Friday, March 20, 2015

আমরা মানুষকে সর্বোচ্চ মত প্রকাশের সুযোগ দিতে চাই -মার্ক জাকারবার্গ

আজ আমরা আমাদের সর্বশেষ ‘গ্লোবাল গভর্নমেন্ট রিকোয়েস্ট রিপোর্ট’ প্রকাশ করেছি। একই সঙ্গে হালনাগাদ করেছি আমাদের কমিউনিটি মানদণ্ড। প্রথম রিপোর্টে ২০১৪ সালের শেষার্ধে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সরকারগুলোর কাছ থেকে পাওয়া অনুরোধের তালিকা আছে। দ্বিতীয়টিতে রয়েছে, আমাদের কমিউনিটিতে আপনি কি শেয়ার করতে পারবেন তার নিয়ম আর সীমাবদ্ধতা নিয়ে স্পষ্ট বিবরণ। আমরা সব থেকে কঠিন আর গুরুত্বপূর্ণ যেসব ইস্যু মোকাবিলা করি তার মধ্যে অন্যতম হলো মুক্ত মতপ্রকাশ আর সরকারগুলো কিভাবে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে তা নিয়ে যেসব প্রশ্ন রয়েছে সেগুলো। কোন কন্টেন্ট আমরা সরিয়ে ফেলি, কোন বিতর্কিত কন্টেন্ট আমরা রেখে দেই এবং কেন মানুষ তা ন্যায়সঙ্গতভাবেই জানতে চায়। আমাদের কমিউনিটির জন্য আমি গভীর যত্নসহকারে এবং চিন্তা-ভাবনা করে এটা করার দায়িত্ব বোধ করি। আমাদের দর্শন ব্যাখ্যা করার জন্য এটা আমার কাছে একটা ভাল সুযোগ। আমাদের মিশন হলো মানুষকে শেয়ার করার ক্ষমতা দেয়া এবং বিশ্বকে আরও বেশি মুক্ত এবং সংযুক্ত করা। আপনার কাছে যেটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা শেয়ার করতে আপনাকে সুযোগ দিতেই আমরা রয়েছি- সেটা হতে পারে আপনার পরিবারের ছবি থেকে শুরু করে বিশ্ব নিয়ে আপনার মতামত।
আমরা বিশ্বাস করি আপনি যত ভালভাবে শেয়ার করতে পারবেন আর যোগাযোগ স্থাপন করতে পারনে, আমাদের সমাজ ততটাই প্রগতি অর্জন করবে। সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হচ্ছে, আরও বেশি চাকরি আর ব্যবসা সৃষ্টি হচ্ছে আর মানুষের মুল্যবোধ নিয়ে সরকার আরও ভালভাবে দৃষ্টিপাত করতে পারছে। মানুষ কি শেয়ার করতে পারবে তার সীমাবদ্ধতা নিয়ে যত জটিল সব প্রশ্ন উঠছে সে প্রেক্ষিতে আমাদের দিক-নিদের্শনামূলক একটামাত্র নীতি রয়েছে। সেটা হলো- আমরা বেশির ভাগ মানুষকে সর্বোচ্চ মতপ্রকাশের সুযোগ (মোস্ট ভয়েস) দিতে চাই। মতপ্রকাশের সুযোগ থাকা কোন চূড়ান্ত অবস্থা নয়। এটা এমন বিষয় নয় যে, আপনার মতপ্রকাশের সুযোগ আছে বা আপনার নেই। এটা কালো বা সাদা নয়। আপনার যখন ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ আছে, আপনার অনেক বেশি মত প্রকাশের সুযোগ আছে। আপনার যখন শেয়ার করার জন্য অপেক্ষাকৃত উন্নত মাধ্যম আছে আপনার আরও বেশি মতপ্রকাশের সুযোগ আছে। আপনার বাকস্বাধীনতা সীমাবদ্ধ করতে যখন অপেক্ষাকৃত কম আইন থাকে তখন আপনার অপেক্ষাকৃত বেশি মতপ্রকাশের সুযোগ থাকে। নিজেকে প্রকাশের জন্য যখন আপনাকে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বা সহিংসতার ভয়ে বাস করতে না হয় তখন আপনার বেশি মতপ্রকাশের সুযোগ থাকে। আরও বেশি মানুষকে আরও বেশি মতপ্রকাশের সুযোগ করে দেয়ার জন্য আমরা প্রতিদিন কাজ করি। এর অর্থ হলো ইন্টারনেট ডট ওআরজি- এর মাধ্যমে বিশ্বের সবাইকে সংযুক্ত করা যেন এখনও সংযোগের বাইরে থাকা দুই তৃতীয়াংশ মানুষ আপনার মতো যোগাযোগের সামর্থ্য পেতে পারে। এর অর্থ হলো, ফেসবুক আর হোয়াটসঅ্যাপের মতো সেবা গড়ে তোলা যেন আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ সব কিছু আপনি সহজে শেয়ার করতে পারেন। এর অর্থ হলো আপনাকে বলপ্রয়োগ আর হয়রানি থেকে রক্ষা করা যেন আপনি নিজেকে প্রকাশ করতে নিরাপদ বোধ করতে পারেন। আর এর অর্থ হলো আপনাকে সেন্সর আর সীমাবদ্ধ করতে সরকারের অবৈধ অনুরোধগুলো ফিরিয়ে দেয়া। আদর্শ একটি বিশ্বে আমাদের ইচ্ছামতো সবকিছু স্বাধীন ও নিরাপদভাবে প্রকাশ করতে আমরা প্রত্যেকে শক্তিশালী বোধ করবো। বাস্তবে, সেক্ষেত্রে অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সহ প্রতিটি দেশে আইন রয়েছে যা জননিরাপত্তা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ রক্ষার্থে আপনাকে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় শেয়ারে নিবারিত করে। কিন্তু তারা যদি এমনটা নাও করতো তারপরও আমাদেরকে প্রকাশ করার জন্য এবং আমাদের ইচ্ছামতো কারও সঙ্গে যোগাযোগ করার মতো নিখুঁত কোন মাধ্যম এখনও নেই। কাজেই আমরা এরপরও সীমাবদ্ধই থাকতাম। যদি নিখুঁত কোন ব্যব্যস্থা থাকতোও তাহলেও বেশির ভাগ মানুষ সেটা ব্যবহার কতে পারতো না যেহেতু বিশ্ব জনসংখ্যার বেশির ভাগেরই ইন্টারনেট সংযোগ নেই। এমনকি যে কোন কিছু প্রকাশে আমাদের প্রত্যেকেরই যদি ওই নিখুঁত মাধ্যম, ইন্টারনেট আর আইনি অধিকার থাকতো তারপরও হয়তো মানুষ হয়রানি, সহিংসতা, সন্ত্রাস বা স্রেফ অস্বস্তিকর সামাজিক পরিস্থিতির ভয়ে নিজেদেরকে সেন্সর করতো। বিশ্বের প্রতিটি মানুষের যে ধরনের মতপ্রকাশের সুযোগ থাকা উচিত তেমনটা হওয়ার আগে আমাদের অনেক কাজ করার আছে। পরবর্তী ৪০০ কোটি মানুষের জন্য ইন্টারনেট সংযোগ দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে আমাদের কাজ নিয়ে অতীতে আমি ব্যাপক লেখা লেখি করেছি। অপারেটরদের সঙ্গে যৌথ অংশিদারিত্বে বেসিক ইন্টারনেট সেবা বিনামূল্যে দেয়ার প্রস্তাব থেকে শুরু করে সরাসরি সংযোগ দিতে স্যাটেলাইট ও বিমান নকশা নিয়ে লিখেছি। এছাড়াও আমি আমাদের সকল অ্যাপ এবং সেবা নিয়ে আলোচনা করেছি যা আপনাকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে শেয়ার করার ক্ষমতা দেয়- ব্যক্তিগত (প্রাইভেট) থেকে পাবলিক (সবার জন্য উন্মুক্ত), ঘনিষ্ঠ গ্রুপ থেকে বৃহত পরিসরের কমিউনিট, স্রেফ টেক্সট থেকে সমৃদ্ধ ছবি, ভিডিও আর ছবি পর্যন্ত। আমার এ লেখার বাকি অংশে আমি মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে সামাজিক ও আইনি প্রতিবন্ধকতার ওপরে মনোযোগ দেবো। আমরা নিরাপদ এবং সম্মানজনক একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করি যেখানে আপনি সবসময় থাকতে এবং মতপ্রকাশে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন। এ কারণে আমাদের কমিউনিটিজুড়ে বেসিক আইন প্রতিষ্ঠা করতে আমাদের কমিউনিটি মানদণ্ড রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সহিংসতার হুমকি এবং ভয়-ভীতি প্রদর্শনের বার্তাগুলো সরিয়ে ফেলা হবে। একজন ব্যক্তির মতপ্রকাশ হয়তো অনেকের মতপ্রকাশের সুযোগ অন্যায়ভাবে সীমাবদ্ধ করতে পারে এগুলো তার উদাহরণ। এ কারণে, বেশির ভাগ মানুষকে সর্বোচ্চ মতপ্রকাশের সুযোগ দেয়ার লক্ষ্যে আমরা এসব কন্টেন্ট অনুমোদন না দেয়া বেছে নিয়েছি। আমাদের কমিউনিটি মানদণ্ডের আজকের আপডেটে এসব নীতিমালা নিয়ে আরও বিস্তারিত রয়েছে। একই সঙ্গে রয়েছে ফেসবুকে কোন বিষয়গুলো শেয়ার করা গ্রহণযোগ্য নয় সেগুলোর ব্যাখ্যা এবং উদাহরণসমূহ। আমাদের নীতিমালাগুলো পরিবর্তন হচ্ছে না। আমরা যেসব ভিন্ন আইনি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের মধ্যে কাজ করি সে বিষয়গুলোতে আমাদের নজর দেয়া প্রয়োজন। সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয় প্রকাশে সীমাবদ্ধতা দিয়ে আইন রয়েছে প্রতিটি দেশে। আর এগুলো প্রায়ই সংস্কৃতি ও ইতিহাসের আলোকে আকার পেয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ হলোকাস্টের বিষয়টি অস্বীকার করা জার্মানিতে নিষিদ্ধ। কামাল আতাতুর্ককে অবমাননা করে এমন কিছু তুরস্কে অবৈধ। অনেক মুসলিম রাষ্ট্রে ধর্ম অবমাননাকর বিষয়গুলো নিষিদ্ধ। সরকারগুলো মাঝে-মধ্যে তাদের দৃষ্টিতে অবৈধ কন্টেন্ট আমাদেরকে সরিয়ে ফেলতে বলে। কিন্তু সেটা আমাদের কমিউনিটি মানদণ্ড লঙ্ঘন করে না। আমরা এসব সরকারি আদেশ সংক্রান্ত তথ্য আমাদের ‘গ্লোবাল গভর্নমেন্ট রিকোয়েস্টস রিপোর্টে’ সন্নিবেশ করে থাকি। অপ্রয়োজনীয় বা অনধিকার সরকারি হস্তক্ষেপ থেকে আমাদের কমিউনিটিকে রক্ষা করতে আমরা লড়াই করি। ফেসবুক এটা নতুন ধরনের সেবা। সে কারণে আমাদের এমন কিছু নিয়ম-কানুনের মুখোমুখি হতে হয় যেগুলোর তেমন কোন অতীত দৃষ্টান্ত নেই। আমরা এটা নিশ্চিত করি যে, শুধু আইনি এবং প্রয়োজনীয় সরকারি দাবিতেই আমরা সম্মত হচ্ছি। আমাদেরকে যদি একটি দেশে নিষিদ্ধ কোন কিছু ব্লক করতে হয় তাহলে আমরা সাধারণত সেগুলো বাকি বিশ্বের জন্য উন্মুক্ত রাখার চেষ্টা করি যেন শেয়ার করা মতপ্রকাশে সীমাবদ্ধতা কম রাখা যায়। মানুষের শেয়ার করা বিষয়বস্তু কিভাবে সরকারগুলো সীমাবদ্ধ করে আমরা সেটাও প্রকাশ করতে কাজ করি। আর সে কারণেই আমরা ‘গ্লোবাল গভর্নমেন্ট রিকোয়েস্টস রিপোর্ট’ প্রকাশ করি। অনেকে বলেন, মানুষের মতপ্রকাশ সীমাবদ্ধ করার সরকারি আদেশ আমাদের উপেক্ষা করা উচিত। যদি তাতে ওইসব দেশে এ সেবাটা বন্ধ করে দেয়া হয় তারপরও সরাকারি আদেশ উপেক্ষা করা উচিত বলে অনেকে বলে থাকেন। আমি মনে করি না এটা সঠিক। আমি বিশ্বাস করি এসব দেশের লাখ লাখ মানুষ যারা প্রতিদিন বন্ধু-স্বজন ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য ফেসবুকের ওপর নির্ভর করেন তাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। আমরা যদি আইনি কোন সরকারি আদেশ উপেক্ষা করি আর এরপর আমাদের ব্লক করে দেয়া হয়, তাহলে এত মানুষের কণ্ঠ শব্দহীন হয়ে যাবে। আর তাছাড়া, সরকার যে কন্টেন্ট অবৈধ বলে বিশ্বাস করে তা এমনিতেই ব্লক করা দেয়া হবে। বিষয়টা হলো বেশির ভাগ মানুষকে সর্বোচ্চ মতপ্রকাশের সুযোগ দেয়া। অন্যরা যুক্তি দেখিয়ে থাকেন, ফেসবুক ব্লক হয়ে গেলে স্বল্প মেয়াদে মানুষের মতপ্রকাশের সুযোগ কমে যাবে কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে একটি দেশ তাদের আইন পরিবর্তন করতে পারে। দুঃখজনক হলেও কোন দেশ থেকে একটি প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেয়ার পর সে দেশে মতপ্রকাশ সীমাবদ্ধকরণ আইন পরিবর্তনের নজির তেমন একটা নেই। পক্ষান্তরে, এমন বহু উদাহরণ রয়েছে কিভাবে মানুষকে যোগাযোগ আর শেয়ারের সুযোগ দিলে তা সমাজের উন্নতিতে সহায়ক হয়। বেশির ভাগ মানুষকে সর্বোচ্চ মতপ্রকাশের সুযোগ করে দিতে আমাদের যে দর্শন তা বিশ্বকে সংযুক্ত করতে আমাদের মিশন থেকে অনুপ্রাণিত, আমাদের ব্যবসা নয়। আজ কয়েকটি দেশে আমরা ব্লকড। আর তারপরও আমাদের ব্যবসা বেশ ভালই চলছে। আরও কিছু দেশে যদি আমাদের ব্লক করে দেয়া হয়, এটা সম্ভবত ততটা ক্ষতি করবে না। যেসব মানুষকে এটা ক্ষতি করবে তা হলো ওই সব দেশের যারা জনগণ রয়েছে তাদের। ওই মানুষদেরই মত প্রকাশের একটি সুযোগ প্রয়োজন। আমাদের দায়িত্ব হলো- যতটা সম্ভব মতপ্রকাশের সুযোগ তাদেরকে করে দেয়া। আমরা বিশ্বজুড়ে যখন ইন্টারনেট ডট ওআরজি চালু করেছি, দেখেছি সংযুক্ত হওয়ার পর মানুষকে বিস্ময়কর সব জিনিস করতে। অনেক বছর পর দূরবর্তী স্বজনদের সঙ্গে মানুষ যোগাযোগ করেছে প্রথমবারের মতো। ছোট ব্যবসা মালিকরা অনলাইনে নতুন ক্রেতা খুঁজে পেয়েছে। সন্তানপ্রত্যাশী মা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। এছাড়া কিছু যোগাযোগ ব্যবস্থা জীবনকে উন্নততর করে। মুক্ত মতপ্রকাশ নিয়ে ভাবনা প্রলুব্ধ করে বৈকি। সাদা আর কালোর মতো একটা কণ্ঠ থাকা- হয় আপনার এ সুযোগ আছে বা নেই। কিন্তু মানুষকে মত প্রকাশের সুযোগ দেয়ার বিষয়টি, আমাদের সমাজের বেশির ভাগ বিষয়ের মতোই এমন একটি বিষয় যে লক্ষ্যে আমাদেরকে অবশ্যই ধাপে ধাপে উন্নতি করতে হবে। প্রতিটি ইন্টারনেট সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ। শেয়ার করার প্রতিটি সেবা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি আইন গুরুত্বপূর্ণ। আপনার নিরাপত্তা রক্ষার্থে প্রতিটি মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন আমরা তৈরি করি, আবিষ্কার করি, আর বেশির ভাগ মানুষকে সর্বোচ্চ মতপ্রকাশের সুযোগ দিতে লড়াই করি। একদিন আমাদের কমিউনিটি আমাদের মিশন সম্পন্ন করবে। যেটা হলো, সবখানের মানুষেকে শেয়ার করার ক্ষমতা দেয়া আর বিশ্বকে আরও বেশি উন্মুক্ত আর সংযুক্ত (কানেকটেড) করে তোলা।
ফেসবুকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের লেখা থেকে অনূদিত। অনুবাদ করেছেন হাসনাইন মেহেদী

মান্নাকে নির্যাতনের অভিযোগ পরিবারের

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন তার পরিবারের সদস্যরা। গতকাল দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচার তোপখানা রোডে নাগরিক ঐক্যের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন মান্নার স্ত্রী মেহের নিগার। তিনি বলেন, মান্না একজন অসুস্থ মানুষ। তার উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ রয়েছে। তার বুকে তিনটার অধিক ব্লক ধরা পড়েছে। সম্প্রতি গ্রেপ্তার ও মানসিক নির্যাতনের কারণে তার হার্টের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেছে। তার জীবন এখন হুমকির সম্মুখীন।
মেহের নিগার বলেন, মিথ্যা অভিযোগে দুটি মামলা দিয়ে তাকে ২০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। প্রথম ১০ দিনের রিমান্ডের সময় মান্নার প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রও তাকে দিতে দেয়া হয়নি। এমনকি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করারও সুযোগ দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্নার মুক্তি দাবি করে স্ত্রী বলেন, হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি হওয়া থেকেই বোঝা যায় একজন অসুস্থ মানুষের সঙ্গে রিমান্ডের নামে কি ধরনের আচরণ করা হয়েছে। আমরা তার প্রাণহানির আশঙ্কায় আছি। এজন্য তাকে জামিনে মুক্তি দেয়ারও আবেদন জানাচ্ছি। আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মান্নার স্ত্রী মেহের নিগার সরকারের কাছে আবেদন করে বলেন, আমরা সরকারের কাছে মান্নার শরীরের যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সুচিকিৎসার জন্য বিনীত আবেদন জানাচ্ছি। আমরা কারাগারে তার ডিভিশনের আবেদন জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, মাহমুদুর রহমান মান্না আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনি যে কোন ধরনের আইনানুগ বিচারের সম্মুখীন হতে রাজি আছেন। প্রয়োজনে তাকে জেলগেটে ডাক্তারের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতে পারে। সংবাদ সম্মেলনের একপর্যায়ে আসন্ন ঢাকা সিটি নির্বাচনে মাহমুদুর রহমান মান্নার অংশগ্রহণ সম্পর্কে জানতে চাইলে মেহের নিগার বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মাহমুদুর রহমান মান্নার কন্যা নিলম মান্নাসহ নাগরিক ঐক্যের নেতারা।
মান্নাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর: মাহমুদুর রহমান মান্নাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল সকালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ছাড়পত্র দেন। দ্বিতীয় দফা ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে থাকাকালে বুকে ব্যথা অনুভব করায় গত ১০ই মার্চ রাতে তাকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি ওই হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল দুপুর পৌনে ১টায় ঢামেক হাসপাতালে কেন্দ্রীয় কারাগারের আটজন কারারক্ষী একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে আবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যান। এ সময় মান্নাকে উদ্বিগ্ন দেখাচ্ছিল। এ বিষয়ে মান্নার চিকিৎসায় গঠিত ছয় সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আবদুল ওয়াদুদ সাংবাদিকদের বলেন, মাহমুদুর রহমান মান্নার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। তাকে উন্নত চিকিৎসা দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। তার হৃৎপিণ্ডে সমস্যা ছিল। ওই সমস্য এখন আর নেই। তবে তার ঘাড় ও কোমরে ব্যথা রয়েছে। হৃদরোগের পাশাপাশি তার কিডনির রোগও রয়েছে। এজন্য তার শরীর কিছুটা দুর্বল। তাকে নিউরোলজি বিভাগের চিকিৎসার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া যখন তার হৃদরোগের সমস্যা আবার দেখা দেবে তখন তাকে দ্রুত হাসপাতালের নিয়ে আসার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। মান্নাকে নিয়ে যাওয়ার সময় নাগরিক ঐক্যের কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
গত ২৩শে ফেব্রুয়ারি নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে বনানী থেকে সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আটক করে বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা পর ২৪শে ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডি থেকে মান্নাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানায় র‌্যাব। পরে মাহমুদুর রহমান মান্নার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দুটি মামলা করা হয়।

হারেনি টাইগাররা হারল ক্রিকেট by ইশতিয়াক সজীব

মেলবোর্নের বুক ছিঁড়ে ইয়ারা নদীর জলধারা বয়ে যাবে একই ছন্দে। স্কোর কার্ডে চিরকাল লেখা থাকবে ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পরিষ্কার ব্যবধানেই জিতেছিল ভারত। ১৬ কোটি লাল-সবুজ হৃদয়ের দীর্ঘশ্বাসও একদিন মিলিয়ে যাবে। জীবন এগিয়ে যাবে জীবনের নিয়মে। কেউ মনে রাখবে না ২০১৫ সালের ১৯ মার্চ মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে কত বড় অন্যায়ের শিকার হয়েছিল বাংলাদেশ দল। হারের ধরন যেমনই হোক না কেন, সত্য হল বাংলাদেশের স্বপ্ন খুন হয়েছে আম্পায়ারদের হাতে। ভুলেভরা আম্পায়ারিং আর একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় বাংলাদেশকে। খেলার নামে যে প্রহসন হল তাতে শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা ক্রিকেট বিশ্বেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ভারতের প্রতি নির্লজ্জ পক্ষপাতিত্ব করে দুই আম্পায়ার- ইংল্যান্ডের ইয়ান গোল্ড আর পাকিস্তানের আলীম দারই মূলত হারিয়ে দিয়েছেন মাশরাফিদের। কড়া ভাষায় এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন আইসিসি সভাপতি আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ অন্যায়ের বিচার না হলে আইসিসি থেকে পদত্যাগ করতেও প্রস্তুত তিনি।
আম্পায়াররাও মানুষ। ভুল তারা করতেই পারেন। কিন্তু বাংলাদেশই কেন বারবার বাজে আম্পায়ারিংয়ের শিকার হবে? বাংলাদেশ যেহেতু গ্রুপপর্ব থেকে ইংল্যান্ডকে বিদায় করে দিয়েছে, ইয়ান গোল্ডকে নিয়ে তাই আগে থেকেই চাপা শংকা ছিল। সেই শংকাটাই কাল সত্য প্রমাণিত হল। ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া দুটি সিদ্ধান্তের প্রথমটি ছিল বাজে, পরেরটি ভুল। আম্পায়ারের বদান্যতায় ভারতের হিরো রোহিত শর্মার দ্বিতীয় জীবন পাওয়ার ঘটনাটাই সবচেয়ে পীড়াদায়ক। ১৩৭ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলা রোহিত থেমে যেতে পারতেন ৯০ রানেই। ইনিংসের ৪০তম ওভারে রুবেল হোসেনের বলে ডিপ মিডউইকেটে তার ক্যাচ লুফে নিয়েছিলেন ইমরুল কায়েস। কিন্তু ইয়ান গোল্ড ‘নো বল’ ডেকে বসেন। লেগ আম্পায়ার আলীম দারের কাছ থেকে সংকেতটা পেয়েছিলেন তিনি। বলটি আসলেই কোমরের ওপরের উচ্চতায় ছিল কিনা তা যাচাই না করেই গোল্ডের ‘নো’ কল সবাইকে হতবাক করে দেয়। রিপ্লেতে পরিষ্কার দেখা গেছে, রুবেলের ফুলটস বলটি রোহিতের কোমরের নিচেই ছিল। অর্থাৎ বৈধ বলে প্রাপ্য উইকেট থেকে বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ। এটা কী শুধুই বাজে আম্পায়ারিং নাকি ইয়ান গোল্ডের ব্যক্তিগত আক্রোশ? কোনোটিই নয়। আম্পায়ারদের এলিট প্যানেল থেকে যেন নাম কাটা না যায়, ভারতের প্রতি নির্লজ্জ পক্ষপাতিত্ব দেখিয়ে সেটাই নিশ্চিত করলেন গোল্ড ও আলীম দার। এর বিচার কার কাছে চাইবে বাংলাদেশ? আইসিসি তো ভারতের মুঠোয়। ১৬ কোটি মানুষের স্বপ্ন খুন করা ভুলের জন্য তিরস্কারের বদলে হয়তো পুরস্কৃতই হবেন দুই বেহায়া আম্পায়ার।
গোল্ড ও আলীম দারের ‘নো বল’ কাণ্ডে হতভম্ব হয়ে যান ম্যাচের ধারাভাষ্য দিতে থাকা অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি স্পিনার শেন ওয়ার্ন। সাফ বলে দেন, ‘এটা নো বল ছিল না। খুবই বাজে সিদ্ধান্ত।’ ওয়ার্নের মতো অনেক সাবেক খেলোয়াড়ই এ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকি ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীও আম্পায়ারদের সমালোচনা করেছেন। সাবেক ভারতীয় ব্যাটসম্যান ভিভিএস লক্ষ্মণ সঙ্গে সঙ্গে টুইট করেন, ‘গোল্ডের সিদ্ধান্তটা একদমই বাজে। বল নিশ্চিতভাবেই কোমরের ওপরে ছিল না। রোহিত সৌভাগ্যক্রমে আরেকটা জীবন পেল।’ ক্রিকেটের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোও বিষয়টি নিয়ে টুইট করে, ‘উচ্চতার জন্য নো বল দেয়া হল, কিন্তু তাই ছিল কী? ম্যাচের ফল নির্ধারণী সিদ্ধান্ত হতে পারে এটি।’ প্রখ্যাত সাংবাদিক সম্বিত বল তো ক্রিকেটের নিয়ম পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন, ‘এই নিয়মের পরিবর্তন প্রয়োজন। মাঠে থাকা আম্পায়ারদের নিশ্চিত ভুল শুধরে দেয়ার ক্ষমতা থাকা উচিত থার্ড আম্পায়ারের।’
রোহিতের আগে আম্পায়ারের বদান্যতায় বেঁচে যান সুরেশ রায়নাও। ২৮ ওভারে ১১৫ রানে তিন উইকেট হারিয়ে ভারত তখন রীতিমতো কোণঠাসা। চতুর্থ উইকেটে ১২২ রানের জুটি গড়ে সেখান থেকেই ভারতকে ৩০২ রানের চূড়ায় পৌঁছে দেন রোহিত (১৩৭) ও রায়না (৬৫)। কিন্তু মাশরাফির করা ৩৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে রায়না এলবিডব্ল– হয়ে গেলে চিত্রটা অন্যরকম হতে পারত। রায়নার বিপক্ষে পরিষ্কার এলবিডব্ল–র সিদ্ধান্তটা দিলেন না গোল্ড। আত্মবিশ্বাসী মাশরাফি রিভিউ নিলেও নিয়মের প্যাঁচে পড়ে সিদ্ধান্তটা বাংলাদেশের বিপক্ষেই যায়। মাশরাফির বলটি পুরোপুরি লেগ স্ট্যাম্পের লাইনে না থাকায় বেঁচে যান রায়না। থার্ড আম্পায়ার স্টিভ ডেভিস নিয়মের বাইরে যেতে না পারলেও এলবিডব্ল–র আবেদনে সহজেই সাড়া দিতে পারতেন ইয়ান গোল্ড। কিন্তু ‘বেনিফিট অব ডাউট’ কখনোই বাংলাদেশের অনুকূলে যায় না। ভুলেভরা আম্পায়ারিংয়ের শেষ এখানেই নয়। ৩০২ তাড়া করতে নেমে ৩৩ রানের মধ্যে বাংলাদেশের দুই ওপেনার ফিরে আসার পর সৌম্য সরকারকে নিয়ে বিপর্যয় সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন আগের দু’ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু ব্যক্তিগত ২১ রানে আরেকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের শিকার হয়ে ফিরতে হয় তাকে। সামির বলে মাহমুদউল্লাহর ক্যাচ নেয়ার সময় বাউন্ডারি লাইন ছুঁয়ে গিয়েছিল শিখর ধাওয়ানের পা। রিপ্লেতে বিষয়টি পরিষ্কার বোঝা না গেলেও এবারও ‘বেনিফিট অব ডাউট’ যায় ভারতের পক্ষে। এই যদি হয় আম্পায়ারিংয়ের নমুনা, তাহলে আর খেলার দরকার কী? নাটক মঞ্চায়িত না করে আগেই ভারতকে বিজয়ী ঘোষণা করতে পারত আইসিসি।

মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজে বঙ্গবন্ধুর জম্মদিন ও জাতীয় শিশুদিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

১৭ মার্চ চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও এক কিলোমিটারস্থ মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজের চান্দগাঁও ক্যাম্পাসের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর জম্মদিন ও জাতীয় শিশুদিবসের আলোচনা সভা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ক্রিড়া সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান প্রিন্সিপাল ড.মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন , বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের পরিচালনা পষর্দের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোরশেদ হোসেন, কলেজিয়েট স্কুলের সিনিয়ার শিক্ষিকা শাহনাজ পারভিন, মেরিট বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের পরিচালক জয়নাল আবেদিন লিটন, প্রতিষ্টানে উপাধ্যক্ষ নুর কাশেম তালুকদার,অনুষ্টান সঞ্চালনায় করেন শিক্ষক ওসমান বেনিজি । শিশু দিবসের আলোচনাা শেষে বার্ষিক ক্রিড়া সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার ইভেন্ট বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয় ।

উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ -দু’নেত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ডেনিশ মন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকা সফররত ডেনমার্কের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহায়তা মন্ত্রী মগেন্স জেনসেন। গতকাল সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এবং রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার বৈঠক হয়। খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে রাত সোয়া আটটা থেকে পৌনে নয়টা পর্যন্ত আধা ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে দুপুরের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ডেনিশ মন্ত্রী বলেন, প্রগতির পরবর্তী ধাপে পৌঁছতে হলে বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দরকার। পাশাপাশি উৎপাদন খাতে আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা শুধু বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য নয়, বাংলাদেশের মানুষের জন্যও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া উন্নয়নের জন্যও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মত দেন তিনি। ডেনিশ মন্ত্রী বেশ দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আমি মনে করি, যে রাজনৈতিক অস্থিরতা এখানে দেখা যাচ্ছে তার সমাধান সম্ভব। বিনিয়োগকারীরা ‘রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায়’ সবচেয়ে গুরুত্ব দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন ‘রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা’ না থাকলে বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারবে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা থেকে উত্তরণের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের মানুষের রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিনিয়োগ প্রসঙ্গে ডেনিশ মন্ত্রী বলেন, শুধু তৈরী পোশাক খাতেই নয়, বরং অন্য সম্ভাবনাময় খাতগুলোতেও বিনিয়োগ করতে হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে জেনসেন বলেন, উন্নয়নশীল একটি সমাজের জন্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সভা-সমাবেশের স্বাধীনতার বিষয়ে পূর্ণ গণতন্ত্র থাকার সর্বজনীন জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। এছাড়াও তিনি বলেন, এনজিওগুলোর কাজ করার স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ। ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনের সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ডেনিশ রাষ্ট্রদূত হ্যান ফুগল এসকজার।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক: এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রেস সচিব একেএম শামীম চৌধুরী সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেনমার্ক ও সে দেশের জনগণ বাংলাদেশের মহান বন্ধু। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে ডেনমার্কের জনগণের দেয়া মূল্যবান নৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থনের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। শেখ হাসিনা ডেনমার্ক-বাংলাদেশ স্ট্যাটেজিক সেক্টর কো-অপারেশন সফলভাবে চালু হওয়ায় ডেনিশ মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। শেখ হাসিনা দৃঢ় আস্থা ব্যক্ত করেন, কোপেনহেগেন নগরীতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন চালু হওয়ার পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও প্রসারিত ও গভীর হবে। প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ, ডেনমার্কে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ এ মুহিত এসময় উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে বৈঠক: বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ সফররত ডেনিশ মন্ত্রী মগেন্স জেনসেনের বৈঠকে আলোচনায় ছিল বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আলোচনার এক পর্যায়ে রাজনৈতিক বিষয়ে কথা হয়। ডেনিশ মন্ত্রী এ প্রসঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের করা উচিত বলে মত দেন। এ সময় তিনি বিএনপিকে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আলাপ-আলোচনায় জোর দেয়ার কথা বলেন। ডেনিশ মন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীল পরিবেশ দরকার। অন্যথায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়বে। এ সময় বিএনপির তরফে ডেনিশ মন্ত্রীকে জানানো হয়, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ বের করার ব্যাপারে বিএনপি ইতিবাচক। সংলাপের জন্য বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০দলের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি বারবার আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু সরকার সংলাপের ব্যাপারে অব্যাহতভাবেই নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে আসছে।
সমালোচনা উন্নয়নের অংশ: সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ‘সরকারের সমালোচনার’ বিষয়ে মগেন্স বলেন, সমালোচনা উন্নয়নের একটি অংশ। কারণ যখন কেউ সার্বক্ষণিক আপনার কাজের সমালোচনা করবে, তখন আপনি আরও ভাল কাজ করার চেষ্টা করবেন। ফলে সমালোচনা জরুরি। এটি সর্বজনীন। এটি উন্নয়নশীল সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মানবাধিকার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মানবাধিকার নিশ্চিত করা উন্নয়নের মৌলিক শর্ত। আমরা বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে কাজ করবো। বাংলাদেশকে একটি উন্নয়শীল অর্থনীতির দেশ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তবে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। বর্তমানে টেঙটাইল উৎপাদনশীলতায় পরিবর্তন হচ্ছে। আপনারা ভাল কর্মপরিবেশ পাচ্ছেন, যা ভাল ব্যবসা দিচ্ছে। এটি ভাল ব্যবসার জন্য বিনিয়োগ। তৈরী পোশাক শিল্পের মানোন্নয়নে ক্রেতা, বিক্রেতা এবং সরকার একসঙ্গে কাজ করছে। বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমরা গর্বিত। তবে পুরো বাংলাদেশে সত্যিকারের স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে শ্রমিক অধিকার এবং কর্মপরিবেশের ওপর আরও জোর দিতে হবে। তৈরী পোশাকশিল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন এ শিল্পে ভাল কিছু হচ্ছে। স্বল্প সময়ে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে ডেনমার্ক তা অনুধাবন করে। তবে এখনও কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা শর্ত পূরণ করছে না। ফলে এখনও আরও কিছু করতে হবে। ডেনমার্কের শ্রমিকদের পরিস্থিতি নিয়ে অভিজ্ঞতায় তিনি বলেন, যদিও ডেনমার্কে এখন শ্রমিকদের কর্মপরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে, তারপরও দুর্ঘটনার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হয়। ফলে এক্ষেত্রে থেমে থাকার কোন সুযোগ নেই। বিষয়টিতে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাওয়া জরুরি। বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতাকে বিস্ময়কর বলে তিনি বলেন, ডেনমার্কের দেয়া উন্নয়ন সহযোগিতা দরিদ্রদের মাঝে পৌঁছাচ্ছে দেখে ভাল লেগেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৬০টির মতো ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠান ব্যবসা পরিচালনা করছে। যা আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে  সকালে হোটেল ওয়েস্টিনে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার দ্বিতীয় বছরে পদার্পণ নিয়ে ঢাকাস্থ ডেনিশ দূতাবাস এবং ডেনিশ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ‘বাংলাদেশ- ফ্রেমিং দ্য ফিউচার: এ হাই লেভেল কনফারেন্স অন আরএমজি অ্যান্ড বিয়ন্ড’ শীর্ষক কনফারেন্সের উদ্বোধন করেন ডেনিশ মন্ত্রী। কনফারেন্সে প্রধান অতিথি হিসেবে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বক্তব্য রাখেন। এছাড়া ডেনিশ ও বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তা এবং ডেনিশ ও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, এনজিও, লেবার অর্গানাইজেশন এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের মধ্যে ‘ওয়ার্কিং ইনভায়রনমেন্ট-অকুপেশনাল সেফটি অ্যান্ড হেলথ’ শীর্ষক একটি দ্বিপক্ষীয় সম্মতিপত্র সই হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ডেনমার্কের পক্ষ থেকে ডেনিশ কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সম্মতি পত্রে স্বাক্ষর করে। এর মাধ্যমে কর্মপরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে ডেনিশ কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ডেনিশ কর্মস্থল-পরিবেশ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে। যেখানে বিশেষ করে পেশাগত নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে। অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তৃতায় ডেনিশ মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রানা প্লাজার দুর্ঘটনাকে পেছনে ফেলে অনেক দূর এগিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ সরকার, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও তৈরী পোশাক খাতের সমন্বয়ে নতুন মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রণয়ন হয়েছে। পারস্পরিক সমঝোতার এক নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। যা বিশ্বের কোথাও আগে দেখা যায়নি। এ অবস্থায় বলা যায়, বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থেই ভবিষ্যতের রূপরেখা বাস্তবায়ন করছে। তবে বাংলাদেশের তৈরী পোশাক খাতে এখনও সামাজিক সংলাপের প্রয়োজন রয়েছে। যা দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করবে। শুধু তৈরী পোশাকশিল্পই নয়, অন্যান্য শিল্পেও বিনিয়োগ করে পণ্যের বহুমুখীকরণ করতে হবে।
ডেনিশ মন্ত্রীকে রওশন- পরিস্থিতি অচিরেই স্বাভাবিক হয়ে যাবে: এদিকে ডেনিশ মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দেশের বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতি অচিরেই স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ। গতকাল সন্ধ্যায় তার বাসভবনে ডেনমার্কের বাণিজ্য ও উন্নয়ন মন্ত্রী মগেন্স জেনসেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান। সাক্ষাতে ডেনিশ মন্ত্রীর জিজ্ঞাসার জবাবে বিরোধী দলীয় নেতা দেশের বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ মন্ত্রীকে আরও বলেন, বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই ডেনমার্কের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ডেনমার্কের সহযোগিতা ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করে বিরোধী নেতা। বলেন, বিশেষ করে কৃষি, বাণিজ্য, পরিবহন, মৎস্য ও গ্রামীণ উন্নয়নে ডেনমার্ক আরও ভূমিকা রাখতে পারে। জবাবে ডেনিশ মন্ত্রী এসব বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, এ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে। বিরোধী দলীয় নেতা ডেনমার্কের বাণিজ্য মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের রেডিমেড গার্মেন্টস ডেনমার্কে রফতানির মাধ্যমে আমাদের দেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া ড্যানিডাসহ বিভিন্ন ড্যানিশ প্রতিষ্ঠান এ দেশে কাজ করে দেশের জনগণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার ফলে বেকারত্ব দূরীকরণে ডেনমার্ক বিশেষ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে।  বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী এমপি, বিরোধী দলীয় নেতার রাজনৈতিক সচিব ফখরুল ইমাম এমপি, নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরী এমপি, ডেনমার্কের স্টেট সেক্রেটারি মি. মার্টিন বি হারমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত হান ফুগোল ইস্কেজার প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

দুই অধিনায়কের দুরকম রাত by উৎপল শুভ্র

স্বপ্নযাত্রা থেমে গেল​ শেষ আটে, আশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে হেরে গেল
বাংলাদেশ। মাশরাফি, তামিম, মাহমুদউল্লাহদের অভিব্যক্তিই বলে দিচ্ছে সব
একজন ওয়ানডেতে জয়ের ‘সেঞ্চুরি’ করে ফেললেন। আরেকজনের জুটল এই বিশ্বকাপে দলের সবচেয়ে বড় পরাজয়। সেই ক্ষতে নুন ছিটাতে আবার এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা।
প্রথমজন মহেন্দ্র সিং ধোনি। দ্বিতীয়জন মাশরাফি বিন মুর্তজা। দুই অধিনায়কের জন্য কী বিপরীত চিত্রনাট্যই না লিখে রেখেছিল এমসিজির এই রাত!
তবে ম্যাচ-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে একটা জায়গায় মিলে গেলেন দুজন। একটি মাত্র উইকেটই বদলে দিতে পারত এই ম্যাচের রং—একটু আগে মাশরাফির বলে যাওয়া কথাটারই যেন প্রতিধ্বনি করলেন ধোনিও। ২৮ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ১১৫ রানে যখন ধুঁকছে ভারত, দ্রুত আরেকটি উইকেট তুলে নিলে এই বিশ্বকাপে ভারতের সাতে সাত হতো কি না সন্দেহ।
উল্টো রোহিত শর্মা ও সুরেশ রায়নার ১২২ রানের জুটি। আলিম দারের ইশারায় ইয়ান গোল্ড ওই বিতর্কিত নো বল না ডাকলে ৪১ রান কম হয় ওই জুটিতে। ধোনির আশঙ্কা তখন সত্যি হয়েও যেতে পারত। ভারতীয় অধিনায়ক যে তখন ২৬০ রানকেই অনেক ভাবতে শুরু করেছিলেন।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে স্লো ওভাররেটের শাস্তি শুধু জরিমানাতেই শেষ হলেও তা মাশরাফির মাথার ওপর একটি খড়্গ ঝুলিয়ে রেখেছিল। আরেকটি ম্যাচে এমন হলেই নিষেধাজ্ঞা। পাছে কোয়ার্টার ফাইনাল মিস করে ফেলেন, এ কারণেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেননি। কাল সেই ‘অপরাধের’ পুনরাবৃত্তি হওয়ায় জরিমানার সঙ্গে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধও হলেন। নির্ধারিত সময়ে ২ ওভার কম করার পেছনে কোনো ‘অজুহাত’ দেখানোরও সুযোগ ছিল না বলে মাশরাফি বিনাবাক্যে তা মেনে নিয়েছেন। ম্যাচ রেফারি রোশান মহানামাকে তাই আর শুনানির ঝামেলায় যেতে হয়নি।
বোলিংয়ে ১০ ওভারে ৬৯ রান, প্রশ্নবিদ্ধ অধিনায়কত্ব, দলের বড় পরাজয় এবং শেষে এই শাস্তি—সব মিলিয়ে মাশরাফির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি দুঃস্বপ্নের রূপ পেল। ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের তিনটি জয়ের দুটিতেই ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে তাঁর হাতে। এই ম্যাচটা মুদ্রার উল্টো পিঠটাও দেখিয়ে দিল মাশরাফিকে।
ভারতের বিপক্ষে খেলা হলে অদৃশ্য আরও অনেক প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়তে হয়—এমন একটা ভয় বাংলাদেশ দলে আগে থেকেই ছিল। বিতর্কিত আম্পায়ারিং সেটিকে সত্যি বলে দাবি করার সুযোগও করে দিচ্ছে। তবে তাতে এই সত্যিটাকে আড়াল করা যাচ্ছে না যে, এই ম্যাচের প্রথম ৩০ ওভারের পর থেকে বাংলাদেশ খুব বাজে ক্রিকেট খেলেছে।
মাঠে একটু পর পরই মেজাজ হারাতে দেখা গেছে মাশরাফিকে। মিস ফিল্ডিংয়ে চার হয়েছে। ত্রিশগজি বৃত্তের মধ্যে নির্দিষ্টসংখ্যক ফিল্ডার না থাকার শিশুতোষ ভুলের কারণে নো বল। শর্ট বলে সুরেশ রায়নার দুর্বলতার কথা পুরো বিশ্বের জানা থাকার পরও মাশরাফির রুবেলকে আক্রমণে না আনাটাও একই রকম বিস্ময়ের। রায়না প্রথম বাউন্সার পেলেন কিনা ৪২ বল খেলে ফেলার পর!
ভারতকে তিন শ পার করে দেওয়ায় বিতর্কিত আম্পায়ারিং হয়তো ভূমিকা রেখেছে, কিন্তু সেটিকেই পরাজয়ের কারণ দাবি করতে বাংলাদেশকে আরেকটু ভালো ব্যাটিং করতে হতো। ২৬০-৭০ করতে পারলেও চিৎকার করে বলা যেত, দেখো, শুধু আম্পায়ারের ভুলেই আজ আমরা হেরে গেলাম! যেখানে দুই শ-ও করতে না পারায় আম্পায়ারিং নিয়ে যৌক্তিক অভিযোগটাকেও অনেকে অজুহাত বলার সুযোগ পাচ্ছে।
এই ম্যাচের আগে ব্যাটিংয়ের ওপর তাঁর অগাধ আস্থার কথা জানিয়েছিলেন মাশরাফি। আগের ম্যাচগুলোর কারণে তা অকারণ বলেও মনে হয়নি। অথচ আসল ম্যাচেই কিনা সবচেয়ে করুণ চেহারায় দেখা দিল ব্যাটিং! তিন শ তাড়া করতে নেমে যেমন শুরু করা উচিত, তামিম তেমনই শুরু করেছিলেন। কিন্তু ২৫ বলে ২৫ রানেই তা শেষ! তখন কে জানত, এটিই বাংলাদেশের ইনিংসের সর্বোচ্চ স্কোর থেকে মাত্র ১০ রান কম হয়ে থাকবে!
ইনিংসের সর্বোচ্চ ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান ৮ ও ৭ নম্বর ব্যাটসম্যানের, টপ অর্ডারের দুর্দশা বোঝাতে এটাই যথেষ্ট। সবচেয়ে বড় বিস্ময় সাকিব আল হাসান। বড় রান তাড়া করতে গেলে অনেক ঝুঁকি নিতে হয়। তা নিতে গিয়ে অল্প রানে আউট হয়ে গেলেও একটা ব্যাখ্যা মিলত। কিন্তু সাকিবের মতো আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকে ২৯.৪১ (৩৪ বলে ১০) স্ট্রাইক রেটের ইনিংসের ব্যাখ্যা খুঁজে পেতে হয়রান হতে হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত যা মিলছেও না।
শেষটা ভালো হলো না বলে আক্ষেপ থাকবেই। তবে তাতে তো আর এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অর্জনগুলো মিথ্যা হয়ে যাচ্ছে না। অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ সর্বশেষ খেলেছে সেই ২০০৮ সালে, সেটিও বিশ্বকাপের কোনো মাঠে নয়, ডারউইনে। নিউজিল্যান্ডে সর্বশেষ সফরও প্রায় পাঁচ বছর আগে। বিরুদ্ধ কন্ডিশন আর অজানা-অচেনা সব মাঠে খেলা—দলের পারফরম্যান্স নিয়ে মাশরাফির গর্বিত বোধ করাটা তাই অবশ্যই যৌক্তিক। এই বিশ্বকাপ থেকে আগামী দিনের পাথেয় তো কিছু আসলেই জোগাড় করে নেওয়া গেছে।
কোয়ার্টার ফাইনালে ব্যর্থতার কথা ভুলে গিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আনন্দটাই নাহয় মনে রাখুন!

শিশু আবু সাঈদ হত্যা- এখনো ধরা পড়েনি ওলামালীগ নেতা মাছুম

সিলেটে শিশু আবু সাঈদ অপহরণ ও খুনের ঘটনায় জড়িত পলাতক জেলা ওলামা লীগের প্রচার সম্পাদক মুহিবুল ইসলাম মাছুম ও অজ্ঞাত আরেক ব্যক্তিকে পুলিশ গতকালও গ্রেফতার করতে পারেনি। খুনের ঘটনায় র‌্যাবের কথিত সোর্স আতাউর রহমান গেদা, পুলিশ কনস্টেবল এবাদুর ও জেলা ওলামা লীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এবাদুর ও রাকিব আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পুলিশ জানায়, ওলামা লীগের প্রচার সম্পাদক মুজিবুল ইসলাম মাছুমও অপহরন ও খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত । এবাদুর ও রাকিবের ভাষ্য থেকে জানা গেছে, মাছুম অপহরণের সময় সাঈদের মুখ চেপে ধরেছিল। এছাড়া খুনের সময় মাছুম সাঈদের হাত ও শরীর ধরে রাখে। মাছুমের মূল বাড়ি নগরীর শিবগঞ্জে হলেও সে নগরীর কুয়ারপাড়ে বসবাস করতো। ঘটনার পর থেকে মাছুম পলাতক রয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশ মাছুম সম্পর্কে আরও অনেক তথ্য পেয়েছে।
খুনের পর বাসায় যায় গেদা : খোঁজ নেয় এবাদুর
আবু সাঈদকে খুন করার পর ঘাতক আতাউর রহমান গেদা বাসায় যায় এবং পুলিশ কনস্টেবল এবাদুর বিভিন্নভাবে সাঈদের খোঁজখবর নেয়। আবু সাঈদের মামা দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী আশরাফুজ্জামান আজম জানান, অপহরণের পর সাঈদকে উদ্ধারে সহযোগিতার নাম করে বাসায় আসে আতাউর রহমান গেদা। র‌্যাব-পুলিশের সাথে ‘ভালো সম্পর্ক’ আছে দাবি করে পাশের বাসার একজনের মাধ্যমে গেদা সাঈদের মামার বাসায় যায়। নিজেকে র‌্যাবের সোর্স পরিচয় দিয়ে সাঈদকে উদ্ধারে সে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেয় বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, সাঈদ অপহরণের পর থেকেই তার পরিবারকে অনুসরণ করতে থাকে কনস্টেবল এবাদুর। রাস্তায় সাঈদের মা ও আত্মীয়-স্বজন কাউকে পেলেই এবাদুর সাঈদের খোঁজ খবর নিতে থাকে। সাঈদকে উদ্ধারে আইনী কি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে, অপহরণকারীদের মুক্তিপণ দেয়া হচ্ছে কি-না এ ব্যাপারে খোঁজ নিতে থাকে সে।
নয়াসড়কে মানবন্ধন
স্কুল ছাত্র আবু সাঈদ হত্যার প্রতিবাদে সিলেট নগরীর নয়াসড়ক পয়েন্টে নয়াসড়ক ক্রীড়া সংস্থা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা গতকাল বিকেলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন । মানববন্ধনে বক্তারা স্কুল ছাত্র আবু সাঈদের খুনিদের আইনের আওতায় এনে ফাঁসির দাবি জানান । এসময় উপস্থিত ছিলেন ১৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মুহিত জাবেদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী লিমন আহমদ, আব্দুল ওয়াদুদ, নয়াসড়ক ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মতিউর রহমান শিমুল, সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন, তামিম আহমদ, সোহেল আহমদ, সালমান আহমদ, অপু আহমদ, তাজু ইসলাম, সুমন মিয়া, তছলিম আহমদ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, নিহত শিশু আবু সাঈদ সিলেট নগরীর রায়নগর দর্জিবন্ধ বসুন্ধরা ৭৪ নম্বর বাসার আবদুল মতিনের পুত্র ও শাহী ঈদগাহ এলাকাধীন হযরত শাহ মীর (রহ.) সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র। মামার বাসায় বেড়াতে যাওয়ার পথে ১১ মার্চ বুধবার সকাল ১১টার দিকে নগরীর রায়নগর এলাকা থেকে অপহৃত হয় আবু সাঈদ (৯)। এরপর গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর কুমারপাড়া ঝর্ণারপার এলাকায় পুলিশ কনস্টেবল এবাদুর রহমানের বাসা থেকে তার গলিত লাশ উদ্ধার করে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী।

লাপাত্তা মাছুম, সোর্স গেদা ফের রিমান্ডে by ওয়েছ খছরু

নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে র‌্যাবের ‘কথিত সোর্স’ আতাউর রহমান গেদা মিয়া। স্কুলছাত্র আবু সাঈদের অপহরণ ও খুনের দায় থেকে রক্ষা পেতে সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়নি। যদিও পুলিশের কাছে বলেছিল- সে স্বেচ্ছায় সবকিছু স্বীকার করবে। কিন্তু গতকাল তাকে আদালতে হাজির করা হলে সে কিছুই বলেনি। এ কারণে পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত গেদা মিয়াকে তিনদিনের রিমান্ডে দিয়েছেন। আর গেদা মুখ না খোলায় পুলিশ আলোচিত এ অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পলাতক থাকা জেলা ওলামা লীগের প্রচার সম্পাদক মুহিবুল ইসলাম মাছুম ও অজ্ঞাত আর এক ব্যক্তির সন্ধান পাচ্ছে না। পুলিশ জানিয়েছে, ওই দুইজনের সন্ধান একমাত্র গেদাই দিতে পারে। গত শনিবার রাতে নগরীর ঝেরঝেরিপাড়াস্থ পুলিশ কনস্টেবল এবাদুর রহমানের বাসা থেকে অপহৃত স্কুলছাত্র আবু সাঈদের লাশ উদ্ধারের রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল গেদাকে। গেদাকে গ্রেপ্তারের আগে পুলিশ কনস্টেবল এবাদুর ও জেলা ওলামা লীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর এবাদুর ও রাকিব আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সোমবার পুলিশ গেদাকে আদালতে হাজির করে তিনদিনের রিমান্ডে নিয়েছিল। রিমান্ডে আতাউর রহমান পুলিশের কাছে ঘটনা সম্পর্কে স্বীকার করেছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে, ঘটনা স্বীকার করলেও সরাসরি তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। কখনও সে ঘটনার পুরো দায় পুলিশ কনস্টেবলের উপর আবার কখনও ওলামা লীগের নেতাদের উপর চাপায়। এছাড়া বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য প্রদান করে। এদিকে, তিনদিনের রিমান্ড শেষ হওয়ার পর সিলেটের কোতোয়ালি থানা পুলিশ সোর্স গেদা মিয়াকে সিলেটের সিএমএম আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। আদালত তার তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আলোচিত এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার এসআই ফয়েজ আহমদ জানিয়েছেন, গেদা নিজেকে রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ কারণে আদালতে তার রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। আদালত তার তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গেদা ঘটনা স্বীকার করলেও নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, গেদাই হচ্ছে মূল ঘটনাকারী। ইতিপূর্বে পাওয়া দুইজনের বক্তব্য থেকে গেদার নাম পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ওলামা লীগের প্রচার সম্পাদক মুজিবুল ইসলাম মাছুমও। এবাদুর ও রাকিবের ভাষ্য থেকে জানা গেছে, ওলামা লীগ নেতা মাছুম অপহরণের সময় সাঈদের মুখ চেপে ধরেছিল। এছাড়া খুনের সময় মাছুম স্কুলছাত্র সাঈদের হাত ও শরীর ধরে রাখে। মাছুমের মূল বাড়ি শিবগঞ্জে হলেও তিনি নগরীর কুয়ারপাড়ে বসবাস করতেন। ঘটনার পর থেকে মাছুম পলাতক রয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশ মাছুম সম্পর্কে আরও অনেক তথ্য পেয়েছে। এছাড়া খুনের ঘটনার সময় র‌্যাব’র কথিত সোর্স গেদা মিয়ার সঙ্গে আরও এক অজ্ঞাত লোক ছিল। গেদা ওই লোকের পরিচয়ও গোপন রাখছে। পুলিশের কাছে একেক সময় একেক পরিচয় দিচ্ছে। এছাড়া অপহরণের দিন শিশুটিকে গেদার বাসা থেকে কনস্টেবল এবাদুরের বাসায় নেয়ার পথে যে সিএনজি অটোরিকশাটি ভাড়া করেছিল সে অটোরিকশার চালককেও খুঁজছে পুলিশ। ওই অটোরিকশাচালকও ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে জানা গেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গেদা মুখ খুললেই ওদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। কারণ গেদাই জানে ওরা কোথায় আছে। সর্বশেষ গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত গেদার সঙ্গে ওই দু’জনের যোগাযোগ ছিল। এদিকে, আলোচিত এ অপহরণ ও খুনের ঘটনায় শোক বিরাজ করছে এলাকায়। খুনিদের ফাঁসির দাবিতেও চলছে আন্দোলন। গতকাল বিকালে সিলেট নগরীর নয়াসড়ক এলাকায় মানববন্ধন করেছে স্থানীয় লোকজন। তারা জানান, স্কুলছাত্র সাঈদ অপহরণ ও হত্যার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এই ক্ষোভ কমবে না বলে জানান তারা। নয়াসড়ক পয়েন্টে মানববন্ধন করে নয়াসড়ক ক্রীড়া সংস্থা ও ব্যবসায়ীবৃন্দ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ১৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল মুহিত জাবেদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী লিমন আহমদ, সংগঠনের সভাপতি মতিউর রহমান শিমুল, ব্যবসায়ী আবদুল ওয়াদুদ, সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন, তামিম আহমদ, সোহেল আহমদ, সালমান আহমদ, অপু আহমদ, তাজু ইসলাম, সুমন মিয়া, তছলিম আহমদ প্রমুখ। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, স্কুলছাত্র আবু সাঈদের খুনিদের আইনের আওতায় এনে ফাঁসি দিতে হবে। বাকী আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে নতুবা আমরা সিলেটবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে। এদিকে, হাজী শাহ্‌মীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র আবু সাঈদের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি সিলেট মহানগর শাখা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা সাঈদ হত্যারকারীদের দ্রুত ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আর যাতে কোন মায়ের বুক খালি না হয়।’ আর কোন শিক্ষার্থী যেন অপহৃত না হয় সে জন্য পুলিশসহ জড়িতদের অবিলম্বে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে। আর তাদের ফাঁসি কার্যকর হলে কোন অপহরণকারী অপহরণ করার সাহস পাবে না। সমিতির সভাপতি জেসমিন সুলতানার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হাফছা আক্তারের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, মতিলাল গুপ্ত, নুরুল ইসলাম, নিকেতন দাস, সেলিনা বেগম, সালমা জাহান, কানিজ আয়েশা, হুছনা বেগম, শঙ্করী কর, শাহনারা বেগম, রোজিনা বেগম, অজিত পাল, আজাদ মিয়া, শামীম আহমদ, ফয়েজ উদ্দিন, শিখা  চৌধুরী, রাশেদ নেওয়াজ, বিমল দাস, শ্রীবাস রায়, রজত বিশ্বাস, শক্তি মজুমদার, নিলু দাস, সুরমা  বেগম, হালিমা খাতুন, সিদ্দিকা খাতুন, মনোয়ারা মজুমদার, আবদুল মছব্বির, অজয় দে, তুলি দেবী,  মৌসুমী বিশ্বাস, হুসনে আরা সুলতানা, সৈয়দা  রেহানা বেগম, সাথী রানী দে, জান্নাতুন নাহার রুবী, জলি দেব, সন্ধানী রায়, হ্যাপি দেবী, মনোয়ারা মজুমদার, শহীদুল ইসলাম, শাহীন আহমদ, গণেশ কুমার পাল দিপু, ফখরুল আলম, মুনমুন, নাজিয়া  বেগম, প্রমতেশ দত্ত প্রমুখ।

সালাহ উদ্দিনের সর্বশেষ অবস্থান ছিল ধানমণ্ডিতে

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদের সর্বশেষ অবস্থান ছিল ধানমণ্ডির ২৭ নম্বর সড়কে। ১০ মার্চ রাত আড়াইটার দিকে ওই বিএনপি নেতার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ২৭ নম্বর সড়কের একটি টাওয়ারের নেটওয়ার্কে ধরা পড়ে। এরপর থেকে মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেছেন, সালাহ উদ্দিন আহমেদ সর্বশেষ ওই রাতে ১১টা ২২ মিনিটে তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। এরপর ওই মোবাইল থেকে আর কোনো কল করা হয়নি।
তবে বিষয়টিকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন ওই বিএনপি নেতার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। তিনি বলেছেন, ডিবি মিথ্যাচার করছে। যুগান্তরকে তিনি বলেন, ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্বামীর সঙ্গে তার সর্বশেষ কথা হয়েছে। রাত ১০টার কিছু পরে ওই মোবাইল থেকে একটি কল এসেছিল, কিন্তু কোনো কথা হয়নি। এদিকে স্বামীকে খুঁজে বের করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চেয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিখোঁজ বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদের ছোট ভাই গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, তার স্ত্রী শামীম আরা জ্যোৎস্নাকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ৪ নম্বর গেটে আসেন হাসিনা আহমেদ। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেন আমার স্বামীকে খুঁজে বের করতে ব্যবস্থা নেন সেই আবেদন জানাতে এসেছি। তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস- উনি মন থেকে চাইলে অবশ্যই আমি আমার স্বামীকে ফিরে পাব। তিনি আরও বলেন, তিনিও একজন মা ও স্ত্রী। আমার মনোকষ্টের কথা তিনি অবশ্যই বুঝবেন।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, অন্যান্য সংস্থার মতো তারাও বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদকে খুঁজছেন। তাকে খুঁজতে সর্বোচ্চ প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত তার অবস্থান সম্পর্কে গোয়েন্দা পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপর এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, ঘটনার দিন রাত আড়াইটার দিকে ধানমণ্ডির ২৭ নম্বর সড়কে সালাহ উদ্দিন আহমেদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। এরপর থেকে মোবাইল ফোনটি একনাগাড়ে বন্ধ থাকায় তার অবস্থান সম্পর্কে তারা নিশ্চিত হতে পারছেন না।
এদিকে সালাহ উদ্দিন আহমেদের সন্ধানের দাবিতে শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার সংবাদপত্রে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ ডাক দেয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিনিয়র আইনজীবী সুপ্রিমকোর্ট বারের সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন বৃহস্পতিবার রাতে যুগান্তরকে বলেন, দেশের নাগরিকদের জানমাল রক্ষার দায়িত্ব সরকারের। যে সরকার দেশের নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা দিতে পারে না তাদের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই। রাজধানী ঢাকা শহরে সরকার প্রচুরসংখ্যক আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত রেখেছে। তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে একজন মানুষ গুম বা নিখোঁজ হয়ে যাওয়া সরকারের চরম ব্যর্থতা বলে আমি মনে করি।
খন্দকার মাহবুব হোসেন আরও বলেন, সালাহ উদ্দিন গুম হওয়ার জন্য সরকার ও সরকারের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাই দায়ী। শুধু সালাহ উদ্দিনই নয়, ঢাকায় এবং ঢাকার বাইরে যে কোনো নাগরিকের বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম মেনে নেয়া যায় না। সালাহ উদ্দিনের মতো একজন আইনজীবী, একজন রাজনৈতিক নেতা ও একজন সাবেক প্রতিমন্ত্রীকে কেউ অপহরণ করে নিয়ে যাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাদের খুঁজে বের করতে পারবে না এটা হতে পারে না। এজন্য অবশ্যই তাদের জবাবদিহি করতে হবে। তাকে খুঁজে বের করতে না পারার জন্যও সরকারকে এবং সরকারের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবশ্যই দায়ী হতে হবে।
গত ১০ মার্চ রাতে উত্তরার ৩নং সেক্টরের যে বাসা থেকে সালাহ উদ্দিন আহমেদকে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে বৃহস্পতিবার সে এলাকায় গিয়ে কথা হয় নিরাপত্তাকর্মী অপূর্ব রায়ের সঙ্গে। উত্তরা সোসাইটির ওই নিরাপত্তাকর্মী বলেন, প্রতিদিন রাতে ৩ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর সড়কসহ আশপাশের কয়েকটি সড়কে প্রায় ১৫ জন নিরাপত্তাকর্মী ডিউটি করেন। রাত ৯টার পর সড়কগুলোতে প্রবেশের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়। ঘটনার রাতেও তারা ১৩বি রোডটি বন্ধ করে দেন। রাত সাড়ে ৯টার কিছু পরে ওই সড়কে কালো পিকআপ এসে থামে। এর পেছনে আরও একটি সাদা মাইক্রোবাস ছিল। ওই গাড়ি দুটিতে থাকা সাদা পোশাকের কয়েকজন লোক এ সময় আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে গেট (লোহার বার) খুলে দিতে বলে।
অপূর্ব রায় বলেন, গাড়ি দুটি ৩নং সেক্টরের ১৩/বি সড়কে একটি বাসার সামনে গিয়ে থামে। নিরাপত্তাকর্মীরা এ সময় সেদিকে এগিয়ে গেলে তাদের চলে যেতে বলা হয়। তিনি আরও বলেন, ওই বাসার সামনে কিছু ছেলে ব্যাডমিন্টন খেলছিল। আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দেয়া লোকজন ঝামেলার ভয় দেখিয়ে তাদের সেখান থেকে চলে যেতে বলে। এরপর যে যার মতো চলে যান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদকে তুলে নেয়ার তিন দিন আগে ৭ মার্চ রাতে বাড্ডা এলাকা থেকে আটক করা হয় তার ব্যক্তিগত সহকারী ওসমান গনিকে। একই রাতে গুলশান এলাকা থেকে সালাহ উদ্দিন আহমেদের দুজন গাড়িচালক খোকন ও শফিককে আটক করে সাদা পোশাকে থাকা আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। দুদিন পর তাদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে সালাহ উদ্দিন আহমেদের ব্যক্তিগত সহকারী ওসমান গনির ভাই মহসিন জানান, র‌্যাবের সদস্যরা তার ভাইকে আটক করেছিল। পরে তাকে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মূলত তাদের কাছ থেকে তথ্য পেয়েই গুলশানে সালাহ উদ্দিন আহমেদ দীর্ঘদিন যে বাসায় পলাতক থেকে বিএনপির পক্ষে বক্তব্য দিচ্ছেলেন সেই বাসায় অভিযান চালায়। গুলশানে ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে বাসার কেয়ারটেকারকে আটক করে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে সাদা পোশাকের গোয়েন্দারা। পরে তাকেও একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে পরদিন কারাগারে পাঠানো হয়। তবে ব্যক্তিগত সহকারী আটকের খবর পেয়ে ওই রাতেই গুলশান ছেড়ে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ১৩/বি সড়কের বাসায় ওঠেন সালাহ উদ্দিন আহমেদ।
গত ১০ মার্চ রাত ১০টার দিকে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে একদল সাদা পোশাকধারী লোক উত্তরার ওই বাড়ি থেকে সালাহ উদ্দিন আহমেদকে তুলে নেয়া হয় বলে অভিযোগ করে আসছেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। পরদিন এ ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে উত্তরা পশ্চিম ও গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে পুলিশ জিডি নেয়নি। এরপর স্বামী সালাহ উদ্দিন আহমেদের সন্ধান চেয়ে তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ হাইকোর্টে একটি আবেদন দায়ের করেন। তবে আইনশৃংখলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আদালতকে বলা হয়েছে, পুলিশ সালাহ উদ্দিনকে গ্রেফতার করেনি। তার কোনো খোঁজও পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আগামী ৮ এপ্রিল হাইকোর্টে আবার শুনানির দিন রাখা হয়েছে।
এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার স্বামীকে খুঁজে বের করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চেয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। তিন পৃষ্ঠার ওই স্মারকলিপিতে হাসিনা আহমেদ প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনার কাছে আকুল আবেদন- আমার পরিবার, আমার সন্তানদের কথা বিবেচনা করে প্রজাতন্ত্রের নাগরিক হিসেবে আমাদের আইনি ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার নিমিত্তে ও সর্বোপরি মানবিক কারণে আমার স্বামীকে খুঁজে বের করার জন্য আপনার সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
স্মারকলিপিতে তিনি বলেন, আমার স্বামী যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন অথবা তার বিরুদ্ধে যদি কোনো মামলা থাকে, তাহলে তাকে অবিলম্বে আদালতে সোপর্দ করে আইনি প্রক্রিয়ায় যথাযথ বিচার কার্যক্রম গ্রহণ করা হোক।
একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়ে বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিনের স্ত্রী বলেন, আমি আপনার (প্রধানমন্ত্রী) সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আমার কষ্ট ও আকাঙ্ক্ষার কথাগুলো সরাসরি বলতে চাই। আশা করি, শত ব্যস্ততার মধ্যে মহানুভবতার সঙ্গে আমাকে সাক্ষাতের জন্য আপনার মূল্যবান সময় প্রদান করে কৃতজ্ঞতার পাশে আবদ্ধ করবেন।
স্মারকলিপি দেয়ার পর রোদের মধ্যে হাসিনা আহমেদ কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় তার সঙ্গে আসা স্বজনরা ধরাধরি করে তাকে গাড়িতে তুলে দেন। এর আগে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাতে এসেছি যেন তিনি আমার স্বামীকে খুঁজে বের করার ব্যবস্থা নেন। দশ দিন ধরে নিখোঁজ সালাহ উদ্দিনকে আইনশৃংখলা বাহিনী খুঁজে বের করে যাতে জনসমক্ষে হাজির করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সেই নির্দেশ চান হাসিনা।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একটি গাড়িতে করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ৪ নম্বর ফটকে আসেন হাসিনা আহমেদ। সালাহ উদ্দিন আহমেদেও ছোট ভাই গিয়াসউদ্দিন আহমেদ ও তার স্ত্রী শামীম আরা জ্যোৎস্না এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন। সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠি গ্রহণ শাখায় স্মারকলিপিটি দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস সহকারী আবদুল হামিদ তা গ্রহণ করেন।
এদিকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদকে উদ্ধারে বিলম্ব হওয়ায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা। বৃহস্পতিবার নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বিএমএর সাবেক কার্যকরী পরিষদের সদস্য ডা. এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তারা বলেন, সরকারের দায়িত্ব সালাহ উদ্দিন আহমেদকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া। তা না হলে সাধারণ জনগণের বুঝতে অসুবিধা হবে না কারা এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ঢাবির সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ, অধ্যাপক এমএ মাজেদ, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, অধ্যাপক জেএন তাহমিনা খাতুন, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী, অধ্যাপক ড. এসএম ফায়েজ, আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বল, কবি আল মাহমুদ, অধ্যাপক ড. মোস্তাহিদুর রহমান, মো. আবদুল গাফ্ফার, অধ্যাপক ড. শাহ মো. ফারুক, অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান, অধ্যাপক ড. আফম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক ড. সদরুল আমীন, অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস ইসলাম, অধ্যাপক তাহমিনা আখতার টফি, অধ্যাপক ড. খলিলুর রহমান, অধ্যাপক ড. আমিনুর রহমান মজুমদার, অধ্যাপক ড. এম আজিজ, অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন, অধ্যাপক এমএ রশিদ, অধ্যাপক ড. ওবায়েদুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন, অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, অধ্যাপক ড. মনিরুদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ডা. আবদুল মোবিন খান, আনহ আখতার হোসেন, অধ্যাপক ডা. আবদুল মান্নান মিয়া প্রমুখ।
সালাহ উদ্দিনকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে কাল বিএনপির বিক্ষোভ : বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দীন আহমেদের সন্ধান এবং তাকে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরত দেয়ার দাবিতে শনিবার বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা মহানগর বিএনপি। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে মহানগর আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস ও সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল শনিবার মহানগরের সব থানা ও ওয়ার্ডে বিক্ষোভ মিছিলে শরিক হতে নেতাকর্মী ও উদ্বিগ্ন নাগরিকদের অনুরোধ জানান।
আব্বাসের প্রেস সচিব জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে তারা বলেন, সালাহ উদ্দিনের নিখোঁজ হওয়ার খবরে গোটা দেশবাসী উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠিত। ঘটনার পর ১০ দিন অতিবাহিত হলেও সরকার অথবা সরকারের কোনো সংস্থা তাকে আটক বা গ্রেফতারের কথা স্বীকার করেনি। এমনকি তার পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে তাকে খুঁজে বের করার জন্য সরকারের কাছে বারবার দাবি জানানো হলেও সরকার সে বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সরকারের এ রহস্যজনক আচরণ জনমনে সৃষ্ট উৎকণ্ঠাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বাউফলে সাংবাদিক নির্যাতন, মামলা প্রত্যাহার করুন, নির্যাতকদের শাস্তি দিন

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথম আলোর বাউফল প্রতিনিধি এ বি এম মিজানুর রহমানের ওপর পুলিশ সদস্যরা যে পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়েছেন, আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর কোনো সদস্য একজন পেশাজীবীর ওপর এ রকম নিষ্ঠুর আচরণ করতে পারেন, তা ভাবতেও অবাক লাগে। ফৌজদারি আইনে পুলিশি হেফাজতে কারও ওপর শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন চালানো যায় না। অথচ পুলিশ হরহামেশাই এই বেআইনি কাজ করে আসছে।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার ল্যাংরা মুন্সির পোল এলাকায় রাস্তার ওপর একটি বাস আটকা পড়লে যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় নৌ–পুলিশের উপপরিদর্শক হালিম খান মিজানুর রহমানকে গালি দিলে তিনি প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পরিচয় জানার পর ঘটনাটি মিটমাট হয়ে যায় এবং মিজান নিজের মোটরসাইকেলে উপপরিদর্শককে থানায় পৌঁছে দেন। কিন্তু থানায় পৌঁছানোর পরই তাঁকে গ্রেপ্তার করে সেখানে আটকে রেখে তাঁর ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। এ কারণে তাঁকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হতে হয়।
যেখানে নির্যাতক উপপরিদর্শকের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা সেখানে তিনিই মিথ্যে মামলায় মিজানুর রহমানকে ফাঁসিয়েছেন এবং নির্যাতন করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। প্রথম আলোতে স্থানীয় প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের নানা অনিয়ম–দুর্নীতির খবর প্রকাশ হওয়ার কারণে উপপরিদর্শক ও তাঁর সহযোগীরা মিজানের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। এই ঘটনা তারই প্রতিশোধ কি না, সেটিও ভেবে দেখার বিষয়। কেবল বাউফল নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানেই সাংবাদিকেরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নিগৃহীত হচ্ছেন। এই পুলিশ সদস্যরা কেবল নাগরিক নিরাপত্তার জন্যই হুমকি নন, সরকার ও রাষ্ট্রের জন্যও বিপজ্জনক। আমরা অবিলম্বে মিজানের ওপর নির্যাতনকারী পুলিশ সদস্যদের শাস্তি এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা মিথ্যে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।

ভারতীয় অর্থে অর্থহীন বিশ্ব ক্রিকেট : ইকোনোমিস্টের বিশ্লেষণ

এবারের ১১তম আইসিসি বিশ্বকাপ ক্রিকেট শুরু হয়েছে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি। এর ঠিক একদিন পরই প্রভাবশালী ব্রিটিশ সাময়িকি দ্য ইকোনোমিস্ট একটি বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বিশ্বকাপ যতো গড়াচ্ছে, ততোই যেন প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে ইকোনোমিস্টের সেই প্রতিবেদন। একাদশ ক্রিকেট বিশ্বকাপটি অষ্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে সবেমাত্র শুরু হয়েছে। দীর্ঘ এ প্রতিযোগিতায় ৪২টি গুরুত্বহীন ম্যাচ হবে। যদি জানতে চান, কেন এরকম একটি বৈশ্বিক ও দীর্ঘ টুর্নামেন্টকে গুরুত্বহীন বলা হচ্ছে, তাহলে ২০০৭ বিশ্বকাপের দিকে নজর দিতে হবে। ওয়েষ্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত সেবার বিশ্বকাপে কি হয়েছিলো? ভারত টুর্নামের্টের একদম শুরুতেই ছিটকে পড়ে। আর এতে মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়ে যায় । বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি দর্শক টিভি বন্ধ করে দেয়। বিজ্ঞাপন থেকে টেলিভিশনগুলো যে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আয় করতে, সেটা বন্ধ হয়ে যায়। বিব্রত হয়ে পড়েন ভারতীয় প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ আর ব্যবসায়ীরা; যারা বিশ্বের ২য় সর্বোচ্চ জনপ্রিয় এ খেলাটিকে মূলত পরিচালনা করে।
এই ঘটনা পাল্টে দেয় বিশ্ব ক্রিকেটের বাস্তবতা। ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসকরা ভাবতে শুরু করেন, এমনটা আর হতে দেয়া যাবে না। তাই তারা ২০১১ সালের বিশ্বকাপ আসরের ডিজাইন এমনভাবে করলো যাতে সবকিছু তাদের দখলেই থাকে এবং তারা একটু বেশি সুযোগ সুবিধা পায়। তারা যেসব জায়গায় খেলে অভ্যস্ত, সেখানেই ভেন্যু করা হলো। খেলাগুলো হলো বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কায়। পাকিস্তান আয়োজক দেশ হিসেবে প্রথমে থাকলেও পরে জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় তাদেরকে সে তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়।
ক্রিকেটকে ঘিরে যে বাণিজ্য, তার বেশিরভাগটাই আসে ভারত থেকে। দেশটির ১২০ কেটি মানুষের অধিকাংশই মানুষ কমবেশি ক্রিকেট দেখেন, খোঁজখবর রাখেন। ভারতে ক্রিকেট একটা উন্মাদনা, একটা প্রার্থনা। ক্রিকেটারদেরকে সেখানো স্বপ্নের নায়কের মত বিবেচনা করা হয়। কিন্তু তাহলে তো সেখানে আরো ভালো ভালো ক্রিকেটার তৈরি হওয়ার কথা। কিন্তু ক্রিকেটের দীর্ঘ ইতিহাসে কেন মাত্র দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত? তাও এর মধ্যে একটি আবার নিজেদের পরিচিত পিচ আর কন্ডিশনে খেলে। ক্রিকেটে কেন ভারতীয়রা আশানুরূপ সাফল্য পায়নি এতদিন? এ কারণটি ব্যাখ্যা করা আসলে খুবই মুশকিলের কাজ। দেশটির অনেক অনেক মানুষ গরিব, অপুষ্টির শিকার। তার উপর তাদের ক্রিকেট প্রশাসকরাও বিভিন্ন দুর্নীতিতে জর্জরিত। আর তারা সবসময় ব্যাটসম্যানদের উপযোগী করে পিচ তৈরী করে, যার কারণে এই ব্যাটসম্যানরা পরিচিত কন্ডিশনের বাইরে গিয়ে তেমন ভালো করতে পারে না। ভারতে ব্যাটসম্যানরা খুবই জনপ্রিয়, যে কারণে অনেকেই বোলার হতে চান না।
অবশ্য দেশটির অর্থনৈতিক বা ক্রিকেটিয় ব্যর্থতার কারণগুলো অনেকটাই এক। তবে তা সত্ত্বেও ইদানিং দেশটি ক্রিকেটে উন্নতি করছে।
ভারতে দিনকে দিন যেভাবে ক্রিকেট জনপ্রিয় হচ্ছে এবং ক্রিকেট বাণিজ্য যেভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে, তাতে এখনই এটার শেষ কোথায় হবে তা বলা মুশকিল। আবার ভারতে ফুটবলের মত খেলা ততটা জনপ্রিয় নয়। যতদিন ফুটবলের জনপ্রিয়তা ক্রিকেটের জনপ্রিয়তার একটা চ্যালেঞ্জ না দিচ্ছে ততদিন এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাওয়া যাবে না।
বিশ্বক্রিকেটের উপর ভারতের এতটা প্রভাব দেখে ভিনদেশী কোনো ক্রিকেট ভক্ত ক্ষোভ প্রকাশ করতেই পারেন। কিন্তু এই প্রভাব শেষ হওয়ার যেহেতু কোনো সম্ভাবনা নেই, তাই প্রভাব অব্যাহত থাকলেও সেই ভক্তরা হয়তো আর তেমন একটা কষ্ট পাবে না। বরং প্রভাব কমে গেলে মানুষ অবাক হতে পারে। কেননা ক্রিকেটের উপর ভারতীয় টাকার ঝনঝনানি খুব মিস করবে তারা তখন!
ক্রিকেটের এতটাই নব্যবাণিজ্যিকীকরণ করা হয়েছে যে, কোনো ক্রিকেট ভক্ত যদি এমন লক্ষণ দেখেন যে ভারত বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে, তাহলে তিনি খুব বেশি চিন্তিত হবেন না!
বলাই বাহুল্য, গতকালই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের এক ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিলো ভারত-বাংলাদেশ। যে ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বেশকয়েকটি অন্যায় সিদ্ধান্ত দিয়েছেন আম্পায়াররা। পরে ম্যাচটি ভারত জিতে যায়। এ ম্যাচের পর বিশ্ব্যাব্যপী ক্রিকেট বাণিজ্যের বিষয়টিই আবারো সামনে চলে এলো।
সূত্র : প্রিয়.কম।

নেতানিয়াহুকে অভিনন্দন, ফিলিস্তিন ও ইরান ইস্যুতে অনড় ওবামা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গতকাল ইসরাইলে তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তবে ওবামা প্রশাসন ও নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক শীতল সম্পর্কের জেরে অভিনন্দন জানাতে ফোন কলটা করতেও খানিকটা সময় নিয়েছেন ওবামা। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা আইএএনএস। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, দুই-রাষ্ট্র সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতির বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন ওবামা। এর ফলে, একটি সুরক্ষিত ইসরাইলের পাশাপাশি সার্বভৌম ও নিজ ক্ষমতায় টিকে থাকতে সমর্থ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সৃষ্টি হবে। নির্বাচনের প্রাক্কালে নেতানিয়াহু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী পুনঃনির্বাচিত হলে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র থাকবে না। দুই-রাষ্ট্র সমাধান এখন অপ্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু। পূর্বের অবস্থান থেকে সরে এসে তার এ প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে নতুন বিতর্ক উস্কে দেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরাইলের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন পরীক্ষায় ফেলবে। এদিকে ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি ইস্যুতে ওবামা আবারও তার পূর্বের অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সদ্য-সমাপ্ত নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী লিকুদ পার্টি পরাজিত করে আইজ্যাক হেরজোগের নেতৃত্বাধীন মধ্য-বামপন্থী জিওনিস্ট ইউনিয়নকে। নির্বাচন-পূর্ব মতামত জরিপগুলো বিশ্লেষণে এ জয়কে অনেকটা অপ্রত্যাশিতই ভাবা হচ্ছিল। ওবামা ও নেতানিয়াহুর সম্পর্ক সম্প্রতি নানা পরীক্ষা ও সমস্যার মধ্য দিয়ে গেছে। ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির বিরোধিতায় রিপাবলিকানদের আমন্ত্রণে মার্কিন পার্লামেন্টে একতরফা বক্তব্য দিয়ে সে সম্পর্কটা আরও তিক্ত করেছেন নেতানিয়াহু। ইসরাইলে নির্বাচনের প্রাক্কালে ওবামা বলেছিলেন, ইসরাইলের ভবিষ্যত প্রধানমন্ত্রী যিনিই নির্বাচিত হবেন, তার সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে প্রস্তুত তিনি। হোয়াইট হাউস থেকে দেয়া ওই বিবৃতিতে ইসরাইলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

বাণিজ্যের কাছে হেরে গেল বাংলাদেশ by তালহা বিন নজরুল

বাংলাদেশ আউট। বিশ্বকাপ শেষ। লক্ষ্য পূরণ করেই দেশে ফিরছে বাংলাদেশ দল। তবুও চারদিকে ক্ষোভ আর হতাশা। সমালোচনার ঝড় ক্রিকেটবিশ্বে। দায় চাপছে ক্রিকেটের শীর্ষ সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের ওপর। অভিযোগ আইসিসি’র ইশারাতেই হচ্ছে সব। তাদের অর্থের লোভেই ক্রিকেট তার শ্রী হারাচ্ছে। বলি হচ্ছে ছোট ছোট দলগুলো। আগামী বিশ্বকাপে ছোটদের ছেঁটে ফেলার উদ্যোগও নিয়েছে তারা। আয়ারল্যান্ডের অধিনায়কতো দেশে ফেরার আগে বলেই গেছেন, আইসিসি কারও একার সম্পত্তি নয়। ক্রিকেট এখন আর নিছক কোন খেলা নয়। ক্রিকেটও আজ পণ্য। অর্থ আয়ের মেশিন। মানুষের আগ্রহকে পুঁজি করে ক্রিকেটের সব আজ বাণিজ্যিকীকরণ করা হয়েছে। সোয়াশ’ কোটি লোকের দেশ ভারত বিশ্বের সব বড় বড় প্রতিষ্ঠানের উত্তম বাজার। আর এ সুযোগটা তারা নিচ্ছে ভালভাবেই। ক্রিকেটকে এখন তিন মোড়লের সংগঠনে দাঁড় করানো হয়েছে। আইসিসি’র বর্তমান সভাপতি বাংলাদেশের আ হ ম মুস্তফা কামাল হলেও ক্ষমতাধর চেয়ারম্যান ভারতের শিল্পপতি এন শ্রীনিবাসন। দেশে তিনি ম্যাচ গড়াপেটার আসামি। আইপিএল-এ ইন্ডিয়ান সিমেন্টের এই কর্ণধারের দল চেন্নাই সুপার কিংস। আর এই দলের অধিনায়কও মহেন্দ্র সিং ধোনি। শ্রী নিবাসনের জামাতা মিয়াপ্পান এই দলের সার্বিক ব্যবস্থাপনায়। বিশ্বজুড়ে বিশ্বকাপের সরাসরি সমপ্রচার হচ্ছে যে স্টার স্পোর্টস-এ তারাই ভারতীয় দলের পৃষ্ঠপোষক। ধারা বিবরণীতেও ভারতীয় সাবেক ক্রিকেটারদের অধিপত্য। ভারত যদি বিদায় হয়ে যায় তবে কি ক্ষতি হয় তা আইসিসি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে ২০০৭-এ। ৫০ শতাংশের কম আয় হয় তাদের। সেবার বাংলাদেশের কাছেই হেরে প্রথম  রাউন্ড থেকে বিদায় নেয় ২০০৩-এর রানার্স আপ ভারত। ২০১১ এর চ্যাম্পিয়ন বিদায় নিলে ক্ষতির পরিমানটা সব অনুমান ছাড়িয়ে যেত। অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসাতেও নামতো ধস। সেখানে দর্শকই নেমে আসবে অর্ধেকে যদি ভারত না থাকে। এ বাস্তবতা উপেক্ষার কি উপায়? কর্তাদের মর্জির বলি আম্পায়াররা হতেই পারে।
কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে পারাতেই দারুণ আনন্দিত ছিল বাংলাদেশের আপামর ক্রিকেটপ্রেমী। কিন্তু গতকাল সেই কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা বাংলাদেশের মানুষকে যেমন করেছে হতাশ, তেমনি করেছে ক্ষুব্ধ। আম্পায়ারদের কিছু সিদ্ধান্ত এমন দৃষ্টিকটু ছিল যে, পরম শত্রুও বিস্মিত হয়েছে। খোদ ভারতীয় অনেক সাবেক ক্রিকেটারও সমালোচনা করেছেন। টক অব দ্য ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড ছিল পাকিস্তান আর ইংল্যান্ডের দুই আম্পায়ারের নেয়া সিদ্ধান্ত। প্রথমে ইংল্যান্ডের আম্পায়ার ইয়ান গোল্ড রোহিত শর্মাকে বাঁচিয়ে দেন তার ৯০ রানের সময়। রুবেল হোসেনের করা বলে ক্যাচ আউট হয়েছিলেন এই ওপেনার। কিন্তু কোমর উচ্চতার বল কাঁধ উচ্চতার হিসেবে তিনি নো বল ঘোষণা করেন। জীবন পাওয়া রোহিত আউট হন তাসকিনের বলে ১৩৭ রান করে। তার সেঞ্চুরি ভারতকে ৩০২ রানের ইনিংসের ভিত গড়ে দেয়। আর পরে বাংলাদেশের ইনিংসে এ আসরের অন্যতম সফল ব্যাটসম্যান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে আউট দেন তৃতীয় আম্পায়ার অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ ডেভিস। মাত্র ২১ রান করেছিলেন তিনি। তার আগে তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস আউট হয়ে যাওয়ায় বেশ চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। মনে হয় হতাশাও পেয়ে বসে ক্রিকেটারদের। তাদের খেলায় আন্তরিকতা আর নিষ্ঠারও অভাব দেখা যায়। জেতার মতো স্পৃহা হারিয়ে ফেলেছিলেন তারা। ব্যাটসম্যানরা আন্তরিক হলে হারের ব্যবধান ১০৯ রান না হয়ে আরও কম হতে পারতো। বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৯৩ না হয়ে অন্তত ২৫০ হতে পারতো। হয়তো অলআউটও হতো না তারা। ৫ ওভার তখনও বাকি ছিল খেলার। এবার ভারত টানা ৭ খেলাতেই তাদের প্রতিপক্ষের সব ব্যাটসম্যানকে সাজ ঘরে ফিরিয়েছে। এটি তাদের বিরল সাফল্য। বিদেশের মাটিতে ভারতের বোলারদের বদনাম পুরোপুরি ঘুচিয়েছেন তারা। সেমিফাইনালে ভারত মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের মধ্যকার বিজয়ী দলের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা চাপে ছিলেন না বলেই হয়তো ফিল্ডিং কিছুটা গা ছাড়া ছিল। একটু সচেষ্ট হলে অন্তত ২৫-৩০টি রান কম হতে পারতো ভারতের সংগ্রহ। আর জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশ তাদের স্বাভাবিক খেলাটাও হারিয়ে ফেলে। মেলবোর্নে কখনও কোন দল ৩০০ রান তাড়া করে জিততে পারেনি। সর্বোচ্চ সাফল্য ২৯৫-এ। তামিম অনেকদিন পর আগ্রাসী হয়ে ওঠেন। যে জন্য ২৫ বলে ২৫ রান করেও তাকে অফের বল খোঁচা দিয়েই বিদায় নিতে হয়। এরপর আগের দুই খেলার ধারা বজায় রেখে ইমরুল কায়েস তার ওপর আস্থার প্রতিদান দিতে ব্যর্থ হন। এরপর তার ক্যারিয়ারই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। সাত ইনিংসে কোন দুই অংকের রান নেই তার। এরপর সাকিবের খেলা দেখেও মনে হয়েছে তিনি যেন ফেরার জন্যই খেলছেন। কেমন যেন অস্থির, সব বলেই হাঁকানোর চেষ্টা। সৌম্য, মুশফিক আর নাসির-সাব্বিরের খেলা কিছুটা প্রশংসা কুড়িয়েছে সবার। তবে তা খুব কমই অবদান রেখেছে বড় সংগ্রহে। কোন ফিফটি ছাড়া ইনিংসে সমাপ্তি ঘটে বাংলাদেশের বিশ্বকাপের। তার আগে টসে হারা বাংলাদেশের বোলাররাও মোটের ওপর সমীহ জাগানো বল করতে পারেননি। বিশেষ করে পেস বোলাররা। উইকেট পেলেও মাশরাফি রুবেল, এমনকি সাকিবও ছিলেন খরুচে। তাসকিনও বেশি রান দিয়েছেন তবে উইকেট নিয়েছেন তিনটি। সবচেয়ে সমীহ পেয়েছেন নাসির হোসেন, তবে উইকেট পাননি। দিন শেষে এ সব পরিসংখ্যানে নজর ছিল না কারও। সব ছাপিয়ে বুকের মধ্যে শেল হয়ে বিঁধতে থাকে আম্পায়ারদের ওই খেয়ালি সিদ্ধান্ত।

প্রধানমন্ত্রীর দেশপ্রেমের কঠিন পরীক্ষা by সিরাজুর রহমান

কখনো সুখী কখনো মন্দভাগ্য দেশটা নিয়ে আমাদের অতিমাত্রায় ভালোবাসা সমস্যার একটা কারণ। পারিবারিক সম্পত্তি বিক্রি করে, আদম পাচারকারীর কাছে সর্বস্ব খুইয়ে, সাগরে ডুবে একাধিক কোটি বাংলাদেশী এখন পাঁচটি মহাদেশের প্রায় একশোটি দেশে নিজেদের স্থাপন করেছে। অমানুষিক কঠোর পরিশ্রম করে দরিদ্র দেশটিতে কিছু অর্থ পাঠাবে- সে লক্ষ্যে। দেশে এখন ফাল্গুনের শেষ। নববর্ষের আয়োজন এখনো শুরু হয়নি সবখানে। কিন্তু যুক্তরাজ্যে, মহাদেশীয় ইউরোপে, আমেরিকা-ক্যানাডার বহু স্থানে ঘটা করে পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠান করার তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। আমরা যখন প্রথম প্রবাসে আসি সংখ্যায় খুবই সীমিত ছিলাম। দু-চারজন বন্ধুকে ভাড়াকরা বাসায় ডেকে গল্প-গুজারি করে এবং ডালভাত খেয়ে নববর্ষ করেছি। হয়তো কখনো কেউ একটা-দু’টা গান গেয়েছেন কিংবা কবিতা আবৃত্তি করেছেন। আমি স্বয়ং বিশেষ একটা সুবিধার স্থানে ছিলাম বিবিসির চাকরি উপলক্ষে। পাওয়া গেলে দেশের কোনো শিল্পীকে ডেকে কিংবা বিবিসির লাইব্রেরি থেকে দু’চারখানি গ্রামোফোন রেকর্ড বাজিয়ে বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠন প্রচার করতাম।
উচ্চশিক্ষার জন্য তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে যারা আসতেন তাদের মধ্যে অনেক প্রতিভাধর ছিলেন। দুই কবি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান আর আবু হেনা মোস্তাফা কামালকে দিয়ে বেশ কিছু গান আমি লিখিয়েছি। সুরও দিয়েছেন তারা এবং কোনো কোনো প্রবাসীকে শিখিয়ে-পড়িয়ে সেসব গান গাওয়ানো হয়েছে, প্রায়ই স্টুডিওর বাইরে কোনো স্কুল হল কিংবা ইয়ুথ সেন্টারে। প্রবাসী বাংলাভাষীরা দূর-দূরান্ত থেকে শুনতে এসেছেন। আবু হেনার লেখা একটা গানের দুটো পঙ্ক্তি ছিল, ‘কবে আমি চোখ মেলেছি স্বপ্নভরা গ্রামে, ছড়িয়ে আবির মেঘে মেঘে সন্ধ্যা যেথা নামে।’ আজো কোনো সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে আবির-ছটা দেখলেই গানটা আমার কানে বাজতে থাকে।
বলছিলাম প্রবাসে বাংলা নববর্ষ, শহীদ দিবস, বিজয় দিবস ইত্যাদি পালনের কথা। দেশে এ জাতীয় অনুষ্ঠানে মাঝে মধ্যে হাতাহাতি হয়। দেশের সে ঐতিহ্য বিদেশে বাকি থাকবে কেন? একেক সময় মনে হয় ভালোবাসার আতিশয্য থেকে হয়তো আমরা দেশের বহু ক্ষতি করছি, দেশের হানাহানি আমরা বিদেশেও নিয়ে এসেছি। লন্ডনে আমাদের পাড়ায় মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের কোনো দেশের এক তরুণ দম্পতি এসেছে। ভারি মিষ্টি দু’টি ছোট্ট মেয়ে ওদের। কোলে এলে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। বড় মেয়ের তিন বছর বয়সে ছোটটির জন্ম হয়। মায়ের ভালোবাসার জন্য কিছুটা ঈর্ষা হবে- সেটা স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে ভিন্ন ধরনের সমস্যা দাঁড়াল। তিন বছরের মেয়েটির ধারণা হলো নবজাতকটি তার সন্তান। সব সময় তাকে সে দখল করে রাখছিল। এমনকি দুধ খাওয়াতে মায়ের কোলে দিতেও না-রাজ ছিল সে। ভাগ্য ভালো, শিগগিরই সমস্যাটার সুসমাধান হয়ে গেছে। এখন ওরা দু’টিতে মিলে যখন খেলা করে দেখে আনন্দ হয়।
এমন দৃষ্টান্ত হয়তো দেশেও আপনারা দেখে থাকবেন। অপরিণত স্নেহের বাড়াবাড়ি হয়তো এ সমস্যার কিছু কারণ। বাংলাদেশে এখন কিছু জটিল সমস্যা-সঙ্কট চলছে। অনিয়মিতভাবে ক্ষমতা দখল করে রাখা, র‌্যাব ও পুলিশকে রাজনৈতিক পেশিশক্তি হিসেবে ব্যবহার করা, অবৈধভাবে ক্ষমতা ধরে রাখতে আইন-আদালতকে দলীয় হাতিয়ারে পরিণত করা ইত্যাদি হচ্ছে বাংলাদেশের বর্তমান সঙ্কটের কিছু আলামত। বিতর্কিত ও অগ্রহণযোগ্য প্রহসনের নির্বাচন সূত্রে বহাল এবং সরকার বলছে খালেদা জিয়া এবং বিএনপি গদি লাভের জন্য মরিয়া হয়ে উঠছে বলেই সমস্যার জন্ম। কিন্তু পৃথিবীর সব প্রত্যন্ত পর্যন্ত এখন জানে যে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বিপরীত। ক্ষমতা তারা পেয়েছিল এবং সে ক্ষমতা যাতে হাতছাড়া না হয় তার জন্য সব কিছু তারা করেছে আর করছে।
বর্তমান সঙ্কট যেভাবে শুরুজামায়াতে ইসলামীর গায়ে তখন গন্ধ ছিল না। তাদের দলে নিয়ে আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি চালুর জন্য লাগাতার হরতাল আর অবরোধ চালু করেছিল। দেশের সব মানুষ ভুলে যায়নি সে ইতিহাস। রেল লাইন উপড়ে ফেলা হয়েছিল, বন্দর আর সড়ক অবরোধ করে অর্থনীতিকে স্থবির করে দেয়া হয়েছিল, বহু লোক মারা গিয়েছিল সে আন্দোলনে। আওয়ামী লীগের সাথে বিএনপির তফাৎ এখানে যে বিএনপির রাজনীতি কখনোই আওয়ামী লীগের আন্দোলনের মতো নিষ্ঠুর হয় না, তাদের আন্দোলন মানবিকতার সীমা ছাড়িয়ে যায় না। তাদের যখন বলা হলো যে সংবিধান ও নির্বাচন পদ্ধতি দেশের মানুষের জন্য, তারা সংলাপে রাজি হলো, চটজলদি সংবিধান পরিবর্তন করে তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি চালু করা হলো। ২০০৮ সালের মাস্টারপ্ল্যান নির্বাচনে জয়ের পর আওয়ামী লীগের লক্ষ্যে পরিবর্তন হয়। ভবিষ্যতে নির্বাচন করে ক্ষমতা লাভের চেষ্টার পরিবর্তে তারা বাকশালী পন্থায় স্থায়ীভাবে গদি দখল করে রাখার জন্য তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি উল্টে ফেলার পরিকল্পনা নেয়। প্রশাসন, পুলিশ ও র‌্যাব আর বিচারিক ব্যবস্থার দলীয়করণ করে তারা প্রতিবাদ ও প্রতিকার অসম্ভব করে তোলে। তারপর একদলীয় সংসদে সংবিধানের খোল-নলচে পাল্টে দিয়ে ন্যায্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অসম্ভব করে তোলে। একই সাথে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি সরকার গঠনের সময় থেকে আজো পর্যন্ত বিএনপিসহ কোনো বিরোধী দলকে অবাধে সভা-সমাবেশ করে নিজেদের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা দেয়া হয়নি। বরঞ্চ গুম, হত্যা, নির্যাতন, ভুয়া মামলায় গ্রেফতার, ভীতি প্রদর্শন এবং আইনি ও পুলিশি শক্তি ব্যবহার করে বিরোধীপক্ষের রাজনীতি করা অসম্ভব করে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি মিডিয়ারও কণ্ঠ রোধ করা হয়েছে।
বলতে গেলে গোটা ২০১৩ সালজুড়েই জাতিসঙ্ঘ থেকে শুরু করে সব বন্ধু রাষ্ট্র, সাহায্যদাতা দেশ ও সংস্থা সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমে সবার গ্রহণযোগ্য একটা নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকার ও বিরোধী জোটকে চাপ দিতে থাকে। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল পাশের দেশ ভারতের কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন সরকার। স্বাভাবিক দ্বিপক্ষীয় ও কূটনৈতিক পন্থায় নয়, বরং গোপন ষড়যন্ত্রমূলক চুক্তির মাধ্যমে সে সরকার বাংলাদেশ নামের দেশটাকে আরো একটি সিকিমে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। সে লক্ষ্য অর্জনের জন্য স্বভাবতই আওয়ামী লীগ সরকারকে গদিতে বহাল রাখার প্রয়োজন ছিল তাদের।
বিনিময়ে বিনা ভোটে নির্বাচন এবং ভোটারবিহীন নির্বাচনকে বৈধতা দেয়ার আশ্বাস দিয়ে কংগ্রেসশাসিত ভারত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে গুরুতর হস্তক্ষেপ করেছে। শেখ হাসিনাকে সে আশ্বাস দিতে ভারতের সম্প্রতি পদচ্যূত পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং ঢাকায়ও এসেছিলেন। ভারতের অন্যায় পরামর্শ ও উসকানিতে বলীয়ান হয়ে সরকার ভোটারবিহীন নির্বাচনের পথ ধরে। দেশের ও বিদেশের মানুষকে প্রতারিত করার লক্ষ্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর গণভবনে ঘোষণা করেন, ‘৫ জানুয়ারির (২০১৪) নির্বাচন হবে নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। সমঝোতা হলে সংসদ ভেঙে আবার নির্বাচন দেয়া হবে।’ তখনকার চেয়ে কত ভিন্ন আওয়ামী লীগ প্রধানের বর্তমান অবস্থান! সরকার ও আওয়ামী লীগ এখন বলছে, ২০১৯ সালের আগে আর কোনো নির্বাচন হবে না। সে বক্তব্যের পক্ষে নিত্যনতুন ফাঁকা যুক্তি ও অজুহাত সৃষ্টি করে চলেছে তারা।
জাতির প্রতি অবজ্ঞা ও অশ্রদ্ধা
আওয়ামী লীগ নেতারা এখন শেখ হাসিনার ২০১৩ সালের ১৯ ডিসেম্বরের প্রতিশ্রুতি গিলে খাবার চেষ্টা করছেন। মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ নেতারা উল্টো বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলছেন। লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ গত ১৪ মার্চ সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেছেন যে, সমঝোতা-সংলাপ কিছু হবে না। তিনি আরো বলেছেন, ‘আগামীতেও একইভাবে নির্বাচন হবে।’ একইভাবে বলতে তিনি অবশ্যই ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির তামাশার কথা বলেছেন। বলছেন কি না জানি না। পাঠকদের অবগতির জন্য স্মরণ করিয়ে দেয়া প্রয়োজন, সে নির্বাচনের তারিখের এক সপ্তাহ আগেই ঘোষণা করা হয় আওয়ামী লীগ বিনা নির্বাচনে ১৫৪টি আসন পেয়ে সংসদে গরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। আর ৫ জানুয়ারি কী হয়েছে? সে দিন ২০ দলের জোট ও সরকারবিরোধী অন্য গোষ্ঠীগুলো নির্বাচন বর্জন করেছে, বেশির ভাগ ভোটকেন্দ্রে কোনো ভোটার যাননি, শতাধিক ভোটকেন্দ্র পুড়িয়ে দেয়া হয় এবং বিরোধী দলগুলোর কর্মী ও সমর্থকদের ওপর আওয়ামী লীগ ক্যাডার ও পুলিশের আক্রমণে ২১ জন লোক নিহত হন। সৈয়দ আশরাফেরা এ ধরনের নির্বাচন করেই ভবিষ্যতেও গদি দখল করে রাখতে চান। দেশ ও মানুষের প্রতি কতখানি ঘৃণা ও অবজ্ঞা থাকলে এ ধরনের নির্লজ্জ কথা বলা যায় সহজেই ধারণা করে নেয়া যায়।
মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতারা বিএনপি, বিশেষ করে জনসাধারণের ভোটে তিনবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে যেসব ভাষায় গালিগালাজ করছেন রাজপথের গুণ্ডাপাণ্ডাদের মুখেও সচরাচর তেমন ভাষা আশা করা যায় না। মনে হতে পারে যে, প্রভুদের মনোরঞ্জনের জন্য খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহারের লক্ষ্যে নিত্যনতুন গালিগালাজ খুঁজে পেতে এরা রীতিমতো গবেষণা করছেন। বিন লাদেন ও আল জাওয়াহিরির সাথেও খালেদার তুলনা দেয়া হয়েছে। তবে যত দূর জানি এখনো তাকে তৈমুর লং কিংবা চেঙ্গিস খান বলা হয়নি।
আওয়ামী নেতাদের গালিগালাজ কেন তুঙ্গে উঠেছে মন্ত্রীপাড়ায় ঘুরে এলেই তার কারণ বোঝা যাবে। শুনেছি মন্ত্রীদের অনেকেরই বউ-বাচ্চা বাংলাদেশে নেই। পুলিশ-র‌্যাবের যেসব বড় কর্তা আওয়ামী লীগ নেতাদের মতো কথা বলছেন এবং আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করছেন, তাদেরও কেউ কেউ পরিবার-পরিজনদের বিদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন বলে শুনেছি। আজকের মন্ত্রীদের কে কী করেছেন, কে কী বলেছেন তার রোজনামচা তৈরি হচ্ছে। আজ যারা গুম হচ্ছেন, খুন হচ্ছেন, তাদের পুত্র-কন্যা, নাতি-নাতনী প্রমুখ বংশধর ১০০ বছর পরও আজকের মন্ত্রীদের মনে রাখবে। মানবতাবিরোধী অপরাধে তাদের কিংবা তাদের বংশধরদের বিচার হবে। মন্ত্রীরা পরিবার-পরিজন বিদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন সে ভয়ে। তারাও বুঝে গেছেন গায়ের জোরে গদি আর বেশি দিন আঁকড়ে থাকা যাবে না। গদি যে দিন হাতছাড়া হবে, ক্রুদ্ধ জনতা সে দিনই প্রতিশোধ নিতে ছুটে যাবে, সামুদ্রিক সুনামির মতো ঝাঁপিয়ে পড়বে এই সরকারের আর শাসক দলের নেতাদের ওপর। এ কারণেই তারা বুঝে গেছেন দেশের মানুষ তাদের দুশমন। দেশের মানুষকে তারা ‘খরচের খাতায় লিখে ফেলেছেন’। সে জন্যই মানুষ সম্বন্ধে গালিগালাজ আর অশ্রদ্ধার ভাষা ব্যবহারকে তারা আর ভয় করছেন না।
অভাব সরকারের অনুকূল প্রতিক্রিয়ার
অথচ পৃথিবীর অন্যান্য দেশ আর মহাদেশে বাংলাদেশ ও এ দেশের মানুষের আরো একটা পরিচয় আছে। বাংলাদেশীদের ঘটা করে বিভিন্ন উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার কথা আগেই উল্লেখ করেছি। আমি নিজে সেসব অনুষ্ঠানে সেসব দেশের সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের উপস্থিতি ও অংশ নেয়ার দৃষ্টান্ত দেখেছি। আমেরিকা, ক্যানাডা এবং ইউরোপের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যান। খুব সম্ভবত দু-চারজন বাংলাদেশী অধ্যাপকের দেখা পাবেন। ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালিকে কম্পিউটার প্রযুক্তির স্নায়ুকেন্দ্র বলা হয়। বহু বাংলাদেশী প্রকৌশলী সেখানে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করছেন। অস্ট্রেলিয়ায় বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশলী ও প্রাযুক্তিক পদে কাজ করছেন বাংলাদেশীরা। আমি সঠিক জানি এ কারণে যে, তাদের অনেকে প্রায়ই ইন্টারনেটে কিংবা টেলিফোনে আমার সাথে যোগাযোগ রাখেন। কিছু দিন আগে লন্ডনে সমুদ্রসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অস্ট্রেলীয় প্রতিনিধিদলের নেতা হয়ে এসেছিলেন এক অস্ট্রেলীয় বাংলাদেশী। লন্ডনে আমাদের বাড়িতে এসে আমার সাথে দেখা করে গেছেন। সম্প্রতি আমি অসুস্থ হয়েছিলাম। আমার আরোগ্য কামনা করে কয়েক ডজন পাঠক ই-মেইল পাঠিয়েছেন কয়েকটি দেশ থেকে। তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশে বর্তমানে যা হচ্ছে তাতে তারা কী রকম মর্মাহত, তাদের ই-মেইলগুলোতে তার ভূরি ভূরি দৃষ্টান্ত পড়েছি।
বাংলাদেশে আজ যা হচ্ছে, মন্ত্রীরা যে ভাষায় কথা বলেন সেসব খবর চুইয়ে চুইয়ে হলেও বিদেশে পৌঁছছে এখন। স্বভাবতই লজ্জায় সেসব দেশে কর্মরত বাংলাদেশীদের মাথা হেঁট হচ্ছে। কোনো প্রয়োজন ছিল না তার; এবং এতকাল একটা সভ্য, ভদ্র এবং সংস্কৃতিশীল দেশ বলেই বাংলাদেশের পরিচয় ছিল। ধীমান, প্রাজ্ঞ এবং শুভবুদ্ধির মানুষের অভাব বাংলাদেশে এখনো ঘটেনি। বিগত কয়েক দিনে দেশের সঙ্কট থেকে পরিত্রাণের উপায় নির্দেশ করে তাদের কারো কারো বক্তব্য আমি পড়েছি। অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ এবং আরো কেউ কেউ সঙ্কটের সূচনা থেকে জাতিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে এসেছেন। এমাজউদ্দিন আহমদ সে দিন বলেছেন, বাংলাদেশ যাতে মোগল সাম্রাজ্যের মতো অন্তর্বিরোধ ও হানাহানির কারণে ভেতর থেকে খসে না পড়ে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাংলাদেশের সব মানুষ তার হুঁশিয়ারি মনে রাখলে ভালো করবে।
রাজনীতিকেরা অনেক কথা বলেছেন সঙ্কট সম্বন্ধে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো তাদের কাজ করে চলেছে। গোড়া থেকেই শিক্ষাব্রতী, সমাজকর্মী ও সাংবাদিকসহ পেশাজীবীরা সমাধানের বিভিন্ন পথনির্দেশ দিয়েছেন। সুশীলসমাজ, সুজন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ড. বি চৌধুরী এবং শেখ মুজিবের আইন উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশের মূল সংবিধানের প্রণেতা ড. কামাল হোসেন প্রমুখ সবাই ভীত ও আতঙ্কিত দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে। ‘উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ’ নামে নতুন একটা গোষ্ঠী সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আকুল আবেদন নিয়ে এগিয়ে এসেছে। সবাই মোটামুটি যা বলছেন তার সারকথা এ রকম : সংলাপের মাধ্যম ছাড়া সমস্যার সমাধানের অর্থাৎ বাংলাদেশকে বাঁচিয়ে রাখার আর কোনো উপায় নেই এবং যেহেতু সরকারের কিছু হঠকারী কাজ ও গোঁয়ার্তুমি সৃষ্ট পরিস্থিতির জন্য দায়ী সেহেতু সংলাপের উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকেই। সমাধান সন্ধানী মননশীল মহল আরো লক্ষ করেছেন যে, জাতিসঙ্ঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রায় সব বন্ধু ও সাহায্যদাতা দেশ ও সংস্থাই সংলাপের যেসব প্রস্তাব দিয়েছে খালেদা জিয়া ও বিএনপি সাগ্রহে তাতে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। অন্য দিকে সরকারের দিক থেকে হয় নীরব নিশ্চুপ থাকা হয়েছে, নয়তো তারা সেসব প্রস্তাব রূঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান
করেছে।
স্বেচ্ছায় একঘরে হবে বাংলাদেশ?
যেকানো দেশ, এমনকি বিশ্বসমাজে প্রায় একঘরে উত্তর কোরিয়াও আন্তর্জাতিক সমাজের সাথে সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টা করে যাচ্ছে। এটাই স্বাভাবিক এবং সব দেশই অন্য দেশের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রক, কূটনৈতিক সার্ভিস এবং সেসব দেশে ব্যয়বহুল দূতাবাস স্থাপন করে থাকে। প্রত্যেকটি দেশ বিপুল অর্থ ব্যয় করে দূতাবাস ও কূটনীতিকদের বাবদ। বাংলাদেশ তার ব্যতিক্রম নয়। অন্য দিকে বর্তমান সঙ্কটকে ঘিরে সরকারের কিছু কাজকর্ম থেকে মনে হতে পারে যে, বাকি বিশ্বের সাথে অ-সদ্ভাব সৃষ্টি করার জন্যই সরকার উঠেপড়ে লেগেছে।
প্রধানমন্ত্রী নিজে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের কোনো কোনো দূত এবং একাধিক মার্কিন কূটনীতিক ও কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাৎ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সিনিয়র মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সহকারী মার্কিন মন্ত্রী নিশা দেসাই বিসওয়ালকে ‘দুই আনার মন্ত্রী’ এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনাকে ‘বাসার চাকর’ বলেছেন। তাতেও ভারতের জামাই সৈয়দ আশরাফের দাম্ভিকতার তৃপ্তি হয়নি। গত সপ্তাহের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিদেশী রাষ্ট্রদূতদের ‘তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী’ বলে হেনস্তা করেছেন। অথচ সারা বিশ্ব জানে যে, বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতেরা সমবেত এবং পৃথক পৃথকভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সঙ্কটের অবসান করে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। কিছু কিছু সুফলও দেখা যাচ্ছে তার। খালেদা জিয়া আন্দোলন করার ও কর্মসূচি দেয়ার সময় সর্বদা দেশের মানুষের দুঃখকষ্টের কথা ভাবেন। সে জন্যই বহু উপদেষ্টার উপদেশ অমান্য করেও তিনি কিস্তিতে কিস্তিতে ‘সহনশীল’ কর্মসূচি দিয়ে থাকেন। বিশেষ লক্ষণীয় যে এখনো তিনি সিভিল ডিসওবিডিয়েন্সের (অসহযোগ ও আইন অমান্য করার) কর্মসূচি দেননি; এবং বিদেশী কূটনীতিকেরাসহ অনেকেই লক্ষ করেছেন খালেদা জিয়া তার ১৩ মার্চের সংবাদ সম্মেলনে এমন
কিছু ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সরকারের দিকে শুভবুদ্ধির উদ্রেক হলে তিনি আপসমুখী হতে রাজি আছেন। এ সম্মেলনে তিনি সরকারকে টেনে ফেলার কথা বলেননি, ভাসুরের নামের মতো অগ্রহণযোগ্য ‘তত্ত্বাবধায়ক’ সরকারের কথাও উচ্চারণ করেননি। তিনি বলেছেন ‘আন্দোলনের যৌক্তিক পরিণতির’ কথা, তিনি দাবি করেছেন সবার গ্রহণযোগ্য সরকারের অধীনে সবার অংশগ্রহণে অনতিবিলম্বে জাতীয় সংসদের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সুনির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে সংলাপের আয়োজন করার। প্রায় সোয়া দুই মাসের রক্তক্ষরা আন্দোলনের পরও এর চেয়ে যুক্তিবহ অবস্থান আর কী হতে পারে?
অন্য দিকে কোনো কোনো কারণে মনে হতে পারে যে সরকারপক্ষ স্থির মস্তিষ্কে স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন। তথাকথিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালে জামায়াতের এবং দুই-একজন বিএনপি নেতার বিচারের সময় শাহবাগে একটা উচ্ছৃঙ্খল জনতা রক্তপিপাসু নরমাংস-ভোগী পিশাচের মতো ‘ফাঁসি ফাঁসি’ বলে তাণ্ডব সৃষ্টি করেছিল। জানা গেছে, তাদের বিরিয়ানি ও ফলের রস সরবরাহ করা হয়েছে সরকারের ভেতর থেকেই। বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর আচরণ থেকে মনে হতে পারে যে মন্ত্রিসভাও এখন শাহবাগী দঙ্গলে পরিণত হয়েছে। খালেদা জিয়ার গ্রেফতার দাবি করে এত দিন বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর মুখে ফেনা উঠছিল। এখন কয়েকজন খালেদা জিয়ার ফাঁসির দাবিতে অবিরাম স্লোগান দিতে শুরু করেছেন। এই মন্ত্রীরা অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছেন। কথায় বলে ‘সাত চক্রে ভগবান ভূত।’ এতগুলো মন্ত্রীর হুজুগ আর চাপের মুখে শেখ হাসিনা কি সুস্থ ও স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে পারছেন? খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার কিংবা তাকে ফাঁসি দেয়া হলে দেশের এ মাথা থেকে ও মাথা পর্যন্ত যে আগুন জ্বলবে ভেবে দেখার স্বাধীনতা শেখ হাসিনার আছে কি? আমার সন্দেহ
হয়।
(লন্ডন, ১৭.০৩.১৫)
serajurrahman34@gmail.com

আইএসের উত্থান ও উপমহাদেশের রাজনীতি by এম সাখাওয়াত হোসেন

গণতন্ত্রহীনতা ও রাজনৈতিক শূন্যতার মধ্যেই এ ধরনের অপ​শক্তির উত্থান ঘটে
সপ্তাহ খানেকের বেশি সময় আগে (এ লেখার সময় থেকে) লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে আল-ঘানি তেলক্ষেত্র থেকে আইএস-সমর্থিত মিলিশিয়ারা আটজন লিবীয় গার্ডকে শিরশ্ছেদ করে নয়জন বিদেশিকে অপহরণ করেছে বলে প্রকাশ। অপহৃত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি আর একজন করে ঘানা, চেক, অস্ট্রিয়ার নাগরিক এবং বাকি চারজন ফিলিপাইনের। অবশ্য কারা বা কোন মিলিশিয়া বাহিনী তাঁদের অপহরণ করেছে, তা নিশ্চিত না হলেও তেলক্ষেত্রে হামলা ও নৃশংসতার ধরন দেখে এবং লিবিয়ার দুই বিবদমান অবৈধ সরকারের, ত্রিপোলি সরকারের সামরিক মুখপাত্রের তথ্য অনুযায়ী, এ কাজ আইএসের (ইসলামিক স্টেট) বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত অপহৃত এই দুই ব্যক্তির অবস্থান নির্ণয় করা যায়নি এবং কোনো গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি। উল্লেখ্য, লিবিয়ায় মুয়াম্মার গাদ্দাফি সরকারের উৎখাত এবং নৃশংস হত্যার পর থেকে অদ্যাবধি দেশটি গৃহযুদ্ধের মধ্যে রয়েছে। বিশের অধিক অত্যন্ত আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত মিলিশিয়া বাহিনী সংঘাতরত।
লিবিয়া এখন কার্যত একধরনের ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। লিবিয়ার বৈধ সরকার বলে কথিত কাউন্সিল অব ডেপুটি বর্তমানে তবরুককে রাজধানী বানিয়ে সরকার চালাচ্ছে। লিবিয়ার এই সরকার এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃত। এই সরকারের ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে অভিযানে তবরুক সরকারের অন্যতম সহযোগী জেনারেল খলিফা হাফতার যুদ্ধরত অবস্থায় রয়েছেন। অন্যদিকে, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মিলিশিয়া, যার মধ্যে ইসলামপন্থীদেরই প্রাধান্য, একে অন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত। এদের কয়েকটি উপদল লিবিয়ার আইএস সংগঠনের সমর্থনে মিসরাতা বিমানবন্দর, মিরতে শহরসহ উত্তর মধ্য লিবিয়ার বেশ কিছু অঞ্চল দখলে রেখেছে। ইতিমধ্যেই লিবিয়ার উত্তরাঞ্চলে প্রায় ১১টি তেলক্ষেত্র বন্ধ রয়েছে, যার মধ্যে আল-ঘানি ক্ষেত্রও রয়েছে। এখানে অস্ট্রিয়ার তেল কোম্পানি ভিওএএস পরিচালনার দায়িত্বে ছিল। এখানেই কর্মরত ছিলেন অপহৃত দুই বাংলাদেশি।
লিবিয়ার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি কোনোভাবে স্বাভাবিকের ধারেকাছেও নেই। গাদ্দাফির পতনের পর প্রথমে গোত্রভিত্তিক পরে অঞ্চলভিত্তিক সংঘর্ষে লিপ্ত রয়েছে বিভিন্ন গোষ্ঠী। এককথায় ওই দেশে যে ধরনের রাজনৈতিক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে বিবদমান গোষ্ঠীর অবস্থান বিভিন্ন ধরনের ইসলামপন্থীর সঙ্গে সঙ্গে আইএসের দ্রুত উত্থান দেশটিকে চরমগোষ্ঠীর অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে। এই অব্যবস্থার মধ্যে ২১ মিসরীয় খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীর আইএস কর্তৃক শিরশ্ছেদের ঘটনায় মিসর সরকারও লিবিয়ার অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থায় জড়িয়ে পড়েছে। ইসলামপন্থী এবং আইএস-সমর্থকদের দখল করা অঞ্চলে কয়েকবার বিমান হামলা চালানোর পর আইএস দমনে বহির্বিশ্বের, বিশেষ করে ন্যাটোর সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে। মিসরের সঙ্গে ইউএই-ও লিবিয়ার তবরুক সরকারকে সহযোগিতা দিচ্ছে। বর্তমানে লিবিয়ার রাজধানী বেনগাজি কর্তৃপক্ষের যুদ্ধক্ষেত্র, তা নির্ণয় করা সহজ হচ্ছে না। লিবিয়ার দুই সরকারের মধ্যে সংঘাত, এর সঙ্গে রয়েছে কয়েক গ্রুপের বিভিন্নপন্থী মিলিশিয়ার অনবরত সংঘাত। এর মধ্যেই ক্রমাগতভাবে আইএসের দল ভারী হচ্ছে। বর্তমানে আইএসের অন্যতম শক্তিশালী নেতা আবু নাবিল-আল আনবারিকে উত্তর আফ্রিকার সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
লিবিয়ায় আইএসের শক্ত ঘাঁটি তবরুকের পশ্চিমে ভূমধ্যসাগরীয় শহর দেরনা ও বেনগাজির পশ্চিমে আরেকটি বন্দর শহর সিরতাতে। মিসরাতা শহর আইএসসহ অন্যান্য জিহাদি সংগঠনের দখলে। আইএস ক্রমেই লিবিয়ার উত্তরাঞ্চলে প্রভাব বাড়াচ্ছে। অনেক মিলিশিয়া যার মধ্যে দেরনার ইসলামিক ইয়ুদ সুরা কাউন্সিল আইএসের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। এককথায় ক্রমেই আইএস যোদ্ধারা উত্তর আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়ছে। নাইজেরিয়ার বোকো হারাম, ফিলিপাইনের একসময়ের আল-কায়েদার সমর্থিত আবু সাইয়াফ গ্রুপ এখন আইএসের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, যদিও এখনো আইএসের আনুগত্য ঘোষণা করেছে কি না জানা যায়নি।
হঠাৎ আইএসের ব্যাপক ব্যাপ্তি পশ্চিমা বিশ্বকে বিপাকে ফেলেছে। ক্রমেই আইএস বিভিন্ন দেশে সংঘাতে লিপ্ত ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের আকৃষ্ট করছে। ইতিমধ্যেই হাজার হাজার ইউরোপীয়, উত্তর আমেরিকা বিভিন্ন মুসলিম দেশের তরুণেরা সিরিয়া ও ইরাকে যুদ্ধরত আইএস যোদ্ধাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। শুধু তরুণেরাই নন, ইদানীং বেশ কিছু তরুণীকেও আইএস যুদ্ধক্ষেত্রে আকৃষ্ট করছে। এর মধ্যে ব্রিটেনের কয়েকজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণীর আইএসে যোগদান নিয়ে ওই দেশে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এমন একটি সংগঠন আইএস, যেখানে নারীদের সম–অবস্থান নেই, যেখানে নারী নেতৃত্বের প্রশ্নই অবান্তর, সেখানে তরুণীদের যোগদান করার কারণ খুঁজতে মাঠে নেমেছে একাধিক গবেষণা সংস্থা।
চারিত্রিক দিক থেকে আইএস আল-কায়েদা থেকে ভিন্ন, যদিও তাত্ত্বিক বিচারে দুই সংগঠনই সালাফি ও ওয়াহাবি ইসলামি তত্ত্বে বিশ্বাসী, তথাপি আল-কায়েদার চেয়ে আইএস আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত, কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন তরুণ-তরুণীদের আকৃষ্ট করছে। আল-কায়েদা থেকে আইএসে যোগদান করায় সিরিয়া ও ইরাকে আল-কায়েদার অস্তিত্বই সংকটে। আইএসের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ তাদের দখল করা অঞ্চলসহ অন্য মুসলিম দেশগুলোকে ঘোষিত ইসলামি খেলাফতে যোগদানের আহ্বান। তবে শুধু আহ্বানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি আইএস, রণক্ষেত্রের সাফল্য, ভূমি দখল এবং ওই অঞ্চলে ইসলামিক শাসনব্যবস্থা কায়েম করে তারা দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। ইরাক-সিরিয়া আর লিবিয়ার বহু তেলক্ষেত্র আইএসের দখলে থাকায় অর্থের অভাব হয়নি ওই সংগঠনটির। অত্যাধুনিক অস্ত্রের অভাব নেই। কালোবাজারে তেলের ব্যবসায় উপার্জিত অর্থ দ্বারা এবং জিম্মিদের নিরাপত্তা প্রদানের বিনিময়ের অর্থে আইএস তাদের অভিযান চালাচ্ছে। বর্তমানে আইএসের প্রধান লক্ষ্য ইরাকে কথিত সুন্নি অঞ্চলে এবং বাশারের পতন ঘটিয়ে সিরিয়া অঞ্চল নিয়ে খেলাফতের ব্যাপ্তি ঘটানো।
লক্ষণীয় হলো, আইএসের এমন ব্যাপ্তি এবং দেশে দেশে ধর্মীয় চরমপন্থী গোষ্ঠীর তাদের প্রতি আনুগত্য স্বীকারের ঘটনা। যদিও উপমহাদেশে এখনো আইএসের সহযোগী সংগঠনের নাম শোনা যায়নি। তবে এই অঞ্চলে, বিশেষ করে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে তালেবান ও আল-কায়েদাসহ একাধিক জিহাদি বলে কথিত গোষ্ঠী রয়েছে। এরা প্রায় সবাই সশস্ত্র ও সংঘাতে লিপ্ত। তবে গবেষণালব্ধ তথ্য মোতাবেক আফগানিস্তানের তালেবানদের আইএসের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বা আনুগত্য প্রকাশের সম্ভাবনা কম। কারণ, মোল্লা ওমরের নেতৃত্বে আফগানিস্তানের তালেবানরা ওই দেশে ইসলামিক খেলাফত বহু আগেই কায়েম করেছিল এবং আবার কায়েম করার ইচ্ছায় সংগ্রামের মধ্যে রয়েছে। একই অবস্থানে এখনো রয়েছে পাকিস্তানি তালেবান। তবে ইদানীং লাহোরে খ্রিষ্টান গির্জায় হামলা, বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের ওপরে হামলা অনেকটা আইএসের কৌশলের মতোই মনে হয়।
যা হোক, উপমহাদেশে অনেক উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠী যথেষ্ট সক্রিয়। এগুলোর অনেকের ভাবাদর্শ আইএস সাদৃশ্য। বাংলাদেশে ইদানীং বেশ কয়েকটি ধর্মীয় উগ্রপন্থী সংগঠনের উত্থান লক্ষণীয়। তবে এদের সাংগঠনিক তৎপরতা এখনো আইএসের সঙ্গে জড়িত হওয়ার মতো হয়নি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। যদি একটি সংগঠন হিযবুত তাহ্রীরের ভাবাদর্শও ইসলামিক খেলাফত প্রতিষ্ঠার ওপরেই ভিত্তি করে রচিত, তবে তাদের কৌশল এখনো প্রচারণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আইএস তথা অন্যান্য জিহাদি বলে আখ্যায়িত গোষ্ঠী বাংলাদেশের নারী নেতৃত্ববিরোধী। এমনটাই হিযবুত তাহ্রীরের প্রচারপত্রে প্রকাশ।
বাংলাদেশে বর্তমানে যে রাজনৈতিক সংঘাত ও সংকট বিদ্যমান, তার কারণে ক্রমেই যে ধরনের পরিস্থিতি, বিরাজনীতির প্রক্রিয়া, গণতন্ত্রহীনতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, তাতে উগ্রবাদীদের অনুপ্রবেশ ও পুনরুত্থান যে ঘটছে, তাতে কোনোই সন্দেহ নেই। হালের ব্লগার ও লেখক অভিজিৎ হত্যার ঘটনা তারই প্রমাণ দেয়।
আমাদের দেশের রাজনীতি এখন যে অবস্থায় রয়েছে, তাতে বাদানুবাদের মাত্রা অতীতের সব সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। সরকারদলীয় অথবা সমর্থিত গোষ্ঠী যেভাবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আইএস ও অন্য জঙ্গিদের সম্পৃক্ততার কথা টেনে আনছে, তা হিতে বিপরীত হতে পারে। এসব কট্টরপন্থী ধর্মীয় উগ্র সংস্থার ভাবাদর্শে নারী নেতৃত্বের স্থান নেই। আমাদের দেশের শীর্ষে রয়েছেন নারী নেতৃত্ব আর যত দিন দেশের নারীদের রাজনীতিসহ অন্যান্য জায়গায় ক্ষমতায়ন হবে, দেশে সুস্থধারার রাজনীতি ও গণতন্ত্রের পথ সুগম থাকবে, তত দিন বাংলাদেশের সমাজে এ ধরনের উগ্র মতবাদের গোষ্ঠী সামাজিকভাবে সমর্থিত হবে না।
যেসব দেশে আইএস তথা সমমনা সংগঠনের ব্যাপক উত্থান ঘটেছে বা ঘটছে, সেসব দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, শূন্যতা ও গণতন্ত্রের অভাব পরিলক্ষিত। এ কথা ঠিক যে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ উগ্রপন্থীদের ব্যাপক উত্থানের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এর হুমকি থেকে পরিত্রাণ দোষারোপের, সংঘাতের অথবা ঘৃণার রাজনীতি নয়, প্রয়োজন দেশে সুস্থ রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক ধারার বিকাশ। অন্যথায় বাংলাদেশও উগ্র ও চরমপন্থীদের বিচরণভূমি হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমাজের বিভাজন নয়, প্রয়োজন সামাজিক ও রাজনৈতিক ঐক্য। এর দায়িত্ব একান্তভাবেই রাজনীতিবিদদের।
এম সাখাওয়াত হোসেন (অব.): অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও কলাম লেখক৷
hhintlbd@yahoo.com