি, এই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এ সরকারের বিদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এ দেশে আমরা গণতন্ত্র এনেছি, আবারও গণতন্ত্র আনব। আরো বলেছেন, সেদিন আর বেশি দূরে নেই, বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত। তিনি নেতাকর্মীসহ দেশবাসীর প্রতি এই আহ্বান জানান।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শমসের মুবীন চৌধুরী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এখন কার্যত অন্তরীণ রয়েছেন। তার সঙ্গে দেখা করতে আমাদের কাউকে যেতে দিচ্ছেন না। তার বাসায় তার সঙ্গে কাউকে কথা বলতে দিচ্ছেন না। এতে বোঝা যায় সরকার কি করতে চাইছে। তবে এইভাবে আন্দোলন থামানো যাবে না। এদিকে সূত্র জানায়, বেগম খালেদা জিয়াও আশঙ্কা করছেন সরকার তাকে নয়াপল্টনে যেতে দিবেন না। এই কারণেই তিনি আগাম বার্তা পাঠান। তার বার্তা পাওয়ার পর বিএনপির নেতাকর্মীরা আরো উৎসাহ নিয়ে ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে ২৯ ডিসেম্বরের কর্মসূচি সফল করার জন্য বলেছেন। এতে করে এখন ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদেরকে বলা হয়েছে, যেখানেই তারা বাধার মুখে পড়বেন। সেখানেই অবস্থান নিবেন। কেউ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করবেন। যে কোনো মূল্যেই কর্মসূচি তাদেরকে সফল করতে হবে। এটাই নির্বাচনের আগে সবচেয়ে বড় সমাবেশ কর্মসূচি। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে সবার কাছে প্রমাণ করতে হবে বিএনপির চেয়ে সরকারি দলের চেয়ে অনেক জনপ্রিয়। বিএনপি নির্দলীয় সরকারের অধিনে নির্বাচন চাইছে সেটা এই দেশের মানুষও চাইছে। সরকারের কথাকে মিথ্যে প্রমাণ করতে হবে এই সব বিষয়সহ তারা নির্বাচন প্রতিহত করার ও এই নির্বাচন যে জনগণ মানে না সেই জন্য তারা প্রমাণ দিতে চাইছেন। বিএনপির এক নেতা বলেন, এই কর্মসূচি সফল করার জন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি রাখবো। সরকার যদি আমাদেরকে নির্যাতন করে ও বাধা দেয় আমরাও ছাড়বো না। আশা করি সরকার শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে দিবে। দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের কারণেই সবাই মনে করছে সংঘাত এখন অনিবার্য হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই দল যে অবস্থানে রয়েছে দুই দল দুই দলকে প্রতিহত করার মতো মারমুখী অবস্থানে রয়েছে। একদল আরেক দলের কর্মসূচি ও উদ্দেশ্য সফল হতে দিবে না। এই কারণে দুই দলের মধ্যে এনিয়ে ব্যাপক সংঘর্ষ হতে পারে। বিএনপির নেতাকর্মীদের হাতে থাকা লাঠিও তারা মারপিঠের জন্য ব্যবহার করতে পারে।
বেগম খালেদা জিয়া ভিডিও বার্তাতে আরো বলেছেন, গণতন্ত্রের জন্য ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় পতাকা হাতে আমি আপনাদের প্রতি ঢাকায় নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সমবেত হতে অনুরোধ করছি। আশা করি, সব প্রতিকূলতা প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে ওই দিন ঢাকায় গণতন্ত্র রক্ষার সমাবেশে শরিক হবেন। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই সরকারের প্রহসনের নির্বাচনে শরিক হতে না বলতে হবে। তা বলার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে গণতন্ত্রকে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনকে হ্যাঁ বলার জন্যও আহ্বান জানাই।
এদিকে বিএনপির এক নেতা বলেন, ম্যাডাম কোনো কারণে সমাবেশে নাও থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন। এই কারণে বলেছেন তিনি না থাকলেও এই কর্মসূচিতে শরিক হয়ে আন্দোলন সফল করতে নির্দেশ দেন।
এর আগে গতকাল দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেছেন, জন নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি এই কথার বলার পর বিকেলেই বেগম খালেদা জিয়া ভিডিও বার্তা পাঠান। গতকাল দুপুরের আগে পুলিশ মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার গণমাধ্যমকে জানান, সমাবেশের অনুমতির বিষয়ে সময়মতো বিএনপিকে জানানো হবে। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করছে। সময়মতো জানানো হবে। ওই দিন পুলিশের ভূমিকা কি হবে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশ জনস্বার্থকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। বিএনপির নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসছে এই বিষয়ে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা ওয়াকিবহাল। জনস্বার্থ সমুন্নত রেখেই পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। সারা দেশে নেতাকর্মীদের গণহারে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে বলেছেন, পুলিশ বিধি অনুসারেই অভিযান চালাচ্ছে। গ্রেপ্তার করছে। কেউ বিধি না মানে, তাহলে সেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বেশ কিছুদিন ধরেই একটি চক্র দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। আমাদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হচ্ছে।
উল্লেখ, বিএনপি চেয়ারপারন বেগম খালেদা জিয়া গত মঙ্গলবার মার্চ ফর ডেমোক্রেসি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এরপর বিএনপির চিফ হুইপ জয়নুল আবেদীন ফারুক নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি, সহযোগিতা ও মাইক ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে আবেদনও করেন। ওই সময়ে কমিশনার কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। কিন্তু ওই কর্মসূচির পরই সরকারের বিভিন্ন নেতারা স্পষ্ট করেই বলে দেন বিএনপির কর্মসূচি সফল করতে না দেওয়ার।
এদিকে বিএনপির সূত্র জানায়, সরকার বিএনপিকে বাধা দিবে সমাবেশ করতে দিবে না এটা আমরা জেনেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকায় নেতাকর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেছেন। বিএনপিরসহ ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। ঢাকায় অনে্েক আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন। বিএনপির নেতারা যদিও অভিযোগ করছেন বিভিন্ন স্থানে বাস-লঞ্চ বন্ধ রেখে নেতাকর্মীদের ঢাকা আসার পথে বাধা সৃষ্টি করছে। এরপর বেগম খালেদা জিয়া সরকারের উদ্দেশ্যে বলেছেন, সমাবেশ করতে বাধা দিলে পরিণতি ভালো হবে না। কঠোর কর্মসূচি হবেই। বেগম খালেদা জিয়া তার ভিডিও বার্তায় স্বাধীনতার যুদ্ধের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছেন। বলেছেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের বিজয়র মাসে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় পতাকা হাতে আমি আপনাদের প্রতি নয়াপল্টনে বিএনপি অফিসের সামনে সমবেত হতে অনুরোধ করছি। তিনি সরকার পতনেরও ডাক দিয়েছেন বলেছেন, আমি আপনাদের পাশে থাকতে না পারি, তাহলেও আপনারা এই কর্মসূচি আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। বর্তমান সরকারের বিদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেছেন, কোনো শক্তিই ২৯ ডিসেম্বরের কর্মসূচিতে বাধা দিতে পারবে না। গণতন্ত্র বাঁচানোর জন্য এই কর্মসূচি অবশ্যই পালন করা হবে। তিনি গতকাল সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ডিএমপির কাছে লিখিতভাবে অনুমতি চেয়েছি। এখন পর্যন্ত লিখিত কোনো উত্তর পাইনি। তবে আশা করছি, পুলিশের পক্ষ থেকে অনুমতি পাব।
সূত্র জানায়, বিএনপির নেতারা এখন যে কোনো মূল্যে কর্মসূচি সফল করার জন্য কাজ করছেন। তারা মাঠে না থাকলেও গোপনে থেকেই কাজ করছেন। আর এদিকে আওয়ামী লীগ নেতারাও বসে নেই। তারাও সমাবেশ ঠেকানোর জন্য সব ব্যবস্থা করছেন। শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচন প্রতিহত ও বন্ধ করার ক্ষমতা বিরোধী দলের নেই। এত অবরোধ দিলেন, এত কর্মসূচি দিলেন, নির্বাচন কি বন্ধ করতে পেরেছেন? রোববারের মার্চ ফর ডেমোক্রেসি প্রতিরোধ করার জন্য ১৯৭১ সালের মতো প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। বলেন, বিএনপির সঙ্গে সংলাপের সময় প্রস্তাব দিয়েছিলাম তফসিল ১০ দিন পিছিয়ে দেব। নির্বাচনে আসুন। রাজি হলেন না। বললেন, তফসিল স্থগিত করতে হবে। বলা হলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে আসুন। তাতেও তাদের না। বললেন, শেখ হাসিনার অধীন ছাড়া ক, খ যে কারও অধীনে নির্বাচনে যাব। বঙ্গবন্ধুর কন্যা বলেই শেখ হাসিনার অধীনে তিনি নির্বাচনে আসেননি। তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এসব নৈরাজ্য সহিংসতা বন্ধ করুন। পরিণতি ভালো হবে না।
সূত্র জানায়, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট কর্মসূচি সফল করার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সরকার তা ব্যর্থ করার সব উদ্যোগ নেওয়াতেই এখন উদ্বেগ আরো বাড়ছে। (আমাদের সময়.কম)
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দিল্লির নতুন মুখ্যমন্ত্রী আম আদমি-অরবিন্দ
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রথম দিনেই কাজ শুরু করলেন কেজরিওয়াল
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে আগুন দিল ব্রাদারহুড
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সংবিধান ও গণতন্ত্র—কোনো নামেই অশান্তি নয়
![]() |
| গতকাল ‘সরকারি অবরোধ’ চলাকালে বিরান গাবতলী বাস টার্মিনাল ছবি: সাজিদ হোসেন |
সৈয়দ আবুল মকসুুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আইন নয়, শক্তির শাসন চলছে
আগামীকাল: সুপ্রিম কোর্ট যখন সংবিধানবিচ্যুত
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক।
mrkhanbd@gmail.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তপ্ত শীত এবং সামান্য ক্ষতি!
হানিফ সংকেত: গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, লেখক।
hanifsanket@gmail.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গণতন্ত্র ও জবাবদিহি- আইন নয়, শক্তির শাসন চলছে by মিজানুর রহমান খান
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সমঝোতার পথ খুঁজুন- কেন সরকারি অবরোধ?

ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ যে কার্যত বিচ্ছিন্ন, তার পেছনে সরকারের হাত রয়েছে। সরকারের এই ‘অবরোধ’ কর্মসূচির সঙ্গে তুলনীয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘জুতা আবিষ্কার’ কবিতার রাজার আহাম্মকি। পায়ে ধুলা লাগবে বলে সমস্ত পথঘাট চামড়া দিয়ে মুড়ে দেওয়া যায় না। বরং নিজের পায়ে জুতা পরাই বুদ্ধিমানের কাজ। সরকার বিরোধী দলের কর্মসূচি ঠেকাতে সমগ্র রাজধানীসহ সারা দেশের যান চলাচল বন্ধ করে সেই ভুলই করছে। জন চলাচলে বাধা দিয়ে, গণহারে তল্লাশি-হয়রানি-গ্রেপ্তার করা কোনো আইনি কর্তৃপক্ষের আচরণ হতে পারে না।

বিরোধী দল যতবার কর্মসূচি দেবে, ততবারই কি সরকার এই আচরণ করবে? সেটা কি কার্যত সম্ভব? এতে কি সরকারের জনবিচ্ছিন্নতাই আরও বাড়বে না? এতে কি দেশের ক্ষতি হয় না? প্রতিযোগিতাহীন নির্বাচন, বিরোধীদের ধরপাকড়-দমন, কর্মসূচি পালনে সর্বাত্মক বাধা—বিশ্বের কাছে এই চিত্র মোটেই গ্রহণযোগ্য হবে না। এসব আসলে মূল সমস্যা থেকে উটপাখির মতো বালিতে মুখ গুঁজে থাকার শামিল।
একদিকে সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা পুলিশের সঙ্গে অভিযানে অংশ নিচ্ছেন, বিরোধীদের ঘরবাড়ি তছনছ করছেন, অন্যদিকে ক্ষমতাসীনদের জ্যেষ্ঠ নেতারা বিরোধীদের সমাবেশ ঠেকাতে দলীয় কর্মীদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালানোর ডাক দিতে দ্বিধা করছেন না। ঢাকার প্রবেশপথ দিয়ে মাছিও যাতে প্রবেশ না করতে পারে, তার জন্য কর্মীদের পুরস্কারের আশ্বাস ও শাস্তির হুমকি দিচ্ছেন। বিরোধী দল ও সরকারের আচরণ যদি সংঘাতের পাণ্ডুলিপি অনুসরণ করে দেশের অধোগতি অনিবার্য।
দেশ চালাতে হলে, দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হলে এবং সর্বোপরি গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হলে বিরোধী দলের সঙ্গে আপস-মীমাংসার পথ বের করতেই হবে সরকারকে। বিরোধী দল মানে কতিপয় নেতা-নেত্রী নন; বিরোধী দল মানে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ, যারা ওই সব নেতা-নেত্রী এবং তাঁদের দাবি-দাওয়ার সমর্থক। বিরোধী দলকে দমনের মাধ্যমে সরকার দেশবাসীর একটি অংশকে অপদস্থ ও উপেক্ষিত করে রাখতে পারে না। সরকার দলনির্ভর হলেও তাকে দেশের অধিকাংশ জনগণের দিকে তাকিয়ে দেশ চালাতে হয়। একতরফা নির্বাচন করতে ‘সরকারি অবরোধ’ ও পুলিশি শক্তির মাত্রাছাড়া ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার পথ যে ব্যর্থ হতে বাধ্য, সরকারের এই উপলব্ধি ছাড়া সামনে সমূহ অমঙ্গল এড়ানো সম্ভব নয়। আবার আন্দোলনের নামে বিরোধী দলের সহিংসতা ও নাশকতাও গ্রহণযোগ্য নয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ক্ষমতা- আমাদের আম-আদমিরা কোথায়? by ওয়াসি আহমেদ
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
-
▼
2013
(14877)
-
▼
December
(526)
-
▼
Dec 30
(14)
- নতুন করে শিক্ষা নিয়ে ভাবুন by মোঃ মুজিবুর রহমান
- এরা যদি অবরোধকারী, পিকেটার, রাজনৈতিক নেতাকর্মী হয়ে...
- সহিংসতার বিরুদ্ধে চাই জনতার প্রতিরোধ by মোঃ আবু সা...
- বর্তমান সংকটে ক্যাপটিভ এডিটর ও সুশীল সমাজের ভূমিকা...
- সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠেছে!
- দিল্লির নতুন মুখ্যমন্ত্রী আম আদমি-অরবিন্দ
- প্রথম দিনেই কাজ শুরু করলেন কেজরিওয়াল
- কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে আগুন দিল ব্রাদারহুড
- সংবিধান ও গণতন্ত্র—কোনো নামেই অশান্তি নয়
- আইন নয়, শক্তির শাসন চলছে
- তপ্ত শীত এবং সামান্য ক্ষতি!
- গণতন্ত্র ও জবাবদিহি- আইন নয়, শক্তির শাসন চলছে by ম...
- সমঝোতার পথ খুঁজুন- কেন সরকারি অবরোধ?
- ক্ষমতা- আমাদের আম-আদমিরা কোথায়? by ওয়াসি আহমেদ
-
▼
Dec 30
(14)
-
▼
December
(526)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...




